Saturday, April 5, 2025

ভয়ংকর বিপদে ইসরায়েল, গৃহযুদ্ধের শঙ্কা: ইসরায়েলকে দমনে কঠোর বার্তা দিল ইউরোপের এক দেশ

ভয়ংকর বিপদের মুখোমুখি ইসরায়েল। দেশটিতে সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েল গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

সংবাদ মাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জ্যুইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউট (জেপিপিআই) পরিচালিত এক নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক মনে করেন, দেশটির মধ্যে গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, এটাই বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি দেশের জনগণের গভীর উদ্বেগকে প্রতিফলিত করছে।

জরিপটি অনুষ্ঠিত হয় সাবেক সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আহারন বারাকের মার্চ ২০ তারিখে করা এক সতর্কতার প্রেক্ষিতে। তিনি বলেছিলেন, আমরা গৃহযুদ্ধের এক মুহূর্তের দূরত্বে আছি। তার মতে, দেশীয় বিরোধের কারণে এই বিপদ আরও প্রবল হচ্ছে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ২৭ শতাংশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যে, তারা বারাকের মতামতের সঙ্গে একমত। অন্যদিকে, ৩৩ শতাংশ বলেছেন যে বারাক কিছুটা বাড়িয়ে বলছেন, তবে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা এখনো বাস্তব। ১৬ শতাংশ মনে করেন, গৃহযুদ্ধের কোনো প্রকৃত বিপদ নেই।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ডানপন্থি ব্যতীত সব রাজনৈতিক মতাদর্শের জনগণ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

এর আগে মারিভ সংবাদপত্রে প্রকাশিত অপর এক জরিপে দেখা যায়, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বিচারিক সংস্কারের বিষয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ এবং জনগণের মধ্যে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছিল। এই সময় ৫৮ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক মনে করেছিল যে বিচারিক সংস্কারের কারণে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সেই প্রতিবাদগুলো ৭ অক্টোবর হামাসের হত্যাযজ্ঞের পর স্থগিত হয়।

ইসরায়েলকে দমনে কঠোর বার্তা দিল ইউরোপের এক দেশ

যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় লাগাতার ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। টানা কয়েক দিন ধরে বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও ভবন ধ্বংসের মাধ্যমে গাজায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

গাজার ভয়ানক এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশ ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা জিউসেপ কন্টে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। খবর আনাদুলো এজেন্সি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এক্স (পূর্বের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে জিউসেপ কন্টে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। শুধু গত দুই সপ্তাহেই ৩০০ জনের বেশি শিশু ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। এসব হামলা মূলত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। অথচ ইতালি ও ইউরোপ এ ব্যাপারে নীরব রয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করে যাচ্ছে, যার বাস্তব কোনো ফল নেই।’

কঠোর ভাষায় দেওয়া বার্তায় ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা বলেন, ‘ইসরায়েলের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। একইসঙ্গে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের ও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও প্রয়োজন।’

গাজায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হতাহতের প্রতিবাদে ইতালির মিলান শহরে শত শত মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত গাজায় ৫০ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়লেও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গেল বছরের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের নির্বিচার ও নৃশংস হামলার জেরে গাজার হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ও আশ্রয়শিবির ছেড়ে পালাচ্ছেন। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের নির্বিচার ও নৃশংস হামলার জেরে গাজার হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ও আশ্রয়শিবির ছেড়ে পালাচ্ছেন। ছবি : সংগৃহীত

গাজার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের চলাচলে ইসরায়েলের বাধা

গাজা উপত্যকায় একের পর এক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের তাড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে উপত্যকাটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন অসহায় ফিলিস্তিনিরা। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার দুই–তৃতীয়াংশ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে অথবা সেখান থেকে জোরপূর্বক তাঁদের বের করে দেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তাসংক্রান্ত সংস্থা (ওসিএইচএ) শুক্রবার জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ গাজার রাফার বড় একটি অংশ। গত ৩১ মার্চ সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। উত্তরে গাজা নগরীর বিভিন্ন অংশেও এই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গতকাল সেখানে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভাঙার পর থেকেই গাজায় নৃশংসতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। তখন থেকে গাজার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের বিতাড়িত করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে তারা। বুধবারও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাঁদের সামরিক বাহিনী গাজার বড় অংশ দখল করবে। ওই এলাকাগুলো নিরাপত্তা অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, তাঁরা এখন গাজা উপত্যকা বিভক্ত করার কাজ করছেন। ধাপে ধাপে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা হবে, যেন তারা বাকি জিম্মিদের মুক্তি দেয়। বুধবারেই গাজার বড় অংশ দখলের জন্য স্থল অভিযান বৃদ্ধির ঘোষণা দেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তবে কী পরিমাণ এলাকা তাঁরা দখল করবেন, সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি তিনি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। তখন থেকে গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি শুরুর আগপর্যন্ত উপত্যকাটির ২৪ লাখ বাসিন্দার বেশির ভাগই বাস্তুচ্যুত হন। এরপর যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে হামলা শুরু এবং এলাকা ছাড়তে ইসরায়েলের নির্দেশের পর আবার প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা।

এমনই একজন গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা আবু হাজেম খালেফ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সংগ্রামটা হলো ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া। কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেব, তা আমরা জানি না। এখন গাজা নগরীর পশ্চিম দিকে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে কোনো একটি সড়ক খুঁজব, যেন একটি তাঁবু খাটিয়ে থাকতে পারি।’

গাজায় বড় অংশ ফিলিস্তিনিদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ২ মার্চ থেকে উপত্যকাটিতে ত্রাণ প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। এতে করে উপত্যকাটিতে খাবার, পানি, জ্বালানি তেল ও ওষুধের মতো জরুরি পণ্য প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাধা আসছে বলে জানিয়েছে ওসিএইচএ। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার গাজায় নিজেদের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।

চলছে ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ

গাজা দখলের পাশাপাশি প্রতিদিনই সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল বাহিনী। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শুক্রবারের হিসাবে, ১৭ মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫০ হাজার ৫২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৩৮ জন। আর গাজার জনসংযোগ কার্যালয়ের হিসাবে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০। তাঁদের মধ্যে নিখোঁজ ফিলিস্তিনিরাও রয়েছেন।

শুক্রবারও গাজাজুড়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দক্ষিণের রাফা ও খান ইউনিস থেকে শুরু করে উত্তরের গাজা নগরী সর্বত্রই আঘাত হেনেছে বোমা ও কামানের গোলা। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত উপত্যকাটিতে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে হামাসের ‘নুখবা ফোর্সের’ একজন নেতা রয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। আর আগের ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ১১২ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনটি স্কুলে হামলায় নিহত ৩৩ জন রয়েছেন।

গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর দুই সপ্তাহের বেশি সময়ে ১ হাজার ২৪৯ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন তাঁর মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। তিনি বলেছেন, সব পক্ষকে সব সময় আন্তর্জাতিক আইন পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। বেসামরিক লোকজনকে অবশ্যই সুরক্ষা দিতে হবে এবং তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে হবে।

এদিকে গাজার ফিলিস্তিনের সমর্থনে শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাবেশ হয়েছে। গাজাবাসীর জন্য ইরাকের রাজধানী বাগদাদে সম্মিলিতভাবে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। এর পরপরই সেখান থেকে বের করা হয় একটি বিক্ষোভ সমাবেশ। এ ছাড়া ইয়েমেন, আলজেরিয়া, মরক্কোয় গাজাবাসীর সমর্থনে সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে।

ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে দার আল-আরকাম বিদ্যালয়। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে অসহায় এক শিশু। এই বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। শুক্রবার গাজা নগরীতে
ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে দার আল-আরকাম বিদ্যালয়। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে অসহায় এক শিশু। এই বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। শুক্রবার গাজা নগরীতে। ছবি: রয়টার্স

ঘরবাড়ি ছেড়ে দিতে ইসরায়েলি বাহিনীর হুমকির পর গাজাবাসী প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন। ৩ এপ্রিল, শেজায়া এলাকা
ঘরবাড়ি ছেড়ে দিতে ইসরায়েলি বাহিনীর হুমকির পর গাজাবাসী প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন। ৩ এপ্রিল, শেজায়া এলাকা। ছবি: রয়টার্স

জেলেনস্কির জন্মস্থানে হামলা চালালো রাশিয়া, নিহত ১৮ জনের ৯ জনই শিশু

ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রিভি রিহ-এর একটি আবাসিক এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ শিশুসহ কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ খবর  জানিয়ে বলেছে, এটি চলতি বছরে মস্কোর সবচেয়ে মারাত্মক হামলাগুলোর মধ্যে একটি। ক্রিভি-রিহ  শহর হল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কির জন্মস্থান। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার হামলার কড়া নিন্দা করে জানিয়েছেন, আহতের সংখ্যাও অনেক। ডিনিপ্রোপেট্রোভস্কের গভর্নর সেরহি লাইসাক টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে লিখেছেন, বহু আবাসিক এলাকা  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে সেখানে আগুন লেগে গেছে।

টেলিগ্রামে প্রচারিত ভিডিওগুলোতে মৃত ও আহত মানুষদের ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। জরুরি পরিষেবাগুলো জানিয়েছে যে, কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন এবং সংখ্যাটি বাড়ছেই।

লাইসাক জানিয়েছেন, তিন মাস বয়সী একটি শিশুসহ ৩০ জনেরও বেশি লোককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মানবাধিকার ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেটসের মতে, রাশিয়ান বাহিনী এই হামলার জন্য একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই ধরনের অস্ত্রগুলো  লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেয় এবং উচ্চমানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এগুলো ধ্বংস করা কঠিন। যদিও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তারা শহরে ইউক্রেনীয় সেনা এবং বিদেশি প্রশিক্ষকদের একটি সমাবেশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলার ফলে, শত্রুপক্ষের ৮৫ জন বিদেশি সেনা এবং অফিসারের পাশাপাশি ২০টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

জেলেনস্কি  বলেছেন যে, উদ্ধারকাজ চলছে। মস্কোর উপর আরও চাপ প্রয়োগের জন্য পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।জেলেনস্কি টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘পুরো বিশ্ব এটা দেখছে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিটি আক্রমণাত্মক ড্রোন প্রমাণ করে যে রাশিয়া কেবল যুদ্ধ চায়।’

এর আগে রাশিয়ার  রাতভর ড্রোন হামলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে কমপক্ষে চারজন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছে বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রাশিয়ান ড্রোনগুলো আবাসিক এলাকায় আঘাত করেছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খেরসনের একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে বলেছে যে তারা রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সাথে একমত হয়েছে যে, একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোর উপর তারা হামলা বন্ধ করবে, জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই প্রথম পদক্ষেপ। কিন্তু এখন উভয় পক্ষই  একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। কিয়েভ জানিয়েছে যে, তারা এর আগে ৩০ দিনের পূর্ণ, নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল।  কিন্তু রাশিয়া মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে পৃথক আলোচনায় এই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র :  আলজাজিরা

mzamin

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার তত্ত্বতালাশ by মিল্লাত হোসেন

সংবিধান সংস্কার কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের একটি রূপরেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অতীত অভিজ্ঞতা এবং সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন মিল্লাত হোসেন ...

বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া হয়।

এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে দলীয় সরকারের অধীনে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ তিনটি নির্বাচনই ছিল দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং ‘একতরফা’। এর মধ্যে কোনোটি ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন’, কোনোটি ‘রাতের ভোটের নির্বাচন’ আবার কোনোটি ‘ডামি নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।

গত বছর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাতের পর সত্যিকারের জনরায় বা ভোটের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাসীন করার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে জনগণ ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে এক নজিরবিহীন মতৈক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সংবিধান সংস্কার কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের একটি রূপরেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করেছে। এদিকে যে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা হয়েছিল, এরই মধ্যে সংশোধনীর সেই অংশটুকু হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছেন। পাশাপাশি ত্রয়োদশ সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষণা করার রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এসব বাস্তবতার নিরিখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার তত্ত্বতালাশ করা জরুরি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা

১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮খ-৫৮ঙ পর্যন্ত চারটা অনুচ্ছেদ যোগ করে জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সরকার পরিচালনার জন্য ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা চালু করা হয়। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আমরা যথাক্রমে দুই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও লতিফুর রহমান এবং ২০০৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন দেখেছিলাম।

১৯৯০ সালে আরেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সরকার কার্যকাল, পদ্ধতি ও সাংবিধানিকতার বিচারে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ না হলেও বাস্তবে সেটিই ছিল আমাদের প্রথম নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভিত্তিভূমি ও পথনির্দেশক।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রকমফের

শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে দুই ধরনের তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারের নজির মেলে। প্রথম ধরনের দেখা পাওয়া যায় কোনো দেশের শাসনতান্ত্রিক ক্রান্তিকালে। কোনো দেশের স্বাধীনতা অর্জন, নতুন রাষ্ট্র গঠন, বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ববর্তী কোনো শাসনব্যবস্থার অবসান, গণ-অভ্যুত্থান, সামরিক অভ্যুত্থান—এসব কারণে অর্জিত গাঠনিক ক্ষমতাবলে প্রচলিত সংবিধানের বাইরে গিয়ে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, নির্বাচন বা অন্য কোনোভাবে একটা বৈধ সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের আগপর্যন্ত শাসনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য এ ধরনের সরকার গঠন করা হয়। পরে নতুন সংবিধান প্রণয়ন বা বিদ্যমান সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এগুলোর বৈধতাও দেওয়া হয়।

রাশিয়ায় ১৯১৭ সালের জারকে উৎখাতের পর গঠন করা সরকার, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত নামের দুটি ‘ডমিনিয়ন’ সৃষ্টির পর গঠিত সরকার, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল শপথ নেওয়া বাংলাদেশ সরকার কিংবা ২০০৬ সালে নেপালে দ্বিতীয় লোকতান্ত্রিক আন্দোলনের পর গিরিজা প্রসাদ কৈরালার নেতৃত্বে গঠিত সরকার এ ধরনের সরকারের অন্তর্ভুক্ত।

এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সরকারও একই ধরনের সরকারের উদাহরণ। লক্ষণীয় হলো, সেই সময় প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী এ সরকারের গঠন বৈধ ছিল না। নির্বাচনের পর গঠিত সংসদ সংবিধানের একাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই সরকারের কার্যক্রমকে বৈধতা দেয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য ধরনটা হচ্ছে সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সংসদ ভেঙে গেলে ভোটের মাধ্যমে পরবর্তী সরকার ক্ষমতাসীন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। এটাকে ‘গণতান্ত্রিক’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলা যেতে পারে।

