Wednesday, August 26, 2026
নিউইয়র্কে মোহন ভগবতের অনুষ্ঠান চাই না : জোহরান মামদানি
অনুষ্ঠানটিতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে কয়েকটি আন্তঃধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠন এরই মধ্যে অনুষ্ঠানটির সমালোচনা করেছে।
আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী প্রচারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন মোহন ভগবত। কর্মসূচির আওতায় তিনি কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও সফর করবেন।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না। জবাবে মামদানি বলেন, ‘আমি এই সমাবেশকে সমর্থন করি না। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার এখতিয়ার নগর প্রশাসনের আছে কি না, তা আমি জানি না।’
নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে নিজেকে প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র হিসেবে উল্লেখ করে মামদানি বলেন, তার মায়ের পরিবারের সদস্যরা এখনো ভারতে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন, পরিবার থেকে তিনি যে ভারতের ধারণা নিয়ে বড় হয়েছেন, সেটি ছিল একটি ‘বহুত্ববাদী সমাজ’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের’ ধারণা। সেখানে ভারতের প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার ও অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পেত।
মামদানি বলেন, এর বিপরীতে ‘বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির’ ওপর ভিত্তি করে একটি আন্দোলনের উত্থান দেখতে পাওয়া তার জন্য ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’। ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিক হিসেবে এবং এমন একটি শহরের মেয়র হিসেবে, যেখানে বর্ণ, ধর্ম, বিশ্বাস বা দেশের পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়—তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গির ‘তীব্র বিরোধী’ বলেও জানান।
হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস, ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল এবং ইন্টারফেইথ সেন্টার অব নিউইয়র্কসহ কয়েকটি সংগঠন ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ভগবতের উপস্থিতির বিরোধিতা করেছে। তারা অনুষ্ঠানটি বাতিলের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
পাবলিক পলিসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এএইচইএডি ফোরাম ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ শিরোনামে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সংগঠনটি বলেছে, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনের মূল বার্তা হলো—‘পুরো বিশ্ব একটি পরিবার’। কৃত্রিম বিভাজন ও পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ঐক্যের দিকে তাকানোর আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
সব মিলিয়ে, আয়োজকদের সমর্থন পেলেও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানটি নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি স্পষ্টভাবে এর বিরোধিতা করলেও নগর প্রশাসন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেব, মুসলিমদের ঘাড়ধাক্কা: শুভেন্দু
মঙ্গলবার জি ২৪ ঘণ্টার মেগা কনক্লেভে এসব কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেব আর মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কা দেব।’
ক্ষমতায় আসার পর নিজের ‘টু-ডু লিস্টে’ থাকা কাজগুলোর একটি ক্রমানুযায়ী খতিয়ান তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তার সরকারের প্রথম লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া। ইতিমধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এরপরই নাগরিকত্ব ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কা দিয়ে দেশের বাইরে বের করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দ না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ থাকত না। আমরা কেউ এত বড় বড় ভাষণ দিতে পারতাম না।
মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন। দুই বছর পর রাজ্যে বিএনএস চালু হয়েছে। কেন্দ্রের সব প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করাও সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিতে না পারলেও বর্তমান বিজেপি সরকার নতুন বিমানবন্দরের জন্য ২ হাজার একর জমি চিহ্নিত করেছে বলে জানান তিনি।
কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, চিকেন নেককে সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্র প্রাক্তন সরকারের কাছে সাতটি রাস্তা চেয়েছিল। সেই সাতটি রাস্তাই কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কেন্দ্রের রেল প্রকল্পের জন্য হিলি, লালগড়, গোপীবল্লভপুর, এগরা, দাঁতন, দিঘা, জলেশ্বর, করিমপুর ও তেহট্টের জমি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রায় ৫০০টি রাস্তা ও সেতু তৈরির জন্য জমি আটকে রাখা হয়েছিল। সেই জমিও কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ যুক্ত হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।
সরকারের চতুর্থ দায়িত্ব জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের ১ কোটি ৪৫ লাখ নারী অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান পাচ্ছেন। আরও ২০ থেকে ৩০ লাখ নারীকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। স্বচ্ছতা যাচাই করেই এই অনুদান দেওয়া হবে।
স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নিয়োগ দুর্নীতির বাইরে রাখতে রামকৃষ্ণ মিশনের আচার্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। একইভাবে একজন সৎ আইএএস কর্মকর্তাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শীর্ষ পদে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারের পঞ্চম কাজ শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিকীকরণ। যুবকদের নিজেদের পায়ে দাঁড় করানোর জন্য এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী।
সরকারের ষষ্ঠ কাজ হলো বাম ও তৃণমূল আমলে হওয়া দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। এ জন্য মন্ত্রিগোষ্ঠীর মাধ্যমে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভোট ঘোষণার ছয় মাস আগে পর্যন্ত এবং গত তিন মাসে পূর্ববর্তী সরকার যেসব ক্ষতি করে গেছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখা বর্তমান সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যে এই ছয় দফা কর্মসূচির ‘সিক্সার’ বাস্তবায়নের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Sunday, August 23, 2026
বিয়ের পোশাকে মন্দিরে ৪০ বর, সারাদিনেও এলেন না কোনো কনে
ঘটনাটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস এলাকায়।
অভিষেকের বাবা-মা তার বিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন। ভারতের একটি কাছের গ্রামের এক ব্যক্তি নিজেকে ঘটক পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, একটি ছবির অ্যালবাম থেকে এতিম নারী পছন্দ করলেই হবে এবং একটি গণবিয়েতে অংশ নিতে প্রায় ২০০ ডলার দিতে হবে।
গত মে মাসের শেষ দিকে নির্ধারিত দিনে অভিষেক ভার্মাসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৪০ জন বর সকাল ৮টায় বিয়ের পোশাক কুর্তা ও শেরওয়ানি পরে হাজির হন। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষার পরও কোনো কনের দেখা না পেয়ে তারা বুঝতে পারেন, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা প্রীতি কাটারে বলেন, প্রতারকরা তাদের ‘টোপ গিলিয়েছিল’। ভুক্তভোগীরা ছিলেন গ্রামাঞ্চলের ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ। লজ্জার কারণে আরো অনেক ব্যক্তি অভিযোগ করতে আসেননি বলেও জানান তিনি।
ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য মধ্যপ্রদেশে ঘটনার কথিত ঘটক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। ভারতের বিয়ের বাজারে প্রতারণা নতুন নয়, তবে ভুয়া গণবিয়ের ঘটনা খুবই বিরল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রাম লাল ভগত বলেন, ৪০ বছরের চাকরি জীবনে এ ধরনের প্রতারণামূলক গণবিয়ের ঘটনা এই প্রথম দেখলেন তিনি।
অভিষেক ভার্মাসহ আরো একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কথিত ঘটককে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে পুলিশ জানায়, ৪৫ বছর বয়সী দিনেশ বৈরাগী এবং তার ভাই ৪০ বছর বয়সী মুকেশ বৈরাগীসহ চার সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি বরের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার রুপি করে নিয়ে বৈরাগী পরিবারটি প্রায় ৪ হাজার ডলার আয় করেছে। গ্রামীণ পরিবারের জন্য এটি উল্লেখযোগ্য অর্থ হলেও বিয়ের খরচের তুলনায় কম বলে জানায় পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রীতি কাটারে বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের গ্রামীণ পুরুষদের জন্য পাত্রী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ার সুযোগ নিয়েছিল প্রতারকরা।
ভারতে পণ প্রথা ১৯৬১ সালে আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হলেও এখনো এর প্রচলন রয়েছে। গ্রামীণ কনের পরিবারের জন্য পণ হিসেবে কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হয়, যা কখনো কখনো তাদের কয়েক বছরের আয়ের সমান।
কনের সংকট মোকাবিলায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার গণবিয়েতে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এসব বিয়ে সাধারণত প্রচলিত কয়েক দিনের বিয়ের চেয়ে কম সময় ও কম খরচে সম্পন্ন হয়।
তবে মধ্যপ্রদেশের এই ভুয়া গণবিয়ের সঙ্গে কোনো সরকারি প্রকল্প বা নির্বাচনের সম্পর্ক ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত পরিবারটি গ্রামে নিজেদের পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে লোকজনকে প্রতারণা করেছে।
দিনভর কনের অপেক্ষায় থাকার পর সন্ধ্যার দিকে বর ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দেওয়াস শহরের একটি মন্দিরে তাদের জড়ো হতে বলা হয়েছিল।
অভিষেক জানান, পরে তিনি কথিত ঘটকদের দেওয়া কনেদের ছবিগুলো খতিয়ে দেখেন। তখন জানতে পারেন, ওই নারীরা এতিম নন; বরং তারা ইনস্টাগ্রামে লাখ লাখ অনুসারী থাকা ইনফ্লুয়েন্সার।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
![]() |
| ২০১৯ সালে ভারতের সুরাটে একটি গণবিবাহ অনুষ্ঠানে কনেরা। ছবি: এপি। |
পশ্চিমবঙ্গে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে—শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বাংলায় থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে। জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে এই মুখ্যমন্ত্রী কোনো আপস করবেন না।’
এ সময় অধিকারীর অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালনের বিরোধিতা করার জন্য ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’ এবং ‘জিহাদি’ শক্তিকে অভিযুক্ত করেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘দেশবিরোধীদের সমর্থনে গণমাধ্যমের একটি অংশ যা-ই লিখুক না কেন, আমরা যাদবপুরের ভেতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করব।’
তার সরকারের লক্ষ্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ‘সনাতন’ সংস্কৃতির প্রতিফলন থাকতে হবে।
বাম দলগুলোরও সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী তাদের নেতাদের ‘লাল বাবু’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
![]() |
| শুভেন্দু অধিকারী |
Saturday, August 22, 2026
এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের জন্য ‘বন্দে মাতরম’ পাঠ অস্বস্তিকর: শর্মিলা ঠাকুর
শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে অনেকে এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী। কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’-এর পরবর্তী কিছু স্তবকে একাধিক হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। যারা এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য ‘বন্দে কালী’ বা ‘বন্দে দুর্গা’র মতো বাক্য বলা অসুবিধাজনক হতে পারে। তাই দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হলে গানটির প্রথম দুই স্তবকই ভালো এবং গ্রহণযোগ্য।
