Sunday, July 2, 2017

নারীদের হয়রানির অন্যতম কারণ পর্নোগ্রাফি

নারীদের যৌন হয়রানির কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পর্নোগ্রাফি দেখা। কারণ, এ ধরনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীদের অধিকাংশই স্বীকার করেছেন যে তাঁরা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।
জনসমাগম স্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের হায়দরাবাদ পুলিশের গঠিত বিশেষ দল ‘শি টিম’-এর সহকারী কমিশনার ডি কবিতা এ মন্তব্য করেছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার হায়দরাবাদে জনসমাগম স্থলে নারীদের যৌন হয়রানি বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এক আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনায় ডি কবিতা এ কথা বলেন।
ডি কবিতা বলেন, পর্নোগ্রাফি দেখার অভ্যাসের কারণে অপরাধীরা নারীদের হয়রানি করে থাকে। গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীদের অধিকাংশই স্বীকার করেছেন, তাঁরা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।
শি টিমের এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধীদের বেশির ভাগই তরুণ। তারপরও নারীদের ওপর তাদের আচরণ হতাশাজনক। আমরা জানতে পেরেছি, তাদের অনেকেই পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের সন্দেহ, জনসমাগম স্থলে ইন্টারনেট সংযোগ ওয়াই-ফাই উন্মুক্ত থাকায় সেখানে পর্নো দেখা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শি টিমের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ইন্টারনেট সংযোগ ওয়াই-ফাই উন্মুক্ত থাকা বেশ কয়েকটি জনসমাগমস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। সেসব এলাকা পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ব্যবহারকারীরা সেখানে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে কী ধরনের কাজ করছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপরেই সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জনসমাগম স্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের গঠিত বিশেষ দল শি টিমের রাডারের আওতায় বেশ কয়েকটি এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এসআর নগর, আমীরপাট, দিলসুখনগর, গাচিবোলি ও কুকাতপল্লি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিলে এ ধরনের সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব। রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান শহরের প্রায় তিন হাজার এলাকায় ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা চালু করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কিছু কিছু ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু বন্ধ করে দেওয়া ওয়েবসাইট ছাড়াও পর্নোগ্রাফির কনটেন্ট পাওয়ার নানা পন্থা আছে। তাই এটা একবারে প্রতিরোধ সম্ভব নয়। ভারত সরকার চাইলে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।

দ্য লাস্ট ট্রেন ও মেহজাবিন

চিত্রনায়ক ফেরদৌসের গল্প ভাবনা নিয়ে আবীর খানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘দ্য লাস্ট ট্রেন’।
এতে বনলতা চরিত্রে অভিনয় করেছেন এ সময়ের আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী। এর আগেও চিত্রনায়ক ফেরদৌসের গল্প ভাবনা নিয়ে আবীর খান পূর্ণিমাকে নিয়ে নাটক নির্মাণ করেছিলেন।
কিন্তু এবারের গল্পে ফেরদৌস নাটকটি লেখার সময় তার ভাবনায় বনলতা চরিত্রে মেহজাবিনকে ভেবেই লিখেছেন। যে কারণে তাকে নিয়েই এবারের ঈদের জন্য আবীর খান নির্মাণ করেছেন ‘দ্য লাস্ট ট্রেন’ নাটকটি।
নাটকের গল্প প্রসঙ্গে আবীর খান বলেন, ‘আত্মহত্যাই সব সমস্যার সমাধানের পথ নয়। বরং সমস্যাকে দূর করে নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করার চ্যালেঞ্জই হচ্ছে জীবন। বনলতা ঠিক তেমনই এক জীবন খুঁজে পায়। আর এই নিয়েই নাটকের গল্প।’
নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে মেহজাবিন বলেন, ‘ফেরদৌস ভাইয়ের গল্পে কাজ করেছি। তাই কাজটির প্রতি অন্যরকম ভালোলাগা ছিল। বনলতা চরিত্র, নাটকের গল্প, নির্দেশকের সঙ্গে প্রথম কাজ সবমিলিয়ে বেশ গোছানো একটি ইউনিটের সঙ্গে কাজ করেছি। ঈদের অনেক নাটকের মাঝে এ নাটকটিও একটি ভালো কাজ হিসেবে দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
নাটকটি আজ রাত ১১টায় বাংলাভিশনে প্রচার হবে।

অন্তরঙ্গ দৃশ্যে হাশমি-সানি লিওন

বলিউডে এ যাবৎ অনেক নায়িকার সঙ্গেই ঘনিষ্ট হতে দেখা গেছে ইমরান হাশমিকে। পর্দায় নায়িকাদের চুমু খাওয়া নিয়ে গল্পের শেষ নেই। যে কারণে প্রথম সারির অভিনেত্রীরা হাশমির সঙ্গে জুটিবেঁধে অভিনয় করতে চান না। তবে সিরিয়াল কিসার খ্যাত এই নায়কের সঙ্গে বাকি ছিল সানি লিওনের রোমান্স। সেটাও পূর্ণ হলো। খুব শিগগিরই দর্শক মাতাতে একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন ইমরান হাশমি ও সানি লিওন। মিলন লুথরিয়ার নতুন ছবি ‘বাদশাহো’-তে দেখা যাবে তাদের। তবে মূল চরিত্রের জুটি হয়ে নয়, ইমরান-সানি আসছেন ছবিটির একটি আইটেম গানে। এতে ইমরান হাশমি ছাড়াও ছবিতে অভিনয় করছেন অজয় দেবগন। ইমরান ও সানির রোমান্স স্বাভাবিকভাবেই আর পাঁচটা যৌনতার দৃশ্যের থেকে যে আলাদা হবে তার আঁচ পাওয়া গেছে  সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া ‘বাদশাহো’ ছবির ট্রেলারে। ইউটিউবে দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ট্রেলারটি দেখতে। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেল, এই আইটেম গানে সানির সঙ্গে কাজ করে রীতিমত আপ্লুত ইমরান। সানি লিওনির সঙ্গে মূল চরিত্রে কাজ করতে মুখিয়ে রয়েছেন বলেও জানালেন ‘মার্ডার’ খ্যাত এই নায়ক। সবমিলিয়ে ইমরান হাশমি ও সানি লিওনের রসায়ন নিয়ে বলিউডে জোর আলোচনা চলছে। ‘বাদশাহো’ ছবির রিপোর্ট বক্স অফিসে কী হবে, তা সময়েই বলবে কিন্তু ইমরান-সানি জুটি যে ছবির মুক্তির আগেই সাড়া ফেলে দিয়েছেন তা মেনে নিয়েছেন ছবির পরিচালক মিলন লুথরিয়া। আগামী ১লা সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে ‘বাদশাহো’।

‘মুসলিমরা আক্রান্ত হলে সেই হামলাকে আমরা সন্ত্রাস বলি না’ by সুফিয়ান ইসমাইল

গত ২১ শে জুন সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে যা ঘটেছিল তা কোনদিনই ভুলতে পারবেন না জামিল মুখতার ও তার কাজিন রেশাম খান। পূর্ব লন্ডনে একজন শ্বেতাঙ্গ তাদের ওপর ভয়াবহ এসিড হামলা চালায়। এতে জামিল কোমায় চলে যান। মডেলিংয়ে উচ্চকাঙ্খী ছিলেন রেশাম। তার সেই স্বপ্ন এখন শেষ হয়ে গেছে। তাদের পরিবার মনে করে এটা হলো ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণা প্রসূত অপরাধ। কিন্তু এখানে হতাশার কথা হলো, মূলধারার মিডিয়াগুলোর বেশির ভাগই এ খবরকে কভার স্টোরি করতে ব্যর্থ হয়। তারা এটাকে ছোট একটি ঘটনা হিসেবে দেখে। কিন্তু এক্ষেত্রে জামিল ও রেশাম যদি হতেন জেমস ও রেবেকা, আর হামলাকারী হতেন এশিয়ান তাহলে কমপক্ষে একদিন ধরে তারা তাদের ছবি দিয়ে সংবাদ শিরোনাম করতো। বৃটেনে অমুসলিমদের থেকে বৃটিশ মুসলিমদের অনেকটা আলাদা করে দেখা হয়। এই ট্রাজেডি এবারই প্রথম নয়। স্মরণ করুন মোহাম্মদ সালিম ও মুশিন আহমেদের কথা। তাদের প্রথমজনকে ছুরিকাঘাত ও পরের জন লাথি মারতে মারতে হত্যা করা হয়েছে। রাজনীতিক জো কক্স ও লি রিগবির হত্যাকান্ড নিয়ে যেভাবে কাভারেজ দেয়া হয়েছিল তার সঙ্গে এ ঘটনাটি একটি তুলনা করে দেখুন। পরে উল্লেখ করা এ দুটি নাম আমাদের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে গেঁথে গেছে। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের বাইরে মোহাম্মদ সালিম ও মুহসিন আহমেদের নাম অচেনাই রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে রিপোর্টিংয়ে দুর্বলতাই একমাত্র কারণ নয়। এর সঙ্গে রয়েছে মুসলিমদের ওপর হামলা। তাদের ওপর যে হামলা হয় তাকে সন্ত্রাস বা টেরোরিজম বলা হয় না। কোনো শ্বেতাঙ্গ হামলা চালালে তাকে সন্ত্রাস বা দিয়ে অন্য শব্দ ব্যবহার করে রিপোর্ট করা হয়। এতে বৃটিশ মুসলিমদের সামে মিডিয়ার দ্বিমুখী নীতি ফুটে ওঠে। জো কক্স’কে যখন ডান-পন্থি এক সন্ত্রাসী হত্যা করে তখন তার কঠোর সমালোচনা করে রিপোর্ট প্রকাশ করে দ্য সান, ডেইলি মেইল। তবে ওই রিপোর্ট প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশ না করায় ডেইলি মেইলকেও শুনতে হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। ফিন্সবুরি পার্ক ট্রাজেডির অব্যবহিত পরেই স্কাই নিউজের আশীষ যোশীকে মসজিদের বাইরে ঘিরে ধরেন উত্তেজিত মুসলিমরা। তারা মুসলিমদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে হত্যাকা-কে সন্ত্রাসী কর্মকা- হিসেবে আখ্যায়িত করার দাবি জানান। আসল সত্য কথা হলো এখন আমাদের সমাজের বিভিন্ন অংশে ইসলামভীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৃটিশ মুসলিমদের ‘পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা’ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ সপ্তাহে আমি তাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে একটি চিঠি লিখেছি। তাকে সেই প্রতিশ্রুতি রাখার আহ্বান জানিয়েছি। তিনি কিছু ‘ট্রাবলিং’ পরিসংখ্যানও দিয়েছিলেন। তথ্যে দেখা যাচ্ছে বৃটেনে বছরে মুসলিম বিরোধী ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ ঘটে প্রায় ৭ হাজার। ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে বৃটেনে মুসলিম বিরোধী অথবা ইসলাম বিরোধী টুইট করা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯২০টি। যা প্রতিদিন ৩৯৩টির সমান। ন্যাশনাল ইকুয়ালিটি প্যানেল দেখতে পেয়েছে যে, সমান যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মুসলিমরা শতকরা ১৩ থেকে ২১ ভাগ কম বেতন পান। বিবিসির এক গবেষণায় দেখা গেছে, চাকরি প্রত্যাশিদের মধ্যে সাক্ষাৎকারের জন্য অন্যদের থেকে তিন গুণ কম ডাকা হয় মুসলিমদের। চাইল্ডলাইনের গবেষণায় দেখা গেছে, খেলাধুলার ক্ষেত্রে মুসলিম শিশুরা বর্ণবাদের শিকার হচ্ছে। এমনটা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৬৯ ভাগ। মুসলিম শিশুদের ‘বোমারু’ অথবা ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেয়া হয়। তাদেরকে ঘন ঘন এমন গালি শুনতে হয়। উপরন্ত ২০১০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় আসা কনজার্ভেটিভ সরকার ইসলামবিদ্বেষ বা ইসলামভীতি মোকাবিলা করতে পারতো। তারা কার্যত মূলধারার মুসলিম সংগঠনগুলোকে বয়কট করেছে। এর পরিবর্তে একটি ক্ষুদ্র অংশের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে যাদের বিশ্বাসযোগ্যতায় ঘাটতি আছে।
আমরা যখন মুসলিমদেরকে সমানভাবে দেখবো তখনই চূড়ান্তভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
(লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

