Showing posts with label মেক্সিকো. Show all posts
Showing posts with label মেক্সিকো. Show all posts

Saturday, February 21, 2026

মেক্সিকোতে এক দশকে গুমের ঘটনা বেড়েছে ২০০ শতাংশ

লাতিন আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে গত দশ বছরে গুমের ঘটনা ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেশটির পাবলিক পলিসি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান ‘মেক্সিকো ইভালু’। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, গত এক দশকে দেশটিতে গুমের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য একটি অংশ তরুণ। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান

এতে বলা হয়, ২০২২ সালের আগস্টের এক উজ্জ্বল সকালে ৩১ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক অ্যাঞ্জেল মন্টেনেগ্রোকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মেক্সিকোর কুয়াউতলা শহরে সারারাত বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পর তিনি কুয়ের্নাভাকায় ফেরার জন্য বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন। সকাল ১০টার দিকে একটি সাদা ভ্যান এসে থামে। কয়েকজন ব্যক্তি নেমে তাকে ও তার এক সহকর্মীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। কিছু দূর গিয়ে সহকর্মীকে ছেড়ে দেয়া হলেও মন্টেনেগ্রোকে আর পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে তার মা প্যাট্রিসিয়া গার্সিয়া দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে পাওয়া যায় শুধু তার ছেলের একটি ক্যাপ ও এক পাটি জুতা। তিন বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ছেলেকে খুঁজে ফিরছেন। গার্সিয়া বলেন, রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে হতাশা শুরু হয়।

মন্টেনেগ্রো মেক্সিকোর ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি নিখোঁজ বা গুম হওয়া মানুষের একজন। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই গুমের সংকট চলছে। জননীতি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান গল্কীরপড় ঊাধষúধ–র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে দেশে গুমের ঘটনা ২০০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

মেক্সিকো ইভালুর নিরাপত্তা বিশ্লেষক আরমান্দো ভার্গাস বলেন, এটি জাতীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া সমস্যা। তার মতে, গত এক দশকে অপরাধী চক্রগুলোর দেশজুড়ে বিস্তার এবং মাদক পাচারের বাইরে নতুন নতুন অপরাধে জড়িয়ে পড়াই গুম বৃদ্ধির বড় কারণ।

অপরাধী গোষ্ঠীগুলো নতুন সদস্য সংগ্রহে জোরপূর্বক নিয়োগ করছে এবং নতুন এলাকা দখলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘নিশ্চিহ্ন’ করছে। সরাসরি হত্যা করলে নজরদারি বাড়ে বলে অনেক ক্ষেত্রে তারা লাশ গোপন কবরস্থানে পুঁতে ফেলে, পুড়িয়ে ফেলে বা অ্যাসিডে গলিয়ে দেয়। এভাবে লাশ গুম করে সহিংসতাকে ‘অদৃশ্য’ করে ফেলা হয় বলে মন্তব্য করেন ভার্গাস।

এদিকে মেক্সিকো সরকার অপরাধী চক্রগুলোর বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। ২০১৮ সালে সরকার নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে একটি জাতীয় অনুসন্ধান কমিশন গঠন করে এবং একটি উন্মুক্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করে। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে।

২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোর নিখোঁজের তালিকা পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেন এবং সংখ্যা কমিয়ে ১২ হাজার ৩৭৭ দেখান। এতে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমকে প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তা খারিজ করে বলেন, আগের প্ল্যাটফর্মে অনেক সমস্যা ছিল এবং সরকার নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, নিবন্ধিত গুমের সংখ্যাও প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় কম হতে পারে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে মেক্সিকোতে ৯৬ শতাংশের বেশি অপরাধের কোনো সমাধান হয়নি।

সরকারি উদ্যোগের ঘাটতির কারণে গার্সিয়ার মতো বহু মা নিজেরাই খোঁজে নেমেছেন। তিনি ১২ নারীর একটি দলে যুক্ত হয়ে নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় ধাতব রড দিয়ে মাটি খুঁড়ে সম্ভাব্য গণকবরের সন্ধান করেন। মন্টেনেগ্রোর ফোনের শেষ সিগন্যালের সূত্র ধরে তারা কুয়াউতলার উপকণ্ঠের একটি মাঠে ছয়টি লাশ পান। কিন্তু এখনও তার ছেলের খোঁজ মেলেনি।

মেক্সিকোতে এক দশকে গুমের ঘটনা বেড়েছে ২০০ শতাংশ

Friday, January 9, 2026

ভেনেজুয়েলার পর কলম্বিয়া, কিউবা, মেক্সিকোর দিকে দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের

ভেনেজুয়েলায় ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামে সামরিক অভিযানে নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের পর দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্রের চোখ এখন কলম্বিয়া, কিউবা ও মেক্সিকোর দিকে। অনেকেই বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী টার্গেট হতে পারে এই দুটি দেশ। এরই মধ্যে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কিউবা। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো প্রসঙ্গে বলেছেন, তাদের সঙ্গে অবশ্যই কিছু একটা করতে হবে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করেছেন। তিনি  পেত্রোকে উদ্দেশ্য করে বলেন- তাকে ‘নিজের খবর রাখতে হবে।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোকেন তৈরি করছেন এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছেন। সুতরাং তাকে নিজের খবর রাখতে হবে।

মাদুরোর নাম উল্লেখ না করেই পেত্রো ওয়াশিংটনের অভিযানকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের উপর হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে, এর ফলে মানবিক সংকট তৈরি হবে। ট্রাম্প ক্যারিবিয়ানে কথিত মাদক চালানবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে সামরিক মোতায়েনের নির্দেশ দেয়ার পর থেকেই পেত্রো এসব পদক্ষেপের সমালোচক। মাদকবিরোধী কৌশলের অংশ হিসেবে ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দেন যে, কলম্বিয়ার মাদক উৎপাদন ল্যাবেও হামলা চালানো হতে পারে। একে পেত্রো ‘আক্রমণের হুমকি’ বলে নিন্দা করেন।

কারাকাস থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরিয়ে নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে দেশটি পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বিচক্ষণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা না যায়, ততক্ষণ আমরা দেশটি পরিচালনা করব। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের দ্বিতীয় আক্রমণ চালানোর জন্য প্রস্তুত।

লাতিন আমেরিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, পশ্চিম গোলার্ধে আবার কখনও আমেরিকার আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না। তার ভাষায়, আমরা নিজেদের চারপাশে ভালো প্রতিবেশী চাই, স্থিতিশীলতা চাই, শক্তির উৎস চাই। ওই দেশে আমাদের বিরাট ‘এনার্জি’ রয়েছে এবং সেটাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। আমাদের নিজেদের জন্যই তা প্রয়োজন।

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন যে, দেশটিকে আবার মহান করতে যা দরকার তিনি তা করতে আগ্রহী। তবে বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর দেশীয় সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, তার (মাচাদো) জন্য নেতা হওয়া খুব কঠিন হবে। দেশে তার ভেতরে সেই সমর্থন বা সম্মান নেই। তিনি খুব ভদ্র একজন নারী, কিন্তু তার সে সম্মান নেই।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বড় তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় পাঠাবে। ভেঙেপড়া তেল অবকাঠামো মেরামতে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে এবং দেশের জন্য আয় সৃষ্টি করবে। তার ভাষায়, আমাদের বিশাল মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে যাবে, বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, ভেঙেচুরে যাওয়া তেল বিষয়ক অবকাঠামো ঠিক করবে এবং দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে। ভেনেজুয়েলার সব তেলের ওপর আরোপিত অবরোধ বহাল আছে। আমেরিকান নৌবহর প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক বিকল্প খোলা রয়েছে যতক্ষণ না আমাদের সব দাবি পুরোপুরি মেনে নেয়া হয়।

মেক্সিকো ও কিউবার উদ্দেশে বার্তা
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কিউবা। তিনি বলেন, আমি যদি হাভানায় সরকারে থাকতাম, তাহলে অন্তত কিছুটা হলেও চিন্তিত হতাম।
লাতিন আমেরিকায় দীর্ঘ সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এর মধ্যে ১৯৬১ সালের কিউবান নির্বাসিতদের নেতৃত্বাধীন ব্যর্থ ‘বে অব পিগস’ অভিযান, যা ফিদেল কাস্ত্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল। মেক্সিকো প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটির সঙ্গে কিছু একটা করতেই হবে। তিনি দাবি করেন, আমরা তার  (প্রেসিডেন্ট শেইনবাউমের) সঙ্গে খুব বন্ধুত্বপূর্ণ। তিনি একজন ভালো নারী। কিন্তু মেক্সিকো চালাচ্ছে মাদক কার্টেলগুলো।
ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমকে বহুবার জিজ্ঞেস করেছেন ‘আপনি কি চান আমরা ওই কার্টেলগুলোকে গুঁড়িয়ে দিই?’ কিন্তু তিনি নাকি সবসময়ই ‘না’ বলেছেন।

mzamin

Saturday, June 15, 2024

মাইলের পর মাইলজুড়ে পচছে মরা মাছ

খরার কারণে শুকিয়ে গেছে একটি হ্রদ। এতে মারা গেছে হাজারো মাছ। সেসব সেখানেই পচে নষ্ট হচ্ছে। ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শুকিয়ে যাওয়া হ্রদের তলদেশ পরীক্ষা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। হ্রদের তলদেশে এ সময় প্রচুর সংখ্যক আটকে থাকা মাছ দেখা যাচ্ছিল। ঘটনাটিকে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক প্রভাব বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

