Showing posts with label জর্দান. Show all posts
Showing posts with label জর্দান. Show all posts

Sunday, July 26, 2026

ইরানের হামলার শিকার হওয়ার পরও কেন মার্কিন উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে জর্ডান সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় তিন দশক ধরে মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য জর্ডান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে আগ্রাসনের পর সেই জর্ডানকে এখন চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। সম্প্রতি জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি নিশানা করে দেশটির ওপর হামলা জোরদার করেছে ইরান।

তবে জর্ডানের আকাশে নিয়মিত সাইরেন বাজতে থাকলেও দেশটি মার্কিন উপস্থিতি সীমিত করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে জর্ডান সেসব সামরিক কার্যক্রম সংকুচিত করতে পারছে না।

কয়েক দশকের সম্পর্ক ও সুরক্ষার পাশাপাশি কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার জন্য জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

প্রচুর তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় কিছু আরব প্রতিবেশীর তুলনায় জর্ডান অনেকটা সম্পদহীন দেশ। দেশটি ব্যাপকভাবে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। জর্ডানের কর্মকর্তাদের মতে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে ১৬৫ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় এই অঞ্চলের অন্যান্য কিছু মার্কিন মিত্র তাদের ভূখণ্ডে সেনা ঘাঁটি তৈরি এবং ওপর দিয়ে বিমান উড্ডয়নের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও জর্ডান এমন কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করার মতো অবস্থানে নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের টেম্পল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ‘জর্ডান: পলিটিকস ইন অ্যান অ্যাক্সিডেন্টাল ক্রুসিবল’ বইয়ের লেখক শন ইয়োম বলেছেন, ‘জর্ডান মধ্যপ্রাচ্যের দুর্বল একটি রাষ্ট্র। এটি বেশ ছোট এবং আঞ্চলিক হুমকিতে ঘেরা। আর এর কোনো ধরনের মহাশক্তিধর পৃষ্ঠপোষক বা বাইরের রক্ষকের প্রয়োজন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক প্রজন্ম ধরে সেই ভূমিকা পালন করে আসছে।’

ইয়োম বলেন, ১৯৫০-এর দশক থেকে জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যে সহায়তা পেয়ে আসছে, তা অন্য কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেয়। যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে ইরান মূলত ইসরায়েল ও উপসাগরে থাকা মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল, তবে তারা জর্ডানের দিকেও শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।

উচ্চ পর্যটন মৌসুম মাত্র শুরু হওয়ার মুখে এই সংঘাত দ্রুত জর্ডানের পর্যটনশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা দেশটির রাজস্বের ১৮ শতাংশ পর্যন্ত জুগিয়ে থাকে। যদিও বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আটকে দেওয়া হয়েছিল, তা সত্ত্বেও এয়ারলাইনসগুলোকে ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে এবং সম্ভাব্য পর্যটকেরা হোটেলের বুকিং বাতিল করছেন।

ইরানের হামলায় বিপদে জর্ডান

এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষই হামলা বাড়িয়েছে এবং ইরান তাদের লক্ষ্যবস্তুর পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত রোববার জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি জনহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে।

জর্ডান সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক হাসান আলমোমানি বলেছেন, ‘প্রতিবেশীদের আঘাত করার এই ইরানি কৌশলগত তীব্রতার লক্ষ্য হলো ওই প্রতিবেশীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যার মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরি করা।’

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির মতে, ইরান সম্প্রতি জানিয়েছে, জর্ডানে ইউএস বিমান বাহিনীর কেন্দ্রস্থল আজরাকের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক এবং অন্যান্য ঘাঁটির বিমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত রাডার এবং যোগাযোগব্যবস্থাকে নিশানা করেছিল।

শুক্রবার মুওয়াফফাক সালতি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং তৃতীয় একজন নিখোঁজ হন। সপ্তাহের শুরুতে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর অন্য তিনটি হামলায় ডজনখানেক মার্কিন সেনা আহত হন এবং বেশ কয়েকটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মার্কিন বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে জর্ডানের বিমানঘাঁটিগুলো থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় বিদ্রোহী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং ইরাকে আক্রমণের মতো মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের ঘাঁটি ছিল এই দেশ। একটি সংসদীয় প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় চার হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন।

