Sunday, February 16, 2025
বিদেশি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকসহ কর্মস্থলে কেন সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যান ইলন মাস্ক
বিদেশি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক থেকে শুরু করে স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণকক্ষ—সব জায়গাতেই মাস্কের সন্তানদের উপস্থিতি দেখা যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রযুক্তি ধনকুবের ও টেসলার সহপ্রতিষ্ঠাতা মাস্ককে তাঁর প্রশাসনের নবগঠিত গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি বিভাগের দায়িত্ব দিয়েছেন। এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও মাস্কের সঙ্গে তাঁর সন্তানদের দেখা যাচ্ছে।
এমনকি মাস্কের চার বছর বয়সী সন্তান ‘লিল এক্স’-কে গত বুধবার ওভাল অফিসের রেজল্যুট ডেস্কের (মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত ডেস্ক) কোনা ধরে ঝোলাঝুলি করতে দেখা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফররত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করেন মাস্ক। তখন সেখানে এক্সসহ মাস্কের তিন সন্তান উপস্থিত ছিল। তারা মোদির সঙ্গে উপহার বিনিময় করে।
ওয়াশিংটনে আসার আগেও মাস্কের সঙ্গে তাঁর সন্তানদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক–আয়োজনে দেখা গেছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক, একটি স্মরণসভা ও টাইম সাময়িকী আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাস্কের সঙ্গে তাঁর সন্তানেরা ছিল।
কিন্তু মাস্ক কেন তাঁর সন্তানদের এভাবে সঙ্গে রাখেন?
আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক কার্ট ব্র্যাডকের মতে, এটা মাস্কের একটি রাজনৈতিক কৌশল। তিনি জনসাধারণের কাছে নিজেকে অনেক বেশি ব্যক্তিত্ববান ও মানবিক হিসেবে উপস্থাপন করতে চান।
তবে ব্র্যাডক মনে করেন, মাস্কের চার বছর বয়সী সন্তানকে ওভাল অফিসে নেওয়ার ঘটনাটি বিরল।
ওভাল অফিসে ৩০ মিনিটের প্রেস ব্রিফিং চলার সময় এক্সকে দেখে মনে হচ্ছিল, সে একঘেয়ে হয়ে উঠেছে। সে তার বাবার দিকে তাকাচ্ছিল, মেঝেতে বসে পড়েছিল।
মাস্কও তখন মাঝেমধ্যে সন্তানের দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছিলেন, হাসছিলেন। একপর্যায়ে মনে হলো, এক্স ওই কক্ষের কাউকে ‘চুপ’ থাকার জন্য ইশারা দিচ্ছে।
ব্র্যাডকের ধারণা, কোনো কিছু থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে ইচ্ছাকৃতভাবেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাস্ক তাঁর সন্তানদের নেন। আর তাতে মাস্ক ও ট্রাম্প দুজনই লাভবান হন।
এই জনযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, তিনি মনে করেন, এ ক্ষেত্রে অন্য বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে কিছু বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কৌশলগত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জন হ্যাবার যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারসংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, মাস্কের সন্তানদের ঘন ঘন উপস্থিতি ও ভাইরাল মুহূর্ত তৈরি করার বিষয়টি ট্রাম্পকে সুবিধা দেবে।
হ্যাবারের মতে, পরিবেশ যত বেশি বিশৃঙ্খল থাকবে, ট্রাম্পের দিকে অন্যদের মনোযোগ তত কম থাকবে। আর তা ট্রাম্পের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করে।
মাস্কের সাবেক প্রেমিকা ও এক্সের মা গ্রিমেস তাঁর ছেলেকে ওভাল অফিসে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তার (এক্স) এভাবে জনসমক্ষে থাকা ঠিক নয়।
২০২২ সালে ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত এক নিবন্ধে গ্রিমেস বলেছিলেন, তিনি তাঁর ছেলেকে এভাবে সামনে নিয়ে আসার পক্ষপাতী নন।
অবশ্য রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন জায়গায় মাস্কের সঙ্গে তাঁর সন্তানদের দেখা গেছে।
এক দশক আগে যখন মাস্কের এত শক্তপোক্ত অবস্থান তৈরি হয়নি, তিনি সবে টেসলার বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন, তখনো সন্তানদের তাঁর আশপাশে দেখা গেছে।
২০১৫ সালে সিলিকন ভ্যালিতে টেসলার একটি উৎপাদনকেন্দ্রের অনুষ্ঠানেও এমন ঘটনা দেখা গেছে।
বিভিন্ন বিশ্লেষক ও সংবাদকর্মীরা যখন অনুষ্ঠান শুরুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখন তাঁর পাঁচ সন্তান হলওয়েতে দৌড়াদৌড়ি করছিল, উচ্চ স্বরে হাসছিল।
সেদিন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া লোকজনকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কিন্তু মাস্কের সন্তানদের উপস্থিতির কারণে সেখানকার পরিবেশটা আনন্দময় ছিল। কেউ বিরক্ত হচ্ছিলেন না।
৩ সঙ্গীর সঙ্গে মাস্কের ১২ জন সন্তান আছে। সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত মুখ এক্স বা লিল এক্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের মালিকানা কিনে নেওয়ার পর এর নাম পরিবর্তন করে এক্স রেখেছেন মাস্ক।
চার বছর বয়সী সন্তান এক্সকে মাস্ক নিজেও মনোবল বৃদ্ধিকারী মানুষ হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকেন।
মাস্কের জীবনীর লেখক ওয়াল্টার ইসাকসন ‘দ্য ডায়েরি অব আ সিইও’ শীর্ষক পডকাস্টে বলেন, মাস্ক তাঁর সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল। মাস্ক সন্তানদের নিয়ে অনেকটাই আচ্ছন্ন থাকেন।
ওয়াল্টার বলেন, মাস্ক সব সময় তাঁর কিছু সন্তানকে তাঁর আশপাশে রাখতে পছন্দ করেন। তিনি সব সময় সন্তানদের সঙ্গ চান।
![]() |
| ওভাল অফিসে ছেলেকে নিয়ে যান ইলন মাস্ক। ফাইল ছবি: এএফপি |
![]() |
| ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ইলন মাস্কের বৈঠক চলাকালে তাঁর সন্তানদের দেখা যায়। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুঃখিত আপা, ‘ইট ইস ওভার’: শফিকুল আলম
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, আগস্টের শেষের দিকে জুলাই-আগস্ট হত্যকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাকে তদন্ত করতে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আমার মনে পড়ে সেসময় অনেকেই এর বিরোধীতা করেছিলেন। কেউ কেউ আমাদের বাংলা প্রবাদ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, খাল কেটে কুমির আনা হচ্ছে। কেউ কেউ বলেছেন, জাতিসংঘকে অযথাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে টেনে আনা হচ্ছে। তারা যেসকল প্রতিবেদন প্রকাশ করবে তার মাধ্যমে এমনটি হবে যা আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেখা যায়। তবে মুহাম্মদ ইউনূস তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের স্বাভাবিক প্রমাণ চেয়েছিলেন। তিনি জানতেন এ বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনই নেতৃত্ব দিতে পারবে।
গত বছরের জুলাই এবং আগস্টে মাসে বাংলাদেশে কি ঘটেছিল তা সবাই জানে। কার হুকুমে হত্যাকাণ্ড হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা কি ছিল, নিরাপত্তা বাহীনি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের ভূমিকা সম্পর্কেও জানে সবাই। কিন্তু আমাদের গল্প বলা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সত্য খুঁজে বের করার জন্য আমাদের কিছু সুপরিচিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সংস্থার প্রয়োজন ছিল। আর যদি সত্য অপ্রীতিকর বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তাই হোক!
সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের সুপ্রসন্ন ভাগ্যের বিষয়টি উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের ভাগ্য অত ভালো নয়। কেননা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো হাসিনার বেশিরভাগ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা কার্যকরভাবে নথিভুক্ত করেছে। এছাড়া তার ভোট কারচুপিও ছিল স্পষ্ট এবং নির্লজ্জ। জোরপূর্বক গুম, গণহত্যা এবং গণহারে কারাদণ্ড দেয়া বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তবুও সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের কারণে তার ‘শক্তিশালী অবস্থানের’ জন্য কিছুটা সুবিধা পেয়েছিলেন।
হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে যতবারই প্রতিবাদ করা হয়েছিল, পশ্চিমারা অনিচ্ছাকৃতভাবে তাকে সমর্থন করেছিল- কারণ তিনি সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানে ছিলেন। এছাড়া তার ক্ষমতাচ্যুতির পরেও, পুরো আওয়ামী লীগ এবং ভারতীয় মিডিয়া জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে একটি ইসলামপন্থীদের আন্দোলন বলে প্রমাণ করার জন্য বদ্ধপরিকর ছিল। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানের প্রতিবেদনগুলো হাসিনার যা কিছু করার ছিল তা ধ্বংস করে দিয়েছে। সবশেষে শফিকুল আলম লিখেছেন- দুঃখিত, আপা!! ইট ইস ওভার!!

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাক্ষাৎকার: বিরাজমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে তা সুষ্ঠু হবে না -জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান
প্রথম আলো: বিএনপি এ বছরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন চাইছে। জামায়াত কি চায়?
শফিকুর রহমান: বিএনপি তো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে। তারা গত বছরের আগস্ট মাসের ৬ তারিখ দাবি জানিয়েছিল যে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন চাই। এরপর তারা দাবি জানিয়েছিল ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন। পরে তারা দাবি জানিয়েছিল, ৫ আগস্ট, ২০২৫–এর মধ্যে নির্বাচন চাই। এখন তারা বলছে, জরুরি সংস্কার সম্পন্ন করে দ্রুত নির্বাচন চাই। আবার তাদের কেউ কেউ বলছেন যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চাই। বিএনপি আগে একটা জায়গা ঠিক করলে জাতির জন্য ভালো হয়। আমরা তো ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাচ্ছি।
প্রথম আলো: আপনারা কী চাইছেন?
শফিকুর রহমান: আমরা কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ দিইনি। মিডিয়ার সামনে এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় কথা হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে বলেছি, প্রধান উপদেষ্টা একটা আন্দাজ দিয়েছেন, এ বছরের ডিসেম্বরে অথবা আগামী বছরের প্রথমার্ধে। আমরা বলেছি, এটাকে আমরা অযৌক্তিক সময় মনে করি না, এটা হতে পারে। তবে অবশ্যই সময় কাটানোর জন্য এ সময়টা নয়। যৌক্তিক সংস্কারের যে বিষয়, সংস্কার যদি এর আগেও শেষ হতে পারে, যেকোনো সময় নির্বাচন হলে আমাদের আপত্তি নেই।
প্রথম আলো: আপনি সেদিন সিলেটে বলেছেন, মৌলিক কিছু সংস্কার করা না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। মৌলিক সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে সেটা ‘নির্বাচনের জেনোসাইড’ হবে। আপনারা এটা চান না।
শফিকুর রহমান: রাইট। আমরা বলছি, বর্তমানে দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজমান, এই অবস্থায় যদি নির্বাচন হয়, তাহলে এটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এবং এটা নির্বাচনের জেনোসাইড হবে।
প্রথম আলো: কী আশঙ্কা থেকে এ কথাটা বলছেন?
শফিকুর রহমান: আশঙ্কা হচ্ছে, এখনো আমাদের বহু জায়গায় সংস্কার যেগুলো হওয়ার কথা—যেমন আমাদের ভোটার তালিকা এখনো তৈরি হয়নি, হালনাগাদ হয়নি। যাঁরা বিগত ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি বা যাঁদের বয়স পরে ম্যাচিউরড হয়েছে, তাঁদের বিষয়টা এখনো কমপ্লিট হয়নি। প্রবাসীরা আমাদের অংশ। এ দেশের উন্নয়নের অংশীদার এবং এ মাটি তাঁদেরও। তাঁদের ভোটটা এখনো নিশ্চিত হয়নি। অল্প কিছু প্রবাসীর ভোট আছে, বাকিদের নেই। আমরা বলেছি যে প্রবাসীদের ভোটও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, এবার স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে দেশের ভেতরে ও বাইরে সবাই তো আন্দোলনের অংশীদার ছিলেন। বাইরের তাঁরা ভেতরের চেয়ে কম ঝুঁকি নেননি। অনেকে দেশের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারফর্ম করেছেন।
প্রথম আলো: আপনারা নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখের কথা বলছেন না। কিন্তু বিভিন্ন জেলায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছে জামায়াত।
শফিকুর রহমান: এখানে দুটো কথা। একটা হচ্ছে আমাদের ব্যাপারে অপপ্রচার হচ্ছে যে আমরা নির্বাচন চাই না। আমরা নির্বাচন চাই এবং আমাদের প্রস্তুতিও আছে। জাতিকে এই মেসেজটা আমাদের দেওয়া দরকার। দুই নম্বর হচ্ছে, নির্বাচনের ফুল পলিসি এখনো কিন্তু পাকাপোক্ত হয়নি। নির্বাচনের সময় যখন ঘনিয়ে আসবে, তখন অনেক পোলারাইজেশন (মেরুকরণ) হবে। সেই সবকিছু মাথায় নিয়ে এটি হচ্ছে আমাদের প্রাথমিক তালিকা এবং এই তালিকা অফিশিয়াল নয়।
প্রথম আলো: আপনি সম্প্রতি ফেনীতে এক কর্মসূচিতে বলেছেন, এখন অনেকে আবার জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা শুরু করেছে। তারপরই বলেছেন, ‘আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না, ধৈর্যের পরীক্ষা নিলে আবার বিস্ফোরণ হবে।’ কার উদ্দেশে কথাগুলো বললেন?
শফিকুর রহমান: যারাই এ রকম করবে, যারা অনাকাঙ্ক্ষিত, অসত্য সমালোচনা করবে, তাদের ব্যাপারে আমরাও তখন মুখ খুলতে বাধ্য হব। আমাদের ঝুড়িতেও অনেক কিছু আছে। একটা ধৈর্যশীল দল হিসেবে দেশ ও জাতির স্বার্থে সবকিছু আমরা সব সময় বলি না। বলতে গেলে অনেক কিছু বলার আছে, আমরা তখন বলতে বাধ্য হব। এতে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর দায় তাদেরই নিতে হবে, যারা এ রকম উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আমাদের বাধ্য করবে তাদের কথার জবাব দিতে।
প্রথম আলো: আমরা দেখছি, সময় যতই নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, ততই বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব বাড়ছে। আপনারা তো দীর্ঘদিন এক জোটে ছিলেন, একসঙ্গে সরকারেও ছিলেন। দূরত্বের কারণ কী?
শফিকুর রহমান: কোনো দূরত্ব নেই। প্রতিটি দলের নিজস্ব কর্মসূচি ও পলিসি থাকে। সেই পলিসি ও কর্মসূচির দিক থেকে বিভিন্ন দল জনগণের কাছে আসবে, জনগণ বাছবিচার করে দেখবে। শুধু বক্তব্য নয়, বক্তব্যের সঙ্গে প্রতিটি দলের পারফরম্যান্সকেও বিবেচনায় নেবে।
প্রথম আলো: কিন্তু বিএনপি ও জামায়াতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন তৎপরতায় অনেকে বলছেন যে এই বিরোধটা অনেকটা আদর্শিক, যার উৎপত্তি ১৯৭১ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।
শফিকুর রহমান: এ জন্য বিএনপি এখন আমাদের বিরোধিতা করে, এটা বলতে চান? না; আমি এটা বিশ্বাস করতে চাই না। এটাই যদি হতো, তাহলে ১৯৯১ সালে যখন বিএনপি সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি, তখন তাহলে তারা আমাদের সমর্থন কেন চেয়েছিল। তখন যিনি নেত্রী ছিলেন, তিনি তো এখনো জীবিত আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, এখনো তো তিনি দলের চেয়ারপারসন। তখন তো জামায়াত কোনো স্বার্থ-সুবিধার জন্য বিএনপিকে ওই সমর্থন দেয়নি, দেশের স্বার্থেই সমর্থনটা দিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে যখন আওয়ামী লীগের দুঃশাসন দেশকে অতিষ্ঠ করে তুলল, তখন দূর থেকে শুধু সমর্থন দেওয়া নয়, একটা লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে চারদলীয় জোট গঠন করা হয়েছিল। কই, তখন তো এ প্রশ্ন আসেনি। এখন কেন এ প্রশ্ন আসছে, এর জবাব তো তারা (বিএনপি) দেবে।
প্রথম আলো: এক অনুষ্ঠানে আপনি বলেছিলেন, ‘আসুন, পচা পেছনটাকে (অতীত) পেছনে ফেলে দিই। এটা নিয়ে আর চর্চা না করি।’ পচা অতীত বলতে কী বুঝিয়েছেন?
শফিকুর রহমান: অনেক কিছু, একবারে সাতচল্লিশ সালের পর থেকে। সাতচল্লিশ না হলে একাত্তর হতো না, একাত্তর না হলে চব্বিশের এই পরিবর্তন আসত না। এটা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। মাঝখানে বায়ান্নও অবশ্যই একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর ছিল। একটার পর একটা ডেভেলপমেন্ট হয়েই আজকের এই বাংলাদেশ। সেই সাতচল্লিশ সালে দেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তান হওয়ার পর, তাঁরা তো জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা রক্ষা করেননি। করেননি বলেই ডিসপ্যারিটি (অসমতা) দেখা দিল। করেননি বলেই জনগণের ভোটের অধিকার স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে অনেক কিছু হয়ে গেল। এবং আলহামদুলিল্লাহ তারই হাত ধরে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। স্বাধীনতার পর কি অপকর্ম হয়নি? স্বাধীন বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসে প্রথম সরকারই সব দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল করল। তারা রক্ষীবাহিনী সৃষ্টি করে আমাদের সামরিক বাহিনীকে গুরুত্বহীন করে তোলার চেষ্টা করল। তারা রক্ষীবাহিনী গঠন করে ৩৪ হাজার মানুষকে বিনা বিচারে খুন করল, যার মধ্যে ১০ হাজারের মতো ছিল মুক্তিযোদ্ধা। এগুলো কালো অধ্যায় না?
আমরা এগুলোর চর্চা করি না। কিন্তু আমাদের সামনে অনেকে একাত্তরের প্রশ্ন তোলেন। আমি ভেবে পাই না যে জামায়াতে ইসলামী আগেও ভালো ছিল, পরেও ভালো ছিল, শুধু এই কয় দিনের (মুক্তিযুদ্ধকালীন) জন্য খারাপ হয়ে গেল কীভাবে! স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। এমনকি শেখ মুজিব সাহেব যখন ক্ষমতায়, ২৪ হাজার মামলা হয়েছে বিভিন্ন অপরাধে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নাম-নিশানা নেই, যাদের ওনারা বিচার-আচার করলেন। এরপর তিনি সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিলেন চারটি অপরাধ ছাড়া। সেগুলো সুনির্দিষ্ট ছিল এবং এরা এজাহারভুক্ত আসামি ছিল। সেখানেও ওনাদের নাম নেই। উনি (শেখ মুজিব) যুদ্ধাপরাধীর তালিকা করলেন, সেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৫ জনের নাম চূড়ান্ত করলেন। এরপর হঠাৎ গণ-আদালত, হঠাৎ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় (শেখ হাসিনা) বললেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব। করেন, ভালো কথা। যুদ্ধাপরাধীর তালিকা তো শেখ মুজিবুর রহমান করে গেছেন। তাহলে কথা বলেন পাকিস্তানের সঙ্গে যে তোমাদের সঙ্গে আমাদের ত্রিমুখী চুক্তি হয়েছিল, তার কী হলো। আমরা তার বিচার করতে চাই বা দেখতে চাই। সেটা না করে নিজের দেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করলেন। এমন বিচার সাজালেন, সেখানে সামনে চলে এল স্কাইপ কেলেঙ্কারি, সামনে চলে এল সেইফ হাউস, সামনে চলে এল বিচারপতির বিভিন্ন ধরনের ভূমিকা। এগুলোর পরে সারা দুনিয়া থেকে আপত্তি এল বিচারের ওপর। এমনকি দেখা গেল, সাক্ষীকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাইজ্যাক করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হলো। এসব ঘটনার পর এটাকে কেউ বিচার বলবে?
প্রথম আলো: আপনি তো বিচারের ব্যত্যয় নিয়ে বলছেন।
শফিকুর রহমান: বিচারের ব্যত্যয় নয়, তারা তো প্রমাণ করতে পারেনি সন্দেহাতীতভাবে যে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এসবের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
প্রথম আলো: বলছিলাম ‘পচা অতীতের’ কথা। সেটা কি একাত্তরকে বুঝিয়েছেন?
শফিকুর রহমান: এই সব কটিই পচা অতীত। একাত্তরে আমি যদি কোনো অপরাধ করি, সেটাও পচা অতীত। একাত্তরের পর যারা অপরাধ করেছে, সেগুলোও পচা অতীত। কিন্তু আমার আফসোসের জায়গা হলো, আপনারা সাংবাদিকেরা একবারও প্রশ্ন তোলেননি, এই স্বাধীন দেশে কেন ৩৪ হাজার মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করা হলো। সেটার প্রশ্ন তো আপনারা তোলেন না যে এত বড় অপরাধের জন্য আওয়ামী লীগকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আপনারা বলতে আমি শুধু প্রথম আলোকে বলছি না, আমি পুরো গণমাধ্যমকে বলছি।
প্রথম আলো: লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে আপনি বলেছিলেন, একাত্তরে জামায়াত কোনো ভুল করলে সেটি যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন। আপনারা কি এখনো মনে করছেন একাত্তরে জামায়াতের অবস্থান ঠিক ছিল?
শফিকুর রহমান: জামায়াতের অবস্থান একাত্তর সালে কী ছিল। মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের কমান্ডার মেজর এম এ জলিল তাঁর লেখা ‘অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা’ বইয়ে কী লিখেছিলেন। লিখেছেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এখন আমাকে ভাবতে হয় যে একাত্তর সালে কোন চিন্তায় জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। এ ধরনের স্বাধীনতার জন্যই কি যুদ্ধে গিয়েছিলাম? তখন যাদের রাজাকার, আলবদর বলি, আলশামস বলি; তাহলে তারা তখন যা বলেছিল, সেটাই কি সত্য? তিনি তো একজন মুক্তিযোদ্ধা, তিনি তো জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকও ছিলেন না।
প্রথম আলো: তার মানে কি, আপনাদের অবস্থান...
শফিকুর রহমান: না, আমাদের অবস্থান ছিল নীতিগত প্রশ্নে। আমরা চেয়েছিলাম ভারতের আনুকূল্যে দেশ স্বাধীন না হোক। আমরা চেয়েছিলাম ভোটের অধিকার আনতে পাকিস্তানিদের বাধ্য করা হোক। এরপরও যদি না হয়, বহু দেশ গেরিলাযুদ্ধ করেও মুক্ত হয়েছে। আমরা কারও দয়া-অনুকম্পায় যদি (স্বাধীন) করি, তাহলে এক বিপদ ঘাড় থেকে সরবে, এর চেয়ে বড় বিপদ আমাদের ঘাড়ে চাপবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ৫৩ বছরে কী প্রমাণ করে? আজকে কেন বাংলাদেশের মানুষকে শুনতে হয় যে অমুক দেশ অমুক দলকে চায় না। অমুক দেশ না চাইলে অমুক দল ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এটা কি স্বাধীন দেশের বৈশিষ্ট্য? আমাদের বর্তমান যুবসমাজ এসব কথা শুনতে চায় না।
প্রথম আলো: এটা তো সত্য যে একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী এ দেশে হত্যাযজ্ঞ ও বীভৎসতা চালিয়েছিল।
শফিকুর রহমান: হ্যাঁ, সব সত্য। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের আগেও হয়েছে, ১৬ ডিসেম্বরের পরেও হয়েছে।
প্রথম আলো: কিন্তু জামায়াত কি কখনো এর নিন্দা জানিয়েছিল? স্বাধীনতার এত বছর পরও কি জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে?
শফিকুর রহমান: দেখুন, সেই সময়টায় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মুখপাত্র ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। তাঁকে নাগরিকত্বের মামলায় যখন জেলে নেওয়া হলো, তিনি আদালতে থেকে নাগরিকত্ব ফিরে পেয়ে, মুক্তি পেয়ে বায়তুল মোকাররমে জাতিকে অ্যাড্রেস করেছেন। তিনি বলেছেন যে জাতি যদি আমাদের কোনো আচরণে মনঃক্ষুণ্ন হয়ে থাকে, সামান্যতম ক্ষতিও যদি হয়ে থাকে, আমি ক্ষমা চাই। তার চেয়ে বড় কথা, কী আমার হবে? আমি তো তখন শিশু, দল করার বয়সও আমার হয়নি। আর তিনি ছিলেন আমির সেই সময়ে। এখন আপনি বলবেন, তিনি তো তাঁর ব্যাপারে বলেছেন, তিনি তো সংগঠনের দায় নিয়ে কথা বলেননি। আমি যখন কোনো কথা বলি, তখন কি সংগঠনকে আলাদা রাখি? সব দলের প্রধানকে বলা হয় প্রতিষ্ঠান। মানে তিনি ব্যক্তি নন, তিনি প্রতিষ্ঠান, তিনিই দল।
প্রথম আলো: তার মানে বলতে চাইছেন গোলাম আযম ক্ষমা চেয়েছেন?
শফিকুর রহমান: হ্যাঁ, ক্ষমা না, তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এখন অনেকে বলেন, সে রকম একটা ক্ষমা বা দুঃখ প্রকাশ আপনারা করেন। আমি যদি অপরাধ করি, যে কথাটা লন্ডনে আমি বলেছি, সে কথাটা এখনো আমি দৃঢ়ভাবে বলছি; যদি সে রকম কোনো অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই ক্ষমা চাইব। এই ক্ষেত্রে আমার কোনো দুর্বলতা নেই। কিন্তু আমাকে জোর করে বলা হবে যে তোমাকে এটাই মানতে হবে, এটাই তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং তুমি দোষী। আমি এটা মানব না।
প্রথম আলো: এখন অনেকেই বলছেন, জামায়াত চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বেশিই গুরুত্ব দিচ্ছে। এটাকে আপনাদের একাত্তরের ভূমিকা চাপা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।
শফিকুর রহমান: এখানে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পাকিস্তান আন্দোলনের (১৯৪৭) যাঁরা নেতা ছিলেন, কর্মী ছিলেন, তাঁদের অন্তরে ধারণ করি। তাঁদের মধ্যে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন, ভাসানী সাহেব ছিলেন, গোলাম আযম সাহেব ছিলেন, অনেকেই ছিলেন। আমি তাঁদের সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে অন্তরে ধারণ করি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন যাঁরা সংগঠিত করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন, অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদেরও আমি ধারণ করি। সাতচল্লিশ কখনো বায়ান্ন নয়, বায়ান্ন কখনো সাতচল্লিশ নয়। আবার একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, তাঁদের পজিশন আর চব্বিশের পজিশন এক নয়। দস্তুর মতো একটা বাহিনী, সেনাবাহিনী যুদ্ধ করেছে দেশবাসীর বিরুদ্ধে এবং যাঁরা যুদ্ধ করেছেন, তাঁরা দেশের মাটিতে টিকতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন ভারতে। সেখান থেকে তাঁরা যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধের ফিনিশিংটা তাঁদের হাতে হলে শতভাগ আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতাম। ফিনিশিংটা হয়েছে অন্য জায়গায়। যার কারণে যুদ্ধের ফসলও চলে গেছে ওই জায়গায়, সঙ্গে সঙ্গে যে ফসলটা পাওয়ার কথা ছিল।
এখন আমি যদি বলি, চব্বিশ একাত্তরের সমান, এটা তো ঠিক হবে না। চব্বিশ চব্বিশই, একাত্তর একাত্তরই। একাত্তরে পাকিস্তানের বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর চব্বিশে এসে স্বাধীন বাংলাদেশে যে বৈষম্য এবং যে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছিল, সেটার হাত থেকে জাতি মুক্তি পেয়েছে। নতুন কোনো বাংলাদেশ হয়নি। তখন পূর্ব পাকিস্তানের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ হয়েছে। এখন তো কোনো নাম পরিবর্তন হয়নি। সেই দেশ, মাটি, সেই মানুষগুলোই আছে। দুইটাকে এক করলে হবে না। কিন্তু চব্বিশের গুরুত্বটা কম নয়।
প্রথম আলো: জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনের প্রতিবেদনে একটা বিষয় আছে যে তারা জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সহযোগিতা পায়নি।
শফিকুর রহমান: তারা (জাতিসংঘের প্রতিনিধিদল) দফায় দফায় (বাংলাদেশে) এসেছে। আমি জিনিসটা চেক করে দেখলাম, যে সময়টায় তারা পাঁচ বা সাতবার বিভিন্ন টিমে এসেছে, তাদের এখানে তো সমন্বয় করেন ইউএন এনভয় (জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী) যে আছেন, তিনি। ওনার সঙ্গে তো আমাদের রেগুলার যোগাযোগ আছে। আবার আমরা শুনছি যে ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতিকে বিভিন্ন সময় তাঁরা পেয়েছেন, তাঁর ইয়ে (সাক্ষাৎকার) নিয়েছে। তারপরও আমাদের পেল না কীভাবে, এটা আমরা বুঝলাম না। আমাদের একটা অফিস আছে। অফিসে এলে তো নিশ্চয়ই আমাদের সঙ্গে দেখা হতো। আবার তাদের এনভয় যিনি আছেন, তিনিও যদি আমাদের বলতেন; ...এটা কেমনে মিস হয়ে গেল জানি না। হতে পারে, আমরা এতটা খেয়াল করিনি। অথবা হতে পারে তাঁরা আরও সিরিয়াস হলে আমাদের পেতেন। তাঁরা সেটা করেননি।
প্রথম আলো: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কোথাও কিছু একটা ষড়যন্ত্র চলছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যত বেশি সময় নেবে, তত বেশি সমস্যা তৈরি হবে। আপনারা কী দেখেন?
শফিকুর রহমান: ষড়যন্ত্র তো দেশের বিরুদ্ধে অনেক আছে। এখন তারেক সাহেব কী বলেছেন, সেটা উনি ভালো বলতে পারবেন। আমি তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার অধিকার রাখি না। আর মির্জা ফখরুল সাহেব যেটা বলেছেন, যত দিন যাবে সমস্যার সৃষ্টি হবে। এটাও উনি ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। আমরা কী দেখি, আমরা দেখি চব্বিশের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন হওয়ার পর তারা (আওয়ামী লীগ) এক দিনের জন্যও বিশ্রাম নেয় নাই। দেশকে অস্থির করে তোলার জন্য তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যেটাকে দেশবাসী সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র মনে করে। অনেকগুলো ঘটনা এবং সব ঘটনা পরে তদন্ত করে দেখা গেছে, এটার নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগের লোকেরা।
প্রথম আলো: আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সোচ্চার। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের অবস্থান কী?
শফিকুর রহমান: আমরা তো বহু আগে বলেছি, আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে তারা কোনো রাজনৈতিক দল নয়। তারা একটি ফ্যাসিস্ট দল। ফ্যাসিজমের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। গণতন্ত্রে যারা বিশ্বাস করে, তারা নিজের দেশ শাসন করতে পারে, কিন্তু অন্য দলের জন্য প্রোপার স্পেস দেয়। আওয়ামী লীগ কখনো কোনো দলকে স্পেস দেয়নি। আপনি তিয়াত্তরে দেখেন, কী করেছে। একেবারে পঁচাত্তর পর্যন্ত কাউকেই স্পেস দেয়নি। আবার ’৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় এসেছে, একের বদলে দশটা লাশ ফেলার ঘোষণা সরকারপ্রধান দিয়েছেন।
প্রথম আলো: তাহলে কি নিষিদ্ধই সমাধান?
শফিকুর রহমান: এবার তারা কী করেছে? ছাত্ররা একটা ন্যায্য অধিকার নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। সেই ইস্যু তাঁরা মানলেন, যখন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমাদের কথা না, জাতিসংঘের যে রিপোর্টটা প্রকাশ হয়েছে, সেই রিপোর্ট কী বলেছে? অথচ সেদিনও শেখ হাসিনা বলেছেন, আবু সাঈদের ঘটনা সুপার এডিট। এটা কি আবু সাঈদের আত্মার সঙ্গে তামাশা নয়? চাক্ষুষ যারা দেখল, দুনিয়া যা দেখল টেলিভিশনের স্ক্রিনে। আপনি সেটা ডিনাই (অস্বীকার) করছেন। তো এই দল কী চায়। তারা আসলেই রাজনৈতিক দল হিসেবে থাকতে চায়? নাকি অন্য কিছু চায়। তারাই বলুক সেটা। নিষিদ্ধ তো হলে হবে, থাকলে থাকবে; এটা পরের বিষয়। আগে তারা ঠিক করুক, তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে পারফর্ম করবে কি না।
প্রথম আলো: জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ছিল অগ্রভাগে। তাতে বিভিন্ন সংগঠন, দল-মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষও যুক্ত হয়। এতে জামায়াত বা ছাত্রশিবিরের যুক্ততা কতটা ছিল?
শফিকুর রহমান: প্রথম দিকে কোনো দলই সেইভাবে যুক্ত ছিল না। কিন্তু ১৫ জুলাইয়ের পর থেকে যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ হামলা চালাল, ছেলে-মেয়ে উভয়কে নাজেহাল করল, তার পর থেকে দলগুলো আস্তে আস্তে সম্পৃক্ত হয়। আমরা তখন বিবৃতির মাধ্যমে এ আন্দোলনকে সমর্থন করি। ছাত্রসমাজ যারা আছে (ছাত্রশিবির) তাদের বলি, তোমরা সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে থাকো। তারা দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ের শেষের দিকে যখন একদম বেপরোয়া হয়ে গুলির পর গুলি শুরু হয়ে গেল, তখন আমরা প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হই। এর মধ্যে তো দেখলেন আমাদের নিষিদ্ধ করা হলো।
প্রথম আলো: ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এখন শিবিরের অনেক নেতা প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যাচ্ছে তারা ছাত্রলীগের পদেও ছিল। এটা কি কোনো কৌশল বা দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল?
শফিকুর রহমান: আমাদের দলের এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। দুজন-তিনজনের ব্যাপারে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা বলেছেন, প্রমাণ কী। বলা হয়েছে একজনের নাম তাদের (ছাত্রলীগের) কমিটিতে ছিল। সে বলেছে যে দেখেন ওই সময়টা কেমন ছিল। আবরার ফাহাদ তো বলেনি যে সে শিবির করে। সে নামাজ পড়ে, আর অন্যদের নামাজ পড়তে বলত। সে ফেনী নদীর পানি নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিল। এ জন্য তাকে মেরেই ফেলল। বিশ্বজিৎ কার ক্ষতি করেছিল? তাকে শিবির বলে কোপানো হচ্ছিল। ছেলেটা হাত জোড় করে বলেছে, আমি শিবির না, আমি হিন্দু। বলল তুই মিথ্যুক, তাকে মেরেই ফেলল। এ রকম একটা–দুইটা ঘটনা নয়; ফরহাদ (শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সভাপতি) পরিষ্কারভাবে বলেছে, আমি তাদের (ছাত্রলীগের) কোনো মিছিল-মিটিংয়ে যাইনি।
প্রথম আলো: জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয় শাখার সাবেক তিন সভাপতিসহ সাবেক বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন। এটাও কি কোনো পরিকল্পনার অংশ?
শফিকুর রহমান: দেখুন, মজিবুর রহমান মঞ্জু তো গিয়ে (জামায়াত থেকে বের হয়ে) আলাদা একটা দল (এবি পার্টি) করে ফেলেছেন। তিনি তো ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। এরা কি এর চেয়ে বড় নেতা? কই, আমরা মঞ্জুর বিরুদ্ধে একটা শব্দ উচ্চারণ করেছি? এমনকি মঞ্জু তাঁর দলের যে নীতি-পলিসি সাজিয়েছেন, এটা জামায়াতের নীতি-পলিসির সঙ্গে মেলে না। আমরা তো তাদেরও বিরোধিতা করি নাই। এবং মজিবুর রহমান মঞ্জুর সঙ্গে আরও তো কিছু ছাত্রশিবির করা লোক ওদিকে গেছে। একজন নাগরিক হিসেবে তারা যদি মনে করে ওখানে গিয়ে দেশের জন্য অধিকতর ভালো কিছু করতে পারবে, সে বিবেচনা থেকে কেউ যদি যায়, যাবে।
প্রথম আলো: একটা সময় ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, হল দখলের নানা অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের রগ কাটার অভিযোগটা সবচেয়ে বহুল প্রচারিত।
শফিকুর রহমান: আমাকে মাঝেমধ্যে লোকেরা বলে। আমি বলি যে আপনার কারও রগ কাটা গেছে? বলে, জি না। তো আপনি কীভাবে জানলেন। বলে, এটা তো বহুল প্রচারিত। আমি বললাম, বহুল প্রচারিতটা যে বহুলাংশে সত্য, এটা কি নিশ্চিত? বলে ‘না’। আমি তো এখন প্রকাশ্য জনসভায়, সম্মেলনে বলি, এ রকম (রগকাটা) যদি কোথাও হয়ে থাকে, মেহেরবানি করে আমাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সাহায্য করুন। আমরা সে পরিবারের পাশে যাব। যদি সত্যি এ রকম জুলুম হয়ে থাকে, তাহলে তার প্রতিকারে কীভাবে তারা সন্তুষ্ট হয়, আমরা দেখব। আজ পর্যন্ত কেউ আমাদের এ সাহায্যটা করল না। যদি কেউ করত, আমরা বড় কৃতজ্ঞ হতাম। রগ কেটে মানুষ মারা গেল অথবা বেঁচে থাকল বা পঙ্গু হলো; যদি এটা হয়ে থাকে, যে–ই করুক, যার দ্বারাই হোক, এটা দুঃখজনক। যদি আমাদের দ্বারা এ রকম হয়, আমরা দায় নেব।
কিন্তু এর পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের প্রায় আড়াই শ, ২৩৬ জন মানুষ প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের হাতে নিহত হয়েছে। এই নিয়ে তো মিডিয়ার কোনো কথা শুনি না। এরা কি মানুষ নয়? এই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে বলা হয় বিভিন্ন ঘটনা। সেখানে ১৯৮২ সালে মাথাকে একটা ইটের ওপর রেখে আরেকটা ইট দিয়ে চারজন মানুষকে জায়গায় শেষ করে দেওয়া হয়েছে। সেই মামলার খুনি পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের নেতা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হয়েছে। এরা কী বিচার করবে? আমরা আশা করব, এগুলো নিয়েও মিডিয়া সোচ্চার হবে।
প্রথম আলো: চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল না। আপনি সম্প্রতি পীরের বাড়িতে গেলেন, আতিথেয়তা নিলেন, যৌথ সংবাদ সম্মেলনও করলেন। এত মিল হলো কী করে। উদ্যোগটি কার তরফ থেকে?
শফিকুর রহমান: চরমোনাই পীরের সঙ্গে জামায়াতের সুসম্পর্ক ছিল না, কিন্তু সম্পর্ক তো ছিল। যাঁরা রাজনীতি করেন, সেটা ইসলামি দল হোক আর অন্য দল হোক, আমরা কিন্তু সবার প্রতি সম্মান রেখে চলার পক্ষে। ইসলামি দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি সবচেয়ে সোচ্চার দল হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তারা নির্বাচনের রাজনীতিতে ছিল। কবে, কোথায় নির্বাচন করেছে, সেটাতে আমি যাচ্ছি না। কিন্তু চব্বিশের আন্দোলনেও তারা একাকার ছিল। দেশকে নিয়ে তারাও ভাবে, আমরাও ভাবি, সবাই ভাবে। ইসলামকে নিয়ে তারা কাজ করে, আমরাও করার চেষ্টা করি। এ জায়গায় মূলধারার ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক আছে। আমরা শুধু তাদের কাছে যাইনি, সবার সঙ্গে বসেছি। এখানে আগ্রহ উভয়ের।
প্রথম আলো: ইসলামি দলগুলোর ভোট ‘এক বাক্সে’ ফেলার কথা বলেছেন। সে রকম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা কতটা?
শফিকুর রহমান: সম্ভাবনা তো অবশ্যই আছে, আলহামদুলিল্লাহ।
প্রথম আলো: পীরের বাড়িতে যাওয়ার পর আলোচনা আছে যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনী ঐক্যে যেতে পারে।
শফিকুর রহমান: দেশ এবং দ্বীনের স্বার্থে যা দরকার, আমরা তা–ই করব ইনশা আল্লাহ।
প্রথম আলো: বিএনপিও এ ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছে, বিভিন্ন ইসলামি দলের সঙ্গে বসছে।
শফিকুর রহমান: আমরা কী বলতে পারব যে আপনাদের (ইসলামি দলগুলো) কাছে আর কেউ যাতে না আসে।
প্রথম আলো: এতে ইসলামি দলগুলোতে একটা দোটানা অবস্থা তৈরি হচ্ছে কি?
শফিকুর রহমান: আমি তা মনে করি না। কারণ, সবাইকে আমি যথেষ্ট ইন্টেলিজেন্ট মনে করি, ম্যাচিউরড মনে করি। সবাই সবকিছু দেখে, চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রত্যাশিত। বিএনপি তো আমাদের সঙ্গেও বসে, সমস্যা কী।
প্রথম আলো: এখন তো বসে না।
শফিকুর রহমান: প্রতিদিন তো আর বসবে না, কিন্তু বসে তো। আবার যখন প্রয়োজন হবে, আমরা বসতে পারি না? আমরা বসি তো।
প্রথম আলো: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা নতুন দল গঠন করছে। এ বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
শফিকুর রহমান: আসলে দলটা তো আর ছাত্ররা করবে না, দল করবে ছাত্রত্ব যাদের শেষ হয়েছে তারা। আর যদি ছাত্ররাও করে তার যদি বয়স হয়, করতেও পারে। আমি নিশ্চিত না। তারা সামনে এলে বোঝা যাবে। একেক পত্রিকা একেক ধরনের বলে, লেখে। দল তারা করতেই পারে। সম্ভবত ৪৯টি দল এখন নিবন্ধিত। বাকি অনেকেই অনিবন্ধিত আছে। আমাদের নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। তো দল নিবন্ধিত কি অনিবন্ধিত কোনো কথা না, রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক দলই। তারা যদি সেই রকম কোনো দল করে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারে, আমার আপত্তি নেই। এটা জনগণই বিচার করবে। তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে তারা প্রমাণ করবে যে তারা কী করতে চায়, কী করতে পেরেছে।
প্রথম আলো: নির্বাচন সামনে রেখে এ রকম একটা আলোচনা হচ্ছে যে জাতীয় নাগরিক কমিটি বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের নতুন দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সমঝোতা হতে পারে।
শফিকুর রহমান: অতীতে আমরা (সমঝোতা) বিএনপির সঙ্গে করি নাই? আওয়ামী লীগের সঙ্গে কখনো আমাদের নির্বাচনী সমঝোতা হয় নাই। আমাদের দোষারোপ করা হয় ছিয়াশি ও ছিয়ানব্বই—দুই জায়গায়। ছিয়াশির প্রেক্ষাপট ছিল, তখন এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় এসে বিএনপির র্যাঙ্ক অ্যান্ড ফাইলের অনেক নেতাকে কনভিকশন দিয়েছিলেন, যাতে তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন। আর ছিয়ানব্বই সালে; আমরা কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে চুরানব্বই সাল থেকে আন্দোলন করি। তখন বিএনপি এটার পক্ষে ছিল না। আওয়ামী লীগ এটাকে আমলে নেয়নি। শেষ দিকে তারা (আওয়ামী লীগ) দেখল যে পাবলিক এটা চায়, তখন তারাও আন্দোলন শুরু করল। জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলন করে নাই। জামায়াত আগে থেকে যে আন্দোলন করে আসছিল, সে আন্দোলনের ইস্যুকেই আওয়ামী লীগ বাংলা তরজমা করে গ্রহণ করেছিল। আমরা বলেছিলাম কেয়ারটেকার সরকার, তারা বলেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
অতীতে দেশের স্বার্থেই রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। এখন যদি দেখতে পাই, ছাত্রদের মধ্যে যাঁরা নতুন দল গঠন করার কথা বলছেন, তাঁদের পারফরম্যান্স, তাঁদের পরিকল্পনা, মনোভাব ভালো কিছু হয়, সমঝোতা হতে পারে। যাদের সঙ্গে আমাদের দলীয় নয়, দেশের স্বার্থ মিলবে, তাদের সঙ্গে ঐক্য বা সমঝোতা করতে আমাদের আপত্তি নেই।
প্রথম আলো: ছয় মাসের বেশি হয়ে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের বয়স। এই সরকারকে আপনি কোন জায়গায় কৃতিত্ব দেবেন, আর কোন জায়গায় ব্যর্থ মনে করেন?
শফিকুর রহমান: ব্যর্থতা, কৃতিত্বের অ্যানালাইসিস আমরা ওইভাবে করি নাই। তবে আমরা দেখছি, এই সরকারকে রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডাররা যদি আরও অর্থবহ সহযোগিতা করতে পারতাম, তাহলে তারা আরও অনেক ইফেক্টিভ হতো। তাদের অনেক কাজেই কিন্তু আমরা অনেকে পদে পদে বাধা দিচ্ছি। পারটিকুলারলি জামায়াতে ইসলামীর কথা বলছি না, রাজনৈতিক পুরো অঙ্গনটাকেই আমি অ্যাড্রেস করছি। এটা না করে যদি তাদের আরও ইতিবাচকভাবে আমরা সহযোগিতা করতে পারতাম, তারা আরও ভালো কিছু করতে পারত।
তবে এত কিছুর পরও তারা যেটুকু নিয়ে এগোচ্ছে, এটাকে আমি একেবারেই হতাশাব্যঞ্জক মনে করি না। বলেন তো কোন দিন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে ভালো ছিল। কোন সরকার বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে যে আমাদের সময় ‘মব’ হয় নাই। চুরি-ডাকাতি হয় নাই, সর্বকালেই ছিল। এত বড় ডিজাস্টারের পর যদি চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রগুলো না থাকত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অনেক ভালো হতো। ইকোনমির ব্যাপারটা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। কারণ, ব্যাংক এবং নন-ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর ধ্বংস করে গেছে গত সরকার। তার বোঝাটা বর্তমান সরকারের ঘাড়ে পড়েছে। এটাকে সমাধান করে সামনে এগোনো আসলেই তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। এই জায়গায় যদি দেশবাসী, সব মহলের ইতিবাচক সহযোগিতা থাকে, সময় লাগলেও এখান থেকে উত্তরণ সম্ভব।
প্রথম আলো: ‘মবের’ কথা বলছিলেন, ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ভাঙচুরের পর ৩৫টির বেশি জেলায় হামলা–ভাঙচুর হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল বিএনপি। আপনিও উসকানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য ধরতে ফেসবুকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। দলগতভাবে এই ঘটনাকে জামায়াত কীভাবে দেখে?
শফিকুর রহমান: আমার তিনটা স্ট্যাটাস (ফেসবুক পেজে) এ–সংক্রান্ত আছে, একটু কষ্ট করে দেখে নেবেন।
প্রথম আলো: একটা স্ট্যাটাসের পর অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার সমালোচনা করেন, আক্রমণ করে কথা বলেছেন।
শফিকুর রহমান: আমি বলেছিলাম, এ অবস্থা চলতে থাকলে, এ পাগলামি বন্ধ না হলে দেশে গৃহযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়বে। বন্ধ তো হয়ে গেছে। তবে আমার আহ্বানে হয়েছে, তা বলব না। বন্ধ হয়েছে, এটা ভালো লক্ষণ।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
শফিকুর রহমান: আপনাদেরও ধন্যবাদ।
![]() |
| জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ছবি: তানভীর আহাম্মেদ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট by ফাহিমা আক্তার সুমি ও আফজাল হোসেন
পুলিশ বলছে, শুধু রাজধানীতেই নয় দেশের প্রতিটি থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বেড়েছে। মাদক, অর্থ লোভ, আইনের তোয়াক্কা না করা, হিরোইজম, বেকারত্ব ও অভিভাবকদের দায়িত্বহীনতাসহ বেশ কয়েকটি কারণে তারা দিন দিন বেপরোয়া ও বিপথগামী হয়ে উঠছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ৪০ শতাংশই কিশোর। দেশে বর্তমানে দুইশ’র বেশি কিশোর গ্যাং রয়েছে। সদস্য রয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা যেন কমছে না। ১০-১৭ বছর বয়সীরা বেশি থাকলেও এসকল গ্যাং গ্রুপে রয়েছে ১৮ বছরের বেশি বয়সীরাও। সম্প্রতি কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তাদের চুলের স্টাইল, পোশাক ও চালচলনে রয়েছে ভিন্নতা। দিনে-রাতে ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এমনকি এ ঘটনায় মৃত্যুও হচ্ছে অনেকের। আবার কিশোর অপরাধীরা অস্ত্র হাতে অপরাধ কার্যক্রমের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে একে অপরকে। এমন অনেক ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছাড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিদিন ঘটছে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ। গত ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সন্দেহভাজন এসকল অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সম্প্রতি ঢাকার মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বোর্ডঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ সদস্যরা। এতে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের তিন এসআই ও এক এএসআইসহ চার পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই এলাকার কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপ’ জড়িত বলে জানা গেছে। সূত্রমতে কয়েকদিন আগে একাধিক হত্যা মামলার আসামি ও বোর্ড ঘাট এলাকার কিশোর গ্যাং গ্রুপ পাটালি গ্রুপের মূলহোতা ফালানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওই সময় পাটালি গ্রুপ ও বোর্ড ঘাটের মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের হাত থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ব্যর্থ হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের অভিযানের সময় তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা। হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে পাটালি গ্রুপের ল্যাংড়া হাসান, ফরহাদ ও চিকু শাকিল। বাকি ৩০-৪০ জন সদস্য নিয়ে তারা এ হামলা চালায়।
আদাবর বালুর মাঠ এলাকায় মোবাইল ছিনতাইয়ের সময় বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা মো. সুমন শেখ (২৬) নামের এক যুবকের বাম হাতের কব্জিসহ হাতে থাকা মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সুমন নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন।
পহেলা ফেব্রুয়ারি হাতিরঝিল এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে জিলানী নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার তলপেটে গুলি লাগে। পুলিশ জানায়, হাতিরঝিল উলন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জিলানীর পরিবার জানায়, জিলানী একজন রিকশাচালক। উলন এলাকায় তাদের বাসা। গোলাগুলির সময় সে বাসার সামনে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ তলপেটে গুলি লাগে তার।
বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর অভিযান চালিয়ে উদ্যান এলাকা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের ১৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ‘গোল্ডেন গ্যাং গ্রুপের সদস্য’। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি সামুরাই, দুটি ছুরি, একটি দেশি ধারালো অস্ত্র, বাংলা মদ, আটটি পুলিশ বন্দুকের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। তারা এ সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে।
পহেলা ফেব্রুয়ারি বিশেষ অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৮ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আদাবর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অবৈধ মাদক ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। মোহাম্মদপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কোন্দল চলছিল কিশোর গ্যাং ডাইল্লা গ্রুপ ও এলেক্স গ্রুপের মধ্যে। গত বছরের ২০শে সেপ্টেম্বর রায়েরবাজারে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান মানবজমিনকে বলেন, আমরা এই পর্যন্ত এক মাসে শতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছি। কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকটি গ্রুপের তথ্য পেয়েছি এর মধ্যে নতুন একটি গ্রুপের নাম ‘ইমন গ্রুপ’। এ ছাড়া ‘কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপ’ এবং ‘জনি গ্রুপ’ এর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মোহাম্মদপুরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ‘পাটালি গ্রুপের’ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। মোহাম্মদপুরে অভিযান চালালে তারা আদাবরে বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রবেশ করে, নিয়মিত অভিযান চালালে তারা তুরাগ নদ সংলগ্ন হাঁটার এরিয়ায় আত্মগোপনে চলে যায়। এ ছাড়াও তারা সাভার আশুলিয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় অবস্থান করে।
গত দুই মাসে আদাবর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই শতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে আদাবর থানার ওসি এস এম জাকারিয়া মানবজমিনকে বলেন, এদের মধ্যে ১৭-২০ বছর বয়সী সদস্য বেশি। বৃহস্পতিবার সুমন শেখ নামে এক যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় আমরা ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। কিশোর গ্যাংয়ের ‘কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপ’ এবং ‘জনি গ্রুপ’ ছাড়া আরেকটি গ্রুপ ‘ডিবি সুমন’ গ্রুপের তথ্য পেয়েছি আমরা। এই গ্রুপের মূলহোতা সুমনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি তাকে ইতিমধ্যে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৪-১৬ বছর বয়সী কিশোররাও চুরি, ছিনতাই এবং মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। ১৭-২০ বছর বয়সী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বড় ভাইদের মদত পায় ১৪-১৬ বছর বয়সী সদস্যরা নিজেরা নিজেরাই ৪ থেকে ৫ জনের গ্রুপ খোলে। এদেরকে গ্রেপ্তার করার পর জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবার একই অপরাধ কার্যক্রমে জড়িত হয়। এজন্য আমরা আদালতকে বলি তাদের যেন খুব দ্রুত জামিন না দেয়।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার হাসান বলেন, শুধু জানুয়ারি মাসেই ৪২৮ জন কিশোর ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছি। বৃহসপতিবারেও ১৬ জনের মতো কিশোর ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডেমরা থানার ওসি মাহমুদুর রহমান বলেন, জানুয়ারি মাসে আমরা যতজন আসামি গ্রেপ্তার করেছি তার মধ্যে তিনজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল। এ সকল কিশোররা মূলত ছিনতাই এবং মারামারিতে বেশি জড়িত থাকে। তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসে যে সকল অভিযোগ এসেছিলো তা থেকে তদন্ত সাপেক্ষে ২২টি অভিযোগ মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে। অপরাধ দমনে আমরা বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার জন্য এলাকায় এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে উঠান বৈঠক করছি।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আমরা অপরাধ দমনে প্রতিনিয়ত কাজ করছি। বুধবার আমরা দু’জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছি। ছিনতাইকারীদের মধ্যে কিছু কিশোর রয়েছে যাত্রাবাড়ী থানার কর্মকর্তা হযরত আলী বলেন, এই থানায় আগে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ছিল, তাদেরকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতারা প্রশ্রয় দিতো সরকার পতনের পর তারা পালিয়ে গেছে।
সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম কিশোর গ্যাংয়ের নতুন তালিকা করে অভিযান চালাতে সারা দেশে পুলিশের সব ইউনিট প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তর গত পাঁচ মাসে দফায় দফায় বৈঠক করে তাদের নিয়ন্ত্রণের পথ খোঁজা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, দেশের বাস্তবতায় কোনো একটি রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখনকার অপরাধের পরিস্থিতি একরকম থাকে। অরাজনৈতিক কোনো সরকার থাকে তখনকার অপরাধ পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যেও একটা ভিন্নতা রয়েছে। বর্তমান সময়ে অপরাধ প্রবণতা, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, সহিংসতা, সংঘাত, খুন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ এই ধরনের অপরাধগুলো অনেক কমে আসার কথা, এটাই আমরা প্রত্যাশা করেছি কিন্তু বাস্তবতা তার বিপরীত। একটি রাজনৈতিক দলের সরকারের পতনের পর নতুন যে অরাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছেন তাদের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো পরিপূর্ণভাবে স্বাভাবিক হয়নি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) জাহাঙ্গীর কবির মানবজমিনকে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র, ছুরি-চাপাতি ব্যবহার করে। মোহাম্মদপুরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি আমরা। বিভিন্ন অপরাধ দমনসহ কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তাইওয়ান নিয়ে চীনের গোপন কৌশল
সামরিক মহড়াকে শনাক্ত করতে তারা ড্রোন ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ আছে। ড্রোন ব্যবহার করে যেসব ডাটা পেতেন তা তারা চীনের কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তাদের আরও সহযোগী সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন।
চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ পদধারী কাও আন-কুও। তবে তিনিই যে প্রথম এ কাজ করছেন এমন না। রাজধানী তাইপে’তে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এবং তাইওয়ানের সামরিক ঘাঁটির ছবি ও মানচিত্র চীনা এজেন্টদের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানুয়ারিতে বর্ষীয়ান আরেকটি গ্রুপকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গত বছর ৬৪ জনের বিচার করেছে তাইওয়ানের আদালত। তার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। তাইওয়ানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্যুরোর মতে, গত চার বছরে এমন বিচার চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবু চীনের অনুপ্রবেশ সুযোগ এবং কৌশলের সঙ্গে বিকশিত হচ্ছে। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে তাইওয়ানের কর্মকর্তা ও সেনাদের দলে ভেড়ানোর জন্য অনলাইনে ১৭০৬ বার চেষ্টা করেছে চীনা গোয়েন্দারা। এর ফলে তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সৃষ্টি হয়েছে এক অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ। অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফরম এবং আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাংদের মতো চ্যানেলের মাধ্যমে তাইওয়ানের পদস্থ সেনা কর্মকর্তা ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দলে ভেড়ানোর টার্গেট করছে চীন।
চীনের লক্ষ্যও পরিবর্তিত হচ্ছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কৌশল চুরি থেকে শুরু করে সেনাদের ভাগিয়ে নেয়ার মতো মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ তাইওয়ানের সেনাদের আত্মসমর্পণের কথিত ভিডিও ধারণ করছে। তাতে ধারণ করা ব্যক্তিকে দেখা যায় তাইওয়ানের সেনাবাহিনীর পোশাক পরা। হাতে চীনের পতাকা। মাতৃভূমি চীনের প্রতি অনুগত থেকে তার বিরুদ্ধে লড়াই না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাইওয়ানের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এখানে প্রশ্ন হতে পারে- কীভাবে তাইওয়ানের সেনা কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যদের বুঝিয়ে দলে ভেড়াচ্ছে চীন? উত্তর হচ্ছে- এর আগে তারা প্রথমে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের টার্গেট করেছে। এসব বর্ষীয়ান সেনা সদস্য এমন একটি প্রজন্ম, যারা মূল ভূখণ্ড চীন থেকে পালিয়ে এসেছে। তারা নিজেদেরকে চীনা নাগরিক বলে মনে করেন। এমনকি তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন। ২০১৮ সালে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি অবসরপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সেনা সদস্যদের জন্য পেনশন কর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ওইসব বর্ষীয়ান সেনা সদস্যরা। তারা ছিলেন- অসন্তুষ্ট। ফলে তাদেরকে টার্গেট করা চীনা এজেন্টদের জন্য খুব সহজ হয়ে যায়। এ কথা বলেছেন- বিমান বাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল চ্যাং ইয়েন-তিং। তিনি বলেন, এসব মানুষ যখন পারিবারিক সফরে বা ব্যবসায়িক সফরে যান, তখন তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে চীনা এজেন্টরা। তাদেরকে খাবার খেতে নিয়ে যায়। গল্ফ খেলার আমন্ত্রণ জানায়। পিয়াজে যেমন একটির পর একটি ঝিল্লি থাকে, তেমনি একের এর এক স্তরে অগ্রসর হতে থাকে তারা।
কিন্তু এখন তরুণদের টার্গেট করছে চীন। এ কথা বলেছেন- স্পেশাল প্রসিকিউটরদের একজন। তিনি তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় দেখাশোনা করেন। তিনি বলেন, যেসব তরুণকে চীনারা টার্গেট করে তাদের অনেকেই ঋণগ্রস্ত। তারা অনলাইনে অর্থ উপার্জনের জন্য অনুসন্ধান শুরু করেন। কিন্তু তাদের কেউ কেউ চীনের পাতা জুয়ায় ধরা পড়েন। অন্যরা অনানুষ্ঠানিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ চান। কখনো এমনও হয় যে, এসব ঋণদাতা ক্রিমিনাল গ্যাংয়ের সদস্য। তাদের সঙ্গে তাইওয়ানের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সম্পর্ক আছে। এসব গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে চীন। এসব মধ্যস্থতাকারী ৬ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। তারা যুদ্ধ চায় না এমন বক্তব্য নেয়। দেশটির সেনা সদস্যদের অনেকেই দেখেন- অর্থ বানানোর এটা একটা সহজ পথ।
ওই প্রসিকিউটর বলেন, মাত্র ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও’র জন্য বিপুল পরিমাণ সহায়তা দেয়া হয়। বিনিময়ে দিতে হয় গোপন গোয়েন্দা তথ্য। প্রথমবার অর্থ দেয়া হয়ে গেলে মধ্যবর্তী ব্যক্তি আরও গোয়েন্দা তথ্যের জন্য টার্গেট করে। ওই প্রসিকিউটর বলেন, এসব ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে তা ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করছে চীন। যখন তাইওয়ানকে দখল করে নেয়ার চেষ্টা করবে তারা, তখন এটাকে দেখাবে যে- জনগণ স্বাধীনতা চায় না। বহু সামরিক গোয়েন্দাবৃত্তির মামলা নিয়ে কাজ করেছেন আইনজীবী নাই রুইয়ি। তিনি বলেন, এসব ভিডিও সাধারণ জনগণকে দেখিয়ে বলা হবে- দেখ, তোমাদের সেনাবাহিনীই তো তোমাদের দেশের প্রতি অনুগত নয়। চীনের পক্ষে গোয়েন্দাবৃত্তিতে লোক সংগ্রহের জন্য এসব হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি। এভাবে সংগ্রহ করা গুপ্তচর তাইওয়ানের টার্গেট সম্পর্কে প্রকাশ করে দেবে। এতে তাইওয়ান কোথায় কোথায় সেনা মোতায়েন করবে, কোথায় কোথায় তাদের দুর্বল পয়েন্ট আছে সেসব তথ্য জানিয়ে দেবে। প্রসিকিউটর বলেছেন, তিনি সম্প্রতি এমন একটি মামলা হাতে নিয়েছেন- যেখানে থাই পাসপোর্টের বিনিময়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছেন তাইওয়ানের একজন লেফটেন্যান্ট। তিনি বলেন, ওই লেফটেন্যান্ট আমাকে বলেছেন- যদি যুদ্ধ হয়, তিনি তার দায়িত্ব পালনে দেশেই থাকবেন। তবে তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের অন্যত্র সরিয়ে দিতে চান।
চীনের সামরিক অনুপ্রবেশ বন্ধের জন্য চেষ্টা করছে তাইওয়ান। আভ্যন্তরীণ রিপোর্টে এ পর্যন্ত বেশ কতগুলো ঘটনা ধরা পড়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এর ফলে দেখা যাচ্ছে গুপ্তচরবৃত্তিক শিক্ষা কাজ করছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক: দ্বিতীয় পর্বে সরকার আলোচনায় চার্টার
বিকাল ৩টায় রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনের ঐকমত্য কমিশনে এই বৈঠক হয়। চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতসহ ২৬টি রাজনৈতিক দলের ১০০’র অধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। এতে প্রারম্ভিক বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের যোদ্ধারা যে কারণে আত্মত্যাগ করেছিল, সেটা যেন পরবর্তী সব প্রজন্ম মনে রাখে, তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে, তাদের আত্মত্যাগ সার্থক করার জন্য আমরা সবাই মিলে সবরকম চেষ্টা করবো তাদের সে স্বপ্ন যেন বাস্তবায়ন করতে পারি।
বৈঠকে অংশ নিতে বেলা আড়াইটা থেকে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রবেশ করেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এর মধ্যে বিএনপি’র পক্ষে বৈঠকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধি দলের অন্যরা হলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধি দলের অন্যরা হলেন- জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, সাইফুল আলম খান মিলন, এডভোকেট মশিউল আলম। এ ছাড়া বৈঠকে মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বে এলডিপি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে নাগরিক ঐক্য, এসএম আলতাফ হোসেন ও সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বে গণফোরাম, জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে গণসংহতি আন্দোলন, সাইফুল হকের নেতৃত্বে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীর নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন, মাওলানা আবদুল বাছিদ আজাদ ও আহমেদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে খেলাফতে মজলিস, নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদ, খন্দকার লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে জাগপা, ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে এনপিপি, আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বে বিজেপি, নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। এই বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের জাতীয় নাগরিক কমিটির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন। তারা হলেন- নাসীরদ্দীন পাটোয়ারী, আখতার হোসেন, সামান্তা শারমিন ও সারজিস আলম।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূস বলেন, প্রচণ্ড সুযোগ। সুযোগ এজন্যই যে আমরা এমন পর্যায়ে আছি এখন, আমাদের মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হলে সেগুলো কাজে লাগাতে পারি। এবার কাজে লাগালে সেটা বংশ, প্রজন্ম পরম্পরায় চলতে থাকবে। একটা সুন্দর দেশ আমরা পাবো। এই ভাবনা থেকেই আমরা এগুলো গ্রহণ করবো। তিনি বলেন, আলোচনাটা কতো সুন্দর হবে, কতো মসৃণ হবে সেটা আপনাদের ওপর নির্ভর করবে। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সুপারিশগুলো উপস্থাপন করবো। কমিশনের সদস্যরা এখানে এগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য আছেন, চাপিয়ে দেয়ার জন্য না। চাপানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা শুধু আপনাদের বোঝানোর জন্য। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের সহযোগিতা চাই, এটা আমি বলবো। কারণ এটা আপনাদের কাজ। এটা আমার কাজ না, একার কাজ না। যেহেতু আপনারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন, আপনাদের বলতে সমাজের কল্যাণে কোন কোন জিনিস করতে হবে, কীভাবে করতে হবে। যেটা এক্ষুনি করা যাবে বলবেন, এটা এক্ষুনি করা দরকার, সামান্য রদবদল থাকলে বলবেন সামান্য রদবদল করে দেন, সেটা আপনাদের ইচ্ছা। আমরা শুধু সাচিবিক কাজগুলো আপনাদের করে দিলাম। ড. ইউনূস বলেন, আমরা একটা লণ্ডভণ্ড অবস্থার মধ্যদিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। চেষ্টা করেছি এটাকে কোনোরকমে সফল করার। এই ৬ মাসের যে অভিজ্ঞতা, সেটা আমাদের সবাইকে প্রচণ্ড সাহস দেবে। এই ৬ মাসের অভিজ্ঞতা হলো আমাদের সবাইকে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সবাই সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক তর্কবিতর্ক করার, দূরত্ব সৃষ্টি করার মতো প্রবণতা আছে। কিন্তু এই একটি জায়গায় এক ছিলাম, এখনো এক আছি। আগামীতেও আমরা এক থাকবো। সে বিশ্বাস আমার আছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যেভাবে আমরা প্রথম অধ্যায় শেষ করলাম, দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমরা যদি সেটা ঠিক রাখতে পারি, তৃতীয় অধ্যায়ের জন্য আমাদের কোনো চিন্তা নেই। প্রথম অধ্যায়ে যে সমস্ত শক্তি আমাদের ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে, আমাদের ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছে, তাদেরকেও সুন্দরভাবে, সবাই মিলে মোকাবিলা করতে পেরেছি। ড. ইউনূস বলেন, হাঙ্গামা হবে, কারণ যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ তাড়িয়ে দিয়েছে, অস্বীকার করেছে, ত্যাগ করেছে, তারা ফিরে আসার জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল, প্রতিটি দিন তাদের জন্য মূল্যবান, দেরি হলে তাদের জন্য অসুবিধা। সেজন্য আমাদের সবাইকে শক্ত থাকতে হবে, মজবুত থাকতে হবে, আমরা যেগুলো আলাপ করছি সেগুলোতে মতভেদ থাকবে কিন্তু এর অর্থ এই নয় আমরা একত্র নই। আমরা একত্র থাকবো। সরকারপ্রধান বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালেও সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন থাকায় তা ব্যাহত হচ্ছে। সারা পৃথিবী জুড়ে আমাদের একটা বড় রকম সমর্থন গড়ে উঠেছে, যে কারণে অপরপক্ষ সুবিধা করতে পারছে না। পদে পদে ব্যাহত হচ্ছে যেখানে যায়। বহু গল্প করছে, গল্প ঠেকাতে পারছে না। শেষমেশ তো ট্রাম্পকে নিয়ে গল্প, সে অপপ্রচার চালাতে গিয়েও চালাতে পারলো না। ড. ইউনূস বলেন, যত ছোট রাষ্ট্র, বড় রাষ্ট্র, মাঝারি রাষ্ট্র, ধনী রাষ্ট্র, সবাই সমর্থন দিয়েছে, কারও কোনোরকম দ্বিধা নাই। তাদের ভাষা শুনলে আমি অবাক হই। আমরা যখন বসি, বিস্তারিত জানার আগে বলে, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। এ পর্যন্ত তারা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে এবং ক্রমাগতভাবে তাদের সমর্থন বাড়ছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের এই যে দুই সমর্থন, অভ্যন্তরীণ একটা সমর্থন, আন্তর্জাতিক একটা সমর্থন, এই দুই সমর্থনের ভেতর দিয়ে আমরা যদি নতুন বাংলাদেশ গড়তে না পারি। এটা আমাদের কর্মের দোষ ছাড়া আর কি বলবো। আমরা এ সুযোগ ছাড়তে চাই না। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলও আমাদের জিজ্ঞেস করে তোমাদের অর্থনৈতিক দিক থেকে আমরা সাহায্য করতে পারি কি না। সংস্কারের ব্যাপারেও আমরা সাহায্য করবো, তোমাদের কি দরকার। তোমাদের এ সংস্কারটা দরকার। তা না হলে এই যে পরিবর্তন, এটা টিকিয়ে রাখা যাবে না। আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন, সহযোগিতা এবং শুভেচ্ছা, এটা আমাদের জন্য একটা মস্তবড় সম্পদ বলে উল্লেখ করেন ড. ইউনূস। বলেন, আমরা তাদের বলি আমাদের এই স্বপ্ন, আমরা এই করতে চাই, ওই করতে চাই। তারা বলে তোমরা করতে পারো, আমাদের কোনো সমস্যা নাই। আমরা আছি তোমাদের সঙ্গে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই যে আইনকানুন, নীতিমালা বানিয়ে দেবো। একবার বানিয়ে দিলে তারপর থেকে চলতে থাকবে। একটা ট্রান্সপারেন্ট খেলা হবে। খেলায় জিতলে কেউ সন্দেহ করবে না যে কেউ জিতিয়ে দিয়েছে। এত ট্রান্সপারেন্ট, কেউ সন্দেহ করবে না। তিনি বলেন, এখন যে খেলা চলছে, ঠিকমতো জিতলেও সন্দেহ করে। বলে কিছু একটা কলকাঠি নেড়ে করেছে। এই কলকাঠি নাড়ার বিষয়টি আমাদের মনের ভেতর গেঁথে গেছে। কলকাঠি ছাড়া যে দেশ একটা নিয়মে চলতে পারে, সেটা আমরা ভুলে গেছি। ড. ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক সমর্থনের কথা বলেন আর দেশীয় সমর্থনের কথা বলেন, এটা বলতে গেলে মনটা বড় হয়ে যায়। জাতিসংঘের সমর্থন, আপনারা চিন্তা করেছেন যে রিপোর্টটা প্রকাশিত হলো। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিবেদনে সারা পৃথিবী বদলে গেছে। আর কত সমর্থন চাই আমরা। একেবারে অক্ষরে অক্ষরে বলে দিয়েছে কোথায় কীভাবে মেরেছে, এর থেকে বের হওয়ার তো কারও উপায় নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ঘিরে যে অপপ্রচার চলছিল, এই এক প্রতিবেদনে সব সমাপ্ত। বলতে পারবে কিন্তু কোনো আওয়াজ বের হবে না। আরও অন্য যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাদের প্রতিবেদনে অত্যন্ত জোরালোভাবে তাদের (আওয়ামী লীগ) অপরাধের কথা উঠে এসেছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা সেদিন আয়নাঘরে গেলাম, মানুষ কতো নির্মম হতে পারে, বীভৎস দৃশ্যের সৃষ্টি করতে পারে, নৃশংস হতে পারে, এর চেয়ে বড় নমুনা বোধ হয় পাওয়া যাবে না। আমাদের শুধু দেখতে কষ্ট লেগেছে, যারা বছরের পর বছর সেখানে থেকেছে তাদের কথা চিন্তা করুন। তাদের প্রতিটি বর্ণনা, তাদের অভিজ্ঞতা গুম-তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ড. ইউনূস বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মানুষ প্রথম বুঝতে পারলো আমরা কীসের কথা বলছি, আমরা কোথা থেকে এসেছি। কাজেই আমরা প্রথম পর্বের পর দ্বিতীয় পর্বে এলাম। দ্বিতীয় পর্ব যেন আমরা আনন্দের সঙ্গে, খুশি মনে সম্পন্ন করতে পারি। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে যে নতুন নির্বাচন, নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠন হবে সেটার ব্যাপারে কেউ প্রশ্ন তুলবে না। সেটার ব্যাপারে আইনকানুন সবার জানা থাকবে, এটা নড়চড় করার উপায় কারও থাকবে না। আইনকানুন বানানোর পর সেটা নড়চড় করার সুযোগ থাকবে না, সেজন্য এত বড় কমিশন করতে হয়েছে।
দ্রুত সংস্কার শেষ করে অতিদ্রুত নির্বাচন চায় বিএনপি: ওদিকে বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকের প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম সভায় মিলিত হয়েছিলেন, এই সভায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন যে, সংস্কার কমিশনগুলো যে রিপোর্টগুলো প্রদান করেছে তার প্রত্যেকটার ওপরে আলাপ-আলোচনা হবে, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে কথা বলবে কমিশনের সঙ্গে এবং একটা ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। সেটাই আজকের বৈঠকের মূল কথা। আমরা (বিএনপি) আশা করি যে, খুব দ্রুত এই সংস্কারের ন্যূনতম ঐকমত্য তৈরি হবে এবং সেটার ওপরে ভিত্তি করে অতিদ্রুত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জাতীয় নির্বাচন না স্থানীয় সরকার নির্বাচন- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পরিষ্কার বলেছি যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবার আগে হতে হবে। তারপরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকে শুধুমাত্র প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, বলতে পারেন আলোচনাটা ছিল পরিচিতিমূলক। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কথা বলেছেন, সেটা ছিল তাদের নিজস্ব মতামত। একেবারে পজিটিভ কনস্ট্রাকটিভ কোনো আলোচনা আজকে হয়নি, কারণ সুযোগও ছিল না।
সংস্কারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলেছে জামায়াত: জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, কীভাবে এটা (সংস্কার) করবেন এবং বিভিন্ন দলের সঙ্গে, স্টেকহোল্ডালদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করবেন, সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছি। প্রত্যেক ইতিবাচক সিদ্ধান্তে জামায়াতে ইসলামী সমর্থন জানাবে, আমরা এটা ঘোষণা করেছি। আমরা বলেছি, এই সংস্কার কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো পৌঁছার পরে যথাশিগগিরই সম্ভব জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেই প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বলেছি, সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার করার ওপর আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। এরপর যথাশিগগিরই সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা তো বলেছেন, ডিসেম্বরের ভেতরে তারা করবেন।
ওদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বৈঠক শেষে বলেন, আমাদের সংস্কারটা করতে হবে ঐকমত্যের মধ্যদিয়ে। বৈঠকে সাধারণ পরিচয়ের সঙ্গে ভূমিকার মতো কথা হয়েছে। তখন অনেকগুলো কথাই বলা হয়েছে, যা সংস্কারের জন্য দরকার। অনেকে মতামত দিয়েছেন, ইসলামী বিধান আছে, আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের কথা আছে, রাষ্ট্রধর্ম- এগুলো থাকতে হবে। যতগুলো ইসলামী বিধান সংবিধানের মধ্যে আছে তা পরিবর্তন করা যাবে না। কিছু কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে, সেগুলোতে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন এসেছে, আওয়ামী লীগকে কি আবার নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হচ্ছে? ছাত্রসহ নাগরিক কমিটি বলেছে, যদি জোর করে, কায়দা করে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের মাধ্যমে আবার এই প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়, তাহলে সেই দায় শেষ পর্যন্ত সিনিয়রদের বহন করতে হবে। তারা মনে করে, আওয়ামী লীগ এখন অপ্রাসঙ্গিক। তারা পরাজিত।
বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আমরা বলেছি, একটা টেস্ট ম্যাচের মধ্যদিয়ে যেতে হবে আমাদেরকে। যেখানে ধৈর্য্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের ৫৩ বছরের যে অসমাপ্ত কাজগুলো রয়েছে সংস্কার কমিশনগুলোর ইফেক্টিভের মধ্যদিয়ে আমরা সেই কাজগুলো সমাপ্ত করতে পারবো।
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, আজকের বড় আলোচনার কিছু নাই। দলগুলো প্রত্যেকেই তাদের লিখিত প্রস্তাবনা দিয়েছেন, আমরাও দিয়েছি। রাজনৈতিক দলের সবাই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যেন আমাদের জাতীয় ঐক্যটা ঠিক থাকে। গণতন্ত্রের পথে যেন অগ্রসর হতে পারি। প্রত্যেকেই সহযোগিতার কথা বলেছেন। আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলেছি, আমরাও সহযোগিতা করবো। আমরা খোলামেলা আলোচনা করেছি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, অনেকগুলো কমিশন হয়েছে, কিন্তু বৈষম্য বিলোপের ব্যাপারে কোনো কমিশন হয়নি। দুর্বৃত্তের রাজনীতি এবং অর্থনীতি যদি বহাল থাকে তাহলে রাজনৈতিক সংস্কার টেকসই নাও হতে পারে। আমরা বলেছি, এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি, বৈষম্যের ব্যাপারে যদি কোনো কমিশন করা যায় তাহলে ইতিবাচক ভাবে আমরা নিবো। আর কমিশনগুলোর যে বিশাল রিপোর্ট, সেগুলো যদি রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের কাছে পৌঁছাতে পারেন তাহলে সেটা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আগামী ৬ মাস কীভাবে সবাই একসঙ্গে কাজ করবো, যে কমিশনগুলো কাজ হয়েছে, তারা কীভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে, আমাদের কী কী প্রস্তাব আছে- সেগুলো আর কীভাবে বিস্তর আলোচনা করবো, এই ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা কথা বলেছেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এ কাজে ব্যর্থ হলে জাতি আমাদের ক্ষমা করবেন না। দীর্ঘদিন সংগ্রাম ও অনেক প্রাণের বিনিময়ে আমরা এখানে এসেছি। ছয়টি কমিশনের প্রস্তাবে সেই পথরেখার কথা উল্লেখ আছে। এখন আমাদের কাজ সুপারিশের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি, বাস্তবায়নের পথ-পদ্ধতি তৈরি করা। আর রাষ্ট্রের সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। শুরু না করলে সেই প্রক্রিয়া অগ্রসর হবে না। প্রক্রিয়া অগ্রসরে সকলের ঐকমত্য জরুরি। এজন্য ঐকমত্য করতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দলগত ও জোটগত বৈঠক করবো। কিন্তু আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ থাকা। বিভিন্ন সময়ে আমরা আবারো মিলিত হবো।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এবি পার্টির পক্ষ থেকে আমরা বলেছি, প্রথম যেদিন আপনার (প্রধান উপদেষ্টা) সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল- তখন আমরা বলেছিলাম, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য ঐক্যের ভিত্তিতে টিম তৈরি করে দেন। কিন্তু আপনি সেটা করেননি, দেরি করে করেছেন। আমরা আরেকটা বিষয় বলেছি, এই সরকারের সঠিক কর্তৃত্ব এখনো প্রতিষ্ঠা হয়নি। ফলে এমন বন্ধুর অবস্থা নিয়ে কীভাবে নির্বাচন করবেন? আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, জাতীয় নির্বাচন আগে করেন। কিন্তু আপনার প্রশাসনিক কর্তৃত্বটা লাগবেই। আর জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির জন্য আপনাদের উচিত ছিল ভূমিকা নেয়া। কিন্তু আপনারা সেটা নেননি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আজকে মহৎ একটা উদ্যোগ শুরু হলো। আমরা এই দ্বিতীয় যাত্রার মাধ্যমে আমরা কী রকম বাংলাদেশ চাই, সেটা নির্ধারিত হবে।
উল্লেখ্য যে, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করা হয়। এটি কমিশনের প্রথম বৈঠক।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউরোপ নিয়ে ভ্যান্সের বিস্ফোরক মন্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রের এক ভাষ্যকর জানান, ওই সব মন্তব্য আসলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভোক্তাদের নিয়ে করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেডি ভ্যান্স। ওই সময় জেলেনস্কি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন ইতিবাচক কথা বলার। তিনি জানান, তাদের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। তিনি আরও বলেন, যদিও এটি আমাদের প্রথম আলোচনা তবে আমি নিশ্চিত শেষবারের জন্য নয়। ওই সময় জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কীভাবে প্রতিহত করা যায় সেই বিষয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনার ওপর জোর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, আমরা সত্যিই শান্তি চাই। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাই। এদিকে পুতিনও শান্তি চান বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে পুতিন নির্দিষ্ট কিছু শর্ত দিয়েছেন। ইউক্রেনের যেসব এলাকা রাশিয়া দখল করেছে সেগুলো পুনরায় ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তরের বিপক্ষে পুতিন। আর ইউক্রেন চায় রাশিয়া যাতে ওই সব এলাকা ফিরিয়ে দেয়। এদিকে ভ্যান্সের ভাষণ ঠিক তখনই এলো যার কিছুদিন আগে ট্রাম্প তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মাধ্যমে ইউক্রেনের দখলকৃত এলাকার বিষয়টি আলোচনায় আনেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে প্রথম আক্রমণের পূর্বে যেসব এলাকা ইউক্রেনের অধীনে ছিল তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি ‘অবাস্তব’।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীনা ১০০০ টন কেমিক্যাল নিয়ে ইরানের বন্দরে জাহাজ
তারা বলেছেন- ইরানের খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্রের সলিড প্রায় ২৬০টি রকেট মোটর অথবা ২০০ হাজ কাসেম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য পর্যাপ্ত প্রোপেল্যান্ট উৎপাদন করতে পারে এই সোডিয়াম পারক্লোরাইড। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সিরিয়ায় ইরানের মিত্র বাশার আল আসাদের পতন হয়েছে। লেবাননে পরাজিত হয়েছে হিজবুল্লাহ। তাদের এই পরাজয়কে ইরানের সমন্বিত পরাজয় হিসেবে দেখা হয়। আঞ্চলিক দিক থেকে ধারাবাহিক এমন পরাজয়ের মধ্যে ইরানের কাছে গেল রাসায়নিকের ওই চালান। গত অক্টোবরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির স্থাপনাগুলোতে ইসরাইল হামলা চালায়। তখন পশ্চিমা অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেছিলেন সলিড প্রোপেল্যান্ট উৎপাদন শুরু করতে ইরানের কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে। কিন্তু চীন থেকে এই চালান সেখানে পৌঁছার পর ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে বেশি দূরে নেই। সূত্রগুলো বলেছেন, ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো প্রোকিউরমেন্ট ডিপার্টমেন্ট অব দ্য সেলফ সাফিসিয়েন্সি জিহাদ অর্গানাইজেশন (এসএসজেও)। সর্বশেষ এসব রাসায়নিকের চালান কেনা হয়েছে তাদের পক্ষে। দ্বিতীয় জাহাজ জাইরান আরও কেমিক্যাল নিয়ে চীন ত্যাগ করার কথা। তবে তাতে লোক কার্যক্রম চলছিল। এই দু’টি জাহাজ পরিচালনা করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের শিপিং লাইন (আইআরআইএসএল) কোম্পানি। সূত্র বলেছেন, জাইরান জাহাজে বাকি এক হাজার টন রাসায়নিক লোড করার কথা। জানুয়ারিতে প্রথমে এই জাহাজ নিয়ে রিপোর্ট হয়।
তার আগে শিপমেন্টের বিষয়ে চীনা সরকার জানতো কিনা সূত্র তা বলতে পারেননি। উল্লেখ্য, সোডিয়াম পারক্লোরেট বেআইনি নয়। তা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাও লঙ্ঘন করে না। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এ বিষয়ে অবহিত নয়। তবে তারা একতরফা অবৈধ নিষেধাজ্ঞার বিরোধী।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যবহারে অনীহা: ফুটওভার ব্রিজে আতঙ্ক by আফজাল হোসেন
শুধু পরিবাগ নয়। রাজধানীর অনেক ফুটওভার ব্রিজই নগরবাসীর কাছে অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। দিনে দুপুরে ছিনতাই, মাদকসেবনকারীদের আড্ডা। আর রাত হলেই হিজড়া ও পতিতাদের দখলে চলে যায়।
সরজমিন দেখা গেছে, অনেক পথচারী নিরাপত্তাহীনতার কারণে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়িগুলোর অতিরিক্ত উচ্চতা এবং চলন্ত সিঁড়ি না থাকায় ব্যবহারে উৎসাহ নেই মানুষের। পথচারীরা বলছেন, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের চেয়ে হেঁটে সড়ক পারাপারে সময় কম লাগে। প্রতিটি ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি অতিরিক্ত খাড়া এতে উঠতে গিয়ে বয়স্ক ও অসুস্থরা অল্পতে হাঁপিয়ে ওঠেন। অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা। চলন্ত সিঁড়ির ব্যবস্থা এবং সিঁড়ি ঢালু হলে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের আগ্রহ বাড়বে বলেও মনে করেন সাধারণ পথচারীরা।
সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে নির্মাণ করা হয়েছে ওভারব্রিজ ও আন্ডার পাস। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মানুষ রাস্তা পার হচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনা।
৫ই ফেব্রুয়ারি, বুধবার বিকাল ৪টা। ফার্মগেটের এসআরএইচ টাওয়ারের সামনে ফুটওভার ব্রিজে প্রকাশ্যে ড্যান্ডি সেবন করছেন এক ভবঘুরে। ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আফসানা। মাদকসেবনকারী ওই ভবঘুরে ব্যক্তি তার গায়ে হাত দেন। ভয়ে মুহূর্তেই চিৎকার দিয়ে ওঠেন আফসানা। সঙ্গে সহপাঠী থাকায় খানিকটা ভরসা পান এই নারী। পাশাপাশি চটজলদি নিরাপদে ফুটওভার ব্রিজ থেকে নিচে আসতে পারেন আফসানা।
নিউমার্কেটের ফুটওভার ব্রিজ একবারেই ফাঁকা নেই পথচারীদের চলাচলে। ব্রিজটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ভিজিটিং কার্ড। ফুটওভার ব্রিজটির নিচ দিয়ে পথচারীরা ডিভাইডারগুলোর ভাঙা অংশ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের টিম লিডার মনির হোসেন বলেন, সিঁড়ি গুলো খুব উঁচু হওয়ায় নাগরিকরা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন না, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের চেয়ে হেঁটে সড়ক পারাপারে সময় কম লাগে। এ ছাড়া রাতের বেলায় এখানে মাদকসেবনকারী, ছিনতাইকারী এবং পতিতাদের উপস্থিতি বেশি থাকে। অনেক সময় ছিনতাইকারীরা সুযোগ বুঝে পথচারীদের মূল্যবান জিনিসপত্র কেড়ে নেয়। নিরাপত্তার কারণে নাগরিকরা সন্ধ্যার পর এই ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করতে চায় না।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শাঁখারী বাজার মোড়ের ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে ছেলেকে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন নাসিমা আক্তার। তিনি বলেন, ফুটওভার ব্রিজটি অনেক উঁচু। উঠতে উঠতে দম বন্ধ হয়ে যায়। এ রাস্তাটি কম চওড়া গাড়িগুলো বেশি গতিতে চলে না সব সময় সদরঘাটের এই রাস্তাটিতে জ্যাম লেগে থাকে তাই রাস্তা পারাপারে কোনো সমস্যা হয় না। এ ছাড়া এই ফুটওভার ব্রিজে দিনের বেলায় ভবঘুরেরা থাকে। সন্ধ্যা হলে এখানে উঠতে ভয় লাগে। সন্ধ্যার পর এখানে নেশা করে অনেক সময় ছিনতাইকারীরা সুযোগ বুঝে ছিনতাই করে, তাই অনেকে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে চায় না।
ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাকিল বলেন, ব্রিজটি অনেক উঁচু আর এ রাস্তাটি কম চওড়া হওয়ায় পথচারীরা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে চায় না। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর এখানে নেশাখোররা এসে আস্তানা গাড়ে, পতিতারা আসে এখানে।
তাঁতীবাজার মোড় সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে রাস্তা পার হন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তারেক হোসেন। কেন ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়িগুলো অনেক উঁচু। উঠতে উঠতে পা ব্যথা হয়ে যায়। এ ছাড়া রাস্তাটিও বেশি চওড়া নয় কয়েক সেকেন্ডে রাস্তা পার হওয়া যায়। এখানে সবসময় জ্যাম লেগে থাকে। গাড়িগুলো বেশি গতিতে চলাচল করে না তাই কেউ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে না।
যানবাহন চলাচলে সবসময় সরগরম থাকে মৎস্য ভবন মোড়। এই মোড়ে রয়েছে একটি ফুটওভার ব্রিজ, ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও পথচারীরা ব্রিজটি দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে না। এই ব্রিজ ব্যবহার করা শারমিন আক্তার বলেন, এই ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে হাঁটতেই খুব ভয় লাগে। সবসময় ভবঘুরেরা এখানে থাকে বিশেষ করে মহিলারা সন্ধ্যার পরে এই ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে না।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1347)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
February
(308)
-
▼
Feb 16
(9)
- বিদেশি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকসহ কর্মস্থলে কেন সন্তানদে...
- দুঃখিত আপা, ‘ইট ইস ওভার’: শফিকুল আলম
- সাক্ষাৎকার: বিরাজমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে তা স...
- কেন বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট by ফাহিমা আক্তার সুম...
- তাইওয়ান নিয়ে চীনের গোপন কৌশল
- ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক: দ্বিতীয় পর্বে সরকার আলো...
- ইউরোপ নিয়ে ভ্যান্সের বিস্ফোরক মন্তব্য
- চীনা ১০০০ টন কেমিক্যাল নিয়ে ইরানের বন্দরে জাহাজ
- ব্যবহারে অনীহা: ফুটওভার ব্রিজে আতঙ্ক by আফজাল হোসেন
-
▼
Feb 16
(9)
-
▼
February
(308)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


