Monday, April 5, 2010

নারী আন্দোলনের চার দশক by ফওজিয়া মোসলেম

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের চার দশক অতিক্রান্ত হবে আগামী বছর। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে একটি বড় পর্ব জুড়ে রয়েছে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। এই গণঅভ্যুত্থান যেন স্বাধীনতা নামক মহাকাব্যের সূচনা-সংগীত। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল বাঙালি জাতিসত্তা। সমগ্র বাঙালি জাতি নিজেকে মেলে ধরেছিল। বাংলার বীর নারীসমাজও ঘরের অর্গল খুলে সমগ্র জাতির আন্দোলনের কাতারে শামিল হয়েছিল নিজ তাগিদে। আমরা যখন ছাত্র-আন্দোলনের আহ্বানে পল্টনের জনসমুদ্রে উপস্থিত হতাম, তখন দেখতাম আমাদের অজানা-অপরিচিত বহু নারী সেই জনসভায় উপস্থিত। তাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয় সেই জনসভায়। এর মধ্যে একজনের কথা মন্রে হয়, যাঁকে আমরা চিনতাম ‘নলগোলার খালাম্মা’ বলে। মিটিং শেষে ছাত্রনেতাদের আলিঙ্গন না করে তিনি কখনো সভাস্থল ত্যাগ করতেন না। এসব মহিলা ও ছাত্রীকে নিয়ে গড়ে উঠেছিল পূর্ব পাকিস্তান মহিলা সংগ্রাম পরিষদ।
এই সংগ্রাম পরিষদ গড়ে ওঠারও আগে এমনকি গণঅভ্যুত্থানেরও আগে বর্তমান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গ্রেফতার হলেন। সে সময় রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার হওয়া একমাত্র নারী তিনি। তাঁর মুক্তির দাবিতে বিশিষ্ট নারীদের বিবৃতি দেওয়া হলো। এই কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হলো বিনা বিচারে দীর্ঘদিন বন্দী অনেক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর পরিবারের সঙ্গে। তাঁদের মুক্তির দাবিতে নারীসমাজ বিবৃতি দিল। সমাবেশ করল। এভাবেই বাংলাদেশের নারীসমাজ জাতীয় কর্তব্য পালনে এগিয়ে এল।
এ বিষয়গুলো অবতারণার কারণ হলো, স্বাধীনতার ৩৯ বছরে বাংলাদেশের নারীর জীবনে যে পরিবর্তনের লক্ষণগুলো আমরা দেখি, তার উৎসমুখে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে, এককথায় বলা যেতে পারে, বাংলার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে নারীমুক্তির আন্দোলনও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল শুরু থেকেই। বাংলাদেশে নারী আন্দোলনের একটা অবয়ব ২০১০-এ এসে হয়তো ফুটে উঠেছে। কিন্তু ১৯৭০-এর আগে নারীর সমস্যা ও অধিকারভিত্তিক কোনো নারী সংগঠন ছিল না। সে সময় নারী সংগঠনের কাজ সূচিশিল্প ও দুস্থদের সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং স্থানীয় পরিধিতেই তা আবর্তিত হতো। তাই ১৯৭০ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যখন আত্মপ্রকাশ করল নারীর সমান অধিকারের দাবি নিয়ে, তখন অনেকেরই মনে হয়েছিল এটি কোনো রাজনৈতিক দলের প্লাটফর্ম। আজ চার দশকে মহিলা পরিষদ প্রমাণ করেছে, এটি নারীদের জন্য নারী সংগঠন। সব ক্ষেত্রে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এর যাত্রা শুরু এবং এখনো পর্যন্ত সেই লক্ষ্যই অব্যাহত আছে।
বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা কারণে নারীর অধিকার বিষয়ে সমাজ সচেতন হয়েছে। রাষ্ট্রও নারীর অধিকারের বিষয়টি স্বীকৃতি দিচ্ছে, যদিও এখন পর্যন্ত নারীর সব অধিকার নিশ্চিত করার আইনগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি সব ক্ষেত্রে। নারী আন্দোলনের ক্রমাগত বিকাশের কারণে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছা সম্ভব হয়েছে।
১৯৭০-এর দশকে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নারীসমাজকে সংগঠিত করতে গিয়ে দেখা গেল, অধিকারহীনতার কারণে নারী ভয়াবাহ নির্যাতনের শিকার হয়। ১৯৮০-এর দশকে শুরু হলো নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হলো, রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন নারীর মানবাধিকারের পক্ষ সমর্থন করে না। আবার কিছু আইন থাকলেও তার প্রয়োগ হয় না। শুরু হলো নারীর স্বার্থ রক্ষার জন্য আইন তৈরি ও প্রচলিত আইন সংস্কারের জন্য আন্দোলন।
নারীর স্বার্থে আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজন সমাজের মানুষের মানসিক গঠনের পরিবর্তন, নীতিনির্ধারণী্র পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ। তাই দাবি উঠল নারীর ক্ষমতায়নের। তবে একথা উল্লেখ্য, নারী আন্দোলনের এক পর্যায় থেকে আরেক পর্যায়ে উত্তরণের অর্থ এই নয় যে আগের পর্যায়ের সব কাজের পুরোপুরি সমাধান হয়েছে। নারী নির্যাতনবিরোধী কাজ আগের তুলনায় অনেক বেশি করতে হবে। কারণ নারী এখন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে সর্বত্রই। আজ নারীসহ সমাজের সবাই সম্পদ ও সম্পত্তিতে সমানাধিকার ছাড়া নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয় বলে বিশ্বাস করে।
সম্প্রতি উদ্যাপিত হলো আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শতবার্ষিকী। সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যম নানা আয়োজনে তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে। বাংলাদেশেও বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদ্যাপিত হলো। নারী আন্দোলনের অগ্রযাত্রার সূচক হিসেবে এটাকে চিহ্নিত করা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কারণে নারী আন্দোলন অনেক শক্তি অর্জন করেছে। নারীর অধিকারের বিষয়টি জাতীয় বিবেচ্য ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বায়নের প্রভাব, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের হুমকি ও জলবায়ুর বৈরিতা পৃথিবীজুড়ে নারী আন্দোলনের সামনে নতুন সমস্যা হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের নারীসামজ অনেক শক্তি সঞ্চয় করেছে। নারী তার আপন শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার পথরেখা চিহ্নিত করেছে। এখন দৃঢ় পদক্ষেপে কৌশলী হয়ে সেই পথ ধরে অর্জনকে সংরক্ষণ করতে হবে। মানবাধিকারের লক্ষ্যে সমাজ-মানসকে প্রস্তুত করতে হবে। তাহলে সমতাপূর্ণ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

