Showing posts with label আরিফুল ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label আরিফুল ইসলাম. Show all posts

Wednesday, October 22, 2025

রহস্যময় ‘ইনফিনিটি গ্যালাক্সি’ আবিষ্কার: বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন by আরিফুল ইসলাম

নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের (জেডব্লিউএসটি) ডেটা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর গবেষকরা তার সংরক্ষিত ডেটার মধ্যে অজানা মহাজাগতিক রহস্যের খোঁজে নেমে কসমস-ওয়েব সার্ভের ছবি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির অস্ট্রোনমি এন্ড ফিজিক্সের প্রফেসর পিটার ভ্যান ডকুম এবং কোপেনহেগেন ইউনিভার্সিটির গ্যাব্রিয়েল ব্র্যামার একটি অদ্ভুত আকৃতির বস্তু আবিষ্কার করেছেন, যাকে তারা নাম (ডাক) দিয়েছেন ‘ইনফিনিটি গ্যালাক্সি’।

গত ১৫ জুলাই নাসার গডডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের ওয়েব মিশন ‍টিম কর্তৃক ব্লগে পাবলিশকৃত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই গ্যালাক্সিটির আকৃতি অস্বাভাবিক টাইপের। গ্যালাক্সিটির দুইটি কম্প্যাক্ট লাল নিউক্লিয়াস ও প্রতিটির চারপাশে একটি করে রিং রয়েছে যা একসাথে মিলিয়ে ইংরেজি '∞' বা ইনফিনিটির চিহ্নের মতো দেখায়।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই দুটি ডিস্ক, গ্যালাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকেই এর সৃষ্টি হয়েছে। ফলো-আপ অবজারভেশন থেকে বিজ্ঞানীদ্বয় জেনেছেন, এই ইনফিনিটি গ্যালাক্সিটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি সক্রিয় সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল!

তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো—এই ব্ল্যাক হোলটি গ্যালাক্সির কোনো একটি নিউক্লিয়াসের মধ্যে নয়, বরং দু’টি নিউক্লিয়াসের মাঝখানে এক বিশাল গ্যাসময় অঞ্চলে অবস্থান করছে। এই গবেষকদের মতে, এটি একটি গ্যাস মেঘ সরাসরি ধসে গিয়ে ব্ল্যাক হোল তৈরি হওয়ার ঘটনা হতে পারে—যা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল কীভাবে গঠিত হয় সেই প্রশ্নে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

ড. পিটার ভ্যান ডকম নাসাকে বলেছেন, ‘এই গ্যালাক্সি সম্পর্কে সব কিছুই অস্বাভাবিক। এর আকৃতি যেমন, তেমনি এর কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলটিও খুব সক্রিয়। সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো, ব্ল্যাক হোলটি কোনো নিউক্লিয়াসে নয়, বরং ঠিক মাঝখানে। তখন আমাদের প্রশ্ন জাগে—এটি এখানে এল কীভাবে?’ তিনি ব্যাখ্যা করে আরো বলেন, ‘ব্ল্যাক হোলটি যদি সত্যিই মাঝখানে গঠিত হয়ে থাকে, তাহলে আমরা হয়তো প্রথমবারের মতো একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের জন্মপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করছি।’

নাসা জানিয়েছে, সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল কীভাবে সৃষ্টি হয়, তা নিয়ে দুটি মূল তত্ত্ব রয়েছে—তার মধ্যে একটি ‘লাইট সিড’ এবং অপরটি ‘হেভি সিড’। লাইট সিড তত্ত্ব অনুসারে, তারার মৃত্যুতে যে ব্ল্যাক হোল তৈরি হয় যা সাধারণত ১ হাজার সূর্যের ওজনের সমান, সেগুলো ধীরে ধীরে একত্রিত হয়ে বিশাল ব্ল্যাক হোল তৈরি করে। তবে এতে সময় লাগে অনেক, অথচ ওয়েব এমন অনেক বিশাল ব্ল্যাক হোল খুঁজে পেয়েছে মহাবিশ্বের একেবারে প্রাথমিক সময়ে—যার ব্যাখ্যায় আবার ‘লাইট সিড’ যথেষ্ট নয়।

এদিকে হেভি সিড তত্ত্ব অনুযায়ী, এক বিশাল গ্যাসীয় মেঘ সরাসরি ধসে গিয়ে এক ধাক্কায় এক মিলিয়ন সূর্যের সমান ওজনের ব্ল্যাক হোল তৈরি করতে পারে। এটা দ্রুত হয়, কিন্তু সমস্যা হলো—গ্যাসিও মেঘ সাধারণত ধসে তারকা তৈরি করলেও ব্ল্যাক হোল তৈরি করে না। নাসার ঐ প্রতিবেদন থেকে আরো জানা গেছে, তবে এই ধরনের ধসকে তারকা উৎপাদন থেকে বিরত রাখা কঠিন।

নাসা আরো জানিয়েছে, তবে ইনফিনিটি গ্যালাক্সির ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, দু’টি ডিস্ক গ্যালাক্সির সংঘর্ষের ফলে গ্যাস চাপে সংকুচিত হয়ে একটি ঘন গাঁঠ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ব্ল্যাক হোলে রূপ নেয়।

তারা (বিজ্ঞানীরা) দেখতে পেয়েছেন—দু’টি নিউক্লিয়াসের মাঝখানে রয়েছে বিপুল পরিমাণ আয়নিত হাইড্রোজেন গ্যাস, যা ব্ল্যাক হোলের চারপাশে বিস্তৃত। ব্ল্যাক হোলটি সক্রিয়ভাবে পদার্থ শোষণ করছে, যার প্রমাণ মিলেছে নাসার চন্দ্রা এক্স-রে ও ভেরি লার্জ অ্যারে রেডিও টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া এক্স-রে ও রেডিও তরঙ্গ থেকে। তাছাড়া ব্ল্যাক হোলটি যদি বাইরে থেকে এসে পড়ে, তাহলে তার গতি (ভেলোসিটি) আশেপাশের গ্যাসের গতির সঙ্গে মিলবে না। কিন্তু দেখা গেছে, ব্ল্যাক হোল এবং আশপাশের গ্যাসের গতি প্রায় অভিন্ন যা পের্ সেকেন্ডে প্রায় ৫০ কিমি মধ্যে।

গত ১৫ জুলাইয়ের নাসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পর্যবেক্ষণের জন্য তারা ডিরেক্টর'স ডিসক্রিশনারি টাইম পেয়ে ওয়েব দিয়ে ফলো-আপ স্টাডি করেন। সেখানে তারা আরও চমৎকার তথ্য পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, আয়নিত গ্যাসের বিস্তৃতি (ব্যাস) নিশ্চিত হয়েছে। ব্ল্যাক হোলটি গ্যাসের গতির ঠিক মাঝখানে অবস্থান করছে, যা প্রমাণ করে এটি ওই গ্যাস থেকেই গঠিত। এবং অবাক করা বিষয় হচ্ছে, উভয় নিউক্লিয়াসেও সক্রিয় ব্ল্যাক হোল রয়েছে! অর্থাৎ, এই একটি গ্যালাক্সি সিস্টেমে রয়েছে তিনটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল!

উক্ত প্রতিবেদনে থেকে আরো জানা গেছে, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে, এটা সরাসরি পতিত ব্ল্যাক হোল। কিন্তু আমরা বলতে পারি, এটি একটি সদ্য জন্ম নেওয়া ব্ল্যাক হোল হওয়ার সম্ভাবনাকে জোরালোভাবে সমর্থন করছে, এবং অন্যান্য সম্ভাবনাকে দুর্বল করছে। তবে আমরা আরও এটি আরো গভীরভাবে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবো। এবং এই আবিষ্কার শুধু একটি মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনই নয়, বরং ব্ল্যাক হোল সৃষ্টির একটি নতুন প্রক্রিয়ার সম্ভবনাকে সামনে এনেছে—যা আমাদের মহাবিশ্ব বোঝার ধারাকে আমূল বদলে দিতে পারে বলে নাসাকে জানিয়েছে, ইয়েল ইউনিভার্সিটির অস্ট্রোনমি অ্যান্ড ফিজিক্সের প্রফেসর, ভ্যান ডকুম।

রেফারেন্স:
১) van Dokkum, P., Brammer, G., et al. (2025). A candidate direct-collapse black hole discovered with JWST in a dual-ring galaxy system. The Astrophysical Journal Letters.
২) NASA. (2025, July 15). NASA’s Webb finds possible “direct collapse” black hole. NASA Science. https://science.nasa.gov/blogs/webb/2025/07/15/nasas-webb-finds-possible-direct-collapse-black-hole/
৩) AAS Nova. (2025, July 15). A candidate direct-collapse black hole in the Infinity Galaxy. American Astronomical Society. https://aasnova.org/2025/07/15/a-candidate-direct-collapse-black-hole-in-the-infinity-galaxy/
৪) Howell, E. (2025, July 16). The JWST might have found the first direct-collapse black hole. Universe Today. https://www.universetoday.com/165320/the-jwst-might-have-found-the-first-direct-collapse-black-hole/
৫) Pultar, L. (2025, July 17). James Webb just found a black hole that breaks the rules—and now physicists are tearing each other apart over what it means. Rude Baguette. https://www.rudebaguette.com/en/2025/07/james-webb-just-found-a-black-hole-that-breaks-the-rules/
৬) Time Magazine. (2025, July 18). Astronomers discover an uncommon way for black holes to form. Time. https://time.com/7303593/astronomers-discover-uncommon-black-hole/
৭) Barrow, K. S. S., Aykutalp, A., & Wise, J. H. (2018). Direct-collapse black hole formation in metal-poor gas-rich galaxies. Monthly Notices of the Royal Astronomical Society, 480(1), 60–74. https://doi.org/10.1093/mnras/sty1706
৮) Wikipedia contributors. (n.d.). Direct collapse black hole. Wikipedia. Retrieved July 30, 2025, from https://en.wikipedia.org/wiki/Direct_collapse_black_hole
৯) https://science.nasa.gov/blogs/webb/2025/07/15/nasas-webb-finds-possible-direct-collapse-black-hole/

mzamin

Tuesday, September 16, 2025

নতুন শর্তে কাবু কমিশন by আরিফুল ইসলাম

জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে জটিলতা কাটছেই না। সনদ এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে পারছে না জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বরং দলগুলোর একের পর এক শর্তে কাবু হয়ে পড়েছে কমিশন। প্রথম দফা এক মাস মেয়াদ বাড়িয়েও কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি ঐকমত্যের জন্য গঠিত এই কমিশন। দ্বিতীয় দফা মেয়াদের একদিন আগে গতকাল কমিশন সভাপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকেও চূড়ান্ত কোনো সুরাহা আসেনি। কয়েকটি দল কমিশনের মেয়াদ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে এই বৈঠকে। সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে ফের বাড়ানো হচ্ছে কমিশনের মেয়াদ। সর্বশেষ ধাপে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হবে কমিশনের তরফে। কিন্তু ঐকমত্য কতোটা হবে এটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কমিশনের বৈঠকে অংশ নেয়া ৩০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দুই ধরনের অবস্থান রয়েছে। বিএনপিসহ সমমনা দল ও জোট চায় সংবিধান সম্পর্কিত বিষয় ছাড়া অন্য প্রস্তাবগুলো নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যকর করা যায়। সংবিধান সম্পর্কিত বিষয় নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা ইসলামী দল, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল চায় নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং বাস্তবায়ন করা। এই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন আয়োজনের দাবি এসব দলের।

সর্বশেষ গতকালের বৈঠক থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দলগুলোকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি এই কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। কমিশনের মেয়াদ ১৫ই আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সনদ চূড়ান্ত না হওয়ায় সরকার কমিশনের মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার বৈঠকে দলগুলো ৮৪ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে জানায় কমিশন। এরমধ্যে নোট অব ডিসেন্টও রয়েছে। ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা নিয়ে তৈরি হয় সংকট। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি তাদের নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে তৈরি হয়েছে জটিলতা। এই জটিলতার কারণে সময় বাড়িয়েও সমঝোতায় পৌঁছা যাবে কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

গতকালের বৈঠকের পর বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে রিজিওনাল সিকিউরিটির জন্য থ্রেট হতে পারে। সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন কোনো ভাবেই একটা আরেকটি ওপর সম্পর্কিত নয়। সংস্কার সংস্কারের মতো চলবে, এটা কন্টিনিউ প্রসেস। বিচারেও টাইম লিমিট করা যায় না, তাতে অবিচার হবে তাহলে। সেটা চলবে, যে সরকারই আসুক, কিন্তু নির্বাচনকে এটা কন্ডিশনাল করা যাবে না। নির্ধারিত টাইমলাইনে নির্বাচন হতেই হবে।

তিনি বলেন, দুইদিন পরে টিকবে না, চ্যালেঞ্জ হয়ে যেতে পারে কোথাও এমন কোনো বিষয় আমরা রেখে যেতে চাই না। আমরা যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছি, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং হয়ে যাবে। প্রসিডিউলের জন্য বাস্তবায়নে একটু সময় লাগে।

