Thursday, November 21, 2024

জনগণ যাতে সকল ক্ষমতার মালিক হতে পারেন তেমন দেশ গড়তে চাই: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা বৈষম্যহীন, শোষণহীন, কল্যাণময় এবং মুক্ত বাতাসের যে স্বপ্ন নিয়ে রাষ্ট্রকে স্বাধীন করেছিলেন, আমি তাদের সেই স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা এখন থেকে বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়তে চাই যেখানে সত্যিকার অর্থে জনগণই হবে সকল ক্ষমতার মালিক।

বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করেছি। এ নতুন দেশে আমাদের দায়িত্ব সকল মানুষকে এক বৃহত্তর পরিবারের বন্ধনে আবদ্ধ করা। কেউ কারো ওপরে না, আবার কেউ কারো নিচেও না; এই ধারনা আমরা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
বিশ্ব দরবারে মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে সমাদৃত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখব। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা। জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলা এবং বৈশ্বিক শান্তি ও অর্থনীতি সুসংহতকরণে আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা উল্লেখ করে ড.ইউনূস বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ফলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচিতি লাভ করেছে। দেশ স্বাধীন করার মহান ব্রত নিয়ে ‘৭১ এর ২৫ মার্চ কাল রাত থেকে বাঙ্গালী সেনারা সেনানিবাস ত্যাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একই সাথে এই দেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র জনতা সাধারণ মানুষ সকলেই যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। পরবর্তীতে যা একটি জনযুদ্ধে রূপ নেয়। আমাদের মা বোনেরা মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণসহ বিভিন্নভাবে যুদ্ধে সহযোগিতা করেছেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সকল বাহিনীকে ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’ নামে সাংগঠনিক রুপ দেয়া হয়। সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। মাত্র ২টি গান বোট ‘পদ্মা' ও 'পলাশ' নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জলপথে যুদ্ধ শুরু করে। এছাড়াও পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি সাবমেরিনার এবং নাবিকদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা অকুতোভয় নৌ কমান্ডোদল ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন নদী বন্দরে খাদ্য ও রসদ বোঝাই শত্রু জাহাজ ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয়।

প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, বিমান বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ‘কিলো ফ্লাইট’ চট্টগ্রাম ও নারায়নগঞ্জের জ্বালানি ডিপোসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফল অভিযান পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর এই অবদানকে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের সঙ্গে একীভূত করার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর পালিত হয় সশস্ত্র বাহিনী দিবস।
ড. ইউনূস বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্য এবং বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ সূচনা করে। সেই আক্রমণের ফলে আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত হয় এবং ফলশ্রুতিতে আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করি।

স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সকল বীর শহিদদের এবং মহান আল্লাহর দরবারে আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আমি সকল শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং সম্মানিত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের এই আয়োজনে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে যে সকল খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীগণ উপস্থিত আছেন তাদের জন্যেও রইল আমার বিনীত শ্রদ্ধা।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চলমান রয়েছে। সময়ের আবর্তে অধিকাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধা আজ বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপনকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যে উদ্যোগ প্রতিবছর নিচ্ছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
ড. ইউনূস বলেন, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত ও অনুপ্রাণিত। নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ ছাত্র-জনতার সাহস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে সম্প্রতি আমরা অর্জন করেছি, সেটাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যত গড়তে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ, আহত এবং জীবিত ছাত্র জনতার কাছে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে চাই। যে সুযোগ তারা আমাদেরকে দিয়েছে তার মাধ্যমে আমাদের দেশকে পৃথিবীর সামনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দেশে পরিণত করতে আমরা শপথ নিয়েছি। অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের কল্যাণার্থে যা কিছু প্রয়োজন তা করার জন্য আমরা দৃঢ় প্রত্যয়ী এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

mzamin

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের কুশল বিনিময়

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে  কুশল বিনিময় করেছেন ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কুশল বিনিময় করেন তারা। এ সময় ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বিএনপি চেয়ারপারসন জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। কুশল বিনিময় শেষে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে তিনটি ছবি শেয়ার দিয়ে লেখেন, ‘আপনাকে এই সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা গর্বিত।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘ এক যুগ পর সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এছাড়াও ২০১৮ সালের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন তিনি।

mzamin

এবার আদানির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

কুইন্সল্যান্ডের বিতর্কিত কারমাইকেল কয়লা খনির পেছনে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানিকে বহু-বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকান কর্তৃপক্ষ আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান, গৌতম আদানির ভাগ্নে সাগর আদানি এবং ছয় সহযোগীর বিরুদ্ধে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ২৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ করেছে।

তাদের দাবি, এই অর্থ দেয়া হয়েছে  মার্কিন বিনিয়োগকারীদের পকেট থেকে। প্রসিকিউটররা আরও বলেছেন যে আদানি এবং আদানি গ্রিন এনার্জির অন্য একজন নির্বাহী, বিনীত জৈন  ঋণদাতা এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দুর্নীতি গোপন করে কয়েক বিলিয়ন ডলার ঋণ এবং বন্ড সংগ্রহ করেছেন।

আদালতের নথি অনুসারে, আসামিরা বিষয়টি গোপন রাখতে ব্যক্তিগতভাবে গৌতম আদানিকে "Numero uno" এবং "The big man" কোড নামে ডাকতো। সাগর আদানি ঘুষের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ট্র্যাক করতে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ, যার লক্ষ্য ছিল সৌর শক্তি সরবরাহের চুক্তিগুলি থেকে ২ বিলিয়ন ডলার লাভ করা।

আদালতের রেকর্ড অনুসারে, একজন বিচারক গৌতম আদানি এবং সাগর আদানির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং প্রসিকিউটররা সেই পরোয়ানাগুলি বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করেছেন। ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুসারে গৌতম আদানির সম্পত্তির মূল্য ১০৭ বিলিয়ন, যা তাকে বিশ্বের ২২ তম ধনী ব্যক্তি করে তুলেছে। আদানি গ্রুপের অস্ট্রেলিয়ান সহযোগী প্রতিষ্ঠান, ব্রাভাস, সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ডের কারমাইকেল কয়লাখনির মালিক। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত খনির প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি। এক দশক আগে এর অনুমোদনের পর থেকে, এটি গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এবং ভূগর্ভস্থ পানির উপর প্রভাব এবং কার্বন নির্গমনের জন্য বিরোধিতার মুখে পড়েছে। ব্রাভাস নর্থ কুইন্সল্যান্ড এক্সপোর্ট টার্মিনাল এবং মোরানবাহের কাছে রাগবি রান সোলার ফার্মের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় আসামিদের তালিকার মধ্যে একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার দুই নির্বাহী এবং কানাডিয়ান প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর তিনজন কর্মচারীর নাম উল্লেখ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘুষ-বিরোধী আইন ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হলেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যবসায়ী সিরিল ক্যাবানেস, যিনি ফ্রান্সের নাগরিকত্বও ধারণ করেছেন এবং আদালতের নথি অনুসারে সিঙ্গাপুরে কানাডিয়ান বিনিয়োগকারীর জন্য কাজ করছিলেন। আদালতের নথি অনুসারে ক্যাবনেসই একমাত্র আসামী যিনি ভারতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক নন। তার লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুসারে, ক্যাবনেস এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি অবকাঠামো কোম্পানিতে নেতৃত্ব এবং বোর্ডের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি সিডনির সি থ্রি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ক্যাপিটাল ফার্মের প্রিন্সিপাল এবং জিলংপোর্ট, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন এবং বেসরকারি টিম্বার প্ল্যান্টেশন কোম্পানি এইচভিপি প্ল্যান্টেশনের একজন নন-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ছিলেন।

