Friday, July 24, 2020
বিশ্বকে যেভাবে বদলে দিয়েছে ইসলাম by আবদুল মাননান আসযাদ

ইসলাম আবির্ভূত হওয়া এবং বিশ্বনেতৃত্বের আসনে তার সমাসীন হওয়ার পর বিশ্বে দেখা দেয় এক আমূল পরিবর্তন। পরিলক্ষিত হয় তার এক সুমহান প্রভাব প্রতিপত্তি। যে খ্রিস্টান জাতি ইসলামকে দেখত চরম অবজ্ঞার চোখে, এর প্রতি তারা তাদের হৃদয়ে লালন করতো হিংসা-বিদ্বেষ আর শত্রুতা; সে খ্রিস্টান জাতিই ইসলামের সোনালী শাসন, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সর্বোপরি মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে সকলকে সুরক্ষা প্রদান দেখে তারা ইসলামকে শুধু স্বাগতই জানান নাই, মুসলিম শাসকদের বিয়োগান্তে তারা চরম ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন হতেন।
বিশ্ব নেতৃত্বে ইসলামি সভ্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপি তা এক সংস্কারমূলক আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে। ধর্ম, সাহিত্য, আত্মিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিশ্বের সর্বত্রই পরিলক্ষিত হয় তার বহুমুখী প্রভাব ও প্রতিপত্তি। সবকিছুতেই সাধন করে এক নবসংস্কার।
যে ক্ষেত্রে ইসলামি সভ্যতার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয় তা হলো তাওহীদ তথা একত্ববাদের ক্ষেত্রে। আগেই উল্লেখ করেছি যে, প্রাক ইসলামি যুগে আরবসহ গোটা পৃথিবীই নিমজ্জিত ছিল মূর্তিপূজার রমরমা ব্যবসায়। আল্লাহ প্রদত্ত দুটি ধর্ম ইহুদি-খ্রিস্টান ধর্মেও প্রবিস্ট হয়েছিল মূর্র্তির পূজা-অর্চনা। ফলশ্রুতিতে দুটি ধর্ম থেকে তার নিজস্ব সত্তা ও স্বকীয়তার বিচ্যুতি ঘটেছিল। ইসলামি সভ্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ওই ধর্ম দুটি যেভাবে মূর্র্তিসত্তার সাথে একীভূত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল তা থেকে কিছুটা হলেও আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল।
৮ম শতাব্দীর গোড়ার দিকে মুসলমানদের স্পেন বিজয়ের ফলে মুসলমানরা যখন সেখানে তাওহীদ তথা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের আহ্বান জানালেন এবং মূর্র্তি পূজা-অর্চনা পরিহারের আহ্বান জানালেন এর প্রভাব শুধু স্পেনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি পুরো ইউরোপে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। সেখানে সূচীত হয় এক মূর্র্তিবিরোধী আন্দোলন। পুরো ইউরোপেই মূর্র্তিকে ধর্মবিরোধী কাজ বলে আখ্যায়িত করে মূর্র্তিবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ওই আন্দোলন সম্পর্কে প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (রা:) বলেন :
“এই আন্দোলন এত প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে যে, তৃতীয় লুই, কনস্টান্টাইন ৫ম ও ৪র্থ লুই এর মত প্রবল প্রতাপান্বিত রোমক সম্রাটরা পর্যন্ত একে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেন। প্রথমোল্লিখিত সম্রাট ৭২৬ খ্রিস্টাব্দে এক রাজকীয় ফরমান জারি করে সরকারীভাবে চিত্র ও মূর্র্তির পবিত্রতার প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ৭৩০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় ফরমানে