Wednesday, May 22, 2019

ভারতে ‘কিংমেকার’ হতে পারেন যারা

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের বুথফেরত জরিপ অনুসারে, ক্ষমতাসীনরাই ফের মসনদে বসতে যাচ্ছে। বিরোধীরা এমন জরিপকে ‘গুজব’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও ১৯শে মে শেষ দফা ভোটগ্রহণ শেষে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বুথফেরত জরিপ গেরুয়াদের পক্ষেই খবর দিচ্ছে। জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফল মিলে গেলে শেষ হাসিটা হাসবেন নরেন্দ্র মোদিই। যদি এমনটা না হয়- সেক্ষেত্রে মোদি বা কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধীর ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অন্য দলের সাহায্যের দরকার হবে। এই দলগুলোই হবে পরবর্তী কিংমেকার। কোন দলগুলোর কিংমেকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। পাঠকদের জন্য সেসব দল ও দল প্রধানদের একটি তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো-
নবীন পট্টনায়েক
শান্ত স্বভাবের মানুষ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ও বিজু জনতা দলের নেতা নবীন পট্টনায়েক। রাহুল ও মোদি উভয়েই তাকে নিজের সমর্থনে চাইবেন। মোদির প্রথম দফার পার্লামেন্টে নবীন পট্টনায়েকের ১৮টি আসন রয়েছে। এবার বুথফেরত জরিপ অনুসারে, তার দলের সর্বোচ্চ ১৫ আসন জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। তেমনটা হলে কোনো ঝুলন্ত ফলাফলে সরকার গঠনের জন্য মোদি ও রাহুল উভয়েই তাকে নিজ পক্ষে টানতে চাইবেন।
কে. চন্দ্রশেখর রাও
তেলেঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী কালাভাকুন্তলা চন্দ্রশেখর রাও মূলত কেসিআর নামেই বেশি পরিচিত। নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপি ও কংগ্রেস বিরোধী জোট গড়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে নির্বাচন শেষে তার বিজেপির সঙ্গে যোগ দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বর্তমান পার্লামেন্টে তেলেঙ্গনার নেতাদের দখলে রয়েছে ১৭ আসন। এর মধ্যে ১০টিই রয়েছে রাও’র দল তেলেঙ্গনা রাষ্ট্র সমিতির দখলে। ধারণা করা হচ্ছে, এবার সর্বোচ্চ ১৩টি আসন জিতবে তার দল।
ওয়াই এস জগমোহন রেড্ডি
গুঞ্জন উঠেছে অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু নাইডুর চেয়ে এবার বেশি আসন জিততে পারেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক কংগ্রেস মিত্র ওয়াই এস জগমোহন রেড্ডি। এ গুঞ্জনের কারণেই হোক বা অন্য কারণে হোক, রাহুল ও মোদি উভয়েই চাইছেন রেড্ডি তাদের পাশে থাকুন। ২৩শে মে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বিরোধীদের বৈঠকে যোগ দিতে তাকে আহ্বান জানিয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই রেড্ডিকে অন্ধ্রপ্রদেশে বিশেষ পদ দেয়ার কথা জানিয়েছে বিজেপি। বুথফেরত জরিপ জানাচ্ছে, এবার সর্বোচ্চ ২০ আসন জিততে পারে তার দল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই বিজেপিবিরোধী হিসেবে তার অবস্থান পরিষ্কার রেখেছেন। তবে কংগ্রেসের সঙ্গেও মিশে যাননি তিনি। যদিও পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজেপিবিরোধী দল গড়তে তাকে যোগ দিতে হবে কংগ্রেসের সঙ্গেই। বুথ ফেরত জরিপ বলছে, তার দল তৃণমূল কংগ্রেস এবার সর্বোচ্চ ২৯টি আসনে জয়ী হতে পারে।
মায়াবতী
নির্বাচনের পর থেকেই অনেকটা চুপ থেকে পরিস্থিতি বিবেচনার মেজাজে আছেন বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতী। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বিজেপির বিরুদ্ধেই প্রচারণা চালিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সময় হলে কংগ্রেসের সঙ্গেই ভিড়বেন তিনি। বুথফেরত জরিপ বলছে, এবার তার দল জিততে পারে সর্বোচ্চ ৪৫ আসন।
অখিলেশ যাদব
সমাজবাদী পার্টির নেতা ও উত্তরপ্রদেশের সর্বকনিষ্ঠ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও অনেকটা বিজেপিবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। সমপ্রতি মায়াবতীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনিও পা রাখবেন কংগ্রেসের সারিতে।
এমকে স্ট্যালিন
তামিলনাডুর দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম দলের নেতা এমকে স্ট্যালিন প্রকাশ্যেই রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে স্ট্যালিন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নি। এই অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। দিনশেষে তিনি কংগ্রেসের কাতারেই দাঁড়াবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এই নির্বাচনে তার দল সর্বোচ্চ ২৭টি আসনে জিততে পারে।
(টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে)

বুথফেরত জরিপে কেন বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ?

চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চ বেকারত্বের হার, ভয়াবহ কৃষি সংকট আর খাদ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে ধারণা করা হচ্ছিলো, ভোটাররা লোকসভা নির্বাচনে হয়তো অর্থনৈতিক ইস্যুকেই প্রাধান্যের কেন্দ্রে রাখবে। ভরাডুবি হবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের। তবে কিছুদিন আগেও দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব, কৃষি ও খাদ্য সংকটের মতো মৌলিক জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো ভোটারদের কাছে যতটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর ছিল, ভোটদানের সময় পর্যন্ত তা একইরকম থাকেনি। এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে ভোটারদের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল মোদি সরকার। বুথফেরত জরিপে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
ওই প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুলওয়ামাতে সন্ত্রাসী হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বাহিনীর হামলার পর জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো ছাপিয়ে মোদিকে আরেকবার ক্ষমতায় দেখার প্রত্যাশ্যা জোরালো হয়ে উঠেছে ভারতীয়দের কাছে। ভোটের আগে-পরে দুই ধাপে পরিচালিত জরিপেই অবশ্য অংশগ্রহণকারীদের একটা ছোট অংশ জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে রাখার কথা জানিয়েছিল। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজ (সিএসডিএস) নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, পরোক্ষে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুটি ভোটারদের একটা বড় অংশের মনোভাব প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে। সে কারণেই জনগুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো পেছনে রেখে মানুষ মোদির ‘উন্নয়ন’ প্রচারণার মধ্যেই নিজের ভবিষ্যৎ খোঁজার চেষ্টা করেছেন।
লোকসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের কাছে কোন ইস্যুগুলো জরুরি ছিল, তা নিয়ে সিএসডিএস’র জরিপের ভিত্তিতে একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। লোকনীতি কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ওই জরিপটি সম্পন্ন হয়েছে দুই ধাপে। ভোটের আগে ২৪ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১৯ রাজ্যের ১০ হাজার দশজন ভোটারের তথ্য নিয়ে প্রথম জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন চলাকালীন ২৪ রাজ্যের ২১ হাজার ৬৪৭ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি ধাপের নির্বাচন শেষে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দুই ধাপে সংগৃহীত তথ্য বিচার করে তুলনামূলক বিশ্লেষণ হাজির করা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। নির্বাচন পরবর্তী যে ডাটা নিয়ে এখানে কথা বলা হচ্ছে তা কেবল ছয় ধাপের নির্বাচন নিয়ে পরিচালিত জরিপের তথ্য। এখানে শেষ ধাপের নির্বাচনের জরিপ যুক্ত করা হয়নি। তবে জরিপকারীদের দাবি, শেষ ধাপের নির্বাচনের তথ্য যুক্ত করা হলেও এ সংখ্যায় অনেক পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
প্রথম ধাপে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে ১৯টি রাজ্যে পরিচালিত ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ২১ শতাংশ বলেছিল, কর্মসংস্থান সংকট তথা বেকারত্বই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় ভোটিং ইস্যু। ভোট পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ধাপে পরিচালিত জরিপে বেকারত্বকে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলেছেন মাত্র ১২ শতাংশ ভোটার। প্রথম জরিপে ৭ শতাংশ ভোটার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে এসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি কিংবা মুদ্রাস্ফীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটিং ইস্যু হয়েছে ৪ শতাংশ ভোটারের কাছে।
নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৮ শতাংশ ভোটার জানিয়েছিলেন, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, দারিদ্র্য, মজুরি ও পারিশ্রমিক, কর ও কালো টাকার মতো অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোকেই তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দ্বিতীয় ধাপের জরিপে এসে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ২৫ শতাংশ ভোটার, নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপের তুলনায় যা ১৩ শতাংশ কম। নির্বাচন পরবর্তী জরিপে ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে উন্নয়নের ইস্যুটিকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ৯ শতাংশ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়কে (সড়ক, পানি, বিদ্যুৎ, স্কুল, হাসপাতালের মতো অবকাঠামো) সর্বাগ্রে রেখেছেন।
দ্বিতীয় ধাপে ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা উন্নয়ন (১৭ শতাংশ) ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত (৯ শতাংশ) ইস্যুকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে দ্বিতীয় ধাপে এসে অর্থনৈতিক ইস্যুকে (সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ২৫ শতাংশ) ছাপিয়ে উন্নয়ন ইস্যুটি শীর্ষস্থানে চলে এসেছে। দ্বিতীয় ধাপে এসে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ১৭ শতাংশ (প্রতি ৬ জনে ১ জন) হ্যাঁ-না প্রশ্নের উত্তর দেননি, যা নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপের তুলনায় দ্বিগুণ। ভোটারদের অগ্রাধিকারের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ইস্যু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উন্নয়নের মতো আবছা ধারণায় ধাবিত হওয়া কিংবা জরিপের সময় প্রশ্নের উত্তর দিতে না চাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে দ্য হিন্দু। জরিপ সূত্রে ওই সংবাদমাধ্যম বলছে, এটি শুধু ভোটারদের দ্বিধাকেই সামনে নিয়ে আসেনি, বরং এর মধ্য দিয়ে ইঙ্গিত মিলেছে নিজেদের ভোট চয়েসের সঙ্গে মিল রেখে তারা ইস্যুগুলো শনাক্ত করেছেন।
জরিপে দেখা গেছে, জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে অর্থনীতি কিংবা উন্নয়ন নামের ধারণার মধ্য দিয়ে দেখার ক্ষেত্রে ভোটারদের রাজনৈতিক বিবেচনা প্রধানতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। দ্য হিন্দু বলছে, যেসব ভোটার ‘উন্নয়ন’কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তাদের পছন্দের শীর্ষে বিজেপি কিংবা এনডিএ জোট থাকার সম্ভাবনা বেশি। এনডিএ জোটের সমর্থকদের মধ্যে জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে অর্থনীতির নিরিখে বিচার করা মানুষের সংখ্যা কম। মোদির সমর্থকদের মধ্যে ‘উন্নয়নকে’ প্রধান ভোটিং ইস্যু হিসেবে দেখার সম্ভাবনা বেশি। এর বিপরীতে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সমর্থকদের ক্ষেত্রে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে অর্থনীতির নিরিখে দেখার।
ভোটারদের কাছে কোন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে তা নিয়ে রাজ্যভিত্তিক জরিপে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, কর্নাটক, উত্তরাখণ্ড, জম্মু ও কাশ্মির, অন্ধ্র প্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় উন্নয়নের বিষয়টি এককভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটিং ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আর উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা, গুজরাট, বিহার, ঝাড়খণ্ড আর তামিলনাড়ু রাজ্যে অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো ভোটারদের দিক থেকে জরুরি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। গোটা দেশের সাপেক্ষে বেকারত্বের ইস্যুটি হিন্দিভাষী ওই রাজ্যগুলোতে বড় ধরনের ফ্যাক্টর হয়েছে। কৃষিখাতের বিপন্নতার বিষয়টিও অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ আর ঝাড়খণ্ডের ভোটারদের কাছে জরুরি হিসেবে বিবেচনায় এসেছে।
নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপের মতো করেই নির্বাচনের পর পরিচালিত জরিপেও ভোটারদের ২ শতাংশ বলেছেন, সবকিছুর থেকে জাতীয় নিরাপত্তা, পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলা ও বালাকোটে পাকিস্তানি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলার ইস্যু তাদের জন্য জরুরি। তবে এই সংখ্যা স্বল্প হলেও ইউপিএ জোটের থেকে ঢের বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার সম্ভাব্যতা তৈরি করেছে এনডিএ জোট। ভোটের পরে পরিচালিত একটি জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে লোকনীতির গবেষণায় বলা হয়েছে, বালাকোট হামলায় মোদি সরকারের ভূমিকা ভোটারদের মনোভাবে পরিবর্তন এনেছে তাদের অবচেতনেই।
১৯ আসনে পরিচালিত নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপে দেখা যায়, ভোটারদের প্রতি ৫ জনের মধ্যে ৪ জন বালাকোট হামলার ব্যাপারে অবগত। আর যারা হামলা সম্পর্কে কিছু জানে না, তাদের চেয়ে হামলা সম্পর্কে অবগতদের মধ্যে দ্বিতীয়বারের জন্য মোদিকে ক্ষমতায় দেখতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বেকারত্বকে সবথেকে বড় ইস্যু মনে করা ভোটারদের মধ্যে যারা বালাকোট হামলার কথা জানেন; তাদের দুই পঞ্চমাংশ ভোটার আবারও মোদিকে ক্ষমতায় দেখতে চান। তবে দ্রব্যমূল্য ও বেকারত্বকে সবথেকে বড় ইস্যু মনে করা ভোটারদের মধ্যে যারা বালাকোট হামলার কথা জানেন না, তাদের ক্ষেত্রে মোদিকে ক্ষমতায় ফেরাতে ইচ্ছুক ভোটারের সংখ্যা এক চতুর্থাংশ।
লোকনীতির গবেষণা অনুযায়ী, কিছুদিন আগের তুলনায় নির্বাচনের সময় জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো ভোটারদের কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। অথবা তারা ওইসব ইস্যু নিয়ে তেমন বেশি একটা উচ্চকণ্ঠ ছিল না। সম্ভবত তারা নিজেদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিষয়গুলোকে বিবেচনা করেছেন। ভোটাররা দীর্ঘ সময় আগে জরিপকারী সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যে ইস্যুগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেছিলেন এবং তারা শেষ পর্যন্ত যে ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তা আর একইরকম থাকেনি। এর সম্ভাব্য কারণ বালাকোটের সন্ত্রাসী আস্তানায় মোদি সরকারের কথিত হামলা। জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুটি পরোক্ষভাবে ভোটারদের মনোভাব বদলে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছে ওই সংস্থা।

