Sunday, July 6, 2014
ডোন্ট ওরি বয়েজ ; যৌন-আনন্দের সুখানুভূতি দেবে লঞ্চপ্যাড by নন্দিনী সেন

সিনেমার স্ক্রিপ্ট নয়, গাঁজাখুরি গপ্পোও নয় | বাস্তবিকই আইপ্যাডের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের সুযোগ হবে ‘ফ্লেশলাইট লঞ্চপ্যাড’-এর সৌজন্যে | সেক্সটয় প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ লাইফ ফর্মস’ বাজারে নিয়ে আসতে চলেছে এই নতুন ধরনের আইপ্যাড | সংস্থার দাবি, এই নতুন আইপ্যাডের পর্দায় আপনার সঙ্গীর ছবি ভেসে উঠলেই তার সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারবেন আপনি |
কিন্তু এই বক্তব্যের সত্যতা কতটা? সত্যিই কি পর্দার অপরপ্রান্তে থাকা সঙ্গীর সঙ্গে ভার্চুয়ালি যৌন সম্পর্ক সম্ভব? নির্মাতাদের দাবি, নতুন এই আইপ্যাডের সঙ্গে যোনির আকারের একটি অ্যাটাচমেন্ট জুড়ে দেওয়া হয়েছে | এই কৃত্রিম যোনির সাহায্যেই সঙ্গীনীর সঙ্গে কথা বলতে বলতেই আপনি শরীরী খেলায় মেতে উঠতে পারবেন | নকল যোনি আপনাকে দেবে শারীরিক মিলনের সুখানুভূতি | একইসঙ্গে একদিকে ফেসটাইম বা স্কাইপে বান্ধবীর সঙ্গে বিরামহীন আড্ডা, অন্যদিকে শারীরিক মিলনের অনুভূতি দেবে এই ট্যাবলয়েডটি | বান্ধবীর সঙ্গে ভৌগোলিক দূরত্বের ব্যবধান দূর হয়ে যাবে | দীর্ঘদিন তাকে কাছে না পাওয়ার অভিমান ভুলিয়ে দেবে এই নয়া ট্যাবলয়েড |
আর কিছুদিনের মধ্যেই বাজারে আসছে এই লঞ্চপ্যাড | মাত্র ২০ পাউন্ডের বিনিময়ে সুখের চাবিকাঠি পকেটস্থ করবেন বীরপুঙ্গবরা | এক্ষেত্রে ফের পুরুষেরা একাধিপত্য ভোগ করবেন | মহিলা ব্রিগেডের নো-এন্ট্রি | পুরুষ বন্ধু দূরে থাকলে তার সঙ্গে ভার্চুয়ালি যৌন মিলনের কোনও আশু উপায় নেই | তাই অল দ্য বেস্ট বয়েস…| আসল না পেলে গ্যাঁট থেকে ২০ পাউন্ড খরচা করেই এই ট্যাবলয়েডটি কিনে নকল যোনিতেই সুখ খুঁজে নিন |
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারের ফরমালিনবিরোধী যুদ্ধের পরিণতি কী দাঁড়াল? by বদরুদ্দীন উমর

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার সঙ্গে সরকারের আইনশৃংখলা বাহিনী তথাকথিত এলিট ফোর্স র্যাবের সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ উদ্ঘাটিত হওয়ার পর রাস্তায় রাস্তায় তাদের টহলদারি ও তল্লাশির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সাত খুনের মামলা ঝুলে থাকা অবস্থাতেই এখন সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে রাস্তায় রাস্তায় র্যাবের টহলদারি আবার শুরু হয়েছে! এসব এত পরিচিতি ও রুটিন ব্যাপার যে, এ নিয়ে সংবাদপত্রে দুই-এক ছত্র রিপোর্ট ছাড়া আর কোনো প্রতিক্রিয়া ঘটনার সময় উত্তেজিত মধ্যবিত্তের মধ্যে যেভাবে দেখা গিয়েছিল, এখন সেটা আর নেই। সরকার নিজের সিদ্ধান্ত পাল্টে র্যাবকে আবার রাস্তায় নামিয়ে নিজেদের ইজ্জত রক্ষার যে ব্যবস্থা করেছে, তার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে র্যাবকে আবার রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়ার কোনো দাবি নেই! এ পরিস্থিতিতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী নামে অভিহিত র্যাবের কিছু অফিসারের অপরাধমূলক কাজ এবং সাধারণভাবে তাদের বেপরোয়া জনবিরোধী কার্যকলাপের কারণে এই বাহিনীকে বিলুপ্ত করার যে আওয়াজ নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর জনগণের মধ্য থেকে উঠেছিল, তা এখন আর নেই।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেকে নিয়ে অন্য কমিশনাররা এখন যে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মচারী হিসেবে নির্বাচন পরিচালনার কাজ করেন, এটা বিগত ৫ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের সময় অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছিল। কয়েক দিন আগে নারায়ণগঞ্জের উপনির্বাচনে এটা যেভাবে আবার প্রমাণিত হল, তাতে মনে হয় সরকার ও তার তাঁবেদার এই নির্বাচন কমিশন যতদিন আছে, ততদিন কোনো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানেই জনগণের নিজেদের স্বাধীন ভোটের দ্বারা কোনো প্রতিনিধি নির্বাচনের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। বড় বড় ক্রাইম যতই হোক, তা নিয়ে সাময়িকভাবে যতই হুলস্থূল হোক, ক্রাইম কমে আসার কোনো সম্ভাবনা বাংলাদেশে নেই। যেখানে ক্রাইমের জন্য কোনো শাস্তি নেই অথবা ক্ষেত্রবিশেষে থাকলেও তার সংখ্যা নগণ্য, সেখানে এটাই স্বাভাবিক। ব্যাংক লুটপাট, ভূমিদস্যুতা, বিহারি, সাঁওতাল, খাসিয়া, রাখাইন, চাকমা ইত্যাদি সংখ্যালঘু জাতিসত্তার ওপর নির্মম নির্যাতন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সরকারি দলের গুণ্ডাবাহিনীর অপরাধমূলক তৎপরতা থেকে নিয়ে খাদ্যে বিষ প্রয়োগ পর্যন্ত কোনো কিছুই বন্ধ হওয়ার নয়। যতদিন এই ক্ষমতাসীনরা আছে, ততদিন এসবই থাকবে এবং থাকতে বাধ্য। কারণ একদিকে এরা এসব অপরাধের জন্য যেমন সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে তেমনি আবার এ সবের মাধ্যমেই এরা নিজেদের সরকারি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে। যে অপরাধীরা এসব সমাজবিরোধী কাজ করে, এরাই হল বাংলাদেশের শাসকশ্রেণী ও তাদের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সামাজিক ও সাংগঠনিক ভিত্তি।
এ ধরনের অপরাধী এবং পুলিশ ইত্যাদি তথাকথিত আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করেই দাঁড়িয়ে আছে বর্তমান সরকার। দুনিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ দেখিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে এবং এসব শক্তিকে চাকরবাকরের মতো ব্যবহার করে কীভাবে একটি দেশে গণতন্ত্রের নামে বেসামরিক অভ্যুত্থান বা মিডিয়া ক্যু ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করা যায়। আইন-কানুন রক্ষা করেই নাকি এই অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটানো হয়েছে! দেশের অবস্থা যে এ রকম, এটা অপরাধীদের থেকে বেশি আর কে জানে? অপরাধ করার জন্য পেশাগতভাবেই তাদের এটা জানতে হয়। বাংলাদেশে এখন একটা বড় সমস্যা দাঁড়িয়েছে নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্যে বিষ প্রয়োগ এবং এমন সব ভেজাল মেশানো যা বিষতুল্য। এ বিষয় নিয়ে কথাবার্তা শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রথম মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোতে, বিশেষত মিষ্টির দোকানে সরকারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদারকি শুরু হয়। মাঝে মাঝে এ কাজ করতে গিয়ে কিছু দোকানিকে অল্পবিস্তর জরিমানাও করা হয়। কিন্তু তাতে বিশেষ কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সে শুদ্ধি অভিযান পরিত্যক্ত হয়। পরবর্তীকালে ধরা পড়ে যে শুধুু মিষ্টি নয়, ফলমূলের মধ্যেও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক জিনিস মেশানো হচ্ছে। কাজেই মিষ্টির মতো ফলমূল পরীক্ষার কাজ এবং কিছু কিছু ফল বিক্রেতাকে জরিমানা করা শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় ব্যাপার ছিল এই যে, হোল সেলার, আমদানিকারক ও আড়তদারদের ওপর এ ধরনের কোনো তদারকি না করে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রেই এটা করা হয়। কাজেই আসল সমস্যার কোনো সমাধান এর দ্বারা হয়নি এবং হওয়ার কথাও ছিল না, কারণ খুচরা দোকানদাররা নিজেদের পণ্য তাদের কাছ থেকেই নিয়ে আসে। কাজেই ফলমূল ইত্যাদিতে বিপজ্জনক জিনিস মেশানো অব্যাহত থাকে। শুধু তাই নয়, এ অবস্থায় চাল, ডাল, তেল, শাকসবজি সবকিছুর বিক্রেতারাই ফলমূলের মতো নিজেদের জিনিসে বিষ মেশাতে শুরু করে। এর ফলে আজ এমন কোনো বাজারজাত খাদ্যদ্রব্য নেই যাতে ফরমালিন, কারবাইড থেকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে না। দেশে উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমূলের ক্ষেত্রে এখন এসব বিষাক্ত রাসায়নিক জিনিসের ব্যবহার খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার। আগে যখন পরিবহন ব্যবস্থা ভালো ছিল না, এক জায়গা থেকে দেশের অন্য জায়গায় পণ্যদ্রব্য পরিবহনের অসুবিধা ছিল, তখনও এ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু এখন পরিবহন ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও খাদ্যপণ্যে বিষ মেশানো হচ্ছে। এর কোনো সাধারণ যৌক্তিক কারণ নেই। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি যত বেশি সম্ভব মুনাফা কামিয়ে নেয়া। এ কাজ করতে গিয়ে ক্রেতা ও সাধারণ ভোক্তাদের জীবন বিপদাপন্ন হলেও এই ব্যবসায়ীদের কিছুই যায় আসে না। তাড়াতাড়ি বেশি মুনাফা কামানোর স্বার্থে তাদের পক্ষে কোনো কাজই তারা হিসাব করে না। মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন তো তাদের এ অপরাধমূলক কাজের ক্ষেত্রে কোনো হিসাবের মধ্যেই আসে না। এর থেকেই বোঝা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থায় মানুষের অপরাধ প্রবণতা কী পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এদের শাসন সামগ্রিকভাবে দেশের জনগণের জন্য কতখানি বিপজ্জনক হয়েছে। একদিকে দেশে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা খাতে বিশেষ কিছু নেই এবং গরিবদের কোনো বড় বা মাঝারি অসুখের চিকিৎসা তাদের আর্থিক সঙ্গতি ও সুযোগ-সুবিধার বাইরে। কিন্তু এভাবে খাদ্যে ভেজাল ও বিষ দেয়ার ফলে তারাই সব থেকে বড় আকারে আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পরিস্থিতি আজ এ অবস্থায় এসে দাঁড়ালেও এর প্রতিকার তো দূরের কথা, একে মোটামুটি নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা ও চেষ্টাই সরকারের নেই। কারণ এসব ফলমূল, শাকসবজির বড় ব্যবসায়ী, আড়তদার ও উৎপাদকরা হল সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এদের লুটপাটের ভাগ যেমন সরকারি লোকেরা পায়, তেমনি এদের ওপর দাঁড়িয়েই সরকার ক্ষমতায় আছে। এটা যদি না হতো তা হলে খুচরা বাজারে, কোটি কোটি দোকান ও স্টলে তদারকি চালানোর পরিবর্তে এরা বড় ব্যবসায়ীদেরই পাকড়াও করত। যেখানে তারা পাইকারি হারে ফলমূল, শাকসবজিতে বিষ মেশায়, সেসব জায়গায় তারা হামলা করত। তাদের মজুদ মালামাল ধ্বংস করত, তাদের গ্রেফতার করত ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করত। এর ফলে খাদ্যদ্রব্য তাদের মুনাফাখোরীর জন্য যেভাবে বিষাক্ত করা হচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব না হলেও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শাসকশ্রেণী ও তাদের সরকারের শাসন আমলে এর কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ সাধারণভাবে দেশে আইনশৃংখলা রক্ষার নামে আইনের বাইরে দাঁড়িয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সব ধরনের বেআইনি কাজ করা, চারদিকে সরকারের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালিয়ে যাওয়া, সর্বোপরি চুরি-দুর্নীতি-ঘুষখোরি অবাধ হওয়ার যে অরাজক পরিস্থিতি এখন দেশে বিরাজ করছে, তাতে সরকারের ফরমালিনবিরোধী যুদ্ধের পরিণতি কী দাঁড়াল? এখানে প্রথমেই কোনো ঘটনার বিরুদ্ধে তুমুল হুলস্থূলের পর কৌশলের সঙ্গে সরকার কর্তৃক স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার যে কথা বলা হয়েছে, সরকারের ফরমালিনবিরোধী যুদ্ধের পরিণতি সেটাই হয়। সংগঠিত প্রতিরোধের অনুপস্থিতিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে এছাড়া অন্য কিছু হওয়ার আর কি সম্ভাবনা আছে?
০৫.০৭.২০১৪
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুদক আইনে গতি, প্রচলিত আইনে দুর্গতি by শহীদুজ্জামান চৌধুরী
নবম সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছিল। কিন্তু পুরো ৫ বছর নানা ছুতানাতায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে সংশোধনী প্রস্তাব। শুরুতেই ১/১১-এর সরকার প্রবর্তিত ২০০৭ সালের ৭নং ও ৩৪নং অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত না করে দুদককে নখদন্তহীন ব্যাঘ্রে পরিণত করে রাখা হয়।
দুদককে শক্তিশালী করার জনমতকে কাজে লাগিয়ে দুদক আইনের সংস্কার করার জন্য দুদক নিজেরা কিছু প্রস্তাব তৈরি করে। আইন মন্ত্রণালয় তৈরি করে সংশোধনের খসড়া। নবম পার্লামেন্টের বেলা শেষ হয়ে এলে নভেম্বর ২০১৩ সালে সর্বশেষ অধিবেশনে তড়িঘড়ি করে দুদককে স্বাধীনভাবে বিকশিত হওয়ার অনুকূল কিছু সংশোধনী আনা হয়, সেই সঙ্গে সবকিছুকেই তালাবদ্ধ করে চাবি সরকারের হাতে রেখে দেয়ার অতিবিলাসী একটি সংশোধনী বিদ্যুৎ গতিতে পাস করা হয়। সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের আগে ফৌঃ কাঃ বিধির ১৯৭ ধারার পূর্ব মঞ্জুরির বিধান সংবলিত স্ব-বিরোধী ৩২ক ধারার জন্ম দিয়ে ২০১৩ সালের নভেম্বরে ৬০ নং আইন পাস করা হয়। অথচ গেল শতাব্দীর শেষ দশক ও চলমান শতাব্দীর শুরুতে ক্রিমিনাল ল’ এমেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৮ (৪০ নং আইন)-এর ৬(৫) ধারার মঞ্জুরি নামক দুর্নীতির লাইসেন্স প্রথা বিলুপ্ত করে দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে ঢেলে সাজানোর শক্তিশালী জনমতের পথ ধরে প্রবর্তন হয় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন (৫ নং) ২০০৪। উদয় হয় দুর্নীতি দমন কমিশন। অতঃপর থমকে গিয়ে তিন বছর পর তৈরি হয় দুর্নীতি দমন বিধিমালা ২০০৭। ২০১৩ সালের দুদক আইনের সংশোধনীতে গণবিরোধী ও সংবিধানবিরোধী ৩২ক প্রবর্তনের এক সপ্তাহের মধ্যে মহামান্য হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হলে ৩০.০১.২০১৪ তারিখে বাতিল হয়ে যায় ৩২ক ধারা। কিন্তু ২০১৩ সালের ৬০নং আইনের আরও বিপত্তি রয়ে যায়। এ আইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় নানা দিক থেকে।
দুদককে শক্তিশালী করার অনিবার্য কারণে দুদকের ‘তফসিল’ভুক্ত অপরাধের তালিকায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬২এ, ৪৬২বি, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১ ধারা সংযোজন করে পূর্ববর্তী (গ)কে সমন্বিত করে নবরূপে তফসিলের (খ) ক্রমিক সৃজন করা হয়। ৬০নং আইনে ‘২ক’ ধারা সৃষ্টি করে বলা হয় ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এ আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।’ ২ক ধারার ফলে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির নিত্যপ্রয়োজনীয় ৪২০, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১ ধারা দুদকের গণ্ডিতে বন্দি হয়ে যায়। সঙ্গত কারণেই এসব ধারার মামলা এখন থানা বা কোর্ট গ্রহণ করেন না। কারণ দুদক আইনের ২০(১) ধারায় বলা আছে ‘ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন ও উহার তফসিলে বর্ণিত অপরাধসমূহ কেবলমাত্র কমিশন কর্তৃক তদন্তযোগ্য হইবে।’ বিধিমালার ১৩(৩) বিধিতে বলা আছে ‘আইনের তফসিলভুক্ত কোনো অপরাধ সংগঠনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সরাসরি কোনো আদালতে দায়ের করা যাইবে না।’ তাই সারা দেশের আইন-আদালতে এখন চলছে অচলাবস্থা। এ অচলাবস্থা গ্রাম আদালত পর্যন্ত পৌঁছাবে, কেননা ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ৪২০ ধারার অপরাধ গ্রাম আদালতের তফসিলভুক্ত হলেও ২০১৩ সালের ৬০ নং আইনে দুদক আইনের প্রাধান্যের কথা উল্লেখ থাকায় আটকে যাবে গ্রাম আদালতে এই ধারার চর্চা। বর্তমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্য হল ‘এ বিষয়ে আমি অবগত। এ ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে’।
দণ্ডবিধির বর্ণিত ধারাসমূহ দুদকের তফসিলে নেয়া প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজন শুধু পাবলিক সার্ভেন্টদের বেলায়। ঢালাওভাবে সবার বা স্বতন্ত্র ব্যক্তিদের জন্য নয়। আইন প্রণয়নকালে আইনসভার সদস্যরা সতর্ক না হওয়ার কারণে এমনতর সংকট দেখা দিয়েছে।
একদা পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ প্রণয়নকালে এমন সংকট দেখা দিয়েছিল। অধ্যাদেশের প্রাধান্য বহাল রাখলে অর্থাৎ ৩নং ধারা বহাল রাখলে বন্ধ্যত্ব দেখা দেবে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে। এ কারণে অর্ডিনেন্স প্রণয়নকারীরা সুন্দরভাবে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশে ২৩নং ধারা সৃষ্টি করেন। ২৩নং ধারায় বলা হয়েছে, ‘১৯৬১ সালের ৮নং অধ্যাদেশ অপ্রভাবিত। (১) এই অধ্যাদেশের কোনো কিছুই ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (১৯৬১ সালের ৮নং অধ্যাদেশ) অথবা উহার অধীনে প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধানকে প্রভাবিত করিবে না বলিয়া গণ্য হইবে।’ ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ও পারিবারিক আদালত আইনের সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য, পারিবারিক আদালতের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদের রায় কার্যকর করার জন্য রায়ের অনুলিপি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। ফলে উভয়কূল রক্ষিত হয়।
২০১৩ সালের ৬০নং আইনে সৃষ্ট সংকট উত্তরণের পথ হল দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এ সংশোধনী আনয়ন করে ‘২কক’ সৃষ্টি করা। ২কক সৃষ্টি করে বলা যায় ‘১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির যেসব ধারা দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের তফসিলে প্রবেশ করেছে, পাবলিক সার্ভেন্ট ব্যতীত স্বতন্ত্র ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির এসব ধারা অপ্রভাবিত থাকবে। একইভাবে অপ্রভাবিত থাকবে গ্রাম আদালতের এখতিয়ার।’ পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশন চলাবস্থাতেই আইনাঙ্গনের এ অচলাবস্থা দূরীকরণের সংশোধনী আনয়ন করা আবশ্যক। কারণ থানা ও কোর্টে এখন দণ্ডবিধির ৪২০সহ প্রয়োজনীয় অনেক ধারায় মামলা না নেয়ায় স্বাভাবিক কারণে আইনাঙ্গনে প্রচণ্ড উত্তাপ দেখা দিয়েছে।
দুদকের তফসিল থেকে দণ্ডবিধির ৪০৮ ধারা সরাসরি বাতিল করা উচিত। এ ধারাটি দুদকের জন্য একটি অমূলক ভারবোঝা। এ ধারায় কর্মচারী কর্তৃক আত্মসাতের অপরাধ বোঝায়। একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তির নিয়োগকৃত কার ড্রাইভার বা দোকান কর্মচারী যদি মালিকের টাকা ও মূল্যবান দ্রব্য আত্মসাৎ করে, তার মামলা তদন্ত করতে হবে দুদককে, আর বিচার হবে বিভাগীয় স্পেশাল জজ কর্তৃক! দুদক তফসিলে এ ধারার অন্তর্ভুক্তি সঠিক হয়নি। এ ধারার কারণে গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক আর এনজিওগুলোর মামলাতেই দুদককে সময় দিতে হচ্ছে বেশি। স্বল্প জনবলসম্পন্ন দুদককে কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি ব্যস্ত রাখা হলে এবং সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজার মামলার জন্য মৃত্যুদণ্ডের ক্ষমতাসম্পন্ন আদালতকে ব্যবহার করা হলে অব্যবস্থাপনার ঘূর্ণিচক্র থেকে বেরোবার আর পথ থাকবে না।
শহীদুজ্জামান চৌধুরী : আইনজীবী
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগের রাতে নারীসঙ্গ, পরের দিন মাঠে গোল

প্রাক্তন ব্রাজিলীয় ফরওয়ার্ড, '৯৪ বিশ্বকাপের নায়ক রোমারিও বলছেন, ম্যাচের আগের রাতে স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটালে পরের দিন মাঠে পারফর্ম্যান্স ভাল হয় | আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রাক্তন ব্রাজিলীয় ফুটবলার সক্রেটিসের মতে, স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোতে মাঠে 'এক্সসেপশ্যনাল' পারফর্ম্যান্স বেরিয়ে আসে |
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

ভিক্ষুকের কেন এই সংখ্যাধিক্য? কতদিনই বা চলবে অনুৎপাদনশীল এই পেশা? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সমাজবিজ্ঞানীর গবেষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত আমরা এটুকু বলতে পারি, ভিক্ষাবৃত্তির এই বিশাল ক্যানভাসটির পেছনের কারণ শুধুই দারিদ্র্য নয়। নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট সমাজের ছিন্নমূল শ্রেণী অথবা শারীরিক প্রতিবন্ধীরা বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়লে সেটা তেমন দোষের কিছু নয়। কিন্তু পরিকল্পিত ভিক্ষাবৃত্তি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এই পরিকল্পিত ভিক্ষাবৃত্তিতে সুস্থ মানুষকে পঙ্গু বানিয়ে ভিক্ষুকে পরিণত করা হচ্ছে, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভিক্ষার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের। এসব ক্ষেত্রে ভিক্ষুকদের নিয়ন্ত্রণ করছে ভিক্ষুক সর্দাররা। ভিক্ষালব্ধ আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে তাদের পকেটে। সর্দাররা আবার অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে চলেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, পেশায় ভিক্ষুক হলে কী হবে, রাস্তাঘাটে তাদের দাপট লক্ষ্য করা যায় প্রায়ই। পথচারীদের বিশেষত বিদেশীদের কাছ থেকে জবরদস্তিমূলকভাবে ভিক্ষা আদায় করে থাকে তারা। কোনো কোনো ভিক্ষুক ভাংতি পয়সা ভিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে চায় না। তাদের ভাব দেখে মনে হয়, ভিক্ষা দয়া নয়, এটা তাদের অধিকার!
ভিক্ষাবৃত্তি নিঃসন্দেহে এক বড় সামাজিক ব্যাধি। ভিক্ষুকরা অনুৎপাদনশীল এমন এক পরজীবী শ্রেণী, যার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উন্নয়নের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং তারা সমাজের ঘাড়ে বোঝা হয়েই চেপে আছে। এই বোঝা অপসারিত হতে পারে কেবল তাদের পুনর্বাসনের মধ্য দিয়েই। ফলে এই দেশ কবে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে, সে অপেক্ষায় না থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ করবে- এটাই কাম্য। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, পরিকল্পিত ভিক্ষাবৃত্তি রোধে সরকারকে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালেদার ইফতারে কূটনীতিকদের মিলনমেলা

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১০ মিনিটে ৬১ হটডগ!
![]() |
| হটডগ খাওয়ায় ব্যস্ত জোয়ি চেস্টনাট l ছবি: এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রয়োজনে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে আইন সংস্কার
![]() |
| বারাক ওবামা |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আদালতে যেতে পারে কংগ্রেস
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিম্পাঞ্জির ভাষা বুঝতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা
![]() |
| ‘আমার পিঠে উঠে বসো’এ কথা বলার জন্য পায়ের তালু দেখায় শিম্পাঞ্জিরা |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২৪ বছর পর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা by তালহা বিন নজরুল

গতকাল বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে মাত্র আট মিনিটের মাথায় গোল করেন গনজালো হিগুয়েইন। এবারের আসরে এটি তার প্রথম গোল আর জাতীয় দলের হয়ে ২২তম। মাঝমাঠে অসাধারণ গতি আর কৌশলে কয়েকজনকে কাটিয়ে গোলে শট নেন মেসি। কিন্তু তার সেই শট বেলজিয়ান ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে চলে যায় অপেক্ষমাণ হিগুয়েইনের পায়ে। সেখান থেকে দারুণ কোনাকুনি হাফভলি শটে তিনি পরাস্ত করেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কুরতোয়াকে। বাছাই পর্বে ৯ গোল দেয়া রিয়াল মাদ্রিদের এ তারকা আগের চার খেলায় ছিলেন নিসপ্রভ। আরও একটি গোল করতে পারতেন হিগুয়েইন। হলে সেটি হতে পারতো আসরেরই সেরা এক গোল। কিন্তু এবার কুরতোয়া ইউরোপের ডার্ক হর্স বা কালো ঘোড়ার দৌড় আবারও থেমে গেল আর্জেন্টাইনদের বাধাতেই। এখানেও সেই ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালের সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ম্যারাডোনার ২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা এবং মেঙিকোর সেই আসরে জার্মানিকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। মিল পাওয়া যাচ্ছে অনেকই। এর আগেরবার ১৯৮২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ১-০ গোলে হেরেই বিদায় নিয়েছিল ১৯৭৮এর চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এবার আর বেলজিয়াম সে রকম ঘটনার জন্ম দিতে পারে নি। যতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তাও দেখা যায়নি। ইডেন হ্যাজার্ড, ফ্যালাইনিরা চমক দেখাতে পারেন নি। সমতা ফেরাতে পারেন নি বদলি হিসেবে নামা লুকাকুও। ৭৫ মিনিটের সময় হ্যাজার্ডকে উঠিয়ে নেন কোচ উইলমট। খেলাটি এতটাই অপরিকল্পিত ছিল যে, সারা খেলায় একেবারে গোল বরাবর শট গিয়েছে মাত্র তিনবার যা ১৯৯০-এর ফাইনালের পর আর দেখা যায়নি। তবে বল দখলে এগিয়েছিল বেলজিয়াম। তাদের ৫৪ শতাংশের বিপরীতে আর্জেন্টিনার পায়ে বল ছিল ৪৬ শতাংশ সময়।
রাজধানী ব্রাসিলিয়ার স্তাদিও ন্যাসিওনালে (গারিঞ্চা সেটডিয়াম) আর্জেন্টিনা মেসি ও হিগুয়েইনকে সামনে রেখে খেলেছে। ভিন্নভাবে সাজানো দলে ডি মারিয়া বামে ও ডানে লাভেজ্জিকে রাখা হয়। মাঝে রাখা হয় মাসকেরানো ও বিলিয়াকে। আর্জেন্টিনা যেন মেসি নির্ভরতা থেকেও খানিকটা বেরিয়ে এসেছে এ খেলায়। ৪০ মিনিটের সময় আরেকটি গোল পেতে পারতো আর্জেন্টিনা। বিপদজনকভাবে বেলজিয়ামের সীমানায় ঢুকে পড়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু ডি বঙে ঢোকার মুহুর্তে তাকে অন্তত তিনজন বেলজীয় খেলোয়াড় আঘাত করে ফেলে দেন। ফলে ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসির নেয়া ফ্রি কিকের বল তীব্র গতিতে বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধে বেলজিয়াম দু’একবার আক্রমণের চেষ্টা করলেও আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক রোমেরোকে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে বেলজিয়াম। ৬৫ মিনিটের সময় ফেলাইনি সুযোগও তৈরি করেন। কিন্তু তার হেডের বল বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৬৬ মিনিটের নময় বেলজিয়াম সমতায় ফিরতে পারতো। কেভিন ডি ব্রুয়েন ডান দিক থেকে নিচু ক্রস দিয়েছিলেন গোল বরাবর। কিন্তু বল সতীর্থ কারও কাছে যাওয়ার আগে পা বাড়িয়ে দিযেছিলেন ইজেকুয়েল লাভেজ্জি। বল ঢুকে যাচ্ছিল বারের দিকে। হতে পারতো আত্মঘাতি গোল। কিন্তু রোমেরো দ্রুত তা রুখে দিয়ে দলকে বাঁচান অঘটন থেকে। এ জয়ে আর্জেন্টিনার ৫৬ বছরের রেকর্ড অটুট থাকলো। ১৯৫৮ সালের পর বিশ্বকাপের কোন খেলায় আগে গোল করার পর আর হারেনি তারা। বিশ্বকাপে এটি ছিল আর্জেন্টিনার ৭৫তম খেলা।
৪ বছর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপে ফাইনালও খেলে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। সেবার ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে যায় তারা জার্মানির কাছে। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবারও আর্জেন্টিনা-জার্মানি ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা যেমন উড়িয়ে দেয়া যায় না তেমনি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা স্বপ্নের ফাইনালও হতে পারে এবার। অপেক্ষা ঘুচবে ৯ই জুলাই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেইমার ট্র্যাজেডি -ব্রাজিল কাঁদছে নেইমারের জন্য

>>যন্ত্রণায় কাতর ভূপাতিত নেইমার l>> মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত পেয়ে কাতরাচ্ছেন নেইমার। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপই শেষ হয়ে গেল এ আঘাতে। ছবি: রয়টার্স
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেই একই রীতি by শামীমুল হক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্রাজিলের নেইমার হাহাকার
কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ আটে মাঠে নামার আগে কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারি বলেছিলেন, শিরোপায় এরই মধ্যে এক হাত দিয়ে রেখেছে ব্রাজিল। ফোর্তালেজার ম্যাচটা শেষে হয়তো নিজের কথাটা বদলে নিতে চাইবেন। নেইমার ছিটকে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালি ট্রফিটা থেকে সেই হাতটাও যেন সরে গেছে ব্রাজিলের।
মহাতারকার পতনে কিছুটা কি দ্যুতি হারায়নি বিশ্বকাপও?

কত বড় ক্ষতি হয়েছে, তা এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছে ব্রাজিলিয়ানরাও। কোয়ার্টার ফাইনালে জয়ের পরদিনও তাই ব্রাজিলের বেশির ভাগ পত্রিকার শিরোনাম—‘নেইমারের বিশ্বকাপ শেষ’। দেশটির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ও গ্লোবোর অনলাইন সংস্করণের শিরোনাম—‘মেরুদণ্ডের অস্থিসন্ধি ভেঙে নেইমারের বিশ্বকাপ শেষ’। একই শিরোনাম সাও পাওলো থেকে প্রকাশিত ‘এস্তাদাও’র।
ব্রাজিলিয়ানদের জন্য এটা কত বড় ধাক্কা, সেটি বোঝা যাচ্ছে ১৯ বছর বয়সী সেলেসাও সমর্থক ফাবিয়ান রুইজের কথায়, ‘এটা ভয়ংকর খবর। সবচেয়ে বাজে খবর। নেইমার আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামনের ম্যাচে দলের অন্য খেলোয়াড়দের অনেক লড়াই করতে হবে। জার্মানির বিপক্ষে জেতা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’
৩৩ বছর বয়সী এদোয়ার্দো গোমেজ থাকতে চাইছেন বাস্তববাদী, ‘সে আমাদের সেরা খেলোয়াড়। মনে হয় না নেইমারকে ছাড়া আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারব।’
শুধু সমর্থকেরাই নয়, ডিয়েগো ম্যারাডোনা, লিওনেল মেসি, মেসুত ওজিল, বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার, লুকাস পোডলস্কি, পাতোর মতো সাবেক ও বর্তমান ফুটবলাররা ব্যথিত বিশ্বকাপ থেকে নেইমারের এভাবে ছিটকে যাওয়ার খবরে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের জন্য শুভকামনা থাকছে সবারই।
দলে নেইমারের গুরুত্ব বোঝাতে কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ের নায়ক ডেভিড লুইজ বলছেন, ‘নেইমারকে ছাড়া খেলা সত্যিই কষ্টের। সে দারুণ একজন মানুষ, অসাধারণ খেলোয়াড়।’
সিলভা না থাকায় বায়ার্ন ডিফেন্ডার দান্তে একাদশে ঢুকে যাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু নেইমারের জায়গা কে নেবেন? সম্ভাব্য বিকল্প চেলসির উইলিয়ান অথবা শাখতার দনেৎস্কের বার্নার্ড। কিন্তু বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড যেভাবে আগের ম্যাচগুলোয় প্রায় একা দলকে টেনে নিয়ে গেছেন সে রকম কিছু করা কি সম্ভব তাঁদের পক্ষে?
হাল্ক-ফ্রেডরা ছন্দে থাকলে এত দুশ্চিন্তার কিছু ছিল না। কিন্তু এই দুজনের কেউই এ পর্যন্ত নেইমারের মতো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারেননি। অধিনায়ক সিলভা অবশ্য মনে করেন, হঠাৎ করে নেইমারের এভাবে ছিটকে যাওয়া বরং তাতিয়ে দিয়েছে সতীর্থদের। বললেন, ‘এ ঘটনাটা আমাদের আগের চেয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ করে তুলবে। এখন আমরা নেইমারের জন্য হলেও বিশ্বকাপ জিততে চাই।’
বললেন বটে! কিন্তু নেইমারকে ছাড়া কাজটা যে অনেক কঠিন সিলভা তা জানেন ভালোই। জানেন তাঁর কোচ স্কলারিও। তথ্যসূত্র: এএফপি, রয়টার্স, স্কাই স্পোর্টস।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমার জীবনটাই যেন সিনেমা -ডিয়েগো ম্যারাডোনা

আমার বাড়ির পেছনেই ছিল চতুর্থ লিগের এক ফুটবল দলের স্টেডিয়াম৷ আমি সারা দিন এলাকার আনাচকানাচে ফুটবল খেলতাম৷ সন্ধ্যায় অন্য সব ছেলেপেলে বাড়ি ফিরে গেলে আমি আরও খেলতাম৷ অন্ধকার হওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পরও আমার পায়ে ফুটবল থাকত৷ অন্ধকারে আমি চোখে কিছুই দেখতাম না৷ সে জন্য আমি শুধু সামনের দিকে বল কিক করে যেতাম৷ আমি দুটি কাঠি দিয়ে গোলপোস্ট বানাতাম৷ অন্ধকারে সেই গোলপোস্টের অদৃশ্য জালে কিকের পর কিক করে যেতাম৷ এর বছর দশেক পর, যখন আমি প্রথম ক্লাব আর্জেন্টিনো জুনিয়র্সের হয়ে চুক্তি করি, তখন বুঝেছিলাম অন্ধকারে সেই ফুটবলচর্চা আমার কত কাজে লেগেছে৷ আমার প্রথম আয় করা টাকা দিয়ে আমি এক জোড়া ট্রাউজার কিনেছিলাম৷
আমার জন্ম বুয়েনস এইরেসের সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত অংশ ফ্যাবেল ফিওরিটোতে৷ সেই অঞ্চলের দারিদ্রের মাত্রা আর আমার ছোটবেলার বন্ধুরা এখনো সেই আগের মতোই আছে৷ শুধু রাজনীতিবিদ আর সরকারি লোকেরাই দিনকে দিন ধনী হচ্ছে৷ আমার সামনেও ধনী হওয়ার অনেক সুযোগ ছিল৷ কিন্তু আমি সেই সুযোগকে ‘না’ করে দিই৷ আমার ‘না’ বলার পেছনে যুক্তি ছিল, আমাকে ধনী হতে হলে গরিবের কাছ থেকে চুরি করতে হবে৷
আমি একবার গরিবদের কথা বলার জন্য আর্জেন্টিনার রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ আমার একটি কথাও শোনেনি৷ আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল কিংবা কিউবা সব জায়গাতেই একই সমস্যা—দারিদ্র। ধনী দেশগুলো জন্য আমাদের এই দীনতা৷

এটা সত্য, কোনো কিছু বদলে দেওয়া বেশ কষ্টকর৷ কিন্তু এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা সেই কুশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে জানি৷ কেউ গরিবদের পক্ষে কথা বলে না৷ সেটা স্বয়ং পোপ থেকে শুরু করে সব দেশের রাজনীতিবিদেরা৷ বার্লিন ওয়াল ধ্বংসের পরে সারা পৃথিবীতে দারিদ্র্যের সংখ্যা বেড়েছে নয় গুণ৷ এদের দেখার কেউ নেই৷
আমি সব সময় আমার বাবার কথা মনে আনি৷ বাবা যখন কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতেন, আমরা তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতাম৷ আট সন্তানের জন্য তিনি বেশি কিছু আয়ও করতে পারতেন না৷ আমরা চুপ করে বাড়িতে বসে থাকতাম৷ আমাদের কোনো খাবার থাকত না৷ আমাদের কষ্ট কেউ বুঝবে না৷ আপনি যদি ক্ষুধার্ত না হন, তাহলে আমার কষ্ট বুঝতে পারবেন না৷ আমার বোন কম খেত, যেন আমি রাতের বেলায় বেশি খেতে পারি৷ এমন পরিস্থিতিতে আপনার অন্য মানুষের প্রতি মায়া, মমতা আর ভালোবাসা তৈরি হবে৷ আমার মা পেটব্যথার ভান ধরে কিছু খেতেন না৷ তিনি সেই খাবার তাঁর সন্তানদের জন্য রেখে দিতেন৷ পাত্রের শেষ দানাটুকু পর্যন্ত তিনি আমাদের দিয়ে দিতেন৷ এই কষ্ট নিয়েই আমার বেড়ে ওঠা৷ আমার মা আমাকে মিথ্যা বলে খাওয়াতেন৷ কেউ কেউ একে কল্পকাহিনি বলে উড়িয়ে দেয়৷ কিন্তু আমার কাছে দরিদ্রতাই সত্য, বাস্তবতা৷ আমি সেসব কষ্টের সময়ের কথা ভুলিনি৷ আমি যে ভুলতে পারব না৷ আমার বাবা কাভানটাকা মার্কেটে কাজ করতেন৷ তিনি সব সময় ভারী ব্যাগ বহন করতেন৷ বৃদ্ধ বয়সেও তিনি ঘাড়ে ব্যাগ টানতেন৷ বাবা যখন বাড়ি ফিরতেন, তাঁর পিঠ আর ঘাড়ে বরফের ব্যাগ রেখে দিতেন মা৷ আমরা ভাইবোনেরা অবাক হয়ে তা দেখতাম৷
আমি ছোটবেলায় কখনো জন্মদিন উদ্যাপন করতে পারতাম না৷ আমাদের কখনোই টাকাপয়সা হাতে থাকত না৷ জন্মদিনে আমার পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন আমার গালে চুমু দিত৷ সেই চুমুই ছিল আমার জন্য বড় উপহার৷

আমি ম্যারাডোনা, যে কিনা গোল করতে পারে, আবার ভুল করতে জানে৷ আমি সব বাধা নিজের মতো করে লড়তে জানি৷ আমার মা সব সময় চিন্তা করতেন আমিই সেরা৷ নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাই সবচেয়ে কঠিন শ্রমের কাজ৷ আমি ছোটবেলা থেকে আমার মায়ের বিশ্বাসকে শক্তভাবে ধারণ করেছি৷ ফুটবল মাঠে বলে পেছনে দৌড়ানোই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখের স্মৃতি৷ সমালোচকেরা আমার নামে অনেক কিছুই বলে৷ কিন্তু কেউ বলতে পারবে না আমি ঝুঁকি নিতে পারি না৷ >> ম্যারাডোনার আত্মজীবনী এল ডিয়েগো ও সার্বিয়ান সংবাদপত্র পলিটিকায় দেওয়া ম্যারাডোনার সাক্ষাৎকার অবলম্বনে লিখেছেন জাহিদ হোসাইন খান
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রংপুরের ‘বাহে’র মারাকানা দর্শন- আমরা ক্রিকেট খেলি আর ফুটবল নিয়ে পাগলামো করি by আনিসুল হক
ছিলাম কোপাকাবানা সৈকতের পাশের হোটেলে। কোকাকোলার সহযাত্রী ২২ জন, যাঁরা এসেছেন সার্ক দেশগুলো থেকে, তাঁরা সৈকতে চলে গেলেন ফানফেস্ট জোনে বড় পর্দায় খেলা দেখবেন। আমি কয়েক হাজার মাইল উড়ে এসেছি, একটা টিকিটও পকেটে আছে, যত্ন করে এনেছি সুদূর ঢাকা থেকে, জার্মানি-ফ্রান্স ম্যাচটা অবশ্যই মারাকানা স্টেডিয়ামেই দেখতে হবে।
গাইডের পরামর্শে টিউব রেলে উঠলাম, প্রচণ্ড ভিড়, সবাই যাচ্ছে খেলা দেখতে, মারাকানা স্টেশনে নামতেই বুকটা ধড়াক করে উঠল। পকেটমারের ভয়ে মানিব্যাগ, পাসপোর্ট এমনকি টিকিট প্যান্টের সামনের পকেটে রেখেছি। টিকিটের সাদা খামটা তো দেখি না!
এক শ বার সবাই বলে দিয়েছে, রিও ডি জেনিরো ভয়ংকর জায়গা, ব্যাকপ্যাক পিঠে রাখবে না, পেটে রাখবে। ট্রেন থেকে নেমে পকেট হাতড়ালাম, পাসপোর্ট আছে, মানিব্যাগ আছে, শুধু ৩৩০ ডলারের টিকিটটা নেই, যার কিনা এখনকার দাম এক হাজার ডলার। সহযাত্রীরা সৈকতে খেলা দেখছে, ওদের কাছে ফিরে যাব? ফেরার ট্রেন কোনটা? ফেসবুকে লিখেছি, মারাকানায় খেলা দেখব। লোকে কী বলবে?
রংপুর থেকে যে একদিন ঢাকা এসেছিলাম, ‘বাহে’ ব্যাপারটা যে আমার মধ্যে প্রবল, রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে তা মনে হওয়া ছাড়া উপায় কী? উপায় আছে। মনে পড়ল জিনেদিন জিদানের একটা উক্তি বলে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বাংলা কবিতার অমর বাণীটি, জিদান নাকি বলেছেন, ছোটবেলায় জুতা পরে খেলতে পারিনি, জুতা ছিল না, একদিন তাকিয়ে দেখলাম, একজনের পা নেই...আমার তো মানিব্যাগ পকেটমারে নিতে পারত, পাসপোর্ট নিলে আমি পড়তাম সবচেয়ে বড় বিপদে। যাক, একটা টিকিটই তো। যাই ফিরে কোপাকাবানায়!
ধীরে ধীরে হাঁটছি। মফিজের মতো করে। দেখি, স্টেশনে একজন পুলিশ। বললাম তাঁকে সমস্যাটা। তিনি বললেন, স্টেশনের বাইরে পুলিশ স্টেশন আছে, সেখানে যাও। কী মনে করে খুঁজে বের করলাম পুলিশের ডেরা। একটা পুলিশের ভ্যানকে অফিস বানিয়েছে। ঢুকতে চাইলাম, বলল, ওই দেখো, লাইন, ওর পেছনে গিয়ে দাঁড়াও। এই ফরমটা পূরণ করো। আমার সামনে অন্তত কুড়িজন। প্রায় ৪০ মিনিট পরে সেই ভ্যানে উঠে বললাম সমস্যা। আমার কাছে টিকিটের কোনো ফটোকপি নেই; নম্বর আছে, তবে ফেসবুকে, ফেসবুক এখন খুলতে পারছি না। পুলিশ আমাকে একটা টাইপ করা কাগজ দিয়ে বলল, ফিফার কাছে যাও। একে-ওকে জিজ্ঞেস করে স্টেডিয়ামে ঢোকার লাইনে এসে দেখি, একজন কোটপরা কর্তার বুকে লেখা ফিফা। হাতের কাগজটা তাঁকে দিতেই তিনি একটা নতুন টিকিট দিয়ে বললেন, যাও, ঢোকো। বাপ রে! এরা এত ভালো। এই টিকিট আজ এক হাজার ডলারে বাইরে বিক্রি হচ্ছে।
এই জন্য বলি, ব্রাজিল খুব ভালো, ফিফা আরও ভালো। আমি গ্যালারিতে আমার আসনে বসতেই রেফারি খেলা শুরুর বাঁশি বাজালেন। আমি বাংলাদেশের পতাকা বুকে ধরে খেলা দেখতে লাগলাম। সত্যি কথা বলব, গ্যালারিতে খেলা দেখার আনন্দ হইচইয়ে, সমর্থকদের অবিরাম গানে আর নাচে। আসল খেলা ভালো করে দেখা যায় না। দেশের মাঠে আমার ক্রিকেট দেখার অভিজ্ঞতাও একই কথা বলবে, স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে খেলা খুব ভালো বোঝা যায় না। ফাস্ট বোলারের বল কোথায় গেল আপনি যখন খুঁজছেন, ততক্ষণে ব্যাটসম্যান ড্রেসিং রুমের পথে পা বাড়িয়েছে। ৪ জুলাইও তাই হলো, মারাকানায় সেলফি তুলতে যাচ্ছি, অমনি গোল। তবে খেলাটা জমেওনি বলতে হবে। আমার পাশে বসেছিলেন মেক্সিকোর এক তরুণ, তিনি জার্মানি সমর্থন করছেন, আরেক পাশে ফরাসি এক পরিবার, বাবা-মা, টিনএজার ছেলেমেয়ে। তাঁরা বিরস বদনে খেলা দেখলেন। আমি বললাম, খেলোয়াড়দের এত ক্লান্ত মনে হচ্ছে কেন? গরম বেশি বলে। গ্যালারিতে তো আমাদের তত গরম লাগছে না।
ব্রাজিলের খেলাটা দেখেছি রিওর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফানফেস্ট জোনে। বড় পর্দায়। এখানকার খেলাটা বরং ঠিকঠাক উপভোগ করা গেল। এখানে সবাই ব্রাজিলের সমর্থক, একটা মিস মানেই প্রবল ‘আহ’, ‘উহ’, ‘ওওও’। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথমার্ধের খেলা দেখে মন ভরে গিয়েছিল। খেলা শেষ করার আগেই বিমানে উঠে বসতে হলো, আর্জেন্টিনা-বেলজিয়াম ৫ জুলাইয়ের খেলা দেখতে ব্রাসিলিয়া যাচ্ছি। মন পড়ে আছে খেলায়। একজন যাত্রী তাঁর মোবাইলে খেলা চালু করে দিলেন, আমরা সবাই বিমানের ভেতরে দাঁড়িয়ে বসে ওই ছোট পর্দায় খেলা দেখলাম। খেলা শেষ হলে ঘোষণা এল, এবার মোবাইল অফ করুন। আমরা এবার উড়াল দেব। সবাই করতালি দিলে বিমান নড়ে উঠল।
নেইমারের পিঠের হাড় ভেঙেছে শুনে আমার নিজের মনই ভেঙে গেল। জার্মানি-ব্রাজিল সেমিফাইনাল দেখতে বেলো হরিজন্তে যাব। নেইমারই থাকবেন না? সে কী কথা!
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলাটাও দেখতে যাব। সেখানে না আবার ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দেখা হয়ে যায়! নাকি এ দুটো দলের একটা আসবে, আর আসবে জার্মানি বা নেদারল্যান্ডসের কেউ। বা দুদলই। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা খেলা হলে পৃথিবীতে ঝড় বয়ে যাবে, ব্রাজিলে আসা হাজারো আর্জেন্টাইনও ভালোই আতিথেয়তা পাবেন। শুধু বাংলাদেশের বিবদমান সমর্থকেরা না দাঙ্গা বাধিয়ে দেন।
ফরাসি ভদ্রলোক বলছিলেন, তোমরা বাংলাদেশ, তোমরা তো ক্রিকেট খেলো। ফুটবল খেলো না। সঠিক উত্তর হতো, যদি বলতাম, আমরা ক্রিকেট খেলি আর ফুটবল নিয়ে পাগলামো করি।
আমাদের টুর অপারেটর ব্রাজিলিয়ান ইউরিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তোমরা যদি আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যাও, তাহলে কী হবে? সে এক ফুঁৎকারে কথাটা উড়িয়ে দিল, কখনো না। এটা কখনো হতে পারে না। পথেঘাটে অনেককেই জিজ্ঞেস করেছি, ব্রাজিলের ম্যাচের ফল কী হবে? সবাই নিশ্চিত, ব্রাজিল জিতবে। একজন মহিলা বললেন, ফল হবে দুই শূন্য। দুই সিরো। বাহ। বাংলা দুই তো দেখি পর্তুগিজ পর্যন্ত এসেছে!
ব্রাজিল জিতুক আর আর্জেন্টিনা—এ দুই দলের ফাইনাল হলে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে না বিজিবি মোতায়েন করতে হয়! এই একটা দুশ্চিন্তা ছাড়া আমারও একান্ত চাওয়া, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলই হোক এবারের ফাইনাল।
ব্রাসিলিয়া, ব্রাজিল থেকে > ৫ জুলাই ২০১৪, রাত ২টা ২০
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শান্তির পক্ষে একযোগে কাজ করতে হবে by ক্রিস প্যাটেন
ইউরোপের ৩০ বছরের যুদ্ধের পটভূমিতে এ নাটক লেখা হয়েছে। সতেেরা শতকের প্রথম ভাগে এ যুদ্ধে ইউরোপ ছারখার হয়ে গিয়েছিল। প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিকদের মধ্যে ধর্মীয় বিবাদের কারণে এ যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু ক্রমেই তা বিবদমান রাজ্য ও দেশগুলো এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
অনেকেই সংগত কারণে বর্তমান শিয়া-সুন্নি যুদ্ধের সঙ্গে এ যুদ্ধের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। শিয়া-সুন্নি যুদ্ধে মেসোপটেমিয়ার বিশাল এলাকা ও পশ্চিম এশিয়া ছারখার হচ্ছে। অন্যদিকে ৩০ বছরের যুদ্ধে বিপুল মানুষ প্রাণ হারায়, প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে, অর্থনীতি ধসে পড়ে ও ডাইনি বলে বহু নারীকে পুড়িয়ে মারার কারণে সামাজিক অবস্থাও ঝঞ্ঝাসংকুল হয়ে ওঠে।
স্থিতাবস্থা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আধা শতাব্দী আগে একটি শান্তি ঐকমত্য হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলো খ্রিষ্টধর্মের যেকোনো তরিকা বেছে নিতে পারবে। এই চুক্তি অকার্যকর হয়ে পড়লে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ইরাক, সিরিয়া ও অন্যান্য স্থানে যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে তার আগে কি কোনো ‘শান্তি উদ্যোগ’ গ্রহণ করা হয়েছিল?
অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে পড়লে পশ্চিমা শক্তিগুলো এ অঞ্চলের মানচিত্র নতুন করে বিন্যাস করার মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধির এক প্রকল্প হাতে নেয়—সে লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন দেশে ধামাধরা সরকার বসায়, নির্ভরশীল সরকার তৈরি করে, প্রভাববলয় তৈরি করে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রগুলোর ওপর নিজেদের দখলদারি প্রতিষ্ঠা করে। তারপর তারা আরেকটি কৌশল অবলম্বন করে: মাগরেব ও লেভান্টের দেশগুলো ফিলিস্তিনবিষয়ক ইসরায়েলের মনোভাবের প্রতি কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বা ফিলিস্তিনের নিজ রাষ্ট্রের দাবির প্রতি কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, তা বিবেচনায় নিয়ে এসব দেশগুলোর অবস্থান যাচাই করা শুরু করে তারা। এমনকি পশ্চিমা দেশগুলো বিভিন্ন দেশে সরাসরি হস্তক্ষেপও শুরু করে—ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেগকে তারা ক্ষমতাচ্যুত করে। আর সাম্প্রতিক অতীতে ইরাক ও সিরিয়ায় সামরিক আগ্রাসনও করে পশ্চিমা শক্তিগুলো, এর ফলে ইরাকে লাখো মানুষ মারা পড়ে।
আরব নীতিপ্রণেতা ও পণ্ডিতেরা ইউএনডিপির একটি প্রতিবেদনে বলেছিলেন, কর্তৃত্বপরায়ণ সরকারব্যবস্থা, অর্থনৈতিক দুর্বলতা, বেকারত্বের ঊর্ধ্বগতি ও আত্মসত্তার রাজনীতির বাড়বাড়ন্তের মধ্যে আন্তসম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে। এ অঞ্চলের রাজনীতি যত বেশি কর্তৃত্বপরায়ণ হয়েছে, তরুণদের বেকারত্ব যত বেড়েছে ও বাকস্বাধীনতা যত খর্ব হয়েছে, এই তরুণেরা তত বেশি চরমপন্থা ও সহিংস ইসলামের প্রতি ঝুঁকেছে। এটা এই মহান ধর্মবিশ্বাসের বিকৃতি ছাড়া কিছু নয়।
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইসের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাকি বহুকাল ধরে ‘গণতন্ত্রের চেয়ে স্থিতাবস্থার ওপরই বেশি জোর দিয়েছে’, ফলে ‘কিছুই অর্জিত হয়নি’। কথাটা তিনি ঠিকই বলেছেন।
ইউএনডিপির ২০০২ সালের প্রতিবেদনে যে বহুত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছিল, সেটা গ্রহণ করার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ আছে। পশ্চিম এই নীতি প্রয়োগে ধারাবাহিক নয়, আবার জোর করেও তা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এমনকি এটা বাস্তবায়নে যে অর্থ ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তাও যথাযথভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
পশ্চিমের উচিত হবে তার সমস্ত শক্তি একত্র করে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সমঝোতা স্থাপনের চেষ্টা করা, শিয়া-সুন্নি বিবাদের জন্য এরাই মূলত দায়ী। পুরো এলাকা আগুনে পুড়ে যাক, এটা কেউই নিশ্চয়ই চান না। দুই দেশেরই উচিত, নিজেদের সম্পর্ক ঝালাই করে নেওয়া—মে মাসে এ সম্ভাবনা ক্ষণিকের জন্য হলেও উঁকি দিয়েছিল।
মার্কিন ও তুর্কি সহায়তায় ইরানের একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দিকে যাওয়া উচিত, যে রাষ্ট্র শিয়া, সুন্নি ও কুর্দিদের আকাঙ্ক্ষার মূল্যায়ন করবে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ কাগজে-কলমে সরকারে আছেন, কিন্তু তাঁর কোনো ক্ষমতা নেই বললেই চলে। তাঁর সেনাবাহিনী হয়তো এ যুদ্ধে জিতে যাবে, তবে যুদ্ধ চলতেই থাকবে। এ মুহূর্তে রোমান ইতিহাসবিদ ট্যাসিটাসের কথাটা মনে পড়ে গেল, ‘সব উজাড় করে দিয়ে তারা বলে, শান্তি এসেছে’। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সহায়তায় সারা দুনিয়ায় ব্যাপক হারে মানবিক কার্যক্রম চালানো উচিত, এতে লাখ লাখ সিরীয় উদ্বাস্তুর কাছে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হবে। এই ত্রাণ না হলে তাদের চলছে না।
শেষত, ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের অশেষ দ্বন্দ্বের বিষয়টিও আমাদের ভোলা চলবে না। এর ফলে রাজনৈতিক চরমপন্থা পুষ্ট হচ্ছে। আর মানবাধিকারের প্রতি পশ্চিমের মনোভাব নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা যায়।
এ অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর ঘাড়ে আরেকটি অতিরিক্ত দায়িত্ব বর্তায়: ইসলামের গৃহযুদ্ধে যোগ দিতে তরুণদের অনুৎসাহিত করা। আমার নিজের দেশের জন্যও এটা একটা সমস্যা। যে মূল্যবোধ নিয়ে আজকের তরুণদের বাবা-মায়েরা যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন, আমরা তাঁদের মধ্যে সে রকম বোঝাশোনা তৈরি করতে পারিনি।
দীর্ঘস্থায়ী ও প্রকৃত শান্তির বিষয়টি একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। পরিকল্পনা করতে হবে, আর সেগুলো বাস্তবায়নে বছরের পর বছর লেগে যাবে। এখনই শুরু করতে না পারলে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে, যে আগুনে ধূপ হবে রাজনীতি ও ধর্ম। এই আগুনে শুধু ইরাকই পুড়বে না, আরও কত শহর পুড়বে তার ইয়ত্তা নেই।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
ক্রিস প্যাটেন: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের জনগণের ডিএনএতে রয়েছে গণতন্ত্র -বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড্যান ডব্লিউ মজীনা
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম ও রাহীদ এজাজ

প্রথম আলো >> কেমন আছেন? বাংলাদেশ কেমন লাগছে?
ড্যান মজীনা >> ভালো, খুবই ভালো। বিশেষভাবে এ দেশের জনগণের মধ্যে বিরাট সম্ভাবনা আমি খুঁজে পেয়েছি।
প্রথম আলো >> ২০১২ সালে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন টিকফা (বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি) সই হলে দুই দেশের বাণিজ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। চুক্তিটি গত বছর সই হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড্যান মজীনা >> টিকফা সইয়ের পর এ-সংক্রান্ত কাউন্সিলের প্রথম বৈঠক ঢাকায় গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করেছে।
প্রথম আলো >> চুক্তি হওয়ার আগে ও পরে বাস্তবে কতটা অগ্রগতি হয়েছে? নাকি এখন পর্যন্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে কি শুধু আলোচনাই হয়েছে?
ড্যান মজীনা >> এটা কোনো জাদুর কাঠি নয়। বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে দুই পক্ষ কথা বলার পর বাস্তবে কিছু অগ্রগতি নিশ্চয় হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর বাংলাদেশ সরকার শুল্ক তুলে নিয়েছে। কয়েকজন শ্রমিকনেতার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তগুলো বৈঠকেই নেওয়া হয়েছে। আর এগুলোই হচ্ছে তাৎক্ষণিক ফলাফল। সামগ্রিকভাবে আমাদের পক্ষ থেকে বাণিজ্য সম্প্রসারণে লালফিতার দৌরাত্ম্যকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু এখানে এসে তাঁদের দুঃসহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জিএসপি পুনর্বহাল এবং শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রথম আলো >> বাংলাদেশের জিএসপি পুনর্বহালের ব্যাপারে আপনি কি আশাবাদী?
ড্যান মজীনা >> প্রশ্নটা শুধু জিএসপি নিয়ে নয়, এর পরিধি আরও ব্যাপক। প্রশ্নটা হলো, বাংলাদেশ কি পোশাকশিল্প খাতকে আরেকটি তাজরীন ফ্যাশনস কিংবা রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারবে?
প্রথম আলো >> পোশাকশিল্প খাতে পরিবেশের গুণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আপনার কাছে কী ইতিবাচক ইঙ্গিত চোখে পড়েছে?
ড্যান মজীনা >> এ খাতের সংস্কারের ব্যাপারে আমি অনেকগুলো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করেছি। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে যে পরিবর্তন সূচিত হয়েছে, তা পৃথিবীর কোথাও হয়নি। গত বছরের ২৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত করেন। এ সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশের সামনে একটি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অ্যালায়েন্স ও অ্যাকর্ডের মতো উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের যেসব কারখানায় পোশাক উৎপাদিত হয়, সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ক্রেতারা এগিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন দেশ এগিয়ে এসেছে। কারখানার নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের অধিকার দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে জনসাধারণের দেখার সুযোগ রেখে একটি তথ্যভান্ডার (ডেটাবেইস) তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা এর আগে পৃথিবীর কোথাও হয়নি। গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৫৭টি ট্রেড ইউনিয়ন পোশাক কারখানায় নিবন্ধিত হয়েছে; অথচ গত ৪০ বছরে এটা ভাবা যায়নি। বাংলাদেশের ৮০০ কারখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধরে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ‘বেটার ওয়ার্ক প্রোগ্রাম’ নামের কর্মসূচি চালু করেছে। এসব পরিবর্তনকে অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে। তবে এটা ঠিক যে, আরও অনেক কিছু করা বাকি রয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো ২০০ কারখানা পরিদর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি শেষ হয়নি। এখনো অনেক কারখানা পরিদর্শন বাকি রয়েছে। তথ্যভান্ডারে এখনো কোনো তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফাঁকা রয়েছে তথ্যভান্ডারটি। ইপিজেডে জাতীয় শ্রম আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি ঝুলে আছে। এটির সুরাহা করতে হবে। অনৈতিক শ্রমচর্চা বন্ধ করতে হবে। সবকিছুর পরও বলব, অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে বলে আমি পোশাক খাতের সংস্কারের ব্যাপারে উজ্জীবিত বোধ করছি।
প্রথম আলো >> ভারত, পাকিস্তান, জাম্বিয়া ও অধুনালুপ্ত জায়ারে কাজ করেছেন। এসব দেশের সঙ্গে মেলাতে বলা হলে কোথায় রাখবেন বাংলাদেশকে?
ড্যান মজীনা >> আমি কখনো এভাবে তুলনা করি না। আর এ ধরনের তুলনা আমার পছন্দ নয়। বাংলাদেশ একটি নবীন দেশ। একটি বিকাশমান গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। গণতন্ত্র বিকশিত করা সহজ নয়। তবে বাংলাদেশ নিজেই তার পথটি খুঁজে নেবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কখনো এগিয়ে চলে; আবার কখনো পেছনে হাঁটে। আমি বিশ্বাস করি, এ দেশের জনগণের ডিএনএতে রয়েছে গণতন্ত্র। আমি একজন রিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলেও বুঝতে পারি, তিনি কতটা রাজনীতিসচেতন। তাঁর বিশ্বাস, আদর্শ ও সমর্থন—সবকিছুতেই সুস্পষ্ট যুক্তি আছে। তাই আমি মনে করি, গণতন্ত্রই বাংলাদেশের সেরা অর্জন হয়ে উঠবে।
প্রথম আলো >> গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
ড্যান মজীনা >> এ বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে। আমরা গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এসব অভিযোগের তদন্ত করে দোষী লোকজনকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে বলেছি।
প্রথম আলো >> যুক্তরাষ্ট্র তো র্যাবকে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে। অথচ র্যাবের বিরুদ্ধে কত অভিযোগ। ব্যাপারটা তাহলে কী রকম দাঁড়াল?
ড্যান মজীনা >> মানবাধিকার সমুন্নত রাখার বিষয়ে র্যাবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। র্যাবের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেল গঠনে এ সহায়তা দেওয়া হয়। এ প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী র্যাব কর্মকর্তাদের মধ্যে ছয় সপ্তাহ আগে সনদ বিতরণ করা হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
প্রথম আলো >> র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নতুন নয়। এ প্রশিক্ষণ শিবিরের আগে ও পরে র্যাব সদস্যদের মধ্যে গুণগত কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি?
ড্যান মজীনা >> এ পরিবর্তন তো রাতারাতি হওয়ার কথা নয়। জনগণ র্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক বিষয়েই অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেলের নজরে এনেছেন। তবে খবরের কাগজে র্যাবের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগের যেসব খবর পাই, সে ক্ষেত্রে আরও অনেক কিছু করার আছে। র্যাবকে দায়িত্বশীল হতে হলে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।
প্রথম আলো >> বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে নানা ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন। অর্থনীতিসহ বাংলাদেশের নানা ক্ষেত্রে তাঁদের কাজে লাগানোর কোনো পরিকল্পনা কি নিয়েছেন?
ড্যান মজীনা >> বাংলাদেশে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে যখনই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছি, প্রতিবারই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাঁরা অত্যন্ত সমৃদ্ধ অভিবাসী এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁদের আবেগপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাঁদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে আসছি। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে অনুরোধ জানাচ্ছি। বাংলাদেশে যাতে সাহায্য পাঠাতে পারেন, এ জন্য লিফটবাংলা নামের বিশেষ একটি কর্মসূচিতে সহায়তা দিতে বলছি। একটি ওয়েব পোর্টালের সাহায্যে যে-কেউ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের জন্য এতে সাহায্য পাঠাতে পারেন। ১১টি বেসরকারি সাহায্য সংস্থার মাধ্যমে এ টাকা বাংলাদেশে উন্নয়নমূলক কাজে খরচ করা হবে। আমেরিকান বাংলাদেশিরা তাঁদের প্রেরিত অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে যেন পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সবশেষে বলব, আমি দুই দেশের জনগণের মাঝে যোগাযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।
প্রথম আলো >> প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জাপান ও চীন সফর করেছেন। কৌশলগত প্রেক্ষাপটে এ সফরগুলোকে কীভাবে দেখছেন?
ড্যান মজীনা >> কৌশলগত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, অনেক দেশেরই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে। কাজেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হওয়া; প্রধানমন্ত্রীর জাপান ও চীনে সফল সফরের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রতিফলিত হচ্ছে। আর এটি সবার জন্য মঙ্গলজনক।
প্রথম আলো >> দুই বছর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে সফল সংলাপের বিষয়ে আপনি আশাবাদী। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংলাপের ব্যাপারে নতুন কোনো সম্ভাবনা কি দেখছেন? কিংবা নতুন কোনো নির্বাচন হবে, যেখানে সব দল অংশ নেবে?
ড্যান মজীনা >> এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ৬ জানুয়ারি, ১১ ফেব্রুয়ারি ও ৩০ এপ্রিলে দেওয়া বিবৃতি দেখলেই আমাদের অবস্থান বুঝতে পারবেন। আমি কিন্তু আগেই বলেছি, গণতন্ত্রই বাংলাদেশের চূড়ান্ত অর্জন হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ নিজের মতো করে লড়াই করেই গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখবে। কীভাবে হবে, সেটা আমি জানি না। তবে এটা জানি, এখানকার জনগণই পথ খুঁজে বের করবে। কারণ, তাদের ডিএনএতে রয়েছে গণতন্ত্র।
প্রথম আলো >> বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন শেষে কি আপনি অবসরে যাচ্ছেন?
ড্যান মজীনা >> বাংলাদেশে আমার দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে জেনে আমি কিছুটা বিষাদগ্রস্ত। এ দেশের সঙ্গে খুব যুক্ত ছিলাম বলে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়া নিয়ে আমি বিষণ্ন। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন শেষে আমি অবসরে যাব। এরপর হয়তো চুক্তিভিত্তিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে কোনো দেশে অথবা মহাপরিদর্শকের দপ্তরে আমাকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
প্রথম আলো >> নিশ্চয় আবার বাংলাদেশে আসবেন?
ড্যান মজীনা >> হয়তো। তবে প্রথম এক বছরে নয়। কারণ, আমি চাই আমার উত্তরসূরি নিজের একটি অবস্থান গড়ে তুলুক। এরপর আমার বাংলাদেশে আসার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রথম আলো >> বাংলাদেশে আপনার সময় কেমন কেটেছে?
ড্যান মজীনা >> এটা সবাই নিশ্চয় ভালো করেই জানেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমাকে যেমন বাংলাদেশের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে, তেমনি অন্য জায়গায়ও আমি যেতে পারতাম। তবে আমি বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নিই। কারণ, এটি বিশেষ একটি দেশ, যেখানকার মানুষগুলোও বিশেষ ধরনের। বাংলাদেশ ঘুরে এটি জেনেছিলাম। আমি এখানে আসার আগেই বলেছিলাম, আমি শুধু নিয়মমাফিক দায়িত্ব পালন করব না; আমি এ দেশ ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে যাব। সেটা আমি করেছি। তিনটি জেলা বাদে আর সব কটি জেলায় আমি গিয়েছি। আমার মেয়াদ শেষের আগেই সেসব জেলায় যাব। মানুষের সঙ্গে কথা বলব। আমি তো শুধু ঢাকার নয়, পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। দায়িত্ব পালনের সময় আমি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেতুবন্ধ গড়ার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশকে আবিষ্কার করতে চেয়েছি।
প্রথম আলো >> বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে এ দেশের জনগণের জন্য আপনার বিশেষ বার্তা কী?
ড্যান মজীনা >> বাংলাদেশ নিয়ে তো অনেক কিছুই বলতে চাই। আমি মনে করি, এ দেশের অনেক মানুষ দরিদ্র হলেও তাদের রয়েছে অফুরন্ত সৃজনশক্তি। মানুষও অত্যন্ত চমৎকার। ওরা একাধারে পরিশ্রমী ও উদ্যমী। সবকিছু মিলিয়েই বাংলাদেশ অনন্য। তা ছাড়া ভৌগোলিকভাবেও এ দেশের রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। আমি বলব, সবদিক থেকে সত্যিকার অর্থেই একটি সমৃদ্ধ দেশ বাংলাদেশ।
প্রথম আলো >> আপনাকে ধন্যবাদ।
ড্যান মজীনা >> আপনাদেরও ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুইস ব্যাংকে ক্ষুদ্র অংশ, বাকিটা কোথায়? by মইনুল ইসলাম

বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনীতিবিদদের এ ধরনের গোপন অ্যাকাউন্ট থাকে বলে জনমনে সাধারণ ধারণা থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী–নেতা এবং তাঁদের আত্মীয়স্বজনের কারও কারও এই পুঁজি পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া সুইস ব্যাংকে কারা এসব অ্যাকাউন্টের মালিক তার তালিকা প্রকাশের দাবি তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন যে তাঁর সরকার আমানতকারীদের তালিকা চেয়ে সুইজারল্যান্ড সরকারকে অনুরোধপত্র পাঠাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। সে জন্য প্রথমেই বলে নেওয়া প্রয়োজন, পলাতক পুঁজি নিয়ে এসব হইচই নেহাত বেফজুল রাজনৈতিক বিতর্ক এবং মিডিয়ায় ক্ষণস্থায়ী ঝড়ের আরেকটা সংক্ষিপ্ত অধ্যায় মাত্র, যা অল্প দিনের মধ্যেই ঝিমিয়ে পড়বে। সুইস ব্যাংকের নিয়মকানুন সম্পর্কে যতটুকু ধারণা আছে তাতে আগেভাগেই বলে দেওয়া যায়, গোপন অ্যাকাউন্টের মালিকের তালিকাও মিলবে না এবং অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থও ফেরত পাওয়া যাবে না।
১৯৯০-৯১ সালে বাংলাদেশের খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে ‘বাংলাদেশে চোরাচালান’ (ইললিগ্যাল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন বাংলাদেশ) শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন করার সময় ক্যাপিটাল ফ্লাইট বা পুঁজির পলায়ন বিষয়ে তাত্ত্বিক প্রকাশনা এবং বিশ্বের নানা দেশে প্রকাশিত গবেষণালব্ধ ফলাফলগুলো সম্পর্কে ব্যাপক পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলাম। তাত্ত্বিকভাবে অর্থনীতিবিদ জগদীশ ভগবতী ক্যাপিটাল ফ্লাইটকেও অবৈধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সংজ্ঞার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ১৯৮২ সালে প্রকাশিত ক্যাপিটাল ফ্লাইট–সম্পর্কিত উইলিয়ামসনের বিশ্বখ্যাত বইয়ে পলাতক পুঁজির উদ্ভব ও গতি-প্রকৃতি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ পাওয়া যায়।
আমাদের দুই কিস্তির ৫৪৭ পৃষ্ঠার গবেষণা প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ থেকে ‘পুঁজির পলায়ন’ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এরপর ২৩ বছর ধরে এই বিষয়ে যেখানে যা পেয়েছি, পড়াশোনা করেছি এবং সে জন্য আমার দুটো বইয়ে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত কলামে বেশ কয়েকবার এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-বিশ্লেষণ উপস্থাপিত হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই প্রথম আলোতে প্রকাশিত কলামে টরন্টোর বেগমপাড়া এবং মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম বিষয়টি আমার আলোচনায় উঠে এসেছে। কারণ, সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশ থেকে পুঁজি পাচার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বেশ কয়েক বছর ধরে আর তেমন বাড়ানো যাচ্ছে না। (এটা অবশ্য বিনিয়োগ স্থবিরতার অন্যতম কারণ। এর পেছনে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে, যা আজকের কলামের বিষয়বস্তু নয়।)
২০১০ সালে ব্যাংকের খেলাপি ঋণসম্পর্কিত আমার বইয়েও সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রমাণ করেছি যে দেশের ‘স্টার ঋণখেলাপিদের’ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই তাদের ঋণের সিংহভাগ বিদেশে পাচার করে দিয়েছে।
এই দীর্ঘ ২৪ বছরে পুঁজির পলায়ন সম্পর্কে আমার যেটুকু জানার সুযোগ হয়েছে, তার ভিত্তিতে পাঠকদের জানাতে চাই, যে পরিমাণ পলাতক পুঁজির কথা সাম্প্রতিক প্রকাশিত সংবাদে উল্লিখিত হয়েছে, তা আমার বিবেচনায় ‘হিমবাহের শৈলচূড়া’ (টিপ অব দি আইসবার্গ) ছাড়া কিছু নয়। হিমবাহের নয়-দশমাংশ পানির নিচে অদৃশ্য থাকে, আর এক-দশমাংশ পানির ওপরে ভাসমান থাকে বিধায় ওই ক্ষুদ্র অংশটাই শুধু দৃশ্যমান হয়।
এর মানে, আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ পুঁজি বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে তার অতি ক্ষুদ্র অংশই সুইস ব্যাংকে জমা রাখার প্রয়োজন পড়ে। এ ধরনের গোপন অ্যাকাউন্ট রাখার প্রয়োজনীয়তা এখন তেমন জোরালো নেই। কারণ, অনেক সহজ বিকল্প পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়ে গেছে বিশ্বায়নের এ যুগে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পুঁজি পাচার এত সহজসাধ্য হয়ে গেছে যে সুইস ব্যাংকের সহায়তা এখন আর তেমন আকর্ষণীয় বিকল্প বিবেচিত হয় না।
এটাও বলা প্রয়োজন, ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, দুর্নীতিবাজ আমলা এবং পুঁজি-লুটেরা রাজনীতিবিদদের কালোটাকার বড় অংশই বিদেশে পাচার করার ‘কালচার’ যে আগের চেয়েও অনেক বেশি দৃঢ়মূল হয়েছে, সে ব্যাপারে কারও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। যা বলার চেষ্টা করছি তা হলো, পুঁজি পাচারের বিকল্প পদ্ধতিগুলো এত বেশিসংখ্যক ও এত সহজ হয়ে গেছে যে পলাতক পুঁজির ৯০-৯৫ শতাংশই এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশে এবং অন্যান্য ধরনের বিনিয়োগে বিনিয়োজিত রয়েছে।
উপরন্তু, বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি অভিবাসী শ্রমিক, পেশাজীবী ও অনিবাসী বাংলাদেশি (নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি, সংক্ষেপে এনআরবি) যেসব পদ্ধতিতে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন, সেগুলোই পুঁজি পাচার এবং মানি লন্ডারিংকে (বা কালোটাকা ধৌতকরণকে) দিন দিন সহজ করে দিচ্ছে। এ জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠীকে শুধু গালমন্দ করে সমস্যার সমাধান মিলবে না। সোজাসাপ্টা বলে ফেলা ভালো, দেশের সরকার যত দিন দুর্নীতি এবং পুঁজি লুণ্ঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের নীতি থেকে সরে আসবে না, তত দিন পুঁজি পাচারকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যাবে না, এ ব্যাপারে যতই গলাবাজি করা হোক না কেন। দেশের অভ্যন্তরের দুর্নীতি দমনে দুর্নীতি দমন কমিশনকে অকার্যকর করে ফেলে পুঁজি পাচার রোধে সাফল্যের আশা করা বাতুলতা।
দুঃখজনক হলেও সত্য, গত ৪৩ বছরে এ দেশে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে প্রতিটি সরকারই কমবেশি অবদান রেখে চলেছে। অবশ্য বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে দুর্নীতি শুরু হলেও তা ‘সিস্টেমে’ পরিণত হতে পারেনি। রিলিফের মালামাল চুরি, রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানায় দুর্নীতি ও লুটপাট, শ্রমিকনেতাদের একাংশের চাঁদাবাজি, সরকারের কিছু দৃশ্যমান স্বজনপ্রীতি—এগুলোর জন্য বঙ্গবন্ধুর সরকারকে প্রচুর বদনাম সইতে হলেও তাঁর পরবর্তী শাসনামলের তুলনায় রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি উভয়ই তাঁর শাসনামলে অনেক কম ছিল। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণের পর জিয়াউর রহমানও তাঁর ব্যক্তিগত সততার একটা ‘মিথ’ গড়ে তোলার মাধ্যমে নানা ধরনের অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাঁর কেনাবেচার রাজনৈতিক দুর্নীতিকে অনেকটা আড়াল করে দিতে সমর্থ হয়েছিলেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণের যথেচ্ছ বাঁটোয়ারা, ব্যক্তি খাতের শিল্পকারখানার লাইসেন্স-পারমিট বিতরণ, পরিত্যক্ত ও রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বিতরণ, দেদার আমদানি পারমিট বিতরণ, দুর্লভ বৈদেশিক মুদ্রার বণ্টনে অগ্রাধিকার প্রদান, বৈদেশিক ঋণ-অনুদানে অর্থায়িত প্রকল্পের ঠিকাদারি বিতরণ—এ ধরনের সব মহাজনি পন্থাই রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সিভিল আমলা ও ব্যবসায়ীদের বিএনপির পূর্বসূরি জাগদলে ভেড়াতে জিয়াউর রহমান যথেচ্ছ ব্যবহার করেছেন।
ব্যক্তিগতভাবে আমি বাংলাদেশ থেকে পুঁজি পাচারের প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রথম পেয়েছিলাম ওই সময়েই। তখন আমি পিএইচডি করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলাম। ১৯৭৮-৮০ এই তিন বছরে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার শহর ন্যাশভিলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৫টি পরিবার গিয়ে বসতি স্থাপন এবং ব্যবসাপাতি গড়ে তুলতে দেখেছিলাম তদানীন্তন মার্কিন সরকারের একটা নীতির সুবিধা গ্রহণ করে—ন্যূনপক্ষে ৪০ হাজার ডলার পুঁজি নিয়ে গিয়ে ওই দেশে বিনিয়োগ করলে পুরো পরিবারকে গ্রিন কার্ড দেওয়া হতো ওই সময়।
সারা বিশ্ব থেকে বৈদেশিক পুঁজি আকর্ষণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরূপ নীতিমালা অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশেরও ছিল, বলাই বাহুল্য। কিন্তু বাংলাদেশের মতো তদানীন্তন একটা হতদরিদ্র দেশ থেকেও যে দেদার পুঁজি পাচার হতে পারে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাটুকু মনে বড় দাগ কেটেছিল। পুঁজি আকর্ষণের জন্য বিশ্বের সব দেশ এখন আরও অনেক বেশি মরিয়া। তাই বৈদেশিক বিনিয়োগ হিসেবে দেশে আসা পুঁজি সাদা না কালো, সে বাছবিচার তেমন একটা করছে না কোনো দেশই।
আমরা কেন ভুলে যাচ্ছি যে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এখনো সারা বিশ্ব থেকে পাচারকৃত পুঁজির সবচেয়ে বড় ‘নিরাপদ গন্তব্য ও আশ্রয়স্থল’ বা ‘সেফ হ্যাভেন’ এবং তৃতীয় বিশ্ব থেকে পলাতক পুঁজি আকর্ষণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রতিটি উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশ নিরন্তর নানা ধরনের নীতিমালা গ্রহণ করে চলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি পলাতক পুঁজি আকর্ষণে ব্যর্থ হয় তাহলে সে দেশের অর্থনীতি বিপদে পড়বে, এটা ওয়াকিবহাল মহলের অজানা নয়।
কিন্তু ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের ব্যাপারে এখন অনেক বেশি কড়াকড়ি আরোপ করায় বাংলাদেশের পলাতক পুঁজির গন্তব্য হিসেবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, দুবাই, দক্ষিণ আফ্রিকা, হংকং, সিঙ্গাপুর, কেনিয়া, উগান্ডা, ভারত, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মনে রাখতে হবে, দেশের সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের প্রবাহ সাম্প্রতিক কালে মোটেও মন্থর হয়নি এবং এই প্রবাহের সঙ্গে প্রচুর পুঁজিও দেশ থেকে বিদেশে, বিশেষত ভারতে চলে যাচ্ছে।
ইদানীং ভারতের পাশাপাশি কানাডার টরন্টো নগরের বেগমপাড়া, মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনি পলাতক পুঁজির দিক পরিবর্তনের প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বলতে চাই, বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ও কোকোর বিদেশে পাচার করা সম্পদ, ২০০৬ সালে শতাধিক স্যুটকেস নিয়ে বেগম জিয়ার সৌদি আরব গমনের কেচ্ছা, ‘থিফ অব বাগদাদ’ এরশাদের গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সুলুকসন্ধান, বিএনপির নেতা খোন্দকার মোশাররফের ব্রিটেনে লুকায়িত ধনভান্ডার—এগুলো নিয়ে বর্তমান সরকারের আমলে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও টানাহেঁচড়া সামলানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কিন্তু মাঝখান থেকে পার পেয়ে যাবে পুঁজি-লুটেরা ব্যবসায়ীরা, সামরিক-সিভিল আমলারা এবং রাঘববোয়াল ঋণখেলাপিরা, যারা চার দশক ধরে পুঁজি পাচারের আসল ফায়দাভোগী।
মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুই যুগ পর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

তাতে অবশ্য আর্জেন্টিনার জয় আটকায়নি। গঞ্জালো হিগুয়েইনের গোলে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আলেসান্দ্রো সাবেলার শিষ্যরা। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথমবারের মতো শেষ চারের টিকিট পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম চারটি ম্যাচে খুব বেশি জ্বলে উঠতে পারেননি হিগুয়েইন। কিন্তু আজ নিজের সামর্থ্য বেশ ভালোমতোই প্রমাণ করেছেন এই তারকা স্ট্রাইকার।
৮ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠ থেকে ডি মারিয়ার দিকে বল বাড়িয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ডি মারিয়ার পাস থেকে বল পেয়ে দ্রুতই শট নিয়েছিলেন হিগুয়েইন। জোরালো সেই শট রুখে দেওয়ার কোনো সুযোগই পাননি বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ১-০ গোলে এগিয়ে গেছে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার দারুণ একটি সুযোগও পেয়েছিলেন হিগুয়েইন। মাঝমাঠ থেকে দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে একাই বল নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন বেলজিয়ামের পেনাল্টি বক্সে। কিন্তু তাঁর শট ফিরে আসে গোলপোস্টে লেগে।
প্রথমার্ধে অবশ্য ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব বেশি পায়নি আর্জেন্টিনা। ২৮ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ডি মারিয়ার দিকে দারুণভাবে বল বাড়িয়েছিলেন মেসি। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ডি মারিয়া। উরুতে চোট নিয়ে ৩৩ মিনিটের মাথায় মাঠও ছাড়তে হয়েছে আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারকে।
৩৮ মিনিটে বেলজিয়ামের পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরেই ফ্রি-কিক পেয়েছিলেন মেসি। কিন্তু সেখান থেকেও বলটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পাঠাতে পারেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
বেলজিয়ামও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে খুব বেশি ভীতি ছড়াতে পারেনি। ২৬ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছিলেন ওরিগি। কিন্তু বেলজিয়ামের এই স্ট্রাইকারের শট রুখে দিয়েছেন রোমেরো। ৪২ মিনিটে ইয়ান ভার্তোনের ক্রস থেকে দারুণ এক হেড করেছিলেন কেভিন মিরালাস। কিন্তু সেটাও চলে যায় গোলপোস্টের কিছুটা বাইরে দিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে, ৬১ মিনিটের মাথায় ফেলাইনির দারুণ একটি হেডও চলে যায় গোলপোস্টের কিছুটা ওপর দিয়ে।
৮০ মিনিটের পর খেলায় সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়েই আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে বারবার আক্রমণ চালিয়েছিলেন বেলজিয়ামের খেলোয়াড়েরা। কিন্তু কিছু সুযোগ তৈরি করতে পারলেও শেষপর্যন্ত ১-০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বেলজিয়ামকে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আত্মপ্রকাশ করলেন ‘খলিফা’ আবু বকর আল বাগদাদি
উত্তর ইরাকের মশুল শহরে অবস্থিত আল-নূরি মসজিদে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের আগে বয়ান করেন আল বাগদাদি। ওই বয়ানের ভিডিওচিত্র আজ শনিবার বিবিসি প্রচার করে।
ভিডিওতে ধারণ করা ওই ভাষণে বাগদাদি তাঁকে খলিফা হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানান।
আবু বকর আল বাগদাদি সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় নিহত কিংবা আহত হয়েছেন বলে আজ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর মধ্যেই নাটকীয়ভাবে বাগদাদির ভিডিও ভাষণ প্রচার করা হয়।
জুমার বয়ানে বাগদাদি বলেন, একজন খলিফা নির্বাচিত করে সেই খলিফার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া মুসলমানদের ইমানি দায়িত্ব। অথচ যুগ যুগ ধরে মুসলমানেরা এ বিষয়টিকে উপেক্ষা করে এসেছে।
উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে আল বাগদাদি বলেন, তিনি ‘ইসলামি রাষ্ট্রের’ খেলাফতের দায়িত্ব নেওয়াকে ‘বোঝা’ মনে করেন। সে কারণে তিনি তা নিতে চাননি। তবে অনুসারীরা তাঁকে এই পদে অধিষ্ঠিত করেছেন। তিনি মুসল্লিদের বলেন, ‘আপনাদের চেয়ে যোগ্য না হলেও আমিই এ মুহূর্তে আপনাদের নেতা। যদি মনে করেন আমি সঠিক পথে আছি, তাহলে আমাকে সমর্থন করুন। যদি মনে করেন আমি ভুল পথে যাচ্ছি, তাহলে আমাকে উপদেশ দিয়ে শুধরে দিন।’
এর আগে এক অডিওবার্তায় বাগদাদি ইরাক ও সিরিয়ায় এসে তাঁদের সঙ্গে লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার জন্য সারা বিশ্বের মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানান।
চলতি সপ্তাহে আইএসআইএস ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের দখল করা অংশে খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে তারা আবু বকর আল বাগদাদিকে খলিফা এবং সারা বিশ্বের সব মুসলমানের নেতা হিসেবে ঘোষণা দেয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
July
(592)
-
▼
Jul 06
(21)
- ডোন্ট ওরি বয়েজ ; যৌন-আনন্দের সুখানুভূতি দেবে লঞ্চপ...
- সরকারের ফরমালিনবিরোধী যুদ্ধের পরিণতি কী দাঁড়াল? by...
- দুদক আইনে গতি, প্রচলিত আইনে দুর্গতি by শহীদুজ্জামা...
- আগের রাতে নারীসঙ্গ, পরের দিন মাঠে গোল
- ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!
- খালেদার ইফতারে কূটনীতিকদের মিলনমেলা
- ১০ মিনিটে ৬১ হটডগ!
- প্রয়োজনে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে আইন সংস্কার
- আদালতে যেতে পারে কংগ্রেস
- শিম্পাঞ্জির ভাষা বুঝতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা
- ২৪ বছর পর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা by তালহা বিন নজরুল
- নেইমার ট্র্যাজেডি -ব্রাজিল কাঁদছে নেইমারের জন্য
- সেই একই রীতি by শামীমুল হক
- ব্রাজিলের নেইমার হাহাকার
- আমার জীবনটাই যেন সিনেমা -ডিয়েগো ম্যারাডোনা
- রংপুরের ‘বাহে’র মারাকানা দর্শন- আমরা ক্রিকেট খেলি ...
- শান্তির পক্ষে একযোগে কাজ করতে হবে by ক্রিস প্যাটেন
- বাংলাদেশের জনগণের ডিএনএতে রয়েছে গণতন্ত্র -বিশেষ সা...
- সুইস ব্যাংকে ক্ষুদ্র অংশ, বাকিটা কোথায়? by মইনুল ...
- দুই যুগ পর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
- আত্মপ্রকাশ করলেন ‘খলিফা’ আবু বকর আল বাগদাদি
-
▼
Jul 06
(21)
-
▼
July
(592)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


