Showing posts with label নতুন বার্তা. Show all posts
Showing posts with label নতুন বার্তা. Show all posts

Wednesday, February 10, 2016

যৌনকর্মীদের সিরিয়াল-সিনেমায় পুনর্বাসনে প্রকল্প মমতার

অবসরে তিনি নিজে বাংলা সিরিয়াল দেখেন। বাংলা ছবি ও সিরিয়ালের অনেক অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। সেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার পেশা ছাড়তে চাওয়া যৌনকর্মীদের অভিনয়ের দুনিয়ায় পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করেছেন। এর একটা নামও দেওয়া হয়েছে- ‘স্বাবলম্বন স্পেশ্যাল’। অভিনয়-দুনিয়ার প্রতি তীব্র আকর্ষণ থাকলেও পেশা ছাড়তে চাওয়া অধিকাংশ যৌনকর্মী অবশ্য এখনই মুখ্যমন্ত্রীর বিকল্প কর্মসংস্থান প্রকল্পে পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না। তাই প্রকল্প ঘোষণার পর দু’মাস কাটতে চললেও হাতে গোনা কয়েক জন নাম লিখিয়েছেন। ফলে শুরুতেই খানিকটা হোঁচট খেয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সমাজকল্যাণ দফতর। দফতরের এক কর্তা জানান, পেশা ছাড়তে চাওয়া যৌনকর্মী মেয়েদের জন্য আগে ‘স্বাবলম্বন’ নামে একটি প্রকল্প ছিল। সেখানে আচার-বড়ি তৈরি, সেলাই কিংবা মশলা গুঁড়ো করার মতো পুরনো, একঘেয়ে কাজে তাদের মন নেই বলে জানিয়েছিলেন অনেক মেয়ে। তুলনায় সিনেমা-সিরিয়ালে অভিনয়ের কথা শুনে অনেকেই আগ্রহ দেখান। রাজ্যের নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজার কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়। তারই মস্তিষ্কপ্রসূত এই ‘স্বাবলম্বন স্পেশ্যাল’ প্রকল্প। গত ডিসেম্বরে নির্মাণভবনে নারী উন্নয়ন নিগমে যৌনকর্মী এবং যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠনের সঙ্গে দু’বার বৈঠক করে প্রকল্পের কথা ও কাঠামো জানিয়ে দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানান, স্বাবলম্বন স্পেশ্যাল-এ দু’টি কাজ শেখানো হবে বলে ঠিক হয়েছে। এক, অভিনয়। এটি চার মাসের কোর্স। অন্যটি কস্টিউম জুয়েলারি তৈরি। এটি তিন মাসের কোর্স। কিন্তু সমাজকল্যাণ দফতর সূত্রেই খবর, পর্দায় অভিনয় করার জন্য প্রথম দিকে উৎসাহ দেখা গেলেও এখন যেন সেখানে ভাটার টান। এখনও পর্যন্ত অভিনয় ও কস্টিউম জুয়েলারি বানানোর কোর্স দু’টির জন্য মাত্র ১৫ জন যৌনকর্মী আবেদন করেছেন। এই অনীহার কারণ কী? একাধিক সমাজকল্যাণ কর্তা জানান, প্রথম শুনে গ্ল্যামারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। শুনেছি, ওই পেশায় টাকাও মন্দ নয়। কিন্তু তার পর কিছু সমস্যা সামনে আসে। যেমন, কোর্স চলাকালীন সরকার থেকে মেয়েদের মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া যাতায়াত ও টিফিন বাবদ প্রতিদিন দেওয়া হবে ১৫০ টাকা করে। অনেক মেয়েরই মাসিক রোজগার এর থেকে অনেক বেশি বলে তারা রাজি হচ্ছেন না। সরকার চাইছে, কোর্স শুরু করার পরে মেয়েরা যৌনপল্লিতে থাকলেও যৌনপেশায় আর থাকবেন না। পরে যৌনপল্লি ছেড়ে অন্য জায়গায় ঘর ভাড়া নিতে হবে তাদের। এতেও মেয়েরা ধন্দে। নিজের পেশা ছেড়ে বিকল্প পেশায় যেতে আগ্রহী সোনাগাছির এক যৌনকর্মীর কথায়, ‘‘ধরা যাক, অভিনয়ের কোর্সে নাম লেখালাম। তখন তো আমাকে এই পেশা বন্ধ করতে হবে। তার পর যদি দেখি ঠিকঠাক অভিনয় করতে পারছি না তখন কী হবে?’’ আর এক যৌনকর্মীর আশঙ্কা, ‘‘কোর্স করার পরেও যে সিনেমা সিরিয়ালে সুযোগ পাব- তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সিরিয়ালে-সিনেমায় মুখ দেখে পেশার কারণে পুরনো কেউ যদি চিনে ফেলে- প্রশ্ন তাদের। আরও একটি প্রশ্নও এই প্রসঙ্গে উঠছে। বাংলা ছবি ও সিরিয়াল পুরোটাই বেসরকারি উদ্যোগে হয়। এটি সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। ফলে, সরকার কী ভাবে এই ধরনের পুনর্বাসন প্রকল্প ঘোষণা করতে পারে? যৌনপল্লির যে মেয়েরা নিজেদের পেশা ছেড়ে অভিনয়ের জগতে পা রাখতে চাইবেন, তারা ঠিকমতো সুযোগ পাবেন কি? না পেলে তখন তারা কী করবেন? যৌনকর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘দুর্বার সমন্বয় সমিতি’র এক মুখপাত্র জানান, টেলিউড বা টলিউডে মানুষ ওদের কী ভাবে নেবেন, ব্রাত্য করে রাখবেন কি না, অপমানজনক কথা বলবেন কি না- এ সব নিয়েও মেয়েরা চিন্তিত। যদিও আমরা ওঁদের ভয় দূর করতে সোনাগাছি, খিদিরপুর, বৌবাজার, কালীঘাট, চেতলার যৌনপল্লির বাড়ি-বাড়ি গিয়ে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছি। তবু সংশয়ে রয়েছেন মেয়েরা। সমাজকল্যাণ দফতরের অন্তর্গত ‘উওম্যান ডেভেলপমেন্ট আন্ডারটেকিং’-এর চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য কোর্স-শেষে কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তার কথায়, প্রথম দিকে যাতে কাজ পেতে অসুবিধা না-হয়, তা নিশ্চিত করতে কোর্সের পরে একাধিক নামী পরিচালক দিয়ে অভিনয় ওয়ার্কশপ করানোর ব্যবস্থা হবে। সেই পর্ব মিটলে সরাসরি সিরিয়াল ও সিনেমায় মেয়েদের অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। লীনাদেবীর এই আশ্বাসেও আপাতত চিঁড়ে ভিজছে না। তাই সাবলম্বন স্পেশাল-এর আকর্ষণ বাড়াতে গ্ল্যামার দুনিয়ার হাতছানি সোনাগাছির নিশিজীবনে এখনও কোনও সাড়া ফেলতে পারেনি।

