Tuesday, December 5, 2017

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আরো তীব্র হবে

সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর ফলে সেখানকার পরিস্থিতি আরো অবনতি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশটির ভবিষ্যত কি হবে এ সম্পর্কে সন্দিহান সবাই। হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোটের লড়াই আরো তীব্র হবে বলে মনে করেন তারা। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, তিন দশকের বেশি দেশ চালানো প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহকে সোমবার হত্যা করে হুতি বিদ্রোহীরা।
এই হুতিরা এক সময় তার সঙ্গে জোট করেছিল। তাদেরকে প্রেসিডেন্ট সালেহ মিত্র হিসেবে দেখতেন। কিন্তু তারাই যখন সালেহকে হত্যা করে তখন তার নিজের বাহিনীর কাছে এটা একটি বড় আঘাত বলে মনে করছেন ইয়েমেন পোস্টের প্রধান সম্পাদক হাকিম আল মাসমারি। ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে তিনি আল জাজিরাকে বলেন, সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে তার বাড়িতে দু’দিন অবরুদ্ধ করে রেখেছিল হুতিরা। সোমবার তার বাড়িতে তারা হামলা চালায়। এ সময় সালেহ পালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাস্তায় রাস্তায় বসানো ছিল হুতিদের চেকপোস্ট। তাতে তার গাড়ি ধরা পড়ে। এ সময় বেশ কিছু সিনিয়র সহযোগী সহ তাকে হত্যা করে হুতিরা। হাকিম আল মাসমারি বলেন, সালেহ’কে হত্যা করায় ইয়েমেনে সামরিক অভিযান তীব্র করতে পারে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট। সম্প্রতি হুতিদের সঙ্গে সালেহ’র জোট ভেঙে যাওয়ার পর সৌদি আরবের এই জোট রাজধানী সানায় হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বিমান হামলা জোরালো করেছে। টার্গেট করা হচ্ছে পরিত্যক্ত বিমানবন্দর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কর্মসুচির পরিচালক জোস্ট হিলটারম্যান বলেছেন, হুতি ও সালেহ জোট ভেঙে যাওয়ার ফলে সঙ্কট বাড়বে। প্রতিশোধের মাত্রা বাড়বে। আলী আবদুল্লাহ সালেহকে হত্যার পর তার দল আরো ভেঙে যেতে পারে। তাদের অনেকেই যোগ দিতে পারে হুতি-বিরোধী যোদ্ধাদের সঙ্গে। এ অবস্থায় সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য বড় ধরনের একটি আঘাত হতে পারে। এই জোটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। তারা সালেহ’র মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশা পূরণের আশা করছিলেন। কিন্তু সব কিছু দৃশ্যত আরো জটিল হয়ে যাচ্ছে। এ বছরের শুরুর দিকে বেশ কিছু ইমেইল ফাঁস হয়। তাতে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় ইয়েমেন যুদ্ধের ইতি ঘটানোর খায়েশ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। উল্লেখ্য, দেশের চলমান গৃহযুদ্ধে বড় ধরনের ভূমিকা ছিল তিন দশকেরও বেশি সময় ইয়েমেন শাসন করা এই প্রেসিডেন্টের। তিনি শনিবার টেলিভিশনে একটি ভাষণ দেন। এ সময় ইয়েমেনের ওপর আরোপ করা সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোটের অবরোধ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান। ওদিকে হুতিদের সঙ্গে তার যে জোট হয়েছিল তা তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, সামরিক জোটের সঙ্গে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে দরজা। এই সামরিক জোট দু’বছরের বেশি সময় হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত। তার এমন বক্তব্যের প্রশংসা করেছে সৌদি আরব। কিন্তু হুতি বিদ্রোহীরা সালেহকে খতম করে দেয়াকে অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অন্যান্য সুন্নি মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। তারা এ সময় প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদির সরকারকে ক্ষমতায় পুনঃস্থাপন করার জন্য এ কাজ করে। উল্লেখ্য প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদিকে এর আগের বছর ক্ষমতাচ্যুত করেছিল হুতিরা। ওদিকে হুতি নেতাদের সঙ্গে দুর্বল হোট গড়ে তোলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহ। এই জোটের মধ্য দিয়ে তার জেনারেল পিপলস কংগ্রেস দল ও হুতি আনসার আল্লাহ অংশ একত্রিত হয়। তবে তাদের মধ্যে অতীতের অনেক বিষয়ে মতবিরোধ ছিল।

রোহিঙ্গা ইস্যু: ভারতের বিভ্রান্তিকর নীরবতা by সুহাসিনী হায়দার

দক্ষিণ এশিয়া সফর করলেন পোপ। আট লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা পুনর্বাসন ও পুনরেকত্রীকরণের উদ্দেশে তিনি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করেন। অভিবাসন বিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইএমও) মতে ২৫ শে আগস্ট থেকে কমপক্ষে ৬ লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে নৃশংস সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন।
এ অভিযানে পোপ একাই নন। গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে মিয়ানমারে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সিনিয়র টিম, বৃটিশ ও কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রীরা বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছেন।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের রাজধানী ন্যাপিড এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সফর করেছেন। তিনি এই সঙ্কটে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর জন্য সহায়তার ক্ষেত্র বের করায় ভূমিকা রেখেছেন। নভেম্বরের শুরুর দিকে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, জার্মান, সুইডেন ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরিদর্শনে যান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তবে ভারতীয় কোনো নেতা ওই আশ্রয় শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন নি।
চনি অন্য দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজেদের জড়িত করে না। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এটা তাদের অবস্থানের এক বিরল পরিবর্তন। তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মধ্যস্থতা করায় একটি ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তাই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গিয়েছিলেন ঢাকায়। তিনি ১৮ই নভেম্বর সাক্ষাত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। এরপর তিনি ন্যাপিডতে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতিন কাইওয়ার সঙ্গে। কয়েক দিনের মধ্যে রোহিঙ্গাদেরকে দু’মাসের মধ্যে রাখাইন প্রদেশে ফিরিয়ে নেয়া শুরু করার বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। চীনা পররাষ্ট্রমন্্রী ওয়াং ই প্রস্তাবিত তিন দফার অংশ এ প্রক্রিয়া।
এখানে উল্লেখ করার বিষয় হলো একই সপ্তাহে চীন সফরে গিয়েছিলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। উদ্দেশ্য রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে অধিকতর আলোচনা করা। অন্যদিকে মিয়ানমারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচি তিন দিনের জন্য উড়ে যান বেইজিং।
কূটনৈতিক এই ব্যাপক তৎপরতায় ভারত কেন এতটা নীরব, এতটা কোমলতা প্রদর্শন করছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। এমনিতেই এই উপমহাদেশে সবচেয়ে বড় দুই প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। যদি রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা বাড়তেই থাকে তাহলে এতে আক্রান্ত হওয়ার বড় ঝুঁকিতে রয়েছে ভারতও। তাই ভারতের উচিত এই সংকটে সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখানো। তার পরিবর্তে ধারাবাহিক ভুল করে যাচ্ছে ভারত। এর শুরু হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের মিয়ানমার সফরের মধ্য দিয়ে। মিয়ানমারকে তার সত্য গোপনে অনুমোদন দিয়েছে ভারত। নিজ দেশে ভয়াবহ সহিংসতায় যখন হাজার হাজার মানুষ পালাচ্ছিলেন তখন সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ন্যাপিডতে সংবাদ সম্মেলনে মোদি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করতে অস্বীকৃতি জানান। যখন রাখাইনে সহিংসতা নিয়ে আলোচনার পর্ব আসে তখন শুধু আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির সন্ত্রাসী হামলার কথা বাদে অন্য প্রসঙ্গে আনে নি ভারত।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচার পর দুদিন পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়। তাতে শরণার্থী সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা সঙ্কট তখন উদ্বেগজনক হারে বা এলার্মিং মাত্রায় পৌঁছেছে। এটাকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত এখন জাতি নিধন বলে উল্লেখ করছে। উপরন্তু ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ৫০ জাতির পার্লামেন্টারিয়ান কনফারেন্সের ঘোষণা অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। কারণ, ওই ঘোষণায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি উল্লেখ করা হয়েছিল। এমন কি বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভুটান ও শ্রীলংকা সহ দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশ বালি’র ওই ঘোষণা অনুমোদন দিয়েছে।
পরে সেপ্টেম্বরে সরকার ‘অপারেশন ইনসানিয়েত (হিউম্যানিটি)’ নামের অধীনে মানবিক ত্রাণ সহায়তা পাঠানো শুরু করে ভারত সরকার। এ অভিযানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, আজারবাইজান, মালয়েশিয়া ও অন্য আরো অনেকে। এর মধ্যে অন্যতম দেশ হলো ভারত। গত সপ্তাহে সরকার মিয়ানমারে ৩০০০ পরিবারের কাছে সহায়তা হিসেবে ‘ফ্যামিলি ব্যাগ’ পাঠায়। কিন্তু রাখাইনের ভিতরে বাস্তুচ্যুত বিপুল সংখ্যাক মানুষ ও তাদের জরুরি সহায়তার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভারত যেসব প্রচেষ্টা চালিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফর। এ সফরে তিনি রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরিদর্শনের জন্য সময় পান নি। অন্য দেশগুলো যা করেছে এটা তার বিপরীতমুখীই নয় শুধু, একই সঙ্গে ভারতের নিজের যে রেকর্ড রয়েছে তারও বিপরীত এটা। যেকোনো অর্থে রোহিঙ্গা সঙ্কট একটি ভয়াবহ বিষয়। এতে প্রায় ১০ লাখ নারী, পুরুষ ও শিশু অবর্ণনীয় দুর্দশায় বসবাস করছে মিয়ানমারে ও বাংলাদেশে। ভারতের একটি প্রচলিত রীতি আছে। তারা দ্রুততার সঙ্গে মানবিক সহায়তা পাঠায়, চিকিৎসা সেবা, চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবক পাঠায় অন্য দেশগুলোতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০৪ সালের সুনামির পরের কথা, ২০০৮ সালে ঘূর্ণিঝড় নার্গিস মিয়ানমারে আঘাত করার পরের কথা, ২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্পের পরের কথা। কিন্তু ভারত রোহিঙ্গা সঙ্কটে হাতপা গুটিয়ে বসে আছে বলেই দৃশ্যত দেখা যায়।
অন্যদিকে জাতিসংঘেও ভারতের কণ্ঠ উচ্চকিত নয়। তারা অন্য দেশকে এ ইস্যুতে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি মিয়ানমারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করে বৃটেন। এতে যোগ দেন ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কর্মকর্তারা।
এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে থার্ড কমিটির ভোটে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান সম্বলিত একটি প্রস্তাবে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে ভারত। মিয়ানমারে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইর্ন্ডি মিশন পাঠানোর প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৩৫টি দেশ। এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোটদানে বিরত থাকে ২৬টি দেশ। তার মধ্যে ভারত অন্যতম। হস্তক্ষেপমুলক এই প্রস্তাবে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভোট ছিল। কিন্তু তারা কোনো রকম নেতৃত্ব প্রদর্শন করে নি। যদি তারা তা করতো তাহলে তা বাংলােেদশের পক্ষে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করতো। এই বাংলাদেশ এই অঞ্চলে ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অন্যতম। এ দেশটির নেতৃত্ব শরণার্থীর প্রবাহ নিয়ে এক রকম লড়াই করছে। আগামী বছর কঠোর নির্বাচনের মুখে প্রধানমন্ত্রী।
সংক্ষেপে বলা যায়, মিয়ানমারে এবারের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর ভারত যত পদক্ষেপ নিয়েছে আঞ্চলিক, উপমহাদেশীয় ও এশিয়ার নেতৃত্ব হিসেবে ভারতের সেসব পদক্ষেপ নেতিবাচক। এই মর্যাদা ফিরে পেতে সঙ্কট সমাধানের অংশ হতে অনেক বেশি কিছু করতে হবে।
এটা করতে প্রথমেই যা করতে হবে তাহলো ২০১২ সাল থেকে ভারতে বসবাস করছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। সরকার তাদেরকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বলা হচ্ছে, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে। তবে এ বিষয়ে সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে যে, ভারতের এমন সিদ্ধান্তের পিছনে কোনো আন্তর্জাতিক আকাঙ্খা নেই। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো ইস্যুতে যতক্ষণ ভারত কাজ করতে না পারছে ততক্ষণ পর্যন্ত ভারতকে এই প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে তার উদ্বেগ জানিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে সমাধান হতে হবে ত্রিদেশীয়। এই কাজটি চীনের চেয়ে ভারতের জন্য সহজ হবে। কারণ, বিমসটেকের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে তারা কাজ করেছে।
ভারতকে তার শরণার্থী নীতিতে আভ্যন্তরীণ পর্যায়ে যে সব অসঙ্গতি আছে সেদিকে নজর দিতে হবে। ভারত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কোনো কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। যখন প্রতিবেশীরা বিপদে পড়ে তখন তাদেরকে আশ্রয় দেয়ার এক গর্বিত রীতি চর্চা করে ভারত। ১৯৬০ এর দশকে তিব্বতের মানুষকে, ১৯৭০ এর দশকে পূর্ব পাকিস্তানিদের (বর্তমান বাংলাদেশ) ১৯৮০র দশকে শ্রীলংকানদের ও ১৯৯০ এর দশকে আফগানদের আশ্রয় দিয়েছিল ভারত।
সম্প্রতি প্রতিবেশী বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সহিংসতার কারণে যেসব সংখ্যালঘু পালিয়ে ভারতে যাচ্ছেন তাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদী ভিসা দেয়ার আইন পরিবর্তন করেছে মোদি সরকার। এখন যদি ভারত বলে যে, তারা রোহিঙ্গাদের তারা সহায়তা করবে না, তারা মিয়ানমারের সংখ্যালঘু। তাহলে তারা হয়তো এটাই বলতে চায় যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের মানুষ নন। আর না হয় ভারতের প্রতিবেশী নয় মিয়ানমার। এ দুটি বিষয়ই ভারতের আগের অবস্থানের সঙ্গে সংঘাতময়। সরকার আদালতে যুক্তি তুলে ধরেছে যে, রোহিঙ্গারা ভারতে সন্ত্রাসী হুমকি। তবে এমন কথা শ্রীলংকান বা আফগানদের ক্ষেত্রে বলা হয় নি।
আঞ্চলিক প্রতিটি ধর্ম চর্চার একটি দেশ ভারত। তাদেরকে এই ভূমিকা জোরালো করতে হবে। এ জন্য ভারত একটি ব্যতিক্রমী দেশ।
এসব কারণে, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শাসনযন্ত্রে উচ্চ মাত্রায় ভূমিকা থাকায় ভারতকে অবশ্যই রোহিঙ্গা ইস্যুতে কণ্ঠ উচ্চকিত করতে হবে। সীমান্তের সঙ্গে লাগোয়া একটি প্রতিবেশী দেশে যখন সবচেয়ে বড় মানবিক ট্রাজেডি চলছে তখন ভারত যদি আমতা আমতা করে তাহলে তাতে তার বৈশ্বিক নেতৃত্বের যে উচ্চাকাংখা তা প্রকাশ পায় না।
(অনলাইন দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

