Wednesday, April 6, 2011

পরিবার আমায় ডাকছে: কারস্টেন

ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ গ্যারি কারস্টেনের অবদান অনেক। গত তিন বছর ধরে প্রচণ্ড পরিশ্রম করেই তিনি দলকে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর সেই অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন শচীন টেন্ডুলকার ও যুবরাজ সিংয়ের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়েরা। শচীন টেন্ডুলকার তো একপ্রকার অনুরোধের সুরেই জানিয়েছে দিয়েছেন, কারস্টেন তাঁর কাজ চালিয়ে গেলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে খুশি হবেন।
একটি দেশকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ জেতানোর গর্ব, খেলোয়াড়দের অনুরোধ কোনো কিছুই অবশ্য কারস্টেনের প্রস্থান ঠেকিয়ে রাখতে পারছে না। কারণ, তিনি যে তাঁর পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি আর তোমাদের ছেড়ে থাকব না।’
ভারতীয় সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনুরোধ ছুঁয়ে গেছে কারস্টেনকেও। তিনি বলেছেন, ‘ব্যাপারটিতে আমি খুবই সম্মানিত বোধ করছি। এমন চমত্কার একটি দলকে ছেড়ে যেতে আমার খুবই কষ্ট হবে। কিন্তু, সত্যি বলতে কী, আমি নিরুপায়। পরিবারকে কথা দিয়ে ফেলেছি। আমাকে এখন তাদের কাছে ফিরে যেতে হবেই।’
কারস্টেন সবচেয়ে বেশি ভাবছেন তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে। সাত ও চার বছর বয়সী দুই ছেলের পাশে থাকাটা এ মুহূর্তে জরুরি বলেও মনস্থির করেছেন তিনি। ‘আমার একটি ছেলের বয়স সাত আরেকটির চার। এ সময় তাঁর মনে-প্রাণেই চাইবে, তাদের বাবাকে পাশে পেতে।’ বাবা কারস্টেনের অনুভূতি।
ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে তিনটি বছর কাটিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর দারুণ বলেই জানিয়েছেন কারস্টেন। সবচেয়ে বড় অনুভূতিটি বিশ্বকাপ জয়ের। অতুলনীয় এ অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে তিনি এখন চলে যাবেন নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায়।
‘গত তিন বছর ছিল আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। ভারতীয় দলের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত, একই সঙ্গে গর্বিত। বিশ্বের অন্যতম সব সেরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করতে পারার অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
শচীন টেন্ডুলকার ও যুবরাজ সিং ভারতীয় দলকে বিশ্বকাপ জয়ের উপযোগী করে গড়ে তুলতে তাঁর অবদানের দারুণ প্রশংসা করেছেন। শচীন বলেছেন, ‘গ্যারি প্রতিদিন ব্যাটসম্যানদের বল করত। এ সংখ্যা ২০০-৩০০ তো হবেই। সে ছিল দুর্দান্ত এক “বোলিং মেশিন।” ওকে আমরা খুবই মিস করব।’
যুবরাজ সিং গ্যারি কারস্টেনের অবদানকে ‘পিতৃতুল্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, ‘একজন বাবা যেমন তাঁর সন্তানের ভালো-মন্দের খোঁজ-খবর নেন, গ্যারি ঠিক তেমনই।’
ভারতের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও এ মুহূর্তে গ্যারি কারস্টেনকে খুব করে নিজেদের দলের কোচ করতে চাচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা। এর পাশাপাশি আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের কোচ হওয়ারও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।
এদিকে একটি বার্তা সংস্থা পরিবেশিত এক খবরে জানা গেছে, গ্যারি কারস্টেন অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি দলের কোচ হতে পারেন। তবে তা খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য।

সিলেটে ‘অর্থনৈতিক সুশাসন’ প্রকল্প

সিলেটে সামাজিক অগ্রগতি, সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও বেসরকারি খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করতে ‘অর্থনৈতিক সুশাসন’ নামে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে গতকাল সিলেট চেম্বারের প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং বাংলাদেশে এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রধান হাসান মজুমদার একটি সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন। এ সময় দক্ষিণ সুরমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা ইয়াসমিন, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইসমাইল হোসেন, আবদুল হান্নান চৌধুরী, সাবেক পরিচালক লায়েস উদ্দীন, হিজকিল গুলজার, উইমেন বিজনেস ফোরামের সভাপতি আনোয়ারা খাতুন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতওয়াছির আলী, বাংলাদেশ পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সভাপতি ফয়েজ রাজা চৌধুরী এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা জাফর ইকবাল ও সুপর্ণা হাসান উপস্থিত ছিলেন।

আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৬৩% কৃষিঋণ বিতরণ

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) যে পরিমাণ কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে, তা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৬৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ব্যাংকগুলো সামগ্রিকভাবে সাত হাজার ৯৯০ কোটি ২২ লাখ টাকা কৃষিঋণ হিসেবে বিতরণ করেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বিতরণকৃত কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল সাত হাজার ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে কৃষিঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ১০ শতাংশ।
এ থেকে প্রতীয়মান হয়, কৃষিঋণ বিতরণের গতি যথেষ্ট জোরালো নয়। আর অর্থবছরের আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার সাড়ে ৬৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ হওয়ায় বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বাকি চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার সাড়ে ৩৬ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে।
যেহেতু এবার কৃষিঋণ বিতরণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ৬১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সেহেতু বাকি চার মাসে চার হাজার ৬২৭ কোটি ১৮ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করতে হবে। বলা যায়, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় এক হাজার ১৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করতে হবে।
ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে ধীর গতি এবং কোনো ব্যাংক এক টাকাও কৃষিঋণ বিতরণ না করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে ১২টি ব্যাংকের প্রতিনিধিদের ডেকে দ্রুত কৃষিঋণ বিতরণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে ডিসেম্বর মাসে, যার পরিমাণ এক হাজার ৫০৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সবচেয়ে কম কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে আগস্ট মাসে, যার পরিমাণ ৬৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য অনেক দিন ধরে নানা ধরনের নির্দেশনা দিয়ে আসছে। কৃষকদের কাছে ব্যাংকিং সেবা সহজে পৌঁছে দিতে ৯০ লাখের বেশি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বকেয়া কৃষিঋণ আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৫৫৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে আদায়কৃত বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ৬৩৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বকেয়া কৃষিঋণ আদায় বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
এই সময়কালের মধ্যে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকার বকেয়া কৃষিঋণ আদায় করা হয়েছে। আর জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন ৬১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষিঋণ আদায় করা হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর প্রত্যাহারের দাবি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের নেতারা।
নেতারা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহূত ভাড়া বাড়ির ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, মেধা সম্পদের ওপর কর আরোপ করা কতটা যৌক্তিক তা বিবেচনার দাবি রাখে।
গতকাল রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত চলমান প্রাক-বাজেট আলোচনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠনের নেতারা এসব দাবি জানান।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সি এম শফি সামির নেতৃত্বে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব আলী মোল্লা মিয়া, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল কাসেম হায়দার, আহ্ছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলম প্রমুখ।
এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে সদস্য (আয়কর নীতি) আমিনুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
শফি সামি বলেন, অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই ভাড়া বাড়িতে আছে। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাড়ির ওপর থেকে মূসক প্রত্যাহার না করা হলে ক্রমশ উন্নয়নশীল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সমস্যা হয়ে যাবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের ওপর টিউশন ফি বাড়াতে হবে, যা উচ্চশিক্ষার পথকে সংকুচিত করবে।
দিনের আরেক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভারের প্রতিনিধিরা প্রাতিষ্ঠানিক কর কমানোর প্রস্তাব করেন। সভায় ইউনিলিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান রাকেশ মোহন, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর ভিভেক আনন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালিকাভুক্তির শর্ত বোনাস শেয়ার

এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডকে তালিকাভুক্তির জন্য নতুন শর্ত দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সংস্থাটি প্রাথমিক শেয়ারধারীদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে বোনাস শেয়ার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কোম্পানিটিকে।
ডিএসইর পক্ষ থেকে কোম্পানিটিকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শেয়ারধারীরা নির্দিষ্ট হারে বোনাস শেয়ার পেলে তাঁদের শেয়ারপ্রতি ক্রয়মূল্য কমে আসবে। ফলে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অতি মূল্যে শেয়ার বিক্রির যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তাও অনেকখানি কমবে। এতে তালিকাভুক্তির ব্যাপারে সৃষ্ট জটিলতাও নিরসন হবে।
জানা গেছে, প্রস্তাবটি কোম্পানির সক্রিয় বিবেচনাধীন। একই সঙ্গে কোম্পানির পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
এসইসি তাদের দিক থেকে নীতিগত কোনো আপত্তি নেই জানিয়ে ডিএসইর কাছ থেকে লিখিতভাবে প্রস্তাব পাওয়ার পরই এমজেএলকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে এসইসির শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা এ প্রস্তাবের কথা স্বীকার করে গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। আইনের মধ্যে থেকে যে পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সবচেয়ে বেশি সংরক্ষিত হবে, সেভাবে তালিকাভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হলে এসইসির কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।’
তবে ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির জন্য কোনো শর্ত বা প্রস্তাব দিইনি। এমজেএল বাংলাদেশ কোম্পানি আইনের ৫৭-এর ২(সি) ধারা অনুযায়ী প্রাথমিক শেয়ারধারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্তে তালিকাভুক্তি চেয়েছিল। কিন্তু আমরা তাদের বলেছি, এ ধারা অনুযায়ী প্রিমিয়ামের টাকা দিয়ে শেয়ারধারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে তারা চাইলে ৫৭-এর ২(এ) ধারা অনুযায়ী আসতে পারে।’
জানা গেছে, কোম্পানি আইনের ৫৭-এর ২(এ) ধারা অনুসারে বোনাস শেয়ার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, ‘তালিকাভুক্তির ব্যাপারে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এ ব্যাপারে ডিএসই অনানুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এসইসি বা ডিএসইর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেলে আমরা তা বিবেচনা করব।’
এসইসি সূত্র বলছে, ডিএসই পক্ষ থেকে কোম্পানিটির প্রাথমিক শেয়ারধারীদের ৩০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। যদি এ হারে বোনাস দেওয়া হয়, তাহলে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য দাঁড়াবে ১১৬ টাকা ৯২ পয়সার মতো।
বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক পর্যায়ে এমজেএল বাংলাদেশের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে দাম নেওয়া হয়েছে ১৫২ টাকা। বাজারে সাম্প্রতিক ধসের পর কোম্পানির শেয়ারের এ মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনা ওঠে। তীব্র সমালোচনার মুখে গত ২০ জানুয়ারি সরকার কোম্পানিটির তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করে।
তবে এর একদিন পরই বিক্রীত মূল্যের চেয়ে শেয়ারের দর কমে গেলে পরিচালকদের কিনতে হবে—এ শর্তে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রথমে এ শর্তে রাজি হলেও পরে নানা জটিলতার কথা উল্লেখ করে কোম্পানির পক্ষ থেকে শর্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়।
একপর্যায়ে তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে শেয়ারের দর প্রস্তাবিত মূল্যের নিচে নেমে গেলে প্রাথমিক শেয়ারধারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে—এ শর্তে তালিকাভুক্তির অনুমোদন চায় এমজেএল। এসইসি এতে সম্মতি দিলেও আপত্তি তোলে ডিএসই। ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়, কোম্পানি আইনের যে ধারা বলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেই ধারা অনুযায়ী প্রিমিয়ামের টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণের কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে, এমজেএল বাংলাদেশ ও এমআই সিমেন্ট লিমিটেডের তালিকাভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শেয়ারধারীরা।

ডিএসইর নোটিশের জবাব দিয়েছে পাঁচ প্রতিষ্ঠান

অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নোটিশের জবাব দিয়েছে ডিএসইর তালিকাভুক্ত পাঁচ প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ওরিয়ন ইনফিউশন, হেইডেলবার্গ সিমেন্ট, ন্যাশনাল টিউবস ও আরামিট সিমেন্ট।
প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে মূল্যসংবেদনশীল কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

হরতালেও পুঁজিবাজার চাঙা

প্রস্তাবিত নারী উন্নয়ন নীতি, শিক্ষানীতি ও হাইকোর্টের ফতোয়াবিরোধী রায় বাতিলের দাবিতে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির ডাকা হরতালের দিনে আজ সোমবার দেশের চাঙাভাব দেখা গেছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আজ সূচকের সঙ্গে বেড়েছে লেনদেন।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে ডিএসইতে দিনের লেনদেন শুরু হয়, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। দিন শেষে দেখা যায়, ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৮৮.৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬৫৩৫.৮৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে আজ হাত বদল হওয়া ২৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৫টির, কমেছে ৯৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট এক হাজার ৬০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৩৩ কোটি বেশি।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আফতাব অটোমোবাইল, বেক্সিমকো, বেক্সটেক্স, বিএসআরএম স্টিল, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, যমুনা অয়েল, এনবিএল, গোল্ডেন সন ও কনফিডেন্স সিমেন্ট।
ডিএসইতে আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আরএকে সিরামিকের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া হাক্কানী পাল্প, এসিআই, আইপিডিসি, এসিআই ফরমুলেশন, মালেক স্পিনিং, ফিডেলিটি অ্যাসেট অ্যান্ড সিকিউরিটিজ, প্রিমিয়ার লিজিং, নাভানা সিএনজি ও বিআইএফসি দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া সমতা লেদার, সাভার রিফ্রেক্টরিজ, উসমানিয়া গ্লাস, শ্যামপুর সুগার, ন্যাশনাল টিউবস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, ফার্মা এইড, বঙ্গজ ও জুট স্পিনার্স দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে আজ সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ১৭৪.৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৮১০০.৮১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৬টির, কমেছে ৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট ১০১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