বিজ্ঞাপন
শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা পেয়েছে। কংগ্রেস দলীয় অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির নেতারা এ নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করছেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর জাতীয় গানটির পরিবেশন ও এর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
সূত্র: জি নিউজ ও সিটি এয়ার নিউজ

Monday, August 17, 2026
ভারতে মন্দিরে ‘পদপিষ্ট’ হয়ে ৭ জনের মৃত্যু
কর্মকর্তারা বলেন, আজ মন্দিরটিতে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে। শ্রাবণ মাসের সোমবারের এ দিনটি সনাতন ধর্মে শুভ দিন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং পুণ্যার্থীরা, বিশেষ করে শিবভক্তরা ব্রত পালন করেন। সাধারণত এদিন শিবমন্দিরগুলোয় বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়।
সাবডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) শিবম কুমার এএনআইকে বলেন, ‘সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে, সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছিল। এতে কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ফলে হুড়োহুড়ির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। সবকিছু যাচাই করার পর আমরা সঠিক কারণ জানাতে পারব।’
লখিসরাইয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) শৈলেন্দ্র কুমার বলেন, ‘সেখানে নজিরবিহীন ভিড় হয়েছিল। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার দিকে এখানে দুটি ট্রেন আসে, তাতে ভিড় আরও বেড়ে যায়। আমরা ভিড় হবে বলে আগেই ধারণা করেছিলাম এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।’
ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডিএম আরও বলেন, ভিড়ের চাপে প্রতিবন্ধকের এক পাশ ভেঙে পড়ে।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলায় পদপিষ্ট হয়ে বেশ কয়েকজন নিহত হন।
| বিহারের লখিসরাইয়ে অশোকধাম মন্দিরে আজ ভক্তদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। ছবি: পিটিআইয়ের এক্স অ্যাকাউন্টের ভিডিও থেকে নেওয়া |
Thursday, July 30, 2026
মুসলিম নেতার গড়া মোহাম্মদ আলী বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলতে কেন উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি সরকার
রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ২০০ কিলোমিটার (১৩২ মাইল) দূরের ওই এলাকাটির নাম রামপুর। কয়েক দিন আগে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে নয়াদিল্লিতে হাজারো তরুণের বিক্ষোভের মুখে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর নয়াদিল্লির বিক্ষোভকারীরা ঘরে ফিরে গেলেও রামপুরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে।
সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি দল অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। তাদের দাবি, মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি ভেঙে ফেলার যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে।
ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা স্বাধীনতা সংগ্রামী মোহাম্মদ আলী জওহরের নামানুসারে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের রামপুর জেলায় বিশিষ্ট মুসলিম রাজনীতিক আজম খান এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
আজম খান ২০০৩ সালে মোহাম্মদ আলী জওহর ট্রাস্ট গঠন করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে তিন বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫ জুলাই রামপুর জেলা প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ জারি করেছে। অথচ সে সময়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের তুমুল বিক্ষোভ চলছিল।
রামপুর প্রশাসনের অভিযোগ, এ ভবনগুলো নির্মাণে প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা ও বিধিমালা ঠিকমতো মানা হয়নি।
কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজ ভবনসহ মাত্র দুটি স্থাপনা বৈধ অনুমোদন নিয়ে নির্মিত হয়েছে। এ দাবি তুলে তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে কথিত ‘অবৈধ’ ভবনগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রশাসন আরও জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনগুলো অপসারণে ব্যর্থ হলে তারা বুলডোজার নিয়ে অভিযান চালাবে এবং ভাঙার পুরো খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকেই আদায় করা হবে।
গত সোমবার রাজ্য প্রশাসন তাদের আদেশের ওপর একটি অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ (ইন্টারিম স্টে) জারি করেছে। তবে এতে স্পষ্ট করে বলা হয়নি যে ভবন ভাঙার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়েছে কি না।
জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জহিরউদ্দিন আল–জাজিরাকে বলেন, এই স্থগিতাদেশের অর্থ এই নয় যে ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, ‘এর অর্থ হলো, আরডিএ (রামপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) নির্ধারিত ৫ আগস্টের সময়সীমার মধ্যে ভবন ভাঙার কাজ হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় এখন এমন একটি রায়ের চেষ্টা করছে, যাতে ভাঙার আদেশটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে যায়।
‘ভাঙচুর বন্ধ করুন’
২৫০ একরজুড়ে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করেন। তাঁদের কাছে সরকারের এই পদক্ষেপ একেবারেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অপ্রত্যাশিত আঘাত হিসেবে এসেছে।
১৫ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁদের দাবি, ভবন ভাঙার আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।
জওহর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে স্নাতক সম্পন্ন করা উসামা তাইয়্যাব প্রশ্ন তোলেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের ফলে যদি একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা যায়, তাহলে এখানে এত শিক্ষার্থী আন্দোলন করার পরও উত্তর প্রদেশ সরকারকে কেন বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য করা যাবে না?’
প্রায় ২৪ কোটি মানুষের আবাসস্থল উত্তর প্রদেশে ২০১৭ সাল থেকে হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শাসন চলছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ একজন উগ্র হিন্দুত্ববাদী। তিনি মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ও নীতির জন্য পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবনের চ্যান্সেলর ৭৭ বছর বয়সী আজম খান উত্তর প্রদেশে বিজেপির অন্যতম কড়া সমালোচক। তিনি সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন।
এই রাজনৈতিক দলটি রাজ্যের ৩ কোটি ৮০ লাখ মুসলিমের মধ্যে জনপ্রিয়। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত হিন্দু জাতিভুক্ত ভোটারদের একটি বড় অংশও দলটিকে সমর্থন করে।
‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’
সমাজবাদী পার্টির আইনপ্রণেতা জাভেদ আলী খান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের (প্রায় সব ভবন) ভেঙে ফেলার নির্দেশটি শিক্ষাবিরোধী এবং মানুষকে অশিক্ষিত রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির অংশ।’
জাভেদ আলী খান আরও বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি আজম খান প্রতিষ্ঠা করেছেন। দ্বিতীয়ত, এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতা মুলায়ম সিং যাদব। তৃতীয়ত, এর উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। আর চতুর্থত, এটি একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়।’
সমাজবাদী পার্টির প্রধান প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদব ২০২২ সালে মারা যান। তাঁর ছেলে অখিলেশ যাদব বর্তমানে দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তিনি বিজেপিবিরোধী জোটের এক সদস্য। এই জোটে ভারতের প্রধান বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসও রয়েছে।
এ বিষয়ে বিজেপির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠী বলেন, ভবন ভাঙার নির্দেশটি ‘অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’। তিনি সমাজবাদী পার্টির বিরুদ্ধে ‘তোষণমূলক রাজনীতি’ করার অভিযোগও তোলেন।
রাকেশ ত্রিপাঠী আল–জাজিরাকে বলেন, ‘কেউ কি অস্বীকার করতে পারবেন, আজম খান অবৈধ জমির ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছেন? সমাজবাদী পার্টির সরকার থাকাকালে তিনি নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে দখল করা জমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করেছেন এবং অবৈধ ভবনও তৈরি করেছেন। আমরা যা করছি, তা হলো অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। আর এর অর্থ হলো, বিশ্ববিদ্যালয়টি ভেঙে ফেলা উচিত।’
‘মেয়েরা জীবনে আর দ্বিতীয় সুযোগ পাবে না’
রামপুরের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়টি ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় জনমনে ক্ষোভ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, সাক্ষরতার হারের দিক থেকে উত্তর প্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে রামপুরের অবস্থান নিচের দিক থেকে মাত্র চারটি জেলার চেয়ে ভালো।
এ ছাড়া জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই নারী বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রক্টর গুলরেজ নিজামী।
আইন বিষয়ের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী ইকরা আল–জাজিরাকে বলেন, তিনি একটি নির্দিষ্ট কারণেই এই বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছিলেন। সেটা হলো নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ।
এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানকার পরিবেশ ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় নারী শিক্ষার্থীদের এখানে যে নিরাপত্তা দেওয়া হয়, তাতে আমাদের অভিভাবকেরা সন্তুষ্ট। এই বিশ্ববিদ্যালয় যদি ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে আমাদের মতো মেয়েরা আর কোথাও পড়াশোনা করার সুযোগ পাব না। আমাদের অন্য কোথাও পড়ার জন্য পাঠাতে অভিভাবকদের রাজি করানো সম্ভব হবে না। তাঁরা এই জায়গা বেছে নিয়েছিলেন, কারণ তাঁরা বিশ্বাস করতেন, এখানে মুসলিম মেয়েরা নিরাপদে থাকতে পারবে।’
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অন্য কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিতে সরকার একটি কাউন্সেলিং ক্যাম্প পরিচালনা করছে বলে জানান ইকরা।
এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘কিন্তু আমরা সেখানে যেতে চাই না। আমরা একটি নির্দিষ্ট কারণেই এই প্রতিষ্ঠান বেছে নিয়েছিলাম।’
শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়টি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, এমনটি নয়। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক–তৃতীয়াংশের বেশি হিন্দু।
প্যারামেডিক্যালে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী চাঁদনি দিবাকর আল–জাজিরাকে বলেন, ‘তারা এটিকে মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় বলতে পারে এবং হ্যাঁ, আইনি মর্যাদার দিক থেকে এটি একটি সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, এখানে অন্যরা পড়াশোনা করে না।’
চাঁদনি দিবাকরও বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। অবস্থান কর্মসূচির স্থানে তিনি বলেন, ‘আমি এক বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ। সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকেও একবারের জন্যও আমার নিজেকে অমুসলিম বলে মনে হয়নি। এখানকার সবাই বন্ধুত্বপূর্ণ—শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, সবাই।’
আরডিএ বলছে, এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ওই কর্মকর্তা অনিয়মগুলোর বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।
