Friday, September 27, 2019
কে এই লেডি হেইল

১. তিনি বৃটিশ সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট
১০ বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করা হয়। তিনিই এই পদে আসীন হওয়া প্রথম নারী। লেডি হেইল পড়াশোনা করেছেন ইয়র্কশায়ারের সরকারি স্কুলে। শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রায় প্রত্যেক অধ্যায়েই তিনি ছিলেন এক নম্বর। তিনি সুপ্রিম কোর্টে নারী প্রতিনিধিত্বের অভাব নিয়ে অনেকদিন ধরেই সরব ছিলেন। বর্তমানে বৃটিশ সুপ্রিম কোর্টের ১২ জন বিচারপতির মধ্যে মাত্র ৩ জন নারী। এর আগে তিনি জাতি ও লিঙ্গগত বৈচিত্র্যের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছিলেন। তার যুক্তি, যে গণতন্ত্র সকলকে সমানভাবে মূল্য দিয়ে থাকে, শুধু সুবিধাভোগী বা ক্ষমতাশালীদের নয়, সেই গণতন্ত্রে মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করবে যে বিচার বিভাগ, সেখানে সমাজের সামগ্রিক প্রতিফলন থাকা উচিত; শুধু ছোট্ট একটি অংশের নয়। নিজের পুরো ক্যারিয়ারে সাম্য ও নায্যতা ছিল তার আইনি ধারণার মূল কেন্দ্রবিন্দু। ২০০৪ সালে তিনি যখন ল’ লর্ড বা আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন, তখন তার একটি লাতিন প্রিয় বাক্য ছিল, যার ইংরেজি অর্থ হলো, ‘নারীরা সব কিছুর সমান।’ লিঙ্গ সমতা নিয়ে লেডি হেইলের এই অগ্রগামী ভূমিকার কারণে ভৌগ ম্যাগাজিন ফেব্রুয়ারিতে নারীদের আইন চর্চা করার অধিকার প্রদানের ১০০ বছর উপলক্ষে তাকে নিয়ে দুই পাতার ফিচার প্রকাশ করে।
২. তিনি সব কিছুতেই নতুন
সুপ্রিম কোর্টই একমাত্র পুরুষ-আধিপত্যশীল প্রতিষ্ঠান নয় যেখানে লেডি হেইল নাড়া দিয়েছেন। ১৯৮৪ সালে তিনি প্রথম নারী হিসেবে ল’ কমিশনে নিয়োগ পান। এই কমিশন বিভিন্ন আইনের সংস্কার নিয়ে কাজ করে। সেখানে কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন যুগান্তকারী সংস্কার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
আইনি কাঠামোর আধুনিকায়ন নিয়েও তিনি কাজ করেছেন। তথাকথিত ঐতিহ্যকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে তিনি দ্বিধা করেননি। যেমন, ব্যারিস্টার ও বিচারকরা আদালতে কাজ করার ক্ষেত্রে যে পরচুল পরিধান করেন, তা নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। তার মতে, এগুলো খুব হাস্যকর পোশাক। একুশ শতকে এসে আঠার শতকের পোশাক মানানসই নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ২০১৩ সালে তিনি বলেন, আমার আপত্তির মূল কারণ হলো, এগুলো পুরুষের পরচুলা।
৩. তিনি ব্রোচের বিশেষ ভক্ত
লেডি হেইল যখন ওই ঐতিহাসিক রায় পড়ে শোনাচ্ছিলেন, তখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা একটি বিষয় লক্ষ্য না করে পারেননি। তা হলো, বিচারপতি হেইল জামায় মণি-খচিত মাকড়শা আকৃতির একটি ব্রোচ পরে ছিলেন। তবে মজার বিষয় হলো, এ ধরণের ভিন্ন ডিজাইনের প্রচুর ব্রচ আছে হেইলের ভান্ডারে।
৪. মাস্টারশেফ-এও বিচারক হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন হেইল
বিবিসি ওয়ান-এর রান্না বিষয়ক বিশ্বখ্যাত অনুষ্ঠান মাস্টারশেফ-এও একবার তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন। নিজের বিচারিক প্রজ্ঞা কাজে লাগিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের সেমিফাইনালে বিচারক হিসেবে ছিলেন তিনি। ওই বছর নারীদের ভোটাধিকার প্রাপ্তির ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
৫. এ বছরের শেষেই অবসরে যাচ্ছেন তিনি
লেডি হেইলের নতুন ভক্তরা আশাহত হবেন জেনে যে, তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এ বছরের শেষ নাগাদ অবসরে যাবেন। জানুয়ারিতেই তিনি ৭৫ বছরে পা রাখবেন। ১৯৯৫ সালের পূর্বে নিয়োগকৃত বিচারপতিদের ক্ষেত্রে ৭৫ বছর বয়সে অবশ্যই অবসর নিতে হবে, যদিও হেইল এই পদে আছেন সবে ২ বছর হলো।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে প্রকাশ্যে মলত্যাগ করায় দুই শিশুকে হত্যার অভিযোগে দু'জন গ্রেফতার
![]() |
| ভারতে লাখ লাখ মানুষ খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে থাকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাত্র ৭ দিনেই সব লণ্ডভণ্ড

যদিও সোমবার অভিযানের পরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তালা ঝুলিয়ে রেখেছে ওই বাড়িতে। অভিযানের সময়ে ওই বাড়িতে শক্তিশালী চারটি বোমা নিষ্ক্রিয় করে বোমা ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দাবি এ বাড়িটি নব্য জেএমবির ল্যাব হিসেবে ব্যবহৃত হতো। গত এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানীতে পুলিশের ওপর যেসব হামলা হয়েছে তার প্রত্যেকটির সঙ্গে এ ল্যাবের যেমন সম্পর্ক আছে তেমনি গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ উদ্দিন রুমি ও মিশুক হোসেন মিজানের সম্পৃক্ততা আছে। কারণ হামলায় যেসব বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে তার প্রত্যেকটির সঙ্গে সোমবার উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের মিল রয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে রোববার রাতে মাশুক খান মিজানকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যমতেই সোমবার ভোরে ফতুল্লার শেয়াচর ব্যাংক কলোনির বাড়ি থেকে ফরিদ উদ্দিন রুমিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক করা হয় তার স্ত্রী জান্নাতুল ফোয়ারা অনুকেও। পরে অভিযান চলে ফতুল্লার তক্কার মাঠে তাদের পরিত্যক্ত বাড়িতে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছে, মিজান ও রুমি নব্য জেএমবির সদস্য। গুলিস্তানে পুলিশকে টার্গেট করে আইইডি হামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ উদ্দিন রুমি আরেক ভাই জামাল উদ্দিন রফিককে আটকের কথা এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা স্বীকার না করলেও পরিবারের দাবি তাকেও নিয়ে গেছে।
জয়নাল আবেদীন বলেন, আমার দুই ছেলে ফরিদ উদ্দিন রুমি ও জামাল উদ্দিন রফিক এবং বড় ছেলের বউ জান্নাতুল ফোয়ারা অনু। রোববার রাত অনুমান ১টায় এ তিনজনকে আমার বাসা থেকে নিয়ে গেছে। তখন আমরা এখানে ছিলাম না। আমি ও আমার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। প্রতিবেশীরা ফোনে রোববার রাত ২টার দিকে আমাকে জানিয়েছে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশীরা বলেছে আপনার বাসায় তল্লাশি করছে ও ভাঙচুর করছে। তবে ফতুল্লা থানায় তাদের নেয়া হয়নি ঢাকা থেকে পুলিশ এসে নিয়েছে। ফোনের এই খবরে আমি রীতিমতো আঁতকে উঠি। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল আমার বাড়িতে কেন অভিযান হবে। আমি তো এমন কিছু করিনি যে আমার বাড়িতে পুলিশ আসবে। এলাকার সব মানুষ আমাদের পরিবারের সবাইকে চিনে-জানে। কেউ বলতে পারবে না আমার ছেলেমেয়ের কোনো দোষ-ত্রুটি দেখেছে। সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছি। ভদ্রতা, নম্রতা পরিবার থেকেই শিখিয়েছি। এতো মেধাবী আর শান্ত আমার দুই ছেলে। তাদের সম্পর্কে এখন আমি এসব কি শুনছি। এটা বিশ্বাস করতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। কোথাও যেন একটা ভুল হচ্ছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমার সন্তানরা এমন কাজ করতে পারে না। এলাকায় মাথা তুলে তারা কারো সামনে কথা বলেনি।
তিনি জানান, ১৯৮১ সালে জায়গা কিনে ১৯৮৫ সালে বাড়ি করি। যে বাড়ি থেকে ধরে নিয়েছে সেটাই আগে কিনে বাড়ি করি। পরে যে বাড়িতে অভিযান হয়েছে সেটা কিনেছি। ভাড়া দেয়ার জন্য টিনশেডের রুম করে দেই। সেখানে কেউ থাকে না। আমার ছোট ছেলে রফিক সেখানে থাকে মাঝে মাঝে ও দেখাশোনা করে। বাড়িতে যেহেতু লোকজন নেই কিন্তু সেখানে পানির পাম্প, রান্নার চুলাসহ আসবাবপত্র আছে। সেজন্যই মাঝে মাঝে সেখানে থাকে। কোরবানির দুটা ছাগল কেনা হলে ওই ছাগলগুলোর ঘাস খাওয়ানোর জন্য ওই বাড়িতে রাখা হয়। সে সময় কয়েকদিন ওখানে ছিল। এছাড়াও বাড়িতে আত্মীয়স্বজন আসলে জায়গা হতো না তখন সে ওখানে থাকতো।
