Saturday, July 6, 2019

রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানে ঢাকা-বেইজিং মতৈক্য

ঢাকা ও বেইজিং দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সম্মত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই মতৈক্য হয়।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে দিয়াওউয়াতি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘দুই নেতা প্রথমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সম্মত হয়ে বলেন, এটি অমীমাংসিত রাখা যাবে না।’ পররাষ্ট্রসচিব জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। পররাষ্ট্রসচিব দুই নেতাকে উদ্ধৃত করে আরও বলেন, ‘কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। রোহিঙ্গারা অবশ্যই তাদের নিজ দেশে ফিরে যাবে।’
শহীদুল হক বলেন, উভয় নেতা উল্লেখ করেন যে এ ব্যাপারে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করবেন এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তাঁরা মিয়ানমারের সঙ্গে ‘গুড উইল’ কাজে লাগাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে, যা দেশের জন্য পরিবেশ ও নিরাপত্তার দিক থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য বাংলাদেশ চীনের গুড উইল কামনা করে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁর দেশ এর আগেও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
পররাষ্ট্রসচিব চীনের প্রেসিডেন্টকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমরা চাই রোহিঙ্গারা ফেরত যাক।’ চিন পিং বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের যেসব মন্ত্রী কাজ করেন, তাঁরা আবারও বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। আশা করা যায়, এতে এ সংকট নিরসনের আরেকটি সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্টকে এ সংকটের বিষয়টি সুন্দরভাবে অবহিত করেন। ভোজসভায়ও এ আলোচনা উঠে আসে। শহীদুল হক বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কিছু প্রশ্ন ছিল। আর প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্টকে তাদের গুড উইল ব্যবহারের অনুরোধ জানান।
চিন পিং বলেন, যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক দৃষ্টির সামনে উঠছে, সেহেতু এর পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি বলেন, ‘আমরা এ সংকট সমাধানে যতটা সম্ভব চেষ্টা করব। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই দেশই আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমাদের কাছে দুই দেশই সমান, কেউ কম বা বেশি নয়।’
চীনের প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুটিই যেহেতু উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু তারা (চীন) দুই দেশের স্বার্থই দেখবে।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, দুই নেতার মধ্যে বৈঠকটি খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা ছিল খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ ও উন্মুক্ত, যা বিভিন্ন সমীকরণ ও রসায়নের বহিঃপ্রকাশ।
চিন পিং বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেন, দুই দেশ পরস্পরের উন্নয়ন থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

কোলের শিশুকে নদীতে ফেলে দিলো সৎমা by ওয়েছ খছরু

বিকাল ৩টা। সুরমা নদীর ওপর কুমারগাঁও ব্রিজ। কালো বোরকা পরা মাঝ বয়সী এক মহিলা। কোলে ৫ বছরের এক কন্যা শিশু। হঠাৎ করে মহিলা কোলে থাকা শিশুটিকে মারধর করে। এতে নজর কাড়ে সবার। ব্রিজের ওপর এবং এর আশেপাশে লোকজনের। তাদের সামনেই কোলের শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেয় মহিলাটি ।
হায় হায় করে উঠেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। একি করলেন- প্রশ্ন ছুড়েন মহিলার দিকে। উপস্থিত থাকা লোকজনের কেউ কেউ দৌড়ে গিয়ে নদীতে নামেন। ঢল ছিল নদীতে। উজানের ঢলের তোড়ে হারিয়ে যায় শিশুটি। স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটিকে পাননি। খবর দেয়া হয় ডুবুরিকে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা গিয়ে শিশুটির খোঁজে তল্লাশি চালায়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তল্লাশি করা হয়। কিন্তু শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সিলেটের কুমারগাঁওয়ে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা আটক করে ওই মহিলাকে পুলিশে দিয়েছে। এমন ঘটনায় হতবাক কুমারগাঁওবাসী। মা তার কোলের শিশুকে এভাবে নদীতে ছুড়ে ফেলার ঘটনাও বিরল। ফলে, শেষ বিকালে সিলেটে খবরটি নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। আটক মহিলার নাম সালমা বেগম। বয়স প্রায় ৩০ বছর।
তার বাড়ি সিলেটের জালালাবাদ থানার ফতেহপুর গ্রামে। স্বামী স্থানীয় কৃষক জিয়াউল হক। সুরমা নদীতে সলিল সমাধি হওয়া শিশুটির নাম মাহা বেগম। বয়স ৫ বছর। সালমা বেগমের সৎ-সন্তান সে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে- বিকাল ৩টার দিকে বোরকা পরিহিত সালমা বেগম কোলে শিশুটিকে নিয়ে ব্রিজের ওপর আসেন। তিনি ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে হেঁটে আসেন। এ সময় কোলে থাকা শিশুটি কান্না করছিল। হঠাৎ সালমা বেগম তার কোলে থাকা শিশুটিকে নিচে ফেলে দেন। ব্রিজ থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার সময় শিশুটি চিৎকার করছিল। এ দৃশ্য দেখে তারা তাৎক্ষণিক সালমাকে আটক করে। এবং শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু ডুবে যাওয়া স্থলে শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ এসে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেয়। ডুবুরিরা এসে তিন ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও শিশুটিকে পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহিম জানিয়েছেন- শিশুটিকে নদীতে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা ওই মহিলাকে আটক করে। এরপর পুলিশ এসে তাকে আটক করে জালালাবাদ থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফতেহপুর গ্রামের লোকজনও সেখানে আসে। তারা জানিয়েছে- ফতেহপুর গ্রামের জিয়াউল হক এক দরিদ্র কৃষক। অভাব-অনটনের সংসার তার। জিয়াউল হক আগে এক বিয়ে করেছিল। ওই স্ত্রীর ঔরসজাত দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আর সালমা বেগমের গর্ভে দুই বছরের আরো একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে জিয়াউল হক পুত্র সন্তান চাইছিলেন।
কিন্তু তার প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে তিন বছর আগে তাদের ডিভোর্স হয়। দুই কন্যা সন্তানকে স্বামীর ঘরে রেখে চলে যান প্রথম স্ত্রী। এরপর জিয়াউল হক বিয়ে করেন সালমাকে। সালমার ঘরেও আরো একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। অভাব-অনটনের সংসার হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় জিয়াউল ও সালমার মধ্যে বিরোধ বাঁধে। এই বিরোধের জের ধরে জিয়াউল হক প্রায় সময় দ্বিতীয় স্ত্রী সালমাকে মারধর করে। গতকাল দুপুরেও জিয়াউল ও সালমার মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় জিয়াউল স্ত্রী সালমাকে মারধরও করে। এক পর্যায়ে সৎ মেয়ে মাহাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সালমা। আর ব্রিজের ওপর এসে মাহাকে নদীতে ফেলে দেয়।
এরপরই স্থানীয়রা তাকে আটক করে। সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি ওকিল উদ্দিন আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সালমাকে তারা আটক করে রেখেছেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সালমার স্বামী কিংবা পিতার বাড়ির কেউ আসেনি। প্রাথমিক ভাবে সালমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে জানিয়েছে- স্বামীর ওপর রাগ করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার পর জিজ্ঞাসাবাদে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান ওসি। এদিকে- জালালাবাদ থানার এসআই সাইফুর রহমান জানিয়েছেন- ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা এসে সুরমা নদীতে প্রায় তিন ঘণ্টা তল্লাশি চালান। এ সময় স্থানীয়রাও নৌকা নিয়ে তল্লাশি করেন। কিন্তু কোথাও শিশু মাহাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ছুড়ে ফেলে দেয়ার পর মাহা নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আশপাশের এলাকা, থানা পুলিশকে ম্যাসেজ দেয়া হয়েছে। শিশুটিকে পাওয়া গেলে জালালাবাদ থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

