Friday, November 29, 2019
ভেতরের দানবগুলোকে চিনিয়েছেন মির্জা ওয়াহিদ by তাহা কেহার
![]() |
| মির্জা ওয়াহিদ, ছবি: হোয়াইট স্টার |
ডা. কে একজন অবসরপ্রাপ্ত সফল চিকিৎসক, বাস করেন লন্ডনে টেমস নদীর তীরে একটি আরামদায়ক ফ্লাটে। যদিও তিনি তার উচ্চাভিলাষ পূরণ করেছেন, সাফল্য লাভ করেছেন, কিন্তু তবুও শেষ বয়সে তিনি শান্তি পাচ্ছিলেন না। ঝামেলাপূর্ণ অতীতের স্মৃতি আর তার বিচ্ছেদের শিকার মেয়ে সারার সাথে তার অস্বস্তিকর সম্পর্ক তাকে তাড়িয়েই বেড়াতে থাকে। মুক্তির সন্ধান ও ভুল সংশোধনের অস্পষ্ট আশায় তিনি তার কৃতকর্মের নাটকীয় স্বগোক্তি করেছেন। এই স্বাগোক্তিই তাকে সারার সাথে ভবিষ্যতের সংলাপের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দেয়। তিনি তার মেয়েকে জানাতে চান, তার মায়ের মৃত্যুর পর কেন তিনি তাকে আমেরিকার বোর্ডিং স্কুলে পাঠিয়েছিলেন।
ডা. কে স্বীকার করেন যে তার কৃতকর্ম ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা জটিল হলেও তিনি এখনো তার জীবনের সত্যিকারের বক্তব্যটি তুলে ধরতে চান, যাতে তার মেয়ে তার সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারে। তিনি মনে মনে বলেন, নিজের সন্তানের সামনে তার মাথা নত করতে তার কোনোই লজ্জা নেই।
কোনো রৈখিক ভাষ্য ছাড়াই টেল হার এভরিথিং পাঠককে ডা. কের জীবনের প্রধান প্রধান ঘটনায় নিয়ে যায়। যেমন ভারতের সাহারানপুরের ছোট্ট শহরে এক গরিব বাবার সন্তান হিসেবে তার বেড়ে ওঠা। তিনি জানাচ্ছেন, মহাজন এসে তাদের দরজায় নক করতো। তিনি আতিয়াকে বিয়ে করেছিলেন। এই মৌনভাষী নারী ডা. কের জন্য নিজের শিক্ষা ক্যারিয়ার কোরবানি করেছিলেন।
ডা. কে প্রায়ই তার মৃত স্ত্রীর স্মৃতি সামনে নিয়ে এসেছেন তার মেয়ের সাথে একটি তাৎক্ষণিক সংযোগ সৃষ্টির জন্য। এমনকি নিজের অতীতের সমস্যাপূর্ণ ঘটনাগুলো বলার আগেও আতিয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন।
তিনি ও তার স্ত্রীর লন্ডনে অভিবাসনের প্রথম দিকের কাহিনীও বলেছেন। তিনি জানাচ্ছেন, তুমি সবসময় মনে করতে চাও না যে তুমি অভিবাসী। কিন্তু তোমার আশপাশের সবকিছুই তোমাকে তা মনে করিয়ে দেবে।
তাকে যে পশ্চিম এশিয়ার একটি দেশের হাসপাতালে চাকরি নিতে হয়েছিল, সে কথাও তিনি বলেছেন। এর ফলে তাকে দীর্ঘ সময় স্ত্রী ও সন্তানের কাছ থেকে দূরে থাকতে হতো। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব টাকা উপার্জন করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো। তার টাকার পেছনে ছুটে চলার তীব্র সমালোচনা করেছেন তার বন্ধু বিজু। এই লোকটি টাকার ব্যাপারে ছিল বেপরোয়া।
সময়ের পরিক্রমায় ডা. কে দেশটির বিচারব্যবস্থায় সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। তাকে ‘পানিশমেন্ট সার্জেন্ট’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। দেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির অঙ্গহানির কাজে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে হতো তাকে। এই কাজটি করতে গিয়ে তিনি মানসিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। নৃশংস কাজে জড়িত হওয়াটা তার ঠিক হচ্ছে কিনা তা নিয়ে তার মধ্যে প্রশ্নের জন্ম হয়।
তবে তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর অপরাধবোধ তাকে আচ্ছন্ন করে। তিনি কর্তৃব্য পালন করে যাবেন না প্রিয়জনকে রক্ষা করবেন, তা নিয়ে তার মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
তার একটির পর একটি ঘটনার উল্লেখ্যে এই চিকিৎসকের নানা দিক ভেসে ওঠে। তিনি তার উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, হতাশা- সবকিছুই পাঠকের সামনে উপস্থাপন করতে থাকেন।
সবচেয়ে বড় কথা, লেখার এই পদ্ধতিই উপন্যাসটিকে আরো বাস্তবসম্মত ও মর্মভেদী করে তুলেছে। উচ্চাশা চরিতার্থ করতে গিয়ে আমাদের কত মূল্য দিতে হয়, ওয়াহিদ দারুণভাবে তা খতিয়ে দেখেছেন। তিনি অসহ্যকর অপরাধবোধ সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছেন।
আবার উপন্যাসটি যে কাহিনীকে সামনে রেখে এগিয়েছে তথা চিকিৎসকের তার মেয়ের সাথে সাক্ষাত, সেটা কিন্তু বাস্তবে ঘটেইনি। অথচ মেয়ের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা নিয়েও তিনি কল্পিত সংলাপ দিয়েছেন। এতেই বইটি আরো ভালো হয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চলনবিলে সৌদি খেজুর চাষ by সঞ্জিত সাহা কিংশুক

মঙ্গলবার সরজমিন আবদুল জলিলের বাড়িতে গেলে তিনি এই প্রতিবেদকে জানান, ২০১২ সালে শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসরে যাওয়ার পর সৌদি আরবের মক্কা-মদিনায় পবিত্র হজ পালন করতে যান। সেখানে তিনি বেশ কিছু খেজুরের বাগান ঘুরে বেড়ান। এ সময় তার প্রবল ইচ্ছা হয় তিনিও গ্রামের বাড়িতে সৌদি খেজুরের বাগান করবেন। পরে সেখান থেকে মরিয়ম জাতের বেশ কিছু বীজ সংগ্রহ করেন এবং হজ শেষে দেশে ফিরে আসেন। বড় পরিসরে চিন্তা করার আগে তিনি বাড়ির সামনের আঙিনায় বীজ থেকে উৎপাদিত ৩৪টি চারা লাগান। কিন্তু সব গাছের চারা মারা যায়। তবে এতে দমে যাননি আবদুল জলিল। ২০১৩ সালে প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে দিয়ে আবারো সামান্য কিছু মরিয়ম জাতের বীজ এনে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১৬টি গাছ বেঁচে থাকে। গত ছয় বছর ধরে নিজেই পরিচর্যা করে গেছেন। আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে গাছগুলো। গাছগুলোতে এবার খেজুর ধরেছে এবং এসেছে খেজুরের বাদা। তাই এবার কৃষি জমিতে বড় পরিসরে বাগান করার চিন্তা করছেন তিনি। এ পর্যন্ত বীজ, সার-কীটনাশকসহ সব কিছু মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা। খেজুর চাষে সফলতার মুখ দেখায় এবার তিনি পুরো চলনবিলজুড়ে খেজুর চাষ ছড়িয়ে দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন। ইতিমধ্যে তার মালিকানাধীন বেশ কিছু জমিতে খেজুর চাষের জন্য প্রস্তুত করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান রশীদ হোসাইনী বলেন, চলনবিল এলাকায় এই প্রথম কোনো ব্যক্তি সৌদি খেজুর চাষ করছেন। ইতিমধ্যে গাছগুলোতে ফল আসতে শুরু করেছে। যা সত্যিই বিস্ময়কর। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সব রকমের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি সফল হতে পারলে চলনবিল এলাকায় সৌদি খেজুর চাষ বিস্তার লাভ করবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে কীভাবে হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটেছিল
![]() |
| ১৯৯০ সালের রথযাত্রায় এল কে আদভানি |
এটি ছিল যাকে বলা হয় এক পরিকল্পিত 'রাজনৈতিক নাটক' - যার লক্ষ্য ছিল ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগণের মনে বিজেপির রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করা।
এই রথযাত্রার পরিকল্পনা করা হয়েছিল জঙ্গী হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির এক প্রচারমূলক মিছিল হিসেবে। এর সংগঠক ছিলেন বিজেপির নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানি। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এটা চলবে কয়েক সপ্তাহ জুড়ে এবং ভারতের বিভিন্ন জায়গা হয়ে মোট ৮ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের পবিত্র শহর অযোধ্যা পর্যন্ত যাবে।
এই রথ যাত্রার মূল দাবি ছিল অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে জনমত সংগঠিত করা। অযোধ্যা শহরের যে জায়গায় এই রামমন্দির নির্মাণের কথা বলা হয়, সেখানেই দেবতা রামচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে হিন্দুরা বিশ্বাস করে। কিন্তু সেখানে মোগল সম্রাট বাবর ষোড়শ শতাব্দীতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন - যার নাম বাবরি মসজিদ এবং এ কারণে জায়গাটি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের কাছেও পবিত্র।