প্রচণ্ড খরায় হ্রদ শুকিয়ে হাজারো মাছ মরে যাওয়ার এমন ঘটনা ঘটেছে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, যে হ্রদটির পানি শুকিয়ে গেছে সেটির নাম বুস্টিলোস।

বর্তমানে এটির কিছু অংশে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ পানি কম রয়েছে। আর বাকি অংশ একেবারেই শুকিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই হ্রদের তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সিনহুয়া।

মূলত এক সপ্তাহ আগে প্রচণ্ড রোদে হ্রদের পানি গরম হয়ে লেকের নিচে ফাটল তৈরি হয়। এরপর সেই ফাটল এবং কাদায় মরা মাছ স্তূপ হতে শুরু করে। বুধবার নাগাদ সেই মরা মাছ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।

মরা মাছের আধিক্যের কারণে এলাকায় মাছি ও মশার উপদ্রবও বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কায় এসব মরা মাছ পরিষ্কার করতে শ্রমিক নিয়োগ করে কর্তৃপক্ষ।

সামগ্রিকভাবে মেক্সিকোতে তাপমাত্রা সর্বকালের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে উচ্চ তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে দেশটির রাজধানীসহ বেশ কয়েকটি শহরে।

এই অঞ্চলে বর্তমান তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে। উত্তর আমেরিকার এই দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া চলতি উষ্ণ মৌসুমে গরমের কারণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২৫ জনের। 

বুস্টিলোস লেকে মরা মাছ। ছবি : সংগৃহীত
বুস্টিলোস লেকে মরা মাছ। ছবি : সংগৃহীত

Thursday, September 26, 2019

গুম, হত্যা আর মৃতদেহ উদ্ধারের একের পর এক ঘটনা ভীতিকর করে তুলেছে মেক্সিকোর যে শহরকে

মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা শহরের সবুজে ছেয়ে থাকা শহরতলী লা এস্তান্সিয়া। সেখানে যে সমস্যা আছে তার ইঙ্গিত দেয় বাড়িগুলোর সামনে ঝোলানো 'বিক্রির জন্য' সাইনবোর্ডগুলো।
রাস্তার পাশেই একটি বাড়ি থেকে একটি গলিত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর গত মে মাস থেকেই মানুষজন এলাকা ছাড়তে শুরু করেছে।
গত মাসেই একজন অপহৃত ব্যক্তি পালিয়ে এসে পুলিশকে যে ঠিকানা দিলো সেখানে গিয়ে পুলিশ পেলো একটি মৃতদেহ আর তিনটি বিচ্ছিন্ন মস্তক।
এ বছরেই সব মিলিযে পনেরটির বেশি খুন হয়েছে হালিস্কো রাজ্যের এই রাজধানী শহরে। এর বাইরে শহরটির গোরস্তানগুলোতে সৎকার করা হয়েছে আরো অনেক মৃতদেহ যেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন বাড়ি থেকে।

"আপনি ভয় অনুভব করতে পারবেন"

দেশটিতে ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার মানুষের নিখোঁজ হবার রিপোর্ট হয়েছে পুলিশের কাছে। নিঃসন্দেহে এটা একটা ভীতিকর তথ্য।
অপরাধীরা ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে এসে মৃতদেহ মাটি চাপা দিয়ে রাখছে। এর ফলে ব্যক্তি সেসব সম্পত্তিতে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধারের পথে তৈরি হচ্ছে আইনি বাধা।
তল্লাশি দলকে অনেক ক্ষেত্রে কংক্রিট খুঁড়তে হচ্ছে মৃতদেহ বের করে আনার জন্য।
স্থানীয়দের কেউ কেউ চিৎকার শুনে বা মাংস পোড়ার গন্ধ পেয়ে পুলিশকে জানালেও খুব কম সংখ্যকই এটা করার সাহস পায়।
মাদক গ্যাং গুলো মৃতদেহ গুম করতে এসব জায়গা ব্যবহার করে
লা এস্তান্সিয়ার একজন অধিবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছিলেন, "আপনি ভীতিটা বুঝতে পারবেন। এটা অনুভব করা যায়।"
২০০৬ সাল থেকে মেক্সিকো সরকার যখন মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে সৈন্য মোতায়েন করলো এরপর বের হলো অনেকগুলো গণকবর।
এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে ২০০৬ থেকে ১৬ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত ১৯৭৮টি এরকম গোরস্তানের সন্ধান মিলেছে।

'মৃতের জন্য খনন'

পুরো মেক্সিকো জুড়ে নিখোজ স্বজনের দেহাবশেষ খুঁজে পেতে মরিয়া হয়ে নানা জায়গা খনন করে দেখছেন।
আর অনানুষ্ঠানিক এসব অনুসন্ধান থেকে বেরিয়ে আসছে আতঙ্কজনক খবর।
২০১৬ সালে পূর্বাঞ্চলীয় ভারাকুয রাজ্যে একটি জায়গায় পাওয়া যায় ২৯৮ টি মৃতদেহ ও ছিন্ন বিচ্ছিন্ন কয়েক হাজার হাড়গোড়।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে একত্র করে এমন একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য গুয়াদালুপে আগুইলার নিজেও তার সন্তানের খোঁজ করছেন যিনি ২০১১ সাল থেকে নিখোঁজ আছেন।
"এখানে শহরের মধ্যে মৃতদেহ বহন করে নেয়াও ঝুঁকির কাজ। আবার কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অনুসন্ধান করাও কঠিন কারণ এজন্য সার্চ ওয়ারেন্ট দরকার হয়"।

যুদ্ধের শহর

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন গুয়াদালাজারায় যাদের মাটি চাপা দেয়া হয়েছে তার জন্য দায়ী দুটি গ্যাং।
আট বছর ধরে সন্তানকে খুঁজছেন এই মা
এর মধ্যে একটি হলো মেক্সিকো সরকারের বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অপরাধমূলক সংগঠন 'হালিস্কো নিউ জেনারেমন কার্টেল'।
আরেকটি হলো 'নুয়েভা প্লাজা'।
মূলত সিজেএনজি ভেঙ্গেই নুয়েভার জন্ম হয়েছিলো ২০১৭ সালে।
ওই কর্মকর্তা বলেন এসব গ্যাং ভূস্বামীদের কাছ থেকে জমিভাড়া নেয় আর তখন বিবেচনাও করা হয়না যে ওই জায়গা কি কাজে ব্যবহার করা হবে।
"তারা পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত সম্পত্তি নিয়ে সেখানে নির্যাতন কেন্দ্র বা গোরস্তান বানায়"।
পুলিশ কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন অন্য রাজ্যগুলোতেও অপরাধীদের এধরণের কাজের বিস্তার হতে পারে।

কেউ দেখছেনা

২০১৮ সালে হালিস্কো রাজ্য সরকার ও ফেডারেল সরকার দুটোতেই পরিবর্তন এসেছে।
হালিস্কোর ফরেনসিক প্রধান অক্টাভিও কোটেরো বলছে নতুন নেতৃত্বও গুম সংকটের দিকে যথার্থ দৃষ্টি দিচ্ছেনা।
তার মতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উদ্ধারের ঘটনায় এমন পর্যায়ে গেছে যে এগুলো চিহ্নিত করার সক্ষমতা আর নেই।
মি. কোটেরোর কন্যাকেও গত জুলাই থেকে পাওয়া যাচ্ছেনা।
এখনো জানা যায়নি সে আসলে কোথায়।
মি. কোটেরো বলছেন, "আসলে এদিকে আরও দৃষ্টিই নেই"।
কোনো বাড়িতে মৃতদেহ পেলে এভাবে বন্ধ করে দেয় পুলিশ

