Tuesday, May 24, 2016

রাঙ্গুনিয়ায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আজ মঙ্গলবার ভোরে মোহাম্মদ মহসিন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মহসিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ বলছে, তিনি কৃষক। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খতিবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইসলামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজদ্দৌলা দুলালের অভিযোগ, নিহত মহসিন তাঁর কর্মী ছিলেন। নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর সময় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সমর্থকেরা তাঁকে হত্যা করে। সিরাজদ্দৌলার আরও অভিযোগ, এক সপ্তাহ আগে প্রতিপক্ষ ইকবাল হোসেনের লোকজন নিহত মহসিনসহ তাঁকে আসামি করে চাঁদাবাজির একটি মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে তিনি ঢাকায় এসেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইকবাল হোসেন চৌধুরী। রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, স্থানীয় লোকজনের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ মহসিনের লাশ উদ্ধার করে। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। মহসিন কৃষিকাজ করতেন। ময়নাতদন্তের জন্য মহসিনের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত আমদানি–রপ্তানি পণ্য

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম নগরের
খাতুনগঞ্জ ও আসাদগঞ্জের বিভিন্ন দোকানে পানি ঢোকে।
এতে ভিজে যায় শুঁটকি, ছোলা, ডাল, মরিচ,
নারকেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। ভিজে যাওয়া
এসব পণ্য শুকিয়ে বিক্রির উপযোগী করার
চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত হানার সময় শনিবার দুপুরে জোয়ারের পানি ঢুকে একটি বেসরকারি ডিপোতে কনটেইনার ভর্তি আমদানি-রপ্তানি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পণ্য নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও কী পরিমাণ কনটেইনার ভর্তি পণ্য নষ্ট হয়েছে, তা এখনো হিসাব করতে পারেনি ডিপোটি। জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এক কিলোমিটার দূরে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো এছাক ব্রাদার্সে জোয়ারের পানি ঢোকে। এতে প্রতিষ্ঠানটির কনটেইনার রাখার চত্বরের নিচের অংশে অনেকগুলো কনটেইনারে পানি ঢুকে কিছু পণ্য নষ্ট হয়। এর মধ্যে আছে তৈরি পোশাক ও ভোগ্যপণ্য। ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, জোয়ারের পানিতে ওই ডিপোতে থাকা তাঁর প্রতিষ্ঠানের ২২ কনটেইনার ভর্তি ছোলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কনটেইনারের প্রতিটির নিচের অংশে অন্তত ৮ থেকে ১০ টন করে ছোলা পানিতে ভিজে গেছে। ভোগ্যপণ্য ছাড়াও রপ্তানি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রপ্তানি পণ্য পরিবহনের প্রক্রিয়ার নিয়োজিত তিনটি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, জোয়ারের পানির কারণে ডিপোতে থাকা রপ্তানি পণ্যের আনুমানিক ৪৭টি কনটেইনারে পানি ঢোকার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। ক্ষতিগ্রস্ত একটি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানির জন্য ১০টি কনটেইনার রয়েছে ডিপোটিতে। এর মধ্যে দুটি কনটেইনারের নিচের স্তরে রাখা কার্টনের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদেশি ক্রেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে এছাক ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউনুছের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা বলেন, পানিরোধক ব্যবস্থা থাকার কারণে কনটেইনারে পানি ঢোকার কথা নয়। এরপরও পানিরোধক ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গুটি কয়েক কনটেইনারের নিচের স্তরে থাকা কিছু পণ্য নষ্ট হয়েছে। এদিকে জোয়ারের পানিতে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে অন্তত ২০০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে চাল, ডাল, চিনি, গুঁড়া দুধ, পেঁয়াজ, সাবানসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করেন চাক্তাই শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, সোমবার বন্ধ থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করা হয়নি। মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের কাছে ক্ষতির হিসাব নেওয়া হবে।

তিনি থাকবেন মহিরুহ হয়ে

বেগম পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান বেগম
গতকাল ২৩ মে সোমবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নিলেন আমাদের প্রিয় আপা নূরজাহান বেগম (১৯২৫-২০১৬)। তিনি তো শুধু আপা নন, তিনি মাতৃসম বটবৃক্ষ হয়ে বিরাজ করছিলেন আমাদের সমাজে, সংস্কৃতিতে, সাংবাদিকতার জগতে, নারী আন্দোলনের দীর্ঘ যাত্রাপথে। তাঁর বিদায় শারীরিক-ইহজাগতিক হতে পারে; কিন্তু সমাজ-সংস্কৃতির ইতিবাচক প্রবহমান জগতে তিনি আছেন, থাকবেন মহিরুহ হয়ে। তাঁর সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে ৪ জুন ২০১৫। সেদিন তাঁর ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম নিজের এবং সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে (উপাচার্য ও শিক্ষার্থীসহ) তাঁকে সালাম ও অভিনন্দন জানাতে। তিনি মধ্যমণি হয়ে উপস্থিত সবাইকে কাছে ডেকে মাথায় বুলিয়ে দিয়েছেন তাঁর স্নেহ-আশীর্বাদ। এরপর ফোনে বহুবার কথা হয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে, চলতি মাসের ৬ তারিখে তিনি টেলিফোনে অনুরোধ করেছিলেন বেগম-এর ঈদসংখ্যায় লেখা দেওয়ার জন্য। কথা দিয়েছি লেখা পাঠাব। ভেবেছিলাম, তাঁর হাতে নিজেই পৌঁছে দেব। সেই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেল। ১৯৬৪ সালে তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়ের শুরু থেকে আজ অবধি তাঁর সঙ্গে যেসব কথা হয়েছে, যেসব কাজ হয়েছে, সেগুলো চিরসবুজ, চিরনবীন হয়ে আমার হৃদয়ে বিরাজ করছে। সেসব আমাকে চলার পথে এগিয়ে দিয়েছে, নতুন নতুন অভিজ্ঞতার আলোকে ভরিয়ে দিয়েছে। আমি জানি, আমাদের দেশের নারী-পুরুষ বহুজনের মনে গুঞ্জরিত হচ্ছে একই ধরনের কথা, ভাবনা। প্রগতিবাদী মানুষের পথচলায় তিনি অন্য অনেক ধ্রুবতারার মধ্যে অন্যতম দিশারি। এই দিশারির শারীরিক অবক্ষয় হলেও তার কোনো প্রভাব প্রবহমান সমাজ প্রগতির ধারায় অবক্ষয় ঘটাবে না; বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তাঁকে স্মরণ রাখবে, ইতিহাসের অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রবহমানতার সৃষ্টি হবে। বেগম (১৯৪৭)-এর প্রথম সম্পাদক সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯)। সে সময় যুগ্ম সম্পাদক ও পরবর্তী সময়ে সম্পাদক (১৯৫০) হলেন নূরজাহান বেগম। বেগম-এর যাত্রা শুরু ও ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের (১৮৮৮-১৯৯৪) সযত্ন নির্দেশে-পরিচালনায় সাংবাদিকতায় নূরজাহান বেগমের পরিপক্বতা রূপায়িত হয়েছে। নূরজাহান আপা কখনোই বেগম থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিসত্তা বলে ভাবেননি। বেগম তাঁর আত্মার আত্মীয়, তাঁর সন্তানতুল্য। মন উজাড় করে বলেছেন আমাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, ‘বেগম-এর কাজ করতে আমার খুব আনন্দ লাগত। আমি প্রথম দিকে দেখেছি কলকাতায় মেয়েদের কী অবস্থা (১৯৪৭-এ) এবং ঢাকায় এসে মেয়েদের কী অবস্থা, সেটাও দেখেছি। সবাই লেখা দিতে আসে। বলেছে লেখাটি একটু দেখে দিন। ঈদসংখ্যার লেখার সাথে নিজ ইচ্ছায় ছবি দেন সকলে।’ বেগম-এর লেখক-সাংবাদিক মেয়েরা তাঁর সান্নিধ্যে পেয়েছেন পরিবারের স্নেহ-ভালোবাসা-যত্ন। গভীর নিষ্ঠায় তিনি বেগম সম্পাদনা করেছেন, লেখা সংগ্রহ করেছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। তাঁর স্নেহ-ভালোবাসা-আন্তরিকতায় সিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের গ্রাম-মফস্বল-শহরের দূর-দূরান্ত অঞ্চলের অন্তঃপুরবাসিনীরা। তাঁরা-আমরা সবাই তাঁর মধ্যে পেয়েছি মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা। পেয়েছি বোনের সহমর্মিতা। বয়সভেদে কারও সঙ্গেই তাঁর দূরত্ব ঘটেনি। বিনয়ী, মমতাময়ী অথচ দায়িত্ব সচেতনতায় তাঁকে দৃঢ়-কঠোর হতেও দেখেছি। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন হাজার হাজার লেখিকা, কর্মী ও সাংবাদিক। তাঁরা সেই ১৯৫০-এর দশক থেকে অদ্যাবধি সাহিত্যিক হিসেবে, সাংবাদিক হিসেবে স্বনামখ্যাত হয়েছেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে।
অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক নানা সমস্যার জন্য বেগম বর্তমানে ঈদসংখ্যায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় নূরজাহান আপা তাঁর ঘনিষ্ঠ সুহৃদদের কাছে দুঃখ-কষ্ট ভারাক্রান্ত মনে বলেছেন, এমনটা তিনি মানতে পারছেন না। তাঁর অশ্রুভারাক্রান্ত-বেদনাসিক্ত কণ্ঠ এখনো আমার কানে বাজছে। তিনি বলেছিলেন, ‘বেগম পারিবারিকভাবে বংশানুক্রমে চলছে, চলবে। এখন আমার দুই মেয়ে আছে, তাদের নাতি-নাতনি আছে। বেগম প্রকাশনার কর্মকাণ্ডের মধ্যেই তাদের বসবাস। তাদের বাবাকে (প্রয়াত রোকনুজ্জামান খান) দেখেছে, তাদের নানাকে দেখেছে, মাকে দেখেছে এবং কীভাবে কী করে যোগাযোগ করি, কার সঙ্গে ফোন করি, দেখেছে। ওদের ওপর আমার বিশ্বাস আছে, ওরা দায়িত্বশীল। আমার বড় মেয়ে ফ্লোরা নাসরিন খান এখন ঈদসংখ্যা বের করছে। আমার এখন চোখও নেই, “ভয়েস”ও নেই। বলে দিই এটা এই, ওটা ওই। মেয়ে বলে, “আম্মা, ওটা ভালো লাগবে না, তুমি এটি দাও।” বলি, “তা-ই দাও।” এই করে চলে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, ওরা যদি অন্য কিছুর দিকে না তাকিয়ে শুধু নারীসমাজের উন্নয়নের দিকে তাকায়, তাহলেই বেগম চলবে।’ আমাদের ডাকতেন পরামর্শের জন্য। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত, বৃহত্তর বেগম-এর চলার পথে তাঁকে সহায়তা করার আহ্বানে আমরা কেউই তেমন কার্যকর ভূমিকা নিতে পারিনি। নূরজাহান আপার কাছে জীবিতকালে বহুবার ক্ষমা চেয়েছি। এখন তাঁর আত্মার কাছেও ক্ষমা চাচ্ছি। নূরজাহান আপা নারীজাগরণ আন্দোলনের কাজে সমিতি-সংগঠন-বেগম ক্লাবের সাংগঠনিক কাজ করেছেন। পত্রিকা চালানোর স্বার্থেই শুধু নয়, নারীসমাজের প্রগতির বৃহত্তর স্বার্থেই তিনি এসব কাজ করেছেন। বেগম বা নিজের জীবন নিয়ে স্মৃতিকথা লেখেননি তিনি। বলতেন সাক্ষাৎকারে, বলতেন সভা-সেমিনারে। তাঁর জন্মদিনে ২০১৪ সালের ৪ জুন আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, ‘মেয়েদের আর পেছনের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই। পথ এখন প্রশস্ত। আপনারা এগিয়ে চলুন। পুরুষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগিয়ে চলুন।’ তাঁর কণ্ঠ এতটাই সজোর ও উচ্চ ছিল যে, মাইক ছাড়াও শুনতে-বুঝতে অসুবিধা হতো না। তাঁর কোনো ভাষণেই আত্মপ্রচার থাকেনি কখনো।
তবে বাবা অন্তঃপ্রাণ, তিনি বাবার আদর্শ-নীতি-নিষ্ঠার কথা বলেছেন প্রায়ই। তাঁর বাবা মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন প্রগতির পথে প্রগতিশীল লেখকদের সংগঠিত করতে যে প্রতিকূল পরিবেশে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন সওগাত পত্রিকার মাধ্যমে, সেই সংগ্রামের হাতেখড়ি দিয়ে মেয়ে নূরজাহানকে তিনি সাংবাদিকতার বা পত্রিকা সম্পাদনার কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছিলেন। সেসব নূরজাহান বেগম স্মৃতি থেকে অকপটে বলতেন কথোপকথনে ও সাক্ষাৎকারে। মা ফাতেমা খাতুনের কথা বলতে গিয়ে তিনি শ্রদ্ধায়, কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হতেন। মা ছিলেন নীরব সচেতন গৃহিণী। বাবার হাত ধরে মেয়ের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মায়ের অকুণ্ঠ প্রেরণার কথা বলেছেন শ্রদ্ধেয় নূরজাহান বেগম। তিনি প্রায়ই কবি সুফিয়া কামালের অভিভাবকত্ব ও নেতৃত্বের প্রভাবের কথা বলতেন। মৃদু হাসিতে অত্যন্ত সংকোচে তাঁর লেখাপড়ার জীবনের কথা বলেছেন আমার আগ্রহভরা জিজ্ঞাসায়। কলকাতায় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন প্রতিষ্ঠিত ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল’ থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪২), কলকাতায় ‘লেডী ব্রেবোর্ন কলেজ’ থেকে স্নাতক (১৯৪৬) পাস করে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন বাবার সঙ্গে সাংবাদিকতার কাজে। স্কুল-কলেজের শিক্ষাকেন্দ্রে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক ইত্যাদিতে অংশ নিয়েও সংগঠক হিসেবে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছিলেন। সেসব শিক্ষা ও কর্মতৎপরতার দীক্ষা তাঁর পরবর্তী জীবনে পত্রিকা পরিচালনা, বেগম ক্লাব পরিচালনা ও নারী সমিতি পরিচালনায় সংগঠক ও নেত্রী হিসেবে ভূমিকা পালনে কৃতী হতে সহায়ক হয়েছে।
‘রোকেয়া পদক’ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছেন তিনি ১৯৯৭ সালে। পেয়েছেন অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (২০০২) এবং অন্যান্য বহু সাহিত্য সম্মাননা ও স্বর্ণপদক। এসব তাঁকে যেমন সম্মানিত করেছে, তেমনি তাঁকে সম্মানিত করে দেশ ও জাতিও সম্মানিত হয়েছে নিঃসন্দেহে। তাঁর বাসায় ইদানীং যখনই গিয়েছি, দেখেছি তিনি বেলা ১১টার মধ্যে সকালের নাশতা শেষে পরিপাটি কাপড় পরে সুন্দর স্নিগ্ধ মুখে, প্রফুল্ল চিত্তে বেগম-এর লেখাগুলো নিয়ে কাজ করছেন। বেগম তাঁর আত্মাসম, বন্ধুসম ছিল। বেগম নিয়ে তাঁর অতীত স্মৃতি-মাধুর্যের কথা শুনতাম, বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুনতাম। তাঁকে আশ্বস্ত করতে পারিনি। এই না-পারার বেদনা আমাদের বহুজনের মনে মর্মপীড়াদায়ক হয়ে আছে, থাকবে। নূরজাহান আপার সার্থক দীর্ঘ জীবনের ইতিহাস আমাদের দেশ ও জাতির অমূল্য সম্পদ। তাঁর কথা আমরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে নিয়ে যাব তাদের উদ্দীপিত করার জন্য। তাঁর সন্তানদের সঙ্গে আমরাও চিরতরে হারালাম আমাদের পরম শুভাকাঙ্ক্ষীকে। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য দরকার নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যে তাঁর কৃতিত্বকে ঐতিহাসিক করে তোলা।
আমরা সবাই মিলে সেই দায়িত্ব পালন করতে এগিয়ে আসতে সচেষ্ট হব।

