Wednesday, September 4, 2019

আসাম এনআরসি’র বিরুদ্ধে সরব বিজেপিসহ বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতা

গত ৩১ আগস্ট শনিবার প্রকাশ হওয়া আসামের নাগরিক তালিকা থেকে বহু প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক বাদ পড়েছেন বলে একমত হয়েছেন রাজ্যটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আইন প্রণেতারা। ভুল ও অসঙ্গতির শিকার হয়ে যারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তাদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। চূড়ান্ত এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ বাসিন্দা। তবে রবিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোনও আইন প্রণেতাই নিজেদের আসনে বাদ পড়া নাগরিকদের সম্ভাব্য কোনও হিসাব দেননি। তারা এই সংখ্যা বিশ্লেষণের কথা জানিয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন বিজেপির সাংসদরাও দলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এনআরসি’র সমালোচনা করেছেন।
৩১ আগস্ট শনিবার স্থানীয় সময় সকাল দশটায় অনলাইনে ও এনআরসি সেবাকেন্দ্রে প্রকাশিত আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। এক বিবৃতিতে এনআরসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় মোট আবেদনকারীদের মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লাখের মধ্যে নাগরিক হিসেবে স্থান পেয়েছেন ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জন।
আসাম বিজেপির সভাপতি ও সরভোগ আসনের আইনপ্রণেতা রঞ্জিত দাস বলেন, ‘আমার আসনে বেশ কয়েকটি ঘটনা আছে যেখানে একই পরিবারের কিছু সদস্য এনআরসি’তে স্থান পেয়েছেন আর কিছু বাদ পড়েছেন। অন্য জায়গা থেকে এসে আমার আসনের পুরুষদের বিয়ে করেছেন এরকম বহু নারী বাদ পড়েছেন। হিন্দু ছাড়াও মুসলমানরা আমার কাছে বাদ পড়ার কথা বলেছেন। আমি তাদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে বলেছি। কেউ যদি এনআরসি থেকে বাদ পড়া নিয়ে আপিল না করে তাহলে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হবে’।
অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) দক্ষিণ অভয়াপুরির সংরক্ষিত শিডিউল কাস্ট আসনের আইন প্রণেতা অনন্ত কুমার মালো নিজেই এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন। তার পরিবারের কেউই তালিকায় স্থান পাননি। তিনি বলেন, এটা কি একটা এনআরসি? আপনারাই বলুন। হাজার হাজার প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক-বিশেষ করে বাঙ্গালি হিন্দু বাদ পড়েছে আর বহু অবৈধ অভিবাসী এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

মোরিগাও আসন থেকে নির্বাচিত বিজেপি’র আইনপ্রণেতা রমা কান্ত দেওরি-ও এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে। তবে নিজের বাদ পড়া বা অন্তর্ভুক্তি কোনওটাই নিশ্চিত করেননি তিনি। রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য এই আইনপ্রণেতা বলেন, ‘আমি এটা দেখিনি এমনকি সেখানে আমার নাম আছে কিনা তা নিয়েও আমার কোনও চিন্তা নেই। আমি জানি বহু বাংলাদেশি এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে আর বহু আদিবাসী বাদ পড়েছে’।
ঢেকিয়াঝুলি থেকে নির্বাচিত বিজেপি’র আরেক এমএলএ অশোক সিংহাল বলেছেন, অনেকেই বাদ পড়েছে আর কারা বাদ পড়েছে সেইসব তথ্য এক জায়গায় করার চেষ্টা করছি।
আপার আসাম হিসেবে পরিচিত অসমীয়া ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার আইনপ্রণেতারা বলছেন, তাদের আসনগুলোতে বাদ পড়ার সংখ্যা তুলনামূলক কম।
আসাম বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং সিভাসাগর জেলার নাজিরা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের এমএলএ দেবব্রত সাইকিয়া বলেন, ‘আমার আসনে সিডিউল কাস্ট (ভারতের স্বীকৃত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী) বাংলাভাষী সম্প্রদায় রয়েছে যাদের পূর্বপ্রজন্ম ছিলো শরণার্থী। তাদের অনেকেই বাদ পড়েছে। কিছু মুসলমানও বাদ পড়েছে। অসমীয়া মানুষ কমবেশি সবাই তালিকায় রয়েছে’।
গোলাঘাট থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের এমএলএ অজন্তা নিয়োগি  নিজের আসনের মোট কতজন বাদ পড়েছেন তা জানার চেষ্টা করছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমার আসনে মূলত অসমীয়া জনগোষ্ঠীর বাস আর তারা বেশিরভাগই এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আদিবাসী উপজাতি জনগোষ্ঠীও এতে আছে-বা কেউ কেউ হয়তো এখনও নিজেদের নাম আছে কিনা তা দেখে উঠতে পারেননি। বাদ পড়াদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।’
কিন্তু যেসব এলাকায় মূলত বাংলাভাষী হিন্দু জনগোষ্ঠীর বাস সেসব এলাকার আইনপ্রণেতারা বলছেন তাদের আসনের বহু মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এই জনগোষ্ঠী মূলত বিজেপি’র ভোট ব্যাংক। আর তাদের বাদ পড়া নিয়েই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে দলটি।
মধ্য আসামের হোজাই জেলা থেকে নির্বাচিত বিজেপি’র আইন প্রণেতা শিলাদিত্য দেব-এর আসনে খসড়া এনআরসি থেকে বাদ পড়েছিল সবচেয়ে বেশি মানুষ। তিনি বলেন, খসড়া এনআরসি’তে আমার জেলাতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ বাদ পড়েছিল। এবারও এই সংখ্যা অনেক বেশি হবে- আমি ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছি। ১৯৭১ সালের আগে আসার প্রকৃত নথি থাকার পরও অনেক বাঙ্গালি হিন্দু বাদ পড়েছে। আমার মনে হয়েছে এখানে সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পক্ষপাত আছে। তদুপরি বহু ঘটনা আছে যে একই নথি দিয়ে আবেদন করার পরও পিতামাতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিন্তু সন্তান বাদ পড়েছে।
এআইইউডিএফ-এর আইনপ্রনেতা হাফিজ বশির আহমেদ
বাঙ্গালি অধ্যুষিত বরাক উপত্যকার শিলচর আসনের বিজেপি সংসদ সদস্য দিলিপ কুমার পাল বলেন, ‘আমার স্ত্রীর নাম খসড়া তালিকায় ছিল না। তার কাছে আমাদের আবেদন নম্বর রয়ে গেছে আর এখন সে বাইরে আছে। সেকারণে আমাদের নাম তালিকায় এসেছে কিনা তা এখনও দেখা হয়ে ওঠেনি। আমরা এই এনআরসি মানবো না। এই এনআরসিতে অবৈধ বিদেশিরা যুক্ত হয়েছে আর প্রকৃত ভারতীয়রা বাদ পড়েছে। আমার কাছে এর কোনও মূল্য নেই’।
বাঙ্গালি অধ্যুষিত আরেক এলাকা উত্তর করিমগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এমএলএ কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বলেন, এই এনআরসি মানুষ হয়রানি করছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এনআরসি হালনাগাদ করার কাজে গতি আসে কিন্তু যখন কোনও সমস্যা আসে সরকার তখন চুপ করে থাকে। প্রতীক হাজেলা (সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগকৃত এনআরসি সমন্বয়কারী) বেশ কিছু নিয়ম প্রচলন করেছেন আর বিদ্যমান নিয়ম বদলে দিয়েছেন। আমরা আগেও বলেছি বাঙ্গালি হিন্দুদের বাদ দেওয়া হবে, কিন্তু কেউ শোনেনি। আমার আসনে বহু ঘটনা আছে যেখানে আট ব্যক্তি একই কাগজপত্র জমা দিয়েছে কিন্তু পাঁচজন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে আর বাকি তিনজন বাদ পড়েছে। এখন মুখ্যমন্ত্রী বলছেন চিন্তার কারণ নেই কারণ বাদ পড়ারা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন-কিন্তু আমাদের যা বলা হচ্ছে না তা হলো এই ট্রাইব্যুনাল কিভাবে কাজ করবে?
মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনগুলোর আইনপ্রণেতারাও বলছেন বাদ পড়া ১৯ লাখ মানুষের মধ্যে বহু প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক রয়েছে।
লোয়ার আসামের ধুবড়ি থেকে নির্বাচিত এআইইউডিএফ-এর আইনপ্রনেতা হাফিজ বশির আহমেদ বলেন, যদি একজন ভারতীয় নাগরিকও বাদ যায় তাহলে এনআরসি প্রক্রিয়া নিয়ে কারো সন্তুষ্ট হওয়া উচিত না। কিন্তু এই ১৯ লাখ সংখ্যা দেখিয়ে দিয়েছে যে এতগুলো বছর ধরে রাজনীতিবিদ ও নেতারা যে দাবি করে আসছেন আসামে ৩০ লাখ- ৪০ লাখ অবৈধ বিদেশি রয়েছে তাদের সেই দাবি ভুল। আসামে এসব বাংলাদেশিদের উপস্থিতির রাজনীতিতে লাভবান হয়েছে নেতারা। তিনি বলেন, এই ১৯ লাখ মানুষের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে তাদের মামলা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে অমীমাংসিত রয়েছে বা অনেকেই ডি-ভোটার হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে বা ভিন্নমতালম্বী। ফলে এই ১৯ লাখ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে আসবে। এরইমধ্যে আমরা ঘোষণা করেছি যে, বাদ পড়া প্রকৃত সব ভারতীয়দের সহায়তা দেব আমরা আর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করবো।
নওগা’র ঢিং আসন থেকে নির্বাচিত এআইইউডিএফ-এর আইনপ্রণেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, বহু ঘটনা আছে যেখানে পিতামাতা তালিকায় স্থান পেয়েছে কিন্তু সন্তানরা বাদ পড়েছে। নথি উপস্থাপনের সময় ছোটখাটো ভুল করা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকেরা বাদ পড়েছে। ১৯৪৭ সালের আগের জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র উপস্থাপন করাও অনেকেই বাদ পড়েছে। আমার জেলা থেকে বাদ পড়াদের সংখ্যা পাওয়ার চেষ্টা করছি আমি।

টোলের আওতায় আসছে মহাসড়ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোকে টোলের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান । তিনি বলছেন, টোল থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা দিয়েই সারা বছর  সড়কগুলোর রক্ষণাক্ষেণ ও মেরামতের ব্যয় নির্বাহ করা হবে। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের উৎসমূখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ওই নির্দেশনা দেন। বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যে, দেশের মহাসড়কগুলোকে টোল সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে। টোল থেকে আদায়কৃত অর্থ একটা অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে হবে। পরবর্তীতে ওই অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট মহাসড়কগুলোর মেনটেইনেন্স ব্যয় নির্বাহ করতে হবে।
বর্তমানে দেশে বিভিন্ন সেতু এবং ফ্লাইওভারে চলাচলের জন্য যানবাহনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের ব্যবস্থা থাকলেও কোনো মহাসড়কে চলার জন্য টোল দিতে হয় না।
দেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় সড়ক রয়েছে ২১ হাজার ৫৯৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯০৬ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক।
বিশ্বে অনেক দেশেই যে মহাসড়কে টোল আদায়ের ব্যবস্থা আছে, সে বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, টোলের জন্য বিশেষ করে জাতীয় মহা সড়কগুলোর কথা বলা হয়েছে।
যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনা এবং ঢাকা-রংপুরৃ এসব মহাসড়কেই টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে।
বৈঠকে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র’ স্থাপন হওয়ার পর গাড়ির ওজন মাপার প্রক্রিয়া কেউ যেন ‘টেম্পারিং’ করতে না পারে সে জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
যাতে মনিটরিংয়ের জন্য সমন্বিত একটি সার্কিট ব্যবস্থা থাকবে। ডিজিটাল সমন্বিত সার্কিট ব্যবস্থা থাকলে ফাঁকির পরিমাণ কমবে।
মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত ভার নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধে এদিন একনেকের বৈঠকে ২১টি ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত সরকারের অনুমোদন পায়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৩০ কোটি টাকা।