পাকিস্তানে গণতন্ত্রের সংগ্রাম by হামিদ মীর

সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল পাকিস্তানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এটা অনেকটাই শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার মতো। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিব একটি ফেডারেল পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সে দাবি মানা হয়নি, বরং উল্টো তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করা হয়েছিল। একজন সামরিক স্বৈরশাসকের নির্দেশে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছিল; তার চূড়ান্ত ফল হয়েছিল পাকিস্তানের ভাঙন।
সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিলে শুধু তাদেরই রাষ্ট্রদ্রোহী বলা হয়নি, যারা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সংবিধান রদ করবে; বরং যদি কোনো আদালত অভ্যুত্থানকে বৈধ বলে ঘোষণা করেন, তবে সেটাও রাষ্ট্রদ্রোহ বলে গণ্য হবে। এই নতুন বিলে প্রদেশগুলোকে অনেক নতুন অধিকার দেওয়া হয়েছে। মজার বিষয় হলো, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে সাংবিধানিক কমিটিতে লড়েছেন সিনেটর আবদুল মালিক বালুচ ও সিনেটর আফরাসিয়াব খাট্টাক, যাঁদের পূর্বসূরিরা ১৯৭০ সালে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের মিত্র। ১৯৭০ সালে শেখ মুজিবকে স্বায়ত্তশাসন দিলে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষা পেতে পারত।
অষ্টাদশ সংশোধনীর ব্যাপারে মতৈক্য অবশ্যই সব রাজনৈতিক দলের মিলিত বিজয়। তবে দুই বড় দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন) চার্টার অব ডেমোক্রেসিতে (সিওডি) যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটি সত্যিকার অর্থে পূরণ করতে পারেনি। সিওডির মূল লক্ষ্য ছিল ১৯৭৩ সালের সংবিধান অনুযায়ী সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফিরিয়ে দেওয়া, প্রেসিডেন্টের পদটিকে নিছক আলংকারিক বিষয়ে পরিণত করা। কিন্তু অষ্টাদশ সংশোধনীর বিল এ লক্ষ্যে পেশ করা হয়নি। এখনো প্রেসিডেন্ট মোটেই খোঁড়া হাঁস নন। জারদারি মোটেও সাবেক প্রেসিডেন্ট চৌধুরী ফজল এলাহির মতো আলংকারিক প্রেসিডেন্ট নন। তাঁর হাতে এখনো অনেক ক্ষমতা আছে, সিওডি অনুযায়ী যেগুলো থাকার কথা নয়।
চার্টার অব ডেমোক্রেসি বা সিওডি সনদটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০০৬ সালে বেনজির ভুট্টো ও নওয়াজ শরিফের মধ্যে। গত শুক্রবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সিনেটর রাজা রাব্বানি সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর যে বিল পেশ করেছেন, তাতে সিওডি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। সিওডির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বা প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরী—কারোর স্বার্থের অনুকূলেই যেত না। বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ও প্রধান বিচারপতি উভয়েই লাভবান হয়েছেন। সংবিধান সংস্কার কমিটি সিওডির প্রথম ধারার লঙ্ঘন ঘটিয়ে প্রেসিডেন্টের হাতে কিছু ক্ষমতা রেখে দিয়েছে। সিওডির প্রথম ধারায় বলা হয়েছে: ‘১৯৭৩ সালের সংবিধান ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর সামরিক অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় পুনঃপ্রবর্তিত হবে, যাতে থাকবে যুক্ত ভোটের বিধান এবং সংখ্যালঘু ও নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের বিধান।’
১৯৭৩ সালের প্রকৃত সংবিধান ও চার্টার অব ডেমোক্রেসির দ্বিতীয় ধারা অনুযায়ী গভর্নর, তিন বাহিনীর প্রধানদের ও কেন্দ্রীয় সুুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নিয়োগ দেবেন প্রধান নির্বাহী। সাংবিধানিক কমিটি সিওডির দ্বিতীয় ধারার মূল চেতনা বাস্তবায়নে সম্মতি দেয়নি। অষ্টাদশ সংশোধনীর বিলে সংবিধানের ১০১ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি প্রদেশে একজন করে গভর্নর থাকবেন, যাঁরা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নিযুক্তি পাবেন।’
নতুন বিল অনুযায়ী প্রেসিডেন্টই সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সুপ্রিম কমান্ডার থাকছেন এবং ‘প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে কেন্দ্রীয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও তিন বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ দেবেন।’ অষ্টাদশ সংশোধনীর বিলের মাধ্যমে গভর্নর ও তিন বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা খর্ব হবে, কেননা এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই নতুন প্রস্তাবিত সংশোধনীও চার্টার অব ডেমোক্রেসির একটি লঙ্ঘন। কারণ, গভর্নর ও তিন বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ক্ষমতা থেকে যাচ্ছে প্রেসিডেন্টের হাতেই। জানা গেছে, সিনেটর রাজা রাব্বানি প্রেসিডেন্ট জারদারির সঙ্গে বিশদ পরামর্শ করেছেন এবং প্রেসিডেন্টের হাতে কিছু ক্ষমতা রেখে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির সম্মতিক্রমেই।
চার্টার অব ডেমোক্রেসির তৃতীয় ধারায় বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে সুপারিশ করবে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একটি কমিশন। এমন একজন প্রধান বিচারপতি সেই কমিশনের প্রধান হবেন, যিনি কখনো প্রভিশনাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার বা অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশের অধীনে শপথ নেননি। এ ধারার আলোকে বিচারপতি ইফতিখার তেমন জুডিশিয়াল কমিশনের প্রধান হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না, কারণ তিনি ২০০৮ সালে অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশের অধীনে শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু অষ্টাদশ সংশোধনীর বিলে তাঁর ক্ষেত্রে এ বিষয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে। চার্টার অব ডেমোক্রেসি লঙ্ঘন করে তিনি জুডিশিয়াল কমিশনের প্রধান হতে পারেন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অষ্টাদশ সংশোধনীর বিলে সংবিধানের ৬২ ও ৬৩ অনুচ্ছেদে কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অর্ডার (এনআরও) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ের আলোকে। এনআরও মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া বিশদ রায়ে সংবিধানের ৬২(এফ) ও ৬৩(১) এইচ অনুচ্ছেদ সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, ৬২(এফ) অনুচ্ছেদটি সংবিধানে ঢোকানো হয়েছে একজন স্বৈরশাসকের হাতে এবং তা এখনো বলবত্ আছে। তারপর পাঁচটি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ও সিনেট নির্বাচিত হয়েছে, তাদের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ৬২(এফ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বিচক্ষণ, ন্যায়পরায়ণ, মিতাচারী, সত্ ও সত্যবাদী না হলে কোনো ব্যক্তি পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হতে পারবেন না বা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পাবেন না।’
এখন অষ্টাদশ সংশোধনীর বিলে এই ধারায় কিছু নতুন কথা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ‘পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি হবেন এমন ব্যক্তি, যাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালত এই মর্মে কোনো ঘোষণা দেননি যে তিনি বিচক্ষণ, ন্যায়পরায়ণ, মিতাচারী, সত্ ও সত্যবাদী নন।’ অষ্টাদশ সংশোধনীর বিলে সংবিধানের ৬২(জি) অনুচ্ছেদ পুরোপুরি বিলোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে বা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অপরাধে কোনো আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হন।
এনআরও বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আরও বলা হয়েছে, এনআরওর মাধ্যমে সংবিধানের ৬৩(এইচ) ও ৬৩(আই) অনুচ্ছেদ অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। অষ্টাদশ সংশোধনীর বিলে ৬৩(এইচ) অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হয়েছে, কিন্তু ৬৩(আই) অনুচ্ছেদ স্পর্শ করা হয়নি। ৬৩(এইচ) অনুচ্ছেদের মূল ভাষ্যে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন, যদি তিনি দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বিদ্যমান কোনো আইনের অধীনে যথাযথ এখতিয়ারসম্পন্ন কোনো আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হন।’ অষ্টাদশ সংশোধনীর বিলে প্রস্তাবিত ৬৩(এইচ) অনুচ্ছেদের নতুন ভাষ্য অনুযায়ী এখন থেকে ‘একজন ব্যক্তি পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে কোনো আদালত কর্তৃক দুই বছর বা তার বেশি সময় কারাভোগ করেন; এবং কারাভোগের মেয়াদান্তে মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্টের সদস্য হতে পারবেন না।’ বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, এই অনুচ্ছেদ ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট জারদারির নির্বাচনে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অযোগ্যতার প্রশ্নে বা ইমপিচমেন্ট ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।
সংবিধান সংস্কার কমিটির নির্ভরযোগ্য কিছু সূত্র দাবি করেছে, জামায়াতে ইসলামি ও জমিয়াতে উলামায়ে ইসলাম (ফজল) দলের সদস্যরা সংবিধানের ৬২ ও ৬৩ অনুচ্ছেদে বড় ধরনের পরিবর্তনের বিরোধী। কিন্তু পাকিস্তান পিপলস পার্টি, পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন), পাকিস্তান মুসলিম লিগ (কিউ), মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) ও আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) সংবিধানে সাবেক সামরিক স্বৈরশাসকদের ঢোকানো অনুচ্ছেদগুলো পরিবর্তনের পক্ষে। এএনপি চায় চার্টার অব ডেমোক্রেসির ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় অঞ্চলগুলো বা ফেডারেলি অ্যাডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়াস (এফএটিএ) খায়বার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত হোক। কিন্তু উপজাতীয় অঞ্চলগুলোর প্রতিনিধিরা ওই প্রদেশের অংশ হতে চান না। তাঁরা চান পৃথক মর্যাদা। এখন পিপিপি ও পিএমএল (এন) দাবি করতে পারে যে তারা সংবিধান থেকে জেনারেল জিয়াউল হকের নাম মুছে ফেলেছে, কিন্তু তারা এটা দাবি করতে পারবে না যে চার্টার অব ডেমোক্রেসির মূল চেতনা তারা অনুসরণ করেছে।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মশিউল আলম
হামিদ মীর: পাকিস্তানি সাংবাদিক।

নিবন্ধন বাতিল -সব এনজিওকে জবাবদিহির আওতায় আনুন

দেশ ও জনসেবার যে মহত্ উদ্দেশ্য নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী বেসরকারি সংস্থাগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটি তারা কতটা পালন করেছে, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সংশয় আছে। গতকাল শনিবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, নিষ্ক্রিয়তা, বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা না দেওয়া ও গঠনতন্ত্রবিরোধী কাজের জন্য ১৬ জেলায় দুই হাজার ৯৩১টি এনজিওর নিবন্ধন বাতিল করেছে সরকার। কয়েকটির বিরুদ্ধে জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
বছরখানেক আগে ভোলায় একটি এনজিও পরিচালিত মাদ্রাসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করেছিল। এনজিওর নামে এ ধরনের জঙ্গি-তৎপরতা অন্যান্য স্থানে থাকাও অস্বাভাবিক নয়। গরিব ও দুস্থ জনগণের সেবার নামে প্রাপ্ত অর্থ আত্মসাতের নজিরও রয়েছে ভূরি ভূরি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত এনজিওর সংখ্যাই ৫৭ হাজার ৯৬৬টি। এর বাইরেও বহু এনজিও রয়েছে। ২০০১-২০০৬ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পেয়েছে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৩৪১টি। সেই সময়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ।
বর্তমানে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে এনজিওগুলোর নিবন্ধন দেওয়া হয়। অনেক সময়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন না করেই অফিসে বসে প্রতিবেদন তৈরি করে থাকেন। যার ফলে ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই’ এনজিওর সংখ্যা বেড়ে গেছে। তা ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তির বিষয়টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের পছন্দের লোকেরা বেশি বেশি এনজিওর নিবন্ধন পেয়ে থাকে।
মাত্র ১৬টি জেলার এনজিওর কার্যক্রম যাচাই-বাছাই করে যদি দুই হাজার ৯৩১টি সংস্থার নিবন্ধন বাতিল হয়ে থাকে, তাহলে সারা দেশের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। যারা জনসেবার নামে নানা স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত, তাদের নিবন্ধন বাতিল করাই শ্রেয়। অতএব, সরকার বাকি ৪৮ জেলার এনজিওর কাজকর্মও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি। যেসব বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী খাত সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ব্যাপারে উচ্চকণ্ঠ, তাদের কাজকর্মেও স্বচ্ছতা থাকতে হবে বইকি।

