Tuesday, February 4, 2014
সহজিয়া কড়চা- বঙ্গীয় ইস্টমিনস্টার সরকারপদ্ধতি by সৈয়দ আবুল মকসুদ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত- রাষ্ট্রপতি মুখার্জিকে ভাবতে হবে by কুলদীপ নায়ার

রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণ করা না-করার সিদ্ধান্ত প্রণব মুখার্জির ওপরই নির্ভর করে। কিন্তু যেই তিনি ঘোষণা করলেন যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না, সেই পরিষ্কার হয়ে গেল, সাজঘরে অপেক্ষা করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে গেছেন। সোনিয়া গান্ধীও সঙ্গে সঙ্গে এই ঘোষণা মেনে নিলেন, প্রণব তো রাহুলের জন্যই পথ ছেড়ে দিলেন। প্রণব মুখার্জি কংগ্রেসের খারাপ সময়ে যেভাবে উদ্ধারকর্মীর ভূমিকায় নেমেছিলেন, তাতে তাঁর ধারণা হয়েছিল নেহরুর রাজবংশকে তিনি যেমন নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়েছেন, তাতে তাঁকে কখনো উপেক্ষা করা হবে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রণব নিজেকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য তৈরি করেননি। রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি যা বলতে পারেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তেমন মন্তব্য করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা উচিত ছিল তাঁর।
কিন্তু কেজরিওয়াল তাঁর আইনমন্ত্রীর পক্ষ নিয়ে যা করলেন তাতে বাজে নজির তৈরি হলো। তাঁর উচিত ছিল, দুই পুলিশের ‘ঔদ্ধত্যের’ প্রতিকারের দায়িত্ব রাজ্যের মুখ্য সচিবকেই দেওয়া। তাঁর যুক্তি হলো, তিনি তো সংবিধান লঙ্ঘন করেননি। এটা এক অদ্ভুত যুক্তি, কেননা তিনি সেই সংবিধানের ভাষা ও চেতনার কথা বলছেন, যা সব ক্ষমতা দিয়েছে নির্বাহী বিভাগকে আর মুখ্যমন্ত্রীকে বানিয়ে রেখেছে নামমাত্র সরকারপ্রধান।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনা অসাংবিধানিক নয় এমনতর যুক্তি ধোপে টিকবে না। তিনি উপলব্ধি করতে পারেননি, যে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভেতরে তাঁর দুর্গ, তারা মুখ্যমন্ত্রীর তরফে ধরনা জাতীয় কর্মসূচি চায় না, তারা চায় নিয়মতান্ত্রিক প্রশাসন। কিন্তু কেন রাজনৈতিক বিষয়ে প্রণব মুখার্জি মন্তব্য করলেন, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তিনি রাজনীতি মেশানো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। দেশের সামনে উপস্থিত হওয়া সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি এমনভাবে মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যেন তিনি দেশ চালানোর সভার সভাপতি। প্রজাতন্ত্র দিবসের বক্তৃতায় তিনি আগের সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং অনেকের মুখ থেকে বের করেছেন রাগত প্রতিক্রিয়া। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়াসহ (সিপিআই) কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাঁর ওই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বলে চিহ্নিত করেছে।
রাষ্ট্রপতি মুখার্জি যা বলেছেন তা সাধারণভাবে সঠিক। যেমন, জনপ্রিয় প্রতিবাদ কখনো দেশ পরিচালনকার্যের বিকল্প নয় কিংবা বলেছেন, লোকচক্ষুর সামনে হাজির করা ভাবমূর্তির মধ্যে অনেক শঠতা থাকে। কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন যে তিনি নিছকই সাংবিধানিক প্রধান। নির্বাচিত সংসদ এবং রাষ্ট্রের আইনসভা রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য এ রকম মন্তব্য কেউ আশা করে না।
রাষ্ট্রপতি মুখার্জি সাধারণভাবে যা বলেছেন তা যে সঠিক, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। রাজনীতিকে তিনি পরিচিত বিচরণভূমি ভেবেছিলেন, কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে তিনি সেই ভূমি ছেড়ে দিলেন। সোনিয়া গান্ধীর দ্বারা তাঁর বঞ্চনা হয়তো নিখাদ।
‘সরকার দাতব্য দোকান নয়’ বলেছেন রাষ্ট্রপতি মুখার্জি। নির্বাচনের আগে জনসমর্থন কাড়ার জন্য সরকারের নানা রকম প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি এটা বলেন। সব রাজনৈতিক দলই এটা করে। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যখন ‘গরিবি হটাও’ স্লোগান তুলেছিলেন, সেই মন্ত্রিসভায়ও মুখার্জি ছিলেন। ডিএমকে পার্টির সমর্থন ধরে রাখতে মনমোহন সিং সরকার তাদের বেশ কিছু সুবিধা দিয়েছিল।
সবাই জানে, কীভাবে মুলায়ম সিং যাদবের দলের সমর্থন পেতে তাঁর বিরুদ্ধে করা সিবিআইয়ের মামলাটি তুলে নেওয়া হয়েছিল। অনাস্থা ভোটে মনমোহন সিং সরকারের পতন ঠেকাতে যে ‘দেওয়া-নেওয়া’ হয়েছিল, মুখার্জিও তার অংশ ছিলেন। মুখার্জি যদি এসবের এতই বিরুদ্ধে, যা তাঁর এখনকার
মন্তব্য থেকে মনে হচ্ছে, তাহলে কেন তিনি মুখ খুললেন না? তাঁর বিরোধিতা নিশ্চয়ই গণ্য হতো, কারণ তিনি জ্যেষ্ঠ নেতা।
যে সময় মিসেস গান্ধী পাঞ্জাব বিষয়ে রাষ্ট্রপতি জ্ঞানী জৈল সিংয়ের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তাঁর কাছে সরকারি কাগজপত্র পাঠানো বন্ধ করলেন, সে সময়ও মুখার্জি মন্ত্রী ছিলেন। মিসেস গান্ধী সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন করেছিলেন। পারতেন মুখার্জি সে সময় প্রতিবাদ করতে! রাষ্ট্রপতির দপ্তর এমন এক প্রতিষ্ঠান, যাকে হেয় করা উচিত নয়। তার পরও রাজনীতিবিদেরা তা করে থাকেন। মুখার্জিও যদি সেটা করেন, তাহলে সেটা হবে তাঁর মতো বিচক্ষণ মানুষের জন্য দুঃখজনক উদাহরণ।
মুখার্জির নীরবতার আরেকটি বড় উদাহরণ হলো, ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা জারির ঘটনা। তিনি সে সময় তাঁর বাবা জওহরলাল নেহরুর তৈরি করা সংবিধানের ওপর মারাত্মক আঘাত হেনেছিলেন। মুখার্জি সে সময় ইন্দিরাপুত্র সঞ্জয় গান্ধীর অসাংবিধানিক ক্ষমতাকেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সেই জরুরি অবস্থার সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ফল হলো, রাজনীতি থেকে নৈতিকতার বিদায় নেওয়া। সেটা এমন এক ভয়ের সময়, যখন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ মন্ত্রিসভায় পাস হওয়ার আগেই সরকারি ঘোষণায় সই করে ফেলতেন।
আমার অভিজ্ঞতা হলো, প্রধানমন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতির কথায় কমই মনোযোগ দেন। যাঁরা রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতির জায়গায় সংসদীয় পদ্ধতিকে পছন্দ করেছিলেন, সংবিধানের সেই কাঠামোকারেরা ঠিক করে দিয়েছেন যে রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির পদকে অবান্তর করে দিয়েছে।
ঠিক-বেঠিক, নৈতিক-অনৈতিকের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্যরেখা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো সেই রেখাটা বজায় রাখা। বক্তৃতামঞ্চ থেকে বলা সহজ যে দেশের জন্য কোনটা বিপজ্জনক আর কোনটা তা নয়। রাষ্ট্রপতি মুখার্জি যতই সঠিক হয়ে থাকুন না কেন, তাঁর উচিত ফিরে দেখা যে মন্ত্রী থাকাকালে যা যা করেছেন তার কতটা সঠিক ছিল। কেবল আইনি বিচারেই নয়, নৈতিক বিচারেও। বল এখন তাঁর কোর্টে।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
কুলদীপ নায়ার: ভারতীয় সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত- রাষ্ট্রপতি মুখার্জিকে ভাবতে হবে by কুলদীপ নায়ার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সহজিয়া কড়চা- বঙ্গীয় ইস্টমিনস্টার সরকারপদ্ধতি by সৈয়দ আবুল মকসুদ
বারবার একই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিরক্ত হয়ে বলেছিলাম, আমাদের এখনকার সরকারপদ্ধতি ওয়েস্টমিনস্টার সিস্টেম নয়, একে বলা যেতে পারে ইস্টমিনস্টার সিস্টেম। এ রকম সিস্টেম পৃথিবীতে একমাত্র বাংলাদেশেই আছে। এটার নাম ইস্টমিনস্টার সিস্টেম বলছি এ জন্য যে ব্রিটেন দেশটা ওয়েস্টে। তাই সেখানকার পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের নাম ওয়েস্টমিনস্টার সিস্টেম। আমরা আছি পূর্বে অর্থাৎ ইস্টে। তাই আমাদের অভিনব ব্যবস্থার নাম হতে পারে ইস্টমিনস্টার সিস্টেম। হয়তো কোনো দিন এশিয়ার আরও কোনো কোনো দেশ বাংলাদেশের এই সরকারব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে ওয়েস্টমিনস্টার সিস্টেমের মতো ইস্টমিনস্টার সিস্টেমও প্রতিষ্ঠা পাবে।
আমরা আদিম উপজাতি-অধ্যুষিত আফ্রিকার কোনো দেশ নই। প্রাচীন সভ্য জাতি। দীর্ঘ আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও পাঁচ-দশ বছরের নয়—শ দুয়েক বছরের। ১৯৩৫-এ ভারত শাসন আইনের অধীনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হলে বাংলার মানুষ সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাদ পায়। সুতরাং ওয়েস্টমিনস্টার সিস্টেম কী জিনিস তা এ দেশের মানুষ পৌনে এক শ বছর যাবৎ জানে। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ এবং ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত যত দুর্বলতাই থাকুক—সংসদীয় পদ্ধতির সরকার তারা দেখেছে। ভুলভ্রান্তি, দোষ-ত্রুটিসহ ওই পদ্ধতিকেই মানুষ গ্রহণ করে নিয়েছে। গ্রহণ করে নিয়েছে এই জন্য যে ওই পদ্ধতিতে জনগণের কতটা উপকার হলো সেটা বড় কথা নয়, ওই ব্যবস্থায় যথাযথ বিরতি দিয়ে পছন্দমতো সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব। যত অল্প মাত্রায়ই হোক, জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

অনেকে স্বীকার করুন বা না করুন, সাংবিধানিক দিক থেকে যত বৈধভাবেই নির্বাচন ও সরকার গঠিত হোক না কেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ক্ষতচিহ্ন হয়েই থাকবে। তা যে থাকবে তা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতারাই সবচেয়ে ভালো জানেন। কারণ, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগই বাংলাদেশের প্রধানতম সংসদীয় গণতান্ত্রিক দল। এই দলটি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই গঠিত হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক মুসলিম লিগকে চ্যালেঞ্জ করতেই গঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা-নেতা আরবি-উর্দু জানতেন বলে এর নামকরণ করেছিলেন আওয়ামী মুসলিম লিগ। দল গঠিত হওয়ার কয়েক দিন আগে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে যে বিবৃতি লেখা হয়েছিল, সেটি জোগাড় করার সুযোগ আমার হয়েছিল। তার এক জায়গায় এই কথাটি ছিল: The organisation is for all the people—the Awam—as opposed to the pocket or Sarkari League.
