Friday, March 23, 2018
ফ্রান্সের সুপারমার্কেটে জিম্মিদশার অবসান: হামলাকারীসহ নিহত কমপক্ষে ৩

হামলায় বেশ কয়েকজন আগত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওদিকে, সরকারী সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়, হামলাকারী তিন জনকে হত্যা করেছে বলে জানা যাচ্ছে। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা ওই ব্যক্তি মরোক্কোর নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। পৃথক তিন ঘটনায় তার হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছে। বলা হচ্ছে, একটি গাড়ি ছিনতাই করে সে এক যাত্রীকে হত্যা করে। আহত করে গাড়িচালককে। কারকাসোন এলাকায় এক পুলিশ সদস্য তার গুলিতে আহত হন। এরপর সে ত্রেবেসে গিয়ে সুপারমার্কেটে ঢুকে মানুষজনকে জিম্মি করে নেয়।
স্থানীয় সময় বেলা সোয়া এগারোটার দিকে হামলাকারী সুপারমার্কেটে প্রবেশ করে। এরপর মার্কেটের ভেতর থেকে গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এরপরই ঘটনাস্থলে পৌছায় পুলিশ।
এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, হামলার পর পুরো এলাকাটিতে মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এক নিরাপত্তা কর্মী জানিয়েছেন, মার্কেটের বেশিরভাগ ক্রেতা ও কর্মচারী পালাতে সক্ষম হয়েছেন। সেখানে কয়েকশ’ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার্দ চার্লস ফিলিপ পরিস্থিতি ‘খুবই সংকটজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জুরাইন দরবার শরীফ: অসুস্থ পীরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ মাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা by আল-আমিন

সরজমিন দেখা যায়, জুরাইন মূল সড়কের পাশেই ‘জুরাইন দরবার শরীফ’। পাশেই রয়েছে সালাহউদ্দিন আহমেদ নামে একটি পেট্রোল পাম্প। প্রায় ৪ একর জমির ওপর এই দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠিত। মাজারের জমির আকারটি লম্বা। ঢোকার জন্য ২টি গেট রয়েছে। একটি গেটের পাশে রয়েছে চিশতিয়া বেকারি। আরেকটি গেটের প্রান্তে রয়েছে চিশতিয়া টাওয়ার। মাজারের মধ্যেই রয়েছে বর্তমানের গদিনশীন পীরের তিনতলা একটি বাড়ি। এই বাড়িতেই তার ৩ মেয়ে থাকেন। বাড়ির সামনে রয়েছে পীরের মেজো ভাই শাহ্ আলম। জহরুল আলম নামে অন্য ভাই থাকেন জুরাইন এলাকায় অন্য একটি বাড়িতে। তবে নজরুল আলম নামে আরেক ভাই পরিবার নিয়ে ভারতে থাকেন। মাজারে ওরশ হলে তিনি ভারত থেকে যোগ দিতে আসেন।
জানা গেছে, বর্তমান গদিনশীন পীরের চাচা হযরত খাজা শাহ্ আবুন্নাছরে মোহাম্মদ নাজীবুদ্দীন চিশতি আল হক নাওয়ারাল্লা শারকাদাহ ১৯৪১ সালে জুরাইন দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। ওই বছর তার পরিচালনায় প্রথম ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। তারও কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। ১৯৬৪ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর তার ভাতিজা বর্তমান পীর কামরুজ্জামান চিশতিকে বায়াত দিয়ে খেলাফত দান করে যান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তখন থেকেই তিনি খাস নিয়ত ও হেকমতের সঙ্গে এই মাজার শরীফ পরিচালনা করে আসছিলেন। মাজারের অন্য সম্পত্তিগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সেখান থেকে আয়কৃত টাকা তিনি জনকল্যাণে ব্যয় করেন। এছাড়াও কুমিল্লার মুরাদনগারের পীরকাশেমপুর দরবার শরীফটিও তিনি ঢাকা থেকে পরিচালনা করতেন। ১৫ দিন পর সেখানে গিয়ে তিনি তার মুরিদদের ঈমানের উপর টিকে থাকার জন্য নসিয়ত ও বায়াত প্রদান করে থাকেন। তার এই নেক নিয়তটি কামরুজ্জামানের অন্য তিনভাই সহ্য করতে পারেনি। কামরুজ্জামান দরবার শরীফ পরিচালনার পাশাপাশি তিনি মাজারের ও মসজিদের সাধারণ সম্পাদকও। মুনির হোসেন নামে মাজারের এক মুরিদ জানান, অসুস্থ পীরের ভাইয়েরা মাজারের মার্কেট ও বেকারি দখল করেছেন। এখন তার তিন মেয়েকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে।
জুরাইনের আদি বাসিন্দা পাইকারী কাঁচামাল ব্যবসায়ী আলহাজ্ব রজব আলী বলেন, বর্তমান পীর একজন নেক আমলদার। আল্লাহ্ পাক তাকে ছেলেসন্তান দেননি। তার তিন নিরীহ আমলদার মেয়ে রয়েছে। তিনি ভাইয়ের ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে সমস্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার আরেকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি জানান, সম্পত্তি দখল ও হট্টগোলের বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে। কিন্তু, পীরের ভাইয়েরা থানা পুলিশকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার কারণে তারা দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
চিশতিয়া টাওয়ারের নিচতলায় চিশতিয়া বিরানি হাউজের মালিক সুমন জানান, তাদের কাছে মাজারের এক ‘আওলাদ’ এসে ভাড়া তুলে নিয়ে যায়। তিনি মাজারের বিরোধের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। চিশতিয়া বেকারির ম্যানেজার শফিকুল আলম জানান, এই বেকারিটি চালান পীরের ভাই শাহ আলম। এর আগে বেকারিটি কার ছিল প্রশ্ন করলে তিনি জানেন না বলে জানান। সার্বিক বিষয়ে জানার জন্য পীরের মেজো ভাই শাহ আলমের সঙ্গে তার বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দেয়া মাত্রই ফোনটি কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে শ্যামপুর থানার ওসি মো. মিজানূর রহমান জানান, জুরাইন দরবার শরীফটি হচ্ছে পুরনো দরবার শরীফ। ফেব্রুয়ারি মাসে পীরের তিন মেয়ে থানায় এসে একটি জিডি করেছিলেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাদের বেকারির কর্মচারীরা মারতে গিয়েছিলেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আপ বিধায়কদের সদস্যপদ বহাল দিল্লি হাইকোর্টে: স্বস্তিতে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ
![]() |
| দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল |
আজ (শুক্রবার) আদালতের রায়ের পর দিল্লি বিধানসভার স্পিকার রামনিবাস গোয়েল ২০ বিধায়ককে বর্তমান বাজেট অধিবেশনে অংশ নেয়ার জন্য সম্মতি দিয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের ফলে আপ বিধায়করা স্বস্তি পাওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার বড় ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পুনরায় শুনানি করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আপ বিধায়কদের বিভিন্ন দফতরের পরিষদীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় তারা লাভজনক পদে আছেন- এমন অভিযোগে নির্বাচন কমিশন গত জানুয়ারিতে দলটির ২০ বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করে। প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ নির্বাচন কমিশনের সুপারিশে সম্মতি দেয়ায় আপের ওই বিধায়কদের সদস্য পদ বাতিল যায়।
দলীয় বিধায়কদের অসাংবিধানিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো শুনানি ছাড়াই ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে সেসময় অভিযোগ করা হয়। এরপরেই আম আদমি পার্টি দিল্লি হাইকোর্টে এনিয়ে চ্যালেঞ্জ জানালে আজ (শুক্রবার) দিল্লি হাইকোর্ট আপের ২০ বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দিয়েছে। বিধায়কদের অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি আইনত ঠিক নয় বলে আদালত জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে পুনরায় শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে।
দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আপ প্রধান ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে। দিল্লির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বেআইনিভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। দিল্লি হাইকোর্ট জনগনের পক্ষে রায় দিয়েছে।’
এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতার ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক ও কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপি সম্পূর্ণ একটি অভারতীয় দল, যারা ভারতের সংবিধানের উপরে শুরু থেকেই আস্থা রাখে না। তারা মনে গায়ের জোরে, অস্ত্রের জোরে ও তাদের লোকেদের জোরে সবকিছু করবে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট যেহেতু আর এস এসের লোক সেজন্য তারা ভেবেছেন সবকিছুতে তাদের ইচ্ছাই স্থান পাবে। তাই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আপের ২০ বিধায়কের সদস্য পদ খারিজ করে দেয়া হয়েছিল। আজকে হাইকোর্টের রায় তাদের ওপরে একটা চপেটাঘাত। দিল্লি হাইকোর্ট প্রমাণ করেছে সবার ওপরে ভারতের সংবিধান সত্য, সবার ওপরে ভারতের গণতন্ত্র সত্য এবং ভারতের বিচার ব্যবস্থাকে এত সহজে দমিয়ে ফেলা যাবে না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে প্রতি ঘণ্টায় আত্মহত্যা করছে একজন শিক্ষার্থী