১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ও আরডিএ—উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা আইনজীবীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেদিন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও আরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান অজয় কুমার দ্বিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং এরপর তারা লিখিত জবাবও দিয়েছে। জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ৪০টি ভবনের মধ্যে মাত্র দুটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বাকি ৩৮টি ভবন অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে।’
কিন্তু উপাচার্য জহিরউদ্দিন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, রামপুরের সিঙ্গনখেড়া গ্রামে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠান আরডিএর আওতায় আসে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থাৎ ভবনগুলো নির্মাণের বহু বছর পর। তাই নির্মাণের সময় সেসব অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না এবং এখন তা দাবি করা যেতে পারে না।
উপাচার্য আল–জাজিরাকে আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় সিঙ্গনখেড়া এলাকায় আরডিএর কোনো এখতিয়ার ছিল না। আমরা বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদিত কোর্স পরিচালনা করছি, আর এসব সংস্থা তাদের সব শর্ত পূরণ করার পরই অনুমোদন দেয়।’
উপাচার্য জহিরউদ্দিন আরডিএর এই পদক্ষেপকে শিক্ষার সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, তারা শুধু দূরদর্শী চিন্তার অধিকারী আজম খানের বিরুদ্ধে এটিকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি সংখ্যালঘু, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নতির জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তবে কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কথিত এ অনিয়মগুলোকে বৈধ করা সম্ভব নয়। ফলে আইনগতভাবে একমাত্র সমাধান হিসেবে ভবন ভেঙে ফেলা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
আল–জাজিরা রামপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিবেদীর বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, এমনকি রামপুরে তাঁর কার্যালয়েও গিয়েছে। কিন্তু তিনি সাক্ষাৎ করতে বা সাক্ষাৎকারের অনুরোধের কোনো জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান।
‘পুলিশ আমাদের বাড়িতে আসছে’
ভবন ভেঙে ফেলার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ তীব্র হওয়ার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরডিএর আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের স্নাতক উসমান আলী আল–জাজিরাকে বলেন, ‘অন্যরা যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি আদায় করতে পারে, তাহলে আমরা মুসলিম শিক্ষার্থীরা কেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলা বন্ধ করার বৈধ দাবি পূরণ করতে পারব না? এর জন্য যদি ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, আমরা তা করতে প্রস্তুত। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে এই অন্যায় আমরা আর মেনে নেব না।’
উসমান আলী অভিযোগ করেন, ধর্মঘটে থাকা শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে পুলিশ পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে তারা আন্দোলন বন্ধ করতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে।
উসমান বলেন, ‘পুলিশ আমাদের বাড়ি আসছে এবং আমাদের অভিভাবকদের পরিণতির হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু আমরা পিছু হটব না।’
গত শনিবার সমাজবাদী পার্টির আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধিদল বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেয়। ওই দলে ছিলেন জাভেদ আলী খান, সাম্ভল আসনের জিয়া উর রহমান বার্ক ও কৈরানার ইকরা চৌধুরী।
বিজেপি ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসা ও নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ভারতে মুসলিমদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনা বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপের প্রভাব অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মুসলিমদের ওপরই বেশি পড়ছে।
তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা শুধু ‘অবৈধ দখল’ উচ্ছেদের লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এ নিয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দি সাহিত্যের শিক্ষক অপূর্বানন্দ আল–জাজিরাকে বলেন, ‘বিষয়টিকে (ভবন ভাঙার পদক্ষেপ) একাধিক দিক থেকে দেখা যায়। প্রথমত, এটি হিন্দু ভোটারদের সামনে মুসলিমদের প্রভাবকে দমন করার একটি প্রদর্শনী। দ্বিতীয়ত, এই সরকারের মেয়াদজুড়ে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একটি ধারাবাহিক প্রচার চালানো হয়েছে। আর তৃতীয়ত, তারা হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে মেলামেশা চায় না, আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই এমন মেলবন্ধনের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র।’
জওহর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক আবদুল কালিম আনসারি যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। সদ্য তিনি রামপুরে ফিরেছেন।
উভয় আন্দোলনে অংশ নেওয়া আনসারি বলেন, তিনি বিস্মিত যে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নামা ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ আন্দোলনের কর্মসূচিতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলার আসন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আনসারি বলেন, ‘এটা বিস্ময়কর যে তারা শিক্ষা সংস্কারের কথা বলছে। কিন্তু দিল্লি থেকে মাত্র কয়েক শ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে জারি করা ভবন ভাঙার নোটিশ নিয়ে তারা কিছুই বলছে না।’
আনসারি আরও বলেন, ‘এর ফলে বর্তমান ও প্রাক্তন সব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আর এখন আমরা জানি না, এখান থেকে আমাদের কোথায় যেতে হবে।’
![]() |
| মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার মুমতাজ সেন্ট্রাল লাইব্রেরি। ছবি: আসাদ আশরাফের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া। |
Monday, July 27, 2026
কলকাতায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদে পূজার আয়োজন
সোমবার প্রায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো এই স্থাপনার ৫০ মিটারের মধ্যে একটি শিবলিঙ্গ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে আদিনাথের রুদ্রাভিষেকের (হিন্দু ধর্মে দেবাদিদেব মহাদেবের পবিত্র মন্ত্রপাঠ সহকারে জল ও পঞ্চামৃত দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করানোর একটি বিশেষ পূজা) আয়োজন করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিজেপির রাজারহাটের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি আদিনা মসজিদকে আদিনাথ মন্দির হিসেবে দাবি করলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সিকান্দর শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে শিবসহ হিন্দু দেবদেবীর নিদর্শন রয়েছে—এমন দাবি তুলে একাংশের মানুষ এটিকে প্রাচীন আদিনাথ শিবমন্দির বলে দাবি করে আসছেন।
এ নিয়ে বর্তমানে আদালতেও মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মসজিদের নিকটবর্তী এলাকায় শিবপূজার আয়োজনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ উপলক্ষে আশপাশের এলাকাও সাজসজ্জা করা হয়েছে।
আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা কাজল গোস্বামীর দাবি, স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে আদিনাথ ও অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীর উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে। তার ভাষ্য, এটি মূলত একটি প্রাচীন শিবমন্দির, যা পরবর্তীতে মসজিদে রূপান্তর করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও একই ধরনের দাবি করে বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় শিব ও দুর্গার মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। তাই তারা স্থাপনাটিকে মন্দির হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
আদিনাথ শিব মন্দির ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে কাজল গোস্বামী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। আদালতের নির্দেশনা মেনে ভবিষ্যতে শিবলিঙ্গ নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে স্থাপনাটি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই)-এর অধীনে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, স্তম্ভটিকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের একটি অন্যতম বিষয় হলো এর কিছু ব্যাসল্ট পাথরের দেয়াল ও দরজায় খোদাই করা হিন্দু চিত্রকলার উপস্থিতি।
স্থাপত্য ইতিহাসবিদরা সাধারণত এই খোদাইগুলোকে পূর্ববর্তী কাঠামোর উপকরণ পুনঃব্যবহারের ফল বলে মনে করেন—যা মধ্যযুগীয় নির্মাণে একটি সাধারণ রীতি ছিল—অন্যদিকে পণ্ডিতরা স্মৃতিস্তম্ভটিকে ইসলামি ও দেশীয় স্থাপত্য ঐতিহ্যের সংশ্লেষণ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
তবে, পুনঃব্যবহৃত উপকরণগুলোর সঠিক উৎস নিয়ে ইতিহাসবিদ এবং স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
নতুন করে আন্দোলন জোরদার হওয়ায় জেলা প্রশাসন স্মৃতিস্তম্ভটির চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
যদিও হিন্দু সংগঠনটি জানিয়েছে যে এ বছরের আচার-অনুষ্ঠান নিকটবর্তী মন্দিরেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং স্মৃতিস্তম্ভটির ওপর ভবিষ্যতের যেকোনো দাবি শুধুমাত্র বিচারিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই উত্থাপন করা হবে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও শতবর্ষী আদিনা মসজিদকে প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, ধর্ম ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এক বিতর্কিত আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
বিজেপি এখন পশ্চিমবঙ্গ শাসন করছে, তাই এই বিবাদটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে পরস্পরবিরোধী বয়ান জনমতকে প্রভাবিত করে চলেছে।
ওই স্থানে প্রস্তাবিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মালদা জেলা পুলিশও একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও ধ্বংসাবশেষ আইনের অধীনে সুরক্ষিত। এতে সতর্ক করা হয়েছে যে, অনুমতিবিহীন ধর্মীয় কার্যকলাপ আয়োজন বা এই সুরক্ষিত কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে আদিনাথ শিবমন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে আদিনা মসজিদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও মালিকানা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।
![]() |
| ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মালদা জেলার পান্ডুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত। |
Thursday, July 9, 2026
পশ্চিমবঙ্গে ‘এনকাউন্টার’ শুরু করে কি যোগী হতে চলেছেন শুভেন্দু
ভোটে জিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে এগোচ্ছেন। সরকারে থিতু হওয়ার আগেই চালু হয়ে গেছে ‘বুলডোজার নীতি।’ কয়েক দিন আগে বিধানসভায় পাস হয়েছে গুন্ডা দমন আইন, যে আইনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিনা বিচারে ১২ মাস আটক রাখা যাবে। এবার শুরু হলো ‘পুলিশি এনকাউন্টার’।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশের দাবি, গভীর রাতে ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত প্রভাস পুলিশের রিভলবার ছিনিয়ে গুলি ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ চালালে গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। কংগ্রেসসহ বিরোধীরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানালেও শাসক বিজেপি নির্বিকার। শাসকদলীয় নেতারা বলছেন, সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। ভোটের প্রচারেই বলা হয়েছিল, অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না। প্রথম সুযোগেই তা বুঝিয়ে দেওয়া হলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘বিড়াল প্রথম রাতেই মারতে হয়। তাহলেই সবার কাছে বার্তা পৌঁছায়।’
