Thursday, June 25, 2026
পৃথিবীর যে দুই জায়গায় গাড়ির কোনো গতিসীমা নেই by কাজী আকাশ
একটু ভেবে দেখো, সত্যি সত্যি যদি তোমার গাড়ি পুরো গতিতে চালাতে পারতে? কোনো জরিমানার ভয় বা লাইসেন্স বাতিলের চিন্তা যদি না থাকত? এমন জায়গা পৃথিবীতে সত্যি আছে। তবে পুরো পৃথিবীতে এমন জায়গা মাত্র দুটি।
প্রথম জায়গাটির নাম আইল অব ম্যান। এটি যুক্তরাজ্য আর আয়ারল্যান্ডের মাঝখানের ছোট্ট একটি দ্বীপ। জায়গাটা তিনটি কারণে বিখ্যাত। এক, এখানে কর দিতে হয় খুব কম। দুই, মোটরস্পোর্টের জন্য এটা স্বর্গ। তিন, জায়গাটা ব্রিটেনের অংশ, আবার ঠিক অংশও না! ব্যাপারটা একটু জটিল।
২০১৫ সালে অ্যালান থমসন নামের এক পুলিশ অফিসার বলেছিলেন, ‘আমরা অনন্য। তুমি ফেরি থেকে নেমে ১৫ মিনিটের মধ্যে পাহাড়ি রাস্তায় উঠে ঘণ্টায় ১৮০ মাইল বেগে গাড়ি চালাতে পারবে। এতে আইন ভাঙার কোনো ভয় নেই।’
এর মানে এই না যে পুরো দ্বীপেই কোনো গতিসীমা নেই। আবাসিক এলাকায় আর শহরের ভেতরে সাধারণত ঘণ্টায় ৩০ মাইল বেগে গাড়ি চালাতে হয়। কিন্তু হাইওয়েতে যত ইচ্ছা গতি ওঠানো যায়।
দ্বীপটা মোটরগাড়ি দুর্ঘটনার জন্যও কুখ্যাত। বিশেষ করে মোটরবাইক দুর্ঘটনা। দ্বীপে মানুষ আছেন ৮৫ হাজারের কম। আর প্রতিবছর নিয়মিতভাবে মাত্র দুই সপ্তাহে অন্তত তিন-চারজন রাস্তায় প্রাণ হারান।
যেকোনো দুই সপ্তাহ না কিন্তু। মে আর জুন মাসে আইল অব ম্যান ট্যুরিস্ট ট্রফি বা টিটি রেস হয়। পুরো দ্বীপে চলে এই মোটরবাইক রেস। পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক রেস বলা হয় একে।
টিটি রেসের সপ্তাহ না হলেও রাস্তাগুলো সাধারণ মানুষের জন্য খোলাই থাকে। তবে এই ট্র্যাক নতুনদের জন্য নয়। এখানে আছে প্রচণ্ড বাঁক। আছে উঁচু-নিচু রাস্তা, শহরের বাধা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে শুরু করে ৪২২ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত ওঠানামা করে রাস্তা। সব মিলিয়ে বেশ চ্যালেঞ্জিং। তার ওপর জায়গাটা ব্রিটেন আর আয়ারল্যান্ডের মাঝামাঝি। মানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির রাজধানী।
এসব কারণে এ দ্বীপে দুর্ঘটনার হার পাশের দেশগুলোর দ্বিগুণ। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য যে এ সংখ্যা ৩০ বছর আগের চেয়ে অর্ধেক কমেছে।
দ্বিতীয় জায়গার নাম জার্মানির বিখ্যাত হাইওয়ে অটোবান। আইনকানুন না মানার কথা শুনলে সবার আগে তোমার মাথায় হয়তো জার্মানির কথা আসবে না! তাই হয়তো তোমার কাছে একটু অদ্ভুত শোনাচ্ছে। দেশটা নিয়ম আর শৃঙ্খলার জন্য বিখ্যাত হওয়া সত্ত্বেও গতিসীমার কেন কোনো লিমিট নেই?
এটা ঠিক যে অটোবানের প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গায় তুমি যেমন ইচ্ছা গতিতে গাড়ি চালাতে পারো। ২০২৩ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন মাও নামের এক গবেষক দেখিয়েছিলেন, অটোবানে গাড়ির গড় গতি ঘণ্টায় ১৪১ দশমিক ৮ কিলোমিটার। কোনো গতিসীমা না থাকলেও সাধারণ মানুষ এখানে বেশি জোরে গাড়ি চালান না। তা ছাড়া ট্রাফিক তো আছেই। বাণিজ্যিক গাড়িগুলোকে আবার গতিসীমা মানতে হয়। এতে রাস্তায় একটু জ্যাম হয়। তাই চাইলে ২০০ বা ২৫০ কিলোমিটার গতিতে এখানে সব সময় গাড়ি চালানো যায় না।
তবে জার্মানিতে গতিসীমা না থাকলে অন্যান্য দেশের তুলনায় মৃত্যুহার কিন্তু কম। ২০২১ সালে জার্মান হাইওয়ে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবদন অনুসারে, জার্মানিতে প্রতি এক বিলিয়ন কিলোমিটার গাড়ি চলাচলে ১ দশমিক ৪১ জন মারা যান। সেই তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ৩ দশমিক ৪৫ জন, ফ্রান্সে ২ দশমিক ১৩ জন এবং ইতালিতে ৩ দশমিক ৬৬ জন মারা যান।
অর্থাৎ অন্য যেসব দেশে গতিসীমা আছে, সেই দেশের তুলনায়ও অটোবান নিরাপদ। আইল অব ম্যানের চেয়ে যে অনেক বেশি নিরাপদ, তা তো বুঝতেই পারছ! এর পেছনে কয়েকটি কারণ আছে। জার্মান সরকার জাতীয় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রচুর টাকা ঢালে। তা ছাড়া ওখানকার গাড়িগুলোও তুলনামূলক ভালো। আর জার্মানির চালকেরাও বেশ দক্ষ। এখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া একটা যুদ্ধের মতো! বাধ্যতামূলক ৮ ঘণ্টার ফার্স্ট এইড কোর্স, কমপক্ষে ৩৭ ঘণ্টার ড্রাইভিং ক্লাস, আর কঠিন সব তাত্ত্বিক পরীক্ষায় পাস করতে হয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স করতেও প্রায় আড়াই লাখ টাকার বেশি খরচ করতে হয়!
যাহোক, পৃথিবীতে দুটি গতিসীমাহীন রাস্তার খোঁজ দিলাম, চাইলে একবার ঘুরে আসতেই পারো। তবে জার্মানির অটোবানে গিয়ে একটু গাড়ি চালানোর কথা ভাবলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের কথা ভুলো না যেন! আর আইল অব ম্যানে গেলে একটু সাবধানে যেয়ো।
সূত্র: আইএফএল সায়েন্স

বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত কোনটি by শিউলী সুলতানা
আমেরিকা-কানাডা সীমান্তের দুটি প্রধান অংশ আছে। একটা হলো সেই লম্বা সীমান্ত, যার দক্ষিণে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড। আরেকটা হলো উল্লম্ব সীমানা, যা আলাস্কা আর কানাডার মধ্যে মহাদেশের সুদূর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
অনুভূমিক সীমান্তের একটা বড় অংশ বেশির ভাগ বিশ্বমানচিত্রে অবিশ্বাস্য রকম সোজা দেখায়। বিশেষ করে লেক অব দ্য উডস থেকে বাউন্ডারি বে পর্যন্ত ২ হাজার ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশটা মনে হয় একদম নিখুঁতভাবে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা বরাবর চলে গেছে। উত্তর গোলার্ধে পৃথিবীকে ঘিরে যে অনেকগুলো কাল্পনিক বৃত্ত আঁকা থাকে, ৪৯তম সমান্তরাল রেখা সেগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর নিরক্ষরেখাকে ধরে ওপরের দিকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত ধরা হয়। নিরক্ষরেখা থেকে ৪৯ ডিগ্রি উত্তরে যে অক্ষাংশের রেখা আছে, তাকেই বলে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা।
কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা একদমই আলাদা। মাটির ওপর দাঁড়িয়ে দেখলে দেখা যাবে, সীমানাটা আঁকাবাঁকা। এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে আমেরিকা-কানাডা সীমান্ত আসলে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা থেকে কয়েক শ মিটার সরে গেছে। সাধারণত এতে কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু মাঝেমধ্যে জটিলতা তৈরি করে।
একটা মজার উদাহরণ দিই। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে জানা গেল, কানাডার আলবার্টার কাউটস শহরটা আমেরিকার সীমানার ভেতরে প্রায় ৩৬৩ মিটার ঢুকে আছে! এমন ছোটখাটো ভুল পুরো সীমান্তজুড়েই ছড়িয়ে আছে। হিসাব করে দেখা গেছে, ভুল করে কানাডা আসলে আমেরিকার অংশের প্রায় ৬৭ বর্গকিলোমিটার জায়গা দখল করে বসে আছে।
কিন্তু কেন এমন ভুল হলো? এর কারণ লুকিয়ে আছে অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে। তখন স্যাটেলাইট বা জিপিএস ছিল না। ছিল না ওই এলাকার কোনো ভালো মানচিত্রও। ১৮০৩ সালে আমেরিকা যখন লুইজিয়ানা কিনে নিল, তখন ব্রিটিশ আর মার্কিনরা মিলে ঠিক করল, নদীর প্রবাহ দেখে সীমানা ঠিক করবে। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে দেখা গেল, ওখানকার জমি এত সমতল যে নদীর পানি কোন দিকে গড়ায়, সেটাই বোঝা দায়!