সম্পদপূর্ণ নরক!

বিভিন্ন দেশ ঘুরতে ঘুরতে মরক্কোর পরিব্রাজক ইবনে বতুতা ঠিক ৬৭০ বছর আগে বাংলার মাটিতে এসেছিলেন। তাঁর সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা সিলেটে হজরত শাহজালালের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকার। মহান সুফির অলৌকিক আধ্যাত্মিক ক্ষমতা দেখে তিনি বিস্মিত হন, সে কথা তিনি তাঁর বিশ্ববিখ্যাত সফরনামায় লিখে গেছেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ তাঁর ‘ইবনে বত্বূত্বা এবং তাঁহার বাঙ্গালা ভ্রমণ’ শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন: ‘ইবনে বত্বূত্বা ইসলামের উন্নতির যুগের শেষ সময়ের একজন ভ্রমণকারী।’ তিনি মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, কেরালার কালিকট ভ্রমণ করে আবার মালদ্বীপ যান। ড. শহীদুল্লাহর ভাষায়: ‘সেখান হইতে জাহাজে রওয়ানা হইবার ৪৩ দিন পরে বাঙ্গালা দেশের সপ্তগ্রাম বন্দরে উপস্থিত হইলেন। তৎপরে নদীপথে কামরূপ গিয়া শঙ্খ জলালুদ্দীন তবরিজীর সহিত সাক্ষাৎ করেন। সেখান হইতে সোনারগাঁয় উপস্থিত হন। খ্রীঃ  ১৩৪৬-৪৭ (খ্রিষ্টীয়) অব্দে ইবনে বত্বূত্বা বাঙ্গালায় আসিয়াছিলেন।’ বতুতার সফরনামার ১৩ অধ্যায়ে ‘বঙ্গালহ’ (বঙ্গদেশ) শীর্ষক একটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। তার শুরু এ রকম: ‘বঙ্গালহ এক বহু বিস্তৃত দেশ। চাউল প্রচুর পরিমাণে জন্মে। এত সস্তা আমি আর কোনো দেশে দেখি নাই। কিন্তু এই দেশ ভালো নয়, অন্ধকারময়। এই জন্য খোরাসানের থেকে ইহাকে “দোযখ্‌ পুর্‌ নি’য়ামত” (সম্পদপূর্ণ নরক) বলে। সেখানে এক রূপার দীনারে ২৫ রতল [৩৫০ কেজির সমান] চাউল পাওয়া যায়। ... ৩০ গজ লম্বা তুলার কাপড়ের দাম ২ দীনার এবং সুন্দরী বাঁদীর দাম ১ সোনার দীনার (যাহা পশ্চিম দেশের ২ দীনারের সমান)।
আমি এই মূল্যে “আশুরহ” নামে একটি বাঁদী কিনিয়াছিলাম। সে খুব সুন্দরী ছিল। আমার একজন সঙ্গী লুলু নামে একটি অল্প বয়সের গোলাম ২ দীনারে খরিদ করিয়াছিল।’ [অনুবাদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌। মূল আরবি থেকে তরজমা]। সেকালের বাংলার দাসী-বাঁদীরা একালের ছুটা বুয়াদের মতো ছিল না যে বাসন-পেয়ালা মেজে ঘরদোর ঝাড়ু দিয়ে দুপুর-দুপুরই বাড়ি চলে যাবে। তাদের মনিবের কাছে থাকতে হতো চব্বিশ ঘণ্টা। ইবনে বতুতার বাঁদী আশুরহ যে ‘খুব সুন্দরী ছিল’ সে কথা তাঁর পাঠককে না জানিয়ে তাঁর মন ভরেনি। এবং বাঁদীটি যে ১৫-১৬ বছর বয়সী ছিল তা আমরা অবশ্যই ধরে নিতে পারি। তাকে বতুতার সব রকম প্রয়োজন পূরণ করতে হতো, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। শুধু দু-তিনখানা রুটি সেঁকে একটু হাঁস-মুরগি বা কবুতরের মাংস রান্না করে দিয়েই সে তার দায়িত্ব শেষ করত না। তবে একটি জিনিস লক্ষণীয়, তাঁর খুব সুন্দরী বাঁদীটির দাম ছিল এক দিনার, আর তাঁর সঙ্গীর পুরুষ গোলামটির দাম ছিল দুই দিনার! ঠিক এখন যেমন ইটভাটায় হোক বা নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে হোক বা কল-কারখানায় হোক একই কাজে নারী শ্রমিকের মজুরি পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে কম। যা হোক, বতুতা যা লিখেছেন তা এখন লিখলে তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার করা হতো। এবং রিমান্ড রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ১৫ দিন চাইলে অন্তত ৮ দিন মঞ্জুর হতো। তিনি পৌনে সাত শ বছর আগে বলেছেন ‘এই দেশ ভালো নয়, অন্ধকারময়’। আমি তাঁর পক্ষের উকিল হলে বলতাম, তিনি এই দেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে ‘ভালো নয়’ বলেননি, তিনি দেশের মানুষের কথা বলেছেন। দেশ একটি জড়বস্তু, তার ভালো-মন্দ কী! দেশের সুনাম-দুর্নাম সবই নির্ভর করে দেশটির মানুষের আচার-আচরণ-আখলাকের ওপর। বতুতা চালাক কিছু কম ছিলেন না। যা বলার তা নিজে বলেননি, খোরাসানের লোকের মুখে বসিয়ে দিয়েছেন। খোরাসান পারস্যের একটি প্রদেশ, সেখানকার কোন লোক নাকি কবে বলেছে, বাংলাদেশটা ‘দোজখ্‌ পুর নি’য়ামত’ বা সম্পদপূর্ণ নরক। সেই সাত-আট শ বছর আগে খোরাসানিদের কেউ যদি তা বলে থাকে, তার সঙ্গে দ্বিমত করার সুযোগ কতটা? বাঙালির কী কী আচরণ দেখে মরক্কোর বতুতা বা ইরানের খোরাসানি অমন নিন্দাসূচক বা দেশদ্রোহমূলক মন্তব্য করেছিলেন, তা আমাদের পক্ষে এখন বলা সম্ভব নয়।
তবে এখন যদি তাঁরা আসতেন সফরে, তাহলে দিন তিনেক থেকেই বলতেন, ‘বঙ্গালহ্‌ দেশটা হলো জুলুমপুর নিয়ামত’ অর্থাৎ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হলো সম্পদপূর্ণ নির্যাতনের দেশ। অথবা সরকারি লোকদের পরিভাষায় বলতেন নিম্নমধ্যম আয়ের ‘লানৎপুর নিয়ামত’—অপমান-লাঞ্ছনা-গঞ্জনার দেশ। এখানে সত্য, ন্যায় ও মূল্যবোধের পারসেনটেজ কী, তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই; সরকারি নেতা, কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবেত্তারা ক্যালকুলেটর নিয়ে গুনতে থাকেন জিডিপির পারসেনটেজ। অপরাধী বা অন্যায়কারীর শাস্তি দেওয়ার বিচিত্র প্রথা মানুষ নিজেই উদ্ভাবন করেছে, বিধাতা শিখিয়ে দেননি। কান ধরে ওঠবসের প্রথাটা পৃথিবীর সব জাতির মধ্য থেকে উঠে গেলেও বাংলাদেশে শুধু বাঙালিদের মধ্যেই তা রয়ে গেছে। একজন মানুষ তার পেশা ও সামাজিক অবস্থান যা-ই হোক, তাকে শত শত মানুষের সামনে কান ধরে ওঠবসে বাধ্য করা আদিম বর্বরতাকেই শুধু স্মরণ করিয়ে দেয়। আমি প্রধান শিক্ষকের শাস্তির ঘটনাটিকে দেখছি অন্যভাবে। আমি শুধু দণ্ডদাতা স্বনিয়োজিত বিচারককেই ধিক্কার দেব না, যাঁরা দৃশ্যটি উপভোগ করেছেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, তাঁরাও সমান অপরাধী। একজন মানুষও কি সেদিন সেখানে ছিল না যে মৃদু প্রতিবাদ করে বলতে পারত, আপনি থামুন, এভাবে তাকে শাস্তি দেবেন না? সে কথা বলার পর তিনি যদি অপমানিত হতেন, সেই অপমান হতো খুবই গৌরবের। মনুষ্যত্ব রক্ষায় যদি কাউকে লাঞ্ছনা ভোগ করতে হয়, তাতে লজ্জার কিছু নেই, বরং তা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য। মানুষকে অপমান করার প্রতিভা বাঙালির সীমাহীন। মারামারি করার শক্তি বিধাতা বাঙালির শরীরে দিয়েছেন অপরিমেয়। শৈশব থেকেই সে অন্যকে আঘাত করার কৌশলগুলো রপ্ত করে। বঙ্গসন্তানেরা ছোটবেলায় খেলার সাথিকে দেয় খামচি। বেশি রেগে গেলে দাঁত দিয়ে কামড়ায়। প্রতিটি অঙ্গ সে ব্যবহার করে মারামারিতে। হাতের প্রয়োগই প্রবল। কিল-ঘুষি-থাপ্পড়। তর্জনী ঢুকিয়ে সে মনের আনন্দে চোখ উপড়ায়। অন্য জাতির চেয়ে পায়ের প্রয়োগ বাঙালিই বেশি করে থাকে। মানুষকে লাথি মেরে তার এতই আনন্দ, যা ফুটবল খেলোয়াড় বলে লাথি দিলেও পায় কি না সন্দেহ। তা ছাড়া, লাঠিসোঁটা থেকে শুরু করে ছুরি-বন্দুক-পিস্তল তো আছেই। যাকে অপমান করা হলো তার পেশা-পদবি, বংশপরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় কি তার চেয়ে বড় কথা সে মানুষ। আমি প্রতিদিন গোটা পনেরো পত্রিকা কমবেশি পাঠ করি। এমন দিন নেই, যেদিন হত্যা-ধর্ষণের বাইরে মানুষকে অপমান করার সংবাদ না থাকে। অপমানিত ও লাঞ্ছিতের পেশাগত পরিচয় বিচিত্র। যেমন, গত কিছুকালের মধ্যে প্রবলের হাতে এবং পায়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের কেউ স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষক, মাদ্রাসার মোদাররেস, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, গণমাধ্যমের কর্মী, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা প্রভৃতি নানা পেশার শুধু নন, নানা ধর্মের মানুষ। তাঁদের কেউ চড়-থাপ্পড়, কেউ লাথি, কেউ-বা লাঠিসোঁটার মার খেয়েছেন অসংখ্য মানুষের সামনে। অন্যকে অপমান করতে বাঙালির মুখ থেকে এমন মধু নিসৃত হয়, যা শুনলে শয়তান পর্যন্ত কানে আঙুল দিয়ে দৌড়ে পালায়। নারী অপহরণ এবং নারীর ওপর যৌনপীড়ন হাজার বছর আগেও যে বাঙালি সমাজে ছিল, তার সাক্ষ্য চর্যাপদ ও বৌদ্ধ দোঁহাতে পাওয়া যায়। যুবতী বউকে একা ঘরে রেখে সেকালেও কৃষক মাঠে যেতে চাইত না বা জেলে মাছ ধরতে নদীতে যেত না, পাছে ফিরে এসে দেখে বউ নেই। আজ এক কিশোরী স্কুলে যাবে নির্বিঘ্নে, সে উপায় নেই। তার যাত্রাপথের আশপাশে সানগ্লাস পরে কেউ কাত হয়ে দাঁড়িয়ে কাঁধ ঝাঁকায়, শিস দেয়, অথবা অশ্লীল বাক্যবাণ নিক্ষেপ করে। কখনো পিছে পিছে আসে ভীতিকর যান মোটরসাইকেল। কখনো ধঁা করে টান মেরে ওড়নাটা খুলে নিয়ে যায় কোনো ক্যাডারের শিষ্য। কেউ তার প্রতিবাদ করলে তার অপমান ও লাঞ্ছনার শেষ নেই। অপমানও ভালো, প্রতিবাদ করে প্রাণ দিতে হচ্ছে অনেককে। গত চার মাসে সে রকম প্রাণ দিয়েছেন অন্তত পাঁচজন। সব সংবাদ পত্রপত্রিকায় আসে না। যে মানুষ অপমানিত হয়, সে কে? এবং যে মানুষ অপমান করে সে-ইবা কে? যে অপমানিত হয় অবধারিতভাবে সে দুর্বল। শারীরিকভাবে হোক বা সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে হোক। যে বা যারা অপমান করে, সে বা তারা প্রবল। কবি ভাবের আবেগে বলেছেন বটে, ‘দুর্বলেরে রক্ষা করো দুর্জনেরে হানো’, কিন্তু বাংলাদেশে চিরকাল দুর্জন রক্ষা পেয়েছে এবং দুর্বলকে হানা হয়েছে আঘাত। শারীরিক আঘাত হোক বা অপমানের মানসিক আঘাত হোক। লাঞ্ছিত শিক্ষক শ্যামল কান্তির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, দণ্ডদাতার অঙ্গুলিহেলনে ওঠবসের সময় আমজনতার বাইরে সেখানে আর কারা ছিল? তিনি বললেন, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছিলেন। তখন নিজেকে প্রশ্ন করি: তাঁদের বিবেক কোথায় ছিল? টিভির ফুটেজ দেখে তাঁদের ডেকে সরকারের জিজ্ঞেস করা উচিত, তাঁরা নিজেদের মানুষ মনে করেন কি না?
খোরাসানির কথা বাদই দিলাম, ইবনে বতুতা বলেছেন, দেশটা ভালো নয়, অন্ধকারময়। আমরা তা মানতে বাধ্য নই। ৭০০ বছর আগে বঙ্গীয় সমাজ অন্ধকারময় থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু গত ৫০০ বছরে অসংখ্য বাঙালি মনীষী আলো জ্বেলেছেন। তাঁরা সমাজের সব জায়গার অন্ধকার দূর করতে পারেননি। তা যদি পারতেন তাহলে প্রতিদিন যা ঘটছে তা ঘটত না। বাংলাদেশে ধান-পাট, তেল-গ্যাস-কয়লাসহ বহু সম্পদ রয়েছে। আমরা একে ‘সম্পদপূর্ণ নরক’ বলব না। বেহেশতের মতো দেশও আমরা চাই না। আমরা চাই সুসভ্য বসবাসযোগ্য এক বাংলাদেশ।