কথায় ও কাজে ফারাক না রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করলে অর্ধশতাব্দী পর পশ্চিমবঙ্গে আবার ‘এনকাউন্টার নীতির’ প্রত্যাবর্তন ঘটবে।
সত্তরের দশকে নকশালপন্থীদের দমনের নামে কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় পুলিশকে নির্বিচার হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন। মানবাধিকার রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষের মতে, সেই সময় ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছিলেন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার নকশালপন্থী তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মী।
দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন অধ্যাপকদের এক কমিটির হিসাব অনুযায়ী, শুধু কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাতেই ৬ হাজার নকশালপন্থীর মৃত্যু হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাঁকে অনুসরণ করতে চাইছেন, সেই যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তর প্রদেশ ‘এনকাউন্টারে’ এখনো এক নম্বরে। গত ১৮ মে উত্তর প্রদেশ সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে যোগী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে ১৭ হাজার ৪৩টি ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা ঘটেছে। এসব বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ২৮৯ জন ‘কুখ্যাত অপরাধী’, আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৮৩৪ জন।
অর্থাৎ, গত ৯ বছরে প্রতিদিন গড়ে উত্তর প্রদেশে ৫টি করে পুলিশি ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা ঘটেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। এনকাউন্টারের ঘটনায় মোট ১৮ জন পুলিশ সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৮৫২ জন।
রাজ্যের কোন অঞ্চলে কত এনকাউন্টার হয়েছে, তাতে কতজন নিহত হয়েছেন, সেই তথ্যও উত্তর প্রদেশ পুলিশ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মিরাট জোনে সবচেয়ে বেশি ‘কুখ্যাত অপরাধী’ নিহত হয়েছেন। এই অঞ্চলে মারা গেছেন ৯৭ জন, আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫১৩ জন। এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ৮১৩টি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী আসন বারানসি জোনে ১ হাজার ২৯২টি পুলিশি এনকাউন্টারে মারা গেছেন ২৯ ‘কুখ্যাত অপরাধী’। আগ্রা জোন রয়েছে তৃতীয় স্থানে। সেখানে ২ হাজার ৪৯৪টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৪ জন। পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই তিন এলাকা ছাড়াও এনকাউন্টারের বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে লক্ষ্ণৌ, কানপুর, প্রয়াগরাজ (সাবেক এলাহাবাদ), বেরিলি ও গাজিয়াবাদ এলাকায়।
মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী ও বিরোধীদের সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ‘এনকাউন্টার’ নীতি থেকে সরাতে পারেনি। কোনো সমালোচনার তোয়াক্কা না করে তিনি তাঁর মতো এগিয়ে চলেছেন। শুভেন্দু অধিকারীও কি সেভাবে পথে চলবেন? এই প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে।
বিরোধীরা সমালোচনায় মুখর হলেও বিজেপি নেতারা বলে চলেছেন, তৃণমূল জমানার পুনরাবৃত্তি বিজেপি আমলে হবে না। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, নারীসহ সবাইকে ভোটের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিল ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। সরকার সেই নীতিই অনুসরণ করছে। করবেও। অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না।
বিজেপি নেতারা আরও একটা কথা বলছেন। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তাঁরা বলছেন, ভয় তাঁদেরই পাওয়ার কথা যাঁরা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। যাঁরা শান্তিপ্রিয়, নিরপরাধ তাঁদের ভয় পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
![]() |
| শুভেন্দু অধিকারী ও যোগী আদিত্যনাথ। ফাইল ছবি: এএনআই |
Tuesday, July 7, 2026
ভারতে এবার কি তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে
উত্তর প্রদেশের আগ্রা আদালত অতীতে তাজমহল জরিপের উদ্দেশ্যে এই সৌধের স্থিরচিত্র ও ভিডিওগ্রাফির জন্য অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগে অনুমতি দেননি। অর্থাৎ তাজমহল জরিপ করার যে আবেদন এক আইনজীবী ২০১৫ সালে করেছিলেন, সেই আবেদন অতীতে খারিজ করে দিয়েছিলেন আগ্রা আদালত।
সম্প্রতি সেই মামলার শুনানি করেই সোমবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, কেন তাজমহলের নিচে মন্দিরের অস্তিত্ব খুঁজতে জরিপ করা যাবে না।
আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনের বক্তব্য শোনার পর এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চ জানতে চান, কেন সৌধের জরিপ করা যাবে না। আবেদনকারী আইনজীবী জৈনের দাবি, বিশ্বখ্যাত এই স্মৃতিসৌধটি আসলে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির, যার নাম ‘তেজো মহালয়া’। এটি ভগবান মহাদেবের উদ্দেশে উৎসর্গী করা হয়েছিল।
হিন্দু দেবতা মহাদেবকে মামলাটির মূল পক্ষ করা হয়েছে, যেমন সাধারণ মানুষকে করা হয়। মহাদেবকে মূল পক্ষ করে তাঁর ‘পরম বন্ধু’ আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন এবং আরও বেশ কয়েকজন ভক্তের মাধ্যমে এই পিটিশন করা হয়েছে।
বিতর্কিত রামমন্দির-বাবরি মসজিদ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বছর কয়েক আগে হিন্দুত্ববাদী হরিশঙ্কর জৈনের ছেলে আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন এক সাক্ষাৎকারে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, যেসব সৌধের নিচে হিন্দুদের কথিত পবিত্র স্থান রয়েছে, একটি দীর্ঘ তালিকা প্রস্তুত করেছেন তাঁরা। এই তালিকা দীর্ঘ।
বিষ্ণুশঙ্কর বলেছিলেন, এসব স্থান বেছে বেছে বের করে মামলা করা হবে। বর্তমানে সেই কাজই করছেন পিতা–পুত্রের এই দল। বিষ্ণুশঙ্কর জৈন এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, তারা হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত।
কেন তাজমহলকে হিন্দু মন্দির বলা হচ্ছে
এলাহাবাদ হাইকোর্টের মামলায় বাদীপক্ষ (আবেদনকারী) একটি ঘোষণামূলক ডিক্রি ও নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে, যার মূল বক্তব্য হলো—এই স্মৃতিসৌধটি একটি হিন্দু মন্দির। তাই বাদীপক্ষ তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের তাজমহল প্রাঙ্গণের ভেতরে পূজা করার অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।
বাদীপক্ষের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সরকার ও এসআই–এর কাছে জানতে চেয়েছেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য কেন জরিপ করা হবে না।
বিতর্কিত রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ ভূমির মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তিতে এই এলাহাবাদ হাইকোর্টই অন্যতম কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের লখনৌ বেঞ্চ ২:১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দিয়েছিলেন, অযোধ্যার বিবদমান ২ দশমিক ৭৭ একর জমি হিন্দু দেবতা রাম লালা, রক্ষণাবেক্ষণকারী নির্মোহী আখড়া এবং সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ডের মধ্যে সমান তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে।
তাজমহলের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে সৌধের ভেতরে ‘দর্শন’ ও ‘পূজা’ করার মৌলিক অধিকার হিন্দুদের রয়েছে। এরপর ২০১৯ সালে তাজমহলে জরিপ করতে একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের আবেদন করা হয়েছিল।
তবে ওই সময় আগ্রার অতিরিক্ত দেওয়ানি বিচারক (সিনিয়র ডিভিশন) ওই আবেদন খারিজ করেছিলেন। আদালত যুক্তি দিয়েছিলেন, বাদীপক্ষ তাজমহলে সুনির্দিষ্ট জায়গা (দাগ নম্বর) নিশ্চিত করার জন্য কোনো রাজস্ব নথি (যেমন খতিয়ান বা খসড়া) দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। সম্পত্তির বর্ণিত সীমানা ও আয়তন (৭৭ বিঘা) বিবাদীপক্ষের নথির সঙ্গে মেলেনি।
এই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে একটি রিভিশন পিটিশন (সংশোধনী আবেদন) রক্ষণাবেক্ষণের অযোগ্য বলে গণ্য করেন আগ্রার অতিরিক্ত জেলা জজ। এই দুটি আদেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাদীপক্ষ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
আবেদনে বাদীপক্ষ মূল মামলায় করা নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যসংক্রান্ত দাবিগুলো উল্লেখ করে বলেছে, কথিত প্রাচীন তেজো মহালয় মন্দিরটি (তাজমহল), যেখানে দেবতা আগ্রেশ্বর মহাদেব বিরাজ করছেন, সেটি ১১৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা পরমর্দি দেব নির্মাণ করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, ইউনেস্কো তাজমহলকে একটি ‘হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বিষয়টি ভারত সরকারের পর্যটনবিষয়ক ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে।
সেই ওয়েবসাইটেই বলা হয়েছে, এটি তৈরি করেছিলেন মোগল সম্রাট শাহজাহান, তাঁর পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে। ওয়েবসাইটে মমতাজ মহল ও শাহজাহানের ছবিও (হাতে বা কম্পিউটারে করা পেন্টিং) রয়েছে।
ইতিহাসবিদদের বক্তব্য, তাজমহল বানানোর কাজ শুরু হয় ১৬৩১ খ্রিষ্টাব্দে এবং শেষ হয় ১৬৫৩ সালে বা তার আশপাশে। বছর দশেক আগে হিসাব করে দেখা যায়, এই স্মৃতিসৌধটির বাজার মূল্য ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এটি ভারতের মুখ্য পর্যটনকেন্দ্র।
হিন্দুত্ববাদীরা ইতিহাস মানতে নারাজ
আবেদনকারী হিন্দুত্ববাদী আইনজীবীরা অবশ্য এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্মৃতিসৌধটি রাজা মানসিংহের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানায় আসে এবং পরবর্তী সময়ে ১৭ শতকে জয়পুরের রাজা জয়সিংহ এই স্থানে অর্থাৎ তাজমহলে অভিষিক্ত হন।
এরপর মোগল শাসক শাহজাহান রাজা জয়সিংহের কাছ থেকে কথিত ‘তেজো মহালয়া’ প্রাসাদটি জোরপূর্বক দখল করেন এবং তাঁর মৃত রানির স্মৃতিসৌধে পরিণত করেন। এই রূপান্তরের জন্য বিতর্কিত সৌধটির কিছু অংশ পরিবর্তন করে ইসলামিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছিল।
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা আরও দাবি করেন, অন্তত ১০৯টি প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে যা প্রমাণ করে, এই সম্পত্তিটি একটি হিন্দু মন্দির।
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এএসআই ‘বেআইনিভাবে’ মুসলিমদেরকে গত শুক্রবারে তেজো মহালয়া বা তাজমহলে ‘নামাজ’ পড়ার অনুমতি দিয়েছে। এ কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং ভবন চত্বরের বেশ কয়েকটি তলা তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, হিন্দু ‘পূজা’ ও দেবতার আরাধনা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই সম্পত্তির ব্যবহার বেআইনি।
আবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বিতর্কিত সম্পত্তির পরিচয় নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। কারণ, এটি একটি সর্বজনবিদিত প্রাচীন স্মৃতিসৌধ। তা ছাড়া আবেদনকারীদের যুক্তি, সৌধটির শারীরিক বৈশিষ্ট্য, কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এবং তালাবদ্ধ অংশগুলো ‘কেবল মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে কার্যকরভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়’।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, এএসআই-নিয়ন্ত্রিত এই সৌধটিতে তাদের অবাধ প্রবেশের অধিকার নেই, যার ফলে কার্যকর নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের জন্য আদালতের নিযুক্ত একজন ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ দেওয়া অপরিহার্য।
