Showing posts with label ঠাকুরগাঁও. Show all posts
Showing posts with label ঠাকুরগাঁও. Show all posts

Sunday, May 10, 2026

‘লালু’ ডাক শুনে শামস উদ্দিনের কাছে ছুটে আসে কালিম পাখিটি by মজিবর রহমান খান

ঘড়ির কাঁটায় তখন শনিবার দুপুর ১২টা। ঘরের চালা থেকে বাড়ির উঠানে নেমে এল একটি পাখি। এদিক-ওদিক তাকিয়ে ঢুকে পড়ল ঘরে। এঘর–ওঘর হয়ে উঠানে এসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা খাবার খুঁজে খুঁজে খেতে লাগল পাখিটি। বাড়ির লোকজন তা দেখে কিছু চাল ছুড়ে দিলেন, তা খেয়ে আবার চালার নিজ নীড়ে ফিরে গেল পাখিটি।

ওই বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ভন্ডগ্রামের মো. শামস উদ্দিনের। আর ওই পাখির নাম কালিম। পাখিটি শামস উদ্দিনের বাড়িতে বসত বেঁধেছে। পাখিটি এখন তাদের বাড়ির অংশ হয়ে উঠেছে। পরিবারের লোকজন পাখিটিকে ভালোবেসে ডাকে ‘লালু’ নামে।

বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এক ঝড়বৃষ্টির রাতে ভন্ডগ্রামের ফারুক আহমেদের বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল কালিম পাখিটি। চেষ্টা করেও পাখিটি উড়তে পারছিল না। সেবা-শুশ্রূষা করে ওই বাড়ির লোকজন পাখিটিকে ঘরে রেখে দেন। সুস্থ হয়ে উঠলেও পাখিটি ফারুকের বাড়ি ছেড়ে যায়নি। ফারুক ও তাঁর পরিবারের লোকজন পাখিটি মুক্তভাবে লালন-পালন শুরু করেন।

চার মাস পর পাখিটি উড়ে ফারুকের প্রতিবেশী শামস উদ্দিনের বাড়িতে চলে যায়। সেই থেকে সেখানেই পাখিটির বসবাস।

ফারুক আহমেদ বলেন, পাখিটি একবার ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পাখিটির চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই সময় তিনি জানতে পারেন, পাখিটির নাম কালিম। পাখিটি শামস উদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও প্রতিদিনই তাঁর বাড়িতে এসে খাবার খায়।

জলাভূমির পাখি কালিম। এই পাখি চকচকে নীলচে-বেগুনি রঙের হয়। এদের মূল খাবার জলজ উদ্ভিদ, গুল্মের কচি-নরম পাতা, ডগাসহ পদ্মফুলের ভেতরের অংশ, ব্যাঙের বাচ্চা, ছোট মাছ ইত্যাদি। ৫০ বছর আগেও সারা বাংলাদেশের বিল-হাওরে এই পাখির দেখা মিলত। এখন এরা কোণঠাসা দেশের কয়েকটি হাওরাঞ্চলে।

শামস উদ্দিন বলেন, পাঁচ মাস হয়ে গেল পাখিটা তাঁর বাড়িতে আছে। কোথাও উড়ে যায় না। দিন পনেরো আগে পাখিটি নয়টি ডিম পেড়েছে। বেশির ভাগ সময় ওই ডিমে তা দেয়। ডিমের কাছে কেউ গেলেই আক্রমণ করতে আসে। খাবারের সময় নিচে নেমে আসে, খেয়ে আবার ফিরে যায়।