ঐকমত্য হয়নি এমন ১৯টি সাংবিধানিক ইস্যু বাকি থাকার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এর মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ আমরা একমত হয়েছি। আমাদের বিবেচনায় ৭০ অনুচ্ছেদের ৪টি বিষয়ে এমপিদের স্বাধীনতা না থাকলে ভালো হয়। সর্বনিম্ন দু’টি বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। নোট অব ডিসেন্টের ভাষা উল্লেখ করে সনদ তৈরি হচ্ছে এবং সেভাবে আমরা স্বাক্ষর করবো। যারা জনগণের ম্যান্ডেট পাবে তারা তাদের নোট অব ডিসেন্ট রক্ষা করে বাস্তবায়ন করবে। এটি কোনো জটিল বিষয় নয়।
দুই তিনটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া বাকিগুলো খুবই সাধারণ বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো বাস্তবায়ন খুব সহজ। কিন্তু ফোরাম কোনটা? সাংবিধানিক বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদ ছাড়া অন্য কোনো ফোরাম করতে পারে কিনা? এ ব্যাপারে আইনি পরামর্শ দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট। আমরা সেখানে যেতে পারি এবং সহায়তা নিতে পারি। এর বাইরে কিছু থাকলে জানান, আমরা একমত। আমরা সনদে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত আছি, তা আগেও বলেছি।

ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা ও শক্তিতে রূপান্তরিত করতে আরও বেশি নেগোশিয়েট করার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা কমেপ্রামাইজ করবো। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কোনো পন্থা বের করতে পারলে তাতে একমত হবো। প্রস্তুত করা চূড়ান্ত জুলাই সনদে ক্লারিক্যাল মিসটেক এবং কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। এটা আমরা কারেকশন করে দেবো, এটা মেজর কিছু নয়। তবে এটি জাতীয় দলিল, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, ঐতিহাসিক দলিল হবে, সেজন্য এটা নির্ভুল হওয়া বাঞ্ছনীয়। যেসব বিষয়গুলো আলোচিত হয়নি, সেগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক হবে না। বিতর্ক যত কম করা যায়।

তিনি আরও বলেন, কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না, তেমন কোনো দলিল হতে পারে না, সংবিধানের ওপর সনদকে স্থান দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এর বাইরেও অনেক পন্থা থাকতে পারে যাতে আমরা এটার বৈধতা দিতে, আইনি ভিত্তি দিতে পারি। আপিল বিভাগের পরামর্শ নিতে পারি আমরা, এটা এক্সট্রা কনিস্টিটিউশনাল অর্ডার বা স্পেশাল কনিস্টিটিউশনাল অর্ডার করা যায় কিনা। তাহলে ভবিষ্যতে জুডিশিয়ারিতে এটা চ্যালেঞ্জ করলেও বলতে পারবে আমরা মতামত নিয়েছিলাম। এখন সেই পরামর্শ আপনারা দিতে পারেন, নাও পারেন।

বিএনপি’র এই নেতা বলেন, স্পেশাল কনিস্টিটিউশনাল অর্ডারে আপনি (প্রধান উপদেষ্টা) করলেন। আমরা কেউ কিছু বললাম না। ঐকমত্য কমিশন থেকে আমরা আপনাকে দায়িত্ব দিলাম, সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত দেন। তারপর আপনি করলেন। কিন্তু যেকোনো একজন নাগরিক যদি এটা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে কোথাও যায়, সেটা আপনার গ্লোবাল রেপুটেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। আমরা অনেক আলোচনা করেছি, সেখান থেকে আপনি কোনো মতামত নিতে পারেন, সেই স্বাধীনতা আপনার আছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হলেই তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে। দলের পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়নের দু’টি উপায়ের কথা তুলে ধরা হয়েছে- একটি হলো প্রভিশনাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার। অতীতে এটার নজির আছে। আরও একটি হলো গণভোট। এটার ইতিহাসও দেশে আছে। দলগুলো একমত হতে না পারলে গণভোটের মাধ্যমে মানুষ রায় দেবে।

জামায়াতের এ নেতা বলেন, তারা বিশ্বাস করতে চান, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।

ছাত্র সংসদের দু’টি নির্বাচন নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন জানিয়ে আযাদ বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে যতটুকু আমরা লক্ষ্য করেছি, এটাকে আমরা একটি নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখতে চাই। এটার পর আবার জাতীয় নির্বাচনে পড়বে কিনা, সেই জায়গা থেকে আমাদের উদ্বেগের কথা আমরা জানাচ্ছি। যেন আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ একটি প্রশাসনব্যবস্থার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। তাহলেই আমাদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হবে। এজন্য আমরা বলতে চাই, আজকে যে সংস্কারের মধ্যদিয়ে জাতীয় সনদটা হতে যাচ্ছে, এটার একটা সমাপ্তি সুন্দরভাবে হোক।
ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে আযাদ বলেন, সহ-সভাপতি আলী রীয়াজের হাত দিয়েই যেন এটার সমাপ্তি হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আমরা দীর্ঘদিন ধরে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। কিছু বিষয় ছিল যেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। আর কিছু বিষয় আছে যেগুলো সংবিধানসংশ্লিষ্ট। যেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় সেগুলো অর্ডিন্যান্স অথবা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর অনেক বিষয় যেগুলো সংবিধানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যাতে সংবিধানের মৌলিক কতোগুলো বিষয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এত বড় পরিবর্তন যে, সেগুলোকে শুধু সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে টেকসই করা সম্ভব কিনা- তার আশঙ্কার জায়গাটি আমাদের মাঝে বিদ্যমান রয়েছে।

এনসিপি’র এই নেতা বলেন, যেহেতু বাংলাদেশে ইতিমধ্যে হাইকোর্টে সংবিধানের সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সেগুলো বাতিল হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা সংবিধানে যে মৌলিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে আসছি তা কীভাবে টেকসই ও কার্যকর করা যায়, সেই ব্যাপারে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান রেখেছি পদ্ধতি ঠিক করার জন্য।
আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে একটি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান ও নতুনভাবে লিখিত ধারা-উপ-ধারা ও অনুচ্ছেদের মধ্যদিয়ে যে সংশোধনী ও সংস্কার প্রস্তাবে আমরা একমত হয়েছি, সেগুলো টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে একটা ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তার জন্য কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আবেদন কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সবার কাছে প্রশ্নাতীত করে আমরা কমিশনের কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করতে পারি।

জুলাই সনদ নিয়ে সমঝোতায় আসতেই হবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় আসতেই হবে। এখান থেকে বের হওয়ার উপায় নাই। যে সমঝোতার রাস্তা শুরু করেছি, তা থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়াও, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। সে নির্বাচন মহোৎসবের নির্বাচন হবে। যদি আমরা আমাদের এগুলো ফয়সালা করে ফেলতে পারি, তাহলে এটা মহোৎসব এবং জাতির সত্যিকার নবজন্ম হবে। গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি হয়তো গায়ের জোরে বলছি, কিন্তু কথাটা ফেলে দেয়ার উপায় নেই। জাতি হিসেবে আমাদের নবযাত্রার সুযোগ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দিয়ে গেল, সেটার একমাত্র সমাধান হলো সমঝোতার পথে গিয়ে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করা।
তিনি বলেন, অনেকের মনে হয়তো কষ্ট হবে, কষ্ট হলেও মেনে নিচ্ছি। কিন্তু পরে শান্তি পাবেন, দেশ শান্তি পাবে। কারণ, দেশের শান্তি বড় শান্তি। আমরা বিতর্কের মধ্যে থেকে গেলে, সেটা কখন বিস্ফোরিত হবে। বিতর্কের মধ্যে থেকে কে কোন দিকে চালু করে দেবে, এটার কোনো ঠিক নেই।

ঐকমত্য কমিশন বিশ্বের জন্য নজির হিসেবে থাকবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটা যেন খুতওয়ালা নজির না হয়, এ আবেদন আমার। এমন নজির সারাবিশ্ব দেখবে এবং অনুসরণ করার চেষ্টা করবে। কারণ, আপনারা মূল কাজটা করে ফেলেছেন, সামান্য রাস্তা বাকি। সবকিছু নির্ভর করছে শেষ অংশটুকুর ওপরে।
রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে ড. ইউনূস বলেন, আপনারা দীর্ঘপথ অতিক্রম করেছেন। বাকি রাস্তাটুকু যাতে সুন্দরভাবে সমাপ্ত করে পৃথিবীর জন্য নজির সৃষ্টি করে যাবেন। যে সমস্যা অতিক্রমের জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, সেটা শুধু আমাদের নয়, দুইদিন আগে নেপালে শুরু হলো, এরকম বহুজনের সমস্যা হবে। অতীতে হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। তাই, আমাদের সমাধানের পথ সবাই মনোযোগসহকারে দেখবে।

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচন মহোৎসবের হবে, মহোৎসবের নির্বাচন হবে। যদি আমরা আমাদের এগুলো ফয়সালা করে ফেলতে পারি তাহলে এটা মহোৎসব এবং জাতির সত্যিকার নবজন্ম হবে।
ছাত্র-জনতা গণ-অভ্যুত্থানের আলাদিনের চেরাগের দৈত্য তৈরি করে দিয়েছে মন্তব্য করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা তার কাছে কী চাইবো? আমরা কি তার কাছে এককাপ চা চাইবো? না দুনিয়া পাল্টে ফেলতে চাইবো। এটি হলো আমাদের হাতে। কোনো বিষয় ছোট আকারে না রেখে, এই জাতিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে তৈরি করে দিয়ে যাবো। এ সুযোগটা এসেছে। সেখানে ছোটখাট বিষয়ের মধ্যে আটকে গিয়ে আমরা যেন মূল বড় জিনিস থেকে হারিয়ে না ফেলি। বড় জিনিসের জন্য যাই। এই জাতিকে আমরা ভালোভাবে চালু করে দিলাম এটা খালি উপর থেকে উঠবে, ডানে-বাঁয়ে দরকার নেই। ওই অংশটা করেন।

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচার আসার সব পথঘাট বন্ধ করা, যাতে কোনো দিক দিয়ে স্বৈরাচার আসতে না পারে। বাকিটা আমরা জানি। স্বৈরাচার বন্ধ করতে হলে সবাইকে একমত হয়ে কাজ করতে হবে। দ্বিমতের জায়গা নেই। দ্বিমত করলে সমাপ্ত করতে পারবো না।

সবাইকে একমত হয়ে সনদ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাহলে নির্বাচন সার্থক হবে। যতই আমরা নোক্তা দিয়ে যাই কিন্তু আমাদের মহান ঐক্য দরকার। কী চাই সেটা ঠিক করলেই, কীভাবে করবে তা দৈত্য ঠিক করবে। কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা বিশেষজ্ঞদের বলবো, এটা করে দাও। সে পথে অগ্রসর হতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, ওই দৈত্যকে আমরা বড় কাজটা দেবো। যেটা আর কোনোদিন চাইবারও সুযোগ পাবে না। এ দৈত্য একবারই পাচ্ছি আমরা। আমাদের মনের সমস্ত আশা পূরণের দায়িত্ব তার ঘাড়ে দিয়ে দেবো। সে দিকে আমরা যেতে চাই।

ড. ইউনূস বলেন, ভেতরে কোনো রকমের দুশ্চিন্তা রেখে আমাদের যেন নির্বাচনে ঢুকতে না হয়। উৎসব এখান থেকে শুরু হবে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথামার্ধেই হবে। এটাই হলো পথ। আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি। এ পথেই যাবো। আমাদের আবেদন সব পথঘাট বন্ধ করতে হবে, যাতে কোনো জায়গা দিয়ে ঢুকতে (স্বৈরাচার) না পারে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজটা করে ফেলতে পারলে আমাদের দেশ নিশ্চিন্ত হবে এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আমাদের থেকে শিখতে আসবে।

ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম ভালোভাবে শেষ করার অনুরোধ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ কাজ যেন নিখুঁত ও নির্দোষ হয়। এমনভাবে করবো যাতে তা হতে নতুন জাতি জন্মগ্রহণ করবে। আপনারা নতুন জাতির সূতিকাগার তৈরি করে দিলেন। মনের মধ্যে যাতে খুতখুতি না নিয়ে সবাই যাতে নির্বাচন পর্যন্ত যেতে পারে সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জাতীয় ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দারের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রমুখ।

mzamin

Tuesday, August 12, 2025

ঝুলে আছে জুলাই সনদের ভাগ্য by আরিফুল ইসলাম

আগামী ১৫ই আগস্ট শেষ হচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ। এখনো চূড়ান্ত হয়নি জুলাই সনদ। এ নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপড়েন। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার কমিশনগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। ২৮শে জুলাই প্রাথমিক সনদের খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়। এরপরই শুরু হয় মতবিরোধ। আইনি কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করেছে কমিশন। ৬৮ দিনের সংলাপ ও আলোচনার পরও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে পূর্ণ ঐকমত্য গড়ে তুলতে পারেনি কমিশন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সনদ চূড়ান্ত না হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কা করছেন রাজনীতিবিদরা। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্পষ্ট জানিয়েছে- সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি ছাড়া তারা এই সনদে স্বাক্ষর করবেন না। তাদের যুক্তি, কাগজে কলমে প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; আইনি ভিত্তি দিতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই এই সনদের বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হবে আগামীর জাতীয় নির্বাচন। কোনোভাবেই এই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আগামী সরকারের হাতে ছেড়ে দেয়া যায় না। বিএনপি বলছে, জুলাই সনদের খসড়ার কিছু শব্দ-বাক্যগত বিষয় তারা সংশোধনের জন্য বলেছেন। আগামী সরকার ২ বছরের মধ্যে এই সনদ বাস্তবায়ন করার যে কথা খসড়ায় বলা হয়েছে, এ বিষয়ে একমত দলটি।