আরব দেশেগুলোর দাবি মানবে না কাতার

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কয়েকটি আরব রাষ্ট্রগুলোর দেয়া দাবির তালিকা তার দেশ বাতিল করে দিয়েছে। তবে সঠিক শর্তের ভিত্তিতে কাতার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আব্দুল-রাহমান বিন জাসিম আল থানি পূর্ণ-ব্যক্ত করেছেন, কাতার তার সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করে এমন কোনো কিছুই গ্রহণ করবে না। এর আগে আরব বিশ্বের চারটি দেশ কাতারের কাছে তাদের ১৩টি দাবির একটি তালিকা পাঠিয়ে বলেছিল এগুলো না মানলে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা যাবে না। সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন কাতারের কাছে দাবি জানিয়েছিল, আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করতে হবে। তারা কাতারের কাছে আরো দাবি জানিয়েছে ইরানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ সীমিত করতে হবে এবং তুরস্কে তাদের সেনা ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি পূরণের জন্য দশ দিন সময় দেয়া হয়েছে। সেই দশ দিন শেষ হওয়ার আর মাত্র দুই দিন বাকি আছে। দুই দিন আগে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর এ বক্তব্য উত্তেজনা তৈরি করবে । কারণ এর ফলে ঠিক কী হতে চলেছে সেটা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কাতারের ওপর নজিরবিহীন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে দুই সপ্তাহের ওপর। কয়েক দশকের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে এটা সবচেয়ে বড়ধরনের রাজনৈতিক সঙ্কট। কাতার যদি এই দাবি না মানে? রয়টার্সের সূত্র থেকে শুধু এটুকুই বলা হয়েছে যদি দশদিন পার হয়ে যায় এবং কাতার এই দাবি মানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এই তালিকা বাতিল গণ্য হয়ে যাবে। এই তালিকার কিছু দাবি অবশ্যই কাতারের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল থানি এ সপ্তাহে বলেছেন তার দেশ কোন ''বিদেশি নির্দেশনা'' মানবে না এবং ''আল জাজিরা চ্যানেল সংক্রান্ত কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে না কারণ এটা দেশটির অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়।'' তুর্কি সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেয়াসহ আরো যেসব দাবি সৌদি আরব এবং অন্যরা তুলেছে, কাতার যে তা মানবে, তার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তুরস্ক ইতোমধ্যে তাদের সামরিক ঘাঁটি বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ফ্রাংক গার্ডনার বলছেন, যদি আপসের কোনো জায়গা না থাকে, তাহলে কাতারের সামনে দুটি পথ খোলা থাকবে। হয়, এসব দাবি মেনে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে উপসাগরীয় আরব জোটে ফিরে যাওয়া। অথবা সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নেয়া। সূত্র : বিবিসি

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের মাউংতাওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সম্প্রতি অঞ্চলটিতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত এবং নতুন হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা বাহিনীকে এ সতর্কতাবস্থায় রাখা হয়েছে। রোববার দেশটির কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে গোলযোগপূর্ণ অঞ্চলটিতে ছয় বেসামরিক লোককে হত্যা ও দুইজন নিখোঁজ বা অপহৃত হয়েছে। খবর সিনহুয়া’র। নতুন করে শুরু হওয়া এই সহিংস ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে প্রায় ২শ’ বৌদ্ধ রাখাইন গ্রামবাসী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এর ফলে মাউংতাওয়ের গ্রামগুলোর কাছে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সম্পর্কিত মন্ত্রী কর্ণেল তেই লিন নিরাপত্তার জন্য জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন। উদ্ভুত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে

রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে একথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। তাপমাত্রা সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশের দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আজ রোববার সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯০%। রোববার ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সোমবার ঢাকায় সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে।

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি প্রকাশে আরো ২ সপ্তাহ সময়

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করতে আরো দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষে আনা সময় আবেদন গ্রহণ করে আজ এ সময় দিয়ে (এডজরন্ড ফর টু উইকস) আদেশ দেয়। বিষয়টি আজ রোববার আপিল বিভাগে উত্থাপিত হলে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত দ্ইু সপ্তাহ সময় দিয়ে বিষয়টি মূলতবি রাখে। মাসদার হোসেন মামলায় ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়। রায়ে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয়া হয় রায়ে। ওই রায়ের আলোকে ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়। খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি বলে জানায় আপিল বিভাগ। পরে অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালার সংশোধন করে গেজেট প্রকাশে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। তা প্রকাশে ইতোমধ্যে কয়েকদফা সময় নেয় রাষ্ট্রপক্ষ।

নাইকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১৬ আগস্ট

নাইকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানী আগামী ১৬ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আমিনুল ইসলামের আদালতে অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করায় বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে দিন ধার্য করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাংবাদিকদের একথা জানান। গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে জামিন নেন। গত বছরের ১৮ জুন মামলাটি বিচারিক আদালতে চলবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট।

মালয়েশিয়ায় ৫১৫ বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর প্রথম দিন এক হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে, যাদের অর্ধেকই বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন দপ্তরের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলীর বরাত দিয়ে মালয়েশিয়া স্টার জানিয়েছে দেশটির ১৫৫টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট এক হাজার ৩৫ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।  আটকদের মধ্যে ৫১৫ জন বাংলাদেশি, ১৩৫ জন ইন্দেনেশীয়, ১০২ জন ফিলিপিনো, ৫০ জন থাই ও দুজন ভিয়েতনামি নাগরিক রয়েছেন।কর্তৃপক্ষ বলছে, এদের কাছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দেওয়া এনফোর্সমেন্ট কার্ড (ই-কার্ড) বা সাময়িক অবস্থানের অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি।আটকদের মধ্যে ১০১ জন নারী ও তিনটি শিশুও রয়েছে বলে মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য। মুস্তাফার আলী জানান, নিয়ম ভেঙে অবৈধ অভিবাসীদের কাজে রাখায় ১৬ জন চাকরিদাতাকেও তারা আটক করেছেন। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাগজপত্রহীন শ্রমিকদের বৈধভাবে পুনঃনিয়োগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত চার মাস ধরে ই-কার্ডের আবেদন নেওয়া হয়, যার সময় শেষ হয় ৩০ জুন।  বাংলাদেশ হাই কমিশনের শ্রম কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম জানান, এই ই-কার্ডের মেয়াদ আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অর্থাৎ, যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা কাজের অনুমতি নেই, ওই ই-কার্ড হাতে থাকলে তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় থেকে কাজ করতে পারবেন। ওই সময়ের মধ্যে তাদের নিজ নিজ দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট ও ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে। তা না হলে নির্ধারিত সময়ের পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।

সৌদি জোটের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে কাতার

সৌদি জোটের দেয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে কাতার। এজন্য কাতারের পক্ষ থেকে সুইজারল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত 'ল্যালিভ' ল'ফার্মকে নিযুক্ত করা হয়েছে। কাতারের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে ল্যালিভকে নিয়োগ করা হয়েছে। শনিবার মানবাধিকার কমিশন ও ল্যালিভের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সৌদি জোটের নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন প্রায় আড়াই হাজার দেশি-বিদেশি ব্যক্তি,পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির পরিমান নিরুপণ করছে ল্যালিভ।
ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের পর এ বিষয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে ল্যালিভ। ল্যালিভের আইনজীবী ভিজো হিসকেনান বলেন, 'সৌদি জোটের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ নয়। আর কোন রাজনৈতিক অভিযোগের কারণে নাগরিক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর অবরোধ করা যায় না।'

কংগ্রেসের কাছে ক্ষমতা হারাচ্ছে ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে শুরু করেছে। রাশিয়া ইস্যু, পেন্টাগনের বাজেট, জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পকে উপেক্ষা করছে কংগ্রেস। জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক মিয়েকে ইয়োইয়াং বলেছেন,'আমি মনে করি কংগ্রেসে রিপাবলিকান সদস্যদের অবনতি হয়েছে। তারা হোয়াইট হাউসে যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারছেন না।' এর আগে সতর্ক অবস্থানে থেকে রাশিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। সেসময় সিনেট রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এনেছিল। ফলে যেকোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ক্রেমলিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা অর্জন করে কংগ্রেস।
আর চলতি সপ্তাহে কংগ্রেসনাল কমিটি ৩০ বিলিয়ন ডলারের তিনটি প্রতিরক্ষা বিলে অনুমোদন দিয়েছে। যা ট্রাম্প প্রশাসনের দেয়া প্রস্তাবনার চেয়ে এই অনেক বেশি। রিপাবলিকানদের অভিযোগ, সামরিক খাত পুনর্নিমাণে ট্রাম্প যে বাজেটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা ব্যর্থ হয়েছে। চলতি সপ্তাহের আকস্মিক একটি নির্বাচনে হাউস প্যানেল ২০০১ সালের সামরিক বাহিনীর একটি সংশোধনী বিল বাতিলের পক্ষে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে সিরিয়া, ইরাক এবং আফগানিস্তানে বৈধ কর্তৃত্ব পাচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী।

সৌদি জোটের ১টি শর্তও মানবে না কাতার

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সৌদি জোটের দেয়া সবগুলো শর্তই প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। রিয়াদ ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে দেয়া একটি শর্তও কাতার বানবে না এবং তাদের শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করা হলো বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর আল জাজিরার। ১৩ দফা শর্ত মানতে বেধে দেয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগেই তা চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করা হল। ইতালি সফররত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আলে সানি শনিবার রাতে এ তথ্য জানান। গত ৫ জুন সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে। একইসঙ্গে জল, স্থল ও আকাশপথে কঠোর অবরোধ আরোপ করে। এর দুই সপ্তাহ পর অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য কাতারকে ১৩ দফা শর্ত দেয় সৌদি জোট। শর্ত মেনে নেয়ার জন্য ১০ দিনের সময়ও বেধে দেয়া হয়। শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রত্যেকেই জানেন যে, এই চাহিদাগুলোর লক্ষ্য কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা, বাক স্বাধীনতা স্তব্ধ করে দেয়া এবং কাতারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি স্থাপন করা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি বিশ্ব কোনো আল্টিমেটামের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না বরং এটি পরিচালিত হয় আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে। এই পৃথিবী পরিচালিত হয় এমন আইনের মাধ্যমে যা বড় দেশগুলোকে ছোট দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে বাধা দেয়।’ তবে শর্ত প্রত্যাখ্যান করলেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য কাতার আলোচনায় বসতে রাজি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শর্ত প্রত্যাখ্যান করায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হলে তাতেও দোহা ভীত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের শনিবার বলেছেন, দোহার প্রতি যেসব শর্ত বেধে দেয়া হয়েছে তা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।

সৌদির কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি করবিনের

ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি ও সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। আলজাজিরাকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে করবিন ওই আহ্বান জানান। লন্ডনভিত্তিক অস্ত্রবাণিজ্য বিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ক্যাম্পেইন অ্যাগেইন্সট দ্য আর্মস ট্রেড’ বলছে, ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের কাছে ৪১০ কোটি ডলারের অস্ত্র রফতানির লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটেনের লেবার পার্টির এ নেতা বলেছেন, আমরা ইয়েমেনে এই অস্ত্র ব্যবহারে সৌদি আরবের ক্রমাগত নিন্দা জানিয়েছি। ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলা নয়, আমরা শান্তি প্রক্রিয়া চাই। এজন্যই সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করতে বলছি। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার করেছি।’ ইয়েমেনের নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর হাদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে ইয়েমেন।
হুথি বিদ্রোহীদের আন্দোলনের মুখে পালিয়ে থাকা হাদিকে ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হামলা শুরু করে সৌদি আরব। ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের উত্থান মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, ইয়েমেনে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। গত ২০ মার্চ পর্যন্ত ইয়েমেনে হামলায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা এবং পরবর্তীতে অবরোধ আরোপের ফলে আরব বিশ্বের দরিদ্র দেশটিতে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটিতে কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং অন্তত ৭০ শতাংশ নাগরিক এখন পুরোপুরি ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। জেরেমি করবিন বলেন, ইয়েমেন যুদ্ধে আমি পুরোপুরি হতাশ। যেভাবে বোমা হামলা, প্রাণহানি ও কলেরার বিস্তার ঘটছে তা আতঙ্কিত হওয়ার মতো। নিহত এবং ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক।

ট্রাকের ওপর বিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টির এক মহাসড়কে থাকা একটি ট্রাকের ওপর ছোট একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার সকালের এ দুর্ঘটনায় বিমানটির দুই আরোহী আহত হয়েছেন। তাদের অবস্থা সংকটজনক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটিতে গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়। খবর বিবিসির। দুই ইঞ্জিনের সেসনা ৩১০ বিমানটি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সান ডিয়াগো মহাসড়কের দক্ষিণমুখী ৪০৫ ফ্রি-ওয়ে লেনে বিধ্বস্ত হয়।
পরে বিধ্বস্ত বিমানটিতে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান পরিবহন প্রশাসনের মুখপাত্র আয়ান গ্রেগর বলেন, নিকটবর্তী জন ওয়েন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটির পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানটিকে বন্দরে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তখনই প্রায় ৯টা ৩৫ মিনিটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মহাসড়কে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে নিচের দিকে পড়তে থাকা বিমানটি একটি ট্রাককে আঘাত করে। এতে ট্রাকটির পেছনের অংশ সামান্য দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। তবে ট্রাকটিতে থাকা ড্রাইভার কোনো আঘাত পাননি। অরেঞ্জ কাউন্টির শেরিফ দফতর মুখপাত্র বলেন, বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে গুরুতর আহত এক নারী ও এক পুরুষকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জঙ্গলে হিটলারের গোপন সুড়ঙ্গ

