Wednesday, October 30, 2019

শিল্পী পরিচয়ের আড়ালে ইয়াবার ডিলার সুবর্ণা by রুদ্র মিজান

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই গর্জিয়াস মেকআপে সাজেন তিনি। কখনও শাড়ি, কখনও ওয়েস্টার্ন পোশাকে হাজির হন আড্ডায়। ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক লাইভে নিয়মিত থাকেন। বিভিন্ন মঞ্চেও দেখা যায় তাকে। সূর্য ডুবার পর নিজের বাসায় বসে গানের আসর। সেজেগুজে সেই আসরে অংশ নেন। গান করেন। পরিচিতজনরা শিল্পী হিসেবেই জানেন তাকে।
তিনি সুবর্ণা রূপা। রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকেন। স্বামী, সন্তান কেউ সঙ্গে না থাকলেও বিভিন্ন পরিচয়ে থাকেন কয়েক তরুণী ও এক তরুণ। শিল্পী পরিচয়ের আড়ালে তার ছিলো ভিন্ন ব্যবসা। নারী ও মাদকের আখড়া ছিলো তার ফ্ল্যাট। এমনটিই জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকার ১৯ নম্বর সড়কের ছয় তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন সুবর্ণা রুপা। ওই বাসা থেকেই রুপা ও তার সহযোগী রুবেলকে ইয়াবাসহ আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তারা। গ্রেপ্তারের পর বারবার নিজেকে বড় মাপের শিল্পী এবং কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক এক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতার পুত্রবধূ হিসেবে পরিচয় দেন সুবর্ণা। তাকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করেন পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেকে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পরপরই সুবর্ণার বাসাতেই আয়োজন করা হতো পার্টির। এতে অংশ নিতেন সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, প্রবাসীসহ প্রভাবশালী অনেকে। বিলাসবহুল গাড়িগুলো পার্কিং করা থাকতো নিচে। গভীর রাত পর্যন্ত চলতো পার্টি। সেখানে গান করতেন সুবর্ণা রুপাসহ অনেকে। এই পার্টিতেই নিরাপদে ইয়াবা সেবন করতেন আগতরা। সেইসঙ্গে মনোরঞ্জনের জন্য থাকতো একঝাঁক সুন্দরী। গানে, মাদকে বুঁদ হয়ে স্বল্পবসনা তরুণীদের সঙ্গে নাচ করতেন পার্টিতে অংশগ্রহণকারীরা।
ওই বাড়ির মালিক বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা আলী আহমদ। অভিযানিক টিমকে তিনি জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর সুবর্ণার ফ্ল্যাটে অনেকেই যেতেন। এসব কারণে চলতি মাসে তাকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। শুরুতে ওই বাড়ির ছয় তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। কয়েক মাস আগে ভাড়া নিয়েছেন তিন তলার ফ্ল্যাট।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মিত চার-পাঁচ জন তরুণী থাকতো সুবর্ণা রুপার বাসায়। অভিযানকালে বাসায় চার তরুণীকে পাওয়া গেছে। ওই তরুণীরাও মাদকাসক্ত। আটকের পর উত্তরার একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে তাদের।
তরুণীদের সম্পর্কে সুর্বণা রুপা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের শুরুতে জানিয়েছেন, একজন গৃহপরিচারিকা, দ্বিতীয়জন আত্মীয়, বাকি দু’জন তার ভক্ত। তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। থাকেন জর্ডানে। ফেসবুকে পরিচয়। এই সূত্রধরে সোমবার বেড়াতে এসেছিলেন তার বাসায়। এ বিষয়ে তিনি একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন।
সুবর্ণার বাসায় থাকেন রুবেল। রুবেলকে প্রথমে ভাই পরিচয় দিলেও এক পর্যায়ে জানিয়েছেন, পৈত্রিক নিবাস নোয়াখালীর সেনবাগের ছাতাপাইয়া এলাকার সম্পর্কে রুবেল তার ভাই হয়। ইয়াবা ও নারীদের খদ্দের সংগ্রহের কাজ করতেন এই রুবেল। প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের ফিজার বাইক চালান তিনি। ইয়াবা বিক্রেতা ও অনৈতিক ব্যবসার দালাল পরিচয়ের আড়ালে নিজেকে পাঠাও চালক হিসেবে পরিচয় দিতেন রুবেল। মূলত পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছেই নিয়মিত ইয়াবা বিক্রি করা হতো। সুবর্ণা রুপা জানিয়েছেন তার স্বামী রেজাউল করিম রেজা থাকেন সৌদি আরবে। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছেলে ও স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ে রয়েছে। দুই সন্তানই থাকেন কক্সবাজারে। কক্সবাজারের বাহারছড়ায় সুবর্ণা রুপার শ্বশুরবাড়ি। প্রতিবেশীরা জানান, ছেলে-মেয়ে খিলগাঁওয়ের ওই বাসায় তেমন আসতো না। মাঝে-মধ্যে এলে তখন ওই বাসায় কোনো পার্টি হতো না। বাইরের লোকজনও আসতো না। ছেলে-মেয়ে থাকাকালীন বোরকা পড়ে চলাফেরা করেন সুবর্ণা।
ইয়াবা বিক্রি করার খবর পেয়ে খিলগাঁওয়ের বাসায় তল্লাশি চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসময় তার শরীরের বিশেষস্থানে রাখা ১০৭ পিস ইয়াবা জব্দ করে অধিদপ্তরের নারী সদস্যরা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক কামরুল ইসলাম জানান, হোম পার্টিসহ রুবেলের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্নস্থানে ইয়াবা সাপ্লাই দিতেন সুবর্ণা। ইয়াবা সংগ্রহ করা হতো কক্সবাজার থেকে। ধারণা করা হচ্ছে তার সঙ্গে বড় কোনো মাদক সিন্ডিকেটের সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চাইবেন বলে জানান তিনি।

জুয়াড়ি ও সাকিবের মধ্যে যা আলাপ হয়

দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার সাকিব আল হাসানকে ২ বছরের জন্য সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে শুরু করে তার সঙ্গে একাধিকবার দুর্নীতির জন্য এক জুয়াড়ি যোগাযোগ করলেও তিনি তা আইসিসি বা অন্য কোনো দুর্নীতি-বিরোধী সংস্থাকে অবহিত করেননি।
সম্ভাব্য দুর্নীতি ও এতে দীপক আগারওয়াল নামে এক ব্যক্তির জড়িত থাকার সন্দেহে তদন্ত করছিল আইসিসি’র দুর্নীতি-বিরোধী ইউনিট (এসিইউ)। এর অংশ হিসেবে একাধিকবার বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই অলরাউন্ডারের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছে এসিইউ। প্রথমবার এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এ বছরের ২৩শে জানুয়ারি। এরপর দ্বিতীয়বার এ বছরের ২৭শে এপ্রিল। ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব সাক্ষাৎকার থেকে আইসিসি যা জানতে পেরেছে ও নিশ্চিত হতে পেরেছে, তা নিম্নরূপ:
-    ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলাকালে, সাকিব জানতেন যে, তারই পরিচিত এক ব্যক্তি তার টেলিফোন নম্বর দীপক আগারওয়ালকে দিয়েছেন। আগারওয়াল ওই ব্যক্তিকে আগেই বিপিএল-এর খেলোয়াড়দের নম্বর দেওয়ার জন্য বলে রেখেছিলেন।

-    ২০১৭ সালের নভেম্বরে আগারওয়ালের পিড়াপীড়িতে সাকিব হোয়্যাটসঅ্যাপে তার সঙ্গে কিছু বার্তা আদানপ্রদান করেন। তখন আগারওয়াল সাকিবের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।
-    ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় ওডিআই টুর্নামেন্ট শুরু হয়। এতে সাকিবও খেলেছিলেন। ওই সিরিজ চলাকালে আগারওয়াল ও সাকিবের মধ্যে আরও হোয়্যাটসঅ্যাপ বার্তা আদানপ্রদান হয়। ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে সাকিবকে সেদিনই হোয়্যাটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান আগারওয়াল। এরপর আগারওয়াল তাকে আরেকটি বার্তা পাঠান: ‘আমরা কি এবারই কাজ করবো, নাকি আইপিএল-এর জন্য অপেক্ষা করবো’।
-    এখানে ‘কাজ’ বলতে বোঝানো হয়েছে যে, সাকিব আগারওয়ালকে ভেতরের খবর দেবেন। সাকিব এই যোগাযোগের বিষয়টি এসিইউ অথবা অন্য কোনো দুর্নীতি-বিরোধী কর্তৃপক্ষকে জানাননি।
-    ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি, আগারওয়ালের কাছ থেকে আরেকটি বার্তা পান সাকিব। ওই হোয়্যাটসঅ্যাপ বার্তায়, আগারওয়াল তার কাছে ফের ভেতরকার তথ্য চেয়ে যোগাযোগ করে। বার্তাটি ছিল এরকম: ‘ভাই, এই সিরিজে কিছু হবে?’ (ব্রো, অ্যানিথিং ইন দিজ সিরিজ?)। সাকিব নিশ্চিত করে বলেছেন যে, ওই বার্তার মাধ্যমে তখন চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের বিষয়ে ভেতরকার তথ্য চাচ্ছিলেন আগারওয়াল। কিন্তু এটিও তিনি এসিইউ বা অন্য কোনো দুর্নীতি-বিরোধী সংস্থাকে অবহিত করেননি।
-    ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল, আইপিএল-এ সানরাইজার্স হায়দেরাবাদ ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণ করেন সাকিব। ওই দিনই সাকিব হোয়্যাটসঅ্যাপে আগারওয়ালের কাছ থেকে বার্তা পান। ওই ম্যাচে খেলবেন কিনা সেই ব্যাপারে সাকিবের কাছ থেকে তথ্য চাচ্ছিলেন আগারওয়াল। অর্থাৎ, আবারও ভেতরকার তথ্য চাচ্ছিলেন তিনি।
-    আগারওয়াল এই আলাপচারিতা চালিয়ে যান। তিনি বিটকয়েন ও ডলার অ্যাকাউন্টের প্রসঙ্গ তুলেন। সাকিবের ডলার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত জানতে চান। এই আলাপচারিতার সময়ই, সাকিব আগারওয়ালকে বলেন যে, তিনি ‘আগে’ তার সঙ্গে দেখা করতে চান।
-    ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিলের ওই হোয়্যাটসঅ্যাপ আলাপচারিতায় অনেকগুলো ডিলেট করা বার্তা ছিল। সাকিব নিশ্চিত করে বলেছেন যে, মুছে ফেলা ওই বার্তাগুলো ছিল মূলত ভেতরকার তথ্য চেয়ে আগারওয়ালের অনুরোধ।
-    সাকিব আইসিসি’কে বলেছেন যে, আগারওয়ালের বিষয়ে তার মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তার মনে হয়েছিল, এই ব্যক্তি কিছুটা ‘চতুর’। হোয়্যাটসঅ্যাপ আলাপগুলোর পর তার মনে হয়েছিল যে, আগারওয়াল একজন জুয়াড়ি ছিলেন।
-    ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল আগারওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ বা তথ্য চেয়ে তিনি যেসব অনুরোধ করেছেন, সেই ব্যাপারে সাকিব এসিইউ বা অন্য কোনো দুর্নীতি-বিরোধী সংস্থাকে কিছুই জানাননি।

