Monday, April 7, 2014

কেমন হলো উপজেলা নির্বাচন? by এম সাখাওয়াত হোসেন

নানাবিধ অনিয়ম ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো পাঁচ ধাপের উপজেলা নির্বাচন। মোট ৪৫৮টি উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে বিভিন্ন কারণে আরও ২২টি উপজেলার নির্বাচন এখনো অসমাপ্ত। এটি ছিল চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন। ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি প্রায় ১৭ বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল তৃতীয় নির্বাচন।

বিড়াল দশতলার ছাদে উঠছে by আবুল হায়াত

লেখার বিষয় এত বেশি যে, ঠিক করতে পারি না কী নিয়ে লিখব। আজ মনে হলো পাঠকের সঙ্গে একটু হালকা আলাপই করি। নইলে সম্পর্কই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। নারী জাতি কেন বিড়ালকে এত পছন্দ করে, এই নিয়ে মনীষীরা অনেক ধন্দে থাকেন। কারণ, একটি পুরুষের যেসব গুণকে তারা ঘৃণা করে, তার প্রায় সবই বিড়ালের মধ্যে আছে। সে স্বাধীন থাকতে ভালোবাসে এবং কারও কথা শোনে না। ডাকলে কাছে আসে না, বাইরে রাত কাটাতে পছন্দ করে এবং যখন বাড়ি ফেরে, তখন একা থাকাটাই তার পছন্দ, এবং সে ঘুমাতে খুব ভালোবাসে।

পয়লা বৈশাখ হালখাতা by মাহবুব আলম

আমাদের ছেলেবেলার মফস্বল শহরে পয়লা বৈশাখ আর হালখাতা ছিল অনেকটা যমজ ভাইবোনের মতো। হাত ধরাধরি করে হাজির হতো দুজনে বছরের প্রথম দিনটিতে। বর্ষবরণের আনন্দ-মাতনে সেই ছোট শহর আর কতটুকুই বা মেতে উঠত। তবে বাজারের প্রায় সব দোকানেই বাংলা বছরের প্রথম দিনে ‘হালখাতা’ হতো বেশ ঘটা করেই। এই দিন দোকানে অতিথি-অভ্যাগতদের মণ্ডা-মিঠাই দিয়ে আদর-আপ্যায়ন করা হতো। আর সেটিই ছিল আমাদের ছেলেবেলার পয়লা বৈশাখের বাড়তি আকর্ষণ। অভিভাবকদের হাত ধরে আমরাও মাঝেমধ্যে সেই নিমন্ত্রণে হাজির হয়েছি। বড়দের মতো আমাদের প্লেটেও দেওয়া হয়েছে রসে ডুবুডুবু ধবধবে সাদা বড় রাজভোগ, ভেতরে ছোট ক্ষীরের পুঁটলিতে পোরা সুগন্ধি একটি এলাচদানা।

নতুন পরিকল্পনার নামে কী হচ্ছে? by সারওয়ার জাহান, রুখসানা হাফিয, মোহাম্মদ শাকিল আখতার, আফসানা হক, রেজওয়ানা রফিক ও অনিন্দ্য কিশোর দেবনাথ

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনার শিক্ষক হিসেবে ঢাকাসহ সারা দেশের পরিকল্পনার ব্যাপারে দৃষ্টি রাখা আমাদের পেশাগত ও গবেষণার দায়বদ্ধতার অংশ। নানা বৈশ্বিক সূচকে ঢাকার বসবাসযোগ্যতা, বায়ুর মান ইত্যাদির মাত্রা তলানিতে গিয়ে ঠেকার চিত্র প্রকাশিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষমাত্রই ঢাকার পরিকল্পনা, এর প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে জানতে উৎসাহী হবেন, এটাই স্বাভাবিক। উল্লেখ্য, যেকোনো পরিকল্পনাই আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে প্রণীত হয়। তার পরও নিয়মতান্ত্রিকভাবে জনস্বার্থ রক্ষাই পরিকল্পনাবিদের কাজ। কোনো গোষ্ঠীস্বার্থে গৃহীত পরিকল্পনায় কেবল নৈতিকতাই লঙ্ঘিত হয় না, দেশ-জাতি ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়তে পারে, সামাজিক ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হতে পারে, আর দুর্নীতি বা ফৌজদারি অপরাধের আশঙ্কা তো থাকেই।

ভারত-পাকিস্তান শান্তি কোন পথে? by টি ভি পল

ভারত-পাকিস্তান শান্তি আলোচনা দৃশ্যত ভারতের সাধারণ নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত হবে। নির্বাচনের পরও আলোচনা কতটা কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সম্ভাব্য বিজয়, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপটে তালেবানের আবার চাঙা হয়ে ওঠা এবং পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে আলোচনা কিংবা তাদের দমনে পাকিস্তানের অব্যাহত ব্যর্থতা—সবকিছুই চরম অনিশ্চয়তা ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দেয়।

