Thursday, February 17, 2011

ক্রিকেট বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকা, ঢাকার মধ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, তার মধ্যিখানে চোখের মণির মতো এক মঞ্চ। সেই চোখ গোটা বিশ্বের দিকে তাকাল, আর গোটা বিশ্বও তাকাল বাংলাদেশের চোখে। এই অপূর্ব লগ্নই ভাস্বর হয়ে উঠল গতকাল সন্ধ্যায়—বাংলাদেশের মাটিতে উদ্বোধন ঘটল বিশ্বক্রিকেটের রোমাঞ্চকর মহোৎ সবের। অতীতের সাফল্যের ইতিহাসে যোগ হলো নতুন মাত্রা। উপমহাদেশীয় তিন দেশের মিলিত আয়োজনে বাংলাদেশই হলো অগ্রণী। আর রাজধানী ঢাকা এক সন্ধ্যার জন্য হয়ে উঠল বিশ্বক্রিকেটেরও রাজধানী। ‘ও পৃথিবী, এবার এসে, বাংলাদেশ নাও চিনে’ গানে স্বাগত জানানো হলো বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি জমকালো ছিল সন্দেহ নেই। তিন দেশের সংস্কৃতির উপস্থাপনও ছিল দৃষ্টিকাড়া। কিন্তু বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরার এ রকম সুযোগ যতটা বিরল, তত বিরল সৌন্দর্য সম্ভবত উপস্থাপন করা যায়নি। এ ধরনের অনুষ্ঠান যতটা সাবলীল ও চৌকষ হতে পারত, তা হয়েছে কি? বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি—সবই ছিল, কিন্তু ঘাটতি ছিল উৎ কর্ষের। এ ধরনের বিরাট আন্তর্জাতিক আয়োজনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের এই প্রথম। তবে অনুষ্ঠানের আয়োজন শেষপর্যন্ত সুসম্পন্ন হয়েছে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।
আজ সেরা ১০টি ক্রিকেট দলের অন্যতম বাংলাদেশ। এমন সাফল্য আর কোনো খেলাতেই নেই। এই আত্মবিশ্বাসই বাংলাদেশের ক্রিকেট অভিযান আর বিশ্বকাপ আয়োজনকে একসূত্রে গেঁথেছে। ১৬ কোটি মানুষের চোখে আজ একটাই স্বপ্ন—বহু বছর মনে রাখার মতো বিজয় অর্জিত হবে। জয়ের তৃষ্ণায় তৃষ্ণার্ত বাংলাদেশের আজ এটাই প্রত্যাশা। সমগ্র দেশবাসীর আস্থা ও প্রাণঢালা ভালোবাসা সাকিব বাহিনীর সঙ্গে আছে। নিকট অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও নিশ্চয় তারা সাফল্যের আরও বড় সোপান পার হবে। বাংলাদেশ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশ তাদের পাশে আছে।
কয়েক প্রজন্মের নিরলস প্রচেষ্টাতেই ক্রিকেট-মানচিত্রে বাংলাদেশ উজ্জ্বল স্থান করে নিয়েছে। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ক্রিকেটভক্ত দর্শক এবং বিসিবি থেকে শুরু করে আইসিসি—সবার প্রযত্নেই বাংলাদেশের ক্রিকেট পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তাদের সবাইকে অভিনন্দন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার হওয়ার আশা করেছেন। একই সঙ্গে উপমহাদেশের মানুষের মধ্যেও বন্ধুত্বের রাখিবন্ধন খেলা ছাপিয়ে বাকি সব ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ুক—এই প্রত্যাশাও আমাদের। ১৯ ফেব্রুয়ারির উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু হবে বাংলাদেশের। আর বাংলাদেশের মাটিতে শেষ খেলা হবে ১৯ মার্চ। এই এক মাস গোটা বাংলাদেশই সবার মনোযোগে থাকবে। শান্তিপ্রিয়তা ও অতিথিবাৎ সল্যে বাংলাদেশের সুনাম পুরোটা সময় অক্ষুণ্ন রাখার দায়িত্ব সরকার, রাজনৈতিক দলসহ সবার। ক্রিকেট বিশ্বকাপ জাতীয় উৎ সব হয়ে উঠুক, বিশ্বকাপের আয়োজন সর্বাঙ্গীণ সুন্দর হোক এবং জয় হোক ক্রিকেটের।

ইতিহাসের আলোকে শহীদ শামসুজ্জোহা by তুহিন ওয়াদুদ



ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে তিনটি মৃত্যু পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনে দেশের আপামর জনতাকে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি আসাদুজ্জামানকে, ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হককে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহাকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী হত্যা করে। এ তিনটি হত্যাই ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামকে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য প্রয়াস।
১৯৬৯ সালে শামসুজ্জোহা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। তাঁর জন্ম ১৯৩৪ সালের ৫ আগস্ট, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায়। ১৯৫৩ সালে রসায়ন বিভাগে বিএসসি অনার্স, ১৯৫৪ সালে এমএসসি, ১৯৫৭ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে বিএসসি অনার্স এবং ১৯৬৪ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন। ১৯৬৬ সালে তিনি প্রাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন এবং ১৯৬৮ সালে প্রক্টরের দায়িত্ব পান। শামসুজ্জোহা বাংলাদেশের ইতিহাসে অনিবার্য উচ্চারিত একটি নাম। তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন।
১৯৫২ সালের পর থেকে স্বাধীনতা অর্জন করা পর্যন্ত তৎ কালীন পূর্ববঙ্গ, পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ প্রতিদিন কোনো না কোনো আন্দোলনের ভেতর দিয়ে সময় অতিক্রম করেছে। ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের শোষণবিরোধী আন্দোলনে এ দেশের মানুষ ১৯৬৬-এর ছয় দফা ও ১১ দফার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৯ সালের শুরুতে ৪ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১১ দফা দাবির পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে। ৮ জানুয়ারি ১৯৬৯ বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি সংক্ষেপে ‘ডাক’ গঠন করে।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৭ জানুয়ারি পল্টনে সমাবেশ ও মিছিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে তাদের আন্দোলন শুরু করে। ২০ জানুয়ারি পাকিস্তানি পুলিশের গুলিতে মিছিল করা অবস্থায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা আসাদুজ্জামান শহীদ হন। আসাদুজ্জামানের মৃত্যুতে আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ওঠে। ওই দিনই আন্দোলনকারীরা বিশাল শোকযাত্রা করে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করে। ২১ জানুয়ারি হরতাল, ২২ জানুয়ারি শোক দিবস এবং ২৩ জানুয়ারি মশাল মিছিল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৩ জানুয়ারির কর্মসূচি শেষে ২৪ জানুয়ারি আবারও হরতাল ঘোষণা করা হয। ২৪ জানুয়ারি হরতালের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ দিনের হরতালে কয়েকজনের মৃত্যু হলে ২৫ জানুয়ারি আবারও হরতাল আহ্বান করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। সেদিনও হরতালে সেনাবাহিনীর গুলিতে মানুষের মৃত্যু হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন বেসামরিক কর্মকর্তাদের বিচারকাজ তখনো চলছিল। ‘জেলের তালা ভাঙব শেখ মুজিবকে আনব’—এই প্রত্যয়ও ছিল আন্দোলনকারীদের।
১ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান তাঁর কঠোর নীতি থেকে সরে এসে আলোচনার প্রস্তাব দেন। বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দিতে চাইলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান ঢাকায় এলে তাঁর বিরুদ্ধে নানা রকম প্রচারণা চলতে থাকে। আইয়ুব খান গেটের নাম পরিবর্তন করে আসাদ গেট করা হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শপথ দিবস পালন করে। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, মতিয়া চৌধুরী, রাশেদ খান মেননসহ অনেকে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। কিন্তু আইয়ুব খান অস্বীকৃতি জানান এবং ১২ ফেব্রুয়ারি চলে যান। ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক জোট ‘ডাক’ হরতাল পালন করে। ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে আগরতলা ষড়যন্ত্রমূলক মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে মেরে ফেলা হয়। এই খবর প্রচারিত হতেই বারুদের মতো জনতা রাস্তায় বের হয়ে আসে। সেদিন ক্ষুব্ধ জনতা মন্ত্রীদের বাড়িসহ অনেক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বাসায় আগুন লাগিয়ে দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কেন্দ্রীয় সরকার সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সান্ধ্যকালীন আইন জারি করে। সার্জেন্ট জহুরুল হকের মৃত্যুর খবরে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করার চেষ্টা করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ভাষাসৈনিক শামসুজ্জোহা স্পষ্টতই দেখতে পান আন্দোলনকারী ছাত্ররা মিছিল বের করলে অনেক ছাত্রের জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে ছাত্রদের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। সামনেই ছিল সেনাসদস্যরা। শামসুজ্জোহা নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন সেনাসদস্যদের। কিন্তু সেনাসদস্যরা তাঁর সব কথা উপেক্ষা করে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
শামসুজ্জোহা বলেছিলেন যদি সেনাবাহিনী গুলি করে, তা হলে প্রথমে তাঁর সামনে তিনি নিজেই দাঁড়াবেন। তাঁর কথাই সত্যি হয়েছে। এই খবর ঢাকায় পৌঁছামাত্র ঢাকার রাজপথ আন্দোলনকারীরা প্রকম্পিত করে তোলে। পরবর্তী আন্দোলনের মাত্রা এতটাই দুর্দমনীয় ছিল যে, নিঃশর্তভাবে বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে দিতে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয় এবং জেল থেকে মুক্তি পেয়েই তিনি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। এভাবেই গণমানুষের স্বাধিকারের সংগ্রাম স্বাধীনতার দিকে ধাবিত হয়। ঊনসত্তরে আসাদুজ্জামান, সার্জেন্ট জহুরুল হক, শামসুজ্জোহা—এ তিনজনের মৃত্যুর শোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি অকুতোভয় শিক্ষক শামসুজ্জোহার মৃত্যু দিবস। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর দিবসটিকে জোহা দিবস হিসেবে পালন করে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এ দিবসটিকে জোহা দিবস হিসেবে পালন করা প্রয়োজন। মৃত্যু দিবসে তাঁর প্রতি নিবেদন করছি সশ্রদ্ধ অঞ্জলি।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

চাচি সোনিয়াকে বিয়ের দাওয়াত দিলেন বরুণ

সব বিভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে চাচি সোনিয়া গান্ধীকে নিজের বিয়ের দাওয়াত দিলেন বরুণ গান্ধী। আগামী ৬ মার্চ বারানসিতে বাঙালি মেয়ে যামিনী রায়ের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবেন উত্তর প্রদেশের পিলিভিট থেকে নির্বাচিত বিজেপির এই সাংসদ।
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার নয়াদিল্লির ১০ জনপথ রোডে কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন বরুণ (৩০)। এ সময় তিনি চাচির সঙ্গে এক ঘণ্টা সময় কাটান এবং তাঁকে বিয়ের দাওয়াত দেন।
বিয়েতে কনে যামিনী রায় বরুণের দাদি ইন্দিরা গান্ধীর রেখে যাওয়া সোনার কারুকাজ করা একটি বেনারসি শাড়ি পরবেন। বরুণ পরবেন ধূতি ও কোর্তা।

প্রথম রাজকীয় সফরে কানাডা যাবেন উইলিয়াম ও কেট

প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন বিয়ের পর প্রথম রাজকীয় সফরে কানাডা যাবেন। জুন মাসের শেষ দিকে তাঁদের এই সফর শুরু হচ্ছে বলে জানা গেছে। আগামী ২৯ এপ্রিল উইলিয়াম ও মিডলটন বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন।
প্রিন্স উইলিয়ামের কার্যালয় থেকে গত বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন কানাডা সরকারের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তাঁরা আগামী ৩০ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত কানাডা সফর করতে পারেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার বলেন, এই সফর নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। এটি কানাডার সঙ্গে ব্রিটেনের রাজ পরিবারের অসাধারণ সম্পর্কের উদাহরণ।
জানা গেছে, কানাডা সফরে উইলিয়াম ও কেট রাজধানী অটোয়া, আলবার্টা, প্রিন্স এডওয়ার্ড দ্বীপ, কুইবেকসহ কয়েকটি স্থানে যাবেন। এর আগে ১৯৯৮ সালে ১৫ বছর বয়সে বাবা প্রিন্স চার্লস ও ভাই প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে কানাডা সফর করেন প্রিন্স উইলিয়াম।
উইলিয়ামের কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর উইলিয়াম প্রথমবারের মতো কানাডা যাচ্ছেন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি এমন এক দেশে যাচ্ছেন যে দেশটির সঙ্গে তাঁর পরিবারের আত্মার সম্পর্ক।

মুম্বাই পুলিশকে চালকবিহীন বিমান দেওয়া হচ্ছে

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করতে মুম্বাই পুলিশকে ২৪টি চালকবিহীন বিমান দেওয়া হচ্ছে।
মুম্বাই মিরর পত্রিকায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত খবরে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার তালিকায় এই বিমানের কথা উল্লেখ করেছে মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার। তবে খবরে কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
খবরে বলা হয়, ১১০ কোটি রুপির এই সরঞ্জাম কেনার কর্মসূচির আওতায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অ্যাসল্ট রাইফেল, বুলেট প্রুফ পোশাক, মালপত্র স্ক্যানার ও বোমা শনাক্তকরণ যন্ত্রও কেনা হবে।
দায়িত্ব পালনকালে মুম্বাই পুলিশের অনেক কর্মকর্তাকে এখনো শুধু বাঁশের লাঠির ওপর ভরসা করতে হয়। তাঁদের নেই কোনো রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা নিজেদের রক্ষার জন্য বর্ম-আচ্ছাদিত পোশাক।
মুম্বাই মিরর পত্রিকা জানায়, ভারতের মধ্যে এই শহরের পুলিশই সর্বপ্রথম চালকবিহীন বিমান পাচ্ছে।
২০০৮ সালে সন্ত্রাসী হামলার সময় তাদের মোকাবিলা করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় মুম্বাই পুলিশ ব্যাপক সমালোচিত হয়। ওই সন্ত্রাসী ঘটনায় নয় হামলাকারীসহ ১৭৫ জন নিহত হয়।

ওডিশায় এক জেলা প্রশাসককে অপহরণ করেছে মাওবাদীরা

ভারতের ওডিশা রাজ্যের মালকানগিরির জেলা প্রশাসক আর ভি কৃষ্ণকে অপহরণ করেছে মাওবাদীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় ভি কৃষ্ণ মোটরসাইকেলে দুই প্রকৌশলীসহ তিনজনকে নিয়ে একটি কালভার্ট পরিদর্শন করতে যান। ফেরার পথে জেলার চিত্রগোডা এলাকায় পৌঁছালে মাওবাদীরা তাঁদের অপহরণ করে। পরে ভি কৃষ্ণ বাদে বাকি তিনজনকে একটি চিঠি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। চিঠিতে মাওবাদীরা অবিলম্বে তাঁদের বিরুদ্ধে চালানো যৌথ বাহিনীর অভিযান বন্ধ এবং কারাগারে বন্দী সব মাওবাদীকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ জন্য তারা কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই বলেছেন, ভি কৃষ্ণকে উদ্ধারের সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সু চির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গত বুধবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সু চি ও তাঁর দলকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর দেশটি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হচ্ছে সু চির নিরাপত্তা বিধান করা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সু চির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও বলেন, সু চির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মিয়ানমার ও দেশটির সব নাগরিকের মৌলিক দায়িত্ব।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মিয়ানমারের ওপর পশ্চিমা অবরোধসহ অন্যান্য বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন না করলে সু চি ও তাঁর দলকে ‘করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে’ বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে।
গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে সু চি বলেন, মিয়ানমারের ওপর আরোপিত অবরোধ এই মুহূর্তে তুলে নেওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না। এ ছাড়া এই অবরোধ দেশের অর্থনীতির ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি। তাঁর এই মন্তব্যের পরদিনই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ওই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
সাত বছরের গৃহবন্দিত্ব থেকে গত বছরের নভেম্বরে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে গণমাধ্যম এই প্রথম সু চিকে হুমকি দিল।

যুক্তরাজ্যে নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার নিয়ে গণভোট ৫ মে

যুক্তরাজ্যে নির্বাচন-পদ্ধতি সংস্কার প্রশ্নে আগামী ৫ মে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে সংস্কার প্রশ্নে ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দুই দল কনজারভেটিভ পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটস বিপরীত অবস্থান নিয়েছে।
কনজারভেটিভ পার্টির নেতা প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের নেতা উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ গণভোট সামনে রেখে পাল্টাপাল্টি প্রচারণা শুরু করেছেন। এই প্রচারণার জন্য দক্ষিণ আমেরিকা সফর বাতিল করেছেন নিক ক্লেগ। উপপ্রধানমন্ত্রী ক্লেগ বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে এই গণভোট একটি মাইলফলক। জনগণ এই প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে তাদের মতামত দিতে পারবে।’
কনজারভেটিভ পার্টি বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। এই পদ্ধতিতে পার্লামেন্টের একটি আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে এই পদ্ধতি চালু রয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটস এই পদ্ধতি বাতিল করে বিকল্প ভোট (এভি) পদ্ধতি প্রবর্তনের পক্ষে।
এর আগে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের কিছু সদস্য গণভোট আয়োজনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে এই উদ্যোগ ব্যর্থ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সরকার গণভোট অনুষ্ঠানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ওই উদ্যোগ সফল হয়নি।
২০১০ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। পরে লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের সঙ্গে জোট করে দলটি সরকার গঠন করে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের ওই সমর্থনের মূল শর্ত ছিল নির্বাচনী আইনের সংস্কার। সেই শর্ত অনুযায়ী কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