একে তিনি মূর্তিপূজা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। খ্রিস্টান ও মূর্র্তি পূজক ইউরোপ এবং রোমক ও গ্রীক সভ্যতায় (যার চিত্রশিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা ও মূর্তি নির্মাণ পৃথিবী বিখ্যাত) চিত্র ও মূর্র্তির বিরুদ্ধে এই অনীহা ও জিহাদ নিশ্চিতই ইসলামের মূর্তিভাঙ্গা ও তৌহিদী ঘোষণার উচ্চকিত নাদই ছিল যা পাশ্চাত্যে মুসলিম স্পেনের মাধ্যমে ইসলামের প্রচারÑপ্রসার ও প্রভাবাধীনে পৌছে। এর সমর্থন এ থেকেও পাওয়া যাবে, তুরিযানের প্রধান পাদ্রী পুরোহিত এবং এই আন্দোলন ও দাওয়াতের বিরাট এক উৎসাহী সমর্থক ও পতাকাবাহী ক্লডিয়াস (যিনি তার প্রভাবাধীন এলাকাতে চিত্র ও ক্রুশ কাষ্ঠ পুড়িয়ে ফেলতেন) সম্পর্কে ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, তাঁর জন্ম ও লালন-পালন স্পেনে হয়েছিল এবং এটা হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর কথা যখন সেখানে মুসলিম শাসন ও মুসলিম সভ্যতা উন্নতির শীর্ষে অবস্থান করছিল।”
শুধু ইউরোপেই নয় এশিয়ার ভারত উপমহাদেশেও মূর্র্তির ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট প্রভাব বিদ্যমান। পৃথিবীর মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে প্রাচীন কাল থেকেই মূর্র্তির আধিক্যতা প্রচুর ছিল। পৌরাণিক যুগে সেখানে তেত্রিশ কোটি দেবদেবীর সংখ্যা ছিল। সেখানে ৭ম শতাব্দীতে সাহাবী ও তৎপরবর্তীতে আরব বণিকদের আগমনের ফলে সেক্ষেত্রে তা অনেকটাই হ্রাস পায়। সাহাবীদের ইসলামের প্রতি দাওয়াত ও আরববণিকদের ব্যবসার পাশাপাশি তাওহীদের প্রতি আহ্বানের ফলে ভারত অনেকটাই মূর্র্তির আধিক্য থেকে মুক্তি পায়। শেষ পর্যন্ত সেখানেও মূর্র্তিকে ধর্মবিরোধী কাজ বলে সেখানকার অনেক বুদ্ধিজীবী দার্শনিকগণ মত প্রকাশ করেন।
আজ ভারতে তেত্রিশ কোটি দেবদেবীর সংখ্যা কমে যে স্বল্প পরিমাণে এসে পৌছেছে এর পেছনেও মূলত ইসলামি সভ্যতারই সুস্পষ্ট প্রভাব বিদ্যমান।
বিশ্বব্যাপি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায়ও ইসলামের সুস্পষ্ট প্রভাব বিদ্যমান। প্রাক ইসলামিক যুগে আরব, ইউরোপ ও এশিয়ার কোথাও ঐক্য-সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বলতে কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। ফলশ্রুতিতে ভূলুন্ঠিত ছিল মানবতা, মানবিকতা ও মানবাধিকার। পারস্পরিক অনৈক্য, দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতে সমাজ ও রাষ্ট্র প্রবল বিশৃঙ্খল প্রবণ হয়ে উঠার কারণে শান্তি ও শৃঙ্খলা ছিল সুদূরপরাহত। ফলে শান্তির বাণী কাঁদছিল নিরবে-নিভৃতে। ইসলামি সভ্যতাই মানবজাতি থেকে জাহিলিয়্যাতের এই অপকর্মকে দূরীভূত করে তাদের মাঝে ঐক্য ও শৃঙ্খলা সুপ্রতিষ্ঠিত করে সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং গোটা মানবজাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَاذكُرُوْا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ اِذْ كُنْتُمْ اَعْدَاءً فَالفَ بَيْنَ قُلُوْبِكُمْ فَاَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِه اِخْوَانًا .
তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে তোমরা এখন তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছে।
প্রাক ইসলামিক যুগে মানবজাতির মাঝে যে অধঃপতন নেমে এসেছিল, ওই সময় ইসলামি সভ্যতা যদি দিগি¦জুড়ে আলো না ছড়াতো, প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে ঐক্য ও সংহতির বাণী প্রচার না করতো, তাহলে এটা অতি সুস্পষ্ট যে মানবজাতির ধ্বংসের জন্য কোনো অদৃশ্য শক্তির প্রয়োজন হতো না। বরং তারা নিজেরাই পরস্পর মারামারি, ও হানিনাহিতে লিপ্ত থেকে দ্বন্দ্ব ও সঙ্ঘাতে জড়িয়ে নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যেত। মানবজাতিকে এই অনিবার্য ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছে একমাত্র ইসলামি সভ্যতাই।
জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্যে আজ ইউরোপ যে উন্নতির শিখরে পৌছেছে সেখানেও রয়েছে একমাত্র ইসলামি সভ্যতারই প্রভাব। আজ ইউরোপসহ তাবৎ পৃথিবীতে জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্যের যে উন্নতির সোপান পরিলক্ষিত হচ্ছে, আধুনিক বিশ্বসভ্যতার যে অগ্রগতি ও উন্নতি অবলোকন করা যাচ্ছে এর পেছনে মূলত অবদানই হলো ইসলামি সভ্যতার। মুসলিম স্পেনের পথ ধরে ও ক্রসেডের মাধ্যমে ইসলামের অমূল্য রত্নভাণ্ডার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও স্থাপত্য শিল্পের কলা কৌশল ইউরোপের কাছে পাচারের ফলেই আধুনিক বিশ্ব সভ্যতার অস্তিত্ব তৈরী হয়েছে। একারণে আধুনিক বিশ্বসভ্যতা অবশ্যই ইসলামি সভ্যতার কাছে ঋণী।
আধুনিক বিশ্ব সভ্যতার সমাজ গঠন, রাষ্ট্র গঠন, আইন বিজ্ঞান ও দর্শনেও রয়েছে ইসলামি সভ্যতার অভূতপূর্ব প্রভাব। এরিষ্টটলকে যদিও সমাজ ও রাষ্ট্রের জনক বলা হয়, কিন্তু পাশ্চাত্যরা আধুনিক সমাজ বিজ্ঞান ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানের যে ধারণা ও তত্ত্বজ্ঞান লাভ করেছে তার পেছনেও রয়েছে মুসলিম প্রথিতযশা জ্ঞানী-বিজ্ঞানী ইমাম গাজ্জালী, ইবনে খালদুন ও আবু নাছের আল ফারাবীর প্রত্যক্ষ অবদান। একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীতে জন্ম নেয়া এসব কালজয়ী মুসলিম মনীষীগণই সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়ার পথ উন্মোচন করে দিয়েছেন। রচনা করেছেন এতদ্বসংক্রান্ত মূল্যবান গ্রন্থ। আদৌ তাদের বহু গ্রন্থ পাশ্চাত্যে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে বেশ সমাদৃত এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যের অর্ন্তভুক্ত হয়ে আছে।
আধুনিক আইন ও দর্শন শাস্ত্রেও ইসলামি সভ্যতার সুস্পষ্ট প্রভাব দৃশ্যমান। আজ পাশ্চাত্যে আইন শাস্ত্রে ও দর্শনে উন্নতির যে ছোঁয়া প্রতীয়মান হচ্ছে এবং আইন তৈরীতে তারা যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে তা মূলত মুসলিম মনীষীদেরই অবদান। নবম ও দশত শতাব্দীতে এমন কতিপয় মুসলিম মনীষীর আবির্ভাব ঘটে যারাই প্রথমে বিশ্বে আইন শাস্ত্রের উদ্ভব ঘটান। ইমাম আবুহানিফা, শাফেঈ, মালেক, হাম্বলী, মুহামম্মদ ও আবু ইউসুফ প্রমুখ মনীষীগণই মুসলিম আইনের ভিত রচনা করেন এবং পশ্চিমারা তাদের গ্রন্থাবলী থেকেই আইন শাস্ত্রের জ্ঞান আহরণ করে আইন বিজ্ঞানের জন্ম দেন। মুসলিমদের কালজয়ী আইন গ্রন্থ “হিদায়া” আজো পাশ্চাত্যে সমান সমাদৃত এবং তাদের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সংরক্ষিত। দর্শন শাস্ত্রের জ্ঞানও তারা আহরণ করেছেন মুসলিম মনীষীদের প্রতীকৃৎ ইবনে রুশদ থেকে। পাশ্চাত্যে রয়েছে তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।