জেরুজালেম কার- ফিলিস্তিন নাকি ইসরাইলের!

জেরুজালেম কার? ইসরাইলের নাকি ফিলিস্তিনের! এ প্রশ্ন সেই ১৯৬৭ সাল থেকে ঝুলে আছে। ওই বছর ফিলিস্তিনের কাছ থেকে জেরুজালেম কেড়ে নেয় ইসরাইল। তারা একে ঘোষণা দেয় ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে। ফিলিস্তিনও নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে জেরুজালেমকে। কিন্তু এ সমস্যার সমাধান আর হয় নি। অনেকেই চেষ্টা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শক্তিধর প্রেসিডেন্ট জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কিন্তু তারা তা রক্ষা করতে পারেন নি। সেই ধারায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নির্বাচনী প্রচারণার সময় জেরুজালেমকে রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার ক্ষমতা গ্রহণ প্রায় এক বছর হতে চলেছে। কিন্তু এখনও তিনি প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেন নি। তবে শোনা যাচ্ছে এ সপ্তাহেই তিনি জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিতে পারেন। তবে তাকে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় দুটি মিত্র সতর্ক করেছে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়া হয় তাহলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। ঠিক এই ভয়েই এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট এ বিষয়টিতে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যে দুটি মিত্র সতর্ক করেছেন তারা বলেছেন, জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনও নিজেদের দাবি করে এই বিষয়টিতে কিভাবে ভারসাম্য আনা যাবে তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হবে। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন এমন সূত্র বলেছেন, এ জন্যই ট্রাম্প তার ঘোষণা বিলম্বিত করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন সালমান একটি বিবৃতি দিয়েছেন সিএনএনের কাছে। এতে তিনি বলেছেন, চূড়ান্ত মীমাংসার আগে যেকোনো ঘোষণা দেয়া হলে তাতে শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রছাব ফেলবে। দেখা দেবে আঞ্চলিক উত্তেজনা। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সোমবার ফোন করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন। তিনিও একই রকম চিন্তাভাবনার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে স্বীকৃতি দিতে পারে বলে তিনি ওই বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এতে আরো জোর দিয়ে বলেছেন, জেরুজালেমের মর্যাদা কি হবে তা ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনায় সমঝোতার ভিত্তিতে হতে হবে। তা হতে হবে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে। শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সবাইকে বসবাস করতে হবে। ওদিকে হোয়াইট হাউজের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হোগান ওল্ডলে সোমবার এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, বর্তমানে ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিবে অবস্থিত। এই দূতাবাস কি জেরুজালেমে স্থানান্তর হবে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলেও এ বিষয়ে তিনি কোনো উত্তর দেন নি।

কারামুক্ত হলেন লক্ষ্মীপুরের সেই সিভিল সার্জন

লক্ষ্মীপুরে ভ্রাম্যামাণ আদালতে ৩ মাসের সাজা আদেশের ২৪ ঘন্টার মধ্যে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হলেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো: সালাহ উদ্দিন শরীফ। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক মীর শওকত হোসেন ৫ হাজার টাকার বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কারাগার থেকে স্থানীয় চিকিৎসকরা তাকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন তার প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরণের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. আশফাকুর রহমান মামুন, ডা: নিজাম উদ্দিন, ডা. জাকির হোসেন, ডা. নুরুল ইসলাম, ডা: হামিদ হোসেন প্রমুখ।
ডা. মো. সালাহ উদ্দিন শরীফের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাসেল মাহমুদ মান্না জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ডা: সালাহ উদ্দিন শরীফের জামিন আবেদন করলে আদালত ৫ হাজার টাকার মুচলেকা দিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন। প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে কাকলী শিশু অঙ্গনের ভিতরে যাওয়ার সময় গেইটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মুর্শিদুল ইসলামের সাথে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো: সালাহ উদ্দিনের ধাক্কা লেগে যায়। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ডা. সালাহ উদ্দিনের বড় ছেলে মিনহাজ এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চান। এক পর্যায়ে বাবা-ছেলে ও এডিসি’র মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পুলিশ ডেকে ডা: মো: সালাহ উদ্দিন শরীফ আটক করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়ে ডাক্তারকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

সৌদি-আমিরাত নতুন জোট গঠন



উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) থেকে বের হয়ে নতুন সামরিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব গঠন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ওমানকে নিয়ে গঠিত ছয় জাতি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোটে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এই জোটের কথা প্রকাশ করা হলো। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সমন্বয় সাধনের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। কাতারের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধ আরোপের প্রেক্ষাপটে গত ছয় মাস ধরে নজিরবিহীন সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জিসিসি। ছয় দেশের প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার কুয়েতে পরিষদের বার্ষিক সম্মেলনে মিলিত হয়। আল জাজিরার জামাল এলশায়াল কুয়েত সিটি থেকে বলেন, জিসিসির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আমিরাত ও সৌদি আরব নতুন জোটের পথে হাঁটল। এর আগের খবরে বলা হয়, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) বা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন  মঙ্গলবার কুয়েতে শুরু হলেও কাতার সঙ্কট সমাধানে এই সম্মেলন ইতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলবে কি না সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। ওই সম্মেলন দুই দিনব্যাপী চলবে।
গত সপ্তাহে জিসিসিভুক্ত ছয় দেশকে সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রাহমান আলে সানি জানিয়েছেন, কুয়েতে অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ ওই সম্মেলনে যাওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন কাতারের আমির। তিনি ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন। তবে জিসিসিভুক্ত বাকি দেশগুলো অর্থাৎ বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতারা ওই বৈঠকে অংশ নেবেন কি না বা সবাই অংশ নিলেও কাতার সঙ্কটে ইতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলবে কি না সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। গত ৫ জুন থেকে কাতারের ওপর সৌদি আরব, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও মিসরের অবরোধের পর থেকে কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমদ আল সাবাহ সঙ্কট সমাধানে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এবারো জিসিসি সম্মেলনে সব দেশকে একত্র করার চেষ্টা করছে কুয়েত। কিন্তু তাদের এই প্রচেষ্টা কতটুকু সফল হবে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। আরব বিশ্বের চার দেশের সাথে কাতারের চলমান অস্থিরতার কারণে এই সম্মেলনে সবার উপস্থিতি বিশেষ করে কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করা দেশগুলো একসাথে সম্মেলনে বসবে কি না সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে।

ইবিতে একই প্রশ্নে দুই শিফটে পরীক্ষা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দুই শিফটে একই প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন ঘটনা এটাই প্রথম। মঙ্গলবার মানবিক ও সমাজিক বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষায় এঘটনা ঘটে। ভর্তি পরীক্ষা কমিটির এক জরুরী সিদ্ধান্তে ‘সি’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফট এবং তৃতীয় শিফটের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার আবার নাতুন করে পরীক্ষা নেয়া হবে। ভর্তি পরীক্ষার পঞ্চম দিনে সকাল ৯টায় দিনের প্রথম শিফটে ‘সি’ ইউনিটের প্রথম শিফট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম শিফটের পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছুকরা ‘পদ্মা’ নামক প্রশ্নে ‘ধ’ এবং ‘ন’ সেটে পরীক্ষা দেয়। ‘সি’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটেও ‘পদ্মা’ প্রশ্নে ‘ন’ সেটে আবারো পরীক্ষা নেয়া হয়। ভর্তিচ্ছুরা পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে তাদের প্রশ্নে অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ঘটনা প্রশাসনের নজরে আসলে প্রশাসন সি ইউনিটের দুপুর ১.৩০মি. থেকে দুপুর ২.৩০মি. তৃতীয় শিফটের পরীক্ষা প্রাথমিকভাবে পিছিয়ে বিকেল ৪টা থেকে ৫টা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে প্রশাসন এক জরুরী বৈঠকে সি ইউনিটের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শিফটের পরীক্ষা স্থগিত করে ক্যাম্পাস এলাকায় মাইকে প্রচার করে। একই সাথে আগামী শুক্রবার স্থগিত হওয়া সি ইউনিটের দ্বিতীয় ফিশট এবং তৃতীয় শিফটের পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

