Monday, July 8, 2013

ভালোই হয়েছে প্রভাত এসেছে মেঘের সিংহবাহনে by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। শনিবার (৬ জুলাই) যখন ভোট গ্রহণ শুরু হয়, তখন শুনছিলাম ভোটার সমর্থন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর দিকে। কিন্তু সন্ধ্যার (লন্ডন সময়) সময়েই জানতে পারি আওয়ামী প্রার্থীর কোনো আশা নেই। রাতে তার পরাজয়ের খবর জেনেই বিছানায় শুতে গেছি। সত্যি কথা বলব, আওয়ামী লীগের এই পরাজয়ে বিস্মিত হইনি, হতাশও হইনি। পাঠকেরা শুনে হাসবেন, মনে মনে রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতার লাইন আবৃত্তি করেছি, ‘ভালোই হয়েছে প্রভাত এসেছে মেঘের সিংহবাহনে।’ দেশ থেকে বহুদূরে বাস করি। তাই নির্বাচনের দিন যখন খবর পেয়েছিলাম, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের জয়ের আশা আছে, তখন মনে ক্ষীণ প্রত্যাশা জাগেনি তা নয়, সেই প্রত্যাশা ঢাকার অন্য একটি দৈনিকে লেখা আমার কলামে ব্যক্তও করেছিলাম। কিন্তু স্থির নিশ্চিত হইনি যে আওয়ামী লীগ জিতবে। এখন আওয়ামী লীগ পরাজিত হওয়ায় মনের ক্ষীণ প্রত্যাশাটুকুও নিভে গেল। এখন মনে মনে ভাবছি, গাজীপুরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলে কী হতো, আর এখন পরাজিত হওয়ায় কী হতে যাচ্ছে? আমার আশংকা এবং আমার প্রেডিকশন সত্য না হোক এই কামনা করছি। কিন্তু স্বীকার করতে দ্বিধা নেই বাংলাদেশের সামনে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখছি।
আমি সব সময় জনমত এবং জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জনরায় বা গণম্যান্ডেট যদি হয় বাংলাদেশে জামায়াতের শাসন (যা আমার কাছে অসম্ভব ব্যাপার) প্রতিষ্ঠা পাবে, আমি তাতেও রাজি। কিন্তু বন্দুকের ও স্বৈরাচারীর শাসন মানতে রাজি নই। ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে বিজেপির মতো কট্টর সাম্প্রদায়িক দল একাধিকবার ক্ষমতায় এসেছে। তাতে ভারতীয় গণতন্ত্রের ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটেনি। বন্দুকের শাসন এলে গণতন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটত।
বাংলাদেশেও বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একাধিকবার গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের শাসন সব সময় গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করেনি। কিন্তু গণতন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটায়নি। এবারেও বিএনপি ক্ষমতায় এলে ক্ষতি নেই। কিন্তু বিএনপি এখন ট্রয়ের ঘোড়া, তার পেটের ভেতর লুকিয়ে আছে জামায়াত ও হেফাজত। দেশের মানুষ যতই ধর্মপ্রিয় হোক, তারা জামায়াতকে ভোট দেয় না। কিন্তু জামায়াতিরা বিএনপির পেটে আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতায় আসে। জনগণের রায়ে নয়, জনগণকে প্রতারণা করে তারা ক্ষমতায় আসে। একবার এসেছে। এবারও আসতে পারে। সেটাই আমার আশংকা। আর তা যদি হয়, তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ গভীর তমসাচ্ছন্ন। গাজীপুরের নির্বাচনের ফল দেখে এই শংকাটিই আমার মনে জাগছে।
আওয়ামী লীগ যদি গাজীপুরের সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে টেনেটুনেও জয়ী হতো, তাহলে তার ভালো দিক হতো এই যে, আগামী সাধারণ নির্বাচন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাকর্মীদের মনোবল এমনভাবে ভেঙে পড়ত না। সিটি কর্পোরেশনের সাম্প্রতিক চারটি নির্বাচনে পরাজয় থেকে তারা শিক্ষা নিতেন, নতুনভাবে সংগঠিত হতেন। হয়তো সাধারণ নির্বাচনে বর্তমান পরাজয়ের ধাক্কা এড়িয়ে উঠতে পারতেন। গাজীপুরের পরাজয় সে সম্ভাবনা অনেকটা নষ্ট করেছে। আগামী চার-পাঁচ মাসে আওয়ামী লীগ কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তা এখন অনেকের কাছেই সন্দেহের বিষয়।
গাজীপুর নির্বাচনেও একটা দৃশ্য চোখে পড়েছে তা হলো দলে কোন্দল এবং স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্যের বিভীষণের ভূমিকা গ্রহণ। গাজীপুর থেকে খবর পেয়েছি, দলীয় মেয়র প্রার্থীকে স্থানীয় তিনজন সংসদ সদস্যই সমর্থন দেননি। এরা হলেন- কালিয়াকৈরের রহমত আলী, গাজীপুর সদরের আকম মোজাম্মেল, এমনকি টঙ্গীর এমপি আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন এদের মধ্যে দলের এই দারুণ দুর্দিনে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায়।
মনে হয়েছিল তিনি সফল হয়েছিলেন। বাস্তবে হননি। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এরা নিজ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে পেছন থেকে ছুরি মেরেছে। রাসেলের টঙ্গী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের হার মাত্র ৪০ শতাংশ। আওয়ামী সমর্থক অধিকাংশ ভোটদাতাকেই এই এলাকায় ভোট দিতে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বরিশাল এবং খুলনার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেও এই দলীয় বিভীষণদের অপতৎপরতা দেখা গেছে। সন্দেহ নেই সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের অনেক বড় বড় কারণ আছে। তার মধ্যে একটি বড় কারণ সংগঠনের দুর্বল অস্তিত্ব এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল।
আমি আওয়ামী লীগের একজন নগণ্য শুভাকাক্সক্ষী, তথাপি দলের হাইকমান্ডকে বারবার সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করার জন্য সতর্ক করেছি। পার্টটাইম মন্ত্রী এবং পার্টটাইম জেনারেল সেক্রেটারি দিয়ে যে দল চলে না একথা বহুবার লিখেছি। কেউ তাতে কান দেননি। ফল হয়েছে নির্বাচনের সময় একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী এবং আÍঘাতী এমপিদের সামলাতে প্রধানমন্ত্রীকে নিজে তৎপর হতে হয়েছে, বৈঠক করতে হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচনে আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণ হল, আওয়ামী লীগ এত বড় দল, কিন্তু তার সংগঠন-শক্তি নেই। দলের ওপর হাইকমান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেই। সংকীর্ণ দলাদলিতে দলটি জর্জরিত।
দলের বিভীষণদের সম্পর্কে শেখ হাসিনা সম্ভবত অনেক বিলম্বে হলেও এখন শক্ত হবেন। আমার কাছে পরামর্শ চাইলে বলব, তালিকা করে এদের দল থেকে বহিষ্কার করে দেয়া হোক। বহিষ্কৃত হলেই দেখা যাবে, দেশে কিংবা দেশের মানুষের কাছে এদের আধা পয়সার দাম নেই। আওয়ামী লীগ আর কতদিন এবং কেন এই লায়াবিলিটি বহন করে চলবে? বাংলার নবাব মীর কাশিম দু’শ বছর আগে বিশ্বাসঘাতক জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভ, ইয়ার লতিফদের নৌ ভ্রমণে আমন্ত্রণ জানিয়ে পাটনায় নিয়ে নৌকাডুবি ঘটিয়ে হত্যা করেছিলেন। রূপক অর্থে বলছি, আওয়ামী লীগের উচিত দলের বিভীষণদের জন্য ক্ষমাহীন নৌকাডুবির ব্যবস্থা করা।
এটা তো গেল গাজীপুর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভগ্ন শিবিরের ভগ্নদশার কথা। এবার বলি বিজয়ী বিএনপি-শিবিরের ভাঁড়ামিসর্বস্ব রাজনৈতিক নাটকের কথা। চার চারটি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার পরও গাজীপুরে ভোটদান শুরু হতেই বিএনপির বড় নেতা, পাতি নেতা সবাই চিৎকার শুরু করেন। বিএনপি সমর্থক ভোটদাতাদের ভোট দিতে দেয়া হচ্ছে না, তাদের পোলিং অফিসারকে সেন্টার থেকে বের করে দেয়া হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এই মর্মে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছেও দরখাস্ত করেছিলেন। এই সর্বৈব মিথ্যা তারা প্রচার করছিলেন গাজীপুরে তারা হেরে যাবেন এই আশংকায়। কিন্তু সকাল-দুপুরের এই প্রচারণা বদলে গেল সন্ধ্যায় বিএনপি প্রার্থীর জয়ের খবর পাওয়া যেতেই। অমনি ‘অবাধ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে জনরায়’ বলে বিএনপি শিবিরে সে কী জয়োল্লাস! রাজনীতিতে ‘ইকোনমি অব ট্র–থ’ বলে একটা কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু সর্বৈব মিথ্যাভিত্তিক রাজনীতি করার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াতই প্রতিষ্ঠা করেছে।
গাজীপুর নির্বাচনের ফল জানাজানির পর ঢাকা থেকে বিএনপি-সমর্থক এক প্রবীণ বন্ধু টেলিফোনে আমাকে ঠাট্টা করে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে তো আপনি সব সময় পরামর্শ দেন। এবার বলুন, তাড়াতাড়ি গণরায় মেনে বিএনপির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে।’ তাকে বলেছি, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছেড়ে দিলেই বিএনপি ক্ষমতায় যাবে সে সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত? তিনি বললেন, তাহলে আর কে যাবে? বললাম, বিএনপির সাইনবোর্ড লাগিয়ে যাবে জামায়াত। জামায়াতকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেশের মানুষ ভোট দেয়নি। তারা বিএনপিকে ভোট দিয়ে থাকতে পারে।
বিএনপির বন্ধু বললেন, আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়লে দেশে রক্তপাত হবে না।
বলেছি, ধীরে বন্ধু ধীরে। অত উল্লসিত হবেন না। মিসরের সাম্প্রতিক ঘটনার দিকে তাকিয়ে দেখুন। অত বড় নির্বাচনে জিতে মুসলিম ব্রাদারহুড ও তাদের প্রেসিডেন্ট মুরসি এক বছরও ক্ষমতায় থাকতে পারলেন না। সিভিল আনরেস্ট তৈরি করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে। পেছনে রয়েছে পশ্চিমা মদদ।
প্রবীণ বন্ধু বললেন, মিসরের সেনাবাহিনী মূলত সেকুলারিস্ট। এখনও অনেকটা নাসেরপন্থী। মুসলিম ব্রাদারহুডের বিপক্ষে তারা তাই অবস্থান নিয়েছে। আমাদের সেনাবাহিনী তা নয়। বরং তাদের অনেকের মধ্যে সেকুলারিজম ও আওয়ামী লীগ সম্পর্কে এখনও ভীতি আছে।
তাকে হেসে বলেছি, কে আপনাকে বলল, সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ করবে? আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে বিবাদ তুঙ্গে তুলে বাংলাদেশে এবার মিলিটারি নয়, সিভিল ত্রাণকর্তা পাঠানো এবং তাকে ক্ষমতায় বসানোর উদ্যোগ শুরু হয়ে গেছে। ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সুশীল সমাজের চায়ের কাপে তুফান সৃষ্টি, দুটি তথাকথিত নিরপেক্ষ ইংরেজি ও বাংলা দৈনিকের শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হেট ক্যাম্পেইন দেখেও তা কি আপনারা বুঝতে পারছেন না?
প্রবীণ বন্ধু আমার কথার কী অর্থ বুঝলেন জানি না। বললেন, আপনারা তাহলে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দেবেন না?
বলেছি, আমরা নই, বিএনপিকে এখন যারা নাচাচ্ছে, তারাই তাকে ক্ষমতায় আসতে দেবে কিনা সন্দেহ। আমার ধারণা, বিএনপিকে তারা আওয়ামী লীগকে হটাতে ব্যবহার করছে। কিন্তু ক্ষমতায় বসতে দিতে চায় না। পর্দার আড়ালে তাদের পছন্দের লোক অপেক্ষা করছে।
বন্ধু বললেন, সে যাই হোক আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় থাকছে না।
বললাম, তাও বলতে পারি না। এক-এগারোতেও আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য নিপুণ ছক পাতা হয়েছিল। সেই ছক পাতা সফল হয়নি। আগামী সাধারণ নির্বাচনেও (যদি হয়) এমন কিছু ঘটতে পারে, যাতে বর্তমানের সব অংক কষা ফল ভুল প্রমাণিত হতে পারে। বাংলাদেশের জনসিংহ শেষ মুহূর্তে জেগে উঠবে না তা কে বলতে পারে?