ভারত থেকে আলাদা হওয়ার ঘোষণা মনিপুরের, প্রবাসী সরকার গঠন

লন্ডন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের মনিপুর অঙ্গরাজ্যের ভিন্নমতালম্বী রাজনৈতিক নেতারা। মনিপুরের মহারাজা লিসেম্বা সানাজাওবার একটি প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বৃটেনে একটি প্রবাসী সরকার ‘মনিপুর রাষ্ট্রীয় পরিষদ’ গঠন করেছে তারা। স্বঘোষিত ওই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ামবেন বিরেন এবং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নরেংবাম সমরজিত গণমাধ্যমের সামনে মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেন। তাদের এই নির্বাসিত সরকার বৃটেন থেকেই পরিচালিত হবে। তারা জাতিসংঘের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালাবেন বলে জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা ও জিও টিভি।
মঙ্গলবারের ঘোষণায় নরেংবাম ও বিরেন জানান, তারা মনিপুরের মহারাজার অনুমোদন নিয়েই এই নির্বাসিত সরকার গঠন করেছে। বক্তব্যের সমর্থনে একটি নথিপত্রও উপস্থাপন করেছে তারা।
তাতে দেখা যায়, মহারাজা ২০১৩ সালের ১৫ ই মার্চ স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায়  তাদেরকে রাজ্যের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা দিয়েছেন। তারা উভয়ই নিশ্চিত করেছে যে, সরকারের নির্যাতন ও দমন থেকে পালিয়ে  তারা বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছে। তারা বলেন, ভারতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে তাদের গ্রেপ্তার করা হতো ও মেরে ফেলা হতো।
তারা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মনিপুরের স্বাধীন সরকারকে উপস্থাপন করার, স্বাধীনতা ঘোষণা করার ও স্বীকৃতি চাওয়ার সঠিক সময়। আমরা আজ থেকে মনিপুরের বিধিসম্মত এবং নির্বাসিত সরকারকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য জাতিসংঘের সকল সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারকে সরকারকে অনুরোধ করছি। ত্রিশ লক্ষ মনিপুরী জনগণও স্বীকৃতি চান।
তারা আরো বলেন, ভারতে থাকাকালীন মনিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ আমরা, মনিপুর রাজ্য কাউন্সিলের সদস্যরা ভারত সরকারের হাতে গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং বিচার বহির্ভূত হত্যার মুখোমুখি হতাম।
তারা বলেন, নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার অসহিষ্ণু। এই সরকার হিন্দুত্বের আধিপত্যবাদের স্বার্থে ক্ষুদ্র জাতি ও সম্প্রদায়কে নির্মূল করে দেয়ার নীতিতে বিশ্বাস করে। তাই ভারত থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে নিরাপদ ছিল না।  নরেংবাম ও বিরেন ঘোষণা দেন, তাদের সরকার হচ্ছে মনিপুরের মহারাজার সরকার। এই সরকারের প্রধান তিনি। সাংবিধানিকভাবে মনিপুর একটি রাজতন্ত্র শাসিত দেশ।
স্বঘোষিত মনিপুর সরকারের নেতারা বলেন, ভারতীয় দখলদার সরকারের কঠোর আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে মনিপুর। এর মধ্যে রয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী (বিশেষ ক্ষমতা) আইন ১৯৫৮। মনিপুর দখল করার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। গত দশ বছরে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষকে অবৈধভাবে হত্যা করা হয়েছে সেখানে। ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে তারা বলেন, গত কয়েক দশকে প্রাণহানীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজারের বেশি। তারা বলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্টে  বিচারবহির্ভূত হত্যার ১ হাজার ৫২৮টিরও বেশি মামলা ঝুলে আছে। তাদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী মনিপুরের মানুষকে দায়মুক্তি দিয়ে হত্যা করে।

লঘু পাপে গুরু দণ্ড

রীতিমতো হৃদয় ভেঙে দেয়া খবর। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য দুঃসহ, যন্ত্রণাময় একদিন। সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। জুয়াড়িদের কাছ থেকে একাধিকবার প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও আইসিসি বা ক্রিকেট বোর্ডকে জানাননি। আর না জানানোর অপরাধেই বড় সাজা পেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট  ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। দুই বছর নিষিদ্ধ হলেও এক বছরের সাজা অবশ্য স্থগিত থাকবে। সাজার সব শর্ত মেনে চললে ২০২০ সালের ২৯শে অক্টোবর মাঠে ফিরতে পারবেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক।
সাকিবের এ শাস্তি নিয়ে অবশ্য লাখ লাখ ক্রিকেট ভক্ত প্রশ্ন তুলেছেন। তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তারা। বলছেন, লঘু পাপে তাকে গুরু দণ্ড দেয়া হয়েছে।
গতকাল  অফিসিয়াল বিবৃতিতে সাকিবকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি। ৩টি অভিযোগে সাকিবকে আর্টিকেল ২.৪.৪ অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হয়েছে। অনুতপ্ত সাকিব দায় শিকার করে নেয়ার কারণে আপিল করতে পারবেন না। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানায়, ২০১৮ এর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসের মধ্যে তিন বার সাকিবের কাছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব আসে। কোনোবারই এ বিষয়ে আইসিসিকে কিছু জানাননি এই অলরাউন্ডার। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ চলাকালে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পান সাকিব। পরবর্তীতে সে বছরেরই আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ম্যাচের আগেও তাকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেন জুয়াড়িরা। আর একবার তার কাছে প্রস্তাব আসে ত্রিদেশীয় সিরিজ অথবা আইপিএল নিয়ে। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটির দুর্নীতি বিরোধী ধারা অনুযায়ী, কারও কাছ থেকে অনৈতিক কিছুর প্রস্তাব পেলে যত দ্রুত সম্ভব আইসিসি বা সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানাতে হয়। প্রতিটি সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের ক্লাস নিয়ে এ নিয়ম মনে করিয়ে দেয়া হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী, এই ধারা ভঙ্গের শাস্তি সর্বনিম্ন ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা। সাকিব তার অপরাধ স্বকীর করে নেয়ায় ১ বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। প্রথম এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটানোর সময়ে নতুন করে কোনো আইন না ভাঙলে পরবর্তী এক বছরের শাস্তি থেকে তিনি রেহাই পাবেন।
নিজের দায় শিকার করে আইসিসিতে সাকিব বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব মর্মাহত। যেই খেলাটাকে এতো ভালোবাসি সেখানে নিষিদ্ধ হলাম। তবে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব আইসিসিতে না জানানোয়, আমি আমার নিষেধাজ্ঞা মেনে নিচ্ছি। আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট খেলোয়াড়দের দুর্নীতিমুক্ত রাখতে প্রাণপণে লড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি আমার অংশটা ঠিকঠাক পালন করতে পারিনি।’
সাকিব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আকসুর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ে যাবেন। বাংলাদেশি অলরাউন্ডার বলেন, ‘বিশ্বের সব খেলোয়াড়ের মতো আমিও চাই ক্রিকেট খেলাটা যেন দুর্নীতিমুক্ত থাকে। আগামী দিনগুলোতে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের সঙ্গে তাদের দুর্নীতিবিরোধী প্রোগ্রামে কাজ করতে আগ্রহী আমি। আমার মতো ভুল যেনো কোনো তরুণ খেলোয়াড় ভবিষ্যতে না করে, আমি এটি নিশ্চিত করতে চাই।’
সাকিব আল হাসান অতীতে আকসুর বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন। একজন সচেতন ক্রিকেটার হিসেবে কীভাবে এই ভুলটা করলেন সাকিব তা ভেবে বিস্মিত আইসিসির মহাব্যবস্থাপক অ্যালেক্স মার্শাল। তিনি বলেন, ‘সাকিব আল হাসান একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। আইসিসির অনেক দুর্নীতিবিরোধী প্রোগ্রামে সে উপস্থিত ছিলো। সকল নিয়মকানুন ভালোই জানা রয়েছে তার। তবুও সে তিনটি প্রস্তাবের কথা গোপন রাখে। যেসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবেই আমাদের জানানো উচিৎ ছিল তার।’
তবে সাকিব ভুল মেনে নেয়ায় খুশি আইসিরি মহাব্যবস্থাপক। অ্যালেক্স মার্শাল বলেন, ‘সাকিব তার নিজের ভুলগুলো স্বীকার করে নিয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে সম্পূর্ণ সহায়তা করেছে। এমনকি ভবিষ্যতে আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে। যাতে করে তরুণ খেলোয়াড়রা সাকিবের এই ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। আমি তার এই প্রস্তাবে খুশি।’
বাংলাদেশের হয়ে ৫৬ টেস্ট, ২০৬ ওয়ানডে ও ৭৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন সাকিব আল হাসান। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১১৭৫২ রান ও ৫৬২ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার।

বেকারত্ব, আর্থিক মন্দায় আরব দেশগুলোতে বাড়ছে সামাজিক উত্তেজনা :- আইএমএফের রিপোর্ট