স্থায়ী মার্কিন উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মুওয়াফফাক সালতি এবং অন্য ঘাঁটিগুলোকে মানানসই করে গড়ে তোলা হয়েছে। পেন্টাগনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে ‘ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির’ সিনিয়র ফেলো গ্রান্ট রামলে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে জর্ডানের অবকাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি এটিকে একটি স্থলভিত্তিক বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

রামলে বলেন, মুওয়াফফাক সালতি তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত, যা মার্কিন বাহিনীকে অহেতুক নজরকাড়া এড়িয়ে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেয়। আর জর্ডান উপসাগরীয় দেশগুলোর চেয়ে ইরান থেকে দূরে হওয়ায় জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দেওয়ার জন্য বেশি সময় পায়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ আশ্রয়

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বে এবং যুদ্ধের শুরুর দিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশ থেকে তাদের কিছু সৈন্যকে জর্ডান এবং প্রতিবেশী ইসরায়েলের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল।

আলমোমানি বলেন, ‘ইরানের যুদ্ধ প্রকাশ করে দিয়েছে, জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, চলতি বছর ওয়াশিংটন জর্ডানে সামরিক সাহায্য ৫০ কোটি ডলার বাড়িয়েছে।

জর্ডানের কর্মকর্তারা প্রায়শই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে থাকেন। এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সংঘাত কমানোর সম্ভাবনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন।

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেট্রার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে জর্ডানের সেনাবাহিনীপ্রধান মেজর জেনারেল ইউসেফ হুনাইতি এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ড্যানিয়েল জিমারম্যান সামরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

জর্ডান সরকার প্রকাশ্যে ব্যাপক মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি খুব কমই আলোচনা করে। জর্ডান ইরানে বিমান হামলা চালানোর জন্য বা ইসরায়েলের পাশাপাশি যুদ্ধ শুরুর জন্য প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেনি। যদিও বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকার শুরু থেকেই এই সংঘাতের তীব্র বিরোধী ছিল।

জর্ডানের কর্মকর্তারা তাদের ভূখণ্ডে ইরানের হামলার বারবার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইমান সাফাদি বলেছেন, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে বলে ইরান হামলার যে অজুহাত দেখাচ্ছে, তা মিথ্যা।

অ্যাসপেন সিকিউরিটি ফোরামের এক প্যানেল আলোচনায় সাফাদি বলেন, ‘জর্ডানে কোনো মার্কিন ঘাঁটি নেই। আমাদের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে জর্ডানে মার্কিন সেনা রয়েছে। তাদের উপস্থিতি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়, যা আমাদের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে থাকে।’

হামলা সত্ত্বেও জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের জোটের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার কথা ভাববে না বলে জানান আলমোমানি। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই জর্ডান তার কৌশলগত অংশীদারত্ব পরিবর্তন করতে পারে না।

ইয়োম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে জর্ডানের নির্ভরশীলতা কমানোর মতো কোনো অর্থবহ দাবি সে দেশে নেই। তিনি বলেন, ‘কোনো গুরুতর রাজনৈতিক অংশীদারই এই পরামর্শ দিচ্ছে না যে জর্ডান প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া ১৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার বদলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ বা চীনের সমর্থনের মতো কিছু নিক।’

জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি প্রতিরক্ষাচুক্তির অংশ বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা
জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি প্রতিরক্ষাচুক্তির অংশ বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ছবি : রয়টার্স

Thursday, October 9, 2025

নোবেলজয়ী ওমারের জন্ম ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারে

এ বছর রসায়নে নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তাদের একজন ওমার এম ইয়াঘি। জানা যাচ্ছে, ফিলিস্তিনি শরণার্থীর এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেন তিনি। ওমার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন রসায়নবিদ। নোবেলজয়ী বাকি দু’জন হলেন- সুসুমু কিতাগাওয়া ও রিচার্ড রবসন। নতুন আনবিক কাঠামো বা মলিকিউলার আর্টিটেকচার উদ্ভাবনের জন্য তাদের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পান ইয়াঘি। এই তিন বিজ্ঞানী এমন কিছু আণবিক কাঠামো তৈরি করেছেন যা দিয়ে গ্যাস ও অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রবাহিত হতে পারে। ওই উপকরণগুলোর মাধ্যমে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ করা, কার্বন ডাই-অক্সাইড ক্যাপচার বা বিষাক্ত গ্যাস মজুত করার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

