Thursday, August 31, 2017

সৌদিতে বাংলাদেশি নারীকে পৈশাচিক নির্যাতন

সৌদি আরবে বাংলাদেশি এক নারী গৃহকর্মী পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ওই গৃহকর্মী ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে তাকে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি দূতাবাস বিষয়টি তদন্ত করছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ইউটিউব ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে। তাতে বলা হয়েছে, সাত মাস আগে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে গিয়ে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে দেশে ফিরেছেন। সম্প্রতি রিয়াদ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে বসে এক আরবকে ওই নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য ভিডিও করেছেন ওই আরব।
ভিডিওতে ওই নারীর এক হাতে ক্ষতচিহ্ন, আরেক হাতে গোটা গোটা ফোস্কা দেখা যায়। এক প্রশ্নের জবাবে ওই নারী বলেন, সৌদি আরবে কাজে আসার পর প্রতিদিন তাকে ছয় থেকে সাতবার গরম কিছু দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হত। ওই ছ্যাঁকাতেই হাতে ফোস্কা হয়েছে।
কেন নির্যাতন করা হত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কারো সঙ্গে, বিশেষ করে স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে মালিক দিত না। দেশে ফিরতে চাইলে নির্যাতন করা হত। এভাবে নির্যাতনের পর সৌদি মালিক তাকে বিমানবন্দরে রেখে চলে যায়। এই কয় মাসে তাকে কোনো বেতন দেয়া হয়নি। কিন্তু বিমানবন্দরে রেখে যাওয়ার সময় বেতন নিয়েছেন মর্মে স্বাক্ষর নিয়ে গেছেন মালিক। ভিসা ও পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতিত ওই বাংলাদেশি নারীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়।
তিনি গত ২২ জানুয়ারিতে সৌদি আরব যান। সৌদিতে তার নিয়োগকর্তা আজিজা নাশহাত মোহাম্মদ আলী কাকা। এই বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর সরওয়ার আলম বলেন, ‘আমরা ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও সম্পর্কে জেনে তদন্ত শুরু করেছি। আমরা বাংলাদেশ এবং সৌদি আরব দু'জায়গায়ই যোগাযোগ করেছি। আমরা এখন ওই নারী গৃহকর্মীর বক্তব্য গ্রহণ করব।’
তিনি বলেন, ‘তিনি এখন বাংলাদেশেই তার গ্রামের বাড়িতে আছেন। তার বক্তব্য নেয়া হচ্ছে। আর আমরা সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।’ সৌদি আরবে বাংলাদেশি গৃহকর্মী নির্যাতনের আরও অভিযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু অভিযোগ এর আগেও পেয়েছি।’ চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় সাংবাদিক জানান, নির্যাতিত ওই নারীর নাম সালমা। তিনি গ্রামে ফিরে আসার পর তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরে নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি শুধু বলেছেন আমার ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা বললে আপনারা স্তব্ধ হয়ে যাবেন।’
সৌদি আরব এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮০ হাজারের মতো নারী গৃহকর্মী নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বা ৪০ হাজার নারী গৃহকর্মীকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নিয়োগকারীরা কারণ হিসেবে তাদের কাজে অনীহার কথা বললেও একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, ‘বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের কাজে অনীহার কারণ ভিন্ন। তারা নির্যাতনের শিকার এবং তাদের বেতনও খুব কম দেয়া হয়।’
গত বছর রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তিনটি কারণে নারী গৃহকর্মীরা তাদের কাজ ছেড়ে পালাচ্ছেন। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, গৃহকর্মীদের দিয়ে কঠিন কাজ করানো, গৃহকর্মীদের নিজের বাড়ির প্রতি দুর্বলতা থাকা এবং গৃহকর্তার কাছ থেকে নানা দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের শিকার হওয়া।

Thursday, August 24, 2017

আবার বিচারপতি সাহাবুদ্দিন

৯০ এর এরশাদ বিরোধী তুমুল গণআন্দোলন। স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত প্রায়। এ সময় এরশাদ নতুন চালাকি করলেন। তিনি বললেন, কোথায় পদত্যাগ করব? পদত্যাগ পত্র কি গুলিস্থানে দিয়ে আসবো? এরশাদ নিশ্চিত ছিলেন, তিন জোট বিশেষ করে আওয়ামী লীগ বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান সম্পর্কে ঐক্যমতে আসতে পারবে না। কিন্তু নিজের ফাঁদে নিজেই জড়ালেন এরশাদ। তিনজোট প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদের বাসভবনে মাত্র এক ঘণ্টার বৈঠকে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে প্রস্তাব করল। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন তখন প্রধান বিচারপতি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁকে অনুরোধ করলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিতে। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন শর্ত দিলেন, তিনি নির্বাচন শেষে আবার স্বপদে ফিরতে পারলেই কেবল এই দায়িত্ব নেবেন। তিনজোট রাজি হলো।
৯১ নির্বাচনও হলো। সংসদে একাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি স্বপদে ফিরে এলেন। ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারত। এ পর্যন্তই বিচারপতি সাহাবুদ্দিন ছিলেন সব বিতর্কের উর্ধ্বে। কিন্তু তাঁকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হলো ১৯৯৬ সালে। আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে জয়ী হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছোটবোন শেখ রেহানা দুজনই গেলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের বাসভবনে। ততদিনে তিনি অবসরে গেছেন। রাজি করালেন রাষ্ট্রপতি করাতে। রাষ্ট্রপতি হবার পরই তিনি আওয়ামী লীগের অস্বস্তির কারণ হলেন। বিচার বিভাগ সম্পর্কে একাধিক বিষয়ে তিনি ভিন্নমত প্রকাশ করলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ছাড় দিলেন। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ তাঁর এখতিয়ারে ছেড়ে দেওয়া হলো।
আজ ২১ বছর পর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আবার ঘুরে ফিরে আসছেন। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ২৪ অক্টোবর ১৯৯৯ সালে বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। একই দিন শপথ নেন বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা। এরা দুজনই হাইকোর্টে অস্থায়ী বিচারপতি হবার আগে সুপ্রীমেকোর্টে আইনজীবী ছিলেন। আপিল বিভাগের আরেক বিচারপতি  সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন ২২ ফ্রেব্রুয়ারি ২০০১ সালে, বিচারপতি সাহাবুদ্দিন তখন রাষ্ট্রপতি।একই দিনে শপথ নেন বিচারপতি ইমান আলী ও হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার শপথ নেন ৩ জুলাই ২০০১ সালে, বিচারপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায়। ষোড়শ সংশোধনী রায়ে এই ৬ জনের বাইরে ছিলেন সদ্য অবসর যাওয়া  বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। ২৮ মে ২০০০ সালে তিনি অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনিও বিচারপতি সাহাবুদ্দিন কতৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
৯৬-২০০১ সালে আইনমন্ত্রী ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। তিনি স্বীকার করেন যে, ওই সময়ে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির ইচ্ছাই প্রধান্য পেতো। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের নাম ঘুরে ফিরে আসছে বার বার।

Wednesday, August 23, 2017

ভারতের ভূখণ্ডে আমরা ঢুকলে ‘চরম বিশৃঙ্খলা’ হবে: চীন

চীন হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের সৈন্যরা যদি ভারতের সীমান্তে ঢুকে পড়ে তাহলে একটা ‘চরম বিশৃঙ্খলা’ তৈরি হবে। মঙ্গলবার এ বার্তা দিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারত-চীন-ভুটান সীমান্তে দোকালাম এলাকায় চীনের রাস্তা তৈরি করার ব্যাপারটি তাদের (ভারত) জন্য হুমকি তৈরি করেছে বলে যুক্তি দেখাচ্ছে নয়াদিল্লি। তবে তাদের এ দাবি হাস্যকর বলে মনে করছে চীন। চীন আরও বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা দেশকে তাদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করতে দেবে না তারা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া ছুন ইং বলেন, চীনের রাস্তা নির্মাণের ঘটনার অজুহাতে ভারত অন্যায়ভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে। তাদের দেখানো কারণটি হাস্যকর এবং প্রকৃত উদ্দেশ্যও পরিষ্কার। তিনি আরও বলেন, আপনারা ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারেন। আর যদি আমরা ভারতের হাস্যকর যুক্তি সহ্য করি তাহলে কোনো কাজ অপছন্দ হলেই যে কেউ তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে ঢোকার সাহস পাবে। সাম্প্রতিক এ বিষয়টিকে যদি চীন হুমকি মনে করে, তাহলে কি দেশটি ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে? আর যদি সত্যিই প্রবেশ করে তাহলে কি বড় বিশৃঙ্খলা হবে না- প্রশ্ন তোলেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। খবর দি ইকোনমিক টাইমস, সিআরআই অনলাইন ও এনডিটিভির। ভারত আগ্রাসী নয় এবং সীমান্ত বৃদ্ধিতেও তারা উচ্চাকাক্সক্ষী নয়- ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের এমন মন্তব্যের জেরে হুয়া ছুন জানান, চীন শান্তিকে ভালোবাসে এবং দৃঢ়ভাবে শান্তি বজায় রাখে। এ সময় তিনি সংকট নিরসনে দোকালাম থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান। সম্প্রতি চীন-ভারত সীমান্তে দু’পক্ষের অপ্রীতিকর ঘটনার নিশ্চিত তথ্য পেয়েছে বলেও জানিয়েছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ছুন ইং বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্ট চীনের সীমান্তরক্ষী চীন-ভারত সীমান্তের পশ্চিমাঞ্চলের বেন গং অঞ্চলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা চীনের অংশে নিয়মিত টহলের সময় ভারতের সীমান্তরক্ষীদের আক্রমণের শিকার হয়। এতে চীনা সীমান্তরক্ষী আহত হন। হুয়া উল্লেখ করেন, ভারতের এ আচরণ সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে মতৈক্যের ক্ষতি ঘটিয়েছে। এতে এ দুটি দেশের মধ্যকার সীমান্তের পশ্চিমাঞ্চলের পরিস্থিতি উত্তেজনাসংকুল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ভারতের আচরণে চীন প্রবলভাবে অসন্তুষ্ট। এ ব্যাপারে ভারতকে কঠোর মনোভাবের কথা জানিয়ে দিয়েছে তার দেশ। ভারতকে ১৯৫৯ সালে প্রণীত বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং দু’দেশের সংশ্লিষ্ট চুক্তি মেনে চলার তাগিদও দিয়েছে তারা। দোকালাম চীনে দংলাং নামে পরিচিত। চীনের ওই কাজের বিরোধিতা করে ভুটান। আর ভারত তাতে সমর্থন দেয়ায় উত্তেজনা শুরু হয়। এ রাস্তাটি যদি তৈরি হয়, তাহলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে একটা যোগযোগ স্থাপনের উপায় হবে চীনের। মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে এ রাস্তা হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ভারত। এ সড়ক কৌশলগতভাবে ভারতকে কিছুটা অরক্ষিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এমপি রানাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে পরবর্তী তারিখে বিচারিক আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে (স্ট্যান্ড ওভার)। এর ফলে চেম্বার আদালতের দেয়া জামিনের স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো বাড়লো। ওইদিন পর্যন্ত এমপি রানা কোনো জামিন পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ। মামলার তারিখে বিচারিক আদালতে আমানুরকে হাজির করা হয় না জানিয়ে এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে করা অ্যাটর্নি জেনারেলের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। এর আগে জামিন বিষয়ে আদেশ সংশোধন চেয়ে আবেদন তুলে ধরে আমানুরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান। গত ১৩ এপ্রিল এমপি রানাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না এই মর্মে রুলও জারি করেন আদালত। বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এএনএম বসির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। পরে ৮ মে এমপির রানার জামিন চার মাসের জন্য স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এই মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়। এর আগে গত ৩০ মার্চ এমপি রানার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে আবারও হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আমানুর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছাল

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারো পেছানো হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ অক্টোবর পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক নতুন এ দিন ধার্য করেন। আজ এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বরাবরের মতো প্রতিবেদন দাখিল না করে সময় আবেদন করে। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন নির্ধারণ করলেন। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলে এ নিয়ে ৫০ বারের মতো সময় পেছানো হলো। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সৌদি এয়ারলাইন্সের হজ টিকিট বাণিজ্য