ফরাসি চিত্রগ্রাহক মার্ক আস্কাত। যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই- মনেপ্রাণে এ দর্শনেই বিশ্বাস করেন তিনি। বিশেষ আকর্ষণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমকালীন বিষয়। কয়েক বছর আগে ছাই উড়িয়ে তিনি যা রতন পেয়েছেন তাকে অমূল্য বললেও কম বলা হয়। ফ্রান্সের ঘন জঙ্গলের মধ্যে ছবি তোলার জন্য ঘুরছিলেন মার্ক। হঠাৎ চোখে পড়ল গাছের আড়ালে এক বাড়ি। সারা গায়ে ছেয়ে গেছে লতাপাতা আর শ্যাওলা। দূর থেকে দেখলে চট করে বোঝাই যাবে না। কাছে গিয়ে তাজ্জব হয়ে গেলেন মার্ক ও তার সঙ্গী। এটা যে কোনো বাড়ি নয়। একটা গোপন বাঙ্কার। যা প্রমাণ পাওয়া গেছে তাতে মনে করা হচ্ছে ওই বাঙ্কারে আশ্রয় নিতেন আর কেউ নয়- স্বয়ং নাৎসি বাহিনী। জার্মানির বাইরে এটাই অ্যাডলফ হিটলারের শেষ বাঙ্কার।
সম্ভবত এই গোপন আশ্রয় থেকেই ইংল্যান্ড অভিযানের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। মাটির তলায় প্রায় একশ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত এই বাঙ্কার। রয়েছে প্রায় ৬ মাইল পর্যন্ত লম্বা সুড়ঙ্গ। মূল দরজা দিয়ে বাঙ্কারে ঢোকার পর দেখা যায় ঘর, ছাদ ও দেয়ালজুড়ে সময়ের ধূসর প্রলেপ। মেঝেতে বড় বড় গর্ত। আর চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মরচে পড়া যুদ্ধ সরঞ্জাম। বাঙ্কারের সামনে আছে বিশাল বড় সুইমিং পুল। মনে করা হচ্ছে যুদ্ধের পরিকল্পনা করার পাশাপাশি রিফ্রেশমেন্টের জন্য সাঁতার কাটতেন জার্মান অফিসাররা। আর আছে শত্রুর চোখে ধুলো দেয়ার জন্য দুর্বোধ্য ভুলভুলাইয়া। যার হদিস জানতেন নাৎসি বাহিনীরাই। ঐতিহাসিকদের ধারণা, জার্মানির বাইরে এটাই ছিল ফুয়েরারের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। যেখানে লুকিয়ে গোটা ইউরোপকে পায়ের তলায় আনার ব্যর্থ স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি।
একদিন প্রতিদিন ডেস্ক

জয়নুল আবদিন ফারুককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

পল্টন থানার নাশকতা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিন এ আদেশ দেন। এদিন সকালে জয়নুল আবদিন ফারুক আদালতে উপস্থিত হয়ে ৬ মামলায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে  দুই মামলায় জামিন মঞ্জুর হলেও বাকি চার মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ২০১৫ সালের বিভিন্ন সময়ে পল্টন থানায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়।

সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. মামুন অর রশিদ বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের আগে অথবা পরে সফর সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এর আগে গত ১৬ মে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই মাসেই আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি কমিশনের ৬০ বছর পূর্তির সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রিয়া যান তিনি। অস্ট্রিয়ার পর সৌদি আরব ও সুইডেন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘ধৈর্যের সীমা’ ছাড়াবেন না

হংকংয়ের ওপর বেইজিংয়ের কর্তৃত্ব নিয়ে ‘অগ্রহণযোগ্য’ চ্যালেঞ্জের বিষয়ে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চীনবিরোধীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, চীনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে এমন বিষয়ে ‘রেড লাইন’ (ধৈর্যের সীমা) অতিক্রম করা সমীচীন হবে না।’ যুক্তরাজ্যের কর্তৃত্ব থেকে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের ২০ বছর পূর্তিতে ‘বিশেষ অঞ্চলটির’ প্রথম নারী প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামকে শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর এ হুশিয়ারি দেন জিনপিং। শনিবার লামের পাশাপাশি তার মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ পড়ান তিনি। খবর বিবিসি ও এএফপির। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এদিন পতাকা উত্তোলনসহ ধারাবাহিক কয়েকটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন জিনপিং। নিরাপত্তার মধ্যেও চীনবিরোধী বিক্ষোভ এড়ানো যায়নি। অনুষ্ঠানস্থলের কাছেই বেইজিংপন্থী ও গণতন্ত্রপন্থীদের (চীনবিরোধী) মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এখান থেকে অন্তত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিরাপত্তার কারণে শহরের বেশকিছু এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এদিন চীনবিরোধী বিক্ষোভের মুখেই পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) গ্যারিসন পরিদর্শন করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। ২০১৩ সালে চীনের নেতৃত্ব গ্রহণ করার পর এই প্রথম হংকং সফরে গেছেন জিনপিং। বৃহস্পতিবার তিনদিনের সফরে হংকংয়ে আসার পর জিনপিং আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে আছে বার্ষিক ভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বুধবারই জিনপিংয়ের এ সফরকে কেন্দ্র করে হংকংয়ে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা চীনের কাছ থেকে উপহার পাওয়া আইকনিক সোনালি ভাস্কর্য বাউহিনিয়া ফ্লাওয়ারে কালো পতাকা ঝুলিয়ে দেন। এসময় আটক হন আমব্রেলা প্রটেস্ট মুভমেন্টের নেতা জোশুয়া ওং এবং আইনপ্রণেতা নাথান লসহ অন্তত ২৬ জন। পরে তাদের মুক্তি দেয়া হয়। শনিবার ফের আটক হয়েছেন ছাত্রনেতা জোশুয়া। শনিবার এক ভাষণে জিনপিং বলেন, ‘হংকং এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। চীনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে এমন যে কোনো উদ্যোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো বা অনুপ্রবেশের জন্য হংকংকে ব্যবহার করে মূল ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে নাশকতা চালানোর তৎপরতা সীমা লঙ্ঘনের মতো অপরাধ এবং তা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।’ তিনি আরও বলেন, হংকংয়ের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থ সুরক্ষায় এর পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
চীনের সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের উন্নয়ন ঘটাতে হংকংয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।’ এর আগে হংকং হস্তান্তরের দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে চীন ও হংকংয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় গোল্ডেন বাউহাইনিয়া স্কয়ারে উপস্থিত লোকজন চিৎকার করে উল্লাস প্রকাশ করে। সেখানে গণতন্ত্রীপন্থীদের সঙ্গে বেইজিংপন্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে পুলিশ দুই দলকে পৃথক করে দেয়। গণতন্ত্রপন্থী দল দেমোসিস্টো জানায়, পুলিশ তাদের ৫ সদস্যকে আটক করেছে। অন্যদিকে লিগ অব সোশ্যাল ডেমোক্রেটের আটক হয়েছে ৪ জন। ১৯৯৭ সালে চীনের কাছে হংকংকে ফিরিয়ে দেয় ব্রিটেন। সে সময় থেকে ‘এক দেশ, দুই নীতি’ অনুযায়ী হংকং শাসন করতে সম্মত হয় বেইজিং। শহরটির নিজস্ব আইনি ব্যবস্থা, সীমিত গণতান্ত্রিক চর্চা এবং সমবেত হওয়ার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের মতো কিছু অধিকারের অনুমোদন দেয় বেইজিং। তবে হংকংয়ের প্রশাসক নির্বাচনে জনগণের সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা নেই। চীনের অধীনে এক হাজার ২০০ জনের একটি কমিটি তাকে নির্বাচিত করেন। গত নির্বাচনে মুখ্য প্রশাসক নির্বাচিত হন লাম। তিনি বেইজিংপন্থী হিসেবে পরিচিত।

রোবোকপের পর দুবাইয়ে এবার রোবোকার

রোবোকপ বা রোবট পুলিশের পর এবার দুবাইয়ের রাস্তায় টহল দেবে স্বয়ংক্রিয় রোবোকার (রোবট গাড়ি)। এ বছরের শেষ নাগাদ এই বিশেষায়িত রোবট গাড়ি রাস্তায় নামবে বলে আশা করছে দুবাই পুলিশ। এই বিশেষ গাড়ি পুলিশকে অপরাধী শনাক্ত ও ধরতে সহায়তা করবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ এ সপ্তাহে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভবিষ্যৎ আইনশৃঙ্খলা পদ্ধতি ঢেলে সাজাতেই তাদের এই আয়োজন। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের। রোবট গাড়িতে সংযুক্ত একটি ড্রোনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি করতে পারবে। রোবট গাড়িটির নাম দেয়া হয়েছে ও-আর৩। এটা গাণিতিক ভাষা ব্যবহার করে কাজ করবে। পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে কম্পিউটারের ড্যাসবোর্ড ব্যবহার করে রোবট গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। গাড়িটিতে থারমাল ইমাজিং ও গাড়ির নিবন্ধন ফলক (লাইসেন্স প্লেট) সংযুক্ত থাকবে। দুবাই পুলিশ জানায়, মানব পুলিশের পরিবর্তে এ রোবোকার ব্যবহার করা হবে না। উদ্ধার তৎপরতা আরও উন্নত করতেই এর সংযোজন।
রোবোকার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওটিএসএডাব্লিউ জানায়, এটা নিজে নিজেই চার্জ নিতে এবং ঘড়ির সময় ধরে কাজ করতে পারবে। দুবাই পুলিশের প্রধান আবদুল্লাহ খালিফা আল মারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিযানের গতি বাড়াতে রোবটের মতো প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছি। আমরা পুলিশি টহল ছাড়াই দুবাইয়ের রাস্তা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে চাই।’ এর আগে গত মাসে দুবাই বিশ্বের প্রথম রোবট পুলিশ রাস্তায় নামিয়েছে। যার নাম দেয়া হয়েছে রোবোকপ। তবে তার হাতে কোনো অস্ত্র তুলে দেয়া হয়নি। পর্যটকদের আকর্ষণ করতেই এই বিনয়ী রোবোকপকে রাস্তায় নামানো হয়েছে। এটা আপাতত ইংলিশ ও আরবিতে কথা বলতে পারে। পুলিশ জানায়, অচিরেই এটি আরও চারটি ভাষায় কথা বলতে পারবে। ২০৩০ সাল নাগাদ পুলিশ বাহিনীতে ২৫ শতাংশ রোবট যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে দুবাই পুলিশের।

জাতিসংঘের সহায়তা চাইল কাতার

মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সংকট সমাধানে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কাতার। কাতারের ওপর আরোপ করা সৌদি জোটের অবরোধ তুলে নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কাতারি মিশনে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় কাতারের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য জাতিসংঘকে সরাসরি কথা বলার আহ্বান জানান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল থানি বলেন, ‘সংকটের ইতি টানার প্রচেষ্টায় একটা আন্তরিক সংলাপের আয়োজন করতে সব পক্ষকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে কাতার।’ খবর আল-জাজিরার। এদিকে কাতারের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। শুক্রবার এ দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপ হয়। টেলিফোন আলাপে কাতার সংকট সমাধান হওয়া উচিত বলে মতপ্রকাশ করেন তারা। আলোচনায় সংকটের কারণে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়েও তারা আলাপ করেন। গত মাসের প্রথম দিকে কাতারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে সৌদি আরব, মিসর, আরব আমিরাত, বাহরাইন। এ ঘটনার প্রথম থেকেই তুরস্ক কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সংকট সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে আলজাজিরা টিভি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়ার দাবি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, সৌদি আরব ও অন্য তিনটি আরব রাষ্ট্র আল-জাজিরা টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়ার যে দাবি করছে তা অগ্রহণযোগ্য। এটা মুক্ত মত ও সংবাদ প্রকাশের অধিকারের ওপর আক্রমণ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জায়েদ রাদ আল হোসেনের মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আল-জাজিরা টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়ার যে দাবি করা হয়েছে তাতে জায়েদ রাদ আল হোসেন ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, আপনি তাদের সম্পাদকীয় অবস্থান পছন্দ করেন বা না করেন, একমত হন বা না হন, আল-জাজিরার আরবি ও ইংরেজি চ্যানেল বৈধ। লক্ষ লক্ষ দর্শক রয়েছে এর। এদিকে কাতারের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংকটের ইতি টানার আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। কাতার পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বৈঠক করেছেন কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন মোহাম্মদ আল আত্তিয়াহ ও তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফিকরি আইসিক। শুক্রবারের ওই বৈঠকে তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যে অবস্থা চলছে তা অবিলম্বে আন্তরিক আলোচনা ও কাতারের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কারণ এ দেশগুলো অপরের ভাই।

খালেদার নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন ১৬ আগস্ট

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আমিনুল ইসলামের আদালতে অভিযোগ গঠনের তারিখ ধার্য ছিল। তবে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী সময় আবেদন করায় বিচারক নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদিন মেজবাহ বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ২০১৬ সালের ১৮ জুন এ মামলাটি বিচারিক আদালতে চলবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। পরে ৩০ নভেম্বর এ মামলায় খালেদা জিয়া জামিন নেন। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম নাইকো দুর্নীতি মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