ভেজাল এড়াতে তারা ঠিক করল, সোজা ৪৯তম প্যারালাল বরাবর দাগ টেনে সীমানা দেওয়া হবে। তারা জানতও না, ওই কাল্পনিক দাগের নিচে আসলে কী আছে? পাহাড়, নদী না জঙ্গল? লন্ডনে বসে ম্যাপ আঁকিয়েরা আন্দাজে দাগ টেনে দিয়েছিল এক অজানা দুনিয়ার ওপর।
পুরোনো আমলের সেই নড়বড়ে যন্ত্র আর আন্দাজে টানা দাগের খেসারত আজও মানুষকে দিতে হচ্ছে।
সেই ভুলের মাশুল দিতে তৈরি হলো অদ্ভুত সব দ্বীপ। ওয়াশিংটনের পয়েন্ট রবার্টসের কথাই ধরো। এটা আমেরিকার অংশ, কিন্তু আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই! নিজের দেশে যেতে হলে আমেরিকানদের আগে কানাডায় ঢুকতে হবে, তারপর সেখান থেকে গাড়ি চালিয়ে যেতে হবে পয়েন্ট রবার্টসে।
একই অবস্থা মিনেসোটার নর্থওয়েস্ট অ্যাঙ্গেলে। লন্ডনের ম্যাপ আঁকিয়েদের সামান্য ভুলে এই জায়গাটা কানাডা দিয়ে পুরোপুরি ঘেরা হয়ে গেছে। তবে ভালো খবর হলো, আমেরিকা আর কানাডা ঐতিহাসিকভাবে বন্ধু দেশ। সীমানা নিয়ে তাদের এই অদ্ভুত জগাখিচুড়ি অবস্থা থাকলেও, এটা নিয়ে তারা যুদ্ধ বাধায় না। মানচিত্রের ওই আঁকাবাঁকা দাগ আর ভুলগুলো তাই ইতিহাসের এক মজার কৌতুক হয়েই টিকে আছে।
সূত্র: আইএফএল সায়েন্স

Wednesday, June 24, 2026
বিভিন্ন দেশের মধ্যে কেন সব সময় যুদ্ধ লেগে থাকে by শিউলী সুলতানা
এর পেছনে মূলত তিনটা কারণ দায়ী। স্বল্পতা, অসম বণ্টন ও ভুল বোঝাবুঝি।
প্রথমেই আসা যাক স্বল্পতার কথায়। পৃথিবীতে সবার জন্য যথেষ্ট জিনিস খাবার, তেল বা পানি নেই। এই অভাবের কারণেই দেশগুলোকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তারা ঠিক করে নেয়, কোন জিনিসটা তাদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারি। মিসরের নীল নদের কথাই ধরা যাক। এই একটা নদের পানির ওপর ভরসা করে আফ্রিকার ১১টা দেশের ৩০ কোটি মানুষ! সব দেশই চায় সেই নদের পানি। কেউ হয়তো নীল নদের পানি দিয়ে চাষাবাদ করবে, কেউ পান করবে আবার কেউ হয়তো বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। পানি যেহেতু কম, তাই মিসর আর ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলো প্রায়ই এই পানি নিয়ে ঝগড়া বাধিয়ে ফেলে। একই কথা বাংলাদেশ ও ভারতের জন্যও খাটে। তিস্তার পানি নিয়ে প্রায়শই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিবাদ লাগে।
এরপর আসা যাক দ্বিতীয় কারণে। সেটা হলো অসম বণ্টন। মানে সবার হাতে সমান ক্ষমতা বা সম্পদ নেই। কিছু দেশ খুব শক্তিশালী, আবার কিছু দেশ ততটা নয়। এই বৈষম্য দেশগুলোর একে অপরের প্রতি আচরণ বা ঝুঁকি নেওয়ার হিসাবটাই বদলে দেয়। যেমন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। এই একচেটিয়া ক্ষমতা দেখে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত বা চীনের মতো দেশগুলো একটু চিন্তায় পড়ে গেছে। কিন্তু এভাবে তো চলতে দেওয়া যায় না। তাই এসব দেশ মিলে ২০০৯ সালে নিজেদের একটা জোট তৈরি করল। সেই জোটের নাম BRICS+। ক্ষমতা যাতে ভারসাম্যে থাকে, তাই এই জোট বানানো।
তৃতীয়ত, দৃষ্টিভঙ্গি বা ভুল বোঝাবুঝি। বিবাদ লাগার সবচেয়ে মজার কারণটা হলো এই ভুল বোঝাবুঝি। ধরো, ‘ক’ নামে একটি দেশ ভাবল, ‘আমার নিরাপত্তা দরকার’। এই ভেবে দেশটি কিছু অস্ত্র বানাল। কিন্তু তার প্রতিবেশী ‘খ’ দেশ ভাবল, ‘ও তো আমাকে আক্রমণ করার জন্য অস্ত্র বানাচ্ছে! তাহলে আমাকেও অস্ত্র বানাতে হবে।’ ব্যস, ‘খ’ দেশও ভয়ে ভয়ে আরও বেশি অস্ত্র বানানো শুরু করল।
ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছিল ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে। ১৯৭০-এর দশকে ভারত যখন নিজের সুরক্ষার জন্য পারমাণবিক বোমা বানাল, পাকিস্তান ভাবল এটা তাদের জন্য হুমকি। ফলে পাকিস্তানও পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলল। আর সেই থেকে দুটো দেশের মধ্যে রেষারেষি লেগেই আছে।
এবার সম্পূর্ণ বিষয়টা বোঝার জন্য একটা গল্প বলি। ধরো, রনি ও জনি খুব ভালো বন্ধু। ক্লাসের টিচার তাদের দুজনকে দুটো আলাদা দলের নেতা বানিয়ে দিলেন। ক্লাসের বাকিরাও অন্য দলের নেতা হলো। খেলাটা হলো, কার হাতে কত পয়েন্ট আছে, কে কত শিল্প বানাতে পারে এবং কে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারে।
খেলাটায় একটা সমস্যা ছিল। খেলার পয়েন্ট সীমিত। সবাইকে তাদের দরকারি জিনিস সেই পয়েন্ট দিয়ে বেছে নিতে হবে। খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই দেখা গেল, দুই ভালো বন্ধু রনি ও জনি আর একে অপরকে বিশ্বাস করতে পারছে না! অথচ তারা কিন্তু ভালো বন্ধু ছিল। এখন একজন অন্যজনকে টেক্কা দেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করেছে।
এই ক্লাসরুমের খেলাটাই হলো পুরো পৃথিবীর চিত্র। দেশগুলো সবাই হয়তো শান্তিই চায়। কিন্তু ওই যে অভাব, বৈষম্য আর ভুল বোঝাবুঝি আছে; এ জন্য সবার পক্ষে সব সময় মিলেমিশে থাকা সম্ভব হয় না।
তবে হ্যাঁ, এই সত্যিটা যদি সবাই বুঝতে পারে, এই কারণগুলো যদি জানতে পারে, তাহলে হয়তো দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বাস বাড়ানো সহজ হবে। আর তখনই শান্তি আসলেও আসতে পারে!