Monday, September 16, 2019

কূপ থেকে উদ্ধার ৪৪টি মরদেহ শনাক্ত করেছেন মেক্সিকোর বিজ্ঞানীরা

মেক্সিকোর জেলিস্কো রাজ্যের একটি কূপ থেকে উদ্ধার মানবদেহের খণ্ডিত অংশগুলো থেকে ৪৪টি মরদেহ শনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন দেশটির ফরেনসিক বিজ্ঞানীরা। দেশটির গুয়াদালাজারা শহরের ঠিক বাইরে থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের ওই অংশগুলো ১১৯টি কালো ব্যাগে করে একটি কূপে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ওই বিচ্ছিন্ন অংশগুলো সেপ্টেম্বরের গোড়ার দিকে উদ্ধার হওয়ার পর সম্প্রতি ওইগুলো ৪৪ ব্যক্তির মরদেহ বলে শনাক্ত করেন ফরেনসিক বিজ্ঞানীরা।
মেক্সিকোর ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা প্রথমে সেখান থেকে আসা দুর্গন্ধের অভিযোগ করার পর সেপ্টেম্বরের গোড়ার দিকে মানবদেহের ওই অংশগুলো উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। দেশটির মাদক সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হলো জেলিস্কো। এটা সহিংসতাপূর্ণ রাজ্যগুলোরও অন্যতম একটি। চলতি বছর এ রাজ্যে মরদেহের সন্ধান পাওয়ার এটা দ্বিতীয় বড় ঘটনা।
মানবদেহগুলোর বেশিরভাগ অংশ কেটে ফেলা হয়েছিল,  এজন্য কর্তৃপক্ষকে ওইগুলো শনাক্ত করতে বিভিন্ন অংশ একত্র করতে হয়। তবে এখনও অনেক অংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় একটি সংস্থা যারা নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করে। তারা শনাক্তকরণে সহায়তার জন্য আরও বিশেষজ্ঞ পাঠানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে। তারা জানিয়েছে, স্থানীয় ফরেনসিক বিভাগ ওই কাজে নিযুক্ত, তবে তাদের এ কাজ সম্পন্ন করার মতো প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে লড়তে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর থেকে মেক্সিকোতে মাদক সংশ্লিষ্ট সহিংসতা বেড়েছে। তখন থেকে দুই লাখেরও বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ৩৭ হাজার মানুষ। স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজ বা গুম যাওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান পেতে মেক্সিকো সরকার খুব বেশি সক্রিয় নয়। এর আগেও ২০১৭ সালের মার্চে ভেরাক্রুজ রাজ্যের একটি গণকবর থেকে ২৫০টি মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়। তার আগে গুয়েরেরো রাজ্যের ৪৩ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়ে গেলে তাদের সন্ধান করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায় ওই রাজ্যে। ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এমন আরও একটি গণকবরের সন্ধান পায় কর্তৃপক্ষ।

Wednesday, July 3, 2019

মেক্সিকো নয়, যুক্তরাষ্ট্রেই আশ্রয় চান অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী মধ্য আমেরিকার অনেক শরণার্থীকে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত মার্কিন অভিবাসন নীতিবিরোধী নেতাদের সমর্থনে এত দিন মেক্সিকোর অন্যতম সহিংসতাপ্রবণ এক শহরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন তাঁরা। অবশেষে অভিবাসীরা গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন বলে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়।
তীরের কাছাকাছি উপুড় হয়ে পড়ে থাকা এল সালভাদরের নাগরিক অস্কার (২৫) ও তাঁর দুই বছর বয়সী মেয়ে ভ্যালেরিয়ার মরদেহের ছবি সম্প্রতি সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে। এ ঘটনার সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ অভিবাসন সমস্যা সমাধানে ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজের অনুমোদন দেয়। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে উপচে পড়া শরণার্থীদের সাহায্য করতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের সদস্যরা। এই নীতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের কাছ থেকে আবেদনের ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষারত শরণার্থীদের মেক্সিকো সীমান্তে পাঠানো হয়। একে রিমেইন ইন মেক্সিকো বা মাইগ্রেন্ট প্রোটেকশন প্রটোকলস (এমপিপি) বলা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে জানুয়ারি মাস থেকে অভিবাসন সুরক্ষামূলক এ কর্মসূচি চালু করা হয়। তবে মার্কিন ট্রাম্পবিরোধী নেতা, অধিকার রক্ষা দল এবং অন্যরা কর্মসূচিটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এমপিপির কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার শরণার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই এল সালভাদর, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসের নাগরিক।
মেক্সিকোর সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে ‘সীমান্তে শরণার্থীর স্রোত আটকানোর ব্যবস্থা’ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, সীমান্তে অবৈধ শরণার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে মেক্সিকো ব্যবস্থা না নিলে মেক্সিকো থেকে আমদানি করা পণ্যে প্রতি মাসে ৫ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। পরে মেক্সিকো চুক্তি করে দেশজুড়ে, বিশেষত মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করতে রাজি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী মর্যাদাপ্রত্যাশীদের মেক্সিকোতে পাঠানো এবং এ-সংক্রান্ত আইনি লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সেখানেই অপেক্ষমাণ রাখার কর্মসূচিও বিস্তৃত করবে ওয়াশিংটন। এর জের ধরে এমপিপি চুক্তি ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন শহরে। শরণার্থীরা কিউবাসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন।
হন্ডুরাসের সহিংসতা থেকে বাঁচতে ছোট তিনটি শিশুসহ সালভাদরের এক যুবককে নিয়ে পালিয়েছিলেন এক তরুণ দম্পতি। সিউদাদ জুয়ারেজ হয়ে বহু কষ্টে এল পাসোতে পৌঁছান তাঁরা। তাঁদের হয়ে সীমান্তে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানান টেক্সাসের এল পাসোর বিশপ মার্ক সেইজ। প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তারা বিশপের কথা রাখলেও পরে জানিয়ে দেন, অভিবাসন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেই অবস্থান করতে হবে পরিবারটির।
বিশপ মার্ক সেইজ অভিবাসন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হন্ডুরাসের পরিবারটি প্রায় তিন মাস ধরে সীমান্তে অপেক্ষা করছে। ৩, ৫ এবং ৯ বছর বয়সী তিনটি শিশুকে নিয়ে পরিবারটিকে সীমান্তে এভাবে ফেলে রাখার বিষয়টি ভীষণ অমানবিক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখে গির্জার ধর্মপ্রচারক জোট। তারা বলেছে, অভিবাসন নীতির খপ্পরে পড়ে নির্মম সহিংসতা আর পাচারের সাক্ষী হচ্ছে শিশুরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন সুবিধাজনিত প্রতিবেদনে পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘নির্দয়’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ধর্মপ্রচারক জোট।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অধিকার রক্ষা করতেই হবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে মেক্সিকো তেমন বাধা দেয় না। এ নিয়ে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েনও আছে।
ট্রাম্পের অভিবাসন সুরক্ষা নীতির ত্রুটিতে মেক্সিকো সীমান্তে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শরণার্থীরা। ছবি: রয়টার্স।