কোকাকোলার প্রস্তুত প্রণালি ফাঁসের খবর নাকচ

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কোমল পানীয় কোকাকোলার প্রস্তুতপ্রণালি ফাঁস হওয়ার খবর নাকচ করে দিয়েছে কোকাকোলা কর্তৃপক্ষ।
কোকাকোলার মুখপাত্র কেরি ট্রেসলার বলেন, ‘আমাদের ব্যবসার সবচেয়ে গোপন বিষয় হলো কোকাকোলার প্রস্তুতপ্রণালি। এটা নিয়ে আমরা কখনোই সামনে আসব না।’ তিনি বলেন, কোকাকোলার প্রস্তুতপ্রণালি নিয়ে গণমাধ্যমের আগ্রহ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে জনগণও বিষয়টি জানতে চায়। কিন্তু আসলেতা ফাঁস হয়নি।
ট্রেসলার জানান, প্রস্তুতপ্রণালি ফাঁস হওয়া নিয়ে খবর প্রসঙ্গে কোকাকোলার জনসংযোগ বিভাগ কাজ করছে। ট্রেসলার নিশ্চিত করেন, প্রস্তুতপ্রণালি লিপিবদ্ধ করা কাগজপত্র ব্যাংকের ভল্টে নিরাপদে রক্ষিত আছে। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতপ্রণালি ফাঁস হওয়ার খবরে বলা হয়েছে, মাত্র দুজন লোক কোকাকোলার প্রস্তুতপ্রণালি জানেন। এই তথ্য অতিরঞ্জিত। আমরাও জানি না ঠিক কতজন ব্যক্তির ওই প্রস্তুতপ্রণালি জানা আছে। তবে তেমন ব্যক্তির সংখ্যা খুব কম।’
উল্লেখ্য, Thisamericanlife.org নামের একটি ওয়েবসাইট দাবি করে একটি পত্রিকায় তারা কোকাকোলা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের তালিকা পেয়েছে। এতে ওই পানীয় তৈরির সব উপাদানের সঠিক পরিমাণ রয়েছে।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সঞ্চয়পত্র আর মেয়াদি বন্ডের নিট বা প্রকৃত বিক্রি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
আলোচ্য সময়ে এক হাজার ৯৬৯ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও বন্ড বিক্রি হয়েছে। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
এর মধ্যে গত ডিসেম্বর মাসে প্রকৃত সঞ্চয়পত্র বিক্রি ঋণাত্মক পর্যায়ে ছিল। অর্থাৎ এই মাসে যেটুকু সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে আগে বিক্রীত সঞ্চয়পত্রের মূল পরিশোধ করতে গিয়ে। ডিসেম্বর মাসে এক হাজার ৪০৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আর এক হাজার ৫০৯ কোটি টাকা মূল হিসাব পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ জমা আমানত থেকে বাড়তি ৯৮ কোটি টাকা দিতে হয়েছে সঞ্চয় পরিদপ্তরকে। জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
নির্দিষ্ট সময় বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ওই সময়ের আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করার মাধ্যমে গ্রাহকদের মূল ফেরত দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকেই নিট বা প্রকৃত বিক্রি ধরা হয়।
জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সুদের হার হ্রাস ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া গত ডিসেম্বর মাসের শুরুতে সঞ্চয়পত্র ভেঙে শেয়ারবাজারেও বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে গেছেন অনেকে।
তাঁরা আরও জানান, সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর ১০ শতাংশ উৎ সে কর বলবৎ থাকায় বহু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আর সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন না।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছর থেকে চালু হওয়া পরিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রি ব্যাপকভাবে বেড়েছে, আর মূল পরিশোধের চাপও কম। অন্য সঞ্চয়পত্রের মূল পরিশোধের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিবার সঞ্চয়পত্রের বিক্রীত অর্থ দিয়েই তা নির্বাহ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আলোচ্য সময়ে দুই হাজার ৪৫৯ কোটি টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আর মূল পরিশোধ হয়েছে মাত্র ২৯ কোটি টাকা।
জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে নয় হাজার ১৩৯ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র ও বন্ড বিক্রি হয়েছে। একই সময় মূলধন ওঠানো হয়েছে সাত হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। এতে নিট বিনিয়োগ বা বিক্রি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা।
তবে সুদের অর্থ পরিশোধ করতে বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়। চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের সুদ পরিশোধের জন্য রাখা হয়েছে সাত হাজার ৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জুলাই-ডিসেম্বর মাসে সুদ বাবদ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন হাজার দুই কোটি টাকা।
জুলাই-ডিসেম্বরে প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও তিন বছর মেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগ বন্ডের নিট বিক্রি ঋণাত্মক পর্যায়ে রয়েছে।
চলতি অর্থবছর থেকে প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এতে আর নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। শুধু মূল পরিশোধ হচ্ছে। ছয় মাসে মূল পরিশোধ হয়েছে ২০১ কোটি টাকা।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা আর মূল পরিশোধ করতে হয়েছে দুই হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা।
জনপ্রিয় পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৫৫ কোটি টাকার আর ৩৫০ কোটি টাকার মূল পরিশোধ হয়েছে। এতে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০৫ কোটি টাকা।
এ ছাড়া জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর পরিচালিত বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড, ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, তিন বছর মেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগ বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড—এই পাঁচটি বন্ডের নিট বিক্রি হয়েছে ৭০ কোটি টাকা। জুলাই-ডিসেম্বর মাসে ৫৫০ কোটি টাকার বন্ড বিক্রি হয়েছে। আর মূল পরিশোধ হয়েছে ৪৮০ কোটি টাকা।

আমেরিকায় গত বছর রপ্তানি বেড়েছে ১৬%

বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানি ২০১০ সালে তার আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্টোভাবে বললে, আমেরিকায় বাংলাদেশের রপ্তানি গত বছর এই হারে বেড়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০১০ সালে আমেরিকা বাংলাদেশ থেকে ৪২৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। আর ২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার। আর ২০০৮ সালে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৭৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।
অর্থাৎ বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি তার প্রধান বাজারে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, এই প্রথমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বার্ষিক সামগ্রিক রপ্তানি ৪০০ কোটি ডলার অতিক্রম করল।
২০০৯ সালে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পেছনে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়াই মূল কারণ ছিল। মন্দাজনিত কারণে চাহিদা ও দাম কমে যাওয়া পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২০১০ সালে আমেরিকা থেকে পণ্য আমদানিও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালে যেখানে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল, সেখানে গত বছর এই আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ কোটি ৭২ লাখ ডলার। আর ২০০৮ সালে ছিল ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার।
সামগ্রিকভাবে আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে ভারসাম্য বাংলাদেশের অনুকূলে রয়েছে। ২০১০ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত ছিল ৩৭১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। আর ২০০৯ সালে এই বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত ছিল ৩২৬ কোটি ৫১ লাখ ডলার। অবশ্য ২০০৮ সালে এই উদ্বৃত্ত ছিল ৩২৮ কোটি ডলার।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় সব পণ্যকেই উচ্চহারে আমদানি শুল্ক দিয়ে প্রবেশ করতে হয়।
বাংলাদেশি পণ্য আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করতে গড়ে ১৫ শতাংশ হারে শুল্কারোপের মুখে পড়ে। কম্বোডিয়ার পণ্যের ক্ষেত্রে দিতে হয় ১৭ শতাংশ। অথচ একই সময়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এক শতাংশের কম হারে শুল্ক প্রদান করে।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডেমোক্রেটিক লিডারশিপ কাউন্সিলের (ডিএলসি) তথ্যানুসারে, ২০১০ সালের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বাংলাদেশ থেকে ২৩০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ৩৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার আদায় করেছে আমদানি শুল্ক হিসেবে। আর একই সময়ে কম্বোডিয়া থেকে ১২০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে শুল্ক আদায় করা হয়েছে সাড়ে ১৯ কোটি ডলারের।
অথচ একই সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে দুই হাজার ৭৯০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্য আমদানির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মাত্র সাড়ে ১৯ কোটি ডলারের আমদানি শুল্ক আদায় করেছে। শুল্কের হার মাত্র দশমিক ৭০ শতাংশ।
আবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সমন্বিতভাবে ১৭ হাজার ৭৪০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে আদায় করা শুল্কের পরিমাণ মাত্র ১৯৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গড় শুল্কের হার মাত্র এক দশমিক ১০ শতাংশ।
গত বছর ডিসেম্বর মাসে জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) এশিয়া ও আফ্রিকার সাংবাদিকদের এক কর্মশালায় একটি অধিবেশনে এসেছিলেন ডব্লিউটিওতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল পুংকে। তাঁর কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ার পরও কেন বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়াকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে উচ্চহারে ও বেশি পরিমাণে শুল্ক দিতে হয়?
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে এটুকুই বলেছিলেন, ডব্লিউটিওর হংকং ঘোষণার আলোকে আমেরিকা স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে ছাড় দিয়ে আসছে। হংকং ঘোষণায় এলডিসিগুলো থেকে মোট উৎ পাদিত পণ্যের ৯৭ শতাংশকে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিতে উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তবে অবশ্য আমেরিকা ছাড়া আর সব উন্নত দেশই বিভিন্নভাবে এলডিসির শতভাগ পণ্যকে বাজার সুবিধা দিয়ে দিয়েছে।

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরের রেকর্ড অর্জন

অনেক সীমাবদ্ধতা। আছে ব্যর্থতাও। তবু এসব ছাপিয়ে কেবল কায়িক শ্রমনির্ভর প্রযুক্তি দিয়েই কনটেইনার পরিবহনের রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। কনটেইনার পরিবহনের হার বাড়ার দিক থেকে এটি এখন বিশ্বের সেরা ১০টি বন্দরের একটি।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের রেকর্ডের এই তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে, এক দিনে এক জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ ভোগ্যপণ্য খালাস, এক মাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার ওঠানো-নামানো। এ ছাড়া কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সংখ্যার দিক থেকেও বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের এই বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরটি।
চট্টগ্রাম বন্দরে দুই বছর সাত মাস দায়িত্বে থাকাকালে এসব অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেছেন এর বিদায়ী চেয়ারম্যান কমোডর আর ইউ আহমেদ। বন্দর ত্যাগ করার আগে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বন্দরে কনটেইনার পরিবহনের হার বাড়ার অর্থ হচ্ছে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে।’ তিনি জানান, তৈরি পোশাকশিল্পের রপ্তানি বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও। এর প্রতিফলন ঘটছে কনটেইনার পরিবহনের প্রবৃদ্ধিতে।
গণতান্ত্রিক পরিবেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হওয়ায় আগামী দিনেও এ রকম অর্জন আরও বাড়বেই—দৃঢ় মন্তব্য বিদায়ী চেয়ারম্যানের।
বন্দর পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্দর জেটিতে এক দিনে এক জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ভোগ্যপণ্য খালাসের নতুন রেকর্ড হয়েছে গত শুক্রবার। এদিন সরকারি খাদ্য বিভাগের চালবাহী জাহাজ এমভি কোরাল থেকে বস্তাভর্তি চাল খালাস হয়েছে চার হাজার ২৫৭ দশমিক ৯৫ টন।
পরিবহন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গোলাম ছরওয়ার প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন, ‘বন্দরের পরিসংখ্যানে জেটিতে এক দিনে এত বেশি ভোগ্যপণ্য খালাসের তথ্য নেই।’ এর আগে ১৯৯৪ সালের ২ মার্চ এমভি লুনা-২ নামের জাহাজ থেকে এক দিনে সর্বোচ্চ চার হাজার ৯৯ টন ভোগ্যপণ্য খালাস হয়েছিল।
গত অর্থবছরে বন্দরের প্রতিটি জাহাজ থেকে দিনে গড়ে ব্যাগভর্তি পণ্য খালাসের পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৪৬ টন।
বিশ্বের সেরা বন্দরগুলোতে চট্টগ্রামের চেয়ে অনেক বেশি পণ্য খালাসের দৃষ্টান্ত আছে। তবে তারা পণ্য খালাস করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে এই অর্জন হয়েছে কার্যত কায়িক শ্রমনির্ভর প্রযুক্তি দিয়ে।
বন্দরের খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক মো. সালাহউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, চার গ্যাং শ্রমিক, জাহাজের তিনটি ক্রেন ও একটি শোর ক্রেনের সাহায্যে সরকারি আমদানির এই চাল খালাস হয়েছে। ক্রেনের সাহায্যে নামিয়ে সরাসরি ট্রাকে বোঝাই করতে পর্যাপ্ত ট্রাকও পাওয়া গেছে। এসবের সমন্বয়ে এমন অর্জন সম্ভব হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে কনটেইনার পরিবহনের হার বাড়ার দিক থেকে বিশ্বের সেরা দশের তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল নবম। তবে ২০১০ সালে তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
তবে চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র দাবি করেছে, এখানে কনটেইনার পরিবহনের হার ২০০৯ সালে যেখানে সাড়ে ৮ শতাংশ ছিল, সেখানে ২০১০ সালে তা ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশে উঠেছে।
আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব পোর্ট অথরিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব পোর্টস অ্যান্ড হারবারস ও কার্গো সিস্টেমস প্রভৃতি সংস্থা বিশ্বের সেরা ১০০ বন্দর নিয়ে বছরভিত্তিক র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে থাকে। এসব সংস্থার তালিকা অনুযায়ী, ২০০৮ সালে সংখ্যার দিক থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দর ৯৪তম অবস্থানে ছিল, যা ২০০৯ সালে হয় ৯০তম। ২০১০ সালের বিশ্ব র্যাঙ্কিং এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে নতুন তালিকায় চট্টগ্রাম আরও এগিয়ে থাকবে বলে মনে করেন বন্দরের সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ।
মাসভিত্তিক সর্বোচ্চ কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সর্বোচ্চ অর্জন হয়ে গেল জানুয়ারি মাসে। এ মাসে কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৩০০ ইউনিট (টিইইউ)।
বন্দরের টার্মিনাল ব্যবস্থাপক এনামুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বন্দরের ইতিহাসে এক মাসে এত বেশি কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা বাড়লে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা আরও বাড়বে।

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ফোর্স সেল অনৈতিক: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ফোর্স সেল অনৈতিক। গ্রাহকদের জিজ্ঞেস করাই হবে না, এটা ঠিক না। আজ শুক্রবার সকালে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ফোর্স সেল বন্ধ করার পাশাপাশি মূলধন বৃদ্ধি করার কথাও বলেন। ফোর্স সেল বন্ধ করলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো কোনো সমস্যায় পড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, না পড়বে না।
মার্জিন ঋণের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রাহক ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে মার্জিন লোনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংক বাজারের বড় অংশ। কিন্তু তাদের নিজেদের সম্পদ বাড়ানোর সুযোগ কম। তাদের সম্পদ বাড়ানোর জন্য একটি নীতিমালা করা হবে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে বুঝতে হবে যে যারা আজকে বাজারে এসেছে, তাদের অনেকেই খুব বেশি অভিজ্ঞ নয়। বিনিয়োগকারীদের অধিকতর সচেতন করার দায়িত্বও তাদের রয়েছে।
এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার বলেন, নিজস্ব মূলধন বাড়ানোর জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে প্রস্তাব দিতে বলেছি।
কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন বিষয়ে এসইসি চেয়ারম্যান বলেন, একেকজন একেকভাবে কাজটি করছে। এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা করা হবে। এরই মধ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ার আসার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে তা সংশোধন করে ইতিমধ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরি হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই তা চূড়ান্ত করা হবে।
এ সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মর্তুজা আহমেদসহ এসইসি শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টিকিট নিয়ে বিশৃঙ্খলা শ্রীলঙ্কায়ও

টিকিট নিয়ে যেন তুঘলকি কারবার চলছে। বাংলাদেশে তো অব্যবস্থাপনা আছেই, শ্রীলঙ্কাও মুক্ত হতে পারেনি এই ‘যন্ত্রণা’ থেকে।
গত মঙ্গলবার মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রস্তুতি ম্যাচের টিকিট থাকলেও অনেকেই মাঠে ঢুকতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে ভাউচার নিয়েও ঘোরাঘুরি করে বাড়ি ফিরেছে অনেকে। একই দৃশ্য সেদিন দেখা গেছে শ্রীলঙ্কাতেও। টিকিট হাতে নিয়েও কলম্বোতে অনেক দর্শক মাঠে ঢুকতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে। এমনকি প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ঢুকতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন সাংবাদিকেরাও।
এসব নিয়ে বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ আইসিসি। এক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, ‘আমাদের নিশ্চিত হওয়া দরকার, ভবিষ্যতে এসব আয়োজন ভালোভাবে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় থাকতে হবে সবার। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রেমাদাসায় পরের ম্যাচেই এটা দেখতে চাই আমরা।’
কলম্বোর জাতীয় দৈনিক ডেইলি মিরর লিখেছে, পুরো আয়োজনটাই ভণ্ডুল করে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। পত্রিকাটি লিখেছে, কোথা থেকে টিকিট কিনবে, সেটা নিয়েও দ্বিধান্বিত ছিল দর্শকেরা। স্টেডিয়ামের একমাত্র টিকিট কাউন্টারও ধারেকাছে নেই, সেটাও প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। বিশ্বকাপের সাতটি ম্যাচ হবে এই প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।