সূত্র: কিউরিয়াস কিডস
![]() |
| ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। ফাইল ছবি: এএফপি |
Friday, May 22, 2026
নাসার শব্দহীন সুপারসনিক বিমান পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করেছে
শব্দের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক এলাকায় এই বিমান চালানো নিষিদ্ধ। আবার এই বিমানে যাত্রী পরিবহন করাও নিষেধ। এই সমস্যা দূর করতে একটি প্রায় শব্দহীন বিমান তৈরি করেছে নাসা ও লকহিড মার্টিন কোম্পানি। বিমানটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফলভাবে শেষ করেছে।
বিশেষ এই বিমানের নাম এক্স-৫৯। প্রথমবারের মতো এটি আকাশে উড়ল। বিমানটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যেন এটি শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়লেও জোরালো সনিক বুম তৈরি না করে। প্রচলিত সনিক বুমের বদলে এটি খুব হালকা ‘থাম্প’ ধরনের শব্দ করে।
এই সফল উড্ডয়ন বিমান পরিষেবাকে এগিয়ে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সুপারসনিক যাত্রীবিমান চালুর পথে বড় অগ্রগতি। ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সুপারসনিক যাত্রীবিমান চালানো নিষিদ্ধ।
প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন
এক্স-৫৯-এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছিল প্রায় এক ঘণ্টার জন্য। বিমানটি গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পামডেলে লকহিড মার্টিনের স্কাঙ্ক ওয়ার্কস ফ্যাসিলিটি থেকে আকাশে ওড়ে। ওড়া শেষে নাসার আর্মস্ট্রং ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টারে অবতরণ করে।
এই পরীক্ষায় বিমানটির গতি ছিল সর্বোচ্চ ঘণ্টায় প্রায় ৩৮৬ কিলোমিটার। এটি ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়েছে। তবে এই উড্ডয়নে সুপারসনিক গতি তোলা হয়নি। কারণ, এই উড্ডয়নের লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা।
কতটা শক্তিশালী এই বিমান
লকহিড মার্টিনের তথ্য অনুযায়ী, এক্স-৫৯ সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪৮৯ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারবে। যা যাত্রীবাহী বোয়িং ৭৪৭-এর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিমানটি ওড়ার জন্য উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ হাজার ফুট (১৬ হাজার ৭৬৪ মিটার)। এটির ডানার প্রস্থ ৩০ ফুট, উচ্চতা ১৪ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ১০০ ফুট। লম্বা নাকের কারণে অনেকেই এটিকে সোর্ডফিশের সঙ্গে তুলনা করেন।
এক্স-৫৯-এর সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বৈশিষ্ট্য হলো অবিশ্বাস্য লম্বা নাক। পাশ থেকে দেখলে এটি খুব সরু হয়ে শেষ হয়েছে মনে হয়। এমন নকশার কারণ, শকওয়েভের আকার বদলে দেয় এই আকৃতি। ফলে সুপারসনিক গতিতে উড়লেও জোরালো সনিক বুম তৈরি করে না।
সনিক বুম কেন হয়
যখন কোনো বিমান শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত ওড়ে, তখন এর সামনে জমে থাকা বাতাস দ্রুত সরে যেতে পারে না। চাপের ফলে শব্দতরঙ্গগুলো একসঙ্গে মিলে একটি বড় শকওয়েভ তৈরি করে। এটিই সনিক বুম। এই শব্দ বজ্রপাতের শব্দের মতো শোনায়। সনিক বুম ভবন ও জানালার ক্ষতি করতে পারে।
১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটিতে ছয় মাসের একটি গবেষণায় দেখা যায়, বারবার সনিক বুম মানুষকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে। জানালা ভেঙে ফেলতে এবং ভবনের ক্ষতি করতে পারে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি চারজনের একজন তখন জানিয়েছিলেন, এ ধরনের শব্দে তাঁরা কখনো অভ্যস্ত হতে পারবেন না।
কীভাবে শব্দ কমায় এই বিমান
এই বিমানের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যেন এটি বড় একটি শকওয়েভকে ভেঙে অনেকগুলো ছোট শকওয়েভে ভাগ করে ফেলে। এ কারণে বিমানটি উড়লে বড় বুমের বদলে শোনা যাবে মাত্র একটি হালকা ‘থাম্প’ ধরনের শব্দ। গাড়ির দরজা জোরে বন্ধ করলে যেমন শব্দ হয়।
১৮৬৪ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী অগাস্ট টোপলার শকওয়েভ ভাগ করার কৌশল আবিষ্কার করেন। দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি বায়ুচাপের পরিবর্তনে আলোর বেঁকে যাওয়ার নীতি ব্যবহার করে। বিমানের এই তথ্য থেকে প্রকৌশলীরা জানতে পারেন, বিমানটির বাস্তব উড্ডয়ন আগে করা হিসাবের সঙ্গে মিলছে কি না।
আগামী পরীক্ষাগুলোয় এক্স-৫৯ সুপারসনিক গতিতে উড়বে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে মানুষের প্রতিক্রিয়া জানতে বিমানটিকে ব্যবহার করা হবে। মানুষ নতুন ধরনের এই নিঃশব্দ সুপারসনিক বিমানকে কীভাবে গ্রহণ করে যাচাই করে দেখা হবে। এটি সফল হলে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সুপারসনিক যাত্রীবিমান চালুর পথ খুলে যেতে পারে। তবে আগের মতো কানে তালা লাগিয়ে না, অনেকটা নিঃশব্দে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স

Tuesday, April 21, 2026
বয়স বাড়লে সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে মনে হয় কেন by কাজী আকাশ
বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর জানতে গবেষণা করেছেন। যুক্তরাজ্য কমিউনিকেশনস বায়োলজি জার্নালে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। এ গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা কেমব্রিজ সেন্টার ফর এজিং অ্যান্ড নিউরোসায়েন্স (ক্যাম–ক্যান) থেকে তথ্য–উপাত্ত নিয়েছেন, যা মস্তিষ্কের বার্ধক্য নিয়ে চলা একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের অংশ। এ গবেষণায় মোট ৫৭৭ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন।
গবেষণায় অংশ নেওয়া সবাইকে জনপ্রিয় পুরোনো টেলিভিশন সিরিজ আলফ্রেড হিচকক পরিচালিত ‘ব্যাং! ইউ আর ডেড’ নামক একটি পর্বের আট মিনিটের একটি অংশ দেখানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা যখন ক্লিপটি দেখছিলেন, তখন তাঁদের মস্তিষ্কের ফাংশনাল এমআরআই স্ক্যান রেকর্ড করা হয়। এই স্ক্যানগুলো দেখে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মানুষের মস্তিষ্কের কাজের ধরনে কেমন পরিবর্তন আসে।
গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে এ ক্লিপটি বেছে নিয়েছিলেন। কারণ, আগের গবেষণাগুলো দেখিয়েছিল, অন্য যেকোনো ভিডিওর চেয়ে এটি দেখলে বিভিন্ন মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ সবচেয়ে বেশি একই রকম হয়। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক কীভাবে তথ্য গ্রহণ করে বা ঘটনাগুলো মনে রাখে, তা বোঝার জন্য এ ক্লিপটি ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত।
গবেষণার জন্য ১৮ থেকে ৮৮ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের স্ক্যান করা তথ্য পরীক্ষা করা হয়। গবেষকেরা ‘গ্রিডি স্টেট বাউন্ডারি সার্চ’ নামের একটি বিশেষ কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন গবেষকেরা। এ প্রোগ্রামটির কাজ মস্তিষ্ক যখন এক অবস্থা থেকে আরেক স্থিতিশীল অবস্থায় যায়, সেই পরিবর্তনের মুহূর্তগুলো বা ঘটনা দ্রুত চিহ্নিত করা। আট মিনিটের ক্লিপটি দেখার সময় দেখা গেল, কম বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ দ্রুত নতুন অবস্থায় পরিবর্তিত হচ্ছিল। অর্থাৎ তাঁদের মস্তিষ্কে ঘটনা বেশি রেকর্ড হচ্ছিল। কিন্তু বয়স্কদের মস্তিষ্কের একটি অবস্থা কম বয়সীদের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে টিকে ছিল। অর্থাৎ তাঁদের মস্তিষ্কে ঘটনা কম রেকর্ড হয়েছে।
গবেষকদের মতে, একই সময়ের মধ্যে মস্তিষ্কের একটি অবস্থা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বয়স্কদের কাছে সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। এ পর্যবেক্ষণটি প্রাচীন দার্শনিক অ্যারিস্টটলের সেই ধারণার সঙ্গে মেলে। যেখানে বলা হয়েছিল, একটি নির্দিষ্ট সময়ে জীবনে যত বেশি স্মরণীয় বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে, সে সময়টি আমাদের কাছে তত দীর্ঘ মনে হয়। বয়স্কদের মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট সময়ে কম ঘটনা বা পরিবর্তন মনে রাখে। এ কারণেই হয়তো তাঁদের কাছে মনে হয়, সময় বা জীবন দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
যদিও সময় দ্রুত চলে যাওয়ার এ বিষয়টি এখনো শুধু একটি প্রাথমিক অনুমান গবেষকদের। তবুও বিজ্ঞানীরা একে বেশ যৌক্তিক মনে করছেন। গবেষকেরা বলছেন, বয়স্কদের মস্তিষ্কে যে বয়স–সম্পর্কিত নিউরাল ডিফারেন্সিয়েশন নামে একটি ঘটনা ঘটে, সেটাই হয়তো এর মূল কারণ। সহজ কথায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের কার্যকলাপ কম সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়। যে নিউরনগুলো আগে শুধু মুখ চিনতে ব্যবহার হতো, সেগুলো এখন অন্যান্য বস্তুর প্রতিও সাড়া দিতে শুরু করে। গবেষকদের ধারণা, মস্তিষ্কের এই সাধারণীকরণের ফলে কোনো একটি ঘটনা কখন শেষ হচ্ছে এবং কখন আরেকটি শুরু হচ্ছে, তা মস্তিষ্ক স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে না। আর এ কারণেই হয়তো বয়স্কদের কাছে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। যদিও গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু এই একটি কারণ হয়তো পুরো রহস্যের ব্যাখ্যা দিতে পারবে না।