(যে ছবি কাঁদায়) এ যেন আরেক আয়লান

আবারও একটি ছবিকে কেন্দ্র করে কাঁদছে বিশ্ব মানবতা। একটি ছবি। কিন্তু তার মধ্যে সারাবিশ্বে নির্যাতিত, নিপীড়নের শিকার কোটি কোটি মানুষের আর্তনাদ ফুটে উঠেছে। বুঝিয়ে দেয় মানুষ কতটা বিপন্ন হলে জীবনকে তুচ্ছ ভাবে। একটু বাঁচার আশায় সবচেয়ে মূল্যবান জীবনকে বাজি রাখে। আয়লান কুর্দি একবার বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল যুদ্ধের ভয়াবহতা। সমুদ্রের তীরে উপুর হয়ে মৃত পড়ে থাকা ছোট্ট শিশু আয়লান কুর্দি বিশ্বনেতাদের চোখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল সিরিয়ার শরণার্থীদের দুর্দশা।
এবার যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে রিও গ্রান্ডে নদীর তীরে যেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো।
এখানে অস্কার আলবার্তো মার্টিনেজ রমিরেজ নামের এক পিতা তার ২৩ মাস বয়সী কন্যা ভ্যালেরিকে পিঠে নিয়ে নদী পাড় হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন ওই নদী পাড়ি দেয়া সম্ভব হবে তার জন্য। কিন্তু এর খরস্রোতের বিষয় তিনি বুঝতে পারেন নি। মেয়েকে পিঠে নিয়ে সাঁতরাতে শুরু করেন রমিরেজ। তিনি পারলেন না। স্রোত তাকে পরাস্ত করলো। রমিরেজ তার কন্যাকে পিঠের সঙ্গে নিয়ে মারা গেলেন। তাদের মৃতদেহ ভেসে উঠলো রিও গ্রান্ডে নদীর তীরে। তখনো ওই ছোট্ট ভ্যালেরি তার পিতার কাঁধ জড়িয়ে ধরে ছিল। তার মাথা পিতার টি-শার্টের ভিতরে। সাংবাদিক জুলিয়া লি ডাক এই ছবি ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়ার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। সিএনএন সহ পশ্চিমা সব টেলিভিশন গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে সেই ছবি আর অভিবাসীদের নির্মমতা। সে ছবি দেখে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরের কোণে একা একা কাঁদছেন অনেক নরম মনের মানুষ। কঠিন মনের মানুষদের মধ্যেও বড় রকমের খোঁচা দিয়েছে রমিরেজ ও ভ্যালেরির ওই ছবি।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, রিও গ্রান্ডে নদীর তীরে কর্দমাক্ত মাটির ভিতরে মুখ ডুবিয়ে দিয়ে পড়ে আছেন পিতা ও তার কন্যা। কন্যাটির মাথা তার পিতার টি-শার্টের মধ্যে লুকানো। একটি হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পিতার কাঁধের ওপর। রমিরেজ ও তার কন্যা ভ্যালেরি ডুবে মারা যাওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে সোমবার এই ছবি ধারণ করেছেন সাংবাদিক জুলিয়া। এ ছবিতে ফুটে উঠেছে কি এক অভিপ্রায় নিয়ে তিনি নদী সাঁতরে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেছিলেন। মানুষ কি ভয়াবহ যন্ত্রণা আর ঝুঁকি নিয়ে উত্তর দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছে তারই যেন এক জীবন্ত ছবি হয়ে উঠেছে এটি। এমন ঘটনা হয়তো অনেকই ঘটে। কিন্তু তা থেকে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে।
এমন ছবি যুদ্ধ ও অসহনীয় দুর্ভোগের ফলে শরণার্থী অথবা অভিবাসী হওয়া মানুষের ভয়াবহতার বিষয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এতে শক্তিশালী বার্তা প্রকাশ পায়। মনে আছে, সিরিয়ার আলেপ্পোর ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে রক্তাক্ত সিরিয়ান একটি শিশুকে উদ্ধারের কথা। সেই ছবি আইকনিক হয়ে আছে। অথবা একটি অভুক্ত শিশুকে ১৯৯৩ সালে গুলি করে হত্যার কথা। আয়লান কুর্দির কথা। এসব ছবির সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে রমিরেজ ও তার শিশু কন্যার ছবি। মানুষের সচেতনার পর্দা যেন ফুটো করে দিয়েছে এসব।
এল সালভাদরের পরিবার রমিরেজের। তিনি ২৫ বছর বয়সী একজন যুবক। মেয়ে ভ্যালেরি ও স্ত্রী তানিয়া ভ্যানেসা আভালোসকে নিয়ে গত সপ্তাহান্তে তিনি মেক্সিকোর মাতামোরোস শহরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছেন। তার আশা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করবেন। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত সেখানকার আন্তর্জাতিক যে সংযোগ সেতু সেটার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ খবর শুনে তারা রিও গ্রান্ডে নদীর তীর ধরে হাঁটা শুরু করেন। এক সময় মনে করেন, এ নদী পাড়ি দিতে পারবেন সাঁতরে। 
ফলে পরিবারটি রোববার বিকালে একসঙ্গে যাত্রা শুরু করেন। রমিরেজ তার মেয়েকে পিঠে নেন। তার টি-শার্টের ভিতরে মেয়েকে নিয়ে সাঁতার শুরু করেন। পিছনে সাঁতরাতে থাকেন আভালোস। তিনি ছিলেন পারিবারিক এক বন্ধুর পিঠে। ভ্যালেরিকে পিঠে নিয়ে রমিরেজকে সাঁতরে নদীর অপর পাড়ের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে দেখেন আভালোস। কিন্তু রমিরেজকে আস্তে আস্তে ক্লান্ত হয়ে পড়তে দেখেন তিনি। এ অবস্থায় আভালোস সিদ্ধান্ত নেন, তিনি আর সামনে এগুবেন না। ফিরে আসেন মেক্সিকো প্রান্তে নদীর তীরে।
আভালোস তীরে এসে পিছনে ফিরে তাকান। দেখতে পান তার স্বামী ও কন্যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রান্তে নদীর তীরের খুব কাছাকাছি। এক সময় তারা ডুবে যায়। স্রোত তাদেরকে ভাসিয়ে নিতে থাকে। সোমবার তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ। দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে ম্যানুয়েল লোপেজ অব্রাডর বলেছেন, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

Saturday, June 29, 2019

এ যেন আরেক আয়লান

সিরিয়ার শিশু আয়লান কুর্দির মৃত্যু সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তুরস্কের বোরদুম শহরে ভেসে ওঠা তার মৃতদেহের ছবি কাঁদিয়েছিল বিশ্ব বিবেককে। আবারো দেশ বদলানোর চক্করে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া আরেক  আয়লান কুর্দিকে দেখলো বিশ্ব।
স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে সুন্দর জীবনের আশায় ঘর ছেড়েছিলেন অস্কার আলবার্তো মার্টিনেজ রামিরেজ। এল সালভাদর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়ায় তার সফর সঙ্গী ছিলেন স্ত্রী তানিয়া ভ্যানেসা ও কন্যা ভ্যালেরিয়া। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে পৌঁছাতেও পেরেছিলেন। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। তাই বাধ্য হয়েই মেক্সিকো থেকে রিও গ্রান্দে নদী পার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন আলবার্তো মার্টিনেজ।
কিন্তু তার সে স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।
সোমবার রিও গ্রান্দে নদীর পাড় থেকে উদ্ধার করা হয় আলবার্তো মার্টিনেজ ও ভ্যালেরিয়ার মৃতদেহ। মৃত্যুর পূর্বে বাবার নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করেছিল ভ্যালেরিয়া। তার মাথা বাবার টি-শার্টের মধ্যে গোঁজা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের মেয়েকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন মার্টিনেজ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাদের এই মৃতদেহের ছবি তুলেছেন সাংবাদিক জুলিয়া লি ডাক। মেক্সিকোর সংবাদপত্র লা জরনাডাতে মঙ্গলবার ছাপানো হয় এই ছবি। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আয়লান কুর্দির মরদেহের ছবির মতো ভ্যালেরিয়ার মরদেহটিও নাড়া দিয়েছে বিশ্ববাসীর হৃদয়কে।
জানা যায়, ঘটনার দিন রিও গ্রান্দে নদী পার হওয়ার সময় ঘটে মর্মান্তিক এই ঘটনা। প্রথমে মেয়ে ভ্যালেরিয়াকে নদী পাড় করে মার্টিনেজ ফিরে যান তার স্ত্রীকে নিয়ে আসতে। এমন সময় মেয়ে বাবার কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নদীতে নেমে গেলে তাকে বাঁচাতে আবারো সাঁতরে আসেন মার্টিনেজ। কিন্তু তীব্র স্রোতে ভেসে যায় দুজনই।
প্রথম থেকেই শরণার্থীবিরোধী মনোভাবের জন্য পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ। শরণার্থী আগমন থামাতে তিনি উঠে পড়ে লেগেছেন মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করতে। মেক্সিকোর ওপর করেছেন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ। তারপরও একটু উন্নত জীবনের আশায় সবকিছু মায়া ত্যাগ করে মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমাতে চায় মানুষ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তাদের নিষ্ঠুর আচরণে মৃত্যুর মুখে পড়ছে ভ্যালেরিয়ার মতো নিষপাপ শিশুরা। আয়লান কুর্দি কিংবা ভ্যালেরিয়ারা মধ্যপ্রাচ্য বা লাতিন আমেরিকার রাজনীতি বোঝে না। কিন্তু এই রাজনীতির সব থেকে বড় বলি হচ্ছে তারা।

