Saturday, March 19, 2011

মিডল অর্ডার নিয়ে চিন্তিত নন সাঙ্গাকারা

কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে আগেই। এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ মিশনটা খুব একটা খারাপ হয়নি লঙ্কানদের। তবে মিডল অর্ডারের নড়বড়ে অবস্থাই কিছুটা ভাবাচ্ছে শ্রীলঙ্কান সমর্থকদের।
উপল থারাঙ্গা, দিলশান, সাঙ্গাকারার ব্যাটে ভর করে ইনিংসের শুরুটা ভালোভাবে হলেও মিডল অর্ডার বেশ ভুগিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। লঙ্কান ব্যাটিং অর্ডারের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মাহেলা জয়াবর্ধনেও খুব বেশি সুবিধা করতে পারছেন না। চার ইনিংস খেলে তিনি করেছেন ১৩৪ রান। এর মধ্যে শুধু কানাডার বিপক্ষেই করেছেন ১০০ রান। তিন ইনিংস খেলে অ্যাঙ্গেলো ম্যাথুস করেছেন ৩৯, সামারাবিরা ৬১, থিসারা পেরেরা মাত্র ২২। পাকিস্তানের বিপক্ষে উত্তেজনাকর ম্যাচে মাত্র ১১ রানের হারের পেছনেও বেশ ভালো অবদান ছিল মিডল অর্ডারের এই ব্যাটিং বিপর্যয়ের। একমাত্র চামারা সিলভা (৫৭ রান) ছাড়া আর কেউই উল্লেখযোগ্য কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি। ফলে আজকেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে মিডল অর্ডার নিয়েই কিছুটা চিন্তিত লঙ্কান শিবির।
শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা অবশ্য এ ভাবনাকে খুব বেশি পাত্তা দিতে চাচ্ছেন না। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘সময় হলে সবাই সামনে এগিয়ে আসবে। গ্রুপ পর্বে এখন পর্যন্ত শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষেই আমরা একটু খারাপ খেলেছি। অস্ট্রেলিয়া বা অন্যদের বিপক্ষে আমাদের পারফরমেন্স ভালোই ছিল। মিডল অর্ডারের অত কিছু করারও ছিল না। কাজেই তাদের ওপর যখন আসল দায়িত্বটা বর্তাবে, তখন তারা কেমন খেলতে পারে সেটাই মূল লক্ষণীয় বিষয়।’

ডেভিসনের ম্যাচটাও অস্ট্রেলিয়ার

শুরু আর শেষ একবিন্দুতে মিলল না। ৮ বছর আগে, এ রকমই এক বিশ্বকাপে যাঁর অভিষেক হয়েছিল স্মরণীয় এক জয় দিয়ে, সেই ডেভিসন কাল বিদায় নিলেন ৭ উইকেটের পরাজয় দিয়ে। তবুও কানাডার ক্রিকেটের বর্ণাঢ্য চরিত্র ডেভিসন সান্ত্বনা খুঁজে পাবেন। বিশ্বকাপে শুরু, বিশ্বকাপে শেষ এমন সৌভাগ্য কজন ক্রিকেটারের হয়!
পরাজয়টা অবধারিতই ছিল। প্রতিপক্ষ যে ছিল অস্ট্রেলিয়া, বিশ্বকাপে আগের ৩৩ ম্যাচে যারা হারেনি। কোয়ার্টার ফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ‘পুঁচকে’ কানাডার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ বেঞ্চ বাজিয়ে দেখার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু পন্টিংরা পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েন। বিশ্বকাপে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি ৩৪ ম্যাচে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থানেও উঠে গেল অস্ট্রেলিয়া।
তবুও অস্ট্রেলিয়া শিবিরে একটা আফসোস থাকতে পারে। ওয়াটসন-হাডিন দুই ওপেনারই সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছেন। কানাডার ছুড়ে দেওয়া ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৮৩ রান। মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম সেঞ্চুরির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াকেও হয়তো ১০ উইকেটের জয়ই উপহার দিচ্ছেন। কিন্তু ৮৮ রান করে ফিরলেন হাডিন। প্রথম আঘাত হানলেন সেই ‘বুড়ো’ ডেভিসনই। ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি। তবে সান্ত্বনা হয়ে থাকল এই বিদায়ী উইকেটটিও।
হাডিন বিদায় নেওয়ার পরের ওভারেই ৯৪ রান করে ওয়াটসন ফিরলেন বিশ্বকাপে বাইদানের ১৩ নম্বর শিকার হয়ে। এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি আপাতত এই বাইদান। আফসোস, আর কোনো ম্যাচ পাচ্ছেন না এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার দিক দিয়েও আরেকটি আফসোস থাকল। পন্টিং এ ম্যাচেও ব্যর্থ।
কানাডার আক্ষেপ হয়তো বেশিই হবে। শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল ডেভিসনকে স্মরণীয় বিদায়ই তারা দিতে চায়। ৩.৫ ওভারের উদ্বোধনী জুটিতেই এল ঝোড়ো ৪১। জুটি ভাঙল বিশ্বকাপের এক সময়ের দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক ডেভিসন তাঁর শেষ ইনিংসে ১৪ রান করে ফিরে যাওয়ায়।
ডেভিসন ফিরে গেলেও অন্য ওপেনার হিরাল প্যাটেলের ব্যাট আপন গতিতেই চলছিল। ৩৭ বলে বিশ্বকাপে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করা প্যাটেল ৩ ছক্কা ৫ চারে ৫৪ রান করে আউট হন। কানাডার ইনিংসের এ ছাড়া উল্লেখ করার মতো বাগাই-সুরকারির ৬৮ রানের জুটি। শুরুতে মার খাওয়া ব্রেট লি শেষ পর্যন্ত নিয়েছেন ৪ উইকেট।
কেবল কেনিয়ার সঙ্গে একটি ম্যাচ জেতার সান্ত্বনা নিয়ে দেশে ফিরছে কানাডা। অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী গন্তব্য কলম্বো। সেখানে পরশু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