জয়নাল আবেদীন বলেন, ভাড়াটিয়া থাকার মতো পরিবেশ নেই। বৃষ্টি হলে চালা দিয়ে পানি পড়ে আর পানি জমে থাকে যার জন্য ভাড়াটিয়ারা চলে যায়। সবাই যাওয়ার পরও একজন ভাড়াটিয়া ছিল। এছাড়াও ভবন নির্মাণের জন্য চিন্তাভাবনা ছিল সেজন্য এখানে মাটি পরীক্ষা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জয়নাল আবেদীন বলেন, ১৪ই সেপ্টেম্বর আমি সেখানে গিয়ে ঘাস পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের জন্য তার রুম খুলি। সেখানে একটি কাস্তি, নিড়ানি ছিল সেটা দিয়ে ঘাস পরিষ্কার করি লাউ গাছের চারা লাগানোর জন্য। এছাড়াও বাড়ির সামনের ঘাসগুলোও পরিষ্কার করি। তারপর দিন ১৫ই সেপ্টেম্বর আমি গ্রামের বাড়ি চলে যাই। কিন্তু তার রুমে এসব কোনো কিছুই দেখিনি। রেফ্রিজেরেটরের কথা শুনেছি, কিন্তু এখানে ফ্রিজ আসার প্রশ্নই আসে না। এগুলো কিভাবে কি হয়েছে আমি বলতে পারছি না। আমার জানা মতে ১৪ই সেপ্টেম্বর আমি রুম খুলেছি কিন্তু আমার নজরে এসব কিছুই পড়েনি। এখানে ৬টা রুম। যার মধ্যে উত্তর দক্ষিণে দুটা রুম আর পূর্ব-পশ্চিমে ৪টি রুম। পূর্ব পশ্চিমের ৪টি রুমের প্রথমটিতে আমার দেখা একটা চকি, টেবিল, চেয়ার, বিছানা ও জামা কাপড় ছিল।
তিনি আরো বলেন, যখন দেখলাম বাড়িটি সংস্কার করা ছাড়া এখানে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই তখন আমিই ভাড়াটিয়াদের বলি যে চলে যান শুকনো মৌসুম আসলে আমি সংস্কার করবো। তখন আপনারা এসে আবার থাকতে পারবেন। তারপর ৬ মাসের সময় নিয়ে তারা ছেড়ে দেয়। এছাড়াও ভবন নির্মাণের জন্য চিন্তাভাবনা ছিল সেজন্য এখানে মাটি পরীক্ষা করা হয়। ছেলেদের প্রসঙ্গে জয়নাল আবেদীন বলেন, তাদের মধ্যে হঠাৎ করে কোনো পরিবর্তন দেখিনি। আমার মনেও পড়ে না। তারা স্কুল, কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে এমন কোনো কিছু দেখিনি। এছাড়া সব সময় নামাজ আগে থেকেই পড়ে। তাদের আমি আগেই সব সময় বলেছি, সন্তান হয় নেয়ামত কিংবা কেয়ামত। ছেলে যদি ভালো হয় তাহলে বাবা মায়ের জন্য নেয়ামত আর যদি খারাপ হয় তাহলে কেয়ামত। প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী আছে তারা কেউ বলতে পারবে না, আমার ছেলেরা খারাপ, মারামারি, কাটাকাটি, ঝগড়া করেছে। মানুষ তো র্নূনতম নালিশ দেয় সেটাও কখনো আসেনি।
জয়নাল আবেদীন বলেন, তার বড় ছেলে রুমি আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষক। রুমি ব্যাচের প্রথম ছিল আর সেই হিসেবে সেখানেই চাকরি করছে। ছোট ছেলে রফিক কুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য আবেদন করছে। ছেলেরা এসএসসি পাস করেছে ফতুল্লা পাইলট স্কুল থেকে আর এইচএসসি পাস করেছে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে।
তিনি আরো জানান, প্রশাসন থেকে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আমাকে ফোন করা হয়। তারা আমার তথ্য নেয়। তাদের আমি বলেছি, সুষ্ঠু তদন্ত করুন। তাদের অন্যায় ভাবে যেন না ফাঁসানো হয়। এখন যে ঘটনা ঘটেছে সেটা সাজানো নাকি কেউ শত্রুতার থেকে করেছে এটা আমার জানা নেই।
দুই ভাইকে আসামি করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা: এদিকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারসহ দুইজন আটকের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) মোখলেসুর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন।
মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম জয়নাল আবেদিনের বড় ছেলে শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন রুমি ও ছোট ছেলে জামাল উদ্দিন রফিক (পলাতক)সহ ৬ জন ও অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে ফরিদ উদ্দিন রুমির স্ত্রী জান্নাতুল ফোয়ারা অনুকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন জানান, জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কাউন্টার টেরোরিজমের দায়ের করা ওই মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, জঙ্গিবিরোধী অভিযানের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ উদ্দিন রুমি ও মিশুক খান মিজানকে চলতি বছরের ২৯শে এগ্রিল গুলিস্তানে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, রোববার রাত ২টা থেকে সোমবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ফতুল্লা থানার তক্কার মাঠ এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকসহ নব্য জেএমবি সদস্য ফরিদ উদ্দিন রুমি ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফোয়ারা অনুকে আটক করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এর আগের রাতে ঢাকা থেকে মিজানকে আটক করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্য মতেই ফতুল্লার ওই বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী ৪টি শক্তিশালী তাজা বোমা ঘটনাস্থলেই বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা নিষ্ক্রিয় করে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের মধ্যপ্রদেশে ‘হানি-ট্রাপ’

এই কেলেঙ্কারির তদন্ত করছেন স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের (এসআইটি) সঞ্জীব শামি। তিনি বলেছেন, অভিযুক্তদের কাছ থেকে সুবিধা নিতেন এমন কমপক্ষে ১০ জন সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তারা তদন্ত করছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিজেপি ও কংগ্রেস উভয় দলেরই। বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ জন নারীর একটি গ্যাং। তারা হলেন শ্বেতা জৈন (৩৯), আরেকজন শ্বেতা জৈন (৪৮), বারখা সোনি (৩৫), আরতি দয়াল (৩৪) ও ১৮ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রী। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরতি দয়ালের গাড়ির চালককেও। কংগ্রেসের আইটি সেলের সাবেক কর্মকর্তা অমিত সোনির স্ত্রী হলেন বারখা সোনি। বিজেপির এমএলএ ব্রিজেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে একটি স্থানীয় এনজিও চালাতেন শ্বেতা জৈন। তিনিই ওই হানিট্রাপ পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ আছে। সূত্রগুলো বলেছে, রাজ্যের রাজনীতিকদের সঙ্গে তারই ছিল যোগসূত্র। মহারাষ্ট্রের মারাথওয়াদা এলাকার একজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মধ্য প্রদেশের সাবেক একজন মন্ত্রীর সহযোগিতায় তিনি ওই রাজনীতিকের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে শ্বেতা জৈনকে এই দলের মূল হোতা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তার এই চক্রে কমপক্ষে দুই ডজন কলেজগামী ছাত্রী রয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। এসব ছাত্রী মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাদেরকে ব্যবহার করে ওইসব শীর্ষ কর্মকর্তা বা রাজনীতিককে ফাঁদে ফেলা হয়। শ্বেতা জৈন স্বীকার করেছেন, ভাল কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি অনেক কলেজছাত্রীকে প্রলুব্ধ করেছেন। তাদেরকে বিলাসী জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এভাবে তিনি তাদেরকে পাঁচ তারকা হোটেলে থাকার প্রলোভন দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার করা ওই ৫ নারীর প্রত্যেকেরই আছে নিজস্ব গ্যাং। সূত্রগুলো বলছে, এটাই যাবতকালের সবচেয়ে বড় সেক্স স্ক্যান্ডাল। এই গ্যাংয়ের একজন সম্প্রতি তদন্তকারী সংস্থার একজন শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তাকে টার্গেট করে। তার কাছে একটি ভিডিওর জন্য দুই কোটি রুপি দাবি করে। সম্প্রতি আরতি দয়ালের বিরুদ্ধে ৩ কোটি রুপি দাবি করার অভিযোগে একটি মামলা করেন ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা। এরপরই এই গ্যাংয়ের বিষয়টি উন্মোচিত হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিয়ানমারকে বাধ্য করতে বিশ্বকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে: -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

