Saturday, February 11, 2017

অভিবাসী ঠেকাতে ‘নতুন আদেশ’ জারি করবেন ট্রাম্প?

অভিবাসীদের জন্য নতুন করে আরেকটি ‘নির্বাহী আদেশ’ জারি করবেন বলে ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার ফ্লোরিডাতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের এমন আভাস দিয়েছেন তিনি। আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিবিসি অনলাইনের আজ শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম অভিবাসীদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই লড়াইয়ে জিতব। তবে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, সময়টা একটু বেশিই লাগছে।’ তিনি আরও বলেন, একদম নতুন করে আরেকটা আদেশ জারি করা থেকে শুরু করে সামনে আরও অনেক পথই খোলা আছে। তবে নতুন আদেশ কী রকম হতে পারে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু জানাননি ট্রাম্প।
নতুন আদেশ সামান্য পরিবর্তিত হবে কেবলমাত্র এতটুকু আভাস দিয়েছেন তিনি। জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের ৯০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেন। এই সাতটি দেশ হলো ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সুদান, ইয়েমেন ও সোমালিয়া। পরে সিয়াটলের আদালতের আদেশে স্থগিত হয়ে যায় ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা। গত বৃহস্পতিবার সান ফ্রান্সেসকোর ফেডারেল আপিল কোর্টের তিন বিচারক সর্বসম্মতভাবে ট্রাম্পের অভিবাসন-সংক্রান্ত আদেশ স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছেন। এই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাম্পের সামনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথ খোলা ছিল। কিন্তু মার্কিন গণমাধ্যম এই আভাস দিচ্ছে যে সুপ্রিম কোর্টে না গিয়ে অভিবাসীদের জন্য নতুন এক নির্বাহী আদেশ জারি করতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আবার আদালতে ধাক্কা খেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আপিল কোর্টের তিন বিচারক গত বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন-সংক্রান্ত আদেশ স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছেন। এই নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের ৯০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেন। এই সাতটি দেশ হলো ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সুদান, ইয়েমেন ও সোমালিয়া। এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি সিয়াটলের একটি ফেডারেল আদালত ওয়াশিংটন ও মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের অনুরোধে নির্বাহী আদেশটি পূর্ণ শুনানি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার পক্ষে মত দেন। এতে করে আটকে পড়া ওই সাত দেশের ভিসাধারী নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ খুলে যায়। তখন ট্রাম্প প্রশাসন সান ফ্রান্সিসকোর আপিল কোর্টে আবেদন করলে সেখানেও নির্বাহী আদেশটি প্রাথমিকভাবে স্থগিত রাখা হয়। বিশদ শুনানির পর বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতভাবে স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন আপিল আদালত। ক্ষমতা গ্রহণের তিন সপ্তাহের মাথায় বিচার বিভাগের নির্দেশে ক্ষমতা খর্ব হওয়ার এ ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রীতিমতো খেপিয়ে তুলেছে। সিয়াটলের যে আদালত তাঁর আদেশের প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেন,
ট্রাম্প ওই বিচারপতিকে ‘তথাকথিত বিচারপতি’ হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি টুইটারে বলেছিলেন, এখন যদি কোনো সন্ত্রাসী হামলা হয়, তো তার সব দায়দায়িত্ব সেই বিচারককে নিতে হবে। বৃহস্পতিবার আপিল কোর্টের রায় ঘোষণা হওয়ার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের এক তাৎক্ষণিক মন্তব্যে সিদ্ধান্তটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেন। পরে টুইটারে তিনি ঘোষণা করেন, ‘কোর্টেই দেখা হবে। দেশের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন।’ আপিল কোর্টের যে তিনজন বিচারক সর্বসম্মতভাবে রায়টি ঘোষণা করেন, তাঁদের দুজন ডেমোক্রেটিক এবং একজন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত। সিয়াটলের ফেডারেল বিচারপতিও জর্জ বুশের আমলে নিয়োগ পেয়েছেন। ফলে দুজন রিপাবলিকান ও দুজন ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট-সমর্থিত বিচারপতি ট্রাম্পের নির্দেশের ব্যাপারে অভিন্ন মত দিলেন। দীর্ঘ ২৯ পাতার রায়ে আপিল আদালত মূলত সিয়াটলের আদালতের নির্দেশটি বহাল রেখেছেন। সেই আদালত ট্রাম্পের নির্দেশটি মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক—এই যুক্তিতে তা স্থগিত রাখার পক্ষে মত দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দেখায়, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসনের মতো প্রশ্নে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা পর্যালোচনা আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়। আপিল আদালত সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। আদালত বলেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা আদালতের এখতিয়ারের বাইরে—সরকারপক্ষের এই দাবি অগণতান্ত্রিক। আদালত আরও বলেন, এই নির্দেশ এ মুহূর্তে কেন এত জরুরি, সরকারপক্ষ তার কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। মূল নির্বাহী নির্দেশে এই সাতটি দেশের গ্রিন কার্ডধারীদের আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, পরে এক ঘোষণায় হোয়াইট হাউসের কৌঁসুলি সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন। আপিল আদালত জানান, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের অংশবিশেষ প্রত্যাহারের কোনো এখতিয়ার হোয়াইট হাউসের কৌঁসুলির নেই। সরকারপক্ষ দাবি করেছিল, এই নির্বাহী আদেশের ফলে মাত্র ১০৯ জন বিদেশির যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ব্যাহত হয়। আদালত সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এর ফলে হাজার হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েন। অনেকে নিজ দেশের বিমানবন্দর থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তবে নির্বাহী আদেশটি মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক—এই দাবির ব্যাপারে আদালত এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।
আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশ্নে আদালত তাঁর রায় প্রদানে অসম্মত হন। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত। অধিকাংশ আইন বিশেষজ্ঞের মত, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে এই আদেশ বাতিল করে একটি আইনসম্মত নতুন আদেশ তৈরি করা। সিনেটে ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার সেই প্রস্তাবই করেছেন। তাঁর যুক্তি, এই প্রশ্নে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক উভয় দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমর্থন রয়েছে এমন একটি নতুন আইন তৈরি করা হোক। বর্ষীয়ান ডেমোক্রেটিক সিনেটর প্যাট্রিক লেহিও একই কথা বলেছেন। কিন্তু সেটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য পরাজয় মেনে নেওয়া হবে। কেউ বিশ্বাস করে না ট্রাম্পের মতো আত্মম্ভরী মানুষ নিজের ‘ইগো’ সরিয়ে রেখে সমঝোতার পথ গ্রহণ করবেন। সিএনএনের আইনবিষয়ক ভাষ্যকার জেফ্রি টুবিন মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ট্রাম্পকে যতটুকু দেখেছি, তা থেকে স্পষ্ট পরাজয় মানতে তিনি প্রস্তুত নন।’ গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন, যিনি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর থেকে কার্যত নিশ্চুপ রয়েছেন, এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন ৩-০। এখন বিষয়টি যদি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়, তাহলেও ট্রাম্প যে তাঁর আদেশের পক্ষে রায় পাবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। একজন বিচারকের আসন শূন্য থাকায় সর্বোচ্চ আদালত এ মুহূর্তে আদর্শগতভাবে ৪-৪ ভোটে বিভক্ত। অর্থাৎ আদালতের চারজন সদস্য রক্ষণশীল ও চারজন উদারনৈতিক হিসেবে পরিচিত। কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে ব্যর্থ হলে আপিল আদালতের রায়টিই বহাল থাকবে। সে ক্ষেত্রে পরাজয় মেনে নেওয়া ছাড়া ট্রাম্পের অন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না। তবে আপিল আদালতের গত বৃহস্পতিবারের রায় যে ট্রাম্পের জন্য বিশাল ধাক্কা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ওয়াশিংটন পোস্ট মন্তব্য করেছে, এই রায় দেশের প্রেসিডেন্ট, যিনি নিজেকে সম্রাটের মতো ভাবেন এবং অত্যন্ত আনাড়ি, তাঁর জন্য মস্ত ঝাঁকুনি।

গণ-ফাঁসির অভিযোগ নাকচ করলেন বাশার

সিরিয়ায় গত পাঁচ বছরে একটি কারাগারে ১৩ হাজার পর্যন্ত বন্দীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ অভিযোগ নাকচ করে দেন তিনি। এর আগে গত মঙ্গলবার সিরিয়ার ওই কারাগারে গোপনে প্রায় ১৩ হাজার বন্দীকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
লন্ডনভিত্তিক সংগঠনটি বলছে, ফাঁসিতে ঝোলানো ব্যক্তিদের অধিকাংশই বেসামরিক লোক ও প্রেসিডেন্ট বাশারের বিরোধী পক্ষের সমর্থক। মানবাধিকার সংগঠনটি অভিযোগ করে বলেছে, গণহারে ফাঁসির এই বিভীষিকাময় ঘটনা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল হতে পারে। রাজধানী দামেস্কের কাছে সেদনায়া কারাগারে এখনো এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকতে পারে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট বাশার ইয়াহু নিউজকে বলেন, অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন এ সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সংগঠনটি সব সময় পক্ষপাত ও রাজনীতিদুষ্ট। প্রমাণের সামান্যতম অংশও উল্লেখ না করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করাটা এ রকম একটা সংগঠনের জন্য লজ্জার। অ্যামনেস্টি বলেছে, তারা প্রতিবেদন তৈরিতে ৮৪ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কারারক্ষী, বন্দী ও বিচারকেরা রয়েছেন। তাঁরা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পূর্ণ ও সুষ্ঠু বিচার না করেই ফাঁসি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। অ্যামনেস্টি বলেছে, বিচারের জন্য বন্দীদের প্রথমে একটি সামরিক আদালতে নেওয়া হতো। সেখানে মাত্র এক থেকে তিন মিনিটে বিচারকাজ শেষ হতো। এ আদালতের একজন সাবেক বিচারকের উদ্ধৃতি দিয়ে সংগঠনটি বলেছে,
বন্দীদের কাছে জানতে চাওয়া হতো কথিত অপরাধ তাঁরা করেছেন কি না। ‘হ্যাঁ-না’ যে জবাবই আসুক, বন্দীকে দণ্ড দেওয়া হতো। মৃত্যুদণ্ডগুলো সিরিয়া সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়—মানবাধিকার সংগঠনটির প্রতিবেদনের এ ভাষ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে বাশার বলেন, ‘এটা সঠিক নয়, নিশ্চিতভাবেই সঠিক নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন এক ভুয়া খবরের যুগে বাস করছি। আর এটা সবারই জানা।’ এই প্রতিবেদনকে সিরিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ও ‘পুরোপুরি অসত্য’ বলে নাকচ করে দিয়েছে। ২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশারবিরোধী আন্দোলন শুরুর পর দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ১০ হাজারের মতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে বলছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।

প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ সু চি

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যাশিত উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন দেশটির গণতন্ত্রকামী নেত্রী ও ক্ষমতাসীন দল দ্য ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চি। ব্রিটিশ এমপিদের জন্য ‘হাউস অব কমন্স’-এর তৈরি করা মিয়ানমারবিষয়ক হালনাগাদ তথ্যে এসব কথা বলা হয়েছে।
গত বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এনএলডি সরকার দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে পারেনি। বরং নতুন কোনো বিবাদের ঝামেলা এড়াতে সরকার সেনাবাহিনীকে সমীহ করে চলছে। যে কারণে রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর সেনাবাহিনীর হামলা ও নির্যাতন বন্ধে সরকার জোরালো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে গণতন্ত্রে উত্তরণের বড় সুযোগ বলে মনে করা হয়েছিল। নানা আশঙ্কা সত্ত্বেও সেই নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এনএলডি ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ১৫০ রাজনীতিককে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু একই সময়ে ‘কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি’র সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুজন মুসলিম নেতাকে জেলদণ্ড দেওয়া হয়। রাখাইন, শান ও কাচিন রাজ্যে সংখ্যালঘু বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি স্থাপনে অং সান সু চি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নেবেন জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়,
ওই সব রাজ্যের বিদ্রোহীদের অভিযোগ এনএলডি সরকার তাঁদের সঙ্গে যথাযথ কোনো পরামর্শ করেনি। রোহিঙ্গাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা প্রসঙ্গে বলা হয়, কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা ‘হারাকা আল ইয়াকিন’ বা ‘আকা মুল মুজাহিদীন’ নামে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছে। গত অক্টোবরে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় তারা মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ছোট আকারের হামলা চালায়। এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন শুরু হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৯ জানুয়ারি বিদেশ থেকে ফেরার পথে ইয়াঙ্গুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এনএলডির উপদেষ্টা কো নি কে গুলি করে হত্যা করা হয়। রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। আছে দেশটির সামগ্রিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র।

সৈকতে শত শত তিমি!

