Sunday, July 12, 2020

বড়দের সঙ্গে থাকে, বড়দের মতো কথা বলে!

বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হৃদি। হৃদির বয়স মাত্র পাঁচ, কিন্তু তার কথা বড় মানুষের মতো গোছানো। তার অনেক কথায় বেশ বিব্রত হতে হয় বাবা-মাকে। অনেকে তাকে ইঁচড়ে-পাকা বলতেও দ্বিধা করে না।
শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে এখন একটি মাত্র সন্তানই বেশি দেখা যায়। আর একক ছোট পরিবারে শুধু বাবা মায়ের সঙ্গে থাকে। আর তারা বাইরে ব্যস্ত থাকলে বড় হয় কাজের লোকের কাছে। যার ফলে বাবা-মায়েরা শিশুর আচরণ ও ব্যক্তিত্বের কিছু পরিবর্তন আনতে চান।
বিশেষ করে এক সন্তানের ক্ষেত্রে, শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বাবা-মাকে যা করতে হবে:
  • •শিশুদের সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দিন। তাকে নিয়ে পার্কে বা আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যান, অন্যদেরও আপনার বাড়িতে আসতে বলুন
  • •পরিবারের সব কথা, বিশেষ করে কোনো সমস্যার বা অর্থনৈতিক বিষয়গুলো সন্তানের সামনে আলোচনা করবেন না
  • •শিশুকে বাড়িতে একা না রাখার চেষ্টা করুন। একাকীত্বের শিকার হয়ে সে একরোখা হয়ে যেতে পারে 
  • •তাকে সামাজিক করে গড়ে তুলুন। সবার সঙ্গে মিশতে দিন, সব কিছু অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শেখান
  • •বাচ্চার সব চাওয়া সব সময় মেনে নেবেন না। তাকেও বুঝতে দিন, তার চাহিদার সীমা থাকতে হবে
  • •বড় হয়ে তাকে বাইরের পরিবেশে মিশতে হবে, সেখানে সব কিছু তার পছন্দমতো নাও হতে পারে। এজন্য ‘না’ শোনার ও মেনে নেওয়ার অভ্যাস ছোট বেলায়ই তৈরি করতে হবে
  • •বাচ্চাকে স্বাবলম্বী হওয়ার শিক্ষা দিন, যাতে বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা, স্কুলের সমস্যা সে নিজেই মিটিয়ে নিতে পারে
  • •বাচ্চাকে ব্যর্থতা, হতাশা, উদ্বেগ, ভয়ের মতো অনুভূতিগুলোর সঙ্গে পরিচিত হতে দিন
  • •যেহেতু তার ভাই-বোন নেই একা একা চলতে হবে, তার নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ থাকুন
  • •সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব গতে নিন, যেন সে সব কিছু আপনার সঙ্গে শেয়ার করে।

অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে প্রাকৃতিক যে ৫টি উপাদান

প্রাকৃতিক কিছু উপাদান আছে যা অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে।
ইনফেকশন দূর করতে আন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আন্টিবায়োটিকের প্রধান কাজ হল শরীরের অভ্যন্তরীণ ব্যাকটরিয়া উৎপাদন বন্ধ করে ইনফেকশন দূর করা। আমাদের শরীর নানা ধরণের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর এই ব্যাকটেরিয়া দূর করতে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। প্রাকৃতিক কিছু উপাদান আছে যা অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। আজ এমনি কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক।
১। রসুন
অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিভাইরাল সমৃদ্ধ রসুনকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বলা হয়ে থাকে। ১৯৯৯ সাল প্রকাশিত এক জার্নালে বলা হয় রসুনের অ্যালিসিন নামক উপাদান প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে থাকে। প্রতিদিন নাস্তা খাওয়ার আগে খালি পেটে ২ থেকে ৩ কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যাস করুন। এছাড়া রসুনের সাপ্লিমেন্টারীও খেতে পারেন। তবে রসুনের সাপ্লিমেন্টারী গ্রহণ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।
২। হলুদ
আয়ুর্বেদিক এবং চীনা ঔষুধ অনুসারে হলুদের অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এমনকি ক্ষতস্থান সারাতে হলুদ বেশ কার্যকরী। ১ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়ো এবং ৫-৬ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে এটি এয়ারটাইট জারে সংরক্ষণ করুন। দিনে দুইবার ১/২ চা চামচ করে এটি খান।
৩। বিশুদ্ধ মধু
বেশির ভাগ অ্যান্টিবায়োটিক ঔষুধ তৈরিতে মধু ব্যবহার করা হয়। এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান অনেকগুলো ইনফেকশনের সাথে লড়াই করতে সক্ষম। এমনকি মধু ব্যাকটেরিয়ার বিকাশ প্রতিরোধ করে থাকে।
৪। আদা
আদাতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান রয়েছে যা অনেকগুলো স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধান করে থাকে। চায়ের সাথে আদা দিয়ে আদা চা তৈরি করে করে নিতে পারেন। এছাড়া প্রতিদিনকার রান্নায় আদা কুচি মিশিয়ে রান্না করতে পারেন।
৫। নিম
সহজলভ্য আরেকটি অ্যান্টিবায়োটিক হল নিম। যা ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়াই করে থাকে। এর অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান ব্রণ, ত্বকের ইনফেকশন দূর করে থাকে। শুধু তাই নয় এটি মুখের এবং দাঁতের নানা সমস্যাও দূর করতে বেশ কার্যকর।