রিপ্লেসমেন্ট বন্ধ রেখে হাতেগোনা কয়েকটি এজেন্সির কাছে হজে যাওয়ার বিমান টিকিট দিয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসার সুযোগ করে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সূত্রমতে, চলতি বছর সৌদি এয়ারলাইন্স তাদের ৬৫ হাজার টিকিটের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারই শানসাইন এক্সপ্রেসকে, আল গাজী ট্রাভেলসকে ১০ হাজার ও কাজী এয়ারকে ৮ হাজার টিকিট দিয়েছে। বাকি ২২ হাজার ২৭টি এজেন্সিকে দেয়া হয়েছে। এতে ওই তিনটি এজেন্সি টিকিটপ্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করেছে। সে হিসাবে প্রায় ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ সিন্ডিকেট। এদিকে যাত্রী সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত ২৮টি হজ ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ ও সাউদিয়া এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে বিমানের ২৪টি ও সাউদিয়ার ৪টি। এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) নেতারা বলছেন, ফ্লাইট বিপর্যয়ের নেপথ্যে টিকিট সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে। এ কারসাজির কারণেই বিমানের হজ ফ্লাইটগুলো বাতিল হয়েছে। এতে শুধু বিমানেরই প্রায় ৬০ কোটি টাকা গচ্চা গেছে। তবে এ নিয়ে পরিচয় প্রকাশ করে হাবের কোনো নেতা কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে হাবের একজন শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে বলেন, এবার বিপুলসংখ্যক হজ ফ্লাইট বাতিলের মূল কারণ টিকিট সিন্ডিকেট। এ কারণেই ফ্লাইট বিপর্যয়। এ সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও তাদের বিরুদ্ধে বিমান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জানা গেছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনকে পবিত্র হজ পালনের অনুমতি দিয়েছে সৌদি সরকার। প্রচলিত নিয়মানুসারে মোট হজযাত্রীর শতকরা ৫০ ভাগ রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং অবশিষ্ট যাত্রী সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাংলাদেশে শত শত ট্রাভেল এজেন্সি হজ কার্যক্রমে জড়িত থাকলেও সম্প্রতি সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ মাত্র ৩০টি এজেন্সিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার টিকিট বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। মূলত বছরব্যাপী ওমরাহ, লেবার ও ভিজিট ভিসার যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রির অনুপাতে হজের আগে প্রধান ৩০টি এজেন্সির তালিকা করে সৌদি এয়ারলাইন্স। অর্থাৎ কোনো এজেন্সি যদি সারা বছর মোট এক কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করে তাহলে সে হজের ২০ শতাংশ টিকিট বিক্রির জন্য পাবে। যদিও এ ব্যাপারে অন্ধকারে থেকে যায় এজেন্সি মালিকরা। কারণ তারা জানে না কোন কোন এজেন্সি ওই তালিকায় স্থান পায়। এ বছরও একই অবস্থা। অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছর সৌদি এয়ারলাইন্স তাদের ৬৫ হাজার টিকিটের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারই শানসাইন এক্সপ্রেস, আল গাজী ট্রাভেলসকে ১০ হাজার ও কাজী এয়ারকে ৮ হাজার টিকিট দিয়েছে। বাকি ২২ হাজার টিকিট ২৭টি এজেন্সিকে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আগে বুকিং দেয়া টিকিট রিপ্লেসমেন্ট (প্রতিস্থাপন) করতে চাইলে ৩শ’ ডলার জরিমানা দিতে হয়। গত ১৮ আগস্ট সৌদি এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট এজেন্সি মালিকদের কাছে একটি ই-মেইল বার্তা পাঠিয়ে রিপ্লেসমেন্ট বন্ধের ঘোষণা দেয়। কিন্তু তাদের পছন্দের দু’তিনটি এজেন্সিকে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে গোপনে রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সৌদি এয়ারের কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াদ আল হোতাইফ, স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ সালেহ এবং সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার ওমর খৈয়ামের সহযোগিতায় শানসাইন এক্সপ্রেসের মিজানুর রহমান, আল গাজী ট্রাভেলসের হাসান মোহাম্মদ রাতারাতি বাতিল হওয়া টিকিটগুলোর রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা আদায় করেছে। এখন শেষ মুহূর্তের টিকিট-স্বল্পতার সুযোগে টিকিটপ্রতি ৮-১০ হাজার টাকা বেশি নিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ করেছেন অনেক এজেন্সি। এ বছর প্রতিটি এজেন্সি গড়ে ২-৩ হাজার করে টিকিট বিক্রির সুযোগ পেলেও শানসাইন এক্সপ্রেস ইতিমধ্যে একাই ১৮ হাজার টিকিট বিক্রি করেছে। রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ নিয়ে আরও কয়েক হাজার টিকিট হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি এয়ারের কান্ট্রি ম্যানেজার হোতাইফ এখন সৌদি আরবে থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। স্টেশন ম্যানেজার সালেহ ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। সেলস ম্যানেজার ওমর খৈয়ামকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। এদিকে হজযাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভিসা না করিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মঙ্গলবার হজ অফিস ৩টি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ তিনটি এজেন্সি হল- ইউরেশিয়া ট্রাভেল, নিবির ট্রাভেল অ্যান্ড টুর এবং ইকো হজ এজেন্সি। অভিযোগ রয়েছে, এ তিনটি হজ এজেন্সি হজযাত্রীদের কাছ থেকে ৪০-৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ কারণে ২-৩শ’ হজযাত্রী টাকা দিয়েও হজে যেতে পারছেন না। হজ অফিসার সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ তিনটি এজেন্সির অ্যাকাউন্টধারী ব্যাংকগুলোকে আজ চিঠি দিয়ে সতর্ক করে দেয়া হবে, যাতে টাকা উঠাতে না পারে। এদিকে ভিসা হওয়ার পরও ৩১ হাজার ৭৮৩ জন হজযাত্রী জেদ্দা যেতে পারেননি। ২৭ আগস্ট শেষ হচ্ছে হজ ফ্লাইট। হজ অফিস বলছে, সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ যদি হজ ফ্লাইটের সময়সীমা না বাড়ায় তাহলে কমপক্ষে ৪ হাজার হজযাত্রীর হজে যেতে সমস্যা হবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত বিমান ও সাউদিয়া এয়ারলাইন্স ৯৪ হাজার ৪১০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব নিয়ে গেছে। এর মধ্যে বিমান ৪৬ হাজার ১৭০ জন আর সাউদিয়া এয়ারলাইন্স ৪৮ হাজার ২৪০ জন পরিবহন করেছে। বিমান বলছে, তারা যদি অতিরিক্ত স্লট পায় তারপরও এয়ারক্রাফটের অভাবে ২ হাজারের মতো হজযাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এদিকে থার্ড ক্যারিয়ার দিয়ে অতিরিক্ত হজযাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত হলেও এখন পর্যন্ত এরকম কোনো এয়ারলাইন্স জোগাড় করতে পারেনি বিমান। জানা গেছে, এ মুহূর্তে কোনো এয়ারলাইন্সেরই অতিরিক্ত এয়ারক্রাফট নেই। খোদ সাউদিয়া এয়ারলাইন্সকেও এবার ২ হাজারের মতো হজযাত্রী পরিবহনে হিমশিম খেতে হবে।

প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান

২৪ আগস্টের মধ্যে পদত্যাগ অন্যথায় অক্টোবর থেকে একদফা আন্দোলন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের * বিচার বিভাগ নিয়ে মন্তব্য করায় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারা। এই সময়ের মধ্যে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে দেয়া পর্যবেক্ষণ ও রায় প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান তারা। অন্যথায় অক্টোবর থেকে একদফা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের এই শীর্ষ সংগঠন। এর আগে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায় ২৪ আগস্টের মধ্যে বাতিলের দাবি জানিয়েছিল সংগঠনটি। অপর দিকে প্রধান বিচারপতি এবং বিচার বিভাগ সম্পর্কে মন্তব্য করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ মানববন্ধন এবং সমিতি ভবনের উত্তর হলে প্রতিবাদ সভা করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের অপ্রাসঙ্গিক ও অসাংবিধানিক বক্তব্যে সংক্ষুব্ধ আইনজীবীদের ব্যানারে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে প্রধান বিচারপতির অপসারণ দাবি করে নানা স্লোগান দেন আইনজীবীরা। মানববন্ধনে পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘গত পরশু প্রধান বিচারপতি এজলাসে বসা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে চোখ রাঙানির মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন, পাকিস্তানের মতো প্রধানমন্ত্রীকে নাকি তিনি পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি (প্রধান বিচারপতি) তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। প্রধান বিচারপতির এজলাসে বসে প্রধানমন্ত্রীকে এ রকম হুমকি দেয়া নজিরবিহীন উল্লেখ করে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ‘এটা শপথ ভঙ্গের শামিল। সুতরাং আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে এই রায়ের প্রাসঙ্গিক, অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক বক্তব্য প্রত্যাহারসহ সম্পূর্ণ রায় বাতিলপূর্বক তার পদত্যাগ দাবি করছি। অন্যথায় আগামী অক্টোবর থেকে একদফা আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করার আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।’ তিনি বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে প্রধান বিচারপতি অপ্রাসঙ্গিক, অসাংবিধানিকভাবে যে মন্তব্য করেছেন এ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। সংসদকে হেয় করেছেন। তিনি মহিলা সংসদ সদস্যের বিষয়ে কটূক্তি করে নারীদের হেয় করেছেন। তাদের হেয় করে গোটা নারী সমাজকে হেয় করেছেন।’ তাপস বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি তার রায়ে উল্লেখ করেছেন তিনি নাকি কারও সার্ভেন্ট নন। তিনি প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মকর্তা নন। তিনি হলেন নিজেই মাস্টার। আমরা তার নিন্দা জানাই।’ সংগঠনের আহ্বায়ক সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ন বলেন, ‘প্রাসঙ্গিক নয়, অথচ ওপেন কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে তিনি বললেন কী হয়েছে পাকিস্তানে দেখেছেন? সুপ্রিম কোর্ট কী পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমি একটি কথা বলতে চাই, বাংলাদেশ ইজ নট পাকিস্তান, এটা মনে রাখতে হবে। এ বাংলাদেশ রক্তের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। এটা অসম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। কাজেই ওই সব কথা বলে পার পাবেন না।’ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘আগামী ২৪ আগস্ট আমরা এ দাবিতে আবার মিলিত হব।
আমরা এর আগে বলেছিলাম ২৪ তারিখের মধ্যে আপনার অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন।’ মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, সাবেক বিচারপতি মুনসুরুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, অ্যাডভোকেট লায়েকুজ্জামান মোল্লা, সাবেক সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, সানজিদা খানম এমপি, আওয়ামীপন্থী আইনজীবী নেতা আজহার উল্লাহ ভুইয়া, রবিউল আলম বুদু প্রমুখ। এদিকে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে সমিতি ভবনের উত্তর হলে প্রতিবাদ সভা করেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, আবেদ রাজা, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, গাজী কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ। প্রতিবাদ সভায় অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। বিচার বিভাগ নিয়ে মন্তব্য করার কারণে আপনি নেজিই পদত্যাগ করুন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি একা এই রায় দেননি। আপিল বিভাগের সব বিচারপতি একমত হয়ে এ রায় দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতিকে বলব, সরকারের কিছু ব্যক্তি ছাড়া ১৬ কোটি মানুষ আপনার সঙ্গে আছে। তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হক রায় নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা বিচার বিভাগকে হেয় করেছে। তিনি বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করেছেন। এ পদে থাকার কোনো অধিকার তার নেই। তার পদত্যাগ করা উচিত।

