Showing posts with label শেয়ারবাজার. Show all posts
Showing posts with label শেয়ারবাজার. Show all posts

Sunday, February 15, 2026

হাসিনার লুটপাটতন্ত্র যেভাবে সুশাসন ও অর্থনীতিকে তছনছ করে দিল by মইনুল ইসলাম

প্রকাশ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ঃ স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যান। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আগস্টের ২৯ তারিখে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন।

কমিটিকে সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনে বাংলাদেশের অর্থনীতির হালহকিকত গভীরভাবে পর্যালোচনা করে তিন মাসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কমিটি ১ ডিসেম্বর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের শ্বেতপত্রটির খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। শ্বেতপত্রটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘উন্নয়ন বয়ানের ব্যবচ্ছেদ’ (ডিসসেকশান অব আ ডেভেলপমেন্ট ন্যারেটিভ)। প্রায় ৩৯৬ পৃষ্ঠার খসড়া প্রতিবেদনে রয়েছে ২৪টি অধ্যায়। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দাবি করেছেন যে হাসিনার শাসনামলের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ‘চামচা পুঁজিবাদ’ (ক্রনি ক্যাপিটালিজম) থেকে সরাসরি ‘চোরতন্ত্রে’ (ক্লেপ্টোক্রেসি) রূপান্তরিত হয়েছে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা ভূমিধস বিজয় অর্জন করেন। ক্ষমতাসীন হওয়ার পরই দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনের লাগামহীন তৎপরতা শুরু করেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়স্বজন। কেউ কেউ বলেন যে এই প্রক্রিয়ায় সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী উৎসাহিত করতেন। এই শ্বেতপত্র হাসিনার কথিত উন্নয়ন বয়ানের আড়ালে লুকানো ‘অবিশ্বাস্য লুটপাটতন্ত্রের একটি নির্মোহ ব্যবচ্ছেদের দলিল’ হিসেবে টিকে থাকবে। শ্বেতপত্রের একটি নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ করলে নিচের বিষয়গুলো প্রধানভাবে উঠে আসবে। 

এক.

শ্বেতপত্র কমিটির গবেষণায় উঠে এসেছে, স্বৈরশাসক হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের লুটপাটতন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার হিসেবে মোট ২৩৪ বিলিয়ন ডলার লুণ্ঠিত হয়ে বিদেশে পাচার হয়েছে। সবচেয়ে বেশি লুণ্ঠনের শিকার হয়েছে ব্যাংকিং ও ফিন্যান্সিয়াল, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, ভৌত অবকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত। শ্বেতপত্রে খাতওয়ারি লুণ্ঠনের তথ্য-উপাত্ত উদ্‌ঘাটন করে লুণ্ঠিত অর্থের প্রাক্কলন প্রকাশ করা হয়েছে।

শ্বেতপত্রে মোট ২৮টি দুর্নীতির পদ্ধতির মাধ্যমে লুণ্ঠন প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষণে নিয়ে আসা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং, ভারত ও কয়েকটি ‘ট্যাক্স হেভেন’ সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচারের সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। লুটেরা রাজনীতিবিদদের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় অলিগার্ক ব্যবসায়ী, আর্থিক খাতের খেলোয়াড়, দুর্নীতিবাজ আমলা, ঠিকাদার ও মধ্যস্বত্বভোগী, হাসিনার আত্মীয়স্বজন এবং ‘ইনফ্লুয়েন্স প্যাডলার’ ও ‘হুইলার-ডিলাররা’ এই লুটপাটতন্ত্রের প্রধান চরিত্র।

এই লুটেরারা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দেশের নির্বাহী বিভাগ, সিভিল প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ, আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো, সরকারি রাজস্ব আহরণ বিভাগগুলো ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণকারী বিভাগগুলোকে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত করে ফায়দা হাসিলের অংশীদার করে ফেলেছে। দেশের বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণকে তারা দুর্বল করে ফেলেছে। ধস নামিয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনকে তছনছ করে দিয়েছে।

দুই.

কানাডায় ৪৭ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। দুবাইয়ে ৯৭২ জন বাংলাদেশির রিয়েল এস্টেট সম্পত্তি রয়েছে। মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’ কার্যক্রমে ঘরবাড়ি কিনেছেন ন্যূনতম ৩ হাজার ৬০০ বাংলাদেশি। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে প্রতিবছর গড়ে ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তিন.

সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী মুস্তফা কামালের নির্দেশে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০১৪ সাল থেকে ‘উপাত্ত কারসাজি’–এর কেন্দ্রে পরিণত হয়। প্রতিবছর জিডিপি বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাথাপিছু জিডিপি বাড়িয়ে দেখানোর জন্য দেশের মোট জনসংখ্যাকে কমিয়ে দেখানো হয়েছে।

বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে দেশের রপ্তানি আয়কে। মূল্যস্ফীতির হারকে সব সময় কমিয়ে দেখানো হয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থানকারী জনসংখ্যাকে কম দেখানো হয়েছে, যাতে দারিদ্র্য নিরসনে সরকারের সাফল্যকে বাড়িয়ে দেখানো যায়।

দেশের জনগণের জন্মহার ও মৃত্যুহারকে কমিয়ে দেখানো হয়েছে, যাতে জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধির হারকে কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেখানো যায়। একই সঙ্গে দেশের ‘টোটাল ফার্টিলিটি রেট’কে কম দেখানো হয়েছে, যাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকার সফল হচ্ছে বলে প্রচার করা যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় আগের বছরে সাবেক সরকার যতখানি দেখিয়েছিল, তার চেয়ে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে।

চার.

দেশের সাতটি মেগা প্রকল্পের ব্যয় প্রাথমিক প্রাক্কলনের চেয়ে ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। এর আনুমানিক পরিমাণ ৮০ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। এই মেগা প্রকল্পগুলো হচ্ছে পদ্মা সেতু প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প, পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-মাওয়া-যশোর-পায়রা রেলপথ প্রকল্প, চট্টগ্রাম-দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্প, পায়রা বন্দর প্রকল্প ও মাতারবাড়ী কয়লাচালিত বিদ্যুৎ প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলোর যথাযথ ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ ও ‘কস্ট-বেনিফিট অ্যানালাইসিস’ না করার কারণে এই ৭০ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাত সৃষ্টি হয়েছে।

পাঁচ.

দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ পৌনে সাত লাখ কোটি টাকা। শ্বেতপত্র কমিটি প্রকৃত খেলাপি ঋণকে ‘ডিসট্রেসড অ্যাসেট’ নামে অভিহিত করেছে। শ্বেতপত্রে দাবি করা হয়েছে যে এই ডিসট্রেসড অ্যাসেট দিয়ে সাড়ে ১৩টি মেট্রোরেল কিংবা সাড়ে ২২টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত। অবৈধ হুন্ডি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ লাখ কোটি টাকা। ১০টি ব্যাংক ‘টেকনিক্যালি দেউলিয়া’ হয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে দুটি ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত আর বাকি আটটা ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। এগুলোতে তারল্যসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

বড় ধরনের ঋণ লুটপাটের শিকার হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ও বেসিক ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংক ও অন্য শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো থেকে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংকঋণ, প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে লুটেরারা।

ছয়.

দেশের শেয়ারবাজার থেকে কমপক্ষে ২৭ বিলিয়ন ডলার সরাসরি আত্মসাৎ করা হয়েছে। নানা রকম কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে এক ট্রিলিয়ন টাকার (এক লাখ কোটি) বেশি লুটপাট করেছে কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি। ২০১০-১১ সালের শেয়ারবাজারের পরিকল্পিত ধসের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির রিপোর্টকে কোনো পাত্তা দেওয়া হয়নি। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে হারিয়ে ফেলেছে।

সাত.

দেশের জনগণের আয়বৈষম্য-পরিমাপক জিনি সহগ ২০২২ সালে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছে গেছে। বিশ্বব্যাংকের জরিপে যে ৭২টি দেশ তাদের আয়বৈষম্য রিপোর্ট করেছে, তার মধ্যে এর চেয়ে বেশি জিনি সহগের মান ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও পানামা—এই তিন দেশে বিদ্যমান। তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থানে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের সম্পদবৈষম্যের পরিমাপক জিনি সহগ, ২০১৬ থেকে ২০২২ সালে যেটা শূন্য দশমিক ৮২ থেকে শূন্য দশমিক ৮৪–এ পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশ এখন একটি মারাত্মক উচ্চ আয়বৈষম্য ও সম্পদবৈষম্যের দেশ।

আট.

দেশের মাথাপিছু প্রবৃদ্ধির হারকে ১৯৯৫ সাল থেকে কয়েক শতাংশ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এ জন্য উন্নয়ন অর্থনীতিবিদদের অনেকে বাংলাদেশের এই জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ‘প্যারাডক্স’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। স্বৈরশাসকের পতনের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সাবেক সরকারের প্রক্ষেপিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশের চেয়ে কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে এসে দাঁড়াবে বলে প্রাক্কলন করা হচ্ছে।

নয়.

আনুমানিক ৭৭ হাজার কোটি থেকে ৯৮ হাজার কোটি টাকা ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের কবজায় চলে গেছে বলে শ্বেতপত্রে জানানো হয়েছে। ৭০ হাজার কোটি টাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজনীতিবিদদের করায়ত্ত হয়েছে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই আমলা ও রাজনীতিবিদদের স্ত্রী-সন্তানেরা পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে।

ড. মইনুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক

হাসিনার লুটপাটতন্ত্র যেভাবে সুশাসন ও অর্থনীতিকে তছনছ করে দিল

Monday, February 3, 2025

ট্রাম্পের শুল্ক নীতি, ঝুঁকিতে এশিয়ার শেয়ার বাজার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে এশিয়ার শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পর সোমবার সকালে এশিয়ার শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। শেয়ারের দামে পতন হয়েছে বলে জানাচ্ছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, বিনিয়োগকারীরা সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এশিয়ার প্রধান কোম্পানিগুলোর আয়ে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা ও মেক্সিকো। অন্যদিকে ‘পাল্টা প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা’ নেয়ার কথা জানিয়েছে চীন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ট্রাম্পের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে বেইজিং। এর আগে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন এবং মাদক চোরাকারবারি বন্ধ করতে শুল্ক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়।

তবে শুল্ক আরোপের ফলে এশিয়ার শেয়ার বাজরে বিরাট পরিবর্তন শুরু হয়েছে। সবগুলো সূচকই নিম্নগামী। বিবিসি বলছে, হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ, জাপানের নিক্কেই ২২৫ এর সূচকও ২ দশমিক ৪ শতাংশের নিচে ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পির ৩ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ এর ১ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

পক্ষান্তরে মার্কিন ডলারের উল্লম্ফন হয়েছে। চীনের ইউয়ারে বিপরীতে ডলারের অবস্থান রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে কানাডিয়ান ডলার ২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।

আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম বলেছেন, বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য বিরোধের সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। ট্রাম্পের পরবর্তী শুল্ক আরোপের তালিকায় কোন কোন দেশ রয়েছে এ নিয়েও বেশ উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা।

সপ্তাহান্তে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক শুল্ক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে এখানেই ক্ষান্ত হবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই নীতির গভীর সমালোচনা করেছেন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক স্যাক্সোর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ চারু চানানা। সতর্ক করে তিনি বলেছেন, এভাবে শুল্ক আরোপ স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে খোদ আমেরিকাকেই ঝুঁকিতে ফেলবে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। চীনের ওপর দিয়েছেন ১০ শতাংশ। এতে তিন দেশই প্রতিশোধমূলক পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। যা বিশ্বে বাণিজ্য যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন এতে বিনিয়োগকারীরা বেশ বিপাকে পড়বেন।

mzamin

Saturday, October 19, 2024

কারসাজি চক্রে শেয়ারবাজার পতন থামছে না

বিগত সময়ে শেয়ার কারসাজি ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং সত্যিকারের পুঁজিবাজার গড়তে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আশা করা হয়েছিল পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু কোনোভাবেই দরপতন থামছে না। গত ১৪ই আগস্ট দরপতন শুরু হওয়ার পর থেকে দুই মাসে বাজার মূলধন কমেছে ৪০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার বেশি। পুঁজি হারিয়ে আতঙ্কে রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে সম্প্রতি বিনিয়োগকারী নাম দিয়ে কিছু ব্যক্তি বিএসইসি’র বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। সংস্থার অফিস গেটে তালা দিয়ে কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করেছে। এর নেপথ্যে শেয়ারবাজারে কারসাজির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরাসহ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ইন্ধন রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত পরিষদের ব্যানারে ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিএসইসি’র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি’ বিষয়ে অবহিত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে (এফআইডি) বিএসইসি যে চিঠি দিয়েছে, তাতে এমন কারণ জানানো হয়েছে। কমিশন বলেছে, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সংস্কার কার্যক্রমের বিরোধী, যারা চায় না কারসাজির হোতাদের শাস্তি হোক এবং যারা ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, তারাই পুঁজিবাজারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, দৃশ্যত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের কার্যক্রম দুরভিসন্ধিমূলক। ‘এজিএম পার্টি’সহ পুঁজিবাজারে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি যারা চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও কারসাজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরোধী, তারা এ ধরনের বিক্ষোভে মদত জোগাচ্ছে বলে বিএসইসি’র নিজস্ব অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। বিএসইসি মনে করে, সংঘটিত আন্দোলন কর্মসূচির ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই পুঁজিবাজারের প্রকৃত বিনিয়োগকারী নন।

সূত্রমতে, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঢিলেঢালা নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অভাবে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের কষ্টার্জিত টাকা পুঁজিবাজারে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত শেয়ার ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। ভালো শেয়ার কেনার পরও কমপক্ষে ৪টি স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাৎ করায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ৭০টি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগকারীদের টাকা আংশিক আত্মসাৎ করেছে। সবচেয়ে নিরাপদ মিউচুয়াল ফান্ডও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কারণ বেশ কয়েকটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নজিরবিহীনভাবে মিউচুয়াল ফান্ডের টাকার অপব্যবহার করেছে। যদিও তারা এসব বিনিয়োগ সুরক্ষা ও ভালোভাবে পরিচালনার জন্যই নিযুক্ত হয়েছিল। বিশ্লেষকরা এ অবস্থার পেছনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নজরদারির অভাব ও নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কারসাজির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা না থাকাকে দায়ী করেছেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বেশ কয়েকটি শেয়ারের মূল্য কারসাজি করায় ২০২২ সালে বিএসইসি মাত্র ২১ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। যেখানে শেয়ার জালিয়াতকারীদের ২৫৩ কোটি টাকা হাতিয়েছিল। ২০২৩ সালে শেয়ারের দাম কারচুপির দায়ে দুই কোটি টাকা জরিমানা হলেও কারচুপিকারীদের মুনাফা হয়েছিল ১৫ কোটি টাকা। গত ১৫ বছর ধরে একই পরিস্থিতি দেখা যায়। শেয়ারের কারসাজিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা বছরের পর বছর ধরে বেড়েছে। এটি পুঁজিবাজারের জন্য অশনিসংকেত। ২০২১ সালের আগে দুই-একটি প্রতিষ্ঠান শেয়ারের দাম কারসাজিতে জড়িত ছিল বলে প্রমাণিত হলেও ২০২২ সালে তা ১৫টি প্রতিষ্ঠান ছাড়িয়ে যায়। ২০২৩ সালে ছয় প্রতিষ্ঠান কারসাজির সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়। যেমন, ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনের (ইউএফএস) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিউচুয়াল ফান্ড থেকে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রাথমিক উচ্ছ্বাসে পুঁজিবাজারে দেখা দেয় উত্থান। চার কর্মদিবসে প্রায় ৮০০ পয়েন্ট সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি ৬ থেকে ১৪ই আগস্ট বাড়ে বাজার মূলধন। ১৪ই অগাস্ট বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৭ লাখ ১১ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। তবে পরদিন থেকে শুরু হয় টানা দরপতন। এই দরপতনে শেয়ার দর হারিয়ে বাজার মূলধন দাঁড়ালো ৬ লাখ ৭১ হাজার ২১০ কোটি টাকা, যা ঠিক দুই মাস আগের তুলনায় ৪০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা কম। এরমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অতীতে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিষয়ে তদন্ত কমিটি, শেয়ারদর বৃদ্ধির ঘটনায় কারসাজির অভিযোগে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণ না করাসহ নানা কারণে ২৮টি কোম্পানিকে জেড শ্রেণিতে পাঠায়। এসব ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং টানা দরপতন ঘটছে। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে সংস্কার নিয়ে রোডম্যাপ তৈরিতে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ বিষয়ে ৫ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

গত দেড় মাসে কমিশনের কার্যক্রম: বিগত দিনের অনিয়ম অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন। একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে রেকর্ড জরিমানা। তিন অডিট প্রতিষ্ঠানকে বিএসইসি’র প্যানেল থেকে বাদ। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির নতুন শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব বাতিল। যেসব কোম্পানি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘোষিত লভ্যাংশ দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একাধিক ব্রোকারেজ হাউজের মালিক ও শীর্ষ ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে এবং কিছু পরিচালক ও এমডি’র বিও হিসাব জব্দ করা হয়েছে। বিএসইসি বলেছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে একটি সুষ্ঠু বাজার গড়তে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবু কিছু অযৌক্তিক দাবিকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে কিছু ব্যক্তি।

১৯শে আগস্ট বিএইসি’র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। এরপর থেকেই শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হতে দেখা গেছে। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯শে আগস্ট লেনদেন শেষে ডিএসই’র মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। যা গত ৯ই অক্টোবরে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৪১৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বিএসইসি চেয়ারম্যান যোগদানের পর দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে মূলধন কমেছে ২১ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। তার মানে কারসাজি চক্র শেয়ারবাজার নিয়ে খেলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কারে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ ও সফল পুঁজিবাজার গড়তে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র সঙ্গে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, অসঙ্গতিপূর্ণ এবং ব্যবসায় বাধা প্রদানকারী বিদ্যমান আইন কানুন ও নিয়মনীতির প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে কমিশন আশ্বাস দিয়েছেন। আমরাও আশাবাদী।

mzamin

Friday, August 9, 2024

ইতিহাসের সর্বোচ্চ উত্থান পুঁজিবাজারে

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দেশের শেয়ারবাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। এমনকি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সূচকে একদিনে সর্বোচ্চ উত্থান দেখলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বৃহস্পতিবার ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স ৩০৬ পয়েন্ট বা ৫.৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালে ডিএসইএক্স চালুর পর এর আগে কখনো সূচকটি একদিনে এতটা বাড়েনি। টানা তিন দিনের ব্যাপক উত্থানে ইতিমধ্যে ৬ হাজার পয়েন্ট ছুঁইছুঁই করছে সূচক, অবস্থান করছে ৫ হাজার ৯২৪ পয়েন্টে। দীর্ঘ সময় টানা দরপতনে থাকা দেশের পুঁজিবাজারে এই উত্থান যেন বিনিয়োগকারীদের মাঝে ভালো দিনের আগাম জানান দিচ্ছে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে। ফলে সেখানেও মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে।

শেয়ারবাজারে লেনদেন চলার মধ্যেই দেশে এসে পৌঁছান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইউনূসের দেশে আসা সূচকের উত্থান প্রবণতা যেন আরও বাড়িয়ে দেয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি হলে শেয়ারবাজারে মন্দা অবস্থা দেখা দেয়। তার আগেও নানা ইস্যুতে শেয়ারবাজারে মন্দা চলছিল। প্রায় চার মাস ধরে শেয়ারবাজার পতনের মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ হাসিনা সরকারের শেষ সময়টা মোটেও ভালো যায়নি শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য।

পরিবর্তন এসেছে লেনদেন, দর বৃদ্ধি এবং দর পতনের শীর্ষ তালিকাতেও। লেনদেন এবং দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে আসতে শুরু করেছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারানো ব্যাংকিং খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন স্বৈরাচারী সরকারের পতনে শেখ হাসিনার স্নেহভাজন মুক্ত হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আর বাজার থেকে বিদায় হবে কারসাজিকারী দুষ্ট চক্র। ফলে পুঁজিবাজারে আবারো আশা খুঁজে পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
প্রধান মূল্যসূচক ইতিহাস সৃষ্টির দিনে ডিএসইতে ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে লেনদেনেও বড় উত্থান হয়েছে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ২রা ফেব্রুয়ারির পর বাজারটিতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো।
লেনদেন শেষে ডিএসইতে ৩৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। দাম কমেছে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের। সাতটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩০৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সালের ২৮শে জানুয়ারি চালু হয় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স। এরপর এ প্রথম সূচকটি একদিনে ৩০০ পয়েন্টের উপরে বাড়লো। এর আগে ২০১৩ সালের ২রা জুন সূচকটি ২৭৩ পয়েন্ট বেড়েছিল। বৃহস্পতিবারের আগে এটিই একদিনে সূচকটি সর্বোচ্চ বাড়ার রেকর্ড ছিল।

দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৭৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৮৩০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ২রা ফেব্রুয়ারির পর ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো। অপর শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৮৬১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২৮৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

Saturday, October 19, 2019

শেয়ারবাজার টালমাটাল: বিনিয়োগকারীদের কান্না

টালমাটাল দেশের শেয়ারবাজার। অব্যাহত দর পতনে বিনিয়োগকারীদের কান্নায় ভারী হচ্ছে বাতাস। লাখ লাখ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম। দিন দিন পতন আরো গভীর থেকে গভীর হচ্ছে। প্রায় সব কোম্পানি ক্রমাগত দর হারাচ্ছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)  প্রধান সূচক প্রায় তিন বছর আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। একই সঙ্গে বাজার মূলধন, লেনদেনও তলানিতে নেমে যাচ্ছে। বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের আশ্বাস এবং তারল্য সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগেও কোন কাজ হচ্ছে না।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও মূল্য সূচকের পতনেই লেনদেন শেষ হয়েছে পুঁজিবাজারে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন কমেছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, বাজারের বর্তমান অবস্থা ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালের ধ্বসকেও হার মানিয়েছে। ওই দুই সময়ের ধ্বসে বড় ধরনের সংস্কার এবং প্রণোদনা দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের দেখার কেউ নেই। এ অবস্থায় পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীরা কাউকে কিছু বলতে পারছেন না। ফলে নীরব কান্না চলছে শেয়ারবাজারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। কোনো বিনিয়োগকারীই পুঁজি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। নতুন করে বিনিয়োগ তো আসছেই না, উল্টো অনেকে বড় লোকসান দিয়ে সমুদয় শেয়ার বিক্রি করছেন। যাদের লোকসান মাত্রাতিরিক্ত, তারাই লোকসান কমানোর আশায় এক শেয়ার বিক্রি করে অন্য শেয়ার কিনছেন। কিন্তু লোকসান তো কমছেই না, বরং পাল্লা বাড়ছে। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ডিএসই প্রধান সূচক প্রায় ৯ মাসে কমেছে ১ হাজার ২০০ পয়েন্ট। একই সময়ের ব্যবধানে বাজার মূলধন বা শেয়ারের বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। কারণ বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। সূচক যেমন তলানিতে, আস্থাও তলানিতে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অতিমূল্যায়িত আইপিও পুঁজিবাজারকে অস্থির করে তুলেছে। অন্যদিকে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে বাজার প্রাণহীন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচকটি চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল গত ২৪শে জানুয়ারি। ওই দিন সূচক ছিল ৫ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে ও বাজার মূলধন ছিল প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। গতকাল সেই সূচক নেমে এসেছে ৪ হাজার ৭৭০ পয়েন্টে আর বাজার মূলধন কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ৯ মাসে সূচক কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ আর বাজার মূলধন কমেছে ১৪ শতাংশের বেশি। এছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১৯ কোম্পানির মধ্যে ৪৬টি বা প্রায় সাড়ে ১৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম এখন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে। এসব কোম্পানির বেশির ভাগই বর্তমান নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিয়ে বাজারে এসেছে। অনুমোদন দেয়া নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন।
ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেছেন, তারল্য সংকট, আর্থিক খাতের খারাপ অবস্থা এবং গ্রামীণফোনের সমস্যার সমাধান না হওয়ার কারণে পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে যে তারল্য সংকট আছে সেটা রয়ে গেছে। ব্যাংকের সুদের হার এখনও বেশি। এটার নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে আছে। গ্রামীণফোন পুঁজিবাজারের প্রায় ১০ শতাংশর মত। এটার সঙ্গে কর নিয়ে যে একটি সমস্যা সেটার সমাধান হয়নি। এর বড় প্রভাব ফেলছে বাজারে। শাকিল রিজভী মনে করেন, বাজারে এখন আস্থার সংকটই সবচেয়ে বড় সমস্যা। আর এই তিন সমস্যা দূর না হলে বাজারে আস্থা ফিরবে না। বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখি হবেন না। বাজার স্বাভাবিক হবে না।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামও শাকিল রিজভীর সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ব্যাংকিং খাত ঠিক না হলে শেয়ার বাজার ঠিক হবে না। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ফিরিয়ে আনতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৭৭০ পয়েন্টে। গত সোমবার ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) বিনিয়োগের ঘোষণার পর মঙ্গলবার বড় উত্থান হলেও বুধবার আবার পতনে ফিরেছে শেয়ারবাজার। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৪ পয়েন্টে এবং ডিএস ৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৭৯ পয়েন্টে। ডিএসইতে গতকাল টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৩১৩ কোটি টাকার। যা গত কার্যদিবস থেকে ১১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩২৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। গতকাল ডিএসইতে ৩৫০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৫টির, কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩টির।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৪ হাজার ৫১১ পয়েন্টে। সিএসইতে টাকার অংকে ১৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে সিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২৫৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০২ টির, কমেছে ১২৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির।
বাজারের এমন আচরণে হতাশ সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরাও। সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার গুঞ্জন ছিল শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শীর্ষ পদে বড় রদবদল হচ্ছে। ওই দিন বিকালেই অবশ্য জানা যায়, এটি গুজব। বাজারের বিপরীতমুখী অবস্থার ক্ষেত্রে এ খবরের যোগসূত্র রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। এদিকে শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যে পরিমাণ টাকার শেয়ার কিনছেন বিক্রি করে দিচ্ছেন তার চেয়ে বেশি।
সূত্র জানায়, শেয়ারবাজার পরিস্থিতি নিয়ে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এখানে আশ্বস্ত করব সবাইকে যে, আমরা পুঁজিবাজারকে সুশাসন দেব এবং আমরা গর্ভন্যান্সে ভালো করব। এভাবে আমাদের পুঁজিবাজারকে আমরা একটি শক্তিশালী বাজারে রূপান্তরিত করব। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে নগদ অর্থ জোগান দেয়ার উদ্যোগ নেয়। এর বাইরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা দিয়েছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা আইসিবিকে। আইসিবি ওই টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন বলেছিলেন, সরকারি লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো খুব শিগগিরই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে। কিছু ভালো লাভজনক প্রতিষ্ঠান দু-এক মাসের মধ্যেই বাজারে আসবে। এরপরও বাজারে পতন চলছেই। অর্থাৎ আস্থার সংকটে কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না।
বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা সৃষ্টি করাই এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান কাজ।
অন্যদিকে শেয়ারবাজারে লেনদেন কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খোদ স্টক ব্রোকার মালিকরা। তাদের ব্যবসা সংকোচনের নামে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছেন।
একজন ব্রোকার মালিক জানান, ২০১০ সালের পর দীর্ঘ সময়ে লোকসান দিয়ে হাউস পরিচালনা করেছেন। এর পর কোম্পানির রিজার্ভ থেকে কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধ করেছেন। এখন রিজার্ভের খাতা শূন্যের কোঠায় নামছে। ফলে বাধ্য হয়েই কর্মী ছাঁটাইয়ে যেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শাকিল রিজভী বলেন, পরিস্থিতি ভালো না। প্রতিদিনই লোকসান দিতে দিতে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও এতটাই কমেছে যে, তারা এর দিকে ফিরে তাকাতেও বিরক্ত বোধ করছেন। অনেক ব্রোকারেজ হাউস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কারণ শেয়ার কেনাবেচা থেকে যে কমিশন আয় হচ্ছে, তা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেয়া তো দূরের কথা, দৈনন্দিন অফিস খরচই মেটাতে পারছে না। এভাবে কতদিন চলবে, তা কেউ বলতে পারছেন না।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী সোহেল হাসান বলেন, কয়েক মাস আগে একটি কোম্পানির শেয়ার ৬ টাকা ৭০ পয়সায় কিনেছিলেন। এখন সেই শেয়ারের মূল্য কমে ৪ টাকা ৫০ পয়সায় নেমেছে। আলোচ্য সময়ে তিনি পুঁজি খুইয়েছেন ৩৩ শতাংশ। তিনি বলেন, কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য কমেছে যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই।
হাসিবুল হাসিব নামের আরেক বিনিয়োগকারী একটি ভালো কোম্পানির শেয়ার কিনেছিলেন ৭৭ টাকা করে। সর্বশেষ সেই শেয়ারের মূল্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ টাকায়। আলোচ্য সময়ে তিনি পুঁজি হারিয়েছেন ৩৯ শতাংশ। আরেক বিনিয়োগকারী আতিকুল ইসলাম জাহিন স্পিনিংয়ের প্রতিটি শেয়ার কিনেছিলেন ৯ টাকা ৬০ পয়সায়। এখন সেই শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৫ পয়সা। আলোচ্য সময়ে তার পুঁজি হারিয়েছে ৪৩ শতাংশ। তিন মাসের ব্যবধানে তাদের বিনিয়োগ করা পুঁজি খুইয়েছেন। তবে শেয়ারের এই মূল্য কমে যাওয়ার কোনো কারণ কোম্পানি বা স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অব্যাহত দরপতনে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই এখন লোকসানে। লোকসান আরো বাড়বে এমন শঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে বিক্রির চাপ বেড়ে দরপতন ত্বরান্বিত হচ্ছে। বিক্রির চাপ বাড়লেও তা সামাল দেয়ার জন্য যে সহায়তা দরকার, তা বাজারে নেই।

Sunday, October 6, 2019

পুঁজিবাজারে আস্থাহীনতা: বিদেশিরা কেনার চেয়ে বিক্রি করছে বেশি

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নানামুখী উদ্যোগের পরও শেয়ারবাজারে লেনদেন, সূচক ও বাজার মূলধন কমছেই। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বিক্রির চাপ অব্যাহত রেখেছে। আগের ছয় মাসের মতো সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসেও বিদেশিরা শেয়ারবাজার থেকে যে পরিমাণ শেয়ার কিনছেন তার চেয়ে বেশি বিক্রি করেছেন। এ নিয়ে টানা ৭ম মাসে গড়ালো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বেশি পরিমাণ শেয়ার বিক্রির ধারা। দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এর আগে কখনো বিদেশিরা টানা ৭ মাস এমন শেয়ার বিক্রি অব্যাহত রাখেনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারের ওপর আস্থা না পাওয়ায় বিদেশিরা এভাবে শেয়ার বিক্রি করছেন বলে অভিমত বাজার সংশ্লিষ্টদের। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাসে পর মাস শেয়ার বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকায় সার্বিক শেয়ারবাজারেও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।
প্রায় সাত মাস ধরে মন্দা চলছে শেয়ারবাজারে।ডিএসই তথ্যে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসের বিদেশিরা ডিএসইর মাধ্যমে ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৮০ টাকার শেয়ার কিনেছেন। বিপরীতে বিক্রি করেছে ৩১৮ কোটি ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৮৮ টাকার শেয়ার। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে ৬০ কোটি ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩০৮ টাকার শেয়ার বেশি বিক্রি করেছে বিদেশিরা। শতাংশের হিসেবে ২৩ শতাংশ বেশি বিক্রি করা হয়েছে।
এর আগে আগস্টে বিদেশিরা যে টাকার শেয়ার ক্রয় করে, বিক্রি করে তার থেকে ১০৩ কোটি টাকার বেশি। মাসটিতে বিদেশিরা ১৭৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে বিক্রি করেছেন ২৭৯ কোটি টাকা।
জুলাইয়ে বিদেশিরা শেয়ারবাজার থেকে ৩০৯ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে বিক্রি করেন ৪৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ জুলাইয়ে বিদেশিরা শেয়ার ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি করেন ১৬৫ কোটি টাকার।জুলাই মাসের মতো আগের চার মাসেও বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল। এর মধ্যে জুনে যে পরিমাণ টাকার শেয়ার ক্রয় করে, বিক্রি করে তার থেকে ১১ কোটি বেশি। মাসটিতে বিদেশিরা ২৯৫ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে বিক্রি করেন ৩০৫ কোটি টাকা।
একইভাবে মে মাসে বিদেশিরা শেয়ার ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি করে ৬৫ কোটি টাকা। তার আগের মাস এপ্রিলে ১৫৪ কোটি টাকা। আর মার্চে ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি ছিল ১২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশিরা যে পরিমাণ টাকার শেয়ার ক্রয় করেছেন বিক্রি করেছেন তার থেকে ৬৮২ কোটি টাকা বেশি।
মাসের হিসাবে এর আগে বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির টানা চাপ ছিল গত বছর। ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস বিদেশিরা শেয়ার ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি করেন। এর মধ্যে এপ্রিলে শেয়ার ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি করে ২৫ কোটি, মে-তে ২৮২ কোটি, জুনে ২০৭ কোটি, জুলাইয়ে ৩৩ কোটি এবং আগস্টে ৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছর টানা পাঁচ মাসে বিদেশিরা শেয়ার ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি করেন ৫৫৩ কোটি টাকা।
তবে টাকার অঙ্কে বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ সব থেকে বেশি ছিল ২০১০ সালে। ওই বছরের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর টানা তিন মাস বিক্রি বেশি ছিল বিদেশিদের। এর মধ্যে অক্টোবরে ৬৩ কোটি টাকা, নভেম্বরে ১৫৭ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বরে ৪৯৫ কোটি টাকা শেয়ার ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি ছিল বিদেশিদের। অর্থাৎ টানা তিন মাসে বিদেশিরা ৭১৫ কোটি টাকা ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি করে।
বিদেশিরা ২০১০ সালের যে সময় শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায়, সে সময়েই দেশের শেয়ারবাজারে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়। সে সময়ে মহাধসে নিঃস্ব হয় অসংখ্যা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। ধকল সামলাতে না পেরে ধুকতে থাকে শেয়ারবাজার। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পার হলেও এখনো সেই ধকল পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি শেয়ারবাজার। এ পরিস্থিতেই চলতি বছরে এসে আবারও শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে বিদেশিরা।
এদিকে গত সাত মাস বিদেশিরা অব্যাহতভাবে শেয়ার বিক্রি করলেও চলতি বছরের প্রথম দুই মাসের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি পর পর দুই মাস শেয়ার বিক্রি থেকে ক্রয়ে বেশি মনোযোগী ছিল বিদেশিরা। জানুয়ারিতে বিদেশিদের শেয়ার বিক্রি থেকে ক্রয় বেশি হয় ১৭৫ কোটি টাকা। আর ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি থেকে ক্রয় বেশি ছিল ৩২৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বছরের দুই মাসে বিদেশিরা যে টাকার শেয়ার বিক্রি করেন ক্রয় করেন তার থেকে ৪৯৮ কোটি টাকা বেশি। বিদেশিদের এমন টানা শেয়ার ক্রয়ের কারণে ওই দুই মাসে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান ঘটে।
এদিকে টানা চার সপ্তাহ দরপতনের পর গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতায় দেখা মিলে। তবে তা খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। সপ্তাহ না গড়াতেই আবার পতনের ধারায় ফিরে এসেছে শেয়ারবাজার। ফলে গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর সবকটি মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধন।
গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ১৩৭টির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। অপরদিকে, দাম কমেছে ১৯৩টির। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমার ফলে ডিএসইর সব সূচকের পতন হয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩০.৬৫ পয়েন্ট বা ০.৬২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি বাড়ে ১১২.৪৮ পয়েন্ট বা ২.৩২ শতাংশ।

Friday, August 9, 2019

নবায়ন না করায় তিন লাখ বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ

প্রতিবছরই নবায়ন করতে হয় বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট বা হিসাব। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর নবায়ন না করায় প্রায় তিন লাখ বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব বিও হিসাবের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আর লেনদেন করতে পারবেন না অ্যাকাউন্টধারীরা। প্রতি বছরই নবায়ন ফি প্রদান না করায় বিও হিসাব বন্ধ করে দেয় সিডিবিএল। তবে এ বছরই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সিডিবিএল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা জানান, ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর এখনো বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগকারী বাজার ছাড়ছেন। বাজারের ওপর আস্থা ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় এসব বিনিয়োগকারী বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন করেননি।
তবে একটি বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়াও কাম্য নয়।

জানা গেছে, গত ৩১শে জুলাই পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে ২ লাখ ৮১ হাজার ১৫৮টি বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন করা হয়নি। তাই অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাৎসরিক নবায়ন মাশুল দিয়ে হালনাগাদ না করায় এসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ অ্যাকাউন্টধারীরা বছর শেষে মাশুল দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলো সচল রাখার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাননি। বিও অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রাখতে বার্ষিক ৫০০ টাকা মাশুল নির্ধারিত রয়েছে সিডিবিএলের। সাধারণত ৩০শে জুনের মধ্যে এ মাশুল পরিশোধ করতে হয় বিও অ্যাকাউন্টধারীদের। যেসব অ্যাকাউন্টের বিপরীতে মাশুল পরিশোধ করা হয় না, জুলাই মাস থেকে সেসব অ্যাকাউন্ট ক্রমান্বয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, শেয়ারবাজারে লেনদেনের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে ব্রোকারেজ হাউসে একটি করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। শেয়ারবাজারে এটি বিও অ্যাকাউন্ট নামেই পরিচিত। একজন বিনিয়োগকারী নিজ নামে ও যৌথভাবে সর্বোচ্চ দুটি হিসাব খুলতে পারেন। অনেকে আবার প্রাথমিক শেয়ারে বিনিয়োগ করার জন্য আত্মীয়স্বজনের নামেও একাধিক বিও অ্যাকাউন্ট খোলেন।

সিডিবিএলের বাৎসরিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন মাস শেষে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ৯ হাজার ৮৫০টি। আর জুলাই মাস শেষে বিও অ্যাকাউন্টে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৯২টি। এক মাসের ব্যবধানে বন্ধ হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ১৫৮টি বিও অ্যাকাউন্ট।

গত বছর ২০১৮ সালের ৩০শে জুন সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ৬৪ হাজার ৩৮৭টি। ৩১শে জুলাই তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ২০ হাজার ৪০৯টি। ৩০শে জুন থেকে ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে বন্ধ হয়েছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৮টি। চলতি বছর বন্ধ হওয়া বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা গত বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। ২০১৭ সালের ৩০শে জুনে সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা ছিল ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৩টি। ৩১শে জুলাই তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪০টিতে। বছরটিতে এক মাসের ব্যবধানে বন্ধ হয়েছিল ২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯২টি বিও অ্যাকাউন্ট।

আলোচ্য সময়ে পুরুষ বিও অ্যাকাউন্ট দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৭০০টি। জুন মাসে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯৯৩টি। এসময়ে পুরুষ বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ২৯৩টি।

গত জুন মাসে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৯টি। জুলাই মাস শেষে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭১ হাজার ১৬৩টিতে। সে হিসেবে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে ৭৩ হাজার ৩৯৬টি।

জুলাই মাসে কোম্পানি বিও অ্যাকাউন্ট কমেছে ৪৬৯টি। জুন মাসে কোম্পানি বিও হিসাব ছিল ১৩ হাজার ২৯৮টি। আর গত মাসে কোম্পানি বিও দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮২৯টিতে।

আলোচ্য সময়ে পুঁজিবাজারে দেশী বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট কমেছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬০টি। জুলাই মাসে দেশী বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৬৪টিতে। জুন মাসে দেশী বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ২৬ লাখ ২৯ হাজার ২২৪টি।

জুলাই মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৯টি। জুন মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩২৮টি। জুলাই মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে ২৩ হাজার ৯২৯টি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, আমাদের বিও অ্যাকাউন্টধারীদের একটি বড় অংশ শুধু শেয়ারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে আবেদন করে থাকেন। সেকেন্ডারি বাজারে তারা খুব বেশি নিয়মিত লেনদেন করেন না। আবার অপর অংশটি সেকেন্ডারি বাজারে সক্রিয় লেনদেন করে থাকেন। বর্তমানে বাজারের যে অবস্থা তাতে আইপিও এবং সেকেন্ডারি বাজার, কোনোটা থেকেই বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশিত মুনাফা পাচ্ছেন না। যার কারণে শেয়ারবাজারের প্রতিই তাদের আগ্রহ কমে গেছে। তাই বিও অ্যাকাউন্টধারীদের একটি বিপুল অংশ এ বছর আর বিও হিসাব নবায়ন করেননি। তার মতে, বাজারে গতিসঞ্চার না হলে বিনিয়োগকারী ধরে রাখা যাবে না। গতি ফিরে এলে আবার বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও বাড়বে।

এদিকে, প্রতিটি বিও হিসাব নবায়নের জন্য বার্ষিক ৫০০ টাকার যে মাশুল নেয়া হয়, তার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিপজিটরি প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ যার অধীনে বিও অ্যাকাউন্টটি খোলা হয় সেই প্রতিষ্ঠান পায় ১০০ টাকা। সিডিবিএল পায় ১৫০ টাকা, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পায় ৫০ টাকা আর বাকি ২০০ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হয়।

Tuesday, July 23, 2019

দুইদিনে ১০,০০০ কোটি টাকার মূলধন উধাও by এম এম মাসুদ

পুঁজিবাজারের টানা পতন রোধে গত কয়েক মাসে নানা কার্যকরী সংস্কার করা হয়েছে। তারপরও অস্বাভাবিক দরপতন হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও থেকে প্রতিনিয়ত উধাও হচ্ছে পুঁজি। ফলে প্রতিদিনই লোকসানের হিসাব কষতে হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। গতকালও শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৭ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে। যা গত আড়াই বছরে আর কখনও সূচক এতটা নামেনি। অন্যদিকে, গত দুদিনের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও থেকে উধাও হয়ে গেছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২০০ পয়েন্ট।

বাজারের সামপ্রতিক এ দরপতনকে ‘অস্বাভাবিক’ মনে করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি)। পতনের কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে এখন আতঙ্ক চলছে; সেই আতঙ্কে প্রতিদিনই পড়ছে সূচক। বেশ কিছুদিন ধরে সব খাতের শেয়ারের দরই পড়ে যাচ্ছে। ছোট বিনিয়োগকারীরা ফের রাস্তায় নামছেন। মিছিল-মানববন্ধন হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার তারা ১৫ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। এদিকে অস্বাভাবিক এই দরপতনে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, পুঁজিবাজারের পতনরোধে সাম্প্রাতিক সময়ে নানা কার্যকরি সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে বহুদিনের চাহিদা বিনিয়োগসীমা সংশোধন, প্লেসমেন্ট শেয়ারে লক-ইন এর মেয়াদ বৃদ্ধি, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা বৃদ্ধি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট (আরআইইউ) বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বিতর্কিত বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধন করা হয়েছে। তারপরও শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক পতন হচ্ছে। যদিও আইপিও্থর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসা কোম্পানির মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা রয়েছে। এছাড়া একটি কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিয়ে বিএসইসি ও ডিএসইর মধ্যে সৃষ্ট দুরত্ব বাজারে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে গুনঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

গতকাল সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার ডিএসইএক্স ৬৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৬৬.৪৪ পয়েন্টে নেমে আসে। সূচকে এর চেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২শে ডিসেম্বর, সেদিন সূচক নেমে গিয়েছিল ৪ হাজার ৯৬৬ পয়েন্টে। চলতি বছরের ২৪শে জানুয়ারি ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করছিল ৫৯৫০ পয়েন্টে। সেই হিসাবে গত ছয় মাসে ১০০০ পয়েন্ট হারিয়েছে ডিএসইর প্রধান সূচক। আর এই পতনের কারণ অনুসন্ধানে রোববার ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি।

সমপ্রতি কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তি নিয়ে বিএসইসি ও ডিএসই কর্তৃপক্ষ দুই মেরুতে অবস্থান করছে। আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের অসংগতি থাকায় কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত না করতে অনড় অবস্থান নেয় ডিএসই। এ ইস্যুতে বিএসইসির অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ডিএসইর সদস্যদের মধ্যে।

অন্যদিকে, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পূণঃনিয়োগ ঝুলিয়ে রাখার মাধ্যমে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে উঠেছে। গত মে মাসে কেএএম মাজেদুর রহমানকে ডিএসইর এমডি হিসাবে পূণঃনিয়োগের বিষয়ে অনুমতি চেয়ে বিএসইসিকে চিঠি দেয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোন উত্তর দেয়নি বিএসইসি। এরইমধ্যে গত ১১ই জুলাই ডিএসই থেকে বিদায় নিয়েছেন মাজেদুর রহমান। তবে কমিশনের কোন জবাব না পাওয়ায় মাজেদুর রহমানকে পূণঃনিয়োগ বা নতুন এমডির খোঁজে বিজ্ঞপ্তি দিতে পারছে না ডিএসই কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া গত কয়েক বছরে মানহীন কিছু কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের বিষয়টি নিয়েও বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। বিনিয়োগকারীরাও এ জন্য বিএসইসিকে দুষছেন। এমনকি বাজারের আস্থা ফেরাতে বিএসইসির চেয়ারম্যানেরও পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন বিনিয়োগকারীরা।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারে পতনের কারণ হচ্ছে সার্বিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে। আরেকটি কারণ হচ্ছে ব্যাংক খাতের ঋণ সরবরাহ কমে গেছে। এতে অনেক বিনিয়োগকারী ঋণ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে ঋণ কমে যাওয়ায় ব্যাংকের মুনাফা কমবে। এছাড়া একটি লিজিং কোম্পানি অবসায়ন হচ্ছে। অন্যদের অবস্থাও খুব একটা সন্তোষজনক না। এসব বিষয়গুলো বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। আর দুই দিন আগের কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ছিল ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। পাশাপাশি কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর ও সূচক। ফলে দুই দিনের ব্যবধানেই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বাজার মূলধন কমেছে।
এদিকে বাজেট অনুমোদনের পর ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে ১১ দিনই সূচকের পতন হয়েছে। এ সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স হারিয়েছে ৩৮৭.৮৮ পয়েন্ট।

বাজার পরিস্থিতি: গতকাল ডিএসইএক্স সূচক ৬৭.৩০ পয়েন্ট বা ১.৩৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯৬৬.৪৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১৮.৩৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৩৯.৫৩ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ২৩.২৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৭৬.১৪ পয়েন্টে। এর আগের দিন ডিএসইর ৪৬৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ওই দিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩৫৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ২৭৭টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির।

অন্যদিকে, সিএসইএর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৯৯.৫৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ২১৫.৯১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শতাংশ হিসাবে এই সূচক ১.২৯ শতাংশ কমেছে। গতকাল সোমবার সিএসইতে ২১ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। গত রোববার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। লেনদেন হয়েছে ২৮৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫১টির, কমেছে ২১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির দর।

Friday, June 28, 2019

বাজেটে কর প্রস্তাব: পুঁজিবাজার নিয়ে শঙ্কা by এম এম মাসুদ

প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর রিটেইন্ড আর্নিংস বা অবণ্টিত মুনাফা ও রিজার্ভের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে অতিরিক্ত কর পরিশোধের তালিকায় পড়বে পুঁজিবাজারের ২০৯টি কোম্পানি। কর বাবদ  এসব কোম্পানিকে বছরে পরিশোধ করতে হবে কমপক্ষে ১১ হাজার কোটি টাকা। এ ধরনের করারোপকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন নতুন করে করারোপ করায় শঙ্কায় পড়বে পুঁজি বাজারের বিনিয়োগ।
সুত্র জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রণোদনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। আশা করা হচ্ছিল, এবার বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাজেট প্রস্তাবের পর থেকে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক ধারা অব্যহত রয়েছে।
এর অন্তর্নিহিত কারণ হিসেবে রিজার্ভের ওপর করারোপের প্রস্তাবকেই অন্যতম ইস্যু বলে মনে করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। অবশ্য পুঁজিবাজারে প্রণোদনার অংশ হিসেবে নগদ লভ্যাংশ প্রদানকে উৎসাহিত করতে এ করারোপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বাজেট প্রস্তাবনায়।
তবে রিজার্ভের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপের প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০১৯’ প্রকাশকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব কোম্পানি কমপ্লায়েন্স পরিপালন ও সুশাসন নিশ্চিত করছে তারা সমস্যায় পড়বে। পাশাপাশি যেসব কোম্পানি ভালো কাজ করে কোম্পানি সমপ্রসারণের জন্য রিজার্ভ বাড়িয়েছে সেসব বড় প্রতিষ্ঠানে সৃষ্টি হবে অতিরিক্ত চাপ।
রিজার্ভের ওপর করারোপের এ ঘোষণায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) পক্ষ থেকে রিজার্ভের ওপর করারোপ সংক্রান্ত ধারাটি আয়কর আইন থেকে বাদ দেয়াসহ স্টক লভ্যাংশের ওপর করারোপের বিধান বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, কোনো আয় বছরে কোনো কোম্পানির রিটেইনড আর্নিংস ও রিজার্ভের সমষ্টি যদি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে বাড়তি অংশের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে। ব্যবসা থেকে পাওয়া মুনাফার যে অংশ কোম্পানি শেয়ারধারীদের মাঝে বণ্টন না করে পুনর্বিনিয়োগের জন্য রেখে দেয়, সেটিই হল রিটেইনড আর্নিংস বা অবণ্টিত মুনাফা। এই টাকা পরে কোম্পানির ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ও মূলধনি ব্যয় হিসেবে অথবা দেনা পরিশোধে ব্যয় হয়।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের যুক্তি ছিল, রিটেইনড আর্নিংসের ওপর কর আরোপ করলে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের ‘স্টক ডিভিডেন্ড’ বা বোনাস শেয়ার না দিয়ে নগদ লভ্যাংশ দিতে উৎসাহিত হবে। আর নগদ লভ্যাংশ পেলে বিনিয়োগকারীরাও উৎসাহিত হবেন।
কিন্তু শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অর্থমন্ত্রীর ওই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, একটি কোম্পানি প্রযোজ্য সব কর দেয়ার পরই তার রিজার্ভে অর্থ নেয়। ফলে প্রস্তাবিত ওই নিয়ম চালু হলে একই অর্থের ওপর দুইবার কর দিতে হবে। আর তাতে ভালো কোম্পানিগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি বছরে মুনাফার চেয়ে বেশি চলে যাবে কর পরিশোধে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও ব্যবসায়ীদের ওই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। সোমবারে ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যেহেতু ওই টাকার জন্য আগেই কর দেয়া হয়েছে, সেহেতু এটা দ্বৈতকরই হয়ে যায়। এ বিষয়টা আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। আমার মনে হয় বাজেট যখন পাস হবে, তখন আর এটা সেখানে থাকবে না।
সালমান এফ রহমান বলেন, অনেক জায়গা থেকে আমাদের বলা হয়েছে। এটা সিরিয়াসলি আমরা কনসিডার করছি। এখানে দুটো জিনিস। একটা হলো রিটেইনড আর্নিংসের ওপর ট্যাক্স। এক্সচুয়ালি এটা ডাবল ট্যাক্স হয়ে যাচ্ছে। রিটেইনড আর্নিংস অলরেডি ট্যাক্স পেইড। এটা পয়েন্ট আউট করা হয়েছে। রিটেইনড আর্নিংয়ের ওপর কর আরোপ করা হলে তা ডাবল করে রূপান্তরিত হবে, যা কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। ফলে চূড়ান্ত বাজেটের আগে সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।
এদিকে বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রস্তাবিত বাজাটের পর থেকে উত্থান-পতনের মাঝ দিয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। বাজেট ঘোষণার পর গত এক সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ১০০ পয়েন্ট কমেছে। গত ১৩ই জুন বাজেট ঘোষণার দিনে ডিএসইএক্স এর অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৪৭৪ পয়েন্ট। অবশ্য গতকাল সামান্য সূচক বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪১০ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ২৪১ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯১১ পয়েন্টে। ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৪৩১ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকার। যা গত কার্যদিবস থেকে ২২ কোটি টাকা কম। গত কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৫৩ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। ডিএসইতে ৩৫৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৯ শতাংশ বা ১৭৩ টির, কমেছে ৩৫ শতাংশ বা ১২৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬ শতাংশ বা ৫৬টির।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৬ হাজার ৫৬১ পয়েন্টে। এ সময়ে সিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২৬৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩০টির, কমেছে ১০৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির।
ডিএসই সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, রিজার্ভের ওপর করারোপের বিষয়টি প্রস্তাব করা হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই এটি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। আশা করি, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১৭ কোম্পানির রিটেইন আর্নিংস, রিজার্ভ ও পরিশোধিত মূলধনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০৯টি কোম্পানির রিটেইন আর্নিংস ও রিজার্ভের পরিমাণ এর পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি। কোম্পানিগুলোর মোট পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৫১ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। মোট রিটেইনড আর্নিংস ও রিজার্ভের পরিমাণ ৯৭ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। মোট পরিশোধিত মূলধনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ হচ্ছে ২৫ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের অতিরিক্ত মোট অর্থের পরিমাণ ৭১ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। এর ১৫ শতাংশ হারে ২০৯ কোম্পানিকে ১০ হাজার ৭৯২ কোটি টাকার কর দিতে হবে। এর মধ্যে ন্যূনতম ১০০ কোটি থেকে সর্বোচ্চ ৭৬২ কোটি টাকা পর্যন্ত কর দিতে হবে শীর্ষস্থানীয় ২৯ কোম্পানিকে। এ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে মোট কর আসবে ৭ হাজার ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানির সচিব বলেন, রিজার্ভের ওপর কর পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এটি একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এটি শেয়ারবাজারের জন্য প্রণোদনার বদলে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে শেয়ারহোল্ডার, তালিকাভুক্ত কোম্পানিসহ পুরো শেয়ারবাজারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাবে বাজেট ঘোষণার পরও শেয়ারবাজার নিম্নমুখী ছিল।

Friday, April 19, 2019

পুঁজিতে টান by এম এম মাসুদ

টানা দরপতনে ধীরে ধীরে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আশ্বাস সত্ত্বেও কোনোভাবেই কাটছে না লেনদেন খরা। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি দফায় দফায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করলেও বাজার পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ফলে দেশের পুঁজিবাজারে সাড়ে ২৮ লাখ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক, আস্থাহীনতা ও হতাশা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
তাদের দাবি, পতন ঠেকাতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অবশ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কঠোর আন্দোলনের হুমকির পর সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের উত্থান হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের শেয়ারবাজারে আস্থা সংকটের কারণে টানা দরপতন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বাজারে বড় মূলধনি কোম্পানিকে নিয়ে আসতে হবে।
আর ভালো ও বড় মূলধনি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে হলে স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। অর্থাৎ মানসম্মত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনতে হবে বলে মনে করেন তারা।
তাদের মতে, বাজারে সক্রিয় কারসাজি চক্র। এতে ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বাড়ে। বাজারে এমন কারসাজি চললেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বলছে, বাজার স্থিতিশীল।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারের মূল সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট। এ সংকট দূর করতে হবে। কারসাজির মাধ্যমে কেউ পুঁজি হাতিয়ে নিলে তার বিচার হবে, বিনিয়োগকারীদের এ নিশ্চয়তা দিতে হবে। পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এতে বাজারে নতুন পুঁজি আসবে। পাশাপাশি তারল্য সংকট কাটাতে সহায়তা করবে বলে আশা করেন তিনি।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৪ই মার্চ ডিএসই‘র বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা। গতকাল পর্যন্ত ৩ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এ সময়ে ডিএসই’র বাজারমূলধন প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা কমেছে। একই সময়ে ডিএসই’র মূল্যসূচক ৫ হাজার ৬৫৫ পয়েন্ট থেকে কমে ৫ হাজার ৩২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই’র সব কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে গড়ে ৫ শতাংশেরও বেশি।
বিনিয়োগকারী আবদুর রাজ্জাক বলেন, গত কয়েক দিনে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। গত নির্বাচনের পর বাজারের চাঙ্গাভাব দেখে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। সেই টাকা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ টাকায়। বুঝে উঠার আগেই আমার ১০ লাখ টাকা হাওয়া হয়ে গেল। তিনি বলেন, এভাবে কেনো শেয়ারবাজার চলতে পারে না। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ নেবেনে বলে আশা করেন তিনি।
আরেক বিনিয়োগকারী মোস্তাক মিয়া জানান, গত কয়েক দিনে ৫ লাখ টাকা নাই হয়ে গেছে তার।
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ধুঁকতে থাকা পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান দেখা দেয়। টানা বাড়তে থাকে মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে লেনদেনেও দেখা দেয় তেজিভাব। কিন্তু তেজিভাব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। নতুন সরকারের মেয়াদ এক মাস পার না হতেই দরপতনের কবলে পড়ে পুঁজিবাজার। প্রায় তিন মাস ধরে এ দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত পুঁজি হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সময়ে দরপতন ঠেকাতে বাস্তব কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি ডিএসই। এতে বাজারের ওপর চরম আস্থাহীনতার সঙ্গে দেখা দিয়েছে তারল্য সংকট। লেনদেন কমতে কমতে একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ১০ই এপ্রিল থেকে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিন কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে ৩০০ কোটি টাকার নিচে। ১৪ মার্চের পর গত এক মাসে ডিএসইর লেনদেন ৫ কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করতে পারেনি।
এ বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, বাজারের মন্দাভাব কাটাতে ডিএসইর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। অথচ বাজার উন্নয়নের জন্য ক্ষেত্র-বিশেষে বিএসইসি থেকে ডিএসইর ভূমিকা বেশি থাকার কথা। তিনি বলেন, ডিএসইর বর্তমান ম্যানেজমেন্টের কর্মকাণ্ডে বোঝা যায়, বাজার সম্পর্কে তাদের দক্ষতার বেশ অভাব আছে।
এর আগে এক অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, ২০১০-১১ সালের পর শেয়ারবাজারের উন্নয়নে নানা সংস্কার করা হয়েছে। ফলে ৮ বছরে শেয়ারবাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়নি। বাজার আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি স্থিতিশীল। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে শেয়ারবাজার এখন সমৃদ্ধ ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশিদ চৌধুরী বলেন, বাজারের মন্দাভাবের কারণে বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব হয়ে আত্মহত্যাও করছেন। কিন্তু বিএসইসি বা ডিএসই কেউ পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, বাজার এখন যেভাবে চলছে তা স্বাভাবিক নয়। এর প্রতিবাদে আমরা নিয়মিত রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছি। আমাদের দাবি, যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম ইস্যুমূল্যের নিচে নেমে গেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বাই-ব্যাক করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন জরুরি। কারসাজি চক্রের খপ্পরে পড়ে শেয়ারবাজারে এমন টানা দরপতন হচ্ছে। বাজারের এমন অবস্থার পরও বিএসইসি কিংবা ডিএসই কেউই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজার এখন যে অবস্থায় চলছে তা হতাশাজনক। বিনিয়োগকারীদের পুঁজি আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে তাদের বিশ্বাসের জায়গা কমে যাচ্ছে। তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নতুন ও ভালো প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আনার বিকল্প নেই।
বাজার পর্যালোচনায় জানা গেছে, গত বুধবার দরপতনের প্রতিবাদে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষোভ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সেই সঙ্গে আগামী ২৩শে এপ্রিলের মধ্যে বাজারের স্বার্থে দাবি মেনে না নেয়া হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কমিশনের (বিএসইসি) সামনে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুমকি দেন। বিক্ষোভ থেকে বিনিয়োগকারীরা বিএসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের পদত্যাগ, জেড ক্যাটাগরি এবং ওটিসি মার্কেট বন্ধ, খন্দকার ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা এবং আইপিও ও প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানান।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের এই হুমকির মধ্যেই বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়। তবে আগের কয়েক কার্যদিবসের মতো এদিনও লেনদেন শুরুর দিকে পতনের আভাস দিতে থাকে। কিন্তু বেলা ১১টার পর থেকে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আভাস মেলে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। ফলে দিনের লেনদেন শেষে দেখা মেলে বড় উত্থান।
লেনদেন চলাকালেই বাজারে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে শেয়ারবাজারের চলমান সমস্যা সমাধানে ডিএসই থেকে বিএসইসির কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- ভালো কোম্পানি আনতে আইপিও প্রক্রিয়ায় সংস্কার ও সঠিক দর নির্ধারণে বুক বিল্ডিং সংশোধনীর প্রস্তাব, প্রাইভেট প্লেসমেন্টে কম ও আইপিওতে বেশি শেয়ার ইস্যু, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের লক-ইন শেয়ারে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এর মাধ্যমে বিশেষভাবে নজরদারি রাখা, গ্রামীণফোনের ওপর এনবিআর আরোপিত কর জটিলতার সমাধান ইত্যাদি।
ডিএসই’র এই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক শেয়ারবাজারে। ফলে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখায়। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৭টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টির দাম। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩২১ পয়েন্টে উঠেছে। অপর দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৯৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচকের এই উত্থানের পাশাপাশি ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৫২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩১৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সে হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ১১০ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৮৪২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৩৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৪টির। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ারগুলোর দরের ভিত্তিতে সূচক ওঠানামা করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বাজারে স্থিতিশীলতার জন্য এ ধরনের বড় মূলধনি কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়ানো প্রয়োজন।

Thursday, November 22, 2018

২৭ লাখ বিও অ্যাকাউন্টের অর্ধেকই নিষ্ক্রিয় by এম এম মাসুদ

দেশের পুঁজিবাজারে সাড়ে ২৭ লাখ বিনিয়োগকারীর বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টের অর্ধেকই নিষ্ক্রিয়। এসব বিও অ্যাকাউন্টের সাড়ে ১০ লাখ শেয়ারশূন্য। আর প্রায় সাড়ে ৪ লাখ অ্যাকাউন্ট অব্যবহৃত। বাকি ১৩ লাখ অ্যাকাউন্ট সক্রিয়। বিও অ্যাকাউন্ট বা হিসাব সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিও অ্যাকাউন্টের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাজারে যত বিও অ্যাকাউন্ট আছে, তার অর্ধেকের বেশি বিও অ্যাকাউন্টে কোনো সময় শেয়ার থাকে, আবার কোনো সময় কোনো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার হয় না। ফলে যত বিও অ্যাকাউন্ট আছে, তার অর্ধেকেরও কম বাজারে সক্রিয় থাকে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাজারের প্রায় অর্ধেক বা ১৪ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট গত চারবছর ধরে নিষ্ক্রিয় থাকছে।
গত জুন শেষে শেয়ারবাজারের সক্রিয় বিনিয়োগকারী ছিল ১৩ লাখের মতো। যাদের বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার ছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, বাজারে কিছু বিও অ্যাকাউন্ট থাকে, যেগুলোয় নিয়মিত শেয়ার লেনদেনে ব্যবহার হয় না। শুধু প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আবেদনের জন্য এসব বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার হয়। এ কারণে এসব বিও অ্যাকাউন্টকে নিষ্ক্রিয় ধরা হয়। তবে নিষ্ক্রিয় বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি বাজারের জন্য ভালো লক্ষ্মণ নয়।
সিডিবিএল’র প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১০ সালের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধসের পর থেকেই বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ কমতে শুরু করে। সিডিবিএল’র প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৬ সালের জুনে বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ৩২ লাখ ৭৬৬টি। বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখে। তবে গত এক বছরে প্রায় ৩০ হাজার অ্যাকাউন্ট বেড়েছে। এদিকে ২০১৩ সালের পর থেকে বাজারে নিষ্ক্রিয় বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েই চেলেছে। চলতি বছরের জুন শেষে শেয়ারবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৩টি। এর মধ্যে ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৪২৯টি বিও হিসাব ছিল শেয়ারশূন্য। আর ৪ লাখ ২৪ হাজার ২২৪টি বিও অ্যাকাউন্ট ছিল অব্যবহৃত। সব মিলিয়ে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৫৩টি। আর সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৩ লাখ ৩ হাজার ৭৩০টি।
সেকেন্ডারি মার্কেটের মন্দা ও আইপিও বাজারের নাজুক পরিস্থিতির জন্য এসব অ্যাকাউন্ট ঝরে গেছে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, বাজারে আইপিও’র অফার থাকলে এমনিতেই বিও অ্যাকাউন্ট বাড়ে। বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই আইপিও আবেদনের জন্যই শুধু বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। তাই আইপিও তথা ভালো কোম্পানি বাজারে না আসলে এসব নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়বেই। তবে বাজার এগিয়ে নিতে হলে সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে।
সিডিবিএল’র বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ২০১৪ সালে শেয়ারধারণ করা বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৬টি। ২০১৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৫১৮টিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার বিক্রি করে দেয়ায় এসব অ্যাকাউন্ট শেয়ারশূন্য হয়ে অকার্যকর বিও অ্যাকাউন্টে পরিণত হয়। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে এসে শেয়ার আছে এমন বিও হিসাবের সংখ্যা আরো কমে দাঁড়ায় ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৪৯২টিতে। ২০১৭ সালে তা আগের বছরের চেয়ে প্রায় সোয়া ২ লাখ কমে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৭টিতে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জুন শেষে তা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪ হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৭৩০টিতে।
সর্বশেষ ১৮ই নভেম্বর পর্যন্ত সিডিবিএল তথ্যমতে, বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৭টি। এর মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীর বিও রয়েছে ২০ লাখ ১১ হাজার ৯৯৬টি। নারীদের বিও রয়েছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮টি। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী রয়েছে ১২ হাজার ৪২৩টি।
উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারে যেসব বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার জমা রয়েছে এবং যেগুলো শেয়ার কেনাবেচায় ব্যবহৃত হয়, সেসব অ্যাকাউন্টই সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট হিসাবে ধরা হয়। যেসব অ্যাকাউন্ট কখনো ব্যবহার হয়নি ও শেয়ারশূন্য সেসব বিও অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হিসাবে ধরা হয়। নিয়মানুযায়ী, জুন মাসে বিও ফি পরিশোধ না করলে বিও অ্যাকাউন্ট এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যেসব অ্যাকাউন্টে শেয়ার কিংবা টাকা থাকে, সেসব হিসাব বন্ধ হয় না। প্রতিটি বিও অ্যাকাউন্টের জন্য প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে বছরে ৪৫০ টাকা রক্ষণাবেক্ষণ মাশুল দিতে হয়। শেয়ারবাজারে শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে বিও অ্যাকাউন্টে ছাড়া কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে লেনদেন করতে পারেন না। নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি বিনিয়োগকারী একটি ব্রোকারেজ হাউসে নিজ নামে ও যৌথ নামে সর্বোচ্চ দু’টি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। একটি বিও অ্যাকাউন্ট মানে একজন বিনিয়োগকারী ধরা হয়।

Thursday, September 6, 2018

ডিএসই’র মালিকানায় যুক্ত হলো চীনা জোট

চীনা কনসোর্টিয়াম সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই সঙ্গে ডিএসই’র একাউন্টে ৯৪৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা জমা হয়েছে। সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের বিও (বেনিফিসিয়ারি ওনার্স) একাউন্টে শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তারা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে শেয়ারের মূল্য পরিশোধ করেছেন। এখন থেকে চীনা কনসোর্টিয়ামের একজন প্রতিনিধি হিসেবে সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের আইটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সি ওয়েনহাই ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেছেন। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই’র পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় ডিএসই’র পরিচালক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান, মিনহাজ মান্নান ইমন, শরীফ আতাউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বলেন, পুঁজিবাজারের জন্য এই দিনটি ঐতিহাসিক। কারণ এই চুক্তির মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আন্তর্জাতিক শেয়ার মর্কেটে পরিণত হতে যাচ্ছে। ডিএসই’র ২৫% শেয়ার চীনা কনসোর্টিয়াম শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে ডিএসই। একই সঙ্গে ডিএসই’র একাউন্টে ২৫ শতাংশ শেয়ারের সমপরিমাণ টাকা জমা হয়েছে। এর মাধ্যমে চীনা কনসোর্টিয়াম এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
সি ওয়েনহাই বলেন, বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জের মান উন্নয়ন এবং অনান্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে চীনের সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম। তিনি বলেন, আমরা ডিএসই’র প্রযুক্তিকে আরো শক্তিশালী করতে চাই। এর মাধ্যমে উন্নয়নের এক ধাপ এগিয়ে যাবে ডিএসই। একই সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট শক্তিশালী না হওয়া পর্যন্ত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সি ওয়েনহাই বলেন, চীনা কনসোর্টিয়াম গভীর গবেষণা ও পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি আন্তরিক, সহযোগিতামূলক ও উভয়ের জন্য উপকারি কাজ করবে। এছাড়া দরপত্রে ব্যবসা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ভিশন নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দেয়া হয়েছে।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, গত ৩রা সেপ্টেম্বর চীনা কনসোর্টিয়াম অর্থ দিয়েছে এবং ৪ঠা সেপ্টেম্বর শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিএসই আরো এগিয়ে যাবে। চীনা কনসোর্টিয়াম থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্টেকহোল্ডাররা বাজারে বিনিয়োগ করলে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জানান, চীনা কনসোর্টিয়াম থেকে প্রায় ৯৬২ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এরমধ্যে স্ট্যাম্প ডিউটিবাবদ সরকারকে ১৫ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি ৯৪৭ কোটি টাকা স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। যা স্টেকহোল্ডাররা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৬শে আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক চীনের সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ জোটকে নিটা একাউন্ট খোলার অনুমতি দেয়। এর আগে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে গত ১৪ই মে চীনা জোটের সঙ্গে চুক্তি সই করে ডিএসই। এর আগে ৩রা মে চীনা কনসোর্টিয়ামকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। চুক্তি অনুযায়ী, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা জোট ডিএসই’র ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার কিনেছে তারা। এজন্য প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ২১ টাকা দরে মোট ৯৬২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ জোট। ডিএসইর শেয়ারের বিপরীতে চীনা জোটের দেয়া অর্থ ডিএসইর সদস্য ব্রোকারদের ভাগ করে দেয়া হবে। এর আগে অর্থ পরিশোধ এবং ডিএসই’র শেয়ার নিতে চীনা কনসোর্টিয়ামের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছে।

Friday, May 25, 2018

ব্যাংকে মুনাফা কমার ধাক্কা পুঁজিবাজারে

ধারাবাহিক দরপতন ও লেনদেন খরায় দেশের শেয়ারবাজার। এজন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমায় এই দরপতন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপও এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা। জানা গেছে , টানা ১৩ কার্যদিবস পতনের পর সোমবার বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর ও মূল্য সূচক বেড়েছিল। এর একদিন পরই মঙ্গলবার আবারও পুরনো বৃত্তে ফিরে গেছে বাজার। তবে সপ্তাহের শেষ দিন সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্লষকরা জানান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনের দুই প্রতিষ্ঠান শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জেকে পাওয়ার মতো সুখবরও বাজারে প্রাণ ফিরছে না। ক্রমগত শেয়ারের দরপতনে কমে আসছে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি। পুঁজি হারানোর শঙ্কার পাশাপাশি আস্থার সংকটে পড়েছে বিনিয়োগকারীরা। তারা বলেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ক্ষতি এড়াতে ব্যাংকগুলোকে বেশি করে টাকা তাদের মুনাফা থেকে সরিয়ে রাখতে হচ্ছে, তাই মুনাফা কমে গেছে। এছাড়া প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার প্রভাব ব্যাংকিং খাতে পড়েছে বলে মনে করেন তারা। আর ব্যাংকগুলোর টাকায় কমতি থাকায় বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলেও মুনাফা কমে গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশির ভাগেরই মুনাফা কমেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে ২৬টি ব্যাংক তাদের ২০১৮ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের শেয়ারপ্রতি মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ১৪টি ব্যাংকের মুনাফা আগের বছরের এই সময়ের তুলনায় কমেছে। ১২টি ব্যাংকের মুনাফা আগের বারের চেয়ে বেড়েছে। এদিকে বুধবার ব্যাংক খাতের ৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২৮টি প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৮টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির এবং ১৬টির প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৪টি ব্যাংকের মুনাফা কমেছে। ওয়ান ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৩৩ পয়সা, যা আগের বারের তুলনায় ৯০ পয়সা বা ৭৩ শতাংশ কম। এই সময়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৮ পয়সা, যা আগেরবারের চেয়ে ১১ পয়সা বা ৫৮ শতাংশ কম। প্রাইম ব্যাংক এই তিন মাসে ৩৪ পয়সা শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে, যা আগেরবারের চেয়ে ৪৪ পয়সা বা ৫৬ শতাংশ কম। এবি ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ১৬ পয়সা, যা আগের তুলনায় ১৫ পয়সা বা ৪৮ শতাংশ কম। উত্তরা ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ৩৩ পয়সা বা ৪৬ শতাংশ কমে ৩৯ পয়সায় নেমেছে। ইস্টার্ন ব্যাংক তিন মাসে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৬৯ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৫৮ পয়সা বা ৪৬ শতাংশ কম। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ২৯ পয়সা বা ৪৫ শতাংশ কমে ৩৬ পয়সায় নেমেছে। আল-আরাফাহ্‌? ইসলামী ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৪১ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৩০ পয়সা বা ৪২ শতাংশ কম। সাউথইস্ট ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ২৯ শতাংশ কমে যথাক্রমে ৬৮ পয়সা ও ২৭ পয়সায় নেমেছে। ট্রাস্ট ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৮৩ পয়সা, যা আগের চেয়ে ২২ পয়সা বা ২১ শতাংশ কম। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ১৮ শতাংশ কমে যথাক্রমে ৪০ পয়সা ও ৮৫ পয়সায় নেমেছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৪৪ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৪ পয়সা বা ৮ শতাংশ কম।
এদিকে ১১ ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৩৬ পয়সা, যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে ২৬ পয়সা বা ২৬০ শতাংশ বেশি। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ২১ পয়সা বা ২১০ শতাংশ বেড়ে ৩১ পয়সায় উঠেছে। ব্যাংক এশিয়া মুনাফা করেছে ৬০ পয়সা, যা আগের চেয়ে ২৫ পয়সা বা ৭১ শতাংশ বেশি। যমুনা ব্যাংক এই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৫২ পয়সা, যা আগের চেয়ে ১৩ পয়সা বা ৩৩ শতাংশ বেশি। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ১৬ পয়সা বা ২৮ শতাংশ বেড়ে ৭৩ পয়সায় উঠেছে। আইএফআইসি ব্যাংক এই সময়ে মুনাফা করেছে ৩০ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৪ পয়সা বা ১৫ শতাংশ বেশি। ব্র্যাক ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে এক টাকা ১৮ পয়সা, যা আগের চেয়ে ১১ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেশি। ঢাকা ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৫৫ পয়সা যা, আগের বারের তুলনায় ৫ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেশি। ডাচ্‌্‌-বাংলা ব্যাংক এই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৩ টাকা ১৯ পয়সা, যা আগের চেয়ে ২৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেশি। প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ৩ পয়সা বা ৭ শতাংশ বেড়ে ৪৫ পয়সায় উঠেছে। ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৩৯ পয়সা, যা আগের চেয়ে ১ পয়সা বা ৩ শতাংশ বেশি।
এ সময়ে লোকসান কমেছে একটি ব্যাংকের। এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ৩৪ পয়সা, যা আগের বারের তুলনায় ১৯ পয়সা বা ৩৬ শতাংশ কম।
ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। এছাড় ডলারের বিপরীতে টাকার মান ক্রমাগত কমে যাওয়াও এ প্রবণতাকে উসকে দিচ্ছে।
এদিকে গত ১৩ কর্যদিবসে বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪৮২ কোটি টাকার বেশি। একই চিত্র চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, ব্যাংকগুলোতে সুদের হার অনেক বেড়ে গেছে। মানুষ পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে বেশি লাভের জন্য ব্যাংকে রাখছে। সার্বিকভাবে পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করেন লালী।
গতকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪২৯ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে ৪৭৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিন থেকে ১৫ কোটি টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৮৮ কোটি টাকার। অপর শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৭৪৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার।

Friday, May 18, 2018

ঢাকায় চীনের কাছে ভারতের হার

চূড়ান্ত দফায় শেষ হয়ে গেছে এশিয়ার দুই অর্থনীতির সুপার পাওয়ারের মধ্যে লড়াই। সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ (এসএসই) ও শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জের (এসজেডএসই) সমন্বয়ে গঠিত একটি চীনা কনসোর্টিয়াম তার ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শতকরা ২৫ ভাগ শেয়ার ছিনিয়ে নিয়েছে। এরই মধ্যে এ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি শেয়ার ২১ টাকায় কিনে নেবে চীনা কনসোর্টিয়াম। এই দামে তারা মোট ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের শেয়ার কিনে নেবে। যা মোট শেয়ারের চারভাগের এক ভাগ। মোট শেয়ার রয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের। এর আগে প্রতিটি শেয়ারের দাম ২২ টাকা প্রস্তাব করেছিল চীন। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ২০১৭ সালে শতকরা ১০ ভাগ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এতে প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে আসে। উপরন্তু ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের  প্রযুক্তিগত সহায়তা (টেকনিক্যাল সাপোর্ট) প্রস্তাব করেছে চীন। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে একটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বাজার তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে। চীনা অংশীদারদের সহযোগিতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লক্ষ্য হলো তাদের ‘প্রডাক্ট অফারিংস’কে বহুমুখী করা। উপরন্তু উভয় অংশীদারের পরিকল্পনায় রয়েছে বাংলাদেশে ইএলআইটিই ভি-নেক্সট এলায়েন্স প্রোগ্রাম চালুর। বিনিয়োগকারীদের সেবা স্বয়ংক্রিয় ফ্রেমওয়ার্কে আনা হবে। মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছে চীনা কনসোর্টিয়াম। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক পোর্টফোলিও উন্নত করতে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন এসব প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হয়ে যাবে তখন আশা করা হচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রান্ড ইমেজ বৃদ্ধি পাবে এবং অধিক বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, চীনের পথ অনুসরণ করে পুঁজিবাজারের উন্নতি করে বাংলাদেশ প্রভূত সুবিধা পাবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, আমরা আশা করি কৌশলগত অংশীদার বাংলাদেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে, যেমনটা ১৯৯০ সালে উদ্বোধন হওয়া সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে চীনের সংশ্লিষ্ট বাজারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিটি শেয়ার ১৫ টাকায় কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই)। যখন হিসাব কষা হলো দেখা গেল চীন যে দাম প্রস্তাব করেছে ভারতের প্রস্তাবিত দাম তার চেয়ে শতকরা ৪৭ ভাগ কম। চীনের মতো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে সার্বিকভাবে আধুনিকায়ন করার জন্য বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এনএসই। তবে টেকনিক্যাল সহায়তার প্রকৃতি বা তার আকার কি হবে তার কিছুই প্রকাশ করে নি তারা। উপরন্তু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পরিষদে দুটি আসন চেয়ে বসে এনএসই। একবার এই আসন তাদের দেয়া হলে তারা ৫ বছর পরে তা ছাড়বে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ যে চীনা দরদাতাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এটা বুঝতে পেরে ভারত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে। ফেব্রুয়ারিতে এ বিষয়ে ঢাকা সফর করেন এনএসই’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিক্রম লিমায়ে। তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। স্টক এক্সচেঞ্জের উন্নয়নে এনএসই’র অভিজ্ঞতার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেন তিনি। প্রাথমিকভাবে বিক্রম লিমায়ের দেন-দরবার দৃশ্যত কাজ করতে দেখা যায়, যখন কমিশন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে তাদের টেন্ডার প্রক্রিয়া পুনরায় রিভিজিট করার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও বাজার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকেই এর বিরোধিতা করে বলতে থাকেন যে, এনএসই’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এটাই বোঝানোর চেষ্টা করাছেন যে, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমর্থক হলো দিল্লি। তা সত্ত্বেও তারা যুক্তি দেখান। বলেন, বাংলাদেশের উচিত সবচেয়ে ভালো সুযোগটি বেছে নেয়া।
অন্যদিকে শেয়ারবাজারে সফলতার সঙ্গে দরপত্র জিতে দৃশ্যত চীন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশে তারা বেশি প্রভাবশালী। প্রতিবেশীদের সঙ্গে চীনের কর্মকাণ্ডে বেশ উদ্বিগ্ন দিল্লি। এসজেডএসই’র প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোরে সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। অন্যভাবে বলা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়ন এজেন্ডায় ভারতকে একেবারে পাশ কাটিয়ে যেতে চায় না চীন। বাংলাদেশে ভারতপন্থিদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেছে চীন। একই বক্তব্যে এসজেডএসই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা হবে ন্যায়সঙ্গত এবং বিজয়ী-বিজয়ী ভিত্তিতে। তিনি আরো বলেছেন, শেয়ার হোল্ডারদের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করবে চীন। এখন সময়ই বলে দেবে চীন তার প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকতে পারবে কিনা। তবে, এখন বলা দৃশ্যত বাংলাদেশ একটি ভালো চুক্তি করেছে।
(অনলাইন ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত রিপোর্ট অবলম্বনে)

Monday, May 14, 2018

পুঁজিবাজারে অংশীদারিত্ব: ডিএসই’র সঙ্গে চীনা কনসোর্টিয়ামের চুক্তি আজ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সঙ্গে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামের চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। আজ সোমবার রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে এই চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিএসই মুখপাত্র শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদসহ শেয়ারহোল্ডারগণ, শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত অংশীদার করার মাধ্যমে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসই সূত্র জানায়, গত ৩ রা মে চীনের শেনচেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত অংশীদার করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রস্তাব অনুমোদন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। চীনা এই কনসোর্টিয়াম ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ডিএসই’র ২৫ শতাংশ বা ৪৫,০৯,৪৪,১২৫টি শেয়ার ২১ টাকা দরে কিনবে; যার মূল্য ৯০০ কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি চীনা এই কনসোর্টিয়াম ডিএসই’র কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩০০ কোটিরও বেশি টাকা (৩৭ মিলিয়ন ডলার) খরচ করবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে তারা।
ডিএসই’র সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, চীনাদের আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে ডিএসই’র যেমন কাজে লাগবে তেমনি তাদের ব্রান্ড ডিএসইকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। চীনের প্রধান তিনটি স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে সাংহাই ও শেনজেন রয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে। বাজার মূলধনের দিক থেকে বিশ্বের সেরা ১০টি স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকায়ও রয়েছে এই দুই পুঁজিবাজার।
সাংহাই স্টক একচেঞ্জের বাজার মূলধন সাড়ে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার আর শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার। অপরদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন ৫১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। শাকিল রিজভী বলেন, বোঝাই যাচ্ছে তারা যখন কোনো বাজারের অংশীদার হবে তখন সেই বাজারেরও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও থাকবে। চীনের কনসোর্টিয়াম কাজ শুরুর পর ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারী, দৈনিক লেনদেন বাড়বে এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ হবে বলে মনে করেন শাকিল রিজভী।
জানা গেছে, কৌশলগত অংশীদার পেতে গত বছরের শেষদিকে ডিএসই’র আহ্বানে দুটি কনসোর্টিয়াম দরপত্র জমা দেয়। এদের মধ্যে ছিল চীনের শেনচেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম এবং ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক-এর কনসোর্টিয়াম। দুটি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে ১০ই ফেব্রুয়ারি চীনের কনসোর্টিয়ামকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই। এরপর চীনের কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে পেতে গত ২২শে ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আবেদন করে ডিএসই। কিন্তু ১৯শে মার্চ প্রস্তাব অনুমোদন না দিয়ে কিছু শর্তসাপেক্ষে তা সংশোধন করতে বলে বিএসইসি। এরপর ৩০শে এপ্রিল কোম্পানির সাধারণ সভায় সংশোধিত প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় ডিএসই’র শেয়ার হোল্ডাররা। ডিএসইর এ সিদ্ধান্তের পর ৩রা মে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বিএসইসি।

Tuesday, May 1, 2018

ভারত আউট পুঁজিবাজারে চীন

চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত অংশীদার করার সংশোধিত প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডাররা। এর ফলে বাদ পড়লো ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক-এর কনসোর্টিয়াম। এই চুক্তি সম্পাদিত হলে চীনের এই কনসোর্টিয়াম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি সাড়ে ৯ লাখ শেয়ারের মালিক হবে। গতকাল রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে কোম্পানির সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা এই প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এখন পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেতে সংস্থাটিতে প্রস্তাব পাঠাবে ডিএসই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রায় চার মাস আগে কৌশলগত অংশীদার পেতে ডিএসইর আহ্বানে দুটি কনসোর্টিয়াম দরপত্র জমা দেয়। এদের মধ্যে চীনের দুই এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম ছাড়া অন্য দরদাতা ছিল ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক-এর কনসোর্টিয়াম। দুটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে ১০ই ফেব্রুয়ারি চীনের কনসোর্টিয়ামকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই।
গতকাল বিশেষ সাধারণ সভায় বিএসইসি’র দেয়া শর্তানুযায়ী, শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ সমন্বয়ে গঠিত এই কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ডিএসই’র চুক্তির জন্য সংশোধিত প্রস্তাবে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি চান ডিএসই’র চেয়ারম্যান আবুল হাশেম। পরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ারহোল্ডারদের উপস্থিতিতে ডিএসইর ২৫ শতাংশ বা ৪৫০,৯৪৪,১২৫টি সাধারণ শেয়ার চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে বিক্রয়ের চুক্তি এবং সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত ও গৃহীত হয় সভায়।
ডিএসই’র চেয়ারম্যান বলেন, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার নিরলস পরিশ্রম ও দীর্ঘ কর্মযজ্ঞের কারণে বিশ্বের খ্যাতনামা শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এর কনসোর্টিয়াম থেকে ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ার প্রস্তাব পাওয়া গেছে। দিনটি ডিএসই’র ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে চীনের কনসোর্টিয়ামের চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি এগিয়ে যাচ্ছে। ইজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের মাধ্যমে অনেকটা বাধা কেটে গেলো। এখন চীনের কনসোর্টিয়াম চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে শেয়ারহোল্ডাররা আশাবাদী।
জানা গেছে, গত ২২শে ফেব্রুয়ারি চীনের কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অনুমোদনের জন্য ডিএসইর সেক্রেটারি মো. আসাদুর রহমান বিএসইসিতে প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। তবে ১৯শে মার্চ ডিএসইর দেয়া চীনা কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী করার প্রস্তাব অনুমোদন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। তবে কিছু শর্তসাপেক্ষে ডিএসই কর্তৃপক্ষকে নতুন করে সংশোধিত প্রস্তাব করার সুযোগ দেয়। এরই আলোকে ৩০শে এপ্রিল ইজিএম আয়োজন করে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।
বিএসইসির ওই শর্তগুলোর মধ্যে ছিল- কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করা যাবে না, যা দেশের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ডিএসইর সাধারণ শেয়ারহোল্ডার এবং শেয়ারবাজারের উন্নয়নের পরিপন্থি। আর ডিএসইর আর্টিকেলের পরিপন্থি কোনো সংশোধনী গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ছাড়া বিএসইসিতে প্রস্তাবের আগে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে হবে, ডিএসইর সাধারণ সভায় বিএসইসির পর্যালোচনা কমিটির পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যাহর করা শর্তগুলো জানাতে হবে এবং সাধারণ সভায় গৃহীত প্রস্তাব, সংশোধিত চুক্তি ও অন্যান্য ডকুমেন্টস কমিশনে দাখিল করার শর্ত দেয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভায় চীনা কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে বেছে নেয়া হয়। আর ২২শে ফেব্রুয়ারি সকালে চীনের কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অনুমোদনের জন্য ডিএসইর সেক্রেটারি মো. আসাদুর রহমান বিএসইসিতে প্রস্তাব জমা দেয়। এর আলোকে একইদিনে ডিএসইর প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৪ সদস্যের কমিটি করে বিএসইসি।
ডিএসইর প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ে বিএসইসির পর্যালোচনা কমিটি চীনা কনসোর্টিয়ামের কিছু শর্তের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি ডিএসইকে লিখিতভাবে জানায় বিএসইসি। এরই আলোকে ডিএসই কর্তৃপক্ষ ৪ঠা মার্চ ব্যাখ্যা দিয়েছে। তবে সেই ব্যাখ্যায় বিএসইসি সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
বিএসইসির ওই চিঠিতে বলা হয়, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং শেনচেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম ডিএসইর শেয়ার ২২ টাকা দরে কিনতে চেয়েছে। একই সঙ্গে কিছু টেকনিক্যাল সাপোর্টের কথা বলেছে। কিন্তু এর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নেই। এ ছাড়া চীনের বিনিয়োগের প্রস্তাবে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
চীনা প্রস্তাবের শর্তগুলো হলো- কৌশলগত অংশীদারিত্বের এই চুক্তি হতে হবে যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী। দ্বিতীয়ত, কোনো বিভেদ দেখা দিলে তার সমাধান হতে হবে যুক্তরাজ্যের আরবিট্রেশন আইন অনুযায়ী। তৃতীয়ত, ডিএসইর আর্টিকেল পরিবর্তন করে কিছু বিষয় যুক্ত করতে হবে। সেসব বিষয় পরে কখনও পরিবর্তন করতে চাইলে ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) পাস করার আগে কনসোর্টিয়ামের অনুমোদন নিতে হবে।
জানা গেছে, চীনের কনসোর্টিয়াম ডিএসইর প্রতিটি শেয়ারের দাম দিতে চেয়েছে ২২ টাকা। তবে শর্তানুযায়ী, ডিএসইর শেয়ারহোল্ডাররা এরই মধ্যে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ নেয়ায়, সমপরিমাণ দর কমে এসেছে। এক্ষেত্রে ডিএসইর ১৮০ কোটি শেয়ারের ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি শেয়ার প্রতিটি ২১ টাকা দামে ৯৪৫ কোটি টাকায় কিনবে। পাশাপাশি ডিএসইর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩০০ কোটিরও বেশি টাকা (৩৭ মিলিয়ন ডলার) ব্যয় করবে। যাতে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হতে ১ হাজার ২৪৫ কোটিরও বেশি টাকা পাবে ডিএসই।
অপরদিকে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ নেতৃত্বাধীন ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও নাসডাক কনসোর্টিয়াম প্রতিটি শেয়ার ১৫ টাকা করে ৪৫ কোটি শেয়ার ৬৭৫ কোটি টাকায় কিনতে চায়। আর প্রযুক্তি সহায়তার বিষয়ে কোনো প্রযুক্তি সিস্টেম না দিয়ে শুধু পরামর্শ এবং অভিজ্ঞতা শেয়ারের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য ডিএসইর সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে একটি ব্যবসায়িক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সবশেষে দুই কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চীনা দুই স্টক এক্সচেঞ্জকেই বেছে নিয়েছে ডিএসই।
ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু সাধারণ সংশোধনী এনে চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবটি বিশেষ সাধারণ সভায় অনুমোদন করা হয়েছে এবং সংশোধনী প্রস্তাব আজই (গতকাল) বিএসইসিতে পাঠানো হবে। তবে চীনা কনসার্টিয়ামের আগের প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো অপরিবর্তিত রয়েছে।

Thursday, April 26, 2018

ইসলামী ব্যাংক ছাড়ছে ইবনে সিনা

ইসলামী ব্যাংক যখন গ্রাহকদের ঋণ দিতে পারছে না, তখন  ব্যাংকটি ছাড়ছে ইবনে সিনা। মালিকানা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিদেশি উদ্যোক্তারা শেয়ার তুলে নিয়ে চলে যাওয়ার পর এবার ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার তুলে নিয়ে যাচ্ছে ইবনে সিনা ট্রাস্ট। ইসলামী ব্যাংকের এই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটি তাদের (করপোরেট স্পন্সর) সব শেয়ারই বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এ তথ্য জানিয়েছে।
ডিএসই জানিয়েছে, ইবনে সিনা ট্রাস্ট ইসলামী ব্যাংকের তিন কোটি ৬০ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯১টি শেয়ার বিক্রি করবে। আগামী ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে ইবনে সিনা ট্রাস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিদ্যমান বাজার দরে এসব শেয়ার বিক্রি করবে। যা লেনদেন হবে ব্লক মার্কেটে। ইবনে সিনা ট্রাস্ট ইসলামী ব্যাংকের যে শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে, তা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের দুই শতাংশের ওপরে।
এর আগে গত অক্টোবরে কোম্পানির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান (করপোরেট স্পন্সর) বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার শেয়ার বিক্রি করে দেয়। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারের কাছে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ৩৭ লাখ শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানাটি একলাখ শেয়ার বিক্রি করে। তারও আগে সেপ্টেম্বর কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস ইসলামী ব্যাংকের সব শেয়ার বিক্রি করে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ছিল ৮ কোটি ৪৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮২টি, যা ব্যাংকের মোট শেয়ারের সোয়া ৫ শতাংশ।
শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশে ১৯৮৩ সালে বেসরকারি উদ্যোগে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা হয়। সে সময় ব্যাংকটির মোট শেয়ারের প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল বিদেশিদের হাতে। তবে ২০১৪ সাল থেকে বিদেশিরা ব্যাংকটির শেয়ার ছেড়ে দিতে শুরু করে। বর্তমানে বিদেশিদের কাছে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার আছে ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তা বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক ২০১৪ সালে ইসলামী ব্যাংকের সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়। ২০১৫ সালে সব শেয়ার বিক্রি করে দেয় দুবাই ইসলামিক ব্যাংক।  গত বছরের ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসে। পরিবর্তনের পর গত মে মাসে ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক আইডিবি (ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংক) ৮ কোটি ৬৯ লাখ শেয়ার বিক্রি করে।
এদিকে, বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক বলে পরিচিত এই ব্যাংকের পরিস্থিতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। নগদ টাকার সংকটে পড়ে ব্যাংকটি গ্রাহকদের ঋণ দেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যেকোনও শাখাই আগের মতো নিজেদের পছন্দের গ্রাহককে ঋণ (বিনিয়োগ) দিতে পারছে না। শুধু তাই নয়, অর্থ ছাড়ের (ডিসবাসমেন্ট) ক্ষেত্রে শাখার কর্মকর্তাদের অথরাইজ করার ক্ষমতাও বাতিল করা হয়েছে। ফলে দেশের কোনও জায়গা থেকে কোনও ধরনের ঋণ দিতে পারছে না ব্যাংকের শাখাগুলো।
এ প্রসঙ্গে ব্যাংকটির এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অর্থ ছাড় করার ক্ষেত্রে আগে শাখার ম্যানেজারে বা তার নিচের কর্মকর্তারা অথরাইজ করতো। এখন আর তারা অথরাইজ করতে পারছেন না। অর্থ ছাড় বা ডিসবাসমেন্টের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সার্ভারে থাকা শাখার কর্মকর্তাদের নাম ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।প্রধান কার্যালয় থেকে এই সার্ভার এখন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘সার্ভারে শাখার অথরাইজ কর্মকর্তার ক্ষমতা এখন প্রধান কার্যালয়ের হাতে রেখে দেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, গত বছর ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকে যে পরিবর্তন শুরু হয়, তা এখনও  অব্যাহত থাকায় ব্যাংকটি নানান সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি চেয়ারম্যান পদে আবারও পরিবর্তনের ফলে আস্থার সংকটে পড়েছে এই ব্যাংক। ইতোমধ্যে ব্যাংকটিতে নগদ টাকার সংকট সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে এতদিন শাখাগুলোকে মৌখিকভাবে ঋণ বিতরণ বন্ধ রাখতে নির্দেশনা থাকলেও, সম্প্রতি শাখার কর্মকর্তাদের অথরাইজ করার ক্ষমতাও বাতিল করা হয়েছে।
ব্যাংকটির শাখা পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক বেশ কিছুদিন ধরে নতুন কোনও প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে না। আর আগের যেসব গ্রাহক ও প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগ অনুমোদিত হয়েছিল, সেগুলোতেও অর্থ ছাড় করার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করতো প্রধান কার্যালয়। রবিবার (২২ এপ্রিল) থেকে শাখার ক্ষমতা একেবারেই তুলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ব্যাংকের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত বিনিয়োগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে মতিঝিল শাখার এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত আমানত ও বিনিয়োগ হার (আইডিআর) সমন্বয় করার জন্য বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ রাখা হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে ব্যাংকটির রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে এককোটির বেশি গ্রাহকের আমানত রয়েছে। নির্বাচনের বছরে সেই আমানত যেন কোনোভাবে খেয়ানত না হয়, সেজন্য বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বড় ঋণ ছাড় করা হচ্ছে যাচাই-বাছাই করে। নির্বাচনের বছরে ইসলামী ব্যাংকের কোনও টাকা যাতে জঙ্গি অর্থায়ন বা সন্ত্রাসী কাজে বা সরকারবিরোধী কোনও কাজে ব্যবহৃত হতে না পারে, সেজন্য শাখার কর্মকর্তাদের অথরাইজ করার ক্ষমতাও বাতিল করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারকে সরিয়ে পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভাতেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন সরকারের সাবেক সচিব আরাস্তু খান। তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হকও সেদিন পদত্যাগ করেছিলেন। এছাড়া, একইদিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল মান্নানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

Friday, March 16, 2018

ডিএসই’র অংশীদার বাছাই নিয়ে জটিলতা by এমএম মাসুদ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত অংশীদার বাছাই নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, ডিএসই’র কৌশলগত শেয়ারের মালিকানা চীন না ভারত পাচ্ছে, এমন আলোচনার মাঝেই গত ১০ই ফেব্রুয়ারি চীনের সাংহাই ও শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় ডিএসই। কিন্তু দেশের স্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এমন আশঙ্কায়, চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবের বেশ কিছু ধারা নিয়ে ব্যাখ্যা চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পরে চীনা কনসোর্টিয়াম বেশ কিছু শর্ত শিথিলে রাজি হয়েছে বলে বিএসইসি’র কাছে জবাব দেয় ডিএসই। অন্যদিকে ডিএসই কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদও আগামী ৮ই জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে কমিশন। ফলে ডিএসই অংশীদার বাছাই নিয়ে জটিলতা কাটছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, চুক্তিতে দু’পক্ষকেই কিছুটা ছাড় দিতে হবে।
সূত্র জানায়, গত ৪ঠা মার্চ কমিশনের চিঠির জবাবে ডিএসই জানায়, বিএসইসি’র তোলা আপত্তির জায়গাগুলো সংশোধনে সম্মত হয়েছে চীনা কনসোর্টিয়াম। বিনামূল্যের এ সুবিধা নেয়ার সময় আর্থিকমূল্য নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিটি শেয়ারের ধার্যমূল্য ২২ টাকা, এটি আর কমানোর কোনো প্রয়োজন পড়বে না বলে জানিয়েছে ডিএসই। এদিকে আর্থিকভাবে বড় বড় চুক্তিসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত সাধারণ সভায় পেশ করার আগেই, লিখিত অনুমোদনের শর্ত দিয়েছিল চীনা কনসোর্টিয়াম, যা নিয়েও আপত্তি তোলে বিএসইসি। ডিএসই বলছে, এ শর্ত শিথিল করতেও সম্মত চীনা কনসোর্টিয়াম। সেই সঙ্গে রাজি হয়েছে, দেশীয় আইনে চুক্তি করতে। তবে বিবাদ হলে তৃতীয় দেশের সালিশি আদালতের শর্ত বহাল থাকবে। জানা গেছে, প্রস্তাবের খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয়ে ডিএসই’র কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে বিএসইসি। তবে এখনো ডিএসই’র ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএসইসি’র উদ্বেগ যথার্থ। তবে আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী নিয়ে এক ধরনের অস্পষ্টতা বাজারে তৈরি হয়েছে। সঠিক কথা হলো- কৌশলগত বিনিয়োগকারী ইস্যুতে ডিএসইর দেয়া চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবের ওপরেই কাজ করছে বিএসইসি’র কমিটি। এখানে অন্য কোনো প্রস্তাব বিএসইসি’র কাছে নেই। তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সময় সাপেক্ষ। এটা রাতারাতি হয়ে যাবে এমনটি ভাবা ঠিক নয়। কৌশলগত বিনিয়োগকারী নেয়ার বিষয়টাই দীর্ঘমেয়াদি। আইনের মধ্য থেকে ডিএসই’র প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে কমিটি। তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি। বিএসইসি’র এই মুখপাত্র বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে আমাদের সবার অবস্থান থেকে ইতিবাচক হতে হবে। বিনিয়োগকারীদের বুঝাতে হবে; নিজেদের এগিয়ে আসতে হবে।
ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় এক বছর সময় দিয়ে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তি করার জন্য ডিএসইকে চিঠি ইস্যু করে বিএসইসি। ওই সময়ে কৌশলগত বিনিয়োগকারী ঠিক করতে না পারায় আরো ৬ মাস সময় বৃদ্ধি করে কমিশন। বাড়তি ৬ মাসেও কৌশলগত বিনিয়োগকারী ঠিক করতে পারেনি ডিএসই। পরে ফের ৬ মাসের সময় দিয়ে চিঠি ইস্যু করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যার মেয়াদও শেষ হয় ৮ই মার্চ। এ সময়ের মধ্যে ডিএসই কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজে পেলেও চুক্তি করতে পারেনি। ফলে আবারও সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করে ডিএসই।
তবে ইতিমধ্যে চীনের সাংহাই ও সেনজান স্টক একচেঞ্জ নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামকে চূড়ান্ত করেছে ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ। চূড়ান্ত করার প্রস্তাব বিএসইতে জমা দেয়ার পর সংস্থাটি একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। চূড়ান্ত হতে আরো সময় লাগতে পারে এই আশঙ্কা থেকে সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৮ই জুনের মধ্যে চুক্তি করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
এদিকে ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী ইস্যুতে গঠিত পর্যালোচনা কমিটির সময়ও বাড়ানো হয়েছে ১৫ই মার্চ পর্যন্ত। এ সময়ে তারা কৌশলগত বিনিয়োগকারীর ডিএসই’র প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কমিশনে রিপোর্ট জমা দেবেন।
এর আগে কৌশলগত বিনিয়োগকারী ইস্যুতে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের নেয়া সিদ্ধান্তের প্রস্তাব গত ২২শে ফেব্রুয়ারি বিএসইসিতে জমা দেয়া হয়। ওই দিন বিএসইসি এই প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করার জন্য ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি কিছু বিষয়ে পরিষ্কার হওয়ার জন্য গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ডিএসইর দেয়া প্রস্তাবের ওপর বেশ কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি ইস্যু করেছিল বিএসইসি। এই চিঠির ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য ৪ঠা মার্চ বিএসইসিকে জবাব পাঠায় ডিএসই কর্তৃপক্ষ।
বিএসইসি’র চিঠিতে বলা হয়েছে, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম ডিএসইর শেয়ার ২২ টাকা দরে কিনতে চেয়েছে। একই সঙ্গে কিছু টেকনিক্যাল সাপোর্টের কথা বলেছে। ডিএসইর ভাষ্য অনুযায়ী, এই টাকার পরিমাণ হবে ৩০০ কোটি টাকা। এর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নেই। এ ছাড়া চীনের বিনিয়োগের প্রস্তাবে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
শর্তগুলো হলো- প্রথমত এই চুক্তিটি হতে হবে যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী। দ্বিতীয়ত, এ বিষয়ে কোনো বিভেদ দেখা দিলে তার সমাধানের জন্য লন্ডনের আরবিট্রেশন অনুযায়ী হতে হবে। তৃতীয়ত, ডিএসইর আর্টিকেল পরিবর্তন করে কিছু বিষয় যুক্ত করতে হবে। যুক্ত করা বিষয় পরিবর্তন করতে হলে ডিএসই’র বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) পাস করার পূর্বে তাদের অনুমোদন নিতে হবে।
ডিএসই’র পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, পুঁজিবাজারের বিকাশের স্বার্থে কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নেবে বিএসইসি।

Monday, March 5, 2018

চীনের পক্ষে চিঠির জবাব দিয়েছে ডিএসই

কৌশলগত বিনিয়োগকারী ইস্যুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির পাঠানো চিঠির জবাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর আগে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ডিএসইর দেয়া প্রস্তাবের ওপর বেশ কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি ইস্যু করেছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল চীনের পক্ষে বিএসইসি’র কাছে সেই চিঠির জবাব ডিএসই জমা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, বিএসইসির চিঠির প্রেক্ষিতে ডিএসই শনিবার পরিচালনা পর্ষদের সভা করে। সভায় আলাপ-আলোচনা করে বিএসইসির চিঠিতে ব্যাখ্যা চাওয়া সব বিষয়ের জবাব দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম ডিএসইর শেয়ার ২২ টাকা দরে কিনতে চেয়েছে।
একই সঙ্গে কিছু টেকনিক্যাল সাপোর্টের কথা বলেছে। ডিএসইর ভাষ্য অনুযায়ী, এই টাকার পরিমাণ হবে ৩০০ কোটি টাকা। এর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নেই। এছাড়া চীনের বিনিয়োগের প্রস্তাবে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
শর্তগুলো হলো- প্রথমত এই চুক্তিটি হতে হবে যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী। দ্বিতীয়ত, এ বিষয়ে কোনো বিভেদ দেখা দিলে তার সমাধানের জন্য লন্ডনের আরবিট্রেশন অনুযায়ী হতে হবে। তৃতীয়ত, ডিএসইর আর্টিকেল পরিবর্তন করে কিছু বিষয় যুক্ত করতে হবে। যুক্ত করা বিষয় পরিবর্তন করতে হলে ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) পাস করার পূর্বে তাদের অনুমোদন নিতে হবে।
বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- যে কোনো নতুন শেয়ার ইস্যু, পরিচালকদের সংখ্যা পরিবর্তন, নতুন কোনো কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তি, যে কোনো ইনটেলেকচ্যুয়াল প্রপার্টি যেমন (সফটওয়্যার, প্যাটেন্ট ও অন্য টেকনোলজি ইত্যাদি), ডিএসইর আইপিও সংক্রান্ত যেকোনো ইস্যু (শেয়ারের মূল্য, স্পন্সর নির্ধারণ, অবলেখক নিয়োগ, প্রসপেক্টাস অনুমোদন এবং ইস্যু মূল্য নির্ধারণ ইত্যাদি), ১৫ শতাংশের অধিক যেকোনো স্থায়ী সম্পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, একক বা যৌথভাবে ১০ কোটি টাকার অধিক ঋণ গ্রহণ করলে, যেকোনো ধরনের উল্লেখযোগ্য চুক্তি যার মূল্য এককভাবে বা যৌথভাবে ১০ কোটি টাকার বেশি, যেকোনো ধরনের বিনিয়োগ যার মূল্য এককভাবে বা যৌথভাবে ১০ কোটি টাকার বেশি, অন্য যেকোনো ইস্যু যেটি কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে জড়িত, ডিএসইর আর্টিকেলে ১৩৫নং ধারায় রয়েছে যেকোনো শেয়ারধারী যার ন্যূনতম দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার আছে তার সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না, আর্টিকেলে যাই থাকুক চীনা কনসোর্টিয়াম তার ইচ্ছামতো পরিচালক নিয়োগ দিতে পারবে এবং সেটেলমেন্ট গ্রান্টেড ফান্ড কনট্রিবিউশন বাদ দিতে হবে অথবা স্থগিত করতে হবে।
এর আগে কৌশলগত বিনিয়োগকারী ইস্যুতে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের নেয়া সিদ্ধান্তের প্রস্তাব গত ২২শে ফেব্রুয়ারি বিএসইসিতে জমা দেয়া হয়। ওইদিন বিএসইসি এ প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করার জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয় কমিশন।
এর আগে গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি দুটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে বেছে নেয়। সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামটি ডিএসইর পার্টনার হতে ২২ টাকা দরে ২৫ শতাংশ শেয়ার নিতে আবেদন করে। পাশাপাশি কনসোর্টিয়ামটি ৩৭ মিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেয়ার প্রস্তাবও দেয় ডিএসইকে।