Showing posts with label মুক্তমত. Show all posts
Showing posts with label মুক্তমত. Show all posts

Friday, July 4, 2014

তুমি সাংবাদিক হইছ? আগে তো দেশপ্রেমিক ছিলা! by তুষার আবদুল্লাহ

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র অর্ণব মেনে নিতে পারছে না যে, সাংবাদিকরাও দেশপ্রেমিক। তার কাছে সাংবাদিক স্রেফ সাংবাদিক। সাংবাদিকের কোনো মানবিক গুণাবলি নেই। অনুজ রিপোর্টার পারমিতা’র ছাত্র সে। পারমিতার হাতেই অ, আ জ্ঞান তার।  অর্নব পারমিতার হাতে মাইক্রোফন দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে, তার গুরু এখন আর দেশপ্রেমিক নেই। যুক্তি হলো, আগে পারমিতা মানুষকে বাঁচাতো। এখন সে আর মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করে না। শুধু ছবি’ই তুলে যেতে থাকে। অর্ণবের ভাবনায় মানুষকে হাসপাতালে না নিয়ে যে শুধু ছবিই তুলে যায়, সে কোনোভাবেই দেশপ্রেমিক হতে পারে না। অর্ণবকে পারমিতা হয়তো সাংবাদিকতার অ, আ শেখায়নি, শেখাতে মানবিক বিষয়গুলোতে ওর দৃষ্টি ফেরাতে চেয়েছিল।কিন্তু অর্ণব যে প্রশ্নটি তুলেছে, সেটি সাংবাদিকতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয়।যা নৈতিকতা এবং অনৈতিকতা’র দাঁড়িপাল্লাতে ঝুলছে অনেক দিন ধরেই।একেকবার একেক দিকে হেলে পড়ে মতামত। যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্বজিৎকে হত্যা করলো ছাত্রলীগ, তখন সেখানে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়েও এই প্রশ্নটি উঠেছিল। বলা হয়েছিল সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা যদি ছাত্রলীগকে ফেরাতেন,তাহলে হয়তো  নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হতো না বিশ্বজিৎকে।কিন্তু সাংবাদিকরা সেই কাজটি না করে বিশ্বজিতের মৃত্যু পর্যন্ত ছবি তুলেই গেছেন।বিশ্বজিতের মৃত্যুর পর সাংবাদিকদেরই একটি পক্ষ বলেছেন- সাংবাদিক হিসেবে যে দায়িত্বটি পালন করার সেটিই তারা করেছেন। এবং করেছেন বলেই বিশ্বজিৎ হত্যাকারীদের ছবি দেখে গ্রেপ্তার করা গেছে। তাদেরকে থামানোর দায়িত্ব সাংবাদিকের নয়। অন্যপক্ষ বলছে, সাংবাদিকরা যখন দেখতে পেলো যে ছাত্রলীগের কর্মীরা বিশ্বজিৎকে মেরে ফেলতেই উদ্যত হয়েছে। তখন তাদেরকে থামানো উচিত ছিলো। যদি বিষয়টা কেবল মারধোরের মধ্যে থাকতো তাহলে, সাংবাদিকরা ছবি তোলাতেই দায়িত্ব সীমিত রাখতে পারতেন।

সেখানেই শেষ নয়। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার সময়েও ঐ একই প্রশ্ন উঠছে। সাংবাদিকদের সামনে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষকে ঝলসে দেয়া, বার্ন ইউনিটে যখন মানুষ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে তখন সেখানে দাঁড়িয়ে লাইভ করা বা পিটিসি(পিস টু ক্যামেরা) দেয়া, এগুলো অনৈতিক বলেই প্রশ্ন উঠছে নিরন্তর।

একটি বাসে পেট্রোলবোমা ছোড়া হবে সেই খবর পেয়ে গিয়ে বসে থাকা, পেট্রোলবোমা ছোড়ার দৃশ্য ধারণ করা। রিকশায় ককটেল মারা খবর আগে থেকে পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছবি’টির জন্য। এগুলো সাংবাদিকতার নৈতিকতার মধ্যে পড়ে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। যদিও সাংবাদিকদেরই একটি অংশ বলছে সোর্সের কাছে খবর পেয়ে গিয়ে সাংবাদিক আগে থেকে অপেক্ষা করতেই পারেন। কিন্তু কেবল টিভি বা পত্রিকার ক্যামেরায় ছবি দেয়ার জন্য যদি কারো শরীর ঝলসে যায়, তাহলে তো নৈতিকতার প্রশ্ন উঠবেই। যার শরীরের ৬০ ভাগেরেও বেশি পুড়ে গেছে, জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যে, তার অনুভূতি জানা, তার সামনে দাঁড়িয়ে পিটিসি দেয়া কতোটা সমর্থনযোগ্য?