নিউজিল্যান্ডের একটি সৈকতে গতকাল শুক্রবার চার শতাধিক তিমি (পাইলট হোয়েল) ভেসে এসেছে। আছড়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বেশির ভাগ তিমি মরে যায়। হতাশ উদ্ধারকর্মীরা বাকিগুলোকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। সাগর থেকে তিমি উঠে আসার ঘটনা নিউজিল্যান্ডে বিরল নয়। তবে একসঙ্গে এত বেশি সংখ্যায় এই প্রাণীর আছড়ে পড়ার ঘটনা ব্যতিক্রম।
দেশটির সংরক্ষণ বিভাগের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু লামাসন বলেন, মোট ৪১৬টি তিমি সাউথ আইল্যান্ডের গোল্ডেন বে এলাকার ফেয়ারওয়ের স্পিট উপকূলে সাঁতরে চলে এসেছে। বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে এসব তিমির প্রায় ৩০০টিই প্রাণ হারায়। প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবী বাকিগুলোর সেবাশুশ্রূষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাঁরা সুস্থভাবে তিমিগুলোকে আবার সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ঠিক কী কারণে প্রাণীগুলো এভাবে ভেসে এল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ বিজ্ঞানীদের অজানা। তবে কখনো কখনো তিমিরা বয়স্ক ও অসুস্থ বা আহত হয়ে পড়লে কিংবা দিক ভুল করে সৈকতের দিকে চলে আসতে পারে। মাঝেমধ্যে দুই-একটি তিমি স্থলে চলে এলে একধরনের সংকেত পাঠিয়ে বাকিগুলোকে ডেকে আনে। নিউজিল্যান্ডের সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী সেবামূলক সংগঠন প্রজেক্ট জোনাহ এই তিমি উদ্ধার তৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা জীবিত প্রাণীগুলোকে ‘শান্তি ও স্বস্তি’ দিয়ে সুস্থ করে তুলতে চাইছেন। ১৯১৮ সালের চ্যাথাম আইল্যান্ডসে হাজারখানেক তিমি আছড়ে পড়েছিল। আর অকল্যান্ড উপকূলে ১৯৮৫ সালে একসঙ্গে ৪৫টি তিমি ভেসে এসেছিল।

আগ্রা-মথুরায় ‘কী হয় কী হয়’

বুধবারের আগ্রা সকাল থেকেই চনমনে। হবে নাই-বা কেন? আগের দিন থেকেই ‘গ্রামে গ্রামে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে—মৈত্রমহাশয় যাবে সাগরসংগমে’র মতো ঢ্যাঁড়া পেটানো হয়েছে, শহরে প্রচারে আসছেন দুই ‘ভাবি’। দুই ভাবির একজন অখিলেশ ‘ভাইয়া’র বউ কনৌজের লোকসভার এমপি ডিম্পল। কিন্তু অন্য ভাবিটা কে? কেউ বলছেন জিনাত আমান, কেউ বিদ্যা বালান। কিন্তু দ্বিতীয় ভাবি যে অমিতাভ বচ্চনের বউ জয়া, যিনি সমাজবাদী পার্টিরই রাজ্যসভার এমপি,
পাবলিক সেটা বুঝল ভাবিদের আগ্রায় অবতরণের পর। দুই ভাবির তিন-তিনটে পাবলিক মিটিং গোটা জেলাকেই প্রায় অচল করে দিল! আগ্রার খ্যাতি তিন কারণে। গোটা পৃথিবী যদি যমুনাপারের এই শহরটাকে তাজমহলের জন্য চেনে, দেশ তাহলে চেনে জুতাশিল্পের কারণে। আর তৃতীয় পরিচিতি? আগ্রায় তৈরি চালকুমড়োর হরেক রকমের পিঠা ও মথুরা-বৃন্দাবনের পেড়া। প্রায় কুটিরশিল্প হয়ে গেছে এই দুই মিঠাই। আগ্রায় আসবে অথচ ভিন প্রদেশের মানুষ পিঠা ও পেড়া না কিনে ঘরে ফিরবে, এমন কল্পনা করাও নাকি মহা পাপ! যেমন মহা পাপ কৃষ্ণভূমিতে গো-মাতার সঙ্গে দুর্ব্যবহার! এই আগ্রা ও মথুরা জেলায় আপাতত কী হয় কী হয় প্রতীক্ষা। বুক ঠুকে এ কথা বলার মতো হিম্মত কোনো দলই দেখাতে পারছে না। কারণ, এমন ধরনের একটা ভোট অনেক দিন তল্লাটের মানুষ দেখেনি। এই যেমন ফতেহাবাদের মনু তিওয়ারি ও মুকেশ দীক্ষিত। মনু থ্রি হুইলারের ডিলার, মুকেশ টেন্ট ও ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী। দুজনকে কাছাকাছি এনেছে তাদের জাতিগত সত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্বাস। দুজনেই ব্রাহ্মণ এবং বিজেপির সমর্থক। ঠিক বিজেপি বলাটা কিঞ্চিৎ বাড়াবাড়ি হলেও হতে পারে, কেননা, দুজনকে কাছাকাছি এনেছে নরেন্দ্র মোদির রাজনীতি। মনু ও মুকেশের অবলীলায় স্বীকারোক্তি, ‘আগে কংগ্রেস করতাম। এখন বিজেপি। কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো শক্ত মনের নেতাদের আকাল পড়েছে দেশে।
একমাত্র ব্যতিক্রম নরেন্দ্র মোদি। এবারের ভোটও ওঁর নামেই শুরু ও শেষ হবে।’ একটা সময় ছিল, এই ব্রাহ্মণকুল কংগ্রেস ছাড়া আর কাউকে চিনত না। মনু-মুকেশদের মতে সেই কংস আজ ‘অনাথের মতো ফ্যাল ফ্যাল করে ঘুরছে’। কিন্তু জাঠেরাও তো বিজেপির থেকে মুখ ফেরাচ্ছে? মনু-মুকেশ ও তাঁদের ঘিরে থাকা অন্যরা ঘাড় নাড়াতে নাড়াতে বললেন, ‘জাঠেরাও দেখবেন মোদির নামে বিজেপিকেই ভোট দেবে। কেন জানেন? কারণ, ওরাও বুঝতে পারবে, সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ যদি কেউ দিতে পারেন, তা নরেন্দ্র মোদিই।’ এই দাবিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন নিউ আনিস জেমস ফ্যাক্টরির মালিক মহম্মদ আনিসুদ্দিন। গোটা আগ্রায় আনিসুদ্দিনকে চেনেন না এমন মানুষের সন্ধান পাওয়া দুষ্কর। কারণ, তাজমহলের অন্যতম আর্কিটেক্ট মহম্মদ ঈশা, শাহজাহানের আমলে যিনি ইরান থেকে ভারতে এসেছিলেন, আনিসুদ্দিন তাঁর উত্তরসূরি। দুষ্প্রাপ্য পাথরের ব্যবসা যাঁরা করেন, আনিসুদ্দিন তাঁদের কাছে নমস্যই শুধু নন, তাঁর রাজনৈতিক ব্যাখ্যাকে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষজনও গুরুত্ব দেন। কারখানা কাম শোরুমে বসে তিনি বললেন, ‘আগ্রা জেলায় এবারের লড়াইয়ের একদিকে অখিলেশ-রাহুল জোট, অন্যদিকে বিজেপি। তৃতীয় শক্তি মায়াবতী, যিনি এই জেলায় গত বিধানসভা ভোটে ভিকট্রি স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়েছিলেন জেলায় নয়টার মধ্যে ছয়টা আসনে জিতে।’ আনিসুদ্দিনের কথায়, ‘জাঠদের ভোট এবার ভালোমতো ভাগ হচ্ছে, কিছুটা ভাগ হচ্ছে বর্ণহিন্দু ভোটও কংগ্রেসের কারণে। ক্ষমতাপ্রিয় বর্ণহিন্দুদের অনেকে সমাজবাদীদের সাইকেলে সওয়ার হয়ে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। দুটিতেই ক্ষতি বিজেপির। বিজেপির লাভ মুসলমান ভোট ভাগ হলে। সে জন্য তাদের চেষ্টার অন্ত নেই। মায়াবতীর দিকে চেয়ে বিজেপি তাই হাপিত্যেশ করে বসে রয়েছে। কিন্তু লোকসভার ভোটে মোদির টানে দলিত ভোট যেভাবে ভাগ হয়েছিল, এবার তা হচ্ছে না। না হওয়ার কারণও কিন্তু সেই নরেন্দ্র মোদি।’ দলিত ভোট এবার ভাগ না হওয়ার কারণ নোটবন্দীর মার।
সে মার কেমন তার উদাহরণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে চামড়াশিল্পে। হাইওয়ের দুই ধারে সার সার চামড়ার জুতার কারখানা। হিং কি মান্ডি এশিয়ার সবচেয়ে বড় রেডিমেড জুতার হোলসেল মার্কেট। আগ্রা শহরের কাটরা উমর এলাকায় মাইরা শু ফ্যাক্টরির ম্যানেজার শামীম উদ্দিন নোটবন্দীর উপাখ্যান শোনালেন এভাবে, ‘গত তিন বছরের পরিস্থিতিটা একবার বিচার করুন। মোদির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে গো-হত্যা বন্ধের একটা জিগির উঠল। গরুর চামড়া তিন বছর ধরে কমতে কমতে এখন প্রায় তলানিতে। আসে মহিষ ও ছাগলের চামড়া। গরু সংরক্ষণের নামে চারদিকে যা বাড়াবাড়ি শুরু হয়, তাতে মহিষের চামড়ার আমদানিও কমে গেছে। জুতাশিল্প অনেকটাই আজকাল সিনথেটিক-নির্ভর। বড় নোট বাতিল করে দিয়ে মোদি তাতেও ঘা দিলেন।’ কোপটা পড়ল কাদের ওপর? শামীমের কথায়, ‘গরিব মানুষ। এই শিল্পে ১০০ শতাংশ মজুরই হয় দলিত নয় মুসলমান। এই দলিত, যাঁরা মায়াবতী ও তাঁর নির্বাচনী প্রতীক হাতি ছাড়া আর কিছু চেনেন না। মোদির টানে এই সমাজের অনেকে লোকসভা ভোটে বিজেপির দিকে ঢলেছিলেন। এবার তাঁরা আবার মায়াবতীর কাছেই ফিরে যাবেন। এতে ক্ষতি হবে বিজেপিরই।’ আর মুসলমান? আনিসুদ্দিন ও শামীম দুজনেরই এক সুর, ‘মুসলমান হয়ে বলতে পারি, সব দিক থেকে ভরসা আমরা অখিলেশকেই করি।’

ট্রাম্পের দেয়ালে ব্যয় ২১৬০ কোটি ডলার, সময় সাড়ে ৩ বছর

নির্বাচনের আগে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে আসছেন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে তিনি দেয়াল নির্মাণ করবেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নির্বাচিত হলে তিনি ওই দেয়াল নির্মাণ করবেনই। ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিন পরই বলেছেন, ওই দেয়াল নির্মাণের ব্যয় মেক্সিকোকেই দিতে হবে। এখন ওই কাঁটাতারের বেড়া ও দেয়াল নির্মাণে কত দিন সময় লাগবে এবং এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কত অর্থ ব্যয় হবে তার হিসাব দিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জুলিয়া এডওয়ার্ড অ্যাইনসলের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত ‘দেয়াল’ নির্মিত হবে কাঁটাতারের বেড়া ও দেয়ালের সমন্বয়ে। আর এতে খরচ হবে ২ হাজার ১৬০ কোটি ডলার। এই দেয়াল নির্মাণে সময় লাগতে পারে সাড়ে তিন বছরের মতো। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে গতকাল বৃহস্পতিবার এমন অনুমান করা হয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ওই অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে দেয়াল নির্মাণের প্রাক্কলিত ব্যয় ট্রাম্পের দাবির চেয়ে অনেক বেশি। নির্বাচনী প্রচারে তিনি বলেছিলেন, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে ব্যয় হবে ১২ বিলিয়ন ডলার।
হাউস স্পিকার পল রায়ান ও সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছিলেন, এতে ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। খুব শিগগিরই এই প্রতিবেদনটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের প্রধান জন কেলিকে দেওয়া হবে। তবে এ প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ীই যে দেয়াল নির্মিত হতে হবে, তা কিন্তু নয়। ওই পরিকল্পনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ হাজার ২৫০ মাইলের (২০০০ কিলোমিটার) এই দেয়াল পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে নির্মাণ করে সীমান্ত সিল করা হবে। এই পুরো নির্মাণকাজ শেষ করতে ২০২০ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত লেগে যাবে। মেক্সিকো সীমান্তে ৬৫৪ মাইল (১০৪৬ কিলোমিটার মি) ইতিমধ্যে শক্তিশালী বেড়া-দেয়াল আছে। নতুন এই দেয়াল নির্মিত হলো পুরো সীমান্ত সিল করা যাবে। তবে এ ব্যাপারে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ওই প্রতিবেদনের ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেছেন, যেহেতু প্রতিবেদনটি এখনো প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি, তাই এ ব্যাপারে এখন মন্তব্য করার কোনো সময় আসেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে দেয়ালটি ছোট হবে। ২৬ মাইল বা ৪২ কিলোমিটারের ওই দেয়াল ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে টেক্সাসের এল পাসো হয়ে টেক্সাসের রিও গ্র্যান্ড ভ্যালি পর্যন্ত তৈরি করা হবে। প্রতিবেদনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট অনুমান করেছে, আগামী এপ্রিল বা মে মাসে কংগ্রেস থেকে তহবিল পেতে পারে। এরপরই ঠিকাদার নিয়োগ করে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এর নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, দেয়াল নির্মাণে কংগ্রেসের অনুমোদন দেওয়া উচিত। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে মেক্সিকোকে। তবে মেক্সিকো বলে দিয়েছে, তারা এর জন্য কোনো অর্থ পরিশোধ করবে না। দেশটির প্রেসিডেন্ট এনরিকে পেনা নিয়েতো এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন।
সীমান্তে ১৮ ফুট উঁচু ইস্পাতের বেড়া রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যকার সীমান্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ মাইল। যার মধ্যে অনেক এলাকা খালি, ধুলোময় মরুভূমি, ঘন সবুজ ঝোপঝাড়, রিও গ্রেনেড নদীকে ঘিরে উঁচু-নিচু পথ। তবে দীর্ঘ এই সীমান্তের মধ্যে এখন প্রায় ৬৫০ মাইল জায়গায় ছাড়া ছাড়া অবস্থায় বেড়া দেওয়া আছে। কোথাও কোথাও আবার কংক্রিটের স্ল্যাব ও অন্যান্য অবকাঠামো দিয়ে ঘেরা। ট্রাম্প বলেছেন, এক হাজার মাইলজুড়ে হবে এ দেয়াল। আর বাকিটা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে নিরাপদ থাকবে। নিউইয়র্কভিত্তিক স্ট্রাকচারাল প্রকৌশলী আলী এফ রুজখান ন্যাশনাল মেমো নামের একটি আর্টিকেলে লিখেছেন, দেয়াল হিসেবে অবশ্যই কংক্রিট বেশি জুতসই। ট্রাম্পের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ হাজার ৯০০ মাইল দেয়াল করতে হলে প্রায় ৩৩৯ মিলিয়ন কিউবিক ফুট কংক্রিট লাগবে, যা হোভার বাঁধ তৈরির সময় লাগা কংক্রিটের তিন গুণ। রুজখান এই হিসাব করেছেন দেয়ালটিকে মাটির নিচে ৫ ফুট আর ওপরে ২০ ফুট হিসাব করে। কিন্তু ট্রাম্পের হিসাবে দেয়ালের উচ্চতা ৩০ ফুট থেকে ৫৫ ফুট হতে পারে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। আর এটি যদি হয়, তাহলে কংক্রিটের পরিমাণ আরও ব্যাপক হারে বাড়বে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে পরিবহন খরচ, নির্মাণকর্মীদের খরচসহ নানা ধরনের ব্যয়।

