Thursday, May 28, 2015

‘জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বিএনপিকে এগিয়ে যেতে হবে’

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, ক্যারিশমেটিক রাজনৈতিক কৌশল ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠা, বিকাশ ও জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তা-চেতনা এবং কর্মকা- তুলে ধরেন। একইসঙ্গে জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে চলার দিকনির্দেশনা দেন দলটির প্রতিষ্ঠাতাকালীন এ মহাসচিব। আজ বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বর্তমান বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরী বলেন, যদি দেশের ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন চান, তাহলে আগে নিজেদের পরিবর্তন করুন। প্রত্যেককে একেকজন জিয়া হতে হবে। এক্ষেত্রে যদি ভুল করেন তাহলে ইতিহাস আপনাদের কাউকেই ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, জিয়া ছিলেন এদেশের রাখাল রাজা। তিনি ঘরে বসে বক্তব্য দিয়ে দেশ স্বাধীন করেননি। যুদ্ধ করেই দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সারাদেশ ঘুরে ঘুরে নিজের হাতে উন্নয়ন কর্মকা-ের সূচনার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশু, কিশোর ও তরুণরা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জানে না। এই অপরাধ আমাদের। কারণ আমরা তার কাজকর্মকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পারিনি। এতে জিয়ার কোন রকম কোন ক্ষতি হয়নি, ক্ষতি হয়েছে আমাদের। বছরে দুদিন জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করা ভুল ও আত্মহত্যার শামিল। আমরা ভুলে গেছি জিয়াউর রহমানের কারণেই ক্ষমতায় গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, হতে পারে এটাই আমার শেষ বক্তব্য। আমি যদি ভুল করে থাকি তাহলে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি যেখানেই থাকি, জিয়াউর রহমানের আদর্শ বিশ্বাস করি, তার আদর্শ লালন করি। আমি জাতীয়তাবাদ পুনরুদ্ধার করতে চাই। জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে আর কেউ থাকুক আর না থাকুক আমি জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে আছি এবং থাকবো। তবে যদি বেঁচে থাকি তাহলে আবার দেখা হবে। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পুনরায় সংগঠিত হতে হবে। এ জন্য জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জিয়ার আদর্শের শক্তিকে এক হতে হবে। বি. চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান কোনদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কোন কথা বলেননি। তার রাজনীতির সমালোচনা করতেন, ব্যক্তির নয়। সবসময় বলেছেন, আমরা কি করছি, আমরা কি করতে চাই। কিন্তু এখন আমরা সেখান থেকে অনেক দূর সরে এসেছি। রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করতে গিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছি। এটা জিয়ার শিক্ষা নয়। বি. চৌধুরী তার বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিবিপ্লব, স্বনির্ভরতা, গার্মেন্ট খাতের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ, নারীর কর্মখাত সৃষ্টি ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ এবং এসবের দূরদর্শী ইতিবাচকতার কথা তুলে ধরেন। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি মঞ্চে না গিয়ে দর্শক সারির সামনে তার জন্য রাখা নির্ধারিত চেয়ারে বসে আলোচকদের বক্তব্য শুনেন।
এদিকে বিএনপির যৌথসভা কাল। সকাল ১১টায় দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা ডাকা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, জিয়াউর রহমানের ৩৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ যৌথ সভা ডাকা হয়েছে। যৌথসভা শেষে দলের তরফে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করার কথা গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।

অমঙ্গলের থাবা মা ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রে -লক্ষ্য পূরণে ৭০টির ৬৩টিই ব্যর্থ by শেখ সাবিহা আলম

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন মা ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রগুলো চলছে না। অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক বছরে ৭০টি কেন্দ্রের ৬৩টিই নিরাপদ মাতৃত্বের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কমপক্ষে ২৪টি কেন্দ্রের একটিতেও অস্ত্রোপচার হয়নি। স্বাভাবিক প্রসবের হারও ছিল হতাশাব্যঞ্জক।
অধিদপ্তর কমপক্ষে ১০০টি প্রসবের লক্ষ্যমাত্রা প্রতিটি কেন্দ্রকে বেঁধে দিয়েছিল। কাগজে-কলমে জেলা পর্যায়ে ৬০টি, উপজেলায় আটটি ও ইউনিয়নের দুটি মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্র থেকে ‘সম্প্রসারিত’ সেবা পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ২৪ ঘণ্টার যেকোনো সময়ে নারী নিরাপদে এসব কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবে বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে পারবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রগুলো দূরে থাক, অধিদপ্তরের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান আজিমপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও (আজিমপুর মাতৃসদন) বেলা আড়াইটার পর জরুরি প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসব করা যায় না।
প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা দেশের ১০টি জেলার মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন সেখানে দালালের উৎপাত, চিকিৎসক অনুপস্থিত এবং অবকাঠামো দুর্বল। বেশির ভাগ কেন্দ্রের বিছানা ছিল ফাঁকা। ওই একই সময়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় ছিল উপচেপড়া ভিড়।
এদিকে ৬৩টি কেন্দ্রে সমস্যা জিইয়ে রেখে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এখন নতুন করে ইউনিয়ন পর্যায়ে তিন হাজার কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক প্রসূতিসেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেছেন, ৬০০ চিকিৎসকের পদ শূন্য। তার পরও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, অধিদপ্তরের বিভিন্ন খাতে যে খরচ তার ৩৩ শতাংশ খরচ হচ্ছে মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রগুলোর পরিচালনায়। মায়েরা সেবা পান বা না পান কর্মচারীদের বেতন, মহার্ঘ ভাতা, বাড়ি ভাড়া ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতাসহ ৩৮টি খাতে সরকারকে টাকা গুনতে হচ্ছে।
বেহাল দশা আজিমপুর মাতৃসদনে
আজিমপুর মাতৃসদনের একাধিক সূত্র বলেছে, ​এখানে সেবা নিতে আসা মায়েদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো বন্ধে গত ১৭ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় চার সদস্যের একটি কমিটি করেছে। ওই কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি এক রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোয় এক চিকিৎসককে বান্দরবানে বদলি করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার পর এই সদনের রক্তসঞ্চালন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়, আল্ট্রাসনোগ্রাম হয় না, অন্যান্য জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষারও সুযোগ থাকে না। কেন্দ্রের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আড়াইটার পর ইচ্ছে থাকলেও তাঁরা সেবা দিতে পারেন না। শুধু যেসব নারী গর্ভধারণের পর থেকে আজিমপুর মাতৃসদনে সেবা নিচ্ছেন, সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা আজিমপুরেই হয়েছে, তাঁদেরই প্রয়োজনের সময় সেবা দেওয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে আজিমপুর মাতৃসদনের তত্ত্বাবধায়ক ইশরাত জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ১৭৩ শয্যার হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য একজন চিকিৎসক আছেন। তিনি প্রেষণে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুজনকে দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া সম্ভব না। চিকিৎসকের সংকটও তীব্র। রাতের বেলা একজন শল্যচিকিৎসক ও একজন অবেদনবিদকে অস্ত্রোপচার, ভর্তি রোগীর সমস্যা, জরুরি বিভাগে আসা রোগী—সবই দেখতে হয়। চিকিৎসা কর্মকর্তাদের (মেডিকেল অফিসার) প্রসূতিসেবায় যুক্ত করা হলে, শিশু বিভাগ অচল হয়ে পড়ে। রাতের পালায় চিকিৎসক বেশি দিলে দিনে কম পড়ে যায়।
গড়ে আজিমপুরে সকাল-বিকাল-রাত এই তিন পালায় কতটি অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেই তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সকালের পালায় ১১/১২টি অস্ত্রোপচার, আড়াইটা থেকে সাতটা পর্যন্ত ৪/৫টি আর রাত আটটা থেকে পরদিন সকাল আটটা পর্যন্ত একটি বা দুটি অস্ত্রোপচার হয়ে থাকে।
আড়াইটার পর এ অচলাবস্থার সুযোগে দালালদের উৎপাত বাড়ে। সম্প্রতি আজিমপুর মাতৃসদনের জরুরি বিভাগের সামনে দুপুর দুইটা থেকে চারটা পর্যন্ত এই প্রতিবেদক দাঁড়িয়েছিলেন। দুইটার পর থেকে জরুরি বিভাগের সামনে প্রথমে একজন ও পরে তাঁর সঙ্গে আরও তিনজনকে যোগ দিতে দেখা যায়। কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা এক নারীকে ওই দালাল বাইরের কোনো ক্লিনিকে চলে যেতে পীড়াপীড়ি করছিলেন। এ প্রতিবেদক ব্যক্তিটির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জানান, কাছেই তাঁর একটি ওষুধের দোকান আছে।
ঢাকার বাইরের হাল হকিকত
অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ‘সম্প্রসারিত’ সেবা না থাকলেও আজিমপুর মাতৃসদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সেন্টার, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, নরসিংদী ও ময়মনসিংহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে। তবে গোপালগঞ্জসহ ২৪টি কেন্দ্রের একটিতেও অস্ত্রোপচার হয়নি। নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে স্বাভাবিক ও অস্ত্রোপচার কোনো ধরনের সেবাই পাননি মায়েরা। বরিশাল বিভাগের আটটি কেন্দ্র মিলেও এক মাসে ১০০টি প্রসব হয়নি।
কুষ্টিয়ার মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রে গত মঙ্গলবার গিয়ে রোগী, চিকিৎসক কাউকেই পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের একমাত্র চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায়, তাই রোগী আসা মাত্রই অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসক সংকটের কারণে জয়পুরহাটে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে রোগীরা সেবা পান না। চিকিৎসকের দুটি পদই শূন্য। সপ্তাহে দুদিন বগুড়া ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে এসে চিকিৎসকেরা সেবা দিয়ে যান।
মুন্সিগঞ্জের মা ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্রে চিকিৎসকের অভাব নেই। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে রোগীরা প্রায়ই কেন্দ্রের আশপাশের ক্লিনিকে চলে যান।
বরগুনায় আধুনিক যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু অবেদনবিদ না থাকায় নয় বছর ধরে প্রসূতি সেবা বন্ধ। কেন্দ্রে গিয়ে ৪-৫ জন নারীকে পাওয়া গেছে। তাঁরা এসেছিলেন সর্দি-কাশির চিকিৎসা নিতে।
লক্ষ্মীপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের প্রধান আশফাকুর রহমান বলেছেন, তাঁকে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তাই সব সময় হাসপাতালে থাকতে পারেন না। তিনি কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা, অধিদপ্তরের উপপরিচালক, স্বাধীনতা চিকিৎ​সক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ‍) লক্ষ্মীপুর জেলার সভাপতি ও থানা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জের কেন্দ্রটিতে টিনের ছাউনি, শয্যা সংখ্যা কম। তবু দরিদ্ররা সেবা নিতে আসেন। অবকাঠামো দুর্বল হওয়ায় বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া যায় না।
বরিশালে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা আছে। কিন্তু প্রচার নেই। প্রচারের উদ্যোগও নেই।
যা বলছে অধিদপ্তর
অধিদপ্তরের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির কর্মকর্তারা বলেছেন, সারা দেশে ১১২০টি চিকিৎসকের পদ। চিকিৎসক আছেন ৫০৩ জন। ২১টি কেন্দ্রে শল্যচিকিৎসক থাকলে অবেদনবিদ নেই, অবেদনবিদ থাকলে শল্যচিকিৎসক নেই। এক একটি কেন্দ্রে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা ও একজন অবেদনবিদ আছেন। তাঁদের রোগীর সেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক সব কাজ করতে হয়। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিবারকল্যাণ পরিদর্শকেরা কি করছে, তাও মাঠে গিয়ে দেখতে হয়। চিকিৎসকেরা মাঠে যাবেন, না হাসপাতালে থাকবেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, সংকট জিইয়ে রেখে মাতৃ ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্র থেকে এর চেয়ে ভালো ফলাফল আশা করা যাবে না।
(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন কুষ্টিয়া অফিসের তৌহিদী হাসান, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি তানভীর হাসান, বরিশাল অফিসের সাইদুর রহমান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান)