আদানি গ্রুপ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি। ওয়াশিংটনে ভারতের দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

ডেপুটি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল লিসা মিলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ২৫০ মিলিয়নের বেশি ঘুষ দেয়া, বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের জন্য বিনিয়োগকারী এবং ব্যাংকের কাছে মিথ্যা বলার এবং ন্যায়বিচারে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইউএস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং ক্যাবনেসের বিরুদ্ধে সিভিল চার্জও দায়ের করেছে। সূত্র: এবিসি নিউজ

mzamin

জনগণ যাতে সকল ক্ষমতার মালিক হতে পারেন তেমন দেশ গড়তে চাই: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা বৈষম্যহীন, শোষণহীন, কল্যাণময় এবং মুক্ত বাতাসের যে স্বপ্ন নিয়ে রাষ্ট্রকে স্বাধীন করেছিলেন, আমি তাদের সেই স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা এখন থেকে বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়তে চাই যেখানে সত্যিকার অর্থে জনগণই হবে সকল ক্ষমতার মালিক।

বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করেছি। এ নতুন দেশে আমাদের দায়িত্ব সকল মানুষকে এক বৃহত্তর পরিবারের বন্ধনে আবদ্ধ করা। কেউ কারো ওপরে না, আবার কেউ কারো নিচেও না; এই ধারনা আমরা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
বিশ্ব দরবারে মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে সমাদৃত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখব। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা। জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলা এবং বৈশ্বিক শান্তি ও অর্থনীতি সুসংহতকরণে আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা উল্লেখ করে ড.ইউনূস বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ফলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচিতি লাভ করেছে। দেশ স্বাধীন করার মহান ব্রত নিয়ে ‘৭১ এর ২৫ মার্চ কাল রাত থেকে বাঙ্গালী সেনারা সেনানিবাস ত্যাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একই সাথে এই দেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র জনতা সাধারণ মানুষ সকলেই যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। পরবর্তীতে যা একটি জনযুদ্ধে রূপ নেয়। আমাদের মা বোনেরা মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণসহ বিভিন্নভাবে যুদ্ধে সহযোগিতা করেছেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সকল বাহিনীকে ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’ নামে সাংগঠনিক রুপ দেয়া হয়। সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। মাত্র ২টি গান বোট ‘পদ্মা' ও 'পলাশ' নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জলপথে যুদ্ধ শুরু করে। এছাড়াও পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি সাবমেরিনার এবং নাবিকদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা অকুতোভয় নৌ কমান্ডোদল ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন নদী বন্দরে খাদ্য ও রসদ বোঝাই শত্রু জাহাজ ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয়।

প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, বিমান বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ‘কিলো ফ্লাইট’ চট্টগ্রাম ও নারায়নগঞ্জের জ্বালানি ডিপোসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফল অভিযান পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর এই অবদানকে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের সঙ্গে একীভূত করার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর পালিত হয় সশস্ত্র বাহিনী দিবস।
ড. ইউনূস বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্য এবং বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ সূচনা করে। সেই আক্রমণের ফলে আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত হয় এবং ফলশ্রুতিতে আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করি।

স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সকল বীর শহিদদের এবং মহান আল্লাহর দরবারে আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আমি সকল শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং সম্মানিত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের এই আয়োজনে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে যে সকল খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীগণ উপস্থিত আছেন তাদের জন্যেও রইল আমার বিনীত শ্রদ্ধা।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চলমান রয়েছে। সময়ের আবর্তে অধিকাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধা আজ বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপনকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যে উদ্যোগ প্রতিবছর নিচ্ছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
ড. ইউনূস বলেন, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত ও অনুপ্রাণিত। নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ ছাত্র-জনতার সাহস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে সম্প্রতি আমরা অর্জন করেছি, সেটাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যত গড়তে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ, আহত এবং জীবিত ছাত্র জনতার কাছে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে চাই। যে সুযোগ তারা আমাদেরকে দিয়েছে তার মাধ্যমে আমাদের দেশকে পৃথিবীর সামনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দেশে পরিণত করতে আমরা শপথ নিয়েছি। অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের কল্যাণার্থে যা কিছু প্রয়োজন তা করার জন্য আমরা দৃঢ় প্রত্যয়ী এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

mzamin
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানীবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। প্রধান উপদেষ্টার দেয়া বৈকালিক এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তার পাশেই বসেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধান উপদেষ্টা তার আসনে বসে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এসময় হাস্যোজ্জ্বল খালেদা জিয়াকে কথা বলতে দেখা যায়। দীর্ঘ এক যুগ পর সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন তিনি।

গাজায় নেতানিয়াহু: ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের গাজা শাসন চলবে না

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সফরে গিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের গাজা শাসন করার আর সুযোগ থাকবে না।

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল হামাসের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সফল হয়েছে এবং গাজায় তাদের আধিপত্য বন্ধ হবে।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) নেতানিয়াহু গাজার কেন্দ্রীয় নেটজারিম করিডর পরিদর্শনকালে এক ভিডিও বার্তায় এসব মন্তব্য করেন। এ সময় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানও তার সঙ্গে ছিলেন। খবর টাইমস অব ইসরায়েল।

ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল এখনো ১০১ জন জিম্মির অবস্থান শনাক্ত করতে কাজ করছে এবং তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে।

তিনি বলেন, যে কেউ জিম্মিদের ক্ষতি করার দুঃসাহস দেখাবে, তাকে চূড়ান্ত মূল্য দিতে হবে। আমরা তাকে খুঁজে বের করব এবং শাস্তি দেব। তবে, যিনি আমাদের কাছে একটি জিম্মি ফিরিয়ে আনবেন, তাকে এবং তার পরিবারকে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। বেছে নিন, পছন্দ আপনার; কিন্তু ফলাফল একই থাকবে। আমরা আমাদের সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনব।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি নিয়ে নেতানিয়াহু আরও স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তাদের অবস্থান কঠোর। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও আমাদের অভিযান থামবে না। আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করব এবং হামাসের শাসন শেষ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করব।

উল্লেখ্য, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ বা অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সেখানে লেবাননের সেনা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতি ছাড়া অন্য কোনো বাহিনী থাকতে পারবে না।

এছাড়া, ইসরায়েলি বাহিনীকে দক্ষিণ লেবানন থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পেছনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ রয়েছে, যাতে যুদ্ধ আরও বিপজ্জনক না হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। 

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সফরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সফরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

গাজা পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে লেবানন, দুই শতাধিক শিশু নিহত

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে গত দুই মাসে দুই শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ১ হাজার ১০০-এর বেশি। পরিস্থিতি বলছে, গাজার পর লেবানন শিশুদের জন্য দ্বিতীয় দোজখে পরিণত হচ্ছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে শিশু নিহতের তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ এ বিষয়ে জেনেভায় সংবাদ সম্মেলন করে। তাতে ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এন্ডার বলেন, দুই মাসেরও কম সময়ে লেবাননে দুই শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে। এখনো সমানতালে হামলা চলছে। এ ব্যাপারে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যারা ব্যবস্থা নিতে সক্ষম তারা মুখ না খোলায় সমালোচনা করেন জেমস।

তিনি আরও বলেন, লেবানন ও গাজার সংঘাতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। সেখানেও ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী হামাসের যুদ্ধে ৪৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুযায়ী নিহত শিশুর সংখ্যা ১৬ হাজারেরও বেশি। লেবাননে গাজার মতোই পরিস্থিতি।

এদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাস্তুচ্যুত লক্ষাধিক শিশুকে ইউনিসেফ সহায়তা করছে বলে জানান জেমস।

সেপ্টেম্বরে লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ্ বিরদ্ধে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। কিন্তু অভিযানের নামে তারা বেসামরিক এলাকায় বোমা হামলা চালাচ্ছে। এতে হিজবুল্লাহর চেয়ে সাধারণ নাগরিক হতাহত হচ্ছে বেশি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৫১৬ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ১৪ হাজার ৯২৯ জন আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে সেখানে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিনিদের দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে হিজবুল্লাহ ও লেবানন সরকার। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও অভিযান থামাবে না তার দেশ। কাগজে কী আছে, তা মেনে চলতে বাধ্য নয় তারা।

সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার পাশাপাশি দক্ষিণ লেবানন দখলে নিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। মার্কিন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যাবে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। একে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবে বলা হয়, ইসরায়েল সংলগ্ন দক্ষিণ লেবানন, বিশেষ করে লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহর কোনো অবস্থান থাকবে না। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী বলতে শুধু লেবাননের সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা অবস্থান করতে পারবে। 

লেবাননের বৈরুতের ফুটপাতে উদ্বাস্তু শিশু। ছবি : সংগৃহীত
লেবাননের বৈরুতের ফুটপাতে উদ্বাস্তু শিশু। ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশযানের কবরস্থান খ্যাত পয়েন্ট নিমো কোথায়?

মহাকাশ থেকে আমাদের পৃথিবীর ওপর নজর রাখছেন একদল বিজ্ঞানী। পৃথিবী থেকে মাত্র কয়েকশ’ কিলোমিটার ওপর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। সেখান থেকে বসেই খোঁজখবর রাখেন তামাম দুনিয়ার। কিন্তু আর কয়েক বছর পর যখন এই মহাকাশযানের সময় ফুরিয়ে আসবে, তখন কী হবে সেটির? কখনও ভেবে দেখেছেন?

২০৩০ সালে অবসরে যাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। এরপর এটির সলিল সমাধি হবে দুনিয়ার বুকেই। পৃথিবীর বুকে থাকা নির্জন এক দ্বীপে সাগরে ফেলা হবে এই মহাকাশ স্টেশনকে। ওই দ্বীপ এতটাই নির্জন যে সেখানে হাজার হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত নেই মানুষের কোনো চিহ্ন। এমনকি এই দ্বীপ থেকে পৃথিবীর কাছাকাছি স্থানগুলোতেও পৌঁছানো অনেক কঠিন।

মানববসতির নাগালের বাইরে থাকা এই দ্বীপের নাম পয়েন্ট নিমো। পৃথিবীর সবচেয়ে নির্জন এই স্থানটি দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে অবস্থিত। কোনো দেশের অধিকার নেই এই জায়গার ওপর।

আর তাই অন্যান্য মহাকাশযানেও কখনো ত্রুটি দেখা দিলে জনবসতি থেকে অনেক দূরে স্থানে সেগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য বেছে নেন বিজ্ঞানীরা।

এখান থেকে পৃথিবীর অন্য এলাকায় পৌঁছতে কঠিন হলেও মহাকাশে পৌঁছানো সহজ। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এটিই না কি মহাকাশ থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের জায়গা। পয়েন্ট নিমোর সবচেয়ে নিকটতম দ্বীপ হচ্ছে ডুসি। এটির অবস্থান পয়েন্ট নিমো থেকে প্রায় ২৭০০ কিলোমিটার দূরে। সেক্ষেত্রে কেউ যদি এই স্থান থেকে উপরে হাঁটা শুরু করেন, ডুসি দ্বীপের আগে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে যাবেন তিনি।

মূলত এভাবেই পৃথিবীর থেকে মহাকাশের সবচেয়ে কাছের স্থান হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে পয়েন্ট নিমো। ১৯৯২ সালে হোর্ভজ লুকাটেলা নামে এক জরিপ প্রকৌশলী এই দ্বীপ আবিষ্কার করেন। পরে জুলস ভার্নের কাল্পনিক চরিত্র ক্যাপ্টেন নিমোর নামের সঙ্গে মিল রেখে এই স্থানের নামকরণ করা হয় পয়েন্ট নিমো। প্রশান্ত মহাসাগরের বিচ্ছিন্ন এই স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম এলাকা হিসেবেও পরিচিত।

১৯৭১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পয়েন্ট নিমোর আশপাশে প্রায় ২৬০টিরও বেশি মহাকাশযান ধ্বংসাবশেষ সমাহিত করা হয়েছে। এজন্য এই এলাকাকে মহাকাশযানের কবরস্থানও বলা হয়। ভয়ংকর নির্জন এই দ্বীপে এতটাই নীরবতা রয়েছে যে পাথর ভাঙার শব্দও আত্মাকে শিহরিত করে দেয়। পৃথিবীর নির্জন এই দ্বীপ নিয়ে তাই মানুষের কৌতূহলের কোনো শেষ নেই।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। ছবি : সংগৃহীত

ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের বিক্ষোভ, অবরোধ

রাজধানীর দয়াগঞ্জে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা জারি হওয়ার পর গতকাল দুপুরে তারা এই বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন রিকশা চালকরা। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা সকাল ৯টার দিকে দয়াগঞ্জ মোড়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে জমায়েতের পর তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, সে সময় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে তাদের অনুরোধ করা হয় সড়ক ছেড়ে দেয়ার। তবে তারা পুলিশের অনুরোধ না শুনে উল্টো পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের রাজারবাগে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গতকাল বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে। ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধের প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের চৌরাস্তায় অবস্থান নেন বিক্ষোভকারী চালকরা। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে বিক্ষোভ। পরে শতাধিক রিকশার একটি মিছিল চলে আসে মিরপুর রোডের প্রধান সড়কে। আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশন ঘুরে রিকশার এই মিছিলটি চলে যায় শ্যামলী পর্যন্ত।

গত মঙ্গলবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ তিন দিনের মধ্যে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে নির্দেশনা দেন। প্যাডেলচালিত রিকশা সংগঠন ঢাকা মহানগর রিকশা মালিক ঐক্যজোটের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক রিট পিটিশন দায়েরের পরে হাইকোর্ট এই নির্দেশনা জারি করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, আইজিপি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ। পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন গতকাল বিবৃতিতে বলেন, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে প্রায় ৭-৮ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করে। এই পরিবহন বন্ধ হলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ এক ধাক্কায় বেকার হয়ে পড়বে। ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে নীতিমালা চূড়ান্ত ও আধুনিকায়ন করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদান, প্রতিটি সড়ক মহাসড়কে ইজিবাইক, রিকশাসহ স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস রোড নির্মাণের দাবি জানান লিপন। একই দাবিতে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনের সভাপতি শাহাদাৎ খাঁ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বিবৃতিতে বলেন, আমরা ধারণা করি মহামান্য আদালতকে ব্যাটারিচালিত যানবাহন সম্পর্কে সঠিক বাস্তবতা ও পরিস্থিতি অবগত না করায় আদালত ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধের মতো আদেশ দিয়েছেন।

mzamin
রাজধানীর দয়াগঞ্জ এলাকায় চালকদের বিক্ষোভ অবরোধে যান চলাচলে অচলাবস্থা -নিজস্ব ছবি মানবজমিন

