Saturday, May 25, 2013

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তেসমঝোতা

বাণিজ্যিক অংশীদারি বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে গতকাল শনিবার মিয়ানমারে গিয়েছেন। সেখানে তাঁর উপস্থিতিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মিয়ানমারে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। ১৯৭৭ সালের পর জাপানের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম মিয়ানমার সফর। শিনজো আবের সঙ্গে জাপানের ব্যবসায়ীদের একটি বড় প্রতিনিধিদলও রয়েছে। সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত প্রকল্পের আওতায় রাজধানী ইয়াঙ্গুনের কাছে থিলাওয়া এলাকায় দুই হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ওপর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি বন্দর ও শিল্পপার্ক থাকছে। আগামী আগস্টে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা। মিয়ানমারের জাতীয় পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সেত ওয়াং গতকাল এএফপিকে বলেন, ‘থিলাওয়া প্রকল্প দুই দেশের সরকার ও বেসরকারি খাতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিফলক।’ ২০১১ সালে মিয়ানমারে জান্তা সরকারের অবসানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির ওপর থেকে পশ্চিমা সম্প্রদায় অবরোধ তুলে নেওয়া শুরু করে। এর পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর নেতারা মিয়ানমার সফর করেন। দীর্ঘদিন পাশ্চাত্য থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা প্রাকৃতিক সম্পদে পূর্ণ মিয়ানমারে বিনিয়োগ করতে ধনী দেশগুলোর মধ্যে অঘোষিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র বলেছে, শিনজো আবে মিয়ানমারে দেশজুড়ে বৈদ্যুতিক গ্রিড স্থাপনের জন্য প্রায় ১০০ কোটি ডলারের একটি উন্নয়ন সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন। সফরকালে তাঁর গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করারও কথা।

মালি থেকে বড় পরিসরে ফরাসি সেনা প্রত্যাহারশুরু

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি থেকে বড় পরিসরে সেনা প্রত্যাহারের প্রথম ধাপ শুরু করছে ফ্রান্স। সাবেক এই উপনিবেশের উত্তরাঞ্চল থেকে জঙ্গি ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করতে ফ্রান্স সেখানে চার মাস আগে সেনা পাঠায়। মালির রাজধানী বামাকোর কাছের একটি ফরাসি সেনাঘাঁটি থেকে ৮০টি ট্রাকের একটি সেনাবহর গতকাল স্থানীয় সময় ভোরেই আইভরি কোস্টের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা। গত এপ্রিল মাসে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে ফ্রান্স। দেশটি তাদের মোতায়েন করা প্রায় ৪,০০০ সেনার সবাইকে প্রত্যাহার করে মালির সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের কাছে কর্তৃত্ব হস্তান্তর করতে চাইছে। ফ্রান্স এমন একসময় এ উদ্যোগ নিল যার মাত্র দুই দিন আগে প্রতিবেশী নাইজারে একটি সেনাছাউনি ও ফ্রান্সের পরিচালিত ইউরেনিয়ামের খনিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। ইসলামপন্থী বিদ্রোহীরা ২০১২ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর মালির দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকার ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনীর অক্ষমতার সুযোগ নিয়েছিল। তারা  কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নেয় এবং সেখানে শরিয়া আইন চালু করে। তবে ফ্রান্স ও মালির সেনাদের যৌথ হামলা শুরুর কয়েক সপ্তাহের মাথায় শহর এলাকাগুলো ছেড়ে পাহাড়ি ও মরুভূমি এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্যহয়। সাংবাদিকরা বলেছেন, মালিতে ফরাসি বাহিনীর হস্তক্ষেপে অধিকাংশ স্থানীয় মানুষের সমর্থন রয়েছে। সেনা প্রত্যাহার করা শুরু হওয়ায় তাঁরা শঙ্কিত।

প্রামাণ্যচিত্রের প্রতিলিপি ফাঁস করল উইকিলিকস

উইকিলিকস তাদের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি প্রামাণ্য-চিত্রের প্রতিলিপি প্রকাশ করে দিয়েছে। চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার গতকাল শুক্রবারই হওয়ার কথা ছিল। উইকিলিকস বলেছে, উই স্টিল সিক্রেটস: দ্য স্টোরি অব উইকিলিকস নামের ওই প্রামাণ্যচিত্রটি তৈরির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এতে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতা মার্কিন সেনা ব্র্যাডলি ম্যানিংয়ের চরিত্রকে ‘মোটের ওপর দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটির মূল চরিত্র অ্যাসাঞ্জ ও ম্যানিং। ম্যানিং সেনাবাহিনী এবং দূতাবাসের হাজার হাজার গোপন নথিপত্র ফাঁস করার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। উইকিলিকস ওয়েবসাইটে ওই প্রামাণ্যচিত্রের ‘পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি’ তুলে দিয়েছে। পাশাপাশি পাদটীকায় প্রামাণ্যচিত্রটির বিভিন্ন ‘তথ্যবিভ্রাট’ ও ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সাহস দেখাতে গিয়ে...

জেনে-বুঝেই ‘শান্তশিষ্ট মিষ্টি’ প্রাণী পান্ডার খাঁচায় ঢুকেছিলেন তিনি। সেই প্রাণীর আক্রমণে কুপোকাত হবেন ভাবতে পারেননি। এ অভিজ্ঞতা ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভ্যালেরি জিসকার্দেস্তার (৮৭)। তাঁর এই পান্ডা-কাহিনি বলার একটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, জিসকার্দেস্তা ফ্রান্সের উত্তর-মধ্য অঞ্চল লোয়া-এ-শেখের রাজধানী ব্লোয়ায় এক সম্মেলনে বলছেন, একবার তিনি প্যারিসের ভাসেন চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর মেয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কাজ নিয়েছিল। তো, চিড়িয়াখানায় গিয়ে তাঁর ‘প্রেসিডেন্টের সাহস’ দেখানোর ইচ্ছে জাগে। তাই একপর্যায়ে পান্ডার খাঁচায় ঢুকে পড়েন। অকস্মাৎ একটি পান্ডা তাঁর ওপর লাফিয়ে পড়ে। চিড়িয়াখানার লোকজন দৌড়ে গিয়ে উদ্ধার করেন প্রেসিডেন্টকে। যুক্তরাজ্যের এডিনবরা চিড়িয়াখানার জায়ান্ট পান্ডা বিশেষজ্ঞ ইয়ান ভ্যালেন্টাইন এ প্রসঙ্গে বলেন, পান্ডা নিরামিষাশী হলেও অনেক শক্তিশালী হয়ে থাকে। সুন্দর দেখতে প্রাণীটি প্রকৃতিগতভাবে আক্রমণাত্মক স্বভাবের না হলেও কখনো কখনো সে রকম হয়ে উঠতে পারে। ভ্যালেরি জিসকার্দেস্তা ১৯৭৪ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে সেতু ভেঙে গাড়ি নদীতে

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বিশাল আকারের একটি ট্রাকের ধাক্কায় একটি সড়কসেতুর অংশ নদীতে ভেঙে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতের এ দুর্ঘটনায় যাত্রীসহ কয়েকটি গাড়ি স্কাগিট নদীতে পড়ে যায়। তবে কেউ নিহত বা গুরুতর আহত হয়নি। সেতুটির অবস্থান অঙ্গরাজ্যের প্রধান শহর সিয়াটল ও কানাডার ভ্যাঙ্কুভার নগরের মধ্যকার প্রধান সড়কপথে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর নদী থেকে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। অঙ্গরাজ্যের প্রধান পেট্রোল কর্মকর্তা জন বাতিস্তে সাংবাদিকদের বলেন, অজ্ঞাত কোনো কারণে ট্রাকটি সেতুর ওপরের অংশে আঘাত করে। এতে ওই অংশটি ধসে পড়ে। তবে ট্রাকটি সেতু পার হতে সক্ষম হয়। চালক অন্য পাড়ে গিয়ে পুলিশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কাঠামোগত ত্রুটি না থাকলেও সেতুটি সংকীর্ণ পার্শ্ব রাস্তা এবং কম উচ্চতার জন্য কার্যকারিতার দিক থেকে সেকেলে হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।