বেকারত্ব আর অর্থনীতিতে মন্দা। এই দুয়ে মিলে সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বেশ কিছু আরব দেশে। হচ্ছে সেখানে পপুলার বিক্ষোভও। এমন কথা সোমবার বলেছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল আইএমএফ। এসব অসন্তোষের ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অঞ্চলগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে করে দিচ্ছে ধীর গতির। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্যে উত্তেজনা, তেলের মূল্যে অস্থিতিশীলতা ও ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ায় বিশৃংখলা। আঞ্চলিক অর্থনীতির পর্যবেক্ষণমূলক এক রিপোর্টে আইএমএফ এসব কথা বলেছে। এ খবর দিয়েছে ব্লুমবার্গ।
এ মাসের শুরুর দিকে আরব জাতিগুলো এবং ইরানের ঘটনাকে মাথায় রেখে আইএমএফ এ অঞ্চলের জন্য পূর্বাভাষ দিয়েছে যে, গত বছরের তুলনায় অর্থনীতি শতকরা ১.১ ভাগের চেয়ে কমে যাবে ০.১ ভাগ। ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির তিনটি দেশ সৌদি আরব, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে দৃষ্টিপাত করে এসব কথা বলেছে আইএমএফ। এতে এ মাসের শুরুতে যে পূর্বাভাষ দেয়া হয়েছিল তা নিম্নমুখী হয়েছে। ওই এলাকা বৈশ্বিক বিষয়াবলীর ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক আইএমএফের পরিচালক জিহাদ আজুর বলেছেন, বেকারত্বের সমাধান করতে যে পরিমাণ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, এ অঞ্চলে তা অনেক নিচে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা এমন একটি অঞ্চলের কথা বলছি, যেখানে তরুণ বেকারত্বের বর্তমান শতকরা হার ২৫ থেকে ৩০ ভাগের বেশি। এ সঙ্কট কাটাতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ। আইএমএফের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আরব দেশগুলোতে উচ্চ হারে বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ার কারণে সামাজিক উত্তেজনাকর অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে বেকারত্বের গড় হার শতকরা ১১ ভাগ। কিন্তু উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এই হার শতকরা মাত্র ৭ ভাগ। এখানে নারী ও যুব সমাজ কাজের বাইরে থাকার ঝুঁকি রয়েছে। ২০১৮ সালে শতকরা ১৮ ভাগেরও বেশি নারী কাজের বাইরে ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের শুরুর দিক থেকে আরবের বেশ কিছু দেশে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। এর নাম দেয়া হয়েছে আরব বসন্ত। এর ফলে সিরিয়া, ইয়েমেন এবং লিবিয়াকে পরিণত করেছে রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের দেশ হিসেবে। গত বছর নতুন করে এক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে আলজেরিয়া, সুদান, ইরাক ও লেবাননে। এসব দেশে অর্থনৈতিক সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে এমন বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জিহাদ আজুর বলেছেন, দেশের পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সংস্কার করার দাবিতে লেবাননে বিক্ষোভ হচ্ছে। এতে দেশে এক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ দেশটিতে গত কয়েক বছর অর্থনীতির বৃদ্ধি ঘটছে খুবই ধীর গতিতে। এসব অসঙ্গতি সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে লেবানন সরকার।
ওদিকে আরবের অনেক দেশে সরকারি ঋণের মাত্রা অনেক বেশি। অনেক দেশে তা গড়ে জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা ৮৫ ভাগেরও বেশি। অন্যদিকে লেবানন ও সুদানে জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা ১৫০ ভাগেরও বেশি এই ঋণের পরিমাণ। আএমএফ বলেছে, অনেক বছর ধরে জমতে জমতে সরকারি পর্যায়ে এই ঋণের বোঝা অনেক বড় হয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলে দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। আইএমএফ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে কুঁকড়ে যাচ্ছে ইরান। সেখানে মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ইরানকে লড়াই করতে হচ্ছে। এখানে এ বছর অর্থনীতি শতকরা ৯.৫ ভাগ অর্জিত হবে বলে ধরা হয়েছে। ২০১৮ সালে এই অর্থনীতি শতকরা নেগেটিভ ৪.৮ ভাগ অর্জিত হয়েছিল।  অবরোধ থাকার ফলে ধারণা করা হয়, প্রতিদিন ইরান মাত্র ৫ লাখ ব্যারেল অশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারে। অবরোধের আগে এই পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন। আইএমএফ বলছে, সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন তেলসমৃদ্ধ গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলো এ বছর শতকরা মাত্র ০.৭ ভাগ অর্থনীতি বৃদ্ধি করতে পারবে। ২০১৮ সালে তা ছিল শতকরা ২ ভাগ।

ভয় পেলে অভিযানে নামতাম না :- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ক্যাসিনো ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কে কোন দল করে তা বিবেচ্য বিষয় নয়। অপরাধী অপরাধীই। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ভয় পাওয়ার লোক আমি নই। ভয় পেলে আমি এ অভিযানে নামতাম না। গতকাল গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক ন্যাম সম্মেলনে  অংশ নেয়ার বিষয় দেশবাসীকে অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। ঘণ্টাব্যাপী প্রশ্নোত্তর পর্বে ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি প্রতিক্রিয়া না জানালেও বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার জয়ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক ইস্যুগুলো নিয়েও কথা বলেন। চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। আমার বাবাকে দেখেছি কীভাবে সাহসের সঙ্গে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই ভয় এ শব্দটা আমার ছোটবেলা থেকেই নেই। ভয় পাওয়ার লোক আমি না। ভয় পেলে এ অভিযানে আমি নামতাম না। আমি যখন নেমেছি, তখন সে কি করে, কোন দলের সেটি আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। বিএনপিকে দুর্নীতির খনি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির দুয়ার খুলে দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। তার হাতে গড়া দল, সেখানে আপনারা দেখেন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা তো আছেই। হত্যা, খুন, দুর্নীতি এমন ধরনের কোন কাজ নেই, যা তারা করেনি। সেই দলের নেতা যিনি চেয়ারপারসন দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি কারাগারে। আরেকজন যাকে ভারপ্রাপ্ত করা হলো, সে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং মামলায় দেশান্তর। তাদের মুখে এতো কথা কোথা থেকে আসে, কোন সাহসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধীর সঙ্গে যারা জড়িত আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। আর আমরা ঘর থেকে অভিযানটা শুরু করেছি। না হলে তো আবার বলত রাজনৈতিক হয়রানির জন্য আমরা এটা করছি।
চলমান অভিযানকে বিএনপির তরফে আইওয়াশ বলা হচ্ছে-এটি আসলে কি আইওয়াশ এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, আইওয়াশ করতে যাবো কেন? আমি তো আমার আপন-পর কিছু দেখিনি। যারাই অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদেরই ধরা হচ্ছে। তাহলে আইওয়াশ বলে কী করে? আইওয়াশের ব্যবসা বিএনপিই ভালো জানে-বোঝে। দেশটাকে দুর্নীতিতে নিয়ে এসেছে তো বিএনপি। দুর্নীতিকে ‘নীতি’তে নিয়ে এসেছে তারা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এমন কিছু করেনি দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান শুদ্ধি অভিযান আইওয়াশ নাকি অন্য কিছু, অপেক্ষা করুন দেখতে পাবেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি বাংলাদেশে যেদিন এসেছি, সেদিন থেকেই ভয় নেই। আমার বিরোধীরা বিদেশের মাটিতে সক্রিয়, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে আমাকে হত্যা করা হতে পারে। তবে আমি এসবকে ভয় পাই না।
কলকাতা টেস্ট দেখতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: সৌরভ গাঙ্গুলীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন প্রানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিসিসিআইয়ের নতুন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে ইডেন গার্ডেনে ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট দেখতে যাবেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সৌরভ আমার সাথে ফোনে কথা বলেছে। আমাকে দাওয়াত দিল। আমি যেন যাই। কলকাতায় যেন থাকি। প্রধানমন্ত্রী বলেন,  সৌরভ গাঙ্গুলি দাওয়াত দিয়েছে, আমি বলেছি যাব। এটা প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত না, মুখ্যমন্ত্রীর দাওয়াতও না। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সব সময় প্রটোকল, নীতিমালা এতকিছু থাকবে কেন। খেলা দেখতে সকালে যাব বিকালে চলে আসবো। এটুকুই। কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দেখতে গিয়ে তিস্তা নদী নিয়ে কূটনৈতিক কোন আলোচনা হবে কিনা এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন, ক্রিকেটকে নদীতে নিয়ে যাচ্ছেন কেন? ক্রিকেট খেলা দেখতে যাবো সেখানে তিস্তা নিয়ে কথা বলে তিক্ততা এখানে তুলবো কেন? এসময় প্রধানমন্ত্রী জানান, ওই খেলা দেখতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন না। আর কূটনীতি বিষয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কথা বলার তো আরও সময় আছে। তখন কথা হবে।
জীবনে এমন ধর্মঘট দেখিনি: সমপ্রতি ক্রিকেটারদের ডাকা ধর্মঘট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তারা হঠাৎ করেই একটা ধর্মঘট ডেকেছে। তাদের দাবি থাকলে তো জানাতে পারত। কথা নেই বার্তা নেই, হুট করে ধর্মঘট ডাকা জীবনে শুনিনি ক্রিকেটাররা এভাবে ধর্মঘট ডাকে। পরবর্তী সময়ে তারা বোর্ডে গেছে। সে ঝামেলা মিটমাট হয়ে গেছে। আমার মনে হয় পৃথিবীর খুব কম দেশই আছে, যারা এভাবে ক্রিকেটারদের সমর্থন দেয়। এসময় ?সাকিব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিসিবি সাকিবের পাশে আছে এবং সব রকমের সহযোগিতা দেবে। এই ধরনের ক্রিকেটারদের সঙ্গে জুয়াড়িরা যোগাযোগ করে। ওর (সাকিবের) যেটা উচিত ছিল, যখনই ওর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, ও খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। ফলে সে আইসিসিকে বিষয়টি জানায়নি। নিয়মটা হচ্ছে, ওর সঙ্গে সঙ্গে জানানো উচিত ছিল। সাকিব এই জায়গায় ভুল করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানে সে একটা ভুল করেছে। এক্ষেত্রে আপনারা জানেন, আইসিসি যদি কোনও ব্যবস্থা নেয়, এখানে আমাদের খুব বেশি কিছু করার সুযোগ থাকে না। তবু আমরা বলব, বিশ্ব ক্রিকেটে তার একটা অবস্থান আছে। একটা ভুল সে করেছে এবং সেটা সে বুঝতেও পেরেছে। এখানে খুব বেশি কিছু করার নেই আমাদের। বিসিবি’র একজনের ক্যাসিনোতে জড়িত থাকার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ক্যাসিনোর যে প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন, সেটা বোধহয় ঠিক না। বাইরে কে কী করছে, সেটার সঙ্গে বিসিবির কোনো সম্পর্ক নেই। খোঁজ করলে সাংবাদিকদের ভেতরেও হয়তো ক্যাসিনোতে জড়িত কাউকে পাওয়া যাবে। তখন কী হবে? আমরা তো অভিযান চালাচ্ছি। কে কখন কিভাবে ধরা পড়বে, বলা যায় না। আমরা কিন্তু ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের ধরেছি। তাদের কেউ বহাল তবিয়তে আছে, সেটাও ঠিক না। এর আগের এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, এখন আপনারা খুঁজে দেখেন, কোথায় কী পাওয়া যাচ্ছে। কারও যদি জুয়া খেলার আকাঙ্খা থাকে, হোম মিনিস্টারকে বলেছি, একটা চরে জুয়ার ব্যবস্থা করে দেন, ট্যাক্স বসান, নীতিমালা করেন। অন্তত ট্যাক্স তো পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করে। আমরা ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়। বাংলাদেশের সম্মান ফিরে এসেছে। ন্যাম সম্মেলনে যাওয়ার পর সবাই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। সেখানকার প্রবাসীদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা বলেছেন তারা ভালো আছেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা খুশি। তাই কারও কথায় কিছু যায়-আসে না।
পদ্মাসেতু উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট সময় বলা যাবে না: মুজিব বর্ষে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মাসেতু উদ্বোধনের কোনও সুনির্দিষ্ট সময় বলা যাবে না। পদ্মা সেতুর পুরো প্রক্রিয়াটাই হাইলি টেকনিক্যাল বিষয়। সেতুর নিচের অংশে ট্রেন, ওপরের অংশে গাড়ি চলবে। এটার টেকনোলজিটাই ভিন্ন। এছাড়া নদীর চরিত্রও একটা বড় ব্যাপার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সবচেয়ে খরস্রোতা নদী। একটা বর্ষার পরেই নদীর চরিত্র বদলায়। পলি পড়ে। গতিপথ পরিবর্তন হয়। এসব কারণে অনেক দিন কাজ বন্ধও রাখতে হয়েছিল। তাই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করার বিষয়টি অনেক কিছুর ওপরও নির্ভর করে। মুজিব বর্ষের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব কিনা এমন আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিঠিও দিয়েছিলাম এ ব্যাপারে। নূর আছে কানাডায়, তার ব্যাপারেও কানাডা সরকারের সঙ্গে কথা চলছে। ট্রুডোর (কানাডার প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন-ব্যক্তিগতভাবে তিনিও এরকম নৃশংস ঘটনার বিচার চান। কিন্তু তাদের দেশের আদালতের কিছু নিয়মের কারণে প্রতিবন্ধকতা আছে। বিশ্বের অনেক দেশই এখন মৃত্যুদণ্ড রহিত করেছে। যেহেতু তারা (খুনিরা) মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত, তাই সেই ছুতোয় তারা দেশে না ফেরার কৌশল অবলম্বন করছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুজনকে আমরা আনতে পেরেছিলাম। হুদাকে আনতে পেরেছি থাইল্যান্ড থেকে। মহিউদ্দিনকে আনতে পেরেছি। তিনি বলেন, যে বিচার করার প্রক্রিয়াই ছিল না, নিষিদ্ধ ছিল, সেই বিচার করতে পেরেছি। আমার জন্য কেউ সুন্দর রাস্তা বানিয়ে দেয়নি। রাস্তা তৈরি করতে হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। জিয়াউর রহমান এসে তা থামিয়ে দিলো, যারা জেলে ছিল তাদের ছেড়ে দিলো, তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিলো। নতুন প্রজন্মকে এসব বিষয়ে অবহিত করতে হবে।
পিয়াজ কিন্তু পচেও যায়: পিয়াজের দাম বাড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিয়াজ মজুত যারা করছে তারা কত দিন ধরে তা রাখতে পারে, পিয়াজ কিন্তু পচেও যায়। বেশি রাখতে গিয়ে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে তাদের লোকসান হবে। লাভ হবে না। এটাও বাস্তবতা।  পিয়াজের দরজা খুলে দেয়া হলো। সমস্যা থাকবে না, হয়তো সাময়িক। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ চলে আসছে। ১০ হাজার টন কয়েক দিনের মধ্যেই চলে আসবে।  পিয়াজ কিন্তু অলরেডি আছে। তিনি বলেন, আপনারা পত্রিকায়ই তো বের করেছেন অনেক জায়গায়  পিয়াজ রয়ে গেছে। কিন্তু কেন তারা বাজারে ছাড়ছে না, সেটা বড় ব্যাপার।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাম সম্মেলনে দেশগুলোর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উন্নয়ন গুরুত্ব পেয়েছে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, শান্তি যাতে প্রতিষ্ঠা হয়, সেদিকে দৃষ্টি ছিল। সবাই বাংলাদেশের উন্নয়নে বাহবা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের অব্যবহিত পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থানকে জোরদার করেছে বলে আমি মনে করি। এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস-এসবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া যেন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা হয় সেদিকেই এবারকার সম্মেলনের দৃষ্টি বেশি ছিল। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ও বর্তমান অনেক ছাত্রলীগ নেতাকে এর আগে দেখা গেলেও গতকাল তাদের উপস্থিতি ছিল না।

বায়ু দূষণের আতঙ্কে দিল্লি ছাড়ছে মানুষ

প্রায় প্রতি বছর নিজের পরিবারের সঙ্গে দিল্লিতেই দিওয়ালী উদযাপন করতেন মনীষ ভার্মা। দিওয়ালী এই উপমহাদেশের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি। কিন্তু এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স অনুযায়ী, দিল্লির বাতাসে বিষাক্ততার পরিমাণ নিরাপদ সীমার থেকেও অন্তত ছয় গুণ বেশি। ফলে বাধ্য হয়েই মনীষ এবার তার স্ত্রী ও সন্তানসহ সাময়িকভাবে পাহাড়ি এলাকায় পাড়ি জমিয়েছেন।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, দিওয়ালীর সময় যে আতশবাজি ও রঙের ব্যবহার হয় তা এই বিষাক্ত বাতাসকে আরো ভয়াবহ করে তুলবে। ফলে অচিরেই সর্বকালের সব থেকে দূষিত বাতাসের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবে দিল্লি। গত কয়েক বছর ধরেই এমন একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে যে, দিল্লির মানুষ শীত আসলেই শহর ছেড়ে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে চলে যাচ্ছে। তাদের কাছে দিল্লিকে এখন একটা গ্যাস চেম্বারের মতো মনে হয়।
বছরের অন্য সময় দিল্লিতে যে বায়ু দূষণ হয়ে থাকে তাতেই শহরটি বিশ্বের সব থেকে দূষিত শহরগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। তবে শীতে এই অবস্থা আরো বেশি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। বাতাসের গতি কমে যাওয়ায় দূষণ যেন জমাট বেঁধে থাকে। এরমধ্যে যখন দিওয়ালীতে আতশবাজি ও রঙ উড়ানো হয় তখন সে বাতাস সমপূর্ণ বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
গত শুক্রবার দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি লেভেল ৩৮৮তে গিয়ে পৌঁছে। অথচ এর নিরাপদ সীমা হচ্ছে ৬০। গত বছর দিওয়ালীর পর এই লেভেল পৌঁছে গিয়েছিল ৮০০তে। ভার্মা এ নিয়ে বলেন, আমি আর এ বছর দিল্লিতে ফিরে যাচ্ছি না। এরইমধ্যে আমার ছেলে অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়েছে।
দিল্লি কর্তৃপক্ষ নানাভাবে এই দূষণ কমানোর চেষ্টা করছে। আইন কড়া করছে। আদালত থেকে নিরাপদ আতশবাজির কথা বলা হয়েছে। তবে সমস্যা আছে আরো। বছরের এ সময় কৃষকরা তাদের জমিতে আগুন দিয়ে চাষযোগ্য করে তোলে। ফলে সৃষ্টি হয় ব্যাপক ধোঁয়ার। হরিয়ানা ও পাঞ্জাব থেকে এসব ধোঁয়া এসেও দিল্লির বাতাসকে ভারি করে তুলছে। সরকার চাইলেও কৃষকদের রাতারাতি এই পদ্ধতি থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারবে না। কারণ দরিদ্র কৃষকদের জন্য এটিই সব থেকে সস্তা পদ্ধতি। ফলে অপেক্ষা না করে অনেকেই দিল্লি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। যারা যেতে পারছেন না তারা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরুচ্ছেন না। দরজা-জানালা আটকে ঘরে অবস্থান করছেন।

কুঁড়ার তেলের বিদেশযাত্রা by ফখরুল ইসলাম

*১০ বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২টি কারখানা গড়ে উঠেছে।
*বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তেল।
*দাম সয়াবিন তেলের চেয়ে কিছুটা বেশি।
*২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশ থেকে রপ্তানি হয় কুঁড়ার ২০ হাজার টন তেল।
*দেশে বছরে উৎপাদিত হয় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টন তেল।
*সাড়ে ছয় কেজি কুঁড়া থেকে এক লিটার তেল হয়।

দেশে তো জনপ্রিয় হচ্ছেই, ধানের কুঁড়ার তেল (রাইস ব্র্যান অয়েল) এখন বিদেশে রপ্তানিও হচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশ থেকে কুঁড়ার ২০ হাজার টন তেল রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানির প্রায় পুরোটাই হচ্ছে বগুড়া থেকে। বর্তমানে এই তেল প্রধানত রপ্তানি হচ্ছে ভারতে। তবে শ্রীলঙ্কা, জাপান, চীন—এসব দেশেও রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে।
স্বাধীনতার পর এবং আশির দশকেও দেশে প্রধান ভোজ্যতেল ছিল সরিষার তেল। তবে নব্বইয়ের দশক থেকেই অপরিশোধিত পাম তেল ও সয়াবিন তেলের আমদানি বাড়তে থাকে। দেশে গড়ে ওঠে বেশ কয়েকটি ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানাও। আর ভোজ্যতেল হিসেবে ঘরে ঘরে জায়গা করে নেয় পাম তেল ও সয়াবিন তেল। কেউ কেউ অবশ্য সূর্যমুখী বা জলপাই তেলও (অলিভ অয়েল) রান্নায় ব্যবহার করেন।
একসময় বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে আসে অন্য ভোজ্যতেলের তুলনায় ধানের কুঁড়ার তেলে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক মাত্রা কম। ধানের তুষ ছাড়ানোর পর চালের গায়ে বাদামি যে অংশ থাকে, সেখান থেকে এই তেল নিষ্কাশন করা হয়।
গত ১০ বছরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধানের কুঁড়ার তেলের ১২টি কারখানা গড়ে ওঠে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ২০১১ সালে রশিদ অয়েল মিলস লিমিটেড ‘হোয়াইট গোল্ড ব্র্যান্ড’ নামে ধানের কুঁড়ার তেল উৎপাদন শুরু করে। প্রায় একই সময়ে গড়ে ওঠে ময়মনসিংহে ‘স্পন্দন’ ব্র্যান্ডের আরেকটি কারখানা।
তবে উৎপাদনের মাঠে ভালোভাবে আছে এখন বগুড়ার মজুমদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও তামিম অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। মজুমদার গ্রুপের তেলের ব্র্যান্ড ‘স্বর্ণা’। মজুমদার গ্রুপের কারখানায় প্রতিদিন তেল উৎপাদন হয় ৯০ থেকে ১০০ টন। এ ছাড়া রংপুরের গ্রিন অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজও কিছু তেল উৎপাদন করে।
মজুমদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিত্ত মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রপ্তানি করছি মূলত ভারতে। তবে বিশ্বব্যাপীই এই তেলের চাহিদা রয়েছে এবং বছর বছর চাহিদা বাড়ছে।’
কুঁড়ার তেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন ২৫০–৩০০ টন এই তেল উৎপাদিত হয়। বছরে হয় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টন। সাড়ে ছয় কেজি কুঁড়া থেকে এক লিটার তেল হয়। ধান থেকে চাল তৈরি করলে ৭ থেকে ৮ শতাংশ কুঁড়া পাওয়া যায়।
তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিদিনের কুঁড়ার চাহিদা ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টন। দেশের চালকল থেকে বছরে ৩৭ লাখ টনের বেশি কুঁড়া উৎপাদিত হয়। বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত ভোজ্যতেলের মধ্যে কুঁড়ার তেলের অবদান সোয়া দুই থেকে আড়াই শতাংশ। সয়াবিন ও পাম তেলের চাহিদা ১৪ লাখ টন।
তবে অন্যদের কাছ থেকে পরিশোধন করিয়ে নিয়েও এই তেল বাজারজাত করছে কয়েকটি বড় কোম্পানি। যেমন এসিআই। এসিআইয়ের রাইস ব্র্যান তেলের নাম ‘নিউট্রিলাইফ’। বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের ব্র্যান্ড ‘ফরচুন’। ‘নেচুরা’ নামের একটি ব্র্যান্ডও বাজারে রয়েছে।
এসিআই কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের বিজনেস ডিরেক্টর অনুপ কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এই পণ্যটির বিক্রির পরিমাণ যেহেতু বাড়ছে, অনুমান করা যায় যে সারা দেশে রাইস ব্র্যান তেল জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশ্বব্যাপীও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে, তবে নানা কারণে রপ্তানি বাজার এখনো অত বড় হতে পারছে না।’
জনপ্রিয়তার কারণ জানতে চাইলে অনুপ কুমার বলেন, ডাক্তাররাই বলছেন এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অরাইজানল রয়েছে এবং এই তেল মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। অরাইজানল ইনসুলিন প্রতিরোধে সহায়তা করে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ধারণা বোতলে তেলের রংটা একটু হালকা হলে ভালো হয়। কিন্তু তা করতে গেলে তেল থেকে উপকারিতা কম পাওয়া যেতে পারে।
কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, বোতলজাত এক লিটার কুঁড়ার তেলের দাম পাম ও সয়াবিন তেলের দামের চেয়ে একটু বেশি। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম যেখানে ১০০ টাকার মতো, কুঁড়ার তেলের দাম সেখানে ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা।
কুঁড়ার তেল উৎপাদনকারীরা বলছেন, এই তেল যেমন স্বাস্থ্যসম্মত, তেমনি সাশ্রয়ী। এক লিটার সয়াবিন তেলে যে খাবার রান্না করা যায়, তা পৌনে এক লিটার কুঁড়ার তেলেই করা সম্ভব। এদিকে বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থার (বিসিএসআইআর) এক গবেষণাও বলছে, ভোজ্যতেলে যেসব খাদ্যগুণ থাকা উচিত, জলপাই তেলের পর সবচেয়ে বেশি তা কুঁড়ার তেলে রয়েছে।
মজুমদার গ্রুপের চিত্ত মজুমদার বলেন, ‘বড় সমস্যা কুঁড়ার সরবরাহ। যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, সেই পরিমাণ কুঁড়া সব সময় পাওয়া যায় না। কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এ কারণেই। তবে সম্ভাবনা বিশাল। পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনের দিকে যেতে হবে। রপ্তানি বাড়াতে দরকার নগদ সহায়তা। ভারতে আমরা রপ্তানি করি ঠিকই, কিন্তু ভারতই এ ব্যাপারে বাংলাদেশের বড় প্রতিযোগী।’

মহাকাশের গ্রহ কে-টু- ১৮বি-তে পানির সন্ধান; প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আশা

একটি তারাকে প্রদক্ষিণকারী এক গ্রহ বসবাসযোগ্য বলে প্রথমবারের মত প্রমাণ পেয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। এই গ্রহ যে কক্ষপথে ঘুরছে তাও বসবাসযোগ্য এলাকার মধ্যে বলে তারা বলছেন।
এই আবিষ্কারের ফলে কেটু-১৮বি নামের গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা তা নিয়ে এখন বিজ্ঞানীরা নতুন করে কাজে নামবেন।
দশ বছরের মধ্যে, নতুন মহাকাশ টেলিস্কোপ পরীক্ষা করে দেখতে পারবে কেটু-১৮বি গ্রহের আবহাওয়ামণ্ডলে প্রাণীদেহ থেকে উদ্ভুত গ্যাস উৎপাদিত হতে পারে কিনা।
নেচার অ্যাস্ট্রনমি নামে একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে এই গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধান বিজ্ঞানী, লণ্ডনের প্রফেসর জিওভান্না টিনেত্তি এটাকে এই আবিষ্কারকে ''বিস্ময়কর'' বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
"এই প্রথমবারের মত মহাকাশের যে এলাকা বসবাসযোগ্য সেই এলাকার মধ্যে এক গ্রহে আমরা পানির অস্তিত্ব খুঁজে পেলাম। মহাকাশের ওই স্তরের যে তাপমাত্রা তাতে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব," বলেন।
মহাকাশে বসবাসযোগ্য এলাকা এমন একটা অংশ যেখানকার তাপমাত্রা সেখানে কোন গ্রহের ভূপৃষ্ঠে পানিকে তরল অবস্থায় রাখার উপযুক্ত।
নতুন এই গ্রহের আকার পৃথিবীর দ্বিগুণেরও বেশি। গ্রহের হিসাবে এটি "মহাপৃথিবী" বা "সুপার আর্থ" হিসাবে বিবেচিত। এখানকার তাপমাত্রা শূণ্য থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে।
কে-টু-১৮বি গ্রহের আবহাওয়া মণ্ডলের ৫০ শতাংশই পানি
কে-টু-১৮বি গ্রহের দূরত্ব পৃথিবী থেকে ১১১ আলোক বর্ষ অর্থাৎ প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন মিলিয়ন মাইল দূরে। অনুসন্ধানী মহাকাশযান পাঠানোর জন্য যা খুবই দূরে।
সামনে এখন একমাত্র পথ হল ২০২০-এর দশকে নতুন প্রযুক্তিসম্পন্ন মহাকাশ টেলিস্কোপ উদ্ভাবন করে তা সেখানে পাঠানো পর্যন্ত অপেক্ষা করা। লণ্ডনের ইউসিএল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড: ইঙ্গো ওয়াল্ডম্যান বলছেন এই যান ওই গ্রহের আবহাওয়ামণ্ডল পরীক্ষা করে দেখবে সেখানে কোনরকম জীবিত প্রাণী গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে কিনা।
"বিজ্ঞানের জন্য এটাই অন্যতম সবচেয়ে বড় একটি প্রশ্ন এবং যা আমাদের সবসময় ভাবিয়েছে যে মহাজগতে আমরাই একমাত্র প্রাণী কিনা, " বলছেন ড: ওয়াল্ডম্যান। "আগামী দশ বছরের মধ্যে আমরা জানতে পারব মহাজগতের বায়ুমণ্ডলে প্রাণের কারণে অন্য কোনধরনের রাসায়নিক নির্গত হয় কিনা।"

এক্সোপ্ল্যানেট কি?

  • সৌরজগতের বাইরের গ্রহকে বলা হয় এক্সোপ্ল্যানেট।
  • প্রথম এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কৃত হয় ১৯৯২ সালে।
  • বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ পর্যন্ত চার হাজারের বেশি এক্সোপ্ল্যানেট-এর সন্ধান পাওয়া গেছে।
  • এদের বেশিরভাগই বড় আকারের গ্রহ যাদের আকার বৃহস্পতি বা নেপচুনের সমান বলে ধারণা করা হয়।
  • অনেক বৃহৎ আকারের গ্রহ দেখা গেছে তাদের তারার কক্ষপথে খুব কাছ দিয়ে প্রদক্ষিণ করে।

এই আবিষ্কারের পেছনে যে দলটি কাজ করেছে তারা ২০১৬ থেকে ২০১৭র মধ্যে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে আবিষ্কৃত গ্রহগুলো পর্যবেক্ষণ করেন।
এই গ্রহগুলো যখন তাদের সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে তখন তাদের আলোয় কিধরনের পরিবর্তন হয় তা দেখে তারা এসব গ্রহের বায়ুমণ্ডলে রাসয়নিকের উপস্থিতি গবেষণা করে দেখেন।
এগুলোর মধ্যে একমাত্র কে-টু-১৮বি গ্রহে পানির অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পৃথিবীর বুকে প্রাণধারণের জন্য সবচেয়ে জরুরি উপাদান হল পানি।
কম্প্যুটার মডেলিং-এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন নতুন এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলের ৫০ শতাংশই পানি।
বৈজ্ঞানিক দলের একজন ড: সিয়ারাস বলছেন সৌরজগতের বাইরে বাসযোগ্য একটি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে পানির অস্তিত্ব আবিষ্কার "রীতিমত উত্তেজনাকর"।
তিনি বলেছেন, "এই আবিষ্কারের ফলে একটা মৌলিক প্রশ্ন এখন আমাদের সামনে- পৃথিবী কি একমাত্র গ্রহ যেখানে জীবন আছে?"