এবার প্রেসিডিয়াম চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করলেন শশীকলা

ভারতের তামিলনাড়ুতে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (এআইএডিএমকে) প্রধান শশীকলা নটরাজন দলের প্রেসিডিয়াম চেয়ারম্যান ই মধুসূদননকে বরখাস্ত করেছেন। ও পনিরসেলভামের পক্ষে যোগ দেওয়ায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে পনিরসেলভামকে দলের কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে বরখাস্ত করেন শশীকলা। এদিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শশীকলা রাজ্যের গভর্নর সি বিদ্যাসাগর রাওয়ের সঙ্গে দেখা করেন। বিধানসভায় এআইএডিএমকের ১৩৪ জন সদস্যের মধ্যে ১২৯ জনের সমর্থন তাঁর পক্ষে রয়েছে জানিয়ে শশীকলা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে,
সাক্ষাতে শশীকলাকে গভর্নর নিশ্চিত করেছেন, সরকার গঠনের জন্য তাঁকে প্রথমে আহ্বান করা হবে। তবে তার আগে পনিরসেলভামের তোলা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে পনিরসেলভাম গভর্নরকে জানান, চাপে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। বরখাস্ত করার প্রতিক্রিয়ায় মধুসূদনন বলেছেন, ‘অপেক্ষা করুন এবং দেখে যান।’ পনিরসেলভাম নিজের পক্ষকে ‘আসল এআইএডিএমকে’ দাবি করে বলেছেন, শশীকলা দলের ‘অন্তর্বর্তী মহাসচিব’, যে পদ দলে এর আগে কখনোই ছিল না। কাজেই দলের কোনো পদধারীকে তিনি সরাতে পারেন না।

বুলেটপ্রুফ কাচে ঘেরা হবে আইফেল টাওয়ার!

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্রতীক আইফেল টাওয়ার বুলেটপ্রুফ কাচের দেয়াল দিয়ে ঘিরে ফেলা হবে শিগগিরই। সন্ত্রাসী হামলা থেকে রক্ষা করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্যারিস শহর কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপির। এক বিবৃতিতে প্যারিস পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দেয়াল নির্মাণে কমবেশি দুই কোটি ইউরো খরচ হবে। চলতি শরৎকালেই উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে দেয়াল নির্মাণ করা হবে।
পশ্চিম ও পূর্ব পাশে ‘সাময়িকভাবে অসুন্দর’ বেড়া দেওয়া হবে। পরে সেখানে দৃষ্টিনন্দন বেড়া দেওয়া হবে। প্যারিসের ডেপুটি মেয়র জঁ ফ্রাঁসোয়া মার্তিনস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সন্ত্রাসী হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে প্যারিস। পাশাপাশি ঝুঁকিতে রয়েছে আইফেল টাওয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো। এসব জায়গা অবশ্যই বিশেষ নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, কাচের দেয়াল দর্শনার্থী ও যানবাহনকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেবে। প্রতি বছর প্রায় ৬০ লাখ মানুষ আইফেল টাওয়ার পরিদর্শন করে। কয়েকজন কাউন্সিলরের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকা লে পারিজিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁরা আশঙ্কা করছেন, এই দেয়াল আইকনিক এই টাওয়ারটিকে ‘দুর্গে’ পরিণত করবে। তবে ডেপুটি মেয়র জঁ ফ্রাঁসোয়া মার্তিনস বলেছেন, নিরাপত্তা তল্লাশির পর দর্শনার্থীরা বিনা খরচেই টাওয়ারের পাদদেশ পর্যন্ত যেতে পারবেন। ২০১৫ সালের নভেম্বরে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে প্যারিস উচ্চ মাত্রায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ১২৯ জন নিহত হন।

৩ শতাধিক তিমির মৃত্যু

নিউজিল্যান্ডের গোল্ডেন বে সমুদ্র সৈকতে এক সঙ্গে প্রায় ৪০০ তিমি আটকে যায়। এর মধ্যে ৩ শতাধিক তিমিকে ইতিমধ্যেই মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। ওই উপকূলে আটকে পড়া বাকিদের বাঁচানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এমন ঘটনা ঘটল। কেন এমন ঘটনা ঘটছে, তার কোনো কূলকিনারা এখনো করতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। আজ বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপি ও বিবিসির খবরে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিউজিল্যান্ডের সমুদ্র উপকূলে তিমি আটকে থাকার খবর পায় দেশটির কর্তৃপক্ষ। এরপর আজ শুক্রবার সকালে সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
তবে রাতে অভিযান শুরু হলেও তিন শতাধিক তিমি নিউজিল্যান্ডের উপকূলে আটকে পড়ে মারা গেছে। এখনো আটকে পড়া শতাধিক তিমি বাঁচাতে শত শত স্থানীয় লোক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। তিমিগুলোকে সঠিক পথ দেখিয়ে আবারও পানিতে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা করছেন তাঁরা। কিন্তু এত বড় বড় প্রাণী সঠিক পথে ফেরত পাঠাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। নিউজিল্যান্ডে এর আগেও দুবার এমন বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ১৯১৮ সালে দূরবর্তী চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জে ১ হাজার তিমির মৃত্যু হয়। এরপর ১৯৮৫ সালে সমুদ্রের তীরে এসে ৪৫০টি তিমির মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিমিরা ঠিক কোন কারণে উপকূলে এসে আটকে পড়ছে, তা তাঁরা জানতে পারেননি। তবে প্রায়ই এ ধরনের ঘটনায় প্রচুর তিমি মারা যেতে দেখা যায়। অনেক সময় একটি তিমি আটকে পড়লে সেখান থেকে সংকেত পেয়ে আরও তিমি এসে আটকে পড়ে। অনেক সময় সমুদ্রের মাঝ থেকে তুলনামূলক কম গভীরতার এলাকায় তিমি সন্তান প্রসব করতে আসে। কিন্তু তুলনায় বেশি অগভীর জলে চলে এলেই তিমি আটকে যায়। আবার বয়স হয়ে গেলে অসুস্থ বা দুর্বল তিমিও সৈকতে এসে আটকে যায়।

মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

মাগুরা সদর উপজেলার শেখপাড়ায় যশোর-মাগুরা সড়কে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার ভোরে মাইক্রোবাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চেনাপোতা গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিন সর্দারের স্ত্রী ছটু বিবি (৭০), তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী খাদিজা আক্তার (৪০) ও আরেক ভাইয়ের স্ত্রী মজিরন নেছা (৪৫)। মাগুরা সদর থানার পুলিশ জানায়, আজ ভোর পাঁচটার দিকে মাইক্রোবাসটি শেখপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে চালক একটি গাড়িকে পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খান। এতে গাড়ির মধ্যে থাকা ১৩ জন যাত্রীর সবাই গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে মারা যান দুজন।
আর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান। আহত সবাই ওই মেডিকেলেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের এক নিকট আত্মীয় জহির উদ্দিন জানান, চেনাপোতা গ্রামের সর্দারবাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ ছটু বিবি পরিবারের অন্যদের মঙ্গল কামনায় ভারতের একটি মাজারে মানত করেছিলেন। আজ শনিবার ভোরে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওই পরিবারের ১৩ সদস্য মাইক্রোবাসযোগে রওনা দেন। পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। আহত ব্যক্তিদের ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের ময়নাতদন্ত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসের চালক পালিয়ে গেছেন।

লালবাগে ছয় তলা ভবনে আগুন

রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় ছয় তলা ভবনে আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে যান। আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন তাঁরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট কাজ করে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো এখনো ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। প্রাথমিকভাবে কী কারণে আগুন লাগার এই ঘটনা ঘটেছে, তা বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ছুটির দিনে কলকারখানা বন্ধ, তবু চুলা জ্বলে না

গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে পুরান ঢাকার অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের চুলায় আঁচ ছিল না। রাজার দেউড়ি, তাঁতীবাজার, গেন্ডারিয়া এলাকার কিছু বাসিন্দার অভিযোগ, ছুটির দিনে কলকারখানা বন্ধ থাকে, তারপরও চুলায় আঁচ নেই কেন? তিতাস কার্যালয়ে অভিযোগ করে কোনো লাভ হচ্ছে না। রাজার দেউড়ির সুদেব ঘোষসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, শীতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ে। এখন তো রীতিমতো গরম পড়ছে।
কিন্তু চুলা জ্বলছে না কেন? দিনের বেলায় বেশির ভাগ সময় চুলায় আঁচ থাকে না। গেন্ডারিয়ার এস কে দাস রোড, সতীশ সরকার রোড ও বাগিচা এলাকার বাসিন্দারা বলেন, স্বল্পচাপ সমস্যা কমাতে গত বছর তাঁদের এলাকায় পাইপলাইন সংস্কার করা হয়েছিল। তারপরও উন্নতি হয়নি। এস কে দাস রোডের পলাশ রঞ্জন বলেন, ভোরে উঠে তাঁর মা রান্না করেন। দুপুরে খাবার রান্না হয় বেলা তিনটার পর। তাঁর প্রশ্ন, এ অবস্থা কত দিন চলবে? বাগিচা এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী বাবর আলী গতকাল দোকান খোলেননি। কিন্তু দুপুরে নামাজ শেষে বাসার পরিবর্তে তাঁকে খেতে হয়েছে হোটেলে। গ্যাসস্বল্পতা নিয়ে যাঁদের সঙ্গেই কথা হয়েছে, প্রত্যেকেই বলেছেন, অন্য দিনের কথা আলাদা, ছুটির দিনেও কেন গ্যাস থাকে না? গেন্ডারিয়ার সতীশ সরকার রোডের একটি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনছিলেন বাসিন্দা আবদুর রব। তিনি বলেন, তিতাসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে ফোন করে একই প্রশ্ন করলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষে ফোন করলে কর্তব্যরত কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, কোথাও গ্যাসপাইপ ফেটে গেলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে তাঁদের কাছে অভিযোগ করা যায়। গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো নিয়ন্ত্রণকক্ষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) এইচ এম আশরাফ আলী বলেছেন, এখনো চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় ছুটির দিনেও সমস্যা থাকে।
গ্যাস বরাদ্দ ও সরবরাহ না বাড়লে গ্যাস-সংকট কমা সম্ভব নয়। গতকাল দেখা যায়, সতীশ সরকার রোড এবং তাঁতীবাজারের অনেক ভাতের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে রাধিকা মোহন বসাক লেন ও পচা গলির রাস্তার ধারের খাবার হোটেলগুলো তিতাসের গ্যাসলাইন থাকার পরও সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। গত বছরও তা-ই হয়েছে। হাজি বাবুল হোটেলের একজন কর্মীর মন্তব্য, সিলিন্ডারের ওপর রান্নার কাজ চলছে, নইলে হোটেল বন্ধ হয়ে যেত। পচা গলিতে সাতটি হোটেলে সিলিন্ডার দেখা যায়। এসব হোটেলে ভাত, পরোটা, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম— সবই পাওয়া যায়। রাজার দেউড়ির গৃহিণী অমৃতা নাগ গ্যাস সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, ছোট বাচ্চাকে বাসি খাবার দিতে ইচ্ছে করে না। তাই বাধ্য হয়ে একটি ইলেকট্রিক হিটার কিনেছেন। জানুয়ারি মাসে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়েছে। গ্যাস-সংকট এলাকায় যাঁদের সংগতি আছে, তাঁদের অনেকেই ইলেকট্রিক হিটার বা রাইসকুকার কিনেছেন বলে জানা গেছে।

কাভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার ফেটেই এত প্রাণহানি

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বাস ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষের ঘটনায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত অগ্নিকাণ্ডেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার জন্য সিলিন্ডার বিস্ফোরণকেই দায়ী করেছে। পুলিশ বলছে, কাভার্ড ভ্যানটি বেশ কিছু গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন করছিল। সংঘর্ষে সেসব সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এতসংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উপজেলার গজারিয়া এলাকায় বাস ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাজুল ইসলাম আজ শনিবার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, কাভার্ড ভ্যানটিতে বেশ কিছু গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। সংঘর্ষে সিলিন্ডারগুলো ফেটে যায়। এতে বিস্ফোরজনিত অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়েই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষে নিহত ১৩ জনের মধ্যে আজ তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা লাশ শনাক্ত করতে ভিড় করেছেন। তবে প্রশাসন বলছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের লাশ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
স্বজনেরা লাশগুলো তাদের পরিবারের বলে দাবি করলেও প্রশাসন এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি। স্বজনদের দাবির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে ডা. গোলাম রসুল বলে দাবি করেছেন হাফিজুর রহমান নামের একজন। প্রথম আলোকে তিনি জানান, নিহত ডা. গোলাম রসুল তাঁর ছোট বোনের স্বামী। তিনি রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় থাকতেন। কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে। গতকাল ক্লিনিক নির্মাণের জন্য জমি দেখতে নড়াইল এসেছিলেন। রাতে ঢাকায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তাঁদের একজন হলেন কাভার্ড ভ্যানের চালক হেমায়েত হোসেন (৪০)। তাঁর বাড়ি নড়াইলের বাসি গ্রামে। অপরজন হলেন কাভার্ড ভ্যানের সহকারী মো. জুয়েল (২০)। নড়াইলের গোবরা এলাকায় তাঁর বাড়ি। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা তরুণ মণ্ডল আজ প্রথম আলোকে জানান, দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ৩৩ জন বাসযাত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসে। এর মধ্যে চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। দুজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. কামরুজ্জামান আজ প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা লাশ শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। প্রশাসন পরিচয় নিশ্চিত হয়ে মানবিক দিক বিবেচনায় লাশগুলো পরিবারের কাছে দ্রুত হস্তান্তর করবে। লাশগুলো বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যয় বহন করবে প্রশাসন। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা করেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ১১টার দিকে নগরকান্দার চরযশোরদী ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি বাস ও খুলনাগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও কাভার্ড ভ্যানের চালকসহ ১৩ জন নিহত হয়। হানিফ পরিবহনের ওই বাস ৩৯ জন যাত্রী নিয়ে নড়াইলের লোহাগড়া হয়ে ঢাকা যাচ্ছিল।

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাননি কানাডার টরোন্টোর এক আদালত। তাই কানাডার মন্ট্রিলভিত্তিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। কানাডার টরন্টো স্টার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে গতকাল শুক্রবার বলা হয়েছে, এই রায়ের ফলে এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী ভূঁইয়া মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন। কেভিন এসএনসি-লাভালিনের জ্বালানি ও অবকাঠামো বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ছিলেন। তাঁরা তিনজনই বাংলাদেশে কাজ পেতে এ দেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল আদেশ দেওয়ার সময় টেলিফোনে আড়ি পেতে পাওয়া যেসব প্রমাণ দাখিল করা হয়েছিল, সেগুলো নাকচ করে দেন আদালত।
সেই সঙ্গে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) তদন্ত কার্যক্রমের সমালোচনা করা হয়। আরসিএমপির এক কর্মকর্তা ২০১১ সালে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় দাবি করেছিলেন, তাঁরা আড়ি পেতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের কথোপকথন উদ্ধার করেছেন। গতকালের আদেশে বিচারক লেখেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল, ‘তা জল্পনা, গুজব আর জনশ্রুতি ছাড়া কিছুই না’। আদালতের আদেশের পর কেভিন ওয়ালেসের আইনজীবী স্কট ফেনটন বলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁর মক্কেল নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি খুশি। রমেশ ও জুলফিকারের আইনজীবীরাও এ রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এসএনসি-লাভালিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। আর আরসিএমপিও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিল করেছিল।

ট্রাক-ইজিবাইকের সংঘর্ষ, সাবেক সেনাসহ নিহত ৩

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর আরপি গেট এলাকায় গতকাল শুক্রবার রাতে ট্রাক-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সেনাসদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সিভিল সেকশনের উচ্চমান সহকারী মো. আবু হানিফ ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. আনোয়ার হোসেনের নাম জানা গেছে।
অন্যজনের নাম জানা যায়নি। পুলিশ জানায়, গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে রাজেন্দ্রপুরগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীতগামী যাত্রীবাহী ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই তিনজন নিহত এবং আরও কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। এলাকাবাসী আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিক ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, ওই দুর্ঘটনায় ইজিবাইকের আহত যাত্রী আবুল কালাম আজাদকে রাত ১০টার দিকে এ হাসপাতালে আনা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জয়দেবপুর থানাধীন হোতাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আবুল খায়ের দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাটোরে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২, আহত ৭

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় এক ট্রাক অপর ট্রাককে ধাক্কা দিলে দুজন নিহত ও সাতজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার ভোর পাঁচ​টার দিকে উপজেলার আইড়মারি সেতু এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বনপাড়া হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, ভোর পাঁচটার দিকে আইড়মারি সেতুর কাছে মহাসড়কের পাশে একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে কয়েকজন আরোহীকে নামাচ্ছিল।
এ সময় অপর একটি ট্রাক পেছন থেকে এসে ওই ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে পেছনের ট্রাকের দুই আরোহীর ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। আহত হন উভয় ট্রাকের সাত আরোহী। আহত ব্যক্তিদের বনপাড়া, নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় পেছনের ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। নিহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হারোয়া গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে শহীদ হোসেন (৪০) ও টাঙ্গাইল জেলার ভুয়াপুর উপজেলার চরতেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে ফুলচাঁদ আলী (৩৮)। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকার কোনাবাড়ি এলাকার রফিকুল ইসলাম ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হারুমোল্লার ছেলে ছায়াতুল্লা মোল্লাকে বড়াইগ্রামের বনপাড়া পাটোয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, পেছনের ট্রাকটি ঢাকা থেকে মাছ কেনার জন্য বড়াইগ্রামে আসছিল। আর সামনের ট্রাকে সিরাজগঞ্জ থেকে কয়েকজন দিনমজুর বড়াইগ্রামে আসছিলেন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুন নুর এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পেছনের ট্রাকটি সামনের ট্রাকটির দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হতে না পেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। ট্রাক দুটির চালক ও সহকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

শুষ্ক মৌসুমেও জমে থাকছে পানি

মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১ নম্বর রোড, ১ নম্বর ও ২ নম্বর লেন চলাচলের অনুপযোগী। ভাঙা রাস্তায় চলতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। শুষ্ক মৌসুমেও সড়কে জমে থাকছে ময়লা পানি। গতকাল শুক্রবার সড়কগুলো ঘুরে দেখা যায়, সড়কে ছোট-বড় গর্ত। আবাসিক এলাকার ভেতরকার সড়ক হলেও দীর্ঘ সময় ধরে মেরামত না করায় এবড়োখেবড়ো অবস্থা। শেষ কবে পিচ ঢালাই হয়েছিল তা দেখে বোঝার উপায় নেই। বি ব্লকের ১ নম্বর রোডটির শুরু থেকে শেষ অংশ পর্যন্ত পুরোটাই ভাঙা। সড়কে একাধিক স্কুল, কোচিং ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন শেখার স্কুল রয়েছে। সড়কের মিরপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুল ও স্কুল’স গুড টিচার্স হলি চাইল্ড কেয়ারের সামনের অবস্থা বেশি খারাপ। স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বলেন, এই সড়কটা কয়েক বছর আগেও ভালো ছিল। বেশ কয়েক বছর সংস্কার না হওয়ায় এখন অবস্থা বেশি খারাপ। রোডে ঢোকার আগে রিকশা ছেড়ে দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। বেশ কিছুক্ষণ ১ নম্বর রোডে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, সড়কে রিকশা খুব একটা প্রবেশ করে না।
সড়কে প্রাইভেট কার প্রবেশ করলেও খুব ধীরগতিতে গর্ত দেখে সতর্ক হয়ে চলছে। গর্তগুলোতে পানি জমে থাকায় সেগুলোর গভীরতা বোঝারও উপায় নেই। ১ নম্বর রোড ও ১ নম্বর লেনে শুষ্ক মৌসুমেও পানি জমে আছে। দেখা যায়, ১ নম্বর লেনের একটি নালা থেকে অনবরত নোংরা পানি বের হচ্ছে। আবাসিক ভবনের ঠিক সামনে নালাটি অবস্থিত। এই ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি পুরো সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। ১ নম্বর লেনের বাসিন্দা তাহমিনা বেগম বলেন, কয়েক মাস ধরে এই নালা দিয়ে ময়লা পানি বের হচ্ছে। নোংরা পানি মাড়িয়েই সবার হাঁটতে হচ্ছে। কাউন্সিলরের কার্যালয়ে জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ভাঙা সড়কে আরেক উপদ্রব নির্মাণসামগ্রী। সড়কগুলোর দুই পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ইট, বালু, পাথর সবই সড়কে স্তূপ করে রাখা। দেখা যায়, নির্মাণশ্রমিকেরা সড়কে রেখেই বড় বড় লোহার রড কাটার কাজ করছেন। একটি ভবনের নির্মাণকাজে নিয়োজিত একজন শ্রমিক বলেন, সড়কে গাড়ি খুব একটা ঢোকে না, তাই এখানেই রড কাটা হয়। ভবনের ভেতরে জায়গাও বেশি নেই। তাই ইট, বালুও বাইরেই রাখা হয়। কেউ মানাও করে না। সড়কগুলো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবাশ্বের চৌধুরী বলেন, শুধু এই সড়কগুলো নয়, ওয়ার্ডের বেশির ভাগ সড়কই খারাপ। তিনি বলেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডটি বেশ পরিকল্পিত। কিন্তু ওয়ার্ডের ৮০ শতাংশ সড়কই খারাপ। ওয়ার্ডের সড়ক সংস্কারে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাননি কানাডার আদালত

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কোনো প্রমাণ পাননি কানাডার অন্টারিওর আদালত। গতকাল শুক্রবার কানাডার পত্রিকা দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইলে প্রকাশিত খবরে এ কথা জানানো হয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিল করেছিল।
এই ষড়যন্ত্রের তথ্যপ্রমাণ হিসেবে ফোনে আড়ি পেতে ধারণ করা যেসব তথ্য আদালতে উপস্থাপন করতে আবেদন করা হয়, তা নিছক গুজব আর গুঞ্জন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন আদালত। এই রায়ের ফলে এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী ভূঁইয়া মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন।

বাজারে ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের পোশাক

ফাহিমা ইসলাম কলেজপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে আজিজ সুপার মার্কেটে ঘুরছেন। ফাল্গুনে মা-মেয়ে পোশাক পরবেন মিলিয়ে। ওই দিন সবাই সাজবে বসন্তের রঙে। আগে কেনাকাটার ধুম ছিল ধর্মীয় উৎসব ও পয়লা বৈশাখকেন্দ্রিক। এখন তা হয়ে উঠছে দিবসভিত্তিক। বিপণিবিতান ও ফ্যাশন হাউসগুলোও এখন প্রতিযোগিতায় নেমেছে পোশাকের রং ও ঢঙে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে দেখা যায়, শাহবাগের আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেটের দোকানগুলোর রংই বদলে গেছে। হলুদ-সবুজে একাকার। প্রায় সব দোকানই ফাল্গুনকে প্রাধান্য দিয়েছে। দেশাল-এর এ শাখার ব্যবস্থাপক পূর্ণিমা রায় বলেন, গত সপ্তাহে তাঁরা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নতুন পোশাক তুলেছেন। এবার একটু আগেই মানুষ কেনাকাটা শুরু করেছে। তিনি আরও বললেন, অনেকে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেও এসে নতুন পোশাকের খোঁজ করেছিলেন। কিছু কিছু দোকান ফাল্গুনের আবহ আনতে গাঁদা ফুল দিয়ে সাজিয়েছে। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও বাহারি পোশাকের সমারোহ। কয়েকজন দোকানি বললেন, এই শুক্রবার থেকেই মূল কেনাকাটা শুরু হবে। তাই ক্রেতা টানতে এই ব্যবস্থা। অয়ন হাসান সাদা-হলুদ মিশ্রণের একটি পাঞ্জাবি কিনেছেন। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই তরুণ বলেন, ‘যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন আজিজে ঈদ আর বৈশাখের জন্য আসতাম। এখন তো প্রতি দিবসেই নতুন পোশাক পরা ট্রেন্ড হয়ে গেছে।’ আজিজে শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তির বিভিন্ন নকশার পোশাক চলছে বেশি। মানভেদে এসবের দাম আট শ থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে পোশাকের সংগ্রহ খুব একটা দেখা না গেলেও দোকানিরা বলেন,
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তা চলে আসবে। আড়ং ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে পোশাকের পাশাপাশি গয়না, জুতা, ব্যাগ এনেছে। এখানে ভিড়টাও বেশ। আসন্ন দিবসগুলো বরণ করে নিতে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। আড়ংয়ের এক বিক্রয়কর্মী বললেন, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহের দিকেই তাঁদের নতুন সংগ্রহ এসেছে। প্রিয়জনকে দেওয়ার জন্য পাওয়া যাচ্ছে উপহারসামগ্রী। বসুন্ধরা শপিং মলের চিত্রটা একটু ভিন্ন। এখানকার বেশির ভাগ দোকান বিশ্ব ভালোবাসা দিবস সামনে রেখে তাদের পোশাকের সংগ্রহ এনেছে। ‘গ্রামীণ ইউনিক্লো’তে নতুনের মধ্যে লাল রঙের পোশাকের আধিপত্য। ফাল্গুনের জন্য এসেছে একটি নকশা। স্মার্টেক্স, ইয়েলো, ওয়েস্টিকসসহ অনেক দোকানেই ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। দেশী দশে আবার ফাল্গুনের আধিপত্য। একুশকে কেন্দ্র করেও কিছু পোশাক এসেছে। রায়হান আহমেদ পুরো পরিবার নিয়ে এসেছেন। তিন বছরের ছেলে, স্ত্রী ও নিজের জন্য কিনবেন একই রঙের পোশাক। রায়হান বলেন, ‘তিন বছর আগেও সম্ভবত এই রকম দিবস উপলক্ষে কিনতে হতো না। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবই করতে হচ্ছে। দিন দিন পোশাকগুলোর দামও বাড়ছে।’ পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বিক্রি হচ্ছে গয়নাও। রঙ বাংলাদেশ থেকে গয়না দেখছিলেন একজন। তিনি খুঁজছেন কুর্তির সঙ্গে মানানসই অ্যান্টিকের গয়না।