চাকরি দেওয়ার ফাঁদে ফেলা হয় আদিবাসী তরুণীকে

চাকরি দেওয়ার ফাঁদে ফেলে আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা দুজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের কর্মকর্তারা।
ধর্ষণের শিকার আদিবাসী তরুণী ওই দুজনকে শনাক্তও করেছেন। গ্রেপ্তার করা দুজন হলো আশরাফ খান ওরফে তুষার (৩২) ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে লাভলু (২৬)। গতকাল বুধবার র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের গণমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসা হয়।
র্যাব জানায়, এ দুজনই একটি বায়িং হাউসের গাড়িচালক। ওই বায়িং হাউসের মাইক্রোবাসেই গারো মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে অস্ত্রের মুখে মাইক্রোবাসে তুলে ধর্ষণের অভিযোগে পরদিন দুপুরে ওই তরুণী রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, চলন্ত মাইক্রোবাসে পাঁচজন তাঁকে ধর্ষণ করেছে।
তবে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানিয়েছে, পাঁচজন নয়, গ্রেপ্তার দুজনই তরুণীকে ধর্ষণ করেছে। র্যাব কর্মকর্তারা জানান, মামলা করার সময় মেয়েটি ছিলেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাঁর স্বজনেরাই মামলা করার সময় মূল ভূমিকা পালন করেন। সেই স্বজনেরাই হয়তো মেয়েটির কাছ থেকে ভালো করে না শুনেই এজাহার লিখে থানায় জমা দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, মঙ্গলবার রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে তুষারকে ও তাঁর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে গতকাল ভোরে রাজধানীর গুলশান থেকে লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বনানী থেকে মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।
তুষার সাংবাদিকদের জানান, ১৬ মে তিনি বায়িং হাউসের দুই বিদেশি কর্মকর্তাকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে যান। সেখানে মেয়েটির কর্মস্থল দোকানটি থেকে দুই বিদেশি কিছু কেনাকাটা করেন। সেখানেই মেয়েটির সঙ্গে তাঁর দেখা ও কথা হয়। মেয়েটি জানতে চান, ওই দুই বিদেশি বাংলাদেশে কী করেন। তিনি জানান, তিনি যে বায়িং হাউসে চাকরি করেন, এঁরা সেই বায়িং হাউসের কর্মকর্তা। এরপর মেয়েটি বায়িং হাউসে চাকরির সুযোগ, চাকরির যোগ্যতা সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চান। তিনি মেয়েটিকে চাকরির আশ্বাস দেন এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেন। তাঁদের মধ্যে মুঠোফোন নম্বর বিনিময় হয়।
তুষারের দাবি, ২১ মে মেয়েটি জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন বলে ঠিক হয়। তুষার যখন এ দাবি করছিলেন, তখন র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই চার দিনের মধ্যে অন্য দুই গাড়িচালক লাভলু ও ফিরোজের সঙ্গে মেয়েটিকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেন তুষার। এ সময় তুষার বলে ওঠেন, ‘তয় ফিরোজ আছিল না স্যার।’ র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, ২১ মে গাড়ি নিয়ে অন্য জায়গায় যাওয়ায় তুষারের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি ফিরোজ। ফিরোজকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তুষার জানান, ২১ মে রাত নয়টার দিকে তিনি যে মাইক্রোবাস চালান, সেটিতে লাভলুকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের উল্টো দিকে যান। রাত সাড়ে নয়টার দিকে মেয়েটি আসেন। জীবনবৃত্তান্ত তাঁর হাতে দেন। মেয়েটি জানান, তিনি উত্তরায় থাকেন। তুষার তাঁকে মাইক্রোবাসে করে পৌঁছে দিতে চাইলে মেয়েটি মাইক্রোবাসের দ্বিতীয় সারির আসনে বসেন, তিনিও সেখানে বসেন। লাভলু গাড়িটি কুড়িল উড়ালসড়কের দিকে চালাতে থাকেন।
কিছুক্ষণ পর তুষার চলন্ত মাইক্রোবাসে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। গাড়িটি কুড়িল উড়ালসড়কে চক্কর দিতে থাকে। পরে তুষার গাড়ির চালকের আসনে বসলে লাভলুও মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর তাঁরা মেয়েটিকে উত্তরায় নামিয়ে দেন।
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান বলেন, ওই দুজনকে মেয়েটি শনাক্ত করেছেন।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংও প্রথম আলোকে জানান, মেয়েটির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের ছবি মেয়েটি দেখেছেন। ওই দুজনকে তিনি শনাক্ত করেছেন।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল মোত্তাকিন বলেন, তুষার ও লাভলুকে রাতে থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব। মামলাটি তদন্ত করছে ভাটারা থানার পুলিশ।
গারো তরুণীকে ধর্ষণ, তুষার লাভলু ১০ দিনের রিমান্ডে
রাজধানীর কুড়িল বিশ্ব রোড এলাকায় চলন্ত মাইক্রোবাসে গারো তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার আশরাফ ওরফে তুষার ও মাইক্রোবাস চালক লাভলুর ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ভাটারা থানার ওসি (তদন্ত) সাজ্জাদ হোসেন আজ সকালে আদালতে আসামিদের হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম অমিত কুমার দে’র আদালতে বিকালে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২১শে মে রাতে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গারো ওই তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ওই তরুণী যমুনা ফিউচার পার্কে একটি পোশাকের  দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। এ ঘটনার পর শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করেন ওই তরুণী। এদিকে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা ও পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে তুষার ও লাভলুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

মন ভরানো রসাল লিচু by এস এম আক্কাস উিদ্দন

ফটিকছড়ির লালমাই গ্রামে বাগান থেকে লিচু পাড়ছেন
বাগানের মালিক ইউসুফ সরদার l প্রথম আলো
প্রতিবছর উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লিচু কেনেন ফটিকছড়ির ক্রেতারা। তবে এবার জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন বাগানে উৎপাদিত লিচু উঠেছে বাজারে। মিষ্টি স্বাদের স্থানীয় লিচু বিক্রিও হচ্ছে ভালো। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
সম্প্রতি উপজেলার হেঁয়াকো বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আশপাশের বাগান থেকে বিক্রেতারা লিচু নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। গাছ থেকে সদ্য পেড়ে আনা টসটসে লিচুগুলো রসে ভর্তি। মিষ্টি স্বাদের এসব লিচু ১০০টি বিক্রি হচ্ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। আবুল মনসুর নামের একজন বিক্রেতা জানালেন, স্থানীয় একটি ফলের বাগান থেকে লিচু কিনে এনে বিক্রি করছেন। তাজা আর মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় দ্রুত বিক্রিও হচ্ছে।
উপজেলার বাগান বাজার ইউনিয়নের লালমাই গ্রামের একটি ফলের বাগানে গিয়ে দেখা গেল গাছ থেকে লিচু পাড়ছেন কয়েকজন শ্রমিক। বাগানের মালিক ইউসুফ সর্দার নিজেই শ্রমিকদের কাজ তত্ত্বাবধান করছিলেন। তিনি জানান, বাগােন আম, কাঁঠাল, পেঁপে ও লিচু লাগিয়েছেন তিনি। এ বছর লিচুর ফলন হয়েছে প্রচুর। প্রতি ১০০টি লিচু ২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। ২১ মে একদিনেই বিক্রি করেছেন পাঁচ হাজার লিচু। বাগানে তিনি চায়না-১, চায়না-২, চায়না-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচুর চারা লাগিয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে লিচুর ফলন আসছে। গত বছর দেড় লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছেন তিনি। চলতি বছর দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার লিচু বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলার বিভিন্ন বাগানে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। গণগত মান ভালো হওয়ায় কৃষকেরা দামও বেশি পাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবার।

গণপিটুনি নয় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড -সংবাদ সম্মেলনে নিহত দুজনের স্বজনেরা

যশোর প্রেসক্লাবে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কান্নায়
ভেঙে পড়েন নিহত ইসমাইল হোসেনের মা ও বাবা।
তাঁদের সান্ত্বনা দেন এক স্বজন l ছবি: প্রথম আলো
যশোরে নিহত দুই তরুণের স্বজনেরা বলছেন, তরুণেরা গণপিটুনিতে মারা যায়নি। এটা ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’। যশোর প্রেসক্লাবে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা এ কথা বলেন।
শহরের হুদা রাজাপুর মোড়ে গত রোববার পদ্মা লাইফ ইনস্যুরেন্সের জেলা সমন্বয়ক বরুণ তরফদারকে দুর্বৃত্তরা ধাওয়া করে। এ সময় তাঁর চিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হয়। সেখানে গণপিটুনিতে যশোর সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন (২৪) ও আড়পাড়া গ্রামের আল-আমিন (২৩) মারা যান। তাঁরা পরস্পর বন্ধু ছিলেন।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন নিহত ইসমাইলের মামা দেলোয়ার হোসেন। দেলোয়ার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক। তিনি বলেন, পুলিশ ও কথিত ছিনতাইয়ের শিকার বরুণ তরফদার ইসমাইল হোসেন ও আল-আমিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে পুলিশ গণপিটুনির নাটক সাজিয়েছে। তিনি আরও বলেন, গণপিটুনি হলে নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাতের চিহ্ন থাকত। কিন্তু মাথা ছাড়া তাঁদের শরীরে আর কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
দেলোয়ার অভিযোগ করেন, ‘যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সনাতন ধর্মের এক ছাত্রীর সঙ্গে নিহত একজনের প্রেম ছিল। ওই মেয়েটি বরুণের আত্মীয়। এ কারণেই হয়তো বরুণ পুলিশকে ব্যবহার করে তাঁদের হত্যা করিয়েছেন।’
হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের জন্য সম্মেলন থেকে যশোরের পুলিশ সুপারকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যবস্থা না নিলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্কাছ আলীসহ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়। এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা, জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
এ ব্যাপারে বরুণ তরফদার বলেন, ‘আমি ইসমাইল বা আল-আমিন নামে কাউকে চিনি না।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিকদার আক্কাস আলী বলেন, গণপিটুনিতেই দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। ওসি আরও বলেন, ‘আওয়ামী বাস্তুহারা লীগের জেলা কমিটির সাবেক সহসভাপতি মনজুর রশিদ হত্যা মামলায় ওই দুজন পুলিশের নজরদারিতে ছিল। যে অস্ত্র দিয়ে মনজুরকে হত্যা করা হয়েছে, সেই অস্ত্রটি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

চকরিয়ায় জীববৈচিত্র্য দিবস- বীজ বুনে বন রক্ষার অঙ্গীকার

মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যোনে গর্জন গাছের
বীজ বপণ করছে শিক্ষার্থীরা l প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের দুই হেক্টর বনভূমিতে পাঁচ হাজার গর্জন গাছের বীজ বপন করেছে শিক্ষার্থীরা। ২২ মে উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
বীজ বপনে অংশ নেয় উপজেলার খুটাখালী উচ্চবিদ্যালয়, খুটাখালী কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন ও উত্তর মেধাকচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ইউএসএইড ও বন মন্ত্রণালয়ের যৌথভাবে এ প্রকল্প ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস অ্যান্ড লাইভলিহুডসের(ক্রেল) অধীনে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
বীজ বপনের পরে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য জীববৈচিত্র্য’ স্লোগানে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর ফাঁসিয়াখালী সহব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি মোকতার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ক্রেল চকরিয়া উপজেলার সমন্বয়কারী আবদুল কাইয়ুমের পরিচালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. শাহ-ই আলম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ক্রেল কক্সবাজারের আঞ্চলিক সমন্বয়ক শফিকুর রহমান, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফ, ক্রেল কক্সবাজারের যোগাযোগ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ সেন, বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী মোকাম্মেল কবির, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা এ বি এম জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
বীজ বপনের পর খুটাখালী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র কাওসার উদ্দিন বলে, ‘প্রতিনিয়ত বন ধ্বংস হচ্ছে। আমরাই তা করছি। তবে ভালো লাগছে এই ভেবে যে বনের আগের চেহারা ফিরিয়ে আনতে আমরাও কাজ করেছি।’
কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতেনের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র কেফায়েত উল্লাহ বলে, দেশকে সবুজ করার যুদ্ধে শামিল হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
ক্রেলের চকরিয়া উপজেলা সমন্বয়কারী আবদুল কাইয়ুম বলেন, আজকের শিশুরা আগামি দিনের ভবিষ্যৎ। বীজ বপন অভিযানে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বসবাস মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান ঘিরে। তাই তাঁদের হাত দিয়েই বীজ বপন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। যাতে বড় হয়ে তারাই বন রক্ষায় এগিয়ে আসে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় গাছপালা ও জীবজন্তু মানুষকে সহায়তা করে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করার ফলে প্রতিবছর খরা, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি দেখা দিচ্ছে।

