Thursday, December 13, 2018

এবারের নির্বাচন যাতে গতবারের মতো না হয় -আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সিইসি

একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় বিনা কারণে কাউকে গ্রেপ্তার, হয়রানি করা যাবে না।  নির্বাচনী পরিবেশ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)  কে এম নূরুল হুদা।
আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, আগামি ৩০ তারিখের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য ইতিমধ্যে সব রাজনৈতিক দল, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছি। নির্বাচনী সব ব্যাবস্থাপনা ও প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এবারের নির্বাচন যাতে গত বারের মতো না হয়। সেই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির পরও অনেক ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও মানুষ মারা গেছে। এই নির্বাচনে যাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
সিইসি বলেন, আপনাদের দায়িত্ব হলো দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি ঠিক রাখা। পেশাদারিত্বের দায়িত্ব নিয়ে এবারের নির্বাচনে সতর্ককতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আগামীর নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা চান সিইসি। সিইসি  বলেন, যাতে নির্বাচনের আগে ও পরে কোনো সহিংসতা না হয় সেজন্য সব গোয়েন্দা সংস্থাকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হয় কিনা সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের প্রতি জোর দেন সিইসি। সিইসি  কেএম নূরুল হুদা বলেন, পেছনের একটা ঘটনার রেষ টানা প্রয়োজন। সেটি হলো ২০১৪ সালের নির্বাচন।  সেই নির্বাচনের অবস্থা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। তখন ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার আলোকে আমাদের এবারের নির্বাচনের  প্রস্তুতির রুপরেখা ও কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, তখন মাঠে সব বাহিনী ছিল। সশস্ত্র বাহিনী ছিল, পুলিশ বাহিনী ছিল, র‌্যাব ছিল, বিজিবি ছিল। তবুও আমরা কি দেখিছিলাম! পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছিল, প্রিজাইডিং অফিসার নিহত হয়েছিল, ম্যাজিস্ট্রেট নিহত হয়েছে, শত শত মানুষ নিহত হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভষ্মিভূত হয়েছে। সেটা কি প্রেক্ষিত ছিল, আমরা কেনো নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি- সে প্রসঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ ও প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে এ বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে। এটি ভুলে গেলে চলবে না। তিনি বলেন, সেই অবস্থা থেকে আমাদের কিভাবে উত্তরণ করা যায়। সেরকম কোনো পায়তারা যাতে না হয়। আবার যাতে সেরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি না হই। সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আপনাদের দায়িত্ব জনগণের জীবন রক্ষা করা, মালামাল রক্ষা করা, সম্পদ রক্ষা ও দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। আমি আশা করবো আপনাদের যে নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্ব দায়িত্বপালনের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও মানসিতকা দিয়ে এবারের নির্বাচনে আমরা এসব মোকাবিলা করতে পারবো। এ বছর যেনো আর সেরকম তা-ব না ঘটে। সেরকম পরিস্থিতির সুযোগ সৃষ্টি না হয়। এখন থেকে সেটা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন সিইসি। কেএম নূরুল হুদা বলেন, আমরা কিন্তু আশঙ্কা গুলো একেবারেই অবহেলা করতে পারি না। যেদিন প্রতীক বরাদ্দ হলো তার পরের দিনই দুর্ঘটনা। সে ঘটনাগুলো যত ছোটই হোক না কেনো, দুটো জীবন চলে গেলো। সে দুটো জীবনের মূল্য অনেক। কিন্তু কেনো হলো? তারপরে এখানে ওখানে ভাঙচুর, প্রতিহত করা। এগুলোর পেছনে কি রাজনৈতিক, সামাজিক কারণ নাকি সেই ২০১৪ সালের মতো ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টির পায়তারা চলছে কি না তা কিন্তু ভালোভাবে নজরে নিতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্ক নজরদারি থাকতে হবে। তিনি বলেন, একটা ঘটনা ঘটে গেলো এক জনের দোষ আরেক জনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে। আইন শৃঙ্খলার অবনতি হালকা ভাবে নিলে হবে না। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সতর্ক অবস্থান নেয়ার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে তৃতীয় কোনো শক্তির  ষড়যন্ত্র আছে কি না খতিয়ে দেখতে হবে। গোয়ান্দা সংস্থাগুলোর প্রতি সতর্ক নজরদারি রাখার অনুরোধ করবো।

২৪ ডিসেম্বর থেকে সেনা নামছে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী ২৪শে ডিসেম্বর থেকে ২রা জানুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব হেলালউদ্দীন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার রাতে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ কার্যালয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হেলালউদ্দীন আহমদ বলেন, আগামী ২৪শে ডিসেম্বর থেকে ২রা জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটের মাঠে সেনাবাহিনী থাকবে। সেনাবাহিনী মাঠে মোট ১০ দিন মাঠে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে।
ভোটের মাঠে বিজিবি কবে থেকে নামেবে এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, বিজিবির মাঠে নামা নিয়ে আমরা প্রস্তাব রেখেছি আগামী ২২শে ডিসেম্বর থেকে। তবে কমিশনের কেউ কেউ বলছেন ২০শে ডিসেম্বর, কেউ আবার বলেছেন ১৫ই ডিসেম্বর থেকে। আসলে বিজিবি কবে থেকে মাঠে নামবে তা আগামী শনিবার ঠিক করবে কমিশন।
আজকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকে কয়েকজন সুপারিশ করেছেন মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে। আপনাদের ভাবনা কী? এমন প্রশ্নে হেলালউদ্দীন আহমদ বলেন, এখানে আসলে নিয়ন্ত্রণ বলা যাবে না। তারা যেটা বলেছেন কার্ড ছাড়া যেন কোনো সাংবাদিক ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ না করে। কারণ হচ্ছে অনেকগুলো অনলাইন পত্রিকা আছে যারা ভুয়া।
তারা যেন কেন্দ্রে প্রবেশ করার সুযোগ না পায়। সেই বিষয়ে তারা মত দিয়েছেন। কারণ তারা (ভুয়া সাংবাদিক) যে ভোট কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করবে না, এমনটা তো বলা যাবে না।
ভোটের আগে পরে ইন্টারনেটের গতি ৪জি থেকে ২জিতে নামিয়ে আনার ব্যাপারে পুলিশ ইসির প্রতি সুপারিশ করেছেন- এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, তারা এই বিষয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছেন তবে আমাদের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি ইসি। আমাদের কোনো চিন্তা-ভাবনাও নেই আপাতত।
জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে নিবন্ধিত দলের প্রার্থীরা নিজ দলের প্রধানের বাইরে পোস্টারে অন্য কারো ছবি ব্যবহার করতে পারবে কি না-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা আইনগত বিষয়। তবে নিবন্ধিত দলগুলো তাদের দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন, নাগরিক ঐক্যের ইসির নিবন্ধিত দল নয়। সুতরাং দলটি যার ব্যানারে নির্বাচন করবেন সেই দলের প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু গণফোরামের প্রধান কিন্তু ড. কামাল। তার মানে গণফোরাম চাইলেও খালেদা জিয়ার ছবি ব্যবহার করতে পারবেন না।