সিইসিকে মিষ্টি খাওয়ালেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা

নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে ফুল দেওয়া ও মিষ্টি খাওয়ানোর ছবি নিয়ে ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। গত বুধবার পটুয়াখালীর বাউফল এলাকার স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগের নেতা তাঁর বাসায় গিয়ে ফুল দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়াউল হক। সিইসি এবং তাঁর বাড়ি একই গ্রামে। বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মজিবুর রহমানকে দেখা যায় ওই ছবিতে।
ফুল দেওয়ার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাদা হাওলাদার, দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এন এন জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বগা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেযারম্যান এম জামান আহমেদ। জানতে চাইলে সিইসি কে এম নুরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁদের কেউই দলগতভাবে ফুল দিতে আসেননি। তাঁরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। কেউবা আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, কেউবা একই গ্রাম বা ইউনিয়নের। এখানে রাজনৈতিক কোনো ব্যাপার ছিল না।’

আন্দোলনের চাপে বাতিল মূলনীতি কমিটির সুপারিশ

পাকিস্তানের সর্বাধিনায়ক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর ঢাকা সফরে সেই যে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ওপর ঠান্ডা পানি ঢেলে দিয়ে গেলেন, এরপর সেই প্রভাবে নেতাদের নিষ্ক্রিয়তায় মনে হচ্ছিল, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে সহজে আর জাগিয়ে তোলা যাবে না। তমদ্দুন মজলিস প্রভাবিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক তমদ্দুন নেতা শামসুল আলম তো ইস্তফা দিয়ে খালাস। এর নির্বাহী দায়িত্ব এসে পড়ে মোহাম্মদ তোয়াহার ওপর। কিন্তু তাঁর পক্ষে একা আন্দোলন চাঙা করে তোলা সম্ভব ছিল না। কারণ, মূল দলগুলো এ ব্যাপারে নীরব। নীরব এমনকি অতি উৎসাহী তমদ্দুন মজলিস, এমনকি নীরব মুসলিম ছাত্রলীগও।
ছাত্রনেতাদের একাংশও নিশ্চুপ। যে যা-ই বলুক, সেই দুঃসময়ে একমাত্র ছাত্র ফেডারেশন সাহসে ভর করে ১৯৪৯-এর ১১ মার্চের আন্দোলন দিবস পালন করতে রমনার রাজপথে বেরিয়ে পড়ে। মাত্র ২০-২৫ জন বামপন্থী ছাত্রের কণ্ঠে স্লোগান: ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘উর্দুর জুলুম চলবে না’ ইত্যাদি। নেতৃত্বে ছিলেন সাহসী ছাত্রনেত্রী নাদেরা বেগম, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বামপন্থী ছাত্রনেতা নাসির আহমেদ, ছাত্রনেতা সৈয়দ আফজাল হোসেন প্রমুখ। সঙ্গে ঢাকা কলেজ, জগন্নাথ কলেজের কিছুসংখ্যক ছাত্র, যেমন আবদুস সালাম, মৃণাল বাড়ড়ি প্রমুখ। কিন্তু পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তারের কারণে ছোটখাটো মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। গোটা ১৯৪৯ সালজুড়ে এরপর রমনার রাজপথে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে স্লোগান বড় একটা শোনা যায়নি। তবে এ সময়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ১৯৪৯-এর জুনে গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণার কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক নেতা, বিশেষ করে জননেতা মাওলানা ভাসানীর উদ্যোগে গঠিত হয় গণসংগঠন আওয়ামী মুসলিম লীগ। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সেক্রেটারি শামসুল হক। যুগ্ম সম্পাদক তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও খোন্দকার মোশতাক আহমদ। লক্ষ করার বিষয়, এ দলের প্রথম অধিবেশনে ছিল বিচিত্র মতাদর্শের সংগঠনের মানুষ। এসব সংগঠনের মধ্যে যেমন ছিল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম, তেমনি ছিল রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, দু-একটি ছাত্রসংগঠন। ছিলেন জনা কয় ঢাকাই ব্যবসায়ীও। পাকিস্তানি দুঃশাসনের যুগে এই প্রথম বহু চরিত্রের একটি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে। শাসকশ্রেণি তখনো যেকোনো প্রকার সরকার-বিরোধিতা দমনে উগ্র চণ্ডনীতি গ্রহণে অভ্যস্ত, এককথায় ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক কায়দা অনুসরণ।
গণতন্ত্রবিরোধী এমন উগ্র রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে ভাষা আন্দোলন গড়ে তোলা সহজ বিষয় ছিল না। আত্মবিশ্বাসী মুসলিম লীগ সরকার এই সুযোগে চেষ্টা চালায় পূর্ববঙ্গের ভাষা আন্দোলনকে স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করে তোলার এবং সেটা রাজনৈতিক দমননীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কূটকৌশলে। সে প্রচেষ্টা ছিল নানা রকমের। কিন্তু সে অপরিণামদর্শী প্রচেষ্টা সরকারের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। আরবি হরফে বাংলা লেখা চালু করতে পূর্ববঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে আরবি হরফে বাংলা শিক্ষার কয়েকটি বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র চালু করা হয়। এ প্রচেষ্টার মধ্যমণি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী কথিত বাঙালি ফজলুর রহমান। এ ছাড়া ছিল তাঁর উদ্যোগে পূর্ববঙ্গে উর্দু শিক্ষা বিস্তারের জন্য শিক্ষায়ন প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষাকে ইসলামি আদর্শে পুনর্গঠিত করার চেষ্টাও চলে প্রবল উদ্যমে। এসব চেষ্টার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলার মাটিতে বাংলা ভাষাকে কবর দেওয়ার অশুভ চিন্তা। এসব প্রচেষ্টার অতি উৎসাহী উদ্যোগী ব্যক্তি ছিলেন কবি গোলাম মোস্তফা, আমলা মীজানুর রহমান প্রমুখ। বলতে হয়, বাঙালির মধ্যে ‘মীরজাফরি বদরক্ত’ থেকে থেকে দেখা দিয়েছে। এ অশুভ প্রচেষ্টার পাশাপাশি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে গঠিত মূলনীতি কমিটির বৈঠকে নতুন করে উর্দু রাষ্ট্রভাষার পক্ষে সুপারিশ। দুটো ঘটনাই ভাষা আন্দোলনের নিস্তরঙ্গ নদীতে যথেষ্ট শক্তিমান ঢেউ তোলে। বলা যায়, উসকে দেওয়া হয় আন্দোলনের সম্ভাবনা। ছাত্রদের মিছিলে বরাবর উচ্চারিত স্লোগান ছিল: ‘আরবি হরফে বাংলা লেখা চলবে না’, ‘হরফ ষড়যন্ত্র বন্ধ করো’, ‘ফজলুর রহমান মুর্দাবাদ’। এবার মূলনীতি কমিটির একাধিক সুপারিশ বাতিলের দাবিতে রাজনৈতিক নেতারাও রাজপথে নেমে আসেন। চলে নিয়মিত সভা-সমাবেশ, মিছিল, স্লোগান। ঢাকার রাজপথে তখন এ দুই ইস্যুতে ছাত্র ও রাজনীতিকদের প্রতিবাদী মিছিল নতুন করে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা তৈরি করে। প্রতিবাদের চাপে মূলনীতি কমিটির সুপারিশ স্থগিত হলেও ভাষা আন্দোলনের সম্ভাবনায় নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়।
আহমদ রফিক: ভাষাসংগ্রামী, কবি ও রবীন্দ্র-গবেষক

প্রতিটি আইন ত্রুটিপূর্ণ, এতে মামলা বাড়ছে

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, বিচার করতে গেলে বিচারকেরা খেই হারিয়ে ফেলেন। প্রতি​িট আইন ত্রুটিপূর্ণ। এতে মামলা বাড়ছে। আইনপ্রণেতারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। মৌলভীবাজার পৌর জনমিলন কেন্দ্রে গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নৈশভোজ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। আইনের ত্রুটির উদাহরণ দিয়ে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আইনের ত্রুটির কারণে হাজার হাজার রিট হয়েছে। আইনপ্রণেতারা যদি দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতেন, তবে বিচার বিভাগের ওপর এ দায়িত্ব আসত না। বিচার বিভাগের যে দায়িত্ব-কর্তব্য, তাতে হস্তক্ষেপ না করা হলে আজ এত মামলার জট থাকত না। বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি এ সময় বলেন, দেশের ক্রান্তিকালে বিচার বিভাগই দেশকে রক্ষা করে;
সংবিধান রক্ষা করে। তাই আইনের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁরা যদি সামান্য বিচ্যুত হন, তাহলে সেই দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দেশ গঠনে আইনজীবীদের মেধা, প্রজ্ঞার অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। দেশের সংবিধান রচনায় ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবীদের কয়েকজন। আজ আমাদের দেশে সংসদে খুব কমসংখ্যক আইনজীবী আছেন। দেশ গড়তে হলে প্রত্যেকের আইনি ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা প্রয়োজন। বিচার বিভাগকে অবহেলা নয়; বিচার বিভাগকে শ্রদ্ধা করতে হবে। আজ দেশের যে আর্থিক অবস্থা, তাতে বিচার বিভাগের অবদান আছে।’ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক মো. কামরেল আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাংসদ সৈয়দা সায়রা মহসিন প্রমুখ।