চলন্ত মাইক্রোবাসে ধর্ষণ- ধর্ষকদের ফাঁসি চান গারো ছাত্ররা

আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসির
দাবিতে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মৌন মিছিল করে
বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন l ছবি: প্রথম আলো
রাজধানীতে চলন্ত মাইক্রোবাসে আদিবাসী তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবি করেছে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন। এই দাবিতে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) রাজু ভাস্কর্যে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন ও মৌন মিছিল করেছে। এ ছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে একই স্থানে দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার আয়োজনে সন্ধ্যায় মৌন মিছিলে অংশ নেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেনার্ড সুবিট, সাবেক সভাপতি পিন্টু হাউই, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী প্রমুখ। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নদ্দা নতুন বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও গণসমাবেশ, সন্ধ্যা সাতটায় রাজু ভাস্কর্যে মোমবাতি প্রজ্বালন, কাল শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো থিওরি’

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘বর্তমান পৃথিবীকে নিরাপদ করতে হলে ‘তিন শূন্য থিওরি’ বাস্তবায়ন করতে হবে। পৃথিবীকে নিরাপদ করতে চাই থ্রি জিরো থিওরির বাস্তবায়ন।’ আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সোশ্যাল বিজনেস ডে’ উপলক্ষে এক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনূস বলেন, পৃথিবীকে নিরাপদ করতে হলে আমাদের দারিদ্র্যতা, বেকারত্ব এবং কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে। এ তিনটি বিষয় বাস্তবায়ন করা গেলে পৃথিবীকে নিরাপদ করা যাবে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে মোট সম্পদের ৫০ ভাগ মাত্র ৮৫ জন লোকের হাতে রয়েছে। অবশিষ্ট ৫০ ভাগ সম্পদের মালিক বাকি জনগণ। তাই সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হলে বেশি বেশি উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। এ জন্য বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসার যে ধারণা সেটি ছড়িয়ে দিতে হবে।’ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, ঢাকা সফরকারী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা শরিফা হাফসা প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক  প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন।

পুরস্কার পাচ্ছেন ১০০ ফ্রিল্যান্সার by মো. মিন্টু হোসেন

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) দেশে পঞ্চমবারের মতো ‘বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজন করতে যাচ্ছে। সম্ভাবনাময় আউটসোর্সিং পেশার সঙ্গে যুক্ত কোম্পানি, একক ফ্রিল্যান্সার, নারী ফ্রিল্যান্সার ও জেলাভিত্তিক ফ্রিল্যান্সার বিভাগে মোট সেরা ১০০ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। বেসিসের বিশেষ জুরি বোর্ড আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে তাদের নির্বাচন করবেন।
‘বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড’ সম্পর্কে জানাতে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বেসিস অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বেসিস সভাপতি শামীম আহসান, কোষাধ্যক্ষ শাহ ইমরাউল কায়ীশ, মহাসচিব উত্তম কুমার পাল, নির্বাহী পরিচালক সামি আহমেদ ও ব্যাংক এশিয়ার উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী এতে উপস্থিত ছিলেন।
শামীম আহসান বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। এ জন্য এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বেসিস কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা এককভাবে বা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে কাজ করছেন। কিন্তু এখন আমাদের দেশে দরকার বড় বড় প্রতিষ্ঠান উঠে আসার। ফ্রিল্যান্সারদের বড় প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে ও এই ক্ষেত্রে তাঁদের উৎসাহ বাড়াতে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছে।
বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৫ এর আহ্বায়ক শাহ ইমরাউল কায়ীশ বলেন, ২০১১ সাল থেকে বেসিস এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। গত বছরের মতো এবারও ১০০টি পুরস্কার দেওয়া হবে। আউটসোর্সিংকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে, সচেতনতা বাড়াতে ও ফ্রিল্যান্সারদের উৎসাহিত করতে এই আয়োজন। ৬৪ জেলা থেকেই এই পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়াও ছয়টি আলাদা বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হবে। কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতেও পুরস্কার দেওয়া হবে। কয়েকটি ধাপে নিবিড় পর্যালোচনা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ, কর্মসংস্থান ও তাদের সামাজিক ভূমিকাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
ব্যাংক এশিয়ার উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বলেন, বেসিসের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে ব্যাংক এশিয়া গর্বিত। অনলাইনে অর্থ লেনদেনের গেটও পেওনিয়ারের সঙ্গে কাজ করছে ব্যাংক এশিয়া।
এবারের আয়োজনে বেসিসের সঙ্গে রয়েছে আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (আইবিপিসি), ব্যাংক এশিয়া, ও পেওনিয়ার। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বিডিজবস।
যেভাবে পুরস্কারের জন্য আবেদন করা যাবে
আগ্রহী ফ্রিল্যান্সার ও এ খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (http://outsourcingaward.basis.org.bd) গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে নিবন্ধন শুরু হচ্ছে এবং শেষ হবে ২১ জুন। জুন মাসের শেষ সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রিল্যান্সারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবে বেসিস।

মাটি ধস, সুন্দরবন হোটেল ঝুঁকিতে

সুন্দরবন হোটেল ঘেঁষে নির্মাণাধীন ভবনের জন্য করা
পাইলিংয়ের গর্তে গতকাল ধসে পড়া হোটেলের
সীমানাপ্রাচীর ও সড়কের একাংশ l ছ​বি: প্রথম আলো
রাজধানীর সোনারগাঁও ক্রসিং-সংলগ্ন নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের জন্য খোঁড়া বিশাল গর্তে পাশের অভিজাত সুন্দরবন হোটেলের সীমানাপ্রাচীর, ভূগর্ভস্থ তলার নিচের অংশবিশেষ এবং পাশের একটি সড়কের একাংশ ধসে পড়েছে। গতকাল বুধবার এ ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি।
ঝুঁকির মুখে গতকাল সুন্দরবন হোটেল থেকে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সেখানে ৬৪ কাঠা জমিতে ন্যাশনাল ব্যাংকের টুইন টাওয়ার নির্মাণের জন্য পাইলিং করতে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। হোটেল সুন্দরবনের মহাব্যবস্থাপক ওয়াজেদ আলী অভিযোগ করেন, টুইন টাওয়ারের ত্রুটিপূর্ণ পাইলিংয়ের জন্য সুন্দরবন হোটেলের সীমানাপ্রাচীর, ভূগর্ভস্থতলা ও রাস্তা ধসে পড়েছে। নির্মাণাধীন ভবনের কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে এ ঘটনায় তাঁরা কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর হোটেলে থাকা ৪৫ জন অতিথিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, মাটি ধসের সময় বিকট শব্দ হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তা ও সদস্যরা ছুটে যান। পরে রাজউক, তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকার দুই মেয়র এবং বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে যান।
এরপর ধস ঠেকাতে বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়। এ সময় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও স্যুয়ারেজের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেলা একটার পর বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়কের দুই পাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নির্মাণাধীন ভবনে কর্তব্যরত আনসার সদস্য দুলাল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আচমকা ‘মট মট’ ও ‘ঠাস ঠাস’ শব্দে রাস্তা, হোটেলের নিচ ও সীমানাপ্রাচীর থেকে মাটি খসে পড়তে শুরু করে। একটু পরপর ২০-২৫ মিনিট ধরে মাটি ধসে পড়তে থাকে। এ সময় হোটেল ভবন কেঁপে ওঠে বলে নিরাপত্তাকর্মীরা জানান।
ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাস্তা ধসে পড়ায় পাশে সুন্দরবন হোটেলের ভূগর্ভস্থ তলার ওয়াসার পাইপ ফেটে যায়। গ্যাস লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওয়াসার পাইপ ফেটে যাওয়ায় বিপুল বেগে পানির ধারা ধসে পড়া অংশের মাটি ধুয়ে পাইলিংয়ের গর্তে পড়তে থাকলে আরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
দুপুরে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ারর জেনারেল আলী আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবন হোটেল ঝুঁকির মধ্যে আছে। পাইলিংয়ের সময় লোহার জালি দিলে ধসের ঘটনা ঘটত না।
রাজউকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নকশা অনুযায়ী পাইলিং করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মেয়রের বৈঠক: দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজউক, সিটি করপোরেশন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পুলিশ ও র্যা বের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বুয়েটের শিক্ষকদের নিয়ে স্থানীয় মোনায়েম টাওয়ারের নিচতলায় বৈঠক করেন মেয়র আনিসুল হক। বৈঠকে আনিসুল হককে প্রধান করে ১৪ সদস্যের একটি সমন্বয়ক কমিটি গঠন করা হয়।
ন্যাশনাল ব্যাংক ভবনটি নির্মাণ করছে কোরীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ডোঙ্গা। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সহ-ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে এম এস কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর কর্ণধার বলে পরিচয় দেওয়া মো. সালাহ উদ্দিন দাবি করেন, ২২ হাজার বর্গফুটের ১২তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি নেই। ভূগর্ভস্থ তলায় প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য করা গর্তের পাশ দিয়ে ওয়াসার পানির পাইপ যাওয়ায় সেখান দিয়ে ধসের ঘটনা ঘটেছে।