ক্ষমা চাইতে হলো ফেসবুককে

মডেল টেস হলিডের বিকিনির ছবি মুছে দেওয়ায় ক্ষমা চেয়েছে ফেসবুক
শরীরের গঠন মোটাসোটা হলেই কি সে ছবি মুছে দেবে ফেসবুক? সম্প্রতি এক মার্কিন নারী মডেলের এ ধরনের ছবি সরিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার এক নারীবাদী গোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফেসবুক। শেষ পর্যন্ত ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ভারী শারীরিক গঠনের ওই মার্কিন মডেলের নাম টেস হলিডে। তাঁর বিকিনি পরা ছবিযুক্ত বিজ্ঞাপন মুছে দিয়েছিল ফেসবুক। একটি বিশেষ প্রচারের জন্য অস্ট্রেলিয়ার নারীবাদী গোষ্ঠী ‘সারচেজ লা ফেম’ ওই ছবিযুক্ত বিজ্ঞাপন ফেসবুকে পোস্ট করেছিল। কিন্তু ওই ছবি ফেসবুকের নীতিমালার সঙ্গে যায় না বলে ফেসবুক তা সরিয়ে দেয়। ছবি মুছে দেওয়ার ব্যাখ্যা হিসেবে ফেসবুক বলছে, ফেসবুকের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো স্বাস্থ্য-বিষয়ক বিজ্ঞাপনে নিখুঁত হিসেবে বর্ণনা করা বা অত্যন্ত আপত্তিকর নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক ওজনের ছবি প্রচার করা যাবে না। এ ছাড়া এ ধরনের ছবিযুক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি দিলে দর্শকেরা তাদের নিজের সম্পর্কে খারাপ ধারণা পেতে পারে। এ ধরনের ছবির পরিবর্তে কেউ দৌড়াচ্ছে বা সাইকেল চালাচ্ছে—এ ধরনের ছবি অধিক গ্রহণযোগ্য। তবে নারীবাদী গোষ্ঠীটির সমালোচনা ও আবেদনের পর ওই ছবিটি সরানো ভুল ছিল বলে স্বীকার করে নিয়েছে এবং এ ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে বলেও অনুমতি দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। তবে সাধারণ এই ক্ষমা চাওয়ায় খুশি নয় ওই নারীবাদীরা। তারা ফেসবুকের নীতিমালায় পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছে। তথ্যসূত্র: ম্যাশেবল।

যে ব্র্যান্ডের ফোন এখন চাহিদার শীর্ষে

এ বছরের প্রথম তিন মাসের হিসাব অনুযায়ী, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ফোন ব্র্যান্ডের নাম অপো। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের সাম্প্রতিক প্রকাশিত বিক্রয় প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চীন ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অপোর স্মার্টফোন বিক্রির হার বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে অপোর ফোন বিক্রির হার বেড়েছে প্রায় ১৪৫ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে অপো ১ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার ৬০০ স্মার্টফোন বিক্রি করেছে। বর্তমানে স্মার্টফোন বাজারের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ দখল করেছে অপো। গার্টনারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ ইউনিট হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়েছে, যা ২০১৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। গত বৃহস্পতিবার গার্টনারের প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে যত হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়েছে, তার ৭৮ শতাংশ স্মার্টফোন। ফোরজির সুবিধা বাড়ায় স্মার্টফোনের বিক্রি বেড়েছে আর উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজারে সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের বিক্রি বেড়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোনের বাজার চীনে স্যামসাং ও লেনোভোকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলেছে হুয়াওয়ে ও শিয়াওমি। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার বাজারে হুয়াওয়ে ফোনের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে স্মার্টফোনের বাজারে তিন নম্বরে আছে হুয়াওয়ে। বাজারে ২৩ শতাংশ দখল নিয়ে শীর্ষে আছে স্যামসাং। অ্যাপল ও লেনোভোর স্মার্টফোন বিক্রির হার কমতে দেখা গেছে। এদিকে অপারেটিং সিস্টেমের হিসাবে বাজারের ৮৪ শতাংশ দখল নিয়ে শীর্ষে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড। আইওএসের দখলে বাজারের ১৫ শতাংশ। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে অবনতি হয়েছে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের দখলে ছিল বাজারের ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এখন দাঁড়িয়েছে দশমিক ৭ শতাংশে। ব্ল্যাকবেরিসহ অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের দখলে মাত্র দশমিক ২ শতাংশ।

চিকিৎসা তথ্য নিয়ে অ্যাপ

কখন কোন ওষুধ খেতে হবে, রক্তচাপ বা রক্তের চিনি কবে কত ছিল, কোন চিকিৎসকের সঙ্গে কবে সাক্ষাৎ করতে হবে—এমন সব তথ্য রাখার সুবিধা নিয়ে এসেছে স্মার্টফোনের অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) মেডিসিফাই। শুধু তথ্য রাখা নয়, ওষুধ খাবার সময় বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার দিনক্ষণ অ্যালার্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেবে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস দুই অপারেটিং সিস্টেমেই চলে এই অ্যাপ। ফেব্রুয়ারিতে বাজারে ছাড়া হয়েছে এটি। শুধু নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা-বিষয়ক তথ্য যে রাখা যাবে এতে তা নয়, পোষা প্রাণীর চিকিৎসার তথ্যও এতে সংরক্ষণ করা যাবে। মেডিসিফাইয়ের মূল মেন্যু সাতটি। ছোট বৃত্তে সাতটি মেন্যু বৃত্তাকারভাবে সাজানো আছে। সাতটি মেন্যু হলো ডক্টরস অ্যাপয়েন্টমেন্ট অ্যালার্ম, ভ্যাকসিনেশন অ্যালার্ম, মেন্যুস্ট্রেয়েশন অ্যালার্ম, ল্যাব টেস্ট ডেট অ্যালার্ম, মনিটরিং, ইমারজেন্সি কল ও মেডিসিন অ্যালার্ম। ডক্টরস অ্যাপয়েন্টমেন্ট অ্যালার্মে চিকিৎসকের সঙ্গে কবে দেখা করতে হবে তার তথ্য লিখে দিতে হবে। রোগীর নাম, ডাক্তারের নাম, তাঁর অভিজ্ঞতা, ঠিকানা, ফোন নম্বর লেখার ঘর রয়েছে। ভ্যাকসিনেশন অ্যালার্মে টিকা দেওয়ার সময়সূচি রাখা যাবে এখানে। রোগীর নাম, টিকার ধরনের নাম, ব্র্যান্ড নাম ও বর্ণনা লিখে দিতে হবে। মেন্যুস্ট্রেয়েশন অ্যালার্ম নারীদের বিশেষ কাজে লাগবে এই মেন্যুটি। পিরিয়ডের সঠিক সময়ের হিসাব রাখা যাবে এটি দিয়ে। চিকিৎসার জন্য নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে আসতে হয় ল্যাবে গিয়ে। ল্যাব টেস্ট ডেট অ্যালার্মে তথ্য দিয়ে রাখলে সময়মতো অ্যালার্মের সাহায্যে দেবে অ্যাপটি। মেডিসিফাইতে সব তথ্য সেভ, রিসেট ও ডিলিট (মুছে ফেলা) করার সুবিধা আছে প্রতিটি অপশনের নিচের বারে।

কেমন কাটল জাকারবার্গের বিয়েবার্ষিকী?