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব by তারেক শামসুর রেহমান

দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় এখন লোডশেডিং হচ্ছে। এমনকি রাতের বেলায়ও লোডশেডিং হচ্ছে। গত ১৪ জুন ৬ হাজার ৪৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও জনসাধারণের বিপুল চাহিদা পূরণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আসলে রাজধানীতে যে পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদার কথা বলা হচ্ছে বাস্তবে চাহিদা তার চেয়ে অনেক বেশি। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের মাঝে রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। বর্তমান সরকারের সময় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে বলা হলেও পিডিবির হিসাবে এখনও ঘাটতি আছে দেড় হাজার মেগাওয়াট। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তা সাম্প্রতিকালে বিদ্যুতের পরিস্থিতিকে একটি বড় ধরনের হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। গ্যাসের ওপর নির্ভরতা থেকে যদি আমরা বেরিয়ে আসতে না পারি, তাহলে আগামী দিনে আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। সরকার ইতিমধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। দ্বিতীয় আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোনো সমাধান নয়। বরং বাংলাদেশের যে কয়লা সম্পদ রয়েছে, তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিদ্যুতের বিপুল চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এই কয়লা সম্পদ উত্তোলনের ব্যাপারে সরকার এক নীরবতা পালন করছে। এখানে রাজনীতি ঢুকে গেছে। একটি জাতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে, যার সঙ্গে বামমনা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জড়িত, তারা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতা করছেন। অথচ জনমত উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার পক্ষে। দেশের পরিকল্পনা কমিশনও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার পক্ষে তাদের অভিমত দিয়েছেন। এর আগে একটি সংসদীয় কমিটি একই ধরনের অভিমত দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে কয়লার বিশাল রিজার্ভ থাকা সত্ত্বেও আমরা ভারত থেকে নিুমানের কয়লা আমদানি করে খুলনা ও চট্টগ্রামে দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। খুলনাতে যেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কথা, তা সুন্দরবনের খুব কাছে। এতে পরিবেশ নষ্ট হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জনমত শক্তিশালী হলেও সরকার এখনও তাদের আগের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
বিষয়টি খুব সঙ্গত কারণে স্পর্শকাতর। বিদ্যুৎ আমাদের প্রয়োজন। চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পুরোটাই এখন গ্যাসনির্ভর। অথচ বাংলাদেশে গ্যাসের রিজার্ভ ফুরিয়ে আসছে। আগামীতে যদি নতুন করে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হয়, তাহলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করবে। ২৩ জুন সিলেটের বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডে ত্র“টি দেখা দেয়ায় সারাদেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকটের সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে আসে। লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। যদিও সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। এই একটি ঘটনা প্রমাণ করে আগামীতে বাংলাদেশ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। সুতরাং গ্যাসের পরিবর্তে বিকল্প সূত্র থেকে আমরা যদি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপারে উদ্যোগ না নিই, তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে আমাদের।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত পাঁচটি কয়লাখনি আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত মজুদের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন টন। এ কয়লা সম্পদ ৭৩ টিসিএফ গ্যাসের সমতুল্য। তবে উত্তোলনযোগ্য কয়লার পরিমাণ ২০ টিসিএফ গ্যাসের সমতুল্য ধরা যেতে পারে, যা ৩০ থেকে ৪০ বছরের জ্বালানি নিরাপত্তা দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে ভালো জাতের বিটুমিনাস কয়লা পাওয়া গেছে। উত্তরাঞ্চলের বড়পুকুরিয়ায় যে কয়লা পাওয়া গেছে, তা ভূপৃষ্ঠের ১১৯ মিটার থেকে ৫৬০ মিটার গভীরতায় অবস্থিত। মোট ছয়টি কয়লা স্তর পাওয়া গেছে, যার পুরুত্ব সর্বাধিক তিন মিটার এবং সর্বোচ্চ ৮২ মিটার। মোট মজুদের পরিমাণ ৬০৩ মিলিয়ন টন। বর্তমানে এ কয়লা খনিটি ভূগর্ভস্থ খনন পদ্ধতির মাধ্যমে উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। বড়পুকুরিয়া ছাড়াও জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে ভূপৃষ্ঠের ৬৪০ মিটার থেকে ১১৫৮ মিটার গভীরতায় সাতটি কয়লাস্তর আবিষ্কৃত হয়েছে। কয়লা এলাকার বিস্তৃতি প্রায় বারো বর্গকিলোমিটার এবং মোট আনুমানিক মজুদের পরিমাণ ১০৫৩ মিলিয়ন টন। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কয়লা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফুলবাড়ীর এই কয়লা খনি আবিষ্কৃত হয় ১৯৯৭ সালে এবং কয়লা মজুদ নিশ্চিত হয়েছে ৫৭২ মিলিয়ন টন।
জ্বালানি খাতে কয়লা একটা সম্ভাবনার সৃষ্টি করলেও তাতে এখন ‘রাজনীতি’ ঢুকে গেছে। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ী কয়লাখনি উত্তোলনের বিরোধিতাকারী স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আইন রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। তাতে মারা যায় ৬ জন মানুষ। তারা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতা করছিল। এখানে বলা ভালো, ১৯৯৪ সালে খালেদা জিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলে সরকার ব্রকেন হিল প্রপার্টি সংক্ষেপে বিএইচপি নামে এক অস্ট্রেলীয় কোম্পানির সঙ্গে অনুসন্ধান চুক্তি করে। পরে ১৯৯৭ সালে ওই কোম্পানি এশিয়া এনার্জি নামে এক ব্রিটিশ কোম্পানির কাছে লিজিং লাইসেন্স বিক্রি করে। এশিয়া এনার্জি ৩০ বছরের জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের জন্য অধিকার লাভ করলেও বিনিময়ে বাংলাদেশ সরকার পাবে রয়েলটি হিসেবে উত্তোলিত কয়লার মাত্র ৬ শতাংশ! এটাও বাংলাদেশে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশে খনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কোন পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা লাভজনক সে ব্যাপারেও দ্বিমত আছে। একদল উন্মুক্ত পদ্ধতির পক্ষে। অন্য দল সুড়ঙ্গ পদ্ধতির পক্ষে। এমনকি বামমনা রাজনীতিকদের বক্তব্য থেকেও দেখা যায়, তারা সুড়ঙ্গ পদ্ধতির পক্ষে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই সুড়ঙ্গ পদ্ধতি আমাদের জন্য কতটুকু লাভজনক?
ভারতের সেন্ট্রাল মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. অজয় কুমার ঘোষ একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, উš§ুক্ত পদ্ধতিতে তোলা গেলে ফুলবাড়ী থেকে শতকরা ৯০ ভাগ কয়লা তোলা সম্ভব। এমনকি পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রাক্তন ভূতত্ত্ববিদ ড. ইউনুস আকনও একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন উন্মুক্তভাবে কয়লা তোলা সফলভাবে সম্ভব। ভারতে উৎপাদিত কয়লার শতকরা ৮১ ভাগ আসে উন্মুক্ত পদ্ধতি বা ওপেন কাস্ট সাইনিং থেকে। ‘বাংলাদেশের নিরাপত্তা ভাবনা : অপ্রচলিত ধারণা’ শীর্ষক একটি গবেষণা পরিচালনা করতে গিয়ে দেখেছি ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে শতকরা ২০ ভাগের বেশি কয়লা তোলা সম্ভব হয় না (গবেষণাকর্মটি বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে)। বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্রের বেলায় দেখা গেছে, শতকরা ১০ ভাগ কয়লা তোলাও সম্ভব হচ্ছে না।