রোববার তৃতীয় দফার বৈঠকে ছয়জন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনায় সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা করে কমিশন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- গণভোট, সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স মতামত গ্রহণ, বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থা, অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন।
অধ্যাদেশ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। অনেকের মতে, সরকার চাইলে এখনই কিছু সুপারিশ অধ্যাদেশে বাস্তবায়ন করতে পারে, কিন্তু পরবর্তী সরকার সংসদে অনুমোদন না দিলে এসব কার্যকারিতা হারাবে। তাই সনদকে আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে আনার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রথম পর্বে (২০শে মার্চ-১৯শে মে) ৩৩টি দলের সঙ্গে আলোচনায় ৬২টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়। দ্বিতীয় পর্বে ৩০টি রাজনৈতিক দল (৩রা জুন-৩১শে জুলাই) বাকি ২০টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে ১১টিতে ঐকমত্য এবং ৯টিতে নোট অব ডিসেন্টসহ সিদ্ধান্ত হয়। এখন এসব সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে আলোচনা চলছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, প্রাথমিক একটা খসড়া দেয়া হয়েছে সবাইকে, সে খসড়া অনুযায়ী তারা মন্তব্য করেছেন। খসড়া থেকে এসব মন্তব্যের ভিত্তিতে ‘সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়া’ আবার পাঠাবো আগামী দুদিনের মধ্যে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সবাই একমত হয় স্বাক্ষরের দিন-তারিখ ঠিক করা যাবে।

কবে নাগাদ জুলাই সনদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনার তৃতীয় পর্বে, বিশেষত বিশেষজ্ঞদের মতামত পাওয়ার পর। আমরা যেটা বলেছি, কমিশনের মেয়াদ নির্ধারণ করবে সরকার। সরকার যদি মনে কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, সরকার সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সময়ের চাপ ও রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ: প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের মধ্যদিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। আগস্টের ১৫ তারিখে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সনদ চূড়ান্ত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জুলাই সনদ এখন কেবল রাজনৈতিক নথি নয়, আসন্ন নির্বাচনের আগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি হয়ে পড়েছে। এর বাস্তবায়নও জরুরি।

২০২৫ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় মাসের জন্য কাজ শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। স্বভাবতই কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ১৫ই আগস্ট। প্রাথমিকভাবে লক্ষ্য ছিল, চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে সনদ চূড়ান্ত করা হবে। কিন্তু তা হয়নি, মেয়াদের একদম দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে কমিশন। এখন যদি ঐকমত্যে পৌঁছে চূড়ান্ত সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর করা সম্ভব না হয়, তখন সনদের ভাগ্যে কী থাকছে, এই আলোচনাও উঠবে রাজনৈতিক মহলে।

নির্বাচন-ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার মানবজমিনকে বলেন, জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, এর আইনি বাধ্যবাধকতা কী হবে, এটার সমাধান খুঁজতেছি। সরকার সিদ্ধান্ত নেবেন কী করতে হবে। আমরা ভাবিনি এই প্রশ্নগুলোর সুরাহা করতে হবে আমাদের।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান মানবজমিনকে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে সনদের মধ্যে যে ঘাটতিগুলো রয়েছে- সেগুলো পূরণ করতে হবে। শুধু কাগজে স্বাক্ষর করলে হবে না। এই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। সংবিধানে সন্নিবেশিত করতে হবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মানবজমিনকে বলেন, ঐকমত্য কমিশনের এখনকার প্রক্রিয়া ধীরগতির। কমিশন সময় রক্ষা করতে পারছেন না। আমরা যতদ্রুত সম্ভব জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে চাই। ভালো কাজের জন্য কমিশনের মেয়াদ যদি চলতি মাস বাড়ানো হয়, তাহলে ঠিক আছে। তবে এই যাত্রাকে প্রলম্বিত না করাই ভালো। 

mzamin

Wednesday, March 26, 2025

জুলাই অভ্যুত্থান: হাসপাতালেই ঈদ কাটবে তাদের by আরিফুল ইসলাম ও আফজাল হোসেন

প্রায় আট মাস আগে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত হয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়েছিল শরীর। গুলিতে কারও হাতকাটা পড়েছে। কারও পা। কারও চোখের আলো নিভেছে আজীবনের জন্য। আন্দোলনে প্রায় দেড় হাজার মানুষ জীবন দিয়েছেন। আহত হন ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ। আহতদের একটি অংশ এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঈদ কড়া নাড়লেও তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল), চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটসহ আরও কয়েকটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন এসব আহতরা। নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন তারা।

তারা শুধু নিজেদের আহত শরীর নিয়ে নয়, বরং পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ না করতে পারার আফসোস নিয়েও দিন কাটাচ্ছেন। আগের বছরগুলোতে পরিবারের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগ করে নেয়া হলেও, এবার  শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা তাদের পিছু ছাড়ছে না। আগের  বছরগুলোতে পরিজনের সঙ্গে কাটানো ঈদের স্মৃতি মনে করে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। কেউ কেউ ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কা থাকায় ছুটি দিতে চাইছে না হাসপাতাল। আহতরা বলছেন, প্রতি বছর পরিবার পরিজন, বন্ধুদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতাম। এবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি।

সরজমিন রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল), জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তিকৃত জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে কথা বললে আহতরা জানিয়েছেন, তারা ছুটি নিয়ে বাড়ি যেতে চান, তবে শারীরিক অবস্থার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। কেউ কেউ এতটাই গুরুতর আহত যে, আপাতত হাসপাতালের শয্যা ছাড়া আর কোনো আশ্রয় নেই। তাদের ঈদ হাসপাতালেই করতে হবে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশির ভাগেরই অপারেশনসহ চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান। অনেকেরই ২/৩ বার করে অপারেশন হয়েছে। অনেকের বিশ্রাম দরকার। আবার কারও কারও থেরাপি দিতে হচ্ছে। এমন রোগীরা চাইলে নিজ দায়িত্বে ছুটি নিয়ে যেতে পারবে। নিয়মিত চেকআপের অংশ হিসেবে তাদের আসতে হবে মাঝেমধ্যে।

মো. আলম শেখ। পেশায় রিকশাচালক। বাগেরহাট সদর উপজেলার বৈথপুর গ্রামের বাসিন্দা। ৮ মাস হলো পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি বলেন, বাগেরহাটের কোর্টের সামনে ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে আহত হই। ছাত্রদের বাঁচাতে গেলে আমাকেও পিটিয়ে আহত করে তারা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এসে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। আমার পায়ের লিগামেন্ট ছিড়ে যায়। ঈদে বাড়ি যেতে পারবো কিনা জানি না। তবে এখন আগের থেকে অনেকটা ভালো আছি। ডাক্তার যেতে দিলে যাবো। না দিলে থেকে যাবে। এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে মনে হচ্ছে যেতে পারবো না এ অবস্থায়। ঈদের আনন্দ এবার আর আমার কপালে নেই মনে হচ্ছে।
একই হাসপাতালে আহত  কুষ্টিয়ার জয় ইসলাম  বলেন, আমার ডান হাতের ভেতরের জয়েন্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ডাক্তার বলছেন দেশের বাইরে চিকিৎসা করাতে হবে। এবার ঈদে বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। এজন্য কিছু টাকা  রেখেছিলাম। গতকাল রাতে সব টাকা হারিয়ে গেছে। কে যেন চুরি করে নিয়ে গেছে আমার টাকাগুলো। এখন মনে হয় আর যেতে পারবো না।
পটুয়াখালির আরিফুল ইসলাম বলেন, আতর টুপির ব্যবসা করতাম। ঈদ এলে বেচাবিক্রি বাড়তো। এবার আমি নিজেই হাসপাতালের বেডে, ঈদ নিয়ে কোনো আশা নেই মনে। বউ ছেলে মেয়েরা এখানেই আছে। ঈদ হাসপাতালেই করতে হবে।

যাত্রাবাড়ীর মো. আব্দুল্লাহ বলেন, বাড়িতে আর যাওয়া হবে না। ঈদের আনন্দ পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে হতে পারবো না। এটাই সবচেয়ে কষ্টের।
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে আহত ইমরান। পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি এখনো। সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে পুলিশের গুলিতে পায়ের হাড় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হাসপাতালে কাতরাচ্ছিলেন। কথা বলতে গেলে কান্নার্ত কণ্ঠে  ইমরান বলেন,  শরীরের যা পরিস্থিতি, কবে ভালো হবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমি কাজ করে মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় করতাম। ঘরে বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছে। প্রতি বছর তাদেরকে নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতাম। আমার টাকা দিয়েই সংসার চলতো অথচ সে জায়গায় এখন হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে আছি। ঈদে কতো আনন্দ করতাম বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেতাম। আগের মতো আর কখনো স্বাভাবিক ভাবে হাঁটতে পারবো না।

কুষ্টিয়ার মেজবাহুর রহমান বলেন, আমাদের আন্দোলন ন্যায়ের জন্য ছিল। কিন্তু এখন আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ঈদে পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবো না, এটাই সবচেয়ে কষ্টের।
গত ১৮ই জুলাই মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদের সামনে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিলেন রোমান। তখন থেকেই হাসপাতালে ভর্তি। তিনি বলেন, আট মাস ধরে হাসপাতালে কাতরাচ্ছি। হাড় জোড়া লাগছে না, সেইসঙ্গে নার্ভগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। পা নিয়ে খুব শঙ্কিত আছি। যেই জায়গায় বাবা-মায়ের সেবাযত্ন আমি করতাম সে জায়গায় তারা আমার সেবাযত্ন করছে। ঈদে কতো রকমের মজা করতাম। জীবনের সুখের মুহূর্তগুলো শেষ হয়ে গেল।    

৫ই আগস্ট সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন মামুন। সেদিন ই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন, পায়ের আঙুল গুলো কাজ করছে না। কয়েকবার অস্ত্রপাচার করা হয়েছে পায়ে, পা নাড়াতেই পারি না। সারাক্ষণ শুয়ে থাকা লাগে। বেডের পাশ দিয়ে যারা হেঁটে যায় তাদের দেখলেই মন খারাপ হয়ে যায়, আমি কবে হাঁটতে পারবো তা ভেবে। ঈদের কথা শোনা মাত্রই চোখের পানি ছেড়ে তিনি বলেন, যে হাঁটতেই পারে না তার আবার ঈদ। জীবনের সবচাইতে খারাপ ঈদ এবার কাটবে। প্রতি ঈদে বাবা মায়ের সঙ্গে ২৫ রমজানের পরেই গ্রামের বাড়িতে যেতাম চাচাতো ভাইদের সাথে কতো স্মৃতিময় সময় কাটিয়েছি। এখন সেগুলো স্বপ্নের মতো লাগে। আরো বেশি খারাপ লাগে বাবা-মা আমার জন্যে এবারের ঈদে বাড়ি যেতে পারবে না। হাসপাতালে থাকতে হবে তাদের। কী জীবন! মুহূর্তেই কী হয়ে গেল!    

গত ১৮ই জুলাই মোহাম্মদপুর আল্লাহ করীম মসজিদের সামনে পুলিশের গুলি এসে চোখে লাগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী শামিম হোসেনের। তখন থেকেই তিনি জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি আছেন । শামিম বলেন, আমার বাম চোখ অকেজো হয়ে গিয়েছে এ চোখে কিছু দেখতে পাই না। আরেকটি অপারেশন করা লাগবে।
জুলাই অভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে যুগান্তকারী ঘটনা
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে যুগান্তকারী ঘটনা। এতে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধারা জাতির গর্ব। এই আন্দোলনে তরুণ সমাজ শুধু অংশগ্রহণই করেনি বরং কীভাবে সত্য ও সঠিক পথে ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায় করা যায় সেই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জুলাই যোদ্ধাগণের স্বপ্ন পূরণে সবসময় পাশে থেকেছে। তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, ‘সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে’ এই মূলমন্ত্র বুকে ধারণ করে অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও দেশ মাতৃকার কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় পাশে থাকবে।

মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ ‘আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স’-এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা ও শহীদ যোদ্ধাগণের পরিবারবর্গের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৭২ জন আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সেনাপ্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, সততা, মানবিকতাবোধ ও নিয়মানুবর্তিতার সমন্বয়ে সকলে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করলে এই দেশ সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণ করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। তিনি সেই স্বপ্ন পূরণে সকলকে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও নিহত যোদ্ধাগণের প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
mzamin

Saturday, February 22, 2025

রড ও সিমেন্টের দাম কমায় শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা by আরিফুল ইসলাম

৫ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। থমকে আছে বিভিন্ন খাতের ব্যবসা। এই হাওয়া লেগেছে রড-সিমেন্ট শিল্পেও। বিগত সরকারের সময়ে নেয়া একাধিক মেগা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রমরমা ব্যবসা করতেন রড-সিমেন্ট শিল্পের ব্যবসায়ীরা। পট পরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে গেছে বিগত সরকারের নেয়া অনেক প্রকল্প। এছাড়া ১৬ বছরের একচেটিয়া শাসনব্যবস্থার ফলে দেশের মধ্যে সরকার সমর্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তাদের বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করতেন। বর্তমানে সে সবের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন রড-সিমেন্ট শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা। নির্মাণশিল্পের ভরা মৌসুমেও ক্রেতাদের কাছ থেকে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া। এতে চাহিদা ও উৎপাদন দু’টোই নিম্নমুখী। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি-বেসরকারি বড় এবং মাঝারি নির্মাণ প্রকল্প বন্ধ থাকা, নতুন করে প্রকল্প শুরু না করার প্রভাব পড়েছে এ খাতে। অবস্থা এমন চলতে থাকলে চরম সংকটে পড়বে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সরজমিন রাজধানীর গ্রীন রোড, কাওরান বাজার, কাঁঠালবাগান এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গ্রীন রোডে আমিন এন্টারপ্রাইজের মালিক স্বপন বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রড-সিমেন্টের বাজারে প্রভাব পড়েছে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বেশির ভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করতেন। রড-সিমেন্টেরও বড় একটা অংশ সরকারি প্রকল্পের কাজেই ব্যবহার হয়। এজন্য আগের থেকে বিক্রি এখন অনেক কম। জননী এন্টারপ্রাইজের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, স্থায়ী কোনো সরকার না আসা পর্যন্ত স্থিতিশীলতা বা পরিবর্তন হবে না। আগের থেকে বিক্রি কমেছে। নতুন কোনো নির্বাচিত সরকার এলে অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