সমস্যা জটিল—স্থায়ী সমাধান কাম্য by সৈয়দ আবুল মকসুদ

সাগরে ভাসমান মানুষদের বাঁচার করুণ আকুতি
আমাদের অনেক প্রবীণ নেতার রাজনৈতিক জ্ঞান অসামান্য ও প্রজ্ঞা প্রচুর, দূরদর্শিতারও শেষ নেই। কিন্তু মালয়েশিয়া সম্পর্কে তাঁদের যে ধারণা, তা অগভীর। শুধু তাঁরাই নন, অনেক বাম তাত্ত্বিক ও অর্থনীতিবিদ পর্যন্ত মালয়েশিয়াকে উন্নয়নের রোল মডেল বা আদর্শ মনে করেন, তা তাঁদের রচিত উপসম্পাদকীয় রচনা থেকে জানা যায়। তত্ত্বগত ও বৈপ্লবিক বিদ্যায় তাঁরা প্লেখানভ বা ট্রটস্কির চেয়ে কিঞ্চিৎ কম হতে পারেন, কিন্তু মালয় দ্বীপপুঞ্জের মূল জায়গাটা সম্পর্কে তাঁদের ধারণা খুব স্পষ্ট, তা মনে হয় না। কোনো দেশের আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা না করে সেই দেশের একটি মস্ত বড় উঁচু দালান দেখে তার তারিফ করা ও তাকে রোল মডেল বানানো স্রেফ বোকামি। আমাদের অনেক নেতা, বুদ্ধিজীবী ও উপসম্পাদকীয় রচনা লেখকেরা সারল্যবশত তা করছেন। যেমন, দুই দিন আগে এক মাননীয় মন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার কোন ছাই, মাহাথির আমাদের আদর্শ, তাঁর পথই আমাদের পথ, তাঁর দেখিয়ে দেওয়া পথেই আমরা এগিয়ে যাব, আমাদের এই দুর্বার গতিতে যাত্রা কে রুধিবে দিয়ে বালির বাঁধ। তাঁর এই বার্তা টিভির পর্দা থেকে ধ্বনিত হওয়ার পর আমার মনে পড়ল একদা গুলিস্তান-তোপখানা রোড থেকেই ঘোষিত হতে শুনেছি: চেয়ারম্যান মাও আমাদের চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান মাওয়ের পথই আমাদের পথ। মাননীয় মন্ত্রী সেই সময় মালয় নেতা মাহাথিরের জয়ধ্বনি দিলেন, যখন মালয়েশিয়ামুখী বাঙালি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা মালয় উপকূলে নৌকায় দানাপানি না পেয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। তাদের উপকূল থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে দূর দূর করে।
মাহাথিরীয় পথ বাঙালির একাত্তরে গৃহীত পথের সম্পূর্ণ বিপরীত পথ। একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যা করতে গিয়ে ইয়াহিয়া-টিক্কা-ফরমান যে অর্থ ব্যয় করেছেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ না করলে ওই অর্থ দিয়ে বাংলাদেশে বড় বড় দালানকোঠা বানানো যেত। দালানকোঠা এক বস্তু আর গণতন্ত্র ও মানবাধিকার আর এক জিনিস। আমরা গণহত্যা চাইনি, গণতন্ত্র চেয়েছি। মাহাথিরের যে পথ, ওই পথে রাস্তাঘাট-দালানকোঠা হয়, সেখানে কোনো দিনও একজন বিশ্বমানের বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা বা সত্যসাধক হতে পারবেন না।
মালয়েশিয়ার আজকের যে আর্থসামাজিক উন্নতি, তার পেছনে বাঙালি অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান যে কতটা, তা মালয়ের শাসকেরাই ভালো জানেন, বাংলাদেশের শাসকেরা নন। আজ বাঙালি ও রোহিঙ্গা শ্রমিকবোঝাই নৌকা তাঁরা তীরে ভিড়তে দিচ্ছেন না। অথচ আজকের তাঁদের ঐশ্বর্যের পেছনে লাখ লাখ বাঙালি শ্রমিকের ঘাম অপরিমেয়। এখনকার মতো অতীতেও বাংলাদেশিরা সেখানে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করতে গেছে, ভিক্ষা করতে যায়নি। ওরা সেখানে গিয়ে উঁচু উঁচু দালান বানিয়েছে, রাস্তায় বসে ইট ভেঙে খোয়া বানিয়েছে, রাস্তাঘাট বানিয়েছে, পামের বাগানে কাজ করেছে বলে অত পাম অয়েল তারা আমাদের দেশে রপ্তানি করতে পেরেছে, রাবার বাগানে কাজ করেছে বলে রাবার ও রাবারজাত দ্রব্য রপ্তানি করে বস্তা বস্তা রিংগিত রোজগার করতে পেরেছে, নারকেলের বাগান ও গভীর অরণ্যে কাজ করেছে বলে টিম্বার রপ্তানি করতে পারছে। হতভাগ্য বাংলাদেশি, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও ভারতীয় শ্রমিকেরা মালয়কে দিয়েছে অনেক সমৃদ্ধি।
পৃথিবীর অভিবাসনের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, বৈধ ও অবৈধ দুভাবেই অভিবাসন হয়ে থাকে। বরং অবৈধভাবেই বেশি অভিবাসন হয়। যে দেশে জনসংখ্যা বেশি এবং রয়েছে বেকারত্ব, সেখান থেকেই প্রধানত অদক্ষ যুবকেরা গিয়ে থাকে এমন কোনো দেশে, যেখানে শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে অথবা যেখানকার অর্থনীতি অপেক্ষাকৃত ভালো। তা ছাড়া, কোনো দেশে কোনো জাতিসত্তার মানুষ অবিচারের শিকার হলে তাদের অনেকে অন্য দেশে পালিয়ে যায়। তুরস্ক থেকে যেমন কুর্দিরা গেছে জার্মানিতে। সেভাবেই রোহিঙ্গারা হয় বাংলাদেশে অথবা মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে যাতায়াত করে। তারা গিয়ে বসে থাকে না, শ্রম বিক্রি করে জীবিকার জন্য রোজগার করে অর্থ। তাদের শ্রম ওই সব দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
আশির দশকের শুরুতে আমি যে অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া থাকতাম, সেখানে ছিল আটটি ফ্ল্যাট। তার পাঁচটিতে থাকতেন কয়েকজন মালয়েশীয় ছাত্রছাত্রী। তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পড়তে এসেছিলেন। অনগ্রসর মালয়েশিয়ায় ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার প্রভৃতি ছিল না। তাই মালয় সরকার বাংলাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে বৃত্তি দিয়ে ছেলেমেয়েদের পাঠাত। ওদের আমন্ত্রণে আমি কয়েক দিনের জন্য মালয়েশিয়ায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেই মালয়েশিয়া আর আজকের মালয়েশিয়া এক নয়। কিছুদিন আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে মাহাথির বিন মোহাম্মদের দল কোয়ালিশন করে ক্ষমতায় এসেছে। পাহাড় কেটে রাস্তাঘাট ও বড় মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। আমার থাকা অবস্থায় কোরবানির ঈদ আসে। আমার সুযোগ হয়েছিল মাহাথিরের সঙ্গে নির্মীয়মাণ মসজিদে নামাজ আদায় করার। তবে সারা দিন ঘুরেও কোরবানি দেওয়ার দৃশ্য আমি কুয়ালালামপুরের কোথাও দেখিনি।
প্রথম প্রধানমন্ত্রী টুংকু আবদুর রহমান মালয়েশিয়ার ভিত্তি স্থাপন করে যান। দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী টুংকু আবদুল রাজাক ভালো শাসক ছিলেন। তাঁর ছেলেই এখন প্রধানমন্ত্রী। তারপর কয়েক বছর ছিলেন দাতুক হোসেন ওন্। তাঁর উত্তরাধিকারী মাহাথির। তিনি মালয়েশিয়াকে একটি উচ্চতায় নিয়ে যান। তাঁর অধ্যবসায়, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম, সাহস ও সততা বিশ্ববাসীর প্রশংসা (ও নিন্দাও) অর্জন করে। তিনি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, তাঁরই উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করেন, তা ঘৃণার্হ। শুধু বামপন্থীদের নয়, তাঁর বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করার ক্ষেত্রে তাঁর কর্মকাণ্ড খুবই অন্যায়।
তিনি কঠোর হাতে মাদক নিয়ন্ত্রণ করেছেন, সেটা প্রশংসনীয়। তাঁর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানুষের ওপর যে নির্যাতন করেছে, তার সব খবর পৃথিবীর মানুষ কোনো দিনই জানবে না। বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অনেকে তাঁর কারাগারে নির্মমতার শিকার হয়েছেন। তাঁর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার একটি দৃষ্টান্ত এখানে উল্লেখ অপ্রাসঙ্গিক হবে না। আমার সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রয়াত অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার চুক্তি ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি মালয়েশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর যান। গভীর রাত। তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন তাঁর হোটেলের কক্ষে। হঠাৎ দুমদাম শব্দে তাঁর ঘুম যে শুধু ভাঙে তা-ই নয়, ভয়ে তিনি কাঁপতে থাকেন। টোকা দিলে দরজা তিনি নিজেই খুলে দিতেন। কিন্তু মালয়েশীয় নিরাপত্তাকর্মীরা হাতুড়ি-শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ফেলেন। ঘরে ঢুকে তারা তৌহিদ আনোয়ারকে লাথি মারাসহ নির্মমভাবে পিটিয়ে থানায় নিয়ে যায়। কিছুই বুঝতে পারেননি তিনি। কয়েক ঘণ্টা পরে তাঁকে জানানো হয় ভুল হয়ে গেছে, তারা অন্য এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিল। তৌহিদ যখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন তখন কমনওয়েলথ প্রেস ইউনিয়নের চাপে মালয়েশীয় সরকার ক্ষমা চায়। নিউ স্ট্রেইট টাইমস–এ বিরাট খবর হয়েছিল ঘটনাটি। আমিও কড়া প্রতিবাদ করে লিখেছিলাম।
আমার মালয়েশীয় বন্ধুদের সঙ্গে আমি সেলাঙগোর, জোহর, পাহান, কেলাস্তান প্রভৃতি রাজ্য ঘুরেছি। পাহাড় ও বনভূমির আদিম সৌন্দর্য। বহু জায়গায় গিয়ে দেখেছি বাংলাদেশি শ্রমিকেরা পাম ও রাবার বাগানে কাজ করছেন। এক নারকেল বাগানে গিয়ে দেখি আমাদের দেশের কয়েকজন যুবক বুকে চামড়ার একটা বর্মের মতো সেঁটে তরতর করে নারকেলগাছে উঠে নারকেল পাড়ছে। নারকেলগাছগুলো যে খুব উঁচু তা নয়। কিন্তু নারকেল পাড়া খুবই কষ্টকর। তা দেখে কষ্ট পাই। যা হোক, অভিবাসী শ্রমিকেরাই আধুনিক মালয়েশিয়াকে গড়ে তুলেছেন, দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহাথির। তাঁর অনেক নীতিই মানবতাবিরোধী।
অবৈধভাবে মানব পাচারের আমরা ঘোর বিরোধী এবং তার তীব্র নিন্দা জানাই। কিন্তু ওপেন সিক্রেট হলো, অবৈধ অভিবাসীদের অনেক দেশই পছন্দ করে। কারণ, তাদের কম বেতন দিয়ে দাস হিসেবে খাটানো যায় ইচ্ছামতো।
কিছু কিছু স্থায়ী সমস্যা হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করে। তখনই তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। কোনোরকমে সমস্যাটির সাময়িক সমাধান দিলেও তা থেকেই যায়। সে জন্য দরকার বিচক্ষণতার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা। বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। এর সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে হবে না। এই মুহূর্তে জরুরি মাঝদরিয়ায় যারা রয়েছে এবং ক্ষুধা-তৃষ্ণায় মারা যাচ্ছে, তাদের বাঁচানোর ব্যবস্থা করা।
বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার রোধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের কড়া নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আমার ধারণা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যদি এ ব্যাপারে শক্ত ভূমিকা না রাখেন, তাহলে মানব পাচার বন্ধ করা যাবে না।
থাইল্যান্ডের গহন অরণ্যে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর সন্দেহভাজন মানব পাচারকারীদের ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়া হয়েছে। ক্রসফায়ার সমাধান নয়। এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির আত্মীয়স্বজন, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা এবং পুলিশ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ কাজে লাগিয়ে কক্সবাজার থেকে প্রায় প্রতি রাতেই মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রলারে তোলা হচ্ছে বিপুলসংখ্যক মানুষ।...জলপথে মানব পাচার খাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার মুক্তিপণ লেনদেন হয়েছে।...তবে বরাবরই কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের কৌশলের কারণে আড়ালেই থাকছে গডফাদাররা। মানব পাচারের পেছনের মূল হোতা ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের নাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানলেও তা গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোয় আসছে না।...পুলিশের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ১৫ থেকে ২০ হাজার লোক অবৈধভাবে সমুদ্রপথে পাচার হয়েছে।’ [কালের কণ্ঠ, ১৭ মে]
অবৈধ মানব পাচার একটি অতি জটিল মানবিক সমস্যা। এটি আন্তরাষ্ট্রীয় সমস্যা। একসময় এই বিষয়টি কূটনৈতিক জটিলতার জন্ম দিতে পারে। সুতরাং অবিলম্বে স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই হবে সুবুদ্ধির কাজ।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷

ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের মলমূত্রই হবে খাবার পানি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই মলমূত্র খাওয়ার আয়োজন শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘকালীন খরায় তীব্র পানি সংকটে বিকল্প উপায়ে মলমূত্রই খাবার পানি হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মানুষের ত্যাগ করা বৈর্জ্য শোধন করে তা নিরাপদ খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। লস এঞ্জেলস টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মলমূত্র শোধন করে খাবার পানি বানানোর প্রক্রিয়া ক্যালিফোর্নিয়ানরা বিরোধিতা করছে।
যদিও বিজ্ঞানীরা বলছেন, মূত্র সঠিক উপায়ে শোধন করে তা পান করা একেবারেই নিরাপদ। ক্যালিফোর্নিয়া ওয়াটার এজেন্সির নির্বাহী পরিচালক টিম কুইন বলেন, আমাদের যে পরিমাণ মূত্র সাগরে চালান হয়ে যায়, তা চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায়। কিন্তু আগামী ২৫ বছরের মধ্যে এটাই হবে পানির একক বৃহৎ উৎস। ইতিমধ্যে মূত্র থেকে শোধিত পানি ক্যালিফোর্নিয়ার মাঠের কাজে ব্যবহার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু খাবার পানি হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে ব্যাপক বিরোধিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে খরার চাপে জনগণ বাধ্যই হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার একজন অধিবাসী ক্রিস্টোফার হুটন জানান, ‘আমি এই পানি পান করা সমর্থন করি না। তবে অন্য উপায়ও দেখছি না।’