দীর্ঘ পথ

এভাবে এগোনর একটা অসুবিধা হল যে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা একটা বিষয়ে একমত হতে পারেননি সেটা হল কোন্ গ্যাসের উপস্থিতি প্রাণের অস্তিত্বের ইঙ্গিত বহন করবে। এ বিষয়ে একমত হতে বিজ্ঞানীদের অনেক সময় লেগে যেতে পারে।
একজন বিজ্ঞানী বলছেন কয়েকশ গ্রহে গ্যাসের রাসয়নিক উপাদান, কীভাবে এসব গ্যাস সৃষ্টি হয়ে এবং তারপর এই গ্যাস কীভঅবে বায়ুমণ্ডলে থাকে তা নিয়ে একটি সমীক্ষার প্রয়োজন।
''আমাদের সৌর মণ্ডলে পৃথিবীর অবস্থান অনন্য। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে রয়েছে অক্সিজেন, পানি এবং ওজোন। কিন্তু এখন যদি মহাজগতে অনেক দূরে অন্য কোন তারকার কক্ষপথে এমন কোন গ্রহের সন্ধান পাওয়া যায় যেখানে এই সবই রয়েছে তাহলেও সেগুলো ওই গ্রহে বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য কিনা সেটা কিছুটা সাবধানতার সঙ্গেই বলতে হবে, '' বলেন ওই বিজ্ঞানী।
''কাজেই মহাকাশের হাতে গোণা গুটিকয় গ্রহ নয়, বরং কয়েকশ গ্রহ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।''
এডিনবারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রনমির ড: বেথ বিলর বলছেন দূরের এক তারার আশেপাশের এক গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে তথ্যপ্রমাণ শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাবে বলে তার বিশ্বাস।
''এটা হলে মানব জাতির অস্তিত্ব নিয়ে একটা বড়ধরনের মতবদল ঘটবে,'' তিনি বিবিসি নিউজকে বলেন।
''সেটা যখন হবে, তখন এককথায় সেটা হবে যুগান্তকারী একটা মাইলফলক।''
অন্য গ্রহে আগেও পানি পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু প্রাণ থাকার জন্য সেসব গ্রহ হয় ছিল বেশি বড় নয় বেশি উষ্ণ।
কে-টু-১৮বি গ্রহটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ২০১৫ সালে এবং এটি কয়েকশ মহা-পৃথিবীর একটি। যেখানে ভূখণ্ডের পরিমাণ পৃথিবী এবং নেপচুনের মাঝামাঝি।
ইউরোপীয়ান মহাকাশ কেন্দ্র-এর ২০২৮এর মহাকাশ মিশন থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাবে

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ: জেনারেল থেকে রাজনীতিক হিসেবে উত্থান ও আস্থার সংকট by কাদির কল্লোল

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আপডেট- ১৪ জুলাই ২০১৯: বাংলাদেশে গণআন্দোলনের মুখে জেনারেল এরশাদের নয় বছরের শাসনের পতন হলেও তিনি রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়েছেন।
তিনি সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখলের পর জাতীয় পার্টি নামে দল গঠন করেন।
তবে তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে অন্য সব দলের বিরোধীতার বিষয়টি ছিল তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দেশকে কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করাসহ কিছু সংস্কারের পদক্ষেপ নিলেও তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
জেনারেল এরশাদের শাসনের সময় ১৯৮৮ সালে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী আনা হয়।
শেষপর্যন্ত তাঁর সরকারের পতনের পর তিনি জেলে গিয়েও সবদলের অংশগ্রহণে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসন পেয়ে ভোটের রাজনীতিতে একটা প্রভাব ফেলেছিল।
জেনারেল এরশাদের ঘনিষ্ট ছিলেন এমন একজন রাজনীতিক , যিনি পরে অন্য দলে গেছেন, তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আন্দোলনের মুখে জেনারেল এরশাদকে যখন ক্ষমতা ছাড়তে হয়, তখন তাঁকে বিদেশে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। তিনি জেলে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছেলেন। এটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ছিল বলে ঐ রাজনীতিক মনে করেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, "জেনারেল এরশাদ বিদেশে না গিয়ে দেশে ছিলেন বলেই পরে রাজনীতিতে টিকে গেছেন।"
বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, প্রায় তিন দশক ধরে দেশের ভোটের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির একটা প্রভাব থাকলেও বিভিন্ন সময় জেনারেল এরশাদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে দলটি আস্থার সংকটেও পড়েছে।

এরশাদ উকিল হতে চেয়েছিলেন

জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জন্মগ্রহণ করেন রংপুরে তাঁর নানার বাড়িতে ১৯৩০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি।
তবে তাঁর শৈশব এবং স্কুলজীবন কেটেছে বাবা মা'র সাথে ভারতের কুচবিহারের দিনহাটায়।সেখান থেকেই তিনি এসএসসি পাস করেছেন।
স্কুল শেষ করে তিনি রংপুরে কারমাইল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পড়েছেন।
তাঁর ভাই এবং জাতীয় পার্টির নেতা জি এম কাদের জানিয়েছেন, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী নেয়ার পর উকিল হওয়ার চিন্তা থেকে ল'কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু আইন পড়া শেষ হওয়ার আগেই ১৯৫২ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়ে তাতে যোগ দেন।

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পরিবারিক আরেকটি নাম ছিল

তাঁর বাবা-মা এবং ভাই বোন বা কাছের আত্নীয়রা তাঁকে পেয়ারা নামে ডাকতেন।
এটি তাঁর ডাক নাম।
জি এম কাদের জানিয়েছেন, তাদের চার ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ছিলেন মেজো। সবার বড় বোনের নাম ছিল পেয়ারী এবং সেই নামের সাথে মিলিয়ে মি: এরশাদের পরিবারে নাম ছিল পেয়ারা।
তাদের এক ভাই এবং দুই বোন আগেই মারা গেছেন।
মি: কাদের বলেছেন, তাদের বাবা মকবুল হোসেন পেশায় আইনজীবী ছিলেন এবং তিনি বাড়ি করেছিলেন কুচবিহারের দিনহাটায়। আর তাদের মা মজিরা খাতুন গৃহিনী ছিলেন।সেকারণে কুচবিহারের দিনহাটাতেই তাঁর বেড়ে ওঠা।
জেনারেল এরশাদের প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির নেত্রী এবং গত সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন।
নানা গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে ২০০০ সালে জেনারেল এরশাদ একজন ফ্যাশন ডিজাইনার বিদিশা ইসলামকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর এই নারী বিদিশা এরশাদ নামে পরিচিত হন। তবে সেই ঘর বেশি দিন টেকেনি।

জেনারেল এরশাদের ছাত্রজীবন কেমন ছিল?

জি এম কাদের জানিয়েছেন, তাঁর ভাই মি: এরশাদের খেলাধূলায় আগ্রহ বেশি ছিল। তিনি ছাত্রজীবনে ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।
তখন ফুটবল জনপ্রিয় খেলা ছিল।
স্কুল এবং কলেজ জীবনে মি: এরশাদ রংপুর অঞ্চলে বিভিন্ন ক্লাবে ভাড়ায়ও ফুটবল খেলতে যেতেন। এছাড়া তিনি তখন থেকেই কবিতা লিখতেন এবং কারমাইকেল কলেজের সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছিলেন বলে জি এম কাদের জানান।
জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা দৈনিক বাংলায় তাঁর অনেক কবিতা ছাপা হয়েছিল। তা নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম আলোচনা ছিল।
তিনি আত্মজীবনী লিখেছেন। সেই বইয়ের নাম, ''আমার কর্ম আমার জীবন''। এছাড়া তিনি কয়েকটি কবিতার বইও বের করেছেন।

এরশাদের ক্ষমতা দখল

১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। সে সময় জেনারেল এরশাদ সেনাপ্রধান ছিলেন।
জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর সে সময়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন এবং তাঁর নেতৃত্বে বিএনপিরই সরকার গঠিত হয়েছিল।
কিন্তু সেই সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।
সে সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ে উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা ছিলেন, বেশ আগে অবসর নেয়া সেই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বিচারপতি আব্দুস সাত্তার সরকারের দু'মাস পরই জেনারেল এরশাদ কয়েকজন জেনারেলকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে মন্ত্রীদের ব্যাপারে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন এবং এভাবে দেশ চলতে পারে না বলে বার্তাও দিয়েছিলেন।
সাবেক ঐ সেনা কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, বিচারপতি সাত্তারকে বার্তা দেয়ার পর জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন।
শেষপর্যন্ত ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ জেনারেল এরশাদ বিচারপতি সাত্তারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন।

জেনারেল থেকে তাঁর রাজনীতিক হওয়ার গল্প

ক্ষমতা দখলের পর দেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ করে তিনি বাংলাদেশে দ্বিতীয় বারের মতো সামরিক শাসন জারি করে নিজেকে প্রধান সামরিক শাসক হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
তিনি নতুন এক শ্লোগান চালু করেছিলেন, সেটি ছিল ''নতুন বাংলাদেশ, গড়ব মোরা...।''
তিনি তাঁর সেই শ্লোগান দিয়ে গানও লিখেছিলেন।
তবে তাঁর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্র্রতিবাদ করেছিলেন ছাত্ররা।
১৯৮২ সালেই ১১ই সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবসকে কেন্দ্র করে মজিদ খানের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা শুরু করেছিল। সে বছরই নভেম্বরে তৈরি হয়েছিল সব ছাত্র সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ ফোরাম ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
পরের বছর ১৯৮৩ সালের ১৪ এবং ১৫ ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্ররা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নামলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছিল।
জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনে সেই প্রথম রক্ত ঝরেছিল ঢাকার রাজপথে।
এরপরও তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন গড়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন।
জেনারেল এরশাদ আন্দোলন দমনের চেষ্টার পাশাপাশি নিজে রাজনীতিক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তৎপর হলেন।
তিনি ১৯৮৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন দল থেকে মিজানুর রহমান চৌধুরী, শাহ আজিজ এবং মওদুদ আহমেদসহ অনেক রাজনীতিককে নিয়ে জাতীয় পার্টি নামের দল গঠন করেন।
সেই দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে তিনি নির্বাচন দিয়ে রাষ্ট্রপতি হন।
এরই মাঝে রাজনৈতিক দলগুলো তাঁর বিরুদ্ধে যৌথভাবে আন্দোলন শুরু করেছিল।
জেনারেল এরশাদ তখন সেই ১৯৮৬ সালে সংসদ নির্বাচন করেছিলেন। সেই সংসদ মাত্র এক বছর টিকেছিল।
১৯৮৮ সালে তিনি মূল ধারার দলগুলোর বয়কটের মুখে একতরফা নির্বাচন করলেও তিনি বেশিদিন টিকে থাকতে পারেননি।
দুই বছর পরই আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং বামপন্থী দলগুলোর অর্থ্যাৎ তিনি জোটের গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদের শাসনের পতন হয়।
তাঁর শাসনের সময় আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে নূর হোসেন এবং ডা: মিলনের নাম এখনও মুখে মুখে উচ্চারিত হয়।
জেনারেল এরশাদের পতনের দিনটি স্বৈরশাসকের পতন দিবস হিসেবে এখনও বিভিন্ন দল ও সংগঠন পালন করে থাকে।
তিনি মোট নয় বছর ক্ষমতায় ছিলেন।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম

জিয়াউর রহমান যেমন ১৯ দফা কর্মসূচি নিয়েছিলেন, তার আদলে জেনারেল এরশাদ ১৮ দফা উন্নয়নের কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতিতে নেমেছিলেন।
তিনি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলেছিলেন এবং দেশকে কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
হাইকোর্ট বা উচ্চ আদালতকে রাজধানী ঢাকার বাইরে অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতেও স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, বিরোধীতার মুখে সেই উদ্যোগও ব্যর্থ হয়।
তাঁর সময়ই প্রথম উপজেলা এবং জেলা পরিষদ গঠিত হয়েছিল। তাঁর ক্ষমতার শেষদিকে উপজেলা নির্বাচনও হয়েছিল।
তাঁর এই পদক্ষেপগুলোকে বিশ্লেষকদের অনেকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাঁর সময়ে ১৯৮৮ সালে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী আনা হয়েছিল।
তখন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-প্রধান দুই দলই এর বিরোধীতা করেছিল।
কিন্তু পরে কোন দলই আর এর পরিবর্তন করেনি।
এরশাদ সরকারের একজন প্রভাবশালী নেতা, যিনি এখন অন্য রাজনৈতিক দলে আছেন, তিনি বলেন যে রাজনৈতিক সংকট সামাল দেবার জন্য একটি কৌশল হিসেবে মি: এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করেন।

রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব

জেনারেল এরশাদের শাসনের পতনের পর তাঁকে জেলে নেয়া হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ডজনখানেক মামলা হয়েছিল।
১৯৯১ সালে গণতন্ত্র আবার ফিরে আসার পর তিনি জেলে থেকেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে তাঁর দল জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসন পেয়েছিল। তিনি রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপরের সংসদ নির্বাচনগুলোতে তিনি নিজে কখনও পরাজিত হননি।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর তিনি জেলে থেকেই আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দিয়েছিলেন।
তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ছয় বছর জেল খাটার পর জেনারেল এরশাদ জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলোর কয়েকটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কোনটিতে খালাসও পেয়েছেন।
এসব মামলার কারণে তিনি স্বাধীন অবস্থান নিয়ে রাজনীতি করতে পারেন নি।
জাতীয় পার্টি কয়েকটি ভাগে বিভক্তও হয়েছে।
এরপরও ভোটের রাজনীতিতে তাঁর দল জাতীয় পার্টির একটা অবস্থান তৈরি হয়। রংপুর অঞ্চলের ১৭টি আসনে জাতীয় পার্টির ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
নির্বাচন এলেই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি - প্রধান দুই দলই তাঁকে সাথে নেয়ার চেষ্টা করে। তবে গত কয়েকটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের সাথেই থাকতে হয়েছে।
জাতীয় পার্টি গত কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে জোট থেকে অংশ নিয়েছে। যদিও দলটি তাদের দলীয় প্রতীক লাঙল নিয়ে লড়েছে।

আস্থার সংকট

জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে টিকে গেলেও জেনারেল এরশাদ এবং তাঁর দল নিয়ে মানুষের মাঝে আস্থার কিছুটা অভাব আছে।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের সময় জেনারেল এরশাদ তাঁর বক্তব্য বা অবস্থান বার বার বদল করেছিলেন। ফলে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছিল।
গত দশম সংসদে তাঁর দলের তিনজন নেতা সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন এবং তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ছিলেন।
একইসাথে তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদ ছিলেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা।
সর্বশেষ ২০১৮সালের ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে অংশ নিয়ে ২২টি আসন পায়।
এরপর ৮৯ বছর বয়সে জেনারেল এরশাদ এই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হন এবং জাতীয় পার্টি বিরোধীদলের আসনে বসে।
জেনারেল এরশাদ তাঁর অনুপস্থিতিতে ছোট ভাই জি এম কাদেরকে জাতীয় পার্টির দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।
তিনি উত্তরসূরি নির্ধারণ করতে গিয়েও কয়েকবার সিদ্ধান্ত বদল করেছেন।
২০১৯ সালের শুরুতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সময় জি এম কাদেরকে দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন।
মাসখানেক পর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেই জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে জেনারেল এরশাদ তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদকে তাঁর পরবর্তী অবস্থানে নিয়ে আসেন।
অল্প কিছুদিন পরই মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যরাতে জেনারেল এরশাদ হুইল চেয়ারে করে অসুস্থাবস্থায় সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে হাজির হন।
তখন তিনি আবার জিএম কাদেরকে তাঁর উত্তসূরি হিসেবে ঘোষণা করেন।
এনিয়ে দলটিতে জেনারেল এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ এবং ভাই জে এম কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট থেকে জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং আরেক সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