অধ্যাপকের গায়ে কেরোসিন: সেদিন যা ঘটেছিল by হুমায়ুন মাসুদ

তখন দুপুর ১২টা। ৫ম সেমিস্টারের ক্লাস শেষ করে চেয়ারম্যানের কক্ষে যান ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ। এসময় সেখানে ওই বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাইনুল আলম অনিক, রাশেদুন্নবী চৌধুরী, রাসেল, মাহমুদুল হাসান, আলী হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস, সংগীতা বিশ্বাস, ফেরদৌস আলম ডলিসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত হন। তাদের দেখে সেখান থেকে চলে আসতে চাইলে শিক্ষার্থীরা মাসুদ মাহমুদের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। এরপর তারা তাকে হেনস্তা করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই কক্ষ থেকে টেনে লিফটে করে তারা তাকে নিচে নিয়ে যান। সেখান থেকে ধাক্কা দিতে দিতে মাসুদ মাহমুদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইটে নিয়ে যাওয়া যায়। আর এখানেই তার গায়ে কেরোসিন ঢালেন মাহমুদুল হাসান।
গত ২ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (ইউএসটিসি) অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের গায়ে কেরোসিন ঢালার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এসব তথ্য জানান। তারা আরও জানান, যখন অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদকে আগলে ধরে প্রক্টর নুরে আলম সিদ্দিকী মেইন গেটের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন পাশ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের একজন বলতে থাকেন, “কিরে, তোরা ধর না, ব্যাটা। ধর। স্যারকে ধর। ধাক্কা দে, ধাক্কা দে, ধরে ধাক্কা দে...”। একই সময়ে প্রক্টর নুরে আলম সিদ্দিকী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে চলে যেতে বললে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী বলতে থাকেন, “আমরা কেন সরে যাবো। আমরা উনাকে পুলিশে দেবো, আপনাকেও। আপনিও সমান অপরাধী”।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দুই মাস আগে ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের বিরুদ্ধে কয়েকজন ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুইদিন আগে তাকে লাঞ্ছিত করেন কিছু শিক্ষার্থী। ইংরেজি বিভাগ থেকে সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া এক শিক্ষকের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটেছে।
তবে এসব কথা অস্বীকার করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ অন্যায়ভাবে তাদের পরীক্ষা দিতে দিচ্ছেন না। এ কারণে বিভাগে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা এই শিক্ষকের বিরোধিতা করছেন। আর এসব ঘটনার জের ধরেই মঙ্গলবার মাসুদ মাহমুদের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেন মাহমুদুল হাসান।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাসুদ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার না হওয়ায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন কিছু শিক্ষার্থী। এর আগেই মাসুদ মাহমুদের গায়ে কেরোসিন ঢালার ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সেই দিন দুপুর ১২টায় ৫ম সেমিস্টারের একটি ক্লাস শেষ করে চেয়ারম্যান কক্ষে গিয়ে একটু রেস্ট নিচ্ছিলাম। এসময় জান্নাতুল ফেরদৌস, সংগীতা বিশ্বাস, ফেরদৌস আলম ডলি, মাইনুল আলম অনিক, রাশেদুন্নবী চৌধুরী, রাসেল, মাহমুদুল হাসান, আলী হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই কক্ষে আসে। তাদের দেখে আমি চলে আসতে চাইলে প্রথমে মাইনুল আলম অনিক তর্ক শুরু করে। আমাকে কক্ষ থেকে বের হতে বাধা দেয়। তার সঙ্গে ফেরদৌস আলম ডলি চেঁচামেচি শুরু করে। এরপর রাশেদুন্নবী চৌধুরী আমাকে হাত ধরে চেয়ারে বসিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে রাসেল নামে আরেক শিক্ষার্থী আমাকে টেনে চেয়ার থেকে তুলে চেয়ারম্যানের কক্ষ থেকে বের করে। এরপর মো. আলী হোসেন নামে এক ছাত্র আমার জামা টেনে ধরে লিফটে নিয়ে নিচে নিয়ে যায়। নিচে পার্কিংয়ে নিয়ে যাওয়ার পর মাহমুদুল হাসান আমার হাতে থাকা একটি বই ছিঁড়ে ফেলে দেয়। এরপর আমাকে তারা জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেইটে নিয়ে যায়। সেখানে মাহমুদুল হাসান আমার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয়।’
তিনি আরও জানান,পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং বিভাগের চেয়ারম্যানসহ আমার কয়েকজন সহকর্মী এসে আমাকে ভিসির কক্ষে নিয়ে যান। জোবায়ের ইসলাম ও সানি কাদের নামে দুই ছাত্র পরিকল্পিতভাবে এটি ঘটিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে সানি কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এর আগে মে মাসে যখন ছাত্রীরা স্যারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিল, তখন আমরা স্যারের পক্ষে মানববন্ধন করেছিলাম। মঙ্গলবারের ঘটনার সময় আমি নিচে ছিলাম। চেঁচামেচি শুনে ওপরে গিয়ে দেখি, স্যারের সঙ্গে মাস্টার্সের আপুরা তর্ক-বিতর্ক করছে। এসময় তারা স্যারের সঙ্গে লিফটে নিচে নেমে আসেন। নিচে নেমে আসার পর মাহমুদুল হাসান ভাইয়ের সঙ্গে স্যারের কথা কাটাকাটি হয়। তারপর দেখলাম, স্যার নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেইটের দিকে চলে যাচ্ছেন। এসময় আমরা স্যারকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দিতে চাইলে মাহমুদুল হাসান ভাই এসে বাধা দেন। উনাকে সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামিয়ে উনি তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেন।’
সানি আরও বলেন, ‘মাহমুদুল হাসান ভাই কেন কাজটা করেছে, আমরা কেউ জানতাম না। তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত। এর আগেও ক্লাসে কয়েকজনের সঙ্গে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নুরে আলম সিদ্দিকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, শিক্ষার্থীরা স্যারকে (অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ) টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। তখন আমরা তাদের বাধা দেই। শিক্ষার্থীরা স্যার গায়ে যেন হাত না দেয়, সেজন্য হুঁশিয়ার করি। একপর্যায়ে মেইন গেইটে তর্ক-বিতর্ক হয়। এসময় দেখি, স্যারের গায়ে কেরোসিনের গন্ধ; উনার পুরো শার্ট ভেজা। কে শার্টে কেরোসিন ঢেলে দিয়েছে তা আমি দেখিনি। তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে আমরা স্যারকে ভিসির কক্ষে নিয়ে যাই।’
ঘটনার নেপথ্যে
নাম প্রকাশ না করে বিভাগের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,গত বছর উপদেষ্টা হিসেবে ইংরেজি বিভাগে যোগদানের পর মাসুদ মাহমুদের পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য বছরে দু’টি করে সেমিনার করা ও একটি করে প্রকাশনা দেওয়া বাধ্যবাধকতামূলক করে। এ কারণে ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাশরুর আনোয়ার বরখাস্ত হন। একই কারণে ওই বিভাগের শিক্ষক আক্তার নুর বেগম, নওশিন জাহান আরজু ‘রিজাইন’ দেন। তাদের অনুগত শিক্ষার্থীরাই এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
এ ব্যাপারে মাসুদ মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “মাশরুর আনোয়ার বিভাগে আট বছর আগে নিয়োগ পায়। তার রেজাল্ট সিজিপিএ তিনের নিচে। গত ৮ বছরে তার কোনও পেপার নেই এবং সে ক্লাসে সবচেয়ে অনিয়মিত। শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও তার গাফিলতি আছে। এসব কারণে কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করে। বিষয়টির জন্য সে আমাকে দোষারোপ করে। বরখাস্ত হয়ে চলে যাওয়ার সময় সে আমাকে বলে গেছে, ‘স্যার, আমি আপনাকেও এখান থেকে সরিয়ে দেবো’। ওই ঘটনার জের ধরেই মাশরুরসহ চাকরি ছেড়ে দেওয়া শিক্ষকরা কয়েকজন ছাত্রীকে দিয়ে প্রথমে আমার নামে যৌন হয়রানির একটা অভিযোগ তুলে। এখন আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে আমার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিলো।”
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল করা হলে মাশরুর আনোয়ারের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অপর তিন শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর নুরে আলম সিদ্দিকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ ইউটিসিতে যোগ দেওয়ার পর ওই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই ঘটনার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনও যোগসূত্র আছে কিনা আমি নিশ্চিত নই। তবে এর আগে স্যারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই ঘটনায় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি তদন্ত করে মাসুদ মাহমুদ স্যারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনও সত্যতা পায়নি। তাহলে বোঝা যায়, অন্য কোনও কারণে হয়তো শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ তুলেছেন।’
জড়িতরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়া মাহমুদুল হাসান ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় জড়িত রাশেদুন্নবী, রাসেল, জোবায়ের ইসলাম, সানি কাদেরসহ অন্যরাও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্র বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাসুদ মাহমুদ স্যারের সঙ্গে যারা অশোভন আচরণ করেছেন, তারা সবাই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ করে। নগরীর ওমর গনি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে তাদের সখ্যতা রয়েছে।’
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সানি কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কোনও কমিটি নেই। তবে আমি নগর ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মাহমুদুল হাসানও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’
কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়ার ঘটনায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দিলীপ কুমার বড়ুয়া। ওই মামলায় পুলিশ মাহমুদুল হাসানকে গ্রেফতারও করেছে। তাকে দুইদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। অবশ্য এর আগে ঘটনার দিন গ্রেফতারের পর মাহমুদুল হাসান কেরোসিন ঢেলে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এসব ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নুরে আলম সিদ্দিকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাসুদ মাহমুদ স্যারের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ভিসি স্যার একটি তদন্ত কমিটি করেছেন। আমরা বিষয়টিকে কঠোরভাবে দেখছি। ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আমরা বিবৃতি দেবো। স্যারের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
মেইন গেইটের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ

পুলিশের সন্দেহ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু সায়মাকে, আটক ৫

সামিয়া আফরিন সায়মা
রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামে শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে পুলিশ ধারণা করছে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওসি বলেন, ‘ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ওই বাড়ির সন্দেহভাজন পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ওয়ারীর বনগ্রামের ওই বহুতল ভবনের মালিক, নিরাপত্তাকর্মী ও তার ছেলেসহ পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তারা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন।
শনিবার (৬ জুলাই) সকালে এই ঘটনায় নিহত শিশু সায়মার বাবা আবদুস সালাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ডিএমপি’র ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, ‘ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শতভাগ নিশ্চিত হতে ধর্ষণের আলামত পরীক্ষা করা হবে। মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ঘটনার কারণ বলা যাবে।’
এর আগে, শুক্রবার (৫ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ওয়ারীর বনগ্রামের একটি বহুতল ভবনের ৯ তলার খালি ফ্ল্যাটের রান্না ঘরের মেঝে থেকে সামিয়া আক্তার সায়মা (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সন্ধ্যার পরে তার মাকে খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ভবনের ৯ তলায় খালি ফ্ল্যাটের ভেতরে মেঝেতে গলায় দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন তার পরিবাবের সদস্যরা।
বহুতল ভবনটির ছয় তলার একটি ফ্ল্যাটে নিহত শিশু সামিয়া পরিবাবের সঙ্গে থাকতো। তার বাবার নাম আবদুস সালাম। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল সামিয়া। সে একটি স্কুলে নার্সারিতে পড়াশোনা করতো।