নিয়মনীতি মানছেন না রিকশাচালকেরা

কোনো নিয়মনীতি নেই। যার যেভাবে খুশি চালাচ্ছেন। চলছে ভিআইপি সড়কেও। কোনো কোনো এলাকায় চলছে ব্যাটারি লাগিয়ে। কখনো কখনো পুরো শহরটাকে মনে হয় ‘যেন রিকশার শহর’। কোনো কোনো এলাকায় রিকশাই বাধা হচ্ছে পথ চলতে। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরীর রাস্তায় চলাচলকারী সব যানবাহন ও চালকের জন্য আইন থাকলেও রিকশা চলছে কোনো আইন না মেনেই। অথচ ভুক্তভোগীরা বলেছেন, প্রতিদিন রাজধানীতে যেসব দুর্ঘটনা ঘটছে তার বেশির ভাগের জন্য দায়ী এই রিকশা। রাজধানীর অলিগলি থেকে ভিআইপি সড়ক সবই এখন রিকশার দখলে। ১২-১৪ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত এসব রিকশার চালক। দিন-রাত এই রিকশা চলছে কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই। যেভাবে পারছে, যে জায়গা থেকে পারছে রিকশা চলছে। রিকশার গ্যারেজ মালিক ও রিকশা চালকদের তথ্যানুযায়ী রাজধানীতে এখন ১২ লাখের ওপর রিকশা চলছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে কোনো তথ্য নেই। রাজধানীতে চলাচলকারী রিকশা চালকেরা নিষেধাজ্ঞাও মানছেন না। রাজধানীর ভিআইপি সড়কসহ কিছু কিছু সড়কে রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না চালকেরা। যাদের দায়িত্ব রয়েছে এগুলো নিয়ন্ত্রণের সেই ট্রাফিক পুলিশও এ ব্যাপারে নির্বিকার। পুলিশের সামনে দিয়েই ভিআইপি সড়কে রিকশা চলছে। আর এ ক্ষেত্রে সুযোগ করে দিচ্ছে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। গতকাল দুপুরের দিকে মৎস্যভবন এলাকায় দেখা যায় ১০ মিনিটে ৩১টি রিকশা দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবলকে ম্যানেজ করে ভিআইপি রাস্তায় ঢুকে যেতে। রিকশাগুলো শিল্পকলার গেট পার হয়েই গোপনে ট্রাফিক কনস্টেবলের হাতে কী যেন গুঁজে দিচ্ছে, আর তিনি রিকশাগুলো ছেড়ে দিচ্ছেন। শামীম হাওলাদার নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, যতবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন প্রতিবারই ঘটেছে রিকশাওয়ালাদের জন্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন নতুন করে রিকশা নামছে রাজধানীর রাস্তায়। রিকশার কোনো লাইসেন্স লাগে না। চালকেরও কোনো লাইসেন্স বা প্রশিক্ষণ লাগে না। শুধু প্যাডেল ঘোরাতে পারলেই চলে। অভিযোগ রয়েছে এই রিকশা এখন প্রশাসন থেকে শুরু করে একটি সঙ্ঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কোটি কোটি টাকার উপার্জনের পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৫ বছরে অন্তত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে রিকশার ভুয়া নম্বর প্লেট বিক্রি করে। আর ওই নম্বর প্লেটকেই বৈধ বলে ধরে গণ্য করছে পুলিশ প্রশাসন।
ওই নম্বর প্লেট যেসব রিকশার রয়েছে তা অবাধে চলতে পারছে রাজধানীতে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবৈধ এই বাণিজ্য চলছে রিকশা-ভ্যান মালিক ও শ্রমিক নামধারী কিছু সংগঠনের ব্যানারে। সহায়তা করছে সিটি করপোরেশন এবং মহানগর পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য। বানানো ওই নম্বর প্লেট দিয়েই চলছে অন্তত ১২ লাখ রিকশা ও ভ্যান। তবে এর নির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই ঢাকা সিটি করপোরেশন বা ট্রাফিক পুলিশের কাছে। এখন রাজধানীর সব পথঘাট উন্মুক্ত পেয়ে রিকশা ও ভ্যানের সংখ্যা আরো বেড়ে চলছে। সূত্র জানায়, সরকারি কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও রাজধানীতে রিকশাচালকের সংখ্যা ১৫ লাখের কম হবে না। সূত্র জানায়, যারা এক সময় রিকশার নম্বর প্লেট বিক্রি করতেন তাদের অনেকেই এখন রাজনৈতিক দলের বড় নেতা। রিকশা-ভ্যান মালিক-শ্রমিক সংগঠন সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে বর্তমানে কমপক্ষে ১০ লাখ রিকশা-ভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে। কিন্তু বৈধ লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ৮৭ হাজার। এই লাইসেন্সও অনেক পুরনো। এর মধ্যে রিকশা ৭৯ হাজার ৫৫৪টি, ভ্যান ৮ হাজার। বাদবাকি ঠেলাগাড়ি ও ঘোড়াগাড়িসহ অন্যান্য অযান্ত্রিক বাহন। ১৯৮৬ সালে শেষ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। অজ্ঞাত কারণে গত ৩১ বছর ধরে সিটি করপোরেশন থেকে কোনো বৈধ লাইসেন্স ইস্যু করা হচ্ছে না। আর পুরনো লাইসেন্স নবায়নও করা হচ্ছে না। আর এই সুযোগে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন সংগঠনের নামে রিকশা-ভ্যানের লাইসেন্স দিয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ঢাকা মহানগর এলাকায় রিকশা মালিক ও শ্রমিকদের নামে অন্তত ২৮টি সংগঠন রয়েছে। এরাই মূলত রাজধানীর রিকশা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো কোনো এলাকায় মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে রিকশা নিষিদ্ধ করা হয়। ওই নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল আছে। কিন্তু তা কার্যকর নেই। এই সুযোগে ভিআইপি রোডেও চলছে রিকশা-ভ্যান।

মার্কিন নির্বাচনে মস্কোর হস্তক্ষেপের প্রমাণ নেই

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ নেই। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্টোনোভ সিবিএস টিভি চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের (যুক্তরাষ্ট্র) নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ নেই।’ খবর তাস’র। মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার অনিশ্চিত সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আন্টোনোভ বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সকালেই দু’দেশের সম্পর্কের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখতে পাই। আমি জানি না কী করতে হবে। কারণ আমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো নেতিবাচক পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকি।’ তবে মস্কো দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে সচেষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দামেস্কে ইসরাইলি বিমান হামলা

ইসরাইলি যুদ্ধ বিমান সোমবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে বিমান হামলা চালিয়েছে। ব্রিটেন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এ কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক রামি আবদেল রহমান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ইসরাইলী বাহিনী দামেস্কের কাছের জামারা এলাকাসহ একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র ও অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এইসব অস্ত্র গুদামে সিরিয়া ও তার মিত্র বাহিনীর অস্ত্র মজুদ রয়েছে।’ তবে হামলার সঠিক লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বার্তা সংস্থা এএফপি’র সংবাদদাতা দামেস্কে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। সিরিয়ার সরকারি সংবাদ মাধ্যম বলছে, ‘আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।’ সিরিয়ায় ব্রিটেনের সহায়তা পাচ্ছে উগ্রপন্থীরা বিবিসি
সিরিয়ায় ব্রিটেনের দেয়া সহায়তা উগ্রপন্থীদের হাতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর একটি বৈদেশিক সহায়তা প্রকল্প স্থগিত করেছে ব্রিটিশ সরকার। বিবিসি প্যানারোমার অনুসন্ধানে বিষয়টি উদঘাটিত হয়েছে। সিরিয়ায় ব্রিটেনভিত্তিক একটি পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তারা নিষ্ঠুর দণ্ডাদেশ দেয়া একটি আদালতের সাথেও কাজ করছে বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সহযোগিতার অভিযোগগুলো ‘অত্যন্ত গুরুত্বের’ সাথে গ্রহণ করেছেন। ব্রিটিশ কোম্পানি অ্যাডাম স্মিথ ইন্টারন্যাশনাল ওই প্রকল্পটি চালায়। তারা অত্যন্ত জোরালোভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিরিয়ায় সরকারবিরোধী অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর ফ্রি সিরিয়ান পুলিশ (এফএসপি) বাহিনীটি গঠন করা হয়েছিল। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে, এমন উদ্দেশ্যে এফএসপি গঠন করা হয়। ২০১৪-এর অক্টোবর থেকে এই প্রকল্পটি চালাচ্ছে অ্যাডাম স্মিথ ইন্টারন্যাশনাল (এএসআই)। ছয়টি দাতা রাষ্ট্র এই প্রকল্পের জন্য অর্থ দিচ্ছে, ব্রিটেন তাদের অন্যতম।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিরিয়ার আলেপ্পো, ইদলিব ও দারা প্রদেশের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নিরস্ত্র বেসামরিক পুলিশ বাহিনী হিসেবে এফএসপি গঠন করা হয়েছে। তারা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সাথে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবে না এমন নির্দেশনাও ছিল। কিন্তু প্যানারোমার অনুসন্ধানে অনেক কিছুই উঠে আসে যার নির্দেশনা ছিল না এবং যা হওয়ারও কথা ছিল না। অনুসন্ধানের পর ওই প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্যানারোমার বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সংক্ষিপ্ত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে এমন আদালতের সাথে সহযোগিতা করছে পুলিশ, যে আদালতের এক রায় অনুযায়ী দুইজন নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী কিশোর দিয়ে চলছে সব ধরনের ‘চিকিৎসা’

নাটোরের সিংড়ায় শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী এক কথিত কিশোর ‘কবিরাজের’ তেল, পানি পড়া আর ঝাড়ফুঁকে প্যারালাইসিস থেকে শুরু করে সব ধরনের দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। যে কোনো রোগ নিয়ে এলেই তার কাছে রয়েছে চিকিৎসা। মাত্র ২০ টাকা নিয়ে হাজির হলেই ওই প্রতিবন্ধী কিশোরের পায়ের লাথি আর ফু-তে সব ধরনের ব্যাথা ও দুরারোগ্য রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে দাবি ওই প্রতিবন্ধী কিশোরের মা মমতাজ বেগমের। তবে বিশেষ কোনো গোপন রোগ থেকে মুক্তি পেতে ১শ’ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা দিতে হয়। আর এই তেল ও পানি পড়া নিতে প্রতিদিন শত শত নারী-বৃদ্ধ ও শিশুরা মনির হোসেন নামের ওই প্রতিবন্ধী কিশোর কবিরাজের বাড়িতে ভিড় করছে। কিশোর কবিরাজে আস্তানাকে ঘিরে গড়ে উঠা প্রতারকচক্রের সদস্যরা বলছে, ‘এই তেল মালিশ ও পানি খেলে পুরাতন গ্যাস্ট্রিক, চোখের সমস্যা, পেট ব্যাথা, মাথার যন্ত্রণা, হার্টের সমস্যা, বুটির সমস্যা, মেয়েদের জটিল সমস্যা, প্যারালাইসিসসহ সব ধরনের জটিল রোগ ভালো হয়। গত ৫ মাসে অসংখ্য রোগী ভালো হয়েছে। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে এখানে প্রতিদিন শত শত রোগী আসছে। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে ৪ জন মহিলা গর্ভ ধারণে ক্ষমতা লাভ করেছে।’ যদিও কোনো রোগীর রোগ ভালো হয়েছে কেউ তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি। নাটোরের সিংড়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক আশরাফ আলীর তিন সন্তান। ২ মেয়ে ও ১ ছেলের মধ্যে মনির হোসেন (১২) ছোট। জন্মগতভাবে মনির হোসেন শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী। হঠাৎ গত রমজানের পর একজন রোগীকে সে বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে ওষুধ তুলে দেয়। এবং পরে সে ‘সুস্থ’ হয়ে যায়। এরপর তার নিজের বড় আম্মা রাবেয়া বেগম বিয়ের ১২ বছর পর তার ‘ছোঁয়ায়’ সন্তান গর্ভ ধারণের ক্ষমতা লাভ করেছে বলে প্রতারক চক্রের সদস্যদের দাবি। সরেজমিনে আজ মঙ্গলবার সকালে মাহমুদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী কিশোর কবিরাজের বাড়িতে অসংখ্য রোগীর ভিড়। বেশিরভাগ রোগীই মহিলা ও শিশু। প্রতিবন্ধী কবিরাজ মনির হোসেন বাড়ির আঙ্গিনায় মাটিমাখা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তখনও কবিরাজের গোসল ও খাওয়া হয়নি। তাই আগত রোগীদের অপেক্ষার পালা। এদিকে কবিরাজের মা মমতাজ বেগমের কথা, চিকিৎসা নিতে হলে সকলকে বসতে হবে। কেউ তাড়াহুড়া করলে কিন্তু চিকিৎসা দেয়া যাবে না। অল্প কয়েক মিনিটের মধ্যেই হঠাৎ করেই আস্তানায় না বসেই বাড়ির আঙ্গিনায় শুরু হয়ে গেলে প্রতিবন্ধী কবিরাজের চিকিৎসা। আগত রোগীদের উদ্দেশে কবিরাজের মায়ের ভাষ্য- ‘২০ টাকা দেন, আরো দু’বার কিন্তু আসতে হবে, একবার এলে রোগ ভালো হবে না।’ শুরু হয়ে গেল, পেটের ও চোখের সমস্যার জন্য ফু দেয়া আর মাজা-পায়ে বাত ব্যাথার জন্য লাথি ও তেল-পানি পড়া দেয়া। যারা তেল-পানি আনেননি তাদের জন্যও রয়েছে টাকার বিনিময়ে বিশেষ ব্যবস্থা। তাছাড়া গোপন রোগের জন্য রয়েছে ঘরের ভিতরে বিশেষভাবে চিকিৎসা নেয়ার ব্যবস্থা। কবিরাজের বাড়ির সাথেই নাগর নদে নৌকা পাড়াপাড়ে ব্যস্ত মাঝি আলম হোসেন বলেন, প্রতিদিনই শত শত লোক তার নৌকায় পাড়াপাড় হয়ে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে। এই কবিরাজের ঝাড়ফুঁকে রোগ ভালো হয় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যতই দিন যাচ্ছে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। আর আমারও আয় অনেক বেড়ে গেছে। এতটুকু আমি জানি, এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।’ কবিরাজের কাছে আসা সিংড়া পৌর শহরের নিংগইন মহল্লার আলেয়া বেগম জানান, তার কিছু সমস্যার জন্য এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রথমদিন তাকে তাবিজ ও পানি পড়া দেয়া হয়েছে। তাকে তিনবার আসতে বলা হয়েছে। তাই তিনি আজও এসেছেন। সঙ্গে তার ছেলে নিংগইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আলিফ হোসেন (৬) রাতে ঘুমের মধ্যে ভয় পায়। তারও চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। লোকমুখে কবিরাজের কথা শুনে গোডাউন পাড়া মহল্লার ৬ বছরে শিশু তাথইকে চিকিৎসা দিতে নিয়ে এসেছেন তার মা ও মাসী। এদিকে ছোট ছোট শিশুদের চিকিৎসায় শিশুদের ভয়-ভীতি ও চর-থাপ্পর দিতেও দেখা যায় ওই প্রতিবন্ধী কবিরাজ এবং তার মমতাজ বেগমকে। আর এই প্রতারকচক্রের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই তার শিশুকে চিকিৎসার নামে মানসিক নির্যাতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এবিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সিংড়া উপজেলার সভাপতি ও বিলহালতী ত্রিমোহনী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র চিকিৎসার নামে এই অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। সকলকে এবিষয়ে সচেতন হতে হবে। আর কোনো শিশু বা বৃদ্ধ যেন চিকিৎসার নামে এ ধরনের অপচিকিৎসার শিকার না হয় সে বিষয়ে যথাযথ মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ মাহমুদ জানান, বর্তমানে এধরনের অপচিকিৎসা একটি দুঃখজনক বিষয়। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএনপি নেতা দুলু-ছবিকে নাটোরে আসতে না দিতেই আ’লীগের মিথ্যাচার