কুচবিহারে ইসলামী ধর্মসভায় পুলিশের গুলি ও লাঠিপেটা: আহত ২৫

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার তুফানগঞ্জে এক ইসলামী ধর্মসভায় মাইক বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে ৫ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছে। লাঠি এবং গুলি চালানোর ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র ক্ষোভ এবং উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।      আজ সোমবার ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান রেডিও তেহরানকে জানান, ‘তুফানগঞ্জে একটি মাদ্রাসার ধর্মীয় সভায় মাত্র দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশ থামাতে গিয়ে পুলিশ যেভাবে সরাসরি গুলি চালিয়ে ৫ জন নিরীহ মানুষকে আক্রান্ত করেছে, তা চরম নিন্দনীয়। একে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। এই সামান্য একটি ধর্মসভাকে বন্ধ করতে পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য ছিল। এ নিয়ে উদ্যোক্তা বা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাই যথেষ্ট ছিল। পুলিশ চরমভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করেছে।’   মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশের এ ধরণের মনোভাবে গোটা রাজ্যে শান্তি নিয়ে আসার পরিবর্তে অশান্ত করে তুলতে সহায়ক হবে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার এবং তুফানগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সরিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দাবি করছি। যারা এ ঘটনায় আহত হয়েছে তাদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণ দিতে সরকার অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।’   আজ সোমবার  কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদপত্র সূত্রে প্রকাশ, শনিবার রাতে তুফানগঞ্জের দেওচড়াই সংলগ্ন সন্তোষপুর ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার ময়দানে একটি ধর্মীয় সভা চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ রাত ১২ টা নাগাদ ঘটনাস্থলে এসে মাইক বন্ধ করতে বলে। সে সময় পুলিশের সঙ্গে থাকা এক সিভিক ভলান্টিয়ার (সিভিক পুলিশ নামে পরিচিত) মদ্যপ অবস্থায় মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে উপস্থিত মানুষজনের সঙ্গে এ নিয়ে বচসা বাধে।   এ ঘটনার কিছুক্ষণ বাদেই তুফানগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিম অধিকারীর নেতৃত্বে ‘র্যাফ’ বাহিনী পৌঁছে সভায় উপস্থিত থাকা মানুষজনের উপর নির্বিচারে লাঠি চালায় এবং ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। এ সময় মানুষজন প্রাণের ভয়ে পালাতে থাকলে পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ।   তুফানগঞ্জ দেউচড়াই তৃণমূল ব্লক প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম পুলিশের হামলাকে বর্বরোচিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। কোনোরকম প্ররোচনা ছাড়াই এ ধরণের হামলাকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।   ধর্মীয় সভার উদ্যোক্তারা জানান, ‘গত প্রায় তিন দশক ধরে এই অনুষ্ঠান চলে আসলেও কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে আপত্তি আসায় মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে লাঠি চালাতে শুরু করে। তাদের লাঠির আঘাত থেকে পুরুষ, মহিলা এমনকি বয়স্করাও রেহাই  পায়নি। এ সময় পালাতে গিয়ে পড়ে গিয়ে অনেকে আহত হন। যদিও তার মধ্যেই মাটি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় পুলিশ।’     সভার অন্যতম কর্মকর্তা আজিজার রহমান জানান, ‘পুলিশ ওই রাতে বেসামাল অবস্থায় এসে উত্তেজিতভাবে মাইক বন্ধ করতে বলে। তারপরেই পুলিশ লাঠি চালায় এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে পাঁচজন গ্রামবাসী আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ আমিনুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আতঙ্কে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। তখনই পুলিশ গুলি চালায়। আধঘণ্টা রাস্তায় পড়ে থাকার পর গ্রামবাসীরা হাসপাতালে ভর্তি করে।’   স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ আলী বলেন, ‘পুলিশ এসেই মাইক বন্ধ না করে দিলে এতবড় ঘটনা ঘটত না। বচসা শুরু হতেই পুলিশ আচমকা অন্যায়ভাবে লাঠি এবং গুলি চালায়।’   প্রশ্ন উঠেছে, লাঠি চালানোর পরে পালাতে থাকা মানুষদের উপর গুলি চালানো হল কেন? কেনই বা রাবার বুলেট বা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়নি? শূন্যে গুলি না ছুঁড়ে দুই হাজার মানুষের ভিড়ে এভাবে গুলি চালানো হল কেন?     পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য সাফাই দিয়ে দাবি করা হয়েছে, ওইদিন রাত ১২ টার পরেও জোরে মাইক বাজানোর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ মাইক বন্ধ করতে গেলে কোনো কাজ হয়নি। তাদের কার্যত ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়। তাদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিম অধিকারী কমব্যাট ফোর্স নিয়ে সেখানে গেলে পুলিশের উদ্দেশ্যে ইট ছোঁড়ে এবং এক জওয়ানকে মারধর করা হয়। আত্মরক্ষা করতে পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।   কুচবিহারের জেলা প্রশাসক পি উলগানাথন গ্রামবাসী মনিরুল  ইসলাম, আব্দুল মান্নান এবং আমিনূর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে স্বীকার করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে মুখ খোলা হয়নি। আহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।   এদিকে, পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনায় বিড়ম্বনায় পড়েছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’ সূত্রের বরাতে প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গুলিচালানোর ঘটনার কারণ খুঁজতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার জেরে এরইমধ্যে তুফান গঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিম অধিকারীকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করার পাশাপাশি তাকে ‘ক্লোজ করা হয়েছে।   কুচবিহার জেলার তৃণমূল প্রেসিডেন্ট এবং বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ পুলিশের ভূমিকায় খুশি নন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ বিষয়টি এড়াতে পারত। গুলি চালিয়ে পুলিশ ঠিক করেনি। পুরো ঘটনা মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।’