মোদ্দাকথা, বিশ্ব সভ্যতায় রয়েছে ইসলামি সভ্যতার ব্যাপক প্রভাব ও প্রতিপত্তি। বিশ্বে ইসলামি সভ্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলেই আধুনিক বিশ্ব সভ্যতার জন্ম হয়েছে। মানুষ আল্লাহকে চিনতে পেরেছে। মানবতা, নৈতিকতা ও মানবাধিকারের ধারণা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বব্যাপি ইসলামি সভ্যতার প্রভাব সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও গবেষক স্যার টমাস আর্নল্ড তার ঞযব ঞবধপযরহম ড়ভ ওংষধস” নামক গ্রন্থে বলেন, “ইসলাম একটি রাজনৈতিক শক্তি, যার প্রভাব দুনিয়া ব্যাপৃত, যতই নিকট থেকে নিকটতর হবে, ততই অনুভব করবে পৃথিবী। জগতের সকল অমঙ্গলের একমাত্র সমাধানই হচ্ছে ইসলাম”।
লেখকের সভ্যতার দ্বন্দ্ব ও আগামী দিনের পৃথিবীতে ইসলাম গ্রন্থ থেকে
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আল্লাহর কুদরত জমজম by জাব্বার করিম

পবিত্র কাবাঘর থেকে মাত্র ২১ মিটার দক্ষিণ-পূর্বে জমজম কূপের অবস্থান। আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে হজরত ইবরাহিম আ: আল্লাহর নির্দেশে নিজের স্ত্রী হাজেরা আ: এবং শিশুপুত্র ইসমাঈল আ:-কে মক্কার ফারান পাহাড়ের পাদদেশে এক জনমানবহীন স্থানে নির্বাসন দেন। হজরত ইবরাহিম আ: প্রিয়তমা স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে বিরান মরুভূমির পাহাড়ের পাদদেশে রেখে সামান্য আহার সামগ্রী সাথে দিয়ে ফেরত চলে আসেন। ওই সময়কালে আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত বিবি হাজেরা আ: এবং হজরত ইসমাঈল আ:-এর আশপাশে দ্বিতীয় কেউ ছিল না। হজরত ইবরাহিম আ:-এর রেখে যাওয়া সামান্য আহার সামগ্রী শেষ হয়ে যাওয়ার পর; কোনো একসময় হজরত ইসমাঈল আ: পানির পিপাসায় কান্নাকাটি করতে থাকেন। বিবি হাজেরা শিশুপুত্রের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানির খোঁজে চারিদিক ছুটাছুটি করতে থাকেন। বিবি হাজেরা আ: পানির খোঁজে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সাতবার ছুটাছুটি করেছেন। কোথাও কোনো পানির সন্ধান পাননি। অবশেষে পানির খোঁজে ব্যর্থ হয়ে শিশুপুত্রের কাছে ফিরে আসেন। হঠাৎ করে বিবি হাজেরা দেখতে পান, শিশুপুত্রের পায়ের গোড়ালির ঘষাতে আল্লাহর হুকুমে নিচ থেকে পানি উঠছে এবং একটি ঝর্ণার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ঝর্ণাটি পরবর্তীকালে জমজম কূপ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
জমজম কূপের পানি আল্লাহর কুদরতের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে যেসব হাজী সাহেবরা হজ করতে যান, তারা নিজেরা জমজমের পানি পান করে থাকেন এবং দেশে ফেরার পথে পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের জন্য জমজমের পানি নিয়ে আসেন। আল্লাহ তায়ালার তৌহিদের বিস্ময়কর নিদর্শন এ কূপের পানি উত্তোলন শেষে, মাত্র ১১ মিনিটে কূপটি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। জমজম কূপের সৃষ্টি থেকে আজো পানির স্বাদ, গন্ধ ও গুণাগুণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জমজমের পানিতে ফ্লুরাইডের পরিমাণ বেশি থাকায় এ পানিতে কোনো জীবাণুু জন্মাতে পারে না। আজ পর্যন্ত জমজমের পানিতে একটি ছত্রাক কিংবা শৈবালও জন্মায়নি। অলৌকিকভাবে জমজমের পানি পরিশোধন হয়ে যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা জমজম কূপের পানি রহস্যে উদঘাটনের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো কূলকিনারা করতে পারছেন না।
জমজমের পানি সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস এবং বর্ণনায় এসেছে, যে উদ্দেশ্যে নিয়ে জমজমের পানি পান করবে, আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির ইচ্ছা পূরণ করে দেন। হাজী সাহেবদের অনেকে জমজমের পানি রোগ-বিমার থেকে আরোগ্য উদ্দেশে পান করে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা হাজী সাহেবদের অনেকেরই শেফা দান করেছেন। তাদের ইচ্ছা পূরণ করে দিয়েছেন।
>>>লেখক : প্রবন্ধকার
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হায়দ্রাবাদের ঐতিহাসিক চারমিনার