বল এখন ইসির কোর্টে by মরিয়ম চম্পা

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বল এখন নির্বাচন কমিশনের কোর্টে। নির্বাচন কমিশন নিজ দায়িত্বে মাঠে নেমেছে। এখন প্রত্যেকটি দিন প্রত্যেকটি মুহূর্ত তাদের জন্য পরীক্ষা। তিনি বলেছেন, নির্বাচন হচ্ছে। সবাই তাতে অংশগ্রহণ করছে। সেদিক থেকে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক। এখন অপেক্ষা  জনগণ বা ভোটাররা কীভাবে অংশগ্রহণ করে। মানবজমিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. তোফায়েল বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রার্থী বাছাই এবং প্রার্থী বৈধ ঘোষণার প্রক্রিয়াটা শক্ত ছিল। ভালো ছিল। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। এখন দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসার এবং মাঠে যারা ম্যাজিস্ট্রেট আছেন তাদের। তারা যদি সক্রিয় না হন এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ না করেন তাহলে নির্বাচনী মাঠে অসুবিধা হতে পারে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, ল’ অ্যান্ড অর্ডারের সিচুয়েশনে পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাব এরা আইনগতভাবে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু তাদের ওপর মানুষের এক ধরনের অনাস্থা ও অনীহা আছে। এক্ষেত্রে ১৫ তারিখ থেকে মাঠে সেনাবাহিনী কীভাবে কাজ করবে সে বিষয়টা খুব স্বচ্ছ নয়।
কেমন নির্বাচন হবে? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগাম কিছু বলার নাই। যত দিন যাবে আস্তে আস্তে এটা পরিষ্কার হবে। এখন এই পর্যন্ত ‘সো ফার সো গুড’। প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে সব প্রার্থী মাঠে নামবে। শেখ হাসিনা নিজেও প্রচারণা শুরু করেছেন। বিএনপির প্রার্থীরাও মাঠে নেমে গেছেন। এখন এটাই দেখতে হবে কি প্রতিক্রিয়া মাঠে তৈরি হয়।
তবে সবার আগে একটি ভালো নির্বাচন হওয়া দরকার। তাই নির্বাচন নিয়ে এখন কোনো রকমের সন্দেহ তৈরি করতে চাই না। আবার অতি উচ্চ আশাও পোষণ করতে চাই না।

আমাকে ইমপিচ করলে জনগণ বিদ্রোহ করবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তাকে ইমপিচ করা হলে আমেরিকার জনগণ তার পক্ষে বিদ্রোহ করবে। গতকাল (মঙ্গলবার) ওভাল অফিস থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, “যে ব্যক্তি কোনো ভুল কিছু করে নি এবং দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছে তাকে ইমিপচ করা কঠিন ব্যাপার।”
সম্ভাব্য ইমপিচমেন্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি মোটেই উদ্বিগ্ন নই। আমি মনে করি যদি তা করা হয় তাহলে জনগণ বিদ্রোহ করবে।”
রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। এর মধ্যেই বিরোধীদল তাকে ইমপিচ করার পদক্ষেপ নিতে পারে বলে হোয়াইট হাউসের কয়েক ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন জানিয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে গোপন সম্পর্কের বিষয়ে তদন্তকে কৌতুক বলে উড়িয়ে দিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেতরে ভেতরে ঠিকই উদ্বিগ্ন এই কারণে যে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় আইন লঙ্ঘন করে গোপনে দুই নারীকে অর্থ দেয়ার ঘটনা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে।
মার্কিন নির্বাচনে রুশ প্রভাব ও রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের বিষয়ে আমেরিকার স্পেশাল কাউন্সেল রবাট মুলার তদন্ত করছেন। তিনি শুক্রবার জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন রাশিয়া সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। দুই পর্ন তারকার সঙ্গে ট্রাম্পের অবৈধ যৌন সম্পর্ক ছিল -এমন কথা গোপন রাখার জন্য ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় অর্থের বিনিময়ে ওই দুই নারীকে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের হয়ে দুই নারীকে অর্থ পরিশোধ করেছিলেন তারই ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন। কোহেনকে আগেই বরখাস্ত করেছেন ট্রাম্প তবে তিনি টাকা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
মাইকেল কোহেন