ইয়েমেনে মুখোমুখি সৌদি-আমিরাত

ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ইয়েমেনে ক্রমশই একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশ দুটি ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একজোটে যুদ্ধ শুরু করেছিলো। কিন্তু আঞ্চলিক আরো কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠির ক্ষমতা দখল নিয়ে এখন পর¯পরের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত। ফলে হুমকির মুখে পরেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের ভবিষ্যৎ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আদেনের নিয়ন্ত্রণ ছিলো সেখানকার একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে। সম্প্রতি সৌদি সমর্থিন ইয়েমেন সরকারের সেনারা সে অঞ্চলটির দখল নেয়। কিন্তু এখানে ওই বিদ্রোহীদের প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার।
সেখানে ইয়েমেনি সেনাদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে আরব আমিরাত। পুনরায় বিদ্রোহীদের ওই এলাকার দখল নিতে সৌদি জোটের বিরুদ্ধে লড়তে শুরু করেছে আবুধাবি।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে কার্যত সৌদি-আমিরাত জোটের ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে পরলো। গত চার বছর ধরে ইয়েমেনে প্রক্সি যুদ্ধ চালাচ্ছে ইরান ও আরব জোট। এখন এই আরব জোটেও দেখা যাচ্ছে ভাঙ্গনের ইঙ্গিত।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন আব্দ-রাব্বু মন্সুর হাদি। কিন্তু আরব আমিরাত ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। উভয় পক্ষই একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে একটি সুন্নি জোট হিসেবে আÍপ্রকাশ করেছিলো। তারই অংশ হিসেবে হুতিদের থামাতে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু করে আরব জোট। কিন্তু তাদের ছিলো ইয়েমেনে আলাদা আলাদা স্বার্থ। সৌদি আরব ও আরব আমিরাত এই সংকট সমাধানে আলোচনা করতে চেয়েছিলো। কিন্তু হাদি সরকার দাবি করে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আগে বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সাহায্য বন্ধ করতে হবে। এবং বিদ্রোহীদের ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেরে দিতে হবে। কিন্তু এই শর্তে রাজি নয় অপর পক্ষ। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, আগে ইসলামিস্ট ইসলাহ পার্টিতে এই অঞ্চল ছারতে হবে এবং উত্তরাঞ্চলীয়দের দক্ষিণ ইয়েমেনের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এদিকে ইয়েমেনে হাদি সরকারের প্রতি সৌদি সমর্থন অব্যাহত থাকলেও আরব আমিরাত একে অকার্যকরী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এর বিকল্প কাউকে ক্ষমতায় বসানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে দেশটি।
সৌদি আরব নিজ উদ্যোগেই ইয়েমেনে যুদ্ধের জন্য আরব রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠন করেছিলো। এ জোটে দেশটির প্রধান সহযোগি রাষ্ট্র ছিলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইয়েমেনে ইরানপন্থী শিয়া বিদ্রোহী গ্রুপ হুতিদের থামাতে উভয় দেশই সংকল্পবদ্ধ ছিলো। কিন্তু জোটের মধ্যেকার এই দ্বন্দ্ব বর্তমানে ইয়েমেনকে সৌদি আরবের জন্য কঠিন করে তুলছে। হুতিদের দুর্বল করা এমন অবস্থায় প্রায় অসম্ভব হয়ে পরবে সৌদি আরবের জন্য। আদেনের ঘটনাও প্রমাণ করে সেখানে হাদি সরকার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে না। দক্ষিণাঞ্চলীয় বিদ্রোহীরা যখন দেশটির গুরুত্বপূর্ন অংশের নিয়ন্ত্রণে আছে তখন রাজধানী সানাসহ প্রধান বন্দর হোদেইদাহের নিয়ন্ত্রণে আছে হুতিরা। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা টার্গেট করে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে হুতি।

জনসনের বিরুদ্ধে নিজ দলের ২১ এমপির ভোট, পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ পেলেন এমপিরা

ব্রেক্সিট ইস্যুতে বহিষ্কারের হুমকি সত্ত্বেও নিজের দল কনজারভেটিভ পার্টির ২১ জন এমপি ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক কয়েকজন মন্ত্রীও। তারা চুক্তিবিহিন ব্রেক্সিট ঠেকাতে যোগ দিলেন বিরোধীদের সঙ্গে। এর ফলে পার্লামেন্টে ৩২৮-৩০১ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছে সরকার। মঙ্গলবার রাতে এ ভোটের ফলে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ আজ ‘চুক্তিবিহিন ব্রেক্সিট বিরোধীদের’ হাতে। এর মধ্যে রয়েছেন বিরোধী দলীয় এমপি ও কনজারভেটিভ পার্টির চুক্তিবিহিন ব্রেক্সিট বিরোধী এমপিরা। এর অর্থ হলো ব্রেক্সিট সম্পাদনের সময়সীমা সম্প্রসারণ করতে বা বিলম্বিত করতে আজ বুধবার পার্লামেন্টে একটি বিল আনতে পারেন তারা। এই বিলে তারা ব্রেক্সিট সম্পাদনের সময়সীমা ৩১ শে জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন।
যদি তাই হয় তাহলে চুক্তিবিহিন ব্রেক্সিটের সম্ভাবনা থাকবে না। জবাবে বরিস জনসন বলে দিয়েছেন তিনি আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব উত্থাপন করবেন পার্লামেন্টে। অন্যদিকে বিরোধী  লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, নির্বাচন হওয়ার আগেই ওই বিলটি পাস হওয়া উচিত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
ব্রেক্সিট নিয়ে বৃটিশ রাজনীতিতে অনেক দিন ধরেই ঝড়। এই ঝড়ে পতন ঘটেছে দু’জন প্রধানমন্ত্রীর। প্রথম বিদায় নিতে হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে। তারপর এসেছিলেন তেরেসা মে। তাকেও বিদায় নিতে হয়েছে। এরপর ব্রেক্সিট সম্পাদনের এই গুরুদায়িত্ব নিয়েছেন লন্ডনের সাবেক মেয়র, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি ক্ষমতায় এসেই ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পাদনের প্রত্যয় ঘোষণা করেন। এটাই এখন ব্রেক্সিট সম্পাদনের সর্বশেষ সময়সীমা। এরই মধ্যে তিনি পার্লামেন্ট ৫ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। তাতে সম্মতি দিয়েছেন রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। পার্লামেন্ট স্থগিত করার পরিকল্পনায় সংশয় বাড়তে থাকে এই জন্য যে, এর মধ্য দিয়ে চুক্তিবিহিন ব্রেক্সিট সম্পাদন করতে পারেন বরিস জনসন। এমন সংশয় থেকে বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়েছেন তারই ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভের ২১ এমপি।
ছুটি শেষে মঙ্গলবার অধিবেশন বসে বৃটেনের পার্লামেন্ট। আগেই ব্রেক্সিট নিয়ে নিজ দলের যারা বিরোধিতা করবেন তাদের বহিষ্কার করার হুমকি দিয়েছিলেন জনসন। কিন্তু তাতেও কাজ হলো না। বিরোধী দলের পাশাপাশি নিজ দলের বিদ্রোহী এমপিদের কাছে হাউজ অব কমন্সে ৩২৮-৩০১ ভোটে হেরে গেলেন তিনি। ভোটে জয়ের ফলে আজ বুধবার পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ পেলেন বিরোধী ও বিদ্রোহী এমপিরা। এই ভোটের ফলে চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের বিরোধীরা ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে পার্লামেন্টে বিল আনতে পারবেন।
বিবিসি লিখেছে, মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ভোটের পর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়েছে, কনজারভেটিভ দলের যেসব এমপি বিদ্রোহ করেছেন তাদের পার্লামেন্টারি পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের আশা ছিল, বহিষ্কার হুমকি ও আগাম নির্বাচনের কথায় বিদ্রোহী এমপিরা হয়তো অবস্থান বদলাবেন। লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পক্ষে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আর নেই।
প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেছেন, অক্টোবরে নির্বাচনের প্রচেষ্টা চালানো ছাড়া তার কিছু করার নেই। কারণ তিনি বলছেন, দেশের জনগণকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদিও এটিও তার জন্য খুব সহজ হবে না। কারণ বৃটেনে ২০১১ সালের একটি আইনে পার্লামেন্টকে পাঁচ বছরের মেয়াদ দেয়া হয়েছে। এখন সেটি পরিবর্তন করতে হলে সংসদে বরিস জনসনের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে। তা পেতে হলে তার বিরোধী দল লেবার পার্টির সমর্থন দরকার হবে। সেই সমর্থন পাওয়া জনসনের জন্য খুব একটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভোটের ফলের কারণে আজ এমপিরা হাউস অব কমন্স নিয়ন্ত্রণ করবেন। এর ফলে তারা ব্রেক্সিট ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত বিলম্বিত করার প্রস্তাব দিতে প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করতে বিল আনার সুযোগ পাবেন। তবে তা তখনি ঘটবে যদি এমপিরা ১৯শে অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিটের জন্য একটি নতুন চুক্তি অনুমোদন বা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট না দেন। ধারণা করা হচ্ছে, সরকার ১৫ই অক্টোবর একটি সাধারণ নির্বাচন করতে চান। তার দু’দিন পরেই ব্রাসেলসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

কাশ্মির ইস্যুতে লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভ, ভারতীয় হাই কমিশনে ভাঙচুর

অধিকৃত কাশ্মিরে ভারতীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রায় ১০ হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, এদিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ হাজার। তারা লন্ডনে ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরে অবস্থান নিয়ে কাশ্মিরের স্বাধীনতার দাবিতে আওয়াজ তোলেন। এ সময় উই ওয়ান্ট ফ্রিডম; ফ্রিডম ইজ রাইট অব কাশ্মির; ইন্ডিয়া লিভ কাশ্মির; টেররিস্ট, টেররিস্ট, মোদি টেররিস্ট; সেভ কাশ্মির ফ্রম বিজেপি অ্যান্ড আরএসএস; কাশ্মিরিজ নিজ জাস্টিস প্রভৃতি স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। এক পর্যায়ে তারা হাই কমিশন ভবন লক্ষ্য করে ডিম, টমেটো, জুতা, বোতল, পাথর, স্মোক বম্ব বা ধূমবোমা নিক্ষেপ করে। এতে ভবনের বেশ কয়েকটি জানালা ভেঙে যায়।
টুইটারে দেওয়া পোস্টে কয়েকটি ভাঙা জানালার ছবি প্রকাশ করেছে ভারতীয় হাই কমিশন। টুইটে বলা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর ফের লন্ডনে ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরে সহিংস বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভবন চত্বরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পাকিস্তানভিত্তিক জিও টিভি জানিয়েছে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে #কাশ্মির_ফ্রিডম_মার্চ (#KashmirFreedomMarch)। এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই কাশ্মিরি বংশোদ্ভূত। বিক্ষোভকারীরা অধিকৃত অঞ্চলটিতে ভারতীয় বাহিনীর কারফিউ এবং সরকারের চাপিয়ে দেওয়া যোগাযোগ বিপর্যয়ের শিকার মানুষদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দুপুর ১২টার দিকে বাসযোগে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে পার্লামেন্ট স্কয়ার এলাকায় জড়ো হন বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশন অভিমুখে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তারা উপত্যকা থেকে কারফিউ তুলে নেওয়া এবং সেখানে ভারতীয় বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের দাবিতে আওয়াজ তোলেন।
জম্মু-কাশ্মির লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ)-এর ডাকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সমর্থন দেয় যুক্তরাজ্যের সবকটি পাকিস্তানি ও কাশ্মিরি সংগঠন। যুক্তরাজ্যে তেহরিক-ই-ইনসাফ, মুসলিম লীগ, পিপলস পার্টি, জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলগুলোর শাখা সংগঠনের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের প্রতিবাদে লন্ডনে ভারতীয় হাই কমিশন ঘিরে বিক্ষোভ করেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। দিল্লির সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তানি ও কাশ্মিরি পতাকা হাতে ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা কাশ্মির ইজ বার্নিং; ফ্রি কাশ্মির; মোদি ইজ হিটলার; কাশ্মির ওয়ান্টস ফ্রিডম; মোদি: মেক টি নট ওয়ার প্রভৃতি স্লোগান দেয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে দিল্লি। কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দিতে ভারতকে চাপ দেওয়া উচিত জাতিসংঘের।
সুমাইয়া শাহ নামের এক নারী জানান, কাশ্মিরে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তিনি। কারণ পুরো কাশ্মিরের জনগণকে লকডাউন ও কারফিউ পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছে ভারত। আমি জানি না, বাবা-মায়ের ওষুধ ও খাবার আছে কিনা। আমার মায়ের ডায়বেটিক, তিনি ইনসুলিন নিচ্ছেন।

রোহিঙ্গাদের মোবাইল নেটওয়ার্ক, দায় নিচ্ছে না কেউ by কাজী সোহাগ

রোহিঙ্গাদের হাতে মোবাইল সিম ইস্যুতে দায় নিতে চান না কেউই। বরং একে অপরকে দোষারোপ করছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। নিয়ম বহির্ভূত কিছু হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ও এর দায় নিতে চায় না। তারা সংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন। মোবাইল অপারেটররা বলছে, নিয়ম মেনেই তারা মোবাইল ফোনের সিম বিক্রি করেছেন। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় হয়নি।
এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ইস্যুতে মন্ত্রনালয়, বিটিআরসি ও অপারেটরদের কেউই দায় এড়াতে পারেন না।সবারই এখানে দায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে-মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আশ্রয় ক্যাম্পে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করছেন রোহিঙ্গারা। প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গার হাতে রয়েছে মোবাইল ফোন। সিমের পাশাপাশি তারা ব্যবহার করছেন ইন্টারনেট সেবাও। এর মাধ্যমে গ্রুপ চ্যাটিং করে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করছেন নিয়মিত। এক ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে এক জায়গায় লাখ লাখ রোহিঙ্গার সমবেত হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আর এসব সম্ভব হচ্ছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে। নিয়ম অনুযায়ি কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সিম ব্যবহার করতে পারে না। কারণ সিম কিনতে গেলে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি লাগে। তার ওপর রয়েছে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। বিষয়টি আমলে নিয়ে সোমবার রোহিঙ্গাদের মোবাইল সেবা বন্ধের জন্য অপারেটরদের নির্দেশনা দেয় বিটিআরসি। সেখানে বলা হয়,‘আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো ধরনের সিম বিক্রি, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে সিম ব্যবহার বন্ধ তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মোবাইল সুবিধা প্রদান না করা সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বিটিআরসিকে অবহিতকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হল।’ বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের কাছ থেকে ‘জরুরি ব্যবস্থা’ নেয়ার নির্দেশনা পেয়ে তারা অপারেটরদের চিঠি পাঠান। বিটিআরসির এই নির্দেশনা প্রসঙ্গে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয় তথ্যভান্ডারে (এনআইডি) সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই একটি মোবাইল সিম বিক্রয় করা হয়। অর্থাৎ মোবাইল সিম কিনতে হলে একজন ব্যক্তির বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি যে, সিম সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র বৈধ নাগরিকদের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ও এনআইডি ডাটাবেজে নিবন্ধন নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। একই প্রসঙ্গে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর্স অব বাংলাদেশ (এমটব) মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.) বলেন, মোবাইল অপারেটররা সবসময়ই বিটিআরসির নির্দেশনা মেনে চলে। এ ব্যপারে তারা নিজেদের আয়ত্তের মধ্যে সম্ভব যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এখানে আরো বলা দরকার যে এন আই ডি ডাটাবেসের সঙ্গে বায়োমেট্রিক নিশ্চিতকরণের পরেই কেবল মোবাইল সিম সক্রিয় করা যায়। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, রোহিঙ্গাদের হাতে সিম ইস্যুতে সবাই যেভাবে দায়িত্ব এড়াতে চাচ্ছেন তা অত্যন্ত হাস্যকর। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় দুটি মোবাইল টাওয়ার বসানো হয়েছে। এটা বসাতে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির অনুমোদন লাগে। আর যদি অনুমোদন না নিয়ে টাওয়ার বসানো হয় তাহলে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০১ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। বিটিআরসি এ ধরণের কোন জরিমানা সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে করেনি। তিনি বলেন, ২ বছর আগে ওই এলাকায় মোবাইল সিমের ব্যবহারকারী কতজন ছিলো আর এখন কতজন সে হিসেবটা বের করলেই খুব সহজেই বোঝা যাবে। পাহাড়ি এলাকায় সাধারণত এক কিলোমিটারের মধ্যে ৫০টির বেশি পরিবার থাকে না। সে হিসেবে তাদের হাতে কয়টা সিম থাকতে পারে আর এখন কতটা আছে? মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ইস্যুতে আসলে দায়টা সবার। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো.জাকির হোসেন খাঁন মানবজমিনকে বলেন, রোহিঙ্গাদের হাতে সিম ইস্যুতে এরইমধ্যে অপারেটরদের চিঠি দেয়া হয়েছে। তাদের ৭ দিন সময় বেঁধে দেয়া আছে। আমরা দেখি তাদের জবাব কি আসে। আর ক্যাম্প এলাকায় মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্থাপন করা হয় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় দিনের বেলা মোবাইল সংযোগ পুরোদমে চালু থাকলেও রাতে শুধু টু-জি নেটওয়ার্ক চালু থাকবে। এর মাধ্যমে শুধু কথা বলা (ভয়েস কল) যাবে। প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৩ ঘণ্টা থ্রি-জি, ফোর-জি চালু থাকবে না। গতকাল মঙ্গলবার এ নিয়ে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। তিনি জানান, নতুন নিয়ম থাকলেও বর্ডার এলাকার মোবাইল টাওয়ারে টিএ (টাইমিং অ্যাডভান্স) ভ্যালু বজার রাখারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্থানীয় মানুষদের কাছ থেকে একেকটা সিম ৫০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনছেন রোহিঙ্গারা। বিশেষ করে কর্পোরেট সিম সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছেন রোহিঙ্গারা। এই সিম একজনের নামে অনেকগুলো দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এটাই কাজে লাগাচ্ছেন অসাধুরা। বাড়তি টাকার বিনিময়ে ওইসব সিম তুলে দিচ্ছেন রোহিঙ্গাদের হাতে। তারা জানান, এখন রোহিঙ্গাদের শক্তিশালি নেটওয়ার্ক রয়েছে। মুহুর্তের মধ্যে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সমবেত হতে পারে। অদূর ভবিষ্যতে তারা যে ভয়ংকর হয়ে উঠবে না এ নিশ্চয়তা কে দেবে? এটা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটি ইস্যু। সরকার বা বিটিআরসি যদি এখনই কোন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে পরিস্থিতি হয়তো নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে পারে। রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতন থেকে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেন বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। নতুন-পুরনো মিলিয়ে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয়ের পাশাপাশি সার্বিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি এনজিওর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার তাদের খাদ্য, অস্থায়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, বস্ত্র, লেখাপড়া, বিনোদনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

শাড়ি নিয়ে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের লেখা, সামাজিক মাধ্যমে তুলকালাম

বাংলাদেশের একজন লেখক ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের একটি লেখা নিয়ে দেশটির সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
শাড়ি নিয়ে দেশের একটি বাংলা পত্রিকায় তাঁর একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয় গত ৩০শে অগাস্ট।
সেখানে তিনি শাড়ির সঙ্গে বাঙালি নারীর শরীরের সৌন্দর্য নিয়ে লিখেছেন। কিন্তু তার এই লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
অনেকে এই লেখাটিকে নারী বিদ্বেষী, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আর বর্ণবাদী বলে অভিযুক্ত করেছেন। তবে অনেকে এই লেখাটির পক্ষেও তাদের অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন।

কী লিখেছেন মি. সায়ীদ

সেখানে শাড়ি কিভাবে মেয়েদের শরীরের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে, শাড়ির সঙ্গে পশ্চিমা বা অন্যান্য পোশাকে মেয়েদের দেখতে কেমন দেখায় তার তুলনা এবং মেয়েদের শারীরিক গঠনের সঙ্গে শাড়ির সম্পর্ক, ইত্যাদি নানা বিষয় এসেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের তরুণীরা নিয়মিতভাবে শাড়ি না পরলেও বিশেষ উপলক্ষ্যগুলোয় পড়ে থাকেন
তিনি লিখেছেন, ''আধুনিক শাড়ি পরায় নারীর উঁচু-নিচু ঢেউগুলো এমন অনবদ্যভাবে ফুটে ওঠে, যা নারীকে করে তোলে একই সঙ্গে রমণীয় ও অপরূপ। শাড়ি তার রূপের শরীরে বইয়ে দেয় এক অলৌকিক বিদ্যুৎ হিল্লোল।'' 
''পৃথিবীর কোনো কোনো এলাকার নারী শরীরেই কেবল শাড়িতে এ অলীক রূপ ফুটে ওঠে, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রিয়দর্শিনী সুকুমারী তন্বীদের দেহবল্লরীতে—সে বাংলা, পাঞ্জাব বা উত্তর ভারতের—যেখানকারই হোক।'' 
আরো লিখেছেন, ''শাড়ি একটা রহস্যময় পোশাক। নারী দেহকে কতটা প্রদর্শন করলে আর কতটা অপ্রকাশিত রাখলে তা শারীরিক মোহ বজায় রেখেও দর্শকের চোখে অনিন্দ্য হয়ে উঠবে, তা পোশাকটি যেন সহজাতভাবেই জানে।'' 
আর শেষটা হয়েছে এই ভাবে, ''... আমার মনে হয়, এ রকম একটা অপরূপ পোশাককে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে বাঙালি মেয়েরা সুবুদ্ধির পরিচয় দেয়নি।''

সামাজিক মাধ্যমে তুমুল ঝড়

লেখাটি প্রকাশের পর থেকেই বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে তুমুল ঝড় চলছে।
অনিন্দিতা সেঁজুতি তার ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ''ভদ্র ভাষায় সম্মানের সাথে বলতে গেলে দুঃখজনক লেখা! পুরো লেখায় বাঙালি নারীর বডি শেমিং করে গেছেন! সম্পূর্ণ সেক্সিস্ট লেখা!! ......শাড়ি কেন ঝেঁটিয়ে বিদায়ও করেনি। এখনকার ব্যস্ত জীবনে মানুষ নিজ স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী পোশাক পড়ে।''
জাহান সুলতানা প্রশ্ন তুলেছেন, ''নারীজনিত গীতিময় ভঙ্গি ফুটে ওঠার একটা মানদণ্ড কি পাঁচ ফুট চার ইঞ্চ উচ্চতা? ......যাই পড়ুক, তাকে সুন্দর লাগতে হবে কেন। কেন? সুন্দর লাগার জন্য বাঙ্গালি নারীকে শাড়িই পরতে হবে। কেন?.....মেয়েদের জন্য সৌন্দর্যটাই সবকিছু, এসব কিছু যদি পাশের বাড়ির সংকীর্ণমনা স্বল্প পড়ুয়া ভাবী বলেন, কানে লাগে না, কিন্তু আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের মতো একজন ব্যক্তিত্ব দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকে সরকারি না হলেও যখন অনেকটা এভাবেই শোনার মত করে বিষয়গুলো লিখেন, তখন ভীষণ অবাক হতে হয় বৈকি!''
বেসরকারি চাকরিজীবী জেসমিন চৌধুরী বলছেন, ''আমি এক সময় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য ছিলাম, স্যারকে আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর হিসাবে দেখে এসেছি। কিন্তু তিনি নারীদের এভাবে দেখেন, এটাই আমাকে সবচেয়ে আহত করেছে। এটা তো নারীকে একজন মানুষ হিসাবে দেখা, পুরুষের সমান হিসাবে দেখা হলো না।''
যারা এই লেখার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন, তাদের বেশিরভাগই নারী। তাদের বেশিরভাগই লেখাটিকে অপমানজনক বলে মনে করছেন।

আপত্তি কেন?