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাটোর জেলা সভাপতি সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুূল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নাটোর শহরের বাড়িতে ছাত্রলীগের হামলা, গুলিবর্ষণ ও তার স্ত্রী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন ছবিকে সিংড়ায় দলীয় সভায় যেতে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছে নাটোর জেলা বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৩ ডিসেম্বর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫টি মোটরসাইকেলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী দুলুর বাড়ির সামনে এসে গুলি ও ইট পাটকেল ছুঁড়ে হামলা চালায়। ছাত্রলীগ নেতা রবিউল ইসলাম রুবেল তার নিজের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্রের গুলিতেই আহত হয়েছেন। এ সময় ছাত্রলীগের করা গুলিতে পথচারী আনসার-ভিডিপির সদস্য সোহেল রানাও আহত হন। বিএনপি নেতারা বলেন, ক্ষমতায় থাকার সময় সাবেক মন্ত্রী দুলু নাটোরের কানাইখালীতে সকল দলের নেতাকে এক মঞ্চে নিয়ে নাটোরকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তার সময়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে নাটোর শহর ছাড়তে হয়নি, এমনকি কোনো নেতার বাড়িও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি। অথচ এখন তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি সাবেক মন্ত্রী দুলু ও নবম সংসদে এক লাখ ১৮ হাজার ভোট পেয়ে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমনি ছবিকে নাটোরে তাদের নিজের বাড়িতেই আসতে দিচ্ছেন না বিনা ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের এমপি মো: শফিকুল ইসলাম শিমুল। তারা নিজেরা নানা অপকর্ম করে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। এর আগেও যুবলীগ কর্মী ফারুক, পলাশ ও রাসুকে তারা নিজেরাই হত্যা করছে তা নাটোরবাসী সকলেই জানেন। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওই ঘটনার পর পরই নাটোর প্রেস ক্লাবে ছাত্রলীগের ডাকা সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুম নিজেই বলেছেন যে, নাটোর জেলা ছাত্রলীগ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারী কলেজের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর একটি মিছিল নিয়ে শহর থেকে কলেজে যাওয়ার পথে আলাইপুরে বেনুবেকারীর সামনে ওঁৎ পেতে থাকা যুবদল-ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সাবিনা ইয়াসমিন ছবির নির্দেশে তাদের ওপর বৃষ্টির মতো মুহুর্মুহু গুলি করে। এতে একজন ছাত্রলীগ নেতাসহ দুইজন আহত হয়। তার ওই কথাতেই প্রমাণ করে যে, ঘটনাটি একেবারেই মিথ্যা। কারণ পাঁচশ’ ছাত্রের মিছিলে বৃষ্টির মতো গুলিতে মাত্র দুইজন আহত হওয়ার কথা না। এটা যে কেউ বুঝতে পারেন। নাটোর জেলা বিএনপি অফিসে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সারোয়ার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাচ্চু, সাবেক এমপি ডা: সুুফিয়া হক, বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: আব্দুল কাদের মিয়া, নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমান তালুকদার এং সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন, নাটোর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র শেখ এমদাদুল হক আল মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান মহুয়া পারভীন লিপি, সিংড়া থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবর রহমান মন্টু, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আজগর আলী, নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সিংড়া পৌর বিএনপির সভাপতি দাউদার মাহমুদ ও নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোর্শেদা খাতুন রূপালী।

আওয়ামী লীগ নির্ভেজাল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্ভেজাল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই বার বার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং গণতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। কারণ তারা নির্ভেজাল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, সেজন্যই আওয়ামী লীগকে বার বার ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে এবং এখনও সেই ষড়যন্ত্র চলছে। ওবায়দুল কাদের আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর সংলগ্ন তিন নেতার মাজারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে গণতন্ত্র রয়েছে বলেই কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (সিপিইউ) ও ইন্টার পার্লামেন্টারী এসোসিয়েশন (সিপিএ)’র মত সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বের সংসদীয় গণতান্ত্রিক বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা স্বস্তি দায়ক পরিবেশে এ সম্মেলন দু’টিতে যোগদান করে দেশের গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির প্রশংসা করেছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়ার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, আপনারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেননি। এতে দেশের গণতন্ত্রের কি দোষ রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে নির্বাচন বানচাল করতে সব কিছুই করেছে। তারা নির্বাচন প্রতিহত করার নামে মানুষ হত্যা করেছে, নির্বাচন কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে, সরকারী সম্পত্তি ধ্বংস করেছে। সেতুমন্ত্রী বলেন, সহিংসতা, নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে মারা এবং সরকারী সম্পত্তি ধ্বংস করা কি গণতন্ত্র? সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বদরোদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্ব গঠিত যুক্তফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যে কোন জোটকে আমরা অভিনন্দন জানাই। কারণ এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই, আগামী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক। আরো নতুন নতুন জোট ও দলের সমন্বয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সম্পর্কে জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমরা ইউনেবল প্রার্থীকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেব। যে প্রার্থী জনগণের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য তাকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনিত করা হবে। এর আগে ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়াও জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ : ১৯-২১ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ১৯ থেকে ২১ ডিসেম্বর মামলাগুলোর যুক্তিতর্কের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক ড. আখতারুজ্জামান তা মঞ্জুর করেন। সেই সাথে আত্মপক্ষ সমর্থনে তার অসমাপ্ত বক্তব্য শেষ করতে বলেন। শুনানি শেষে বিচারক মামলাগুলের যুক্তিতর্কের শুনানির দিন ধার্য করেন। এর আগে বিএনপি নেত্রী সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়ে ১১টার দিকে তিনি আদালতে পৌঁছান। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে সময়মতো আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ৩০ নভেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালত। একই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বাতিল করে ৫, ৬ ও ৭ ডিসেম্বর যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করেন আদালত। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, ৩০ নভেম্বর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলোর ডাকা হরতালে নিরাপত্তার কারণে খালেদা জিয়া সময় অনুযায়ী আদালতে হাজির হতে পারেননি। তাই আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এর আগে গত ১২ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকাবস্থায় একই আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। দেশে ফিরেই তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। এর পর থেকে প্রতি সপ্তাহেই তিনি আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছিলেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। এ মামলার অপর আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

লেকহেড স্কুলের কয়েকজন সিরিয়ায় আইএসে যোগ দিতে গেছেন

রাজধানীর বেসরকারি লেকহেড স্কুলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন আইএসে যোগ দিতে গেছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। স্কুলটি নিয়ে সরকারের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ কথা বলেন। লেকহেড স্কুলের শাখাগুলো খুলে দিতে হাইকোর্টের রায় সাত দিনের জন্য স্থগিত করে মঙ্গলবার আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে স্কুলটির বিষয়ে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চের আদেশ অনুযায়ী নতুন ম্যানেজিং কমিটির পর চালু হবে লেকহেড স্কুল। সাত দিনের মধ্যে স্কুলটির নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন আদালত। ম্যানেজিং কমিটিতে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি ও স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাকে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সাত দিনের সময়সীমা পার হলে নতুন কমিটি স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্কুলটির পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। গত ৬ নভেম্বর গুলশান ও ধানমণ্ডির দুটি শাখাসহ লেকহেড স্কুলের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সালমা জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন না নেয়া প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় উগ্রবাদ, উগ্রবাদী সংগঠন সৃষ্টি, জঙ্গি কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতাসহ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত। পরে স্কুল বন্ধের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালত ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন। এতে স্কুলটি বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

গজারিয়ায় বাস খাদে পড়ে ৩৬ যাত্রী আহত।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ভবেরচর বাসষ্ট্যান্ড ও বাউশিয়া এলাকায় পৃথক দুইটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬ যাত্রী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত যাত্রী মো: গিয়াস উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টায় ঢাকামুখী জোনাকী পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৯৩০৯) ভবেরচর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় আসলে বিপরীতমুখী সবজি বোঝাই একটি পিকআপ ও একটি সিএনজিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় এটি রাস্তার পাশে খাদে পরে যায়। এঘটনায় আহতরা হলেন- জুলেখা বেগম (৫০), মো: জুয়েল মিয়া (১৮), রিপন মিয়া (২৬), লিটন হোসেন (৩০), জহুর আলী (৩০), আব্দুস সালাম (৩৫), খোকন মিয়া (২৫), নিলা আক্তার (৪০), রোজি আক্তার (৩৫), আবু মুসা (৬০), তন্ময় হোসেন (২২), রেজাউল মিয়া (৪০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), গিয়াস উদ্দিন (৪৫) ও অহেদ আলীসহ(২৭) ৩০ যাত্রী। গজারিয়ার টেংঙ্গারচর ইউনিয়নের মীরেরগাও এলাকার নূরহোসেনের স্ত্রী জুলেখা বেগম ও কুমিল্লার দাউদকান্দি জিংলাতলা গ্রামের মো: জজ মিয়ার ছেলে মো: জুয়েলকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ীর সার্জেন্ট যতিন ভক্ত জানান, জোনাকী পরিবহনের বাসটি বিপরীত মুখি কাঁচামালবাহী পিকআপকে পাশ কাটাতে গিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পরে গিয়ে এ দুঘটনাটি ঘটে। আহতদেরকে উদ্ধার করে নিকটতম হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে সকাল সাড়ে ৭টায় বাউশিয়া এলাকায় মেঘনাম ষ্ট্রীল কারখানার সামনে ঢাকামুখী অনির্বাণ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহি বাস (ময়মনসিংহ জ-১১-০০৬৫) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে খাদে পড়ে গিয়ে ৬ যাত্রী আহত হয়।

প্রধানমন্ত্রী আমার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন: খালেদা জিয়া

নিজের প্রতি আনা দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সময় আমার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। আর আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারাও অসত্য বলেছেন। মঙ্গলবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন দেয়া বক্তব্যে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। বেলা সাড়ে ১১টার কিছু সময় পর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন বিএনপির প্রধান। এর আগে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন খালেদা জিয়া। এ সময় তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে দুটি আবেদন করা হয়। এগুলো হল- যুক্তিতর্ক স্থগিত করে আত্মপক্ষে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ এবং আত্মসমর্পণ করে জামিন।
খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়ার পাশাপাশি যুক্তিতর্ক শুরুর জন্য আদালতের দেয়া আগের আদেশ বাতিল করে আত্মপক্ষ সমর্থনের অনুমতি দেন আদালত। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এবং দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল। এর আগে বেলা সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বকশীবাজারে ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। গত ৩০ নভেম্বর দুর্নীতির এ দুই মামলায় খালেদা জিয়া হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে দুই মামলার শুনানির জন্য এই দিন ধার্য করেন। এর আগে চলতি বছরের ১২ অক্টোবর বিদেশে থাকাকালে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। ১৯ অক্টোবর দুই মামলায় আত্মসমর্পণ করে অস্থায়ী জামিন পান। এর পর থেকে মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন তিনি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুদক।  আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় অপর মামলা করা হয়।

স্কুলে ‘নির্বিচার হত্যা’র ছবি আঁকার হোমওয়ার্ক!