সূত্র: লাইভসায়েন্স
![]() |
| ছবি: লাইভসায়েন্স |
Friday, April 17, 2026
বিদায় নেওয়ার সময় মানুষ কেন টাটা বলে, রতন টাটার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী
কেউ মারা গেলে আমরা যেভাবে বুঝতে পারি, তিনি আর ফিরে আসবেন না, কুকুর বিষয়টি সেভাবে বুঝতে পারে না। কুকুর অনুপস্থিত লোকটির জন্য অপেক্ষা করে। মনে করে, তিনি বাইরে আছেন, ফিরে আসবেন। কুকুরের প্রতিদিনের কার্যক্রমে ওই মানুষটির ভূমিকা থাকে। তিনি হয়তো কুকুরটিকে খাওয়ান, যত্ন নেন। কুকুরটি তাঁর ওপর নির্ভর করে। মানুষটি মারা গেলে তাঁর অনুপস্থিতি কুকুরের প্রতিদিনের নিয়মে ব্যাঘাত ঘটে। কুকুর নিজের নিয়মে ফিরে যেতে চায়। তাই লোকটির জন্য অপেক্ষা করে। তখন আমরা মনে করি, লোকটি মরে যাওয়ায় প্রাণীটি শোক করছে। রতন টাটার ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছে।
রতন টাটার মৃত্যুর সঙ্গে আসলে টাটা শব্দ দিয়ে বিদায় জানানোর তেমন সম্পর্ক নেই। তবে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা রতন টাটার মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ব্যবসার বিদায় নিয়ে লেখালেখি হয়েছিল। রতন টাটার সঙ্গে বিদায়ের সম্পর্ক এতটুকুই। রতন টাটার পারিবারিক নাম ‘টাটা’। এর সঙ্গে বিদায়সূচক 'টাটা' শব্দের মধ্যে অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। টাটা নামটি ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক পরিচয় বহন করে। ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসে টাটা জনপ্রিয় নাম। আমাদের দেশে রাস্তায় চলাচল করা গাড়ির অনেকগুলোই টাটা ব্র্যান্ডের। টাটা গোষ্ঠীর বহু পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ঘরে ঘরে ব্যবহার হয়। এর পেছনে ছিলেন রতন টাটা।
বিদায় জানানোর ভাষা হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে ‘টাটা’ শব্দটা বেশ জনপ্রিয়। প্রশ্ন হলো, আমরা কেন ‘টাটা’ ব্যবহার করি? আমরা বিদায় জানানোর সময় যে ‘টাটা’ শব্দটি ব্যবহার করি, তা মূলত ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষা থেকে এসেছে। এটি আনুষ্ঠানিক ‘গুডবাই’ বা ‘ফেয়ারওয়েল’-এর বিকল্প। উনিশ শতকের শেষ দিকে ব্রিটিশ সংস্কৃতিতে এই শব্দ প্রচলিত হয়। শব্দটি মূলত ব্রিটিশ ককনি উপভাষা বা আঞ্চলিক ঘরোয়া ইংরেজি থেকে এসেছে। প্রিয়জনকে যেভাবে বিদায় দিই, যেখানে আনুষ্ঠানিকতা কম থাকে, সেখানে আমরা টাটা শব্দ ব্যবহার করি। শব্দটি খানিকটা বন্ধুত্বপূর্ণ, খানিকটা কম আনুষ্ঠানিক।
এই শব্দ দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণ, শিশুরা খুব সহজে এটি বলতে পারে। মা-বাবা যখন শিশুকে নিয়ে কাউকে বিদায় জানানোর জন্য আসেন, তখন তাঁরা যদি বলেন, বিদায়, ভালো থাকবেন, আবার আসবেন। তখন ভাষা শেখেনি, এমন শিশুরা কথাগুলো বলতে পারে না বা বিদায় জানাতে পারে না। তবে তারা আধো আধো শব্দে তাতা বা টাটা বলতে পারে। তারা তাতা বললে মা–বাবা বলেন, বাবা বলো, ‘টাটা’। এতে নরম করে বিদায় জানানো সম্ভব হয়। পাশাপাশি শিশুর ভাষা শেখাও সহজ হয়। ভাষা অনুশীলন করা হয়।
এ ছাড়া শিশুরা যখন হাত নেড়ে বিদায় জানায়, তখন এই ধ্বনি অনেক সময় একা একা মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। কিছু ভাষায় টাটা শব্দের অর্থ বাবা। বাবা যখন সকালে কাজে বের হন, শিশুরা তখন বাবাকে বিদায় জানাতে হাত নাড়ে আর বলে, টাটা। মানে বাবা। এভাবেই এই শব্দটি কিছু অঞ্চলে প্রচলিত শব্দ হয়ে উঠেছে। শিশুদের থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সন্তানকে বাবা বলেন অনেকেই। সে ক্ষেত্রেও টাটা শব্দটি ব্যবহার করেন বাবারা। এভাবে শিশুর সঙ্গে কথা বলার সময় বা বিদায়ের সময় এই শব্দের ব্যবহার শুরু হয়।
ব্রিটিশ উপনিবেশের প্রভাবে ভারতসহ অন্য কমনওয়েলথ দেশগুলোতে এই শব্দ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে এটি এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিদায় জানাতে এই শব্দ খুব কাছের মানুষ হওয়ার অনুভূতি দেয়।
আনুষ্ঠানিক পরিবেশে আমরা সাধারণত বাংলায় ‘বিদায়’ শব্দটি ব্যবহার করি। অনেকে ইংরেজিতে ‘গুডবাই’, ‘ফেয়ারওয়েল’ অথবা ‘টেক কেয়ার’ ব্যবহার করে। কর্মক্ষেত্রে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়। এভাবে বিদায় জানিয়ে সম্মান জানানো আর পেশাদারত্ব বজায় থাকে। অন্যদিকে, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী বা পরিচিতদের সঙ্গে বিদায়ের জন্য আমরা বাংলায় ‘আসি’, ‘দেখা হবে’। ইংরেজিতে টাটার পাশাপাশি ‘বাই’, ‘সি ইউ লেটার’, ‘হ্যাভ আ গুড ডে’ ব্যবহার করি।
‘টাটা’ শব্দটা উচ্চারণ করা বেশ সহজ। শব্দটা কানে শুনতে বেশ ভালো লাগে। তাই বিদায়কে সহজ, হালকা আর বন্ধুত্বপূর্ণ করার জন্যই মূলত আমরা টাটা বলি। তুমি চাইলে অন্য কিছু বলেও বিদায় নিতে পারো।
সূত্র: কিশোর আলো, রবার্ট ক্লেমেন্টসের ব্লগ
![]() |
| এআই দিয়ে তৈরি |
Thursday, April 16, 2026
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিমান এত আধুনিক, সিঁড়ি কেন সেকেলে by আসহাবিল ইয়ামিন
এই হাতল ধরা সিঁড়ি বেয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মকর্তাদের মাঝেমধ্যে হোঁচট খেতে দেখা যায়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে এই সিঁড়িতে হোঁচট খেয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যেতেও দেখা গেছে। তিনি আসলে বেশ কয়েকবারই হোঁচট খেয়েছেন। জো বাইডেনের সেই হোঁচট খেয়ে পড়ার মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরালও হয়েছিল।
মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যেন জো বাইডেনের পথেই হাঁটছেন। কারণ, গত জুন মাসে একটি ভিডিও খুব ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় হঠাৎ হোঁচট খেয়েছেন। নিউ জার্সির মরিসটাউনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি যখন ক্যাম্প ডেভিড যাওয়ার জন্য বিমানে উঠছিলেন, তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সামনেই তাঁকে হোঁচট খেতে দেখা যায়। এই ভিডিও ক্লিপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
যে দেশে আধুনিকতম সব প্রযুক্তি আছে, সেখানে কেন প্রেসিডেন্টের জন্য এমন ‘সেকেলে’ সিঁড়ির ব্যবস্থা? কেনই বা একটি উন্নত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য আধুনিক, হাইড্রোলিক বা স্বয়ংক্রিয় সিঁড়ি ব্যবহার করা হয় না?
মার্কিন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার চার্লস গ্রিমস বেশ কিছু কারণ জানান, কেন এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাধারণ সিঁড়ি এখনো ব্যবহার করা হয়। প্রথমে আসে প্রেসিডেন্টকে যখন বিমানে ওঠানো বা নামানো হয়, তখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় নিরাপত্তাকে। এ কারণেই এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কখনোই সাধারণ টার্মিনাল ভবনের কাছে পার্ক করা হয় না। বরং বিমানটিকে সব সময় টার্মিনাল থেকে দূরে একটি নিরাপদ ও ফাঁকা জায়গায় রাখা হয়। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের থেকে দূরে, চারপাশ ঘেরা ও সুরক্ষিত নিরাপত্তাবলয় খুব সহজেই তৈরি করা সম্ভব হয়। এই নিরাপত্তাব্যবস্থাই এই সাধারণ সিঁড়ি ব্যবহারের প্রধান কারণ।
সাধারণ বিমানবন্দর টার্মিনালগুলো সব সময়ই অসংখ্য অচেনা যাত্রীতে ঠাসা থাকে। এত ভিড়ের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যাওয়া মানেই বিরাট নিরাপত্তাঝুঁকি। টার্মিনালকে বারবার খালি করা, আর এত যাত্রীকে ঘন ঘন তল্লাশি করে প্রেসিডেন্টকে তাঁদের থেকে দূরে রাখা কার্যত অসম্ভব। তাই এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাধারণত এই সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়, যা প্রেসিডেন্টকে দ্রুত সুরক্ষিত বিমানে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। এটিই প্রেসিডেন্টের জন্য সবচেয়ে সুরক্ষিত ব্যবস্থা।
আধুনিক সিঁড়ি ব্যবহার না করার পেছনে একটি বড় কারণ হলো জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ বা জনসংযোগ। প্রেসিডেন্ট যখন এই সিঁড়ি দিয়ে ওঠেন বা নামেন, তখন তিনি দর্শকদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। সিঁড়ির নিচে পাতা লালগালিচা, সামরিক ও ভিআইপিদের উপস্থিতিতে দেওয়া অভ্যর্থনা—পুরো দৃশ্যটাই ছবি তোলার জন্য দারুণ মুহূর্ত তৈরি করে। এটা শুধু নিরাপত্তা বা সুবিধার জন্য নয়। বরং অনেকটা ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। এ জন্য মনে করা হয় যে এভাবে প্রেসিডেন্ট মানুষকে তাঁর ক্ষমতা দেখাতে ও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারেন।
