Thursday, May 28, 2015
‘জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বিএনপিকে এগিয়ে যেতে হবে’
এদিকে বিএনপির যৌথসভা কাল। সকাল ১১টায় দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা ডাকা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, জিয়াউর রহমানের ৩৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ যৌথ সভা ডাকা হয়েছে। যৌথসভা শেষে দলের তরফে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করার কথা গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অমঙ্গলের থাবা মা ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রে -লক্ষ্য পূরণে ৭০টির ৬৩টিই ব্যর্থ by শেখ সাবিহা আলম
অধিদপ্তর কমপক্ষে ১০০টি প্রসবের লক্ষ্যমাত্রা প্রতিটি কেন্দ্রকে বেঁধে দিয়েছিল। কাগজে-কলমে জেলা পর্যায়ে ৬০টি, উপজেলায় আটটি ও ইউনিয়নের দুটি মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্র থেকে ‘সম্প্রসারিত’ সেবা পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ২৪ ঘণ্টার যেকোনো সময়ে নারী নিরাপদে এসব কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবে বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে পারবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রগুলো দূরে থাক, অধিদপ্তরের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান আজিমপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও (আজিমপুর মাতৃসদন) বেলা আড়াইটার পর জরুরি প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসব করা যায় না।
প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা দেশের ১০টি জেলার মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন সেখানে দালালের উৎপাত, চিকিৎসক অনুপস্থিত এবং অবকাঠামো দুর্বল। বেশির ভাগ কেন্দ্রের বিছানা ছিল ফাঁকা। ওই একই সময়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় ছিল উপচেপড়া ভিড়।
এদিকে ৬৩টি কেন্দ্রে সমস্যা জিইয়ে রেখে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এখন নতুন করে ইউনিয়ন পর্যায়ে তিন হাজার কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক প্রসূতিসেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেছেন, ৬০০ চিকিৎসকের পদ শূন্য। তার পরও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, অধিদপ্তরের বিভিন্ন খাতে যে খরচ তার ৩৩ শতাংশ খরচ হচ্ছে মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রগুলোর পরিচালনায়। মায়েরা সেবা পান বা না পান কর্মচারীদের বেতন, মহার্ঘ ভাতা, বাড়ি ভাড়া ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতাসহ ৩৮টি খাতে সরকারকে টাকা গুনতে হচ্ছে।
বেহাল দশা আজিমপুর মাতৃসদনে
আজিমপুর মাতৃসদনের একাধিক সূত্র বলেছে, এখানে সেবা নিতে আসা মায়েদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো বন্ধে গত ১৭ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় চার সদস্যের একটি কমিটি করেছে। ওই কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি এক রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোয় এক চিকিৎসককে বান্দরবানে বদলি করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার পর এই সদনের রক্তসঞ্চালন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়, আল্ট্রাসনোগ্রাম হয় না, অন্যান্য জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষারও সুযোগ থাকে না। কেন্দ্রের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আড়াইটার পর ইচ্ছে থাকলেও তাঁরা সেবা দিতে পারেন না। শুধু যেসব নারী গর্ভধারণের পর থেকে আজিমপুর মাতৃসদনে সেবা নিচ্ছেন, সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা আজিমপুরেই হয়েছে, তাঁদেরই প্রয়োজনের সময় সেবা দেওয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে আজিমপুর মাতৃসদনের তত্ত্বাবধায়ক ইশরাত জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ১৭৩ শয্যার হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য একজন চিকিৎসক আছেন। তিনি প্রেষণে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুজনকে দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া সম্ভব না। চিকিৎসকের সংকটও তীব্র। রাতের বেলা একজন শল্যচিকিৎসক ও একজন অবেদনবিদকে অস্ত্রোপচার, ভর্তি রোগীর সমস্যা, জরুরি বিভাগে আসা রোগী—সবই দেখতে হয়। চিকিৎসা কর্মকর্তাদের (মেডিকেল অফিসার) প্রসূতিসেবায় যুক্ত করা হলে, শিশু বিভাগ অচল হয়ে পড়ে। রাতের পালায় চিকিৎসক বেশি দিলে দিনে কম পড়ে যায়।
গড়ে আজিমপুরে সকাল-বিকাল-রাত এই তিন পালায় কতটি অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেই তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সকালের পালায় ১১/১২টি অস্ত্রোপচার, আড়াইটা থেকে সাতটা পর্যন্ত ৪/৫টি আর রাত আটটা থেকে পরদিন সকাল আটটা পর্যন্ত একটি বা দুটি অস্ত্রোপচার হয়ে থাকে।
আড়াইটার পর এ অচলাবস্থার সুযোগে দালালদের উৎপাত বাড়ে। সম্প্রতি আজিমপুর মাতৃসদনের জরুরি বিভাগের সামনে দুপুর দুইটা থেকে চারটা পর্যন্ত এই প্রতিবেদক দাঁড়িয়েছিলেন। দুইটার পর থেকে জরুরি বিভাগের সামনে প্রথমে একজন ও পরে তাঁর সঙ্গে আরও তিনজনকে যোগ দিতে দেখা যায়। কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা এক নারীকে ওই দালাল বাইরের কোনো ক্লিনিকে চলে যেতে পীড়াপীড়ি করছিলেন। এ প্রতিবেদক ব্যক্তিটির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জানান, কাছেই তাঁর একটি ওষুধের দোকান আছে।
ঢাকার বাইরের হাল হকিকত
অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ‘সম্প্রসারিত’ সেবা না থাকলেও আজিমপুর মাতৃসদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সেন্টার, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, নরসিংদী ও ময়মনসিংহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে। তবে গোপালগঞ্জসহ ২৪টি কেন্দ্রের একটিতেও অস্ত্রোপচার হয়নি। নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে স্বাভাবিক ও অস্ত্রোপচার কোনো ধরনের সেবাই পাননি মায়েরা। বরিশাল বিভাগের আটটি কেন্দ্র মিলেও এক মাসে ১০০টি প্রসব হয়নি।
কুষ্টিয়ার মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রে গত মঙ্গলবার গিয়ে রোগী, চিকিৎসক কাউকেই পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের একমাত্র চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায়, তাই রোগী আসা মাত্রই অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসক সংকটের কারণে জয়পুরহাটে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে রোগীরা সেবা পান না। চিকিৎসকের দুটি পদই শূন্য। সপ্তাহে দুদিন বগুড়া ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে এসে চিকিৎসকেরা সেবা দিয়ে যান।
মুন্সিগঞ্জের মা ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রে চিকিৎসকের অভাব নেই। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে রোগীরা প্রায়ই কেন্দ্রের আশপাশের ক্লিনিকে চলে যান।
বরগুনায় আধুনিক যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু অবেদনবিদ না থাকায় নয় বছর ধরে প্রসূতি সেবা বন্ধ। কেন্দ্রে গিয়ে ৪-৫ জন নারীকে পাওয়া গেছে। তাঁরা এসেছিলেন সর্দি-কাশির চিকিৎসা নিতে।
লক্ষ্মীপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের প্রধান আশফাকুর রহমান বলেছেন, তাঁকে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তাই সব সময় হাসপাতালে থাকতে পারেন না। তিনি কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা, অধিদপ্তরের উপপরিচালক, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) লক্ষ্মীপুর জেলার সভাপতি ও থানা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জের কেন্দ্রটিতে টিনের ছাউনি, শয্যা সংখ্যা কম। তবু দরিদ্ররা সেবা নিতে আসেন। অবকাঠামো দুর্বল হওয়ায় বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া যায় না।
বরিশালে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা আছে। কিন্তু প্রচার নেই। প্রচারের উদ্যোগও নেই।
যা বলছে অধিদপ্তর
অধিদপ্তরের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির কর্মকর্তারা বলেছেন, সারা দেশে ১১২০টি চিকিৎসকের পদ। চিকিৎসক আছেন ৫০৩ জন। ২১টি কেন্দ্রে শল্যচিকিৎসক থাকলে অবেদনবিদ নেই, অবেদনবিদ থাকলে শল্যচিকিৎসক নেই। এক একটি কেন্দ্রে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা ও একজন অবেদনবিদ আছেন। তাঁদের রোগীর সেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক সব কাজ করতে হয়। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিবারকল্যাণ পরিদর্শকেরা কি করছে, তাও মাঠে গিয়ে দেখতে হয়। চিকিৎসকেরা মাঠে যাবেন, না হাসপাতালে থাকবেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, সংকট জিইয়ে রেখে মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্র থেকে এর চেয়ে ভালো ফলাফল আশা করা যাবে না।