আফগানিস্তানে মার্কিন ‘খুনে দল’ by মালালাই জয়া

গত সপ্তাহে জার্মান গণমাধ্যমে এবং পরে রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ন্যক্কারজনক ও হূদয়বিদারক আলোকচিত্রগুলো অবশেষে আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে কতগুলো বীভৎস সত্য বহু মানুষের সামনে নিয়ে এসেছে। এই যুদ্ধের জনসংযোগ তৎপরতায় বহুল উচ্চারিত শব্দযুগল গণতন্ত্র ও মানবাধিকার হাওয়ায় মিলিয়ে যায়, যখন দেখা যায় নিরীহ বেসামরিক আফগানদের হত্যা ও পঙ্গু করে মার্কিন সেনারা তাদের সঙ্গে পোজ দিয়ে ছবি তোলে।
আমাকে বলতেই হচ্ছে, গুটিকতক উচ্ছৃঙ্খল সেনা এমন কীর্তি করেছে—এ কথা আফগান জনগণ মোটেই বিশ্বাস করে না। আমরা বিশ্বাস করি যে, এসব ‘খুনে দলের’ বর্বর কাজ পুরো সামরিক অভিযানের অপরিহার্য অঙ্গ যে আগ্রাসন ও বর্ণবাদ, তাকেই প্রকাশ করে। ছবিগুলো নতুন, নিরীহ মানুষ হত্যা নতুন তো নয়। বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা আফগানিস্তানে নানা প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছে—সাধারণ আফগান নাগরিকের মনে আমেরিকাবিরোধী মনোভাব তীব্রভাবে বাড়িয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার গণমাধ্যম সেনাদের এসব ছবি ছাপতে চায়নি। এতে আমি আশ্চর্য হইনি। শোনা গেছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানের প্রধান কর্তা জেনারেল পেট্রায়ুস জনমত তৈরির জন্য ‘তথ্যযুদ্ধের’ ওপর বিরাট গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তা ছাড়া, মার্কিন মুলুকে আফগানিস্তানের বাস্তবতা দৃষ্টির বাইরে রাখার সম্মিলিত প্রচেষ্টা তো জারি আছেই।
গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা পেতে আমার প্রাথমিক আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাই কয়েকটি শহরে আমার বই বিষয়ে পরিকল্পিত আলোচনা পিছিয়ে দিতে হলো। আমার সমর্থকেরা সোচ্চার হলেন তাদের দেশে আমার প্রবেশাধিকার বিষয়ে। আমাকে প্রবেশে অনুমতি দেওয়ার জন্য তাঁরা মার্কিন সরকারের ওপর চাপ দিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এত সব করেও শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান যুদ্ধের সত্যকে আটকে রাখতে পারবে না।
‘খুনে দলের’ ছবিগুলো আফগানিস্তানের বাইরের মানুষের মনে চোট লাগাতে পারে, কিন্তু আমাদের মনে লাগায় না। পাখির মতো করে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী নিরীহ আফগানদের হত্যা করেছে। এমন অসংখ্য ঘটনা আমরা দেখেছি। উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক এক ঘটনা বয়ান করছি: কুনার প্রদেশে সম্প্রতি কাঠ কুড়ানি নয়জন শিশুকে মেরে ফেলেছে এরা। ফেব্রুয়ারি মাসে ৬৫ জন নিরীহ গ্রামবাসী—যাদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু—এদের হাতে শহীদ হয়েছে। বহু জায়গার মতোই এখানেও ন্যাটো দাবি করেছে, তারা শুধু বিদ্রোহী মেরেছে, যদিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নিহত ব্যক্তিরা বেসামরিক জনগণ। এমনকি সত্য যেন না প্রকাশিত হতে পারে, সে জন্য আল-জাজিরার দুই সাংবাদিককে তারা গ্রেপ্তার করেছে। তাদের অপরাধ, পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদ্বয় হত্যাযজ্ঞের স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
একের পর এক যত মার্কিন কর্মকর্তা আসছেন, সবাই বলছেন, বেসামরিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দেবেন, এ ব্যাপারে তাঁরা আরও সতর্ক হবেন। কিন্তু আসলে তাঁরা নিজেদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টাতেই আরও সতর্ক হয়েছেন; সতর্ক হয়েছেন সেই সব অপরাধ প্রকাশিত না হওয়ার ব্যবস্থা করতে। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের দপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোই সাধারণত বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান হাজির করে। নিহতের সংখ্যা কমিয়ে বলা হয়। সেনাসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামার পদক্ষেপ বাস্তবে শুধু উভয় পক্ষে সহিংসতাই বৃদ্ধি করেছে, বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার সংখ্যাই বাড়িয়েছে।
দখলদার সেনাবাহিনী নিহত বেসামরিক নাগরিকদের পরিবারকে অর্থ দিয়ে কিনতে চেষ্টা করেছে—প্রতিজনের মৃত্যুর বিনিময়ে দুই হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। আফগান নাগরিকদের জীবন অনেক সস্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কাছে। কিন্তু তারা যত ডলার দেওয়ারই প্রস্তাব করুক না কেন, তাদের এই রক্তলাগা অর্থ আমরা চাই না।
যে-ই মাত্র আপনি এসব কথা জেনে যান আর ‘খুনে সেনা দলের’ ছবি দেখেন, তখনই আপনি আরও পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করবেন, আফগানরা কেন এই দখলদারির বিরুদ্ধে। কারজাই সরকারের প্রতি জনগণের ঘৃণা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তাঁর শাসন টিকে আছে ভীতি সঞ্চার, দুর্নীতি আর দখলদার বাহিনীর সহায়তায়। এমন অপশাসন আফগান জনগণের প্রাপ্য নয়।
তবে, এর মানে এই নয় যে তালেবানের প্রতিক্রিয়াশীল তথাকথিত প্রতিরোধের প্রতি আফগান জনগণের সমর্থন বাড়ছে। বরং উল্টো চিত্রই দেখছি। খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আফগান শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ গরিব মানুষদের নেতৃত্বে বেড়ে চলেছে আরেক প্রতিরোধ। তারা রাজপথে এসে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ করছে, যুদ্ধ অবসানের দাবি করছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন সমাবেশ হয়েছে কাবুলে, মাজার-ই-শরিফে, জালালাবাদ ও ফারাহে। এসব প্রতিরোধের উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করেছে মিসর ও তিউনিসিয়ার মতো দেশগুলোর আন্দোলন। আফগানিস্তানেও আমরা ‘জনশক্তি’র উদ্বোধন দেখতে চাই। এসব প্রতিরোধে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর জনগণের সহায়তা ও সংহতিও আমাদের জন্য দরকারি।
আফগানিস্তানে ব্যয়বহুল, কপট যুদ্ধের বিরুদ্ধে বহু নতুন কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। ন্যাটো সেনাবাহিনীর সেনারাও এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছেন। শেষবার যখন যুক্তরাজ্যে গেলাম, তখন জো গ্লেনটন নামের এক বিবেকবান মানুষের দেখা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। আফগানিস্তান যুদ্ধের বিরোধিতা করায় তাঁকে কয়েক মাস জেল খাটতে হয়েছিল। কারাজীবন সম্পর্কে গ্লেনটন বলেছিলেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কারাদণ্ড ভোগ করাকে আমি সম্মানজনক ব্যাজ বলে গণ্য করি।’
সুতরাং, ‘খুনে সেনা দলের’ ছবি দেখে বিশ্ববাসী যখন আতঙ্কিত, সেই সময়ে জো গ্লেনটনের সাহস ও মানবিকতা মনে করিয়ে দেয়, আফগান যুদ্ধের অবসান হোক—অনন্তকাল ধরে এ যুদ্ধ চলার কোনো মানে নেই।
ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
মালালাই জয়া: আফগান রাজনীতিক, নির্বাচিত সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য।

ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের ফাটল বন্ধের চেষ্টা চলছে

জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি ধারকে সৃষ্ট ফাটল বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রটির কর্মীরা। ওই ফাটল দিয়ে তেজস্ক্রিয়তামিশ্রিত পানি সাগরে গিয়ে পড়ছে। এদিকে সুনামির আঘাতে নিহত ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের দুই কর্মীর মৃতদেহ গত বুধবার উদ্ধার করা হয়েছে। জীবাণুমুক্ত করার পর মৃতদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের সংকট বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের উপদেষ্টা গোশি হোসোনো বলেন, এটি হতে যাচ্ছে দীর্ঘ একটি লড়াই। ফুজি টেলিভিশনকে এই আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এই পারমাণবিক কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, সেখানে ১০ হাজারেরও বেশি নিঃশেষিত জ্বালানি রড রয়েছে। এগুলোকে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করতে অনেক দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
গোশি হোসোনো বলেন, ফাটল দিয়ে এখনো তেজস্ক্রিয়তা নির্গত হচ্ছে, এটা অগ্রহণযোগ্য। তেজস্ক্রিয় পদার্থ নির্গত হওয়ার বিষয়টি মানুষের মাঝে উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, সব ফাটল বন্ধ করে দেওয়ার পর্যায়ে যেতে সম্ভবত কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।
ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের ২ নম্বর চুল্লির কাছে কনক্রিটের একটি ধারকে সৃষ্ট ২০ সেন্টিমিটার (আট ইঞ্চি) ফাটল বন্ধ করার জন্য পানি-শোষক পলিমার ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন পরমাণু কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির (টেপকো) কর্মীরা। এই ফাটল দিয়ে তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে গিয়ে পড়ছে। এর আগে এই ফাটল বন্ধ করার জন্য সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এতে সফল হননি কেন্দ্রটির কর্মীরা।
পরমাণু সুরক্ষা এজেন্সির একজন কর্মকর্তা বলেন, ধারকে সিমেন্ট ঢালার পর পানি বের হওয়ার পরিমাণে কোনো হেরফের হয়নি। ওই কর্মকর্তা বলেন, ফাটল একেবারে বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার টেপকোর।
পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে পানি চুইয়ে সাগরে পড়ার কারণেই সাগরের পানিতে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন-১৩১-এর পরিমাণ নিরাপদ মাত্রার চেয়ে চার হাজার গুণ বেড়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউক্লিয়ার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি এজেন্সির (এনআইএসএ) উপমহাপরিচালক হিদেহিকো নিশিইয়ামা বলেন, তাঁরা আশা করছেন, পলিমার পানি শুষে নেবে ও ফাঁকা জায়গা পূরণ করবে। এতে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে।