এখানে আবারো সাংবাদিকতাকে নৈতিকতার দাঁড়িপাল্লায় তোলা হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ‘বোকা বাক্সে’র মতোই কাজটি করে যাচ্ছে মহা উৎসাহে। বোকামি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে।এই কাজটি করার জন্য রিপোর্টারদের দায়ী করতে পারছি খুব কমই।কারণ এক-দুইবার তারা ভুল করে বা ইচ্ছে করে এই এধরনের কাজ করে ফেলতেই পারে। কিন্তু যাদের হাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ বা প্রচার হলো, তাদের দায় বেশি।তারা কেন প্রশ্রয় দিচ্ছেন? এটাতো সম্পাদকীয় নীতি’র অংশ। যদিও এখন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মূল সম্পাদকীয় নীতি হচ্ছে অনুকরণ। এই অনুকরণ নীতি নিয়ে চলছে যেসব টেলিভিশন চ্যানেল সেখানে অগোছালোপনা, বোকামি অপ্রতাশিত হতে পারে না।

অর্ণব খুদে দর্শক। কিন্তু তার পর্যবেক্ষণকে অশ্রদ্ধা করার সুযোগ নেই। রিপোর্টাররা যে টেলিভিশন নামক বাক্সটিতে যেমন খুশি তেমন করে যাচ্ছে, টেলিভিশনকর্তারা প্রতিযোগিতা,টিআরপি ধরে রাখার দোহাই তুলে বাক্সটিকে যেভাবে ব্যবহার করছেন, তার অসংগতিটা অর্নবের চোখেও পড়েছে।এই কাজগুলো করতে গিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নৈতিকতা, ঠিক-বেঠিকের কাণ্ডজ্ঞান ভুলে বসে আছে, তা মনে করিয়ে দিতেই হয়তো অর্ণবের কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হয়েছে: ‘তুমি তো সাংবাদিক হয়ে গেছো!’ অর্থাৎ, দেশপ্রেমিকের বা মানবিক গুণাবলীশূন্য হয়ে পড়ছেন সংবাদকর্মী বা রিপোর্টাররা।খুদে দর্শক অর্ণব আমাদের সেই ভাবনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
>>তুষার আবদুল্লাহ, পরিচালক (বার্তা) সময় টেলিভিশন

Monday, October 21, 2013

কর্মসংস্থানে পিছিয়ে নেই কৃষক বধূরাও by লিয়াকত হোসেন খোকন

কৃষক পরিবারের দ‍ারিদ্র বিমোচনে ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থান কিংবা বাড়তি আয়ের ব্যবস্থার পথ দেখাচ্ছে কোনো কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান। এজন্য দেশে দিন দিন কমছে দারিদ্রের হার।

ভিয়েতকংদের কোচি টানেল, গেরিলা যুদ্ধে অবিস্মরণীয় চিহ্ন by প্রণব সাহা

কোচি টানেলের কথা শুনেছিলাম ভিয়েতনামে নেমেই। গেরিলা যুদ্ধের অভিনবত্ব দেখাতে গাইড কেলভিন আমাদেরও নিয়ে গিয়েছিলেন সেই সুড়ঙ্গপথে। তার আগে গিয়েছিলাম মার্কিনীদের সঙ্গে যুদ্ধের সাজ-সরঞ্জাম আর হাজারো ছবি নিয়ে যুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরে।

এদেশে ক্ষুধার রং বদলেছে! by জিনিয়া জাহিদ

তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র একটি দেশ বাংলাদেশ। জনসংখ্যার চাপ আর সেই সঙ্গে অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত এ দেশটিতে ক্ষুধাই হল প্রধান সমস্যা।

Friday, October 18, 2013

গাইবেন নাচবেন কিন্তু বেসামাল হতে পারবেন না by প্রণব সাহা

ভিয়েতনাম দেশ হিসেবে আমাদের কাছে আকর্ষণীয়। মূলত, সেই দেশের বিপ্লবী কমিউনিস্টদের মার্কিনি সেনাদের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধে জয়ের জন্য। এ জন্য সুযোগ পেয়েই এক বাক্যে রাজি হয়েছিলাম, সেখানে যেতে।

Friday, October 11, 2013

সাদাসিধে কথা- বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

১.- কয়েক বছর আগে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে একটা ছেলে গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে মারা গিয়েছিল। আমি এ ঘটনার কথা কিছুতেই ভুলতে পারি না।

সমকামিতার অধিকার আদায়ে জাতিসংঘ চাপ দেয় কেন? by জিনিয়া জাহিদ

গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের পাঁচ দিন ব্যাপী এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জনসংখ্যা বিষয়ক ষষ্ঠ সম্মেলনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশের উপর জাতিসংঘ থেকে সমকামী অধিকার নিশ্চিত করার জন্য চাপ দেয়া হয়।