রোমাঞ্চিত ‘ওপেনার’ পিটারসেন

ক্রিকেট তার ইতিহাসেই কেভিন পিটারসেনের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান খুব বেশি দেখেনি। তাঁর ক্রিজে থাকা মানেই রানের ফুলঝুরি। পরোয়া করেন না কোনো বোলারকেই। বলকে অবলীলায় সীমানা ছাড়া করতে ভালোবাসেন। বিশ্বকাপেই ইংল্যান্ডের হয়ে ওপেনিংয়ে নামার সম্ভাবনা দেখে দারুণ উত্তেজনা অনুভব করছেন তিনি। চোখ যেন চকচক করছে কেপির, ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতার সুযোগ নিয়ে ব্যাটকে বানিয়ে ফেলবেন তরবারি। গত পরশু কানাডার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেই ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান।
মার্কাস ট্রেসকোথিকের অবসরের পর থেকেই উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো রান পাচ্ছে না ইংল্যান্ড। ওপেনাররা যেমন পারছেন না দ্রুত রান তুলতে, তেমনি পারছেন না বড় ইনিংস খেলতেও। যদিও অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস গত বছরই ওয়ানডেতে তাঁর সেরা সময় কাটিয়েছেন।
সাধারণত চারে ব্যাট করা পিটারসেন ফতুল্লার ওই ম্যাচে ওপেনিংয়ে নেমে ৩টি চার ও একটি ছয়ে সাজিয়ে ২৮ বলে করেছেন ২৪ রান। কানাডার সঙ্গে ২৪৩ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। তবে উইকেটকিপার ম্যাট প্রিয়রের ৭৮ ও জোনাথন ট্রটের ৫৭ রান ছাড়া এই রানও তারা করতে পারত না।
মাত্র ২৮ রানে প্রথম ৫ উইকেট হারানো কানাডা দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে। সাত নম্বরে নেমে ৭০ বলে ৯৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে কানাডাকে প্রায় জিতেই দিয়েছিলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত রিজওয়ান চিমা। ১০ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কাও মারেন এই অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত ২২৭ রানে গিয়ে থামে কানাডার সাহসী জবাব। চোট থেকে ফেরা স্টুয়ার্ট ব্রড ও আজমল শেহজাদের বোলিংয়েই বিপর্যস্ত হয় কানাডা। ব্রড পাঁচটি ও শেহজাদ দুটি উইকেট পেয়েছেন।
ম্যাচ শেষে টিভি চ্যানেল স্কাই স্পোর্টসকে পিটারসেন বলেছেন অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ প্রান্তেই তাঁর ওপেনিংয়ে নামা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, ‘এটি সত্যিই দারুণ! বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে চমৎ কার একটি ব্যাপার। অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ প্রান্তেই এটা নিয়ে আলোচনা হয়। আমরা অনুভব করছি ইনিংসের শুরুতেই ব্যাট করার দারুণ সময়। আমি আমার স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাচ্ছি। এটা পিঞ্চ হিটিংয়ের ভূমিকা নয়। আমাকে এটা দেওয়া হয়েছে এবং আমি দারুণ উত্তেজিত ছিলাম। দলের সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিল। দারুণ লাগছে। অনুভূতিটা দুর্দান্ত।’
কানাডার সঙ্গে খেলা নিয়েও কথা বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ক্রিকেটার। ব্রড, শেহজাদ, প্রিয়র ও ট্রটের প্রশংসাও করেন কেপি। ম্যাচটা জমিয়ে দেওয়ায় কানাডার রিজওয়ান চিমাকেও ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি, ‘তাঁকে অভিবাদন, কিন্তু ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতেছি।’

বার্সার হার আর্সেনালে

নিজেদের মাঠ এমিরেটসে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে আর্সেনাল। এএস রোমাকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দিয়েছে শাখতার দোনেৎ স্ক। সান সিরোতে টটেনহাম হটস্পারের কাছে এসি মিলান হেরে গেছে ১-০ গোলে। রাউলের ৭১তম ইউরোপিয়ান গোলে ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে শালকে জিরো ফোর।
আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে তো বটেই, বার্সেলোনা এবার টুর্নামেন্টেরই ফেবারিট। এই বার্সেলোনাই কিনা ডেভিড ভিয়ার গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে গিয়েও শেষ ১২ মিনিটে রবিন ফন পার্সি ও আন্দ্রেই আরশাভিনের গোলে হেরে গেল আর্সেনালের কাছে। ‘তবু বার্সেলোনাই ফেবারিট’—আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার বলেছেন ম্যাচের আগে, যেমনটি তিনি আগেও অনেকবার বলেছেন।
ওয়েঙ্গারের এটাই বলার কথা। গত বছর কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতি এখনো মুছে যাওয়ার কথা নয়! প্রথম লেগে বার্সেলোনার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্রর পর দ্বিতীয় লেগে লিওনেল মেসির জাদুতে ‘গানার’রা উড়ে গিয়েছিল ৪-১ গোলে। এবারও প্রথম লেগে আর্সেনালের ‘ভয়’ ছিল এই মেসিকেই। ‘মেসিকে কোন দল ভয় না পায়? বার্সেলোনার বিপক্ষে খেললে আমাদের অন্যতম পরিকল্পনা থাকে মেসিকে কীভাবে আটকে রাখা যায় তা। কিন্তু ওকে কি একদম শান্ত রাখা যায়!’
আসলেই যায় না। আর্সেনালের রক্ষণভাগকে তটস্থ রেখে প্রথমার্ধে বার্সেলোনা যে দারুণ কিছু আক্রমণ করল, তা মেসির নেতৃত্বেই। মেসি ও ভিয়া মিলে প্রায় আধা ডজনের মতো গোল মিস না করলে প্রথমার্ধেই আর্সেনালকে ভেঙেচুরে দিতে পারত বার্সা। আর দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের দর্শন থেকে সরে এসে একটু রক্ষণাত্মক হয়ে পড়া বার্সা গোল দুটি হজম করেছে রক্ষণের ভুলে। তবে কোচ পেপ গার্দিওলা গোল মিসকেই দেখিয়েছেন বড় করে।
আগুনের বিপক্ষে আগুন দিয়েই লড়াই করে জিতলেন ওয়েঙ্গার। ন্যু ক্যাম্পেও ফুটবল-বিশ্বকে এমন একটি লড়াইয়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলেন বার্সা কোচ গার্দিওলা, ‘দ্বিতীয় লেগে তারাও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে, আমরাও তাই খেলব।’

আলোর রাজ্যে অন্য আলো

এতটা চাপে আগে কখনো কি ভুগেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল? দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে চাপ আছে। আছে ভালো খেলার চাপ। মাঠের এসব চাপের সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশ্বকাপের টিকিটের চাপও। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপের এই একটা ‘অপকারিতা’ খুঁজে পেলেন জাতীয় দলের ব্যাটসম্যান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ প্রতিটি ম্যাচের জন্য পাঁচটি করে সৌজন্য টিকিট পেয়েছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। জনসংযোগে সবচেয়ে দুর্বল খেলোয়াড়টির পক্ষেও এত কমসংখ্যক টিকিট দিয়ে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন, আশরাফুলের পক্ষে তো অসম্ভবই। কাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে বিশ্বকাপের চাপ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সবার আগে এই চাপটার কথাই বললেন আশরাফুল, ‘বিশ্বকাপ দেশে হচ্ছে। সবাই শুধু টিকিট চায়। কিন্তু এত কম টিকিট পেয়েছি...খুব চাপে আছি।’ আশরাফুলদের জন্য সুখবর, অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নাকি ক্রিকেটারদের জন্য আরও কিছু টিকিটের সুপারিশ করেছেন বোর্ডের কাছে।
আশরাফুলের মতো টিকিটের চাপ আছে দলের অন্য খেলোয়াড়দের ওপরও। তবে এটাকে মধুর সমস্যা ধরে নিয়ে সবাই এখন বিশ্বকাপেই মনোযোগী। আর এই চাপের অন্য অর্থ তো মানুষের ভালোবাসাও!
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে ক্রিকেটারদের প্রতি ভালোবাসা আর সমর্থন জানাচ্ছে গোটা দেশের মানুষ। পরশু সন্ধ্যায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের ডেকে তাঁদের পাশে থাকার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, ‘টাইগাররা যেন টাইগারের মতো খেলে।’ শুধু তা-ই নয়, ব্যর্থতায়ও দলের সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) সব সময় ইতিবাচক কথা বলে আমাদের উৎ সাহ দেন। এটা ক্রিকেটারদের জন্য অনেক বড়’—প্রধানমন্ত্রীর কথায় যেন সব চাপই উড়ে গেছে আশরাফুলের।
দেশের মানুষ বিশ্বকাপ নিয়ে কতটা উন্মাদনায় ভুগছে, সেটা পরশু রাতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। রাজপথের জনস্রোত মিশেছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। রাতের অন্ধকারেও লাল-সবুজের সমারোহ খুঁজে নিতে অসুবিধা হয়নি বিশ্বকাপের আলোয়। ছবি তোলা, আড্ডা আর ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানে মধ্যরাতে জেগেছিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম।
কাল দুপুরে অনুশীলন করে মিরপুর স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় সে রকম উৎ সবের মধেই পড়ে গেলেন ওপেনার ইমরুল কায়েস। স্টেডিয়ামের গেটে দর্শকদের কৌতূহলী ভিড়। ‘বলে বোঝাতে পারব না আমার কী রকম লেগেছে...অসাধারণ! মানুষ বিশ্বকাপের জন্য এভাবে অপেক্ষা করছে!’—কিছুটা আবেগই যেন ছুঁয়ে গেল ইমরুলের কণ্ঠ। বিশ্বকাপ সামনে রেখে আলোকিত নগর, প্রত্যাশার ঢেউ, কোনোটার অর্থই অবশ্য ইমরুলের কাছে চাপ নয়, ‘এটা অন্য রকম একটা অনুভূতি। চাপ নয়, আমি বরং এসব উপভোগই করছি। আর চাপ-টাপ যা নেওয়ার তা তো জাতীয় দলে প্রথম খেলতে আসার দিনই নিয়েছি।’
বিশ্বকাপ নিয়ে মানুষের উন্মাদনা উপভোগ করছেন পেসার রুবেল হোসেনও। প্রত্যাশার এই চাপ মেনে নিয়েই এগোতে চান তিনি, ‘চাপ তো থাকবেই। কিন্তু এটা মাথায় রাখা যাবে না। মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করতে হবে।’ আরেক পেসার শফিউল ইসলামের কাছে পুরো ব্যাপারটাই ঘোরের মতো। দেশের মাটিতে খেলা বলে বিশ্বকাপের চাপটা বেশি মানছেন তিনিও, ‘আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব—সবার এক কথা, ভালো খেলতে হবে। এত আয়োজন, এত সাজসজ্জা সার্থক হবে যদি আমরা ভালো খেলি।’ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এই তরুণ পেসারের সঙ্গী প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স, ‘দুটি ম্যাচেই ভালো বল করেছি। এটা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।’
শাহরিয়ার নাফীসের এটা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। দেশের মাটিতে খেলা হলেও এই বিশ্বকাপটাই বরং চাপহীন মনে হচ্ছে তাঁর কাছে, ‘আমার তো মনে হচ্ছে, দেশের মাটিতে খেলা বলে চাপ এবারই কম। বিশ্বকাপ খেলতে যাব, কী হয় না হয়—এসব নিয়ে আগেরবারের মতো টেনশন নেই। সবাই পরিচিত, সব মাঠ পরিচিত। আমার তো ভালোই লাগছে।’
বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দিয়ে কাল শুরু হচ্ছে আসল বিশ্বকাপ। এত আয়োজন, এত প্রত্যাশার মধ্যে বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটারদের নির্ভার মুখ আশা জাগায়। রাজপথের আলোকসজ্জার সঙ্গে তাঁদের আত্মবিশ্বাসের রোশনাইও দ্যুতি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশে প্রথম বিশ্বকাপের।

ধোনিতে আড়াল টেন্ডুলকার!

আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচই তো। তবু চেন্নাইয়ের চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি ছিল অন্য রকম। আলোর অভাব ছিল না। শচীন টেন্ডুলকারের ২২ গজে ফেরার ম্যাচ বলে কথা। তবে যাঁর কারণে ম্যাচটিকে ঘিরে এত আলো, সেই টেন্ডুলকার কিন্তু ঢাকা পড়ে গেলেন ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ছায়ায়। ভারতকে জেতাতে ৬৪ বলে অপরাজিত ১০৮ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দিয়েছেন ভারত অধিনায়ক।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে একটি মাত্র ওয়ানডে খেলেই দেশে ফিরতে হয়েছিল টেন্ডুলকারকে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪টি ম্যাচ খেলেছে ভারত। খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ। টেন্ডুলকার ছিলেন মাঠের বাইরে।
পরশু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফিরলেন ওয়ানডে ক্রিকেটে যাদের বিপক্ষে রয়েছে তাঁর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৮৬ রানের ইনিংস।
শেবাগের সঙ্গে টেন্ডুলকারই হয়তো ভারতীয় ইনিংসের গোড়াপত্তন করবেন, তবে প্রস্তুতিটা তাঁর ভালো হলো না। টিম সাউদির বলে বোল্ড হওয়ার আগে মাত্র ১৭ রান করেছেন। টেন্ডুলকারকে জায়গা করে দিতে দুইয়ে নেমে যাওয়া গৌতম গম্ভীর ৮৫ বলে ৮৯ রান করেছেন। ২৬ বলে ৫০ রানের মারমার কাটকাট (৪টি চার ও ৩টি ৬) ইনিংস খেলেছেন সুরেশ রায়না। তবে টেন্ডুলকারের ফেরার ম্যাচে সবকিছু ছাপিয়ে আলো নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন ধোনিই।
ভারত অধিনায়ক তাঁর ১০৮ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১১টি চার ও ৩টি ছয় দিয়ে। রায়নার সঙ্গে পঞ্চম উইকেট জুটিতে তুলেছেন ১৩৪ রান। এই জুটির কল্যাণেই ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৬০ রানের পাহাড় গড়ে তোলে ভারত। আর সেই রানের পাহাড়ে চাপা পড়েছে নিউজিল্যান্ড। ৪৩.১ ওভারে মাত্র ২৪৩ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় কিউইরা। ২ উইকেট পাওয়া হরভজন সিংয়ের কাছে নিউজিল্যান্ডের এভাবে ভেঙে পড়াটা স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে, ‘প্রতি ওভারে ৬-৭ রান করে তোলা যেকোনো দলের জন্যই কঠিন। আমাদের সব সময়ই এভাবে খেলা উচিত।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটি অবশ্য এভাবে খেলে জিততে পারেনি ফেবারিট ভারত। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের দুটি জয় আত্মবিশ্বাসটা বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতের। তবে ধোনি বরাবরের মতোই শান্ত আর ধীরস্থির, ‘আমরা আমাদের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ জিতেছি। তবে ভাবছি না এতেই সব হয়ে গেল।’

ইনজুরির কবলে বারাথ, বাফ

বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে গেছে গতকালই। আর কয়েক ঘণ্টা পরেই শুরু হতে যাচ্ছে মাঠের লড়াই। এ রকম শেষ মুহূর্তেই মাথায় হাত পড়ার মতো অবস্থা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমর্থকদের। শেষ মুহূর্তে ইনজুরির কবলে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে প্রায় দুই বা তিন সপ্তাহের জন্য ছিটকে গেছেন উইন্ডিজ ওপেনার আদ্রিয়ান বারাথ ও উইকেটরক্ষক কার্লটন বাফ।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট করার সময়ই হাঁটুতে চোট পান বাফ। পরে ফিল্ডিংয়ের সময় আর উইকেটের পেছনে দাঁড়াতে পারেননি। আদ্রিয়ান বারাথ সেই ম্যাচে মাঠে নামেননি। কিন্তু পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায় দুজনই হাঁটুর ইনজুরির কবলে পড়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখপাত্র ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছেন।
এখন এই দুজনের জায়গায় দলে আসতে যাচ্ছেন ক্রিক এডওয়ার্ডস ও উইকেটরক্ষক ডেভন থমাস। কিন্তু সে জন্য আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটির কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে।
তবে শুধু দুঃসংবাদই না, একটা সুসংবাদও আছে উইন্ডিজ সমর্থকদের জন্য। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ড। চোটের কারণে তিনি খেলতে পারেননি প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি।
২৪ ফেব্রুয়ারি নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

জহির খানে মুগ্ধ ডোনাল্ড

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এটা অনেকখানিই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে, এবারের বিশ্বকাপটা হতে যাচ্ছে স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও স্পিনারদের আধিপত্য এ ধারণাকে আরও পাকাপোক্ত করেছে। তবে পেসাররাও শিরোপা জয়ের দৌড়ে একটা ভালো অবদান রাখবেন বলে মনে করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ফাস্ট বোলার অ্যালান ডোনাল্ড।
এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্বাগতিক ভারতের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে জহির খানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি পেসার বলেছেন, ‘জহির প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলেনি। কিন্তু সে একজন বিশ্বমানের বোলার। আশিস নেহরা আর শ্রীশান্তকে নিয়ে সে কীভাবে ভারতের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেবে এটা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা হবে নতুন বলের সর্বোচ্চ সুবিধা উঠানো।’
তবে উপমহাদেশের আবহাওয়া ও উইকেট কন্ডিশন যে পেসারদের জন্য খুব একটা উপযোগী না, সেটা স্বীকার করেছেন ডোনাল্ড। আর এখানে সাফল্য পেতে হলে লাইন-লেন্থ ঠিক রাখার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সাবেক এই প্রোটিয়াস পেসার। তিনি বলেছেন, ‘উপমহাদেশের আবহাওয়া খুব গরম। বোলারদেরকে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। তাদেরকে শারীরিকভাবে তো বটেই, মানসিকভাবেও খুব শক্তিশালী হতে হবে। আর খেলাটা ভারত বা অস্ট্রেলিয়াতে, যেখানেই হোক, লাইন লেন্থ ঠিক রেখে বল করতে পারাটাই মূল ব্যাপার। ধারাবাহিকভাবে সঠিক লাইনে বল করতে হবে।’

১০ দলের ক্রিকেট বিশ্বকাপ!