উড়ন্ত পাখি দেখে জীবনের লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন এপিজে আবুল কালাম

সৈকতের উড়ন্ত পাখি দেখে জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে নিয়েছিলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এপিজে আবুল কালাম। এমসকি পাখির উড়ে যাওয়ার গতি সঞ্চালন পদ্ধতি তাকে পদার্থ বিজ্ঞান শিখতেও সাহায্য করেছিল। এই বিজ্ঞানীর জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে তরুণদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ নির্মাণে বৈজ্ঞানিক উপায় জানিয়ে সম্প্রতি একটি বই প্রকাশিত হয়েছে।
রিইগনিটেড : সায়েন্টিফিক পথওয়েস টু আ ব্রাইটার ফিউচার (পুনরায় জ্বলে উঠুন : উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্মাণের বৈজ্ঞানিক উপায়) শীর্ষক এই গ্রন্থটি যৌথভাবে লিখেছেন এপিজে আবুল কালাম ও সাবেক বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা শ্রীজান পাল সিং। বইয়ে আবুল কালাম বলেছেন, ছোটবেলায় সমুদ্র সৈকতে পাখিদের উড়াউড়ি দেখে আকৃষ্ট হতেন তিনি। তারপর বিমান উড়া দেখে বিস্মিত হতেন। কিন্তু বিমান কীভাবে উড়ে তা তার জানা ছিল না।
১০ বছর বয়সে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় তার স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক সিভাসুব্রামানিয়া পাখি কীভাবে উড়ে সেই প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছিলেন। একই সঙ্গে বিমান উড়ার পদ্ধতিও জেনেছিলেন। তখন আবুল কালাম জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন।

৩৭০ আসন দাও রামমন্দির দেব

ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে তার দল বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রামমন্দির নির্মাণ বা মুসলিম শারিয়া আইন বাতিলের ম্যান্ডেট (৩৭০ আসন) তারা পায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে এক খোলা চিঠিতে লিখেছেন, গত এক বছরে তিনি দেশকে একটি দুর্নীতিমুক্ত সরকার দিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সরকার অজস প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ, মুসলিমদের শরিয়া বাতিল করে সব ভারতীয়ের জন্য অভিন্ন মদেওয়ানি বিধি চালু করা কিংবা জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাবাহী সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা। এগুলোকে বিজেপি তাদের দলের মূল লক্ষ্য বা কোর ইস্যু বলে বর্ণনা করে থাকে। কিন্তু এতদিন কোনো বিজেপি সরকারই তার বাস্তবায়নে এগোতে পারেনি। আর তার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তাদের সরকার অন্য শরিকদের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ২০১৪ তে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করার ঠিক এক বছরের মাথায় বিজেপি মঙ্গলবার জানিয়ে দিল, এই সংখ্যাগরিষ্ঠতাও যথেষ্ট নয়। সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ডাকা এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সাফ জানিয়ে দিলেন, দলের কোর ইস্যুগুলো বাস্তবায়ন করার মতো গরিষ্ঠতা এখনো বিজেপির হাতে নেই। তিনি বলেন, ‘আপনাদের জানা উচিত- এর জন্য পার্লামেন্টে আমাদের অন্তত ৩৭০টা আসনে জিতে আসতে হবে,
অর্থাৎ অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে। আপনারা সংবিধানটা ঠিকমতো পড়ে নিন, তাহলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। ইন্ডিয়া টুডে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে সারা দেশজুড়ে সব মন্ত্রী ও নেতারা যে শত শত সাংবাদিক সম্মেলন করছেন, তাতে তাদের বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে- কী করা যায়নি আর কেন যায়নি, তার সাফাই দিতেই। নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির স্লোগান ছিল আচ্ছে দিন আনেওয়ালা হ্যায় অর্থাৎ সুদিন আসছে। সেই বিপুল প্রত্যাশাতে ভর করেই ৩০ বছর পর ভারতে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল কোনো দল। যদিও সেই প্রত্যাশা অনেক ক্ষেত্রেই অপূর্ণ রয়ে গেছে। নরেন্দ্র মোদি নিজে দাবি করছেন দেশকে তিনি একটা দুর্নীতিমুক্ত সরকার দিতে পেরেছেন।

বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় সামরিক শক্তি বাড়াবে চীন

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন। ওই অঞ্চলে নির্মাণাধীন কৃত্রিম দ্বীপ প্রকল্পের পাশাপাশি আরও দুটো বাতিঘর স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বেইজিং। মঙ্গলবার ‘সামরিক কৌশল’বিষয়ক শ্বেতপত্র প্রকাশ করে এসব কথা জানিয়েছে চীন সরকার। চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, নতুন প্রকাশিত এ শ্বেতপত্রে নতুন পরিস্থিতিতে সামরিক কৌশলের নীতিমালা চালু জোরদার করা,
প্রতিরক্ষা ও সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন দ্রুত করা এবং দৃঢ়ভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থ রক্ষা করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এটি ১৯৯৮ সাল থেকে চীন সরকার প্রকাশিত নবম প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্র। এছাড়া চীনের সামরিক কৌশল বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত প্রথম শ্বেতপত্র। এ শ্বেতপত্রের মোট শব্দ সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। চীনা, ইংরেজি, ফরাসি, রুশ, জার্মান, স্প্যানিশ, আরবি ও জাপানিসহ ৮টি ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে এ শ্বেতপত্র। এতে ভূমিকা, চীনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সেনাবাহিনীর কর্তব্য ও কৌশল, ইতিবাচক প্রতিরোধক কৌশল, সামরিক শক্তির বিনির্মাণ ও উন্নয়ন, সামরিক সংগ্রামের প্রস্তুতি এবং সামরিক নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ ৬টি বিভাগ রয়েছে। শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নের কৌশল অনুসারে নতুন পরিস্থিতির চাহিদা মেটানোর জন্য চীন দৃঢ়ভাবে ইতিবাচক প্রতিরোধক কৌশল চালু করবে। সামরিক সংগ্রামের প্রস্তুতি,
তথ্যায়ন ও স্থানীয় যুদ্ধ জয় করার ওপর নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে সমুদ্রে সামরিক সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং দৃঢ়ভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব, একীকরণ ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়েছে, চীনের সেনাবাহিনী অভিন্ন নিরাপত্তা, বহুমুখী নিরাপত্তা, সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা ও টেকসই নিরাপত্তার চিন্তাধারায় অবিচল থাকবে। দক্ষিণ চীন সাগরে ২ বাতিঘর : যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী দেশগুলোর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন তৎপরতা শুরু করেছে বেইজিং। এবার দুটো বাতিঘর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান করছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, বাতিঘর দুটো নির্মিত হলে সমুদ্রে অনুসন্ধানী তৎপরতা, জরুরি মুহূর্তে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ তৎপরতা সম্পন্ন করা যাবে।

মৃত্যুর পরে গাছ হবে মানুষ!

প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তাকে কফিনবন্দি করা জীবনের সব থেকে কঠিন কাজ। এমন দুঃখজনক মুহূর্ত যাতে জীবনে না আসে তার জন্য ইতালিতে ক্যাপসুলা মান্ডি প্রকল্প ডিজাইন করলেন অ্যানা সিটেলি ও রাউল ব্রেটজেল। গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাদের মাথায় আসে বায়োডিগ্রেডেবল বারিয়ালের ভাবনা। যেখানে মৃত্যুর পর মানুষ পরিণত হবে সুন্দর গাছে। তবে ইতালিতে এখনও আইনি সম্মতি পায়নি এ প্রকল্প। তবুও,
ভাবনার অভিনবত্ব ও আবেগে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন অ্যানা, রাউল জুটি। প্রিয়জনদের দেহ দুঃখের কবরস্থানের বদলে যদি থাকে মেমরি ফরেস্টে তবে তার থেকে ভালো কী ই বা হতে পারে! মৃত্যুর পর শরীর প্রথমে ভ্রুণের মতো করে এনক্যাপসুলেট করা হয় যাতে সহজেই বারিয়াল পডের ভেতর ঢোকানো যায়। মাটির পাত্রের মতে দেখতে এই বায়োডিগ্রেডেবল কাসকেট। যখন গাছের বীজের মধ্যে এ কাসকেট রাখা হবে বা ছোট কোনো গাছের চারা এর ওপর রাখা হবে তবে নতুন জীবন পাবে প্রিয়জন। জিনিউজ।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বাংলাদেশ বিতর্ক by হাসান ফেরদৌস