‘জয় শ্রীরাম’ এখন প্রহারের মন্ত্র: অমর্ত্য

বাংলায় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নিয়ে এ বার মুখ খুললেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তাঁর কথায়, ‘‘লোককে প্রহার করতে হলে এখন এ সব বলা হচ্ছে।’’ বাংলায় এ সব ‘ইদানীংকালে’র আমদানি। বঙ্গ সংস্কৃতিতে কোনও কালেই এ ধরনের স্লোগানের কোনও জায়গা ছিল না।
শুক্রবার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করেন অমর্ত্য। বিষয় ছিল, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তাঁর স্মৃতিতে কলকাতা’। তবে এ দিন সকালেও শিশির মঞ্চে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেও বঙ্গ সংস্কৃতি এবং হিন্দুত্ববাদের ‘আস্ফালন’ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন অমর্ত্যবাবু। বলেছিলেন, ‘‘যখন শুনি কাউকে রিকশ থেকে নামিয়ে কিছু একটা বুলি আওড়াতে বলা হচ্ছে এবং তিনি বলেননি বলে মাথায় লাঠি মারা হচ্ছে, তখন শঙ্কা হয়। বিভিন্ন জাত, বিভিন্ন ধর্ম, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য আমরা রাখতে দিতে চাই না। ইদানীং এটা বেড়েছে।’’
বিকেলে যাদবপুরের সভায় ফের সে প্রসঙ্গে ফেরেন অমর্ত্যবাবু। তাঁর কথায়, ‘‘আজ যখন শুনি বিশেষ বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ ভীত, শঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বেরোন এই শহরে, তখন আমার গর্বের শহরকে চিনতে পারি না। এ সব নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার।’’ বক্তৃতা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, জয় শ্রীরাম, রাম নবমী— এ সব কোনও কিছুর সঙ্গেই বাঙালির কোনও যোগ নেই। এখানে দুর্গাপুজো হয়। বস্তুত, নতুন এই সংস্কৃতি আমদানির পিছনে বিভেদের রাজনীতি কাজ করছে বলেও ইঙ্গিত দেন অমর্ত্যবাবু। তাঁর মতে, এক সময় হিন্দু মহাসভা এ ধরনের সংস্কৃতির আমদানি ঘটানোর চেষ্টা করেছিল বাংলায়। বিভেদের রাজনীতির বাতাবরণ তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। এখন বিজেপি ঠিক সেই একই উদ্দেশ্যে বাংলায় ‘জয় শ্রীরাম’ সংস্কৃতির আমদানি ঘটানোর চেষ্টা করছে।
এ দিনের বক্তৃতায় পঞ্চাশের দশকে ‘এলিট’ প্রেসিডেন্সির পড়াশোনা, ছাত্র রাজনীতি থেকে কফি হাউস, কেমব্রিজ থেকে ফিরে এসে তরুণ বামমনস্ক ছাত্রের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়া এবং সেই সূত্রে অর্থনীতির পাঠ্যক্রম নিয়ে তাঁর ভাবনাচিন্তা— সব প্রসঙ্গই ছুঁয়ে যান অমর্ত্যবাবু। মনে করিয়ে দেন, কলেজ স্ট্রিট, প্রেসিডেন্সি, যাদবপুরের বৌদ্ধিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল।
অমর্ত্য সেনকে শোনার জন্য এ দিন উপচে পড়েছিল যাদবপুরের গাঁধী ভবন প্রেক্ষাগৃহ। ছাত্রদের ভিড়ে সাময়িক বিশৃঙ্খলাও তৈরি হয়। যার জেরে অনুষ্ঠান শুরু হয় প্রায় আধ ঘণ্টা দেরিতে। কানায় কানায় পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহকে শৃঙ্খলায় আনতে অমর্ত্যর অবশ্য সময় লাগে এক মিনিট। মঞ্চে উঠেই তিনি ঘোষণা করেন, ‘‘এখনও ছাত্রদের এই উৎসাহই তাঁকে আনন্দ দেয়।’’

ক্ষমতা হস্তান্তরে সমঝোতায় সুদানের সামরিক বাহিনী ও বিরোধী জোট

ক্ষমতার হস্তান্তর ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে সুদানের বিরোধী জোট ফোর্সেস ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জ (এফএফসি) ও ট্রানজিশনাল মিলিটারি কাউন্সিলের (টিএমসি) নেতারা। নতুন সরকার নির্বাচন করার আগ পর্যন্ত ক্ষমতা ভাগ করে নেয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা। সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
এইউ’কে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, অন্তত আগামী তিন বছর দেশ পরিচালনার জন্য একটি- যৌথ সার্বভৌম পরিষদ প্রতিষ্ঠা করা হবে। পালাক্রমে এর নিয়ন্ত্রণ থাকবে সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক সরকার হাতে। এ ছাড়া, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রাধান্য দিয়ে একটি স্বাধীন সরকার গঠন ও সাম্প্রতিক সহিংসতা তদন্তের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা। সমঝোতার খবরে রাস্তায় নেমে উল্লাসে মেতেছে সুদানের জনগণ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে গণবিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওমার আল-বশিরকে উৎখাত করে নিজ হাতে ক্ষমতা নিয়ে নেয় সামরিক বাহিনী। এরপর থেকে দেশটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সমঝোতা চুক্তি ঘোষণার কয়েকদিন আগেও বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে ক্ষমতাসীন সামরিক পরিষদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে দেশটির জনগণ।
ওই বিক্ষোভে নিহত হন অন্তত সাতজন। আহত হন আরো ১৮১ জন।
ক্ষমতার হস্তান্তর বিষয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় রাজধানী খারতুমে। এর আগে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে এই আলোচনার জন্য মধ্যস্থতা করে যাচ্ছিলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও এইউ সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলো।
সমঝোতা চুক্তি
এইউ মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ হাসান লেবাত জানান,  চুক্তি অনুসারে, দুই পক্ষ একটি সার্বভৌম পরিষদ প্রতিষ্ঠা করবে। আগামী তিন বছর বা তার কিছু বেশি সময় ধরে সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক সরকার একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর পালাক্রমে এই পরিষদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এরপর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সুদানজুড়ে যেসব সহিংসতার ঘটনাগুলোয় নিরপেক্ষ, জাতীয়, স্বচ্ছ ও বিস্তৃত তদন্ত  করার বিষয়েও সম্মত হয়েছে উভয়পক্ষ। এ ছাড়া, একটি বিধানিক পরিষদ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ।
টিএমসির উপ-প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ হামদান ডাগলো বলেন, এটি একটি সর্বাঙ্গীণ চুক্তি হবে। এতে কেউ বাদ পড়বে না। এর মধ্যস্থতা করার জন্য আমরা আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ইথিওপিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য তহবিল কমছে, ২০১৯ সালের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি by অমৃতা নায়ক দত্ত

দ্বিতীয় মোদি সরকার শুক্রবার যখন তাদের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে, ভারতের সেনাবাহিনী সে সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা বাজেটের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের আগে অস্ত্র ও সরঞ্জাম আমদানির উপর আরোপিত কর এবং বাহিনীর বেতন ও পেনশান সংক্রান্ত খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়।
সেনাবাহিনী মন্ত্রণালয়কে বলেছে যে, এইসব ব্যয় তাদের বাজেটকে কমিয়ে দেয়, এবং তাদের অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনার সক্ষমতা ব্যাহত করে, অথচ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও বিদ্যমান সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেটা অতিব জরুরি। সূত্র দ্য প্রিন্টকে এ তথ্য জানিয়েছে।
তিন বাহিনীকেই এখন তাদের প্রতিরক্ষা ক্রয়ের উপর কাস্টমস শুল্ক ও জিএসটি পরিশোধ করতে হবে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে যে কর পুনর্গঠন করা হয়, সেখানে নানা ধরনের কর ছাড় দেয়া হলেও বেসিক কাস্টমস শুল্কের ব্যাপারে কিছু করা হয়নি।
সূত্র মতে, সেনাবাহিনী বলেছে যে, অতিরিক্ত যে ইন্টিগ্রেটেড জিএসটি আরোপ করা হয়েছে, সেটা তাদের ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও ব্যাহত করছে।
‘নতুন ক্রয়ের সুযোগ খুবই সামান্য’
চিফ অব ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে বাজেটের বিষয়টি ঘনিষ্টভাবে দেখেছেন লে. জেনারেল সাতিশ দুয়া। গত বছরের অক্টোবরে তিনি অবসরে যান। তিনি বলেছেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলোকে করমুক্ত করা উচিত, কারণ এগুলো আনা হয় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য।
তিনি দ্য প্রিন্টকে বলেন, “কয়েক বছর আগে, প্রতিরক্ষা ক্রয়ের উপর কাস্টমস শুল্ক আরোপ করা হয়। এরপর যুক্ত হয় জিএসটি। সশস্ত্র বাহিনী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয়, তাই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের উপর সরকারের এই করগুলো আরোপ করা উচিত নয়”।
তিনি আরও বলেন, “এই করগুলো প্রতিরক্ষা বাজেটের বড় একটা অংশ খেয়ে ফেলে এবং সেনাবাহিনী যখন নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম কিনতে চায়, তখন তারা আর সেটা কিনতে পারে না, সে কারণে প্রতিরক্ষার ব্যাপারে দেশের প্রস্তুতিও বিঘ্নিত হচ্ছে”।
সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব শশিকান্ত শর্মা বলেন, সাধারণত বাজেট যখন তৈরি করা হয়, তখন অধিকাংশ অতিরিক্ত ব্যয় ও শুল্কের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয়।
কর্মকর্তাদের মতে, তহবিল ঘাটতির কারণে প্রস্তাবের অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে সেনাবাহিনী তাদের ঘাটতি পূরণের দিকে, সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দিকে এবং আধুনিকায়নের দিকে নজর দিতে পারে না।
অধিক জনবলের কারণের সেনাবাহিনী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
২০১৯-২০ সালের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট ঘোষণা করা হয় গেলো ফেব্রুয়ারিতে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর পুঁজি ও রাজস্ব ব্যয় বাবদ এতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩.০২ লাখ কোটি রুপি। এটা পুরো বাজেটের ১০ শতাংশ। এই পুরো বাজেটের আকার ছিল ২৭.৮৪ লাখ কোটি রুপি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে, প্রতিরক্ষা রাজস্ব ও মূলধন বাবদ ২.৮৭ লাখ কোটি রুপি ব্যয় করা হয়।
এই সামগ্রিক বরাদ্দে প্রতিরক্ষা বাজেটের দুটো দিককে বাদ দেয়া হয়েছে: পেনশান, যেটা প্রতিরক্ষা বাজেটের ২৫ শতাংশ, এবং অন্যান্য ব্যয়।
সেনা সূত্র জানিয়েছে, জনবলের বেতনের কারণে তাদের বাজেটের উপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে, কারণ নৌবাহিনী বা বিমান বাহিনীর তুলনায় তাদের জনবল অনেক বেশি। সেনাবাহিনীর জনবল রয়েছে প্রায় ১৩ লাখ, যেখানে বিমান বাহিনীর রয়েছে ১.৫ লাখ এবং নৌবাহিনীর রয়েছে ৫০,০০০।