(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন কুষ্টিয়া অফিসের তৌহিদী হাসান, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি তানভীর হাসান, বরিশাল অফিসের সাইদুর রহমান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান)
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চাকরি দেওয়ার ফাঁদে ফেলা হয় আদিবাসী তরুণীকে
ধর্ষণের শিকার আদিবাসী তরুণী ওই দুজনকে শনাক্তও করেছেন। গ্রেপ্তার করা দুজন হলো আশরাফ খান ওরফে তুষার (৩২) ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে লাভলু (২৬)। গতকাল বুধবার র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের গণমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসা হয়।
র্যাব জানায়, এ দুজনই একটি বায়িং হাউসের গাড়িচালক। ওই বায়িং হাউসের মাইক্রোবাসেই গারো মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে অস্ত্রের মুখে মাইক্রোবাসে তুলে ধর্ষণের অভিযোগে পরদিন দুপুরে ওই তরুণী রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, চলন্ত মাইক্রোবাসে পাঁচজন তাঁকে ধর্ষণ করেছে।
তবে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানিয়েছে, পাঁচজন নয়, গ্রেপ্তার দুজনই তরুণীকে ধর্ষণ করেছে। র্যাব কর্মকর্তারা জানান, মামলা করার সময় মেয়েটি ছিলেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাঁর স্বজনেরাই মামলা করার সময় মূল ভূমিকা পালন করেন। সেই স্বজনেরাই হয়তো মেয়েটির কাছ থেকে ভালো করে না শুনেই এজাহার লিখে থানায় জমা দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, মঙ্গলবার রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে তুষারকে ও তাঁর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে গতকাল ভোরে রাজধানীর গুলশান থেকে লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বনানী থেকে মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।
তুষার সাংবাদিকদের জানান, ১৬ মে তিনি বায়িং হাউসের দুই বিদেশি কর্মকর্তাকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে যান। সেখানে মেয়েটির কর্মস্থল দোকানটি থেকে দুই বিদেশি কিছু কেনাকাটা করেন। সেখানেই মেয়েটির সঙ্গে তাঁর দেখা ও কথা হয়। মেয়েটি জানতে চান, ওই দুই বিদেশি বাংলাদেশে কী করেন। তিনি জানান, তিনি যে বায়িং হাউসে চাকরি করেন, এঁরা সেই বায়িং হাউসের কর্মকর্তা। এরপর মেয়েটি বায়িং হাউসে চাকরির সুযোগ, চাকরির যোগ্যতা সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চান। তিনি মেয়েটিকে চাকরির আশ্বাস দেন এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেন। তাঁদের মধ্যে মুঠোফোন নম্বর বিনিময় হয়।
তুষারের দাবি, ২১ মে মেয়েটি জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন বলে ঠিক হয়। তুষার যখন এ দাবি করছিলেন, তখন র্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই চার দিনের মধ্যে অন্য দুই গাড়িচালক লাভলু ও ফিরোজের সঙ্গে মেয়েটিকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেন তুষার। এ সময় তুষার বলে ওঠেন, ‘তয় ফিরোজ আছিল না স্যার।’ র্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, ২১ মে গাড়ি নিয়ে অন্য জায়গায় যাওয়ায় তুষারের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি ফিরোজ। ফিরোজকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তুষার জানান, ২১ মে রাত নয়টার দিকে তিনি যে মাইক্রোবাস চালান, সেটিতে লাভলুকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের উল্টো দিকে যান। রাত সাড়ে নয়টার দিকে মেয়েটি আসেন। জীবনবৃত্তান্ত তাঁর হাতে দেন। মেয়েটি জানান, তিনি উত্তরায় থাকেন। তুষার তাঁকে মাইক্রোবাসে করে পৌঁছে দিতে চাইলে মেয়েটি মাইক্রোবাসের দ্বিতীয় সারির আসনে বসেন, তিনিও সেখানে বসেন। লাভলু গাড়িটি কুড়িল উড়ালসড়কের দিকে চালাতে থাকেন।
কিছুক্ষণ পর তুষার চলন্ত মাইক্রোবাসে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। গাড়িটি কুড়িল উড়ালসড়কে চক্কর দিতে থাকে। পরে তুষার গাড়ির চালকের আসনে বসলে লাভলুও মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর তাঁরা মেয়েটিকে উত্তরায় নামিয়ে দেন।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান বলেন, ওই দুজনকে মেয়েটি শনাক্ত করেছেন।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংও প্রথম আলোকে জানান, মেয়েটির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের ছবি মেয়েটি দেখেছেন। ওই দুজনকে তিনি শনাক্ত করেছেন।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল মোত্তাকিন বলেন, তুষার ও লাভলুকে রাতে থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব। মামলাটি তদন্ত করছে ভাটারা থানার পুলিশ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মন ভরানো রসাল লিচু by এস এম আক্কাস উিদ্দন
![]() |
| ফটিকছড়ির লালমাই গ্রামে বাগান থেকে লিচু পাড়ছেন বাগানের মালিক ইউসুফ সরদার l প্রথম আলো |
সম্প্রতি উপজেলার হেঁয়াকো বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আশপাশের বাগান থেকে বিক্রেতারা লিচু নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। গাছ থেকে সদ্য পেড়ে আনা টসটসে লিচুগুলো রসে ভর্তি। মিষ্টি স্বাদের এসব লিচু ১০০টি বিক্রি হচ্ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। আবুল মনসুর নামের একজন বিক্রেতা জানালেন, স্থানীয় একটি ফলের বাগান থেকে লিচু কিনে এনে বিক্রি করছেন। তাজা আর মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় দ্রুত বিক্রিও হচ্ছে।
উপজেলার বাগান বাজার ইউনিয়নের লালমাই গ্রামের একটি ফলের বাগানে গিয়ে দেখা গেল গাছ থেকে লিচু পাড়ছেন কয়েকজন শ্রমিক। বাগানের মালিক ইউসুফ সর্দার নিজেই শ্রমিকদের কাজ তত্ত্বাবধান করছিলেন। তিনি জানান, বাগােন আম, কাঁঠাল, পেঁপে ও লিচু লাগিয়েছেন তিনি। এ বছর লিচুর ফলন হয়েছে প্রচুর। প্রতি ১০০টি লিচু ২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। ২১ মে একদিনেই বিক্রি করেছেন পাঁচ হাজার লিচু। বাগানে তিনি চায়না-১, চায়না-২, চায়না-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচুর চারা লাগিয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে লিচুর ফলন আসছে। গত বছর দেড় লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছেন তিনি। চলতি বছর দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার লিচু বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলার বিভিন্ন বাগানে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। গণগত মান ভালো হওয়ায় কৃষকেরা দামও বেশি পাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবার।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণপিটুনি নয় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড -সংবাদ সম্মেলনে নিহত দুজনের স্বজনেরা
![]() |
| যশোর প্রেসক্লাবে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত ইসমাইল হোসেনের মা ও বাবা। তাঁদের সান্ত্বনা দেন এক স্বজন l ছবি: প্রথম আলো |
শহরের হুদা রাজাপুর মোড়ে গত রোববার পদ্মা লাইফ ইনস্যুরেন্সের জেলা সমন্বয়ক বরুণ তরফদারকে দুর্বৃত্তরা ধাওয়া করে। এ সময় তাঁর চিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হয়। সেখানে গণপিটুনিতে যশোর সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন (২৪) ও আড়পাড়া গ্রামের আল-আমিন (২৩) মারা যান। তাঁরা পরস্পর বন্ধু ছিলেন।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন নিহত ইসমাইলের মামা দেলোয়ার হোসেন। দেলোয়ার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক। তিনি বলেন, পুলিশ ও কথিত ছিনতাইয়ের শিকার বরুণ তরফদার ইসমাইল হোসেন ও আল-আমিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে পুলিশ গণপিটুনির নাটক সাজিয়েছে। তিনি আরও বলেন, গণপিটুনি হলে নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাতের চিহ্ন থাকত। কিন্তু মাথা ছাড়া তাঁদের শরীরে আর কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
দেলোয়ার অভিযোগ করেন, ‘যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সনাতন ধর্মের এক ছাত্রীর সঙ্গে নিহত একজনের প্রেম ছিল। ওই মেয়েটি বরুণের আত্মীয়। এ কারণেই হয়তো বরুণ পুলিশকে ব্যবহার করে তাঁদের হত্যা করিয়েছেন।’
হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের জন্য সম্মেলন থেকে যশোরের পুলিশ সুপারকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যবস্থা না নিলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্কাছ আলীসহ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়। এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা, জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