নষ্ট হচ্ছে মাছের আধার

আবাসিক, শিল্প ও ট্যানারির বর্জ্যে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী। নদীর উজানে ফটিকছড়ির ভূজপুর এলাকায় দুটি রাবার ড্যামের (বাঁধ) কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে হালদা নদীর একটি অংশ। নদী থেকে নির্বিচারে বালু তোলায় এর মাটির গঠন নষ্ট হচ্ছে। তীরে একের পর এক গড়ে ওঠা ইটভাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে নদীর মাটি ও পানি। নদীর ১১টি স্থানের বাঁক সমান করে ফেলায় মাছের বিচরণ ও প্রজনন কমে গেছে। হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য ও মাছের প্রজনন নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে একটি গবেষণা হয়েছে। হালদা নদীর জন্য ক্ষতিকর অন্তত ১০টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে এই গবেষণায়। এর সব কটি মানবসৃষ্ট কারণ। এর মধ্যে আরও রয়েছে ফটিকছড়ির চা-বাগানগুলোর জন্য নদীর পানি ব্যবহার, নদী থেকে প্রতিদিন চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি উত্তোলন, মা মাছ নিধন, খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে নদীর তীরে তামাক চাষ ও যন্ত্রচালিত নৌযান থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ে দূষিত হচ্ছে হালদা নদী।
হালদা নদীর এই গবেষণার কাজে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন গবেষক। গবেষণার প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের করা গবেষণাটির নাম ‘ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট অন আপস্ট্রিম ওয়াটার উইথড্রয়াল টু কনসার্ভ ন্যাচারাল ব্রিডিং হ্যাবিটেট অব মেজর কার্পস ইন দ্য রিভার হালদা’। (উজানের পানি প্রত্যাহারে হালদা নদীতে রুই-জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণের প্রভাব মূল্যায়ন)। ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণাটি চলে। গত বছরের ডিসেম্বরে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার হালদাছড়া (পাহাড়ি ঝরনা) থেকে হালদা নদীর উৎপত্তি। ৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে এসে মিশেছে। ২০১০ সাল থেকে নদীর নাজিরহাট অংশ থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। এরপরও প্রতিবছর মাছের ডিম ও রেণুর সংখ্যা কমছে। হালদা নদী নিয়ে গবেষণা করা দলটির প্রধান ও বুয়েটের পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক উম্মে কুলসুম নভেরা প্রথম আলোকে বলেন, ২০১২ সালে হালদা নদীতে বাঁধ দেওয়ার পর থেকেই মাছের ডিম ছাড়ার পরিমাণ কমে গেছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় তা কী পরিমাণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে মাছের প্রজননের ক্ষেত্রে সেটাও গবেষণায় উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কার্যালয়ের হিসাবে দেখা যায়,
২০১২ সালে হালদা নদী থেকে উৎপাদিত মাছের রেণুর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৬৯ কেজি, ২০১৩ সালে সেটি অর্ধেকে নেমে আসে। ওই বছর সংগ্রহ করা যায় ৬১২ কেজি রেণু, ২০১৪ সালে ৫০৮ কেজি, ২০১৫ সালে ১০৬ কেজি ও ২০১৬ সালে ১৬৭ কেজি রেণু সংগ্রহ করা হয়। অবশ্য রেণু সংগ্রহ করা নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে একমত নন গবেষকেরা। তাঁদের হিসাবে, গত পাঁচ বছরে সংগৃহীত রেণুর পরিমাণ আরও অনেক কম। গবেষকেরা বলছেন, ২০১২ সালে হালদা থেকে সংগৃহীত রেণুর পরিমাণ ছিল ৩৫৪ কেজি, ২০১৩ সালে ৭০ কেজি, ২০১৪ সালে ২৭৫ কেজি, ২০১৫ সালে ৪৭ কেজি ও ২০১৬ সালে ১২ কেজি। হালদা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনজুরুল কিবরীয়া। তিনি বলেন, নদী থেকে মাছের ডিম সংগ্রহের সময় জেলে ও ডিম সংগ্রহকারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত চিত্র (গবেষকদের তথ্য) বের করা হয়েছে। মৎস্য কার্যালয় কীভাবে এত রেণু সংগ্রহের হিসাব বের করেছে তা জানা নেই তাঁর। হালদার পানির প্রবাহ কমার কারণেই মাছের রেণুর পরিমাণ কমছে—এ বিষয়ে একমত চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কার্যালয়ের মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপপরিচালক প্রভাতী দেব। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ ও এলজিইডি যখন বাঁধটি দেয়, তখন মৎস্য বিভাগের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি।
হালদা নদীপারের শিল্পকারখানাগুলোর বেশির ভাগেরই ইটিপি (তরল বর্জ্য শোধনাগার) নেই। আবার যেসব কারখানার ইটিপি রয়েছে, সেগুলোও সব সময় চালু করা হয় না। তাই কারখানা ও ট্যানারির দূষিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে।হাটহাজারীর খন্দকিয়া, কাটাখালী, বাথুয়া, কৃষ্ণখালী, শাহ মাদারী ও চট্টগ্রাম নগরের বামনশাহী খাল বেয়ে বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্য সরাসরি পড়ছে হালদা নদীতে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চলমান অনন্যা আবাসিক এলাকার মাস্টার ড্রেনটি বামনশাহী খালের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বামনশাহী ও হাটহাজারীর কুয়াইশ খালের মাধ্যমে নগর ও হাটহাজারীর বিশাল এলাকার বর্জ্য হালদায় গিয়ে মিশছে। গত জুলাই মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনেও এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার খন্দকিয়া খালের মদুনাঘাট (হাটহাজারী উপজেলায়) এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, খালের পানি কালো। তরল বর্জ্যের পাশাপাশি পানিতে ভাসছে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ গৃহস্থালির বর্জ্য। হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা এলাকায় শাহ মাদারি খাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় পানির সঙ্গে ভাসমান বর্জ্য পড়ছে হালদায়। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হালদা নদীর উত্তর মাদার্শা ও গড়দুয়ারা এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলতে দেখা যায়। বুয়েটের গবেষক দল হালদার দূষণের মাত্রা পরিমাপের জন্য ২০১৫ সালে শিল্পকারখানা রয়েছে এমন ১৩টি স্থানের পানির মান তিন দফা পরীক্ষা করে। প্রতিটি স্থানেই পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) ও বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (বিওডি) সর্বনিম্ন পর্যায়ে পাওয়া গেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নগরের ফতেয়াবাদ এলাকার এশিয়া প্যাসিফিক পেপার মিলস লিমিটেড ও জননী পেপার মিলস কারখানার সব বর্জ্য পাশের একটি খালের মাধ্যমে হালদা নদীতে গিয়ে পড়ছে। ওই খালে প্রতি লিটার পানিতে ডিও পাওয়া গেছে দশমিক ১৭ মিলিগ্রাম।
একইভাবে মাদারি খালে দ্রবীভূত অক্সিজেন ১ দশমিক ৪ ও খন্দকিয়া খালে দশমিক ১১ মিলিগ্রাম পাওয়া যায়। অন্যদিকে বিওডি প্রতি লিটারে সর্বনিম্ন পাওয়া গেছে ৪ মিলিগ্রাম। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, দ্রবীভূত অক্সিজেন ৪ দশমিক ৫-এর নিচে নামলে তাতে জলজ প্রাণী বাঁচে না। অন্যদিকে বিওডি ৬-এর কম থাকা জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর। পরিবেশ অধিদপ্তরও গত জুলাই মাসে হালদাসংলগ্ন বিভিন্ন খালের পানি পরীক্ষা করে দূষণের প্রমাণ পেয়েছে। গত জুলাই মাসে ঘোর বর্ষাকালে খন্দকিয়া খালের পানিতে ডিও পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে ২ দশমিক ২৯ মিলিগ্রাম। দূষণের দায়ে মদিনা ট্যানারি, এশিয়ান পেপার মিল, রীফ লেদার লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সময়ে জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশে মদিনা ট্যানারি ও রীফ লেদার বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। মদিনা ট্যানারির স্বত্বাধিকারী আবু মোহাম্মদ বলেন, এখন কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কীভাবে নদীদূষণ না করে কারখানা চালু করা যায়, সে বিষয়ে তাঁরা ভাবছেন। হালদা নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা ২২টি ইটভাটাকেও হালদার জন্য হুমকি বলে মনে করছেন গবেষকেরা। ইটভাটাগুলো ইট তৈরির জন্য নদীর পাড় ও তলদেশের মাটি ব্যবহার করছে। পানিও ব্যবহার করছে হালদা থেকে। গবেষণা দলের সদস্য ও বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. মফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ভাটাগুলোকেও নদীর কাছ থেকে সরিয়ে নিতে হবে। তারা যাতে কোনোভাবেই নদীর পাড় থেকে মাটি ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে নজরদারি বাড়ানো দরকার। দূষণ কমানোর জন্য ভারী শিল্প-কারখানাগুলোকে ইটিপি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। নির্বিচারে হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলনকেও হালদার জীববৈচিত্র্যর জন্য হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হাটহাজারীর রামদাস মুনশির হাট,
মদুনাঘাটের নাইস টাওয়ার থেকে পলুয়ার পুল পর্যন্ত এবং মদুনা ঘাটের পূর্ব পাশে (রাউজান) ও কালুরঘাট—এই চার জায়গা থেকে প্রতিদিন ১ লাখ ২৯ হাজার বর্গফুট বালু তোলা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এভাবে বালু তোলার কারণে নদীর তলদেশের মাটির গঠন নষ্ট হচ্ছে। মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর খাদ্যও উঠে আসছে বালুর সঙ্গে। পানি ঘোলা হয়ে যাচ্ছে, শব্দের উৎপাত বেড়েছে, সূর্যের আলো ঠিকভাবে পানির নিচে পৌঁছাচ্ছে না। এতে করে নদীর জীববৈচিত্র্যর ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১০০ বছরে হালদা নদীর অন্তত ১১টি বড় আকারের বাঁক কেটে সোজা করে ফেলা হয়েছে। এই বাঁকগুলো কেটে ফেলার কারণে নদীর দৈর্ঘ্য ১২৩ কিলোমিটার থেকে ৮৮ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। নদীর বাঁক কার্প-জাতীয় মাছের প্রধান বসতি হিসেবে চিহ্নিত। বাঁক সোজা করে ফেলায় মাছের বিচরণক্ষেত্র কমে গেছে। হালদা রক্ষায় গবেষণা প্রতিবেদনে ১০টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খালের মাধ্যমে হালদা নদীতে শিল্প ও আবাসিক বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা, ভারী শিল্প-কারখানায় ইটিপি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মা মাছ ধরা বন্ধে নদীতে পাহারা জোরদার করা, রাবার ড্যাম প্রত্যাহার, তামাক চাষ বন্ধ করা প্রভৃতি।

আনন্দের মন্ত্র নিয়ে উৎসবে শামিল খুদে গণিতবিদেরা

এটি শুধু প্রতিযোগিতা নয়, হার-জিতের চেয়ে এখানে আনন্দই মূল বিষয়। আনন্দের মন্ত্র নিয়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুদে গণিতবিদেরা অংশ নিচ্ছে জাতীয় উৎসবে। গণিতের জটিল সব সমস্যায় তাদের ছিল না কোনো ভয়। দিনটি পরীক্ষা ও আনন্দ আয়োজনে পার করে তারা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল মাঠে গতকাল শুক্রবার সকালে উদ্বোধন হয় ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো জাতীয় গণিত উৎসব ২০১৭-এর। এটি ছিল ১৫তম জাতীয় উৎসব। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করেছে। দিনের আলো ফুটতেই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা গণিতপ্রেমী শিক্ষার্থীরা স্কুল প্রাঙ্গণে আসতে থাকে।
সেখানে অঞ্চলভিত্তিক স্টলগুলোতে নিবন্ধন চলছিল। রংপুর জেলার স্টলের সামনে জটলা করেছিল রংপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে আসা ১০ শিক্ষার্থী। তাদের একজন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাকিব-উর-রহমান প্রথম আলোকে বলে, ‘২০১১-তে গণিত উৎসবে জাতীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হয়েছিলাম। এবার আশা করছি চ্যাম্পিয়ন হব।’ এবারের আঞ্চলিক গণিত উৎসবে সারা দেশের ১৫টি অঞ্চলের ২২ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। আঞ্চলিক উৎসবের বিজয়ী ১ হাজার ১২০ শিক্ষার্থী এই জাতীয় উৎসবে অংশ নিচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের মধ্য থেকে ছয়জন এ বছরের জুলাইয়ে ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় ৫৮তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে। সকাল নয়টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রাদার রবি পিউরিফিকেশন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রথম আলোর সহযোগিতায় দেশের গণিতবিদেরা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তোমরাও এগিয়ে যাবে। এই প্রত্যাশা আমরা রাখি।’বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে প্রথম গণিত উৎসব শুরু হয়। আর এ বছর পঞ্চদশতম আসর। গণিতে ভীতি দূর করা আর সারা দেশে গণিত শিক্ষার মান উন্নত করার প্রচেষ্টায় এই উৎসব শুরু হয়েছিল। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইদুল হাসান। গণিতের এই মহা উৎসবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকের পরীক্ষা আসলে পরীক্ষা না। এটা একটা উৎসব। এর মধ্য থেকে যারা ব্রাজিলে যাবে তারা যেমন সৌভাগ্যবান, তেমনি যারা যেতে পারবে না তাদেরও সৌভাগ্য যে এই উৎসবে শামিল হতে পেরেছে।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক মুনিবুর রহমান চৌধুরী, সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, গণিতবিদ লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ, এম এ হাকিম, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মোহিত কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টায় প্রাইমারি,
জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি—এই চার ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের জন্য গণিত অলিম্পিয়াড পরীক্ষা শুরু হয়। প্রশ্ন হাতে পেয়েই গণিত নিয়ে মজার উৎসবে মেতে ওঠে সহস্রাধিক শিশু-কিশোর। তবে পরীক্ষার সময় তাদের চোখেমুখে ছিল চিন্তার ছাপ। বিরতির ফাঁকে কথা হয় মোর্শেদা খাতুনের সঙ্গে। দিনাজপুর থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে উৎসবে এসেছেন মোর্শেদা। তিনি বলেন, ‘আগে অভিভাবকেরা শুধু লেখাপড়া করতে বলত। এখন লেখাপড়ার পাশাপাশি সন্তানদের অন্যান্য প্রতিযোগিতাতে অংশ নিতে উৎসাহ দিচ্ছে।’ পরীক্ষা শেষ হতে হতে দুপুরের খাবারের বিরতি। বিরতির পরের অংশে ছিল মজার মজার খেলা ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। মোহাম্মদপুর স্ট্যান্ট ভাইপার্সের সাইকেল কসরতে মুগ্ধ হয় খুদে গণিতবিদেরা। সোয়া দুইটায় ওয়াটার রকেট উড্ডয়ন করা হয়। এরপর মঞ্চে ছিল সিসিমপুরের টুকটুকি, হালুম আর ইকরির পরিবেশনা। ‘আঠারো বছর বয়স’ গানের সঙ্গে নাচ পরিবেশন করে এক্সট্রিম ড্যান্স গ্রুপ। ছিল প্রাচ্যনাটের ‘এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে’ শীর্ষক পরিবেশনা। বাংলার ঐতিহ্য, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক এই পরিবেশনা উপভোগ করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিরা। এ ছাড়া রুবিকস কিউব ও সুডোকু প্রতিযোগিতা হয়। আজ সকালে সাড়ে আটটায় দ্বিতীয় দিনের উৎসব শুরু হবে। থাকবে গণিতের পট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এ ছাড়া উৎসবে ২০১৬ সালের সেরা গণিত ক্লাবের পুরস্কার দেওয়া হবে।

৪৮ ঘণ্টা থেকে পাঁচ বছর!