প্রাথমিক স্কুলে শিশুদের কত কিছুই আঁকতে বলা হয় এবং শেখােনা হয়। ফুল, ফল, গ্রামের দৃশ্য ইত্যাদিসহ সুন্দরতম জিনিসগুলো যা তাদের চিন্তা ও মননকে বিকশিত করে। কিন্তু এই কোমলমতি শিশুদের কি কখনো নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা আঁকতে বলা হয় বলে আমরা কখনো শুনেছি বা দেখেছি? হয়তো এই প্রথমবারের মতো কেউ শিশুদের দিয়ে আঁকানোর চেষ্টা করেছিলেন তেমন কিছু। অবশ্য তার পরিণতিও ভোগ করতে হয়েছে তাকে। যেতে হয়েছে কারাগারে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সেন্ট জো এলিমেন্টারি স্কুলে। “স্কুলে সন্ত্রাসী হামলা এবং হত্যা” এমন ভয়াবহ বিষয়কে আঁকতে বাড়ির কাজ দেয়ায় ৩৩ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষক রবার্ট পল আলেকজান্ডার এডওয়ার্ডকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার সেন্ট জো স্কুলের কর্তৃপক্ষ একটি ছবির সন্ধান পান, যেখানে দেখা যায় স্কুলে বন্দুকধারী হামলা করেছে। স্কুলের বাইরের দেয়ালে লাইন করে দাঁড় করিয়ে ছোট ছোট শিশুদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। ২ জন ব্যাক্তি মৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং তাদের চারপাশে রক্তের ছড়াছড়ি। আর স্কুল ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে সেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এদিকে, গ্রেফতারকৃত শিক্ষক এডওয়ার্ডকে ‘ম্যাকার্বি’ আর্টের অনুসারি হিসেবে উল্লেখ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। উল্লেখ্য- ম্যাকার্বি আর্ট একটি বিশেষ ধরণের অঙ্কন শিল্প, যা মৃত আত্মা বা মৃত্যু পরবর্তী ভৌতিক বিষয় নিয়ে অঙ্কন চর্চা করা হয়।

উত্তর কোরিয়ায় জাতিসংঘ কর্মকর্তার বিরল সফর!

কোরীয় প্যানিনসোলায় উত্তেজনা প্রশমনে গত ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত জাতিসংঘের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক প্রধান জেফরি ফেল্টম্যান চার দিনের ওই সফরে মঙ্গলবার পিয়ংইয়ং পৌঁছবেন। খবর বিবিসির। সেপ্টেম্বরে 'নীতিনির্ধারণী' আলোচনার জন্য অনানুষ্ঠানিক ভাবে জাতিসংঘকে উত্তর কোরিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানায় দেশটি। তবে তখন আমন্ত্রণ জানালেও সফরসূচি নিশ্চিত করা হয় ৩০শে নভেম্বর। গত সপ্তাহেই এ যাবত কালের সবচেয়ে শক্তিশালী আন্ত মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া । পিয়ংইয়ংয়ের দাবি নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দিতে সক্ষম। এ প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে বিরল এই সফরে যাচ্ছেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক  ফেল্টম্যান আগামী শুক্রবার পর্যন্ত পিয়ংইয়ং থাকবেন। এর আগে উত্তর কোরিয়ার হুমকির মুখে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় যৌথ বিমান মহড়া শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। পাঁচ দিনব্যপী ওই মহড়াকে উত্তর কোরিয়া উস্কানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সফরে ফেল্টম্যান উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে, দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার সাক্ষাত হবে না। এর আগে সর্বশেষ ২০১১ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের কর্মকর্তা ভ্যালেরি অ্যামোস উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পর খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায় আন্তর্জাতিক মহল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এক জরুরি বৈঠক ডেকেছিল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য। সেই সঙ্গে ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপানসহ প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাষ্ট্র।

দুর্নীতির দুই মামলায় জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ দুই মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানির আগে আত্মপক্ষ সমর্থনে বাকি বক্তব্য উপস্থাপনেরও সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৯ মিনিটে বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন খালেদা জিয়া। এ সময় তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারক ড. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। এর পরপরই জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে সপ্তম দিনের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল। এর আগে বেলা সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বকশীবাজারে ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর দুর্নীতির এ দুই মামলায় খালেদা জিয়া হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে দুই মামলার শুনানির জন্য এই দিন ধার্য করেন। এর আগে চলতি বছরের ১২ অক্টোবর বিদেশে থাকাকালে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। ১৯ অক্টোবর দুই মামলায় আত্মসমর্পণ করে অস্থায়ী জামিন পান। এর পর থেকে মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন তিনি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুদক। আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় অপর মামলা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হওয়ার শংকা

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পথে এগোনোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দখলকৃত ওই এলাকাকে একতরফাভাবে ইসরাইলিদের এলাকা বলে স্বীকৃতি দিলে নতুন করে সংকট দেখা দেবে বলে বিষয়টি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি ‘উদ্বিগ্ন’।  কারণ একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত নিলে তা ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন সংকট সৃষ্টি করবে। এর আগে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়া এবং সেখানে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে আরব লীগ ও বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্র। এদিকে ইসরাইলের মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়া হবে কিনা,  এ সিদ্ধান্ত আজই নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
জেরুজালেম অ্যাম্বাসি অ্যাক্ট নামের এক আইনের আওতায় ওই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। ওই আইন অনুযায়ী, চলতি বছর জুনে ট্রাম্প ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এবারও চাইলে ট্রাম্প ৬ মাসের জন্য সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখতে পারেন। দখলকৃত জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল উভয় রাষ্ট্রই নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র হুগান গিডলি অবশ্য জানিয়েছেন, ট্রাম্প জেরুজালেম ইস্যুতে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। এখন আর যদি-কিন্তুর বিষয় নয়; বিষয়টি দাঁড়িয়ে আছে- কখন ঘোষণা ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হবে তার ওপর। জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের অ্যাম্বাসি অ্যাক্ট ১৯৯৫ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর থেকে এ সময় পর্যন্ত সব প্রেসিডেন্টই ছয় মাস করে সময় নিয়ে তা দীর্ঘায়িত করেছেন।

নতুন ম্যানেজিং কমিটির পর চালু হবে লেকহেড স্কুল

আপাতত বন্ধই থাকছে লেকহেড গ্রামার স্কুলের ধানমণ্ডি ও গুলশান শাখা। স্কুলটির শাখাগুলো খুলে দেয়ার হাইকোর্টের রায় সাত দিনের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এ সময়ের মধ্যে স্কুলটির নতুন করে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ম্যানেজিং কমিটিতে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি ও স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাকে রাখার নির্দেশনা দেন আপিল বিভাগ। এই সাতদিনের সময়সীমা পার হলে নতুন কমিটি স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। গত ৬ নভেম্বর গুলশান ও ধানমন্ডির দুটি শাখাসহ লেকহেড স্কুলের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সালমা জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন না নেয়া প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় উগ্রবাদ, উগ্রবাদী সংগঠন সৃষ্টি, জঙ্গি কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতাসহ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত। পরে স্কুল বন্ধের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালত ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন। এতে স্কুলটি বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

সৌদি আরবে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের রিয়াদে আবদুল আজিজ মাতবর (৫০) নামে এক বাংলাদেশি  ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। তিনি শরীয়তপুর জেলার ডোমসার ইউনিয়নের সুজনদোহার গ্রামের হাজী নূর মোহাম্মদ মাদবরের ছেলে। রিয়াদে তার সোফা তৈরির কারখানা ছিল। রিয়াদের শিফা সানাইয়া এলাকায় স্হানীয় সময় সোমবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিহতের ভাই বাবুল মাদবর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আজিজ তার সোফা কারখানা থেকে বের হওয়ার পরই ওঁৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা তার সব কিছু ছিনিয়ে নেয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আজিজের মাথায় আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান এবং ছিনতাইকারীর গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের আরেক প্রবাসী ভাই তোফাজ্জেল মাতবর বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় মামলা করেছেন।

আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলেন খালেদা জিয়া

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৯ মিনিটে তিনি আদালতে পৌঁছান।
এর আগেই তার আইনজীবীরা আদালতে তিনটি আবেদন করেন।  আবেদনগুলো হলো- জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তি উপস্থাপন উত্তোলনপূর্বক আত্মপক্ষ সমর্থনের আবেদন এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাফাই সাক্ষী থেকে উত্তোলনপূর্বক আত্মপক্ষ সমর্থনের আবেদন। এরও আগে বেলা সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ দুটি মামলা বিচারাধীন। সেই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে তিনি আদালত পৌঁছেছেন। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর দুর্নীতির এ দুই মামলায় খালেদা জিয়া হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে দুই মামলার শুনানির জন্য এই দিন ধার্য করেন। এরও আগে চলতি বছরের ১২ অক্টোবর বিদেশে থাকাকালে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। ১৯ অক্টোবর দুই মামলায় আত্মসমর্পণ করে অস্থায়ী জামিন পান। এর পর থেকে মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন তিনি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেছে দুদক। আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় অপর মামলা করা হয়।

‘রেড ইউনিট’ ভয়ংকর

ঘোর বিপদে আছে আফগান সরকার। দেশটিতে চলমান তালেবানবিরোধী যুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে। আর এই যুদ্ধে বিশেষ করে আফগান পুলিশের রক্ত সবচেয়ে বেশি ঝরছে। অনেকেই ভাবছিল, দীর্ঘদিনের যুদ্ধে তালেবান হয়তো দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু তাদের ভাবনা ভুল প্রমাণ করে চলছে তালেবান। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল নিয়ে হাজির। তালেবানের কৌশলের কাছে আফগান পুলিশের পাশাপাশি সেনারাও মার খাচ্ছে। উদ্বেগ বাড়ছে কাবুলে। সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর জন্য রীতিমতো আতঙ্ক হয়ে উঠেছে ‘রেড ইউনিট’। এটি তালেবানের বিশেষ বাহিনী। এই বাহিনীর তৎপরতা ও কার্যকারিতা খোদ আফগান সরকারই অকপটে স্বীকার করেছে। রেড ইউনিট নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হচ্ছে। তাদের সামরিক কৌশল নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের পর্যন্ত ভাবিয়ে তুলেছে। নিউজউইক বলছে, রেড ইউনিটের গঠন ও কার্যক্রম দেখলে মনে হয়, তালেবানের এই এলিট ইউনিট যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের বিশেষ বাহিনীর অনুকরণে গড়া। রেড ইউনিটকে উন্নত অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একটি দক্ষ বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছে রয়টার্স ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। ২০১৫ সালে তালেবান কিছু ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে তাদের যোদ্ধাদের শারীরিক অনুশীলন করতে দেখা যায়। তারা অস্ত্রেরও প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। ছবিগুলো থেকে ধারণা করা হয়, তালেবান একটি এলিট ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। আফগান কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রেড ইউনিটের সদস্যসংখ্যা কয়েক শ হবে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে তারা আকস্মিক হামলা চালাচ্ছে। হামলা চালানোর পর তারা দ্রুত অন্যত্র সটকে পড়ছে।
তাদের কাছে রাশিয়ায় তৈরি নাইট ভিশন গগলস আছে। আছে ৮২ এমএম রকেট, ভারী মেশিনগান, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অ্যাসল্ট রাইফেল। রাইফেলের সঙ্গে যুক্ত করা আছে লেজার। লেজারের নিখুঁত নিশানায় ইতিমধ্যে বহু আফগান পুলিশ ও সেনা প্রাণ হারিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তালেবানের হামলার ধরন দেখে আফগান কর্তৃপক্ষের মনে হয়েছে, জঙ্গিরা সরকারি বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের চেয়ে অধিকতর আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। এমনকি তারা সেনা বা পুলিশের গাড়ি চুরি করে তা হামলার কাজে লাগাচ্ছে। তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশ পেরে উঠছে না। কারণ, পুলিশের অস্ত্রশস্ত্র ততটা আধুনিক নয়। রেড ইউনিটের অস্ত্রশস্ত্র বিশ্লেষণ করে আফগানিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান ও পাকিস্তানে তৈরি। উন্নত অস্ত্রশস্ত্রগুলো পাকিস্তানের কালোবাজার থেকে সংগ্রহ করে থাকতে পারে তালেবান। আবার যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত আফগান সেনাদের কাছ থেকেও তারা তা নিতে পারে। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের দাবি, যুদ্ধে পরাজিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে তাঁরা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করেছেন। এখন তা সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধেই ব্যবহার করছেন। রেড ইউনিটের আধুনিক সমরাস্ত্রের উৎস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের সন্দেহের তির রাশিয়া ও ইরানের দিকে। পাশাপাশি তালেবানের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পাকিস্তানের নাম তো অনেক আগে থেকেই বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। রেড ইউনিট যে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, তা টের পাওয়া যায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের কথাবার্তায়। ফারাহ প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য দাদুল্লাহ কানি বলেন, ‘পরিস্থিতি শোচনীয়। তালেবান পুরো প্রদেশ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের হাতে আছে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র।’ কান্দাহার প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র কুদরতুল্লাহ খুশবাকত বলেন, যুদ্ধে তালেবান এখন ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। তাদের নিজস্ব ভ্রাম্যমাণ বিশেষ ইউনিট আছে। এই ইউনিটের হাতে রয়েছে লেজার ও নাইট ভিশন প্রযুক্তি। এ দিয়ে তারা রাতের অন্ধকারে দেখতে পায়। তারা হুটহাট তল্লাশিকেন্দ্র ও ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। বিমান হামলা এড়াতে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ছাড়ছে। হামলার ক্ষেত্রে রেড ইউনিটের নাইট ভিশনসহ বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার প্রসঙ্গে অনেকটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল দৌলত ওয়াজিরি। তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘শত্রুরা আমাদের দেখতে পারছে। কিন্তু আমরা তাদের দেখতে পারছি না।’ আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিরা অনেক দিন ধরে আধিপত্য ছড়ানো জঙ্গি ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঘটেছে। আইএসের আবির্ভাবে আফগানিস্তানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তালেবান আধিপত্য। বদলে গেছে আফগান যুদ্ধের হিসাব-নিকাশ। বিশ্লেষকদের ধারণা, আফগান সরকার ও আইএস-উভয় প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতেই তালেবান বিশেষ ইউনিট গঠন করেছে। তালেবান এলিট বাহিনীর প্রতাপ ও আইএসের প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা বাড়ানোর বিষয়ে মাস কয়েক আগে ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত কাবুলের জন্য আপাতত স্বস্তিরই বটে।