তৃতীয়ত, সামাজিক বৈষম্য দূর করতে হবে এবং চতুর্থত, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের জন্য সমান সুবিধাজনক পরিস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। মিয়ানমার সরকার একটি পরিকল্পিত নৃশংসতার মাধ্যমে উত্তর রাখাইন রাজ্য থেকে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সমপ্রদায়কে নিধন শুরু করে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা (রোহিঙ্গা) নৃশংসতা ও সন্ত্রাস থেকে বাঁচতে পালিয়েছিল। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমান্ত খুলে দেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য সাধ্যমত সব ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, এবং যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে বাংলাদেশকে সর্বপ্রকার সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। তিনি সবাইকে বাংলাদেশের কক্সবাজারস্থ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এ সমস্ত শিবির পরিদর্শনে এসে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা রোহিঙ্গাদের নিধনযজ্ঞের বিভিন্ন নৃশংস ঘটনাবলী শুনলে আপনারা কেঁপে উঠবেন। আমি এও বিশ্বাস করি, আপনাদের হৃদয় যন্ত্রণায় দগ্ধ হবে এবং আপনারা শিগগিরই রোহিঙ্গাদের এসব বেদনাদায়ক পরিস্থিতির অবসান চাইবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদানের ক্ষেত্রে আরেকটি যে বিষয় কাজ করেছে তা হচ্ছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালিন বাংলাদেশীদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার বিষয়টি। সে সময় বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি জনগণ প্রতিবেশী দেশ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য হয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট আমার পিতা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর পরিবারের ১৮ জন সদস্যসহ নৃশংসভাবে হত্যার পর আমি নিজেও শরণার্থী হয়ে পড়েছিলাম। তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেবলমাত্র আমি এবং আমার ছোট বোন শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। প্রায় ছয়টি বছর তৎকালীন স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান আমাদের দেশে ফিরতে দেয়নি। যে কারণে, ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য হই। সন্ত্রাস এবং উগ্র চরমপন্থা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করছে কেননা আমরা বিশ্বাস করি, সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই, কোন সীমানা নেই। তিনি বলেন, আমরা আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সজ্জিত করেছি এবং এর সঙ্গে সংযুক্তদের সমাজ থেকে পৃথক করার পদক্ষেপও গ্রহণ করেছি।
সরকার মিথ্যা এবং বিদ্বেষ প্রসূত বক্তব্যের বিস্তার রোধে ডিজিটাল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক উভয় অংশীদারদের সঙ্গেই চমৎকার সহযোগিতা বিদ্যমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকারণে, ২০০৬ সালের ১লা জুলাই বাংলাদশের হলি আর্টিজান বেকারীতে সন্ত্রাসী হামলার পর এই পর্যন্ত আর কোন বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারেনি। আমাদের জনগণ এখন সতর্ক রয়েছে কেননা আমরা তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতার জন্য আমরা আমাদের সীমানার গন্ডি পেরিয়ে গেছি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ, সিএফআর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এন. হাস এবং সিএফআর’র সম্মানিত সদস্যগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হিমালয়ের দুর্গমতম পাস অতিক্রম করলো বাংলাদেশের বিএমটিসি by কাজী বিপ্লব
| হিমালয়ের দুর্গতম পাস তাশি লাপচা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যাংকপাড়ায় চাপা অস্থিরতা

কারণ সরকার মেগা প্রকল্পে যতো ঋণ নিয়েছে, এই সময়ে তার কিস্তি দেয়া শুরু হবে। উল্লেখ্য, ২০১৭-২০১৮ সালে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ৫ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা ঋণ করেছিল। গত জুনে বাজেট ঘোষণার সময় অর্থনীতিবিদরা হুঁশিয়ার করে দেন যে, তারল্য সংকটে ভুগতে থাকা ব্যাংকখাত থেকে ঋণের বড় টার্গেট ব্যাংককে আরো দুর্বল করতে পারে। বাজেটে (২০১৯-২০২০) ৭৭,৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ টার্গেটের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকেই ৪৭,৩৬৩ কোটি টাকা উসুলের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ক্যাসিনোকেন্দ্রিক কালো টাকার সঙ্গে ব্যাংকখাতে অনিয়মের নিবিড় সম্পর্ক। কান টানলে যেমন মাথা আসে, তেমনি ব্যাংকখাত ধরে টান দিলে ক্যাসিনো আপনা-আপনি মুখ থুবড়ে পড়বে। কারণ কালো টাকার প্রবাহ সৃষ্টির মূলমন্ত্র হলো ব্যাংক থেকে নিজের মনে করে জনগণের টাকা তুলে নেয়া। এবং এরপর সেটা আর ফেরত না দেয়া। সেই হিসাবে ব্যাংকপাড়ায় কিছুক্ষেত্রে যা ঘটেছে বলে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা সময়ে সময়ে দাবি করেছেন, তাতে এটা বলা অতিরঞ্জিত হবে না যে, ‘অনেক ব্যাংক আসলে ইয়ংম্যানস ক্লাব থেকে বহুগুণে বেশি টাকা উড়িয়েছে।
একরাতে ক্যাসিনোতে সোয়া শ’ কোটি টাকা উড়েছে। কিন্তু একটি ব্যাংক থেকে ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে হয়তো হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে। একে কি বলা হবে, ’ ক্যাসিনো ব্যাংক?’ ব্যাংকের কেসিনো সিনড্রোমের সব থেকে বড় শিকার সরকারি ব্যাংক। কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, তাহলে দেখা যায়, ক্যাসিনো নিয়ে চারদিকে যেভাবে হুলুস্থুল পড়ে গেছে, তাতে মনে হচ্ছে, ব্যাংকিং খাতের চেয়ে ক্যাসিনো বেশি ভয়ঙ্কর। এখানকার ক্যাসিনো এটা দেশের আড়াল করে রাখা জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়গুলো, যার প্রতিকারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবি রাখে। একজন বিশেষজ্ঞের কাছে জানতে চাইলে তিনি রসিকতা করলেন জবর। বললেন, দেখা যাচ্ছে, ইয়ংম্যানস ক্লাবের মতো নানা ক্লাবের নাম উঠছে। কিন্তু ক্যাসিনো ব্যাংক যাদের সিন্দুক/লকার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, তাদের কি হবে। নতুন প্রজন্মের এনআরবি কমার্শিয়াল ও ফারমার্স ব্যাংক খেয়েছে এক হাজার ২০১ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ হয়েছে তিন হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা, বিসমিল্লাহ গ্রুপ নিয়েছে এক হাজার ১৭৪ কোটি টাকা, অ্যাননটেক্স, ক্রিসেন্ট ও থারমেক্স গ্রুপ মিলে ১১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। বেসিক ব্যাংকের জুয়ার অঙ্কটা সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা।
দেশে ৫৯টি ব্যাংক কার্যক্রম চালাচ্ছে। আরো নতুন নতুন ব্যাংক আসছে। তিনটি পাইপ লাইনে। পেশাদার ব্যাংকাররা হতভম্ব। ওই ৫৯টির মধ্যে ৪১টিই বেসরকারি খাতের। কোনো কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, সংসদ সদস্য বাবা-মায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যেও ব্যাংক খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকই জানাচ্ছে, ২০০৯ সালে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। পরের দশকটি সকলের নাকের ডগার ওপরে তা প্রায় এক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। এভাবে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে সাড়ে চার গুণ।
এর বাইরে ব্যাংকগুলোর রাইট অফ বা অবলোপন করা ঋণ ৪৯ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। পুনঃতফসিলকরণ অনেক দেশেই থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে কি ঘটছে? গত বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকই প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার পুনঃতফসিলকরণ করেছে। ২০১২ সালে অনুমোদন পাওয়া ৯টি নতুন বেসরকারি ব্যাংক আসর জমাতে না জমাতে তুরুপের তাস পেটালো ঝটপট। ভাবা যায়? তারা গড়ে প্রত্যেকে প্রায় পৌনে পাঁচশ কোটি টাকার ঋণ ‘খেলাপির’ রেকর্ড গড়তে সক্ষম হলো। কিন্তু তাদের কোনো জবাবদিহি নেই। কেউ অবশ্য ফোড়ন কাটতেই পারেন। বলতেই পারেন, কিছুই হচ্ছে না, তা ঠিক নয়। যিনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তার ব্যাংকটিই ফারমার্স ব্যাংক হয়ে গেল পদ্মা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, যার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মারফত মানুষ জানতে পেরেছে, কি করে ‘সন্দেহভাজনদের’ যোগসাজশে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হলো, আটশ কোটি টাকার বেশি বেরিয়ে গেল, তিনি কিছুদিন আগেই মন্তব্য করেছিলেন, ‘খেলাপি ঋণ পরিশোধের নিয়মাবলি একেবারেই মানা হচ্ছে না। সাধারণত দুবারের বেশি ঋণ পুনঃতফসিল হয় না। পুনঃতফসিল করলে ঋণের ১০ শতাংশ অবশ্যই নগদে আদায় করতে হবে। কিস্তি থেকে কেটে রাখলে তা হবে না, নগদে আদায় করতে হবে। যদি কেউ পুনঃতফসিলের শর্ত ভঙ্গ করে তবে তা বাতিল হয়ে যাবে।’ তাহলে কি দাঁড়ালো, বাংলাদেশি মিডিয়া এখন ক্যাসিনো গিলছে। মাদকযুদ্ধে চারশর বেশি মানুষ প্রাণ হারানোর পরে ক্যাসিনো ও মদের বোতলের খোঁজ পড়ল। কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, নৈতিক শুদ্ধিকরণ আগে!
ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের মতে, ঋণ খেলাপিদের বড় ধরনের শাস্তি দিতে হবে। সামাজিকভাবে তাদের একঘরে করে ফেলতে হবে। বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। তার কথায়, খেলাপি ঋণ ক্যানসারের মতো। সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছিলেন, ‘ব্যাংকের টাকা মানেই আমানতের টাকা। এতে ব্যাংক মালিকদের অংশ মাত্র ১০ শতাংশ। ৯০ শতাংশ আমানতের সুরক্ষা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অথচ ১০ শতাংশের মালিকেরাই এখন সব করছে।’ বিশেষজ্ঞরা যে যা বলেন, তাতে কর্ণপাত নেই কারো।
নিয়ম না মেনে ঋণ বিতরণ, বেনামি ঋণ, সংসদে আংশিক ও অসম্পূর্ণ তালিকা ঘোষণার পরেও টাকা তুলতে নীরব থাকা, সুশাসনের অভাব, রাতারাতি বেসরকারি ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন করার মন্দ উদাহরণ তৈরি, পরিচালনা পর্ষদে এক পরিবার থেকে দুজন পরিচালক থাকার বিধান শিথিল করে চারজনে উন্নীত করা, ব্যাংকিং খাতে পরিবারতন্ত্র চালুর উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে হলমার্কের সঙ্গে নয়া বনিবনার চেষ্টাকে অনেকেই সৎ উদ্যোগ হিসেবে দেখতে নারাজ। বরং একে তারা একটা পরম্পরা হিসেবে দেখছে। কারণ হলমার্কের হলাহল উপাখ্যানের পরে মুহিত সাহেব বলেছিলেন, ও কিছু না। ভালো ব্যাংক হিসেবে সুনাম থাকা বেসিক ব্যাংক হঠাৎ মুখ থুবড়ে পড়ল। আবদুল হাই বাচ্চুর কিছু হলো না। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে রাঘব বোয়ালরা ধরা পড়ছে। দুদক নতুন নতুন নোটিশ ঠুকছে। কিন্তু দুদক বেসিকের চার্জশিট দেয় না। প্রবল চাপের মুখে দুদক বেসিক বসকে শুধু চা চক্রে ডেকেছিল। ব্যাস এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিলেটের মেয়ে মাহজাবিন নাসায়

মাহজাবিন হক প্রথম বাংলাদেশি নারী যিনি নাসায় যোগ দিচ্ছেন তার পিতা সৈয়দ এনামুল হক পূবালী ব্যাংক লি. এর সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। তাদের গ্রামের বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদমরসুল গ্রামে। মাহজাবিন হক চলতি বছরই মিশিগান রাজ্যের ওয়েন স্টেইট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
তার এমন সাফল্যে পুরো মিশিগান শহরে বাঙালি কমিউনিটির মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। আর খবরটি সিলেটে ছড়িয়ে পড়া মাত্র তৃপ্ত হয়েছেন সিলেটবাসী। পেইন্টিং ও ডিজাইনে পারদর্শী মাহজাবীন হক ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান। কর্মসূত্রে পিতা সৈয়দ এনামুল হক সিলেটে অবস্থান করলেও তার সঙ্গে আছেন মা ফেরদৌসী চৌধুরী ও একমাত্র ভাই সৈয়দ সামিউল হক। সৈয়দ সামিউল হক ইউএস আর্মিতে কর্মরত। তারা সিলেট নগরীর কাজীটুলাস্থ হক ভবনের স্থায়ী বাসিন্দা। মাহজাবীন হক ওয়েইন স্টেইট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নকালে দুই দফায় টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে ইন্টার্নশিপ করেছেন। প্রথম দফায় তিনি ডাটা এনালিস্ট এবং দ্বিতীয় দফায় সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে মিশন কন্ট্রোলে কাজ করেন। মাহজাবীন হক জানান, দু’দফায় ৮ মাস দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করেন তিনি। এই কাজের মাধ্যমে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
নাসা অ্যামাজনসহ বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা কোম্পানি থেকে তিনি চাকরির অফার পেয়েছেন। এর মধ্যে নাসাকেই বেছে নেন তিনি। মেয়ের এ সাফল্যে খুশী সৈয়দ এনামুল হক। গতকাল বিকালে তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন, মাহজাবিন শৈশব কাটিয়েছে সিলেটে। এখানেই তার পড়ালেখা। পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন। মেয়ের এই সাফল্যে তিনি খুশী। সিলেটের মুখ উজ্জ্বল করতে মাহজাবিন যেন আরো এগিয়ে যেতে পারে সেই দোয়া তিনি সবার কাছে চেয়েছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘মোনা লিসা’ আঁকতে গিয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন দা ভিঞ্চি!
![]() |
| লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ও মোনা লিসা |
শেষজীবনে আঁকা ওই ছবি মৃত্যুর দু’বছর আগে পর্যন্ত আগলে রেখেছিলেন দা ভিঞ্চি। বহুবার চেষ্টাও করেছেন সম্পূর্ণ করার। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত পারেননি উলনা পালসি নামের এক স্নায়ু বিকলকারী রোগে আক্রান্ত হওয়ায়। ওই রোগে শিল্পীর ডান হাত আংশিক অসাড় হয়ে যায়। আঙুলগুলো কুঁকড়ে যায়। ফলে ওই হাতে ছবি আঁকা তো দূর, কোনো বাহ্যিক সাহায্য ছাড়া সামান্য নাড়াচাড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আর তাই বিখ্যাত চিত্রশিল্প ‘মোনা লিসা’-সহ লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বেশ কিছু ছবি অসম্পূর্ণই থেকে গেছে। তাছাড়া মৃত্যুর আগের পাঁচ বছর তিনি নতুন কোনো ছবিও আঁকেননি।
লিওনার্দোর স্নায়ুরোগ সংক্রান্ত এই বিশদ বিবরণ সম্প্রতিই প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অফ রয়্যাল সোসাইটি অফ মেডিসিনে। দুই ইতালীয় চিকিৎসক- ডেভিড লাজেরি (প্লাস্টিক সার্জন) এবং কার্লো রোসি (স্নায়ুবিশারদ) বিশদ গবেষণার পর ওই প্রতিবেদন লিখেছেন। তারা জানিয়েছেন, ১৫০৭ থেকে ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দে আঁকা দা ভিঞ্চির একটি প্রতিকৃতি দেখেই তারা ওই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে দা ভিঞ্চির ওই প্রতিকৃতিটি বানানো হয়েছিল মিলানে। ছবিটি আঁকেন দা ভিঞ্চির অতি ঘনিষ্ঠ আরেক শিল্পী গিওভান অ্যামব্রোগিয়ো ফিনিও। লাল চক দিয়ে আঁকা ওই প্রতিকৃতিতে বৃদ্ধ দা-ভিঞ্চিকে দেখা যাচ্ছে একটি চাদর গায়ে জড়ানো অবস্থায়। আর তার ডান হাতটি ঝোলানো আছে সেই চাদরেরই ভারে। অনেকটা ভাঙা হাত যেমন ‘স্লিং’-এ ঝোলানো থাকে তেমনি করে।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দা ভিঞ্চির বুড়ো আঙুল এবং তর্জনীটি সোজাভাবে রয়েছে। মধ্যমাটি সামান্য বেঁকে এবং অনামিকা আর কনিষ্ঠ আঙুলটি সংকুচিত হয়ে রয়েছে। চিকিৎসকদ্বয় জানিয়েছেন, হাতের এই অবস্থাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ‘ক্ল হ্যান্ড’। যা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বয়স্ক মানুষের স্ট্রোক হলে, আকছার পড়ে গিয়ে তারা এই ধরনের অসুখে আক্রান্ত হন। দা ভিঞ্চির সঙ্গেও সম্ভবত তেমনটাই হয়ে থাকবে। চিকিৎসকরা ওই প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, অত্যন্ত বেশি পরিমাণে দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার কারণেই সম্ভবত শিল্পীর স্ট্রোক হয়ে থাকবে। যার বড় মূল্য চোকাতে হয় দা ভিঞ্চিকে। উল্লেখ্য, মোনা লিসা ছবিটি যে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি তার স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই সম্পূর্ণ করতে পারেননি, সেই অনুমান আগেও করেছিলেন বিশারদরা। তবে তারা রোগ নিয়ে অনিশ্চিত ছিলেন।সাড় ছিল না হাতে, তাই অসমাপ্ত লিওনার্দোর ‘মোনা লিসা’।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হংকংয়ের অর্থনীতি চীনের জন্য এখনো কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

অর্থনৈতিক গেটওয়ে
ব্যবসা বনাম রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ
'আগুন নিয়ে খেলো না'
'ব্যবসার জন্য খারাপ'
![]() |
| বিতর্কিত প্রত্যার্পণ আইন নিয়ে এই বিক্ষোভে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জম্মুর বধ্যভূমি: সংখ্যালঘুতে পরিণত হলো মুসলমানরা

১৯৪৮ সালের ১০ এপ্রিল লন্ডনের দি টাইমস পত্রিকায় লেখা হয়: ২,৩৭,০০০ মুসলমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানে যায়নি। ডোগরা রাজ্যের মহারাজার বাহিনী এ কাজ করে। আর এতে সাহায্য করে হিন্দু ও শিখেরা। ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে এই গণহত্যা হয়। এই ঘটনা ঘটে মহারাজার ভারতের সঙ্গে যোগ দেয়ার নয় দিন এবং পাঠান আভিযান শুরুর পাঁচ দিন আগে।
এই গণহত্যা ও পাকিস্তানে অভিবাসনের আগে জম্মু অঞ্চলে মুসলমানরা ছিলো সংখ্যগুরু, জনসংখ্যার ৬১%। এখন সেখানে তারা সংখ্যালঘু।
দিল্লি’র নিয়ন্ত্রণে ছিলেন মাউন্টব্যাটেন। জম্মু’র মুসলমানদের ওপর এই গণহত্যার খবর মিডিয়ায় স্থান পায়নি। আরো দু:খজনক হলো ইতিহাসের এই ভয়ংকর অধ্যায় নিয়ে ভারতে আলোচনাও হয়েছে কম।
আরএসএস’র সহায়তায় মহারাজা হরিসিংয়ের ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় জরয়াহের লাল নেহেরুর একটি চিঠি থেকে। তিনি ১৯৪৯ সালের ১৭ এপ্রিল বল্লভ ভাই প্যাটেলকে ওই চিঠি লিখেন।
নেহেরু লিখেন, গোয়েন্দা রিপোর্টে আরো অনেক বিষয়ের মধ্যে বলা হচ্ছে যে জম্মু প্রদেশে গণভোট আয়োজন নিয়ে হিন্দুদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। কারণ, পুরো কাশ্মিরে গণভোটের আয়োজন করা হলে নিশ্চিতভাবে হেরে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই অন্তত জম্মু রক্ষা করা হোক। আমাদের মনে থাকবে যে কয়েক মাস আগে মহারাজা নিজেই এমন একটি প্রস্তাব হাজির করেছিলেন। এ ধরনের প্রপাগা-া আমাদের জন্য খুব ক্ষতিকর বলে মনে হয়েছে। ভবিষ্যতে যাই হোক না কেন, জম্মু প্রদেশ আমাদের হাতছাড়া হোক এটা আমি চাই না।
সে সময় জম্মুর গণহত্যার ঢাকনাটি তুলেন বেদ ভাসিন ও গুটিকতক সাংবাদিক। কিন্তু যারা জম্মু’র হলোকাস্ট-এ জড়িত ছিলেন তারা একে আলোচনার আড়ালে রাখার ব্যবস্থা করেন। এর মধ্যে সে সময়ের কংগ্রেস দলীয় নেতারাও জড়িত ছিলেন। হায়দ্রাবাদ, জম্মু ও কাশ্মিরের ঘটনার মধ্য দিয়ে নয়াদিল্লিতে এমন এক শাসক গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে যা ভারতীয় মুসলমানদের প্রতি উদাসীন।
সাংবাদিক বেদ ভাসির স্বাক্ষ্যটিকেই ধরা যাক। তিনি এ নিয়ে ২০০৩ সালে জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নিবন্ধ উপস্থাপন করেন।
মাউন্ট ব্যাটেনের পরিকল্পনা ঘোষণার পর থেকেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সেই সাথে হিন্দু সভা, আরএসএস ও মুসলিম কনফারেন্স সাম্প্রদায়িক ভাবাবেগ উস্কে দিতে শুরু করে। পাঞ্জাব ও সীমান্ত প্রদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক হিন্দু ও শিখ অভিবাসী এসে ভীড় জমালে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠে। মহারাজা তার জায়গিরের ওপর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ ও নতুন করে কর আরোপের সিদ্ধান্ত নিলে পু এলাকাবাসী অসাম্প্রদায়িক বিক্ষোভের আয়োজন করে। এই বিক্ষোভ দমন করতে যায় মহারাজার বাহিনী। ফলে অসাম্প্রদায়িক বিক্ষোভ রূপ নেয় সাম্প্রদায়িক সংঘাতে।
মহারাজার প্রশাসন মুসলমানদের শুধু অস্ত্র সমর্পনেরই নির্দেশ দেয়নি, ডোগরা সেনাবাহিনী থেকে মুসলিম সেনাদের অপসারণ করে। মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হয় সন্দেহের বশে। মহারাজা ভিমবার সফরে যাওয়ার পরপরই সেখানে বড় আকারের হত্যাকান্ড ঘটে।
ভাসিন জানান যে, উধমপুর জেলায় মুসলমানদের পাইকারিভাবে হত্যা করা হয়। উধমপুর শহরে, চেনানি, রামনগর ও রেসাই এলাকায় বড় আকারের হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। এমন কি উধমপুর থেকে ১৫০ কি.মি দূরে ভাদেরোয়াতেও মুসলমানরা হত্যাকান্ডের শিকার হয়।
ভাসিনের মতে, এসব হত্যকান্ডে আরএসএস মূল ভূমিকা পালন করে। তাদের সহযোগিতা করে সশস্ত্র শিখ শরণার্থীরা। এরা নাঙ্গা তরবারী হাতে জম্মুর রাস্তায় রাস্তায় মিছিল করে। দাঙ্গার নেতৃত্বদানকারী অনেকে পরে ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দেয়, এদের কেউ কেউ মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছেন। ছাম্ব, দেবা বেতালা ও আখনুরের অন্যান্য এলাকায় গণহত্যা সংঘটিত হয়। সেখান থেকে অনেকে সীমান্তের ওপারে অথবা জম্মুতে পালিয়ে যায়। কাঠু জেলাতেও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বড় আকারের গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। সেখানে নারীদের ধর্ষণ ও অপহরণ করা হয়।
এসব গণহত্যায় রাষ্ট্রের আচরণ তুলে ধরতে গিয়ে ভাসিন বলেন যে, এসব সাম্প্রদায়িক হত্যাকা- প্রতিরোধ ও শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টার বদলে মহারাজার প্রশাসন সাম্প্রদায়িক খুনে বাহিনীকে সহায়তা এমনকি অস্ত্রশস্ত্র দিয়েছে। দাঙ্গাকারীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে গাড়িতে চলাফেরা করতো। মুসলিম সংখ্যাগুরু এলাকার বাইরে বসবাসকারী মুসলমানদেরও ব্যাপকভাবে হত্যা করা হয়। তখন কার্ফু জারি করা হতো। কিন্তু এই কার্ফু মূলত ছিলো মুসলমানদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য।
তালাবা খাতিকান এলাকায় মুসলমানদের আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিয়ে গণহত্যা চালানো হয়।
জম্মুর ঘটনাবলী নিয়ে ১৯৪৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর মহাত্মা গান্ধি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন: “জম্মু’র হিন্দু ও শিখ এবং যারা অন্য এলাকা থেকে এসেছে তারা মুসলমানদের হত্যা করে। সেখানে যা ঘটেছে তার জন্য মহারাজা দায়ি… মুসলিম নারীদের অপদস্থ করা হয়।”

>>>সৈয়দ নকভি’র লেখা ‘বিং দি আদার: দি মুসলিম ইন ইন্ডিয়া বই থেকে উদ্ধৃতি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টির কারণ ও এর পরিণতি
গত দুই মাসে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমনকি তারা সামরিক সংঘাত বাধার ব্যাপারেও হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। ইসলামি ইরানের সঙ্গে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কে যে নজিরবিহীন উত্তেজনা বিরাজ করছে তা এ অঞ্চলের কোনো দেশের জন্যই মঙ্গলজনক নয়। এ অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টির মূল হোতা হচ্ছে আমেরিকা যে কিনা ইরান বিরোধী নানা তৎপরতার মাধ্যমে উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছে। ব্রিটেন আমেরিকার ইরান বিরোধী নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটিয়েছে।
২০১৮ সালের মে মাস থেকে আমেরিকার ইরান বিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে দুই দফায় ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, "আমেরিকার ইরান বিরোধী নীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ইরানকে পঙ্গু করে ফেলা।"
কিন্তু গত এক বছর ধরে আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়েনি। বরং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। ইরানবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় পর্বে আমেরিকা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং এমনকি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর আমেরিকা ইরানের তেল বিক্রি শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য ইরানের তেল আমদানিকারক প্রধান আটটি দেশকে তেল আমদানির বিষয়ে যে ছাড় দেয়া হয়েছিল তা তুলে নেয়। অর্থাৎ ওই দেশগুলো ইরান থেকে আর তেল কিনতে পারবে না। এ ছাড়া, ইরানকে চাপে রাখা ও ভয় দেখানোর জন্য আমেরিকা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমানবাহী জাহাজ আব্রাহাম লিঙ্কন পাঠায় এবং একটি আরব দেশে বেশ কয়েকটি বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করে। সেইসঙ্গে আমেরিকা আরো একটি যুদ্ধ জাহাজ প্রেরণ করে ইরানকে হুঁশিয়ারি সংকেত পাঠায় যাতে তেহরান কোনো উচ্চবাচ্য না করে।
তবে, সমরসজ্জা সত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহুবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প দাবি করেছেন' "আমি যুদ্ধ চাই না, তবে যদি ইরানে হামলা করতে চাই তাহবে অর্থনৈতিক হামলা।"
বাস্তবতা হচ্ছে, গত এক বছর ধরে ইরান অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আসছে এবং এখন আমেরিকার মিত্র ইউরোপের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করেছে তেহরান। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপের আচরণে হতাশা প্রকাশ করেছে ইরান। কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেন অব্যাহত রাখার জন্য 'ইন্সটেক্স' ব্যবস্থা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তারা তা বাস্তবায়ন করেনি। এ কারণে পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে ইরান ইউরোপের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
পাশ্চাত্য আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে না চলায় এবং বিভিন্ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করায় এখন ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। ইরানের একটি কৌশল হচ্ছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। ইরান তার জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না। বিশেষ করে, শান্তিপূর্ণ পরমাণু তৎপরতা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘ জলসীমায় নিজের ভৌগোলিক অবস্থান ধরে রাখা ও হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে ইরান।
পাশ্চাত্যের অন্যায্য আচরণের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চলতি বছরের মে মাস থেকে ইরান মৌলিক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পরমাণু সমঝোতার কিছু ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা, মার্কিন অত্যাধুনিক ড্রোন 'গ্লোবাল হক' ভূপাতিত করা এবং ব্রিটিশ তেলবাহী জাহাজ আটকের কথা উল্লেখ করা যায়।
গত বছর ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু ইরান অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে এক বছর পর্যন্ত পুরোপুরি প্রতিশ্রুতি মেনে চলে একদিকে সারা বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছে তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চললেও আমেরিকা প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে পরমাণু সমঝোতায় সইকারী দেশগুলোসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কিংবা বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তারের মাধ্যমে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছে ইরান।
একদিকে, আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় চুক্তিতে সইকারী ইউরোপের তিনটি প্রভাবশালী দেশ অর্থাৎ জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের গড়িমসি সত্বেও তারা ইরানকে তার অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি। এ অবস্থায় ইরান ধৈর্যের নীতিতে পরিবর্তন আনে এবং আমেরিকা ও ইউরোপের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য পাল্টা পদক্ষেপ নেয়া শুরু করে।