আমার কথা শুনে মমতা হাসলেন- মুনমুন সেন

মুনমুন সেন। এই নামটিই যথেষ্ট। তাকে আর পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এক নামেই সবাই তাকে চেনেন। চেনেন তার পরিবারশুদ্ধ সবাইকে। কারণ, তিনি সুচিত্রা সেনের মেয়ে। রাইমা ও রিয়া সেনের মা। এসব পরিচয়ের বাইরে এবার তার আরেক পরিচয়- তিনি রাজনীতিতে নেমেছেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে। সিনেমার জগতের বাইরে এ এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

কোটি টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ by সোলায়মান তুষার

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের নেতারা কোটি কোটি টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রায় দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করা হয়েছে মঞ্চের নামে। শুধু তাই নয়, চাঁদাবাজির পর চাপে পড়ে কমপক্ষে ২০টি প্রতিষ্ঠানের টাকা ফেরতও দেয়া হয়েছে। মঞ্চের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও অস্বচ্ছতার প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনের এক পর্যায়ে নোট অব ডিসেন্ট দেয় ছাত্র ফেডারেশন।

ক্ষমতার দম্ভে জনগণকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ by কাজী সুমন

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র সভাপতি আসম আবদুর রব বলেছেন, এখন জোর যার ভোট তার, জোর যার কেন্দ্র তার। বিরোধী দলে থাকলে ভোটের অধিকার, আর ক্ষমতায় থাকলে নয়- এই সংস্কৃতিই প্রতিষ্ঠিত করেছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতার দম্ভে প্রতিনিয়ত জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে তারা। তবে দম্ভ দেখানোর দুঃসাহসকে জনগণ একদিন ধূলিসাৎ করে দেবে।

মোদি না রাহুল জটিল অঙ্ক ভারতে by পরিতোষ পাল

ভারতের ষোড়শ লোকসভা নির্বাচন নানা দিক থেকেই বেশ জটিল বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য জনমত সমীক্ষার একচেটিয়া রায়, পরিবর্তন হচ্ছেই। ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন হিন্দুবাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এক সময়ের প্রচারক এবং বর্তমানে গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএ শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করবে বলে একদল নিশ্চিত হলেও সরকার গঠন নিয়ে সংশয়ের কথাও বলছেন অনেকে। আর  জনমত সমীক্ষার ফল যে সব সময় মিলে যায় তা-ও নয়।

পুনর্গঠন ও আন্দোলনের যৌথপ্রস্তুতি বিএনপিতে by কাফি কামাল

উপজেলা নির্বাচনের পর আন্দোলন ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের নানামুখী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বিএনপিতে। একদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে কাউন্সিলসহ মহানগর কমিটি পুনর্গঠন অন্যদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলন।

বুশের তুলিতে বিশ্বনেতারা

বুশের তুলিতে পুতিন
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর সমালোচনার অন্ত নেই। তাঁর চোখে নাকি কেবল ‘সাদা আর কালো’ রং ধরা পড়ত। কিন্তু সেই জর্জ ডব্লিউ বুশের আঁকা চিত্রকর্মের প্রদর্শনী তাঁর নতুন একটি পরিচয় সবার সামনে হাজির করেছে। তুলির আঁচড়ে বিশ্বনেতাদের প্রতিকৃতি এঁকেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে বুশের নিজের গ্রন্থাগারে ওই প্রদর্শনী গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে। শিল্পীর বিনয়ী স্বীকারোক্তি, তিনি ‘বড় কোনো চিত্রশিল্পী নন’। কিন্তু শিল্পবোদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ লোকজন এসব চিত্রকর্ম দেখে বলতে বাধ্য হচ্ছেন, তুলির আঁচড়ে বুশের নৈপুণ্য প্রমাণ করে, তাঁর ভেতরে রাজনীতিক পরিচয়ের বাইরেও একজন ভিন্ন মানুষের উপস্থিতি রয়েছে। আর এতে করে জনগণের কাছে তাঁর ভাবমূর্তিও কিছুটা নমনীয় হতে পারে।
বুশের ক্যানভাসে ২৪ জনেরও বেশি বিশ্বনেতা ঠাঁই পেয়েছেন। গ্যালারিতে রয়েছে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের হাস্যোজ্জ্বল প্রতিকৃতি। আর জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে দেখা যাচ্ছে স্বভাবসুলভ ভঙ্গির চেয়েও বেশি উৎফুল্ল চেহারায়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ছবিও রয়েছে। এটি দেখতেই দর্শকেরা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি কৌতূহলী হবেন। কেজিবির সাবেক গোয়েন্দা পুতিনকে ছবিটিতে ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আর পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফের প্রতিকৃতিটি সম্ভবত সবচেয়ে অমনোরম হয়েছে। বুশের গ্যালারিতে আরও রয়েছে আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং প্রমুখ বিশ্বনেতার প্রতিকৃতি। বিবিসি।