সরকার পারমাণবিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে শুধু একটিই কারণে। আর তা হচ্ছে দেশের বিপুল জ্বালানি চাহিদা মোকাবেলা করা। চূড়ান্ত বিচারে পারমাণবিক প্রকল্প কোনো সমাধান নয়। পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল (যেমন অস্ট্রেলিয়ায় ৭৯ শতাংশ, ভারতে ৬৯ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৯২ শতাংশ)। ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে বড় অভিযোগ- কৃষি তথা বসতভিটা অধিগ্রহণ, পানিশূন্যতা, ৪০ হাজার মানুষকে স্থানান্তর ইত্যাদি। জাতীয় কমিটি এই বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তবে পরিকল্পনা মিশন যে মতামত দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সম্ভব বলে জানিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সময়কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় ১২০০ একর জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তাতে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তাই রূপপুর প্রকল্প আমাদের জ্বালানি সংকটের কোনো সমাধান বয়ে আনবে না। দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় গ্যাস থেকে (৮৭ ভাগ), কয়লা (৩ দশমিক ৭ ভাগ), বাকি ফার্নেস অয়েল, জলবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে গ্যাসের রিজার্ভ ফুরিয়ে আসছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃতও হচ্ছে না। ফলে কয়লার ব্যাপারে আমাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাংলাদেশ এক বড় ধরনের ‘এনার্জি ট্রাপ’ বা জ্বালানি ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে। গ্যাসের রিজার্ভ ফুরিয়ে যাওয়া, আর রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় আমাদের বিপুল জ্বালানি চাহিদার উৎস এই কয়লাই। কিন্তু আমরা কয়লাসম্পদকে ব্যবহার করতে পারছি না। এটা ব্যবহার না করে বিপুল ব্যয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছি এবং দ্বিতীয় আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। আমরা কখনও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নেতিবাচক দিকগুলো বিবেচনায় নেইনি। জাপানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভয়াবহ বিস্ফোরণ (২০১১) কিংবা তারও আগে রাশিয়ার চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর অনেক দেশ ‘শিক্ষা’ নিয়েছে। জার্মানি ধীরে ধীরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনই এক সময় আমরা আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা ভালো নয় এবং আমাদের জন্য তাতে আদৌ কোনো মঙ্গল ডেকে আনবে না। বরং আমাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে আমরা যদি বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর উদ্যোগ নেই, তা আমাদের জন্য মঙ্গল হবে।
বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এ চাহিদা আরও বাড়বে। বাজেটে জ্বালানি খাতে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা মূলত রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল খাতে ব্যবহারের জন্য। এর ফলে আগামীতে বিদ্যুতের দাম আরও বাড়বে। কিন্তু তাতে কোনো সমাধান বয়ে আনবে না। একমাত্র কয়লা উত্তোলনের মাঝেই এর সমাধান নিহিত। সরকার যত দ্রুত এ কাজটি করবে, ততই আমাদের জন্য মঙ্গল।
তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

তত্ত্বাবধায়কে এত ভয় কেন? by অনুরূপ আইচ

বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে সবখানে। সব শ্রেণী-পেশার মানুষ আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ করছেন। আগামী নির্বাচনে কারা জিতবেÑ এ নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, পাশাপাশি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে জনসাধারণের মাঝে। বেশ কিছুদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ভাষণে বলেছেন, তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে অনাগ্রহী। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে সতর্ক করে বলেছেন, আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে ভবিষ্যতে দুই নেত্রীকেই জেলে নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রত্যুত্তরে এখনও মুখ খোলেননি বিরোধীদলীয় নেতা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দল অনড়। সরকারি দলও শক্ত মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে এ ইস্যুতে। এ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তাই দলনিরপেক্ষ জনগণের মনে প্রশ্ন জাগছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে কেন এত ভয় পাচ্ছে আওয়ামী লীগ? শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, প্রতিবারই তারা তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন করেই এসেছে। শুধু তাই নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের জন্য আওয়ামী লীগ একসময় প্রবল আন্দোলন করেছিল। হুট করে এমন কী ঘটল যে, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বাঘের মতো ভয় পেতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ দোহাই দিচ্ছে এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের। ভুলে গেলে চলবে না, এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছিল তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের গোঁয়ার্তুমির কারণে। সে সময় চারদলীয় জোট সরকার বিরোধী দলকে উপেক্ষা করতে চেয়েছিল বলেই সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছিল। এখনও সবার পরিষ্কার মনে আছে, তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার বিরোধী দলকে কিংবা তাদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে পাত্তাই দিতে চায়নি। ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছিল তৎকালীন সরকার। এ কারণে এক-এগারোর সরকার ক্ষমতা নিলে সাধারণ মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেছিল। কারণ দেশের মানুষ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চায় না। জনগণ শান্তি চায়। ঘুরেফিরে সেই এক-এগারোর পরিস্থিতির দিকে দেশকে নিয়ে যাচ্ছে কেন রাজনৈতিক দলগুলো?
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। আমাদের দেখাদেখি পাকিস্তানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। এর আগেও বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যেসব নির্বাচন হয়েছে, তা ছিল শান্তিপূর্ণ। সেসব নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক। এমনকি এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচিত সরকারকেও সাদরে গ্রহণ করেছিল দেশের মানুষ। তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এত আপত্তি কেন আওয়ামী লীগের?
শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। তবুও তারই চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশে পঁচাত্তর-পরবর্তী দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, সবই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। দেশের মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা পেয়ে জেনেছে, দেশে এখনও দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে হয়তো সরকারি দল বলতে পারে, তাহলে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিরোধীদলীয় সমর্থিত প্রার্থী জিতলেন কী করে? তার উত্তরে বলা যায়, খালেদা জিয়া সরকারের আমলেও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী জিতেছিলেন। বিএনপির আমলে অনেক উপনির্বাচনে জিতেছিল আওয়মী লীগ। মোট কথা, দু-এক জায়গার নির্বাচনের উদাহরণ কখনোই টানা যাবে না জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে। তাছাড়া সরকার যদি মনে করে, কয়েকটি বিশেষ দলের দাবি মানে জনগণের দাবি নয়। সেক্ষেত্রে সরকার হ্যাঁ-না নির্বাচন দিতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রণয়নের ক্ষেত্রে। এটাও না করে যদি সরকার নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করে, সেক্ষেত্রে অতীতের সরকারগুলোর মতোই পরিণতি মেনে নিতে হবে। অনেকেই অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। বর্তমান সরকারেরও নেয়া উচিত। নইলে সরকারি দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অতীতের এমন অনেক রেকর্ড রয়েছে। কোনো একটা বিষয় নিয়ে সরকারি দল যদি গোঁয়ার্তুমি করতে করতে মানুষকে বিরক্ত করে ফেলে, তখন সরকার হয়ে পড়ে গণবিচ্ছিন্ন। সরকারের ভালো কাজগুলোর কথাও ভুলে যায় জনগণ।
আওয়ামী লীগ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল, তখন অনেককে বলতে শুনেছি, বিএনপি সরকার তত্ত্বাবধায়কের দাবি মেনে নিলেই হয়। তাহলে তো দেশে অরাজকতা হয় না। সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মানার কারণে অরাজক পরিস্থিতির জন্য জনগণ দায়ী করেছিল বিএনপিকে। ঠিক একইভাবে ভবিষ্যতে মানুষ দায়ী করবে আওয়ামী লীগকে। তখন আওয়ামী লীগের অবস্থাও অতীতের বিএনপি সরকারের মতো হবে।
বিএনপি সরকার যদি স্বচ্ছভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন করত, তবে ওয়ান-ইলেভেনের সৃষ্টি হতো না। মাইনাস টু ফর্মুলার কথাও উচ্চারিত হতো না। দুই নেত্রীসহ একাধিক রাজনীতিককে জেলে যেতে হতো না। তিন মাসের বদলে দুই বছর ক্ষমতা দখল করে থাকতে পারত না ওয়ান-ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আরও কথা থেকে যায়। ওয়ান-ইলেভেনের সরকার যদি এতই খারাপ হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেসব ব্যক্তিকে কেন আইনের মুখোমুখি করল না? যদি এক-এগারোর কর্তাব্যক্তিরা দোষী হতেন এবং যদি তাদের বিচারের প্রক্রিয়ায় আনা হতো, তাহলে কেউ আর সংবিধান লংঘন করার সাহস পেত না।
এসবের কিছুই করেনি বর্তমান সরকার। কাজেই তাদের মুখে ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের বিরুদ্ধাচরণ চলে না। সত্যিই যদি ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকত আওয়ামী লীগের, তবে তারা ক্ষমতায় এসে সর্বপ্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বচ্ছ রূপরেখা তৈরি করে আইন প্রণয়ন করত সংসদে। তাই আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভীতিকে লোক দেখানো মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। নইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আওয়ামী লীগের এত ভয়ের কোনো কারণ নেই।
অনুরূপ আইচ : লেখক ও সাংবাদিক

অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ যাচ্ছে কোথায়? by মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন

বাংলাদেশকে নিয়ে দুশ্চিন্তার পাহাড়টা ক্রমেই হিমালয়ের মতো উঁচু হচ্ছে। হচ্ছেটা কী, যাচ্ছি কোথায়- সর্বত্রই এ আলোচনা। ‘আমেরিকা জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স’ (জিএসপি) সুবিধা বাতিলের পর এ আলোচনার পারদ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এ ক্ষেত্রে আমেরিকাকে তার মিত্র রাষ্ট্রগুলো অনুসরণ করলে বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যে অবধারিত ধস নামবে। বন্ধ হবে কলকারখানা, কর্ম হারিয়ে বেকার হবে হাজার হাজার শ্রমিক; দেশের অর্থনীতিতে নেমে আসবে বিপর্যয়, ঘটবে আইন-শৃংখলার মারাÍক অবনতি। সর্বোপরি সামাজিক নিরাপত্তা হবে হুমকির সম্মুখীন। বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ- এ কথাটি সবাই বলে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ কর্মক্ষম ও ফিজিক্যালি ফিট। বাংলাদেশের কৃষি, গার্মেন্ট শিল্প, পর্যটন শিল্প ও ওষুধ শিল্প বিশ্ব পরিমণ্ডলে প্রশংসার দাবিদার। বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিরা সফরে এলে বাংলাদেশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের পার্শ^বর্তী দেশ ভারতে প্রায় ১২৫ কোটি মানুষ। কিন্তু তাদের দেশে একজন ড. ইউনূস নেই, একজন ফজলে হাসান আবেদ নেই; আমরা কথায় কথায় তাদের অসম্মান করি, কিন্তু সারা বিশ্ব তাদের সম্মান করে- এ যেন বাতির নিচে অন্ধকার। ড. ইউনূসকে অযথা বিতর্কের মধ্যে টেনে এনে বাংলাদেশ মারাত্মক ইমেজ সংকটে পড়েছে। যারা তার সমালোচনা করছেন, তাদের চেনে কয়জনে? তারা কি সে মানের ব্যক্তি? দীলিপ বড়–য়া, মাহাবুবউল আলম হানিফ যখন ড, ইউনূসের সমালোচনা করেন; তখন মানুষ বিস্মিত ও হতবাক হয়। আসলে এসব বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে নসাৎ করার পরিকল্পিত ছক ছাড়া আর কিছুই নয়। বাংলাদেশের বেসরকারি হাতকে নিরুৎসাহিত করতে ড. ইউনূসকে বিতর্কে জড়ানো হয়েছে। কেননা বাংলাদেশের বেসরকারি হাত অত্যন্ত শক্তিশালী, যা বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে। ড. ইউনূসের ঘটনায় বাংলাদেশ উপরে উঠছে এটি কেউ স্বীকার করেন না। সর্বত্রই বাংলাদেশকে নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনা। এভাবে চলতে থাকলে কোনো দেশ কি সামনে এগোতে পারে? যারা বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের এ চিন্তাটা থাকা উচিত কি নয়? শুধু নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে- এ কথাটা সবার মুখ মুখে শোনা যায়। আসলে বাংলাদেশ যাদের অনেক কিছু দিয়েছে, তারা বাংলাদেশকে কিছুই দেননি; যারা বাংলাদেশকে সবকিছু দিচ্ছেন, তারা বাংলাদেশের কাছ থেকে কিছুই পাননি। এভাবেই চলছে বাংলাদেশ।
শেরে বাংলা একে ফজলুল হক পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে হরহামেশাই তার সমালোচনা করত ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকা। একদিন তার এক ভক্ত এসে বললেন, ‘স্যার আজকে আনন্দ বাজার পত্রিকা আপনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে।’ শেরে বাংলা বললেন- তাই নাকি? তাহলে তো ভাবতে হবে আমি সঠিক পথে নেই; আমি মনে হয় ভুল করছি।
পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চলছে বিশ্বজুড়ে, যা পত্রপত্রিকায় আমরা দেখতে পাই। এ নেতিবাচক প্রচারণার বিপরীতে ইতিবাচক কোনো প্রচারণা চোখে পড়ছে না। নেতিবাচক প্রচারণার কারণে কোটি কোটি ডলারের রফতানি অর্ডার চলে যাচ্ছে পার্শ^বর্তী একটি দেশে। যেন হাতে ধরে সুযোগ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষকে।
বিভক্তি ও বিভাজন নিয়ে কোনো জাতি সামনে এগোতে পারে না। দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ বিভক্তি ছড়িয়ে পরেছে। এ বিভক্তি থেকে জাতিকে বের করে আনার কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় মানুষ চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন। কোথাও কোনো আশার বাণী তারা শুনতে পাচ্ছেন না, কেউ তাদের আশ্বস্ত করছে না; দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত। ব্যাংকের লেনদেন দ্রুত কমে যাচ্ছে। শেয়ার বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সূচক দ্রুত নিচের দিকে নামছে। নিত্যপণ্যের মূল্য হু হু করে বাড়ছে। এর শেষ কোথায় কেউ জানে না। সরকার ও বিরোধী দল নির্বিকার। মানুষ যাবে কোথায় কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশ রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল একটা দেশ। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ-আমেরিকা থেকে টাকা না এলে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে যাবে; তখন এ দেশের ১৬ কোটি মানুষ কী করে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকবে- এ চিন্তাটা কোনো রাজনীতিবিদ করেন বলে মনে হয় না।
দেশের আবাসন ব্যবসা আজ ধ্বংসের পথে, ধ্বংসের পথে জনশক্তি রফতানি খাত; তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থাও ভালো নয়, ইউরোপ-আমেরিকা থেকে অর্ডার আসা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়ছে। এভাবে একের পর এক বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে, কর্মসংস্থান ব্যাহত হবে; মানুষ কর্ম হারিয়ে বেকার হবে, সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। দেশের আইন-শৃংখলার অবনতি ঘটবে। এসব কি আমাদের রাজনীতিবিদরা ভাবেন? ভাবলে রাজনীতিতে এত বিভেদ-বিভক্তি ও বিভাজন কি তৈরি হতো?
এটা স্বীকার করতে হবে, বাংলাদেশকে নিয়ে চলছে বিপজ্জনক খেলা; এই বিপজ্জনক খেলার শেষ কোথায়, তা কেউ জানে না। কোথাও কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হয় না। অনিবার্য ধ্বংস ছাড়া এই বিপজ্জনক খেলার পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে মনে হচ্ছে না। কেননা এই খেলা যারা খেলছেন, নিশ্চয় তাদের একটা সুস্পষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আছে; উদার গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদেশী শক্তির কর্তৃত্ব কায়েম করাই এই খেলার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। সুতরাং রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমসহ সব মহলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা ছাড়া বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন।
দেশের মিডিয়া এখন অনেক শক্তিশালী। বলা যায় মিডিয়া এখন নেতৃত্বের ভূমিকায়; যার জন্য মিডিয়ার দায়িত্বশীলতাও অনেক বেশি। দেশকে যে কোনো বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে মিডিয়াকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। এর জন্য সংকীর্ণ দলীয় চিন্তা পরিত্যাগ করতে হবে। যেনতেন ও রুচিহীন কোনো অনুষ্ঠান লাইভ টেলিকাস্ট থেকে বিরত থাকতে হবে এবং লাইভ প্রচারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও সিনিয়রদের কাজে লাগাতে হবে। মনে রাখতে হবে, জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমের দায়িত্বহীনতার কারণে দেশে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে; এমনকি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পর্যন্ত হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। সুতরাং মিডিয়ার দায়িত্বশীল আচরণই বাংলাদেশকে সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করতে পারে; ব্যর্থ করে দিতে পারে দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত সব ষড়যন্ত্র
বাংলাদেশে বিদেশী সুযোগ সন্ধানী অপশক্তির তৎপরতা থাকার যথেষ্ট কারণ আছে। এই সুযোগ সন্ধানী অপশক্তিরা এখন তৎপর। রাজনীতিবিদদের ওপর কর্তৃত্ব কায়েম করে তারা বাংলাদেশকে সবদিক থেকে অস্থির করে তুলছে। কেননা বিশ্বে বাংলাদেশের স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব এখন ব্যাপক। চীন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এখন একটা তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে। উপমহাদেশে চীনের কর্তৃত্ব কমিয়ে আনতে বাংলাদেশের স্ট্র্যাটেজিক সুবিধাগুলো নিয়ামক। তাছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রায় ২৫০ কোটি মানুষের বসবাস। বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ রয়েছে। তাই বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো চায় এখানে একটা রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে, যাতে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ সুগম হয়। যার কারণে শক্তিধর দেশের গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা বাংলাদেশে খুব জোরালোভাবে প্রতীয়মান হয়।
বাংলাদেশের তিন দিক জুড়ে রয়েছে ভারত। তারপর দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে মিয়ানমার। এর পাশে রয়েছে চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়া। তাছাড়া রয়েছে ভুটান, নেপাল ও সিকিম। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে এই প্রতিটি দেশ খুবই সন্নিকটবর্তী। এই দেশগুলোতে বর্তমানে অর্থনৈতিক উত্থান ঘটছে। অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিরও পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তন থেকে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পটপরিবর্তন ঘটে চলেছে, তা এ অঞ্চলের রাজনীতির মেরুকরণকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা সমাধানের ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিকতার ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। প্রত্যেকটি ঘটনাতেই অযাচিতভাবে শক্তি প্রয়োগ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানো হচ্ছে; যা কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত ও কাম্য নয়।
আইভরিকোস্ট আফ্রিকার একটি উদার গণতান্ত্রিক ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ছিল, তাদের কোনো কিছুরই অভাব ছিল না; কিন্তু রাজনৈতিক হানাহানি ও বিভেদ-বিভক্তি দেশটির সব সম্ভাবনা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। তারা এখন অন্যের সাহায্য নিয়েও রাজনৈতিক হানাহানি ও বিভক্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। বাংলাদেশও আইভরিকোস্টের ভাগ্যবরণ করতে যাচ্ছে কি না- এই প্রশ্ন আজ মানুষের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। সুতরাং আইভরিকোস্টের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ অন্তত শিক্ষা নিতে পারে। বেরিয়ে আসতে পারে প্রতিহিংসা, হানাহানি ও বিভেদ-বিভক্তির রাজনীতি থেকে। তাহলেই বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে।
মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সামরিক কারখানায় তৈরি সরকার by রবার্ট ফিস্ক