বিষ মেশানো চা স্বামীর জন্য! খেয়ে মরল ৪ বছরের মেয়ে

বিষ মেশানো চা। তৈরি করা হয়েছিল বাবার জন্য। কিন্তু তিনি তাতে চুমুক দেওয়ার আগেই মুখে দেয় দুই মেয়ে। চার বছরের একটি মেয়ে মারা গিয়েছে। তার ১২ বছরের দিদি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এখান থেকে ২৫ কিমি দূরে গোবিন্দ সর্দার পাড়ার ঘটনায় কাঠগড়ায় তাদের মা। পুলিস সুপার (পুলিশ কন্ট্রোল) উত্তম ভৌমিক জানিয়েছেন, সম্ভবত দ্বিতীয় স্বামী গৌতম দেববর্মাকে মেরে ফেলতেই তাকে বিষ মেশানো চা দেন সীতা রানি দেববর্মা নামে ২৯ বছরের মহিলা। কিন্তু তা খেয়ে ফেলে চার বছরের মেয়ে শ্রিয়া, তার দিদি মেরি। অসুস্থ হয় দুজনেই। শ্রিয়া মারা যায় হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পথে। রহস্য উদ্ধারে সীতা রানিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

বাংলাদেশে গরু পাচারের বিরুদ্ধে মেঘালয়ে কসাই ধর্মঘট

বাংলাদেশে গরু পাচারের প্রতিবাদে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের কয়েকশো কসাই এখন হরতাল করছেন। কসাইদের সংগঠন অভিযোগ করছে, বাংলাদেশে গরু পাচার বেড়ে যাওয়ায় তাদের অত্যধিক দাম দিয়ে গরু কিনতে হচ্ছে। রাজ্য পুলিশ আর বিএসএফও স্বীকার করছে যে সম্প্রতি পাচারের পরিমান বেড়ে অনেকটাই বেড়ে গেছে। বিএসএফ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার প্রায় বন্ধ করে দেওয়ার পরে মেঘালয়ের নতুন রুটে গরু পাচার করছে চোরাচালানকারীরা। রাজধানী শিলং সহ মেঘালয়ের প্রায় দেড়শো কসাই এই সপ্তাহ থেকে তাদের দোকানে গরুর মাংস বিক্রী বন্ধ করে দিয়েছেন। বাংলাদেশে গরু পাচার বন্ধের দাবিতে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে তাদের এই হরতাল। রাজ্যের কসাইদের সংগঠন, খাসি-জয়ন্তিয়া বুচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করছে বছর খানেক ধরে তাদের অত্যধিক বেশি দামে গরু কিনতে হচ্ছে। মেঘালয়ে মূলত গরু আনা হয় আসামের রাজধানী গৌহাটির কাছে খানাপাড়া গরু বাজার থেকে। সেখানকার ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন, কারণ বাংলাদেশে চোরাচালানের জন্য পাচারকারীরা অনেক বেশি দামে গরু কিনে নিচ্ছে আর স্থানীয় কসাইদের কাছ থেকেও একই দাম নিচ্ছে গরু বাজারের ব্যবসায়ীরা। কসাইদের সংগঠনের মুখপাত্র ওয়াংকেরলাং লামারে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “গত একবছর ধরে বাংলাদেশে গরু পাচার খুব বেড়ে গেছে – তার জন্য গরুর দামও খুব বেশি হয়ে গেছে। দামের দিক দিয়ে পাচারকারীদের সঙ্গে আমরা পেরে উঠছি না। সরকারকে বার বার জানানো সত্ত্বেও কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না তারা। বাধ্য হয়েই আমাদের গরুর মাংস বিক্রী বন্ধ করে হরতালের পথে যেতে হয়েছে।” মেঘালয়ের প্রায় ৭০% মানুষ ক্রীশ্চান এবং এখানে গরু আর শুয়োরের মাংস খাওয়ার চল খুবই বেশি। রাজ্যের কসাইরা বলছেন, আগে আসাম-মেঘালয়ের সীমান্ত এলাকা খানাপাড়ার যে বাজার থেকে গরু কিনতেন তারা, সেখানে এক জোড়া গরুর দাম ছিল গড়ে চল্লিশ হাজার রুপি, কিন্তু এখন সেটাই কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫৭ থেকে ৫৮ হাজার রুপি। “এর ওপরে পরিবহন মালিকরাও পাচারকারীদের কাছ থেকে যে বাড়তি টাকা নিচ্ছেন, সেই একই ভাড়া চাওয়া হচ্ছে স্থানীয় কসাইদের কাছ থেকেও,” বলছিলেন মি. লেমারে। বিএসএফের মেঘালয় সীমান্ত অঞ্চলের আধিকারিকরা বলছেন গরু পাচারের যে পুরনো রুট ছিল দক্ষিণ বঙ্গ সীমান্তে সেখানে খুবই কড়াকড়ি করা হচ্ছে সম্প্রতি। ওই পথে গরু পাচার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তাই পাচারকারীরা বছরখানেক ধরে মেঘালয় বা আসামের ধুবড়ির রুট দিয়ে চালান পাঠাচ্ছে বাংলাদেশে। এই রুটগুলো একেবারে নতুন না, বহু আগে এই রুটে গরু পাচার হতো। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গ বন্ধ হওয়ার পরে আবার সেই পুরণো রুট চালু করেছে পাচারকারীরা। এক বছরে কতটা বেড়েছে বাংলাদেশে গরু পাচার? মি. ওয়াংকেরলাং লামারে বলছিলেন কথায়, “একবছর আগে হয়তো দিনে এক বা দুই ট্রাক গরু বাংলাদেশে পাচার হত। তবে এখন সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে ১০ থেকে ২০ ট্রাক। একেকটা ট্রাকে গোটা কুড়ি গরু ধরে। এর থেকেই বোঝা যাবে যে এই সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার একবছরেই কতটা বেড়ে গেছে।” পুলিশ অতি সম্প্রতি কিছু গরু বোঝাই ট্রাক আর কয়েকজন পাচারকারীকে আটক করেছে। কিন্তু এই ব্যবস্থা যথেষ্ট না। বাংলাদেশে পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে – এটাই দাবি কসাইদের। মেঘালয় পুলিশের মহানির্দেশক রাজীব মেহতা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “সীমান্তের কাছাকাছি যাতে পাচারের উদ্দেশ্যে কেউ গরু না নিয়ে যেতে পারে, তার জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা আমরা নিতে শুরু করেছি। কোথায় কী উদ্দেশে গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহ হলেই আটক করা হচ্ছে।” তবে মি. মেহতা বলছিলেন যে গরু পরিবহনের ব্যাপারে একটা জটিলতা আছে, কারণ ভারতের অভ্যন্তরে গরু পরিবহন বেআইনী নয়। তাই একেবারে সীমান্তের কাছে গরুর চালান পৌঁছলে তবেই তা আটকানো সম্ভব। আবার সেটাও রাজ্য পুলিশ করতে পারে না, সেটার দায়িত্ব বিএসএফের। গরু পাচার বন্ধ করার জন্য রাজ্য পুলিশ কর্তারা বিএসএফের সঙ্গে কয়েকদিন আগেই আলোচনা করেছেন যে কীভাবে সীমান্তে পাচারের উদ্দেশে গরু নিয়ে যাওয়া ঠেকানো যায়।