ইউরেনিয়াম উৎপাদন ৪ গুণ বাড়িয়েছে ইরান: উত্তেজনা চরমে

স্বল্প-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন চার গুণ বাড়িয়েছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি ফার্স ও তাসনিম বার্তা সংস্থা ইরানের পারমাণবিক সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দির বরাতে এ খবর দিয়েছে। কামালভান্দি আরো জানান, জাতিসংঘের আণবিক পর্যবেক্ষক ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)-কে আগেভাগেই এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বল্প-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের জন্য ৩০০ কেজির যে সীমা বেঁধে দেয়া আছে, তা অতিক্রম করতে আর বেশি সময় আমাদের লাগবে না।’ তিনি বলেন, পারমাণবিক চুক্তির সীমারেখার মধ্যেই ইরানের এই সেন্ট্রিফিউজ সমৃদ্ধিকরণ ত্বরান্বিত করার পদক্ষেপ অনুমোদিত। তিনি আরো জানান, তেহরান এই চুক্তি থেকে সরবে না। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
আল জাজিরার জেইন বাসরাভি জানান, ‘ঘড়ির কাঁটা চালু হয়ে গেছে।’ যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায়, ইরানি প্রেসিডেন্ট রুহানি অবশিষ্ট স্বাক্ষরকারী দেশকে এই চুক্তি রক্ষা করতে ৬০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। বাসরাভি বলেন, ‘এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে এটি স্পষ্ট যে, চুক্তি নিয়ে অসহযোগিতার যে হুমকি ইরান দিয়েছে, তা সত্যিকার অর্থেই দিয়েছে। এমনকি পরবর্তীতে এই চুক্তি থেকে দেশটি সরেও যেতে পারে।’
দোহা’য় ব্রুকিং ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং ফেলো আলি ফাতুল্লাহ নেজার মনে করেন, ইরান মূলত ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হওয়ার আগে দরকষাকষির ক্ষেত্রে যে অবস্থানে ছিল সেখানে পৌঁছাতে চায়। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখানো যে, ইরান কোনো দুর্বল অবস্থানে নেই। তবে এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণও। কারণ, এখন পর্যন্ত ইউরোপ থেকে যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন ইরান পেয়েছে, তা হুমকিতে পড়বে।
এদিকে ইরানের কথিত হুমকির প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরে বোমারু বিমান ও এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই মাঝে ইউরেনিয়াম উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে ইরান। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন নিজেদের অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মীদের ইরান থেকে সরিয়ে নিয়েছে। দেশটি এক্ষেত্রে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকির কথা উল্লেখ করেছে। রোববার ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিনজোনে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই গ্রিনজোনে অনেক সরকারি স্থাপনা ও যুক্তরাষ্ট্র সহ বিদেশি দূতাবাসসমূহ অবস্থিত। ওই হামলার পেছনে কে দায়ী, তা স্পষ্ট নয়। এদিকে ইরাকি নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধে ইরাককে টেনে নেয়ার বিরুদ্ধে সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। ইরাকের প্রখ্যাত শিয়া মুসলিম নেতা মুকদাতা আল সদর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ উস্কে দেয়ার বিরুদ্ধে তিনি। কারণ, সেক্ষেত্রে ইরাক হয়ে উঠবে অন্যতম যুদ্ধক্ষেত্র। তিনি বলেন, ‘আমাদের দরকার শান্তি ও নির্মাণ। যারাই ইরাককে তাদের যুদ্ধে টেনে নিয়ে যাবে ও ইরাককে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করবে, তারা ইরাকি জনগণের শত্রু।’
এদিকে ইরানের ‘হুমকি’র বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেসব দাবি করছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে খুব সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও দুই দেশের মধ্যকার বাগাড়ম্বর ও উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজাররিক সকল পক্ষকে বাগাড়ম্বর কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। জেনেভাতে বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, মার্কিন হুমকি নিয়ে সন্দেহ থাকা উচিত নয় ইরানের। যদি আমেরিকান স্বার্থে আঘাত আসে, আমেরিকা প্রতিশোধ নেবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাক। কারণ বিশ্বের ওই অংশে পরিস্থিতি দুর্ঘটনাক্রমেও অন্যদিকে মোড় নিতে পারে।’ এদিকে ওমানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোমবার গোপনে তেহরান সফর করেছেন। গত সপ্তাহে ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাঈদের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সাক্ষাতের পর ওই সফর করেন ওমানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ওমান দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় পশ্চিমের জন্য পেছনের দরজা হিসেবে কাজ করেছে। এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গোপন আলোচনা হয়েছিল ওমানের মাধ্যমে, যা থেকেই শেষ অবধি পারমাণবিক চুক্তি সই করে উভয়পক্ষ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে ইরান সফর করেন উভয় দেশের অভিন্ন মিত্র কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ওয়াশিংটন ডিসির ভবন সাজল বাংলাদেশের তাঁতের শাড়িতে

শাড়িতে প্রাধান্য পেয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকটের বিষয়। ফাইল ছবি
আনাকস্টিয়া ওয়াশিংটন ডিসির নিম্ন আয়ের মানুষের একটি আবাসিক এলাকা। অধিকাংশ মানুষই আফ্রিকান-আমেরিকান। গত শনিবার এই এলাকার পাঁচটি ভবন সাজানো হলো বাংলাদেশের তাঁতের শাড়ি দিয়ে। সেখানে আঁকা হলো নানা রঙের নকশা, লেখা হলো কিছু কবিতা, শুভেচ্ছা বাণী। লেখার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট বিষয়ের আধিক্য ছিল।
র‍্যাপচার—WRAPture—এই শিরোনামে প্রকল্পটির উদ্যোক্তা বাংলাদেশি শিল্পী মণিকা জাহান বোস। শাড়িকে শিল্পমাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে নারীদের জীবনসংগ্রামের গল্প তিনি দীর্ঘদিন থেকেই করছেন। তবে ওয়াশিংটন ডিসির প্রকল্পটি কিছুটা ভিন্ন। এর লক্ষ্য অংশগ্রহণমূলক শিল্পের মাধ্যমে জলবায়ু সংকট বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—এই দুই দেশের মানুষের সংগ্রাম ও দৈনন্দিন দিনযাপনের অভিন্নতা প্রকাশের মাধ্যমে তাদের নিকটবর্তী করা। যে শাড়িগুলো দিয়ে ওয়াশিংটন ডিসির ভবনগুলো সাজানো হয়, সেগুলোয় বাংলাদেশের পটুয়াখালীর কাটাখালী গ্রামের মেয়েরা প্রথমে নিজেদের পছন্দমতো নকশা এঁকেছিল। কেউ কেউ আমেরিকার অজ্ঞাতনামা বন্ধুদের উদ্দেশে কবিতাও লিখেছে। একই শাড়ির ওপরেই আনাকস্টিয়ার মানুষেরা নিজেদের পছন্দমতো নকশা এঁকেছে। দুই দেশের মানুষের এই শিল্পকর্মে অংশগ্রহণে একাকার হয়ে যায় বাংলাদেশের কাটাখালী, যুক্তরাষ্ট্রের আনাকস্টিয়া।
সিটি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিল্পী মণিকা জাহান বোস। ফাইল ছবি
প্রথম আলোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মণিকা বোস বলেন, গতকাল সারা দিন প্রায় ২০০ মানুষ এই প্রকল্পে অংশ নেয়। সারা দিন যেন এক উৎসবের ভেতর দিনটা কেটে যায়। যারা এই নকশা উৎসবে যোগ দেয়, তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ সম্বন্ধে প্রায় কিছুই জানে না। কোনো দিন তারা সে দেশে যাবে, তেমন সম্ভাবনাও নেই। কাটাখালীর মেয়েরাও যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ে কার্যত কিছুই জানত না। শাড়ির ওপর নকশা তৈরির সময় যে কর্মশালা হয়, তাতে অনেক কিছুই তারা জানতে পারে। শাড়ির মাধ্যমে দূরবর্তী এই দুই দেশের মানুষ অনায়াসে নিকটবর্তী হতে সক্ষম হয়।
মণিকা বোস জানান, জলবায়ু সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষই জানল, ব্যক্তিপর্যায়ে এই সংকট কাটাতে তারা কে কী করতে পারে। ছবি আঁকার ফাঁকে ফাঁকে কর্মশালা হয়েছে, যেখানে জলবায়ু সংকটের ভয়াবহ পরিণাম বিষয়ে সবিস্তার জানানো হয়েছে। কম গাড়ি চালানো, জ্বালানির বিচক্ষণ ব্যবহার ও বিদ্যুতের অপচয় রোধের মতো আপাতসামান্য কাজও সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম, সে কথা সবাইকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে।
এই প্রকল্প আয়োজনে আর্থিক অনুদান দিয়ে সাহায্য করেছে ওয়াশিংটন ডিসির শিল্প কমিশন। গতকাল বিকেলে প্রকল্প শেষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওয়াশিংটন ডিসির শিল্প কমিশনার লরেন গ্লোভার ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখক ও মণিকা জাহানের মা নুরজাহান বোস।
মণিকা জাহান বোস ছয় বছর ধরে শাড়িতে গল্প বলার এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত তিনি এ প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি অঙ্গরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ ঘুরেছেন। তিনি এ প্রদর্শনী আয়োজনের ঘোষণা দেন গত বছরের নভেম্বর মাসে। এ প্রদর্শনীর জন্য পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি শাড়িগুলো তৈরিতে যুক্ত করেন বাংলাদেশের পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের ১২ জন নারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দাসহ ১৫০ জনের বেশি মানুষকে। এতে যুক্ত রয়েছেন শিশুদের চিত্রশিল্প শিক্ষা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ওয়াশিংটন ডিসির অলাভজনক প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট ক্রিয়েটের কর্মী-সদস্য, একসময়ের গৃহহীন নারী, শ্রবণপ্রতিবন্ধী এবং সব শ্রেণি, পেশা ও বয়সের নারী-পুরুষ।
বর্ণবাদবিরোধী ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অবিসংবাদিত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যার দিনকে স্মরণ করে গত ৪ এপ্রিল এটি উদ্বোধন করা হয়। আরেকটি প্রদর্শনী হয় ১৪ এপ্রিল।
মণিকা জাহান বোস যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েসলেয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে চিত্রকর্মের ওপর স্নাতক পাস করেন। পরে ভারতের শান্তিনিকেতন থেকে চিত্রশিল্পের ওপর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ল স্কুল থেকে আইনবিষয়ক ডিগ্রি জুরিস ডক্টরেট (জেডি) অর্জন করেন।
বাংলাদেশের গ্রামের নারীদের তৈরি শাড়ির ওপর আনাকস্টিয়ার মানুষেরা নিজেদের পছন্দমতো নকশা এঁকেছে। ফাইল ছবি