ইয়াঘি ২৮তম ইউসি বেকার্লির ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেলেন। এই বিজ্ঞানী তার ক্ষেত্রটিকে জালিকার রসায়ন বলে অভিহিত করেন। ১৯৯০ সালে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবানা ক্যাম্পেইন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি রসায়নবিদ ওয়াল্টার ক্লেমপেরার সঙ্গে কাজ করেন। ইয়াঘি তাকে তথ্য বিশ্লেষণের কৌশল শেখান। এছাড়া কিভাবে একজন গবেষক বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত গড়ে তুলতে হয় তা শেখান। ইয়াঘি জটিল অণুগুলোর সংশ্লেষণে কাজ করেছিলেন। ১৯৬৫ সালে জর্ডানের আম্মানে ফিলিস্তিনি শরণার্থী এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রসায়নে নোবেল পাওয়া বিজ্ঞানী ইয়াঘি। তার পিতা গবাদি পশু পালন করতেন এবং আম্মানে তার একটি মাংসের দোকান ছিলো। পিতার পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যান তিনি। হাইস্কুল শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে তিনি নিউইয়র্কে একা বসবাস শুরু করেন। ইংরেজিতে দুর্বল হওয়ায় তিনি ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞানে হাডসন ভ্যালি কমিউনিটি কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন করেন।

বলেন, রসায়নের প্রতি আমার শুরু থেকেই অন্যরকম ভালোবাসা কাজ করতো। আমি আলবানিতে চলে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে গবেষণায় মনোযোগ দেই। তিনজন পৃথক প্রফেসরের কাছ থেকে আমি তিনটি ভিন্ন ধরণের কোর্স করি। একজন প্রফেসরের কাছ থেকে ভৌত জৈব প্রকল্প, একজনের কাছ থেকে জৈব পদার্থবিদ্যা প্রকল্প ও অন্য একজনের কাছ থেকে তত্ত্ব প্রকল্প শেখেন। বলেন, গবেষণাগার আমার পছন্দ ছিলো তবে ক্লাস করতে ভালো লাগতো না। তিনি ১৯৮৫ সালে রসায়নে বিএস ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর ১৯৯০ সালে আরবানা চ্যাম্পেইনের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন পোস্ট ডক্টোরাল ফেলোশিপ অর্জনের পর ১৯৯২ সালে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে, ১৯৯৯ সালে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ২০০৭ সালে ইউসিএলএতে অনুষদে অধ্যাপনা করেন ইয়াঘি
সূত্র: ইউসি বার্কলি নিউজ।

mzamin

Sunday, May 4, 2025

মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করে বিপদে জর্ডান by ডেভিড হার্স্ট

জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিপজ্জনক পথে হাঁটছেন। সম্প্রতি তিনি দেশটিতে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করেছেন। আর তা করেছেন শুধু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য।

দুনিয়ার ইতিহাসে যেখানে বড় শক্তিকে খুশি করতে ছোট দেশের উপঢৌকন দেওয়ার নজির আছে। সেই চল এখনো চলছে। যেমন রাশিয়ার পুতিন যখন রাশিয়ার ধনকুবেরদের দমন করা শুরু করেন, তখন তাঁদের অনেকে পুতিনকে দুর্লভ সব জিনিস উপহার দেওয়া শুরু করেন।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ট্রাম্পের খাতিরে খোদ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে নিয়েই রাজকীয় আয়োজন করেছিলেন। গলফপ্রেমী ট্রাম্পের জন্য তিনি খুঁজে বের করেছিলেন গলফ খেলার ভালো মাঠ।

জর্ডানের বাদশাহের পক্ষে হয়তো ট্রাম্পকে একটি দামি গালিচা বা বাজপাখিও উপহার দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি করলেন আরও চমকপ্রদ। জর্ডানের বাদশাহ তাঁর নিজ দেশে মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন।

ট্রাম্পকে খুশি করার কারণ

জর্ডান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যনির্ভর দেশ। ট্রাম্প একবার সেই দেশে সাহায্য বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছিলেন। ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন এরিক ট্র্যাগারকে। এই ট্র্যাগার মুসলিম ব্রাদারহুডের কড়া বিরোধী।