এ ব্যাপারে বরুণ তরফদার বলেন, ‘আমি ইসমাইল বা আল-আমিন নামে কাউকে চিনি না।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিকদার আক্কাস আলী বলেন, গণপিটুনিতেই দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। ওসি আরও বলেন, ‘আওয়ামী বাস্তুহারা লীগের জেলা কমিটির সাবেক সহসভাপতি মনজুর রশিদ হত্যা মামলায় ওই দুজন পুলিশের নজরদারিতে ছিল। যে অস্ত্র দিয়ে মনজুরকে হত্যা করা হয়েছে, সেই অস্ত্রটি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চকরিয়ায় জীববৈচিত্র্য দিবস- বীজ বুনে বন রক্ষার অঙ্গীকার
![]() |
| মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যোনে গর্জন গাছের বীজ বপণ করছে শিক্ষার্থীরা l প্রথম আলো |
বীজ বপনে অংশ নেয় উপজেলার খুটাখালী উচ্চবিদ্যালয়, খুটাখালী কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন ও উত্তর মেধাকচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ইউএসএইড ও বন মন্ত্রণালয়ের যৌথভাবে এ প্রকল্প ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস অ্যান্ড লাইভলিহুডসের(ক্রেল) অধীনে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
বীজ বপনের পরে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য জীববৈচিত্র্য’ স্লোগানে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর ফাঁসিয়াখালী সহব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি মোকতার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ক্রেল চকরিয়া উপজেলার সমন্বয়কারী আবদুল কাইয়ুমের পরিচালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. শাহ-ই আলম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ক্রেল কক্সবাজারের আঞ্চলিক সমন্বয়ক শফিকুর রহমান, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফ, ক্রেল কক্সবাজারের যোগাযোগ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ সেন, বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী মোকাম্মেল কবির, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা এ বি এম জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
বীজ বপনের পর খুটাখালী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র কাওসার উদ্দিন বলে, ‘প্রতিনিয়ত বন ধ্বংস হচ্ছে। আমরাই তা করছি। তবে ভালো লাগছে এই ভেবে যে বনের আগের চেহারা ফিরিয়ে আনতে আমরাও কাজ করেছি।’
কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতেনের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র কেফায়েত উল্লাহ বলে, দেশকে সবুজ করার যুদ্ধে শামিল হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
ক্রেলের চকরিয়া উপজেলা সমন্বয়কারী আবদুল কাইয়ুম বলেন, আজকের শিশুরা আগামি দিনের ভবিষ্যৎ। বীজ বপন অভিযানে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বসবাস মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান ঘিরে। তাই তাঁদের হাত দিয়েই বীজ বপন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। যাতে বড় হয়ে তারাই বন রক্ষায় এগিয়ে আসে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় গাছপালা ও জীবজন্তু মানুষকে সহায়তা করে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করার ফলে প্রতিবছর খরা, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি দেখা দিচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চলন্ত মাইক্রোবাসে ধর্ষণ- ধর্ষকদের ফাঁসি চান গারো ছাত্ররা
![]() |
| আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবিতে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মৌন মিছিল করে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন l ছবি: প্রথম আলো |
বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার আয়োজনে সন্ধ্যায় মৌন মিছিলে অংশ নেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেনার্ড সুবিট, সাবেক সভাপতি পিন্টু হাউই, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী প্রমুখ। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নদ্দা নতুন বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও গণসমাবেশ, সন্ধ্যা সাতটায় রাজু ভাস্কর্যে মোমবাতি প্রজ্বালন, কাল শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো থিওরি’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুরস্কার পাচ্ছেন ১০০ ফ্রিল্যান্সার by মো. মিন্টু হোসেন
‘বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড’ সম্পর্কে জানাতে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বেসিস অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বেসিস সভাপতি শামীম আহসান, কোষাধ্যক্ষ শাহ ইমরাউল কায়ীশ, মহাসচিব উত্তম কুমার পাল, নির্বাহী পরিচালক সামি আহমেদ ও ব্যাংক এশিয়ার উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী এতে উপস্থিত ছিলেন।
শামীম আহসান বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। এ জন্য এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বেসিস কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা এককভাবে বা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে কাজ করছেন। কিন্তু এখন আমাদের দেশে দরকার বড় বড় প্রতিষ্ঠান উঠে আসার। ফ্রিল্যান্সারদের বড় প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে ও এই ক্ষেত্রে তাঁদের উৎসাহ বাড়াতে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছে।
বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৫ এর আহ্বায়ক শাহ ইমরাউল কায়ীশ বলেন, ২০১১ সাল থেকে বেসিস এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। গত বছরের মতো এবারও ১০০টি পুরস্কার দেওয়া হবে। আউটসোর্সিংকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে, সচেতনতা বাড়াতে ও ফ্রিল্যান্সারদের উৎসাহিত করতে এই আয়োজন। ৬৪ জেলা থেকেই এই পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়াও ছয়টি আলাদা বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হবে। কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতেও পুরস্কার দেওয়া হবে। কয়েকটি ধাপে নিবিড় পর্যালোচনা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ, কর্মসংস্থান ও তাদের সামাজিক ভূমিকাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
ব্যাংক এশিয়ার উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বলেন, বেসিসের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে ব্যাংক এশিয়া গর্বিত। অনলাইনে অর্থ লেনদেনের গেটও পেওনিয়ারের সঙ্গে কাজ করছে ব্যাংক এশিয়া।
এবারের আয়োজনে বেসিসের সঙ্গে রয়েছে আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (আইবিপিসি), ব্যাংক এশিয়া, ও পেওনিয়ার। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বিডিজবস।
যেভাবে পুরস্কারের জন্য আবেদন করা যাবে
আগ্রহী ফ্রিল্যান্সার ও এ খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (http://outsourcingaward.basis.org.bd) গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে নিবন্ধন শুরু হচ্ছে এবং শেষ হবে ২১ জুন। জুন মাসের শেষ সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রিল্যান্সারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবে বেসিস।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাটি ধস, সুন্দরবন হোটেল ঝুঁকিতে
![]() |
| সুন্দরবন হোটেল ঘেঁষে নির্মাণাধীন ভবনের জন্য করা পাইলিংয়ের গর্তে গতকাল ধসে পড়া হোটেলের সীমানাপ্রাচীর ও সড়কের একাংশ l ছবি: প্রথম আলো |
ঝুঁকির মুখে গতকাল সুন্দরবন হোটেল থেকে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সেখানে ৬৪ কাঠা জমিতে ন্যাশনাল ব্যাংকের টুইন টাওয়ার নির্মাণের জন্য পাইলিং করতে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। হোটেল সুন্দরবনের মহাব্যবস্থাপক ওয়াজেদ আলী অভিযোগ করেন, টুইন টাওয়ারের ত্রুটিপূর্ণ পাইলিংয়ের জন্য সুন্দরবন হোটেলের সীমানাপ্রাচীর, ভূগর্ভস্থতলা ও রাস্তা ধসে পড়েছে। নির্মাণাধীন ভবনের কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে এ ঘটনায় তাঁরা কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর হোটেলে থাকা ৪৫ জন অতিথিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, মাটি ধসের সময় বিকট শব্দ হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তা ও সদস্যরা ছুটে যান। পরে রাজউক, তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকার দুই মেয়র এবং বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে যান।