বাজেট আসছে, বাড়ছে দাবি -বাস্তবায়নে অগ্রগতি কবে হবে

প্রাকৃতিক নিয়মের মতো রাষ্ট্র-ব্যবস্থাপনার চক্রে প্রতিবছরই নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় বাজেট দিতে হয় অর্থমন্ত্রীকে। জুন মাসে জাতীয় সংসদে তা উপস্থাপন করা হলেও আয়োজনটা কার্যত সারা বছরই চলে। তবে বাজেট নিয়ে উত্তেজনা ও চিন্তাভাবনাটা ঘনীভূত হতে থাকে প্রতি ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইতিমধ্যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে প্রাক্-বাজেট আলোচনা শুরু করেছে। সংবাদপত্রেও ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেট কী হতে পারে, তা নিয়ে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আর বাজেট সামনে রেখে বিভিন্ন মহলের বিভিন্ন ধরনের দাবি-দাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসছে।
সমস্যাটা হলো বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে। অর্থনীতি যেহেতু নানা ধরনের প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও সামনে অগ্রসর হচ্ছে, সেহেতু এর আয়তন বাড়ছে। সে বিবেচনায় প্রতিবছরই বাজেটের আয়তন বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। কিন্তু প্রতিবছর যে বাজেট করা হয়, তার কতটুকু সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। কারণ, বাজেট শুধু রাষ্ট্রীয় আয়-ব্যয়ের একটি হিসাব-বিবরণী নয়, বরং অর্থনীতি-ব্যবস্থাপনায় সরকারের দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রতিফলন। চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বাজেট বাস্তবায়নের যে চিত্র অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন, তাকে খুব একটা সন্তোষজনক বলার অবকাশ নেই; বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটে কৃষি-শিল্পে এখন যে বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই অর্থনীতির একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আভাস দেয় না। আর তাই বড় অঙ্কের বাজেট-দলিল নিতান্তই কাগুজে দলিল হয়ে যায়।
বস্তুত অর্থনীতিতে এখন যেসব চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে, সেগুলো মোকাবিলা করার দিকে লক্ষ রেখেই বাজেট করতে হবে অর্থমন্ত্রীকে। এর একটি অংশ হলো ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া। তুলনামূলকভাবে এটি সহজ কাজ। কিন্তু বরাদ্দ করা অর্থ ঠিক জায়গায় ঠিকভাবে ও সময়মতো ব্যয় করা অনেক কঠিন। বাংলাদেশের বাজেট-ব্যবস্থাপনায় এ কঠিন কাজটি ক্রমশ কঠিনতর হয়ে উঠছে। এর একটি কারণ হলো অর্থসংস্থানের অভাব। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণভাবে কর আদায়ের যে দুরবস্থা রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে না পারলে অর্থসংস্থানের সংকট কখনোই দূর হবে না। এ জন্য একদিকে কর প্রশাসনকে দক্ষ ও শক্তিশালী করতে হবে, অন্যদিকে জনমানসে কর প্রদানের ভীতি দূর করতে হবে এবং গড়ে তুলতে হবে কর প্রদানের সংস্কৃতি।
বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রধান বাধা অবশ্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। চলতি বছরের বাজেটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিতে (পিপিপি) কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় বহু আশা নিয়ে। কিন্তু নয় মাসেও এর নীতিনির্দেশনা তৈরি হয়নি আমলাতন্ত্রের টালবাহানায়, যা খোদ অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এমন কিছু রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হচ্ছে যে কাজ এগোতে পারছে না। এ দুই প্রতিবন্ধকতা অপসারণ অর্থমন্ত্রীর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বিত সদিচ্ছা প্রয়োজন। নীতিনির্ধারকেরা যদি এদিকে মনোযোগ না দেন, তাহলে বাজেটের অঙ্কই শুধু বড় হবে, মানুষের জন্য অর্থবহ হবে না।

সুদানের নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

সরকারের মদদে সৃষ্ট সহিংসতা ও বিরোধী দলের বর্জনের হুমকির মধ্যে সুদানের নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আর এই অনিশ্চয়তার কারণে সংঘাত-বিক্ষুব্ধ দেশটির গণতন্ত্র উত্তরণের পথও বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে এবং গণতন্ত্রে ফিরে আসার প্রত্যয় নিয়ে ১১ এপ্রিল সুদানে নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে।
দেশটির উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে দীর্ঘ ৫০ বছরের গৃহযুদ্ধে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
২০০৫ সালে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় দেশটির উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশগুলো আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হবে এবং এর ফলে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও পুঞ্জীভূত হবে।

মায়াবতী মন্দির

ভাবা যায় মানুষ হয়ে দেবীর আসনে অধিষ্ঠিত হবেন এক নেত্রী। হ্যাঁ তাই হতে চলেছে এবার ভারতের উত্তর প্রদেশে। উত্তর প্রদেশের দলিত শ্রেণীর মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীকে এবার দেবীর আসনে বসাচ্ছেন তাঁর ভক্তরা। হয়ে যাচ্ছেন তিনি মায়াবতী দেবী!
উত্তর প্রদেশের দলিত শ্রেণী থেকে ওঠে আসা নেত্রী মায়াবতী এখন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে তাঁর ভক্তরা রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠা করেছেন তাঁর মূর্তি। স্বয়ং তাঁর গলায় পরিয়েছেন কোটি টাকার মালা। এবার সেই মায়াবতীকে দেবীর আসনে বসাচ্ছেন তাঁর ভক্তরা। এ জন্য প্রতিষ্ঠা করছেন মায়াবতী মন্দির। এখানে তাঁর মূর্তি স্থাপন করে চলবে পূজা-অর্চণা।
এটা গল্প নয়, সত্যি। উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্নৌ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে মাহোবা জেলার নাথপুরা গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে এই মায়াবতী মন্দির। দলিত আইনজীবী কানাইয়া লাল নিজে জমি দিয়েছেন মায়াবতী মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য। তবে তিনি মায়াবতীর দল বহুজন সমাজ পার্টির সদস্য না হলেও দলিতদের নেত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা করেন মায়াবতীকে। কানাইয়া বলেন, মায়াবতীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে গেলে বাধা, টাকার মালা পরতে গেলে বাধা। অথচ সেই সত্তরের দশকে যখন ইন্দিরা গান্ধী এসেছিলেন এখানে, তখন তো তাঁকে দলীয় সমর্থকেরা রুপা দিয়ে ওজন করেছিলেন। তাতে তো কোনো দোষ হয়নি। দোষ কি শুধু মায়াবতী দলিত হওয়ার জন্য?
আইনজীবী কানাইয়া বলেন, মায়াবতী গোটা দলিত শ্রেণীর আদর্শ। তাঁকে নিয়ে আমাদের গর্ব। আমরা তাঁকে দেবীর আসনে বসাবই। গড়ব মায়াবতী মন্দির।
যদিও এই মন্দির তৈরি করা নিয়ে ইতিমধ্যেই বাধা এসেছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বলা হয়েছে, কোনো জীবিত মানুষের নামে এভাবে মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে গেলে অনুমতি প্রয়োজন।

গুয়ানতানামোর বন্দীদের ভালোবাসা

কিউবার গুয়ানতানামো বেতে মার্কিন কারাগারে বন্দীদের একটি দল হাইতির ভূমিকম্প-দুর্গতদের সাহায্য হিসেবে তাদের খাদ্যের কিছু অংশ আলাদা করে রাখছে। বন্দীদের আইনজীবীদের একজন এ কথা জানান। খবর এএফপির।
এলিসন লাফ্রাক জানান, ‘গুয়ানতানামো কারাগারে আটক সর্বশেষ রাশিয়ার নাগরিক রাভিল মিনগাজোভ এক সপ্তাহ আগে টেলিফোনে আমাকে বলেন, “ক্যাম্প-৪”-এর বন্দীরা প্রচুর খাদ্য জমিয়ে রাখছে।’
তিনি জানান, বন্দীদের মহত্ উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জমিয়ে রাখা এসব খাদ্য কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আদৌ হাইতিতে পাঠাতে পারবে কি না, সে ব্যাপারে ক্যাম্প-৪-এর বন্দীরা সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

