Tuesday, February 19, 2019

সেক্স রোবট বিপ্লব, সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কের

যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন যে আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই ‘সেক্স রোবট’ তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। সেক্স রোবট দিন দিন জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। সৃষ্টি হয়েছে তর্কের, বলা হচ্ছে ধ্বংস হয়ে যাবে স্বাভাবিক যৌনতা ও সম্পর্কগুলো। কিন্তু তাতে থেমে নেই এর বিক্রি ও উৎপাদন। রয়েছে বিশ্বজুড়ে বিশাল বাজারের হাতছানি। মানুষকে সাহচার্য ও যৌন পরিতোষের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত এগুলোকে উন্নত করে তোলা হচ্ছে। ফলে সেক্সটয় ও ডলের মতো এগুলো মানুষ আর লুকিয়ে ব্যবহার করবে না একসময়, এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রমাগত স্বাভাবিক হয়ে উঠছে বিষয়টি।
ধারণা করা হচ্ছে এভাবেই মূলধারায় যুক্ত হয়ে যাবে সেক্স রোবট বা সেক্সবট। তবে, এ নিয়ে বিতর্কও থেমে নেই। সমালোচকদের কেউ এর থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছেন। কেউ বলছেন আইনের কথা আবার কেউ জানাচ্ছেন মানুষের মস্তিষ্কের প্রভাব যাচাইয়ের কথাও। আর নৈতিকতার প্রশ্নতো থাকছেই।
সেক্সবট কাকে বলা হবে তা নিয়ে রয়েছে নানা দ্বিধা। এর কোনো ধরাবাধা সংজ্ঞাও নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা সহজ করে বলেন, সেক্সবট হচ্ছে একটি সেক্সডল। কিন্তু এটি কথা বলতে পারে। এর রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ফলে এটি সব ধরনের কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারবে। একইসঙ্গে নিজে থেকেই সিদ্ধান্তও নিতে পারবে। তবে, এই সংজ্ঞায় এখনি ফেললে তা পুরোনো হতে সময় লাগবে না। কারণ প্রতিনিয়ত সেক্সবটকে উন্নত করে তোলা হচ্ছে, যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন ফিচারও। ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে মাইক্রোচিপ। এর ফলে তারা তার সঙ্গীর আবেগ বুঝতে পারবে এবং শিখতে পারবে।
‘মার্ক ওয়ান’ নামের এক রোবটকে তৈরি করা হয়েছে হলিউড অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসনের আদলে। এটি একটি সেক্স রোবট। কিন্তু এর নির্মাতা রিকি মা জানিয়েছেন যে তার তৈরি রোবটটি সেক্স রোবট হিসেবে কাজ করতে চায় না। একইসঙ্গে এই রোবটগুলো অন্যান্য কাজ যেমন রান্না করার মতো কাজগুলো করতে সক্ষম।
কিন্তু সেক্সবট কি নিরাপদ? একদিন হয়তো সেক্সবট সংবেদি হয়ে উঠবে কিন্তু এখনো এটি একটি পণ্যের মতোই। মার্কিন সরকারের প্রতি ইতিমধ্যে দাবি উঠেছে যাতে সেক্স রোবটকে ঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ধরা যাক একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তার সদ্য কেনা সেক্সবটকে চুমু খাচ্ছে। কিন্তু সেক্সবটের লাল ঠোটে যে টক্সিন নেই তার কি নিশ্চয়তা রয়েছে? এ ছাড়া রয়েছে ক্রাশ করার ঝুঁকিও। শুধু এ ধরনের ক্ষতিই নয় রয়েছে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকিও। সেক্স রোবট এখন তার পার্টনার থেকে শিখে সে শব্দগুলোকে ব্যবহার করছে। তার আবেগের উপর ভিত্তি করে কথা বলছে, তথ্য নিচ্ছে। কিন্তু এর গোপনীয়তা কে রক্ষা করবে? এমন দাবিও উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে।
আমরা ইতিমধ্যে সেক্সডলের পতিতালয়ের কথা জেনেছি। কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্রের হাউসটন শহরে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম রোবট পতিতালয়। তবে, এর বিরুদ্ধেও রয়েছে অনেকে। এখনো কেউ জানে না সেক্সটয়ের মতো বিশাল পরিসরে যখন সেক্সবট ব্যবহার শুরু হবে তখন তার সামাজিক প্রভাব কি হবে।  ইতিমধ্যে আমরা আমাদের প্রজন্মকে সাহসী হয়ে উঠতে দেখেছি। খুব বেশিদিন আগে নয়, যখন মানুষ তার সম্পর্কের কথা প্রকাশ করতে লজ্জা পেত। লুকিয়ে লুকিয়ে একেকটি সম্পর্ক গড়ে উঠত। এখন সেসব দিন চলে গেছে। কিন্তু মানুষ কি পারবে একটি মেশিনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা সাহসীভাবে প্রকাশ করতে? এখনো কেউ তার উত্তর জানে না। তবে, এটি নিশ্চিত সেক্স রোবট শিগগিরই সারা বিশ্বের বাজারে জায়গা করে নেবে। তাই বাস্তবতাকে মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি চ্যালেঞ্জ সমগ্র বিশ্ব প্রথমবারের মতো যার মুখোমুখি হচ্ছে।