Friday, June 28, 2019

আমার ছেলে মারা যাচ্ছে, সাহায্য করুন -আশ্রয়শিবিরে এক মায়ের আর্তনাদ

মেক্সিকোতে শরণার্থী বা অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ফেরিয়া মেসোমেরিকানা। একমাসের মধ্যে তৃতীয়বার মঙ্গলবার সেখানে বিদ্রোহ করেছেন অভিবাসীরা। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গার্ড ও পুলিশরা তাদেরকে বিরত রাখে। এ সময় হাইতির এক মা আর্তনাদ করতে থাকেন। দু’সন্তানের মা দু’হাত প্রসারিত করে দিয়ে ধুলোবালির মধ্যে উপুর হয়ে চিৎকার করছিলেন। তিনি বলছিলেন, আমাকে সাহায্য করুন। আমার ছেলে মারা যাচ্ছে। অনেকদিন ধরে সে অসুস্থ।
আমিও অনেক দুর্ভোগে।
ওই বন্দিশিবিরের একটি গেটের নিচ দিয়ে তিনি কোনোমতে চোখমুখ বের করে চিৎকার করছিলেন- আমাদেরকে খাবার দেয়া হয় না। পান করার জন্য পানি নেই। আমার ছেলেকে সহ আমাকে বাঁচান। আমার ছেলে অসুস্থ। দুটি ছেলে আছে আমার। একজনের বয়স ৫ বছর। অন্যজনের বয়স ১৪ মাস। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।
ওই অভিবাসন কেন্দ্রে এই মা তার সন্তানদের নিয়ে অবস্থান করছেন ১০ দিন। বিদ্রোহ চলাকালে প্রধান ফটক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তাকে আটকে দেয় ন্যাশনাল গার্ড, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইমিগ্রেশন ও ফেডারেল পুলিশ। বৃটিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ লিখেছে, ওই আশ্রয় শিবিরে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে শত শত আফ্রিকান ও হাইতির অভিবাসীকে। মঙ্গলবার সেখানে বিদ্রোহ হয়। অভিবাসীরা খাদ্য, চিকিৎসা সুবিধা ও অভিবাসী হিসেবে ওই স্থান ত্যাগ করার অনুমতি চাওয়ার পর সেখানে বিদ্রোহ শুরু হয়। খাদ্য না থাকা, মলমূত্রে উপচে পড়া টয়লেট, ইদুরে সয়লাব, তেলাপোকার উপদ্রব সহ নানা অনিয়মে এই আশ্রয়শিবির নিয়ে এমনিতেই সমালোচনা আছে। এখানকার ৯ ফুট বাই ১২ ফুট একটি কক্ষে ঘুমাতে হয় ৫০ জন মানুষকে। তবে মঙ্গলবারের বিদ্রোহের খবরকে দেশটির ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইমিগ্রেশন প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, ওই আশ্রয়কেন্দ্রের ভিতরে আরেকটি বিরক্তিকর ঘটনা ঘটেছিল। সব অভিবাসীকে যথোপযুক্ত খাবার ও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।

Thursday, June 27, 2019

যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে মেক্সিকোর ১৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে লাগোয়া তাদের সীমান্তে প্রায় ১৫ হাজার সৈন্য ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য মোতায়েন করেছে মেক্সিকো।
সোমবার দেশটির সেনাপ্রধান জানান, তারা সীমান্ত অতিক্রম করা অভিবাসীদের আটক করছে। খবর এএফপি’র।
মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর নাগরিকদের সীমান্ত অতিক্রমের ঢেউ থামানোর ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে এ মাসের গোড়ার দিকে মেক্সিকো তাদের দক্ষিণ সীমান্তে তাদের সামরিক শক্তি বাড়াতে ছয় হাজার ন্যাশনাল গার্ডসম্যান মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। তবে মেক্সিকো তাদের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে এতো বেশি সৈন্য মোতায়েন করার কথা এর আগে প্রকাশ করেনি।
প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ অব্রাদোরের পাশে দাঁড়িয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুইস ক্রিসেনসিও স্যান্ডোভাল বলেন, ‘আমরা মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে ন্যাশনাল গার্ড ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার প্রায় ১৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছি।’
সীমান্ত অতিক্রম করা ঠেকাতে এসব সৈন্য অভিবাসীদের গ্রেফতার করছে কিনা জানতে চাইলে স্যান্ডোভাল বলেন, ‘হ্যাঁ’ তারা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা অভিবাসীদের আটক করছে।

Monday, January 28, 2019

মাটি খুঁড়ে প্রিয়জনদের খুঁজছেন যে নারীরা

মেক্সিকোয় একযুগে ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। তাদের স্বজনরা জানেনা আদৌ তারা বেঁচে আছে কিনা? তেমনই এক মা তার সন্তানের খোঁজে নিজেই নেমেছেন কোদাল হাতে। পরে যোগ দেন আরও অনেক নারী। ফটো সাংবাদিক আলেজান্দ্রো সিগারা ছবিতে তুলে এনেছেন তাদের কথা।

১। মেক্সিকোর সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটিতে ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৭ হাজার মানুষ গুম হয়েছে। যাদের সঙ্গে কি হয়েছে কিছুই জানা যায়নি।

২। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মিরনা নেরেয়দা মেদিনা একটি দলের খোঁজ পান যাদের নাম "সার্চার্স অব এল ফুয়ের্তে"। তারা মূলত নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করে।
চার বছর মিসেস মেদিনার ছেলে রবার্তো নিখোঁজ হন। রবার্তো এল ফুয়ের্তের একটি পেট্রোল স্টেশনে সিডি বিক্রির কাজ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে গত ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই একটি কালো পিক আপ পেট্রোল স্টেশনে থামে এবং রবার্তোকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

৩। শুধুমাত্র সিনালোয়া রাজ্যে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৭শ জনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে প্রকৃত নিখোঁজের সংখ্যা এর চেয়ে আরও বেশি বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের বেশিরভাগ আর বেঁচে নেই বলে ধারণা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতেই এই অনুসন্ধানী দলটি দিনের পর দিন প্রিয়জনের খোঁজে কবর খুঁড়ে চলছে।

৪। মিরিয়াম রেয়েস খুঁজছেন তার স্বামীকে যিনি ২০১৫ সাল থেকে নিখোঁজ। তিনি চান তাদের ছেলে জানুক যে বাবার সঙ্গে কি হয়েছে। অন্তত তার লাশটাকে যেন তারা কবর দিতে পারেন।

৫।এই অনুসন্ধানী অভিযানের যন্ত্রপাতি খুবই সাধারণ- মাটি খোড়ার কোদাল আর শক্ত মাটি আলাদা করতে হাতুড়ির মতো পিকেইক্স।

৬। স্থানীয়রা এই নারীদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন, যেন তারা দ্রুত তাদের স্বজনদের বিষয়ে জানতে পারেন।

৭। কোথাও গোপন কবরের সন্ধান পেলেই সেই অনুসন্ধানী দলটি খোড়াখুড়ি শুরু করে। ৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রাও তাদের পিছু হটাতে পারেনা। ছবির বামপাশের নারী জুয়ানা এস্কালান্তে তার ২৮ বছর বয়সী ছেলে আদ্রিয়ানের খোঁজে মাটি খুড়ছেন। মিসেস এস্তালান্তের ধারণা তার সন্তানকে কেউ অপহরণ করেছে।

৮। সিনালোয়া রাজ্যে অপহরণ খুব স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাউকে মুক্তিপনের জন্য, কাউকে পাচার করার জন্য আবার কাউকে জোরপূর্বক অপরাধ চক্রে সামিল হওয়ার জন্য অপহরণ করা হয়। উদ্দেশ্য হাসিল না হলে অনেককেই মেরে ফেলে লাশ গুম করে দেয় অপহরণকারীরা। তার সেই নিখোঁজদের স্বজনরা কখনো জানতেই পারেন না, তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে কি হয়েছে।

৯। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন গোপন কবর খুঁড়ে দুই শতাধিক লাশ বের করেছেন এই নারী অনুসন্ধানীরা। এর মধ্যে যেসব দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে তাদের পরিচয় সনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করতে দেয়া হয়। পরীক্ষায় পরিচয় পাওয়া গেলে সেই খবর স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেন এই নারীরা। এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অর্ধেকেরও বেশি লাশের পরিচয় তারা বের করতে পেরেছেন। মিনরা তার মতো আরেক মা'কে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। এই নারী চার মাস আগে নিখোঁজ হওয়া ছেলের সন্ধান পেয়েছেন।
১০/ লুই আলফ্রেদো শ্যাভেজ ২০১৮ সালের ৩১শে জানুয়ারি নিখোঁজ হন। পরে ৩০শে মার্চ তার লাশ সনাক্ত হয়। লস মটিস শহরে লুইয়ের শেষকৃত্যে যোগ দেন তা র স্বজনরা।

১১। মেক্সিকোর সিনালোয়া রাজ্যের এক মা তাঁর নিখোঁজ সন্তানকে খুজে বের করতে নিজেই কোদাল হাতে মাঠে নেমেছেন। যেখানে কোন গোপন কবর দেখেন সেখানেই খোড়াখুড়ি করেন তিনি। কিছুদূর খোড়ার পর কোদালটি নাকের কাছে নিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন যে সেখানে পঁচা লাশের গন্ধ আছে কিনা।

১২। ছেলে রবার্তোর খোঁজ পেতে মা মিরনার প্রায় তিন বছর লেগে যায়। ২০১৭ সালের ১৪ জুলাই রবার্তো নিখোঁজ হওয়ার তৃতীয় বার্ষিকী ছিল। সে বছর এক গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অনুসন্ধানী দলটিকে নিয়ে দুর্গম পাহাড়ে যান মিসেস মিরনা। সেখানকার একটি কবর থেকে একটি দেহাবশেষের সন্ধান পান তারা। পড়ে সেই হাড়ের ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায় এটি রবার্তোরই লাশ।

১৩। মিরনা নিজের ছেলের সন্ধান পেলেও এখন তিনি অন্য নারীদের সহায়তা করে চলছেন তাদের স্বজনদের খুঁজে বের করার জন্য। ছবির ক্রন্দনরত এই নারী তার ছেলের নিখোঁজের খবর পুলিশকে জানাতে এসেছেন। ছয় বছর আগে তার ছেলে নিখোঁজ হলেও তিনি এরমধ্যে পুলিশের কাছে আসেননি। কারণ তিনি আশা করছেন, একদিন তার ছেলে জীবিত অবস্থায় নিশ্চয়ই ফিরে আসবে।

১৪। এই অনুসন্ধানী দলটির বেশিরভাগ সদস্য নারী। যাদের অধিকাংশের ছেলে নিখোঁজ হয়েছে। তবে পুরুষ সদস্যরাও এই দলের ভেতরে আছেন। তাদেরই একজন ডন পাঞ্চো। তিনি গত চার বছর ধরে তার ছেলে খুঁজছেন।

১৫। শুধু মা- বাবাদেরই নয় বরং শিশুদেরও এই নিখোঁজের ঘটনায় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে নিখোঁজের সন্তানরা বেড়ে হচ্ছে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে। তারা জানতেও পারেনা যে তাদের বাবা বা মায়ের সঙ্গে কি হয়েছে। ছবির নারী লুসিয়া গুয়াদালুপের ছেলে ২০১৬ সালে নিখোঁজ হন। তার নাতনিও হয়ে পড়ে বাবাহারা।

Monday, January 21, 2019

মেক্সিকোতে তেলপাইপ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩

মেক্সিকোয় তেলপাইপ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ জনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো কয়েক ডজন ব্যক্তি। শুক্রবার বিকালে দেশটির হিদালগো প্রদেশের তিলাহুয়েলিলপান শহরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার দেশটির কর্মকর্তারা জানায়, তেল চুরির সময় চোররা পাইপ ছিদ্র করলে সেখান থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর উদ্ধার কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিস্ফোরণের পূর্বে ওই স্থান থেকে সাধারণ মানুষদের সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী ব্যর্থ বলে দাবি করেন সমালোচকরা। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়ে তাদের ব্যর্থতার কথা অস্বীকার করেছেন। তেল পাইপলাইনের নিরাপত্তায় হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে মেক্সিকোতে।  সেই দিন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।  রাষ্ট্র মালিকানাধীন তেল কোম্পানি পেমেক্স এক বিবৃতিতে বলেছে, অবৈধভাবে তেল চুরির কারণেই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
স্থানীয়ভাবে তেলচোররা ‘হুয়াচিকোলেও’ নামে পরিচিত। মেক্সিকোতে এরা খুবই বেপরোয়া। সরকারি হিসাব অনুসারে, গত বছরে তেলচুরির কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইসাইয়াস গার্সিয়া। রয়টার্সকে তিনি বলেন, সেখানে মানুষজন জ্বালানির অভাবে ভুগছে। সবাই ঘটনাস্থলে এসেছিল যাতে তাদের গাড়ির জন্য জ্বালানি পেতে পারে। আমিও আমার প্রতিবেশীদের নিয়ে সেখানে ছিলাম। এসময় অনেক মানুষকে দেখা যায় যাদের গায়ে আগুন জ্বলছে ও দৌড়াচ্ছে।

Thursday, July 5, 2018

দেহরক্ষী ছাড়াই চলবেন মেক্সিকোর নতুন প্রেসিডেন্ট

মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওবরাডোর
সাংবিধানিকভাবে বরাদ্দকৃত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মেক্সিকোর নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওবরাদোর। রক্তক্ষয়ী নির্বাচনি প্রচারণার কাল অতিক্রম করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ব্যবধানে জয় পেয়েছেন আমলো নামে পরিচিত ওই বামপন্থী-জাতীয়তাবাদী। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি বলেছেন; যারা ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে থাকে তাদের দেহরক্ষী লাগে না, জনগণই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
১ জুলাই রবিবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আমলো।  তার প্রাপ্ত ভোট নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বিগুণ। রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানেই ২০১৭ সালে মেক্সিকোতে ২৫ হাজারেরও বেশি খুনের ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে গত বছরের তুলনায় খুনের হার বেড়েছে ১৫ শতাংশ। নিবার্চনি প্রচারণার কালে, প্রার্থী আর সরকারি কর্মকর্তাসহ ২০০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ১৩০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও সামরিক বাহিনীর দেওয়া নিরাপত্তা প্রত্যাখান করেছেন আমলো।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েটোর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দফতর ন্যাশনাল প্যালেসে এক বৈঠকের সময়ে আমলো নিরাপত্তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। বৈঠক শেষে বেরিয়ে একটি ভক্সওয়াগন জেট্টা গাড়ির সামনের সিটে বসে চলে যান সদ্য নির্বাচিত এই প্রেসিডেন্ট । ল্যাটিন আমেরিকাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টেলিসুর জানিয়েছে, সে সময় তার চারপাশে সমর্থকদের দেখা গেলেও কোন দেহরক্ষীকে চোখে পড়েনি। বর্তমান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক শেষে লোপেজ ওবরাদোর বলেন, ‘সত্যিকার আর গভীর এক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। এটা হবে মৌলিক এক পরিবর্তন তবে কারও ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’
এক মিছিল থেকে জনগণের উদ্দেশে আমলো বলেন, প্রেসিডেন্সিয়াল জেনারেল স্টাফদের সেবা আমি ব্যবহার করবো না, আমি দেহরক্ষী পরিবেষ্টিতও থাকবো না। যারা ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করে তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই... জনগন আমাকে রক্ষা করবে। তার প্রশাসনের অগ্রাধিকার পাওয়া কাজের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, তরুণদের জন্য বৃত্তি আর বয়স্কদের জন্য অবসর সুবিধা প্রদান আর আগের সম্পাদিত তেল চুক্তিগুলোর পর্যালোচনা। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলির মধ্যে একটি হলো  নিরাপত্তা। যার মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ ও পেশাদারীকরণের মাধ্যমে পুলিশের আধুনিকায়ন। এর মাধ্যমে রাস্তা থেকে সামরিক বাহিনীকে অপসারণের প্রস্তাব রয়েছে তার পরিকল্পনায়।

Tuesday, June 19, 2018

মেক্সিকোর ভক্তদের উল্লাস কি আসলেই সেদেশে ভূমিকম্প তৈরি করেছিল?

মেক্সিকোর খেলোয়াড় হার্ভিং লোজানো যখন বিশ্বকাপে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে জার্মানির বিরুদ্ধে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন, ওই দলের সমর্থকরা তখন তাদের আনন্দ উল্লাস ধরে রাখতে পারেনি।
খেলার ৩৫ মিনিটের মাথায় বলটি যখন নেট স্পর্শ করে তখন ফুটবলপ্রেমীরা এমনভাবে লাফাতে শুরু করলো যে তাদের পদভারে কেঁপে উঠলো মেক্সিকোর মাটি। দেশটির কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে এও বলা হলো, সমর্থকদের লাফালাফিতে দেশটিতে মৃদু ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু আসলেই কি এরকম হতে পারে?
দেশটিতে ভূমিকম্প নিয়ে যে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা, মনিটর ও জরিপ পরিচালনা করে, সেই ইন্সটিটিউট অফ জিওলজিক্যাল এন্ড এটমোসফেরিক ইনভেস্টিগেশন বলছে, সেসময় আসলেই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির এক টুইট বার্তায় এরকমটাই দাবী করা হয়েছে: "রাশিয়ায় ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির বিরুদ্ধে মেক্সিকোর গোল করার পর উল্লাসের কারণে মেক্সিকো সিটিতে কৃত্রিম ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছে।"
নিচের ছবিতে ভূকম্পনের যে গ্রাফটি (সিসমোগ্রাম) তুলে ধরা হয়েছে তাতে লাল কালি দিয়ে ভূকম্পনের সময়টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে সিসমোমিটারের কাছে স্থানীয়ভাবে কী ধরনের ভূকম্পনের সৃষ্টি হয়েছিল।আসলেই কী ঘটেছিল?
ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে গোল হওয়ার পর মেক্সিকোর সমর্থকরা যখন উল্লাস করতে শুরু করে তখন স্থানীয়ভাবে তাদের দুটো সিসমোমিটারে ভূকম্পনের মাত্রা ধরা পড়তে শুরু করে।
এই ইন্সটিটিউটের ব্লগে বলা হয়: "খেলার ৩৫ মিনিট সাত সেকেন্ডের সময় মেক্সিকো একটি গোল দিয়ে দেয়, তখন আমাদের মনিটিরং সিস্টেমে ভূকম্পনের একটি মাত্রা ধরা পড়ে। এই কম্পনের ত্বরণ ছিল ৩৭মি/এস২ যা মেক্সিকো সিটির ভেতরে কমপক্ষে দুটো সেন্সরে ধরা পড়ে। বড় ধরনের উল্লাসের কারণেই সম্ভবত এই কম্পনের সৃষ্টি হয়েছে।"তবে ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে "এধরনের কম্পন খুব একটা বড় ঘটনা নয়।"
তারা বলছেন, সমবেত সমর্থকরা যেখানে উল্লাস করছিল তার খুব কাছে অবস্থিত অত্যন্ত স্পর্শকাতর এসব যন্ত্রে এই কম্পন ধরা পড়ে।
যেসব জায়গায় ফুটবল ভক্তরা জড়ো হয়েছিল তার একটি রাজধানী মেক্সিকো সিটির এঞ্জেল অফ ইন্ডিপেন্ডেস ভাস্কর্য চত্বর যার খুব কাছেই আছে একটি সিসমোমিটার। এই যন্ত্রটিতেই সেসময়কার ভূকম্পনের মাত্রা ফুটে ওঠে।
এটা কি ভূমিকম্প ছিল নাকি ছিল না?
ইন্সটিটিউট অফ জিওলজিক্যাল এন্ড এটমোসফেরিক ইনভেস্টিগেশনের ব্লগে এটা পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হয়েছে এই কম্পন এতোটাই মৃদু যে তার সাধারণ লোকজনের পক্ষে অনুভব করা বা বুঝতে পারা সম্ভব নয়।
"এই ঘটনা কোন মাত্রা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। সেকারণে এটিকে ভূমিকম্প বলা যাবে না। যদি এটাকে ভূমিকম্প বলতে হয় তাহলে এর সাথে 'কৃত্রিম' শব্দটিও জুড়ে দিতে হবে। এটা যে ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক কারণে ঘটেনি সেটা পরিষ্কার করে দিতে হবে।"এরকম কি আগেও ঘটেছিল?
হ্যাঁ, হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে আমেরিকান এক ফুটবল টুর্নামেন্টের সময়। লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং অবার্নের ম্যাচের সময় লুইজিয়ানা যখন খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে তখন টাইগার স্টেডিয়ামে এরকম ভূকম্পনের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞান বিভাগে স্থাপিত সিসমোমিটারে ধরা পড়েছিল এই ভূকম্পন। এরপর থেকে ওই ম্যাচটি পরিচিত হয়ে ওঠে "ভূমিকম্পের খেলা' হিসেবে।
অতি সম্প্রতি, ২০১৬ সালে নরিচের বিরুদ্ধে যখন লেস্টার সিটি শেষ মুহূর্তে গোল করে তখনও ইংল্যান্ডের মাটিতে এরকম কম্পনের সৃষ্টি হয়েছিল।
সূত্রঃ বিবিসি

Monday, June 18, 2018

উল্লাসে মেক্সিকোতে ভূমিকম্প

অকস্মাৎ যেন ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো মেক্সিকো। মানুষ যে যা পরা ছিল সেভাবেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো। না, তাদের চোখেমুখে হতাশা নেই। ভয় নেই। তারা আনন্দে ঘর ছেড়ে রাস্তায়। রংবেরংয়ে ছেয়ে গেল পুরো মেক্সিকো। তাদের উল্লাসে, আনন্দের কান্নায় যেন সত্যি সত্যি কেঁপেছে মাটি। ভূমিকম্প নির্ণয়কারী ডিটেক্টরও হয়তো বুঝতে পেরেছে তা। বিশ্বকাপ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন দল জার্মানিকে হারানোর পর এমনই এক উন্মাদনায় মেতে ওঠে মেক্সিকো। রোববার জার্মানিকে তারা হারানোর পর এমন উন্মাদনার কথা লিখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে তুলে ধরা হয়েছে মেক্সিকানদের ফুটবলের প্রতি ভালবাসা আর অবিশ্বাস্য পারফরমেন্সের কথা। মেক্সিকার দীর্ঘ পতাকা ছেড়ে গেছে দেশ। বাতাসে দোল খাচ্ছে তা। মেক্সিকান সিটির ডাউনটাউনে আইকনিক অ্যানজেল অব ইন্ডিপেন্ডেন্স ভাস্কর্য্যরে মাথায় পরিয়ে দেয়া হয়েছে ‘সোমব্রেরো’ লেখা হ্যাট। দেশের অনানুষ্ঠানিক ফুটবল সঙ্গীত গাইছেন সমবেত সুরে মানুষ। তারা গাইছেন ‘সেইলিতো লিন্ডো’ অথবা অতি জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত ‘প্রিটি লিটল স্কাই’। একটি ক্যাথেড্রালের সুউচ্চ টাওয়ারের সামনে বসানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। এটি মেক্সিকো সিটির সবচেয়ে বড় স্কয়ার। এখানে বসানো ওই স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে মেক্সিকান ফুটবলের জার্সিগুলো। মানুষ তা দেখছে। আনন্দে উদ্বেলিত হচ্ছে। কখনো বা চোখ থেকেই নিজের অজান্তে ঝর ঝর ঝরে পড়ছে অশ্রু। খেলা শুরুর ৩৫তম মিনিটে তারকা খেলোয়াড় হারভিং লোজানো যখন জার্মানির বিরুদ্ধে গোল করে বসেন তখন সেই উত্তাল জনতা সমুদ্রে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের মতো উচ্চতায় উঠে গেল। চারদিকে তখন চিৎকার। এক সুরে সবাই বলে উঠলেনÑ ‘ইয়েস উই ডিড ইট’। ইন্সটিটিউট অব জিওলোজিক্যাল অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক ইনভেস্টিগেশনস বলেছে, ৩৫তম মিনিটে গোল হওয়ার সাত সেকেন্ড পরে রাজধানীর দুটি স্থানে ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘আর্টিফিশিয়ান’ বা কৃত্রিম ভূমিকম্প। এ ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছে পুরো মেক্সিকো লাফিয়ে ওঠার জন্য। ম্যাচ শেষে ৪৭ বছর বয়সী রোডোলফো পুলিদোর নেতৃত্বে সবাই চিৎকার করে বলতে লাগলেন ‘মেক্সিকো! মেক্সিকো! মেক্সিকো!’ সেই চিৎকার যেন কংক্রিটের প্রাচীর ভেদ করে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাচ্ছিল। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য যে কংক্রিটের ব্যারিয়ার ব্যবহার করা হয় তা যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। পুলিদো এই সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন তার গার্লফ্রেন্ড আর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে। তিনি বলেন, আমি অবিশ্বাস্য রকম খুশি। দিনটি ছিল ফাদারস ডে। তাই পুলিদো বলেন, দিনটিতে দুটি গিফট পেলাম আমি। এক হলো মেক্সিকো জিতেছে। আর হলো ছেলের সঙ্গে নিয়ে তা উপভোগ করতে পারা। পুলিদো বলেন, এখন তার সাহস বেড়ে গেছে অনেক। মেক্সিকো পরের রাউন্ডে উঠবে এটা হলফ করে বলতে পারেন তিনি। তারপর কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল। এরপর জিতে আসতে পারে ফাইনালেও। বলতে বলতে চোখ ছল ছল করে ওঠে তার। মেক্সিকোতে নিজ দেশের টিমকে ডাকা হয় ‘এল ত্রি’ নামে। এর কারণ, এ দেশটির পতাকায় রয়েছে তিনটি রং। সামনেই মেক্সিকোতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সেই নির্বাচনে এগিয়ে আছেনব অ্যান্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ অব্রাডোর। তিনি এক নির্বাচনী প্রচারণা থেকে তার দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সমর্থকদের বলেছেন, রোববার যেমন করে মেক্সিকো জিতেছে ঠিক একইভাবে মেক্সিকো জিতে যেতেই থাকবে। ওদিকে সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়ায় তো বাণ ডেকেছে। একজন আরেকজনকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। অন্যরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করছেন। কারণ, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। একটি গোলপোস্টের পাশে দাঁড়িয়ে প্রহরা দিচ্ছেন ওচোওয়া। এমন একটি ছবি পোস্ট করে তারা এর ক্যাপশন লিখেছেন ‘হেই! উই অলরেডি হ্যাভ এ ওয়াল’। অর্থাৎ, দেখ আমরা এরই মধ্যে দেয়াল বানিয়ে ফেলেছি। আরেকটি ছবিতে ব্যঙ্গ করা হয়েছে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেলকে নিয়ে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মারকেল তার কাছে একটি ফোন ধরে আছেন। আর বলছেন, ‘ডনাল্ড? আমি অ্যাঙ্গেলা। অনুগ্রহ করে দেয়ালটা নির্মাণ করুন’। উল্লেখ্য, আগামী শনিবার রাশিয়ার রোস্তোভ-অন-ডোভে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে মেক্সিকো।