এরপর ধস ঠেকাতে বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়। এ সময় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও স্যুয়ারেজের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেলা একটার পর বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়কের দুই পাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নির্মাণাধীন ভবনে কর্তব্যরত আনসার সদস্য দুলাল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আচমকা ‘মট মট’ ও ‘ঠাস ঠাস’ শব্দে রাস্তা, হোটেলের নিচ ও সীমানাপ্রাচীর থেকে মাটি খসে পড়তে শুরু করে। একটু পরপর ২০-২৫ মিনিট ধরে মাটি ধসে পড়তে থাকে। এ সময় হোটেল ভবন কেঁপে ওঠে বলে নিরাপত্তাকর্মীরা জানান।
ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাস্তা ধসে পড়ায় পাশে সুন্দরবন হোটেলের ভূগর্ভস্থ তলার ওয়াসার পাইপ ফেটে যায়। গ্যাস লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওয়াসার পাইপ ফেটে যাওয়ায় বিপুল বেগে পানির ধারা ধসে পড়া অংশের মাটি ধুয়ে পাইলিংয়ের গর্তে পড়তে থাকলে আরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
দুপুরে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ারর জেনারেল আলী আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবন হোটেল ঝুঁকির মধ্যে আছে। পাইলিংয়ের সময় লোহার জালি দিলে ধসের ঘটনা ঘটত না।
রাজউকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নকশা অনুযায়ী পাইলিং করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মেয়রের বৈঠক: দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজউক, সিটি করপোরেশন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পুলিশ ও র্যা বের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বুয়েটের শিক্ষকদের নিয়ে স্থানীয় মোনায়েম টাওয়ারের নিচতলায় বৈঠক করেন মেয়র আনিসুল হক। বৈঠকে আনিসুল হককে প্রধান করে ১৪ সদস্যের একটি সমন্বয়ক কমিটি গঠন করা হয়।
ন্যাশনাল ব্যাংক ভবনটি নির্মাণ করছে কোরীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ডোঙ্গা। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সহ-ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে এম এস কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর কর্ণধার বলে পরিচয় দেওয়া মো. সালাহ উদ্দিন দাবি করেন, ২২ হাজার বর্গফুটের ১২তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি নেই। ভূগর্ভস্থ তলায় প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য করা গর্তের পাশ দিয়ে ওয়াসার পানির পাইপ যাওয়ায় সেখান দিয়ে ধসের ঘটনা ঘটেছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমস্যা জটিল—স্থায়ী সমাধান কাম্য by সৈয়দ আবুল মকসুদ
![]() |
| সাগরে ভাসমান মানুষদের বাঁচার করুণ আকুতি |
মাহাথিরীয় পথ বাঙালির একাত্তরে গৃহীত পথের সম্পূর্ণ বিপরীত পথ। একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যা করতে গিয়ে ইয়াহিয়া-টিক্কা-ফরমান যে অর্থ ব্যয় করেছেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ না করলে ওই অর্থ দিয়ে বাংলাদেশে বড় বড় দালানকোঠা বানানো যেত। দালানকোঠা এক বস্তু আর গণতন্ত্র ও মানবাধিকার আর এক জিনিস। আমরা গণহত্যা চাইনি, গণতন্ত্র চেয়েছি। মাহাথিরের যে পথ, ওই পথে রাস্তাঘাট-দালানকোঠা হয়, সেখানে কোনো দিনও একজন বিশ্বমানের বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা বা সত্যসাধক হতে পারবেন না।
মালয়েশিয়ার আজকের যে আর্থসামাজিক উন্নতি, তার পেছনে বাঙালি অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান যে কতটা, তা মালয়ের শাসকেরাই ভালো জানেন, বাংলাদেশের শাসকেরা নন। আজ বাঙালি ও রোহিঙ্গা শ্রমিকবোঝাই নৌকা তাঁরা তীরে ভিড়তে দিচ্ছেন না। অথচ আজকের তাঁদের ঐশ্বর্যের পেছনে লাখ লাখ বাঙালি শ্রমিকের ঘাম অপরিমেয়। এখনকার মতো অতীতেও বাংলাদেশিরা সেখানে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করতে গেছে, ভিক্ষা করতে যায়নি। ওরা সেখানে গিয়ে উঁচু উঁচু দালান বানিয়েছে, রাস্তায় বসে ইট ভেঙে খোয়া বানিয়েছে, রাস্তাঘাট বানিয়েছে, পামের বাগানে কাজ করেছে বলে অত পাম অয়েল তারা আমাদের দেশে রপ্তানি করতে পেরেছে, রাবার বাগানে কাজ করেছে বলে রাবার ও রাবারজাত দ্রব্য রপ্তানি করে বস্তা বস্তা রিংগিত রোজগার করতে পেরেছে, নারকেলের বাগান ও গভীর অরণ্যে কাজ করেছে বলে টিম্বার রপ্তানি করতে পারছে। হতভাগ্য বাংলাদেশি, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও ভারতীয় শ্রমিকেরা মালয়কে দিয়েছে অনেক সমৃদ্ধি।
পৃথিবীর অভিবাসনের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, বৈধ ও অবৈধ দুভাবেই অভিবাসন হয়ে থাকে। বরং অবৈধভাবেই বেশি অভিবাসন হয়। যে দেশে জনসংখ্যা বেশি এবং রয়েছে বেকারত্ব, সেখান থেকেই প্রধানত অদক্ষ যুবকেরা গিয়ে থাকে এমন কোনো দেশে, যেখানে শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে অথবা যেখানকার অর্থনীতি অপেক্ষাকৃত ভালো। তা ছাড়া, কোনো দেশে কোনো জাতিসত্তার মানুষ অবিচারের শিকার হলে তাদের অনেকে অন্য দেশে পালিয়ে যায়। তুরস্ক থেকে যেমন কুর্দিরা গেছে জার্মানিতে। সেভাবেই রোহিঙ্গারা হয় বাংলাদেশে অথবা মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে যাতায়াত করে। তারা গিয়ে বসে থাকে না, শ্রম বিক্রি করে জীবিকার জন্য রোজগার করে অর্থ। তাদের শ্রম ওই সব দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
আশির দশকের শুরুতে আমি যে অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া থাকতাম, সেখানে ছিল আটটি ফ্ল্যাট। তার পাঁচটিতে থাকতেন কয়েকজন মালয়েশীয় ছাত্রছাত্রী। তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পড়তে এসেছিলেন। অনগ্রসর মালয়েশিয়ায় ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার প্রভৃতি ছিল না। তাই মালয় সরকার বাংলাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে বৃত্তি দিয়ে ছেলেমেয়েদের পাঠাত। ওদের আমন্ত্রণে আমি কয়েক দিনের জন্য মালয়েশিয়ায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেই মালয়েশিয়া আর আজকের মালয়েশিয়া এক নয়। কিছুদিন আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে মাহাথির বিন মোহাম্মদের দল কোয়ালিশন করে ক্ষমতায় এসেছে। পাহাড় কেটে রাস্তাঘাট ও বড় মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। আমার থাকা অবস্থায় কোরবানির ঈদ আসে। আমার সুযোগ হয়েছিল মাহাথিরের সঙ্গে নির্মীয়মাণ মসজিদে নামাজ আদায় করার। তবে সারা দিন ঘুরেও কোরবানি দেওয়ার দৃশ্য আমি কুয়ালালামপুরের কোথাও দেখিনি।
প্রথম প্রধানমন্ত্রী টুংকু আবদুর রহমান মালয়েশিয়ার ভিত্তি স্থাপন করে যান। দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী টুংকু আবদুল রাজাক ভালো শাসক ছিলেন। তাঁর ছেলেই এখন প্রধানমন্ত্রী। তারপর কয়েক বছর ছিলেন দাতুক হোসেন ওন্। তাঁর উত্তরাধিকারী মাহাথির। তিনি মালয়েশিয়াকে একটি উচ্চতায় নিয়ে যান। তাঁর অধ্যবসায়, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম, সাহস ও সততা বিশ্ববাসীর প্রশংসা (ও নিন্দাও) অর্জন করে। তিনি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, তাঁরই উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করেন, তা ঘৃণার্হ। শুধু বামপন্থীদের নয়, তাঁর বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করার ক্ষেত্রে তাঁর কর্মকাণ্ড খুবই অন্যায়।
তিনি কঠোর হাতে মাদক নিয়ন্ত্রণ করেছেন, সেটা প্রশংসনীয়। তাঁর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানুষের ওপর যে নির্যাতন করেছে, তার সব খবর পৃথিবীর মানুষ কোনো দিনই জানবে না। বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অনেকে তাঁর কারাগারে নির্মমতার শিকার হয়েছেন। তাঁর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার একটি দৃষ্টান্ত এখানে উল্লেখ অপ্রাসঙ্গিক হবে না। আমার সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রয়াত অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার চুক্তি ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি মালয়েশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর যান। গভীর রাত। তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন তাঁর হোটেলের কক্ষে। হঠাৎ দুমদাম শব্দে তাঁর ঘুম যে শুধু ভাঙে তা-ই নয়, ভয়ে তিনি কাঁপতে থাকেন। টোকা দিলে দরজা তিনি নিজেই খুলে দিতেন। কিন্তু মালয়েশীয় নিরাপত্তাকর্মীরা হাতুড়ি-শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ফেলেন। ঘরে ঢুকে তারা তৌহিদ আনোয়ারকে লাথি মারাসহ নির্মমভাবে পিটিয়ে থানায় নিয়ে যায়। কিছুই বুঝতে পারেননি তিনি। কয়েক ঘণ্টা পরে তাঁকে জানানো হয় ভুল হয়ে গেছে, তারা অন্য এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিল। তৌহিদ যখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন তখন কমনওয়েলথ প্রেস ইউনিয়নের চাপে মালয়েশীয় সরকার ক্ষমা চায়। নিউ স্ট্রেইট টাইমস–এ বিরাট খবর হয়েছিল ঘটনাটি। আমিও কড়া প্রতিবাদ করে লিখেছিলাম।