জয়ের কৌশল খুঁজছে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপ শুরুর আগে আগে এবারের সম্ভাব্য শিরোপা জয়ীদের তালিকায় সবচেয়ে ওপরের সারিতে ছিল ইংল্যান্ডের নাম। ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়, ২৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ সাফল্য, ইংলিশ ক্রিকেটারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্স, সবকিছু মিলিয়ে অনেকেই এবারের বাজিটা ইংল্যান্ডের ওপরই ধরেছিলেন। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সবাইকে শুধু হতাশাই উপহার দিয়েছে স্ট্রাউস বাহিনী। ভারতের সঙ্গে কোনোমতে পয়েন্ট ভাগাভাগির পর আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশের কাছে হারের স্বাদ পেয়ে পুরোপুরিই পালটে গেছে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করতে থাকা ইংলিশ ক্রিকেটাররা। আজ তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয়ের জন্য একেবারে হন্যে হয়ে গেছেন তারা। খুঁজে বেড়াচ্ছে জয়ের কৌশল। হাতড়ে বেড়াচ্ছে ন্যূনতম সম্ভাবনাটুকুও।
আজকের ম্যাচটা ইংল্যান্ডের জন্য শুধু বাঁচা-মরার লড়াই-ই না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এটাকে উল্লেখ করেছে ইংল্যান্ডের ‘নাও অর নেভার’ ম্যাচ হিসেবে। কারণ, ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন যদি এবার প্রথম রাউন্ডেই শেষ হয়ে যায়, তা হলে আগামী দুই-তিন বিশ্বকাপেও তারা এই ট্রফিটার স্বাদ নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে অনেকেই। ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি স্ট্রাউস গতকাল বুধবার বলেছেন, ‘সমীকরণটা আমাদের কাছে খুব স্পষ্ট। আমাদেরকে অবশ্যই এই ম্যাচে জিততে হবে। গত বেশ কয়েক বছরে আমরা বড় ম্যাচগুলোতে খুব ভালো খেলেছি। এবারও আমাদের খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসার সময়। আমাদেরকে খুব সাহসের সঙ্গেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হতে হবে এবং জিততে হবে।’
তবে ব্যাপারটা যে খুব বেশি সহজ হবে না সেটা স্ট্রাউসও হয়তো হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। ইনজুরি কাটিয়ে উইন্ডিজ দলে ফিরেছেন এ সময়ের অন্যতম বিধ্বংসী ওপেনার ক্রিস গেইল। অন্যদিকে এ রকম একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ইনজুরি সমস্যায় জর্জরিত ইংল্যান্ড শিবির। কেভিন পিটারসেন আর স্টুয়ার্ট ব্রড আগেই ইনজুরির ফাঁদে পড়ে ফিরে গেছেন ইংল্যান্ডে। আজ একদিনের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার পল কলিংউড ও জেমস অ্যান্ডারসনও আছেন ইনজুরি হুমকির মুখে। গতকাল অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি গ্রায়েম সোয়ান, আজমল শেহজাদ এমনকি খোদ অ্যান্ডি স্ট্রাউসও। সব মিলিয়ে বেশ ঝুঁকির মুখেই আছে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
কলিংউড ও অ্যান্ডারসন মাঠে নামতে না পারলে হয়তো দুজন পেসারের ও গ্রায়েম সোয়ানের সঙ্গে রবি বোপারা ও জনাথন ট্রটের স্পিন দিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজাতে পারে ইংল্যান্ড। পার্ট টাইম বোলার হিসেবে হয়তো দেখা যেতে পারে লুক রাইটকে। পেস আক্রমণে থাকতে পারেন টিম ব্রেসনান ও ক্রিস ট্রেমলেটকে।