প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ট্রাম্প নিজেই আমেরিকায় ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করার কথা ভেবেছিলেন। এবার তিনি আবার সেই পথে এগোতে পারেন। ফলে বাদশাহ আবদুল্লাহর সিদ্ধান্ত নিলেন ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করার। এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইসলামবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে মিলে গেছে।

এর প্রতিদানও মিলেছে। ট্রাম্প আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া জর্ডানের সবচেয়ে বড় পানিশোধন প্রকল্পে আবার অর্থসাহায্য চালু হয়েছে।

দেশের ভেতরে ঝুঁকি বাড়ছে

দেশের ভেতরে বাদশাহ আবদুল্লাহ বড় জুয়া খেলেছেন। মুসলিম ব্রাদারহুড ১৯৪৫ সাল থেকেই জর্ডানে বৈধভাবে কাজ করছে। বর্তমান বাদশাহ আবদুল্লাহর বাবা বাদশাহ হুসেইন তাঁর ৪৭ বছরের শাসনে কখনোই তাঁদের নিষিদ্ধ করেননি।

হুসেইনের সময় ব্রাদারহুড অনেক সময়েই সরকারের পাশে ছিল। ১৯৫৭ সালে যখন নাসেরপন্থী এক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলো, কিংবা ১৯৭০ সালের গৃহযুদ্ধে যখন জর্ডান পিএলওর সঙ্গে লড়ছিল, তখনো ব্রাদারহুড সংঘাতে অংশ না নিয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছিল। ইরাক ১৯৯০ সালে কুয়েত দখল করার পর হুসেইন বড় সংকটে পড়েছিলেন। তখন তিনি দেশের ভেতরে ঐক্য টিকিয়ে রাখতে মুসলিম ব্রাদারহুডের পাঁচজন নেতাকে মন্ত্রী বানিয়ে সরকারে আনেন।

মতবিরোধও যে ছিল না, এমন নয়। ব্রাদারহুড ১৯৫৫ সালের বাগদাদ চুক্তি এবং ১৯৯৪ সালের ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করেছিল। তবু হুসেইন তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেননি। কারণ, তিনি জানতেন যে সংগঠনটি শান্তিপূর্ণ ও সংস্কারমুখী। আর তাদের মাধ্যমে দেশের ভেতরে জনগণের ক্ষোভ যে দমিয়ে রাখার কৌশলও তিনি ভালো করেই বুঝতেন।

হুসেইনের সময় হামাসও ছিল এক আলোচনার বিষয়। বাদশাহ হামাস নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী ছিলেন। এমনকি ১৯৯৭ সালে হামাস নেতা খালেদ মেশালকে ইসরায়েল বিষপ্রয়োগ করলে তিনি কঠোর ভাষায় এর প্রতিবাদ করেছিলেন। এমনকি তখন তিনি ইসরায়েলের কাছ থেকে বিষের প্রতিষেধক জোগাড় করে এনেছিলেন।

অবক্ষয়ের পথে

বাদশাহ আবদুল্লাহ ১৯৯৯ সালে ক্ষমতায় এসেই হামাসকে জর্ডান থেকে বের করে দেন। এরপর ধীরে ধীরে মুসলিম ব্রাদারহুডের দাতব্য কাজ নিষিদ্ধ করেন। তাদের রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্টের কার্যক্রমে বাধা দেন।

বাদশাহ আবদুল্লাহ ভেবেছিলেন, এতে ব্রাদারহুড দুর্বল হবে; কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময়ও ব্রাদারহুড জর্ডানে শাসন বদলের দাবি তোলেনি। তারা বরাবরই সংযত থেকেছে।

২০১৫ সালে সরকার ব্রাদারহুডের ভিন্নমতের একটি অংশকে ‘নতুন ব্রাদারহুড’ হিসেবে বৈধতা দেয়। পাশাপাশি মূল সংগঠনটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপরও কিন্তু ব্রাদারহুডের জনপ্রিয়তা কমেনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ব্রাদারহুডঘনিষ্ঠ ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্ট ১৩৮ আসনের মধ্যে ৩১টি জয় করে।