অপশক্তি রুখে দেয়ার শপথ

হাতে ফুল, চোখে জল। আছে ক্ষোভের আগুন, প্রতিবাদের ভাষা। তবুও নিশ্চুপ সবাই। ধীর পায়ে এগোচ্ছেন বেদির দিকে। কারও কারও চোখ-মুখ বলে দিচ্ছে- কাঁদতে আসিনি, এসেছি ফাঁসির দাবি নিয়ে। পাঠক, বলছি শোকগাথা গুলশান হলি আর্টিজানের কথা। শনিবার সকালটা এভাবেই শুরু হয়েছিল। এক বছর আগের ভয়াল রাতের কথা স্মরণ করতে সকাল ১০টার আগে থেকে রাজধানীর সব পথ যেন একাকার হয়ে মিশেছিল গুলশান ৭৯নং সড়কের সামনে। পুরো জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছিল জঙ্গি সন্ত্রাসীদের হামলায় নির্মম মৃত্যুর শিকার নিরপরাধ মানুষগুলোর। হাজির হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার মানুষ। এসেছিলেন নিহত বিদেশিদের স্বজন, শুভাকাক্সক্ষী বন্ধুরাও। ক্ষোভ আর অশ্রুভেজা চার ঘণ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনে সবার মুখে ও মনে উচ্চারিত হচ্ছিল- এই শোক হবে অপ্রতিরোধ্য শক্তি, রুখে দেব সব অপশক্তি। দেখে যাও সন্ত্রাসী কাপুরুষরা, ভীত নই আমরা। আমরা আজ আরও ঐক্যবদ্ধ; সব ধর্মান্ধ, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। সেই রাতের ভয়াবহতায় যেন থমকে গিয়েছিল পুরো বাংলাদেশ। আচমকা এক দুঃস্বপ্ন এসে আঘাত করেছিল। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল এক কালরাত্রি। জঙ্গিবাদের অশুভ থাবায় তখন ক্ষতবিক্ষত হলি আর্টিজান বেকারি। বাংলাদেশের জন্য সেটি ছিল বড় বিষাদের রাত। গুলশান-২ এ অবস্থিত এ রেস্তোরাঁয় জঙ্গিদের আক্রমণ হতবাক করেছিল পুরো জাতিকে। রাত ৮টার একটু পরে কয়েক জঙ্গি অস্ত্র হাতে সজ্জিত হয়ে হলি আর্টিজানে অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই বলেছেন, আক্রমণের প্রায় ঘণ্টাখানিকের মধ্যেই তারা তিন বাংলাদেশি, এক ভারতীয়, নয় ইতালিয়ান, সাত জাপানি নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাদের আক্রমণে প্রাণ হারান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দু’জন চৌকস সদস্যও।
যদিও এ হত্যাকাণ্ডের তথ্যগুলো পাওয়া গিয়েছিল ঘটনার একদিন পর। সেদিন রাত ২টা পর্যন্ত জঙ্গিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর এক অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। কিন্তু তার অনেক আগেই ঝরে যায় অনেক নিরীহ প্রাণ। নির্মম মর্মস্পর্শী এ ঘটনার এক বছর পূর্তিতে শনিবার দেশের শোকার্ত সাধারণ মানুষ, বিশিষ্ট নাগরিক, সুধী সমাজ, রাজনীতিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তাব্যক্তিরা সবার ঢল নামে হলি আর্টিজানে। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় তারা স্মরণ করেন বর্বর এ হত্যাযজ্ঞে নিহতদের। শপথ নেন শোককে শক্তিতে পরিণত করে বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের জঙ্গিবাদের আস্ফালনকে চিরতরে রুখে দেয়ার। তবে আগতদের সবার মনের মধ্যেই ছিল অনেক প্রশ্ন। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের সফলতা আছে, এটি মেনে নিয়েই তারা জানতে ও বুঝতে চেয়েছিলেন- বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ আর সিরিয়া বা ইরাকের জঙ্গিবাদ তো এক ধরনের নয়। এদের কথিত আইএসের দোসর বলা হলেও ওইসব দেশের জঙ্গি হামলার সঙ্গে এখানকার জঙ্গিদের হামলার মধ্যে কোনো মিল নেই। তারপরও বছরজুড়ে জঙ্গি সংবাদ পিছু ছাড়ছে না কেন? বিশেষ করে সবার মধ্যে একটা প্রশ্ন বেশি ঘুরপাক খাচ্ছিল। তারা গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী কারা? কী তাদের উদ্দেশ্য? এটি যতদিন সত্যিকারার্থে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে না, ততদিন জঙ্গিবিরোধী কোনো অভিযান ওই অর্থে সফল হবে না। তাই আগে খুঁজে বের করতে হবে, কারা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানাতে চায়। এছাড়া সবাই বলছিলেন, আজকের এই দিনের সবচেয়ে বড় শপথ হতে হবে- প্রত্যেকে নিজ নিজ পরিবার থেকে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু করতে হবে। আমাদের সন্তান ও ভাইবোনরা কীভাবে বেড়ে উঠছে, তারা কোথায় যায়, কাদের সঙ্গে চলাফেরা করে, মোবাইল ফোন ও ফেসবুকে তারা কী ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে, কাদের সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ করে ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিনিয়ত খবর রাখতেই হবে। তা না হলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে বিপথগামী এই জঙ্গিবাদ দমন করা কোনোদিন সম্ভব হবে না। কারণ এটি আজ শুধু বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই নানাভাবে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। হলি আর্টিজানে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সুশীল সমাজের কয়েকজন যুগান্তরকে বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। গবেষণা হতে হবে- এতদিন এ ধরনের জঙ্গিবাদ মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষিতদের মধ্যে কেন ছড়িয়ে পড়ছে। একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনো কিছু স্পষ্ট করে বলছে না। যা বলা হচ্ছে তা ভাসা ভাসা। কেন তারা জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে সে কারণ আগে অনুসন্ধান করে বের করতে হবে।
তারপর সে অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে শুধু অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ানোর মতো অবস্থা হবে। এছাড়া জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতা বড় প্রয়োজন। কিন্তু এ বিষয়টি আমাদের এখানে খুবই বিপরীত অবস্থায় রয়েছে। মনে রাখতে হবে- মানুষকে তার ক্ষোভ, হতাশা প্রকাশ করার জন্য ‘স্পেস’ দিতে হবে। কিন্তু সেটি দেয়া না হলে তা অনেক সময় জঙ্গিবাদসহ নানা অশুভ শক্তির জন্ম দিতে পারে। হলি আর্টিজান বেকারির ভেতরে বাড়িটির একটি দেয়ালের পাশে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বেদি তৈরি করা হয়। সাধারণ মানুষের জন্য সকাল ১০টা থেকে হলি আর্টিজানের দরজা খুলে দেয়া হয়। কিন্তু তার আগ থেকেই অনেকে সেখানে ফুল হাতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। তখন কারও কারও চোখ ছলছল করছে। ১০টার পর শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শুরু হলে কেউ কেউ অশ্রু সংবরণ করেই বেদির সামনে এগিয়ে যান। কেউ আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশান ১০৪ নম্বর সড়ক এলাকা থেকে দুই সন্তান নিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন আবিদা সুলতানা। শ্রদ্ধা শেষে খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে তিনি কাঁদছিলেন। বললেন, মানুষ কী করে মানুষকে হত্যা করে? গত বছর ঘটনার দিন রাতভর আতঙ্কে ছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্ঘুম রাত কেটেছে ভয়ে ভয়ে। সকালে ছুটে এসেছিলেন হত্যাযজ্ঞ এলাকায়। সেই স্মৃতি এখনও তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে হলি আর্টিজান বেকারির বারান্দায় স্বামীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন টঙ্গী থেকে আসা গৃহবধূ শারমীন হোসেন। শারমীন যুগান্তরকে জানান, স্বামী নূর হোসেন রাজিক ও সন্তান আজমাইনকে নিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। নূর হোসেন বললেন, ‘টিভিতে দেখেছি ভয়াবহতা। এখনও বুক থরথর করে কাঁপছে। বাংলাদেশে এমন হবে কোনোদিন ভাবতে পারিনি। জঙ্গি তো ধরা পড়ছে, কিন্তু এর শেষ কোথায়? মূল হোতারা তো ধরা পড়ছে না। তাহলে দেশের মানুষ নিরাপদ কোথায়?’ সকাল ১০টায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরসহ সংগঠনের ১০-১২ জন নেতা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। শাহরিয়ার কবির বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সফল। কিন্তু জঙ্গি নির্মূলে আদর্শিক লড়াই চালাতে হবে। শক্তি দিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূল সম্ভব নয়। মানুষকে ধর্মের বিষয়ে ভুল বার্তা প্রদানকারী জামায়াত-শিবির, মওদুদীবাদী, ওয়াহাবিবাদ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।
জামায়াত-শিবিরসহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো যতদিন না পর্যন্ত নিষিদ্ধ হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃস্থাপন করতে হবে।’ বেকারিটি ঘেঁষা লেকভিউ ক্লিনিকের ফার্মাসিস্ট বিজয় ইসলামের সঙ্গে যুগান্তর প্রতিবেদকের কথা হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। হামলার রাতে তিনি ক্লিনিকে ছিলেন। বললেন, ‘যখন হামলাকারীরা একের পর এক গুলি করে মানুষ হত্যা করছিল, তখন শব্দ শুনছিলাম। দেখার জন্য যখন ক্লিনিকের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় যাই, তখন বেকারিটির ভেতরে গুলির সঙ্গে আগুনের মতো ঝিলিক চোখে এসে লাগে। ভয়-আতঙ্কে থরথর করে কাঁপছিলাম। ক্লিনিকের স্টাফরা প্রাণভয়ে দিগি¦দিক ছোটাছুটি করছিল। ৯টি কেবিনে রোগীরা ভর্তি ছিল। সবাই কেবিনের ভেতর থেকে রুম লক করে রেখেছিল। ওই রাত এবং পরের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপারেশন জীবনে কোনো দিন ভুলব না। ভাই, আর কথা বলতে পারছি না। দেখেন, ভয়ে শরীর কাঁপছে।’ ‘ইশরাতের জন্য কাঁদতে এসেছি। ক্ষমা চাইতে এসেছি ইশরাতসহ নিহতদের কাছে। বুক ভেঙে যাচ্ছে। এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না, তারা নেই। ইশরাত ছিল আমার প্রিয়বন্ধু। ১৪ বছরের ঘনিষ্ঠতা। গত রোজার শুরুতে তার বাসায় দাওয়াত খেয়ে অনেক মজা করেছিলাম। আজ বন্ধু নেই, বন্ধুর স্মৃতিগুলো শুধুই কাঁদায়। যেসব হায়েনারা তাদের হত্যা করল, তাদের বিচার কি হবে না? একই সঙ্গে মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতার করে প্রকাশ্যে আনা হোক। তবেই নিহতদের আত্মা শান্তি পাবে।’ শনিবার দুপুরে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন সেই রাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার ইশরাতের বান্ধবী আয়শা। বৃষ্টিতে ভিজে বান্ধবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়শা যখন বের হচ্ছিলেন, তখনও কাঁদছিলেন। শনিবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নিহতদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। শ্রদ্ধা শেষে বৃষ্টিতে ভিজেই সাংবাদিকদের জানালেন, দেশের মানুষকে মনে রাখতে হবে জাতির বিবেককে ধাক্কা দিয়ে গেছে হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলা। এক বছর ধরে তদন্ত হচ্ছে, কিন্তু চূড়ান্তভাবে কিছুই যেন হচ্ছে না। এমন ভয়াবহ হামলার নেপথ্যে কারা- তাদের পরিচয়ও পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই তো ভূত। মাঝেমধ্যে অনাকাক্সিক্ষতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হচ্ছে। কিন্তু এর দ্বারা অসাম্প্রদায়িকতা ও নৈতিকতার শিক্ষা এবং ধর্মান্ধবিরোধী শিক্ষা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। প্রাইমারি ও মাধ্যমিকে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির শিক্ষা এখনও রয়েছে জানিয়ে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, জঙ্গিবাদ ও ধর্মান্ধতাকে উসকে দিতে পারে এমন পাঠ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বাতিল করতে হবে। ইতালিয়ান নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যার বিচার সঠিক প্রক্রিয়ায় হলে হলি আর্টিজান হামলার ঘটনা হয়তো ঘটত না। রাজনৈতিক বিবেচনায় জড়িত কেউ যেন ছাড় না পায় কিংবা নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানি না হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান এই শিক্ষাবিদ।
রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী ও গবেষক ড. চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘দেশে জঙ্গি হামলার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ কিংবা জঙ্গিদের হত্যা করা হলেও কি জঙ্গি হামলা থেকে আমরা সাধারণ মানুষ মুক্ত হতে পারছি? এমন ভয়াবহতা নির্মূল করতে অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পরিবর্তন আনতে হবে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায়। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষার দিকে তাকিয়ে আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে চিনতে পারি না।’ বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী বলেন, একটি দেশে কী করে স্বাধীনতাবিরোধীরা থাকে। কী করে রাজনীতি করে। জামায়াত-শিবিরসহ ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলো নিষিদ্ধের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো মূল্যে তাদের গ্রেফতার করতে হবে। ফ্লাক্স ওয়ানের সহকারী পরিচালক রুবাবা দৌলা মতিন সাংবাদিকদের বলেন, হলি আর্টিজানে হামলাকারীরা এ দেশের ইতিহাসে কলঙ্ক লেপন করেছে। হামলার নেপথ্যের কারিগররা দেশি নাকি বিদেশি, তা আমরা জানতে চাই। দেশের মানুষ এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেফতার দেখতে চায়। জঙ্গি নির্মূলে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলেও তিনি মনে করেন। সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বলেন, জঙ্গিবাদ মোকাবেলার জন্য দরকার রাজনৈতিক সমঝোতা। সরকারের একার পক্ষে জঙ্গিবাদ মোকাবেলা সম্ভব নয়। এজন্য সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ দলমত-নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। তিনি বলেন, জঙ্গির সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন গোষ্ঠীসহ প্রত্যেককে কঠোর হাতে নির্মূল করতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদনের বেদির পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন নিহত ফারাজের এক আত্মীয় মনিকা চৌধুরী। তিনি বলেন, গুলশানে হামলা করে যারা বোঝাতে চেয়েছে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র, তাদের ধারণা ভুল। বাংলাদেশ কখনও জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র নয়, ছিল না, হবেও না। কিন্তু দেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। কারণ জঙ্গিদের মূল হোতারা এখনও ধরা পড়েনি। মনে রাখতে হবে, ফারাজদের মতো নিরপরাধ তরুণদের যারা হত্যা করতে পারে, তাদের চেতনা আমরা বুঝে গেছি। এমন ধ্বংসাত্মক ও মানবতাবিরোধী চেতনাধারীদের যে কোনো মূল্যে মোকাবেলা করতে হবে। সকালে হলি আর্টিজানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জঙ্গিরা দুর্বল হলেও নির্মূল হয়নি। জঙ্গিবাদ দমনে সবাইকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর যারা জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক তাদের সেই প্লাটফর্মে আহ্বান জানানো হবে না। এ সময় সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ছিলেন মাহবুবউল হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, এনামুল হক শামীম, আহমদ হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল, বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করে বলেন, সরকার ও পুলিশ যৌথভাবে জঙ্গি দমনে সফলতা পেয়েছে। প্যারিসের পুলিশ যেটা পারেনি, বাংলাদেশ পুলিশ সেটা করে দেখিয়েছে। এদিকে শনিবার সকালে হলি আর্টিজান বেকারিতে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে দেশে জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে না। হলি আর্টিজান হামলার পর ‘আমরা আশা করেছিলাম এ ব্যাপারে একটি সামগ্রিক সমন্বিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশের মধ্যে বিভিন্নভাবে যে উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক চেপে বসেছে, সেটিকে উৎখাত করা হবে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের দিক থেকে এ ধরনের কোনো সমন্বিত উদ্যোগ আমরা দেখিনি।’ এই দিনটি দেশ ও জাতির জন্য কালো অধ্যায় আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের এতগুলো মানুষ জঙ্গিদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়া নিঃসন্দেহে আমাদের আবহমান বাংলার যে সংস্কৃতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং দেশের যে এগিয়ে চলা, আমরা যে সম্প্রীতির পক্ষে, প্রগতির পক্ষে, অগ্রগতির পক্ষে সেখানে কলঙ্ক তিলক তারা এঁকে দিয়েছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, হলি আর্টিজান হামলার এক বছর পরও পুলিশ তদন্ত শেষ করতে পারেনি। এখনও অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি, প্রশাসন কী ধরনের কাজ করছে আমরা বলতে পারছি না। কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তাও জানি না। সকালে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হলি আর্টিজান বেকারির সেই বাড়ি প্রাঙ্গণে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। প্রতিনিধি দলের অন্যদের মধ্যে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, জাসাসের রফিকুল ইসলাম তালুকদার, শায়রুল কবির খান ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুন। এদিকে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অসাম্প্রদায়িক চেতনার। সেই জায়গাটিতে হলি আর্টিজানের ঘটনা বড় আঘাত। আমরা কখনও ভাবিনি এ রকম একটি ঘটনা ঘটতে পারে। জাতি এ জন্য প্রস্তুত ছিল না। জঙ্গি নির্মূলে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ থেকে যে কোনো অপশক্তি দূর করতে হলে সাংস্কৃতিক আন্দোলনও জরুরি। এ সময় অন্যদের মধ্যে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন. শহীদ আলীম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, কন্যা নূজহাত চৌধুরী, মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর, শহীদ বুদ্ধিজীবী শহিদুল্লা কায়সারের মেয়ে শমী কায়সার, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ আরও কয়েকটি সংগঠন। অতিরিক্ত আইজি মোখলেসুর রহমানের নেতৃত্বে¡ পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল সকালে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য হলি আর্টিজান চত্বরে আসে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর সাংবাদিকদের বলেন, হলি আর্টিজানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছি। বাংলাদেশ যেন ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের পরিচিতি না পায় তার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা ও পুলিশের পেশাদারিত্ব মিলিয়ে একটি দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পুলিশ জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো ঠাঁই নেই। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ পুলিশের সফলতা পৃথিবীর সব নিরাপত্তা বাহিনী ও সংস্থা একবাক্যে স্বীকার করেছে। এদিকে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পুলিশ পাহারায় বেকারিটিতে প্রবেশ করেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবির নেতৃত্বে জাপানি একটি প্রতিনিধি দল। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ৭টা ২৯ মিনিটে তারা বেরিয়ে যান। এ সময় তাদের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন ইতালির নিহতদের স্বজন ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা। গুলশান কূটনৈতিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, নিহতদের আত্মীয়স্বজন, দেশি-বিদেশি বন্ধু-বান্ধবসহ জাপানি রাষ্ট্রদূত, জাইকা প্রতিনিধি দল শ্রদ্ধা জানিয়েছে। আগত বিদেশি এবং সাধারণ লোকজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুক্রবার থেকেই হলি আর্টিজান বেকারি এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এদিকে দুপুর ২টায় পুলিশ প্রশাসন বেকারিটির প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়। এ সময় রাস্তায় সাধারণ মানুষকে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। তখনও বৃষ্টি পড়ছিল। সাধারণ মানুষ বৃষ্টিতে ভিজেই তখনও নিহতদের স্মরণ করছিলেন। প্রসঙ্গত, গত বছর ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজানে কথিত আইএস নামধারী জঙ্গিরা নৃশংতা চালিয়ে দেশ-বিদেশের ২২ জনকে হত্যা করে। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞে নিহত হন বাংলাদেশের ইশরাত আখন্দ, ফারাজ আইয়াজ হোসেন, অবিন্তা কবির, ভারতের নাগরিক তারিশি জৈন, ইটালির নাগরিক নাদিয়া বেনেডেট্টি, ক্লদিও ক্যাপেলি, ভিনসেনজা ডি অ্যালেস্ট্রো, ক্লদিয়া মারিয়া ডি অ্যান্টোনা, সিমোনা মন্টি, অ্যাডেলে পুগলিসি, ক্রিস্টিয়ান রসি, মারিয়া রিবোলি, মার্কো টোনডাট, জাপানি নাগরিক মাকাতো ওবামুরা, হিরোশি তানাকা, কোয়া ওগাসাওয়ারা, হিদেকি হাশিমোতো, নোবুহিরো কুরোসাকি, ইয়োকু সাকাই, রুই শিমোদাইরা এবং বাংলাদেশের দুই পুলিশ কর্মকর্তা ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ খান ও এসি রবিউল করিম।

