Showing posts with label ইতালি. Show all posts
Showing posts with label ইতালি. Show all posts

Wednesday, April 1, 2026

ইতিহাস আর বরফ পাহাড়ে মোড়ানো অনিন্দ্যসুন্দর ‘আসিয়াগো’ by ইসমাইল হোসেন স্বপন

প্রকাশ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ ইতালির উত্তরাঞ্চলে ভেনেতো অঞ্চলের ভিছেন্সা প্রদেশে অবস্থিত এক শান্ত পাহাড়ি জনপদ—আসিয়াগো। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ আর বরফে মোড়ানো এক নিস্তব্ধ স্বর্গভূমি। চারপাশে পাহাড়, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, কাঠের ঘর আর মেঘ ছোঁয়া আকাশ—যেন প্রকৃতি এখানে নিজ হাতে ছবি এঁকেছে।

শীতকালে এই অঞ্চল ঢেকে যায় ঘন সাদা তুষারে। তখন আসিয়াগো প্ল্যাটো রূপ নেয় ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় শীতকালীন পর্যটন গন্তব্যে। স্কি ট্র্যাক, স্নোবোর্ডিং, কেবল কার আর পাহাড়ি রিসোর্টে ভিড় জমান পর্যটকেরা। ইতালি ছাড়াও অস্ট্রিয়া, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের নানা দেশ থেকে মানুষ ছুটে আসেন বরফ পাহাড়ের আহ্বানে।

তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে ইউরোপীয় ইতিহাসের এক গভীর ও রক্তাক্ত অধ্যায়—যে ইতিহাস আজও পাহাড়ের নীরবতায় কথা বলে। আজ যে পাহাড়ে শিশুরা স্লেজ চালায়, যে উপত্যকায় পর্যটকেরা ছবি তোলে—ঠিক সেই জায়গাগুলোই এক শতাব্দী আগে ছিল মৃত্যুভয় আর গোলার শব্দে কাঁপতে থাকা ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্র।

আসিয়াগো প্ল্যাটো ছিল ইতালিয়ান ও অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ফ্রন্ট। দুর্গম পাহাড়ি এই অঞ্চল দখল নিয়ে দীর্ঘদিন চলে ভয়ংকর লড়াই। প্রবল তুষারপাত, তীব্র শীত আর পাহাড়ি দুর্গমতায় অসংখ্য সৈন্য যুদ্ধ না করেই প্রাণ হারান।

আজও পাহাড়ি পথে হাঁটলে চোখে পড়ে সেই সময়কার ট্রেঞ্চ, বাংকার, গোলাবারুদের গর্ত আর পরিত্যক্ত সামরিক কাঠামো। প্রকৃতি অনেক ক্ষত ঢেকে দিলেও ইতিহাস পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারেনি তার চিহ্ন।

আসিয়াগোর সামরিক স্মৃতিসৌধে সংরক্ষিত আছে প্রায় ৫৪ হাজার শহীদের নাম ও স্মৃতি। উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই স্মৃতিসৌধ যেন নীরবে জানিয়ে দেয়—এই সৌন্দর্যের পেছনে লুকিয়ে আছে অগণিত তরুণের অপূর্ণ জীবন।

আসিয়াগোর সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এখানে প্রকৃতি কথা বলে নীরব ভাষায়। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকালে কোনো কোলাহল নেই, নেই শহরের ব্যস্ততা। শুধু বাতাসের শব্দ, দূরের গাছের ফিসফিস আর বরফের ওপর হাঁটার মৃদু আওয়াজ। এই নীরবতার মাঝেই ইতিহাস আরও গভীর হয়ে ওঠে। অনেক পর্যটক শুধু স্কি করতে আসেন, আবার কেউ কেউ আসেন ইতিহাস ছুঁয়ে দেখতে। বিশেষ করে ইউরোপের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা আসিয়াগোকে বেছে নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পাহাড়ি যুদ্ধকৌশল ও মানবিক বিপর্যয় বোঝার জন্য।

যুদ্ধের ইতিহাসের বাইরেও আসিয়াগোর রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়। একসময় এই অঞ্চলে বসবাস করত Cimbrian জনগোষ্ঠী—যাদের ভাষা ও জীবনধারা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। জার্মানিক উৎস থেকে আসা এই জনগোষ্ঠী শত শত বছর ধরে পাহাড়ে বসবাস করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভাষা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তবু লোকগান, উৎসব, কাঠের ঘর নির্মাণশৈলী ও গ্রামীণ রীতিনীতিতে আজও সেই প্রাচীন সংস্কৃতির ছাপ রয়ে গেছে। স্থানীয় মানুষজন এখনো গর্বের সঙ্গে বলেন—আসিয়াগো শুধু একটি জায়গার নাম নয়, এটি একটি জীবনধারা।

আসিয়াগোর কথা বলতে গেলে একটি নাম আলাদা করে উল্লেখ করতেই হয়—আসিয়াগো চিজ। বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই চিজ শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়, বরং পাহাড়ি মানুষের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতীক। স্থানীয় গরুর দুধ থেকে তৈরি এই চিজের স্বাদে যেমন রয়েছে প্রকৃতির ছোঁয়া, তেমনি আছে পাহাড়ি জীবনের ইতিহাস। আজও অনেক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চিজ তৈরি করে আসছে। পর্যটকেরা আসিয়াগো ভ্রমণে এসে স্থানীয় খামার ঘুরে দেখেন, চিজ তৈরির প্রক্রিয়া শেখেন এবং সেই স্বাদ সঙ্গে করে নিয়ে যান স্মৃতি হিসেবে।

সময় বদলেছে, যুদ্ধ থেমেছে, কিন্তু আসিয়াগো অতীতকে ভুলে যায়নি। বরং ইতিহাসকে ধারণ করেই আধুনিক পর্যটনের পথে এগিয়েছে এই পাহাড়ি জনপদ। এখানে রয়েছে মিউজিয়াম, স্মৃতিপথ, যুদ্ধভিত্তিক হাইকিং ট্রেইল—যেখানে হাঁটতে হাঁটতে পর্যটকেরা ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারেন।

একদিকে আধুনিক স্কি রিসোর্ট, আরেক দিকে শতবর্ষ পুরোনো ট্রেঞ্চ—এই বৈপরীত্যই আসিয়াগোকে করে তুলেছে অনন্য। এখানে প্রকৃতি যেমন মানুষের মন ছুঁয়ে যায়, তেমনি ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় যুদ্ধের ভয়াবহতা আর শান্তির মূল্য।

বরফে ঢাকা পাহাড়, সবুজ উপত্যকা, স্মৃতিসৌধ আর পাহাড়ি মানুষের সহজ জীবন—সব মিলিয়ে আসিয়াগো যেন সময়ের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক গল্প।

Thursday, January 29, 2026

পশ্চিম তীরে ইতালীয় পুলিশকে বন্দুকের মুখে হুমকি, ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ইতালি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে দায়িত্ব পালনকালে দুই ইতালীয় সামরিক পুলিশকে বন্দুকের মুখে হুমকি দেয়ার ঘটনায় ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইতালি। সোমবার ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার পশ্চিম তীরের রামাল্লার কাছে একটি গ্রামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সম্ভাব্য সফরের আগে স্থান পরিদর্শনে গেলে দুই ইতালীয় সামরিক পুলিশকে এক সশস্ত্র ইসরাইলি ব্যক্তি থামিয়ে দেয়। সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি- যাকে একজন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই পুলিশ সদস্যকে বন্দুকের মুখে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

ঘটনার সময় ইতালীয় পুলিশ সদস্যরা কূটনৈতিক নম্বরপ্লেটযুক্ত গাড়িতে ছিলেন এবং তাদের কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্টও ছিল।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এ ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে রোমে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানাতে নির্দেশ দেন। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইতিমধ্যে ইসরাইলে অবস্থিত ইতালির দূতাবাস ইসরাইলি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ঘটনার পর দুই ইতালীয় সামরিক পুলিশ নিরাপদে জেরুজালেমে অবস্থিত ইতালির কনসুলেট জেনারেলে ফিরে যান বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তারা শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছেন।

এই ঘটনা পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক নিরাপত্তা ও বিদেশি প্রতিনিধিদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স।

mzamin

Sunday, October 12, 2025

প্রেমিকাসহ খুন হন ‘ফ্যাসিবাদের জনক’, জনসমক্ষে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয় দুজনের মরদেহ by মো. আবু হুরাইরাহ্‌

২৯ জুলাই ১৮৮৩, ইতালির এক নিভৃত গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন এমন একজন, যাঁর নাম একসময় সারা ইউরোপের রাজনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বেনিতো মুসোলিনি শুধু ইতালিরই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, ফ্যাসিবাদ নামের এক ভয়াল রাজনৈতিক মতবাদের প্রথম রাষ্ট্রীয় রূপদাতা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর উত্তাল সময় মুসোলিনি ইউরোপীয় রাজনীতির এক প্রভাবশালী ও বিতর্কিত চরিত্রে পরিণত হন। যুদ্ধ, একনায়কতন্ত্র, দমন–পীড়ন আর জাতীয়তাবাদে মোড়া তাঁর শাসনব্যবস্থা ইতালিকে যেমন এক নতুন মোড়ে দাঁড় করিয়েছিল, তেমনই বিশ্বরাজনীতিতে এক ভয়ংকর দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছিল।

ইতালির ছোট্ট শহর প্রেদাপ্পিওতে জন্ম নেওয়া এ মানুষটির জন্মদিনে ফিরে দেখা জরুরি, কীভাবে একজন শিক্ষক হয়ে উঠেছিলেন ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর একনায়ক। তাঁর উত্থান–পতনের গল্প শুধু এক ব্যক্তির নয়, একটি গোটা সমাজ তথা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিবর্তনেরই কাহিনি।

দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবার থেকে রাজনীতির কেন্দ্রে

বেনিতো আমিলকারে আন্দ্রেয়া মুসোলিনি জন্ম নিয়েছিলেন ইতালির উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় প্রেদাপ্পিও শহরের ডোভিয়া এলাকার এক দরিদ্র পরিবারে। বাবা ছিলেন সমাজতন্ত্রী মনোভাবাপন্ন এক কামার, আর মা ছিলেন একজন শিক্ষক। বাবা অ্যান্ড্রেয়া ছেলেকে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি ও বিপ্লবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। নামের মধ্যেই এর ছাপ ছিল। ‘বেনিতো’ নামটি রাখা হয় মেক্সিকোর বিপ্লবী নেতা বেনিতো জুয়ারেজের অনুপ্রেরণায়।

ছোটবেলা থেকেই বেনিতো ছিলেন খ্যাপাটে স্বভাবের, রগচটা ও অগাধ আত্মবিশ্বাসী। পড়াশোনায় মাঝারি হলেও ভাষা আর বক্তৃতায় তাঁর দখল ছিল ঈর্ষণীয়। মাত্র ১০ বছর বয়সে এক সহপাঠীকে ছুরি মারার ঘটনায় স্কুল থেকে বহিষ্কার হন মুসোলিনি।

তবুও ১৮ বছর বয়সে শিক্ষকতার যোগ্যতা অর্জন করে কিছুদিন স্কুলে পড়ান মুসোলিনি। কিন্তু সেই পেশাগত স্থিরতা তাঁর বিপ্লবী চেতনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরে রাজনীতির উত্তাল আবহ তাঁকে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত করে। পাশাপাশি সাংবাদিকতা শুরু করেন স্থানীয় পত্রিকাগুলোয়।

সমাজতন্ত্র থেকে ফ্যাসিবাদে যাত্রা

মুসোলিনি শুধু রাজনীতিবিদ নন, ছিলেন এক অসাধারণ লেখক ও সাংবাদিক। সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা ছড়িয়ে দিতে তিনি লেখালেখি শুরু করেন। ১৯১১ সালে তিনি ‘আভান্তি!’ নামে মিলানের এক সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার পত্রিকার সম্পাদক হন। এ সময় তিনি জোরালোভাবে শ্রেণিসংগ্রাম ও শ্রমিক অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন।

কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে ইতালির পুনরুজ্জীবনের জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা জরুরি। এই মতের কারণে তাঁকে সমাজতান্ত্রিক দল থেকে বহিষ্কার করা হয় (১৯১৪ সাল)।

এ সিদ্ধান্তই মুসোলিনির জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সমাজতন্ত্র থেকে সরে এসে তিনি নতুন জাতীয়তাবাদী ও যুদ্ধপন্থী মতবাদের দিকে ঝোঁকেন, যা ভবিষ্যতের ফ্যাসিবাদের ভিত্তি গড়ে দেয়।

১৯১৯ সালে বেনিতো মুসোলিনি প্রতিষ্ঠা করেন উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন ‘ফ্যাসিও দি কমবাত্তিমেন্তো’। পরে জাতীয় ফ্যাসিবাদী দলে (ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টি বা পিএনএফ) পরিণত হয় এটি। দলের সদস্যদের পরনে ছিল কালো শার্ট, হাতে লাঠি আর মুখে জাতীয় শৃঙ্খলার কথা।

এই ব্ল্যাক শার্টধারীরা বামপন্থী আন্দোলন ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংসতা চালাতেন। গণতন্ত্রকে দুর্বল বলে তাঁরা জাতীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার নামে শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন। তাঁদের মূল কৌশল ছিল—ভয় দেখানো, মারধর ও হত্যা। একরকম সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তাঁরা ইতালির রাজনীতিতে ফ্যাসিজমের জন্ম দেন।

১৯২২ সালের অক্টোবরে মুসোলিনি প্রায় ৩০ হাজার ব্ল্যাক শার্টধারী নিয়ে ‘মার্চ অন রোম’ নামের এক বিক্ষোভ শুরু করেন। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে ইতালির রাজা ভিক্টর ইমানুয়েল তৃতীয় সামরিক হস্তক্ষেপ না করে মুসোলিনিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান।

এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই শেষ হয় ইতালির গণতন্ত্রের অধ্যায়। শুরু হয় একনায়কত্বের যাত্রা। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেও দ্রুতই মুসোলিনি নিজের হাতে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩৯ বছর।

একনায়কতন্ত্র কায়েম

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মুসোলিনি দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেন। ১৯২৫ সালের পর থেকে তিনি নিজেকে ‘ইল দুচে’ অর্থাৎ ‘দ্য লিডার (নেতা)’ বলে অভিহিত করতে থাকেন। এ পর্যায়ে এসে পার্লামেন্টের ক্ষমতা খর্ব করেন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে আনেন ও বিরোধীদের নির্যাতন–নিপীড়ন শুরু করেন।

এভাবে মুসোলিনি একটি ‘করপোরেট রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যস্থতায় সব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে সরকার। তবে বাস্তবে এ নীতির আড়ালে ছিল সরকারি দমন, বিধিনিষেধ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার আয়োজন।

মুসোলিনির শাসনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল রাষ্ট্রীয় প্রোপাগান্ডা। শিশুদের জন্য ফ্যাসিবাদী আদর্শে গড়া স্কুল, যুবকদের জন্য মিলিশিয়া আর সংবাদমাধ্যমের জন্য সরকারের গাইডলাইন—সবই ছিল একনায়কের বন্দনায় নিবেদিত। নিজেকে ‘রোমান সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি ইতালির জাতীয়তাবাদকে উসকে দেন।

মুসোলিনির এই ফ্যাসিবাদী শাসন ইউরোপের বাক্‌স্বাধীনতার ওপরে ছিল প্রথম বড় আঘাত।

যুদ্ধ ও ফ্যাসিবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা

মুসোলিনির নেতৃত্বে ইতালি ১৯৩০–এর দশকে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেই তাঁর সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিচয় দেন। ১৯৩৫ সালে তিনি আবিসিনিয়া (বর্তমান ইথিওপিয়া) আক্রমণ করে জয় করেন এবং জাতিপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আগ্রাসন চালিয়ে যান।

স্পেনের গৃহযুদ্ধে ফ্রাঙ্কোর ফ্যাসিবাদী বাহিনীকেও সমর্থন দেন মুসোলিনি। ধীরে ধীরে তাঁর আদর্শ নাৎসি জার্মানির হিটলারের সঙ্গে মিলতে শুরু করে। ১৯৩৯ সালে হিটলারের সঙ্গে ‘প্যাক্ট অব স্টিল’ নামের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে ইতালিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির আনুষ্ঠানিক মিত্র করে তোলেন তিনি।

আদর্শিকভাবে নাৎসিবাদের সঙ্গে মুসোলিনির ফ্যাসিবাদের কিছু পার্থক্য থাকলেও উভয় শাসকই কর্তৃত্ববাদ, জাতীয়তাবাদ ও সহিংসতা ব্যবহার করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন।

হিটলার ও মুসোলিনির জোট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে।

পতনের শুরু ও করুণ পরিণতি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পক্ষে অবস্থান নেওয়া মুসোলিনির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠে। ১৯৪৩ সালে মিত্রবাহিনীর আক্রমণে ইতালির বিভিন্ন এলাকা হাতছাড়া হতে শুরু করে। ইতালির জনগণ ফ্যাসিবাদের প্রতি আস্থা হারান।

মুসোলিনিকে ইতালির রাজার পক্ষ থেকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে হিটলারের নাৎসি বাহিনী তাঁকে মুক্ত করে পুতুল রাষ্ট্র ‘সলো প্রজাতন্ত্র’ গঠনের পর এর প্রধান বানায়। তবে এ পুতুল রাষ্ট্র স্থায়ী হয়নি।

১৯৪৫ সালের এপ্রিলে মিত্রবাহিনীর অগ্রযাত্রার মুখে পালানোর চেষ্টা করেন মুসোলিনি। কিন্তু লাভ হয়নি। লোম্বার্দি অঞ্চলে পার্বত্য পথে পালানোর সময় প্রতিরোধ যোদ্ধারা তাঁকে আটক করেন। ২৮ এপ্রিল প্রেমিকা ক্লারা পেতাচ্চির সঙ্গে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পরদিন মুসোলিনি ও তাঁর প্রেমিকার মরদেহ মিলান শহরের পিয়াতসালে লোরেতো চত্বরে উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এ দৃশ্য একই সঙ্গে যেমন প্রতীকী বিদ্রোহ ও ঘৃণা, তেমনই ইতিহাসের এক নিষ্ঠুরতম রাজনৈতিক সমাপ্তির প্রতীক হয়ে রয়েছে।

বিতর্কিত উত্তরাধিকার

মুসোলিনির উত্তরাধিকার অর্থাৎ তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, শাসনব্যবস্থা ও ইতালির ইতিহাস ও সমাজে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আজও বিতর্কিত হয়ে আছে। অনেকে তাঁকে আধুনিক ইতালির একজন দৃঢ় নেতৃত্বের নির্মাতা বলে দেখেন। আবার অনেকে মনে করেন, তিনি ছিলেন ইতিহাসের এক ভয়ংকর একনায়ক; যাঁর ভুল সিদ্ধান্তে ইতালিকে ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

ইতালিতে এখনো কিছু চরম ডানপন্থী দল মুসোলিনির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়। বিশেষ করে তাঁর নাতনি আলেসান্দ্রা মুসোলিনি একসময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন ডানপন্থী দল থেকে।

ফ্যাসিবাদ: ইতিহাসের শিক্ষা

ফ্যাসিবাদ শুধু একটি রাজনৈতিক মতবাদ নয়। এটি একটি সামাজিক প্রকল্প, যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, গণতান্ত্রিক চর্চা—সবকিছুই রাষ্ট্রের পূজায় বলি দেওয়া হয়। মুসোলিনি এ মতাদর্শকে নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন।

ইতিহাসের শিক্ষা বলছে, নেতার অন্ধ অনুসরণ, যুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদের নামে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ কখনো একটি জাতিকে উন্নতির পথে নিতে পারে না; বরং তা এগিয়ে নিয়ে যায় ধ্বংসের দিকেই।

{তথ্যসূত্র: দ্য ডকট্রিন অব ফ্যাসিজম, বেনিতো মুসোলিনি; রিচার্ড বসওয়ার্থ, মুসোলিনি: আ বায়োগ্রাফি; ক্রিস্টোফার হিবার্ট, মুসোলিনি: দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অব ইল দুচ; বিবিসি হিস্ট্রি; এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা}

অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে বেনিতো মুসোলিনি (ডানে)
অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে বেনিতো মুসোলিনি (ডানে) ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

Monday, July 21, 2025

কেন জনশূন্য, ভুতুড়ে হয়ে পড়ছে ইতালির এই শহর -বিবিসি

ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় ফ্রেগোনা শহরের সরু মূল সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় মেয়র জাকোমো দে লুকা কিছু দোকানপাট দেখালেন। এর মধ্যে আছে দুটি সুপারমার্কেট, একটি সেলুন, কিছু রেস্তোরাঁ। কিন্তু দোকানগুলোর শাটার ফেলে রাখা। সাইনবোর্ডগুলো মলিন। এখন আর চালু নেই।

ইতালির অনেক শহরের মতোই পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সুন্দর শহর ফ্রেগোনা এখন প্রায় জনশূন্য। কারণ, স্থানীয় বাসিন্দারা আগের চেয়ে অনেক কম সন্তান নিচ্ছেন, অনেকে আবার বড় শহরে চলে যাচ্ছেন, কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।

এখন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও বন্ধ হওয়ার পথে। আর এ নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছেন শহরের মেয়র।

দে লুকা ব্যাখ্যা করে বলেন, নতুন বছরে প্রথম শ্রেণির ক্লাস চালু করা যাচ্ছে না। কারণ, সেখানে মাত্র চারজন শিশু আছে। তাঁরা এটা বন্ধ করে দিতে চান।

নিয়ম অনুযায়ী, স্কুল পরিচালনার জন্য তহবিল পেতে হলে প্রতিটি ক্লাসে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হয়।

ভেনিস শহর থেকে গাড়ি চালিয়ে ফ্রেগোনায় যেতে এক ঘণ্টা লাগে। মেয়রের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রেগোনার জনসংখ্যা গত দশকে প্রায় এক–পঞ্চমাংশ কমেছে।

চলতি বছর জুন মাস পর্যন্ত ফ্রেগোনা শহরে মাত্র চারটি শিশুর জন্ম হয়েছে। শহরের বাকি প্রায় ২ হাজার ৭০০ বাসিন্দার বেশির ভাগই প্রবীণ।

দে লুকার কাছে রিসিপশন ক্লাস (প্রাথমিক শ্রেণি) বন্ধ হয়ে যাওয়া যেন এক মোড় ঘোরানো ঘটনা। তিনি আশঙ্কা করছেন, যদি শিশুরা ফ্রেগোনার বাইরে গিয়ে পড়ালেখা শুরু করে, তাহলে তারা আর এ শহরের দিকে ফিরে তাকাবে না।

এ কারণে মেয়র এখন আশপাশের এলাকা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি কাছের একটি পিৎজা কারখানাতেও গেছেন। তাঁর একটাই চেষ্টা, যেভাবেই হোক সেখানকার অভিভাবকদের রাজি করানো, যেন তাঁদের সন্তানদের ফ্রেগোনার স্কুলে ভর্তি করান এবং স্কুলটি বাঁচিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

বিবিসিকে মেয়র বলেন, ‘আমি মিনিবাস পাঠিয়ে শিশুদের সেখান থেকে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, শিশুরা চাইলে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত স্কুলে থাকতে পারবে। সব খরচ দেবে পৌরসভা।’

দে লুকা আরও বলেন, ‘আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন। যদি এভাবে চলতেই থাকে, এ এলাকা শেষ হয়ে যাবে।’

দেশজুড়েই সমস্যা

ইতালির জনসংখ্যা সংকট শুধু ফ্রেগোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গত এক দশকে পুরো দেশের জনসংখ্যা কমেছে প্রায় ১৯ লাখ। টানা ১৬ বছর ধরে জন্মহার কমছে।

ইতালির একজন নারী এখন গড়ে মাত্র ১ দশমিক ১৮ হারে সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম জন্মহার। এ হার ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় হার ১ দশমিক ৩৮-এরও নিচে। আর স্থিতিশীল জনসংখ্যার মানদণ্ড ২ দশমিক ১ হার থেকে তো অনেকটাই নিচে।

সন্তান জন্মে উৎসাহ দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকার জন্মহার বাড়াতে পারেনি।

ফ্রেগোনার মূল চত্বরে ভ্যালেন্তিনা দোত্তোর নামের স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে বিবিসির আলাপ হয়। তাঁর সঙ্গে ছিল ১০ মাসের মেয়ে দিলেত্তা।

ভ্যালেন্তিনা বলেন, একটা সন্তান নেওয়ার আগে এখন অনেক চিন্তা করতে হয়।
দিলেত্তার জন্মের প্রথম বছরে ভ্যালেন্তিনা সরকার থেকে মাসে প্রায় ২০০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২১ হাজার টাকা) ভাতা পান। তবে অল্পের জন্য তিনি সরকারের নতুন ঘোষিত ‘বেবি বোনাস’ স্কিম পাননি। এ স্কিমের আওতায় ২০২৫ সালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য এক হাজার ইউরোর নতুন অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকার নতুন করে কর রেয়াত এবং বাবা-মায়ের জন্য ছুটির সময়সীমাও বাড়িয়েছে। তবুও বাস্তব জীবনের খরচ, অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যতের চিন্তাই মানুষকে সন্তান নেওয়া থেকে পিছিয়ে রাখছে।

তবে ভ্যালেন্তিনাকে এখন কাজের জায়গায় ফিরতে হচ্ছে। কারণ, সাশ্রয়ী দামে শিশুসেবা পাওয়া এখনো খুব কঠিন।

ভ্যালেন্তিনা বলেন, ‘শিশু কম, কিন্তু শিশুদের রাখার জায়গাও খুব কম। আমি ভাগ্যবান। কারণ, আমার দাদি আমার মেয়েকে দেখাশোনা করেন। তা না হলে আমি জানি না তাকে কোথায় রেখে যেতাম।’

এ কারণেই ভ্যালেন্তিনার অনেক বন্ধু মা হতে সাহস পান না।

ভ্যালেন্তিনা বলেন, ‘চাকরি, স্কুল, খরচ—সবকিছু মিলিয়ে এটা কঠিন কাজ। কিছুটা সহায়তা পাওয়া যায়, তবে তা সন্তান নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।’

‘এতে সমস্যা মিটবে না’

ভেনেতো অঞ্চলের কিছু কোম্পানি নিজেদের উদ্যোগেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে।

ফ্রেগোনা থেকে একটু নিচের দিকে নামলেই ভেনেতো নামের বড় এ শিল্প এলাকার দেখা পাওয়া যায়। সেখানে অনেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এমনই একটি কোম্পানি ইরিনক্স। তারা অনেক আগেই বুঝেছিল যে কর্মীদের সন্তানদের দেখাশোনা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। তাই ইরিনক্স আরও সাতটি কোম্পানির সঙ্গে মিলে কারখানার কাছেই একটি শিশু দেখাশোনার কেন্দ্র খুলে দেয়। এটি একদম ফ্রি না হলেও অনেকটা সস্তা আর সুবিধাজনক। এটি ইতালিতে নেওয়া প্রথম এমন ধরনের উদ্যোগ।

ইরিনক্সের কর্মকর্তা মেলানিয়া সান্দ্রিন বলেন, ‘আমার ছেলেকে মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে কোনো জায়গায় রাখতে পারাটা আমার জন্য সুবিধাজনক। কারণ, আমি চাইলে যখন খুশি ওর কাছে যেতে পারি।’

এই শিশু যত্ন কেন্দ্র না থাকলে মেলানিয়ার পক্ষে চাকরিতে ফেরা কঠিন হতো। কারণ, তিনি নিজের বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল হতে চাননি। আর সরকারি অনুদানে পরিচালিত শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলো সাধারণত পুরো দিনের জন্য শিশুদের নেয় না। জায়গাও কম।

ভ্যালেন্তিনার মতো মেলানিয়া এবং তাঁর বন্ধুরাও কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে গিয়ে দেরি করে সন্তান নিয়েছেন। সন্তান জন্মের সময় তাঁদের বয়স ছিল ৩০-এর কোটার শেষের দিকে। দ্বিতীয় সন্তান নেবেন কি না, এখনো তিনি নিশ্চিত নন।

মেলানিয়া বলেন, এটা সহজ কাজ নয়।

ইরিনক্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাটিয়া দা রস মনে করেন, ইতালিকে জনসংখ্যা সমস্যা মোকাবিলায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।