ভারত-চীনের কারণে বিশ্বজুড়ে মদ্যপানের হার বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ

১৯৯০ সালে প্রাপ্তবয়স্করা যে পরিমাণ মদ্যপান করতেন, ২০১৭ সালে এসে সেই হার বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। এক গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী মদ্যপান বেড়ে যাওয়ার পেছনে মূল দায় এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী দুই দেশ চীন ও ভারতের।
সাম্প্রতিক এক গবেষণার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বজুড়ে মদ্যপানের হার আরও ১৭ শতাংশ বাড়বে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মদ্যপান করবেন। ১৮৯টি দেশের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। এই গবেষণাটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ক্লিনিকাল সাইকোলজি অ্যান্ড সাইকোথেরাপির গবেষক জ্যাকব ম্যানথি বলেছেন, ‘১৯৯০ সালের আগে বেশির ভাগ মদ্যপান হতো ইউরোপসহ উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে। কিন্তু এখন এই চিত্র বদলে গেছে। ভারত, চীন, ভিয়েতনামের মতো তুলনামূলক মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে মদ্যপানের হার অনেকটাই বেড়ে গেছে।’
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে চীনে মদ্যপানের হার প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। চীনা পুরুষেরা বছরে গড়ে ১১ লিটার, আর নারীরা গড়ে ৭ লিটার করে মদ্যপান করছেন বলে উঠে এসেছে এই গবেষণায়। আর ভারতীয়রা বছরে গড়ে ৬ লিটার করে মদ্যপান করে থাকেন, ১৯৯০ সালের তুলনায় যা প্রায় দ্বিগুণ।
২০২৫ সালের মধ্যে ‘ক্ষতিকর মদ্যপান’ ১০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও)। কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সঠিক পথে নেই বিশ্ববাসী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিকর মদ্যপানে বছরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করছেন। এ কারণে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশই পুরুষ।

যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা by আহমেদ ইশতিয়াক

টেক্সাসের সীমান্ত শহর ইগল পাসের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রশস্ত নদী রিও গ্র্যান্ডের বিপজ্জনক অবস্থা রুখতে পারছে না হন্ডুরাস থেকে আসা হাজার হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে। আমেরিকান বর্ডার পেট্রলের একজন নিয়মিত সীমান্তরক্ষী সম্মুখীন হলেন অবিশ্বাস্য এক বাস্তবতার। ১৯ বছর বয়স্কা এক গর্ভবতী নারী অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রিও গ্র্যান্ডে নদীর খরস্রোতা নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন কোমর সমান পানিতে। নারীকে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসা পুরুষ বহন করছে ১০ বছর বয়স্ক এক শিশুকে। তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার অদূরে নদীতে নীরবে ঘুরে বেড়াচ্ছে দু একটি এলিগেটর। যে নৌকায় করে গর্ভবতী নারীকে একজন শিশু সহ নামিয়ে দিয়ে গেল সে নৌকা তখনো অদূরে অপেক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ইচ্ছুক আরে কাউকে বহন করে আনতে।
আগের দিনে একজন সীমান্তরক্ষী ইগল পাস নদী পাড়ি দিতে গিয়ে একজন অবৈধ অভিবাসীর পচা গলা শনাক্তকরণে অনুপযোগী লাশ উদ্ধার করে। টেক্সাসের একটি বড় শহর ডেল রিও থেকে আধা ঘণ্টা লাগবে যে শহরে যেতে সেই সীমান্তবর্তী শহর ইগল পাসের মোট জনসংখ্যা হলো ২৯ হাজার। ইগল পাস শহর লাগোয়া সীমান্ত টহলের দায়িত্বে থাকা ব্রায়ান কেমেট নামের বর্ডার পেট্রল এজেন্ট জানান, সবচেয়ে পীড়াদায়ক বিষয় হলো ছোট ছোট দুগ্ধপোষ্য শিশুর অকাল মৃত্যু, যা আমাকে স্বাভাবিক থাকতে দেয় না। যুক্তরাষ্ট্র কাস্টমস ও সীমান্ত প্রোটেকশন সংস্থা শুধু গত মে মাসে আটক করেছে রেকর্ড সংখ্যার অবৈধ অভিবাসী। এদের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। ২০১৮ সালে বিপজ্জনক সীমান্ত নদী রিও গ্র্যান্ড পেরোতে গিয়ে ৩১৫ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে অনেকে পরে মারা যান। গত সপ্তাহে ৪০ বছর বয়স্কা একজন মহিলা অভিশপ্ত এই নদী পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা দিতে না দিতে অসুস্থ হয়ে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
ইয়াভি লেভিয়া (২৮) এর মতে সারা বিশ্বের বর্তমান লক্ষ্য এখন রিও গ্র্যান্ড নদী পেরোনো। কারণ বিপদসংকুল এই নদী পেরিয়ে বিভিন্ন পথ ঘুরে ৯ দিন পর ডালাস শহরে তারা বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হয়। তার এই গল্প মুহূর্তে সীমান্ত শহর ইগল পাসের অপর পারে অপেক্ষমাণ হাজারো হাজারো অভিবাসীদের আরও বেশি বেশি আশান্বিত করে তোলে।
ডেল রিও এলাকার ডেপুটি চিফ বর্ডার পেট্রল এজেন্ট রেন্ডি ডেবিসের মতে মে শুরুতে নদীর স্রোতে হারিয়ে যাওয়া দুজন অবৈধ অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য অর্থলোভী স্মাগলাররা দায়ী। বর্তমানে মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ পাচারের শিকার অসহায় অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের চাইতে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ডেপুটি চিফ আরও জানান আমি সমস্যা সমাধানে নিজেকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সব সময় প্রস্তুত রেখেছি।
তবে যারা এসব অমানবিক এবং অকাল মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী আমি সেই অপরাধীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে বদ্ধ পরিকর। ইগল পাস শহরে ডেল রিও শেল্টারে ভারপ্রাপ্ত বর্ডার পেট্রল এজেন্ট ব্রায়ান কেমেট মাত্র দু বছর বয়সের এক শিশুর পরিধেয় কাপড় যাকে বিপজ্জনক রিও গ্র্যান্ড নদী থেকে উদ্ধার করেছিলেন হাতে নিয়ে আবেগ প্রবণ হয়ে বললেন স্বাভাবিক মানবের পক্ষে এসব অমানবিক দৃশ্য সহ্য করা কষ্টকর।
অবৈধ এক নিখোঁজ অভিবাসী শিশুর গেঞ্জি দেখাচ্ছেন এক পুলিশ

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই নাগরিকত্ব দিতে হবে- জাতিসংঘের তদন্তকারী