সিলেট থেকে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু: নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না: ড. কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, যতই বাধা আসুক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবো না। দেশের মানুষের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা নির্বাচনে থাকবো। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের মানুষ মালিকানা হারাবে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনিও সোচ্চার থাকবেন। কিন্তু এখন দেখছি উল্টো। প্রার্থীদের গাড়িতে-বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে। এখনো সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে না। এ কারণে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ড. কামাল হোসেন গতকাল বিকেলে সিলেটের ওলীকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।
একই সঙ্গে তিনি ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, কোনো বাধাই কাজে আসবে না। নির্বাচনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। এখন ঐক্যবদ্ধভাবেই নির্বাচন করছি। দেশের মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন বারবার বাধা দিচ্ছে। এতে করে দেশের মানুষের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন- এখনো তারা ধরপাকড় বন্ধ করেনি। নেতাকর্মীরা বাড়ি ঘরে ঘুমাতে পারছে না। প্রার্থীদের গাড়িতে হামলা করা হচ্ছে। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তরায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার বিরুদ্ধে এনবিআরের তদন্ত প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, তিনি এ ব্যাপারে মানহানির মামলার করবেন। মানহানির মামলা করতে তিনি মনস্থির করেছেন বলে জানান। বলেন, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ভোট দেবেন। নিজের মালিকানা ফিরিয়ে আনবেন। ইতিহাসের দিকে তাকান- যখনই মানুষ অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছে তখনই জনগণ সফলতা পেয়েছে। এজন্য তিনি দেশের মানুষকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, সাংবিধানিক অধিকার হলো জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকার সেটি করছে না। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য হলো মানুষের অধিকার হরণ করা।
সিলেট থেকেই শুরু করা হলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা। গতকাল দুপুরে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সিলেটে এসে প্রচারণা শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ বিমানের বিলম্ব ফ্লাইটের কারণে প্রায় ৩ ঘণ্টা দেরিতে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তারা সিলেটে পৌঁছেন। ওখান থেকে সাড়ে ৪টার দিকে তারা আসেন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে। এ সময় ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সিলেটে আসেন- ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা আসম আবদুর রব, কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সকাল ১১টা থেকে দরগাহ এলাকায় অবস্থান নেন সিলেট বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেকের নেতৃত্বে বিএনপির নেতারা মাজারের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় তারা হাতে জাতীয় পতাকা ও ধানের শীষ নিয়ে মিছিল করতে থাকেন। কয়েকশ’ নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের অপেক্ষায় থাকেন। এ সময় সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের পক্ষে দরগাহ এলাকায় একটি পথসভার আয়োজন করে বিএনপি। কিন্তু বেলা দুই টার দিকে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে বিএনপি নেতাদের পথসভা করতে নিষেধ করে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে প্রধান ফটকের বিভিন্ন স্থানে রাখা মাইক খুলে নেয়া হয়। সরিয়ে দেয়া হয় অস্থায়ী মঞ্চ। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতারা সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ তাদের পথসভা করতে দিচ্ছে না। তারা জোরপূর্বক এসে মাইক সরিয়ে নিয়ে গেছে।
এদিকে বিকেল ৩টার দিকে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় মাজার এলাকা। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা মাজার এলাকায় এসে অবস্থান নেন। ড. কামাল হোসেনসহ সিনিয়র নেতারা আসার পর মিছিলে মিছিলে সরব হয়ে উঠে মাজার প্রাঙ্গণ। মাজারে পৌঁছে কাদের সিদ্দিকী, ড. জাফরউল্লাহ ও নজরুল ইসলাম খান মাজারের উপরের অংশে গিয়ে জিয়ারত করেন। অসুস্থ থাকার কারণে ড. কামাল হোসেন নেতাকর্মী বেষ্টিত অবস্থায় নিচে চেয়ারে বসে জিয়ারত করেন।
এদিকে মাজার জিয়ারত করে বেরিয়ে এসে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, এখানে এসে ঐক্যফ্রন্টের বিজয় দেখতে পাচ্ছি। আমরা মাজার জিয়ারতে এসে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম। আজকে দেশে মানুষের কোনো সম্মান নেই, অধিকার নেই। সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে না। আমরা সিলেটে এসে মানুষের যে উচ্ছ্বাস দেখলাম সেটি যদি কাজে লাগানো যায় ঐক্যফ্রন্টের বিজয় দমাতে পারবে না। এবার ভোটারের বিজয়, জনগণের বিজয় হবে ইন্‌শাআল্লাহ। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের বিজয় নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন- সরকার আদর দেবে না, চুমু দেবে না। মাঠে থাকেন। জনগণের বিজয় নিশ্চিত। এই সরকার কিছুই করতে পারবে না। নজরুল ইসলাম খান বলেন- বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত না। এ কারণে তাদের কাছে ভালো আচরণ আশা করা যায় না। সরকার যে আচরণ করছে সেটা গণতান্ত্রিক আচরণ না। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সবাই দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা নেমেছি। ইন্‌শাআল্লাহ এ লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে। মাঠ ছাড়বেন না। বিজয় হবে ইন্‌শাআল্লাহ।
এদিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের পর ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সিলেটে হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। পরে তারা সিলেট-৩ আসনের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী শফি চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন। রাতে সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিমের পক্ষে হরিপুর এলাকায় আরেক নির্বাচনী সমাবেশেও তারা বক্তব্য রাখেন।

‘চোখ রাঙালে চোখ তুলে নেয়া হবে’