![]() |
| শাহী স্থাপত্য: একসময় কুতব শাহী সাম্রাজ্যের রাজধানী হায়দ্রাবাদ শহরের চারমিনার তৈরি হয়েছিল ১৬ শতকে৷ মধ্যে এক মসজিদকে ঘিরে চার কোণে অনুচ্চ চারটি মিনার, যার থেকে এর নাম হয় চারমিনার৷ |
![]() |
| ব্যস্ত বাজার: ভারতের নবগঠিত তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী শহর হায়দ্রাবাদের পুরনো অংশে এই চারমিনার, যার পাশেই বহু পুরনো এবং জনপ্রিয় লাদ বাজার, যা হামেশাই ব্যস্ত৷ |
![]() |
| রঙিন চুড়ি: চারমিনারের লাগোয়া এই বাজার বিখ্যাত তার রংবেরঙের চুড়ির পশরা, আর ঝুটো পাথরের গয়নার জন্যে, যার মূল খদ্দের অবশ্যই মহিলারা৷ |
![]() |
| ধর্মীয় আবহ: চারমিনার বাজারে নমাজ পড়ার নকশাদার কার্পেট থেকে ধর্মগ্রন্থ, তসবি, পোশাক, নানা ধরনের উপকরণ বুঝিয়ে দেয়, হায়দ্রাবাদ ঐতিহ্যগতভাবেই ধর্মপ্রাণ শহর৷ |
![]() |
| ফলের বাজার: হায়দ্রাবাদের অন্যতম বড় ফলের বাজারটিও চারমিনারের সামনে৷ ঈদের রোজা ভাঙার আগে সেখানে ভিড় লেগেই থাকে৷ |
![]() |
| প্লেগ বিজয়ের স্মারক: শহরের মাঝখানে কেন এই স্থাপত্য গড়া হয়েছিল, সে সম্পর্কে অনেক তত্ত্ব আছে৷ তবে ঐতিহাসিকভাবে সবথেকে প্রামাণ্য তথ্য হলো, দক্ষিণ ভারতের এই অঞ্চলে প্লেগ রোগ দূরীকরণে সাফল্যের স্মারক এই চারমিনার৷ |
![]() |
| বাগমতীর স্মৃতি: তবে লোকপ্রিয় প্রচলিত কাহিনি হলো, বাদশা মহম্মদ কুলি কুতব শাহ হায়দ্রাবাদের যেখানে তাঁর হবু বেগম, রানি বাগমতীকে প্রথম দেখেছিলেন, সেখানেই তৈরি হয়েছিল এই ভালোবাসার স্মারক৷ |
![]() |
| জোড়া বারান্দা: চারমিনারের বিশেষত্ব হলো তার জোড়া বারান্দা, যা ঠিক খিলানের ওপরের অংশে, চার কোণের চারটি মিনারকে জুড়ে রয়েছে৷ |
![]() |
| স্থাপত্য স্বকীয়তা: গ্র্যানাইট পাথর, চুনা পাথর, শ্বেতপাথরের গুঁড়ো এবং সুরকির মিশ্রণে তৈরি এই অনুপম স্থাপত্য, যা প্রথম দর্শনেই মুগ্ধ করে৷ |
![]() |
| মক্কা মসজিদ: পবিত্র মক্কা থেকে মাটি আনিয়ে চারমিনারের অদূরে অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীর এই মসজিদটি গড়েছিলেন কুতব শাহ, যা আজও সারা ভারতের মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র ধর্মস্থান হিসেবে সম্মানিত৷ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অর্থনীতিতে কোরবানি ঈদের ইতিবাচক ভূমিকা by সাজ্জাদ আকবর

বছরঘুরে আমাদের মাথার ওপর ওঠে একফালি চাঁদ। ঈদের চাঁদ। আমাদের জীবনে নিয়ে আসে আনন্দ ও ত্যাগের মিশ্র অনুভূতি। সব আবিলতা, বিভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যের বন্ধনে আমাদের আবদ্ধ করে ঈদ। ত্যাগের মহিমায় করে ভাস্বর। ঈদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক আবেদন আমাদের ভেতরটাকে করে পরিশুদ্ধ। ঈদগাহ মানেই ধনী-গরিব, ইতর-ভদ্র শ্রেণিবিভেদের দেয়াল ভেঙে অসীম সাম্যের পতাকায় সমবেত হওয়া। ঈদ মানে ধনীর সম্পদে গরিবের ন্যায়সংগত অধিকার। বছরঘুরে ঈদ আসে আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিশুদ্ধিকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান নিয়ে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা, শ্রেণিবিভেদের অবৈধ দেয়াল, অন্যায়, ধোঁকাবাজি, কালোবাজারি, গরিবের হক মেরে খাওয়া পুঁজির পাহাড় গুঁড়িয়ে দিয়ে অনাবিল সাম্য-সম্প্রীতিতে সমাজকে ভরিয়ে দেওয়ার আহ্বান নিয়ে ঈদের আগমন। ঈদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এ তাৎপর্যের বাইরে আছে বহুমুখী অর্থনৈতিক তাৎপর্য, যা ঈদকে করে তোলে আরও অর্থবহ, আরও সামাজিক, আরও সর্বজনীন।