শামস উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তাঁর স্ত্রী পারুল আকতার ‘লালু...লালু...লালু...’ করে ডাকতে লাগলেন। ডাক শুনে কালিম ছুটে এল। পারুল তখন তাঁর হাতের চাল খেতে দিলেন পাখিটিকে। খেয়ে পাখিটি আবার ফিরে গেল ওর নীড়ে। পারুল বললেন, ‘লালন-পালন করতে গিয়ে পাখিটার প্রতি আমাদের মায়া জমে গেছে। পাখিটাও আমাদের ছেড়ে কোথাও আর যায় না।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষক মাজেদ জাহাঙ্গীর বলেন, কালিম পাখিকে অনেকেই পরিযায়ী মনে করলেও এরা আসলে দেশীয় জলচর পাখি। জল-ডাঙায় বিচরণের জন্য এই পাখি দুঃসাহসী, লড়াকু ও মারকুটে স্বভাবের হয়। স্বভাবে বুনো হলেও মোটামুটি পোষ মানে। এই পাখিরা প্রকৃতিগতভাবে স্বাধীন থাকতে চায়। তবে যখন তারা কোথাও খাদ্য ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পায়, তখন সেই জায়গার সঙ্গে তাদের বন্ধন তৈরি হয়। শামস উদ্দিনের বাড়িটি হয়তো কালিম পাখিটির কাছে এমন নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠেছে, এ জন্য আর অন্য কোথাও যাচ্ছে না পাখিটি।

রানীশংকৈল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত বলেন, প্রাণিকুলের স্বভাব হলো তারা যেখানে নিরাপদ মনে করে, সেখানেই আশ্রয় নেয়। সেই আশ্রয়ে বাসাও বাঁধে। নিরাপদ ভেবেই হয়তো শামস উদ্দিনের বাড়িতে পাখিটি বাসা বেঁধেছে। পুরুষ সঙ্গীর সংস্পর্শে না এলেও স্ত্রী কালিম পাখি ডিম পাড়ে। তবে সেসব ডিম থেকে ছানা ফোটে না।

এই কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) পাখির এই প্রজাতিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্য প্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী, পাখিটি সংরক্ষিত। লালন-পালন করতে হলে বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া উচিত।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-08%2F6hlyxs01%2Fthakurgaonkalim.jpg?rect=300%2C0%2C3240%2C2160&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
শামস উদ্দিনের হাতে কালিম পাখি। ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ভন্ডগ্রামে। ছবি: প্রথম আলো

Sunday, January 25, 2026

যারা অন্যায় করেনি, তাদের শাস্তি হতে দেব না: আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর আপনারা ভোট দিতে পেরেছিলেন? ভোট দিতে পারেননি। সে সময় আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। এখন একটা সুযোগ এসেছে।’

শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শোল্টিহরি বাজারে নির্বাচনী গণসংযোগের সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের হাসিনা আপা চলে গেছেন ভারতে। তিনি ভারতে গেছেন ভালো করেছেন। এলাকার সমর্থক–কর্মীদের বিপদে ফেলে গেছেন কেন? আমরা কর্মী-সমর্থকদের জানাতে চাই, আপনারা বিপদে পড়বেন না। আমরা আছি আপনাদের পাশে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, তাদের কোনো শাস্তি হতে দেব না।’

দুপুরে মির্জা ফখরুল নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভার উদ্দেশে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন। বিকেলে তিনি সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল্টিহরি বাজারে গণসংযোগের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এ ছাড়া ১১ মাইল, বৈরাগীহাট, পয়সাফেলা ও মুন্সিরহাট এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করে ধানের শীষে ভোট চান।

শোল্টিহরি বাজারে এলাকাবাসীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি কিন্তু আপনাদেরই ছেলে, আপনাদেরই ভাই। এই এলাকা থেকে নির্বাচন করে আমি কখনো জিতেছি, কখনো হেরেছি। যখন হেরেছি, তখন কিন্তু আপনাদের ছেড়ে যাইনি। আমার বয়স ৭৮ হয়ে গেছে। কিন্তু মনের দিক থেকে এখনো তরুণ আছি। আমি বিশ্বাস করি, এখনো অনেক কাজ করতে পারব। সুযোগ পেলে এলাকার সমস্যার সমাধান করতে পারব।’

ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা মুসলমান–হিন্দু ভাইবোনদের অনুরোধ করব, আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করি। এই উন্নয়ন কেবল ধানের শীষ করতে পারবে, আর কেউ করতে পারবে না। আজ কিছু লোক আমাদের ভাগ করতে চায়। আমরা কি বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান আলাদা আলাদা বাস করি? এলাকাতে একসঙ্গে হিন্দু-মুসলমানরা থাকেন। একসঙ্গে চলাফেরা করেন। আমাদের পরবে হিন্দুরা আসেন, হিন্দুদের পূজায় আমরা যাই। আমরা এই অবস্থাটা ধরে রাখতে চাই। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই একসঙ্গে দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই। সবাইকে সমান নিরাপত্তা দিতে চাই।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন একটা দল আসছে, নাম কী? জামায়াত। তারা কি এর আগে ক্ষমতায় এসেছিল? কারও জন্য কোনো কাজ করেছে? আমরাই কাজ করেছি। বিএনপিই পরীক্ষিত দল। আরও কাজ করতে চাই। নতুন স্কুল, রাস্তাঘাট করতে চাই, হাসপাতাল করতে চাই। ছেলেমেয়েদের চাকরির ব্যবস্থা করতে চাই।’

নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল্টিহরি বাজারে
নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল্টিহরি বাজারে। ছবি: প্রথম আলো

Sunday, April 27, 2025

এলজিইডিতে ইঞ্জিনিয়ার মাবুদের তেলেসমাতি by মো. রেজাউল প্রধান

মাবুদ হোসেন। এসএসসি’র পর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরি পান এলজিইডিতে। চাকরির সুবাদে বিগত ২০০৯ সালে বদলি হয়ে আসেন সদর উপজেলা এলজিইডিতে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তিন বছর পরপর বদলি করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে একই কর্মস্থলে চাকরি করেন প্রায় ১৫ বছর।

অভিযোগ উঠেছে তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করার পর থেকে পতিত সরকারের পুরোটা সময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের ছত্রচ্ছায়ায় সরকার দলীয় কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। কমিশন বাণিজ্য আর নিজেই সিংহভাগ কাজ করে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। তার গ্রামের বাড়ি জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা গ্রামে তৈরি করেছেন ‘মাইশা ম্যানশন’ নামে আলিশান একটি বাড়ি। সুনির্দিষ্ট কিছু কারণে গত ২২শে আগস্ট অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক বদলি আদেশে  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা থেকে তাকে বদলি করা হয় রানীশংকৈল উপজেলা এলজিইডিতে।  মাত্র তেরো দিনের ব্যবধানে বিগত ৫ই সেপ্টেম্বর ওই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক বদলি আদেশেই রাণীশংকৈল এলজিইডি থেকে আবার নিয়ে আসা হয় পূর্বের কর্মস্থল সদর উপজেলা এলজিইডিতে। কয়েক দিনের ব্যবধানেই আবার পদোন্নতি পান সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে। যোগদান করেন নির্বাহী প্রকৌশলী অফিস এলজিইডি ঠাকুরগাঁওয়ে। তিনি সেখানে চেয়ারে বসতে না বসতেই গত ২০শে এপ্রিল প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক আদেশে আর্থিক ক্ষমতাসহ উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এলজিইডি’র। অবশ্য এর আগে গত ৯ই এপ্রিল প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক আদেশে সদর উপজেলার দায়িত্ব দেয়া হয় ঠাকুরগাঁও এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসের সহকারী প্রকৌশলী ফরহাদ হোসেন সৌরভকে। কিন্তু ২০শে এপ্রিল তার বদলি আদেশ বাতিল করেন প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া ওই দিনই দায়িত্ব  দেন সহকারী প্রকৌশলী মাবুদ হোসেনকে। তবে কী কারণে  সহকারী প্রকৌশলী ফরহাদ হোসেন সৌরভের বদলি আদেশ বাতিল করেন এর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে মাবুদ হোসেন সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পেলেও বেতন-ভাতাদি ভোগ করেন ১০ম গ্রেডের। একজন ১০ম গ্রেডের বেতন-ভাতাদি ভোগ করা প্রকৌশলীকে নবম গ্রেডের প্রকৌশলীগণকে উপেক্ষা করে ৬ষ্ঠ গ্রেডের পদ-পদবিধারী অফিসারের দায়িত্ব দেয়ায় এলজিইডিতে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডিতে কর্মরত একজন মানবজমিনকে বলেন, রূপ কথার গল্প শুনেছি। শুনেছি যাদুর কাঠির গল্প। এলজিইডিতে মনে হয় যাদুর কাঠির অধিকারী মাবুদ সাহেব। তা নাহলে এত তেলেসমাতি দেখান কীভাবে। একই কর্মস্থলে ১৫ বছর, বদলির কয়েকদিন যেতে না যেতেই আগের কর্মস্থলে, উপ-সহকারী থেকে সহকারী প্রকোশলী, পদোন্নতি হতে  না হতেই উপজেলার দয়িত্ব। এসব কি উৎকোচের বিনিময়ে নাকি যথাযথ নিয়মে। আমার মতো এলজিইডি’র অনেকের কাছে তো রূপ কথার গল্পের স্বপ্নে দেখা রাজকুমারীর মতো। তার বদলি, পদোন্নতি ও উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া প্রসঙ্গে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে মাবুদ হোসেনের গ্রামের বাড়ি পীরগঞ্জের বৈরচুনায় খোঁজ নিতে গেলে আগের চেয়ে এই এলাকাগুলো অনেক উন্নত হয়েছে বলতেই এক ব্যক্তি বলেন, ভাই আমাদের এলাকায় আলিশান বাড়িও রয়েছে। কে করেছেন? জিজ্ঞাসা করাতেই উত্তরে তিনি বলেন, ওই যে মাবুদ হোসেন। উনি কি করেন? উত্তরে তিনি জানান ডিপ্লোমা করে এলজিইডিতে চাকরি করেন। এখন তো মাবুদ জেলা অফিসের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার। আরও যদি উপজেলার দায়িত্ব পাই তাহলে তো বিশাল কিছু। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে এলজিউডি’র প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