খবরে বলা হয়, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া, উচ্চশিক্ষার জন্য ভাল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া, বা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া - এরকম নানাবিধ চাপের মধ্যে বড় হচ্ছে। আর এগুলোর কোন একটা পর্যায়ে ব্যর্থ হলেই নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছে। স্কুল, আর বাড়ি - চাপ আসে দুই জায়গা থেকেই।
কলকাতার একটি নামী স্কুলের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে রঞ্জিতা নন্দীর ছেলে। নন্দী জানান, অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্কুল আর সামাজিক চাপের কাছে অনেক সময়েই মাথা নত করতে হয় অভিভাবকদের। তিনি বলেন, আমার ছেলে যে স্কুলে পড়ে, সেখানে প্রত্যেকটা স্টুডেন্টের নম্বর নিয়ে ভীষণ চাপ দেয়, সামান্য খারাপ করলেই বাবা মাকে ডেকেও কথা শোনানো হয়। আর বাড়ি ফিরে আমরা বাবা-মায়েরা সেই চাপটাই আবার বাচ্চাদের ওপরে চাপিয়ে দিই - আরও পড়, আরও পড়- বলতে থাকি। এই চাপ নেওয়ার জন্য হয়তো বাচ্চাটি তৈরিই হয় নি, অথচ ইচ্ছা না থাকলেও করতে হয়। কারণ যে সমাজে বাস করি সেটা গোটাটাই ক¤িপটিশনের ওপরে চলে।’
ইন্দ্রাণী ঘোষ নামে অপর এক অভিভাবক জানান, এখন সমাজটাই এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে ভাল চাকরি, ভাল বেতন - এগুলোই বাচ্চাদের বা তাদের বাবা মায়েদের লক্ষ্য হয়ে উঠছে। তাই ওই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বাচ্চারা সবসময়েই একটা চাপের মধ্যে থাকে।
কলকাতার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা দীপান্বিতা মজুমদার জানান, বাচ্চাদের পড়াশোনা অথবা বড় হয়ে ওঠার প্রতি বাবা মায়েদের নজরদারির অভাব এবং , কোনও ক্ষেত্রে ¯পষ্ট অবহেলাও থাকে।
তিনি বলেন, ‘অভিভাবকদের সঙ্গে আমাদের বৈঠকগুলোতে দেখি অনেক সময়ে বাবারা প্রায় আসেনই না। অনেক বাবা মা তো আবার এটাও খেয়াল রাখেন না যে মেয়ের পরীক্ষা চলছে বা নম্বর বের হচ্ছে। কিন্তু পরীক্ষায় খারাপ করলে যখন আমরা বাবা মাকে ডেকে কথাগুলো বলি, তখন তারা বাড়ি ফিরে বাচ্চাদের ওপরে বকাবকি করেন। একটা কথা অনেক বাবা-মাকেই বলতে শুনি যে এত খরচ করার পরেও কেন এরকম খারাপ ফল হল! এই কথাটা একটু বড় বাচ্চারা একদম নিতে পারে না।’
কলকাতার একজন শিশু মন বিশেষজ্ঞ সময়িতা ব্যানার্জী, বলেন, যে শিশু তার বাড়ির পরিবেশ নিয়ে খুশি, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটায় আনন্দে, মোটের ওপরে যার একটা ‘সুইট হোম’ আছে, তার যদি কখনও পরীক্ষায় খারাপ ফল হয়, সেটা সে সহ্য করে নিতে পারে। কিন্তু যেসব বাড়ির বা স্কুলের পরিবেশটাতেই গ-গোল, বা যারা ইলেকট্রনিক মিডিয়া - টিভি ইত্যাদি বেশী দেখে, এরকম বাচ্চাদের স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়। এদের যখন ছোটখাটো ব্যর্থতা মোকাবিলা করতে হয়, তখন তাদের কাছে সেটা খুব কঠিন হয়ে যায়। আর সমস্যাটা যদি বড়সড় কিছু হয়, তাহলে সে আর মোকাবিলা করতেই পারে না। তখন চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।’
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৬ - এই তিন বছরে ২৬ হাজার পড়–য়া আত্মহত্যা করেছে ভারতে। ২০১৬ সালে ১৩০০ ছাত্রছাত্রী মহারাষ্ট্রে আর পশ্চিমবঙ্গে ১১০০ ছাত্রছাত্রী নিজেদের জীবন শেষ করে দিয়েছে। পরীক্ষায় ফেল করা ছাড়া পড়াশোনায় খারাপ করা, অপছন্দের কোন বিষয় পড়তে বাধ্য করা, এমনকি পড়াশোনায় খারাপ ফল হতে পারে - এই ভয় থেকেও অনেক ছাত্র ছাত্রীই আত্মহত্যা করছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আহেদ তামিমির ৮ মাসের জেল

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাঁকন বিবিকে নিয়ে যে আফসোস রয়েই গেল by ওয়েছ খছরু

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টিলারসনকে বহিস্কারে তদবির চালিয়েছিল আমিরাত

খবরে বলা হয়, টিলারসনকে বরখাস্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পকে রাজি করানোর জন্য পুরো এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন জর্জ নাদের। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রিপাবলিকান অর্থ যোগানদাতা ইলিয়ট ব্রয়ডির সঙ্গে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের চুক্তি করেন। পাশাপাশি আমিরাত থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য হস্তান্তরে ব্রয়ডিকে সহায়তা করেন নাদের। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে টিলারসনকে বহিষ্কার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, টিলারসনকে বহিষ্কার করতে ট্রাম্পকে প্ররোচিত করেছেন জর্জ নাদের ও ইলিয়ট ব্রয়ডি। এর পূর্বে কাতার ও ইরান সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয়ে মার্কিন বৈদেশিক নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও টিলারসনের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়।
সম্প্রতি ব্রয়ডি ও নাদেরের মধ্যে আদান-প্রদানকৃত ই-মেইল বার্তা ফাঁস করে বিবিসি। এতে টিলারসনকে বহিষ্কার করতে ব্রয়ডি ও নাদেরের প্রচেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গরমে আরামের পোশাক

নজর দিন ফেব্রিকের ওপর: গরমের পোশাক নির্বাচনে সবার আগে নজর রাখুন ফেব্রিকের ওপর। এক্ষেত্রে সুতির পোশাক হতে পারে প্রথম পছন্দ। দিন হোক বা রাত, গরম থেকে বাঁচতে সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাক কিন্তু একদিকে যেমন ফ্যাশনেবল, তেমনি আরামদায়কও। মোটা কাপড়ে ফ্যাশন সচেতন হতে চাইলে তীব্র গরমে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হতে পারে।
হালকা রঙ প্রাধান্য দিন: সাধারণত গরমে হালকা রঙের কাপড়ের সমাদর বেশি। গরমে কটকটে বা গাঢ় কোনো রঙ অসহনীয় লাগে। তাই অধিকাংশ মানুষ গরমে বেছে নেন হালকা রঙের পোশাক। সাদা, আকাশি, হালকা সবুজ, বাদামি, হালকা গোলাপি, হলুদ, বেগুনি কিংবা ঘিয়াসহ যেকোনো সহনশীল রঙ বেছে নিতে পারেন পোশাকে। আবার গরমে গাঢ় রঙ যে পরাই যাবে না, এমনটা কিন্তু নয়। তবে কালো রঙটি এড়িয়ে চলতে পারলে ভালো। কারণ, কালো রঙের কাপড় সূর্যালোকে তাড়াতাড়ি উত্তপ্ত হয়। গরম বেশি টানে।
টাইট নয়, পরুন ঢিলেঢালা পোশাক: টাইট পোশাক না পরে পরুন ঢিলেঢালা পোশাক। সম্ভব হলে হাফ হাতা জামা পরতে পারেন। তবে অফিসিয়াল কাজে বা বেশি রোদে বের হওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে ফুলহাতা পোশাক পরতে হয়। চাইলে সঙ্গে অতিরিক্ত কাপড় রাখতে পারেন। এতে করে গরমে ঘামে ভিজে যাওয়া জামা পাল্টে নিতে পারবেন।
নজর দিন অন্তর্বাসে: গরমে শুধু পোশাক বাছাই নয়, অন্তর্বাসের ব্যাপারেও নজর দিন। প্রতিদিন অন্তর্বাস বা শরীরের ভেতরের পোশাক বদলে নিন। এ সময়ে সুতির অন্তর্বাস পরতে পারলে ভালো হয়।
চাকরিজীবীদের ভাবতে হবে অনেক: যারা চাকরি করেন, এই গরমে পোশাকের ব্যাপারে তাদের মাথায় রাখতে হবে অনেক কিছুই। বেশিরভাগ অফিসে ফর্মাল ড্রেসকোড মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে, যারা গণপরিবহনে চলাচল করেন, তারা সঙ্গে বাড়তি কাপড় রাখতে পারেন। যাতে গরমে ঘামে ভিজে গেলে তা পাল্টে নিতে পারেন। অফিসে যে টিপটপ থাকতেই হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কর্মক্ষেত্রে বিষণ্নতা

