Thursday, May 26, 2011

যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তান না ছাড়ার অনুরোধ জানায় ভারত

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল ভারত। দেশটি থেকে মার্কিন সেনারা চলে গেলে ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে ভেবে নয়াদিল্লি ২০১০ সালে এই অনুরোধ জানায়। ফাঁস হওয়া মার্কিন কূটনৈতিক নথির বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়। হইচই ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকসের কাছ থেকে এই নথিবিষয়ক তথ্য তারা পেয়েছে বলে দাবি করে।
২০০৯ সালে মার্কিন মিলিটারি একাডেমিতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১১ সালের শুরুতে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগান সেনাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের শুরুতে মার্কিন সিনেটর ক্লেয়ার ম্যাকক্যাসকিল ভারত সফর করেন। এ সময় তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শিবশঙ্কর বলেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে জঙ্গি দমনে যা করণীয়, ইসলামাবাদ তা করবে না।
এই উদ্বেগ থেকে ভারত আফগানিস্তানের উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি আফগানিস্তান সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এ সময় তিনি আফগানিস্তানে ভারতের উন্নয়ন-সহায়তা ১৩০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার করার কথা ঘোষণা করেন। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের তালেবান নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগকেও সমর্থন করেন মনমোহন সিং।
উইকিলিকসের ফাঁস করা ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির মার্কিন তারবার্তায় ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিমোথি জে রোয়েমার বলেন, শিবশঙ্কর মেনন তাঁকে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে জোট বাহিনী জয়ী হবে, অধিকাংশ ভারতীয় পর্যবেক্ষক এটা বিশ্বাস করে। ওই তারবার্তায় আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্য জোট বাহিনীকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে তারা ওই যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে না। কারণ, এর আগে আফগানিস্তানে তারা তিনটি যুদ্ধে হেরেছে।
শিবশঙ্কর মেনন উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ভারতে বৃত্তি পাওয়ার জন্য আফগানিস্তানের ১৩ হাজার নাগরিক পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু তাঁরা কেউ উত্তীর্ণ হননি। এ থেকে বোঝা যায়, এমন একটি সুযোগ পেতে আফগান জনগণ কত মরিয়া। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে সাফল্য অর্জন করতে এলে ‘সামরিক অভিযানের চেয়ে বেশি কিছু করতে হবে।’
শিবশঙ্কর মেননকে আশ্বস্ত করে মার্কিন সিনেটর ম্যাকক্যাসকিল বলেন, ২০১১ সাল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু করা হলেও আফগান জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী যাতে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

বড় জয়ই পেল পাকিস্তান

অর্ধেক কাজ এগিয়ে রেখেছিল আগের দিনই। বাকিটুকু সারতে কাল খুব বেশি সময় নেয়নি পাকিস্তান। মধ্যাহ্নবিরতির আগেই গুটিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ক্যারিবিয়ানে প্রথম সিরিজ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তবে ১৯৬ রানের জয়ে সিরিজটা অন্তত ১-১-এ ড্র করতে পারল পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজে সর্বশেষ সিরিজও ১-১ ড্র করে ফিরেছিল পাকিস্তান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ম্যাচটাকে খুব বেশি দূর টানতে পারছে না, কাল তৃতীয় ওভারেই নিশ্চিত হয়ে যায় সেটা। আজমলের টার্ন ও বাউন্সে ফিরে যান ব্রেন্ডন ন্যাশ। ম্যাচ হয়তো জেতাতে পারতেন না ন্যাশ, তবে উইকেটে পড়ে থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে পারতেন। আজমল এরপর শেষ করেছেন ড্যারেন স্যামির অ্যাডভেঞ্চার। আগের দিনের তিনটির সঙ্গে আবদুর রেহমান কাল যোগ করেছেন কার্লটন বাফের উইকেট।
এই রেহমানই আগের দিন ম্যাচটাকে এনে দিয়েছিল পাকিস্তানের হাতের মুঠোয়। দারুণ এক ইনসুইঙ্গারে ক্রেইগ ব্রাফেটকে ফিরিয়ে শুরুটা করে দিয়েছিলেন তানভির আহমদে। ১৫ ও ০, দুঃস্বপ্নই হয়ে রইল ১৮ বছর বয়সী ওপেনারের অভিষেক। দ্বিতীয় উইকেটে সিমন্সকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েছিলেন ড্যারেন ব্রাভো। চতুর্থ দিনের উইকেট বা পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণকেও খুব একটা কঠিন মনে হচ্ছিল না এই জুটির সামনে। চা-বিরতির পর সব পাল্টে দিলেন রেহমান।
সর্বশেষ দুই টেস্ট সিরিজে তিনিই ছিলেন পাকিস্তানের মূল স্পিনার। কিন্তু আজমলের ঔজ্জ্বল্যে এই সিরিজে ছিলেন অনেকটাই ম্লান। জ্বলে উঠলেন সিরিজের শেষ ইনিংসটায়। প্রথম ৩ ওভারে দুটো ছয় হজম করেছিলেন। পরে ১১ ওভারের টানা স্পেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডই ভেঙে দিয়েছেন। সিমন্সকে আউট করেছেন একটু বেশি লাফিয়ে ওঠা বলে, সারওয়ানকে সোজা বলে আর স্যামুয়েলসকে নিখুঁত টার্নে।
তৌফিক উমরের পর মিসবাহ-উল-হকের সেঞ্চুরিতে এর আগে পাকিস্তান পেয়েছিল প্রায় ভুলে যাওয়া এক স্বাদ। ১৭ ম্যাচ আর ৩৫ ইনিংস পর ইনিংস ঘোষণা! ম্যাচ জিততে হলে রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটা নতুন করে লিখতে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এই সিরিজের বাস্তবতায় যে এটা প্রায় অলীক, সে তো প্রমাণ হয়েই গেছে!

‘ড্রাগ নিয়েছিল আর্জেন্টিনা দল’

মনে হচ্ছে, সাপের লেজেই পা দিয়েছেন হুলিও গ্রন্ডোনা। আগের দিনই ডিয়েগো ম্যারাডোনা ফণা তুলেছিলেন। এবার মারলেন মোক্ষম ছোবল। গুরুতর অভিযোগ তুলে বললেন, ১৯৯৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলার আগে নিষিদ্ধ ড্রাগ নিয়েছিল আর্জেন্টিনা দল এবং ফিফার প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থার (এএফএ) প্রধান গ্রন্ডোনাও ছিলেন এই পরিকল্পনার অংশ।
১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের টিকিট পেতে আর্জেন্টিনাকে প্লে-অফ খেলতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। প্রথম ম্যাচটি ১-১ ড্র হওয়ার পর বুয়েনস এইরেসের ফিরতি লেগে অ্যালেক্স টবিনের আত্মঘাতী গোলে জিতে যায় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বও নিশ্চিত হয়। ম্যারাডোনা জানালেন, ওই ম্যাচের আগেই কফির মাধ্যমে ডোপ দেওয়া হয়েছিল আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের। ওয়েবসাইট।
‘অস্ট্রেলিয়ার ওই ম্যাচের আগে ডোপ টেস্ট হলো না কেন, যেখানে বাকি সব ম্যাচেই হয়েছিল? ওরা ১০টি ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করেছিল। কেবল সেই ম্যাচেই তা করা হলো না, যে ম্যাচটির ওপর নির্ভর করছিল আর্জেন্টিনা যুক্তরাষ্ট্রে যাবে কি যাবে না। এভাবেই প্রতারণা করা হয়েছে। গ্রন্ডোনা এর সবই জানতেন’—‘দ্য ফুটবল শো’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরশু এই বিস্ফোরক মন্তব্যই করেছেন ম্যারাডোনা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপেই ডোপ টেস্টে ধরা পড়েন আর্জেন্টিনার এই সাবেক তারকা।
ওই ম্যাচের আগে কী হয়েছিল সেটাই বলেছেন ম্যারাডোনা, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই ম্যাচের আগে কফিতে এমন কিছু মেশানো হয়েছিল, আমরা যেন বেশি শক্তি পাই। এর ফলে ওই ম্যাচে আমরা অনেক বেশি দৌড়াতে পেরেছিলাম।’
ম্যারাডোনার কথার আগল খুলে দিয়েছেন আসলে গ্রন্ডোনাই। বিশ্বকাপের পর থেকেই দুজনের সম্পর্ক খারাপ। প্রায়ই দুই পক্ষের তিক্ত বাগ্যুদ্ধ খবরের শিরোনাম হয়ে আসে। সম্প্রতি গ্রন্ডোনা ম্যারাডোনার ড্রাগ-আসক্ত অতীতের দিকে ইঙ্গিত করে খোঁচা দিয়েছিলেন। জবাবে আল ওয়াসল ক্লাবে কোচ হিসেবে যোগ দেওয়া ম্যারাডোনা গ্রন্ডোনার পুরো পরিবারকে আদালতে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এখন তো দাবি করছেন, যে ড্রাগ নিয়ে ম্যারাডোনাকে খোঁচা দিয়েছেন, গ্রন্ডোনা নিজেও সেই ড্রাগের পরোক্ষ আশ্রয় নিয়েছিলেন দলকে বিশ্বকাপে পৌঁছে দিতে।
কেন এত দিন পর এসব বলছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ম্যারাডোনা, ‘ডাক্তাররা আমাদের যা দিয়েছিল, আমরা সেটাই নিয়েছি। বিশ্বকাপে যাওয়ার জন্য আমাদের কমলার জুস খেতে বললে সেটাও খেতাম। এখন আমি এসব কথা বলছি কারণ, গ্রন্ডোনা ড্রাগ নিয়ে এমনভাবে কথা বলেন, যেন তিনি ফুটবলে ড্রাগের ব্যবহার আর আমার অসুস্থতা বিষয়ে কিছুই জানেন না।’
১৯৭৯ সাল থেকে এএফএর প্রধানের পদে আসীন গ্রন্ডোনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘোষণাও দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল-ঈশ্বর। সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন, আর যেন সমর্থন দেওয়া না হয় ৭৯ বছর বয়সী গ্রন্ডোনাকে, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে (ক্রিশ্চিনা কির্চনার) বলছি, যেন তাঁকে ছাঁটাই করা হয়। আমি বলছি, পরিবর্তন দরকার। যেসব নোংরামি গ্রন্ডোনা করেছেন, তাঁর বয়স এবং তাঁর সময় পার হয়ে যাওয়া—এসব বিবেচনা করার পরও যদি তাঁকে সমর্থন দিতেই থাকেন, সেটা হবে ভুল।’
এ ব্যাপারে গ্রন্ডোনার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ম্যারাডোনার সাবেক সতীর্থরা দাবি করছেন, এই দাবি মোটেও সঠিক নয়।

রোনালদোকে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত ফার্গুসন

২০০৯ সালে ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে এসেছিলেন রোনালদো। এবারের মৌসুমে ৪০ গোল করে স্প্যানিশ লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন এক রেকর্ডই করে ফেলেছেন এই পর্তুগিজ স্ট্রাইকার। কিন্তু স্পেনে তাঁর মাঠের বাইরের সময়টা নাকি খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। এখনো নাকি ওল্ড ট্রাফোর্ডের দিনের কথা খুব মনে পড়ে তাঁর। রোনালদোর জন্য সুখবর যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন আবারও তাঁকে সেখানে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত।
রিয়ালের বর্তমান কোচ হোসে মরিনহোর সঙ্গে সম্পর্কটা নাকি খুব একটা ভালো না রোনালদোর। আর ২০০৯ সালে মাদ্রিদে বদলিটাও নাকি তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়েছিল। এখন রোনালদোকে আবার ম্যানইউতে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ফার্গুসন, তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ মার্সেলো লিপ্পিকে জানিয়েছিলেন। এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে লিপ্পি সাংবাদিকদের বলেন, ‘অ্যালেক্স আমাকে বলেছে যে, সে রোনালদোকে আবার ফিরিয়ে আনতে চায়। আমরা দুজনই মনে করি যে, সে একজন অসাধারণ ফুটবলার। সে উইঙ্গার হিসেবেও খেলতে পারে আবার একদম স্ট্রাইকার হিসেবেও খেলতে পারে। আর তার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হলো, তাঁর যেকোনো সময় গোল করতে পারার দক্ষতা।