এ ব্যবস্থার বাংলাদেশি সংস্করণ ছিল এ রকম যে কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী সরকার ক্ষমতাসীন না হওয়া পর্যন্ত একটা নির্দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকবে। এ সরকার সর্বোচ্চ ১০ জন উপদেষ্টাসহ একজন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে কাজ করবে। আমাদের উদ্ভাবিত ব্যবস্থাটা পুরো বিশ্বের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসেই ‘অনন্যতা’ অর্জন করছিল। কেননা সেই সময় বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশে অতীতে কখনোই এমন সরাসরিভাবে সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা দেখা যায়নি।

কেমন ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা

২০০৬ সালে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান প্রধান উপদেষ্টা হতে অসম্মতি জানান। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সাংবিধানিক প্রকল্পের ত্রুটিবিচ্যুতি আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়। সেই প্রকল্প অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার তালিকায় ছিলেন (পূর্ববর্তী ব্যক্তি রাজি না হলে পরবর্তী ব্যক্তি):

১. সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি;

২. তাঁর পূর্ববর্তী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি;

৩. আপিল বিভাগের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি;

৪. তাঁর পূর্ববর্তী অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি;

৫. তাঁদের কাউকে পাওয়া না গেলে রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যত দূর সম্ভব পরামর্শক্রমে একজন বিশিষ্ট নাগরিক

৬. তাঁদের কাউকে পাওয়া না গেলে রাষ্ট্রপতি স্বয়ং।

এ প্রকল্পের সবচেয়ে দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ দিক ছিল, তালিকার ৬ জনের মধ্যে ৫ জনই ছিলেন ‘স্বয়ংক্রিয়’ পছন্দ। এ ক্ষেত্রে বাছাই করার কোনো অবকাশ ছিল না। প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ প্রকারান্তরে হয়ে দাঁড়িয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ে প্রধান বিচারপতি কে হবেন কিংবা আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে—এ সমীকরণের খেলা। এর ফলে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকার কথা যে বিচার বিভাগের, সেটাকে এনে ফেলা হয় রাজনীতির ময়দানে।

প্রধান উপদেষ্টার পদ নিয়ে পাটিগণিতের লড়াই

আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও ২০০৪ সালে চারদলীয় জোট সরকার সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসর নেওয়ার বয়স ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করে। এ পরিবর্তনের ফলে তৎকালীন সরকারের ‘পছন্দের লোক’ সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

বিরোধীদের আপত্তির মুখে কে এম হাসান দায়িত্ব না নেওয়ার কথা জানালে বিকল্প অনুসন্ধান না করেই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই প্রধান উপদেষ্টা হন। কারও কারও মতে, এ ঘটনার সূত্র থেকে দেশে রাজনৈতিক সংকটের সূচনা হয়, যার পরিণতিতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে নতুন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।

যে বিষয়টা অনেকেরই জানা নেই তা হলো, ‘পছন্দের ব্যক্তি’কে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে পাওয়ার পাটিগণিতের হিসাব আওয়ামী লীগ করেছিল আরও ছয় বছর আগে। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি কে এম হাসান ও বিচারপতি সৈয়দ জে আর মুদাচ্ছির হোসেনকে ডিঙিয়ে বিচারপতি এম রুহুল আমিনকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে এটি করা হয়েছিল। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রথা যদি অব্যাহত থাকত, তাহলে বিচারপতি এম রুহুল আমিনই ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হতেন।

গণতন্ত্রের জন্য কি এই ব্যবস্থা অপরিহার্য

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল ক্ষমতাসীনদের যেকোনো উপায়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেতার প্রচেষ্টাকে থামানোর জন্য। এরশাদের শাসনামলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাপক ভোট চুরি ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল। এর ফলে একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের নির্বাচনের প্রশ্নে দলমত-নির্বিশেষে সবাই একমত হয়।

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে সব দলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মতৈক্যের ভিত্তিতে সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। পরপর দুটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার সফলভাবে দায়িত্ব পালনের ফলে মানুষ একে স্থায়ী সমাধান ভেবে স্বস্তি পেয়েছিলেন।

২০১১ সালে এক চরম বিতর্কিত রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার পর বাংলাদেশে কারচুপি ও জাল-জালিয়াতির নির্বাচনের পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে আসে। বিগত তিনটি নির্বাচন যেভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে দেশের মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অত্যাবশ্যকতার বিষয়টি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে নয়া বিবেচনা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রধান দুর্বলতাগুলো ছিল প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগ প্রশ্নে স্বয়ংক্রিয় পছন্দের ব্যবস্থা, তাতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় বিকল্পের সুযোগ না রাখা, বিচার বিভাগের রাজনীতিকীকরণ, সরকারের মেয়াদ নির্দিষ্ট না থাকা ইত্যাদি। এসবের আলোকে সংবিধান সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ করেছে তাতে রয়েছে তত্ত্বাবধায়কের বদলে ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ নামকরণ, সরকারের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯০ দিন, উপদেষ্টার সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ জন করা।

কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ এ-সংক্রান্ত যে প্রস্তাব করেছে তার সারাংশ অনেকটা এ রকম:

১. জনপ্রতিনিধিদের প্রাধান্য বজায় রেখেই রাষ্ট্রের তিন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি ৯ (নয়) সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল  (এনসিসি) গঠন। এনসিসির ৯ (নয়) সদস্যের মধ্যে ন্যূনতম ৭ (সাত) সদস্যের সিদ্ধান্তে এনসিসির সদস্য ব্যতীত নাগরিকদের মধ্য থেকে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

২. উপরিউক্ত পদ্ধতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না হলে, সব অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতিবৃন্দের মধ্য থেকে একজনকে এনসিসির ৯ (নয়) সদস্যের মধ্যে ন্যূনতম ৬ (ছয়) সদস্যের সিদ্ধান্তে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

৩. উপরিউক্ত পদ্ধতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না হলে এনসিসির সব সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

 এভাবে তিন ধাপে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ সম্ভব না হলে সবশেষে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিরা ও আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা ক্রমানুসারে ঠিক আগের মতোই বিভিন্ন ধাপে স্বয়ংক্রিয় পছন্দ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হবেন।

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের সাতটি ধাপের মধ্যে পাঁচটিতেই বিচার বিভাগকে জড়িয়েছে। তার ওপর শেষোক্ত চারটি ধাপে আগের মতো করেই স্বয়ংক্রিয় পছন্দ হিসেবে সাবেক বিচারপতিদের রেখেছে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের এই সুপারিশ বিবেচনাপ্রসূত হয়েছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

মনে রাখতে হবে, আমাদের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল সাধারণভাবে বিভক্ত ও সমঝোতায় অনাগ্রহী। এ রকম পটভূমিতে ৯ সদস্যের এনসিসি কতটা কার্যকরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, সেটা নিয়েও ভাবতে হবে। এনসিসির গঠনে দেখা যায়, তাতে সরকার ও বিরোধী উভয় দলের কমপক্ষে তিনটি করে ভোট থাকবে। এর ফলে যেকোনো পক্ষ চাইলে প্রথম ধাপে ৭ ভোটে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ আটকে দেওয়া সম্ভব। একইভাবে অপর পক্ষও দ্বিতীয় ধাপে ৬ ভোটে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের পথ রুদ্ধ করে দিতে পারে। এমনটা হলে তৃতীয় ধাপে সর্বসম্মত নিয়োগের আশা দুরাশামাত্র।

এরপর ঠিক আগের মতোই স্বয়ংক্রিয় পছন্দ হিসেবে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকেই প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বাধ্যবাধকতা চলে আসে। ব্যাপারটা কষ্টকল্পনা মনে হতে পারে; কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎকে গণিতের সংখ্যায় দেখতে পারার ক্ষমতা ও একগুঁয়েমিকে উপেক্ষা করা করা ঠিক হবে না।