আলী রীয়াজের বিশ্লেষণ: জামায়াতের সামনে ৪ বিকল্প

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার ও দলটির ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতার জন্য ক্ষমা না চাওয়ায় গত শুক্রবার পদত্যাগ করেন দলটির অন্যতম নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। এরপর এই প্রশ্ন যেন মাথাচাড়া না দেয়, সে জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয় আরেক কেন্দ্রীয় নেতাকে। তখন থেকে ভীষণভাবে আলোচনায় এসেছে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত দলটির সংস্কার নিয়ে।
এ প্রসঙ্গে দলটির ভেতরের মতভেদ কীভাবে কমবে? দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ কি দলের দ্বন্দ্বকে বাড়িয়ে দিলো? এসব বিষয়ে বিবিসির প্রত্যুষা অনুষ্ঠানে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর আলী রীয়াজ।
প্রফেসর আলী রীয়াজ: দ্বন্দ্ব বেড়েছে কিনা সেটা আমরা আরো খানিকটা সময় নিয়ে বুঝতে পারবো। তবে এটা স্পষ্ট যে, ধরুন ২০০১ সাল থেকে যে সমস্ত পারস্পরিক ভিন্নমত বা দ্বন্দ্ব ছিল, সেগুলো এখন অনেক বেশি খোলামেলা হয়ে দাঁড়ালো। দ্বিতীয় বিষয় যেটা, ২০০১ সালের পর থেকে জামায়াতের ভেতর যে এই সমস্ত আলোচনা চলছিল, সংস্কারের আলোচনা, ১৯৭১ সালের তাদের ভূমিকার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, এই বিষয়গুলো নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল, তখন এ বিষয়ে বাইরে কথা বলার লোক ছিল না। এখন যেটা হলো, এই বক্তব্যগুলো সুস্পষ্টভাবে বলার মতো একজন প্রতিনিধি আমরা দেখতে পাচ্ছি। আবদুর রাজ্জাক যেটা করছেন বা একসময়ের শিবির নেতা, মজিবুর রহমান তিনিও যেটি করছেন, এখন তাদের কাছে আমরা প্রশ্ন করতে পারছি।
তারা এই সংস্কারের প্রশ্নগুলোকে ব্যাখ্যা করতে পারছেন। যেটা আগে ছিল না। ফলে দলের ভেতরেও যে সমস্ত কর্মী সমর্থক, সংগঠক আগে এগুলোর ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছিল না, তারা এখন পাবেন। ফলে দল ও দলের বাইরে এর আলোচনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, প্রতিনিধি তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন: আপনি  বলছেন, এই পদত্যাগ বা বহিষ্কারের যে ঘটনা সেটির ফলে জামায়াতে ইসলামীর দলের ভেতরেই এক ধরনের আলোচনার জায়গা তৈরি হলো। এবং একটি মতভেদও তৈরি হলো। এই মতভেদের সমাধান কীভাবে হবে?
আলী রীয়াজ: মতভেদের সমাধান কয়েকভাবে হতে পারে। সেটা নির্ভর করছে যে, জামায়াতের নেতৃবৃন্দ কী করতে চান। একটা হচ্ছে সংস্কার, যেটার প্রস্তাব আবদুর রাজ্জাক ও অন্যরা তুলেছেন। সেগুলো যদি জামায়াতের নেতারা গ্রহণ করেন, সেটা একটা সমাধান। দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে তারা কিছুই না করতে পারেন। তৃতীয় বিকল্প হচ্ছে, তাদের অন্যরকম সংস্কার হতে পারে। অর্থাৎ, তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে, সরকারি যে দল আছে তাদের সঙ্গে এক ধরনের আপস-সমঝোতা করে তাদের রাজনীতি অব্যাহত রাখবেন। চতুর্থ বিকল্প যেটা হতে পারে, তারা রাজনীতি থেকে সরে আসবেন এবং সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। সেটাও তারা করতে পারেন। ফলে বিভিন্ন রকম সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে ইঙ্গিত আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে না, যে সমস্ত সংস্কারের কথা আবদুর রাজ্জাক ও অন্যরা বলেছেন, আমি অনুমান করছি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের একটি বড় প্রভাবশালী অংশ সেটা গ্রহণ করছেন না। ফলে সমাধানের পথগুলো তারা কীভাবে বিবেচনা করবেন, তাদের প্রক্রিয়া কী হবে এবং তারা তা কোথায় নিয়ে যেতে চান সেটা এখন আগামী কয়েক দিনে বোঝা যাবে বলে আমি মনে করি না। তবে ভবিষ্যতে তার একটা প্রতিফলন আমরা দেখতে পাবো।
প্রশ্ন: মিশর, তিউনেশিয়ার মতো বিভিন্ন  দেশে দেখা গেছে যে, টিকে থাকার জন্য ইসলামী দলগুলো তাদের শক্ত অবস্থান থেকে সরে এসে সংস্কার এনেছে দলে, সেটি যদি জামায়াত করে, আপনি যেটি বলছিলেন যে, বেশ কয়েকটি উপায় তাদের সামনে খোলা রয়েছে, তাহলে তাদের গ্রহণযোগ্যতায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে?
আলী রীয়াজ: দেখুন, মিশর বা তিউনেশিয়ার কথা বলছিলেন। সেখানে সংস্কার যেগুলো হয়েছে, তাতে দু’টো বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে। একটা হচ্ছে আদর্শিক সংস্কার। তিউনেশিয়ার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সেটা একটা আদর্শিক সংস্কার। রশীদ ঘানুচি, যিনি তিউনেশিয়ার আন্নহাদা দলের নেতৃত্ব দেন, আদর্শিকভাবেই ইসলামপন্থি রাজনীতি রাষ্ট্রকে কীভাবে দেখবে, নাগরিকের অধিকার কীভাবে দেখবে, নারীর অংশগ্রহণকে কীভাবে দেখবে, এসমস্ত বিষয়ে অতীতে যে সমস্ত ইসলামপন্থি নেতা ছিলেন, যেমন আবুল আ’লা মওদুদী বলুন, সাঈদ কুতুব বলুন, তাদের থেকে সরে এসে তিনি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এবং সেটা গৃহীত হয়েছে, একভাবে অগ্রসর হয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটি পদ্ধতি, যেটা সাংগঠনিক বিষয়। সেটা হচ্ছে, আমরা আদর্শিকভাবে কিছুই পরিবর্তন না করে এখন সাময়িকভাবে রাজনীতি থেকে সরে এসে সামাজিক কাজে যুক্ত থাকবো। সেটা মুসলিম ব্রাদারহুড একসময় করেছে, এখনো করছে। হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে আমরা সেই প্রক্রিয়া দেখতে পেয়েছি, হামাসের ক্ষেত্রে দেখতে পেয়েছি। ফলে কোন ধরনের সংস্কার তারা গ্রহণ করছে। জামায়াতের ক্ষেত্রে প্রশ্নটা কেবল ১৯৭১ সালে তাদের কৃতকর্মের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ই না। সংস্কারের বিষয়টা তাদের দলীয়ভাবে আদর্শিক অবস্থানের পরিবর্তন। যদি এখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নেন, তারা আসলে সংস্কার করতে চান।
তাহলে কোন ধরনের সংস্কার করতে চান, আদর্শিক সংস্কার? তাহলে তাদের নেতা মওদুদীর যে পথ, সেখান থেকে তাদের সরে আসতে হবে। তবে সে অবস্থান তারা গ্রহণ করবেন কিনা, সেটা আসলে অনেক বেশি আলোচনার বিষয়। যেটা আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, যেকোনো ইসলামপন্থি দলগুলোর ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে যেটা ঘটেছে, ঘটছে, জামায়াত সেটা করেনি। সেগুলো যদি তারা করতে পারতেন, তাহলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হতো কিনা বা হবে কিনা, সেটা নির্ভর করছে তারা কোন সংস্কারটা করছেন, কোন অবস্থান তারা নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতার জন্য কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করছেন। আদর্শিক অবস্থানকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র সাংগঠনিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে, আমার কাছে তা মনে হয় না। সেটার অন্যত্র হয়নি।