পরিকল্পনা করা হয়, রথযাত্রা অযোধ্যায় পৌঁছানোর পর মি. আদভানি সেই বিতর্কিত স্থানটিতে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
সে সময় সাংবাদিক হিসেবে সেই রথযাত্রা প্রত্যক্ষ করেছিলেন আর কে সুধামন। ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তার পর থেকে কিভাবে বিজেপির উত্থান হয়েছে তাও দেখেছেন তিনি। তিনি কথা বলেছেন বিবিসির ফারহানা হায়দারের সাথে।
মি. সুধামন তখন কাজ করতেন সংবাদ সংস্থা পিটিআইতে। পিটিআই সেই ১৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রথযাত্রা কভার করতে পাঠিয়েছিল তাকে, এবং গুজরাটের সোমনাথ শহর থেকে যখন এই মিছিল শুরু হয়, সেদিন থেকেই সেই রখযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে ভ্রমণ করেছিলেন তিনি।
"বিজেপির তখন এমন একটা রাজনৈতিক আইডিয়ার দরকার ছিল যাতে দলটি টিকে থাকতে এবং বিকশিত হতে পারে। অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের এই কর্মসূচি শুরু করা ছিল মি. আদভানির দিক থেকে এক মাস্টারস্ট্রোক। এর লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় যাবার জন্য ভারতের হিন্দু ভোটকে নিজেদের দিকে টেনে আনা" - বলছিলেন মি. সুধামন।
রথযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন মি. আদভানি তিনি বসেছিলেন একটি ট্রাকে যাকে সাজানো হয়েছিল প্রভু রামচন্দ্রের রথের আকার দিয়ে।
![]() |
| বিজেপি রামমন্দির ইস্যুতে ধর্মকে ব্যবহার করেই ক্ষমতাসীন হবার পথ তৈরি করে |
প্রশ্ন করা হলে মি. সুধামন বলেন, "হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। এটাই ছিল তাদের রাজনীতির প্রধান অবলম্বন।"
"মি. আদভানির ট্রাকটি বানানো হয়েছিল একটি রথের মতো করে। এর মধ্যে ছিল সবরকম সুযোগ সুবিধা। ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি কক্ষ - যাতে মি. আদভানি জনসভার ফাঁকে ফাঁকে বিশ্রাম নিতে পারতেন।"
"রথের সামনের দিকটা ছিল খোলা, যেখানে এসে মি. আদভানি জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারতেন।"
"একটা প্রাচীন যুগের রথের আকৃতিতে বানানো টয়োটা ট্রাকটি দেখতে হয়েছিল বেশ অন্যরকম। এটা সাজানো হয়েছিল রামের ছবি এবং গেরুয়া রঙ দিয়ে - যা বিজেপির রঙ। ফলে ট্রাকটার একটা পৌরাণিক চেহারা ছিল, তবে ভেতরে ছিল সব আধুনিক সুযোগ সুবিধা।"
১৯৯০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর এই রথযাত্রা শুরু হয়েছিল। যাত্রা শুরুর আগে মন্দিরে পূজো দেন এল কে আদভানি।
আদভানির সাথে এই রথযাত্রায় ছিলেন বিজেপির বেশ কয়েকজন সদস্য - যার মধ্যে ছিলেন উদীয়মান তারকা এবং মি. আদভানির অনুসারী নরেন্দ্র মোদী।
সারা দিন ধরে সেই রথের পেছনে পেছনে চলতো মি. সুধামন সহ একদল সাংবাদিককে বহনকারী যানের বহর।
"যখনই আমরা কোন শহরে পৌঁছাতাম, রথের গতি হয়ে যেতো খুবই ধীর। চারপাশে লোকের ভিড় জমতো, তারা রথের সাথে সাথে হাঁটতে থাকতো। রখটা মাঝে মাঝে বিভিন্ন জায়গায় থামতো, এবং মি. আদভানি বক্তৃতা দিতেন।"
"মি. আদভানির বক্তৃতা ছিল মূলত রামমন্দির এবং কেন এই মন্দির বানাতে হবে - তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে।"
বিজেপির হিন্দু নেতারা বলতেন, ভারতে তাদের ভাষায় ধর্মনিরপেক্ষতার নামে খুব বেশি মাত্রায় আপোষ করা হয়েছে। তারা বলতেন, এখন সময় এসেছে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কথা বলার ।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ বিজেপি অস্বীকার করতো, কিন্তু তাদের জনসভাগুলো থেকে লোকেরা ঠিক এই বার্তাটি নিয়েই ঘরে ফিরতো।
কেমন সাড়া ফেলেছিল এই রথযাত্রা?
মি. সুধামন বলেন, এটা আসলেই বিপুল সাড়া ফেলেছিল। এতে জনসমাগমও হয়েছিল ব্যাপক।
"এই প্রতিক্রিয়া ছিল স্বাভাবিক, এতে সাজানো কিছু ছিল না। আমি কিছু মহিলাকে দেখেছি, তারা হাতের বালা খুলে আদভানির পায়ের কাছে রেখে বলেছিল, এ থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে তা রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ব্যবহার করতে।"
![]() |
| বিজেপির বিরুদ্ধে মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ উঠলেও দলটি তা অস্বীকার করে |
এত লোকসমাগম দেখে কি তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন? মি. সুধামনকে এ কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন "হ্যাঁ, এটা সত্যি অপ্রত্যাশিত ছিল, এতে কোন সন্দেহ নেই। এর আগে একমাত্র ইন্দিরা গান্ধী বা রাজীব গান্ধীর মতো নেতাদের পক্ষেই এরকম জনসমাগম ঘটানো সম্ভব ছিল।"
প্রতিদিন ১২ ঘন্টা ধরে উত্তর ও মধ্য ভারতের মধ্যে দিয়ে পথ পরিভ্রমণ করে এই রথযাত্রা। এই অঞ্চলটিকে বর্ণনা করা হয় ভারতের 'হিন্দু হার্টল্যান্ড' হিসেবে। এ অঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলোর হাজার হাজার লোক মি. আদভানির বক্তৃতা শুনতে রথযাত্রার পথে জড়ো হয়।
মনে করা হয়, অযোধ্যায় প্রবলভাবে বিতর্কিত রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পথে এই যাত্রা ভারতের আন্ত:ধর্মীয় উত্তেজনাকে উস্কে দিচ্ছিল।
"ভারতের মধ্যঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছিল। আদভানির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণে তিনি যখন বিহারের সমস্তিপুর পৌঁছালেন, তখন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তাকে গ্রেফতার করলেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য ছিল, মি. আদভানিকে গ্রেফতার করা ছাড়া তাদের সামনে কোন উপায় ছিল না। কারণ তার এই যাত্রা সহিংসতা উস্কে দেবে এ আশংকা আগে থেকেই ছিল, কারণ একটি ধর্মীয় বিষয়কে এখানে রাজনৈতিক রূপ দেয়া হচ্ছিল এবং দক্ষিণপন্থী হিন্দু মৌলবাদী বিজেপির এই নেতা সে কাজটিই করছিলেন।
রামমন্দির নির্মাণ আন্দোলনের নেতা মি. আদভানি ও তার হাজার হাজার সমর্থককে গ্রেফতার করা হলো। এর ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভি পি সিংএর কোয়ালিশন সরকারের প্রতি সমর্থন তুলে নেয় বিজেপি।
![]() |
| বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণের দাবি ভারতের রাজনীতিতে চরম সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে |
এর ফলে পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯১ সালেই অনুষ্ঠিত হলো লোকসভা নির্বাচন, এবং তাতে বিজেপির আসনসংখ্যা অনেক বেড়ে গেল।
সাংবাদিক আর কে সুধামন মনে করেন, বিজেপি হয়তো আরো বেশি আসনে জিততো যদি কংগ্রেস নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় নিহত না হতেন।
"যদি রাজীব গান্ধী নিহত না হতেন তাহলে বিজেপি হয়তো আরো বেশি আসনে জিততো। কারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দুই পর্বে। আর তাতে প্রধান ইস্যুই ছিল রাম মন্দির নির্মাণ।"
"উত্তর ভারতে জনমত জরিপে বিজেপিই এগিয়ে ছিল। কিন্তু যেহেতু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দুই পর্বে - তাই প্রথম পর্বে যে আসনগুলোতে ভোটগ্রহণ হয়েছিল সেগুলোতে বিজেপি প্রায় একচেটিয়া বিজয় পায়। আর দ্বিতীয় পর্বের ভোট হয়েছিল রাজীব গান্ধী হত্যাকান্ডের পর - সেগুলোতে কংগ্রেস অনেক বেশি আসন পায়। ফলে তারাই সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়।"
এই রথযাত্রার ফলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালে উগ্র হিন্দু করসেবকরা বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয়। ধর্মীয় সহিংসতার কারণে ভারতে এক বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার লোক নিহত হয়।