আফগানিস্তানে শান্তিপূর্ণ ভোট

কাবুলের একটি ভোটকেন্দ্রে গতকাল বৃষ্টির মধ্যেও
ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় নারীরা। রয়টার্স
আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গতকাল শনিবার মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ভোট দেওয়া নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। যার ফলে ভোটকেন্দ্রে ছিল লম্বা লাইন। নির্বাচন বানচালে তালেবান জঙ্গিদের হামলার হুমকি আর শীত-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকেই শহরাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশে বিপুলসংখ্যক ভোটার ভোটকেন্দ্রগুলোতে যান। তবে শহরের বাইরে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।  দক্ষিণ কাবুলের লোগার প্রদেশে বিস্ফোরণে একজন নিহত ও দুজন আহত হন।
সারা দেশের অন্তত ছয় হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে ভোট গ্রহণ করা হয়। একে যুক্তরাষ্ট্রের পাতানো নির্বাচন আখ্যা দিয়ে নির্বাচনী কর্মকর্তা, ভোটার ও নিরাপত্তা বাহিনী লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য তাদের জঙ্গিদের আহ্বান জানিয়ে আসছিল তালেবান। তা সত্ত্বেও গতকাল দুপুর পর্যন্ত দেশটির কোথাও বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া যায়নি। আফগান নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে আটজন প্রার্থী রয়েছেন। তবে লড়াই হবে তিনজনের মধ্যে। তাঁরা হলেন আবদুল্লা আবদুল্লা, আশরাফ গনি ও জালমাই রসুল। আফগানিস্তানের স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের (আইইসি) প্রধান আহমাদ ইউসুফ নুরিস্তানি বলেছেন, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। তবে কত শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। আহমাদ ইউসুফ বলেন, শহরের তুলনায় গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোট কম পড়েছে। আফগানিস্তানের মোট দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে এক কোটি ৩৫ লাখ ভোটার। স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় ভোট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে কর্তৃপক্ষ এক ঘণ্টা সময় বৃদ্ধি করে। ভোট শেষ হয় পাঁচটায়। এএফপি ও বিবিসি।

সোনিয়া গান্ধীর ওড়না, নরেন্দ্র মোদির কলম

মুঠোফোনের কভারে প্রার্থী ও দলীয় প্রতীকের ছবি
কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর ছবি আঁকা ওড়না আর বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির ছবিখচিত কলম বিক্রি হচ্ছে দেদার। বিক্রি হচ্ছে টি-শার্ট, গয়না, মুখোশ ও মুঠোফোনের কাভার। আছে নকল ব্যালট বাক্সও। সব পণ্যের গায়ে রাজনৈতিক দলের স্লোগান অথবা নেতাদের ছবি রয়েছে। ভারতের সাধারণ নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনী পণ্যের বাজার। বিভিন্ন দলের প্রতীক ও নেতাদের ছবিসংবলিত পণ্যে ছেয়ে গেছে দেশটির দোকানপাট। দল ও প্রার্থীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষও এসব পণ্য কিনছেন। মূলত রাজনৈতিক দলগুলোই এসব পণ্য বাজারে বিক্রি করছে। আবার অনেক ব্যবসায়ী নিজেরাই অতিরিক্ত মুনাফার আশায় এসব পণ্য দোকানে তুলেছেন। হালের নির্বাচনী পণ্যের প্রধান বাজার হচ্ছে দিল্লির সদর বাজার। সেই বাজারের ব্যবসায়ী অনিল ভাই বলেন, ‘খদ্দেরদের আকর্ষণ করতে আমরা এ বছর নতুন কিছু পণ্য বের করেছি।’ চামান নামের অপর এক ব্যবসায়ী বলেন,
নির্বাচনে অনেকে প্রথম ভোটার হয়েছেন। সেসব ভোটারকে নকল ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি শেখাতে পারবেন প্রার্থীরা। নতুন পণ্যের মধ্যে রয়েছে থ্রি-ডি পকেটপঞ্জিকা, ঘড়ি ও মুঠোফোনের কাভারও। বিভিন্ন দল এসব পণ্য বেশি করে কিনছে। এ ছাড়া থ্রি-ডি হাতপাখা, দেয়ালঘড়ি, হাতের ব্যান্ডও এবার বাজারে এসেছে। রেহমান নামের এক চিত্রশিল্পী বলেন, ‘রাহুল (গান্ধী) যুব কংগ্রেসের মুখপাত্র। তাই আমরা পোস্টারে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে রাহুলের মুখ নিয়ে এসেছি। অন্যদিকে (নরেন্দ্র) মোদি উন্নয়নের প্রতীক। তাই আমরা অবকাঠামো ও তাঁর মুখ নিয়ে পোস্টার করেছি।’ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল ঘেঁটে এসব পণ্য বাজারে এনেছেন বলে জানান। তাঁদের লক্ষ্য একটাই, নির্বাচন ঘিরে অতিরিক্ত মুনাফা। ব্যবসায়ী চামান বলেন, ‘আমাদের নতুন পণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে গয়না। এটার উদ্দেশ্য হলো ভোটার ও একটি দলের মধ্যে বিয়ের সম্পর্ক স্থাপন করা।’ প্রধান দুই দল ছাড়াও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ছবি আঁকা হাতঘড়ি, দেয়ালঘড়ি ও মগও বাজারে বিক্রি হচ্ছে। হিন্দুস্তান টাইমস।