জাকারবার্গ-প্রিসিলার বিয়ের ছবি।
বন্ধু ও অনুসারীদের কাছে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় সবকিছুই শেয়ার করেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। পরিবারের সদস্যদের জন্মদিন থেকে শুরু করে যেকোনো অনুষ্ঠানের ছবিসহ পোস্ট দিতে দেখা যায় তাঁকে। তবে ১৯ মে তারিখটি জাকারবার্গের জীবনে একটি বিশেষ দিন বটে। কেন? কারণ, এদিন প্রিসিলা চ্যানকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। দেখতে দেখতে চার বছর পেরিয়ে গেল। ২০১২ সালে প্রিসিলাকে ঘরে তোলার পর গত বছরে তাঁদের মেয়ে ম্যাক্সিমার জন্ম হয়েছে।  তাই এবারের বিয়েবার্ষিকী একটু বিশেষভাবে পালন করেছেন জাকারবার্গ দম্পতি। তাঁরা ‘হ্যামিল্টন: অ্যান আমেরিকান মিউজিক্যাল’ নাটক দেখতে যান। বিয়েবার্ষিকীতে নাটক দেখে কাটানোর ওই বিশেষ মুহূর্তটি তিনি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। ওই ছবিতে জাকারবার্গ, প্রিসিলা ছাড়াও নাটকের লেখক লিন-ম্যানুয়েল মিরান্ডাকেও দেখা যাচ্ছে।
কেমন ছিল জাকারবার্গের বিয়ে?
জাকারবার্গের সঙ্গে প্রিসিলার প্রণয়ের শুরু ২০০৫ সাল থেকে। জাকারবার্গ প্রিসিলার কাছে ফেসবুকে চাকরি করার বিষয়ে আগ্রহী কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন। প্রিসিলা ইতিবাচক উত্তর দিলে দুজনের সম্পর্কের শুরু হয়। তবে বাস্তবে প্রিসিলা কখনোই ফেসবুকের জন্য কোনো কাজ করেননি। দীর্ঘদিনের বান্ধবী চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক প্রিসিলা চ্যানকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন জাকারবার্গ। এই বিয়েতে মাত্র ১০০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। নিজের নকশা করা ‘সাধারণ’ একটি রুবির আংটি পরান ওই সময় ২৮ বছর বয়সী জাকারবার্গ। বিয়েতে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার আনিয়েছিলেন। খুবই সাদামাটাভাবে বিয়ে করেন তিনি। বিয়েতে মার্ক ও প্রিসিলা নতুন জীবন শুরু করার আগে ভবিষ্যতে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে সম্পত্তির অংশ কে কতটুকু পাবেন, সে বিষয়েও নিজ নিজ আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে নেন। বিয়ের পর দুজনই তাঁদের ফেসবুক স্ট্যাটাস বদলে ‘ইন আ রিলেশনশিপ’-এর জায়গায় ‘ম্যারেড’ লেখেন। বিয়ের পরিকল্পনাটি আগেভাগেই সেরে রেখেছিলেন তাঁরা। কিন্তু অপেক্ষা করছিলেন উপলক্ষ আর প্রিসিলার চিকিৎসক হওয়ার জন্য। ওই বছরের ১৪ মে জাকারবার্গের জন্মদিনে চিকিৎসক হন প্রিসিলা।

আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন

হাসান আল জুবায়ের। ছবি: সংগৃহীত
হাসান আল জুবায়ের পড়ালেখা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদে। স্নাতকোত্তর শেষ করে এখন চলছে তাঁর বৈমানিক হওয়ার অভিযান। একটু কি খটকা লাগল? শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদে পড়া ছেলেটা বিমানের ককপিটে বসতে মরিয়া হয়ে উঠল কেন? আমরা ভ্রু কুঁচকে তাকালেও হাসান আল জুবায়েরের কাছে এটা খুব স্বাভাবিক। তিনি বরং মুখে পাল্টা বিস্ময় ফুটিয়ে তুলে বলেন, ‘আমার তো বৈমানিকই হওয়ার কথা ছিল। পথ ভুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গিয়েছিলাম।’ ব্যাপারটা খোলাসা করতে তিনি বললেন ২০০৮ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পেরোনো জুবায়েরের গল্প। বিমানবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্নে যে বুঁদ হয়ে ছিল। বলছিলেন, ‘আইএসএসবিতেও টিকে গিয়েছিলাম। কিন্তু মেডিকেলে আটকে গেলাম। খুব ভেঙে পড়েছিলাম। স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি গিয়েও ফিরে আসাটা মানতে পারছিলাম না।’ একরকম মুখ ভার করেই তিনি ভর্তি হন ঢাবিতে। পড়ালেখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক দলের হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সৌভাগ্যও হয়েছে কয়েকবার। কিন্তু বৈমানিক হওয়ার ভূত মাথা থেকে তখনো নামেনি। বিমান নিয়ে আকাশের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ হয়নি, এই দুঃখ ঘোচাতেই কি না কে জানে, হাসান আল জুবায়ের পর্বতারোহণ শুরু করলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের সঙ্গে শুরু হয় তাঁর আরেক অভিযান। দেশে-বিদেশে বেশ কিছু সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জুবায়েরের দেখা হয়ে গেছে। কয়েক দিন আগে ‘স্বপ্ন নিয়ে’র সঙ্গে আলাপে এই অভিযানপ্রিয় তরুণ বলছিলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের বৈমানিক ইনাম তালুকদার ছিলেন আমাদের মাউন্টেনিয়ারিং প্রশিক্ষক। তাঁর উৎসাহেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি যোগ দিই আরিরাং ফ্লায়িং স্কুলে। ২০০৮ সালে বাবাকে হারিয়েছি। বেসরকারি ফ্লায়িং স্কুলে পড়ার খরচ জোগানোটা সহজ ছিল না। তবু মা, ভাই, বোনের সহায়তা আর উৎসাহেই ঘুরেফিরে আমার স্বপ্নটা পূরণ হতে চলেছে। এখন প্রশিক্ষণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই আমি কমার্শিয়াল পাইলটের লাইসেন্স পাব।’ উড়োজাহাজ যে তাঁর কতটা প্রিয়, বোঝা যায় তাঁর স্নাতকোত্তরের শেষ পর্যায়ে করা গবেষণাপত্রে চোখ বোলালেও। রিসার্চের বিষয় হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের ‘অ্যাভিয়েশন এডুকেশন’। গবেষণার সুবাদেও বিমানচালনার নানা খুঁটিনাটি দিক তাঁর জানা হয়েছে। আলাপের একদম শেষে জুবায়ের দিলেন সুখবর, ‘সম্প্রতি আমি যুক্তরাজ্যের ক্র্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটিতে সেফটি অ্যান্ড হিউম্যান ফ্যাক্টর্স ইন অ্যাভিয়েশন কোর্সে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। এই কোর্স শেষ করে আশা করছি ভবিষ্যতে আমি বাংলাদেশে “অ্যাভিয়েশন সেফটি” নিয়ে কাজ করতে পারব। এখন বৃত্তি পাওয়ার চেষ্টা করছি।’

‘সাড়ে ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশে অলিম্পিকে ৫ জন!’

মাহফিজুর রহমান সাগর। ফেসবুক থেকে নেওয়া
মাহফিজুর রহমান সাগর দেশের অন্যতম সাঁতারু। গুয়াহাটি ও শিলংয়ে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এসএ গেমসে তিনি দেশের হয়ে জিতেছেন সাতটি ব্রোঞ্জ। তবে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় স্মৃতি ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞে সেবার তাঁর হাতেই ছিল গর্বের জাতীয় পতাকা। অলিম্পিকে দেশের পতাকা বহন করার গৌরবের অভিজ্ঞতা তাঁর চোখ খুলে দিয়েছে। হৃদয়ে তাঁর আকুতি—একটিবার যদি অলিম্পিকের বিশ্ব পরিমণ্ডলে একটা পদক জিততে পারত বাংলাদেশ! নিজের আকুতি প্রকাশ করতেই ফেসবুকের শরণাপন্ন মাহফিজুর। আর কাউকে নয়, সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্বোধন করে লেখা এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন অলিম্পিকে দেশের ‘অর্জন’ নিয়ে নিজের বেদনার্ত অভিজ্ঞতার কথা। পাঠকদের জন্য মাহফিজুরের ফেসবুক পোস্টটি কিছুটা সম্পাদনা করে তুলে ধরা হলো...
“খোলা চিঠি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার নেতৃত্বে আমাদের দেশের সকল ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটছে, যা অবশ্যই আমাদের সবার কাম্য। একটি দেশকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সহজ মাধ্যম হলো খেলাধুলা। আপনি দেশকে ভালোবাসে, খেলাধুলাও। যার প্রমাণ আমরা পেয়েছিলাম ক্রিকেটে পাকিস্তানকে পরাজিত করার পর আপনার চোখে আনন্দাশ্রু দেখে। আপনার এই আনন্দাশ্রু আমরা বারবারই দেখতে চাই। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ক্রিকেট অলিম্পিকের খেলা নয়। ক্রিকেটে বাংলাদেশ যদি কোনো দিন বিশ্বকাপ জেতে তাহলে হয়তো ২৫-৩০টি দেশ বাংলাদেশের এই সাফল্যের কথা জানতে পারবে। যদি অলিম্পিকে কোনো দিন বাংলাদেশ সোনার পদক জেতে তাহলে তা জানতে পারবে গোটা বিশ্বই। কিন্তু হতাশার বিষয় কি জানেন? বাংলাদেশের কোনো ক্রীড়াবিদ এখনো পর্যন্ত নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে অলিম্পিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পায়নি। এখনো পর্যন্ত প্রায় সবাই অলিম্পিক খেলতে গেছে দানের কোটায়। তাই অলিম্পিকে পদক আশা করাটা রীতিমতো অলীক স্বপ্ন ও হাসির খোরাকই হয়ে ওঠে। আপনার কি ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের কথা মনে আছে? সেবার আমি বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে মার্চপাস্ট করেছিলাম। টেলিভিশন সম্প্রচারে আমাকে দেখানোর পরপরই আপনাকে দেখিয়েছিল। সেদিন ধারাভাষ্যকার বাংলাদেশকে নিয়ে কী বলেছিলেন জানেন? তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের সদস্য সংখ্যা মাত্র ৫! এই ৫ জন ১৬৪ মিলিয়ন জনসংখ্যার একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে! জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত অলিম্পিকে কোনো পদক জিততে পারেনি।’ পরে যখন কথাটা শুনতে পাই তখন মনে হচ্ছিল লজ্জায় গর্তে লুকাই। আমরা সব সময়ই এশিয়ান গেমস, অলিম্পিকের মতো আসরে যাই ‘অভিজ্ঞতা’ অর্জনের জন্য। আর কতদিন ‘অভিজ্ঞতা’র জন্য খেলব আমরা? খুব খারাপ লাগে যখন দেখি আমাদের চেয়েও জনসংখ্যায় ক্ষুদ্র, পিছিয়ে থাকা ও দরিদ্র দেশ অলিম্পিকে সোনার পদক পাচ্ছে, দেশের জাতীয় সংগীত বাজাচ্ছে! অলিম্পিকের কথা আপাতত বাদ দিই। আসি এসএ গেমসের প্রসঙ্গে। এস এ গেমসকে বলা হয় দক্ষিণ এশিয়ার ‘অলিম্পিক!’ কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি এসএ গেমসের সর্বশেষ আসরে বাংলাদেশের অবস্থার ৮ দেশের মধ্যে পঞ্চম। ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান তো বটেই। যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের পরেও আমাদের অবস্থান। ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড নেপালের বিপক্ষে মাত্র একটি সোনার পদকের ব্যবধানে এগিয়ে আমরা। এসব গেমসে একজন ক্রীড়াবিদের কারণেই বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত, সবার ওপরে স্থান নেয় দেশের জাতীয় পতাকা। সর্বশেষ এসএ গেমসে ২৩৪ বারের মধ্যে মাত্র ৪ বার বেজেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। আমাদের সব প্রতিবেশী তুমুল গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছি না আমরা। কেবল আপনিই পারেন খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়াতে। দেশের সব ক্ষেত্রের পাশাপাশি খেলাধুলার উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে। খেলোয়াড়দের দিকে সুযোগ-সুবিধার হাত বাড়াতে যেন তারা সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে—সে ব্যবস্থা করে দিতে। আর কোনো দিনই যেন আমাদের দেশের ক্রীড়াবিদেরা কেবল অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার আসরে অংশ না নেয়, তাঁরা যেন জেতার জন্যই মাঠে নেমে দেশকে সম্মানিত, গৌরবান্বিত করতে পারে। খেলাধুলায় বিনিয়োগে কোনো ক্ষতি নেই। বরং এটি দেশের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।"