আর কে সুধামন বলছিলেন, তার মতে ১৯৯০ সালের সেই রথযাত্রা ভারতের রাজনীতিকে সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দেয়।
"এটা ছিল এক কর্মসূচি যা আগেকার সব রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ পাল্টে দেয়, এবং বিজেপির পক্ষে নিজেদের দলকে গড়ে তোলা সম্ভব হয়।"
"আজ বিজেপি যে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তার মূলে রয়েছে সেই রথযাত্রা। এর ফলেই তারা পরিণত হয়েছিল প্রথমে প্রধান বিরোধীদলে, এবং তার পর ক্ষমতাসীন দলে। নিশ্চয়ই এ দলটিকে গড়ে তোলার কৃতিত্ব মি. আদভানির এবং কেউ তা অস্বীকার করতে পারবে না।"
"এতে কোন সন্দেহ নেই যে বিজেপি রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটিয়ে জনগণকে দুভাগ করে ফেলেছে। তবে এটাও ঠিক যে দেশ হিসেবে ভারতের মানুষের মধ্যে মোটামুটিভাবে একটা সহনশীলতা রয়েছে।"
বিজেপি ভারতে প্রথম সরকার গঠন করে ১৯৯৬ সালে, এবং তার পর থেকে তারা একাধিকবার ক্ষমতায় এসেছে।
![]() |
| বাবরি মসজিদ ভাঙার পর সারা ভারত জুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ২ হাজার লোক নিহত হয় |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Thursday, November 28, 2019
নিষ্কাম মানুষ: 'যৌন আকর্ষণ কী জিনিস সেটা আমি জানিনা'

নিষ্কাম হিসেবে চিহ্নিত হওয়া
উপর থেকে চাপ প্রয়োগ
'বিশাল ফাঁদ'
প্রেমের সম্পর্কে আগ্রহী অথবা অনাগ্রহী
সামাজিক লজ্জা
নতুন ভাষা
![]() |
| প্রফেসর ডে অং চীনের নিষ্কাম মানুষদের নিয়ে গবেষণা করেন। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Wednesday, November 27, 2019
তালপাতার পাঠশালা by মোজাম্মেল হোসেন মুন্না
![]() |
| তালাপাতায় লিখছে শিশুরা |
পাঠশালাটি যাতে টিকে থাকে, এজন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আট বছর বয়সী রোগিও পাই আমরা’: কাশ্মীরের মাদক সমস্যা by আইজাজ নাজির

আল জাজিরাকে সে বললো, “এই ডোজ নেয়ার জন্য আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। একটা জায়গা খুঁজছিলাম কোথায় এটা নিতে পারবো। কয়েক ঘন্টা ভালো থাকবো এটা নেয়ার পর, এরপর আবার চাহিদা বাড়বে, আমার অস্বস্তি লাগতে শুরু হবে এবং আমি জ্বর জ্বর এবং ঠাণ্ডা অনুভব করবো”।
বন্ধু বান্ধবদের পাল্লায় পড়ে দুই বছর আগ থেকে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে ২৪ বছর বয়সী রিয়াজ।
এই নেশার জন্য দিনে প্রায় ৩৭ ডলার খরচ করে সে।
“আমার কখনও মাদক খুঁজে পেতে সমস্যা হয়নি, যখন থেকে আমি এটা নেয়া শুরু করেছি। টাকা থাকলেই সব সময় এটা পাবেন আপনি”।
কাশ্মীরে এখন তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি প্রতিদিনই বাড়ছে।
এখনও স্পষ্ট নয় যে মাদকাসক্তের সংখ্যা ঠিক কতো। তবে ডাক্তার আর বিশেষজ্ঞদের হিসেবে এই সংখ্যাটা কয়েক শ’তো হবেই।
শ্রীনগরের রাষ্ট্রিয় অর্থায়নে পরিচালিত শ্রী মহারাজা হারি সিং হাসপাতালের পুনর্বাসন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী এই সঙ্কটের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
গত বছর, এই কেন্দ্রে ছয় শতাধিক মাদকাসক্তের চিকিৎসা করা হয়েছে। অধিকাংশ রোগীর বয়স ১৫ থেকে ৩০ এর ভেতরে আর এদের ৮০ শতাংশই হেরোইনে আসক্ত।
কাশ্মীরে আরও তিনটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে।
শ্রী মহারাজা হারি সিং সেন্টারে কাজ করেন কাশ্মীরের মানসিক স্বাস্থ্য ও স্নায়ুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আরশাদ হোসেন। তিনি বলেন, “আমাদের কেন্দ্রে আমরা আট বছর বয়সী মাদকাসক্তও পেয়েছি”।
“মাদক সমস্যার বহু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সচেতনতার অভাব, সহজলভ্য, বন্ধুদের চাপ এবং সঙ্ঘাতপূর্ণ এলাকায় বসবাস”।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, কাশ্মীরীদের প্রতিনিয়ন যে অনিশ্চয়তা, মানসিক আঘাত, উদ্বেগের মধ্যে বাস করতে হয়, সেটার মধ্যে টিকে থাকতে অনেকে মাদক ব্যবহার করে।
![]() |
| কাশ্মিরে প্রতিবছরই পপির উৎপাদন বাড়ছে, ছবি: সামির মুশতাক |
কিন্তু বিগত কয়েক বছর হেরোইন ও কোকেনের মতো উচ্চমাত্রার মাদক – যেগুলোর স্বাস্থ্য ও আর্থিক ঝুঁকি অনেক বেশি – এগুলোর ব্যবহার বেড়ে গেছে।
গত ১২ জুন সরকারের নিয়োগকৃত একদল কর্মকর্তা দক্ষিণ কাশ্মীরের কিছু পপি ক্ষেতে অভিযান চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করে। এই পপি থেকেই আফিম তৈরি হয়। এই ধরনের অভিযান আগেও চালানো হয়েছে।
আনন্তনাগ গ্রামে পপি ধ্বংস করতে করতে এক সরকারি কর্মকর্তা জানালেন, “এ বছর প্রচুর পপি চাষ করেছে মানুষ”।
স্থানীয়রা পপি ও গাঁজার চাষ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এগুলো অবৈধভাবে বিক্রি করছে।
চলতি বসন্তে জম্মু ও কাশ্মির এক্সাইজ ডিপার্টমেন্ট ৫০০ একর পপি ক্ষেত ধ্বংস করেছে, এর মধ্যে ২৩৩ একরই হলো দক্ষিণ কাশ্মীরে।
এই অঞ্চলে মাদক উৎপাদনে সবচেয়ে শীর্ষে আছে অস্থির পুলওয়ামা জেলা। কর্মকর্তারা এই জেলায় ১২২ একর জমির পপি ধ্বংস করেছে।
সরকারি বিভাগের এক মুখপাত্র আল জাজিরাকে বলেন, “অন্যান্য বিভাগ থেকে আমরা পপি ও গাঁজা চাষের তথ্য সংগ্রহ করি এবং এরপর সেগুলো ধ্বংসের জন্য পুরোদমে অভিযান চালাই। অনেক সময় এইসব চাষের সাথে জড়িতদের ক্ষোভের শিকার হতে হয় আমাদের, কিন্তু এ রকম পরিস্থিতিতে আমরা পুলিশের সহায়তা নেই”।
এই মাদকগুলো শুধু স্থানীয়রাই সেবন করছে না বরং, এগুলো ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও পাচার করা হচ্ছে।
মাদকের অবৈধ বাণিজ্য, পাচার বন্ধে সরকারের প্রচেষ্টা থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যাওয়া পথ খুঁজে বের করে পাচারকারীরা।
জুন মাসে জম্মু অঞ্চলের একটি চেকপয়েন্ট থেকে দুজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ২৬০ গ্রাম হেরোইনসহ ধরা পড়ে তারা।
পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, এই পাচারকারীরা একটা চক্রের সাথে জড়িত, যাদের সশস্ত্র গ্রুপ হিজবুল মুজাহিদিনের সাথে যোগ রয়েছে।
জম্মু পুলিশের জেনারেল ইন্সপেক্টর এম কে সিনহা বলেন: “হিজবুল মুজাহিদীন তাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাদক পাচার করছে”।
তবে, হিজবের মুখপাত্র সেলিম হাশমি এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তার সংগঠন “ইসলামের জন্য এবং কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। আমাদের সংগঠনের সাথে মাদকের দূরতম সম্পর্কও নেই”।
বিশেষজ্ঞ, প্রচারণাকারী ও স্থানীয় নেতারা মাদকের ব্যপারে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন।
গত ১০ জুলাই, এক দল মুসলিম স্কলার, নাগরিক অধিকার কর্মী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা শ্রীনগরে এই মাদক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।
![]() |
| অতিরিক্ত মাদক সেবনে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর প্রতিবাদে গত ১১ জুলাই কাশ্মিরের অনন্তনাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ছবি: সামির মুশতাক |
তিনি বলেন, “এটার সহজলভ্যতার বিষয়টির সুরাহা করতে হবে যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা যায়”।
রাজনীতিবিদরাও এটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া জম্মুর নেতা মোহাম্মদ ইউসুফ তারিগামি গত ১২ জুলাই সামগ্রিকভাবে সমাজের উদ্দেশ্য আবেদন জানান যাতে সবাই “এই সমস্যার সমাধানে সজাগ হয়, যেটা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে”।