কীভাবে বুঝবেন আপনি কর্মক্ষেত্রে বিষণ্ন কী না
ইদানীং কাজে যেতে কী অনীহা বোধ করছেন? কাজে কোনো আগ্রহ খুঁজে পাচ্ছেন না? কাজ করার সময় মনে রাজ্যের বিরক্তি এসে ভর করছে? সহকর্মীদের সঙ্গে একদম মানিয়ে নিতে পারছেন না? বারবার ঘড়ির কাঁটায় তাকিয়ে কাজ শেষ হবার সময় গোনেন কিংবা অফিসে সময় কাটতেই চায় না? ঘুমানোর সময় পরের দিন উঠে আবার কাজে যেতে হবে- এটা ভেবে বিরক্তিবোধ করেন? এসব প্রশ্নের হ্যাঁ হলে ধরে নিতে হবে আপনি কর্মক্ষেত্রে অবসন্ন বোধ করছেন।
কী হয় কর্মক্ষেত্রে বিষণ্নতায়
কর্মক্ষেত্রে বিষণ্নতায় ভুগলে তা জীবনে, কাজে নানা রকম প্রভাব তৈরি করে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাপার তুলে ধরা হলো-
কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া: কর্মক্ষেত্রে বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তির পারফর্মেন্সের গ্রাফ নিম্নমুখী হতে থাকে। কাজের মান নিচে নেমে যায়।
নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া: বিষণ্ন কর্মজীবীদের নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে আসতে থাকে। চাপ নেয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়। অল্পতেই অবসাদ ভর করে মনে।
সমপর্কে অবনতি হওয়া: ক্রমাগত মানসিক চাপের ফলে বিষণ্ন কর্মজীবীর অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন তৈরি হয়। ক্লায়েন্টদের সঙ্গে আর আগের মতো আন্তরিকতা কাজ করে না। সহকর্মীদের সঙ্গেও তাই। এর ছাপ পড়ে পারিবারিক এবং ব্যক্তিজীবনেও।
মনোযোগে ঘাটতি আসা: বিষণ্ন ব্যক্তির কাজে মনসংযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। যে কাজ আগে অল্প সময়ে দক্ষতার সঙ্গে করে ফেলতেন, সেই একই কাজে সময় বেশি লাগে। আগ্রহ কমে যায়।
আনন্দহীনতা দেখা দেয়া: কর্মক্ষেত্রে অবসাদ সৃষ্টি হলে কাজে আনন্দ খুঁজে পাওয়া দায়। বিষণ্ন কর্মীর মনে কাজের প্রতি যেহেতু এক ধরনের অনাসক্তি তৈরি হয়, তাই তিনি কাজে আনন্দ খুঁজে পান না।
কীভাবে কাটাবেন কর্মক্ষেত্রে বিষণ্নতা
কর্মক্ষেত্রে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়া একদম অস্বাভাবিক কিছু না। কিছু নিয়ম অনুসরণ করে এটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এ ব্যাপারে কিছু পরামর্শ নিচে তুলে ধরা হলো-
১. কাজের চেয়ে নিজ’কে বেশি গুরুত্ব দিন: জীবনে কাজ জরুরি। তবে জীবনের চেয়ে বেশি জরুরি না। বিষণ্নতা মানুষকে শারীরিক ও মানসিক- উভয়ভাবে আক্রান্ত করে। কাজ করার জন্যে আপনার মনোদৈহিক সুস্থতা অত্যন্ত প্রয়োজন। সুস্থতা না থাকলে কিন্তু চাকরিও থাকবে না। তাই সুস্থ থাকতে হবে দেহ এবং মনে। আপনি যে পেশার মানুষ হন না কেন, পাশাপাশি কারো সন্তান কিংবা পিতা, কারো বন্ধু, কারো স্বামী অথবা স্ত্রী, কারো ভালোবাসার মানুষ। কাজের জন্যে আপনার জীবন নয়, জীবনের জন্যে কাজ।
২. অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলুন: কর্মক্ষেত্রে যেসব জায়গায় অসঙ্গতি বোধ করছেন, তা নিয়ে ঊর্ধ্বস্তন কর্মকর্তার সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন। কীভাবে সমস্যা কাটানো যায় তা নিয়ে পরামর্শ চান। এ বিষয়ে নিজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ থাকলে নিঃসঙ্কোচে খুলে বলুন। কোনো প্রসঙ্গে অমত থাকলে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট কাজে অপারগ হলে- সেটাও জানিয়ে দিন।
৩. একঘেয়েমি দূর করে নিন: কাজে একঘেয়েমি আসার ফলেও অনেক সময় তৈরি হয় বিষণ্নতা। কাজের ধরনে হালকা বৈচিত্র্য অনেকক্ষেত্রে অবসাদ দূরীকরণে সহায়ক। পারলে নতুন কোনো দায়িত্ব নিন। নতুন কিছু করতে পারাটা মনে নতুন উদ্দীপনা এনে দেয়।
৪. জীবনের জন্য সময় রাখুন: আমাদের দিনের একটা বড় অংশ কাটিয়ে দিতে হয় কর্মক্ষেত্রে। অনেক সময় দেখা যায়, দিনভর আমরা কাজেই ডুবে আছি। এভাবে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেই। এটা জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই চেষ্টা করুন কাজের বাইরে ব্যয়কৃত সময়ের পরিমাণ বাড়ানোর। নতুন কোনো শখ গড়ে তুলুন। যোগাযোগ করুন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। জীবনে শিথিলতা থাকা ভীষণ জরুরি।
৫. ছুটি কাটান: ছুটির দিনগুলোকে নষ্ট হতে দেবেন না। ছুটি উপভোগ করুন। পারলে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ুন। একঘেয়ে কর্মজীবন আর ব্যক্তিজীবনের টানাপড়েন থেকে অল্প একটু অবকাশ উদযাপন মনে প্রশান্তি এনে দেয়। জীবনে মাঝে মাঝে বৈচিত্র্য আনাটা ফলদায়ী।
৬. চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনুন: চাকরিজীবী হিসেবে নিজেকে অফিসের দাস না ভেবে বরং একটি বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ ভাবুন। ভেবে দেখুন আপনার ভূমিকা সামগ্রিকভাবে মানুষের ওপর, সমাজের ওপর, দেশের ওপর কী ভূমিকা রাখছে। কাজের মাধ্যমে আপনি কিন্তু শুধু নিজের জন্যে নয়, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমস্ত পৃথিবীর জন্যে কোনো না কোনোভাবে একটা অবদান রাখছেন। এ পৃথিবীতে আপনার ভূমিকা নগণ্য হতে পারে, কিন্তু অদরকারী নয়!
(বিজনেস ইনসাইডার-এ প্রকাশিত নিবন্ধ অবলম্বনে)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগস্টেই রোহিঙ্গাশূন্য হবে মিয়ানমার?

ডব্লিউএসডব্লিউএস-এর ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী বর্মীরা চাপের মুখে ওই চুক্তি সই করেছে। কিন্তু তাতে তারা জাতিসংঘ বা তার কোনো সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। মিয়ানমার আগামী দুই বছর মেয়াদে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ থেকে গ্রহণ করবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ২০১২ সাল থেকে গত আগস্টে ক্র্যাকডাউন শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে অধিকাংশ রোহিঙ্গা আরাকান ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সাময়িকী ইরাবতীর এক রিপোর্টে উল্লেখ করে পশ্চিম মিয়ানমারের আরাকান থেকে প্রায় ৯০% রোহিঙ্গা পালিয়ে গেছে। এরমধ্যে যারা নিহত, নিখোঁজ কিংবা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা অন্তর্ভুক্ত নেই।
এদিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সাধারণ প্রশাসনিক বিভাগ (গ্যাব) রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০১৬ সালে রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছিল সাত লাখ ৬৭ হাজার ৩৮ জন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৬ লাখ ৮৮০ হাজার উল্লেখ করা হয়েছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গাদের বিদেশি কিংবা বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে তারা রাখাইনে বসবাস করে আসছিল। রোহিঙ্গারা সরকারের বর্ণবাদী নীতির শিকার। তাদের পূর্বসূরিদের অনেকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বসবাস করলেও তারা এখন বলছে তারা বার্মার নাগরিক নয় এবং বার্মার উপর তাদের কোনো অধিকার নেই।
ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে পশ্চিমা বিশ্বের চাপ থেকে নিজেদের বাঁচাতে সুচির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি প্রতারণার কৌশল নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই ঘটনায় কিছু দৃশ্যপট বদলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা গণতন্ত্রের আইকন হিসেবে অং সান সুচির প্রশংসা করে চলছিল, সেটিতে একটি ছন্দপতন ঘটেছে মাত্র। বিশ্বব্যাপী মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্মম নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে উঠেছে। গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ নীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘারিনি বর্মী জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের একটি তালিকা তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি চাইছেন যে, ওই তালিকাভুক্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক। এমনকি তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সুপারিশ করেন তিনি। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটাও ভাবছে যে, ১৯৯০ সালে মিয়ানমারের উপর আরোপিত একটি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, যার মেয়াদ এপ্রিলে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে তা আরো বর্ধিত করা। গত মধ্য ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি সতর্ক করেছেন যে, অং সান সুচি যদি সামরিক নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে তাকে বিপদের সম্মুখীন হতে হবে।
যদিও পর্যবেক্ষকরা মনে করেন মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ লোক দেখানো। চীনের দিকে সুচি যাতে বেশি ঝুঁকে না পড়ে সেদিকে তাদের মনোযোগ রয়েছে। গত ৭ই মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মিউজিয়ামের সুচিকে দেয়া ২০১২ সালের একটি পুরস্কার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। একই দিনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জায়েদ রাদ হোসেন মিয়ানমারকে ফৌজদারি অপরাধের দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে একটি নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।
গত ১৩ই মার্চ ওয়াশিংটন পোস্টের এক রিপোর্টে বলেছে, বিজনেস টাইকুনদের নেপিডোতে ডাকা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার তালিকার মধ্যে যারা অন্তর্ভুক্ত এবং সামরিক জান্তার পুরনো দালাল হিসেবে যারা পরিচিত, তাদেরকে বর্মী রাজধানীতে ডাকা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, রাখাইনে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন ও অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। গত ১২ই মার্চ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের জন্য আরাকানে সামরিক বাহিনী একটি ‘‘নতুন পদ্ধতি’’ আরোপ করেছে। যেসব গ্রামে থেকে রোহিঙ্গারা বিতাড়িত হয়েছে, যেসব গ্রামে গণহত্যা চালানো হয়েছে, সেগুলোকে নতুন করে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। এমন ‘‘উন্নয়ন’’ চলছে, রোহিঙ্গারা ফিরে আসতে যাতে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করে।
গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক রিপোর্টেও বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে দেখা যাচ্ছে গত নভেম্বর থেকে বিভিন্ন ধরনের কাঠামো ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। তিনটি বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হচ্ছে ধ্বংসস্তূপের উপরে। এপর্যন্ত ৫৫টি গ্রামে ‘পরিচ্ছন্নতা’ চলেছে। গত ২৫শে আগস্ট থেকে যে ৩৬২ গ্রামকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত ওই ৫৫টি গ্রাম। ওই রিপোর্টে আরো বলা হয় অন্তত দুটি গ্রাম যার কোনো ক্ষতি আগে হয়নি তাও সম্প্রতি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
সরকার দাবি করছে যে, প্রত্যাখ্যাত রোহিঙ্গাদের এসব কেন্দ্রে এনে রাখা হবে, যতদিন না তাদের জন্য বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে সামরিক বাহিনী গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা ওই প্রত্যাবাসন চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখিয়েছে। এই প্রতিবাদকারীদের একজন হলেন ইলিয়াস। তিনি ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমরা প্রয়োজনে বাংলাদেশি হত্যার সম্মুখীন হবো। কারণ এখানে আমরা অন্তত মুসলিম রীতি অনুযায়ী একটি জানাজা পাবো।’
ডব্লিউএসডব্লিউএস রিপোর্ট আরো বলেছে, নতুন সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে দেখা যাচ্ছে যে, রোহিঙ্গা গণকবর আবিষ্কৃত হচ্ছে। মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপি জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে একটি বড় ধরনের গণকবরের সন্ধান পেয়েছে। সেটি গু দার পিয়ান গ্রামে অবস্থিত। ভিডিও থেকে দেখা যাচ্ছে অনেক মানুষের অর্ধেক দেহ সমাহিত করা হয়েছে। তাদের দেহের বাকি অংশ বুলেট অথবা এসিড দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিহ্ন করে দিতেই এসব করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ম্যাডিসন স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স বলেছে, ২৫শে আগস্ট থেকে পরের ৩১ দিনে ৭৩০ শিশুসহ অন্তত ৬৭০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
শুধু উত্তর আরাকানেই নয়, সিটিউতেও রোহিঙ্গা নিধন ঘটেছে। টাইম ম্যাগাজিন ১৩ই ফেব্রুয়ারি এক রিপোর্টে বলেছে, রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা রেঙ্গুনেও চলছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২৩শে মার্চ পতাকা দিবস by নূরে আলম সিদ্দিকী