* মিল্লাত হোসেন সংবিধান ও আইন বিষয়ে লেখক ও গবেষক

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার তত্ত্বতালাশ

ওয়াক্‌ফ নিয়ে আদালতে মুসলিম সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নীতীশের দল ছাড়ছেন মুসলিম নেতারা

ভারতে ওয়াক্‌ফ বিল পাস হতে না হতেই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো মামলা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি মুসলিম সংগঠন থেকেই মামলা করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড জানিয়েছে, এই আইনের বিরুদ্ধে তারা দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করবে।

ওয়াক্‌ফ বিল সমর্থন করায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দল জেডিইউতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে ৫ নেতা দল ত্যাগ করেছেন। ওই ৫ নেতার মধ্যে ৪ জন মুসলিম হলেও একজন হিন্দু। রাজু নায়ার নামে ওই হিন্দু নেতা তাঁর পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘দলের ভূমিকায় আমি হতাশ। এটি আরেক কালা আইন। মুসলিমদের ওপর অত্যাচার ও অবিচার এতে আরও বাড়বে।’

বিহারে জেডিইউতে অসন্তোষ আগামী দিনে ঘোরাল হয়ে উঠতে পারে। এই বছরের শেষে ওই রাজ্যে বিধানসভার ভোট। জেডিইউ মুসলিম ভোট না পেলে তা নিশ্চিতই বিরোধী শিবিরে জমা পড়বে। তাতে বিজেপির ক্ষতি কতটা হতে পারে, সেই ভাবনা রাজ্যের শাসক দলের মধ্যে রয়েছে।

বিজেপি অবশ্য বারবার বলতে চাইছে, এই আইন মুসলিমদের ধর্মাচরণে বাধা হবে না। এই আইন মুসলিম সমাজের মঙ্গলের জন্যই করা।

বিরোধীদের উৎসাহ ও জেডিইউতে অসন্তোষের পাশাপাশি কোমর কষতে শুরু করেছে বিজেপি। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে, যেসব সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ আইন হওয়ার আগে নথিভুক্ত করা হয়নি, তার তালিকা প্রস্তুত করতে।

ওয়াক্‌ফ (সংশোধনী) বিলের ওপর ভোটাভুটির সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান স্পষ্টতর হয়েছে। যেসব দল এত দিন এনডিএতে যোগ না দিয়েও বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন করছিল, তাদের অবস্থান বদলেছে। বিজু জনতা দল ও ওয়াইএসআর কংগ্রেস দলবদ্ধভাবে মোদি সরকারের এই উদ্যোগকে সমর্থন করেনি। দুই দলের কেউ কেউ সরকারকে সমর্থন করলেও অনেকেই ওয়াক্‌ফ বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। এই দুই দল সংসদের কোনো কক্ষে দলীয় সদস্যদের হুইপ দেয়নি। দুই দলই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সদস্যদের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছিল।

এই বিল একদিকে যেমন নতুন এক মেরুকরণের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে তেমনই ছাড়া ছাড়া ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে ঐকবদ্ধ করে দিয়েছে। কোনো একটি ইস্যুতে ‘ইন্ডিয়া’ এভাবে আগে জোটবদ্ধ হয়নি। আগামী দিনে এই সংঘবদ্ধতার পরিণতি কী হতে পারে, সে দিকে বিরোধীদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। একই রকম বিজেপি দেখতে আগ্রহী, এই আইন ধর্মীয় মেরুকরণকে আরও দৃঢ় করে কি না।

তবে আপাতত সবার দৃষ্টি সুপ্রিম কোর্টে। গত বুধবার লোকসভা ও বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর শুক্রবারেই কংগ্রেস জানিয়ে দেয়, তারা সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করবে। সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই লোকসভার দলীয় নেতা মহম্মদ জাভেদ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। একই দিনে মামলা করেন এআইএমআইএম নেতা ও সংসদ সদস্য আসাউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁরা দুজনেই ওয়াক্‌ফ বিল নিয়ে গঠিত সংসদের যৌথ কমিটির (জেডিসি) সদস্য ছিলেন।

জাভেদ তাঁর আবেদনে বলেছেন, হিন্দু ও শিখদের ধর্মীয় ট্রাস্ট স্বনিয়ন্ত্রিত, অথচ ওয়াক্‌ফে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে। অমুসলিমদের সদস্য করা হচ্ছে। এই রীতি অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে কিন্তু নেই।

ওয়েইসি ও জাভেদ সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা করেছেন তাতে বলা হয়েছে, এই আইন বৈষম্যমূলক। এই আইনে মুসলিমদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদ সমতার অধিকার দিয়েছে। এই আইন তা হরণ করেছে।

দুজনের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ দিয়েছে ধর্মাচরণের স্বাধীনতা। ২৬ অনুচ্ছেদ ধর্মীয় বিষয় পরিচালনার স্বাধীনতা। ২৯তম অনুচ্ছেদে রয়েছে সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ৩০তম অনুচ্ছেদ দিয়েছে সম্পত্তির অধিকার। এই আইন প্রতিটি সাংবিধানিক অধিকারই লঙ্ঘন করছে। তাই এই আইন অসাংবিধানিক।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ডও জানিয়েছে, তারা সুপ্রিম কোর্টে এই আইন চ্যালেঞ্জ করবে। তারা ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আবেদন জানিয়েছে। বলেছে, রাষ্ট্রপতি সই করার আগে তাঁকে তারা বোঝাতে চায়, কেন এই বিল সংবিধানবিরোধী এবং কেন তাঁর সম্মতি দেওয়া উচিত হবে না।

কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। যেমন ২০১৯ সালে মামলা করেছে সিএএর বিরুদ্ধে। সেই মামলার এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তথ্যের অধিকার আইনে সংশোধনী আনার বিরুদ্ধেও কংগ্রেস মামলা করেছে, তা এখনো চলছে।

জয়রাম রমেশ আরও বলেন, ১৯৯১ সালে উপাসনালয়ের চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখতে কংগ্রেস সরকারই আইন করেছিল। সেই আইনের চরিত্র যাতে অটুট থাকে, সে জন্যও কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে কংগ্রেস ওয়াক্‌ফ আইনকেও চ্যালেঞ্জ জানাবে।

ভারতের লোকসভায় ওয়াক্‌ফ (সংশোধনী) বিলের বিরোধিতা করছে বিরোধীরা। ২ এপ্রিল, নয়াদিল্লি
ভারতের লোকসভায় ওয়াক্‌ফ (সংশোধনী) বিলের বিরোধিতা করছে বিরোধীরা। ২ এপ্রিল, নয়াদিল্লি। ফাইল ছবি: এএনআই

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রতিদিন ১০০ শিশু হতাহত হচ্ছে: জাতিসংঘ

ইসরায়েল গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করার পর থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ শিশু হতাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান ফিলিপ লাজারিনি।

গতকাল শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩৮ জন নিহত হন। গাজা সিটির আল–আহলি হাসপাতালে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৬ জন নিহত ও ২৮৭ জন আহত হন।

হামাস সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজায় যেসব এলাকাকে নতুন করে ইসরায়েলি সামরিক উচ্ছেদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে, সেখানে থাকা অন্য বন্দীদের অর্ধেকের বেশি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ হাজার ৬০৯ ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৩ জন আহত হয়েছেন। সরকারি মিডিয়া অফিস মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ৬১ হাজার ৭০০ জনের বেশি বলে জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরায়েলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন। ওই সময় ২০০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ওই দিনই গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৮ মার্চ ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ১ হাজার ২৪৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২২ জন। সেখানে আবারও বড় আকারে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বোমার আঘাতে আহত শিশুকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বোমার আঘাতে আহত শিশুকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ফাইল ছবি: রয়টার্স