ইহুদি-বিদ্বেষের প্রতিবাদে বৃটেনে লেবার পার্টি থেকে ৭ এমপি’র পদত্যাগ

দলীয় প্রধান জেরেমি করবিনের বিরোধিতা করে দল ছেড়েছেন বৃটেনের বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রভাবশালী সাত এমপি। তারা বলছেন, ব্রেক্সিট ও ইহুদি-বিদ্বেষের প্রতি দলীয় প্রধানের অবস্থানের সঙ্গে তারা একমত নন। এর প্রতিবাদেই দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সাত এমপি হলেন- চুকা উমুনা, লুসিয়ানা বার্গার, ক্রিস লেসলি, অ্যাঙ্গেলা স্মিথ, মাইক গেপস, গাভিন শুকার ও অ্যান কফি। পদত্যাগের বিষয়ে লুসিয়ানা বার্গার বলেন, লেবার পার্টি এখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইহুদি বিদ্বেষী হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি দলে থাকতে বিব্রত ও লজ্জিত বোধ করছেন। আরেক এমপি চুকা উমুন্না বলেন, তারা প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছেন। এখন দলের অন্য এমপি ও সদস্যদেরকে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে নতুন রাজনীতি গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছেন।
ক্রিস লেসলি বলেন, পদত্যাগকারী এমপিরা ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে দ্রুতই বৈঠকে বসবেন। তবে তারা নতুন দল গঠনে আগ্রহী নন। এখন পার্লামেন্টে তারা স্বতন্ত্র সদস্যের আসনে বসবেন। ইতিমধ্যেই মুখপাত্র হিসেবে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রুপ নামে একটি ওয়েবসাইট ও টুইটার অ্যাকাউন্ট চালু করেছেন তারা। প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালেও লেবার পার্টিতে এমন ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছিল। তখন সংস্কারপন্থীরা এসডিপি নামে পৃথক একটি দল গঠন করে। পরে যা লিবারেল পার্টির সঙ্গে একীভূত হয়। তবে ওই এসডিপি’র সঙ্গে নিজেদের তুলনা করতে নারাজ পদত্যাগকারী সাত এমপি। বলেন, ভবিষ্যতে তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন না।
একসঙ্গে ৭ এমপি’র পদত্যাগের বিষয়ে পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন বলেন, ২০১৭ সালের নির্বাচনে যে নীতি লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে, পদত্যাগকারীরা ওই নীতির পক্ষে কাজ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করায় তিনি হতাশ।

আমাদের পেছনে কেউ নেই অনেকের সমর্থন আছে -সাক্ষাৎকারে মজিবুর রহমান মঞ্জু by কাফি কামাল

রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেই দলের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে নতুন এক সংকটের মধ্যে পড়েছে জামায়াতের রাজনীতি। সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে সামনে রেখে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন লন্ডনে অবস্থানরত সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকসংস্কার প্রস্তাব দিয়ে তার পক্ষে জনসমর্থন সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়ায় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু
জামায়াতের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রচর্চার দাবিসহ নানা ইস্যুতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্বস্তির মধ্যে ছিলেন জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব। সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যদিয়ে নতুন করে সংকটের মধ্যে পড়ছে দলটি। অবশ্যই রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে দেখা যাচ্ছে- মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, নতুন কৌশলে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে জামায়াত; আবার কেউ বলছে, জামায়াতে ভাঙন ধরাতে আমাদের কৌশল বাস্তবায়নের উদ্যোগ এটি। জামায়াতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের দায়, অদূরদর্শিতা, নতুন উদ্যোগ, উদ্যোগের নেপথ্যে, ইসলামী রাজনীতির উপযোগিতাসহ নানা বিষয়ে মানবজমিনের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেছেন জামায়াতের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু।
প্রশ্ন: জামায়াতের সংস্কারের যে আওয়াজ তুলেছেন, সেটার পেছনে কারা আছে?
মঞ্জু: আমার পেছনে দেয়াল দেখা যাচ্ছে। আমার সামনে যারা আছে তাদের নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই। আমি বলেছি, ক্লেইম করছি- এ ধরনের চিন্তাটা আমাদের সবার মাঝেই আছে। আমি একটু ঝুঁকি নিয়ে কথাগুলো বলেছি। দায় নিয়েই বলেছি। বাংলাদেশের এ ধরনের পরিস্থিতিতে তরুণদের উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলেছি। যারা বাংলাদেশ নিয়ে ভাবেন। তারাই আমাদের পথ নির্দেশক। আমার কথাগুলো যৌক্তিক হলে অবশ্যই তাদের সাড়া পাব, এটাই বিশ্বাস।
প্রশ্ন: সংস্কার প্রস্তাবটি রাজনীতির এই মুহূর্তে এসে কেন? এ উদ্যোগ কি জামায়াতকে আরো খাদের কিনারে ঠেলে দেবে?
মঞ্জু: এই কথাগুলো এই মুহূর্তে বলিনি। এগুলো আমাদের দলের মধ্যে বিভিন্ন পর্ষদে আমরা বলেছি। এ আলোচনাগুলো বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। এ বিষয়ে কবে থেকে কথা বলছেন সেটা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ডকুমেন্টারি আকারে লিখেছেন। ফলে এখন এসব বিষয়ে বলছি বা আলোচনায় এসেছে বিষয়টি কিন্তু তা নয়। বিভিন্ন সময়ে ব্যাপারগুলো আলোচনায় এসেছে। এটা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায়। তিনি বলেন, দলে এসব আলোচনা হয়েছে। দল বলেছে, আমরা একটি প্রোগ্রেসিভ চিন্তা করছি। দল বলছে, আমি যে ওয়েতে কথাগুলো বলেছি, এটা গঠনতান্ত্রিকভাবে শুদ্ধ নয়। আমি আমার পরিতৃপ্তি হচ্ছে, আমি আমার কথাগুলো বলতে পেরেছি। আমার মনে হয় প্রসেসকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে আমার কথাগুলোর যৌক্তিকতার গুরুত্ব দেয়া উচিত। আমার কথাগুলো দাবি গুলো যদি যুক্তিপূর্ণ হয় তবে দল গ্রহণ করবে। বহিষ্কার নিয়ে দ্বিমত নেই। তবু অনেক দিনের সম্পর্ক তাই খারাপ তো লাগেই।
প্রশ্ন: অতীতে জামায়াত-শিবিরের সংস্কারের উদ্যোগ যারা নিয়েছেন তারা এবং তাদের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে, আপনারা কতটুকু আশাবাদী?
মঞ্জু: সাফল্য-ব্যর্থতা আপেক্ষিক ব্যাপার। আমি মনে করি কোনো উদ্যোগই ব্যর্থ হয় না। সংস্কার প্রক্রিয়াটা জটিল এবং কঠিন। পৃথিবীতে যারাই সংস্কারের কথা বলেছেন, তারাই কিন্তু নিগৃহীত ও নির্যাতিত হয়েছেন। তাদের কথাগুলো একটা পর্যায়ে বাস্তবায়ন হয়েছে। অতীতের ব্যর্থতার ব্যাপারে দ্বিমত করে বলবো, কাউকে ব্যর্থ বলতে চাই না। কে সফল কে ব্যর্থ সেটা বলা কঠিন। আমি মনে করি এ সমস্ত প্রয়াসের ফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ভোগ করবে এবং এগিয়ে যাবে। 
প্রশ্ন: সংস্কারের এই উদ্যোগ নিয়ে দুই ধরনের গুঞ্জন এখন রাজনৈতিক মহলে। কেউ বলছে, জামায়াতের ঘুরে দাঁড়ানোর কৌশল এটা আবার কেউ বলছে, জামায়াতে ভাঙন ধরানোর জন্য সরকারের কৌশল- আসলে কি?
মঞ্জু:  এগুলো সবই ধারণাপ্রসূত এবং অপপ্রচার। এ ধরনের অভিযোগ, ব্লেইম গেম বাংলাদেশের রাজনীতিতে আছে- এগুলো নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমরা যে চেষ্টা করছি সেটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য অনেকে অনেক কথা বলবে। সেটা সময়ই বলে দেবে কোনটি সত্য। আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, আমরা সিনসিয়ারলি চাইছি এবং আমরা সে চেষ্টাটা করে যাবো। এটা আমাদের কমিটমেন্ট।
প্রশ্ন: ইতিমধ্যে কেমন সাড়া পেয়েছেন বা পাচ্ছেন?
মঞ্জু: এটা মিশ্র। অনেকেই সাড়া দিচ্ছেন, ফোন করছেন, সাধুবাদ জানাচ্ছেন। মেইন স্ট্রিমের অনেকেই আমাকে ফোন করেছেন। তারা বলছেন, তোমরা যেটা বলছো সেটা যদি সিনসিয়ারলি বলে থাকো তাহলে আমাদের জন্য দোয়া করছেন। আসলে ভালোবাসা যেমন পেয়েছি, তেমনি প্রতিকূলতাও পেয়েছি। কটু বাক্যবানেও জর্জরিত হয়েছি। যারা কটুবাক্য বলছেন, তারা হয়তো তাদের বিশ্বাস থেকে বলছেন। এটা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আমি সারাজীবন কাজ করেছি, এখনো এটা আমার প্রত্যয়। তিনি বলেন, আমি যে কথাগুলো বলেছি সেগুলো অনেকের মনের কথা। অনেকেই অনেক কারণে হয়তো সেগুলো বলতে পারছে না। আমি হয়তো একটি শক্তি দিয়ে বলেছি। অনেকের সমর্থন আছে। আমি মনে করি এটা নিয়ে ওপেন বিতর্ক হতে পারে। একটা জরিপ তো চলতে পারে। দলে এসব দাবিও করেছি। আমাদের বেশিরভাগ লোকদের মধ্যে এটা আছে আমি মনে করছি। এটার সঙ্গে অনেকের সমর্থন থাকবে, অনেকেরই সায় আছে।
প্রশ্ন: উদ্যোগের নেপথ্যে কারা আছেন সেটার জবাবে বারবার বলছেন- ‘আমরা’, এই আমরা কারা?
মঞ্জু: আমরা হচ্ছে, আমাদের কমন এপ্রোচ। আমি যখন একটি কথা বলি তখন তো অনেকেই আমাকে সমর্থন করেন। তারা তো আমার সহযাত্রী। যখন আমি বলি তখন এটা শক্তিশালী হয়।
প্রশ্ন: বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কি?
মঞ্জু: জাতীয়তাবাদী না বলে আমি বলবো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে বিশ্বাস সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা। মুক্তিযুদ্ধের এই চেতনার সঙ্গে ধর্মীয় অনুপ্রেরণার সমন্বয়ে কল্যাণের চিন্তা নিয়ে যে রাজনীতি হবে সেটাই হবে বাংলাদেশে শক্তিশালী রাজনীতি। আপনি যে ধারার কথা বলেছেন, এটা তার চেয়েও শক্তিশালী হবে। আমরা যেটা বলছি সেটা এখনও তাত্ত্বিক, যখন আমরা সেটা নিয়ে কাজ করবো, আহ্বান করবো তখন অনেক চিন্তাযুক্ত হবে, অনেক গতিশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারবো।