আহতদের চিকিৎসায় বিলম্বের জন্য দেশের দুর্বল ব্যবস্থাপনা দায়ী: উপদেষ্টা সাখাওয়াত by আরিফ মাহফুজ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা বিলম্বের কারণ হিসেবে দেশের দুর্বল ব্যবস্থাপনকে দায়ী করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বস্ত্র ও পাট এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার ভয়েস ফর বাংলাদেশ কর্তৃক বৃটিশ পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ হাউস অব লর্ডস-এ আয়োজিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে প্যানেল আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন। লর্ড হোসাইনের সভাপতিত্বে কী নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

কনফারেন্স শেষে বাংলাদেশি কমিউনিটির গণমাধ্যমকর্মীদের নানা প্রশ্নের জাবাব দেন এম সাখাওয়াত হোসেন। আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় বিলম্ব হচ্ছে কেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের দেশের চিকিৎসা বাবস্থাতো আপনারা ভালো করেই জানেন। সাধারণ একজন লোক যদি চিকিৎসার জন্য যায় তাকে চিকিৎসা করতে কত দিন লাগে। আমাদের ব্যবস্থাপনাটা খুবই দুর্বল।

আপনি বলেছেন শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে দেয়া হয়েছে; উত্তরে তিনি বলেন, আমি পালিয়ে যেতে দেয়া হয়েছে বলেনি। আমার কথাটা আবার শুনেন যেটা আমি বলেছি উনি যদি থাকতেন তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। পুলিশ আত্মসমর্পণ করার পর যেভাবে সবাই গণভবনের দিকে আসছিলো, গণভবনের দেয়াল ভেঙ্গে যেত। ভেতরেই তাকে ছিড়ে ফেলতো। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি এটি দেশের জন্য খুব ভালো হতো না।

সম্প্রতি দুই উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে ছাত্রদের আপত্তির বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা আপনারা জিজ্ঞেস করেন যারা নিয়োগ দিয়েছেন তাদের। যাদের কথা বলেছেন তারা কীভাবে নিয়োগ পান আমি বলতে পারবো না।
কনফারেন্স অন্যান্য প্যানেল মেম্বাররা ছিলেন লর্ড কার্লাইল, সাবেক বৃটিশ মন্ত্রী পল স্কালী, বৃটিশ এমপি রুপা হক, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সাউথ এশিয়া এক্সপার্ট আব্বাস ফয়েজ ও ব্যারিস্টার মাইকেল পলক, ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ প্রমুখ।

mzamin

সরজমিন চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট: ‘টাকা লাগবে না, চাই উন্নত চিকিৎসা-পুনর্বাসন’ by সুদীপ অধিকারী

সোয়েব কবীর। নরসিংদী সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত ১৮ই জুলাই নরসিংদীর বেলাবোতে গুলিবিদ্ধ হন ২২ বছরের এই যুবক। মাথা, ঘাড়ে, চোখে, মুখে এখনো ৭০টার বেশি শটগানের ছররা গুলির বুলেট নিয়ে ভর্তি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চারতলার পি.বি-১০ নম্বর বেডে। বুলেট বের করতে না পারায় বাম চোখে কিছুই দেখতে পান না সোয়েব। সোয়েব বলেন, পাঁচ বছর আগে বাবা মারা যান। দুই ভাই ও মাকে নিয়ে সংসার আমিই চালাতাম। কিন্তু আন্দোলনে গিয়ে চোখে গুলি লাগার পর থেকে সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে। উপরন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে এসে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল দিয়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখনো কোনো সরকারি সহায়তা মেলেনি। এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা। সোয়েব বলেন, এখানকার ডাক্তাররা আমাকে বলেছে- তারা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা আমাদের দিয়েছেন। তাদের করার মতো আর কিছু নেই। চিকিৎসকরা বলেছেন- আমি আর কোনোদিনও এক চোখে দেখতে পাবো না। তবে বিদেশে গেলে ভালো হতেও পারি। আমাদের তো সেই সামর্থ্য নেই। এখন পরিবারের কাছে আমরা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি। তাই সরকারের কাছে একটাই দাবি আমরা যারা চোখে গুলিবিদ্ধ আছি তাদের যেন বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেয়া হয়। একইসঙ্গে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের যেন পুনর্বাসিত করার ব্যবস্থা করা হয়।

একই ওয়ার্ডের পি.বি-০৯ নম্বর বেডে চিকিৎসা নিচ্ছেন কুষ্টিয়ার রুহান মাহমুদ। ২১ বছরের এই যুবক গত ৪ঠা আগস্ট ডান চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চাকরি পেয়েও যোগদান করতে পারেননি। রুহান বলেন, গুলি লাগার পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে তেমন কোনো চিকিৎসাই পাইনি। ৪ঠা আগস্ট রাতেই আমি এই হাসপাতালে ভর্তি হই। কিন্তু ৫ই আগস্ট যখন ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে তখন আমিও তাদের সঙ্গে যোগ দিই। চোখে ব্যান্ডেজ নিয়েই গাবতলী চলে যাই। কেউ ঠেকাতে পারেনি সেদিন। কিন্তু এতকিছু করার পরও আজ তিন মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে পড়ে আছি। দশ মাস বয়সে বাবা মারা গেছে, ৮ বছর বয়সে মা আরেকজনকে বিয়ে করেছে। নানা বাড়ি মানুষ। দেখার কেউ নেই। এক আন্টি আছে। সেই এর-ওর কাছ থেকে লাখ তিনেক টাকা ধার-দেনা করে আমার পেছনে খরচ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে যেই এক লাখ টাকা দিয়েছিল তাতে কিছুই হয়নি। তিনি বলেন, আমরাও এই পৃথিবীর আলো দেখতে চাই। সুস্থ হয়ে বাঁচতে চাই। আমাদের এক ছোট ভাই ইন্ডিয়া থেকে চিকিৎসা করিয়ে এসেছে। তার চোখ ভালো হয়ে গেছে। তাই আমরাও চাই আমাদেরও বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হোক।

এদিকে গত ৪ঠা আগস্ট গাজীপুর আনসার একাডেমির সামনে ডান চোখে গুলিবিদ্ধ হন ১৯ বছরের যুবক মো. আল-আমিন। তিনি বলেন, আমার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় হলেও আমি গাজীপুরের এভরি ফুটওয়ারে ডিজাইনারের কাজ করতাম। ৬ ভাই ও এক বোনের সংসার চালানোর জন্য গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতাম। দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হলে আমিও ওই আন্দোলনে যোগ দিই। পুরো আন্দোলনে তেমন কিছু না হলেও ৪ তারিখে আমার ডান চোখে পুলিশের গুলি লাগে। এরপর স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর গত ৭ই আগস্ট এখানে ভর্তি হই। তখন থেকেই এই পি.বি-১৫ নম্বর বেডে ভর্তি। এখন পর্যন্ত আমার চোখে তিনবার অপারেশন করা হয়েছে। তারপরও ডাক্তার বলেছে আর কোনো দিন চোখে দেখবো না। উল্টো চিকিৎসা করাতে এসে লাখখানেকের বেশি টাকা খরচ হয়ে গেছে। তবুও কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। চাকরিটাও চলে গেছে। এখন সারা জীবন কীভাবে কাটাবো তাই ভেবে হতাশ।