কাটিয়া বলেন, ‘শুধু এক হাজার ইউরো অনুদান দিয়ে কিছু হবে না; বরং বিনা মূল্যে শিশু যত্ন কেন্দ্রের মতো সেবাগুলো পাওয়া দরকার। যদি আমরা পরিস্থিতি বদলাতে চাই, তাহলে আমাদের জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।’

অভিবাসনের সংখ্যা বাড়ানোটা এ ক্ষেত্রে আরেকটি সমাধান হতে পারে। এটি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য অনেক বেশি বিতর্কিত বিষয়।

ইরিনক্স কারখানায় বর্তমান কর্মীদের ৪০ শতাংশের বেশি বিদেশি।

এসব কর্মী কোন কোন দেশের, তা কারখানার একটি দেয়ালে টাঙানো মানচিত্রে পিন দিয়ে চিহ্নিত করা আছে। মঙ্গোলিয়া থেকে শুরু করে বুরকিনা ফাসো পর্যন্ত নানা দেশ থেকে এই কর্মীরা এসেছেন।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাটিয়া দা রোস বলছেন, জন্মহার হঠাৎ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই ভেনেতো অঞ্চলের মতো অর্থনীতি সচল রাখতে ইতালিতে আরও বেশি বিদেশি শ্রমিক প্রয়োজন।

তবে শুধু অভিবাসনও পাশের শহর ত্রেভিসোর একটি স্কুলকে রক্ষা করতে পারেনি। গত মাসে পাসকোলি প্রাথমিক স্কুল চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, সেখানকার ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা এতটাই কমে গিয়েছিল যে স্কুল চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছিল না।

শেষ দিনে এক বিদায় অনুষ্ঠানে স্কুলের সিঁড়িতে মাত্র ২৭ জন শিশু জড়ো হয়েছিল।
এলিনোরা ফ্রানচেস্কি নামের এক অভিভাবক তাঁর আট বছর বয়সী মেয়েকে শেষবারের মতো ওই স্কুল থেকে নিয়ে আসার অভিজ্ঞতা উল্লেখ বলেন, ‘এটা সত্যিই দুঃখজনক দিন’। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে মেয়েকে অনেক দূরের অন্য একটি স্কুলে নিয়ে যেতে হবে তাঁকে।

তবে এলিনোরা মনে করেন, শুধু জন্মহার কমে যাওয়াই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী নয়। পাসকোলি স্কুলটি বিকেলে কোনো ক্লাস চালাত না। এর জন্য কর্মজীবী অভিভাবকদের পক্ষে সন্তানদের সেখানে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেকেই সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করান।

জাতিসংঘের এক পূর্বাভাস বলছে, আগামী ২৫ বছরে ইতালির জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ কমে যেতে পারে, অর্থাৎ জনসংখ্যা তখন ৫ কোটি ৯০ লাখ থেকে ৫ কোটি ৪০ লাখে নেমে আসতে পারে। এর পাশাপাশি প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়বে। এতে অর্থনীতির ওপর চাপ আরও জোরালো হবে।

সরকার এখন পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো এ সংকটের মূলে পৌঁছাতে পারেনি।

তবে এলিনোরা মনে করেন, শুধু অর্থনৈতিক অনুদান দিয়ে হবে না। অভিভাবকদের বাস্তব সেবা ও কার্যকর সহায়তা দরকার, যেটা সন্তান লালনপালনের করার পথটা সহজ করবে।

ইতালির ফ্রেগোনা শহর
ইতালির ফ্রেগোনা শহর। ছবি: বিবিসির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া

Monday, July 14, 2025

বিমান হামলার মধ্যে ত্রাণবাহী নতুন নৌযান রওনা দিল গাজার উদ্দেশে

ফ্লোটিলা ম্যাডলিনের পর এবার ত্রাণবাহী একটি নৌযান রোববার ইতালির সিসিলি থেকে যাত্রা শুরু করেছে গাজার উদ্দেশে। এতে ফিলিস্তিনপন্থি কর্মী ও মানবিক সহায়তা রয়েছে। এক মাস আগেই ইসরাইল একই রকম একটি নৌযান ম্যাডলিনের আরোহীদের আটক করে দেশে ফেরত পাঠায়। ওদিকে ২৪ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে ১৫০ বার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে কমপক্ষে ৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর বেশিরভাগই সাধারণ নারী ও শিশু।

অন্যদিকে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। এতে বলা হয়, নতুন এই নৌযানটির নাম হান্দালা। এটি পরিচালনা করছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন। রোববার দুপুর ১২টার কিছু পর ইতালির সিরাকিউস বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌযানটিতে রয়েছেন প্রায় ১৫ জন কর্মী। এর যাত্রার সময় ওই বন্দরে শতাধিক মানুষ জড়ো হন। কেউ কেউ ফিলিস্তিনের পতাকা উড়ান। অনেকে ‘কেফিয়া’ স্কার্ফ পরে উপস্থিত হয়েছিলেন। তারা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিয়ে নৌযানটিকে বিদায় জানান। নরওয়ের পুরনো একটি ট্রলারকে ব্যবহার করা এই নৌযানটিতে রয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাবার, শিশুদের জিনিসপত্র ও ওষুধ। এটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে প্রায় ১৮০০ কিলোমিটার (১১২০ মাইল) পথ অতিক্রম করে এক সপ্তাহের মধ্যে গাজার উপকূলে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে। নৌযানটি ইতালির দক্ষিণ-পূর্বের গ্যালিপলি শহরে বিরতি দেবে। সেখানে ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনৈতিক দল ‘ফ্রান্স আনবোউড’-এর দুই সদস্য যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে।

এই উদ্যোগটি আসছে ছয় সপ্তাহ পর, যখন ম্যাডলিন নামের আরেকটি জাহাজ ইতালি থেকে গাজা অভিমুখে রওনা দিয়েছিল এবং তাতে পরিবেশবাদী গ্রেটা থানবার্গসহ কর্মীরা ছিলেন। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ গাজার উপকূল থেকে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার দূরে সেই জাহাজটিকে আটক করে। ফ্রান্স আনবোউডের একজন নেতা গ্যাব্রিয়েল ক্যাথালা বলেন, ‘তাদের নতুন হান্দালা বাহনটি গাজার শিশুদের জন্য মানবিক অবরোধ ভাঙার একটি মিশন। এই গ্রীষ্মে চলমান গণহত্যার নীরবতা ভাঙতেই এই যাত্রা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি গাজায় পৌঁছাতে পারবো। যদি না পারি, তবুও এটি ইসরাইলের আরেকটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দলিল হয়ে থাকবে।’

নারী ও শিশুসহ ৪০ জনের বেশি নিহত গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান হামলায় রোববার কমপক্ষে ৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। হামলাগুলো হয় একটি বাজার ও একটি পানির বিতরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে। ইসরাইল ও হামাস এক সপ্তাহ ধরে কাতারের রাজধানী দোহায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে গেলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, গাজা শহরের একটি বাজারে বিমান হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি পানি বিতরণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় ৮ শিশু সহ মোট ১০ জন নিহত হন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা খালেদ রাইয়ান সাংবাদিকদের জানান, আমার ঘুম ভেঙে যায় দুটি প্রবল বিস্ফোরণের শব্দে। আমাদের প্রতিবেশী ও তার বাচ্চারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিলেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ২৪ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে ১৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা একটি আকাশচিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে গাজার উত্তরের বেইত হানুন এলাকায় হামাসের অবস্থানে আঘাত হানার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বড় বড় বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। গাজার সাংবাদিকদের চলাচলে বাধা এবং কিছু এলাকায় পৌঁছানোর অসুবিধার কারণে বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তি সংক্রান্ত আলোচনাও শনিবার কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। হামাস চায় গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। কিন্তু ইসরাইল গাজার ৪০ শতাংশেরও বেশি এলাকায় সেনা মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা করছে। এক ফিলিস্তিনি সূত্র বলেছেন, ইসরাইল কয়েক লাখ ফিলিস্তিনিকে গাজার দক্ষিণে জড়ো করে সেখান থেকে জোরপূর্বক মিশর বা অন্য দেশে পাঠাতে চায়। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৫৭৮৮২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর বেশির ভাগই নারী ও শিশু। জাতিসংঘ এই সংখ্যাগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচনা করে।

mzamin

Saturday, June 28, 2025

বিলিয়নিয়ারের বিয়ে: ৩০-ক্যারেট হীরেও যথেষ্ট নয়

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন জেফ বেজোস তার দ্বিতীয় স্ত্রী লরাঁ সানচেজকে নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। এ জন্য ভেনিসে আয়োজন করা হয় এক অভাবনীয় অনুষ্ঠান। যা একইসাথে ছিল বিলাসবহুল ও কিছুটা অদ্ভুত। এমনটাই জানিয়েছেন লন্ডনের ডেইলি মেইলের সাংবাদিক আলিসন বোশফ। এই বিয়ের অনুষ্ঠান  শুক্রবার হয়েছে ইতালির ভেনিসের সান জর্জিও মাজিওর দ্বীপে। একটি পুরনো গ্রিন থিয়েটার পুনঃর্নির্মাণ করে, যা দেখতে এক জাদুকরি বাগানের মতো। আছে ঝাড়বাতি, ফুল, লণ্ঠন, গোলকধাঁধা আর রূপকথার টেবিল সাজানো। দুই বছর আগে বেজোস যে ৩০-ক্যারেটের গোলাপি হীরা দিয়ে লরাঁ’কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন (মূল্য ৩ মিলিয়ন ডলার), তা এদিন সরিয়ে রাখা হয় ডান হাতে। তার পরিবর্তে সানচেজ পরেন ৩৫ ক্যারেটের সাদা হীরা, যার মূল্য ৮-১০ মিলিয়ন ডলার।

বোশফ ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, আপনি জানেন আপনি সত্যিই সেই এক হাজার ভাগের এক ভাগের শ্রেণিতে পৌঁছেছেন, যখন ৩০-ক্যারেট হীরাও বিয়ের জন্য যথেষ্ট মনে হয় না।
বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, অপরা উইনফ্রে, কারদাশিয়ান পরিবার, অভিনেত্রী সিডনি সুইনি এবং অনেকে। যদিও দাবি করা হয়েছিল এটি ছিল নিকট আত্মীয়দের জন্য একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান, বাস্তবে তা ছিল এক তারকামণ্ডিত আয়োজন।
লরাঁ সানচেজ পরেছিলেন ডলসে অ্যান্ড গাব্বানের ডিজাইন করা একটি সাদা করসেট ওয়েডিং গাউন। শরীরঘেঁষা, ফুলেল স্লিভস ও বিশাল ট্রেইনের সেই গাউন ছিল ইতালির মিলানে তৈরি। তার হেয়ার-মেকআপ টিমের সদস্য ছিলেন পাঁচজনেরও বেশি। বিয়ের আগে ভোগ ম্যাগাজিনের ফটোশুটে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আমি নিজেকে রাজকন্যার মতো মনে করেছিলাম।
জেফ বেজোসও ডলসে অ্যান্ড গাব্বানের কালো টাক্সেডো পরে আসেন, সানগ্লাস পরে, চওড়া হাসি নিয়ে। বিয়ের সময় গান গেয়ে মন জয় করেন বিখ্যাত টেনর আন্দ্রেয়া বচেলির পুত্র মাত্তেও বচেলি। বিয়ের ডিনারটি হয়েছিল ঝাড়বাতি ও মোমবাতির আলোয়। খাবারের মধ্যে ছিল  স্প্যাগেটি আলা  নেরানো- সোরেন্তো উপদ্বীপের ৩-তারকা রেস্টুরেন্ট কুয়াত্রো পাসি থেকে। লেমন-রিকোটা ডেজার্ট নেয়া হয় সাল ডে রিসো পেস্ট্রি দোকান থেকে। বিয়ের কেক তৈরি করেন ফ্রান্সের লা মোরিস রেস্টুরেন্টের প্রধান পেস্ট্রি শেফ সেদ্রিক গ্রোলে। অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুম এবং সাবেক ফুটবল তারকা টম ব্র্যাডি ঘনিষ্ঠ সময় কাটান। ব্লুমকে দেখা যায় রোমান আব্রামোভিচের সাবেক স্ত্রী ডাশা ঝুকোভার পাশে, যা রটনার খোরাক হয়ে দাঁড়ায়। কেটি পেরির অনুপস্থিতিতে লরাঁ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন — ‘উই মিস ইউ, কেটি’।
পরবর্তী আয়োজন
এই বিয়ে ছিল শুধু শুরু। পরদিন রাতেই অর্থাৎ শনিবার রাতে ভেনিসের আর্সেনালে’তে একটি গালা পার্টি এবং পরদিন সকালে পাজামা ব্রাঞ্চ পার্টি আয়োজন করা হয়েছে।  জেফ ও লরাঁ আগে থেকে থাকা মোট ৭ সন্তানও বিয়েতে উপস্থিত ছিল। এমনকি লরাঁর সাবেক প্রেমিক এবং সন্তানের পিতা টনি গনজালেজ ও তার স্ত্রী টোবি-ও অতিথি হিসেবে ছিলেন।

mzamin

Saturday, April 19, 2025

মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বললেন, ‘১০০ শতাংশ নিশ্চিত, চুক্তি হবে’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির বড় সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে এমন কথাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইইউর সঙ্গে চুক্তি হওয়াটা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ইইউ। ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপের দেশগুলো। এরপরও ২ এপ্রিল ইইউর সদস্যদেশগুলোর ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই শুল্ক বর্তমানে স্থগিত থাকলেও ভবিষ্যৎ ফাড়া কাটানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতার পথ ধরেছে জোটটি।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। শুল্কযুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন। দুজনের সাক্ষাতের সময় ট্রাম্প বলেন, ‘১০০ শতাংশ নিশ্চিত, একটি চুক্তি হবে। এটি হবে একটি ন্যায্য চুক্তি।’ জবাবে মেলোনি বলেন, ‘অবশ্যই।’

হোয়াইট হাউসে এ সাক্ষাতে ট্রাম্প বলেন, ‘সবাই একটি চুক্তি করতে চায়। আর তারা যদি একটি চুক্তি করতে না চায়, তাহলে আমরা তাদের জন্য চুক্তি করব।’ ট্রাম্প বলেন, তাঁর আশা আগামী তিন–চার সপ্তাহের মধ্যে সব দেশের সঙ্গে চুক্তি করবেন তিনি।

এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, এই জোট তৈরি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করার জন্য। আর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় মেলোনি বলেছিলেন, এই শুল্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতোই যুক্তরাষ্ট্রেরও ক্ষতি করবে।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জর্জিয়া মেলোনি
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: এএফপি

Saturday, April 5, 2025

ভয়ংকর বিপদে ইসরায়েল, গৃহযুদ্ধের শঙ্কা: ইসরায়েলকে দমনে কঠোর বার্তা দিল ইউরোপের এক দেশ

ভয়ংকর বিপদের মুখোমুখি ইসরায়েল। দেশটিতে সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েল গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

সংবাদ মাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জ্যুইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউট (জেপিপিআই) পরিচালিত এক নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক মনে করেন, দেশটির মধ্যে গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, এটাই বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি দেশের জনগণের গভীর উদ্বেগকে প্রতিফলিত করছে।

জরিপটি অনুষ্ঠিত হয় সাবেক সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আহারন বারাকের মার্চ ২০ তারিখে করা এক সতর্কতার প্রেক্ষিতে। তিনি বলেছিলেন, আমরা গৃহযুদ্ধের এক মুহূর্তের দূরত্বে আছি। তার মতে, দেশীয় বিরোধের কারণে এই বিপদ আরও প্রবল হচ্ছে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ২৭ শতাংশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যে, তারা বারাকের মতামতের সঙ্গে একমত। অন্যদিকে, ৩৩ শতাংশ বলেছেন যে বারাক কিছুটা বাড়িয়ে বলছেন, তবে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা এখনো বাস্তব। ১৬ শতাংশ মনে করেন, গৃহযুদ্ধের কোনো প্রকৃত বিপদ নেই।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ডানপন্থি ব্যতীত সব রাজনৈতিক মতাদর্শের জনগণ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

এর আগে মারিভ সংবাদপত্রে প্রকাশিত অপর এক জরিপে দেখা যায়, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বিচারিক সংস্কারের বিষয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ এবং জনগণের মধ্যে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছিল। এই সময় ৫৮ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক মনে করেছিল যে বিচারিক সংস্কারের কারণে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সেই প্রতিবাদগুলো ৭ অক্টোবর হামাসের হত্যাযজ্ঞের পর স্থগিত হয়।

ইসরায়েলকে দমনে কঠোর বার্তা দিল ইউরোপের এক দেশ

যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় লাগাতার ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। টানা কয়েক দিন ধরে বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও ভবন ধ্বংসের মাধ্যমে গাজায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

গাজার ভয়ানক এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশ ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা জিউসেপ কন্টে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। খবর আনাদুলো এজেন্সি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এক্স (পূর্বের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে জিউসেপ কন্টে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। শুধু গত দুই সপ্তাহেই ৩০০ জনের বেশি শিশু ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। এসব হামলা মূলত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। অথচ ইতালি ও ইউরোপ এ ব্যাপারে নীরব রয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করে যাচ্ছে, যার বাস্তব কোনো ফল নেই।’

কঠোর ভাষায় দেওয়া বার্তায় ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা বলেন, ‘ইসরায়েলের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। একইসঙ্গে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের ও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও প্রয়োজন।’

গাজায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হতাহতের প্রতিবাদে ইতালির মিলান শহরে শত শত মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত গাজায় ৫০ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়লেও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গেল বছরের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের নির্বিচার ও নৃশংস হামলার জেরে গাজার হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ও আশ্রয়শিবির ছেড়ে পালাচ্ছেন। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের নির্বিচার ও নৃশংস হামলার জেরে গাজার হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ও আশ্রয়শিবির ছেড়ে পালাচ্ছেন। ছবি : সংগৃহীত

Tuesday, February 11, 2025

রোম শহরের বুকে আস্ত এক দেশ ভ্যাটিকান সিটি by ফাহমিদা আক্তার

আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ ভ্যাটিকান সিটি। রোমান ক্যাথলিক গির্জার ধর্মগুরুদের আবাসভূমি এটি। ভ্যাটিকান সিটি থেকে গির্জার সরকার বা ধর্ম যাজকীয় শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন পোপ। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধর্মযাজক ও সন্ন্যাসীরাই মূলত এখানকার বাসিন্দা। এখানে সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা গির্জাসহসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভবনের অবস্থান। ১৯২৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভ্যাটিকান সিটি স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি পায়। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ১৯৮৪ সালে ভ্যাটিকান সিটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের এলাকা ঘোষণা করে। আজ মঙ্গলবার দেশটির স্বাধীনতা লাভের ৯৬ বছর পূর্ণ হলো। বিশেষ এই দিনটিতে ভ্যাটিকান সিটির আদ্যোপান্ত জেনে নেওয়া যাক।

ইতালির রোম শহরের ভেতরে ছোট একটি দেশ ভ্যাটিকান সিটি। নামের সঙ্গে সিটি থাকলেও এটি বিশ্বের একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ এবং রোমান ক্যাথলিক গির্জার সদর দপ্তর। ক্ষুদ্র এ দেশটির প্রায় চারপাশটাই পাথরের দেয়ালে ঘেরা। দেয়ালগুলোর ভেতর আছে সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা নামের বিশাল এক গির্জা, ভ্যাটিকান প্যালেস এবং আরও কিছু ভবন। ভ্যাটিকান প্যালেসের ভেতরে পোপের ভবন, জাদুঘর, একটি গ্রন্থাগার এবং সিস্টিন চ্যাপেল ভবনের অবস্থান।

ইতালির তাইবার নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ভ্যাটিকান একসময় জলাভূমি ছিল। আজার ভাতিকানাস নামে পরিচিত অঞ্চলটি রোমান সাম্রাজ্যের শুরুর দিকের বছরগুলোতে প্রশাসনিক অঞ্চলে পরিণত হয়, সেখানে বিলাসবহুল স্থাপনা গড়ে ওঠে।

সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা গির্জার শুরু যেভাবে

৬৪ খ্রিষ্টাব্দে রোমের বেশির ভাগ অংশ আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর ভ্যাটিকান হিল নামের পাহাড়ের পাদদেশে খ্রিষ্ট ধর্মপ্রচারক সেন্ট পিটারসহ আরও কয়েকজন খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন সম্রাট নিরো। সেখানেই তাঁদের সমাধি হয়। ৩১৩ সালে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন রোমান সম্রাট প্রথম কনস্টানটাইন। এরপর ৩২৪ সালে তিনি সেন্ট পিটারের সমাধির ওপর একটি গির্জা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। দ্রুতই জায়গাটি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে জনপ্রিয় তীর্থস্থান হয়ে ওঠে। সেখানে বাণিজ্যিক এলাকাও গড়ে ওঠে।  

৭৫০ শতকের পর ইতালির মধ্যাঞ্চলের বেশির ভাগই পোপদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসব জায়গা পপাল স্টেটস বা পোপের রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। ৮৪৬ সালে আরবদের হামলায় সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা গির্জাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তৎকালীন পোপ চতুর্থ লিও পবিত্র এ গির্জাকে সুরক্ষিত রাখতে এটি এবং আশপাশের স্থাপনাগুলো ঘিরে দেয়াল নির্মাণের আদেশ দেন। ৮৫২ সালে ৩৯ ফুট দীর্ঘ দেয়াল নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ১৬৪০ শতকে পোপ তৃতীয় উরবানের সময়ে দেয়ালগুলো ক্রমাগত বিস্তৃত করা হয়।

শুরুতে পোপেরা নিকটবর্তী লেটেরান প্যালেসে থাকতেন। তবে ষষ্ঠ শতকের শুরুর দিকে পোপ সিমাকুস সেন্ট পিটার্সের পাশে একটি বাসভবন গড়ে তোলেন। কয়েক শ বছর পর পোপ তৃতীয় ইউজিন এবং পোপ তৃতীয় ইনোসেন্ত এটিকে বিস্তৃত করেন। ১২৭৭ সালে এ অবকাঠামোটির সঙ্গে ক্যাস্টেল সান্ট অ্যাঞ্জেলোকে সংযুক্ত করতে আধা মাইল দৈর্ঘ্যের একটি পথ তৈরি করা হয়। তবে ১৩০৯ সালে পোপের প্রশাসনিক কেন্দ্রকে ফ্রান্সে সরিয়ে নেওয়ার পর এসব ভবন পরিত্যক্ত হয়ে যায়। পরবর্তী অর্ধশতক ধরে শহরটি দৈন্যের মধ্যে ছিল।

১৩৭৭ সালে পোপের শাসনব্যবস্থা ফ্রান্স থেকে আবারও রোমে ফিরিয়ে আনা হয়। তখন ধর্ম যাজকেরা দেয়ালঘেরা ভ্যাটিকান সিটিতে দ্যুতি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তৎপর হন। ১৪৫০ সালে পোপ নিকোলাস ভি চিরকা অ্যাপোস্টলিক প্যালেসের নির্মাণকাজ শুরু করেন। অবশেষে তার উত্তরসূরিদের জন্য স্থায়ী বাড়ি নির্মাণ হয়। তাঁর সংগ্রহে থাকা বইগুলো দিয়ে গড়ে তোলা হয় ভ্যাটিকান লাইব্রেরি। ১৪৭০-এর দশকে বিখ্যাত উপাসনালয় সিস্টিন চ্যাপেলের কাজ শুরু করেন চতুর্থ সিক্সতুস।

১৫০৩ সালে পোপ হিসেবে দ্বিতীয় জুলিয়াস দায়িত্ব নেওয়ার পর শহরটিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়। তিনি সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার ১২০০ বছরের পুরোনো ভবনটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তিনি ইতালীয় স্থপতি দোনাতো ব্রামান্তেকে এটি নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে ১৫১৩ সালে জুলিয়াসের মৃত্যু এবং পরের বছর ব্রামান্তের মৃত্যুর পর এই প্রকল্প চালিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে অচলাবস্থা তৈরি হয়। অবশেষে ১৫৪৭ সালে ইতালীয় ভাস্কর মিকেলাঞ্জেলো সে অচলাবস্থার অবসান ঘটান এবং ব্রামেন্তোর মূল নকশা অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেন। ১৫৯০ সালে এর আকর্ষণীয় গম্বুজের কাজ শেষ হয়। আর বিশাল অবকাঠামোটির চূড়ান্ত কাজ শেষ হয় ১৬২৬ সালে। ৫ দশমিক ৭ একর জায়গাজুড়ে তৈরি করা গির্জাটি ৪৫২ ফুট লম্বা। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জার মর্যাদা ধরে রেখেছিল।

আর ভ্যাটিকান জাদুঘর গড়ে তোলা হয় দ্বিতীয় জুলিয়াসের সংগ্রহে থাকা ভাস্কর্য দিয়ে। পরে অন্য পোপেরা ওই জাদুঘরের সংগ্রহ বাড়াতে থাকেন।

স্বাধীনতার স্বীকৃতি

১৮৭০ সালে ইতালীয় সরকার ভ্যাটিকান সিটির দেয়ালের বাইরের সব ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। গির্জা কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে পরবর্তী প্রায় ৬০ বছর ধরে বিরোধ চলেছে। শেষ পর্যন্ত ১৯২৯ সালে দুই পক্ষের মধ্যে ল্যাটেরান প্যাক্টস নামের চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় ভ্যাটিকান সিটিকে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শুধু তা–ই নয়, পপাল রাজ্যগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গির্জাকে ৯ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

বাসিন্দা কারা


পোপসহ গির্জা সরকারের শত শত সদস্য ভ্যাটিকান সিটিতে থাকেন ও কাজ করেন। পোপের সুরক্ষায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী সুইস গার্ডের বেশ কিছু সদস্যও তাঁদের পরিবার নিয়ে সেখানে থাকেন। ভ্যাটিকান সিটিতে প্রায় তিন হাজার মানুষ কাজ করেন। এ কর্মীদের বেশির ভাগই রোমে থাকেন। বেশির ভাগ মানুষ ইতালীয় ভাষায় কথা বলেন। তবে সরকারি কাগজপত্র এবং গির্জার কিছু অনুষ্ঠানে লাতিন ভাষা ব্যবহার করা হয়।

ভ্যাটিকান সিটির অর্থনীতি অন্য দেশের অর্থনীতি থেকে আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার রোমান ক্যাথলিকরা তাঁদের স্থানীয় গির্জাগুলোতে অনুদান দেন। ভ্যাটিকান সিটি সেখান থেকে কিছু অর্থ পায়। বই, স্ট্যাম্প, কয়েন এবং স্যুভেনিরও বিক্রি করে ভ্যাটিকান। জাদুঘর পরিদর্শনে আসা পর্যটকদের মাধ্যমেও আয় করে থাকে ভ্যাটিকান।

বর্তমানে জর্জ মারিও বেরগোগলিও পোপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পোপ ফ্রান্সিস নামেও পরিচিত। অসুস্থতার কারণে পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট পদত্যাগ করার পর ২০১৩ সালের মার্চে কার্ডিনালরা ফ্রান্সিসকে পোপ নির্বাচিত করেন। আর্জেন্টিনার বংশোদ্ভূত ফ্রান্সিস লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হওয়া প্রথম কোনো পোপ। ওই সময় তাঁর বয়স ছিল ৭৬ বছর।

ক্যাথলিক গির্জার প্রায় ১২০ কোটি অনুসারীর কাছে ভ্যাটিকান সিটি একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। ১০৯ একর জায়গা নিয়ে দেশটি গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকায় ভ্যাটিকানের মালিকানাধীন আরও ১৬০ একর জায়গা আছে। ভ্যাটিকান সিটির নিজস্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থা, টেলিফোন ব্যবস্থা, ডাকঘর, ফার্মেসি, সংবাদপত্র, রেডিও এবং টিভি স্টেশন আছে। ২০২৩ সালের এক হিসাব অনুসারে সেখানকার বাসিন্দার সংখ্যা ৭৫০ জনের কিছু বেশি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, ব্রিটানিকা, হিস্ট্রি ডট কম

ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ার
ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ার। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

Wednesday, November 20, 2024

মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলে হতাশ আমেরিকানদের ১ ডলারে বাড়ি দিচ্ছে ইতালির একটি গ্রাম