এ ছাড়া সুবিধার দিক থেকেও এই সাধারণ সিঁড়ি সেরা। সাধারণত যাত্রীদের জেট ব্রিজ থেকে নেমে টার্মিনাল, ব্যাগেজ এরিয়া পার হয়ে বাইরে অপেক্ষমাণ গাড়িতে যেতে হয়, যা অনেক সময়ের ব্যাপার। কিন্তু প্রেসিডেন্ট সিঁড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই মাত্র কয়েক ফুট হেঁটে তাঁর অপেক্ষায় থাকা লিমোজিনে উঠে যেতে পারেন। তাই বিমানটিকে এমন একটি স্থানে রাখা হয় যেখানে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী লিমোজিন, সিক্রেট সার্ভিসের ১৫ থেকে ২০টি গাড়ির পুরো বহর একসঙ্গে যেতে পারে। এ ধরনের বিশাল বহরের জন্য টার্মিনালের কাছে জায়গা পাওয়া কঠিন। সিক্রেট সার্ভিস কখনোই চাইবে না যে প্রেসিডেন্ট সাধারণ যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে হেঁটে টার্মিনালের বাইরে থাকা লিমোজিনে উঠুন।
বাইরে থেকে লিফটের মতো কোনো ব্যবস্থা তৈরি করে প্রেসিডেন্টকে বিমান থেকে নামানো যেতে পারে। কিন্তু নিরাপত্তার দিক থেকে সেটি পুরোপুরি নিরাপদ না–ও হতে পারে। আবার দেখতেও কিছুটা হাস্যকর লাগতে পারে। এ কারণেই কোনো প্রেসিডেন্টই এখন পর্যন্ত আধুনিক, হাইড্রোলিক বা স্বয়ংক্রিয় সিঁড়ি ব্যবহার করেননি এয়ার ফোর্স ওয়ানে।
![]() |
| এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠতে গিয়ে লালগালিচায় মোড়া সিঁড়িতে পরপর তিনবার হোঁচট খান জো বাইডেন। মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রু বিমানঘাঁটি, ২০২১ সালের মার্চে তোলা। ছবি: রয়টার্স |
জাপানে কিছু মানুষ স্বেচ্ছায় হারিয়ে যায় কেন by আসহাবিল ইয়ামিন
জাপানে স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বলা হয় জুহাতসু (Jōhatsu)। জাপানি এই শব্দটির অর্থ ‘বাষ্পীভবন’। চুলায় পানি জ্বাল দিলে পানি বাষ্প হয়ে বাতাসে হারিয়ে যায়। জুহাতসুরাও স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত জীবন থেকে কোনো চিহ্ন না রেখে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান। এই ঘটনা জাপানে বেশ পরিচিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এমন ঘটনা দেখা যায়।
জাপানের সমাজ ও কর্মক্ষেত্র অন্য অনেক দেশের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে নিয়ম মানা ও ব্যক্তিগত সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া জাপানের মানুষ কাজপ্রিয়। প্রচণ্ড পরিশ্রমী তাঁরা। একসময় এই কাজের চাপ থেকে বের হতে পারেন না অনেকেই। আবার জাপানে অনেক মানুষ একা থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিক আবহ কম পান তাঁরা। এসব কারণে জুহাতসুর মতো ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়। জাপানি সংস্কৃতিতে চাকরি ছেড়ে দেওয়া বা কোনো কাজে ব্যর্থ হওয়াকে লজ্জাজনক মনে করা হয়। এ ধরনের সামাজিক চাপ থেকে জন্ম নেওয়া মানসিক কষ্ট এত তীব্র হতে পারে যে অনেকেই তা আর সহ্য করতে পারেন না।
জাপানে কারোশি মানে অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর ঘটনাও দেখা মেলে। এগুলো জাপানের গভীর সামাজিক সমস্যার একটি দিক। এই মানুষগুলো মনে করেন এভাবে উধাও হয়ে গেলে তাঁরা নিজেদের সম্মান বাঁচাতে পারবেন। সঙ্গে পরিবারও আর্থিক বোঝা থেকে মুক্তি পাবে।
জাপানে এমন কিছু কোম্পানি আছে, যারা সবকিছু ছেড়ে চিরতরে হারিয়ে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সাহায্য করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাপানি ভাষায় বলা হয় ইয়োনিগে-ইয়া। ইংরেজিতে ‘নাইট মুভিং সার্ভিস’, অর্থাৎ রাতের বেলায় উধাও হয়ে যাওয়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। যেখানে তারা কোনো চিহ্ন না রেখে গোপনে একজন ব্যক্তিকে তার বর্তমান জীবন থেকে গায়েব করে দিতে পারে। এর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয় সেই নাইট মুভিং সার্ভিস কোম্পানিকে।
নাইট মুভিং সার্ভিসের জন্য খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ইয়েন। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৫৪ হাজার ৭৪৭ থেকে ৩ লাখ ১৬ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। তবে টাকার পরিমাণ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন, সম্পত্তির পরিমাণ, গন্তব্যের দূরত্ব, রাতের বেলা ভ্রমণ, শিশুদের সঙ্গে নেওয়া বা ঋণ আদায়কারীদের থেকে পালানোর মতো বিষয়গুলো। অনেকেই অবশ্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুসরণ করে নিজেই নিখোঁজ হন।
জাপানে স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হওয়া মানুষদের খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন। অনেক সময় ব্যক্তিগত গোয়েন্দা সংস্থা দিয়েও তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায় না। এর প্রধান কারণ জাপানের কঠোর গোপনীয়তা আইন। কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা না ঘটলে পুলিশ এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত হস্তক্ষেপ করে না। তা ছাড়া, নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ না থাকায় তাঁদের খুঁজে বের করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
যারা নিখোঁজ হন, তাঁদের অনেকেই টোকিও বা ওসাকার মতো এলাকায় আশ্রয় নেন। এসব এলাকায় পরিচয়পত্র ছাড়াই নগদ অর্থে কাজ করা যায়। তাই তাঁরা সেখানে সহজেই লুকিয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব এলাকা অনেক সময় জাপানি অপরাধ চক্র ইয়াকুজাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জুহাতসু শব্দটি ১৯৬০-এর দশকে প্রথম ব্যবহৃত হয়। তখন এটি সেইসব মানুষ প্রসঙ্গে ব্যবহার করা হতো যাঁরা আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদের ঝামেলা এড়াতে অসুখী দাম্পত্য জীবন থেকে হঠাৎ করে পালিয়ে যেতেন।
তবে ১৯৯০-এর দশকে জাপানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দা দেখা দেয়। এই সময়ে বহু মানুষ চাকরি হারান এবং বিপুল ঋণে জড়িয়ে পড়েন। এর থেকেই জুহাতসুর প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় জাপানে। অর্থাৎ, শব্দটি বিবাহবিচ্ছেদ এড়ানো থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক বা সামাজিক চাপ থেকে পালানোর একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।
জাপানে জুহাতসু একটি স্পর্শকাতর এবং গোপনীয় বিষয়। সাধারণত প্রকাশ্যে আলোচনা করা হয় না এ বিষয়ে। প্রতিবছর ঠিক কত মানুষ নিখোঁজ হন, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয়, প্রতিবছর লক্ষাধিক জাপানি উধাও হন।
যদিও ২০১৫ সালে জাপানের জাতীয় পুলিশ সংস্থা ৮২ হাজার নিখোঁজ ব্যক্তিকে নথিভুক্ত করেছিল। তবে জাপানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করা হয়। মিসিং পারসনস সার্চ সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের জানিয়েছে প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ নিখোঁজ হন জাপানে। ২০২৪ সালে এ বিষয়ে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম বানান জার্মান পরিচালক আন্দ্রেয়াস হার্টম্যান ও আরাতা মোরি। জুহাতসুর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও এই কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে সিরিজটি।
সূত্র: বিবিসি
![]() |
| ২০১৫ সালে জাপানের জাতীয় পুলিশ সংস্থা ৮২ হাজার নিখোঁজ ব্যক্তিকে নথিভুক্ত করেছিল। ছবি: ইউকিও জাপান |
Wednesday, April 15, 2026
মহাকাশেও বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রাণী এই প্রথম পাওয়া গেল by আসহাবিল ইয়ামিন
টার্ডিগ্রেডদের সাধারণত ‘পানি ভাল্লুক’ নামে ডাকা হয়। ১৭৭৩ সালে জার্মান বিজ্ঞানী জোহান অগস্ট এফ্রাইম গোয়েজ প্রথম এই প্রাণীকে আবিষ্কার করেন। তিনি এদের অদ্ভুত চেহারা ও ধীরগতির জন্য ‘ছোট পানি ভালুক’ নাম দেন। এর তিন বছর পর ইতালীয় জীববিজ্ঞানী লাজারো স্পালানজানি এদের ধীরগতি দেখে এই গ্রুপের নামকরণ করেন ‘টার্ডিগ্রেড’, যার অর্থ ধীরগতির পদচারী। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রজাতির টার্ডিগ্রেড শনাক্ত করেছেন।