আমার মালয়েশীয় বন্ধুদের সঙ্গে আমি সেলাঙগোর, জোহর, পাহান, কেলাস্তান প্রভৃতি রাজ্য ঘুরেছি। পাহাড় ও বনভূমির আদিম সৌন্দর্য। বহু জায়গায় গিয়ে দেখেছি বাংলাদেশি শ্রমিকেরা পাম ও রাবার বাগানে কাজ করছেন। এক নারকেল বাগানে গিয়ে দেখি আমাদের দেশের কয়েকজন যুবক বুকে চামড়ার একটা বর্মের মতো সেঁটে তরতর করে নারকেলগাছে উঠে নারকেল পাড়ছে। নারকেলগাছগুলো যে খুব উঁচু তা নয়। কিন্তু নারকেল পাড়া খুবই কষ্টকর। তা দেখে কষ্ট পাই। যা হোক, অভিবাসী শ্রমিকেরাই আধুনিক মালয়েশিয়াকে গড়ে তুলেছেন, দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহাথির। তাঁর অনেক নীতিই মানবতাবিরোধী।
অবৈধভাবে মানব পাচারের আমরা ঘোর বিরোধী এবং তার তীব্র নিন্দা জানাই। কিন্তু ওপেন সিক্রেট হলো, অবৈধ অভিবাসীদের অনেক দেশই পছন্দ করে। কারণ, তাদের কম বেতন দিয়ে দাস হিসেবে খাটানো যায় ইচ্ছামতো।
কিছু কিছু স্থায়ী সমস্যা হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করে। তখনই তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। কোনোরকমে সমস্যাটির সাময়িক সমাধান দিলেও তা থেকেই যায়। সে জন্য দরকার বিচক্ষণতার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা। বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। এর সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে হবে না। এই মুহূর্তে জরুরি মাঝদরিয়ায় যারা রয়েছে এবং ক্ষুধা-তৃষ্ণায় মারা যাচ্ছে, তাদের বাঁচানোর ব্যবস্থা করা।
বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার রোধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের কড়া নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আমার ধারণা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যদি এ ব্যাপারে শক্ত ভূমিকা না রাখেন, তাহলে মানব পাচার বন্ধ করা যাবে না।
থাইল্যান্ডের গহন অরণ্যে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর সন্দেহভাজন মানব পাচারকারীদের ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়া হয়েছে। ক্রসফায়ার সমাধান নয়। এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির আত্মীয়স্বজন, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা এবং পুলিশ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ কাজে লাগিয়ে কক্সবাজার থেকে প্রায় প্রতি রাতেই মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রলারে তোলা হচ্ছে বিপুলসংখ্যক মানুষ।...জলপথে মানব পাচার খাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার মুক্তিপণ লেনদেন হয়েছে।...তবে বরাবরই কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের কৌশলের কারণে আড়ালেই থাকছে গডফাদাররা। মানব পাচারের পেছনের মূল হোতা ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের নাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানলেও তা গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোয় আসছে না।...পুলিশের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ১৫ থেকে ২০ হাজার লোক অবৈধভাবে সমুদ্রপথে পাচার হয়েছে।’ [কালের কণ্ঠ, ১৭ মে]
অবৈধ মানব পাচার একটি অতি জটিল মানবিক সমস্যা। এটি আন্তরাষ্ট্রীয় সমস্যা। একসময় এই বিষয়টি কূটনৈতিক জটিলতার জন্ম দিতে পারে। সুতরাং অবিলম্বে স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই হবে সুবুদ্ধির কাজ।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের মলমূত্রই হবে খাবার পানি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উড়ন্ত পাখি দেখে জীবনের লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন এপিজে আবুল কালাম
১০ বছর বয়সে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় তার স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক সিভাসুব্রামানিয়া পাখি কীভাবে উড়ে সেই প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছিলেন। একই সঙ্গে বিমান উড়ার পদ্ধতিও জেনেছিলেন। তখন আবুল কালাম জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৩৭০ আসন দাও রামমন্দির দেব
অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ, মুসলিমদের শরিয়া বাতিল করে সব ভারতীয়ের জন্য অভিন্ন মদেওয়ানি বিধি চালু করা কিংবা জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাবাহী সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা। এগুলোকে বিজেপি তাদের দলের মূল লক্ষ্য বা কোর ইস্যু বলে বর্ণনা করে থাকে। কিন্তু এতদিন কোনো বিজেপি সরকারই তার বাস্তবায়নে এগোতে পারেনি। আর তার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তাদের সরকার অন্য শরিকদের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ২০১৪ তে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করার ঠিক এক বছরের মাথায় বিজেপি মঙ্গলবার জানিয়ে দিল, এই সংখ্যাগরিষ্ঠতাও যথেষ্ট নয়। সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ডাকা এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সাফ জানিয়ে দিলেন, দলের কোর ইস্যুগুলো বাস্তবায়ন করার মতো গরিষ্ঠতা এখনো বিজেপির হাতে নেই। তিনি বলেন, ‘আপনাদের জানা উচিত- এর জন্য পার্লামেন্টে আমাদের অন্তত ৩৭০টা আসনে জিতে আসতে হবে,
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় সামরিক শক্তি বাড়াবে চীন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মৃত্যুর পরে গাছ হবে মানুষ!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বাংলাদেশ বিতর্ক by হাসান ফেরদৌস
আলোচনার শুরু সদানন্দ ধুমের প্রশস্তিমূলক উপসম্পাদকীয় থেকে (http://on.wsj.com/1FeLhXJ)। ভদ্রলোক আমেরিকার দক্ষিণপন্থী থিংক ট্যাংক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। সদানন্দ মনে করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তার কারণ, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আদর্শগতভাবে এক ভিন্ন অবস্থান তিনি নিয়েছেন। কামারুজ্জামানের মতো একাত্তরের ঘাতকদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নিজের অঙ্গীকার পূরণ করেছেন তিনি। তাঁর বিবেচনায়, ইসলামিক জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এই শক্ত অবস্থানের জন্য হাসিনা বিশ্ববাসীর সাধুবাদ পাওয়ার দাবিদার। অথচ এই ভূমিকার জন্য সাধুবাদ দেওয়ার বদলে ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশ বিচারব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এসব সমালোচনার ফলে বাংলাদেশের ভেতরে কেবল তারাই লাভবান হয়, যারা জঙ্গিবাদের পক্ষে। সদানন্দ মনে করেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো শেষ হয়নি, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ব্লগারের হত্যাকাণ্ড থেকেই প্রমাণিত হয় বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা এক ভঙ্গুর ভূমির ওপর দাঁড়িয়ে। এ অবস্থায় সমালোচনার বদলে পশ্চিমের দেশগুলোর উচিত হবে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের হাত বাড়ানো।
লন্ডন থেকে তাঁর সে কথার বিরুদ্ধে পাল্টা শেল ছুড়লেন টবি ক্যাডম্যান (http://on.wsj.com/1FpnCWk)। ভদ্রলোক পেশায় ব্যারিস্টার, ঘাতক–দালালদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যে বিচারের প্রক্রিয়া চলছে, তিনি তার একজন প্রবল সমালোচক। অবশ্য তার কারণও রয়েছে, তিনি বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর একজন উপদেষ্টা। অন্য কথায়, জামায়াতকে আত্মরক্ষায় সহায়তা করা তাঁর রুটি-রুজির ধান্দা। সদানন্দ ধুমের সমালোচনা করে তিনি লিখলেন, ঘাতক-দালালের বিচারের নামে বাংলাদেশ সরকার যা করছে, তা আসলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ গঠন করেছে, তার লক্ষ্য আইন ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা নয়, বাংলাদেশ সরকারের বিরোধিতা করে, এমন সব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করা। সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলে শুধু তার অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে আমাদের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে। ক্যাডম্যান ‘মুক্তমনা’ ব্লগারদের হত্যার বিরোধী, কিন্তু তিনি মনে করেন না যে এসব ব্লগার হত্যা প্রমাণ করে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা হুমকির মুখ। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বাড়ছে তার কারণ, মাঝামাঝি ক্ষেত্র, তাঁর ভাষায় ‘মিডল গ্রাউন্ড’ আর থাকছে না। মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বা অন্য ঘাতক-দালালদের ফাঁসির ফলে জঙ্গিবাদের মোকাবিলার বদলে বরং তাদের উসকে দেওয়া হচ্ছে। ক্যাডম্যানের সবচেয়ে বেশি আপত্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের জন্য সমালোচনার বদলে তাঁর হাত শক্ত করার যে প্রস্তাব সদানন্দ করেছেন, তা নিয়ে। তাহলে তো মিসরে জেনারেল সিসি বা সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদ যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন, আমাদের তারও সমর্থন জানাতে হয়। তাঁরাও তো জঙ্গিবাদের বিরোধিতার নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মেরে লাশ বানাচ্ছেন! টবি মনে করেন, বাংলাদেশের জন্য যা দরকার তা হলো গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। ‘মধ্যভূমি’ ধ্বংসের যে কাজে হাসিনা নেমেছেন, তাতে সে কাজটি অর্জিত হবে না।