mzamin

Friday, March 21, 2025

মুক্তিপণের ২৫ লাখ পেয়েও মিলনকে হত্যা করলো অপহরণকারীরা

ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে পড়ে অপহরণের শিকার মিলন হোসেনের (২২) মরদেহ ২৬ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। জমি-জায়গা বিক্রি করে মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা দিয়েও ছেলেকে জীবিত না পেয়ে নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে পীরগঞ্জের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নিহত মিলন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়নের চাপাপাড়া এলাকার পানজাব আলীর ছেলে। মিলন দিনাজপুর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ছিলেন। বুধবার ১৯শে মার্চ  রাত ১০টার দিকে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে ঠাকুরগাঁও ডিবি পুলিশ। এরা হলেন- ঠাকুরগাঁও সদরের মহেশপুর বিটবাজার এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে সিজান আলী (২৮), আরাজি পাইকপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে মুরাদ (২৫) ও সালন্দর ইউনিয়নের শাহীনগর তেলিপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে রত্না আক্তার রিভা (১৯)। এ সময় মুরাদের হেফাজত থেকে ৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এদিকে, গতকাল দুপুরে মিলন হোসেনের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন এলাকাবাসী। পরে জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা মিলন হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার করা হবে বলে স্বজনদের আশ্বস্ত করেন। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ছেড়ে চৌরাস্তায় অবস্থান নেন তারা। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এর আগে বিক্ষুব্ধ জনতা আটক সিজান আলীর বসতবাড়ি ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেন।

গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি মিলন হোসেনের সঙ্গে ফেসবুকে অজ্ঞাত একজনের যোগাযোগ হয়। একপর্যায়ে সেই ব্যক্তি মিলন হোসেনকে দেখা করার কথা বলেন।