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত ছয় ঘণ্টা

গেল বছরের ১ জুলাই সকালে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানের দৃশ্য ছিল আতঙ্ক আর উদ্বেগে ভরা। রাস্তায় ছিল সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁজোয়া যান। ক্ষণে ক্ষণে গুলি-গ্রেনেডের শব্দ ভেসে আসছিল। সেসময় বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জনকে খুন করে জঙ্গিরা। এক বছর পর শনিবার একই এলাকায় নামে শোকের ছায়া। নিহতদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে ফুল হাতে সকাল থেকেই ভিড় করেন সব বয়সী মানুষ। সকাল ৭টায় হলি আর্টিজানে গিয়ে দেখা যায়, শোকাহত মানুষ দল বেঁধে সেখানে আসছেন। সবার হাতে ফুল। সকাল ১০টায় বেকারিটির প্রধান গেট খোলার কথা থাকলেও সাধারণ মানুষ সেখানে ভোর থেকেই উপস্থিত হতে থাকেন। তবে তারা তখনই ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাননি। তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল আরও কয়েক ঘণ্টা।
৭টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশ পাহারায় বেকারিতে প্রবেশ করেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবি। তখনও রাস্তায় সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করছিলেন ফুল হাতে নিয়ে। ৭টা ২৯ মিনিটে জাপানি রাষ্ট্রদূতসহ অন্যরা শ্রদ্ধা জানিয়ে বেরিয়ে যান। রাস্তায় মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়তে থাকায় পুলিশ সকাল ৮টার দিকেই সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেয়। এরপর মানুষ দলে দলে এসে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা জানানোর বেদিটি ছিল হলি আর্টিজানের বারান্দাতেই। পেছনে টানানো ব্যানারে লেখা ছিল ‘হলি আর্টিজানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন’। একটি সাজানো টেবিলের ওপর সাদা কাপড়ে ঢাকা ছিল বেদিটি। ৮টা ৫ মিনিটের দিকে ফুল হাতে ভালোবাসা জানাতে আসেন নিহত ইশরাত আখন্দের বান্ধবী আয়শা। শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বেদির কোণে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে কাঁদছিলেন। জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘ইশরাতের কথা খুব মনে পড়ছে। ১৪ বছরের বন্ধুকে নিমিষেই হারিয়ে ফেললাম। শুধু শ্রদ্ধা নয়, তার কাছে ক্ষমাও চাইতে এসেছি, কারণ তাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি।’ সাড়ে ৯টার দিকে বনানী থেকে আসা দুই তরুণী ফায়জা ও কাকলী কালো পোশাক পরে বেদির পাশে এসে দাঁড়ান। দু’জনেই হাতে থাকা ফুল বেদিতে রেখে নীরবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই কাকলী বললেন, ঘটনার রাতে আমরা সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। সারাক্ষণ ভয়-আতঙ্কে ছিলাম। প্রার্থনা করছিলাম কারোর যেন মৃত্যু না হয়। কিন্তু সকালে হতাহতের খবরে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। তখন ইচ্ছে থাকলেও আসতে পারিনি। আজ এলাম তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। এদিকে হলি আর্টিজানের কেয়ারটেকার ইমরান হোসেন ও কামাল হোসেন বেকারির ভেতর এদিক-ওদিক ঘুরছিলেন। সকাল ১০টার দিকে ইমরান হোসেন জানান, তিনিসহ আরও ৩ জন রোজার শুরু থেকে এ বেকারিতে কাজ করছেন। শুরুতে রাতে ভয় হতো,
এখনও হয় তবে কম। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন অপর একজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি জানান, তিনিই এ বেকারিটির নকশা তৈরি করেছিলেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশগুলো এখন তিনিই মেরামত করছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাশের এক বাসার নূরজাহান নামে এক গৃহকর্মী বেদির খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। নূরহাজান জানান, ঘটনার রাত ও দিনে তিনি ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটা দূরের বাসায় ছিলেন। সকালে পুলিশের সহযোগিতায় অন্যত্র চলে যান। গুলির শব্দ আর গ্রেনেডের শব্দে বারবার চিৎকার দিয়ে উঠছিলেন তিনি। বললেন, ‘কেমন মায়ের সন্তান তারা, যে মানুষকে মেরে আনন্দ করে। তারা দোজখেও স্থান পাবে না।’ বেলা পৌনে ১১টার দিকে বেদির পাশে নূর হোসেন রাজিব নামে এক ব্যক্তিকে কাঁদতে দেখা যায়। তিনি জানান, টঙ্গী থেকে স্ত্রী শারমীন হোসেন ও এক সন্তান নিয়ে এসেছেন নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। গুলশান এলাকার রিকশাচালক হারুন মিয়ার হাতে ফুল নেই, তবে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেদির খানিকটা দূরে। বললেন, ‘মারামারি ভালো লাগে না। দেশটাকে জঙ্গিরা কী পাইছে। জঙ্গিদের মা-বাবাকেও আটক করা দরকার। জঙ্গিদের চিরতরে শেষ করা দরকার।’ একটু পরে অভিনেতা নাদের চৌধুরীসহ ১০-১২ জন নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে নাদের চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বেশ কিছুক্ষণ মন খরাপ করে দাঁড়িয়ে থাকেন। ওই সময় তার চোখের কোণে অশ্রু টলমল করছিল। অভিনেত্রী শমী কায়সার হলি আর্টিজান বেকারির দিকে তাকিয়ে কী যেন দেখছিলেন।
জিজ্ঞেস করতেই বললেন, আমরা এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই না। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ থাকতে পারে না। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সাবেক তত্ত্বাবধারক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই তো ভূত। মাঝেমধ্যে অনাকাক্সিক্ষতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হচ্ছে। কিন্তু এর দ্বারা অসাম্প্রদায়িকতা ও নৈতিকতার শিক্ষা এবং ধর্মান্ধবিরোধী শিক্ষা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। একইভাবে রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী ও গবেষক ড. চঞ্চল চৌধুরীও বলেন, পরিবর্তন আনতে হবে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায়। নতুবা জঙ্গি নতুন করে জন্মাবেই। এদিকে দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মানুষের ঢল নামে হলি আর্টিজানে। মা-বাবারা তাদের ছোট্ট শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন সেখানে। অনেক কিশোর-কিশোরীও এসেছিলেন নিহতদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে। অনেকে এসেছেন কোথায় এ বিভীষিকাময় ঘটনাটি ঘটেছিল, সেটি স্বচক্ষে দেখার জন্য। দুপুর পৌনে ২টায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ২ সন্তানকে নিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে আসেন ব্যবসায়ী জিয়াউল করিম। তিনি বলেন, তার বড় বোনের বাসা হলি আর্টিজানের পাশের গলিতে। ঘটনার রাতে বোন ভয়-আতঙ্কে বাসা ছেড়ে তার বাসায় গিয়ে উঠেছিলেন। আজ তিনি সেই স্থানটি দেখতে এসেছেন সন্তানদের নিয়ে। দুপুর ২টায় পুলিশ প্রশাসন হলি আর্টিজনের প্রধান ফটকটি বন্ধ করে দেন। তখনও অনেক মানুষ ফুল হাতে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ওই সময় ভেতরে বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল লাইভ সংবাদ প্রচার করছিল।

বগুড়ায় রাস্তা নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

বগুড়ার গাবতলীর ছোট ইটালী গ্রামে রাস্তা নিয়ে বিরোধে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আল-আমিন (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। শনিবার সকালে শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার বিকালে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত স্কুলছাত্র আল-আমিনের বাবা শনিবার সকালে গাবতলী থানায় ২২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এজাহার নামীয় ৬ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- ছোট ইটালী গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে বাবলু প্রামাণিক, মৃত মনসুর আলীর ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক, বাদল মিয়ার ছেলে শামীম হোসেন, আবদুল খালেকের ছেলে ফারুক হোসেন, মাদারী মোল্লার ছেলে ইয়াকুব আলী ও হবিবর রহমানের ছেলে আবদুল মান্নান। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের ছোট ইটালী মধ্যপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান জায়গা না ছেড়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন।
এতে রাস্তা ছোট হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর চলাচলে সমস্যা হয়। শুক্রবার বিকালে এতে বাধা দিলে খলিলুর রহমান, হবিবর রহমান ও আবদুল কুদ্দুস মাস্টারসহ কয়েকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে খলিলুর রহমান ও হবিবুর রহমানের লোকজন কুদ্দুস মাস্টারকে আটকে রাখেন। তাকে উদ্ধারে স্বজনরা ছুটে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। লাঠিসোটার আঘাতে আমজাদ হোসেনের ছেলে বাগবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র আল-আমিন, আমিনুল ইসলাম ও অপর পক্ষের বাবলু এবং ফটিকসহ ৬ জন আহত হন। এদের বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তির পর শনিবার সকালে স্কুলছাত্র আল-আমিন মারা যায়। দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গাবতলী থানার ওসি খায়রুল বাশার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত এজাহার নামীয় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বখাটেদের ক্ষুরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত কলেজছাত্রী

প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বখাটেদের ক্ষুরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয় এক কলেজছাত্রী। ঈদের পরদিন রাতে কক্সবাজারের বড় মহেশখালী উপজেলার ফকিরাঘোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম নগরীর কাপাসগোলা ওমেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাবেরা হোসনা শেলীর মুখ ও বাহুতে ক্ষুর দিয়ে আঘাত করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাইরুলের নেতৃত্বে ৬-৭ জন লোক শেলীর বাড়িতে ঢুকে তার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। উত্ত্যক্তকারী খাইরুল আমিন মহেশখালী কলেজের এইচএসসির অনিয়মিত ছাত্র। সে একজন শিবিরকর্মী বলেও সূত্রে প্রকাশ। এ ঘটনায় পুলিশ খাইরুলের অন্যতম সহযোগী এবাদ উল্লাহকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার দুপুরে মহেশখালী কলেজে এক সমাবেশে কোনো শিক্ষার্থী সন্ত্রাস বা ছাত্রীদের হয়রানি করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলে ঘোষণা দেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
এ সময় কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আশেক উল্লাহ রফিকও উপস্থিত ছিলেন। শেলীর বাবা হোছন আলীর অভিযোগ, কক্সবাজার হাসপাতালে তার মেয়েকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তার মুর্মূষু মেয়েকে ভর্তির পরদিন হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়। বাড়িতে নেয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অজ্ঞান হয়ে পড়ে শেলী। পরে ৩০ জুলাই বিকালে আবারও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার বিষয়ে বেশ অসহযোগিতা করেন বলে বাবার অভিযোগ। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী পরিবারের সন্তান খাইরুল আমিন তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে এক বছর আগে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দেয়ার পর ভবিষ্যতে আর এমন হবে না বলে অঙ্গীকার করে আসে খাইরুল আমিন ও তার পরিবারের লোকজন। এরপর তার পরিবারের ওপর নানাভাবে হুমকি আসায় এলাকা থেকে দূরে নিয়ে শেলীকে চট্টগ্রাম নগরীর কাপাসগোলা ওমেন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি করা হয়। ঈদ উপলক্ষে শেলী মহেশখালীর গ্রামের বাড়িতে এলে ঈদের পরদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাইরুলের নেতৃত্বে ৬-৭ জন লোক ছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে তার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এ সময় ব্যাপক মারধরের পাশাপাশি ছাত্রীর গালে ও হাতের বাহুতে ধারালো ক্ষুরের আঘাত করা হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহেশখালী ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক ইউনিট বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় খাইরুলের অন্যতম সহযোগী এবাদ উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনায় শেলীর বাবা হোছন আলী বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে।

নির্বাচনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে: ওবায়দুল

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও  সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল ফিতর পরবর্তী পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। আগামী নির্বাচনে ভোটের সাত দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাবির প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, তার শাসন আমলে নির্বাচনগুলোয় তিনি যেভাবে সেনাবাহিনী নিয়োগ করেছিলেন আমরাও সেভাবেই করবো। তিনি নিজে যেটা প্র্যাকটিস করেননি, সেটা করতে অন্যকে চাপ দেন কীভাবে? তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন মনে করলে সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়ন করবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। তবে তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবে। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি কাদের টাকা রাখা আছে তাদের নামের তালিকা প্রকাশে খালেদা জিয়ার দাবি বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারেক-কোকোর কেচ্ছা কাহিনী শুধু দেশে নয় সারা পৃথিবীর মানুষ জানে। এফবিআই, সিঙ্গপুরের আদালত, যুক্তরাষ্ট্রের আদালত দ্বারা তা প্রমাণিত। আমাদের এ ধরনের কোনো রেকর্ড নেই। সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্টিয়ারিং সিটে বসলেই চালকরা দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার হয়ে যান, তারা কখনো খাদে কখনো খালে দিয়েও গাড়ি চালিয়ে দেয়। তিনি বলেন, মালিক শ্রমিক নেতারা একাধিক বৈঠকে স্বীকার করেছেন দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বেপরোয়া গাড়ি চালানো। ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও পথচারীরা তা ব্যবহার না করায় শহর গুলোতে দুর্ঘটনায় মানুষ নিহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

'জেএমবি প্রধান আইয়ুব বাচ্চুকে অচিরেই গ্রেফতার করা হবে'

নব্য জেএমবির বর্তমান প্রধান আইয়ুব বাচ্চুকে অচিরেই গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক-আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। রোববার দুপুরে পুলিশ সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান। শহিদুল হক বলেন, এই মুহূর্তে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে আইয়ুব বাচ্চু। অচিরেই তাকে গ্রেফতার করা হবে। তিনি বলেন, দেশ থেকে জঙ্গিদের চীরতরে নির্মূল করা হবে। জঙ্গিদের হাত যতো বড়ই হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

টেকনাফে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়া বেড়িবাঁধ এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে জাফর আলম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ওই যুবককে খুন করা হয়। তিনি উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ মাঝেরপাড়া গ্রামের মৃত উলা মিয়া মিস্ত্রির ছেলে। সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণপাড়া বেড়িবাঁধে হঠাৎ করে এক ব্যক্তির চিৎকার শুনে কয়েকজন জেলে এগিয়ে আসলে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত যুবককে দেখতে পায়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক শঙ্কর শর্মার কাছে নিয়ে গেলে তিনি জাফর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর বিয়ষটি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। নিহতের মা নুর আয়েশা বেগম বলেন, সন্ধ্যার দিকে ছেলে বাড়িতে ছিল না। রাত ৮টার দিকে বেড়িবাঁধে যাচ্ছে বলে ঘর থেকে বের হয়। কিন্তু দু'ঘণ্টা পর ছেলের লাশ হওয়ার কথা আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার দাবি করছি। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. মাইন উদ্দিন খান বলেন, লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারকে শেষ সুযোগ দিল আপিল বিভাগ

নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রকাশে সরকারকে শেষবারের মতো দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধির গেজেট প্রকাশের ধার্য দিন ছিল আজ। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গেজেট প্রকাশে আপিল বিভাগে আবারও সময় আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার উদ্দেশে সর্বোচ্চ আদালত বলেন, ‘এটাই শেষ সুযোগ’।
প্রসঙ্গত, এর আগেও এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশে কয়েক দফা সময় নিয়েছিল সরকার। নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকেও তলব করেছিলেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ৭  নভেম্বর  বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে এ রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিন্ম আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

কূটনীতিক পদে সরাসরি নিয়োগে ক্ষোভ

বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে ঘটছে তুঘলকি কাণ্ড। পররাষ্ট্র ক্যাডার পদে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা ছাড়াই অনেককে কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাচ্ছেন প্রভাবশালীরা। এ ধরনের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একই পদে ছয় থেকে নয় বছর কাজ করছেন। কূটনীতিক পদে এভাবে সরাসরি নিয়োগ দেয়ায় পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এতে পররাষ্ট্র ক্যাডারে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। যে কোনো সময় এর বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বিদেশে বাংলাদেশের ৫৬টি কূটনৈতিক মিশন রয়েছে। এসব মিশনে রাষ্ট্রদূত পদে সীমিত মাত্রায় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পেশাদার কূটনীতিকের বাইরে রাজনৈতিক নিয়োগ দেয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ক্ষেত্রেও তার যোগ্যতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত পদ ছাড়া অন্য কূটনীতিক পদে নিয়োগে সাধারণত বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। তার বাইরে বিসিএস উত্তীর্ণ অন্য ক্যাডার থেকেও সীমিত সংখ্যক নিয়োগ দেয়া হয়। পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তারা বিদেশে একই পদে সাধারণত তিন বছর থাকতে পারেন। কিন্তু বিসিএস ছাড়া চুক্তিতে নিয়োজিতরা বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বছরের পর বছর পার করছেন। কর্মরত অবস্থায় অনেক কর্মকর্তা রীতিবহির্ভূত কাজ করছেন। এসব কারণে দেশের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রভাবশালীদের তদবিরে নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়ে ফরেন সার্ভিসে ক্ষোভের শেষ নেই। কারণ তদবিরে নিয়োগপ্রাপ্তরা বিদেশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশনে নিয়োগ পাচ্ছেন। তারা তেমন কাজ না করেই বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে কাজ না করলেও তাদের দাপটের শেষ নেই।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেলেঙ্কারিও ঘটাচ্ছেন। সর্বশেষ কেলেঙ্কারি ঘটিয়েছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল মো. শাহেদুল ইসলাম। গৃহকর্মীকে উপযুক্ত বেতন না দেয়ার অভিযোগে এক মামলায় তিনি গ্রেফতার হন। এতে করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জানা গেছে, মো. শাহেদুল ইসলাম ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন নেতা। তার বাবা এমপি ছিলেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এরপর ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলের দফতরে গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিকের পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে আছেন। এদিকে অভিযুক্ত কূটনীতিক শাহেদুলকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে অবস্থিত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের কাউন্সিলর পদে বদলি করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পর ভারতীয় কূটনীতিক দেবযামী খুবরাগাড়েকে ভারত ফিরিয়ে দেয়। জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন, শাহেদুলকে জাতিসংঘ মিশনে বদলি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক মিশনে চৌধুরী সুলতানা পারভিন নামে একজন কূটনীতিক পদে কর্মরত আছেন। তাকে ২০০৯ সালের আগস্টে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনিও বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের সদস্য নন। তিনি সেখানে কনসাল ও হেড অব চ্যান্সারির দায়িত্ব পালন করছেন। আট বছরের বেশি সময় একই মিশনে কোনো পেশাদার কূটনীতিককেও রাখা হয় না। ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে আনিসা আমিন নামে একজন ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে প্রথম সচিব (সংস্কৃতি) পদে নিযুক্ত আছেন। তিনিও বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা নন। ফলে তার নিয়োগ এবং নয় বছরের বেশি সময় একই মিশনে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে মোছা. নাজমা আক্তার ২০১২ সালের মার্চ থেকে প্রথম সচিব হিসেবে নিযুক্ত আছেন। একই মিশনে শামীমা পারভিন নামে আরও একজন দ্বিতীয় সচিব পদে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নিযুক্ত আছেন। তারা কেউই বিসিএস কর্মকর্তা নন। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশ মিশনে মো. ওহিদুর রহমান বিশ্বাস টিপু ২০১০ সালের অক্টোবর থেকে নিযুক্ত আছেন। কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে প্রথম সচিব পদে নিযুক্ত আছেন অপর্ণা রানী পাল। জার্মানিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে প্রথম সচিব পদে নিযুক্ত আছেন কাজী তুহিন রাসেল। লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনে ২০১১ সালের অক্টোবর থেকে মিনিস্টার (কাউন্সিলর) পদে নিযুক্ত আছেন শিরিন আখতার। তারা কেউই ফরেন সার্ভিসের কর্মকর্তা নন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করে বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘জনগণের ট্যাক্সের টাকা দাতব্য কাজে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যয় করা যায় না। বিসিএস পাস না করা এসব কর্মকর্তা ৬, ৭, ৮, ৯ বছর ধরে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে নিযুক্ত। তাদের নিয়োগের বৈধতা প্রশ্নাতীত নয়। কারণ তারা সরকারের গেজেটেড কর্মকর্তা নন। অথচ সরকারি অর্থ নিচ্ছেন। এভাবে পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি কূটনীতিক নিয়োগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না।

