Monday, November 18, 2024
ক্রমাগত সহিংসতায় উত্তপ্ত মণিপুর, চলছে ধরপাকড়
এতে বলা হয়, সহিংস এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্যে বেশ কিছু এলাকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রদায় দুটির মধ্যে গত মে থেকেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্রমাগত এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক হাজার। শনিবার বিক্ষোভকারীরা রাজ্যের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কয়েক ডজন আইন প্রণেতাদের বাড়ি এবং অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে।
মেইতেই অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সেখানের ইম্ফল উপত্যকা এবং বিষ্ণুপুর জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এমন সহিংস পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রোববার এই পরিস্থিতিতে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। এ মাসে কুকি ও মেইতেই সম্প্রদায়ের সহিংসতায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। গত ৭ই নভেম্বর রাজ্যের জিরিবাম জেলায় কুকি সম্প্রদায়ের এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর গত কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। ওই নারীকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর চারদিন পর ওই এলাকার একটি থানা এবং ত্রাণ ক্যাম্পে হামলা করে মেইতেই সম্প্রদায়ের লোকজন। তবে এই হামলার দায় কুকিদের ওপর চাপিয়েছে তারা। যার জের ধরেই ক্রমাগত সিহংসতায় জ্বলছে মণিপুর রাজ্য।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বর্ণখনি ঘিরে রেখে অপেক্ষা করছে পুলিশ, ভেতরে কয়েকশ শ্রমিক
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে স্টিলফোনটেইনের খনিতে আটকা পড়েছেন ওই শ্রমিকরা। কিন্তু তাদের উদ্ধার করছে না পুলিশ। এমনকি তাদের কাছে খাবার ও পানি পর্যন্ত পৌঁছতে দিচ্ছে না নিরাপত্তা বাহিনী। উল্টো পুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একজন মন্ত্রী।
আটকা পড়া শ্রমিকরাও খনি থেকে বের হতে চাইছেন না। এক মাস ধরে তারা খনির ভেতর আছেন। শ্রমিকদের ভয়, বের হলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। বিশেষ করে, খনির ভেতর থাকা অবৈধ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। এমন অচলাবস্থা সৃষ্টির পর সরকারের কড়া সমালোচনা করছে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষজন।
জনমত তৈরি হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবীদের অল্পস্বল্প খাবার নিয়ে খনিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে পুরো বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। শনিবার প্রিটোরিয়ার একটি আদালত খনি শ্রমিকদের জন্য রাস্তা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি কাউকে সেখানে ঢুকতে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও জানিয়েছেন আদালত। তবে শনিবার বের হওয়া তিন শ্রমিকের মধ্যে একজনের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালে। অপর দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে খনির ভেতর আটকে থাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে থাকা খাবার ও পানি প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। উপায়ন্তর না দেখে খনির ভেতর থাকা শ্রমিকরা বেঁচে থাকার জন্য ভিনেগার ও টুথপেস্ট খাচ্ছেন। এরই মধ্যে খনির ভেতর থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্বেচ্ছাসেবীরা। শ্রমিকদের জোরপূর্বক বের করতে অভিযান চালানো হবে কিনা- তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
খনি থেকে বের হওয়ার পর এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খনিজসম্পদে ভরপুর দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বের মজুদ থাকা মোট সোনার প্রায় ৩০ শতাংশ রয়েছে। প্লাটিনাম রয়েছে ৮৮ শতাংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক খনি বন্ধ করে দিয়েছে সে দেশের সরকার। এতে চোরাকারবারি বেড়ে গেছে, ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অসীমার বেঁচে থাকার ‘অলৌকিক’ গল্প by মানসুরা হোসাইন
অসীমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাটি জানতে হলে ফিরতে হবে ২০০৬ সালের মে মাসে। তখন অসীমার বয়স আনুমানিক ৮ মাস। অপহরণের শিকার হয় শিশুটি। শুধু তা–ই নয়, অপহরণের ঘটনায় জড়িত এক কিশোরী মালবাহী ট্রেনে করে শিশুটিকে নিয়ে যাচ্ছিল। নরসিংদীর খানাবাড়ি স্টেশনের কাছে ওই কিশোরীর কাছ থেকে অসাবধানতাবশত ট্রেনের নিচে পড়ে যায় শিশুটি। গুরুতর আহত হয় সে। একটি পা কেটে যায়। আঘাত লাগে মাথায়।
নরসিংদীর স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। বিষয়টি আদালতে গড়ায়। দীর্ঘদিন মামলা চলে। তবে শিশুটির পরিবারের খোঁজ মেলেনি। ঠাঁই হয় রাজধানী ঢাকায়, সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড রিহেভিলিটেশন ফর ডেসটিটিউট উইমেন নামের একটি বেসরকারি সংস্থার আশ্রয়ে। ওই সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিরা শিশুটির নাম দিয়েছিলেন ‘ভাগ্যশ্রী’।
‘ভাগ্যশ্রী’ থেকে ‘অসীমা’
২০০৬ সাল থেকে শামীম খান ও নীতা আফরোজা খান দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। শামীম খান যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। রিমি খান, তেসা শামীম খান ও শায়লা সাহেরা খান নামের তিন মেয়ে এই দম্পতির। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অসীমাও। তাই শামীম ও নীতার ঘরে এখন চার মেয়ে। শামীম খান অসীমার আইনি অভিভাবক।
কিন্তু ঢাকার সেই ‘ভাগ্যশ্রী’ কীভাবে ‘অসীমা’ হলেন? কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন?
২০০৮ সালের শুরুর দিকের ঘটনা। শামীম খানের শ্বশুর থাকেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। শ্বশুরকে জানিয়েছিলেন, তিনি ও নীতা একটা মেয়েশিশুর অভিভাবকত্ব নিতে চান। সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড রিহেভিলিটেশন ফর ডেসটিটিউট উইমেনের আশ্রয়ে থাকা ভাগ্যশ্রীর কথা শ্বশুর তাঁকে জানান।
এক পা কাটা ছোট্ট শিশুটির ছবি দেখে শামীম ও নীতা দম্পতির ভালো লেগে যায়। তাঁরা শিশুটিকে নিতে আগ্রহী হন। আদালতের মাধ্যমে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন মা–বাবার হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায় ছোট্ট শিশুটি। ভাগ্যশ্রীর নতুন নাম হয় অসীমা।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন
যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অসীমার গল্পটা একেবারেই ভিন্ন। সেখানে পারিবারিক আবহে বড় হতে থাকে সে। শামীম খান বেশ গর্বের সঙ্গেই বললেন, ‘আমার চার মেয়ের একজন অসীমা। মেয়েটা বেশ চটপটে, স্মার্ট।’
শামীম খান আরও বলেন, ‘আমার কাছে চার মেয়েই সমান প্রিয়। তবে অসীমার জন্য মনের মধ্যে একটি স্পেশাল জায়গা আছে। একদম ছোটবেলায় সে তার মাকে হারিয়েছে। উদ্ধার করা সম্ভব না হলে, আমরা না পেলে মেয়েটা যে কোথায় ভেসে যেত, কেউ তা জানে না। তাই মেয়েটির জন্য বিশেষ অনুভূতি কাজ করে।’
অসীমার বয়স এখন প্রায় ১৯ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি। এখন থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে। কৃত্রিম পা লাগিয়ে চলাফেরা করেন। দাপিয়ে বেড়ান ক্যাম্পাসে।
অসীমার বয়স যখন ৯ বছর, তখন শৈশবে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো জানতে পারেন তিনি। শামীম খান বলেন, ‘জানার পর অসীমার মুখটা গম্ভীর হয়ে গিয়েছিল। তবে এমন একটা ভঙ্গি করেছিল, যেন কোনো ব্যাপার না। পরে জিজ্ঞাসা করেছিল, “তোমরা কি আমাকে আমার আসল মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেবে?” তখন তাকে বলা হয়, তোমাকে কোথাও পাঠানো হবে না।’
আসল মায়ের খোঁজে
বড় হতে হতে অসীমার মধ্যে তাঁর আসল মায়ের মুখ দেখার, নিজের আসল পরিচয় জানার আগ্রহ তৈরি হয়, এমনটাই জানান শামীম খান।
ব্যক্তিগত কাজে দেশে এসেছিলেন শামীম খান। ব্যস্ততার ফাঁকে ৬ নভেম্বর তিনি কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে আসেন। অসীমার গল্পগুলো শোনান। এর আগে ২০০৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এসব গল্প নিয়ে প্রথম আলোর ছুটির দিনে পাতায় ‘অপহরণের কবল থেকে মায়ের কোলে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।
শামীম খান জানান, মায়ের খোঁজে অসীমা দুবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। প্রথমবার ২০১৭ সালে। সবশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। সঙ্গে ছিলেন শামীম-নীতা দম্পতি। নরসিংদীর যেখানকার রেললাইন থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন অসীমা।
ওই সময় শিশুটিকে যাঁরা উদ্ধার করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বোরহান উদ্দীন ও আলম। নরসিংদীতে গিয়ে আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন অসীমা। তখনকার ভিডিও দেখালেন শামীম খান। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অসীমা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কাঁদছেন।
যা বললেন উদ্ধারকারীরা
বোরহান উদ্দীন পেশায় ব্যবসায়ী। গত শনিবার মুঠোফোনে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। জানান, ওই ঘটনার দিন নরসিংদীর কাছাকাছি খানাবাড়ি স্টেশনমাস্টারের কক্ষে বসে ছিলেন তিনি। একজন রিকশাচালক শিশুটিকে নিয়ে আসেন। সবার কাছ থেকে চাঁদা তুলতে চাইছিলেন শিশুটির চিকিৎসার জন্য। পরে তিনি চিকিৎসার ভার নেন। নরসিংদী সদর হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলে।
বোরহান উদ্দীন বলেন, সেখানেই শিশুটির সঙ্গে শেষবার দেখা হয় তাঁর। অসীমা যে দুবার নরসিংদী এসেছিলেন, তখন দেখা করা সম্ভব হয়নি।
অসীমা এখন ভালো আছেন—এটাই বোরহান উদ্দীনের তৃপ্তির জায়গা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাচ্চাটার বেঁচে থাকাটাই ছিল অলৌকিক বিষয়। চলন্ত মালবাহী ট্রেন থেকে পড়ে এক পা কেটে গিয়েছিল। মাথায় আঘাত লেগেছিল। তখন তো ছোট দেহটা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।’
তথ্য দেয়নি অপহরণের সঙ্গে জড়িত কিশোরী
শামীম খানের সঙ্গে কথা বলে ও মামলার নথি ঘেঁটে জানা যায়, ওই সময় বেলাল ও এক কিশোরী ছোট্ট শিশুটিকে অপহরণ করেছিলেন। তাঁরা জবানবন্দিতে একবার বলেছেন টঙ্গী থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। আরেকবার বলেছেন, রাজধানীর তেজগাঁও থেকে শিশুটিকে চুরি করেছিলেন তাঁরা।
নথি অনুযায়ী, নরসিংদীর কাছাকাছি খানাবাড়ি রেলস্টেশন পার হওয়ার সময় অসাবধানে কিশোরীর হাত ফসকে শিশুটি নিচে পড়ে যায়। তারপর স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে বেলাল ও ওই কিশোরী হাসপাতালে গিয়ে শিশুটি তাঁদের সন্তান বলে দাবি করলে অন্যদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ এসে বেলাল ও ওই কিশোরীকে আটক করে।
শামীম খান জানান, ২০১৭ সালে কারাগার থেকে ছাড়া পান বেলাল। আর গাজীপুরের জাতীয় কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে ওই কিশোরী ছাড়া পেয়েছেন চলতি বছরের শুরুর দিকে। তবে ২০১৭ সালেই শামীম খান দেশে এসে উন্নয়ন কেন্দ্রটিতে গিয়ে ওই কিশোরীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন। অসীমার মায়ের বা বেলালের কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেই চেষ্টা করেন। তবে কিশোরীর কাছ থেকে কোনো তথ্য উদ্ধার করতে পারেননি।
আশায় আছেন অসীমা
শামীম খান বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়স এখন ১৯ বছর হয়েছে। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই মেয়ের আসল মাকে খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি।’
শামীম খান আরও বলেন, ‘অপহরণের সঙ্গে জড়িত কিশোরী জানিয়েছে, অসীমার আসল মায়ের নাম নাজমা। তেজগাঁও স্টেশন থেকে অসীমাকে বেলাল চুরি করেছিল। এর বাইরে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’
‘মেয়ের নরসিংদী যাওয়ার পর তার অনুভূতিটা বুঝতে পারি। অসীমাকে উদ্ধারের সময় আলম নামের যিনি ছিলেন, তাঁর বাড়িতে গেলে অসীমা তাঁকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে। মাকে খুঁজে পেতে চায় বলেও জানায়,’ এমনটাই বলছিলেন শামীম খান।
অসীমা বাংলা বুঝতে পারেন। তবে লিখতে বা পড়তে পারেন না। কিছুটা বলতে পারেন। বাবা শামীম খান জানান, অসীমা প্রথম আলোর মাধ্যমে তাঁর আসল মায়ের চেহারাটা দেখতে চান। তবে সত্যি সত্যি যদি মায়ের খোঁজ পাওয়া যায়, তখন কী করবেন, তা এখনো ভাবেননি বলেও জানান অসীমা।
| মা নীতা আফরোজা খানের সঙ্গে অসীমা খান। ছবি: শামীম খানের সৌজন্যে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পূর্ণাঙ্গ ভাষণ
কালবেলার পাঠকদের জন্য প্রধান উপদেষ্টার ভাষণটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
প্রিয় দেশবাসী, শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, বয়স্ক, বৃদ্ধ, পুরুষ, মহিলা সবাইকে সালাম জানাচ্ছি।
আসসালামু আলাইকুম,