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ কেমন হতে চলেছে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে। এই আবহে ইতালীয় দ্বীপ সার্ডিনিয়ার একটি গ্রাম অভিনব সুযোগ এনে দিয়েছে। গ্রামীণ ইতালির অন্যান্য অনেক জায়গার মতো, ওলোলাই তার ভাগ্য পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টায় নেমেছে। গ্রামের জরাজীর্ণ বাসাগুলি মাত্র এক ডলারে বিক্রি করে দিচ্ছে তারা। ৫ নভেম্বর ভোটের ফলাফলের পরে তারা আমেরিকান প্রবাসীদের লক্ষ্য করে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে এই আশায় যে,  ফলাফলে যারা বিরক্ত তারা ইতালির গ্রামের এই  সস্তা বাসাগুলি কিনে নতুন করে বসতি স্থাপন করবে। ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনে লেখা হয়েছে, ‘আপনি কি বৈশ্বিক রাজনীতির দ্বারা ক্লান্ত ? নতুন  জীবনধারা গ্রহণ করতে চাইছেন? সার্ডিনিয়ার অত্যাশ্চর্য দ্বীপে আপনার স্বপ্ন নির্মাণের সময় এসেছে।’

মেয়র ফ্রান্সেসকো কলম্বু সিএনএনকে বলেছেন যে ওয়েবসাইটটি বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষিতে আমেরিকান ভোটারদের আকর্ষণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ভালোবাসেন এবং নিশ্চিত যে আমেরিকানরা তার সম্প্রদায়কে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসবে।  ফ্রান্সেসকোর দাবি, ‘আমরা সত্যিই আমেরিকানদের উপর ফোকাস করতে চাই । আমরা অবশ্যই অন্য দেশের লোকদেরও এখানে আসতে আবেদন জানাচ্ছি। তবে আমেরিকানদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। গ্রামকে পুনরুজ্জীবিত করতে আমরা তাদের ওপর আস্থা রাখছি।’

ফ্রান্সেসকো কলম্বু বলেন যে, গ্রামটি এখন তিন স্তরের আবাসন সরবরাহ করছে। বিনামূল্যে অস্থায়ী বাসা, সংস্কার সহ এক-ইউরোর বাসা। কিছু বাসা আছে যার মূল্য  ১ লক্ষ  ইউরো (১লক্ষ ৫ হাজার ডলার)। মেয়র বলেছেন যে, তিনি আগ্রহী ক্রেতাদের ক্রয়ের প্রতিটি ধাপে গাইড করার জন্য একটি বিশেষ দল তৈরি করেছেন।  উপলব্ধ বাসস্থানগুলির জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিগত ট্যুর সংগঠিত করা থেকে শুরু করে ঠিকাদার, নির্মাতা  এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেভিগেট করা। সবেরই ব্যবস্থা থাকছে। উপলব্ধ খালি সম্পত্তির ফটো শীঘ্রই ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। বিগত শতাব্দীতে, ওলোলাইয়ের জনসংখ্যা ২২৫০থেকে ১৩০০এ সঙ্কুচিত হয়েছে যেখানে প্রতি বছর মাত্র কয়েকটি শিশুর জন্ম হয়েছে। অনেক পরিবার কঠিন অর্থনৈতিক সময়ে, কাজ এবং উন্নত জীবনের সন্ধানে গ্রাম ছেড়েছে।

ওয়েবসাইটটি পূর্বশর্ত হিসাবে মার্কিন পাসপোর্ট থাকার কথা উল্লেখ করেনি, তবে মেয়র বলেছেন যে মার্কিন নাগরিকদের অন্যান্য জাতীয়তার সম্ভাব্য আবেদনকারীদের থেকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।মেয়র বলেছেন  বাসাগুলির তথ্যের অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই  ৩৮,০০০ আবেদন জমা পড়েছে, সবকটিই যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

mzamin

Wednesday, November 13, 2024

নিয়ম ভেঙে প্রেমিকের সঙ্গে হোটেলে রাত্রিবাস: মিস ইউনিভার্সের মঞ্চ থেকে বিতাড়িত সুন্দরী

ইতালি মোরা, পানামার প্রতিনিধিত্বকারী মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগী। তাকে সম্প্রতি প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালের কয়েকদিন আগে অযোগ্য বলে ঘোষণা করে  বরখাস্ত করা হয়েছে।  নিউ ইয়র্ক পোস্টের খবর অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে প্রেমিকের হোটেলে গিয়ে একসঙ্গে থাকছিলেন। তার জেরেই প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে। যদিও সরকারিভাবে এই নিয়ে কিছুই জানানো হয়নি মিস ইউনিভার্স আয়োজকদের তরফে।রিপোর্ট অনুযায়ী, মোরা তার প্রেমিক জুয়ান আবাদিয়ার সাথে মেক্সিকোতে তার আলাদা হোটেল রুমে আয়োজকদের অনুমতি ছাড়াই থাকছিলেন  বলে অভিযোগ।  মিস ইউনিভার্সে এবার পানামার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন ১৯ বছর বয়সী ইতালিমোরা। কিন্তু প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই তিনি বিতর্কে জড়ান। মোরার দাবি, তার জন্য সঠিক পোশাকের ব্যবস্থা করেননি মিস ইউনিভার্স পানামার আয়োজকরা। তাই বাধ্য হয়ে তার প্রেমিক জুয়ান আবাদিয়াই ৭ হাজার ডলার খরচ করে ক্যারোলিনা হেরেরার ডিজাইনার পোশাক কিনে দেন প্রতিযোগিতায় পরার জন্য। শোনা যায়, মোরার মেকআপ এবং হোটেলের খরচ দেওয়ার ক্ষমতাও নাকি নেই পানামার মিস ইউনিভার্স আয়োজকদের। সেই খরচও বহন করেন জুয়ান। মিস ইউনিভার্সের নিয়ম অনুযায়ী, প্রেমিকের সঙ্গে এক হোটেলে থাকতে পারবেন না কোনো প্রতিযোগী। কিন্তু সেই নিয়ম ভেঙেছেন মোরা। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে আয়োজকদের তরফে বলা হয়, মোরার ব্যক্তিগত ‘অপরাধ’-এর জন্যই তিনি বাদ পড়ছেন প্রতিযোগিতা থেকে। পানামার তরফে জানানো হয়, মিস ইউনিভার্সে নতুন করে কোনও প্রতিযোগীকে পাঠানো সম্ভব হবে না। এমনকি মিস পানামার খেতাবও কেড়ে নেওয়া হয়েছে মোরার থেকে। ১৯ বছর বয়সী বিউটি কুইন ইতালি মোরা, মেক্সিকো সিটিতে ১৬ নভেম্বর মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় ১৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।  কিন্তু তার আগেই তাকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়তে হলো।

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin

Sunday, August 25, 2019

ইতালি, ইউরোপীয় রাজনীতির ড্রামা কুইন by মতিউর রহমান চৌধুরী

প্রধানমন্ত্রী কোন্টের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ইতালির রাজনীতি ফের টালমাটাল। নতুন নির্বাচন না ফের কোয়ালিশন   
সরকার- এ নিয়ে দরকষাকষি চলছে। প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লা গত তিনদিনে একাধিক পার্টির সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। এর আগে তিনি মঙ্গলবারের মধ্যে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। শনিবার বলেছেন, আরও সময় লাগবে। যদি শেষ পর্যন্ত দলগুলো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে না পারে তখন হয়তো প্রেসিডেন্ট নয়া নির্বাচনের ডাক দেবেন। গত ২০শে আগস্ট অভ্যন্তরীণ কলহের জেরে প্রধানমন্ত্রী এন্তোনিও কোন্টে পদত্যাগ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির কট্টর অবস্থানের কারণে সংঘাত শুরু হয়।
সালভিনি ইতালির সবচেয়ে বড় দল দ্য লীগের শীর্ষ নেতা।

ইতালির রাজনীতি বরাবরই অস্থির। গত ৩০ বছরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ১৩ জন। শাসন করেছে ২০টি ভিন্ন সরকার। ইতিহাস থেকে দেখা যায় ইতালিতে কখনও রাজনৈতিক স্থিতি ছিল না। অনেকে মজা করে বলেন, ‘ইতালি হচ্ছে ইউরোপীয় রাজনীতির ড্রামা কুইন’। ইউরোপের অন্যদেশগুলোও এখন এর ভাগ বসাতে চাচ্ছে। বলা হচ্ছে স্পেন এখন নয়া ইতালি হতে যাচ্ছে। গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক মতামত কলামে ইতালি ও যুক্তরাজ্যকে জমজ ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। শুধু ইতালিতেই নয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর জার্মানিতে সরকার গঠনে ৬ মাস সময় লেগেছিল। সুইডেনে চার মাসের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে ডান-বাম জোট ভেঙে মধ্যবাম সরকার গঠিত হয়। স্পেনে এখনও অচলাবস্থা। ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে লেজে গোবরে অবস্থা। ইতালির ফাররাইট মুভমেন্ট নিজেদের এস্টাবলিশমেন্ট বা বিদ্যমান রাজনৈতিক অবস্থা বিরোধী হিসেবে তুলে ধরছে।

ইউরোপজুড়ে সম্প্রতি যে সব জনতোষণপন্থি দলের উত্থান ঘটেছে সেগুলোর মধ্যে এটি একটি। ইতালিতে অভিবাসন ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোও একদম বিভক্ত। জার্মানি সুইডেনেও একই অবস্থা। ইতালিতে ডানপন্থি দল দ্য লীগের একটি প্রধান ইস্যু।  ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় ইতালির সমস্যা ভিন্ন। দেশটি আসলে অপেক্ষাকৃত নবীন। ১৮৬১ সালে কিংডম অব ইতালি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা পায়। রাজ্য প্রতিষ্ঠার আগে ইতালি মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু অঞ্চল ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে রাজ পরিবার শাসন করতো। এরপর ইতালির সীমানা পরিবর্তন হলো। বিলুপ্ত হলো রাজ পরিবার। ইতালি পরিবর্তন হলো একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে। ১৯৪৬ সালের পর ইতালির সংবিধান ও রাজনৈতিক কাঠামো মোটা দাগে একই রয়ে গেছে। কিন্তু রাজনৈতিক চিত্র ব্যাপকভাবে পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৪৬ সন থেকে ’৯২ সন পর্যন্ত ক্রিশ্চিয়ান ডেমক্রেটিক নামে মধ্যপন্থি দল ও ইতালিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির আধিপত্য ছিল। এরপর রাজনৈতিক দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। যার পরিণতিতে ইতালিকে এখন মূল্য দিতে হচ্ছে। পরিবর্তন এতোটাই নাটকীয় যে, ১৯৯২ সন থেকে বর্তমান সময়কালকে বলা হয়ে থাকে সেকেন্ড রিপাবলিক বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র। যদিও এর মধ্য দিয়ে সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। কমিউনিস্ট পার্টিতে পরিবর্তন এসেছে ব্যাপক। ক্রিশ্চিয়ান ডেমক্রেটিক পার্টি হারিয়ে যায় ক্রমশ। রঙ্গ মঞ্চে আসে নতুন নতুন দল।

ইতালিতে রাজনৈতিক দল অনেক। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দ্বি-দলীয় শাসন গড়ে ওঠেনি। গত নির্বাচনের আগে একটি নতুন নির্বাচনী আইন সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একক দলের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ এবং জোটের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ভোট পেলেই সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা যাবে। এর ফলে জোট গঠনে উৎসাহ আরও বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি এমনই গত ছয় বছরে কোনো একক দল দূরে থাক, কোনো জোটও সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি। এর ফলে ইতালিতে সরকার গঠিত হয় কোয়ালিশন বা নানা কিসিমের আদর্শের দল নিয়ে। আদর্শগত ফারাকই নতুন নতুন সংকট তৈরি করে। সরকারের পতনও ঘটে এসব কারণে।

বর্তমান সংকটের কী হবে? এ নিয়ে ইতালিজুড়েই সরব আলোচনা। নতুন নির্বাচন? ফাইভ স্টার মুভমেন্ট? নাকি মধ্য-বাম ডেমক্রেটিক দলের মধ্যে জোট গঠন করে নয়া সরকার?
বলা হচ্ছে, দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট মাত্তেরেল্লার ওপর অনেকখানি নির্ভর করছে। সমঝোতা না হলে তিনি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা হিসেবে একজন দক্ষ ব্যক্তিকে সাময়িককালের জন্য নিয়োগ দেবেন। এর সবই এখন জল্পনা-কল্পনা। সময়ই বলে দেবে ইতালি কোন্‌ পথে হাঁটবে।

Tuesday, July 9, 2019

অভিবাসীরা মানুষ, কোনও সামাজিক ইস্যু নয়: পোপ ফ্রান্সিস

ক্যাথলিক ধর্মালম্বীদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, অভিবাসীরা মানুষ। তারা কোনও সামাজিক ইস্যু নয়। সোমবার তিনি বাসিলিকার সেন্ট পিটার্সে অভিবাসীদের জন্য প্রার্থনায় এ কথা বলেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এ খবর জানিয়েছে।
পোপ ফ্রান্সিসের ইতালীয় দ্বীপ লাম্পেডুসা সফরের ষষ্ঠ বার্ষিকীতে এই প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। ২০১৩ সালের ৮ জুলাই দ্বীপটিতে প্রথম সফরে গিয়েছিলেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের  চার মাসের মাথায় এই আকস্মিক সফরে যান তিনি।
প্রার্থনায় পোপ বলেন, অভিবাসীরা মানুষ। তারা শুধু সামাজিক অভিবাসী ইস্যু নয়। বিশ্বায়নকৃত আজকের সমাজ যাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে  সেই সব মানুষের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন তারা।
পোপ ফ্রান্সিস বরাবরই অভিবাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। মেক্সিকোর নদীতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রত্যাশী বাবা ও মেয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিনি। চলতি বছরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করতে থাকা মেক্সিকোতে অবস্থানরত অভিবাসীদের পাঁচ লাখ ডলার সহায়তা দেন পোপ ফ্রান্সিস।
এর আগে আগে ১৪ জানুয়ারি বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে শরণার্থীদের দেখে আতঙ্কিত না হয়ে তাদের প্রতি অতিথিপরায়ণ হতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Saturday, March 9, 2019