একইদিন দুপুরে দেখা করার জন্য পীরগঞ্জ থেকে জেলা শহরের মুন্সিরহাট পলিটেকনিক্যালের পেছনে লিচু বাগানে যান মিলন। এরপর রাতে মিলন বাড়িতে না এলে তার বড় ভাই হামিদুর রহমান মিলনের মুঠোফোনে কল করলে বন্ধ পান। মিলনকে ফোনে না পেয়ে তার ভাই পরিবার ও এলাকার লোকজনকে অবগত করলে সবাই মিলে মিলনকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোথাও সন্ধান পায়নি। ওইদিন রাত ১টার দিকে মিলনের বাবাকে ফোন করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি জানান যে, মিলন তাদের হেফাজতে রয়েছে। তারা ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার। অপহরণের তিনদিন পর ২৬শে ফেব্রুয়ারি মিলনকে হত্যা করে অপহরণকারীরা। এরপরও মিলনকে ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ বাগিয়ে নেয় চক্রটি।

পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সিজান ও মুরাদকে আটক করে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামি সিজানের বাড়ির পেছনের অব্যবহৃত টয়লেটের স্লাবের ভেতর থেকে বুধবার রাত ৩টার দিকে মাটি খুঁড়ে মিলনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে আরেক আসামি রত্না আক্তার ইভাকে আটক করে। ধারণা করা হচ্ছে, অপহৃত মিলন অপহরণকারী চক্রকে চিনে ফেলায় তারা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে এই বিষয়ে কাজ করছিলাম কিন্তু কোনো ক্লু পাচ্ছিলাম না। প্রযুক্তির সহযোগিতায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা স্বীকার করে তারা মিলনকে খুন করেছে ও তাদের দেয়া তথ্যমতে, মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

mzamin


Wednesday, September 18, 2024

আওয়ামী লীগের মতো করলে একই দশা আমাদেরও হবে: ফখরুল

টানা প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ যা করেছে এবং যেভাবে গণঅভ্যুত্থানে তাদের বিদায় হয়েছে, সেটা বিএনপি করলেও পরিণতি একই হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন তিনি। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমরা এই মুক্ত বাংলাদেশ বাস করছি, কিন্তু মনে রাখবেন- এই মুহূর্ত সেই পর্যন্তই মুক্ত ও স্বাধীন থাকবে, যতদিন আমরা মুক্ত ও স্বাধীন রাখতে পারব। আমরাও আওয়ামী লীগের মতো শুরু করলে তাদের মতো একই দশা আমাদেরও হবে। সেজন্য বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। কারো প্রতি অন্যায় অত্যাচার এবং অবিচার করা যাবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার আন্দোলনে দুই হাজার ছাত্র-জনতাকে খুন করেছে। অনেকের হাত-পা কেটে ফেলতে হয়েছে। কারও মাথার খুলি উড়ে গেছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নির্ভয় দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা আমাদের আমানত। তাদের রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যে আমানতের খেয়ানত করে সে মুমিন না। তাই এই আমানতকে রক্ষা করতে হবে। সামনে তাদের পূজা আসছে। সেখানে কোথাও যেন কোনো অঘটন না ঘটে, কারো কোথাও কোনো সম্পত্তিসহ আত্মীয়-স্বজনদের ওপর যেন অত্যাচার না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘অতীতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাই সবাই যেন ভোট দিতে পারে, যার ভোট সেই দেবে, যাকে খুশি তাকে দেবে। সেই ভোটের মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করব। আগের সিস্টেম থেকে বেরিয়ে আসার এবং ঠিক করার জন্য বর্তমান সরকারকে সময় দিতে হবে। তারা নিরপেক্ষ মানুষ, কোনো দল করেন না। কিন্তু দেশটাকে ভালোবেসে দেশের জন্য কিছু কাজ করতে চান। তাই অন্তর্বর্তী সরকারকে সবার সহযোগিতা করতে হবে।

ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত অনেক খারাপ কাজ করে। সীমান্তে গুলি করে মানুষ মারে। আমরা ভালোভাবে থাকতে চাই তাদের সাথে। প্রতিবেশী হিসেবে থাকতে চাই তাদের সাথে। কিন্তু আমাদের সাথে কোনো অন্যায় করা হলে তার প্রতিবাদ আমরা জানাব।
জনসভায় হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর করিম, সহসভাপতি ওবায়দুল্লা মাসুদ, জেলা মহিলাদের সভাপতি ফারাতুন নাহার পেরিস, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েসসহ উপজেলার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এবং সমর্থকরা।

mzamin

Saturday, August 24, 2024

কোটা বিরোধী আন্দোলন: ব্যারিকেডে বিদ্যুৎ! পা হারিয়ে নির্বাক সাগর by ফাহিমা আক্তার সুমি