শুরুটা হয়েছিল আট দলের লড়াই দিয়ে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত লড়াইটা সীমাবদ্ধ থেকেছে এ আটটি দলের মধ্যে। সময় গড়িয়েছে, বিশ্বকাপের ব্যাপ্তিও বেড়েছে। এখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট মানে ১৪টি দলের এক মহাযুদ্ধ!
সামনের আসরেই অবশ্য কমে যেতে পারে বিশ্বকাপের এই ব্যাপ্তি। দলের সংখ্যা কমিয়ে দশে আনতে পারে আইসিসি। এ নিয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে আগেই। আজ শুক্রবার আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ১০ দলের বিশ্বকাপ করার আগের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসবে না ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে চারটি দল কমছে, অন্যদিকে সমানসংখ্যক দল বাড়তে পারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ‘গত কয়েক বছর ধরে আমরা দেখেছি, বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের ব্যাপ্তি বাড়াতে টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। যেসব দল কৌশল-নির্ভর ও শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম, সেসব দলেরই কেবল ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলা উচিত।’ পিটিআইকে বলেছেন হারুন লরগাত।
আইসিসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে খেলতে পারবে না কেনিয়া, আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ড ও কানাডা। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দুবাইয়ে গত সপ্তাহে আলোচনায় বসেছিল আইসিসির সহযোগী এ চার দেশ।

২০০৭-এর পুনরাবৃত্তি চায় বাংলাদেশ

ক্রিকেট বিশ্বকাপের দশম আসরের জমকালো উদ্বোধনের পর কাল প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও ভারত। এবারের আসরে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি চায় বাংলাদেশ। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী এবং বর্তমানে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দলটিকে গত বিশ্বকাপে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছিল টাইগারেরা। ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ ভাবেই তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রত্যাশার কথা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি সমর্থকরা আশা করছে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল ভারতের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ প্রতিহত করবে এবং ২০০৭ সালের মত আবারও সফল হবে।
ঢাকার একজন দোকান কর্মচারী হালিম রহমান বলেন, ‘অবশ্যই আমরা জিতব। আমরা বিশ্বকাপে কখনও ভারতের কাছে হারিনি।’
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ৩৬ বছরের ইতিহাসে এ দুটি দল বিশ্বকাপে একবারই মুখোমুখি হয়েছে এবং সে খেলায় বাংলাদেশ জয়ী হয়।
বাংলাদেশ ও ভারত ওয়ানডে ক্রিকেটে ২২ বার মুখোমুখি হয়েছে। এরমধ্যে ২০ বারই জিতেছে ভারত। তারপরও দিবা-রাত্রির প্রথম ম্যাচে নিজ দলের জয়ের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী বাংলাদেশের সমর্থকেরা।
ভারত যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি সমর্থকের সামনে তাদের দলকে হারানো।
দেশের মাটিতে অনুকূল পরিবেশের সুবিধা পাবেন বাঁ হাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসান। পাশাপাশি সর্বশেষ ১০টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ সাতটিতেই জয়ী হয়েছে ও হেরেছে মাত্র একটিতে। এর মধ্যে গত অক্টোবরে ভেট্টোরির নিউজিল্যান্ড দলকে ৪-০ তে ‘বাংলা ওয়াশ’ করেছে সাকিব বাহিনী।
অবশ্য সাকিব আল হাসান বলেছেন, ‘সমর্থকেরা অনেক কিছুই আশা করবে, সেটা আমাদের জন্য তেমন চাপ নয়। শুধুমাত্র ভারতের বিপক্ষে জেতা নয় প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের ভাল খেলতে হবে।’
তবে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ২৭ বছর বয়সী এই পেসারের অসাধারণ বোলিংয়ে (৩৮ রানে চার উইকেট) গত বিশ্বকাপে ভারতকে পরাজিত করেছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ব্যাটিং নির্ভরতা বাঁ হাতি ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। এ ছাড়া স্পিনারদের রুখে দিতে রয়েছে জুনায়েদ সিদ্দিকী ও সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল।
অন্যদিকে ভারত প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড হারিয়ে অনেকটাই খোশ মেজাজে রয়েছে। ভারতের প্রধান শক্তি ব্যাটিং লাইন আপ। যেখানে বিশ্ব রেকর্ডধারী শচীন টেন্ডুলকারের পাশাপাশি শেহবাগ, গম্ভীর, যুবরাজ আছেন। এ ছাড়া ধৈয্যশীল ধোনি এবং মারমুখি ইউসুফ পাঠান রয়েছে। তবে বোলিংয়ে অফ স্পিনার হরভজন, জহির খানের পাশাপাশি সেহবাগ, যুবরাজ এবং পাঠানকে দিয়ে বোলিং স্পেল পূরণ করতে হবে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) - মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ হোক চলার পাথেয়

আজ ১২ রবিউল আউয়াল। মহান আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম ও ওফাতের পুণ্য স্মৃতিময় দিন। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা নগরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের একই দিনে ইহলোক ত্যাগ করেন। আজকের এই দিন তাই বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অতি পুণ্যময়, আশীর্বাদপুষ্ট একটি দিন।
সব মানবীয় সদ্গুণের সম্মিলন ঘটেছিল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যক্তিত্বে। নবুয়তপ্রাপ্তির আগে থেকেই তিনি ন্যায়নিষ্ঠা, সততা ও সত্যবাদিতার জন্য খ্যাতিমান ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে বিশ্বমানবতার মুক্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন অসাধারণ চিন্তাশীল মানুষ। তাঁর জীবন ছিল বিপুল কর্মময়।
সেই যুগে তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল, যখন আরব ভূখণ্ডের ওই অঞ্চলে চরম নৈরাজ্য চলছিল। অশিক্ষা, কুসংস্কার, গোষ্ঠীগত বিবাদ-সংঘাত, নির্মম দাসপ্রথা, নারীর প্রতি চরম বৈষম্যসহ নানা রকম সামাজিক অনাচারে ডুবে ছিল পুরো অঞ্চল। সেই অন্ধকার সময়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাব ঘটে আলোর দিশারিরূপে—অন্যায়-অবিচার-অজ্ঞানতার আঁধারে ডুবে থাকা জনগোষ্ঠীকে তিনি দেখান আলোর পথ। সেই আলোর দিশা ইসলাম ধর্মের হাত ধরে ব্যাপ্ত হয়ে পড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন কোণে। সার্বিক অর্থে মানবজাতির মুক্তি ও কল্যাণের জন্যই আবির্ভাব ঘটেছিল এই মহামানবের।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মুসলমানদের রাসুল; কিন্তু অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মানুষকেও তিনি ভালোবাসতেন সমানভাবে। তিনি যে সত্য ও ন্যায়ের আদর্শ প্রচার করতেন, তা ছিল সর্বমানবিক। শুধু কথায় তিনি আদর্শ প্রচার করেননি; ন্যায় ও সত্যের পক্ষে নিজের অবস্থানকে তিনি প্রামাণ্য করে তুলেছেন নিজের জীবনযাপনে সেসব নীতি অনুসরণের মধ্য দিয়ে। সেই অর্থে তিনি ছিলেন সব মানুষের জন্য অনুসরণীয় এক ব্যক্তিত্ব। মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে মানবিক মঙ্গল সাধিত হয়; করুণা ও ভালোবাসা মানবজাতিকে হিংসা ও হানাহানি থেকে মুক্ত রাখতে পারে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও করুণার অনন্য দৃষ্টান্ত। শুধু কথায় নয়, প্রতিটি বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের মনে এই শুভবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন যে মানুষ হলো আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর এই দিনে আমাদের কামনা: মহানবী (সা.)-এর শান্তি, মিলন ও ভ্রাতৃত্বের জীবনাদর্শই হোক জীবনের পাথেয়। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে আমরা সব ধরনের অন্যায়-অবিচার থেকে মুক্তি পেতে পারি, জাতিতে জাতিতে মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করতে পারি। পৃথিবীর নানা দেশে আজ মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, শান্তি ব্যাহত হচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে সন্ত্রাস ও নিষ্ঠুরতা। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং আচার-আচরণের ভিন্নতা নিয়ে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পেয়েছে, বৃদ্ধি পেয়েছে বলপ্রয়োগের প্রবণতা। এ অবস্থায় মহানবী (সা.)-এর বাণী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

শান্তির অগ্রদূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান



পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পৃথিবীর বুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.){৫৭০-৬৩২ খ্রি.}-এর শুভাগমন উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহর তথা সৃষ্টিকুলের জন্য সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আনন্দ উৎসব। বিশ্বশান্তির অগ্রদূত এমন এক সময় দুনিয়ায় আগমন করেন, যখন আরবের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, নৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থা অধঃপতনের চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল। প্রাক্-ইসলামি তথা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে চরম উচ্ছৃঙ্খলতা, পাপাচার ও ব্যভিচারে ভরপুর ছিল তখনকার আরবীয় সমাজ। ব্যক্তিপূজা, অগ্নিপূজাসহ বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসী আরবসমাজে অন্যায়-অপরাধ, কলহ-বিবাদ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, নৈরাশ্য আর হাহাকার ছাড়া কিছুই ছিল না। সেই চরম দুঃসময়ে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল মক্কার সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে রাসুলুল্লাহ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে শান্তি, মুক্তি ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য বিশ্ববাসীর রহমত হিসেবে আখ্যায়িত করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত-১০৭)
ইসলামের আবির্ভাব মুহূর্তে এবং তার আগের বিশ্বের মানবসমাজে বিরাজমান ছিল চরম বৈষম্য। সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, হত্যাকাণ্ড প্রভৃতি অহরহ চলত। তখনকার সামাজিক অনাচার ও অশান্তির অন্যতম কারণ ছিল অর্থনৈতিক আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এই অশান্ত সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্বমানবতার মহান মুক্তিদূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর শান্তি প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ ও পদ্ধতি ছিল অনন্য। আরব দেশে যুদ্ধবিগ্রহ, কলহ-বিবাদ, রক্তপাত, অরাজকতা ইত্যাদি দূরীভূত করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির ভিত্তিতে তিনি একটি অনুপম আদর্শ কল্যাণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর ভূমিকা অতুলনীয়।
প্রাক্-ইসলামি যুগে আরবসমাজে অশান্তির দাবানল সর্বক্ষণ দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকত। কিশোর বয়সে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কোমল হূদয় এই বীভৎস দৃশ্যাবলি দেখে কেঁদে ওঠে। তিনি ‘হিলফুল ফুজুল’ নামক শান্তিসংঘ গঠন করে এসব অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। আর্তমানবতার সেবা করা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ করা, অত্যাচারিতকে সহযোগিতা করা, শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং গোত্রে গোত্রে সম্প্র্রীতি বজায় রাখা—এসব ছিল এ শান্তিসংঘের অঙ্গীকারবাণী। মক্কার ধনাঢ্য ও বিদুষী মহিলা হজরত বিবি খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) বিপুল ধনসম্পদের মালিক হন। এ সম্পদ তিনি ভোগবিলাস কিংবা নিজের স্বার্থে ব্যবহার না করে আর্তমানবতার সেবায় অকাতরে বিলিয়ে দেন।
পবিত্র কাবাগৃহে ‘হাজরে আসওয়াদ’ বা কালো পাথর স্থাপনের দুর্লভ গৌরব লাভের বিষয় নিয়ে একবার গোত্রে গোত্রে ভয়াবহ যুদ্ধ বাধার উপক্রম হয়। জায়গামতো বসানোর প্রয়োজনে কে তুলে আনবে বা কোন গোত্রের নেতা এই পবিত্র কালো পাথর উঠিয়ে আনবেন, এ নিয়ে প্রচণ্ড বাগিবতণ্ডা শুরু হয়। তুমুল বিতর্ক যখন মারামারি বাধার পর্যায়ে, তখন উপস্থিত একজন প্রস্তাব করলেন, আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদকে দেওয়া হোক মীমাংসার দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বয়স তখন অল্প, কিন্তু সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার জন্য তিনি ‘আল-আমিন’ উপাধি পেয়ে গেছেন এবং ন্যায়নীতি ও ধৈর্যগুণে এক অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। অত্যন্ত ধৈর্য আর মনোযোগের সঙ্গে তিনি সমস্যাটি শুনলেন। তারপর সিদ্ধান্ত নিলেন, একটা চাদর আনা হোক। চাদরের মধ্যখানে পাথরটি রেখে মক্কার বিখ্যাত চার গোত্রের চার নেতা চাদরের চার কোনায় ধরে পাথরটাকে ওঠাবেন। সমন্বিতভাবে এ জটিল সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হলো। আর শান্তিপ্রিয় মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) রেখে গেলেন প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
তৎকালীন আরবদের মধ্যে কোনো রকম ঐক্যবোধ বা জাতীয় চেতনা ছিল না। গোত্রপ্রীতির কারণে কলহ-বিবাদ লেগেই থাকত। নবী করিম (সা.) এ কৃত্রিম ভেদাভেদ ও দ্বন্দ্ব-কলহের চিরতরে অবসান ঘটান। আরবে দাসত্বপ্রথা মানুষে মানুষে চরম শ্রেণীবৈষম্যের সৃষ্টি করেছিল। মহানবী (সা.) প্রথম বিশ্বনেতা, যিনি সমাজ থেকে দাসত্বপ্রথার বিলোপ সাধন করেন। নারীদের অমর্যাদা ও বিশৃঙ্খল জীবনযাপন আরবসমাজের অশান্তির কারণ ছিল। মহানবী (সা.) তাদের দুর্গতি ও দুর্দশার হাত থেকে উদ্ধার করে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’ তৎকালে আরবে কন্যাশিশুকে মাটির নিচে জীবন্ত প্রোথিত করা হতো। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ জঘন্য প্রথা নিষেধ করেন।
মদিনায় হিজরতের পর হজরত মুহাম্মদ (সা.) সেখানে ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্বশান্তির অগ্রনায়ক এ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নাগরিকদের মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ নানা দিক বিবেচনা করে মদিনার সনদ প্রণয়ন করেন। এতে মদিনায় বসবাসরত সব ধর্মাবলম্বী মানুষের স্বাধীনতা ও অধিকারের যথোপযুক্ত স্বীকৃতি ছিল। শত অত্যাচার-নির্যাতন এবং যুদ্ধ করে যে জাতি আজীবন নবী করিম (সা.)-কে সীমাহীন কষ্ট দিয়েছে, সেসব জাতি ও গোত্রকে ক্ষমা করে এবং তাদের সঙ্গে উদার মনোভাব দেখিয়ে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের পর মহানবী (সা.) বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে অসংখ্য আন্তধর্মীয় শান্তিচুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এগুলো বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বর্ণবৈষম্য, গোত্রভেদ প্রথা প্রভৃতি বিলোপ সাধনে বিরাট অবদান রাখে।
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর অনবদ্য ভূমিকার অনন্য স্মারক হুদায়বিয়ার সন্ধি। বাহ্যিক পরাজয়মূলক হওয়া সত্ত্বেও কেবল শান্তির স্বার্থে তিনি এ সন্ধিতে স্ব্বাক্ষর করেন। ৬৩ বছরের মাক্কি ও মাদানি জীবনে তিনি সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব সুচারুভাবে সমাপন করে গিয়েছিলেন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচার করেছেন যেমন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, তেমনি যুদ্ধ করেছেন শান্তি সুরক্ষার জন্য। জীবনে অনেক যুদ্ধের মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁকে, অথচ এর কোনোটিই আক্রমণাত্মক যুদ্ধ ছিল না। মহৎ সব গুণে শান্তির দূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল পরিপূর্ণ।
পৃথিবীতে কোনো প্রকার অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা বিরাজমান থাকত না। তাই তো অমুসলিম লেখক উইলিয়াম হার্ট ‘একশত শ্রেষ্ঠ মানব’ গ্রন্থে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রথম নম্বরে স্থান দিয়েছেন। প্রখ্যাত দার্শনিক জর্জ বার্নার্ড শ যথার্থই বলেছেন, মুহাম্মদ (সা.)-এর মতো কোনো ব্যক্তি যদি আধুনিক জগতের একনায়কত্ব গ্রহণ করতেন, তাহলে এমন এক উপায়ে তিনি এর সমস্যা সমাধানে সফলকাম হতেন, যা পৃথিবীতে নিয়ে আসত বহু বাঞ্ছিত শান্তি ও সুখ।
তাঁর জীবনচরিতের গভীর দর্শন সত্যিকার শান্তির পথের দিশা দেয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের

মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড জানিয়েছে, তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর তারা রাজনৈতিক দল গঠনের কাজ শুরু করবে।
সংগঠনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দল গঠনের আকাঙ্ক্ষা তাদের দীর্ঘদিনের। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের আমলে নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা তা করতে পারেনি।
গত সোমবার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা স্বীকৃত হওয়ার পর মুসলিম ব্রাদারহুডও একটি দল গঠন করবে।
গত শতকের বিশের দশকে গঠিত হয় মুসলিম ব্রাদারহুড। মিসরের রক্ষণশীল মুসলিমদের কাছে দলটির বেশ জনপ্রিয়তা আছে। মোবারক তাদের নিষিদ্ধ করে রেখেছিলেন। তবে নিজের ক্ষমতার জন্য হুমকি না হওয়া পর্যন্ত মোবারক তাদের বিরুদ্ধে তেমন খড়্গহস্ত হননি।
মুসলিম ব্রাদারহুড গত শনিবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পদ বা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা তারা করবে না।
মিসরের সামরিক কাউন্সিল এর আগের দিন শুক্রবার জানায়, বেসামরিক নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় থাকবে।