আল-আমিনের সঙ্গে আন্দোলনে গিয়ে গাজীপুরে একইদিন ৪ঠা আগস্ট ডান চোখে গুলিবিদ্ধ হন তার সহকর্মী সোহেল রানা। চোখে গুলি লাগার পর তার চাকরি চলে গেছে। নিজের চিকিৎসা করাতে এসে বউ-বাচ্চা নিয়ে তিনিও বিপদে। সোহেল রানা বলেন, মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করতে করতে আর কেউ টাকা দিতে চাই না। কোনো সরকারি সহায়তাও পাইনি। কীভাবে যে আমাদের দিন পার হচ্ছে তা শুধু আমরাই জানি। সরকারের কাছে অনুরোধ- বিদেশে নিয়ে গিয়ে আমাদের উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে চোখের আলো ফিরিয়ে আনুন।

পি.বি-১৬ নম্বর বেডে গত ২১শে জুলাই থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের অটোরিকশাচালক কেশব ঋষি। পেটের দায়ে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে গত ১৯শে জুলাই নিজ এলাকায় বাম চোখে গুলিবিদ্ধ হন এই যুবক। কেশব বলেন, মাত্র সাত মাস আগে আমার বাবা মারা যান। দুই বোন, এক ভাইয়ের মধ্যে বড় বোন বিয়ের পর অন্যত্র থাকে। এখন আমি, আমার স্ত্রী, পাঁচ বছর বয়সের ছেলে, ছোট ভাই, এক বোন ও মাকে নিয়ে আমার সংসার। অটো চালিয়ে যে টাকা আয় করতাম তাই দিয়েই আমাদের ৬ জনের সংসার চলতো। এখন গুলি লাগার পর পুরো সংসার ভেঙে পড়েছে। বাধ্য হয়ে দশ বছরের ছোট্ট ভাই অন্যের দোকানে কাজ নিয়েছে। উপরন্তু আমার চিকিৎসা ব্যয় যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িছে। দেড় লাখ টাকার ওপরে খরচের পরও কোনো সরকারি সহায়তাও পাইনি।

এদিকে সরকার পরিবর্তনের দিন গত ৫ই আগস্ট কুষ্টিয়া সদরে ডান চোখে গুলিবিদ্ধ হন মো. কুরবান হোসেন হিল্লোল। তিনি বলেন, আমার পরিবারকে আমাকেই চালাতে হয়। আমি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এতদিন হাসপাতালে পড়ে আছি কেউ খোঁজ নেয়নি। তিনি বলেন, এসি রুমে বসে, দামি দামি গাড়িতে চড়ে, লাখ টাকার ফোন চালিয়ে কেউ আমাদের কষ্ট বুঝবে না। আন্দোলনের এতদিন পরে এসেও আমাদের আজ রাস্তায় দাঁড়ানো লেগেছে। তিনি বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিইনি। আমরা ভিক্ষা নেয়ার জন্য আন্দোলন করিনি। আমরা আমাদের ভাইদের উন্নত চিকিৎসা চাই। একইসঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের পুনর্বাসনের দাবি জানায়। হিল্লোল, রুহান, আল-আমিন, কেশব, সোহানের মতো রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে এখনো চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪৬ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের কেউ এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। কেউ আবার সারা জীবনের মতো নিজের দুই চোখেরই জ্যোতি খুইয়েছেন। এদের বেশির ভাগেরই দেশের চিকিৎসা শেষে জানানো হয়েছে- তারা আর কোনোদিনও চোখে দেখবেন না। সারা জীবনই তাদেরকে চোখের মধ্যে বুলেট বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে।

এসব বিষয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে আমাদের রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। বিদেশ থেকে চিকিৎসক এসে পর্যন্ত আমাদের রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন। বেশির ভাগ রোগীরই একাধিকবার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এখন যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই চেকআপের জন্য আসছেন। আমাদের সাধ্যমতো যা যা করার দরকার তাদের জন্য আমরা করে যাচ্ছি। এর বেশি আমাদের হাতে নেই। 

mzamin

কলকাতা কথকতা: আতঙ্ক শুধু দিল্লি নয়, দূষণে জেরবার কলকাতা-হাওড়াও by সেবন্তী ভট্টাচার্য্য

আতঙ্ক কি শুধু দিল্লি নিয়েই? একিউআই-এর মাত্রা বলছে দূষণে জেরবার শহর কলকাতাও। কলকাতার বেশকিছু জায়গায় মাত্রা ছাড়িয়েছে বাতাসের দূষণ। দূষণ সূচকে  কলকাতা পৌঁছে গিয়েছিল ২২৮-এ। অন্যদিকে কলকাতা পার্শ্ববর্তী হাওড়া জেলার শিবপুরে দূষণ সূচক সর্বোচ্চ ২৮৯-এ পৌঁছেছিল।   কলকাতা লাগোয়া সব প্রধান এলাকায় দূষণ সূচক সারাদিন ধরেই ছিল বিপদ সীমার উপরে। বাতাসের গুণগত মানের সূচক হল একিউআই। একিউআই কোথায় ভাল, কোথায় খারাপ বা অত্যন্ত খারাপ- তা নিয়ে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (সিপিসিবি) নির্দেশিকা রয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী, বাতাসের গুণগত মানের সূচক যদি শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে তা হলে তা ভাল পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। ৫১-১০০ সন্তোষজনক, ১০১-২০০ সামান্য খারাপ, ২০১-৩০০ খারাপ, ৩০১-৪০০ খুব খারাপ, ৪০১-৫০০ অতি ভয়ানক।

ইতিমধ্যেই দিল্লির দূষণ উদ্বেগ বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। দিল্লিতে দূষণ তো আছেই, দোসর হচ্ছে ঘন ধোঁয়াশাও। ফলে দৃশ্যমানতা নামছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ধোঁয়াশার দাপট তেমন না দেখা গেলেও, শহর কলকাতার বাতাস কতটা নিরাপদ সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। কলকাতার মূলত সাতটি এলাকার দূষণ পরিমাপ করে সিপিসিবি। তার মধ্যে রয়েছে, বালিগঞ্জ, বিধাননগর, ফোর্ট উইলিয়াম, যাদবপুর, রবীন্দ্র সরোবর, ভিক্টোরিয়া এবং রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।

কলকাতার সাতটি এলাকার মধ্যে দু’টিতে অর্থাৎ ফোর্ট উইলিয়াম এবং বালিগঞ্জে বাতাসের গুণগত মানের সূচক যথাক্রমে ২২৭ এবং ২০৩। যা খারাপ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। তবে শহরের বাকি পাঁচ এলাকার বাতাসের গুণগত মানের সূচক ১০০-র উপরে কিন্তু ২০০-র নীচে। এদিকে হাওড়ার শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের বাতাসের স্বাস্থ্য উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সাধারণের মধ্যে। পরিবেশ প্রযুক্তিবিদ সৌমেন্দ্র মোহন ঘোষ বলছেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনে এত গাছ থাকা সত্বেও, সবুজ ক্ষেত্র থাকা সত্বেও বাতাসের দূষণের মাত্রা বড় চিন্তার বিষয়। এতে গাছগুলিও ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মত তাঁর।

mzamin

বিএনপি’র মামলা বাণিজ্যের ঘটনায় উত্তপ্ত রংপুর by জাভেদ ইকবাল

রংপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দলের পরিস্থিতি। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে শুরু হয়েছে তোলপাড়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে হতাহতকে ঘিরে বিএনপি’র বিরুদ্ধে নিরীহ, নিরপরাধ মানুষজনকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও বাণিজ্যের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে নগরবাসী। ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিক রবিউল ইসলাম বলেন, দেশ থেকে এক চোরকে তাড়িয়ে এখন ডাকাতের হাতে পড়েছি। বিব্রতবোধ করে খোদ ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদলের সাবেক কারমাইকেল কলেজের জিএস বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম মিজুসহ একাধিক নেতাকর্মীরা। তারা মানবজমিনকে বলেন, দু’চারজনের জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে গতকাল রংপুর মহানগর বিএনপি আহ্বায়কের মামলা বাণিজ্যের প্রতিবাদ করায় রোষানলে ফেলে মিথ্যা অপ-প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাওছার জামান বাবলা। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৩ই নভেম্বর বিএনপিকর্মী মামুনুর রশীদ মামুন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় বাদী হয়ে ১৮১ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।