মুসলিম লিগ ছিল সরকারের পকেটের দল। কিন্তু এই দল সরকারে যাওয়ার চেয়ে জনগণের কাছে থাকাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। এই দলের কাছে সরকারের চেয়ে ‘আওয়াম’ বা জনগণই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘আওয়াম’-এর কোনো দাম ছিল না। দলের নেতারা এবং উড়ে এসে জুড়ে বসারা আওয়াম-এর চেয়ে সরকারে যাওয়াকেই বেশি মূল্যবান ও লাভজনক মনে করলেন। দুঃখটা সেখানেই।
দ্বিতীয় দুঃখের কারণ প্রধান বিরোধী জোট অবরোধ, হরতাল, ভাঙচুর, সন্ত্রাস প্রভৃতি করা সত্ত্বেও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে আরও কিছুটা অর্থবহ করা যেত। ক্ষমতার লোভে ও ব্যক্তিগত প্রাপ্তিযোগের কারণে সে পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয় জাতীয় পার্টি, তাতে একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়েছে আওয়ামী লীগের। নির্বাচন ও সরকার গঠন নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তার জবাবদিহি আওয়ামী লীগকেই করতে হবে—লাঙ্গল মার্কাকে নয়। বিরোধী জোটের হরতাল-অবরোধকে সাফল্যমণ্ডিত করার পূর্ণ কৃতিত্ব সরকারি দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের। মন্ত্রীদের সংবর্ধনায় এখন হাজার হাজার মোটরসাইকেলে যে কর্মী বাহিনীকে দেখা যাচ্ছে, ৫ জানুয়ারি যদি শুধু তাঁরাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটটা দিতেন তাহলে ভোটের পারসেনটেজটা আর একটু বাড়ত। সেদিন তাঁরা কোথায় ছিলেন তা বিএনপি-ছাত্রদল ও জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারও বলতে পারবেন না। প্রসঙ্গত বলা যায়, উদ্দীনীয় শাসনকালে যখন দলের প্রধান শেখ হাসিনাকে বন্দী করা হয় তখনো সংবর্ধনাপন্থীদের ছায়াটিও দেখা গেল না।
২৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ওয়েস্টমিনস্টার হলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা বিতর্কে বলা হয়েছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না ছিল অবাধ, না ছিল সুষ্ঠু। এই নির্বাচন যে সঠিক বা যথাযথ হয়নি সে সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঘোষণা করা উচিত বলে তাঁরা অভিমত দিয়েছেন। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এটি ছিল দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের নির্বাচনসংক্রান্ত বিতর্ক। ব্রিটিশ এমপিরা মনে করেন, বাংলাদেশে এখন ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব’। লেবার ও কনজারভেটিভ দুই দলের নেতারাই আলোচনায় অংশ নেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিউ রবার্টসন সমাপনী বক্তব্য দেন। [প্রথম আলো, ৩১ জানুয়ারি]
বাংলাদেশের ব্যাপার নিয়ে ব্রিটেনকে এ ধরনের ফোপর দালালি করার অধিকার দিয়েছে কে? অধিকার তারা আমাদের থেকেই পেয়েছে। চলতি বছরে বাংলাদেশকে ৭৫০ কোটি পাউন্ড উন্নয়ন সহায়তা বাবদ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। তার এক-তৃতীয়াংশ সরাসরি সরকারের কাছে যাবে। এবং একটি বড় অংশ যাবে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থার উন্নয়নে।
২০০৯ সাল থেকে ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পে যুক্তরাজ্য অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল—নাগরিক স্বার্থের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সাড়া প্রদান, নির্বাচন কমিশন ও সংসদকে শক্তিশালীকরণ এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অধিকতর জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে নাগরিক সমাজকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করা। লেবার পার্টির এমপি গ্যাভিন শুকার বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রমাণ করেছে এই তিন লক্ষ্যের কোনোটিই অর্জিত হয়নি। তার অর্থ হলো এই, তাঁদের দেওয়া টাকাগুলো পানিতে ফেলে দেওয়া হলো। সেটা তাঁদের উদ্বেগের কারণ।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন না ঘটা এবং আর একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র, ফরাসি ও জার্মান সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং ঢাকায় জাপানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য উদ্ধৃত করে গ্যাভিন শুকার বলেন, ব্রিটেনকে এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করা উচিত।
বাংলাদেশ যেমন পশ্চিমা দাতা দেশগুলোর গোলাম নয়, তেমনি তাদের মতামত ও পর্যবেক্ষণকে অগ্রাহ্য করাও সমীচীন নয়। নবম সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কথিত ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠন থেকে শুরু করে নতুন সংসদের উদ্বোধন পর্যন্ত এমন কিছু কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা প্রচলিত রীতি ও সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং মিডিয়াও প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু তা সরকার শোনার প্রয়োজন মনে করেনি।
রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম-রীতি হয়তো আমরা এখনো রপ্ত করে উঠতে পারিনি। তার কারণ, সবে ৪৩ বছর আগে আমরা স্বাধীন হয়েছি, আরও ৫৭ বছর লাগবে। কোনো মন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরে তিনি যে আর মন্ত্রী থাকেন না, সে কথা আমরা জানি না। রাষ্ট্রপতি যে নবম সংসদ বিলুপ্ত করেছেন, সে রকম কোনো বিজ্ঞপ্তি আমাদের চোখে পড়েনি। তার অর্থ নবম সংসদ যথাপূর্ব রয়ে গেল। দশম সংসদের নির্বাচিতরা শপথ নিলেন। অবস্থাটা তখন দাঁড়াল নবম সংসদের ৩৪৯ জন এবং দশমের ২৯০ জন মিলে ৬৩৯ বা ওই রকম সংখ্যক এমপি আমরা পেয়েছিলাম কয়েক দিনের জন্য। নবম সংসদের মেয়াদ ছিল ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। কথিত ‘নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা’ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। সে অবস্থায় ১২ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভা শপথ না নিলেও কিছুমাত্র ক্ষতি ছিল না। মন্ত্রিসভায় এমন ব্যক্তিকে আসন না দিলে কী ক্ষতি হতো, যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মোশতাকদের সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একটি অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁকে ওভাবে অপমান ও পীড়ন করারও প্রয়োজন ছিল না। জাতীয় পার্টি নিয়ে যেসব নাটক হয়েছে, পৃথিবীতে এমন ঘটনা দ্বিতীয়টি ঘটেনি। দল তো ভাঙলই, তাঁর ঘরও ভাঙতে ভাঙতে ভাঙেনি, সেটাই তাঁর ভাগ্যের জোর।
কোনো দেশের সাংবিধানিক শাসন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তা শুধু বিশেষ সরকারের জন্য গ্লানির নয়, দেশের জন্যই অপমানকর। গণতন্ত্রের বিশ্বে স্বীকৃত যে সংজ্ঞা রয়েছে তার বাইরে আর একটি নতুন সংজ্ঞা আমরা খাড়া করতে পারব না। যদি সেই সংজ্ঞাটি বর্তমানের প্রচলিত সংজ্ঞার চেয়ে ভালো হয় তবুও নয়। রাজনীতিতে প্রতিহিংসা শেষ পর্যন্ত কোনো উপকারে আসে না।
যেখানে জাতি, রাষ্ট্র ও সরকারের মর্যাদা জড়িত, সেখানে পরিস্থিতির কারণে কোনো অস্বাভাবিক অবস্থা মেনে নেওয়া গেলেও তার ভুলভ্রান্তি বা দোষ স্বীকার করা উচিত। আমার ধারণা ছিল, নির্বাচনের পরে বিশেষ করে নতুন সরকার গঠনের পর সরকার তার অবস্থান সংহত করতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটা বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা করবে। নিজেদের কিছু ভুল স্বীকার করবে। তাতে জনগণ তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে। দোষগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। কিন্তু কয়েকজন সরকারি দলের নেতার কথাবার্তায় সীমাহীন দম্ভ ও ঔদ্ধত্য প্রকাশ পাওয়ায় মানুষ এখন আতঙ্কিত। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ শঙ্কিত।
গত নির্বাচনকে যাঁরা স্বাভাবিক বলে বর্ণনা করছেন, তাঁরা অতি অদূরদর্শিতার পরিচয় দিচ্ছেন। এরপর কোনো দিন যদি কোনো নির্বাচনে ২৮৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়ে এমপি হন কোনো সরকারের সময় এবং অবশিষ্ট ১৭ আসনে ভোট পড়ে ২-৩ শতাংশ, তাহলে সেই নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য বলার নৈতিক অধিকার থাকবে না আওয়ামী লীগ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও তরীকত নেতাদের এবং তাঁদের আশীর্বাদধন্য মানবাধিকারকর্মীদের।
বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতির জন্য শুধু আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বা তরীকতকেও দায়ী করা যাবে না। এর দায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের। তাদের নেতারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের এ দশা হবেই। তাঁদের ভূমিকা বক্তৃতানির্ভর—কর্মসূচিও কর্মনির্ভর নয়।
সবচেয়ে পুরোনো দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এটি মোটামুটি অসাম্প্রদায়িক মধ্যপন্থী দল। বিএনপি একটি প্রায়-প্রতিক্রিয়াশীল সংগঠন। গত ৫ জানুয়ারি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন বিনষ্ট হয়ে যাওয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য যে দল ভূমিকা রাখবে, ইতিহাসে তারই ঠাঁই হবে। তা না হলে ওয়েস্টমিনস্টার নয়, ইস্টমিনস্টার পদ্ধতিই হবে বাংলার হতভাগ্য মানুষের নিয়তি।
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ম্যান্ডেলার সম্পত্তির মূল্য ৪১ লাখ ডলার
![]() |
| নেলসন ম্যান্ডেলা |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক
![]() |
| দেবযানী খোবরাগাড়ে |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হফম্যানের মৃত্যুতে সহকর্মীদের শোক
![]() |
| ফিলিপ হফম্যান |
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, তদন্তকারীরা প্লাস্টিকের দুটি ছোট ব্যাগ এবং একটি বস্তু খুঁজে পেয়েছেন, যাকে হেরোইন হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে৷ সহকর্মী হফম্যানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন বিখ্যাত অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো প্রমুখ৷ বিবিসি৷