সদানন্দ ধুমের লেখা পড়ে এমন ভ্রম হতে পারে যে ভদ্রলোক বুঝি হাসিনা সরকারের ‘পেইড এজেন্ট’। বাংলাদেশ সরকারের বাকপটু তথ্যমন্ত্রীকেও বিন্দুমাত্র চোখের পাতা না কাঁপিয়ে এমন ভাষায় তাঁর সরকারের প্রশস্তি গাইতে শুনিনি। আমি অবশ্য খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এই ভদ্রলোক আগাগোড়াই বাংলাদেশের হাসিনা সরকারের পক্ষে নানা সময়ে প্রশস্তিমূলক উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছ থেকে দু-চার সবক নিতে পারে, বছর দুয়েক আগে এমন কথা লিখে তিনি আমাদের পাকিস্তানি মিত্রদের গাত্রদাহের কারণ হয়েছিলেন। বাংলাদেশ এখন আর ‘বাস্কেট কেস নয়’, এ কথাও তাঁরই। এসব লেখার জন্য ঢাকা থেকে কোনো উপঢৌকন গেছে, এমন শুনিনি। বস্তুত, সদানন্দ ধুমের সব লেখাই এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের আদর্শগত অবস্থান থেকে লেখা। ফিলিস্তিন থেকে জঙ্গিবাদ, ইরানের সঙ্গে আণবিক চুক্তি থেকে কিউবার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন, এমন প্রতিটি প্রশ্নে এই সংস্থা তাদের অতি কট্টর ডানপন্থী অবস্থানের জন্য সুপরিচিত। ফলে সদানন্দ যে হাসিনা সরকারের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন, তা নিজের তাত্ত্বিক অবস্থান থেকে বিচার-বিবেচনা করেই লেখা।
অন্যদিকে টবি ক্যাডম্যান তাঁর ইসলামি ক্লায়েন্টদের নির্ভরশীল উকিল হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর প্রধান উষ্মা, যে ঘাতক-দালাল বিচারের প্রক্রিয়া বাংলাদেশে চলছে, তার মান আন্তর্জাতিক বিধিসম্মত নয়। সে কারণে তিনি কামারুজ্জামান গংদের ফাঁসির বিপক্ষে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মান বলতে তিনি কী বোঝান, তা খুব খোলাসা করে বলেননি। নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হলেও ঘাতক-দালালদের চলতি বিচার অভ্যন্তরীণ বিচারব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে বাংলাদেশের আইন পরিষদে গৃহীত আইনের ভিত্তিতে এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ ফাঁসির রায়ের সমালোচনা করেছে, কারণ তাদের চোখে ফাঁসি অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু আমেরিকাসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে সে ব্যবস্থা চালু রয়েছে। জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘না’ বলল বলেই সেই ব্যবস্থা বেআইনি হয়ে গেল, তা নয়। গত বছরও আমেরিকায় ৩৫ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, সেসব নিয়ে কেউ টুঁ-শব্দটিও করেনি।
টবি উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন, ঘাতক-দালালদের বিচার কেবল হাসিনা সরকারের সিদ্ধান্ত নয়, এর পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের জনগণের দাবি। সেখানে এই বিচারের পক্ষে জনসমর্থন প্রায় নিরঙ্কুশ। প্রায় বলছি, কারণ দেশে এখনো ২ থেকে ৫ শতাংশ জামায়াতপন্থী আছে, যাদের যদি ঘাতকপন্থী বলা হয়, তাতে খুব অন্যায় হবে না। কাগজে-কলমে নিয়মনীতি মেনে চলার পাশাপাশি নাগরিক সম্মতি ও সমর্থনের একটি ওজন রয়েছে, তা যেকোনো আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে বাধ্য।
টবি মনে করেন, ঘাতক-দালালদের বিচারের নামে হাসিনা সরকার আসলে একটি রাজনৈতিক খেলায় নেমেছে, যার লক্ষ্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নয়, জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করা। এ কথা থেকে বোঝা যায় টবির আসল আপত্তি কোথায়। তাঁর মক্কেলকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে ফাঁসি দিলে তিনি হয়তো আপত্তির কারণ দেখতেন না। স্পষ্টতই, তিনি যে কথাটা বোঝেন না বা মানেন না, তা হলো কাদের মোল্লা বা কামারুজ্জামানের মতো লোকগুলো রাজনীতিক নন, তাঁরা খুনি, মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধে দোষী। চিহ্নিত ও প্রমাণিত এসব অপরাধীকে শাস্তি দিলে বাংলাদেশের ‘মিডল গ্রাউন্ড’ কেন নিশ্চিহ্ন হবে, তা স্পষ্ট নয়। আর এই জামায়াতিদের যদি ‘মিডল গ্রাউন্ড’ বলা হয়, তাহলে সে কথা শুনে বাংলাদেশের লোক সমস্বরে এমন অট্টহাসি দিয়ে উঠবে, যা তিনি হয়তো আটলান্টিকের ওপার থেকেও শুনতে পাবেন।
ইসলামি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকারের অবস্থানের একটি ভূ-রাজনৈতিক চরিত্র রয়েছে, সদানন্দ বা টবি কেউই সেদিকে নজর দেননি। পাকিস্তান এই জঙ্গিবাদের একটি প্রধান ঘাঁটি। আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের পতনের পর হাজার হাজার আন্তর্জাতিক জঙ্গি সে দেশের সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়। পরে তাদের অনেকে বাংলাদেশ হয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। ‘ট্রানজিট রুট’ হিসেবে এই পরিচিতি লাভের পর জঙ্গিবাদের লড়াইয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা ভিন্ন মাত্রা গ্রহণ করে। বাংলাদেশের নিজস্ব ‘ঘরে বোনা’ সন্ত্রাসীও রয়েছে, যাদের অনেকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব কারণে আমেরিকা ও ভারতের কাছে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যায়। বিএনপি আমলে দেশি-বিদেশি জঙ্গিরা নিরাপদ আশ্রয় পায়। অন্যদিকে হাসিনা সরকার তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে। হাসিনা সরকার নিজেরাও জঙ্গিবাদের শিকার, সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা সাগ্রহে আমেরিকা ও ভারত উভয়ের সঙ্গেই জঙ্গিবাদবিরোধী আঁতাতে যুক্ত হয়েছে।
হাসিনা সরকারের আমলে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র পিছু হটেছে, টবির এই উপসংহার সম্পূর্ণ ভ্রান্ত নয়। কিন্তু আমেরিকা বা ভারত কেউই সে ব্যাপারে তেমন উদ্বিগ্ন নয় বলেই মনে হয়। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকতার চেয়ে তাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে নিজেদের পাশে রাখা। হাসিনা এ ব্যাপারটা খুব ভালো বুঝে ফেলেছেন। মাস তিনেক আগে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের আমেরিকাকে যতটা প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি আমেরিকার প্রয়োজন বাংলাদেশকে। জঙ্গিবাদের সমস্যা যদি মাথায় রাখি, তাহলে তাঁর এ কথা মোটেই বাচালতা মনে হয় না।
হাসান ফেরদৌস: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শালবনের কফিনে শেষ পেরেক by মোকারম হোসেন
![]() |
| গাছকাটা ও পাচারসহ বনভূমি দখলবাজির কারণে শালবন ধ্বংস |
জীবনে প্রথম কয়েকটি শালগাছ দেখি কুমিল্লার ময়নামতির শালবন বিহারে। সেখান থেকে ফেরার পর অনেকবার ভেবেছি, বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি শালগাছ এখানে কোথা থেকে এল। পরে অবশ্য এই প্রশ্নের জবাব পেয়েছি। ময়নামতির গাছগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ভৌগোলিক বিবর্তন, বেদখল প্রক্রিয়া এবং অপরিকল্পিত বসতি সারা দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শালবনকে নিশ্চিহ্ন করেছে। ময়নামতির পর অসংখ্যবার গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও দিনাজপুরের শালবনগুলো দেখেছি। যতবারই দেখেছি ততবারই কোনো না কোনো পরিবর্তন লক্ষ করেছি। প্রায় নিঃশেষ, ক্ষয়িষ্ণু বন নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বনের ভেতর কোথাও আরণ্যক নিবিড়তা নেই। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা অল্পবয়সী গাছগুলোর গোড়া একেবারেই সাফসুতরো। মানুষের পদপিষ্ট লতাগুল্মগুলো মৃত্যুর প্রহর গুনছে। বনে আশ্রিত প্রাণিকুল ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়েছে।
মাস খানেক আগে গাজীপুরের হাতিয়াবিবি এলাকায় আরণ্যকে বেড়াতে গিয়ে নিজের চোখে যে দৃশ্য দেখেছি, তা বর্বরোচিত ও জঘন্য। আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় শালগাছগুলো আগুনে দগ্ধ। বনের ভেতরে এই দৃশ্য আরও বীভৎস। যতই হাঁটতে থাকি ততই হতাশায় আচ্ছন্ন হই। শালবনের এমন ঝলসানো চেহারা দেখলে যে কারোরই মন খারাপ হবে। আগুনে শুধু শালগাছই নয়, বনের যাবতীয় প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হয়েছে। শালবনে কেন আগুন লাগানো হয়েছে, স্থানীয় সূত্র থেকে এই প্রশ্নের একাধিক উত্তর পাওয়া যায়। যার অন্যতম হলো জ্যান্ত গাছ পুড়িয়ে লাকড়ি বানিয়ে সংগ্রহ করা। এই প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় সুবিধা শালবন দখল করা। গাছ পুড়ে যতই বনের আয়তন সংকুচিত হবে, ততই দখল করতে সুবিধা। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও নতুন নতুন কৌশল। স্থানীয় বাসিন্দারা বনের কিনারায় অগভীর অংশে পালিত বৃক্ষ রোপণ করে পরবর্তী সময়ে জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি করে। তাদের যুক্তি, শিল্পপতিরা যদি বন দখল করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না!