ফেবারিট ট্যাগ নিতে প্রস্তুত ব্রাজিল

‘ফেবারিট’ তকমা থাকছেই ব্রাজিলের জন্য। ছবি: এএফপি।
গত বিশ্বকাপের জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনালের সেই দুঃস্বপ্ন মনে করে আজও আঁতকে ওঠেন বহু ব্রাজিল-ভক্ত। খোদ জার্মান দলও কি সেদিন ভেবেছিল যে ব্রাজিলের মাটিতেই ব্রাজিলের জালে গুনে গুনে সাতবার বল ফেলা যাবে! এরপর দুই বছর কেটে গেছে। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে সাত গোল হজমের ক্ষত আজও সারিয়ে উঠতে পারেনি ব্রাজিল। গত বছর কোপা আামেরিকাতেও তারা ব্যর্থ। একটা সময় ছিল ব্রাজিল মানেই যেকোনো টুর্নামেন্টের অবিসংবাদিতভাবে ফেবারিট। কিন্তু এখন কি আর সেই দিন আছে? বিশ্বকাপ ও কোপার ধাক্কা যে ব্রাজিল এখনো সামলে উঠতে পারেনি, তার বড় প্রমাণ বোধ হয় বিশ্বকাপের চলমান বাছাইপর্ব। লাতিন অঞ্চলে ১০ দলের মধ্যে ৬ নম্বর স্থানটাতে ঠিক ব্রাজিলের সুনামের সঙ্গে যায় না। আগামী জুনে শতবর্ষ পূর্তির বিশেষ কোপা আমেরিকা প্রতিযোগিতায় আবারও খেলবে ব্রাজিল। এই প্রতিযোগিতায় ব্রাজিল ফেবারিট কি না, এই আলোচনাটা কিন্তু এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। খুব উচ্চকিত হয়তো নয়, কিন্তু দলটা ব্রাজিল বলেই বিশ্লেষকেরা একে ফেবারিটই মানতে চান। অনেকেই একমত হবেন না। কিন্তু ব্যাপারটা যে ব্রাজিলীয় ফুটবলের ‘নিয়তি’, সেটা স্বীকার করেছেন ভ্যালেন্সিয়ার ব্রাজিলীয় গোলরক্ষক ডিয়েগো আলভেজ। আলভেজের মতে, ‘এটা হবেই। ব্রাজিল ফেবারিট হিসেবেই খেলতে নামবে। যেকোনো প্রতিযোগিতাতেই ব্রাজিলের ব্যাপারে বড় ধরনের প্রত্যাশা লুকিয়ে থাকে দেশের মানুষের মনে। সবাই চায় দল যেন ভালো করে, দল যেন সাফল্য ছিনিয়ে নিয়ে আসে।’ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ছয় ম্যাচে মাত্র দুটিতে জয়ী দলকেও ‘ফেবারিট’ মনে করা হচ্ছে! আলভেজ বলেছেন, ‘যেকোনো বড় প্রতিযোগিতাতেই ব্রাজিল ফেবারিট হিসেবে খেলে। এটা ব্রাজিলীয় ফুটবলের সুনাম ও ফুটবলীয় ইতিহাসকে ধর্তব্যের মধ্যে নিয়েই।’ ব্রাজিলীয় ফুটবলের এই সুনামের রক্ষাকবচ খেলোয়াড়েরাই। কিন্তু ব্রাজিলের বর্তমান খেলোয়াড়েরা কি প্রস্তুত এই সুনামের গুরুভার বহন করতে? আলভেজের মতে, ব্রাজিলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ই মানসিকভাবে প্রস্তুত। তাঁরা জানেন ব্রাজিলীয় ফুটবলের ইতিহাসের গুরুত্ব কতটা। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই পেশাদার এবং তাঁরা বড় পর্যায়ে খেলেন। ইউরোপের নামীদামি ক্লাবে খেলে প্রত্যাশার চাপ ধারণ করার বিষয়টি তাঁরা সবাই শিখে ফেলেছেন। সূত্র: গোল ডটকম।

বাবা হাসপাতালে, ছেলের লড়াই ক্রিকেট মাঠে

বিকেএসপিতে ক্রিকেট কোচিং স্কুলের (সিসিএস
সঙ্গে সেঞ্চুরিকরে ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে
আসা ইমতিয়াজ। ছবি: প্রথম আলো
কাল সন্ধ্যায় ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে যখন মুঠোফোনে কথা হলো, তিনি রাস্তায়। যাচ্ছেন স্কয়ার হাসপাতালে। অসুস্থ হয়ে ১০ দিন ধরে বাবা আনোয়ার হোসেন সেখানে ভর্তি। বাবাকে নিয়ে দুশ্চিন্তার মেঘ ঘুরছে তাঁর মাথার ওপর। ইমতিয়াজের খেলায় অবশ্য ব্যক্তিজীবনের কঠিন পরিস্থিতির প্রভাব নেই। কিংবা কে জানে, ব্যক্তিগত জীবনের সেই লড়াইটাই টেনে আসছেন মাঠে! এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে নিয়মিত রান পাচ্ছেন প্রাইম দোলেশ্বরের ওপেনার। এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি রান তাঁর। সর্বোচ্চ দুইটি সেঞ্চুরিও। আজও ইমতিয়াজ হোসেনের ব্যাটেই আরও একবার সওয়ার প্রাইম দোলেশ্বর। কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমির বিপক্ষে তাঁর ৮৬ রানের ইনিংসেই দোলেশ্বর ২৮৭ করতে পেরেছে। ১০ রানের জন্য প্রিমিয়ার লিগে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫০০ রানের মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি। কীভাবে পারছেন এমন পরিস্থিতির মধ্যে ধারাবাহিক ভালো খেলতে? মানসিক দৃঢ়তাই যেন ইমতিয়াজের মূল শক্তি। গতকালই বলছিলেন, ‘আমার খেলা দেখার জন্য বাবা বাড়ি থেকে চলে আসেন ঢাকায়। আমার ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে তাঁর অনেক অবদান। হার্টের রোগী তো, টেনশন কাজ করে। কাল (আজ) তাঁর এনজিওগ্রাম করার কথা। বাবার জন্য দোয়া করবেন প্লিজ।’ ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় ১৪ বছর ধরে খেলছেন ইমতিয়াজ। দীর্ঘ এই সময়ে জাতীয় লিগ, বিসিএল, প্রিমিয়ার লিগ কম খেলা হয়নি সিলেটের এই ব্যাটসম্যানের। তবে এবারের প্রিমিয়ার লিগে দারুণ ধারাবাহিকতা। লিগে দেশের অনেক তারকা ব্যাটসম্যানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছেন তরতর করে। ছন্দটা ধরে রাখতে চান সামনেও, ‘এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। যেখানেই খেলেন ভালো করতে হবে। এবার ভালো খেলছি বলে সবাই প্রশংসা করছে, অনুপ্রাণিত করছে। এটা যেমন উদ্বুদ্ধ করে, মনোযোগ আরও বাড়িয়ে দেয়। চেষ্টা করব ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে।’ যেহেতু ভালো খেলছেন, তাঁকে নিয়ে এবার বেশ আলোচনা। দীর্ঘদিন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা ৩১ বছর বয়সী সিলেটের এই ব্যাটসম্যান এমন সাড়া আগে কখনো পাননি, ‘এবার সাড়া একটু বেশিই পাচ্ছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা নেই বলে জাতীয় দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় প্রিমিয়ার লিগে খেলছে। এ কারণে সংবাদমাধ্যমের মনোযোগও বেশি।’ দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি দেখলে ইমতিয়াজের বয়সটা হয়তো কঠিন বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দেবে তাঁকে। তবু বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলার স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রাখতে চান তিনি, ‘সবারই স্বপ্ন থাকে দেশের হয়ে খেলা। স্বপ্নটা আমারও আছে। যদি ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক রান করতে পারি, সুযোগ একদিন আসতেও পারে।’ অতীতে আসেনি; সুযোগটা যদি ভবিষ্যতেও না আসে, তবু হতোদ্যম হতে চান না ইমতিয়াজ। ক্রিকেট যে মিশে গেছে তাঁর রক্তে, ‘ক্রিকেট ছাড়া আর কিছু চিন্তা করতে পারি না। আমি খেলি প্যাশন থেকে। যত দিন ফিটনেস ও পারফরম্যান্স থাকবে, ক্রিকেট আমাকে খেলতেই হবে। আমার সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।’

এক বছরে দুই আইপিএল?

এক বছরে দুই আইপিএল দেখা যাবে? ছবি: বিসিসিআই।
বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে কথাটা আসলে আইপিএলে বসতে লক্ষ্মী। সেই আইপিএল যদি বছরে দুবার হয়, তাহলে তো সেটা ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের জন্য একেবারে পোয়াবারো। বিসিসিআই এখন সেপ্টেম্বরে ‘মিনি আইপিএল’ আয়োজন করার কথা ভাবছে। ভাবনাটা এসেছে আসলে অন্য কারণে। ক্রিকেটের সেপ্টেম্বর মাসটা বিসিসিআই পাখির চোখ করছে অনেক দিন থেকেই। এই মাসে একটা সময় টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নস লিগ হতো। কিন্তু ব্যবসায়িকভাবে অলাভজনক হওয়ায় দুই বছর ধরে সেই টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে আছে। আপাতত সেপ্টেম্বর মাসটা তাই খালিই আছে। বিসিসিআই এখন চাইছে, এই মাসে একটা ‘মিনি আইপিএল’ আয়োজন করার। গত বছরেই সেই উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু আইনি জটিলতায় সেটা সম্ভব হয়নি। প্রচারস্বত্ব নিয়ে একটা ঝামেলা বেধেছে। এই মুহূর্তে আইপিএলের প্রচারস্বত্ব সনি ইএসপিএনের। কিন্তু ভারতের ক্রিকেট দলের ম্যাচ সব দেখায় স্টার স্পোর্টস। চ্যাম্পিয়নস লিগও তারাই দেখিয়ে আসছিল। নতুন মিনি আইপিএল হলে সেই স্বত্ব কারা পাবে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে এর চেয়েও বড় একটা ঝামেলা আছে। আইসিসি নিজেই চাইছে সেপ্টেম্বর মাসে একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে। এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হচ্ছে চার বছর পর পর। এবারের আগেই সেটি দুই বছর পরপর হয়েছিল। এবার থেকে বিরতিটা চার বছর করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এবারের আসর আর্থিকভাবে এতটাই লাভজনক হয়েছে, আইসিসি আবার আগের দুই বছর বিরতিতে যাওয়ার কথা ভাবছে। সেটা হলে প্রতিবছরেই আইসিসির অন্তত একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থাকবে। বিসিসিআইয়ের চেষ্টাও তখন হয়তো আর বাস্তবায়িত হবে না। এক বছরে দুই আইপিল কিংবা দুই বছরে একটি করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—খেলাটা আসলেই দেখা যাচ্ছে সোনার ডিম পাড়া হাঁস! সূত্র: টিওআই।

মরিনহোর স্বপ্নপূরণ, কোচ হচ্ছেন ইউনাইটেডের

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন কোচ
হোসে মরিনহো। ছবি: এএফপি।
এখনো চুক্তি হয়নি। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অনুশীলন মাঠ ক্যারিংটনে লুই ফন গালের কোচের ডেস্কে বসতে যাচ্ছেন হোসে মরিনহো। ২০১৩ সালে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিদায়ের পর সাফল্যহীন ইউনাইটেডকে পথে আনতে মরিনহোকেই এই মুহূর্তে যোগ্যতম কোচ ভাবছে ক্লাবটির নীতিনির্ধারকেরা! ইউনাইটেডের সাবেক ড্যানিশ গোলকিপার পিটার স্মাইকেল মরিনহোকে ‘যোগ্যতম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, ‘মরিনহোই দলটাকে সঠিক পথে আনতে পারবেন।’ আজ মঙ্গলবারই ওল্ড ট্রাফোর্ডে পা রাখবেন অভিজ্ঞ এই পর্তুগিজ কোচ। আজকের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে ইউনাইটেড চুক্তির বিভিন্ন দিক চূড়ান্ত করবে বলে জানা গেছে। বিতর্ককে ‘চিরসঙ্গী’ করে চলা মরিনহো তাঁর ক্যারিয়ারে একাধিকবার ইংলিশ ক্লাব চেলসির কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ডিসেম্বরেই ক্রমাগত ব্যর্থতার মুখে তাঁকে কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করে চেলসি। পাশাপাশি তিনি পোর্তো, ইন্টার ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। লিগ জিতেছেন, দুটি ভিন্ন ক্লাবকে জিতিয়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপাও। সর্বশেষ মৌসুমটা চেলসির হয়ে খুব বাজে গেছে। ইউনাইটেডে যোগ দেওয়াটা তাঁর জন্য বড় ধরনের এক চ্যালেঞ্জই। তবে এমন চ্যালেঞ্জের জন্য আপাতত বেকার মরিনহো মুখিয়েই ছিলেন। ইউনাইটেডের কোচ হওয়া যে ছিল তাঁর স্বপ্ন। সূত্র: এএফপি।