শুরু হচ্ছে ৪০ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা

আজ, সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। এ বছর এই বইমেলা ৪০ তম বর্ষে পড়ল। সন্ধ্যায় মিলনমেলা প্রাঙ্গনে কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন করবেন বলিভিয়ার সাহিত্যিক ম্যাগেলা বাওদোইন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও এই বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তিনি শিলিগুড়ি থেকে ফিরতে না পারলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বইমেলার উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। এদিন বইমেলার উদ্বোধন হলেও পুরোদমে মেলা শুরু হবে আগামী বুধবার থেকে। চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ বছর  বইমেলার থিম বলিভিয়া। উদ্বোধনের দিন বিশেষ চমক হিসেবে থাকছে ফ্রান্সের সার্কাস। এছাড়া বইমেলায় সাহিত্যিক সভায় বাদল সরকারকে নিয়ে থাকছে বিশেষ অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয়বস্তুও স্থির হয়ে গিয়েছে, ‘সহিষ্ণু ভারতে অসহিষ্ণুতা’। এছাড়া এবারের বইমেলার বিশেষ আকর্ষণ আয়ান আলি বাঙ্গাস ও আমান আলি বাঙ্গাসের পারফরমেন্স। আসতে পারেন বিগ বি-ও। নোবেল জয়ী গুন্টার গ্রাস ও আর কে লক্ষ্মণকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করা হবে এই ৪০ তম কলকাতা বইমেলার মঞ্চে। এছাড়া ২ ফেব্রুয়ারি বইমেলাতেই বাংলাদেশ ডে পালন করা হবে। এবার ৪০ তম বইমেলার মঞ্চে বিশেষ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গত ৩৯ বছরের বিশেষ মুহূর্তগুলিও ফিরে দেখা যাবে। এই মুহুর্তগুলি তুলে ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছে হেরিটেজ ওয়াক। মেলার মাঝখানে থাকছে হেরিটেজ পথ। এই পথে রাখা থাকবে বইমেলার ঐতিহ্যময় ছবি।

বিয়ের গুজব ওড়ালেন প্রীতি

বলিপাড়ায় প্রীতির বিয়ে নিয়ে কানাকানি পড়েছিল৷ শোনা যাচ্ছিল, ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন তিনি৷  বয়ফ্রেন্ড জেনে গুডএনাফের সঙ্গে সাত পাঁকে বাঁধা পড়ার জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখন সব জল্পনায় জল ঢাললেন প্রীতি স্বয়ং৷ নেস ওয়াদিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নতুন সম্পর্ক নিয়ে বিশেষ মুখ খোলেননি প্রীতি৷ বলিপাড়াতেও গুজব থাকলেও, প্রীতি জানিয়েছিলেন, ভাল খবর সময় এলেই জানাবেন তিনি৷ বলিপাড়ায় রটেছিল, এতদিনে সে সময় এসেছে৷ গুজব আর গুজব নেই৷ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী তার বিয়ের পিঁড়িতে বসার খবর প্রায় পাকাই হতে চলেছিল৷ কিন্তু সে খবরে ইতি টানলেন প্রীতি৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়ে প্রীতি জানিয়ে দিলেন, বিয়ের পিঁড়িতে এখনই বসছেন না তিনি৷ এরকম গুজবে খানিকটা বিরক্ত প্রীতি বরং বললেন, তার বিয়ের সিদ্ধান্ত তার উপর ছেড়ে দেয়াই ভাল৷ আর যতদিন না তা হচ্ছে, ততোদিন তাকে যেন একা থাকতে দেয়া হয়৷ তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চায় যে তিনি যারপরনাই বিরক্ত, তা গোপন করেননি প্রীতি৷