আওয়ামী লীগ ছাড়া নিরীহ, নিরপরাধ মানুষসহ রংপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলার বাসিন্দাদের মামলার বাদী কেন করা হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে মামুন জানান- তিনি ২৫ জনের নাম দিলেও মহানগর আহ্বায়ক সামাসুজ্জামান সামু অন্যদের আসামি করে মামলায় সই করাতে বাধ্য করেন। এ কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি বলেন, বিএনপি নেতা সামু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি চালানো মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার, উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেনসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়েছেন। কাওছার জামান বাবলা বলেন, বিএনপি’র রাজনীতি করার কারণে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমি তাজহাট ও ডিবি অফিস পোড়ানোর মামলায় জেল খেটেছি। বিএনপি’র আহ্বায়ক সামু তো জেল খাটে নাই। রংপুর, ঢাকা, খুলনায় আমার বিরুদ্ধে ৭টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। বিএনপি করার কারণে খুলনায় আমার জুটমিল দখল হয়েছে। অথচ প্রতিপক্ষ বলে দলে আমার কোনো অবদান নাই। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মাহিগঞ্জের পরেশনাথ মন্দিরের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রামকৃষ্ণ সোমানী, সহ-সভাপতি বরুণ কান্তি সাহা, বিকাশ চন্দ্র মহন্ত, মহানগর বিএনপি’র সদস্য সেলিম চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। এর আগে মিথ্যা অভিযোগ, হয়রানি ও মামলা বাণিজ্যের হোতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে হুঙ্কার দিয়েছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুরুন্নবী ফুলু।

এক  সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের বলেন, আমি সাবেক রংপুর পৌরসভা ও বর্তমান রংপুর সিটি কর্পোরেশনের পরপর পাঁচবার নির্বাচিত কাউন্সিলর। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ওয়ার্ডবাসীকে সেবা দিয়ে আসছি। আমি কখনও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, বর্তমানেও নেই। অথচ গত ১৯শে জুলাই রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতের ঘটনায় মামুনুর রশীদ মামুন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যেখানে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ রংপুর নগরী, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলার ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলায় আমাকে ১৪৭ নং আসামি করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে আমার অংশগ্রহণ ছিল না, যা ওয়ার্ডবাসী সকলেই অবগত রয়েছেন। ফুলু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি মামলার বাদী মামুনুর রশীদ মামুন বিএনপি করেন এবং রংপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু এ মামলার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে হয়রানিসহ অবৈধ সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে আমাকে জড়িয়েছে। তিনি কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ নভেম্বরের মধ্যে আমার নাম প্রত্যাহারসহ আমার মতো নিরপরাধ, নিরীহ মানুষের হয়রানি বন্ধ না হলে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। উল্লেখ্য, রংপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে বিএনপি কার্যালয়ে মহানগরের আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

mzamin


দুদক এখন নেতৃত্বশূন্য: দুদকে অদৃশ্য ভূত, ঝুলে থাকে মামলা-অনুসন্ধান by মারুফ কিবরিয়া

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এখন নেতৃত্বশূন্য। চেয়ারম্যান নেই, দুই কমিশনারের দপ্তরের চেয়ারও ফাঁকা। তবে পদগুলো পূর্ণ করতে কাজ চলমান। শিগগিরই চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ দেয়া হবে। কমিশনশূন্য হওয়ায় দুদকের কর্মকর্তারা অনেকেই এখন তেমন কাজ করছেন না। সূত্র জানায়, সংস্থাটিতে এ মুহূর্তে কয়েক হাজার অভিযোগ অনুসন্ধান ও মামলা তদন্তের কাজ কর্মকর্তাদের হাতে রয়েছে। যা বছরের পর বছর চলতেই থাকে। সূত্র বলছে, অনেক কর্মকর্তা সঠিকভাবে কাজগুলো শেষ না করার কারণে এসব অনুসন্ধান-তদন্ত কার্যক্রম অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়ে যায়।

একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, নতুন কমিশনকে দায়িত্ব নিয়েই পড়তে হবে পুরনো অনুসন্ধান ও মামলার চক্রে। ফলে নতুন করে অনুমোদন হওয়া অনুসন্ধানগুলোর ওপরও পড়বে নেতিবাচক প্রভাব।

দুদকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন কমিশন না থাকায় অনেক কাজই থমকে আছে। তাদের দাবি, কাজ না থাকায় অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে অফিস করছেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, এখন অনেক কর্মকর্তাই অফিসে আসছেন ঠিকই। কিন্তু কাজ না থাকায় খোশগল্পে দিন পার করেন।
অবশ্য দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, কমিশনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত জনিত কার্যক্রম ছাড়া সব স্বাভাবিক থাকার কথা। কারণ দুদকের এমনো অনুসন্ধান রয়েছে যা বছরের পর বছর কেটে গেলেও শেষ হয়নি। এ ছাড়া অনেক তদন্তও আছে যেগুলো নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও চার্জশিট দেয়া বাকি রয়ে গেছে। এসব কাজ প্রায় সব কর্মকর্তার হাতেই রয়েছে। এই যে একটা সময় যাচ্ছে, নতুন অনুসন্ধানের চাপ নেই, তদন্তের চাপ নেই এখন তো করতেই পারে।

দুদক সূত্র বলছে, দুদকের পুরনো এসব অনুসন্ধান-তদন্ত সময় মতো শেষ না হোক তা অনেক কর্মকর্তাই আগ্রহ প্রকাশ করেন না। এতে নতুন একটি কমিশন আসলে তাদের ঘাড়েই পুরনো অনুসন্ধানের চাপ পড়ে।  
সূত্রমতে, এ মুহূর্তে দুদকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নিম্ন আদালতে মোট ৩ হাজার ৩৭৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে ২ হাজার ৯৪৪টি মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান আছে। হাইকোর্টের আদেশে ৪৩০টি মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বর্তমানে উচ্চ আদালতের ৭৪৬টি রিট, ৯১৪টি ফৌজদারি বিধির মামলা, ১ হাজার ২৪৫টি ক্রিমিনাল আপিল মামলা ও ৭০৭টি ফৌজদারি রিভিশন মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে  দুদকে বর্তমানে ৪ হাজার ৪২৮টি অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় হাজারখানেক যোগ হয়। চলতি বছরও পাঁচ শতাধিক অনুসন্ধান আমলে নেয়া হয়েছে। অথচ এসব অনুসন্ধানের জন্য নির্ধারিত সময় ৪৫ দিন দেয়া হলেও  অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘায়িত করেন। ফলে কোনো কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান বছরও পার হয়।
বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২০২২ সালের নিয়োগ পাওয়ার পর উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক ও উপ-সহকারী পরিচালক মিলিয়ে চার শতাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন। যাদের দায়িত্বে রয়েছে কোনো না কোনো অনুসন্ধান-তদন্ত।  কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল থাকা সত্ত্বেও সঠিক সময়ে কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয় না বলে দাবি করেছেন দুদকের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুদকের কর্মকর্তাদের প্রত্যেকেরই মাসে একটি করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু  ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে দুদক বছর জুড়ে ৪০৪টি মামলা করেছে। অর্থাৎ চার শতাধিক কর্মকর্তা গড়ে একটি করে মামলা করেছেন। এর মধ্যে একজন কর্মকর্তাই রয়েছেন যার হাত দিয়ে তিন বা তার বেশিসংখ্যক মামলা হয়েছে।