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গীয় ইস্টমিনস্টার সরকারপদ্ধতি
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংগঠনটি কি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে?- স্বরূপে ফিরেছে ছাত্রলীগ!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দায় প্রাথমিকভাবে ছাত্রলীগের ওই বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির হলেও সামগ্রিকভাবে সংগঠনটির এবং চূড়ান্ত বিচারে সরকারের। একটি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা কিসের জোরে এমন বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তা আমাদের সবারই জানা। প্রথম আলো পত্রিকায় অস্ত্র হাতে যাদের ছবি ছাপা হয়েছে, তারা অচেনা দুর্বৃত্ত নয়, এদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক! তাঁরা অস্ত্র হাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছেন! এঁদের নেতা বানিয়েছেন কারা? কাদের সমর্থন ও আশীর্বাদ রয়েছে তাঁদের ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার পেছনে?
বর্ধিত বেতন-ভাতা প্রত্যাহার বা সন্ধ্যাকালীন মাস্টার্স কোর্স বন্ধের আন্দোলন কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতে
পারে। ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বসে তা ঠিক করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এর পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। এসব বাদ দিয়ে ছাত্রলীগকে কেন মাঠে নামতে হলো? সরকারের তরফে সায় না থাকলে এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামার বিষয়টি কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে! এই অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে এই দুর্বৃত্তপনা ও অপকর্মে তাদের কোনো সায় ছিল না।
শিক্ষামন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। আমরা শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে চাই। অস্ত্রধারী হিসেবে যাদের ছবি গণমাধ্যমে এসেছে, তারা তো এরই মধ্যে চিহ্নিত। একজন সাধারণ অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত ও ছাত্রলীগের এই নেতাদের মধ্যে আইনগত পার্থক্য করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা দেখতে চাই, আইন তার নিজের গতিতে চলছে। কিন্তু সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাদের জন্য কি আইন নিজের মতো চলে? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সবাই সময়মতো হল ত্যাগ করলেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ের পরও হলে অবস্থান করছিলেন।
নতুন করে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সরকারি দলের ছাত্রসংগঠন তাদের যে জঘন্য রূপ প্রকাশ করল, এর বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংগঠনটি কি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে?- স্বরূপে ফিরেছে ছাত্রলীগ!
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশেষ সাক্ষাৎকার: রেহমান সোবহান- সুশীল সমাজের প্রভাব আগের চেয়ে কমেছে by আব্দুল কাইয়ুম
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন এই স্বনামধন্য ও বরেণ্য অর্থনীতিবিদ।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম
রেহমান সোবহান : গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আওয়ামী লীগের ৬৫ বছরের গণতান্ত্রিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে। ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগ সেই ১৯৪৯ সাল থেকে প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং অবাধ নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করার মধ্য দিয়ে সব সময় ক্ষমতায় এসেছে। তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি কতটা নষ্ট হয়েছে, সে সম্পর্কে ক্ষমতাসীন জোটের ১৫৩ জন সদস্যের চেয়ে বেশি আর কেউ সচেতন হতে পারেন না, যাঁরা একটিও ভোট না পেয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দশম জাতীয় সংসদের সদস্যের শপথ নিয়েছেন। প্রথম আলো : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী? এ রকম একটি নির্বাচন কি বৈধতা দাবি করতে পারে?
রেহমান সোবহান : ৩০০ জন সাংসদের মধ্যে ১৫৩ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দশম সংসদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অবশিষ্ট ১৪৭টি আসনের সদস্যরা ৪০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। এসব সংখ্যার হিসাব এটাই প্রতিষ্ঠা করে যে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে আনুমানিক ১৮ শতাংশ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এ রকম একটি নির্বাচন ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে কোনো অংশেই বেশি বিশ্বাসযোগ্য নয়। ওই নির্বাচনে ২৬ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোট দিয়েছিলেন বলে সরকারিভাবে জানানো হয়। ১৯৯৬ ও ২০১৪ উভয় নির্বাচনেই বাস্তবতার চেয়ে বেশি ভোট পড়েছে বলে দাবি করা হয়। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যুক্তিসংগতভাবেই প্রশ্ন ওঠার কারণে বিএনপি সরকারের বৈধতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ওই সরকার তখন সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনী এনে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার প্রথম দিন থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল এবং শাসনকালের মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারা কোনো উৎসাহ পায়নি। দশম সংসদের সদস্যরা এবং তাঁদের সমন্বয়ে গঠিত সরকারকে তাদের দুর্বল ম্যান্ডেট নিয়ে উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছে না এবং মনে হচ্ছে তারা মনে করে যে বিরোধীদের যেকোনো চ্যালেঞ্জকে ব্যর্থ করে দিয়ে টিকে থাকতে পারবে। এ ধরনের মনোভঙ্গির মধ্যে আছে বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।
প্রথম আলো : আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতিকে কীভাবে নেয়? কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে কি?
রেহমান সোবহান : আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ, যদিও সবাই নয়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার ব্যাপারে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ সচিবালয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এ ধরনের ঘটনার অবসানের আহ্বান জানিয়েছে। তারা গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনী পদ্ধতি প্রণয়নের লক্ষ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারত ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বার্তা এসেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে অভিনন্দন প্রাপ্তির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোনো জোরালো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে বলে এখন পর্যন্ত ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারী ওই দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতেরা বঙ্গভবনে ১২ জানুয়ারি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। কয়েকটি দেশের দূতেরা নির্বাচনের মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও নির্বাচিত নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সেই হতাশা বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। অবশ্য আজকের বাংলাদেশে বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কেবল অর্থনীতি নয়, লাখ লাখ পরিবারের জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলে। আমাদের প্রধান দুটি বাজার হিসেবে বিবেচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমন অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের ক্ষমতা রাখে, যাতে তাদের বাজারে আমাদের রপ্তানি কমে যেতে পারে। তবে সে ধরনের আশঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। আমরা একটি সার্বভৌম দেশ এবং যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর স্বাধীনতা আমাদের রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো পদক্ষেপের চড়া মূল্য যদি সাধারণ জনগণকে দিতে হয়, তখন এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জোরালো জনসমর্থন প্রাপ্তির ব্যাপারে সরকারকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।
প্রথম আলো : বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে ভারত একটি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে?
রেহমান সোবহান : অংশগ্রহণবিহীন হলেও একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রক্ষার পথে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ভারত তুলনামূলক বেশি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে, এ রকম ভালো বন্ধুও একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে কদাচিৎ নির্বিকার থাকতে পারে, যাদের এবারের নির্বাচনী ম্যান্ডেট ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে অর্জিত ম্যান্ডেটের একটি ভগ্নাংশমাত্র। তা ছাড়া, ভারতের বর্তমান সরকার নিজেই একটি সন্ধিক্ষণে রয়েছে এবং এ সরকার হয়তো আগামী তিন থেকে চার মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকবে না। এ ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যেকোনো সরকার তাদের বৈদেশিক নীতিতে বড় কোনো ধরনের পরিবর্তনে আগ্রহী হয় না। তাই আমাদের এমনটা আশা করা উচিত হবে না যে আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় লোকসভা নির্বাচনের পর নয়াদিল্লিতে নতুন একটি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে বাংলাদেশের বিষয়ে ভারত খুব একটা সক্রিয় ভূমিকা নেবে।
প্রথম আলো : বিএনপি হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে কোনো সুফল পাবে কি?