ইতিহাসে এমন ঘটনা প্রথম ঘটল যেখানে সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে, কিন্তু তাকে সামরিক অভ্যুত্থান নামে ডাকা হচ্ছে না।

হেরেও জেতা যায় by শামীমুল হক

নানা শঙ্কা। নানা আলোচনা-সমালোচনা। নানা বিতর্ক, সন্দেহ আর অভিযোগ। এর মধ্য দিয়েই আগামীকাল হবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন।

মেসেজ ক্লিয়ার by সাজেদুল হক

ভোটের রাজনীতি আসলে এমনই। একদিনেই যেখানে বদলে যায় সব কিছু। রাজা হয়ে যান প্রজা, প্রজার ভূমিকা নেন রাজা।

ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘লিঙ্গ’ বিতর্ক! by জব্বার হোসেন

দুঃসংবাদটি দেয় ফেরদৌস, ফোনে। ঋতুদার সঙ্গে ফেরদৌসই পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।

ভোটের ফলাফল প্রচারে ইদুঁরদৌড় by তুষার আবদুল্লাহ

দর্শকরা কি আমাকে ক্ষমা করেছেন?  যারা ৬ জুলাই  বিকেল চারটার পর টেলিভিশন সেটের সামনে বসে ছিলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ফলাফল জানতে।

নির্বাচনী ফল এবং টেলিভিশনের ফলাহার by জাহিদ নেওয়াজ খান

টেলিভিশনে নির্বাচনের ফল ঘোষণা নিয়ে ১৫ জুন চার সিটির নির্বাচনের আগে বাংলানিউজে ১২ জুন একটি লেখায় যে আশংকা করেছিলাম, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৬ জুলাই তা সত্য হয়েছে।

হট.. হটার.. হটেস্ট

হট.. হটার.. হটেস্ট! এরকমই মন্তব্য শুনতে হবে৷ গায়ে ইয়ে কোমরে জড়ালে৷ পোশাকটার পোশাকি নাম ‘স্কার্ট’৷

যৌনতাকে পুঁজি করে কী হতে চান তানিয়া?

সম্প্রতি সোশাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকে বসলেই নানা সংবাদ, লেখা কিংবা ভিডিও লিংক পাই। কিছু মানুষ এসব লিংক শেয়ার করে পাঠক বাড়ানোর জন্য।

প্রিয় বন্ধুর মুখোশ খুলে দিলেন বিস্ফোরক সুদীপ্তা

তাঁকে অনেকেই বলেছিল, ‘রুদ্র মানুষ হিসেবে খুব উন্নত মানের নয়’! প্রিয় বন্ধু সম্পর্কে সে সব কথা বিশ্বাস করেননি।

প্রাচীন গ্রিসে প্রেম ও যৌনজীবন

কোনো গ্রিক স্বামীর জন্য বিয়েতে ব্যভিচার বলে কোনো কিছুর স্থান ছিল না। বিয়ের কারণে তাকে যাবতীয় নান্দনিক ও যৌন উপভোগ থেকে বঞ্চিত হতে হবে এমন কোনো যুক্তি কারো চিন্তারও বাইরে ছিল।

ঈদের আগেই পড়শী-৩

আসছে ঈদের আগেই  জি-সিরিজ থেকে আসছে পড়শীর তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘পড়শী-৩’। তাই নতুন এ অ্যালবামের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ক্ষুদে গানরাজ খ্যাত এই শিল্পী।

৩৩ শতাংশ জাপানি মনে করে বিয়ে অর্থহীন by জেড এম আবুসিনা

জাপানের একটি জরিপ থেকে সম্প্রতি জানা গেছে, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নাগরিক বিয়ে করে স্থিতিশীল জীবনযাপনের মধ্যে কোনো অর্থ খুঁজে পাননা।

যুক্তরাজ্য থেকে কাতাদাকে জর্ডানে পাঠানো হলো

আবু কাতাদা
কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা আবু কাতাদাকে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল রোববার তিনি জন্মভূমি জর্ডানে পৌঁছেছেন। সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সাংবাদিকদের বলেন, আবু কাতাদাকে জর্ডানে পাঠাতে পেরে তিনি ‘আনন্দিত’। আবু কাতাদাকে (৫৩) বহনকারী একটি বিমান গত শনিবার স্থানীয় সময় দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে আরএএফ নর্থহল্ট বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। এর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর জর্ডানের মার্কা সামরিক বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। প্রায় ২০ বছর পর স্বদেশে ফিরলেন আবু কাতাদা। সেখান থেকে তাঁকে সোজা নিরাপত্তা আদালতে নেওয়া হয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আবু কাতাদাকে প্রথম ২০০১ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে স্বদেশে পাঠানোর জন্য প্রায় আট বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিল যুক্তরাজ্য। আবু কাতাদাকে নির্যাতন করা হবে না, এ-সংক্রান্ত যুক্তরাজ্য-জর্ডান একটি চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে স্বদেশে পাঠানো সম্ভব হয়। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে বলেন, ‘বিপজ্জনক মানুষটিকে শেষমেশ বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে তাঁর নিজের দেশে পাঠানো হয়েছে।’ কাতাদাকে বহনকারী ওই বিমানে জর্ডানের আরও ছয়জন ছিলেন। তাঁদের তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা, একজন মনস্তত্ত্ববিদ, একজন চিকিৎসক ও একজন আইনজীবী। জর্ডানের একজন সরকারি মুখপাত্র বলেন, কাতাদাকে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা হবে। বিবিসি ও এএফপি।

কখনোই নিরাপদ আশ্রয় পাবেন না স্নোডেন!