সিরিয়ায় নতুন সরকার গঠন করতে আদিল সফরকে আমন্ত্রণ

সিরিয়ার সাবেক কৃষিমন্ত্রী আদিল সফরকে (৫৮) নতুন সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। গতকাল রোববার দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সানা এ তথ্য জানিয়েছে।
সানা জানায়, সফর দুই দিনের মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করতে পারেন। প্রেসিডেন্ট আসাদ তাঁর ১১ বছরের শাসনামলে এবার নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছেন। আগামী বুধবার তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ভাষণে তিনি জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৬৩ সালে বাথ পার্টি ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর থেকে দেশটিতে জরুরি অবস্থা চলছে।

গুয়াতেমালার ফার্স্ট লেডির বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন আদালতে স্থগিত

গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট আলভারো কোলমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে ফার্স্ট লেডি সান্দ্রা তোরেসের করা আবেদন স্থগিত করেছেন আদালত। ছাত্রদের একটি সংগঠনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর আবেদন স্থগিত করা হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য সান্দ্রা প্রেসিডেন্ট আলভারোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন।
আগামী সেপ্টেম্বরে গুয়াতেমালায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গুয়াতেমালার সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠস্বজনেরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না।
গত সপ্তাহে ফার্স্ট লেডি ঘোষণা দেন, নিজেকে দেশের সেবায় নিয়োজিত করতে তিনি প্রেসিডেন্ট আলভারোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ছাত্রদের একটি সংগঠন তাঁর এই ঘোষণাকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে আদালতের আশ্রয় নেয়। ছাত্রদের করা আবেদনের আদেশ না হওয়া পর্যন্ত আলভারো ও তোরেসের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।

চীনের অর্ধেক দুগ্ধখামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

নতুন লাইসেন্স পেতে ব্যর্থ হওয়ায় চীনের দুগ্ধখামারের প্রায় অর্ধেকই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সে দেশের মান পরিদর্শন সংস্থার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটিতে প্রায় এক হাজার ১৭৫টি দুগ্ধখামার রয়েছে। এর মধ্যে ৫৩৩টিকে উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মানোন্নয়নের শর্ত সাপেক্ষে ১০৭টিকে পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। বর্তমানে ১৪৫টি কোম্পানি শিশুদের জন্য গুঁড়ো দুধ উৎপাদন করছে। এগুলোর মধ্যে ১১৪টির লাইন্সেস নবায়ন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গ, চীনে ২০০৮ সালে মেলামিনমিশ্রিত গুঁড়ো দুধ পান করে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া অন্তত তিন লাখ শিশু কিডনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। এ ঘটনার পর থেকে চীনের দুগ্ধখামারের ওপর নজরদারি বাড়ায় সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রে তিন শতাধিক ফ্লাইট বাতিল

উড়ন্ত অবস্থায় যাত্রীবাহী বিমানের ছাদে আকস্মিক গর্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাউথইস্ট এয়ারলাইনসের তিন শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য ৭৯টি উড়োজাহাজের উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়েছে। আতঙ্কিত বিমানযাত্রীরা তাদের যাত্রা বাতিল করেছে।
গত শুক্রবার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স বিমানবন্দর থেকে ১১৮ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করে বোয়িং ৭৩৭ বিমান। কিছুক্ষণ পরই বিমানের ছাদে প্রচণ্ড শব্দ করে বিরাট গর্তের সৃষ্টি হয়। উড়োজাহাজের ছাদ বরাবর ফোকর দিয়ে নীল আকাশ দেখা যাচ্ছিল। যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিলে উড়োজাহাজটি কাছের একটি বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে।
শনিবার সাউথইস্ট এয়ারলাইনস থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের বিমানগুলোতে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সহযোগিতায় ৭৯টি উড়োজাহাজ পরীক্ষা করা হবে। ঠিক কী কারণে হঠাৎ করে বোয়িংয়ে ফোকর দেখা দিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় যোগাযোগ নিরাপত্তা বিভাগের বোর্ড সদস্য রবার্ট স্যামওয়াল্ট বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বোয়িং ৭৩৭-এ কাঠামোগত কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। পূর্ণ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।
বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তদন্ত দলের সঙ্গে তারা একযোগে কাজ করবে। গর্ত হওয়া বোয়িং উড়োজাহাজটি পরীক্ষার জন্য তদন্ত দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
এদিকে উড়োজাহাজের ছাদে ছিদ্র হওয়ার পর তোপের মুখে পড়েছে সাউথইস্ট এয়ারলাইনস। এর আগে ২০০৯ সালে একই বিমান সংস্থার যাত্রীবাহী একটি বিমানে ফোকর আবিষ্কারের পর সেটিকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল।

ইয়েমেনে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি, নিহত ১ আহত ৩০০

ইয়েমেনের তায়েজ প্রদেশে গতকাল রোববার পুলিশ সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া তাদের লাঠিপেটাও করা হয়েছে। এতে একজন নিহত ও কমপক্ষে ৩০০ লোক আহত হয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে গভর্নরের প্রধান কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে কয়েকজনের গায়ে সরাসরি গুলি লাগে। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটাও করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জনের গায়ে সরাসরি গুলি লাগে। তবে বেশির ভাগ লোকই কাঁদানে গ্যাসের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এদিকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী অবদুল্লাহ সালেহ বিরোধীদের প্রতি রাস্তায় বিক্ষোভ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে সালেহর পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীরা এই বিক্ষোভ করছে।
সালেহ তায়েজ প্রদেশের সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ক্ষমতার পালা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আলোচনার জন্য আমরা প্রস্তুত। তবে শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই এটা হতে হবে।

দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। আজ সোমবার এ ঘোষণা আসতে পারে। আজকের মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হতে পারে। গত শনিবার ডেমোক্রেটিক পার্টির কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
একনিষ্ঠ সমর্থকদের কাছে ইলেক্ট্রনিক বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর প্রচারাভিযান শুরু করবেন বলে জানা গেছে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির দুজন কর্মকর্তা জানান, ওবামার ঘোষণা ও কাগজপত্র দাখিলের সময় সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তবে খুব সম্ভবত সোমবার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনে (এফইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।
শিকাগো-সান টাইমস পত্রিকা জানায়, সোমবারের মধ্যে এফইসিতে নিবন্ধন করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।
এ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট ওবামা খুদেবার্তা, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের সাহায্যে তাঁর ঘোষণা সরাসরি সমর্থকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
দুই বছর হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে শিকাগোফেরত ডেভিড এক্সেলরড আবারও ওবামার প্রচারাভিযানের কৌশলগত প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী রোমনি ও সারাহ পেলিনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ওবামা।