জানা গেছে, সিমেন্ট খাতের উৎপাদন সরকারি নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দেশের বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। যেসব প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে সেগুলো গত ৫ই আগস্টের পর বন্ধ রয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিমেন্ট খাতে। এ ছাড়া রডের দাম টনপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা কমেছে। রডের পাশাপাশি সিমেন্টের দামও বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। চাহিদা না বাড়লে রড-সিমেন্টের দাম আরও কমবে বলে আশঙ্কা মিলমালিকদের। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অবকাঠামো খাত সবচেয়ে নাজুক সময় পার করছে। চলমান প্রকল্পের কাজে ধীরগতির পাশাপাশি বিগত ছয় মাসে নতুন কোনো মেগা প্রকল্পের অনুমোদন হয়নি। আগের প্রকল্পগুলোয় বিক্রি করা পণ্যের দামও মেটাতে পারছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ মিলছে না। আবার সরকারি প্রকল্পের বিল আটকে থাকায় পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পরিশোধ করতে পারছেন না অনেকে। এদিকে গত এক বছর ডলারের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধির কারণে বাড়তি দামে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অথচ দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন উৎপাদকরা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত ইস্পাত শিল্পকে নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া না হলে এর সঙ্গে যুক্ত বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই মাসে কোম্পানি ভেদে ইস্পাতের বিক্রি কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। পাশাপাশি সিমেন্টের বিক্রি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করছেন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ থাকাকে। কারণ, দেশের মোট ১ লাখ ২০ হাজার টন উৎপাদিত ইস্পাতের প্রায় ৬৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয় সরকারি প্রকল্পে। সামপ্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় সিমেন্টের চাহিদা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। সিমেন্ট খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা কম থাকায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দাম আরও নিম্নমুখী হতে পারে। সিমেন্ট ও ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে সরকারের বেশির ভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন শিল্পেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এরই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, দেশের কোম্পানিগুলোর রড উৎপাদনে সক্ষমতা ১ কোটি ২০ লাখ টন। বছরে সর্বোচ্চ চাহিদা ৬৫ লাখ টন। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই ব্যবহার হয় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে। বাকি ৪০ শতাংশ বেসরকারি ও ব্যক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার হয়। বর্তমানে চাহিদা কমে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা কমেছে সরকারি প্রকল্পে। এখানে রডের চাহিদা ২০ শতাংশের নিচে নেমে আসায় দামও ধারাবাহিকভাবে কমছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. শামসুল আলম খান বলেন, আমাদের স্টিল শিল্পের ভৌত অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের উপর বড় ধরনের চাহিদা থাকে রড শিল্পে। প্রকল্পগুলোর কাজের মন্থরগতি ও স্থবিরতা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে আগের তুলনায় ব্যবসা- বাণিজ্য অনেকটা কমেছে।

mzamin

Sunday, January 5, 2025

আজিমপুরে কান্না আরশিনগরের হালচিত্র by আরিফুল ইসলাম

কবরস্থানে এলেই মনে পড়ে কতো মানুষ ক্ষমতাধর ছিল। এখন তারা মাটির নিচে ঘুমিয়ে আছে। টাকা-পয়সা কিচ্ছু না, রাতে নিশ্চিন্তে যে ঘুমটা দেই এটাই সব আমার। এভাবেই নিজের কথা জানাচ্ছিলেন কবরস্থানে ঘাস কাটতে আসা জয়নাল আবেদিন। তিনি বিক্রমপুরের বাসিন্দা। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আজিমপুর কবরস্থানে আসেন আগাছা ও গরুর খাবারের জন্য ঘাস কাটতে। দিনভর এগুলো কেটে ৪/৫ বস্তা হলে, সেগুলো পরিচিত গরুর খামারিদের কছে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি যান। বস্তাপ্রতি পুরাতন কাস্টমার ১৩০ টাকা, নতুন হলে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন। জয়নালের ৭ সদস্যদের সংসারে রয়েছে ৫ জন মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রী। তিনি বলেন, ঘাস কেটে বিক্রি করে সংসার চলে। এটাই আমার আয় রোজগারের উৎস।

জয়নাল আবেদিন বলেন, আজিমপুর কবরস্থান থেকেই ঘাস সংগ্রহ করি। অন্য কোথাও যাই না। কারণ অনেকে ঘাসের মধ্যে সার ও বিষ দিয়ে থাকেন। সেগুলো খেয়ে যদি গরু মারা যায়। তখন খামারিরা আমাকে বিশ্বাস করবে না। ঘাস কিনবে না।

কাউকে কোনো টাকা-পয়সা বা চাঁদা দিতে হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো আমার কাছে কেউ চাঁদা বা টাকা-পয়সা দাবি করেনি। আমি নিজেই গরিব মানুষ, কে আর আমার কাছে টাকা চাইবে। চাইলেও তো আমি দিতে পারবো না। চার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। এভাবেই কেটে যাচ্ছে আমার দিনগুলো।

শুক্রবার আজিমপুর কবরস্থানে সরজমিন দুপুর ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা গেছে, প্রবেশ পথের ১ নম্বর ও ২ নম্বর গেটে ভিক্ষুকদের কেউ বসে বা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কেউ আবার মেডিকেলের কাগজ নিয়ে সাহায্যের জন্য হাত পাতছেন। অনেক মহিলা কোলে বাচ্চা নিয়ে বসে রয়েছেন সাহায্যের জন্য। এভাবে বৃদ্ধ থেকে শুরু করে যুবক বয়সের নারী ও পুরুষের দেখা মিলবে প্রবেশ পথের রাস্তা ধরে যতদূর যাবেন। অনেকে মৃত মানুষের কবর জিয়ারত করতে আসছেন। কেউ আসেন মা-বাবার কবরে, কেউ ছেলে-মেয়ের, কেউ বা নিকট আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করতে। শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় অন্যান্য দিনের তুলনায় মানুষজন বেশি আসেন।

লালবাগের বাসিন্দা তারিক হোসেন মায়ের কবরে এসেছেন। তিন বছর আগে তার মা স্ট্রোক করে মারা যান। প্রতি শুক্রবার তিনি জুমার নামাজ পড়ে আজিমপুর কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে এসে দোয়া করেন। মায়ের স্মৃতিচারণ করতে করতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জাকি উদ্দীন রুপু নামে একজন বলেন, ভাবীর কবরে এসেছি দোয়া করতে। ভাতিজা আর আমার ছেলেকে নিয়ে এসেছি যেন তারা তাদের পূর্বপুরুষদের কবর ভুলে না যায়। এখন থেকে কবরস্থানে এনে দোয়া করা শিক্ষা দিলে ভবিষ্যতে তারা এই ধারা বজায় রাখবে।

বাবুল হোসেন এসেছেন মিরপুর থেকে। তিনি সাহায্যের জন্য মানুষের কাছে অন্য সবার মতো হাত পাতছেন না। তিনি কিছু মানুষের কাছে গিয়ে তার পেটে টিউমারের অপারেশনের মেডিকেলের কাগজপত্র দেখিয়ে সাহায্য চাচ্ছেন। সানি নামে পুরান ঢাকার এক যুবক বলেন, এখানে টাকা একটু বেশি দিলেই সামনের দিকে কবর দেয়া যায়। আমি এক বছর আগে বাবার কবরের জন্য জায়গা দেখতে চাইলে আমাকে পিছনের দিকে নতুন কবরস্থানের শেষের দিকে একদম দেয়া হয়। তবে এই কবরস্থানের একজন বলেন যদি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বেশি দেন। তাহলে একদম সামনের সারিতে কবর দিতে পারবেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আজিমপুর কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা নাজমুল হুদা বলেন, এখানে কবরের জন্য ১ হাজার ৬৯২ টাকা পরিশোধ করতে হয়। কবর ইট দিয়ে প্লাস্টার করতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক অফিস থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। সরকারি কবরস্থান হওয়ায় এখানে বিধিনিষেধ তেমন দেয়া হয় না।

উল্লেখ্য, ২৭ একর জমির ওপর আজিমপুর কবরস্থান ঢাকার পুরানো কবরস্থান। মোগল যুগে শায়েস্তা খাঁর আমলে সপ্তদশ শতাব্দীতে কবরস্থানটি চালু হয়। কবরস্থানটি পাশাপাশি দুইটি স্থানে রয়েছে। পুরাতন কবরস্থানটির জায়গা ছোট। নতুন কবরস্থানটি অনেক বড়। নতুন কবরস্থানে এখন কবর দেয়া হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দরপত্রের মাধ্যমে প্রতি বছর একজন ঠিকাদার নিযুক্ত করে কবর দেয়ার কাজটি করে। কবর দেয়ার জন্য ব্যবহৃত বাঁশ ও চাটাই নির্দিষ্ট ঠিকাদার সরবরাহ করে। মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে বাঁশ ও চাটাইয়ের মূল্য ঠিকাদারকে পরিশোধ করতে হয়। এজন্য সিটি করপোরেশন থেকে বাঁশ ও চাটাইয়ের একটি মূল্য বেঁধে দেয়া হয়েছে। 

mzamin

Tuesday, December 10, 2024

যে সাতটি অস্ত্র নিউক্লিয়ার অস্ত্র থেকেও ভয়ংকর by আরিফুল ইসলাম

নিউক্লিয়ার অস্ত্রকে এখনো সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক হিসেবে ধরা হয়, তবে প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান চর্চার বিস্ময়কর অগ্রগতি এমন কিছু অস্ত্রের উদ্ভাবন করেছে যা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের বাইরে গিয়ে মানুষের জীবনধারা, সমাজ এবং রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। এই অস্ত্রগুলো শুধুমাত্র ধ্বংসের ক্ষমতা রাখে না, বরং মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। নিচে এমন সাতটি অস্ত্র বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো যা নিউক্লিয়ার অস্ত্রের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে।

১. জৈব ও জেনেটিক অস্ত্র: অদৃশ্য শত্রু
জৈব অস্ত্র মানুষের জন্য অদৃশ্য কিন্তু মারাত্মক শত্রু। এতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, বা অন্যান্য সংক্রামক জীবাণু ব্যবহৃত হয়, যা বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর রোগ এবং মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ক্রিস্পর কেস প্রযুক্তি এমন অস্ত্র তৈরির সুযোগ তৈরি করেছে যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। ডিএনএ লক্ষ করে এমন জীবাণু তৈরি সম্ভব যা প্রাকৃতিক মহামারীর চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পিত ও বিপজ্জনক। এটি এমন ভয়ঙ্কর যে একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জন্য প্রাণঘাতী হলেও উৎপাদনকারীদের জন্য ক্ষতিকর নয়। এছাড়াও এ অস্ত্র দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত এবং স্বাস্থ্যগত প্রভাব সৃষ্টির পাশাপাশি খাদ্য ও পানির সরবরাহ দূষিত করা সম্ভব।

২. সাইবার অস্ত্র: আধুনিক যুদ্ধের নীরব হাতিয়ার
যুদ্ধক্ষেত্র এখন আর শুধু শারীরিক নয়, এটি ভার্চুয়াল জগতে বিস্তৃত হয়েছে। সাইবার হামলার মাধ্যমে একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অকার্যকর করা সম্ভব। এ অস্ত্রগুলোর সাহায্যে ব্যাংকিং সিস্টেম, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বা সামরিক ডেটা সম্পূর্ণ অচল করা সম্ভব। এছাড়া একটি মাত্র ভাইরাস কোনো দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারে।

৩. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন এক প্রযুক্তি যা মেশিনকে মানবিক চিন্তাভাবনার চেয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে তোলে। এই প্রযুক্তি এখন অস্ত্র ব্যবস্থায় এক বিপ্লব এনে দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। এটি এমন বিপদশংকুল অস্ত্র যা মানুষের সিদ্ধান্ত ছাড়াই অস্ত্র ব্যবহার করা যায়। লক্ষ্য নির্ধারণে ভুলের কারণে অসংখ্য নিরীহ মানুষের মৃত্যু হতে পারে মুহূর্তে। মানুষ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ হারালে বৃহৎ আকারের সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে আমাদের বিশ্বে।

৪. ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস (ইএমপি) অস্ত্র: একটি বোতামেই অচল পৃথিবী
ইএমপি অস্ত্রের মাধ্যমে পুরো একটি এলাকার সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস অচল করা যায়। এটি এমন একধরনের শক্তি, যা ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দিতে পারে। একটি শক্তিশালী ইএমপি বিস্ফোরণ কোনো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সামরিক অবকাঠামোকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আধুনিক সভ্যতা যা মূলত ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল, তা এক মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। এ ছাড়া এ অস্ত্রটি পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও দীর্ঘমেয়াদি ধ্বংসাত্মক প্রভাব বিস্তার করতে স্বক্ষম।

৫. কোয়ান্টাম কম্পিউটিং : এনক্রিপশন সিস্টেম ভেঙে ফেলার ওস্তাদ
কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রচলিত সুপার কম্পিউটারের তুলনায় লক্ষগুণ দ্রুত কাজ করতে পারে। এটি সামরিক ক্ষেত্রে বিপজ্জনক প্রভাবও ফেলতে পারে। প্রচলিত এনক্রিপশন সিস্টেম ভেঙে ফেলা, যা রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করতে পারে। সুরক্ষিত ডেটাবেস হ্যাক করে সামরিক বা অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করা এক মুহূর্তের কাজ।