কথায় বলে, নেই কাজ তো খই ভাজ। অনেকটা সেই রকম এক বিতর্ক হয়ে গেল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এ। বিষয় বাংলাদেশ। দুই বিজ্ঞ লেখক—একজন ভারতীয়, অন্যজন ইংরেজ—বেজায় তর্ক জুড়ে দিলেন আজকের বাংলাদেশে যা হচ্ছে, তার কতটা ঠিক, কতটা ক্ষতিকর, এই নিয়ে। মূল তর্ক জঙ্গিবাদ প্রশ্নে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে, তবে সেই সূত্র ধরে তাঁরা দুজনই ব্যাপকতর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আপনারা অনেকে সেই বিতর্কে হয়তো পড়েননি, তাই তার সারসংক্ষেপ জানাই।
আলোচনার শুরু সদানন্দ ধুমের প্রশস্তিমূলক উপসম্পাদকীয় থেকে (http://on.wsj.com/1FeLhXJ)। ভদ্রলোক আমেরিকার দক্ষিণপন্থী থিংক ট্যাংক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। সদানন্দ মনে করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তার কারণ, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আদর্শগতভাবে এক ভিন্ন অবস্থান তিনি নিয়েছেন। কামারুজ্জামানের মতো একাত্তরের ঘাতকদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নিজের অঙ্গীকার পূরণ করেছেন তিনি। তাঁর বিবেচনায়, ইসলামিক জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এই শক্ত অবস্থানের জন্য হাসিনা বিশ্ববাসীর সাধুবাদ পাওয়ার দাবিদার। অথচ এই ভূমিকার জন্য সাধুবাদ দেওয়ার বদলে ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশ বিচারব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এসব সমালোচনার ফলে বাংলাদেশের ভেতরে কেবল তারাই লাভবান হয়, যারা জঙ্গিবাদের পক্ষে। সদানন্দ মনে করেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো শেষ হয়নি, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ব্লগারের হত্যাকাণ্ড থেকেই প্রমাণিত হয় বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা এক ভঙ্গুর ভূমির ওপর দাঁড়িয়ে। এ অবস্থায় সমালোচনার বদলে পশ্চিমের দেশগুলোর উচিত হবে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের হাত বাড়ানো।
লন্ডন থেকে তাঁর সে কথার বিরুদ্ধে পাল্টা শেল ছুড়লেন টবি ক্যাডম্যান (http://on.wsj.com/1FpnCWk)। ভদ্রলোক পেশায় ব্যারিস্টার, ঘাতক–দালালদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যে বিচারের প্রক্রিয়া চলছে, তিনি তার একজন প্রবল সমালোচক। অবশ্য তার কারণও রয়েছে, তিনি বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর একজন উপদেষ্টা। অন্য কথায়, জামায়াতকে আত্মরক্ষায় সহায়তা করা তাঁর রুটি-রুজির ধান্দা। সদানন্দ ধুমের সমালোচনা করে তিনি লিখলেন, ঘাতক-দালালের বিচারের নামে বাংলাদেশ সরকার যা করছে, তা আসলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ গঠন করেছে, তার লক্ষ্য আইন ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা নয়, বাংলাদেশ সরকারের বিরোধিতা করে, এমন সব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করা। সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলে শুধু তার অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে আমাদের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে। ক্যাডম্যান ‘মুক্তমনা’ ব্লগারদের হত্যার বিরোধী, কিন্তু তিনি মনে করেন না যে এসব ব্লগার হত্যা প্রমাণ করে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা হুমকির মুখ। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বাড়ছে তার কারণ, মাঝামাঝি ক্ষেত্র, তাঁর ভাষায় ‘মিডল গ্রাউন্ড’ আর থাকছে না। মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বা অন্য ঘাতক-দালালদের ফাঁসির ফলে জঙ্গিবাদের মোকাবিলার বদলে বরং তাদের উসকে দেওয়া হচ্ছে। ক্যাডম্যানের সবচেয়ে বেশি আপত্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের জন্য সমালোচনার বদলে তাঁর হাত শক্ত করার যে প্রস্তাব সদানন্দ করেছেন, তা নিয়ে। তাহলে তো মিসরে জেনারেল সিসি বা সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদ যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন, আমাদের তারও সমর্থন জানাতে হয়। তাঁরাও তো জঙ্গিবাদের বিরোধিতার নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মেরে লাশ বানাচ্ছেন! টবি মনে করেন, বাংলাদেশের জন্য যা দরকার তা হলো গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। ‘মধ্যভূমি’ ধ্বংসের যে কাজে হাসিনা নেমেছেন, তাতে সে কাজটি অর্জিত হবে না।
সদানন্দ ধুমের লেখা পড়ে এমন ভ্রম হতে পারে যে ভদ্রলোক বুঝি হাসিনা সরকারের ‘পেইড এজেন্ট’। বাংলাদেশ সরকারের বাকপটু তথ্যমন্ত্রীকেও বিন্দুমাত্র চোখের পাতা না কাঁপিয়ে এমন ভাষায় তাঁর সরকারের প্রশস্তি গাইতে শুনিনি। আমি অবশ্য খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এই ভদ্রলোক আগাগোড়াই বাংলাদেশের হাসিনা সরকারের পক্ষে নানা সময়ে প্রশস্তিমূলক উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছ থেকে দু-চার সবক নিতে পারে, বছর দুয়েক আগে এমন কথা লিখে তিনি আমাদের পাকিস্তানি মিত্রদের গাত্রদাহের কারণ হয়েছিলেন। বাংলাদেশ এখন আর ‘বাস্কেট কেস নয়’, এ কথাও তাঁরই। এসব লেখার জন্য ঢাকা থেকে কোনো উপঢৌকন গেছে, এমন শুনিনি। বস্তুত, সদানন্দ ধুমের সব লেখাই এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের আদর্শগত অবস্থান থেকে লেখা। ফিলিস্তিন থেকে জঙ্গিবাদ, ইরানের সঙ্গে আণবিক চুক্তি থেকে কিউবার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন, এমন প্রতিটি প্রশ্নে এই সংস্থা তাদের অতি কট্টর ডানপন্থী অবস্থানের জন্য সুপরিচিত। ফলে সদানন্দ যে হাসিনা সরকারের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন, তা নিজের তাত্ত্বিক অবস্থান থেকে বিচার-বিবেচনা করেই লেখা।
অন্যদিকে টবি ক্যাডম্যান তাঁর ইসলামি ক্লায়েন্টদের নির্ভরশীল উকিল হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর প্রধান উষ্মা, যে ঘাতক-দালাল বিচারের প্রক্রিয়া বাংলাদেশে চলছে, তার মান আন্তর্জাতিক বিধিসম্মত নয়। সে কারণে তিনি কামারুজ্জামান গংদের ফাঁসির বিপক্ষে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মান বলতে তিনি কী বোঝান, তা খুব খোলাসা করে বলেননি। নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হলেও ঘাতক-দালালদের চলতি বিচার অভ্যন্তরীণ বিচারব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে বাংলাদেশের আইন পরিষদে গৃহীত আইনের ভিত্তিতে এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ ফাঁসির রায়ের সমালোচনা করেছে, কারণ তাদের চোখে ফাঁসি অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু আমেরিকাসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে সে ব্যবস্থা চালু রয়েছে। জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘না’ বলল বলেই সেই ব্যবস্থা বেআইনি হয়ে গেল, তা নয়। গত বছরও আমেরিকায় ৩৫ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, সেসব নিয়ে কেউ টুঁ-শব্দটিও করেনি।
টবি উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন, ঘাতক-দালালদের বিচার কেবল হাসিনা সরকারের সিদ্ধান্ত নয়, এর পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের জনগণের দাবি। সেখানে এই বিচারের পক্ষে জনসমর্থন প্রায় নিরঙ্কুশ। প্রায় বলছি, কারণ দেশে এখনো ২ থেকে ৫ শতাংশ জামায়াতপন্থী আছে, যাদের যদি ঘাতকপন্থী বলা হয়, তাতে খুব অন্যায় হবে না। কাগজে-কলমে নিয়মনীতি মেনে চলার পাশাপাশি নাগরিক সম্মতি ও সমর্থনের একটি ওজন রয়েছে, তা যেকোনো আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে বাধ্য।
টবি মনে করেন, ঘাতক-দালালদের বিচারের নামে হাসিনা সরকার আসলে একটি রাজনৈতিক খেলায় নেমেছে, যার লক্ষ্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নয়, জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করা। এ কথা থেকে বোঝা যায় টবির আসল আপত্তি কোথায়। তাঁর মক্কেলকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে ফাঁসি দিলে তিনি হয়তো আপত্তির কারণ দেখতেন না। স্পষ্টতই, তিনি যে কথাটা বোঝেন না বা মানেন না, তা হলো কাদের মোল্লা বা কামারুজ্জামানের মতো লোকগুলো রাজনীতিক নন, তাঁরা খুনি, মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধে দোষী। চিহ্নিত ও প্রমাণিত এসব অপরাধীকে শাস্তি দিলে বাংলাদেশের ‘মিডল গ্রাউন্ড’ কেন নিশ্চিহ্ন হবে, তা স্পষ্ট নয়। আর এই জামায়াতিদের যদি ‘মিডল গ্রাউন্ড’ বলা হয়, তাহলে সে কথা শুনে বাংলাদেশের লোক সমস্বরে এমন অট্টহাসি দিয়ে উঠবে, যা তিনি হয়তো আটলান্টিকের ওপার থেকেও শুনতে পাবেন।
ইসলামি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকারের অবস্থানের একটি ভূ-রাজনৈতিক চরিত্র রয়েছে, সদানন্দ বা টবি কেউই সেদিকে নজর দেননি। পাকিস্তান এই জঙ্গিবাদের একটি প্রধান ঘাঁটি। আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের পতনের পর হাজার হাজার আন্তর্জাতিক জঙ্গি সে দেশের সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়। পরে তাদের অনেকে বাংলাদেশ হয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। ‘ট্রানজিট রুট’ হিসেবে এই পরিচিতি লাভের পর জঙ্গিবাদের লড়াইয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা ভিন্ন মাত্রা গ্রহণ করে। বাংলাদেশের নিজস্ব ‘ঘরে বোনা’ সন্ত্রাসীও রয়েছে, যাদের অনেকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব কারণে আমেরিকা ও ভারতের কাছে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যায়। বিএনপি আমলে দেশি-বিদেশি জঙ্গিরা নিরাপদ আশ্রয় পায়। অন্যদিকে হাসিনা সরকার তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে। হাসিনা সরকার নিজেরাও জঙ্গিবাদের শিকার, সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা সাগ্রহে আমেরিকা ও ভারত উভয়ের সঙ্গেই জঙ্গিবাদবিরোধী আঁতাতে যুক্ত হয়েছে।
হাসিনা সরকারের আমলে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র পিছু হটেছে, টবির এই উপসংহার সম্পূর্ণ ভ্রান্ত নয়। কিন্তু আমেরিকা বা ভারত কেউই সে ব্যাপারে তেমন উদ্বিগ্ন নয় বলেই মনে হয়। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকতার চেয়ে তাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে নিজেদের পাশে রাখা। হাসিনা এ ব্যাপারটা খুব ভালো বুঝে ফেলেছেন। মাস তিনেক আগে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের আমেরিকাকে যতটা প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি আমেরিকার প্রয়োজন বাংলাদেশকে। জঙ্গিবাদের সমস্যা যদি মাথায় রাখি, তাহলে তাঁর এ কথা মোটেই বাচালতা মনে হয় না।
হাসান ফেরদৌস: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি।

শালবনের কফিনে শেষ পেরেক by মোকারম হোসেন

গাছকাটা ও পাচারসহ বনভূমি দখলবাজির কারণে শালবন ধ্বংস
কিছুদিন আগে শালবন সম্পর্কে একজন প্রকৃতি গবেষকের মন্তব্য ছিল এ রকম—সংকটাপন্ন কোনো রোগীকে যেমন আইসিইউতে রেখে তার স্বজনেরা বাইরে উদ্বিগ্ন সময় কাটায় এবং কিছুক্ষণ পরপরই চিকিৎসকের কাছে তার পরিস্থিতি জানতে চায়, শালবনের অবস্থা এখন অনেকটা সে রকমই। বাস্তবেও আমাদের একসময়ের রাজসিক শালবন এখন আইসিইউতে। আর গাছপালার কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী চিন্তিত ভঙ্গিতে বাইরে পায়চারি করছেন। বন বিভাগ হয়তো যেকোনো সময় এমন একটি ঘোষণাও দিতে পারে যে দেশে এখন আর শালবন বলতে কিছু নেই। যদি এমন কিছু ঘটেও তাহলে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, শালবন এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে এসে ঠেকেছে। ১৯৮৭ সালের দিকে বন বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় বনের ভেতর বিদেশি গাছ লাগানো আরেকটি আত্মঘাতী কাজ। শালবনকে নতুনভাবে জেগে ওঠার সুযোগ না দিয়ে কৃত্রিমভাবে বন তৈরির চেষ্টা খুবই হাস্যকর ও হঠকারী উদ্যোগ। একসময় আয়তনের দিক থেকে দেশের সমতল অঞ্চলে সম্ভবত শালবনই সবচেয়ে বড় ছিল। এমনকি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ভারত পর্যন্ত ছিল এর বিস্তৃতি। নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা গ্রন্থে অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা জানিয়েছেন, ‘ভারতের ডুয়ার্স থেকে মেঘালয়ের গারো পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত শালবন গোটা বরেন্দ্র অঞ্চল হয়ে ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।... প্লিয়োস্টিন যুগের ২ লক্ষ বছর আগে শেষ ভূমিকম্পে সৃষ্ট লালমাটির আত্মজ এই শালবন খুবই প্রাচীন।’
জীবনে প্রথম কয়েকটি শালগাছ দেখি কুমিল্লার ময়নামতির শালবন বিহারে। সেখান থেকে ফেরার পর অনেকবার ভেবেছি, বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি শালগাছ এখানে কোথা থেকে এল। পরে অবশ্য এই প্রশ্নের জবাব পেয়েছি। ময়নামতির গাছগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ভৌগোলিক বিবর্তন, বেদখল প্রক্রিয়া এবং অপরিকল্পিত বসতি সারা দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শালবনকে নিশ্চিহ্ন করেছে। ময়নামতির পর অসংখ্যবার গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও দিনাজপুরের শালবনগুলো দেখেছি। যতবারই দেখেছি ততবারই কোনো না কোনো পরিবর্তন লক্ষ করেছি। প্রায় নিঃশেষ, ক্ষয়িষ্ণু বন নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বনের ভেতর কোথাও আরণ্যক নিবিড়তা নেই। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা অল্পবয়সী গাছগুলোর গোড়া একেবারেই সাফসুতরো। মানুষের পদপিষ্ট লতাগুল্মগুলো মৃত্যুর প্রহর গুনছে। বনে আশ্রিত প্রাণিকুল ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়েছে।
মাস খানেক আগে গাজীপুরের হাতিয়াবিবি এলাকায় আরণ্যকে বেড়াতে গিয়ে নিজের চোখে যে দৃশ্য দেখেছি, তা বর্বরোচিত ও জঘন্য। আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় শালগাছগুলো আগুনে দগ্ধ। বনের ভেতরে এই দৃশ্য আরও বীভৎস। যতই হাঁটতে থাকি ততই হতাশায় আচ্ছন্ন হই। শালবনের এমন ঝলসানো চেহারা দেখলে যে কারোরই মন খারাপ হবে। আগুনে শুধু শালগাছই নয়, বনের যাবতীয় প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হয়েছে। শালবনে কেন আগুন লাগানো হয়েছে, স্থানীয় সূত্র থেকে এই প্রশ্নের একাধিক উত্তর পাওয়া যায়। যার অন্যতম হলো জ্যান্ত গাছ পুড়িয়ে লাকড়ি বানিয়ে সংগ্রহ করা। এই প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় সুবিধা শালবন দখল করা। গাছ পুড়ে যতই বনের আয়তন সংকুচিত হবে, ততই দখল করতে সুবিধা। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও নতুন নতুন কৌশল। স্থানীয় বাসিন্দারা বনের কিনারায় অগভীর অংশে পালিত বৃক্ষ রোপণ করে পরবর্তী সময়ে জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি করে। তাদের যুক্তি, শিল্পপতিরা যদি বন দখল করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না!
শালবন নিয়ে নৈরাজ্যের যেন আর শেষ নেই। এসব দেখারও যেন কেউ নেই। কাগজ-কলমে বন বিভাগ শালবনের অভিভাবক হলেও তারা যে বন রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ, সে কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। অথচ আমরা কেউ কি একবারও ভেবেছি, শালবন ধ্বংস হওয়া মানে দেশের একটি অন্যতম প্রাণভান্ডারের বিলুপ্তি ঘটা। কারণ, শালবন আমাদের দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম। শালবন মানে শুধু শালগাছই নয়, অসংখ্য লতাগুল্ম, অন্যান্য বৃক্ষ ও বিচিত্র প্রাণীদের আবাসও এখানে। গবেষকদের মতে, এই বনে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্মের বসবাস। আমাদের একমাত্র বুনো রঙ্গন, বুনো কুল, কুম্ভি, উলটচণ্ডাল, গোয়ালিয়া লতাসহ আরও অনেক কন্দজ ও পরজীবী এখানে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে। একজন বৃক্ষপ্রেমী বা গবেষক যদি প্রতি মাসে একবার শালবনে যান, তাহলে প্রতিবারই তাঁর জন্য অপেক্ষা করবে কোনো না কোনো নতুন কিছু। বছরজুড়ে থাকে বিচিত্র ফুল, ফল, লতাগুল্ম, কন্দজ আর তৃণ নিয়ে অফুরন্ত প্রাণবৈচিত্র্যের সমাহার। টিকে থাকা যৎসামান্য এই শালবনকে এখন তৃতীয় প্রজন্মের বন মনে করা হয়।
শালবন বিলুপ্ত হলে শুধু যে প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হবে তা নয়, বনের ওপর নির্ভরশীল অনেকগুলো নৃ-গোষ্ঠীও বিপন্ন হবে। বর্তমানে যদিও তারা বনের ওপর নির্ভরশীল নয়, তবু বহিরাগতদের চাপে ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হওয়ার আশঙ্কা তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রায় বিশ বছর আগে অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা গ্রন্থে শালবনের যে চিত্র তুলে ধরেছেন, সেখানেও নিঃশেষিত বনের কথা আছে। আছে বনজীবী মানুষের হাহাকারের কথা। বিশ বছর পর এই চিত্র আরও চূড়ান্ত হয়েছে মাত্র।
২০১০ সালের ৪ মার্চ প্রথম আলোয় ‘জাতীয় বৃক্ষ, পুষ্প উৎসব ও অন্যান্য’ শিরোনামে একটি লেখা লিখি। তাতে শালগাছকে আমাদের জাতীয় বৃক্ষ ঘোষণা করার প্রস্তাব করি। কারণ, দারু মূল্য, পাতার আকৃতি, বংশবৃদ্ধির কৌশল—সবকিছুতেই এরা অনন্য। শালকে জাতীয় বৃক্ষ করা হলে দুটি কাজ হতো। প্রথমত, শাল সম্পর্কে মানুষ নতুন করে জানতে আগ্রহী হতো; দ্বিতীয়ত, গাছটি কিছুটা হলেও রক্ষা পেত। আমরা কি পারি না দেশের অবশিষ্ট বনগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে? আমার বিশ্বাস, দেশের অধিকাংশ মানুষই বন দখল করতে চায় না। আমরা যদি একটু সচেতন হই তাহলে মুষ্টিমেয় দখলকারীরা দাঁড়তেই সাহস পাবে না।
মোকারম হোসেন: প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক। সাধারণ সম্পাদক: তরুপল্লব
tarupallab@gmail.com