চা দোকানির মৃত্যু: মামলা তদন্তে ডিবি

চুলার আগুনে দগ্ধ চা দোকানি বাবুল মাতুব্বরের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের জড়িত থাকার অভিযোগের মধ্যেই তার মেয়ের করা মামলাটি তদন্তের জন্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মো.মারুফ হোসেন সরদার গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শাহ আলী থানাধীন মিরপুরের গুদারা ঘাট এলাকায় চা বিক্রেতা বাবুল দোকানের চুলার আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান। বাবুলের পরিবারের অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে শাহ আলীর থানার পুলিশ বাবুলের দোকানের কেরোসিনের চুলায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেছিল। এতে কেরোসিন ছিটকে বাবুলের গায়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনার পর পুলিশ অগ্নিদগ্ধ বাবুলকে হাসপাতালের বদলে থানায় নিয়েছিল বলে অভিযোগ করে তার পরিবারের সদস্যরা। থানা থেকে পরে পরিবারের সদস্যরাই দগ্ধ বাবুলকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে থানা থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ নয়, সোর্স দেখে পালাতে গিয়ে বাবুল দগ্ধ হন। আর বাবুল নিজেও মাদক বিক্রেতা ছিলেন। তবে এ ঘটনা ঘটার চার ঘণ্টার মধ্যে বুধবার মধ্যরাতে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই স্থানীয় কয়েকজন ‘মাদক বিক্রেতাকে’ আসামি করে একটি মামলা নেয় শাহ আলী থানা, যাতে পুলিশের কোনো সদস্যকে আসামি করা হয়নি। রাত দেড়টার দিকে করা এ মামলার বাদী নিহত বাবুল মাতুব্বরের মেয়ে রোকসানা আকতার। এ মামলার পর পারুল নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করে দুইদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলাটিতে প্রথম তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া শাহআলী থানার এসআই মো. মোকতারুজ্জামান। তিনি বলেন, “পুলিশ মনে করছে, মাদক ব্যবসার আধিপত্যের জের ধরে বাবুল তার প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে মারা যান। এখানে পুলিশের কেউ জড়িত থাকলে মামলার এজাহারে তো নাম থাকতো।” তবে বাবুলের মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ঘটনার পর পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মামলা করতে তারা থানায় গেলেও ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা আড়াল করতেই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে এই মামলা করিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার এবং আরও পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে পুলিশের করা কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যাতে পুলিশ সদস্যদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা।

৩ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

 উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা এ বছর শুরু হচ্ছে এপ্রিল মাসের ৩ তারিখ থেকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষার এই সূচি প্রকাশ করেছে। গত কয়েক বছর ধরে এপ্রিলের প্রথম দিন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হলেও এবার ১ এপ্রিল পড়েছে শুক্রবার। এ কারণে ৩ এপ্রিল থেকে এ পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। সূচি অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল থেকে ৯ জুন হবে তত্ত্বীয় পরীক্ষা। আর ১১ থেকে ২০ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এসএসসির মতো এইচএসসিতেও এবার থেকে প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) অংশের পরীক্ষা হবে।

বিচারপতি শামসুদ্দিন আদালতকে বির্তকিত করছেন

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীকে উদ্দেশ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “বিচারবুদ্ধিহীন মন্তব্য করে আপিল বিভাগের সাবেক এই বিচারক উচ্চ আদালতকে বির্তকিত করছেন। তার কথা শুনলে মনে হবে কোনো কসাই কথা বলছে। একজন বোধ, বুদ্ধি, বিচার সম্পন্ন মানুষের কথা এটি নয়।” মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি খালেদা জিয়ার মুখপাত্র—বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর এ বক্তব্যের ব্যাপারে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।    প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার এক বছর পূর্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি এক বাণীতে বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, অবসরে যাওয়ার পর বিচারকদের রায় লেখাকে সংবিধান পরিপন্থি। - তার এ বক্তব্যে নানামুখি আলোচনার সূত্রপাত হয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রধান বিচারপতির ওই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেও বিএনপি নেতারা তাতে জোর সমর্থন দিয়ে বলে আসছেন, বিচারকের অবসরের পরে লেখা হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের রায়ও অবৈধ প্রমাণিত হয়েছে। এরমই মধ্যে বিচারপতি শামসুদ্দিন তার অবসরের পর লেখা রায় ও আদেশ জমা দিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে যান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা রায় লিখতে পারবে না- এই কথা বহু আগে খালেদা জিয়া বলেছিলেন। উনি (প্রধান বিচারপতি) খালেদা জিয়ার মুখপাত্র হয়ে বিএনপির এজেন্ডা চরিতার্থ করার জন্য এটা বলেছেন। উনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।” সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “এই দেশে বৃটিশ আমল থেকে উচ্চতর আদালত এতো বিতর্কিত ও অশ্রেদ্ধয় হয়ে পড়েনি আর কখনো। একে বিতর্কিত করেছেন শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও খায়রুল হকরা। আজ যখন তার নোংরা অপকর্মগুলো উদ্ভাসিত হচ্ছে, আজকে যখন মাননীয় প্রধান বিচারপতি আইনের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে কথা বলছেন, তখন তিনি সহ্য করতে পারছেন না। পারছেন না বলেই এসব কথা বলছেন।” তিনি বলেন, “বিচারপতি শামসুদ্দিনের মতো ব্যক্তিরা অসহায় মানুষের শেষ ভরসার স্থান আদালতকে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর কর্মসূচি বাস্তবায়নের কেন্দ্রে পরিণত করতে চান। সেটা সম্পূর্ণভাবে করতে পারছেন না, তাই খেদ থেকে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।” রিজভী বলেন, “প্রধান বিচারপতি যদি খালেদা জিয়ার মুখপাত্র হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি (বিচারপতি শামসুদ্দিন) কার মুখপাত্র ছিলেন? আপনি কার মুখপাত্র ছিলেন- এটা তো গোটা দেশবাসী জানে।”   সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, কাজী আবুল বাশার, বেলাল আহমে, রফিক শিকদার উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের ব্যবসায়ীদের সামাজিক ব্যবসার উৎসাহ দিলেন ড. ইউনূস

সামাজিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সামাজিক ব্যবসার উদ্যোগ নিতে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল সোমবার মুম্বাইয়ে দিনব্যাপী এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন ড. ইউনূস। ভারতের সামাজিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সামাজিক ব্যবসার প্রসার নিয়ে সম্মেলনে কথা বলেন তিনি। ইউনূস সেন্টারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।      টাটা, বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ, মাহিন্দ্রা, ইয়েস ব্যাংক, জেপি মর্গান, গুগলসহ ভারতের শীর্ষ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে ভারতে সামাজিক ব্যবসা প্রসারে কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বিষয়ে বক্তব্য দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল সামাজিক ব্যবসায় অর্থায়নের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক সমস্যা স্থায়ী সম্ভব।ভরতের যেসব ব্যবসায়ী সামাজিক ব্যবসার ধারণা নিয়ে কাজ করছেন তাঁদের উৎসাহ দেন ড. ইউনূস। ভারতের ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস এই সম্মেলনের আয়োজন করে। ভারতের সমাজকল্যাণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীবিষয়কমন্ত্রী পঙ্কজ মুণ্ডে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সামাজিক ব্যবসার প্রসার দেখতে বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন বলে ইউনূস সেন্টারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ভারতের কর্ণাটকের হুবালিতে ৬-৭ ফেব্রুয়ারি বার্ষিক ‘উন্নয়ন সংলাপ’ আয়োজন করে দেশপাণ্ডে ফাউন্ডেশন। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে যোগ দিতে ভারতে যান ড. ইউনূস। এই সম্মেলনে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেন।   এই সম্মেলনে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে মুম্বাইয়ে পৌঁছালে ড. ইউনূসকে অভ্যর্থনা জানান শিবসেনা নেতা ও মহারাষ্ট্রের রাজ্য অর্থ ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী দীপক বসন্ত কে সরকার।