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আদেশ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় দফার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশ পুরোপুরি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল ৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছেন, এতে প্রশাসনের তরফে জারি করা ৮টি দেশ থেকে সব ধরনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া যাবে। ৮ দেশের মধ্যে ৬টি প্রধানত মুসলিম দেশ। দেশগুলো হলো ইরান, সিরিয়া, সোমালিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন, চাদ ও উত্তর কোরিয়া। এর বাইরে ভেনেজুয়েলার কিছু নাগরিক ও গোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিধান ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে রয়েছে। এর আগে প্রথম দফার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের আদালত স্থগিত করে দেন। পরে চলতি বছরের জুলাইয়ে দ্বিতীয় দফায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন। সেটিও আদালত স্থগিত করে দেন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তৃতীয় নির্বাহী আদেশ জারি করে। এই আদেশে ইরাককে বাদ দিয়ে ৬টি দেশের কথা বলা হয়। সেটি আংশিক কার্যকর করা হয়েছিল বেশ কয়েক মাস আগে।
সুপ্রিম কোটের গতকালের রায়ের পর তৃতীয় দফার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশটি পুরোপুরি কার্যকর করার ক্ষমতা পেল যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন দপ্তর। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে যেকোনো নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ওই দেশগুলোর যত নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে পড়াশোনাসহ অন্যান্য কাজে আছেন, তাদের সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে খবর দিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তবে সব দেশের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না-ও হতে পারে। যেমন, ইরান থেকে এখনো পড়াশোনার প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্যরা প্রবেশ করতে পারবে বলে বলা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আদেশ আগে সুপ্রিম কোট আংশিক অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন কেন পুরোপুরি অনুমোদন দিলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর ও বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, সুপ্রিম কোটের অবস্থান পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বড় আইনি বিজয়ের সমতুল্য। কেননা, আগে সংবিধান ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আদালতগুলো এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা স্থগিত করে দিয়েছিলেন।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আসছে

থার্ড কমিটির পর এবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিযোগে একটি প্রস্তাব পাস হতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার জেনেভায় কাউন্সিলের ২৭তম বিশেষ অধিবেশনে আলোচনা শেষে যে প্রস্তাবটি গৃহীত হতে যাচ্ছে, এর খসড়ায় রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। জেনেভার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের অনুরোধে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ‘মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী ও অন্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক অধিবেশনটি ডেকেছে। এখন থেকে এক দশক আগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অধিবেশন ডেকেছিল জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল। ২০০৭ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের পঞ্চম বিশেষ অধিবেশনে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর একটি প্রস্তাব পাস হয়েছিল। প্রস্তাবটিতে মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমনের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি কারাবন্দী সব রাজনীতিবিদকে মুক্তির দাবি করা হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের অনুরোধে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিশেষ অধিবেশনটি ডাকা হয়েছে। এ ধরনের অধিবেশন ডাকতে হলে ৪৭ সদস্যের কাউন্সিলে ন্যূনতম ১৬টি দেশ বা এক-তৃতীয়াংশ সমর্থনের প্রয়োজন। এ পর্যন্ত সৌদি আরব ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপানসহ কাউন্সিলের ৩৩টি সদস্যদেশ ও ৪০টি পর্যবেক্ষক দেশ বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে। গত রোববার ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিশেষ ওই অধিবেশনে এখনো দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু চীন ও ভারতের সমর্থন পায়নি বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সমস্যা দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানের জোরালো সমর্থন চীন এ নিয়ে আগ্রহী নয়। থার্ড কমিটির মতো এখানেও চীন বিরোধিতা করতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে। জানা গেছে, এ ধরনের বিশেষ অধিবেশনের পর সভাপতির বক্তব্য কিংবা প্রস্তাব গ্রহণ দুই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশের অনুরোধে আহূত অধিবেশনটিতে প্রস্তাব পাসের উদ্যোগ বাংলাদেশ এক মাস আগেই নিয়েছে। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ গত মাসে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি সই করায় কোনো কোনো দেশ প্রস্তাব পাস না করার পক্ষে তৎপরতা চালাচ্ছে। থার্ড কমিটি নামে পরিচিত জাতিসংঘের সামাজিক, মানবিক ও সংস্কৃতিবিষয়ক ফোরামে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিপুল ভোটে প্রস্তাব পাসের ১৮ দিন পর জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে একটি প্রস্তাব পাস হতে যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হওয়ার পর এটি নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে কিংবা সর্বসম্মতভাবেও তা পাস হতে পারে। খসড়া প্রস্তাবটিতে থার্ড কমিটির উপাদানগুলো থাকার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনসহ তাদের অধিকার সুরক্ষার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে বাড়তি কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশনে প্রস্তাব পাসের তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকেরা বলেন, সাধারণ কাউন্সিলের নিয়মিত অধিবেশনে পাস হওয়া প্রস্তাব মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আছে। বিশেষ অধিবেশনের প্রস্তাবও সেভাবে অনুসরণ করতে হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিলে প্রস্তাবটি পাস হওয়া যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

চালু হচ্ছে অ্যাপ, ডাকলেই অটোরিকশা!

অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা যুক্ত করার চেষ্টা চলেছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসেই এই সেবা রাজধানীবাসীকে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে একটি প্রতিষ্ঠান। তবে অ্যাপে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসেবা চালুর ব্যাপারে এখনো মালিকদের সায় মেলেনি। তা ছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চায়—বিদ্যমান নীতিমালাতেই চলুক সিএনজিচালিত অটোরিকশা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উবার-পাঠাও জনপ্রিয় হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদও অ্যাপে আসতে চায়। এ নিয়ে তারা একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনাও করেছে। ‘টপ আই আই’ নামের ওই প্রতিষ্ঠান ‘হ্যালো রাইড শেয়ারিং (হ্যালো সিএনজি)’ অ্যাপ চালুর উদ্যোগও নিয়েছে। টপ আই আইয়ের সমন্বয়ক এস এম জামাল প্রথম আলোকে বলেন, অ্যাপে সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও গাড়ির সেবাও পাওয়া যাবে। তবে শুরুটা হবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে। এস এম জামাল বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে পরিবহনসেবা চালু হওয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চাহিদা কমেছে। তাই অটোরিকশাকে এই প্রক্রিয়ায় আনতে পারলে চালকেরাও যাত্রী পাবেন, ভাড়া নিয়ে খিটিমিটি থাকবে না। জামাল জানান, বিআরটিএর সঙ্গে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। বিআরটিএ তাঁদের জানিয়েছে, যে নীতিমালা আছে, সে অনুযায়ী চালাতে। ভাড়ার বিষয়ে জামাল বলেন, মিটার–পদ্ধতিতে ভাড়ার যে তালিকা, অ্যাপেও সে অনুযায়ীই ভাড়া ঠিক হবে। অ্যাপটি বাংলায় হবে। টপ আই আই চালকদের কাছ থেকে ‘ট্রিপ’–প্রতি ৫ শতাংশ কমিশন নেবে। প্রতিষ্ঠানটি চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তদারকিও করবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ৫০০ চালককে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাঁদের পরিকল্পনা, জানুয়ারি মাসের শুরুতেই যেন অ্যাপে সিএনজিসেবা রাজধানীবাসী ভোগ করতে পারেন। সিএনজির মালিকপক্ষ রাজি কি না, তা জানতে চাইলে এস এম জামাল বলেন, মালিকপক্ষ প্রথমে সিএনজিচালিত ৫০টি অটোরিকশা দিতে চেয়েছে। তবে প্রত্যেক চালককে একটি করে স্মার্টফোন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। জামাল বললেন, মালিকপক্ষ এ প্রক্রিয়ায় আসতে চায় না।
এর পেছনে কারণ, সে ক্ষেত্রে মালিকেরা নির্ধারিত জমার টাকার চেয়ে বেশি নিতে পারবেন না। মালিকপক্ষ না চাইলে কীভাবে এটা চালু হবে, সে প্রসঙ্গে বলেন, তাঁরা প্রথমে চালকদের উদ্বুদ্ধ করবেন। তিনি আশাবাদী চালকেরা রাজি হলে মালিক পক্ষও রাজি হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্যসচিব সাখাওয়াত হোসেন দুলাল জানান, সবকিছু ডিজিটাল হচ্ছে, তাই তাঁরাও পিছিয়ে থাকতে চান না। চার মাস আগে থেকেই তাঁরা প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করেছেন। জানুয়ারি মাসে অ্যাপের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা মহানগর অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু প্রথমে আলোকে বলেন, অ্যাপে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতে তাঁরাও চান। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তবে তার আগে বৈধতা লাগবে। এখনই তা শুরু করা যাবে কি না, সেটা বলা যাচ্ছে না। তিনি চালকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘ওনারা আন্দাজে ঘোষণা দেন, গাড়ি আছে তাঁদের? তাঁরা কার সঙ্গে, কীভাবে কথা বলে জানি না।’ তিনি আরও বলেন, সরকার রাইড শেয়ারিং নিয়ে যে নীতিমালা করছে, সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, তা দেখতে হবে। বিআরটিএর অনুমোদন লাগবে। বিআরটিএর পরিচালক (অপারেশন, চলতি দায়িত্বে) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান নীতিমালা বজায় রেখে যদি তারা অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রী পেতে চায়, আসতে পারে।