অন্যদিকে, বেশকিছু শহর ও গ্রামে তরুণদের উপর নজরদারির চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনন্তনাগের কুলার গ্রামের অধিবাসী ইশাক বেগ বললেন, “আমরা স্থানীয়দের নিয়ে একটা গ্রুপ তৈলি করেছি যারা তরুণদের উপর নজর রাখছে যে কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়লো কি না। মাদক সমস্যার সমাধানে আমরা একসাথে কাজ করছি”।
কিন্তু ফায়েজের* মতে পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত পেশাদার লোকের প্রয়োজন খুবই বেশি। এক বছর আগে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৪৫ দিন কাটিয়ে এসেছে সে।
ফায়েজ এখন একটি দোকান চালায়। সে আল জাজিরাকে জানালো, “শুরুতেই আমার ধূমপানের অভ্যাস ছিল। পরে কলেজে আমি গাঁজায় আসক্ত হয়ে পড়ি। কিভাবে এটা গাঁজা থেকে কোডেইনের দিকে এবং এরপর হেরোইনের দিকে গড়ালো, বলতে পারবো না”।
“অসংলগ্ন আচরণের কারণে আমার পরিবারের লোকেরা আমাদের সন্দেহ করেছিল। আমাকে ডাক্তারের কাছে নেয়া হযেছিল এবং সেখান থেকে আমাকে পরে মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেয়া হয়।
“এমনকি এখনও যখন আমার অতীতের কথা মনে পড়ে, আমার চোখে পানি চলে আসে”।
(*পরিচয় প্রকাশ না করার স্বার্থে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Tuesday, November 26, 2019
কখনো কখনো শুধু কেঁদেছি

মিয়ানমারে ধর্ষিত হয়ে বেঁচে থাকা যেসব নারী পালিয়ে বাংলাদেশের এসেছেন, এমন কয়েক শত নারীর সাক্ষাৎকার নেয়ার পর তিনি তাদের কাউন্সিলিং ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরামর্শ দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন রোহিঙ্গা ওমেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে সাহসিকতার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ওমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার দেয়ার পর যখন তিনি ওয়াশিংটনে অবস্থান করছিলেন, তখন টেলিফোনে তার একটি সাক্ষাৎকার নেন বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের সাংবাদিক লাইগনি ব্যারন। এখানে তার অনুবাদ তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: রোহিঙ্গা নারী ও বালিকাদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা কিভাবে প্রামাণ্য আকারে ধারণ করা শুরু করলেন?
উত্তর: ২০১৬-২০১৭ সালে ঢলের মতো বাংলাদেশে শরণার্থী অনুপ্রবেশের পর বিষয়টি এলোমেলো মনে হয়েছিল। আমাকে নারীদের সাহায্য করতে হয়েছিল। ধর্ষিত হওয়া, অঙ্গছেদ করা ও প্রিয়জনদের হত্যা অথবা প্রহৃত হওয়ার দৃশ্য তারা প্রত্যক্ষ করেছেন। যারা এসব অপরাধ করেছে তাদের সামনে কথা বলতে স্বস্তিকর অবস্থানে ছিলেন না এসব নারী। সেসব ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা তারা আমার সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন।
প্রশ্ন: কিসের জন্য আপনি এর ওপর রিপোর্ট লেখা শুরু করলেন?
উত্তর: ২০১৪ সালে আমার এক বন্ধু আমাকে একটি রিপোর্ট দিয়েছিলেন। এটা ছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সহিংসতা নিয়ে, যেখানে যৌনতাকে তারা অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করে বর্ণনা করেছে ‘লাইসেন্স অব রেপ’ অর্থাৎ ধর্ষণের লাইসেন্স। তারপর ২০১৬ সালে যখন রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে বাংলাদেশে আসছিলেন, তখন তারা কি রকম সহিংসতার শিকার হয়েছেন তা শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি। কালাদান প্রেসের (রোহিঙ্গাদের মিডিয়া বিষয়ক সংগঠন) জন্য কিছু সাক্ষাৎকারকে ভাষান্তরে সহায়তা করছিলাম। এমন কয়েকটি সাক্ষাৎকারের পর আমার কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেল। তা হলো, বেশির ভাগ নারী যৌন সহিংসতা, নির্যাতন, হয়রান ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আমার সম্পাদককে বললাম, ‘লাইসেন্স অব রেপ’-এর মতো রিপোর্ট করা দরকার আমাদের। তিনি আমাকে বললেন, ওকে আপনি এটা করতে পারবেন?
প্রশ্ন: নারীরা কি এসব যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রামাণ্য আকারে ধারণ করা হোক এমনটা চেয়েছেন?
উত্তর: অনেক নারী ভীষণ ক্ষুব্ধ। ক্ষোভ থেকে তারা বলেছেন, আমরা কেন আর এখন এসব কথা লুকিয়ে রাখবো? অনেকেই সাহসী। আবার কিছু আছেন, যারা নীরব থাকতেই পছন্দ করেছেন।
বিষয়টি আমার কাছে জটিলও। বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার নেয়ার পর আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। কখনো কখনো শুধু কেঁদেছি। জানি না কেন কেঁদেছিলাম। কখনো কক্সবাজার থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। কারণ, সেখানে আমি ভীষণ বেদনাবোধ করছিলাম। আমি চিকিৎসকের কাছে গেলাম। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, আপনি কি করতে চান?
তাকে আমি বললাম, আমার মানুষদের সাহায্য করতে চাই।
আমার কথা শুনে তিনি বললেন, ঠিক আছে। তাহলে আপনাকে অনেক দৃঢ় মানসিকতার হতে হবে।
প্রশ্ন: রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ইস্যুটি কতটা উন্মুক্তভাবে আলোচনা করা হয়?
উত্তর: তাদের মধ্যে ভীষণ রকম লজ্জাবোধ। নারীরা তাদের পরিবারের সুনাম নিয়ে সচেতন। একজন চিকিৎসকের কাছে যেতেও তারা ভয় পান। একজন ডাক্তার দেখলেও তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। ২০১৬ সালে আমি একজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তিনি ছিলেন অবিবাহিত যুবতী। তিনি নড়তে পর্যন্ত পারছিলেন না। তার সমস্ত শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। আমাকে যে সূত্র এ বিষয়ে খবর দিয়েছে তার কাছে জানতে চাইলাম, এই যুবতীকে একজন ডাক্তারের কাছে না নিয়ে আপনি আমাকে কেন এখানে এনেছেন?
প্রশ্ন: পরিবারগুলো কেমন সাপোর্ট দেয়?
উত্তর: কিছু নারীর স্বামী ও তাদের পরিবার ভালো। আবার কিছু পরিবার আছে, যারা ধর্ষিত স্ত্রী বা অবিবাহিত মেয়েদের আর গ্রহণ করতে চায় না। এক্ষেত্রে আপনি বিষয়টিকে ৫০-৫০ বলতে পারেন। তাই অনেক নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার পরও এমন পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থা প্রকাশ করেন না। আমরা ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করেছি ৫ অথবা ৬টি শিশুকে।
প্রশ্ন: যৌন সহিংসতা যে পদ্ধতিগত অথবা আপনার রিপোর্ট যেমনটা বলেছে, কমান্ড থেকেই ধর্ষণ হচ্ছে- এ বিষয়গুলো আপনি কিভাবে স্থির হলেন?
উত্তর: জাতিগত এলাকাগুলোতে এটা হলো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর একটি পুরনো কৌশল। প্রথমেই তারা টার্গেট করে নারীদের। এমনটা করা হলেই মানুষ পালাতে থাকে। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ধর্ষণের অর্থ হলো আতঙ্ক সৃষ্টি করা। মানুষ যখন দেখে তাদের মেয়েদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী, তখন তারা ভাবেন আমাদের আর বাড়িঘরের দরকার নেই। আমাদের মেয়েদের বাঁচাতে হবে। রক্ষা করতে হবে পরিবারের সুনাম। তাই তারা বাড়িঘর ছেড়ে যান। তাদের ভূমি ছেড়ে যান। দেশ ছেড়ে যান।
এই যৌন সহিংসতা সুস্পষ্টতই কোনো ব্যক্তিবিশেষের যৌনতা সংক্রান্ত বাসনা থেকে ঘটেনি। দল বেঁধে চালানো হয়েছে এ সহিংসতা। তারা যুবতী নারী ও বয়স্ক নারীদের লাইন দিয়ে দাঁড় করিয়েছে। তারপর তাদের ধর্ষণ করেছে। ২০১৬ সালে যখন ‘উইটনেস টু হরর’ শিরোনামে আমার রিপোর্টগুলো সংকলন করছিলাম তখন মাত্র ১৪ বছর বয়সী একটি বালিকার সাক্ষাৎ পাই আমি। তাকে কমপক্ষে ৩০ জন সেনাসদস্য ধর্ষণ করেছে। সেনাবাহিনী নারীদের স্তন কেটে ফেলেছে। উপড়ে ফেলেছে তাদের চোখ। তারা শুধু ধর্ষণ করেই থেমে থাকেনি। এটা হলো এই সম্প্রদায়কে শাস্তি দেয়ার অস্ত্র।
প্রশ্ন: যুদ্ধাপরাধে ধর্ষণ হলো সবচেয়ে কম গুরুত্ব দিয়ে রিপোর্ট করা হয় যেসব বিষয়ে তার একটি। রোহিঙ্গা নারীদের ক্ষেত্রে দৃষ্টি আকৃষ্ট করার জন্য আপনি কি পরিবর্তন আনার আশা করেন?