দালাই লামার ভাইপো যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার এক ভাইপো গত সোমবার সন্ধ্যায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম জিগমে নরবু। বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। তিনি দালাই লামার প্রয়াত ভাই তাকসার রিনপোচের ছেলে।
তিব্বতের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার সময় খেলাধুলার সরঞ্জাম বহনকারী একটি গাড়ির ধাক্কায় নরবু নিহত হন।
কর্মকর্তারা জানান, ফ্লোরিডার সেন্ট অগাস্টিন থেকে ওয়েস্ট পাম বিচ পর্যন্ত ৩০০ মাইল দূরত্ব হাঁটার উদ্যোগ নিয়েছিলেন নরবু। এর আগেও তিনি কয়েকবার এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন।
স্থানীয় অলাভজনক বার্তা সংস্থা ফ্লাগলারলিভ ডটকমের সম্পাদক পিয়ার ট্রিসটাম জানান, সেন্ট অগাস্টিনের ২৫ মাইল দক্ষিণে হোয়াইট লাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে নরবু সেখান থেকে পদযাত্রা শুরু করেছিলেন।
টহল পুলিশ জানায়, গাড়িটি পাম উপকূলের ৩১ বছরের চালক কিথ ওডেল চালাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে দুই শিশুসন্তান গাড়িতে ছিল।

কলকাতায় সমাবেশ থেকে বিজেপির প্রচারাভিযান শুরু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিজেপির এক বিরাট সমাবেশ থেকে এ নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়। সমাবেশে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে ঘোষণা দেয়।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ভাষণ দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন গডকড়ি, বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, অরুণ জেটলি, রাজনাথ সিং এবং ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, উত্তরাখন্ড ও কর্ণাটকের বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রী।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনাকে চীনের স্বাগত

ছেলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-ইলের পরিকল্পনাকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছে চীন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদ সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী মেং জিয়ানঝু বলেছেন, ‘জং-উনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানাই। কারণ, এর মধ্য দিয়ে দেশটির উত্তরাধিকারবিষয়ক সমস্যার সফল সমাধান হতে যাচ্ছে।’
উত্তর কোরিয়ার নেতা জং-ইল আজ বুধবার ৬৯তম জন্মদিন উদ্যাপন করবেন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে জংকে উপহারসামগ্রী পাঠিয়েছেন চীনের মন্ত্রী। সেই সঙ্গে কিম জং-উনের জন্যও উপহার পাঠান তিনি।
কিম জং-উনকে গত বছর চার তারকার জেনারেলের পদোন্নতি দিয়ে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাবার পাশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে ঘন ঘন দেখা যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছিল, এসব উদ্যোগ স্পষ্টতই কিম জং-ইলের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁকে গড়ে তোলার মহড়ার অংশবিশেষ।

শেভরনকে ৮৬০ কোটি ডলার জরিমানা

ইকুয়েডরের একটি আদালত দেশটির আমাজন অঞ্চলের একটি বিরাট অংশে দূষণ ঘটানোর দায়ে মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরনকে ৮৬০ কোটি ডলারের বেশি (৫৩০ কোটি পাউন্ড) জরিমানা করেছেন।
মার্কিন তেল কোম্পানি টেক্সাকোকে আমাজন নদী ও কয়লা খনি এলাকায় কোটি কোটি গ্যালন বিষাক্ত পদার্থ স্তূপ করে রাখার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২০০১ সালে টেক্সাকো কিনে নেয় শেভরন। জরিমানার নিন্দা করে শেভরন বলেছে, তারা উচ্চতর আদালতের শরণাপন্ন হবে।
অভিযান পরিচালনাকারীরা বলেছেন, দূষণের কারণে বিপুল পরিমাণ শস্য নষ্ট হয়ে গেছে এবং অনেক পশু মারা গেছে। এ ছাড়া স্থানীয় লোকজনের মাঝে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে।
আদালতের রায়ে আরও বলা হয়েছে, ওই পরিমাণ জরিমানা ছাড়াও শেভরনকে ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও ১০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে। এতে কোম্পানিটির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯৫০ কোটি ডলার।
বাদীপক্ষের আইনজীবী পাবলো ফাজার্দো আদালতের রায়কে শেভরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় বলে উল্লেখ করেছেন। ইকুয়েডরের ৩০ হাজার মানুষের পক্ষ থেকে শেভরনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাণ্ড

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ভুলবশত অন্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণ পড়ে ফেলায় নিজ দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিরোধী দল বিজেপির নেতারা কেবল মন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেননি, অনেকে তাঁকে বরখাস্ত করারও দাবি তুলেছেন।
ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই গতকাল মঙ্গলবার বলেছে, গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের এক সভায় এস এম কৃষ্ণা ভুল করে নিজের ভাষণপত্র না পড়ে, পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণপত্র পড়া শুরু করেন। প্রায় তিন মিনিট পর তাঁর কাছে গিয়ে এক ব্যক্তিগত সহকারী ভুল ধরিয়ে দেন। প্রথমে কিছুটা বিব্রত হলেও পরে তিনি সহজ ভঙ্গিতে নিজের ভাষণ পাঠ করেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের কৃষ্ণা বলেন, এতে বড় ধরনের কোনো ভুল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। মন্ত্রী বলেন, তাঁর সামনে অনেক কাগজ ছিল। তিনি ভুল করে পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণের কাগজ তুলেছেন। দুর্ভাগ্যক্রমে এমনটি ঘটেছে।
তবে এ ঘটনাকে তুচ্ছ ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে রাজি হননি বিজেপির নেতারা। বিজেপির পাঞ্জাব ইউনিটের সভাপতি অশ্বনী শর্মা বলেছেন, এ ঘটনা বহির্বিশ্বে ভারতের জন্য লজ্জাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিত। তিনি তা না করলে প্রধানমন্ত্রীর উচিত, তাঁকে বরখাস্ত করা।

ইরানেও ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের আগুন, গ্রেপ্তার শতাধিক

মিসরের পর এবার বিদ্রোহ শুরু হয়েছে ইরানে। গত সোমবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানী তেহরানসহ বেশ কয়েকটি শহরে মিছিল বের করে। তেহরানে বিক্ষোভে পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এত একজন নিহত হয়। এ ছাড়া পুলিশের নয়জন সদস্যসহ আহত হয়েছে বেশ কিছু লোক। গ্রেপ্তার করা হয়েছে শতাধিক ব্যক্তিকে।
ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি জোর সমর্থন ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ইরানের পার্লামেন্টে মির হুসাইন মুসাভি, মেহেদি কারৌবিসহ বিরোধী দলের নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা। তাঁরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েল বিরোধী দলের নেতাদের ব্যবহার করে এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটিয়েছে। স্পিকার আলী লারিজানি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ইরানের শত্রুদের দ্বারা বিপথগামী হয়ে ওই দুই নেতা জনগণকে খেপিয়ে তুলছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘ওই দুই নেতা কীভাবে আমেরিকার ফাঁদে পা দিল?’
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, মার্কিন প্রশাসন খুব স্পষ্টভাবে এবং সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করছে। তিনি বলেন, মিসরে অধিকার আদায়ে যা ঘটেছে, সেই একই অধিকার ইরানিদেরও রয়েছে।”
দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানায়, গতকাল সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ মিসরের অভ্যুত্থানের প্রতি সংহতি জানাতে তেহরানের আজাদি স্কয়ারে জড়ো হয়। এটি একপর্যায়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়। পরে বিক্ষোভ ইরানের ইস্পাহান, মাসহাদ, সিরাজ শহরসহ অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে।
ফার্স আরও জানায়, তেহরানে মিছিলকারীদের কেউ কেউ ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু হোক’ বলে স্লোগান দেয়। তেহরান, ইস্পাহান, মাসহাদ ও সিরাজ শহরে জনসমাবেশ ও মিছিলের ওপর নিষেধজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিরোধী দলের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনী শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া মির হুসাইন মৌসাভিসহ শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতাদের গৃহবন্দী করা হয়েছে।
দেশটির উপপুলিশপ্রধান আহমদ রেজা রাদান জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি একজনের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় নয়জন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন।
এর আগে মিসর ও তিউনিসিয়ায় বিদ্রোহের সমর্থনে ইরানের বিরোধীদলীয় নেতা মির হুসাইন মুসাভি ও অপর বিরোধী নেতা মেহেদি কারৌবি সমাবেশ করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য সরকারের কাছে তাঁরা অনুমতিও চান। কিন্তু সরকার তাঁদের আবেদন নাকচ করে দেয়।
বাসিজ কমান্ডার রেজা নাঘদি বলেন, পশ্চিমের চরেরা তিউনিসিয়া ও মিসরের মতো ইরানেও বিদ্রোহের আগুন লাগাতে চায়। বিক্ষোভের আশঙ্কায় বিরোধীদলীয় নেতাদের এখন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, মিসর ও তিউনিসিয়ার জনগণের প্রতি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমর্থন ব্যক্ত করার অধিকার ইরানিদের রয়েছে।

মিসরে সংবিধান সংশোধনে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন

মিসরের সংবিধান সংশোধনের জন্য আট সদস্যের প্যানেল গঠন করা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ সামরিক পর্ষদ জানিয়েছে, তারা আগামী ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচিত বেসামরিক নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। পর্ষদের এক বিবৃতিতে গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মিসরের প্রশাসনিক আদালতের সাবেক প্রধান তারেক আল-বিশরির নেতৃত্বে বেসামরিক বিশেষজ্ঞদের ওই প্যানেলকে সংবিধান সংশোধনের খসড়া প্রণয়নের জন্য ১০ দিন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
গণবিক্ষোভের মুখে স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পর পর্ষদ বলে আসছে, শিগগিরই দেশের ক্ষমতা সাংবিধানিক সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পর্ষদের বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব পর্ষদের ওপর পড়লেও তারা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চায়, যেকোনোভাবেই ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করা হবে না। দ্রুত সাংবিধানিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে পর্ষদ। এতে আরও বলা হয়, জনগণের প্রতি পর্ষদের আস্থা আছে।
পর্ষদের ক্ষমতা ধরে না রাখার এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে মিসরে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের নতুন যুগের দাবি মেটানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠল।
প্যানেলের সদস্য ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সাবেক এমপি সবি সালেহ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, সেনারা সংবিধানের সংশোধন চায়। দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় তারা। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল হোসেইন তানতাওয়ির সঙ্গে বৈঠক করেছি। গণবিক্ষোভ ও জনগণের দাবি পূরণে সংবিধানে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই সংবিধান সংশোধন করা হবে।’
প্রসঙ্গত, ১৮ দিনের গণবিক্ষোভের মুখে গত শুক্রবার পদত্যাগ করেন মোবারক। এর পর থেকে পর্ষদ ক্ষমতা নেয়। গত রোববার সংবিধান স্থগিত ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেয় পর্ষদ। গত শুক্রবার থেকেই রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিবহন শ্রমিক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, তেল, পর্যটন শ্রমিক, টেক্সটাইল শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। ব্যাংক ও পুঁজিবাজার বন্ধ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কারী’ বলে উল্লেখ করে আবারও সবাইকে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পর্ষদ।

বেরলুসকোনিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একজন বিচারক। তাঁর বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক যৌনকর্মীর সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশের হাতে আটক ১৭ বছর বয়সী ওই যৌনকর্মীকে ছাড়িয়ে আনার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
৬ এপ্রিল প্রথম শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। বেরলুসকোনির আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁরা এর বিরুদ্ধে আপিল করবেন। মরক্কো বংশোদ্ভূত ওই যৌনকর্মীর নাম কারিমা মাহরুগ রুবি। ইতালিতে ১৮ বছরের কম বয়সী যৌনকর্মীর সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া অপরাধ। যৌন কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বেরলুসকোনির পদত্যাগের দাবিতে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।

ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ব্যয় সংকোচনের বাজেট ঘোষণা ওবামার

বিশাল অর্থনৈতিক ঘাটতি পুষিয়ে নিতে উন্নয়ন ও আবাসন খাতে ব্যয় কমিয়ে ২০১২ সালের জন্য বাজেট ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রস্তাবিত এই বাজেটের পরিমাণ ৩ দশমিক ৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ কম।
গত সোমবার ওবামা এই বাজেট ঘোষণা করেন। এই বাজেটের ফলে ১০ বছরে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে ওবামার প্রশাসন মনে করে।
উন্নয়ন ও আবাসন খাতে ব্যয় কমানোয় দারুণ চটেছে সাধারণ মার্কিনরা। তারা বলেছে, এই দুই খাতে বাজেট কমানোয় দরিদ্র মার্কিনরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ঘাটতি কমাতে ওবামা যতটা ব্যয় সংকোচনের নীতি গ্রহণ করেছেন, রিপাবলিকানরা তার চেয়েও বেশি কৃচ্ছ্রতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে প্রস্তাবিত বাজেট কংগ্রেসে অনুমোদন নিয়ে ওবামাকে বিরোধীদের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিনদের ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়ে ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব নীতিতেই টিকে থাকবে। তিনি এ-ও বলেন, ‘তবে ব্যাপক আকারে বাজেট কমিয়ে আমরা ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করতে পারি না।’
বাজেট বিবরণীতে ২০১১ অর্থবছরে মোট ঘাটতি ১ দশমিক ৬৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরের অর্থবছরেই অর্থাৎ ২০১২ সালে এই ঘাটতি ১ দশমিক ১০১ ট্রিলিয়ন ডলারে কমে আসবে। ২০১২ অর্থবছর শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে।
প্রস্তাবিত বাজেটের হিসাব অনুযায়ী, ঘাটতি কমলে ২০১৫ সাল নাগাদ এই ঘাটতি চলতি বছরের ১০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াবে। এভাবে ২০১৩ সালের জানুয়ারি নাগাদ ঘাটতি অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে প্রেসিডেন্ট আশা করছেন।
ডিপার্টমেন্ট অব হাউজিং ফর মন্টগোমারি কাউন্টির পরিচালক রিক নেলসন বলেছেন, উন্নয়ন ও আবাসন খাতে বাজেট কমালে উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এতে সমাজের নিচু স্তরের লোকজনকে সাহায্য করাটা দুরূহ হয়ে পড়বে।
রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে ব্যয় সংকোচনের যে প্রস্তাব করেছে, তার চেয়ে ওবামা ঘোষিত বাজেটের আকার অনেক বড়। রিপাবলিকানরা আবাসন খাত বাবদ ১৬০ কোটি ডলার, স্বল্প আয়ের মানুষের বাড়ি ভাড়া বাবদ ১৪৭ কোটি ডলার ও স্থানীয় উন্নয়ন বাবদ দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে।
ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব এইচইউডি টেনান্টসের (এনএএইচটি) প্রধান মাইকেল কেইন রিপাবলিকানদের এই বাজেট প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, এটা হলো ‘গরিবের সর্বনাশের’ পরিকল্পনা। এটা স্বল্প আয়ের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টার্গেট করে বাজেট সংকোচন করা হচ্ছে। তারা গরিবের স্বার্থপরিপন্থী কাজ করছে।’
তবে হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির সভাপতি হল রজার্স বলেছেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটের সবকিছু অনেকের কাছে যুৎসই মনে নাও হতে পারে। তবে আমি মনে করি, একটা রাষ্ট্রের স্থিতিশীল পর্যায়ে ফিরে আসতে এই বাজেট সংকোচন ন্যায়সংগত।’ তবে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘাটতি পোষাতে চাইলে সমাজের অরক্ষিত লোকজনকে টার্গেট না করেও অন্য অনেক উপায়ে তা করতে পারি।’
প্রস্তাবিত এই বাজেট এখন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।

শেয়ারেবাজারে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের পরামর্শ ডিএসইর

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী। তিনি বলেন, অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে অর্থমন্ত্রী যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা বাজারের জন্য খুবই ইতিবাচক। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গতকাল মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, সরকার গতকাল রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক—সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে শেয়ার কেনার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) সরকার ২০০ কোটি টাকার তহবিল দিয়েছে।
শাকিল রিজভী বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিনিয়োগের এখনই সময়, কেননা, এ মুহূর্তে অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অনেক নিচে নেমে এসেছে। তাই এখন শেয়ার কিনলে ক্ষতির আশঙ্কা কম। এ ছাড়া বর্তমানে বাজারের গড় মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও অনেকটা বিনিয়োগসহায়ক। তিনি বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বাজারে প্রবেশেরও আহ্বান জানান।
শাকিল রিজভী জানান, অব্যাহত দরপতনে ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ারের দাম কমার পেছনে কোনো কারসাজি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ারবাজারে আরও ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে

দেশের শেয়ারবাজারে আগামী রোববার থেকে আরও ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই টাকা বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অনুমোদন দেওয়া ১১টি মিউচুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা অংশের বিনিয়োগের মাধ্যমে এই টাকা জোগান দেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার এসইসি উদ্যোক্তা অংশের টাকা তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়। এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাইফুর রহমান জানান, শেয়ারবাজারে তারল্য-সংকট কাটিয়ে উঠতে এসইসি এই উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে যেসব মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো এখনো শেয়ারবাজারে আসেনি। তারা আগামী রোববার থেকে উদ্যোক্তা অংশের টাকা দিয়ে শেয়ার কিনতে পারবে। অনুমোদন পাওয়া এসব মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসইসি এই বিনিয়োগের অনুমোদন দেয়।
সাইফুর রহমান জানান, এই উদ্যোগের ফলে শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করছে এসইসি। যা শেয়ারের দামে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যেসব মিউচুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা অংশ আগামী রোববার থেকে পুঁজিবাজারে শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগ করা হবে সেগুলো হচ্ছে, সোনালী ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা অংশ ২৫ কোটি টাকা, ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড ২৫ কোটি টাকা, এল আর গ্লোবাল ফার্স্ট ইসলামি মিউচুয়াল ফান্ড ২০ কোটি টাকা, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড ১৫ কোটি টাকা, এনএলআই ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ১০ কোটি টাকা, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ২০ কোটি টাকা, প্রাইম ফাইন্যান্স দ্বিতীয় মিউচুয়াল ফান্ড ২০ কোটি টাকা, সাউথইস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ২৫ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ২০ কোটি টাকা ও ইস্টার্ন ব্যাংক এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড ১৫ কোটি টাকা।
এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার এসইসির অনুমোদন পাওয়া ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ডের ২০০ কোটি টাকার উদ্যোক্তা অংশ গতকাল মঙ্গলবার থেকেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগ শুরু করেছে।

বাজারের সংশোধন হয়েছে অনেক বেশি: অর্থমন্ত্রী

শেয়ারবাজারে অনেক বেশি সংশোধন হয়েছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তাই তিনি আশা করছেন, এ বাজার শিগগিরই স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে রাজধানীর যানজট নিরসন-সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান ‘ফোর্স সেল’ পদ্ধতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট দামের কমে শেয়ার বিক্রি বন্ধ করতে বলেছিলাম। তা তাঁরা মানেননি। ফোর্স সেল করার কোনো অধিকার নেই এঁদের। চূড়ান্তভাবে এটা আমার অপছন্দের।’
আগামী শুক্রবার মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ বৈঠকে ফোর্স সেল পদ্ধতির সংশোধনের বিষয়টি ফয়সালা হবে।’
১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার বছরওয়ারি পরিকল্পনা ঘোষণার পর গত সোমবার হঠাৎ তা স্থগিত করা হলো কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা তো করা হয়েছে আপনাদের (গণমাধ্যম) ও কথিত বিশেষজ্ঞদের কারণে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার কার্যক্রম বাতিল হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে যে দুইটি কোম্পানিকে আরও শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তারা আসবে মার্চে। আর পর্যায়ক্রমে সবগুলোই শেয়ার ছাড়বে বাজারে।
অর্থমন্ত্রী জানান, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর মুলধন বাড়াতে হবে এবং স্বনির্ভর হতে হবে। এদের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেন তিনি।
একদিনে সূচকের ৫০০ পয়েন্ট কমা বা বাড়াকে ‘পাগলামি’ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজারে অনেক বেশি সংশোধন হয়েছে। আমি সব সময়ই আশা করে আসছি, এ বাজার স্থিতিশীল হয়ে উঠবে। তবে যারা অর্থের ব্যবসা করে, তাদের লোভও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাত্রা বেঁধে দেওয়ার কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

আর্সেনালের প্রতিশোধের রাত

আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়ামে কি প্রতিশোধের ডঙ্কা বাজছে? চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় আজ যে বার্সেলোনার মুখোমুখি আর্সেনাল। ইংলিশ পরাশক্তিদের সুযোগ এসেছে প্রতিশোধ নেওয়ার। ২০০৬-এর ফাইনাল আর গত মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এই বার্সেলোনার কাছে হেরেছিল ‘গানার’রা।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এই দুই দলের দেখা হয়েছে সব মিলিয়ে পাঁচবার। শুধু ২০০৬ আর ২০০৯-১০ নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার সঙ্গে এই পাঁচটি লড়াইয়ে কোনো সুখস্মৃতি নেই আর্সেনালের। তিনটিতে হার, দুটি করেছে ড্র। এবার ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিতে চায় তারা এবং সেটা এমিরেটসের এই ম্যাচ দিয়েই।
আর্সেনাল তা চাইছে ঠিক, কিন্তু বরাবরের মতোই আজকের ম্যাচেও ফেবারিট বার্সেলোনা। আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও তা জানেন, তবু স্বপ্ন দেখেন তিনি, ‘আমরা ফেবারিট নই। তবে আমার বিশ্বাস, আমরা জিততে পারি।’
প্রতিশোধ-ট্রতিশোধ নয়, আর্সেন ওয়েঙ্গার অতীতে বার্সেলোনার বিপক্ষে করা একটি ভুল শুধরে নিতে চান এবার, ‘গত মৌসুম থেকে যেটা শিখেছি তা হলো, আমরা বার্সেলোনাকে বেশি সমীহ দেখিয়ে ফেলেছিলাম। আমাদের যা করা উচিত, তা হচ্ছে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলা।’
আজ আরেক ম্যাচে রোমার মুখোমুখি হচ্ছে শাখতার দোনেৎস্ক। পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা দোনেৎস্কের এটা প্রথম নকআউটে খেলা। তবু একটু ভয়ে আছে ইতালির ক্লাব রোমা। চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের শেষ তিনটি ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোতে এলেও সিরি ‘আ’তে ফর্মটা যে খুব ভালো যাচ্ছে না তাদের। শেষ তিনটি ম্যাচে কোনো জয় নেই তাদের।

একজন চন্দরপলের গল্প

ওয়ানডেতে আট হাজারেরও বেশি রান, টেস্টে নয় হাজার। এমন একজন ব্যাটসম্যান, তার পরও তাঁকে নিয়ে মাতামাতি হয় না। সব সময়ই প্রচারের আলো থেকে থাকেন অনেক দূরে। যশ-খ্যাতিতে যেন অস্বস্তি তাঁর! সাফল্যে তাঁর এক দশমাংশ হয়েও অনেকে যে রাতারাতি তারকা হয়ে উঠছেন, এ নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই। শুধু জানেন, দলের ভীষণ বিপদে আরও একবার হাল ধরতে হবে তাঁকে। সত্যিই, হাতের ব্যাটটাকে তখন আর ব্যাট মনে হয় না। কখনোই দিশা না-হারানো সেই নাবিক শিবনারায়ণ চন্দরপল।
নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন। পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন জ্যাক ক্যালিসও। ক্যালিসকে নিয়ে প্রচারমাধ্যমের যতটা আগ্রহ, তার অর্ধেকটা কি চন্দরপলকে নিয়ে আছে? এসব নিয়ে মোটেও মাথা ঘামান না গায়ানার এই ৩৬ বছর বয়সী। জীবনের দর্শনটা তাঁর খুবই সরল। ক্রিকেটও খেলেন সরল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। বিশ্বকাপে তাই তাঁর ভাবনাটাও যে তেমন হবে, তাতে আর বিস্ময়ের কী আছে।
‘অতীতকে অতীতের জায়গায় রাখুন। আপনাকে তাকাতে হবে সামনের দিকে। মনে করতে হবে, পরের ম্যাচটি সম্পূর্ণ নতুন একটা ম্যাচ। এরপর এগিয়ে যেতে হবে। আমি জানি, আমরা কী পেরেছি, কী পারিনি। সময় এসেছে যেটি পারিনি, সেটি করে দেখানোর’—ক্রিকইনফোকে নিজের বিশ্বকাপ লক্ষ্যের কথা জানিয়ে বলেছেন চন্দরপল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষয়িষ্ণু সময়ে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ১৭ বছরের এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন। উত্থানের চেয়ে পতনের হারই ছিল যদিও বেশি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ গত ২৮ ওয়ানডেতে যেমন মাত্র ছয়টি ম্যাচ জিতেছে; চারটি জিম্বাবুয়ের, বাকি দুটি জয় এসেছে কানাডা আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেমে গেছে নয়ে, তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে।
চন্দরপল আশাবাদী মানুষ। সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় তাই টলে যাচ্ছে না তাঁর আত্মবিশ্বাস, ‘আমাদের ভালো সুযোগ আছে। আমরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। শ্রীলঙ্কায় এর মধ্যে তো অনেক ম্যাচও খেলেছি। দলে এমন কিছু তরুণ আছে, যারা ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত। আমরা যদি প্রাথমিক পর্ব জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে যাই, সেখান থেকে ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা করতে হবে। আমি তো আশা করি, আমরা ফাইনালও জিতব।’
দুবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্যই খেলবে। সেই গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য প্রস্তুত চন্দরপলও। তবে তিনি তাকিয়ে আছেন তরুণদের দিকে। জানেন, বিপ্লবে রক্ত সবার আগে দেয় তরুণেরাই। পাশাপাশি বাড়তি তাগিদ অনুভব করছেন তিনিও। এটা যে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ‘অবশ্যই আমি চাইব বিশ্বকাপ জিততে। ব্যক্তিগতভাবে আমার লক্ষ্য থাকবে বিশ্বকাপ জেতাতে দলকে সাহায্য করা’—সরল চন্দরপলের সহজ দর্শন।

মরগানের সুসংবাদ

টুইটারে মরগানের দেওয়া বার্তা কি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে অস্বস্তিতে ফেলল? নাকি নতুন করে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ করে দিল? চোটের কারণে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে পড়েছেন। মরগানের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে গত সপ্তাহে তাঁর বদলি হিসেবে রবি বোপারাকে দলেও নিয়েছে ইংল্যান্ড বোর্ড। কিন্তু মরগানের প্রত্যাশা, আগেই সুস্থ হয়ে উঠবেন, দারুণ সুযোগ আছে তাঁর বিশ্বকাপের শেষ দিকের ম্যাচগুলোতে খেলারও! তবে কি আইরিশ ব্যাটসম্যানের চোট ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি? মরগানের টুইটার বার্তার অর্থ তেমনই, ‘এই সকালে কিছু সুসংবাদ। কোনো অপারেশনের দরকার নেই। অনেকটাই সুস্থ। প্রত্যাশার আগেই ফিরতে পারব।’ টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী কেউ চোটের কারণে ছিটকে পড়লেই কেবল খেলোয়াড় বদলানো যায়। মরগানের স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

ম্যাককালামের চাওয়া

আগে যেমনই হোক, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে নিউজিল্যান্ড। আজ ভারতের বিপক্ষে তাদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। চিন্নাস্বামীর এই ম্যাচ এবং মূল মঞ্চে দলের ফল যা-ই হোক, বিশ্বকাপের পরই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেবেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। ক্রিকেট নিউজিল্যান্ড (এনজেডসি) ভেট্টোরির উত্তরসূরি হিসেবে ভাবতে শুরু করেছিল রস টেলরকে। কিন্তু এনজেডসির প্রধান নির্বাহী জাস্টিন ভন কদিন আগে জানিয়েছেন, টেলরের বিষয়টি নিশ্চিত নয়। বোর্ড প্রধানের ওই ইঙ্গিতেই কিনা আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন এক সময়ের সহ-অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কাল চেন্নাইয়ের অনুশীলনে বলেই ফেললেন, ‘নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক হতে চাই আমি। ওই সুযোগটা পেতে চাই।’ এটা ভবিষ্যৎ-আকাঙ্ক্ষা। ম্যাককালামের বর্তমান আকাঙ্ক্ষা বিশ্বকাপে বেশি বেশি রান এবং ক্যাচ ধরে দলকে এগিয়ে নেওয়া।

উড়ছে না দেশের পতাকা

বিশ্বকাপ ফুটবলে বাংলাদেশ ছিল না। তবুও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেনের পতাকায় ছেয়ে গিয়েছিল কুমিল্লার আকাশ। প্রতিটি ভবনের ছাদের ওপর ছিল বিভিন্ন আকৃতির পতাকা। ব্রাজিলের পতাকা লাগাতে গিয়ে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়ার চান্দলা গ্রামের এক কিশোর বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে মারাও গিয়েছিল। আবার কোথাও পতাকা কে কত বড় টানাতে পারবে, তা নিয়ে হয়েছে প্রতিযোগিতা। নানা অঘটনও ঘটেছিল। অথচ ক্রিকেট বিশ্বকাপে এসবের বালাই নেই। কুমিল্লার আকাশে পতপত করে উড়ছে না লাল-সবুজের পতাকা। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ক্রিকেট হচ্ছে। বাংলাদেশ এতে অংশ নিচ্ছে। এ দেশের মাটিতেই হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। অথচ কোনো ভবনেই নেই বাংলাদেশের পতাকা। ব্যাংকের সামনে টিকিট নিয়ে মাতামাতি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হচ্ছে সালতামামি আর স্টেডিয়ামজুড়ে বিভিন্ন বাহিনীর মহড়া থাকলেও দর্শকদের মধ্যে পতাকা টানানো নিয়ে নেই কোনো প্রতিযোগিতা। কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ওই দৃশ্য দেখা গেছে।
শহরের কান্দিরপাড়ের দর্জি আনোয়ার হোসেন, মনোহরপুর এলাকার দর্জি ফিরোজ মিয়া জানান, বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে একটি পতাকাও বানাতে আসেনি কেউ। অথচ বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় পতাকা বানিয়ে শেষ করতে পারতাম না। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে পতাকা নিয়ে কাড়াকাড়ি হতো।

টিকিট নিয়ে কেন এত হইচই



দেড়-দুদিন ধরে লাইন, টিকিট নিয়ে এত উন্মাদনা, এত চাহিদা...মনে হচ্ছিল ম্যাচের দিন উপচে পড়বে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি। ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাকে মনে হচ্ছিল চাহিদার তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ। কিন্তু সবার জন্য বিস্ময় হয়ে এল কালকের পাকিস্তান-বাংলাদেশ প্রস্তুতি ম্যাচ। পাকিস্তানের ইনিংস যখন শেষ হলো, গ্যালারির অর্ধেকই ফাঁকা! বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হওয়ার পর দর্শকসংখ্যা একটু বাড়ল, তবে সেটিও বড়জোর অর্ধেকের সামান্য বেশি। অথচ আগে বলা হয়েছিল সব টিকিট ‘বিক্রি হয়ে গেছে’।
টিকিট বিক্রির প্রতিটি ধাপে যে চরম অব্যবস্থাপনা আর বিশৃঙ্খলা চলছিল, কাল যেন তা পূর্ণতা পেল। ‘সোল্ড আউট’ হলেও কাল ম্যাচের দিনও ভেন্যুতে বিক্রি হয়েছে টিকিট। স্থানীয় আয়োজক কমিটির টিকিট কমিটির প্রধান জি এস হাসান তামিম দাবি করেছেন, আগেই নাকি জানানো হয়েছিল ম্যাচের দিন ভেন্যুতে টিকিট পাওয়া যাবে। অথচ অনেক দর্শকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এ ব্যাপারে কিছু জানতেন না। টিকিট পাওয়া যেতে পারে স্রেফ এই আশাতেই ভিড় করেছেন কাউন্টারে।
তবে দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে টিকিট পাননি। ধাক্কাধাক্কি, হুড়োহুড়িতে একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয় কাউন্টার। যাঁরা এর আগে টিকিটের ভাউচার নিয়েছিলেন, তাঁদের অবস্থা ছিল সবচেয়ে করুণ। শত শত লোককে ভাউচার হাতে ঘুরতে দেখা গেছে, কিন্তু টিকিট পাননি। কাউন্টার কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো, জিজ্ঞেস করলে কাউন্টারে কায়াজুঙ্গার প্রতিনিধির উত্তর, ‘আমরা নিরাপদ নই!’
বাইরে টিকিটের জন্য এমন হাহাকার, অথচ ভেতরে অর্ধেক গ্যালারি ফাঁকা! সবচেয়ে দৃষ্টিকটু ছিল ভিআইপি গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড। এই গ্যালারির বেশির ভাগই ছিল সৌজন্য টিকিট। কিন্তু সৌজন্য টিকিট যাঁরা পেয়েছেন, তাঁরা ম্যাচ দেখতে আসার সৌজন্যটুকু দেখাননি। মূল ম্যাচগুলোতেও যে এমন কিছু হবে না, সেই নিশ্চয়তা কোথায়? জি এস হাসান তামিম অবশ্য কালকের দর্শকসংখ্যা দেখে খুশি, ‘প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবে অনেক। বিশ্বকাপের ম্যাচে দর্শক আরও বাড়বে।’
টিকিট নিয়ে অব্যবস্থাপনার সঙ্গে ছিল নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমের কর্মী—ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে সবাইকেই। ‘ট্রান্সটেল’ গেটের জন্য দীর্ঘ সময় লেগেছে মাঠে ঢুকতে। ম্যাচ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে লাইনে দাঁড়িয়েও শুরু থেকে ম্যাচ দেখতে পারেননি অনেকে। গেট খোলা হয় দুপুর সাড়ে ১২টায়, খেলার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে গেট খোলা নিয়েও তাই প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তাকর্মীদের অপ্রয়োজনীয় বাড়াবাড়িতে আইসিসির অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকদেরও মাঠে ঢোকার মুখে অনেক হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। আইসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে বজ্র আঁটুনি যে ফস্কা গেরো, সেটা প্রমাণ হয়ে যায় অনেকেই টিকিট ছাড়া প্রেসবক্সে ঢুকে পড়ায়!
মাঠে ঢুকতে না পারলেও অবশ্য খেলা দেখার আশায় স্টেডিয়ামে আসা অনেক ‘দর্শক’ কালকের সন্ধ্যাটা উপভোগ করেছেন নিজের মতো করে। স্টেডিয়ামের বাইরে ছিল উৎসবের পরিবেশ। আলোকসজ্জার মধ্যে চলেছে গল্প, আড্ডা। মনে পড়ে গেছে আগের দিনটা ছিল ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’!