যে কথাটা সংসদীয় রাজনীতির কারণে বঙ্গবন্ধু বলতে পারতেন না, বাধা-নিষেধ ছিল, সেটি ছাত্রলীগের নেতৃচতুষ্টয়ের বক্তৃতা অথবা বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ হতো। আমরা তার কাছ থেকে পরামর্শ, এমনকি অনুমতিও নিতাম বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে। ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের পতাকা উঠবে, না স্বাধীন বাংলার পতাকা উঠবে- শাসনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার জন্য এই কথাটিও বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণা করা সম্ভব ছিল না। তাছাড়া স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ালে তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যায়িত করতে পারে- এ আশঙ্কা তো ছিলই। তারা কর্নওয়ালিসকে এনেছিল বঙ্গবন্ধুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ানোর জন্য। বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হতেন না। কিন্তু একটি মুহূর্তের জন্যও আওয়ামী লীগের তরফ থেকে কর্নওয়ালিসকে ফেরত যেতে বলা হয়নি। কারণ আমরা জানতাম, ২৫শে মার্চ হোক, ২৬ বা ২৭শে মার্চ হোক- আমাদের উপর তারা আক্রমণ করবেই। তারা সর্বপ্রকার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে অস্ত্র আনছিল। জাহাজ বোঝাই করে সৈন্য আনছিল। আমরা সবকিছু অবহিত ছিলাম। তারা এটাকে তাদের শক্তির বাহন হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা বিশ্বাস করতো যে এই নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করলেই আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে যাবে। আমরা বিশ্বাস করতাম, জনগণকে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, একটি চেতনার মোহনায় এনে দাঁড় করাতে পারি, তাহলে ওদের ওই অস্ত্রের শক্তিকে এই নিরস্ত্র মানুষই মোকাবিলা করবে। তাই ২৩শে মার্চ পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্তটি স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আসে এবং আমি বহু অনুষ্ঠানে বলেছি, বহুবার বলেছি এবং এটা আমি বলতেই থাকবো যে, স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ শুধু একটি আন্দোলন পরিচালনা করার সংগঠন ছিল না; ছিল বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ের প্রতিধ্বনি।
২৩শে মার্চে ঘোষণা দেয়ার পরে আমরা ওদেরকে, ওদের শক্তিকে পুরোপুরি চ্যালেঞ্জ করার জন্য কর্মসূচি দিলাম : পল্টন ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উঠবে, ব্যান্ড বাজবে, কুচকাওয়াজ হবে; জয় বাংলা বাহিনী বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ৩২ নন্বর ধানমন্ডি পর্যন্ত যাবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা বঙ্গবন্ধুর হাতে প্রদান করা হবে। সেদিন মঞ্চে আমরা ৪ জন দাঁড়ালাম। আমাদের খসরু, মন্টু, সেলিম জয় বাংলা বাহিনীর জেনারেলের বেশে ব্যান্ডের তালে তালে পতাকাটা নিয়ে মার্চপাস্ট করে গেল। আমরা অভিবাদন গ্রহণ করলাম। তখন পল্টন আর ওই কুচকাওয়াজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলো না, এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হলো।
ওখান থেকে আমরা ৩২নং-এ রওয়ানা হলাম। রাস্তা যত বাড়ছে জনতার ঢল তত নামছে, স্রোত বাড়ছে। বঙ্গবন্ধু নিচে গেটের কাছে নেমে এলেন। ছোট্ট পরিসরে লাখ লাখ লোক। ওর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের সেই সামরিক ভাব বজায় রেখে পতাকাটা তুলে দিলাম। হাইকোর্ট থেকে শুরু করে প্রধান বিচারপতির বাসভবন, সচিবালয়সহ বাঙালিদের ৯৯ ভাগ গৃহে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ৫৪ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র আঁকা পতাকাটি উড়লো। কিন্তু অবাঙালি অধ্যুষিত মিরপুর আর মোহাম্মদপুরে উড়লো পাকিস্তানের পতাকা। আমরা বেদনাহত চিত্তে তা লক্ষ্য করলাম। তার পরপরই ইশ্তেহারে বলে দিলাম, যারা ২৩শে মার্চকে সম্মান করেনি, পতাকা দিবসকে সম্মান করেনি, এখনো পাকিস্তানের সঙ্গে যারা একাত্মতা ঘোষণা করছে, তাদের গ্যাস, পানি এবং বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দাও। এ কথাটা নিশ্চয়ই সেদিন কোনো সংসদীয় দলের নেতার পক্ষে বলা সম্ভব ছিল না। যা হোক, সঙ্গে সঙ্গে তাদের সব বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।
আমার মনে আছে, মাখন, শহীদ, রশীদ, কাজী ফিরোজ, মহসীন, মাসুদ, এস এম হলের জিএস- আমরা তিনটা জিপ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে গেলাম। বিশেষ করে ক্র্যাক ডাউন হওয়ার ডেফিনিট ইনফরমেশনটা দেয়াও আমাদের লক্ষ্য ছিল। গিয়ে দেখি, বঙ্গবন্ধু বারান্দায় পায়চারি করছেন। আমাদের দেখার পরে বললেন- শোনো, আমার কাছে এসেছে অবাঙালিরা। তারা কিন্তু আত্মসমর্পণ করেছে। তারাও এদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে চায়, সংহতি ঘোষণা করতে চায়। মাখন, আলম, তোমরা গিয়ে ওদের কাছ থেকে এভিডেন্সটা নিয়ে নাও, ওদের আনুগত্যটা নিয়ে নাও।
মোহাম্মদপুরে বর্তমানের গায়ক ও নৃত্যশিল্পী সাদী মোহাম্মদ, শিবলী মোহাম্মদের বাবা সলিমুল্লাহ সাহেবের বাসায় আমরা গেলাম। গিয়ে দেখি কেমন যেন একটা গুমোট পরিবেশ। উপস্থিত বিহারি নেতাদের কেউ কেউ আমাদের উদ্দেশ করে বলছেন, ‘চৌধুরী সাবকো থোরা আনা হ্যায়, ওতো রাহা মে হ্যায়, আতাই হ্যায়, থোরা খানা খাকে যানা’- এইসব। সে রাতেই ক্র্যাক ডাউন হবে, সে খবরটা তো তাদের কাছেও আছে। ঐখানেই আমাদেরকে শেষ করে দেয়ার একটা পরিকল্পনা তাদের ছিল। ২৩শে মার্চে যারা পতাকা ওড়ায়নি, যারা আনুগত্য প্রকাশ করার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ২ খলিফাকে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের একটা নীলনকশা ছিল অঘটন ঘটানোর। আল্লাহ হায়াৎ রেখেছিলেন বলে সে রাতে সেখান থেকে আমরা তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলাম। পরবর্তীতে সেখানে কি নৃশংসভাবে শিশু, নারীসহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সলিমুল্লাহ সাহেবের বাসায় আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে, তিনি শহীদ হয়েছেন, তার দৌহিত্রও মারা গেছে- এসব কাহিনী অনেকেই শুনেছেন।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উন্মেষ, তার বিকাশ, ব্যাপ্তি, সফলতা, সব বাঙালি জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে। এই দেশকে নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখতাম। এই সংস্কৃতি, ভাষাকে লালন করতাম সমস্ত সত্তায়। তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে তিন ধরনের রাজনীতি প্রচলিত ছিল। একটা ছিল বাম রাজনীতি, যারা সমাজতন্ত্র চাইতেন। একটা ছিল পরিষ্কার ডান রাজনীতি, যারা আমাদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অবস্থান যত করুণই হোক, পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। আরেক দল আমরা।
১৯৬৬ সালে ৬ দফা প্রদানের পরে আমরা বুঝে গেলাম যে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতায় আমাদের উত্তরণ করতে হবে। এটা তারাও বুঝেছিল। বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে নিয়ে গেল। শেখ ফজলুল হক মনি, সাইফুদ্দিন, এম এ রেজা, জগন্নাথ কলেজ থেকে আল মুজাহিদীসহ ৯ জনকে কারাগারে নিল। আমরা কারাগারে গেলাম। এই কারাগারে যাওয়ার আগেও ছাত্রলীগ বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনার প্রতিনিধিত্ব করতো। যখন বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দিলেন, তখন তাকে সিআইএর দালাল বলা হলো। কেউ কেউ বললেন, তিনি ভারতের দালাল। কেউ কেউ বললেন, তার ফাঁসি হওয়া উচিত, বাংলাদেশে। যেটা পশ্চিম পাকিস্তানিরাও বলতে সাহস পায়নি, বাম রাজনীতির একটা অংশ এইসব কথা বললো। এই প্রেক্ষাপটে ৬৬-র ৭ই জুন হরতাল অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে আমরা কারারুদ্ধ হয়ে গেলাম। কারাগার থেকে মুক্তির পর এসে আমরা লক্ষ্য করলাম যে, আমাদের সংগঠনের মধ্যে একটি চেতনার জন্ম হয়েছে- যেটা তদানীন্তন ছাত্র ইউনিয়ন পিকিং এবং মস্কোর চাইতেও বৈপ্লবিক অভিব্যক্তিতে আরো প্রকট, আরো বীভৎস। তারা সংগ্রাম, আন্দোলন- এসব কিছু ছাড়িয়ে, এমনকি মাও সেতুং, ফিদেল ক্যাস্ট্রোকেও ছাড়িয়ে ব্রেজিস দেব্রের কন্টিনিউয়াস রেভ্যুলেশনে বিশ্বাস করে। তখন বাংলাদেশে কেন, সারা পৃথিবীতেই গণতন্ত্রের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ভিয়েতনামে আমেরিকা মার খাচ্ছে। সমাজতন্ত্র মানে হচ্ছে আগ্নেয়গিরির গলিত লাভা। সমাজতন্ত্র মানেই হচ্ছে প্রগতিশীলের বহিঃপ্রকাশ। যারা বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা বলে, তাদেরকে এরা সংকীর্ণবাদী, আঞ্চলিকতাবাদী বলে অভিহিত করতো। বেলুচিস্তানের সাধারণ মানুষও শোষিত, সীমান্ত প্রদেশের সাধারণ মানুষও শোষিত। ওরা অভিযোগ করতো, আমরা ওই শোষিত মানুষের কথা বলি না; অর্থাৎ ওদের ভাষায় আমরা সংকীর্ণ। তার উত্তরে আমি পাগলের মতো বাঙালি জাতীয়তাবাদের গান গেয়ে বেড়াতাম। বলতাম, বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বটিকে প্রতিষ্ঠা করবো। এবং আমরা লক্ষ্য করলাম যে, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব বাংলার মাটিতে শিকড়-গ্রোথিত হয়ে গেছে। কিন্তু একটা ম্যান্ডেট দরকার। দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক বার্তা সম্পাদক সিরাজুদ্দিন হোসেন শুধু আমার বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন না, উনি আমার আদর্শের গুরু। সিরাজুদ্দিন হোসেনই আমাকে তফাজ্জল হোসেন মানিক ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় করান। তিনিই আমাদেরকে বুঝিয়ে দিলেন, তোমরা যতই দাবি করো না কেন- শেখ মুজিব সমস্ত বাংলার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন- তা ধোপে টিকবে না, যতক্ষণ না একটি নির্বাচনের মাধ্যমে তার নেতৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
সৈয়দ মোযাহারুল হক বাকীসহ আমাদের নিজেদের মধ্যে একটা নেটওয়ার্ক ছিল। আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতাম যে, গণতন্ত্রই হচ্ছে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের শক্তির মূল উৎস এবং নির্বাচন হওয়া দরকার। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের থেকে এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা অসম্ভব ছিল। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়। তথাকথিত বিপ্লবী অংশ নির্বাচন বর্জনের জন্য সংকল্পবদ্ধ, আর আমরা নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিলাম। এক্ষেত্রে নির্বাচনের যথার্থতা ও অপরিহার্যতা বিষয়ে সিরাজুদ্দিন হোসেন বলতে গেলে প্রতিদিন ইত্তেফাকে প্রতিবেদন লিখেছেন। আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করলেও ছাত্রলীগের মধ্যে নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিভাজন থাকায় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদে এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা অসম্ভব ছিল। আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আজকে স্মরণ করবো সিরাজুল আলম খান এবং কাজী আরিফের কথা। তাদেরকে বলা হতো বিপ্লবী অংশের এক এবং দুই নন্বরের নেতা। আবার বঙ্গবন্ধুর প্রতি আনুগত্য নিয়েও তাদের কোনো প্রশ্ন ছিল না। স্বাধীন করার পরে এটা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে, না জন-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ- এই প্রশ্নও কেউ তোলেননি। মতবিরোধ ছিল; কিন্তু স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু, বাঙালি জাতীয়তাবাদ- এখানে কোনো বিরোধ ছিল না।
ছাত্রলীগ স্বাধীনতার পরে যখন বিভক্ত হয়ে গেল, তখন কিন্তু বঙ্গবন্ধুর একই অবয়বের প্রতিকৃতি ৭২-এর অক্টোবরে, রেসকোর্সে এবং ছাত্রলীগের অপর অংশের সম্মেলনে, অর্থাৎ ওই পল্টনেও ছিল। তিনি গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক, না কমরেড- বিভাজনটা শুরু হলো সেখান থেকে। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে পর্যন্ত আমরা এই যে অবিভাজ্য ছিলাম, এটার একটি কারণ, স্বাধীনতা আমরা সকলেই চাইতাম। কিন্তু তারা মনে করতেন, বন্দুকের নলই একমাত্র ক্ষমতার উৎস, সশস্ত্র বিপ্লব ছাড়া স্বাধীনতা আসবে না। সেদিনও এক ভদ্রলোক আমাকে বললেন, শেষ পর্যন্ত তো আপনাদের ওই অস্ত্র ধরতেই হলো। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, তারা সঠিক ছিলেন, আপনিই ভুল ছিলেন। আমি বললাম, নির্বাচনের ম্যান্ডেটটা পাওয়ার আগে যদি এই ঘোষণাটা দিতেন, তাহলে বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনটি সিংহলের তামিলদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মতো হয়ে যেত। তখন বুঝতে পারতেন ম্যান্ডেট ছাড়া সশস্ত্র সংগ্রামের কি জ্বালা!
যা হোক, ৭২-এ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স বা পল্টন, কোনো জায়গায় যদি না যেতেন, তাহলে জোড়াতালি দিয়ে আমার মনে হয় ছাত্রলীগ থাকতো, কিন্তু পরবর্তীকালে সমাজতান্ত্রিক পদক্ষেপ নিলে তাদের তাত্ত্বিক নেতা জনাব সিরাজুল আলম খান কী সিদ্ধান্ত নিতেন, সেটা বলা মুশকিল। কারণ সিরাজ ভাইয়ের সাংগঠনিক শক্তি, তার বৈপ্লবিক চেতনা- কোনো কিছুর প্রতি কটাক্ষ না করে আমি বলতে চাই, আমার কাছে আদর্শের প্রশ্নে তাকে সবসময়ই একটু কনফিউস্ড মনে হয়েছে। যা-ই হোক, যদি বঙ্গবন্ধু রেসকোর্সে না যেতেন, তাহলে ছাত্রলীগ ভাঙত না- এমন কথা বলাও দুষ্কর, কারণ বিপ্লব এমন ধরনের প্রেরণা এবং তা এত ফাস্ট হয়ে গিয়েছিল, তখন ওটার রাশ টেনে ধরে রাখা সিরাজ ভাইয়ের পক্ষেও সম্ভব হতো কি-না, আমি সন্দিহান। কারণ একটা স্পিড যখন ড্রাইভারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন গাড়ির দুর্ঘটনা আটকানো যায় না। বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা যেভাবে আমাদের উজ্জীবিত করেছে, তা বিস্ময়কর!
এই বাঙালি জাতীয় চেতনার সোপান বেয়েই আমরা স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধিকার এবং স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার আন্দোলনে উপনীত হই। ৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট লাভ করেন এবং এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, ওই ম্যান্ডেট আমাদের শুধু মার্চের অগ্নিঝরা দিনগুলো সৃষ্টি করতেই উজ্জীবিত করেনি, বাংলার মানুষকে উদ্বেলিত, উচ্ছ্বসিত করে ২৫শে মার্চের আক্রমণকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এবং ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালি তাদের পরাজিত করতে পেরেছে। সারা বিশ্বে একটি নতুন সত্য প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে : অস্ত্রের ধার যত তীক্ষ্ণই হোক না কেন, ঐক্যবদ্ধ ও জাগ্রত জনশক্তির কাছে তা পরাজিত হতে বাধ্য। ৭০-এর নির্বাচন ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয়ের উৎস। অবিস্মরণীয় এই নির্বাচনের ফলাফল বঙ্গবন্ধুকে কেবল অফুরন্ত শক্তি ও ভিন্নমাত্রার উচ্চতায়ই প্রতিস্থাপিত করেনি, ৭ই মার্চের ভাষণ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার ডাক দেয়ার শক্তিরও জোগান দিয়েছে। ৯ মাসের যুদ্ধে জয় প্রান্তিক জনতার ঐক্যেরই ফলশ্রুতি।
২৩শে মার্চের পতাকা উত্তোলন দিবসে জীবনসায়াহ্নে এসে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলতে চাই, ৭০-এর নির্বাচনে অভূতপূর্ব ম্যান্ডেটই ছিল আমাদের শক্তির উৎস। জয়তু বাংলার প্রান্তিক জনতা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশেও ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা?