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পূর্ণ হলো আজ শনিবার। এই দীর্ঘ সময়ে আলোচিত এই হত্যার বিচার না হওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ নিহত দম্পতির স্বজন, সহকর্মী ও বন্ধুরা। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়াবাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ মেলে। সাগর তখন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাঁদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। এই দম্পতি হত্যার শিকার হওয়ার পরে ঘটনাস্থলে এসে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন পুলিশকে তদন্ত শেষ করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। সেই ৪৮ ঘণ্টা এখন পাঁচ বছরে গিয়ে ঠেকেছে। সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির বলেন, ‘আমার অনেক আশা ছিল যে সাত খুনের যে রকম তদন্ত ও বিচার হলো, আমার সাগর-রুনির বেলায়ও সে রকম একটা চমক দেখাবে। কিন্তু না।
প্রতিবারই যখন আদালত প্রতিবেদন দিতে বলেন, আমি আশায় থাকি, হয়তো নতুন কিছু বলবেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু আমি হতাশ হই। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মাসখানেক আগে এসেছিলেন। আমি তাঁকেও এসব কথা বলেছি।’ রুনির ভাই ও মামলার বাদী নওশের রোমান বলেন, তদন্তকারীদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা প্রতিবারই একই কথা বলেন যে তদন্ত চলছে। কিন্তু আসলে জানানো হয় না কী হচ্ছে। সাগর-রুনি দম্পতির খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ইউনিটির চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

কেশবপুরের সেই অবৈধ ঘের প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সোনাতলা মাঠে জোর করে তৈরি করা মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের সহায়তায় এলাকার হাজারখানেক নারী-পুরুষ গতকাল শুক্রবার সমবেত হয়ে বেড়িবাঁধটি অপসারণ করে। এলাকার নয়টি গ্রামের নারী ও পুরুষেরা ঝুড়ি-কোদাল হাতে নিয়ে গতকাল সকাল থেকে পাশের গোপালপুর গড়ের মাঠ এলাকায় সমবেত হতে থাকে। তারা ‘ঝুড়ি কোদাল হাতে নাও, অবৈধ ঘের গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগান দিতে থাকে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ রায়হান কবির ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কবীর হোসেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে কেশবপুর থানা থেকে একদল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, ইউএনও ঘের উচ্ছেদের বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবীরের নির্দেশনা পড়ে শোনান। এরপর উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে ইউএনও বলেন, ‘আপনাদের লিখিত অভিযোগ তদন্ত করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কবীর হোসেন। তদন্তে ঘেরের মালিক সেলিম উজ জামান (আসাদ) কোনো চুক্তিপত্র না করেই এলাকার মানুষের জমি দখল করে ঘের নির্মাণ করেন বলে প্রমাণ পান তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক এই ঘের উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন। এখন আপনারাই এই অবৈধ ঘেরের বেড়িবাঁধ অপসারণ করবেন।’ এ সময় উপস্থিত লোকজন ঝুড়ি ও কোদাল হাতে নিয়ে বেড়িবাঁধ কাটা শুরু করেন। তাঁরা গতকাল তিন শ ফুট বাঁধ কেটেছেন।
মির্জানগর গ্রাম থেকে এসেছিলেন গৃহবধূ বিলকিস আনজুয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘এই জমির ফসল খেয়ে আমরা বেঁচে আছি। এই ঘের হলে আমরা না খেয়ে মরব। তাই পুরুষদের সঙ্গে আমরাও কোদাল হাতে বেড়ি উচ্ছেদে এসেছি।’ আজ শনিবার সকাল নয়টায় লোকজন আবার সমবেত হয়ে ঘের কাটা শুরু করবে। পুরো বেড়িবাঁধ উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত এ কাজ চলবে। ভালুকঘর এলাকার কৃষক হায়দার আলী বলেন, এই মাঠে ভালুকঘর ছাড়াও এলাকার সরাপপুর, শ্রীরামপুর, মির্জানগর, চাঁদড়া, রঘুরামপুর, বরনডালি, বাঁশবাড়িয়া ও কাস্তা গ্রামের মানুষের জমি রয়েছে। তাঁদের দুই শ বিঘা জমি জোর করে দখল করে ঘের তৈরি করেছিলেন মালিক সেলিম। তবে জীবন থাকতে তাঁরা এখানে ঘের করতে দেবেন না। সোনাতলা মাঠে কৃষকের জমি দখল করে মাছের ঘের তৈরি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে জমির কয়েকজন মালিক অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করায় ঘেরের মালিকের লোকজন তাঁদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ও মারধর করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার লোকজন প্রশাসন ও পুলিশের দ্বারস্থ হয়। উপজেলা প্রশাসন ২ ফেব্রুয়ারি ঘের নির্মাণ বন্ধ করে দিয়ে আসে। এরপরও ঘের তৈরির কাজ অব্যাহত ছিল। পরে এলাকাবাসী যশোর জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবীরকে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়। তিনি ঘের উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। কেশবপুরের ইউএনও প্রথম আলোকে বলেন, এরপরও কেউ যদি এই ঘেরের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিরীহ মানুষদের হয়রানি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৌকায় লাশ নিতে হয় কবরে

নাটোরে গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের চলনবিল-অধ্যুষিত একটি গ্রাম বিলহরিবাড়ী। আত্রাই নদের শাখা প্রবহমান নালা (মরা আত্রাই) বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে গ্রামটিকে। নালার ওপর একটি সেতুর দাবি থাকলেও উপেক্ষিত হচ্ছে বছরের পর বছর। বিশেষ করে উত্তর পারের কেউ মারা গেলে কলাগাছের ভেলা কিংবা খেয়া নৌকায় লাশ দক্ষিণ পারের হরদমা গ্রামের করবস্থানে নিয়ে দাফন করতে হয়। তখন আপনজন হারানোর কষ্ট আরও বহুগুণ বাড়ে শেষযাত্রার এ ভোগান্তিতে। সেই সঙ্গে উত্তর পারের অধিবাসীদের পারাপারের নিত্য ভোগান্তি তো আছেই। সরেজমিনে ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে দেখা যায়, নৌকায় করে নিয়ে আসা হচ্ছে একটি লাশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিলহরিবাড়ী গ্রামের প্রায় শতবর্ষী রহিমউদ্দিন ব্যাপারী মারা গেছেন। নৌকায় করে প্রায় তিন কিলোমিটার দূর থেকে দক্ষিণ পারের হরদমা গ্রামে লাশ আনা হয়েছে দাফন করতে। লাশের সঙ্গে শবযাত্রাবাহী নৌকার কয়েকজন বলেন, একটি সেতু ও তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কের আক্ষেপ এই বিলহরিবাড়ী গ্রামের উত্তরপাড়াবাসীর। সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষের দুঃখগাথা গল্প পৌঁছায় না উচ্চপর্যায়ে। বেঁচেও মরার মতো দিন কাটাতে হয় তাদের। এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ চেয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সম্প্রতি গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে জনপ্রসাশন মন্ত্রালয়ে একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তারা ওই কাঁচা সড়ক ও সেতু নির্মাণের ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, প্রবহমান ওই নালা বিলহরিবাড়ী-হরদমা গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে গ্রামটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। দুর্গাপুর-যোগেন্দ্রনগর রাবার ড্যাম হয়ে একটি পাকা সড়ক ওই নালার দক্ষিণ পারে এসে শেষ হয়েছে। নালার দক্ষিণ পারে জনবহুল হরদমা গ্রাম। এখানে রয়েছে প্রাথমিক-মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও বাজার। সুবিধাবঞ্চিত উত্তর পারের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ যাবতীয় প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানে আসতে হয়। বিলহরিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, বিদ্যালয়ে যেতে কাঁচা সড়ক ও নৌকায় পার হতে হয়। কাদাযুক্ত পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময় পড়ে যায়। এ জন্য প্রতিদিন বাড়তি পোশাক নিয়ে তারা বিদ্যালয়ে আসে। বিলহরিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাফফর হোসেন বলেন,
বিলহরিবাড়ি গ্রামের সড়কটি কাঁচা ও তুলনামূলক নিচু হওয়ায় বছরজুড়েই পানি জমে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। তা ছাড়া বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কম হয়। তা ছাড়া আত্রাই নদের দুর্গাপুরযোগেন্দ্র নগর পয়েন্টে রাবার ড্যাম থাকায় বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমেও পানি থাকায় নালাটি বছরজুড়েই প্রবহমান থাকে। এ কারণে শত শত ছাত্রছাত্রী ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন বলেন, ‘সড়কটির বেহালের কারণে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ বাড়ে। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান বহনকারী গরু ও মহিষের গাড়ি কোনোরকমে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও ওই নালা পারাপারে দুর্ভোগ দেখা দেয়। তা ছাড়া প্রসূতি ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সময়মতো চিকিৎসাসেবা পর্যন্ত নিতে পারে না। বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, সেতু না থাকায় বিলহরিবাড়ী গ্রামের প্রায় ৪ হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। দুর্ভোগ এড়াতে গ্রামের একমাত্র কাঁচা সড়কটি পাকা করার জন্য অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। সেতু নির্মাণের ব্যাপারে সাংসদ আবদুল কুদ্দুসকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আবদুল কুদ্দুস বলেন, অচিরেই ওই গ্রামের মানুষের সুবিধার্থে বিলহরিবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় পয়েন্টে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। সেতু হলেই কাঁচা সড়কটিও পাকা করা হবে।

ভেলানগর বাসস্ট্যান্ডের পাশে আবর্জনার স্তূপ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামের হাফিজ মিয়া (৫২) পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। পেশাগত প্রয়োজনে তিনি প্রায়ই নরসিংদী শহরে যান। বাসে করে ভেলানগর বাসস্ট্যান্ডে নেমে তারপর গন্তব্যে যান তিনি। গত বুধবার বাসস্ট্যান্ড থেকে জেলখানার মোড় হয়ে মূল শহরে প্রবেশের সময় তীব্র দুর্গন্ধে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিরক্তি নিয়ে হাফিজ মিয়া বলেন, ‘মহাসড়ক মানে সাধারণ সড়ক নয়, বড় কিছু। অথচ এই মহাসড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ। পচা গন্ধ নাকে এসে লাগার পর সহ্য করতে পারিনি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নরসিংদীর অন্যতম প্রধান বাসস্ট্যান্ড ভেলানগর। সড়কপথ ব্যবহার করে জেলা সদরে প্রবেশের জন্য বেশির ভাগ মানুষ এ বাসস্ট্যান্ড ব্যবহার করে। বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া জেলখানা। মহাসড়কের জেলখানা প্রান্তে স্থানীয় বাসিন্দারা ময়লা-আবর্জনা ফেলে বড় স্তূপ করে রেখেছে। ইদানীং এখানে হাঁস, মুরগিসহ মৃত জীবজন্তু ফেলা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন দিন দিন স্তূপের আকার বড় হচ্ছে, আবার দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বেশি। সরেজমিনে গত বুধবার দেখা যায়, ভেলানগর বাসস্ট্যান্ড থেকে জেলখানার মোড় পর্যন্ত যানজট লেগে আছে। আশপাশের লোকজন আবর্জনা-ময়লা পলিথিনে করে মহাসড়কের পাশে ফেলছে। দুর্গন্ধের কারণে বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের নাকেমুখে কাপড় এবং হাত চেপে ধরে রাখতে হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আশপাশের এলাকায় ডাস্টবিন নেই। তাঁরা বাসস্ট্যান্ডের পাশে ময়লা ফেলেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয় সড়ক এলাকার বাসিন্দা শহিদ মিয়া (২৫) বলেন, ‘আমরা যেমন তেমন বাইরের লোক আইসা যখন গন্ধ খাই, তখন নরসিংদী এবং আমরার সম্পর্কে ধারণা খারাপ হইয়া যায়।’ শহরের বাজিরমোড় মহল্লার বাসিন্দা ও ফল ব্যবসায়ী তৌহিদ মিয়া (৩২) বলেন,
‘এই জায়গায় ময়লা ফেলা অভ্যাস হইয়া গেছে। না করলেও শুনে না। পৌরসভা থাইক্কা পরিষ্কার করা হয় না। আমরা আছি বেশি কষ্টে।’ সিলেট থেকে ছেড়ে আসা মিতালী পরিবহনের একটি বাসের চালক লোকমান হোসেন (৫০)। তিনি ২০ বছর ধরে এই মহাসড়কে বাস চালান। লোকমান বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়কের একটি। প্রতিদিন যানবাহন বাড়ছে, লোকজনও বাড়ছে। অথচ এই মহাসড়কের পাশ ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পৌরসভার সচিব মো. মাহফুজ বলেন, মূলত পৌরসভার বাইরে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের লোকজন সেখানে ময়লা ফেলছে। পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান বলেন, জেলখানার মোড়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় না। ওই আবর্জনার স্তূপের জন্য স্থানীয় ব্যক্তিরা দায়ী। সেখান থেকে আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।

বই পড়ে বরিশালে ১৩১৬ ছাত্রছাত্রী পুরস্কৃত

বছরজুড়ে বইপড়া কর্মসূচিতে নিজের উৎকর্ষের পরিচয় দেওয়ার জন্য গতকাল শুক্রবার বরিশালে ১ হাজার ৩১৬ জন ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কার দিয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোন। সকাল সাড়ে আটটায় নগরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় ২০১৬ সালে বরিশাল নগরের ৩১টি স্কুলের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে মূল্যায়নপর্বে যারা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে, তাদের পুরস্কার দেওয়ার জন্য গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় এই পুরস্কার বিতরণী উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম, বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস,
জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, ব্যাপ্টিস্ট মিশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেরি সূয্র্যানী সমাদ্দার, গ্রামীণফোনের বরিশাল অঞ্চলের রিজিওনাল হেড মো. আহসান হাবিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ডেপুটি টিম লিডার (প্রোগ্রাম) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন। উৎসবে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, একটি জাতি বড় হতে গেলে প্রথমে প্রয়োজন শিক্ষা। তারপর বুদ্ধি, দেশপ্রেম, শক্তি ও সাহস। কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শিক্ষা। বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ লেখকদের বইগুলো থেকে তোমরা সেই শিক্ষা পেতে পারো। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তোমাদের সেই বইগুলোই পড়িয়ে থাকে। তিনি বলেন, আলো দেখতে খুব সুন্দর। কিন্তু সেই আলো উৎপত্তি হয় ভয়ংকর আগুন থেকে। বইয়ের ভেতর সেই ভয়ংকর আগুন লুকিয়ে থাকে। সবাইকে আরও বেশি বেশি বই পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় সারা দেশে প্রায় দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইপড়া কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই লাখ ছাত্রছাত্রী বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি

রাস্তার ওপর ইটভাটার মাটির স্তূপ, ভোগান্তি

ঠাকুরগাঁও-বালিয়াডাঙ্গী আঞ্চলিক সড়কের সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামে সড়কের ওপর ইটভাটার মাটি কেটে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। মাটির এ স্তূপের কারণে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। প্রায়ই স্তূপ থেকে মাটি নিচের সড়কের ওপর এসে পড়ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ভেলাজান গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এসএমবি ব্রিকস নামে ইটভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। ভাটার আশপাশের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে এনে ভাটার বিভিন্ন জায়গায় স্তূপ করা হচ্ছে। ভাটার ভেতরে ১৫ থেকে ২০ ফুটের কয়েকটি মাটির স্তূপ রয়েছে। এই ইটভাটার মাটি ওই সড়কের পাশেও রাখা হয়েছে। মাটি রাখতে রাখতে তা চলে এসেছে ওই সড়কের ওপর। মাটির স্তূপ থেকে কয়েকটি বড় আকারের দলা সড়কের ওপরও গড়িয়ে পড়ছে। সে সময় মোটরসাইকেল চালিয়ে ওই এলাকা পার হচ্ছিলেন বালিয়াডাঙ্গীর দুওসুও গ্রামের মো. পারভেজ। গড়িয়ে পড়া একটি মাটির দলা তাঁর মোটরসাইকেলে এসে আঘাত করে। এতে তিনি সড়কের ওপর আছড়ে পড়েন। বালিয়াডাঙ্গীর বারঢালি গ্রামের ঠাকুরগাঁও-বালিয়াডাঙ্গী সড়কের পাশে কেয়া-২ ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা রয়েছে।
ভাটার মাটি রাখা হয়েছে সড়কের পাশে। ওই ভাটার মাটিও চলে এসেছে সড়কের ওপর। পাশে বারঢালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে একই মালিকের কেয়া-১ নামে আরেকটি ভাটার মাটি রাখা হয়েছে সড়কের ওপর। ভেলাজান গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ আলীসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সড়কের পাশে ইটভাটার মাটি রাখা হচ্ছে। এতে ছোট-বড় মাটির দলা ও ঝুরঝুরে মাটি এসে পড়ে পাকা সড়কের ওপর। শুকনো মৌসুমে সড়কটির ওপর চলাফেরা করা গেলেও বৃষ্টির সময় কাদায় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এতে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলো দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ ছাড়া তাঁরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে এসএমবি ব্রিকসের মালিক মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, রাস্তার পাশে রাখলে মাটি পরিবহনে সময় কম লাগে। এতে কারও কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি নিয়ে এর আগে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। গড়িয়ে পড়া মাটির জন্য দুর্ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, যানবাহনের চালক সতর্ক থাকলে দুর্ঘটনা ঘটার কথা নয়। কেয়া-১ ব্রিকসের ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বহুদিন ধরে এভাবে রাস্তার পাশে মাটি রাখা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনার কথা তাঁরা শোনেননি। সড়কের পাশে ইটভাটার মাটি রাখার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ইসলামকে মুঠোফোনে জানালে তিনি বলেন, পাকা সড়ক ঘেঁষে ভাটার মাটি থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এসব ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন ইসির নিরপেক্ষতা পরীক্ষা হোক এখনই

নতুন নির্বাচন নয়, নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়েই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের মধ্যে বাহাস শুরু হয়ে গেছে। সরকারি পক্ষ বলছে, এর চেয়ে ভালো নির্বাচন কমিশন আর হয় না। অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে কমিশনে ঠাঁই পাওয়া সবাই শতভাগ যোগ্য ও নিরপেক্ষ। আর বিরোধী দলের বক্তব্য, অনুসন্ধান কমিটির নামে সরকার তাদের পছন্দসই লোকদের নিয়েই কমিশন গঠন করেছে। তবে বিএনপি স্বীকার করেছে যে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনে তাদের তালিকা থেকেও একজনকে নেওয়া হয়েছে। বিশিষ্ট লেখক-কবি মাহবুব তালুকদার বিএনপির প্রস্তাবেই ছিলেন। তাঁর যে চিন্তাভাবনা ও অভিজ্ঞতা তাতে বলার সুযোগ নেই যে তিনি বিএনপির লোক। একইভাবে এরশাদের জাতীয় পার্টি বা তরীকত ফেডারেশনের তালিকা থেকে সিইসি পদে কে এম নুরুল হুদার নিয়োগ পাওয়াও প্রমাণ করে না যে তিনি তাদের লোক। অন্য তিন কমিশনারের বেলায় সে কথা কমবেশি প্রযোজ্য। যিনি যেই অভিজ্ঞতা ও পটভূমি থেকেই আসুন না কেন, তাঁদের একমাত্র দায়িত্ব হবে নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা। নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরস্পরবিরোধী মনোভাব দেখে ২০০০ সালে সিইসি পদে এম এ সাঈদের নিয়োগের কথা মনে পড়ল।
সে সময় বিএনপি আরও বেশি জোরালো কণ্ঠে তাঁর নিয়োগের প্রতিবাদ করেছিল। তারা হরতাল পর্যন্ত ডেকেছিল। কিন্তু সেই এম এ সাঈদের কমিশনই যখন ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচন করল, তখন তাঁকে বিএনপির লোক হিসেবেই চিহ্নিত করা হলো। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আওয়ামী লীগ সিইসির পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমানকেও আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাল। অন্যদিকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে যে বিএনপি পরাজিত হয়েছে, সেটি দলের নেতারা এখনো মানতে পারেননি। তাঁরা শেখ হাসিনার সরকারকে সেনা-সমর্থিত সরকারেরই বর্ধিত রূপ বলে মনে করেন। দুই বিপরীতমুখী ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পেছনে যেটি কাজ করেছে তা হলো, কঠিন সত্যকে স্বীকার করতে না পারা। নেতারা যে জনগণের নামে তাঁরা রাজনীতি করেন, সেই জনগণের ওপরই আস্থা রাখতে পারেন না। আমাদের নির্বাচনী রাজনীতি তথা গণতন্ত্রের বড় সংকট হলো কেউ হারতে চান না, সবাই জয়ী হতে চান। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য যে জনগণের মন জয় করতে হয়, ক্ষমতায় গিয়ে তাঁরা সেটি ভুলে যান। নতুন সিইসি কে এম নুরুল হুদার বিরুদ্ধে বিএনপির প্রধান অভিযোগ, তিনি ১৯৯৬ সালে জনতার মঞ্চে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি তখন কুমিল্লার ডিসি ছিলাম। আমি জনতার মঞ্চে যোগ দিইনি এবং বিএনপিও সেই অভিযোগ আনেনি। চাকরিতে ২৫ বছর হলে কোনো কারণ না দেখিয়ে কাউকে অবসর দেওয়া যায়। কিন্তু আমি তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করেছি। আদালতের রায়ে চাকরি ফিরে পেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন,
‘আমি পেছনের দিকে তাকাতে চাই না। কারও প্রতি রাগ বা অনুরাগের বশবর্তী হব না। আমি নিরপেক্ষভাবে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকব।’ (প্রথম আলো, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭) যাঁরা সিইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনেছেন, তাঁদের স্মরণ করতে বলব যে কে এম নুরুল হুদা কুমিল্লায় জেলা প্রশাসক থাকতেই ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হয়েছিল এবং তিনি সেই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেছেন। এ ধরনের বিতর্কিত কাজ করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করার আগে রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত আয়নায় নিজের মুখ দেখা। আগের এক লেখায় আওয়ামী লীগকে আয়নায় মুখ দেখার কথা বলায় বিএনপি খুশি হয়েছিল। মনে হচ্ছে বিএনপিরও আয়নায় মুখ দেখার সময় এসেছে। বিএনপি এখন নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে অনেক ভালো ভালো প্রস্তাব দিচ্ছে। করণীয় বাতলাচ্ছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকতে নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সংস্কারে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট যখন ৩১ দফা দাবিনামা পেশ করে, তা আমলেই নেয়নি। ২০০৬ সালে বিএনপি গায়ের জোরে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে নির্বাচনটি ভন্ডুল করে না দিলে হয়তো ইতিহাস অন্য ধারায় এগোত। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে উচ্চ আদালতের রায়ের পরও আওয়ামী লীগের পক্ষে সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা কঠিন হতো। তবে শপথ নেওয়ার আগেই নতুন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে, তার আপাত সমাধান খোঁজা যেতে পারে দুটি উপনির্বাচনে। কথা নয়, কাজে প্রমাণ হোক। আগামী কিছুদিনের মধ্যে গাইবান্ধায় মনজুরুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শূন্য দুটি আসনে উপনির্বাচন হবে।
যে দেশে অধিকাংশ দল সংসদে কোনো আসনই পায় না, সে দেশে দুটি শূন্য আসনের উপনির্বাচন হেলাফেলার বিষয় নয়। পঞ্চাশের দশকে টাঙ্গাইল উপনির্বাচনে তরুণ নেতা শামসুল হকের (আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক) জয়ই পরবর্তীকালে মুসলিম লীগের পতন ত্বরান্বিত ঘটিয়েছিল। আবার খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে মাগুরা উপনির্বাচনে কারচুপির কারণে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল বিএনপিকে। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে মারাত্মক ভুল করেছে এবং আগামী নির্বাচনে না গেলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না বলে আওয়ামী লীগের যেসব নেতা আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, তাদের কাছে সবিনয় নিবেদন, বিএনপি নিয়ে এত চিন্তা না করে নিজের ঘরে তাকান। আপনারা যে নারায়ণগঞ্জ মডেলে নির্বাচন করার কথা বলছেন, সেটি গাইবান্ধা ও সুনামগঞ্জ উপনির্বাচন দিয়েই শুরু করুন। গণতন্ত্রের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য উপনির্বাচনেই বিএনপিকে নিয়ে আসুন। স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনে দলটি যেহেতু অংশ নেয়, সেহেতু উপনির্বাচনেও তারা অংশ নিতে পারে। সবার অংশগ্রহণে উপনির্বাচন হলে নুরুল হুদা কমিশনের ভূমিকাটিও স্পষ্ট হবে তারা সত্যি সত্যি নিরপেক্ষ, না কারও প্রতি পক্ষপাত আছে। আর সরকারের জন্য পরীক্ষা হবে তারা নারায়ণগঞ্জ মডেল নির্বাচন চায়, না মাগুরা মডেলে। বিদায়ী নির্বাচন কমিশনের প্রধান কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ তাঁর শেষ সংবাদ সম্মেলনে যেভাবে নিজের ‘কৃতিত্ব’ ও ‘সাফল্যের’ বর্ণনা করে গেলেন, তা কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের জন্য কাজ করা আরও কঠিন করে তুলল। দেশের জনগণ তাঁদের ভোট রকিব কমিশনের কাছে আমানত রেখেছিল,
সেটি তারা অনেকাংশে খেয়ানত করে বিদায় নিয়েছে। তারপরও নিজেদের সফল বলে দাবি করা হাস্যকরই বটে। এই কমিশনের ভাগ্য ভালো যে তারা বিএনপির মতো একটি ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ বিরোধী দল পেয়েছিল। বিরোধী দলে আওয়ামী লীগ থাকলে তাদের বিদায় এম এ আজিজ কমিশনের চেয়ে উত্তম হতো, সে কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পর নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্কের আপাত অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি এবং ঘটার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। কমিশন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে বাগ্যুদ্ধ চলতে থাকবে। রাজনীতি যে এখন আর সংসদে নেই, সেটি আমাদের মাননীয় সাংসদেরাও প্রমাণ করে চলেছেন। অতীতে বছর শুরুর সংসদ অধিবেশনের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সাংসদেরা উন্মুখ হয়ে থাকতেন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য রাখার জন্য। এই সুযোগে তাঁরা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ পেতেন। কিন্তু এবার সংসদ অধিবেশনটি নিয়ে খোদ সাংসদেরাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। পেছনের আসনগুলো প্রায়ই খালি থাকতে দেখা যায়।
সুরঞ্জিতের অপূর্ণ বাসনা
জাতীয় সংসদের প্রসঙ্গ উঠলে আওয়ামী লীগের সদ্য প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের কথা মনে পড়ে। তিনি সরকারি দলে থাকুন আর বিরোধী দলে থাকুন, তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য সবাই উদ্গ্রীব থাকতেন। সংসদে এখন আর তাঁর সেই হাস্যকৌতুক মেশানো বক্তব্য এবং মন্ত্রী-নেতাদের প্রতি তির্যক মন্তব্য শোনা যাবে না। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পর দলমত–নির্বিশেষে সবাই বলেছেন, তাঁর মতো দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ানের অভাব সহজে পূরণ হওয়ার নয়। সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ স্বাধীনতার আগেই। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গণজোয়ারের মধ্যেও তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপ (মোজাফফর) থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর গঠিত গণপরিষদে তিনি ও পাহাড়ি নেতা এম এন লারমা ছিলেন বিরোধী দলের বলিষ্ঠ কণ্ঠ। কিন্তু ১৯৭৩ সালের সংসদে তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি অথবা হতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তী প্রায় সব সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যখন বিরোধী দলে ছিলেন, সরকারি দল তাঁকে প্রচণ্ড ভয় পেত। আর সরকারি দলে থাকতে মন্ত্রীরা তটস্থ থাকতেন কখন আক্রমণের তিরটি তাঁদের ওপর এসে পড়ে। তাঁর ‘ক্ষণস্থায়ী মন্ত্রিত্ব’ নিয়ে যত বিতর্কই থাকুক না কেন,
সত্য বলায় তিনি ছিলেন অকপট। নব্বই দশকের শুরুতে যখন তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেননি, তখন একবার টিভিতে জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করায় তাঁর বাসায় ইটপাটকেলও পড়েছিল। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের আগে সংসদে যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সে সময়ে তিনি সংবিধানের চার মৌলনীতি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। প্রথম আলোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘কতগুলো বিষয় আছে, যা নিয়ে বিতর্ক বা আলোচনার সুযোগ নেই। যেমন: আমাদের স্বাধীনতা এসেছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে আসেনি; এসেছে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এই ঘোষণার ভিত্তিতেই ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। মনে রাখতে হবে, সংবিধান সেই মুক্তিযুদ্ধেরই ফসল।...স্বাধীনতার ৪০ বছর পর দেশে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃস্থাপিত হতে যাচ্ছে।’ প্রায় পাঁচ বছর আগে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃস্থাপনে যে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তা অপূর্ণই রয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ প্রবর্তিত বাহাত্তরের সংবিধান থেকে বাংলাদেশ এখনো অনেক দূরে।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com