পরিকল্পিত নিষিদ্ধকরণ

সম্প্রতি জর্ডানের মিডিয়ায় আবার শুরু হয়েছে ব্রাদারহুডবিরোধী প্রচার। বলা হচ্ছে, তারা জনগণকে ইসরায়েলি দূতাবাস ঘেরাও করতে উসকানি দিচ্ছে। কিন্তু জর্ডানে কোনো মিডিয়া প্রচারণা এমনিই হয় না। এর পেছনে থাকে গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা।

রাজপরিবার ও সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের (জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্ট) মধ্যে সব সময়ই দুই ধারা কাজ করে। এক ধারা ইসরায়েলকে জর্ডানের সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করে। এই ধারার একজন মুখপাত্র হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি। তিনি বলছেন, ইসরায়েল গত ৩০ বছরের শান্তি প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করেছে।

আয়মান সাফাদি কিন্তু একা নন, জর্ডানে এই মত জনপ্রিয়। সেনাবাহিনীতে এর প্রভাব আছে। ২০২৪ সালে জর্ডান সীমান্তে তিন ইসরায়েলিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সেনা মাহের আল-জাজির জানাজায় অনেক সেনাসদস্য ইউনিফর্ম পরে যোগ দিয়েছিলেন। মাহের তাদের কাছে বীর হিসেবেই স্বীকৃত।

অন্য ধারাটি মনে করে, জর্ডানের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ইরান এবং রাজনৈতিক ইসলাম। এই ধারার মূল চালক হলো সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ। এই বিভাগ সৃষ্টি হয়েছে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-এর হাতে। জর্ডানের এই গোয়েন্দা সংস্থা এখন সিআইএর ঘনিষ্ঠ অংশীদার। সিআইএর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত এই গোয়েন্দা বিভাগ এতটাই শক্তিশালী যে অনেক সময় একে জর্ডানের ‘সমান্তরাল সরকার’ বলা হয়। তারা এখন ব্রাদারহুডবিরোধী অভিযানের মূল পরিকল্পক। যদিও বাইরে থেকে মনে হবে, সরকার জনমতের চাপে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

সংকটে বাদশাহ আবদুল্লাহ

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাদশাহ আবদুল্লাহ নিজের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করছেন। এখনো তিনি ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্টের ৩১ সংসদ সদস্যকে নিষিদ্ধ করেননি। তবে ভবিষ্যতে তা হতে পারে।

সবচেয়ে দুঃসময়ে এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে। কয়েক দিন আগে ইসরায়েলি ধর্মান্ধরা আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ঢুকে প্রার্থনা করেছে। ২০০৩ সালের পর থেকে এ রকম ঘটনা ১৮ হাজার শতাংশ বেড়েছে।

জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর দায়িত্ব আন্তর্জাতিকভাবে জর্ডানের ওপরই বর্তায়। কিন্তু বাদশাহ আবদুল্লাহ এসব ঘটনার কোনো প্রতিবাদ করেননি। আল-আকসায় যখন ইসলামপন্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তিনি তখন পাল্টা সেই ইসলামপন্থীদেরই নিষিদ্ধ করছেন।

এটা যেন একপ্রকার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। দেশীয় রাজনীতি থেকে তিনি নিরাপত্তার যে ‘সেফটি ভাল্‌ভ’ পেয়েছিলেন, তা নিজেই সরিয়ে দিচ্ছেন।

বাদশাহ আবদুল্লাহ তাঁর বাবা  হুসেইনের মতো সংকটে জাতিকে এক করতে পারছেন না। আর এদিকে ইসরায়েল ধীরে ধীরে পশ্চিম তীর দখলের দিকে এগোচ্ছে। জর্ডানে এসব নিয়ে ক্রমেই জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

আগে ব্রাদারহুড ও হামাসের মধ্যে সমঝোতার কারণে হামাস জর্ডানে সদস্য সংগ্রহ করত না। এখন সে বাধা উঠে গেছে। ফলে জর্ডান থেকে হামাস বা অন্য কোনো সংগঠনের ইসরায়েলে হামলা চালানোর পথ খুলে যাচ্ছে।

ইসরায়েলের দৃষ্টিতে, বাদশাহ আবদুল্লাহ এখন আর শক্তিশালী আত্মবিশ্বাসী কোনো নেতা নন। তারা আবদুল্লাহকে দেখে একজন দুর্বল মানুষ হিসেবে যাকে ভয় দেখিয়ে যা খুশি করানো যায়।