এই পটভূমিতে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, হাইকোর্ট যেন আগ্রা আদালতের আদেশ বাতিল করেন এবং ট্রায়াল কোর্টকে (নিম্ন আদালত) গুণাগুণের ভিত্তিতে অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগের আবেদনটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন একটি স্থগিতাদেশের আবেদনে অনুরোধ করা হয়েছে, হাইকোর্ট যেন এএসআইয়ের পরিচালককে নির্দেশ দেন, আবেদনকারীদের উপস্থিতিতে ভবনের ভেতর ও বাইরের ছবি তোলা হয় এবং তা বর্তমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় দাখিল করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে অবগত আইনজীবীরা মনে করছেন, তাজমহল নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল এবং যা ৬ জুলাই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল, তা একটি নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। একইভাবে ভারতে নতুন এক বিতর্কের সূচনা হয়েছিল তিন দশক আগে বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে, যা ২০১৯ সালে ভারতে রামমন্দির বলে আদালত চিহ্নিত করেছিলেন। তাজমহলের কপালে কী লেখা আছে, তা বোঝা যাবে আর কয়েক বছরের মধ্যেই।
![]() |
| তাজমহল। ছবি: এএফপি ফাইল ছবি |
অযোধ্যা লুট: রাজনৈতিক খেসারত দিতে হতে পারে মোদিকে by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
ট্রাস্টের মোট সদস্যসংখ্যা ১৫। তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, দুজন পদত্যাগ করেছেন। শূন্য পদে নতুন নিযুক্তি হবে ট্রাস্টের পরবর্তী বৈঠকে। ২২ জুলাই সেই বৈঠক হবে। তার আগেই বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) রিপোর্ট পেশ হওয়ার কথা। চম্পত রাই ছিলেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক, অনিল মিশ্র সদস্য। আরও এক অভিযুক্ত গোপাল রাও ছিলেন বিশেষ আমন্ত্রিতদের অন্যতম। তাঁকেও অপসারণ করা হয়েছে। তাঁরা তিনজনেই ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতৃস্থানীয়। তাঁদের কারণেই ভিএইচপি এত দিন মন্দির পরিচালনায় ছড়ি ঘোরাত। এবার থেকে সেই দায়িত্ব সরাসরি হাতে তুলে নিচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)। কৃষ্ণ মোহন আরএসএস সদস্য।
ট্রাস্টের বৈঠকের পর কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ গিরি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মন্দিরের লুট গভীর বেদনার ও লজ্জার। ওই ঘটনা আমাদের প্রত্যেককে আহত করেছে। এই ঘটনায় ট্রাস্টের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। সেই ভাবমূর্তি ফেরত আনাই হবে আমাদের প্রথম কাজ।’
গতকালের বৈঠকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মন্দিরে দানের পরিমাণ ও খরচের কথা জানানো হয়। বলা হয়, ওই সময়ের মধ্যে ভক্তরা দান করেছেন ৫৮২ কোটি রুপি, মন্দির চালাতে খরচ হয়েছে ৩১৯ কোটি। বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। এই হিসাব নিয়েও অবশ্য প্রশ্ন উঠছে—মন্দিরের দৈনন্দিন খরচ চালাতে ৩১৯ কোটি রুপি কীভাবে খরচ হলো, সেই হিসাব না দেওয়ায়।
বৈঠকে জানানো হয়, মন্দিরের অছি পরিষদ গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ২৪৬ কোটি রুপি দান এসেছে। তার মধ্যে মন্দির তৈরিতে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৩৭০ কোটি রুপি।
রাজ্য সরকারের গঠিত ‘সিট’ তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী কী তথ্য প্রকাশিত হবে, তা নিয়ে চলছে চূড়ান্ত জল্পনা। ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, দানপাত্র থেকে যেসব সোনা–রুপার গয়না চুরি হতো, তা অযোধ্যা, ফৈজাবাদ বা লক্ষ্ণৌয়ের স্বর্ণকারদের কাছে না পাঠিয়ে ট্রেনে করে পাঠানো হতো বেঙ্গালুরু। সেখানে তা গলিয়ে সোনা–রুপার বাট তৈরি করা হতো। চালানের হিসাবে গরমিল থাকত। যেমন কুড়ি কেজি সোনার গয়না পাঠানো হলে চালানে কম দেখানো হতো। বাড়তি সোনা চলে যেত চোরেদের জিম্মায়।
সি–ভোটারের সমীক্ষা উদ্বেগজনক
রামমন্দিরের লুট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো নীরব। একটি শব্দও এখন পর্যন্ত তিনি উচ্চারণ করেননি। এই চুরি ও প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা হিন্দুত্ববাদী ভোটারের সমর্থনে প্রভাব ফেলছে। সি–ভোটার সংস্থা এনিয়ে এক সমীক্ষা চালিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ৮৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন অভিযোগ ‘গুরুতর’, ৬৩ শতাংশ মনে করছেন অভিযোগ ‘অত্যন্ত গুরুতর’। এই চুরি ৫৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এনডিএ সমর্থকের বিশ্বাস নড়িয়ে দিয়েছে। এই মহল বরাবর বিজেপিকে ভোট দিয়ে আসছে। সমীক্ষা বলছে, সেই সমর্থকেরা মনে করছেন, এই চুরি শুধু একটা অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, চোরেরা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। হিন্দুধর্মের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এর ফলে বিজেপির বিশ্বস্ত ভোটব্যাংকে চিড় ধরতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরব। গোটা বিষয় থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার এক চেষ্টা তিনি করছেন। বোঝাতে চাইছেন, এই অপকর্মের দায় তাঁর নয়। কিন্তু সি–ভোটারের সমীক্ষায় যা উঠে আসছে, তা বিজেপি ও মোদির পক্ষে উদ্বেগজনক। যেমন ৬৬ শতাংশ এনডিএ ও ৬৩ শতাংশ বিরোধী ভোটার মনে করেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের এক–তৃতীয়াংশ মনে করেন, যা কিছু হয়েছে, তার জন্য ট্রাস্টই দায়ী। সেই দায় তারা অস্বীকার করতে পারে না।
বিজেপির পক্ষে সমীক্ষায় সবচেয়ে চিন্তাজনক হলো, প্রায় ৫০ শতাংশ বয়স্ক মানুষ মনে করছেন, এই চুরি উত্তর প্রদেশ বিধানসভার আগামী নির্বাচনে যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে যেতে পারে। ৩৩ শতাংশ জনতা মনে করেন, চুরির দায় ট্রাস্টের, সেই ট্রাস্ট, যা নাকি প্রধানমন্ত্রী মোদিই গঠন করেছিলেন। ১০ শতাংশ স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করছেন, ১৭ শতাংশের মতে দায়ী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে পরিস্থিতি যথেষ্টই উদ্বেগের। কারণ, এত দিন ধরে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ দুর্নীতি ও অপরাধের কথা বলে এসেছেন। সমীক্ষা দেখাচ্ছে, ১৮ থেকে ২৪ বছরের ভোটারের ৫৮ শতাংশ মনে করছেন, ভোটে এর প্রভাব পড়বে এবং তা যোগী প্রশাসনের বিরুদ্ধে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী দায় এড়াতে পারেন না
দ্য ওয়্যার এক নিবন্ধে বলেছে, ৬টি কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি এই দায় থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন রাখতে পারেন না। প্রথম কারণ হলো রামমন্দির নির্মাণ নিছক কোনো ধর্মীয় কাঠামো তৈরি নয়, এটা ছিল বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদীদের রাজনৈতিক আন্দোলন। এই আন্দোলন বিজেপিকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং ক্ষমতা লাভের পর মোদিই হয়ে দাঁড়িয়েছেন মন্দির নির্মাণের কেন্দ্রীয় চরিত্র বা প্রধান মুখ। যাবতীয় কৃতিত্ব তিনিই দাবি করে এসেছেন এত দিন ধরে।
দ্বিতীয় কারণ, মোদি এ ঘটনাকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা বলে উড়িয়ে দিতে পারেন না। তিনিই ট্রাস্ট গঠন করেছেন। ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জন তাঁরই সুপারিশে পদে এসেছেন। ২০২০ সালে লোকসভায় তিনিই এই ট্রাস্ট গঠনের কথা জনিয়েছিলেন। দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
তৃতীয় যে কারণ, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই সরাসরি বিজেপি–আরএসএস ইকোসিস্টেমের অঙ্গ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহসভাপতি। মোদির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা সবার জানা। নইলে এত গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি থাকতেই পারতেন না। মোদিই তাঁকে নিয়োগ করেছেন। চুরির দায়ে যাঁকে ধরা হয়েছে, তিনি ছিলেন চম্পতের গাড়িচালক। বিজেপির নেতা বিনয় কাটিয়ার পর্যন্ত চম্পতকে ‘যত নষ্টের গোড়া’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
চতুর্থ কারণ, যেসব বিষয়ের বড়াই মোদি এত দিন ধরে করে এসেছেন, এ ঘটনা তা নস্যাৎ করে দিয়েছে। মোদি বরাবর নিজেকে হিন্দুত্বের ধারক ও অভিভাবক হিসেবে খাড়া করেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলে জানিয়েছেন, ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’। অর্থাৎ চুরি করব না, কাউকে চুরি করতেও দেব না। এ ঘটনা সেই দাবিকে পরিহাস করছে। তিনি এত দিন ধরে জাতীয়তাবাদী ধ্বজা উড়িয়ে এসেছেন। এ ঘটনায় প্রতিটি দাবিই ধুলুণ্ঠিত। অযোধ্যার মতো এক পবিত্র শহরের মন্দির পরিচালনা কীভাবে কলুষিত হতে পারে, এ ঘটনা তার জ্বলন্ত নিদর্শন হয়ে থাকছে। পরিচ্ছন্ন প্রশাসনের দাবি পরিহাস করছে।
পাঁচ নম্বর কারণ হলো, এটা কোনো নিছক চুরির ঘটনা নয়। ২০০ জনের একটা দল সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমে এই কাজ করে চলেছে। এসব অস্বীকার করার কোনো উপায়ই নেই।
সর্বশেষ ও ষষ্ঠ কারণ, সব বিরোধী দল মোদির নীরবতাকে কটাক্ষ করছে। বলছে, দুর্নীতিকে ধামাচাপা দিতে রাজনৈতিক স্বার্থে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতে বিজেপি সচেষ্ট। অথচ মোদি তার বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করছেন না। তাঁর নীরবতাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, এই অপরাধের সঙ্গে তিনিও জড়িত। এর দায় মোদিরই। তাঁকেই এর জবাব দিতে হবে। নীরবতা উত্তর হতে পারে না।
এ অপরাধ কয়েকজনের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বিলীন হওয়ার নয়; এর ব্যাপ্তি বিশাল। নীরবতা এ থেকে পরিত্রাণের পথ নয়।
![]() |
| ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি: এএফপি |
Saturday, July 4, 2026
রামমন্দিরে অর্থ লুটের দায় কার ওপর চাপাতে চায় আরএসএস, কিন্তু মোদি কেন চুপ
একই সঙ্গে হোসাবলে বলেছেন, এ লুটের ঘটনায় সর্বত্র চরম বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তার অবসান ঘটাতে হবে।
বিতর্কিতভাবে গড়ে ওঠা রামমন্দির ও তার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ সদস্যদের অধিকাংশই সংঘ ও সংঘের চেতনায় গঠিত উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) গুরুত্বপূর্ণ নেতা, যাঁরা মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের তত্ত্বাবধানে অভূতপূর্ব এ চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই দায় পড়ছে সংঘ নেতৃত্বের ওপর।
এক মাস কেটে গেলেও এ ঘটনা নিয়ে আরএসএসের কেউ মুখ খোলেনি। হোসাবলেই প্রথম। তাঁর বিবৃতির নানা রকম ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে। যেভাবে তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দানের কথা বলেছেন, তাতে মনে করা হচ্ছে, আরএসএস এ ঘটনার দায় পরোক্ষে ভিএইচপির ওপর চাপিয়ে নিজেদের আড়াল করতে চাইছে।
লুটের ঘটনায় যাঁদের নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে, তাঁরা সবাই সংঘের আদর্শে বড় হয়েছেন। যে তিনজনের বিরুদ্ধে বিরোধী আক্রমণের তির ধাবিত, সেই চম্পত রাই, অনিল মিশ্র ও গোপাল রাও ভিএইচপির নেতা। সংঘ ঘনিষ্ঠদের এই বিচ্যুতি আরএসএস মোটেই ভালোভাবে নেয়নি।
হোসাবলের বিবৃতি থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। কারণ, চুরিকাণ্ড সংঘের ভাবমূর্তিকে গুরুতর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিরোধীরা প্রচার শুরু করেছে, লুটের একাংশ সংঘের কোষাগারে জমা পড়েছে। এ কারণেই এক শ বছর ধরে আরএসএস নথিভুক্ত হয়নি।
হোসাবলে এই ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ঘটনাকে ‘ব্যতিক্রমী’ হিসেবে দেখার আর্জি জানিয়েছেন। তাঁর আশা, মন্দির পরিচালনার ব্যবস্থাপনায় যেসব ত্রুটি রয়েছে, তা সংশোধন করা হবে। এখন দেখার বিষয়, ৬ জুলাই ট্রাস্টের বৈঠকে চম্পত রাই, অনিল মিশ্র ও গোপাল রাওদের পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয় কি না।
তদন্ত শুরুর পর চম্পত ও অনিল পদত্যাগ করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাঁদের জেরা করলেও কারও বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত এফআইআর দাখিল করা হয়নি। তাঁদের গ্রেপ্তারও করা হয়নি। কেন এই রক্ষাকবচ, বিরোধীরা সেই প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সরগরম।
আরএসএস অবশ্য এই সঙ্গে অন্য এক বার্তাও দিয়ে রেখেছে। লুটের ঘটনা রাজনৈতিকভাবে হিন্দুত্ববাদী সমর্থনে যাতে ঘা না দেয়, সেই কারণে তিনি হিন্দুবিরোধী শক্তিদের সজাগ করে দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হিন্দুবিরোধী ও দেশবিরোধী শক্তি এ দুঃখজনক ঘটনাকে হাতিয়ার করে হিন্দুধর্মকে কলঙ্কিত করতে চাইছে। এ চক্রান্তের বিরুদ্ধে হিন্দুদের একজোট থাকতে হবে। তিনি বলেছেন, হিন্দুদের ধৈর্য ধরতে হবে। সংযম দেখাতে হবে। জোটবদ্ধ থাকতে হবে।