টেলিভিশন বিস্ফোরণ কেন হয়? by হিটলার এ. হালিম

রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজারের একটি বাসায় গত ১৬ মে বৃহস্পতিবার টেলিভিশন বিস্ফোরণ থেকে আগুন লেগে স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ হয়েছেন। তবে কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটে এবং কোন ব্র্যান্ডের টেলিভিশন তা জানা যায়নি। প্রায়ই গণমাধ্যমে টেলিভিশন বিস্ফোরণের খবর আসে। ২০১৩ সালে রাজধানীর কাফরুলে টেলিভিশন বিস্ফোরণে মা ও দুই সন্তানের মৃত্যু হয়। ২০১৪ সালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ি বস্তিতে টেলিভিশন বিস্ফোরণে এক রিকশা চালকের মৃত্যুর খবর জানা যায়। অন্যদিকে রাজধানীর কালশীর সাংবাদিক আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে টেলিভিশন বিস্ফোরণে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়, দগ্ধ হন দুই জন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিম্নমানের উপকরণ ও যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি টেলিভিশন সেট বিভিন্ন কারণে বিস্ফোরিত হতে পারে। অনেক সময় হাই ভোল্টেজ, ত্রুটিযুক্ত বিদ্যুৎ লাইন ও ওয়্যারিং, নিম্নমানের ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ ইত্যাদি হতে পারে দুর্ঘটনার কারণ। বিদেশ থেকে আমদানি করা নিম্নমানের টেলিভিশন এবং দেশে তৈরি নকল ও নন ব্র্যান্ডের টেলিভিশন ব্যবহার বন্ধ করে অনাকাঙ্খিত এসব দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। অনেক সময় শর্ট শার্কিটের কারণে বাড়িতে আগুন লেগে সেই আগুনে টেলিভিশন সেট বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
টেলিভিশনে কেন বিস্ফোরণ ঘটে- এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী বলেন, নতুন প্রযুক্তির টেলিভিশনে এ ধরনের ঘটনা ঘটার কথা নয়। আমি নিশ্চিত নই যে টেলিভিশন সেটটি নতুন না পুরনো। যে টিভিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে সেটা হয়তো পুরনো টেলিভিশন। পুরনো টেলিভিশনে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ পুরনো মডেলের টেলিভিশনে থাকে সিআরটি (ক্যাথড রে টিউব) মনিটর। সিআরটি মনিটর টেলিভিশনের ভেতরে ভ্যাকুয়াম টিউব থাকে যার ভেতরে থাকে ইলেকট্রন গান (যার মাধ্যমে ছবি তৈরি হয়)। পুরনো টিভি হয়তো কোনও অনভিজ্ঞ মেরামতকারীর হাতে পড়েছিল। ফলে এক সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিনি জানান, নতুন প্রযুক্তির টেলিভিশনগুলো কম ভোল্টেজে চলে। এভাবেই তৈরি করা হয়ে থাকে। ফলে দুর্ঘটনার ঘটার কোনও আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক শর্ট সার্কিটের ফলে অনেক সময় বাসা বাড়িতে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন লেগেও টেলিভিশন বিস্ফোরণ হতে পারে।
এ বিষয়ে ওয়ালটন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা নাহিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশে আমদানি হওয়া নিম্নমানের টেলিভিশন সেটগুলোতে সার্জ ভোল্টেজের (পাওয়ার সিস্টেমে হঠাৎ করে খুব অল্প সময়ের জন্য অস্বাভাবিক ভোল্টেজ বৃদ্ধি, একে ট্রানজিয়েন্ট ভোল্টেজও বলে) জন্য কোনও প্রটেকশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয় না। যার ফলে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। নিম্নমানের টেলিভিশনে যে ব্যাক কাভার বা ব্যাক কেবিনেট ব্যবহার হচ্ছে তা রিসাইক্লিং রেজিন দিয়ে তৈরি যার অগ্নিপ্রতিরোধের কোনও ক্ষমতা থাকে না। ফলে কেবিনেটে আগুন ধরে গেলে টেলিভিশনে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটতে পারে। বেসিক নিয়ম হচ্ছে টেলিভিশনের ব্যাক কাভার তৈরিতে ভি-জিরো রেজিন (প্লাস্টিক) ব্যবহার করা। ভি-জিরো রেজিনে ফ্লেম রিডানডেন্ট বেশি। এতে প্লাস্টিকের যেখানে আগুন লাগবে কেবল সেখানেই পুড়বে। আগুন ছড়াবে না। এসব টিভির পাওয়ার বোর্ডে সার্জ ভোল্টেজ প্রটেকশনের কোনও ব্যবস্থা না থাকার কারণে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।’
মোস্তাফা নাহিদ হোসেন মনে করেন, নিম্নমানের ওপেন সেল (টিভির স্ক্রিন বা পর্দা) ভালো না হলেও টিভিতে সমস্যা হতে পারে। তার পরামর্শ হলো, নিম্নমানের এবং নন ব্র্যান্ডের টিভি কেনা থেকে বিরত থাকা। নিম্নমানের টিভিতে কোনও কিছুই দেখা হয় না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি জানান, ব্র্যান্ডেড টিভিতে অনেক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। ধরা যাক কোনও ব্র্যান্ডের টিভি ৪-৫ বছরের ওয়ারেন্টি দিলো। এর অর্থ হলো সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয় যে, এগুলো কত ভোল্টে চলতে পারবে, কেবিন কোয়ালিটি কেমন, পিসিবি বোর্ড কেমন ইত্যাদি। এগুলো দেখেশুনেই তবে ৪-৫ বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়। ফলে এই সময়ের মধ্যে টিভিতে সাধারণত কোনও দুর্ঘটনা ঘটে না।
মোস্তাফা নাহিদ হোসেন আরও জানান, টিভি সেট অনিরাপদ হতে পারে ভালো ইলেকট্রিক সামগ্রী ও সুইচ ব্যবহার না করায়, আর্থিং না থাকলে, বাড়িতে বিদ্যুতের ভালো ওয়্যারিং ব্যবস্থা না থাকলে, বিল্ডিং থান্ডার প্রটেকশন (বজ্রপাতের সময়) এবং টিভিতে হাই ভোল্টেজ প্রটেকশন না থাকলে। বিল্ডিংয়ে থান্ডার প্রটেকশন না থাকলে আশেপাশে বজ্রপাতের ফলে টিভি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে অনেক সময় বিস্ফোরণে আগুন ধরে যেতে পারে।