বিমসটেক সম্মেলনে আলোচিত যত বিষয়

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দুই দিনের সম্মেলন শেষ করে তিনি দেশের উদ্দেশেও রওনা হয়েছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় প্রধান উপদেষ্টা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ব্যাংকক ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

ব্যাংকক বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে বিদায় জানান থাইল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুই দিনের সফরে প্রধান উপদেষ্টা ব্যাংককে পৌঁছান। সেখানে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

বিমসটেক দক্ষিণ এশিয়ার আন্তঃআঞ্চলিক জোট। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমানভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই জোটের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে একসঙ্গে বসেছেন জোটের সব দেশের সরকারপ্রধানরা। দুই দিনের এই সম্মেলনে কী কী ঘটেছে, আলোচিত সেসব বিষয় তুলে ধরা হলো।

নৈশভোজে ইউনূস-মোদি

গতকাল সন্ধ্যায় থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি অভিজাত হোটেলে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। বিমসটেক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তাদের দুজনকে এক টেবিলে পাশাপাশি বসতে দেখা গেছে।

নৈশভোজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউনূস-মোদির বৈঠক

এই সফরে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণের বিষয় ছিল প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক।

অনেক জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষ আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুই নেতা একসঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শুক্রবার বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে স্থানীয় সময় ১২টায় তাদের বৈঠক শুরু হয়।

গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার শাসনের পতন হয়। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করলে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গড়ায়। তবে অনেক আলোচনার পর প্রথমবারের মতো ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক এটি।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে আলোচনা

মোদির সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি শেখ হাসিনার ভারতে বসে দেওয়া বক্তব্য, সীমান্ত হত্যা ও গঙ্গা চুক্তি নবায়নসহ তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে উসকানিমূলক বক্তব্য যেন আর না দেয়, নরেন্দ্র মোদিকে সেই অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

ব্যাংককের হোটেল সাংগ্রিলা ব্যাংককে ৪০ মিনিটের বৈঠক শেষে এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরে।

ইউনূসকে মোদির পরামর্শ

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে ‘বাস্তবতার নিরীখে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে ‘পরিবেশ নষ্ট’ করে, এমন বক্তব্য পরিহার করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

মোদি-ইউনূসের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদদের সঙ্গে কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। এ সময় তিনি মোদির এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই মনোভাব থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে বাস্তবতার নিরিখে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ার বিষয়ে ভারতের আকাঙ্ক্ষার কথা আবারও অধ্যাপক ইউনূসের কাছে তুলে ধরেছেন তিনি (মোদি)। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী আরও আহ্বান জানিয়েছেন, পরিবেশ নষ্ট করে এমন কোনো বক্তব্য পরিহার করাই সর্বোত্তম।’

ব্যাংকক ঘোষণাপত্র

বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতারা (সরকারপ্রধানরা) সর্বসম্মতিক্রমে ব্যাংকক ঘোষণাপত্র এবং বিমসটেক ব্যাংকক ভিশন গ্রহণ করেছেন, যা একটি কৌশলগত রোডম্যাপ। এটি সংগঠনটিকে টেকসই উন্নয়ন এবং গভীর অর্থনৈতিক একত্রীকরণের দিকে পরিচালিত করবে।

সামুদ্রিক পরিবহনে সহযোগিতা চুক্তি

বঙ্গোপসাগরে বাণিজ্য ও ভ্রমণ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সামুদ্রিক পরিবহন সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে বিমসটেক সদস্য দেশগুলো। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের মন্ত্রী পর্যায়ের ২০তম বৈঠকের আগে এই চুক্তি সই হয়।

ঢাকার পক্ষে চুক্তিতে সই করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। পরে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি।

বিমসটেক সচিবালয় বলেছে, পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও ভ্রমণ বাড়ানোর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক পরিবহনকে বিস্তৃত করা এই চুক্তির উদ্দেশ্য।

বিমসটেকের সভাপতি বাংলাদেশ

এ ছাড়া আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংটার্ন সিনাওয়াত্রার কাছ থেকে সভাপতিত্ব গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কর্মমুখী বিমসটেকের প্রতি স্বীকৃতির বিবৃতি দেন।

বিমসটেক ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বিমসটেকের জন্য বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। তার সরকারের অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশ তার সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে অবিচল।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস মুক্ত বাজার এলাকা চুক্তি এফটিএ-সংক্রান্ত বিমসটেক ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি বাস্তবায়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং পরিবহন সংযোগ সম্পর্কিত বিমসটেক মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মিয়ানমারকে সম্পৃক্ত করার জন্য বিমসটেককে আরও দৃশ্যমান ও সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে জোর করে বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের তাদের ভূমিতে প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। 

বিমসটেক সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত
বিমসটেক সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলের মুহুর্মুহু হামলা, শতাধিক নিহত

ফিলিস্তিনের গাজার বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনী মুহুর্মুহু হামলা চালিয়েছে। এতে ১১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। একই সময় শতাধিক আহত হয়েছেন। তাদের অনেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সর্বশেষ নিহতের ফলে গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় দ্বিতীয় দফার ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ১১৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণ গেল। অপরদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের মোট সংখ্যা ৫০ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে আছে। তাদের উদ্ধারে স্বেচ্ছাসেবকদের যেতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি বাহিনী।

এর আগে বুধবার (২ এপ্রিল) গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ওই দিন ফিলিস্তিনের গাজায় জাতিসংঘের ক্লিনিকে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ২২ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার (২ এপ্রিল) উত্তর গাজায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) পরিচালিত একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালায়। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলাটি করা হয়। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা এই হামলাকে সম্পূর্ণ যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে।

তার আগের দিনেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। ওই দিন ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত হন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হামলায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত ও ২৫০ জন জিম্মি হয়েছিল। জিম্মিদের উদ্ধার এবং হামাস নির্মূলে হামলা আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল।

বাস্তুচ্যুত গাজার বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। ছবি : সংগৃহীত

গাজায় এম্বুলেন্সে হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হতে পারে: জাতিসংঘ