মিরপুরে তরুণকে ডেকে এনে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর মিরপুরের উত্তর পীরেরবাগে মঙ্গলবার এক তরুণকে হত্যা করা হয়েছে। কবির হোসেন (২১) নামের ওই তরুণ পেশায় গার্মেন্ট কর্মী। সকালে মোবাইল ফোনে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে শরীরে বিভিন্ন অংশে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে ও পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। সেই দৃশ্য ধরা পড়ে এক বাড়ির ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায়। ভিডিও ফুটেজে তিন তরুণকে এ অপকর্মে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, ওই তিন তরুণ হলেন- বাপ্পী, মুন্না ও রাজু। বাপ্পী ও মুন্না দুই ভাই। দু’দিন আগে কবিরের নেতৃত্বে বাপ্পী ও তার বাবা ফজলুল হকের ওপর হামলা হয়েছিল। এরপর বাপ্পীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রতিশোধ নিতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসে বাপ্পী। এরপর পরিকল্পিতভাবে কবিরকে খুন করা হয়। তিন মিনিটে শেষ হয় কিলিং মিশন। স্থানীয় সূত্র বলছে, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে চার মাস ধরে উত্তর পীরেরবাগে তরুণদের দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর জের ধরে মাঝেমধ্যেই দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ধীরে ধীরে দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে। এর জেরেই কবিরের নেতৃত্বে বাপ্পী ও তার বাবার ওপর হামলা হয়। কবিরকে হত্যার পর বাপ্পী-মুন্নার বাবা ফজলুল হককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তাকে থানায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে উত্তর পীরেরবাগের ৩৬৩/৮/১ নম্বর বাসার সামনে। ওই বাড়ির সামনের দিকের একটি সিসি ক্যামেরায় খুনের দৃশ্যটি ধরা পড়েছে। ওই বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা নজমুল নেওয়াজ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে সকালে। আমরা কোনো কিছু টের পাইনি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, এক তরুণের ওপর তিন তরুণ হামলা চালাচ্ছে। একজন লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে আর অন্য দু’জন ছুরিকাঘাত করছে। পরে তারা পালিয়ে যায়। তবে আমি তাদের কাউকে চিনি না। পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে ৬টা ৯ মিনিট থেকে ৬টা ১২ মিনিট পর্যন্ত কবিরের ওপর হামলা চলে। ছুরি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে একের পর এক জখম করা হয়। এরপর হামলাকারী তিন তরুণ পালিয়ে যায়। কবিরের বড় ভাই মাইনুদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আকাশ নামে স্থানীয় এক তরুণ মোবাইল ফোনে কবিরকে ডেকে নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পর খবর পাই কবিরের ওপর হামলা হয়েছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি, রাস্তায় কবির পড়ে আছে। তখনও সে বেঁচে ছিল। জিজ্ঞাসা করি, তোর এই অবস্থা করেছে কে। ওই সময় কবির জানায়, বাপ্পী, মুন্না, রাজু, সোহেল ও আকাশ তার ওপর হামলা করেছে। সে আর কিছু বলতে পারেনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মিরপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, এখানে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব আছে এমন ঘটনা আমাদের জানা নেই। বাপ্পী ও তার বাবার ওপর দু’দিন আগে কবিরের নেতৃত্বে হামলা হয়েছিল। ওই হামলার প্রতিশোধ নিতেই কবিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে। পরিবার জানায়, কবিরের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরে। তার বাবা মো. হানিফ পেশায় কৃষক। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। কবিরের বাবা ভোলাতেই থাকেন। পরিবারের অন্যরা উত্তর পীরেরবাগের ৩৬৮ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকেন। যে কারণে খুন : স্থানীয়রা জানান, কবির ও তার বন্ধুরা এক সময় মুন্নার সহযোগী ছিল। মুন্না এলাকার স্থানীয় হওয়ার কারণে অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তার করত। এক সময় মুন্না নিজেকে সিনিয়র দাবি করে। এ নিয়ে কবিরের সঙ্গে চার মাস আগে কথা কাটাকাটি হয়। ওই সময় কবিরের নেতৃত্বে আলাদা গ্রুপ তৈরি হয়। বিভিন্ন সময় দুটি গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে কবির ও তার তিন বন্ধু মিরপুরের কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিল। এ সময় মুন্না তাকে উদ্দেশ করে বলে, ‘তুই দাঁত কিটমিট করছিস কেন?’ কবির পাল্টা জবাবে বলে, ‘দাঁত কিটমিট করলে তুই কী করবি?’এর মধ্যেই মুন্নার বড় ভাই বাপ্পী চলে আসে। তখন মুন্না ও তার সহযোগীরা কবির ও তার তিন বন্ধু লোকমান, রুবেল ও শাকিলকে মারধর করে। এ ঘটনার পর কবিরের নেতৃত্বে বাপ্পী ও তার বাবা ফজলুল হকের ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ জানায়, বাপ্পীর শরীরে ২৬টি সেলাই দেয়া হয়। তার বাবা ফজলুল হকের শরীরেও ৬টি সেলাই লাগে। মূলত এর প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে কবিরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কবিরের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন মিরপুর থানার এসআই নাসির উদ্দিন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পেটের ডান পাশে কাটার জখম, বুকে দুটি রক্তাক্ত জখম, পিঠের ডান পাশে দুটি কাটা রক্তাক্ত জখম, পিঠে দুটি কাটা রক্তাক্ত জখম, বাম হাতের কনুইর নিচে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম, কব্জির ওপরে গভীর কাটা জখম, ডান হাতের কনুইর নিচে রক্তাক্ত জখম, দুই হাতে দুটি রক্তাক্ত জখম, ডান পায়ের হাঁটুতে কাটা রক্তাক্ত জখম এবং বাম কোমরের ওপরে দুটি কাটা রক্তাক্ত জখম রয়েছে। দুই গ্যাংয়ে ২০ সদস্য : স্থানীয় সূত্র বলছে, আধিপত্য বিস্তার ও এলাকার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তর পীরেরবাগে দুটি গ্যাং গড়ে উঠেছে। একটি গ্যাংয়ের নেতৃত্বে ছিল নিহত কবির। অপর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মুন্না। দুটি গ্যাংয়ের সদস্যদের বয়স ১৪ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। এই গ্যাংয়ে স্কুল পড়–য়া কিশোরও রয়েছে। চার মাস আগে আলাদা কোনো গ্যাং ছিল না। আধিপত্য বিস্তার ও সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে চার মাস আগে দুটি গ্যাং তৈরি হয়। মুন্নার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গ্যাংয়ের সদস্যরা হল মুন্না, রাজু, রিপন, বিপ্লব, মানিক, জয়, সোহেল, আকাশ ও শাহীন। কবিরের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গ্যাংয়ের সদস্যরা হল- রকিব, সম্রাট, লোকমান, শাকিল, আকাশ, আল-আমিন, হৃদয়, নয়ন, ইমন ও রাহাত।

ডাকাতের ধারালো অস্ত্রে যুবক নিহত, গুলিবিদ্ধ ১

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ডাকাতের ধারালো অস্ত্রে দুলাল মিয়া (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় বাবলু মিয়া নামে আরো একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ফজলুপুর ইউনিয়নের চরচৌমুহন (বুলবুলির চর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুলাল মিয়া ওই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। গুলিবিদ্ধ বাবলু মিয়া একই এলাকার মগবুল হোসেনের ছেলে। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফুলছড়ি থানার ওসি আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান জানান, রাত ২টার দিকে ডাকাতরা দুলাল মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। এসময় বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। এতে বাড়ি ওয়ালা দুলাল মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এসময় দুলালের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। তাদের প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলিবর্ষণ করলে বাবলু মিয়া নামের আরো একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানান ওসি।

প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধা ও বগুড়া যাচ্ছেন শনিবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী শনিবার বন্যাকবলিত গাইবান্ধা ও বগুড়ার সারিয়াকান্দি যাচ্ছেন। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ধানের চারা বিতরণ করবেন। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুধীসমাজ ও বন্যা ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তিনি বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানের চারা বিতরণ করবেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সারিয়াকান্দি সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদের হলরুমে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান, উপজেলা চেয়ারম্যান মাছুদুর রহমান হিরু মণ্ডল প্রমুখ বক্তব্য দেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধায় বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে সারিয়াকান্দি আসবেন। বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ছাড়াও তিনি স্থানীয় ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।

ত্রাণ না পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন বৃদ্ধা

নওগাঁর মান্দা উপজেলার দারিয়াপুর গ্রাম। পাশের গ্রাম থেকে গলা পানি মাড়িয়ে এসেছেন ৫৫ বছরের বৃদ্ধা আরতি রানী। লোকমুখে তিনি শুনেছিলেন ত্রাণ বিতরণের কথা। কিন্তু এখানে এসে তার কপালে জোটেনি কোনো সাহায্য। খালি হাতে ফেরার সময় সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন তিনি। বললেন, আত্রাই নদীর বানে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তার ধারে। পরিবারের আয় উপার্জনের কেউ নেই। ঘরে খাবারের জোগাড়ও নেই। যা ছিল কয়েক দিনে তাও শেষ। তাই দু’দিন ধরে পেটে ভাত যায়নি। কোনো বেলা পাউরুটি আবার কোনো বেলা চিড়া খেয়ে আছি। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ওই ঘটনার সময় আরতি রানী আরও জানান, একদিন আগেই স্থানীয় এমপি ও পাটমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক ত্রাণ বিতরণ করে গেছেন। তবে বেশির ভাগ মানুষই ওই সাহায্য পাননি। এ নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি। এই জেলার বানভাসি মানুষ এখন খাবার ও চিকিৎসার অভাবে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে শত শত বানভানি আশ্রয় নিলেও বিপদ তাদের পিছু ছাড়েনি। প্রসাদপুর ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামের সড়কের দুই পাশে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েকশ’ বানভাসি পরিবার। এখন পানি কমছে। কিন্তু বেড়েছে পানিবাহিত রোগবালাই। এজন্য মেডিকেল টিম নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু সরেজমিন দেখা যায়, ডায়রিয়ার সমস্যা নিয়ে অন্তত পাঁচজন সকাল থেকে বসে আছেন মেডিকেল টিমের ব্যানার টানানো স্থানে। তাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধ আছেন। তারা জানান, তিন দিন আগে ডাক্তার (স্বাস্থ্যকর্মী) এসেছিলেন। এখন ডায়রিয়া প্রায় সবারই শুরু হয়েছে। কিন্তু ডাক্তারের খোঁজ নেই। শুধু ব্যানার টানিয়েই চলে গেছেন তারা। ওই এলাকার হাফিজউদ্দিন মৃধা জানান, এক সপ্তাহ ধরে বন্যায় মানুষ দিশেহারা। থাকার জায়গা নেই। খাবার নেই। এ অবস্থায় বেঁচে থাকাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু সবাই শুধু মুখে মুখে সাহায্যের কথা বলছে। বাস্তবে কোনো কিছুই নেই। আর রাস্তায় ঠাঁই নেয়াদের আপাতত থাকার ছাউনির জন্য প্লাস্টিক দিয়েছে একটি এনজিও। কিন্তু এর বাইরে কিছু পাইনি। মন্ত্রী ত্রাণ বিতরণ করলেও পেয়েছেন দলীয় সমর্থকরা। প্রকৃত নিঃস্বরা পায়নি। উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের রেবা আখতার দাখিল মাদ্রাসা বন্ধ করে বানভাসি কয়েকশ’ নারী-পুরুষকে রাখা হয়েছে। এখানে ঠাঁই নেয়া কয়েকজন জানান, তিন দিন ধরে তারা ভাত খেতে পাননি। সকালে পাউরুটি দেয়া হয়। দুপুরে খিচুড়ি। রাতে চিড়া। এসব খেয়ে তো আর দিন চলে না। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা তীব্র খাবার সংকটে পড়েছেন। ওই মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রায় আটশ’ মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। শোয়ার জায়গা নেই। খাবার পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থাও নাজুক। স্থানীয় যারা বিত্তবান আছেন, তারাই কেউ সকালে, কেউ দুপুরে আবার কেউ রাতের খাবারের খরচ দিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক বলেন, যেভাবে বন্যা হচ্ছে, তা এখন জাতীয় দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। কাজেই দলীয় লোক দেখে ত্রাণ বিতরণের অভিযোগ থাকার কথা নয়। দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে সবাইকে এই বিপদে সাহায্য করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ অব্যাহত আছে। নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা যুগান্তরকে জানান, বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ১২৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। প্রতিটি টিমে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মীরা কাজ করছেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে এই টিম খাবার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি নওগাঁর বন্যার্ত মানুষের। দুর্গত এলাকার প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। ইকরতারা নামক স্থানে ছোট যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার তিলকপুর, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন, নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ, সুলতানপুর এলাকা, পার্শ্ববর্তী বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রাম, সান্তাহার এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর মোট ১০ উপজেলায় ৬৬ ইউনিয়নের ৫১৬টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। ৪১টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ঠাঁই নিয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রায় ৬৮ হাজার ৫৩৬ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। জেলায় প্রায় ৮১ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ হাজার বাড়িঘর সম্পূর্ণভাবে এবং ২৬ হাজার বাড়িঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় মোট ১২ জন লোক নিখোঁজ রয়েছে। দুই শিশুসহ নিহত হয়েছে তিনজন। জেলা প্রশাসক ড. মো. আমিনুর রহমান জানান, জেলায় বন্যার্তদের ত্রাণ সাহায্য অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, রোববার পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলায় ৩৪৭ মেট্রিক টন চাল এবং ১৫ লাখ ২২ হাজার নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