এই পরিস্থিতিতে আবদুল্লাহর উচিত ইতিহাস থেকে শেখা। মাহমুদ আব্বাসের মতো ব্যর্থ হতাশ নেতা হিসেবে তিনি নিশ্চয়ই ইতিহাসে নাম লেখাতে চাইবেন না। আব্বাস ওয়াশিংটনের মন রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন। ফল যা হওয়ার তা–ই হয়েছে। বাইডেন ও ট্রাম্প, কেউই তাঁকে আর গুরুত্ব দেয় না।

বাদশাহ আবদুল্লাহ যদি সময় থাকতে নিজের ভুল না বোঝেন, তাহলে ইতিহাস তাঁকে নিয়েই নির্মম সিদ্ধান্ত নেবে। সেই কঠিন রায় হয়তো গোটা হাশেমি রাজতন্ত্রেরও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেবে।

* ডেভিড হার্স্ট মিডল ইস্ট আই-এর সম্পাদক

- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া ইংরেজির সংক্ষেপিত অনুবাদ

জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : এএফপি

Sunday, October 13, 2024

দখলদার ইসরায়েলের সেই পুরোনো খায়েশ পুনর্ব্যক্ত করলেন মন্ত্রী

ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের সীমানাবৃদ্ধির রূপরেখা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে জর্ডান নদীর ওপারের ভূমি ইসরায়েল দখল করে নেবে। সাম্প্রতিক একটি ডকুমেন্টারিতে তিনি ওই মন্তব্য করেন। যদিও এই প্রত্যাশা ইহুদি জনগণের বেশ পুরোনো।

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা ‘গ্রেটার ইসরায়েলের’ স্বপ্ন দেখেন। সে ভবিষ্যত রাষ্ট্রের সীমানা হবে জর্ডান নদীর ওপার পর্যন্ত প্রসারিত। অল্প অল্প করে তা দখল করে ইসরায়েল এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

অতি-ডানপন্থী এ মন্ত্রী আরও দাবি করেন, জেরুজালেম শেষ পর্যন্ত সিরিয়ার দামেস্ক পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর ব্যাখ্যায় তিনি ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। যেখানে বৃহত্তর ইসরায়েল আদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ‘প্রতিশ্রুত ভূমির’ কথা বলা হয়েছে। সেই ভূমিতে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

স্মোট্রিচের মন্তব্যটি তার আগের মনোভাবই প্রকাশ করে। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময় ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিলেন এবং বলেছিলেন, ফিলিস্তিন শহরকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা উচিত।

বৃহত্তর ইসরায়েল ধারণাটি ইহুদিদের ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ আছে। সেই ধারণা মতে উগ্র ডানপন্থি ইসরায়েলি নেতারা ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও জর্ডানের কিছু অংশ দখলের চেষ্টারত। যদিও ধর্মে ইহুদি রাষ্ট্রটির সঠিক সীমানা অনির্ধারিত; তবুও ইসরায়েলিরা ধারণাটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন। মন্ত্রীর ওই মন্তব্য তারই একটি সুচিন্তিত চিত্রায়ন।

জর্দান নদী মধ্যপ্রাচ্যে শরিয়ত নদী নামেও পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্যের ২৫১-কিলোমিটার দীর্ঘ (১৫৬ মা) নদীটি গালীল সাগরের উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে বয়ে চলে মৃত সাগরে গিয়ে পতিত হয়। নদীটির পূর্ব সীমান্তে রয়েছে জর্ডান ও গোলান মালভূমি এবং পশ্চিম সীমান্তে রয়েছে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও ইসরায়েল। জর্ডান ও পশ্চিম তীর উভয়ই নদীটির কাছ থেকে তাদের নাম গ্রহণ করে।

মধ্যপ্রাচ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ নদীটি ইহুদিধর্ম ও খ্রিস্টধর্মে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ নদী ঘিরেই ইহুদিদের ‘প্রতিশ্রুত ভূমির’ কাহিনি প্রাচীনকাল থেকে আবর্তিত। ইহুদি ছাড়াও অনেক ধর্মের মানুষ বিশ্বাস করেন ইহুদিরা একদিন তাদের প্রতিশ্রুত ভূমির দখল নেবে। যদি তাই হয় তবে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক স্বাধীন দেশের বিলুপ্তি ঘটবে। 

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি : সংগৃহীত