বাইশ বছর বয়সী সাগর ইসলাম। ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে। গত ৪ঠা আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ঠাকুরগাঁও  জজ কোর্টের মোড়ে সাগরের জীবনে নেমে আসে এক বিভীষিকা।

রাস্তায় থাকা পুলিশের ব্যারিকেডে দেয়া ছিল বিদ্যুৎ সংযোগ। আর সেই ব্যারিকেডে হাত লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হন। জীবন নিয়ে বেঁচে ফিরলেও পুড়ে যায় সাগরের হাত-পা। কেটে ফেলতে হয় তার পা। সাগরের বাবা খাদেমুল ইসলাম কৃষিকাজ করেন। মা শেফালী বেগম সংসার সামলানোর পাশাপাশি কৃষিকাজে সহযোগিতা করেন। সাগরের গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দ গ্রামে। ঘটনার দিন তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে আনা হয় ঢাকায়। বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন তিনি। পা হারিয়ে সাগরের জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার।

বার্ন ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা যায়, ৭০১ নম্বর রুমের ৫ নম্বর বেডে ভর্তি সাগর। চোখেমুখে হতাশার ছাপ। সাগর মানবজমিনকে বলেন, আমার তো সব শেষ। ছোটবেলা থেকেই আমি খেলাধূলা প্রিয় মানুষ। এখন দিন-রাত শুয়ে থাকতে হচ্ছে। ব্যথায় ঘুমাতে পারি না। বাবা-মা পরিবারকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। বাবা অনেক কষ্ট করে খেটে আমাকে পড়িয়েছেন। আমার ইয়ার লস হয়ে যাবে খুব চিন্তায় আছি। এই সেমিস্টার শেষ হলে ইন্টার্ন করতে পারবো। ২০২০ সালে এসএসসি পাস করি। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আরএসই সাবজেক্টে পড়াশোনা করি। পড়া শেষ দিকে চলে আসায় বাবা-মাকে সুখের দিন দেখানোর জন্য আমিও ব্যস্ত ছিলাম। বাবা-মা আমাকে যেমন করে মানুষ করেছে তেমন করে আমিও তাদের আগলে রাখতে চেয়েছিলাম, দূর করতে চেয়েছিলাম তাদের কষ্ট। তবে আমি ভেঙে পড়ছি না, হয়তো আমার চলতে কষ্ট হবে তারপরও বাবা-মায়ের জন্য আমি কিছু করতে চাই।

তিনি বলেন, গত ৪ঠা আগস্ট আন্দোলনে গিয়ে দুপুর ১২টার দিকে রাস্তায় থাকা পুলিশের ব্যারিকেডে হাত দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে একটা শব্দ হয়। সঙ্গে সঙ্গে আমার হাত ও দুই পা পুড়ে যায়। আমার ডান পায়ের পাতা অর্ধেক কাটা পড়ছে। আরেক পায়ের দুইটা আঙ্গুলসহ মাংস কেটেছে। বাম হাত পুড়ে গভীর ক্ষত হয়ে যায়। আমার সামনে এই ঘটনায় দুইজন স্পট ডেড হয়। এমন অবস্থা দেখে ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। যখন ব্যারিকেডে হাত দেই তখন আমি এমন বিকট শব্দ ও শরীরের অবস্থা দেখে অজ্ঞান হয়ে নিচে পড়ে যাই। কিছুটা জ্ঞান ফিরে এলে ওই অবস্থায় রাস্তায় হামাগুড়ি দিচ্ছিলাম। পড়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা যখন আমাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় তখন পুরোপুরি জ্ঞান আসে। ঠাকুরগাঁও জেলা জজ কোর্টের সামনে ঘটনাটি ঘটে। তার পাশেই ছিল আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস।