কোন্দলের মাশুল দিতে হতে পারে আ’লীগ-বিএনপিকে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকাবাসীর দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়ে প্রচারে নেমে পড়েছেন। পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছেন সমর্থকরা। বিভিন্ন দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে টানানো শুরু হয়েছে ব্যানার ও ফেস্টুন। আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়াও জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস, জামায়াত, কমিউনিস্ট পার্টিসহ ২০ দলীয় ও ১৪ দলীয় জোটের সম্ভাব্য ডজন খানেক প্রার্থী নানা কায়দায় তাদের আগ্রহের বিষয়টি জানান দিচ্ছেন। তবে মনোনয়ন যারাই পাক না কেন দলীয় কোন্দলই বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর সহধর্মিণী সৈয়দা সায়রা মহসিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, দলের জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেম্বার সভাপতি মো. কামাল হোসেন, সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলর এমএ রহিম (সিআইপি) ও মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালিক তরফদার সোয়েব। মৌলভীবাজার-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন বলেন, দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলর এমএ রহিম বলেন, ২০০৬ সাল থেকে একাধিক জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিরত থেকেছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নপূরণ এবং সোনার বাংলা গড়তে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করব। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ আবদুস শহিদ বলেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কাজ শুরু করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয় বোর্ড বসে পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে যে কেউ নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণা চালাতে পারেন।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন- সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান। জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের এখনও অনেক সময় বাকি। সময় এলে পরিবেশ পরিস্থিতির আলোকে প্রস্তুতি নেয়া হবে। জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ শাহাবউদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল হকের নাম। এ ছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী ও শরিফ খালেদ সাইফুল্লাহ দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় তৎপর। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহমদ বিলাল কেন্দ্রের অনুমতিসাপেক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থানীয় নেতারা দলের মধ্যে বিদ্যমান কোন্দলকে চিন্তার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলেও দলীয় কোন্দল দলের প্রার্থীর বিজয় ঠেকিয়ে দিতে পারে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকের অবস্থান দুই মেরুতে। তাদের কারণে দুই ভাগে বিভক্ত মৌলভীবাজার বিএনপি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানকে সরকারের দালাল আখ্যা দিয়ে রাজপথে মিছিলও হয়েছে। বিভক্তির কারণে মৌলভীবাজারে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে দলাদলিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এটা যদি চলতে থাকে তাহলে তা আগামী নির্বাচনের ওপর প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের। দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় বিএনপির সম্মেলনের আগে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির দু’গ্রুপের সমন্বয়ে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকের নাম উল্লেখ করে কমিটি অনুমোদন দেয় তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ওই কমিটির সভাপতি হন সাবেক অর্থমন্ত্রী, প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমান। অপর গ্রুপ থেকে খালেদা রব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সভাপতি বলয়ের আবদুুল মুকিতকে করা হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে একাধিকবার কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার সফর করলেও পরস্পরবিরোধী অবস্থানের হেরফের হয়নি। জেলা বিএনপির গ্রুপিংকে কেন্দ্র করে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনও বিভক্ত। জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সভাপতি বলয়ের নেতাকর্মীরা আমার জনপ্রিয়তা সহ্য করতে না পেরে আমাকে সরকারের দালাল আখ্যায়িত করে রাজপথে মিছিল করেছে। এরা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। আমি তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। আমি চাই, সব ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হয়ে কাজ করতে। সভাপতি সেটা চান না। তিনি বলেন, যারা আমাকে দালাল বলছে তারা সরকারি দলের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে খালেদা জিয়ার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এদিকে আওয়ামী লীগেও একই হাল। এই আসনে উপাধ্যক্ষ আবদুস শহিদ ও সায়রা মহসিনকে ঘিরে দুটি বলয় গড়ে উঠেছে। আগস্ট মাসে দুটি শোকের অনুষ্ঠান পালনকে কেন্দ্র করে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগে ভোটারদের কাছে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব প্রকাশ না পেলেও শোকের অনুষ্ঠানকে ঘিরে আলাদা অনুষ্ঠান করার মধ্য দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৃণমূল নেতাকর্মীদের। সূত্র বলছে, প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসিন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ফিরোজ ও সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসুদ আহমদকে ঘিরে এ বলয় কাজ করছে। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহিদের নেতৃত্বাধীন বলয়ে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন নেতা। তবে দলীয় অনুষ্ঠানে সায়রা মহসিনসহ তার বলয়ের নেতাকর্মীদের তেমন দেখা যায় না। দলের কোন্দল নিয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ আবদুস শহিদ বলেন, আমি এবং জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সব সময় দলীয় ও জাতীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছি। এসব অনুষ্ঠানে অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত হন আবার কেউ কেউ আসছেন না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যেখানে উপস্থিত সেখানে গুটি কয়েকের অনুপস্থিতিকে গ্রুপিং বলা যায় না। এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে জেলা সম্মেলন করার জন্য ইতিমধ্যে সদর উপজেলা ও পৌর কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এ বছরের শেষদিকে জেলা সম্মেলন করে নতুন আয়োজনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানায়। এ বিষয়ে আলাপকালে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ শাহাব উদ্দিন বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এরশাদের হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা জেলা সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করব। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন বলেন, এখনও আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি তবে শিগগির বসে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। জেলা জামায়াতের আমীর আবদুল মান্নান বলেন, দলীয়ভাবে মৌলভীবাজার-৩ আসনে নির্বাচন করার কোনো পরিকল্পনা নেই এখন পর্যন্ত। জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি অধ্যাপক আবদুস সবুর বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্ধারণ করে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছি। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে আমাদের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

৩০০ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী চূড়ান্ত : এরশাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে জোট নয়, জাতীয় পার্টি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এ জন্য ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রসঙ্গ উঠলে এরশাদ বলেন, এ নিয়ে আগেও কিছু বলিনি, এখনও কোনো মন্তব্য করব না। এর আগে এরশাদ নীলফামারীর সৈয়দপুরে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। আর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ইউনিয়ন ব্যাংক রংপুর শাখার উদ্বোধন করেন তিনি। বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে এরশাদ বলেন, সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি। ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল। তবে জাতীয় পার্টি বানভাসি মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সাধ্যমতো ত্রাণ দেয়ার চেষ্টা করছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেবে না বলে আশা প্রকাশ করেন এরশাদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বিপুল ভোটে জয়ী হবে। ইউনিয়ন ব্যাংক রংপুর শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এরশাদ। সেখানে তিনি বলেন, রংপুরের উন্নয়নের দায়িত্ব বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিয়েছেন। সেই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে রংপুরের পুত্রবধূ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই রংপুর অঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আনবেন। ইতিমধ্যে তিনি সব রকম উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলে রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক বাধা ছিল, এখন তা কেটে যাচ্ছে। রংপুরের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে এ অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে যাবে।
তিনি বলেন, রংপুরের মানুষ অলস নয়, তারা কাজ করে জীবনের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে। ইউনিয়ন ব্যাংককে রংপুরের মানুষের পারিবারিক ব্যাংক উল্লেখ করে এরশাদ এ ব্যাংকের সমৃদ্ধিতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহবান জানান। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ছালেহ, সনিক প্রাইম গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্কাছ আলী সরকার, রংপুর চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মঞ্জুর আহমেদ আজাদ এবং উইমেন চেম্বারের পরিচালক জাকিয়া আহসান। দুপুরে এরশাদ রংপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির আহাম্মেদ প্রমুখ সেখানে ছিলেন। পরে পুলিশের একটি চৌকস দল এরশাদকে গার্ড অব অনার দেয়। সৈয়দপুরে ত্রাণ বিতরণ : সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের বিমানে সকালে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে আসেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেখান থেকে তিনি কামারপুকুর কলেজ মাঠে আসেন। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতি প্যাকেটে ছিল একটি করে শাড়ি ও লুঙ্গি, এক কেজি মসুর ডাল ও পাঁচ কেজি চাল। পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরীও এ সময় বক্তব্য দেন। এরশাদ বলেন, ১৯৮৮ সালের বন্যায় বুকভরা পানিতে নেমে আমি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আজও আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু বর্তমান সরকার তেমনভাবে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি বলেন, মানুষ এখন একই দলকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ক্ষয়িষ্ণু দল বিএনপিকেও ক্ষমতায় দেখতে চায় না তারা। তাই আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে দেশের জনগণ। এছাড়া কোনো উপায় নেই।

শিশুদের বন্ধু হন

একদিন ক্লাসে শিক্ষিকা সবাইকে ‘তোমার জীবনের লক্ষ্য’ বিষয়ে লিখতে বললেন। লেখার নির্ধারিত সময় শেষ হলে তিনি সবার খাতা নিলেন এবং সেদিনের মতো ক্লাস শেষ করে চলে গেলেন। বাসায় এসে তিনি সব খাতা পড়তে শুরু করলেন। একটি খাতায় তার চোখ আটকে গেল। লেখাগুলো পড়ে তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। পাশে থাকা তার স্বামী বিষয়টি লক্ষ করে জানতে চাইলেন, কী হয়েছে? শিক্ষিকা কথা না বলে খাতাটি এগিয়ে দিলেন।
তাতে লেখা : ‘আমার জীবনের লক্ষ্য হল টেলিভিশন হওয়া। কারণ আমাদের বাসায় যে টেলিভিশনটি আছে, দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সবাই এর সামনে গিয়ে বসে আর গভীর মনোযোগ গিয়ে টিভি দেখে। অনেক সময় খাওয়া-দাওয়ার কথাও মনে থাকে না। টেলিভিশনের নানা অনুষ্ঠান দেখে তারা হাসি-আনন্দে ফেটে পড়ে। দিনের বিভিন্ন সময় টিভির অনুষ্ঠানগুলো নিয়ে নিজেরা আলোচনা করে। যদি টিভিটি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে তা ঠিক করার জন্য সবাই উঠেপড়ে লাগে। আমি চাই টেলিভিশনের মতোই আমাকে সবাই গুরুত্ব দেবে। আমার প্রতি মনোযোগী হবে। আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে সবাই আমার যত্ন নেবে। এ কারণেই আমি টেলিভিশন হতে চাই।’ পড়া শেষে স্বামী বলল, ছেলেটি কত দুর্ভাগা! নিশ্চয়ই তার বাবা-মা ও পরিবারের সবাই অনেক ব্যস্ত। তাকে কেউ সময় দেয় না। তখন শিক্ষিকা বললেন, তুমি মনে হয় খেয়াল করোনি যে এসব লিখেছে সে আমাদেরই ছেলে! এটি একটি গল্প হলেও এর ভেতর দিয়ে একটি ছেলের গভীর হতাশাবোধ, হাহাকার ও নিঃসঙ্গতার চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্তমান সময়ের সঙ্গে রয়েছে এর যোগসূত্র। আজকাল অনেক পরিবারেই বাবা-মা খুব ব্যস্ত থাকেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। বড়দের বাইরে যাওয়ার এবং নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ থাকে; কিন্তু শিশুদের তেমনটি থাকে না। আবার এখন মাঠের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিশুরা আগের মতো খেলাধুলাও করতে পারছে না।
এ কারণে তাদের বাসায় অবসরে অলস সময় কাটানো, টিভি দেখা, কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকা ও মোবাইলে গেম খেলাটাই হয়ে দাঁড়ায় মুখ্য বিষয়। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক সুস্থতার স্বার্থে তাদের বন্ধু হওয়া, তাদের জন্য পরিবারের সময় দেয়া জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে পত্রিকা খুললেই দেখা যায় শিশু নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, পরকীয়ার বলি হওয়া, বখাটেদের উৎপাতে কিশোরীর আত্মহত্যা ইত্যাদি ঘটনার খবর। এসব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা এ জাতির জন্য লজ্জাজনক। একটি শিশুর প্রতি যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে এ জাতির ভবিষ্যৎ কী? এর একটি সমাধান হতে পারে শিশুদের বন্ধু বানানো। তাদের বন্ধুত্ব করিয়ে দেয়া যেতে পারে ভালো ও সৎ মানুষের সঙ্গে। রাষ্ট্রকে হতে হবে শিশুবান্ধব, রাষ্ট্র তাদের জন্য নির্মল বিনোদনের ব্যবস্থা করবে, উন্মুক্ত ও সবুজ মাঠে খেলাধুলা করার অবারিত সুযোগ তৈরি করে দেবে এবং নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও শিশুবিকাশ কার্যক্রম চালু করবে। সেই সঙ্গে সব ধরনের শিশু নির্যাতনের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।
মু. তৌহিদুল ইসলাম : শিশু সংগঠক; কাউন্সিলর, বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ

অ্যাকজিমা কি সারে না?