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের চোখ তুলে নেয়ার হুমকি   দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও দিরাই পৌরসভার মেয়র মোশাররফ মিয়া। আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী এ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়া সেনগুপ্তার উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মঙ্গলবার এমন হুমকি দেন মোশাররফ। ওই অনুষ্ঠানে মোশাররফের দেয়া বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার এ ধরনের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন অনেকে। বক্তব্যের একপর্যায়ে মোশাররফ মিয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘চোখ রাঙানি চলবে না। বিএনপির কোনো ধরনের কথা শোনা যাবে না।
বিএনপিকে কোনো সেন্টারে তার আধিপত্য বিস্তার করতে দেয়া যাবে না। প্রত্যেকটি সেন্টার আমাদের দখলে থাকবে, ভোট যাতে বিএনপি না দিতে পারে।
তাই প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে হবে। সুতরাং যারা ছাত্রলীগ আছো, তোমাদের পড়ালেখা করেই এবারের নির্বাচন করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো সেন্টার বিএনপিকে দেয়া যাবে না। এতে বিএনপির কোনো কর্মী, কোনো নেতা যদি চোখ রাঙ্গায় তার চোখ তুলে নেবে। আমাদের নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগের পক্ষের নির্বাচন। আওয়ামী লীগের কোনো ছাত্র, একটি যুবক বা আওয়ামী লীগের একটি কর্মীকে কোনো কথা বললে তার চোখ তুলে নেয়া হবে। সুতরাং সব কটি সেন্টার আমাদের দখলে থাকবে।’ তার এ বক্তব্যের ভিডিওটি মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজার হাজার আইডি থেকে ভিডিওটি শেয়ার হতে দেখা গেছে।
মোশাররফ মিয়া দিরাইয়ের বহুল আলোচিত ত্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করে বেড়াচ্ছেন। বক্তব্য দিচ্ছেন। এমনকি আদালত অবমাননার অভিযোগেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে মোশাররফের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, শুনেছি ছাত্রলীগের সভায় মোশাররফ মিয়া হুমকি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। মোশাররফ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছে তারপরও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারছেন না কেন, জানতে চাইলে ওসি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়া সেনগুপ্তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক এমপি বিএনপির প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দিন চৌধুরী। তিনি এ আসনের সাবেক এমপি।

কোটালীপাড়ায় সমাবেশ- নৌকায় ভোট চাইলেন হাসিনা

নৌকায় ভোট দিয়ে আবারো সেবা করার সুযোগ করে দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, আমি নৌকা মার্কায় যাকেই, যেখানে প্রার্থী করেছি- তাদের সবাইকে ভোট দেয়ার জন্য  দেশবাসীর কাছে আহ্বান  জানাচ্ছি। আজকে যারা ওই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, যাদের সাজা হয়েছে তাদের দোসরকে নির্বাচনে প্রার্থী করেছে। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী-স্বাধীনতার শত্রু, গণহত্যা পরিচালনাকারী, অগ্নিসন্ত্রাসকারী- তাদেরকে নিয়ে আজকে নির্বাচনের মাঠে নেমেছে তাদেরকে উপযুক্ত জবাব আপনাদের দিতে হবে, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে। গতকাল বিকালে কোটালিপাড়া শেখ লুৎফর রহমান  ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোটালিপাড়াবাসীর মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে আমি আহ্বান জানাবো- ‘আমরা যেখানে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো সেই সময় যেন ওই যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী, খুনি, রাজাকার এবং যারা অগ্নিসন্ত্রাসকারী তারা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। তাহলে তারা দেশকে ধ্বংস করে দেবে। মুক্তযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দেবে।
বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে আবার এদেশ ক্ষুধার্ত হবে, অশিক্ষিত হবে, মানুষের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে।
মানুষের ভাগ্য নিয়ে যেন আর তারা ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এটা আমার প্রথম নির্বাচনী সভা, তাই, এই সভা থেকেই আমি সমগ্র দেশবাসীর কাছে আবেদন জানাই- ‘নৌকা মার্কায় ভোট চাই। জনগণের সেবা করতে চাই। বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, জাতির পিতার স্বপ্ন আমি পূরণ করতে চাই। কোটালীপাড়ায় অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার প্রথম নির্বাচনী বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাও তার সঙ্গে ছিলেন।
কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুভাষ জয়ধরের সভাপতিত্বে সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং বিএম মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এসএম কামাল হোসেন অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন। এছাড়া চলচ্চিত্রাভিনেতা রিয়াজ এবং ফেরদৌস এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রার্থীগণ বক্তৃতা করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী দুপুরে টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে তার এবং দলের নির্বাচনী প্রচারাভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আগামী নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। জাতির পিতার খুনিদের বিচার করেছি। বাংলাদেশ আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই যে বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় তা আজকে আবার প্রমাণ হয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছেন, বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছেন, ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ আজকে বাস্তব, আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন, আজকে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ যেন বন্ধ করতে না পারে, এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। বিশ্বসভায় বাঙালি জাতি যেন মাথা উঁচু করে চলতে পারে, সেই সুযোগ আমি দেশবাসীর কাছে চাই। আর কোটালীপাড়ায় যারা আমার মা-বোনরা আছেন, তাদের কাছে ভোট চাই- তাদেরকে আমি বলবো আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কাজ আমি করে গিয়েছি- আজকে শিক্ষা-দীক্ষা, কর্মসংস্থান- সবদিক থেকে আপনারা সুযোগ পেয়েছেন কারণ নৌকায় ভোট দিয়ে কেউ কখনও বঞ্চিত হয় না, নৌকায় ভোট দিলে সকলেই সুন্দর জীবন পায়, উন্নত জীবন পায়। আমার এই কথাটা আপনারা সকলের কাছে পৌঁছে দেবেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য চিত্র তুলে ধরে বলেন, তার সরকারের প্রতিটি কাজই জনকল্যাণের জন্য নিবেদিত। আর একটি শিক্ষিত জাতি পারে একটি দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে, সেজন্য শিক্ষাকে তার সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার চায় বাংলাদেশে আর কেউ গরিব থাকবে না, বাংলাদেশ আর কখনও হাত পেতে চলবে না, যে কারণে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে প্রণীত বাজেট ৭ গুণ বৃদ্ধি করে দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে আজ ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমরা সরকারে। আজকে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। যে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছিলাম, খালেদা জিয়া সেটা বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা আবার তা চালু করেছি। আজকে মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে, ওষুধ পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দেশকে আমি নিরক্ষরতামুক্ত করতে চেয়েছিলাম। সেই প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি। আমরা সরকারে এসে আজ তা বাস্তবায়ন করেছি। বাংলাদেশে নিরক্ষরতা দূর করার পথে আজ আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি।’
দেশব্যাপী ৩শ’ আসনের প্রতিই তার খেয়াল রাখতে হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হয় যে কারণে অন্য প্রার্থীদের মতো নিজের নির্বাচনী এলাকায় তিনি সময় দিতে পারেন না। তাই টুঙ্গীপাড়া এবং কোটালীপাড়ার জনগণ তার এই নির্বাচনী এলাকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় তিনি এ সময় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আজ আমি পিতা-মাতা, ভাইহারা, আপনারা দায়িত্ব নিয়েছেন এবং প্রতিবার নির্বাচনে সে দায়িত্ব আপনারাই পালন করেন। আপনারাই ভোট দেন এবং আপনাদের ভোটেই নির্বাচিত হয়ে দেশের সেবা করার সুযোগ পাই। এখনও আমি আপনাদের কাছে সেই দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি যে, আমার আপনজন বলতে ওই একটা ছোট বোন (শেখ রেহানা) আছে আর আছেন আপনারা। আপনারাই আমার আপনজন হয়ে এই কোটালীপাড়া-টুঙ্গীপাড়ায় গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে গিয়ে আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট প্রদানের জন্য বলবেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমি নৌকা মার্কায় ভোট চাই, কাজেই সেই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আর একটিবার দেশসেবার সুযোগ করে দেবেন।