শুরুতেই স্মরণ করছি, মুক্তিযুদ্ধের লাখো লাখো শহিদ এবং গত জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র শ্রমিক জনতার অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদকে। সবাইকে জানাচ্ছি আমার সশ্রদ্ধ সালাম ও গভীর শ্রদ্ধা। আরও স্মরণ করছি তাদের, ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে যারা আহত হয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে। যারা নয় দফা নিয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা এক দফা নিয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা দেশকে এক হিংস্র স্বৈরাচারের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি আপনাদের, আপনাদের ভাই-বোনদের, আপনাদের সন্তানদের যারা এই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছে।
আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম ১০০ দিন অতিক্রম করলাম। আপনারা জানেন কি কঠিন এক পরিস্থিতিতে আমাদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভূতপূর্ব গণ অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধান পালিয়ে গেলে দেশ সরকার-শূন্য হয় সাময়িকভাবে। পুলিশ প্রশাসন ও এসময় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে উদ্বেগজনক এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বৈরশাসনে বিপর্যস্ত এই দেশকে আমাদের সবাইকে মিলে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে।
জুলাই-অগাস্ট বিপ্লবের পর আমরা এমন একটি দেশ হাতে পেয়েছি যার সর্বত্র ছিল বিশৃঙ্খলা। স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিপ্লব চলাকালে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-শ্রমিক জনতার শহীদি মৃত্যু হয়। আমাদের সরকার প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য অত্যন্ত যত্নের সাথে জোগাড় করছে। এই বিপ্লবে আহত হয়েছে ১৯,৯৩১ জন। আহতদের জন্য ঢাকার ১৩টি হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিনই তালিকায় আরও নতুন নতুন শহীদদের তথ্য যোগ হচ্ছে যারা স্বৈরাচারের আক্রোশের শিকার হয়ে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। প্রতিটি হত্যার বিচার আমরা করবোই। জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারের যে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি, তার কাজও বেশ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকেও আমরা ভারত থেকে ফেরত চাইবো।
কেবল জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডই নয়, আমরা গত ১৫ বছরে সব অপকর্মের বিচার করবো। অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছে, খুন হয়েছে এই সময়ে।
আমরা গুমের তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেছি। কমিশন প্রধান আমাকে জানিয়েছেন অক্টোবর পর্যন্ত তারা ১,৬০০ গুমের তথ্য পেয়েছেন। তাদের ধারণা এই সংখ্যা ৩,৫০০ ছাড়িয়ে যাবে। অনেকেই কমিশনের কাছে গুমের অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন এই ভেবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা তারা আবার আক্রান্ত হতে পারেন, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা দ্বিধাহীন চিত্তে কমিশনকে আপনাদের অভিযোগ জানান। কারো সাধ্য নেই আপনাদের গায়ে আবার হাত দেয়।
গুম কমিশনের সদস্যদের কাছে ভুক্তভোগীদের যে বিবরণ আমরা পেয়েছি তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। জুলাই-আগেস্টের বিপ্লবের পর ছাত্র-ছাত্রীরা শহর বন্দরের দেয়ালে দেয়ালে তাদের মনের কথা লিখেছে। তাদেরও আগে যারা গুমের শিকার হয়েছে, প্রতিটি গোপন আস্তানার দেয়ালে দেয়ালে তারা লিখে গেছেন রেখেছেন তাদের কষ্টের মর্মস্পর্শী বিবরণ। তাদের এসব কষ্টের কথা শুনে আমাদের হৃদয় কেঁপে উঠেছে। এসবের সঙ্গে জড়িতদের আমরা বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবোই। অভিযুক্ত যতই শক্তিশালী হোক, যে বাহিনীরই হোক তাকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেবল দেশে নয়, গুম, খুন ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সাথে জড়িতদের আমরা আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের প্রধান কৌশলী করিম খানের সঙ্গে আমার এ ব্যপারে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলোর কোনো সদস্য কিংবা অন্য কেউ যাতে হত্যা, গুমসহ এ ধরনের কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না পারে এ জন্য আমরা গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে সাক্ষর করেছি। আপনারা দেখেছেন, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। জাতিসংঘ জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তারা আমাদেরকে তাদের রিপোর্ট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অতীতের গুমের ঘটনা গুলো তদন্ত কাজেও আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। মানবাধিকার রক্ষায় সহযোগিতা করতে ঢাকায় তারা তাদের জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছি।
প্রিয় দেশবাসী,
আমি আগেও জানিয়েছি, আবারো জানাচ্ছি, গণ-অভ্যুথানে সকল শহিদদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। একজনও বাদ যাবে না। সকল আহত শিক্ষার্থী-শ্রমিক-জনতার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে। আহতদের দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহীদদের পরিবারের দেখা-শোনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি শহীদ পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা দেয়া হচ্ছে। যারা বুলেটের আঘাতে তাদের দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন তাদের চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে কর্নিয়া আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের প্রয়োজন তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের কোন শহীদ এবং আহত ছাত্র শ্রমিক চিকিৎসা সেবা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা থেকে বাদ যাবে না। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অঙ্গীকার।
এই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে গঠিত “জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন” বেশ পাকাপোক্তভাবে তাদের কাজ শুরু করেছে। এই ফাউন্ডেশনে সরকার ১০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। এছাড়াও জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বরাদ্দ প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
পতিত স্বৈরাচার পুলিশকে দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করেছে। বাধ্য হয়ে তাদের অনেকেই গণহত্যায় অংশ নিয়েছেন। খুবই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা জনরোষের শিকার হয়েছেন। এতে তাদের মনোবল অনেক কমে যায়। আমরা পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে এনে তাদের আবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে অনেক দৃশ্যমান উন্নতিও হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও কিছু নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতিতে সহায়তা করেছে।
আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, কঠিন এই সময়ে আপনারা সবাই অপরিসীম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছেন। ধন্যবাদ জানাই দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে। তারা তাদের কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিশোধ স্পৃহায় লিপ্ত হয়ে কেউ যাতে হানাহানিতে জড়িয়ে না পড়ে সেই আহ্বান জানিয়েছেন। আপনাদের সবাই এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদী শক্তি ভয় দেখিয়েছিল তারা ক্ষমতা ছাড়লে দেশে লাখ লাখ লোক মারা পড়বে। টানা সাত দিন পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকার পরও ব্যাপক আকারে সহিংসতা এড়ানো গেছে।
আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, বাংলাদেশ তখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত একটা দেশ। এসময় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে তারা সহিংসতারও শিকার হয়েছেন। কিন্তু এটা নিয়ে যে-সব প্রচার-প্রচারণা হয়েছে তা ছিল সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত। অল্প যেসমস্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তার মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক। কিন্তু এসব ঘটনাকে ধর্মীয় আবরণ দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা হয়েছে। আপনাদের সবার সহযোগিতায় আমরা দৃঢ়ভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি।
আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের দু’মাসের মাথায় দেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার পূজা মণ্ডপে। দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে একদিন অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হয় যা উৎসবের আমেজকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। দূর্গাপুজাকে ঘিরে আমরা ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেই। যার ফলে, দেশের হিন্দু সম্প্রদায় নির্বিঘ্নে তাদের উৎসব পালন করেছে। আমরা দায়িত্বে আসার পর যে অল্প কিছু ক্ষেত্রে তারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন আমরা তার প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করছি। শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ই নয়, দেশের কোনো মানুষই যাতে কোনো রকম সহিংসতার শিকার না হয়, সেজন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এবং সব সময় সে চেষ্টা করে যেতে থাকবো।
আপনারা জানেন চলতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছয়টি বন্যা হয়েছে। আপনাদের সবার সহযোগিতায় আমরা এই বন্যা মোকাবিলা করেছি। বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী বন্যা মোকাবিলায় জনগণের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। বন্যা মোকাবিলা ও বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান এবং স্থানীয় অনুদানের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
বন্যার ফলে অনেক জায়গায় ফসলহানি হয়েছে, ব্যাহত হয়েছে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল। বন্যা পরবর্তী সময়ে বাজারে শাক-সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে আপনাদের কষ্ট হয়েছে। নিত্য পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। বাজারে ডিমের সরবরাহ বাড়ানো জন্য আমরা সাড়ে নয় কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছি। এজন্য প্রয়োজনীয় শুল্ক ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে ডিমের উৎপাদনকরা যাতে সরাসরি বাজারে ডিম সরবরাহ করতে পারে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মানুষ যাতে স্বল্প মূল্যে কৃষি পণ্য কিনতে পারে সেজন্য রাজধানীসহ বিভিন্ন স্পটে সরকারি কিছু পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। টিসিবির মাধ্যমে ১ কোটি নিম্ন আয়ের ফ্যামিলি কার্ডের মধ্যে ৫৭ লাখকে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বন্যার ফলে চালের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। আসন্ন রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ ও দাম যাতে স্বাভাবিক থাকে এজন্য সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়মিত বৈঠক করে যাচ্ছে। দ্রব্য মূল্য নিয়ে আমাদের কোনো লুকোছাপা নেই। মূল্যস্ফীতির পূর্ণ তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি রোধে উচ্চ সুদের হার নির্ধারণসহ একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে শস্য আমদানিতে এলসি সীমা অপসারণ এবং সরবরাহ চেইন সংক্ষিপ্ত করা।
সামান্য হলেও জ্বালানি তেলের মূল্য কমানো হয়েছে। শিল্প কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যাহত না হয় এবং রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। গণ-শুনানি ছাড়া নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ গ্যাসের দাম না বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আশা করি বাজারে পণ্যমূল্য কমিয়ে আনতে এটা ভূমিকা রাখবে। নেপাল থেকে পানিবিদ্যুত বাংলাদেশে আনার ব্যবস্হা করা হয়েছে।
দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি আমাদের ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথাও ভাবতে হচ্ছে। আপনারা সবাই জানেন, আমাদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মধ্যদিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মতামত নিয়ে যাচ্ছি। সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব মতামত অনেকাংশে প্রতিফলিত হচ্ছে। চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় তাদের প্রতিটি মতামত সক্রিয় ভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ে, ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যেই সংস্কার কমিশনগুলো তাদের সুপারিশমালা সরকারের কাছে পেশ করতে পারবে। তাদের সুপারিশ নিয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ক্রমাগতভাবে আলোচনায় বসবো। সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই আমরা সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করবো।