গাজায় এম্বুলেন্সে হামলার দায়ে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়, উপত্যকাটিতে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে নিয়োজিত এম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইসরাইলের বাহিনী। এতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ চিকিৎসক এবং মানবাধিকারকর্মী নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি বাহিনীর এমন অমানবিক হামলার বিষয়টি তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি বলেছেন,  সম্প্রতি ১৫ জন চিকিৎসক এবং মানবাধিকার কর্মীকে হত্যা করায় আমি মর্মাহত, যা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধের ঘটনা নিয়ে আরও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। গত ২৩শে মার্চের ঘটনাটিকে ইঙ্গিত করে এর স্বাধীন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন ভলকার তুর্ক। ওই হামলাকে ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান বলে উল্লেখ করেছে ইসরাইল। ওই হামলাটি গাজা উপত্যকার রাফা শহরে করা হয়। একে ফিলিস্তিনি রেডক্রিসেন্টের আটজন এবং জাতিসংঘের এক কর্মীসহ মোট ১৫ জন নিহত হন। পরবর্তীতে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহ উদ্ধারের স্থানকে ‘গণকবর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় অফিস (ওসিএইচএ)। গত মঙ্গলবার সংস্থাটি জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর হাতেই গত ২৩শে মার্চ ওই দলটি নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে ফিলিস্তিনি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতি ইউনূস আল-খতিব বলেন, এই সংঘাতের সবচেয়ে অন্ধকার মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি যা আমাদের মানবতাকে তার মূল নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেনÑ মোস্তফা, এজ্জেদিন, সালেহ, রিফাত, মোহাম্মদ বাহলুল, মোহাম্মদ আল-হিলা, আশরাফ এবং রায়েদের আত্মারা ন্যায়বিচার চাইছে। জাতিসংঘে স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল জবোগার গাজার পরিস্থিতিকে ‘মানবতার ক্ষয়’ বলে অভিহিত করেছেন। মানবিক কর্মীদের ওপর বারবার হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে পারি না যে, এগুলো কেবল ভুল ছিল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা গত ২৩শে মার্চের ঘটনা তদন্ত করছে এবং দাবি করেছে তাদের সৈন্যরা ‘সন্ত্রাসীদের’ ওপর গুলি চালিয়েছিল। জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন, বেসামরিক কর্মীদের সুরক্ষার জন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলোর একটি উন্নত পরীক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

mzamin

ইউনূস-মোদি বৈঠকে নতুন ইস্যু হাসিনা by মিজানুর রহমান

টার্গেটই ছিল সম্পর্কে টানাপড়েন দূরীকরণ তথা আস্থা-বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠার দ্বার খোলা। কিন্তু না, পারস্পরিক উদ্বেগ আদান-প্রদানেই বৈঠকটি শেষ হলো! বাংলাদেশ-ভারত শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যকার যেকোনো বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ৫ই আগস্ট বাংলাদেশে রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকের চেষ্টা চলছে গত সেপ্টেম্বর থেকে। ব্যাংককে বিমসটেক সামিটে  উভয়ের দেখা হবে এটি ছিল নিশ্চিত। কিন্তু তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক নিয়ে ছিল চরম অনিশ্চয়তা। ভারতীয় মিডিয়া ছিল ক্রিটিক্যাল। কিন্তু ঢাকা ও দিল্লির কূটনীতিকরা ছিলেন আশাবাদী। তারা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছিলেন। বলছিলেন বৈঠকটি হওয়া উচিত এবং হবেও। এ নিয়ে যে উভয়ের প্রস্তুতি ছিল সেটি বৈঠকের ছবি এবং ভিডিওতে দৃশ্যমান। ৮ই আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর শুক্রবারই প্রথম ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সাইড লাইনে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে প্রায় ৪০ মিনিট আলোচনা করলেন তারা। দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্কে নানা ইস্যু থাকে, এটি আছেও। কিন্তু সেই বৈঠকে মুখ্য আলোচ্য হয়ে উঠে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি। বিচারের জন্য বাংলাদেশ তাকে ফেরত চাইবে এমনটা অনুমেয়ই ছিল। কিন্তু এর জবাবে ভারত কী বলেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। আলোচনায় বিষয়টি যে গুরুত্ব পেয়েছে তা নিশ্চিত করেছেন দিল্লির বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ইউনূস-মোদি বৈঠকে সুনির্দিষ্টভাবে কী আলোচনা হয়েছে তা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খোলাসা করেনি কোনো পক্ষই। তবে ওয়াকিবহাল সূত্র বলছে, হাসিনার ফেরতের বিষয়টি মুখ্য আলোচ্য হয়ে ওঠায় অন্য অনেক ইস্যুতে ফোকাস কমেছে। হাসিনাকে ফেরাতে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে আগেই আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়। প্রত্যর্পণ নিয়ে দিল্লি ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে।

বৈঠক বিষয়ে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি ব্রিফ করেন। সেখানো ইতিবাচক অনেক কথা আছে। কিন্তু ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউনূস-মোদি বৈঠক  নিয়ে যে বার্তা প্রচার করেছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে তাদের উদ্বেগকেই ফোকাস করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত ওই বার্তার সার কথা হলো- প্রথমত, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত। ড. ইউনূসের সঙ্গে আলাপে সেই আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মোদি। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি ‘চরমপন্থার উত্থান চেষ্টা’ রোধ। বাংলাদেশে চরমপন্থার উত্থান ঘটতে পারে- এটি দেশটির মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটি বেশ কিছু দিন ধরে বলে আসছে। এবারই প্রথম ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তা ঠেকানোর কথা বললো এবং তা তাদের ডকুমেন্টে রাখলো। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথমবারের মতো আলোচনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক খারাপ হয়, এমন বক্তব্য পরিহার করার আহ্বান জানান। নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ভারত এমন এক গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চায় যেখানে নির্বাচনের একটি ভূমিকা রয়েছে। ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে ইউনূস-মোদি বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি এমনটা জানান। দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের বার্তা এবং বিদেশ সচিবের সংবাদ ব্রিফিংয়ে আগামী দিনে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরীয় ওই জোটকে এগিয়ে নিতে যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করবে তাতে সমর্থন-সহযোগিতার অঙ্গীকার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স, বিবিসি এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, ইকোনমিক টাইমস, হিন্দুস্তান টাইমসের অনলাইন ভার্সনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ইউনূস-মোদি বৈঠকের রিপোর্ট যথাযথ গুরুত্বে স্থান পেয়েছে। সেসব রিপোর্টে দিল্লির বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রিকে উদ্ধৃত করা হয়। সেসব রিপোর্টে সম্পর্কে প্রভাব ফেলে এমন অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা এড়িয়ে চলতে ঢাকার প্রতি দিল্লির পরামর্শের কথা তুলে ধরা হয়। তাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন স্পর্শকাতর ইস্যু যেমন সেভেন সিস্টার্স এবং সীমান্ত সমস্যার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সর্বশেষ চীন সফরে সেভেন সিস্টার্স নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। যা নিয়ে ভারত জুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের তরফে অবশ্য বলা হয়েছে ড. ইউনূস সৎ উদ্দেশ্যে ওই বক্তব্য দিয়েছেন, যার ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চলছে।

ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর মোদির টুইট: এদিকে ব্যাংককে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর টুইট করেন নরেন্দ্র মোদি। ছবিযুক্ত টুইটে মোদি লিখেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জনাব মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত। গণতন্ত্রে জোর দিয়ে বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে মোদি লিখেন, আমি বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা রোধের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য আমাদের গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। প্রতিবেশী দুই দেশের নেতার ওই প্রথম বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হাসিনাকে ফেরত, তার উস্কানিমূলক বক্তব্য বন্ধের দাবি: ইউনূস-মোদি বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মিস্টার আলম বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট যতগুলো ইস্যু আছে, তার সবক’টি নিয়ে কথা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা আমাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সবক’টি বিষয় আলোচনায় তুলেছেন। আলোচনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ভারতে বসে তিনি যেসব উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন সে প্রসঙ্গ, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়ন, তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গ এসেছে। দুই শীর্ষ নেতার আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে।’ স্মরণ করা যায়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার আগে গত বৃহস্পতিবার বিমসটেক নেতাদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির দেখা হয়। নৈশভোজে একই টেবিলে তারা পাশাপাশি বসেছেন, করেছেন কুশলবিনিময়। সম্মেলনের আয়োজক থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা এই নৈশভোজের আয়োজন করেন। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাংকক পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। এই সম্মেলনে বিমসটেকের পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব ইতিমধ্যে নিয়েছে বাংলাদেশ।