ধসের কোনো চিহ্ন ছিল না তাঁর আচরণে

হালকা ছাই রঙের স্যুট, সাদা শার্ট আর প্রিন্টের টাই পরা শেখ আবদুল হাই বাচ্চু সপ্রতিভই ছিলেন। আত্মবিশ্বাসী গলায় বলে গেলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগই এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সরকারি খাতের সবচেয়ে ভালো ব্যাংকটি ধসের কোনো চিহ্ন ছিল না তাঁর আচরণে, কথাবার্তায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নোটিশ পেয়ে গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংস্থাটির কার্যালয়ে এভাবেই হাজির হয়েছিলেন বেসিক ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যান। সেখানে দুদকের কর্মকর্তারা প্রায় চার ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি মুখে হাসি নিয়েই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। বেরিয়ে যাওয়ার সময়ই তিনি দুই হাত উঁচু করে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে বলেন, এখনো তদন্ত চলছে, তার আগেই যেন গণমাধ্যম কোনো উপসংহার না টানে। এদিকে গতকালই দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবদুল হাইকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়নি, তাঁকে আবারও ডাকা হবে। ব্যাংকের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার প্রায় চার বছর পর এই প্রথম দৃশ্যমান কোনো আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলেন আবদুল হাই বাচ্চু। ২০১৪ সালের ৬ জুলাই বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর এই প্রথম প্রকাশ্যেও এলেন তিনি। চেয়ারম্যান থাকার মেয়াদে ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে মাত্র ১১ মাসে নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে ঋণের নামে ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। চার বছর ধরে সমালোচনার মুখে থাকলেও সব রকম আইনি প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বেই ছিলেন তিনি। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির অনুসন্ধান শেষে ২০১৫ সালের শেষ দিকে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। কিন্তু কোনো মামলাতেই বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি। বাচ্চুর এ দায়মুক্তি পাওয়ার সমালোচনা হয়েছে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদ-ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞ মহলে এবং সর্বশেষ তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ২০১৫ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেসিক ব্যাংক জালিয়াতি নিয়ে বলেছিলেন, ‘জালিয়াতদের ধরতে বাধা নিজের দলের লোক।’ একই বছরের ৮ জুলাই অর্থমন্ত্রী সচিবালয়ে বলেছিলেন, ‘যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন, বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ আবার চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, ‘বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতিতে শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা ছিল।’ এ বছরেরই ২৯ মার্চ অর্থমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমিতে দুদক আয়োজিত দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষেও বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আবদুল হাই বাচ্চু অভিযুক্ত (হ্যাজ বিন ব্লেমড) হয়েছেন। এখন দেখা যাক দুদক কী ব্যবস্থা নেয়।’ অর্থ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও একাধিকবার আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। অবশেষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকলেও দুদক স্বেচ্ছায় এই উদ্যোগ নেয়নি। মূলত উচ্চ আদালতের নির্দেশেই দুদক বাধ্য হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আবদুল হাই বাচ্চুকে। বেসিক ব্যাংক ঘটনায় দুদকের করা ৫৬ মামলার মধ্যে একটি মামলায় অনিয়মের মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ছিল। সেই মামলায় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের আইন ও তদন্তের আওতায় এনে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে গত ২৬ জুলাই দুদকের প্রতি নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপরই তৎপর হয় দুদক। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরে গত ১৮ নভেম্বর বাচ্চুসহ পর্ষদের সাবেক ১১ জন সদস্যকে (পরিচালককে) তলব করে দুদক। ২২ নভেম্বর থেকে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। গতকাল পর্যন্ত বাচ্চুসহ ১১ জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্পন্ন হলো। জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া বাকি ১০ সাবেক পরিচালক হলেন বর্তমানে ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, অতিরিক্ত সচিব কামরুন্নাহার আহমেদ, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী আখতার হোসেন, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, এ কে এম কামরুল ইসলাম, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফখরুল ইসলাম, বিসিকের তৎকালীন চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক কাস্টমস কমিশনার শাখাওয়াত হোসেন, উত্তরণ নামের একটি পত্রিকার সহকারী সম্পাদক আনিস মাহমুদ এবং চাঁদপুর চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আকন্দ সেলিম। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচার দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ের ফটকে কালো প্রাডো গাড়িটি রেখে আবদুল হাই বাচ্চু হেঁটে ভেতরে ঢোকেন। সকাল পৌনে ১০টা থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন দুদকের পরিচালক জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবাল হোসেন। ওই দুই পরিচালকের নেতৃত্বে ৯ জন কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্ত কর্মকর্তারা একে একে পৃথক মামলায় বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। দুদক সূত্র জানায়, গতকাল মূলত ঋণের কাগজপত্র নিয়ে বাচ্চুর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। ঋণ অনুমোদনের বিভিন্ন কাগজ দেখিয়ে জানতে চাওয়া হয়, ওই সব কাগজে তিনিই স্বাক্ষর করেছেন কি না। বেশির ভাগ কাগজেই বাচ্চু তাঁর স্বাক্ষর শনাক্ত করেছেন। তবে এ সময় তিনি সব ধরনের অনিয়মের জন্য ব্যাংকটির সাবেক এমডি ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দায়ী করেছেন। বলেছেন, এমডির পক্ষ থেকেই সব কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়া হতো। তবে এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একাধিক পরিচালক বলেছেন, পর্ষদ সভা অনুষ্ঠানের নোটিশ দেওয়া হতো শেষ সময়ে; যাতে পর্ষদে তাঁরা প্রস্তুতি নিয়ে না আসতে পারেন। এমনও হয়েছে যে পর্ষদ সভা নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু হয়েছে এবং তাঁরা এসে দেখেন, সভা শেষ। সভার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলেও স্বাক্ষরের জন্য চাপ তৈরি করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। এসব অভিযোগের বিষয়েও সাবেক চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চান দুদকের কর্মকর্তারা। জবাবে আবদুল হাই বাচ্চু সবকিছুই অস্বীকার করেছেন। তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেন। বেলা পৌনে দুইটার দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিচে নেমে এলে সাংবাদিকেরা ঘিরে ধরেন তাঁকে। কিছুটা নিচু গলায় আবদুল হাই বাচ্চু বলেন, ‘যে অভিযোগগুলো দুদক তদন্ত অবস্থায় আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, সে উত্তরগুলো দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনবোধে আমি দুদককে আরও সহযোগিতা করব, যেটুকু আমার পক্ষে সম্ভব। যেটুকু আমার পক্ষে দেওয়ার সেটুকু দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ আপনার সময়ই ঋণের এই কেলেঙ্কারিটা ঘটে—এক সাংবাদিকের প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই উত্তরে আবদুল হাই বলেন, ‘অভিযোগটার এখনো তদন্ত চলছে, সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কাজেই এখন এভাবে বলা ঠিক হবে না।’ এরপর গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়ের মধ্য দিয়েই হেঁটে তিনি প্রধান ফটকে রাস্তার ওপর দাঁড়ানো কালো প্রাডো গাড়িতে করে চলে যান। জিজ্ঞাসাবাদ শুরুর আগে গতকাল সকাল ১০টার দিকে কার্যালয়ে ঢোকার মুখে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এ সময় বেসিক ব্যাংকের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দুদক চেয়ারম্যন বলেন, ‘আদালতের বিষয়ে আপনাদেরও প্রশ্ন করা ঠিক না, আমারও কথা বলা উচিত না।’ বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রীও অনেক কথা বলেছেন। তাঁর কথার প্রতিপালন হবে কি না জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘তিনি যেভাবে বলেছেন, পুরোপুরি সেভাবে তা হবে না। দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা। এখানে সবকিছু আমার হাতেও নেই।’ আবদুল হাইকে আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে এত বিলম্বের কারণ হিসেবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এখানে দীর্ঘসূত্রতা হয়েছে, টাইমলাইন মানা হয়নি এটা ঠিক। টাকাগুলো অনেক স্তরে ভাগ হওয়ায় বুঝতে সময় লেগেছে। বিলম্বের কারণে মামলার আলামত নষ্ট হবে কি না প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আলামত কি পচনশীল দ্রব্য যে নষ্ট হবে। সবই তো কাগজ।’ এর মধ্যে একটি আলামত হারিয়েছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, এ ঘটনায় একজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অভিজিৎ খুনের ছক জেনেছে পুলিশ

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের সিদ্ধান্ত হয়েছিল ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে। হত্যাকারীদের ওপর নির্দেশ ছিল অভিজিৎ রায় দেশে না আসা পর্যন্ত তাঁর বাবা অধ্যাপক অজয় রায়কে অনুসরণের। আর অভিজিৎ দেশে আসার পর তিনি কোথায় উঠেছেন, সে সম্পর্কে খুনিরা খবর পেয়েছিলেন অজয় রায়ের বাড়ির গৃহকর্মীর কাছ থেকে। অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে গত নভেম্বরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশি তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। গত ৫ নভেম্বর পুলিশের হাতে সোহেল ওরফে সাকিব, ১৭ নভেম্বর মোজাম্মেল হুসেইন ওরফে সায়মন এবং ২৪ নভেম্বর আরাফাত গ্রেপ্তার হন। সোহেল ও সায়মন আগেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সর্বশেষ গতকাল সোমবার জবানবন্দি দেন পুরস্কারঘোষিত আসামি সাজ্জাদ ওরফে শামস ওরফে আরাফাত। আরাফাত বলেছেন, তিনি ওই দলে চাপাতিসহই উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা ব্যর্থ হলে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল।  কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসামিরা তাঁদের বলেছেন ওই হত্যাকাণ্ডে মোট আটজন অংশ নেন। চারজন ছিলেন অপারেশন টিমে, বাকি চারজন ছিলেন ইন্টেল গ্রুপের। অপারেশন টিমের চারজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বাকি চারজনের দায়িত্ব ছিল অভিজিৎ রায়ের গতিবিধির ওপর নজর রাখা, ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে পালানো নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেওয়া। তিন আসামির মধ্যে সোহেল বিয়ে করেছেন সায়মনের বোনকে। সোহেলদের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারীতে। ঢাকায় সোহেল ব্যবসা করতেন। সায়মন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র ছিলেন। আরাফাত ঢাকা কলেজে পড়তেন, তবে পড়ালেখা শেষ করেননি। সায়মনের ল্যাপটপ থেকে তাঁদের টার্গেটে থাকা খুনিদের তালিকা পাওয়া গেছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা বলেছেন, তাঁরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান ও চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ জিয়াউল হকের নির্দেশে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে অজয় রায়ের পিছু নেন। তার আগে তাঁরা ঢাকার বাড্ডা ও দক্ষিণখানে সৈয়দ জিয়াউল হকের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন। তিনিই টার্গেট ঠিক করে দেন এবং প্রাথমিক তথ্য সরবরাহ করেন। আসামিরা জানতে পারেন, অধ্যাপক অজয় রায় বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশ নেন। তাঁরা রাজধানীর বিভিন্ন সভা-সেমিনারে যেতে শুরু করেন। একসময় তাঁরা অজয় রায়কে চিনে ফেলেন ও তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করেন। তাঁরা অজয় রায়ের বাসার সামনে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন, ওই বাসায় কে কাজ করে, কারা যাতায়াত করে, সব তথ্যই সংগ্রহ করে নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিজিৎ এসেছেন এ খবর তারা আচমকা পায়। বাড়ির গৃহকর্মীর সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারে অভিজিৎ রায় দেশে এবং তিনি ইন্দিরা রোডের একটা বাসায় উঠেছেন। এরপর তারা ইন্দিরা রোডের বাড়িটিও চিনে নেয়।’ ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশে এলেও তাঁরা অভিজিৎ রায়কে কাছ থেকে দেখেন বেশ পরে। তাঁরা অভিজিৎ বইমেলায় কখন আসেন, সে বিষয়ে খোঁজ নিতে তাঁরা জাগৃতি প্রকাশনীতে যান। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি যান বইমেলায়। সেদিনও তাঁদের হত্যার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু তাঁরা অভিজিৎকে খুঁজে পাননি। তাঁরা খুব কাছ থেকে অভিজিৎকে দেখেন একটি রেস্তোরাঁয়। যতক্ষণ তাঁরা রেস্তোরাঁয় ছিলেন, ততক্ষণই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা হাজির ছিলেন সেখানে। ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁরা অভিজিৎ রায়কে বইমেলায় পেয়ে যান। আসামিরা যে চারজন হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন তাঁদের নাম জানিয়েছেন পুলিশকে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁদের নাম প্রকাশ করতে চায়নি। এ বিষয়ে জানতে অভিজিৎ রায়ের বাবা অজয় রায়ের সঙ্গে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অভিজিৎকে তিনি বাংলাদেশে আসতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ তাঁকে জানান, তিনি টিকিট করে ফেলেছেন। মাকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে, একবার দেখেই চলে যাবেন। পুলিশের বক্তব্যে এখন কিছুটা আস্থা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। আর অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা প্রথম আলোকে গতকাল বলেন, তাঁদের দেশে আসার খবর খুব কম মানুষই জানত। তবে দেশে আসার পর অনেকেই তাঁদের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে। সেখান থেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা জানতে পারেন। তাঁরা ঘটনার দিন দুপুরে ধানমন্ডিতে একটি রেস্তোরাঁয় বিরিয়ানি খেতে গিয়েছিলেন বলেও জানান।