যাজক যখন যৌন নিপীড়ক

কমপক্ষে ১৩ জন নারী ভক্তকে শয্যাসঙ্গীনি করেছিলেন যাজক ফাদার রবার্তো কাভাজ্জানা (৪৩)। এমন অভিযোগে এক বছর দরিদ্রদের সঙ্গে ‘সংরক্ষিত অবস্থায়’ সময় কাটানোর পরে তিনি আবার ফিরেছেন ক্যাথোলিক চার্চে। এ ঘটনাটি ইতালির ভেনিসের কাছে কারবোনারা ডি রোভোলনের। সেখানে তিনি ধর্মীয় বাণী শোনাতেন। কিন্তু তাতে ছিল ক্যারিশমা। ফলে অনেক নারী তার প্রতি আকৃষ্ট হন। আশপাশের এলাকা থেকে তার বক্তব্য শুনতে মানুষ জমায়েত হতেন। তিনি ২০১৭ সালে টিভি উপস্থাপিকা বেলেন রড্রিগুয়েজকে পর্যন্ত বিয়ের আগে ধর্মীয় দিক নির্দেশনা দেন।
ফলে ওই উপস্থাপিকা তাকে উদার যাজক এবং একজন হ্যান্ডসাম ও চমৎকার মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।
একই বছর তিনি স্বীকার করেন ফাদার আন্দ্রেয়া কন্টিনের আয়োজন করা একটি আনন্দ উৎসবে যোগ দেয়ার কথা। সাবেক তিনজন প্রেমিকা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হওয়ার পর সান লাজ্জারো চার্চের ফাদার কন্টিনের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। ধারণা করা হয়, ফাদার কন্টিনের ওই উৎসবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন ফাদার কাভাজ্জানা। ফলে উত্তর ইতালিতে অবস্থিত ফাদার কন্টিনের বাসায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। উদ্ধার করা হয় বাসায় তৈরি পর্নো চবি ও বিভিন্ন রকম সেক্স টয়। ধারণা করা হয়, নারীদের প্রলুব্ধ করা যায় এমন অনেক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই যাজক এমন সেবা নিতে প্রস্তাব দিতেন। জানা যায়, যখন বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল তখন কমপক্ষে দু’জন নারী ফাদার কন্টিনের কাছে গিয়েছিলেন সাহায্যের জন্য।
তাদেরকে ধর্মীয় উপদেশ দেয়ার পরিবর্তে যৌন উত্তেজনা তৈরি করেন তাদের মাঝে এবং তাদেরকে চাপ দেন বাধাহীন যৌন সম্পর্কে। ৪৯ বছর বয়সী একজন নারী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, তাকে ফ্রান্সের একটি নগ্নতা বিষয়ক অবকাশ যাপন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ সময় ফাদার কাভাজ্জানার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে বলা হয়। এ ঘটনা ঘটার সময় তা ক্যামেরায় ধারণ করেন ফাদার কন্টিন।

Saturday, January 19, 2019

কফির চেয়েও কম দামে বাড়ি!

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ সিসিলিতে ছোট থেকে মাঝারি বেশ কিছু বাড়ি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব বাড়ির দাম শুনলে যে কারও চক্ষু চড়কগাছ হবে! এক কাপ কফি খেতে যে অর্থ খরচ করতে হবে, তার থেকেও কম দামে পেয়ে যাবেন একেকটা আস্ত বাড়ি! প্রতিটি বাড়ির মূল্য মাত্র ১ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৬ টাকা)। সিসিলির সাম্বুকা নগর প্রশাসন এই বিজ্ঞাপন দিয়েছে। দেশি-বিদেশি যে কারও জন্যও এই অফার প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে তারা।
পাহাড়ের ওপর নিরিবিলি শহর সাম্বুকা। এখান থেকে দেখা যায় ভূমধ্যসাগরের অপরূপ দৃশ্য। এখানকার বাড়িগুলোর জানালা দিয়েই কাছের সৈকতগুলো দেখা যায়। এই মনোরম শহরে বাড়ি পানির দামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এসব বাড়ি কিনে কেউ পানিতে পড়বেন না নিশ্চিত! খোদ সাম্বুকা নগর প্রশাসনই গ্যারান্টি দিয়েছে এর। এটি আসলে প্রতীকী মূল্য। বাড়িগুলো একেকটা ৪০ থেকে ১৫০ বর্গমিটারের (প্রায় ৪৩০ থেকে ১ হাজার ৬১৪ বর্গফুট)। এত কম দরে বাড়িগুলো বিক্রির চিন্তা এসেছে মূলত শহরটিকে আবার জমজমাট করার লক্ষ্যে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, ইতালির আরও অনেক গ্রামের মতোই এই এলাকাও ক্রমে জনশূন্য হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বড় বড় শহরে গিয়ে থিতু হচ্ছেন।
তবে এ ধরনের প্রস্তাবে বাড়ি বিক্রির লোভনীয় বিজ্ঞাপন এর আগেও দেওয়া হয়েছে অনেক গ্রামে। আর তা ইতালিতেই। এবারের অফার সেসব বিজ্ঞাপনের চেয়ে আলাদা বলে দাবি করেছে সাম্বুকার নগর কর্তৃপক্ষ। শহরটির ডেপুটি মেয়র ও পর্যটনবিষয়ক কাউন্সিলর জুজেপ্পে কাচোপ্পো বলেন, ‘এই বাড়িগুলো বর্তমানে নগর প্রশাসনের মালিকানায় রয়েছে। আমরা বাড়ি বিক্রির মধ্যস্বত্বভোগী কোনো পক্ষ নই যে, বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে কোনো মিথ্যা তৈরি করব। এখানে প্রতারণার কোনো ঝুঁকি নেই। আপনি ওই বাড়ি কিনতে চান, তো সঙ্গে সঙ্গেই তা হাতে পেয়ে যাবেন।’
তবে এসব বাড়ি কিনতে একটি ছোট্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ক্রেতাকে একটি বাড়ি কেনামাত্রই তা ঘষেমেজে ঝকঝকে করে তুলতে হবে। তা করতে হবে নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করেই। এর জন্য তিন বছর পাবেন ক্রেতা। সংস্কারের জন্য ন্যূনতম ব্যয় ১৫ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা) থেকে শুরু। নিরাপত্তা আমানত হিসেবে ফেরতযোগ্য ৫ হাজার ইউরো (৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা) জমা রাখতে হবে শুরুতে। সংস্কারকাজ শেষ হলেই সেটি ফেরত দেওয়া হবে ক্রেতাকে। কাচোপ্পো জোর দিয়ে বলেন, ক্রেতা হতাশ হবেন না, গ্যারান্টি।
প্রাচীন গ্রিক আমলে শহরটি স্থাপিত হলেও সাম্বুকা বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে দশম শতাব্দীতে মুসলিম শাসনের সময়কালে। শহরটির নামকরণের সঙ্গে আমির আল জাবুতের নাম জড়িত। ২০১৬ সালে সাম্বুকা ইতালির সবচেয়ে সুন্দর শহরগুলোর প্রতিযোগিতায় অন্যতম মনোনীত শহর হয়েছিল।

যেভাবে বাংলাদেশি অভিবাসীরা বদলে দিয়েছেন ইতালির বালারো বাজার

সিসিলি দ্বীপের বালারো অঞ্চল বহু বছর ধরেই অবহেলিত ছিল। ইতালির পালার্মো শহরের অন্তর্ভুক্ত এ জায়গাটিতে তুলনামূলক দরিদ্রদের বসবাস। ১৯৯০-এর পর থেকে সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিবাসীর বসতি গড়ে উঠেছে। যাদের বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। পালার্মো শহরের প্রধান বাজারের নাম বালারো, যা সিসিলিয়ান মাফিয়াদের কাছে অনেকটা স্বর্গরাজ্যের মতো। বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সেখানে যাতায়াত আছে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে মাফিয়াদের কর্তৃত্ব মেনে চলতে হতো। তাদের আর্থিক চাহিদাও পূরণ করা লাগতো সেখানকার অধিবাসীদের। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে এই দৃশ্যপটে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে।
বালারোর স্থানীয় অধিবাসীরা তাদের অধিকারের প্রতি সচেতন হয়ে উঠেছে। যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পিছপা হন না তারা। এখন সেখানে কমে এসেছে মাফিয়া দলের দৌরাত্ম্য। বরং তাদেরকে কোর্ট দেখিয়েছে বালারোবাসী। আর এই পরিবর্তনের  পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ১০ বাংলাদেশি অভিবাসী।
২০১৬ সালের এপ্রিলের এক বিকালে বালারো বাজারে গাম্বিয়ান অভিবাসী ইউসুফা সুসোর মাথায় গুলি করেন স্থানীয় মাফিয়া ইমানুয়েল রুবিনো। সকালের দিকে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। এর রেশ ধরেই বিকালে গুলির ঘটনা ঘটে। বুলেট সুসোর মস্তিষ্কে আঘাত করে। কোমায় যেতে হয় তাকে। এই ঘটনায় বালারো বাজারের দোকানিরা ফুঁসে ওঠে। অভিবাসী দোকানিরা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। এই প্রতিবাদের নেতৃত্বে ছিলেন ১০ বাংলাদেশি অভিবাসী। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় তিউনিসিয়া, গাম্বিয়া ও নাইজেরিয়ার অভিবাসীরা। মাফিয়াদের ক্রোধের শিকার হওয়ার ভয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে বালারোবাসী নীরব ছিলেন, তারাই প্রতিবাদী বাংলাদেশি অভিবাসীদের ছোঁয়ায় পুরোপুরি বদলে যান। মাফিয়াদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়ে তাদেরকে বার্তা দেন, ‘কোর্টে দেখে নেবো তোমাদের’। মামলার কার্যক্রম শুরু হতে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিলম্ব হলেও অবশেষে এর প্রক্রিয়া শুরু হয়। আটক করা হয় সুসোর ওপর হামলাকারী মাফিয়া রুবিনোকে। মামলায় রুবিনো ছাড়াও বালারোবাসীদেরও পর নির্যাতনকারী অন্য মাফিয়াদেরকে আসামি করা হয়েছে। গত নভেম্বরে ওই মামলায় হত্যা প্রচেষ্টার দায়ে রুবিনোর ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। রুবিনোর ভাই গিসেপ্পেও এ মামলার আসামি ছিল। কিন্তু তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। এই একটি মামলা বালারোর দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এখন সেখানকার অন্য অভিবাসীরাও কর্তৃপক্ষের কাছে সেখানকার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছে। একসময় তাদের মধ্যে যে আতঙ্ক কাজ করতো, তা এখন শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
১৯৯০ সালের দিকে অভিবাসীরা বালারো অঞ্চলে বসবাস করতে শুরু করে। নিজেদের ভাগ্য পরিবর্ততে এসব অভিবাসীরা আগমন করলেও এদের কারণে এখন বালারোর পরিস্থিতিই বদলে গেছে। এই বাজারের দোকানিদের বেশিরভাগই অভিবাসী। আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি অভিবাসী জানান, তিনি ২০ বছর ধরে সিসিলি দ্বীপে বাস করেন। দুই পুত্র ও সিসিলিতে জন্ম নেয়া এক কন্যার পিতা আহমেদ ২০১৩ সালে বালারোতে ব্যবসা শুরু করেন।
দোকান থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। অভিবাসী হয়ে আসার পর দক্ষিণ সিসিলিতে পর্যটন মৌসুমে কাজ করে যে পুঁজি সঞ্চয় করেছিলেন, বালারো বাজারের ব্যবসায় তা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু এরপরই তাকে মাফিয়াদের বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হয়। স্থানীয় বাঙালি সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল তপু বালারো বাজারের অবস্থা তুলে ধরেন এভাবে- বালারোতে থাকতে হলে আপনাকে স্থানীয় মাফিয়া বসদের খুশি রাখতে হবে। তা না হলে তারা আপনার দোকান লুট করে নিয়ে যাবে। টার্গেটে পরিণত হওয়ার ভয়ে অনেক দোকানি এসব মাফিয়াদের ‘প্রটেকশন মানি’ও দিয়ে থাকেন। এই এলাকায় যারা কাজ করেন, তারা কখনো মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন- এমনটি প্রকাশ হলেই তাদের দোকান লুট হয়ে যায়। মানুষ এ ঝামেলায় জড়াতে চায় না। তাই তারা নীরব থাকে।
ভূমধ্যসাগরের সবচেয়ে বড় দ্বীপ সিসিলি। এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। এদের মধ্যে পৌনে দুই লাখের মতো অভিবাসী রয়েছে। বিপুল সংখ্যক আফ্রিকান অভিবাসী থাকলেও সিসিলিতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও চীনের অভিবাসীও কম না। বেশিরভাগ অভিবাসীরা পাইকারি, খুচরা বেচাকেনা ও গৃহস্থালি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
অনেক বাঙালি অভিবাসী রাস্তার পাশে মোবাইলের কভারসহ বিভিন্ন সস্তা পণ্য বিক্রি করেন। পর্যটন মৌসুমে তাদের ব্যবসা বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে। এসব ব্যবসায়ীরাও হরহামেশাই মাফিয়াদের উৎপাতের শিকার হন। মাফিয়াদের বিরুদ্ধে এসব ব্যবসায়ীদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার জন্য ২০০৪ সালে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ‘আদ্দিপিজ্জো’ নামে একটি মাফিয়া-বিরোধী সংগঠন গড়ে তোলেন। এর সদস্য এডোয়ার্ডো জাফুতো বলেন, আগে স্থানীয়রা পুলিশের কাছে মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করতো। এক্ষেত্রে একটি বিষয় চোখে পড়ার মতো যে, দোকানিরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যেতেন দল বেঁধে। জাফুতো বলেন, মজার বিষয় হলো, রুখে দাঁড়ানো এই কাজের নেতৃত্বে পালার্মোর স্থানীয়দের কেউ ছিলেন না। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষেরা। যা হোক, মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সোচ্চার এসব ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। তপু বলেন, প্রতিবাদে নেতৃত্বদানকারী এসব বাঙালিদের দোকানের তালায় সুপারগ্লু লাগানো হতো। মাফিয়ারা সংশ্লিষ্ট দোকানিকে পর্যবেক্ষণ করছে, এটা ছিল তার প্রাথমিক সতর্কবার্তা। এই সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করলে তাদের  দোকানে হামলা করা হতো, মালামাল লুট করা হতো।
সূর্যাস্তের পর রাতের পালার্মোর দৃশ্যপট আবার ভিন্ন। শহরের প্রধান রাস্তাগুলোর পাশে বাঙালি হকাররা ঠেলাগাড়িতে বিভিন্ন পণ্য ফেরি করে বিক্রি করেন। এমনই এক বিক্রেতা মোহাম্মদ মিয়া। দিনে ইতালিয়ান পরিবারগুলোতে ক্লিনারের কাজ করেন তিনি। আর সন্ধ্যার পর ফেরি করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রিক পণ্য বিক্রি করেন। তিনিও মাফিয়াদের হুমকির শিকার হয়েছেন।  এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। পুলিশ তার অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়নি। তাই, নির্যাতনের শিকার এমন আরো বিক্রেতাদের নিয়ে তিনি নিজেই নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছেন। কেউ মাফিয়াদের হুমকি বা নির্যাতনের শিকার হলে সবাইকে জানিয়ে দেন। পরে একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তারা।  মোহাম্মদ মিয়ার মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে সিসিলির জীবন হলো সংগ্রামের। জীবিকা নির্বাহের মতো উপার্জন করতেও তাদের হিমশিম খেতে হয়। তারপরেও মাফিয়াদের হুমকি ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগ উপেক্ষা করে তারা মূলধারার সিসিলিয়ান সমাজে জায়গা করে নিতে শুরু করেছেন। যদিও এ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে অনেক ধীরগতিতে। এরই মধ্যে তাদের কেউ কেউ আবার পরম আরাধ্য ইতালির নাগরিকত্ব বা বৈধ কাগজপত্র  পেয়ে যান।
সিসিলির বাঙালি রাজনীতিবিদ সুমি ডালিয়া আক্তার প্রথমবারের মতো জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেঞ্জির দল ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতি করেন। সুমি বলেন, বালারোতে মাফিয়াদের প্রত্যাখ্যান করে বিদেশি হিসেবে আমাদের সাহস দেখিয়েছি। এর মাধ্যমে বাঙালিরা দেখিয়ে দিয়েছে যে, তারা পালার্মোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 
(সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে)