বিয়ে নিয়ে লুলিয়া ভেঞ্চুরের ইনস্টাগ্রাম বার্তা

লুলিয়া ভেঞ্চুর
সালমান খানের সঙ্গে রোমানিয়ান টিভি তারকা লুলিয়া ভেঞ্চুরের বিয়ের বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরেই বলিউডের সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়ে আসছে। এর আগে এ বছরের ডিসেম্বরে, সালমানের জন্মদিনেই এ দুজনের বিয়ে হতে যাচ্ছে—এমন খবরও বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছিল। আর এর পরপরই সালমান জানিয়েছিলেন যে তিনি তাঁর বিয়ের খবর টুইটারের মাধ্যমে ভক্তদের জানিয়ে দেবেন। যা হোক, এবার ইনস্টাগ্রামে সালমানের প্রেমিকা লুলিয়া ভেঞ্চুর তাঁদের বিয়ে নিয়ে একটি বার্তা দিয়েছেন। লুলিয়া ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘সৃষ্টিকর্তাই পথ দেখিয়েছেন, তিনিই ভালো জানেন কোনটি সঠিক। তিনি সঠিক সময়ে মিলিয়ে দেবেন...।’ প্রসঙ্গত, সালমান খান কিছুদিন আগে তাঁর দেহরক্ষী শেরাকে লুলিয়া ভেঞ্চুরের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখাশোনা করার জন্য সেরা কাউকে নিয়োগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আর এরপর থেকেই এ দুজনের বিয়ে নিয়ে নতুন করে নানা গুজব রটেছিল। এদিকে সালমান খানের মায়ের শারীরিক সমস্যা ও অসুস্থতার কারণে দুজনের বিয়ের সময় এগিয়ে আসতে পারে—এমন খবরও প্রকাশ করেছিল বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। পিটিআই। এনডিটিভি।

‘তিন’ ছবির জন্য গাইবেন অমিতাভ

অমিতাভ বচ্চন
বলিউডের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তারকা অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের ভরাট কণ্ঠ অনেক ছবির সংগীতেই ব্যবহৃত হয়েছে। এবার নতুন ছবি ‘তিন’-এর সংগীতের জন্য জন্য আবারও কণ্ঠ দেবেন অমিতাভ বচ্চন। আগামী জুন মাসের ১০ তারিখে ‘তিন’ ছবিটির মুক্তি পাওয়ার কথা। ‘তিন’ ছবিটিতে অমিতাভ ছাড়াও অভিনয় করেছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি ও বিদ্যা বালান। এ ছবির দৃশ্যধারণের কাজ হয়েছে কলকাতায়। বিদ্যা বালান এ ছবিতে অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন একটি বিশেষ চরিত্রে। অমিতাভের সঙ্গে বিদ্যা বালানের অবশ্য এটিই প্রথম ছবি নয়। ২০০৯ সালে বিদ্যা বালান ‘পা’ ছবিতে অমিতাভের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে বাংলা গান

সেতার বাজাচ্ছেন পণ্ডিত রবিশঙ্করের মেয়ে আনুশকা
শঙ্কর। ছবি: ব্লুজ কমিউনিকেশনসের সৌজন্যে
লন্ডনের শিল্প, সাহিত্য আর সংস্কৃতিচর্চার পীঠস্থান ‘রয়্যাল অ্যালবার্ট হল’-এ গত রোববার বসেছিল শাস্ত্রীয় সংগীত ও বাংলা গানের আসর। এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান এই অভিজাত হলে কোনো অনুষ্ঠান করল। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্লুজ কমিউনিকেশনস লিমিটেড। ইংল্যান্ডের লন্ডন নগরীর সাউথ কেনসিংটন এলাকায় অবস্থিত বিশ্বখ্যাত রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে পরিবেশনার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন তাবত দুনিয়ার শিল্পীরা। গত রোববার সন্ধ্যায় এই হলেই বসল ‘এ ক্ল্যাসিকাল ওডিসি—এ ট্রিবিউট টু মায়েস্ত্রো রবিশঙ্কর’ শীর্ষক মার্গ সংগীতের আসরটি। মাত্র পাঁচ ঘণ্টার আয়োজন। কিন্তু তার ব্যাপ্তি বিশাল। বাংলার পঞ্চকবির গান গাইলেন বাংলাদেশের দুই শিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরী ও অদিতি মহসিন। যন্ত্রে সুর তুলে শ্রোতাদের বিমোহিত করলেন ভারতের বিখ্যাত বাজিয়েরা। ভক্তি, প্রেম, ভালোবাসা, বিষাদ কিছুই বাদ গেল না। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পীদের এ এক অনন্য পরিবেশনা। ৩৬০ ডিগ্রি গোলাকার বিশাল গম্বুজের মতো এই মিলনায়তনের তিন দিকে দর্শকসারি। একদিকে মঞ্চ। মঞ্চের ঠিক ওপরেই বড় পর্দায় সরাসরি দেখা যাচ্ছে অনুষ্ঠান। ১৩৫ ফুট উচ্চতার সুবিশাল এই মিলনায়তনে থরে থরে সাজানো গ্যালারি উঠে গেছে পাঁচতলা পর্যন্ত। হলভর্তি দর্শক। সন্ধ্যা ছয়টা বাজতেই নিভে গেল গ্যালারির বাতি। মঞ্চের আলো তখন আরও উজ্জ্বল। শুরুতেই মঞ্চে এলেন বাঁশির সুরে বিশ্বজয় করা পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া এবং বিখ্যাত সন্তুরবাদক পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। তাঁদের সংগত করতে ঢোল, তবলা আর তানপুরা নিয়ে মঞ্চে উঠলেন যন্ত্রীরা। ৭৮ বছর বয়সী চিরতরুণ চৌরাসিয়া বাঁশিতে ঠোঁট লাগাতেই পুরো মিলনায়তনে নেমে এল নীরবতা। শুভ্রকেশী ঝাঁকড়া চুলের পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা তাঁর ৭২ তারের জাদুকরি যন্ত্র সন্তুরে অনুসরণ করলেন সেই বাঁশির সুর। সঙ্গে যোগ দিল ঢোল, তবলা আর তানপুরা। তারপর দর্শকদের কেবলই মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকা আর এক পরিবেশনা শেষ করে অন্য পরিবেশনায় যাওয়ার আগে তীব্র করতালিতে ফেটে পড়া। এরপর বাংলাদেশের শিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরী। যন্ত্র নয়, কণ্ঠ সংগীত। ডি এল রায়ের ‘আমি সারা সকালটি বসে বসে’ দিয়ে শুরু করলেন তিনি।
বিনম্র সম্মোহনী সুরে বিমোহিত দর্শক। এরপর একে একে গাইলেন অতুল প্রসাদ সেন, নজরুল ইসলাম ও রজনীকান্ত সেনের গান। এরপর সেতার নিয়ে মঞ্চে এলেন পণ্ডিত রবিশঙ্করের মেয়ে আনুশকা শঙ্কর। সঙ্গে ঢোল, তবলা, সানাই আর বাঁশির সংগত। গত শতাব্দীর আশির দশকে বাবা রবিশঙ্করের করা একটি কম্পোজিশন দিয়ে শুরু করলেন তিনি। মন-প্রাণ উজাড় করে বাজালেন প্রায় আধ ঘণ্টা। সেতারের তারে হাতের ক্ষিপ্র চালনে বুঝিয়ে দিলেন তিনি বাপকা বেটি। আনুশকার সেতারের ঝংকার রক্তে যেন নাচন তুলল। এবার রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে হাজির হলেন অদিতি মহসিন। গীতাঞ্জলি থেকে ‘জগতে আনন্দে যজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ’ দিয়ে শুরু করলেন সুরের অভিযাত্রা। গাইলেন কয়েকটি গান। প্রতিটি গানের আগে অদিতি মহসিন ইংরেজিতে অনুবাদ করে বুঝিয়ে দিলেন গানগুলোর প্রেক্ষাপট। শাস্ত্রীয় সংগীতের এই আয়োজনে সর্বশেষ আকর্ষণ ছিলেন ভারতের বেহালা সম্রাটখ্যাত ড. এল সুব্রামনিয়াম। তিনি যখন মঞ্চে আসেন, তখন স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১০টা। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রিধারী সুব্রামনিয়াম বেহালার সুরে সুরে জানান দিলেন তাঁর রক্তেই আছে বেহালার সুর। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবা প্রফেসর ভি লক্ষ্মীনারায়ণের কাছেই বেহালায় তাঁর হাতেখড়ি। কর্ণাটকি ঘরানার এই বেহালাবাদক ঢোল, তবলা আর তানপুরার মিশেলে তৈরি অনন্য রাগসংগীতে দর্শকদের আলোড়িত করেন। রাত ১১টায় শেষ হলো এই সংগীতায়োজন। অনুষ্ঠানে এক সংক্ষিপ্ত প্রমাণ্যচিত্রে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন আদায়ে পণ্ডিত রবিশঙ্করের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। উপস্থাপক বলেন, রবিশঙ্কর রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে ১৭বার পরিবেশনায় অংশ নিয়েছেন। তাঁর সর্বশেষ পরিবেশনা ছিল ২০০৫ সালে। অনুষ্ঠানে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি আবুল খায়ের বলেন, ‘পণ্ডিত রবিশঙ্করের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে বাংলাদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের আয়োজন গর্বের ব্যাপার।’ বাংলা গান ও উচ্চাঙ্গ সংগীতকে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্মারক হিসেবে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিল্পীদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন আবুল খায়ের, প্রতিষ্ঠানটির পরামর্শক এ কে আবুল মোমেন এবং কনসার্টের মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও ব্লুজ কমিউনিশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরহাদুল ইসলাম। একটি স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় পণ্ডিত রবিশঙ্করের স্ত্রী সুকন্যা শঙ্করের হাতে।

উধাও অপু, বিপাকে পরিচালকেরা!

অপু বিশ্বাস
সর্বশেষ গত ১৬ মার্চ মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের সম্রাট ছবির ডাবিংয়ে দেখা গিয়েছিল অপু বিশ্বাসকে। এরপর থেকেই চলচ্চিত্রপাড়ায় আর দেখা যায়নি তাঁকে। তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। চলচ্চিত্রের মানুষজন তো বটেই, এমনকি অপুর কাছের মানুষেরাও তাঁর অবস্থানের কথা নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছেন না। তাঁদের দু-একজনের ভাষ্য, অপুর বড় বোনের বাড়ি ভারতের কলকাতায়। হয়তো সেখানে গিয়েছেন। এদিকে অপু বিশ্বাস যে পাঁচটি ছবিতে কাজ করছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে সেগুলোর শুটিং আটকে গেছে। ছবিগুলো হলো রাজনীতি, মাই ডার্লিং, লাভ ২০১৬, পাঙ্কু জামাই ও মা। এর মধ্যে কিছু ছবির কাজ প্রায় শেষের দিকে, আবার কিছু ছবির কাজ অর্ধেক হয়ে আটকে গেছে। এতে ছবির পরিচালকেরা পড়েছেন বিপাকে। এখনো রাজনীতি ছবির তিন-চারটি দৃশ্য ও দুটি গানের কাজ বাকি। হঠাৎ এই কাজ আটকে যাওয়া নিয়ে ছবির পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস বলেন, ‘সবাই সহজভাবে টানা কাজ করতে চায়। কিন্তু আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্নভাবে অপু বিশ্বাসকে খোঁজার চেষ্টা করছি, কিন্তু পাচ্ছি না।’ প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে মাই ডার্লিং ছবির। এখন চারটি গান আর কয়েকটি দৃশ্যের আউটডোরের কাজ হয়ে গেলেই ছবির শুটিং শেষ হবে। তবে ছবির এই বাকি কাজ নিয়েই চিন্তায় পড়েছেন পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর। তিনি বলেন, শাকিব খানের শিডিউল এখন পাওয়া গেছে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে ছবির নায়িকা অপু বিশ্বাসকে নিয়ে। আটকে যাওয়া পাঁচ ছবিতেই অপু বিশ্বাসের নায়ক শাকিব খান। বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে যখন যোগাযোগ করা হয়, তখন তিনি এফডিসিতে শুটিংয়ে ব্যস্ত। সেখান থেকে মুঠোফোনে শাকিব বলেন, ‘সময়-সুযোগ বুঝে আমার শিডিউল দিচ্ছি। কিন্তু অপু বিশ্বাসের শিডিউলের ব্যাপারটি ছবির পরিচালকদেরই ঠিক করতে হবে।’ ১৫ থেকে ২০ দিন আগে একবার ঘণ্টা খানেকের জন্য অপু বিশ্বাসের মুঠোফোন নম্বরটি খোলা ছিল। এরপর থেকে আবারও বন্ধ। গতকাল সোমবার একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনটিই আমার প্রথম ছবি