প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকা পরমাণু সমঝোতার ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখে। ইরান ঘোষণা করে, এখন থেকে তারা চুক্তিতে বেধে দেয়া সমৃদ্ধকৃত ৩.৬৭ শতাংশ ইউরেনিয়ামের মজুদ ৩০০ কেজি ছড়িয়ে যাবে। একইসঙ্গে তারা ১৩০ টনের বেশি ভারি পানির মজুদ গড়ে তুলবে এবং তা বিদেশে রপ্তানি করবে না। এজন্য ইরান ইউরোপকে ই্ন্সটেক্স ব্যবস্থা চালু করার জন্য দুই মাসের সময় বেধে দিয়েছিল। কিন্তু ইউরোপ ওই দুই মাসের মধ্যে তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করায় ইরান গত জুলাই মাসে দ্বিতীয় পর্যায়ের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ঘোষণা দেয়। এ পর্যায়ে ইরান জানিয়ে দেয় তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে ৫.৪ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে। এভাবে ইরান পাশ্চাত্যকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। বলা যায় ইরানের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেআইনি কর্মকাণ্ড ও ইউরোপের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এসব পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
পরমাণু চুক্তির সঙ্গে জড়িত ইউরোপের তিনটি প্রভাবশালী দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার পাশাপাশি ইরানকে ওই চুক্তিতে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এভাবে তারা একদিকে ইরানকে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে অন্যদিকে ইরানের ওপর আমেরিকার সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্র প্রস্তুত করার সুযোগ করে দিচ্ছে। কিন্তু ইরান দ্বিতীয় পর্যায়ের পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন সর্বাত্মক হুমকি মোকাবেলায় সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে, মার্কিন অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় ইরানের শক্তিমত্তা ফুটে উঠেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, আমেরিকা আমাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ চালানোর পাশাপাশি আকাশসীমা লঙ্ঘনের ধৃষ্টতা দেখিয়েছে যা। তিনি বলেন আমরা যুদ্ধ চাই কিন্তু যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেব।
-------২-------
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের যে পরমাণু সমঝোতা সই হয়েছে ব্রিটেন তার অন্যতম শরীক দেশ। আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ব্রিটেন এর নিন্দা জানালেও বাস্তবে লন্ডন ওয়াশিংটনের তেহরান বিরোধী কর্মকাণ্ডের সহযোগী ও সমর্থক।
মার্কিন নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ব্রিটেন জিব্রাল্টার প্রণালীতে বেআইনিভাবে ইরানের একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করে। ব্রিটেন দাবি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই জাহাজ সিরিয়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলেই এটাকে আটক করা হয়। এর কিছুদিন পর গত ২০ জুলাই ব্রিটেনের একটি তেলবাহী জাহাজ 'স্টেনা ইম্পেরো' আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ভঙ্গ করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র নৌ বাহিনী সেটাকে আটক করে। ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্রিটেনও ইরানকে ভয় দেখানোর জন্য পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ডেস্ট্রয়ার পাঠায়। ইরান ভয় না পেলেও ব্রিটেনের এ পদক্ষেপে এ অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির বিষয়টিকে কয়েকটি দিক থেকে মূল্যায়ন করা যায়। প্রথমত, ব্রিটেনের অংশগ্রহণে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সীমিত পর্যায়ে যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, যুদ্ধ একবার শুরু হলে তা আর সীমিত পর্যায়ে থাকবে না বরং ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়বে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করার পর পরিস্থিতি যুদ্ধের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল যদিও যুদ্ধের আশঙ্কা ছিল খুবই ক্ষীণ। কারণ মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান একদিকে নিজের শক্তিমত্বা তুলে ধরেছে এবং অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে দেখিয়ে দিয়েছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে তাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে। অর্থাৎ ইরানকে মোকাবেলা করতে এলে আমেরিকা ও তার মিত্রদেরকে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। পরিস্থিতি উপলব্ধি করেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো সূত্রে জানা গেছে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমিরাতের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে এসেছে এবং এ অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে আনার জন্য ইরানের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি ভাল করেই জানেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হবে অনেক ব্যয়বহুল, ভয়াবহ এবং তা হবে দীর্ঘ মেয়াদি লড়াই। তাই এ মুহূর্তে যুদ্ধে জড়ালে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভরাডুবি হতে পারে বলে ট্রাম্পের আশঙ্কা। অন্যদিকে ইরানও বহুবার বলেছে, তারা কখনোই যুদ্ধ শুরু করবে না। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত যুদ্ধের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
রাশিয়ার সামরিক ও রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা আনাতোলি তাসিগানোক মনে করেন, "ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ বাধার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ এবং ওয়াশিংটন ও তেহরান ভাল করেই জানে যেকোনো সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা বিপর্যয় ডেকে আনবে। এ ছাড়া, ইরান ইরাক নয় এবং ইরানের রয়েছে আট কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যা। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ইরানের রয়েছে শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তাই যুদ্ধ বাধলে শুধু আমেরিকা নয় তার ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোও আর্থ-রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক দিয়ে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই বলা যায় আপাতত ইরান-মার্কিন যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা নেই।"
দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, বিরাজমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদি এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ বিন আলাভি মধ্যস্থতার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছেন।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে সফলতার বিষয়টি নির্ভর করছে ইরানের ব্যাপারে আমেরিকা ও ব্রিটেনের বিদ্বেষী নীতি পরিবর্তনের ওপর। উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে ওই দুই কর্মকর্তার ইরান সফরের পর আমেরিকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ থেকে বোঝা যায় ওয়াশিংটন এখনো ইরানের ব্যাপারে বিদ্বেষী নীতি ত্যাগ করতে প্রস্তুত নয়। এ অবস্থায় ইরান-মার্কিন উত্তেজনা হ্রাস এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনের আশা করা যায় না।
ইরান-মার্কিন উত্তেজনা হ্রাসে তৃতীয় পথ হচ্ছে আলোচনা প্রক্রিয়া। ইরান ও ব্রিটেনের মধ্যে যেকোনো বিষয়ে সংলাপ হতে পারে। এমনকি দুই দেশের হাতে আটক একে অপরের তেলবাহী জাহাজ ছাড়িয়ে নেয়া ও এ ব্যাপারে উত্তেজনা হ্রাসের বিষয়েও হয়তো একটা সমঝোতা হবে। কিন্তু আমেরিকা বারবার ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সংলাপে বসার কোনোই সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে আরো দূরত্ব ও অনাস্থা বেড়েছে। গত ১৫ মাসে আমেরিকার ইরান বিরোধী তৎপরতা অনাস্থার মাত্রাকে বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, আমেরিকা চায় ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে কথা বলতে। কিন্তু ইরান এর তীব্র বিরোধিতা করে বলেছে, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা প্রশ্নে তেহরান কোনো আপোষ করবে না।
বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান আমেরিকার অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করে নিজের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। ইরান এও প্রমাণ করেছে তারা শত্রুদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করার ক্ষমতা রাখে। তাই আমেরিকার হুমকিতে ইরান মোটেও ভীত নয়।
চতুর্থ বিষয়টি হচ্ছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ব্রিটেনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ইরানের সঙ্গে তাদের বাকযুদ্ধ চলছে। আগামীতে এ উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ মার্কিন সরকারের ইরান বিদ্বেষ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞাই এর প্রমাণ। অন্যদিকে, তেলবাহী জাহাজ নিয়ে ইরান ও ব্রিটেনের মধ্যেও উত্তেজনা চলার মধ্যে লন্ডন ও ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার অজুহাতে সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাব দেয়ায় উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এ ছাড়া, বর্তমানে ইউরোপের তিনটি প্রভাবশালী দেশ পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন না করলেও তারা এ চুক্তিতে ইরানকে ধরে রাখার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানি এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তারা সর্বনিম্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইরানের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় অর্থ লেনদেন বিষয়ক ইন্সটেক্স ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিলেও আজো তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ কারণেও ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। বলা যায়, ইউরোপের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এ অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। #
![]() |
| আমেরিকার অত্যাধুনিক এই ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কৃষকের গুপ্তধন 'বইকচু' by তোফায়েল হোসেন জাকির
![]() |
| বইকচু চাষি |



About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তানোরে কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া by সোহানুল হক পারভেজ

বরেন্দ্র এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানেই আবাদি জমিতে কৃষকরা চাষ দেন ট্রাক্টর যন্ত্রে। বীজতলা তৈরি ও বীজ বোনাও চলছে যন্ত্রেই। সেচ পাম্প ব্যবহারে সেচ পদ্ধতিরও পরিবর্তন হয়েছে আরো আগেই। চাষ দেয়ার মতো ধান মাড়াইতেও এখন আর গরু বা মহিষের ব্যবহার নেই বললেই চলে।
সকল কাজেই যন্ত্রেও ছোঁয়া। যন্ত্র যেমন শ্রমকে বাঁচিয়েছে, তেমনি সময়কেও। গ্রামাঞ্চল থেকে বছর বা মাস কাবারি কামলা প্রথা উঠেই গেছে। এখন কম জমিতে চাষাবাদ করে অনেক বেশি ফসল পাওয়া যাচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রাংশের ব্যবহারে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে।
উপজেলার ৩০-৫৫ জন প্রান্তিক কৃষক জানান, যন্ত্রের মাধ্যমে চাষাবাদসহ অন্য কাজ সারলেও এখনও ক্ষেতে মই দেয়ার কাজ গরু-মহিষ দিয়েই করছেন তারা। কারণ, যন্ত্রের মাধ্যমে চাষ করে যন্ত্র দিয়ে মই দিলে ক্ষেত উঁচু-নিচু হয়ে থাকে। এতে ধানের ক্ষেত্রে ঠিকমতো পানি থাকে না। তানোর উপজেলার আমশো গ্রামের কৃষক আলহাজ আক্তারুজ্জামান রুঞ্জু জানান, ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় দু’বছর আগে এক জোড়া গরু কিনেছেন তিনি। নিজের ১৬ বিঘা জমি বিগত বোরো মৌসুমে অন্যের কাছে ভাড়া নেয়া পাওয়ার টিলার দিয়ে একদিনেই হাল চাষ করেছেন তিনি। পরে শুধু নিজের গরু দিয়ে মই দিয়েই চারা রোপণ করেছেন।
উপজেলার গোল্লাপাড়া গ্রামের বঙ্গবন্ধু পদকপ্রাপ্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ জানান, দিন দিন প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে বর্তমানে যন্ত্রের সাহায্যে (ট্রাক্টর) দিয়ে হা চাষ সহ কৃষি কাজ করা হচ্ছে। তবে গরু দিয়ে হাল চাষ না হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে মাটি জৈবিক ক্ষমতা হারাচ্ছে। তাই একদিকে যেমন ফলন কমে যাচ্ছে তেমনি রাসায়নিক সারের প্রভাব বেড়েছে। তবে উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ জানান, দিনে দিনে কৃষি কাজে বাড়ছে যন্ত্রের ব্যবহার। কৃষি কাজে যান্ত্রিক উপকরণ দিয়ে হালচাষ, ক্ষেত থেকে ধান কাটা, ধান উঠানো এবং মাড়াইয়ের কাজও করছেন কৃষকেরা যন্ত্রের মাধ্যমে। যন্ত্রের ব্যবহার আসাই অল্প সময়েই সব জমি চাষ ও চারা রোপণ করতে পারছে কৃষক। তাতেই কৃষি খাতে অনেক উন্নতি হয়েছে।
বর্তমানে কৃষি ক্ষেত্রে যে যান্ত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিবরণ জানালেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সামপ্রতিক বছরগুলোয় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম সংযোজনের একটি হচ্ছে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসল কাটা, খোসা থেকে দানা আলাদা করা যায়। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনায় কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। ছোট আকৃতির ধানি জমি চাষেও রয়েছে এর ব্যবহার। এছাড়া বীজ বপন, সার প্রয়োগ ও কীটনাশক ছিটানোর জন্যও রয়েছে ব্রডকাস্ট সিডার। নির্দিষ্ট অবস্থানে বীজ বপনের জন্য আছে সিডর্ডিল। জমির শক্ত মাটি কর্ষণের জন্য সাব সয়লার, ধান কিংবা অন্যান্য ফসলি বীজ শুকানোর জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রায়ার যন্ত্র। ধান, গম, ভুট্টা শুকাতেও ব্যাচ ড্রায়ার নামক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া শস্য কাটার জন্য রয়েছে পাওয়ার রিপার মেশিন। বীজ ঝেড়ে পরিষ্কারের জন্য আছে ইউনার যন্ত্র।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা আরো জানান, উৎপাদন খরচ অনেকাংশে বেড়ে গেছে। এক একর জমির ধান কাটতে কৃষকের খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু যন্ত্রের মাধ্যমে কাটলে খরচ হবে মাত্র দেড় হাজার টাকা। বর্তমানে কৃষি কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে আধুনিক উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতির বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, সরকার কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য বিনামূলে কৃষি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি, সার-বীজ বিতরণ করে যাচ্ছে। সরকারের আন্তরিকতায় বাংলাদেশে কৃষি সেক্টর বর্তমানে একটি মডেল। শ্রম, অর্থ, সময় বাঁচাতে, সবকিছুকে আরো বেশি প্রযুক্তি নির্ভর করতে হবে। একদিন উচ্চ শিক্ষিত মানুষেরাও কৃষি কাজে এগিয়ে আসবেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তথ্য বিকৃতি করে এক ব্যক্তির নামে একাধিক পাসপোর্ট তৈরি হচ্ছে: -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিয়াউদ্দিনের চিঠি

পাসপোর্ট নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে এমনটা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, আমাদের নজরে এসেছে যে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে, বিশেষ করে জন্ম তারিখ ও জন্ম নিবন্ধন সংখ্যা (বিআরএন) বিকৃত করে বহু পাসপোর্ট ইস্যু করা হচ্ছে। এমনটা বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে যে, বিবেকবর্জিতভাবে ও সম্ভবত গোপন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিকৃত করা হচ্ছে। জিয়াউদ্দিনের দুই পাতার চিঠি’র সঙ্গে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কিছু অনিয়মের চিত্র সংযুক্ত করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জন্ম নিবন্ধন সনদে (বিআরসি) পাওয়া কিছু অসঙ্গতি বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে তুলে ধরেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এমআরপি প্রবর্তনের পরও বহু পাসপোর্টে বেশকিছু গর্হিত অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) চালু হওয়ার এক দশক পর এমন অভিযোগ উঠল। এমআরপি ইস্যু নিয়ে তিন ধরনের অসঙ্গতি’র কথা চিঠিতে উল্লেখ করে বলা হয়, এক ব্যক্তির নামে একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে। যাতে জন্ম তারিখ ও জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ভিন্ন। এছাড়া জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে জন্ম তারিখ মিলছে না। একই ব্যক্তি ভিন্ন নাম, ঠিকানা, পিতা ও মাতার নাম এবং জন্ম তারিখ দিয়ে আলাদা পাসপোর্ট নিচ্ছে। এক্ষেত্রে একই আবেদনকারী তার পরিচয় পুরোপুরিভাবে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। জিয়াউদ্দিনের চিঠিতে বলা হয়েছে, আমাদের কাছে আসা অভিযোগ অনুসারে, বিআরএন ও জন্ম তারিখে অসঙ্গতি সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ পাসপোর্টই ইস্যু করা হয়েছে নোয়াখালির আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয় (আরপিও) থেকে। এ রকম দূতাবাসের কাছে জানানো ও চিহ্নিত করা অসঙ্গতিগুলোর মাত্র কয়েকটি ঘটনা সংযুক্ত নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সমস্যা মূলত আরো বহুগুণ বড় মাত্রার। আপনি হয়তো আরো জেনে থাকবেন যে, পাসপোর্টে অসঙ্গতি থাকার কারণে কয়েকজন বাংলাদেশিকে বিদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, কিছু ঘটনায় এমনটা প্রতীয়মান হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি নিজের পরিচয় পুরোপুরি পরিবর্তন করেও পাসপোর্ট ও বিআরসি সংগ্রহ করতে পারে। এটি মূলত, একটি অপরাধমূলক কার্যক্রম এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক। এ থেকে এটা সপষ্ট অপরাধীরা অন্য কারো পরিচয় ধারণ করে দেশ ছেড়ে