টার্ডিগ্রেড নিঃসন্দেহে পৃথিবী ও মহাকাশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাণীদের একটি। এসব পানি ভালুকগুলো হিমালয়ের চূড়া থেকে গভীর সাগরের তলদেশ পর্যন্ত সব ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতে পারে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, যেমন প্রচণ্ড তাপ, তীব্র ঠান্ডা বা শুষ্ক পরিবেশে টার্ডিগ্রেডরা নিজেদের শরীর থেকে প্রায় সব পানি বের করে দেয়। এতে এরা একটি শুকনো গুটিতে পরিণত হয়। এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ‘টন’। এ অবস্থায় এদের বিপাকক্রিয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যতক্ষণ না পরিস্থিতি আবার অনুকূল হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এরা এ অবস্থায় থাকতে পারে। এরপর চারপাশের পরিবেশে সামান্য পানি পেলেই এরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। বিজ্ঞানীরা আগেই জানতেন যে টার্ডিগ্রেডরা ‘টন’ নামক এক বিশেষ অবস্থায় গিয়ে চরম পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, কীভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বিজ্ঞানীরা অবশেষে সেই রহস্যের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি প্লস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এ–সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানান হয়। গবেষণাপত্রে জানান হয়েছে, যখন কোনো প্রতিকূল পরিবেশে পড়ে, তখন টার্ডিগ্রেডের কোষ থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব পদার্থ সিস্টাইন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, যা টার্ডিগ্রেডের প্রোটিনের গঠন পরিবর্তন করে। এই পরিবর্তনের ফলেই প্রাণীটি সেই বিশেষ ‘টন’ অবস্থায় প্রবেশ করে, যা এটিকে চরম পরিস্থিতিতেও বাঁচিয়ে রাখে।
টার্ডিগ্রেডকে খালি চোখে দেখা গেলেও এদের আকার এতই ক্ষুদ্র যে তা সহজে চোখে পড়ে না। ওয়ার্ল্ড টার্ডিগ্রেডা ডেটাবেজ অনুসারে, এরা সাধারণত ০.০১ থেকে ১ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এই ছোট্ট প্রাণীর পুরো শরীর গঠিত মাত্র এক হাজার কোষ দিয়ে। যেখানে মানুষের শরীরে রয়েছে অসংখ্য ট্রিলিয়ন কোষ।
তুমি যদি মাইক্রোস্কোপ দিয়ে টার্ডিগ্রেড দেখো, তাহলে এর ক্ষুদ্র দেহে কোনো হাড় দেখতে পাবে না। হাড়ের বদলে এদের একটি তরলে পরিপূর্ণ অংশ থাকে, যাকে বলে হিমোলিম্ফ। মানুষের রক্তের মতোই, এই হিমোলিম্ফ পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এদের মেরুদণ্ড না থাকলেও সম্পূর্ণ স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে, যা মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে সংকেত পাঠায়। এটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ডের মতোই কাজ করে। এদের সম্পূর্ণ পরিপাকতন্ত্র থাকলেও কোনো সংবহন বা শ্বাসযন্ত্র নেই। পানি থেকে অক্সিজেন সরাসরি এদের ত্বকের মধ্য দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। শরীরের ভেতর পুষ্টি ও অক্সিজেন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এরা পেশিগুলো সংকুচিত করে।
টন অবস্থায় থাকা টার্ডিগ্রেডরা মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এরা বিকিরণ, ফুটন্ত তরল এবং সাগরের গভীরতম অংশের চেয়ে ছয় গুণ বেশি চাপ সহ্য করতে পারে। টন অবস্থায় থাকা কিছু টার্ডিগ্রেডকে উচ্চগতির বন্দুক থেকে গুলি করেও দেখা গেছে যে এরা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০০ মিটার বেগে ছুটে যাওয়ার পরও বেঁচে থাকে।
টার্ডিগ্রেডের এই ক্ষমতা শুধু পৃথিবীর পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে এরা মহাকাশের ভয়ংকর অবস্থা সহ্য করতে পারে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইসার) ২০০৭ সালে ফোটন-এম৩ নামের একটি মহাকাশ অভিযানে হাজার হাজার টার্ডিগ্রেডকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এদের মহাকাশের শূন্যে, তীব্র সৌর বিকিরণ ও মহাজাগতিক রশ্মির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়ে দেখেন যে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর এদের বেশির ভাগই বেঁচে আছে। এমনকি বংশবৃদ্ধিও করেছে। পানিশূন্য অবস্থায় কিছু টার্ডিগ্রেড পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১০ দিন পর্যন্ত টিকে ছিল।
বেশির ভাগ টার্ডিগ্রেড উদ্ভিদ, শৈবাল ও ছত্রাকের কোষ থেকে তরল শুষে খেয়ে জীবন ধারণ করে। তবে কিছু প্রজাতির টার্ডিগ্রেড আছে যারা নেমাটোড এবং অন্য টার্ডিগ্রেডের মতো ক্ষুদ্র প্রাণীদেরও খায়। এদের নিয়ে এখনো গবেষণা শেষ হয়নি।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স, সায়েন্টিফিল আমেরিকান, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
![]() |
| টার্ডিগ্রেডের এই ক্ষমতা শুধু পৃথিবীর পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ছবি: পপুলার মেকানিকস |
কফির গন্ধে ধরা পড়ল পালানো বানর
শহরের উৎসব ইউটাভিল ক্র্যাপি ক্ল্যাসিক অ্যান্ড ফল ফেস্টে সবাই যখন আনন্দে ব্যস্ত, তখন হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ে—একটা বানর নাকি রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
টাউন ক্লার্ক কেইসি হিল প্রথমে ভাবলেন, এটা হয়তো কারও মজার গল্প।
পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসে প্রত্যক্ষদর্শীদের তোলা ছবি। ছবিতে দেখা যায়, একটি স্পাইডার বানর রাস্তায় দৌড়াচ্ছে।
তখন ব্যাপারটা সত্যি বলেই মনে হলো।
কিছুক্ষণ খোঁজার পর তাঁরা দেখেন, বানরটি বসে আছে এক নরসুন্দরের দোকানের গাড়ির পেছনে।
কেইসি হিল তখন শহরের মেয়র ব্র্যান্ডন ও তাঁর স্ত্রী লরাকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন বানর উদ্ধার অভিযানে।
কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাঁরা দেখলেন, বানরটি বসে আছে এক নরসুন্দরের দোকানের গাড়ির পেছনে। কিন্তু তাঁরা এগোতেই বানরটি চমকে উঠে ছুটল সাউথ ক্যারোলাইনার ফার্স্ট ন্যাশনাল ব্যাংকের দিকে।
বানরটি আতঙ্কে চেঁচামেচি করছিল। তখন কেইসির মাথায় এল এক দারুণ কৌশল। তিনি নিজের গরম কফির কাপটা মাটিতে রেখে ঢাকনাটা খুলে দিলেন। তারপর একটু পিছিয়ে গেলেন।
কফির গন্ধে বানরটি এগিয়ে এল। কৌতূহলভরে কাপের ভেতর তাকাতেই কেইসি পা দিয়ে আলতো করে তার শরীরের সঙ্গে বাঁধা রশি চেপে ধরলেন। এভাবে বানর ধরা পড়ল।
অল্পক্ষণের মধ্যেই একজন নারী এসে জানালেন, বানরটি তাঁর পোষা। নাম এভা।
জানো কি, স্পাইডার বানর মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার অরণ্যের প্রাণী। সাউথ ক্যারোলাইনায় এখনো বানর পোষার জন্য কোনো পারমিট লাগে না। তবে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, ভবিষ্যতে সব পোষা প্রাইমেটকে নিবন্ধন করতে হবে।
এভা নিজের মালিকের কোলে ফিরে গিয়ে নিশ্চয়ই ভাবছে, মানুষও যে কফিতে এমন ফাঁদ পাতে, তা কে জানত!
জানো কি
স্পাইডার বানরের হাত-পা এত লম্বা যে তারা গাছের ডাল থেকে ডালে দোল খেতে খেতে ঘণ্টায় প্রায় ৩৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে।
তাদের লেজ খুব শক্তিশালী। পুরো শরীরের ওজন নিতে পারে লেজ।
তাদের প্রিয় খাবার ফল ও ফুল। মাঝেমধ্যে তারা পাতা আর ছোট পোকামাকড় খায়।বিজ্ঞানীরা বলেন, স্পাইডার বানরের স্মৃতিশক্তি খুব ভালো। তারা কোন গাছে কখন ফল পাকবে, সেটা মনে রাখতে পারে।
![]() |
| পালানো বানর। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া |
Sunday, April 12, 2026
সবচেয়ে বেশি আইসক্রিম খায় কোন দেশের মানুষ by বিজয় মজুমদার
গড়ে প্রতিজন হিসাব করলে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা বছরে সবচেয়ে বেশি আইসক্রিম খান। বছরে প্রায় ৭ দশমিক ৫ গ্যালন আইসক্রিম খান তাঁরা। মানে গড়ে ২৮ দশমিক ৩৯ লিটার।
আইসক্রিমের জন্য
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ভীষণ আইসক্রিমপ্রেমী ছিলেন। ১৭৯০ সালের গ্রীষ্মে তিনি আইসক্রিম খাওয়ার জন্য ২০০ ডলার ব্যয় করেছিলেন, বর্তমান মুদ্রায় যার পরিমাণ হতো সাড়ে ৫ হাজার ডলার। আর বাংলাদেশি টাকায় সেটা হতো ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এস্কিমো স্পেশাল
আকুতাক হচ্ছে এস্কিমো আইসক্রিম। এটা বানানো হয় রেইনডিয়ার নামের হরিণের শরীরের চর্বি, সিল মাছের তেল, একদম তাজা বরফ ও তাজা বেরি ফল দিয়ে। অনেক সময় মোস বা এলক নামের একধরনের বিশালদেহী হরিণ কিংবা পোলার বিয়ার নামের ভালুকের মাংস দিয়েও আকুতাক বানানো হয়।
ভিন্ন স্বাদের আইসক্রিম
মাচা, রেড বিন, স্কুইড ইঙ্ক, সি উইড আইসক্রিমগুলো জাপানে খেতে পাওয়া যাবে। মাচা হচ্ছে গ্রিন টির আইসক্রিম, রেড বিন (একধরনের শিম), অক্টোপাস আইসক্রিম হচ্ছে স্কুইড ইঙ্ক আর সি উইড মানে হচ্ছে সামুদ্রিক শৈবালের আইসক্রিম। এ ছাড়া চিংড়ি, ঘোড়ার মাংস ও গরুর জিবের মতো ভিন্ন স্বাদের আইসক্রিমও সেখানে পাওয়া যাবে।
চাহিদায় মেলে কোন
১৯০৪ সালে আইসক্রিম কোন মানে কোন আইসক্রিম আবিষ্কৃত হয়। সেবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে এক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আইসক্রিমের চাহিদা এমন ছিল যে বিক্রেতারা বুঝে উঠতে পারছিলেন না, কীভাবে সেটাকে মানুষের হাতে দ্রুত ও সহজে তুলে দেওয়া যায়। তখন সেখানে সিরিয়ার এক ওয়েফার বিক্রেতা একটি সমাধান বের করেন। আর্নেস্ট এ হামুয়ি সে সময় ওয়েফারের মধ্যে আইসক্রিম রাখার প্রস্তাব দেন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল কোন আইসক্রিম।

Thursday, January 29, 2026
কাঠ কুড়াতে গিয়ে ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু
স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করছিল তারা। ঠিক সেই সময় বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালায় একটি ইসরায়েলি ড্রোন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শিশু দুটি। হামলাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিদিন যুদ্ধবিরতির কথা বলা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে প্রতিদিনই সেই যুদ্ধবিরতি ভাঙছে।