চীনের বাড়াবাড়ি থামাবে যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিরোধে এবার চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে উসকে দিল মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট। বেইজিংয়ের বাড়াবাড়ি থামাতে ওয়াশিংটনকে ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এই পত্রিকাটি। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার সম্পাদকীয়র জবাবে মঙ্গলবার রাতে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে) ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয় বোর্ড একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চাইলে চীন প্রস্তুত-গ্লোবাল টাইমসের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, চীনের বিপজ্জনক উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব দেয়া উচিত। চীনের বিতর্কিত দ্বীপাঞ্চলে মার্কিন গোয়েন্দা বিমানের ওড়াউড়িকে বৈধ ও যথার্থ বলেছে পত্রিকাটি। গত সপ্তাহে সিএনএনের এক সাংবাদিককে নিয়ে মার্কিন নজরদারি বিমান পি-৮এ ঘুরে আসে স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জে। এ সময় ওই অঞ্চলে বেইজিংয়ের সামরিক স্থাপনাগুলোর ভিডিও করে গোয়েন্দা বিমান। পরদিন ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। চীনা নৌবাহিনী ওই মার্কিন বিমানকে আটবার সতর্ক করে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণকে দায়িত্বহীন ও ভীষণ বিপজ্জনক বলে অভিহিত করে। সোমবার গ্লোবাল টাইমস এক সম্পাদকীয়তে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ বন্ধ না করলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে। ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর অধিকার চুরি করে চীন তার সীমানাবহির্ভূত অঞ্চলে বিমান ঘাঁটি, সমুদ্রবন্দর ও সামরিক স্থাপনা বানাচ্ছে। এশিয়ার সংবেদনশীল ওই সমুদ্রসীমায় গায়ের জোরে আধিপত্য বিস্তার করছে বেইজিং। মার্কিন কর্মকর্তার মতে, দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় ২০০০ একর এলাকায় কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করেছে বেইজিং। স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জের ওই এলাকায় মালিকানার দাবি করছে ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, ব্র“নেই, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়া। মার্কিন নৌবাহিনী প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ডজনখানেক ড্রিল নৌযান নিয়ে সাগর খোঁড়া হচ্ছে। বসানো হয়েছে রাডার ও এয়ারস্ট্রিপ। প্রতিবেশী দেশগুলোর আপত্তিতে মোটেই কান দিচ্ছে না চীন। ১৯৪০ দশকের একটি হটকারী মানচিত্রের আলোকে দক্ষিণ চীন সাগরের উপকূল থেকে ২০০ মাইল এলাকাকে নিজেদের বলে দাবি করছে বেইজিং। অথচ জাতিসংঘ স্বীকৃত নিয়মানুযায়ী শুধু একটি দেশ মাত্র ১২ মাইল পেতে পারে। আর গ্লোবাল টাইসম বলছে, চীন তার প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেই। যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এখানে পণ্ডশ্রম হবে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক সীমানার মালিকানা দাবি করা প্রতিবেশী দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। বেইজিংয়ের বিপজ্জনক উসকানি তৎপরতা থামাতে হবে ওয়াশিংটনকেই।

কাঁটাতারে নির্মিত সেলে চলতো নির্যাতন

মালয়েশিয়ার বন্দিশিবিরগুলোও ছিল নির্যাতনের সেল। কাঠ আর কাঁটাতার দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সেসব সেল। এমন সেলকে মালয়েশিয়ার পুলিশপ্রধান খালিদ আবু বকর ‘হিউম্যান কেজ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ওই কাঁটাতারের বেষ্টনী থেকে যাতে পাচারকারীদের শিকার বাংলাদেশী অথবা মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা পালাতে না পারেন সেজন্য বসানো হয়েছিল প্রহরা। এ অবস্থা দেখে ভীষণ মর্মাহত খালিদ আবু বকর। ওদিকে যেসব বাংলাদেশীকে উদ্ধার করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়া তাদেরকে দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অভিবাসন বিষয়ক পরিচালক মির্জা ইস্কান্দার বলেছেন, সব বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এক্ষেত্রে ফেরত পাঠানো প্রক্রিয়ায় ইন্দোনেশিয়া তার সর্বোত্তম সেবা দেবে। বন্দিশিবিরের ওই সেলগুলো সম্পর্কে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কাঠের তৈরি এসব খোঁয়াড় তৈরি করা হয়েছিল বন্দিদেরকে আটকে রাখার জন্য। সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। বন্দিদের স্বাধীনতা বলতে ওই খোঁয়াড়ের মধ্যেই চলাফেরা সীমিত ছিল। তারা যাতে পালাতে না পারেন সেজন্য পাচারকারীরা বসিয়েছিল চেক পোস্ট। যেসব বন্দিশিবিরে এসব নির্যাতন সেল  পাওয়া গেছে, তা সদ্য আবিষ্কৃত ১৩৯টি গণকবরের কাছেই। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেন নি। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছে, গহিন জঙ্গলে ওই সব ক্যাম্পে বন্দিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ চাওয়া হতো। যারা দিতে পারেন নি তাদের ওপর নির্যাতন করা হতো। তার ফলে যারা মারা গিয়েছেন তাদেরকে গণকবরে সমাহিত  করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার মানুষ নৌপথে থাইল্যান্ডে, মালয়েশিয়া পৌঁছার চেষ্টা করেছে। তাদের বেশির ভাগই দালালদের খপ্পরে পড়ে সমুদ্রে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। পাচারবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ার খবর শুনে পাচারকারীরা তাদেরকে ফেলে পালিয়েছে। ফলে সমুদ্রের মাঝে খাদ্য, পানি, ওষুধবিহীন এক অবর্ণনীয় অবস্থার শিকার হয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। খাবার নিয়ে বাংলাদেশী মুসলিম ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। তাতে নিহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। নৌকা থেকে জীবিত মানুষ ফেলে দেয়া হয়েছে সমুদ্রে। জাতিসংঘের হিসাবে সাগরে ভাসমান প্রায় ৮ হাজার অভিবাসীকে উদ্ধারে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া তাদের জলসীমায় এসব অভিবাসীকে নিয়ে পিং পং খেলা শুরু করে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ওই তিন দেশ গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বৈঠক করে অভিবাসীদের শর্তসাপেক্ষে ঠাঁই দিতে সম্মত হয়। তারপর থেকে বড় ধরনের কোন উদ্ধারের কথা শোনা যায় নি। তবে এরই মধ্যে মালয়েশিয়াতে ১৩৯টি গণকবর ও কমপক্ষে ২৮টি বন্দিশিবিরের সন্ধান পাওয়ায় বেরিয়ে আসতে থাকে পাচারের সময় নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য। সে কথাই বর্ণনা করলেন মালয়েশিয়ার পুলিশ প্রধান খালিদ আবু বকর।
থাইল্যান্ড উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে: সমুদ্রে ভাসমান মানুষগুলোকে সহায়তা দেয়া শুরু করেছে থাইল্যান্ড। তাদের নৌবাহিনীর রিজিওন ৩-এর একটি জাহাজ এবং রয়েল থাই এয়ার ফোর্সের একটি বিমান প্রাথমিকভাবে এ অভিযান শুরু করেছে। এ অভিযান চলবে দু’সপ্তাহ। তবে প্রয়োজন হলে এর সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে। রিজিওন ৩ এর নৌ কমান্ডার ভাইস এডমিরাল সায়ান পাসোঙ্গসামরেট বলেন, এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে ফুকেট প্রদেশে নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে। এ জাহাজকে সিমিলান দ্বীপ থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইল পশ্চিম পর্যন্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মোট ৭টি জাহাজ ও নৌযান মোতায়েন করা হলো। এতে যোগ দিয়েছে উদ্ধারকারী দুটি বিমান ও দুটি হেলিকপ্টার। সম্মিলিতভাবে এ অভিযানে রয়েছে ৬০০ প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা। এ অভিযানে আকাশপথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী ভূমিকা রাখবে গ্রিপেন যুদ্ধজাহাজ উইং ৭। তবে তারা ভাসমান মানুষকে উদ্ধার করবেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান ওচা ভাসমান অভিবাসীদের মানবিক সহায়তার নির্দেশ দেয়ার পরই গতকাল শুরু হলো এ অভিযান।
বাংলাদেশী অভিবাসীদের শিগগিরই ফেরত পাঠাবে ইন্দোনেশিয়া: ওদিকে সম্প্রতি সাগর থেকে যেসব বাংলাদেশীকে উদ্ধার করা হয়েছে দ্রুততম সময়ে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে ইন্দোনেশিয়া। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তা মির্জা ইস্কান্দার। তবে বাংলাদেশী অভিবাসীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় প্রসিকিউটর প্রধান এআর মিফতাহুল আরিফিন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা এখনও বিস্তারিত জানি না। এসব বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে নিতে ভাড়া করা বিমান নাকি বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করবে সে বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আমাদেরকে জানায়নি। তবে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর আগে পাঠানো হবে মেদান ও উত্তর সুমাত্রায়। ইন্দোনেশিয়া থেকে অভিবাসীদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করে নি বাংলাদেশ সরকার।
মিয়ানমারও অভিবাসীদের ফেরত পাঠাবে: ওদিকে গত শুক্রবার মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের পশ্চিমে ভাসমান একটি নৌযান থেকে ২০৮ অভিবাসীকে উদ্ধার করে মিয়ানমার। এর মধ্যে ২০০ জন বাংলাদেশী বলে রিপোর্ট দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস। তাতে বলা হয়েছে, ওই বাংলাদেশীর মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকার উত্তরাঞ্চলের মানুষ। বাকি ৮ জন হলো রাখাইন প্রদেশের বাংলাভাষী। ওই বোট থেকে উদ্ধার করা মোহাম্মদ মুফাজল হুসেইন বলেন, তিনি শুধু কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ তাকে জোর করে দুজন ব্যক্তি নৌকায় তুলে নেয়। তারা আমাকে বলে যে, আমাকে কিনে নিয়েছে তারা। তারা আমাকে নৌকায় তুলে নিয়ে ছুটতে থাকে থাইল্যান্ডের দিকে। দাবি করা হয় ৫০ হাজার করে টাকা।
ইন্দোনেশিয়ানদের হৃদ্যতা: ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে গড়ে উঠেছে এসব অভিবাসীর অস্থায়ী আবাস। সেখানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ছেলেমেয়েরা এখন একটু জীবনের স্পর্শ পেয়েছে। কুয়ালা লাঙসা ক্যাম্পে রয়েছে চারটি আশ্রয়শিবির। সব মিলে সেখানে ঠাঁই পেয়েছেন ১৭ শতাধিক মানুষ। ইন্দোনেশিয়ার একটি মুসলিম সংগঠন তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা শিশুদের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছে। কেউ বা দিচ্ছে আইসক্রিম। তা খেয়ে অনেক শিশু বলেছে, তারা জীবনে এত স্বাদের আইসক্রিম খায় নি। জাতিসংঘের শরণার্থী  বিষয়ক হাই কমিশনার ১৮ বছরের কম বয়সী ১৬০টি শিশুকে শনাক্ত করেছে। তারা নিঃসঙ্গ। কোথায় তাদের পিতামাতা বলতে পারে না। আচেহতে যে পরিমাণ অভিবাসী আছেন তার এক তৃতীয়াংশই শিশু।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি- বিদ্যুতের উৎপাদন সীমাবদ্ধতা by মুশফিকুর রহমান