খালেদা জিয়া আদালতে হাজির

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির পৃথক দুটি মামলায় আদালতে হাজির হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তিনি রাজধানীর বকশী বাজারে বিশেষ জজ আদালতে-৫-এ হাজির হন। গত ৩০ নভেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। ওই দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে বাকি বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য হাজির না হওয়ায় এই আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আজ থেকে পরবর্তী তিন দিন এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাফাই সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য রয়েছে আজ। ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এর মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়াসহ চারজন।

চীনে পুরুষদের প্রতি নারীদের আনুগত্য শেখানোর স্কুলে তালা

নারীদের পুরুষদের প্রতি অনুগত হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয় এরকম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে চীনের কর্তৃপক্ষ। এই স্কুলে মেয়েদের বাবা, স্বামী এবং পুত্রের প্রতি শর্তহীন আনুগত্যে উৎসাহিত করা হতো। চীনের শিক্ষা বিভাগ বলছে, বন্ধ করে দেওয়া ঐ প্রতিষ্ঠান চীনা সমাজের ‘ঐতিহ্যগত গুণাগুণ বা মূল্যবোধ’ শেখার যে কথা বলতো তা ‘সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের’ পরিপন্থী। অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষকরা সেখানে নারীদের পরামর্শ দিচ্ছেন যে পুরুষদের হাতে মার খেলেও তারা যেন প্রতিরোধ না করে। একজন শিক্ষককে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘তোমাদের স্বামীরা যা করতে বলবে, তোমরা সাথে সাথে তা মেনে নেবে।’
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ফুশুন স্কুল অব ট্র্যাডিশনাল কালচার নামে ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নারীদের বলছেন, কেরিয়ার তৈরির জন্য মরিয়া না হয়ে তারা যেন সংসারে অনুগত হয়ে জীবনযাপন করেন। একটি ফুটেজে এক শিক্ষক নারীদের সাবধান করছেন - তারা যদি তিন জনের বেশি পুরুষের সাথে যৌনকর্ম করেন তাহলে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হবে। ঐতিহ্য শিক্ষা দেওয়ার নামে চীনে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরণের কিছু প্রতিষ্ঠান গজিয়েছে। সরকারি কর্তৃপক্ষ এ ধরণের প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফুশুন শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সমাজতন্ত্রের মূল শিক্ষা লঙ্ঘন করছে যারা, তাদেরকে ঠেকাতে হবে।’
সূত্র: বিবিসি

কাস্পিয়ান সাগরে বিদেশি সেনা মোতায়েন করতে দেয়া হবে না : ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী পাঁচ দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এই সাগরে কোনো বিদেশি সামরিক শক্তির উপস্থিতি মেনে নেয়া হবে না। তিনি কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী পাঁচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে সোমবার মস্কো পৌঁছে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন। জারিফ বলেন, কাস্পিয়ান সাগরের সম্পদ বন্টনের ব্যাপারে এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ৪৯টি বৈঠক হয়েছে। এ ছাড়া, শিগগিরই কাজাকিস্তানের রাজধানী আস্তানায় এসব দেশের শীর্ষ নেতাদের যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী পাঁচ দেশের মধ্যে এই সাগরের সম্পদ বন্টনের ব্যাপারে একটি কনভেনশন স্বাক্ষরের কাজ অনেকদূর এগিয়েছে বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই কনভেনশনের বাইরে এসব দেশ ১২টি সমঝোতাপত্রেও সই করবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সাগরে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজে এই সাগর তীরবর্তী পাঁচ দেশের পতাকা উত্তোলনের ব্যাপারে মতৈক্য হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ- কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী পাঁচটি দেশ হচ্ছে ইরান, রাশিয়া, আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তান ও কাজাকিস্তান। আজ মঙ্গলবার আরো পরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় এই পাঁচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্পের জামাতার সাথে সৌদি যুবরাজের গোপন সমঝোতা!

ফিলিস্তিন ও ইসরাইলে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও পরামর্শক জ্যারেড কুশনার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বৈঠক করেছেন। কিন্তু এই বৈঠকের কথা জানেন না মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের অর্থায়নে এই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে বলে কুশনার-মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘গোপন বৈঠকে’ আলোচনা হয়েছে। তিনটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটা দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এই বৈঠক নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। কারণ কুশনার এই বিষয়ে পররাষ্ট্র দফতর ও উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের কিছুই জানাননি। টিলারসনের আশঙ্কা, যদি এই বৈঠক ব্যর্থ হয় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়বে। শনিবার জেরুসালেম অনলাইনে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়াকভ নাজেল বলেছিলেন, সৌদি আরব ইরানের সাথে প্রভাব বিস্তারের ছায়াযুদ্ধে এতটাই মগ্ন যে তারা জেরুসালেমের সাথে ফিলিস্তিনিদের দূরে ঠেলে দেয়ার কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবে না।
সিরিয়ায় ব্রিটেনের সহায়তা পাচ্ছে উগ্রপন্থীরা
বিবিসি
সিরিয়ায় ব্রিটেনের দেয়া সহায়তা উগ্রপন্থীদের হাতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর একটি বৈদেশিক সহায়তা প্রকল্প স্থগিত করেছে ব্রিটিশ সরকার। বিবিসি প্যানারোমার অনুসন্ধানে বিষয়টি উদঘাটিত হয়েছে। সিরিয়ায় ব্রিটেনভিত্তিক একটি পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তারা নিষ্ঠুর দণ্ডাদেশ দেয়া একটি আদালতের সাথেও কাজ করছে বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সহযোগিতার অভিযোগগুলো ‘অত্যন্ত গুরুত্বের’ সাথে গ্রহণ করেছেন। ব্রিটিশ কোম্পানি অ্যাডাম স্মিথ ইন্টারন্যাশনাল ওই প্রকল্পটি চালায়। তারা অত্যন্ত জোরালোভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিরিয়ায় সরকারবিরোধী অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর ফ্রি সিরিয়ান পুলিশ (এফএসপি) বাহিনীটি গঠন করা হয়েছিল। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে, এমন উদ্দেশ্যে এফএসপি গঠন করা হয়। ২০১৪-এর অক্টোবর থেকে এই প্রকল্পটি চালাচ্ছে অ্যাডাম স্মিথ ইন্টারন্যাশনাল (এএসআই)। ছয়টি দাতা রাষ্ট্র এই প্রকল্পের জন্য অর্থ দিচ্ছে, ব্রিটেন তাদের অন্যতম।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিরিয়ার আলেপ্পো, ইদলিব ও দারা প্রদেশের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নিরস্ত্র বেসামরিক পুলিশ বাহিনী হিসেবে এফএসপি গঠন করা হয়েছে। তারা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সাথে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবে না এমন নির্দেশনাও ছিল। কিন্তু প্যানারোমার অনুসন্ধানে অনেক কিছুই উঠে আসে যার নির্দেশনা ছিল না এবং যা হওয়ারও কথা ছিল না। অনুসন্ধানের পর ওই প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্যানারোমার বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সংক্ষিপ্ত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে এমন আদালতের সাথে সহযোগিতা করছে পুলিশ, যে আদালতের এক রায় অনুযায়ী দুইজন নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যেভাবে ঢাকায় আনা হলো সোফিয়াকে

সারা বিশ্বে আলোচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নারী রোবট সোফিয়া মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে ঢাকায় পা রেখেছে। থাই এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে সোফিয়া। তার সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন নির্মাতা ডেভিড হ্যানসন। সোফিয়ার দেহের বিভিন্ন অংশ খুলে খণ্ড-খণ্ডভাবে বাক্সবন্দি করে ঢাকায় আনা হয়েছে। তার আগমন নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক কৌতুহল। তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরের প্রস্তুতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দেশের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি উৎসব ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধনী দিনেই সোফিয়া উপস্থিত থাকবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সঙ্গে থাকবেন তার নির্মাতা ড. ডেভিড হ্যানসন। ৬ ডিসেম্বর ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে সোফিয়াকে নিয়ে দু’টি সেশন করা হবে। প্রথম সেশনে দেশের পলিসি মেকার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বৈঠক হবে। দ্বিতীয় সেশনে থাকবে তরুণ গেম ডেভেলপার, সফটওয়্যার ডেভেলপার, অ্যাপ ডেভেলপার ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে আলোচনা। এছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে ড. ডেভিড হ্যানসন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। উল্লেখ্য, রিয়াদে গত অক্টোবর মাসে এক অনুষ্ঠানে রোবটটি প্রদর্শন করা হয়েছিল। প্রদর্শনীতে উপস্থিত শত শত প্রতিনিধি রোবটটি দেখে এতোটাই মুগ্ধ হন যে সেদিনই এটিকে সৌদি নাগরিকত্ব দেয়া হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সোফিয়ার ছবি শেয়ার হতে থাকে। সোফিয়া নানা বিষয়ে অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশাল তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত থাকে সে। এছাড়া মানুষের সঙ্গী ও সহযোগী হিসেবেও কাজ করতে পারে সোফিয়া। নারী রোবট ‘সোফিয়া’কে সৌদি নাগরিকত্ব দেয়া নিয়ে কেন এত বিতর্ক এর আগে রোবট নারী ‘সোফিয়া’কে সৌদি নাগরিকত্ব দেয়ার পর সেখানে এখন তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে এই রোবট একজন সৌদি নারীর চেয়েও বেশি অধিকার ভোগ করছে কিনা। সৌদি আরবের রিয়াদ নগরীতে গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে এই রোবটটি প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীতে উপস্থিত শত শত প্রতিনিধি রোবটটি দেখে এতটাই মুগ্ধ হন যে সেখানে সাথে সাথেই এটিকে সৌদি নাগরিকত্ব দেয়া হয়। রোবট নারী ‘সোফিয়া’র ছবি এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়। কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন একজন সৌদি নারীর তুলনায় কিভাবে ‘সোফিয়া’ এত বেশি অধিকার ভোগ করছে। হংকং এর একটি কোম্পানি ‘হ্যান্সন রোবোটিক্স’ সোফিয়া নামের রোবটটি তৈরি করেছে। ‘সোফিয়া’ ইংরেজীতে কথা বলে। কিন্তু তার মাথায় হিজাব বা পরনে আবায়া ‘বোরকা সদৃশ আচ্ছাদন’ নেই। অথচ যে কোন সৌদি নারীকে বাইরে বেরুতে হলে এসব পরেই বেরুতে হয়।
‘সোফিয়া’কে সৌদি নাগরিকত্ব দেয়ার খবরটি দেখে প্রথমত সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়া ছিলো বেশ ইতিবাচক। এই খবরটি টুইটারে তিরিশ হাজার বার শেয়ার হয়। কিন্তু এর পরেই শুরু হয় এটি নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ। ‘সোফিয়া কলস ফর ড্রপিং গার্ডিয়ানশীপ’ অর্থাৎ সোফিয়া তার ওপর অভিভাবকের খবরদারি তুলে নেয়ার দাবি জানাচ্ছে বলে আরেকটি বিদ্রুপাত্মক পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে থাকে। সৌদি রীতি অনুযায়ী কোন মেয়েকে বাইরে যেতে হলে সাথে অবশ্যই একজন পুরুষ অভিভাবক থাকতে হবে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, সোফিয়ার কোন পুরুষ অভিভাবক নেই, সে আবায়া ‘বোরকা’ পড়ে না, মাথায় কাপড় দেয় না। এটা কিভাবে সম্ভব? একটি নারী রোবটের অধিকার কি একজন সৌদি নারীর চেয়ে বেশি? যেরকম দ্রুততার সঙ্গে ‘সোফিয়া’কে সৌদি নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। সাংবাদিক মুর্তজা হোসেন লিখেন, ‘যে ‘কাফালা’ শ্রমিকরা তাদের প্রায় পুরোটা জীবন এখানে কাটাচ্ছেন তাদেরও আগে এই রোবট সৌদি নাগরিকত্ব পেয়ে গেল?’ ব্রিটিশ-লেবানীজ সাংবাদিক কারিম চাহায়েব লিখেন, ‘লাখ লাখ মানুষ যখন রাষ্ট্রবিহীন নাগরিক হিসেবে ধুঁকছে, তখন একটি রোবট সৌদি নাগরিকত্ব পেল।’ রোবট বর্তমান যুগে একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র, একটি কিতৃম মানুষ। যা মানুষের থেকে কয়েক গুন বেশি দ্রুত কাজ করতেপারে। কিন্তু বিশেষ মহলে প্রশ্ন আছে ‘এর বিচার-বিবেচনা কি মানুষের মত।’