বিজেপির ঐক্যের প্রদর্শন

গতকাল গান্ধীনগরে নরেন্দ্র মোদি ও লালকৃষ্ণ আদভানি
গুজরাট রাজ্যের গান্ধীনগরে গতকাল শনিবার মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ও গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও এ সময় পাশে পেলেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে দলটির ঐক্যের একটা প্রদর্শনও হয়ে গেল। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে আদভানি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেন। আদভানি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি একজন দক্ষ প্রশাসক হবেন, এতে আমার কোনো সংশয় নেই। প্রশাসক হওয়ার মতো রেকর্ড তাঁর রয়েছে।’ মোদিই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মোদি ও আদভানির মধ্যে সম্পর্ক কয়েক বছর ধরেই ভালো যাচ্ছিল না। তবে দলের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই শীর্ষ দুই নেতা যে তাঁদের মতবিরোধ ভুলে গেছেন এবং আদভানির জন্য প্রচারণা চালাতে সবাই এককাট্টা হয়েছেন, সেই বার্তা দিতেই গতকাল ওই পরিকল্পনা নেওয়া হয়। গত বছরের জুন মাসে মোদিকে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণাবিষয়ক প্রধান করার পর ক্ষুব্ধ হন আদভানি। ওই ঘটনার পর তিনি দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেন।
এরপর গত সেপ্টেম্বর মাসে যখন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টি সামনে আসে, তখনো মোদিকে আটকানোর চেষ্টা করেন আদভানি। তবে সেখানেও তিনি হেরে যান। গান্ধীনগরে নির্বাচন করলে মোদি তাঁর জন্য কাজ করবেন না, এমন শঙ্কা থেকে আদভানি মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি গান্ধীনগর আসনেই মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন। আদভানির সম্পদ সাত কোটি রুপি: ভারতীয় জনতা পার্টির প্রবীণ নেতা এল কে আদভানি জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সাত কোটি রুপির সম্পত্তি আছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করা হলফনামায় তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। এ তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের হলফনামায় তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল সাড়ে তিন কোটি রুপি। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ। গতকাল শনিবার তিনি গুজরাটের গান্ধীনগর লোকসভা আসনে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।

নগর সরকারই ঢাকাকে রক্ষা করতে পারে

ইকবাল হাবিব
স্থপতি ইকবাল হাবিবের জন্ম ১৯৬৩ সালে। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। হাতিরঝিল প্রকল্পের এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড বিল্ডিং ডিজাইন প্রকল্প এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন নকশার সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নগরায়ণ ও সুশাসন-সংক্রান্ত উপকমিটির যুগ্ম সম্পাদক। প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন ঢাকার বর্তমান অবস্থা ও নগরপরিকল্পনা বিষয়ে।
l সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে এম জাকারিয়া