যা বলছেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা: দুদকের অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমে ধীরগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক পর্যায়ের তিন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেছেন, একেকজন কর্মকর্তার কাছে তিন থেকে পাঁচটির মতো অনুসন্ধান থাকে। এর মধ্যে অনেক পুরনো তদন্ত তো থাকেই। এসব কার্যক্রম চালাতে গিয়ে সময়মতো তথ্য না পাওয়াসহ নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয় তাদের। এ ছাড়া কোনো কর্মকর্তার বদলিজনিত কারণে তার হাতে থাকা ফাইলও আরেকজনের ঘাড়ে আসে। ফলে নানামুখী সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব হয় না। তবে তাদের বক্তব্য অনুযায়ীও সমস্যা হলে তার সমাধান দুদকের বিধিতে রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা যদি চাপ অনুভব করেন বা একাধিক কাজ করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন সেক্ষেত্রে কমিশনকে অবহিত করতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, বিধি অনুযায়ী অনেক কাজ থাকলে কমিশনকে জানানোর কথা থাকলেও তা জানানো হয় না। বিষয়টি অনেক সময়ই কমিশন ভালো দৃষ্টিতে দেখে না। এ কারণে কর্মকর্তারা নীরবে সব সয়ে যান।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, বিষয়গুলো কর্মকর্তাদের। এখানে আমার কোনো মন্তব্য নেই। আপনি নতুন কমিশন এলে তাদের কাছে জানতে পারবেন।

mzamin

সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ

সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ। ২১শে নভেম্বর স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি মহান দিন। বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করে ১৯৭১ সালের এই দিন থেকে। প্রতি বছরের মতো এবারো যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদ্‌যাপিত হবে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশের সকল সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদসমূহে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি, সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর   শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান উপদেষ্টা আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল  মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তার জন্য নির্ধারিত নিজস্ব কার্যালয়ে তিন বাহিনী প্রধানগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন এবং কিছু সময় অতিবাহিত করে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরবর্তীতে বাহিনী প্রধানগণ বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৪’ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে নির্বাচিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরাধিকারীগণকে সংবর্ধনা প্রদান করবেন। এ সময় খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শুভেচ্ছা স্মারক বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক), সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকবেন।

দিবসটি উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বিকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এ সংবর্ধনায় উল্লেখযোগ্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিগণ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, প্রধান উপদেষ্টাগণ, উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতগণ, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ, বিচারপতিগণ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, বাহিনীত্রয়ের প্রাক্তন প্রধানগণ, প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তাগণ, স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কগণ, স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীরশ্রেষ্ঠের উত্তরাধিকারীগণ, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/তাদের উত্তরাধিকারীগণ, উচ্চপদস্থ অসামরিক কর্মকর্তাগণ এবং তিন বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ।

ঢাকা ছাড়াও বরিশাল, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর ও খুলনা সেনানিবাস/ঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট এরিয়া সদর দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে গতকাল বাংলাদেশ টেলিভিশন রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর সশস্ত্র বাহিনীর পরিবেশনায় ‘‘বিশেষ অনির্বাণ’’ অনুষ্ঠান সমপ্রচার হয়। এছাড়া ২১শে নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাংলাদেশ বেতার ‘‘বিশেষ দুর্বার’’ অনুষ্ঠান সমপ্রচার করবে। টেলিভিশনের জন্য নির্মিত ‘‘বিশেষ অনির্বাণ’’ অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলসমূহেও পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সমপ্রচারিত হবে। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসমূহে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

mzamin

‘ভীতি প্রদর্শনের’ অভিযোগ এস আলমের: বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া শুরুর হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলমের বিরুদ্ধে ‘ভীতি প্রদর্শন’ করছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এই শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে তার মর্যাদা তাকে সুরক্ষা প্রদান করবে। এ বিষয়ে এস আলম আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে এক চিঠিতে অবগত করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

এতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমটিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শাসনামলে দেশ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা (১০ বিলিয়ন ডলার) পাচার করেছেন সাইফুল আলম। হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব পান আহসান মনসুর। তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক একজন কর্মকর্তা। গত মাসে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি। সেসময় মনসুর বলেছিলেন, সাইফুল আলম এবং তার সহযোগীরা গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তার মাধ্যমে অর্থ পাচার করেছেন। এস আলম গ্রুপ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের প্রধান কয়েকটি ব্যাংকের দখল নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। তবে এই অভিযোগ নাকচ করেছেন আলম। আহসান মনসুরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এস আলম পরিবারের পক্ষে বাংলাদেশ গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়েছে আইনি প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল উর্কুহার্ট অ্যান্ড সালিভান। যার একটি অনুলিটি পেয়েছে দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। তাতে অভিযোগ করা হয়, গভর্নর আহসান মনসুর এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে ভিত্তিহীন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের অভিযোগকে এস আলমের বিরুদ্ধে ‘ভীতি প্রদর্শনমূলক’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাইফুল আলমসহ তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং তার ছেলে আশরাফুল আলম এবং আসাদুল আলম মাহির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় গভর্নরের কাছে এই চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের মন্তব্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মন্তব্য হিসেবে গণ্য হবে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের বিদেশি বেসরকারি আইন অনুসারে সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে এস আলম ও তার পরিবারের অধিকার ও সুরক্ষা আছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু আন্তর্জাতিক সালিশি মামলা নয়, প্রয়োজনে অন্যান্য ব্যবস্থাও নেয়া হবে। আন্তর্জাতিক সালিশি মামলার হুমকি হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় অভিঘাত বলে বর্ণনা করেছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

চিঠিতে উল্লেখিত সাইফুল আলম এবং তার পরিবারের সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। সাইফুল আলমের আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল উর্কুহার্ট অ্যান্ড সালিভান এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি। সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রীয় দপ্তরও নাগিরকত্বের বিষয়টিতে সাড়া দেয়নি। তারা এখনো বাংলাদেশের নাগরিক কি না, তাও জানা যায়নি। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে ২০০৪ সাল থেকে একটি দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে। আহসান মনসুরের কাছে এস আলমের চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাক্ষাৎকারে মনসুর যে দাবি করেছেন তা শতভাগ প্রমাণিত। তবে আলমের দুর্নীতির বিষয়টি অনেক বড় হওয়ায় এই সংক্রান্ত নথি তৈরিতে কিছুটা সময় লাগছে। 

mzamin

সৌদি আরব যেভাবে হচ্ছে ‘পাপের রাজধানী’

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফকে হটিয়ে ২০১৭ সালে সৌদি আরবের রাজপরিবারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন মোহাম্মদ বিন সালমান। সে সময় রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে যুবরাজের সকল ক্ষমতা তার ওপর ন্যস্ত করেন তার বাবা সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ।

এরপরই সৌদি আরবের খোলস পাল্টে দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত এই যুবরাজ। রক্ষণশীল সৌদি সমাজে আসে একের পর এক অবিশ্বাস্য পরিবর্তন। সমালোচকরা বলতে শুরু করেন আধুনিকতায় গা ভাসাতে গিয়ে পাপের রাজধানী হয়ে উঠছে ইসলামের এ পুণ্যভূমি।