আফগানিস্তানে বিক্ষোভ অব্যাহত আরও একজনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে উগ্রপন্থী খ্রিষ্টান যাজকের তত্ত্বাবধানে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনার জেরে গতকাল রোববারও আফগানিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় সহিংসতায় একজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফগানিস্তানে সহিংসতার নিন্দা জানান তিনি।
এদিকে কর্মীদের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটলেও আফগানিস্তানে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে জাতিসংঘ।
আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের কান্দাহার প্রদেশে গতকাল শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভে অংশ নেয়। তিনটি স্থানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে তারা। বিক্ষোভকারীরা ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’, ‘কারজাইয়ের মৃত্যু হোক’, ‘আমাদের পবিত্র কোরআনকে অসম্মান করা হয়েছে’ প্রভৃতি বলে স্লোগান দেয়। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি ছোড়ে। কান্দাহার প্রদেশের স্বাস্থ্যবিষয়ক পরিচালক আবদুল কাইয়ুম পুখলা বলেন, ‘আহত ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।’ তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি একজন কর্মকর্তা জানান, সহিংসতায় কমপক্ষে একজন নিহত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেমারি বাশারি জানান, জালালাবাদ শহরে শত শত ছাত্র রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। তারা বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেছে।
কোরআন পোড়ানোর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গত শনিবার বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এতে তিনি বলেন, ‘শুধু কোরআন নয়, যেকোনো ধর্মগ্রন্থের অসম্মান করা চরম অসহিষ্ণুতা ও গোঁড়ামি। আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাই।’ কোরআন পোড়ানোর জের ধরে আফগানিস্তানে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে একই বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘কোনো ধর্মই মানুষ হত্যা ও নিরীহ মানুষের ওপর হামলা সমর্থন করে না।’
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি স্টাফান ডি মিসটুরা জানান, জাতিসংঘ মিশনে হামলা হলেও আফগানিস্তানে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। মাজার ই শরিফ থেকে সাময়িকভাবে সব কর্মীকে কাবুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে শিগগিরই তাঁরা কাজের জন্য সেখানে ফিরবেন। গত শনিবার রাতে কাবুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মিসটুরা জানান, সাত থেকে ১৫ জনের একটি দল জাতিসংঘ মিশনে প্রবেশ করে হামলা চালায়। হামলার সময় আফগান কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মিসটুরা বলেন, দুই থেকে তিন হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছিল। এ সময় পুলিশের উচিত ছিল, বিক্ষোভকারীদের ঘিরে রাখা। কিন্তু তা করা হয়নি। মিশনের রক্ষীরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েনি বলেও দাবি করেন তিনি।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি গির্জায় উগ্রপন্থী যাজকের তত্ত্বাবধানে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর জের ধরে আফগানিস্তানে গত শনিবার মাজার ই শরিফে জাতিসংঘ মিশনে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। এতে জাতিসংঘের সাত কর্মীসহ ১০ জন নিহত হয়। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযান শুরু হওয়ার পর দেশটিতে জাতিসংঘ মিশনে এটাই সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা। এর আগের দিন গত শুক্রবার হামলায় সাতজন নিহত হয়। কোরআন পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সহিংসতায় এ পর্যন্ত মোট ১৮ জন নিহত হলো।

বাগবোকে দ্রুত পদত্যাগের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

আইভরি কোস্টের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট লরা বাগবো দেশটিকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। চলমান সংকট নিরসনে তাঁকে দ্রুত পদত্যাগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ আহ্বান জানান।
এদিকে আইভরি কোস্টের প্রধান শহর আবিদজান দখলে নিতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়াতারা ও লরা বাগবোর অনুগত বাহিনীর মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে আবিদজানের বিমানবন্দর দখলে নিয়েছে ফরাসি বাহিনী। সেখানে আরও ৩০০ ফরাসি সেনা পাঠানো হয়েছে। বিমানবন্দরের কাছে একটি সেনাশিবিরে অন্তত এক হাজার ২০০ বিদেশি নাগরিককে সেনারা সুরক্ষা দিচ্ছেন। ফরাসি সেনাদের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে হিলারি ক্লিনটন বলেন, বাগবোর সামনের পথ পরিষ্কার। পদত্যাগ করা ছাড়া তাঁর আর কোনো বিকল্প নেই। চলমান সহিংসতা বন্ধে বাগবোর উচিত এখনই পদত্যাগ করা। আবিদজান শহরের কেন্দ্রস্থলে গত শনিবার বাগবো ও ওয়াতারার অনুগত বাহিনীর তৃতীয় দিনের তুমুল লড়াইয়ের পর এ আহ্বান জানানো হয়। এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে বাগবোর প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে এর আগে বাগবো এ ধরনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে দিয়ে বলে আসছিলেন, জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে আবারও পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় বসিয়েছে। তিনিই দেশটির প্রেসিডেন্ট। অতএব পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনও বিবিসির মাধ্যমে বাগবোর পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বাগবোকে পদত্যাগ করতে আমি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। বাগবোর উচিত, শিগগিরই নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাগবো চলে যাওয়ার পর দেশটির আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ওয়াতারা কাজ শুরু করবেন বলে আমি আশাবাদী।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে ওয়াতারা বিজয় লাভ করেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব তাঁকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু বাগবো ক্ষমতা ছাড়েননি।
আইভরি কোস্টের প্রধান অর্থনৈতিক রাজধানী আবিদজানে গত শনিবারও দুই পক্ষের সেনাদের মধ্যে তুমুল লড়াই হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে কামানের গোলার শব্দ শোনা গেছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনের সদর দপ্তর দখলে নিতে ওয়াতারার অনুগত বাহিনী লড়াই করছে। এ ছাড়া আগবান সেনা-ঘাঁটি এলাকায় কামান ও মেশিনগানের গুলির শব্দ শোনা গেছে।
দুই পক্ষের চলমান লড়াইয়ে হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে ওয়াতারার অনুগত আহত সেনাদের চিকিৎসা দিতে আবিদজান শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাগবোর অনুগত বাহিনীর ছোড়া গ্রেনেডের আঘাতে জাতিসংঘ শান্তি মিশনের চার সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগে প্রতিবেশী কোকোডি এলাকায় বাগবো বাহিনী জাতিসংঘের একটি গাড়িবহরে হামলা চালায়। এ সময় পাল্টা হামলায় বাগবোর অনুগত পাঁচ সেনা আহত হন।
রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে বাগবো অনুগত এক সেনাকে একটি বিবৃতি পড়ে শোনাতে দেখা গেছে। বিবৃতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান রক্ষায় সেনাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
অন্য একটি ঘোষণায় বলা হয়েছে, বাগবোর অনুগত তরুণ মিলিসিয়ারা আবিদজানস হ্রদের ওপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু দখলে নিয়েছে।
দেশটির রাজধানী ইয়ামাউসোক্রো থেকে বিবিসির সাংবাদিক অ্যান্ড্রু হার্ডিং জানান, ভয়ানক লড়াই চলছে। এর ব্যাপকতা অনুমান করা দুরূহ। ওয়াতারার অনুগত বাহিনীর দাবি, তাঁরা অভিযানের চূড়ান্ত পর্বে আছেন। কিন্তু তাঁদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছে।

পাকিস্তানে মাজারে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪১ জন নিহত

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে একজন সুফি সাধকের মাজারের বাইরে গতকাল রোববার দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৪১ জন নিহত ও ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছে। হামলার দায়িত্ব কেউ তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে পুলিশ ধারণা করছে, সুফি মতবাদের ঘোরবিরোধী তালেবানসহ সুন্নি চরমপন্থীরা এ হামলা চালাতে পারে।
এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তিনি হামলাকে কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেন।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদ হোসাইন শাহ জানান, পাঞ্জাবের দেরা গাজি খান জেলায় অবস্থিত ত্রয়োদশ শতকের মুসলিম সুফি সাধক আহমেদ সুলতানের মাজারের বাইরে ওই হামলা চালানো হয়। দুজন আত্মঘাতী হামলাকারী এতে অংশ নেন। তাঁরা হেঁটে মাজারের কাছে আসেন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা মাজারে ঢোকার সময় তাঁদের দেহ তল্লাশি করতে চাইলে তাঁরা নিজেদের উড়িয়ে দেন। এ সময় বার্ষিক ওরস উপলক্ষে মাজার ও এর আশপাশে শত শত লোক সমবেত হয়েছিল।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত ৪১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত ব্যক্তিদের দেরা গাজি খান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দেরা গাজি খানের পুলিশপ্রধান আহমেদ মুবারক জানান, মাজারের ভেতর ঢোকার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হামলাকারীরা মাজারের বাইরেই সঙ্গে থাকা বোমার সাহায্যে নিজেদের উড়িয়ে দেন।
আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, তাঁরা একজন হামলাকারীকে আটক করেছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা বোমাটি পুরোপুরি বিস্ফোরিত হয়নি। তিনি আহত হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আগেই মাজারে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিল।
কোনো গোষ্ঠী এখনো হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সুফিবাদের ঘোরবিরোধী তালেবান বা কোনো চরমপন্থী সুন্নি গোষ্ঠী এ হামলার পেছনে থাকতে পারে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি গতকাল ওই হামলার নিন্দা করে বলেছেন, যারা এই হামলা চালিয়েছে, তারা কাপুরুষ। তাদের কোনো ধর্ম ও মানবিক মূল্যবোধ নেই। তিনি বলেন, এটি পাকিস্তানের সমাজকে বিভক্ত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।
পাঞ্জাবের পাকপাত্তান এলাকায় অবস্থিত ত্রয়োদশ শতকের সুফি সাধক বাবা ফরিদের মাজারেও গত বছরের অক্টোবরে অনুরূপ হামলা চালানো হয়। এতে চারজন নিহত হয়। গত বছরের জুলাইয়ে লাহোরে দাতা দরবার মাজারে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪২ জন নিহত হয়। এ ছাড়া করাচিসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে প্রায়ই মাজারে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়।
২০০৭ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সময় ইসলামাবাদের লাল মসজিদে মুসলিম চরমপন্থীদের দমনের জন্য সেনা অভিযান চালানো হয়। এর পর থেকেই তালেবান ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো পাকিস্তানের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা জোরদার করে। তাদের বোমা ও আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তানে গত চার বছরে চার হাজার ১৫০ জন লোক প্রাণ হারিয়েছে। এদের অধিকাংশই বেসামরিক জনগণ। সাম্প্রতিক সময়ে তালেবান ও আল-কায়েদা আফগান সীমান্তসংলগ্ন পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে সেনা অবস্থানের ওপরও হামলা জোরদার করেছে।