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই নাগরিকত্বের পথ করে দিতে হবে মিয়ানমারকে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি একদা যেমন বলেছিলেন, তাকে তেমন গণতান্ত্রিক হতে হবে। এ আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের অন্যতম তদন্তকারী রাধিকা কুমারাস্বামী। রাখাইনে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে যে নৃশংসতা চালানো হয় তার তদন্ত করে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ওই তদন্ত শেষে বলে, সেখানে গণহত্যা চালানো হয়েছে। ওই মিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন রাধিকা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, রাধিকা বলেছেন, রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গাদের শিকড় রয়েছে মিয়ানমারে। তাদেরকে অবশ্যই নাগরিকত্ব দিতে হবে মিয়ানমারকে। তিনি দ্য হেগে রাষ্ট্রহীন বিষয়ক এক বৈশ্বিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করলেও বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার মুসলিম রোহিঙ্গাদেরকে নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না। ২০১৭ সালের আগস্টে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী নৃশংস দমনপীড়ন চালানোর পর কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তদন্তকারীরা তদন্ত শেষে বলেছেন, গণহত্যার উদ্দেশে এসব নির্যাতন করা হয়েছে।
রাধিকা কুমারাস্বামী বলেছেন, ক্যারিয়ারে বিভিন্ন স্থানে বহু নৃশংসতা দেখেছি আমি। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ধর্ষণ ও তাদেরকে জোর করে উৎখাতের ঘটনা আমার অন্তরাত্মাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রহীনতাই হলো ভয়াবহ রোহিঙ্গা সঙ্কটের মূল কারণ। এমন ভয়াবহতা তিনি দেখেছেন রোয়ান্ডা গণহত্যায়। মিয়ানমারে কিভাবে পলায়ণরত মানুষকে সেনাবাহিনী গুলি করেছে, কিভাবে নারীদের গণধর্ষণ করেছে, কিভাবে ঘরের ভিতর শিশুদের পর্যন্ত রেখে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তিনি সে সম্পর্কেও বলেছেন। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন এসব গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে জাতিসংঘের এ রিপোর্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ উত্থাপন করছে।
বিশ্বে প্রায় এক থেকে দেড় কোটি রাষ্ট্রহীন মানুষ আছে। তাদেরকে কোনো দেশই নিজেদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। তার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গারাও। কখনো কখনো তাদেরকে ইংরেজিতে ‘লিগ্যাল ঘোস্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এসব মানুষ শিক্ষা থেকে শুরু করে সব রকম মৌলিক অধিকার বঞ্চিত। তারা বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সহিংসতার মুখে রয়েছে। এমন কি খেয়ালখুশি মতো আটক করে তাদেরকে বন্দি রাখা হয়। এর মধ্যে সংখ্যার দিক দিয়ে রোহিঙ্গারা হলো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রহীন মানুষ। তাদের মধ্যে প্রায় দশ লাখ আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এখনও মিয়ানমারে রয়েছে তাদের কয়েক হাজার। এ ছাড়া এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে তাদের বাকিরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
সম্মেলেন রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, একজন বয়স্ক শরণার্থীকে দেখে তিনি মর্মাহত হয়েছিলেন। ওই শরণার্থী তাকে দেখিয়েছিলেন প্লাস্টিকের ময়লা একটি ব্যাগে কিছু কাগজপত্র। এর মধ্যে ছিল তার পূর্বপুরুষদের নাগরিকত্ব বিষয়ক ডকুমেন্ট। এগুলো তারা অর্জন করেছিলেন স্বাধীনতার সময়। ওই বৃদ্ধাকে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের অধীনে তার নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সেই ব্যাগে আছে এ সংক্রান্ত একটি কাগজ। আছে একটি কার্ড। তাকে এটা দেয়া হয়েছে। তাতে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে শুধু ‘বাঙালি মুসলিম’। রাধিকা বলেন, ওই নারী এই ব্যাগটিকে এমনভাবে তার কাছে রেখেছেন যেন এটাই তার জীবন। তিনি যখন পালিয়ে আসেন তখন তার স্বর্ণালঙ্কার সহ সবকিছু ফেলে এসেছেন। কিন্তু সঙ্গে এনেছেন এই ব্যাগ। ওই নারী তাকে বলেছেন, তিনি ঘুমানোর সময় বালিশের নিচে এই ব্যাগটি রেখে ঘুমান।
রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরে যেতে চাপ প্রয়োগ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাধিকা। তিনি বলেছেন, একই সঙ্গে সহিংসতার জন্য যারা দায়ী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তার ভাষায়, এসব মানুষকে মিয়ানমারে জোর করে ফেরত পাঠানো আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, সেখানকার পরিবেশ উপযুক্ত কিনা এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের পথ পরিষ্কার কিনা। তাদের গ্রামগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এমন কি একটি গাছ পর্যন্ত দন্ডায়মান অবস্থায় নেই। তিনি বলেন, মিয়ানমারের ভিতরে এখন যারা আছে তাদেরকে রাখা হয়েছে বিভিন্ন শিবিরে। সেখানে তাদের চলাচলে রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। রয়েছে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সীমিত অধিকার। আর রয়েছে আকাশচুম্বী অপুষ্টির হার।
রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, তাদের মিশন প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ সেপ্টেম্বরে নতুন একটি বিচারিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেবে, যাতে তারা মিয়ানমারের ওইসব জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। ২০১৭ সালের সহিংসতার পর পরই তদন্তকারীরা যখন শরণার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে যান তখন তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছিল ভীষণ হতাশা। কিন্তু গত মাসে যখন তদন্তকারী টিম আবার বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল তখন রোহিঙ্গাদেরকে অধিক সংগঠিত দেখা গেছে। তারা কি চায় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের হতাশার বিষয়টি অনেক বেশি পরিষ্কার। তারা চায় ন্যায়বিচার ও নাগরিকত্ব।
মিয়ানমারের বেসামরিক নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নেত্রী অং সান সুচি অব্যাহতভাবে দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ অবলম্বন করছেন। একে গুরুত্বর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন রাধিকা কুমারাস্বামী। তিনি বলেন, আমরা আশা করি তার মধ্যে পরিবর্তন আসবে। তিনি এক সময় যেমনটা বলেছিলেন তেমন গণতান্ত্রিক হবেন। রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে পূর্ণাঙ্গ অধিকারের নিশ্চয়তা নিয়ে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘ; এখন দায়িত্ব নেয়া উচিত তাদের by মাউং জারনি

জাতিসংঘ সম্প্রতি ৩৬ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট গ্রহণ করেছে, যেখানে মিয়ানমারে ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গুয়াতেমালার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের নির্বাহী গার্ট রোজেনথালের প্রণীত ওই রিপোর্টে স্বীকার করা হয়েছে যে, মিয়ানমারে সঙ্কটে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে জাতিসংঘ ‘পদ্ধতিগত দিক থেকে ব্যর্থ’ হয়েছে।
রোজেনথাল রিপোর্টে (২৯ মে প্রকাশিত) বলা হয়েছে যে, মিয়ানমারে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল অকার্যকর, এবং সেখানে সংস্থাটির নেতৃত্ব ও ভূমিকা ছিল ‘তুলনামূলকভাবে বন্ধ্যা’। এই সব সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণ হলো বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নিজস্ব সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, যাদের মধ্যে সাংঘর্ষিক মত এবং স্বার্থগত দ্বন্দ্বও ছিল।
সিকিউরিটি কাউন্সিলের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাব জাতিসংঘের অবস্থানকে দুর্বল করে ফেললেও, রোজেনথাল উল্লেখ করেছেন যে, রোহিঙ্গাদের নিগ্রহ বন্ধে সংস্থাটির আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক বাজারে মিয়ানমারের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারতো। কিন্তু জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কোঅর্ডিনেটরের অধীনস্থ মিয়ানমার টিম এবং মহাসচিব ও তার নিউ ইয়র্কের সিনিয়র নির্বাহী টিম যে সব নীতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেখান থেকে এই ভুল ধারণা এসেছে যে, জাতিসংঘ মিয়ানমারের সাথে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে।
আসলে, ইউএন ডেভলপমেন্ট প্রগ্রাম (ইউএনডিপি) পুরোদমে দেশের উন্নয়ন কর্মসূচিতে রূপ নেয়ায়, সেটা মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিধন অভিযান চালাতে শক্তি যুগিয়েছে।
রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের গণহত্যা থেকে কয়েক প্রজন্মের যারা বেঁচে গেছেন, তারা বহুদিন ধরে যে সত্যটা জেনে আসছেন, রোজেনথাল রিপোর্টে শেষ পর্যন্ত এটাকে স্বীকার করা হয়েছে। সেটা হলো: জাতিসংঘ তাদেরকে শুধু ২০১০ সালেই ব্যর্থ করেনি, বরং ১৯৭৮ সালে যখন মিয়ানমারের গণহত্যার প্রচেষ্টা শুরু হয়, তখন থেকেই জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের জন্য কিছু করতে ব্যর্থ হয়েছে।
জাতিসংঘের নিজেদের কূটনীতিক ও কর্মকর্তা কর্তৃক তাদের ভুল চিহ্নিত করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জাতিগত নিধনের ব্যাপারে এ ধরনের ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে জাতিসংঘ।
২০১২ সালে সাবেক অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি জেনারেল চার্লস পেটরি – যিনি ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন – তিনিও একই ধরনের অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন: জাতিসংঘ কার্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং শ্রীলংকায় মানুষের সুরক্ষা ও সমঝোতার ব্যাপারে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে পারেনি।
মিয়ানমারে ব্যর্থতার ব্যাপারে জাতিসংঘের স্বীকারোক্তিকে স্বাগত জানানো যায়। কিন্তু এটা উদ্বেগজনক যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরকার পর্যায়ের সংস্থা – যারা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য কাজ করছে, তারা তাদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সংশোধন করতে পারছে না।
মহাসচিব অ্যান্টনিও গুটেরাস যখন রোজেনথালের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন, তখন সেটা নিয়ে তীব্র সন্দেহ দেখা দিয়েছে। গুটেরাস যখন ইউএন হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন মিয়ানমারের তৎকালিন প্রেসিডেন্ট থিন সিনের আয়োজন করা এক বৈঠকে তাকে বলা হয়েছিল যে, দেশটির সরকার রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চায়।
২০১২ সাল থেকেই তাই জাতিসংঘের নেতৃবৃন্দের কাছে আন্তর্জাতিক অপরাধ সঙ্ঘটিত করার ব্যাপারে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যের বিষয়টি পরিস্কার ছিল। কিন্তু কার্যকর কোন পদক্ষেপই নেয়া হয়নি।
সংস্থাটির আরও বেশি কিছু করা উচিত ছিল। গণহত্যার ব্যাপারে আগাম সতর্কবার্তা সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন ছিল। এ ব্যাপারে জরুরি রেসপন্স টিম গঠন ও পরিকল্পনা নেয়া দরকার ছিল। এবং স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অব দ্য সেক্রেটারি-জেনারেল ফর চিলড্রেন অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট এবং অফিস অন জেনোসাইড প্রিভেনশান অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটি টু প্রটেক্টের একসাথে কাজ করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা সেটা করেনি।
মাউং জারনি ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশানের বার্মিজ সমন্বয়ক। সংস্থাটি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের একটি আমব্রেলা নেটওয়ার্ক।