উত্তর: শুধু মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, বসনিয়া, ঘানা বা অন্য জায়গাগুলোই নয়, বিশ্বের যেখানেই ধর্ষণকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে আমি তার প্রতিটি স্থানের জন্যই কাজ করছি। আমরা ন্যায়বিচার চাই। একটি আন্তর্জাতিক আইন থাকা উচিত অবশ্যই। তা হলো সেনাবাহিনীকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে এই পর্যায়ে সহিংসতার মুখোমুখি কিভাবে হচ্ছেন নারীরা?
প্রশ্ন: নৃশংসতার নিন্দা না জানিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অব্যাহত অবস্থান নিয়েছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি। এতে অনেক পশ্চিমা দেশ হতাশ। আপনি এ বিষয়ে কি বলবেন?
উত্তর: আমার জন্য এটা অত্যন্ত জটিল বিষয়। কারণ, আমরা তার (সুচি) জন্য লড়াই করেছি। তাহলে কেন তিনি আমাদের দুর্ভোগের বিষয়ে নীরব? যা ঘটেছে তার দায়দায়িত্ব তারও আছে। এটা সত্যি যে, তার কোনো ক্ষমতা নেই। তিনি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সরকারের হাতের পুতুল। কিন্তু তবুও, তিনি হলেন গণতান্ত্রিক নেত্রী। তাই তার দেশের ভিতর কি ঘটছে সে বিষয়ে জানা তার দায়িত্ব। সেনাবাহিনী নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছে। আর তিনি বলছেন, তিনি কিছুই জানেন না! হয়তো এ বিষয়ে তিনি কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ, তিনি জেলে ছিলেন। এখন তিনি মুক্তি পেয়েছেন। তাই তিনি ক্ষমতা হারাতে চান না।
প্রশ্ন: যেসব রোহিঙ্গা নারী পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন এবং বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন তাদের কাছে জীবনের অর্থ কি?
উত্তর: এটা হলো এক জেলজীবন। নারীরা মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা অথবা শিক্ষা পান না তারা। এটা তো কোনো জীবন হলো না। এমনকি তারা তাদের তাঁবুর বাইরেও যেতে পারেন না, যা বাস্তবেও তাঁবু নয়। এগুলো হলো অস্থায়ী আশ্রয়স্থল। রোহিঙ্গা সমাজ অত্যন্ত রক্ষণশীল। তাই যখন কোনো বেড়া, কোনো গোপনীয়তা থাকে না, তখন নারীরা শুধুই ঘরের ভিতর অবস্থান করেন। তারা রান্না করেন। ফেলে আসা জীবনের স্বপ্ন দেখেন।
রাতে টয়লেটে যাওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা নারীরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করেন। তারা একা একা টয়লেটে যেতে পারেন না। প্রচুর হয়রান হতে হয় তাদের, যা মানসিক নির্যাতনের চেয়েও বেশি কিছু।
আশ্রয় শিবিরে করার মতো কিছু নেই তাদের। তাদের কাছে একটি দিন যেন একটি বছর। এই আশ্রয় শিবিরে তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তারা শুধু বসবাস করছেন জীবজন্তুর মতো। বিশেষ করে যুবসমাজ হতাশায় মগ্ন। কারণ, তাদের কোনো কাজ নেই। শিক্ষা নেই। পাচারকারীদের শিকারে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে তারা ঝুঁকিতে। এসব পাচারকারী তাদের ভালো চাকরি, বিয়ে ও অন্য যেকোনো কিছুর প্রলোভন দেখায়। প্রতিশ্রুতি দেয়।
প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এক্ষেত্রে কি করতে পারে?
উত্তর: নৃশংসতা বন্ধের জন্য মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করা উচিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) এবং তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত। পুরো একটি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রহীন করে দেয়ার কোনো অধিকার নেই মিয়ানমারের। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গারা শুধু বাংলাদেশের বোঝা নন। এ সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া উচিত পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যা ঘটছে, নারীদের বিরুদ্ধে যে যৌন সহিংসতা ঘটছে তা যে গণহত্যার অংশ তা এখনও মেনে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবরোধ এক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ, মিয়ানমারের বড় সব কোম্পানির মালিক হলো সেনাবাহিনী। এই অবরোধ আরোপের কাজটি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী ও এ বাহিনীতে নিয়োজিতদের সন্তানদের অধিকার কেড়ে নিতে পারে।
প্রশ্ন: এরপর আপনি কি করবেন?
উত্তর: আমাদের উচিত আমাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা ও রাজনৈতিক দাবি পুনর্গঠন করা। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সব সময়ই প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ। কিন্তু রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত রোহিঙ্গাদের দ্বারাই। এই সম্প্রদায়টি জানে, তাদের জন্য উত্তম কি। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব গড়ে তোলা উচিত। একটি স্পষ্ট কূটনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলা উচিত। এর আগে আমি রাজনীতিক হতে চাইনি। কিন্তু এখন দেখছি এটা প্রয়োজনীয়। আমাদের অনেক যোগ্য নেতা আছেন, যারা আমাদের এজেন্ডার প্রকাশ ঘটাতে পারেন। আমি তাদের সাহায্য করতে পারি। এমন রাজনৈতিক গ্রুপের অংশ হতে পারি আমিও।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মরক্কোর অর্ধেক মানুষই কেন দেশ ছেড়ে চলে যেতে চায়
![]() |
| মরক্কোর বাদশা ষষ্ঠ মোহাম্মদ |
তাহলে, সুদান এবং আলজেরিয়ার পর মরক্কোতেই কি ঘটতে যাচ্ছে ক্ষমতার পরবর্তী পটপরিবর্তন?
ক্যাসাব্লাঙ্কা শহরে বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছিলেন সালেহ আল-মনসুরি। তার বয়েস মাত্র বিশের কোঠায়, কিন্তু ইতিমধ্যেই কঠিন জীবনের অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে তার।
তিনি নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে গিয়েছিলেন। কয়েক বছর থেকেছেন জার্মানিতে। কিন্তু তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আবার ফিরে এসেছেন দেশে।
"লোকে ইউরোপে যায় এমন কিছু পাবার জন্য যা তারা এখানে পায় না" - বলছিলেন মি. মনসুরি।
তিনি কিছু অর্থনৈতিক প্রয়োজনের কথা বললেন, উন্নত জীবনের কথা বললেন। কিন্তু আরো কিছু প্রয়োজন আছে - যা বিমূর্ত।
"যেমন স্বাধীনতা, যেমন সম্মান - এরকম অনেক কিছু আছে। মরক্কোতে জনগণকে কেউ পাত্তা দেয় না। এর অভাবই মানুষকে অভিবাসী হতে উদ্বুদ্ধ করে" - বলছিলেন তিনি।
বিবিসির আরবি বিভাগের চালানো এক জরিপ অনুযায়ী মরক্কোর প্রায় অর্ধেক লোক দেশ ছাড়ার কথা ভাবছে।
এই জরিপের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করলে এ প্রশ্নও মনে আসে: মরক্কোতেই কি এর পর গণ-অসন্তোষ দেখা দেবে?