প্রশ্ন: আপনারা যাদের জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির ব্যাকগ্রাউন্ড আছে তারা নতুন উদ্যোগের নেতৃত্বে থাকলে রাজনীতিতে কতটুকু গ্রহণযোগ্য পাবেন বলে মনে করেন?
মঞ্জু: আমরা সফল হবো কিনা সেটা নির্ভর করবে আমরা কি নিয়ে পথ চলছি তার ওপর। আমাদের মধ্যে যদি সিনসিয়ারিটি থাকে, আমাদের কথাগুলো যদি প্রোপারলি বলতে পারি, কথাগুলো যদি যুক্তিপূর্ণ হয় তবে অবশ্যই সফল হব। যদি আমাদের কথাগুলো কৃত্রিমতা নিয়ে, কোন ধরনের ইশারা ইঙ্গিতের মধ্যদিয়ে চলতে চাই তাহলে তো সফল হবো না। আমি তো একটি আন্তরিক পরিবেশের মধ্যে ছিলাম। আমাদের এই বিদ্রোহ করতে, এই সত্য কথা বলতে যারা শিখিয়েছেন, তাদের কথাই তো আমরা বলছি। আমরা প্রলুব্ধ হলে, হতাশ হলে বা প্রতিবন্ধকতায় টলে গেলে তাহলে নিশ্চিত পরাজয় ঘটবে। আশা করছি, সবার সহযোগিতা আমরা পাবো।
প্রশ্ন: এ উদ্যোগের মাধ্যমে কি প্রকাশ্যে আসার সুযোগ পেয়েছেন বা পাচ্ছেন?
মঞ্জু: আমি সবসময় প্রকাশ্যে ছিলাম। আর আমি তো এমন বড় কিছু করেছি বা করছি তা নয়। আমি কিছু ভয়েস রেস করেছি, কিছু লেখালেখি করেছি, দলের কাছে লিখিতভাবে কিছু দাবি দিয়েছি এই তো। এখন এটাকে তো কোন অপরচুনিটি বলা ঠিক হবে না। 
প্রশ্ন: সংস্কারের এই উদ্যোগ নিয়ে নতুন পথচলায় কতদূর যেতে চান?
মঞ্জু: দেশের একটি ক্রান্তিলগ্নে জাতির মুক্তির যে আন্দোলন, একটি সুশাসনের যে আন্দোলন, ছাত্র ও শ্রমিক অধিকারের যে আন্দোলন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন- সবমিলিয়ে এগুলোই আমাদের জাতীয় মুক্তির আন্দোলন হওয়া উচিত। এখন আমাদের যে অপ্রাপ্তিগুলো- জাতীয় ঐক্য, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার যে কাজগুলো আমরা করতে পারিনি সেটা করতে আমরা কমিটেড। আমরা এটার জন্য কাজ করবো। দেশের প্রয়োজনে কাজ করবো।
প্রশ্ন: যে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির শীর্ষ নেতা ছিলেন সে সংগঠনের ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির বিকাশ অব্যাহত আছে নাকি, স্থবিরতা তৈরি হয়েছে? 
মঞ্জু: ক্যাডার শব্দটি শুনতে আমরা একটু অন্যভাবে মনে করি। আসলে এটা স্তরবিন্যাস। আমি মনে করি, ছাত্রছাত্রীদের মেধা ও নেতৃত্ব বিকাশে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক পন্থা। এটাতে আমরা যথেষ্ট সাফল্য পেয়েছি। ছাত্রদের মান উন্নয়নের জন্য, একটি স্তরে পৌঁছে দেয়ার জন্য এক ধরনের ইম্প্রেশন বা আকাঙ্ক্ষা তার মধ্যে কাজ করে। এই রাজনীতিতে ছাত্রদের গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। ছাত্রদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কমাতে হবে। রাজনীতি বোধটা থাকতে হবে। আমাদের দেশে ছাত্রদের যেভাবে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেটা বন্ধ করতে হবে। আমরা যে নতুন রাজনীতির কথা বলছি, সেখানে এটা আমাদের প্রত্যয়। ছাত্ররা তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলবে, ছাত্ররা কাউকে এমপি বানানো, মন্ত্রী বানানো বা কোনো সরকারকে উঠানো বা নামানোর জন্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে না।
প্রশ্ন: নেতৃত্ব নির্বাচন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জামায়াতের অভ্যন্তরে কতটুকু গণতন্ত্র চর্চা হয়?
মঞ্জু: অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তুলনা করলে বলব জামায়াতের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চাটা বেটার। কিন্তু আরো যুগোপযোগী করার প্রয়োজন আছে। জামায়াতের চেয়ে ছাত্ররাজনীতিতে আমার ভূমিকা বেশি ছিল এবং সেখানে গণতান্ত্রিক চর্চা করেছি। জামায়াতের এখনকার যে পরিবেশ যেটা, যেসব ত্রুটি আছে সেগুলোকে যদি দূর করা যায় তাহলে গণতন্ত্র চর্চা আরো শানিত হবে।
প্রশ্ন: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের কতটুকু দায় আছে বলে মনে করেন?
মঞ্জু: নেতৃত্বের দায় তো থাকেই। নেতৃত্বই তো দলকে পরিচালিত করেন। তবে জামায়াতকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে। তাদের শীর্ষ সারির নেতাদের বিচারে আইনের প্রক্রিয়ায় বিষয়গুলোর ফায়সালা করা হয়নি। প্রবল প্রতিরোধ তাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের ওপর যে বিরাট ডিফ্রেশন সেটাকে মোকাবিলা করা কঠিন। তাই নেতৃত্বের সফলতা বা ব্যর্থতা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। যারা এ আদর্শের আন্দোলনটা করে এসেছেন তাদের অনেক অ্যাসিভমেন্ট আপনারা পাবেন। কিন্তু কতটুকু তারা করতে পারতো সেটা যদি আপনি দেখেন তবে তাদের ঘাটতিগুলো ধরা পড়বে। নেতৃত্বের দায়তো আছেই।
প্রশ্ন: রাজনীতিতে জামায়াতের কোন সিদ্ধান্তগুলো ভুল ছিল বলে মনে করেন?
মঞ্জু: জামায়াত যে আদর্শ ভিত্তিক আন্দোলন সংগ্রাম করেছে বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে, দার্শনিক তত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে এটা সময়ে সময়ে যুগোপযোগী করা দরকার ছিল। এই জায়গায় আমরা বলতে চেয়েছি যে, সঠিকভাবে যুগোপযোগী করা হয়নি। বলেছি, সময়ের দাবির সঙ্গে সঙ্গে সংস্কার করতে হবে। বর্তমান দাবি এবং পরিস্থিতির সঙ্গে আপডেটেশন করতে হবে। তিনি বলেন, রাজনীতি একটি কঠিন কার্যক্রম। রাজনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুলত্রুটি থাকবেই। মৌলিক জায়গায় যে ভুল বা সীমাবদ্ধতাটা আমরা দেখতে পাচ্ছি সেটা হচ্ছে- স্বাধীনতা যুদ্ধের জায়গায় পরিস্কার একটি অবস্থান জামায়াতকে ঠিক করতে হবে।
প্রশ্ন: শিবিরের রাজনীতির আগে কি অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
মঞ্জু: আমি শৈশবে সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ছোটবেলায় ছাত্র ইউনিয়নের প্রতি একটি প্যাসিনেশন ছিল। তাদের ভালো ভালো দেয়াল লিখন থাকতো। কিন্তু অন্য কোনো সংগঠন করতাম না। আমি শিবিরে যুক্ত হয়েছি ১৯৮৮ সালে। আমার আব্বা ও বোনের জামাইরা সবাই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আমাদের পারিবারিকভাবে একটি শ্রদ্ধাবোধ আছে। যখন শিবির করি তখন বড় বোনের বাসায় ছিলাম। তার স্বামী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা এটা ভালোভাবে নেয়নি। বিভিন্ন জায়গায় আমাকে পালিয়ে থাকতে হয়েছে।
দুলাভাই পুলিশ দিয়ে খুঁজেছেন। তখন সংগঠনের নেতারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আমার জীবনে শিবিরের অবদান অনেক বেশি। ছাত্রশিবিরের কাছ থেকে আমি একটি বিপ্লবী অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এটা আমি আমার জীবন থেকে আলাদা করতে পারি না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একবার আমার উপর হামলা হয়েছিল। মাথায় ইটের আঘাত পেয়ে আমি সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। হামলাকারীরা মৃতভেবে চলে যাওয়ার পর আমার সহপাঠী ও শিক্ষকরা এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ঢাকায় ২৮শে অক্টোবর একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা তো জীবন দেয়ার প্রেরণা নিয়েই ছাত্ররাজনীতি করেছি।