অ্যাকজিমা ত্বকের এক ধরনের অ্যালার্জিজনিত প্রদাহ। রাসায়নিক পদার্থ, প্রোটিন, জীবাণু, ছত্রাক ইত্যাদির প্রভাবে অ্যাকজিমা হতে পারে। কিছু কিছু অ্যাকজিমা বংশগত। যেমন- এটপিক অ্যাকজিমা, লাইকেন সিমপ্লেক্স। তবে বংশগত কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায় না সংস্পর্শ অ্যাকজিমা, স্ক্যারিয়াস অ্যাকজিমা, অপুষ্টিজনিত ও ছত্রাকজনিত অ্যাকজিমা। অনেকের ধারণা অ্যাকজিমা সারলে হাঁপানি হয়। এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে এটপিক অ্যাকজিমার সঙ্গে হাঁপানির সম্পর্ক আছে। দেখা গেছে এটপিক অ্যাকজিমায় আক্রান্ত রোগীর বংশে কারও হাঁপানি আছে। যাদের দীর্ঘদিনের অ্যাকজিমা আছে তাদের অবশ্যই চিকিৎসার প্রয়োজন আছে। রোগ পুষে রাখলে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে কিংবা সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে এক্সফোলিয়েটিভ অ্যাকজিমার সৃষ্টি হতে পারে। অনেকের এও ধারণা অ্যাকজিমা ছোঁয়াচে। এটিও সত্য নয়। অ্যাকজিমার ওপরে জীবাণুর সংক্রমণ হলে অন্য কেউ সংক্রমিত হতে পারে। স্ক্যাবিয়াস অ্যাকজিমা রোগী থেকে সুস্থ দেহে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। অ্যাকজিমা হলে রক্ত খারাপ হয়ে গেছে কিংবা বিয়ে করা যাবে না- এটিও সত্য নয়। অ্যাকজিমা নিশ্চয়ই সারে। সঠিক চিকিৎসা নিলে এবং যে কারণে অ্যাকজিমা হচ্ছে তার কারণ পরিহার করে চলতে পারলে প্রায় সব ক্ষেত্রেই অ্যাজকিমা সারে। তবে চিকিৎসা একটু দীর্ঘস্থায়ী।
ডা. দিদারুল আহসান, ত্বক ও যৌনব্যাধি বিশেষজ্ঞ
আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা।
মোবাইল ফোন : ০১৭১৫৬১৬২০০

চড়া সুদে ৪ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নেটওয়ার্ক উন্নয়নসংক্রান্ত প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছে সরকার। এ ঋণের পরিমাণ ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে) প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটি স্কেলআপ ফ্যাসিলিটির (এসইউএফ) আওতায় এ ঋণ নেয়া হচ্ছে। ফলে সুদের হার সব মিলিয়ে ৩-৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বর্তমানে সহজ শর্তের ঋণে কোনো সুদ না দিলেও সার্ভিস চার্জ হিসেবে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ নেয় বিশ্বব্যাংক। পরিশোধের সময়ও দীর্ঘ। অর্থাৎ ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে পরিশোধ করতে হয়। সেখানে এ কর্মসূচির আওতায় ঋণ নেয়া হলে পরিশোধের সময়ও কম হবে। এ ঋণের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সম্মতি পাওয়ার পর বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। মতামত পেলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বিশ্বব্যাংককে। জানতে চাইলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক উইংয়ের প্রধান মাহমুদা বেগম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, এ স্কেলআপ ফ্যাসিলিটির আওতায় গত অর্থবছরে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেয়ার কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের একটি প্রকল্পে ৫৯ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৫০ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার সীমা নির্ধারিত রয়েছে। তাই বেশি প্রকল্পের না নিয়ে আমরা একটিতেই এ পরিমাণ ঋণ নেয়ার বিষয়ে নেগোশিয়েশন করেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অনেক বেশি সুদে ঋণ নেয়া হচ্ছে, সেক্ষেত্রে এটি এখনও কম বলা চলে।
যদিও সহজ শর্তের ঋণের চেয়ে এক্ষেত্রে সুদের হার বেশি হবে। তারপরও নেয়া যেতে পারে। সে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিভাগের। ইআরডি সূত্র জানায়, ২০ আগস্ট বিদ্যুৎ সচিবের কাছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর ইনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং অব পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ইন ইস্টার্ন রিজিওন শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ২৯ কোটি ২৭ লাখ ৪ হাজার ডলার অর্থায়নে বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ জানানো হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। ওই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের স্কেলআপ ফ্যাসিলিটি (এসইউএফ) শীর্ষক তহবিল থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার বিষয়ে বিশ্বব্যাংক সম্মত হয়েছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এসইউএফ তহবিল থেকে ঋণ গ্রহণে বাংলাদেশ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হচ্ছে- এ তহবিলের ঋণ স্থির সুদের হারে প্রদেয়, ত্রৈমাসিকভাবে এ স্থির সুদের হার বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আইডিএ’র মাধ্যমে নির্ধারিত. এককালীন ফ্রন্ট-ইন্ড ফি শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ এবং অনুত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি প্রদান করতে হবে। অপরদিকে বিদ্যুৎ খাতে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা দেশগুলো তুলনামূলক উচ্চ সুদে ঋণ প্রদান করে থাকে। লন্ডন উন্টার ব্যাংক অফারড রেট (লাইবর) অস্থিতিশীল হলে সুদের হার পরিবর্তিত হলে ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সাধারণত উন্নয়ন সহযোগী দেশ বা সংস্থা ব্যয় ও পরিশোধের মুদ্রা নির্ধারণ করে। এসইউএফ তহবিলের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নকারী সংস্থা গ্রান্ট এলিমেন্ট বিবেচনা করে সুবিধা অনুযায়ী এসডিআর ছাড়াও এসডিআরভুক্ত চারটি মুদ্রা মার্কিন ডলার, ইউরো, পাউন্ড ও জাপানি ইয়েনের যে কোনো একটি মুদ্রায় সিঙ্গেল কারেন্সি লেন্ডিং (এসসিএল) কর্মসূচির আওতায় ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। সূত্র জানায়, এর আগে এসইউএফ তহবিল থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বাস্তবায়নাধীন পাওয়ার সিস্টেম রিলায়েবিলিটি অ্যান্ড ইফিসিয়েন্সি ইমপ্র“ভমেন্ট প্রজেক্টের জন্য যে ৫৯ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেয়া হয়েছিল, সেক্ষেত্রে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ স্থির হারে সুদ ধার্য করা হয়েছে। এ ঋণ ইউরোতে গ্রহণ ও পরিশোধ করা হবে- যা ৯ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এ প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদা বেগম বলেন, যখন এ তহবিল থেকে ঋণ প্রস্তাব পাঠানো হয় তখন প্রকল্পটির ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ২৯ কোটি ২৭ লাখ ৪ হাজার মার্কিন ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে বিশ্বব্যাংকের মিশন এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে, প্রকল্পে নতুন কম্পোনেন্ট যোগ হওয়ায় এর ব্যয়ও বেড়ে গেছে। তাই তারা ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে।

Thursday, August 17, 2017

রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার উদ্যোগ নেবে না ইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাজ নয়। ইসি এ উদ্যোগ নেবেও না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের সংলাপ করে নির্বাচন কমিশন। বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। নুরুল হুদা বলেন, তাঁরা তাঁদের নেয়া শপথ দৃঢ়ভাবে পালন করবেন। যত চাপ আসুক, নতি স্বীকার করবেন না। সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে গণমাধ্যমের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের সংলাপ শুরু হয়। শেষ হয় বেলা পৌনে একটায়। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। আজকের সংলাপে টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের মোট ৩৪ জন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে ইসির প্রথম দিনের সংলাপ হয়। এদিন বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ইসি। সংলাপে আমন্ত্রিত ৩৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ২৬ জন। ইসি গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংলাপ শুরু করে। গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ শেষে ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি শুরু, অবনতি দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে

দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির (কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়ার) উন্নতি হতে শুরু করেছে। অপরদিকে দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চল (মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুঞ্জিগঞ্জ, শরীয়তপুর) বন্যা পরিস্থিতি অবনতিশীল রয়েছে। সিরাজগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। গঙ্গা অববাহিকার পানি বৃদ্ধি পেলেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মধ্যাঞ্চলে ঢাকার চতুর্দিকের ৫টি নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার হতে ১২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের উত্তরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে। তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার অববাহিকায় নদীর পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে, এই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে। এছাড়া গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা বর্তমানে বিপদসীমার প্রায় ৬৭ থেকে ১৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উন্নতি অব্যাহত থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বন্যার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভারতীয় অংশের আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় গড়ে ৩০ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেতে পারে। বাংলাদেশ অংশের ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বিভিন্ন্ পয়েন্টে আগামী ৭২ ঘণ্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকবে, তবে এই নদীর পানি বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমে আসছে এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। মেঘনা অববাহিকার নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘন্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। এতে বলা হয়, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা এই তিন অববাহিকার মধ্যে গঙ্গা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের উজানের ভারতীয় অংশে এবং মেঘনা অববাহিকার ভারতীয় ও বাংলাদেশ অংশে পানি হ্রাস অব্যাহত আছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর ভারতীয় অংশের গোহাটিতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ১৮০ কিলোমিটার উজানে) ৪৩ সেন্টিমিটার পান্ডুতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ১৬০ কিলোমিটার উজানে) ৩৪ সেন্টিমিটার, গোয়ালপাড়া (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ৯০ কিলোমিটার উজানে) ২৬ সেন্টিমিটার এবং ধুবরী (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ২৫ কিলোমিটার উজানে) ১৪ সেন্টিমিটার পানি সমতলে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সমতল নুনখাওয়া, চিলমারী, বাহাদুরাবাদ এবং সারিয়াকান্দি পয়েন্টে হ্রাস পেয়েছে, অপরদিকে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে গতকাল সন্ধ্যা হতে স্থিতিশীল রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বাসস।

স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় যৌতুকের জন্য স্ত্রী পাপিয়াকে হত্যার দায়ে স্বামী মনিরুজ্জামান সেলিমকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ হেলাল উদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মামলার অপর আসামি নজরুল ইসলামকে খালাস দেয়া হয়েছে। রায়ের বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৯ অক্টোবর ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালাদহ দীঘলপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মনিবরুজ্জামান সেলিমের সাথে ছফর আলীর মেয়ে পাপিয়া আক্তারের (৩০) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় পাপিয়া আনন্দমোহন কলেজে ইসলামের ইতিহাসে ২য় বর্ষে পড়তো এবং স্বামী মনিরুজ্জামান সেলিম ওয়ার্ল্ডভিশনে চাকরি করতো। পরে স্বামী মনিরুজ্জামান স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি নেবে বলে স্ত্রীর কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ি পাঠান। পাপিয়ার বাবা যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করে মেয়েকে নিজের বাড়িতেই রেখে দেয়।
ঘটনার ১৫ দিন আগে মনিরুজ্জামান স্ত্রী পাপিয়াকে বাড়ি নিয়ে আসে এবং শারিরীক নিযার্তন শুরু করে। ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে পাপিয়াকে হত্যা করে। পরদিন পাপিয়ার বাবাকে খবর দেয় যে, তার মেয়ে অসুস্থ। খবর পেয়ে পাপিয়ার স্বজনরা এসে দেখে ঘরের ভেতর পাপিয়ার লাশ পড়ে রয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। এঘটনায় পাপিয়ার বাবা ছফর আলী বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করে। আদালতে আসামি পক্ষসহ ১৫ জনের সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিচারক মনিরুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। মামলার অপর আসামি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন। রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট কবির উদ্দিন ভূইয়া ও অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ পাল ও অ্যাডভোকেট সনজীব কুমার সরকার মামলা পরিচালনা করেন।

সৈয়দপুরে প্রতারণার নয়া ফাঁদ : আটক ৩

নীলফামারীর সৈয়দপুরে নেমে পঞ্চগড় চা বাগানে বেড়াতে যাওয়া তিন ব্যক্তিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে ৯০ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল সেট হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতারক দল। এ ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে তিন প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। সৈয়দপুর থানার এসআই আব্দুল আজিজ এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। জানা যায়, নওগাঁ থেকে নীলসাগর ট্রেনে চেপে বুধবার রাতে (১৬ আগস্ট) সৈয়দপুরে আসেন হারুন-অর রশীদ (৪৫), মোতাহার হোসেন (৪১) ও মোস্তাকিন আহমেদ (৩৫)। এখান থেকে পঞ্চগড় চা বাগান যাওয়ার উদ্দেশ্যে সৈয়দপুরের পাশে রাবেয়া মিল বাসস্ট্যান্ডে যান। এসময় তিনটি মোটর সাইকেলে একদল প্রতারক এসে তাদের গতিরোধ করেন এবং নিজেদের ডিবি পরিচয় দেন। ওই আগন্তক ৩ জনকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নেওয়া হয় সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের হাজীপাড়ার একটি বাড়িতে। সেই বাড়িতে ওই ৩ জনকে মারডাং করে সাথে থাকা ৯০ হাজার টাকা ও ৩টি মোবাইল সেট কেড়ে নেওয়া হয়। এরমধ্যে হারুণ-অর রশীদকে ছেড়ে দিয়ে আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। হারুণÑঅর-রশীদ বিষয়টি সৈয়দপুর থানাকে অবহিত করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ প্রতারক কে আটক করে। এরা হচ্ছে নীলফামারীর আরাজি রামকলার মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে আজিজুল ইসলাম ওরফে ডাক্তার (৪৫), একই এলাকার মৃত জাফর আলী চৌধুরীর ছেলে নূর হোসেন (৩৫) ও দিনাজপুরের খানসামা গোয়ালডিহি মৃত সোলেমান আলীর ছেলে ডাব্লিউ ইসলাম (২৮)। এ ঘটনার মুল হোতা বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের আব্দুল মন্নাফের ছেলে রকি (২৫) নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন তারা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