‘সেনা হত্যাকাণ্ড ঠেকানো খুব কঠিন হতো’

যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, সন্ত্রাসীর হাতে সেনাসদস্যের হত্যাকাণ্ড ঠেকানোটা খুব কঠিন হতো। কথিত গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে তিনি এ কথা বললেন। এমআই-সিক্সের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী শাখার সাবেক প্রধান রিচার্ড ব্যারেট বলেন, এই হামলা প্রতিরোধে তেমন কিছুই করা যেত না। কারণ যে হামলা সহজেই ঘটানো যায়, তা ঠেকানো কঠিন। নিহত সেনাসদস্যের নাম প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁর নাম ড্রামার লি রিগবি। তিনি ফিউজিলিয়ার্স রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। এদিকে আরেক ঘটনায় ‘হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগে একজন নারী ও একজন পুরুষকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের উলউইচে রয়্যাল আর্টিলারি ব্যারাকের কাছে গত বুধবার রিগবিকে কুপিয়ে হত্যা করে দুই সন্দেহভাজন মুসলিম হামলাকারী। তাঁরা হলেন মাইকেল আদেবোলাজো (২৮) ও মাইকেল আদেবয়েল (২২)। আদেবোলাজো নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত এবং নিবেদিতপ্রাণ এক খ্রিষ্টান পরিবারের হলেও কলেজ শেষ করার পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এদিকে যুক্তরাজ্যের ধর্ম ও সম্প্রদায়বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারোনেস সৈয়দা ওয়ারসি ‘উসকানিদাতা ধর্মপ্রচারকদের’ বক্তব্য প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এসব ধর্ম প্রচারককে ‘নির্বোধ’ ও ‘খ্যাপা’ আখ্যায়িত করেন। ওয়ারসি বলেন, এসব লোকের বক্তব্য প্রচার করা দায়িত্বহীনতার শামিল।

‘সেনা হত্যাকাণ্ড ঠেকানো খুব কঠিন হতো’

যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, সন্ত্রাসীর হাতে সেনাসদস্যের হত্যাকাণ্ড ঠেকানোটা খুব কঠিন হতো। কথিত গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে তিনি এ কথা বললেন। এমআই-সিক্সের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী শাখার সাবেক প্রধান রিচার্ড ব্যারেট বলেন, এই হামলা প্রতিরোধে তেমন কিছুই করা যেত না। কারণ যে হামলা সহজেই ঘটানো যায়, তা ঠেকানো কঠিন। নিহত সেনাসদস্যের নাম প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁর নাম ড্রামার লি রিগবি। তিনি ফিউজিলিয়ার্স রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। এদিকে আরেক ঘটনায় ‘হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগে একজন নারী ও একজন পুরুষকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের উলউইচে রয়্যাল আর্টিলারি ব্যারাকের কাছে গত বুধবার রিগবিকে কুপিয়ে হত্যা করে দুই সন্দেহভাজন মুসলিম হামলাকারী। তাঁরা হলেন মাইকেল আদেবোলাজো (২৮) ও মাইকেল আদেবয়েল (২২)। আদেবোলাজো নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত এবং নিবেদিতপ্রাণ এক খ্রিষ্টান পরিবারের হলেও কলেজ শেষ করার পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এদিকে যুক্তরাজ্যের ধর্ম ও সম্প্রদায়বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারোনেস সৈয়দা ওয়ারসি ‘উসকানিদাতা ধর্মপ্রচারকদের’ বক্তব্য প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এসব ধর্ম প্রচারককে ‘নির্বোধ’ ও ‘খ্যাপা’ আখ্যায়িত করেন। ওয়ারসি বলেন, এসব লোকের বক্তব্য প্রচার করা দায়িত্বহীনতার শামিল।

রাশিয়ার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ

রাশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ভিকনটাকটে (ভিকে) গতকাল শুক্রবার অল্প সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার বন্ধ করে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেছে, কর্মীদের ‘ভুলের’ কারণে এটি দেশটির কিছু অংশে বন্ধ ছিল। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধীদের বিক্ষোভ সংগঠনে সাইটটির কিছু ফোরাম ব্যবহূত হওয়ায় এটি আগে থেকেই চাপে ছিল। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, ভুল নয়, ইচ্ছাকৃতভাবেই এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। রাশিয়া ও ইউরোপজুড়ে জনপ্রিয় এবং ২১ কোটি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিকনটাকটে। এর প্রতিষ্ঠাতা রাশিয়ার জাকারবার্গ নামে পরিচিত পাভেল দুরভ (২৮) কিছুদিন ধরে সরকারের চাপের মুখে ছিলেন। রুশ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ২০১১ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ব্যবহার করা যোগাযোগ মাধ্যমটির একটি অংশ (ফোরাম) বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তিনি রাজি হননি। গত মাসে গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক আইন ভঙ্গ ও পুলিশকে আহত করার অভিযোগ ওঠে দুরভের বিরুদ্ধে। তিনি ওই অভিযোগ অস্বীকার করলেও আইনি লড়াইয়ের বদলে দেশ ছেড়ে চলে যান। প্রেসিডেন্ট পুতিন ক্ষমতা সংহত করার লক্ষ্যে প্রায়ই ভিন্নমত দমন বা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছেন। মস্কোর বাইরে কিছু স্থানে ভিকের ওয়েবসাইট গতকাল কাজ করছিল না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি বন্ধের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিকের মুখপাত্র গিওর্গি রবুশকিন জানিয়েছেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এটি বন্ধের ব্যাপারে কোনো নির্দেশ দেয়নি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাজেট অসাংবিধানিক

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ১৫ হাজার ২০০ কোটি রুপির ‘মিনি-বাজেট’ পেশের বিরুদ্ধে জোরালো আপত্তি তুলেছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। দলটি অভিযোগ করেছে, বাজেট প্রণয়নের অধ্যাদেশ জারি করে এই সরকার অসাংবিধানিক ও এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ করছে। কেননা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করাই তাদের একমাত্র কাজ। পিপিপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক কামার জামান কায়রা গত বৃহস্পতিবার ডন পত্রিকাকে বলেন, সংবিধানমতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোনোভাবেই মিনি-বাজেট পেশ করতে পারে না। কেবলমাত্র জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্ট রাজস্ব নির্ধারণ করতে পারে। আর শুধু প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষেই বিক্রয় কর আদায় করা যায়। এই বাজেট অধ্যাদেশে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি সই করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কায়রা বলেন, আইনত প্রেসিডেন্ট এতে সই করতে বাধ্য। তবে এর সব দায়দায়িত্ব তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নিতে হবে। পিপিপির নেতা কায়রা বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা এবং নতুন সরকারের হাতে মসৃণভাবে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াই হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাজ। যেখানে কয়েক দিনের মধ্যে নতুন একটি সরকার ক্ষমতা নিতে যাচ্ছে, সেখানে তাড়াহুড়ো করে এই সরকারের মিনি-বাজেট পেশ করার বিষয়টি বোধগম্য নয়। এটি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। এদিকে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সে দেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মির হাজার খান খোসোকে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ-বদলি এবং দায়িত্বে রদবদল-সংক্রান্ত আদালত অবমাননার নোটিশের জবাব দিতে ৬ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।

গাড়ি, স্কুল, দোকানপাট থানায় আগুন

সুইডেনের স্টকহোমের অভিবাসী-অধ্যুষিত শহরতলিতে দাঙ্গা অব্যাহত রয়েছে। পঞ্চম দিনের দাঙ্গায় গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ৩০টি গাড়ি, একাধিক স্কুল, দোকানপাট ও একটি থানায় আগুন দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। শান্তি ও সাম্যের দেশ হিসেবে সুইডেনের বিশেষ খ্যাতি থাকলেও চলমান দাঙ্গার কারণে দেশটির ভাবমূর্তি হুমকির মুখে পড়েছে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা অভিবাসীদের বঞ্চনার বোধ এ দাঙ্গার জন্য অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। দাঙ্গার কেন্দ্রস্থল হচ্ছে রাজধানীর উপকণ্ঠের হাসবি এলাকা। চলতি মাসের শুরুর দিকে সেখানে ৬৯ বছরের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এ ঘটনার জের ধরেই ওই দাঙ্গার সূত্রপাত। পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, বৃহস্পতিবার রাতে দাঙ্গার সময় আটজনকে আটক করা হয়। তিনি আরও বলেন, আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্ট ও সুইডেনের রাজসিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস মেডেলেইনের বিবাহ অনুষ্ঠান সামনে রেখে দাঙ্গা-উপদ্রুত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। পর্যবেক্ষকেরা এই দাঙ্গাকে উন্নত দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ ধনী মানুষ ও দরিদ্র, বিশেষ করে অভিবাসীদের মধ্যে চরম বৈষম্যের একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করছেন। তরুণ অভিবাসীদের বেকারত্ব, শিক্ষার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে তাঁদের মধ্যে বঞ্চনার বোধ জন্ম নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট ওইসিডির হিসাবে ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সুইডেনে ধনী ও গরিবের ফারাক দ্রুত বাড়ছে।

ড্রোন হামলা স্রেফ আত্মরক্ষার যুদ্ধ

পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গিদের ওপর চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হামলাকে ‘স্রেফ আত্মরক্ষার’ যুদ্ধ বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান ও ড্রোন কর্মসূচি বিষয়ে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ভাষণে ওবামা এসব কথা বলেন। এ সময় ড্রোন হামলার প্রয়োজনীয়তা, আইনি বৈধতাসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের ক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার ‘আইনসিদ্ধ, কার্যকর ও প্রয়োজনীয়’ অস্ত্র। তিনি অবশ্য স্বীকার করেন, লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে এভাবে হামলা চালানোর মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হবে না। এসব হামলার ঘটনায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার ঘটনা তাঁকে নাড়া দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন ওবামা। পর্যবেক্ষকদের মতে, ওবামার ভাষণে একটা বিষয় স্পষ্ট যে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ১২ বছর পর ড্রোন হামলার মতো এই যুদ্ধের সবচেয়ে বিতর্কিত কিছু কিছু অনুষঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নীতিনির্ধারণী এই ভাষণে ওবামা গুয়ানতানামো বে কারাগার নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে গুয়ানতানামো বে কারাগার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আইনের শাসনকে তাচ্ছিল্য করার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।’ ওবামা ঘোষণা দেন, গুয়ানতানামো বে-তে বন্দী সন্দেহভাজনদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। ইয়েমেন একে স্বাগত জানিয়েছে। গুয়ানতানামো কারাগার বন্ধ করতে গিয়ে কংগ্রেসে বিরোধীদের পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন ওবামা। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন গোড়া থেকেই মার্কিন ড্রোন হামলার সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। এর পরও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওবামার এ ভাষণের দিন কিছু সময় আগে অ্যাটর্নি জেনারেল প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেন, এখন পর্যন্ত ইয়েমেন ও পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ বিষয় নিয়েও কথা বলেন ওবামা। এই হত্যাকাণ্ডের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি, যাদের এখনই না থামালে তারা আরও অনেক মার্কিন নাগরিককে হত্যা করবে।’

রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চলমান থাকবে?

‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমা’র যে ঐতিহ্য সৃষ্টি হয়েছে, তার সুফল নিতে তৎপর খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আরও চার আসামি। পূর্বতন রাষ্ট্রপতিরা যে মন্দ নজির সৃষ্টি করেছিলেন, সেটা এখন ‘নিয়মে’ পরিণত হতে বসেছে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমার চার প্রার্থীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের খোঁজ নিলেই ‘ক্ষমা’ প্রত্যাশা ও ক্ষমা দান-প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক চরিত্রটি স্পষ্ট হয়। খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ইয়াসিন চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী কেডিএস গ্রুপের মালিক খলিলুর রহমানের ছেলে। আরেক প্রার্থী আবদুল জব্বার লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র সন্ত্রাসীদের ‘গডফাদার’ তাহেরের পালক ছেলে। অন্য দুজন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়ার দূরসম্পর্কের আত্মীয় কালা মৃধা ও জাকির মৃধা। শেষোক্ত দুজনের জন্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রী খোলাখুলি সুপারিশও করেছেন। রক্ষকই এখানে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ।
দলীয় লোকদের দিয়ে কমিটি করে তথাকথিত ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার’ এবং রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতাবলে খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া একই সুতায় গাঁথা। এটা হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে আইনের স্বেচ্ছাচারী ব্যবহার। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করবেন। তাই সঠিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বাছবিচারহীন ব্যবহারের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর সায় না থেকে পারে না। রাষ্ট্রপতির নামে বিতরিত‘ক্ষমা’র সিদ্ধান্তের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তায়।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমার সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ছিল লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তাহেরের ছেলে বিপ্লবকে ক্ষমা করে দেওয়া। এ ছাড়া ২০১০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ক্ষমাপ্রাপ্ত ২০ আসামিরও সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের ক্ষমার প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৯৩ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের হাত দিয়ে। সে সময় রাষ্ট্রপতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির নেতা সারওয়ার কামালকে ক্ষমা করেন। ২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটও হয়েছিল। সেই রিটের জবাবে আদালত বলেছিলেন যে অন্যায্য ও অন্যায়ভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হলে উচ্চ আদালত হতাশ হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না; কোনো সাংবিধানিক পদাধিকারী তাঁর ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করেছেন কি না, সেটা পরীক্ষা করার এখতিয়ার উচ্চ আদালতের আছে।
আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, উচ্চ আদালতের এই অভিমতের পরও ৪৯ অনুচ্ছেদের অপব্যবহার বন্ধ হয়নি। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক অশুভ আঁতাত রয়েছে, যখন যারা ক্ষমতায় থাকে তারাই এর অপব্যবহার করে। আর বিরোধী দলে থাকলে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমার ব্যাপারে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালদের নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন এবং সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে আইন করেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমার অপব্যবহার রহিত করতে হবে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। আমরা আশা করব, তিনি ক্ষমার যথেচ্ছ ব্যবহার থেকে বেরিয়ে এসে পদ ও আইন উভয়ের প্রতিই সুবিচার করবেন।

স্ববিরোধী হরতাল

আগামীকাল রোববার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট হঠকারী মনের পরিচয় দিল। সরকারের খামখেয়ালির বিপরীতে বিরোধী জোটের নেতৃবৃন্দও যদি গঠনমূলকভাবে চিন্তা করার সামর্থ্য হারান, তাহলে দেশের ক্ষতি ও জনসাধারণের দুর্ভোগ বাড়বে বৈ কমবে না।
আগামীকালের হরতালের প্রধান কারণ সভা-সমাবেশের ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানানো। অবশ্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি, বিরোধী দলের আটক নেতাদের মুক্তির দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। শেষের দাবি দুটো পুরোনো—এ দুই দাবিতে ইতিপূর্বে অনেক হরতাল হয়েছে। তাই ধরে নেওয়া যায়, কালকের হরতালের মুখ্য ইস্যু সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এ তো বড়ই অদ্ভুত কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৌখিকভাবে ঢাকায় আগামী এক মাস সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন ১৯ মে। বিরোধী দল সে সময় হরতাল ডাকেনি। পাঁচ দিন পর ২৪ মে হঠাৎ তাদের কী মনে হলো যে পরদিন হরতাল ডেকে বসল? এ প্রশ্ন তোলার মানে এটা নয় যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই ঘোষণার দিনই বিরোধী দল হরতাল ডেকে দিলে যথার্থ হতো; বরং আমাদের প্রশ্ন, দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে আলোচনা-সংলাপের যে আশাব্যঞ্জক আভাস-ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে, সেটাকে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে না নিয়ে হুট করে বিরোধী জোট হরতাল ডেকে বসল কী উদ্দেশ্যে? বুধবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের প্রতি সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে এক দিন পরেই হরতালের ডাক দেওয়ার মানে কী?
আগামী নির্বাচনের সময়কার সরকারপদ্ধতি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধজনিত সংকট উত্তরণের পথে এক পা এগিয়ে দুই পা পেছানোর এই কৌশল কেবল বিরোধী দল নয়, সরকারের তরফেও লক্ষ করা যাচ্ছে। তার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত সংলাপের পক্ষে আগ্রহ ব্যক্ত করার পাশাপাশি হঠাৎ করে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিরোধী জোটকে কোণঠাসা করার প্রচেষ্টা। সরকার সব রকমের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি শিকেয় তুলে রেখে বিরোধী জোটকে পর্যুদস্ত করার যে কৌশল নিয়েছে, তা যে পুরো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই পর্যুদস্ত করতে পারে, এই বিপদ সরকার দেখতে পাচ্ছে না।
সরকারের অবিমৃশ্যকারিতা ও খামখেয়ালির মুখে বিরোধী জোটের দিশা হারালে চলে না। জনগণের পক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিকর রাজনৈতিক কর্মসূচি হচ্ছে হরতাল। ভীষণ অজনপ্রিয় এই কর্মসূচি স্থায়ীভাবে পরিহার করে প্রতিবাদের অন্যান্য পন্থা বের করতে হবে। আগামীকালের হরতাল প্রত্যাহার করা হোক।

সবাইকে বলতে দিন, লিখতে দিন by আসিফ নজরুল

২১ মে বাম মোর্চার সমাবেশটি ছিল গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য। বাম মোর্চা ক্ষমতার রাজনীতি করে না, তাদের সকল কর্মসূচি প্রগতিশীলতার পক্ষে বা মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার্থে। বাম মোর্চা নাশকতা করেছে কখনো এই অভিযোগও শোনা যায়নি। কিন্তু তবু তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার বলছে আইনশৃঙ্ঘলা রক্ষার স্বার্থে কোনো সভা-সমাবেশের অনুমতি তারা দিচ্ছে না আগামী এক মাস। কিন্তু বাম মোর্চাসহ আরও কিছু সংগঠনকে গত কয়েক দিনে এমন কর্মসূচিও পালন করতে দেওয়া হয়নি (এমনকি বিএনপিকে একটি দোয়া মাহফিল করতে দেওয়া হয়নি), যার মধ্যে সহিংসতার কোনো আশঙ্কা ছিল না।
কোন আইন বা ক্ষমতাবলে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, সরকার তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। অজুহাত হিসেবে ঢালাওভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়। সড়ক দুর্ঘটনা হতে পারে, এই আশঙ্কায় আমরা সড়কপথে চলাচল বন্ধ করতে পারি না। পুলিশ ব্যর্থ হচ্ছে, এই অজুহাতে পুলিশ বাহিনীকে আমরা নিষিদ্ধ করতে পারি না। ঠিক তেমনি আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট হতে পারে, এই যুক্তিতে সভা-সমাবেশের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞাও আমরা মেনে নিতে পারি না। এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞার মানে হচ্ছে, আগামী এক মাসে ভারতের সঙ্গে রামপাল চুক্তি, আমেরিকার সঙ্গে টিকফা চুক্তি, রানা প্লাজার ভয়াবহ দুর্ঘটনা, হেফাজতের সমাবেশে পুলিশি অভিযানসহ এমন বহু বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ-সমাবেশ করা যাবে না, যা এখনই করাটা জরুরি হয়তো।    
সভা-সমাবেশের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কোনো বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপও নয়। আমরা সরকারকে একই সঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহে আরও বহু পদক্ষেপ নিতে দেখেছি, যা একটি কর্তৃত্ববাদী ও অসহিষ্ণু শাসকগোষ্ঠীর পরিচায়ক। সরকার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ছাড়া দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। অবৈধভাবে আমার দেশ পত্রিকার ছাপাখানা তালাবদ্ধ রেখে কার্যত পত্রিকাটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর সম্পাদককে প্রায় এক মাস ধরে বিনা বিচারে আটক রাখা হয়েছে, রিমান্ডে তাঁকে নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী দলের নেতাদের ওপর চলছে অব্যাহত দমন ও নির্যাতন। আদালতের জামিনে মুক্তি পেয়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা রীতিমতো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অতি সম্প্রতি সরকার ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও নানাভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে, সরকার যেন সবার মুখ বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠছে। কোনো সরকার গণবিরোধী হয়ে উঠলে বা এ ধরনের কোনো চিন্তা থাকলে জনগণের প্রতিবাদ করার অধিকারকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। এই ভীতি থেকে তাদের মুখ নানাভাবে বন্ধ করার অপচেষ্টা চলে। বর্তমানে বিভিন্ন ঘটনায় আমরা যেন তা-ই লক্ষ করছি
দুই
আমাদের সংবিধান অনুসারে, সভা-সমাবেশ, বাক্স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—এসব অধিকারকে সীমিত করা যায় কেবল সুনির্দিষ্ট আইনে। এসব অধিকারকে সীমিত করতে হলে সেই সীমিতকরণ যুক্তিসংগত হতে হবে, তা আইনের বিধান অনুসারে করতে হবে, সেই আইনটি সংবিধানে বর্ণিত সুনির্দিষ্ট কারণে (যেমন জনস্বার্থ, জনস্বাস্থ্য, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি) প্রণীত হতে হবে। সভা-সমাবেশ বন্ধ করার জন্য আমাদের সংবিধানে জরুরি অবস্থা জারির বিধান আছে, ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশনসহ নানা আইনেও এমন কিছু বিধান রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে প্রণীত এসব আইন ঔপনিবেশিক শাসকদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রণীত বলে বাংলাদেশে কখনো এসবের প্রয়োগকে ভালো চোখে দেখা হয়নি। সরকার সভা-সমাবেশ বন্ধ করতে গিয়ে এমনকি এসব আইনের আশ্রয় পর্যন্ত নেয়নি। সভা-সমাবেশ বন্ধ করা হয়েছে আরও অগণতান্ত্রিকভাবে অর্থাৎ ব্যক্তিবিশেষের (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর) মৌখিক নির্দেশে।
দুটো টিভি চ্যানেল এবং একটি পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ রাখার ক্ষেত্রেও আমরা এ ধরনের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে দেখি। আমাদের তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি বন্ধ করা হয়েছে ৫ মে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব ও ধ্বংসযজ্ঞ চলাকালে তা উসকানিমূলকভাবে সম্প্রচার করার জন্য। তিনি জানিয়েছেন, টিভি দুটির প্রতি প্রদত্ত কারণ দর্শাও নোটিশের উত্তর সন্তোষজনক হলে তারা আবার সম্প্রচারে যেতে পারবে। তাঁর এই বক্তব্য অস্বচ্ছ ও স্ববিরোধিতাপূর্ণ। প্রশ্ন আসে, কোনো সম্প্রচার উসকানিমূলক কি না, তা পরীক্ষা করার কী মানদণ্ড ও প্রক্রিয়া মন্ত্রণালয়ের রয়েছে? মন্ত্রণালয়ের কারা, কোন আইনসম্মত কর্তৃত্বে সম্প্রচার উসকানিমূলক বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? কারণ দর্শাও নোটিশের উত্তর সন্তোষজনক হলে টিভি দুটো আবার সম্প্রচারে যেতে পারবে বলা হচ্ছে। কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনাই যদি থাকে, তাহলে উত্তর পাওয়ার আগে বা টিভি দুটির কোনো বক্তব্য না শুনেই সম্প্রচার কেন বন্ধ করা হলো?
বর্তমান সরকার আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনাও বন্ধ করেছে স্বেচ্ছাচারমূলকভাবে। সার্চ ওয়ারেন্টের নামে ছাপাখানায় অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা দেওয়া এবং অন্য ছাপাখানা থেকে আমার দেশ বের করতে হলে সরকারের পূর্ব-অনুমতি লাগবে বলে যে কথা বলা হচ্ছে, তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। মাহমুদুর রহমানকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তারও যে কতটা অগ্রহণযোগ্য ও অযৌক্তিক, তার প্রামাণ্য বিবরণ আমরা মিজানুর রহমান খানের একটি লেখায় (প্রথম আলো, ৫ মে) আগে দেখেছি। এ নিয়ে আর বিশদ আলোচনার প্রয়োজন নেই। আমি শুধু বলব, যাঁরা মাহমুদুর রহমান ও আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে সরকারের খড়্গহস্তকে সমর্থন করছেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত যে দেশব্যাপী সংঘাতের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির অনেক আগেই সরকার আমার দেশ ও তার সম্পাদকের বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা নিয়েছিল শুধু সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হওয়ার কারণেই।
মাহমুদুর রহমান সর্বশেষ গ্রেপ্তার হয়েছেন স্কাইপ কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলায়। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়নি। ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিচার যাঁরা চাইছেন, তাঁদের উচিত হবে শুধু ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে এটি না চাওয়া। মাহমুদুর রহমানের বিচার অবশ্যই চাওয়া যেতে পারে, কিন্তু সে ক্ষেত্রে আরও প্রত্যক্ষ অপরাধীদের (যাঁরা নিজেরা ব্লগে চরম ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক লেখা লিখেছেন) বিচারও একই সঙ্গে চাওয়া উচিত হবে। তা না হলে সংবাদপত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণকারী সরকারের প্রতি এটি তাঁদের অন্ধ সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন সমর্থন সরকারগুলোকে আরও কর্তৃত্ববাদী হতে উৎসাহিত করবে।  
তিন
মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তাকে রক্ষা করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় সবচেয়ে বড় অবদানও রেখেছে এই অধিকারের প্রয়োগ। স্যামুয়েল হান্টিংটন আধুনিক গণতন্ত্রের তিনটি স্রোত বা উন্মেষকালকে চিহ্নিত করেছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম উন্মেষকালে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল সর্বজনীন ভোটাধিকারের, পরের দুটো পর্বে বড় ভূমিকা ছিল মানুষের স্বাধীনতাবোধের। বিশেষ করে সত্তর দশক থেকে সূচিত তৃতীয় পর্বে এশিয়া, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকায় বহু গণতন্ত্রের জন্ম হয়েছিল মানুষের বাক্স্বাধীনতার নির্ভীক প্রয়োগ থেকে। এক/এগারোর পর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডামাডোলে এই স্বাধীনতাকে নানাভাবে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালের আরব বসন্তের প্রতি পশ্চিমাদের সমর্থনের পর বাক্স্বাধীনতা তথা ভিন্নমতের স্বাধীনতার গুরুত্ব সারা পৃথিবীতে নতুনভাবে স্বীকৃত হচ্ছে।
গত এক দশকের একডেমিক ডিসকোর্সে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় যে তিনটি অধিকারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তা হচ্ছে বাক্স্বাধীনতা এবং সংগঠন ও সমাবেশ করার স্বাধীনতা। এই তিনটি স্বাধীনতা ছাড়া মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার (রাইট টু প্রটেস্ট) প্রয়োগ অসম্ভব হয়ে ওঠে। প্রতিবাদ করার অধিকার না থাকলে নির্বাচিত শাসকের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা অনিবার্য হয়ে ওঠে।
ইউরোপ বা আমেরিকায় জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন: পার্লামেন্টারি কমিটি, উচ্চ আদালত ও বিভিন্ন সাংবিধানিক ও আইনগত কমিশন) স্বাধীনভাবে কাজ করে থাকে বলে সেখানে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবাদ করার অধিকার সব সময় প্রয়োগ করতে হয় না। কিন্তু বাংলাদেশের মতো নামেমাত্র গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে এসব প্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করে। ফলে এসব দেশে নাগরিক সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর জন্য প্রতিবাদ করার অধিকারের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের পক্ষ থেকে এই অধিকার সংকোচন করার পরিকল্পিত (সিস্টেম্যাটিক) চেষ্টা তাই ভয়াবহ রকমের উদ্বেগজনক।
আমরা বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে একদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে পরবর্তী সামরিক আমলগুলো এবং সর্বশেষ এক/এগারোর সরকারের সময় এ ধরনের চেষ্টার কারণে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে নানাভাবে হোঁচট খেতে দেখেছি। নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া আশির দশক থেকে নানাভাবে এর শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের দুজনের উত্থান হয়েছে নানা বাধা-বিপত্তির মুখে প্রতিবাদ করার অধিকার প্রয়োগে সোচ্চার থাকার মাধ্যমেই। তাঁদের শাসনামলে প্রতিবাদ করার অধিকার সংকোচনের চেষ্টা তাই কোনোভাবে প্রত্যাশিত নয়। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, তার পরও দুই নেত্রীর আমলে আমরা এসব চেষ্টার অব্যাহত সম্প্রসারণ লক্ষ করছি।
মত, পথ ও বিশ্বাসের পার্থক্য ভুলে আমাদের নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে বাক্স্বাধীনতার অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে। তা না হলে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ কখনো প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারবে না।
সরকারের মধ্যে শুভবুদ্ধির অনেক মানুষ আছে। তাঁদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, মানুষকে মুক্তভাবে কথা বলতে দিন, লিখতে দিন। সরকারের কিছু অযৌক্তিক সমালোচনা হয়তো হচ্ছে, আরও হবে। কিন্তু বিপজ্জনক স্তুতিবাক্য বা নীরব ষড়যন্ত্রের চেয়ে সমালোচনা অনেক শ্রেয়।
l আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়।

জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন মমতা? by অমর সাহা

তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বেসর্বা। দলের একচ্ছত্র নেত্রী। বিরোধীদের কথায় বলা হয় তাঁর একার কথায় দল চলে। রাজ্য চলে। এই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আরোহণের দ্বিতীয় বর্ষ উদ্যাপন করেছেন ২০ মে ঘটা করে। পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় একটানা ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্টকে পরাস্ত করে ক্ষমতায় আসেন মমতা ২০১১ সালের ২০ মে। এই সুদীর্ঘ দুই বছরে মমতার কর্মকাণ্ডে কি খুশি রাজ্যবাসী বা মমতার জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েছে? সেই প্রশ্ন এখন উঠে এসেছে আজ রাজ্যবাসীর মনে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য দাবি করেছে, মমতার জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। তিনিই রাজ্যের এখন রক্ষাকর্তা। একচ্ছত্র নেত্রী। তাঁর কথায় দল চলে, সরকার চলে। সেই মমতা কি সত্যি রাজ্যবাসীর মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছেন?
একটু পেছনের দিকে তাকানো যাক। মাত্র ছয় মাস আগের কথা, কলকাতার প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক এই সময় একটি জনসমীক্ষা করে তার প্রতিবেদন প্রকাশ করে গত বছরের ৫ নভেম্বর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার দেড় বছর পর কলকাতার মানুষ কী ভাবছেন, কী পরিবর্তন হয়েছে, বাম দলের অবস্থা কী, বামফ্রন্ট কি আবার ক্ষমতায় আসতে পারবে ইত্যাদি নিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার ওই বাংলা দৈনিক এই সময় ও ‘ইপসোস’ চালায় এই জনসমীক্ষা। এই জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছিল কলকাতার রাজনীতির নানা চালচিত্র।
 সেই সমীক্ষা প্রতিবেদনে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠেয় রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে বামফ্রন্ট কি ক্ষমতায় আসতে পারবে? এই প্রশ্নের জবাবে ৫০ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন, বামফ্রন্টের ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রীর শিরোপা কার পাওয়া উচিত—এই প্রশ্নের জবাবে ৪৪ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন জ্যোতি বসুর নাম। ৩০ শতাংশ বলেছিলেন মমতার নাম। আর ১৫ শতাংশ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের  এবং ১১ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের নাম। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মমতার কি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা আছে? এই প্রশ্নের জবাবে না বলেছেন ৬৯ শতাংশ এবং হ্যাঁ বলেছেন ২৪ শতাংশ মানুষ। কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর থেকে মমতা সমর্থন প্রত্যাহার করে ভুল করেছেন? এই প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ বলেছেন ৪৬ শতাংশ আর না বলেছেন ৪৩ শতাংশ মানুষ। আবার আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল একলা লড়ে সাফল্য পাবে কি? এই প্রশ্নের জবাবে ৪২ শতাংশ না, আবার ৪২ শতাংশ মানুষই বলেছেন হ্যাঁ। এ তো গেল ছয় মাস আগের কথা। এই ছয় মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি অঙ্গনে বহু পানি গড়িয়েছে। একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। ওই সব ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে মমতার বিরুদ্ধেও। বিরোধীরা দাবিও তুলেছে তার পদত্যাগের। কিন্তু সত্যি কি মমতার জনপ্রিয়তায় ভাটার টান দেখা দিয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদের এক কথা—জনপ্রিয়তা কমছে মমতার। মমতার একগুঁয়েমি এবং স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব পিছিয়ে দিচ্ছে মমতাকেই। একের পর এক ঘটনায় জেরবার হচ্ছেন মমতা। সর্বশেষ যে ঘটনা মমতার জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, তা হলো সারদা-কাণ্ড।
পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সারদা গোষ্ঠীর কেলেঙ্কারি। এই সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন রাজ্যের আমানতকারীদের কাছ থেকে অন্তত ২১ হাজার কোটি রুপি নিয়ে পালিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন। সুদীপ্ত সেন কলকাতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ১৮ পাতার এক দীর্ঘ চিঠিতে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইকে লেখা চিঠিতে বলে যান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের পতনের মূলে রয়েছে সরকারি দলের কয়েকজন সাংসদ, মন্ত্রী ও নেতাসহ অন্তত ২২ জন। তাঁদের তিনি নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে পুষে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। সুদীপ্ত সেন তাঁর চিঠিতে যাঁদের নাম উল্লেখ করে গেছেন, মমতার রাজ্য পুলিশ এখন পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অধিকন্তু রাজ্যের আপামর মানুষ সারদা-কাণ্ড সিবিআইয়ের মাধ্যমে তদন্তের দাবি তুললেও মমতা সেই দাবিকে উপেক্ষা করে রাজ্য পুলিশ দিয়ে তদন্ত করাচ্ছেন। এই সিবিআই তদন্তের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে পৃথক তিনটি জনস্বার্থ মামলাও হয়েছে। তাই মমতার এসব সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি রাজ্যবাসী এবং নিঃস্ব হয়ে যাওয়া সারদার আমানতকারী ও এজেন্টরা। শুধু তা-ই নয়, ইতিমধ্যে ২০ জন আমানতকারী, এজেন্ট এবং কয়েকটি ভুঁইফোড় বেআইনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিক আত্মহত্যাও করেছেন। অথচ এই মমতাই বিরোধী আসনে থাকাকালে রাজ্যের একটি ছোট্ট ঘটনারও সিবিআই তদন্ত চাইতেন। এসব ঘটনায় মমতার জনপ্রিয়তা যে হ্রাস পাচ্ছে, তা রাজ্যবাসী এখন বুঝতে পারছে।
শুধু এ নয়, মমতার জনপ্রিয়তা হ্রাসের আরও অনেক কারণ রয়েছে।
এবার তাকানো যাক একটু পেছনের দিকে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র মমতাদের নিয়ে আঁকা একটি কার্টুন ই-মেইলে পোস্ট করে ফেঁসে যান। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। কারাগারেও যেতে হয় তাঁকে। শিলাদিত্য চৌধুরী নামের এক কৃষক মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর এক জনসভায় সারের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাতে গেলে মমতার নির্দেশে পুলিশ তাঁকে মাওবাদী তকমা দিয়ে গ্রেপ্তার করে। আবার তানিয়া ভরদ্বাজ নামের এক ছাত্রী কলকাতার টাউন হলে ভারতের একটি নামী টিভি চ্যানেলের এক টক শোতে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করে ফেঁসে যান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে মাওবাদী আখ্যা দিয়ে টক শোর স্থল ত্যাগ করেন। আর কলকাতার সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার দময়ন্তী সেন কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের একটি ধর্ষণকাণ্ড প্রমাণ করায় তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয়। এসব ঘটনায়ও রাজ্যবাসীর মনে মমতা সম্পর্কে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তা ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি, ছিটমহল বিনিময় চুক্তি এবং তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে মমতার ভূমিকাকেও মেনে নিতে পারেনি অনেকে। ভারতের কেন্দ্রীয় ইউপিএ সরকার এসব চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নিলেও আপত্তি তোলেন মমতা। তাই মমতার এসব আচরণকে মেনে নিতে পারেননি প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মার্কন্ডেয় কাটজুও। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে  লেখা এক চিঠিতে বলেছেন, মমতাকে আরও সহিষ্ণু হতে হবে। কমাতে হবে তাঁর খামখেয়ালিপনা। বদলাতে হবে তাঁর আচরণ। নইলে বেশি দিন মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না মমতা।
তাই বলা চলে, যে জনসমর্থন নিয়ে মমতা ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই জনসমর্থনকে এখন আর তিনি ধরে রাখতে পারছেন না। ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর বিরুদ্ধেই ক্ষোভ। আর এর জন্যই দিনে দিনে হ্রাস পাচ্ছে তাঁর জনসমর্থন। সেই কথাটিই ছয় মাস আগেই ভেসে উঠেছে সংবাদপত্রে। এই সময়ে। অথচ মমতার সামনে এখনো বাকি রয়েছে ক্ষমতায় থাকার তিনটি বছর।
l অমর সাহা: প্রথম আলোর কলকাতাপ্রতিনিধি।