তথ্য না দেয়ায় ওসিকে জরিমানা

 তথ্য অধিকার আইন অমান্য করে তথ্য না দেয়ায় জরিমানার সম্মুখীন হয়েছেন রাজধানীর ভাটারা থানার ওসি মো. নূরুল মোত্তাকিন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য কমিশন।   প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।   কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাইকোর্টের একটি নির্দেশ থানায় পৌঁছেছে কি না, তা জানতে আলাউদ্দিন আল মাছুম নামে এক ব্যক্তি ভাটারা থানার ওসি বরাবর আবেদন করেন। তবে ওসি তাকে তথ্য প্রদানে অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ করেন আল মাছুম।   অভিযোগ পেয়ে কমিশন ওসি নূরুল মোত্তাকিনকে শুনানিতে ডাকে। তবে তিনি শুনানিতেও অংশ নেননি কিংবা কোনো সময় আবেদনও করেননি।  পরে কমিশন তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে। পাশাপাশি ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও নির্দেশনা দেয়।   কমিশনের ওই শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কমিশনার গোলাম রহমান, কমিশনার নেপাল চন্দ্র সরকার ও অধ্যাপক খুরশীদা বেগম সাঈদ।   তবে কমিশনের আদেশের কোনো কপি হাতে পাননি দাবি করে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান পুলিশ কর্মকর্তা নূরুল মোত্তাকিন।

জার্মানিতে দুই ট্রেনের মুখোমুখি ধাক্কা, নিহত ৯

 মিউনিখের ৬০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অস্ট্রিয়ার সাথে সীমান্তের কাছে দুটো যাত্রী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। আহত হয়েছে একশরও বেশি যাত্রী, যাদের মধ্যে অনেকের জখম গুরুতর। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১৫ জনের গুরুতর। স্থানীয় একজন সাংবাদিক বিবিসিকে বলেছেন, নিহতদের সংখ্যা বাড়তে পারে। অনেকে এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে আছে। উদ্ধারকারীরা তাদের টেনে বের করার চেষ্টা করছে। অ্যাম্বুলেন্স এবং হেলিকপ্টার দিয়ে আহতদের হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় সময় সকাল সাতটার দিকে এই দুর্ঘটনার পর একটি ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায়। পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন বাভারিয়া প্রদেশে গত কয়েক বছরের মধ্যে মঙ্গলবারের এই দুর্ঘটনা সবচেয়ে মারাত্মক।

মোদির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই আমার ম্যান্ডেট

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে দু'দেশের সহযোগিতা আরো জোরদারে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন তার ম্যান্ডেট। বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ লক্ষ্যে কাজ করে যাবেন বলেও জানান তিনি। নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, '‘আমাদের মধ্যে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন, তিনি একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিবিদও।'’ তিনি বলেন, ‘'ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো উন্নয়নে তার দিকনির্দেশনা আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। আমি এ বিষয়ে আমার ম্যান্ডেট অনুযায়ী সবধরনের সমর্থন দিয়ে যাব।'’ বাংলাদেশে তার ম্যান্ডেট কী জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘'আমি ঢাকায় আসার সময় অনেক সাংবাদিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। তাদের আমি বলেছি- আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছরের জুনে বাংলাদেশ সফরকালে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়ন করা আমার ম্যান্ডেট।'’ দু'দেশের মধ্যে পানিসম্পদের বণ্টন নিয়ে কতটা আশাবাদি- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘'এই ধরনের ইস্যুগুলো আজকে আমি এড়িয়ে যাব। আগামী সপ্তাহে কিংবা তার পরে আমি এসব বিষয় নিয়ে আপনাদের সঙ্গে বসব।”

কিডনি সমস্যা মেটাতে আজ অস্ত্রোপচার মেসির

অনেকদিন ধরেই কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। যার ফলে ডিসেম্বরে ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও খেলতে পারেননি তিনি। তবে তেমন বড় কোনও বিষয় নয়। আজ মঙ্গলবার সেই সমস্যা মেটাতেই ছোট অস্ত্রোপচার হবে মেসির কিডনিতে। দু’দিনের মধ্যেই অনুশীলনে যোগ দিতে পারবেন তিনি। এদিনই চিকিৎসা শেষে বাড়িও ফিরে যাবেন মেসি। বৃহস্পতিবার অনুশীলনেও যোগ দেবেন। সোমবার অনুশীলনে যোগ দেননি মেসি। সোমবার নানা রকম পরীক্ষা হয়েছে তার। তার পরই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয় ডাক্তাররা। এই চিকিৎসার মাধ্যমে মেসির কিডনিতে যে স্টোন পাওয়া গিয়েছে সেটাকে গলিয়ে দেওয়া হবে। তবে ক্লাবের ওয়েব সাইটে জানানো হয়েছে এই দু’দিন ধরে বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে মেসিকে। বুধবারই ক্লাব অনুশীলনে যোগ দিতে পারেন তিনি। তবে এই অস্ত্রোপচারের জন্য কোপা ডেল রে-র সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে হয়ত খেলা হচ্ছে না মেসির। যদিও ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম লেগে ৭-০ গোলে জিতে এগিয়ে রয়েছে বার্সেলোনা। এমন অবস্থায় মেসি না থাকলেও ফাইনালের কথা মাথায় রেখে দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের বিশ্রাম দিতে পারেন কোচ লুই এনরিকে।

ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা

 ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তারের আদালতে এ মামলা করা হয়। মামলার বাদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল।   বাদীর জবানবন্দি গ্রহন করে ২০০৭ সালের ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের কপি আদালতে জমা দিতে বাদীকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   মামলার বাদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল জানান, এক এগার পরবর্তী দিনগুলোতে বিবাদী গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই’র তথ্য যাছাই না করে বিভ্রান্তিমূলক ও মানহানিকর খবর ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ছাত্রলীগের মানহানি হয়েছে। সম্প্রতি  একটি টিভি টকশো ও পত্রিকায় ভুল স্বীকার করেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনম। এতে ৫০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগ এনে এ মামলা করা হয়। বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাসেল মাহমুদ ভূইয়া মান্না জানান, বিচারক মামলার বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের কপি আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরে মামলাটি আদেশের জন্য রাখা হয়।

এমপি লতিফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করার অভিযোগে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এম এ লতিফের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা হয়েছে। সে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের বিচারিক হাকিম ফরিদ আলমের আদালতে এ মামলা ও অভিযোগ করা হয়। মামলাটি করেছেন যুবলীগের সাবেক নেতা সাইফুদ্দিন রবি। তিনি চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় অভিযোগটি এনেছেন। এ ছাড়া এম এ লতিফের বিরুদ্ধে আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ দায়ের করেছেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ কে এম বেলায়েত হোসেন। দুটি আবেদনই আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আদালত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল জানান, আদালত এখনো মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি। আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালতে আরো দুটি মামলা করেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা। সম্প্রতি চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে সাংসদ এম এ লতিফের পক্ষে লাগানো ব্যানার ও ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। এসব ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধুর ছবিতে যে পাজামা ও জুতা পরিহিত দেখা যায়, তা কখনোই বঙ্গবন্ধু পরেননি বলে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অনেক সাধারণ মানুষ।

আইনমন্ত্রী বাকরুদ্ধ, মর্মাহত

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্য, বিবৃতি ও কর্মকাণ্ডকে অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবিচারকসুলভ বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে একটি অনলাইনকে এ কথা বলে আইনমন্ত্রী। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে আমি মর্মাহত, বাকরুদ্ধ। তিনি (বিচারপতি শামসুদ্দিন) যা করছেন, তা বিচার বিভাগের জন্য অবমাননাকর।’’ বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য-বিবৃতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই বিচারপতির (শামসুদ্দিন চৌধুরীর) বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করে আমাদের আর বিব্রত করবেন না। আপনাকে একটি উদাহরণ দিচ্ছি- আজ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির একটি আলোচনা সভায় আমার অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। যখন শুনলাম তিনি (বিচারপতি শামসুদ্দিন) এই সংগঠনের উপদেষ্টা, তখন আমি আর এ সংগঠনটির অনুষ্ঠানে যোগদান করিনি।’’ বিচারপতি শামসুদ্দিনের মতো সুপ্রিম কোর্ট কিংবা প্রধান বিচারপতির প্রতি দেশের অন্য কোনো নাগরিক এ ধরনের আচরণ করলে তার ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়া হতো? এ প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিচার বিভাগ হচ্ছে দেশের সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। এর মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও সব নাগরিকের। বিচার বিভাগের অমার্যাদা হয়, এ ধরনের আচরণ ও কর্মকাণ্ড থেকে আমাদের সবারই বিরত থাকা উচিত।’’

জিকা আক্রান্তদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারের

 জিকা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, কোন রোগী চিহ্নিত হলে সমস্ত চিকিৎসা ব্যয় আমরাই দেব। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো, ফলোআপ করব। বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত বা চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই বলেও তিনি জানান। ‘জিকা ভাইরাস: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শিরোনামে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার সবরকম ব্যবস্থাই নিয়েছে।  এই ভাইরাস কোনভাবেই সংক্রমিত হতে পারবে না, আপনারা আশ্বস্ত থাকুন। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বাহক এডিস মশার মাধ্যমে রোগটির বিস্তার হয়। এই রোগটি প্রতিরোধে ইতোমধ্যে জরুরী অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গবেষকরা বলছেন, গর্ভবতী মা এই রোগে আক্রান্ত হলে তার অনাগত শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে, মস্তিষ্কের গঠনও অপূর্ণ হতে পারে।

Tuesday, February 9, 2016

২০১৬ বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ফুটবলার, ক্রিকেটার, দাবাড়ু!

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় দেখা যেতে পারে ক্রীড়া জগতের বেশ কয়েকটি নতুন মুখকে। প্রাক্তন ও বর্তমান ফুটবলার থেকে  ক্রিকেটার, দাবাড়ু অনেকেরই এবারের নাম থাকতে পারে প্রার্থী তালিকায়। যদিও প্রার্থী  হওয়ার ব্যাপারে কেউই মুখ খুলতে চাননি।   দুহাজার এগারোর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় পালাবদল। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নাম ছিল টালিগঞ্জের একঝাঁক চিত্র তারকার। এরপর দুহাজার চোদ্দর লোকসভা নির্বাচনেও বজায় ছিল সেই ট্রেন্ড। দুহাজার ষোলর বিধানসভা নির্বাচনে কি কিছুটা হলেও স্ট্যান্স বদলাচ্ছে শাসকদল? ঘটনাপ্রবাহ কিন্তু তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন ফুটবলার রহিম নবী, প্রাক্তন ফুটবলার গৌতম সরকার, বিদেশ বোস, ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লা এবং দাবাড়ু দিব্যেন্দু বড়ুয়া। তৃণমূল সূত্রের খবর, রহিম নবী প্রার্থী হতে পারেন পাণ্ডুয়া থেকে। লক্ষ্মীরতন শুক্লা প্রার্থী হতে পারেন বালি অথবা উত্তর হাওড়া আসনে। যাদবপুর থেকে প্রার্থী হতে পারেন দিব্যেন্দু বড়ুয়া। যদিও প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন সকলেই। কয়েকদিন আগেই নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন লক্ষ্মী রতন শুক্লা। তখন থেকেই তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। প্রাক্তন ফুটবলার গৌতম সরকার এবং বিদেশ বোস কোনো আসন পাবেন তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই খবর। তবে সারদাকাণ্ডে মদন মিত্র গ্রেফতার হওয়ার পর প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও দেখা গেছে গৌতম সরকারকে। তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি একরকম পাকা বলেই তৃণমূল সূত্রে খবর।  যদিও ভোট ময়দানে শেষ পর্যন্ত কারা কারা নামবেন তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত।