রেহমান সোবহান : খালেদা জিয়া গত ১৫ জানুয়ারি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা হরতালের মতো কর্মসূচি বন্ধ রেখে শান্তিপূর্ণ বিকল্প উপায়ে রাজনৈতিক সংহতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাবেন বলে জানিয়েছেন। নীতি এবং প্রাজ্ঞ রাজনীতির বিবেচনায় এটি একটি সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত। হরতাল হচ্ছে প্রতিবাদ করার একটি উপায়। কিন্তু বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এটি গত কয়েক বছরে সব ধরনের রাজনৈতিক তাৎপর্য হারিয়ে ফেলেছে। খুব সামান্য লোক আজকাল প্রতিবাদ জানানোর লক্ষ্যে হরতাল পালন করে। এখন যেভাবে হরতাল পালিত হয় তা কেবল সহিংসতার হুমকি দিয়ে লোকজনকে কাজে যেতে বাধা প্রদানের মধ্যেই সীমিত রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিএনপির মিত্র জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে, যাতে সুনির্দিষ্টভাবে সাধারণ নাগরিকেরাই আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় হরতাল চলাকালে হতাহতের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। ঢাকার মতো পুলিশবেষ্টিত অঞ্চলে হরতালের প্রভাব সামান্য হলেও দূরতর পাল্লার আন্তনগর যানবাহন চলাচলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া বিপণন, যোগাযোগ ও গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল নাগরিকদের দূরপাল্লার যাতায়াত বিপর্যস্ত হচ্ছে। অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপির ভাবমূর্তি অনেকটাই নষ্ট হয়েছে, বিশেষ করে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মৈত্রীর কারণে। দলটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলনের পরিবর্তে যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে রাস্তায় সহিংসতা বাড়ানোর কৌশল বেছে নিয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সহিংসতা তাই অত্যন্ত অজনপ্রিয় হয়েছে, যাতে করে বিএনপির আন্দোলনের কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
প্রথম আলো : সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে।
রেহমান সোবহান : সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অবলম্বনের কাজটি অত্যন্ত জঘন্য এবং কাপুরুষোচিত। কারণ, জনগণের সবচেয়ে অরক্ষিত অংশটি এই সহিংসতার লক্ষ্যে পরিণত হয়, যাদের প্রতিরোধের সামর্থ্য সবচেয়ে কম। আর যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা হলে সেটা আরও নিন্দনীয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা নতুন নয় এবং রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে বেড়েই চলেছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সুনির্দিষ্ট হামলার সব রকম সম্ভাবনা ছিল। কারণ, তারা চিরাচরিতভাবে আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়ে থাকে—এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অতএব, সম্ভাব্য হামলা এড়াতে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে আরও ভালো সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, এ ধরনের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু এটিই যথেষ্ট হবে না, যেহেতু আমাদের দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে। যেকোনো সরকারের আমলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
প্রথম আলো : অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, করণীয় কী?
রেহমান সোবহান : সহিংসতা ও হরতালের কারণে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আরও ক্ষতি হতে পারে। যেসব দিনমজুর ও কৃষক তাঁদের ফসল বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত। সব ব্যবসাই নির্ভরশীল পরিবহনব্যবস্থার ওপর। পণ্য সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থায় বিঘ্ন হলে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং ব্যয় বৃদ্ধি পায়। তবে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্বল্পমেয়াদি প্রভাব, অন্তত সামষ্টিক অর্থনীতিতে, জিডিপি ও রপ্তানি বৃদ্ধির ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়। এটিকে অতিরঞ্জিত করা উচিত নয়। অব্যাহত রাজনৈতিক সংকটের প্রতিক্রিয়ায় আসলে অনিশ্চয়তার ওপরই জোর দিতে হয় এবং যা নতুন বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর প্রভাব ফেলে এবং আমাদের রপ্তানি বাজারকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। অর্থমন্ত্রীর প্রতি সুপরামর্শ, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় অর্থনীতি রক্ষার স্বার্থে স্বল্পমেয়াদি কিছু উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডারদের-স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করতে হবে এবং তাতে বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ ধরনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিরোধী দল জনস্বার্থের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ
দিতে পারে।
প্রথম আলো : কোনো অর্থবহ সংলাপের সম্ভাবনা কি এখনো আছে?
রেহমান সোবহান : সংলাপ আয়োজন করা সব সময়ই সম্ভব কিন্তু এটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরিপূর্ণ অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মীমাংসায় পৌঁছানোর ব্যাপারে উভয় দলের সদিচ্ছার ওপর। ক্ষমতাসীন জোট যদি মনে করে যে নির্বাচনে ম্যান্ডেট অর্জনের মধ্য দিয়ে তারা সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যেতে পারে যত দিন পর্যন্ত বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলন পরিচালনার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে সরকার সংলাপের ব্যাপারে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। এই নেতিবাচক উদ্দীপনার প্রভাব বিরোধী দলের ওপরও পড়তে পারে, যারা বিক্ষোভ-আন্দোলন অব্যাহত রাখার বিষয়টিকে সম্ভাব্য আগাম নির্বাচনে (একাদশ সংসদ) জয়লাভের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার বাধ্যতামূলক উপায় মনে করতে পারে। এ ধরনের আন্দোলন থেকে চাপের মাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিএনপিকে রাজপথে জামায়াতের সহিংস কর্মকাণ্ডের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হতে হবে। সংলাপের মধ্য দিয়ে আরও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার লক্ষ্যে উভয় জোট যদি এ ধরনের বিকৃত কৌশল পরিহার না করে, তাহলে রাজপথে সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের কবলে পড়ে বাংলাদেশকে আবার একটি বছরব্যাপী অনিশ্চয়তায় পড়তে হতে পারে।
প্রথম আলো : নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাটি কি গণতন্ত্রে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য?
রেহমান সোবহান : যেকোনো ধারণা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাসহ, গ্রহণযোগ্য হবে যদি সেটি গণতন্ত্রকে উন্নীত করে এবং প্রধান দলগুলোর সমর্থন অর্জন করে। গণতন্ত্রে চিরন্তন কোনো ধারণা নেই। আসলে এটি মূলত এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যাতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে কোনো ধরনের ভয় বা জবরদস্তি বা সহিংসতার হুমকি ছাড়াই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিএনপি ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে প্রবর্তন করেছিল। এটি তৎকালীন বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দলের কাছে পরিপূর্ণভাবে অবশ্যই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ, ১৯৯৬ থেকে ২০১১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নিজেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে বিবেচনা করেছে। কেবল ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর পরই ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অগণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যটি আলোচনায় আসে এবং এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়। নবম জাতীয় সংসদে প্রতিষ্ঠা করা হয় সংবিধান সংস্কারবিষয়ক সংসদীয় কমিটি। এটি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রাখার সুপারিশ করে। এমনকি প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করে তাঁর সংক্ষিপ্ত রায়ে পরামর্শ দিয়েছেন যে নতুন বিকল্প ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংসদ চাইলে আরও দুটি নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
প্রথম আলো : এ রকম নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সংকটের সমাধান অদূর ভবিষ্যতে সম্ভব হবে কি?