নির্বাচন কবে হবে এই প্রশ্ন আপনাদের সবার মনেই আছে। আমাদের মনেও সারাক্ষণ আছে। আপনারা লক্ষ্য করেছেন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন হয়ে যাবে। তারপর থেকে নির্বাচন আয়োজন করার সমস্ত দায়িত্ব তাদের উপর বর্তাবে।
নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হাল নাগাদসহ আরো কিছু কাজ শুরু করে দিতে পারবে যা একটি অবাধ নির্বাচনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত । প্রথম বারের মত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।
তবে আমরা মনে করিনা যে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিলেই নির্বাচন আয়োজনে আমাদের দায়িত্ব শেষ। রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংস্কার আমাদের এই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। আপনারাই আমাদেরকে এই ম্যান্ডেট দিয়েছেন। যে ছয়টি সংস্কার কমিশন আমরা শুরুতে গঠন করেছিলাম তারা ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আপনারা তাদের কার্যক্রমের আপডেটও দেখছেন। কয়েকটি সংস্কার কমিশন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে। আমার অনুরোধ আপনারা এই প্ল্যাটফর্মে উৎসাহ সহকারে আপনাদের মতামত জানাতে থাকুন।
প্রথম ছয়টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে একটি হলো নির্বাচন সংস্কার কমিশন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এই কমিশনের সুপারিশমালা অত্যন্ত জরুরি। তাদের প্ল্যাটফর্মে যান। আপনার মতামত খোলাখুলিভাবে তুলে ধরুন। আপনি দেশের মালিক। আপনি বলে দিন আপনি কি চান। কীভাবে চান।
নির্বাচন নিয়ে আপনাদের সকল বক্তব্য বিনাদ্বিধায় বলতে থাকুন। সবার মনের কথা তুলে ধরুন। আমার অনুরোধ সংস্কারের কথাটাও একই সঙ্গে বলুন। সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে যাবেন না। নির্বাচনের কথা বলার সঙ্গে নির্বাচন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সংস্কারের কথাটিও বলুন। সংস্কার হলো জাতির দীর্ঘ মেয়াদি জীবনী শক্তি। সংস্কার জাতিকে বিশেষ করে আমাদের তরুণ-তরুণীদের নতুন পৃথিবী সৃষ্টির সুযোগ দেবে। জাতিকে বঞ্চিত করবেন না।
নির্বাচন আয়োজনে যে সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালায় রাজনৈতিক দলসমূহ এবং দেশের সকল মানুষের মতামত অপরিহার্য সে কমিশন হলো সংবিধান সংস্কার কমিশন। এই সুপারিশমালার কোন অংশ সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে তার ভিত্তিতে নির্বাচনী আইন সংশোধন করতে হবে। সমান্তরাল ভাবে ভোটার তালিকা হাল নাগাদ করার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।
আমি নিশ্চিত নই, সংস্কার প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নের সুযোগ আমরা কতটুকু পাবো। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনারা সুযোগ দিলে প্রয়োজনীয় কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কার কাজ শেষ করেই আমরা আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন আয়োজন করবো। ততো দিন পর্যন্ত আমি আপনাদের ধৈর্য্য ধারণ করার অনুরোধ করবো। আমরা চাইবো, আমরা যেন এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পারি যা যুগযুগ ধরে অনুসরণ করা হবে। এর ফলে সাংবাৎসরিক রাজনৈতিক সংকট থেকে আমাদের দেশ রক্ষা পাবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সময়টুকু আমি আপনাদের কাছে চেয়ে নিচ্ছি। নির্বাচনী সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে খুব দ্রুত আপনারা নির্বাচনের রোডম্যাপও পেয়ে যাবেন।
অন্তর্বর্তী সরকার সৃষ্টি হয়েছে রাজনীতিকে নীতির কাঠামোয় আনার জন্য, এবং রাজনীতির জন্য নতুন পরিবেশ সৃষ্টির নিবিড় আকাঙ্ক্ষা থেকে। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা থেকে জাতিকে বঞ্চিত করবেন না।
নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। এটা আর থামবে না। কিন্তু যেতে যেতে আমাদের অনেকগুলি কাজ সেরে ফেলতে হবে। এই ট্রেন শেষ স্টেশনে কখন পৌঁছাবে সেটা নির্ভর করবে কত তাড়াতাড়ি আমরা তার জন্য রেল লাইনগুলি বসিয়ে দিতে পারি আর তা হবে রাজনৈতিক দলসমূহের ঐক্যমত্যের মাধ্যমে।
ইতোমধ্যে অন্যান্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালা নিয়ে আলাপ চলতে থাকবে। নির্বাচন ছাড়াও আরো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করার ব্যাপারে ঐক্যমত্য গঠনের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। দেশবাসীর কাছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আমরা ক্রমাগতভাবে প্রশ্ন তুলতে থাকতে থাকবো কী কী সংস্কার নির্বাচনের আগে আপনারা করে নিতে চান। নির্বাচনের আয়োজন চলাকালীন কিছু সংস্কার হতে পারে। সংস্কারের জন্য নির্বাচনকে কয়েক মাস বিলম্বিতও করা যেতে পারে।
আমরা দু’দিন পরে চলে যাবো। কিন্তু আমাদের মাধ্যমে জাতির জন্য যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হলো সে সুযোগটা যেন কোন রকমেই হাতছাড়া করে না দিই এটার ব্যাপারে দৃঢ় থাকার জন্য আমি দলমত, নারী-পুরুষ, ধর্ম, তরুণ-বৃদ্ধ, ছাত্র, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক নির্বিশেষে সবার কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করি আপনারা আমার এই আবেদন গ্রহণ করবেন।
দেশে সংগঠিত অন্যান্য অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় সহস্রাধিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টে ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২৩ জন নতুন বিচারক। বিচার বিভাগকে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য সম্ভব সব ধরনের চেষ্টাই করা হচ্ছে।
বিচারপতিদের নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল করা হয়েছে। শুধু বিচার বিভাগই নয়, সর্বগ্রাসী দুর্নীতির হাত থেকে দেশের সব খাতকেই রক্ষা করতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে অভিযুক্ত প্রভাবশালী দেড়শ ব্যক্তির তালিকা তৈরি এবং ৭৯ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ১৫ শতাংশ হারে আয়কর পরিশোধ করে অপ্রদর্শিত পরিসম্পদ, অর্থাৎ কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিল করা হয়েছে।
সরকারি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বিভিন্ন পর্যায়ের ১৯,০৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি, ১৩,৪২৯ জনকে বদলি এবং ১২,৬৩৬ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পাবলিক সার্ভিস কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে। কুখ্যাত সাইবার সিকিউরিটি আইন বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই আইনের অধীনে হওয়া সেসব মামলা মানুষের মত প্রকাশের অধিকারের সাথে সম্পর্কিত সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়াও ১৩৩টি আইন, বিধিবিধান তৈরি ও সংশোধন করা হয়েছে এবং ৩৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে ইতোমধ্যে সরকারি চাকুরির বয়স সীমা ৩২-এ উন্নীত করা হয়েছে। আমরা জানি আমাদের কাছে আপনাদের আরো অনেক দাবি-দাওয়া আছে। দীর্ঘ দিনের অপশাসন, অত্যাচার, অনাচারের ফলে আপনাদের মনে অনেক ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। দেশে বাক স্বাধীনতা না থাকায় আমরা কেউ আমাদের মতামত, দাবি-দাওয়া প্রকাশ করতে পারিনি। আমরা আপনাদের প্রতিটি দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল। আমরা ধৈর্য্য সহকারে আপনাদের কথা শুনতে চাই। কিন্তু সেজন্য আপনারা সড়ক অবরোধ করে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আমাদের সকলেরই অসুবিধা হয়। আমাদের একান্ত অনুরোধ আপনারা নির্দিষ্ট চ্যানেল মেইনটেইন করে আপনাদের দাবি দাওয়া পেশ করবেন।
আমাদের বৃহৎ রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টস শিল্পে গত কিছু দিন ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী বেশ কিছু গার্মেন্টস মালিক পালিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্য অনেক কারখানায়ও শ্রমিকরা ন্যায্য বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। শ্রমিকরা তাদের দীর্ঘ দিনের বঞ্চনার প্রতিবাদ জানাতে এবং অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে রাস্তায় নেমে আসে। আমরা তাদের কথা শুনেছি, তাদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পেরেছি। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে ১৮ দফার একটি ব্যাপকভিত্তিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ছাড়াই আমরা শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন করতে পেরেছি। তারা আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী এই শিল্পও। নানা প্রতিকূলতা স্বত্বেও অক্টোবর মাসে আমাদের রপ্তানীতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ।
আমরা যখন কাজ শুরু করেছি, দেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে। আশার কথা, এই রিজার্ভ পরিস্থিতি এখন উন্নতির পথে। গত তিন মাসে রিজার্ভে কোনো রকম হাত না দিয়েই আমরা প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে পেরেছি। জ্বালানি তেল আমদানিতে পুঞ্জীভূত বকেয়ার পরিমাণ ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার হতে কমিয়ে ১৬০ মিলিয়ন ডলারে আনতে পেরেছি। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ-সহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা ইতোমধ্যে ঋণ ও অনুদান হিসেবে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করতে সক্ষম হবে।
পতিত সরকার আমাদের জন্য যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রেখে গিয়েছে তাতে রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। এর মধ্যেও জুলাইয়ের নেতিবাচক অবস্থা থেকে অক্টোবর নাগাদ রাজস্ব আদায়ে পৌনে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি ছিল। যে কারণে এবার শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে স্বৈরাচার পতনের পরবর্তী তিন মাসে পৌনে ৯ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির পরও লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৩ শতাংশের বেশি ঘাটতি থেকে যায়। রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে আমি এখন অন লাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করছি।
আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ইউএনডিপি ইত্যাদির প্রধানদের সঙ্গেও আমার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। তারাও বাংলাদেশকে নতুনভাবে এবং সর্বাত্মকভাবে সাহায্যের জন্য তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
১০০ দিন আগে আর্থিক দিক থেকে আমরা যে লন্ডভন্ড অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম-- সেটা এখন অতীত ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই একশো দিনে অর্থনীতি সবল অবস্থানে চলে এসেছে। এটা সম্পূ্র্ণ নিজস্ব নীতিমালা দিয়ে হয়েছে। বলা বাহুল্য এখনো আমাদের বন্ধুদের কাছ থেকে যে সাহায্যের আয়োজন হয়েছে তা আসা শুরু করেনি। বন্ধু রাষ্ট্রগুলি শুধু যে আমাদের বড় বড় অংকের সাহায্য নিয়ে আসছে তাই নয়, তারা এই সাহায্য দ্রুততম সময়ে আসা শুরু করবে এই প্রতিশ্রুতিও আমাকে দিয়েছে। এই সাহায্য আসা শুরু করলে আমাদের অর্থনীতি অত্যন্ত মজবুত এবং আকর্ষনীয় অর্থনীতিতে পরিণত হবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও নানা রকম বিনিয়োগে উৎসাহীত হয়ে এগিয়ে আসবে।
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এখন থেকে আমরা আলোচনা শুরু করে দিয়েছি। বিশ্বের রাষ্ট্রপুঞ্জের মজলিসে আমরা এখন সম্মানিত এবং প্রশংসিত দেশের অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি। এর কারণে পরাজিত শক্তি নানা কৌশল করেও তাদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছে না। তারা নানা চেহারা নিয়ে আপনাদের প্রিয়পাত্র হবার চেষ্টা করছে। পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন, দেশকে মুক্ত রাখুন। এ ব্যাপারে অনড় থাকুন। এমন কিছু করবেন না যা তাদেরকে উৎসাহিত করতে সাহায্য করে। তাদেরকে সকল দিক থেকে নিরাশ করুন। সেটা নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের আর কোন বিষয়ে সংশয় করার প্রয়োজন নেই। সরকারের পক্ষ থেকে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি সকল প্রকার সীমাবদ্ধতা সত্বেও আমরা আপনাদেরকে একটা মজবুত অর্থনীতি দিয়ে যাবো, ভবিষ্যতে চলার পথকে সহজগম্য করে যাবো, নাগরিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করে যাবো। বিপক্ষ শক্তি যত শক্তিশালীই হোক, নাশকতার যত রকমই উদ্ভট পরিকল্পনাই করুক-- সব কিছু নস্যাৎ করার জন্য প্রস্তুত থাকুন। এবার যে মুক্তি আমরা অর্জন করেছি তা আমাদের কাছ থেকে কেউ যেন ছিনিয়ে নিতে না-পারে তার জন্য সর্বমুহুর্তে প্রস্তুত থাকুন।
আপনারা জেনেছেন, পতিত সরকার ও তার দোসররা প্রতিবছর দেশ থেকে ১২-১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ সম্প্রতি এই তথ্য দিয়েছে। পাচার হয়ে যাওয়া এই অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য সম্ভব সকল ধরনের উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। এ কাজে সফল হতে পারলে আমাদের অর্থনীতি আরো গতি পাবে। এ কাজে আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সাহায্য নিচ্ছি।
আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই বিশ্ব নেতৃবৃন্দকেও। বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে তারা প্রায় সবাই সহযেগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমি যখন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেই, সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা, ইতালি, হল্যান্ড, জাতিসংঘ মহাসচিব-সহ বিশ্বের অনেক দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে আমার বৈঠক করার সুযোগ হয়। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। নেপাল, মালদ্বীপ, পাকিস্তান-সহ প্রতিবেশী বেশ কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গেও আমার বৈঠক হয়েছে যেখানে আমি সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেছি।
দেশে ফিরে আসার পর এসব দেশের রাষ্ট্রদূতগণ যারা ঢাকায় স্ব:প্রবৃত্ত হয়ে আমার সঙ্গে দেখা করে তাদের সরকার প্রধানদের অঙ্গীকার পুনঃব্যক্ত করে গেছেন। তারা সম্পূর্ণ নতুনভাবে আমাদের জন্য সহায়তার নতুন ছক তৈরির কাজ শুরু করেছেন। যে-সব রাষ্ট্রদূত দিল্লিতে অফিস করেন তারা দিল্লি থেকে এসে দেখা করে গেছেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২০ দেশের ২০ জন রাষ্ট্রদূত দিল্লিতে থাকেন। সাত দেশের সাত রাষ্ট্রদূত ঢাকায় আছেন। দিল্লি থেকে একসঙ্গে ২০ জন রাষ্ট্রদূতসহ মোট ২৭ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সমবেতভাবে আমার সঙ্গে বৈঠক করার জন্য আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঢাকায় আসছেন। আগে কখনো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭ জন রাষ্ট্রদূত একত্রিত হয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি। দিল্লী থেকে এ বিশাল সংখ্যক রাষ্ট্রদূত একসঙ্গে বৈঠক করার জন্য আসেনি । এবার একাজটি করার পেছনে আছে ইইউ-র সমর্থন প্রকাশ করা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা গড়ে তোলা। ইতোমধ্যে আমার সঙ্গে দেখা করেছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রাজিল, তুরস্ক, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, লিবিয়া-সহ অনেক দেশের রাষ্ট্রদূত। দ্বিপাক্ষিক নানা সহযোগিতাসহ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশ্বাস তারা দিয়েছেন।
আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থানের মূলে রয়েছে বেসরকারি খাত। আমাদের বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান দুই শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মতবিনিময়ের অভাব, সরকারি অফিসের জটিল প্রক্রিয়া এবং সর্বোপরি দুর্নীতি, বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সমস্যায় ফেলেছে। বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ নিরসনে আমরা অনেকগুলো কাজ করেছি । ইতোমধ্যে সত্যিকারের ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হয়েছে , বিনিয়োগ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ সমাধানে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন হয়েছে । বেসরকারি খাতের উপদেষ্টা কাউন্সিল ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সরকারি অফিসে না-এসে প্রয়োজনীয় কর্ম সম্পাদনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা আমাদের অগ্রগতির বিষয়ে সবাইকে মাসিক ভিত্তিতে আপডেট করে যাচ্ছে।
আমরা প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করছি। আমার অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাত সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জন সহ অন্যান্য বাংলাদেশিকে মুক্তি দিয়েছে। এসব বাংলাদেশি কারাবাসের ঝুঁকি নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে প্রতিবাদ করেছি। বাংলাদেশিরা এরকম প্রতিবাদ আরো অনেক দেশেই করেছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
কয়েকদিন আগে বাকুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট জনাব শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য যেকোন সাহায্য লাগলে আমি যেন তাকে জানাই। প্রবাসীদের কল্যাণে আমাদের সরকার সম্ভব সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছি। আপনারা জানেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। ১৮ হাজার বাংলাদেশি, যারা সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা মেনে চলার পরও স্বৈরাচারী সরকারের অব্যবস্থাপনার জন্য মালয়েশিয়া যেতে পারেননি, তিনি তাদের জন্য মালয়েশিয়ার দ্বার আবার উন্মুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আমরা কাজও শুরু করেছি।
আপনারা জেনে থাকবেন, মালয়েশিয়া আগামী বছর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা আসিয়ানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে আসিয়ানের সদস্য পদের জন্য আবেদন করেছি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আমাদের আবেদন সক্রিয়ভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। একই ধরনের আশ্বাস আমরা পেয়েছি ইন্দোনেশিয়া থেকেও। ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে সেদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবার জন্য আমাকে অনুরোধ করেছে । সৌদি আরবসহ বিশ্বের আরো অনেক দেশ আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথমবারের মতো ওআইসি সদর দপ্তরে আমরা স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিচ্ছি। তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সাথে আগে আমার টেলিফোনে আলাপ হয়েছে।
এবার COP29 সম্মেলনে গিয়ে তিনি ও তাঁর স্ত্রী'র সঙ্গে অত্যন্ত অন্তরঙ্গ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতি তার বিশেষ সমর্থনের কথা তিনি বারবার প্রকাশ করেছেন। তুরস্কের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সফর করেছে। তুরস্ক এদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য টার্কিশ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির (TICA) একটি অফিস ঢাকায় স্থাপনের জন্য ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে তুরস্কের বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে। এই উদ্দেশ্যে চলতি মাসেই একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন দল তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে আসছেন।
প্রিয় দেশবাসী,
নতুন হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে হজের ব্যয় এক লাখ টাকারও বেশি কমিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি আমরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, এ বছর সরকারি খরচে কাউকে হজে পাঠানো হবেনা।
আমরা নতুন বাংলাদেশকে একটি পরিবেশ বান্ধব এবং জীব বৈচিত্র্যময় দেশ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এটি তরুণদের আকাঙ্ক্ষা। আমাদের সবারই আকাঙ্ক্ষা। সেই লক্ষ্যে আমি প্রথমেই একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ নিয়েছি। সমগ্র সচিবালয়ে প্লাস্টিকের পানির বোতল ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছি। ইতিমধ্যে সুপার শপগুলোতে পলিথিনের শপিং ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দশকে যে পরিমাণ নদী দূষণ হয়েছে, আমরা তা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছি।
আপনারা সবাই অবগত আছেন, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের জীবনযাত্রার জন্য কীরকম হুমকি হয়ে আসছে। গত এক বছরে বাংলাদেশ প্রায় ১৫টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে। মানুষের সৃষ্ট নানাবিধ দুর্যোগের পাশাপাশি এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিপক্ষেও আমাদের লড়তে হচ্ছে। আজারবাইজানে জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আমি আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকার অনেক সরকার প্রধানের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে। যতটুকু আলাপ আলোচনা সম্ভব হয়েছে, আমি সবার কাছেই জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব মোকাবিলাসহ গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা চেয়েছি। তারা সহযোগিতার অঙ্গীকার সবাই করেছেন।
গত ১০০ দিনে আমরা আরও অনেক কল্যাণমূলক কাজ করেছি যা এখানে স্বল্প পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। আমি তাই সরকারের সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি তাদের নিজ নিজ কাজের বিস্তারিত বিবরণ নিজেদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য। আমি আমার দপ্তরকেও বলেছি সরকারের সব কাজের বিবরণ যাতে জনগণ জানতে পারে এজন্য যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এ সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য, অকার্যকর করার জন্য বিশাল অর্থে বিশ্বব্যাপী এবং দেশের প্রতিটি স্থানে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এক মহাপরিকল্পনা প্রতি মুহূর্তে কার্যকর রয়েছে। তাদের একটি বড় প্রচেষ্টা হচ্ছে আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। পতিত সরকারের নেতৃবৃন্দ যারা এদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে নিয়ে গেছে সে অর্থে বলিয়ান হয়ে তারা দেশে ফিরে আসার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদেরকে কিছুতেই সফল হতে দেবেন না। তারা সফল হওয়া মানে জাতির মৃত্যু। জাতি হিসেবে আমাদের অবসান। সাবধান থাকুন। তাদের সকল হীন প্রচেষ্টাকে আমাদের ঐক্যের মাধ্যমে নস্যাৎ করে দিন। যে ভাবে নস্যাৎ করেছিলেন তাদের বন্দুকের গুলিকে। তাদের আয়না ঘরকে। প্রতি পায়ে তাদের অনাচারের শিকলকে। এ ব্যাপারে সবাই একমত থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
বাংলাদেশের সকল শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, বয়স্ক, বৃদ্ধ, পুরুষ, মহিলা সবাইকে আমার সালাম জানাচ্ছি। আসসালামু আলাইকুম। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোক। খোদা হাফেজ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের বাসভবন পাহারা দিচ্ছে রোবট কুকুর ‘স্পট’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনাসহ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা করবে যুক্তরাজ্য
সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। বৈঠকে প্রফেসর ইউনূস দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন ঠিক করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলের ব্যাপক ভোট কারচুপির যে চর্চা সেটি দূর করাই এই সংস্কারের লক্ষ্য। পশ্চিমা দেশগুলো এসব সংস্কারকে সমর্থন করে জানিয়ে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগ এবং সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোর ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা দেখতে চায় ব্রিটেন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিতর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, সেসব অঞ্চলের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা প্রদানের জন্য যুক্তরাজ্যের অনুদান সহায়তা হিসেবে ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ড. ইউনূস মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্য একটি ‘জাতিসংঘ-তত্ত্বাবধানে নিরাপদ অঞ্চল’ করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যাতে তাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে না হয় এবং দাতব্য সংস্থা এবং সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো তাদেরকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সহায়তা আরও সহজে পৌঁছে দিতে পারে। বৈঠকে ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা, সংখ্যালঘুদের অধিকার, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ৪০ মেগাওয়াট জ্বালানি চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রফেসর ইউনূস বলেন, জলবিদ্যুৎ সমৃদ্ধ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, হিমালয়ের দুই দেশ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমদানি করতে পারলে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে। এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। বৈঠকে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত ছাত্র ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি মেডিকেল টিম চলতি মাসে দেশে এসেছে। তিনি বলেন, তারা দিনে তিনটি অস্ত্রোপচার করছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক সমঝোতা চায় বৃটেন: ঢাকায় বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী
পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় পূর্ণ সহায়তা দেবে বৃটেন: এদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় তার সরকার ঢাকাকে পূর্ণ সহায়তা দেবে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা’য় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন।