ফুডস্টল আছে, অথচ বাংলাদেশি বইয়ের গুরুত্ব নেই

 ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা' – নামে আন্তর্জাতিক তো বটে, কিন্তু তার চরিত্র কি আদৌ আন্তর্জাতিক? তা হলে বইয়ের বাইরেও কেন এত অবান্তর, অপ্রয়োজনীয় আয়োজন?   ময়দান থেকে কলকাতা বইমেলা যবে ইএম বাইপাসের ধারে পাকাপোক্ত মিলনমেলা প্রাঙ্গনে তার ঠিকানা বদলেছে, তবে থেকে মেলার আর আয়তনে বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ নেই, কিন্তু বইমেলা বাড়ছে বৈচিত্র্যে৷ বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও নানা পশরা জায়গা পাচ্ছে মেলায়, যার সঙ্গে অন্তত পঠন-পাঠনের কোনো সম্পর্ক নেই৷ অথবা আছে, মানে আক্ষরিক অর্থে, কিন্তু যার জন্যে এই বইমেলার আয়োজন, সেই সাহিত্যের বাড়বাড়ন্তের সম্ভাবনা নেই৷ যেমন ধরা যাক, একাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজকাল কলকাতা বইমেলায় স্টল দেয়, যার মূল উদ্দেশ্য নতুন শিক্ষার্থীর সন্ধান করা৷ বলা বাহুল্য যে, এ সব শিক্ষা রীতিমত খরচসাপেক্ষ এবং শিক্ষাদানের গোটা প্রক্রিয়াটিই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে৷ অর্থাৎ এটি একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ, বইমেলায় যার উপস্থিতির অর্থই হলো সেই ব্যবসা বাড়ানো৷ শিক্ষার প্রসার সেখানে উপলক্ষ্য মাত্র৷   তাও যদি ধরে নেওয়া যায়, উচ্চশিক্ষা পরোক্ষে বই পড়ার অভ্যাসকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, সোনার গহনা কীভাবে বইমেলায় জায়গা পায়! অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি, এবারের কলকাতা বইমেলায় একটি নামি প্রতিষ্ঠানের গহনার দোকান রয়েছে৷ এর পাশাপাশি রয়েছে আচার-হজমির দোকান, ঘর সাজাবার উপকরণের দোকান এবং অসংখ্য খাবারের দোকান৷ বইমেলা মিলন মেলায় সরে আসার পর প্রথমদিকে খাওয়া-দাওয়া সীমাবদ্ধ ছিল কেবল ফুড কোর্ট চত্বরের মধ্যে৷ কিন্তু এ বছর অগুন্তি খাবারের দোকান গুঁজে দেওয়া হয়েছে বইয়ের দোকানগুলোর মধ্যে৷ এবং সেগুলো যাঁরা চালাচ্ছেন, তাদের সম্ভবত কোনো ধারণাই নেই যে এটা আসলে বইয়ের মেলা৷ প্রায় হাত ধরে টেনে তারা সবাইকে দাঁড় করিয়ে দিতে চান খাবারের স্টলের সামনে৷ ঠিক যেভাবে বিভিন্ন বিনোদনমূলক টিভি চ্যানেলের স্টলে প্রায় প্রতিযোগিতা চলছে নিজেদের দিকে বেশি লোক টানার৷ উচ্চগ্রামে লাউডস্পিকার বাজিয়ে তারা নানারকম অনুষ্ঠান করে যাচ্ছে দিনভর, যার সঙ্গে, বলাই বাহুল্য, সাহিত্যের কোনো সম্পর্ক নেই৷   অথচ সাহিত্যের প্রসারে কি যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে? মঙ্গলবার কলকাতা বইমেলায় পালিত হলো ‘বাংলাদেশ দিবস'৷ এই উপলক্ষ্যে এক আলোচনাসভায় বাংলাদেশের জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের মাজহারুল ইসলাম৷ তিনি রীতিমত খেদ প্রকাশ করলেন যে প্রতিবেশী দেশ, বাংলাভাষী দেশ, তাও কলকাতা বইমেলায় প্রাপ্য গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশকে, তার সাহিত্যকে৷বাংলাদেশের কবি-লেখকদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচিতি নেই এপারের বাঙালি পাঠকদের৷ তার কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ে না কলকাতা বইমেলার উদ্যোক্তাদের তরফে৷ উল্টো বাংলাদেশের বই বেআইনিভাবে প্রকাশ ও বিক্রি করেন কলকাতার কিছু অসাধু প্রকাশক৷ অথচ তা আটকাবার কোনো প্রচেষ্টা নেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের৷ পশ্চিমবঙ্গ প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা সমিতির পক্ষে সভাপতি ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেন, বই জালিয়াতির একই ঘটনা ঘটে বাংলাদেশেও৷ বরং কলকাতা, তথা পশ্চিমবঙ্গেই বাংলাদেশের বই স্থানীয় প্রকাশকরা আইন মেনে, নিজেদের নামে, নিজেদের আইনি দায়িত্বে প্রকাশ করেন৷ কিন্তু বাংলাদেশে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নকল করা হয় একেকটি বই৷   এই তর্কের হয়ত একদিন নিষ্পত্তি হবে, কিন্তু সেই তর্কে জেতার থেকেও বড় কথা, বাংলাভাষী দুই অঞ্চলের মধ্যে যে বিশ্বাসহীনতা, তা প্রকট হচ্ছে এই বিতর্কে, যা বাংলা সাহিত্যের পক্ষেই ক্ষতিকর৷ পাশাপাশি বইয়ের থেকেও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে যে হুজুগ, তাই বা বাঙালির কতটা উপকার করবে! কলকাতা বইমেলা আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে নথিভুক্ত হতে পারে, কিন্তু তা আদৌ বাংলা সাহিত্যের উত্তরণে, প্রসারে কোনো সাহায্য করছে কিনা, সে প্রশ্নও থেকেই যাবে!