Thursday, May 8, 2014
লাশ ডোবাতে ব্যবহার করা হয় রেশনের বস্তা? সেদিন যা ঘটেছিল by কামরুল হাসান
এদিকে লাশের সুরতহালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, লাশের সঙ্গে যে বস্তায় ইট বাঁধা ছিল, সেই বস্তাগুলো সরকারি রেশনের জন্য ব্যবহার করা। বস্তায় সরকারি রেশনের সিলও রয়েছে। আর ওই বস্তায় যে ইটগুলো ভরা ছিল, সেই একই ধরনের ইট পাওয়া গেছে একটি বাহিনীর কার্যালয়ের পাশের নির্মাণাধীন ভবনে। নারায়ণগঞ্জের ১ নম্বর বন্দর গুদারাঘাটে পাশাপাশি বাঁধা আছে বিভিন্ন সংস্থার নৌকা। পুলিশেরও তিনটি নৌকা আছে। একই সারিতে ছিল র্যাবের দুটি বড় নৌকা। নৌকা চলাচলের জন্য সেখানে ছোট একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষও আছে। গতকাল সকালে সেটিও বন্ধ দেখা যায়। বন্দরের ইজারাদার ইকবাল জানান, নিয়ন্ত্রণকক্ষটি ২৪ ঘণ্টা খোলা ছিল। এখন নৌকাও নেই, কক্ষও বন্ধ।
র্যাবের নৌকার খোঁজ করতে শহরের ভেতরের কার্যালয়ে এলে সেখান থেকে জানানো হয়, ওই কার্যালয়ে কোনো কর্মকর্তা নেই। তিন কর্মকর্তা চাকরি হারানোর পর সব কর্মকর্তা এখন ঢাকায়। নারায়ণগঞ্জ শহরে এখন বলতে গেলে র্যাবের কোনো কার্যক্রম নেই। র্যাবের কার্যক্রম আপাতত না থাকলেও এ বাহিনীর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের অন্ত নেই। নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম গতকাল প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেন, র্যাব তাঁর স্বামীকে অপহরণ করেছে। কিন্তু তাঁকে মেরে ফেলতে নূর হোসেনের সহায়তা নিয়েছে। লাশের ধরন দেখে তিনি এ ধারণা করেন বলে জানান। এ কথা বলার সময় স্থানীয় সাংবাদিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। নজরুলের জীবনযাপন সম্পর্কে সেলিনা ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসী নূর হোসেন দেড় মাস আগে নজরুলকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এ হুমকির পর থেকে নজরুল খুব ভয়ে ভয়ে চলতেন। নজরুল তাঁকে বলতেন, র্যাব-পুলিশ নূর হোসেনের কেনা। প্রাণের ভয়ে তিনি মিজমিজির বাসা ছেড়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। দেড় মাস ধরে ঢাকাতেই ছিলেন। মামলার হাজিরার জন্য ২৭ এপ্রিল তিনি নারায়ণগঞ্জে আদালতে এসেছিলেন। আসার আগের দিন শামীম ওসমানকে তিনি বলেছিলেন, 'ভাই, একটু দেইখেন।'
সেলিনা জানালেন, নজরুল ১৭-১৮ জনের দল নিয়ে চলতেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে তাঁর লোক থাকতেন। প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর তাঁরা যোগাযোগ রাখতেন। ওই দিন আদালতে তাঁর সঙ্গে এসব লোক ছিল। সেলিনার অভিযোগ, র্যাব সদস্যরা আগে থেকেই নজরুলকে নজরে রাখছিলেন। আদালতের ভেতরে র্যাবের একজন সদস্য সাদাপোশাকে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করার সময় নজরুলের লোকজন তাঁকে সন্দেহবশত আটক করেন। ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, র্যাবের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লোকটিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক তাঁকে জানিয়েছিলেন।
নজরুলের স্ত্রী আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে বের হয়ে স্টেডিয়াম পার হয়ে একটু দূরে গিয়ে নজরুল তাঁকে ফোন করে ঢাকায় যাওয়ার কথা জানান। এর পাঁচ মিনিট পর মনির নামের এক যুবক জানান, নজরুলসহ পাঁচজনের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে তিনি পাহারায় থাকা নজরুলের কয়েকজন সহযোগীকে সেখানে পাঠান। তাঁরা ফিরে এসে জানান, র্যাবের তিনটি গাড়ি এসে নজরুলের গাড়িটি গতিরোধ করে। তাঁরা প্রথমে গাড়ির সবাইকে মারধর করেন। এরপর জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এ সময় নজরুলের কাছে দুটি অস্ত্রও ছিল। ঘটনাস্থলে থাকা বালুশ্রমিকেরা এ দৃশ্য দেখেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বালুশ্রমিক প্রথম আলোকে