ড. ইউনূস তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, অলিগার্ক ও আমলাদের পাচার করা অর্থ ফেরত আনা অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সামপ্রতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। বৈঠকে অধ্যাপক ড. ইউনূস দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে তার সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলে চর্চা করা ব্যাপক ভোট কারচুপি থেকে বিরত থাকা এই সংস্কারের লক্ষ্য। পশ্চিমা দেশগুলো সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে উল্লেখ করে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, বৃটেন নির্বাচনী, বিচার বিভাগীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোতে প্রাণবন্ত বিতর্ক দেখতে চায়। বৃটিশ মন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা প্রদানের জন্য আরও ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদানের ঘোষণা দেন। ড. ইউনূস মিয়ানমারের সহিংসতা-জর্জরিত রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য একটি ‘জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠায় তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন যাতে তাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে না হয় এবং দাতব্য সংস্থা এবং সাহায্য গোষ্ঠীগুলো নির্বিঘ্নে বাস্তুচ্যুত মানুষের দোরগোড়ায় খাদ্য ও সহায়তা দিতে পারে। বৈঠকে তারা ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা, সংখ্যালঘুদের অধিকার, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সামপ্রতিক ৪০ মেগাওয়াট জ্বালানি চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। ড. ইউনূস বলেন, তার সরকার জলবিদ্যুৎ সমৃদ্ধ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরিকে পুরোপুরি সমর্থন করেছে। তিনি বলেন, হিমালয়ের পাদদেশের দুই দেশ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমদানি করতে পারলে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। বৈঠকে ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত ছাত্র ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি মেডিকেল টিম চলতি মাসে দেশে এসেছে। তিনি বলেন, ‘তারা দিনে তিনটি অস্ত্রোপচার করছেন।’
অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ওদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্টের সঙ্গে বৈঠকের পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, তারা আমাদের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তারা জানতে চেয়েছেন যে কীভাবে আমাদের সহায়তা করতে পারেন। আমিও তাদের খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, আমাদের এখানে কারও কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই। আমরা আসলেও একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করে দিয়ে সরে যেতে চাই। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের আগ্রহ আছে বলেও জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে মন্ত্রণালয়। এখন সেখানে যাওয়াটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এ ছাড়া, যুক্তরাজ্যে পাচার করা অর্থ ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। রোহিঙ্গাদের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন। বলেন, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের মধ্যেই এই সংকটের একমাত্র সমাধান রয়েছে।
পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনাসহ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা করবে বৃটেন: নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আবারো পূর্ণ সহায়তার কথা জানিয়েছে বৃটেন। দেশটির ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট জানিয়েছেন, তার সরকার কয়েক বিলিয়ন ডলার পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাসহ অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহায়তা দেবে। বৈঠকে প্রফেসর ইউনূস দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন ঠিক করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলের ব্যাপক ভোট কারচুপির যে চর্চা সেটি দূর করাই এই সংস্কারের লক্ষ্য। পশ্চিমা দেশগুলো এসব সংস্কারকে সমর্থন করে জানিয়ে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগ এবং সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোর ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা দেখতে চায় বৃটেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আহতদের অনেকেই পাননি সরকারি অর্থ, নিঃস্ব পরিবার by সুদীপ অধিকারী
গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ পঙ্গু হাসপাতাল গিয়ে দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের জন্য ডেডিকেটেড তিনতলার বি-ওয়ার্ডের ৪৮টি বেডের প্রায় প্রতিটিতেই রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে বি-৩৯ নম্বর বেডে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন মো. তানভীর। গত ১৯শে জুলাই রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ। তানভীরের মা পারভিন বেগম বলেন, আমাদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে। আমার তিন ছেলে আর এক মেয়ে। তানভীর সবার বড়। ৭/৮ বছর আগে ওর বাবা আমাদের ছেড়ে আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। সেই থেকে ওদের নিয়ে আমার লড়াই চলছে। আমার নিজেরও কিডনির সমস্যা। একটা কিডনি কেটে ফেলতে হয়েছে। অন্য ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমি গ্রামে থাকলেও সংসারের হাল ধরতে তানভীরকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম। আমি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের যেই ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলাম, তিনিই তানভীরকে একটি কাজে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। সবকিছু ভালোই চলছিল। ও ঢাকার রামপুরা এলাকায় মেস বাসায় থাকতো। গত ১৯শে জুলাই ওর বন্ধুরা আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, আমার ছেলের নাকি আন্দোলনে গিয়ে পায়ে গুলি লেগেছে। আমি জমি বিক্রি করে টাকা এনে ওই প্রাইভেট হাসপাতালের বিল দিয়ে তানভীরকে পঙ্গুতে নিয়ে আসি। তিনি বলেন, গত ২৫শে আগস্ট আমার বড় ছেলেকে এই হাসপাতালে ভর্তি করি। হাসপাতাল থেকে বিনা খরচে রোগীর চিকিৎসা করালেও আমাদের খরচ কেউ দেয় না। প্রতিদিন এই হাসপাতালে আমার এক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
তানভীরের পাশেই এই ওয়ার্ডের বি-৩৮ নম্বর বেডে চিকিৎসা নিচ্ছেন মো. গোলাম মোস্তফা। দুই মেয়ে ও এক সন্তানের এই জনক গত ১৯শে জুলাই রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় ডান হাতে ও ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। গোলাম মোস্তফা বলেন, আন্দোলনে গিয়ে গুলি লাগার পর আমাকে প্রথমে এই পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখান থেকে আবার জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২৩শে জুলাই আবার এখানে এসে ভর্তি হই। তিনি বলেন, আমি পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলাম। আমার ১৬ বছরের একটি মেয়ে, ৭ বছরের একটি ছেলে ও দুগ্ধপোষ্য একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। আমি গুলি খেয়ে হাসপাতালের বিছানায়। এখন পর্যন্ত সরকারি- বেসরকারি কোনো সহায়তা পাইনি। এ পর্যন্ত আমি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়েছি। এখন আর কেউ টাকাও ধার দেয় না। একদিন ঘরে চাল থাকে তো দুইদিন থাকে না।
একই ওয়ার্ডের বি-৩৭ নম্বর বেডে চিকিৎসা নিচ্ছেন মো. মনির খান। তিনিও ১৯শে জুলাই রামপুরা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। ১৭ বছরের এই তরুণ বলেন, আমি বাড্ডার একটি ডিমের দোকানে কাজ করতাম। দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হলে বন্ধুদের সঙ্গে আমিও আন্দোলনে যোগ দিই। আমার সামনে আমার বন্ধু সাগর আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। আর আমার গুলি এসে লাগে বাম পায়ে। এক্সে-রে দেখিয়ে মনির বলেন, আমার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় গুঁড়ো হয়ে গেছে। ডাক্তার পায়ে স্টিলের খাঁচা লাগিয়ে দিয়েছে। কবে খুলবে ঠিক নেই। চিকিৎসা শেষ হলেও কী আগের মতো পা ফেলে হাঁটতে পারবো তাও জানি না। কিন্তু এতসবের পরেও এখনো আমি কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি।
একই ওয়ার্ডের বি-৪১ নম্বর বেডে গত তিন মাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আহমেদ। ডান পায়ে গুলি লাগে তার। একাধিক অস্ত্রোপচারের পর পা জুড়ে লাগানো আছে স্টিলের রিং। এই রিং পরেই এক বছর থাকতে হবে তার। আব্দুল্লাহর মা বিলকিস বেগম বলেন, চিকিৎসক বলেছেন, হাঁটতে পারলেও হাঁটু থেকে পা আগের মতো ভাঁজ করতে পারবে না। তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা হিসাবে এক লাখ টাকা পেয়েছি ঠিকই কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি টাকা আমাদের খরচ হয়ে গেছে।
পাশেই বি-৪২ নম্বর বেডে চিকিৎসা নেয়া ১৯ বছরের সাদ আব্দুল্লাহর ভাষ্য একই। এই মাদ্রাসা ছাত্র বলেন, তারও অস্ত্রোপচারে ডান পায়ের গুলি বের হয়েছে। এখন পুরো পায়ে স্টিলের খাঁচা পরানো। সাদ বলেন, চিকিৎসক জানিয়েছেন, আমার পায়ের এই রিং খুলতে সময় লাগবে এক বছর।
এসব বিষয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (নিটর) অধ্যাপক ডা. কাজী শামীম-উজ-জামান বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে আন্দোলনে আহতের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। সার্বক্ষণিক তাদের খোঁজ রাখছি। তাদের ওষুধ-পত্র, চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হাসপাতালের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন by পিয়াস সরকার
মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।
মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।
সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।
এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফ্যাসিস্টদের বিচার শেষে নির্বাচন
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের জন্য ফান্ড গঠন করা হয়েছে। তবে আহতদের ব্যাপারে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ইতিমধ্যে সরকার স্কিল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেখানে আহতদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তিনি আহতদের পুনর্বাসনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বলেন- আহতদের চিকিৎসা পাওয়ার আন্দোলনটা আমাদের জন্য লজ্জার। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা শুনেছি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা যারা জুলাই অভ্যুত্থানে আহত হয়েছে তাদের অনেকেই আহত হিসেবে তালিকাভুক্তি করেছেন এবং তারা এক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। এরকম হয়ে থাকলে আমি সরকারকে আহ্বান জানাবো সেটাকে খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার যাতে আহতদের রাস্তায় নেমে আসতে না হয়।
বিএনপি’র দ্রুত নির্বাচন চাওয়ার ব্যাপারে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান শুধুমাত্র একটি ভোটের অধিকারের জন্য হয়নি। বিগত ১৬ বছর বিএনপি সব থেকে বেশি নির্যাতিত হয়েছে। বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা সেগুলোর ব্যাপারে আমরা কিন্তু দেখেছি বিএনপিকে অনাস্থা প্রকাশ করতে। এখন নির্বাচন হচ্ছে সংস্কারের একটি প্রক্রিয়া। যখন সংস্কারটি সম্পন্ন হবে তখন যে নির্বাচন হবে সেটা গণমানুষের নির্বাচন হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এই ফ্যাসিজমকে ফ্যাসিলেটেড করেছেন তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে ছাত্র-জনতা সিদ্ধান্ত নিবে তারা নির্বাচনে আসবেন কি আসবেন না। তবে বিচারের আগে তাদের নির্বাচনকে স্বাগত জানাবো না। প্রয়োজনে আমরা সেটাকে গণতান্ত্রিক ভাবে প্রতিহত করবো। হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, সরকারের ভালো কাজের ব্যাপারে আমরা সহযোগিতা করবো আর যেখানে ভুল করবে সেখানে সমালোচনা করবো। পরে হাসনাত আব্দুল্লাহ জুলাই আন্দোলনে নিহত নলখোলা এলাকার নিহত গার্মেন্টস কর্মী জাকির হোসেন এবং বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের রাজমিস্ত্রি বাবুল মৃধার কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সহিংসতায় জ্বলছে মনিপুর ‘মোদি শুধু চেয়ার রক্ষার কথাই ভাবেন’
সাম্প্রতিক সময়ে মনিপুরে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ৬ জন ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তারপর তাদের তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয় একটি নদী থেকে। এর ফলে ভয়াবহ প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয় সেখানে। বিক্ষুব্ধ জনতা রাজ্যের তিনজন মন্ত্রীর বাসভবনে হামলা করে শনিবার। হামলা হয় ৬ জন এমএলএ’র বাড়িতে। এর ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ৫টি জেলায় কারফিউ জারি করে সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। বিক্ষুব্ধরা বেশ কিছু আইনপ্রণেতার বাড়ি তছনছ করে দেয় ইম্ফলে। এর মধ্যে আছে মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের জামাই। বাড়িঘরে থাকা সহায় সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতাকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নিখোঁজ কানাইঘাটের ফারহান: স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এই সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে মহাপরিকল্পনা কার্যকর রয়েছে -জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা
সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে সরকার প্রধান বিগত সময়ে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। জানান, প্রয়োজনীয় কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কার কাজ শেষ করেই কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন আয়োজনের পথে হাঁটবে সরকার। ততদিন পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংস্কারের জন্য নির্বাচন কয়েক মাস বিলম্বিতও হতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচন ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। এটি কখন স্টেশনে থামবে তা নির্ভর করবে সংস্কার নিয়ে দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর।
ভাষণে প্রফেসর ইউনূস জুলাই-আগস্টের প্রতিটি হত্যার বিচার করার পুনঃপ্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। জানান, পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকেও ভারত থেকে ফেরত চাওয়া হবে। শুধু জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডই নয়, গত ১৫ বছরে সব অপকর্মের বিচার করবে তার সরকার। কেবল দেশে নয়, গুম, খুন ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কথা দেন, জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো শহীদ এবং আহত ছাত্র-শ্রমিক চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা থেকে বাদ যাবে না। এটি সরকারের অঙ্গীকার। প্রফেসর ইউনূস জানান, সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে মহাপরিকল্পনা কার্যকর রয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাই পরাজিত শক্তির সকল হীনপ্রচেষ্টাকে ঐক্যের মাধ্যমে নস্যাৎ করে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সরকারের সংস্কার কর্মকাণ্ড ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশ্ববাসীর সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, স্বৈরশাসনে বিপর্যস্ত এই দেশকে আমাদের সবাইকে মিলে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর আমরা এমন একটি দেশ হাতে পেয়েছি যার সর্বত্র ছিল বিশৃঙ্খলা। স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছিল। বিপ্লব চলাকালে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-শ্রমিক জনতার শহীদী মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন ১৯ হাজার ৯৩১ জন। আহতদের জন্য ঢাকার ১৩টি হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিনই তালিকায় আরও নতুন নতুন শহীদের তথ্য যোগ হচ্ছে যারা স্বৈরাচারের আক্রোশের শিকার হয়ে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। প্রতিটি হত্যার বিচার আমরা করবোই। আমরা গুমের তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেছি। অনেকেই কমিশনের কাছে গুমের অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন এই ভেবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা তারা আবার আক্রান্ত হতে পারেন, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা দ্বিধাহীন চিত্তে কমিশনকে অভিযোগ জানান। কারও সাধ্য নেই আপনাদের গায়ে আবার হাত দেয়।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর ছাত্র-ছাত্রীরা শহর বন্দরের দেয়ালে-দেয়ালে তাদের মনের কথা লিখেছে। তাদেরও আগে যারা গুমের শিকার হয়েছে, প্রতিটি গোপন আস্তানার দেয়ালে-দেয়ালে তারা লিখে গেছেন, রেখেছেন তাদের কষ্টের মর্মস্পর্শী বিবরণ। তাদের এসব কষ্টের কথা শুনে আমাদের হৃদয় কেঁপে উঠেছে। এসবের সঙ্গে জড়িতদের আমরা বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবোই। অভিযুক্ত যতই শক্তিশালী হোক, যে বাহিনীরই হোক তাকে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেবল দেশে নয়, গুম, খুন ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের আমরা আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের প্রধান কৌশলী করিম খানের সঙ্গে আমার এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে কথা হয়েছে। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য কিংবা অন্য কেউ যাতে হত্যা, গুমসহ এ ধরনের কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না পারে এজন্য আমরা গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করেছি। আপনারা দেখেছেন, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। জাতিসংঘ জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তারা আমাদেরকে তাদের রিপোর্ট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অতীতের গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত কাজেও আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। মানবাধিকার রক্ষায় সহযোগিতা করতে ঢাকায় তারা তাদের জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আবারো জানাচ্ছি গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। একজনও বাদ যাবে না। সকল আহত শিক্ষার্থী-শ্রমিক-জনতার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে। আহতদের দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহীদদের পরিবারের দেখা-শোনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি শহীদ পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ লাখ টাকা দেয়া হচ্ছে। যারা বুলেটের আঘাতে তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তাদের চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে কর্নিয়া আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের প্রয়োজন তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো শহীদ এবং আহত ছাত্র শ্রমিক চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা থেকে বাদ যাবে না। এই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে গঠিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ বেশ পাকাপোক্তভাবে তাদের কাজ শুরু করেছে। এই ফাউন্ডেশনে সরকার ১০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। এ ছাড়াও জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বরাদ্দ প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচার পুলিশকে দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করেছে। বাধ্য হয়ে তাদের অনেকেই গণহত্যায় অংশ নিয়েছেন। খুবই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা জনরোষের শিকার হয়েছেন। এতে তাদের মনোবল অনেক কমে যায়। আমরা পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে এনে তাদের আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে অনেক দৃশ্যমান উন্নতিও হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও কিছু নির্বাহী ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতিতে সহায়তা করেছে।
কঠিন সময়ে অপরিসীম ধৈর্যের পরিচয় দেয়ার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। বলেন, ধন্যবাদ জানাই দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে। তারা তাদের কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্যাসিবাদী শক্তি ভয় দেখিয়েছিল তারা ক্ষমতা ছাড়লে দেশে লাখ লাখ লোক মারা পড়বে। টানা সাত দিন পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকার পরও ব্যাপক আকারে সহিংসতা এড়ানো গেছে। আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, বাংলাদেশ তখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত একটা দেশ। এসময় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে তারা সহিংসতারও শিকার হয়েছেন। কিন্তু এটা নিয়ে যে-সব প্রচার-প্রচারণা হয়েছে তা ছিল সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত। অল্প যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে তার মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক। কিন্তু এসব ঘটনাকে ধর্মীয় আবরণ দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা হয়েছে। আপনাদের সবার সহযোগিতায় আমরা দৃঢ়ভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের দু’মাসের মাথায় দেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার পূজামণ্ডপে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে একদিন অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হয় যা উৎসবের আমেজকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। দুর্গাপূজাকে ঘিরে আমরা ব্যাপক নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেই। যার ফলে, দেশের হিন্দু সমপ্রদায় নির্বিঘ্নে তাদের উৎসব পালন করেছে। শুধু হিন্দু সমপ্রদায়ই নয়, দেশের কোনো মানুষই যাতে কোনো রকম সহিংসতার শিকার না হয়, সেজন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এবং সব সময় সে চেষ্টা করে যেতে থাকবো।
তিনি বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে ছয়টি বন্যা হয়েছে। সবার সহযোগিতায় আমরা এই বন্যা মোকাবিলা করেছি। বন্যার ফলে অনেক জায়গায় ফসলহানি হয়েছে, ব্যাহত হয়েছে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল। বন্যা পরবর্তী সময়ে বাজারে শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে আপনাদের কষ্ট হয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। মানুষ যাতে স্বল্পমূল্যে কৃষিপণ্য কিনতে পারে সেজন্য রাজধানীসহ বিভিন্ন স্পটে সরকারি কিছু পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। টিসিবি’র মাধ্যমে ১ কোটি নিম্ন আয়ের ফ্যামিলি কার্ডের মধ্যে ৫৭ লাখকে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বন্যার ফলে চালের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছে। আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ ও দাম যাতে স্বাভাবিক থাকে এজন্য সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে আমাদের কোনো লুকোছাপা নেই। মূল্যস্ফীতির পূর্ণ তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি রোধে উচ্চ সুদের হার নির্ধারণসহ একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে শস্য আমদানিতে এলসি সীমা অপসারণ এবং সরবরাহ চেইন সংক্ষিপ্ত করা। সামান্য হলেও জ্বালানি তেলের মূল্য কমানো হয়েছে। শিল্প কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যাতে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যাহত না হয় এবং রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। গণশুনানি ছাড়া নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম না বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আশা করি বাজারে পণ্যমূল্য কমিয়ে আনতে এটা ভূমিকা রাখবে। নেপাল থেকে পানিবিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি আমাদের ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথাও ভাবতে হচ্ছে। আমাদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মধ্যদিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মতামত নিয়ে যাচ্ছি। সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব মতামত অনেকাংশে প্রতিফলিত হচ্ছে। চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় তাদের প্রতিটি মতামত সক্রিয় ভাবে বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ে, ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যেই সংস্কার কমিশনগুলো তাদের সুপারিশমালা সরকারের কাছে পেশ করতে পারবে। তাদের সুপারিশ নিয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ক্রমাগতভাবে আলোচনায় বসবো। সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই আমরা সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করবো।
তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন হয়ে যাবে। তারপর থেকে নির্বাচন আয়োজন করার সমস্ত দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তাবে। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ আরও কিছু কাজ শুরু করে দিতে পারবে যা একটি অবাধ নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।
প্রফেসর ড. ইউনূস বলেন, আমরা মনে করি না একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিলেই নির্বাচন আয়োজনে আমাদের দায়িত্ব শেষ। রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার আমাদের এই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। আপনারাই আমাদেরকে এই ম্যান্ডেট দিয়েছেন। যে ছয়টি সংস্কার কমিশন আমরা শুরুতে গঠন করেছিলাম তারা ইতিমধ্যে তাদের কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আপনারা তাদের কার্যক্রমের আপডেটও দেখছেন। কয়েকটি সংস্কার কমিশন ডিজিটাল প্ল্যাটফরম গঠন করেছে।
সরকারপ্রধান বলেন, নির্বাচনের কথা বলার সঙ্গে নির্বাচন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সংস্কারের কথাটিও বলুন। সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে যাবেন না। সংস্কার হলো জাতির দীর্ঘমেয়াদি জীবনী শক্তি। সংস্কার জাতিকে বিশেষ করে আমাদের তরুণ-তরুণীদের নতুন পৃথিবী সৃষ্টির সুযোগ দেবে। জাতিকে বঞ্চিত করবেন না। নির্বাচন আয়োজনে যে সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালায় রাজনৈতিক দলসমূহ এবং দেশের সকল মানুষের মতামত অপরিহার্য সে কমিশন হলো সংবিধান সংস্কার কমিশন। এই সুপারিশমালার কোনো অংশ সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে তার ভিত্তিতে নির্বাচনী আইন সংশোধন করতে হবে। সমান্তরাল ভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।
তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত নই, সংস্কার প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নের সুযোগ আমরা কতোটুকু পাবো। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনারা সুযোগ দিলে প্রয়োজনীয় কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কার কাজ শেষ করেই আমরা আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন আয়োজন করবো। ততদিন পর্যন্ত আমি আপনাদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করবো। আমরা চাইবো, আমরা যেন এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পারি যা যুগ যুগ ধরে অনুসরণ করা হবে। এর ফলে সাংবাৎসরিক রাজনৈতিক সংকট থেকে আমাদের দেশ রক্ষা পাবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সময়টুকু আমি আপনাদের কাছে চেয়ে নিচ্ছি। নির্বাচনী সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে খুব দ্রুত আপনারা নির্বাচনের রোডম্যাপও পেয়ে যাবেন।
অন্তর্বর্তী সরকার সৃষ্টি হয়েছে রাজনীতিকে নীতির কাঠামোয় আনার জন্য এমন কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতির জন্য নতুন পরিবেশ সৃষ্টির নিবিড় আকাঙ্ক্ষা থেকে। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা থেকে জাতিকে বঞ্চিত করবেন না। নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। এটা আর থামবে না। কিন্তু যেতে যেতে আমাদের অনেকগুলো কাজ সেরে ফেলতে হবে। এই ট্রেন শেষ স্টেশনে কখন পৌঁছাবে সেটা নির্ভর করবে কতো তাড়াতাড়ি আমরা তার জন্য রেল লাইনগুলো বসিয়ে দিতে পারি আর তা হবে রাজনৈতিক দলসমূহের ঐকমত্যের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, দেশে সংগঠিত অন্যান্য অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় সহস্রাধিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। হাইকোর্টে ইতিমধ্যে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২৩ নতুন বিচারক। বিচার বিভাগকে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য সম্ভব সব ধরনের চেষ্টাই করা হচ্ছে। বিচারপতিদের নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল করা হয়েছে। শুধু বিচার বিভাগই নয়, সর্বগ্রাসী দুর্নীতির হাত থেকে দেশের সব খাতকেই রক্ষা করতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে অভিযুক্ত প্রভাবশালী দেড়শ’ ব্যক্তির তালিকা তৈরি এবং ৭৯ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ১৫ শতাংশ হারে আয়কর পরিশোধ করে অপ্রদর্শিত পরিসম্পদ, অর্থাৎ কালোটাকা সাদা করার বিধান বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বিভিন্ন পর্যায়ের ১৯০৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি, ১৩৪২৯ জনকে বদলি এবং ১২৬৩৬ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পাবলিক সার্ভিস কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে। কুখ্যাত সাইবার সিকিউরিটি আইন বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই আইনের অধীনে হওয়া সেসব মামলা মানুষের মত প্রকাশের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়াও ১৩৩টি আইন, বিধিবিধান তৈরি ও সংশোধন করা হয়েছে এবং ৩৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে ইতিমধ্যে সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩২-এ উন্নীত করা হয়েছে। আমরা জানি আমাদের কাছে আপনাদের আরও অনেক দাবি-দাওয়া আছে। দীর্ঘদিনের অপশাসন, অত্যাচার, অনাচারের ফলে আপনাদের মনে অনেক ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। দেশে বাকস্বাধীনতা না থাকায় আমরা কেউ আমাদের মতামত, দাবি-দাওয়া প্রকাশ করতে পারিনি। আমরা আপনাদের প্রতিটি দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল। আমরা ধৈর্য সহকারে আপনাদের কথা শুনতে চাই। কিন্তু সেজন্য আপনারা সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আমাদের সকলেরই অসুবিধা হয়। আমাদের একান্ত অনুরোধ আপনারা নির্দিষ্ট চ্যানেল মেইনটেইন করে আপনাদের দাবি-দাওয়া পেশ করবেন।
তিনি বলেন, আমাদের বৃহৎ রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টস শিল্পে গত কিছুদিন ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী বেশকিছু গার্মেন্টস মালিক পালিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে ১৮ দফার একটি ব্যাপকভিত্তিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ছাড়াই আমরা শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন করতে পেরেছি। তারা আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী এই শিল্পও। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অক্টোবর মাসে আমাদের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখন কাজ শুরু করেছি, দেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে। আশার কথা, এই রিজার্ভ পরিস্থিতি এখন উন্নতির পথে। গত তিন মাসে রিজার্ভে কোনো রকম হাত না দিয়েই আমরা প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে পেরেছি। জ্বালানি তেল আমদানিতে পুঞ্জীভূত বকেয়ার পরিমাণ ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার হতে কমিয়ে ১৬০ মিলিয়ন ডলারে আনতে পেরেছি। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ-সহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা ইতিমধ্যে ঋণ ও অনুদান হিসেবে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, পতিত সরকার আমাদের জন্য যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রেখে গিয়েছে তাতে রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। এরমধ্যেও জুলাইয়ের নেতিবাচক অবস্থা থেকে অক্টোবর নাগাদ রাজস্ব আদায়ে পৌনে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি ছিল। রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে আমি এখন অন লাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করছি।
সরকারপ্রধান বলেন, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ইউএনডিপি ইত্যাদির প্রধানদের সঙ্গেও আমার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। তারাও বাংলাদেশকে নতুনভাবে এবং সর্বাত্মকভাবে সাহায্যের জন্য তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। ১০০ দিন আগে আর্থিক দিক থেকে আমরা যে লণ্ডভণ্ড অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম সেটা এখন অতীত ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই একশ’ দিনে অর্থনীতি সবল অবস্থানে চলে এসেছে। এটা সম্পূর্ণ নিজস্ব নীতিমালা দিয়ে হয়েছে। বন্ধু রাষ্ট্রগুলো শুধু যে আমাদের বড় বড় অঙ্কের সাহায্য নিয়ে আসছে তাই নয়, তারা এই সাহায্য দ্রুততম সময়ে আসা শুরু করবে এই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এই সাহায্য আসা শুরু করলে আমাদের অর্থনীতি অত্যন্ত মজবুত এবং আকর্ষণীয় অর্থনীতিতে পরিণত হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নানা রকম বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসবে।
বিশ্বের রাষ্ট্রপুঞ্জের মজলিসে বাংলাদেশ এখন সম্মানিত এবং প্রশংসিত দেশের অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, এর কারণে পরাজিত শক্তি নানা কৌশল করেও তাদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছে না। তারা নানা চেহারা নিয়ে আপনাদের প্রিয়পাত্র হওয়ার চেষ্টা করছে। পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন, দেশকে মুক্ত রাখুন। এ ব্যাপারে অনড় থাকুন। এমন কিছু করবেন না যা তাদেরকে উৎসাহিত করতে সাহায্য করে। তাদেরকে সকল দিক থেকে নিরাশ করুন। সেটা নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের আর কোনো বিষয়ে সংশয় করার প্রয়োজন নেই। সরকারের পক্ষ থেকে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি সকল প্রকার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা আপনাদের একটা মজবুত অর্থনীতি দিয়ে যাবো, ভবিষ্যতে চলার পথকে সহজগম্য করে যাবো, নাগরিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করে যাবো। বিপক্ষ শক্তি যত শক্তিশালীই হোক, নাশকতার যত রকমই উদ্ভট পরিকল্পনাই করুক সবকিছু নস্যাৎ করার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
তিনি বলেন, পতিত সরকার ও তার দোসররা প্রতি বছর দেশ থেকে ১২-১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। পাচার হয়ে যাওয়া এই অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য সম্ভব সকল ধরনের উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। এ কাজে সফল হতে পারলে আমাদের অর্থনীতি আরও গতি পাবে। এ কাজে আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সাহায্য নিচ্ছি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থানের মূলে রয়েছে বেসরকারি খাত। আমাদের বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান দুই শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মতবিনিময়ের অভাব, সরকারি অফিসের জটিল প্রক্রিয়া এবং সর্বোপরি দুর্নীতি, বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সমস্যায় ফেলেছে। বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ নিরসনে আমরা অনেকগুলো কাজ করেছি। আমরা প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করছি। আমার অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাত সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জনসহ অন্যান্য বাংলাদেশিকে মুক্তি দিয়েছে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সমপ্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। ১৮ হাজার বাংলাদেশি, যারা সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা মেনে চলার পরও স্বৈরাচারী সরকারের অব্যবস্থাপনার জন্য মালয়েশিয়া যেতে পারেননি, তিনি তাদের জন্য মালয়েশিয়ার দ্বার আবার উন্মুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আমরা কাজও শুরু করেছি। মালয়েশিয়া আগামী বছর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা আসিয়ানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে আসিয়ানের সদস্য পদের জন্য আবেদন করেছি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আমাদের আবেদন সক্রিয়ভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। একই ধরনের আশ্বাস আমরা পেয়েছি ইন্দোনেশিয়া থেকেও। তিনি বলেন, নতুন হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে হজের ব্যয় এক লাখ টাকারও বেশি কমিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি আমরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, এ বছর সরকারি খরচে কাউকে হজে পাঠানো হবে না।
নতুন বাংলাদেশকে একটি পরিবেশ বান্ধব এবং জীব বৈচিত্র্যময় দেশ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি জানিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, এটি তরুণদের আকাঙ্ক্ষা। আমাদের সবারই আকাঙ্ক্ষা। সেই লক্ষ্যে আমি প্রথমেই একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ নিয়েছি। সমগ্র সচিবালয়ে প্লাস্টিকের পানির বোতল ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছি। ইতিমধ্যে সুপার শপগুলোতে পলিথিনের শপিং ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত কয়েক দশকে যে পরিমাণ নদী দূষণ হয়েছে, আমরা তা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছি। গত এক বছরে বাংলাদেশ প্রায় ১৫টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে। মানুষের সৃষ্ট নানাবিধ দুর্যোগের পাশাপাশি এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিপক্ষেও আমাদের লড়তে হচ্ছে। আজারবাইজানে জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আমি আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকার অনেক সরকার প্রধানের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে। যতটুকু আলাপ-আলোচনা সম্ভব হয়েছে, আমি সবার কাছেই জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব মোকাবিলাসহ গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা চেয়েছি। তারা সহযোগিতার অঙ্গীকার সবাই করেছেন।