mzamin

বিলিয়নিয়ারের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রই শীর্ষে

বিশ্বখ্যাত ফোরবস ম্যাগাজিন ২০২৫ সালে বিশ্বের বিলিয়নিয়ারদের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে সর্বোচ্চ ৯০২ জনই যুক্তরাষ্ট্রের। তারাই এই তালিকায় সবার শীর্ষে আছে। এই তালিকায় ভারতের ২০৫ জন বিলিয়নিয়ারের নাম স্থান পেয়েছে। তার মধ্যে প্রথম ভারতে নারীদের মধ্যে শীর্ষ ধনী হয়েছেন জিন্দাল গ্রুপের চেয়ারপারসন সাবিত্রি জিন্দাল। ফোরবস বলেছে, এ বছর বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। তাদের যার সম্মিলিত সম্পদের মূল্য আশ্চর্যজনকভাবে ১৬.১ ট্রিলিয়ন ডলার। এতে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সম্পদ ঘনীভূত অবস্থায় রয়েছে মাত্র তিনটি দেশে। তা হলো- যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারত। তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে ৯০২ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছে। এই সংখ্যা গত বছরের ৮১৩ জন থেকে বেশি। তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৬.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশ্বের ১৫ শত-বিলিয়নিয়ারের মধ্যে ১৩ জনের আবাসস্থল এখনো যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে রয়েছে ইলন মাস্ক (৩৪২ বিলিয়ন ডলার), মার্ক জাকারবার্গ (২১৬ বিলিয়ন ডলার) এবং জেফ বেজোস (২১৫ বিলিয়ন ডলার)। দেশটির প্রযুক্তি, অর্থ এবং বিনোদন শিল্পগুলো প্রচুর সম্পদ উৎপাদন করে চলেছে, যা বিলিয়নিয়ার সংখ্যা এবং মোট সম্পদের দিক থেকে এটিকে স্পষ্টভাবে শীর্ষে রেখেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন। সেখানে ৪৫০ জন বিলিয়নিয়ারের সম্পদের পরিমাণ ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এর শীর্ষে আছেন বাইটড্যান্সের ঝাং ইয়িমিং (৬৫.৫ বিলিয়ন ডলার)। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে এ বছর ২০৫ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০০। ৯২.৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক মুকেশ আম্বানি ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। গৌতম আদানি ৫৬.৩ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক।

২০২৫ সালে শীর্ষ ১০টি বিলিয়নিয়ার দেশ এখানে দেয়া হলো- তালিকার সংখ্যা অনুসারে তালিকাভুক্ত:
১. যুক্তরাষ্ট্র
মোট বিলিয়নিয়ার: ৯০২ জন (গত বছর ৮১৩ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ৬.৮ ট্রিলিয়ন ডলার
২. চীন
মোট বিলিয়নিয়ার: ৪৫০ (গত বছর ৪০৬ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার
৩. ভারত
মোট বিলিয়নিয়ার: ২০৫ জন (গত বছর ২০০ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ৯৪১ বিলিয়ন ডলার।
৪. জার্মানি
মোট বিলিয়নিয়ার: ১৭১ (গত বছর ১৩২ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদ: ৭৯৩ বিলিয়ন ডলার।
৫. রাশিয়া
মোট বিলিয়নিয়ার: ১৪০ (গত বছর ১২০ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ৫৮০ বিলিয়ন ডলার
৬. কানাডা
মোট বিলিয়নিয়ার: ৭৬ জন (গত বছর ৬৭ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ৩৫৯ বিলিয়ন ডলার
৭. ইতালি
মোট বিলিয়নিয়ার: ৭৪ জন (গত বছর ৭৩ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদ: ৩৩৯ বিলিয়ন ডলার।
৮. হংকং
মোট বিলিয়নিয়ার: ৬৬ (গত বছর ৬৭ জন থেকে কম)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ৩৩৫ বিলিয়ন ডলার।
৯. ব্রাজিল
মোট বিলিয়নিয়ার: ৫৬ (গত বছর ৬৯ জন থেকে কম)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ২১২ বিলিয়ন ডলার।
১০. যুক্তরাজ্য
মোট বিলিয়নিয়ার: ৫৫ জন (গত বছরের মতোই)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ২৩৮ বিলিয়ন ডলার।

mzamin

সিলেটে লোপাট হয়ে গেল হাজার হাজার কোটি টাকার পাথর

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তখন ছিলেন  বেলা’র প্রধান নির্বাহী। বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জে বাড়ি তার। এ কারণে সিলেটের খনিজ সম্পদ টিকিয়ে রাখার আন্দোলনে ভূমিকা ছিল অগ্রণী। দেশের বৃহত্তর  কোয়ারি জাফলংয়ে ইসিএ-ভুক্তকরণ, ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দি ও লোভাছড়ায় লুট বন্ধে তিনি আইনি লড়াইয়ে নেমেছিলেন। ২০১৪ সালে অবৈধ পাথর লুটে অন্তত ৫০ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার পর তার অন্তহীন লড়াইয়ে প্রশাসন সক্রিয় হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় পাথর উত্তোলন। শ্রমিক মৃত্যুর মিছিল কমে আসে। উচ্চ আদালতে বেলার রিটের কারণে বিগত শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দশ বছরে সিলেটের কোয়ারি লুটপাট থেকে রক্ষা পায়। শেখ হাসিনা সরকারের শেষদিকে কানাইঘাটের লোভাছড়া কোয়ারি ইজারা দেয়া হলেও উত্তোলিত পাথর সরিয়ে নিতে পারেনি পাথরখেকোরা। পাথর লুট বন্ধ হওয়ায় সিলেটের কোয়ারিগুলোতে যৌবন ফিরে এসেছিল। পাথরে পাথরে ভরে গিয়েছিল পর্যটনস্পট জাফলং, বিছনাকান্দি ও সাদাপাথর সহ কয়েকটি পর্যটন স্পট। কিন্তু ৫ই আগষ্টের পর আর সেই পাথর গুলো রক্ষা করা যায়নি। লিজ না নিয়েই তিনটি পাথর কোয়ারি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে। যে যেভাবে পারছে এখনো পাথর লুট করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- সিলেটে পাথর লুট বন্ধ করতে শুধুমাত্র জাফলংয়ে ২০ থেকে ২৫ দিন যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযান চালানো হয়েছে। ২ শতাধিক পাথরখেকোর নাম উল্লেখ করে ৮টি মামলা দায়ের করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এই অবস্থায় হরিপুরের উপর জাফলংকে চেপে না ধরলে পাথর লুট বন্ধ করা যাবে না।

সিলেটের প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- তিনটি কোয়ারিতে ৩০ থেকে ৩৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কয়েকশ’ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও পাথর লুট বন্ধ হচ্ছে না। সিলেটের জাফলংকে বলা হয় পাথর রাজ্য। ৫ই আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত জাফলংয়ে পাথর লুট চলছে। প্রথম দিকে মাটির উপরে থাকা পাথর লুট করা হয়। গত দু’মাস ধরে চলছে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর লুট। কয়েকশ’ বোমা মেশিন প্রতিদিন জাফলংয়ের ভূগর্ভ থেকে পাথর লুট করছে।  বোমা মেশিনের তাণ্ডবে জাফলং এখন ছিন্নভিন্ন। কত টাকার পাথর লুট হয়েছে জাফলংয়ে? এ প্রশ্ন এখন সবার। আগস্টে মাত্র ১০ দিন লুটের পরিসংখ্যান জানিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। তারা বলেছিল এই ১০-১২ দিনে ১২৫ কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। এই লুটেই থেমে থাকেনি পাথরখোকারা। এরপর থেকে তারা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে লুট করেই চলেছে। স্থানীয়দের মতে- গত ৭ মাসে জাফলং থেকে অন্তত দুই হাজার কোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে। এই পাথর লুটের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপি’র পদ স্থগিতকারী নেতা রফিকুল ইসলাম শাহ্‌পরাণ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন। তাদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় পাথরখেকো চক্র এই কোয়ারিতে লুটপাট চালাচ্ছে। সম্প্রতি এসে এতে যোগ দিয়েছেন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা।