চাষের কই ও চাষের নজরুল by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

বাজারে পৌঁছাতেই মাছুয়ারা ছেঁকে ধরে। বলল, অনেক দিন দেখি না, গানও শুনি না, কী হলো আপনার? আজ ইলিশ নেই, পাঙাশ নিয়ে যান। বললাম, চাষের পাঙাশে নেই মজা। বলল, মাগুর? চাষের মাগুরে মজা নেই। কেমন যেন পানসে। বলল, বড় কই? বললাম, চাষের কই খেতে মজা বটে। গোটা কয়েক কই নিয়ে বাসায় ফিরলাম। মাছুয়ারা আমাকে পেলে খুশি, ওরা জানে আমি ওদের লোক। ছোটবেলায় মাছুয়া ছিলাম। ওদের সঙ্গে অনেক গল্প করি, যেমন মানুষ করে নিজের মানুষদের সঙ্গে। তরিতরকারি বিক্রি করে বেশির ভাগ নোয়াখালীর লোক। ওদের সঙ্গে ‘নওয়াহাইল্যায়’ কথা বলাতে ওরা জানে আমার বাড়ি নোয়াখালী। ওদের ভুল ভাঙাই না। যারা ফরিদপুরের, তারা ভাবে আমি ফরিদপুরের। কেউ ভাবেন জসীমউদ্দীন আমার বাবা। ওদের ভুল ভাঙাই না। পুরান ঢাকায় যতগুলো বাজার, অনেক দিন পর পর গিয়ে হাজির হই। রায়সাহেব বাজারের একজন বললেন, আপনাকে না দেখে ভাবলাম, আপনি নাইক্যা। নিজের অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এল: ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ অর্থাৎ তাঁর কাছ থেকে এসেছি, তাঁর কাছেই ফিরে যাব। এতে দোষ নেই। এক চেনা ব্যক্তি তার নিজ মৃত্যুর পর ইসালে ছওয়াবের আয়োজন নিজেই সমাধা করে ফেলেছে। এতে দোষ নেই। যা দিনকাল পড়েছে, মৃত্যুর পর দরদি লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর বিবেচনায় এই ব্যবস্থা। চকবাজারের পাইকারি বাজারে অনেক ধান-চালের সওদাগর। এদের একজন আমাকে আব্বাসউদ্দীন নামে চেনে। আমি বাধা দিই না। তবু তো আমার বাবার নামটা উচ্চারিত হয়েছে।
মিডিয়া থেকে নজরুল-আব্বাসউদ্দীন-আলাউদ্দিন-জসীমউদ্দীনের নাম উধাও। জন্মদিনে কখনো বা নজরুলের ছবি ভেসে ওঠে। ওদের দয়ার অবধি নেই। জাতীয় কবির এহেন দুর্দিন কেন ঘটেছে তা নিয়ে লেখালেখি করেও কোনো লাভ হয়নি। যা হওয়ার তা হবে। নিজ সম্পদ বিস্মৃত হলে সমূহ বিপদ। অন্যেরা ওত পেতে আছে, সুযোগ পেলেই ওরা উড়ে এসে বসবে জুড়ে। কিছু ভালো খবর এই মুহূর্তে দেওয়া যায়, তা হলো গত দেড় বছরে ইংরেজি ভাষায় গ্রন্থ রচনা করেছি, নাম হলো নজরুল ইসলাম: ম্যান অ্যান্ড পোয়েট। চার শ পৃষ্ঠাব্যাপী গ্রন্থটি প্রকাশিত হলে তার সম্বন্ধে পূর্ণ তথ্য বিশ্বের সব কটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হবে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, কবির মাত্র তিন শ কবিতা বা গান এযাবৎ ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। আরও ভালো খবর, কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক আমার অধীনে আরবিতে কবির জীবনী লেখার উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি হবে আরবিতে তাঁর সম্বন্ধে প্রথম জীবনীগ্রন্থ। তেমনি ফরাসি ভাষাতেও আমার একজন ছাত্র এই কাজে ব্রতী হয়েছেন।
বাংলার স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নজরুল পড়ানোর ব্যবস্থা অপ্রতুল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেনদরবার করেও কোনো উত্তর পাইনি। এঁরা নজরুল চেনেন না, নেই তাঁর  প্রতি বিন্দুমাত্র ভালোবাসা এঁদের অন্তরে। জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়েও নজরুল সম্পর্কে নেই উপযুক্ত কর্মকাণ্ডের আয়োজন, সবই যেন এক দিনের জন্য নির্ধারিত। লোকসংগীত সংরক্ষণের কাজে হাটে-বাজারে অসংখ্য নজরুল ইসলামের দেখা পেয়েছি, যারা তার নামকে ধারণ করে অথচ নামের কারণে সামান্যতম বোধোদয় নেই তাদের চরিত্রে।
বহুদিন আগে শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলাম, তা বছর চল্লিশেক আগে। কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁরা কেন এখানে পড়তে এসেছেন। বললেন, ‘অন্যখানে সুযোগ পাইনি, তাই বাধ্য হয়ে এখানে এসেছি।’ কোনোরকমে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদানে বিশ্বভারতী চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। রবীন্দ্রনাথ ভালোবাসি, তাই শান্তিনিকেতন আমার স্বপ্নের নিকেতন। তাদের জিজ্ঞেস করলাম, রবীন্দ্রনাথের গান বা সাহিত্য কি তোমাদের এখানে টেনে আনেনি? তারা এমনভাবে উত্তর দিল যেন রবীন্দ্রনাথ এখানে একজন অতিথি অধ্যাপকের বেশি নয়। নজরুল নামাঙ্কিত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও তেমনি আমরা খুঁজে ফিরছি শতসহস্র ‘চাষের বিদ্বান’, নজরুলের উত্তরাধিকার সুদূরপরাহত।
চাষের কই দিয়ে শুরু, চাষের গল্প দিয়েই শেষ করি ‘পুড়িব একাকী’ থেকে:
এক কবি এসেছেন গ্রাম থেকে। ভদ্রলোককে আদর করে এক কাপ চা খাওয়াতেই সে গলে গেল। কিন্তু এরপর সে যা বলল তাতে নজরুলের প্রায় ভিরমি খাওয়ার অবস্থা। বলল, পড়াশুনা করেছি ক্লাশ এইট, বাবরি চুল আপনারই মতন এবং কবিতা পনের হাজার। তা হলে নজরুল ইসলাম হতে পারব না কেন?
নজরুল হতবাক। কথা সঞ্চয় করে বললেন, হক কথা। তোমার কাছে হার মানে এ কবি। এত সহজেই তুমি আমাকে পরাস্ত করেছ যে বলার নয়। যেহেতু কম বয়স্ক বলে মনে হচ্ছে, কদমবুসি করা থেকে বিরত হলাম।
ভদ্রলোক নজরুলের কথা বুঝতেই পারল না। বলল, এই গানগুলো নিয়ে আমি এখন কী করি?
: আমি যা করেছি তাই করুন
: আপনি কী করেছেন?
: আমার সব গান জনগণের কাছে বিলিয়ে দিয়েছি। নিজেই জানি না কত গান লিখেছি, কাকে দিয়েছি, কখন দিয়েছি, কেমন করে দিয়েছি। কিছু গান গ্রামোফোনে রেকর্ড হয়েছে, গীতিকার হিসেবে আমার নাম আছে, বই বেরিয়েছে, সেখানে আমার নাম আছে। বাকি গানগুলো ভক্তরা সারা দিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছে।
ভদ্রলোক ভ্যাবাচ্যাকা। ‘তাহলে গানগুলো শিয়ালদা স্টেশনে গিয়ে যাকে পাই তাকে একটা করে ধরিয়ে দি, কী বলেন?’
নজরুল বললেন, ‘জি, তাই করুন’।
l মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীতব্যক্তিত্ব।     
  mabbasi@dhaka.net

বিদ্যুতের মিটার পরিবর্তন by মো. ইসমাইল হোসেন

রাজধানীর হাজারীবাগ থানাসংলগ্ন গজমহল এলাকা। এখানে বিদ্যুতের প্রায় এক হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নতুন বিদ্যুৎ মিটার পরিদর্শক আসার পর থেকে অধিকাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহককে নতুন মিটার নিতে বাধ্য করছেন। জনৈক ব্যক্তি ওই পরিদর্শকের নির্দেশে এক মাসে পরিবর্তন করেন। আর ওই মিটারগুলো বিদ্যুৎ অফিস থেকে গ্রাহক ক্রয় করে। দেড় মাস যেতে না-যেতে ওই বিদ্যুৎ পরিদর্শক তাঁকে আবার মিটার পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। কারণ হিসেবে জানান, মিটারে ত্রুটি রয়েছে। ওই পরিদর্শকের মিটার লাগানোর ফলে গ্রাহকের অতিরিক্ত বিল আসছে। তাই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মো. ইসমাইল হোসেন
গজমহল, হাজারীবাগ, ঢাকা।