এবার গাজায় বেশ শীত পড়েছে। রাতের তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বিদ্যুৎ নেই, জ্বালানি নেই। ফলে বহু পরিবার বাধ্য হয়ে কাঠ, ভাঙা আসবাব কিংবা যা কিছু পাওয়া যায় তাই খুঁজতে বের হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, সেগুলো জ্বালিয়ে সামান্য তাপ পাওয়া। কারণ, পাতলা ক্যানভাস আর অস্থায়ী তাঁবুগুলো ঠান্ডা বাতাস আর বৃষ্টি ঠেকাতে পারে না।
এই সংকট আরও গভীর হয়েছে জরুরি সহায়তা প্রবেশে কড়াকড়ির কারণে। ইসরায়েল গাজায় তাঁবু, অস্থায়ী ঘর, এমনকি তাঁবু মেরামতের উপকরণও ঢুকতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের পাশাপাশি দখলদার শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করার অভিযোগও বারবার সামনে আসছে।
চিকিৎসা কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০-এর বেশি। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে মোট নিহত মানুষের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। এই সংখ্যাগুলো প্রতিদিনই বাড়ছে।
গাজার শিশুরা শুধু বোমা আর ড্রোনের আঘাতে মারা যাচ্ছে না; শীতও বোমার মতোই প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চলতি শীত মৌসুমে ঠান্ডার কারণে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০। সর্বশেষ মারা গেছে মাত্র তিন মাস বয়সী আলী আবু জুর। আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে তার মৃত্যু হয়।
এই ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতার খবর আসছে। ২৪ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ‘নতুন গাজা’ গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। উঁচু আবাসিক ভবন, ডেটা সেন্টার আর সমুদ্রতীরের রিসোর্টের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে।
কাগজে-কলমে সেই ভবিষ্যৎ ঝকঝকে। কিন্তু ঠিক একই সময়ে গাজায় শিশুরা কাঠ কুড়াতে বের হচ্ছে, একটু উষ্ণতার খোঁজে। কেউ কেউ আর ফিরে আসছে না। এটাই গাজার প্রতিদিনের বাস্তবতা। এখানে শীত, অবরোধ আর ড্রোন একসঙ্গে মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
![]() |
| গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলের দেইর এল-বালাহে শিল্পী ইয়াজেদ আবু জারদের তৈরি বালির ভাস্কর্যের পাশে আগুনে উষ্ণ হচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুরা। ছবি: এএফপি |
Wednesday, January 28, 2026
খালি হাতে ১০১ তলা ভবনে বেয়ে উঠলেন অ্যালেক্স হনল্ড by আহমাদ মুদ্দাসসের
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে অ্যালেক্স হনল্ড ভবনের চূড়ার শেষ ইঞ্চিটুকু পার করেন, যার উচ্চতা ১ হাজার ৬৬৭ ফুট বা ৫০৮ মিটার। আরোহণ শেষ করে যখন তিনি ভবনের উঁচু চূড়ায় উঠে দাঁড়ান, তখন তাঁর মুখে চওড়া হাসি। নিচে উল্লাস করছে তাইপেবাসী। ভিড়ের দিকে হাত নাড়াচ্ছেন হনল্ড। এই দৃশ্য নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে ক্লাইম্বিং ইতিহাসের এক আইকনিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে। এরই মধ্যে দুইটি সেলফি ভাইরাল হয়ে গেছে। অ্যালেক্স হনল্ড তাইপে শহরকে পেছনে রেখে দুটি সেলফি তুলেছেন।
এই প্রথম কোনো মানুষ তাইপে ১০১ ভবনে ‘ফ্রি সলো’ করেছেন। ফ্রি সলো মানে কোনো রশি নেই, কোনো সেফটি নেট নেই। নেই কোনো যান্ত্রিক সহায়তা। শুধু খালি হাত আর গ্রিপ বাড়ানোর জন্য সঙ্গে আছে সামান্য চক।
ক্লাইম্ব শেষ করে সংবাদ সম্মেলনে হনল্ড বলেছেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। কয়েক দিন ধরেই মনে হচ্ছে আমি যেন আলো ছড়িয়ে বেড়াচ্ছি। কত দিন ধরে ভাবতে হয়, কল্পনা করতে হয়, হবে কি না। কিন্তু যখন সত্যিই করে ফেলি, তখন অনুভূতিটা সব সময়ই আলাদা।’
২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি তাইওয়ানের এই গগনচুম্বী ভবনে ওঠা হনল্ডের বয়স এখন ৪০। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি ক্লাইম্বিং দুনিয়ার পরিচিত মুখ। বিশের কোঠায় থাকতেই কঠিন রুটে সফল ফ্রি সলো ক্লাইম্ব করে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে ২০১৭ সালে ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কের এল ক্যাপিটান সম্পূর্ণ রশিবিহীনভাবে বেয়ে ওঠার পরই তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত নাম হয়ে যান। সেলিব্রেটি হয়ে ওঠেন। সেই ভয়ংকর অভিযানের গল্প ধরা পড়ে অস্কারজয়ী ডকুমেন্টারি ‘ফ্রি সলো’তে।
কখনো থেমে যাননি হনল্ড। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজে নিয়েছেন, রেকর্ড ভেঙেছেন। তাইপে ১০১-এ ওঠার ইচ্ছা তাঁর এক দশকের বেশি সময় ধরে। কিন্তু সুযোগ তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের প্রস্তাবে সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়। পুরো ক্লাইম্বটি নেটফ্লিক্সে লাইভ স্ট্রিম করা হয়। বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ও ক্যামেরা পারসন রশি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঝুলে বিভিন্ন দিক থেকে হনল্ডকে ভিডিও করেন। হনল্ড এই বেয়ে ওঠাকে বলেছেন, এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শহুরে ফ্রি সলো ক্লাইম্ব।
আসলে এই অভিযান হওয়ার কথা ছিল শনিবার সকালে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তা পিছিয়ে যায়। রোবার সকালে আকাশ ছিল নীল, বাতাস ছিল শান্ত। একেবারে আদর্শ পরিবেশ। সেই সুযোগেই শুরু হয় আরোহণ।
হনল্ডের ভাষায়, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেকে শান্ত রাখা। এত মানুষ, এত নজর, সব মিলিয়ে চাপটা বেশি লাগছিল। কিন্তু যত ওপরে উঠেছি, ততই শান্ত হয়ে গেছি। মনে হচ্ছিল, এ তো দারুণ মজা, এ জন্যই তো আমি এটা করি।
অ্যালেক্স হনল্ড অবশ্য এই ভবনের প্রথম আরোহণকারী নন। ২০০৪ সালে ফরাসি ক্লাইম্বার অ্যালাঁ রোবেয়ার্ট তাইপে ১০১-এর চূড়ায় উঠেছিলেন, তবে রশির সাহায্যে। ভবনটির উদ্বোধন উপলক্ষে আমন্ত্রিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেদিন ছিল বৃষ্টি আর প্রবল বাতাস, ফলে তাঁর সময় লেগেছিল প্রায় চার ঘণ্টা। সে তুলনায় হনল্ডের লেগেছে মাত্র দেড় ঘণ্টা।
রোবেয়ার্ট আর হনল্ড, দুজনই বলেছেন, ভবনটি বেয়ে ওঠা তাঁদের পরিচিত পাহাড়ি বা পাথুরে রুটের মতো অতটা জটিল নয়। কাচের পিচ্ছিল দেয়ালে ঝুলে থাকতে হয়নি হনল্ডকে। ধাতব কাঠামো, বিম আর কাঠামোর বেরিয়ে আসা অংশ ছিল, যেগুলো ধরে ওপরে আগানো সম্ভব। যদিও ওপরে উঠতে গিয়ে কয়েকটি জায়গায় বেশ কিছু বিশেষ কৌশল করতে হয়েছে। সেগুলোও হনল্ড অনায়াসে পার করে দ্রুত ওপরে উঠেছেন। মাঝেমধ্যে বারান্দার মতো ধাপে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিয়েছেন। নিচের মানুষদের দিকে হাত নেড়েছেন।
এই পুরো সময়ে মনে মনে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলেন অ্যালেক্স হনল্ডের স্ত্রী স্যানি ম্যাকক্যান্ডলেস। তিনি ভবনের ভেতর থেকে কাচের দেয়ালের মধ্য দিয়ে দেখছিলেন। একতলায় এসে হনল্ড যখন কাচের ওপাশ দিয়ে হাত নেড়েছিলেন, স্যানিও তাঁকে দেখে হাত নাড়ান। চূড়ায় ওঠার পর ভেতরের এক বারান্দায় দুজনের দেখা হয়। আলিঙ্গনের পর স্যানি মজা করে বলেন, ‘পুরো সময়টাই আমার প্রায় প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছিল।’
২০০৪ সালে উদ্বোধনের সময় তাইপে ১০১ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন। পরে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা সেই খেতাব ছিনিয়ে নেয়। এরপর আরও অনেক উঁচু ভবন তৈরি হয়েছে, নিউইয়র্কের ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারও যার মধ্যে আছে। তবু তাইপে শহরের আকাশরেখায় তাইপে ১০১ আজও এক অনন্য বিস্ময়।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে হনল্ডকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘সত্যিই স্নায়ু কাঁপানো’ বলে বর্ণনা করেছেন। ক্লাইম্ব শেষ করে হনল্ড বলেছেন, তিনি চান এই দৃশ্য দেখে মানুষ নিজেদের লক্ষ্য আর চ্যালেঞ্জের পেছনে ছুটতে অনুপ্রাণিত হোক।
সূত্র: সিএনএন
![]() |
| অ্যালেক্স হনল্ড। ইয়াহু |
Tuesday, January 6, 2026
দুর্ভিক্ষ দূর হলেও গাজাবাসীর ক্ষুধার কষ্ট দূর হয়নি
চার মাস আগে আইপিসি জানিয়েছিল, গাজা উপত্যকার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে। সংখ্যায় প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার মানুষ। ইসরায়েল তখন সেই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করেছিল। এবার নতুন প্রতিবেদনে আইপিসি বলছে, দুর্ভিক্ষের শর্ত পূরণ না হলেও গাজার পরিস্থিতি এখনো ‘গুরুতর ও সংকটাপন্ন’। যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয় এবং মানবিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পুরো গাজাই আবার দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, দুর্ভিক্ষ আপাতত ঠেকানো গেছে। কিন্তু এই অর্জন খুব ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মানুষ বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু প্রয়োজন বাড়ছে এমন গতিতে, যা সহায়তার দিয়ে সামলানো যাচ্ছে না।