প্রথম আলো l ঢাকাকে আমরা মেগা সিটি বলি, শহরটির ওপর জনসংখ্যার চাপও অসম্ভব। এ ধরনের একটি শহরের জন্য পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি, কিন্তু ঢাকার ক্ষেত্রে তো পরিকল্পনার লেশমাত্র দেখা যাচ্ছে না। ইকবাল হাবিব l ঢাকাকে আমরা রাজধানী হিসেবে পাই ১৯৭১ সালের পর। ঢাকার পরিকল্পনা বলতে ১৯৫৯-৬০ সালের একটি পরিকল্পনা আমরা পাই।  কিন্তু রাজধানী হওয়ার পর আশির দশক থেকে বলা যায় দ্রুত নগরায়ণ শুরু হয়, সেটা অপরিকল্পিত। পঁচাত্তর-পরবর্তী সরকারগুলো ঢাকাকেন্দ্রিক ও কেন্দ্রীভূত সরকার হওয়ায় সরকার পরিচালনা থেকে শুরু করে দেশের প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সবকিছুরই কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় ঢাকা। ১৯৫৯-৬০ সালের যে মাস্টার প্ল্যান, সেখানে ঢাকার চারপাশের নিম্নাঞ্চল ও নদী, শহরের খাল, বিল-ঝিল—এসব রেখেই উন্নয়ন অর্থাৎ এই শহরটির যে প্রাকৃতিক গঠন, সেটা বিবেচনায় নিয়ে একধরনের জলের সঙ্গে বসবাসের পরিকল্পনা ছিল। আশির দশকে এসব বিবেচনায় না নিয়ে একধরনের লাগামছাড়া নগরায়ণ শুরু হয়। ১৯৫৯-৬০ সালের মাস্টার প্ল্যানও মানা হয়নি বা নতুন কোনো পরিকল্পনাও নেওয়া হয়নি। ফলে যাচ্ছেতাইভাবে শহরটি গড়ে উঠতে থাকে এবং এর যে প্রাকৃতিক গঠন ও ঐশ্বর্য ছিল, তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
প্রথম আলো l নব্বই-পরবর্তী সময়ে তো নগর পরিকল্পনা বিষয়টি আবার সামনে আসে, বেশ কিছু পরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়।
ইকবাল হাবিব l হ্যাঁ, ১৯৯৪ সালে ডিএমডিপি বা ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়। এটাই ঢাকার প্রথম কাঠামো পরিকল্পনা, ২০১৫ সাল মেয়াদি এই পরিকল্পনায় তিন বছরের মধ্যে ড্যাপ বা ঢাকার ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান তৈরির কথা বলা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ভূমি ব্যবহার ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দেশনা দেওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, যেদিন ড্যাপ পাস হয়, সেদিনই কিছুসংখ্যক ভূমি ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধি, যাঁদের অনেকে এসব ভূমি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁরা প্রবল আপত্তি তোলেন এবং ড্যাপ পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি কমিটি গঠন করে। ফলে ড্যাপ যেমন কার্যকর করা গেল না, তেমনি আমরা দেখলাম ড্যাপের পরিকল্পনায় যা ছিল তার অনেক কিছুই এরই মধ্যে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ড্যাপ পাস হওয়ার পর তা অমান্য করে যেসব কাজ হয়েছে, তা জায়েজ করার জন্য এখন সরকার রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান নামে নতুন কাঠামো প্ল্যান তৈরির পরিকল্পনা করছে।
প্রথম আলো l  যাঁরা ড্যাপের বিরোধিতা করছেন, তাঁরা কি এত শক্তিশালী যে তাঁদের কাছে সরকারও জিম্মি? শহরের ধ্বংসের বিষয়টিও সরকারকে মেনে নিতে হচ্ছে?
ইকবাল হাবিব l ড্যাপের বিরোধিতা করছেন ভূমি ব্যবসায়ীরা। যাঁরা গরিব মানুষের জমি কম দামে কিনে বড়লোকের কাছে বিক্রি করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন কিছু জনপ্রতিনিধি, যাঁদের অনেকে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর সঙ্গে আরও একটি বিষয় রয়েছে, তা হচ্ছে নির্বাচনী রাজনীতি ও আপাতজনপ্রিয়তা। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সব সময়ই কঠিন কাজ। যৌথ স্বার্থ নিশ্চিত করতে গেলে কখনো ব্যক্তিস্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে। ফলে ড্যাপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণকে সঙ্গে নেওয়া বা এর পক্ষে যথাযথ প্রচারণার যে উদ্যোগ সরকারের তরফে নেওয়া দরকার ছিল, তা নেওয়া হয়নি। ফলে ভূমি ব্যবসায়ীরা এর বিরোধিতার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু এই ভূমি ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কাছে তো ঢাকা শহর, এর নাগরিক ও শহরটির ভবিষ্যৎ ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না।
প্রথম আলো l ঢাকা শহরের জমির যে চাহিদা, তাতে ড্যাপ বাস্তবায়ন বাস্তবসম্মত কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন ভূমি ব্যবসায়ীরা।
ইকবাল হাবিব l দেখুন, ১৯৯৪ সালের ডিএমডিপি কাঠামো পরিকল্পনার অধীনে যে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ করা হয়েছে, সে অনুযায়ী নিম্নাঞ্চল, খাল বা জলাভূমি এসব অক্ষুণ্ন রেখে ঢাকা শহরে এক কোটি ৭৬ লাখ মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। ফলে যাঁরা বলছেন যে ঢাকা শহরের জমি কম, সে জন্য জলাভূমি ভরাট করতে হবে; তাঁরা আসলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে তাঁরা ঢাকা শহরটির সর্বনাশ করেছেন এবং চূড়ান্ত সর্বনাশ নিশ্চিত করতে ড্যাপের বিরোধিতা করছেন। সব মানুষের জন্য একটি আবাসন পরিকল্পনা থাকলে এই বিষয়গুলো এড়ানো যেত। সরকার বা বেসরকারি কোনো তরফেই এ ব্যাপারে আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না।
প্রথম আলো l এই অবস্থায় ঢাকার পরিণতি কী হতে পারে?
ইকবাল হাবিব l ড্যাপ বাস্তবায়ন করা না গেলে বা ঢাকার জলাভূমি, খাল বা নিম্নাঞ্চল রক্ষা করা না গেলে ডিএনডি বাঁধের যে পরিণতি হয়েছে, পুরো ঢাকাই সে পরিণতি পেতে পারে। ডিএনডি বাঁধ দেওয়া হয়েছিল ঢাকাবাসীর চাহিদা পূরণে কৃষি খামার করার উদ্দেশ্য নিয়ে। স্বাধীনতার পর আমরা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। মানুষ সেখানে আবাসন গড়েছে। এলাকাটি বিভিন্ন সময়ে সাত-আট ফুট পানির নিচে ডুবে থাকে। ঢাকার যে প্রাকৃতিক গঠন, আমরা যদি নিম্নাঞ্চল, জলাভূমি, খাল ও চারপাশের নদীগুলোকে ঠিকভাবে রক্ষা করতে না পারি, তবে
একসময় ডিএনডির পরিণতি হতে পারে এই শহরটির।
প্রথম আলো l এই প্রেক্ষাপটে সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