ধোনিকে সতর্ক করল আইসিসি

ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ওপর আইসিসির ‘অ্যামবুশ মার্কেটিং’য়ের খড়্গ নেমে এসেছে। বিশ্বকাপের ইভেন্ট চলাকালীন সময়ে তিনি ‘এয়ারসেল’ ও ‘সনি’ নামের দুটো ব্র্যান্ডের হয়ে প্রচারণার কাজে জড়িত হওয়ার কারণেই তাঁকে চোখ রাঙাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইসিসির অ্যামবুশ মার্কেটিং নীতিমালায় আছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কোনো দলের খেলোয়াড়েরা আইসিসির ইভেন্ট চলার সময় পৃষ্ঠপোষকদের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো ব্র্যান্ডের কাজে অংশ নিতে পারবেন না। এই নীতিমালা ভঙ্গের শাস্তি, অর্থদণ্ড থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত হতে পারে।
আইসিসির আইন বিষয়ক প্রধান ডেভিড বেকার বলেছেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কোনো দলের খেলোয়াড়ই প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেননা। এটা আইসিসির অ্যামবুশ মার্কেটিং নীতিমালাতেই পরিষ্কার ভাষায় লেখা আছে।’
ভারতীয় খেলোয়াড়েরা অনেক আগে থেকেই আইসিসির এই নীতিমালার ঘোর বিরোধী। এই নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হলে তাঁরা অনেক ব্র্যান্ডেরই প্রচারনার কাজে অংশ নিতে পারবেন না। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর খেলোয়াড়দের মধ্যে ভারতীয় খেলোয়াড়েরাই সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন এই অ্যামবুশ মার্কেটিং নীতিমালার।
সম্প্রতি, শচীন টেন্ডুলকারের নেতৃত্বে কয়েকজন ভারতীয় ক্রিকেটার এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ নিয়ে দেখা করেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটে বোর্ডের প্রধান শশাঙ্ক মনোহরের সঙ্গে।

বিশ্বকাপে ‘টুইটার’ নিষিদ্ধ

বিশ্বকাপ চলাকালীন অংশগ্রহণকারী দলগুলোর খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক টুইটার ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আইসিসি।
বিশ্বকাপে সম্ভাব্য দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে সাবধানতা অবলম্বনের লক্ষ্যেই আইসিসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের তত্ত্বাবধানেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের একজন মুখপাত্র আজ বুধবার বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা তাঁদের মোবাইল ফোনে কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে টুইটার ব্যবহার করতে পারবেন না।
আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কর্মকর্তা মোবাইল ফোনের প্রসঙ্গ টানলেও আইসিসি ইতিমধ্যেই ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড়দের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।
তবে, খেলার পরে তাঁরা টুইটার জাতীয় ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানিয়েছে আইসিসি।
উপমহাদেশে আয়োজিত এ বিশ্বকাপ নিয়ে আইসিসির রয়েছে বাড়তি সতর্কতা। কারণ, ক্রিকেটে বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারি ও অন্যান্য দুর্নীতির কেন্দ্রভূমি হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ভারতের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র মুম্বাইকে।

‘অধিনায়কত্বের যোগ্যতা ছিল না টেন্ডুলকারের’

দুজনেই ভারতীয় দলে একে অপরের নেতৃত্বে খেলেছেন। অধিনায়ক হিসেবে একজন সফল না হলে এর কারণ অন্যজনের কাছে জানতে চাওয়া দোষের কিছু নয়। শচীন টেন্ডুলকার কেন অধিনায়ক হিসেবে সফল হতে পারেননি, আজহারউদ্দিনকে এই প্রশ্ন করায় উত্তর দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টো ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তিনি।
‘আমি তাঁর সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কিছু কিছু লোক আছে, যাঁদের সম্পর্কে কথা বলতে পছন্দ করি না আমি’—চোয়াল শক্ত করে জবাব আজহারউদ্দিনের।
আজহারউদ্দিনের ক্ষোভের কারণটা অনেকেই হয়তো ধরে ফেলেছেন। টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাধিক রানের মালিকের অধিনায়ক হিসেবে সফল না হওয়ার জন্য দায়ী করা হয় যে আজহারউদ্দিনকেই! অভিযোগ আছে, ইচ্ছে করেই অধিনায়ক শচীনকে সফল হতে দেননি তিনি। অভিযোগটা আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে ক্ষোভ যেন আরেকটু বেড়ে যায় আজহারউদ্দিনের। বললেন, ‘অভিযোগটা সঠিক নয়। পরিসংখ্যান যাচাই করে দেখুন। ও যখন অধিনায়ক ছিল, দুই ধরনের ক্রিকেটেই আমি দলের অন্যদের চেয়ে বেশি রান করেছি।’ এরপর যেন বোমা ফাটালেন আজহার, ‘টেন্ডুলকার আসলে অধিনায়ক হওয়ার যোগ্য ছিল না!’
নিরানব্বইটি টেস্ট খেলে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে ২০০০ সালে আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছিলেন আজহারউদ্দিন। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষটা সেখানেই। না হলে আরও কয়েক বছর খেলতে পারতেন বলে বিশ্বাস করেন একদা ভারতের অন্যতম সফল এ অধিনায়ক। ‘আমি ভালো খেলছিলাম। যথেষ্ট ফিটও ছিলাম। আসলে এটাই ভাগ্য। আমার ভাগ্যে হয়তো মাত্র ৯৯টি টেস্ট লেখা ছিল!’ মন্তব্য আজহারের।

আবারও বাটের বিরুদ্ধে তদন্ত

স্পট ফিক্সিং বিতর্কের অবসান ঘটেছে। তদন্তে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় সালমান বাটকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। তবে থেমে নেই পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়কের বিরুদ্ধে তদন্ত। এবারেরটা অবশ্য ফিক্সিং নিয়ে নয়, নিষিদ্ধ হওয়ার পর বাট একটি টেলিভিশনের সঙ্গে বিশ্লেষক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বলে যে খবর বেরিয়েছে, আইসিসির সর্বশেষ তদন্ত সেটি নিয়েই।
আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে দুর্নীতি বিরোধী আচরণবিধি ভঙ্গ না করলে বাটের পাঁচ বছরের শাস্তি বিবেচনা করা হতে পারে। এর কয়েক দিন পরই খবর বেরোয়, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের স্থানীয় টেলিভিশন ‘চ্যানেল ৫’ এর স্টুডিওতে বিশ্লেষক হিসেবে থাকবেন বাট। এই চুক্তির মাধ্যমে বাট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইসিসি।
‘এই নিয়োগে আমরা সন্তুষ্ট নই। এর মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মাইকেল বেলফকে লিখিতভাবে জানিয়েছি আমরা’—বলেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত।

এবার ভারতের ‘কিউই’ বধ

তিন দিন আগে শিকার অস্ট্রেলিয়া। আজ ভারতীয় দলের ‘বধের’ তালিকায় যোগ হলো নিউজিল্যান্ড। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ‘ঝড়ো’ সেঞ্চুরি আর স্পিনারদের দাপটে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে ভারতের জয়টা এসেছে ১১৭ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় আসলেও ভারতীয়দের আক্ষেপ ছিল ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতি নিয়ে। চেন্নাইয়ে আজ সেই আক্ষেপ ভুলিয়ে দিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। ধোনির ৬৪ বলে অপরাজিত ১০৮, গৌতম গম্ভীরের ৮৯, বিরাট কোহলির ৫৯ ও সুরেশ রায়নার ২৬ বলে ৫০ রানের উপর ভর করে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৩৬০ রান।
লক্ষ্য অনেকটাই অসম্ভব, ৩৬১! দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান গাপটিল (৩৮) ও ম্যাককালামের (৫৮) ব্যাটে কিছুটা স্বপ্ন দেখছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ভারতীয় স্পিনারদের কবলে পড়ে কিউইদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৪৩ রানে, ৪৩.১ ওভারে। ভারতের হয়ে আশিস নেহরা, যুবরাজ সিং, হরভজন সিং ও পীযূষ চাওলা প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন।

সাজঘরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ

বিশ্বকাপের কোন খেলা চলার সময় সাজঘরে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। খেলোয়াড়রা তো বটেই, টিম ম্যানেজমেন্টের কোন সদস্যও খেলা চলাকালীন কোন ধরণের যোগাযোগ-যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না।
সম্প্রতি সালমান বাট-মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির পর ক্রিকেট অঙ্গনে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি এড়াতে গতকাল দুবাইয়ে আইসিসির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মকর্তারা। নতুন এই আইনটা প্রয়োগ হবে এবারের বিশ্বকাপেও। আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আইসিসির দুর্নীতি-বিরোধী নীতিমালা আরো শক্তিশালী করার জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলার সময় সাজঘরের আশেপাশে কেউ কোন যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডোপ পরীক্ষার মুখোমুখি শোয়েব ও কামরান

অন্যান্য খেলার মতোই ক্রিকেটেও ডোপ পরীক্ষা এখন স্বাভাবিক এক প্রক্রিয়া। দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে অনেক ক্রিকেটারকেই এ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে এমনই এক পরীক্ষায় ‘ডোপ-পাপী’ প্রমাণিত হয়েছিলেন কিংবদন্তি অস্ট্রেলীয় স্পিনার শেন ওয়ার্ন। বিশ্বকাপ থেকেও তাঁকে হতে হয়েছিল বহিষ্কৃত। এবার বিশ্বকাপ শুরুর আগে আইসিসির মাদকবিরোধী ইউনিটের সামনে হাজির হলেন পাকিস্তানি গতি তারকা শোয়েব আকতার ও উইকেট রক্ষক কামরান আকমল।
গতকাল বুধবার মিরপুরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্র্যাকটিস সেশন শেষে শোয়েব ও কামরানকে ডোপ পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
এদিকে, আইসিসির মাদকবিরোধী ইউনিটের এক কর্মকর্তা এ ব্যাপারে জানান, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই দুই পাকিস্তানি ক্রিকেটারের ডোপ পরীক্ষা হচ্ছে। অন্যান্য দেশের ক্রিকেটারদেরও ডোপ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
২০০৬ সালে শোয়েব আকতার এমনই এক ডোপ পরীক্ষায় ‘ন্যানড্রোলন’ নামের এক নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
চোট ও ফর্মহীনতার কারণে ২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তান টেস্ট দলের বাইরে রয়েছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের নিউজিল্যান্ড সফরে তিনি ওয়ানডে দলে সুযোগ পেলেও খুব একটা ভালো করতে পারেননি। ১৬০টি একদিনের ম্যাচ খেলে ২৪ দশমিক ৭৮ গড়ে ২৪৪ উইকেট পাওয়া শোয়েব এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলে সুযোগ পেয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা বলেই। বিশ্বকাপ দলে থাকলেও তিনি এখনো পরিপূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাননি বলেই জানিয়েছেন কোচ ওয়াকার ইউনুস। সে কারণে গত মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি-ম্যাচে তিনি খেলেননি। কাল শুক্রবার ফতুল্লায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রস্তুতি-ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ হতে পারে বহুত্ববাদের নির্মল উদাহরণ by মাসুদা ভাট্টি

কাশে পূর্ণ চাঁদ, জানালা দিয়ে ঢুকে পড়তে চাইছে গোটা আকাশ ঘরের ভেতর। এমনই এক পূর্ণিমা রাতে তথাগত জন্মেছিলেন এবং আরেক পূর্ণিমায় ঘর ছেড়ে জ্ঞানের শরণ নিয়েছিলেন। বৌদ্ধ ধর্মে পূর্ণিমা তাই এক বিশাল স্থান জুড়ে আছে। এই ধর্মে পূর্ণিমা কেবল বুদ্ধের জন্ম কিংবা সংসারত্যাগের দিন নয়, মনের ও জীবনের আঁধারবিদারী আলোর প্রতীকও।

শিক্ষানীতি ২০১০, পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি এবং জাতীয় স্বার্থ by মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

দ্যসমাপ্ত সংসদ অধিবেশনে গত ৭ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার বহু প্রতীক্ষিত শিক্ষানীতি ২০১০ পাস হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটি দ্বারা শিক্ষানীতির প্রতিবেদনের চূড়ান্ত খসড়া গত বছরই রচিত হয়েছিল। এটি ওয়েবসাইটে আলোচনা-পর্যালোচনার জন্য দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ওই প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তর সেমিনার করেছে, অনেকেই পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করেছে, বেতার-টিভিগুলোতে ওই শিক্ষানীতির খসড়া দলিলের ওপর যথেষ্ট টক শো হয়েছে,

চীন-ভারত সম্পর্ক এবং এ অঞ্চলে তার প্রভাব by মোস্তফা কামাল

শিয়ার দুই বড় শক্তিধর দেশ চীন ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন চিয়াবাও এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার ব্যাপারে মতৈক্য হয়েছে। কয়েক মাস আগেও দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধের জের ধরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দিয়েছিল। আর তার নেতিবাচক প্রভাব

নারী লাঞ্ছনার সর্বগ্রাস by ফখরুজ্জামান চৌধুরী

মাস ছয়েক আগে পত্রিকান্তরে ইভ টিজিং নিয়ে প্রথম লিখেছিলাম। তখন এই সামাজিক ব্যাধিটি এমন মহামারির রূপ লাভ না করলেও অদূর ভবিষ্যতে যে এটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে তার সব নমুনা কিন্তু তখন সুস্পষ্ট ছিল। আমরা সতর্ক করেছিলাম সময় থাকতে ব্যবস্থা নিতে। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি হয়নি, আজ তা বিবেচ্য নয়।

একজন এস এ জালাল ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্যভাণ্ডার by সঞ্জীব রায়

সারা বিশ্ব এগিয়ে গেলেও ইন্টারনেট ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে তেমন কোনো কাজ হয়নি। এই সুযোগে স্বাধীনতার পরাজিত ঘাতক-দালাল চক্রের নব্য উত্তরসূরিরা ইন্টারনেটের ব্লগ-ফোরাম-সামাজিক সাইটগুলোতে তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে তরুণসমাজকে বিভ্রান্ত করছে। এই বিভ্রান্তি প্রতিরোধে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই বটে, কিন্তু থেমে থাকেনি আজকের তরুণসমাজ। যাঁরা হা-হুতাশ করে বলেন, 'আজকের তরুণদের দিয়ে কিছুই হচ্ছে না',

বিশ্বকাপ জিতবে নিউজিল্যান্ড

বনাম বাংলাদেশ: ০-৪। বনাম ভারত: ০-৫। বনাম পাকিস্তান: ২-৩। সর্বশেষ তিনটি ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ডের নাস্তানাবুদ হওয়ার ইতিবৃত্ত। গত ১৭ ওয়ানডের ১৪টিতেই হেরে বিশ্বকাপে খেলতে আসা দলটা যদি ঘোষণা করে, ‘আমরা বিশ্বকাপ জিতব’, কেউ বাঁকা চোখে তাদের দিকে তাকাতেই পারে। কিউইরা কি তবে অতি আশাবাদী!
নিউজিল্যান্ড আপাতত তাঁবু গেঁড়েছে ভারতের চেন্নাইতে। সেখানেই উন্মুক্ত মিডিয়া সেশনে স্কট স্টাইরিস জানালেন, ‘বিশ্বকাপ, সেটিও উপমহাদেশে! এর চেয়ে বড় কিছু আর কী হতে পারে। জানি, খুবই রোমাঞ্চকর পরিবেশ থাকবে। এখানে সফরটা আমি খুব উপভোগ করি। আমি নিজেও ভালো খেলেছি এই কন্ডিশনে। আমরা হয়তো খারাপ খেলছি কিছুদিন ধরে। কিন্তু বিশ্বকাপে যে দলগুলো খেলছে, তাদের আমরা আগেও হারিয়েছি। আবারও হারাতে পারব।’
এই অলরাউন্ডার জানালেন, নিউজিল্যান্ডকে সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছেন তাদের নতুন কোচ। জন রাইট নিজে অনেক দিন ভারতের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। বেশ সফলও ছিলেন। এই কন্ডিশনে সাফল্যের রহস্য তাঁর জানা। স্টাইরিস জানালেন, রাইট তাঁর অভিজ্ঞতার ভাঁড়ার উজাড় করে দিচ্ছেন দলের খেলোয়াড়দের, ‘ভারতে রাইটের অভিজ্ঞতা আর বিশেষত্ব আমাদের কাজে দেবে। তিনি ভারত সম্পর্কে অনেক কিছুই বলছেন। এখানে তাঁর অনেক বন্ধু, বিশেষ করে গ্রাউন্ডসম্যানদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তো অনেক ভালো। তিনি এদের কাউকে কাউকে বলে আমাদের জন্য সহায়ক উইকেটও বানিয়ে নিতে পারেন।’
স্টাইরিসের শেষ বাক্যটি নিশ্চয়ই কৌতুক করে বলা। তবে তাঁদের এই কথা হালকা করে দেখার উপায় নেই, বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড আসলেই সমীহ জাগানো দল। হাজার হোক, গত নয়টি বিশ্বকাপের পাঁচবারই সেমিফাইনালে খেলেছে তাঁরা। তা ছাড়া এই দলে স্টাইরিস ছাড়াও আছেন রস টেলর, জেসি রাইডার, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ড্যানিয়েল ভেট্টোরিদের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়।