বিশেষত ঈদুল আজহা উদযাপনে পশু কোরবানির মধ্যে রয়েছে বিশেষ আর্থসামাজিক তাৎপর্য। হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক পুত্র ইসমাইল (আ.) কে আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার ইচ্ছা প্রকাশের মহান স্মৃতি স্মরণ করে ইতিহাসের ধারাবাহিতায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানির মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে নিজের পাশব-প্রবৃত্তি, অসৎ উদ্দেশ্য ও হীনম্মন্যতারই কোরবানি করা হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই বিশেষ ঈদ-উৎসবে নিজের চরিত্র ও কুপ্রবৃত্তির সংশোধন করার সুযোগ আসে। এজন্য জীবজন্তু কোরবানি করাকে নিছক জীবের জীবন-সংহার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আত্মশুদ্ধি ও নিজের পাশব-প্রবৃত্তি অবদমনের প্রয়াস প্রচেষ্টারই প্রতীকী প্রকাশ। সামাজিক কল্যাণ সাধনে সংশোধিত মানব চরিত্র বলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কোরবানির মাংস গরিব আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করার যে বিধান তার মধ্যে নিহিত রয়েছে সামাজিক সমতার মহান আদর্শ।
হজ পালন ঈদুল আজহা উৎসবের একটি বিশেষ অংশ। পবিত্র হজ অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে বিশ্বের সব দেশের মুসলমানরা সমবেত হন এক মহাসম্মিলনে। ভাষা ও বর্ণগত, দেশ ও আর্থিক অবস্থানগত সব ভেদাভেদ ভুলে সবার অভিন্ন মিলনক্ষেত্র কাবা শরিফে একই পোশাকে, একই ভাষায়, একই রীতি-রেওয়াজের মাধ্যমে যে ঐকতান ধ্বনিত হয় তার চেয়ে বড় ধরনের কোনো সাম্য-মৈত্রীর সম্মেলন বিশ্বের কোথাও অনুষ্ঠিত হয় না। হজ পালনের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন রং ও গোত্রের মানুষের মধ্যে এক অনির্বাচনীয় সখ্য সংস্থাপিত হয়। বৃহত্তর সামাজিক কল্যাণের যা অনুপম আদর্শ বলে বিবেচিত হতে পারে। এ হজকে কেন্দ্র করে অর্থনীতির ব্যাপক তারল্য দেখা দেয়, যা সচল অর্থনীতির অনিবার্য প্রয়োজন। এ বছর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ হজে যাচ্ছেন। প্রতিজনে গড়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয় নির্বাহ করলে এ খাতে মোট অর্থব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। এর সঙ্গে হজের ব্যবস্থাপনা ব্যয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাংলাদেশি টাকা ও বিদেশি মুদ্রা ব্যয়ের সংশ্লেষ থাকে। ফলে ব্যাংকিং সেক্টরে এ উপলক্ষে লেনদেন ও সেবা-সূত্রে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়।
কোরবানির ঈদের মূল অর্থনৈতিক অনুষঙ্গ হলো পশু। পশু কোরবানি উপলক্ষে জাতীয় অর্থনীতিতে ঘটে মহাআয়োজন সমারোহ। গত বছর ঈদে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মোট সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ এবং কোরবানি হয়েছিল ১ কোটি ৫ লাখের মতো। এ বছর সেটা আরও অনেক বেড়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ বছর দেশীয় কোরবানির পশুর সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ। এর মধ্যে রয়েছে ৪৫ লাখ ৮২ হাজার গরু-মহিষ, ৭২ লাখ ছাগল-ভেড়া এবং ৬ হাজার ৫৬৩টি অন্যান্য পশু। এখন গরুপ্রতি গড় মূল্য ৪০ হাজার টাকা দাম ধরলে ৪৬ লাখ গরু-মহিষের দাম দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং ৭২ লাখ খাসি-ভেড়ার দাম গড়ে ২ হাজার টাকা ধরলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। মোটকথা পশু কোরবানিতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হবে।
এছাড়া কোরবানিকৃত পশুর সরবরাহ ও কেনাবেচার শুমারি ও পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়Ñ চাঁদা, টোল, বখশিশ, চোরাকারবার, ফড়িয়া, দালাল, পশুর হাট ইজারা, চাদিয়া, বাঁশ-খুঁটির ব্যবসা, পশুর খাবার, পশু কোরবানি ও বানানো এমনকি পশুর সাজগোজ বাবদও এক বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতবদল হয়ে থাকে। কতটা বিপুল সে হাতবদল? অন্তত কয়েক হাজার কোটি টাকা। সংক্ষেপ কথায় অর্থনীতিতে ফর্মাল-ইনফর্মাল ওয়েতে আর্থিক লেনদেন বা মুদ্রা সরবরাহ প্রচুর বেড়ে যায়।
অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ তার এক রচনায় ঈদে চাঙ্গা অর্থনীতির বর্ণনায় পাঁচটি পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, কোরবানির বহুমুখী অর্থনৈতিক তাৎপর্য। হজ, কোরবানির পশু, পশুর চামড়াসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় কীভাবে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে শক্তিশালী অবদান রেখে চলে। চামড়া শিল্পের বার্ষিক সংগ্রহ ও বেচাকেনার অর্ধেকের বেশি জোগান আসে শুধু কোরবানির ঈদে। কোরবানিকৃত পশুর চামড়া রপ্তানি বাণিজ্যে, পাদুকা শিল্পে, পোশাক, হস্তশিল্পে এক অন্যতম উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ চামড়া সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, বিক্রয় ও ব্যবহার উপলক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের ও প্রতিষ্ঠানের কর্মযোজনা সৃষ্টি হয়। এ চামড়া সংগ্রহ সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে ২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও ব্যবসা জড়িত। এর বাইরে আছে কোরবানি উপলক্ষে দা, বটি, পশুর হাড়গোড়, মাংসের মশলাসহ নানা আসবাব ও পণ্যের জমজমাট ব্যবসা। তার মধ্যে শুধু মশলার ব্যবসা হয় তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকার। পশুর হাড়গোড়, শিং ও অন্যান্য অংশের ব্যবসায় হাতবদল হয় অন্যূন শতকোটি টাকা।
আর এসব লেনদেনে দেশের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। এসবের সঙ্গে যোগ হয় ঈদ উপলক্ষে বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ সারা বছরের তুলনায় আশাব্যঞ্জক হারে বেড়ে যায়। প্রবল হয় অর্থনীতির চাকা। অন্যদিকে ঈদের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সৃষ্টি হয় নানা কর্মসংস্থান। ফলে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে দোকানে দোকানে নতুন কর্মচারী নিয়োগ হয়।
ঈদকেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবস্থায় ঘটে আরও বড় এলাহি কা-। শহরের মানুষ আপনজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামে ছোটে। এক মাস আগে থেকে ট্রেন, বাস, লঞ্চের টিকিট বিক্রির তোড়জোড় দেখে বোঝা যায় এর প্রসার ও প্রকৃতি। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ দামে ফর্মাল টিকিট আর ইনফর্মাল টাউট, দালাল ও বিবিধ উপায়ে টিকিট বিক্রির সার্বিক ব্যবস্থা বোঝা যায়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পরিবহন খাতে সাকুল্যে ২ হাজার কোটি টাকার বাড়তি ব্যবসা বা লেনদেন হয়ে থাকে। এটিও অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
মোদ্দাকথা, ঈদকেন্দ্রিক মুদ্রা লেনদেন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য গোটা দেশের অর্থনীতির উজ্জীবন ঘটায়। দুই ঈদে যত কেনাবেচা ও লেনদেন হয়, সারা বছরেও তা হয় না। বলা যায়, ঈদে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। দারিদ্র্য মোচনে ঈদ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কোরবানির পশুর গোশতের একটা অংশ দরিদ্রদের প্রাপ্য। সারা বছর যারা সামর্থ্যরে অভাবে গোশত কিনে খেতে পারে না, এ সময় তারাও অন্তত কয়েক দিন গোশত খেতে পারে। তাছাড়া কোরবানির পশুর চামড়ার বিক্রয়লব্ধ অর্থের হকদার দরিদ্র, এতিম ও অসহায় মানুষ। কোরবানির পশুর চামড়ার অর্থে দেশের বহু মাদ্রাসা ও এতিমখানার সারা বছরের খরচ চলে।
সামগ্রিক বিবেচনায়, অন্যান্য ধর্মীয় জাতি-সম্প্রদায়ের আনন্দ-উৎসবের তুলনায় মুসলমানদের আনন্দ-উৎসব যে আধ্যাত্মিক, সামাজিক, মানবিক, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ভিন্নতর তাৎপর্যে মহিমাময় ও কল্যাণবহ তাতে কোনো সন্দেহ আছে কি?