ইকবাল হাবিব l ঢাকার যে অবস্থা, তাতে বলা যায় আমরা একটি ক্রসরোডে এসে দাঁড়িয়েছি। এখনই সরকারকে দৃঢ়ভাবে ড্যাপসহ স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকারকে এই অবস্থান নিতে হবে যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ছাড়া অন্য কোনো বিবেচনা বা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে কোনো আপস করবে না। আমি মনে করি, সরকার যদি সময়নির্ভর ও জবাবদিহিমূলক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়, তবে ঢাকায় কাঙ্ক্ষিত জনবান্ধব, পরিবেশবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং এর বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব। হাতিরঝিলের মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে এ ধরনের অনেক কিছুই সম্ভব।
প্রথম আলো l কিন্তু ঢাকার মতো একটি শহর দেখভাল, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজটি করবে কে? কোনো একক কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তা জরুরি মনে করেন কি?
ইকবাল হাবিব l ঢাকাকে দেখভাল করার জন্য আগে ডিআইটি এবং পরবর্তী সময়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ছাড়া আসলে তেমন কেউ নেই। নগর পরিকল্পনা, ইমারত নির্মাণ অনুমোদন ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ—এ তিনটি মূল কাজ এই কর্তৃপক্ষের হলেও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ব্যবহারের কারণে এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই শহরটিকে সব মানুষের শহরে পরিণত করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ তারা নিতে পারেনি। তাদের উন্নয়ন-কাঠামোটি যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। তারা মূল যে কাজটি করেছে তা হচ্ছে, নিম্নাঞ্চল বা কৃষিনির্ভর জমি জনগণের কাছ থেকে সস্তায় কিনে বড়লোকদের দেওয়া। এ ধরনের কাজই তারা করেছে এবং এখনো করে চলেছে। আর শহরটি শুধু রাজউকের নিয়ন্ত্রণেও নেই, সরকারের প্রায় ১১টি মন্ত্রণালয় ও ৫৪টি সংস্থা ঢাকার নানা উন্নয়নকাজ ও দেখভালের সঙ্গে জড়িত। এগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। কার কী কাজ, সেটা স্পষ্ট নয়। ওয়াসা দীর্ঘদিন হাতিরঝিলকে সুয়ারেজ ও ড্রেনেজের কাজে ব্যবহার করেছে, এটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আবার সিটি করপোরেশনের। ঢাকা শহরের কোনো কিছু দখল হয়ে গেলে এক সংস্থা আরেক সংস্থাকে দায়ী করে। নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের এই জগাখিচুড়ি অবস্থা এই শহর নিয়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। একটি জবাবদিহিমূলক নগর সরকার এ ধরনের বিশৃঙ্খলা দূর করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথম আলো l বিচ্ছিন্নভাবে ড্যাপ বাস্তবায়ন কি ঢাকার সমস্যা দূর করবে?
ইকবাল হাবিব l ড্যাপ মূলত ঢাকা নগরের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা। আসলে ঢাকাকে একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই যে ঢাকামুখিতা বা ঢাকাকেন্দ্রিকতা, এটা দূর করতে পুরো দেশের প্রতি ইঞ্চি জায়গার সমন্বয়ে ভূমি ব্যবহারের ত্রিমাত্রিক ভৌত মহাপরিকল্পনা করতে হবে। এই কার্যক্রম কঠোরভাবে নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের পরিচালনার কার্যক্রম, শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের যে শহরগুলো রয়েছে যেমন টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ—এ শহরগুলোকে স্থানীয় সরকার-কাঠামোর অধীনে দ্রুত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রথম আলো l আমাদের সংসদ ভবন জগদ্বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের একটি সৃষ্টি। নিরাপত্তার নামে এই স্থাপনাটি বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
ইকবাল হাবিব l লুই কান যত কাজ করেছেন, তার মধ্যে আমাদের সংসদ ভবনটি সেরা। পরিসর, স্থাপনা ও বৃক্ষ—এই তিনের সমন্বয় ঘটেছে এখানে। সড়ক ও বৃক্ষ দিয়েই এর সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি যে মূল পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, সেটা ভুলে গেলে চলবে না। মেট্রোরেলের নামেও এই স্থাপনার নির্ধারিত এলাকার ৫০ মিটার জমি খেয়ে ফেলার উদ্যোগ চলছে। যা-ই হোক, সংসদ ভবনে বেড়া দেওয়ার বিরুদ্ধ স্থপতিরা মাঠে নেমেছেন। প্রতিবাদ করেছেন। শুনেছি যে এই উদ্যোগ বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মূল নকশা ফিলাডেলফিয়া থেকে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। আশা করছি, সংসদ ভবন ঘিরে বেড়া বানানোর উদ্যোগ থেকে সরকার সরে আসবে।
প্রথম আলো l আমরা দেখছি, এ ধরনের নানা ক্ষেত্রেই সরকার হুটহাট বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যেগুলোর মধ্যে কোনো পরিকল্পনার ছাপ দেখা যাচ্ছে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহর সাজাতে গিয়ে রাস্তার আইল্যান্ডে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে টয়লেটের টাইলস পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে।
ইকবাল হাবিব l এ ধরনের বিশ্বকাপ আয়োজন আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। এর মধ্য দিয়ে আমরা বাইরের লোকজনের কাছে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এসব তুলে ধরতে পারি। এর আগে সাফ গেমস বা সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আগে দেশের শিল্পী, ভাস্কর বা স্থপতি—এ ধরনের লোকজনকে ডেকে নিয়ে সরকারের তরফ থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে সামগ্রিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কী করা যায়, সে ব্যাপারে। কাজগুলোর বাস্তবায়ন পেশাদার ঠিকাদার থেকে শুরু করে যে কেউই করতে পারেন; কিন্তু কী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত তো একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার আওতায় এবং যথাযথ লোকজনের কাছ থেকে আসতে হবে। এবার দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি। প্রশাসকনির্ভর একধরনের ব্যবস্থা ও জবাবদিহির অভাব থাকলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
প্রথম আলো l আপনাকে ধন্যবাদ।
ইকবাল হাবিব l ধন্যবাদ।