আলিশা প্রধান।
প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের হাত ধরে চলচ্চিত্রে এসেছেন আলিশা প্রধান। গেল সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ছবি অজান্তে ভালোবাসা। ছবিটি মুক্তির পর বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সেসব নিয়েই কথা হলো তাঁর সঙ্গে।
‘অজান্তে ভালোবাসা’ ছবিটি দেখতে গিয়েছিলেন কোথাও?
হুম্ম, ঢাকার চারটি সিনেমা হলে গিয়েছিলাম। গেল শুক্রবার ও এর পরের দিন। দর্শকদের সঙ্গে দারুণ সময় কেটেছে। প্রেক্ষাগৃহ-ভরা দর্শক দেখে আমি তো অবাক। বাংলা সিনেমা মানুষ দেখেন না—এটা ভুল ধারণা। ছবি ভালো হলে দর্শক অবশ্যই দেখেন। এর মানে আপনি বলছেন ‘অজান্তে ভালোবাসা’ ভালো ছবি?
অবশ্যই। কারণ, সবাই ছবিটি দেখে প্রশংসা করেছেন। আমার অভিনয়ের প্রশংসা করছেন। আর যেমন গল্প মানুষ দেখতে চায়, সে রকম একটি গল্পপ্রধান সিনেমা এটি। আমার চরিত্রটি খুব স্মার্ট মেয়ের নয়। মজার ব্যাপার হলো, কিছুক্ষণ আগে (গতকাল) খবর পেলাম দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও ৩০টি হল বুকিং দিয়েছে ছবিটি।
আপনার তো এটা তৃতীয় ছবি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজেকে কতটা সমৃদ্ধ করলেন?
সত্যি কথা বলতে কি, আমার তিনটি ছবিই ‘প্রথম’। আমার প্রথম ছবি ভুল যদি হয়-এর কাজ যখন শুরু করি, তখনই এই ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হই। আবার এরই ফাঁকে অন্তরঙ্গ সিনেমারও কাজ শুরু করি। এমন হয়েছে, একটার কাজ শেষ হওয়ার আগেই আরেকটার শুটিং শুরু করেছি। ওটা কিছুটা করে এসে আরেকটা ধরেছি। এই তিনটি ছবি দিয়ে আমি আমার চলচ্চিত্রে অভিনয়জীবন শুরু করি। তাই বলতে হবে, তিনটিই আমার প্রথম ছবি। তবে ছবিগুলো দেখতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, অভিনয়ে আমার যতটুকু ক্ষমতা, তার হয়তো ১৫-২০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে এতে। আমি এখন থেকে শতভাগ দিয়ে অভিনয় করব।
নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন?
জাকির হোসেন রাজুর প্রেমের কাজল ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। শিগগিরই শুটিং শুরু করব। অবশ্য এরই মধ্যে কয়েকটা ছবির প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু যেনতেনভাবে নির্মাণের পরিকল্পনা শুনেই পিছিয়ে এসেছি। আমি চাই বড় ব্যানারে ভালো কাজ করতে।

ভারতের ইরান-আফগান বণিক-রাজনীতি

ইরানের ‘চাবাহার’ বন্দর উন্নয়নের জন্য সোমবার ৫০০ মিলিয়ন ডলার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিনিময়ে ইরানের সস্তা গ্যাস ব্যবহার করে কম খরচে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য সেই পোর্টে প্লান্ট স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয় ভারতকে। এ ব্যাপারে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, ‘চাবাহার বন্দরকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো রাষ্ট্রের যোগাযোগের কেন্দ্রভূমি হয়ে উঠবে ইরান। বিশেষ করে আফগানিস্তানের জন্য এটি যোগাযোগের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।’ এদিকে তেলের দাম পরিশোধ বাবদ ইরানকে ৪৩ হাজার কোটি রুপি বা ৬.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন  মোদি। মোদির তেহরান সফরেই আগেই ১.২ বিলিয়ন ডলার ইউরোমানিতে পরিশোধ করেছে ভারত। ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর গত চার মাসে এটাই প্রথম ইউরো পেল দেশটি। পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে ‘চাবাহার’ পোর্টকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক বাণিজ্য বিকাশে ইরান, ভারত এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সোমবার এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ চুক্তি উপলক্ষে দুই দিনের সফরে  রোববার তেহরান পৌঁছান মোদি। এ সময় মোদি বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্ব এ অঞ্চলের স্থিতিস্থাপনে নিয়ামক হয়ে উঠবে। এছাড়া জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’। রুহানি বলেন, ‘কৌশলগত বন্ধুত্বের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করবে এ চুক্তি।’ সোমবারের তেহরান টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তারা এসব জানান।   এর আগে রোববার ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে ১২টি বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন দুই দেশের রাষ্ট্রপতি। এ সময় বিখ্যাত কবি মির্জা গালিবের একটি শায়ের আবৃত্তি করেন মোদি। মোদি বলেন, ‘একবার যদি মন স্থির করে ফেলি আমরা, তাহলে কাশী আর কাশানের মধ্যকার দূরত্ব কমানো কোনো ব্যাপারই নয়।’ এ সময় আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ব্যাপারে দেশদুটি সহমত পোষণ করে বলে জানিয়েছে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিঅটিআই)। এছাড়া বাণিজ্য, অর্থনীতি, পরিবহন যোগাযোগ, বন্দর উন্নয়ন, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা বিনিময় সংক্রান্ত ১২ দফার এক ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদিত বলে জানিয়েছে তারা। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে স্থলবেষ্টিত ইরানের বন্দর ব্যবহারের সুবিধা পাবে স্থল বেষ্টিত দেশ আফগানিস্তান। তাহলে পাকিস্তানের করাচি পোর্টের ওপর আফগানিস্তানকে আর কখনোই নির্ভর করতে হবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘আফগান বাজার দখলসহ ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও আফগানিস্তানের গা থেকে পাকিস্তানের জামা সরিয়ে ফেলাও এ চুক্তির অন্যতম একটা কারণ।’ চাবাহার পোর্ট ব্যবহার করে ভারত এমনকি ইউরোপের সঙ্গেও সরাসরি ব্যবসা করতে সমর্থ্য হবে আফগানরা। এই পোর্ট থেকে আমদানি-রফতানির পণ্য পরিবহনের জন্য নির্মিত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ দীর্ঘ সড়ক পথ। রেলপথে চাবাহার থেকে আফগান সীমান্তবর্তী জাহদান শহর পর্যন্ত পণ্য যাবে সরাসরি রেলপথে। তারপর আফগানিস্তান এমনকি তাজিকিস্তান পর্যন্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে উন্নত সড়কপথ। আফগানিস্তান হয়ে মধ্য এশিয়া এমনকি রাশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই সড়ক যোগাযোগ।
এছাড়া পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও সংযোগ বাড়বে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এছাড়াও ভারত-ইরান বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সরাসরি যোগাযোগের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছে দি ডিপলোম্যাট। চীন এবং পাকিস্তানকে টেক্কা দিয়ে পারস্য উপসাগরের প্রবেশাধিকার ভারতের কূটনীতির জন্য সৌভাগ্য এনে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গাদকারি। দ্য ইন্ডিয়া টাইমস’কে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন থেকে আফগানিস্তান, রাশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারব। মাধ্যম হিসেবে পাকিস্তানকে আর প্রয়োজন হবে না। ভৌগলিক রাজনীতিতে এই  চুক্তির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এটাই।’ এদিকে পাকিস্তানে ‘গাদার’ বন্দর থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জলসীমায় ইরানের ‘চাবাহার’ বন্দরটি অবস্থিত। চীনের পরিচালনায় গাদার বন্দরের একক আধিপাত্য নিরসনে এবার ভারত-ইরানের যৌথ প্রজেক্ট এই চাবাহার পোর্ট।  আরব সাগরের স্রোত ঘেঁষে এবং পারস্য উপসাগরের দক্ষিণকূলেই নির্মিত হতে যাচ্ছে এই নতুন বাণিজ্যকেন্দ্র। মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য ভাগাভাগিতেও এর সুদূরপ্রসারি প্রভাব থাকবে বলে জানয়েছে এএফপি। ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের বিরূপ আচরণের কারণে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভারত যোগাযোগ করতে পারছে না। স্থল সীমান্তে ভারত এক্ষেত্রে পাকিস্তান দ্বারা বাধাগ্রস্ত। এ কারণে ভারতকে অনেক ব্যয়বহুল বাণিজ্য এবং কূটনীতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হয় প্রতিবছর। এবার খুব কম খরচেই তা সম্ভব হবে।

মুস্তাফিজ যাবেন নাকি যাবেন না সাসেক্সে

অনেকদিন পর দেখা হল দুই ভাইয়ের। রোববার সকালে
কলকাতায় আদরের ছোট ভাই মুস্তাফিজুরের সঙ্গে বড়
ভাই মাহফুজার রহমান মিঠু -ওয়েবসাইট
মুস্তাফিজুর রহমানের অপেক্ষায় দিন গুনছে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্লাব সাসেক্স। কিন্তু মুস্তাফিজকে ইংল্যান্ডে খেলতে পাঠানো হবে কিনা, এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইপিএল খেলে দেশে ফেরার পর বিসিবির ফিজিও দেখবেন মুস্তাফিজকে। ফিজিওর রিপোর্ট পাওয়ার পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তবে ইংল্যান্ডে খেলার ব্যাপারে মুস্তাফিজুরের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ।   কাল বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান যুগান্তরকে বলেন, ‘মুস্তাফিজুরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড। এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আইপিএল থেকে দেশে ফেরার পর ফিজিও তার ফিটনেস দেখবেন। এরপর কোচ জানাবেন তার ইংল্যান্ডে যাওয়া উচিত কিনা।’ তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডে মুস্তাফিজকে পাঠানোর ক্ষেত্রে ভালো ও মন্দ দুটি দিকই রয়েছে। ভালোটা হল, তার অভিজ্ঞতা হবে। মন্দ দিকটা হচ্ছে, তার অনেক ম্যাচ খেলা হচ্ছে। চাপ আরও বাড়বে। তবে ইংল্যান্ডে খেলার ব্যাপারে মুস্তাফিজুরের সিদ্ধান্তটাও গুরুত্বপূর্ণ। সে কী চায়, সেটাও জানা দরকার।’
আইপিএলের ফাইনাল রোববার। মুস্তাফিজুরের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ফাইনালে উঠলে সোমবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার কারণে দেশে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন তিনি। এছাড়া ইংরেজি ও হিন্দি ভালোমতো বুঝতে না পারায় সবার সঙ্গে ঠিকমতো মিশতেও পারছেন না এই কাটার মাস্টার। গত রোববার কলকাতা নাইটরাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল হায়দরাবাদের। তার বড় ভাই মাহফুজার রহমান মিঠু আদরের ছোট ভাইকে দেখতে গিয়েছিলেন কলকাতায়। হোটেলে দুই ভাই একসঙ্গে অনেকটা সময় কাটান। ওইদিন ইডেন গার্ডেনে বসে ছোটভাইয়ের বোলিং দেখেছেন মাহফুজার। ম্যাচে ২২ রানে হেরে যায় মুস্তাফিজের দল। এদিকে মুস্তাফিজুরকে দেরিতে হলেও পাওয়ার আশা ছাড়ছেন না সাসেক্সের অধিনায়ক লুক রাইট। কয়েকদিন আগে একটি পত্রিকাকে রাইট বলেন, ‘ফিজ (মুস্তাফিজুর) অবশ্যই আসছে। আমরা শুধু নিশ্চিত করছি কয়টা ম্যাচ খেলবে সে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে ওর বয়স কম। দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির বাইরে আছে, এমন একটা পরিবেশে যেখানে সে ভাষাটা বুঝতে পারে না। অনেক ম্যাচ খেলেছে। এজন্য ওকে আমরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে চাই, যেন ওর কাছ থেকে সেরাটা পেতে পারি।’ ২০ বছর বয়সী এই পেসার আইপিএলে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েই টানা ১৪ ম্যাচ খেলেছেন। এর আগে বাংলাদেশের আর কোনো ক্রিকেটার আইপিএলে এত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।

বিজ্ঞাপনে জুটি হলেন নোবেল ও পিয়া বিপাশা

প্রথমবারের মতো বিজ্ঞাপনে জুটি হলেন জনপ্রিয় মডেল নোবেল ও পিয়া বিপাশা। একটি পোশাক ও পরিধেয় পণ্যের বিক্রয়জাত প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে সম্প্রতি তারা মডেল হয়ে কাজ করেছেন। বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন মাসুদ রানা। নির্মাতা সূত্রে জানা যায় মূলত দর্শক জরিপে এ প্রজন্মের মডেল ও অভিনেত্রীদের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং শীর্ষ তারকাকেই এতে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেই বিবেচনায় নোবেলের সঙ্গে প্রথম বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলেন পিয়া বিপাশা। হবিগঞ্জের ‘গ্র্যান্ড সুলতান’ হোটেলে এবং আশপাশের মনোরম লোকেশনে রোববার সকাল থেকে বিজ্ঞাপনটির শুটিং হয়েছে। নতুন বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে নোবেল বলেন,
‘মানুষ তার চলার পথে প্রতিটি পদে যদি ফ্যাশনেবল থাকে তবে সে ফুরফুরে মেজাজে আনন্দে চলতে পারে। আমি এবং পিয়া এই বিজ্ঞাপনে একটি সুখী দম্পতি হিসেবে এই বার্তাটি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।’ পিয়া বিপাশা বলেন, ‘আমার খুব প্রিয় একজন মডেল নোবেল ভাই। কখনও ভাবিনি তার সঙ্গে একই ফ্রেমে কাজ করব। তবে যখন মিডিয়াতে কাজ শুরু করি তখন স্বপ্ন ছিল তার সঙ্গে কাজ করার। নোবেল ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে পারাটা জীবনের এক অন্যরকম অর্জন। আমি খুবই উচ্ছ্বসিত এবং আনন্দিত।’ আসছে ঈদ থেকে বিজ্ঞাপনটি দেশের সবক’টি চ্যানেলে প্রচার হবে বলে জানা যায়।