কানের লালগালিচায় কালোদের নাচ-উচ্ছ্বাস



যে যেভাবে ইচ্ছে নাচতে শুরু করেছে। প্রত্যেকের গায়ে বিচিত্র পোশাক। অথচ কানের লালগালিচায় ছেলেদের টাক্সেডো আর বো-টাই পরে আসা নিয়ম। মার্কিন নারী নির্মাতা ড্যানিয়েল লেসোভিৎজের প্রথম ছবি ‘পোর্ট অথরিটি’র কৃষ্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পীরা সেই রেওয়াজ ভেঙে দিলেন।
উৎসবের ৭২তম আসরের পঞ্চম দিন (১৯ মে) বিকালে দেখা গেলো অন্যরকম এই দৃশ্য। আদতে এটি এবারের আয়োজনে কালোদের জয়জয়কারের প্রতিচ্ছবি।
আফ্রিকান বংশোদ্ভুত প্রথম নারী নির্মাতা হিসেবে কানের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন মাতি দিওপ। ফরাসি-সেনেগালিজ এই পরিচালকের ছবি ‘আটলান্টিক’ লড়ছে স্বর্ণ পামের জন্য। ২০০৯ সালে নিজের বানানো স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র অবলম্বনে তিনি এটি তৈরি করেছেন। এতে দেখানো হয়েছে সাগরপাড়ি দিয়ে স্পেনে যাওয়ার সময় সেনেগালের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ‘আটলান্টিক’-এর পটভূমি নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে সাজানো। সমালোচকরা ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এর বেশিরভাগ অভিনয়শিল্পী কৃষ্ণাঙ্গ ও আনকোড়া। তাদের কয়েকজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে সেনেগালের দাকারের সড়ক থেকে। অভিনেতা ইব্রাহিম এমবায়ে ভেবেছিলেন, এটি বড়জোড় সেনেগালের টিভি পর্যন্ত যাবে!
‘আটলান্টিক’-এর মাধ্যমে অভিনেত্রী থেকে প্রথমবার চলচ্চিত্র পরিচালনায় এসেছেন মাতি দিওপ। তার বেড়ে ওঠা চলচ্চিত্রের আবহে। তিনি হলেন সেনেগালের পথিকৃৎ নির্মাতা জিবরিল দিওপ মামবেতির ভাইঝি। জিবরিলের ‘তুকি বুকি’র প্রিমিয়ার হয় ১৯৭৩ সালের কান উৎসবে। সংগীতশিল্পী ওয়াসিস দিওপের মেয়ে মাতির বয়স এখন ৩৬ বছর।
মাতির মতো পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির বংশোদ্ভুত ফরাসি নির্মাতা লেজ লি প্রথম ছবি বানিয়েই কানের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছেন এবার। তার ‘লে মিজারেবলস’ দেখে সমালোচকরা মুগ্ধ। ৩৯ বছর বয়সী এই নির্মাতাকে বলা হচ্ছে ফ্রান্সের ‘স্পাইক লি’!‍ ইতোমধ্যে অ্যামাজন স্টুডিও যুক্তরাষ্ট্রে এ ছবির স্বত্ব কিনে নিয়েছে। লেজ লি তার একই নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি অবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্রটি বানিয়েছেন। এর গল্প ২০০৫ সালে প্যারিসে এক দাঙ্গায় অনুপ্রাণিত।
প্যাভিলিয়ন আফ্রিক
প্যাভিলিয়ন আফ্রিক
আঁ সাঁর্তে রিগার বিভাগে নির্বাচিত মার্কিন নারী নির্মাতা অ্যানি সিলভারস্টাইনের প্রথম ছবি ‘বুল’-এর গল্প আফ্রিকান একজন বয়স্ক বুলফাইটারকে ঘিরে। ভিলেজ ইন্টারন্যাশনালে ‘প্যাভিলিয়ন আফ্রিক’-এ আফ্রিকান সিনেমা ও মহাদেশটির নির্মাতাদের জয়গান দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন। এবারই প্রথম আফ্রিকার ১৫টি দেশের নির্মাতারা এক তাঁবুর নিচে একত্রিত হলেন।
এদিকে শনিবার (১৭ মে) উৎসবের চতুর্থ দিনেও সকাল থেকে মাঝরাত অবধি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নতুন নতুন ছবির প্রদর্শনী হয়েছে।
দ্য ওয়াইল্ড গুজ লেক
দ্য ওয়াইল্ড গুজ লেক
প্রতিযোগিতা বিভাগ
গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে উৎসবের পঞ্চম দিন বিকাল সাড়ে ৪টায় ডিয়াও ইনান পরিচালিত ‘দ্য ওয়াইল্ড গুজ লেক’ ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। এর গলে।প দেখা যায়, অপরাধ জগতের এক নেতা মুক্তি পেতে পালাচ্ছে। এক মেয়ে স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকির পথে পা বাড়ায়। তারা চূড়ান্ত এক জুয়ায় নামে। হয়তো সেটাই তাদের শেষ দিন।
শনিবার গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে রাত ১০টায় ছিল রোমানিয়ান নির্মাতা কর্নেলিউ পরমবয়ুর ‘দ্য হুইসলারস’। এর গল্প রোমানিয়ান পুলিশ কর্মকর্তা ক্রিস্টিকে ঘিরে। মাফিয়াদের তথ্যদাতা সে। বংশগত সুরেলা ভাষা শিখতে লা গোমেরা দ্বীপে যেতে হয় তাকে। রোমানিয়ায় সে পুলিশি নজরদারিতে থাকে। এ কারণে কোড ভাষা ব্যবহার করে সয়েতকে কারাগার থেকে বের করে আনতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। ৩ কোটি ইউরো কোথায় লুকানো আছে তা কেবল এই কয়েদি জানে।
আগের দিন প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রিমিয়ার হওয়া অস্ট্রিয়ান নারী নির্মাতা জেসিকা হজনারের ‘লিটল জো’ গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে সকাল ৯টায়, সাল দ্যু সোসানতিয়েমে দুপুর ২টায় ও পালে দে ফেস্তিভাল ভবনের বাইরে অলিম্পিয়া প্রেক্ষাগৃহে রাত ৮টায় আবারও দেখানো হয়।
জোয়ান অব আর্ক
জোয়ান অব আর্ক
আঁ সার্তে রিগার
‘পোর্ট অথরিটি’ দেখানো হয় সকাল সাড়ে ৮টা ও রাত পৌনে ৮টায়। এর গল্পে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির বাসস্ট্যান্ড পোর্ট অথরিটিতে ওয়াই ও পল একে অপরের প্রেমে পড়ে। কিন্তু একসময় পল আবিষ্কার করে, ওয়াই একজন ট্রান্সজেন্ডার। তখন ওয়াই’র প্রতি তার ভালোলাগা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে।
উৎসবের পঞ্চম দিন সকাল ১১টা ও দুপুর ২টায় ছিল ফরাসি নির্মাতা ব্রুনো দুমোর ‘জোয়ান অব আর্ক’। পরাধীন ফ্রান্সের মুক্তিদাত্রী বীরকন্যা ও রূপকথাতুল্য নেত্রীর সত্যি ঘটনা নিয়ে এর গল্প।
শনিবার বিকাল ৫টায় ছিল স্প্যানিশ নির্মাতা আলবের্ত চেরার ‘লিবার্টি’র উদ্বোধনী প্রদর্শনী। ফরাসি বিপ্লবের ঠিক আগে ১৭৭৪ সালে জার্মানির স্বাধীনতাকামী চিন্তাবিদদের প্রচারণা নিয়ে এর গল্প। এই তিনটি ছবির প্রদর্শনী হয়েছে সাল দুবুসি থিয়েটারে।
লিবার্টি
লিবার্টি
এ বিভাগে উৎসবের চতুর্থ দিন প্রিমিয়ার হওয়া ফরাসি নারী নির্মাতা মুনিয়া মেদুরের ‘পাপিশা’ শনিবার দুপুর ২টায় আর মার্কিন নির্মাতা মাইকেল অ্যাঞ্জেলো কভিনোর ‘দ্য ক্লাইম্ব’ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আবারও দেখানো হয় সাল বাজিনে।
ফ্যামিলি রোম্যান্স, এলএলসি
ফ্যামিলি রোম্যান্স, এলএলসি
প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে
স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে নির্বাচিত জার্মান সিনেমা-গুরু ওয়ারনার হারজগের ‘ফ্যামিলি রোম্যান্স, এলএলসি’ সাল দ্যু সোসানতিয়েমে দেখানো হয় রাত ৮টায়। এর গল্পে দেখা যায়, ১২ বছরের এক বালিকার নিখোঁজ বাবার ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য ভাড়া করা হয় একজন ব্যক্তিকে।
মিডনাইট স্ক্রিনিংয়ে শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে ছিল গ্যাসপার নো পরিচালিত ‘লুক্স এতেরনা’। আউট অব কম্পিটিশনে উৎসবের চতুর্থ দিন প্রিমিয়ার হওয়া ডেনিশ নির্মাতা নিকোলাস উইন্ডিং রেফনের ‘টু ওল্ড টু ডাই ইয়াং-নর্থ অব হলিউড, ওয়েস্ট অব হেল’ শনিবার রাত ১০টায় আবারও দেখানো হয় সাল দ্যু সোসানতিয়েমে।
কান ক্ল্যাসিকস
পালে দে ফেস্তিভাল ভবনের সাল বুনুয়েল থিয়েটারে ধ্রুপদী ছবির এই আয়োজনে উৎসবের পঞ্চম দিন দুপুর দেড়টায় ছিল ১৯৫১ সালের কান উৎসবে গ্রাঁ প্রিঁ জয়ী ভিত্তোরিও ডি সিকার ‘মিরাকল ইন মিলান’। সন্ধ্যা ৬টায় দেখানো হয় স্প্যানিশ ফিল্ম গুরু লুই বুনুয়েলের ‘নাফারিন’ (১৯৫৮)।
চেকোস্লোভাকিয়ার নির্মাতা মিলোস ফোরম্যানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বানানো ‘ফোরম্যান ভার্সাস ফোরম্যান’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী হয় রাত সাড়ে ৮টায়। এতে রয়েছে চেক নিউ ওয়েভ থেকে শুরু করে তার হলিউড ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো। রাত ১০টায় ছিল মিলোস ফোরম্যান পরিচালিত ‘লাভস অব অ্যা ব্লন্ড’ (১৯৬৫)।
গিভ মি লিবার্টি
গিভ মি লিবার্টি
ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট
ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আয়োজিত ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট কানের প্যারালাল বিভাগ। এতে উৎসবের পঞ্চম দিন সকাল পৌনে ৯টা ও রাত সাড়ে ৮টায় ছিল রুশ নির্মাতা কিরিল মিখানোভস্কি পরিচালিত ‘গিভ মি লিবার্টি’। এর গল্প রুশ-আমেরিকান তরুণ ভিককে ঘিরে। দুর্ভাগ্য তার পিছু লেগে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন রাজ্যের একটি শহরে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি মেডিক্যাল ভ্যান চালায় সে। কিন্তু একদিন এক আফ্রিকান-আমেরিকানকে আনতে গিয়ে জীবন বদলে যায় তার।
শনিবার দুপুর ১২টা ও সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় দেখানো হয় ফরাসি নির্মাতা নিকোলাস পারিজার পরিচালিত ‘অ্যালিস অ্যান্ড দ্য মেয়র’। এর গল্পে দেখা যায়, ফ্রান্সের লিওন শহরের মেয়র ৩০ বছর রাজনীতি করার পর অস্তিত্বের সংকটে পড়েন। নিজেকে পুরোপুরি শূন্য মনে হয় তার। মেয়রের সহযোগী তখন নিয়ে আসে মেধাবী তরুণী দার্শনিক অ্যালিসকে। মেয়রের সঙ্গে তার একটি সংলাপ হয়। তারা একে অপরের কাছাকাছি আসেন। ধীরে ধীরে দর্শন ও রাজনীতির সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।
দ্য অরফানেজ
দ্য অরফানেজ
আফগান নারী নির্মাতা শাহরাবানু সাদাতের ‘দ্য অরফানেজ’ প্রদর্শিত হয়েছে বিকাল ৩টায়। এর প্রেক্ষাপট আশির দশকের শেষ ভাগ। ১৫ বছরের কিশোর কুদরত কালোবাজারে সিনেমা হলের টিকিট বিক্রি করে আর কাবুলের সড়কে দিন কাটায়। সে বলিউডের ভক্ত। দিনের বেলায় প্রিয় ছবির দৃশ্যে নিজেকে কল্পনা করে ছেলেটি। একদিন পুলিশ তাকে সোভিয়েত এতিমখানায় দেয়। কিন্তু কাবুলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। তাই কুদরতসহ সব শিশু তাদের ঘরের জন্য প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। এসব ছবির প্রদর্শনী হয়েছে জেডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলের থিয়েটার ক্রজেতে।
ভাইভারিয়াম
ভাইভারিয়াম
স্যুমেন দ্যু লা ক্রিতিক
চলচ্চিত্র সমালোচকদের আয়োজনে কানের এই প্যারালাল বিভাগে শনিবার সকাল সোয়া ১১টা, বিকাল সোয়া ৫টা ও রাত সাড়ে ১০টায় ছিল আইরিশ নির্মাতা লরক্যান ফিনেগানের ‘ভাইভারিয়াম’। এর গল্প এক দম্পতিকে ঘিরে। প্রথম বাড়ি খুঁজতে গিয়ে অদ্ভুত হাউজিং ডেভেলপমেন্টে এক রহস্যজনক আবাসন প্রতিনিধির ফাঁদে পড়ে তারা। এতে অভিনয় করেছেন জেসি আইজেনবার্গ ও ইমোজেন পুটস।
দুপুর সোয়া ২টা ওরাত ৮টায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের স্পেশাল স্ক্রিনিং হয়। উৎসবের চতুর্থ দিন প্রিমিয়ার হওয়া জেরেমি ক্ল্যাপার অ্যানিমেটেড ছবি ‘আই লস্ট মাই বডি’ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আবারও দেখানো হয়। সব প্রদর্শনী হয়েছে হোটেল মিরামারে।
এসিড
কান উৎসবের আরেক প্যারালাল বিভাগ এসিডে স্টুডিও থার্টিনে সকাল সাড়ে ১১টায় ও আর্কেডস প্রেক্ষাগৃহে রাত ৮টায় ছিল আনাবেল অ্যাটানাজিও পরিচালিত ‘মিকি অ্যান্ড দ্য বিয়ার’। আলেকসঁন্দ থ্রি থিয়েটারে দুপুর ২টায় ছিল বারবারা সারাসোলা-ডে পরিচালিত ‘সাংগ্রে ব্ল্যাঙ্কা’। এছাড়া উৎসবের দ্বিতীয় দিন প্রদর্শিত আলেন রাউস্ট পরিচালিত ‘অ্যাজ হ্যাপি অ্যাজ পসিবল’ শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় আলেকসঁন্দ থ্রি থিয়েটারে আবারও দেখানো হয়।

জঙ্গি মাদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি এসবের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই আপনারা যার যার জায়গা থেকে নিজের সাধ্যমতো দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন। আমরা যেন হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারি, বাংলাদেশ যেন বিশ্বের মানচিত্রে গৌরবের আসন পেতে পারে।’
গণভবনে মঙ্গলবার পেশাজীবীদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, কবি, সাহিত্যিক, বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে ইফতার করেন প্রধানমন্ত্রী। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারা বিশ্বে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ চলছে। বাংলাদেশেও সে প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু আমি আন্তরিক ধন্যবাদ দেব আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সংস্থাগুলোকে। যাদের জন্য মানুষ নিরাপদে চলছে পারছে, আরামে ঘুমাতে পারছে। আজ আমরা কিন্তু জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, যে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, আজ সেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। সবাইকে এই প্রচেষ্টা করতে হবে, যাতে করে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে পারি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে সব সময় একটি বিষয় থাকে যে, ভোট ও ভাতের অধিকারে যারা জীবন দিয়ে গেছেন, সেই ভোট ও ভাতের অধিকার যেন প্রতিষ্ঠা করতে পারি।’
আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রতি বছর আমি এখানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে সাক্ষাৎ করি। কিন্তু আপনারা জানেন যে, আমার চোখে একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। আর বয়সও তো হয়েছে, বৃদ্ধ হয়ে গেছি। ডাক্তারেরও নিষেধাজ্ঞা আছে, যে কারণে সেই পর্বটা আজ করতে পারছি না বলে দুঃখ প্রকাশ করছি। আজকে ইফতারের দাওয়াত পেয়ে যাঁরা গণভবনে এসেছেন, তাঁদের সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
সবার কাছে দোয়া চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জানি যে, মাহে রমজান মাসে কোনো দোয়া করলে সে দোয়া কবুল হয়। আমি আপনাদের এতটুকু বলব, বাংলাদেশে যেন শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে, বাংলাদেশে যে উন্নয়নের ধারাটা সূচিত হয়েছে, আমরা যেন ধারা অব্যাহত রাখতে পারি। বাংলাদেশের একেবারে গ্রামের মানুষ যেন সুন্দর-উন্নত জীবন পায়, সুস্থ জীবন পায়, আমরা সেটাই কামনা করি।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমাদের মহান নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর হাতে সময় পেয়েছিলেন। সাড়ে তিন বছরে তিনি অসাধ্যসাধন করে গেছেন। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমাদের সে উন্নয়নের যাত্রাটা ব্যাহত হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। আমি এবং শেখ রেহানা দেশে ছিলাম না বলে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম। আমরা বাবা-মা স্বজনদের হারিয়েছি কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ হারিয়েছিল দেশের উন্নয়ন ও সম্ভাবনাকে।
দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সব সময় আমার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। জাতির পিতা সারাটা জীবন যে সংগ্রাম করে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, সেই স্বাধীনতার সুফলটা যেন এ দেশের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে দিতে পারি। বাংলাদেশের মানুষ যেন, ক্ষুধা দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পায়, শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি পায়। উন্নত জীবন পায়। মানুষের মধ্যে যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যেন বাংলাদেশ গড়তে পারি, আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।
গণভবনে মঙ্গলবার পেশাজীবীদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, কবি, সাহিত্যিক, বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে ইফতার করেন প্রধানমন্ত্রী