চুরি ধরা পড়ার এতদিন পর আরএসএস মুখ খুললেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো নীরব। অথচ তাঁরই উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সরকার মন্দির নির্মাণ ও মন্দির পরিচালনের জন্য দুটি ট্রাস্ট গঠন করেছে। সেই ট্রাস্টে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়েছে।
মন্দিরের শিলান্যাস থেকে শুরু করে ‘দেবতার প্রাণপ্রতিষ্ঠা’, প্রতিটি অনুষ্ঠানই হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী মোদি ও আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতিতে। অথচ এত বড় ঘটনার পরেও প্রধানমন্ত্রী এখনো কেন নীরব, সেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলেরা।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ ‘এক্স’ হ্যান্ডলে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভগবান রাম ও জনগণের বিশ্বাস নষ্ট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করতে অসুবিধে কোথায়? ভগবানের সম্পদ লুটের ঘটনায় দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। আপনার মনোনীত ব্যক্তিরা সংঘ পরিবারের নেতৃত্বে এই লুট চালিয়েছে। এটা আপনার পাপ। আপনি এর চেয়েও বড় পাপ করছেন এই বিষয়ে নীরব থেকে।’
একই সঙ্গে কংগ্রেস দাবি জানিয়েছে, এই অপরাধের দরুন ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ ভেঙে দেওয়া হোক।
চুরি নিয়ে আরএসএস ও ভিএইচপির মধ্যে সূক্ষ্ম টানাপোড়েন চললেও সংগঠন হিসেবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও (ভিএইচপি) চুরির দায় নিতে নারাজ। ভিএইচপি সভাপতি অলোক কুমার এক সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চুরির দায় নিতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, চম্পত রাই ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অপকর্মের দায় ভিএইচপি নিতে পারে না।
তুলনা দিয়ে অলোক বলেন, সরকারি আধিকারিকেরা কোনো ক্লাবের সদস্য হতেই পারেন। তিনি সেই ক্লাবের সম্পদ চুরি করলে সরকারকে কি দায়ী করা যায়? তিনি বলেছেন, ‘কে অপরাধী কে নন, তা তদন্তকারী কর্তারা ঠিক করবেন। আমরা চাই, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কাউকে যেন রেয়াত করা না হয়।’
ভিএইচপি সভাপতির এই মনোভাব থেকে মনে করা হচ্ছে, চম্পত রাই, অনিল মিশ্র বা গোপাল রাওদের থেকে ভিএইচপি দূরত্ব সৃষ্টি করে ফেলেছে। আরএসএসের মতো তারাও চুরির দায় নিতে নারাজ। এর ফলে ৬ জুলাই ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের’ বৈঠকের আগ্রহের কেন্দ্রে চম্পত রাইয়েরা চলে এসেছেন। দেখার এটাই, তাঁদের বাদ দিয়ে ট্রাস্ট পুনর্গঠিত হয় কি না।
![]() |
| ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রামমন্দিরের অর্থ লুট নিয়ে এখনো কোনো কথা বলেননি। ছবি: এএনআই |
Tuesday, June 30, 2026
রামমন্দিরে অর্থ আত্মসাতে কোনো মুসলিম জড়িত থাকলে যোগী সরকার এতক্ষণে এনকাউন্টারে হত্যা করত: ওয়াইসি
গতকাল সোমবার উত্তর প্রদেশের পশ্চিমের বিজনৌর জেলায় এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে হায়দরাবাদের এই আইনপ্রণেতা ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘রামমন্দির ট্রাস্টে যদি কোনো মুসলিম থাকতেন, তাহলে এতক্ষণে সরকার তাঁকে এনকাউন্টারে হত্যা করত এবং তাঁর বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিত।’
অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে ‘বিলম্ব’ হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াইসি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বহুল আলোচিত এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুলিশ এমনকি হেফাজতে নেওয়ার আবেদনও করছে না।
এ নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়তে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, ‘ট্রাস্টে একজন মুসলিমকে রাখলেই হতো। তারপর তাঁকে এনকাউন্টারে হত্যা করে এবং তাঁর বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে মামলাটি শেষ করে দেওয়া যেত। কিন্তু এখন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’
এ সময় উপস্থিত জনতা জোরালো করতালির মাধ্যমে ওয়াইসির এ বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।
অযোধ্যায় বিতর্কিত ভূমিতে রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় আসার পর ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ গঠন করা হয়। এই ট্রাস্ট মন্দির নির্মাণকাজ দেখভালের দায়িত্ব পায়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রামমন্দির তৈরির কাজ উদ্বোধন করেন। মন্দির নির্মাণের জন্য ভক্তরা কোটি কোটি রুপি আর্থিক অনুদান ও গয়না দান করেন।
মোদির মন্দির নির্মাণকাজ উদ্বোধনের আড়াই বছর পর এখন সেই অনুদানের কোটি কোটি রুপি নয়–ছয় ও আত্মসাতের অভিযোগে ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে।
অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রামমন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই পদত্যাগ করেছেন।
ওয়াইসি এ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ সুরে বলেন, ‘চম্পত তো দিব্যি সুখে আছেন।’
কয়েক দিন আগেও ওয়াইসি উত্তর প্রদেশ সরকারকে একই প্রশ্ন করেছিলেন। সেবার তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘এ মামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি গুলি চালানো হবে বা তাদের বাড়ির ওপর কি বুলডোজার চালানো হবে—যেমনটি রাজ্যটিতে মুসলিমদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।’
রামমন্দিরের অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনা ভারতজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং তা বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেছে।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের জনসমক্ষে তোলা প্রশ্নের মধ্য দিয়ে যে বিষয়টি শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের মাধ্যমে তদন্তে রূপ নেয়। এরপর কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়, অপ্রদর্শিত নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয় এবং মন্দিরের কর্মী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে, অভিযুক্ত ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং মন্দিরের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ব্যাপক সংস্কারের দাবিও জোরদার করেছে।
চম্পত রাইয়ের পদত্যাগের পর ট্রাস্টি অনিল মিশ্রও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
গত ২৫ জুন ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়। এফআইআরে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। তাঁরা হলেন—অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব ও রাম শঙ্কর যাদব (টিন্নু নামেও পরিচিত)।
তাঁদের সবাই রামমন্দিরের অনুদান গণনার কাজে যুক্ত কর্মী। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া এফআইআরএ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামও এতে নেই।
২৬ জুন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে এমন যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করবে।
অনুদানের ঠিক কী পরিমাণ অর্থ চুরি গেছে তার সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মন্দিরের হিসাব থেকে প্রায় ৭ বা সাড়ে ৭ কোটি রুপি নগদ অর্থের হিসাব মিলছে না। এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
| আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ও যোগী আদিত্যনাথ। ছবি: এএফপি ও এএনআই |
Monday, June 29, 2026
বাবরি মসজিদ ভেঙে মোদির গড়া রাম মন্দিরে দুর্নীতির মহা কেলেঙ্কারি
পরবর্তীতে ওই স্থানকে কেন্দ্র করেই বিজেপি-সমর্থিত হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়। আড়াই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন রাম মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন। বহু হিন্দুর বিশ্বাস, এ স্থানই ভগবান রামের জন্মভূমি।
তবে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ইতিহাসের পর ভক্তদের কাছে ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠা এই মন্দির এখন বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায়। গত এক মাস ধরে অভিযোগ উঠেছে, ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদান ও মূল্যবান উপহার আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি।
ভক্ত ব্রজেশ কুমার আল জাজিরাকে বলেন, তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তার ভাষায়, যারা ধর্মের নামে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তারাই সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে।
রাম মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই ভারতের অন্যতম ব্যস্ত ধর্মীয় তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। মন্দিরটি পরিচালনা করে স্বাধীন সংস্থা ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’। যদিও ট্রাস্টটি সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নয়, এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিজেপির আদর্শিক সংগঠন আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়।
চলতি মাসে ট্রাস্টের হিসাব বিভাগের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মহিপাল সিং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলেও আল জাজিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।
এদিকে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির নেতা ও উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, মন্দিরের অনুদানের কোটি কোটি রুপি গায়েব হয়ে গেছে। বিরোধীদের চাপের মুখে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও সেটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এরই মধ্যে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করে অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনুদানের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনও রয়েছেন।
শুধু তাই নয়, আরও অনেক ভক্ত দাবি করেছেন, তারা ট্রাস্টের কাছে জমা দেওয়া রুপার ইট, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান উপহারের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শুক্রবার ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়সহ কয়েকজন প্রভাবশালী ট্রাস্টি পদত্যাগ করেন। রাম মন্দির আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হওয়ায় চম্পত রায়ের পদত্যাগ ঘটনাটিকে আরও অভিযোগগুলো আরো শক্তিশালী করে তুলেছে।
তবে পদত্যাগের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। হাজারো ভক্তের পাশাপাশি বিজেপির একাংশের সমর্থকরাও নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন এবং অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছেন।
সূত্র: আল জাজিরা

Sunday, June 28, 2026
রামমন্দিরে দুর্নীতি ঘিরে ভারতে তোলপাড়: আটজন গ্রেপ্তার, ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার
এ ঘটনায় উত্তর প্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ইতোমধ্যে বড়সড় গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী গোনার দায়িত্বে থাকা আটজনকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। মিলেছে কিছু বিদেশি মুদ্রাও। আগামীকাল ২৯ জুন পর্যন্ত তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুদান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মের চরম লঙ্ঘন ধরা পড়েছে। অনুদান গোনার সময় কর্মীদের তল্লাশি করা হয়নি। সেখানে কোনো নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন ছিল না। সিসিটিভি ফুটেজ ১৮০ দিনের বদলে মাত্র ৪৫ দিন সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অনুদান বাক্সের চাবি ছিল রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদবের কাছে। তিনি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন গাড়িচালক। এটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।