আর কতকাল রক্ষক হবে ভক্ষক! by জিনিয়া জাহিদ

ঘটনা ১- ১৯৯৫ সালের ২৩ আগস্ট। ইয়াসমিন নামের ১৪ বছরের এক কিশোরী ধানমন্ডির একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। বাড়ি দিনাজপুর।

Monday, October 7, 2013

পোশাকশিল্পের সমস্যা নিরসনে চাই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান by এইচ এম মহসীন

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শিল্পে রাহুর দশা কাটছেই না। গত এপ্রিলে সাভারের রানাপ্লাজায় ভবনধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের নির্মম মৃত্যু এবং গত বছর তাজরীন ফ্যাশনসে দেশের স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাংলাদেশের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোকে শ্রমিকদের মৃত্যুকূপ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি দিয়েছে।

গোপন তথ্যের সুরক্ষা চাইলে ফিরিয়ে আনুন টাইপরাইটার! by তপন চক্রবর্তী

আধুনিক যুগ পেরিয়ে আমরা এখন উত্তর আধুনিকতার শেষের দিকে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে।এযুগে এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া ভার যিনি প্রযুক্তির সর্বশেষ ভার্সন মুঠোফোনের সংস্পর্শ পাননি।

Thursday, October 3, 2013

ও আদুরী...!! by মাজেদুল নয়ন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) মেঝেতে বসে আছেন সাফিয়া বেগম।

প্রধানমন্ত্রী কি আদুরীর কপালেও স্নেহের চুম্বন আঁকবেন? by জিনিয়া জাহিদ

কঙ্কালের মতো ভাগাড়ে পড়ে ছিল আদুরী নামের হাড্ডিসার একটি শিশু। মহানুভব পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে উদ্ধার হয়ে ছোট্ট শিশুটির ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালে।

রিপোর্টার, তোমার সীমান্ত কোথায়? by তুষার আবদুল্লাহ

রিপোর্টারের কাজের সীমানায় কাঁটাতার তোলা হয়নি। খবরের যারা ভোক্তা সেই পাঠক, শ্রোতা, দর্শকের জন্য রিপোর্টার যে কোনো উপায়েই হোক খবর তুলে নিয়ে আসবেন।

Friday, September 27, 2013

সাদাসিধে কথা- অস্ট্রেলিয়ায় ঝটিকা সফর by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

১. যখন বয়স কম ছিল তখন দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর একটা শখ ছিল। এখন আর নেই। পৃথিবীর নানা বিচিত্র দেশের চেয়ে নিজের এই সাদামাটা দেশটাকেই বেশি ভালো লাগে।

ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিতের কথা থাকুক ইশতেহারে by ডঃ কেএইচএম নাজমুল হুসাইন নাজির

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কথাবার্তা-জনসভা, টক-শো, পত্র-পত্রিকা বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার নড়াচড়া দেখে মনে হয় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পালে মৃদু হাওয়া লেগেছে।

ফেনসিডিল, ইয়াবা ও ভারতীয় টিভি চ্যানেল by তুষার আবদুল্লাহ

ভারতীয় চ্যানেল দেখার সময় সংঘবদ্ধ দর্শক গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক। এরকম খবর কবে গণমাধ্যমে দেখা যাবে? অপেক্ষায় আছি এ ধরনের খবর প্রচারের।

কলে যদি সাড়া না দেই? by তুষার আবদুল্লাহ

সংবাদকর্মী হিসেবে আমাদের টেলিফোন নম্বরটি’র গোপনীয়তা নেই। অনেকটা ‘চাহিবা মাত্র নম্বর জানাইতে বাধ্য’র মতো অবস্থা।

আতাউস সামাদ: তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক গুরু by পলাশ মাহবুব

লেখালেখির অভ্যাসটা আগে থেকেই ছিলো। সেই পালে একটু হাওয়া লাগলো স্থায়ীভাবে ঢাকায় আসার পর। চোখে স্বপ্ন আর বুকের সাহস ছিলো পূঁজি।

গার্মেন্ট মালিকরা, শ্রমিকের কান্না কি শুনিতে পাও? by পীর হাবিবুর রহমান

ভাগ্যের চাকা ঘোরে গার্মেন্ট মালিকদের। পোশাকশিল্পের বিকাশ তাদের জন্য সৌভাগ্যের দুয়ার খুলে দেয়।

বিশেষ লেখা- ১০০ ডলার কি বেশি চাওয়া? by ইমদাদুল হক মিলন

আমার জাপানি বন্ধু তাকাহাসির বাংলাদেশ নিয়ে গভীর আগ্রহ। বাংলাদেশের যেকোনো দুর্ঘটনায় সে খুব বিচলিত হয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলন ইত্যাদি নিয়ে, মানুষের মৃত্যু নিয়ে দিশাহারা হয়।