পাকিস্তানে নিজেকে উজার করে দিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স

সৌদি আরবের জেলে আছেন এমন দুই হাজারের বেশি পাকিস্তানি বন্দিকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তান সফরে আসা ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি সোমবার সকালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সৌদি আরবে বসবাসকারী পাকিস্তানিদের জন্য যা কিছু সম্ভব তার সবই করবেন। এর আওতায় ওইসব বন্দিকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেন ক্রাউন প্রিন্স। এ কথা বলেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা অনলাইন ডন।
রোববার রাতে ক্রাউন প্রিন্সকে প্রধানমন্ত্রী ভবনে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ সময় তিনি সৌদি আরবে পাকিস্তানের যেসব শ্রমিক কঠিন অবস্থায় রয়েছেন তাদের জন্য ক্রাউন প্রিন্সের কাছে বিশেষ অনুরোধ রাখেন। তিনি আহ্বান জানান, ‘তাদেরকে আপনার নিজের মানুষ হিসেবে দেখুন’।
ইমরান খান আরো বলেছেন, বর্তমানে সৌদি আরবের জেলখানায় বন্দি আছেন প্রায় তিন হাজার পাকিস্তানি। ক্রাউন প্রিন্সের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আপনি তাদের দিকে এভাবে তাকান যে, তারা গবির মানুষ। পরিবারকে ফেলে গেছেন দেশে।
সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে নিশ্চয়তা দেন ক্রাউন প্রিন্স। তিনি বলেন, ক্রাউন প্রিন্সকে যেন সৌদি আরবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি অব্যাহতভাবে বলে যেতে থাকেন- আমরা পাকিস্তানকে না বলতে পারি না। আমরা যা পারি তার সবই করবো।
সোমবার এ নিয়ে টুইট করেছেন ইমরান খান। তিনি তাতে বলেছেন, পাকিস্তানের জনগণের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স। বিশেষ করে আমি যখন সৌদি আরবে কর্মরত পাকিস্তানি প্রায় ২৫ লাখ শ্রমিকের বিষয়ে অনুরোধ করেছি তিনি যখন বলেছেন, ‘আমাকে সৌদি আরবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিবেচনা করুন’।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী এক টুইট করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অনুরোধে ক্রাউন প্রিন্স সৌদি আরবের জেল থেকে ২১০৭ জন পাকিস্তানি বন্দিকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন তাৎক্ষণিকভাবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশিও ক্রাউন প্রিন্সের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অবিলম্বে পাকিস্তানি বন্দিদের মুক্তির নির্দেশ দেয়ার বিষয়ে তিনি উদারভাবে সম্মতি দিয়েছেন বলে এমন প্রশংসা করেন তিনি। কুরেশি আরো বলেন, বাকিদের বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়ায় পাকিস্তানের জনগণ ক্রাউন প্রিন্সকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

শেবাচিমের ডাস্টবিনে ২২ অপরিণত শিশুর মরদেহ

বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ময়লার স্তূপ থেকে ২২টি অপরিণত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এসব মরদেহ দেখতে পান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। একসঙ্গে এতগুলো মানবশিশুর মরদেহ এভাবে ফেলে দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় ঘটনা জানাজানির পর। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার কিছুই বলতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল মোদাচ্ছের আলী কবির জানান, রাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হাসপাতালের পশ্চিম পাশে কেন্দ্রীয় পানির ট্যাংকের পাশে থাকা ডাস্টবিনের ময়লা অপসারণ করছিলেন।
এ সময় তারা ময়লার ভেতরে বালতি ভরা অপরিণত শিশুর মরদেহগুলো দেখতে পান।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান তারা। তিনি বলেন, সেখানে ২২টি অপরিণত শিশুর মরদেহ ছিল। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এগুলো মেডিকেল কলেজের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রিজার্ভ (ফরমালিন দেয়া) করা বহু পুরনো নবজাতক হতে পারে; যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দেয়া হয়। যেগুলো এখন ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় ফেলে দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তদন্তের পর সবকিছু পরিষ্কার হবে বলে তিনি জানান।

রগরগে উর্বশী

এরইমধ্যে বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন উর্বশী রাউটেলা। তার অভিনয়, সৌন্দর্য নজরও কেড়েছে দর্শকদের। সর্বশেষ গত বছর ‘হেট ষ্টোরি-৪’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এ ছবিতে রগরগে দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হন এ নায়িকা। এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন তিনি। এবার নতুন ছবি নিয়ে সামনে আসছেন তিনি। তার এ ছবিটির নাম ঠিক হয়নি। প্রযোজনা করছে জয়তু  প্রোডাকশন।
ছবির প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। ছবির গল্পও গড়ে উঠেছে তাকে নিয়ে। ছবিতে একজন সংগ্রামী তরুণীর ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। শুধু তাই নয়, ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে এরইমধ্যে একাধিক রগরগে দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দী হয়েছেন তিনি। ‘হেট ষ্টোরি’-৪’ কেও নাকি হার মানাবে এসব দৃশ্য। এমনকি ছবিতে একটি নগ্ন দৃশ্যেও ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন তিনি। আর ছবির একটি দৃশ্যের টপলেস ছবি প্রকাশ করেছেন উর্বশী নিজেই। তার ক্যাপশনে লিখেছেন, নতুন রুপে সবার সামনে আসছি। তবে পুরোনো সেই সুপারহট উর্বশীকেই আপনারা পাবেন। অপেক্ষায় থাকুন।