রেহমান সোবহান : অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশেষ সাক্ষাৎকার: রেহমান সোবহান- সুশীল সমাজের প্রভাব আগের চেয়ে কমেছে by আব্দুল কাইয়ুম
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দশকে ফেসবুকের দশ @শুভ জন্মদিন ফেসবুক

এখন স্বীকৃত যে, ২০০৪ সালে হার্ভার্ডের ডরমেটরিতে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিজ এবং ক্রিস হিউজ। ন্যাপস্টার প্রতিষ্ঠাতা শন পার্কারের পরামর্শে ফেসবুক থেকে ‘দ্য’ বাদ দিয়ে শুধু ফেসবুক করা হয়। ফেসবুকের সদস্য প্রাথমিকভাবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু পরে সেটা বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। আরো পরে এটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, হাই স্কুল এবং ১৩ বছর বা ততোধিক বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
কোটিপতি কিন্তু ভিন্ন মানুষ জাকারবার্গহার্ভার্ডে পড়াশোনার আগে জাকারবার্গ মাইক্রোসফট ও এওএল থেকে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছিলেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কোটিপতি হিসেবে যাঁর নাম আসে তিনি ফেসবুক সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। কোটিপতি হলেও জাকারবার্গ তাঁর ট্রেডমার্ক পোশাক হিসেবে ধূসর টি-শার্ট আর জিনস। এ ধরনের পোশাক পরার কারণ, তাঁকে অন্তত পোশাক নিয়ে কম চিন্তা করতে হয়। ফেসবুক ছাড়াও টুইটার ব্যবহার করেন জাকারবার্গ। কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে কোনো টুইট করেননি তিনি। চীনা বংশোদ্ভূত বান্ধবী প্রিসিলা চ্যানকে বিয়ে করেছেন তিনি। বিশ্বের দানশীল ব্যক্তিদের তালিকায়ও জাকারবার্গের নাম রয়েছে।
ফেসবুকের ভাগ বাটোয়ারাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফেসবুকে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়েছে। আর এই বিনিয়োগকারীরাও বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ২০০৪ সালে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠার সময় ন্যাপস্টারের প্রতিষ্ঠাতা শন পার্কার জাকারবার্গকে পেপ্যালের প্রতিষ্ঠাতা পিটার থায়েলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। থায়েল ফেসবুকে পাঁচ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন এবং ফেসবুকের ১০.২ শতাংশ শেয়ার নিজের করে নেন। ফেসবুক কেনার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান শুরুতেই হাত বাড়িয়েছিল। কিন্তু বিক্রি করেননি জাকারবার্গ। ২০০৬ সালে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে ইয়াহু ফেসবুককে কিনতে চেয়েছিল। জাকারবার্গ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কাজে মনোযোগ দেন। সেসময় মাত্র ১০ লাখ মার্কিন ডলারের জন্য ফেসবুক-ইয়াহুর চুক্তি হয়নি। বর্তমানে ফেসবুকে জাকারবার্গের শেয়ার রয়েছে ২৮ শতাংশ আর শন পার্কারের চার শতাংশ। মস্কোভিজের ৭.৬, সেভেরিনের চার শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ২০০৭ সালে ২৪ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে ফেসবুকের ১.৬ শতাংশের শেয়ার কেনে বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।
ফেসবুকের ব্যর্থতা২০০৭ সালে বিকন নামে একটি সেবা চালু করেছিল ফেসবুক। থার্ড পার্টির সাইটে ব্যবহারকারীকে ট্র্যাক করার এই সেবাটি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুক। এ ছাড়াও ফেসবুক ফোনের চেষ্টাতেও সফল হয়নি ফেসবুক।
সবকিছুতেই লাইক২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেসবুকে লাইক যুক্ত হয়। আর এই লাইক আসার পর ফেসবুকের ব্যবহার আরও জনপ্রিয় হয়েছে। ফেসবুকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চারশো কোটি লাইক দেন ব্যবহারকারীরা। লাইকের পাশাপাশি এখন ডিজলাইকের জন্যও দাবি করছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।
ফেসবুক মৃত্যুশয্যায়
ফেসবুকের সব অ্যাকাউন্ট মানুষের নয়বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২০ কোটির বেশি। কিন্তু ফেসবুকের যত অ্যাকাউন্ট আছে, সব অ্যাকাউন্টধারীই কী বাস্তবের মানুষ? প্রযুক্তি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইমার্কেটার্সের গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, ফেসবুকে ১০ শতাংশের বেশি অ্যাকাউন্টের মালিক কোনো মানুষ নয়। ফেসবুকে ১০ কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্ট রয়েছে পশু, বস্তু বা কোনো ব্র্যান্ডের নামে। আর ফেসবুক ব্যবহার শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তিন কোটি মানুষ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে গেছেন।
ফেসবুকে জাকারবার্গ চতুর্থ
ফেসবুক ব্যবহারকারী তরুণদের গড়ে ৩০০ জন করে বন্ধু রয়েছে। আর শতকরা ৭৫ ভাগ তরুণের সঙ্গে তাঁর অভিভাবকেরা ফেসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা প্রতিমাসে গড়ে অন্তত সাড়ে আট ঘণ্টা শুধু ফেসবুকেই সময় কাটান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘তালেবানদের হয়ে অজুহাত দেয়া বন্ধ করুন’- বিলাওয়াল ভূট্টো জারদারি

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘তালেবানদের হয়ে অজুহাত দেয়া বন্ধ করুন’- বিলাওয়াল ভূট্টো জারদারি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ধরাছোঁয়ার বাইরে ছাত্রলীগের সেই অস্ত্রধারীরা

ওই সময় রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিন (তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক), কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আখেরুজ্জামান তাকিম (তৎকালীন সহ-সভাপতি), রাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তানিম (গণশিক্ষা সম্পাদক), রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিক রহমান আতিক (উপ-দফতর সম্পাদক), যুগ্ম সম্পাদক নাসিম আহমেদ সেতু (উপ-পাঠাগার সম্পাদক) বেশ কয়েকজনকে পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। পরে এরা সবাই ছাত্রলীগের কাণ্ডারি হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। এ ছাড়া গত বছরের ২৮শে নভেম্বর ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে ছাত্রলীগের অন্তত ১০ নেতাকর্মীর হাতে পুলিশের সামনে অস্ত্রবাজি করতে দেখা গেছে। সে সময় ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক আনিসুর রহমান, পলাশ, ফয়সাল আহমেদ রুনু, সাহানুর ইসলাম শাকিল, নাসিম আহমেদ সেতু, সুদীপ্ত সালামসহ বেশ কিছু নেতাকর্মীকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এসব ছবি বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতেও এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত রোববার বর্ধিত ফি বাতিল ও সান্ধ্য কোর্স বন্ধের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। তাদের মুহুর্মুহু গুলি ও ককটেল হামলায় অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস স্ট্যান্ডের পেছন থেকে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা একটি সাদা চাদর গলায় পেঁচিয়ে পিস্তল নিয়ে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একই সময় তার বাম পাশে কালো শার্ট পরে পিস্তল দিয়ে গুলি ছুড়তে দেখা যায় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রানা চৌধুরীকে। ওই সশস্ত্র দলটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে এসে পিস্তল উঁচিয়ে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে আমির আলী হল সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান ইমন। একই সময়ে ইমনের সামনেই কালো জ্যাকেট পরা সাদা পিস্তল হাতে গুলি ছুড়তে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক নাসিম আহমেদ সেতুকে। সেতুর সামনে এগিয়ে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ রুনু। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মমতাজ উদ্দীন কলা ভবন পর্যন্ত তাড়া করেন কালো চাদর পরা সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সুদীপ্ত সালাম। এ সময় তাকে এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে দেখা গেছে। সাবেক কমিটির এই নেতা বিভিন্ন হামলা ও সংঘর্ষে অস্ত্রবাজিতে নিজের পারদর্শিতা প্রমাণে সফল হলেও দলে তিনি বঞ্চিত নেতা হিসেবে পরিচিত।
প্রশাসন ও ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক খালিকুজ্জামানকে প্রধান করে গত রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক শামসুুল আলম সরকার, সিন্ডিকেট সদস্য এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন এবং কমিটির সদস্য সচিব হলেন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এন্তাজুল হক।
অপরদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জয়দেব নন্দী, শাহিনুর রশীদ জুয়েল, জিয়াউল হক, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল। তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচদিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, ছাত্রলীগ অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর কোন হামলা করেনি। বরং শিবিরের ক্যাডাররাই ক্যাম্পাসে হামলা চালালে আমাদের নেতাকর্মী আহত হয়। নিজেদের বাঁচাতে আমরাও আক্রমণ করি।
ছাত্রলীগের কাছে অস্ত্র থাকার বিষয়ে সোজাভাবে না বলে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, প্রতিটি মানুষ যেখানে জীবনের নিরাপত্তা গ্রহণ করে ছাত্রলীগও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অনেক কিছুই করছে। অন্যদিকে, মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিএম সামসুর নূর বলেন, ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী নেতাদের আটক করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হবে বলেও জানান তিনি।
অস্ত্রধারীরা সন্ত্রাসী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র হাতে যারা মহড়া দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যার হাতে অস্ত্র থাকে, সে ছাত্র নয়, সন্ত্রাসী। তার কোন দল থাকতে পারে না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত কাজ চলছে। যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছাত্রদের ওপর হামলাকারী কারা, তাদের অস্ত্র কোথায় গেল, আন্দোলনে কার কি ভূমিকা ছিল- সব বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন: বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনসহ বিভিন্ন ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে দুপুর সাড়ে ১২টায় ডিনস কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে শিক্ষক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্স বন্ধ ও বর্ধিত ফি বাতিলে দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন করছিল। এ নিয়ে গত রোববার ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা শিক্ষকদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল এমনকি শিক্ষকদের বাসভবন, চেম্বার ও অফিসে হামলা-ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। শিক্ষক সমিতি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাব ও বাসভবনে হামলার ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা জানায়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে একই দাবিতে শিক্ষক সমিতি মানববন্ধন করে।
সাংবাদিকদের মানববন্ধন: অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিকদের উপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানান।
গ্রেপ্তার ১: মতিহার ওসি জানান, রোববার ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের অভিযোগে সোমবার ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সজীব আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ যাদের নাম পেয়েছে, তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ফিরিয়ে দাও আমার বারোটি বছর...’
খুব অল্পে রেগে যাওয়ার অভ্যাস তাঁর, সেই রাগ সামলে জবাব দিলেন, ‘কেন আবার, আসল দোষীকে আড়াল করতে।’ খুব বিমর্ষ হয়ে মরিয়ম বেগম বললেন, ‘পাঁচ মাস জেল খেটেছি বিনা দোষে। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। আমাদের এই পাড়ার লোকজনকে শুধু শুধু আসামি করেছিল। এজাহারে নাম ছিল না। কিন্তু অভিযোগপত্রে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এখন আল্লা মুক্তি দিয়েছেন। অপবাদ থেকে মুক্তি পেলাম আমরা।’ মরিয়ম বেগমের মতো অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছেন খোট্টাপাড়ার আরও ১৪ জন মানুষ। ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলায় আসামি করা হয়েছিল এ পাড়ার ১৭ জনকে। তাঁদের মধ্যে দুজন মৃত্যুবরণ করেছেন অপবাদের বোঝা মাথায় নিয়েই। দ্বীন মোহাম্মদ নামের একজনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বাকি ১৪ জন বেকসুর খালাস। বিচারের রায়ে খালাস পেয়ে কেউ ছুটছেন মাজার জিয়ারত করতে, কেউ বা মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করেছেন বাড়িতে। এই মানুষগুলোর জীবনের ১০টি বছর কেটেছে মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে। ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ হয়তো জানবে না কী দুঃসহ সেই কষ্টের বোঝা! খোট্টাপাড়ার মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল গ্রামসংলগ্ন সিইউএফএল ঘাটকে ঘিরে। কেউ ঠিকাদারি, কেউ পরিবহন কেউ বা এমনকি কুলি-কামিনের কাজও করতেন। খোট্টাপাড়ার মানুষের আর কোনো অপরাধ কি ছিল না? ছিল।
মামলা, তদন্ত, বিচার-প্রক্রিয়ায় যত দিন ‘ওপর মহলের’ হাত থাকবে, তত দিন এই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে না আমাদের। তত দিন দেশের কোনো না কোনো প্রান্তে কোনো না কোনো নির্দোষ ব্যক্তির বুক ভেঙে নেমে আসবে এ রকম হূদয়-নিংড়ানো দীর্ঘশ্বাস!