ঢাকায় ইহুদিদের ফ্রিম্যাসন্স হল এখন ভূমি বিভাগের কার্যালয় by শফিক রহমান

ঢাকায় এক সময়ের ইহুদিদের ক্লাব ফ্রিম্যাসন্স হলটি এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩০২ বছর আগে লন্ডনে যে ‘ফ্রিম্যাসন্স’ আন্দোলন শুরু হয়েছিল তার ঢেউ এসে লেগেছিল উপমহাদেশের কলকাতা, করাচি, লাহোর, মাদ্রাজ, মুম্বাইসহ কয়েকটি শহরে। বাদ যায়নি ঢাকাও। তবে ১৯৭৮ সালে ঢাকায় ৬৭ বছরের কার্যক্রম সমাপ্তি ঘটে। ওই বছর ঢাকা লজকে (ঢাকা কার্য‌কার্যালয়ের অফিশিয়াল নাম) চিঠি দিয়ে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানায় লন্ডস্থ ইউনাইটেড গ্রান্ড লজ (প্রধান কার্যালয়ের অফিশিয়াল নাম)। পুরনো নথিপত্র ঘেটে এমনটাই জানা গেছে।
ঢাকার প্রাণকেন্দ্র পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তানের দিকে যেতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রায় পেছনের দিকে উঁচু প্রাচীর এবং উঁচু গেট ঘেরা উপনিবেশিক স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত একটি দোতলা ভবন। পকেট গেট ঠেলে ভিতরে ঢুকলে আম-কাঁঠাল আর নিম গাছের ছায়া ঘেরা এক চিলতে ফাঁকা জায়গা। তা পার হয়ে ভবনটির মূল দরজার দিকে এগুলে চোখে পড়বে দেয়াল ঘেষে জ্যামিতিক কাটা-কম্পাসের প্রতীকী রূপ নিয়ে মনোগ্রাম সমৃদ্ধ পাথরে খোদাই করা একটি নামফলক। যেখানে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে ‘ফ্রিম্যাসন্স হল, ১৯১০’।
স্থানীয় প্রবীণদের বক্তব্য, বছর পঞ্চাশেক আগেও ভবনটিতে কিছু মানুষদের আসা যাওয়া ছিল। কিন্তু সেখানে সাধারণের প্রবেশ সম্ভব ছিল না। তাই কারো কারো কাছে ভবনটি ছিল ‘ইহুদিদের রহস্য ঘেরা ক্লাব’।
সাউথ এশিয়ান মনিটর’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দেয়ালের নাম ফলকটি ছাড়া ভবনটির ইতিহাস আমাদের কিছু জানা নেই।’
যোগাযোগ করা হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের সহায়তায় অনুমতি মেলে ‘৭০ পুরানা পল্টন’ শিরোনামের বাদামি মোটা কাগজে মোড়ানো এবং লাল ফিতায় বাধা ভারি একটি ফাইল দেখার। ফাইলের কাভার ওল্টাতেই পাতলা কাগজের কিছু নোটশিট। যেখানে শুধু মামলার নথি-পত্র তলব ও দাখিলের তথ্য। প্রায় শেষে দিকে আরও অনেক কাগজের মধ্যে পাওয়া গেল আকাশি রঙের ছোট একটি বুকলেট। যেটা মূলত একটি গঠনতন্ত্র। যার আলোকেই পরিচালিত হতো ঢাকা ফ্রিম্যাসন্স আন্দোলন। এর পরেই পাওয়া গেল একটি লিজ দলিল। ১৯২৮ সালের ২ মার্চ সাক্ষরিত ওই লিজ দলিলে বার্ষিক ১৩৫ রুপি (তৎকালীন প্রচলিত মূদ্রা) খাজনা প্রদানের শর্তে এক বিঘা সমপরিমাণ প্লটটি ঢাকা লজকে বরাদ্ধ দেয়া হয়। এসবের ফাঁকেই রয়েছে ইউনাইটেড গ্রান্ড লজের লেটার হেডে জনৈক ক্যাপ্টেন এ এম এম রহমানকে লেখা একটি চিঠি। সেখানেই ঘোষণা দেয়া আছে ঢাকা লজের কার্যক্রম বন্ধের।
১৯৭৮ সালের ২৩ জানুয়ারি ক্যাপ্টেন এ এম এম রহমানকে ‘ডিয়ার ব্রাদার রহমান’ উল্লেখ করে গ্রান্ড সেক্রেটারি জে. এ র‌্যাডফোর্ড লিখেছেন, ‘I have to inform you that as a result of the Dacca Lodge No. 3323 being erased by Grand Lodge on the 14th December 1977. The Dacca Lodge Welfare Society is effectively invalidates from this date.’
ওই নথিতেই রয়েছে প্লট ও ভবনসহ সবকিছু ঢাকা জেলা প্রশাসককে হস্তান্তরের তথ্য। পরে জেলা প্রশাসক ভূমি মন্ত্রণালয়কে প্লট ও ভবনটিকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
এদিকে নথিতে ঢাকার তৃতীয় সাবজজ আদালতে ১৯৭৯ সালে ঢাকা জেলা প্রশাসককে বিবাদি করে ঢাকা লজ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির (!) নাম নিয়ে দায়ের করা একটি দেওয়ানী মামলার তথ্য রয়েছে। ঢাকা জজকোর্টের রেকর্ড রুম থেকে জানানো হয় ১৯৮২ সালের ২৩ এপ্রিল ওই মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন তৃতীয় সাবজজ আদালত। পরে ১৯৮৪ সালে ওই পক্ষটি মামলাটি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়ানী আপিল বিভাগে গেলে ১৯৮৭ সালের ২২ জুন বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, বিচারপতি এম এইচ রহমান এবং বিচারপতি এ টি এম আফজালের আপীল বেঞ্চ মামলাটিকে নিস্পত্তির জন্য ফের তৃতীয় সাবজজ আদালতে পাঠান। কিন্তু ওই আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্তদের অসহযোগিতায় মামলাটির সর্বশেষ অগ্রগতি এবং বাদি হিসেবে ঢাকা লজ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নাম নিয়ে কারা রয়েছেন তা এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে ক্যাপ্টেন এ এম এম রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হয়। খোঁজ নেয়া হয়েছে তার বাসার ঠিকানায়। জে. এ র‌্যাডফোর্ডের চিঠিতেই ৭/১ হাটখোলা রোডের ঠিকানার কথা উল্লেখ রয়েছে। যদিও ওই ঠিকানায় এখন সেন্ট্রাল উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতল ক্যাম্পাস। যার এক পাশে আরেকটি বহুতল ভবন। যেটিতে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ছিল কিন্তু বর্তমানে ফাঁকা।
আরেক পাশে দোতলা বাংলো টাইপের একটি বাড়ি। যার দোতলা কার্নিশে বড় করে লেখা রয়েছে ‘গ্লাস ভিউ’।
প্রথম দিন বাড়িটির মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া না গেলেও দ্বিতীয় দিনে পাওয়া গেল। খবর পেয়ে মধ্য বয়সী একজন দোতলার বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। ক্যাপ্টেন এ এম এম রহমানের নাম শুনেই বলে উঠলেন-‘আপেল ভাইদের কথা বলছেন? দাঁড়ান আমি নিচে আসছি।’ এসে বললেন, পাশের বাসায় দীর্ঘ দিন ভাড়া ছিলেন আপেল ভাইয়ারা। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিব হয়ে অবসরে গেছেন। কিন্তু তার অফিশিয়াল নামটা আমাদের জানা নেই। এ এম এম রহমান তাঁরই ছোট ভাই। কিন্তু এখন তারা কোথায় গেছেন সেটাতো জানা নেই। তবে শুনেছি আপেল ভাইয়া গুলশানে কোথাও উঠেছেন।
ঢাকার পল্টন মোড়ে এক সময়ের ফ্রিম্যাসন্স হল
তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের ভবনটিও একই মালিকানার। তিনি পুরান ঢাকার কাজী নান্না মিয়া। তাঁর বড় ছেলে এ্যাডভোকেট মইনুল ইসলাম আপেল ভাইদের সম্পর্কে জানতে পারেন।
উঠে আসার সময় তার নামটি জানতে চাওয়া হলে জানালেন, তিনি হরদেও গ্লাস ফ্যাক্টরির মালিক ফজলুর রহমানে ছেলে তালিবুর রহমান।
পরামর্শ মতে পাশের ভবনটিতে যোগাযোগ করা হলে দেখা হয় এ্যাডভোকেট মইনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, সেতো অনেক দিন আগের কথা। তারা আমাদের এখানে ভাড়া ছিলেন। ওর পরেতো আর কোন যোগাযোগ ছিল না। এখন কোথায় আছেন তাও জানা নেই।
এদিকে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, লন্ডনে ফ্রিম্যাসন্স আন্দোলন শুরু হয় ১৭১৭ সালে। আর এই উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ১৭২৯ সালে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে প্রতিষ্ঠিত হয় ফ্রিম্যাসন্স ক্লাব। এর ধারাবাহিকতায় ১৭৫৩ সালে মাদ্রাজে, ১৭৫৮ সালে মুম্বাইতে এ আন্দোলনের বিস্তৃতি ঘটে।
পাকিস্তান অংশে এর প্রথম শাখা স্থাপিত হয় ১৮৫৯ সালে লাহোরে। ১৯০৪ সালের ৪ এপ্রিল ক্লাবটি ভূমিকম্পে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে ১৯১৬ সালে পুনরায় নির্মাণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় পেশোয়ার, মুলতান, শিয়ালকোট, রাওয়ালপিণ্ডি, হায়দারাবাদ, কোয়েটা ও করাচিতে এর শাখা গড়ে উঠেছিল। বলা হয়, ওই সময় ফ্রিম্যাসন্স ক্লাব এতটাই প্রসারমাণ ছিল যে শুধু করাচিতে ২০টি এবং লাহোরে তিনটি শাখা গড়ে উঠেছিল।
তবে ১৯৭২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো ফ্রীম্যাসোনরী আন্দোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং লজ ভবনগুলো বাজেয়াপ্ত করেন।
এদিকে ১৯১০ সালে ঢাকায় ফ্রিম্যাসন্স আন্দোলন শুরু হলেও ভূখণ্ডের এই অংশে ইহুদীদের আধিক্যের তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। ১৯৪৭ সালে কলকাতায় চার হাজার ইহুদীর বসবাসের তথ্য জানাচ্ছে এশিয়ান জিউশ লাইফ। ওই একই সময়ে বাংলাদেশের এই অংশে ইহুদীদের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩৫ জন।
উপমহাদেশে বসবাসকারি ইহুদিরা প্রধানত বনি ইসরাইল ও বাগদাদি ইহুদি – এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিলেন। তবে একটি পক্ষকে বাগদাদি বলা হলেও তারা মূলত ইউরোপিয় ইহুদি, যারা ক্রুসেডের সময় বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অনুমান করা হয় মোঘল আমলে ইউরোপিয়দের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি পেলে তখনই উপমহাদেশে তাদের আগমন ঘটে। কাপড়, সিল্ক, মসলিন ও মুক্তার ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের।
হোটেল রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ও তাদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করার মতো। যেমন, কলকাতায় তাদের উদ্যোগেই গড়ে উঠেছিল ট্রিংকা রেষ্টুরেন্ট ও গ্রান্ড হোটেল। আর ঢাকার গুলিস্তানে তাদের মালিকানায় ছিল রিজ রেস্তোরাঁ। তখনকার সময় ঢাকায় তেমন কোনো হোটেল না থাকায় সেই রিজ রেস্তোরাঁয়ই সরকারি-বেসরকারি অনেক অনুষ্ঠান হতো।
ফ্রেন্ডস সার্ভিস ইউনিটের ঢাকা প্রধান টোরেন্স মিউসের আমন্ত্রণে ১৯৫০ সালের ১৩ আগস্ট শেষবারের মতো ঢাকায় আসেন কবি-সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু। তাঁর সৌজন্যে রিজ রেস্তোরাঁয়ই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
ওই পঞ্চাশের দশকেই রেস্তোরাঁটির হাত বদল হলে একই সঙ্গে তার নামও বদল হয়ে হয় ‘রেক্স’। রেক্স রেস্তোরাঁও ছিল ঢাকার বনেদি বাসিন্দা ও কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডাস্থল।
তবে বাংলাদেশে সর্বশেষ দুটি ইহুদি পরিবারের অস্তিত্বের খবর পাওয়া যায় বিভিন্ন লেখায়। তার একটি রাজশাহীর কোহেন পরিবার। তাদের পূর্বপুরুষ এসেছিলেন ইরাক থেকে। ওই পরিবারেরই বিখ্যাত একজন মর্ডি কোহেন। তিনি প্রথমে রাজশাহীতে রেডিওতে ঘোষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৪ সালে ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডিআইটি ভবনের বাইরে পাকিস্তান টেলিভিশনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। উদ্বোধনী দিনের অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন মর্ডি কোহেন। তার উপস্থাপনায় স্টুডিও থেকে প্রচার হয় একটি গানের অনুষ্ঠান।
দেখতে সুদর্শন মর্ডি কোহেন সহজেই টেলিভিশনের একজন জনপ্রিয় ঘোষক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। একসময় সংবাদ পাঠক হিসেবেও তিনি আবির্ভূত হন। এছাড়া খান আতাউর রহমান পরিচালিত নবাব সিরাজউদ্দৌলাসহ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর তিনি তাঁর পরিবারসহ কলকাতা চলে যান। সেখানে তিনি তপন সিংহ পরিচালিত ‘সাগিনা মাহাত’ ছবিতে অভিনয় করেন।
মর্ডির এক ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্স করেছেন। তিনি পরে ইসরায়েলের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তারা অনেকের কাছে কোহেন ব্রাদার্স নামে পরিচিত ছিলেন।
২০১৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মর্ডি কোহেন ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকা থেকে কলকাতায় ফিরে গিয়ে তিনি মারা যান। কলকাতার নারকেলডাঙ্গায় তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের বারোক পরিবারেও ছিলেন দুই ভাই। রহমিম এজরা বারোক এবং রহমিম ডেভিড বারোক। এজরা বারোক চাকমা রাজপরিবারের এক রাজকন্যাকে বিয়ে করেন এবং চন্দ্রঘোনায় বসবাস করতেন। তিনি বাংলাদেশ আমলে মৃত্যবরণ করেন। চন্দ্রঘোনা ক্যাথলিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। ইহুদি হলেও স্থানীয়দের কাছে তিনি খৃষ্টান বলেই পরিচিত ছিলেন। এডি এডওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। ব্যবসায়ি এবং মহাজন হিসেবেও তার সুনাম ছিল। তার কোন সন্তান ছিলনা।
তার ছোট ভাই ডেভিড বারোক বসবাস করতেন চট্টগ্রাম শহরে। তিনিও একজন ধনি ব্যবসায়ি ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি মারা যান এবং তাকে চট্টগ্রাম ক্যাথলিক চার্চ এর কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়। ডেভিড বারোক এর ছেলে জোসেফ বর্তমানে কানাডাতে বসবাস করছেন। এছাড়া ইউনুস দানিয়েল নামে আরেকজন ইহুদি ব্যবসায়ি চট্টগ্রামে বসবাস করতেন। যার নামের কারনে অনেকেই তাকে ইরানি মুসলিম বা ইসমাইলি শিয়া বলে মনে করতেন। বলা হয়, বাংলাদেশে এখনও দু’একটি ইহুদি পরিবার আছেন কিন্তু পরিচয় গোপন করে চলছেন।
এদিকে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপেও সন্ধান চলছে ঢাকার ফ্রিম্যাসন্স ও ফ্রীম্যাসনরীর। কিন্তু কারো যোগাযোগ মিলছে না। তাহলে মর্ডিই কি শেষ ইহুদি যিনি কলকাতার জীবন থেকে ঝরে পড়েছেন? দিনটা ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর। যা আবার মর্ডির প্রিয় বাংলাদেশের বিজয় দিবসও!
ফ্রিম্যাসন্স হলের নামফলক, প্রতিষ্ঠাকাল ১৯১০ সাল