ভারতে মোদি হাওয়া উধাও, ৫ বিধানসভায় বিরোধীদের উত্থান

বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর সঙ্গে সোনিয়া গান্ধী, পাশে রাহুল
ভারতে পাঁচটি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। পক্ষান্তরে তিনটি রাজ্যে প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরে আসছে। অন্য দু’টিতে সেখানকার আঞ্চলিক দল ক্ষমতায় আসছে।
গত মঙ্গলবার রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিসগড়, তেলেঙ্গানা ও মিজোরাম বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা হয়। ছত্তিসগড়ে ৯০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ৬৮, বিজেপি ১৫, বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) ২, জনতা কংগ্রেস ছত্তিশগড় ৫ টি আসনে জয়ী হয়েছে।
ছত্তিশগড়ে শতাংশের হিসাবে কংগ্রেস ৪৩ শতাংশ, বিজেপি ৩৩ শতাংশ, বিএসপি ৩.৯ শতাংশ এবং জনতা কংগ্রেস ছত্তিশগড় ৭.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। রাজ্যটিতে বিজেপি ক্ষমতায় ছিল, এবার সেখানে কংগ্রেস সরকার গড়তে চলেছে।
চিন্তিত নরেন্দ্র মোদি
মধ্য প্রদেশে ২৩০ আসনের মধ্যে কংগ্রেস ১১৪, বিজেপি ১০৯, বিএসপি ২, এসপি ১ এবং নির্দলীয় ৪ টি আসন পেয়েছে।
মধ্য প্রদেশে শতাংশের হিসাবে কংগ্রেস ৪০.৯ বিজেপি ৪১, বিএসপি ৫ এবং নির্দলীয় ৫.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। রাজ্যটিতে বিজেপি ক্ষমতায় ছিল। এবার সেখানে কংগ্রেস সরকার গড়তে চলেছে।
কংগ্রেস সমর্থকদের উল্লাস
মিজোরামে ৪০ আসনের মধ্যে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ)২৬, কংগ্রেস ৫, বিজেপি ১, নির্দলীয় ৮টি আসনে জয়ী হয়েছে।
মিজোরামে শতাংশের হিসাবে এমএনএফ ৩৭.৬ কংগ্রেস ৩০.২ বিজেপি ৮ এবং নির্দলীয় ২২.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। রাজ্যটিতে কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। এবার সেখানে এমএনএফ সরকার গড়তে চলেছে।  
রাজস্থানে ১৯৯ আসনের মধ্যে কংগ্রেস ৯৯, বিজেপি ৭৩, বিএসপি ৬, বিটিপি ২, আরএলডি ১, আরএলটিপি ৩ এবং নির্দলীয় ১৩ আসনে জয়ী হয়েছে।
রাজস্থানে শতাংশের হিসাবে কংগ্রেস ৩৯.৩ শতাংশ, বিজেপি ৩৮.৮ শতাংশ, বিএসপি ৪ শতাংশ এবং নির্দলীয় ৯.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। রাজ্যটিতে বিজেপি ক্ষমতায় ছিল। এবার সেখানে কংগ্রেস সরকার গড়তে চলেছে।
তেলেঙ্গানাতে ১১৯ আসনের মধ্যে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি (টিআরএস) ৮৮, কংগ্রেস ১৯, বিজেপি ১, মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) ৭, তেলেগু দেশম ২, ফরোয়ার্ড ব্লক ১ এবং নির্দলীয় ১ আসনে জয়ী হয়েছে।
তেলেঙ্গানাতে শতাংশের হিসাবে টিআরএস ৪৬.৯ শতাংশ, কংগ্রেস ২৮.৪ শতাংশ, বিজেপি ৭ শতাংশ, তেলেগু দেশম ৩.৫, মিম ২.৭ শতাংশ এবং নির্দলীয় ৩.৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  
তেলেঙ্গানাতে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি (টিআরএস) ক্ষমতায় ছিল। তারাই পুনরায় সরকার গড়তে চলেছে।
পাঁচ রাজ্যের ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে দেখা যাচ্ছে এসব রাজ্যের সাধারণ মানুষ হিন্দুত্ববাদী বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি’র ফায়ারব্র্যান্ড নেতা যোগি আদিত্যনাথ ও বিজেপির অন্য নেতারা  নানাভাবে ধর্মীয় মেরুকরণ করে ফায়দা লাভের চেষ্টা করেও চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। পাঁচ রাজ্যের ফলের প্রভাব আগামী ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় পড়বে এবং কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বিজেপির পতন নিশ্চিত হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নির্বাচন কমিশন বিব্রত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি  বলেছেন, ওই হামলার ঘটনায় কমিশন বিব্রত। এর আগে গত মঙ্গলবার এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সিইসি বলেন, নির্বাচনের উত্তাপ যেনো উত্তপ্ত না হয়। তার ওই বক্তব্যের দিনই মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার পাশাপাশি নির্বাচনী সহিংসতায় দু’জন নিহত হয়েছেন। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিংয়ের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, মঙ্গলবার আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলেছিলাম যে, সারা দেশে নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো অঘটন ঘটেনি। কিন্তু সেদিনই দুটো ঘটনা ঘটেছে, যেটা আমাদের বিব্রত করেছে, মর্মাহত করেছে। নিহতের ঘটনা আমাদের অত্যন্ত বিব্রত করেছে, ব্যথা দিয়েছে, যোগ করেন সিইসি।
বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিবের গাড়িতে হামলা হয়েছে, যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আমরা কিন্তু বিব্রত। এটা কখনও কাম্য হতে পারে না।
একটা মানুষের জীবন সমস্ত নির্বাচনের চেয়ে মূল্যবান। সারা দেশে যে ৩০০টি আসনে নির্বাচন হবে। সেটার যে মূল্য, আমরা মনে করি, একটা মানুষের জীবনের মূল্য তার চেয়ে বেশি। সহিংসতার কারণে সেই জীবন চলে গেল, এটা কারও কাম্য হতে পারে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী, প্রার্থী, ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী সবার প্রতি অনুরোধ, আপনারা  ধৈর্যশীল আচরণ করবেন। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবেন। কারও নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না। একে অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকার, মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবেন। যেকোনো উত্তেজনাকর, উদ্বেগজনক নির্বাচন পরিপন্থি ও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যাবলী পরিহার এবং নিজেরাই তা প্রতিহত করবেন।
বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য করে কে এম নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, নির্বাচন সহিংসতার জায়গা নয়, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জায়গা। ধৈর্য ও একে অন্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।
একাদশ সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তো বটেই, সবদিক দিয়ে আলাদা নির্বাচন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগের কোনো নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। প্রতিটা কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ছয়জন প্রার্থী, সারা দেশে এক হাজার আটশ’র বেশি প্রার্থী মাঠে থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
এসময় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