৬. ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্র: নিখুঁত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস
ডিরেক্টেড এনার্জি উইপন বা লেজার অস্ত্র সরাসরি শক্তি নিঃসরণ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। স্যাটেলাইট ধ্বংস করা। শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করার সাথে সাথে প্রচলিত অস্ত্রের চেয়ে অনেক কম খরচে বড় ধরনের ধ্বংস করতে পারে। এছাড়া দ্রুত আক্রমণ এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানাই এ অস্ত্রের মূল কাজ।

৭. অস্ত্রায়িত ন্যানোপ্রযুক্তি: ক্ষুদ্র কিন্তু মারাত্মক
ন্যানোপ্রযুক্তির মাধ্যমে অণু বা পরমাণুর স্তরে ক্ষতিকর যন্ত্র তৈরি করা সম্ভব। ন্যানোডিভাইস গোপনে মানবদেহে প্রবেশ করে সুনির্দিষ্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধ্বংস করতে পারে। এটি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা লক্ষ্যমাত্রাকে আক্রমণ করতে সক্ষম। ক্ষুদ্র ন্যানোড্রোন যা শত্রুর সেনাবাহিনীর উপর গোপনে আক্রমণ চালাতে পারে। রাসায়নিক বা বায়োলজিকাল অস্ত্রের চেয়ে এ অস্ত্র আরও সূক্ষ্ম এবং কার্যকর।

সব শেষে এটাই বলতে হচ্ছে যে, এই অস্ত্রগুলো শুধুমাত্র ধ্বংসাত্মক নয়, বরং সমাজ, রাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। নিউক্লিয়ার অস্ত্র একসময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর হিসেবে বিবেচিত হলেও এই নতুন অস্ত্রগুলো যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলে দিচ্ছে। তাই বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে এই অস্ত্রগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত জরুরি। মানবজাতি কি প্রযুক্তির বিপ্লবকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাবে নাকি ধ্বংসের পথে হাঁটবে, তা নির্ভর করছে আমাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ওপর।

লেখা: প্রবাসী সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক। কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া।

mzamin


Friday, December 6, 2024

কম দামের পণ্য শেষ হয়ে যায়, লাইন শেষ হয় না by সুদীপ অধিকারী ও আরিফুল ইসলাম

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বাজারে হাঁসফাঁস অবস্থা। কাঁচা সবজি থেকে মাছ, মাংস, চাল, ডাল, তেল- এমন কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নেই যা কিনতে ঘাম ঝরছে না সাধারণ মানুষের। তাই একটু স্বস্তিতে পণ্য কিনতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ট্রাক সেল ও ওএমএস ট্রাক সেল সেন্টারে ছুটছে সাধারণ মানুষ। তবে চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন অনেকে। টিসিবি-ওএমএস-এর ট্রাকে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন- লাইন শেষ হওয়ার আগেই পণ্য শেষ হয়ে যায়।

সরজমিন দেখা যায়, মোহাম্মদপুর বসিলা এলাকার র‌্যাব ক্যাম্পের ঠিক উল্টো পাশে টিসিবি ট্রাক সেল কার্যক্রম চলছে। ট্রাক সেলের ব্যানারে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল, ৬০টাকা কেজি মশুর ডাল ও ১০০ টাকা লিটার তেল বিক্রি করার কথা উল্লেখ থাকলেও চাল পাননি অনেকে। চালের বদলে টিসিবি’র ট্রাকে দেয়া হচ্ছে আলু। আর টিসিবি’র এসব পণ্য নিতেই প্রখর রোদের মধ্যেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অন্তত এক থেকে দেড়শ’ মানুষ। যাদের বেশির ভাগই নারী। কেউ এসেছেন কোলে বাচ্চা নিয়ে, কেউ আবার ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা। নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি আছেন মধ্যবিত্ত পরিবারেরও অনেক সদস্য। অনেকে মুখে মাস্ক লাগিয়ে দাঁড়ান লাইনে।

তাদের একজন রাবেয়া বেগম। কোলে তিন মাসের শিশু নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন টিসিবি’র লাইনে। রোদ থেকে শিশুকে রক্ষার জন্য বার বার তার মাথায় কাপড় জড়িয়ে দিচ্ছিলেন। রাবেয়া বলেন, আমার স্বামী আগে ছোটখাটো একটা ব্যবসা করতেন। এখন তার ব্যবসাটা ভালো চলে না। এরপর বাজারে পণ্যের যে দাম কিছু কেনা যায় না। এক কেজি ভালো চাল বর্তমানে ৭৫ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। মাছ, মাংস, সবজি এমন কিছু নেই যে, যার দাম বাড়েনি। তাই এখানে এসেছি একটু কম দামে পণ্য কিনবো বলে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও আমাদের খালি হাতে ফিরতে হয়। সবাই পণ্য পাই না। আমার এই ছোট্ট বাচ্চা নিয়ে লাইনে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে আছি, তারপরও পণ্য পাবো কিনা জানি না। তিনি বলেন, আমাদের এই এলাকায় হাজার হাজার লোক। কিন্তু এখানে টিসিবি’র গাড়ি আসে সপ্তাহে এক থেকে সর্বোচ্চ দুইবার। আর যা নিয়ে আসে কয়েকজনকে দেয়ার পরই পণ্য শেষ। রাবেয়ার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই পেছন দিক থেকে ছুটে আসেন তৈয়বা খানম নামে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি গত সপ্তাহে ৩-৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কিছু পাইনি। সপ্তাহ জুড়ে অনেক কষ্ট করেছি। আজকে আবার এসেছি। ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে আছি কোনো খবর নেই। তিনি বলেন, আমার স্বামী প্যারালাইজড। কোনো কাজ করতে পারে না। আমি এদিক ওদিক কাজ করে যা পাই তাই দিয়ে সংসার চালাই। অসুস্থ স্বামীকে বাসায় রেখে এসেছি। কতোবার এদের বললাম-আমি বৃদ্ধ মানুষ। আমাকে বাসায় যেতে হবে, আমাকে একটু আগে দিয়ে দেন। কিন্তু কেউ কথা শোনে না। আজকেও যদি লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু না জোটে তাহলে না খেয়েই থাকতে হবে আমাদের দুই বুড়ো-বুড়িকে। রাবেয়া ও তৈয়বার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছে এই প্রতিবেদকের তখন মুখে মাস্ক পরে লাইনে দাঁড়িয়ে বাজারের ব্যাগ দিয়ে বার বার মুখ ঢাকছিলেন মধ্য বয়সী এক পুরুষ। তিনি বলেন, আসলে আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের এই স্বল্প আয়ের টাকা দিয়ে পুরো সংসারের খরচ চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই একটু খরচ পোষাতে এই টিসিবি’র লাইনে এসে দাঁড়িয়েছি।

নাসরিন আক্তার নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, টিসিবি’র গাড়ি আসার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। কখনো ১২টায় আসে, কখনো আবার ২টায়। আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও মাল পাইনি। তাই আজকে আবার এসেছি। এখানে একজন ২  কেজি ডাল, ২ লিটার তেল আর ৫ কেজি চাল কিনতে পারে। কিন্তু এখন আর টিসিবি’র গাড়িতে চাল পাওয়া যায় না। চালের বদলে আলু দেয়া হচ্ছে। তারও মান ভালো না। এরপর এরা পণ্য অনেক কম আনে। মানুষের দাঁড়িয়ে থাকা লাইন দেখিয়ে তিনি বলেন, এই যে এত মানুষ দাঁড়িয়ে। সামনে যারা আছে তারাই শুধু পাবে। বাকিদের খালি হাতে ফিরে যেতে হবে।

এসব বিষয়ে টিসিবি’র ট্রাক সেলের দায়িত্বে থাকা মো. মামুন ও পরিচালনার কাজে থাকা মো. স্বপন বলেন, শুক্রবার বাদে আমরা সপ্তাহে প্রতিদিনই এই টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করি। একেক দিন একেক স্পটে। আজকে এখানে এসেছি। তিনি বলেন, আজকের এই স্পটের ৪শ’ লোকের জন্য ৮শ’ লিটার সয়াবিন তেল, ৮শ’ কেজি মশুর ডাল ও চাল নিয়ে এসেছি। কিন্তু তারপরও অর্ধেকের বেশি মানুষ পণ্য পাবে না। কারণ এর চাহিদার কোনো শেষ নেই। রাত বারোটা পর্যন্তও যদি আমরা বিক্রি করি তখনো পণ্য নিতে আসবে মানুষ। কারণ এখানে যেই দামে পণ্য পাবে তা বাজারে পাবে না। কিন্তু জোগান সীমিত হওয়ায় আমাদের কিছু করার থাকে না। যতটুকু পাই ততটুকুই মানুষের মাঝে সুলভ মূল্যে বিতরণ করি। যতক্ষণ আমাদের মাল থাকবে ততক্ষণ আমরা বিতরণ করবো।

এদিকে একই দিনে মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী এলাকায় ওএমএস-এর ট্রাক সেলের আওতায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কম দামে চাল ও আটা বিক্রি করা হয়। সেখানে গিয়েও দেখা যায় চাহিদার তুলনায় ক্রেতা বেশি। ১৫০ টাকায় ৫ কেজি চাল ও ১৩০ টাকায় ৫ কেজি আটা নিতে ভিড় করেছেন অসংখ্য মানুষ। আটা-চাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ট্রাক সেলের দায়িত্বে থাকারা। ওএমএস-এর লাইনে দাঁড়ানো আঁখি আক্তার নামে বুদ্ধিজীবী এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ৩৮০ টাকা প্যাকেজে এখানে আমরা একেক জন সর্বোচ্চ ৫ কেজি আটা এবং ৫ কেজি চাল কিনতে পারি। বাজার থেকে অনেক কমে পাওয়া যায়- তাই এখানে আসা। কিন্তু যত মানুষ এখানে আসে তারচেয়ে পণ্য খুব কম থাকে। আজকে কিছু না পেলে আবার তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। তাই চেষ্টা করছি- যেভাবেই হোক না কেন ৫ কেজি চাল নিতেই হবে। তা না হলে না খেয়ে থাকতে হবে।

এলাকাটির ওএমএস-এর ট্রাক সেলের দায়িত্বে থাকা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক মো. নান্নু মিয়া বলেন, এই এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি। তাই আমরা এখানে সপ্তাহে তিন দিন আসি। আজকে রায়েরবাজার বধ্যভূমির সামনে ১ টন চাল ও ২ টন আটা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পণ্যের জোগানের তুলনায় মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তাই সকলকে পণ্য দেয়া সম্ভব হয় না। যতক্ষণ আমাদের মাল থাকে ততক্ষণ আমাদের লোক দিতে থাকবে। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর, আদাবর, তেজগাঁও এলাকা মিলে মোট ২৩টি স্থানে ওএমএস-এর পণ্য সুলভ মূল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে তেজগাঁও রেলগেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক থেকে টিসিবি’র পণ্য নিতে আসা শিল্পী বেগম বলেন, সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গত দুই/তিন দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য নিতে পারিনি। যারা নিয়েছেন অনেকে তিন চারবার করে এসে নিয়ে গেছেন। সাফিয়া বেগম নামে ৭০ বছর বয়সী এক নারী এসেছেন টিসিবি’র পণ্য নিতে। তিনি বলেন, গত দুই দিন আমি এসে কিছুই পাইনি। সকাল থেকে বসে থেকে সন্ধ্যায় খালি হাতে ফিরে গিয়েছি। আগে অন্যজন দিতেন তিনি বেশির ভাগ সময়েই তার পরিচিত মানুষদের দেখে দেখে দিতেন বলেও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে নাই। একা মানুষ আমি। কম দাম হওয়ায় এগুলো নিতে আসি কষ্ট করে। দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, তাই হাতে সিরিয়াল নাম্বার লিখে দিচ্ছেন। পাশে বসে রয়েছি, সিরিয়াল কখন আসবে জানি না। হাতে সিরিয়াল লিখে দেয়ার বিষয়ে টিসিবি পণ্য বিতরণকারী ওয়ালিদ বলেন, লাইনে দাঁড় করিয়ে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয় এজন্য সিরিয়াল নাম্বার হাতের উপরে লিখে দিয়েছি।

এসব বিষয়ে টিসিবি’র মুখপাত্র মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ট্রাক সেলে পণ্য বিক্রিতে নানা রকম ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার কথা আমরাও শুনেছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আমরা চেষ্টা করছি। খাদ্য অধিদপ্তর থেকে চাল সরবরাহ না করায়, আমরা চাল দিতে পারছি না বলেও জানান তিনি। 

mzamin

Thursday, November 28, 2024

মালয়েশিয়ায় নার্স সংকট: যেভাবে খুলতে পারে রেমিটেন্সের নতুন দুয়ার by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়ায় দেখা দিয়েছে নার্স সংকট। এ সংকট আরও প্রকট হতে পারে যদি দেশটির নার্সদের প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত আরো তিন ঘণ্টা কাজ করতে হয়।

দেশটির ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ নার্সেস (আইসিএন) বলছে, সিভিল সার্ভিস রিমুনারেশন সিস্টেমের অধীনে একটি নতুন নির্দেশনার এসেছে, যেখানে ওয়ার্ড নার্সদের সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টার পরিবর্তে ৪৫ ঘণ্টা কাজ করতে বলা হয়েছে। দেশটিতে এই নিয়ম ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

এই পদক্ষেপটিকে একটি স্বল্পমেয়াদি দ্রুত সমাধান হলেও আইসিএন-এর সিইও হাওয়ার্ড ক্যাটন বলছেন যে, পদক্ষেপটি নার্সদের শারীরিক এবং মানসিকভাবে আরও চাপ বাড়িয়ে দেবে, যা আরও বেশি নার্স হারানোর কারণ হতে পারে।