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ধরাছোঁয়ার বাইরে ছাত্রলীগের সেই অস্ত্রধারীরা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এবার আইটেম গার্ল

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এবার আইটেম গার্ল
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতি ও অর্থনীতি- ব্যাংকঋণ পুনর্বিন্যাসের প্রণোদনা by ফারুক মঈনউদ্দীন

এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতির সব খাতের ঋণখেলাপি হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই বিবেচনায় ঋণগ্রহীতা এবং ঋণদানকারী ব্যাংক—উভয় পক্ষের নাজুক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এই দুই সার্কুলারের মাধ্যমে ডাউন পেমেন্ট আদায়, সুদের হার নির্ধারণ এবং ঋণ পুনর্গঠন কিংবা পুনঃ তফসিলীকরণের বিষয়টি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার শর্ত সাপেক্ষে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসএমই কিংবা কৃষিঋণ ছাড়া অন্যান্য ঋণের মেয়াদকাল পুনর্গঠন করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। উল্লেখ্য, এই শিথিলতার সুযোগ গ্রহণের মেয়াদ ৩০ জুন ২০১৪ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
স্মরণে থাকার কথা, ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ভোগ্যপণ্য, ইস্পাত—এসব খাতে বিশ্বমন্দার কবলে পড়ে বহু আমদানিকারক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শেয়ারবাজারের উল্লম্ফনের সময় এবং পতনের আগে পর্যন্ত ব্যাংকগুলো এই বাজার থেকে প্রচুর মুনাফা তুলে নিতে পেরেছিল। ২০১০ সালের শেষ প্রান্তে এসে শেয়ারবাজারের সেই মাতাল বুদ্বুদ বিস্ফোরিত হলে বহু অসতর্ক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী প্রায় পথে বসে যান, তার সঙ্গে আটকা পড়ে যায় বিভিন্ন ব্যাংকের বিপুল ঋণ। বিশ্বের পণ্য বাজারের পতনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আটকে পড়া ঋণের সঙ্গে যুক্ত হয় শেয়ারবাজারে লগ্নি করা ঘোষিত এবং অঘোষিত বিপুল ঋণ। এই ঋণের মধ্যে সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ভোক্তা ঋণ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভিন্ন দিকে সরিয়ে নেওয়া ব্যবসায়িক ঋণ।
এমন পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় ব্যাংকগুলো যখন খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় কঠিন সময় পার করছিল, তখন ২০১২ সালের শেষে খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিলীকরণ, মেয়াদ নির্ধারণ এবং ডাউন পেমেন্ট আদায়ের নিয়মগুলো আরও কঠোর করা হয়। সেই নতুন নীতিমালায় মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ ৯০ দিনের সীমা অতিক্রম করলেই ‘নিম্নমান’ শ্রেণীকৃত হয়ে পড়ে, যার সীমা আগে ছিল ১৮০ দিন। একইভাবে আগের ২৭০ দিনের মেয়াদোত্তীর্ণ ‘সন্দেহজনক’ ঋণের সময়সীমা কমিয়ে করা হয় ১৮০ দিন এবং ৩৬০ দিনের মেয়াদোত্তীর্ণ ‘মন্দ’ শ্রেণীর মেয়াদ কমিয়ে করা হয় ২৭০ দিন।
ঋণ শ্রেণীকরণের এই কঠোরতর নীতিমালার কারণে বহু মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ দ্রুত শ্রেণীকৃত হয়ে পড়ে এবং প্রাথমিক ধাপের শ্রেণীকৃত ঋণগুলো আচমকা পরবর্তী বিরূপ ধাপে নেমে যায়। শ্রেণীকরণের আইন পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছিল ব্যাংকগুলোর ২০১২ সালের হ্রাসকৃত মুনাফায়। অথচ সে সময় ব্যবসায়ী মহল এবং ব্যাংকগুলোর অধিকাংশই ২০০৮-পরবর্তী বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য হ্রাসের ধকল সামলাতে ব্যস্ত। তবু একটি আন্তর্জাতিক মানের শ্রেণীকরণ নীতিমালা প্রবর্তনের স্বার্থে স্থিতিপত্রে বিরূপ ফলাফল সত্ত্বেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিবর্তিত নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে তৎপর হয়েছিল। তবে তার জন্য ২০১৩ সালে নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছিল ব্যাংকিং খাতের মোট শ্রেণীকৃত ঋণ।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত বছরে ব্যাংকিং খাতের নিট মুনাফা কমেছিল ১০৪ শতাংশ, যার প্রধান কারণ ছিল খেলাপি ঋণের উল্লম্ফন। মুনাফা হ্রাসের এই হার বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে ছিল ২৮ শতাংশ, অর্থাৎ সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতেই মূলত মুনাফা হ্রাস পেয়েছিল সবচেয়ে বেশি হারে। এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যে ২০১১ এবং ২০১২ উভয় বছরেই ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা ছিল ১৯,৭০০ কোটি টাকা, অথচ নিট মুনাফা ছিল যথাক্রমে ৯,১০০ এবং ৪,৪০০ কোটি টাকা। দুই বছরে একই পরিমাণ পরিচালন মুনাফা থাকা সত্ত্বেও নিট মুনাফার এই বিশাল পার্থক্য থেকে সহজেই বোঝা যায়, ২০১২ সালের পরিচালন মুনাফার একটা বিশাল অংশ চলে গিয়েছিল শ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে সংস্থান বাবদ। কারণ, কেবল বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে গিয়েছিল প্রায় ৮১ শতাংশ। (সাধারণ পাঠকদের জন্য জানানো প্রয়োজন, খেলাপি বা মন্দ ঋণের বিপরীতে পরিচালন মুনাফা থেকে নির্দিষ্ট হারে কুঋণ সংস্থান রাখতে হয়, যার ফলে কমে যায় নিট মুনাফা)।
এ ছাড়া বিরূপ বিনিয়োগ পরিবেশ, তারল্যসংকট, আমানতের উচ্চ সুদ ব্যয়, আমদানি বাণিজ্যে ভাটা—এসব কারণে ২০১২ সাল ব্যাংকগুলোর জন্য খুব সুখকর বছর ছিল না। তার সঙ্গে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো যুক্ত হয় হল-মার্ক কেলেঙ্কারি, যা ব্যাংকগুলোকে আরও নাজুক পরিস্থিতিতে ঠেলে দেয়। এ রকম বিরূপ পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন মহলের চাপ উপেক্ষা করে ঋণ শ্রেণীকরণ এবং পুনঃ তফসিলীকরণ নীতিমালা কঠোরতর করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
২০১২ সালের ডিসেম্বরে বাড়তি শ্রেণীকরণের চাপ হজম করে ব্যাংকগুলো নতুন বছর শুরু করার পরপরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। এই অস্থিরতা পর্যবসিত হয় তাণ্ডবে, যার বৈশিষ্ট্য ছিল পরিকল্পিত নাশকতা। লক্ষণীয়, এই নাশকতা পরিচালিত হয়েছে অবকাঠামো—যেমন রেললাইন, সড়ক, ট্রেন ও যানবাহন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সরকারি দপ্তর ইত্যাদির বিরুদ্ধে। সবচেয়ে অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে দেশের বৃক্ষ সম্পদের।
নজিরবিহীন এই সহিংসতা, জাতীয় ও ব্যক্তিগত সম্পদের ধ্বংসযজ্ঞ ইত্যাকার তৎপরতায় দেশের পরিস্থিতি যেমন ছিল উত্তাল, তেমনি স্থবির ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য। ফলে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগবিমুখ হয়ে পড়েন, বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে যায় উদ্বেগজনক হারে। তার বিরূপ প্রভাব পড়ে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ওপর। আগের বছরের বাড়তি শ্রেণীকৃত ঋণের বোঝা বাড়লেও নতুন ঋণ বিতরণ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে ব্যাংকগুলোর বাড়তি তারল্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা, জানুয়ারিতে যা ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা, এ রকম অলস তহবিল ব্যাংক বা অর্থনীতির জন্য কোনোভাবেই মঙ্গলকর নয়।
রাজনীতি কখনোই অর্থনীতিকে বাদ দিয়ে চলতে পারে না। একসময় বাণিজ্য, উৎপাদন ও বণ্টন, জাতীয় আয় ও সম্পদ ইত্যাদির সঙ্গে সরকার ও কানুনের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করার শাস্ত্রটিরই নাম ছিল রাজনৈতিক অর্থনীতি। সুতরাং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রাষ্ট্র ও সরকার তথা রাজনীতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হয় দেশ ও মানুষের কল্যাণের জন্য। কিন্তু ২০১৩ সালের প্রায় পুরোটাজুড়েই একযোগে ও বিচ্ছিন্নভাবে চলেছে বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড, যার কুফল জাতি ভোগ করবে আগামী বছরগুলোতে।
গত বছরের এই অস্থিরতা ও ধ্বংসলীলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের উৎপাদন ও সুস্থির কর্মকাণ্ডের ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ঋণ পুনর্বিন্যাস ও শ্রেণীকরণের নিয়মাচারে ছাড় দেওয়ার গৃহীত উদ্যোগ থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্প ও অর্থনীতির কতখানি ক্ষতি হয়েছে। পুনঃ তফসিলীকরণ, ডাউন পেমেন্ট এবং পুনর্গঠিত মেয়াদ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত শিথিল নিয়মাবলি ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের কিছুটা অবকাশ দিতে পারে।
এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা হবে, নির্যাতিত সংখ্যালঘুরাও বিভিন্নভাবে সহায়তা ও অনুদান পেতে পারেন। তবে ঋণগ্রহীতা নন, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত বা সর্বস্বান্ত হয়েছেন দেশজুড়ে এমন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যা নগণ্য নয়। এঁদেরও উৎপাদন ও বাণিজ্যের ধারায় নিয়ে আসার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কারণ, অর্থনীতিতে এই অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রণোদনাহীন খাতের অদৃশ্য সমধিক গুরুত্ববহ। এ ব্যাপারে এনজিও বা মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক দায়িত্বের আওতায় স্বল্প সুদে সহায়তা প্রদান করতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এই বিষয়ে দিতে পারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা।
বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি বা মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ পুনঃ তফসিলীকরণ বিষয়ে যে শিথিলতার অবকাশ দিয়েছে, তার সুফল ঋণগ্রহীতাদের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোও ভোগ করতে পারবে। কারণ, এতে শ্রেণীবিন্যাসিত ঋণের হার কমে আসার ফলে মন্দ ঋণ সংস্থানের পরিমাণও হ্রাস পাবে। তবে এই সুযোগের অপব্যবহার করে স্বেচ্ছাখেলাপি এবং ২০১৩-পূর্ব খেলাপি ঋণগুলো যাতে পুনর্গঠিত না করা হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। অনেক কিছুর বিনিময়ে আমাদের ব্যাংকিং খাতে আন্তর্জাতিক মানের ঋণ শ্রেণীকরণ এবং প্রকৃত মুনাফা প্রদর্শনের যে স্বচ্ছ নিয়ম চালু হয়েছিল, তা এই শিথিলতার সুযোগে যাতে বিনষ্ট না হয়।
ফারুক মঈনউদ্দীন: লেখক ও ব্যাংকার।
fmainuddin@hotmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতি ও অর্থনীতি- ব্যাংকঋণ পুনর্বিন্যাসের প্রণোদনা by ফারুক মঈনউদ্দীন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নগর দর্পণ: চট্টগ্রাম- ‘ফিরিয়ে দাও আমার বারোটি বছর...’ by বিশ্বজিৎ চৌধুরী

বাড়ি চিনতে কোনো অসুবিধা হলো না। গ্রামের মানুষ সবাই চেনেন তাঁর বাড়ি। তাঁকে আড়ালে ‘দস্যু ফুলন’ ডাকা হয় এমন কথা শুনেছি গ্রামের মানুষের কাছেই। এ রকম নামকরণ কেন হলো, তার ঈষৎ নমুনা পেলাম বাড়ির প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে। ভেতর থেকে শোনা যাচ্ছিল বদনী মেম্বারের বাজখাঁই গলা। সালিস করতে বসেছেন তিনি। স্ত্রীর ওপর নির্যাতনকারী এক পুরুষকে যেভাবে বাক্যবাণে বিদ্ধ করছিলেন তিনি, তাতে অভিযুক্ত ব্যক্তির অন্তরাত্মা শুকিয়ে যাওয়ার কথা। ঘরের ভেতর প্রবেশ করে দেখলাম, চেয়ারে বসে আছেন বদনী মেম্বার। তাঁর সামনে কাঁচুমাচু বদনে দাঁড়িয়ে আছেন অভিযুক্ত।
তবে নিজের এলাকায় যত দাপুটেই হোক, মরিয়ম বেগম ওরফে বদনী মেম্বার আসলে খুব সাধারণ বাঙালি মুসলমান পরিবারেরই এক নারী। তাই যেখানে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলাকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলছেন ‘হাইপ্রোফাইল মামলা’ বা রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষ পাল্টা বলছে ‘হাইপ্রোফাইল পলিটিক্যাল রায়’, সেখানে এই মরিয়ম বেগম কেন আট নম্বর আসামি হলেন, সেটা বড় প্রশ্ন হয়ে আছে অনেকের কাছে।
সেই প্রশ্নটাই আমি করেছিলাম তাঁকে, ‘কেন আপনাকে আসামি করা হয়েছিল?’
খুব অল্পে রেগে যাওয়ার অভ্যাস তাঁর, সেই রাগ সামলে জবাব দিলেন, ‘কেন আবার, আসল দোষীকে আড়াল করতে।’ খুব বিমর্ষ হয়ে মরিয়ম বেগম বললেন, ‘পাঁচ মাস জেল খেটেছি বিনা দোষে। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। আমাদের এই পাড়ার লোকজনকে শুধু শুধু আসামি করেছিল। এজাহারে নাম ছিল না। কিন্তু অভিযোগপত্রে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এখন আল্লা মুক্তি দিয়েছেন। অপবাদ থেকে মুক্তি পেলাম আমরা।’
মরিয়ম বেগমের মতো অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছেন খোট্টাপাড়ার আরও ১৪ জন মানুষ। ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলায় আসামি করা হয়েছিল এ পাড়ার ১৭ জনকে। তাঁদের মধ্যে দুজন মৃত্যুবরণ করেছেন অপবাদের বোঝা মাথায় নিয়েই। দ্বীন মোহাম্মদ নামের একজনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বাকি ১৪ জন বেকসুর খালাস।
বিচারের রায়ে খালাস পেয়ে কেউ ছুটছেন মাজার জিয়ারত করতে, কেউ বা মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করেছেন বাড়িতে। এই মানুষগুলোর জীবনের ১০টি বছর কেটেছে মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে। ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ হয়তো জানবে না কী দুঃসহ সেই কষ্টের বোঝা! খোট্টাপাড়ার মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল গ্রামসংলগ্ন সিইউএফএল ঘাটকে ঘিরে। কেউ ঠিকাদারি, কেউ পরিবহন কেউ বা এমনকি কুলি-কামিনের কাজও করতেন।
খোট্টাপাড়ার মানুষের আর কোনো অপরাধ কি ছিল না? ছিল। বন্দরসংলগ্ন এলাকা বলে এখানে ছোটখাটো কিছু চোরাচালানোর ঘটনা ঘটত প্রায়ই। জাহাজ থেকে বিদেশি সিগারেট, টেলিভিশন বা এ রকম কিছু পণ্যের অবৈধ বিকিকিনি চলত। স্থানীয় পুলিশও অবহিত ছিল। খুব সম্ভবত নিয়মিত বখরা পেয়ে চুপচাপ থাকত তারাও। এমনকি বদনী মেম্বারেরও এসব বিষয়ে প্রশ্রয় ছিল বলে লোকমুখে জেনেছিলাম তখন। ধারণা করি, এসব ‘দুর্বলতাকে’ই কাজে লাগিয়েছিল তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সিইউএফএল ঘাটে অস্ত্র আটকের সেই ‘বিরাট কর্মযজ্ঞের’ দায় চাপানো হয়েছিল এই চুনোপুঁটিদের কাঁধে।
খোট্টাপাড়ার কথা তো গেল। এই অস্ত্র মামলার আসামি পুলিশের দুই সদস্যের কাহিনি আরও করুণ। বলতে গেলে পুলিশের এই দুই সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন ও আলাউদ্দিনের সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার কারণেই উদ্ধার হয়েছিল ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি।
এপ্রিল মাসে কয়লা ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ছিলেন হেলাল উদ্দিন। ওই একই সময়ে সার্জেন্ট আলাউদ্দিন ছিলেন বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ। ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের রাতে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা সিইউএফএল ঘাটে ছুটে যান। ঘটনাস্থল থেকে বেতার মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অস্ত্রের ব্যাপারে খবর দেন। তাঁদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ভেবেছিলেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে এই সাহস ও সততার জন্য পুরস্কৃত হবেন তাঁরা। কিন্তু পুরো ব্যাপারটি হঠাৎ এমন উল্টো দিকে মোড় নেবে কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা। অস্ত্র আটকের পর যে পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে, তাঁদের তো ছেড়ে দেওয়া হলোই, উপরন্তু খড়্গ নেমে এল সাহসী দুই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর।
১০ ট্রাক অস্ত্র থেকে দুটি একে-৪৭ রাইফেল খোয়া গেছে এবং সেগুলো এই দুই কর্মকর্তা চুরি করে বিক্রি করেছেন এই অভিযোগে নির্মম অত্যাচার চালানো হয় তাঁদের ওপর। পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে সার্জেন্ট হেলালের। দুর্ধর্ষ আসামির মতো পায়ে ডান্ডা বেড়ি পরিয়ে তাঁকে হাজির করা হয়েছিল আদালতে। দুই বছর চার মাস কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। একই ধরনের অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সার্জেন্ট আলাউদ্দিনও। অথচ সরকার পরিবর্তনের পর অপরাধ তদন্ত বিভাগের রিপোর্টে দেখা যায়, ১০ ট্রাক অস্ত্রের মধ্যে কোনো একে-৪৭ রাইফেলই ছিল না। ২০০৫ থেকে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট পর্যন্ত দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছে হেলালের পরিবার। হেলালের মা-বাবা দুজনই স্কুলশিক্ষক। সেই শিক্ষক দম্পতির ছেলে হেলালের ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল অপরাধী হিসেবে।
হেলাল উদ্দিন ও আলাউদ্দিন চাকরি ফিরে পেয়েছেন। কিন্তু কে ফিরিয়ে দেবে তাঁদের হারানো সময়? সার্জেন্ট আলাউদ্দিন যেমন পত্রিকান্তরে বলেছেন, ‘সব মানুষের কাজের একটি পিক টাইম থাকে। আমি তো জীবনের সেই সময় হারিয়ে ফেলেছি। এখন আমি বৃদ্ধ। ছয় বছর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শেষে নতুন জীবন পেয়েছি বটে, তবে সে জীবনের কোনো স্বাদ নেই। আমার পুরো জীবন এলোমেলো হয়ে গেছে। সামাজিক জীবনে আমি আর আমার পরিবার ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই পাইনি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার জীবনটা তছনছ হয়ে গেল।’
আজ বদনী মেম্বার, খোট্টাপাড়ার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলো আর দুই দায়িত্ববান পুলিশ কর্মকর্তার মনেও
হয়তো ঘুরছে সুচিত্রা সেনের সেই সংলাপ ‘ফিরিয়ে দাও আমার বারোটি বছর...’। তাঁদের জীবনের সোনালি সময়গুলো কে ফিরিয়ে দেবে?