বলেন, নজরুলকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি দেখেন, সামনে একটি গাড়ি সাইরেন বাজিয়ে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ আদালতের একজন আইনজীবী প্রথম আলোকে বলেন, নজরুলকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে ফেলেন আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার। তিনি কোনো কথা না বলে অপহরণকারীদের গাড়ির পিছু নেন। একপর্যায়ে তাঁর গাড়ি অপহরণকারীদের তিনটি গাড়ির একটির সামনে এসে পড়ে। তখন পেছন থেকে একটি গাড়ি চন্দনের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে থামিয়ে দেয়। চন্দন গাড়ি থেমে নামলে চালকসহ তাঁকে ওই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। সবগুলো গাড়িই চলে যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের দিকে। সেলিনা জানান, এ ঘটনা শুনে তিনি প্রথমে শামীম ওসমানের কাছে যান। শামীম ওসমান সব শুনে বলেন, নূর হোসেন এ কাজ করতেই পারে না। এভাবে তিনি অনেক সময় কাটান। তবে এ সময় শামীম ওসমান র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানের সঙ্গে কথা বলেন। সেলিনা মনে করেন, শামীম ওসমান ভালো করে নূর হোসেনকে বললে নজরুলের মৃত্যু হতো না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল জিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ওই দিন শামীম ওসমান তাঁকে বলেন, নজরুলকে র্যাব-১১-এর সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছেন। এ কথা শুনে তিনি শামীম ওসমানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি এটা কী করে জানলেন যে র্যাবই তাঁদের নিয়ে গেছে? জবাবে শামীম ওসমান বলেন, আদালতের লোকজন তাঁকে জানিয়েছেন, র্যাব-১১-এর লোকজন নজরুলসহ সবাইকে ধরে নিয়ে গেছেন। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, সবাইকে একটি 'টর্চার সেলে' নেওয়ার পর ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। এরপর মুখে গামছা ঢুকিয়ে দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও শ্বাসরোধের প্রমাণ মিলেছে। ওই সূত্রটি জানায়, সাতজনকে ওই দিনই মেরে ফেলা হয়। এরপর রাতের বেলা বড় নৌকায় করে লাশগুলো নেওয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীর নির্জন স্থানে। সেখানে নেওয়ার পর বুক-পেট চিরে প্রতিটি লাশের সঙ্গে ১৬টি করে ইট বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। আর এ দলে ছিলেন ২০ জনের মতো। এঁদের মধ্যে সরকারি বাহিনীর সদস্যও ছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লাশ ডোবাতে ব্যবহার করা হয় রেশনের বস্তা? সেদিন যা ঘটেছিল by কামরুল হাসান
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হুমকির মুখে মার্কিন আধিপত্য by নোম চমস্কি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোদি বনাম ভারত-লড়াই by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় @প্রথম আলো
গতকাল বুধবার সাত রাজ্যের যে আসনগুলোতে ভোট হলো এবং ১২ মে যে রাজ্যগুলোতে ভোট আছে, সেগুলোর মধ্যে উত্তর প্রদেশে ৩৩, বিহারে ১৩, হিমাচল প্রদেশে চার ও উত্তরাখন্ডে পাঁচটি আসন রয়েছে। ক্ষমতায় আসতে হলে এই ৫৫টি আসনের অধিকাংশ বিজেপিকে কবজা করতে হবে। উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলের ৩৩ আসনের মধ্যে ২০০৯ সালে বিজেপি পেয়েছিল মাত্র চারটি। কংগ্রেস ও বহুজন সমাজ পার্টি পেয়েছিল ১০টি করে। মোদির বারানসি থেকে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যই এই পূর্বাঞ্চলে আসন বাড়ানো এবং তার প্রভাব বিহারে ছড়িয়ে দেওয়া। সে লক্ষ্যে তিনি প্রচারের শেষবেলায় দুটি কৌশল নিয়েছেন। নিজের জাতিগত অনগ্রসর সত্তা ও চা বিক্রির অতীত পেশাকে বড় করে তুলে ধরে 'নিম্নবর্গীয় মানসিকতায়' নাড়া দিতে চেয়েছেন। পাশাপাশি অযোধ্যায় রামমন্দির প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ নতুন করে তুলে ধরেছেন। কেন? কারণ, এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দলিতরা