সূত্র জানায়, কর্মীদের পকেটবিহীন পোশাক পরার নিয়ম ছিল। কিন্তু তা মানা হয়নি। এসআইএস এজেন্সির কোনো নিরাপত্তারক্ষী ছিল না। এমনকি কোনো আচমকা তল্লাশিও চালানো হতো না। সিট জানিয়েছে, অনুদান গোনার দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত সুভাষ শ্রীবাস্তবকে নিয়ম ভেঙে নিয়োগ করা হয়েছিল। ট্রাস্টের অন্যতম শীর্ষ এক কর্মকর্তার সুপারিশে তার চাকরি হয়।
গত ৭ জুন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব প্রথম এই দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তার আগে প্রাক্তন এসপি বিধায়ক পবন পাণ্ডে বড়সড় দাবি করেছিলেন। তার মতে, সাড়ে সাত থেকে ২৭ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে। প্রথমে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি বলেছিলেন, অভ্যন্তরীণ অডিটে সন্দেহজনক কিছু মেলেনি। তবে ১৩-১৪ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার তিন সদস্যের সিট গঠন করে। এরপর ২৫ জুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের হয়। অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা, তিন্নু যাদব, মনীশ যাদবসহ আটজনের নাম রয়েছে এই এফআইআরে। এরপর গত শুক্রবার নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র।
গতকাল শনিবার মহারাষ্ট্রের ইয়াভাৎমাল-ওয়াশিম কেন্দ্রে একটি জনসভায় বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেন শিবসেনা (উদ্ধব) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। তিনি বলেন, বিজেপি হিন্দুদের আবেগের সঙ্গে খেলছে। তারা হিন্দুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মন্দির লুট করার এই হিন্দুত্বকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ‘বিজেপি-মুক্ত রাম’ গড়ার ডাক দিয়েছেন। এজন্য প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেবে তার দল। দলবদল করা সংসদ সদস্য সঞ্জয় দেশমুখের সমালোচনা করে উদ্ধব ভোটারদের কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, তার কথাতেই মানুষ ওই ‘কাকতাড়ুয়া’কে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু সে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
তিনি একনাথ শিন্ডের গোষ্ঠীকে আক্রমণ করে ফের ‘৫০ খোকা’ বা ৫০ কোটি টাকার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, আগে বিধায়কদের দাম ৫০ কোটি হলে এখন সাংসদদের দাম কত? অন্যদিকে, দলের নেতা সঞ্জয় রাউত অভিযোগ করেছেন, রাম জন্মভূমি ট্রাস্টে অনুদান দিলেও তারা কোনো রসিদ পাননি।
কংগ্রেসও এই ইস্যুতে বিজেপি, আরএসএস এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, সাধারণ মানুষ, গরিব নারী এবং শিশুদের জমানো টাকা এভাবে চুরি যাওয়াটা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এর পেছনে বড় চক্রান্তকারীদের হাত থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা প্রশ্ন তুলেছেন, আরএসএস এবং খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নজরদারিতে থাকা এই প্রকল্পে কীভাবে এমন দুর্নীতি হলো। তার অভিযোগ, ট্রাস্ট তৈরি হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নৃপেন্দ্র মিশ্র ও চম্পত রাইদের নিয়ে। মহীপাল সিং নামের যে ব্যক্তি প্রথম চুরির কথা জানিয়েছিলেন, তাকে উল্টে সরিয়ে দেওয়া হয়। খেরা বলেন, ধর্মকে হাতিয়ার করে চুরি চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যারা চুরি করেছে, তারাই আসলে হিন্দু ধর্মের অবমাননা করেছে।
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং এ ঘটনায় চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মহীপাল সিং এবং দীননাথ বর্মার মতো সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করা উচিত।
তার অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ১২ কোটি পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হলেও তার কোনো হিসাব নেই। বিজেপি, আরএসএস ও ভিএইচপি সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য ধ্বংস করছে। এই সংগঠনগুলো মঠ ও মন্দির দখলের চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ এফআইআর দায়ের করতে দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, আসল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্যও জানিয়েছেন, এফআইআরে মূল অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি বিজেপির হিন্দুত্বকে ‘নকল’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
তবে বিরোধীদের এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টিকে নিশানা করেছেন। তিনি অখিলেশ যাদবের দলকে ‘লাঠিয়াল গ্যাং’ বলে কটাক্ষ করেন। তার দাবি, এই দলগুলো বরাবরই রাম মন্দিরের বিরোধী। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তারা মিথ্যা ও বিষ ছড়াচ্ছে।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সিট তদন্তের পর এফআইআর হয়েছে এবং গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
সরকারি সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। সিট তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে কড়া সুপারিশ করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
![]() |
| মুঘল স্থাপনা বাবরি মসজিদ ভেঙে গড়া হিন্দুত্ববাদীদের সাধের রামমন্দির। ছবি: সংগৃহীত |
Saturday, June 27, 2026
রামমন্দিরের অর্থ আত্মসাতের দায় কি যোগী-মোদি সরকার একে অন্যের ওপর চাপাতে চাইছে by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রুপি ও গয়না চুরির এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে রাজনীতি সরগরম। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (এসপি), আম আদমি পার্টি (এপিপি), তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থীরা দাবি জানাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে তদন্ত চালাতে হবে। নইলে চুনোপুঁটিরা ধরা পড়বে, বড় বড় হোতারা অধরা থেকে যাবে।
অযোধ্যাকাণ্ড নিয়ে বিজেপির অভ্যন্তরেও চলছে মারাত্মক টানাপড়েন। আগামী বছর উত্তর প্রদেশের বিধানসভার নির্বাচন। বিরোধীরা এই চুরির জন্য রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কোণঠাসা করতে চাইলেও মুখ্যমন্ত্রীর অনুগামীরা দায়ভার থেকে দিল্লিকে ছাড় দিতে রাজি নন।
যোগীদের দাবি, অযোধ্যায় ট্রাস্ট গঠনসহ সব সিদ্ধান্তই কেন্দ্রীয় স্তরে নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে গঠিত হয়েছিল ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’। ট্রাস্টের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১২ জনই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত।
যোগীর অনুগামীদের আরও দাবি, ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নৃপেন্দ্র মিশ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত আস্থাভাজন ঘনিষ্ঠ এই আমলার ওপরেই ছিল মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব। তিনিই ছিলেন মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান। কাজেই দুর্নীতির দায়ভার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এড়াতে পারে না।
অযোধ্যায় বিতর্কিত রামমন্দির নির্মাণের সময় থেকে বিতর্ক লেগেই রয়েছে। কিন্তু সেই বিতর্ক গোটা দেশকে কখনো এমনভাবে তোলপাড় করেনি। এবারের দুর্নীতি দেশ-বিদেশের ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ ও সামগ্রী চুরির। কত কোটি টাকা নগদ ও কত কোটির গয়না চুরি হয়েছে, এখনো তার পূর্ণ হিসাব কারও কাছে নেই। অনুমান, মন্দিরের কোষাগার থেকে চুরি হয়েছে কয়েক শ কোটি টাকা।
অবশ্য বিরোধীদের অভিযোগ, আত্মসাৎ করা হয়েছে কয়েক হাজার কোটি রুপি। চুরির পরিমাণ কত, তা জানার সঠিক উপায় না থাকার কারণ, দানের অর্থ ও সামগ্রীর হিসাব রাখার কোনো বন্দোবস্তই মন্দির কর্তৃপক্ষ ঠিকমতো করেনি। কাজেই কে কত সোনার গয়না দিচ্ছে, কে কত রুপা দিচ্ছে, কে কত রুপি দান করছে—তা জানার উপায় ছিল না।
সমাজবাদী পার্টির (এসপি) পক্ষ থেকে প্রথম রামমন্দিরের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়। কিন্তু মন্দির পরিচালনা কমিটির কেউ কিংবা রাজ্য সরকার প্রাথমিকভাবে তা গায়ে মাখেনি। বিষয়টি ক্রমেই ঘোরালো হয়ে ওঠে।
একটি হিসাব নিরীক্ষক সংস্থা যখন জানায়, ট্রাস্টের কাজকর্ম অত্যন্ত অপেশাদার ও দানসামগ্রীর কোনো রেকর্ডই নেই। যখন চুরির অভিযোগে বিরোধীরা একযোগে সরব হতে থাকে, তখন রাজ্য সরকার এক বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা (এসআইটি) গঠন করে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে। গত শুক্রবার যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তা ওই এসআইটিরই উদ্যোগে।
উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকারের কাছে ‘এসআইটি’র জমা পড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরু থেকেই মন্দির পরিচালন কমিটির লোকজন ধারাবাহিকভাবে অনুদান চুরি করে গেছেন। প্রতিদিন দানসামগ্রী গোনা হয়। সে সময় কখনো সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হতো। কখনো এমনভাবে ক্যামেরা আড়াল করা হতো, যাতে চুরি ধরা না পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দানের অর্থকড়ি, গয়না লুকিয়ে রাখা হতো মন্দিরের শৌচাগারে। অভিযোগ, দৈনিক লাখ লাখ টাকা জমা পড়লেও হিসাবে দেখা যেত ক্রমেই তা কমতে কমতে কয়েক হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, মন্দিরের দায়িত্বে থাকা কেউ কেউ উত্তরাখন্ডের বিভিন্ন এলাকায় অবকাশযাপন কেন্দ্র তৈরি করে ব্যবসা ফেঁদেছেন। কেউ কেউ শপিং মল খুলে ফেলেছেন।
মজাটা হলো, যাঁদের ধরা হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশ মন্দিরে জমা পড়া অর্থ ও দানসামগ্রী গোনার কাজের সঙ্গে যুক্ত। বিরোধীরা সরব এ কারণেই। তাঁদের অভিযোগ, চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রকে কেন এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। কেন তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ এখনো কোনো এফআইআর করেনি। কেন মূল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ছেড়ে রাখা হয়েছে। কেনই–বা ট্রাস্ট ও মন্দির পরিচালন কমিটির শীর্ষ কর্তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না?
চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র দুজনেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) শীর্ষ নেতা। যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের কেউ চম্পতের গাড়িচালক ছিলেন, কেউ কেউ আবার অনিলের আত্মীয়। অভিযোগ রয়েছে, চুরি হচ্ছে জেনেও তাঁরা কেউ কোনো ব্যবস্থা নেননি। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধেই পুলিশ এফআইআর করেনি।
এ কারণেই বিরোধীরা অযোধ্যাকাণ্ডকে নতুনভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার করে তুলতে চাইছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, রাঘববোয়ালদের আড়াল করতেই চুনোপুঁটিদের ধরা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাজিব শুক্লা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, চাঁইদের আশীর্বাদ ছাড়া অনুগতদের পক্ষে এভাবে কোটি কোটি টাকা চুরি করা সম্ভব নয়।
কংগ্রেসের কে সি বেনুগোপাল বলেছেন, হিন্দুত্বের স্বঘোষিত অভিভাবকদের মুখোশ খুলে গেছে। ভগবানের নাম নিয়ে ভগবানের সম্পত্তি চুরি করতে তাঁদের বাধে না। এই পাপের মাশুল তাঁদের দিতেই হবে।
রামমন্দিরের অর্থ চুরি নিয়ে সরব আম আদমি পার্টি (এপিপি), তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থীরাও। উদ্ধব গোষ্ঠী শিবসেনা নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় রাউত বলেছেন, মন্দির নির্মাণের সময় উদ্ধব ঠাকরে এক কোটি রুপি নগদ ও চার কেজি রুপার ইট মন্দিরে দান করেছিলেন। মন্দির কর্তৃপক্ষ আজও তার রসিদ দেয়নি।
সঞ্জয়ের অভিযোগ, হাজার হাজার কোটি রুপি আত্মসাৎ করা হয়েছে, তারই কিছু অংশ বিজেপি খরচ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও শিবসেনা সংসদ সদস্যদের ভাঙাতে।
আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, মন্দিরের চাঁদা চোরদের প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো দরকার। তাঁর প্রশ্ন, চম্পত রাইদের গ্রেপ্তার করতে প্রধানমন্ত্রীর এত অনীহা কেন? কোথায় আটকাচ্ছে? কোটি কোটি রুপি চুরি সত্ত্বেও কেন এই নীরবতা?
রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যাচ্ছে বুঝতে পারছেন মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুত্ববাদী নেতা যোগী আদিত্যনাথ। এসআইটি গঠনের নির্দেশ তাঁরই। আটজনকে গ্রেপ্তারের পর তিনি বলেছেন, অপরাধীরা ছাড়া পাবে না। তবে বিরোধীরা যেন রামভক্তদের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেন। ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে তাঁরা যেন ছিনিমিনি না খেলেন।
অযোধ্যার রামমন্দিরে আজ যে চুরি ধরা পড়েছে, তার সূত্রপাত মন্দির তৈরির সময় থেকেই। বারবার মন্দির তৈরি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু রাজ্য বা কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার কোনো অভিযোগই দানা বাঁধতে দেয়নি। ২০২১ সালে মন্দির তৈরির জন্য ট্রাস্টের জমি কেনাকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির বিরাট অভিযোগ উঠেছিল।
অভিযোগ ছিল, কিছু ভূস্বামী ও জমি কেনাবেচা ব্যবসায়ী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই কোটি রুপিতে জমি কিনে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে ২০ কোটিতে বিক্রি করেছিল। সেই অভিযোগেরও তির ছিল বিজেপির দিকে। দলের ঘনিষ্ঠ চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের দিকে। অনিল মিশ্র ও তৎকালীন অযোধ্যার মেয়র হৃষিকেশ উপাধ্যায় ওই জমি লেনদেনের সাক্ষী ছিলেন। আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিং ও সমাজবাদী পার্টি ওই জমি লেনদেনের সিবিআই তদন্ত দাবি করেছিলেন।
বিরোধীরা এখনো রাজ্য সরকারের তদন্তের ওপর ভরসা রাখতে রাজি নন। তাঁদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে নতুনভাবে তদন্ত হোক। নইলে রাঘববোয়ালেরা পার পেয়ে যাবেন। মরবে চুনোপুঁটিরা।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কোণঠাসা করতে বিরোধীরা সচেষ্ট। বিরোধীদের সেই চেষ্টা বিজেপির অভ্যন্তরের যোগী আদিত্যনাথ বনাম অমিত শাহর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে অন্য মাত্রা দিতে পারে।
![]() |
| উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ফাইল ছবি: এএনআই |
ভারতে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইনের ঘোষণা দিলেন শুভেন্দু
অর্থাৎ এ আইন কার্যকর হলে ভারতে হিন্দুদের মধ্যে ভিন্ন ধর্ম গ্রহণের যে প্রবণাতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল তা আর ইচ্ছামত তারা গ্রহণ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে রাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নেবে সে আলোকে তাদের সিন্ধান্ত নিতে হবে।
শুক্রবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরের প্রবণতা এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। তার মতে, এ পরিস্থিতি রাজ্যের সামাজিক কাঠামো ও দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।
তিনি বলেন, কিছু সময়ের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং এনআরসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুভেন্দুর দাবি, বিজেপি সরকার সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আটক কেন্দ্রও গড়ে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দেশের সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা সিএএ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নন। সিএএ অনুযায়ী তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, যারা ভারতে বসবাস করেও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে অসম্মান করে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বিরোধিতা করে বা পেহেলগাম ইস্যুতে নীরব থেকে শুধু মানবতার কথা বলে, তাদের এমন কর্মকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গে বরদাশত করা হবে না।
সূত্র: এনডিটিভি

Wednesday, June 24, 2026
রামমন্দিরের দানের ৩৫০০ কোটি রুপির হিসাব নেই, নিরীক্ষায় উঠে এল আত্মসাতের কথা
ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও দক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য সেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ‘কাজের সুনির্দিষ্ট নিয়ম’ (এসওপি) তৈরির সুপারিশটি এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। আর এরই মধ্যে রামমন্দির কমিটির বিরুদ্ধে দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) মঙ্গলবার উত্তর প্রদেশ সরকারের কাছে এ বিষয়ে তাদের প্রাথমিক তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
২০২০ সালের নভেম্বরে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ট্রাস্টের দায়িত্ব ও জবাবদিহি ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছিল। তারা বলেছিল, ‘অর্থের লেনদেন, তথ্যের হিসাব, কর্মী ও অন্যান্য জিনিসপত্র সঠিকভাবে চালানোর জন্য প্রতিটি স্তরে একটি সুনির্দিষ্ট কাজের নিয়ম (এসওপি) তৈরি করা দরকার।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আর্থিক হিসাবের জন্য কোনো ‘সঠিক রেকর্ড’ নেই। তারা বলেছিল, কাজকর্ম চালানোর জন্য কোন কর্মকর্তার কী দায়িত্ব, তা স্পষ্ট নয় এবং পুরো বিষয়টি খুবই অপেশাদার। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেতরের তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা এবং একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা তৈরি করা কঠিন হবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ট্রাস্টের অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের কাছেও প্রশ্ন পাঠিয়েছিল, কিন্তু তাঁরা কোনো উত্তর দেননি।
ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে এ ধরনের কোনো নিয়মকানুনের (এসওপি) উল্লেখ নেই। ভেতরের কোনো নিরীক্ষা প্রতিবেদনও সেখানে দেওয়া নেই।
অযোধ্যায় বিতর্কিত রামমন্দির নির্মাণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ গঠন করা হয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত এই ট্রাস্ট কেবল নগদ টাকা হিসাবেই আনুমানিক ৩ হাজার ৫০০ কোটি রুপি দান পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাইরে গয়নাগাটির মতো অন্যান্য দান তো রয়েছেই।
ট্রাস্টের ভেতরের কিছু সূত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছে, ২০২০ সালের নভেম্বরে ট্রাস্টের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ওই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ভেতরের হিসাব পরীক্ষা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে পরামর্শ দিতে বলেছিলেন।
নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মন্দিরের তহবিল বা অর্থ-কড়ির হিসাব এবং তথ্য রাখার পদ্ধতিগুলো পরীক্ষা করে বেশ কিছু ত্রুটি খুঁজে পায়। তারা সম্ভাব্য বিপদের কথা তুলে ধরে তা সংশোধনের উপায় বাতলে দেয়।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম (এসওপি) থাকলে ‘সব স্তরে একটি গোছানো পরিবেশ তৈরি হবে, যা সব কর্মকর্তা মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন।’ একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছিল, অপেশাদার কর্মী ও তথ্যের অব্যবস্থাপনার কারণে ভুলভাল প্রতিবেদন তৈরি হবে, যা বাকি কর্মী ও পরিচালকদের বিভ্রান্ত করবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, কাজকর্ম চালানোর জন্য কোন কর্মকর্তার কী দায়িত্ব, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা খুবই অপেশাদার। আর্থিক প্রতিবেদনের জন্য (দানের) কোনো সঠিক রেকর্ড বা খাতা নেই। অর্থ লেনদেন বা কম্পিউটারে তথ্য তোলার পর তা দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার যাচাই করার কোনো ব্যবস্থা নেই। নির্দিষ্ট একটি কাঠামোর মাধ্যমে কার কী জবাবদিহি, তা ঠিক করতে হবে। কাজের সঠিক হিসাব ও ভালো ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকা খুবই জরুরি।
সম্প্রতি রামমন্দিরে দান করা গয়না এবং নগদ অর্থের হিসাব না মেলার অভিযোগ ওঠায় ট্রাস্টের কর্তারা বেশ চাপে পড়েছেন। ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বলেন, ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ যদি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সতর্কবার্তা আগেভাগে শুনত, তবে আজকের এই বিশৃঙ্খলা এড়ানো যেত।
প্রকৃতপক্ষে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গয়নার মতো অন্যান্য দানের অব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তারা পরামর্শ দিয়েছিল, একটি নির্দিষ্ট খাতা বা রেজিস্টার মেইনটেইন করে জিনিসপত্রের দানের হিসাব রাখা উচিত।
‘তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের’ অধীন হাজার হাজার কর্মী কাজ করা সত্ত্বেও সেখানে কোনো সঠিক মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগ বা কর্মী উন্নয়ন শাখা না থাকায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বিস্ময় প্রকাশ করেছিল। সেই সঙ্গে ‘ব্যাংকের হিসাব মেলানো, হিসাবের তথ্য কম্পিউটারে তোলা এবং নিয়মিত প্রতিবেদনের জন্য যোগ্য কর্মী নিয়োগের’ তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।
কম্পিউটারের তথ্য ব্যবস্থাপনা (ডেটা ম্যানেজমেন্ট) নিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ‘যে আইটি কোম্পানি এই কাজ করছে, তাদের তথ্য সুরক্ষা, সার্ভার কিংবা তথ্য চুরির ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা কেমন, তার কোনো সঠিক রেকর্ড পাওয়া যায়নি...আইটি কোম্পানির ডেটা এন্ট্রি ও ডেটাবেজ এবং তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা তদারক করার মতো ট্রাস্টের নিজস্ব কোনো অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই নেই।’
আইটি প্রতিষ্ঠান ও ট্রাস্টের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে ‘একজন যোগ্যকর্মী’ রাখার পরামর্শ দিয়ে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বলেছিল, এতে সব স্তরে তথ্যের আদান-প্রদান নিয়মের মধ্যে থাকবে। তারা সতর্ক করে বলেছিল, কম্পিউটার ও তথ্য সুরক্ষার এই নিয়ম বা নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এবং তথ্য চুরি বা ভুল তথ্য এন্ট্রির বড় ঝুঁকি থেকে যায়।
![]() |
| উদ্বোধনের জন্য সাজানো হয়েছে রাম মন্দির। ২১ জানুয়ারি, ২০২৪ ছবি: এএনআই |
Friday, June 12, 2026
উত্তর প্রদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ধর্মান্তরবিরোধী’ সেল গঠন হচ্ছে, কাকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ
রাজ্যপালের সচিবালয় থেকে রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য এবং পরিচালকদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটসহ সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কাউন্সেলিং সেবা, নজরদারিব্যবস্থা, ছাত্রকল্যাণ পদ্ধতি, তথ্য জানানোর প্রোটোকল জোরদার করতে এবং প্রতিরোধমূলক সুরক্ষাকবচ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথাকথিত প্রলোভন, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো অনৈতিক উপায়ে শিক্ষার্থীদের (ধর্মান্তর করার জন্য) প্রভাবিত করার অভিযোগ আসার পর রাজ্যপালের দপ্তর থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হলো।
আরেক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে, ভয় দেখিয়ে, মানসিক চাপ তৈরি করে বা অনৈতিক প্রলোভন দেখিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের চেষ্টা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য, অনৈতিক এবং আইনবিরোধী।’
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ‘প্রলোভন বা মানসিক চাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টার’ বিষয়ে ঘন ঘন প্রতিবেদন বা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে ‘র্যাডিক্যালাইজেশনবিরোধী’ (উগ্রবাদবিরোধী) ইউনিট বা ছাত্রকল্যাণ সেলগুলোকে অত্যন্ত সক্রিয় করতে হবে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ‘নৈতিক মূল্যবোধ, যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং আইনি অধিকার’ বিষয়ে বক্তৃতা ও সেমিনারের আয়োজন করে, চিঠিতে সেই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো সংস্থা, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি যদি ধর্মান্তরের চেষ্টার সঙ্গে জড়িত কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে রাজ্যের ধর্মান্তরবিরোধী আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’ এর আগেও প্রতিবেদন করেছিল, কীভাবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এবং রাজনৈতিক নির্দেশে এই ধর্মান্তরবিরোধী আইনের অপব্যবহার করেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও অন্যান্য সংগঠনের নজরদারি দলগুলো সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলমানদের হয়রানি করতে এই আইন ব্যবহার করছে।
কোনো অ-হিন্দু প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী যদি বিনা মূল্যে ক্লিনিক, বৃত্তি বা এমনকি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রার্থনাসভার আয়োজন করে, তবে তা নজরদারির আওতায় আসে এবং এরপর আইনি ও বেআইনি পথে হিন্দুত্ববাদীরা প্রশাসনের সহায়তায় হয়রানি শুরু করে।
এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা দেখা গেছে, যেখানে হিন্দুত্ববাদী কোনো গোষ্ঠী অভিযোগ দায়ের করেছে এবং প্রমাণ দুর্বল বা অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। কম সাজা হওয়ার হারের কারণে এ ধরনের গ্রেপ্তার, আদালতের মামলা এবং সহিংসতা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। আইনগুলো ধর্মান্তর রোধ করার জন্য নয়, বরং সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে ভারতের উত্তর প্রদেশের বেআইনি ধর্মান্তরকরণ নিষেধাজ্ঞা আইন, ২০২১-এর অধীনে মিথ্যা এফআইআর দায়ের করার বিষয়টিকে ‘উদ্বেগজনক প্রবণতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে (স্বরাষ্ট্র) এ ধরনের মামলায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা উল্লেখ করে একটি ব্যক্তিগত হলফনামা (এফিডেভিট) দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
![]() |
| ভারতের উত্তর প্রদেশের উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ধর্মান্তরবিরোধী সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে. ছবি। এএনআই |
Friday, February 13, 2026
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থীর জয়
২৯৯টি সংসদীয় আসনে গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ২৭০টির প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ঢাকা–৩ আসন থেকে জয় পেয়েছেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা। কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–৩ আসন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহীনুর ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট।
মাগুরা-২ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির নেতা নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বেয়াই। নিতাই রায় চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬টি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ১৮ ভোট।
বান্দরবান থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন সাচিং প্রু। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মো.সূজা উদ্দীন। তিনি পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট। সাচিং প্রু বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি বিএনপির মনোনয়নে ভোট করেছিলেন।
রাঙ্গামাটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন দীপেন দেওয়ান। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা। তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩১ হাজার ২২২ ভোট।
বিএনপি এবার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ছয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন পরাজিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন বাগেরহাট–১ আসনের কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও বাগেরহাট–৪ আসনের সোমনাথ দে।
এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি একজন করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী দিয়েছিল। তাঁরা দুজনই পরাজিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন খুলনা–১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এবং মৌলভীবাজার–৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৯ জন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টি দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ৬৭ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ১২ জন প্রার্থী নির্বাচন করেন।
| গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ওপরে বাঁয়ে), নিতাই রায় চৌধুরী, সাচিং প্রু (নিচে বাঁয়ে) ও দীপেন দেওয়ান। কোলাজ |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1756)
-
▼
August
(303)
-
▼
Aug 27
(10)
- দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন...
- ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
- ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ ...
- ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহ...
- ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল ...
- ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জা...
- ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ই...
- ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি ...
- পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ...
-
▼
Aug 27
(10)
-
▼
August
(303)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...