দুবাইয়ের গালফ নিউজ পত্রিকার খবর অনুযায়ী, আবুধাবির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ১২০ কিলোমিটার দূরে শাম্স-১ নামে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নির্মিত প্রথম এই গুরুত্বপূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে মোট ৭৪১ একর জায়গার ওপর ৭৬৮টি অর্ধবৃত্তাকার সৌর আলো ঘনীভূত করার সংগ্রাহক বসিয়ে সিএসপি সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এ প্ল্যান্টে মরুভূমির তীব্র সৌরতাপকে কাজে লাগিয়ে পানিকে বাষ্পীভূত করে তা দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। শাম্স-১ প্ল্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য ডিজেল পুড়িয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম। দুবাইয়ে নির্মাণাধীন এ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আশা করা হচ্ছে বাংলাদেশি চার টাকা ইউনিট দরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।
দুবাইয়ের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সাফল্যে সংগত কারণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা উৎসাহিত হয়েছেন। এবং ৫ মে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ‘ফিড ইন ট্যারিফ’ নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রস্তাবিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ‘ফিড ইন ট্যারিফ’ চার টাকা হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে তিনি মত দিয়েছেন। অবশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন চেয়ারম্যান বলেছেন, দুবাইয়ের বাস্তবতা বাংলাদেশে অনুপস্থিত এবং সে কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য ইউনিটপ্রতি চার টাকা নির্ধারণ বাস্তবানুগ হবে না।
সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সৌরবিদ্যুৎ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, গ্রিড বিদ্যুৎ যেখানে নেই সেখানে। তবে প্রধানত সোলার হোম সিস্টেমস সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনারও সীমা রয়েছে। আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাবনাও সে কারণে সীমাবদ্ধ অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি ইনস্টিটিউট ও এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও ফিড ইন ট্যারিফ’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করেছিল। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যক্তি খাতকে উৎসাহিত করতে দীর্ঘ মেয়াদে প্রচলিত উৎসের বিদ্যুতের চেয়ে বেশি মূল্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয়ের নিশ্চয়তা দিতে ফিড ইন ট্যারিফ নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তর কথা হলেও বাংলাদেশে এখনো কেবল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছে; তাও মূলত গ্রিড বিদ্যুতের আওতাবহির্ভূত এলাকায়। প্রায় ৩৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেমস ইতিমধ্যে দেশে স্থাপিত হয়েছে এবং প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার নতুন সোলার হোম সিস্টেমস বসানো হচ্ছে। কিন্তু এখনো সোলার হোম সিস্টেমস থেকে উৎপাদিত অতি সামান্য পরিমাণের বিদ্যুৎ কেবল সীমিতসংখ্যক বাতি জ্বালানো, টিভি চালানো এবং মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কাজে সীমাবদ্ধ।
সম্প্রতি কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সেচপাম্প দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসানো হয়েছে এবং আগামী বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত প্রায় ৫০ হাজার সেচপাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎকে গ্রিডে সংযুক্ত করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা হলেও এখন অবধি তেমনটি ঘটেনি। দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের (সব কটি স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেমসের সম্মিলিত উৎপাদন) ২০০ মেগাওয়াটেরও কম। সৌরবিদ্যুৎ এবং গত শতাব্দীর ষাটের দশকে স্থাপিত এবং দেশের একমাত্র ২৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা মিলিয়ে এখন আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট।
সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ বছরের মধ্যে ৬০০ মেগাওয়াট (মোট উৎপাদনক্ষমতার ৫ শতাংশ) বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের কথা। সরকারের প্রতিষ্ঠিত ‘সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অব বাংলাদেশ’-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বিদ্যুতের উৎপাদন সামর্থ্য এ বছর অনর্জিতই থাকবে। তবে প্রতিষ্ঠানপ্রধান আশা করেন, ২০২১ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের উৎস থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, বাতাসের শক্তি থেকে ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট, বায়োমাস থেকে ৪৭ মেগাওয়াট, বায়োগ্যাস থেকে ৭ মেগাওয়াট এবং মিনি হাইড্রো বা ÿখুদে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আরও ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
দেশে ১৩টি স্থানে বাতাসের শক্তি সম্ভাবনা নিয়ে জরিপ করা হচ্ছে; তবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান যথেষ্ট উঁচু স্তরে না গেলে বাতাসের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন আমাদের দেশে দুরূহ। সেই সঙ্গে বাতাসের ক্রমপরিবর্তনশীল ও অনির্ভরযোগ্য গতি ও দিক পরিবর্তনের ধরন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাতাসের শক্তি ব্যবহার অনিশ্চিত করে তুলেছে। সৌররশ্মির তীব্রতাও আমাদের দেশে সারা বছর একই রকম জোরালো নয়। ফলে সিএসপি-প্রযুক্তির সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেনি।
সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি সাধারণভাবে বর্তমানে জনপ্রিয়। কিন্তু বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে—প্রধানত দেশে জমির স্বল্পতার কারণে। বিদ্যমান প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সূর্যের আলো থেকে ১৬০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে মোটামুটি এক বিঘা জমি দরকার হয়। ১০ থেকে ২০টি ঘরে সামান্য আলো আর টিভি চালানোর বিদ্যুতের জোগান দিতে বেশ কয়েকটি সোলার হোম সিস্টেমস, (ব্যাটারি, সংযোগ ব্যবস্থাসহ) মিলিয়ে একটি ‘ন্যানো গ্রিড’ তৈরি করা যায়। এ জন্য চার-পাঁচ লাখ টাকার বিনিয়োগ দরকার।
এর চেয়ে আর একটু বড় বা ‘মিনি গ্রিড’ তৈরি করে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়। সে ক্ষেত্রে মিনি গ্রিড তৈরিতে পাঁচ-ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সৌরবিদ্যুৎ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, গ্রিড বিদ্যুৎ যেখানে নেই সেখানে। তবে প্রধানত সোলার হোম সিস্টেমস সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনারও সীমা রয়েছে। আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাবনাও সে কারণে সীমাবদ্ধ।
ড. মুশফিকুর রহমান: জ্বালানি ও পরিবেশ-বিষয়ক লেখক।

মানব পাচার রোধে বাংলাদেশকে বড় সহায়তার সুযোগ নেই

মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশকে বড় ধরনের সহায়তার সুযোগ নেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ)। কারণ অবৈধভাবে মানুষ মাইগ্রেশন হচ্ছে। তবে বাংলাদেশকে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ইউরোপে অনেক কর্মসংস্থান হয়েছে বাংলাদেশী নাগরিকের।
বুধবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামে (ইআরএফ) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ রাষ্ট্রদূত মায়াদোন পিয়ারি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর সম্পর্ক অনেক পুরনো। যুক্তরাজ্যে সিলেটের জন্য আলাদা স্থান রয়েছে। তবে সম্প্রতি মানব পাচারের বিষয়টি জাতিসংঘ দেখছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে অর্থনৈতিক রিপোর্টাদের সংগঠন ইআরএফ। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সুলতান মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান। সভায় ইইউর রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, ইউরোপের বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা, বিদেশী বিনিয়োগ, শ্রমমান নিয়ে কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ আনতে হলে একটি সুন্দর পরিবেশকে ফোকাস করতে হবে। কিন্তু টিভি চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে দেখা যায়, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খারাপ। এ ধরনের খবর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এছাড়া দেশের আদালতে ৭০ শতাংশ মামলা হচ্ছে ভূমিসংক্রান্ত। নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ ও বিনিয়োগের নিশ্চয়তা না পেলে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে না। মায়াদোন পিয়ারি বলেন, রানা প্লাজার দুর্ঘটনা ইউরোপের আবেগে আঘাত করেছে। তৈরি পোশাক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মোট পোশাক রফতানির ৬০ শতাংশ ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জিডিপির ১০ শতাংশের সমান। এখন বাংলাদেশের শ্রমমান আরও উন্নত করতে হবে। শ্রম আইন রফতানি প্রক্রিয়া অঞ্চলেও বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। তৈরি পোশাক রফতানি ৫ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করতে হবে। এসব বাস্তবায়ন করা হলে ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ইউরোপের বাজারে নয়টি দেশ জিএসপি প্লাস সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপ নিলে এই সুবিধা পাবে না। তবে বাংলাদেশকে এই সুবিধা পেতে শ্রমমান উন্নয়ন, সুশাসন ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত, শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি চমৎকার ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে গড়ে থাকছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্লু ইকোনমি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ। এতে একটি নতুন সম্ভাবনা অর্থনীতির ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে।
সভায় প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশ সরকার দাবি করছে শ্রমমান উন্নয়ন হচ্ছে, ইইউ বলছে ধীর গতি। এ ক্ষেত্রে সরকারের কি করণীয় আছে। জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, শ্রমমান উন্নয়নে কারখানা পরিদর্শক নিয়োগ বাড়াতে হবে। শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রযুক্তিগত দিকগুলো আরও কর্মপরিবেশে বাড়াতে হবে। মতবিনিময় সভায় ইআরএফের সিনিয়র সদস্য ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।