চাল রপ্তানি নিয়ে বিতর্ক

আমদানির চালে তৈরি জটে কপাল পুড়ছে কৃষকের। জমিতে সোনালী ধান দোল খেলেও কৃষকের মনে চাপা কান্না। ধান বিক্রি করে খরচও উঠাতে পারছে না। আর জমির ধান কাটার শ্রমিকের বাড়তি মজুরি নিয়ে আছে দুঃশ্চিন্তা। এ অবস্থায় ধানের ‘ন্যায্য দাম’ নিশ্চিত করতে চাল রপ্তানির চিন্তা করছে সরকার। সরকারি এ উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অর্থনীতিবিদ ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষা নীরিক্ষা না করে চাল রপ্তানি হলে এটি ভবিষ্যৎ সংকট তৈরি করতে পারে। এছাড়া চাল রপ্তানি করতে হলে পুরো বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা করে করতে হবে যাতে কৃষকের উপকার হয়। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি করা চালে যেমন কৃষকের কপাল পুড়েছে তেমনি চাল রপ্তানি হলেও ব্যবসায়ী চক্র এর সুবিধা পাবে। কৃষকের কোন লাভ হবে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে যখন প্রচুর চাল আমদানি হচ্ছিল, তখনই ভাবা উচিত ছিল কৃষকের ধান উঠলে দাম কমে যেতে পারে। এই মুহূর্তে সরকারকে দেখানো উচিত ছিল তারা ধানের দাম বাড়ানোর জন্য তৎপর। এখন সরকারের উচিত হবে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে ধান-চাল সংগ্রহ বাড়ানো। আর দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে ধান সংগ্রহের ব্যবস্থা করা।
জানা গছে, বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় ধান-চাল বেশি রয়েছে। এছাড়া চলছে বোরো ধান কাটার মৌসুম। দামও কম। উৎপাদন খরচের প্রায় অর্ধেক দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষককে। অথচ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সরকারি-বেসরকারিভাবে গত ১০ মাসে ২ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। পাইপলাইনে রয়েছে আরো ৩ লাখ ৮০ হাজার টন চাল। ২০১৭ সালের মে মাসে হাওরে আগাম বন্যায় ফসলহানির পর সরকার চালের আমদানি শুল্ক উঠিয়ে দেয়। সরকার থেকে বলা হয়েছিল, এই ক্ষতির ফলে ঘাটতি হবে ১০ লাখ টন চালের। কিন্তু গত দুই বছরে দেশে প্রায় ৬০ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। গত নভেম্বরে সরকার ২৮ শতাংশ আমদানি শুল্ক পুনর্বহাল করে। এতে চাল আমদানি কমলেও বন্ধ হয়নি। বাড়তি উৎপাদন ও আমদানির চাল বাজারে চাপ তৈরি করছে। ফলে দাম নিয়মিত কমছে। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বিপদে পড়েছেন কৃষক। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ-কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে।
সরকারি-বেসরকারি হিসাব বলছে, দেশে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এই বাড়তি চাল রপ্তানির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন চাল আমদানি করা হচ্ছে? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার চাল রপ্তানি করা হলে কারা লাভবান হবে? কৃষক নাকি ব্যবসায়ীরা। এ নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে।
কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, সরকার মূলত চালকলমালিকদের কাছ থেকে চাল কেনে। চালকলমালিকরা ফড়িয়াদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে। সরকার প্রতিবছর ১ লাখ টন ধান কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কেনার ঘোষণা দেয়। কিন্তু কোনো সময়ই তা কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কেনা হয় না। ফলে সব সময় বড় কিছু চালকলমালিক ধান-চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করেন।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মুনসুর বলেন, কৃষক ধানের দাম পাচ্ছেন না। এটা সত্য। এজন্য চাল রপ্তানি করা উচিত। তবে এটা খুব সহজ হবে না। যদি সিস্টেমেটিকভাবে রপ্তানি করা হয়, তাহলে কৃষক লাভবান হবে। কিন্তু আমাদের দেশে তো সেটা হয় না। তাই বলা যায়, চাল রপ্তানি করা হলে ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ধানের দাম কম হওয়ায় প্রয়োজনে চাল রপ্তানি করে কৃষককে ন্যায্যমূল্য দেয়া হবে। একই সঙ্গে ধানের দাম কম হওয়ার সাময়িক এ সমস্যা থাকবে না। সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ খাদ্যে স্বয়সম্পূর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ধানের দাম কম। আমরা চাই ক্ষেতমজুর, নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য চালের দাম কম থাকুক। আবার এটাও চাই যারা ধান উৎপাদন করে সেই কৃষক যেনো ধানের ন্যায্যমূল্য পায়। তিনি বলেন, আমাদের যে টার্গেট ছিল তার থেকেও ধান অনেক বেশি উৎপাদন হয়েছে। আমরা গভীরভাবে চিন্তায় আছি কীভাবে কৃষক তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাবে সেটা নিয়ে, কীভাবে কৃষকের ন্যায্যমূল্য দেয়া যায়। প্রয়োজনে আমরা চাল রপ্তানি করে কৃষকে ন্যায্যমূল্য দেবো।
এদিকে সম্প্রতি সচিবালয়ে চালকলমালিকরা বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চাল রপ্তানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রস্তাব করেন। দেশে চাহিদার তুলনায় চালের মজুদ বেশি-এমন তথ্য তুলে ধরে চাল রপ্তানির প্রস্তাব দেন তারা। চাল রপ্তানি না করলে কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবে বলেও যুক্তি দিয়েছেন তারা। তাদের এ প্রস্তাবে সম্মতি না দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশে ধান-চালের উৎপাদন ও চাহিদা সম্পর্কে কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন তিনি।
এদিকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এই মুহূর্তে চাল রপ্তানি করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, দেশে যে পরিমাণ উদ্বৃত্ত চাল থাকুক না কেন, এ মুহূর্তে চাল এক্সপোর্ট করা হবে খুব স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত হবে। যেকোনো বড় দুর্ঘটনার সময় দেশকে হয়তো এ জন্য বড় মাশুল দিতে হতে পারে। আমরা বলছি না, চাল রপ্তানি বন্ধ করা উচিৎ। কৃষি, কৃষক ও খাদ্য মজুদের কথা চিন্তা করে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার ছিল। আমি বলব, এ মুহূর্তে খাদ্য শস্য রপ্তানি হবে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
ওদিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, বড় বড় রাইস মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ধানের ন্যায্যমূল্য পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৮ দফা দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
জানা গেছে, সরকার এ বছরের মে মাস থেকে ১৩ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছে। চলবে তিন মাস। মে মাসের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৬৯ টন চাল সংগ্রহ হয়েছে। বেশির ভাগ চালকলমালিক বাজার থেকে ধান কেনা শুরুই করেননি। চালকলমালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা পুরোনো চাল তারা সরকারি গুদামে দিচ্ছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে এ বছর বোরো মৌসুমে ১ কেজি চাল উৎপাদনে ৩৬ টাকা খরচ পড়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ১০ লাখ টন সেদ্ধ চাল, দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং দেড় লাখ টন ধান সংগ্রহ করবে। কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে সেদ্ধ চাল, ৩৫ টাকা দরে আতপ চাল এবং ২৬ টাকা দরে ধান সংগ্রহ করা হবে। গত ২৫শে এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ধান-চাল সংগ্রহ চলবে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত। অর্থাৎ চালের সংগ্রহ মূল্যেই কৃষকের জন্য কোনো লাভ ধরা হয়নি।
এর আগে ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কায় দুই দফায় ২৫ হাজার টন চাল রপ্তানি করে বাংলাদেশ। এসব চালের টনপ্রতি রপ্তানি মূল্য ধরা হয় ৪৫০ ডলার; যা বাংলাদেশের প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো।