খবরে বলা হয়েছে, ভারতে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার অংশীদার হলো ওভেলিনো বিজনেস ইন্টিলিজেন্স। এ বছর অনুষ্ঠেয় লোকসভা নির্বাচনের প্রচারাভিযানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠান দু’টি ভারতের শাসক দল বিজেপি ও বিরোধী দল কংগ্রেস- উভয়ের সঙ্গেই সম্ভাব্য সহযোগিতার ব্যাপারে কথা বলেছে।
২০১৬ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারাভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা। শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটিকে বহিষ্কার করেছে ফেসবুক। মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস ও বৃটিশ সংবাদপত্র দ্য অবজারভার (গার্ডিয়ানের রোববারের সংস্করণ) জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি কোনো অনুমতি ছাড়াই কমপক্ষে ৫ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করেছে।
সিএ অবশ্য দাবি করেছে যে, তারা ফেসবুকের নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘আমাদের শক্তিশালী ডাটা সুরক্ষা নীতি মার্কিন, আন্তর্জাতিক, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও জাতীয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
অপরদিকে ভারতের ওভেলিনো বিজনেস ইন্টিলিজেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমরিশ ত্যাগি বলেছেন, সিএ ভারতের আইন লঙ্ঘন করছে বলে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাম্প্রতিক এই বিতর্কের দরুন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব বন্ধ হবে না।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির বরাতে বলা হয়, ভারতের কংগ্রেস ও বিজেপি, শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে ও বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ওই সূত্র বলেছে, ‘এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত হয়নি। এ সবকিছুই প্রাথমিক আলোচনা।’
ওভেলিনোর প্রধান নির্বাহী ত্যাগি বলেন, ‘এই বিতর্কের ব্যাপারে আমরা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। তাদের কর্মকর্তারা ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আইনি প্রতিকারের উপায় খুঁজছেন। কোনো অভিযোগই এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। আমরা অংশীদার। যদি কোনো কিছু ভারতের আইনের লঙ্ঘন করেছে বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা এই অংশীদারিত্ব পুনর্বিবেচনা করবো।’
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে আইন ও নীতিমালার বিষয়টি জটিল ও একেক দেশে একেক রকম। তার ভাষ্য, ‘যে জিনিসটি কোনো দেশে বেআইনি ও অনৈতিক, তা হয়তো ভারতে অবৈধ নয়। আবার উল্টোটাও সত্য। এখনো কিছু বলার সময় আসেনি।’
নিজেদের ওয়েবসাইটে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা লিখেছে, ২০১০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের ওপর গভীর বিশ্লেষণ সরবরাহের কাজে এটি চুক্তিবদ্ধ ছিল। এতে আরো লেখা হয়, ‘আমাদের গ্রাহক (বিজেপি-জেড ইউ) ওই নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। যেসব আসন ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা টার্গেট করেছিল, সেখানকার ৯০ শতাংশেরও বেশি আসনে আমাদের গ্রাহক জয়লাভ করেছে।’
উল্লেখ্য, ওভেলিনোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমরিশ ত্যাগি হলেন জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর জ্যেষ্ঠ নেতা ও রাজ্যসভার সাবেক এমপি কেসি ত্যাগির ছেলে। ২০১০ সালে বিহার নির্বাচনে বিজেপি ও জনতা দল (জেড ইউ) জোট বাঁধে। ওই সময় ওভেলিনো ওই জোটের পক্ষে কাজ করেছিল।
এরপর উত্তর প্রদেশে ২০১২ সালে বিজেপির সঙ্গে কাজ করেন তিনি। ওভেলিনো মূলত বুথ-পর্যায়ে কাজ করে। ত্যাগি বলেন, জনতত্ত্ব ও বর্ণ বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি তার গ্রাহক রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। ত্যাগি ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনের সময় ট্রাম্প প্রচারাভিযানের পক্ষে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়কে আকৃষ্ট করার কাজ করেন।
তিনি বলেন, ‘ওভেলিনোর মাধ্যমে আমি অনেক প্রার্থীর সঙ্গেও কাজ করেছি। ২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও আমি করেছি। তবে এখানে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কোনো রাজনৈতিক প্রকল্পে জড়িত ছিল না।’
তিনি ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার মতো ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রোফাইলিং করেছিলেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একদমই না। এখানে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার কোনো প্রকল্প নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেন্দ্রিক কাজ করার প্রশ্নই উঠে না।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কূটনীতিকদের কাছে বিএনপির ২০ পয়েন্ট by কাফি কামাল