Sunday, March 4, 2018

ইতালিতে যেমন আছেন বাংলাদেশীরা

উন্নত জীবনের প্রত্যাশ্যায় ইতালিতে অবস্থান করছেন এক লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশী। এর মধ্যে শুধু রোমেই আছেন ৩৬ হাজার বাংলাদেশী। ১৯৮০ ও ১৯৯০ এর দশকে সেখানে অভিবাসন আইন কিছুটা শিথিল হওয়ায় এর বেশির ভাগই পাড়ি জমিয়েছিলেন ইতালিতে। তখন তাদেরকে স্বাগত জানানো হলেও দৃশ্যপট পাল্টে গেছে এখন। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে ইউরোপমুখী অভিবাসীর ঢল নামার পর অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে ইতালি। এর ফলে সেখানে আর্থিক অস্থিরতা, ব্যাপক হারে বেকারত্ব দেখা দিচ্ছে।
ফলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। মাঝে মাঝেই তারা দলবেঁধে প্রহার করছে বাংলাদেশীদের। অশালীন ভাষায় গালি দিচ্ছে। তারপরও এসব বাংলাদেশী দেশে ফিরতে রাজি নন। কারণ, দেশে ফিরলে তাদের উপার্জনের পথ নেই। গত ২৯ শে অক্টোবর এমনই প্রহারের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশী কার্তিক চন্দ্র। তিনি রোমে একটি রেস্তোরাঁয় থালাবাসন ধোঁয়ার কাজ করেন। কার্তিক শুধু একাই নন, ২০১১ সালের পর ইতালির রাজনৈতিক দল ফরজা নুওভা’র আক্রমণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ৫৯ জন বাংলাদেশী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টিআরটি ওয়ার্ল্ড। এতে বলা হয়, অক্টোবরে হামলার আগে কার্তিক তার সহকর্মীদের সঙ্গে মাথা নিচু করে কাজ করছিলেন। অকস্মাৎ তার দিকে তেড়ে যায় একদল মানুষ। তারা তাকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে- নোংরা কালো আদমি, এখানে তুমি কি করছো? কিন্তু কার্তিক অতো ভাল ইতালিয়ান ভাসা জানতেন না। তাই তিনি ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেন নি যে, তাকে অবমাননাকর গালি দেয়া হয়েছে। এখানেই সব শেষ হয়ে যায় নি। তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হলো। তার ওপর বৃষ্টির মতো পড়তে লাগলো লাথি, ঘুষি। এতে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন কার্তিক। বেহুঁশ হয়ে মৃতের মতো মাটিতে পড়ে থাকেন ২৭ বছর বয়সী কার্তিক। রক্তে সয়লাব হয়ে যায় রেস্তোরাঁর মেঝে। তখন এপাড়ে বাংলাদেশে তার ফোনের আশায় বসে আছেন তার মা। ছেলের ফোন না পেয়ে কার্তিকের মা ঊষা রানি নিজেই ছেলের ফোনে ফোন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অন্যপাড়ে তখন ফোনের সুইট বন্ধ করা। বাধ্য হয়ে তিনি ফোন করেন কার্তিকের বন্ধুদের। তারাই তাকে জানান যে, কার্তিককে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। কারণ, তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। ঊষা রানি বলেন, এ কথা আমি বিশ্বাস করি নি। তিনি ছেলের মুখের কথা শোনার জন্য কাকুতি জানান। কিন্তু অন্যপাড়ে কার্তিক ব্যান্ডেজে মোড়া। তার কথা বলার মতো সামর্থ নেই। তবে তিনি তার বন্ধুদের অনুরোধ করেছিলেন প্রকৃত সত্যা তার মাকে না বলতে। এক সপ্তাহ পরে কার্তিক তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন দেশে আমার পরিবারের আটজন মানুষ। এ জন্যই আমি বন্ধুদেরকে প্রকৃত সত্য বলতে বারণ করি। ওদিকে তার পরিবারকে বন্ধুরা বিশ্বাস করায়, কার্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছাড়ছে। তারা দেশ ছাড়ছে। একটু শান্তিতে বসবাসের আশায় সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছার চেষ্টা করতে থাকে ইউরোপে। এক্ষেত্রে ইতালি হয়ে ওঠে তাদের প্রধান আকর্ষণ। ইতালির সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালেই এক লাখ ৮১ হাজার অভিবাসী পৌঁছেছেন ইতালিতে। এরপর লিবিয়ার সঙ্গে ইতালির একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফলে ২০১৭ সালে এসব অভিবাসীর সংখ্যা নেমে আসে এক লাখ ১৯ হাজারে। গত মাসে মাসেরাতা শহরে উগ্র ডানপন্থি দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন এমন একজন ইতালিয়ান লুসা ট্রেইনি’কে গুলি করে ৬ আফ্রিকান অভিবাসী। এমনতরো অনেক অপরাধের ফলে ইতালিতে বেড়ে ওঠে অভিবাসী বিরোধী প্রচারণা। রোববারের নির্বাচনে তাই অভিবাসী ইস্যুটি বড় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৫৯ ভাগ ইতালিয়ান অভিবাসীদের কারণে হুমকিতে আছেন বলে মনে করেন। ওদিকে মাসেরাটা শহরের হামলাকে প্রকাশ্যে শুধু সেলিব্রেট করেছে ফরজা নুভা (নিউ ফোর্স)। এই রাজনৈতিক দলটি বেনিতো মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসনের নস্টালজিয়াকে ধারণ করে। এ দলটির একজন কর্মী গত নভেম্বরে ইতালির পত্রিকা লা রিপাবলিকা’কে বলেছিলেন, আপনি যখন একজন বাঙালিকে চূড়ান্তভাবে শাস্তি দেবেন তখনই আপনার বাংলা ট্যুর সম্পন্ন হবে। ওই রাজনৈতিক কর্মী আরো বলেছিলেন, কেন আমরা বাংলাদেশী লোকজনকে পছন্দ করি? কারণ, তারা ভদ্র, শান্ত। কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়া আমাদের ঘুষি হজম করে। কার্তিকের ওপর হামলা তদন্তে দেখা যায়, তার ওপর হামলাকারীরা ফরজা নুভা’র সমর্থক। বিচার বিভাগীয় তদন্তে দেখা যায়, ফরজা নুভার নেতাদের কাছ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে কার্তিক চন্দ্রের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। তোমরা কেন এভাবে হামলা করো? একজন মনোবিজ্ঞানীর এমন প্রশ্নের উত্তরে ফরজা নুভা’র একজন কর্মী স্বীকার করেছিলেন- ‘আমরা মজা করতে এমন হামলা করি। বিদেশীদেরকে ইতালিতে থাকা অথবা ইতালিতে আসা অনুৎসাহিত করার জন্য এমন হামলা চালাই আমরা। কিন্তু এমন অভিবাসী বিরোধী মনোভাবও কার্তিকের মতো বাংলাদেশীদের মনোভাব পরিবর্তন করতে পারে নি। তাদেরকে ইতালিছাড়া করতে পারে নি। ইতালিতে কার্তিকের কাজটি একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে। কার্তিক এমন অত্যাচার সয়েও বলেছেন, কখনো আমি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবি না। কারণ, দেশে ফিরে আমার করে খাওয়ার মতো কোনো কাজ নেই। উল্লেখ্য, হামলায় আহত হওয়ার পর প্রায় ৫ মাস কেটে গেছে। কিন্তু এখনও তিনি ভালমতো দেখতে পান না। টিআরটি ওয়ার্ল্ড লিখেছে, কার্তিকের মতো এমন যুবকরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে একপেশে হয়ে গেলেও তাদেরকে কাজ দেয়ার মতো কিছু নেই বাংলাদেশের। বাংলাদেশ সরকার নতুন নতুন বিনিয়োগের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশকে বর্ণনা করা হচ্ছে নতুন এশিয়ান টাইগার। কিন্তু এর রাজধানী ঢাকায় গরিব মানুষে ভরা। অনেক মানুষকে দেখা যাবে রাস্থায় ভিক্ষা করছে। ঢাকা শহর সম্পর্কে ওই রিপোর্টে বলা হয়, এখানে একটির সঙ্গে গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়িয়ে আছে দালান। বাতাসে মোটা একটি স্তর সৃষ্টি হয়েছে ধোয়ার। এতে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে জটিলতা সৃষ্টি করেছে। রাস্তায় কর্ণ বিদারণকারী গাড়ির হর্ন। ফুটপাত ব্যস্তায় ভরা। স্থান সংকুলান হচ্ছে না সেখানে। এখেেন ঘন্টায় ২০ সেন্ট হিসেবে যারা কাজ করতে চান তাদের জন্য কাজ আছে। অন্যদিকে গ্রাম এলাকার পরিবেশ আরো খারাপ। ঢাকা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে ছয়সুতি নামে একটি ছোট্ট গ্রামে বসবাস করেন কার্তিকের পরিবার। সেখানে পুকুরের পানি দূষিত। যে কূপ থেকে পানি তোলে গ্রামবাসী তাতে ২০ বছর ধরে আর্সেনিক সংক্রমণ। ঢাকা থেকে ছয়সুতিয়া যেতে সময় নেয় আট ঘন্টা। সেখানেই কার্তিকের ভাই পলাশ বলেন, পরিকল্পনা নিয়েছিলাম ভাইকে সাহায্য করতে রোমে যাবো। কিন্তু দুর্ভাগ্য। অভিবাসন বিষয়ক নীতিতে পরিবর্তনের কারণে আমার আর সে সুযোগ হয় নি। কর্মহীন হয়ে সারাদিন বাড়িতেই বসে কাটাতে হয় আমাকে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের সাংবাদিক কার্তিকদের গ্রামে গিয়েছিলেন। কার্তিকের মার সঙ্গে দেখা হয়েছে তাদের। ঊষা রানি যখন তার ছেলের কথা বলছিলেন তখন তার চিবুক বেয়ে কান্না ঝরছিল। তিনি জানান, এক পর্যায়ে আমাদেরকে কার্তিকের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়। এ ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল না। শৈশব-কৈশোরের দিনগুলোতেই কার্তিক তার পিতার দোকানের জন্য কাঠ কাটা শুরু করেন। একদিন তাদের দোকানে যখন কাজ করছিলেন তখন কার্তিক শুনতে পান বিকট একটি শব্দ। তাকিয়ে দেভেন পিছনে পড়ে আছেন তার পিতা। তারপর থেকেই কার্তিকের পরিকল্পনায় চলে আসে ইতালি।