শামীম হত্যার নেপথ্যে by রুদ্র মিজান

প্রতিবেশী মোহাম্মদ কফিলকে ঢাকায় এনেছিলেন নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ শামীম। নিজের বাসায় রেখে সিকিউরিটি কোম্পানীতে চাকরিও দেন তাকে। শেষ পর্যন্ত  সেই ছেলেটির হাতেই জীবন দিতে হয়েছে শামীমকে। গত ২০শে জানুয়ারি তার কর্মস্থল বারিধারার যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথে তাকে হত্যা করা হয়। থানা পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ হয়ে এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই)। দীর্ঘ তদন্তের পর উদঘাটন করা হয়েছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা রহস্য। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কফিলকে। গ্রেপ্তারের পর গত ১৭ই মে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে কফিল। এতে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ পেয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, এক তরুণীকে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। ওই তরুণী কফিলের প্রেমিকা। প্রেমিকাকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো মোহাম্মদ কফিল। কফিলের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম গিয়েছিলেন পাত্রীর ভগ্নিপতি। একইভাবে পাত্রীর গ্রামে বাড়িতেও যায় কফিল। বিয়েতে দুই পক্ষই আগ্রহী। এরমধ্যেই ঘটে ঘটনাটি। কফিল হঠাৎ জানতে পারেন পাত্রী পক্ষ এই বিয়েতে রাজি না। তারা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন, কফিলের গ্রামের বাড়িতে তেমন কোনো জায়গা-জমি নেই। নগদ টাকাও নেই। এছাড়াও কফিলের স্বভাব-চরিত্র ভালো না। এসব জানার পরই বিয়ের আলোচনা শেষ হয়ে যায়। পাত্রীপক্ষের কাছে এসব তথ্যদাতা হিসেবে শামীমকে সনাক্ত করে কফিল। গ্রেপ্তারের পর কফিল জানিয়েছে, তার প্রেমের বিষয়টি জোন কমান্ডার শাহীনের কাছে জানাতো শামীম। এসব কিছু মিলিয়েই ক্ষোভ বাড়তে থাকে কফিলের। এছাড়াও শামীমের কাছে তার পাওনা ছিলো দুই হাজার টাকা। ওই টাকা চাইতে গিয়েও দুজনে মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এসব কারণেই ক্ষুব্ধ কফিল সিদ্ধান্ত নেয় শামীমকে হত্যার।
হত্যাকাণ্ডের দু্‌-তিন দিন আগে ভাটারার নতুন বাজার থেকে হাতুড়ি, সাদা প্যান্ট, সোয়েটার (জ্যাকেট) এবং মুখোশ কিনে কফিল। ২০শে জানুয়ারি দুপুর ২টার থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কফিল গুলশান-২ এর গোলচত্বর সংলগ্ন ইউসিবি বুথে ডিউটি করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কফিল ইউসিবি বুথে ডিউটিতে যাওয়ার সময় ব্যাগে করে হাতুড়ি ও পোশাক এবং মুখোশ নিয়ে যায়। রাত ১০টার পর কফিল বারিধারার জে-ব্লকের ইউসিবি বুথে এবং শামীম বারিধারা জে-ব্লকের যমুনা ব্যাংকে বুথে ডিউটিতে যায়। একই এলাকায় পাশাপাশি এটিএম বুথে ডিউটি করে তারা। পরিকল্পনা অনুসারে ভোর ৬টায় ঘুম থেকে উঠে কফিল। সঙ্গে থাকা ব্যাগটি নিয়ে কিছুদুর সামনে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে। হাতুড়ি ও মুখোশটি ডান পাশের পকেটে রাখে।
পোশাক পরিবর্তন করার পর ব্যাগটি ইউসিভি বুথের ছাদে রেখে শামীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় কফিল। তখন বারিধারার জে-ব্লকে যমুনা ব্যাংকের বুথে চাদর মুড়িয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন শামীম। মুখোশ পড়ে বুথে ঢুকে কফিল। পকেট থেকে হাতুড়ি বের করে শামীমের মাথায় পরপর পাঁচটি আঘাত করে। রক্তে ভেসে যায় ব্যাংকের বুথ। ছিটকে রক্ত পড়ে কফিলের জামা-কাপড়ে। শামীমের মৃত্যু নিশ্চিত করে সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে বুথ থেকে বের হয়ে যায় কফিল। এরপর অন্য রাস্তা দিয়ে কফিল তার ডিউটিরত পোস্ট ইউসিবি বুথের ছাদ থেকে ব্যাগটি নিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে ডিউটির পোশাক পড়ে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত পোশাক, মুখোশ ও হাতুড়ি ব্যাগে ঢুকিয়ে তা নিয়ে বাসায় চলে যায়। হত্যাকান্ডের পরদিন নিহত শামীমের পিতা নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে ভাটারা থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরসহ সকল ক্ষেত্রে কফিল ছিলো সন্দেহের বাইরে। হত্যার পর কফিল দক্ষ অভিনেতার মতো আচরণ করে। শামীমের লাশ কুড়িগ্রামে নিয়ে যাওয়া, দাফনসহ সকল কাজেই সহযোগিতা করে। কিন্তু রহস্যময় আচরণ প্রকাশ পায় হত্যাকাণ্ডের বেশ কিছুদিন পরে। হঠাৎ করেই নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি ছেড়ে দেয় কফিল। গ্রামে চলে যায়। এমনকি বকেয়া বেতন ও বোনাসের টাকা নেয়ার জন্য পর্যন্ত ঢাকা আসেনি।
নিহত শামীমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে কফিলকে ঢাকায় নিয়ে আসে একটি সিকিউরিটি কোম্পানীর নিরাপত্তাকর্মী শামীম। ঢাকায় শামীমের বাসায় উঠে কফিল। কফিলকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরিও নিয়ে দেয় শামীম। চাকরি হওয়ার একমাস পরে আলাদা মেসে উঠে কফিল। ওই সময়ে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় কফিল। পিবিআই ঢাকা মেট্টোর পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, গত ৩রা মে মামলাটি তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশ্বস্থ সোর্স নিয়োগ ও ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মো. কফিলকে সনাক্ত করা হয়। গত ১৫ই মে কফিলের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি থানার পূর্বধনিরাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত জব্দ করে পিবিআই। নিহত শামীম কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি থানার পূর্বধনিরাম গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র।

আমদানি খোলা রেখেই চাল রপ্তানির উদ্যোগ লাভ হবে ব্যবসায়ীদের

দেশে চাল আমদানির পথ খোলা রেখে রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হলে ব্যবসায়ীরাই বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তারা জানিয়েছেন, কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান   কিনে চাল করে দেশের বাইরে বেশি দামে রপ্তানি করা হলে রপ্তানিকারকরাই এর সুবিধাভোগ করবে।
মধ্যস্বত্বভোগীরাই লাভবান হবে। কৃষক এর সুবিধা বা দাম পাবে না। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সম্প্রতি সরকারের চাল রপ্তানির উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা এ মন্তব্য করেন। বলেন, কৃষকের কথা বলা হলেও এই মুহূর্তে কৃষকের গোলায় ধান-চাল কিছুই নাই। চাল রয়েছে আড়ৎদারদের গুদামে। এই গুদাম খালি করতেই ব্যবসায়ীরা রপ্তানির অনুমতি চেয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা বাড়তি মুনাফা করতে চাচ্ছেন। এতে চালের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নানামুখী চাপে শেষ পর্যন্ত সীমিত পরিমাণে চাল রপ্তানির অনুমতি দেয়া হতে পারে বলে তারা মনে করেন।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশ থেকে চাল রপ্তানির জন্য খুব সহজে সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। তার মতে, কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে চাল করে দেশের বাইরে বেশি দামে রপ্তানি করা হলে রপ্তানিকারকরাই লাভবান হবে। মধ্যস্বত্বভোগীরাই এর সুবিধাভোগ করবে। কৃষক এর সুবিধা পাবে না। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া বর্তমানে যে অবস্থা চলছে, এর মধ্যে চাল রপ্তানি করা হলে আগামীতে দাম বৃদ্ধিকে উসকে দেবে। আরো বিশ্লেষণ করে চাল রপ্তানির চিন্তা-ভাবনা করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই যে আমাদের দেশে বিশাল পরিমাণ চাল উদ্বৃত্ত আছে। এজন্য কৃষক দাম পাবে সেভাবেই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মুনসুর বলেন, কৃষক ধানের দাম পাচ্ছেন না। এজন্য চাল রপ্তানি করাই উচিত। তবে যদি সরকার সেটা সিস্টেমেটিকভাবে রপ্তানি করতে পারে তাহলে কৃষক দাম পেতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে তো সেটা হয় না। এছাড়া মনে হয় না কোনো চমকপ্রদ কিছু ঘটবে। তাই বলা যায়, চাল রপ্তানি করা হলে ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন।
বাংলাদেশ অটো রাইচমিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম অভিযোগ করে বলেন, কিছু ব্যাংক কয়েকটি বড় কোম্পানিকে ধান কেনা বাবদ ২০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিচ্ছে। অথচ ছোট রাইচ মিলগুলোকে ৫০ লাখ টাকাও দিতে চাইছে না। তিনি বলেন, টাকার অভাবে দেশের প্রায় ৭০ ভাগ রাইচ মিল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে কৃষক ওই সব মিলে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে পানির দরে ধান কিনে মজুদ করছে সিন্ডিকেটে থাকা ওইসব বড় কোম্পানি। সরকারিভাবে ধান-চাল কেনার ক্ষেত্রে নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কাও করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমপ্রতি দি এশিয়া ফাউন্ডেশন ও বিআরআইইএফ কর্তৃক প্রকাশিত ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব রাইস ট্রেড বিটুইন বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া অ্যান্ড নেপাল’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ২০ মাসে ভারত থেকে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে দেশে। এর সিংহভাগ নন-বাসমতী হলেও বাসমতী চালও রয়েছে।
সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, চাল আমদানি উন্মুক্ত রেখে কৃষকের উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ সাংঘর্ষিক। গত আমন মৌসুমে যখন বাম্পার ফলন হলো, তখনই উচিত ছিল চাল আমদানি বন্ধ কিংবা আরো উচ্চ শুল্কারোপ, সেটি করা হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দেশে উৎপাদন কমে গেলে আমদানি শিথিল করা যেতে পারে। চলতি বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। আমনের পর বোরোতে পরপর দুই মৌসুম ভালো ফলনের কারণে চাল আমদানির ব্যাপারে এখনই কঠোর হতে হবে। তা না হলে কৃষক যে বোরো ধানের দাম পাচ্ছেন না তা আরো জটিল আকার ধারণ করবে।
জানা গেছে, ব্যবসায়ীর কারসাজি বন্ধ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও চালের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে সরকার। এতে প্রায় দেড় বছর চাল আমদানি এক রকম বন্ধ ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের মে মাসে পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওড় অঞ্চলে সৃষ্ট আগাম বন্যায় ফসলহানির পর সরকার চালের আমদানি শুল্ক উঠিয়ে দেয়। এর ফলে ব্যাপকভাবে চাল আমদানি শুরু হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে প্রায় ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার টন চাল আমদানি করা হয়। গত বছরের শেষ দিকে সরকার চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করে। এতে চাল আমদানি কমলেও বন্ধ হয়নি। যদিও হাওড়ের বন্যায় চালের ঘাটতি ১০ লাখ টন হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়। কিন্তু গত দুই বছরে দেশে ৫৫ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছর আমদানি হয় ১৩ লাখ ৩০ হাজার এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছর প্রায় ৪০ লাখ টন। চলতি অর্থবছরে মোট আমদানি দুই লাখ টন হলেও এখনো পাইপলাইনে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন চাল রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ছে তেলের দাম

বিশ্ববাজারে নতুন করে তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার লন্ডনে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হয়েছে ৭৩ ডলারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনার ফলশ্রুতিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইরানের ওপর মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে ওপেকের তেলের উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়া, চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক আগ্রাসনের হুমকি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজায়রা বন্দরে চারটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের মতো ঘটনা। এসব ঘটনার প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এছাড়া, পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ও বি-৫২ বোমারু বিমান পাঠানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন চীন সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওটাইতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানের প্রধান রফতানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা চীন। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বের হয়ে যাওয়ার পর তেহরানের জন্য বিশ্ববাজার উন্মুক্ত রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার বর্ষপূর্তির দিনে চুক্তি থেকে আংশিক সরে যাওয়ার কথা জানিয়ে দেয় তেহরান। এরপরই ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে উগসাগরীয় এলাকায় বিমানবাহী রণতরী ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ যুদ্ধসরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের হুমকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ শুরুর অভিযোগ এনেছে।
চীন সফরের আগে বৃহস্পতিবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কানো'র সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে পাশ্চাত্যের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে আমেরিকা বের হয়ে যাওয়ার পর তেহরান সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ও সংযম দেখিয়েছে। ইরান এখনও পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের এ সংক্রান্ত রিপোর্টই তার প্রামাণ্য দলিল।’
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ৬ জাতিগোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভিয়েনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তারা। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান।
সূত্র: পার্স টুডে, আনাদোলু এজেন্সি।

ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট সরকারি আমানত পেতে তোড়জোড়