>>>তথ্যসূত্র : ১. প্রথম আলো ১৬ জুলাই ২০১৯; ২. নয়া দিগন্ত, ২৩ এপ্রিল ২০১৯; ৩. ইত্তেফাক ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫; ৪. বিবিসি বাংলা ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬।
>>>লেখক : রিসার্চ ফেলো, ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট অ্যান্ড রিসার্চ, ঢাকা
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পা ফোলার বিভিন্ন কারণ ও প্রতিকার

পা ফোলার কারণ:
১. হার্ট ফেইলিউর হলে পা ফুলতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু যে পা ফোলে তা নয়। শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় এবং বুক ব্যাথাও থাকে।
২. কিডনীর অসুখে পা ফোলে। তবে প্রথমে মুখ ফোলে এবং শেষের দিকে পা ফোলে।
৩. অনেক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসলে পা ফুলতে পারে।
৪. অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে পা ফুলে যায়।
৫. লিভার ফেইলিউরে পা ফোলে। তবে অন্যান্য উপসর্গও থাকে।
৬. উচ্চ রক্তচাপ ব্যবহৃত এমন কিছু ওষুধ গ্রহণ করলে পা ফুলে যেতে পারে। এমলোডিপিন বহুল প্রচলিত একটি উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ। এটি গ্রহণ করলে পা ফোলে।
৭. গর্ভাবস্থায় অনেকেরই পা ফোলে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
৮. পেটে বড় টিউমার হলে পা ফুলতে পারে। টিউমার রক্তনালীর উপর চাপ তৈরি করে। ফলে পা থেকে রক্ত হৃদপিন্ডে অসতে পারেনা এবং পা ফুলে যায়।
৯. ভেরিকোস ভেন হলে পা ফুলে যায়।
১০. হাইপোথাইরয়ডিজমে পা ফোলে। তবে এক্ষেত্রে চাপ দিলে চামড়া বসে না। অভিজ্ঞ চিকিৎসক এটি সহজেই ধরতে পারেন।
১১. মারাত্মক রক্তাল্পতা বা অপুষ্টিতে পা ফোলে। থায়ামিন ভিটামিনের অভাবে বেরি বেরি হয়। তখন পা ফোলে।
১২. ফাইলেরিয়া রোগ হলে পা ফুলতে পারে। ফাইলেরিয়া পরজীবী দিয়ে হয়।
১৩. গর্ভবস্থায় এক্লাম্পসিয়া ও প্রিএক্লাম্পসিয়া হলে পা ফুলে যায়। এমন হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। না হলে প্রান হারাতে হতে পারে।
১৪. ডিপ ভেন থ্রম্বসসি হলে একদিকের পা ফোলে। দুদিকে নয়।
পা ফুলে গেলে একজন ভাল চিকিৎসকের নিকট যাওয়া উচতি। কারণ খুব সামান্য কারণে যেমন পা ফোলে আবার ডিপ ভেন থ্রম্বসসি এর কারণেও কিন্তু পা ফোলে। বিমানে দীর্ঘক্ষণ ভ্রমণ করলে এবং বহুদন শয্যাশাযী থাকলে বা বড় অপারেশনের পরে এক পা ফুলে গেলে ডিপ ভেন থ্রম্বোসিসের কথা মাথায় রাখা উচিৎ। এ রোগ পুষে রাখলে পায়ের শিরায় জমে থাকা রক্তের ডেলা ফুসফুসে চলে গিয়ে পালমোনরী এম্বলিজম তৈরি করে। এর ফলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ▼ 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...