দলটির নেতারা কূটনীতিকদের জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজা ও তার কারাবাস দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে বিএনপি নেতাকর্মীদের নৈরাজ্যের পথে পরিচালিত করতে উস্কানি দিচ্ছে সরকার। কিন্তু খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক ও অহিংস কৌশল অবলম্বন করে প্রতিবাদ করছে বিএনপি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে কূটনীতিকদের প্রশ্নের উত্তরে দলের ইতিবাচক মানসিকতার কথা তুলে ধরেছেন নেতারা। সেই সঙ্গে সরকারের বিরোধী মত অসহিষ্ণুতা ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিষয়গুলো উল্লেখ করে কূটনীতিকদের জানানো হয় সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ অনুপস্থিত। বিএনপিকে মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনেও বাধা দেয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তারা বলেন, বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আইনের শাসন ও দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ায় ও গঠনমূলক আলোচনায় বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাস করে এবং অনুধাবন করে একমাত্র গণতান্ত্রিক পথেই শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতার রদবদল হতে পারে। বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য এবং সকলের অংশগ্রহণের পরিবেশ দরকার। আর এর সমাধানের জন্য একমাত্র পথ হচ্ছে সংলাপ। যা ক্ষমতাসীন দলের উদ্যোগে সম্ভব। সুষ্ঠু নির্বাচন আর গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে খালেদা জিয়াকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে। বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, আইনি হয়রানি ও নির্যাতনের পথ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারের সঙ্গে বিএনপির আলোচনার খবর গুজব

খবরটি কতটুকু সঠিক জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক কথায় উড়িয়ে দিয়ে বলেন, সত্য নয়। মির্জা ফখরুল ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য সরকারই ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো প্রকাশের ব্যবস্থা করছে। আমরা তো বরাবরই আলোচনার কথা বলে আসছি। সরকার তো এ ব্যাপারে কখনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এ অবস্থায় জেলের অভ্যন্তরে খালেদা জিয়া এসব বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং দেশনেত্রীকে জেলে রেখে আমরা এসব বিষয়ে কথা বলবো- এটা কল্পনা করা সঠিক নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে জেল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে এক শর্তে। তিনি যদি দলকে নির্বাচনমুখী করেন। আর সে নির্বাচনে কিছু সিটের বিনিময়ে সমঝোতায় রাজি হন। ঢাকার পত্রিকায় এও খবর বেরিয়েছে, খালেদা জিয়া যদি বিদেশ চলে যেতে রাজি হন এবং তার পরিবারের কেউ নির্বাচনে অংশ না নেন তবে তিনি মুক্তি পাবেন।
এদিকে, বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাযাত্রা যে দীর্ঘ হচ্ছে তা এখন অনেকটাই খোলাসা হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের আদেশের পর এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, অন্তত মে’র দ্বিতীয় সপ্তাহ’র আগে তার কারামুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। গত ৮ই ফেব্রুয়ারি গুলশানের বাসা ছাড়ার সময় কারাগারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই বেরিয়ে ছিলেন খালেদা জিয়া। পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেয়ার সময় বলেছিলেন, ফিরে আসবেন। বিএনপির মধ্যে ভাবনা ছিল কারাগারে গেলেও খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন সেখানে থাকতে হবে না। বিশেষ করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুই/চার দিনের মধ্যেই তিনি জামিন পেয়ে যাবেন দলটির আইনজীবীদের ধারণা ছিল অনেকটা তাই। কিন্তু আইনি লড়াইয়ে বারবারই তাদের বিস্মিত হতে হয়েছে। আর তাদের জন্য চূড়ান্ত বিস্ময় হয়ে আসে সোমবার আপিল বিভাগের দেয়া আদেশ।
পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানও কথা বলেছেন, শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে। কারাগারে যাওয়ার আগে এবং কারাগারে যাওয়ার পর দেখা করতে যাওয়া নেতাদের খালেদা জিয়া নির্দেশনা দিয়ে যান, যেকোনো পরিস্থিতিতে তার জন্য যেন কোনো সংঘাতপূর্ণ কর্মসূচি দেয়া না হয়। হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি না দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পরামর্শ দেন তিনি। খালেদা জিয়ার সে নির্দেশনা বিএনপি এখন পর্যন্ত পুরোটাই মেনে চলেছে। মামুলি কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারাও অংশ নেন। এতে সারা দেশেই বিএনপির মধ্যে এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্যও তৈরি হয়েছিলো। যদিও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত হওয়ার পর দলটির মধ্যে হতাশাও তৈরি হয়েছে। বর্তমান অবস্থায়ও বিএনপি কোনো ধরনের সংঘাতময় কর্মসূচিতে যেতে চাচ্ছে না। একটি সূত্রে জানা গেছে, দলের জন্য খালেদা জিয়ার নির্দেশনা হচ্ছে তার ব্যাপারে সরকার যতো কঠোরই হোক কেন এ নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মধ্যে থাকতে হবে। কোনো ধরনের উস্কানিতে পা না দিতে দলের নেতাকর্মীদের বলা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য জামিন স্থগিত হয়ে যাওয়ার পরও বিএনপি প্রধানের এ ধরনের মনোভাবে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে সূত্রের দাবি।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিকে শুধু দলীয় প্রধানের মুক্তি নয়, আগামী নির্বাচন নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। সরকারি দল এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন, সরকারি দল চায় না বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিক। তবে বিএনপি ভেঙে এর কোনো অংশকে নির্বাচনে নেয়ার প্রচেষ্টা ক্ষমতাসীনদের থাকতে পারে বলে বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করেন। এ নিয়েই প্রকাশ্যেই তারা কথা বলছেন। এই যখন অবস্থা তখন বিএনপি কি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে?
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফুর্তির টাকা জোগাড় করতে গিয়ে মা-মেয়েকে খুন