ক্লার্ককে ‘স্বাগত’ জানাচ্ছেন সিডন্স

২৭ জনের বহর পাঁচ ভাগে এলেও অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের অংশটা ঢাকা পৌঁছে যাচ্ছে আজ রাতেই। রাত আটটা পাঁচ মিনিটে ক্যাথে প্যাসিফিকের ফ্লাইটে আসবেন ৫ জন। খেলোয়াড়দের বাকি অংশ পৌঁছাবে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর বাংলাদেশ সফরটাকেও অস্ট্রেলিয়া গুরুত্ব দিয়ে দেখবে সন্দেহ নেই। তবে তিন ওয়ানডের এই সিরিজ আসল পরীক্ষা নেবে মাইকেল ক্লার্কের। রিকি পন্টিং নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর অধিনায়ক ক্লার্কের প্রথম সিরিজ এটাই।
জেমি সিডন্স অধিনায়ক ক্লার্ককে কাছ থেকে দেখেননি। তার পরও অধিনায়ক হিসেবে ক্লার্কের ভালো সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়ান কোচ, ‘অধিনায়ক ক্লার্ককে এখনো দেখা হয়নি আমার। তবে বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে অধিনায়ক ছিল সে। ওখানে তার রেকর্ড খুবই ভালো। অধিনায়কত্ব অনেক সময় ভালো খেলোয়াড়কে আরও ভালো করে, খারাপ খেলোয়াড়কেও বানিয়ে দেয় ভালো খেলোয়াড়। ক্লার্ক এমনিতেই ভালো ক্রিকেটার, অধিনায়ক হিসেবেও ভালো করবে আশা করি।’ তবে অধিনায়কত্বে সফল হতে হলে ক্লার্কের জন্য সতীর্থদের সমর্থনটাকেও গুরুত্বপূর্ণ মানেন সিডন্স।
একজন অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে নতুন অধিনায়ক ক্লার্কের মঙ্গল চাইলেও বাংলাদেশের কোচ হিসেবে অন্তত এই সিরিজে সেটা নিশ্চয়ই চাইবেন না সিডন্স। সে ক্ষেত্রে বরং সিডন্সের স্বাগত জানানোর সুরটা একটু অন্য রকমই। কাল টেলিফোনে বলছেন, ৯ এপ্রিল থেকে শুরু সিরিজে ক্লার্কই হবেন তাদের প্রথম লক্ষ্য, ‘সব দলই চেষ্টা করে প্রতিপক্ষের অধিনায়ককে টার্গেট করতে। আমরাও সে রকমই চাইব। অধিনায়ককে চাপে ফেলতে পারলে দলের বাকিদের চাপে ফেলার কাজটাও সহজ হয়ে যায়।’
বাংলাদেশের কোচ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এটা দ্বিতীয় সাক্ষাৎ সিডন্সের। ২০০৮ সালে প্রথম সাক্ষাৎটা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াতেই। সেবারও সিরিজটা ছিল তিন ওয়ানডের এবং তাতে কোনো টেস্ট ছিল না। তিনটি ওয়ানডেই হয়েছিল ডারউইনে। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ২৫৪ রানের জবাবে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে গিয়েছিল মাত্র ৭৪ রানে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১১৭ রান করে ৮ উইকেটের হার। শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে বেঁধে ফেলেও বাংলাদেশের ইনিংস গুঁড়িয়ে গিয়েছিল ১২৫ রানেই। দেশের মাটিতে এবার সে রকম পরিস্থিতি হবে না বলেই বিশ্বাস সিডন্সের, ‘আমাদের স্পিনারদের ভালো করতে হবে এবং আশা করি, তারা সেটা করবে। আমাদের স্পিন বোলিংয়ে বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা থাকবেই। সঙ্গে আমরা যদি বড় রান করতে পারি, খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ হবে আশা করি। হোক তারা বিশ্বের এক নম্বর ওয়ানডে দল...।’
সাকিব-রাজ্জাকদের স্পিনের সঙ্গে নতুন বলে পেসার শফিউল ইসলামের ওপরই যথেষ্ট আস্থা কোচের, ‘স্পিন সব সময়ই আমাদের বড় শক্তি। তবে শফিউলের বোলিংটাও এই সিরিজে কার্যকর হবে আশা করি। ওর বোলিং হবে বোনাস। শফিউল একটা ভালো শুরু এনে দিতে পারলে স্পিনারদের কাজ সহজ হয়ে যাবে।’
বোলিং নিয়ে কিছুটা হলেও নির্ভার সিডন্সের সব চিন্তা এই সিরিজে ব্যাটিং নিয়ে। চার নম্বর আর সাত নম্বরে কাকে খেলাবেন, সেই সমীকরণ এখনো মেলাতে পারেননি কোচ, ‘সত্যি বলতে কি আগের ব্যাটিং-অর্ডারটা ধরে রাখতে পারলেই ভালো হতো। তবে শাহরিয়ার নাফীস আছে, ও তিনে খেলবে। আমাদের শুধু এখন বের করতে হবে চার নম্বর আর সাত নম্বরে কারা ব্যাট করবে। এই দুই চিন্তাই এখন বেশি করে করতে হচ্ছে। আমাদের এমন দুজন ব্যাটসম্যান খুঁজে বের করতে হবে যারা সত্যিকার অর্থেই এই দুটি জায়গায় অবদান রাখতে পারে।’
বিশ্বকাপের পর কি তাহলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও দেখা যাবে ব্যাটিং-অর্ডার নিয়ে গবেষণা

শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন মালিঙ্গা!

ডান হাঁটুতে ইনজুরির কারণে ২০০৮ সালে খেলতে পারেননি। ২০০৯ সালের প্রথম ভাগটাও মাঠে নামতে পারেননি। বিশ্বকাপ বলে ২০১০ সালটা বেছে নিয়েছিলেন নিজেকে ঝালিয়ে নিতে। সফলও হয়েছেন। তিনি লাসিথ মালিঙ্গা—বৈচিত্র্যময় ডেলিভারির জন্য ‘স্লিঙ্গা মালিঙ্গা’ নামেও পরিচিত।
শ্রীলঙ্কান এই গতিতারকা বিশ্বকাপে বাজিমাত করতে অভ্যস্ত। আগের বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এবার করলেন কেনিয়ার বিপক্ষে। ফাইনালের জন্যও হয়তো জমিয়ে রেখেছিলেন চমক, যদিও শেষ পর্যন্ত তা কাজে লাগেনি। মারকুটে ব্যাটসম্যান বীরেন্দর শেবাগ ও লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকারকে শুরুতেই ফিরিয়ে দিয়ে লঙ্কানদের জন্য জাগিয়েছিলেন আশার আলো। কিন্তু গম্ভীর ও ধোনির অসাধারণ ব্যাটিংয়ে সেই আশা নিভে যায়।
কোনো বিশ্বকাপে আর হয়তো এই বিধ্বংসী বোলারকে দেখা যাবে না। ২৭ বছর বয়সী মালিঙ্গা নিজেই জানালেন এটাই হয়তো তাঁর শেষ বিশ্বকাপ, ‘যত দিন পারি আমি আমার দলকে সেবা দিয়ে যেতে চাই। তবে আমার হয়তো পরবর্তী বিশ্বকাপ আর খেলা হবে না।’ নিজের শরীরটাকে ভালো করেই জানেন বলে এই কথা বলতে পারছেন মালিঙ্গা, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি ইনজুরিতে ভুগছি। এ জন্য বিশ্রামও নিতে হয়েছে।’