সবার চোখ তৃতীয় বেঞ্চে

সবার চোখ তৃতীয় বেঞ্চে। কারণ হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চেই ফয়সালা হবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচনী ভাগ্য। আজই দুপুর ২টার পরে এই শুনানি হতে পারে। কিন্তু তৃতীয় বেঞ্চের রায় অনুকূল না হলে বিএনপি যেমন, তেমনি  নির্বাচন কমিশনেরও আপিল বিভাগের শরণাপন্ন হওয়ার পথ খোলা থাকবে।
অতীতে উচ্চ আদালতের রায়ের আদেশের ভিত্তিতে ব্যালট পেপারে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে এবং এ জন্য লাখ লাখ ব্যালট পেপার পোড়ানো হয়েছে। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনটি এ ক্ষেত্রে একটি বিরাট দৃষ্টান্ত। ইসি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রায় ২০টি আসনের মুদ্রিত ব্যালট পেপার পুনরায় ছাপাতে হয়েছিল। এ জন্য ৩০ থেকে ৩৩ লাখ ব্যালট পেপার পোড়ানো হয়। ২০০১ সালে ইসলামী আন্দোলনের প্রতীক নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে প্রায় ২৫ লাখ ব্যালট পেপার পোড়ানো হয়েছিল।
আরো সপ্তাহখানেক পরে শুরু হবে ব্যালট ছাপানোর কাজ।
ঢাকায় চারটি সরকারি ছাপাখানায় মুদ্রণ চলবে। তবে ভোটের তারিখের কতদিন আগে ব্যালট মুদ্রণ শেষ করতে হবে, সে বিষয়ে আইনে কিছু বলা নেই। একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০০৮ সালে তিন দিন আগেও তারা উচ্চ আদালতের আদেশে ব্যালট পেপারে পরিবর্তন এনেছেন। আর ইসি সাধারণত যেসব বিষয়ে মামলা জটিলতা থাকে সেসব এলাকার ব্যালট তারা সব থেকে দেরিতে ছাপে।
তিনটি আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা পৃথক রিট শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য গতকাল বিকেলে তৃতীয় বেঞ্চ ঠিক করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, বিচারপতি জে বি এম হাসান বর্তমানে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চের প্রিজাইডিং জাজ রয়েছেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত সেই বেঞ্চের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন। বিরতির পরে তিনি একক বেঞ্চের বিচারপতি হিসেবে শুনানি করবেন।
আশির দশকে গৃহবধূ থেকে ভীরু পায়ে রাজনীতিতে পদার্পণ করেছিলেন খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সাল থেকে যতবারই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, ততবারই জয়ী হয়েছেন। পাঁচটি আসনেও একসঙ্গে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এবারে দণ্ডিত হিসেবে তিনটি আসনে ভোটে দাঁড়ানোর ভাগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
গত মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিভক্ত আদেশ হয়। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল জারি করে মনোনয়নের পক্ষে মত দেন। বেঞ্চের অপর বিচারপতি মো. ইকবাল কবির তা গ্রহণের পক্ষে ছিলেন না। গতকাল এ বিভক্ত আদেশের নথি প্রধান বিচারপতির দপ্তরে পৌঁছানো হয়। কিন্তু দুপুরের দিকে সেই নথি বিভক্ত আদেশদানকারী বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ফেরত পাঠানো হয়। জানা যায়, বিভক্ত আদেশের কারণ অধিকতর বিস্তারিতভাবে দেয়ার জন্য নথি ফেরত পাঠালে তা দ্রুত তামিল হয়।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নথি পুনরায় ফেরত পাওয়ার পরপরই তৃতীয় বেঞ্চ গঠনের উদ্যাগ নেন।  
আইনে এক বা একাধিক বিচারপতির সমন্বয়ে প্রধান বিচারপতির তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করার সুযোগ ছিল।  বেঞ্চ গঠনের ব্যাপারে প্রচলিত আইনে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়া নেই। তবে রেওয়াজ হলো, নথি পাওয়ার পরই প্রধান বিচারপতি এক সদস্যবিশিষ্ট তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করে দেন। প্রধান বিচারপতি সেটাই করেছেন।
কিন্তু কতদিনের মধ্যে তৃতীয় বেঞ্চ নিষ্পত্তি করবেন, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় না। তৃতীয় বেঞ্চ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্বাধীন।
আইনবিদরা বলেছেন, তবে কোনো রিট দায়েরের পর রুল জারি এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারির পর্যায়ে বিভক্ত আদেশ প্রদানের রেওয়াজ বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের এক চলতি প্রবণতা।
হাইকোর্ট রুলসে যা আছে