শালবন নিয়ে নৈরাজ্যের যেন আর শেষ নেই। এসব দেখারও যেন কেউ নেই। কাগজ-কলমে বন বিভাগ শালবনের অভিভাবক হলেও তারা যে বন রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ, সে কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। অথচ আমরা কেউ কি একবারও ভেবেছি, শালবন ধ্বংস হওয়া মানে দেশের একটি অন্যতম প্রাণভান্ডারের বিলুপ্তি ঘটা। কারণ, শালবন আমাদের দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম। শালবন মানে শুধু শালগাছই নয়, অসংখ্য লতাগুল্ম, অন্যান্য বৃক্ষ ও বিচিত্র প্রাণীদের আবাসও এখানে। গবেষকদের মতে, এই বনে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্মের বসবাস। আমাদের একমাত্র বুনো রঙ্গন, বুনো কুল, কুম্ভি, উলটচণ্ডাল, গোয়ালিয়া লতাসহ আরও অনেক কন্দজ ও পরজীবী এখানে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে। একজন বৃক্ষপ্রেমী বা গবেষক যদি প্রতি মাসে একবার শালবনে যান, তাহলে প্রতিবারই তাঁর জন্য অপেক্ষা করবে কোনো না কোনো নতুন কিছু। বছরজুড়ে থাকে বিচিত্র ফুল, ফল, লতাগুল্ম, কন্দজ আর তৃণ নিয়ে অফুরন্ত প্রাণবৈচিত্র্যের সমাহার। টিকে থাকা যৎসামান্য এই শালবনকে এখন তৃতীয় প্রজন্মের বন মনে করা হয়।
শালবন বিলুপ্ত হলে শুধু যে প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হবে তা নয়, বনের ওপর নির্ভরশীল অনেকগুলো নৃ-গোষ্ঠীও বিপন্ন হবে। বর্তমানে যদিও তারা বনের ওপর নির্ভরশীল নয়, তবু বহিরাগতদের চাপে ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হওয়ার আশঙ্কা তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রায় বিশ বছর আগে অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা গ্রন্থে শালবনের যে চিত্র তুলে ধরেছেন, সেখানেও নিঃশেষিত বনের কথা আছে। আছে বনজীবী মানুষের হাহাকারের কথা। বিশ বছর পর এই চিত্র আরও চূড়ান্ত হয়েছে মাত্র।
২০১০ সালের ৪ মার্চ প্রথম আলোয় ‘জাতীয় বৃক্ষ, পুষ্প উৎসব ও অন্যান্য’ শিরোনামে একটি লেখা লিখি। তাতে শালগাছকে আমাদের জাতীয় বৃক্ষ ঘোষণা করার প্রস্তাব করি। কারণ, দারু মূল্য, পাতার আকৃতি, বংশবৃদ্ধির কৌশল—সবকিছুতেই এরা অনন্য। শালকে জাতীয় বৃক্ষ করা হলে দুটি কাজ হতো। প্রথমত, শাল সম্পর্কে মানুষ নতুন করে জানতে আগ্রহী হতো; দ্বিতীয়ত, গাছটি কিছুটা হলেও রক্ষা পেত। আমরা কি পারি না দেশের অবশিষ্ট বনগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে? আমার বিশ্বাস, দেশের অধিকাংশ মানুষই বন দখল করতে চায় না। আমরা যদি একটু সচেতন হই তাহলে মুষ্টিমেয় দখলকারীরা দাঁড়তেই সাহস পাবে না।
মোকারম হোসেন: প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক। সাধারণ সম্পাদক: তরুপল্লব
tarupallab@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীনের বাড়াবাড়ি থামাবে যুক্তরাষ্ট্র
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাঁটাতারে নির্মিত সেলে চলতো নির্যাতন
থাইল্যান্ড উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে: সমুদ্রে ভাসমান মানুষগুলোকে সহায়তা দেয়া শুরু করেছে থাইল্যান্ড। তাদের নৌবাহিনীর রিজিওন ৩-এর একটি জাহাজ এবং রয়েল থাই এয়ার ফোর্সের একটি বিমান প্রাথমিকভাবে এ অভিযান শুরু করেছে। এ অভিযান চলবে দু’সপ্তাহ। তবে প্রয়োজন হলে এর সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে। রিজিওন ৩ এর নৌ কমান্ডার ভাইস এডমিরাল সায়ান পাসোঙ্গসামরেট বলেন, এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে ফুকেট প্রদেশে নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে। এ জাহাজকে সিমিলান দ্বীপ থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইল পশ্চিম পর্যন্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মোট ৭টি জাহাজ ও নৌযান মোতায়েন করা হলো। এতে যোগ দিয়েছে উদ্ধারকারী দুটি বিমান ও দুটি হেলিকপ্টার। সম্মিলিতভাবে এ অভিযানে রয়েছে ৬০০ প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা। এ অভিযানে আকাশপথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী ভূমিকা রাখবে গ্রিপেন যুদ্ধজাহাজ উইং ৭। তবে তারা ভাসমান মানুষকে উদ্ধার করবেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান ওচা ভাসমান অভিবাসীদের মানবিক সহায়তার নির্দেশ দেয়ার পরই গতকাল শুরু হলো এ অভিযান।
বাংলাদেশী অভিবাসীদের শিগগিরই ফেরত পাঠাবে ইন্দোনেশিয়া: ওদিকে সম্প্রতি সাগর থেকে যেসব বাংলাদেশীকে উদ্ধার করা হয়েছে দ্রুততম সময়ে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে ইন্দোনেশিয়া। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তা মির্জা ইস্কান্দার। তবে বাংলাদেশী অভিবাসীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় প্রসিকিউটর প্রধান এআর মিফতাহুল আরিফিন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা এখনও বিস্তারিত জানি না। এসব বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে নিতে ভাড়া করা বিমান নাকি বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করবে সে বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আমাদেরকে জানায়নি। তবে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর আগে পাঠানো হবে মেদান ও উত্তর সুমাত্রায়। ইন্দোনেশিয়া থেকে অভিবাসীদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করে নি বাংলাদেশ সরকার।
মিয়ানমারও অভিবাসীদের ফেরত পাঠাবে: ওদিকে গত শুক্রবার মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের পশ্চিমে ভাসমান একটি নৌযান থেকে ২০৮ অভিবাসীকে উদ্ধার করে মিয়ানমার। এর মধ্যে ২০০ জন বাংলাদেশী বলে রিপোর্ট দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস। তাতে বলা হয়েছে, ওই বাংলাদেশীর মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকার উত্তরাঞ্চলের মানুষ। বাকি ৮ জন হলো রাখাইন প্রদেশের বাংলাভাষী। ওই বোট থেকে উদ্ধার করা মোহাম্মদ মুফাজল হুসেইন বলেন, তিনি শুধু কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ তাকে জোর করে দুজন ব্যক্তি নৌকায় তুলে নেয়। তারা আমাকে বলে যে, আমাকে কিনে নিয়েছে তারা। তারা আমাকে নৌকায় তুলে নিয়ে ছুটতে থাকে থাইল্যান্ডের দিকে। দাবি করা হয় ৫০ হাজার করে টাকা।
ইন্দোনেশিয়ানদের হৃদ্যতা: ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে গড়ে উঠেছে এসব অভিবাসীর অস্থায়ী আবাস। সেখানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ছেলেমেয়েরা এখন একটু জীবনের স্পর্শ পেয়েছে। কুয়ালা লাঙসা ক্যাম্পে রয়েছে চারটি আশ্রয়শিবির। সব মিলে সেখানে ঠাঁই পেয়েছেন ১৭ শতাধিক মানুষ। ইন্দোনেশিয়ার একটি মুসলিম সংগঠন তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা শিশুদের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছে। কেউ বা দিচ্ছে আইসক্রিম। তা খেয়ে অনেক শিশু বলেছে, তারা জীবনে এত স্বাদের আইসক্রিম খায় নি। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ১৮ বছরের কম বয়সী ১৬০টি শিশুকে শনাক্ত করেছে। তারা নিঃসঙ্গ। কোথায় তাদের পিতামাতা বলতে পারে না। আচেহতে যে পরিমাণ অভিবাসী আছেন তার এক তৃতীয়াংশই শিশু।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নবায়নযোগ্য জ্বালানি- বিদ্যুতের উৎপাদন সীমাবদ্ধতা by মুশফিকুর রহমান
দুবাইয়ের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সাফল্যে সংগত কারণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা উৎসাহিত হয়েছেন। এবং ৫ মে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ‘ফিড ইন ট্যারিফ’ নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রস্তাবিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ‘ফিড ইন ট্যারিফ’ চার টাকা হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে তিনি মত দিয়েছেন। অবশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন চেয়ারম্যান বলেছেন, দুবাইয়ের বাস্তবতা বাংলাদেশে অনুপস্থিত এবং সে কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য ইউনিটপ্রতি চার টাকা নির্ধারণ বাস্তবানুগ হবে না।
সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সৌরবিদ্যুৎ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, গ্রিড বিদ্যুৎ যেখানে নেই সেখানে। তবে প্রধানত সোলার হোম সিস্টেমস সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনারও সীমা রয়েছে। আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাবনাও সে কারণে সীমাবদ্ধ অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি ইনস্টিটিউট ও এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও ফিড ইন ট্যারিফ’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করেছিল। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যক্তি খাতকে উৎসাহিত করতে দীর্ঘ মেয়াদে প্রচলিত উৎসের বিদ্যুতের চেয়ে বেশি মূল্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয়ের নিশ্চয়তা দিতে ফিড ইন ট্যারিফ নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তর কথা হলেও বাংলাদেশে এখনো কেবল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছে; তাও মূলত গ্রিড বিদ্যুতের আওতাবহির্ভূত এলাকায়। প্রায় ৩৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেমস ইতিমধ্যে দেশে স্থাপিত হয়েছে এবং প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার নতুন সোলার হোম সিস্টেমস বসানো হচ্ছে। কিন্তু এখনো সোলার হোম সিস্টেমস থেকে উৎপাদিত অতি সামান্য পরিমাণের বিদ্যুৎ কেবল সীমিতসংখ্যক বাতি জ্বালানো, টিভি চালানো এবং মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কাজে সীমাবদ্ধ।
সম্প্রতি কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সেচপাম্প দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসানো হয়েছে এবং আগামী বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত প্রায় ৫০ হাজার সেচপাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎকে গ্রিডে সংযুক্ত করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা হলেও এখন অবধি তেমনটি ঘটেনি। দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের (সব কটি স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেমসের সম্মিলিত উৎপাদন) ২০০ মেগাওয়াটেরও কম। সৌরবিদ্যুৎ এবং গত শতাব্দীর ষাটের দশকে স্থাপিত এবং দেশের একমাত্র ২৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা মিলিয়ে এখন আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট।
সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ বছরের মধ্যে ৬০০ মেগাওয়াট (মোট উৎপাদনক্ষমতার ৫ শতাংশ) বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের কথা। সরকারের প্রতিষ্ঠিত ‘সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অব বাংলাদেশ’-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বিদ্যুতের উৎপাদন সামর্থ্য এ বছর অনর্জিতই থাকবে। তবে প্রতিষ্ঠানপ্রধান আশা করেন, ২০২১ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের উৎস থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, বাতাসের শক্তি থেকে ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট, বায়োমাস থেকে ৪৭ মেগাওয়াট, বায়োগ্যাস থেকে ৭ মেগাওয়াট এবং মিনি হাইড্রো বা ÿখুদে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আরও ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
দেশে ১৩টি স্থানে বাতাসের শক্তি সম্ভাবনা নিয়ে জরিপ করা হচ্ছে; তবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান যথেষ্ট উঁচু স্তরে না গেলে বাতাসের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন আমাদের দেশে দুরূহ। সেই সঙ্গে বাতাসের ক্রমপরিবর্তনশীল ও অনির্ভরযোগ্য গতি ও দিক পরিবর্তনের ধরন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাতাসের শক্তি ব্যবহার অনিশ্চিত করে তুলেছে। সৌররশ্মির তীব্রতাও আমাদের দেশে সারা বছর একই রকম জোরালো নয়। ফলে সিএসপি-প্রযুক্তির সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেনি।
সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি সাধারণভাবে বর্তমানে জনপ্রিয়। কিন্তু বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে—প্রধানত দেশে জমির স্বল্পতার কারণে। বিদ্যমান প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সূর্যের আলো থেকে ১৬০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে মোটামুটি এক বিঘা জমি দরকার হয়। ১০ থেকে ২০টি ঘরে সামান্য আলো আর টিভি চালানোর বিদ্যুতের জোগান দিতে বেশ কয়েকটি সোলার হোম সিস্টেমস, (ব্যাটারি, সংযোগ ব্যবস্থাসহ) মিলিয়ে একটি ‘ন্যানো গ্রিড’ তৈরি করা যায়। এ জন্য চার-পাঁচ লাখ টাকার বিনিয়োগ দরকার।
এর চেয়ে আর একটু বড় বা ‘মিনি গ্রিড’ তৈরি করে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়। সে ক্ষেত্রে মিনি গ্রিড তৈরিতে পাঁচ-ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সৌরবিদ্যুৎ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, গ্রিড বিদ্যুৎ যেখানে নেই সেখানে। তবে প্রধানত সোলার হোম সিস্টেমস সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনারও সীমা রয়েছে। আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাবনাও সে কারণে সীমাবদ্ধ।
ড. মুশফিকুর রহমান: জ্বালানি ও পরিবেশ-বিষয়ক লেখক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানব পাচার রোধে বাংলাদেশকে বড় সহায়তার সুযোগ নেই
বুধবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামে (ইআরএফ) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ রাষ্ট্রদূত মায়াদোন পিয়ারি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর সম্পর্ক অনেক পুরনো। যুক্তরাজ্যে সিলেটের জন্য আলাদা স্থান রয়েছে। তবে সম্প্রতি মানব পাচারের বিষয়টি জাতিসংঘ দেখছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে অর্থনৈতিক রিপোর্টাদের সংগঠন ইআরএফ। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সুলতান মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান। সভায় ইইউর রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, ইউরোপের বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা, বিদেশী বিনিয়োগ, শ্রমমান নিয়ে কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ আনতে হলে একটি সুন্দর পরিবেশকে ফোকাস করতে হবে। কিন্তু টিভি চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে দেখা যায়, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খারাপ। এ ধরনের খবর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এছাড়া দেশের আদালতে ৭০ শতাংশ মামলা হচ্ছে ভূমিসংক্রান্ত। নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ ও বিনিয়োগের নিশ্চয়তা না পেলে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে না। মায়াদোন পিয়ারি বলেন, রানা প্লাজার দুর্ঘটনা ইউরোপের আবেগে আঘাত করেছে। তৈরি পোশাক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মোট পোশাক রফতানির ৬০ শতাংশ ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জিডিপির ১০ শতাংশের সমান। এখন বাংলাদেশের শ্রমমান আরও উন্নত করতে হবে। শ্রম আইন রফতানি প্রক্রিয়া অঞ্চলেও বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। তৈরি পোশাক রফতানি ৫ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করতে হবে। এসব বাস্তবায়ন করা হলে ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ইউরোপের বাজারে নয়টি দেশ জিএসপি প্লাস সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপ নিলে এই সুবিধা পাবে না। তবে বাংলাদেশকে এই সুবিধা পেতে শ্রমমান উন্নয়ন, সুশাসন ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত, শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি চমৎকার ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে গড়ে থাকছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্লু ইকোনমি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ। এতে একটি নতুন সম্ভাবনা অর্থনীতির ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে।
সভায় প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশ সরকার দাবি করছে শ্রমমান উন্নয়ন হচ্ছে, ইইউ বলছে ধীর গতি। এ ক্ষেত্রে সরকারের কি করণীয় আছে। জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, শ্রমমান উন্নয়নে কারখানা পরিদর্শক নিয়োগ বাড়াতে হবে। শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রযুক্তিগত দিকগুলো আরও কর্মপরিবেশে বাড়াতে হবে। মতবিনিময় সভায় ইআরএফের সিনিয়র সদস্য ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1353)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
May
(1015)
-
▼
May 28
(53)
- ‘জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বিএনপিকে এগিয়ে যেতে হবে’
- অমঙ্গলের থাবা মা ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রে -লক্ষ্য পূরণ...
- চাকরি দেওয়ার ফাঁদে ফেলা হয় আদিবাসী তরুণীকে
- মন ভরানো রসাল লিচু by এস এম আক্কাস উিদ্দন
- গণপিটুনি নয় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড -সংবাদ সম্মেলনে ...
- চকরিয়ায় জীববৈচিত্র্য দিবস- বীজ বুনে বন রক্ষার অঙ্গ...
- চলন্ত মাইক্রোবাসে ধর্ষণ- ধর্ষকদের ফাঁসি চান গারো ছ...
- ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো থিওরি’
- পুরস্কার পাচ্ছেন ১০০ ফ্রিল্যান্সার by মো. মিন্টু হ...
- মাটি ধস, সুন্দরবন হোটেল ঝুঁকিতে
- সমস্যা জটিল—স্থায়ী সমাধান কাম্য by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের মলমূত্রই হবে খাবার পানি
- উড়ন্ত পাখি দেখে জীবনের লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন এপিজে আ...
- ৩৭০ আসন দাও রামমন্দির দেব
- বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় সামরিক শক্তি বাড়াবে চীন
- মৃত্যুর পরে গাছ হবে মানুষ!
- ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বাংলাদেশ বিতর্ক by হাসান ফেরদৌস
- শালবনের কফিনে শেষ পেরেক by মোকারম হোসেন
- চীনের বাড়াবাড়ি থামাবে যুক্তরাষ্ট্র
- কাঁটাতারে নির্মিত সেলে চলতো নির্যাতন
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি- বিদ্যুতের উৎপাদন সীমাবদ্ধতা ...
- মানব পাচার রোধে বাংলাদেশকে বড় সহায়তার সুযোগ নেই
- কৌতুককর আচরণ করবেন না by প্রণব মুখার্জি
- মনির বান্ধবীর খোঁজে পুলিশ by মহিউদ্দীন জুয়েল
- সাবধান অনলাইনে সাবরিনা by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
- মোদির সফরসঙ্গী হিসেবে ঢাকায় আসছেন মমতা
- মালয়েশিয়ায় গণকবর- কক্সবাজারে মাতম by রাসেল চৌধুরী
- ৮ দেশে বাংলাদেশী ১৫ গডফাদার by নুরুজ্জামান লাবু
- মোদি-খালেদা সাক্ষাৎ ৭ই জুন
- বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ১০ তরুণ নিখোঁজ, পরিবারে মাতম by...
- চট্টগ্রামে প্রেমের জন্য জোড়া খুন by মহিউদ্দীন জুয়েল
- ওসমানীতে যে কারণে নামছে না আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, প্র...
- বাকরুদ্ধ স্ত্রী, বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা
- নিজ বুদ্ধিমত্তায় পাচারকারীর হাত থেকে পালিয়ে বাঁচলো...
- পাঁচ বছরের শিশুর অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত
- দক্ষ জনপ্রশাসন গড়ার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার -...
- মুনের দেখে যাওয়া সেই ক্লিনিক by মাসুদ আহমদ
- ফেসবুকে ঘৃণার চাষ by মাহমুদ মানজুর
- উপকূলের ঘরে ঘরে আর্তনাদ by সরওয়ার আলম শাহীন
- কোন আম কখন খাবেন by মাহবুব সিদ্দিকী
- সিলেটে ঐতিহ্যের সেই পুকুরটি থাকছে না
- ১৪ দিনের জেল হেফাজতে সালাহউদ্দিন
- জেএসসির অনলাইন রেজিস্ট্রেশনে ভোগান্তি
- যুবলীগ নেতার ‘তাণ্ডব’, খোলা আকাশের নিচে ১০ পরিবার
- ঝড় ও বন্যায় বিপর্যস্ত টেক্সাস, ওকলাহোমা ও মেক্সিকো...
- বঙ্গবন্ধু পরিবারের ৭ সদস্য নিরাপত্তাসহ যেসব সুবিধা...
- ভারতে প্রথমবার একজন হিজরা সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল
- আত্মীয়তার বন্ধনে রাজনীতি-২ by কাফি কামাল
- শর্ত অমান্য করে নালার ওপর স্ল্যাব বিএসআরএমকে জরিমানা
- আমে রাসায়নিক ব্যবহার না করার শপথ চাষিদের
- ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় কলের লাঙলের ভর্তুকির...
- ধসের ঘটনায় ঝুঁকিতে সুন্দরবন হোটেল by ইমরান আহম্মেদ
- দুই দেশের সম্পর্ক যমুনা নদীর মতো চিরবহমান
-
▼
May 28
(53)
-
▼
May
(1015)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)



