গাজার সব কটি প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় ঢুকছে, যার ৭০ শতাংশই খাদ্যসামগ্রী। হামাস এই দাবি মানতে চায় না। তাদের বক্তব্য, দিনে ৬০০ ট্রাক তো দূরের কথা, তার চেয়ে অনেক কম ঢুকতে পারছে। শুক্রবার আইপিসির মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে কোগাট অভিযোগ করে, প্রতিবেদনে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহে বড় ফাঁক রয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, প্রতিবেদনে দেখানো সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি সহায়তা গাজায় যাচ্ছে এবং জুলাইয়ের পর থেকে সেখানে খাদ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অন্যদিকে ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার বলছে, গাজায় প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা এখনো খুবই কম এবং অনেক জরুরি সামগ্রী ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, খাবারের ঘাটতি নেই; সমস্যা হচ্ছে গাজার ভেতরে বিতরণব্যবস্থায়।
আইপিসি মনে করিয়ে দিয়েছে, গত ১৫ বছরে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে এমন দুর্ভিক্ষ বিশ্বে ঘটেছে মাত্র পাঁচটি। ২০১১ সালে সোমালিয়া, ২০১৭ ও ২০২০ সালে দক্ষিণ সুদান, ২০২৪ সালে সুদান এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে গাজা। কোনো অঞ্চলকে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ মানুষকে চরম খাদ্যসংকটে থাকতে হয়, প্রতি তিন শিশুর একজনকে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগতে হয় এবং প্রতিদিন প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে অন্তত দুজনকে অনাহার বা অপুষ্টিজনিত রোগে মারা যেতে হয়।
শুক্রবারের প্রতিবেদনে আইপিসি বলেছে, বর্তমানে গাজার কোনো এলাকাই আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ শ্রেণিতে নেই। তবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে নিয়মিত, বিস্তৃত ও নিরবচ্ছিন্ন মানবিক এবং বাণিজ্যিক সহায়তার ওপর। দুর্ভিক্ষের মানদণ্ড পূরণ না হলেও আইপিসি ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতি’ নির্ধারণ করতে পারে। এমন জায়গার জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হয়, যেখানে পরিবারগুলো চরম খাদ্যাভাব, অনাহার এবং অপুষ্টি ও মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে।
এ মুহূর্তে গাজায় এক লাখের বেশি মানুষ এমন বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইপিসি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল নাগাদ এই সংখ্যা কমে প্রায় ১ হাজার ৯০০-এ নামতে পারে। তবে পুরো গাজা উপত্যকাই এখনো ‘জরুরি’ পর্যায়ে রয়েছে, যা বিপর্যয়কর অবস্থার ঠিক এক ধাপ নিচে।
গাজায় শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। আইপিসির হিসাব অনুযায়ী, আগামী এক বছরে গাজায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ১ লাখ ১ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগবে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ৩১ হাজারের বেশি হবে মারাত্মকভাবে অপুষ্ট। একই সময়ে ৩৭ হাজার গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীও তীব্র অপুষ্টির শিকার হবেন।
দক্ষিণ গাজার নাসের হাসপাতালে চিকিৎসকেরা শঙ্কায় আছেন ৪ বছরের আরজওয়ান আল-দাহিনি ও ছয় বছরের ইয়াসের আরাফাতকে নিয়ে। দুজনই মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, ক্ষুধার সবচেয়ে ভয়ংকর স্তরে আছে এরা। আরজওয়ানের মা হানিন বলেন, খাবারের সংকটে মেয়েটি হাঁটা বন্ধ করে দিয়েছে, বেড়ে ওঠা থেমে গেছে এবং শরীরের প্রায় অর্ধেক ওজন কমে গেছে। ইয়াসের আরাফাতের ভাই ইতিমধ্যেই অপুষ্টিতে মারা গেছে বলে জানান চিকিৎসক আহমেদ আল-ফাররা। তাঁর বাবা নিজেও অসুস্থ ও অপুষ্ট, আর মা ইমান বলেন, পরিবারটি ডিম বা অন্য কোনো উচ্চ প্রোটিন খাবার কিনতেই পারছে না।
গাজার আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান মোহাম্মদ আবু সেলমিয়া জানান, অপুষ্টি এখনো ব্যাপক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় ছয় হাজার শিশুর মধ্যে প্রায় এক হাজার অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে ১০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির গাজা ও পশ্চিম তীরের প্রধান কর্মকর্তা আন্তোয়ান রেনার্ড বলেন, উন্নতির কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এখন গাজার বেশির ভাগ মানুষ দিনে দুই বেলা খাবার পাচ্ছে। কিন্তু গাজায় সহায়তা প্রবেশ সহজ করা এখনো ‘নিরন্তর সংগ্রাম’। জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, ইসরায়েল যদি বাধা না তোলে, তবে মানবিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
গুতেরেস আবারও বলেন, টেকসই যুদ্ধবিরতি ছাড়া সমাধান নেই। আরও প্রবেশপথ খুলতে হবে, জরুরি সামগ্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে, গাজার ভেতরে নিরাপদ চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে হবে, স্থায়ী অর্থায়ন দরকার এবং বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটি সতর্ক করে বলেছে, এই অগ্রগতিকে যেন সংকট শেষ হয়ে গেছে বলে ভুল না করা হয়। তাদের ভাষায়, গাজায় ক্ষুধা এখনো বিপর্যয়কর পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত, পর্যাপ্ত এবং নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা না পেলে দুর্ভিক্ষ ও প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর ঝুঁকি খুব দ্রুতই ফিরে আসতে পারে।
গাজায় দুর্ভিক্ষ হয়তো আপাতত দূর হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষুধা, অপুষ্টি আর অনিশ্চয়তা।
সূত্র: রয়টার্স
| ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় প্রবেশ করেছে ত্রাণবাহী ট্রাক। ফিলিস্তিনিরা সংগ্রহ করছেন জরুরি ত্রাণসহায়তা। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে। ছবি: রয়টার্স |
Saturday, October 11, 2025
বোমা আর ড্রোনের শব্দ ছাড়া গাজাবাসীর প্রথম রাত
আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি এই বিরল মুহূর্তটি বর্ণনা করেছেন এভাবে, 'আজ রাতে গাজার ওপর যা উড়ছে, তা শুধুই আশা। কোনো ড্রোন নেই। কোনো বোমা নেই। আকাশ কমলা রঙের হয়ে ওঠেনি। নীরবতা এই অঞ্চলে এমন এক বিরল শব্দ, যা প্রায় অদ্ভুত মনে হয়।' তিনি আরও জানান, গত কয়েক মাসে এমন রাত প্রথম এল, যেখানে কোনো বিমান হামলা হয়নি বা ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ছুটে যায়নি।
একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক আল জাজিরাকে বলেন, 'আজ ড্রোনগুলো থেমে গেছে, আর সেই ভুমম ভুমম শব্দ নেই। আমরা নিরাপদ, আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ। আমরা শান্তিতে আমাদের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে একত্র হতে পেরেছি, এটা খুবই ভালো লাগছে।'
গাজার দক্ষিণে আছে বেশ কিছু অস্থায়ী শিবির। যেখানে খুব অল্প জায়গায় বহু মানুষ ভিড় করে আছে। এই অস্থায়ী শিবিরগুলোতে আছে বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়া পরিবারগুলো। তারা অবশেষে এক মুহূর্তের শান্তি খুঁজে পেয়েছে।
আরেক নারী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, 'গত দুই বছরে আমরা এত কষ্ট করেছি, যা কিছু দেখেছি, সব কিছু সত্ত্বেও আমি এই যুদ্ধবিরতিতে খুশি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের ভেতরের ভয় দূর হয়ে গেছে। এখন আমরা আমাদের প্রিয়জনদের, পরিবারকে, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের দেখতে পাচ্ছি, যারা এখনও বেঁচে আছে। লড়াই থামার পর থেকে আমি সত্যিই খুশি। আজ আমি বাজারে গিয়েছিলাম। আমার বোনের সাথে দেখা করেছি, তাকে আমি গত দুই বছরে একবারও দেখিনি। তাকে দেখতে পেয়ে আমার হৃদয় প্রকৃত আনন্দ ভরে উঠেছে।'
গাজার আকাশে দীর্ঘ দুই বছর পর নেমে এসেছে এই নীরবতা বা শান্তি। এটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য কেবল যুদ্ধের বিরতি নয়, এটি হলো বেঁচে থাকা এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে আবারও মিলিত হওয়ার আশা। দুই বছরের যুদ্ধ আপাতত শেষ বলে মনে হচ্ছে। এই নীরব রাত পেরিয়ে গাজাবাসী হয়তো নতুন এক সকাল পেতে যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা ইংলিশ
![]() |
| যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরে খান ইউনিসে ফিলিস্তিনিদের আনন্দ। ৯ অক্টোবর ২০২৫, গাজা। ছবি: এএফপি |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1887)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...