এডওয়ার্ড স্নোডেন
যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারি ফাঁস করে ফেরারি হয়েছেন এডওয়ার্ড স্নোডেন। লাতিন আমেরিকার তিনটি দেশ তাঁকে আশ্রয় দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দর থেকে যাওয়ার একমাত্র পথ কিউবা। সেই কিউবা নীরব থাকায় তাঁর আশ্রয় নিয়ে রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের রাজনৈতিক আশ্রয়লাভের আশায় দুঃস্বপ্ন ভর করেছে। রাশিয়া থেকে লাতিন আমেরিকার কোনো দেশে যাওয়ার পথে তাঁর সামনে এখন নানা প্রতিবন্ধকতা। ইতিমধ্যে লাতিনের তিনটি দেশ তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। স্নোডেনকে গত শনিবার বলিভিয়া আশ্রয় দেওয়ার হাত বাড়িয়ে দেয়। এর আগে ভেনেজুয়েলা ও নিকারাগুয়া তাঁর প্রতি অনুরূপ সহায়তার হাত বাড়ায়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ তিন দেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন রয়েছে। রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে স্নোডেন গত সপ্তাহে ২১টি দেশে আবেদন করেন। তবে অধিকাংশ দেশই তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। এ অবস্থায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এ তিন দেশই এখন আশ্রয়লাভে স্নোডেনের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প। হংকং থেকে মার্কিন নজরদারি ফাঁকি দিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমানোর পর থেকেই স্নোডেন মস্কোর একটি বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় লোকচক্ষুর অন্তরালে অবস্থান করছেন। গতকাল রোববার সেখানে তিনি ১৫তম দিনটি কাটান। এ অবস্থায় গতকাল তিনি সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, যেসব পশ্চিমা দেশ এখন এনএসএর গোপন নজরদারির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, এ কর্মসূচির সঙ্গে তারাও জড়িত রয়েছে। এদিকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও ওয়াশিংটন সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে স্নোডেনকে ফেরত পাঠাতে মস্কোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওয়াশিংটনের অনুরোধ সরাসরি নাকচ করে ইঙ্গিত দিয়েছেন, স্নোডেন কোথায় যেতে চান, সে ব্যাপারে তাঁকেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু মস্কোর শেরেমেতেয়েভো বিমানবন্দরে থাকা স্নোডেনের সামনে বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। কারণ, এ বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে লাতিন আমেরিকা যাওয়ার একটাই পথ কিউবা হয়ে যাওয়া। স্নোডেন বিতর্ক শুরুর পর থেকে কিউবা তাঁকে নিয়ে অস্বাভাবিক নীরবতা বজায় রাখছে। ইউরোপের দেশে স্নোডেনকে বহনকারী উড়োজাহাজের বাধ্যতামূলক অবতরণের ঝুঁকিও রয়েছে। যেমনটা ঘটেছে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের ক্ষেত্রে। মস্কো থেকে স্নোডেনকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে—এমন সন্দেহে গত সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট মোরালেসকে বহনকারী উড়োজাহাজ দেশে ফেরার পথে ভিয়েনায় অবতরণে বাধ্য করা হয়। গত ২৪ জুন স্নোডেন অজ্ঞাত কারণে মস্কো থেকে কিউবা অভিমুখী উড়োজাহাজে ওঠেননি। বিশ্লেষকদের ধারণা, স্নোডেনের মার্কিন ভ্রমণ পাসপোর্ট বাতিল হওয়ার পর বিমানবন্দর ত্যাগে তাঁর কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় হয়তো রুশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ওই উড়োজাহাজে ওঠার অনুমতি দেয়নি। তা ছাড়া স্নোডেনকে আশ্রয় দিতে রাজি বলিভিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশের শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে কনস্যুলার শাখা নেই; যাতে স্নোডেনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জোগান তারা দিতে পারে। এমনকি, মস্কোয় নিযুক্ত ভেনেজুয়েলা বা অন্য দেশের কূটনীতিকদের মাধ্যমেও যদি স্নোডেনের কাছে ভ্রমণ কাগজপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়, তবু তাঁর সব সমস্যার সমাধান হবে না। ফরাসি ঐতিহাসিক সেবাস্তিয়েন লরেন বলেন, ‘আলংকারিক অর্থে তিনি মৃত। তিনি যা করেছেন তার গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি কখনোই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবেন না।’ এএফপি।

সিরিয়ার বিরোধী জোটের নতুন প্রেসিডেন্ট জারবা

আহমাদ আসি জারবা
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদবিরোধী লড়াই এগিয়ে নিতে প্রধান বিরোধী জোট গত শনিবার আহমাদ আসি জারবাকে তাঁদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে। বিরোধীদের মুখপাত্র খালেদ সালেহ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তুরস্কের ইস্তাম্বুলভিত্তিক সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশনে (এসএনসি) গত শনিবার ভোট হয়। এতে জারবা ৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুস্তফা আল সাব্বাঘ পেয়েছেন ৫২ ভোট। জারবা সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতি রয়েছে। সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধ থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে গত মে মাসে বিরোধী জোটের প্রধানের পদ ছাড়েন আহমদ আল-খতিব। এএফপি।

সিনাইয়ে গ্যাস পাইপলাইনে সন্ত্রাসী হামলা

সিনাই উপদ্বীপে একটি গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটেছে। গ্যাস পাইপলাইনটি সিনাই হয়ে মিসর থেকে জর্ডানে নেওয়া হয়েছে।২০১১ সালে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে উৎখাত করার পর এই পাইপলাইনে ১০ বারের বেশি হামলা চালানো হয়েছে। মিসরে সম্প্রতি সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সরিয়ে দেওয়ায় সিনাইয়ে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর ওপর হামলা বেড়ে গেছে। ওই এলাকায় আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। তবে এই অঞ্চলে তল্লাশি চৌকি এবং গ্যাসের পাইপলাইনে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি। বুধবার মুরসিকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা হয়েছে কি না, তাও পরিষ্কার নয়। গত শুক্রবার সিনাইয়ের তল্লাশি চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলায় পাঁচজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। গত শনিবার ওই অঞ্চলে আরও চারটি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালানো হয়েছিল। মুরসিকে অপসারণের পর থেকে মিসরে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। প্রায় প্রতিদিনই মুরসি-সমর্থক এবং বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আল-জাজিরা।

দিল্লি দখলের ডাক দিলেন মমতা

ভারতের পার্লামেন্ট (লোকসভা) নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে। বিশেষ করে, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চার (এনডিএ) নেতারা ভোটারদের কাছে টানতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বসে নেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আগামী নির্বাচনে তিনি নেতা-কর্মীদের প্রতি দিল্লি দখলের ডাক দিয়েছেন। আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা মনে করেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অর্থাৎ চার মাসের মধ্যে লোকসভার ভোট হতে পারে। কারণ, ইউপিএ সরকার দুর্নীতিতে ডুবে গেছে। এদিকে ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা চালিয়েছে। এসব সমীক্ষায় উঠে এসেছে, আগামী লোকসভা নির্বাচনে ইউপিএ বা এনডিএ—কোনো জোটই সরকার গঠন করার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। দুই জোটকেই অন্য রাজনৈতিক দলের সাহায্য নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে। সর্বশেষ দ্য উইক সাময়িকীর সমীক্ষায় উঠে এসেছে, আগামী নির্বাচনে এনডিএ ১৮৪টি আর ইউপিএ ১৬২টি আসন পেতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, এসব সমীক্ষা প্রকাশের পর মমতার মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে, আগামী নির্বাচনে তৃতীয় কোনো শক্তি বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের জোট গঠন করে ক্ষমতায় আসতে পারে। তাই তিনি ইতিমধ্যে কংগ্রেস ও বিজেপিবিরোধী ফেডারেল ফ্রন্ট গঠনের ডাক দিয়েছিলেন। অবশ্য তাঁর ওই ডাকে তেমন সাড়া মেলেনি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনের ফলাফলে যদি দেখা যায়, আঞ্চলিক দলগুলোর জোট সরকার গঠনের মতো অবস্থানে চলে এসেছে, সে ক্ষেত্রে মমতা নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় তৃতীয় জোটকে সমর্থন দিতে পারেন। এতে তাঁর দিল্লি দখলের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। এমনকি তাঁর সামনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগও আসতে পারে। গত শনিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জয়নগরে পঞ্চায়েত নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় মমতা সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে জয়ের ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী। দিল্লি দখলের জন্য তৈরি হন। ভবিষ্যতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গড়ার মূল কারিগর হবে তৃণমূল কংগ্রেস।’ জনসভায় তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে বাংলাকে আর দিল্লির দিকে তাকাতে হবে না। দিল্লিকেই বাংলায় ভিক্ষা চাইতে আসতে হবে। যেভাবে চলছি, চালাচ্ছি, তাতে আমি দিল্লি চালিয়ে দেব। এরপর দিল্লিকে কিনে নেব আমরা। ’ মূলত মমতার সঙ্গে কংগ্রেসের জোট ভেঙে যাওয়ার পর মমতা এখন আর ভিড়তে পারছেন না এনডিএতে। এর আগে এনডিএ থেকে দুবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছিলেন। সংখ্যালঘু ভোট হারানোর শঙ্কায় তিনি এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকতে পারছেন না। বিজেপি বা এনডিএর দিকে ঝুঁকলে তাঁর সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক হারাতে হবে। তাই মমতা এবার আঞ্চলিক দল নিয়ে তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের উদ্যোগ নেন।