সাগরের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে আমি বড়। অভাবের কারণে আমি মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করে আর করতে পারিনি। চেয়েছিলাম ভাইকে পড়াশোনা করিয়ে অনেকদূর নিয়ে যাবো, ও অনেক ভালো চাকরি করবে। বাবাকে সহযোগিতা করতে আমি একটি ডিমের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করি। আন্দোলনের সময় সাগর সবসময় আমাকে দোকানে যেতে নিষেধ করতো। ও আমাকে বাধা দিয়ে নিজেই এখন সবকিছু হারিয়েছে। আমার ভাইয়ের এই অবস্থা হওয়ায় বাবা-মায়ের মন ভেঙে পড়েছে। সাগরকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। এখন জানি না জীবন কোনদিকে যাবে। বাবা কৃষিকাজ করে আবার মাঝে মাঝে মানুষের বাসায় কাজ করে। মা সংসার সামলানোর পাশাপাশি বাবাকে কৃষিকাজে সহযোগিতা করেন। বাড়িতে একটা গরু ছিল সেটি ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করে ওর চিকিৎসা করানো হয়। প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। কোনো টাকা জমানো ছিল না যে সেটি দিয়ে ওর চিকিৎসা করাবো। বারো তারিখে ভাইকে নিয়ে এই হাসপাতালে নিয়ে আসি। আঠারো তারিখে ওর অপারেশন হয় এরপর থেকে এখানে চিকিৎসা খরচ ফ্রি করে দিয়েছে।

চাচাতো ভাই মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের আন্দোলনে সকাল এগারোটার দিকে যাওয়ার কথা ছিল। ঠাকুরগাঁও সদরে একটা বড় মাঠ আছে সেখানে সবাই একত্রিত হয়েছি। যত স্কুল-কলেজ ছিল সবাই এসেছিল। প্রায় ১৫-২০ হাজার শিক্ষার্থী ছিল বড় মাঠে। আমরা মাঠ থেকে বের হয়ে একটা পার্কের ভেতর থেকে জেলা শহরের দিকে যাই। রাস্তায় ফুটপাথে এসএসএফ পাইপ দিয়ে ঘেরাও দেয়া ছিল। সেই এসএসএফ পাইপের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল পুলিশের ব্যাড়িকেড। তাতে দেয়া ছিল বিদ্যুতের সংযোগ। বাইরে থেকে বোঝার এবং জানার কোনো উপায় ছিল না। সাগরসহ কয়েকজন পুলিশের ব্যারিকেডে হাত দিয়ে পার হতে যাচ্ছিল। হাত দেয়ার পরে একটা শব্দ হয়। আমরা কয়েকজন পিছনে ছিলাম মনে করেছি পুলিশ গুলি করেছে। পরে দেখি আমাদের থেকে বেশকিছু দূরে পুলিশের অবস্থান। প্রথমে যে হাত দিয়েছে সে ছিটকে নিচে পড়ে যায়, তার তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। তখনো আমরা কেউ কিছু বুঝতে পারিনি কেন সে নিচে পড়ে গিয়েছে। পরে সাগরসহ আরও ৪ জন ব্যারিকেড ও এসএসএফ পাইপে হাত দিয়ে সামনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে সঙ্গে সঙ্গে ব্লাস্ট হয়। পাইপের বা ব্যারিকেডের কোনো ক্ষতি হয়নি কিন্তু মানুষের শরীর পুড়েছে। স্পটেই দুজন মারা যায়। আরও দুইজনকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমার ভাইকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাগরের পায়ে যে জুতা পরা ছিল সেই জুতা পুড়ে পায়ের সঙ্গে  লেগে যায়। ওর ডান পায়ের অর্ধেক পুড়ে শেষ, আঙ্গুলগুলো নেই। আরেক পা ও হাতের অবস্থা খারাপ। চার তারিখও আওয়ামী লীগের লোকজন খুব হামলা ও হুমকি দেয় আমাদের। সাগরকে প্রথম দুই-তিনদিন ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারিনি ওদের ভয়ের কারণে। সরকার পতনের দিন সন্ধ্যা থেকে তাকে হাসপাতালে ঠিকমতো দেখাশোনা করা হয়।