পরিবেশ অধিদপ্তরে যেক’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে প্রায় সব মামলায়ই তাদের আসামি করা হয়েছে। কোয়ারিতে চাঁদাবাজি ও পুলিশের লাইনম্যান হিসেবে তাদের সিন্ডিকেটরা কাজ করছে। জাফলংয়ে পাথর লুট বন্ধ রাখতে ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ২০ থেকে ২৫ দিন অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. বদরুল ইসলাম। তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- অভিযান, মামলা সবই হচ্ছে। সিলেটের এসপিকে আসামিদের তালিকা দেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। এ নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যৌথভাবে উদ্যোগ নেয়া যায় কি না এ ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ হচ্ছে দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারি। এ কোয়ারির পাথর লুট বন্ধ রাখতে গিয়ে বিগত সরকারের এমপি ইমরান আহমদ বার বার বিতর্কিত হয়েছিলেন। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। কিন্তু হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার দিন থেকে এই কোয়ারিতে অবাধে লুট করা হচ্ছে। ভোলাগঞ্জে রয়েছে  রেলওয়ের রূপওয়ের বাংকার। এই বাংকার পাহারায় ছিল রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা। প্রথমেই তাদের ওপর হামলা চালানো হলে তারা সরে যায়। এরপর থেকে চলে লুটপাট। এই লুটের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় যুবদল নেতা রজন আহমদ, রুবেল আহমদ বাহার ও জেলা যুবদল নেতা মোস্তাকিম ফরহাদ। তাদের নেতৃত্বে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, ব্যবসায়ীদের যৌথ সিন্ডিকেট ৭ মাসে সাদাপাথর, বাংকার সহ গোটা কোয়ারি লুট করেছে। এখন চলছে কয়েকশ’ বোমা মেশিন বসিয়ে পাথর লুট।

ভোলাগঞ্জে আগস্টের প্রথম ১০ দিনে ১২৫ কোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে গত ৭ মাসে অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে। আর এই লুটে বিজিবি ও পুলিশের স্থানীয় সদস্য জড়িত ছিল। তারা প্রকাশ্যেই উত্তোলিত পাথর থেকে চাঁদাবাজি করা হয়। কয়েকশ’ বোমা মেশিনের তাণ্ডবে ভোলাগঞ্জও ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। ভোলাগঞ্জের অদূরে শারপিন টিলা। এই টিলাকে এবার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় বাবুল আহমদ, রাশা, সুহান, আকদ্দস আলী মিলে এবার শারপিন টিলা লুট করে। এই টিলা থেকে অন্তত ২০০ কোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে। এই টিলা থেকে উত্তোলিত পাথরে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বিতর্কিত হন কোম্পানীগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর সহ ১৩ পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় তাদের কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হলেও মূলত পুলিশের শেল্টারেই শারপিন টিলায় অবাধে লুট করা হচ্ছে পাথর। দেশের অন্যতম বড় পাথর কোয়ারি বিছনাকান্দি এখন পাথরশূন্য। দুই মাসে বিছনাকান্দি কোয়ারির উপরের অংশে থাকা অন্তত ৩০০ কোটি টাকার পাথর লোপাট করা হয়েছে। এই কোয়ারির লুটের পাথর জব্দ করতে গিয়ে গোয়াইনঘাটের পুলিশও বিতর্কিত হয়। পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন-  যেভাবে সিন্ডিকেট করে পাথর লুট করা হচ্ছে সেটি পুলিশ দিয়ে দমানো সম্ভব নয়। আর পুলিশ, বিজিবি ও পাথরখেকো সিন্ডিকেট এক হয়ে গেছে। এখন প্রয়োজন যৌথ অভিযান। সেনাবাহিনীর সদস্যরা যেভাবে চোরাই রাজ্য হরিপুরকে ধ্বংস করেছে সেভাবে যৌথবাহিনীর সদস্যরা জাফলং, ভোলাগঞ্জ ও বিছনাকান্দিতে নামলে পাথর লুট বন্ধ করা সম্ভব হবে। জাফলং থেকে ভোলাগঞ্জ পর্যন্ত ভূমিকম্পের ডেঞ্জার জোন অবস্থিত। পাথর লুট বন্ধ না হলে ভূমিকম্পের আশঙ্কা আরও তীব্র হবে বলে জানান তারা।

mzamin


৩শ’ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত জাতীয় নাগরিক পার্টি

জাতীয় নাগরিক পার্টি উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩শ’ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত জাতীয় নাগরিক পার্টি। এমন চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা অভ্যস্ত। জাতীয় নাগরিক পার্টি এক মাস হয়েছে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো যেন সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া যায়। শুক্রবার রংপুর কেরামতিয়া মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, আগে রাজনীতি ছিল টাকা দিয়ে মনোনয়ন কেনা, রাতের আঁধারে কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাওয়া। এবার জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে, আমরা জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে সংসদে যেতে চাই। জাতীয় নাগরিক পার্টি উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক টিম হিসেবে আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩২টি জেলায় যাবো। আমরা মনে করি বিগত এক যুগ ধরে রাজনীতি গণমানুষের রাজনীতি ছিল না। আমরা মাঠে, ঘাটে, অলিতে-গলিতে জনগণের কাছে যাবো, আমরা যা করতে চাই, বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখি সেই প্রত্যাশার কথা তাদের কাছে তুলে ধরবো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের চোখের সামনে জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত নিথর দেহ ছিল, লাশগুলো ছিল সেগুলো যদি আমাদের সামনে রাখতে পারি তাহলে চব্বিশের জুলাইয়ের স্পিরিট থেকে কখনো বিচ্যুৎ হবো না। জনগণের চাওয়া অনুযায়ী আগামীর বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যেতে পারবো। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারলে জনগণ তাদের রায় দিয়ে সংসদে নিয়ে যাবে। এনসিপি’র কমিটি কেমন হবে প্রশ্নে সারজিস আলম বলেন, আজ থেকে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি ফর্মেশন প্রক্রিয়ায় চলে যাবো।

এপ্রিল মাসেই জেলা ও উপজেলা কমিটি দেখতে পারবেন। জেলা-উপজেলায় আমাদের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন। যারা মনে করেন এই তরুণরা দেশের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং জেলা-উপজেলার নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা তাদের রয়েছে। এই নেতৃত্ব তরুণ-নির্ভর থাকবে, তবে অগ্রজরা অবশ্যই থাকবে। যেই জায়গায় যাদের গ্রহণযোগ্যতা, দক্ষতা ও সততা রয়েছে ওই এলাকায় তারা নেতৃত্বের জায়গায় আসবে। আমাদের সামনে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে তরুণদের সাহস, উদ্যম ও দৃঢ়তা দরকার। অগ্রজদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা আমাদের চলার জন্য বেশ প্রয়োজন। অগ্রজ ও তরুণরা  ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ, মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ ইমতি, সদস্য সচিব রহমত আলীসহ অন্যরা।

mzamin