বিভক্ত রুল জারি করার বিষয়টি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১৯৭৩ সালের রুলসের (২০১২ সালে সংশোধিত) চ্যাপ্টার ১১ক-এর আওতায় রুল ১৮ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এটি বলেছে, ‘যখন কোনো একটি দ্বৈত বেঞ্চ একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রশ্নে সমানভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েন, তখন বিভক্ত আদেশদানকারী বিচারকগণ তা প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠাবেন। প্রধান বিচারপতি তখন একজন বা একাধিক বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি অন্তে তাদের মতামত চূড়ান্ত করবেন। বিভক্ত আদেশদানকারী বিচারকরাসহ পরে যারা সিদ্ধান্ত নিলেন, তাদের সবার মতামত বিবেচনায় নেয়া হবে। এবং বিষয়টি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে স্থির হবে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আজ বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে এ বৈঠক শুরু হবে। বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তা, রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার এবং  জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় সাধারণ এলাকা, মেট্রোপলিটন এলাকা এবং উপকূলীয়, দুর্গম ও পার্বত্য এলাকার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য পৃথক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। দশম জাতীয় নির্বাচনের আদলে এবারো আইনশৃঙ্খলায় থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ছক। জানা গেছে, ভোটকেন্দ্র পাহারার ক্ষেত্রে সাধারণ কেন্দ্রে একজন পুলিশসহ ১৪ জন, মেট্রোপলিটন এলাকার কেন্দ্রে তিনজন পুলিশসহ ১৫ জন এবং দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকার কেন্দ্রে দুইজন পুলিশসহ ১৪ জন রাখার বিষয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা রেখেছে ইসি।
তবে, ভোটকেন্দ্র সুরক্ষিত রাখতে বাইরে থাকবে সামরিক-আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।
আর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহল দেবে। কিন্তু কেন্দ্রে প্রবেশে অনুমতি লাগবে রিটার্নিং অথবা প্রিজাইডিং কর্মকর্তার। এ ছাড়া নির্বাচনের বিধি-ভঙ্গ, প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য, চরিত্রহননের অপচেষ্টা প্রতিরোধে মাঠে থাকবে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা। এবার সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখের কাছাকাছি মোতায়েন হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এসব বাহিনী ৩০০ সংসদীয় আসনের ৪০ হাজার ১৮০টি কেন্দ্র পাহারা ও ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩ জন ভোটারের নির্বিঘ্নে ভোটদানে সহায়তা দিতে কাজ করবে। কমিশনের যুগ্ম সচিব খন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কর্মযজ্ঞ বেশি হলেও ভিআইপি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, থানা-প্রশাসন শূন্য করে সব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে এ কাজে যুক্ত করা যাবে না। বৈঠকে, কীভাবে ফোর্স মোতায়েন হলে সব কূল বজায় থাকবে সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
সূত্রমতে, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোট গ্রহণের আগে ও পরে ভিন্ন মেয়াদের জন্য সেনা, র‌্যাব ও পুলিশসহ অন্য বাহিনী মোতায়েন করতে যাচ্ছে ইসি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ২৪শে ডিসেম্বর মাঠে নামবেন। ২রা জানুয়ারি পর্যন্ত তারা নির্বাচনী এলাকায় থাকবেন। বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‌্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সদস্যরা স্ট্রাইকিং ও মোবাইল টিম হিসেবে ২৬শে ডিসেম্বর থেকে ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। ২৯শে ডিসেম্বর ৩০০ আসনে সব মিলে ৬৪০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামবেন। তারা ভোটের পর দুই দিনসহ সবমিলে চারদিন মাঠে থাকবেন।
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনেও একইভাবে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছিল ইসি। তবে ২০০৮ সালে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে সেনা মোতায়েন করা হয়।