মিসরে আর্থিক সহায়তায় সমাধান দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

মিসরে সেনা অভ্যুত্থানে ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার চার দিন পরও যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপকে ‘ক্যু’ বা সেনা অভ্যুত্থান আখ্যায়িত করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, মিসরে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দেশটির সেনাবাহিনীকে বাধ্য করার ক্ষেত্রে সে দেশে সহায়তা বন্ধের হুঁশিয়ারি যথেষ্ট ফলদায়ক হবে। ১৯৮৫ সালের একটি মার্কিন আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে সেনাবাহিনীর হাতে কোনো দেশের বৈধ নির্বাচিত সরকার উৎখাত হলে দেশটিতে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা অবশ্যই স্থগিত করা হবে। মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মিসরের ঘটনাপ্রবাহে মার্কিন প্রশাসন ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। মার্কিন আইনের আওতায় মিসর সরকারকে দেওয়া সহায়তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও এ সময় জানান তিনি। এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট অব নিয়ার ইস্ট পলিসির পরিচালক রবার্ট স্যাটলফ বলেন, ওবামা প্রশাসন যত শিগগির সম্ভব মিসরে বেসামরিক নির্বাচিত কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা ফিরে আসা দেখতে চায়। আর তারা এ ইঙ্গিতও দিচ্ছে যে মিসরকে মার্কিন সহায়তা বন্ধের হুমকির ক্ষমতা তার পকেটেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের সামরিক অভ্যুত্থানকে ‘ক্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত না করে মার্কিন প্রশাসন যে কথার কারিগরি দেখাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ওবামা মিসরীয় জেনারেলদের খাটো করতে চাইছেন না। ওবামা প্রশাসনের প্রত্যাশা, ২০১১ সালে হোসনি মোবারকের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেভাবেই ওয়াশিংটন দেশটিকে আবারও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিতে সমর্থ হবে। মিসর নিয়ে মার্কিন আইনের এক বিশেষ ধারায় বলা হয়েছে, বেসামরিক সরকারব্যবস্থায় উত্তরণে সরকারকে অবশ্যই সহায়তা করতে হবে। তবে এই ধারায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাগত স্বার্থে’ শর্ত স্থগিত রেখে মিসরকে সহায়তা অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ঘনিষ্ঠ আরব মিত্র এবং প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি মিসরকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সহায়তা প্যাকেজ দেয়। এর প্রায় ১৩০ কোটি ডলারই সামরিক সহায়তা। মিসরীয় সেনাবাহিনীর বার্ষিক উপকরণ ও সরঞ্জাম ব্যয়ের ৮০ শতাংশই জোগান দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। রবার্ট স্যাটলফ বলেন, মার্কিন প্রশাসন এখন চাইলে মিসরকে উপকরণ সরবরাহ করা বন্ধ রাখতে পারে। তবে, এরই মধ্যে এসব উপকরণ বাবদ অর্থ বরাদ্দ এবং এর অনেকটাই খরচও হয়ে গেছে। মার্কিন কংগ্রেসের নিরপেক্ষ একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মিসরে ২০টি এফ-১৬ জঙ্গি বিমান সরবরাহে লকহিড মার্টিন কোম্পানির সঙ্গে ২০১০ সালে একটি চুক্তি সই করা হয়। এসব বিমানের মধ্যে চারটি মিসরকে গত জানুয়ারিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৯৮০ সাল থেকে মিসরীয় সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রায় ২২০টি এফ-১৬ জঙ্গি বিমান পেয়েছে। ব্রুকিংস সাবান সেন্টারের পরিচালক তামারা কফম্যান উইটস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, কায়রোতে যা ঘটেছে (সামরিক অভ্যুত্থান) তা কংগ্রেস স্বীকৃত ‘ক্যু’-এর সংজ্ঞার সঙ্গে মেলে কি না—বিষয়টির আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এখন কাজ করতে হবে। কফম্যান বলেন, সুতরাং এ বিষয়টি মিসরীয় সেনাবাহিনীর অভিপ্রায়, সংকট থেকে উত্তরণের রোডম্যাপ ও এ-সংক্রান্ত সময়সীমা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর সরকারের মধ্যে সংলাপের কিছু সময় দেবে।

সেনাদের সমর্থন পশ্চিমাদের প্রতি ঘৃণা বাড়াবে: ব্রাদারহুড

মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড মনে করে, এতে পশ্চিমারাসহ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পশ্চিমাদের প্রতি ঘৃণা বাড়বে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রাদারহুডের জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আল-বেলতাগি বলেন, ‘আমরা খুবই মনস্তাপের সঙ্গে লক্ষ করছি, সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কোনো না কোনোভাবে স্বীকৃতি বা সমর্থন দিচ্ছে। এতে করে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোর—যারা সব সময় স্বাধীনতাকামী মানুষের পরিবের্ত স্বৈরশাসকের পক্ষ নিয়ে থাকে, তাদের প্রতি মানুষের ঘৃণা বাড়বে।’ বিরোধীদের কয়েক দিনের বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট মুরসিকে গত বুুধবার ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয় সেনাবাহিনী। এরপর থেকে রাজপথে অবস্থান নিয়েছে তাঁর সমর্থক ও বিরোধী পক্ষ। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপকভাবে। নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্টকে সেনাবাহিনী উৎখাত করলেও এ ঘটনাকে ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কেননা এটা স্বীকার করে নিলে তখন মিসরের ওপর অবরোধ আরোপ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমারা তা করতে চাইবে না। কেননা, এতে তাদের কৌশলগত স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মিসরের সেনাবাহিনীকে বছরে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সেনাবাহিনী মুরসিকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর ইইউ (মিসরের সবচেয়ে বড় বেসামরিক সাহায্যদাতা) আহ্বান জানিয়েছে দ্রুত গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বা ইইউ মিসরের সেনাবাহিনীর নিন্দা করেনি। ব্রাদারহুডের নেতা বেলতাগি বলেন, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণকে মেনে নিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকা নিজেদের স্বৈরশাসক ও নিপীড়কের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরল। মুরসিকে উৎখাতের পর তাঁর দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি এবং তাদের মূল সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের অনেক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার এবং তিন শতাধিক নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কিন্তু এসব দমনপীড়ন উপেক্ষা করে তাঁরা মুরসিকে প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্বহাল দাবি জানাচ্ছে। রয়টার্স।

বিহারে বুদ্ধ গয়া মহাবোধি মন্দিরে বিস্ফোরণ

ভারতের বিহার রাজ্যের বুদ্ধ গয়া শহরে মহাবোধি মন্দির কমপ্লেক্সে গতকাল রোববার সকালে পর পর নয়টি বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে মিয়ানমারের এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীসহ দুই পর্যটক আহত হন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই বিস্ফোরণটি সন্ত্রাসী হামলা বলে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অনিল গোস্বামী। বিহার রাজ্য পুলিশের ধারণা, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন নামের সন্ত্রাসী সংগঠন ওই হামলায় জড়িত থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগের ব্যাপারে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের কোনো বক্তব্যপাওয়া যায়নি। মহাবোধি বৃক্ষের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত মহাবোধি মন্দিরে গতকাল সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে ওই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। মন্দির এলাকার অভ্যন্তরে চারটি বিস্ফোরণ হয়। এতে সেখানে গৌতম বুদ্ধের পদচিহ্নের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য অরবিন্দ সিং বলেন, দুইটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। একটি ছিল বুদ্ধের ৮০ ফুট উঁচু মূর্তির পাশে এবং অন্যটি স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডের কাছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় বিজেপির নেতা-কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। রাজ্যের রাজধানী পাটনা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মহাবোধি বৌদ্ধমন্দিরটি বিশ্বখ্যাত। পিটিআই।