পালাতে পারে। এতে বলা হয়, দূতাবাসের কাছে প্রায়ই জন্ম তারিখ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিকৃত করা পাসপোর্টের আবেদন আসে। কোনো ব্যক্তি পরিবর্তিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে নথিপত্র তৈরি করলে সেটা বৈধ হতে পারে না। এতে দূতাবাসকে লজ্জাজনক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়, কেননা এই নথিপত্রগুলো একই ব্যক্তির এবং একই কর্তৃপক্ষ এগুলো ইস্যু করে। যেগুলো প্রকৃত নথিপত্রের মতোই দেখায়। পরিষ্কারভাবেই, গুরুতপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে এমন অনিয়ম বিদেশে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা ও অখণ্ডতার ক্ষতি করছে এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা প্রায়ই বিদেশি ইমিগ্রেশন পয়েন্টে অনাকাঙ্ক্ষিত যাচাই-বাছাইয়ের শিকার হচ্ছেন। এমন অনিয়মের কারণে গুটিকয়েক অপরাধী সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু এমন ক্ষতিকর চর্চার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কোনো দোষ না করেই ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সংযুক্ত নথিপত্রে উল্লেখিত অসঙ্গতিগুলো পরিষ্কার করতে বলেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তাই আপনার মন্ত্রণালয়কে নথিপত্রে উল্লেখিত অসঙ্গতিগুলোর ইস্যু-ভিত্তিতে জবাব দেয়ার অনুরোধ করছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তারা ও বিবেকবর্জিত এজেন্টরা যদি বিআরসি ও পাসপোর্টে তথ্য বিকৃতির কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তারা নিশ্চিতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। ভুয়া পরিচয় ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এই বিষয়টি খতিয়ে না দেখলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে ও সুদূরপ্রসারী পরিণতি হতে পারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যানজটের দুর্ভোগে পড়েছে ‘সবুজ ও সুখী’ ভুটান by নিদুপ গায়েলশেন

কিন্তু কার্বন নেগেটিভ দেশ হিসেবে ভুটানের যে অবস্থান রয়েছে, গাড়ি বিক্রি বাড়তে থাকায় সেটা হুমকির মুখে পড়েছে। সেই সাথে রাস্তায় গাড়ির জ্যাম বাড়তে থাকায় ভুটানের নাগরিকদের মানসিকতাও একটা পরীক্ষার মধ্যে পড়ে গেছে।
গত দুই দশকে ভুটানে প্রাইভেট কার, বাস ও ট্রাকের সংখ্যা পাঁচগুণের বেশি বেড়েছে। পরিবহন কর্তৃপক্ষের ডিরেক্টর জেনারেল পেমবা ওয়াংচুক এ তথ্য জানিয়ে আরও বলেন, যানবাহনের এই বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে রাজধানী থিম্পু।
মিডিয়া কনসালটেন্ট ফুন্তশো ওয়াংদি বলেছেন, এই যানজট ও পার্কিংয়ের সমস্যার কারণে ক্ষুদে এই হিমালয় রাজ্যে গাড়ি চালানোটা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে যেখানে কোন ট্রাফিক সিগন্যাল নেই।
তিনি আরও বলেন, “আরও কম গাড়ি হলে ভালো হতো, আগে এ রকম ছিল না”। দেশের অর্ধের গাড়িই চলাচল করছে এই রাজধানীতে।
বিশ্ব ব্যাংকের মতে, গত দশকে দেশের অর্থনীতি প্রতি বছর ৭.৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। কর্মকর্তারা দেখেছেন, প্রতি সাতজন ভুটানিজের জন্য এখন একটি করে গাড়ি রয়েছে, যেখানে পুরো দেশের জনসংখ্যা হলো সাড়ে সাত লাখ।
কিন্তু দেশের সংকীর্ণ গ্রামিণ সড়ক এবং শহরের মেয়াদোত্তীর্ণ রাস্তাঘাটগুলো আর কুলিয়ে উঠতে পারছে না। অবকাঠামোর অভাবের পাশাপাশি দুর্বল ড্রাইভিং নিয়ম নীতির কারণে সমস্যা বহুগুণে বেড়ে গেছে। অনেকে এমনকি সড়কের প্রায় মাঝখানে গাড়ি পার্ক করে রাখেন।
ট্যাক্সি ড্রাইভার লেন্দুপ এএফপিকে বলেন, “প্রতি বছর গাড়ির সংখ্যা আর মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু রাস্তাঘাট আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। এখন এটা একটা সমস্যা হয়ে গেছে”।
সকালের ব্যস্ত সময়ে যে দূরত্ব এক সময় পাঁচ মিনিটে যাওয়া যেতো, এখন সেখানে আধা ঘন্টার বেশি সময় লাগে।
ভুটান আর সুরিনামের ব্যাপক বনাঞ্চল রয়েছে এবং পৃথিবীর এই দুটি দেশই কেবল নিজেদের কার্বন নেগেটিভ দাবি করতে পারে। যতটুকু কার্বন তারা তৈরি করছে, তার থেকে বেশি শুষে নিচ্ছে।
গরুর মিথেন, শস্য পোড়ানো এবং অন্যান্য খামারভিত্তিক কর্মকাণ্ড ছিল মূলত ভুটানের গ্রিনহাউজ গ্যাসের প্রধান উৎস। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিল্প ও গাড়ির বিকাশের কারণে সেই চিত্র বদলে গেছে।
ভুটানের সংবিধানে বলা হয়েছে যে, দেশের অন্তত ৬০ শতাংশ বনাঞ্চল থাকতে হবে। বর্তমানে এই বনাঞ্চল রয়েছে ৭০ শতাংশের উপরে।
কিন্তু ভুটান বর্তমানে ভারতের কাছে যতটুকু জলবিদ্যুৎ রফতানি করে, তার চেয়ে বেশি ফসিল জ্বালানি তারা আমদানি করছে।
সরকারী পরিবহন ব্যবস্থা এখনও দুর্বল, বিশেষ করে থিম্পুতে। প্রায় এক লাখ মানুষ বাস করছে থিম্পুতে কিন্তু সেখানে বাস রয়েছে মাত্র ৪০টি।
রাজধানীর মেয়র কিনলে দর্জি পরিকল্পনা নিয়েছেন নগরীতে শুধুমাত্র বাসের জন্য লেন চালু করা হবে এবং আরও বাস কিনবেন তিনি।
তিনি বলেন, “বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে এখন”।
তিনি আরও বলেন, “সরকারী পরিবহনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে আমাদের এবং গাড়ি কেনাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে”। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, থিম্পুতে যদি এই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া না হয়, তাহলে অচল শহরে পরিণত হবে এটা।
এই জট সহজ করতে শহর কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো দুটো বহুতল কার পার্ক নির্মাণ করতে যাচ্ছে, যেগুলোর প্রত্যেকটিতে ৬০০টি গাড়ি রাখা যাবে।
ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট কমিশন জোর দিয়ে বলছে যে, ভুটান এখনও কার্বন নেগেটিভ রয়েছে যদিও ট্রাফিক জ্যাম ও যানবাহন বেড়েছে। তবে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়া ঠেকাতে চান তারা।
কমিশন সেক্রেটারি দাশো সোনাম পি ওয়াংদি ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে: “আমরা জনগণকে গাড়ি কেনা থেকে বিরত রাখতে পারি না, কিন্তু আমরা বিকল্প চালু করতে পারি, কম দূষণীয় গাড়ি যেমন হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক কার, যাতে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা যায়”।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিবিসি'র অনুসন্ধান: কেমন আছেন মিয়ানমারের মুসলমান নাগরিকেরা?
![]() |
| ইয়াঙ্গনের একজন মুসলিম বাসিন্দা |
অং নাইং সো, ফটোসাংবাদিক
![]() |
| '২০১৬ সালে হঠাৎ আমাকে সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত করা শুরু হলো,' অং নাইং সো, ইয়াঙ্গনের ফটো সাংবাদিক |
টিন অং মিন্ট, ইয়াঙ্গনে মুসলিম অধিকার কর্মী
![]() |
| এমনকী ইয়াঙ্গনের মতো শহরেও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, হেনস্থা বাড়ছে |
খিন সান্ডার, মানবাধিকার কর্মী, ইয়াঙ্গন
![]() |
| 'পরিচয়পত্র নবায়ন করতে গিয়ে আমার দু বছর লেগেছে। অথচ বৌদ্ধরা দু সপ্তাহ বা বড়জোর ২৮ দিনের ভেতরে তা পেয়ে যায়,' খিন সান্ডার, মানবাধিকার কর্মী, ইয়াঙ্গন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1421)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
September
(820)
-
▼
Sep 27
(28)
- কে এই লেডি হেইল
- ভারতে প্রকাশ্যে মলত্যাগ করায় দুই শিশুকে হত্যার অভ...
- মাত্র ৭ দিনেই সব লণ্ডভণ্ড
- ভারতের মধ্যপ্রদেশে ‘হানি-ট্রাপ’
- মিয়ানমারকে বাধ্য করতে বিশ্বকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে ...
- হিমালয়ের দুর্গমতম পাস অতিক্রম করলো বাংলাদেশের বিএম...
- ব্যাংকপাড়ায় চাপা অস্থিরতা
- সিলেটের মেয়ে মাহজাবিন নাসায়
- ‘মোনা লিসা’ আঁকতে গিয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন...
- হংকংয়ের অর্থনীতি চীনের জন্য এখনো কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
- জম্মুর বধ্যভূমি: সংখ্যালঘুতে পরিণত হলো মুসলমানরা
- পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টির কারণ ও এর ...
- কৃষকের গুপ্তধন 'বইকচু' by তোফায়েল হোসেন জাকির
- তানোরে কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া by সোহানুল হক পারভেজ
- তথ্য বিকৃতি করে এক ব্যক্তির নামে একাধিক পাসপোর্ট ত...
- যানজটের দুর্ভোগে পড়েছে ‘সবুজ ও সুখী’ ভুটান by নিদু...
- বিবিসি'র অনুসন্ধান: কেমন আছেন মিয়ানমারের মুসলমান ...
- শিক্ষার আলো জ্বালছেন এরফান আলী by আবু সালেহ মুসা
- বিকিনিতে নেটদুনিয়া কাঁপালেন কমেডি তারকা
- পাকুন্দিয়ায় ‘ট্রাইকো কম্পোস্ট’ সারে কৃষকদের আগ্রহ ...
- উচ্চ শিক্ষায় বিদেশ গমন প্রতারণার নানা ফাঁদ by পিয়া...
- তারকাদের খেতাব by ফারজানা আক্তার রুমা
- যুদ্ধাপরাধ থেকে মার্কিন সেনাদের রক্ষা করার চেষ্টা ...
- লন্ডনে বাড়ছে ঘরহীনের সংখ্যা, ডাস্টবিন থেকে খাবার ক...
- দেবাশীষ আশ্রয় পাননি বৃটেনে, দেশে ফিরে লাশ
- ক্যামেরার ফ্রেমে সুন্দরবনে হরেক রকমের পাখি by তৌহি...
- ব্যতিক্রম এক চিকিৎসক
- গল্প সংকটে ঢালিউড by কামরুজ্জামান মিলু
-
▼
Sep 27
(28)
-
▼
September
(820)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...