তিনি বলেন, গত ১০০ দিনে আমরা আরও অনেক কল্যাণমূলক কাজ করেছি যা এখানে স্বল্প পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। আমি তাই সরকারের সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি তাদের নিজ নিজ কাজের বিস্তারিত বিবরণ নিজেদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য। আমি আমার দপ্তরকেও বলেছি সরকারের সব কাজের বিবরণ যাতে জনগণ জানতে পারে এজন্য যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়।
সরকারকে ব্যর্থ ও অকার্যকর করার জন্য বিশাল অর্থে বিশ্বব্যাপী এবং দেশের প্রতিটি স্থানে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এক মহাপরিকল্পনা প্রতি মুহূর্তে কার্যকর রয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, তাদের একটি বড় প্রচেষ্টা হচ্ছে আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। পতিত সরকারের নেতৃবৃন্দ যারা এদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে নিয়ে গেছে সে অর্থে বলিয়ান হয়ে তারা দেশে ফিরে আসার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদেরকে কিছুতেই সফল হতে দেবেন না। তারা সফল হওয়া মানে জাতির মৃত্যু। জাতি হিসেবে আমাদের অবসান। সাবধান থাকুন। তাদের সকল হীনপ্রচেষ্টাকে আমাদের ঐক্যের মাধ্যমে নস্যাৎ করে দিন। যেভাবে নস্যাৎ করেছিলেন তাদের বন্দুকের গুলিকে। তাদের আয়নাঘরকে। প্রতি পায়ে তাদের অনাচারের শিকলকে। এ ব্যাপারে সবাই একমত থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেড়শ’ কোটি টাকার মালিক মুহিবপত্নী by মো. শরিফুল হক শাহীন
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান মুহিব। নির্বাচনে রাতের ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। স্বামী এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরই টাকা আর জমির নেশায় পেয়ে বসে মুহিবপত্নীকে। দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়েই এ সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
২০১৯ সালের ২১শে নভেম্বর তাপস সাহা গং নামে এক হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে কোটি টাকা দিয়ে ৮শ’ শতাংশ (৮ একর) জমি কেনেন রেখা। এই জমির অবস্থান ইটবাড়িয়া মৌজায়। দলিল নং-৪৫১২। ২০২৪ সালে ধুলাসার মৌজায় আলমগীর হোসেন হাওলাদারের কাছ থেকে নেন ৫ দশমিক ২৬ একর জমি। ২০২২ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ৬৬৭০নং দলিলে বৌলতলীতে রিয়াজুল ইসলাম মিলন তালুকদারের কাছ থেকে কেনেন ০.৬১ একর জমি। ২০১৭ সালের ৩১শে আগস্ট কাউয়ারচর মৌজায় আব্দুস সত্তার গংয়ের কাছ থেকে নেন দেড় একর, দলিল নং ৪১২০। একই সালের ৩১শে আগস্ট ১ দশমিক ৩৪ একর জমি কেনেন রেখা। যার দলিল নং ৪১১৯।
২০১৯ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর কাউয়ারচর মৌজায় ৩৯৬২নং দলিলে স্থানীয় দাদন মিয়ার ১ দশমিক ১২ একর জমি কেনেন মাত্র ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকায়। ২০১৮ সালের ১২ই এপ্রিল ধুলাসার মৌজায় মোশারেফ হাওলাদার গংয়ের কাছ থেকে নেন ১ দশমিক ২১ একর জমি। একই এলাকায় পরের বছরের ১৯শে জুন ২৫৪৬নং দলিলে দশমিক ৩৮ একর জমি কেনেন।
২০২৩ সালের ১১ই অক্টোবর ৫২১২নং দলিলে বৌলতলী মৌজায় ১ দশমিক ৩৯ একর ধানী জমি নেন স্থানীয় আবুল কাশেম গংয়ের কাছ থেকে। ২০১৯ সালের ২রা জানুয়ারি কাউয়ারচর মৌজায় আবদুল ছত্তার গংয়ের ০ দশমিক ৭৬ একর জমি লিখে নেন রেখা। যার দলিল নং-৪০১১। ২০২৩ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর ধুলাসার মৌজায় নাজিম সিকদার গংয়ের দেড় একর জমি দলিল করে নেন মুহিবপত্নী ফাতেমা আক্তার। যার দলিল নং-৫০১৭। ২০১৯ সালের ২রা অক্টোবর কাউয়ারচরে জলিল গংয়ের ৩৯ শতাংশ জমি বাগিয়ে নেন রেখা।
২০১৮ সালের ২৩শে এপ্রিল ধুলাসার মৌজার সোনা মিয়া গং ও নুর সাঈদ গংয়ের কাছ থেকে ৪৮ লাখ টাকায় কেনেন একটি জমি। একই জায়গায় ৪০৮২নং দলিলে রয়েছে রেখার আরও ৩০ শতাংশ জমি। বৌলতলীতে ২০২২ সালের ২৬শে ডিসেম্বর স্থানীয় আজিজুর রহমানের ১০২ শতাংশ জমি মাত্র ৬ লাখ টাকায় দলিল করেন রেখা। দলিল নং-৬৬৭২।
একই সালে তিনি ফিরোজা বেগমের কাছ থেকেও সমপরিমাণ জমি দলিল করেন একই স্থানে। যার দলিল নং-৬৬৭১। ধুলাসারের আব্দুল মালেক গংয়ের ১৯০ শতাংশ, গঙ্গামতিতে ৩০ শতাংশ, ২০২০ সালে রফিকুল ইসলাম গংয়ের কাছ থেকে কেনেন ১৫৪ শতাংশ জমি। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ০.৪৫ একর, ২০১৯ সালে ০.২০ একর, ২০১৭ সালে দেড় একর ও ০.৪২ একর জমি কেনেন রেখা।
ধুলাসার ইউনিয়নের সাবেক এক চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্কুল-কলেজের চাকরি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য ও টিআর কাবিখার কাজ না করে পুরো টাকা লুটপাট করে নিয়েছেন তিনি। সেই অর্থেই কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দরের মতো জায়গায় এত জমি কিনেছেন তিনি।
ফাতেমা আক্তার রেখা আলহাজ জালাল উদ্দিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। কলেজের অফিস সহায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, ফাতেমা আক্তার কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হয়েছেন। তার বেতন সর্বসাকুল্যে ৩৮ হাজার টাকার মতো।
হিন্দু সমপ্রদায়ের কাছ থেকে দলিল করা কোটি টাকা মূল্যের আট একর জমির মালিকানা অস্বীকার করলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. মহিবুর রহমানের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার। গত পহেলা অক্টোবর ঢাকার একটি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এক হলফনামায় এ জমির মালিকানা তিনি অস্বীকার করেন। হলফনামায় দাবি করেছেন,‘রেজিস্ট্রিকৃত ওই সাফ কবলা দলিল আমি ও আমার নিকটজনের অজান্তে কে বা কারা সম্পন্ন করেছে যা আমি অবগত নই। আমি বিষয়টি অবগত হয়ে আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত জেনে দলিলের কপি সংগ্রহ করি। সে হলফনামায় আরও উল্লেখ করেছেন, আমি বা আমরা অবগত না থাকায় অত্র দলিলে আমি বা আমার নিকটজনের কোনোরূপ স্বত্ব বা মালিকানা থাকবে না। ভবিষ্যতেও দাবি করবো না। এ নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো অসুবিধা বা বিতর্ক, বিবাদ দেখা দিলে আমি বা আমার নিকটজন দায়-দায়িত্ব বহন করবো না। এমনকি দলিলটির মূল্য ও রেজিস্ট্রি খরচ সে পরিশোধ করেননি বলে উল্লেখ করেছেন। এই হলফনামাটি অতি সম্প্রতি কলাপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করা হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চোরাই লাইন নিয়ে সিলেটে উত্তেজনা by ওয়েছ খছরু
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যশোরে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখনো অধরা! by নূর ইসলাম
সূত্র জানায়, যশোর শহর ও শহরতলীকেন্দ্রিক সন্ত্রাসীদের একক নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন শাহীন চাকলাদার। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন। এরপর যশোর শহরকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়তে থাকেন চাকলাদার। সেই স্থান দখল করে নেন সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। বিগত সরকার পতনের সময় পর্যন্ত যশোর শহর ও শহরতলীকেন্দ্রিক সন্ত্রাসীরা স্পষ্ট দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। একপক্ষ শাহীনপন্থি, অন্যপক্ষ নাবিলপন্থি।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বর্ণনা করা হয়েছে, যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকায় ভুট্টো শাওন, হাফিজ, আরবপুর এলাকার সাইদুজ্জামান বাবু ওরফে দাঁতাল বাবু, পুরাতন কসবা এলাকায় শেখ জাহিদুল ইসলাম মিলন ওরফে টাক মিলন, শঙ্করপুর ও ষষ্ঠীতলাপাড়া এলাকায় আলমগীর কবির ওরফে হাজী সুমন, বড়বাজার এলাকায় তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু, উপশহর এলাকায় মনসুর ও নান্নু ওরফে কাঠ নান্নু, পালবাড়ি এলাকায় লিখন নিজ নিজ নামে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। এসব বাহিনীর সদস্যরা চাঁদাবাজি, সম্পত্তি দখল, টেন্ডারবাজির মতো গুরুতর অপরাধে যুক্ত ছিল। এ ছাড়া শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ার নবাব, চাঁচড়া ভাতুড়িয়ার পান্নু, ভেকুটিয়ার ফকির শাহারুল, চূড়ামনকাঠি এলাকায় মুন্না, বিরামপুরের কেরামত সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করতেন। এরা জমি দখল, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় জড়িত ছিল। আলোচিত সন্ত্রাসীদের মধ্যে টাক মিলন ও হাজী সুমন যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। ফন্টু চাকলাদার যশোর সদর উপজেলার এবং ফকির শাহারুল আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। পুলিশ সূত্র বলছে, যশোর পৌরসভার বিলুপ্ত পরিষদে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাইদুর রহমান রিপন ওরফে ডিম রিপন, শাহেদ আলম নয়ন ওরফে হিটার নয়নসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে লেবুতলার আলিমুজ্জামান মিলন, রামনগরের মাহমুদ হাসান লাইফ, নরেন্দ্রপুরের রাজু আহমেদ, চূড়ামনকাঠির মুন্নাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বাহিনী লালনসহ নানা অপকর্মে যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল ও সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহীর বিরুদ্ধে খুন, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ আছে।
সূত্র বলছে- যশোরে গত ১৫ বছর ধরে সক্রিয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে শহরের ঘোপ এলাকার সুজন, রাসেল, রেজওয়ান, সাঈদ, বারান্দি এলাকার মনির ওরফে কসাই মনির, তৌসিফুর রহমান রাসেল, আনোয়ার হোসেন সবুজ, কামাল হোসেন, গোলাম কিবরিয়া সানি, জাকির হোসেন রাজিব, সনি, আরিফ, শঙ্করপুরের হিটার নয়ন (পৌর কাউন্সিলর), জুয়েল, মানিক, বিপ্লব, রাজু ওরফে লুই, শয়ন, ষষ্টিতলা পাড়ার ম্যানসেল, পুরাতন কসবার মাহমুদ হাসান বিপু, আনোয়ার হোসেন বিপুল, জাহিদ হোসেন মিলন, রবীন্দ্রনাথ সড়কের ফারুক ওরফে কালা ফারুক, পল্টু, এজাজ আহমেদ, টিপু সুলতান, রায়পাড়ার রিয়াজ, চঞ্চল ওরফে ট্যারা চঞ্চল, বাপ্পি, অম্বিকা বসু লেনের মোস্তফা ওরফে ট্যারা মোস্তফা, সিটি কলেজপাড়ার নাহিদ, সাদ্দাম, বেজপাড়ার রোহান, শহরতলীর মুড়লি এলাকার মাহমুদ হাসান লাইফ, উপ-শহরের সাগর, বালিয়াডাঙ্গার রবিউল ইসলাম, বাদশা মিয়া, ভাতুড়িয়ার শফিয়ার রহমান, আজাদ, নূরপুরের মো. সাগর খাঁ, চাঁচড়ার সোহান, হামিদপুরের সুজন ওরফে ট্যারা সুজন, বিরামপুরের শাহাজান আলী ওরফে কসাই শাহাজান, হাদিউজ্জামান ওরফে চিমা, জিরাটের রাজু আহমেদ, আন্দোলপোতার আলিমুজ্জামান মিলন, আলমনগরের টিপু সুলতান, ছোট হৈবতপুরের সিদ্দিকুর রহমান, তালবাড়িয়ার আসমত আলী চাকলাদার, ফিরোজ, শালিয়াটের ইমলাক, সুলতানপুরের দীপু ওরফে ডেঞ্জারাস দীপু, তফশিডাঙ্গার মামুন ও মিরাজুল, তালবাড়িয়ার তুহিন, চাঁদপাড়ার বাবুল, তালবাড়িয়ার হাসমত, ফিরোজ, চিমা, লেবুতলার লব ঘোষ, খোঁড়া খায়রুল, বেড়ে বাবু, উপ-শহরের টমাস ও সবুজ, কাজী জুয়েল, মিল্টন, চানপাড়ার মাসুদ, ঝুমঝুমপুরের বাইজিদ, বারান্দীপাড়ার আরিফ, ছোট বালিয়াডাঙ্গার সোহেল, কায়েদখালীর আনোয়ার, শহরের ধানপট্টি এলাকার সোহাগ, ঘোপের সাঈদ, ইছালীর মাজাহারুল ইসলাম খোকা, কাশিমপুরের সোহেল, সাতমাইল শ্যামনগরের প্রিন্স, বারান্দীপাড়ার জাকির ও নান্নুর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব সন্ত্রাসীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এক বা একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেন ধরা যাচ্ছে না- তা জানতে যোগাযোগ করা হয় জেলার পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। পট পরিবর্তনের পর যশোরে যোগ দেয়া এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতিগত কারণে দেশ জুড়ে পুলিশি কার্যক্রমে স্থবিরতা ছিল। পুলিশ সদস্যদের মনোবলেরও ঘাটতি ছিল। ইতিমধ্যে আমরা সেটা কাটিয়ে উঠেছি। পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখনকার ফোকাস অল্প সময়ের মধ্যে এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
November
(469)
-
▼
Nov 18
(16)
- ক্রমাগত সহিংসতায় উত্তপ্ত মণিপুর, চলছে ধরপাকড়
- স্বর্ণখনি ঘিরে রেখে অপেক্ষা করছে পুলিশ, ভেতরে কয়েক...
- অসীমার বেঁচে থাকার ‘অলৌকিক’ গল্প by মানসুরা হোসাইন
- ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পূর্ণাঙ্গ ভাষণ
- ট্রাম্পের বাসভবন পাহারা দিচ্ছে রোবট কুকুর ‘স্পট’
- পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনাসহ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা ...
- রাজনৈতিক সমঝোতা চায় বৃটেন: ঢাকায় বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী
- আহতদের অনেকেই পাননি সরকারি অর্থ, নিঃস্ব পরিবার by ...
- দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন by পিয়া...
- ফ্যাসিস্টদের বিচার শেষে নির্বাচন
- সহিংসতায় জ্বলছে মনিপুর ‘মোদি শুধু চেয়ার রক্ষার কথা...
- দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নিখোঁজ কানাইঘাটের ...
- এই সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে মহাপরিকল্পনা কার্যকর রয়...
- দেড়শ’ কোটি টাকার মালিক মুহিবপত্নী by মো. শরিফুল হক...
- চোরাই লাইন নিয়ে সিলেটে উত্তেজনা by ওয়েছ খছরু
- যশোরে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখনো অধরা! by নূর ইসলাম
-
▼
Nov 18
(16)
-
▼
November
(469)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...