রাজা হয়ে উঠলেন যুবরাজ

অভিষেকের সঙ্গে পরশু অনেক দিক থেকেই মিল থাকল। প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন আইসিসিরই টুর্নামেন্টে—২০০০ সালের নকআউট বিশ্বকাপে। নিজের অভিষেক ইনিংসে ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে হারিয়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়াকে। সেদিন ম্যাচসেরাও হয়েছিলেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পেয়েছিলেন রবি শাস্ত্রীকে। যুবক-রাজের ১২টি চার দেখার পর শাস্ত্রীর জিজ্ঞাসা ছিল, ‘কী খেয়ে এত জোর বাড়ালে ভাই?’ ১৯ বছর বয়সীর জড়তাহীন চটুল জবাব ছিল, ‘আমি আসলে ভেজিটেরিয়ান। মাংস একদমই খাই না।’
যুবরাজ সিং পরশু আসল বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট-সেরা হলেন। এবারও শাস্ত্রী উপস্থাপক। কিন্তু এবার যুবরাজ ১১ বছর আগের সেই দিনটার মতো দ্রুত উত্তর দিলেন না। কথাগুলো একটু যেন এলোমেলোও। আসলে হূদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা অনুভূতির ভার বহন করে সেই সাধ্য বুঝি ভাষার নেই!
অবশ্য প্রাথমিক উচ্ছ্বাসের ঘোর থেকে বেরিয়ে আসার পর ‘ফর্মে’ ফিরেছেন। পরশু ধোনির সঙ্গে জুটি বেঁধে সংবাদ সম্মেলনে আসার পর বেশ কৌতুক-টৌতুক করলেন। ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট অর্জনটি কাকে উৎসর্গ করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে যুবরাজ বললেন, ‘দুঃখিত বন্ধুরা, আপনাদের মনমতো উত্তর পাচ্ছেন না। এটা আমার প্রেমিকা কিংবা বাগদত্তাকে নয়; আমি উৎসর্গ করছি শচীন টেন্ডুলকারকে।’
নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন ব্যাটিং রেকর্ডের বরপুত্র। এবার পুরো দলই ধনুকভাঙা পণ করেছিল, এই কিংবদন্তিকে উপহার হিসেবে বিশ্বকাপটা এনে দিতেই হবে। পরশু ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার হাতে নিয়েই যুবরাজ বলেছেন, ‘এটা শচীনের জন্য, দলের বাকি সবার জন্য।’
৩৬২ রান আর ১৫ উইকেট—ব্যাটে-বলে স্বপ্নের মতো কাটল তাঁর। বিশ্বকাপে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের রেকর্ডও এটি। ২৮ বছর পর ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের মূল কান্ডারি হয়ে থাকলেন এই বাঁহাতি। যুবরাজও এদিন গাইলেন পূর্ণতারই গান, ‘এই বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। কিন্তু এটা সত্যিই স্পেশাল।’
‘বড়’ বিশ্বকাপই তাঁর জন্য এটি তৃতীয়। প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছেন ২০০৩-এ। প্রথমবারই গিয়েছিলেন শিরোপার একদম কাছাকাছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রানার্সআপের সান্ত্বনা নিয়ে ফিরতে হয়েছে। যুবরাজ জানালেন, এক অর্থে জোহানেসবার্গের ফাইনালটি পরশু তাদের জন্য হয়ে ছিল ‘প্রেরণা’, ‘আমরা সেবার অনেক ভুল করেছিলাম। সেই ভুলগুলো এবার করিনি। পরের ব্যাটিং করা মানে অনেক চাপ। কিন্তু গৌতি, এমএস অসাধারণ খেলেছে। শুরুতে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও তারা স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছে।’
এই স্বাভাবিক খেলাতেই ভারতের সাফল্য লুকিয়ে আছে বলে মনে করেন তিনি। আর এ কারণে এর আগে টুর্নামেন্টে চারবারের ম্যাচসেরাকেও এদিন পার্শ্বনায়ক হয়ে থাকতে হলো। অবশ্য বল হাতে দুটো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন।
অথচ এই যুবরাজই মাত্র কয়েক মাস আগে বাদ পড়েছিলেন দল থেকে। অবসরও নিতে চেয়েছিলেন চূড়ান্ত হতাশার দিনগুলোয়। ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন দেখে এসেছেন আগেও। কঠিন সময়গুলোয় অধিনায়ক হিসেবে সৌরভ গাঙ্গুলী ও ধোনির অনেক সহযোগিতা পেয়েছেন। কৃতজ্ঞ যুবরাজ ‘দাদা’ আর ‘এমএস’কেও ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি।
আসল ধন্যবাদ তো তাঁরই প্রাপ্য। সোয়া শ কোটি মানুষ যেন অনুচ্চারে কোরাস তুলছে, ‘ধন্যবাদ যুবি!’

বিশ্বকাপের দিনগুলো ছিল প্রচণ্ড মানসিক চাপের: ধোনি

শনিবার রাতে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ধোনি, যুবরাজ, শচীন, শেবাগদের আনন্দ বিচ্ছুরিত মুখগুলো দেখে বোঝাই যাচ্ছিল, কী বিরাট এক পাষাণ ভার নেমে গেছে তাঁদের বুকের ওপর থেকে! ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে ২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ফাইনাল। মাঝখানে ৪৫টি দিন। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি জানিয়েছেন, ‘এই ৪৫ দিন যে নিদারুণ মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, কোনো কিছুর সঙ্গেই তার কোনো তুলনা হয় না।’
‘একটা সময় এমন হতো, যখন সামনে মজার মজার সব খাবার, কিন্তু কিছুই খেতে ইচ্ছে হচ্ছে না।’ বলেছেন ধোনি। তিনি বলেছেন, ‘পুরো দলই ভয়াবহ মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গেছে। খাওয়া-দাওয়ার রুচিও অনেকের নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।’
এই ভয়াবহ চাপের মধ্যে থেকেও ভারতীয় খেলোয়াড়েরা যে সেই চাপ জয় করতে পেরেছে, তাতে স্বস্তি ও আনন্দ দুটিই ঝড়ে পড়েছে অধিনায়ক ধোনির কণ্ঠে—‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে তারা চাপ থেকে বেরিয়ে এসে এত বড় সাফল্যের অংশীদার হতে পেরেছে।’
ধোনি নিজেও চাপের বাইরে ছিলেন না। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপই মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। বিতর্ক হয়েছে, তিনি নিজে ব্যাপারগুলোতে সমালোচিত হয়েছেন। ব্যাট হাতে ভালো কোনো ইনিংস খেলতে না পারায় দারুণ অস্বস্তিও ছিল তাঁর। কিন্তু একেবারে আসল সময়ে সব চাপ, সমালোচনাকে জয় করলেন বিশ্বকাপজয়ী ইনিংস খেলে।
চাপের মুখে দলের ভেতরের পরিবেশ ভালো হওয়াটা সাফল্যের পূর্বশর্ত বলেই জানালেন ধোনি। তিনি বলেছেন, ‘ভারতীয় দলের ড্রেসিং রুমের পরিবেশ অকল্পনীয়। প্রত্যেকেই নিজেকে একটি পরিবারের মনে করেছে। একে অন্যের সমস্যায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ভয়াবহ চাপের মধ্যে তারা পারফর্ম করেছে।’
একটা সময় ছিল যখন ভারতীয় দলকে অনেকেই ব্যক্তিগত সাফল্য-নির্ভর দল হিসেবে অভিহিত করতেন। কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের ব্যর্থতা বা সফলতার ওপর দলের সাফল্যও নির্ভর করত। বর্তমান দলটি সেই অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে বলেই মনে করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। তিনি বলেন, ‘এই দলে ব্যক্তিগত রেকর্ড মুখ্য বিষয় নয়।’ তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ‘ফাইনালে শচীন ও শেবাগের তাড়াতাড়ি ফিরে যাওয়া কোনো প্রভাব সৃষ্টি করেনি। গৌতম গম্ভীর ও বিরাট কোহলি দারুণভাবে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিয়েছে। এ ছাড়া যুবরাজ সিং অনেক ম্যাচেই ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে।’ ধোনির মতে, ‘যে দল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে অবিচল থাকে, তাদের কোনো বাধাই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।’
ধোনির নেতৃত্বে ভারতীয় দল সেটা প্রমাণও করেছে।