অবরোধ আরোপ ইরানকে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করবে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নতুন করে অবরোধ আরোপ করলে তা ইরানকে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে। গতকাল শনিবার এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। আহমাদিনেজাদ বলেন, তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সৃষ্টি করে ওয়াশিংটন বিশ্ববাসীর চোখে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ইরানকে বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ছয়-জাতি আলোচনার মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ওপর জাতিসংঘের সম্ভাব্য নতুন অবরোধ আরোপে বিরোধিতা করা বন্ধ করেছে চীন। এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি চীন। এতদিন ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিল বেইজিং। চীনের বক্তব্য আলোচনার মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। অন্য কোনো উপায়ে নয়।
পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েলের দাবি, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। ইরানের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার ব্যাপারে তেহরানকে চাপ দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিতায় ইরানের ওপর চতুর্থবারের মতো জাতিসংঘের অবরোধ আরোপ করতে চাইছে তারা। এ জন্য চীনের সমর্থন দরকার। কারণ চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘ভেটো’ ক্ষমতার অধিকারী সদস্য।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে তদন্ত শুরু
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি তদন্ত করছে। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অর্জন করছে, এ তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ তদন্ত শুরু করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শনিবার এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
আইএইএ ১৪ জানুয়ারি একটি ই-মেইল পায়। ওই ই-মেইলে অভিযোগ করা হয়, ‘সতর্কতার সহিত ও গোপনে’ চীনের একটি কোম্পানির মাধ্যমে নিষিদ্ধ উপাদান ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। আর এ কারণেই তারা এ তদন্ত শুরু করেছে।

মাচু পিচুু ফের দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত

দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় পেরুর মাচু পিচু গত বৃহস্পতিবার খুলে দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারির শেষের দিকে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের কারণে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারানডন প্রাচীন এই মাচু পিচুু সম্পর্কে বলেন, এটি খুবই সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক।
তিনি হলিউডের অন্য তারকাদের এটি দেখতে আসার জন্য আহ্বান জানান। যখন সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকে তখন প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার দর্শনার্থী এটি দেখতে আসে।

কিষানজির খোঁজ দিলেই ১২ লাখ রুপি

ভারতে মাওবাদীদের শীর্ষ নেতা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষানজির খোঁজ কিংবা তাঁকে ধরিয়ে দিলেই ১২ লাখ রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। ঝাড়খন্ড রাজ্যের পুলিশ এ ঘোষণা দিয়েছে।
ঝাড়খন্ড বা পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ জানে না কিষানজি এখন ঠিক কোথায় আছেন। এই দুই রাজ্যের পুলিশেরই দাবি, মাওবাদী এই শীর্ষ নেতা গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞাত স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশের দাবি, গত ২৪ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার হাতিলোটা গ্রামে পুলিশের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের বন্দুকযুদ্ধে কিষানজি গুরুতর জখম হন। এরপর থেকে তাঁর কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে না। এর আগে বিশেষ বিশেষ ঘটনার পর কিষানজি সংবাদমাধ্যমের কাছে টেলিফোনে মাওবাদীদের অবস্থান জানিয়ে বক্তব্য তুলে ধরতেন।
এদিকে মাওবাদীরাও সাত পুলিশ কর্মকর্তার মাথার জন্য ১০ লাখ রুপি করে ‘তোফা’ ঘোষণা করেছে। এই সাত পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে পাঁচজন হলেন রাঁচি, হাজারিবাগ, পূর্ব সিংভূম, পশ্চিম সিংভূম এবং লোহারডাগার পুলিশ সুপার (এসপি)।
ঝাড়খন্ডে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর মাওবাদী হামলার আতঙ্কে কংগ্রেসের বেশ কিছু নেতা কংগ্রেস ছেড়ে দিয়েছেন। তিন দিন আগে ধলভূমগড় থানার কংগ্রেস সভাপতি গোবর্ধন মাহালিকে বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে হত্যা করে মাওবাদীরা। এরপরই কংগ্রেসের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংবিধানের খসড়া পাস করেছে কেনিয়ার পার্লামেন্ট

কেনিয়ার পার্লামেন্টে গত বৃহস্পতিবার রাতে সর্বসম্মতভাবে দেশটির নতুন সংবিধানের খসড়া পাস হয়েছে। এখন এটি জনরায়ের জন্য গণভোটে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই খসড়া আইনে পরিণত হলে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিয়ামি কিবাকি আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে তিনি সংবিধানের খসড়াকে সমর্থন করছেন। খসড়া পাসের দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।
বিরোধী নেতা প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওডিঙ্গাও খসড়াকে সমর্থন করেছেন। এর আগে ২০০৫ সালে সংবিধানের একটি খসড়া গণভোটে দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই খসড়ার বিপক্ষে শতকরা ৫৭ ভাগ ভোট পড়েছিল। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংবিধানের খসড়াটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হলে দেশটিতে রাজনৈতিক সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হবে।
২০০৭ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট মিয়ামিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলে দেশটিতে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়। ওই সহিংসতায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। পরে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি চুক্তির মাধ্যমে বিরোধী নেতা ওডিঙ্গাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ দেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

অনলাইন নেটওয়ার্কিং স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

ইন্টারনেটে সামাজিক ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের জন্য খবরটা তেমন সুখকর নয়। ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে বলে একজন বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন। এরিক সিগম্যান নামে ওই মার্কিন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের সঙ্গে অন্যদের সম্মুখ যোগাযোগ কমে যায়। এর ফলে তারা ক্যানসার, স্ট্রোক, হূদরোগ ও মতিভ্রষ্ট হওয়ার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানী সিগম্যান জানান, অনলাইন নেটওয়ার্কিংয়ের ফলে সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর প্রভাবে মানুষের মধ্যকার সরাসরি যোগাযোগ বিনষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মতো ‘সত্যিকারের’ সামাজিক যোগাযোগের অভাবে মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মানুষের মধ্যে সম্মুখ যোগাযোগ না হলে বংশগতির ধারা, ধমনির কার্যকারিতা ও হরমোনের স্বাভাবিক ধারা প্রভাবিত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্বাভাবিক আচার-আচারণ ও মানসিক অবস্থা।
শারীরিকভাবে ক্ষতি করার পাশাপাশি অনলাইন নেটওয়ার্কিং মানুষের সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলে উল্লেখ করে সিগম্যান জানান, ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে মানুষ ‘সামাজিকভাবে’ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ওয়েবসাইট ব্যবহারের কারণে মানুষের সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত ছিল এবং মানুষের সামাজিক জীবন আরও সুন্দর হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এর উল্টো। সামাজিক ওয়েবসাইট ব্যবহারের ফলে মানুষে মানুষে যেখানে সামাজিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়া উচিত, সেখানে উল্টো তা দিনদিন কমে যাচ্ছে।
ইনস্টিটিউট অব বায়োলজি থেকে প্রকাশিত সাময়িকী বায়োলজিস্ট-এ সিগম্যান তাঁর এসব মতামত তুলে ধরেন। সেখানে একটি গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি জানান, ১৯৮৭ সাল থেকে মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাত্রা আশংকাজনকহারে কমে গেছে। ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের প্রসারের কারণেই এমনটি ঘটেছে।
সিগম্যান জানান, সম্মুখ যোগাযোগের সময় মানুষের শরীরিক যে পরিবর্তন হয়, ই-মেইল লেখার সময় তেমনটি দেখা যায় না। ‘সরাসরি’ যোগাযোগের সময় মানুষের মধ্যে ব্যতিক্রম কিছু পরিবর্তন ঘটে, তবে সাদাচোখে এই পরিবর্তন না-ও দেখা যেতে পারে।
সিগম্যান আরও জানান, ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম ব্যবহারের ফলে মানুষের সামজিক দক্ষতা কমে যায়। অন্যের শারীরিক ভাষা বোঝার মতো সামর্থ্য তার থাকে না। তিনি এ-ও জানান, সামাজিক ওয়েবসাইটের কারণে ব্রিটেনের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অন্য মানুষের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগের ‘সময়’ উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে। গত দুই দশকের মধ্যে ‘কারও সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে’ এমন লোকের সংখ্যা তিন গুণ কমেছে।
ইন্টারনেটে সামাজিক ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের এমন নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরে সিগম্যান জানান, বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে তা ভেবে তিনি গভীর ‘উদ্বিগ্ন’। তিনি এ-ও বলেন, ‘সামাজিক ওয়েবসাইটের নেতিবাচক দিক তুলে ধরায় কেউ যেন আমাকে সেকেলে ভেবে না বসেন। কেউ যেন না ভাবেন যে আমি নতুন প্রযুক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু এটাও সত্য, মানুষের জীবন সুন্দর ও উন্নত করাই প্রতিটি প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

পাকিস্তানের আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে সে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল আনওয়ার মনসুর পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলোর পুনর্বিচার শুরু করার ক্ষেত্রে সরকার কোনো সহযোগিতা করছে না। এ কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবর বিবিসি ও পিটিআইয়ের।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট একটি রুল জারি করে জানান, শত শত রাজনৈতিক নেতা ও কর্মকর্তার জন্য যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়, তা অবৈধ। দুই বছর আগে দুর্নীতির মামলা চলাকালে ওই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। আদালত বলেন, এসব মামলা আবার শুরু করা দরকার।
আনওয়ার মনসুর কয়েক দিন থেকেই সরকারের কর্মকাণ্ডে তাঁর হতাশার কথা জানিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জারদারির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা আবার শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত আইন মন্ত্রণালয় তাঁকে দিতে অস্বীকার করে। ক্ষমতাসীন অনেকের বিরুদ্ধেই এ ধরনের বেশ কয়েকটি মামলা তদন্তাধীন। কিন্তু এ রকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সেগুলোকে বিচারপ্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা সত্যি দুরূহ বলে তিনি জানান।

ঢাবি আন্তবিভাগ ক্রিকেট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তবিভাগ ক্রিকেটের উত্তরাঞ্চলে চ্যাম্পিয়ন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। কাল ফাইনালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান (১০২/২) ৮ উইকেটে হারিয়েছে সংস্কৃত বিভাগকে (১০১)। ম্যান অব দ্য ম্যাচ জয়ী দলের সুমন কুমার সাহা।

মহানগর স্কুল ফুটবল

শাহিদার হ্যাটট্রিকে (৩টি) মেয়েদের মহানগর স্কুল ফুটবলে গ্রীন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ৭-০ গোলে হারিয়েছে ডন গ্রামার স্কুলকে। শ্রাবন্তী ২টি, এড্রিনা ও রাইসা ১টি করে গোল করেছে। ধানমন্ডি সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে দিনের অন্য ম্যাচে ধানমন্ডি কামরুন্নেসা গভ. গার্লস হাইস্কুল ১-০ গোলে হারিয়েছে মতিঝিল গভ. গার্লস হাইস্কুলকে। ধানমন্ডির গোলটি নূপুর মিত্রের। সোনিয়ার একমাত্র গোলে আগারগাঁও আদর্শ হাইস্কুলও জিতেছে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি এইচএস গার্লস হাইস্কুলের বিপক্ষে। আজিমপুর গার্লস স্কুল মাঠে দোলাইরপাড় ৩-০ গোলে হারিয়েছে জমিলা খাতুন লালবাগ গার্লস হাইস্কুলকে। খাদিজা ২টি ও ফরিদা ১টি করে গোল করেছে। একই ভেন্যুতে অন্য খেলায় ধানমন্ডি গভ. গার্লস হাইস্কুল ২-০ গোলে হারিয়েছে রহমতউল্লাহ মডেল হাইস্কুলকে। গোল করেছে আয়েশা ও সুমি।

আন্তজেলা ক্রিকেট

মাত্র ২ রানের জন্য আন্তজেলা ক্রিকেটে সেঞ্চুরি-বঞ্চিত হয়েছেন বরিশালের মঈন (৯৮)। তবে তিনি সেঞ্চুরি না পেলেও জিতেছে তাঁর দল। কাল পিরোজপুরে বরিশাল (২৪৪) ৬১ রানে ভোলাকে (১৮৩) হারিয়েছে। দিনের অন্য ম্যাচে হুমায়ুনের হাফ সেঞ্চুরিতে (৭৪*) ফরিদপুরে নারায়ণগঞ্জ (১৪৪/২) ৮ উইকেটে হারিয়েছে গোপালগঞ্জকে (১৪৩)। টাঙ্গাইলে টাঙ্গাইল (২৫৭/৬) ১১০ রানে কিশোরগঞ্জকে (১৪৭), কুমিল্লায় কুমিল্লা (১৯৩/৪) ৬ উইকেটে চট্টগ্রামকে (১৮৯), রংপুরে নীলফামারী (৩৩৭/৭) ১৯১ রানে পঞ্চগড়কে (১৪৬), পাবনায় নাটোর (২৪৭/৫) ২৩ রানে নওগাঁকে (২৫১) এবং কুষ্টিয়ায় ঝিনাইদহ (২১৩) ৪৩ রানে বাগেরহাটকে (১৭০) হারিয়েছে।

হেরে গেলেন নাদাল

সময়টা একদমই ভালো যাচ্ছে না রাফায়েল নাদালের। কয়েক সপ্তাহ আগেই হেরেছেন ইন্ডিয়ান ওয়েলসে। পরশু হারলেন মায়ামি এটিপি মাস্টার্সে। এই নিয়ে ১৩টি টুর্নামেন্টে তাঁকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কিন্তু সেমিফাইনালে অ্যান্ডি রডিকের কাছে ৪-৬, ৬-৩, ৬-৩ গেমে হারের পরও নাদাল বলছেন লক্ষ্যের সঠিক পথেই আছেন তিনি। এএফপি।
কেন বলছেন সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন নাদাল, ‘আমি ভালো খেলছি। এই দুটি (ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও মায়ামি) টুর্নামেন্টে বেশ কিছু ভালো ম্যাচ খেলেছি। এ অবস্থায় থাকলে জয় এক দিন আসবেই।’
তা হয়তো আসবে কিন্তু একের পর এক টুর্নামেন্ট হেরে যাওয়াটা যে নাদালের মতো তারকার জন্য একদমই বেমানান। সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিলেন গত বছর মে মাসে রোম মাস্টার্সে। অবশ্য এই ব্যর্থতার পেছনে আছে ইনজুরি। হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর ইন্ডিয়ানা ওয়েলসের টুর্নামেন্টই প্রথম খেলতে নামেন তিনি। কোর্টের খরা প্রভাব ফেলেছে টেনিস র্যাঙ্কিংয়েও। গত জুলাইয়ে শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে পড়া নাদালের বর্তমানে র্যাঙ্কিং ৪। তবে আসছে সপ্তাহেই নতুন র্যাঙ্কিং প্রকাশিত হলে তিনে উঠে আসবেন এই স্প্যানিয়ার্ড।
রডিকের কাছে হেরে গেলেও শুরুর সেটটা জিতেছিলেন নাদাল এবং দুর্দান্ত খেলেই। তবে খেলার সেই গতি ধরে রাখতে পারেননি।
মায়ামির টুর্নামেন্টে রডিক ফাইনালে পেয়েছেন টমাস বার্ডিচকে। চতুর্থ রাউন্ডে শীর্ষ তারকা রজার ফেদেরারকে হারিয়ে দেওয়া চেক খেলোয়াড় বার্ডিচ সেমিফাইনালে ৬-২, ৬-২-এ হারিয়েছেন সুইডেনের রবিন সোদারলিংকে।

বিদেশিদের ছাড়াই মোহামেডানের গোল-উৎসব

বাংলাদেশ লিগে কাল ঢাকা মোহামেডান-শুকতারা ম্যাচটি ছিল এবারের লিগের ৮৬তম ম্যাচ। আর সেটিই দেখল সবচেয়ে বড় জয়—ব্যবধান ৭-০। জয়ী দলের নাম ঢাকা মোহামেডান।
গোল-উৎসবের ম্যাচে হ্যাটট্রিক সহজদৃষ্ট। এদিন হ্যাটট্রিক করলেন এমন একজন, যিনি গত মাসে কলম্বোয় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বাংলাদেশ দলের রক্ষণভাগে খেলেছেন এবং সেই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে। আলোচিত খেলোয়াড়টি সেনাবাহিনী দলের সাবেক স্ট্রাইকার নাসির চৌধুরী।
দুই গোল আবদুল বাতেনের (কমল)। এক গোল জাহিদ হাসানের (এমিলি)। বাকি গোলটি ফাঁকতালে এসে গেছে।
কাল মোহামেডান খেলেছে স্থানীয় দল নিয়ে। তিন নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় বুকোলা, এমেকা ও ড্যামি ভিআইপি বক্সের ওদিকটায় বসে খেলা দেখেছেন। বেতন না পেয়ে তাঁরা বিদ্রোহ করেছেন বলে রাতে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন বুকোলা। ঘটনা যা-ই হোক, বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়াই মোহামেডান ৭ গোলের বিশাল জয় পেল। তবে এই জয়ের আনন্দেও একটা খারাপ খবর আছে তাদের, প্রথমার্ধের শেষ দিকে কপালে আঘাত পেয়ে ডিফেন্ডার হাসান আল মামুনকে যেতে হয়েছে হাসপাতালে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর আঘাত কতটা গুরুতর, তা জানা যায়নি।
মোহামেডান মাঠে নেমে তাদের করণীয়টা করেছে। কিন্তু লিগ শিরোপাটা এখন আর তাদের হাতের নাগালে নেই। ১৪ ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ৪০, মোহামেডানের ৩৬। ৪ পয়েন্টের ব্যবধানটা থেকেই যাচ্ছে। এটাই এখন মোহামেডানের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ।
এটাকে এক পাশে রেখে কাল শুরু থেকেই দুর্বল শুকতারার ওপর স্টিমরোলার চালাল মোহামেডান। ৫ মিনিটে গোল-উৎসবের শুরুটা করে দেন আবদুল বাতেন। ৭ মিনিট পর ২-০ করেন নাসির চৌধুরী। ৩১ মিনিটে মোহামেডানকে তৃতীয় গোল উপহার দেন শুকতারার শহিদুল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল পাঠিয়েছেন এই ডিফেন্ডার, যাওয়ার আগে আবদুল বাতেনের গায়ে লেগেছে। কিন্তু গোলটা ছিল আত্মঘাতী। মিনিট দুয়েক পরই ৪-০। গোলদাতা আবদুল বাতেন।
প্রথমার্ধে পাওয়া চার গোলের একটিও জাহিদ হাসানের ছিল না। গোল তিনি পেতে পারতেন। ডেঙ্গু জ্বর থেকে সেরে উঠে তিন ম্যাচ পর পুরো ম্যাচ খেললেন। সতীর্থ দুই স্ট্রাইকারকে (এদিন মোহামেডান খেলেছে তিন স্ট্রাইকার নিয়ে) বাতেন-নাসির চৌধুরীকে বল তৈরি করে দিয়েছেন দারুণভাবে। দলের প্রথম গোলটা ছিল তাঁরই চমত্কার এক থ্রুতে।
সেই জাহিদ হাসান লিগের পঞ্চম ম্যাচে নিজের শেষ গোলের পর এই প্রথম গোল পেলেন এদিন। ম্যাচের ৭০ মিনিটে করলেন (৫-০)।
পরপরই হেসেখেলে নাসির চৌধুরীর হ্যাটট্রিক পূর্ণ হওয়ার দৃশ্য দেখল শ-পাঁচেক দর্শক। অবস্থা এমন হয়েছিল যে, শুকতারার বক্সে বল নিয়ে গেলেই গোল!
এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত এবারের লিগে সবচেয়ে বড় জয় ছিল ৬-১, চট্টগ্রাম মোহামেডানকে হারিয়েছিল আরামবাগ।
শুকতারা দিন দিনই রুগ্ণ হয়ে পড়ছে। দ্বিতীয় পর্বে দুজন বিদেশি নিয়েও পারছে না দলটি। এখন পর্যন্ত ১৪ ম্যাচে মাত্র ৭ পয়েন্ট পাওয়া দলটির সামনে অবনমনের শঙ্কা আরও প্রবল হলো।
মোহামেডান: আমিনুল (শাকিল), ওয়ালী, আরিফ, নাসিরুল (সৌকত), হাসান আল মামুন (মামুন মিয়া), মামুনুল, জাহিদ, আবদুল বাতেন, শরিফ, জাহিদ হাসান, নাসির চৌধুরী।
শুকতারা: রাশেদ (আল আমিন), শহিদুল, বিপ্লব, রেজাউল, রবিন, ইদ্রিস, ইদি, কাশেম, সুজন (রিন্টু) সোহেল, মাহমুদউল্লাহ।

পিসিএলের দ্বিতীয় শিরোপাও ব্রাদার্সের

শেষ ওভারে ১০ রান প্রয়োজন ব্রাদার্সের। উত্তেজনার ছোঁয়া গ্যালারিজুড়ে। প্রথম দুই বলে দুটি সিঙ্গেল। গ্যালারির দর্শকেরা গেল সব দাঁড়িয়ে। পরের দুই বলে সব উত্তেজনায় জল। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে চার ও ছক্কা মেরে জিতে গেছে ব্রাদার্স। টানা দ্বিতীয়বারের মতো পিসিএল জিতে নিল তারা তিন উইকেটে। এমন না হলে আবার ফাইনাল!
গ্যালারির উত্তেজনা শেষ হলো। চতুর্থ বলে ছক্কার সঙ্গে সঙ্গে চিটাগাং টাইগার্সের ক্রিকেটাররা মাঠে বসে পড়লেন। তামিমসহ কয়েকজন তেড়ে গেলেন ব্রাদার্স শিবিরের দিকে। গণ্ডগোল আজহার মাহমুদের সঙ্গে। আজহারও তেড়ে এলেন। উত্তেজিত হয়ে পড়েন চিটাগাং টাইগার্সের কোচ খালেদ মাহমুদও।
ঘটনা বেশি দূর গড়ায়নি। অল্পতেই থেমে গেছে। এর পরই ব্রাদার্স মাতল জয়োল্লাসে। জয়োল্লাস যেমন শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতণ্ডায়, তেমনি চিটাগাং টাইগার্সের ছুড়ে দেওয়া ১৩০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়েও ব্রাদার্স হোঁচট খাচ্ছিল বারবার।
স্কোর বোর্ডে ২৬ রান উঠতেই নাবিল সামাদের এক ওভারে আউট হয়ে ফেরেন ইমরান নাজির ও জুনায়েদ সিদ্দিক। এরপর ইমরুল কায়েসকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন এনামুল। ৪৪ রানে নাজিমউদ্দিন রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে এবং এর ১ রান পর জহুরুল স্ট্যাম্পিং থেকে বেঁচে যান।
নাজিমউদ্দিন এনামুলের বলে ক্যাচ আউট হওয়ার আগেই জহুরুলকে ফিরিয়ে দেন ভিনসেন্ট। এরপর এনামুল তুষার ইমরানকেও ফিরিয়ে দেন। ৫০ রান তুলতেই ব্রাদার্সের ৫ উইকেট নেই। আজহার মাহমুদ ২৬ রান করে আউট হয়ে গেলে ব্রাদার্সের ম্যাচ ঝুঁকে পড়েছিল চিটাগাং টাইগার্সের দিকেই। তবে অষ্টম উইকেট জুটিতে জিয়াউর রহমান ও মোহাম্মদ রফিক আবার ম্যাচের চাকা ঘুরিয়ে দেন।
ছোট টার্গেটের ম্যাচকে জমিয়ে দেওয়ার জন্য ব্রাদার্সের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তুষার ইমরান কৃতিত্ব দিলেন স্পিনারদের। ফাইনালে দুই ভাইয়ের লড়াইয়ের কথা থাকলেও ইনজুরির জন্য শেষ মুহূর্তে একাদশ থেকে সরে দাঁড়ান তামিমের অগ্রজ নাফিস ইকবাল।
তবে তামিম এর আগে টস জিতে ব্রাদার্স চিটাগাং টাইগার্সকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। কিন্তু প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসাবটা এই চূড়ান্ত ম্যাচে এসে মেলাতে পারেননি। তামিম তাঁর স্বভাব-বিরুদ্ধ ব্যাট করে ১০ বলে করেছেন মাত্র ৪ রান। শামসুর রহমান (৫১) ছাড়া বাকি সবাইও তাঁকে অনুসরণ করেছেন। আবদুর রাজ্জাক ১৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন। ম্যান অব দ্য সিরিজ হন ব্রাদার্সের ইমরান নাজির। শেষ দিকে ডিসপ্লে ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল ফাইনালের বাড়তি পাওনা।
চিটাগাং টাইগার্স: ২০ ওভারে ১২৯/৭ (শামসুর রহমান ৫১, লু ভিনসেন্ট ১৪, আরিফুল হক ১২, আলাউদ্দিন বাবু ১১, মিথুন ১০, আবদুর রাজ্জাক ৪-০-১৬-৩, জিয়াউর ৩-০-১৬-১, আজহার মাহমুদ ৪-০-২০-১, রফিক ৩-০-২৪-১, তারেক আজিজ ৪-০-২৫-১)।
ব্রাদার্স: ১৯.৪ ওভারে ১৩২/৭ (আজহার মাহমুদ ২৬, জিয়াউর ১৭*, জুনায়েদ ১৭, নাবিল ৪-০-১৯-২, এনামুল ৪-০১-৯-৩, ভিনসেন্ট ৪-০-২৪-২)।

ম্যাচ অনুশীলনটাই বড়

শারজা দেখা হয়ে গেছে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সফরেই। মরুর বুকে ক্রিকেটটা তাই নতুন ছিল না সাকিব আল হাসানের জন্য। তারপরও পিসিএল খেলতে এবারের যাওয়াটা ছিল একটু অন্য রকম। একে তো গেলেন বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো হওয়া বাংলাদেশের কোনো ঘরোয়া আসর খেলতে, তার ওপর টুর্নামেন্টটা মর্যাদা পেয়ে গেল আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির উপলক্ষ হিসেবেও। বিশ্বকাপের আগে এমন একটা টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা দলের কাজে লাগবে বলেই বিশ্বাস বাংলাদেশ অধিনায়কের।
টপ স্পোর্টস সেমিফাইনালের আগেই ছিটকে পড়ায় পরশু রাতে ঢাকা ফিরে এসেছেন সাকিব। দল সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি, টুর্নামেন্টে নিজের পারফরম্যান্সও উজ্জ্বল নয়, পিসিএল-অভিযান তার পরও সফল মনে হচ্ছে বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে, ‘সব মিলিয়ে ভালোই হয়েছে। আমি আর আশরাফুল ভাই রান করতে না পারলেও তামিম, রিয়াদ ভাই (মাহমুদউল্লাহ), আফতাব ভাই ভালো খেলেছেন। তবে রান করাটা তো বড় কথা না, সবচেয়ে বড় কথা বিশ্বকাপের আগে আমরা এতগুলো ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলাম।’
পিসিএলই শুধু নয়, বিশ্বকাপের আগে ১১ থেকে ২০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এনসিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। বিশ্বকাপের মূল প্রস্তুতিটা এই টুর্নামেন্টের সময়ই হবে সাকিবের দলের। এক দিকে ম্যাচ, অন্য দিকে যেদিন যাদের ম্যাচ থাকবে না তারা করবে অনুশীলন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপের আগে ম্যাচ প্র্যাকটিসের এই অবারিত সুযোগ আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে সাকিবকে, ‘এমনিতে আমাদের খুব বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয় না। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাই ভালো পারফরম্যান্স নেই। এবার পিসিএল খেললাম, এরপর এনসিএল হবে—বিশ্বকাপের জন্য তৈরি হওয়ার ভালো সুযোগ বলতে পারেন এই দুইটা টুর্নামেন্টকে।’
সাকিব শারজা থাকতেই ঢাকায় ঘোষিত হয়েছে বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দল, দেশে ফিরে যেটাকে অধিনায়ক বলছেন ‘সময়ের সম্ভাব্য সেরা’। তবে এই দলের দুই পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা আর রুবেল হোসেন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগটা সেভাবে পেলেন না বিশ্বকাপের আগে। আইপিএলে গিয়ে মাশরাফি কেবল অনুশীলনই করে যাচ্ছেন, খেলা হচ্ছে না। আর ভিসা হয়নি বলে রুবেল যেতে পারেননি পিসিএলে। তবে পিসিএলে বল হাতে অন্যদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট সাকিব, ‘সুহাস (শফিউল ইসলাম) ও রাসেল ভালো বল করেছে। স্পিনে নাঈম আর আমিও খারাপ করিনি। সব মিলিয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স একেবারে খারাপ হয়নি ওখানে।’
টপ স্পোর্টসের কোচ আর জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন একমত সাকিবের সঙ্গে। তবে ভালো ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়াটাই তাঁর কাছে পিসিএলের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক, ‘অন্য দেশের ভালো ভালো ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়েছে আমাদের খেলোয়াড়েরা। কখনো একই দলে, কখনো প্রতিপক্ষ দলে—এটা একটা প্লাস পয়েন্ট। পাকিস্তানের সাবেক ও বর্তমান জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারই খেলেছে এখানে। তাদের উপস্থিতিতে খেলার মানটাও বেশ ভালো ছিল।’ তবে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের সদস্য হিসেবে কিছু অতৃপ্তি তাঁরও আছে, ‘তামিম, রিয়াদ, অমি (জহুরুল) ভালো করেছে। কিন্তু আশরাফুল-নাঈমের আরও ভালো করা উচিত ছিল। সাকিবও তার তুলনায় খারাপ খেলেছে।’
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অতৃপ্তি আছে সাকিবেরও। তবে পিসিএলে যেন পুরোই সন্তুষ্ট তিনি। টুর্নামেন্টজুড়ে অব্যবস্থাপনা আর বিশৃঙ্খলা থাকলেও জাতীয় দলের অধিনায়ক সেগুলোকে দেখছেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে, ‘হয়তো কিছু সমস্যা ছিল, কিন্তু আয়োজকদের চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। নিজের কথাই বলি, আমার খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমি তাদের বলেছি আমাকে ঢাকা ফিরতে হবে। তারা সঙ্গে সঙ্গে আমার টিকিটের ব্যবস্থা করেছে।’

বিদেশিদের ছাড়াই মোহামেডানের গোল-উৎসব

বাংলাদেশ লিগে কাল ঢাকা মোহামেডান-শুকতারা ম্যাচটি ছিল এবারের লিগের ৮৬তম ম্যাচ। আর সেটিই দেখল সবচেয়ে বড় জয়—ব্যবধান ৭-০। জয়ী দলের নাম ঢাকা মোহামেডান।
গোল-উৎসবের ম্যাচে হ্যাটট্রিক সহজদৃষ্ট। এদিন হ্যাটট্রিক করলেন এমন একজন, যিনি গত মাসে কলম্বোয় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বাংলাদেশ দলের রক্ষণভাগে খেলেছেন এবং সেই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে। আলোচিত খেলোয়াড়টি সেনাবাহিনী দলের সাবেক স্ট্রাইকার নাসির চৌধুরী।
দুই গোল আবদুল বাতেনের (কমল)। এক গোল জাহিদ হাসানের (এমিলি)। বাকি গোলটি ফাঁকতালে এসে গেছে।
কাল মোহামেডান খেলেছে স্থানীয় দল নিয়ে। তিন নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় বুকোলা, এমেকা ও ড্যামি ভিআইপি বক্সের ওদিকটায় বসে খেলা দেখেছেন। বেতন না পেয়ে তাঁরা বিদ্রোহ করেছেন বলে রাতে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন বুকোলা। ঘটনা যা-ই হোক, বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়াই মোহামেডান ৭ গোলের বিশাল জয় পেল। তবে এই জয়ের আনন্দেও একটা খারাপ খবর আছে তাদের, প্রথমার্ধের শেষ দিকে কপালে আঘাত পেয়ে ডিফেন্ডার হাসান আল মামুনকে যেতে হয়েছে হাসপাতালে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর আঘাত কতটা গুরুতর, তা জানা যায়নি।
মোহামেডান মাঠে নেমে তাদের করণীয়টা করেছে। কিন্তু লিগ শিরোপাটা এখন আর তাদের হাতের নাগালে নেই। ১৪ ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ৪০, মোহামেডানের ৩৬। ৪ পয়েন্টের ব্যবধানটা থেকেই যাচ্ছে। এটাই এখন মোহামেডানের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ।
এটাকে এক পাশে রেখে কাল শুরু থেকেই দুর্বল শুকতারার ওপর স্টিমরোলার চালাল মোহামেডান। ৫ মিনিটে গোল-উৎসবের শুরুটা করে দেন আবদুল বাতেন। ৭ মিনিট পর ২-০ করেন নাসির চৌধুরী। ৩১ মিনিটে মোহামেডানকে তৃতীয় গোল উপহার দেন শুকতারার শহিদুল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল পাঠিয়েছেন এই ডিফেন্ডার, যাওয়ার আগে আবদুল বাতেনের গায়ে লেগেছে। কিন্তু গোলটা ছিল আত্মঘাতী। মিনিট দুয়েক পরই ৪-০। গোলদাতা আবদুল বাতেন।
প্রথমার্ধে পাওয়া চার গোলের একটিও জাহিদ হাসানের ছিল না। গোল তিনি পেতে পারতেন। ডেঙ্গু জ্বর থেকে সেরে উঠে তিন ম্যাচ পর পুরো ম্যাচ খেললেন। সতীর্থ দুই স্ট্রাইকারকে (এদিন মোহামেডান খেলেছে তিন স্ট্রাইকার নিয়ে) বাতেন-নাসির চৌধুরীকে বল তৈরি করে দিয়েছেন দারুণভাবে। দলের প্রথম গোলটা ছিল তাঁরই চমত্কার এক থ্রুতে।
সেই জাহিদ হাসান লিগের পঞ্চম ম্যাচে নিজের শেষ গোলের পর এই প্রথম গোল পেলেন এদিন। ম্যাচের ৭০ মিনিটে করলেন (৫-০)।
পরপরই হেসেখেলে নাসির চৌধুরীর হ্যাটট্রিক পূর্ণ হওয়ার দৃশ্য দেখল শ-পাঁচেক দর্শক। অবস্থা এমন হয়েছিল যে, শুকতারার বক্সে বল নিয়ে গেলেই গোল!
এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত এবারের লিগে সবচেয়ে বড় জয় ছিল ৬-১, চট্টগ্রাম মোহামেডানকে হারিয়েছিল আরামবাগ।
শুকতারা দিন দিনই রুগ্ণ হয়ে পড়ছে। দ্বিতীয় পর্বে দুজন বিদেশি নিয়েও পারছে না দলটি। এখন পর্যন্ত ১৪ ম্যাচে মাত্র ৭ পয়েন্ট পাওয়া দলটির সামনে অবনমনের শঙ্কা আরও প্রবল হলো।
মোহামেডান: আমিনুল (শাকিল), ওয়ালী, আরিফ, নাসিরুল (সৌকত), হাসান আল মামুন (মামুন মিয়া), মামুনুল, জাহিদ, আবদুল বাতেন, শরিফ, জাহিদ হাসান, নাসির চৌধুরী।
শুকতারা: রাশেদ (আল আমিন), শহিদুল, বিপ্লব, রেজাউল, রবিন, ইদ্রিস, ইদি, কাশেম, সুজন (রিন্টু) সোহেল, মাহমুদউল্লাহ।

বিয়ে বাঁচাতে মালিক ভারতে

বরের বেশে তাঁর আসার কথা ছিল ১৫ এপ্রিল। কিন্তু সপ্তাহ দুই আগেই হবু শ্বশুরবাড়িতে পদধূলি পড়ল শোয়েব মালিকের। শারজায় পিসিএলে খেলেই সরাসরি ভারতে চলে এসেছেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। উঠেছেন সানিয়া মির্জার বাড়িতেই। তাঁর সঙ্গে আয়েশা সিদ্দিকির বিয়ে নিয়ে যখন দুই দেশের মিডিয়া সরগরম, সেই আগুনের আঁচ থেকে সানিয়ার সঙ্গে সম্পর্কটা বাঁচাতে মালিকের এই হায়দরাবাদ-যাত্রা।
এদিকে পাকিস্তানের জিয়ো টিভি তাদের আর্কাইভ থেকে হাজির করেছে মালিকের বিশেষ সাক্ষাত্কার। যেখানে নিজ মুখেই স্বীকার করেছেন, তিনি বিবাহিত। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সুদর্শন শোয়েবকে প্রশ্ন করেছিলেন, তরুণীদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়ে। কৌতুক করে মালিক উত্তর দেন, ‘আপনি তো আমাকে ঝামেলায় ফেলে দেবেন দেখছি। আমি হায়দরাবাদের একটি মেয়েকে বিয়ে করেছি। ওর নাম আয়েশা।’
প্রথমে কাবিননামা, এর পর শোয়েবের এই সাক্ষাত্কার প্রচারিত হওয়ার পর মালিক বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যেই আছেন। এরই মধ্যে আবার আয়েশার পরিবার মালিকের নামে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে। যেখানে মালিকের বিরুদ্ধে মানহানি, হয়রানি, চরিত্রহনন ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। মালিকের পরিবারের পক্ষ থেকেও সিদ্দিকির পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
এই ডামাডোলের মধ্যেই মালিকের ভারত আগমন। তাঁর জন্য সুখবর হলো, এই দুর্দিনে সানিয়াকে পাশেই পাচ্ছেন। ভারতের এই টেনিস তারকা বলেছেন, মালিকের কথিত প্রথম বিয়ের পূর্বাপর সব ঘটনাই তিনি এবং তাঁর পরিবার জানে! ‘আমি এবং আমার পরিবারের সবাই সব সত্য জানে। খোদার ন্যায়বিচারের ওপর আমাদের আস্থা আছে’—টুইটারে মন্তব্য করেছেন সানিয়া। এও স্বীকার করেছেন, বিয়ের আগে এমন ঝামেলায় পড়বেন, সেটি তিনি দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি। ‘অনেক ঘটনাই ঘটছে, জীবনেও যা ভাবিনি। নিজের মেহেদি নিয়ে ভাবার চেয়ে এসব নিয়েই বেশি মাথা ঘামাতে হচ্ছে। এসব দেখে অবশ্য আমার হাসিই পায়’—সানিয়ার মন্তব্যে পরিষ্কার, আয়েশার পরিবার তো বটেই, শিবসেনাদের বিয়ের আসরে হাঙ্গামা বাধানোর হুমকিতেও তিনি পিছপা হবেন না।
এদিকে এম এ সিদ্দিকির পর এবার সংবাদমাধ্যমে ‘বিপন্ন মেয়ের জীবন বাঁচানো’র আবেদন নিয়ে হাজির আয়েশার মা ফারিসা। আর মালিকের দুলাভাই ইমরান জাফর বলেছেন, আয়েশার ই-মেইল থেকে যেসব ছবি পাঠানো হয়েছে, সেগুলো এখনো তাদের কাছে আছে। ওই ছবির সঙ্গে আসল আয়েশার ছবি মেলালেই বোঝা যাবে যে, মালিককে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল।
ঘটনার ঘনঘটার মধ্যেই এগিয়ে চলছে বিয়ের প্রস্তুতি। লাহোরে বিয়ের কেনাকাটা সারছেন ইমরান। এদিকে মালিকের পরিবারের পক্ষ থেকে সানিয়ার পরিবারকে জানানো হয়েছে, বিয়ের আয়োজনটা যেন ভারতের বদলে দুবাইয়ে করা হয়।

এখন এনসিএল টি-টোয়েন্টির অপেক্ষা

শুধু খেলোয়াড়েরা নন, বোর্ড কর্মকর্তাদের অনেকেও পিসিএলের আতিথেয়তা নিয়ে শারজা গেছেন। সবার দেশে ফিরতে ফিরতে হয়তো কালকের দিনটাও লেগে যাবে। এটা যেমন একটা কারণ, আরেকটা কারণ হলো সবগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজই হওয়ার কথা থাকলেও এনসিএল টি-টোয়েন্টি লিগের ফ্রাঞ্চাইজি পরিচিতি ও খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্ঠানটি তাই পিছিয়েই দিতে হয়েছে। কাল পর্যন্ত নতুন তারিখ ঠিক না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা ১১ এপ্রিল।
জাতীয় লিগের ছয়টি বিভাগীয় দলের মধ্যে পাঁচটির ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত বলে খবর। বিসিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা দল কিনছে বেক্সিমকো, চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজ আইএফআইসি ব্যাংক, রাজশাহীর এমএন গ্রুপ, খুলনার এসটিএস গ্রুপ ও সিলেটের রিটজ ইভেন্ট। এমএন গ্রুপের বরিশাল বিভাগের প্রতিও আগ্রহ আছে, তবে কাল পর্যন্ত এই একটি দলের ফ্র্যাঞ্চাইজই চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বিসিবি সূত্র। এসটিএস গ্রুপের পরিচালক খোন্দকার জামিল উদ্দিনের কথা শুনে অবশ্য খুলনার ফ্র্যাঞ্চাইজিও চূড়ান্ত নয় বলে মনে হলো। চুক্তি কাদের সঙ্গে হবে, এই অস্পষ্টতায় নাকি এনসিএল টি-টোয়েন্টি থেকে আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছেন তাঁরা। ‘বিসিবির প্রস্তাব পেয়েছি। শুরুতে আমরা আগ্রহীও ছিলাম। কিন্তু কাগজপত্রে দেখলাম ফ্র্যাঞ্চাইজ নিতে হলে চুক্তি করতে হবে এটিএন রেকর্ডসের সঙ্গে। এটা আমরা কেন করব? আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজ নিলে সরাসরি বিসিবির সঙ্গে চুক্তি করেই নেব, অন্য কারও সঙ্গে নয়। কাজেই এসটিএস গ্রুপ এনসিএলে নেই বলেই ধরে নিতে পারেন’—বলেছেন জামিল।
বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান গাজী আশরাফ হোসেন অবশ্য এটিকে মনে করছেন ভুল বোঝাবুঝি, ‘চুক্তি বোর্ডের সঙ্গেই হবে, এটিএন রেকর্ডসের সঙ্গে নয়। চুক্তির প্রস্তাবটা এটিএন রেকর্ডস থেকে গেছে বলেই হয়তো ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।’ প্রতিটি বিভাগীয় দলের মূল্য হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজগুলো যে ৬৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দেবে, সেগুলোও বোর্ডের নামেই হবে বলে জানিয়েছেন গাজী আশরাফ।
সবগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজের নাম নিশ্চিত হতে তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিচিতি ও খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্ঠান পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে। ২৪ জন আইকন খেলোয়াড়সহ মোট ১৪৪ জন ক্রিকেটারের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে হবে খেলোয়াড় বাছাই। আইকন খেলোয়াড়ের মধ্যে আছে আবার সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা মূল্যের ৬ ‘মেগা আইকন’ খেলোয়াড়। ঢাকার ‘মেগা আইকন’ মোহাম্মদ আশরাফুল, চট্টগ্রামের তামিম ইকবাল, খুলনার সাকিব আল হাসান, বরিশালের শাহরিয়ার নাফীস, রাজশাহীর নাঈম ইসলাম ও সিলেটের অলক কাপালি। পুরো টুর্নামেন্টের জন্য ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত আইকন (প্রতি দলে সর্বোচ্চ ৩ জন করে) খেলোয়াড়েরা পাবেন ৩ লাখ টাকা করে, ‘বি’ শ্রেণীভুক্তরা ২ লাখ টাকা করে, ‘সি’ শ্রেণীভুক্তরা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে ও ‘ডি’ শ্রেণীভুক্তরা ১ লাখ টাকা করে। এ ছাড়া প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ৬ জন করে বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন করিয়ে এক ম্যাচে খেলাতে পারবে সর্বোচ্চ ২ জন করে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এর মধ্যেই বিদেশি খেলোয়াড়ের পেছনে ছোটাছুটি শুরু করেছে বলে খবর। দু-একটা ফ্র্যাঞ্চাইজের প্রতিনিধিরা তো আইপিএল দেখতে ভারতেও চলে গেছেন। আইপিএল থেকেই যদি শিকার করা যায় বড় কোনো ক্রিকেটার! তাদের মিশন সফল হলে এনসিএল টি-টোয়েন্টির কোনো ম্যাচে ক্রিস গেইল-সৌরভ গাঙ্গুলীদের দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আর দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত খেলোয়াড় মাশরাফি বিন মুর্তজার দিকেই দৃষ্টিটা বেশি সবার। তবে তিনিও আইপিএলে থাকায় হয়তো এনসিএলের লেজটাই ধরতে পারবেন। মাশরাফির আইপিএলে যাওয়া অবশ্য একটা অস্বস্তি থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে টুর্নামেন্ট কমিটিকেও। মাশরাফি না সাকিব—শুরু থেকেই মাশরাফিকে পাওয়া গেলে খুলনার মেগা আইকন নির্বাচনে হয়তো এ রকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতেই পড়তে হতো টুর্নামেন্ট কমিটিকে। এখন সে সমস্যা নেই। এনসিএলে মাশরাফি কেবলই একজন পুলভুক্ত খেলোয়াড়।