র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, স্টার সানডে উপলক্ষে টাকার দরকার ছিল সঞ্জীব ও তার বন্ধুদের। সঞ্জীবের খালা সুজাতার পরিবারের সবাই চাকরিজীবী। তাদের ধারণা ছিল সুজাতার বাসায় পাঁচ-ছয় লাখ টাকা পাওয়া যেতে পারে। ওই টাকা চুরি করে আনন্দ-ফুর্তি করার ইচ্ছে ছিল তাদের। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, এ কারণেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৯শে মার্চ সঞ্জীব, শান্ত ও প্রবীণ ঢাকায় আসে। ঢাকায় কুড়িলে তাদের আরেক বন্ধু রাজুর সঙ্গে দেখা করে। রাজুর বাসায় স্থান সংকট থাকায় উত্তরায় তাদের আরেক বন্ধুর বাসায় রাতযাপন করে। পরের দিন সকালে সঞ্জীব, শান্ত ও প্রবীণ কুড়িলে রাজুর সঙ্গে দেখা করে হত্যা পরিকল্পনার কথা তাকে জানায়। পরিকল্পনা অনুসারে রাজুর বাসা থেকে একটি ছোরা সংগ্রহ করে তারা। ওই ছোরা নিয়ে যায় কালাচাঁদপুরে সুজাতার বাসায়। প্রথমে ওই বাসায় যায় রাজু ও প্রবীণ। তারা বাসায় সুজাতা ও তার মেয়ে মায়াবী এবং সুজাতার মা বেসেতকে দেখে ফিরে এসে সঞ্জীবকে জানায়। এরপর আসামিরা পাঁচ-ছয় ঘণ্টা আশেপাশে অবস্থান করে। বিকাল তিনটার দিকে সঞ্জীবসহ তার বন্ধুরা সুজাতার বাসায় প্রবেশ করে। সেখানে হালকা নাশতা খাওয়ার পর সঞ্জীব তার খালা সুজাতাকে ২০০ টাকা দেয় এবং দেশি মদ আনতে বলে। ওই সময়ে সুজাতার মেয়ে মায়াবী তার কর্মস্থলে চলে যায়। পরে সবাই মিলে মদ পান করে। সুজাতা মদ্যপ হয়ে বিছানায় পড়ে যান।
সঞ্জীব ও তার বন্ধুরা তখন চুরির প্রস্তুতি নেয়। এ সময় সুজাতার মা বেসেত (সঞ্জীবের নানী) বাসায় ফিরে এলে চুরি করার সম্ভাবনা ভেস্তে যায় তাদের। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বেসেত চিরানকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে। পরে পাশের ঘরে বেহুঁশ থাকা খালা সুজাতার ওপর সঞ্জীব চড়ে বসে। এসময় সঞ্জীবের বন্ধু রাজু মুখে বালিশচাপা দিয়ে ধরে। এরপর ছোরা দিয়ে শরীরে ও গলায় আঘাত করে সঞ্জীব। হত্যাকাণ্ডের পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ঘরে কোনো টাকা পায়নি তারা। টাকা না পেয়ে আসামিরা উত্তরায় চলে যায়। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে নালিতাবাড়িতে চলে যায় তারা। সেখান থেকে আত্মগোপন করতে দেশ ছেড়ে পালাতে চাইছিল হত্যাকারীরা।
মুফতি মাহমুদ খান বলেন, এ বিষয়ে আসামিদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো তথ্য জানা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ২০শে মার্চ রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরে শিশু মালঞ্চ স্কুল রোডের ক-৫৮ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলা বাসায় সুজাতা চিরান (৪০) ও তার মা বেসেত চিরান (৬৫)কে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের উৎসব