যে জন দিবসে by রফিকুল আলম

আমি রাজশাহী শহরের হেতেম খান এলাকার অধিবাসী। প্রতিদিন আমি ভোর পাঁচটা থেকে ছয়টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সাহেববাজার বড় মসজিদ হয়ে, পদ্মা নদীর ধার দিয়ে কুমারপাড়া, ঘোষপাড়া হয়ে আলুপট্টি পর্যন্ত হেঁটে বাড়িতে আসি। প্রতিদিনই লক্ষ করছি, ভোর ছয়টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সাহেববাজার, আলুপট্টি, কুমারপাড়া, গণকপাড়াসহ অধিকাংশ রাস্তার বাতিগুলো জ্বলছে। দায়িত্বহীনতার প্রকৃষ্ট এক উদাহরণ এটি! এই রাস্তার বাতিগুলো নেভানোর কাজে নিয়োজিত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাঁদের এ দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন না। আমার অনুরোধ, যাতে এই বাতিগুলো ৫-১০ মিনিট আগেই নেভানো হয়। কারণ, পাঁচটা ১০ মিনিটের আগে সূর্যের আলোতে এমনিতেই সবকিছু পরিষ্কার দেখা যায়। এই বাতিগুলো দেরিতে নেভানোর ফলে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে এবং এই বাতিগুলো বেশি জ্বলার কারণে আলো দেওয়ার ক্ষমতাও দিন দিন কমে যাবে। এই বাতিগুলোর ব্যয়ভার কিন্তু শহরবাসীর কাছ থেকেই আদায় করা হয়।
রফিকুল আলম, হেতেম খান, রাজশাহী।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিআকর্ষণ by সাদিয়া আফরিন

‘হরতাল-হরতাল-হরতাল’ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শিশুদল লেখা ব্যানার নিয়ে অনেকগুলো শিশু দাঁড়িয়ে আছে। একটি পত্রিকায় এমন ছবি দেখে আমি হাসব না কাঁদব—বুঝতে পারছিলাম না। আমাদের দেশে আজকাল রাজনীতিতে ধর্ম ও শিশু সমানভাবে ব্যবহূত হচ্ছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল হীন স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিশুদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অবুঝ শিশুদের কখনো কাফনের কাপড় পরিয়ে, কখনো হাতে লাঠি দিয়ে মিছিলে ব্যবহার করছে জামায়াত-শিবির। আবার হেফাজতে ইসলামের সভা-সমাবেশে যোগ দেওয়া কোমলমতি শিশু-কিশোরদের অধিকাংশই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী। ফলে এই শিশুরা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা একটি সভ্য দেশে কারোরই কাম্য নয়। তাই রাজনীতিতে শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যেসব রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী এসব শিশুকে ব্যবহার করছে, তাদের আইনানুগ শাস্তির দাবি করছি।
সাদিয়া আফরিন, সুপারিবাগান, টাঙ্গাইল।

মহার্ঘভাতা

বেসরকারি শিক্ষকসমাজ নিরলসভাবে গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষার ব্যাপারে নিবেদিতপ্রাণ। অথচ সেই শিক্ষকদের জন্য নেই কোনো উন্নত ভাতার ব্যবস্থা। যা আছে, তা যৎসামান্য। অন্যান্য দেশে বেতন স্কেলের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা থাকে। কিন্তু এ দেশের বেসরকারি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা ব্যতিক্রম। মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক পণ্যদ্রব্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। শিক্ষকেরা যে বেতন-ভাতা পান, তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। মাসের অর্ধেকও চলে না। ২০১৩-১৪ সালের বাজেটে বেসরকারি শিক্ষকদের মহার্ঘ ভাতা বেতন স্কেলের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি ও অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বাসুদেব বসু
রাজপাট, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ বাংলাদেশ প্রতিবছরই বিরাট ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। কিন্তু তার পরও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি বাংলাদেশে আঘাত হানল মহাসেন নামের ঘূর্ণিঝড়। মহাসেনের আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় প্রাণহানি কম হলেও কয়েক হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া গবাদিপশুর প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক আকারে হয়েছে। উপকূলের নিকটবর্তী এলাকার মানুষ এখন তাদের সহায়সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেকে নিজেদের সাধ্যমতো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। মহাসেনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য আর্থিক সাহায্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে ব্যাপকভাবে ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমিত পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য লোকজনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং গণমাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক তথ্য নিয়মিত সম্প্রচার করতে হবে। সর্বোপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় করণীয় এবং দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এখনই জরুরি।
উজ্জ্বল দাস পোদ্দার
ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা।

কাবুলে জাতিসংঘের ভবন চত্বরে হামলা দুই বন্দুকধারী নিহত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের ভবন চত্বরে হামলা চালিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। এ সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং ওই ভবনের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলি হয়। এতে দুই বন্দুকধারী নিহত হয় বলে জানা গেছে। তালেবান এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। কাবুলের পুলিশপ্রধান আইয়ুব সালাঙ্গি জানান, কাবুলে অবস্থিত জাতিসংঘের ওই ভবন চত্বরে গতকাল হঠাৎ করেই চারজন বন্দুকধারী প্রবেশ করে। নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের দুজনকে গুলি করে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য দুজনের খোঁজে ভেতরে তল্লাশি চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ভবন চত্বরে পরপর চারটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এরপর ওই ভবনের ওপরে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র হাসমতুল্লাহ জানান, আন্তর্জাতিক বাহিনীর সহায়তা নিয়ে আফগান পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। ভেতরে অবস্থানরত কেউ বন্দুকধারীদের হাতে হতাহত হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। হামলার সময় ভেতরে কেউ ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ওই ভবন বেশির ভাগ সময় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সদস্যরা ব্যবহার করতেন। তালেবান যোদ্ধারা সেখানে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। আট দিন আগে কাবুলে ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ছয় মার্কিনসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়।

শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে রাজি বাশার সরকার: রাশিয়া

সিরিয়ায় রক্তপাত বন্ধে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে রাজি হয়েছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকার। গতকাল শুক্রবার বাশারের মিত্র রাশিয়া এ কথা জানায়। আগামী মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে এ সম্মেলন হতে পারে। এদিকে বাশারবিরোধী প্রধান জোট সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশন (এসএনসি) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠক করেছে। প্রস্তাবিত শান্তি সম্মেলন, এসএনসির প্রধানের পদে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য গত বৃহস্পতিবার তিন দিনের এ বৈঠক শুরু হয়। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলেকজান্ডার লুকাশেভিচ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, সিরিয়া সরকার শান্তি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পক্ষে তাদের নীতিগত অবস্থানের কথা আমাদের জানিয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সংকট সমাধানের একটি রাজনৈতিক পথ খুঁজবে, যা একটি জাতি তথা ওই অঞ্চলকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পথ বন্ধ করবে।’ শান্তি সম্মেলনের প্রস্তাব ওঠার পর থেকে বলা হচ্ছিল, জুন মাসে তা হতে পারে। ইউরোপের কয়েকটি গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, আগামী ১০ জুন এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লুকাশেভিচ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই তারিখ চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। বাশারবিরোধীদের মধ্যে এত বিভক্তি যে তারা এখনো শান্তি সম্মেলনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি।’ মোয়াজ আল খতিবের প্রস্তাব: বাশারবিরোধী ন্যাশনাল কোয়ালিশনের বিদায়ী নেতা মোয়াজ আল খতিব বাশারের পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়ে সহিংসতা বন্ধের একটি পরিকল্পনা পেশ করেছেন। তাঁর প্রস্তাবে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাশার ২০ দিনের মধ্যে পদত্যাগ করলে তাঁকে পরিবারসহ নিরাপদে দেশ ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ২০ দিনের মধ্যে প্রস্তাবটি গ্রহণ করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী বা ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য এক মাস সময় পাবেন। অক্সফামের আহ্বান: যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক দাতব্য সংগঠন অক্সফাম গতকাল বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) সিরিয়ায় অস্ত্র সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অবশ্যই বাড়াতে হবে। অক্সফামের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক প্রধান অ্যানা ম্যাকডোনাল্ড বলেন, সিরিয়ায় অস্ত্র সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো না হলে দেশটি আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়বে।