পাঠকের মন্তব্য: অনলাইন থেকে জনগণকে বোকা ভাবার কোনো কারণ নেই

অনলাইনে প্রথম আলো (prothom-alo.com) নিয়মিত পড়া হয় ১৯০টি দেশ থেকে। পড়ার পাশাপাশি পাঠকেরা প্রতিদিন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, খেলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত দেন।

সমাজ শিশুর মনোজগৎ নির্মাণ by উম্মে মুসলিমা

প্রথম আলোয় কাবেরী গায়েনের ‘কালো মিতু ও ফরসা অন্ধকার’ পড়তে গিয়ে মনে হলো, শিশুমনে সাদা-কালোর ধারণা আমরাই প্রতিষ্ঠিত করে দিই। প্রতিটি পরিবারেই কোনো না কোনো সময় নতুন শিশুর আগমন ঘটে।

তাদের দক্ষতা ও পেশাদারি প্রশংসনীয় আরও নারী পুলিশ চাই

নীতিনির্ধারণী স্তরে ভূমিকা পালন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেশাদারির সঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের নারী পুলিশ ইতিমধ্যেই সুনাম অর্জন করেছে। এখন তারা যুক্ত হয়েছে নারী পুলিশের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই বিজয় গাজীপুর সিটি নির্বাচন

দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের রথী-মহারথীদের সক্রিয় অংশগ্রহণসর্বস্ব গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া বাংলাদেশের ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় সাফল্য।

বারেক মামার কাছে টিয়ার চিঠি ও একটি নির্বাচন by মাহফুজ রহমান

বনলতা ছাত্রী হোস্টেলটা উত্তরমুখী। ফলে খুব একটা বাতাস আসা-যাওয়া করে না। কিন্তু বেশ কয়েক দিন হয় বনলতায় তুমুল হাওয়া বইছে, নির্বাচনের হাওয়া। খুব শিগগিরই হোস্টেলের প্রধান নির্বাচন করা হবে।

বর্ষাকালীন রোগ

চলছে বর্ষাকাল। নতুন পানির আনন্দের সঙ্গে নতুন রোগবালাই চলে আসছে। বন্যা, জলাবদ্ধতা আর পানিবাহিত জীবাণুর ঠেলায় ‘ঠ্যাক’ খেয়ে যাচ্ছে সাধারণ পাবলিক।

মূল কবিতা প্রস্থান by হেলাল হাফিজ

এখন তুমি কোথায় আছো কেমন আছো, পত্র দিয়ো।
এক বিকেলে মেলায় কেনা খামখেয়ালী তাল পাখাটা
খুব নিশীথে তোমার হাতে কেমন আছে, পত্র দিয়ো।

গুণীজন কহেন

আপনি শুধু একবারই যুবক হতে পারেন, কিন্তু অপরিপক্ব হতে পারেন চিরকালই।
ডেভ ব্যারি, মার্কিন লেখক

হ্যাট আমার খুব ভালো লাগে। ময়লা চুল ঢাকতে এটি খুবই ভালো একটি অনুষঙ্গ।

আমেরিকার চিঠি by মাহফুজ রহমান

এখন তোমার নেই ক্ষমতা; কেমন আছো? পত্র দিয়ো।
এক বিকেলে মেলায় কেনা সানগ্লাসটা
মাঝদুপুরে তোমার চোখে কেমন আছে, পত্র দিয়ো।

গাজীপুরের গাথা by সৈয়দ আবুল মকসুদ

গাজীপুর এক প্রাচীন জনপদ। ভাওয়াল পরগনার অন্তর্গত এই জনপদের ইতিহাস দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ। আধুনিক নগরসভ্যতার আগ্রাসনের আগে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিল মোহনীয়।

নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বললেন খালেদা জিয়া by হারুন আল রশীদ

নির্বাচনের ফল ঘোষণা নিয়ে উৎকণ্ঠা জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। শনিবার রাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল ঘোষণা চলাকালে তিনি কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন।

আওয়ামী লীগে গভীর হতাশা by জাহাঙ্গীর আলম

চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের পর গাজীপুরেও একই পরিণতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে গভীরভাবে হতাশ করেছে। আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে পরিচিত গাজীপুরে সর্বশক্তি নিয়োগের পরও বড় ব্যবধানে পরাজয়ের ঘটনা দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে।

সাক্ষাৎকার সব অভিযোগের জবাব দেব কাজের মাধ্যমে: মান্নান by তানভীর সোহেল

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এম এ মান্নান বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভোটের মাধ্যমে জনগণ তা প্রমাণ করে দিয়েছে। এ নিয়ে আমার আর কিছুই বলার নেই।’্ল

সাক্ষাৎকার আমার কষ্ট এক মুহূর্তে ঝেড়ে ফেলেছি: আজমত উল্লা by পার্থ শঙ্কর সাহা ও মোহাম্মদ আলম

১৮ বছর ধরে গাজীপুরের টঙ্গী পৌরসভার মেয়র ছিলেন। জীবনে হারেননি কোনো নির্বাচনে। সেই আজমত উল্লা খান গত শনিবার নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে পরাজিত হলেন।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান-পান করুন নিরাপদ পানি

পানির অপর নাম জীবন। আর এই জীবন মানে হলো নিরাপদ অর্থাৎ জীবাণুমুক্ত পানি। শহরে যে পানি পাওয়া যায় তা ফুটিয়ে খাওয়া জরুরি, কেননা এই পানি জীবাণুমুক্ত নয়। কিছু কিছু এলাকায় ওয়াসা জীবাণুমুক্ত পানি সরবরাহ করে থাকে।

ভালো থাকুন-হেপাটাইটিস-বি প্রতিরোধে

'হেপাটাইটিস-বি' ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে বিভিন্ন উপায়ে সুস্থ ব্যক্তির দেহে ছড়াতে পারে। গর্ভবতী মায়ের দেহে এ ভাইরাস থাকলে গর্ভস্থ সন্তানের দেহে তা ছড়াতে পারে।

ব্যক্তিত্ব-জ্যোতি বসু

জ্যোতি বসুকে আমরা যতটা না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বা ভারতের প্রবাদতুল্য সিপিআইএম নেতা হিসেবে চিনি, তার চেয়ে অধিক চিনি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং প্রকারান্তরে এ দেশেরই সন্তান হিসেবে।

পবিত্র কোরআনের আলো-দান-খয়রাত করলে অমুসলিমগণ দুনিয়ায় বিনিময় পাবেন

৯৩. ইযহাবূ বিকামীসী হা-যা- ফাআলকূহু 'আলা- ওয়াজহি আবী য়া'তি বাসীরান, ওয়া'তূনী বিআহলিকুম আজমা'ঈনা। সুরা ইউসুফ।
অনুবাদ : ৯৩. তোমরা আমার এই পোশাকটি নিয়ে যাও।

'দিস ইজ দ্য লেসন ফর আওয়ামী লীগ'

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজয়ের বিষয় উল্লেখ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, দিস ইজ দ্য লেসন ফর আওয়ামী লীগ।

বিশেষ সাক্ষাৎকার : ইমতিয়াজ আহমেদ-জাতীয় নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে গাজীপুর

গাজীপুর সিটি করপোরেশনসহ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা, জাতীয় সংসদের আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব ও নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কালের কণ্ঠ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।

ভিন্নমত-মিসরে সেনা অভ্যুত্থান এবং অতঃপর by আবু আহমেদ

দুর্ভাগ্য, মিসরীয়দের বিপ্লব সহ্য হলো না। মাত্র এক বছরের মধ্যে তারা তাদের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে সেই ইতিহাসখ্যাত তাহরির স্কয়ারে আবার জড়ো হলো।

অনলাইন থেকে-আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাজ্য

পাকিস্তানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সফরের মাধ্যমে দুটি দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো উন্নয়নের পাশাপাশি আফগানিস্তান বিষয়েও অগ্রগতি হবে বলে ধারণা করা হয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই।

উপাচার্যের অনিয়মের দায়ভার by ড. নিয়াজ আহম্মেদ

বর্তমানে দুটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থির অবস্থা আমাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি জাহাঙ্গীরনগর, অন্যটি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

সুস্থ সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও তার ভাষা by ড. মীজানূর রহমান শেলী

প্রবাদ আছে 'নামে কী আসে যায়, বলা হয়, গোলাপকে যে নামেই ডাকে, গন্ধ বিলাবে।' সেই সূত্র ধরে কি বলা যায়, যে ভাষাতেই কথা বলা হোক না কেন, গণতন্ত্রের রূপ অক্ষুণ্ন থাকে।