Saturday, March 28, 2015

‘তওবা করে সঠিক নির্বাচন দিন’ -একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী

৫ই জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার প্রতিশোধ জনগণ এবার সিটি নির্বাচনে নেবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি প্রফেসর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। একইসঙ্গে অতীতের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সরকারকে তওবা করে সিটি নির্বাচন নিরপেক্ষ করার দাবি জানান সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। এদিকে সিটি নির্বাচনের দলীয় প্রার্থীদের গণভবনে ডেকে প্রধানমন্ত্রী যে সংবিধান লঙ্ঘন করছেন এর দায়ে ভবিষ্যতে একদিন তার ফাঁসিও হতে পারে বলে মন্তব্য করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। আগামী ১লা এপ্রিল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেবেন বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেছেন, সিটি নির্বাচনের ফলাফল জোর করে নিতে চাইলে আপনি আরও পচে যাবেন। জনগণ আপনাকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করবে। আজ দুপুরে মতিঝিলের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের  কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ফুটপাথে অবস্থানের ৬০তম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা। সরকারের উদ্দেশে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ৫ই জানুয়ারি নির্লজ্জভাবে বেআইনি নির্বাচন করেছিল সরকার। ওই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এখন তাদের সামনে শেষ সুযোগ এসেছেÑ তওবা করে অতীতের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার । সরকারকে বলবো, সঠিক নির্বাচন দেন। একইভাবে নির্বাচন কমিশনকে বলবোÑ একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করেন। এর মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারবেনÑ অতীতে ভুল হয়েছে আর হবে না। প্রশাসনের উদ্দেশে বি. চৌধুরী বলেন, অতীতে আপনারা আঙুল চোষার কথা বলেছিলেন। আর আপনাদের আঙুল চোষার দরকার নেই। দায়িত্বে আছেন, দায়িত্বের কাজ করেন। ক্ষেমতা (ক্ষমতা) দেখাইয়েন না। ক্ষেমতা বেশি দিন থাকে না। কারণ দায়িত্ব পালন না করলে এর প্রতিশোধ একদিন জনগণ নেবে। তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচন সরকারকে সঠিক পথে আনার সুযোগ। এবার রুখে দাঁড়াতে হবে। ১৫৩টি আসনের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার প্রতিশোধ নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনারকে বলবো, পুতুল খেলা চলবে না। আমার ভোট আমি দিবো, তুমি ছিনিয়ে নেয়ার কে? কোন রকম অন্যায় চলবে না।  বি. চৌধুরী চৌধুরী বলেন, ঢাকা শহরের উত্তর-দক্ষিণের জনগণ যদি জেগে উঠে তাহলে আর হরতাল-অবরোধ দিতে হবে না। তুমি, আমাদের জাগিয়ে দিয়েছে, তোমাকে আমরা ঘুমাতে দেবো না। কাদের সিদ্দিকীকে রাস্তায় নামার পরামর্শ দিয়ে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, কাদের সিদ্দিকী আমার প্রিয় মানুষ। যাকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্ভব নয়। তার এ মানুষটির নীরব প্রতিবাদকে আমি সব সময় সমর্থন দিয়ে আসছি। কে ক্ষমতায় সেটা দেখার বিষয় নয়, আমার দল সব সময় কাদের সিদ্দিকীর পাশে থাকবে। তিনি বলেন, আপনি ৬০ দিন ধরে মতিঝিলে অবস্থান করছেন। জনগণের কাছে আপনার মেসেজ পৌঁছে গেছে। কিন্তু সরকারের কানে দিয়েছে তুলা, পিঠে দিয়েছে কুলা। তারা আপনার কথা শুনবে না। তাই আপনি রাস্তায় নামুন। সিটি নির্বাচনে জনগণকে প্রতিশোধ নিতে উদ্বুুদ্ধ করুন। শুধু ঢাকা শহরে অবস্থান কর্মসূচি সীমাবদ্ধ না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দিন।  মতবিনিময় সভায় লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-এর সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু, ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা মহানগর সভাপতি এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন কাদের সিদ্দিকী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার,  কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, শিক্ষাবিদ এম ই এইচ আরিফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত দুই প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সিপিবি নেতা আবদুল্লাহ আল কাফি রতন। তিনি ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।  শনিবার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল আনিসুল হক ও মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রধানমন্ত্রী দলের অন্য কাউকে নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন এ সিপিবি নেতা। অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় ইতিমধ্যে একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীসহ ২৩ জনকে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া দুজন ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করছেন।

সিটি নির্বাচন বিএনপির জন্য সুযোগ -বিবিসি সংলাপে বক্তারা

বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নিলে চলমান আন্দোলনে তাদের রাজনৈতিক দাবিগুলো একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসি বাংলা সংলাপের প্যানেল আলোচকরা। তারা বলেছেন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে কৌশল পরিবর্তন করার সুযোগ থাকবে। রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এবারের পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. দিলারা চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সাদেকা হালিম। জি এম কাদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সব দল অংশ নিয়ে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে কৌশল পরিবর্তন করার সুযোগ আসবে। নির্বাচনে যাওয়া ও আন্দোলনের কৌশল। জনপ্রতনিধি অপসারণের নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরণের দ্বৈতনীতি থাকা উচিত না। সংসদে জাতীয় পার্টির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রীত্ব এবং বিরোধী দলে থাকার মতো সাংঘর্ষিক জায়গায় থাকলে কখনই বিরোধী দল ভূমিকা পালন করতে পারবে না। আলোচনায় অংশ নিয়ে সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, সিটি নির্বাচনে গেলে বিএনপি একটি নতুন লিস্ট পাবে। তাই নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য বিএনপি সর্বাত্বক চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি অপসারনের নীতি অবশ্যই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে। সংসদে জাতীয় পার্টির ভূমিকা প্রসঙ্গে ২০ দলীয় জোটের এই নেতা বলেন, বাংলা অভিধানে স্থলচর, জলচর এবং উভচর তিনটি শব্দ আছে। এখন জাতীয় পার্টির বেলায় কোন শব্দ বলা যাবে? প্যানেল আলোচক হিসেবে ড.দিলারা চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করা উচিত কারণ বিএনপি নির্বাচনমুখী দল এবং বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন কেমন হয় তাও দেখা যাবে। তবে, নির্বাচন কমিশনের কর্মকান্ডে আশঙ্কা আছে লেভেল পে¬য়িং ফিল্ড তৈরী হবে কি-না। আর আন্দোলনে ফিরে আসার জন্য আন্দোলনের কৌশল পাল্টাতে হবে। সাদেকা হালিম বলেন, সিটি নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির আন্দোলনের যৌক্তিকতা হারিয়ে যাবে না। বরং নির্বাচনে অংশ নিলে এ আন্দোলনের রাজনৈতিক দাবিগুলো একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আসবে।

রক্তপাতের খেলাটা এবার একটু থামান

১৬ বছরে মুখরোচক গল্পটা অনেকেই শুনতে চেয়েছেন৷ মনিকা লিউইনস্কি বহুবার শুনিয়েছেন ক্লিনটনের সঙ্গে প্রেমে জড়ানোর গল্প৷ এখন প্রতিবাদ জানিয়ে সবাইকে এর প্রতিকারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলছেন, ‘রক্তপাতের খেলাটা এবার থামান৷ রক্তপাত বলে মনিকা লিউইনস্কি আসলে হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন৷ সেই ১৯৯৮ সাল থেকে রক্তক্ষরণ তো কম হয়নি তাঁর হৃদয়ে৷ তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর যৌন কেলেঙ্কারির খবর ফাঁস হবার পর সবাই লুফে নেয় সেই খবর৷ ইন্টার্ন হিসেবে হোয়াইট হাউসে কাজ করতে গিয়ে এক ২২ বছর বয়সি সুন্দরীর খোদ প্রেসিডেন্টের প্রেমে পড়া, দুজনের মাঝে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠা- আলোড়ন তোলার মতো সব রসদই তো ছিল সেখানে!
আলোড়ন এতটাই সৃষ্টি হলো যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিসংশনের প্রস্তাব রাখল৷ এমন লজ্জাজনক ক্ষমতাচ্যুতির হাত থেকে ক্লিনটনকে অবশ্য বাঁচিয়েছিল সেনেট৷ সেনেট অভিসংশন থেকে মুক্তি দেয়ায় এক অর্থে ক্লিনটনের ‘শেষ রক্ষা হলেও যাঁর সঙ্গে তিনি প্রেমে মজেছিলেন, মেয়ের বয়সি যে তরুণীর সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন শারীরিক সম্পর্ক, সেই মনিকা লিউইনস্কির চাকরি, সামাজিক মানমর্যাদা সব চলে যায়৷
গত বছর ফিলাডেলফিয়ায় ত্রিশ বছরের কম বয়সি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে ভাষণ দেন মনিকা লিউইনস্কি৷ হোয়াইট হাউসের বু্দ্ধিদীপ্ত, চটপটে, সুশ্রী এক শিক্ষানবিশ থেকে অনেকের চোখে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘৃণিত মানুষ হয়ে জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলার ওই সময়টার কথা সবিস্তারেই বলেছেন সেখানে৷ অবশ্য পুরোনো কাহিনি নতুন করে শোনানোর জন্য সেখানে যাননি৷ যৌন কেলেঙ্কারির জন্য বিশ্বময় পরিচিতি পাওয়া এই মার্কিন নাগরিক সেখানে গিয়েছিলেন ১৯৯৮ থেকে ইন্টারনেটে তাঁর বিরুদ্ধে চলে আসা ঢালাও অপপ্রচার, কুৎসা, ঘৃণার অবসানকল্পে কিছু বলতে৷ সেখানেও নারী হিসেবে আক্রমণের শিকার হতে হয় তাঁকে৷ ২৭ বছর বয়সি এক তরুণ ৪১ বছর বয়সি মনিকাকে বলেন, সুযোগ পেলে তিনি মনিকাকে ‘২২ বছর বয়সের অনুভূতি ফিরিয়ে দেবেন৷ গত সপ্তাহে হাসতে হাসতে তারও একটা জবাব দিয়েছেন মনিকা লিউইনস্কি৷
 গত সপ্তাহে ইন্টারনেট জগতের অনেক রথীমহারথী এবং বিশ্বের বড় বড় তারকার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠা ‘টেডটক-এ ভাষণ দিয়েছেন মনিকা৷ সেখানে ২৭ বছর বয়সি ওই তরুণের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে হাসতে হাসতে বলেছেন, ‘‘পৃথিবীতে আমিই সম্ভবত ৪০ পেরোনো একমাত্র নারী যে আর ২২ বছর বয়সে ফিরে যেতে চায় না৷
ওই ২২ বছর বয়সেই ক্লিনটনের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন মনিকা লিউইনস্কি৷ সেটা যে ভুল ছিল তা একভাবে স্বীকার করেই টেডটক-এর শ্রোতাদের কাছে জানতে চাইলেন, আপনাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যিনি ২২ বছর বয়সে কোনো ভুল করেননি? উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে এমন মানুষ দু-চারজনই ছিলেন৷
কিন্তু সাইবার জগতে সক্রিয়দের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ কি এটা কখনো ভাবেন যে, ভুল সব মানুষের জীবনেই থাকে তাই সেই ভুলের কারণে কারো জীবন দুর্বিষহ করে তোলা অনুচিত? ভাবলে ইন্টারনেটে কেন এত ঘৃণা ছড়ানো? এমন তৎপরতার কারণে মনিকা লিউইনস্কিও এক সময় ভেঙে পড়েছিলেন৷ আত্মঘাতী হওয়ার ভাবনাও এসেছিল মাথায়৷ পরে ধীরে ধীরে সামলে নেন নিজেকে৷ সবার অগোচরে নতুন করে গড়ে তোলেন নিজেকে৷ টেডটক-এ প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল বলছে, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে আর ভুল পথে পা না বাড়িয়ে, বরং নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন মনিকা৷ লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে সামাজিক মনস্তত্বে মাস্টার্স করেছেন৷ ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন৷ জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে সেটি৷
তবে স্রেফ নিজের জগতের নীরব বাসিন্দা হয়ে বেশিদিন থাকতে পারেননি মনিকা লিউইনস্কি৷ ৫ বছর আগের একটি আত্মহত্যা ভীষণ নাড়া দেয় তাঁকে৷ মনিকা ঠিক করেন, সাইবার জগতে ঘৃণা ছড়ানো, যাঁকে খুশি তাঁকে অপমান-অপদস্থ করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন৷
নিউ জার্সির টাইলার কমেন্টি একটি ছেলেকে চুমু খেয়েছিল৷ ১৮ বছর বয়সি এক ছেলের অন্য ছেলেকে চুমু খাওয়ার সেই দৃশ্য ওয়েবক্যামে গোপনে রেকর্ড করে প্রকাশ করে দেয়া হয়৷ চুম্বন দৃশ্য দেখে সবাই এত অপমানজনক কথা বলতে এবং লিখতে শুরু করে যে সেসব সইতে না পেরে জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে টাইলার৷
টাইলারের মৃত্যুর পরই মূলত সাইবার বুলিয়িং, অর্থাৎ সাইবার জগতে অন্যকে অবিরাম আঘাত করার যে প্রবণতা, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন মনিকা লিউইনস্কি৷ দীর্ঘদিনের প্রায় অজ্ঞাতবাসের পর এভাবে জনসমক্ষে এসে দারুণ সাড়াও পাচ্ছেন৷ যৌন কেলেঙ্কারির কারণে লজ্জায় ডুবে থাকা জীবনে আসছে সম্মান, মর্যাদা৷ টেডটক-এ দেয়া তাঁর ভাষণের ভিডিও ইউটিউবে সাড়ে সাত লক্ষেরও বেশি এবং টেড-এর ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে সাড়ে ষোলো লাখেরও বেশি মানুষ দেখেছেন৷
বহুল প্রশংসিত এই ভাষণে নিজের জীবনের সবচেয়ে কলঙ্কজনক এবং বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে অনেক কথা বললেও তাঁর শেষ কথা ছিল একটাই, ‘‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি৷ কিন্তু আমাদের মত প্রকাশের অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে নিজ নিজ দায়িত্ব নিয়েও কথা বলা দরকার৷ আমরা সবাই চাই আমার কথা কেউ শুনুক৷ কিন্তু উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু বলা এবং মনযোগ আকর্ষণের জন্য কিছু বলার মধ্যে পার্থক্য আছে৷ নিজেকে বাঁচানোর জন্য নয়, মনিকা কথা বলছেন, এমন প্রতিটি মানুষ যে কিনা লজ্জায় কুঁকড়ে যাবার মতো আঘাত এবং গণঅপমান সহ্য করছেন তাঁদের পাশে দাঁড়াতে৷ মনিকার মতে, বিশ্বে এমন একটা বাজার তৈরি হয়েছে যেখানে গণঅপমানও একটা পণ্য আর লজ্জা একটা শিল্প৷ কাউকে আপনি যত লজ্জা দেবেন, তত ক্লিক পাবেন৷ যত ক্লিক পাবেন, বিজ্ঞাপন খাত থেকে আসা টাকার অঙ্কটা তত বড় হবে৷ এ অবস্থায় মনিকা লিউইনস্কির আহ্বান, আসুন, লজ্জা আর রক্তপাতের এ খেলাটা এবার থামাই৷
সুত্র- DW

ইয়েমেনে পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে সৌদি আরব

সৌদি আরবের আগ্রাসন চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের নেতা আবদুল-মালিক বলেছেন, ইয়েমেনে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে সৌদি আরব। শুক্রবার আল-হুথি টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন আবদুল-মালিক। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকরাও একই মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, আঞ্চলিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতেই এ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে রিয়াদ। সৌদি আরবকে ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং আমেরিকার হাতের পুতুল বলে অভিহিত করে আবদুল-মালিক আল-হুথি বলেন, ইয়েমেনে হামলার কোনো ন্যায়সঙ্গত কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনকে ভেঙে ফেলতে চাচ্ছে আমেরিকা ও ইসরাইল। আল-হুথি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত রাখলে তার চরম ফল সৌদি আরবকে ভোগ করতে হবে। অপরাধী বাহিনী এবং তাদের অনুচরদের মোকাবেলা করা হবে। ইয়েমেনের জনগণকে হত্যা করা যাবে ভেবে থাকলে বোকামি হবে উল্লেখ করে হুথি নেতা বলেন, এ আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে সৌদি শাসকদের দম্ভ এবং অমানবিক চেহারা ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, আগ্রাসী শক্তিকে ভুলে যাওয়া উচিত হবে না, দেশ ও বিপ্লবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ইয়েমেনের জনগণ। এদিকে, ইয়েমেনে সৌদি আরবের আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে এ আগ্রাসনকে মার্কিন মদদপুষ্ট হিসেবে উল্লেখ করে একে স্পষ্ট ভাষায় অবৈধ এবং অবিবেচনা প্রসূত হিসেবে অভিহিত করেছে।
বিবৃতিতে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে হিজবুল্লাহ বলেছে, ইয়েমেনের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণ, দেশটির সেনাবাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর উপর সৌদি হামলার কঠোর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি দেখা দেবে। সৌদি এ আগ্রাসন গোটা অঞ্চলকে আরও উত্তেজনা ও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেবে বলেও রিয়াদকে হুশিয়ার দিয়েছে হিজবুল্লাহ।
এদিকে, এর মধ্যেই ইরান, রাশিয়া, সিরিয়া এবং ইরাক এ আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা করেছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদি সৌদি আরব পালিয়ে গেছেন। মার্কিন মদদপুষ্ট সৌদি বাহিনী যখন ইয়েমেনের উপর একতরফা এবং নির্বিচারে বিমান হামলা করছে তখন দেশ ছাড়েন হাদি। বৃহস্পতিবার রাজধানী রিয়াদের বিমান ঘাঁটিতে হাদি পৌঁছানোর পর সেখানে তাকে স্বাগত জানান প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদ এবং সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা জেনারেল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান খালিদ বিন আলি আল-হুমাইদান। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস এজেন্সি এ খবর দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বিবরণ দেয়া হয়নি। আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে এগিয়ে আসার খবরে বন্দরনগরী এডেন থেকে হেলিকপ্টারযোগে পালিয়ে যান হাদি। এ সময়ে তার সঙ্গে কয়েকজন সৌদি কূটনীতিবিদ ছিলেন। এএফপি।

সিটি নির্বাচনে প্রচারণায় যত বিধি নিষেধ

ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বিধি নিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮শে এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে এ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল রোববার শেষ হচ্ছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময়। এরপরেই প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা। যা চলবে ২৬শে এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা সামসুল আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পরই প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রার্থীদের কাছ থেকে আচরণবিধি মানার বিষয়ে অঙ্গীকারনামা নেয়া হচ্ছে। ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণায় কোন বিধি-নিষেধ নেই। তবে প্রার্থীদের দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে মাইক ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। প্রতি ওয়ার্ডে প্রচারণার জন্য একটি ও পথসভার জন্য একটির বেশি মাইক ব্যবহার করতে পারবেন না। পোস্টার নির্ধারিত মাপের ও সাদাকালো হতে হবে। মিছিলে নেতৃত্ব দেয়া বা প্রার্থনারত অবস্থার কোন ছবি পোস্টারে ব্যবহার না করে সাধারণ ছবি রাখতে হবে। সেই সঙ্গে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও তারিখ থাকতে হবে। রাজনৈতিক দল, প্রতীক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি পোস্টারে ব্যবহার করা যাবে না। সিটি করপোরেশনের কোন স্থাপনা, যানবাহন বা দেয়ালে পোস্টার লাগানো ও প্রচারপত্র বিতরণ করা যাবে না। তবে টাঙানো যাবে। কোন বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না। উস্কানিমূলক বক্তব্যের পাশাপাশি ধর্মীয় উপসানালয়ে প্রচারণা চালাতে পারবেন না প্রার্থীরা। দেয়াল লিখন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের ওপর থাকছে নিষেধাজ্ঞা। প্রচারণায় পথসভা ও ঘরোয়া সভা ছাড়া কোন জনসভা বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। সড়ক আটকে মঞ্চ তৈরি ও পথসভা করা যাবে না। এছাড়া আলোকসজ্জা, প্যান্ডেল, সড়কে নির্বাচনী ক্যাম্প, কোন গেইট ও তোরণ নির্মাণেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থী ছাড়া কোন মেয়র প্রার্থী ভোটার সিøপ দিতে পারবেন না। প্রচারণায় নিজের প্রতীক বোঝাতে জীবন্ত কোন প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া নির্বাচনে ভোটার পিছু মেয়র প্রার্থী গড়ে সর্বোচ্চ ২ টাকা ও কাউন্সিলর প্রার্থী গড়ে সর্বোচ্চ ৬ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। কেউ আগাম প্রচারে নেমেছেন কি না তা দেখতে নির্বাচনী এলাকায় এরইমধ্যে নির্বাহী হাকিমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভিজিলেন্স টিম কাজ করছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। নির্দেশের পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যানার-পোস্টার না সরানোয় ইতোমধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদ-, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে এ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৫৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। এছাড়া সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ২১৩৩ জন প্রার্থী।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটিতে মেয়র-কাউন্সিলর পদে ২৯শে মার্চ পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল, ১লা ও ২রা এপ্রিল বাছাই এবং ৯ই এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় রয়েছে। ভোট হবে ২৮শে এপ্রিল।

নান ধর্ষণ তদন্তে বাংলাদেশে আসতে চায় পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি by পরিতোষ পাল

পশ্চিমবঙ্গের রাণাঘাটের একটি কনভেন্ট স্কুলে লুটপাট ও এক নানকে ধর্ষণের ঘটনার তদন্তের সুত্রে রাজ্যের সিআইডির গোয়েন্দারা বাংলাদেশে যেতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অনুমতি চেয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে নবান্ন সুত্রে জানা গেছে। এই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একজন বাংলাদেশিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের জেরা করে জানা গেছে, গত ১৪ই মার্চ কনভেন্ট স্কুলে লুটপাট ও ধর্ষণের ঘটনায় যুক্তদের অধিকাংশই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, বাংলাদেশের দুষ্কৃতিদের একটি দল এই ঘটনায় জড়িত। এর আগে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ তদন্তে ভারতের এনআইএ-র একটি দল ঢাকা গিয়েছিল। গত বৃহষ্পতিবার মুম্বাই থেকে সেলিম শেখ নামে এক বাংলাদেশিকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর দিনইপশ্চিমবঙ্গের হাবড়া থেকে  গ্রেপ্তার করা হয় গোপাল সরকার নামে এক রাজমিস্ত্রিকে। তার বাড়িতেই বাংলাদেশি দুষ্কৃতিরা মাঝে মাঝেই জড়ো হত। ধৃত গোপাল সরকারই ওই ষড়যন্ত্রের অন্যতম চক্রী বলে অভিযোগ করেছে সিআইডি। রানাঘাটের ওই ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের ঘটনার আগে ও পরে আশ্রয় দেয়া ছাড়াও নানা ভাবে সাহায্য করেছিলেন গোপাল। তিনি লুঠ হওয়া টাকার ভাগ পেয়েছেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, পেশায় রাজমিস্ত্রি গোপাল মাস খানেক আগে ওই স্কুলে মেরামতির কাজ করেছিলেন। স্কুলের ভিতরে সব ব্যবস্থা তার নখদর্পনে ছিল। বাংলাদেশি দুষ্কৃতীর দলকে ওই স্কুলে ডাকাতির বিষয়ে গোপালই পরামর্শ দিয়েছিল বলে সিআইডির দাবি। বছর দুয়েক আগে গোপাল বাংলাদেশের খুলনা জেলার মনিরামপুর থেকে এসে হাবরায় বসবাস করা শুরু করেন। গোপালের স্ত্রী অনিতার মেসোমশাই মিলন এই দুষ্কৃতী দলের মূল পান্ডা বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। সিআইডি সুত্রে জানা গেছে, মিলনও বাংলাদেশি। সে-ও মনিরামপুরের বাসিন্দা। বছর দু’য়েক ধরেই হাবড়ার গোয়ালহাটির বাড়িতে মিলন-সহ অন্য দুষ্কৃতীরা আশ্রয় নিত। শুধু উত্তর ২৪ পরগনাই নয়, কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি ও দক্ষিণ ভারতের নানা জায়গায় ডাকাতির ঘটনায় এই দলটি জড়িত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ধৃত দ’ুজনকে জেরা করে রাণাঘাটের ঘটনায় যুক্ত দুষ্কৃতীদের ভারত ও বাংলাদেশে কোথায় কোথায় ডেরা রয়েছে, তার হদিস জানাার চেষ্টা করছে গোয়েন্দরা।
তবে স্কুলের সিসিফুটেজে যে কজন দুস্কৃতির ছবি দেখা গেছে তারা সকলেই সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে চলে গিযেছে বলে তদন্তকারি গোয়েন্দাদের সন্দেহ। ধৃত দুজনের জেরাতেও সেই তথ্য উঠে এসেছে। ধৃত দুজনই বর্তমানে সিআইডি হেফাজতে রয়েছে। এদিকে এ ঘটনার তদন্তভার সিবিআই নিতে অস্বীকার করায় পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ হযেছেন বলে জানা গেছে। গত শুক্রবারই  রাণাঘাটকান্ডে যে সিবিআই তদন্ত হচ্ছে না, তা ভারত সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় রাজ্যকে।

কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা by গাজীউল হক

চট্টগ্রাম বিভাগকে ভেঙে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে পৃথক বিভাগ করা যায় কি না, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গত ২৬ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই মনোভাবের কথা জানার পর কুমিল্লাজুড়ে আনন্দ মিছিল হয়। দীর্ঘদিনের দাবির কথা প্রধানমন্ত্রীর মুখে ফুটে ওঠায় সমতট অঞ্চলের (প্রাচীনকালে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলকে সমতট নামে ডাকা হতো) বাসিন্দারা মহা খুশি।
শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির পাদপীঠ ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের জেলা শহর কুমিল্লা। এটি ব্রিটিশ-ভারতের প্রাচীনতম শহর। আগে এর নাম ছিল ত্রিপুরা জেলা। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জনসভা হয়। ১৯৬০ সালে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের ফলে কুমিল্লা পৃথক জেলার মর্যাদা পায়। গোমতী নদীর তীরে এ শহরের অবস্থান। একে বলা হয় পথিকৃৎ কুমিল্লা। ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তৎকালীন কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও বর্তমানে কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন। ১৯৮৯ সালে বৃহত্তর কুমিল্লার কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং বৃহত্তর নোয়াখালীর নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ ছয়টি জেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি শুরু হয়। কুমিল্লা গণফোরাম নামের একটি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে ওই দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। পরে সংগঠনের নাম হয় কুমিল্লা গণদাবি পরিষদ।
বর্তমানে বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীর ছয়টি জেলায় প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যা রয়েছে। ওই ছয় জেলার আয়তন প্রায় ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার। যা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের চেয়ে জনসংখ্যা ও আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ। কুমিল্লায় সরকারের প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে কুমিল্লায় বিভাগ হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওপর জনগণের চাপ কমবে। ঢাকা শহরে বাড়তি লোকের চাপ হবে না। সেখানে যানজটও কমে আসবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে কুমিল্লার অবস্থান। একটি পরিপূর্ণ আবাসিক জেলা হিসেবে কুমিল্লার সুনাম রয়েছে। রাজধানী ও বন্দরনগরের ওপর চাপ কমাতে এ শহর বেশ ভূমিকা রাখবে। বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ছয় জেলার মধ্যবর্তী স্থানেও কুমিল্লার অবস্থান। ভৌগোলিক ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কুমিল্লা খুবই সমৃদ্ধ জনপদ। এ ছয় জেলার মানুষের সঙ্গে সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ অত্যন্ত মসৃণ। দাপ্তরিক বেশির ভাগ কাজেই ছয় জেলার মানুষ কুমিল্লায় জড়ো হন। এখানে দিনে এসে দিনে কাজ করে বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব। ছয় জেলার মানুষের আঞ্চলিক ভাষাও কাছাকাছি।
গত ১২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ গত বুধবার মহান জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর নিয়ে তিনটি নতুন বিভাগ করার পক্ষে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বৃহত্তর এই তিনটি জেলার মধ্যে কুমিল্লা সবকিছুতেই অগ্রসরমাণ। কুমিল্লায় সিটি করপোরেশন ও শিক্ষা বোর্ডসহ সরকারের অনেকগুলো দপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় এখানে বিদ্যমান রয়েছে। কুমিল্লায় সরকার আইটি ভিলেজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে রয়েছে মনোলোভা নৈসর্গিক লালমাই ও ময়নামতি পাহাড়। ভারতীয় সীমান্তবর্তী কুমিল্লার রাজেশপুরে রয়েছে ইকোপার্ক। শহরের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগর। কুমিল্লাজুড়ে রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার নানা নিদর্শন।
একদা ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর হিসেবে কুমিল্লার খ্যাতি ছিল। কুমিল্লার খাদি, তাঁতশিল্প, কুটিরশিল্প, বিজয়পুরের মৃৎশিল্প, মাতৃভান্ডারের রসমালাই ও ময়নামতির শীতলপাটি পৃথিবীজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। কুমিল্লা ইপিজেড, কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর, কৃষিক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, দিদার সমবায় সমিতি, দাউদকান্দির প্লাবনভূমিতে মৎস্য চাষ এখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে আসছে।
কুমিল্লায় রয়েছে অষ্টম শতকে নির্মিত কোটবাড়ীর শালবন বৌদ্ধবিহারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক প্রত্নসম্পদ। রয়েছে ময়নামতি জাদুঘর। এখানকার কোটবাড়ীতে রয়েছে ড. আখতার হামিদ খানের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), ব্রিটিশ আমলের কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস, কুমিল্লা বিমানবন্দর, সুদীর্ঘ রেললাইন। এ শহরের আলো-বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়েছেন নারী জাগরণের অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মন, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা করার অন্যতম সহযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম। এখানে এসেছেন অহিংসার বাণী নিয়ে মহাত্মা গান্ধী। এসেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রয়েছে শতবর্ষের ঐতিহ্যে লালিত দেশের একমাত্র সার্ভে প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্টিটিউট।
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বর্তমান সরকার সামাজিক সম্প্রীতির এক অনুকরণীয় জনপদ এই কুমিল্লায় বিভাগ বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লাবাসীর সর্বশেষ স্বপ্ন পূরণ হবে।
গাজীউল হক: প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা।
gajiulhoqsohag@gmail.com

রিকশা চালালেন কাদের সিদ্দিকী

দেশের চলমান সংকট উত্তরণের দাবিতে দুই নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে দিন-রাত ফুটপাথে অবস্থান করছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। টানা অবস্থানের আজ ৬০ দিন। গতকাল অবস্থানের ৫৯তম দিনে রাজধানীর পল্টনে বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায় করে রিকশা চালিয়ে অবস্থানস্থলে ফেরেন তিনি। অবস্থান কর্মসূচির পর থেকে তিনি আজ পর্যন্ত কোথাও যাননি। তবে তার বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর গুরুতর অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন। ৬০ দিনে ওই দিনই শুধু গাড়িতে আরোহণ করেন তিনি। তা ছাড়া প্রতি শুক্রবারেই হেঁটে জুমার নামাজ পড়তে গেছেন বায়তুল মোকাররম মসজিদে। ফিরেছেনও একইভাবে। কিন্তু গতকাল নামাজ শেষ করে হঠাৎ একজন রিকশাওয়ালাকে যাত্রীর আসনে বসিয়ে তিনি চালকের আসনে বসে পড়েন। এ সময় তিনি রিকশা চালিয়ে তার অবস্থানস্থলে ফেরেন। কাদের সিদ্দিকীকে রিকশা চালাতে দেখে উৎসুক জনতা তার রিকশার কাছে ভিড় জমান। এদিকে আজ অবস্থানের ৬০তম দিনে কর্মসূচির শুরু থেকে যেসব দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ সংহতি প্রকাশ করেছেন তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। যারা নানা কারণে আসতে না পারলেও সাফল্য কামনা করেছেন তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সকাল ১১টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, ২০ দলের ডাকা অব্যাহত হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং আলোচলায় বসে দেশের চলমান সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে গত ২৮শে জানুয়ারি থেকে কাদের সিদ্দিকী মতিঝিলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ফুটপাথে অবস্থান করছেন।

নাইজেরিয়ায় আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস

কট্টরপন্থী সংগঠন বোকো হারামের হামলায় জর্জরিত নাইজেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন কঠিন ভোটের লড়াইয়ে নামছেন মুহাম্মাদু বুহারির বিরুদ্ধে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হবে ভোটগ্রহণ এবং শেষ হবে বিকাল ৫টায়। স্বাধীনতার পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ১৯৯৯ সাল থেকে পিপল’স ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) নাইজেরিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। তবে প্রধান বিরোধী দল অল প্রোগ্রেসিভস কংগ্রেস (এপিসি) মোক্ষম চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে পিডিপি’র প্রতি। এদিকে নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সহিসংতা প্রতিরোধের  ব্যাপারে একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। ২০১১ সালে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল দুটির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ের সময় এবং ভোটের পরে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সহিংসতায় প্রায় ৮০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, পরে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুতির সময় দিতে তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারামের দখলকৃত কয়েকটি অঞ্চলে সরকারি নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যও সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়। এদিকে গতকাল নাইজেরীয় সেনাবাহিনী গোওজা শহরতলি থেকে বোকো হারামকে হটিয়ে সেখানে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। এ শহরতলিতে বোকো হারামের সদরদপ্তর ছিল বলে ধারণা করা হয়। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। নাইজেরিয়ার জনগণের প্রতি বিপুল সংখ্যায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে ‘স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ’। এদিকে যিনিই নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না কেন, তার সামনে থাকছে বোকো হারামকে নির্মূল করার চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এ পর্যন্ত বোকো হারামের হামলায় নাইজেরিয়ায় প্রায় ১,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

ইয়েমেনে সৌদি জোটের অভিযান চলছে, সমর্থন পুনর্ব্যক্ত ওবামার

ইয়েমেনে হাউদি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। জোটে রয়েছে মিশরও। জিসিসি’র ৬টি সহ ১০টিরও বেশি দেশ নিয়ে এ জোট গঠন করা হয়েছে। বিদ্রোহীদের অগ্রসর হওয়া রুখতে রাস্তায় রাস্তায় লড়াই করছেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সমর্থকরা। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সামরিক অভিযানে তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর সমর্থকরা হাউদি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে। লড়াই সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ব্যাপারে চুক্তির আহ্বান জানিয়েছে তারা। কিন্তু, বিদ্রোহীদের হাত থেকে হাদির সরকারকে রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সৌদি আরব। এদিকে শিয়া নেতৃত্বাধীন ইরান হাউদি বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ এনেছে মূলত সুন্নি-অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরব। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, ওবামা ও বাদশাহ সালমান ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা অর্জনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। পালিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থান নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট হাদি। রিয়াদে পৌঁছেই মিশর সফরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি মিশরে অবস্থান করছেন এবং সেখানে সপ্তাহের শেষদিকে আরব লীগের একটি সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেন হাদি।

প্রধানন্ত্রীর জবাব পাইনি -হাসিনা আহমেদ

বিএনপির নিখোঁজ যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের সন্ধান দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে আবেদন করেছিলেন তার কোন জবাব পাননি বলে জানান তার স্ত্রী সাবেক  এমপি হাসিনা আহমেদ। একইসঙ্গে স্বামীকে সুস্থভাবে ফেরত দেয়ার আকুতি জানান তিনি। গতকাল সালাহউদ্দিনের গুলশানের বাসায়  বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। হাসিনা আহমেদ বলেন, আমার স্বামীকে ফেরত পাওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু এর  কোন জবাব পাইনি। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তিনি বলেন, ১৭ দিন পার হয়ে গেলেও আমি জানি না আমার স্বামী সালাউদ্দিন আহমেদ কোথায় আছেন, কিভাবে আছেন? আমি সবার কাছে সাহায্য চাইছি- আমার স্বামীকে সন্ধান দেয়ার। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই গ্রেপ্তার করেছে। কারণ দুদিন আগে তার ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায় এড়াতে পারে না।  তিনি বলেন,  সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। তিনি দেশের মন্ত্রী ছিলেন। তার মতো লোকের নিরুদ্দেশ হওয়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য ভয়ঙ্কর। তাকে অবিলম্বে তার পরিবারের কাছে বা অভিযুক্ত হলে আদালতে হাজির করার দাবি জানাচ্ছি। এ সময় এড. মহসীন মিয়া, এড. সানাউল্লাহ মিয়া, এড ইকবাল হোসেন, এডভোকেট গোলাম মোস্তফা ও এড খোরশেদ মিয়া আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কো-পাইলট ছিলেন বিষণ্ন

ফরাসি আল্পস পর্বতমালায় সম্প্রতি এক জার্মান বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে যাকে দায়ী ভাবা হচ্ছে, সেই কো-পাইলট আন্দ্রে লুবিটজ বিষণ্নতায় আক্রান্ত ছিলেন। এমনকি বিষণ্নতাজনিত কারণে তার প্রশিক্ষণও কয়েক মাস বন্ধ ছিল। তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা বিভিন্ন নথিতে এমন ইঙ্গিত রয়েছে। আবার জার্মানির ডুসেলডর্ফের কৌঁসুলিরা তার অসুস্থ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, অসুস্থতার ধরন সম্পর্কে কিছু জানাননি। তবে তারা জানিয়েছেন, নিজের অসুস্থতা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য নিয়োগকর্তাদের কাছে লুকিয়ে ছিলেন লুবিটজ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি ও বিবিসি। উল্লেখ্য, এক ফরাসি কৌঁসুলি সর্বপ্রথম জনসম্মুখে দাবি করেন, বিধ্বস্ত হওয়া জার্মান বিমানটির কো-পাইলট ইচ্ছা করেই বিমানটিকে দুর্ঘটনার দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এবার জার্মান কৌঁসুলিদের বক্তব্যে এ দাবি আরও পোক্ত হলো। তবে কৌঁসুলিরা আরও বলেছেন, লুবিটজের এমন আচরণের পেছনে কোনও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্য থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তার কোনও সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার ফরাসি আল্পস পর্বতমালায় প্রায় ১৫০ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় জার্মান উইংস-এর ফ্লাইট ৪ইউ ৯৫২৫ নামের বিমানটি। বিমানের উদ্ধারকৃত ব্ল্যাকবক্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক, বিমানের মূল পাইলট ককপিটের বাইরে গেলে, দরজা বন্ধ করে দেন কো-পাইলট আন্দ্রে লুবিটজ। এরপর বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি নিচের দিকে নামাতে শুরু করেন লুবিটজ। এক পর্যায়ে এটি বিধ্বস্ত হয়। এক বিবৃতিতে জার্মান কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, লুবিটজের দুটি আবাসস্থল থেকে তারা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার করেছেন। সেখানে তার অসুস্থতা ও চিকিৎসা গ্রহণের ইঙ্গিত রয়েছে।
কে এই আন্দ্রে লুবিটজ?
২০০৮ সালে বিমান উড্ডয়নের প্রশিক্ষণ নেয়া শুরু করেন লুবিটজ। এরপর ২০১৩ সাল থেকে কো-পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। তার কাজে নিয়োগকর্তারা খুশিই ছিলেন। তিনি বাস করতেন জার্মানির ফ্রাংকফুট শহরের কাছে মোনটাবাউরে নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে। তবে ডুসেলডর্ফে একটি ফ্ল্যাটেও থাকতেন তিনি। ২০০৯ সালে তার প্রশিক্ষণ কয়েক মাসের জন্য বন্ধ ছিল। জার্মান গণমাধ্যম জানিয়েছে, তার বিষণ্নতাই এর মূল কারণ। তবে তিনি সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই বিমানের হাল ধরেন।

দণ্ডিত বাংলাদেশী মা বৃটেনে থাকার পক্ষে রায় পেলেন

বাংলাদেশী দণ্ডিত মা যিনি তার কন্যাসন্তানকে ছুরিকাঘাতে জখম করেছিলেন, তার বৃটেনে থেকে যাওয়ার অনকূলে গত ২৬শে মার্চ রায় দিয়েছে সে দেশের একটি ট্রাইব্যুনাল। বৃটেনের কোর্ট অব আপিলের বিচারক লর্ড জাস্টিস পিচ ফোর্ড মন্তব্য করেছেন, ‘এটা সত্যিই একটি ব্যতিক্রমী মামলা।’ তার সঙ্গে আরও দুজন বিচারক সহমত পোষণ করেন। তারা হলেন বিচারপতি সুলিভান ও নারী বিচারপতি কিং।
গতকাল ডেইলি মেইল এ খবর দিয়েছে। বিয়ে নিয়ে সৃষ্ট এক জটিলতার মাঝপথে মা তার মেয়েকে কুপিয়ে আহত করেছিলেন। আর সে অপরাধের দায়ে ২০০৯ সালে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। এখন তার কারাবাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি বৃটেনে তার বসবাস অব্যাহত রাখতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বিদেশী অপরাধী হিসেবে তার বিষয়ে একটি ট্রাইব্যুনাল ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃটিশ সরকার অবশ্য তার আবেদনের বিরোধিতা করে আপিল করেছিল। মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিন্তু পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটের ওই মহিলার আবেদন ২৬শে মার্চ গৃহীত হয়।
বিচারপতি পিচফোর্ড বলেন, ‘অপরাধ সংঘটনের প্রেক্ষাপট, অভিযুক্ত মায়ের তিক্ত দুর্ভোগ পোহানো এবং এ মামলার ভিকটিম এখন থেকে তার মাকে কাছ থেকে দেখতে পাবেন- এসব মিলিয়ে এ মামলাকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদেশী অপরাধীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে যদিও সাধারণভাবে জনস্বার্থ নিহিত রয়েছে কিন্তু এ মামলার অপরাধীকে বহিষ্কার করে আরও বেশি শাস্তি প্রদানের সঙ্গে কোন জনস্বার্থ নেই।’
বিচারপতির কথায়, এ মামলার অপরাধ এবং তার ফলাফল ব্যতিক্রমী এবং ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নিশ্চয় এখতিয়ারপ্রাপ্ত, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে তা মা এবং মেয়ের মধ্যে একটি স্থায়ী বিচ্ছিন্নতা এনে দেবে, অথচ সেটা তাদের কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না।

পদদলিত হয়ে ১০ পুণ্যার্থীর মৃত্যু- ‘ভগবতীরে তুই কই গেলি...’

নিমিষেই পুণ্য স্নানের উৎসব পরিণত হয় শোকের মাতমে। পুণ্যের আশায় ছুটে আসা লোকজনের ভিড়ে পদদলিত হয়ে মারা যান ১০ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। অতিরিক্ত ভিড় ও গুজব ছড়ানোর কারণে মর্মান্তিক এ ঘটনা বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ভোর থেকেই বাড়তে থাকে জন সমাগম। একপর্যায়ে তিল ধারণের ঠাঁই পাওয়া দুষ্কর হয়ে যায় সেখানে। এর মধ্যেই ঘাটের কাছের সড়কের বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ওই গুজব থেকেই ঘাটমুখী রাস্তায় অতিরিক্ত মানুষের হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুণ্যস্নানের জন্য ১৮টি ঘাট থাকলে বরাবরের মতোই বেশি পুণ্যের প্রত্যাশায় রাজঘাটে ছিল উপচেপড়া ভিড়। রাজঘাটের ৫০ গজের মতো দূরে রয়েছে একটি বেইলি ব্রিজ। ঘাট ও ব্রিজের মধ্যবর্তী স্থানে তিন রাস্তার মোড়। সেখানে সকাল পৌনে ৮টার দিকে ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ পূজা নামে ১০ বছরের এক শিশু নিচে পড়ে যায়। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে অন্যরা। এতে পূজা আহত হয়। তবে তার স্বজনদের মধ্যে মালতি দাস ও তার ছেলে নিত্য গোপাল দাস ঘটনাস্থলে মারা যায়। ওই সময়ে ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে তিনদিকে পুণ্যার্থীদের ছোটাছুটি ও ধাক্কায় ওই এলাকায় অর্ধশত লোক মাটিতে পড়ে যান। এতেই পদদলিত আরও আট জনের মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পরপর সরজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। নিহতের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে লাঙ্গলবন্দ তীর্থস্থান। স্বজন হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন অনেকে। তাদেরই একজন লক্ষ্মী রাণী সাহা। সত্তর বছর বয়সী তার বৃদ্ধা মা সূচিত্রা রাণী সাহা প্রায় প্রতিবারই পুণ্যস্নানের জন্য লাঙ্গলবন্দ যান। এবারও পটুয়াখালীর বাউফল থানার লোহালিয়া থেকে ছুটে এসেছিলেন মা ও মেয়ে। পুণ্যস্নানও করেছিলেন রাজঘাটে। ভেজা কাপড় পরিবর্তন করে রাজঘাট থেকে বের হওয়ার পরেই ঘটে দুর্ঘটনা। লক্ষ্মী রাণী জানান, ভিড়ের মধ্যে হাত ধরে মাকে নিয়ে বেইলি ব্রিজের কাছাকাছি গিয়েছিলেন তিনি। ঠিক ওই সময়ে মানুষের ধাক্কায় মায়ের হাত থেকে ছুটে যায় তার হাত। মুহূর্তের মধ্যেই নিচে পড়ে যান তিনি। এ সময় তার ওপরে লুটিয়ে পড়েছিল আরও অনেকে। তারপর জ্ঞান হারান লক্ষ্মী রাণী। জ্ঞান ফেরার পর ‘মা মা’ বলে চিৎকার করছিলেন তিনি। এসব বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। লক্ষ্মী রাণী বলেন, পুণ্যস্নানে এসে মাকে হারালাম। আমি কেন বেঁচে থাকলাম। ভগবান মায়ের সঙ্গে আমারে কেন নিলেন না।
একইভাবে ভগবতী রাণী দাস ও তার কন্যা রাখী রাণী দাসের লাশ দেখে আর্তনাদ করছিলেন তাদের স্বজন মিনু দাস ও গুরুচরণ দাস। গুরুচরণ জানান, ভারতীয় দূতাবাসের কর্মচারী ভগবতী পুণ্যস্নানের জন্য মেয়ে ও মেয়েজামাইকে নিয়ে লাঙ্গলবন্দ তীর্থস্থানে যান। গোসল শেষে ফেরার পথেই পদদলিত হয়ে মারা যান তারা। ভগবতীরে তুই কই গেলি, তুই কই গেলি তুই...। বলে কাঁদছিলেন গুরুচরণ।
এভাবেই নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেউ। এ ঘটনার পর ত্রিমুখী সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল অসংখ্য মানুষের পায়ের জুতা ও পোশাক।  ভোর ৫টা ২৮ মিনিট থেকে লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে পুণ্যস্নান শুরু হয়। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ পুণ্যার্থী সমবেত হয় সেখানে। সকাল সাড়ে ৭টার পর ভিড় বাড়তে থাকে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ত্রিমুখী মোড়ের অলক রেস্টুরেন্টের মালিক অপু মালাকার জানান, পৌনে ৮টার দিকে স্নান শেষে ভেজা কাপড় নিয়ে যখন পুণ্যার্থীরা ফিরছিলেন। তখন ভিড়ে ও ব্রিজ ভাঙার গুজবে এক জনের উপর আরেকজন পড়তে থাকে। এরমধ্যে প্রায় ১০-১২ জন শিশু ছিল। আপ্রাণ চেষ্টা করে আশপাশের লোকজন ওই শিশুদের উদ্ধার করেছেন। অপু নিজেও ছয় শিশুকে উদ্ধার করেছেন বলে জানান। এই হতাহতের ঘটনার পরপর চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে কমতে থাকে পুণ্যার্থীর সংখ্যা। স্না না করেই ফিরে যেতে দেখা গেছে অনেককে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুণ্যার্থীদের অনেকে। নারায়াণগঞ্জের চাষাড়া এলাকার বাসিন্দা অর্চনা রাণী বিশ্বাস বলেন, শৃঙ্খলা বলতে কিছু ছিল না। যে যেভাবে পারছে সরু সড়ক দিয়ে ঢুকছে-বের হচ্ছে। এতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর ছিল না।
রাজঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের এই ঘাটের দুটি ফটক রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদে রয়েছে কচুরিপানা। রাজঘাটে আছে মন্দির ও নারীদের পোশাক পরিবর্তনের স্থান। ঘাটে শৃঙ্খলার দায়িত্বে রয়েছেন চার জন পুলিশ ও ছয় জন আনসার সদস্য। কিন্তু শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই সেখানে। দুটি ফটক দিয়েই ইচ্ছামতো পুণ্যার্থীরা বের হচ্ছেন ও প্রবেশ করছেন। যদিও  কর্তব্যরত আনসার সদস্য সেলিম জানিয়েছেন, একটি ফটক দিয়ে পুণ্যার্থীরা বের হন এবং অন্যটি দিয়ে প্রবেশ করেন।
লাঙ্গলবন্দের স্নানের ইতিহাসে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ দুর্ঘটনার জন্য র্দুঘটনার জন্য অবৈধ দখলদারকে দায়ী করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এমপি সেলিম ওসমান, জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞা, পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন প্রমুখ। এ সময় সেলিম ওসমান সাংবাকিদের কাছে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দখলদারদের কারণে ব্রহ্মপুত্র তীরের সড়ক দখল হয়ে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। রাস্তা প্রশস্ত থাকলে হয়তো এ দুর্ঘটনা ঘটতো না।
নিহতদের পরিচয়: পদদলিত হয়ে মর্মান্তিকভাবে নিহতরা হলেন, মানিকগঞ্জের জাবরা এলাকার বলাই চন্দ্র দাসের স্ত্রী মালতি দাস (৬০) ও তার ছেলে নিতাই (নিত্য) গোপল দাস (৩০), গোপালগঞ্জ জেলার গোষালকান্দি গ্রামের নকুল চন্দ্র বিশ্বাস (৫৫), কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের কালিপদ নন্দীর ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র নন্দী (৫৫), কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দির নারায়ণ সাহার স্ত্রী কানন সাহা (৫০), কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরের পরিমল সাহার স্ত্রী তুলশি দেবনাথ (৫২), ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার নিতাই চন্দ্র দাসের স্ত্রী ভগবতি দাস (৪৮) ও তার কন্যা রাখী দাস (২২), নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার কবিরহাটের অনিল চন্দ্র নাগের স্ত্রী ভানুমতি নাগ (৫০) ও পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার মৃত বিজেন্দ্র লাল সাহার স্ত্রী সুচিত্রা রাণী সাহা (৭০), নিহতদের মধ্যে নকুল চন্দ্র বিশ্বাস মাদারীপুরের চরমুগরিয়া কলেজের অধ্যাপক। নিহতের পরিবারের লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই জেলা প্রশাসকের অনুমতিতে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনারা নাজমীন। এ বিষয়ে তিনি আরও জানান, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান।
১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি: ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নান উৎসবে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী  পাঁচদিনের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা। ডিসি জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইসরাত হোসেন খানকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন-নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহমুদুর রহমান হাবিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিজানুর রহমান।
শোক প্রকাশ: এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পৃথক শোকবাণীতে তারা নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। সেইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

আবু তাহেরের শ্বাসরুদ্ধকর ৪০ ঘণ্টা by একে আজাদ

বেঁচে থাকার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন কনটেইনারের মধ্যে আটকে পড়া ট্রাক হেলপার আবু তাহের (৩২)। ভাগ্যগুণে তিনি জীবিত আছেন। দীর্ঘ ৪০ ঘণ্টা পর মংলা বন্দর জেটি থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। আবু তাহের জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় তার বাড়ি। তার পিতার নাম সাবের হোসেন। গত ২৫শে ডিসেম্বর মাল খালাস করতে ট্রাকের সাথে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে আসেন। কাজের ফাঁকে ক্লান্ত শরীরে একটি খালী কন্টেইনারের মধ্যে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। এরপর কখন যে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি তা টের পাননি। ঘুম ভাঙলে উঠে দেখেন তিনি কন্টেইনারের মধ্যে বন্দি। অনেক চিৎকার-চেঁচামেচি করেও কোন লাভ হয়নি। এভাবে কেটে যায় দীর্ঘ প্রায় ৪০ ঘণ্টা। পরে হঠাৎ লোকজনের উপস্থিতি টের পেলে তিনি আবারও কন্টেইনারের ভিতরে শব্দ করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মংলা বন্দর জেটিতে কর্মরত শ্রমিকরা কন্টেইনার খুলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে তিনি ভাঙা ভাঙা গলায় বলছিলেন এসব কথা। অসুস্থ থাকায় তিনি বেশি কথা বলতে পারেননি। তবে তার দু’চোখে ছিল বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ্‌ যে আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন বুঝতে পারিনি। মংলা বন্দর জেটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জহির জানান, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টায় জেটিতে কর্মরত শ্রমিকরা কন্টেইনারের মধ্যে শব্দ শুনতে পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের খবর দেয়। পরে কন্টেইনারের তালা খুলে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আবু তাহেরকে। তাকে বন্দর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানান হাসপাতালে কর্তব্যরত ডা. প্রকাশ। কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ঠিকাদার মেসার্স খুলনা ট্রেডার্সের ম্যানেজার মাসুদ কবীর বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৩০৯ টি কন্টেইনার নিয়ে বিদেশী পতাকাবাহী জাহাজ এমভি এলিয়ান এস বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় মংলা বন্দরের জেটিতে ভিড়ে। তার মধ্যে খালি ছিল ৭২টি। জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ২৫ মার্চ দুপুরে মংলার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। রাতে জাহাজ থেকে কন্টেইনার নামানোর সময় জিইএসইউ ৯১২২৯১ ৯ ৪৫আর১ নামের একটি কন্টেইনারের ভিতর থেকে চিৎকারের শব্দ আসে। পরে জেটিতে নামানোর পর কন্টেইনারটি খোলা হলে একজন জীবিত লোক পাওয়া যায়।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে বসার তাগিদ

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসতে হবে মর্মে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। একই সঙ্গে ইইউর পক্ষ থেকে ছয়টি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানতে চাওয়া হবে । গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানের উপায় বের করতে বৈঠকে বসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দেড় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত বৈঠকটি চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। কিন্তু উপস্থিত  
হননি বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান। এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- ছয়টি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানতে চাইবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যার প্রথমটি হলো একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপের আয়োজন করতে কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
 বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অবস্থার বিষয়ে সরজমিন অভিজ্ঞতা, পর্যালোচনা এবং তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন তুলে ধরেন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া সদস্য ক্রিস্টিয়ান ড্যান প্রিদা।
ইইউ যে ছয়টি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানতে চাইবে তা হল-
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করতে তদন্ত বা কোনও ধরনের উদ্যোগ সরকার নিয়েছে।
জানতে চাওয়া হবে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এখনও কেন বন্ধ হয়নি। দ্রুত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও জোরপূর্বক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়া বন্ধ করতে সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের জায়গা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চাওয়া হবে।
রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন ও গণমাধ্যমে স্বাধীনতার ওপর সরকার কেন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হত্যায় উৎসাহও জোগাচ্ছে এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চাওয়া হবে। বৈঠকের শুরুতেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেন। বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও  বিএনপির ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এতে উপস্থিত ছিল।

ইয়েমেনে পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে সৌদি আরব

সৌদি আরবের আগ্রাসন চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের নেতা আবদুল-মালিক বলেছেন, ইয়েমেনে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে সৌদি আরব। শুক্রবার আল-হুথি টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন আবদুল-মালিক। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকরাও একই মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, আঞ্চলিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতেই এ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে রিয়াদ। সৌদি আরবকে ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং আমেরিকার হাতের পুতুল বলে অভিহিত করে আবদুল-মালিক আল-হুথি বলেন, ইয়েমেনে হামলার কোনো ন্যায়সঙ্গত কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনকে ভেঙে ফেলতে চাচ্ছে আমেরিকা ও ইসরাইল।
আল-হুথি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত রাখলে তার চরম ফল সৌদি আরবকে ভোগ করতে হবে। অপরাধী বাহিনী এবং তাদের অনুচরদের মোকাবেলা করা হবে। ইয়েমেনের জনগণকে হত্যা করা যাবে ভেবে থাকলে বোকামি হবে উল্লেখ করে হুথি নেতা বলেন, এ আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে সৌদি শাসকদের দম্ভ এবং অমানবিক চেহারা ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, আগ্রাসী শক্তিকে ভুলে যাওয়া উচিত হবে না, দেশ ও বিপ্লবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ইয়েমেনের জনগণ। এদিকে, ইয়েমেনে সৌদি আরবের আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে এ আগ্রাসনকে মার্কিন মদদপুষ্ট হিসেবে উল্লেখ করে একে স্পষ্ট ভাষায় অবৈধ এবং অবিবেচনা প্রসূত হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে হিজবুল্লাহ বলেছে, ইয়েমেনের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণ, দেশটির সেনাবাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর উপর সৌদি হামলার কঠোর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি দেখা দেবে। সৌদি এ আগ্রাসন গোটা অঞ্চলকে আরও উত্তেজনা ও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেবে বলেও রিয়াদকে হুশিয়ার দিয়েছে হিজবুল্লাহ। এদিকে, এর মধ্যেই ইরান, রাশিয়া, সিরিয়া এবং ইরাক এ আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা করেছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদি সৌদি আরব পালিয়ে গেছেন। মার্কিন মদদপুষ্ট সৌদি বাহিনী যখন ইয়েমেনের উপর একতরফা এবং নির্বিচারে বিমান হামলা করছে তখন দেশ ছাড়েন হাদি। বৃহস্পতিবার রাজধানী রিয়াদের বিমান ঘাঁটিতে হাদি পৌঁছানোর পর সেখানে তাকে স্বাগত জানান প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদ এবং সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা জেনারেল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান খালিদ বিন আলি আল-হুমাইদান। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস এজেন্সি এ খবর দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বিবরণ দেয়া হয়নি। আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে এগিয়ে আসার খবরে বন্দরনগরী এডেন থেকে হেলিকপ্টারযোগে পালিয়ে যান হাদি। এ সময়ে তার সঙ্গে কয়েকজন সৌদি কূটনীতিবিদ ছিলেন। এএফপি।

সামনের মাসগুলোতেও অস্থিতিশীলতা চলবে -স্ট্র্যাটফোর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক  বেসরকারি বৈশ্বিক গোয়েন্দা সংস্থা স্ট্র্যাটেজিক ফোরকাস্টিংয়ের (স্ট্র্যাটফোর) বাংলাদেশবিষয়ক এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে, বাংলাদেশের দুই প্রধান প্রতিপক্ষ অনমনীয় থেকে যাবে। অর্থনীতির বিরাট ক্ষতির আশঙ্কা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা সামনের মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে। অর্থনীতির ক্ষতি চলতি সংকট অবসানে কোন চাপ সৃষ্টি নাও করতে পারে। তারা বলেছে, অর্থনীতির গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় বাংলাদেশ সংকট টানা তৃতীয় মাসে পড়েছে যা দেশটির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতির কারণ। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি একটি জিওপলিটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স ফার্ম। এর প্রতিষ্ঠাতা জর্জ ফ্রাইডম্যান ১৯৯৬ সালে ফার্মটি চালু করেন। গত ২৭শে জানুয়ারিতে তাঁর লেখা বই ‘ফ্লাশপয়েন্টস: দি এমার্জিং ক্রাইসিস ইন ইউরোপ’ বের হয়েছে।
ওই রিপোর্টের ভাষায়, ‘বিশেষ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার রাজনৈতিক মেরুকরণ বজায় থাকবে। কারণ উভয়পক্ষ ধ্বংসের প্রান্তসীমায় পৌঁছানোর নীতিতে অটল আছে। বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তার, ক্রাকডাউন ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বিরোধী সমর্থকদের নিঃশেষ করতে চাইছেন। বিএনপি আশা করছে যে, তারা অর্থনৈতিক ক্ষতি আরো বহন করা কঠিন করে তুলতে পারবে, যদিও এর ফলে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও  পশ্চিমা সরকারগুলোকে তার প্রতি বিমুখ করে তুলতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বারংবার বিরোধী দলকে সহিংসতা পরিহার করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি গত ফেব্রুয়ারির শেষে তিনি সন্ত্রাস দমনে সাহায্য করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আর এই জায়গাটিতেই অন্তত আওয়ামী লীগ তার নিজের বিবেচনায় মনে করে সে তার প্রতিপক্ষ বিএনপির তুলনায় এগিয়ে আছে। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক, সন্ত্রাস দমনের উত্তম রেকর্ড এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে তার চমৎকার সম্পর্ক থাকা- এইসব মিলিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তার নিরঙ্কুশতম অবস্থানকে বজায় রাখতে অনমনীয় রয়েছে।   
রিপোর্টে বলা হয়, ‘বঙ্গোপসাগরের উত্তর তীরে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দরিদ্র দেশ। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন থেকে তীব্র রাজনৈতিক বিভক্তি, ঘন ঘন সামরিক হস্তক্ষেপ এবং দশকের পর দশক ধরে চলা অস্থিতিশীলতা এর ইতিহাস জুড়ে রয়েছে। অস্থিতিশীলতা দেশটিকে গরিব ও তার শ্রমিকদের মজুরি কম করে রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের এই জনপদে বস্ত্রশিল্পের বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও পর্যন্ত তার দুর্বল রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার ভিকটিম। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সঙ্গে এর আগে যেটুকু সমঝোতায় গেছে তার অন্যতম চালিকাশক্তি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা উভয়ে দেশটির পোশাক খাতের রপ্তানির সর্ববৃহৎ গৃহীতা। যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইইউ অনুরূপ সুবিধা তুলে নিতে হুমকি দিয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের বিতর্কের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য সুবিধা খর্ব করেছে।’
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে সতর্কতার সঙ্গে যে রিঅ্যানগেঞ্জমেন্ট করেছে এবং তার ফলে দেশে অধিকতর রাজনৈতিক স্থিতির যে একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তাতে অবশ্য পোশাকখাতের জন্য কোন বাড়তি সুবিধা বয়ে আনেনি। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগকে স্বল্পসংখ্যায় যারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল তার মধ্যে ভারত অন্যতম। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে বিদ্যুৎ আমদানি সংক্রান্ত একটি চুক্তি এবং দু’দেশের মধ্যকার সমুদ্র সীমানা বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরের অনাবিষ্কৃত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। ঢাকা অবশ্য একইসঙ্গে চীনা ও জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতেও পদক্ষেপ নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ যতই বৃদ্ধি পাক না কেন, শেখ হাসিনার সরকার তার প্রতিপক্ষ বিএনপির সঙ্গে এ পর্যন্ত কেবলই প্রতীকী ছাড় দিয়েছে। আওয়ামী লীগের পেছনে শক্তিশালী অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকাটা বিবেচনায় নিয়েও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী রয়েছে তারা নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান ও শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে দেয়া কর্মসূচিতে অবিচল রয়েছে।
ওই প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, ‘সামরিক বাহিনী বারংবার ঘোষণা দিয়েছে যে, অচলাবস্থা নিরসনে তার পক্ষে কোন পদক্ষেপ নেয়ার কোন পরিকল্পনা নেই এবং আওয়ামী লীগ বিনিয়োগ বিলম্বিত হওয়া এবং অর্থনীতির পুনর্জাগরণকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিলেও নিজের অবস্থান আরো সংহত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই বাংলাদেশ তার চলমান সংকট থেকে কোন দ্রুত বা সহজ উত্তরণ দেখছে না।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন মুখপাত্র

ভারতীয় পররাষ্ট্র সার্ভিসের (আইএফএস) সিনিয়র কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক বিকাশ স্বরূপ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন মুখপাত্র হচ্ছেন। বর্তমান মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিনকে অতিরিক্ত সচিব করা হচ্চে। তাকে ভারত-আফ্রিকা ফোরাম সম্মেলনের ‘মুখ্য সমন্বয়ক’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
স্বরূপ বর্তমানে নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব (ইউএন-পলিটিক্যাল) হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। সম্ভবত, এই বছর অক্টোবরেই নয়াদিল্লিতে আসন্ন তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা সম্মেলেেন সৈয়দ আকবার উদ্দিনকে সরিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব নিতে চলেছেন বিকাশ। এই সম্মেলনে ৫৪টি আফ্রিকান দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা যোগদান করতে চলেছেন। লন্ডন থাকার সময় নিজের প্রথম উপন্যাস ‘কিউ অ্যান্ড অ্যা’ লেখেন বিকাশ স্বরূপ।

ভারত রত্ন গ্রহণ করলেন বাজপেয়ি

ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘ভারত রত্ন’ গ্রহণ করেছেন। তিনি ভারতের অন্যতম সফল রাজনীতিক ও সরকারপ্রধান। তার রাজনৈতিক দল বিজেপি। শুক্রবার বাজপেয়ির দিল্লির বাসভবনে যান প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, বিজেপির বরেণ্য নেতা এল কে আদভানি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সভাপতি মোহন ভাগবৎ এবং কেন্দ্র সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা। সেখানে বাজপেয়ির হাতে পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।
৯০ বছর বয়সি বাজপেয়ি শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি সব সময় বাড়িতেই থাকেন। তাকে সম্মান জানিয়ে পুরস্কার নিয়ে তার বাড়িতে চলে যান ভারতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা।অটল বিহারি বাজপেয়ি ১৯৯৬ সালে বিজেপির কোনো নেতা হিসেবে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিজেপির নেতা হয়েও তিনি ছিলেন উদারপন্থি প্রধানমন্ত্রী। তার সাহসী উদ্যোগ চোখে পড়ে ১৯৯৯ সালে।

নিউইয়র্কের চার ভবনে ধস অগ্নিকাণ্ড : আহত ১৯

নিউইয়র্কে তিনটি ভবন ধস ও অপর একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে বৃহস্পতিবার ১৯ জন আহত হয়েছে। একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে একে গ্যাস সংক্রান্ত বিস্ফোরণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছে। জনপ্রিয় ইস্ট ভিলেজ এলাকার একটি বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনে শক্তিশালী এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর ভবনটি আংশিকভাবে ধসে যায়। এর ফলে পাশের ভবনটিও ধসে যায়, অপর একটি ভবন আংশিকভাবে ধসে যায় এবং বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেল ফোন ফুটেজে বিস্ফোরণের পর একটি রেস্তোরাঁ থেকে আতঙ্কিত মানুষকে ছুটে বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। এক নারী চিৎকার করে ওঠেন, ‘কি হয়েছে? হায় ঈশ্বর!’ কয়েক ব্লক দূরের প্রত্যক্ষদর্শীরা একটি প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পান এবং ম্যানহাটন স্কাইলাইনের ওপরে ধোঁয়ার কুণ্ডুলি উড়তে দেখেন।
২৩ বছর বয়সী ছাত্র ফিলিপ ম্যাকএলোরি বলেন, ‘এটা ছিল প্রচণ্ড শব্দ। এতে জানালার কাঁচগুলো কেঁপে উঠে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে অনেক ধোঁয়া ছিল এবং ভবনের একটি অংশ ধসে যায়।’ নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও বলেন, ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে একে গ্যাস বিস্ফোরণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে গ্যাসের কাজ চলছিল। ২০১৪ সালের ১২ মার্চ ম্যানহাটনের উত্তরাঞ্চলের পূর্ব হার্লেমে একটি বড় ধরনের গ্যাস বিস্ফোরণে দুই ভবন মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ৮ জন লোকের প্রাণহানির এক বছর পরের এই ঘটনা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে। দমকল বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, এই ঘটনায় আহতের সংখ্যা ১২ জন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশংকাজনক। দমকল বিভাগ জানায়, বিস্ফোরণে প্রথমে ১২১ সেকেন্ড অ্যাভেন্যু ভবনটি আংশিকভাবে ধসে পড়ে।

অপ্রতিরোধ্য ব্রাজিল

বিশ্বকাপ ফাইনালের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের কোনো তুলনাই চলে না। তারপরও ম্যাচ শেষে তার চওড়া হাসিই বলছিল এই জয় কতটা তৃপ্তি দিয়েছে কার্লোস দুঙ্গাকে। ১৭ বছর আগে প্যারিসের এ মাঠেই বিশ্বকাপ ফাইনালে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল দুঙ্গার ব্রাজিল। সেই ম্যাচের দুই অধিনায়ক বৃহস্পতিবার রাতে ফের মুখোমুখি হলেন ডাগআউটে। এবার কোচ হিসেবে শেষ হাসি হাসলেন দুঙ্গা। প্যারিসের প্রীতি ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ফ্রান্সকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ বিপর্যয়ের পর সেলেকাওরা যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। শতভাগ জয়ের রেকর্ড সেটাই বলছে। দুঙ্গার কোচিং আর নেইমারের নেতৃত্বে এটি ব্রাজিলের টানা সপ্তম জয়।
ফর্ম যেমনই থাক না কেন, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপালেই বদলে যান নেইমার। পরশু রাতেও দুর্দান্ত এক গোল করে প্যারিস মাতালেন বার্সা ফরোয়ার্ড। শুরুতে অবশ্য লা ব্ল–জরাই ছিল চালকের আসনে। ২১ মিনিটে হেডে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন রিয়াল ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানে। ৪০ মিনিটে অস্কারের গোলে সমতা ফেরার পরই ম্যাচের লাগাম চলে যায় ব্রাজিলের হাতে। ৫৭ মিনিটে নেইমারের ৪৩তম আন্তর্জাতিক গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ১২ মিনিট পর ব্যবধান ৩-১ করেন লুইজ গুস্তাভো। ‘প্রতিশোধ’ শব্দটা মুখে না আনলেও তৃপ্তির জয়ে উচ্ছ্বাস গোপন করেননি দুঙ্গা, ‘ব্রাজিল দলকে শুধু জিতলেই চলে না, ভালো খেলতে হয়। আমরা ভালো খেলেছি। পারফরম্যান্স হয়তো নিখুঁত নয়, কিন্তু শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে জয়টা অবশ্যই তৃপ্তিদায়ক।’ বিশ্বকাপের পর এটি ফ্রান্সের প্রথম হার। পরশু রাতের আরেক প্রীতি ম্যাচে রাদামেল ফ্যালকাওয়ের জোড়া গোলে বাহরাইনকে ৬-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে কলম্বিয়া। এএফপি।

ভালো গল্প হলে চলচ্চিত্রে কাজ করব

*সম্প্রতি কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
**কিছুদিন আগে একটি খণ্ড নাটকের কাজ শেষ করলাম। এছাড়া চলতি কিছু ধারাবাহিকের কাজ বাকি আছে, সেগুলোর শুটিং করছি। ঈদের কিছু কাজ করার পরিকল্পনা আছে। নাটকের বাইরে ব্যক্তিগত কিছু কাজেও সময় দিতে হচ্ছে।
*প্রচার চলতি নাটকে দর্শকের কাছে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
**বর্তমানে আমার সাতটির মতো নাটক বিভিন্ন চ্যানেলের প্রচার হচ্ছে। চেষ্টা করেছি ভালো কাজ করার। দর্শকে ভিন্ন কিছু উপহার দেয়ার। মনে হয় দর্শক ভালোভাবেই নিচ্ছেন। ভালো সাড়া পাচ্ছি।
*চলচ্চিত্র নিয়ে কি ভাবছেন?
**মুখোশ মানুষ এবং প্রার্থনা দুটি চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করলাম। এখন দেখার অপেক্ষা দর্শক কিভাবে গ্রহণ করবেন। বড় পর্দায় কাজ করছি। সামনেও ভালো গল্প এবং চরিত্রের কাজ করার সুযোগ পেলে হাতছাড়া করব না।
*‘মুখোশ মানুষ’ ছবিটি নিয়ে এরই মধ্যে বেশ সমালোচনাও হয়েছে। এ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
**দেখুন, সমালোচকের কাজ তো সমালোচনা করা। ছবিতে আমার চরিত্রকে ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। চরিত্রের প্রয়োজনেই ভিন্নভাবে আমাকে দেখা যাবে। এটা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার কোনো কারণ নেই।
*ব্যক্তিগত জীবন কেমন যাচ্ছে?
**সবার দোয়ায় ভালো আছি। সামনের দিনগুলোতেও সবার ভালোবাসা নিয়ে ভালো থাকতে চাই। সাদিয়া ন্যান্সি

সোনারগাঁয়ে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে বেহাকৈর খাল by মনিরুজ্জামান

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের শত বছরের পুরোনো
বেহাকৈর খালের মুখসহ প্রায় পুরো অংশ বাঁশ পুঁতে দখল করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সোনাপুর এলাকা থেকে তোলা ছবি l প্রথম আলো
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বেহাকৈর খাল। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খালের কোথাও ৫০-৬০ শতাংশ, আবার কোথাও পুরোটাই দখল হয়ে গেছে। এই দখলদারির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয় লোকজন। ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও খাল দখল করে নির্মিত স্থাপনা অপসারণে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রাম থেকে শুরু হয়ে সাদিপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খালটি বিস্তৃত। এর মধ্যে সোনাপুরে খালটির প্রায় পুরোটাই দখল হয়ে গেছে। এ ছাড়া বাকি অংশেও দখল হয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
এলাকাবাসী জানান, কয়েক বছর ধরে খালটি দখল চলছে। এর মধ্যে সোনাপুর অংশ দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে খালের মুখসহ প্রায় পুরো অংশ দখলের কারণে পানিনিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। খাল দখলের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন কাঁচপুর ও সাদিপুর ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের লোকজন। তাঁরা খালটি দখলমুক্ত করার জন্য লাগাতার আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের মুখে স্থানীয় ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করে গত বুধবার উপজেলা সহকারী কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছেন।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, খালের ৪০ বিঘা খাস সম্পত্তি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন প্রভাবশালীরা। ওই সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে দখলদারদের মধ্যে স্থানীয় নিউ স্টিল রি-রোলিং মিলসের মালিক সালাউদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি খালের জায়গা দখল করে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া সোনাপুর গ্রামের আবদুর রউফ, ফারুক হোসেন, শহীদুল্লাহ, নুরু মিয়া, হাফেজ মিয়া, রফিকুল ইসলাম, কামাল হোসেন, তপু বাবুসহ ৪৯ জন দখলদার খাল দখল করেছেন।
জানতে চাইলে আবদুর রউফ, নুরু মিয়া ও রফিকুল ইসলাম বলেন, খালের পাশের জায়গার মালিক হিসেবে তাঁরা কিছু সরকারি জায়গা দখল করেছেন। এ বিষয়ে সংবাদ না লিখতে তাঁরা অনুরোধ করেন। আর একাধিকবার চেষ্টা করেও সালাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, খালের দুই পাশে বাঁশ পুঁতে বালু ফেলে ভরাটকাজ চলছে। স্থানীয় লোকজন জানান, আওয়ামী লীগের নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এই দখল উৎসব চলছে। সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, আলমগীর কবির, সোহাগ কাজীসহ কয়েকজন জানান, চোখের সামনে খাল দখল চলছে। অথচ প্রশাসন শুধু নোটিশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। তাঁরা দখলদারদের পাশাপাশি ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদেরও শাস্তি দাবি করেন।
বুধবার কাঁচপুর ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি চিঠিতে উল্লেখ করেন, এই খালের প্রশস্ত ছিল ২০ থেকে ৩০ ফুট। দখলদারেরা এর প্রায় পুরোটাই দখল করে নিয়েছে। তিনি খালটি পুনরুদ্ধারে দখলদারদের উচ্ছেদের অনুরোধ করেন।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভূঞা প্রথম আলোকে বলেন, ‘খালটি উৎসব করেই দখল করেছে প্রভাবশালীরা। আমরাও উৎসব করেই তাদের উচ্ছেদ করব।’

নিউ মিডিয়া- মোবাইল সাংবাদিকতায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা by জামিল খান

শুরুতে কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরছি। আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বে আরও এক বিলিয়ন নতুন মুঠোফোনের গ্রাহক তৈরি হবে, যা কিনা মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাকে ৪ দশমিক ৬ বিলিয়নে নিয়ে যাবে। সম্প্রতি স্পেনের বার্সেলোনায় শেষ হওয়া ‘বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেস’-এ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এবার যদি আমাদের দেশের দিকে তাকাই, তাহলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলেছে, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে দেশের মুঠোফোন সংযোগের সংখ্যা পৌঁছায় ১২ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজারে। বাংলাদেশের সব কটি মুঠোফোন অপারেটর তৃতীয় প্রজন্মের ইন্টারনেট প্রযুক্তি (থ্রিজি)-সুবিধা দেওয়ায় স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের গণমাধ্যমগুলো তাদের কনটেন্ট পরিষেবা আরও বাড়াতে পারে। চর্চা করতে পারে মোবাইল সাংবাদিকতা।
একজন সাংবাদিক, যিনি স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রচারের কাজ করে থাকেন, তাঁকেই ‘মোবাইল সাংবাদিক’ বা সংক্ষেপে মোজো বলা হয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ জানিয়েছেন, দেশে এখন শুধু স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাই দুই কোটির ওপরে। আর ৩৫ বছরের নিচে তারুণ্যের সংখ্যা পাঁচ কোটির বেশি। অর্থাৎ স্মার্টফোনের কদর ভবিষ্যতে আরও বাড়তে থাকবে। সাধারণত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা পছন্দের অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ দিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও বানানো, সামাজিক যোগাযোগের সাইট ভিজিট করা অথবা ইন্টারনেটে দ্রুত বার্তা আদান-প্রদান ও কথা বলার কাজ করে থাকেন। এ ছাড়া স্মার্টফোনের সাহায্যে আজ গণমাধ্যমের সংবাদ জানার কাজ আগের চেয়ে অনেক সহজতর হয়েছে। তবে স্মার্টফোন এখন আর এসব কাজের মধ্যেই থেমে নেই। অনেক বড় বড় কাজই করা হচ্ছে স্মার্টফোন দিয়ে। পশ্চিমা বিশ্বের নামীদামি গণমাধ্যমের বার্তাকক্ষে সংবাদ পৌঁছে দিতে স্মার্টফোন নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে। এই যেমন বিবিসি তাদের প্রযুক্তিবিষয়ক অনুষ্ঠান ক্লিকসহ বেশ কয়েকটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের পুরোটাই ধারণ ও সম্পাদনার কাজ করেছে স্মার্টফোনের মাধ্যমে। গণমাধ্যমের গতি-প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে অনেক উপকারী অ্যাপ। এখন অনেক গণমাধ্যমই তাদের ওয়েবসাইটের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অ্যাপ বানানো ও এর রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।
বাংলাদেশে মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের সংবাদ সংগ্রহ কিংবা সম্পাদনার কাজে স্মার্টফোনের ব্যবহার তেমন একটা চোখে পড়ে না। তবে নাগরিক সাংবাদিকদের পাঠানো মোবাইল কনেটন্ট (ইউজার জেনারেটেড কনেটন্ট বা ইউজিসি) ব্যবহারের দিক দিয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে আছে দেশের অনলাইন গণমাধ্যম। আজকাল অবশ্য কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইউজিসি কনেটন্ট প্রচার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি আলোচিত দুর্ঘটনার বিশেষ মুহূর্ত মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেন নাগরিক সাংবাদিকেরা। উদাহরণ হিসেবে পদ্মা নদীতে পিনাক-৬ লঞ্চডুবি ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনার কথা বলা যেতে পারে। এ দুটি ঘটনারই মুঠোফোন ভিডিও ফুটেজ দেশের প্রায় সব কটি জাতীয় টেলিভিশন ও শীর্ষ অনলাইন পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার করা হয়।
সাংবাদিকতা পেশায় স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহার এবং এই কাজে ব্যবহারের উপযোগী অ্যাপ ও আনুষঙ্গিক উপকরণের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রাশিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে মোবাইল সাংবাদিকতার ওপর কোর্স চালু হয়েছে। বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা অনেক সাংবাদিকতা ইনস্টিটিউটে পড়ানো হচ্ছে বিষয়টি। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সভা-সেমিনার।
মোবাইল সাংবাদিকতার ওপর নিয়মিত গবেষণা ও কর্মশালার আয়োজন করে থাকে আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচার সংস্থা আরটিই। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে মোবাইল সিনেমা নির্মাণ, মোবাইল সাংবাদিকতা ও মোবাইল ফটোগ্রাফির ওপর প্রথম আন্তর্জাতিক মোবাইল সাংবাদিকতা সম্মেলন দেশটির রাজধানী ডাবলিনে ২৭-২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মোবাইল সাংবাদিকতা নিয়ে কাজ করে সুনাম কুড়িয়েছেন—বিশ্বের এমন অনেক সাংবাদিক ও মিডিয়া গবেষক এতে যোগ দেবেন। দুই দিনের এ সম্মেলনে তিনটি সেশন ছাড়াও দুটি কর্মশালার আয়োজন থাকছে। মোবাইল সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আয়ারল্যান্ডের আসন্ন এ সম্মেলনকেই বিশ্বের প্রথম মোবাইল সাংবাদিকতা সম্মেলন বলে জানিয়েছেন। একজন সাংবাদিক স্মার্টফোন ব্যবহার করে কীভাবে হয়ে উঠতে পারেন মোবাইল সাংবাদিক, আর এর জন্য তাঁর করণীয়ই বা কী—এমন খুঁটিনাটি বিষয়ই এ সম্মেলনে আলোচনা করা হবে বলে জানান আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও সম্মেলনের উদ্যোক্তা গেলেন মুলচাহি।
বাংলাদেশে মোবাইল সাংবাদিকতা চর্চার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে এখনো তা পুরোপুরি বিকাশ লাভ করতে পারেনি। খোদ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও তেমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি নতুন ধারার এই সাংবাদিকতা। গণমাধ্যম সংস্থাগুলো মোবাইল সাংবাদিকতার ওপর প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পারে। সাংবাদিকতা পড়ানো হয়—এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্তাকক্ষ আর পাঠকের চাহিদার কথা চিন্তা করেই সাংবাদিকতা কোর্সের আধুনিকায়ন করা দরকার। মোবাইল সাংবাদিকতার গুরুত্ব সবার কাছে পৌঁছে দিতে তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম সংস্থাগুলোর সবার আগে এগিয়ে আসা উচিত।
জামিল খান: প্রভাষক, গণযোগাযোগ বিভাগ, পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি, মস্কো, রাশিয়া এবং নিউ মিডিয়া বিশেষজ্ঞ।

গতায়ু দিন দিন

তখন ভেবেছিলাম আর কখনো গ্রামে যেতে হবে না। কৈশোর এবং যৌবনের অনেকগুলো দিন কেটেছে সেখানকার সহজতায়। জলাশয়ে মাছ ধরতে নেমে বহুবার কাদামাখা হয়েছি। পেরিয়ে গেছি খরতাপ, বৃষ্টিভেজা সময়ও গেল অনেক। বিকেল কেটেছে সঙ্গীসাথিদের ছায়ায়। অতীতের ওই সব দৃশ্য কখনো-সখনো চোখের সামনে ভেসে উঠুক, তেমন আকাঙ্ক্ষা আমার ছিল না। দূরান্তে যেতে হবে রাত জেগে যাত্রা দেখতে, বাড়ির পাশ দিয়ে সারি সারি লোক যাচ্ছে মাছ ধরার উৎসবে, স্কুলের মাঠে খেলা আছে—সেই সব আহ্বানও কেউ জানাতে আসার নয়। পেছনে তাকানোর সময় কোথায়!
প্রাচুর্যের কোল কেমন নেশা জাগায় তা আমি নিজেকে দিয়েই বুঝতে পারছি। ঢাকা শহরে চারখানা বাড়ি। দুই ছেলেকে পড়াচ্ছি বিদেশে রেখে। দামি গাড়ি সার্বক্ষণিক সঙ্গী। ব্যাংকেও গচ্ছিত আছে অঢেল। অভাব নামক শব্দটা আমার অভিধান থেকে মুছে দিয়েছি কবেই। এমন একটা বলয়ে বাস করি যে, ওসব আমাকে স্পর্শ করার কোনো ফাঁকফোকর পায় না। প্রতিদিন যখন প্রাচুর্যের গালিচায় ছাওয়া পথ ধরে ঘুরি, তখন আরও সম্পদের নেশা আমাকে মাতাল বানিয়েও নিস্তার দেয় না। দুচোখে শিকারি পশুর লোভ আরও তীক্ষ্ণ হয়। কেটলির ফুটন্ত জলের ক্ষোভ যেন। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরার নরম বিছানায় গা ছেড়ে দিয়েও হা-হুতাশ। অদৃশ্য এসে যেন ঘুম কেড়ে নেয়। স্ত্রী ভৎর্সনা করে। তার দিকে তাকিয়ে আমার দুই ঠোঁটের প্রান্তে নিরুপায় হাসি খেলে যায়। যে যা-ই বলুক কিংবা ভাবুক, আরও সম্পদ চাই আমার। অতএব সময় কোথায় যে, কাজ ফেলে স্বগ্রামে যাব, কিছুদিন কাটিয়ে আসব সেখানটায়। বেড়ে ওঠা গ্রামে যাওয়া উচিত ভাবলেও শেষাবধি একটা উপেক্ষার স্রোতই ঠেলে দিয়েছি।
বুঝি, এসব মনের খেলা। তা-ও প্রশ্ন জাগে, আমার কি কোনো অভিমান ছিল, যা হৃদয়ের অদৃশ্য কোলে স্থায়ী রূপ নিয়েছে! শুরুতে সেই অভিমান জাগ্রত হলে কেঁদেছি ভাড়া নেওয়া ছোট্ট একটা কামরার চৌকিতে নিঃসঙ্গ শুয়ে। দৌড়ঝাঁপ করেও চাকরি জোটাতে পারিনি। ভাগ্য ফিরতে লাগল একটা জুট মিলে কিছু পার্টস সরবরাহ করার ঠিকাদারি দিয়ে। ক্রমে ক্রমে ব্যবসার অন্ধিসন্ধি আয়ত্ত করার ভেতর দিয়ে বাড়ি-গাড়ি হলো, ব্যাংকেও জমল টাকা। এগারো বছর আগে ভাগ্যান্বেষণে ঢাকা শহরে এসেছিলাম। তখন যৌবন। বিত্তবৈভবের খেয়াল সারাক্ষণ তাড়া করে ফিরত। তবে জানতাম না, অতীতের আমার আমির মৃত্যু হবে ওই সম্পদের কারণে। আর এ-ও জানা ছিল না, শহরে এসে কাউকে বন্ধু করে নেওয়ার সময় এবং মন দুই-ই খুইয়ে ফেলব। গ্রামে থাকতে সঙ্গীসাথিদের পাশাপাশি হয়ে কত প্রান্তর ঘোরা হতো। অকৃত্রিম অক্সিজেনের সেসব দিনে সূর্যাস্তের দিকে তাকিয়ে নিজেকে শুনিয়েছি হৃদয়ের বিচিত্র বারতা। কিন্তু শহরে এসে হাওয়া হয়ে গেল অনেক কিছুই। অর্থমোহের অতলেই বোধকরি সব ঢাকা পড়ল আমার। আমি যে ডুবতে শুরু করেছি। আমাকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন মা। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ায় ছেলেকে ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে মুখ গুঁজলেন তিনি। দেখাসাক্ষাৎ রুদ্ধ হলো এভাবেই। অবশ্য নিভৃতে শূন্যতাটুকু হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠত, এখনো ওঠে। খবর এসেছে, মা শয্যা নিয়েছেন। তাঁকে শহরে এনে চিকিৎসা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুললেও সম্মতি মেলেনি। শেষ বয়সে স্বামীগৃহের বাইরে পা রাখবেন না তিনি। চিকিৎসা যা, ওখানেই চলবে। ছেলের অবৈধ উপার্জন বন্ধ করতে মা এমন অটল ও বিমুখ। মধুর কোনো স্বপ্ন অথবা দুঃস্বপ্ন—কোনো কিছুই আমার ঘুমে দৃশ্যমান নয়। আজকাল ঘুমে, কী জাগরণে রোগভোগে শয্যাশায়ী মায়ের মুখখানি মনের আয়নায় বারবার ভেসে ওঠে, স্পষ্ট হয়।
আমার জন্মের দুই বছরের মাথায় বিধবা হলেন মা। ছেলেকে ঘিরে অনেক আশার কথা রচনা করেছেন তিনি। কিন্তু আমার লেখন বিপরীতই দাঁড়াল। সৎ-উপার্জন আর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিজমার আয় দিয়ে স্ত্রী, সন্তানের ভরণপোষণ চালিয়ে নিতে পারতাম হয়তো। তবে কিনা জন্মের পর জ্ঞাত হয়েছিলাম, পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী আদম এবং বিবি হাওয়া থেকে যুগে যুগে জন্ম নেওয়া মানুষেরই একজন আমি। তাঁদের জীবনেও মস্ত পাপ ছিল, আমি আরকি! খোদার নিষেধ ডিঙিয়ে শয়তানের প্ররোচনায় দুজনেই গন্ধম খেয়েছিলেন। সেই পাপে সৃষ্টিকর্তা তাঁদের নিক্ষেপ করেছিলেন পৃথিবীতে। আদিম মানব-মানবীর ভুলই আজ নানা আঙ্গিকে মানুষে মানুষে পল্লবিত। আগে মায়ের চিঠি পেতাম। দোয়া জানান অন্তে পরসমাচারের প্রথমেই তিনি আমাকে সৎপথে চলার নির্দেশ দিতেন। তাঁর বউমা এবং দুই নাতিকে নিয়ে গ্রামে যাওয়ার ডাকও থাকত সেই চিঠিতে। জবাবে লিখেছি, তিনি যেন আগে ঢাকায় আসেন। এখানে এলে সুচিকিৎসা হবে। মা এসেছিলেন অবশেষে। এক রাত থেকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমাকে ধরে বসেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, চল, আমাকে বাড়িতে দিয়ে আসবি তুই। যাওয়া হয়নি। আজ সেই কথা স্মরণ হলে শোকের গলিতে সেঁধিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা জাগে। বিবেকের দুয়ারে দারুণ প্রশ্নরা আরও তীক্ষ্ণ হয়। ভাবি কি, ফন্দিফিকির দিয়ে যা গড়েছি, সব ফেলে স্বগ্রামে ফিরে যাই। আবার এ-ও বুঝি, লোভ সংবরণ সহজসাধন নয়। এই নেশা যাকে পেয়ে বসে, তা থেকে তার অব্যাহতি মেলে না। কী যেন সে হারিয়ে ফেলে প্রতিদিন অংশ অংশ করে, জানতেও পারে না। সম্ভবত সেটা ছুটির দিন ছিল। সে সময় আমার ঘরে প্রবেশ করেছিল ছেলেবেলার বন্ধু গজনফর আলী। তাকে পাশে বসার আমন্ত্রণ জানানোর পর রোগভোগে শয্যাশায়ী আমার মায়ের কথা শোনাল। প্রচণ্ড অসুখ। মরণশয্যায়। আমাকে যেতেই হবে, এই বোধটা সমস্ত সত্তাজুড়ে প্রখর হয়ে ওঠে। কিন্তু মায়ের মুখ দেখেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম পরিণতি। শুধু যেন একটা অপেক্ষা ছিল। শেষে সেই প্রহর উত্তীর্ণ হলে গজনফর শিশুর মতো কেঁদে উঠেছে। আমি শুধু পশ্চিমের আকাশ দেখেছি, পকেটে রাখা সিগারেট হাতড়েছি, পাইনি শেষ পর্যন্ত। মাকে শুভ্র কাপড়ে আবৃত করা হয়েছে। চারপাশে অনেক মানুষের ভিড়। গজনফর একবার শুধু বলেছে, ক্ষমা চাইতে হলে মৃতার কানের কাছে মুখ নিয়ে ক্ষমা চেয়ে নে। আমি তা পারিনি, বুকের ভেতরের একটা ভারী পাথরকে শুধু নামাতে চেয়েছি। কবরে একমুঠো মাটি ছড়িয়ে দিয়ে ঘরে এসে ফুরসত পেয়ে কেঁদেছিলাম। গজনফর আলী সান্ত্বনা দিয়েছে। একবার বিদ্যুৎ চমকের মতো মনে প্রশ্ন জেগেছিল, এ পর্যন্ত যা হারিয়ে ফেলেছি তা কি পুনরায় ফিরে পাব? কান্নার পর কি নিজেকে চিনতে আরম্ভ করেছিলাম?
দুদিন কেটে গেছে। এই দুদিন গজনফর আলীর সঙ্গে বসে অতীত স্মরণ করেছি। যাদের কথা ভুলে গিয়েছিলাম, যাদের ভালোবাসা আমার জন্য সংরক্ষিত ছিল, তারা সবাই আবার চৈতন্যে ফিরে আসতে থাকল। সেদিন তাকে বলেছিলাম, গজনফর, আমি আর ফিরে যাব না শহরে। সে অবাক হয়ে তাকিয়েছে আমার মুখের দিকে। পরদিন আমরা আনন্দ মাঝির নৌকায় চড়েছি। স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছে দেখলাম একজন মানুষ কোন্দায় চড়ে বর্ষার জলে ছিপ ফেলেছে। গজনফর আমার পাশে বসে সেই লোকটির দিকে তাকাল। ধানখেতের ওপর দিয়ে বয়ে গেল বাতাসের হঠাৎ ঝটকা। স্টেশনে ঘণ্টা বাজছিল। অদূরে সিগন্যালের লাল বাতি। আমি চমকে উঠেছি। এই দৃশ্যের ভেতরে আমি ছিলাম, অতীতেও একবার এই স্টেশনে এসেছিলাম। আনন্দ মাঝিরই নৌকা ছিল পারাপারের জন্য। গজনফর সেদিনও এভাবেই বসা ছিল আমার পাশে। সেদিনও লোকটা ছিপ দিয়ে মাছ ধরছিল। স্টেশনে ঘণ্টা বেজে ওঠা, কি ট্রেনের সিগন্যাল দেখতে পাওয়া—সবই হুবহু এ রকম। কিন্তু কবে ঠিক এই দৃশ্যের মুখোমুখি হয়েছিলাম, কিছুতেই ভেবে পাচ্ছিলাম না। গজনফর বলল, ঠিক সময়েই এসেছি। আরেকটু দেরি হলে ট্রেন পেতে না। চমকে উঠি। গজনফর সেদিনও এই কথাটাই শুনিয়েছিল আমাকে। ট্রেনে বসে মনে করতে চেয়েছি দিন-সাল—কবে ঠিক এই ঘটনা ঘটেছিল। সম্ভবত চাকরির খোঁজে প্রথম যখন শহরে আসি আনন্দ মাঝির নৌকায় চড়ে, সেদিন। প্রথমবার আমি জেনে আসতে পারিনি, কী হারিয়ে এসেছি, দ্বিতীয়বার জেনেছি আসল সত্য।

সৌদিতে শ্রমিক পাঠানোর ঘোষণায় কক্সবাজারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সার্কুলার জারি করে বলেছে, সৌদি আরবে এক লাখ ২০ হাজার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুই হাজার নারী শ্রমিক নিয়োগ করা হবে। এমন ঘোষণার কারণে হঠাৎ করেই কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) অনুপ্রবেশ বেড়ে গেছে। বিষয়টি জানিয়ে গত ১৬ই মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে একটি চিঠি দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অপারেশন ও প্রশিক্ষণ শাখা। চিঠিতে তারা বলেছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে (বিশেষ করে কক্সবাজারের কাকড়া ব্রিজ, বালুখালী পান বাজার, বেতবুনিয়া বাজার, লাম্বাবিল, মোচনী কেওড়া বাগান, ২ নম্বর স্লুইস গেইট ইত্যাদি) মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অনেকাংশে বেড়ে গেছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাসের অনুপ্রবেশের হার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে অনুপ্রবেশকারীর হার অনেক বেশি। এর মধ্যে ২০১৪ সালের অক্টোবরে ৩৬৩ জন, নভেম্বরে ৪৭৬ জন, ডিসেম্বরে ৫৮৩ জন, এ বছরের জানুয়ারিতে ৭৩৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১২১৬ জন এবং মার্চে (১০ই মার্চ পর্যন্ত) ৫৮৩ জন মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে প্রায় সবাইকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের হার বেড়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে বিজিবি চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা) অনুপ্রবেশে সহায়তাকারীরা ফেব্রুয়ারী মাসের লোভনীয় ঘোষণা পাওয়ার পর মিয়ানমার থেকে বিভিন্নভাবে রোহিঙ্গাদের বিদেশে বিশেষ করে সৌদি আরবে পাঠানোর উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। অপরদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের লোকজনও এই সুযোগে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য অনেক উৎসুক রোহিঙ্গা বাংলাদেশী  দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ  
করছে। বাংলাদেশে এসব চক্র রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে এনে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট তৈরির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। সমস্যা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা গণহারে এদেশে আসতে থাকলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকাসহ কক্সবাজারে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাবে। এটা সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। পাশাপাশি অনৈতিক কার্যকলাপ ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পণ্যের চোরাচালান বেড়ে যাবে। তাদের যত্রতত্র বসবাস ও বনজঙ্গল ধ্বংসের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। অনুপ্রবেশকারীরা জীবিকা নির্বাহের জন্য চুরি, ডাকাতি এমনকি পতিতাবৃত্তির মতো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, এসব নানা বিষয় বিবেচনা করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় সচেতনতামূলক বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

খালেদার মামলার আইনী কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বৃটেন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার আইনী কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বৃটেন। গণতান্ত্রিক  প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা স্থাপনের জন্য অবশ্যই যা করণীয় তা হলো, বাংলাদেশে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা হতে হবে পক্ষপাতহীন। তাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেকোন পদক্ষেপ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাতে নেয়া হয় এমনটা প্রত্যাশা বৃটেনের। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক যে অধিকার পায়, খালেদা জিয়াকেও যেন সেই অধিকার দেয়া হয়। বৃটিশ পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ হাউজ অব লর্ডসে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেছেন কমনওয়েলথ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারোনেস জয়সে অ্যানিলে। গত ১৭ই মার্চ তার কাছে লিখিত প্রশ্নে লর্ড অ্যাভাবুরি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জানতে চান। তিনি প্রশ্নে বলেনÑ গত ১১ই মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খালেদার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সে বিষয়ে বৃটিশ সরকারের অবস্থান কি। বুধবার ২৫শে মার্চ হাউজ অব লর্ডসে তার এ প্রশ্নের উত্তর দেন ব্যারোনেস অ্যানিলে। উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি। এক্ষেত্রে আইনগত বিষয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি আমরা। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা পক্ষপাতহীন হওয়া অত্যাবশ্যক। তারপরও আমরা আশা করি যে, খালেদার বিরুদ্ধে যে কোন পদক্ষেপ নিতে হবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক যে অধিকার ভোগ করেন খালেদা জিয়াকেও সে অধিকার দিতে হবে। এখানে উল্লেখ্য, লর্ড অ্যাভাবুরি হাউজ অব লর্ডসের প্রভাবশালী সদস্য। পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি) কমিশনের সহ-সভাপতি তিনি। এই কমিশন পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে। উল্লেখ্য, এর আগে লর্ড অ্যাভাবুরির ২৩শে ফেব্রুয়ারির এক প্রশ্নের জবাবে ৯ই মার্চ ব্যারোনেস লর্ড অ্যানিলে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততাকে অব্যাহতভাবে উৎসাহিত করে যুক্তরাজ্য। দেশব্যাপী সহিংসতা ও উত্তেজনার অবসানে সব দলকে একে অন্যের ওপর আস্থা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ব্যারোনেস অ্যানিলের কাছে লর্ড অ্যাভাবুরি জানতে চান, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের কাছে যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশ ইস্যুতে একটি প্রস্তাব দেবে কিনা, যাতে বলা হবে বাংলাদেশের সরকার ও বিরোধী পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ দিতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনকে আমন্ত্রণ জানাতে বলা হবে কিনা, যাতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো একটি সমঝোতায় পৌঁছতে পারে। তাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর হয়। জবাবে ব্যারোনেস অ্যানিলে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন চিঠি লিখেছেন। এ খবর পেয়েছি আমরা। এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। অন্যদিকে, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন লেখক ও ব্লগার অভিজিত হত্যাকা- নিয়েও ওইদিন আলোচনা হয় বৃটিশ পার্লামেন্টে। এ নিয়ে ৯ই মার্চ প্রশ্ন করেন লিভারপুরের লর্ড অ্যাল্টন। তিনি জানতে চান, ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার ১৮ অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বৃটিশ সরকার তার অবস্থান জানিয়েছে কিনা? এদিনই তার এ প্রশ্নের উত্তর দেন ব্যারোনেস অ্যানিলে। তিনি বলেন, আমরা মানবাধিকারের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই। বিশ্বাসযোগ্য কোন অভিযোগ থাকলে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমরা তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছি। আমরা আহ্বান জানাই সকল ঘটনা যেন দ্রুত, স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়। ২০১৩’র ২৯শে এপ্রিল, মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের ২য় ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা দলগুলোকে সুরক্ষা করতে আরও বেশি কিছু করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানায় যুক্তরাজ্য। মার্কিন নিবাসী অভিজিৎ রায়ের হত্যাকা- এবং তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যার গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় বৃটেনের তরফ থেকে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেন ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাই কমিশনার।

রানা প্লাজা ধসে ৩০% ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে ২,৮০০ জন

রানা প্লাজা ধসে আহত ও নিহত শ্রমিক পরিবারের ২,৮০০ জন ৩০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়া নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের কাছে চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নেতৃত্বাধীন রানা প্লাজা সমন্বয় কমিটি। এবার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের ৩০ শতাংশ অর্থ চলতি মাসের শেষে সবার ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রানা প্লাজা সমন্বয় কমিটি বিষয়টির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে ক্ষতিপূরণের ৪০ শতাংশ পেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা। আইএলও সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আইএলও বাংলাদেশ অফিসের গণসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মুয়ীদ মানবজমিনকে বলেন, শ্রমিকদের অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট কোন সময় নির্ধারণ করা হয়নি। তবে এ মাসেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আইএলও থেকে সব আহত ও নিহত শ্রমিকের পরিবারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে কোন শ্রমিক কি পরিমাণ অর্থ পাবে তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। যাতে কোন ঝামেলা না হয়। সূত্র জানায়, ভবনধসে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের দাবিনামা বা ক্লেইম ফরম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য ৩ কোটি ডলার বা ২৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন। তবে রানা প্লাজা ডোনারস ট্রাস্ট ফান্ড নামের আন্তর্জাতিক তহবিলে জমা আছে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার। এ অর্থ থেকে গত বছর ৫ কিস্তিতে আহত ও নিহত শ্রমিক পরিবারের ২,৭৭০ জন তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের ৪০ শতাংশ পান। তবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের প্রাপ্ত সহায়তা ও এককালীন দেয়া ৫০ হাজার টাকা কর্তন করে রাখা হয়েছিল। আর এবার ক্ষতিপূরণের বাকি ৬০ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ অর্থ দেয়া হচ্ছে। রানা প্লাজা সমন্বয় কমিটি মতে, গত বছর দাবিনামার কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ধাপে ধাপে অর্থ দেয়া হয়েছিল। এবার সেটি হচ্ছে না। সবাই একসঙ্গে পাবেন। সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে দাবিনামা পূরণের কাজ শেষ হয়েছে। রানা প্লাজা ধসে ২,৮৩২ জন আহত, নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিক পরিবারের ৫,০২২ জন সদস্য দাবিনামা পূরণ করেন। তাদের মধ্যে নিখোঁজ শ্রমিক আছেন ১৪১ জন। তাদের সবার জন্য পৃথক ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। অবশ্য সবাই ক্ষতিপূরণ পাবেন না, কারণ অনেকেই কম আহত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ অনেক আগেই পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছেন সমন্বয় কমিটির সদস্যরা। তবে এবার ৩০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন প্রায় ২,৮০০ জন। এদিকে সব মিলিয়ে ৭০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও বাকি ৩০ শতাংশের অর্থ প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না। আন্তর্জাতিক তহবিলে এখনও ৯০ লাখ ডলারের ঘাটতি আছে। দীর্ঘদিন ধরেই ক্রেতা ও ব্র্যান্ড তহবিলে কোন অর্থ দিচ্ছে না। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে ইতালিভিত্তিক গ্রোবাল ফ্যাশন ব্র্যান্ড বেনেটন ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে সম্মত হয়। এক বিবৃতিতে ব্র্যান্ডটি তখন জানায়, বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য তৃতীয় পক্ষের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে কাজ করছে। একাধিক শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, রানা প্লাজা ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১২৭ কোটি টাকার মতো জমা পড়ে। সেখান থেকে চিকিৎসা, অনুদানসহ বিভিন্ন খাতে খরচ হয় মাত্র ২২ কোটি টাকা। সেই তহবিল থেকে এখন ৭২ কোটি টাকা দিলে সহজেই এ ক্ষতিপূরণের বিষয়টির সমাপ্তি টানা যায়। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১,১৩৬ জন শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। এ ঘটনার পর দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠলে আইএলওর নেতৃত্বে রানা প্লাজা সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়। এতে বিদেশী ক্রেতা প্রতিষ্ঠান, দেশী-বিদেশী শ্রমিক সংগঠন ও সরকারের প্রতিনিধিরা আছেন।

কো-পাইলটের ইচ্ছাতেই বিধ্বস্ত জার্মান বিমান

ফ্রান্সের আল্পস পর্বতমালায় জার্মানউইংস-এর বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দেড় শ’ আরোহীর সবাই নিহত হওয়ার ঘটনায় আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে শোকের বিলাপ চলছে। ঠিক এ সময়েই ফরাসি এক কৌসুলি ব্রাইস রবিন বলেছেন, ওই বিমানের কো-পাইলট আঁন্দ্রে লুবিটজ ইচ্ছা করে ওই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি যখন এ ঘটনা ঘটান তখন ককপিট থেকে প্রাকৃতিক কাজ সারতে মূল পাইলট ছিলেন বাথরুমে। এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর তুমুল হইচই শুরু হয়ে গেছে। তবে কি উদ্দেশে আঁদ্রে লুবিটজ এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন তা নিয়ে কেউ সঠিক কোন তথ্য জানাতে পারেন নি। ব্রাইস রবিন বলেন, বিমানের মূল পাইলট ককপিট ছেড়ে টয়লেটে গিয়েছিলেন। সে সময় তার পক্ষে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেয়া সম্ভব ছিল না। এই ফাঁকে বিমানের কো-পাইলট আঁদ্রে লুবিটজ ইচ্ছা করে দ্রুত বিমানটি নিচু করে চালানো শুরু করেন। এর ফলে বিমানটি আল্পস পর্বতমালায় বিধ্বস্ত হয়। পাইলট বাথরুম থেকে ফিরে দ্রুত ককপিটের দরজায় ধাক্কা মারেন। কিন্তু দরজা খোলা হয়নি। এয়ার কন্ট্রোলের কোন কলে সাড়া দেননি কো-পাইলট। এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে বিমানটির উদ্ধার করা ভয়েস রেকর্ডার বা ব্লাক বক্স পরীক্ষা করে। রবিন আরও বলেন, কো-পাইলটের উদ্দেশ্যই ছিল বিমানটি ধ্বংস করা। উদ্ধার করা ব্ল্যাকবক্সে কো-পাইলটের কোন কথাই শোনা যায় নি। শুধু কো-পাইলটের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শোনা গেছে। মূল পাইলট ককপিট ছেড়ে চলে যাবার পর থেকে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছিল তাতে। একেবারে শেষ মুহুর্তে শোনা যাচ্ছিল বিধ্বস্ত হবার আগ মুহুর্তে অ্যালার্ম বেজে উঠছে।  এখানে উল্লেখ্য, লুবিটজের বয়স ২৮ বছর। তিনি বিমান চালানো বিষয়ে কড়া প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কোন অঘটন ছাড়া তিনি শতভাগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।