বিশ্বজয়ের আনন্দ প্রাণভরে উপভোগ করতে চাই’

বিশ্বকাপ জয়ের রাতটি নাকি নির্ঘুম কেটেছে মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকারের। তিনি নাকি কয়েকবারই নিজের হাতে চিমটি কেটে বোঝার চেষ্টা করেছেন, সত্যিই তিনি স্বপ্নের জগতে রয়েছেন, নাকি বাস্তবে!
ফাইনাল জয়ের পরপরই আবেগাপ্লুত ছিলেন ক্রিকেটের সর্বকালের এই সেরা তারকা। ২২ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এত প্রাপ্তি যাঁর ঝুলিতে, সেই টেন্ডুলকারই এখন চরমভাবে মেতে আছেন দেশের দ্বিতীয় ও নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে! বিশ্ব জয়ের আনন্দ তাঁর কাছে এতটাই মোহনীয় যে এ সময়ে অন্য সব প্রসঙ্গই তাঁর কাছে মনে হচ্ছে খুবই ‘অপ্রাসঙ্গিক’। এমনকি তাঁর শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির অনন্য হাতছানিও।
অনেকেই বলছে, শচীন টেন্ডুলকার তাঁর শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় পরের বিশ্বকাপের সময় তাঁর বয়স হবে ৪১। সে বয়সে কোনো খেলোয়াড় বিশ্বকাপ খেলার উপযোগী থাকবেন কি না, সেটাও একটা প্রশ্ন। এমন প্রশ্নই ছুটে গিয়েছিল শচীনের দিকে গতকাল। তিনি বলেছেন, ‘আগামী বিশ্বকাপ অনেক পরের ব্যাপার। আগে এই বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘গত ২২ বছর ধরেই আমি বিশ্বকাপ জয়ের গর্বের পেছনে ছুটেছি। এত দিন পর, সেই গর্ব, সেই আনন্দের দেখা পেয়েছি। একজন খেলোয়াড়ের জন্য বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে বড় সম্মান আর আনন্দ আর কিছুতেই হতে পারে না। আমি এ আনন্দ এখন প্রাণভরে উপভোগ করতে চাই।’
কিছুদিন আগে ইমরান খান, কপিল দেব ও ভিভ রিচার্ডসদের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা শচীন টেন্ডুলকার সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘শচীন কবে ক্রিকেট থেকে বিদায় নেবে, সেই সিদ্ধান্ত তার ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।’
শচীন কবে অবসরে যাবেন সেটা একান্ত শচীনেরই সিদ্ধান্ত। তবে শচীন অনুরাগীরা যে তাঁকে এখনই বিদায় জানাতে চান না।

দল হারলে ব্যক্তিগত সাফল্য গৌণ: জয়বর্ধনে

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে শতরান দারুণ একটি ব্যাপার। যে কীর্তি একজন ব্যাটসম্যানকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখে, সেই কীর্তির অংশীদার হয়েও মাহেলা জয়বর্ধনে খুশি হতে পারছেন না। নিজের সেঞ্চুরির পরেও দল যদি বিশ্বকাপ জিততে না পারে, তাহলে এর চেয়ে দুঃখের বিষয় আর হতে পারে না। শনিবার মুম্বাইয়ে নিজের সেঞ্চুরিটিও জয়বর্ধনের কাছে এ মুহূর্তের তিক্ত স্বাদেরই মনে হচ্ছে। তাঁর সাফ কথা, দল জিততে না পারলে ব্যক্তিগত সাফল্যেরই কোনো মূল্য নেই।
‘আমরা ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২৭৪ রান করেছিলাম—যা মোটেই হেলাফেলার সংগ্রহ নয়। ভারতের দুই সেরা ব্যাটসম্যানকেও খুব তাড়াতাড়িই ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু, শেষ রক্ষা হল না।’ জয়বর্ধনের আক্ষেপ।
জয়বর্ধন আরও বলেন, ‘শেবাগ ও শচীনকে আউট করে দেওয়ার পর আমাদের বিশ্বকাপ জয়ের ভালো সুযোগ ছিল। কিন্তু এরপরে কোনো কিছুই সঠিক পথে চলেনি। আমাদের বোলাররা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ওপর কোনো চাপই সৃষ্টি করতে পারেনি।’
জয়বর্ধনে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের প্রশংসা করে বলেন, এটি বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনআপ। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা প্রমাণ করেছে, তাদের ব্যাটিং গভীরতা কতখানি।
ফাইনালে নিজের ইনিংস সম্পর্কে বলেন, ‘সাঙ্গাকারা আউট হয়ে যাওয়ার সময় আমি উইকেটে ছিলাম। তখনই ভেবেছিলাম, শ্রীলঙ্কাকে যদি একটি ভালো স্কোর গড়তে হয়, তাহলে আমাকে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে হবে। কয়েকটি বল ভালোভাবে ব্যাটে লেগে যাওয়ার পর আমি আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেলাম। বাকি সময়, প্রথমে কুলাসেকেরা ও পরে তিসারা পেরেরার সঙ্গে জুটি দুটিও দারুণ হয়েছে।’
জয়বর্ধনে বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। নতুন প্রতিভাবানদের তৈরি করতে হবে। এ কাজে আমার, সাঙ্গাকারা, সামারাবিরার মতো অভিজ্ঞ ও অনেক দিন ধরে খেলা খেলোয়াড়দের ভূমিকা অনেক।’
নিজের ক্যারিয়ার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি আরও অনেক দিন খেলে যেতে চাই। দেশকে এনে দিতে চাই আরও সাফল্য। আমি মনে করি, এখনো ক্রিকেটটা খেলে যাওয়ার মতো যথেষ্ট রসদই আমার মধ্যে রয়েছে। যেদিন মনে হবে, দেশকে ও ক্রিকেটকে দেওয়ার মতো কিছুই আমার মধ্যে অবশিষ্ট নেই, সেদিন আমায় বলতে হবে না, নিজে থেকেই আমি সরে দাঁড়াবে।

ধোনিকেই সেরা অধিনায়ক বললেন শচীন

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলছেন প্রায় ২২ বছর ধরে। খেলেছেন মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, সৌরভ গাঙ্গুলীসহ অর্ধ-ডজন অধিনায়কের নেতৃত্বে। এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শচীন টেন্ডুলকারের দেখা সেরা অধিনায়ক কে? তিনি আর কেউ নন, মাত্র দুই দিন আগে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি!
‘আমি যে কয়জন অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলেছি, তাঁদের মধ্যে ধোনিই সেরা। ও প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন, সদা সজাগ থাকে। মাঠের পরিস্থিতি বুঝে বোলার, ব্যাটসম্যান, সিনিয়র ক্রিকেটার সবার সঙ্গেই আলাদা আলাদাভাবে আলোচনা করে’—শচীনের কণ্ঠে ধোনির বন্দনা।
তাহলে কি ধোনির সেরা হয়ে ওঠার কারণ এই গুণগুলোই? না, ভারতীয় অধিনায়কের সবচেয়ে বড় দুটি গুণ শচীন প্রকাশ করেছেন একটু পরই, ‘ধোনি সব সময় শান্ত, কঠিন পরিস্থিতিতেও কখনো হতাশা প্রকাশ করে না। এই মানবীয় গুণগুলোই তাঁকে এমন ভালো অধিনায়ক বানিয়েছে।’
শচীনের জীবনে সেরা দিন কোনটা? উত্তরটা বলে দেওয়ার জন্য জ্যোতিষী হওয়ার প্রয়োজন নেই—২ এপ্রিল ২০১১! এই দিনটিতেই যে বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছেন ক্রিকেটে একের পর এক ইতিহাসের জন্ম দেওয়া এই ক্রিকেটার। শচীন বলেছেন, ‘আমার জীবনের সেরা দিন এটা। এমন দিনের জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ।