Tuesday, August 4, 2009
রাজধানীর জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন -নগরজীবন by ধরিত্রী সরকার
এটা সত্য, ২৭ তারিখে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিন্তু ঢাকা মহানগর কি এর চেয়ে অনেক কম মাত্রার বৃষ্টিপাত সহ্য করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেনি? বর্ষাকালে দুই দিন ভালোমতো বৃষ্টি হলেই ঢাকা শহরের বেশ কিছু অংশে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চলগুলোতে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে যায়। বর্ষাকালে ঢাকা মহানগরে এ দৃশ্য কিন্তু নতুন কিছু নয়। ঢাকার নিকটবর্তী ডিএনডি বাঁধের ভেতরের জলাবদ্ধতা আজ এক বিশাল সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। খালগুলো হারিয়ে যাওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অপর্যাপ্ত ও অরক্ষিত পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা আজ রাজধানীকে জলাবদ্ধতার নগরে পরিণত করেছে।
মনে রাখা দরকার, ঢাকা নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ কোনো সহজসাধ্য ও স্বল্প দিনের কাজ নয়। এর জন্য দরকার সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক সমন্বয় ও পরিকল্পিত কার্যক্রম। শুধু আমাদের দেশেই নয়, উন্নত দেশগুলোতেও ভারী বৃষ্টিপাতে রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। তাত্ক্ষণিকভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে সেসব দেশের শহরের সঙ্গে আমাদের ঢাকার অনেক পার্থক্য রয়েছে। সেসব শহরে বৃষ্টিপাতের কিছুক্ষণের মধ্যে পানি সরে যায়, কারণ সেখানে রয়েছে পানি নিষ্কাশনের উন্নত ব্যবস্থা। আমাদের ঢাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা হয়, কারণ সরে যাওয়ার রাস্তা পায় না। ফলে অনেক সময় অনেক এলাকায় পানি দুই-তিন দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত জমে থাকে।
ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা কয়েক বছর ধরে ক্রমেই প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। এর মূল কারণই হলে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকা। দিনে দিনে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা বাড়ছে, অবকাঠামো বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে উঠছে। বরং জলাশয় ভরাট হতে হতে নিষ্কাশনের সুযোগ কমছে। এক সময় ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ৪৬টি ছোট-বড় খাল প্রবাহিত হতো, যা এই শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দারুণভাবে সহায়ক ছিল। কিন্তু এখন ৪৬টির মধ্যে কোনোরকমে ২৬টির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। তার মধ্যে ওয়াসার পুরোপুরি দখলে আছে মাত্র ১৩টি। এসব খালের গভীরতাও নেই, প্রশস্ততাও নেই। মাঝে মাঝে ওয়াসা এগুলো দখলমুক্ত করার প্রকল্প হাতে নেয়। এবারও বেশ কয়েকটি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। দুই পাশ থেকে অবৈধ ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে আসে ওয়াসা। কিন্তু এগুলো স্থায়ীভাবে রক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা আর নেওয়া হয় না। ফলে বছরের পর বছর উচ্ছেদ আর নতুনভাবে তৈরির খেলাই চলে। আবার খালগুলোর গভীরতা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ এ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। কিন্তু গভীরতা না বাড়লে বৃষ্টির পানি পরিবহন ক্ষমতা বাড়বে কীভাবে? আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পুরোনো খালগুলো উদ্ধার করা এবং এখনো যে কটি খাল স্রোতহীন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সেগুলো সংস্কার করে পানিপ্রবাহের উপযুক্ত করা এবং আর কোনো খাল যাতে হারিয়ে না যায় সে জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা করা।
একসময় ঢাকা শহরে ছিল অনেকগুলো পুকুর, জলাশয়, ডোবা, নালা ইত্যাদি। কিন্তু নগর উন্নয়নের চাপে পড়ে সেগুলোও হারিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাতের সময় পানি আগে সেসব নিচু জমিতে জমা হতো। তারপর ধীরে ধীরে সে পানি নেমে যেত খাল বা নদীতে। কিন্তু সেসব পুকুর, জলাশয়, নিচু ভূমি ভরাট হয়ে তাদের জায়গায় দাঁড়িয়ে গেছে রাস্তাঘাট অথবা সুরম্য অট্টালিকা। বিকল্প হিসেবে পানি বের হওয়ার পথ তৈরি হয়নি। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যার বৃদ্ধিমাফিক যেসব পরিকল্পনা হয়েছে, সেখানে পানি নিষ্কাশন পরিকল্পনা সঠিকভাবে হয়নি। বরং পরিকল্পনাবিহীন বিভিন্ন কার্যক্রম এসব জলাবদ্ধতা সৃষ্টিতে ইন্ধন জুগিয়েছে। ডিএনডি বাঁধ দিয়ে শহরে পানি ঢোকা বন্ধ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নগরের বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ তৈরি হয়নি।
বৃষ্টিপাতের পানি সর্বপ্রথম সিটি করপোরেশনের পাইপ লাইন এবং ওয়াসার স্টর্ম ওয়াটার লাইনের মধ্য দিয়ে খাল বা নদীতে গিয়ে পড়ে। কিন্তু রাজধানীর অনেক এলাকায় এখনো ওয়াসার স্টর্ম ওয়াটার লাইন স্থাপন করাই হয়নি। যেসব জায়গায় আছে তার অধিকাংশই আবর্জনা এবং পলিথিনে ভর্তি হয়ে আছে। ওয়াসা কয়েকটি সরু খালকে রূপান্তরিত করে তৈরি করেছিল বক্স-কালভার্ট। ঢাকার সেগুনবাগিচা, ফকিরেরপুল, আরামবাগসহ আরও কিছু এলাকায় রাজউকের রাস্তার নিচে নির্মিত এসব বক্স কালভার্ট পলিথিন বর্জ্যসহ নগরের অন্য বর্জ্য পদার্থে অনেকটাই রুদ্ধ হয়ে আছে। ওয়াসার বক্স কালভার্ট এবং পানি নামার গোলাকার পাইপগুলো আবর্জনায় ভর্তি থাকায় অনেক স্থানেই সেগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। এখন জানা যাচ্ছে, এগুলো পরিষ্কার করার মতো যন্ত্রপাতিই ওয়াসার হাতে নেই। ওয়াসার বর্তমান চেয়ারম্যান বলেছেন, তাঁরা জাপান থেকে এসব যন্ত্রপাতি আনার চিন্তাভাবনা করছেন। আশ্চর্য, এত দিন ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কি একেবারেই অজানা ছিল যে এসব পানি নির্গমন পাইপের আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে?
ঢাকা নগরের পানি নিষ্কাশন পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণে সবচেয়ে বেশি অভাব সমন্বয়ের। ঢাকা শহরের পানি নিষ্কাশন ও রাজপথের নিচের ড্রেনগুলোর দায়িত্ব ওয়াসার, রাস্তাগুলো পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ ও মহল্লার মধ্যের ড্রেনগুলোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের, বাঁধগুলো এবং পাম্পস্টেশনের দায়িত্ব হলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের, প্রাকৃতিক খালগুলো দেখার দায়িত্ব ওয়াসা ও জেলা প্রশাসনের। এসব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় খুবই প্রয়োজন। প্রয়োজন হলো স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনার। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন, ওয়াসা বা রাজউক বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে নিজেদের মতো করে। তাতে একটি সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আরেকটি সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষাকালে তুরাগ, বুড়িগঙ্গার পানি যাতে মোহাম্মদপুর, মিরপুরসহ ঢাকা শহরে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্যই টঙ্গী, আশুলিয়া, গাবতলীর পাশ দিয়ে তৈরি হয়েছিল বেড়িবাঁধ। আজ মোহাম্মদপুর, মিরপুরে বন্যার পানি ঢোকে না ঠিকই, কিন্তু বের হওয়ারও পথ খুঁজে পায় না, যার অবধারিত পরিণতি জলাবদ্ধতা।
রাজধানীবাসীকে সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে একটি সিটি গভর্নমেন্ট গঠন নিয়ে কথা হচ্ছে অনেক দিন থেকেই। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এ পর্যন্ত দেখা যায়নি। সিটি গভর্নমেন্ট হোক, শক্তিশালী পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেই হোক বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এনে হোক অর্থাত্ যেভাবেই হোক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় অতীব জরুরি।
ধরিত্রী সরকার সবুজ: বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিষয়ের লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যাপক মতবিনিময়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিৎ -খসড়া স্বাস্থ্যনীতি
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হচ্ছে, এই খসড়া স্বাস্থ্যনীতিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের অভিযোগ, এই খসড়ায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বেসরকারীকরণের ওপর, যার ফলে ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল-ক্লিনিক-প্যাথোলজি সেন্টার ব্যবসায়ীদের সুবিধা হবে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে সুযোগ করে দেওয়া হবে। এতে রাষ্ট্রীয় খাতের স্বাস্থ্যসেবার মানের আরও অবনমন ঘটবে। খসড়া স্বাস্থ্যনীতিতে নারীস্বাস্থ্য ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়েছে। উপেক্ষিত হয়েছে চিকিত্সাশিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোও।
যেকোনো বিষয়ে জাতীয় নীতি প্রণীত হয় ওই বিষয় সম্পর্কে সরকারের সার্বিক দর্শন, নীতিগত অবস্থান ও দিকনির্দেশনা লিখিত আকারে জনসমক্ষে উপস্থাপনের লক্ষ্যে। সংশ্লিষ্ট মহলের এক বিরাট অংশ বলছে, এসবের কিছুই এতে পরিষ্কার নয়; প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় নিশ্চয়ই বেশ গলদ ছিল। প্রথমত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি খসড়াটি কী প্রক্রিয়ায় প্রণীত হয়েছে, এর জন্য কোনো কমিটি গঠন করা হয়েছিল কি না। স্বাস্থ্যনীতির খসড়া প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী বা সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণ সুগম করার আন্তরিক উদ্যোগ ছিল না। পুরোনো খসড়াগুলো নকল করে, কেটে-জুড়ে নতুন এই খসড়া প্রণয়নের কাজটি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত জাতীয় জনসংখ্যানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচজন বিশেষজ্ঞ জনসংখ্যানীতির খসড়া তৈরি করেছেন। জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের প্রক্রিয়ায়ও এমনটিই হওয়া উচিৎ।
যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ ও সুদক্ষ বিশেষজ্ঞদের দিয়ে খসড়া প্রণয়নের পর তা নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা-পর্যালোচনা ও মতবিনিময়ের আয়োজন করা উচিৎ। সংবাদমাধ্যমে খসড়ার আধেয় নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিৎ। অর্থাত্ এটি হওয়া উচিৎ ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণভিত্তিক। জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি শুধু স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাপেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয় নয়, নাগরিকদের মৌলিক অধিকারভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষক, অর্থনীতিবিদ এমনকি রাজনীতিকদেরও এ বিষয়ে মতামত থাকতে পারে। তাই খসড়াটি নতুন করে প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্থানীয় প্রশাসনে সমন্বয়সাধন জরুরি -জেলা প্রশাসক সম্মেলন
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেন। আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদনকে তিনি ‘অত্যন্ত প্রথাগত’ বলে মন্তব্য করায় এটা পরিষ্কার হয় যে তিনি এ বিষয়ে তাঁদের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট নন। পূর্ণ সফলতার সঙ্গে কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শসহ আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাতে তিনি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ‘সমন্বিত কার্যক্রমের’ ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিগুলোর সভায় যোগ দিতে ‘পার্টিকুলার অথরিটি’র অনীহার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত জানেন। প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারের সদস্যদের মধ্যে কাজের সমন্বয় ও সহযোগিতার অভাবের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব পালনে কিছু আইনি ও প্রশাসনিক সমস্যা হচ্ছে বলে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসকেরা উপজেলা কর্মকর্তাদের (ইউএনও) হাতে কিছু বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তত্ত্বগতভাবে এমনটির প্রয়োজন নেই, তবে বাস্তব ক্ষেত্রে শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের সুবিধার্থে এর প্রয়োজন আসলেই রয়েছে কি না, তা বিবেচনার বিষয় হতে পারে।
একইভাবে স্থানীয় প্রশাসনে সাংসদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের কাজে সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাঁদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার ক্ষমতা চেয়েছেন জেলা প্রশাসকেরা। কিন্তু বর্তমান আইনে এ রকম ক্ষমতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ তাঁরা নির্বাচিত জনপ্রিতিনিধি এবং তাঁদের জবাবদিহির পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। জেলায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে কাবিখা, কাবিটা প্রভৃতি প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয় জেলা প্রশাসকদের নামে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-সদস্যরা সেগুলো বিতরণ করেন। কিন্তু সেখানে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলে দুর্নীতি দমনের স্বাভাবিক পন্থায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
এটি এমন এক সমস্যা, যার সমাধান না হলে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কাজে সমন্বয়সাধনের জন্য সরকার সংশ্লিষ্ট সবার জন্য কর্মক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করে দেবে। আমাদের মনে হয়, এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা। তবে স্থানীয় সরকার যাতে শক্তিশালী হয়, সেদিকেই বেশি খেয়াল রাখা উচিৎ।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1373)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...