আত্রাইয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

নওগাঁর আত্রাইয়ে উজান থেকে নেমে আসা পানি ও গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণের ফলে উপজেলার ছোট যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপথসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে উপজেলার মালিপকুর নামক স্থানে আত্রাই-সিংড়া সড়ক, পাঁচুপুর বেড়িঁবাধ ও পাঁচুপুর-সিংড়া রোড ভেঙ্গে আত্রাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। সেই সাথে উপজেলার অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এর পরও শিলক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর পানি ভেঙ্গে গেলেও শিক্ষার্থী নেই। এদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্লাস করতে না পাড়লে এসব পরীক্ষার্থীরা সমাপনী পরীক্ষা ও বাষিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারবে না বলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন। এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার রোখছানা আনিছা জানান, এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আত্রাইয়ে গত কয়েক দিন বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় এবং বিদ্যালয়গুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করায় উপজেলার বেওলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পারমোহনঘোষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বমিরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলরামচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নন্দনালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আত্রাই আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১৩০টি প্রথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। অপর দিকে উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাযায়, বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় উপজেলার কাশিয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, শলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জগদাশ উচ্চ বিদ্যালয়, বড় কালিকাপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা, উদনপৈ দাখিল মাদ্রাসা, ও আটগ্রাম দাখিল মাদ্রাসাসহ ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এদিকে উপজেলার পূর্বমিরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সহিদুল ইসলাম বলেন, প্রবল বন্যার পানি বিদ্যালয়ের কক্ষগুলোতে ঢুকে যাওয়ায় এবং পানিবন্দী হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়টি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এ বন্যার ফলে বর্তমান আমাদের বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে কোমর পর্যন্ত পানি। বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। যার ফলে ১৯ নভেম্বর সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন সমাপনি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে না পাড়লে বার্ষিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব নয়। সচেতন মহল মনেকরছেন এভাবে স্কুল বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের উপর পরীক্ষায় বিরুপ প্রভাব পড়বে।

রাবিতে দুই বছর পর শিবিরের প্রকাশ্য মিছিল

দুই বছর পর আবারো প্রকাশ্য ঝটিকা মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের নেতা-কর্মীরা। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে থেকে শুরু করে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে দিয়ে কাজলা দিকে যেয়ে শেষ হয়। ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ এবং আইন হাতে তুলে নিয়ে সাধারণ ছাত্রদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে কেন্দ্রঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল এবং ৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্তৃক শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ৫ জন সাধারণ ছাত্র ও ৮ জন শিবির কর্মীকে নির্যাতন করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।  জানতে চাইলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, শিবির মিছিল করেছে আমরা শুনেছি। তবে এব্যাপারে আমরা স্পষ্ট না। কোথায় যেন নারায়ে তাকবীর স্লোগান দিছে, সঠিক করে কেউ বলতে পারছি না। প্রসঙ্গত, গত ৮ আগস্ট রাতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ১৩ জন শিক্ষার্থীকে মরধর করে পুলিশের সোপর্দ করে। ছাত্রলীগের দাবী তারা সবাই শিবিরের সক্রিয় কর্মী।

'যেকোনো মূল্যে কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ প্রতিহত করব'

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন বৃহস্পতিবার বলেছেন, কোরীয় উপদ্বীপে কোনো যুদ্ধ হবে না। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ প্রশ্নে সিউল জোরালোভাবে ভেটো দিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের একের পর এক উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে চরম উত্তেজনা সত্ত্বেও সিউলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ব্যাপারে এমন কথা বলা হলো। দায়িত্ব গ্রহণের ১শ’ দিন পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মুন বলেন, কোরীয় যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে দক্ষিণ কোরীয়রা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। মুন আরো বলেন, ‘আমি যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ প্রতিহত করবো।’ তিনি বলেন, ‘আমি চাই সব দক্ষিণ কোরীয় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করুক যে কোনো যুদ্ধ হবে না।’ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাকাক্সক্ষা নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তেজনা অনেক বেড়েছে। এটাকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দেশটির বিরুদ্ধে সপ্তম দফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দেয়। যদিও পরে তারা সেখানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে পিয়ংইয়ংয়ের এমন হুমকির ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে চরম শিক্ষা দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ওয়াশিংটনের অস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে মুন বলেন, সিউল তাদের নিরাপত্তা মিত্র ও রক্ষক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে জোরালোভাবে ভেটো দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্মতি ছাড়া কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক অভিযান চালানোর ব্যাপারে কোনো দেশ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়াটা কোন বিষয় না হলেও এ ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আলোচনা করে তাদের সম্মতির ভিত্তিতেই যে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে।

হাওয়াইয়ে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ব্ল্যাক হ’ক হেলিকপ্টার পাঁচ আরোহীসহ হাওয়াইয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন কোস্ট গার্ড এবং হনলুলু দমকল বাহিনী পাঁচ আরোহীর জন্য তল্লাশি শুরু করেছে। হাওয়াইয়ের ওয়াহু দ্বীপের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে গতকাল বিকেলে এটি বিধ্বস্ত হয়। আজ সকাল থেকে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ ওহাহু দ্বীপের কেইনা পয়েন্টের তিন কিলোমিটার পশ্চিমে দেখা গেছে। অনেকগুলো জাহাজ এবং বিমান এ তল্লাশি অভিযানে অংশ নিয়েছে। মার্কিন মেরিন বাহিনীর একটি এমভি-২২ ওসপ্রে বিমান অস্ট্রেলিয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে তিন মেরিন সেনা নিহত হওয়ার মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই ব্ল্যাক হ’ক বিধ্বস্ত হলো।

গাজায় আত্মঘাতী বোমা হামলা হতাহত ৭

গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চল ও মিসর সীমান্তে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আত্মঘাতী বোমা হামলায় দু'জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীও রয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের কাছে ই- মেইলে পাঠানো সরকারি এক বিবৃতিতে ইয়াদ আল বোজম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফা ও মিসরের মধ্যবর্তী সীমান্তে বোমা হামলার ঘটনাটি ঘটে। তিনি আরো বলেন, মিসরীয় সীমান্তে দুই ব্যক্তি প্রবেশের চেষ্টা করলে সীমান্তরক্ষীরা তাদের বাধা দেয়। এ সময়ে একজন তার সাথে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সে নিহত এবং অপরজন আহত হন। তিনি আরো জানান, এছাড়া সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হলে তাকে শহরের আবু ইউসুফ আল নাজার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কর্মকর্তা মারা যায়। এ হামলায় আরো ৫ জন আহত হয়। আল বোজম বলেন, হামলার পর পরই গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। এছাড়া তদন্তও শুরু হয়েছে।

অস্ত্র ফেলে পাথর ছোড়াছুড়ি করলো চীন ও ভারতের সেনারা

কাশ্মিরের লাদাখে হিমালয় পার্বত্য সীমান্তের বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ডে চীন ও ভারতের সৈন্যদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছে। সিকিম সীমান্তে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মাসব্যাপী মুখোমুখি অবস্থানের পর লাদাখে এ সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। তবে মঙ্গলবারের এ সংঘর্ষের ঘটনার পর গতকাল সেখানে দুই দেশের সেনাকর্মকর্তারা পতাকা বৈঠক করেছেন। ভারতের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার পনগং লেকের কাছে ভারতীয় সৈন্যদের লক্ষ্য করে চীনের সৈন্যরা পাথর ছুড়ে মারে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকাটি পর্যটকদের কাছে অনেক আকর্ষণীয়। ভারতের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আরো জানান, চীনের সৈন্যরা দুই দফা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করে কিন্তু সেনাদের বাধার মুখে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, ‘এটি একটি সামান্য ঘটনা। চীনের সৈন্যরা কিছু পাথর ছুড়ে মারলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’ তিনি আরো জানান, ভারত ও চীনের সৈন্যরা তাদের নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে গেলে সংক্ষিপ্ত এ সংঘর্ষের অবসান হয়। এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে সিকিম সীমান্ত এলাকায় দুইপরে সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে আছে। সিকিম সীমান্তের কাছাকাছি মালিকানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ দোকলাম এলাকায় চীনা বাহিনীর রাস্তা নির্মাণ নিয়ে দুইপরে মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দোকলাম এলাকার মালিকানা নিয়ে চীন ও ভুটানের মধ্যে বিরোধ থাকলেও ভুটানের পক্ষ হয়ে ভারতীয় বাহিনী দোকলামে চীনের রাস্তা নির্মাণে বাধা দেয়। এরপর থেকে ওই এলাকায় মারমুখী অবস্থান নিয়ে আছে দুইপক্ষের বাহিনী। এই নিয়ে চলা উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় এবার লাদাখ সীমান্ত এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে মৃদু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনা সৈন্যরা দুইবার ভারতীয় এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে, দুইবারই তাদের বাধা দেয়া হয়। ওই সেনাকর্মকর্তা বলেন, ‘সেখানে ছোট একটি ঘটনা ঘটেছে। চীনাপক্ষ থেকে পাথর ছোড়া হয়েছিল; কিন্তু দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’ ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ১৫ জন সৈন্য ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে দুইবার লাদাখ সীমান্তের দু’টি এলাকা, ফিঙ্গার ফোর ও ফিঙ্গার ফাইভ দিয়ে ভারতীয় এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে। উভয়ক্ষেত্রেই সতর্ক ভারতীয় সেনারা তাদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। যখন চীনা সৈন্যরা দেখতে পায় ভারতীয় সেনারা মানববন্ধন তৈরি করে পথ আটকে রেখেছে তখন তারা পাথর নিক্ষেপ শুরু করে, সাথে সাথে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরাও চীনাদের লক্ষ করে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় উভয়পরে বেশ কয়েকজন সেনা ছোটোখাট আঘাত পান। পরে উভয়পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। জম্মু ও কাশ্মিরের পুলিশ জানিয়েছে, লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) নামে পরিচিত ওই সীমান্তে সংঘর্ষ তুলনামূলকভাবে একটি সাধারণ ঘটনা। শ্রীনগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘প্রতি গ্রীষ্মেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে এবারের ঘটনাটি একটু বেশি সময় ধরে ঘটেছে এবং আরো গুরুতর ছিল; কিন্তু কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।’ প্যাঙ্গন হ্রদ এলাকাটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে চার হাজার মিটার উচ্চতায় তিব্বতের মালভূমিতে অবস্থিত।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ লাইক পেলো যে টুইট

একটা ছবি, ছবিতে একটি জানালা দিয়ে কয়েকটি শিশুকে দেখছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা। শিশুগুলো একসাথে আছে কিন্তু তাদের গায়ের রঙ ভিন্ন ভিন্ন। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা নেলসন ম্যান্ডেলার উক্তি, ‘কোনো শিশুই অন্য কারো বর্ণ, ধর্ম কিংবা অতীতকে ঘিরে ঘৃণা নিয়ে জন্মায় না।’  ভার্জিনিয়ার শার্লোটসভিলে হামলার পর গত ১৩ আগস্ট বারাক ওবামার পোস্ট করা এই টুইটটিতে এখন পর্যন্ত লাইকের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বলা হচ্ছে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারের ইতিহাসে এত লাইক এর আগে আর কোনো টুইটই পায়নি। টুইটারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাইলফলকটি অর্জিত হয় বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টার দিকে। এর আগে সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া টুইটটি পোস্ট করেছিলেন আরিয়ানা গ্রান্ডে, বিষয় ছিল ম্যাঞ্চেস্টারের সন্ত্রাসী হামলা। বারাক ওবামার সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া টুইটটি ছিল মূলত একটি ধারাবাহিক টুইটের প্রথমটি। এরপর একই বিষয়ে আরো দুটি টুইট করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।
তিনটি টুইটই মূলত নেলসন ম্যান্ডেলার আত্মজীবনী লং ওয়াক টু ফ্রিডমের একটি অনুচ্ছেদের থেকে নেয়া। দ্বিতীয় টুইটটি ছিল, ‘মানুষকে অবশ্য ঘৃণা করতে শিখতে হয়। তাদের ভালোবাসতেও শেখানো যায়।’ তৃতীয়টি ‘মনুষ্যহৃদয়ে ঘৃণার চেয়ে ভালোবাসাটাই বেশি প্রাকৃতিকভাবে আসে।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই টুইটারের একজন ভক্ত এবং নিয়মিত ব্যবহারকারী, এমনটিই জানেন সবাই। টুইটারকে রীতিমতো প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, টুইটের সংখ্যার বিচারে না হলেও জনপ্রিয়তার বিচারে টুইটারে বারাক ওবামার থেকে বিস্তর পিছিয়ে আছেন ডোলান্ড ট্রাম্প। টুইটারে ট্রাম্পের অনুসারীও বারাক ওবামার চেয়ে অনেক কম। বারাক ওবামাকে অনুসরণ করেন ৯ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ। আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসারী মোটে তিন কোটি ৬০ লাখ। যদিও বারাক ওবামার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি টুইট করেছেন ডোলান্ড ট্রাম্প। সূত্র : বিবিসি

আবারো কারাগারে দাঙ্গা, নিহত ৩৭

ভেনিজুয়েলার একটি কারাগারে আবারো দাঙ্গা হয়েছে। অ্যামাজনাস রাজ্যের ওই কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গায় কমপক্ষে ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন। প্রসিকিউটর দফতর জানায়, পুয়ের্তো আইয়াকুচো শহরের ওই কারাগারে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী দাঙ্গায় ৩৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এর আগে গভর্নর লিবোরিও গুয়েরুলা এক টুইটার বার্তায় কারাগারে ভয়াবহ সহিংসতায় নিহতের কথা জানিয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হয়ে বুধবার ভোর পর্যন্ত এই সহিংসতা চলে। এতে ১৪ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তবে কোনো কর্মকর্তা নিহত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারাগার পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, এ সংঘর্ষে নিহত ৩৭ জনের সবাই ওই কারাগারের বন্দি। গুয়েরুলা জানান, দাঙ্গার সময় কারাগারে ১০৫ বন্দি ছিলেন।

সহায়ক সরকারের ফর্মুলা নভেম্বরে

লন্ডনে চিকিৎসা শেষে সেপ্টেম্বরেই দেশে ফিরতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। অক্টোবরের শেষের দিকে অথবা নভেম্বরে দলটি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রকাশ করবে। এ ক্ষেত্রে দলটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা ‘রাজনৈতিক বিতর্ক ও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি’র অবসানে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছা।  ইতোমধ্যে রূপরেখা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে বিএনপি। রূপরেখায় বিশ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোরও সুপারিশ নিচ্ছে তারা। তবে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর রূপরেখা নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন নয়া দিগন্তকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণাসংক্রান্ত রায়ের পর সহায়ক সরকার নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার সময় এসেছে। আগে একটি রায়ে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার কথা বলা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ তা অমান্য করে নির্বাচন করেছে। ওই নির্বাচন যে যথাযথ ছিল না, তা বর্তমান ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে। রায়ে বলা হয়েছে, এ সংসদ ডিসফাংশনাল বা অকার্যকর। ফলে এ সরকারে সবকিছু এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। প্রসঙ্গত, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে নির্বাচন অপরিহার্য। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ও পক্ষপাত ছাড়া নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে না পারলে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া গ্রহণযোগ্য সংসদ গঠিত হতে পারে না। আর এ কারণে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সংসদ শিশু অবস্থায় রয়ে গেছে। জনগণ নির্বাচন কমিশন ও সংসদের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। এ দুইটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণের আস্থা ও সম্মানের জায়গায় না আনা যাবে ততদিন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তুলে না ধরলেও প্রায় এক বছর ধরে নির্বাচনকালীন একটি ‘সহায়ক সরকার’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একই দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছিল এ দল। ওই নির্বাচনের আগে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ’৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচনকালীন দুইটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্য থেকে ১০ জনকে নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন- যা আমলে নেয়নি দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অনড় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সহায়ক সরকারের ফর্মুলা কেমন হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা নয়া দিগন্তকে বলেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য থেকেই সহায়ক সরকার গঠন করা যেতে পারে। অথবা সংবিধান সংশোধন করে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সহায়ক সরকার হতে পারে। অথবা প্রধানমন্ত্রীকে ছুটিতে রেখে কিংবা তার কার্যপরিধি সীমিত করে নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সহায়ক সরকার গঠন করা যেতে পারে। ওই নেতা বলেন, ফর্মুলা যেটাই হোক এ ক্ষেত্রে সমঝোতা কিংবা আলোচনার মনোভাব সবার আগে জরুরি। আলোচনার টেবিলে বসলে নির্বাচনকালীন সরকারের একটি স্থায়ী সমাধান বের করে আনা সম্ভব। জানা গেছে, রূপরেখা প্রকাশের পর এ দাবিতে সোচ্চার হবে বিএনপি। ড. মোশাররফ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, খালেদা জিয়া দেশে ফিরেই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেবেন। এটা আমাদের ঘোষিত বিষয়। নেত্রী দেশে থাকা অবস্থায় বিশেষজ্ঞ দল এটা নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি আসার পর তা চূড়ান্ত করা হবে। পরে তা নিয়ে জনমত সৃষ্টি করা হবে। তাই আরো জনসংযোগ কর্মসূচি আসবে সামনে। বিএনপির এ নেতা আরো বলেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক কিংবা সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। এখন সরকার আপসে এ ব্যাপারে রাজি হলে সহায়ক সরকারের বিষয়ে আমাদের নতুন করে প্রস্তাব দিতে হবে না। হ্যাঁ, প্রধান কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, সমঝোতা হতে পারে। এটা নিয়ে শুধু বিএনপি নয়, সরকার অন্যান্য দলের সাথেও আলোচনায় বসতে পারে। এর বাইরে গেলে সরকার ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে অমান্য করবে। সেই রকম কিছু হলে তখন আমরা বাধ্য হব আন্দোলনে। যদি আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি, তাহলে ২০১৪ সালের উদাহরণ আছে। এ ঝুঁকি বাংলাদেশ আবার নেবে কি না- সেটা হচ্ছে বিষয়। জানা গেছে, আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপি বেশ সতর্কভাবে এগোচ্ছে। নির্বাচনে অতি উৎসাহ দেখানোর পক্ষপাতী নয় তারা। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করেই ধাপে ধাপে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। নির্বাচন এখনো দূরে থাকায় দলটি দাবি-দাওয়ার মধ্যেই আরো কয়েকটি মাস পার করতে চায়। তবে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে কর্মসূচির ধরন আমূল পাল্টে ফেলতে পারে বিএনপি।

ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি কাল থেকে

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এবার ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে আগামীকাল শুক্রবার থেকে। ওইদিন ২৭ আগস্টের ট্রেনযাত্রার টিকেট বিক্রি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। আজ বৃহস্পতিবার রেলভবনে ঈদসেবা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির সূচি তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, ১৮ থেকে ২২ অগাস্ট ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঈদযাত্রার আগাম টিকেট বিক্রি হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কাউন্টারে এই টিকেট পাওয়া যাবে। ১৮ অাগস্ট বিক্রি হবে ২৭ আগস্টের টিকেট, ১৯ অাগস্ট বিক্রি হবে ২৮ আগস্টের টিকেট, ২০ অাগস্ট বিক্রি হবে ২৯ আগস্টের টিকেট, ২১ অাগস্ট বিক্রি হবে ৩০ আগস্টের টিকেট, ও ২২ অাগস্ট বিক্রি হবে ৩১ আগস্টের টিকেট। বর্ষায় দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ট্রেনের ওপর এবার বাড়তি চাপ পড়বে জানিয়ে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, চাপ সামলাতে রেলওয়ে সব প্রস্তুতি নিয়েছে। ঈদের সময় প্রতিদিন সারাদেশে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে রেলওয়ে।… আমরা ১৩৮টি কোচ বাড়তি যোগ করেছি। এছাড়া ইঞ্জিনের সংখ্যা বাড়িয়েছি। আগে ঈদের তিন দিন আগে থেকে ঈদের বিশেষ ট্রেন চালাতাম। এবার ঈদের চার দিন আগে থেকে সাত জোড়া স্পেশাল ট্রেন দিচ্ছি, তা চলবে ঈদের পর সাত দিন পর্যন্ত। এবার ঈদ উপলক্ষে ২৯ অাগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর এবং ঈদের পরে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ, রাজশাহী, পার্বতীপুর এবং চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর রুটে যাত্রী পরিবহন করবে এসব বিশেষ ট্রেন। শোলাকিয়া ঈদগায় যাতায়াতের জন্য ঈদের দিন ভৈরববাজার থেকে কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ রুটে দুটি ট্রেন চালানো হবে।

আদালত পরিবর্তনে খালেদা জিয়ার আবেদনের আদেশ রোববার

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আদালত পরিবর্তন চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আবেদনের আদেশের দিন পিছিয়ে আগামী রোববার ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো: শওকত হোসেন ও বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের দিন পিছিয়ে এ দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১০ আগস্ট খালেদা জিয়ার করা আবেদনের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। এর আগে গত ৭, ৮ ও ৯ আগস্ট খালেদার আবেদনের ওপর শুনানি হয়। গত ৬ আগস্ট জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আদালত পরিবর্তন চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আবেদন করেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বর্তমানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ চলছে।

রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতে জাতি উদ্বিগ্ন : মির্জা ফখরুল

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করায় জাতি উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা ব্যক্ত করেন। গতকাল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গতকাল দেখলাম প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং নিজে এ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইন মন্ত্রীকে সাথে নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পরে এভাবে সাক্ষাৎ করায় জাতি উদ্বিগ্ন এবং হতাশ। এরআগেও আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করলেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতা রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল। এজন্য ভবিষ্যতে তাদের জনগণের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা এবং দেশের মানুষ মনে করে বর্তমান রাজনীতিতে এ রায়ে যে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের জন্য, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য এ রায় শুধু যুগোপযোগী নয় ঐতিহাসিক। আমি মনে করি এটি একটি দলিল। তিনি বলেন, এখানেই আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। সরকার দেখছে যে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। আওয়ামী লীগ যে অবৈধভাবে দীর্ঘ দিন শাসন চালিয়ে আসছে তার প্রকাশ ঘটেছে এই রায়ের মধ্য দিয়ে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিচার বিভাগ নিজেরাই বলেছে, সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। সরকারের দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীনরা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভ শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে।এসময়, এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ৯৮ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলটির আয়োজন করে ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ।

সর্বসম্মতভাবে দেয়া রায়কে অপমান করা যায় না : বি চৌধুরী

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বিচারের বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার ব্যাপারে সবাই কথা বলতে পারেন। সর্বসম্মতভাবে এ রায় দেয়া হয়েছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু অপমান করা যায় না। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে যে ভাবে কথা হচ্ছে কা নিয়ে আমি অন্যরকম সংশয় করছি। তারা রাষ্ট্রের একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কোটের সংগে যেভাবে লড়াইয়ের মতো পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ছেন- এটা অভিপ্রেত নয়, এটা অনঅভিপ্রেত। এবং এটা ভবিষ্যতে কোন চেহারা নিতে পারে কি-না তা সবাইকে ভাবতে হবে। রাষ্ট্রের ভেতর সরকার ও সংসদ দু শক্তি জোট বেঁধে তৃতীয় যে শক্তি বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে এভাবে লড়ে যাওয়া ভালো লক্ষণ নয়। আমার সন্দেহ হচ্ছে এটার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো অবৈধ অসংবিধানিক সরকার আসার প্রেক্ষাপট রচনা করতে পারে কি-না-এ প্রশ্ন আসছে। এ সুযোগে যদি কোনো অসাংবিধানিক সরকার গঠনের প্রচেষ্টা এর থেকে বেরিয়ে আসে তার জন্য কে দায়ী হবে। এটাই চিন্তা। ভালো হবে বিচার বিভাগ যা বলেছে তা মাথা পেতে নেয়া-এটাই সরকারের জন্য ভালো হবে। আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের ‘ভিআইপি লাউঞ্জে’ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র উদ্যোগে ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় : অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ও বাংলাদেশের রাজনীতি’ শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনায় ডা. একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী একথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। অন্যদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বন্যার কারণে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা

বন্যার কারণে দেশে কোনো খাদ্য সঙ্কট হবে না বলে সরকার আশ্বস্ত করতে চাইলেও, চাল আমদানিতে ধীরগতির ফলে খাদ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর ড. এম আসাদুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাজারকে প্রভাবিত করার মত মজুদ সরকারের হাতে নেই। "গত ছয় মাস ধরে আমরা শুনছি তারা আমদানি করবেন, কিন্তু আমদানি তারা এখন পর্যন্ত করেন নাই।" তিনি বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৫ হাজার টন চাল আমদানি করতে পেরেছে, আর মজুদ আছে দুই লাখ ১৫ হাজার টন। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় যদি ব্যাপকভাবে ত্রাণ দিতে হয়, তাহলে সরকার সেটা 'কোথা থেকে দেবে' তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ড. আসাদুজ্জামান। সরকারী তথ্য বিবরণীতে দেখা যায়, বুধবার পর্যন্ত বন্যাদুর্গত ২০টি জেলায় ত্রাণের জন্য তিন হাজার ১০০ টন চাল মজুদ রয়েছে। কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, সরকারের হাতে অর্থ আছে এবং চাল আমদানি করা হবে। সেই প্রসঙ্গ টেনে ড. আসাদুজ্জামান বলেন, "চীনে এ বছর ফলন কম হয়েছে। তারা এরই মধ্যে চালের বিশ্ববাজারে ঢুকে পড়েছে। আমরা কি চীনের সাথে কম্পিট করে কিনতে পারবো? সেটা সম্ভব হবে না।" তিনি বলেন, এখন টেন্ডার ডেকে চাল আমদানি করতে গেলে তাতেও দুই থেকে আড়াই মাস লেগে যাবে। বাংলাদেশে এক বছরে তিন দফা বন্যার ফলে বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়েছে এবং আরো অনেক ফসল নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সরকারী হিসেবে হাওর এলাকায় মাস তিনেক আগের বন্যাতেই বোরো উৎপাদন ২০ লাখ টন কম হয়েছে। এবার উত্তরাঞ্চলের বন্যায় আমন ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু মাঠের ফসল নয়, অনেক কৃষকের মজুদ করা গোলার ধানও পচে গেছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে অনেককেই হয়তো ত্রাণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। লালমনিরহাটের একজন কৃষক শুক্কুর উদ্দিন বলেন, তার চাষ করা ধানের ৯০ শতাংশই প্রায় সপ্তাহখানেক পানিতে ডুবে আছে। তার ধারণা, এই ধানের পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে গোলার ধানও পচে গেছে। ড. আসাদুজ্জামান বলছেন, পানি যদি দ্রুত সরে যায় এবং কৃষি অধিদফতর যদি চারা দিতে পারে, তাহলে হয়তো কৃষকরা আবার কিছুটা আমন চাষ করতে পারবেন।
উত্তরাঞ্চলে ভয়াল রূপ নিয়েছে বন্যা
উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট জেলায় বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিনাজপুর বা কুড়িগ্রামের অনেক জায়গায় স্থানীয়রা বলছেন তারা জীবনে এরকম দুর্যোগের মুখোমুখি হননি। সরকারি হিসাবেই ২১টি জেলায় অন্তত ৩৩ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে গেছে। অনেকগুলো জেলায় রাস্তা, রেললাইন ডুবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপদ্রুত লাখ লাখ মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও উঁচু জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। পুরো দিনাজপুর জেলাই বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে পাঁচদিন ধরে। সেখানকার মানুষ গত প্রায় তিন দশকে বন্যার এত পানি দেখেননি। বন্যায় তলিয়ে থাকা দিনাজপুর শহরের একটি স্কুলে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ইয়াসিন আলী বলছিলেন, "জেলা শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে গ্রামে আমার ঘরের টিনের চাল পর্যন্ত পানি। ঘরের কিছুই বের করতে পারিনি। শুধু মানুষগুলো বেরিয়ে এসে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছি। এখানে খাদ্য এবং খাবার পানির অভাবে আমরা খুব অসহায় হয়ে পড়েছি।" একই আশ্রয়কেন্দ্রে দুই শিশু এবং স্বামীসহ উঠেছেন নূরজাহান বেগম। তিনি বলছিলেন,সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা, কারও কাছ থেকেই সেভাবে ত্রাণ সহায়তা তাঁরা পাচ্ছেন না। তিনি বা তার স্বামী একবেলা খেয়েও বেঁচে থাকতে পারবেন। কিন্তু তিনি কোলের দুই শিশুর খাবার জোগাড় করা নিয়ে চরম দুরবস্থায় পড়েছেন। দিনাজপুরে এবারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আমন ধানের। সেখানকার সাংবাদিক আসাদুল্লাহ সরকার জানিয়েছেন, দিনাজপুরে দুই লাখ আটাত্তর হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়। দিনাজপুরে আগেই আমন ধান রোপন করা হয়েছে। বন্যায় দুই লাখ হেক্টর জমিই পানির নিচে গেছে। নতুন করে আমন রোপনের বীজতলাও নেই। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরিস্থিতি সামলে ওঠা বেশ কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন। উত্তরের বন্যা কবলিত আরেকটি জেলা গাইবান্ধার শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। সেখানকার মানুষের মাঝে আতংক তৈরি হয়েছে। জেলাটির পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রৌকশলী মাহবুবুর রহমান বলছিলেন, "গাইবান্ধাকে রক্ষার জন্য ২২৭ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এই বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় ইঁদুর আর উইপোকার গর্ত। এসব গর্ত দিয়ে পানি ঢুকে বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে। তবে গর্তগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। আর এখন পানি কমতে শুরু করায় বাঁধ ভাঙ্গার সম্ভাবনা নেই।" উত্তরের কুড়িগ্রাম এবং লালমনিরহাটসহ অন্যান্য জেলাগুলোতেও এবং বিভিন্ন নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় মানুষকে বেশি দুরবস্থায় পড়তে হয়েছে। নদী এবং বন্যা নিয়ে কাজ করেন রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ। তিনি বলছিলেন, "কখনও খনন না করায় উত্তরের নদীগুলো সব ভরাট হয়ে গেছে।ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং উজানে ভারত থেকে যে পানির ঢল এসেছে, তা এখানকার নদীগুলো ধারণ করতে পারেনি এবং অনেক নদীর বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।" "আর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় অনেক উঁচু হয়ে জ্বলোচ্ছাসের মতো হু হু করে পানি এসেছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। এমন ভয়াবহ পানির তোড়ে অনেক এলাকার মানুষ ভিটেমাটিতে সব ফেলে শুধু নিজের জীবনটা নিয়ে বেরিয়ে এসেছে।" উত্তর পূর্বে সিলেট অঞ্চলে সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যায় এবার বেশি ক্ষতি হয়েছে। বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলছিলেন, "উত্তরে যমুনা নদীর পানি এখন কমতে শুরু করেছে। এই পানি পদ্মা নদী দিয়ে বেরিয়ে যাবে। ফলে এখন রাজবাড়ী, শরিয়তপুর, মুন্সিগঞ্জসহ মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যার পানি আসছে।" সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন যে, এবার উত্তরের জেলাগুলোর মানুষ আগের বছরগুলোর তুলনায় বয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা তারা করছেন।

ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে একথা বলা হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় (৩ দিন) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কি.মি.। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। আবহাওয়া অধিদফতর আরো জানায়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।

বিমানের আরো দুই হজ ফ্লাইট বাতিল

যাত্রীসংকটের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আরো দুটি নিয়মিত হজ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এই দুই ফ্লাইট যাত্রার কথা ছিল। যে দুটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, সেগুলো হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভোর ৬টা ৫ মিনিটের বিজি-১০৭৩ ও বেলা ১টা ২৫ মিনিটের বিজি-৫০৭৩। এদিকে আজ ভিসা জমা দেওয়ার শেষ দিন হলেও ৪ হাজার ৭৭৬ জন হজযাত্রীর পাসপোর্ট হজ কার্যালয়ে জমা পড়েনি। বিমান কর্তৃপক্ষ জানান, হজযাত্রীসংকটের কারণে আজকে বিমানের দুটি নিয়মিত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এভাবে ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিমান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহন শুরু হয় গত ২৪ জুলাই। শুরুর দিকে পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় গত ২০ দিনে বিমান ও সৌদি এয়ারলাইনসের ২৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল বা সময় পেছানো হয়েছে। এর মধ্যে বিমানেরই ২৫টি ফ্লাইট বাতিল হলো। এদিকে হজ কার্যালয় জানিয়েছে, এ বছর হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। এর মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ৪২২ জনের ভিসা হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ৪ হাজার ৭৭৬ জনের পাসপোর্ট জমা হয়নি। এঁরা সৌদি আরবে হজে যেতে ভিসা পাবেন না। সৌদি আরবে হজে যেতে আজ হজযাত্রীদের পাসপোর্ট বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাসে জমা দেওয়ার শেষ দিন। তাই আজকের মধ্যেই সব পাসপোর্ট জমা পড়তে হবে। হজ কার্যালয়ের হিসাবে, আজ বেলা ১১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৭৩ হাজার ৪৫ হজযাত্রী। আর ভিসা নিয়ে টিকিট কেটে সৌদিতে যাত্রার অপেক্ষায় আছেন ৪৯ হাজার ৩৭৭ হজযাত্রী। হজ ফ্লাইটের সূচি অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ ও ২৭ আগস্ট সৌদি এয়ারলাইনসের ঢাকা থেকে শেষ হজ ফ্লাইট পরিচালনা করার কথা। বাকি ১০ দিনে প্রায় ৫০ হাজার হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে।
৪০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বিমান
ভিসা জটিলতায় যাত্রী না পেয়ে ১৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক আহমেদ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বিমানের বলাকা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এ পরিস্থিতির যে অবসান হবে, সেই জায়গাটায় আমরা এখনও যেতে পারছি না।” এজন্য সরাসরি কাউকে দায়ী না করলেও বাড়ি ভাড়া করার ক্ষেত্রে হজ এজেন্সিগুলোর সমন্বয়হীনতার কথা বলেছেন বিমানের এমডি। এ সঙ্কট কাটিয়ে হজযাত্রীদের সবাইকে সৌদি আরবে পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, এ পর্যন্ত বিমানের ৫৪টি ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট এবং ১৬টি শিডিউল ফ্লাইটে ২৪ হাজার ১১৫ জনকে সৌদি আরব পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সার্বিক পরিস্থিতি কঠিন হলেও তা এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। সব হজযাত্রীকে সময়মতো জেদ্দা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আমরা এখনও আশাবাদী।” সৌদি সরকারের কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাওয়ার কথা। কিন্তু ভিসা জটিলতা, সৌদি আরবে মোয়াল্লেম ফি বৃদ্ধি এবং টানা দ্বিতীয়বারের হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে ভিসা ফি বৃদ্ধির ফলে এবারের হজযাত্রায় জটিলতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিমানের এমডি ও সিইও মোসাদ্দেক আহমেদ বলেন, “হজ যাত্রী পরিবহনে আমরা লাভ লোকসান হিসাব করি না। এখানে ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। এটাকে লোকসান বলব না, কারণ এ আয় থেকে আমাদের খরচও হত।”
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের হজ যাত্রীদের এমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে তার জানা নেই। তারা সরকারিভাবে হজ পালন করতে যায়। যাত্রীদের পাঠানোর দায়িত্ব নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের ওপরই থাকে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার ৩০ অগাস্ট হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। সৌদি সরকার ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত ভিসা দেবে এবং হজের শেষ ফ্লাইট যাবে ২৬ অগাস্ট। গত ২৪ জুলাই ফ্লাইট শুরুর পর ১৬ দিনে ৭০টি ফ্লাইটে ৪০ হাজারের মত হজ যাত্রীকে সৌদি আরব পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে বিমান ২৪ হাজার ১১৫ জনকে জেদ্দা নিয়ে গেছে।  এক সপ্তাহের মধ্যে ৫২ হাজার হজ যাত্রীর ভিসা করিয়ে সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে তাদের জন্য ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার বিষয়টিকে ‘বেশ কঠিন’ বলেই মনে করছেন মোসাদ্দেক আহমেদ। তিনি বলেন, এটা খুব চ্যালেঞ্জিং একটা সিচুয়েশন। সিচুয়েশনটা ইমপ্রুভ করা দরকার। আমরা এর মধ্যে হজযাত্রী পরিবহনের জন্য ১৪টি স্লটের আবেদন করেছিলাম। যার মধ্যে সাতটি আমরা ব্যবহার করতে পারব। বিমানের এত বেশি ফ্লাইট বাতিল হলেও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে ততটা সমস্যা না হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মোসাদ্দেক বলেন, সৌদিয়ার কোন হজ ফ্লাইট নাই। সেখানে শিডিউলড ফ্লাইটে যাত্রীরা যাতায়াত করছে। কিন্তু বিমানের যেগুলো বাতিল হয়েছে সবগুলো হজ ফ্লাইট। যাত্রী না থাকার কারণে সেগুলো বাতিল হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিমানের মার্কেটিং এন্ড সেলস বিভাগের পরিচালক মো. আলী আহসান, ফ্লাইট অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন ফরহাদ হাসান জামিল এবং জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ উপস্থিত ছিলেন।