সরকারকে সন্ত্রাসের চক্র ভাঙতে বলেছে ইইউ- গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের তাগিদ

ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অবহিত করতে কূটনৈতিক ব্রিফিং করেছে সরকার। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ ব্রিফিং হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, ভারপ্রাপ্ত সচিব ও মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইইউভুক্ত দেশগুলোর মিশন প্রধানরা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বিকাল ৪টা থেকে পৌনে ৬টা- প্রায় দু’ঘণ্টার এ আলোচনায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ওঠে আসে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা বাংলাদেশে একের পর এক সহিংস আক্রমণের ঘটনায় সম্মিলিতভাবে উদ্বেগ জানান। সন্ত্রাসের ওই চক্র ভাঙতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দেন তারা। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থিদের হাতে সামপ্রতিক সময়ে দেশি-বিদেশি উন্নয়ন কর্মী, ব্লগার, ধর্মীয় ও বিভিন্ন বিশ্বাসের লোকজনের হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসার তাগিদ দেন। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা ইইউসহ পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি উল্লেখ করে এদের নির্মূলে পাল্টা এবং শক্তিশালী আঘাতে জাতীয়ভাবে দল মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস কামনা করেন তারা। এদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে এবং নিরাপত্তা নিয়ে সরকার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসাও করেন ইইউ দূতরা। তারা নিরাপত্তা অগ্রগতি আরও দৃশ্যমান করার ওপর জোর দেন। ঘটনাগুলো একই কায়দায় পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে এবং এসবের পেছনে দেশি-বিদেশি সংগঠিত শক্তির সম্পৃক্ততার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ঘটনায় দায় স্বীকারের বিষয়টিও তাদের আলোচনায় স্থান পায়। তবে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বরাবরের মতো এবারও হত্যাকাণ্ড ও দায় স্বীকারের ঘটনাগুলোর সঙ্গে আইএসের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সরাসরি নাকচ করেন। সরকারের তরফে ঘটনাগুলোর সঙ্গে এবার জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মতাদর্শের অনুসারীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে তাদের শেল্টার বা আশ্রয় দেয়ার জন্য বিএনপিকে দায়ী করা হয়। ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়ার একাধিক সূত্রের দাবি, বিদেশি দূতরা তাদের উদ্বেগ, আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে পরিস্থিতির উত্তরণে সম্মিলিত প্রয়াস চেয়েছেন। তারা এ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব করেছেন। এক সরকারি কর্মকর্তার ভাষ্য, সেখানে দূতদের সাবলীল উপস্থাপনা ছিল। যা আলোচনাকে প্রাণবন্ত করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশিদের উদ্বেগ নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। চলাফেরায় তাদের পর্যাপ্ত এবং কয়েক স্তরের নিরাপত্তার বিষয়ে অবহিত করা হয়।  ব্রিফিং শেষে অপেক্ষমাণ মিডিয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো পক্ষ কথা বলতে রাজি না হলেও উভয়ের তরফে রোববার রাতেই পৃথক বিবৃতি দেয়া হয়।
সহিংসতার চক্র ভাঙুন-ইইউ: সামপ্রতিক সময়ে দেশে চরমপন্থিদের আক্রমণে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের  বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে ইইউ। রোবরাত রাতে ইইউ ঢাকা অফিসের এক যুক্ত বিবৃতিতে ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ জোটভুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতরা এ আহ্বান জানান। সেখানে ‘ঝুঁকিতে’ থাকা সব নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করে ‘সহিংসতার চক্র’ ভাঙার আহ্বান জানান তারা। সরকারের উদ্দেশ্যে ইউরোপীয় মিশনগুলোর প্রধানরা বলেন, এই ধরনের হামলা চলতে থাকলে তা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়- রোববার ইউরোপীয় কূটনীতিকরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে বাংলাদেশে সামপ্রতিক সময়ে ব্লগার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, মানবাধিকার কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও বিদেশিদের ওপর একের পর এক বর্বর হামলার বিষয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেন। মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে ইইউ দূতরা বলেন, সহিংস এসব হামলা মানবাধিকার, বাক স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের প্রতি ‘নজিরবিহীন হুমকি’ তৈরি করেছে। এটি মুক্ত, সহনশীল এবং স্থিতিশীল ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে রয়েছে তা ক্ষুণ্ন হতে পারে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা চলাকালে ঢাকায় মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায় খুন হওয়ার পর ধারাবাহিক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও কয়েকজন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।  এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন প্রকাশক, খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ ধর্মগুরু, সমকামী  অধিকারকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও ভিন্ন মতের ইসলামী ভাবধারা অনুসারী। দুজন বিদেশিকে প্রাণ দিতে হয়েছে বাংলাদেশে। এসব হামলার অনেকগুলোতে দায় স্বীকার করে আইএস ও আল-কায়েদার নামে বার্তা এলেও সরকার বলছে, অভ্যন্তরীণ জঙ্গিরাই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। সহিংস চরমপন্থা দমনে বৃহত্তর কর্মসূচির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের প্রয়োজনীয়তার তাগিদ দেয় ইইউ। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, বাক স্বাধীনতা, শক্তিশালী গণমাধ্যম, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সুশীল সমাজের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেন ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতরা অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের কথাও মন্ত্রীর সামনে পুনর্ব্যক্ত করেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
হত্যার পিছনে জামায়াত- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: এদিকে কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ের বিষয়ে রোববার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রচার করে। সেখানে বলা হয়েছে, সামপ্রতিক হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও তার অগ্রগতি সম্পর্কে ইউরোপীয় মিশনগুলোর প্রধানদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী। এসব হত্যাকাণ্ডে  জামায়াতে ইসলামী ও এর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী জড়িত বলে দূতদের জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ‘ক্ষুণ্ন’ এবং সরকারকে সমস্যায় ফেলতে তারা এসব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামী এবং এর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী যেমন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি), আনসার আল-ইসলাম, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হরকাতুল-জিহাদ-আল-ইসলাম (হুজি-বি), হিজবুত তাহরির বাংলাদেশ এবং নতুন আবির্ভূত আল মুজাহিদ প্রভৃতি এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত। বিএনপি ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে’ ওই দলগুলোকে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এ-ও বলেন, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে পাস হওয়া প্রস্তাবে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার যে আহ্বান জানানো হয় তাতে কর্ণপাত করেনি দলটি। ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ‘স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ’। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থার অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- সেখানে মন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, ওই চুক্তি ছিল শুধু ১৯৫ জন যুদ্ধবন্দিকে নিয়ে, যাদেরকে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ জঘন্য অপরাধের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

শেষ কথা বলে কিছু নেই by সাজেদুল হক

জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রে কো-চেয়ারম্যান নামে কোনো পদ ছিল না। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একদিন হুট করে ঘোষণা দিলেন, তার ছোট ভাই জিএম কাদের জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান। এমনকি তিনি এও ঘোষণা করলেন, তার মৃত্যুর পর কাদেরই হবেন তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী। খেয়াল করে দেখবেন, যেন কার কখন মৃত্যু হবে তাও এরশাদ জানেন। এরশাদের এ ঘোষণা জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে তৈরি করে চাপান-উতোর। বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তারই স্ত্রী রওশন এরশাদ। কিন্তু নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানান এরশাদ। বলেন, এটাই তার শেষ সিদ্ধান্ত।
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। খুব সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে এ কথাটি এরশাদের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। একসময় মনে করা হতো তিনি রাজনীতির আনপ্রেডিক্টেবল চরিত্র। তবে এখন বুঝা যাচ্ছে, তার সবকিছুই প্রেডিক্টেবল। তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তা পরিবর্তন করবেন। এ ব্যাপারে কোনোই অনিশ্চয়তা নেই। কো-চেয়ারম্যানবিষয়ক সিদ্ধান্তও এরশাদ আংশিক পরিবর্তন করেছেন। কো-চেয়ারম্যানের পর তিনি দলে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান পদ ঘোষণা করেছেন। সে পদে নিয়োগ দিয়েছেন রওশনকে। রওশনও নতুন পদ পেয়ে অভিমান ভুলেছেন। এ যেন সুখী এক সংসার। স্বামী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। স্ত্রী বিরোধীদলের নেতা। পৃথিবীর কোথায়, কবে এমন ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় পার্টির কাউন্সিলও সুখী সংসারের অনুমতি দিয়েছে। যদিও জাতীয় পার্টি আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন ইতিহাসেরই অংশ। কোনো নির্বাচনেই দলটির প্রতি জনসমর্থনের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। এ দলের নেতা বেশি না কর্মী বেশি সে প্রশ্নও এখন উঠছে। জাতীয় পার্টিরই অনেক নেতা মনে করেন, একইসঙ্গে সরকার এবং বিরোধী দলে থাকার কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের কথাও এরশাদ একাধিকবার বলেছেন। তবে নিজে তিনি এখনও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পদ ছাড়েননি। তার দলের মন্ত্রীরাও পদত্যাগ করেননি। এরশাদ নির্দেশ দিলেও তার দলের মন্ত্রীরা পদত্যাগ করবেন তা এখন আর কেউ বিশ্বাসও করেন না।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেনাবাহিনীতে থাকার সময়ই অত্যন্ত চতুর সেনাকর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। কৌশলে অন্যদের ব্যবহার করে সব জায়গাতেই তিনি নিজের লোক সেট করেছিলেন। সেনাবাহিনীতে কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের। মহিউদ্দিন আহমদ তার ‘বিএনপি: সময়-অসময়’ শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন, বিচারপতি সাত্তার তখনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হননি। সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ রীতিমতো ‘মার্কটাইম’ করছেন। ক্ষমতার মসনদটা তাঁর মনে হচ্ছিল হাতের নাগালের মধ্যেই। তার জীবনে অনেক উত্থান-পতন গেছে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সবুরে মেওয়া ফলে। তিনি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। খালেদ মোশাররফ, আবু তাহের বা আবুল মঞ্জুরের মতো মাথা গরম করার লোক তিনি ছিলেন না।
এক পর্যায়ে বন্দুকের নলের জোরে এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। নানা সুযোগ সুবিধা দিয়ে তিনি দলে ভিড়িয়েছিলেন সুযোগ সন্ধানী রাজনীতিবিদদের। বহু হেভিওয়েট পলিটিশিয়ান জুটেছিলেন তার পাশে। এরশাদের সেনা অভ্যুত্থানে খুশি হয়েছিল আওয়ামী লীগও। তার নয় বছরের শাসনামলে ভোটাধিকার ছিল নির্বাসিত। আন্দোলনকারীদের তিনি দমন করেছিলেন কঠোর হাতে। তার বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিল বহু মানুষ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল সীমিত। সাংবাদিকদের নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। যখন তখন পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া ছিল নিয়মিত ঘটনা। টিভি বলতে অবশ্য তখন শুধু বিটিভিই ছিল। যে কারণে তা আর বন্ধ করার প্রয়োজন পড়েনি। ছাত্র রাজনীতি হয়েছিল কলুষিত। রাজনীতিবিদদের বিভক্তির সুযোগ নিয়েছিলেন এ স্বৈরশাসক। পতনের পরও অবশ্য এরশাদ টিকে আছেন। এবং এখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। পরিপূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা। পৃথিবীর ইতিহাসে এটাও অবশ্য একটা বিস্ময়। যদিও পতনের পরপর কারাগারে যেতে হয়েছিল তাকে। কারাগারে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘসময়। তার বিরুদ্ধে দায়ের হয় একাধিক মামলা। যদিও কারাগারে থেকে নির্বাচন করেও তিনি জয়ী হয়েছিলেন। একসময় রংপুর অঞ্চলে জনপ্রিয়তা ছিল তার। এরপর প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলই তাকে নানাভাবে ব্যবহার করেছে। ২০০৬ সালে বিএনপিকে ভেলকি দেখিয়েছিলেন তিনি। বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে রাখতে হঠাৎ যোগ দেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে। তবে ২০১৪ সালে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। স্ত্রী রওশন ভেস্তে দেন তার সব পরিকল্পনা। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেও এমপি নির্বাচিত হন এরশাদ। তিনি অবশ্য কম সময়ই স্বাধীন রাজনীতি করতে পেরেছেন।