ভুলের খেসারত দিলো বাংলাদেশ by ইশতিয়াক পারভেজ

মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য উইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩২ রান। ক্যারিবীয়দের হাতে অক্ষত ৪ উইকেট। ক্রিজে ছিলেন সেঞ্চুরি হাঁকানো হোপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের আশা তখন তারই হাতে। ততক্ষণে ভালোমতো ম্যাচে ফিরেছে বাংলাদেশ দলও। কিন্তু ৪৮তম ওভারে রুবেল দিলেন ১০ রান। আর ৪৯তম ওভারে মোস্তাফিজ ১৬ রান দিলে গুঁড়িয়ে যায় টাইগারদের আশা। শেষ ৬ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ৬ রান।
বল হাতে এসেছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু আর কেউ বাধা হতে পারেননি ক্যারিবীয়দের জয়ের পথে। একাই লড়াই করে দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন হোপ। তার ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১৪৬ রান। তার সঙ্গে ৬ষ্ঠ উইকেটে ৭১ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে পলের অবদান ১৮ রান। ২৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত তুলে নিয়েছে ৬ উইকেটের জয়।  সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে উত্তেজনা জমিয়ে রেখেছে ক্যারিবীয়রা। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচেই হবে সিরিজের ফয়সালা। সেই সঙ্গে বছরের শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে উৎসবে মাতার সুযোগও রইলো মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের সামনে। তামিম, মুশফিক ও সাকিব ফিফটি হাঁকালেও তাদের রান তোলার পাগলামিতে আউট হওয়া আর ফিল্ডারদের ক্যাচ ছাড়ার খেসারতেই বাংলাদেশের হার তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই শেষ ম্যাচে জিততে হলে নিজেদের  সেরাটা দেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই টাইগারদের হাতে।
২৫৬ রান, লক্ষ্যটা ছোট নয়। কিন্তু সামনে যে প্রতিপক্ষ ক্যারিবিয়ানরা। তাদের কব্জির জোর যে কোনো মুহূর্তে ঘুরিয়ে দিতে পারে ম্যাচের মোড়। কিন্তু দারুণ শুরু এনে দিলেন তরুণ অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। চন্দ্রপল হিমরাজকে ফিরিয়ে দিলেন দারুণ এক ডেলিভারিতে। তবে সেখানেই যেন থেমে গেল বাংলাদেশের সব সফলতা। সিরিজ জয়ের ম্যাচে টাইগারদের বোলিংয়ের ভিত নাড়িয়ে দিলেন শেই হোপ ও ড্যারেন ব্রাভো। ধীরে ধীরে শুরু করলেও চড়াও হতে শুরু করলেন দ্বিগুণ গতিতে। গড়ে তুললেন ৬৭ রানের জুটি। এক উইকেট হারানোর পরও স্কোর বোর্ডে তুলে ফেলেন দু’জন ৭০ রান। তবে ২৭ রান করা ব্রাভোকে আউট করে পথের কাঁটা কমালেন রুবেল হোসেন। বলে হালকাভাবে  ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন ব্রাভো। ব্যাটে বলে সংযোগটা ঠিক ভাবে করতে পারেননি। বল তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে।
কিন্তু তাতেও পাহাড় হয়ে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন হোপ। আবার দলকে আরো একটি ফিফটি রানের জুটি উপহার দেন। এবার তার সঙ্গী অভিজ্ঞ মারলন স্যামুয়েলস। এই জুটি মাশরাফির বোলিং বিভাগকে আরো বেশি হতাশ করে তোলে। ক্যারিবীয়দের স্কোর বোর্ডে তখন মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান। বলতে গেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ক্যারিবীয়দের হাতে। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমানের পরিকল্পিত বোলিংয়ে ২৬ রান করা স্যামুয়েলস ধরা পড়েন। মোস্তাফিজের কাটার বেরিয়ে যাওয়ার সময়  স্যামুয়েলসের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে মুশফিকের গ্লাভসে ক্যাচ হয়ে ধরা পড়ে। তৃতীয় উইকেটে হোপের সঙ্গে ৬২ রানের ভয়ঙ্কর জুটি ভাঙে। তাতেই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় টাইগাররা। কিন্তু হোপ যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব আশার আলো। একাই লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন এক প্রান্ত আগলে রেখে।
এবার হোপ সঙ্গী হিসেবে পান তরুণ বিপজ্জনক শিমরন হেটমায়ারকে। তবে দ্রুতই তাকে আউট করার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু রুবেলের উঠা ক্যাচ ফেলে তাকে জীবন দেন ইমরুল। তবে খুব বেশি দূর যেতে পারেননি ক্যারিবীয় এই তরুণ ব্যাটসম্যান। রুবেলের বলেই ফ্লিক করতে গিয়ে আউট হন। ভাঙে ২৩ রানের জুটি। কিন্তু তখনো বাংলাদেশের বোলারদের একমাত্র প্রতিপক্ষ হোপ। তাকে সঙ্গ দিতে এসে ফিরে যান ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলও। তাকে ফিরান টাইগার অধিনায়ক।  বল ড্রাইভে উড়িয়ে মারতে গিয়ে পাওয়েল ক্যাচ দেন মিড অনে সৌম্য সরকারের হাতে। ১ রানে আউট হন পাওয়েল। ৩৩.৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৫ উইকেটে ১৫৭। এরপর অপ্রতিরোদ্ধ হোপ জুটি বাঁধেন চেজকে নিয়ে। এই জুটিতে আসে ২৮ রান। কিন্তু ১৪ রান করা চেজকে আউট করে দলের জন্য আশা জাগান মোস্তাফিজ। কিন্তু সেই আশাও গুঁড়িয়ে দেন হোপ। এবার তার সঙ্গী কিমো পল। দলকে টেনে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের ৪৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তুলে নেন তৃতীয় সেঞ্চুরি।
এরপরই ম্যাচ গড়ায় চরম উত্তেজনায়। শেষ চার ওভারে ক্যারিবীয়দের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। মোস্তাফিজ বোলিংয়ে এসে তা কঠিন করে তোলেন। ৪৭তম ওভারে মাত্র ২ রানই নিতে পারে তারা। কিন্তু যখন ১৮ বলে প্রয়োজন ৩২ তখন রুবেল হোসেনের ওভার থেকে রান বাড়িয়ে নেন ক্যারিবীয়রা। সেই ওভারেই শেষ বলে পলের ক্যাচ ফেলে দ্বিতীয়  জীবন দেন নাজমুল ইসলাম অপু। বলতে গেলে এই দুই জীবনেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় বাংলাদেশের। দুইবার জীবন পেয়ে কিমো ৩১ বলে করেন ১৮ রান।