শেখ হাসিনা বলেন, এই জনগণের উদ্দেশ্যেই জাতির পিতা বলে গেছেন- বাংলাদেশের মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। দাবায়ে যে রাখতে পারবে না সেটাই আজকে প্রমাণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারে থেকে পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু যারা কাজ করেছে আমার কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ থেকে শুরু করে আমাদের পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রত্যেকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। তিনি বলেন, যারা কাজ করেন তারা কিন্তু সরকারের মনোভাবটা বুঝতে পারেন। আর সেটা বুঝেই তারা কাজ করেন। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। কাজেই সরকার যখন আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে তখন তারাও অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে বলেই আজকে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতিতে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা আর পরমুখাপেক্ষী নই। শতকরা ৯০ ভাগ নিজেদের অর্থায়নে আমরা বাজেট করতে পারি। যে বাজেট অতীতের থেকে চারগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) আয়োজনে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সভাপতিত্ব করেন। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ফজিতা ম্যানুয়েল কাতুয়া ইউতাউ কমন বক্তৃতা করেন। ইউএনডিপি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আসীম স্টেইনারের একটি লিখিত বার্তাও অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়। ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশপত্রের রেপ্লিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন। এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এরপর একটি ৭০ টাকা মূল্যমানের স্মারক নোট অবমুক্ত করেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল মালেক এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা বেগম কামরুন্নাহার প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৭০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির একটি ফটো অ্যালবাম তুলে দেন।
এরপরই শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানোর পালা। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা, ১৪ দল, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, পুলিশ বাহিনী, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিক, শিল্পী, পেশাজীবী সংগঠন, মহিলা সংগঠন, এনজিও প্রতিনিধি দল, ক্রীড়াবিদ, শিশু প্রতিনিধি দল, প্রতিবন্ধী প্রতিনিধি দল, শ্রমজীবী সংগঠন এবং মেধাবী তরুণ সমাজের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গ্রাজুয়েশনে পৃথক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজ, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম, এডিবি প্রেসিডেন্ট তাকেহিকে নাকাও, ইউএসএআইডি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মার্ক গ্রিন এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট শিনিচি কিতাওকা। এছাড়া দেশের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের পক্ষ থেকেও ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এই অর্জনের পেছনে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এই অর্জনের কথাগুলো যত সহজে তিনি বললেন সময় কিন্তু তত সহজে যায়নি। অনেক চড়াই-উৎরাই যেমন পার হতে হয়েছে তেমনি গ্রেনেড হামলাসহ তার ওপর বারংবার হত্যা প্রচেষ্টাও করা হয়েছে।
তিনি রূপক অর্থে বলেন, অনেক পথের কাঁটা পায়ে বিঁধিয়েও এগিয়ে যেতে হয়েছে। বারবার আঘাত এসেছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি সেই গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে বারবার মৃত্যুকে দেখেছি, কিন্তু ভয় পাইনি কখনো। যে দেশে তার বাবা, মা-ভাইদের হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথকে রুদ্ধ করার জন্য খুনিদের ইনডেমনিটি দেয়া হয়, তারা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়, ভোট চুরি করে এমপি হয়, রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্র্থী হওয়ারও সুযোগ পায়- সেখানে তিনি ভয় কেন পাবেন, পাল্টা প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশকে গড়ে তুলে তাকে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে রেখে যান। আজকে সেখান থেকে বাংলাদেশকে তার সরকার উন্নয়শীল দেশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও জাতির পিতা বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত দেশের পর্যায়ে চলে যেতে পারতো।
প্রধানমন্ত্রী বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, আমি জানি না আমার বাবা আজ বাংলাদেশের মানুষের এই অর্জনগুলো তিনি পরপার থেকে দেখতে পাচ্ছেন কিনা। নিশ্চয়ই বাংলাদেশের এই অর্জনে লাখো শহীদের আত্মার পাশাপাশি তার আত্মাও শান্তি পাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অগ্রযাত্রাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। এই যাত্রাপথ যেন থেমে না যায়। আমরা তো যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? অন্যের কাছে কেন হাত পেতে চলবো? আমরা যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি সেটা তো আজকে আমরা প্রমাণ করেছি। বাবার কাছ থেকে তার শেখা রাজনীতির মূল শিক্ষাই জনকল্যাণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করা। নিজের জন্য নয়, নিজের ভোগ বিলাস নয়, জনগণ যাতে একটু ভালো থাকে, সুখে থাকে, সেটাই লক্ষ্য। যে লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তার নিরন্তর পথ চলা। কাজেই যতটুকু অর্জন এর সব কৃতিত্বই বাংলার জনগণের।
জনগণের কাছ থেকে সাড়া না পেলে, তাদের সহযোগিতা না পেলে, তারা যদি ভোট দিয়ে নির্বাচিত না করতো তাহলে তো ক্ষমতায়ও আসতো পারতাম না।
তিনি বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ আমাদের লক্ষ্য মধ্যম আয়ের দেশ, দেশকে যেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্য মুক্তভাবে গড়ে তুলতে পারি। আর ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করবো। আর সেই সময়ে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলায় তা আমরা উদযাপন করতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘জাতির পিতার আকাঙ্ক্ষা ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। বাংলার মানুষ অন্ন পাবে, বস্ত্র পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে- এটাই ছিল জাতির পিতার স্বপ্ন। তাই বঙ্গবন্ধু সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন সাধারণ মানুষের ভাগ্য ফেরানোর জন্য।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা জানেন গত ১৭ই মার্চ ছিল জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন। ঐদিন আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের এই সুসংবাদটি পাই। জাতির পিতার জন্মদিনে আমাদের জন্য এর চেয়ে বড় উপহার আর কী হতে পারে! ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংক আমাদের নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি দেয়। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সনদ পেলো।’
শোভাযাত্রায় বর্ণিল রাজধানী: অর্জন উদযাপনকে ঘিরে গতকাল উৎসবমুখর ছিল রাজধানী। সরকারের ৫৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিকাল ২টার পর থেকে শোভাযাত্রার জন্য নির্ধারিত স্থানে জড়ো হতে থাকেন। তিনটার দিকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। এই উদযাপনের দিনে সকাল থেকেই সচিবালয়ে ছিল প্রায় ছুটির আমেজ। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের অনেকে মন্ত্রণালয়ে যাননি। দুপুরের আগেই টুপি-টিশার্ট পরে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শোভাযাত্রায় নৌকার প্রতিকৃতিসহ বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন বহন করতে দেথা যায়। ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ লেখা সবুজ-লাল টি-শার্ট এবং একেক মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ একেক রংয়ের টুপি পরে শোভাযাত্রায় যোগ দেন তারা। প্রায় সব দলের সামনে ছিল ব্যান্ড বাদকের দল। কোনো কোনো দল এগিয়েছে বর্ণিল সাজে নেচে, গেয়ে। কোনো কোনো দলে ছিল হাতি, ঘোড়া, বিশাল আকৃতির নৌকা। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পাশাপাশি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে স্বায়ত্তশাসিত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। শোভাযাত্রা শুরুর আগে তিনি বলেন, মার্চ মাস আমাদের শুভক্ষণ। এ মাসেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। এ মাসেই ৭ই মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। আমাদের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে আরো এগিয়ে যাবো। পরে শোভাযাত্রা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এদিকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশের উদযাপন উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান, ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, এফসিএ, সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন সহ সকল স্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
স্টেডিয়াম ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: সাফল্য উদযাপন উৎসব উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে এর চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ওই এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। উৎসবকে ঘিরে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা ও চারপাশের সড়কে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়। ছিল দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢোকার ক্ষেত্রে দুই স্থানেই বসানো ছিল আর্চওয়ে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দেহ তল্লাশি করা হয়। মাঠের চারপাশে সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। চারপাশে বসানো হয় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। সেই ক্যামেরা থেকে পুরো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করা হয়। মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত দুইপাশের রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই যানবাহনগুলোকে উল্টোপথে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও বিকল্পপথে গন্তব্যস্থলে গেছেন। নিরাপত্তার বিষয়ে মতিঝিল জোনের পুলিশের এডিসি শিবলি নোমান মানবজমিনকে জানান, উৎসবকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছিল যাতে উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারেন।
যানবাহন কম, যানজট: এদিকে সরকারের এ কর্মসূচিকে ঘিরে একদিকে ছিল যান চলাচল সীমিত অন্যদিকে তীব্র যানজট। এই দুই কারণে গতকাল দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। বাসে, হেঁটে, রিকশায় এভাবেই গন্তব্য পৌঁছেছে তারা। তবে সময় লেগেছে অন্যান্য দিনের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা বেশি। বেলা ১১টার দিকে ফার্মগেট, কাওরান বাজার, বাংলামোটর হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত দেখা যায় এসব সড়কে যানবাহনের চাপ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সড়কে যান চলাচলও কমে আসে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে যানজটও। ওই সময় শাহবাগ এলাকায় সড়কে যান চলাচল কম হওয়ায় অনেক মানুষকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মিরপুর হয়ে ফার্মগেট থেকে গুলিস্তান ও মতিঝিল গন্তব্যে চলে নিউ ভিশন পরিবহন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাওরান বাজারে বাসের চালক মানিক বলেন, সকালে রাস্তায় কিছুটা জ্যাম ছিল। এখন রাস্তা ফাঁকা। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাংলামোটরের এক দোকানদার বলেন, অনুষ্ঠানের কথা ভেবে মনে হয় আগে থেকেই মানুষ সতর্ক হয়ে গেছে। সকালে রাস্তায় ভিড় ছিল, এখন কম। তবে সকালে মিরপুর এলাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি যানজট ছিল। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক নারী চাকরিজীবী বলেন, তিনি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মিরপুর ১২ থেকে বাসে ওঠেন গুলিস্তানে যাবেন বলে। কিন্তু বাসে উঠে দেখেন, কিছু দূর যাওয়ার পর বাস যানজটের কারণে থেমে আছে। তিনি আগের বাস পরিবর্তন করে কিছু দূর হেঁটে দেখেন একই অবস্থা। বাসের চালকেরাও তাকে বলেন অনেক যানজটের কারণে বাস ধীরে চলছে। যানজট ঠেলে ফার্মগেট আসার পর বাকি রাস্তা অনেকটা ফাঁকাই পেয়েছেন তিনি। দুপুর ১টার পর থেকে মগবাজার থেকে কাকরাইলের হেয়ার রোড (প্রধান বিচারপতির বাসভবন সংলগ্ন সড়ক), বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেট থেকে মধ্য বাড্ডা, রামপুরা ব্রিজে দেখা যায় তীব্র যানজট। সড়কের একপাশ ও ফুটপাথে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের আনন্দ মিছিল। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত সড়কেও ছিল তীব্র যানজট। মহাখালী থেকে বনানী-কাকলীর দিকে সড়কের দু’পাশেই ছিল যানজট। এ বিষয়ে আফিয়া পিনা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, গাড়ি দিয়ে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ফার্মগেট যেতে সাধারণত ৩০-৪০ মিনিট লাগে। তবে আজ ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটেও পৌঁছাতে পারিনি। কাকরাইল থেকে নয়াপল্টন মোড়, বিএনপির কার্যালয় সংলগ্ন সড়ক ছিল প্রায় যানবাহনশূন্য। অনেকে প্রাইভেট কার নিয়ে খুব অল্প সময়ে এসব সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পাশাপাশি এসব সড়কে চলাচলরত বাসগুলো দরজা আটকে দেয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন অনেক যাত্রী। দুপুরে শাহবাগ মোড়, কাওরান বাজার, কাকরাইল মোড় এলাকায় অনেক যাত্রীকে বাসের অপেক্ষায় দেখা গেছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে অনেককেই। কর্মদিবসে কেন রাজধানীতে গণপরিবহন সংকট থাকা প্রসঙ্গে ঢাকা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের কারণে কয়েকটি সড়ক বন্ধ রয়েছে। এ কারণে সেসব রুটে বাস চলছে না। অন্যান্য রুটে বাস বন্ধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবিদের স্ত্রীর অবস্থার অবনতি

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে ৭১ আরোহী নিয়ে গত ১২ই মার্চ দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১ বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানের ৫১ আরোহী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে উড়োজাহাজের পাইলট আবিদ সুলতানও ছিলেন। আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন। প্রথমে তিনি জেনেছিলেন স্বামী আবিদ আহত অবস্থায় নেপালে চিকিৎসাধীন। পরে আবিদের মৃত্যুর খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গত রোববার ব্রেইন স্ট্রোক করেন আফসানা। প্রথমে তাকে উত্তরায় বাসার কাছে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে শেরেবাংলা নগরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে তিনি ফের স্ট্রোক করলে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1435)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
March
(1701)
-
▼
Mar 23
(17)
- ফ্রান্সের সুপারমার্কেটে জিম্মিদশার অবসান: হামলাকার...
- জুরাইন দরবার শরীফ: অসুস্থ পীরের সম্পত্তি দখলের অভি...
- আপ বিধায়কদের সদস্যপদ বহাল দিল্লি হাইকোর্টে: স্বস্ত...
- ভারতে প্রতি ঘণ্টায় আত্মহত্যা করছে একজন শিক্ষার্থী
- আহেদ তামিমির ৮ মাসের জেল
- কাঁকন বিবিকে নিয়ে যে আফসোস রয়েই গেল by ওয়েছ খছরু
- টিলারসনকে বহিস্কারে তদবির চালিয়েছিল আমিরাত
- গরমে আরামের পোশাক
- কর্মক্ষেত্রে বিষণ্নতা
- আগস্টেই রোহিঙ্গাশূন্য হবে মিয়ানমার?
- ২৩শে মার্চ পতাকা দিবস by নূরে আলম সিদ্দিকী
- বাংলাদেশেও ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা?
- কূটনীতিকদের কাছে বিএনপির ২০ পয়েন্ট by কাফি কামাল
- সরকারের সঙ্গে বিএনপির আলোচনার খবর গুজব
- ফুর্তির টাকা জোগাড় করতে গিয়ে মা-মেয়েকে খুন
- উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের উৎসব
- আবিদের স্ত্রীর অবস্থার অবনতি
-
▼
Mar 23
(17)
-
▼
March
(1701)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