দেশের ব্যাংক খাত এখন নগদ বা তারল্য সংকটে ভুগছে। চাহিদা অনুযায়ী আমানত পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। আবার খেলাপি হওয়া ঋণও আদায় হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়াতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো সরকারি আমানত পেতে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। সূত্র জানায়, তারল্য সংকটে ভুগতে থাকা বেসরকারি ব্যাংকগুলো সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত এবং বিভিন্ন সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের আমানত পেতে মরিয়া হয়ে উঠছে। কোনো কোনো বেসরকারি ব্যাংক ৯ শতাংশেরও বেশি সুদ হার অফার করে এসব আমানত পেতে তৎপর হয়ে উঠেছে। তবে সাবেক ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির পর গ্রাহকের আমানতের অর্থ ফেরত দিতে না পারার ঘটনায় বেসরকারি ব্যাংকে টাকা রাখতে আগ্রহী হচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলো আগের মতো আমানত সংগ্রহ করতে পারছে না। আবার পণ্য আমদানিতে নিয়মিত ডলার কিনতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা নগদ টাকা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সঙ্কট বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে ১০.৫০ শতাংশ সুদে টাকা ধার নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ সুদহার উঠেছিল ৯.৭৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি শেষে বিভিন্ন ব্যাংকে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের সব মিলিয়ে আমানতের পরিমাণ ২ লাখ ৯ হাজার ৪০১ কোটি টাকা রয়েছে। এটি দেশের ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ২০.৬৫ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের রাখা আমানত অর্থাৎ সরকারি আমানত রয়েছে ৭৫ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।
তথ্যমতে, সরকারি আমানত ৭৫ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা ছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা আছে আরো ৫ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। ফলে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আমানত রয়েছে ৮১ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।
জানা গেছে, গত বছর ঋণের সুদ হার এক অংকে নামিয়ে আনতে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ ভাগ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা যাবে। তার আগে আমানতের ২৫ ভাগ বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে পারত প্রতিষ্ঠানগুলো। ওই নির্দেশনা জারির পর বেসরকারি ব্যাংকগুলো সরকারি ৮১ হাজার কোটি টাকার আমানত টানতে জোড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যাংকে আমানত রাখার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে। ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট কাটছে না। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, সরকারের মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আমানত রয়েছে ৩২ হাজার ৩২১ কোটি টাকা। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আমানত রয়েছে ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা আমানত (এনএফসিডি) রয়েছে ৮৩৮ কোটি টাকা।
সূত্র মতে, ব্যাংকগুলো পাশাপাশি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানও (এনবিএফআই) ওই আমানত পেতে চাচ্ছে। ব্যাংক বহির্ভূত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান তাদের তহবিলের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ আমানত হিসেবে জমা রাখতে পারবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে সরকার থেকে পাওয়া অর্থেরও ৫০ শতাংশ এনবিএফআইয়ে রাখা যাবে। তবে সব এনবিএফআই সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাবে না। মাত্র ১৪টি প্রতিষ্ঠানে এসব আমানত রাখা যাবে। বর্তমানে দেশে ৩৪টি এনবিএফআই রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকে রাখা মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত মানছে না বেশিরভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠান।
ব্যাংকাররা বলছেন, দেশে যে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে, তাতে সরকারি আমানত থেকে ব্যয়ের প্রয়োজন পড়বে। ফলে তুলে নেয়ার প্রয়োজন হবে সরকারি আমানত। এতে বেড়ে যাবে ঋণ-আমানতের অনুপাতও, যা বিপদে ফেলবে ব্যাংকগুলোকে।
ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার পূর্বশর্ত কম সুদে আমানত পাওয়া। বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতিতে কম সুদে আমানত পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের আমানত ভাগিয়ে নেয়ার নানা কৌশল প্রয়োগ করছে।
ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাজারের চাহিদার তুলনায় ব্যাংকগুলোর হাতে যে অর্থ রয়েছে সেটা খুবই কম। তারল্য সংকটের কারণে সুদহার কমানোর ক্ষেত্রে যা একটি বড় বাধা। তিনি বলেন, সরকার তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্বার্থেই ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেবে। ফলে আগামী দিনগুলোয় ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট আরো বাড়বে।
তবে আরেক ব্যাংকের এমডি বলেন, সরকারি আমানতের আশা ছেড়েই দিয়েছি। কারণ সরকারি আমানত পেতে প্রায় ১ শতাংশ হারে ঘুষ বা কমিশন দিতে হচ্ছে। যেসব ব্যাংক কমিশন দিতে পারছে, তারা সরকারি আমানত পাচ্ছে।
এদিকে সরকারি আমানত এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে ভাগিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটছে। সমপ্রতি দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার আমানত বেশি সুদে নিয়েছে দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি ব্যাংক। একইভাবে একটি ইসলামী ধারার ব্যাংক থেকে গত আগস্ট মাসে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আমানত বের করে নিয়েছে অন্য কয়েকটি ব্যাংক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম ফোন ধরেননি।

ধানের আগুনের উত্তাপ এখন রাজপথেও by ফজলুল হক শাওন

ধানের ও ধানশ্রমিকের দাম নিয়ে আলোচনা এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। টাঙ্গাইলে ধানক্ষেতে এক কৃষকের আগুন দেয়া এবং ধানশ্রমিকের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা- এ আলোচনা এখন শুধু গ্রামে নয়, ঢাকা শহরেও হচ্ছে।
এ নিয়ে সমালোচনায় লিপ্ত বিরোধী দল, বিএনপি ও বাম রাজনৈতিক দলগুলো। ধানের দাম নিয়ে কর্মসূচি পালন করছেন সরকারবিরোধী ও বাম রাজনীতিক নেতারা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কোনো না কোনো সংগঠন প্রতিদিনই ধানের দাম বাড়ানোর দাবিতে মানববন্ধন করছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে ধানের দাম, শ্রমিকের দাম, ধানক্ষেতে আগুন দেয়া নিয়ে খবর প্রকাশিত হচ্ছে অনলাইন পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। এ ছাড়া টেলিভিশনগুলোও কৃষকদের কথাগুলো ফলাও করে প্রচার করছে। কৃষক ও ধানক্ষেতে আগুনের ছবি যখন পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে, তখন চায়ের স্টলে এ নিয়ে আলোচনার ঝড়ে উঠছে।
কৃষকের ছেলে যারা ঢাকা বা অন্য শহরে চাকরি করেন বাড়িতে তাদের ফোনে কথা হলে একটি বিষয়ই ওঠে আসে, তা হলো- ধান। শ্রমিকের দাম বেশি, ধান পানিতে পড়ে গেছে, ধানের দাম কম, ব্যাপারিরা ধান নিতে চায় না, ইত্যাদি কথা।
ধানক্ষেতে কৃষকের আগুন দেয়া নিয়ে সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘যারা ধানক্ষেতে আগুন দিচ্ছে তারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এ কাজ করছে।’
তবে খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।
খাদ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘কৃষকের সঙ্গে দয়া করে মশকরা করবেন না।’
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতা কি মানুষকে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দেয়? আমার জানা মতে, সুস্থ চোখ অন্ধ হতে সময় লাগে। কিন্তু মাত্র ৪ মাসে ধানের ভাণ্ডার নওগাঁর গাঁও-গেরাম থেকে উঠে আসা খাদ্যমন্ত্রী গাঁয়ের কৃষকদের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক ভুলে গেলেন! অন্ধ হয়ে গেলেন এসির ঠান্ডা বাতাসে!! আপনি, আমি কৃষকের ভোটে, কৃষকের দয়ায় সংসদে এসেছি। আগুন দিয়েছে নিজের ক্ষেতে, আপনার পাঞ্জাবিতে দেয়নি। তাতেই সহ্য হচ্ছে না!’
সরকারি দলেরও অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের স্ট্যাটাসের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তারা চান ধানের ন্যায্য দাম পাক কৃষক।
এ দিকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও চায় ধানের ন্যায্য দাম পাক কৃষক। জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিল মালিক নয়, সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত ধান নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে কিনতে হবে।
জিএম কাদের বলেন, প্রয়োজনে বেসরকারি মালিকানাধীন গুদামগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জরুরিভিত্তিতে ধান সংরক্ষণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রতি মণ ধান উৎপাদনে কৃষকদের খরচ হয়েছে ৯০৬ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা। আবার ধান কাটতে একজন কৃষি শ্রমিকের তিনবেলা খাবারসহ মজুরিবাবদ খরচ হয় ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা। এতে কৃষকরা মাঠের ধান কাটাতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন।’
খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলে (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেছেন, ‘মন্ত্রীরা কি ভুলে গেছেন তাদের বাড়ি কোথায় ছিল? তাদের পূর্বপুরুষ কি ছিল? এ সরকার বুঝতে পারছে না। যদি এমন চলতে থাকে তাহলে দেশে আগুন জ্বলে যাবে। কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য দেয়া হচ্ছে না। কৃষকরা যদি একবার ক্ষেপে যায় তাহলে দেশের মানুষ না খেয়ে মরবে।’
তিনি বলেন, বঙ্গভবনে, গণভবনে, সচিবালয়ে ফসল উৎপাদন হয় না। উৎপাদন হয় ক্ষেতে-খামারে, আর সেই উৎপাদন যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দেশ চলবে কীভাবে? দেশের মানুষ বাঁচবে কীভাব? কৃষক না বাঁচলে দেশ থাকবে না, দেশের জনগণ বাঁচবে না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ করিয়ে দেশটাকে নতুন করে গড়তে হবে।’
কৃষকদের এমন দুরবস্থায়, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ‘সরকারি ক্রয়কেন্দ্র’ চালু করে খোদ কৃষকের কাছ থেকে ১,০৪০ টাকা মণ দরে ধান কেনার দাবিতে ২০-২৬ মে দেশব্যাপী ‘কৃষক বাঁচাও সপ্তাহ’ এর ডাক দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
এ উপলক্ষে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রগতির অন্যতম কারিগর হচ্ছে বাংলার কৃষক। তারা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। কিন্তু তারা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। তারা মুনাফালোভী ‘রাইস মিল মালিক’ ও ‘ধান-চাল সিন্ডিকেট’ এর প্রতারণার ফলে উৎপাদন ব্যয়ের অর্ধেক দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
এ ছাড়া গত কয়েকদিন রাজধানীতে কৃষক সমিতি, ক্ষেত মজুর সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে।
শনিবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই চিন্তিত। বিষয়টি নিয়ে গত শুক্রবারও তিনি ও খাদ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকারের সর্বোচ্চ মহলে এ সমস্যা সমাধানের চিন্তা-ভাবনা চলছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে ধান কিনে সরকারের পক্ষে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কম হলেও দ্রুত এর সমাধান কঠিন। আমাদের হয়তো কিছুটা সেক্রিফাইস করতে হবে। সারাদেশ থেকে চাষিদের নির্বাচন করা কঠিন হওয়ায় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান বা চাল কেনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান মন্ত্রী।
প্রতিমণ ধানের দাম কমপক্ষে ১ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। ধানের দাম বৃদ্ধির দাবিতে রোববার রাজশাহীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে তিনি এ দাবি জানান।
কৃষক বাঁচাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১৪দলের নেতা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, কোনো অজুহাত শুনতে চাই না, কৃষক বাঁচাতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। রোববার প্রেস ক্লাবের সামনে ‘কোনো অজুহাত ছাড়া সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ১০৪০ টাকা মন দরে ধান ক্রয়ের’ দাবিতে জাতীয় কৃষক জোট আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষককে ধানের ন্যায্যমূল্য দেয়ার দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২১ মে দেশব্যাপী জেলা প্রশাসকের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি এবং ২৩ মে সারাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ের হাট-বাজারগুলোতে মানববন্ধন।
কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু রোববার প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বলেন, গত এক শতাব্দীতে লক্ষ করবেন কৃষক তার উৎপাদিত ধানে আগুন দিয়েছে এ রকম ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এই সরকারের আমলে ঘটেছে। কী ভয়ঙ্কর! কৃষক তার ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষেতে আগুন দিচ্ছে আর সরকার নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।
কৃষক দলের পক্ষ থেকে কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবিতে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২১, ২২, ২৩, ২৪ মে সারাদেশের সব ইউনিয়নের হাটে প্রতিবাদ সমাবেশ, ২৫ মে সব উপজেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ২৬ মে সারা দেশের প্রত্যেকটি জেলায় জেলা প্রশাসক বরাবর ধানের ন্যায্যমূল্য দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া।
এদিকে নির্ধারিত ও ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। আগামী তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে খাদ্য মন্ত্রণালয় সচিব ও কৃষি মন্ত্রণালয় সচিব বরাবর এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইমদাদুল হক সুমন। দ্রুত এক হাজার টাকা, ১,১০০ ও ১,২০০ টাকা মূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকার এবং সরকারের নির্ধারিত মিল কর্তৃপক্ষকে ধান ক্রয় করতে বলা হয়েছে নোটিশে। ধানের দাম নিয়ে এ ধরনের আইনি নোটিশ এই প্রথম। এর আগে কখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

হঠাৎ অলি আহমদের কাছে জামায়াতের গুরুত্ব বাড়লো কেন? by আদিত্য রিমন

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের কাছে জোটের আরেক  দল জামায়াতের গুরুত্ব বাড়ছে বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদরা। তারা বলছেন, গত ৩ দিনে রাজধানীতে দু’টি অনুষ্ঠানে অলির পাশে দেখা গেছে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠছে—জামায়াতের দীর্ঘদিন কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ছিল না। হঠাৎ কেন জামায়াত-নেতাদের প্রকাশ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির করছেন অলি আহমেদ?
২০ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক জোট করতে চায় বিএনপি। আর সেই জোট গঠনের প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অলি আহমদকে। ফলে বিভিন্ন সময় জামায়াতের বিরোধিতা করলেও এখন সাংগঠনিক ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী সেই দলটিকেই পাশে রাখতে চান অলি। এই কারণে তিনি বিভিন্ন প্রোগামে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্ব দিয়ে কাছে টানছেন।যেন আগামী দিনের কর্মসূচিতে জামায়াতকে কাজে লাগানো যায়।
গত ১৫ মে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তি’ শীর্ষক গোলটেবিল আয়োজন করে এলডিপি। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া মোহাম্মাদ গোলাম পারোয়ার। আর ১৭ মার্চ রাজধানীর একটি ক্লাবে রাজনৈতিকদের সম্মানের ইফতারের আয়োজন করে দলটি। সেখানে অলি আহমদের দুই পাশে ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম।
এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহদাত হোসেন সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অলি আহমদ এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তিনি খালেদা জিয়ার আন্দোলনে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উজাড় করে দিতে চান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে  সুসম্পর্ক রেখেই আগামী দিনের কর্মসূচি হাতে নিচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় জামায়াতকে সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে তার কর্মসূচিতে ডাকছেন।’
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলডিপির এক নেতা বলেন, ‘ইফতারের আগ মুহূর্তে অলি আহমদ ফোন করে বলেছেন, জামায়াতের নেতাদের মঞ্চে বসাতে। তিনি বলেছেন, ওপরের নির্দেশ আছে, জামায়াতকে মঞ্চে বসাতে হবে। এই কারণে দলটির ২ নেতাকেও অলি আহমেদের পাশে বসানো হয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘রমজানে প্রায় প্রতিটি দল ইফতারের আয়োজন করে, আমাদের দাওয়াত দিলে থাকার চেষ্টা করি। সেই হিসেবে আজকে এলডিপির ইফতারে গিয়েছি। এখানে বাড়তি গুরুত্বের কিছু নেই। এর আগেও প্রোগ্রামে তারা আমাদের দাওয়াত দিয়েছিল, দলের প্রতিনিধি গেছেন।’
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘আগামীতে অন্য দলগুলো ইফতারের দাওয়াত দিলে আমরা যাবো। আমাদের দলের ইফতারেও সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হবে।’ 
বিএনপির নেতারা বলছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বিএনপি। কিন্তু  ঐক্যফ্রন্টের শরিকরা বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের জোট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীদের বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ দেওয়ায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনসহ অন্য নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি। ফলে বিএনপিও চায় অলি আহমদ জামায়তসহ অন্য দলগুলো নিয়ে একটি জোট গঠন করুক। আর তাদের কর্মকাণ্ড ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে চালিয়ে যাবে।   
বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির তত্ত্বাবধানে অলি আহমেদের নেতৃত্বে আলাদা জোট গঠন করার একটা প্রক্রিয়া চলছে। আর সেখানে জোটের মধ্যে বিএনপির বাইরে সাংগঠনিকভাবে জামায়াত একমাত্র শক্তিশালী দল। তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতাও প্রমাণিত হয়েছে ২০১৩-২০১৪ সালের আন্দোলনে। এই কারণে অলি আহমদের কাছে জামায়াত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া জামায়াত শুধু সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী নয়, আর্থিকভাবেও তাদের একটা ভিত্তি আছে। ফলে কোনও জোট পরিচালনা করার ক্ষেত্রেও আর্থিক বিষয়টিও পাধান্য দিয়ে তাদের কাছে টানা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘অলি আহমদ প্রায় ২০ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে আছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যও ছিলেন। একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদও বটে। অনেক দিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এখন আবার সক্রিয় হচ্ছেন। তার প্রোগ্রামে শুধু জামায়াত নয়, অন্য দলগুলো উপস্থিত হচ্ছে। গত শুক্রবারের অলি আহমেদের  প্রোগ্রামে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাও ছিলেন।’
শামসুজ্জামান দুদু  আরও বলেন, ‘২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে জামায়াতও আছে। ফলে জোটের এক দলের প্রোগ্রামে অন্য দল আসবে, এটা আমরা স্বাভাবিকভাবে দেখছি। আমরা চেষ্ট করি,  অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে নিয়েও একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে।’ সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে এই ঐক্য গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে: প্রধানমন্ত্রী

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার দেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।’
মঙ্গলবার (২১ মে) গণভবনে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিবিরোধী চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। সব ক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে উন্নয়নের ধারা যেন অব্যাহত রাখতে পারি, সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
সবার কাছে দোয়া কামনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে আপনারা সবাই দোয়া করবেন, এ দেশকে আমরা যেন একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলে বিশ্বব্যাপী মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে পারি। গ্রাম পর্যায়ের মানুষও যেন সুন্দর এবং উন্নত জীবন পান, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন, সেটাই আমরা কামনা করি, সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণ আমাকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন বলেই, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। দেশের এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘কাজের মাধ্যমে জনগণের যদি এতটুকুও কল্যাণ করতে পারি, তাহলে আমার বাবা-মা’সহ গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারীদের আত্মা শান্তি পাবে।’
বিগত নির্বাচনে বিজয়ের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের এই আস্থা ও বিশ্বাস যেন অব্যাহত থাকে। আর সেইসঙ্গে আজ বাংলাদেশকে আমরা যে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে জাতির পিতার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন যেন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি। যার যার কর্মস্থলে থেকে সবাই এই প্রচেষ্টা চালাবেন, যেন আমাদের এই মাতৃভূমির হারানো গৌরবকে আমরা আবার ফিরিয়ে আনতে পারি। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে আবারও যেন মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে পারি। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর যে গৌরব আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে, যেন এই উন্নয়নশীল দেশকে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।’
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন—জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম, দৈনিক জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান, বিচারপতি মেজবাউদ্দিন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ডা. মোদাচ্ছের আলী, প্রকৌশলী ড. শামিমুজ্জামান বসুনিয়া, কৃষিবিদ মীর্জা আবদুল জলিল, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, এফবিসিসিআই’র সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম প্রমুখ।
ইফতারের আগে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্ট শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
গণভবনে মঙ্গলবার পেশাজীবীদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, কবি, সাহিত্যিক, বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে ইফতার করেন প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা বন্ধ হয়নি, তবে...

পাকিস্তানিদের ভিসা দেয়া বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নানা কারণে ইসলামাবাদ মিশন থেকে ভিসা ইস্যু করা যাচ্ছে না। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশনের ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকার ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবুল মোমেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী গতকাল নিজ দপ্তরে সংবাদিকদের বলেন, আমরা কারও ভিসা দেয়া বন্ধ করিনি। তবে ব্যক্তি বিশেষে হয়তো ভিসা না-ও পেতে পারেন। এটা সারা দুনিয়াতে হয়। সন্ত্রাসসহ অপরাধী কর্মকাণ্ডে আবেদনকারী কোন সম্পৃক্ততা আছে কি-না? তার খোঁজ খবর নিতে হয়। এটি বিশ্বব্যাপী প্র্যাকটিস।
একটি রিপোর্ট এসেছে আমরা পাকিস্তানিদের ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছি, না আমাদের ভিসা বন্ধের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পাকিস্তান আমাদের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি। বিশেষ করে আমাদের কাউন্সেলরকে (কনস্যুলার) ভিসা দেয়নি। তিনি পাকিস্তানে না গেলে ওখানে ভিসা প্রক্রিয়া কিভাবে হবে? প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, জানি না এ নিয়ে তারা কী বলবেন! আমি আশা করবো, ঝুলে থাকা  (পেন্ডিং) ভিসা কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) ভিসা নবায়নের আবেদনটির তারা দ্রুত সমাধান করবেন। এ সময় মন্ত্রী অভিযোগ করেন-পাকিস্তান জোর করে বাংলাদেশকে ঝামেলায় ফেলতে চাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ যে কোন সমস্যার সমাধানে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস কাউন্সেলর ও ভারপ্রাপ্ত ভিসা কাউন্সেলর মুহম্মদ ইকবাল হোসেনের ভিসার আবেদন ৪ মাস ধরে ঝুলিয়ে রাখা এবং নতুন নিয়োগ পাওয়া পরবর্তী ভিসা কাউন্সিলরের ভিসার আদেন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রতিবাদে ১৩ মে থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশন পাকিস্তানিদের ভিসা দেয়া বন্ধ রেখেছে। সোমবার রাতে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র মানবজমিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করে। মঙ্গলবার এ নিয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়। কর্মকর্তারা এটা নিশ্চিত করেন যে ইসলামাবাদ মিশনে লোকবল সংকটের কারণে ৭ দিনে কোন ভিসা ইস্যু হয়নি।
কিন্তু করাচির বাংলাদেশ মিশন ঠিকই ভিসা দিচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের নভেম্বরে ভিসা কর্মকর্তার পদ শূন্য হওয়ায় ভিসা সেকশনে অতিরিক্ত দায়িত্ব পান প্রেস কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন। সে মতে তিনি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য গত জানুয়ারিতে পাকিস্তান সরকার বরাবর আবেদন করেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আশ্বাসও দেয়া হয়। কিন্তু ফাইল অনুমোদন হয়নি। এ অবস্থায় গত ৩০শে মার্চ ইকবাল হোসেনের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। মেয়েকে নিয়ে ইসলামবাদে থাকা ওই কর্মকর্তা দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। আর এ জন্য তিনি গত ২৭শে এপ্রিল তার ব্যক্তিগত মালামাল ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। এদিকে ঢাকায় থাকা ইকবাল হোসেনের স্ত্রী ও ছেলে শেষ বেলায় তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গোছানোর জন্য পাকিস্তান যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে ঢাকাস্থ পাকিস্তান মিশন। এর আগে নতুন নিয়োগ পাওয়া ভিসা কর্মকর্তাকেও ভিসা দেয়নি পাকিস্তান। সব মিলে চরম অবস্থার মুখে পড়ে ইসলামাবাদ মিশন। জনবল সংকটসহ সার্বিক বিষয়ে দফায় দফায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি হয়।
ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাই কমিশনের কর্মকর্তাদের ডেকেও বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করে সেগুনবাগিচা। কিন্তু ফল হয়নি। বরাবরই পাকিস্তান ‘আবেদন প্রক্রিয়াধীন’ রয়েছে জানিয়েছে কালক্ষেপন করে। উপায়ান্তর না দেখে ভিসা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন ১৩ই মে দায়িত্ব থেকে হাই কমিশনারের কাছে ইস্তফা দেন। ফলে ভিসা সেকশনের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। মন্ত্রী হাই কমিশনের লোকবল সংকট এবং অচলাবস্থার বিস্তারিত না বলেও তিনি আশা করেন পাকিস্তান সমস্যাটির সমাধনে আন্তরিক হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি বড় কোনো ইস্যু নয়। এটাকে কেন্দ্র  করে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েনের আশঙ্কা নেই। আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, বাংলাদেশ আশা করে তারা সমস্যাটির সমাধান করবে। এদিকে কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গত বছরের মার্চে বাংলাদেশে নতুন হাই কমিশনার হিসেবে পাকিস্তানী কূটনীতিক সাকলাইন সায়েদার নাম প্রস্তাব করে ইসলামাবাদ।
তার এগ্রিমো আসার পর এটির অনুমোদন পেতে দফায় দফায় চেষ্টা চালায় পাকিস্তান। কিন্তু বাংলাদেশ তা অনুমোদন করেনি, তাকে গ্রহণে সম্মতি দেয়নি। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি প্রত্যাখ্যাত হয়ে যায়। অবশ্য বাংলাদেশ পরবর্তীতে নতুন নাম চেয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান নতুন নাম পাঠায়নি। হাই কমিশনারের এগ্রিমে ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান এমনটি করছে কি-না? জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা অপ্রাসঙ্গিক এই কারণে যে তারা একটা নাম পাঠিয়েছেন, আমরা সেটা গ্রহণ করিনি। তাহলে আরেকটা নাম পাঠাবে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু তারা নতুন কোনো নামই পাঠায় নি। আমাদের দিক থেকে কেনো সমস্যা নেই। তারা নতুন নাম পাঠালে অবশ্যই ইকিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। ২০১০ সালে বাংলাদেশে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর থেকে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে। ওই বিচার নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে পাকিস্তান। তার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিও দিয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়টিকে একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দফায় দফায় এক কড়া প্রতিবাদ করেছে।