আজ থেকে অফিস আদালত চলবে পুরোদমে

ঈদের তিন দিন ছুটির পর বুধবার সরকারি অফিস খুললেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল তুলানামূলকভাবে অনেক কম। বৃহস্পতিবারও একই চিত্র দেখা গেছে। ঈদের ছুটির দু’দিন বাদে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় অনেকেই বুধ ও বৃহস্পতিবার ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছিলেন। এ কারণে ওই দু’দিন অফিস খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল কম। অফিসগুলোতে ছিল ঈদের আমেজ। আজ রোববার থেকে সরকারি অফিসগুলোতে শুরু হবে পুরোদমে কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য। ঈদের ছুটি শেষে বুধবার দিনের প্রথম ভাগে বিভিন্ন দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, কোলাকুলি আর খোশগল্পেই সময় পার করতে দেখা গেছে। কোনো কোনো দফতরে ছিল মিষ্টিমুখ করানোর হিড়িক। সকালেই নিজ দফতরে উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে উপস্থিতির হার ছিল অনেক কম। পরদিন বৃহস্পতিবারও সরকারি অফিসগুলোতে ছিল প্রায় একই দৃশ্য। কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে এলেও তেমন কোনো দাফতরিক কাজকর্ম হয়নি। সব কিছু মিলিয়ে সরকারি অফিসগুলোতে ছিল ঈদের আমেজ।

স্ত্রী-কাজের মেয়ে বদল ছিল তার নেশা

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করা ব্যবসায়ী সালেহ আহমেদ (৩০) কিছুদিন পরপরই স্ত্রী বদল করতেন। বেশি বেতনে সুন্দরী কাজের মেয়েও নিয়মিত বিরতিতে সরবরাহ করা হতো তার বাসায়। বিকৃত যৌনাচার যেন ছিল তার নেশা। কথিত স্ত্রীর সামনেই কাজের মেয়ের ওপর চলত অকথ্য অত্যাচার। যৌন উত্তেজক ইনজেকশন নিয়ে মাঝে মধ্যে বেসামাল হয়ে পড়তেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে বাসায় বসত নারী-মদের আড্ডা। তাতে ভাগ বসাতেন তার বাবাও। শুক্রবার রাতে রাজধানীর পরীবাগে গৃহকর্মীর ওপর যৌন অত্যাচার শেষে বেসামাল সালেহ আহমেদ তাকে সাততলা থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়ার পর এসব বের হয়ে আসে। পুলিশ শনিবার সালেহ আহমেদকে গ্রেফতার করেছে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া গুরুতর আহত অবস্থায় হতভাগ্য গৃহকর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পরীবাগের দিগন্ত টাওয়ারের সাততলার বেলকুনি থেকে মেয়েটিকে ফেলে দেয়া হয়েছে। তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওসি বলেন, মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। গৃহকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একই সময়ে মদ্যপ সালেহ আহমেদ তার কথিত স্ত্রীকে মারধর করে জখম করে। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত ছিলেন সালেহ আহমেদ। মাদকাসক্তও ছিলেন। দালালদের মাধ্যমে সালেহ আহমেদ সুন্দরী নারীদের কাজের বুয়া হিসেবে নিয়োগ দিতেন। কথিত স্ত্রীর চোখের সামনেই কাজের মেয়েদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। তদন্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সালেহ আহমেদের বাবা শহিদ হাওলাদারও একজন ব্যবসায়ী। বাড়ি পুরান ঢাকার মাতুয়াইলে।
সালেহ আহমেদ অস্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া করেছেন। দেশে ফিরে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। দিগন্ত টাওয়ারে বাবা-ছেলের পাশাপাশি দুটি অ্যাপার্টমেন্টে বাস। কথা হয় হাসপাতালের বিছানায় গুরুতর আহত ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ওই বাসায় কাজে যোগদানের পর থেকেই সালেহ আহমেদ তাকে বিকৃত যৌনাচারে বাধ্য করে। তিনি জানান, মদ এবং ইয়াবার নেশায় টালমাটাল থাকতেন সাহেব (সালেহ আহমেদ)। মেমও ইয়াবায় আসক্ত। সালেহ আহমেদ কথিত স্ত্রীর চোখের সামনেই তার সঙ্গে যৌনাচারে লিপ্ত হতেন। শুক্রবার রাতে সালেহ আহমেদ নিজের শরীরে একাধিক বিদেশি যৌন উত্তেজক ইনজেকশন পুশ করেন। এতে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় আমার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। বাধা দেয়ায় মারধর করে সাততলার বেলকুনি দিয়ে আমাকে নিচে ফেলে দেন। আমার সঙ্গে তার কথিত স্ত্রীকেও মারধর করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাত তখন সোয়া ১০টা। মেয়েটিকে নিচে পড়তে দেখেন অ্যাপার্টমেন্টের কাজের লোক জাহাঙ্গীর। তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীদের জানান। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাত পৌনে ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর সালেহ আহমেদের বাসা তল্লাশি করতে গিয়ে পুলিশ তার কথিত স্ত্রী এবং বাসার আরেক কাজের বুয়া বৃদ্ধ মনোয়ারাকে আহত অবস্থায় রাত আড়াইটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। মামলার বাদী ভুক্তভোগীর মা যুগান্তরকে বলেন, ১৬ জুন বাড্ডা এলাকার নাজমা নামের এক মহিলা আমার মেয়েকে ওই বাসায় কাজের জন্য নিয়ে যায়। দুদিন পর আরেক বুয়ার মোবাইল ফোন থেকে আমাকে ফোন দেয়। ফোনে মেয়ে আমাকে জানায়, ভালো চাকরি পেয়েছে। কাজ কম। বেতন ১৫ হাজার টাকা। তারপর থেকে তার ফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গতরাতে ওই বাসার এক নিরাপত্তাকর্মী ফোন দিয়ে মেয়ে গুরুতর আহত বলে মেডিকেলে আসতে বলে। ঢাকা মেডিকেলে এসে মেয়ের করুণ অবস্থা দেখতে পাই।
শনিবার দুপুরে পরীবাগে ৩/৩/এ দিগন্ত অ্যাপার্টমেন্টের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালেহ আহমেদের বিকৃত যৌনাচারের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন, প্রতি শুক্রবার সালেহ আহমেদের বাসায় মদ ও নারীর জলসা বসত। ছেলের জলসায় ভাগ বসাতেন সালেহ আহমেদের বাবা আবুল হোসেনও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সালেহ আহমেদ এ পর্যন্ত ১১টি বিয়ে করেছেন। নির্ধারিত সময় পর আগের স্ত্রীকে আর দেখা যায় না। এ ব্যাপারে দিগন্ত অ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক শাহজাদা রনি যুগান্তরকে বলেন, সালেহ আহমেদকে আমরা একাধিকবার সতর্ক করেছি। বলেছি, এখানে বেলেল্লাপনা চলবে না। আপনি হয় সংশোধন হন, নয় ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে অন্যত্র গিয়ে থাকেন। তিনি কারও কথায় পাত্তা দেননি। দিগন্ত অ্যাপার্টমেন্টের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৫ তলার এই অ্যাপার্টমেন্টে ১৫০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ফ্ল্যাট মালিকদের কেউ শিল্পপতি, কেউ সরকার কিংবা প্রশাসনের বড় কর্তা। যে কারণে এ বাড়ির নিরাপত্তার ধরনই আলাদা। কঠোর নিরাপত্তার মাঝেও এমন ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। ওই অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বাবা-ছেলেকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে। তাদের একটি গাড়ি নিয়ে গেছে র‌্যাব। রাতেই ৭ তলার ৭এম ফ্ল্যাটটি সিলগালা করে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, তার বাসা থেকে যৌন উত্তেজক নেশাজাতীয় বিভিন্ন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে তার ব্যবহৃত ল্যাপটপও। ওই ল্যাপটপে দেশি-বিদেশি ৪ শতাধিক তরুণীর ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। এদের অনেকেই তার বাসায় কলে আসত।

কুষ্টিয়ায় ২২ ঘণ্টার 'অপারেশন ট্রেপিড পাঞ্চ' সমাপ্ত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের বামনপাড়া এলাকার জঙ্গি আস্তানায় 'অপারেশন ট্রেপিড পাঞ্চ' সমাপ্ত ঘোষণা করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় এক প্রেসব্রিফিংয়ে ২২ ঘণ্টার এ অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন খুলনার অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, অভিযান শতভাগ সফল হয়েছে। ১০ কেজি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় এ ধরণের অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে ভেড়ামারায় কোন প্রকার রক্তপাত ছাড়াই অভিযান সফল হয় বলে জানান খুলনা রেঞ্চের অতিরিক্ত ডিআইজি। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে কাউন্টার টেরিরেজমের একটি ইউনিটের তথ্যর ভিত্তিতে খবর পায় কুষ্টিয়া ভেড়ামারা তালতলা মসজিদের পাশে একটি বাড়িতে জঙ্গিরা অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এডিসি আব্দুল মান্নানসহ কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানা পুলিশ, কুষ্টিয়া পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ টিম সেখানে অবস্থান নেয়। পুলিশ জানায়, রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট যৌথভাবে বাড়িতে অভিযান চালালে এক নারী সুইসাইড ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তা বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই তাকে ধরে ফেলে বলে পুলিশ দাবি করেছে। পরে পর্যায়ক্রমে আরও দুইজন মহিলাকে আটক করতে সক্ষম হয় তারা। পুলিশ জানায়, জঙ্গি আস্তানার বাড়ির মালিকের নাম নাসিমা খাতুন। প্রায় দুই মাস আগে জঙ্গিরা বাড়িটি ভাড়া নেয়। আটক নারীদের মধ্যে গুলশানে হামলা চালানো নব্য জেএমবির বর্তমান আমির আইয়ুব বাচ্চু ওরফে সজীবের স্ত্রী তিথি ও নব্য জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড তালহার স্ত্রী সুমাইয়া এবং ভেড়ামারা উপজেলার ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার আরমানের স্ত্রী টলি আরা। এছাড়া তিথির ৫ মাস বয়সী কন্যা আফিয়া হাসান ও টলির ৬ বছর বয়সী কন্যা নোভাকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিকালে বাড়ির মালিক নাসিমা বেগমকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ জানায়,  শনিবার দুপুর ২ টার দিকে খুলনা থেকে ক্রাইম সিনের ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। বিকাল পৌনে ৫ টার দিকে ঢাকা থেকে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা পৌঁছায়। কয়েক দফায় বাড়িটি রেকি করার পর বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করে। অভিযান চলাকালে সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে,৬ টা ৪৬ মিনিটে, রাত ৮ টা ৩৬ মিনিটে এবং রাত ৮ টা ৫০ মিনিটে চারটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে অভিযান শুরুর আগে ওই জঙ্গি আস্তানার চারপাশে ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। ফলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভেড়ামারা থানার ওসি নূর হোসেন খন্দকার বলেন, যে বাড়ি ঘরে অভিযান তার মালিক মাসুদ নামে এক ব্যাক্তি। তিনি বয়স্ক। দু'মাস আগে তার স্ত্রী নাসিমা মাসিক ১২শ’ টাকায় আরমান-টলি দম্পতিকে বাড়িটি ভাড়া দেন। তারা স্বামী-স্ত্রী থাকার কথা বললেও এতে কোনও পুরুষ সদস্য পাওয়া যায়নি। সিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, ঈদের আগে জঙ্গিরা ভেড়ামারাতে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সংগঠিত হচ্ছে। তখন থেকেই এই এলাকায় আমাদের নজরদারি বাড়ানো হয়। তিনি বলেন, তথ্য নিশ্চিত হয়ে এই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। এখানে নারী জঙ্গিরা সবসময় থাকে। তবে পুরুষরা আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিল। তিনি আরও বলেন, জঙ্গিদের মধ্যে আরমান একজন। এটি তার নকল নাম হবে, ধারণা করছি। সে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। জানা গেছে, মৌলভীবাজারের বড়হাটে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নব্য জেএমবির প্রধান মইনুল ওরফে মুসা নিহত হয়। মুসা নিহত হওয়ার পর আইয়ুব বাচ্চুকে নব্য জেএমবি প্রধান করা হয়েছে। আইয়ুব বাচ্চু ঢাকার একটি ভালো কলেজে লেখাপড়া করতেন। পরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে পড়াশোনা শেষ করার দুবছর আগেই তিনি জঙ্গিবাদে যুক্ত হয়ে ঘর ছাড়েন। পুলিশ জানিয়েছে, আইয়ুব বাচ্চুর বয়স ২৬ থেকে ২৭ বছর। তিনি নব্য জেএমবির তৃতীয় বা চতুর্থ সারির নেতা ছিলেন। মুসা নিহত হলে তিনি দলের হাল ধরেন।

আপিলেও ফের তদন্তের আবেদন খারিজ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অর্থের উৎস নিয়ে পুনঃতদন্ত চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন  চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুদকের পক্ষে খুরশিদ আলম খান এর আগে গত মার্চ মাসে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করেছিল। পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
আপিল বিভাগও আজ খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করেছেন। এতিমদের জন্য দেশের বাইরে থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করে দুদক। ওই মামলার অর্থের উৎস সম্পর্কিত অংশ পুনঃতদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আইনজীবী জাকির হোসেন জানান, মামলার অভিযোগে বলা হয়, এ অর্থ সৌদি আরব থেকে এসেছে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কুয়েতের আমির এ অর্থ দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তার নামে একটি ট্রাস্ট করতে তিনি এ টাকা দেন। এ টাকা খালেদা জিয়া আত্মসাৎ করেননি। তা লাভসহ ব্যাংকে রয়েছে।

অর্ধশতাধিক এমপি মনোনয়ন আতঙ্কে

আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন হারানোর ভয়ে আছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক সংসদ সদস্য। যাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। নানাভাবে চেষ্টা করেও অনেক সংসদ সদস্যকে সংশোধন করা যায়নি। বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকেই এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। মূলত এ ধরনের জনবিচ্ছিন্ন নেতারাই সবচেয়ে আতঙ্কে আছেন। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সবার আমলনামা রয়েছে- এমন ঘোষণার পরপরই এসব এমপি মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এ তালিকায় বিতর্কিত সংসদ সদস্যের পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর নামও আছে বলে জানা গেছে। এলাকায় গিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে জনগণের জন্য কাজ করার নির্দেশ দিলেও গুটিকয়েক এমপি ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছাড়া অন্য কেউ এসব আমলে নেননি। এদের সম্পর্কে সাংগঠনিকভাবে জরিপ চালানো হয়। পাশাপাশি এদের সম্পর্কে বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্টও হাইকমান্ডের হাতে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন- আগামী নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং তার হাতে দলীয় এমপিদের আমলনামা রয়েছে। এমন ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেন তারা। গত রমজানে প্রায় সব এমপি এলাকায় গেছেন। ইফতার পার্টিতে অংশ নিয়েছেন। দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ শুরু করেছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরেও সংসদ সদস্যরা স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় নামাজ আদায় করেছেন। জনবিচ্ছিন্ন এমপি ও মন্ত্রীরা সাড়ম্বরে এলাকায় জনসংযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। নিজের বলয়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলের সব নেতাকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, যাদের জনসম্পৃক্ততা নেই, নিজ আসনের নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যারা সুনাম হারিয়েছেন এমন এমপিরা এবার মনোনয়ন পাবেন না। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই আগামী নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হোক। সে জন্য এখন থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মাঠে কাজ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু যাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই বা যারা জনপ্রিয় নন তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না। কেননা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যেই আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে। আর সে জন্যই যারা ভোটে জিতে আসতে পারবেন এমন ব্যক্তিদেরই মনোনয়ন দেয়া হবে। গত ৭ মে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে দলের এমপিদের আমলনামা তার হাতে থাকার তথ্য জানান দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এবার নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতামূলক। তাই যাদের নির্বাচনে জেতার সামর্থ্য রয়েছে শুধু তারাই দলের মনোনয়ন পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পরপরই পাল্টে যেতে থাকে পরিস্থিতি। দলের শীর্ষ মহল কী ভাবছে, জরিপে কার সম্পর্কে কী তথ্য আসছে জানার জন্য এমপিরা তৎপর হয়ে ওঠেন। আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, সাংগঠনিক এবং জরিপ দু’ভাবেই এমপিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে দলের হাইকমান্ড। এসব প্রতিবেদনে বেশকিছু এমপির দুর্নীতি, তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড, টাকার বিনিময়ে চাকরি দেয়া, এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, দখলবাজি, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত নানা তথ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া এমপিদের কেউ কেউ হত্যা, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির দায়ে জেলে গেছেন, অথবা তাদের স্বজনরা গেছেন। আবার কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করেছে। এমপিদের এলাকায় না যাওয়া এবং জনসম্পৃক্ততা না থাকার অভিযোগ দলের হাইকমান্ডকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। সূত্র জানায়, সমালোচিত ও বিতর্কিতদের তালিকায় এমপিদের পাশাপাশি কয়েকজন মন্ত্রীর নামও আছে। সব মিলিয়ে এ তালিকা বেশ দীর্ঘ। এতে রাজধানী ঢাকার একাধিক এমপির বিরুদ্ধে নিজ বলয়ের বাইরে অন্য নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করা, ঠাকুরগাঁওয়ের এক এমপির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করা ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ আছে। দিনাজপুর থেকে নির্বাচিত এক সংসদ সদস্যের (বর্তমানে মন্ত্রী) নির্বাচনী এলাকায় ন্যূনতম জনপ্রিয়তা নেই। তিনি এলাকার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেন না এমন তথ্যও রয়েছে। ছেলের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এক জেলার মন্ত্রী দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছেন। ছেলে ও জামাইয়ের অপরাধের অভিযোগে অপর এক জেলার মন্ত্রীসহ জনপ্রিয়তা হারানো মন্ত্রীদের নামও এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর থেকে নির্বাচিত ২ এমপি যারা দলের কেন্দ্রীয় নেতা হলেও মূলত ব্যবসায় সময় দেয়ার কারণে দলে ও এলাকায় সময় দেন না বলে জরিপ রিপোর্টগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিতর্কিতদের তালিকায় আছেন ইয়াবা ব্যবসার সম্পৃক্ততার অভিযোগে সমালোচিত কক্সবাজারের এক সংসদ সদস্য, দলীয় নেতা হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান, বনানীর আলোচিত (দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ধর্ষণস্থল) হোটেল রেইনট্রির মালিক ঝালকাঠির এক এমপি। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ছবির ওপর নিজের মুখের ছবি লাগিয়ে প্রচার করে চট্টগ্রামের এক এমপি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং কর্মীদের ওপর নির্যাতন করার অভিযোগে অভিযুক্ত বরগুনার এক এমপি, স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচিত পিরোজপুরের এক এমপি, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক এমপি এরা দলের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি করেছেন। জামায়াত সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত রাজশাহীর এক এমপি, কোনোদিন দল না করে হঠাৎ করেই এমপি বনে যাওয়া সিরাজগঞ্জের এক এমপি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংখ্যালঘু হামলা ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন-কাণ্ডে সমালোচিত এমপিও আছেন এ তালিকায়। নিজ দফতরে সরকারি কর্মকর্তা পেটানো, কর্মকর্তার দরজায় তালা দেয়া এবং এলাকায় দলের কর্মীদের মারধর করেন নেত্রকোনার এক এমপি, নিজ দলের নেতার বাড়িতে দেয়াল দিয়ে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেয়া খুলনার এক এমপি, অস্ত্র মামলায় কারাভোগকারী ফেনীর এক এমপি, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে শাসক দলের প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনে দায়ী এক এমপিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এরাই মূলত মনোনয়ন-ঝুঁকিতে আছেন। বরগুনা-৪-এর সরকারদলীয় এমপি শওকত হাছানুর রহমান রিমনের কাছে এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এলাকাতেই থাকি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি দাবি করে বলেন, এলাকার প্রতিটি মানুষের খোঁজখবর আমি রাখি। আসলে কিছু লোক আমাকে মনোনয়নবঞ্চিত করার জন্য মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে। এ সংক্রান্ত এ প্রশ্নের জবাবে নীলফামারী জেলার আওয়ামী লীগদলীয় এক এমপি যুগান্তরকে বলেন, সব সময়ই তিনি এলাকায় যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠকে দলের সভাপতির বক্তব্যের পর থেকে এখন এলাকাতেই থাকছেন। শুধু সংসদ চললে ঢাকায় আসেন। তিনি বলেন, তার আসনে আরও তিনজন দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। সে কারণে তিনি চেষ্টায় ত্রুটি রাখতে চান না। তিনি বলেন, এবারের ঈদে এলাকার সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর খোঁজখবর নিয়েছেন, জনগণকে সাধ্যমতো সহায়তা করেছেন, রমজানে অনেক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী ও বিশাল দলে মনোনয়ন পাওয়া কঠিন, পাওয়ার পর সেটা ধরে রাখা আরও কঠিন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইমরান সরকারের গণসংযোগে আ’লীগ নেতাদের ঘুম নেই

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে আসছেন- এমন প্রশ্ন এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে। প্রশ্নটা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে যখন ইমরান বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম-৪ নির্বাচনী এলাকায় সফর শুরু করেন। ওই দিন রৌমারী, বড়াইকান্দি, দাঁতভাঙ্গা, সাহেবের আলগা, চরশৌলমারী ও কর্তিমারী এলাকায় সব শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। ঈদে গ্রামের বাড়িতে সস্ত্রীক বেড়াতে এসে ইমরান নির্বাচনী মাঠ জমিয়ে তোলেন। তার গণসংযোগে সাধারণ মানুষ খুশি হলেও ঘুম হারাম হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে আসছেন- এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘না, আপাতত নির্বাচনে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। আর আমি তো কোনো দলের নই। আমি সবার। মানুষের অধিকার নিয়ে আমার কথা বলা। নির্যাতিতদের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ার চেষ্টা করি। তবে হ্যাঁ, রৌমারী ও রাজীবপুর দেশের মধ্যে অবহেলিত এলাকা। উন্নয়ন কার্যক্রমে আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়। আমি সব দলের বিশিষ্টজনকে এক সঙ্গে করে এলাকার উন্নয়নের দাবি জানাব। এ ক্ষেত্রে জাগ্রত কুড়িগ্রাম একটা প্লাটফরম হতে পারে।’ ইমরান এইচ সরকারের নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে সাধারণ মানুষের মতামত জানার চেষ্টা করা হয়। রাজীবপুর বটতলার শহীদুর রহমান নামের এক ভ্যানগাড়িচালক বলেন, ‘তিনি নির্বাচনে এলে আমাদের জন্যই তো ভালো। তিনি এমপি হলে মন্ত্রী হয়ে যাবেন। এর ফলে আমাদের অবহেলিত এলাকার অনেক উন্নয়ন ঘটবে। ইমরান এইচ সরকার নির্বাচন করলে আমরা সাধারণ ভোটাররা তাকেই ভোট দেব।’ শাহালম মিয়া নামের এক সিএনজিচালক বলেন, ‘ইমরান নির্বাচন করলে এক চান্সে পার হয়ে যাবে। তাকে ভোট দিয়ে আরও এগিয়ে নেয়া তো আমাদের দায়িত্ব।’ রৌমারীর চরশৌলমারী বাজারের আবদুর রহিম নামের এক চা দোকানি বলেন, ‘ইমরান আমগর বাজারে আইছিল। ছোটবড় সবার সঙ্গে কথা বলেছে। আমার মনে হয় শেখ হাসিনা তাকেই মনোনয়ন দেবেন, পারও হবে বিপুল ভোটে। আমগর এরহম একটা নেতাই দরকার। যে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সংসদে কথা বলতে পারবে।’ আজিবর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ইমরান যদি নির্বাচন করে তাহলে আমরা তাকেই ভোট দেব।’ তবে এলাকার সাধারণ ভোটাররা ইমরান নির্বাচনে আসুক সেটাই চায়। সরেজমিন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে ওইসব তথ্য জানা গেছে। সাধারণ ভোটাররা ইমরান এইচ সরকারকে চাইলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে সিংহভাগই তা চান না। এ প্রসঙ্গে রাজীবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, ‘ইমরান এইচ সরকার তো সব সময়ই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা কয়। প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে। সে আওয়ামী লীগের কেউ নয়। তাই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়ার প্রশ্নই আসে না। মনোনয়ন পেলেও রাজীবপুর আওয়ামী লীগ তার পক্ষে মাঠে নামবে না।’ একই ধরনের কথা বলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হাই সরকারও। অপরদিকে রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক এমপি জাকির হোসেন বলেন, ‘ইমরান আওয়ামী লীগ করে না। তার চলাফেরা বাম দলের নেতাদের সঙ্গে। উপজেলা বা জেলা আওয়ামী লীগের কোনো সদস্যও না তিনি। তারপরও আওয়ামী লীগ যদি তাকে মনোনয়ন দেয় আমাদের তা মেনে নিতে হবে।’