মায়াবতী ও অনগ্রসর মানুষ মুলায়মকে ছাড়া অন্যদের ভরসা করেন না। তাঁদের সঙ্গেই এত বছর ধরে লেপ্টে থাকতে বাধ্য হয়েছে অতি অনগ্রসর 'সাব কাস্ট'-এর মানুষজন, যাঁরা দলিত 'জাটভ' ও অনগ্রসর 'যাদব'দের দাপাদাপিতে সংকুচিত বোধ করেন। মোদি যেহেতু জাতিগতভাবে এই গোষ্ঠীভুক্ত, তাই সেই সত্তায় সুড়সুড়ি দেওয়ার রাজনীতিকে আঁকড়ে ধরেছেন। এঁদের ভোট পেতেই বিজেপি জোট বেঁধেছে 'আপনা দল'-এর সঙ্গে, উত্তর প্রদেশে যাদের ১০-১২ শতাংশ ভোট আছে। ভোটের অনেক আগে থেকেই নরেন্দ্র মোদির নিজের হাতে সাজিয়ে নেন প্রচারের ছকটা। সেই ছকে প্রত্যক্ষ প্রাধান্য পায় তাঁর 'গুজরাট মডেল', 'দৃঢ়কঠিন উন্নয়নমুখী' মানসিকতা এবং 'চটজলদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার' ক্ষমতা। অতিমাত্রায় গণতন্ত্রী না হয়ে দেশের স্বার্থে 'উপকারী একনায়ক' হয়ে ওঠাকেই ওই প্রচারে হাতিয়ার করা হয়। সেই সঙ্গে প্রাধান্য দেওয়া হয় মোদির একদা অতিদরিদ্র সামাজিক চরিত্রকে, যা এক বিপুল জনসমষ্টিকে 'আমরাও এমন হতে পারি' স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে। প্রচ্ছন্নভাবে এই প্রচারের পাশাপাশি পরোক্ষে উসকানি দেওয়া হতে থাকে আর্যাবর্তের গো বলয়ের হিন্দুত্বসর্বস্ব মানসিকতায়। অর্থাৎ একদিকে 'ইয়ং ইন্ডিয়ানদের' বড় হওয়ার কল্পনায় সাত রঙের পোঁচ আর অন্যদিকে কট্টর হিন্দুদের রামমন্দির গড়ার স্বপ্নে বাতাস দেওয়া। বিজেপি খুব চতুরভাবেই এই দুই জনসমষ্টিকে জুড়ে দিল। সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটির নেতা ও মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য জাফরইয়াব গিলানি লক্ষৌতে নিজের বাড়িতে প্রথম আলোকে বলেন, 'মোদি বিজেপির প্রচারকে বহুমুখী করতে পেরেছেন। এ কারণে এবার উত্তর প্রদেশে ৩৫-৪০টি আসন তিনি আশা করতেই পারেন।' প্রদেশ কংগ্রেসের বড় নেতা সত্যদেও ত্রিপাঠি কিংবা বীরেন্দ্র মদনও প্রতিপক্ষের এতগুলো আসন পাওয়ার সম্ভাবনা অস্বীকার করেননি। তাঁদের ব্যাখ্যা: বিজেপির উচ্চবর্ণের ভোটব্যাংকের পাশে অনগ্রসর জাতিদের সমর্থন মিললে ও মুসলমান ভোটে বিভাজন হলে মোদির রণকৌশল সফল হতেই পারে।
লড়াই শুরুর আগে বিজেপির নজরে ছিল উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মোট ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬০টি। এনডিটিভির সর্বশেষ জরিপে শুধু উত্তর প্রদেশ থেকেই দলটিকে ৫৩টি আসন দেওয়া হয়েছে! এটা সম্ভব কি না, জানতে চাইলে উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক রমেশ দীক্ষিত বলেন, 'একেবারে অসম্ভব বলব না। তার একটা বড় কারণ, নরেন্দ্র মোদির ভালো-মন্দ সম্বন্ধে সবাই বিশেষ একটা অবগত নন। আবার লাগাতার প্রচার তাঁর সম্বন্ধে একটা আকর্ষণীয় ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছে। তাঁকে গুজরাটের কসাই বলা হচ্ছে, কিন্তু হিন্দুপ্রধান ভারতে, বিশেষত দাঙ্গাপ্রবণ গো বলয়ে সেটা তাঁর পক্ষে যেতে পারে। মোদি একজন 'নো ননসেন্স' নেতা, এটা যত প্রচার পাচ্ছে, কট্টর হিন্দুদের মধ্যে ততই তাঁর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। লোকসভার ভোটে অধিকাংশ মানুষ কেন্দ্রে একজন শক্তপোক্ত নেতাকে পেতে বেশি আগ্রহী।'
জাতীয় স্তরে বিজেপিকে রোখার মতো শক্তি এখন পর্যন্ত কংগ্রেসেরই রয়েছে। কিন্তু সেই কংগ্রেসকে অন্য 'ধর্মনিরপেক্ষ' দলগুলো গত দুই বছরে যেভাবে কোণঠাসা করেছে, কখনো কখনো বিজেপির সঙ্গে তাল ও হাত মিলিয়ে, তাতে দলটি দিন দিন দুর্বল হয়েছে। এই যে আট দফায় ভোট হয়ে গেল, তাতে বিরোধীদের টনক নড়েছে অনেক দেরিতে। কংগ্রেস ও মোদি দুজনকেই রুখে বিশ্বস্ত ও স্থায়ী বিকল্প সরকার গড়া যে সহজ নয়, সেই উপলব্ধি যখন হয়েছে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন এই শেষবেলায় বারানসিতে মুসলমান ভোট একজোট রাখার চেষ্টায় একটা উদ্যোগ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু শুধুই তা কি মোদির রথ ঠেকাতে পারবে?