একজন পর্নো তারকা ও ইতালির জাতীয় নির্বাচন

ইতালিতে আজ জাতীয় নির্বাচন। কিন্তু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে একজন পর্নো তারকার ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট। তিনি হলেন পাওলা সাউলিনো (২৮)। কিন্তু কেন? নির্বাচনের সঙ্গে একজন পর্নো তারকার কি সম্পর্ক? কি কারণে তার সামাজিক যোগাযোগের ঠিকানা বাতিল করে দেয়া হয়েছে? এমন অনেক প্রশ্ন সামনে এনেছে পশ্চিমা মিডিয়া। এর উত্তরও খোঁজার চেষ্টা করেছে তারা। এর আগে সাংবিধানিক সংস্কার প্রশ্নে গণভোট আহ্বান করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি।
তখন ওই পর্নো তারকা ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যারা গণভোটে ‘না’ ভোট দেবেন তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তিনি ‘ওরাল সেক্সে’ মিলিত হবেন। সেই পাওলা সাউলিনো এবারও জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারেন এ ভয়ে সরকার তার ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। তার রয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার অনুসারী। তিনি যাতে এসব অনুসারীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখতে না পারেন, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে না পারেন সে জন্য তার ওই একাউন্ট বন্ধ করে তাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর ২৯ শে নভেম্বর ইতালিতে যে গণভোট হয় সেই তাতে ‘না’ ভোট বিজয়ী হয়েছিল। এর পক্ষে পড়েছিল শতকরা ৫৯ ভাগ ভোট। আর এই না ভোটকেই উৎসাহিত করেছিলেন পাওলা সাউলিন। আর এ জন্য প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে কয়েক শত পুরুষের মনোরঞ্জন করতে হয়। এমন পুরুষের সংখ্যা কমপক্ষে ৭০০। এখন তিনি একটি পত্রিকাকে বলেছেন, তাকে ভয় পান রাজনীতিকরা। কারণ, তিনিই নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে পারেন। তার ভাষায় ‘রাজনীতিকরা ভয়ে শঙ্কিত। কারণ এই জাতীয় নির্বাচনে আমি আরেকটি ‘পম্পা ট্যুর’ অভিযান চালাতে পারি। এটাই তাদের ভয়’। উল্লেখ্য, পম্পা ট্যুর হলো স্থানীয় ভাষায় ওরাল সেক্স। এর আগে তিনি এ বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা রক্ষা করেছেন অসুস্থ থাকার পরও। এক বন্ধুর কুকুরে তার মুখ কামড়ে দিয়েছিল। তাতে তিনি বেশ আহত হন। তা সত্ত্বেও তিনি ‘পম্পা ট্যুর’ মিশন চালান। কুকুরের কামড়ের ওই ক্ষত সারতে তার বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় লেগেছিল। এর আগে তিনি লন্ডনের দ্য সান অনলাইনকে বলেছিলেন, ‘আমার পম্পা ট্যুর চলছেই। আমি আসলে বলতে চাই আমার প্রকৃত লাইফ স্টাইলই হলো পম্পা ট্যুর। এটাই আমার মুক্তির পথ। ডাক্তার আমাকে মুখের ক্ষত নিয়ে বড় কোনো ‘মিশনে’ না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’ গত অক্টোবরে এক হ্যালোইন পার্টিতে তিনি যখন বন্ধুর কুকুরের পিঠে চড়ে বসেছিলেন, তখন তা তাকে কামড়ে দেয়। কেটে যায় নাক, মুখ, ঁেঠাট। তখন চিকিৎসকরা তাকে পরামর্শ দেন। তারা বলেন, তার মুখের ভিতরে ও বাইরের ক্ষত সারতে সময় লাগবে নয় মাস। কিন্তু তিনি পম্পা ট্যুর দিয়ে যাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তাদেরকে হতাশ করেন নি। তিনি এ জন্য ডিসেম্বরে ইতালির ১০টি শহর সফর করেন। এরপর ইন্সটাগ্রামে ছবি পোস্ট করেন নিজের। তাতে ক্যাপশনে লিখেছেন, পম্পা ট্যুরের প্রথম ধাপ সম্পন্ন। কিছুটা ক্লান্ত এখন। সবকিছুই ঠিক আছে। এটা হলো সম্ভবত চমৎকার সূচনা।
তিনি এ মিশনে সফর করেন রোম, ফ্লোরেন্স, বোলোগনা, ভেরোনা, মিলান, তুরিন, নেপলস, বারি, লেসি ও পালেরমো। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, যারা ‘না’ ভোট দিয়েছেন তারা ফরম ফিলআপ করুন। তবে কেউ কেউ এটাকে জাস্ট ভাওতাবাজি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন। ইন্সটাগ্রামের অনেক ব্যবহারকারী তার এমন পম্পা ট্যুরের স্বপক্ষে প্রমাণ চান।

ইতালির জাতীয় নির্বাচন- কারা লড়ছেন ও এর তাৎপর্য কি?

আজ ইতালিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও ফাইভ স্টার মুভমেন্ট ও অভিবাসন-বিরোধী নর্দার্ন লীগসহ সকল প্রধান দলই স্থানীয় সময় শনিবারের মধ্যে তাদের প্রচারণা থামিয়ে দিয়েছে। সকল দলের দাবি তারাই জয়ী হতে চলেছে। তবে জনমত জরিপ অনুসারে, কোন দল বা বিদ্যমান জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছে না। সরকার গঠনের জন্য নতুন করে জোট গঠন করতে হতে পারে। এক্ষেত্রে, পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় ব্লকটি থাকবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি’র মধ্যপন্থি জোটের দখলে।
তবে একটি কর জালিয়াতি মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আগামী বছরের আগে প্রধানমন্ত্রী হতে পারছেন না তিনি। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। উল্লেখ্য, ইতালিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাংলাদেশি বসবাস করেন। এছাড়া প্রতি বছর অভিবাসন করেন অনেকে। সেদিক দিয়ে অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জন্য ইতালির এবারের জাতীয় নির্বাচন বেশ গুরুত্ব বহন করে।
খবরে বলা হয়, এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধান ইস্যুগুলো ছিল- অভিবাসন ও যুবকদের মধ্যে ব্যাপক বেকারত্বের হার। নির্বাচনকে ঘিরে দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত বলে জানিয়েছেন বিবিসি’র জেমস রেনোল্ডস। অনেক দলই বেশ বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেমন, অবসর ভাতা বৃদ্ধি। কিন্তু যদি জোট সরকার গঠন করতে হয়, তাহলে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। জোট সরকার গঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এই প্রতিশ্রুতিগুলো। গত দুই সপ্তাহ ধরে সকল প্রকার আনুষ্ঠানিক জনমত জরিপ নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে ফাইভ স্টার মুভমেন্ট। দলটির নেতারা কঠোর নিতিমালার বিরোধী ও মুদ্রা হিসেবে ইউরোর বিকল্প খোঁজার পক্ষপাতী। এসবের পাশাপাশি দলটি হাম রোগের জন্য টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক করে দেয়া একটি আইনের বিরোধী। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি এক গণভোটের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পদত্যাগ করার পর থেকে একটি তত্ত্বাবধায়ক মন্ত্রীপরিষদ ইতালির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
রোববার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ৬৩০টি আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর উচ্চকক্ষ সিনেটে ৩১৫ আসনে ভোট দেবেন ইতালিয়ানরা। ইতালির আইন অনুযায়ী, নিম্নকক্ষে ভোট দেয়ার জন্য বয়স ১৮ বছর ও উচ্চকক্ষের জন্য ২৫ বছর হতে হবে। সকাল ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আগামীকাল সোমবার সকাল নাগাদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হতে পারে।
নতুন না পুরনো মুখ?
প্রধানমন্ত্রীর পদে নতুন মুখ দেখতে পারে ইতালি। এই পদে নতুন প্রার্থীদের মধ্যে কিছু মুখ আগ থেকেই পরিচিত আর কিছু অতি পরিচিত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি’র বর্তমান বয়স ৮১। তিনিও পরোক্ষভাবে নির্বাচনে আছেন। ডানপন্থি মাতেও সালভিনি’র(৪৪) ইউরোস্পেটিক লেগা (নর্দার্ন লীগ) দলের সঙ্গে নিজের ফোরজা ইটালিয়া দলের জোট গঠন করেছেন। অন্যদিকে মধ্যম-বাম অবস্থানে আছেন ডেমোক্রেটিক পার্টি’র(পিডি) রেনজি(৪৩)। আর এই উভয় জোট ও দলকে চ্যালেঞ্জ করছেন ফাইভ স্টার মুভমেন্ট(এমফাইভএস) এর লুইগি দি মাইয়ো(৩১)। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন ইউরোপের সর্ব কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী।
প্রার্থীদের ভাষ্য
অভিবাসন: ইউরোপের বাকি দেশগুলোর মতো ইতালিতেও অভিবাসন চরমপন্থার উত্থাপন ঘটিয়েছে। মূলধারার রাজনীতিবিদরাও তাদের অবস্থান কঠোর করে তুলেছেন। উদাহরণস্বরূপ বেরলুসকোনির কথাই ধরা যাক। তিনি অভিবাসনকে একটি ‘টাইম বোমা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জয়ী হলে ৬ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি করেছেন। তার জোট অংশীদার সালিভিনি এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেছেন, ইতালি একটি ‘জাতিবিদ্বেষী রাষ্ট্র’। অন্যদিকে, ফাইভ স্টার মুভমেন্ট চায় কথিত ডাবলিন নীতিতে পরিবর্তন আনতে। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সদস্য দেশে পৌঁছানোর পর, ডাবলিন নীতি মেনেই কোনো অভিবাসীকে সেখানে থাকার জন্য আশ্রয় চাইতে হয়। পিডি জানিয়েছে, তারা যেসব দেশ অভিবাসী গ্রহণ করে তাদের সঙ্গে সমপর্ক ছিন্ন করতে চায়।
প্রসঙ্গত, ইতালিতে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছে। ২০১৩ সালের এক সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, ইতালিতে ১ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি অবস্থান করছিল। বিগত বছরগুলোতে সেদেশে বাংলাদেশিদের অভিবাসন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিবাসন নিয়ে প্রার্থীদের চরমপন্থি অবস্থান অভিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিশ্চিতভাবেই সুখবর নয়।
অর্থনীতি: ২০০৭-২০০৮ এর অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে ইতালির অর্থনীতিতে ক্রমাগত হারে নিচের দিকে নেমে এসেছে। সামপ্রতিক বছরগুলোতে অবশ্য পুনরায় প্রবৃদ্ধির পথে হাঁটছে দেশটির অর্থনীতি। তবে এখনো সেখানে, বেকারত্বের হার ১১ শতাংশ। পুরো ইউরোপের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ বেকারত্বের হার। এছাড়া, গ্রিসের পরে সবচেয়ে বেশি ঋণ সংকটে ভুগছে দেশটি।
ব্যক্তিগত সুপারিশ ও দুর্নীতির কারণে পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না তরুণ ইতালিয়ানরা। কাজ করার জন্য তাদেরকে যেতে হচ্ছে বিদেশে। পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, তারা নির্বাচনী প্রচারণার সময় তরুণদের চেয়ে অবসর ভাতা চায় এমন বৃদ্ধদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করেছেন।
ইইউ ত্যাগ: প্রার্থীরা ইতালির ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ইইউ’র বাজেট নীতিকে দুষছেন। তাদের দাবি, ইইউ’র বাজেট নীতির কারণে ইতালির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফাইভ স্টার মুভমেন্ট ও ইউরোসেপটিক লেগা জয়ী হলে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য গণভোটের আয়োজন করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এখন অবশ্য ওই ইইউ বিদ্বেষ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
অন্যান্য: টিকা প্রদান। ফাইভ স্টার মুভমেন্ট চায় হাম রোগের জন্য টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক করে দেয়া একটি আইন বাতিল করে দিতে। যদিও দেশটিতে অল্প পরিসরে পুনরায় হাম এর উপস্থিতি দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হবেন কে
নতুন ইলেক্টোরাল আইনে এটিই প্রথম নির্বাচন। এই আইনে নির্বাচনের পূর্বে জোট গঠনের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল ফাইভ স্টার কোনো দলের সঙ্গে জোট গঠন করেনি। তাই দলটির সরকার গঠন করার সম্ভাবনা কম। এমনকি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও হয়তো তা সম্ভব হবে না। মধ্যম-ডানপন্থি জোটকে নির্বাচনের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে মনে করা হচ্ছে। দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় বেরলুসকোনিকে এই নির্বাচনে অংশগ্রণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। বেরলুসকোনির অনুপস্থিতি অ্যান্তোনিও তাজানির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। আর মধ্য-বামপন্থি জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের তেমন সম্ভাবনা নেই। নিজের জোট বিজয়ী হলেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি রেঞ্জি। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও ফাইভ স্টার জোটবদ্ধ হলে তারা ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পাবেন। কিন্তু রেঞ্জি উগ্রপন্থিদের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
ইতালিতে সরকার পরিবর্তনের ঘটনা খুবই কম। গত দুই দশক ধরেই দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছিল। ইতালিয়ানরাও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভোট প্রদান করতে অভ্যস্ত। ব্রেক্সিটের পর ইতালি হবে ইউরোপের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে কোনো অস্থায়ী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলে ইতালির এই উন্নতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সময়ের পরিক্রমায় ইউরোজোন থেকে ইতালির বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে গেছে। তবে ইউরোস্পেটিক লীগ ও ফাইভ স্টার জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করলে এই সম্ভাবনা আবারো দেখা দিতে পারে।

Thursday, November 13, 2014

ইতালিতে ডিভোর্সের হার বাড়ার কারণ ‘হোয়াটসঅ্যাপ’

বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয় মেসেঞ্জার সার্ভিস ‘হোয়াটসঅ্যাপ’। ইতালিতে হোয়াটসঅ্যাপ সবচেয়ে জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানকারী সেবা। সম্প্রতি স্মার্টফোনের এ অ্যাপটির যথেচ্ছা ও অপব্যবহারে সম্পর্কেও ধরছে ভাঙন। ফেইসবুকের বিরুদ্ধে এ অপবাদ ছিল আগেই। সে তালিকার নতুন সংযোজন হোয়াটসঅ্যাপ। অপরিচিত কোন নারী বা পুরুষের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলাপচারিতার জন্য ইতালির বহু নারী-পুরুষ হোয়াটসঅ্যাপকে বেছে নিয়েছেন। ইতালির শীর্ষস্থানীয় এক আইনজীবীর দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে ডিভোর্স বা বিয়ে বিচ্ছেদের হার বেড়েছে হোয়াটসঅ্যাপের কারণে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই। ব্যভিচারের অভিযোগ এনে যে ডিভোর্সগুলো করা হয়েছে, তার ৪০ শতাংশই হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের কারণে। অসৎ স্বামী বা অসতী স্ত্রী বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক গড়েছেন পরপুরুষ বা পরনারীর সঙ্গে এবং সে অবৈধ সম্পর্কের হালে পানি দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। ইতালিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যাট্রিমোনিয়াল লইয়ার্স সংগঠনের প্রেসিডেন্ট জিয়ান এত্তোরে গাসানি এ তথ্য দিয়েছেন। জিয়ান এত্তোরি বলেন, ইতালিতে বিশ্বাসঘাতকতার মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তিনি বলেন, প্রথমত মেসেজ পাঠানো, এরপর ফেইসবুক এবং এখন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ করা হয়েছে। ব্যাপকভাবে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে দেশটিতে। প্রেমিক-প্রেমিকারা এখন তাদের অন্তরঙ্গ ছবি শেয়ার করতে পারেন। ব্যাভিচারীরা ৩ থেকে ৪টি সম্পর্ক গড়ে তুলছে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে। জিয়ান বলেন, এটা ডিনামাইটের মতো। ২০১২ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং মার্কেটের ৮৮ শতাংশই ছিল হোয়াটসঅ্যাপের দখলে। জিয়ান বলেন, ইতালিতে পরিবার হচ্ছে মূলভিত্তি। কিন্তু, গত বেশ কয়েক বছর ধরে সেই পরিবার ব্যবস্থা আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং হোয়াটসঅ্যাপ সে তালিকার সর্বশেষ বা চূড়ান্ত সংযোজন।