যেখানে অনেক কবি-সাহিত্যিকের লেখায় নানাভাবে নারী শরীর ও সৌন্দর্যের বর্ণনা এসেছে, সেখানে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের লেখা নিয়ে এতো বিতর্ক কেন?
নারী অধিকার কর্মী ফেরদৌস আরা রুমি বলছেন, এখন সবার জন্যই প্রতিবাদের একটি জায়গা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম, যেখানে যেকোনো বিতর্কিত বিষয় নিয়েই কিন্তু আলোচনা হয়। তার লেখাটা এখন এসেছে বলে আলোচনায় বেশি।
মি. সায়ীদের লেখার বেশ কয়েকটি পয়েন্ট নিয়ে নারীদের আপত্তি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন, যা তাদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
''এই লেখাটায় তিনি যতটা সাহিত্যের বর্ণনার জায়গা থেকে লিখেছেন, তার চেয়ে নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসাবে বেশি দেখানো হয়েছে বলে মনে হয়েছে। পুরো লেখায় নারীদের একেবারেই যৌন বস্তু হিসাবে দেখা হয়েছে, সেভাবে রগরগে বর্ণনা করা হয়েছে।'' তিনি বলছেন।
''শুধু নারীদের বন্দনা থাকলে হয়তো সবাই এতটা আপত্তি করতো না। কিন্তু লেখায় বাঙালি নারীদের নানাভাবে নারীদের হেয় করা হয়েছে।''
''বাঙালি নারীদের উচ্চতা বেশি নয়, তাদের শাড়ি পড়ে সুন্দর হতে হবে, পাশ্চাত্য পোশাক পড়ে হাস্যকর তৃপ্তি পাচ্ছে, মেকআপ করতে হবে, অন্যদের কাছে যেন নারীর শরীর তুলে ধরাই কাজ, এরকম অনেক অপমানজনক বক্তব্য লেখায় রয়েছে।''
অনেকে তাদের শাড়ি পড়া ছবিও আপলোড করেছেন। কেউ কেউ শাড়ির ছবির সঙ্গে লিখেছেন, কাউকে দেখাতে বা সুন্দর প্রমাণের জন্য নয়, ভালো লাগে বলে শাড়ি পরি।
তবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের শাড়ি নিয়ে এই লেখার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন কেউ কেউ।
যেমন মি. সায়ীদের নানা সামাজিক কাজের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে গোলাম রাব্বানি ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, একটি লেখার মাপকাঠিতে একজন মানুষের গোটা জীবনের অর্জনকে আপনি খারিজ করে দিতে পারেন না।
শংকর মৈত্র তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ''লেখাটি পড়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি। আমিও মনে করি শাড়িতে বাঙালি নারীর যে রূপ ফুটে ওঠে, অন্য কোনো পোশাকে তেমনটি হয় না।......নারীর শাড়ি আর পুরুষের লুঙ্গি। অসাধারণ কম্বিনেশন।''
আনিস আলমগীর ফেসবুকে লিখেছেন, ''এখানে সমস্যা কোথায়? মাঝখানে নারীর রূপ সৌন্দর্য বর্ণনা? তিনি তো একজন সাহিত্যিক। শিক্ষকও। একজন সাহিত্যিক নারীর রূপ-সৌন্দর্যকে যেভাবে বর্ণনা করেন আমজনতার বর্ণনা থেকে তা তো ভিন্ন হতেই পারে। নাকি শিক্ষক হয়েছেন বলে উনি নারীর সৌন্দর্য বর্ণনা করতে পারবেন না!''
মি. সায়ীদের লেখাটির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে সাহিত্যিক ব্রাত্য রাইসু লিখেছেন, ''যেই লোক সৌন্দর্যে বিশ্বাস করে না তারে কেউ জোর করতে যাবে না নিশ্চয়ই। কিন্তু সৌন্দর্যে আপনার অবিশ্বাসের কারণে যিনি সুন্দরে বিশ্বাস করেন তিনি এর দ্বারা কোনো রেসিজম করেন না।....ফলে বেটে মেয়েদের চাইতে লম্বা মেয়েরা অধিক সুন্দর, এই দেশে। বেশি লম্বা হইলে আবার সুন্দর না। আপনার সোসাইটি এই রকমই মনে করে।''
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের এই লেখার পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই সাহিত্য, সংস্কৃতি বা সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।
বিষয়টি নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাথে বিবিসি বাংলার তরফ থেকে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে অধ্যাপক সায়ীদ বর্তমানে ব্রিটেনে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেয়া হয়।
অধ্যাপক সায়ীদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অধ্যাপক সায়ীদ ব্যক্তিগত সফরে ব্রিটেনে আছেন।
এসময় তিনি ব্রিটেনের বিভিন্ন জায়গায় যাবেন। আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বরের পরে অধ্যাপক সায়ীদ দেশে ফিরবেন বলে জানান তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।


ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করবে না পাকিস্তান

ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করবে না পাকিস্তান। ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। এই দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্বশান্তিকে হুমকিতে ফেলতে পারে। এসব সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গভর্নর হাউজে তিন দিনের ইন্টারন্যাশনাল শিখ কনভেনশনের সমাপনী অনুষ্ঠানে সোমবার তিনি বক্তব্য রাখছিলেন। এ সময় ইমরান খান বলেন, ভারত ও পাকিস্তান বসে আছে একটি ‘টিকিং’ বোমার উপর। যুদ্ধ নিয়ে কথা বলার চেয়ে দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অত্যাসন্ন ঝুঁকির মতো ভয়াবহ সব ইস্যুতে অভিন্ন কৌশল বের করা নিয়ে আলোচনার করা উচিত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
ইমরান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদে আসার পর পরই আমি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এক্ষেত্রে ভারত যদি এক পা সামনে আগায় তাহলে আমরা দুই পা সামনে এগুনোর কথা বলেছি। কথা বলেছি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এবং তাকে পরামর্শ দিয়েছি ৭২ বছর ধরে চলমান কাশ্মীর সঙ্কট সমাধান করা যেতে পারে আলোচনার মাধ্যমে। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি। ইমরান খান তার বক্তব্যে বলেন, গত এক বছরে যেসব ঘটনা ঘটেছে তাতে দেখা যায় বিভিন্ন অবস্থায় ভারত এমন ভাব দেখাচ্ছে যে, তারা একটি সুপার পাওয়ার এবং তারা কথা বলছে একটি দরিদ্র দেশের সঙ্গে। ইমরান খান বলেন, যুদ্ধ কোনো সমস্যারই সমাধান দিতে পারে না। যারা এটা মনে করেন তারা বোকা। যুদ্ধ আরো সঙ্কট ও সমস্যার সৃষ্টি করে বলে তিনি সতর্ক করেন। যারা সুযোগ হিসেবে যুদ্ধকে বেছে নেয় তারা সামনের অনেক বছর অনুতপ্ত হবে।
ভারতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মুসলিমদের হত্যা ও তাদের প্রতি অমানবিক আচরণের নিন্দা জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বে এমন কোনো ধর্ম নেই, যা নারী ও শিশু সহ নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে অন্যায় ও বর্বরতা অনুমোদন করে। সর্বগ্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আদর্শের মাধ্যমে ভারতকে আরএসএস এমন একটি অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে, যেখান থেকে ফিরে আসার কোনো পথ থাকবে না। দখলীকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ২৮ দিনব্যাপী কারফিউয়ের কড়া নিন্দা জানান ইমরান খান। কারণ, এর ফলে সেখানকার ৮০ লাখ মানুষ তাদের ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাদের কাছে খাদ্য, ওষুধ নেই। তাই দখলীকৃত কাশ্মীর ও ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিষ্পেষণ বন্ধের জন্য ভারতকে আয়ত্তে আনার জন্য চেষ্টা করছে পাকিস্তান। তিনি এ সময় ভারতে ও কাশ্মীরে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যে নিষ্পেষণ ও নির্যাতন চলছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। কর্তারপুর করিডোর ও নানক শাহিবের মতো পবিত্র স্থান সফর করতে শিখদের প্রতি স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিখ সম্প্রদায়কে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা দেবে পাকিস্তান সরকার। এ ছাড়া তাদেরকে দেয়া হবে মাল্টিপল ভিসা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন পাঞ্জাবের গভর্নর চৌধুরী সারওয়ার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এক পাকিস্তান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে সংখ্যালঘুরাও পাবেন সমান অধিকার। তিনি জানান, কর্তারপুর করিডোর প্রকল্পের কাজের শতকরা ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তা খুলে দেয়া হতে পারে।

ভারতের রোহিঙ্গা মুহূর্ত: মোদি’র হিন্দুত্ববাদী শক্তির খেলায় হুমকির মুখে আসামের লাখ লাখ অধিবাসী by দেবাশীষ রায় চৌধুরী

১৯৬২ সালের শীতকালে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের জনগণকে আতঙ্ক গ্রাস করেছিলো। রণভঙ্গ দিয়ে পালাতে থাকা ভারতীয় বাহিনীর পিছে ধাওয়া করে চীনের সেনারা আসামের চলে আসার উপক্রম হয়। চীনারা এসে পড়ছে এই ভয়ে সরকারি অফিসাররা সব কাগজপত্র পুড়িয়ে পলিয়ে যাচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় লোকজনও পালাতে শুরু করে। আতংকে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকে থাকা নোট পোড়ানো শুরু হয় এবং কারাগার থেকে মানসিক সমস্যাগ্রস্ত বন্দীদের ছেড়ে দেয়া হয়। স্থানীয়রা দেখে যে কয়েদীরা চীনের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে। এতে তারা মনে করে চীনারা তাদের ছেড়ে দিয়েছে।

২০ নভেম্বর রেডিও ভাষণে তৎকালীণ প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু জাতিকে পরাজয়ের কথা জানাতে গিয়ে বলেন যে তার হৃদয় আসামের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। নয়া দিল্লি আসামকে পরিত্যাগ করবে বলে কোন লক্ষণ দেখা না গেলেও আসামবাসী মনে মনে সেই ধারণা করে নিয়েছিলো। কিন্তু বেইজিং হঠাৎ করে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করে সেনাদের ফিরিয়ে নেয়। এক মাস আগে হঠাৎ করে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিলো তা হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায়। আসাম ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়।

কিন্তু সুরো দেবীর সংগ্রাম তখন শুরু হয়।

যুদ্ধের শেষ দিকে আসামের রাজধানী গৌহাটিতে মুক্তি দেবী নামের এক বস্তিবাসী রাস্তার পাশে এক মেয়ে নবজাতক কুড়িয়ে পায়। সে তাকে নিজের মেয়ের মতো মানুষ করে। তার নাম রাখে সুরো। একসময় কামিনি সিংহ নামে এক স্থানীয় ছুতারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়েও হয়। কিন্তু মেয়ের বয়স পাঁচ বছরের সময় কামিনি মারা যায়। ফলে মেয়েকে নিয়ে অথৈ পানিতে পরে সুরো। অন্যের বাসায় কাজ করে জীবন চলে সুরোর।

সে সময় বিখ্যাত ইতিহাসবিদ অমলেন্দ গুহ শিক্ষাদানের কাজে দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে আসামে ফিরে এসেছেন। সুরো তার বাসায় কাজ পায়। গুহ মারা গেলে তার স্ত্রী আমিয়া’র দেখভালের সব দায়িত্ব সুরোর উপর বর্তায়। দিন কোনমতে কেটেই যাচ্ছিল। কিন্তু আবার সুরো প্রতি বাঁকা হাসি হাসে জীবন। সে একটি বসতভিটা পেলেও জন্মভূমি পাওয়া ভিন্ন বিষয়।

৫৯ বছরের জীবনে কখনো গৌহাটির বাইরে যায়নি যে সুরো সে এখন অবৈধ অভিবাসী হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। আসাম তার বৈধ নাগরিকদের তালিকা তৈরি করছে। এই তালিকায় রাজ্যটির ৪.১ মিলিয়ন মানুষ এখন পর্যন্ত স্থান পাবে কিনা নিশ্চিত নয়। ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সুরো জানতে পারবে আবারো সে পরিত্যক্ত হয়েছে কিনা, এবারা রাষ্ট্র দ্বারা।

বিশাল কর্মযজ্ঞ

ভারতের মধ্যে একমাত্র রাজ্য আসাতে ১৯৫১ সালে একটি নাগরিক তালিকা (এনআরসি-ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন) তৈরি হয়। অবৈধ অভিবাসীদের আলাদা করার জন্য এই তালিকা। নবসৃষ্ট পাকিস্তান থেকে আসা অভিবাসীদের আলাদা করার জন্য তালিকাটি তৈরি করা হয়। গত বছর ৩০ জুলাই এনআরসি’র খসড়া প্রকাশ করা হয়। এতে রাজ্যের নাগরিকদের মধ্যে ৪ মিলিয়নের বেশি নাম বাদ পড়ে। গত জুনে আরো এক লাখ মানুষের নাম বাদ দেয়া হয়। ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আসামের জনসংখ্যা ৩৫ মিলিয়ন।

বাদ পড়া নিয়ে আবেদনকারী ৩.১ মিলিয়ন মানুষের নাম যাচাই-বাচাইয়ের পর চূড়ান্ত এনআরসি প্রকাশ করা হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কত মানুষ বাদ পড়বে তা এখনো কেউ জানে না। আগে প্রকাশিত দুটি তালিকা থেকে অনুমান করা যায় এতদিন নিজের দেশ হিসেবে জেনে আসা দেশটিতে লাখ লাখ মানুষ দেশহীন হয়ে পড়বে। নিকট অতীতে এত বিপুল সংখ্যক রাজ্যহীন মানুষ দেখা যায় শুধু মিয়ানমারের রাখাইনে – রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেখানে বাস করলেও মিয়ানমার সরকার ১৯৮২ সালের সংবিধানে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে দিয়েছে। দুই বছর আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণহত্যা  চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। যার জের ধরে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশের উদ্বাস্তু শিবিরগুলোর আশ্রয়ে।

আগামী সপ্তাহে যখন আসামে নাগরিক তালিকা প্রকাশিত হবে তখন সেখানেও একই ধরনের সহিংসতা ও অশান্তি শুরু হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
এনআরসি তালিকায় নাম আছে কিনা তা দেখার জন্য আসামবাসীর লাইন, ছবি: এএফপি

হিন্দুদের যেভাবে তুষ্ট রাখছেন মমতা: ঈদে নজরদারি, প্রকাশ্যে কুরবানি না দিতে মুসলিমদের প্রতি আবেদন by মধুপর্ণা দাস

চলতি বছরের ১২ আগস্ট ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য ও এর রাজধানী কলকাতায় একটা ভিন্ন রকম ঈদুল আযহা উদযাপিত হতে দেখা গেছে।

পুলিশের তথ্য মতে, আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম সংখ্যক গরু জবাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বছর ঈদুল আযহার দিনে গরু কোরবানিকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশের কাছে অন্তত ৪০টি এফআইআর দায়ের করেছিল বেশ কিছু ডানপন্থী সংগঠন।

কলকাতার সিনিয়র এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, এবার শহর ও জেলাগুলোতে কোন ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া সোশাল মিডিয়াতেও কোন গরু জবাইয়ের ছবি বা ভিডিও প্রচারিত হয়নি। এর আগে সোশাল মিডিয়ার এই ধরনের ছবি ছড়িয়ে পড়ার কারণেই মূলত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছিল।

শান্তির জন্য আবেদন

ঈদের কয়েক দিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর পুলিশ মুসলিমদের প্রতি বার্তা দিয়ে একটি পোস্টার প্রচার করে। পোস্টারে বাংলায় লেখা ছিল: “কুরবানির আসল উদ্দেশ্য আল্লাহকে খুশি করা, কাউকে কষ্ট দেয়া নয়। আমরা সবাই আমাদের হিন্দু ভাইদের ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিকে শ্রদ্ধা করি। সবার প্রতি আমাদের আবেদন কোরবানি করা পশু প্রকাশ্যে আনবেন না এবং এর কোন ছবি বা ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় দিবেন না। ইসলামের অর্থ হলো শান্তি ও ভালোবাসা”।

অন্যদিকে কলকাতা পুলিশ সতর্ক নজর রেখেছিল যাতে প্রকাশ্যে কোন কোরবানি দেয়া না হয়। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “আমরা কোন পোস্টার বা কোন নির্দেশনা দেইনি। তবে আমরা স্থান, অবস্থান, এবং গ্রুপদের সম্পর্কে জানি। তাই আমরা সতর্ক নজরদারির মাধ্যমে গরু জবাই-কেন্দ্রিক অপ্রত্যাশিত ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছি”।

শহর উন্নয়ন মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ‘সংযত থাকে এবং অন্যদের অনুভূতির ব্যাপারে সতর্ক থাকে”।

‘প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িতকতা’

প্রবীণ এক সিপিএম নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, ব্যানার্জির বিরুদ্ধে যে হিন্দু-বিরোধী অভিযোগ উঠেছে, সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্যেই ব্যানার্জি এই সব করছেন।

তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে যেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সাম্প্রতিককালে হিন্দু ভোটারদের মনজয়ের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় তার সরকারকে হিন্দু-বিরোধী হিসেবে যে প্রচারণা চালিয়েছিলেন, সেটার বিরুদ্ধে একটা অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয়েই এখন সাম্প্রদায়িকতার প্রতিযোগিতায় নেমে গেছে”।

এগুলো সব নাটক, বলছে বিজেপি

এদিকে, পশ্চিম বঙ্গের বিজেপি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ঠেকানোর জন্য মমতা সরকারের প্রচেষ্টাকে নাটক হিসেবে মন্তব্য করে বলেছে যে, ‘হিন্দুদের তুষ্ট করার এগুলো হলো ব্যার্থ প্রচেষ্টা’।

রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলিপ ঘোষ বলেছেন, “কোন বাঙালি এবং কোন হিন্দু ভুলবে না কয়েক বছর আগে ভোটারদের মনরক্ষায় কিভাবে তিনি মা দূর্গা বিসর্জনের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলেন। ওই দিন মুহাররামের দিনের সাথে মিলে গিয়েছিল এবং তিনি বিসর্জন কয়েক দিনের জন্য থামিয়ে রেখেছিলেন। সরকারের এটা নিশ্চিত করা উচিত যাতে সব সম্প্রদায় তাদের ধর্ম পালন করতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা সেটা করতে পারে না। কিছু জায়গায়, স্বরসতী পূজা করতে দেয়া হয় না। এখন ভোটের রেজাল্টের পর তার অবস্থা নড়বড়ে হয়ে গেছে”।

তবে ঘোষের দাবিকে নাকচ করে দিয়ে দস্তিদার বলেছেন, “বিজেপি যেটা প্রচারের চেষ্টা করছে, সেটা অবাস্তব। দিদি (মমতা) সব সম্প্রদায়ের কথা ভাবেন এবং তাদের জন্য চেষ্টা করেন”।

সন্ত্রাসীদের হাতে ভারী অস্ত্র নানা আলোচনা by শুভ্র দেব

একে ২২ রাইফেল। অত্যাধুনিক ভারী অস্ত্রের মধ্যে একটি।  তৈরি হয় চীন-রাশিয়ায়। বিক্রি হয় ছয় থেকে সাত লাখ টাকায়। একসঙ্গে ত্রিশটি গুলি করা যায় একে-২২ রাইফেল দিয়ে। বড় ধরনের হামলায় এই অস্ত্রটি ব্যবহার করে জঙ্গিগোষ্ঠী। ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় জঙ্গিরা এই অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। ইদানিং এই ভারী অস্ত্র মিলছে সন্ত্রাসীদের হাতে। মিয়ানমার ও ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে এই মরনাস্ত্র ঢুকছে দেশে।
সরবরাহ করছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদাররা। গত মাসে এ ধরনের দুটি অস্ত্র উদ্ধারের পর গোয়েন্দারা বেশ চিন্তিত। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা মাঠে নেমেছেন। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে খোঁজখবর নেয়া শুরু করেছেন অত্যাধুনিক এই অস্ত্র কারা সরবরাহ করছে, কেনইবা করছে। এর নেপথ্য কারা রয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। এছাড়া তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম ও গতিবিধির ওপর নজরদারি করা হচ্ছে।

জুলাই মাসে মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার খিলগাঁর সিপাহীবাগ এলাকার ফাইভ স্টার নিবাসের সামনে থেকে মোহাম্মদ ফয়সাল নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। তার দেয়া তথ্যমতে ফাইভ স্টার নিবাসের আট তলায় অভিযান চালিয়ে জিয়াউল আবেদীন জুয়েল ও জাহেদ আল আবেদীন রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের হেফাজত থেকে একে-২২ রাইফেল, চারটি বিদেশী পিস্তল ও ১টি রিভলবার উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা টিম জানতে পারে তারা খিলগাঁও এলাকার পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অনুসারি। মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের এক শীর্ষ নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্য তাদের এসব অস্ত্র জিসান সরবরাহ করেছে। যুবলীগের ওই নেতার সঙ্গে জিসানের দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার ও চাঁদাবাজি নিয়ে ঝামেলা চলছিল। তাই বাধা সরাতে ওই নেতাকে হত্যার চক একেছিল জিসান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ গত ৩০ জুন ওয়ারীর ওয়ান্ডারল্যান্ডের সামনে থেকে একটি একে ২২ রাইফেল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাবুল ও সাদেক নামের দুজনকে উদ্ধার করে সিটিটিসির এই টিম জানতে পারে তারা ওই রাইফেলের বাহক। শ্যামপুর এলাকা থেকেও সম্প্রতি গুলিসহ ছয়টি বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। ৩ মার্চ রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ির ধোলাইখাল এলাকা থেকে ১২ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাদের দেয়া তথ্য মতে রামপুরার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে হরকাতুল জিহাদের দুই সদস্য হাফিজ ওরফে খালিদ ওরফে ইব্রাহিম গাজী ও মামুনুর রশিদ ওরফে বাচ্চু মোল্যাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের কাছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১টি একে ২২ রাইফেল উদ্ধার করা হয়। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে হুজির ওই সদস্যরা জানিয়েছে, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামি উজ্বলের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কয়েকজন সদস্য মিলে ডাকাতি করছে। ডাকাতির লুন্ঠিত মালামাল থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ তারা সংগঠনের কাজে ব্যয় করে।

অস্ত্র নিয়ে কাজ করেন এমন গোয়েন্দারা বলছেন, সন্ত্রাসীদের হাতে একে ২২ রাইফেল রয়েছে বিষয়টিকে ছোট করে দেখার উপায় নাই। কারণ সন্ত্রাসীরা কোনো মিশনের টার্গেট নিয়েই এসব অস্ত্র মজুদ করে। ছোটখাটো অনেক অস্ত্র সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করে। বিভিন্ন মহলের কাছে এমন বিপুল পরিমান অস্ত্র রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে এসব অস্ত্র ধরা পড়ে। কিন্তু একে-২২ রাইফেল থাকাটা চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। খিলগাঁও ও ওয়ারীর ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য থেকে জানা গেছে দেশের বাইরে থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য কলকাঠি নাড়া হচ্ছে। তাই পেশি শক্তি জানান দেয়ার জন্য এসব অস্ত্র মজুদ রাখছে সন্ত্রাসীরা।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এধরনের বিদেশী দামী অস্ত্র ছোটখাটো সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করে না। তারা এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহারও জানেনা আবার সরবরাহ করার সাহসও করে না। সম্প্রতি দুটি বিদেশী অস্ত্র উদ্ধারের পর পর্যালোচনা করে জানতে পেরেছি দেশের বাইরে থেকে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য কোনো সন্ত্রাসী মহল এমনটা করছে। তারা ধর্মীয় বড় উৎসব বা বিশেষ কোন দিনকে ঘিরে এমন পরিকল্পনা করে। যখন দেশে টাকার প্রবাহ বেশি থাকে বা আধিপত্যের বিস্তার, পেশি শক্তি প্রদর্শন ও টার্গেট কিলিং মিশনে এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করে।

গোয়েন্দা তথ্যমতে, বেশ কিছুদিন ধরে দেশের মধ্যে সন্ত্রাসী হামলার মত বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনাও ঘটেনি। তাই এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে ইন্টারপোলের রেডএলার্টভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। এসব সন্ত্রাসীদের অনেকেই এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছে। কেউ কেউ কারাগারে বসে কলকাঠি নাড়ছে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখল, টার্গেট কিলিং সবকিছু তারা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে। এসব সন্ত্রাসীরা আবার এলাকা ভিত্তিক রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে। এছাড়া পেশাদার স্মাগলার, মাদক ব্যবসায়ী, অবৈধ পণ্যের ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার জন্য অস্ত্র রাখে। অনেক সময় এসব অস্ত্র ভাড়ায় নিয়ে যায় পেশাদার সন্ত্রাসীরা। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে পেশি শক্তির ব্যবহার বেড়ে যায়। তখন বাজারে অস্ত্রের চাহিদা থাকে। এ সুযোগে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা সবধরনের অস্ত্র আনে। পুলিশের কড়াকড়ি থাকলে অস্ত্রের দামও বেড়ে যায়। ভারত, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে এসব অস্ত্র আনা হয়। তাই অস্ত্র ব্যবসায়ী ও সীমান্তে কড়া নজরদারি রাখতে হবে।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কাজ করেন এমন গোয়েন্দারা সূত্র জানিয়েছেন, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবনের দুর্গমপাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায়ই অত্যাধুনিক ভারী অস্ত্র আটক করা হয়। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে এম কে-১১, এইচ কে-৩৩, জি-৩, একে-৪৭, একে-২২, এম-১৬ রাইফেল, নাইন এমএম পিস্তল। মানের দিক দিয়ে এসব অস্ত্র যেমন অত্যাধুনিক তেমনি ব্যয়বহুল। পাহাড়িদের হাত ঘুরে এসব অস্ত্র পৌঁছে যায় সন্ত্রাসীদের হাতে। এসব অস্ত্র যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে তাই এই তিন জেলায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই তিন জেলার কিছু স্থানকে অস্ত্র আসার রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে-বান্দরবানের থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকা, রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার চোট হরিণা, বড় হরিণা, বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক, জুরাছড়ির আন্দারমানিক, ফকিরাছড়ি, বিলাইছড়ি, খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার নারাইছড়ি, পানছড়ির দুদকছড়ি, কেদারাছড়া, মাটিরাঙা উপজেলার আচালং, রামগড় উপজেলার বাগানবাজার, বড়বিল, রামগড় বাজার ইত্যাদি।

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদুল হক বলেন, দেশের পেক্ষাপটে এধরনের ভারী অস্ত্র উদ্ধার মোটেই সুখকর খবর নয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অজান্তে এরকম আরও কত ভারী অস্ত্র আছে সেটি এখন ভাবার বিষয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও হয়তো বিষয়টি চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে তারা এই বিষয়টি কিভাবে মোকাবেলা করবে। এছাড়া এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের সাম্প্রতিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে আমরা দেখতে পারছি এখানে সামাজিক শৃঙ্খলা, পরস্পর যোগাযোগ ও সম্প্রিতি নষ্ট করে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। এটাকে আমরা জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসবাদ যেভাবেই আখ্যায়িত করি না কেন এসবের একটা সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্বরত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আরও বেশি গুরুত্ব দেয়া দরকার বলে মনে করেন এই অপরাধ বিশ্লেষক। কারণ তাদের চোখ ফাঁকি দিয়েই এসব অস্ত্র দেশে আনা হয়। এছাড়া কিছু অসাধু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে অস্ত্রের চালান আনতে সহযোগীতা করেন।
সাবেক আইজিপি নুর মোহাম্মদ বলেন, সন্ত্রাসীদের হাতে ভারী অস্ত্র থাকা মানে ভয়ঙ্কর বিষয়। কারণ তারা এটা ভাল কাজে ব্যবহার করবে না। হয় মানুষকে ভয় দেখিয়ে ফায়দা নিবে না হয় মেরে ফেলবে। আমাদের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো সুরক্ষিত না থাকার কারণে দেশে অস্ত্র সহজেই প্রবেশ করে। বলা হয় মাত্র ১০ শতাংশ অস্ত্রের চালান আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়ে। বাকি অস্ত্রগুলো কোন না কোন ভাবে দেশে ঢুকে। তিনি বলেন, অস্ত্র আসবে, অস্ত্রের ব্যবহার হবে। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কতটুকু নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে সেটি হচ্ছে মুল বিষয়।

অ্যামাজনের আগুনকে কেন ‘গণহত্যা’ বলছে আদিবাসীরা? by হুমায়ূন কবির

লক্ষ-কোটি প্রাণের আধার অ্যামাজনের বেসরকারিকরণের মধ্য দিয়ে একে কৃষি ও খনি সেক্টরের কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছিলেন ক্ষমতাসীন উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। ক্ষমতায় আসীন হয়ে তিনি হাঁটছেন সেই পথেই। এরইমধ্যে গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ ভয়াবহভাবে জ্বলছে মানুষ-সৃষ্ট কারণেই। পরিবেশবাদীদের মতে, এই আগুন নেভাতে সরকারের কোনও উৎসাহ নেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী দখলদার বনখেকো মানুষ আর খনি ব্যবসায়ীদের আধিপত্যই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে অ্যামাজনের ভবিষ্যৎকে। আর গবেষকরা সেখানকার সাম্প্রতিক আগুনের মধ্যে আদিবাসীদের অস্তিত্বের হুমকির নিশানা খুঁজে পেয়েছেন। আগুনে পুড়ে যাওয়া বনের বৃক্ষরাজি আর হুমকিতে পড়া লক্ষকোটি প্রাণ রক্ষার জন্য প্রাণপন লড়ছেন বন-সংলগ্ন ওইসব মানুষ। এক খোলা চিঠিতে তারা পরিস্থিতিকে মানবিক ও পরিবেশগত দুর্যোগ আখ্যা দিয়েছে। তাদের বোঝাপড়ায়,  বৃক্ষসহ সমস্ত প্রাণীই মানুষের মতোন। সে কারণেই অ্যামাজনের আগুনে লক্ষ-কোটি প্রাণ ঝরে পড়ার ঘটনায় গণহত্যার আলামত খুঁজে পেয়েছে তারা।
অ্যামাজনের আদিবাসী মানুষের বাড়ি-ঘর ধ্বংস নতুন কিছু নয়। ১৬ শতাব্দীতে পর্তুগীজরা তাদের জমি লুট করার পর থেকে এই দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতার সঙ্গে থাকতে হচ্ছে তাদের। বলসোনারোর অধীনে তাদের ভাগ্য আরও বিপন্নতায় পর্যবসিত হয়েছে। ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর বলসোনারোর কর্মকাণ্ডে শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়েছে যে, তার কাছে আদিবাসীদের অস্তিত্বের প্রশ্ন প্রাধান্যের তলায় অবস্থান করছে। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার কয়েক দিন পর থেকে বলসোনারো ব্রাজিলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য আদিবাসী বিষয়ক ব্যুরো-এফইউএনএআই বাতিলসহ আনুষ্ঠানিক ফেডারেল সুরক্ষা ভেঙ্গে ফেলতে শুরু করেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রেসিডেন্টের কথা ও কর্মকাণ্ডের পরিণতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে এসে পৌঁছেছে।

অবৈধভাবে বন উজাড় করার ঘটনা তদন্ত করতে এপ্রিলে ব্রাজিলের অ্যামাজনের আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর ভূখণ্ডে সফর করেছিলেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিবেশ ও সংকটের প্রধান রিচার্ড পিয়ারহাউস। সে সময় তিনি জানতে পারেন, ভূমিদখলকারীরা মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। অনিদ্রা রোগে আক্রান্ত ২২বছর বয়সী একজন মায়ের কথা বলেছেন তিনি, নিকটবর্তী এলাকায় গোলাগুলির শব্দ সত্ত্বেও যিনি সন্তানদের ঘুম পাড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অ্যামাজন অঞ্চলের আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী বেশ কয়েকটি গ্রুপ বৃহস্পতিবার এক খোলা চিঠিতে পরিবেশগত ও মানবিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এই ভয়ানক আগুনকে তাদের ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ উল্লেখ করে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক মানবাধিকার দূত ও মানবাধিকার কমিশনারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছে তারা।

গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এ বছর জানুয়ারি থেকে অ্যামাজনে আগুনের পরিমাণ ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই রেইনফরেস্টের পরিবেশগত গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞান বিষয়ক পরিচালক অ্যানে অ্যালেরসার স্যাটেলাইটের চিত্র বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশ বিষয়ক ওয়েবসাইট আর্থারকে বলেছেন, ‘এটা ভীতিকর বটে কারণ, আমরা কেবল মৌসুমের শুরুতে আছি।’ পিয়ারহাউস আর্থারকে বলেন, ‘আমরা আদিবাসী ভূমি হিসেবে স্বীকৃত যে ভূমি নথিভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি, সেখানে বন উজাড়করণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে, তারা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে এবং আদিবাসী ভূমির বন কাটছে।’ তবে আর্থারকে কেউ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়নি যে, এই আগুন আদিবাসী ভূমি ও গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছেছে কিনা। কয়েক সপ্তাহ ধরে যে আগুন জ্বলছে এতে কোনও সন্দেহ নেই। গবাদি পশুর রাখালরা চারণভূমির জন্য অবৈধভাবে ভূমি পরিষ্কার করছে, ঘটনাচক্রে সয়াবিন কৃষকদের কাছে জমিও বিক্রি করছে; এর প্রভাব পড়ছে গিয়ে আদিবাসী মানুষের ওপর, যারা রেইনফরেস্টের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে।

এই বছরের শুরুতে এক তদন্ত শেষে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল, পারা রাজ্যের আরারা ও রোনদোনিয়া রাজ্যের উরু-ইউ-ওয়াও-ওয়াও ও কারিপুনা এই তিন ভূখণ্ডের ২৩ আদিবাসীর একটি গ্রুপ  তাদেরকে জানিয়েছে, তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা জানিয়েছিল,  বিগত বছরের তুলনায় এবার গ্রামের খুব কাছে ভূমি দখলকারীরা গাছ কাটছে। এই অবৈধ কার্যক্রম রাতে সম্পাদন করে তারা। অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, আদিবাসী জমিতে গত কয়েক বছরে আসা ২৪ জন মানুষ এখন শত শত মানুষে পরিণত হয়েছে। পিয়ারহাইস বলছেন, ‘জ্বলন্ত মৌসুমে আমরা যা দেখছি, তা এর তীব্রতা।’ ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কারিপুনা ভূখণ্ড সফর শেষে নাসার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সংস্থা জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এই বছর জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত চারগুণ বেশি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ২৫টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এই বছর ইতোমধ্যেই সেখানে আগুন লেগেছে ১০১টি।

১৬ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাস জিংজু পার্ক ও কায়াপো রাজ্যের আদিবাসী ভূখণ্ডের সাম্প্রতিক আগুনকে ‘রিং অব ফায়ার/ আগুনের কুণ্ডলী’ আখ্যা দিয়েছেন ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিদ্যার অধ্যাপক জ্যনেট চারনেলা। আর্থারকে তিনি বলেন, বাসিন রাজ্যে আদিবাসী কৃষকরা যেভাবে আগুন জ্বালায় তার সঙ্গে এই আগুনের মিল নেই। বরং আদিবাসীদের কারণে এই অগ্নিসংযোগকারীরা অঞ্চলগুলি এড়িয়ে চলে। আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করা চারনেলা আর্থারকে বলেন, ‘আদিবাসীদের অনেক ভূমি হুমকির মুখে। বড় আগুন দ্বারা বাতাস দূষিত হচ্ছে। আদিবাসীদের ক্রিয়া তৎপরতার জন্য অবশ্যই রেইনফরেস্ট থাকতে হবে। মাছের জন্য নদী থাকতে হবে। এই ছোট ফ্লটগুলোতে খাদ্য জম্মাতে তাদের অবশই বনভূমি রাখতে হবে।’

আর্থারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বননির্ভর মানুষগুলোর জন্য অ্যামাজনের সাম্প্রতিক আগুন অস্তিত্বের হুমকি সদৃশ। এই সম্প্রদায়গুলোর যাওয়ার মতো সুপারমার্কেট ও ফার্মেসি নাই। তাদের আছে অ্যামাজন। এই বন তাদের সব ধরনের সেবা দেয়। এখানে তারা শিকার করে, মাছ ধরে ও ঘর নির্মাণের জন্য উপাদানগুলো সংগ্রহ করে। এইসব কারণেই আদিবাসী মানুষেরা বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সংলগ্ন হয়ে বাস করে। তারা  বনের ওপর আগ্রাসন চালায় না, কেননা তারা জানে, এতে বন তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বনে যখন আগুন লাগছে, সেই আগুন লাগছে আদিবাসীদের কপালেও। বনের যে অংশে কৃষকরা চাষ করতেন, শিকার করতেন- তা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বাস্তুপ্রক্রিয়ার মানে হলো পারস্পরিকতা। সে কারণে বনের যে অংশে আগুন লাগেনি সেখানেও আগুনের প্রভাব পড়েছে। অনেক ভূমি শুষ্ক হচ্ছে, এলাকাজুড়ে খরা পরিস্থিতি আরও শোচনীয় পর্যায়ে যাচ্ছে।

গবেষণার জন্য অ্যামাজনের আদিবাসীদের সঙ্গে কাজ করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী লেসলি ডে সৌজা আর্থারকে বলেন, ‘বাস্তুতন্ত্রের কার্যক্রম পরিবর্তন করে, যে কোনও সময় আপনি একটি অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারেন, যেভাবে সমস্ত জীববৈচিত্র্য সেই বাস্তুতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল। আপনি যখন ওই পরিবেশে বাস করছেন, আপনি সম্পূর্ণরূপে এই উপাদানগুলোর ওপর নির্ভরশীল। আপনিও এই নিয়মের অংশ।’

অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপকতার পর অ্যামাজনের মধ্য দিয়ে হেঁটেছেন ডে সৌজা। তিনি সাপ, গিরগিটি, কোরালসহ আরও ছোট প্রাণীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন, যারা আগুন থেকে পালাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘মারত্মক ধ্বংসস্তুপের মধ্যে দিয়ে হেঁটে গিয়েছিলাম। যেন একটা যুদ্ধক্ষেত্র।’ এই ধ্বংসের প্রভাব আদিবাসীদের বেঁচে থাকার সক্ষমতাকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। লন্ডন ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানী রাফায়েলা ফ্রায়ের মোরেইলা আর্থারকে বলেন, ‘অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী গাছ ও অপরাপর প্রাণকে মানুষের থেকে আলাদা করে দেখে না। ওইটা তাদের সাংস্কৃতিক বোধ।’ তারা মানবাধিকার ও পরিবেশগত অধিকারের মধ্যে পার্থক্য করে না। তিনি এক ইমেইল বার্তায় আর্থারকে বলেন, ‘আজকে আমরা বনে যে ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রত্যক্ষ করছি; অনেক সম্প্রদায় এটাকে কেবল বাস্তু হত্যা হিসেবে নয়, গণহত্যা হিসেবে অনুধাবন করছে।’

কেন তাঁরা খুন করেন?

জার্মানির দুটো হাসপাতালে ৮৫ জন রোগী হত্যা করার দায়ে গত ৬ জুন নার্স নিলস হুগেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গুরুতর বা মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন যাঁরা, তাঁদের হাতে রোগী হত্যার ঘটনা নতুন কিছু নয়। নিলস হুগেলের মতো এ তালিকায় আছেন আরও অনেকে। হুগেল বা হুগেলের মতো এমন সিরিয়াল কিলারদের (ক্রমিক খুনি) ব্যাপারে একটি সাধারণ প্রশ্নই সবার মনে আসে। তা হলো কেন তাঁরা খুন করেন?

এ ধরনের সিরিয়াল কিলারদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি অনলাইন। এতে তুলে আনা হয়েছে বিভিন্ন সময়ের সিরিয়াল কিলার নার্সদের কথা এবং তাঁদের হত্যার ঘটনা নিয়ে মনোবিদদের বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে খুব কমই কথা বলে থাকেন। হত্যার কারণ সম্পর্কে তাঁদের কাছ থেকে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এলিজাবেথ ইয়ার্ডলির মতে, ‘এসব লোককে বিশ্বাস করা থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেকে অজুহাত দেন, রোগীর দুর্ভোগের সমাপ্তি টানতে তাঁরা রোগীর জীবন নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ জটিল রোগী দেখভাল থেকে মুক্তি পেতেই এ পথ বেছে নিয়েছিলেন।

এমন অজুহাতের ক্ষেত্রে নাম বলা যেতে পারে মার্কিন নার্স চার্লস কুলেনের। ২৯ জন রোগী হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীরা কষ্ট পাচ্ছিলেন, ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে তিনি মৃত্যু ত্বরান্বিত করেছিলেন। যদিও জানা গিয়েছিল, তাঁর রোগীদের বেশ কয়েকজন সুস্থ হয়ে উঠছিলেন।

কানাডার নার্স এলিজাবেথ ওয়েটলোফের স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন, তাঁর হত্যার শিকার আটজন রোগীর ক্ষেত্রে তিনি প্রচণ্ড রাগ বোধ করতেন। তাই মাত্রাতিরিক্ত ইনসুলিন প্রয়োগ করে হত্যা করেন। তাঁর প্রথম হত্যার শিকার হন ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে ৮৪ বছর বয়সী জেমস সিলকক্স নামের এক রোগী।

নিলস হুগেলের ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বলেন, সহকর্মীদের কাছে হুগেল নিজেকে রোগীর জন্য নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে জাহির করতেন। রোগীদের বাঁচানোর চেষ্টা করার বিষয়টি তিনি এতটাই দেখাতেন যে সহকর্মীরা তাঁকে ‘নবজীবন দান করা র‌্যাম্বো’ বলে ডাকতেন।

৪২ বছর বয়সী নিলস হুগেলর জন্ম জার্মানির উত্তরে উপকূলীয় শহর ভিলহেমসাফনে। বাবাও ছিলেন নার্স। বাবার মতো ১৯ বছর বয়সে তিনি নার্স পেশায় প্রবেশ করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি জার্মানির ওডেনবার্গের একটি প্রধান হাসপাতালে নার্স হিসেবে যোগ দেন। ২০০৩ সালে তিনি পাশের ডেমেনহোর্স্ট জেলায় বদলি হন।
৮৫ জন রোগীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয় নিলস হুগেলের বিরুদ্ধে। ছবি: এএফপি
এক কন্যার বাবা হুগেলকে সাবেক সহকর্মীরা পরিশ্রমী ও পছন্দসই ব্যক্তি হিসেবেই মনে করতেন। কিন্তু তাঁরা হঠাৎ লক্ষ করা শুরু করেন, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) হুগেলের তত্ত্বাবধানে থাকা বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ‘সমস্যা’ রয়েছে। ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে মৃত্যুপথযাত্রী বেশির ভাগ বয়স্ক রোগীর ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত ডোজ প্রয়োগ করে তিনি মৃত্যু ত্বরান্বিত করতেন। ২০০৫ সালে তিনি হাতেনাতে ধরা পড়েন।

হুগেলের ব্যাপারে মনোচিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি (হুগেল) নারসিসসিসটিক ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। নারসিসসিসটিক পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার (এনপিডি) একটি ব্যক্তিত্বসংক্রান্ত অসুস্থতা। এ সমস্যায় ভোগা মানুষের মধ্য দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়। তাঁরা নিজেদের বেশি গুরুত্ব দেন। বেশি বেশি প্রশংসাপ্রাপ্তির চাহিদা থাকে তাঁদের। সেই সঙ্গে তাঁদের মধ্যে সহানুভূতিরও অভাব দেখা যায়।

এদিকে ফরেনসিক মনোবিদ্যার অধ্যাপক ক্যাথেরিন রামসল্যান্ড নার্সদের এমন হত্যায় জড়িত হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেন, তাঁদের জন্য (অভিযুক্ত নার্স) শক্তিহীন এই দুনিয়ায় হত্যার মাধ্যমে নিজেকে হয়তো শক্তিশালী ভাবেন তাঁরা। হতাশা কাটাতে অথবা কাজের ভার কমাতেও তাঁরা হত্যা করে থাকতে পারেন।

অধ্যাপক ইয়ার্ডলির মতে, হত্যার মাধ্যমে এই ব্যক্তিদের মধ্যে একধরনের ক্ষমতাপ্রাপ্তির অনুভূতি কাজ করে। অতীতেও তাঁরা লোকজনের ক্ষতি করে আনন্দ পেয়েছেন। হাসপাতালে চাকরির সুবাদে তাঁদের এ আচরণ বৃদ্ধির আরও সুযোগ এসেছে। এ কাজে (হত্যাকাণ্ড) সহজে প্রবেশাধিকার পাওয়া ও সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের আরও উৎসাহিত করেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি বেভারলি এলিট নামের এক নার্সের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৯১ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারে আট সপ্তাহে এলিট তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা ১৩ শিশুর গুরুতর ক্ষতি করেছিলেন। ওই শিশুদের হত্যার আগে সাবেক প্রেমিকের প্রতি খুব অনুগত আচরণ দেখাতেন এলিট।

অধ্যাপক ইয়ার্ডলি বলেন, মেডিকেল সিরিয়াল কিলাররা তাঁদের হাতে থাকা ক্ষমতা ও কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারার অনুভূতি থেকে হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধে জড়িত হন। তিনি বলেন, ‘জীবন ও মৃত্যুর নিয়ন্ত্রণ তাঁদের হাতে। এ বোধ থেকে তাঁরা এ ধরনের রোগীর ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও অধিকারবোধ অনুভব করতেন। তাঁরা ভাবতেন, এ রোগীদের ক্ষতি করা বা হত্যার জন্য তিনিই নিযুক্ত ব্যক্তি।’

বাংলাদেশি নারীকে মুম্বইয়ে বিক্রির পর...

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি মহিলাকে কথিতমতে নাভি মুম্বইয়ে নেয়া হয়েছিল। যেখানে তিনি কয়েক দিন অবস্থান করেন এবং তারপরে তারই পারিবারিক বন্ধু, যাকে এখন মানবপাচারকারী বলে সন্দেহ করা হয়, তিনি তাকে পতিতালয়ে বিক্রি করেছিলেন। শুক্রবার এই খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।  ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, একজন অজ্ঞাত পরিচয় টেলিফোনকারী মুম্বই পুলিশের সমাজসেবা শাখাটিকে মানবপাচারের ওই ঘটনা উদ্ঘাটনে সহায়তা করেছেন। ওই ফোনের সূত্রে পুলিশ ১৬ জন মহিলাকে উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ১১ জনই বাংলাদেশি। গত বুধবার অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলা সমাজসেবা শাখায় ফোন করে জানিয়েছিলেন যে, তাকে জোর করে পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হয়েছে। অপহরণকারীরা এর আগে তাকে নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করেছে। ওই ফোনকলের পরে ভুক্তভোগী ওই বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে সেন্ট্রাল মুম্বই পুলিশের একটি টিমের মধ্যে বৈঠক হয়।
রিপোর্টে বলা হয়, ভুক্তভোগী একজন বাংলাদেশি নাগরিক। একটি দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছিলেন। তিনি এক পারিবারিক বন্ধুর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। ওই পারিবারিক বন্ধু তাকে ভালো বেতনে মুম্বইয়ে চাকরি পাওয়ার প্রলোভন দেখান। চাকরি দেয়ার অজুহাতেই কিছুদিন আগে রাতে তাকে বেআইনিভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে নাভি মুম্বইয়ে নিয়ে যান। এরপর তাকে গ্রান্ট রোডের পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়।
ওই মহিলা অভিযোগ করেন, পতিতালয়ের রক্ষী ও তাদের সহায়তাকারীরা মিলে তার ওপর নির্যাতন করে এবং তাকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। একদিন তার কাছে একজন খদ্দের আসে। তিনি খদ্দেরের কাছে তার দুঃখের কথা প্রকাশ করে সাহায্য চান। তখন খদ্দেরই তাকে সোশ্যাল সার্ভিস ব্রাঞ্চ অফিসের ল্যান্ড ফোনের নম্বর দেন। ভুক্তভোগী এরপর লুকিয়ে পতিতালয় থেকে বেরিয়ে বুধবার পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।
ভুক্তভোগীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি মার্গ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং তারপরে গ্রান্ট রোডের একটি ভবনের তিনটি কক্ষে অবস্থিত পতিতালয়ে অভিযান চালানো হয়। এখান থেকে মোট ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

আসামের নাগরিক তালিকায় বাদ পড়াদের সামনে কঠিন আর জটিল পথ by অনিম আরাফাত

গত শনিবার ভারতের আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ৩ কোটি ১১ লাখ মানুষ ঠাঁই পেলেও তালিকা থেকে বাদ গেছেন ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ। কার্যত এই বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন রাষ্ট্রহীন হওয়ার পথে। যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে, সব আইনি বিকল্প সমপন্ন না হওয়া   পর্যন্ত কাউকেই বিদেশি হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে না। তবে তালিকা প্রকাশের পর এখন এই ১৯ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা নিজেরাই অন্ধকারে আছেন। হতাশ হয়ে পড়ছেন প্রায় সবাই। এক ধরনের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে আসামের বাংলাভাষীদের মধ্যে।
নিয়ম অনুযায়ী যাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসেনি তাদের মোট ৪ মাস বা ১২০ দিন সময় দেয়া হবে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণের জন্য। এর আগে এই সময় ৬০ দিন ছিল।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের নাম এই চূড়ান্ত তালিকায় আসেনি তাদের যুক্তি শোনা হবে। পর্যায়ক্রমে এ জন্য ১ হাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে আসামজুড়ে। ইতিমধ্যে ১০০ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই আরো ২০০ গঠন করা হবে। তবে সেখানেও যদি কেউ হেরে যায় তাহলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তারা চাইলে আদালতে ও এরপর সুপ্রিম কোর্টে মামলা করতে পারবেন।
কিন্তু এতে আশান্বিত হতে পারছেন না বাদ পড়া নাগরিকরা। নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ করতে তাদের পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত আইনি পথ। এই দীর্ঘ, জটিল ও ব্যয়বহুল পদ্ধতিতে কতজন নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ধারণা করা হচ্ছে পুরো প্রক্রিয়ার জন্য খরচ হবে আনুমানিক ৪০ হাজার ভারতীয় রুপি। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা গড়ালে এ খরচ আরো বৃদ্ধি পাবে। তালিকায় নাম না আসা অনেকেই বলেছেন তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস আছে। ট্রাইব্যুনালে গিয়ে নিজেদের তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী বলেও জানিয়েছেন।
তবে ট্রাইব্যুনাল যেভাবে কাজ করে তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিতর্ক। বলা হচ্ছে, সেখানে গিয়ে সুবিচার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। তাদের থেকে ইচ্ছেমতো সাক্ষ্য আদায় করে নেয়া হচ্ছে। বাদ পড়া মানুষদের বেশির ভাগ গরিব হওয়ায় ছোটখাটো ধমকিতেই ঘাবড়ে যান তারা। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা সরকারকেই নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া যে আপিল আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে তাতেও খুব বেশি সুবিধা পাবেন না এইসব মানুষ। সরকার বলছে, তাদের পর্যাপ্ত আইনি সমর্থন দেয়া হবে। কিন্তু দিনশেষে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের কাজটি তাকেই করতে হবে। এই পুরো বিষয়টি এই সংকটকে জটিল করে তুলতে পারে। কারণ, সেখানে নাম, বয়স বা ঠিকানার ছোটখাটো ভুলেও কারো আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। আবার দুইজনের সামান্য পরসপরবিরোধী বক্তব্যও কারো নাগরিকত্ব প্রমাণের পথে বাধা হতে পারে। তাছাড়া বাদ পড়া অনেকে জানেনই না কীভাবে এই জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। খোদ গুয়াহাটিতেই অনেকে ট্রাইব্যুনালে আবেদনের বিষয়ে অন্ধকারে আছেন।
ধারণা করা হচ্ছে একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে বাদ পড়া এই মানুষের সংখ্যা কমে আসবে। অনেক পরিবারেই দেখা গেছে, বাবা-মা’র নাম এলেও সন্তানের নাম আসেনি। এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যারা নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হবেন তাদের পরিণতি কী হবে তা এখনো কেউ সপষ্ট করে বলছে না। আগামী ১২০ দিনের মধ্যে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হলে তাদের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে হতে পারে। যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের বেশির ভাগই দরিদ্র মুসলিম বাংলাভাষী। তাদেরকে বিদেশি ঘোষণার পর বাংলাদেশে পাঠানো ভারতের জন্য কঠিন হবে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, তখন হয়তো তাদের বিতাড়িত না করে বন্দিশিবিরে রাখা হবে। মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি হয়তো কাজ করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু নাগরিকত্ব না থাকায় তারা কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। এ ছাড়া তাদের বর্তমানে যে সমপদ আছে সেটির দখল নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন আসামের লাখ লাখ মানুষ।

হাবিবকে ১১ টুকরা করার নেপথ্যে

টাকা আর নারীর কারণেই খুন করে টুকরো টুকরো করে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। খুনি আর ভিকটিমের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল জেলখানায়। পরে ভিকটিম কারামুক্ত হয়ে এক আসামির স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে। কুয়াকাটা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ওই পরস্ত্রীকে নিয়ে ঘুরেও বেড়ায় ভিকটিম। এরপর কারামুক্ত হয়ে আসামিরা খুলনার আদালত চত্বরে বসেই পরস্পর যোগসাজশে সাতক্ষীরা থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খুলনায় এনে হত্যার পর লাশ ১১ টুকরো করে ফেলে দেয় একাধিক স্থানে। এভাবেই সাতক্ষীরার হাবিবুর রহমান ওরফে সবুজ (২৬) হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক কাহিনী বের হয়ে আসল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে। গত ৫ই মার্চ বিকালে ডেকে এনে খুলনা মহানগরীর ফারাজীপাড়া লেনের একটি ভাড়া বাড়িতে বসে হাবিবকে হত্যা করে কয়েক টুকরো করে লাশের এক অংশ ফেলে দেয়া হয় শেরে বাংলা রোডের একটি স্থানে। বাকি অংশগুলোর মধ্যে কিছু অংশ দু’টি পলিথিনে মোড়ানো ব্যাগে ফারাজীপাড়ার দু’টি গলিতে ফেলা হয়।
কিছু অংশ রাখা হয় ওই ভাড়া বাড়ির খাটের নিচে। একাধিক স্থান থেকে খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের পর তাকে শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় ডিজিটাল পদ্ধতি। অর্থাৎ লাশের চোখ আর হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে কম্পিউটারে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বের হয়ে আসে তার সকল তথ্য। দেখা যায় তার বাড়ি সাতক্ষীরা সদর থানাধীন ওমরাপাড়া এলাকায়। তার পিতা সাতক্ষীরা জজকোর্টের সামনে পান দোকান করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক শেখ আবু বকর বলেন, গত ৬ই মার্চ রাত ৯টা ২১ মিনিট থেকে ৭ই মার্চ সকাল ৬টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রাতের যেকোনো সময় পাঁচ আসামি খুন করে হাবিবুর রহমানকে। পরদিন এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে তার লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার করা হয় একাধিক স্থান থেকে। এ ব্যাপারে কেএমপির খুলনা থানায় একটি হত্যা মামলাও হয়। মামলার পর থেকেই পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তবে, ১০ই মার্চ মামলার নথিপত্র বুঝে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করার পর থেকেই একে একে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় নিহতের মোটরসাইকেল, হেলমেট, চাবি, কেডস ও হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও দা। বেরিয়ে আসতে থাকে মামলার আসল কাহিনী।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, নিহত হাবিবুর রহমানকে ওই মামলার প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান ৫ই মার্চ বিকাল তিনটা ২৭ মিনিটের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল দিয়ে ফোন করে খুলনায় আনেন। ওইদিন বিকাল পাঁচটা চার মিনিটের সময় তিনি খুলনার ময়লাপোতা মোড়ে এসে পৌঁছান।

নিহত ব্যক্তি ও আসামিদের মোবাইল নেটওয়ার্ক, সিডিআর ও কান্ট্রি কোড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৬ই মার্চ রাত ৯টা ২১ মিনিট থেকে পরদিন (৭ই মার্চ) সকাল ৬টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত আসামি সরদার আসাদুজ্জামান, অনুপম মহলদার, খলিলুর রহমান খলিল, আব্দুল হালিম গাজী এবং এ কে এম মোস্তফা চৌধুরী মামুন একই সঙ্গে একই স্থানে অর্থাৎ নগরীর ৩৪ নম্বর ফারাজীপাড়া লেনের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। অর্থাৎ ওই সময়েই হাবিবকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করা হয়। আসামি আসাদ চারটি হত্যা মামলার আসামি এবং তার কাজই হচ্ছে ছলেবলে কোনো এক নারীকে বিয়ে করে তাকে খুন করে লাশ গুম করা। অপর আসামি অনুপম নিষিদ্ধ পার্টির সদস্য। নিষিদ্ধ পার্টি বিলুপ্ত হওয়ার পর সে অজ্ঞান পার্টির সদস্য হিসেবে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করে।  সে আসাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসার আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়াত। খলিলুর রহমান ওরফে খলিল বিভিন্ন নারী দিয়ে দেহ ব্যবসা করাত। হালিম গাজী সুন্দরবনের ডাকাত এবং মোস্তফা চৌধুরী মামুন মাদক ও নারী নির্যাতনসহ তিনটি মামলার আসামি। এছাড়া আসাদ, হালিম গাজী, অনুপম, মোস্তফা চৌধুরী মামুন ও খলিল একে অপরের বন্ধু। খুলনা জেলা কারাগারে বসেই তাদের পরিচয়। একইসঙ্গে সেখানে অপর একটি মামলায় নিহত হাবিবও অবস্থানকালীন তাদের সঙ্গে পরিচয় হয়।

কিন্তু হাবিব আগে কারামুক্ত হলে তার সঙ্গে কথা ছিল অন্যদের জামিন করাতে সে তদবির করবে। কিন্তু সে জামিনে বের হয়ে মোস্তফা আল মামুনের দ্বিতীয় সুন্দরী স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। তাকে নিয়ে তিনি কুয়াকাটা, কক্সবাজারসহ বিভিন্নস্থানে ঘুরেও বেড়ায়। যেটি মামুন জেলে বসেই টের পায়। কিন্তু তারা সকলেই একদিন জামিনে বের হলে গত ৩রা মার্চ খুলনার জজকোর্টে হাজিরা দিতে আসলে অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে মামুন দেখা করে বিষয়টি বলেন। এ সময় আসাদের সঙ্গে চুক্তি হয়, তাকে ৫০ হাজার টাকা দিলে হাবিবকে খুন করা হবে। আসাদ অবশ্য ৩৪ নম্বর ফারাজীপাড়া লেনের বাড়িতে যখন বাসা ভাড়া নেয় তখন সে নিজেকে আইএফআইসি ব্যাংকের সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা পরিচয় দেয়। আসাদের সঙ্গে অবশ্য আইনজীবী, প্রশাসন, রাজনীতিবিদসহ অনেকের এমন যোগাযোগ, সে কারাগারে বসেই অনেককে জামিনের ব্যবস্থা করায়। সেখান থেকেও সে আয় করে বেশকিছু অর্থ। জেলমুক্ত হওয়ার পর সে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থেকে পাঁচ লাখ টাকা লোন করিয়ে দেয়ার নাম করে হাবিবের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেয়। তাছাড়া হাবিবের সঙ্গে সাতক্ষীরার আশাশুনি সড়কের একটি পেট্রল পাম্পের মালিকের যোগাযোগ থাকায় তাকেও আইএফআইসি ব্যাংক থেকে পাঁচ কোটি টাকা লোন করিয়ে দেয়ার নাম করে তার কাছ থেকেও দেড় লাখ টাকা নেয়া হয়। তবে কথা থাকে লোন হওয়ার পর তাকে দিতে হবে তিন লাখ টাকা। এভাবে আসাদ হাবিবের কাছ থেকে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা নেয়। আর তাকে হত্যার আগে হাবিবের ডেবিট কার্ড ও পাসওয়ার্ড নিয়ে নেয় আসাদ। হত্যার পর অর্থাৎ ৭ থেকে ১০ই মার্চের মধ্যে আসাদ হাবিবের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও দু’লাখ টাকা উঠায়। যেটি পিবিআই ওই ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ও স্থির চিত্র থেকে প্রমাণ পায়।

হাবিব হত্যার চার আসামি বর্তমানে খুলনা জেলা কারাগারে থাকলেও মোস্তফা চৌধুরী ওরফে মামুন ভারতে অবস্থান করছেন বলেও পিবিআইর কাছে তথ্য রয়েছে। তিনি মাঝে মধ্যে তার প্রথম স্ত্রী খাদিজা ওরফে রূপার মোবাইলে ফোন দিয়ে তার দু’সন্তানের সঙ্গে কথা বলে এমনও প্রমাণ রয়েছে।

এভাবে হাবিব হত্যার মূল মোটিভ উদঘাটন করে এখন চার্জশিটের অপেক্ষায় আছে জানিয়ে পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ আবু বকর বলেন, চলতি মাসের (সেপ্টেম্বরে) যেকোনো সময়ে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল হতে পারে।

পাকিস্তানের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী: উদ্বিগ্ন সমরকৌশলীরা

ভারতীয় জঙ্গি বিমান
ভারতীয় বিমান বাহিনী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমান বাহিনী হওয়া সত্ত্বরেও নানা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের তুলনায় পিছিয়ে আছে। এ সব বিষয় অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে।
এ সব বিষয়গুলো হতো পাইলট এবং বিমানের আনুপাতিক হার, লক্ষ্যভেদ অনুশীলন বা টার্গেট প্র্যাকটিস এবং স্কোয়াড্রনের শক্তি। ভারতীয় বিমান বাহিনী বা আইএএফে বর্তমানের বিমান  প্রতি ১.৫জ পাইলট রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান বিমান  বাহিনী বা পিএএফের রয়েছে ২.৫। প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় সূত্রগুলোর ভারতীয় কোনও কোনও সংবাদ মাধ্যম এ খবর দিয়েছে।
তারা বলছেন, এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে সর্বাত্মক যুদ্ধ বাঁধলে আইএএফের তুলনায় পিএএফ কার্যকর ভাবে দিনরাত অভিযান চালাতে সক্ষম হবে। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে চেয়ে বলা হয়েছে, একটি যুদ্ধ বিমান দিনে ছয় দফা অভিযান চালাতে সক্ষম হলেও বিমান চালক মানবিক সীমাবদ্ধতার বাঁধা কাটিয়ে উঠতে পারেন না।
অন্যদিকে বোমা বর্ষণে দক্ষ হওয়ার জন্য ভারতীয় বিমান বাহিনী বা আইএএফকে কম্পিউটারভিত্তিক অনুশীলনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় এয়ার কমান্ডকে গোটা পাকিস্তান এবং চীনের অংশ বিশেষের ওপর নজরদারি চালাতে হয়। বড় এবং শক্তিশালী বোমা বর্ষণ অনুশীলনের জন্য এ কমান্ডের আওতায় একটাও চাঁদমারি বা ফায়ারিং রেঞ্জ নেই।
পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত ভূখণ্ড বা হাই অলটিচ্যুঠে বোমা বর্ষণ অনুশীলনের উপযোগী কোনও চাঁদমারি নেই আইএএফের। অথচ ভারতের উত্তর এবং পূর্বে চীনের অনেকে ঘাঁটিই এ রকম উচ্চতায় অবস্থিত।
বরাদ্দ অনুযায়ী ভারতের যুদ্ধ উপযোগী ৪২টি স্কোয়াড্রন এবং সাড়ে ১২ হাজার কর্মকর্তা রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি স্কোয়াড্রনে ১৬ থেকে ২০টি যুদ্ধ বিমান থাকার কথা।
এ বরাদ্দ ১৯৭০এর দশকে দেয়া হয়েছে। প্রতিবছর গড়ে বরাদ্দকৃত কর্মকর্তার ঘাটতি ২ শতাংশ করে বাড়ছে। অন্যদিকে বরাদ্দ অনুযায়ী ৪২টি স্কোয়াড্রন থাকার কথা থাকলেও ভারতে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৩০টি স্কোয়াড্রন। এতে পাইলট এবং বিমানের আনুপাতিক হার দাঁড়িয়েছে ১.৫। অবশ্য স্কোয়াড্রন বাড়লে এ হার কমে আসবে। আইএএফ এ হারকে ২.২তে নিয়ে যেতে চাইছে।
গত বছর ‘গগন শক্তি’ নামে বিশাল যুদ্ধ-মহড়া চালিয়েছিল আইএএফ। গোটা ভারতব্যাপী চালানো হয়েছিল এ মহড়া। দু’টি রণাঙ্গন এবং দিনরাত অভিযানকে সামনে রেখে চালানো হয় ‘গগন শক্তি।’ ৪৮ বছরের নিচে এবং স্বাস্থ্যগত ভাবে সক্ষম সব আইএএফ কর্মকর্তাকে এ মহড়ার আওতায় আনা হয়েছিল।
সাধারণ ভাবে উইং কমান্ডারের ওপরের পদ মর্যাদার পাইলটরা বিমান চালান না। তাদেরকে প্রাত্যহিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকতে হয় বলে বিমান চালানো ফুরসত করে উঠতে পারেন না। কিন্তু ‘গগন শক্তি’র সময় এ সব কর্মকর্তাকে তালিকাভুক্তি করা হয়েছিল। তাতেও পাইলট এবং বিমানের আনুপাতিক হার ২’এর উপর ওঠেনি।