টেন্ডুলকার-গুলের টানা দ্বিতীয়

ডারবানের সবুজ উইকেটে লোয়ার-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে চোয়ালবদ্ধ লড়াই করে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছিলেন একজন। নাগপুরের নিষ্প্রাণ উইকেটে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন আরেকজন। ভিভিএস লক্ষ্মণের ৯৬ আর ডেল স্টেইনের ৭/৫১—বিরুদ্ধ পরিবেশে দুজনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স জিতে নিয়েছে ক্রিকইনফোর বর্ষসেরা টেস্ট পারফরম্যান্সের পুরস্কার। ২০১০ সালের বাকি শাখার পুরস্কারগুলো জিতেছেন শচীন টেন্ডুলকার, উমর গুল, মাইক হাসি ও টিম সাউদি।
২০০৭ সাল থেকে হয়ে আসছে ক্রিকইনফো অ্যাওয়ার্ড। বর্ষসেরা পারফর্মার নয়, ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটি পুরস্কৃত করে বর্ষসেরা পারফরম্যান্সকে। এবার জুরি বোর্ডে ছিলেন জিওফ বয়কট, ইয়ান চ্যাপেল, মার্টিন ক্রো, টনি গ্রেগ, সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, রমিজ রাজা, কেপলার ওয়েসেলস ও ক্রিকইনফোর সিনিয়র সম্পাদকেরা।
টেন্ডুলকারের ইতিহাসগড়া ডাবল সেঞ্চুরিটি নির্বাচিত হয়েছে ওয়ানডের সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্স। গতবারও এই পুরস্কার জিতেছিলেন টেন্ডুলকার, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৭৫ রানের ইনিংসটির জন্য। টানা দুবার জিতলেন উমর গুলও। তবে গতবার টি-টোয়েন্টির সেরা বোলিং, এবার ওয়ানডের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে স্তব্ধ করে দেওয়া মাইক হাসির ইনিংসটি নির্বাচিত হয়েছে টি-টোয়েন্টির সেরা ব্যাটিং, সেরা বোলিং হ্যাটট্রিকসহ টিম সাউদির ৫ উইকেট। পাঠক ভোটে পার্থক্য আছে শুধু দুটি—টেস্টে সেরা ব্যাটিং লক্ষ্মণেরই, তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মোহালির ৭৩। হাসির জায়গায় টি-টোয়েন্টির সেরা ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সুরেশ রায়নার সেঞ্চুরি।

ক্রিকইনফো অ্যাওয়ার্ড
টেস্ট ব্যাটিং : ভিভিএস লক্ষ্মণ, ৯৬, প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা
টেস্ট বোলিং : ডেল স্টেইন, ৭/৫১, প্রতিপক্ষ ভারত
ওয়ানডে ব্যাটিং : শচীন টেন্ডুলকার, ২০০*, প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা
ওয়ানডে বোলিং : উমর গুল, ৬/৪২, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড
টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং : মাইক হাসি, ৬০*, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান
টি-টোয়েন্টি বোলিং : টিম সাউদি, ৫/১৮, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান

ব্যাংকের চাকরি হারালেন বাটরা

এবার চাকরিও হারালেন পাকিস্তানি তিন নিষিদ্ধ ক্রিকেটার। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান চাকরি দিয়েছিল সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমিরকে।
কিন্তু স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে আইসিসি এই তিনজনকে সম্প্রতি নিষিদ্ধ করলে ভাবমূর্তি-সচেতন ব্যাংকটিও তাঁদের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি।
পাকিস্তানের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার ও ন্যাশনাল ব্যাংকের পদস্থ কর্মকর্তা ইকবাল কাশিম বলেছেন, ‘আমরা আইসিসি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলাম, এরপর আমরা তাঁদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।’

ইডেনের জন্য কপিলের দুঃখ

ইডেন গার্ডেন ভারতের একটা বিশ্বকাপ ম্যাচও পায়নি, এটা নিয়ে কলকাতাবাসীর দুঃখের শেষ নেই। শুধু কলকাতা নয়, সারা বিশ্বের ক্রিকেট-সমাজই কমবেশি দুঃখিত। ইডেন তো আর এমনি এমনিই ক্রিকেটের ‘নন্দনকানন’ হয়ে ওঠেনি! ক্রিকেট সমঝদার লাখো দর্শকের আবেগ-উচ্ছ্বাসে ভেসে এখানে খেলার আনন্দই আলাদা। ভারতের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেবের ইডেনের জন্য খুব খারাপ লাগছে। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করতে পারেনি বলে এই মাঠের মালিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) তাঁর চোখে দায় এড়াতে পারে না। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিসিআই) পার পায়নি বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের হাত থেকে, ‘সময়মতো সিএবি সংস্কারকাজ করতে পারবে কি না বিসিসিআইয়েরও তো এটা দেখা উচিত ছিল।’ ‘ব্যক্তিগত’ রাগ-ক্ষোভ এখানে আসা একেবারেই ঠিক হয়নি জানিয়ে কপিল বলেছেন, ‘কেন জগমোহন ডালমিয়া বা পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ইডেনে ভারতের বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা থেকে বঞ্চিত হতে হবে? কলকাতার মানুষের জন্য আমার খারাপ লাগছে।’ একটা টক শোতে কপিলের সঙ্গে ছিলেন আরও তিন বিশ্বকাপ অধিনায়ক—ভিভ রিচার্ডস, স্টিভ ওয়াহ ও ‘কলকাতার রাজপুত্র’ সৌরভ গাঙ্গুলী। সেখানে স্টিভ ওয়াহও কথা বলতে গিয়ে ডুবে যান ইডেনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতির মধ্যে।

ট্রটের বিস্ময়, বিস্মিত প্রিয়র

বিস্ময় শব্দটি দুজনের কাছে নতুন। একজন বিস্ময়ের পর বিস্ময় উপহার দিয়ে চলেছেন। আরেকজন নিজেই বিস্মিত!
অ্যাশেজ শেষে যখন ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হলো, তখন টি-টোয়েন্টি খেলছেন ম্যাট প্রিয়রও। তবে বিগ ব্যাশে। ইংল্যান্ডের এক নম্বর টেস্ট উইকেটকিপার যে অনেক দিন ধরেই অপাঙেক্তয় রঙিন পোশাকে! বিগ ব্যাশটা খেলেই দেশে ফিরে যাবেন, মাস দুয়েকের ছুটি কাটাতে। ইচ্ছে ছিল ঘুরে বেড়াবেন, আর বাড়িতে বসে আয়েশ করে বিশ্বকাপ দেখবেন। সেই প্রিয়রই কি না নিজেকে আবিষ্কার করলেন বিশ্বকাপ দলে!
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থিতু হতে একদম সময় নেননি জোনাথন ট্রট। অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি, এরপর দ্রুতই আপন করে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের তিন নম্বর জায়গাটা। ১৮ টেস্ট শেষে নামের পাশে ৫ সেঞ্চুরি, গড় ৬১.৫৩। কমপক্ষে ২০ ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ট্রটের চেয়ে বেশি গড় আছে ক্রিকেট ইতিহাসে কেবল স্যার ডন ব্র্যাডম্যানেরই। বিস্ময়-জাগানিয়া পরিসংখ্যান, কিন্তু আঁটসাঁট রক্ষণ ও নিখুঁত টেকনিক মিলিয়ে তবু ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায়। কিন্তু এ ধরনের ব্যাটসম্যান কি এই যুগের ওয়ানডের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবেন?
১৮ ওয়ানডেতে ৩ সেঞ্চুরি আর ৬ ফিফটি, গড় ৫৩.৬২। পরের ২ ইনিংসে ৪২ রান করতে পারলে ভেঙে যাবে ওয়ানডেতে দ্রুততম হাজার রানের বিশ্ব রেকর্ড। ওয়ানডের ট্রট চমকে দিয়েছেন ক্রিকেট-বিশ্বকেই। রহস্য কী এমন সাফল্যের? ট্রট জানালেন, রহস্য কোনো রহস্যময় কিছু না, ‘আমি যে কাজটা পারি, সেটাই ঠিকভাবে করার চেষ্টা করেছি। নিজের ব্যাটিংয়ে খুব বেশি পরিবর্তন আনিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও এভাবে খেলেই প্রচুর রান করেছি, নিজের মতো করে খেলেই। বেসিকটা সব সময় ঠিক রাখি। কোচ, ব্যাটিং কোচ যা বলেন, সেসব মেনে চলার চেষ্টা করি। এই তো...।
বিস্ময়ের ধাক্কা খানিকটা কমে এসেছে। প্রিয়রের মনজুড়ে এখন প্রথম বিশ্বকাপ খেলার রোমাঞ্চ, ‘ভীষণ রোমাঞ্চিত আমি। বিশ্বকাপটা সব সময়ই অসাধারণ। আর সেটা যদি হয় উপমহাদেশে, এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। খেলাটার জন্য এখানে যে আবেগ, যে ভালোবাসা, যে উত্তেজনা এর কোনো তুলনা হয় না।’
প্রিয়র তো রোমাঞ্চিত, কিন্তু স্টিভ ডেভিসের যে হূদয় ভেঙে গেল! গত সেপ্টেম্বরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৭ বলে ৮৭ রান করার পর রঙিন পোশাকে জায়গা পাকা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ফর্ম হারালেন বড় বাজে সময়ে। অ্যাশেজে প্রিয়রের দুর্দান্ত ফর্মটাও কাল হলো ডেভিসের জন্য। শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপ-স্বপ্ন। প্রিয়রের কিন্তু সতীর্থের জন্য সহানুভূতি নেই বরং তিনি দারুণ পেশাদার, ‘ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পুরোটাই আমাকে অনেকবার দলে আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। এটা ইংল্যান্ড উইকেটকিপারদের পার্ট অ্যান্ড পার্সেল। ব্যাপারটা পরিষ্কার, যদি ভালো ব্যাটিং করেন, ভালো কিপিং করেন, তাহলে দলে থাকবেন। ভালো না করলে নয়।’
তো, কত দিন চলবে এই আসা-যাওয়া? এবারই যেমন ফেরার পর প্রথম দুই ম্যাচে শূন্য। পরের ম্যাচে একটা ফিফটি করায় তবু স্বস্তি পেয়েছেন, কিন্তু পরের তিন ম্যাচে আবার ব্যর্থ। এভাবে চলতে থাকলে তো আবার বাইরে যেতে সময় লাগবে না! প্রিয়র জানালেন, এটাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। টেস্টের মতো ওয়ানডে দলেও জায়গাটা নিরঙ্কুশ করতে চান এই বিশ্বকাপেই।
চ্যালেঞ্জ একটা ট্রটেরও আছে। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন। এবার উপমহাদেশের উইকেটে স্পিন-পরীক্ষা। নিজের এই পরীক্ষা নেওয়ার জন্য নাকি ট্রটেরও তর সইছে না!

ফুটবলকে বিদায় রোনালদোর

‘মন বলছে খেলে যেতে কিন্তু শরীরে আর কুলোচ্ছে না’—ও গ্লোবো টিভিকে বলেছেন রোনালদো। কী বলতে চেয়েছেন ব্রাজিলকে ২০০২ বিশ্বকাপ জেতানো স্ট্রাইকার? ‘বিদায় ফুটবল’—জানিয়ে দিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি। ব্রাজিলের গণমাধ্যমের যে খবরটি দিয়েছিল আগেই, কাল তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের (১৫ গোল) মালিক, ‘পেশাদার ফুটবলার হিসাবে আমি আমার ক্যারিয়ার এখানেই শেষ করছি।’
বয়স ৩৪, কিন্তু পেশাদার ক্যারিয়ারটা ১৮ বছরের। খেলেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা চার ক্লাব বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান ও এসি মিলানে। ২০০৯ সালে নাম লিখিয়েছেন নিজের দেশের ক্লাব করিন্থিয়ানসে। আগেই বলে দিয়েছিলেন, এ মৌসুমই তাঁর শেষ। তবে চোট এ মৌসুমের পুরোটাও খেলতে দিল না তাঁকে! ব্রাজিলের সংবাদপত্রস্টাডো ডে সাও পাওলোকে বলেছেন, ‘আর পারছি না। আমি একটা জিনিস আমার মতো করে করার চিন্তা করি। কিন্তু যেভাবে করতে চাই, সেভাবে পারি না। সময় এসে গেছে।’
বয়সের সঙ্গে চোটও ঘিরে ধরেছে রোনালদোকে। চোট অবশ্য ক্যারিয়ারের সব সময়ই ছিল ‘দ্য ফেনোমেননের’। ২০০২ বিশ্বকাপের আগে হাঁটুর চোট তাঁকে ছিটকে দিয়েছিল বাইরে। কিন্তু চোট থেকে সেরে উঠে দুর্দান্ত খেলে ওই বিশ্বকাপটাই ব্রাজিলকে জেতালেন সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে। পরে আরও দুবার সর্বনাশা চোট ভুগিয়েছে তিনবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়কে। শেষতক এসি মিলান থেকে করিন্থিয়ানসে নাম লেখান প্রায় এক বছরের চোটের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে।
মৌসুম শেষ না হতেই ফুটবলকে বিদায় বলে দেওয়ার আরও একটা কারণ আছে রোনালদোর। ক্যারিয়ারে অনেক শিরোপাই জিতেছেন—বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, স্প্যানিশ লিগ, আরও কত শিরোপা! জেতা হয়নি শুধু দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের চ্যাম্পিয়নস লিগ হিসেবে পরিচিত কোপা লিবার্তোদোরেস। এই টুর্নামেন্ট থেকে করিন্থিয়ানস বাদ পড়ে যাওয়াতেই মনে হয় এই আগাম ‘বিদায়’ বলে দেওয়া তাঁর।

কলিংউডের ‘প্রিয় বাংলাদেশ’

টেস্ট ছেড়েছেন সদ্যই। ফর্ম ভালো যাচ্ছিল না। ওয়ানডেতেও যে ফর্ম যাচ্ছে, তাতে হয়তো এখান থেকেও অবসর নিতে বাধ্য হবেন। ক্যারিয়ারের এক কঠিন সময়ের মুখোমুখি পল কলিংউড এসে পৌঁছেছেন তাঁর প্রিয় বাংলাদেশে।
প্রিয় বাংলাদেশ! না, কলিংউডের কোনো আত্মীয়স্বজন এই বদ্বীপের ১৬ কোটি মানুষের ভিড়ে নেই। বাংলাদেশ আসলে তাঁর প্রিয় প্রতিপক্ষ। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটিং গড় যে ক্যারিয়ার গড়ের প্রায় দ্বিগুণ—৬৭.১৬!
আর সব ভুলে কলিংউড সব সময় মনে রাখেন ২০০৫ ট্রেন্টব্রিজের ম্যাচটি। আশরাফুলের ধুন্ধুমার ব্যাটিং ছাপিয়ে যে ম্যাচে নায়ক হয়ে গিয়েছিলেন কলিংউড। ব্যাট হাতে ৮৬ বলে ১১২ রান, বল হাতে ৩১ রানে ৬ উইকেট! ওয়ানডে ইতিহাসেরই ম্যাচে সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের রেকর্ড।
কাল শেরাটনে কথাটা তুলতেই ধন্যবাদ দিয়ে বসলেন ব্রিটিশ ভদ্রলোক। গতবারও বাংলাদেশ সফরে চট্টগ্রাম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে এত ভালো করার কারণটা কী?
বিগলিত কলিংউডের সরল জবাব, ‘হ্যাঁ, বাংলাদেশের বিপক্ষে আমার বেশ কয়েকটি ভালো পারফরম্যান্স আছে। কিন্তু এর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। এমন তো নয় আমি মাঠে নামার আগে চিন্তা করে নামি, বাংলাদেশকে পেয়েছি, আবার ভালো খেলব। আসলে হয়ে যায়।’
সেই হয়ে যাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার বলেই মানছেন ওয়ানডেতে ৫০৩১ রান আর মিডিয়াম পেসে তোলা ১১০ উইকেটের মালিক। গত ১৯ ওয়ানডেতে মাত্র একটি ফিফটি করা কলিংউড অবশ্য নিজের ভবিষ্যৎ ভাগ্যের হাতে সঁপে দিতে রাজি নন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গত ওয়ানডে সিরিজে তাঁকে নেমে যেতে হয়েছে সাতে। ক্যারিয়ারের শেষবিন্দুতেই কি দাঁড়িয়ে আছেন আগামী মে মাসে ৩৬-এ পা দিতে চলা কলিংউড?
‘ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে এখনো অনেক কিছু দেওয়ার আছে আমার। জাতীয় দলে খেলাটা আমি এখনো উপভোগ করছি’—অবসরের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতটা উড়িয়ে দিলেন ‘কলি’।
এখনো ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তিনিই। তাঁর নেতৃত্বেই গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড; যেটি আইসিসির প্রথম কোনো টুর্নামেন্টে ক্রিকেটের আবিষ্কর্তাদের শিরোপা জয়। বড় টুর্নামেন্টে শিরোপা জিততে হলে কী করা চাই, সেই পরামর্শ তো কাছের মানুুষটার কাছ থেকেই নিতে পারেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস।
কলিংউড অবশ্য মনে করছেন, বিশ্বকাপ জেতার টিপস তাঁর কাছ থেকে না নিলেও চলবে দলের ওয়ানডে অধিনায়কের, ‘স্ট্রাউস দারুণ করছে। ওয়ানডেতেও ভালো নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত দুই বছরে আমরা সত্যি বেশ কয়েকটি ভালো সিরিজ খেলেছি। এ ধরনের বড় টুর্নামেন্টে আসলে প্রস্তুতি আর আত্মবিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। তা আমাদের আছে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় দলের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলেও জানালেন। ‘আমরাও পারি’ বিশ্বাসটা জন্মেছে, ‘এর আগে আমরা কোনো আইসিসি ইভেন্ট জিততে পারিনি, এটা অবশ্যই সবার মাথায় কাজ করত। আশা করা যায়, তা আর করবে না। এই দলের অনেকেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ছিল। তাই সবাই খুব আত্মবিশ্বাসী থাকবে।’
সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসের তাজা বাতাস দরকার তাঁরই। জাত লড়াকু কলিংউড অবশ্য প্রস্তুত। মাত্রই জন্ম নেওয়া মেয়ের জন্যও তো একটা উপহার নিয়ে যেতে হবে দেশে!