অনড় সুলতান মনসুর ১৫ই মার্চের মধ্যে শপথ

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর অনড়। সংসদে যাবেন। শপথ নেবেন। স্বাধীনতার মাসেই। ১৫ই মার্চের মধ্যে। কারণ হিসেবে বললেন, অনেক কথা। জানালেন, তার নির্বাচনী এলাকার শতভাগ মানুষ চায় তিনি সংসদে যান। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে খোলামেলা কথা বলেন ডাকসুর এই সাবেক ভিপি।
বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে যারা সরব হয়েছিলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর তাদের মধ্যে অন্যতম। ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তবে সংস্কার ইস্যুতে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। একসময় সরব হন ঐক্যপ্রক্রিয়ায়। ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নেন গণফোরামের হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে। ঐক্যফ্রন্টের জয়ী হওয়া আট এমপির মধ্যে তিনি একজন।
ঐক্যফ্রন্ট এরই মধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে নির্বাচন। বলেছে, রাতেই ব্যালট বাক্স বোঝাই হয়ে গেছে। বিজয়ী এমপিদের শপথ না নেয়ার কথাও বলা হয়েছে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে। কিন্তু সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলছেন তিনি শপথ নেবেন। মানবজমিনের সঙ্গে তার আলাপচারিতা-
আপনি কী শপথ নিতে যাচ্ছেন?
আমার সংসদীয় এলাকার জনগণ চায়, তারা যেহেতু আমাকে ভোট দিয়েছে। তাদের দাবি হচ্ছে- সংসদে গিয়ে তাদের পক্ষে কথা বলা। তাদের দাবি আদায় করা। পাশাপাশি জাতীয় দাবিও বাস্তবায়ন করা। সেক্ষেত্রে আমাকে প্রথম অগ্রাধিকার দিতে হবে আমার সংসদীয় এলাকার জনগণের মতামতকে। আমার সংসদীয় এলাকা মৌলভীবাজার-২ আসনের শতকরা ১০০ জনের উপরে আর তো কোনো কথা থাকে না। দলমতনির্বিশেষে সবাই চায় আমি জাতীয় সংসদে গিয়ে তাদের পক্ষে কথা বলি। জনগণের পক্ষে কথা বলি এবং মানুষের দাবি তুলে ধরি।
আপনার দল তো শপথ নেয়ার বিপক্ষে
আমি গণফোরামের সদস্য হয়ে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। তবে প্রকৃতপক্ষে আমি গণফোরামের কোনো কর্মকর্তা না। আর আমি গণফোরাম দলগতভাবে কখনো করিও নাই। যেহেতু নির্বাচনে একটি নিবন্ধিত দলের মাধ্যমে প্রার্থী হতে হয় সেই ক্ষেত্রে আমি মূলত ছিলাম জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার মুখপাত্র বা জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটিতে ছিলাম। যখন নির্বাচনের প্রশ্নটি আসলো তখন আমি ভাবলাম আমি যে রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করি, আমি যে রাজনীতি দীর্ঘদিন যাবৎ করে আসছি বা গত ৫০ বছর যাবৎ সেই অর্থে আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করি। আমি মুক্তি সংগ্রামের চেতনায় বিশ্বাসী। কাজেই সেই অবস্থান এবং বিশ্বাস থেকে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আমি ভেবেছি যে, আমার চিন্তার পাশাপাশি দল হচ্ছে গণফোরাম। সেই হিসেবে আমি গণফোরামের সদস্য হয়ে, তাদের দলের তালিকাভুক্ত হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেই। ঐক্যফ্রন্টের সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ধানের শীষ মার্কাটি নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেহেতু আমি ধানের শীষে নির্বাচন করেছি। ধানের শীষ মার্কা একসময়ের মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সাহেবের মার্কা ছিল। এটা এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মার্কা।
আপনাকে দল যদি বহিষ্কার করে তখন কী করবেন?
আমি যতটুকু জানি গণফোরাম যার সদস্য পদ নিয়ে আমি প্রার্থী হয়েছিলাম সেই দল সংসদে যাবে না এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি। কারণ আমি গণফোরামের সিদ্ধান্ত জানি। গণফোরামের শীর্ষ নেতা নির্বাচনের পর প্রথম যে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন সেখানে তিনি বলেছিলেন যে, জাতীয় সংসদে যাওয়ার প্রশ্নে তিনি এবং তার দল ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। অর্থাৎ যাওয়ার পক্ষে থাকবে।
কিন্তু পরবর্তীকালের সিদ্ধান্ত তো পাল্টে গেছে না এরকম কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয় নি। ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করুন সম্ভবত দেখবেন তার দলের আমরা নির্বাচিত হয়েছি দু’জন। আমরা শপথ গ্রহণ করবো।
ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন? না পুরনো দলেই ফিরে যাবেন?
আমার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বক্তব্যে বিশেষ করে ২০১২ সাল থেকে আমি মুক্তি সংগ্রামের ধারায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের সেবা করে যাবো। যতদিন আমি বেঁচে থাকবো। আমি এমন কোনো কাজ করবো না যে কাজটি জনগণের চিন্তার বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রামের বিরুদ্ধে বা স্বাধীনতার চেতনার বিরুদ্ধে। জনগণের পক্ষে থাকবো এবং সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলেই রাজনীতি করার মানসিকতা আমার রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমি সেই রাজনীতিই করবো।
নির্বাচনটা কেমন ছিল
আমার সংসদীয় এলাকায় একটা ভয়ানক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আমাকে ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হয়েছে। স্বাভাবিক এবং শান্তিপূর্ণ বলতে যেটা বোঝায় যা ১৯৯১ বা ’৯৬ বা ২০০৮ সালে হয়েছিলো সেরকম নির্বাচন হলে আমি লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করতাম। কাজেই একটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে জনগণ যেহেতু আমার এলাকার মানুষ দলমতনির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ ছিল সেই কারণেই হয়তো জয়ের ব্যবধান কমেছে কিন্তু সেই নির্বাচনে কিছু অস্বাভাবিকতা কাজ করেছে এবং কিছু অতি উৎসাহী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক বিশেষ করে পুলিশ। আমি পুরো পুলিশ বাহিনীকে বলবো না কিন্তু অতি উৎসাহী এই বাহিনীর কিছু লোকজন বিভিন্নভাবে এই নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণে আমার এলাকায় কোনো ষড়যন্ত্রই আমার জয় বানচাল করতে পারে নি।
এটা কি শুধু কুলাউড়া? সারা দেশের পরিস্থিতি কেমন ছিল?
আমি যেহেতু নির্বাচন কুলাউড়ায় করেছি সেহেতু কুলাউড়ারটা বলতে পারি। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অবশ্যই অনিয়ম হয়েছে, না হলে এরকম ফলাফল হতো না। তবে এটাও ঠিক আজ পর্যন্ত ২৯২টি আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পরাজিত হয়েছে দেখানো হয়েছে। ২৯২ জন লোক কোথাও একটা মিছিল করে নি। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পরাজিত হয়েছে অথবা পরাজিত করা হয়েছে কিন্তু এই যে ২৯২টি আসনের কোথাও একটি আসনেও ২৯২ জন লোকের প্রতিবাদ মিছিল হয়নি এখন পর্যন্ত।
সেটার কারণ কি?
এটার কারণ ব্যর্থতা। যারা দল করেন, দলের মধ্যে যারা আছেন যা ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক দল যেটি তাদের সাংগঠনিক অবস্থার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে, মতপার্থক্য আছে- সেই কারণে তাদের কর্মীবাহিনী রাস্তায় নামে নাই। আর যতোটুকু আমি জানি এবং আমার কথা হয়েছে তাদের দলের অবস্থা সবাই একমত না বিভিন্ন প্রশ্নে। সে কারণেই তাদের দলের কর্মীরা দলের ঘোষিত কোনো কর্মসূচিতে নামছে বলে মনে হচ্ছে না। প্রথমত এটলিস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাগারে আছেন আজ পর্যন্ত পল্টন ময়দান থেকে কারাগার পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী যেখানে আছেন ম্যাক্সিমাম ১ কিলোমিটার হবে- একটা মিছিলও তো আজ পর্যন্ত হয় নি ওইভাবে।
বাস্তব অবস্থাটা কি তাই?