এদিকে দেশটির ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, মালয়েশিয়া গুরুতর নার্স সংকটের মুখোমুখি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আরও প্রকট করে তুলছে। এর কারণ হিসেবে জনপ্রিয় এ গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার বৃদ্ধি এবং ব্রেন ড্রেন সমস্যা।

ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে আরো জানিয়েছে, গত মে মাসে, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী জুলকেফলি আহমাদ বলেছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে নার্সিং কর্মী ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৬০% ছাড়িয়ে যাবে।

কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় নার্স সংকটের এ সুযোগ বাংলাদেশ নিতে পারে কি না? এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিলো মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার, মো. শামীম আহসান-এর কাছে, তিনি এ সম্পর্কে দৈনিক মানবজমিনের মালয়েশিয়া করেসপন্ডেন্ট আরিফুল ইসলামকে বলেন;

"নীতিগতভাবে, আমরা মালয়েশিয়ায় দক্ষ কর্মী ও প্রফেশনালদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেই। মানব সম্পদের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের শুধু শ্রমিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিবর্তনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে নার্সিং একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও, কেয়ার-গিভারের চাহিদা সম্পর্কে আমরা শুনেছি। অন্যান্য খাতগুলোর পাশাপাশি আমরা এই খাতগুলো নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালাচ্ছি। তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই খাতগুলোতে পেশাদারিত্ব সম্পর্কে আমাদের আরো আত্মবিশ্বাসী হতে হবে, কারণ আমাদের দেশের অধিকাংশ নার্সদের রয়েছে পেশাদারিত্বের অভাব, ইংরেজিতে দুর্বলতা, সাথে লোকাল ভাষার সাথে সম্পূর্ণ অপরিচিতি। যার ফলে, কিছু নিয়োগদাতা অন্য দেশ থেকে কর্মী সংগ্রহ করেছে।"

এদিকে মালয়েশিয়াতে ঘুরতে আসা অনেক ইউরোপীয় বিদেশিরা বলেছেন যে, তাদের দেশে নার্সরা তাদের রোগীদের ভাই, বোন ও মায়ের মতো যত্ন করেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। তবে আমাদের নার্সদের এখনও এই ধরনের নোংরা কাজ, মানবিকতা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি, পেশাদার মানসিকতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশি একাডেমিসিয়ান, মেডিকেল মাইক্রোবায়োলোজিস্ট, মেডিকেল সায়েন্টিস্ট এবং যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশপিডিয়া কর্তৃক প্রকাশিত ‘সাকসেসফুল পিপল্ ইন মালয়েশিয়া’ নামক বইয়ে স্থান পাওয়া বাংলাদেশি, বর্তমানে মালয়েশিয়ার পারদানা ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েট স্কুল অফ মেডিসিন-এর মেডিকেল সায়েন্টিস্ট ড. নাজমুল হাসান মাজিজ এ সম্পর্কে দৈনিক মানবজমিনকে জানিয়েছেন-

“মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি নতুন পলিসি করে, সার্কুলার দিয়ে বিদেশ থেকে নার্স নেওয়ার ঘোষণা দেয় তখন সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে নার্স নিয়ে আসা সম্ভব। যদিও প্রাইভেট সেক্টরে এখনো নার্স নিয়ে আসা সম্ভব তবে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের ভিসা জটিলতা এবং আমাদের দেশের নার্সদের ভাষা জটিলতার কারণে তা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।”

স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপত্তার বিষয়টিকে খুব সতর্কতার সাথে গুরুত্ব দিতে হয়। এখানে ভুলের পরিণতি খুব ভয়াবহ। নার্সরা ক্লান্ত হলে সেবার মান ও কার্যকারিতা কমে যায়। যদি একজন নার্স ভুল করে, তবে তার পরিণতি ভুল নম্বরে ডায়াল করার মতো না যে, কেটে দিয়ে সঠিক নাম্বারে ডায়াল করলাম। এটা জীবন সম্পর্কিত বিষয়, যদি তা পেশাদারিত্বের সাথে নিতে পারা যায়, তবেই না মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি নার্স নিয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ডা. শংকর চন্দ্র পোদ্দারের সাথে। যিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, “মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশি নার্স নিয়ে আসার ব্যাপারে আমি প্রথম কাজ শুরু করি কিন্তু আমাদের দেশের নার্সদের রয়েছে পেশাদারিত্বের অভাব, ইংরেজিতে দুর্বলতা এবং লোকাল (মালয়) ভাষা না শেখার প্রবণতা।

ভাষাগত জ্ঞান না থাকার ফলে ইমার্জেন্সি রোগীর চিকিৎসায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। রোগীর অবস্থা সঠিকভাবে চিকিৎসককে জানানো কঠিন হয়ে যায়, যা সঠিক চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটায়। ভুল বোঝাবুঝি বা অপর্যাপ্ত তথ্য প্রদান রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ব্যাঘাত ঘটে, যা কখনো কখনো রোগীর জীবনকে সংকটাপন্ন করে তোলে। এই সমস্যাগুলো এড়াতে ভাষার প্রাথমিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ থেকে নার্স নিয়ে আসার সঙ্কটের সমাধান নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম, বাংলা প্রেসক্লাব মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট, দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভির মালয়েশিয়া প্রতিনিধি, আহমাদুল কবিরকে, তিনি জানিয়েছেন

আমাদের দেশের নার্সদের পেশাদারিত্ব মনোভাবের পরিচয় দিতে হবে। কাটাতে হবে ইংরেজিতে দুর্বলতা, সাথে মালয় ভাষা অনর্গল বলতে শিখতে হবে কারণ মালয়েশিয়াতে একজন নার্সকে সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তারদের তত্ত্ববধানে থাকতে হয়। আর এর জন্য প্রয়োজন আমাদের দেশে প্রফেশনাল নার্স ইনস্টিটিউট এবং ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার গড়ে তোলার। যা মালয়েশিয়া তথা বিশ্বের স্বাস্থ্য খাতের পলিসিগত বিষয়কে প্রভাবিত করতে পারে।

যদিও মালয়েশিয়া সকল ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর ব্যবহার নিয়ে ভাবছে, তবে সময়ের প্রয়োজনে স্বাস্থ্যসেবায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর ব্যবহারের এক প্রশ্নে ক্যাটন বলছিলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নার্সদের বিকল্প হতে পারবে না, কারণ রোগীরা স্বাস্থ্য সমস্যার ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পছন্দ করে। আমরা সেই মানবিক যোগাযোগ চাই। এটি কেবল আমাদের শারীরিক প্রয়োজন নয়, আমাদের মানসিক প্রয়োজনও মেটায়। যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রোবট কখনোই তা বিকল্প হতে পারবে না।

সে হিসেবে আমাদের দেশের নার্সদের ভাষাগত জ্ঞান এবং পেশাদারিত্বের সকল স্তরে উন্নীত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়োগদাতাদের সকল শর্ত মেনে নার্সদের বৈশ্বিকভাবে তৈরি করতে এখন থেকেই সঠিক পদক্ষেপ, পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন করতে পারলেই খুব দ্রুতই খুলতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা পৃথিবীর অন্যতম আধুনিক স্থাপত্য শিল্পের দেশ মালয়েশিয়ার আরেক নতুন দুয়ার।

mzamin
প্রতীকী ছবি


Friday, November 8, 2024

প্ল্যান্টেশন সেক্টরে মাত্র ৯০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া by আরিফুল ইসলাম

আজ হোম মিনিস্টার দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসিশন ইসমাইল জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ডিসেম্বরের মধ্যে ২৫ লাখ কর্মী নিয়োগের সীমা অনুযায়ী হোম মিনিস্ট্রি (কেডিএন) নতুন বিদেশি কর্মী কোটাগুলি স্থগিত করেছে।

তিনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ২৪.১ লাখ নিবন্ধিত বিদেশি কর্মী রয়েছে, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত সীমা ছুঁতে প্রায় ৯০,০০০ এর মতো কোটা খালি রাখছে।

দেশটির মালয় মেইল জানিয়েছে "এই সীমা দেশের মোট কর্মী সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের উপর নির্ভর করে, যা অর্থ মন্ত্রণালয় দ্বারা নির্ধারিত। মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের সংখ্যা ২৫ লাখের বেশি হওয়া উচিত নয়। বর্তমানে এই সীমার নিচে মাত্র ১ লাখ অবশিষ্ট থাকায়, কেডিএন সেপ্টেম্বরে নতুন কোটাগুলি ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে," তিনি কেডিএন এর টাউন হল ডায়লগ সেশনে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয় সেপ্টেম্বর থেকে নতুন আবেদনগুলি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং কৃষি, বাগান, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা এই পাঁচটি খাতে চাহিদা পুনর্মূল্যায়নের জন্য ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

যাইহোক, তিনি উল্লেখ করেন যে এই পাঁচটি খাতের মধ্যে কৃষি ও বাগান খাতের শ্রমিক সংকট রয়েছে।

"স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও, এই খাতগুলিতে শ্রমিক সংকট সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে," তিনি আরও যোগ করেন।

প্ল্যান্টেশন ও কমোডিটি মন্ত্রী দাতুক সেরি জোহারি আবদুল গনি আগেই এই খাতে শ্রমিক আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, যেখানে এখনো প্রয়োজনীয় কর্মী সংখ্যা পূরণ হয়নি।

তিনি আরও জানান যে, কেডিএন এবং মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে আরও আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলি শ্রমিকের চাহিদা যাচাই করতে পারে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে পাম তেল ও রাবার শিল্পে কোম্পানিগুলির প্রয়োজনীয় কর্মী সংখ্যা নিশ্চিত করার জন্য সংস্থাগুলি প্রমাণ দেবে, তারপর নতুন অনুমোদন দেয়া হবে।

সাইফুদ্দিন আরও জানান, প্রয়োজন হলে অবশিষ্ট ১ লাখের কিছু অংশ যা ইতিমধ্যে অব্যবহৃত আবেদন বা পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে।

mzamin


Monday, October 28, 2024

দুর্নীতির অভিযোগে জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক by আরিফুল ইসলাম

দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিরলভাবে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের ১এমডিবি অর্থ কেলেঙ্কারির মামলায় জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

দেশটির সরকারি নিউজ এজেন্সি বারনামা সহ প্রায় সবকটি গণমাধ্যম এবং রয়টার্স সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অর্থ সরানোর ঘটনায় নাজিব বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, তহবিল থেকে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না।

গত বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের আদালত প্রাঙ্গণে তার পক্ষে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন তার ছেলে মোহাম্মদ নিজার। চিঠিতে ৭১ বছর বয়সী নাজিব রাজাক বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসাবে আমার তত্ত্বাবধানে মালয়েশিয়ার প্রধান উন্নয়ন তহবিল ওয়ানএমডিবির বিপর্যয় ঘটেছে জেনে প্রতিদিন আমার কষ্ট হয়। এ জন্য আমি মালয়েশিয়ার জনগণের কাছে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইছি। তিনি আরও বলেন, তিনি যে সৌদি আরব থেকে তহবিল পেয়েছিলেন তা ছিলো রাজনৈতিক অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত। যদিও পেট্রোসৌদির দুই কর্মকর্তা সুইস আদালতে ১এমডিবি তহবিল আত্মসাতের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং পরে তারা তাদের অপরাধ অস্বীকার করেছেন।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন নাজিব ১এমডিবি নামে একটি তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই তহবিলের উচ্চ-পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং তাদের সহযোগীরা প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা অন্তত ছয়টি দেশে দুর্নীতির দায়ে তদন্তের মুখে পড়ে। পরে বিশ্বাস ভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

২০২২ সালে মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ আদালত নাজিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং সাবেক ১এমডিবি ইউনিট এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল থেকে অবৈধভাবে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং এবং ২১ কোটি রিংগিত জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার প্রাক্তন রাজার নেতৃত্বে এক ক্ষমা বোর্ড তার শাস্তি অর্ধেক করে দেওয়া হলে সম্প্রতি সে ক্ষমা জাতির কাছে নি:শর্তভাবে ক্ষমা চাইলে তার ক্ষমা চাওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

এদিকে নাজিব আরও কয়েকটি দুর্নীতির মামলার মুখোমুখি আছেন। গত পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া ১এমডিবির দুর্নীতি মামলায় নাজিবকে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে হবে কিনা তা আগামী ৩০ অক্টোবর, বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কুয়ালালামপুরের হাইকোর্টের রায়ের জন্য।

mzamin

Wednesday, October 23, 2024

মালয়েশিয়ার ন্যানো স্যাটেলাইট আবিষ্কার ও গবেষণায় বাংলাদেশি ড. তারিকুল ইসলাম by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়ায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণ প্রদর্শনী ২০২৪ এর অন্যতম সেরা আকর্ষণ ছিলো বাংলাদেশি প্রবাসী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের গবেষণা প্রকল্প 'ন্যানো স্যাটেলাইট কমপ্যাক্ট সি-ব্যান্ড প্যাচ অ্যান্টেনা'। যা মালয়েশিয়ার ন্যানো স্যাটেলাইট পরিচালনায় এই প্রথম কোনো বাংলাদেশির মাইলফলক অর্জন।

মালয়শিয়ার খ্যাতনামা উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) সম্প্রতি এ গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। ইউকেএমের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (পরিকল্পনা ও কর্পোরেট উন্নয়ন), অধ্যাপক দাতো ড. রোসলি বিন রাজিকান এর সভাপতিত্বে টেকনোপলিস সাইবার একাডেমি (এএসটি) এর অডিটোরিয়াম হলে এ প্রদর্শনীর পর্দা উন্মোচিত হয়।

এ বছরের আলোচ্য বিষয় ছিলো 'টেকনোলজির কমার্শিয়ালাইজেশন এবং উদ্ভাবন টেকসই গবেষণা।' এ প্রোগ্রামে তিনি ইউকেএম এর ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির সেরা ১০টি বাণিজ্যিক পণ্য উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীতে অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সেরা গবেষণা প্রজেক্ট গুলোর বাণিজ্যিকীকরণ, ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশান এবং গবেষণা পত্র শীর্ষক সেমিনার আয়োজিত হয়। প্রদর্শনীর সেরা ১০ বাণিজ্যিক প্রজেক্টে স্থান পাওয়া অন্যতম আকর্ষণীয় গবেষণা প্রজেক্ট হলো ন্যানো স্যাটেলাইটের জন্য তৈরি করা কমপ্যাক্ট প্যাচ অ্যান্টেনা যা সি-ব্যান্ডে পরিচালিত হয়।

এই প্যাচ অ্যান্টেনাটি জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি কর্তৃক তৈরি করা একটি কিউবস্যাটেলাইটে (ন্যানো স্যাটেলাইট) ইনস্টল করা হয়েছে, যা গত ২৪ মার্চ ২০২২ তারিখে রাত ৯:১০ (জেএসটি) এ আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (আইএসএস) থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। স্যাটেলাইট মিশনে সি-ব্যান্ড কমিউনিকেশন বোর্ড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ২০ এমবিপিএস উচ্চ গতির ক্ষমতা সম্পন্ন ডেটা ডাউনলিংক পাওয়া যায়। উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এই সি-ব্যান্ড এন্টেনা, মোবাইল গ্রাউন্ড মিশনে ওয়ান (১) এমবিপিএস পর্যন্ত ডাউনলিংক স্পিড প্রদর্শন করে যা মূল গ্রাউন্ড স্টেশনে একই ফ্রিকোয়েন্সিতে ব্যবহার করা হয়।

প্রস্তাবিত উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মাইক্রোস্ট্রিপ অ্যান্টেনা সিস্টেমে কোএক্সিয়াল ফিড টেকনিক ব্যবহার করা হয়। এর গঠনগত আকৃতিতে একটি অপ্রতিসম বর্গাকার প্যাচ এবং একটি প্যাসিভ আয়তকার স্ট্রিপ রয়েছে। এটি সহজেই কিউবস্যাটেলাইটের যে কোনো আকারের ধাতব বা অধাতব পৃষ্ঠে সংযুক্ত করা সম্ভব। এটিই বিশ্বের প্রথম সি-ব্যান্ড, উচ্চ গেইন, কমপ্যাক্ট, রাইটহ্যান্ড সার্কুলার পোলারাইজড ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টেনা যা সরাসরি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি  থেকে কমার্শিয়াল স্যাটেলাইট পরিচালনায় ব্যবহার করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার গবেষণা এবং আবিষ্কারের দিক থেকে অন্যতম সেরা মাইলফলক অর্জন করেছে এই কমপ্যাক্ট সি-ব্যান্ড প্যাচ অ্যান্টেনা ।

সেরা এই প্রজেক্টটির পরিচালনায় ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়শিয়ার অন্যতম শীর্ষ গবেষক এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম যিনি বর্তমানে ইউকেএম-এর ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক এবং সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। একই সাথে তিনি জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও কর্মরত আছেন। সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী, তিনি নেটওয়ার্কিং এবং টেলিকমিউনিকেশন’ শাখায় বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীদের একজন।

এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সাল থেকে এই ধরনের বিজ্ঞানীদের ক্যারিয়ার লং এবং সিংগেল ইয়ারের ক্যাটাগরিতে তালিকা প্রকাশ করে থাক। ২টি ক্যাটাগরিতেই ড. ইসলামের নাম একাধারে ২০২০ সাল থেকে বর্তমান অবধি নথিভুক্ত হয়ে আসছে। প্রতি বছর আগের বছরের অর্জনের ভিত্তিতে র‌্যাংক আপডেট করা হয়। এই র‌্যাংকিংটি সাইটেশন মেট্রিক্স যেমন: এইচ-ইনডেক্স, কো অথর সংশোধিত এইচএম-ইনডেক্স, সাইটেশন এবং সি -স্কোরের উপর ভিত্তি করে করা হয়ে থাকে যা স্কোপাস ডেটাবেস থেকে সংগৃহীত হয়ে থাকে।

অধ্যাপক তারিকুল ইসলামের অর্জনের ঝুলিতে আরো রয়েছে প্রায় ৬০০টি গবেষণা প্রবন্ধ, ২৫০ কনফারেন্স আর্টিকেল, গবেষণামূলক বই, যাতে অ্যান্টেনা, মেটাম্যাটেরিয়াল এবং মাইক্রোওয়েভ ইমেজিং-এর মতো বিষয় গুলো  নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ড. ইসলামের গবেষণা প্রোটোটাইপ দিয়ে ২৫টি পেটেন্টের আবেদন দাখিল করা আছে এবং ইতোমধ্যে ৫টি পেটেন্ট এর আবেদন গৃহীত হয়েছে।

বর্তমানে তিনি একটি গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা তার তত্ত্বাবধানে গবেষণা করছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি গবেষকও রয়েছেন। ইতিমধ্যে তার তত্ত্বাবধানে ৩৫ জন ছাত্র পিএইচডি ডিগ্রী এবং ২৫ জন ছাত্র এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেছেন। এছাড়াও, ১০ জনেরও বেশি পোস্টডক্টরাল এবং ভিজিটিং গবেষকগণ তার তত্ত্বাবধানে গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।

শুধু তাই নয়, ড. ইসলাম একজন চার্টার্ড প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার (সিইঞ্জ), আইইইই এর সিনিয়র সদস্য, যুক্তরাজ্যের আইইটি-এর ফেলো, এবং জাপানের আইএইআইসিএই-এর সিনিয়র সদস্য। তার গুগল স্কলার সাইটেশন সংখ্যা  প্রায় ২৭,০০০ এবং তার এইচ-ইনডেক্স ৬৯।

এছাড়াও ড. ইসলামের তত্ত্বাবধানে একটি উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন আধুনিক মানের অ্যান্টেনা ল্যাবরেটরি (স্টেট অফ দ্যা আর্ট) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা ৪০ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি পর্যন্ত অ্যান্টেনা ডিজাইন এবং টেস্টিং সুবিধা প্রদান করে থাকে। ইতিপূর্বে তিনি আইইটি ইলেকট্রনিক্স লেটারের সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, বর্তমানে তিনি সেন্সরস এবং ন্যানোম্যাটেরিয়ালস জার্নাল এর গেস্ট সম্পাদক, আইইইই এক্সেস-এর সহযোগী সম্পাদক, এবং স্প্রিঙ্গার নেচার এর 'সাইন্টিফিক রিপোর্টস' জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন।
mzamin

Sunday, October 20, 2024

আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফরের প্রতিফলন: বাংলাদেশি কর্মীদের ইপিএফ বাধ্যতামূলক করছে মালয়েশিয়া by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ সহ সমস্ত বিদেশি কর্মীদের জন্য এমপ্লয়ীজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের বরাতে দেশটির সরকারি নিউজ এজেন্সি বারনামা সহ দেশটির প্রায় সকল মিডিয়া জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান অনুসারে, জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য ছাড়াই সকল কর্মীকে ন্যায্য অধিকার প্রদানের জন্য মালয়েশিয়া সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত শুত্রুবার দেশটির সংসদ 'দেওয়ান রাকয়াতে' ২০২৫ সালের বাজেট পেশ করার সময় এই প্রস্তাব ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার এমন ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

অবসরকালীন সঞ্চয়কে উৎসাহিত করতে এবং অনানুষ্ঠানিক কর্মী ও অনিয়মিত আয়ের ব্যক্তিদের জন্য, আনোয়ার ইব্রাহিম, যিনি দেশটির অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ ঘোষণা করেছেন যে, এমপ্লয়ীজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) এর আওতায় রিটায়ারমেন্ট সেভিংস আই-সারাণ ম্যাচিং প্রণোদনা ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে, যা বার্ষিক সীমা হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০০ রিঙ্গিত থেকে সারাজীবনে সর্বোচ্চ ৫০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত থাকবে।

এছাড়া জনবান্ধব এ প্রধানমন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, 'আই-সুরি' প্রোগ্রামটি অর্থাৎ, গৃহিণী, বিধবা, একক মা এবং একক মহিলাসহ জাতীয় দারিদ্র্য ডেটা ব্যাংক 'ইকাছিহ'তে নিবন্ধিত মহিলাদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী এ সাবস্ক্রিপশন প্রোগ্রামটি সরকারি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের অবদানের ভিত্তিতে ম্যাচিং প্রণোদনার সাথে চালিয়ে যাওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা এজেন্ডা আরও জোরদার করা হবে যাতে বেশি সংখ্যক মানুষের অবসরকালীন সঞ্চয় এবং দুর্যোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। আত্ম-কর্মসংস্থান সামাজিক সুরক্ষা স্কিমটি কর্মচারীদের অবদানের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কভার করবে, যার জন্য ১০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তাছাড়া মালয়েশিয়া একটি বয়স্ক জাতির দিকে ধাবিত হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে আনোয়ার বলেন, এমপ্লয়ীজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) তাদের স্কিমগুলিকে পর্যালোচনা করছে যাতে সকল জেনারেশনের মধ্যে শক্তভাবে তা বণ্টন করা যায় এবং ইপিএফ সদস্যদের সঞ্চয়ের একটি অংশ সরাসরি তার পরিবারের সদস্যদের ইপিএফ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করার সুযোগ তৈরি করে দেবে।

উল্লেখ্য যে, গত ৪ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ সফরের সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ‘আমরা পুরো ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আমাদের শ্রমিক দরকার, তাদের আধুনিক দাস হিসেবে গণ্য করা যাবে না। তারা বাংলাদেশ বা অন্য যেখান থেকেই আসুক না কেন, আমি এখানকার মতো আগেও প্রকাশ্যে এ কথা বলেছি।’

mzamin

Friday, October 11, 2024

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের ইপোহ'র তেলুক ইন্তানের তামান লেজেন্ডার ফেজ থ্রি'র শেয়ার্ড হাউসের পেছনের জঙ্গল থেকে বাংলাদেশি এক নির্মাণ শ্রমিকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে দেশটির স্থানীয় থানা (বালাই) পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজন বাংলাদেশি শ্রমিককে আটক করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে নিহত ঐ বাংলাদেশি এবং হত্যার এ ঘটনায় আটক তিনজনের নাম ঠিকানা প্রকাশ করেনি দেশটির পুলিশ প্রশাসন।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেরাক পুলিশের প্রধান দাতুক আজিজি মাত আরিস দেশটির সরকারি নিউজ এজেন্সি বারনামা ও স্থানীয় নিউজ পোর্টাল দি ষ্টারকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার ভোর-সকাল সাড়ে ৫টার সময় ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশী এক নির্মাণ শ্রমিকের লাশের খবর পায়। পরে লোকালদের পক্ষ থেকে একটি ফোন কল পেলে লাশটি উদ্ধার করে তারা।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দেশটির পুলিশ গত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভিকটিমের তিন জন সঙ্গী নিখোঁজ থাকার খবরও দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তারা আরো জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি তার সহকর্মী বন্ধুদের সাথে গত রাত সাড়ে ৮টার সময় রাতের খাবার খেতে ও একসময় জামাতে নামাজ পড়তে দেখা গেছে তাদের। বৃহস্পতিবার পেরাক পুলিশ কন্টিনজেন্ট (আইপিকে) তাদের সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, পরিদর্শনে দেখা গেছে এই এলাকায় প্রায় ৩৪ জন বিদেশী পৃথক পৃথক ছোট ছোট রুমে বাস করতো।

তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত (৩২-৩৯) বছর বয়সী তিন বাংলাদেশির তথ্য প্রকাশ করেনি মালয়েশিয়া পুলিশ এবং ঘটনার উদ্দেশ্য শনাক্ত করতে তারা তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে তারা।

এদিকে, তেলুক ইন্তান ম্যাজিস্ট্রেট নাইদাতুল আথিরাহ আজমানের আদালত তিন বাংলাদেশিকে তাদের স্বদেশীকে হত্যার তদন্তে সহায়তা করার জন্য সাত দিনের (১৬ অক্টোবর পর্যন্ত) রিমান্ডে রাখার অনুমতি দিয়েছে।

mzamin


Monday, September 30, 2024

বাংলাদেশ সফরে আসছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পাকিস্তান থেকে ৬ ঘণ্টার সফরে বাংলাদেশ আসছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ৪ঠা অক্টোবর তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক, মাহবুব আলম শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমকে অগ্রিম উষ্ণ স্বাগতম জানাচ্ছি।

মোবাইল ফোনে মালয়েশিয়া বিএনপি’র সহ-সভাপতি মানবজমিনের মালয়েশিয়া প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, “মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন। ঠিক কবে এবং কী কী বিষয়ে আমাদের অন্তর্র্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলাপ হবে তা দুই একদিনের মধ্যে জানা যাবে।”
তবে আশা করা হচ্ছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের টানে উন্নয়ন কৌশলের অবস্থা আরও গভীর করবে এবং পারস্পরিক কল্যাণকর সহযোগিতা প্রসারিত করবে যা- মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ ও একটি অভিন্ন কল্যাণকর রাষ্ট্র নির্মাণে কাজ করতে চাইবে।
বাংলাদেশের পটপরিবর্তনের পর ১৪ই আগস্ট মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম খুব দ্রুত বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে ফোন করে এই ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছিল।
সে সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংখ্যালঘুসহ সকল বাংলাদেশির অধিকার রক্ষায় তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। ড. ইউনূস তাকে দুই দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে এমন সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
সে সময় আলাপকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক গভীর সন্তুষ্টির সঙ্গে স্মরণ করে বলেছিলেন, মালয়েশিয়া অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অংশীদার হতে প্রস্তুত। অধ্যাপক ড. ইউনূস মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ফোনের জন্য ধন্যবাদ ও আশা করে বলেছিলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় আরও কাজের সুযোগ পাবেন।
এর আগে, গত ১০ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধ্যাপক ড. ইউনূসের জন্য একটি উষ্ণ অভিনন্দন বার্তা প্রকাশ করেছিলেন। ওই বার্তায় তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর কবিতা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে দেশের তরুণদের ভিশন এবং অদম্য শক্তির প্রশংসাও করেছিলেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে জানতে মালেশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য যে, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়ার আল-বুখারি ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল শান্তি পদক বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূস-এর দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং বাংলাদেশের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী।

mzamin

Saturday, September 21, 2024

৩ ট্রিলিয়ন ডলার হালাল অর্থনীতির সুযোগ: মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক হালাল শোকেসে বাংলাদেশ by আরিফুল ইসলাম

আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের বৃহত্তম হালাল শোকেস হিসেবে পরিচিত মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক হালাল শোকেস এর ২০তম আসরে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।

কুয়ালালামপুরে অবস্থিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এন্ড এক্সিবিশন সেন্টার (মিটেক) -এ ১৭-২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ চার দিনব্যাপী চলা এ আসরে খাদ্য ও পানীয়, মডেস্ট ফ্যাশন, ই-কর্মাস, ইসলামিক ফিন্যান্স ও ফিনটেকসহ মোট ১৫টি ক্লাস্টারে ১০০০ এর অধিক বুথের মাধ্যমে বিশ্বের ৪৫টি দেশ এই মেলায় অংশগ্রহণ করে।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের হাইকমিশনার জানান, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে হাইকমিশন বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণসহ অন্যান্য পরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, হালাল পণ্যের বাণিজ্য একটি ক্রমবর্ধমান সেক্টর। সাম্প্রতিক সময়ে হালাল পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় হালাল বাণিজ্যের পরিমাণও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৩য় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও হালাল পণ্য বাণিজ্যে অনেক পিছিয়ে রয়েছে এবং  মালয়েশিয়া হালাল বাণিজ্যে বিগত ১০ বছর ধরে শীর্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। বাংলাদেশের হালাল বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সাথে হাইকমিশন কাজ করছে। এছাড়াও বাংলাদেশে যৌথ প্রচেষ্টা/প্রকল্প গ্রহণপূর্বক হালাল করিডোর/হালাল হাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির সুযোগ গ্রহণের জন্য  মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে হালাল সেক্টরের উন্নয়ন তথা মালয়েশিয়াসহ আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান যাতে এই ধরনের মেলায় অংশগ্রহণ করতে পারে সে বিষয়ে হাইকমিশনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

মালয়েশিয়ার মিনিস্ট্রি অব ইনভেস্টমেন্ট, ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং মালয়েশিয়া এক্সটারনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (মেট্রেড) এই মেলার আয়োজন করে। এই মেলায় মালয়েশিয়ার হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন বারাহাদ (এইচডিসি) জিইসি ডেভেলপমেন্ট অব ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট অফ মালয়েশিয়া (জেএকেআইএম) সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে।

এই মেলায় বাংলাদেশের ৫ টি শিল্প প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে । খাদ্য ও পানীয়, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ব্যবসায়িক চেম্বার এসব ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে নওরিস ফুডস লিমিটেড, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, প্রাণ ফুডস, কে.এম.আর ক্রাফ্ট (লেদার গুডস), এবং মালয়েশিয়া -বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ মেলায় অংশগ্রহণ করে। মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে নেটওয়ার্কিং, বিজনেস ম্যাচমেকিংসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪) মেলার সমাপনী দিনে মেলা ও বাংলাদেশি স্টল পরিদর্শন করেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান। তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে মালয়েশিয়ায় তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন পরামর্শ দেন এবং হাইকমিশনের পক্ষ হতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় মালয়েশিয়া এক্সটারনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (মেট্রেড) এর চেয়ারম্যান দাতো সেরি রিজাল মেরিকান নেইনা মেরিকান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতুক মোহাম্মদ মুস্তফা আব্দুল আজিজ, ইভেন্ট প্রতিষ্ঠান কিউবি ইন্টিগ্রেটেড মালয়েশিয়া 'র পরিচালক (বিজনেস ইভেন্টস) ইউনিস লতিফ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (কনস্যুলার) জনাব মোঃ মোরশেদ আলম, প্রথম সচিব (প্রেস) সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ, প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার ঘোষসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০তম মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক হালাল শোকেস এবং দ্য গ্লোবাল হালাল সামিট (জি এইচএ এস) ২০২৪ উদ্বোধন করেন। এ সময় উপ-প্রধানমন্ত্রী ড. আহমেদ জাহিদ হামিদি, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

Wednesday, September 18, 2024

মালয়েশিয়ায় কলিং ভিসা পুনরায় চালু by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়ায় কলিং ভিসা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। দেশটিতে প্লান্টেশন সেক্টরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে 'চাহিদাপত্র' সত্যায়ন করার ঘোষণার মধ্যে দিয়ে বন্ধ থাকা কলিং ভিসা পুনরায় চালু করলো আবার।

মঙ্গলবার, (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রি.) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্লান্টেশন সেক্টরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে 'চাহিদাপত্র' সত্যায়ন করার জন্য এমন তথ্য জানিয়েছে মালেশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। যার স্মারক নং- ৪৯.০১.৬০০১.০০৬.২০.০৮৫.২০২২.৫৫৩

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, মালয়েশিয়া সরকার নতুন করে তাদের প্ল্যান্টেশন সেক্টরে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন করা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্ল্যান্টেশন সেক্টরের চাহিদাপত্র ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সত্যায়ন করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়নের জন্য উল্লেখিত বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া তথ্যাদি বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়নের জন্য নিম্নোক্ত প্রায় ১৫ রকমের তথ্যাদি বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে:

এর মধ্যে কোম্পানির অনুমোদনপত্র (কমপক্ষে কোম্পানির একজন কর্মচারী হতে হবে ম্যানেজার পর্যায়ে), সত্যায়ন ফি’র মূল ব্যাংক স্লিপ, শ্রমিকদের সবশেষ বেতন স্লিপ (৪/৫ জন শ্রমিকের নমুনা বেতন স্লিপ), কোম্পানির পটভূমি তথ্যের একটি প্রোফাইল যেখানে উল্লেখ থাকবে বিদ্যমান শ্রমিকের সংখ্যা (দেশি ও বিদেশি), শ্রমিকদের ২/৩ জনের ফোন নম্বর, কোম্পানির ব্যাংক স্টেটমেন্ট (বিগত ৩ মাসের) যেখানে ১০০ শ্রমিকের জন্য ন্যূনতম ব্যালেন্স থাকতে হবে ২ লাখ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত।

এছাড়াও বিদেশি শ্রমিক ক্ষতিপূরণ প্রকল্পের সকসো নথি (বিদ্যমান কর্মীদের নমুনা নথি), বিদেশি কর্মীদের হাসপাতালে ভর্তি এবং সার্জিকা ১ স্কিম (এসপিআইকেপিএ) (এসকেএইচপিপিএ)-এর নথি (বিদ্যমান শ্রমিকদের নমুনা নথি), বিদ্যমান শ্রমিকদের আবাসন সম্পর্কে জেটিকে অনুমোদিত সার্টিফিকেট, জমির মালিকানার দলিল/জমি ইজারা দলিল, প্রতিশ্রুতি/গ্যারান্টি পত্র, পরিচালকের স্বাক্ষরিত ডিমান্ড লেটার, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, কর্মসংস্থান চুক্তি, রিক্রুটিং এজেন্ট (বিআরএ) এবং কোম্পানির মধ্যে চুক্তি, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক কোটা অনুমোদন পত্রসহ সকল নথির ২ সেট তৈরি করে ১ সেট মূল এবং ১ সেট অনুলিপি হিসেবে দিতে হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী স্টিভেন সিমের সঙ্গে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল তাকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেও সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার পর এমন সিদ্ধান্তে উৎফুল্ল মালয়েশিয়া প্রবাসীরা।

mzamin

Saturday, September 7, 2024

মালয়েশিয়ায় কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের অভিযোগে ২২২ বাংলাদেশি আটক by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়ায় কোম্পানি ও কাজ চেঞ্জ করার অভিযোগে ২২২ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির কেদাহ রাজ্যের কুলিমে বিদেশি কর্মীর কর্ম পরিবর্তনের পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান একটি এজেন্সি অফিসে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে মোট ২২৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে।

কেদাহ জিআইএম এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিটের ইমিগ্রেশন অফিসারদের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশি ছাড়াও ৫ চীনা এবং একজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

দেশটির কেদাহ ইমিগ্রেশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে, ইমিগ্রেশনের ডিরেক্টর মোহাম্মদ রিদজুয়ান মোহাম্মাদ জেইন বলেন, অভিযানের সময় দেখাগেছে জড়িত এজেন্সিগুলো একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে কর্মিদের সব সেক্টরে কোম্পানি চেঞ্জ করা ও ভালো কাজের প্রলোভনে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিলো।

ইমিগ্রেশনের উক্ত বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে যে, নিজের কোম্পানির অনুমতি ছাড়া কোনো এজেন্সির প্রলোভনে কর্মসংস্থান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে। এছাড়া এজেন্সিটি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত কি না তা নিশ্চিত হয়ে সেখানে যেতে প্রবাসী কর্মীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩, ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩, পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৬৬ এবং অ্যান্টি-ট্রাফিকিং ইন পারসনস এবং অ্যান্টি-হিউম্যান স্মাগলিং অ্যাক্ট ২০০৭ অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আটকদের ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আলোর সেতার ইমিগ্রেশন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

Friday, January 3, 2014

অবরোধে কুতুবদিয়ায় উৎপাদিত লবন অবিক্রিত পড়ে আছে by আরিফুল ইসলাম

হরতাল-অবরোধের কারণে নতুন অর্থ বছরের কুতুবদিয়ায়  উৎপাদিত প্রায় ১০ লক্ষাধিক মন লবন বিক্রি বন্ধ হয়ে আছে। দ্বীপ উপজেলায় হরতাল-অবরোধ পালিত না হলেও নৌ-পরিবহন সম্যায় পড়েছে লবন ব্যবসায়িরা।
চট্টগ্রামে লবনের সরবরাহ চাহিদা না থাকায় চাষিরা মাঠেই জমা করছে নতুন উৎপাদিত লবন। গত ১ মাস ধরে লবন উঠতে শুরু হরলেও বেচা-বিক্রি নেই। চাষিরা জানান,উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে গত এক মাসেই অন্তত: ৫ লাখ মণ লবন উৎপাদন হয়েছে। এ ছাড়া বেশি দামের আশায় চাষিরা গত বছরের উৎপাদিত লবনের প্রায় ৫ লাখ মণ জমা রাখে মাঠের গর্তে। তবে এই আশায় গুড়েবালি পড়েছে। মাঠ পর্যায়ে লবনের দাম মাত্র ১০০ টাকা প্রতিমণ।

কৈয়ারবিল সিকদার পাড়ার হাজী আছাদ উল্লাহ খানের লবন শ্রমিক সামসুদ্দোহা বলেন, মাঠে লবনের দাম নেই। সরকারি নির্ধারিত প্রতিমণ ১৬০ টাকা থাকলেও হরতাল-অবরোধের ফলে মাঠের লবনের দাম মাত্র ১০০ টাকা। লবন ব্যবসায়িদের লাগিয়ত জমি না হলে ১২৫ টাকা দর উঠছে। সস্তা লবনের চাহিদাও নেই চট্টগ্রাম,ঢাকায়। যে কারণে মাঠে বাধ্য হয়েই গর্তে জমা করা হচ্ছে লবন। লেমশীখালীর লবন ব্যবসায়ি আব্দু রহিম বলেন, পরিবহন বিপর্যায়ে থাকায় ঢাকা,চট্টগ্রামের মিল গুলোতে লবন সরবরাহ বন্ধ। তার নিজের অধিনে নতুন লবন মাঠে পড়ে আছে প্রায় ৫ হাজার মণ। দাম না থাকা ও হরতাল-অবরোধের ফলে  লবন পরিবহন হচ্ছেনা। তিনি আরো জানান উপজেলায় অন্তত: শতাািধক লবন ব্যবসায়ি রয়েছে। সবারই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সে হিসেব অনুযায়ি নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ১০ লক্ষাধিক মণ লবন অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে কৃষকের মাঠেই। অনেকে শ্রমিকের বেতন দিতে পারছেনা লবনের দাম পড়ে যাওয়ায়। লবন উৎপাদনের শুরুতেই এমন দরপতন পরিস্থিতির শিকার হওয়ায় চাষিরা পড়েছে বিপাকে। তেমনি বিপাকে পড়েছে লবন ব্যবসায়িরা। নৌপথে অবরোধ থাকায় বোট মালিকগন অনিহা প্রকাশ করছেন লবন পরিবহনে। এ ভাবে লবন পরিবহন বাধা ও দরপতনে বিপর্যায়ে দিকে চলে যাচ্ছে দ্বীপাঞ্চলের লবন শিল্প।আগামিতে লবন চাষে অনিহাও প্রকাশ করেন অনেক চাষি।