এবারের ভোট মোদিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠার অনেক কারণের একটি যদি হয় প্রচারে 'টিম মোদির' উদ্ভাবনী ক্ষমতা, অন্যদিকে তা হলে থাকবে তাঁকে রুখতে কংগ্রেসের সার্বিক ব্যর্থতা। মনমোহন সিংকে নিয়ে দলের টালবাহানা, মোদির মোকাবিলায় রাহুলকে এগিয়ে দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে দীর্ঘ দোলাচল এবং স্বাভাবিক মিত্রদের (তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, টিআরএস) সঙ্গে সম্পর্কহানি এই লড়াইটা ক্রমে একপেশে করে তোলে। এখন কংগ্রেসের পক্ষে আশার আলো একটাই—প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। মত্ত ষাঁড়ের শিং ধরে মোকাবিলার মতো যেভাবে তিনি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টক্কর দিচ্ছেন, তাতে দেশের আপামর কংগ্রেসি এখন থেকেই তাঁর মধ্যে ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। প্রিয়াঙ্কাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ গান্ধী পরিবার দেবে কি না, মোদিময় ভোট শেষ হওয়ার আগেই এই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠছে। সেই প্রশ্নের মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত ষোড়শ লোকসভার ভোটে মূল লড়াই কংগ্রেস বনাম বিজেপির নয়, আঞ্চলিক দল বনাম কংগ্রেস বা বিজেপির মধ্যে নয়, ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম সাম্প্রদায়িকতারও নয়; লড়াইটা নরেন্দ্র মোদি বনাম অবশিষ্ট ভারতের।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোদি বনাম ভারত-লড়াই by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানবাধিকারের প্রশ্নটি উপেক্ষণীয় নয়
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওদের কি দেশে ফেরা হবে না?
আমরা সবাই দেশের বাইরে থাকি। কেউ অস্ট্রেলিয়া, কেউ যুক্তরাষ্ট্র, কেউ যুক্তরাজ্য আবার কেউ জাপানে। কিন্তু প্রতিনিয়ত আমাদের চিন্তায় জুড়ে আছে বাংলাদেশ। অদ্ভুতভাবে আমরা লক্ষ করলাম, অনেক অনেক দিন ধরে বাইরে থাকা এমনকি উন্নত দেশগুলোতে নাগরিকত্ব পাওয়া বাংলাদেশিরা এখনো ভুলতে পারেননি নিজেদের শিকড়কে, এখনো তঁাদের আলোচনায় সবার আগে বাংলাদেশ, বিতর্কের ঝড় ওঠে অস্ট্রেলিয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে। সিডনির রাস্তায় ট্যাক্সি চালানো বাংলাদেশের বুয়েটের ছেলেটি কিংবা নিউইয়র্কে সুপারশপে কাজ করা চট্টগ্রাম মেডিকেলের চিকিৎসক মেয়েটি নিজের পেশা বিসর্জন দিয়ে এই সহস্র মাইল দূরে বসে আছে বাংলাদেশে চাকরিতে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় প্রমোশন না পাওয়ার কষ্টে, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে বিশেষ কোনো সময়ে উপেক্ষার শিকার হয়ে, ক্ষমতাধর মামা না থাকায় নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী পছন্দের চাকরি না পাওয়ার কারণে। আর কত দিন এভাবে যোগ্যতার অবমূল্যায়ন চলতে থাকবে আর আমরা হারাতে থাকব সবচেয়ে মেধাবী সন্তানগুলোকে?
টরন্টোর ২০ তলা উঁচু অ্যাপার্টমেন্টে বসে বাংলাদেশের ছেলেটি আধুনিক কক্ষের উষ্ণতা অনুভব করছে ঠিকই, কিন্তু আজন্ম গ্রামে বেড়ে ওঠা ছেলেটি এখনো ভুলতে পারে না পূর্ণিমা রাতে ঘরের উঠোনে পাটি বিছিয়ে শুয়ে থাকায় মধুর স্মৃতি। প্রতিদিন সকালে অফিসে এসেই সবার আগে প্রবাসীদের কম্পিউটারের স্ক্রিনে বিবিসি কিংবা সিএনএন ভাসে না, দেখা যায় প্রথম আলো কিংবা বাংলাদেশের কোনো অনলাইন পত্রিকা। যত বড় গবেষণাগারেই পাশ্চাত্যের সমস্যা নিয়ে কাজ করি না কেন, সবার চিন্তায় বাংলাদেশ। আমাদের এক বন্ধু তাজ গবেষণা করছে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সোয়ান নদীতে ভাঙনের সম্ভাব্যতা প্রতিরোধ নিয়ে; কিন্তু তার উদাহরণে বর্ণনায় সব সময়ই চলে আসে সন্দ্বীপের নদীভাঙনের দুঃখ। দিন শেষে নীড়ে ফেরার প্রতীক্ষা সবার কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই মানুষগুলোর বেশির ভাগেরই দেশে ফেরার উপায় নেই। ন্যানো টেকনোলজি কিংবা জৈবপ্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করা ছেলেটা দেশে ফিরতে পারবে না। কারণ, দেশে অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না।
আমরা বিদেশে পিএইচডি করছি, গবেষণা করছি। আমরা সবাই দেশে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু এখানে আমাদের সুপারভাইজাররা যখন বলেন, আসলেই কি এই উন্নত কাজগুলো তোমার দেশে করতে পারার সুযোগ ও অর্থায়ন পাবে? আমরা বিভ্রান্ত হয়ে যাই। চাইলে হয়তো আমরা অনেকেই এসব দেশে নাগরিকত্ব পেয়ে যাব। কিন্তু আমরা বাঙালি পরিচয়ে থাকতে চাই, অন্য কোনো দেশের নাগরিক নয়। তার পরও দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন দেখি শিক্ষক এই পরিচয়ের চেয়ে আমি কোন দল সমর্থন করি, এটাই অনেক ক্ষেত্রে বড় পরিচয়, তখন হতাশ হতে হয়৷ শিকড় ছড়িয়ে থাকা এই কষ্ট ও অনিশ্চয়তাগুলো মাঝেমধ্যে মনে প্রশ্নের উদয় ঘটায়—আমাদেরও কি তবে দেশে ফেরা হবে না? লেখার শেষে পার্থের কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শামসুল আরেফিন আনামের একটা কথা উল্লেখ না করলেই নয়। কিছুদিনের মধ্যেই সে পাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব কিন্তু তবু বাংলাদেশকে নিয়ে তার অনেক ভাবনা ও উৎকণ্ঠা। তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, কিছুদিনের মধ্যেই যেখানে অস্ট্রেলিয়ার মতো একটা উন্নত দেশের নিরাপদ নাগরিক হতে যাচ্ছ, বাংলাদেশকে নিয়ে এত চিন্তা কেন তোমার? উত্তরে সে বলেছিল, ‘পৃথিবীর যেই প্রান্তেই যাই না কেন, যেখানেই থাকি না কেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ভালো আছে—এটা দূর থেকে দেখেও শান্তি পাব, ভীষণ ভালো লাগবে।’ মাননীয় সরকার, প্রশাসন ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা, দোহাই লাগে আপনাদের। আমাদের দেশে ফিরতে দিন, ফেরার পরিস্থিতি তৈরি করুন৷
লেখকবৃন্দ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত এবং চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউএসটিসির তরুণ শিক্ষক৷
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1432)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
May
(496)
-
▼
May 08
(7)
- লাশ ডোবাতে ব্যবহার করা হয় রেশনের বস্তা? সেদিন যা ঘ...
- লাশ ডোবাতে ব্যবহার করা হয় রেশনের বস্তা? সেদিন যা ঘ...
- হুমকির মুখে মার্কিন আধিপত্য by নোম চমস্কি
- মোদি বনাম ভারত-লড়াই by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় @প্রথম...
- মোদি বনাম ভারত-লড়াই by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
- মানবাধিকারের প্রশ্নটি উপেক্ষণীয় নয়
- ওদের কি দেশে ফেরা হবে না?
-
▼
May 08
(7)
-
▼
May
(496)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...