ছাত্রলীগ কি আইনের ঊর্ধ্বে?

ছাত্রলীগের এক শ্রেণীর নেতা-কর্মীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি তাঁদের বেপরোয়া তৎপরতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও জনপ্রিয় শিক্ষার্থী সায়াদকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না-কাটতেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা রুস্তম নিহত হয়েছেন। অভিযোগের তির শিবিরের দিকে থাকলেও ছাত্রলীগের হলের কমিটি গঠনকেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আগেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার সঙ্গে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু ওই সব ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের শাস্তি হয়নি; বরং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের মতো বহু শিক্ষক এখনো সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন বলে অভিযোগ আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যুবায়েরের হত্যাকারী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের সঙ্গেও প্রক্টরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রক্টরের কাজ ছাত্রদের সন্ত্রাসী কাজ থেকে বিরত রাখা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা সেই দায়িত্ব পালন করেন না।
ক্যাম্পাসে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীরা শাস্তি না পাওয়ায় অন্যরাও ওই কাজে উৎসাহিত হচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর গ্রন্থের মতে, ‘(স্বাধীনতার পর) দুষ্কৃতকারীদের ধরলেই বলা হতো, ও আমাদের লোক, ও আমাদের ছাত্রলীগের লোক, ও আমাদের দল করত, আমাদের ভোট দিয়েছে—এসব বিবেচনায় দুষ্কৃতকারীদের ছেড়ে দেওয়া হতো। ফলে আইন হয়ে পড়েছিল দুর্বল’ (পৃ. ১৪১)। এখনো ওই সব বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত শাকিল-নাহিদদের নিম্ন আদালতে ফাঁসির আদেশ হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী হত্যার দায়ে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ছাত্রনেতারই শাস্তি হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবুবকর নিহত হওয়ার চার বছর পার হলেও ওই ঘটনায় জড়িত কারও বিচার হয়নি; বরং পরে অনেক সন্ত্রাসীকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, প্রথম শ্রেণীর চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, ঢামেকসহ ছাত্রলীগের অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
দুইn বাংলাদেশে স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়ের মতো এখনো যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, ক্যাম্পাস ওই সরকার-সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের দখলে থাকে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা অসহায়। হলের টর্চার সেলে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। ছাত্র সংসদগুলো সক্রিয় থাকার সময় ভোটের প্রয়োজনে ছাত্রনেতাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি করতে হতো। কিন্তু এখন ছাত্র সংসদগুলো সক্রিয় না থাকায় ওই জবাবদিহির সুযোগও নেই। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অধিকাংশ ছাত্রনেতা আর সাহায্যকারী নন, সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো ভীতিকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হলেও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই সন্ত্রাসী হয়ে ওঠেন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং এক শ্রেণীর শিক্ষকের প্রশ্রয়ে এমনটি ঘটছে। দলবাজ শিক্ষকদের প্রশ্রয়ে বড় ভাইদের ক্যাম্পাসে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার অসংখ্য উদাহরণই সদ্য ক্যাম্পাসে পা রাখা একজন শিক্ষার্থীকে অপরাধে জড়াতে উৎসাহিত করে। ক্যাম্পাস ক্যানটিনে অন্যদের টাকা দিয়ে খাবার না জুটলেও ওই সন্ত্রাসী বিনা টাকায় জামাই-আদরে খেতে পারে। সন্ত্রাসী ছাত্রনেতাদের বিচার না হওয়াও মেধাবীদের সন্ত্রাসের পথে পা বাড়াতে উৎসাহিত করছে। এ কথা ঠিক, কোনো ঘটনা ঘটার পর প্রশাসন ওই ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক অথবা স্থায়ী বহিষ্কার করে। তবে ‘কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ প্রবাদের মতো ওই বহিষ্কার হয় কেবল কাগজ-কলমে। বাস্তবে তাঁরা আগের মতোই ক্যাম্পাসে দাপিয়ে বেড়ান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রনেতা শুধু নিয়মিত ক্যাম্পাসে আড্ডা দেন না,
সম্প্রতি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্বও পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এস এম হলের এক বহিষ্কৃত সভাপতি নিয়মিত হলে রাত্রিযাপন করলেও প্রশাসন ওই বহিষ্কৃত নেতাকে হল থেকে বের করতে পারেনি। বরং ওই বহিষ্কৃত নেতা মধ্যরাতে মাতাল হয়ে এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সন্ত্রাসী ছাত্রনেতাদের সংগঠন, হল বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হলেও অদৃশ্য কারণে কিছুদিন পর ওই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার ঘটনাও অহরহ ঘটছে। সংগঠন থেকে বহিষ্কার হলে তো কথাই নেই। বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের পাশাপাশি বড় পদ দিয়ে তাঁকে পুরস্কৃত করার বহু উদাহরণও রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের প্রশ্রয়ই ক্যাম্পাসগুলোকে সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করছে। ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। অপরাধ যতই নগণ্য হোক, কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ‘ওরা আমাদের ছেলে’ অজুহাতে সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে ওই সব সন্ত্রাসীকে পুলিশে সোপর্দ করা যেতে পারে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইনে বিচার হওয়াই স্বাভাবিক হলেও এখন পর্যন্ত অদৃশ্য কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে ওই আইনের প্রয়োগ বিরল। এখন থেকে ক্যাম্পাসের সন্ত্রাসীদেরও প্রচলিত আইনে বিচার করতে হবে। পরিশেষে, আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ‘সন্ত্রাসী ছাত্রনেতারাও আইনের ঊর্ধ্বে নয়’ প্রমাণই ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে পারে।
মো. আবু সালেহ সেকেন্দার: শিক্ষক ও ইতিহাস গবেষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
salah.sakender@gmail.com