মামলা, তদন্ত, বিচার-প্রক্রিয়ায় যত দিন ‘ওপর মহলের’ হাত থাকবে, তত দিন এই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে না আমাদের। তত দিন দেশের কোনো না কোনো প্রান্তে কোনো না কোনো নির্দোষ ব্যক্তির বুক ভেঙে নেমে আসবে এ রকম হূদয়-নিংড়ানো দীর্ঘশ্বাস!
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নগর দর্পণ: চট্টগ্রাম- ‘ফিরিয়ে দাও আমার বারোটি বছর...’ by বিশ্বজিৎ চৌধুরী
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১০ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

পূর্ণাঙ্গ রায়ে চোরাচালান মামলার রায় ২৬০ পৃষ্ঠা এবং অস্ত্র আটক মামলার রায় ২৫৪ পৃষ্ঠা।
গত ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দুটি মামলার মধ্যে একটিতে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
চোরাচালানের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৫২ আসামির মধ্যে ১৪ জনকে এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়। বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এই মামলায় একই সঙ্গে এঁদের পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। আর অস্ত্র আইনে করা মামলায় এই ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় আসামি ছিলেন ৫০ জন।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাকভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে দুটি মামলা হয়। সিআইডি পুলিশ দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে। এর বিচারও একসঙ্গে শুরু হয়।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এ মামলায় রাষ্ট্রের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এমনকি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (এনএসআই) কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা বিশ্বের আর কোথাও ঘটেছে কি না সন্দেহ।
বাবর, নিজামী ও পরেশ বড়ুয়া ছাড়া ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুর রহিম, পরিচালক উইং কমান্ডার (অব.) সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ, উপপরিচালক মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেন, এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসিন উদ্দিন তালুকদার, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নুরুল আমিন, অস্ত্র বহনকারী ট্রলারের মালিক হাজি সোবহান, চোরাকারবারি হাফিজুর রহমান এবং অস্ত্র খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহকারী দ্বীন মোহাম্মদ। এঁদের মধ্যে পরেশ বড়ুয়া ও নুরুল আমিন পলাতক।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের কথা শুনেও নীরব ছিলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সাদিক হাসান রুমী তাঁকে অস্ত্র আটকের তথ্য জানিয়েছিলেন।
বিচারক বলেন, এ অস্ত্র ও চোরাচালানের মামলা দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (এনএসআই) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। এসব কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় তাঁদের জবানবন্দিতে এবং যাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁরা একে অন্যকে জড়িয়ে যেসব তথ্য দিয়েছেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে তাঁদের সঙ্গে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) যোগাযোগ ছিল। তাঁরা এটা স্বীকারও করেছেন। এনএসআইয়ের তখনকার মহাপরিচালক (ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিম) তাঁদের সহায়তায় সস্ত্রীক দুবাইয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
এনএসআইয়ের উপপরিচালক মেজর লিয়াকত স্বীকার করেন, উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া ও অনুপ চেটিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। তিনি এ বিষয়ে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। অস্ত্র আটকের সময় মেজর লিয়াকত নিজেকে আবুল হোসেন পরিচয় দিয়ে বাধা দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন।
রায়ে বলা হয়, ডিজিএফআইয়ের তত্কালীন মহাপরিচালক সাদিক হাসান রুমী সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জানিয়েছিলেন, তিনি তখনকার প্রধানমন্ত্রীকে ঘটনাটি জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নীরবতা দেখিয়েছিলেন। এ ঘটনাও মামলায় এসেছে।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরের কথা উল্লেখ করে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এ ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। কমিটিতে পাঁচজন সদস্য ছিলেন, যাঁদের তিনজনই এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামানও সাক্ষ্য দিয়েছেন।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, ওই সময় শিল্পমন্ত্রী ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী। শিল্পসচিব ছিলেন শোয়েব আহমেদ। তিনি সাক্ষ্য দিতে এসে বলেছিলেন, বিসিআইসি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। তাই সিএফইউএল বিসিআইসির অধীন হওয়ার কারণে এর দায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের। ওই সময় বিসিআইসির চেয়ারম্যান ছিলেন ইমামুজ্জামান। শোয়েব আহমেদ তাঁর সাক্ষ্যে বলেছিলেন, অস্ত্র আটকের ঘটনা তিনি নিজামীকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিতে বলেছিলেন। এ ঘটনা সরকারের সবাই অবহিত আছেন বলেও তিনি (নিজামী) তাঁকে জানিয়েছিলেন।
পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর ঘটনার পর চট্টগ্রামে এসে অস্ত্র পরিদর্শন করেছেন, বৈঠক করেছেন, তদন্ত কমিটি করেছেন। এসব বিষয় এ মামলায় এসেছে। রায়ে বলা হয়, লুত্ফুজ্জামান বাবর ও মতিউর রহমান নিজামী আদালতে বারবার বলেছিলেন, তাঁদের রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করার জন্য এ মামলায় জড়ানো হচ্ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে তাঁদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিতে দেখা যায়নি। যাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁরা তাঁদের অধীন ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, সাক্ষীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে এ মামলায় হাওয়া ভবনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিমের জন্য উইং কমান্ডার (অব.) সাহাবউদ্দিনের মাধ্যমে টাকা দেয় দুবাইয়ের এআরওয়াই গ্রুপ। এ গ্রুপের আবদুর রাজ্জাক ইউসুফের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের যোগাযোগ ছিল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্র আটক ও চোরাচালান মামলায় ২০০৪ সালের ১১ জুন প্রথম দফা ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৫ আগস্ট সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ মামলা দুটির অধিকতর তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৬ জুন নতুন করে বাবর, নিজামীসহ ১১ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অস্ত্র আটক মামলায় ৫০ জন এবং চোরাচালান আইনে ৫২ জনকে আসামি করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। অস্ত্র আটক মামলায় ৫৬ এবং চোরাচালান আইনে ৫৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1421)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
February
(405)
-
▼
Feb 04
(37)
- সহজিয়া কড়চা- বঙ্গীয় ইস্টমিনস্টার সরকারপদ্ধতি by সৈ...
- ভারত- রাষ্ট্রপতি মুখার্জিকে ভাবতে হবে by কুলদীপ নায়ার
- ভারত- রাষ্ট্রপতি মুখার্জিকে ভাবতে হবে by কুলদীপ নায়ার
- সহজিয়া কড়চা- বঙ্গীয় ইস্টমিনস্টার সরকারপদ্ধতি by সৈ...
- ম্যান্ডেলার সম্পত্তির মূল্য ৪১ লাখ ডলার
- নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক
- হফম্যানের মৃত্যুতে সহকর্মীদের শোক
- বঙ্গীয় ইস্টমিনস্টার সরকারপদ্ধতি
- সংগঠনটি কি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে?- স্বরূপে ফির...
- সংগঠনটি কি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে?- স্বরূপে ফির...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার: রেহমান সোবহান- সুশীল সমাজের প্রভ...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার: রেহমান সোবহান- সুশীল সমাজের প্রভ...
- দশকে ফেসবুকের দশ @শুভ জন্মদিন ফেসবুক
- ‘তালেবানদের হয়ে অজুহাত দেয়া বন্ধ করুন’- বিলাওয়াল ভ...
- ‘তালেবানদের হয়ে অজুহাত দেয়া বন্ধ করুন’- বিলাওয়াল ভ...
- ধরাছোঁয়ার বাইরে ছাত্রলীগের সেই অস্ত্রধারীরা
- ‘ফিরিয়ে দাও আমার বারোটি বছর...’
- ধরাছোঁয়ার বাইরে ছাত্রলীগের সেই অস্ত্রধারীরা
- এবার আইটেম গার্ল
- এবার আইটেম গার্ল
- রাজনীতি ও অর্থনীতি- ব্যাংকঋণ পুনর্বিন্যাসের প্রণোদ...
- রাজনীতি ও অর্থনীতি- ব্যাংকঋণ পুনর্বিন্যাসের প্রণোদ...
- নগর দর্পণ: চট্টগ্রাম- ‘ফিরিয়ে দাও আমার বারোটি বছর....
- নগর দর্পণ: চট্টগ্রাম- ‘ফিরিয়ে দাও আমার বারোটি বছর....
- ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- মন্ত্রীর মহিষের খোঁজে পুলিশ হয়রান!
- শেষ রাতে প্লাস্টিক সার্জারি করাতেন গাদ্দাফি
- থাই নির্বাচন বাতিলে বিক্ষোভ
- রোনাল্ডোর লাল কার্ড
- গুঞ্জন শুনি
- নবজাতকসহ মাকে পুড়িয়ে হত্যা
- ভোট শেষ নির্বাচন শেষ হয়নি
- মমতা-মনমোহন একই মঞ্চে
- তানভির-আরিফুলের সেঞ্চুরি মিস
- প্রতিবাদী চরিত্রে নাদিয়া
- দশকে ফেসবুকের দশ @শুভ জন্মদিন ফেসবুক
-
▼
Feb 04
(37)
-
▼
February
(405)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