Wednesday, January 17, 2018

মেক্সিকোয় গণকবর থেকে ৩২টি লাশ উদ্ধার

মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য নায়ারিতে একটি গণকবরে অন্তত ৩২টি লাশ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ একথা জানায়। স্থানীয় প্রসিকিউশনের অফিসের এক কর্মকতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গ্রামীণ এলাকায় একটি কলা বাগানের অদূরে শনিবার প্রথম গণকবরটি সনাক্ত করা হয়। সেখানে নয়টি লাশ ছিল। সূত্রটি জানায়, পাশেই অপর দুটি গণকবর সনাক্ত করা হয়েছে। এসব কবরের লাশ প্রায় সম্পূর্ণই পচে গেছে। পরে একই অফিসের অপর সূত্র থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত গণকবর থেকে ৩২টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত চলছে।

Monday, July 3, 2017

টাওয়ার খুঁড়তেই ৬৭৫ নারী ও শিশুর খুলি

টাওয়ারজুড়ে থরে থরে সাজানো নারী আর শিশুদের খুলি। মোট ৬৭৫টি। মেক্সিকো সিটিতে এক মন্দিরে দেড় বছর ধরে খননের ফলে উঠে এসেছে এই ‘অদ্ভুত’ ছবি। যা নতুন করে প্রত্নতত্ত্ববিদদের ভাবিয়ে তুলেছে আজটেক সভ্যতা সম্পর্কে।
টেনোকটিটলান’-এর (যা কালে কালে হয়ে উঠবে মেক্সিকো সিটি) অন্যতম প্রধান মন্দির ‘টেম্পলো মেয়র।’ এই মন্দিরের কাছেই খননের ফলে মিলেছে খুলির টাওয়ার। এই শহর জয়ের পরে ‘হুয়ে জোম্পান্তলি’ দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন স্পেনীয় শাসকরা (কনকিস্তাদোর)। তাদের লেখাতেও এই খুলির টাওয়ারের উল্লেখ আছে। ১৫২১ সালে মেক্সিকো জয়ের পরে আন্দ্রে দে টাপিয়া নামে এক স্পেনীয় যোদ্ধা এই টাওয়ারটির কথা জানিয়েছিলেন। প্রত্নতত্ত্ববিদ রাউল বারেরা জানিয়েছেন, টাপিয়া লিখেছিলেন এমন হাজার হাজার খুলি রয়েছে ওই এলাকায়। প্রত্নতত্ত্ববিদদের বিশ্বাস, খনন যত এগোবে, মিলবে আরো খুলি। আজটেক এবং মেসোআমেরিকান জনতা সূর্যদেবকে উৎসর্গ করতে মানুষ বলি দিত।
এই সব খুলি কি সেই মানুষদের? প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা ছিল, আজটেকের বিভিন্ন উপজাতির মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বে যারা প্রাণ হারাতেন, সেই সব পুরুষ যোদ্ধাদের বলি দিয়ে খুলি এভাবে জমা রাখা হয়। বস্তুত ঐতিহাসিকরাও বলেন, স্পেনের শাসনের আগে মেসোআমেরিকান সংস্কৃতিতে হেরে যাওয়া যোদ্ধাদের মাথা কেটে জোম্পান্তলি-তে রাখা হতো।
কিন্তু শিশু ও মহিলাদের এত খুলি কেন? নৃতত্ত্ববিজ্ঞানী রডরিগো বোলানোস বলছেন, ‘‘আমরা তো ধরেই নিয়েছিলাম ওগুলো শুধু পুরুষের খুলি। লড়াকু যুবকদের। কিন্তু ওই সময়ে মহিলা বা শিশুদের তো যুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই নেই।
এটা সত্যি নতুন ব্যাপার। এর কোরো রেকর্ডও নেই আমাদের কাছে।’’ আগে ধরে নেয়া হতো, শুধু পুরুষদেরই মাথা কাটা হতো, সে বিশ্বাস থেকে সরে আসার দিন এসেছে— এখন প্রত্নতত্ত্ববিদরা এটাই মনে করছেন।
রাউল বলছেন, জোম্পান্তলি-তে সাধারণের দর্শনের জন্য রাখার পরে ওই খুলিগুলো টাওয়ারে নিয়ে যাওয়া হতো।
এই টাওয়ারের কাছেই হুইৎজিলোপোচিটলি (আজটেক সভ্যতায় সূর্য, যুদ্ধ এবং বলির দেবতা) চ্যাপেল। এটির নিচে এখনো খনন শুরু হয়নি।

Saturday, July 1, 2017

মেক্সিকোয় হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ রেকর্ড

হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে মেক্সিকো। বুধবার দেশটির কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন।
দেশটির কোটি কোটি মার্কিন ডলারের মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংসতা রোধে সরকার যে পুরোপুরি ব্যর্থ এ পরিস্থিতি সে চিত্রই তুলে ধরেছে।
ন্যাশনাল পাবলিক সেফটি সিস্টেম-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে মেক্সিকোতে ২ হাজার ১৮৬ টি হত্যাকাণ্ড ঘটে।
২০ বছর আগে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া খুনোখুনির পর এটাই কোনো মাসে সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের রেকর্ড।
সবচেয়ে ভয়াবহ রাজ্য গুরেরেরো। মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলের এই রাজ্যে গত মাসে ২১৬ জন খুন হয়েছে। অঞ্চলটি মাদক সংক্রান্ত সহিংসতার কেন্দ্রস্থল।
জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সিনালোয়া মাদক চক্রের প্রধান মাদক সম্রাট জ্যাকুইন ‘এল চাপো’ গুজমেনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়ার পর থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক চক্রগুলোর মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মাদক চত্রুগুলোর মধ্যে মে মাসে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। মাসটিতে ওই অঞ্চলে ১৫৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

Saturday, October 24, 2015

মেক্সিকোতে শক্তিশালী হারিকেনের আঘাত

মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় (হারিকেন) প্যাট্রিসিয়া আঘাত হেনেছে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়টি ৫ মাত্রার। শক্তির দিক থেকে এটি রেকর্ড ভঙ্গকারী।
মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলের জালিসকো রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হেনেছে। প্রবল বর্ষণের সঙ্গে ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায়। এতে গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। কর্তৃপক্ষ উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। সাগর তীরের হোটেলগুলো থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পানি কমিশনের পরিচালক রবার্তো রামিরেজ মেক্সিকোর মিলেনিও টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মানজানিলো থেকে ৯৫ কিলোমিটার পশ্চিমে এমিলিয়ানো জাপাতা শহরে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হেনেছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পিনা নিয়েতো রেডিও ফর্মুলাকে বলেন, তাঁরা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে প্রাথমিকভাবে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় (হারিকেন) প্যাট্রিসিয়া আঘাত হেনেছে। সেখানে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায়। ছবি: এএফপি

ভয়ঙ্কর ঝড়ের মধ্যে উড়ল প্লেন

২৬৬ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে আসা ঝড়ের সঙ্গে প্লেনের লড়াই। হ্যাঁ। ঠিক এমনটাই। আকাশে মেঘ কাটিয়ে কাটিয়ে উড়ছে উড়ো জাহাজ। হঠাৎ সামনে থেকে ধেয়ে আসছে ১৬৫ মাইল বেগের ঝড়। মেঘকে না হয় পাস কাটিয়ে নেওয়া যায়, কিন্তু কীভাবে এই রকম একটা প্রচণ্ড শক্তিশালী ও দ্রুত গতির ঝড়ের মোকাবিলা করবেন বিমান চালক? দেখুন সেই ভিডিও-
শুক্রবার ম্যাক্সিকোতে আছড়ে পড়ে হারিকেন প্যাট্রিসিয়া। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন সাম্প্রতিক কালের সবথেকে শক্তিশালী ঝড় গুলির মধ্যে হারিকেন প্যাট্রিসিয়া সবথেকে শক্তিশালী। WMO দাবি করছে, হারিকেন প্যাট্রিসিয়া ফিলিপিন্সের টাইফুন হাইয়ানের মতই শক্তিশালী। টাইফুন তাণ্ডবে ২০১৩ সালে ফিলিপিন্সে প্রায় ১০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতি বলেন, "হারিকেন প্যাট্রিসিয়া আমাদের কতটা ক্ষতি করল তা আন্দাজ করা সম্ভব নয়। এর আগেও আমরা ঝড়ের মোকাবিলা করেছি কিন্তু হারিকেন প্যাট্রিসিয়ার মত ভয়ংকর ঝড়ের সম্মুখীন হয়নি"। এই ঝড়ের কারণে মেক্সিকোতে বন্যার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।