চতুর্থ ফ্রন্টের তুরুপে প্রধানমন্ত্রী মমতা?

ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ছাড়াও আছে তৃতীয় ফ্রন্ট তথা বামপন্থী দলগুলোর জোট। নির্বাচনের আগে আগে এবার চতুর্থ ফ্রন্ট বা ফেডারেল ফ্রন্টে আভাস দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। এবারের লোকসভা নির্বাচনে কোনো একক দলের পক্ষে কেন্দ্রে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব হবে না। বিজেপি এবং কংগ্রেস যে কটা আসনই পাক না কেন তাতে তাদের কেন্দ্রে যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। তৃতীয় ফ্রন্টও তেমন ভালো কোনো অবস্থানে নেই। এমন অবস্থায় দেশের ভারতের তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জনমত জরিপের ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে যে, মমতা ব্যানার্জির দল পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে কম করে হলেও প্রায় ৩০টি আসন পেতে পারে। আর সেক্ষেত্রে মমতা ব্যানার্জি নির্বাচনের পর যে দলে যাবেন সে দলেরই কেন্দ্রে সরকার গঠন সুবিধাজনক হয়ে যাবে। তবে মমতা ব্যানার্জি নিজে চিন্তা করছেন ফেডারেল ফ্রন্ট বা চতুর্থ ফ্রন্টের। নির্বাচনী জুয়ায় চতুর্থ ফ্রন্টের তুরুপ দেগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মসনদ দখল করতে পারেন মমতা।
সেক্ষেত্রে তৃণমূল তার সমমনা আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কেন্দ্রে ভালো অবস্থানে চলে যাবেন মমতা ব্যানার্জির পক্ষে তখন প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্ভব। এর মধ্যে জয়ললিতা মমতার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। এর মাধ্যমে তৃণমূলের সঙ্গে জয়ললিতার এআইএডিএমকের সখ্যতা গড়ে উঠতে পারে। মমতা ব্যানার্জি ইতিমধ্যে আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার সাম্প্রতিক আচরণ থেকে বোঝা যায় কংগ্রেস বা বিজেপির সঙ্গে সরাসরি কোনো চুক্তি বা প্রস্তাবে যাওয়ার ইচ্ছা আপাতত তার নেই। তাই একই মতের দলগুলোর সাহায্যে যদি মমতা ব্যানার্জি চতুর্থ ফ্রন্ট নিয়ে হাজির হন তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। তবে এ ধরনের একটি চতুর্থ ফ্রন্ট কিছু প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। যেমন এই চতুর্থ ফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? এ রকম ফ্রন্টের ধারণা দেশের জন্য কি কোনো স্থিতিশীল সরকার উপহার দিতে পারবে কিনা? দলগুলোকে একত্রিত করতে রাজনৈতিক বা আদর্শিক ভিত্তি কি হবে? এসব প্রশ্নের এখনও কোনো যথাযথ উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।