ট্রেনে বালতি-আসন, ভাড়া ১৮০-২০০ টাকা! by আতাউর রহমান জুয়েল

‘ট্রেনে টিকিট কাইটেও বসার সিট (আসন) পাওয়া যায় না। টিকিট কাইটে লাভ কী! এর চাইতে ২০০ টাকায় ট্রেনের কর্মচারীদের কাছ থেকে বালতি ভাড়া নিয়ে তাতে বসে আরামসে যাওয়া যায়।’
কথাগুলো ট্রেনযাত্রী কফিল উদ্দিনের; যিনি ২৬ জুন বুধবার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ছ’ বগিতে বালতি বসে ঢাকা ফিরছিলেন।
কফিল জানান, দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে তিস্তা এক্সপ্রেসে উঠে ‘ছ’ বগির অ্যাটেনডেন্ট আবুল কালাম ওরফে কালাম মেম্বরের কাছ থেকে ২০০ টাকায় বালতি ভাড়া নিয়েছেন। তিনি ঢাকার একটি হোটেলে কাজ করেন। তার গ্রামের বাড়ি দেওয়ানগঞ্জের চিকাজানিতে। ছুটিতে বাড়িতে আসলে তিনি প্রতিবারই প্লাস্টিকের চেয়ার, মোড়া বা বালতি ভাড়া নিয়ে তাতে বসে ঢাকায় ফেরেন।
সিটের পাশে বালতিতে বসে আছেন এক যাত্রী (ছবিঃ–বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি)
কফিল আরও জানান,ট্রেনে সিট না পেয়ে বালতি ভাড়া নিয়ে অনেক যাত্রীই যাতায়াত করেন। কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছার আগে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয় এবং এই সুযোগে বালতি-যাত্রীরা সেখানে নেমে যান।
এর আগে ট্রেনে প্লাস্টিকের চেয়ার, মোড়া বা টুল বাণিজ্যের কথা শোনা গেলেও এবারই প্রথম বালতি ভাড়া দেওয়ার কথা জানা গেলো। কফিলের কাছ থেকে এ তথ্য পেয়ে তিস্তা এক্সপ্রেস ঘুরে দেখা গেলো, এ ট্রেনের খাবার বগিসহ অন্য বগিগুলোতে প্লাস্টিকের চেয়ার, মোড়া ও টুলে বসার পাশাপাশি অনেক নারী ও পুরুষ যাত্রী বালতিতেও বসে যাচ্ছেন।
‘চ’ বগিতে বালতিতে বসা যাত্রী কমলা বেগম জানান, ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে জামালপুর রেলস্টেশন থেকে এ ট্রেনে ওঠেছেন। সিট না পেয়ে ১৮০ টাকায় বালতি ভাড়া নিয়েছেন।
বালতিতে বসা আরেক যাত্রী বাবু আহমেদ জানান, শুধু তিস্তা নয়, আন্তঃনগর সব ট্রেনেই বালতি ভাড়া দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, বালতি ভাড়া থেকে আসা টাকার ভাগ পেয়ে থাকেন ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট থেকে শুরু করে টিকিট চেকার (টিটি),গার্ড,পরিচালক এবং পুলিশ সদস্যরা।
ট্রেনের ‘ছ’ বগির ৫২ নম্বর সিটের যাত্রী কামরুল ইসলাম বলেন,‘বালতিতে বসিয়ে যাত্রী নেওয়ার কারণে ট্রেনে হাঁটাচলায় সমস্যা হয়ে থাকে। সিটের যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলে বালতি ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত।’
প্ল্যাস্টিকের চেয়ার ও টুলে বসে আছেন যাত্রীরা (ছবি–বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি)
যাত্রীদের কাছে বালতি ভাড়া দেওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেন অ্যাটেনডেন্ট আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘বেতনের টাকায় সংসার চলে না। কী করবো, বালতি ভাড়া দিয়ে চলতে হচ্ছে। যাত্রীরা যা দেয়, তাই নিয়ে থাকি।’
খাবারের বগির কর্মচারী সুলতান মিয়া বলেন, ‘এ বগিতে প্লাস্টিকের চেয়ার,মোড়া,টুল ও অর্ধশত বালতি রয়েছে, যা ভাড়া দেওয়া হয়। ট্রেনের প্রতি বগিতে ১০-১২টি করে বালতি বসিয়ে দেওয়া হয়।’ তিনিও জানান, প্লাস্টিকের চেয়ার, মোড়া, টুল ও বালতি ভাড়া থেকে যে টাকা আসে, তা খাবার বগির ঠিকাদার, টিটি, পরিচালক, গার্ড, অ্যাটেনডেন্টসহ পুলিশের সদস্যরা ভাগ করে নেন। শুধু তিস্তা ট্রেনই নয়, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের সব আন্তঃনগর ট্রেনেই বালতি ভাড়া দেওয়া হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের তত্ত্বাবধায়ক জহুরুল ইসলাম জানান,ট্রেনে বালতি ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি মো. মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘বালতিসহ অন্য বসার জিনিস ভাড়া দেওয়া বন্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।’
উল্লেখ্য, প্রতিদিন ময়মনসিংহ রেলস্টেশন থেকে ১০টি আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
টুলে বসে আছেন যাত্রীরা (ছবি–বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি)

১১৪টি যুদ্ধবিমান কিনতে দ্রুত টেন্ডার, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির দোরগোড়ায় ভারত

রাফাল বিতর্কের মধ্যেই ফের ১১৪টি যুদ্ধবিমান কিনতে চলেছে ভারত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চুক্তির বরাত দেওয়ার শেষ ধাপে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভারতীয় সেনার ক্ষমতা বাড়াতে এবং পুরনো যুদ্ধবিমানগুলি ধাপে ধাপে বাতিল করার লক্ষ্যে এই বরাতের প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকরী করার চেষ্টা চলছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্রে খবর। নির্দিষ্ট করে যুদ্ধবিমানের কথা না বললেও বায়ুসেনার চাহিদা পূরণে কার্যকরী পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে সংসদে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক।
বরাতের হিসেবে এই চুক্তির মূল্য প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় এক লক্ষ তিন হাজার কোটি টাকা। বছরখানেক আগে প্রকাশ্যে আসা একটি সরকারি নথি থেকে জানা গিয়েছিল, যুদ্ধবিমানের চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করে এমন বেশ কয়েকটি সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বোয়িং, লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন, সাব এবি-র মতো সংস্থা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, নথিপত্র প্রায় তৈরি। শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে খুব শীঘ্রই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।
কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ৮৫ শতাংশ যুদ্ধবিমানই ভারতে তৈরি করতে হবে। কেন্দ্রের একটি সূত্রে খবর, বোয়িং এর চুক্তি রয়েছে হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্যাল লিমিটেড এবং মহিন্দ্রা ডিফেন্স-এর সঙ্গে। এফ-২১ এর জন্য লকহিডের চুক্তি রয়েছে টাটা গ্রুপের সঙ্গে। অন্য দিকে আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে সাব এবির। ফলে যে সংস্থাই বরাত পাক, এই যৌথ উদ্যোগেই তৈরি হবে নুতন যুদ্ধবিমান। চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর প্রথম ধাপের যুদ্ধবিমান ভারতের হাতে তুলে দিতে হবে তিন বছরের মধ্যে।
সংসদে শ্রীপদ নায়েক সম্প্রতি জানিয়েছেন, বায়ুসেনার চাহিদা পূরণে দ্রুত চুক্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। শুরু হয়েছে যুদ্ধজাহাজ, ট্যাঙ্কার-সহ অন্যান্য বেশ কিছু যুদ্ধাস্ত্র কেনার জন্য প্রাথমিক নথিপত্র তৈরির কাজ। এছাড়া সাবমেরিন কেনার জন্য আগ্রহী সারা বিশ্বের সংস্থাগুলিকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষায় আধুনিকীকরণ এবং অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানো কার্যত অপরিহার্য হয়ে উঠেছে মোদী সরকারের কাছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামা হামলার পাকিস্তানের অত্যাধুনিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ডগ ফাইটে নামাতে হয়েছিল পুরনো মিগ ২১-কে। যা বায়ুসেনা মহলে ‘উড়ন্ত কফিন’ নামেও পরিচিত। ফলে সেগুলি বাতিল করে আধুনিক যুদ্ধবিমান যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই দ্রুত চুক্তি কার্যকর করার দিকে এগোচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