বাস্তব অবস্থা বলতে এগুলো মোকাবিলা করেই পাকিস্তান আমলে আমরা মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে বা স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলাম। কাজেই রাজনীতি করতে হলে পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন গণতান্ত্রিক ভাবেই মানুষকে সংগঠিত করে করতে হবে। এবং আমি মনে করি কোনো কারণে মানুষের অনাস্থার অথবা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে তারা ডাকলে হয়তো মানুষ তাদের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে যতদিন গাঁটছড়া বাঁধা থাকবে ততদিন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। পাশাপাশি আমি গেলে যে সুশাসন বা আমি যে অন্যের চেয়ে ভালো সেটা প্রমাণ না করা পর্যন্ত মানুষ পাশে আসবে না। কাজেই সাধারণ মানুষ দেখবে যে আমি যার সঙ্গে যাবো বা যার নেতৃত্বে এগুবো সেই লোকটি কি চলমান যে নেতৃত্ব আছে এর চেয়ে বেটার কিনা। বিশেষ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সাহেবকে যদি সামনে রাখা হতো এবং তার সকল কথা শোনা হতো বা তার সকল পরামর্শ শোনা হতো তাহলে হয়তো আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
আপনি কখন শপথ নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?
আমি স্বাধীনতার মাসে শপথ গ্রহণ করবো।
এটা কি শুরুর দিকে?
স্বাধীনতার মাসে আমি এতটুকু বলতে পারি। ১৫ই মার্চের ভেতরে। আমি এখন অসুস্থ সে কারণে নিতে পারছি না। কাজেই কিছুদিন সময় আছে। ১৫ই মার্চের মধ্যে ইনশাআল্লাহ শপথ গ্রহণ করবো।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বিশ্বকে রক্ষায় ধনী দেশগুলোর প্রতি  আহ্বান জানিয়ে জার্মানি সফর শেষ করে এখন আবুধাবিতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জার্মান সফরকালে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স ছাড়াও আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠন এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে তার। তবে দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকার চেষ্টা এবং প্রত্যাশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত  বৈঠকটি হয়নি। ৩ দিনের আবুধাবি সফরের প্রথম দিনে রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী (আইডিইএক্স) পরিদর্শন করেছেন তিনি। আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাই-এর শাসক শেখ  মোহাম্মেদ বিন রাশিদ আল মাকতুম’র আমন্ত্রণে বাংলাদেশের সরকার প্রধান ওই প্রদর্শনীতে যোগ দেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে- আবুধাবির ন্যাশনাল এক্সিবিশন  সেন্টারে ৫ দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সামরিক কর্মকর্তা এবং সরকারি সংস্থার জন্য সামরিক কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ এবং সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদর্শনী কেন্দ্রে  পৌঁছালে তাকে আবুধাবির যুবরাজ  শেখ মোহাম্মেদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান অভ্যর্থনা জানান।
আইডিইএক্স হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার দেশসমূহের জন্য একমাত্র প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী এবং সম্মেলন।
যেখানে প্রতিরক্ষা খাতের স্থল, নৌ এবং আকাশ পথের নবতর প্রযুক্তির প্রদর্শনী করা হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। যার মূল উদ্দেশ্য এই অঞ্চলের দেশগুলোতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে শক্তিশালী করা। গত মাসে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর তার প্রথম বিদেশ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে শেখ হাসিনা রোববার সকালে আবুধাবি  পৌঁছান। সফরকালে শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং এখানে প্রবাসী বাংলাদেশি আয়োজিত এক সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করবেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। আইডিইএক্স প্রদর্শনীতে ১৩শ’র অধিক প্রতিরক্ষা ফার্ম এবং সংস্থাগুলো অংশগ্রহণ করছে। এই অঞ্চলের বৃহত্তম বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী আইডিইএক্স এ বছর তার রজত জয়ন্তী উদ্‌যাপন করছে এবং এতে ৬০টির অধিক দেশের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব  মোকাবিলায় ধনী দেশগুলোকে ‘সদিচ্ছা’ প্রদর্শনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর: এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বিশ্বকে রক্ষায় ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে কাজ করার জন্য ধনী  দেশগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের যথেষ্ট বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবনা এবং অর্থায়ন রয়েছে। আমাদের এখন  কেবল প্রয়োজন সমাজের সর্বত্র ধনিক  শ্রেণির সদিচ্ছা, আগ্রহ ও প্রচেষ্টা।’ শনিবার রাতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ এজ এ সিকিউরিটি থ্রেট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে পোস্টডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট পরিচালক হানস জোয়াসিম সভাপতিত্ব করেন। ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ফর ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অব কেনিয়া মনিকা জুমা, নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইনি ইরিকসন সরিডি, ইউএস সিনেটর সেলডন, হোয়াইট হাউস অ্যান্ড কো-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অব গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনাল বুন্নি ম্যাকডিয়ারমিড প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। ডয়েচে ভেলের চিফ পলিটিক্যাল করসপন্ডেন্ট বার্লিন ম্যালিন্ডা ক্রেনি রোর্স অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন,  বৈশ্বিক অব্যাহত উষ্ণতা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের জন্য সত্যিকার এক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে সাইক্লোন, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং মৌসুমী বন্যা মানুষের জীবন জীবিকার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এ বিষয়ে কারো  কোনো সন্দেহ থাকে, তাদেরকে আমি বাংলাদেশে এসে প্রকৃত অবস্থা দেখে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
২০১২ সালে ইউএনজিএ সিদ্ধান্তের বিষয় পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব  মোকাবিলায় সমষ্টিগত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।  শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের আরো অনেক হুমকির কারণে লাখ লাখ মানুষ পৈতৃক ভূমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে, নদী ভাঙন, লবণাক্ত পানি এবং ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মিশ্রণের কারণে এসব ঘটছে। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে পানিতে অ্যাসিডিটি বাড়ছে, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিগত এক দশক ধরে তিনি  কোপেন হেগেন, নিউ ইয়র্ক, কিউবা ও ইসা-শিমার বৈশ্বিক আলোচনায় তিনি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে বারবার জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম  বৈশ্বিক ব্যবসা ও শিল্পক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং খুঁজে  পেয়েছে যে, অভিযোজন ও প্রশমনে ব্যর্থতা, পানি সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবসা ও শিল্পক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বৃটিশ আবহাওয়া অফিস ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এক দশককে ১৫০ বছরের মধ্যে উষ্ণতম দশক বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে। অতএব অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা ও মানবীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের মূলে যে পরিবেশ সংকট প্রধান ও একমাত্র কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা প্রশ্নাতীত। তিনি জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য জীবনযাত্রা, আচরণ, পদ্ধতি ও অর্থনীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানান।