Tuesday, February 26, 2019
থাইল্যান্ড ফিরতে পারবে গণতন্ত্রের পথে? by তৌহিদুল ইসলাম

পাঁচ বছর সেনা শাসনের পর প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির গণতন্ত্রের পথে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু রাজকুমারী উবলরাতানা মাহিদলকে (৬৭) নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করায় ওই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠছে।
নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে প্রাউত ২০১৪ সালে থাইল্যান্ডের ক্ষমতায় বসেছিলেন। তাঁকে সরাতে রাজকুমারীকে প্রার্থী করে চমক দেখাতে গিয়ে এখন উল্টো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির মুখে পড়েছে ‘থাই রকসা চার্ট পার্টি’। রাজপরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করায় দলটিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়েও নির্বাচন কমিশন ভেবে দেখছে। বিষয়টি নিয়ে এখন গণমাধ্যম সরব।
থাইল্যান্ডের রাজকুমারী উবলরাতানা মাহিদলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। এর ফলে তিনি সাধারণ নির্বাচনে আর প্রার্থী হতে পারছেন না। ৬৭ বছর বয়সী ওই নারী থাইল্যান্ডের রাজার বোন। রাজকুমারী মাহিদল সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার পক্ষে একটি দলের হয়ে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন থাইল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, রাজকুমারীর নাম নেই। দেশটির বর্তমান রাজা প্রিন্স মাহা ওয়াজিরালংকর্নের বোন তিনি। থাই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দেশটির ঐতিহ্য অনুযায়ী রাজপরিবারের সদস্যরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে।
একই সঙ্গে তাঁরা কোনো রাজনৈতিক পদেও থাকতে পারেন না। বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনে থাই রকসা চার্ট পার্টি থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন উবলরাতানা। পেয়েছিলেন মনোনয়নও। কিন্তু উবলরাতানার বড় ভাই নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষার কঠোর সমালোচনা করেন।
ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজকীয় বিধি ও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে উবলরাতানাকে পিছু হটতে হলেও গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার প্রক্রিয়ায় আলোচনা এখনো ব্যাপকভাবে চলছে। জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র নিয়ে সংশয়ে পড়তে হচ্ছে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশে প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবার ও রাজপরিবারের দ্বন্দ্ব, সংঘাত এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে ২০১৪ সালে ক্ষমতা দখল করে থাই সেনাবাহিনী। সে সময় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক জান্তা। ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন সেনাবাহিনীর প্রধান প্রাউত চান-ওচা, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এই নির্বাচনী উত্তাপ এখন রাজপরিবার থেকে শুরু করে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনের এই লড়াইয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি নতুন মাত্রা পায়। ওই দিন রাজপরিবারের রাজকুমারী উবলরাতানা মাহিদলকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা জমা দেয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনওয়াত্রার দল থাই রাকসা চার্ট।
সে সময় উবলরাতানার উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়, তিনি তাঁর রাজকীয় সব উপাধি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। এখন থেকে তিনি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করবেন। প্রধানমন্ত্রী পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে উবলরাতানা বলেছিলেন, তিনি চেয়েছিলেন একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাঁর অধিকার চর্চা করতে। সব থাই নাগরিকের সমৃদ্ধির জন্য তিনি আন্তরিকতা ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন।
রাজকুমারীর রাজনীতিতে আসা নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে সরাসরি রাজনীতিতে আসা আইনের লঙ্ঘন বলেও অভিযোগ ওঠে। উবলরাতানার ছোট ভাই ও থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন এক বিবৃতিতে বলেন, রাজপরিবারের কোনো সদস্যকে রাজনীতিতে আনা ঐতিহ্য ও জাতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী সিদ্ধান্ত। এটি ‘ভীষণ অনুচিত’। রাজপরিবারকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার কথাও বলেন তিনি। সেই সঙ্গে ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশটির নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, রাজকুমারীকে রাজনীতিতে এনে থাই রাকসা চার্ট রাজনৈতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। এসবের জবাব দিতে গিয়ে তোপের মুখে পড়ে থাকসিনের ছেলের মালিকানাধীন ‘ভয়েস টিভি’। জেনারেলদের নির্দেশে ১৫ দিনের জন্য ওই টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত রাজার হস্তক্ষেপে নির্বাচনে রাজকুমারীকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে প্রার্থিতা বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানায়, ‘রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষতা ধারণ করার নিয়ম রাজপরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য প্রযোজ্য।’ পরে অবশ্য থাই রাকসা চার্ট বিষয়টি মেনে নিয়ে জল ঘোলা থেকে বিরত থাকে। এ নিয়ে রাজকুমারী ক্ষমাপ্রার্থনা করে ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় বলেন, ‘দেশের জন্য কাজ করার স্বাভাবিক ইচ্ছা যদি থাই জনগণের সমস্যার কারণ হয়, তবে সেটা করা উচিত হয়নি।’
সম্প্রতি ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজকীয় ও সামরিক বিশিষ্টজনেরা ‘ইয়োলো শার্ট’ হিসেবে পরিচিত। আর সাবেক জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনওয়াত্রার সহকারী ও সমর্থকের পরিচিত ‘রেড শার্ট’ হিসেবে। এই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব, বিভাজন ও সংঘাতের জেরে ২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী।
সিনাওয়াত্রাদের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ‘রেড শার্ট’পন্থীরা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হলে পিউ থাই পার্টির পক্ষে ক্ষমতায় বসেন থাকসিনের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। তবে তিনি জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট শুরু করেন। রাজপরিবার ও সামরিক বিশিষ্টজনদের কাছে চক্ষুশূলে পরিণত হন ইংলাক। ক্ষমতার তিন বছরের মাথায় তৎকালীন রাজা ভূমিবলের মদদে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। ফলে আবার শুরু হয় সেনা শাসন।
১৯৩২ সালে রাজতন্ত্র অবসান হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১২ বার ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। এই বাহিনীর হস্তক্ষেপে থাই গণতন্ত্র বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে সেনা শাসন থেকে বের হয়ে গণতন্ত্রের পথে ফেরার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। গণতন্ত্রের পথে ফিরতে পারবে কি থাইল্যান্ড? এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। নাকি মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন থাই প্রধানমন্ত্রী প্রাউত চান-ওচা। লোক দেখানো একটা নির্বাচন দিয়ে সেনা সমর্থনের জোরে ভোট বাগিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রাউত চানের ক্ষমতায় আসার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী প্রাউতকে নির্বাচনে মোকাবিলা করা থাকসিন সিনওয়াত্রার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জই বটে।
প্রধানমন্ত্রী প্রাউত গত কয়েক মাস থেকে সরকারি ব্যবস্থায় সারা দেশে নির্বাচনী প্রচার ও শোভাযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। বেসামরিক রাজনীতিকদের রুখতেও তাঁর নানা পদক্ষেপ দৃশ্যমান। পাঁচজনের বেশি একসঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। পালং প্রাচার্য পার্টি নামে একটি দল সেনা–সমর্থিত দলকে সমর্থন দিয়েছে। এতে দলটির কিছু আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ছোট ও আঞ্চলিক দলগুলোর তারা সমর্থন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডে সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পশ্চিমে হেরোইন পাচারের নয়া মহাসড়ক by নাজনীন আখতার

সাম্প্রতিক সময়ে আফ্রিকায় হেরোইন আসক্তির যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা আগে কখনো ছিল না। আশি ও নব্বই দশকে জানজিবার বা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের শহর জোহানেসবার্গের মতো পর্যটন স্থানগুলোতেই হেরোইনে আসক্ত লোকজনকে পাওয়া যেত। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয়ের (ইউএনওডিসি) তথ্য অনুসারে, ২০০৬ সালের পর অন্য যেকোনো মহাদেশের তুলনায় আফ্রিকায় হেরোইনে আসক্তি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হেরোইন–বাণিজ্য ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনছে। এটা শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
ইউএনওডিসির তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালে আফিম উৎপাদন রেকর্ডসংখ্যক ৬৫ শতাংশ বেড়ে সাড়ে ১০ হাজার টন হয়েছে।


তবে আগের স্বাভাবিক জীবনের জন্য বেশ আফসোস হয় জুমার। বললেন, মাদক বেচে যা আয় করেন, তা তিনি তানজানিয়ার আধা স্বায়ত্তশাসিত এলাকা জানজিবারে টেলিফোন খুঁটি মেরামত করেও পেতেন। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানের সংসারে ওই আয় যথেষ্ট না হওয়ায় কেপটাউনে চলে আসেন। বিরক্তি নিয়ে বললেন, ‘এই জীবন অনেক কঠিন, বস।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভালোবাসা দিয়ে কাশ্মীর শাসন করতে হবে by লাথা জিশনু

বুশ এরপর আরও সাত মিনিট শ্রেণিকক্ষে ছিলেন এবং বাচ্চাদের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলছিলেন। পরে সেখান থেকে উঠে পাশের রুমে তিনি সংবাদ সম্মেলনে গেলেন। হামলার কথা শোনার পরও সাত মিনিট তাঁর শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছে। অনেকেই বলেছিলেন, দেশ যখন হামলার মুখে পড়েছে, তখন সে খবর শোনার পরও বুশ নির্বিকারভাবে ‘দীর্ঘ সময়’ বাচ্চাদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। এই যুক্তিতে তাঁকে অভিশংসন করা উচিত বলেও তখন সমালোচকেরা মন্তব্য করেছিলেন।
পুলওয়ামার সিআরপিএফ কনভয়ে সন্ত্রাসী হামলায় আধা সামরিক বাহিনীর ৪০ জন সদস্য নিহত হওয়ার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কী করছিলেন, তা নিয়ে একইভাবে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সে প্রশ্নের জবাব এখনো মেলেনি। কংগ্রেস বলেছে, মোদিকে যখন হামলার খবর দেওয়া হয়, তখন তিনি জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কে তাঁকে নিয়ে প্রচারণামূলক একটি ছবির শুটিং করায় ব্যস্ত ছিলেন। খবর শোনার পরও তিনি চার ঘণ্টা ধরে শুটিং করেছেন। তবে সরকারের দিক থেকে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের এই দাবি সত্য নয়, সেখানে তিনি দাপ্তরিক আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন।
ভারতবর্ষে সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে কাদা-ছোড়াছুড়ি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা নতুন কিছু নয়। কিন্তু পুলওয়ামা হামলার জের ধরে যেভাবে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে, তা নজিরবিহীন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লাগাতার ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাশ্মীরের কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি না করার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
মোদি সরকারের পক্ষের টিভি চ্যানেলগুলো আগে থেকেই জম্মু কাশ্মীর ও এখানকার লোকদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় মত্ত ছিল। এবার তারা কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে একযোগে প্রচার চালাচ্ছে। পুলওয়ামা-কাণ্ডের পর আরএসএসের ছাত্রসংগঠন এবিভিপি হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেঘালয়ের রাজ্যপাল কাশ্মীরের সব পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছেন। কাশ্মীরের লোকদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। একটি রাজ্যের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া কতখানি ধৃষ্টতা, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
এখন প্রশ্ন হলো একটি গণতান্ত্রিক সরকার কেন এসব অশুভ বিষয় সমর্থন করে যাচ্ছে? যে কাশ্মীরি জনগণ নিজেদের ভারতীয় বলে মনে করে, তাদের ঘৃণা করে পর করে দেওয়ার এই চক্রান্ত সরকারের উচ্চ মহল কেন প্রশ্রয় দেয়? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাশ্মীরিরা অন্য রাজ্যগুলোতে নিজেদের অরক্ষিত মনে করে আসছে। কেরালার মতো অল্প কয়েকটি রাজ্য ছাড়া অন্য রাজ্যগুলোতে তারা নিরাপদ বোধ করে না। পুলওয়ামার ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ ও পাঞ্জাব কাশ্মীরের নাগরিকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এ রাজ্যগুলোতে বিজেপি ক্ষমতায় নেই।
আদিল আহমদ দার নামক ২০ বছর বয়সী যে কাশ্মীরি যুবক পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলা চালালেন, তিনি পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে জড়িত বলে বলা হচ্ছে। এই আদিল আহমদ দার কাশ্মীরের সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন না। আদিলের মতো অল্পসংখ্যক কাশ্মীরি এই ধরনের সন্ত্রাসী মানসিকতা পোষণ করে। তার জন্য পুরো কাশ্মীরবাসীকে ঘৃণার চোখে দেখার মতো ধ্বংসাত্মক বিষয় আর কী হতে পারে?
বিজেপিকে মনে রাখতে হবে, তারা ক্ষমতায় আসার আগে কাশ্মীর তুলনামূলকভাবে অনেক শান্ত ছিল। ২০১৬ সালে কাশ্মীরে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর বন্দুকের প্যালেট ছুড়ে বহু তরুণকে অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষোভকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কাজে লাগাবে, তাতে সন্দেহ নেই। আর তাতে ব্যবহার করা হচ্ছে আদিলের মতো অল্প বয়সী তরুণদের, যাদের মধ্যে ক্ষোভ আছে কিন্তু রাজনৈতিক জ্ঞান নেই।
এই রাজনৈতিক সত্যটি বিজেপিকে বুঝতে হবে। বিজেপিকে বুঝতে হবে কাশ্মীরিদের হৃদয় জয় করেই কাশ্মীরকে শাসন করতে হবে। ঘৃণায় কোনো সমাধান নেই।
ডন থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঘরপালানো দুই বোনের রাষ্ট্রহীন জীবন! -এএফপি, হংকং

হংকংয়ের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে ওই দুই বোনকে। এরপর তাঁদের হংকং থেকে বের করে দেওয়া হবে।
ওই দুই বোন নিজেদের রিম (২০) ও রাওয়ান (১৮) নামে বার্তা সংস্থা এএফপিকে পরিচয় দিয়েছেন। তবে এগুলো তাঁদের ছদ্মনাম। তাঁরা এএফপিকে তাঁদের জীবনের গল্প বলেছেন।
সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী ছিলেন রিম। লেখক হতে চাওয়া এই তরুণী বলেন, সাহিত্য তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। ব্রিটিশ-ভারতে জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েলের উপন্যাস নাইনটিন এইটি ফোর তাঁর প্রিয় বই। রিম বলেন, ‘এটা একটা সায়েন্স ফিকশন। কিন্তু এটা সৌদি আরবে বাস্তবে ঘটছে। আপনার সমস্ত জীবন সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে।’
রিয়াদের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠেন রিম ও রাওয়ান। অতিরক্ষণশীল সৌদি আরবে নারী হিসেবে জীবনের কোনো স্বাধীনতা ছিল না বলে জানান দুই বোন। সৌদি আরবে থাকাকালে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা তাঁদের প্রতিনিয়ত নির্যাতন করতেন। তাঁরা বলেন, যখন ছোট ছিলেন, তাঁদের বাবা তাঁদের মারধর করতেন। যখন বড় হলেন, মারধর করা শুরু করলেন তাঁদের ভাইয়েরা। ঘুম থেকে দেরি করে ওঠার মতো ছোট ছোট অপরাধের জন্য তাঁরা মারধর করতেন। বাবাও ভাইদের কিছু বলতেন না বলে জানান তাঁরা।
দুই বোন দুই বছর ধরে বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা আঁটতে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার ভিসাও করে রাখেন তাঁরা। গত সেপ্টেম্বরে রাওয়ানের জন্মদিনে পরিবার শ্রীলঙ্কায় ছুটি কাটাতে এল। এ সময় দুই বোন তাঁদের পাসপোর্ট নিয়ে কলম্বো থেকে হংকংয়ের ফ্লাইটে চেপে বসেন।
হংকং বিমানবন্দরে কিছু অচেনা লোক তাঁদের যাত্রাবিরতিতে আটক করেন। তাঁদের অস্ট্রেলিয়াগামী ফ্লাইট বাতিল করান। একজন রিয়াদগামী উড়োজাহাজে তাঁদের কৌশল করে বসাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁরা সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হন। পরে জানতে পারেন, ওই লোক হংকংয়ে সৌদি আরবের কনসাল জেনারেল ছিলেন।
দুই বোন সন্দেহ করছে, তাঁদের বাবা আবশের অ্যাপ দিয়ে তাঁদের গতিবিধি ট্র্যাক করেছেন। আবশের একটি বিতর্কিত মুঠোফোন অ্যাপ। সৌদি আরবে এর মাধ্যমে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নারী সদস্যদের ওপর নজরদারি করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিমান ছিনতাইয়ের যত দুর্ধর্ষ ঘটনা -বিবিসি বাংলা

দিনটি ছিল ১৯৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর। কুয়েত সিটি বিমানবন্দরের অবস্থা বেশ স্বাভাবিক। কুয়েত এয়ারওয়েজ এর একটি বিমান পাকিস্তানের করাচি যাবার জন্য তৈরি। নির্ধারিত সময়ে বিমানটি আকাশে উড়ে। কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই ছিনতাইকারীরা বিমানের দখল নেয়।
লেবাননের চারজন শিয়া ছিলেন ছিনতাইকারী। ছিনতাইকারীরা বিমানটির দিক পরিবর্তন করে ইরানের তেহরানে নিয় যায়। তেহরানের অবতরণের পর নারী, শিশু এবং মুসলিমদের ছেড়ে দেয় হয়। কিন্তু মার্কিন সংস্থা ইউএসএআইডি'র দুই কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে। ছয়দিন জিম্মি অবস্থার পর ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিমানটিতে অভিযান চালায় এবং নয়জনকে মুক্ত করে।
ইজিপ্ট এয়ার ছিনতাই
১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর ইজিপ্ট এয়ারের একটি বিমান ৯২ জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু নিয়ে গ্রিসের এথেন্স থেকে মিশরের কায়রো যাচ্ছিল। ফাইট এটেন্ডেডরা যখন যাত্রীদের মাঝে খবরের কাগজ বিতরণ করছিলেন তখন একজন যাত্রী জোর করে ককপিটে ঢুকে যায়।
বাকি দুইজন ছিনতাইকারীদের মধ্যে একজন সামনে এবং অপরজন পেছনে। তারা অস্ত্র বের করে। যাত্রীদের নড়াচড়া করতে নিষেধ করে তাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট কেড়ে নেয়া হয়। এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীদের আরো একজন এক যাত্রীর পাসপোর্ট দিতে বলে।
সে ব্যক্তি ছিল মিশরের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তিনি ব্যাগ থেকে পাসপোর্ট বের না করে একটি পিস্তল বের করেন এবং এক ছিনতাইকারীকে গুলি করেন। এতে সে ছিনতাইকারী মারা যায়। সে সময় ককপিট থেকে অপর ছিনতাইকারী বেরিয়ে আসে। তাদের মধ্যে মাঝ আকাশে শুরু হয় গোলাগুলি। তখন বিমানের কেবিন প্রেশার নেমে যায় এবং অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে।
ছিনতাইকারীরা বলে বিমান তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং কাউকে নড়াচড়া করতে নিষেধ করে। রাত নয়টার দিকে বিমানটি মাল্টায় অবতরণ করে। সেখানে নেমে ছিনতাইকারীরা বিমানের জন্য জ্বালানী তেল দাবি করে।
কিন্তু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলে, জিম্মি যাত্রীদের মুক্তি না দিলে জ্বালানী তেল দেয়া হবে না। কিন্তু ছিনতাইকারীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকে। এক পর্যায়ে তারা বলে জ্বালানী তেল না দিলে প্রতি ১০ মিনিটে একজন যাত্রীকে হত্যা করা হবে। এভাবে তারা কয়েকজন যাত্রীকে গুলি করে প্লেনের বাইরে রানওয়েতে ফেলে দেয়। কিন্তু তারপরেও জ্বালানী তেল সরবরাহ করেনি মাল্টা কর্তৃপক্ষ। পরেরদিন বিকেল ৩:৪৫ মিনিটে মাল্টা সরকারের অনুমোদন নিয়ে মিশরের কমান্ডোরা বিমানটিতে অভিযান চালিয়ে জিম্মি দশার অবসান ঘটায়। সে ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীসহ ৫৯ জন মানুষ মারা যায়। বিমানে হামলার কারণে ২৭ জন আহত হয়।
প্যান অ্যাম বিমান ছিনতাই
১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ভারতের মুম্বাই থেকে প্যান অ্যাম-এর বিমানটির গন্তব্য ছিল নিউইয়র্ক। মুম্বাই থেকে ছেড়ে আসার পর বিমানটি পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দরে নামে। বিমানটি যখন টারমার্কে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল, সে সময় নিরাপত্তা রক্ষীদের ছদ্মবেশ ধারণ করে ফিলিস্তিনী জঙ্গিরা বিমানে ঢুকে পড়ে। বিমানে ঢুকেই অস্ত্রধারীরা কেবিন ক্রুদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বলে, তাদের পাইলটের কাছ নিয়ে যেতে হবে।
তখন কেবিন ক্রুদের মধ্যে একজন বেশ দ্রুততার সাথে পাইলটদের জানিয়ে দেয় যে বিমানে অস্ত্রধারীরা প্রবেশ করেছে। তখন পাইলটরা বেশ দ্রুততার সাথে বিমান থেকে বেরিয়ে যায়। ছিনতাইকারীরা পাইলটদের ফিরিয়ে আনার জন্য নানা চাপ দিচ্ছিল। কারণ তাদের উদ্দেশ্য ছিল বিমানটিকে ইসরায়েল অথবা সাইপ্রাসে নিয়ে যাওয়া। পাইলটরা বিমানে ফিরে না আসায় একজন যাত্রী গুলি করে হত্যা করে বিমান থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে ছিনতাইকারীরা পাইলটদের ফিরে আসার জন্য চাপ তৈরি করছিল। ছিনতাইকারীরা আমেরিকান যাত্রীদের খুঁজছিল। সে বিমানে ছিনতাইকারীদের গুলিতে নিহত হয়েছিল ভারতীয় কেবিন ক্রু নিরজা। যাকে নিয়ে সাম্প্রতিক বছরে বলিউডে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।
যখন সন্ধ্যার হয় তখন বিমানের ভেতরেও অন্ধকার নেমে আসে। তখন বিমানের তিনটি দরজা খুলে দেয়া হয়। অন্ধকারের মধ্যে অস্ত্রধারীরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। সে সুযোগে অনেক যাত্রীকে নামিয়ে দেন কেবিন ক্রুরা। এক পর্যায়ে অস্ত্রধারীরা বিমান ছেড়ে পালিয়ে যাবার সময় পাকিস্তানী নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। ২২ জন নিহত এবং ১৫০ জন আহত হয়েছিল ওই অপারেশনে।
এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ছিনতাই
১৯৯৯ সালের ২৪ জানুয়ারি। বড়দিন উদযাপনের ঠিক আগের দিন। ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। বিমান আকাশে উঠার ৩০ মিনিট পর ছিনতাইকারীরা বিমানের দখল নেয়।
এরপর বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশ সীমায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান হওয়ায় সেটিকে অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়নি। তখন বিমানে জ্বালানী প্রায় শেষ হয়ে আসছিল। ফলে বিমানটি ভারতের আকাশ সীমায় ফিরে এসে অমৃতসর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কিন্তু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেটিকে জ্বালানী সরবরাহ করছিল না।
বিমানের ভেতর থেকে পাইলট কন্ট্রোল রুমকে জানায় যে চারজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কায় বিমানটিকে কিছু জ্বালানী দেয়া হয়। ভারত সরকার পাকিস্তানের সাথে কথা বলে। এরপর সেটি উড়ে যায় পাকিস্তানের লাহোর বিমানবন্দরে। সেখানে বিমানটিকে নামার অনুমতি দেয়া হয়। সেখান থেকে জ্বালানী নিয়ে বিমানটি চলে যায় দুবাইতে।
সেখানে যাবার পর ছিনতাইকারীরা ২৭ জন জিম্মিকে ছেড়ে দেয় এবং নিহতদের মধ্যে একজনের মরদেহ হস্তান্তর করে। এরপর বিমানটি চলে আসে আফগানিস্তানের কান্দাহার বিমানবন্দরে। সেখানে বিমানের ভেতরেই যাত্রীরা ছয়দিন ছিলেন। যাত্রীদের জিম্মি করে ছিনতাইকারীরা ভারতের কারাগারে আটক তাদের ৩৬ জনকে ফেরত চায়। এছাড়া তারা ২০০ মিলিয়ন ডলারও দাবি করে। ভারতের কারাগারে আটক তিন জঙ্গিকে মুক্তি দেবার বিনিময়ে বিমানের জিম্মি নাটকের অবসান ঘটে।
৯/১১ আমেরিকায় বিমান ছিনতাই
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় চারটি বিমান ছিনতাই করে ১৯ জন ছিনতাইকারী। সে বিমানগুলো দিয়ে নিউইয়ার্কে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। সে হামলার পরিকল্পনাকারী ছিলেন আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন। সকাল ৮:৪৬ মিনিটে বস্টন থেকে লস এঞ্জেলস গামী আমেরিকান এয়ার লাইন্স-এর বিমান ছিনতাই করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত করে।
৯:০৩ মিনিটে বস্টন থেকে লস এঞ্জেলস গামী ইউনাইটেড এয়ার লাইন্স-এর বিমান ছিনতাই হয়। বিমানটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত করে। ৯:৩৭ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এর আরেকটি ফ্লাইট ছিনতাই করে ওয়াশিংটনে পেন্টাগন ভবনে আঘাত করে । ১০:০৩ মিনিটে ইউনাইটেড এয়ার লাইন্স-এর আরেকটি বিমান ছিনতাই করা হয়। কিন্তু সেটি পেনসিলভানিয়াতে বিধ্বস্ত হয়।
সূত্র: বিবিসি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তারা বেঁচে থাকবে শত কোটি বিবেকবানদের মনে, হাহাকার হয়ে by সামসুন নাহার মুক্তা

মাথার উপর আর্মিদের হেলিকপ্টার যাচ্ছে, গোলাগুলি হচ্ছে, বাসায় ফোন আসা শুরু হয়েছে। সবাই ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করছে আমি স্কুলে কিনা।
আমি তখনো বুঝতেই পারি নাই হচ্ছে কি হচ্ছে পিলখানায়! টিভি চালু করলাম। ব্রেকিং নিউজ দেখে আমি নিজেই হতবাক! বয়স নিতান্ত কম। এতো অল্প বয়সে মাথায় এত কিছু ঢুকলো না। শুধু বুঝলাম ছাদে যাওয়া যাবেনা, বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না। দুই দিন পর দেখলাম আমাদের এলাকায় ম্যানহোল থেকে আর্মিদের লাশ বের করছে। তারপর একে একে সেই লাশ বেড়িবাঁধের ওপার থেকেও বের হচ্ছে। চারদিন ধরে শুধু টিভিতে এগুলোই দেখি। টিভি চালু করলেই গলে পচে যাওয়া লাশ, মানুষের হাহাকার, কান্না দেখে খুব খারাপ লাগত তখন.... যখন দেখলাম সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এক মাস পার হয়ে গেলো তারপরও স্কুল খুলে না তখন খুব খারাপ লাগত।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ যখন দেড় মাসের মাথায় খুলে গেলো তখন মনে করলাম আমাদেরটাও খুলে যাবে কিন্তু আরো এক মাস পার হয়ে গেলো তারপরেও স্কুল খুলে না। সারাদিন বাসায় বসে থাকতাম শুধু। স্কুলে যাওয়ার জন্যে মন আকুপাকু করত। শুধু বসে বসে ভাবতাম আর যদি স্কুল না খুলে আমি কোথায় যাব, আমার ফ্রেন্ড দের সাথে কি আর দেখ করতে পারব না, মাথায় সারাদিন এইসব ঘুরঘুর করতো! স্কুলকে কতটা ভালোবাসতাম তখনই বুঝতে পারছিলাম। আমরা মনে করছিলাম আমাদের স্কুল বুঝি আর খুলবেই না, আব্বু আম্মুকে প্রতিদিনই বলতো ওকে অন্য স্কুল এ ভর্তি করিয়ে দেই। কিন্তু আম্মু বলতো আর কয়টা দিন দেখি! হঠাৎ দেখলাম ব্রেকিং নিউজ: কাল থেকে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্কুল & কলেজ এ ক্লাস শুরু হবে। পরদিন সকাল সকাল উঠে ব্যাগ নিয়ে রেডি হয়ে ৫ নং গেট এ গেলাম। কিন্তু জানলাম ওই গেট বন্ধ করে দিছে।
তারপর বিডিআর ১ নং গেট এ গেলাম। যেয়ে দেখি হাজার হাজার স্টুডেন্টস লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে ভিতরে যাওয়ার অপেক্ষায়। আমরা লাইন ধরে ভিতরে যাচ্ছি। যাওয়ার আগে আমাদের ব্যাগ, টিফিন বক্স সব চেক করা হল। বিডিআর হাসপাতাল পেরোতেই দেখলাম হাসপাতালের পিছনে খালি মাঠটায় ২০-২৫ টা পোড়ানো গাড়ি। যেগুলো ওই ঘটনায় মৃত্যুবরণ করা আর্মি অফিসার দের গাড়ি ছিল। পিলখানার ভিতরে আকাশে বাতাসে শুধু নিস্তব্ধতা কাজ করত। আমাদের প্রতিদিন ব্যাগ চেক করেই ভিতর এ যেতে দিতো। আমরা সবাই পিঁপড়ের মত লাইন ধরে স্কুল যেতাম। ছুটি শেষে লাইন ধরে বের হতাম। এই রুটিন প্রায় অনেকদিন চললো।
এই পিলখানা আগের পিলখানা ছিল না। আমাদের চলাচলের রাস্তা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। আগের মতো আমরা পুকুর পাড়ে ঘুরতে পারতাম না। সকাল বেলায় আম গাছ থেকে ঢিল ছুড়ে আম পাড়তে পারতাম না। মন চাইলে রাস্তায় হাসতে হাসতে বান্ধবীদের সাথে লুটিয়ে পড়তেতে পারতাম না। সবখানে একটা সীমাহীন নিস্তব্ধতা। যেন একটা মৃত্যুপুরীতে আমরা প্রতিদিন আসি স্কুল ড্রেস পরে। আচ্ছা, ঐ আত্মাগুলো কি আমাদের দেখতে পেত? ওরা কি বুঝতে পারত, এই শিশুমনও কত ভারাক্রান্ত ছিল ওদের হাহাকারে! কত তীব্র ঘৃনা জমেছিল ঘাতকদের প্রতি।
আমরা তো পিলখানাতে আসতাম বিদ্যা অর্জন করতে। এখানে আমাদের বিদ্যালয়। আমাদের খেলার জায়গা। আমাদের আনন্দের জায়গা। রুদ্ধশ্বাসে বন্ধুদের সাথে ছুটে বেড়ানোর জায়গা। কিন্তু হায়! সব কিছু যেন এক নিমিষেই হারিয়ে গেল। কিছু ঘাতক চিরদিনের জন্য ছিনতাই করে নিল। দেশ হারালো তার সূর্য সন্তানদের। আস্তে আস্তে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিডিয়ার থেকে বিজিবি হয়। কিন্তু এখনো সেই আগের অবস্থাতে আর পিলখানা ফিরে যেতে পারে নাই। পারবেও না কোনদিন। পিলখানা বেঁচে আছে। হারিয়ে ফেলেছে সেই সজীবতাটুকু। হারায়নি শুধু সেই চৌকস সেনা অফিসাররা। তারা বেঁচে থাকবে শত কোটি বিবেকবানদের মনে, হাহাকার হয়ে। তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।
লেখক: মেডিক্যাল শিক্ষার্থী
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিমান ছিনতাই চেষ্টা, হাজারো প্রশ্ন

সিমলা অবশ্য গতকাল একটি গণমাধ্যমের কাছে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, চার মাস আগে বিচ্ছেদও হয়ে গেছে।
বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় এখন হাজারো প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ঘরের ছেলে পলাশ আহমেদ কেনইবা বিমান ছিনতাই চেষ্টা করতে গেলেন। বলা হচ্ছে তার পরিবারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হলে বিমান ছিনতাই করতে হবে কেন? সব প্রশ্ন ছাপিয়ে মোটা দাগে সামনে এসেছে একজন অস্ত্রধারী কিভাবে বিমানবন্দরে প্রবেশ করে বিমানযাত্রী হতে পারলেন। কয়েক ধাপের নিরাপত্তা তল্লাশি সংস্থাগুলোকে ফাঁকি দিয়ে অস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশে ঘটনাটিকে অনেকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। গতকাল পর্যন্ত এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট কারও কাছ থেকে। বলা হচ্ছে, তদন্তের পরই এর উত্তর মিলবে।
ঘটনার পর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কুসুম দেওয়ান রয়টার্সকে বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তির হাতে থাকা পিস্তলটি ছিল একটি খেলনা পিস্তল। তার শরীরে কোনো বোমাও ছিল না। তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। আমরা শুনেছি স্ত্রীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সমস্যা আছে। সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।
এদিকে বিমানের ভেতরকার ঘটনা নিয়ে আসছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। কেউ কেউ বলছেন, ছিনতাই চেষ্টাকারী বিমানে গুলি করেছিল। আবার কেউ বলছেন, তার সঙ্গে বিস্ফোরকও ছিল। প্রশ্ন উঠে উড়ন্ত বিমানে গুলির ঘটনা ঘটলে সেটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারতো। তাছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ঘটনার পর বিমানটি অক্ষত আছে।
বিমানের ভেতরে যেকোনো গুলির ঘটনা ঘটলে সেটি অক্ষত থাকার কথা না। ছিনতাই চেষ্টাকারীদের ধরতে অভিযান চলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ কেউ বলছিলেন তাকে আহত অবস্থায় পাকড়াও করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরে জানা গেলো অভিযানে আহত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর চারপাশ থেকে আসা নানা প্রশ্নের সব উত্তর হয়তো এখন আর কর্তৃপক্ষ দিতে পারবেন না। সব প্রশ্নের উত্তর হয়তো পাওয়া যেত ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাওয়া গেলে। এদিকে প্রথম দিন ঘটনা জানাজানির কিছু সময়ের মধ্যেই কয়েকটি গণমাধ্যম ওই ব্যক্তিকে নায়িকা সিমলার ব্যর্থ প্রেমিক বলে তথ্য প্রচার করে। ওই ব্যক্তির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু জানার আগেই তার সম্পর্কে এমন তথ্য প্রকাশেও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ঘটনার দিন ছিনতাই চেষ্টাকারী ব্যক্তির পরিচয়ের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও গতকাল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব জানিয়েছে, তাদের অপরাধী তথ্য ভাণ্ডারে বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদের নাম আছে। সাত বছর আগে অপহরণ সংক্রান্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। এদিকে বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় গতকাল সংসদেও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে কী করে একজন যাত্রী অস্ত্র নিয়ে বিমানের ভেতর পর্যন্ত যেতে পারলেন। এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তে সর্বদলীয় কমিটি গঠনেরও দাবি তোলা হয়েছে সংসদে। এদিকে বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় নিহত পলাশসহ কয়েকজনকে আসামী করে পতেঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে।
কে এই পলাশ
চট্টগ্রামের বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানে নিহত বিমান ‘ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী’ পলাশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ফিরোজপুর ইউপির দুধঘাটা গ্রামে। ঘটনার দিন রাতেই নিহতের বাড়িতে ছুটে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। খোঁজ খবর নেয়া শুরু করে তারা। বাদ যায়নি গণমাধ্যমকর্মীরা।
এলাকায় পলাশ নামে পরিচিত থাকলেও বাইরে সে নিজেকে মাহাদি নামে পরিচয় দিত। চার ভাই বোনের মধ্যে পলাশ সবার ছোট। তাই আদরে আদরে ছোটকাল থেকেই অনেকটা ডানপিটে ছিল। মাদরাসায় পড়াশোনা করলেও দাখিল পাসের পরই ইতি ঘটে শিক্ষা জীবনের। চলে যায় ঢাকায়। প্রবাসী বাবার টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতে দুই দফা নিজেই অপহরণ নাটক সাজিয়ে ৮ লাখ টাকা লুফে নিয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, এক সময় শোবিজের দিকে ঝুঁকে পড়ে সে। ‘কবর’ নামে একটি শর্ট ফ্লিমও করেছে। শোবিজে রঙিন নেশায় পরিবারের কাছ থেকে নানাভাবে লুফে নেয়া টাকা-পয়সা খরচ করতো সেখানে। এর মধ্যেই জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা সিমলাকে বিয়ে করে সে। ‘ম্যাডাম ফুলি’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে ঢালিউডে যার অভিষেক ঘটে। কিন্তু এর আগে বগুড়ার এক মেয়েকে বিয়ে করেছিল মাহাদি। যদিও ২০১৭ সালে ওই মেয়ের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
নিহত পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সরদার গত সাত বছর আগে বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসেন। এলাকায় একটি মুদি দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। পিয়ার জাহান সরদার মানবজমিনকে জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ফিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে জন্ম পলাশের। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে পলাশ সবার ছোট। একমাত্র ছেলে হওয়ায় পলাশের প্রতি সবারই একটু বেশি ভালোবাসা ছিল। সে ২০১২ সালে সোনারগাঁওয়ের মঙ্গলের গাঁও তাহেরপুর মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করে সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়। এরপর সে আর পড়াশোনা করেনি। পিয়ার জাহানের দাবি, পলাশ তাদের অবাধ্য সন্তান। এর আগেও বিদেশে যাওয়ার কথা বলে সে অনেক টাকা নষ্ট করেছে। যে কারণে ছেলের সঙ্গে তিনি ঠিকমতো কথা বলতেন না।
তিনি আরো জানান, গত ১০ মাস আগে চিত্রনায়িকা সিমলাকে নিয়ে পলাশ বাসায় আসে। তখন সে জানায় সিমলাকে নিয়ে এলাকায় বেড়াতে এসেছে। কিন্তু দেড় থেকে দুই মাস পর লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি তাদের বিয়ে হয়েছে। এর ঠিক দেড় থেকে দুই মাস পরে পলাশ আবারও সিমলাকে নিয়ে বাড়ি আসে। তখন জানায় সিমলাকে সে বিয়ে করেছে। প্রথমে না মানলেও পরবর্তীতে বিয়ে মেনে নিই এবং বউকে (সিমলা) বলি ছেলেকে ভালো করে তুলতে। এরপর পলাশের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ হতো না।’
পিয়ার জাহান জানান, সে এর আগে ২০১৪ সালে বগুড়ায় একটি বিয়ে করে। ওই স্ত্রীর নাম মেঘলা। সেখানে আয়ান নামে আড়াই বছরের একটি ছেলে আছে তার। তবে সিমলার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর ২০১৭ সালে প্রথম স্ত্রী তাকে তালাক দেয়। এছাড়া, এলাকায় নারী কেলেঙ্কারির একটি ঘটনায় মামলাও হয়েছিল পলাশের নামে। সেই মামলায় ২০ দিন জেল খেটে সে জামিন পেয়েছিল। তিনি আরো জানান, কিছুদিন আগে সে একটানা ২৫ দিন বাসায় ছিল। এসময় সে নিয়মিত নামাজ পড়তো ও মসজিদে আজান দিত। এটা দেখে তারা মনে করছেন ছেলে সুপথে ফিরে এসেছে। শুক্রবার দুবাই যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হয়। পলাশ বলেছিল, সে দুবাই চলে যাবে। এ কারণে সে আমার কাছে ৫০০ দিরহাম দাবি করে এয়ারপোর্টে দেখানোর জন্য। আমি সেই টাকা জোগাড় করে দিই। যাওয়ার সময় ছেলেকে বলেছিলাম, এইবার গেলে পরে থাইকো। টাকা-পয়সা নষ্ট কইরো না। কিন্তু রোববার সন্ধ্যার পর ছেলের সর্বনাশের খবর শুনে নির্বাক হয়ে পড়ি। রোববার রাত একটার দিকে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল আমাদের বাসায় আসে এবং বাড়ি তল্লাশি করে। পরে আমি ও আমার স্ত্রীকে স্থানীয় এক মুরব্বির জিম্মায় রেখে যায় পুলিশ।
তিনি আরো জানান, পলাশের খবর শোনার পর থেকে তার মা রেনু আক্তার শয্যাশায়ী। তিনি কারও সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারছেন না। সোনারগাঁও থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, রোববার মধ্যরাতে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশনা পেয়ে মাহাদির পরিচয় শনাক্ত করতে তার গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন। নিহতের ছবি দেখিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাহেরপুর মাদরাসার সহকারী শিক্ষক নুরনবী জানান, সে মাদরাসায় পড়ার সময় বেশ দুরন্ত প্রকৃতির ছিল। এজন্য তাকে মাদরাসা থেকে একবার বের করে দেয়া হয়েছিল।
নিহত পলাশ মাহিদি জাহান নামে একটি ফেসবুক আইডি চালাতেন। সেখানে সে নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়েছে যা সত্য নয়। ওই আইডিতে শেষ স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে, “ঘৃণা নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে”। গত রোববার দুপুর একটা তিন মিনিটে সে এ স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। ফেসবুকে নায়িকা সিমলার সঙ্গে তার অসংখ্য অন্তরঙ্গ ছবি রয়েছে। গত বছরের ২৪শে সেপ্টেম্বর প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে ফেসবুকে পলাশ সিমলার সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ ছবি দিয়ে লেখেন “এ হচ্ছে আমার বউ যে আমার হাজার ভুলের মাঝে, আমাকে সহ্য করে পার করে দিল একটি বছর। দোয়া করবেন যাতে সারাটা জীবন এ পাগলিটা আমি এক সঙ্গে থেকে যেন মরতে পারি। বউ অনেক ভালোবাসি তোমায় আর কষ্ট দেবো না। শুভ বিবাহ বার্ষিকী আদরের পুতুল বউ আমার। I love You lot more then my self…!!!।
২০১২ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিল: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানিয়েছে, ঢাকা থেকে দুবাইগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদকে ২০১২ সালে তারা গ্রেপ্তার করেছিল। এক তরুণীকে অপহরণের অভিযোগে তাকে তখন গ্রেপ্তার করা হয়। অপহরণের একটি মামলায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠালে সে ২০দিন কারাভোগ করে। পরে জামিনে মুক্ত হয়। র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করে বলেন, ২০১২ সালের মার্চ মাসে দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তি তার মেয়েকে অপহরণের জন্য পলাশের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলার অভিযোগে তিনি বলেন, তার মেয়েকে অপহরণ করে পলাশ আট লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। পরে ওই মামলায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত তরুণীকে উদ্ধার ও পলাশ এবং তার সহযোগী নেমরা মারমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। র্যাব দাবি করছে, ঘটনার পরপরই তাদের ক্রিমিনাল ডাটাবেজ অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে তার আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া যায়। ২০১২ সালে গ্রেপ্তারের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর।
অস্ত্র নিয়ে কিভাবে প্রবেশ করলো ছিনতাইকারী-সংসদে প্রশ্ন
বিমান হাইজ্যাক চেষ্টার ঘটনা তদন্তে সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের সর্বদলীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে। একইসঙ্গে যাত্রীদের নিরাপদে অবতরণ এবং সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার স্বীকৃতি হিসেবে ওই বিমানের পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি কীভাবে ছিনতাইকারী অস্ত্র নিয়ে বিমানে প্রবেশ করতে পারলো সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সংসদে মাগরিবের বিরতির পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পর সংসদের বৈঠক আবার শুরু হলে প্রথমে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে সংসদে এ বিষয়ে বিবৃতি দেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী।
এরপরে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বিষয়টির অবতারণা করে বলেন, এইভাবে কোনো ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে বিমানে ঢুকতে পারে না। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সেখানে কি করে? বিষয়টিকে আমরা সহজভাবে নিতে পারি না। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যেন ভবিষ্যতে আর এই ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। সরকারিভাবে যদি তদন্ত হতে হয় তাহলে অন্তত সচিবের নিচে কাউকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা উচিত হবে না। কেননা বিমানের সঙ্গে আমাদের অর্থনীতি ও জাতির সুনাম জড়িত। সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সর্বদলীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে এই সংসদকে বিস্তারিত জানাতে হবে।
নইলে মানুষ এই বিমানে আর উঠবে না, বিমান লোকসানে যাবে। এরপর ফ্লোর নিয়ে বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে দেখলাম বলা হয়েছে আমি নাকি ওই বিমানের যাত্রী ছিলাম। আমি ওই বিমানের যাত্রী ছিলাম না। চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে আমি ওই বিমানবন্দরে এসেছিলাম ঢাকায় ফেরার জন্য। সেখানে তখন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরও উপস্থিত ছিলেন।
আমরা দু’জন সিদ্ধান্ত নিলাম, সংসদ সদস্য হিসেবে বিষয়টি তদারকি করা আমাদেরও কর্তব্য। এজন্য আমরা একেবারে টারমার্কে ঢুকে পড়ি এবং একেবারে শেষ পর্যন্ত সেখানে থাকি। নিজের দেখা ঘটনা ও পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য বাদল বলেন, আমার ফাইন্ডিং হলো- একজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি বিমানে পেছন দিক থেকে গালাগালি করতে করতে সামনে দিকে আসতে থাকে। সে পাইলটকে দরজা খুলতে বলে। পাইলট দরজা খুলেননি। পত্রপত্রিকায় লেখা হয়েছে পাইলটের সঙ্গে অনেককিছু হয়েছে। না, পাইলটের সঙ্গে মল্লযুদ্ধ হয়নি। পাইলট তার সঙ্গে কথা বলে তাকে ব্যস্ত রাখার কৌশল নেন।
পাইলট অত্যন্ত দূরদর্শিতা ও সাহসের সঙ্গে বিমান অবতরণ করেন। বিমানের ক্রুদেরও পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাহসী ভূমিকা ছিল। ক্রুরা ইকোনমি ও বিজনেস সিটের মাঝখানে পর্দা লাগিয়ে দেন। বিমানটি অবতরণের পর বিমানের ডানার পাশে থাকা জরুরি নির্গমন পথ দিয়ে যাত্রীদের বের করে আনা হয়। পরে পাইলট যখন বেরিয়ে আসেন তার সঙ্গে আমার কথা হয়। পাইলট বললেন, ভেতরে ওই ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ নেই, এখন অপারেশন চালানো যায়। পরে সেনা কমান্ডো অফিসার আমাকে জানান, ভেতরে ওই ব্যক্তি অফেসনিভ নিয়েছে, যার কারণে তার সঙ্গে আমাদেরকে নেগোসিয়েশনে যেতে হয়েছে। এরপর অপারেশনে ওই ব্যক্তি আহত হওয়ার পর মারা যায়। মইন উদ্দীন খান বাদল আরো বলেন, এদেশে রিয়েল হিরোরা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান না। পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুরা অসীম সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবো, তাদেরকে পুরস্কৃত করা উচিত। অপারেশন শেষ করে মাত্র ২ ঘণ্টা ৩২ মিনিটের মাথায় বিমানবন্দর আবার চালু করে দেয়া হয়েছে। এখানে বোঝা যায়, এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দ্রুত বিমানবন্দর খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের পারদর্শিতা অর্জিত হয়েছে। একইসঙ্গে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাহসী ভূমিকার জন্য ফায়ার ব্রিগেডের সংশ্লিষ্ট সদস্যদেরও পুরস্কৃত করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। এদিকে, রুস্তম আলী ফরাজী ও বাদলে বক্তব্যের আগে কার্যপ্রণালী বিধি ৩০০ বিধিতে গতকাল সংসদে দেয়া এক বিবৃতিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে বলেন, গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি ৫টা ১৩ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ ঢাকা বিমানবন্দর ত্যাগ করে। তবে চট্টগ্রামে অবতরণের আগে বিমানে যাত্রী বেশে একজন আকস্মিক ব্যক্তি যাত্রীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিমান উড়িয়ে দেয়ার হুমকি ও চিৎকার করতে থাকে।
বিমানের কর্তব্যরত ক্যাপ্টেন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে দুষ্কৃতিকারীর কথপোকথনে ব্যস্ত করে কালক্ষেপণ করে ইতিমধ্যে বিমানের ক্রুদের সহায়তায় সকল যাত্রীদের নিরাপদে বের করে নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন, ঘটনা চলাকালে বিমান বাহিনীর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফায়ার সার্ভিসসহ সকল সংস্থার তড়িৎ ব্যবস্থার ফলে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদ স্থানে নিতে সক্ষম হয়। সেনাবাহিনী কমান্ডো ও র্যাবের একটি চৌকস দল বিমানবন্দরে অবস্থান গ্রহণ করে। কমান্ডো দল বিমানের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঝটিকা আক্রমণ করে দুষ্কৃতিকারীকে নিষ্ক্রিয় করে। একপর্যায়ে কমান্ডো বাহিনীর দুর্বার অভিযানে ছিনতাইকারী আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। বিমানটিতে ১৪৮ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু সকলেই নিরাপদে আছেন। বিমানটিও অক্ষত রয়েছে। বেবিচক পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
‘পিস্তল’ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ হাইজ্যাক চেষ্টায় ‘পিস্তল’ এখন রহস্য হয়ে দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো বলছে, বিমান হাইজ্যাক চেষ্টায় কমান্ডো অভিযানে নিহত মো. পলাশ আহমেদ খেলনা পিস্তল নিয়ে ফ্লাইটে উঠেছিলেন। তার কাছে আসল ‘পিস্তল’ ছিল না। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী পিস্তল রহস্যের কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি। সাংবাদিকদের জানান, পিস্তল বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। আমরা এখনো পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছি।
বিমান সচিব মহিবুল হক বলেন, সেটা অস্ত্র কিনা আমরা ওয়াকিবহাল না। খেলনা পিস্তল বা যেকোনো কিছু হতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটা নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব। গতকাল র্যাব জানিয়েছে, বিমান ছিনতাই করতে গিয়ে যে যুবক কমান্ডো অভিযানে নিহত হন, তার আঙুলের ছাপ ক্রিমিনাল ডেটাবেইজে থাকা এক অপরাধীর সঙ্গে মিলে গেছে। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, তাদের ডেটাবেইজের তথ্য অনুযায়ী ওই যুবকের নাম মো. পলাশ আহমেদ।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের দুধঘাটা এলাকার পিয়ার জাহান সরদারের ছেলে তিনি। তবে রোববার চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানের পর বলা হয় নিহত ব্যক্তির নাম মাহাদি, তার বয়স ২৬/২৭ বছর। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, অভিযানে নিহতের কাছে যে অস্ত্রটি পাওয়া গেছে সেটি একটি ‘খেলনা পিস্তল’। বিমানের পেসেঞ্জার লিস্টের বরাত দিয়ে র্যাব বলছে, নিহত ওই যুবক ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিমানে চড়ে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য।
চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজটির। মুফতি মাহমুদ খান বলছেন, যাত্রীর তালিকায় ওই যাত্রীর নাম ছিল অঐগঊউ/গউ চঙখঅঝঐ, সিট নম্বর ১৭অ। এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের হাইজ্যাক চেষ্টা নিয়ে গতকাল ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলন করেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। এ সময় তার সঙ্গে বিমান সচিব মহীবুল হক এবং সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রোববারের ঘটনাপ্রবাহ জানাতে গিয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কলিগদের থেকে জানলাম বিমান হাইজ্যাক হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারের কথা বললাম। প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলে দেখলাম তিনি ঘটনাটি জানেন। কমান্ডো প্রসিড করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি (পিএম) সার্বক্ষণিক পুরো বিষয়টি মনিটর করেছেন। পরবর্তীতে আমরা জানলাম, সবাই নিরাপদে রয়েছে।
বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোববারের ঘটনার পর শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার আয়োজন পর্যালোচনা করে দেখেছি। আমরা কোনো ধরনের ত্রুটি পাইনি। এখানে এমন কোনো লিকেজ ছিল না বা এখনো নাই যে একজন যাত্রী এভাবে বিমানে যেতে পারে। বিমান সচিব মহীবুল হক বলেন, আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখেছি, অন্য দশটা যাত্রীর মতো তাকেও (সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী) তল্লাশি করা হয়েছিল, তার কাঁধে একটা ব্যাগ ছিল। সেটা স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে গেছে, কিন্তু সেখানে কিছু দেখা যায়নি। বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে। সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসান বলেন, বিমান থেকে সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর ‘সো কলড’ হাইজ্যাকার বিমানে একাই ছিল। আমরা সেদিন অনেক কিছুই শুনেছি। তদন্ত প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে। আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান বলেন, এয়ারক্রাফটে গুলি বিনিময় হলে তার চিহ্ন থাকতো। আমরা কোনো চিহ্ন কোথাও পাইনি। খেলনা পিস্তলের শব্দ হয়। যাত্রীরা শব্দ শোনার কথা বলেছে। ওই পিস্তল আসল নাকি নকল- তদন্ত না করে তা বলা যাবে না। এদিকে বিমান প্রতিমন্ত্রী জানান ওই বিমানটি চট্টগ্রামে নামার কথা ছিল, সে অনুযায়ীই নেমেছে; জরুরি অবতরণ করেনি।
উৎকণ্ঠায় ছিলেন যাত্রীরা
বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের দুবাইগামী একটি বিমান ছিনতাই চেষ্টার শিকার হয় রোববার বিকালে। কিন্তু পাইলট সুকৌশলে বিমানটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করান পাঁচটা ৪১ মিনিটে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কমান্ডো অভিযানে পরাভূত হয় ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদ। গতকাল বেলা ১টার দিকে ওই বিমানের যাত্রীরা অন্য একটি ফ্লাইটে দুবাই যাত্রা করেন। বিমান ছিনতাই চেষ্টার পর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে উড়ানোর আগ পর্যন্ত প্রায় ১৯ ঘণ্টা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় কাটিয়েছেন ওই ফ্লাইটের যাত্রীরা।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মো. রাসেল ছিলেন ওই বিমানের একজন যাত্রী। গতকাল ১২টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের আরেকটি ফ্লাইটে দুবাই যাত্রার প্রস্তুতি সারতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জে এদিকে-ওদিকে ছুটোছুটি করছিলেন। তিনি অনেকটা খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন।
তার প্রতি সহানুভূতিরও অভাব ছিল না বিমানবন্দরে কর্মরতদের। এ সময় জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের সুপারভাইজার শওকত হোসেন বলেন, ছিনতাইকারীর কবলে পড়া বিমান থেকে প্রাণভয়ে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসতে গিয়ে পায়ে আঘাত পান রাসেল।
তার সঙ্গে আঘাত পেয়েছেন আরো কয়েকজন যাত্রী। তবে তা গুরুতর নয়। আর তাদের সঙ্গে ওই বিমানের ১২৬ যাত্রীকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২৭ বোয়িংয়ে দুবাই পাঠানোর বোডিং কাজ চলছিল তখন।
নিজের চোখে যা দেখেছেন তার বিবরণ দিতে গিয়ে রাসেল বলেন, বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ এ চড়ে আমি দুবাই যাচ্ছিলাম। বসেছিলাম বিমানের পেছনের দিকের সিটে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানটি উড়ার দশ মিনিট পর হঠাৎ একটি আওয়াজ শুনি।
প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নারায়ণগঞ্জের স্টাফ রিপোর্টার বিল্লাল হোসেন রবিন, চট্টগ্রামের স্টার রিপোর্টার ইব্রাহিম খলিল ও সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি আবু বকর সিদ্দিক।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার এবার প্রতারণার শিকার by রাফসান জানি

এ ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বৃষ্টির বাবা জসিম উদ্দিন। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা জানান, থার্ড পার্টির মাধ্যমে এই ফোন কলটি বৃষ্টির বাবার কাছে করা হয়েছিল। এটা ডিজিটাল প্রতারণা। প্রতারককে শনাক্ত করার কাজ চলছে।
নিখোঁজদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি শিল্পকলা একাডেমিতে কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন বৃষ্টি ও দোলা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৃষ্টির সর্বশেষ কথা হয় রাত ১০টা ০৪ মিনিটে। চকবাজারে আগুন লাগে ১০টা ৩৮ মিনিটে। এরপর থেকে বৃষ্টি ও দোলা নিখোঁজ। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ফোন বন্ধ পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় নিখোঁজ দুজনের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলের পাশেই ছিল তাদের অবস্থান। এ তথ্য জানার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ (ঢামেক) রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি বৃষ্টির বাবা জসিম উদ্দিনের মোবাইলে বৃষ্টির নম্বর থেকে একটি কল করা হয়। বলা হয়, মেয়েকে ফেরত চাইলে এক লাখ টাকা পাঠান। জসিম উদ্দিন মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে প্রতারকচক্র আগে ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। প্রতারকচক্র ০১৬৩৯২৩৮১৯৩ নম্বরে ‘নগদ’ ওয়ালেট -এ টাকা পাঠাতে বললে তিনি ৫০ হাজার টাকা পাঠান। এরপর থেকে ওই ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ প্রতারণার ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির বাবা জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়েকে ফেরত পেতে চেয়েছিলাম। পুলিশ বলছে এটা প্রতারণা।’ অভিযোগটি তদন্ত করছেন লালবাগ থানার এস আই মো. মামুন হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘থার্ড পার্টি সফটওয়্যার ব্যবহার করে কলটি করা হয়েছিল। কারও নম্বর থেকে এই কলটি আসেনি। আমরা সিডিআর (কল ডিটেইলস রেকর্ড) চেক করে এমন কোনও তথ্য পাইনি। রাত ১০টা ৩১ মিনিটে বৃষ্টির ফোন বন্ধ হওয়ার পর তার নম্বর থেকে আর কোনও কল আসেনি বা যায়নি। এই প্রতারণার ঘটনায় সাইবার ক্রাইমে মামলা হবে।’
প্রতারককে শনাক্ত করা গেছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই প্রতারণা সহজে চিহ্নিত করা যায় না। এগুলো বের করতে যথেষ্ট সময় লাগে। তবে তাদের ট্রেস করা যায়। কিন্তু সময় লাগবে। আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।’
শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা থেকে কোনও অপহরণের ঘটনা ঘটা প্রায় অসম্ভব বলে জানিয়েছেন ডিএমপি লালবাগ জোনের উপ-কমিশনার ইব্রাহিম খান। তিনি বলেন, ‘আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।’
এদিকে আগুনে পুড়ে নিহত অজ্ঞাতদের মরদেহ রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। এই মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ (ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) সংগ্রহ করেছে সিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ)। আগুনে পুড়ে মারা গেছে এই সন্দেহ থেকে নিখোঁজ বৃষ্টি ও দোলার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য সিআইডির কাছে ডিএনএ নমুনাও দিয়েছেন দুই পরিবারের সদস্যরা
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিমান ছিনতাইকারী যুবকের পরিচয় সনাক্ত: নায়িকা সিমলাকে নিয়ে এক রাতে বাড়িতে এসেছিল পলাশ, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য ছবি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সিমলার সঙ্গে।
সোমবার সকালে সোনারগাঁও সদর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে পলাশ আহমেদের বাড়িতে তার বাবা পিয়ার জাহানের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় তিনি বলেন, আমরা শিমলাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, তাকে বলেছি আমার ছেলেকে যেন ভালো পথে ফিরিয়ে আনে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেটি অবাধ্য ছিল। পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে প্রবাস থেকে আমার পাঠানো টাকা সে নানা পথে খরচ করেছে।
তিনি জানান, সর্বশেষ ২০-২৫ দিন আগে পলাশ বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর তার আচরণে বিরাট পরিবর্তন দেখা দেয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করে, মসজিদে গিয়ে আজানও দিয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার বাড়ি থেকে যাওয়া আগে বলেছে, সে কাজের সন্ধানে দুবাই যাবে। রোববার চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় পলাশের মৃত্যুর খবর ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারেন বলে জানান তিনি। সোনারগাও থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় নিহতের ছবি রোববার রাত ১টার দিকে দুধঘাটা গ্রামের পিয়ার জাহানের বাড়িতে নিয়ে দেখালে তারা ছবি পলাশের বলে নিশ্চিত করে। রোববার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের দুবাইগামী ওই উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সেনা কমান্ডোদের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হন বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী মাহমুদ পলাশ।
কিন্তু চিত্রনায়িকা সিমলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে, পলাশের নিহতের সংবাদে শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করছে। সোমবার সকালে পলাশের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পলাশের ছবি নিয়ে তার বাবা পিয়ার জাহান ও মা রীনা বেগম শোকে কাতর।
পলাশের বাড়িতে ১১টি ঘর। তারই একটিতে বসে কথা হয় বাবা পিয়ার জাহানের সঙ্গে। এ সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পলাশ তার একমাত্র ছেলে। তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে জান্নাত নামে চার বছরের আরেকটি মেয়ে আছে।
পিয়ার জাহান বলেন, ১৯৯০ সালে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি ইরাক চলে যান। সেখানে চার বছর থাকার পর দেশে ফিরে আসে
তিন বলেন, এর মধ্যে ছেলে পলাশ মাহমুদ তাহেরপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা থেকে ২০১২ সালে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে পাস করে। দাখিল পাস করে সে সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়। সেখানে পড়া অবস্থায় সে ঢাকায় চলে যায়। তারপর থেকে তার আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। শুনেছি পলাশ নাকি ঢাকায় চলচ্চিত্রে কাজ করার চেষ্টা করছিল। তখন বাড়ির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। মাঝে মাঝে বাড়িতে এলেও এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশত না, কথা বলত না।
তিনি বলেন, আমরা সিমলাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, তাকে বলেছি আমার ছেলেকে যেন ভালো পথে ফিরিয়ে আনে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেটি অবাধ্য ছিল।
সর্বশেষ ২০-২৫ দিন আগে পলাশ বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর তার আচরণে বিরাট পরিবর্তন দেখা দেয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করে, মসজিদে গিয়ে আজানও দিয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে বলেছে সে কাজের সন্ধানে দুবাই যাবে।
ভিডিওটি মাহাবি জাহান এর ফেইসবুক আইডি থেকে নেওয়া ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
February
(329)
-
▼
Feb 26
(9)
- থাইল্যান্ড ফিরতে পারবে গণতন্ত্রের পথে? by তৌহিদুল ...
- পশ্চিমে হেরোইন পাচারের নয়া মহাসড়ক by নাজনীন আখতার
- ভালোবাসা দিয়ে কাশ্মীর শাসন করতে হবে by লাথা জিশনু
- ঘরপালানো দুই বোনের রাষ্ট্রহীন জীবন! -এএফপি, হংকং
- বিমান ছিনতাইয়ের যত দুর্ধর্ষ ঘটনা -বিবিসি বাংলা
- তারা বেঁচে থাকবে শত কোটি বিবেকবানদের মনে, হাহাকার ...
- বিমান ছিনতাই চেষ্টা, হাজারো প্রশ্ন
- চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার এবার প্র...
- বিমান ছিনতাইকারী যুবকের পরিচয় সনাক্ত: নায়িকা সিমলা...
-
▼
Feb 26
(9)
-
▼
February
(329)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...