বেপরোয়া মোটরসাইকেল

বেপরোয়া মোটরসাইকেল প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। ছবিটি রাজধানীর পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে থেকে তোলা। ছবি: জীবন আহমেদ

বাংলাদেশ বন্ধু হলেও তিস্তার জল দেওয়া সম্ভব নয়: মমতা

তিস্তা নিয়ে রফাসূত্র মিলবেই। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজি করাতে পারেননি৷ বাংলাদেশকে তিস্তার জল না দেওয়ার ব্যাপারে এখনও অনড় রয়েছেন মমতা৷ মঙ্গলবার বিধানসভায় সেকথা ফের স্পষ্ট করলেন তিনি৷ একইসঙ্গে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করলেন পর্যাপ্ত ইলিশ দেওয়ার৷
মঙ্গলবার বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে বিধায়ক রহিমা বিবির এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালি মাছে ভাতে থাকতে ভালবাসে। কিন্তু বাংলাদেশকে আমরা তিস্তার জল দিতে পারিনি। তাই ওরা আমাদের ইলিশ মাছ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ওরা আমাদের বন্ধু দেশ। কিন্তু জল নেই তো কোথা থেকে দেব?’
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আমরা ইলিশ মাছ নিয়ে রিসার্চ সেন্টার করেছি। আমাদের বাংলায় এখন ইলিশ মাছের অভাব নেই। আগামী দিনে রিসার্চ শেষ হলে গোটা দেশে আমরা ইলিশ সরবরাহ করতে পারব। দু-এক বছরের মধ্যে আর বাইরে থেকে আনতে হবে না মাছ।’
উল্লেখ্য, ঢাকা সফরে গিয়ে ২০১১-য় তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি রূপায়ণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। এর পরে ২০১৪-য় শপথ নিয়েই ঢাকা সফরে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন, আগের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি‌শ্রুতি তিনি রূপায়ণ করবেন। সুষ্ঠু ভাবে স্থলসীমান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলেও মূলত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তিতে তিস্তা চুক্তি নিয়ে এগোতে পারেনি দিল্লি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, তিস্তায় পর্যাপ্ত জলের অভাবে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে কৃষিজীবীরা এমনিতেই সঙ্কটে। বাংলাদেশকে বাড়তি জল দেওয়ার আগে যথার্থ সমীক্ষা করে এ রাজ্যের কৃষকদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
ডিসেম্বরে বাংলাদেশের ভোটে শেখ হাসিনা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ভোটের আগে তিস্তা চুক্তি না-হওয়ার বিষয়টি তারা আর খুঁচিয়ে তোলেনি। বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা জানিয়েছিলেন, তিস্তা অববাহিকা অঞ্চলগুলিতে চাষের জন্য জলের বিকল্প ব্যবস্থা করায় নজর দিয়েছিল হাসিনা সরকার। সেখানকার নদীগুলিকে ড্রেজিং করায় জলের প্রবাহ বেড়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিস্তার বাড়তি জল ছাড়াই স্বাভাবিক কৃষিকাজ চালানো যাচ্ছে। তাই এখনই চুক্তি নিয়ে চাপাচাপি করা হচ্ছে না। কিন্তু এটাও ঠিক, এত কিছুর পরও বাংলাদেশের কাছে এখনও বড় প্রত্যাশা তিস্তার জল৷
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ২০২১-এ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে উত্তরবঙ্গের কৃষকদের কোনওভাবেই ক্ষুন্ন করতে চান না মমতা। দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ির কৃষকরা তিস্তা নদীর জলের উপর অনেকটাই ভরসা করে বেঁচে থাকেন। তাই তিস্তা চুক্তিতে মুখ্যমন্ত্রীর অমত৷

পরকীয়া এবং...

পিংকি
স্বামীকে ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পিংকি। এ জন্য তার প্রেমিক চুরিকাঘাত করেছে তাকে। এতে মারা গেছেন পিংকি। এখানেই খান্ত হয়নি তার প্রেমিক সানি। নিজের গলাও কেটে ফেলেছে সে। তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি ফ্লাটের ভিতর থেকে। সেখানে রক্তের মধ্যে পড়ে ছিল তাদের দেহ। প্রেমিক সানিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।
এতে বলা হয়, এখন থেকে ৫ বছর আগের কথা। তখন ভারতের দিল্লিতে পিংকির বয়স ছিল ১৯ বছর। পরিবারের সদস্যরা তাকে পছন্দ করে একজন যুবকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন। এক বছরের মাথায় পিংকি একটি পুত্র সন্তানের মা হন। কিন্তু পরিবার চালাতে তার স্বামী পড়েন খুব সঙ্কটে। এ অবস্থায় সন্তানকে বড় করা প্রধান হয়ে ওঠে পিংকির কাছে। বাড়তি উপার্জনের জন্য তিনি একটি বিউটি পার্লারে কাজ নেন। সেখানে তার জীবন একঘেঁয়ে হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এ বছর ভ্যালেন্টাইস ডে’তে তা যেন ভিন্ন এক গতি পায়। একজন বন্ধু দক্ষিণ দিল্লির দেভলির বাসিন্দা সানির (২৬) সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেন। অল্প সময়ের মধ্যে সানির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়ে যায়। তারা ভালবাসায় জড়িয়ে যান। সম্পর্ক গড়ায় অন্তরঙ্গতায়। পিংকিকে নিজের বাইকে চড়িয়ে পৌঁছে দিতে দেখা যায় সানিকে। পিংকিকে চকোলেট কিনে দেন। ফলে সানির প্রেমে মজে গিয়ে তাকেই বেশি সময় দিতে থাকেন পিংকি।
এই মাখামাখি প্রেমের কাহিনী দীর্ঘসময় গোপন থাকে নি। তাদেরকে অনেক স্থানে একসঙ্গে দেখা যেতে থাকে। বিষয়টি পিংকির স্বামীর নজরেও পড়ে। ফলে পিংকির জীবনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দেভলি থেকে তার স্বামী তাকে নিয়ে গত মাসে বাসা পাল্টে চলে যান চিরাগ দিল্লি। সেখানে পিংকিকে তিনি ঘরে থাকার নির্দেশ দেন। বলেন, পরিবারের দেখাশোনা করতে। কিন্তু কোনো বিধিনিষেধ মানতে প্রস্তুত ছিলেন না পিংকির প্রেমিক সানি। পিংকির স্বামী যখন কাজে বেরিয়ে পড়েন, তখন তিনি নতুন বাসায় পিংকির সঙ্গে সাক্ষাত করা শুরু করেন।
এরই মধ্যে পিংকির মধ্যে বোধোদয় হয় যে, তিনি অবৈধ রগরগে সম্পর্ক গড়ে ভুল করেছেন। তার উচিত সানিকে এড়িয়ে চলা এবং তিনি তাই করতে থাকেন। পিংকির এই পরিবর্তিত মানসিকতায় সানি তাকে বার বার ফোন করতে থাকেন। বলেন, স্বামীকে তালাক দিতে। কিন্তু তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন পিংকি। তিনি সানিকে অনুরোধ করেন তাদের সম্পর্কে ইতি টানতে। তা সত্ত্বেও পিংকিকে যেকোনো মূলে নিজের কাছে পেতে মরিয়া হয়ে যান সানি।
এ অবস্থায় গত সপ্তাহে সানিকে হুমকি দেন পিংকি। তিনি বলেন, যদি সানি অকল্পনীয় চিন্তা আরো করতে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন। ফলে শুক্রবার একটি ছুরি সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে সানি প্রবেশ করেন পিংকির বাসায়। পিংকিকে তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তার আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ফিরে যেতে বলেন পিংকি। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা হয়। প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি হয়।
ওদিকে পিংকিকে নিজের জীবনে পেতে মরিয়া সানি তার কাছে নানারকম অনুনয় বিনয় করতে থাকেন। সানি জানান, তাকে ছাড়া তার জীবন অর্থহীন। তিনি জীবন শেষ করে দেবেন। কিন্তু পিংকি বার বারই তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। এক পর্যায়ে কাছে থাকা ছুরি বের করে পিংকির বুকে ও পেটে বহুবার আঘাত করেন সানি। এরপর পিংকির মৃতদেহ বিছানার ওপর ফেলে রাখেন। তবে পালান নি সানি। তার পরিবর্তে তিনি নিজের গলা কেটে ফেলেন। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন।
বিষয়টি নজরে পড়ে বাড়িওয়ালা মহিপাল সিংয়ের। তীব্র কথা কাটাকাটির পর তিনি তার স্ত্রীকে পাঠান ওই বাসায় কি ঘটেছে তা দেখতে। মহিপাল বলেন, আমার স্ত্রী ওই ফ্লাটে গিয়ে দেখতে পায় রক্তের বন্যা। তার মধ্যে পড়ে আছেন ওই দু’জন। সে তীব্র জোরে চিৎকার করতে থাকে এবং আমাকে পুলিশে ফোন দিতে বলে। দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। দু’জনকে উদ্ধার করে এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে পিংকিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর সানিকে ভর্তি করা হয় আইসিইউতে। তার অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা বলেছেন, কোনো মন্তব্য করার আগে তারা পরবর্তী ২৪ ঘন্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন।

তালেবানের শর্তেই চলতি মাসে সর্ব-আফগান শান্তি সম্মেলন

আগামী ৭-৮ জুলাই কাতারে পরিকল্পিত সর্ব-আফগান শান্তি সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া আকস্মিক ঘোষণার ফলে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সময়সীমা এগিয়ে আসতে পারে বলে সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। তালেবানের শর্তেই এই সম্মেলন হচ্ছে। ফলে এতে আফগান সরকারের কোনো প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন না।
সোমবার রাতে ফক্স নিউজ চ্যানেলের টাকার কার্লসন টুনাইটে ট্রাম্প বলেন, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান সৈন্য ইতোমধ্যেই সরে এসেছে।
কাতারে তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনায় নিয়োজিত ওয়াশিংটনের বিশেষ দূত জালমি খালিলজাদের প্রয়াসের অংশ হিসেবে প্রত্যাহার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এপির হাতে আসা সাক্ষাতকারের কপি অনুযায়ী ট্রাম্প বলেন, আমি সৈন্য প্রত্যাহার চাই। আমি অনেক সৈন্য প্রত্যাহারও করেছি। আমাদের সৈন্য ছিল ১৬ হাজার। আমরা প্রায় ৯ হাজার ফেরত নিয়েছি। তবে এটি অনেকে জানে না। অর্থাৎ আমরা আফগানিস্তানে সৈন্য বেশ হ্রাস করেছি। এ নিয়ে আমি বেশি কথা বলতে চাই না।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের এক সিনিয়র কর্মকর্তার মতে, আফগানিস্তানে এখনো প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন সৈন্য রয়ে গেছে। এই সংখ্যক সৈন্য কয়েক মাস ধরেই সেখানে আছে।
দোহায় তালেবান মুখপাত্র সোহাইল শাহিন বলেন, খালিলজাদের সাথে আলোচনায় আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্য প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়েই মূলত কথা হচ্ছে।
সোমবার এক টুইটবার্তায় শাহিন বলেন, আলোচনায় আমেরিকান বাহিনীসহ আফগানিস্তানে থাকা প্রায় ২০ হাজার সৈন্য প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্ধারিত হবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক। ২৫ জুন কাবুল সফরকালে পম্পেইও ঘোষণা করেন, সৈন্য প্রত্যাহারের কোনো সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার ট্রাম্প আরো বলেন, তিনি আফগানিস্তানে একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক রেখে যাচ্ছেন।
এদিকে আসন্ন সর্ব-আফগান সংলাপ প্রশ্নে জার্মানির বিশেষ প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রদূত মারকাস পোটজেল মঙ্গলবার বলেন, এতে অংশগ্রহণকারী সবাই ব্যক্তিগত সামর্থ্যে যোগ দেবেন, সবার অবস্থান থাকবে সমান।
তালেবান স্পষ্টভাবে বলে আসছে, তারা প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকারের সাথে কথা বলবে না। তারা এ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রর তাবেদার মনে করে। তারা জোর দিয়ে বলছে, তারা যে কারো সাথে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে তাদের আসতে হবে সাধারণ আফগান নাগরিক হিসেবে।
তালেবান পক্ষ ইতোমধ্যেই সুপরিচিত আফগানদের সাথে দুবার বৈঠক করেছে। এমনকি তারা আফগান সরকারের শান্তি পরিষদের সদস্যদের সাথেও কথা বলেছে। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সাথেও আলোচনায় অংশ নিয়েছে।
সর্ব-আফগান আলোচনার খবর প্রকাশিত হওয়ার এক দিন আগে আফগান রাজধানী কাবুলে একটি বিপর্যয়কর হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে তালেবান। এতে অন্তত ছয়জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়।
আগামী সপ্তাহের এই আলোচনার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি ইতোপূর্বে কয়েকবারই তালেবানের সাথে সরাসরি আলোচনার দাবি জানিয়েছিলেন।
এদিকে কাতারে আলোচনার কো-স্পন্সর হবে জার্মানি। কাতারে এর আগেও সর্ব-আফগান আলোচনার কথা হয়েছিল। কিন্তু তখন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে মতানৈক্য না হওয়ায় ভণ্ডুল হয়ে গিয়েছিল।
জার্মান রাষ্ট্রদূত পোটজেল বলেন, শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে আফগানিস্তান। কেবল আফগানরাই তাদের দেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এদিকে অব্যাহত যুদ্ধে সাধারণ আফগানরা এখন হতাশ হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার সোয়াব গুল নামে এক ক্রুদ্ধ আফগান বলেন, আফগানিস্তানে কখনোই শান্তি আসবে না। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের বিস্ফোরণে কাবুলে তার বিছানা বিক্রির দোকানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
৪০ বছর বয়স্ক গুল তার দেশে কখনো শান্তি দেখেননি এবং ভবিষ্যতেও শান্তি হবে বলে তিনি মনে করেন না।
তিনি বলেন, প্রতিটি দিন লোকজন মারা যাচ্ছে। আফগানিস্তান হয়ে পড়েছে আমাদের মতো আফগানদের জন্য দোজখ। আমার মনে হচ্ছে, আমি কখনো শান্তির দেখা পাবো না। 
>>>ক্যাথি গ্যানন ও আমির শাহ
২৮ মে ২০১৯, মস্কো আলোচনায় অংশ নেয়া আফগান প্রতিনিধি দল

চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিপুল সম্ভবনা ও সুযোগের কথাও বলেন তিনি।
চীনা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য। চীনা ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানাই বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভবনাকে আপনারা কাজে লাগান।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে চীনা কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের (সিসিপিআইটি) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক  গোলটেবিল আলোচনায় দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের ‘রপ্তানি বাস্কেট’ খুব দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চাইনিজ ব্যবসায়ীরাও আগামী দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করবে।
‘বিনিয়োগ বাড়ানোর বহু ক্ষেত্র রয়েছে, বিশেষ করে টেক্সটাইল, চামড়ার মতো বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এবং মধ্যম ও ভারী শিল্প সেক্টর, অ্যাগ্রো-প্রসেসিং, হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। যদিও এ বাণিজ্যের বেশির ভাগ চীন থেকে আমদানি করা হয়।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ চীনের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। এবং ভূ-কৌশলগত অবস্থানের দিক থেকেও চীনের জন্য বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশ। জনসংখ্যা অনুযায়ী বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম দেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ শুধুমাত্র সরাসরি ১৬২ মিলিয়ন মানুষের বাজারই নয়, আরো ৩ বিলিয়ন মানুষের বাজারের প্রবেশের সুযোগ।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অধিকাংশ বড় মার্কেটে ডিউটি ও কোটা ফ্রি পণ্য প্রবেশের সুবিধা রয়েছে।
মূলধনসহ ফেরত যাওয়া, ট্যাক্স হলিডে, ৭৫ হাজার ডলার বিনিয়োগে স্থায়ী আবাসনের অনুমতি এবং ৫ লাখ ডলার বিনিয়োগে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব, নগদ ছাড়সহ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানির দিক দিয়ে চীনের পরই বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান। চীন এখাতেও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে।
জাহাজ ভাঙা শিল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্প জাহাজ নির্মাণ শিল্পে রূপ নিয়েছে। এখন বাংলাদেশ অনেক উন্নত দেশে ছোট ও মাঝারি আকারের জাহাজ রপ্তানি করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনের দিক দিয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় বৃহৎ দেশ। আর ধান উৎপাদনের দিক দিয়ে চতুর্থ। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৬.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ও সেবা রফতানি করেছে । পরিকল্পনা রয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এটা ৭২ বিলিয়নে উন্নীত করার।
‘দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে আমাদের সরকার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দেশের ৬৪টি জেলাযর প্রত্যেকটিতে অন্তত একটি করে হাই-টেক পার্ক স্থাপন করছে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চীনা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করে এবং এজন্যই চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশটিতে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে। অধিকন্তু বিডা ও বেজার মতো বাংলাদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণকারী সংস্থাগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ এর প্রস্তাব দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের নির্মাণ, গতানুগতিক ও বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্পই চীনা কোম্পানিগুলো বাস্তবায়ন করছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে এখন ‘অভূতপূর্ব’ উন্নয়নের দেশ হিসেবে মনে করা হচ্ছে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ টানা চার বছর ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির হার ধরে রেখেছ।এ বছর আমরা ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার অর্জন করেছি। এটা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হার। অব্যহত উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের সামাজিক খাতগুলোতে এই উল্লেখযোগ্য অর্জনের প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন অভীষ্টের (এমডিজি) অধিকাংশই অর্জন করেছি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করে ফেলেছি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এ পরিণত হতে সঠিক পথেই এগোচ্ছে। ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। ওই বছর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে।
‘২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিণত হওয়া আমাদের লক্ষ্য,’ যোগ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
চীনা ব্যবসায়ীরা তাদের বক্তব্যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ব্যাপক প্রশংসা করেন।
প্রকৌশল, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহও প্রকাশ করেন তারা।
জানা যায়, বাংলাদেশে ৪০০ এর মতো চীনা কম্পানি কাজ করে। এর মধ্যে এই অনুষ্ঠানে ২৬টির মতো কম্পানি অংশ নিয়েছে।