সম্প্রতি সুদান এবং আলজেরিয়ায় যে গণবিক্ষোভ এবং তার পর আকস্মিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে গেল তাকে অনেকেই বলছেন আরব বসন্ত ২.০।
সুদানের ওমর আল-বশির এবং আলজেরিয়ার আবদেলআজিজ বুতেফ্লিকার ক্ষমতাচ্যুতি অনেককে অবাক করেছে - কিন্তু বিবিসির জরিপটিতে এরকম কিছু ঘটার ইঙ্গিত ছিল। দেশ দুটির লোকজনের কথাবার্তায় ফুটে উঠেছিল তারা ক্রুদ্ধ, আতঙ্কিত এবং বেপরোয়া। দেশ দুটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই বলছিলেন, তারা নির্বাচন এবং একনায়কতন্ত্র, বাকস্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে অসন্তুষ্ট।
এরকম উপাত্ত মিলেছে আরেকটি দেশ থেকে - মরক্কো।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্খা
বিবিসির জরিপে মরক্কোর উত্তরদাতাদের অর্ধেকই বলেছেন, তারা অবিলম্বে রাজনৈতিক পরিবর্তন চান।
দেশটির ৪৫ শতাংশ মানুষের বয়সই ২৪এর নিচে, এবং অনুর্ধ-৩০ বছর বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্কদের ৭০ শতাংশই দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চান। ষাট বছরের বেশি বয়স্কদের অর্ধেকই সরকারের ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, কিন্তু ১৮-২৯ বছর বয়স্কদের মধ্যে এ হার মাত্র ১৮ শতাংশ।
২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ বেশ কিছু সংস্কার কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। নতুন সংবিধান হয়, পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বাড়ানো হয়, তবে রাজার ব্যাপক কর্তৃত্ব এখনো বহাল আছে। অনেক সংস্কারই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় নি - বলছেন সাংবাদিক ও বিরোধীদলীয় কর্মী আবদেললতিফ ফাদুয়াশ।
তিনি বলছেন, নানা কারণে এখানে পুরোপুরি বাজার অর্থনীতি চালু হতে পারছে না। ট্যাক্সি চালানো বা মাছ ধরার পারমিটের জন্যও রাজনীতিবিদ বা রাজপ্রাসাদের আনুকুল্য লাগে।
"আলজেরিয়া, সুদান, বা তার আগে সিরিয়া-মিশর-লিবিয়া-তিউনিসিয়ায় যা ঘটেছে তা যে কোন সময় মরক্কোতে ঘটতে পারে" - বলেন তিনি।
আরেকজন সাংবাদিক আবদেররহিম স্মুগেনি বলছেন, লোকে সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ, কারণ তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই না করে শুধু কর বাড়াচ্ছে। কিন্তু মরক্কোর বাদশাকে লোকে দেখে রাজনীতির উর্দ্ধে। সুদান বা আলজেরিয়ার সাথে এটা একটা বড় পার্থক্য, কারণ ওই দেশগুলো মরক্কোর মতো রাজতন্ত্র নয়।
কিন্তু বাদশার ব্যাপারে এ অনুভুতি কি এখনো আছে? এটা বলা কঠিন। মি স্মুগেনি বলেন, অনেকেই মনে করছেন রাজতন্ত্র হয়তো নাও টিকতে পারে।
মরক্কোর সেনাবাহিনীকেও রাজার প্রতি অনুগত বলে মনে করা হয়। দেশটিতে এখনো সেরকম কোন গণআন্দোলন বা বিক্ষোভ নেই।
কিন্তু বিবিসি জরিপ পরিচালনাকারী আরব ব্যারোমিটারের মাইকেল রবিন্স বলছেন, মরক্কোয় এখনো কোন আরব বসন্ত মুহুর্ত আসে নি, ২০১১ সালের বিক্ষোভ সেরকম কোন মৌলিক পরিবর্তন আনে নি। কিন্তু তাদের জরিপের উপাত্ত থেকে একটা সতর্ক সংকেত পাওয়া যায়। তরুণ প্রজন্ম হয়তো একটা স্ফুলিঙ্গের কাছাকাছি, যা একটা বিক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে।
মরক্কো এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
সবকিছু নির্ভর করে দেশটির তরুণরা তাদের বাদশা এবং তার অজনপ্রিয় সরকারের কাছে কি প্রত্যাশা করে - তার ওপর।
![]() |
| সালেহ আল মনসুরি ইউরোপে আশ্রয় না পেয়ে আবার দেশে ফিরেছেন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভ্যাজাইনিসমাস: যে ব্যাধি যৌনমিলনে নারীদের শুধুই যন্ত্রণা দেয়
![]() |
| অনেক নারীর কাছে যৌন সম্পর্ক ধারালো বস্তুর আঘাতের মতো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হৃদরোগী বাড়ছে বাদ যাচ্ছে না শিশু ও তরুণরা by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

শুধু মোহাম্মদ হোসেন বা সরোওয়ার নন,বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ ঘটছে অসংক্রামক ব্যাধি থেকে। অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে আবার শীর্ষে রয়েছে হৃদরোগ। হৃদরোগকে খাদ্যবাহিতও রোগ বলা হয়। তারা বলেন, দুশ্চিন্ত ও অত্যাধিক মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই পরিবার ও সমাজে সবার সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। বর্তমান বিশ্বে হৃদরোগকে একনম্বর ঘাতকব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবছর ১ কোটি ৭৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এই রোগে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ৩০ লাখে। অথচ হৃদরোগের ভয়াবহতার ব্যাপারে সেইভাবে প্রচারণা নেই। ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ধূমপানমুক্ত পরিবেশ ছাড়া একজন ব্যক্তির পক্ষে হৃদরোগের ব্যাপারে ঝুঁকিমুক্ত থাকা কঠিন। তাই সকলে মিলেই সুস্থ হার্টবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। হৃৎপিণ্ড হচ্ছে মানুষের শরীরের একমাত্র অঙ্গ, যেটা আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে বাঁচিয়ে রাখে, কেননা মানুষের মস্তিষ্কের মৃত্যু হলেও আমরা তাকে জীবিত বলতে পারি যতক্ষণ পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্য ক্ষমতা সচল থাকবে। বর্তমানে, মানুষে মৃত্যুর যত কারণ আছে, হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে মৃত্যু হলো সবচেয়ে বেশি। এক সমীক্ষা অনুযায়ী দেখা যায়, ২০০০ সালের শুরু থেকে প্রতিবছর ১৭ মিলিয়ন লোক মারা যায় এই হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালিজনিত রোগের কারণে। দেখা যায়, হৃৎপিণ্ডে রক্তনালির ও মস্তিষ্কের স্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যুর হার ক্যানসার, এইচআইভি-এইডস্ এবং ম্যালেরিয়া থেকেও বেশি। বর্তমানে ৩১ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ধরা হয় এই হৃদরোগ ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে এবং অল্প বয়সে মৃত্যুর ৮০ শতাংশ কারণও এ হৃদরোগকে দায়ী করা হয়।
হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো এনজাইনা, শ্বাসকষ্ট হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন হওয়া ইত্যাদি। এনজাইনা হচ্ছে, রোগীর সাধারণত বুকে ব্যথা, বুকে চাপ অনুভব করা, বুক ভার ভার হওয়া, দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হওয়া ইত্যাদি। কারো করোনারি আর্টারি বা হার্টের রক্তনালির ৭০ শতাংশ ব্লক হয়ে গেলে তখনই এনজাইনা হয়ে থাকে। কখনো কখনো এনজাইনা থেকে হা্র্ট অ্যাটাক হয়। আবার করোনারি ধমনি যখন ১০০ শতাংশ ব্লক হয়, তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ফলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক একটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, যেখানে জীবন ও মৃত্যু খুব কাছাকাছি চলে আসে। এটি সাধারণত বয়স্কদের রোগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী মানুষের এটি হয়ে থাকে। আমাদের এদেশে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের এটি হয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে আমাদের দেশের লোকের ১০ বছর আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেছেন। এখন ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, এমনকি ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছে। যার অন্যতম কারণ হলো- স্বাস্থ্য সম্মত খাবার না খাওয়া, ধূমপান ও তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা ও অ্যালকোহল পান করা। দেশের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান তার এক প্রবন্ধে বলেন, দেশে বয়স্কদের মধ্যে ১৭ শতাংশ লোক হৃদরোগে ভুগছেন। ছোটদের মধ্যে হাজারে ৮ থেকে ১০ জন এই রোগের দেখা মিলছে। বাংলাদেশে এখন বড়দের সঙ্গে ছোটদেরও হৃদরোগ হচ্ছে। যা চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলছে। তিনি আরো জানান, আমাদের দেশে ৫০ থেকে ৬০ বছরের বয়সীদের হৃদরোগ বেশি হচ্ছে। তবে ২০ থেকে ২২ বছরের তরুণ রোগীও আমরা পাচ্ছি। বহু শিশু জন্মগত হার্টের সমস্যা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের হৃদরোগ বেশি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সবাই মনে করেন এটি ধনীদের রোগ। বিষয়টি সঠিক নয়। এটা গরীব মানুষেরও হয়ে থাকে।
খাদ্যাভাস বাজে হওয়ার কারণে গরীবদের মধ্যে এই রোগ দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের গবেষণার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে আমাদের দেশেও র্হাট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি। নৃ-তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য মেনে এ দেশের মানুষের উচ্চতা কম। এ কারণে আমাদের করোনারি ধমনীর ভেতরকার পরিসর বেশ ছোট। করোনারি ধমনীর পরিসর ছোট হতে হতে একবারে বন্ধ হয়ে গেলেই সমস্যাটা হয়।এ দেশে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের সংখ্যাটা বেশি। ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের সংখ্যাটাও ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। শিশুদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। এর কারণ, কায়িক পরিশ্রমের অভাব এবং জাঙ্ক ফ্রুড খাওয়ার অভ্যাস। শিশুদের এ অভ্যাস পাল্টাতে না পারলে দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। ধূমপান করার কারণে ঝুঁকি বাড়ছে এবং যেসব পরিবারে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, সেই পরিবারে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় হলো- ধূমপান ত্যাগ করা, হাঁটাহাঁটি করা, সাইকেলিং, সাঁতার কাটা, খাদ্যাভাসের পরিবর্তন করা, বেশি বেশি সাক-সবজি খাওয়া, চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শিশু এবং নারীরাই বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকে। সে কারণেই বারবার শিশু ও নারীর ওপর বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার কথা বলে থাকেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ। তাদের মতে, এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে গোটা জীবন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। হার্ট সুস্থ রাখার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উগ্যোগে ২০১৭ সালে প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের পরিসংখ্যান মতে, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটন ও হাসপাতালে হৃদরোগীর সংখ্যা বছর বছর বাড়ছেই। ২০০৯ থেকে ২০১৬ এই আট বছরে হাসপাতালটির বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেয়া ও ভর্তির ক্ষেত্রে রোগীর সংখ্যা বাড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়। ২০০৯ সালে বহির্বিভাগ থেকে সেবা নিয়েছিল এক লাখ ৬০ হাজার ৮ জন এবং ভর্তি হয়েছিল ৪১ হাজার ৫৫৪ জন, ২০১০ সালে বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেয়ার সংখ্যা ছিল এক লাখ ৬১ হাজার ৯৫৮ জন এবং ভর্তি হন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৬৩ হাজার ৮১৩ জন ও ৪৩ হাজার ২৭৫ জন। ২০১২ সালে বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছিল এক লাখ ৭৪ হাজার ৩৬৬ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ৪৪ হাজার ৫৫৯ জন। ২০১৩ সালে বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেয়ার সংখ্যা ছিল এক লাখ ৭২ হাজার ২৬৯ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৪৩ হাজার ৩৪১ জন, ২০১৪ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় দুই লাখ ৫৩৩ এবং ৪৯ হাজার ২৮৩ জনে। ২০১৫ সালে বহির্বিভাগ দিয়ে চিকিৎসা নিয়েছিল দুই লাখ ২২ হাজার ১৮৬ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ৬৩ হাজার ৩৯০ জন হৃদরোগী। ২০১৬ সালে বহির্বিভাগ দিয়ে চিকিৎসা নিয়েছিল দুই লাখ ২৬ হাজার ১৩৮ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ৬৪ হাজার ৯০৬ জন হৃদরোগী। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সরকারি বেসরকারি নানা উদ্যোগে ২৯শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস পালন করা হচ্ছে। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-‘আমার হার্ট, তোমার হার্ট সুস্থ রাখতে অঙ্গীকার করি এক সাথে’।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতিসংঘকে অবজ্ঞা করে সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় আফিম চাষ বাড়ছে মিয়ানমারে by লাউয়ি ওয়েং

কেআইও ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত কচিন ও উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যের ১০,১১০ হেক্টরের বেশি এলাকায় সমীক্ষা চালায়।
গত ২৬ জুন ইস্যু করা প্রতিবেদনে কেআইও উল্লেখ করে যে জাতিসংঘ মাদকবিষয়ক অফিসের প্রতিবেদন তৈরীর সময় যত এলাকায় সমীক্ষা চালানো হয়েছিল, তারা চালিয়েছে তার চেয়ে বেশি এলাকায়।
সংস্থাটি ১৯টি গবেষণা দল পাঠিয়ে ৯,৯৫৩ জনের সাক্ষাতকার নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরী করেছে বলে জানিয়েছে।
কচিনে কমিশন ৬,৯৮.২৩ হেক্টর এলাকায় আফিম চাষ দেখতে পেয়েছে। ২০১৮ সালে ইউএনওডিসি যত পরিমাণ এলাকার কথা উল্লেখ করেছিল, তার চেয়ে এটি প্রায় দ্বিগুণ। এতে বলা হয়, উত্তর শান রাজ্যের ৫টি টাউনশিপে ৩,১৯২.৪ হেক্টর এলাকায় আফিম চাষ হচ্ছে।
কেআইওর মুখপাত্র কর্নেল নাও বো বলেন, আমাদের সমীক্ষার লক্ষ্য ছিল কচিন ও উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্য অবৈধ মাদক সমস্যার ব্যাপ্তি খুঁজে বের করা। আমরা অবৈধ মাদক সমস্যার সর্বোত্তম সমাধান চাচ্ছি।
ইউএনওসিডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কচিন রাজ্যে ২০১৮ সালে মোট ৩,৪০০ হেক্টর জমিতে আফিম উৎপাদিত হয়।
এতে কচিন রাজ্যের দানাই টাউনশিপকে বড় ধরনের আফিম কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এখানে প্রায়ই কেআইওর সশস্ত্র শাখা কচিন ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মির (কেআইএ) সাথে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর লড়াই হয়ে থাকে। তবে কেআইওর সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দানাই ছাড়াও শিনবুইয়াং, সাদং ও কানপাতাই টাউনশিপগুলোতেও বিপুল পরিমাণে আফিম উৎপাদিত হয়ে থাকে। কেআইও জানায়, ইউএনওডিসির সমীক্ষায় পুতাও ও সুমপ্রাবানের মতো আফিম-বর্ধিষ্ণু এলাকার নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি।
কেআইও দাবি করে, মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা কানপাতাই ও সাদং টাউনশিপের সবচেয়ে বেশি এলাকায় আফিম চাষ হয়ে থাকে। এতে ওই দুই এলাকায় ৪,৬৫১,৬৭ হেক্টর জমিতে আফিম চাষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কেআইও সমীক্ষায় শান রাজ্যের নামখাম, কুতকাই, কুনরঙ, তানজিয়ান ও লাশিও এলাকায় আফিম উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। এসব শহর এখন সাতটি স্থানীয় সশস্ত্র গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হাত থেকে তারা এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
কেআইও দাবি করেছে, উত্তর শান রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অধীনে মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেই রয়েছে হেরোইন ও মেথামফেটামিনের বেশির ভাগ শোধনাগার। বেশির ভাগ অবৈধ মাদক মুসা বা নামখাম থেকে কচিন রাজ্যে প্রবেশ করে।
কেআইও জানিয়েছে, মিলিশিয়া গ্রুপগুলো অবৈধ মাদক উৎপাদনকে সুরক্ষা দেয়। গ্রুপটি অভিযোগ করেছে, সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী কেবল ব্যবহারকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেফতার করে। তারা চীনা ড্রাগ সম্রাটদের অবাধে কার্যক্রম চালাতে দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কেআইও মাদক ব্যবসা কার্যক্রমে সুরক্ষা প্রদান বন্ধ করার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছে।
কেআইও আফিম চাষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনওডিসির প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কোয়েটাগামী রেলপথ by সালমান রাশিদ

চ্যাপার হিলটি আসলে সুইস রোলের মতো। অর্ধ গোলাকার কাঠামো রয়েছে এর পশ্চিম প্রান্তে। পূর্ব দিকে আছে পাথরের ব্যাপক স্তুপ। পশ্চিম দিকের কাছে একটি ফাটল রয়েছে। অনেক অনেক আগে ভূমিকম্পে এমনটা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। এর তলদেশ নদীর মতো। কখনো তীব্রবেগে স্রোতধারা বয়ে চলে, কখনো আবার তা স্রেফ গর্ত হিসেবেই থেকে যায়।
দক্ষিণ প্রান্তে থাকা একটি মনিটরিং স্টেশনের ধ্বংসাবশেষ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একসময় এখানকার পানি পরিমাপের জন্য সরকারি ব্যবস্থা ছিলো।
ব্রিটিশরা রেললাইন স্থাপনের অনেক অনেক আগে থেকেই এই পথে কাফেলা চলত। তারা কখনো বর্ষায়, কখনো শুষ্ক মওসুমে এলাকাটি পাড়ি দিত।
আর কোয়েটাকে দ্রুত নির্মিত হতে থাকা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করার সময় সার্ভেয়ররা নানা হিসাব কষে এই এলাকার মধ্য দিয়েই রেললাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। রেললাইন নির্মাণের কাজটি কঠিন ছিল, তবে অন্যান্য সম্ভাব্য পথের চেয়ে এটিই তাদের কাছে তুলনামূলকভাবে পছন্দের ছিল।
তা করতে গিয়ে প্রকৌশলীদের বেশ দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়েছে। এমন জটিল পরিবেশের মধ্য দিয়ে রেললাইন স্থাপন করার কাজটি সহজ ছিল না। এই জটিল কাজটিই তারা করেছেন দুর্দান্ত ভঙ্গিতে। ফলে এই রেললাইনটি একটি দর্শনীয় স্থানেও পরিণত হয়েছে।
নির্মাণের পর থেকে ৫৫ বছর ধরে এই পথেই ট্রেন চলাচল করেছে। ওই আমলের কথা ভাবলে এখনো শিহরণ জাগে।
এই পথে রেললাইন নির্মাণকাজে শুরু থেকেই জটিলতা ছিল। কেবল চড়াই আর উতরাই নয়, বৃষ্টির পানিতে ভূমিধসের সৃষ্টি হতো। ফলে যেখানে লাইন স্থাপনের কাজ চলছিল, সেটি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু প্রকৌশলীরা হাল না ছেড়ে অসাধ্য সাধনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
আবার নির্মাণের সময়কার জটিলতাই শেষ নয়। নির্মাণের পরও অনেকবার লাইনের কিছু অংশ ধসে গেছে। ১৯৪২ সালের ১১ জুলাইয়ের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। প্রবল বৃষ্টিতে লাইন ভেসে গিয়েছিল। বেরিজের কথায়, রেলগুলো ৯০ ফুট উঁচুতে ফেস্টুনের মতো ঝুলে রয়েছে।
রেলওয়ে প্রকৌশলীরা বোলন পাস দিয়ে কোয়েটা পর্যন্ত সরাসরি লাইন নির্মাণ করতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। ১৯৪২ সালের গ্রীষ্মে তাদের কাজ সমাধা হয়। এর মাধ্যমে কোয়েটা যুক্ত হয় ব্রিটিশ ভারতের অবশিষ্ট রেল নেটওয়ার্কের সাথে।
আর তখনই আগের লাইনটির গুরুত্ব কমে যায়। ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৩ সালের মে মাসে খোস্তের কাছে জারদালু ও খানাইয়ের মধ্যকার লাইনটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের প্রচুর স্টিলের প্রয়োজন পড়ে। তারা যতটা সম্ভব স্টিল সংগ্রহ করতে থাকে। ফলে এখানকার রেললাইনের সব সামগ্রী তুলে নেয়ার কাজ শুরু হয়ে যায়।
অনেক কিছুই এখন আর নেই। কিন্তু তারপরও যা রয়ে গেছে, সেটিও আকর্ষণীয়। বিশেষ করে চ্যাপার রিফট এখনো পর্যটক আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে। আবার মাড গর্জ স্টেশন হতে পারে একটি সরাইখানা। জারদাল ও খোস্ত স্টেশন হতে পারে টি-হাউস। এমনকি জাদুঘরেও রূপান্তরিত করা যেতে পারে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিশু ধর্ষণ: ছেলেরা কেন বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? by তাসলিমা ইয়াসমীন

বর্তমান প্রেক্ষাপট
'ধর্ষণ নয়' বলাৎকার কেন?
প্রচলিত আইনে অস্পষ্টতা
উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত
কী করনীয়?
![]() |
| শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: কিন্তু আইনের জটিলতার কারণে ছেলে শিশুরা বিচার পাচ্ছে না। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন চুল গজাবে ভিটামিন ই অয়েলে

কেন ব্যবহার করবেন?
*চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে দ্রুত বাড়ে চুল।
*নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। মাথার যে অংশে চুল কমে যাচ্ছে, সে অংশে ম্যাসাজ করুন এই তেল।
*চুলের আগায় ম্যাসাজ করুন নিয়মিত। আগা ফাটবে না।
*চুলের গোড়া মজবুত করে চুল পড়া বন্ধ করে।
*চুল উজ্জ্বল ও ঝলমলে করে।
যেভাবে ব্যবহার করবেন
*নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি রাতে ঘুমানোর আগে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগান। চুলের গোড়ায় ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। পরিদিন সকালে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল।
*একটি কলা চটকে নিন। ৩টি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলের লাগান। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
*অ্যালোভেরা জেল ব্লেন্ড করে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।
*সরাসরি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মযাসাজ করতে পারেন চুলের গোড়ায়। সারারাত রেখে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
*২ টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মেশান। মিশ্রণটি চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে পরিষ্কার করে ফেলুন চুল।
>>>তথ্য: ফেমিনা
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মা কোনো কাজ করেন না by সুহাদা আফরিন

আর যে নারী বাইরে চাকরি করেন, আবার ঘরও সামলান, সে ক্ষেত্রেও পরিবার ঘরের কাজের স্বীকৃতিটুকু দিতে কুণ্ঠাবোধ করছে। ফলে বেশির ভাগ শিশু ছোটবেলা থেকেই ‘মা কোনো কাজ করেন না’—এ ধরনের মনোভাব নিয়ে বড় হচ্ছে। এই শিশু বড় হয়ে নিজের সংসারেও মনে করেন, স্ত্রী তো কোনো কাজ করেন না।
গত বছর বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ম্যান অ্যান্ড ম্যাসকুলিনিটিস স্টাডিজ (সিএমএমএস) পরিচালিত ‘ব্রেভম্যান ক্যাম্পেইন’–এর প্রতিবেদন বলছে, মায়ের কাজ সম্পর্কে ১২ শতাংশ ছেলে জানিয়েছিল, তাদের মা কাজ করেন। তবে ক্যাম্পেইন শেষে এই শিশুদেরই সচেতন করার পর ৯৬ শতাংশ একবাক্যে বলতে পারে, তাদের মা কাজ করেন।
সিএমএমএস ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ‘ব্রেভম্যান’ ক্যাম্পেইনের একটি কার্যক্রমে ছেলে শিক্ষার্থীদের ডায়েরি দেওয়া হচ্ছে। ডায়েরির একটি অংশে লেখা, আমার মা। ছেলে শিশুরা সেখানে মা, মায়ের কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে লিখে। একসময় তারা বুঝতে পারে, সংসারে মায়ের ভূমিকা কতটুকু। ডায়েরিতে মায়ের বক্তব্যও থাকে।
২০১৩ সালে ডায়েরিতে জামালপুরের এক শিক্ষার্থী লিখেছে, ঘরের কাজ করার পর মা বিশ্রাম নেওয়ার সময় খুব কম পান। তাই এ কাজে সন্তানদের সাহায্য করা প্রয়োজন। আর মা লিখেছেন, ছেলে মায়ের কষ্ট বুঝতে পারায় তিনি খুব খুশি হয়েছেন।
চলতি বছর দেশের ৫০টি স্কুলে ‘ব্রেভম্যান’ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া গাইবান্ধা জেলার পিয়ারাপুর আই জি এম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জয়নাল আবেদিন বলল, ‘ মা রাতদিন সব সময়ই কাজ করেন।’ এখন জয়নাল তার মায়ের কাজে সহায়তা করে । প্রতিষ্ঠানটির বাংলা বিভাগের শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জানালেন, ব্রেভম্যান ক্যাম্পেইনটি মাত্র তিন মাস ধরে শুরু হয়েছে। তবে এ সময়েই যে অগ্রগতি, ভবিষ্যতে তা অনেক কাজে দেবে।
সিএমএমএসের চেয়ারপারসন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজ বললেন, পরিবারের সদস্যদের নারীর কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে। এ ক্যাম্পেইনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, মা কাজ করেন, সন্তানদের এটা বোঝানো। আর এ উপলব্ধি যখন হবে, তখনই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়বে। এ বিষয়টিকে অভ্যাসে পরিণত করলে নারীদের প্রতি সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বললেন, নারীর কাজের স্বীকৃতি দিতে রাষ্ট্রের নীতি, শিক্ষাসহ সমাজের সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে। শিশুরা যখন দেখবে, বাবা বা পরিবারের অন্যরা তার মায়ের কাজকে সম্মান করছে, তখন সে–ও সম্মান করবে। একটি শিশুর মানসিকতা গঠনে পারিবারিক শিক্ষাটা জরুরি। শিক্ষা পাঠক্রমেও নারীর কাজের স্বীকৃতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী বললেন, নারীর মজুরিবিহীন শ্রমের স্বীকৃতির পথে বড় বাধা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। তবে শিশুদের সচেতনতামূলক কার্যক্রমে নারী মানেই ঘরের কাজ করবে, এ ধারণা যাতে বাচ্চাদের মাথায় ঢুকে না যায়, তা মনে রাখতে হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
November
(177)
-
►
Nov 26
(12)
- কখনো কখনো শুধু কেঁদেছি
- মরক্কোর অর্ধেক মানুষই কেন দেশ ছেড়ে চলে যেতে চায়
- ভ্যাজাইনিসমাস: যে ব্যাধি যৌনমিলনে নারীদের শুধুই যন...
- হৃদরোগী বাড়ছে বাদ যাচ্ছে না শিশু ও তরুণরা by ফরিদ ...
- জাতিসংঘকে অবজ্ঞা করে সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় আফিম চাষ...
- কোয়েটাগামী রেলপথ by সালমান রাশিদ
- শিশু ধর্ষণ: ছেলেরা কেন বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? by...
- নতুন চুল গজাবে ভিটামিন ই অয়েলে
- মা কোনো কাজ করেন না by সুহাদা আফরিন
-
►
Nov 26
(12)
-
▼
November
(177)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...