যুবরাজের পাশাপাশি সৌদি আরবের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে সৌদি আরবকে বের করে আনতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন বিন সালমান। যার শুরুতেই বলা যায় পর্যটন উন্মুক্ত করা। শুধু তাই নয় পর্যটন আকৃষ্ট করতে ভিশন ২০৩০-এর আওতায় সৌদিতে সিনেমা হল ও ‘নাইট ক্লাব’ চালু করা হয়েছে। চলতি বছর দেশটিতে চালু করা হয়েছে মদের বার, যদিও এখানে প্রাথমিকভাবে অমুসলিম কূটনৈতিক ব্যক্তিরা প্রবেশ করতে পারবেন।

বর্তমানে আরব বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সিনেমা হল রয়েছে সৌদি আরবে। যার থেকে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশটি আয় করেছে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি! এসবের মধ্যেই দেশটিতে অবাধে প্রবেশ করছে পশ্চিমা সংস্কৃতি। ইদানিং সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট আয়োজন একেবারেই ডালভাতে পরিণত হয়েছে, যা এক দশক আকে কল্পনাতেও আনা যেত না।

সমালোচনা উসকে দিয়ে সম্প্রতি দেশটিতে পালন করা হয়েছে হ্যালোইন। যাতে সৌদি আরবের নারী ও পুরুষদের বিভিন্ন অদ্ভূত সাজে অংশ নিতে দেখা যায়। রক্ষণশীল নাগরিক ও ধর্মবেত্তারা বলছেন এ ধরণের অনুষ্ঠান ইসলাম ও সৌদি সংস্কৃতির সঙ্গে একেবারেই বেমানান। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে সমালোচনায় মেতে উঠেন সৌদি নাগরিকরা।

সম্প্রতি আরও একটি আপত্তিকর কাণ্ড ঘটেছে মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি অধ্যুষিত দেশটিতে। রাজধানী রিয়াদে লেবানিজ ফ্যাশক আইকন এলি সাব নির্দেশনায় আয়োজন করা হয় জমকালো এক ফ্যাশন শো’র। এতে মুসলিমদের পবিত্র কাবা শরীফের আদলে তৈরি করা হয় মঞ্চ, যার সামনে নাচ পরিবেশ করেন প্রায় অর্ধনগ্ন শিল্পীরা। এরপরই বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনায় মেতে উঠেন মুসলিমরা।

সৌদি আরবের মঞ্চে জেনিফার লোপেজের পারফরম্যান্স। ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের মঞ্চে জেনিফার লোপেজের পারফরম্যান্স। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রসহ চার দেশের দূতাবাস বন্ধ: কিয়েভে বিপদ সংকেত ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা by মোহাম্মদ আবুল হোসেন

ভয়াবহ এক যুদ্ধের আশঙ্কা। আতঙ্কে দৃশ্যত কাঁপছে ইউরোপ। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, গ্রিস ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়ার পর পরই কিয়েভে সাইরেন বাজানো হয়েছে। তার কিছু সময় পরে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে ‘এন্টি-পারসোনেল’ স্থলমাইল দিতে রাজি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক সহায়তা কর্তন করে তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধে হেরে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গাজা, লেবানন, ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তা এখনো বিদ্যমান। কিন্তু তাকে যেন অতিক্রম করে গেছে রাশিয়ার ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের হামলা। এটাকে শুধু একটি হামলা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর বদলা নেয়ার হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এমনকি তিনি পারমাণবিক অস্ত্রও ব্যবহার করতে পারেন। যদি সেটাই করেন, তাহলে এই উত্তেজনা, এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বময়। শুরু হতে পারে প্রলয়ঙ্ককরী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। রাশিয়া যদি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার জবাব দেয়, তাহলে তার পশ্চিমা শত্রুরাও বসে থাকবে না। ফলে নতুন করে বিশ্ব অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে  পারে। এমন অবস্থায় যেমন যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন, তেমনি আতঙ্কে শঙ্কায় ভুগছে ইউরোপ। এমন আতঙ্কে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অস্থায়ী সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

২০শে নভেম্বর বিরাট আকারে আকাশপথে রাশিয়া হামলা চালাবে বলে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কন্স্যুলার অ্যাফেয়ার্স বলেছে- প্রচুর পরিমাণে সতর্কতার জন্য দূতাবাস বন্ধ থাকবে। দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। সারাবিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম এখন রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন যুদ্ধ। এর কারণ, এই যুদ্ধ শুরু হলে পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। তিনি এসব অস্ত্র ব্যবহারের ওপর থেকে নিজের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার প্রশাসন এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ দেয়া অস্ত্র রাশিয়ার ভেতরে ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছেন তিনিও। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে হামলা করেছে ইউক্রেন। তাতে অন্তত একটি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বেশ কিছু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইউক্রেনকে ‘এন্টি-পারসোনেল’ স্থলমাইন দিতে চাওয়াকে বাইডেন প্রশাসনের একটি বড় ভুল বলে অভিহিত করেছেন বিশ্বনেতারা। ব্রাজিলে জি২০ শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফিরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন, শুরু থেকেই আমরা বিশ্বাস করে এসেছি যে- আরও অস্ত্র, আরও রক্তপাত, আরও কান্না, আরও শান্তি প্রচেষ্টা, আরও সদিচ্ছা ও কূটনীতি ছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শেষ হবে না। ইউক্রেনকে স্থলমাইল দেয়ার সিদ্ধান্তকে বাইডেন প্রশাসনের বড় ভুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের রশদ সরবরাহ দেয়া হবে। ওদিকে উত্তেজনা প্রশমিত করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নতুন নীতির অধীনে ইউক্রেনের হামলার বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়া। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ‘বিশ্বাসযোগ্য’ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাঁপছে পুরো ইউরোপ। পশ্চিমা কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ার ধাক্কা শুধু ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রকে নয়, কাঁপিয়ে দেবে বিশ্বকে। রাশিয়া কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা নিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে যেসব মানুষকে তাদের মতে, ইউরোপে তারা স্যাবোটাজ ঘটাতে পারে, হত্যাকাণ্ড চালাতে পারে, অথবা মধ্যপ্রাচ্যে ও ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষকে আরও অস্ত্র সরবরাহ দেয়ার পথকে সুগম করবে। মঙ্গলবার রাশিয়ার যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে ব্রাসেলসে মিটিং করেছেন ইউরোপিয়ান মন্ত্রীরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তারা যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপিয়ান নিরাপত্তা বিষয়ক স্থাপনায় পর্যায়ক্রমিকভাবে আক্রমণের জন্য রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেছেন। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ইউরোপ এবং বিশ্ব জুড়ে হাইব্রিড যুদ্ধ চালাচ্ছে রাশিয়া। এর জন্য আমরা বিশ্বাসযোগ্যভাবে সচেতন। ইউরোপিয়ান মিত্র, বিশ্ব জুড়ে অন্য মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা নিয়ে আমরা কাজ করছি। সম্প্রতি বাল্টিক সাগরে সমুদ্রের তলদেশে দু’টি ফাইবার-অপটিক যোগাযোগ বিষয়ক ক্যাবলে স্যাবোটাজের প্রসঙ্গ তুলে ম্যাথিউ মিলার বলেন, এরকম আরও কোনো কর্মকাণ্ড চালালে তার জন্য রাশিয়াকে জবাবদিহিতায় আনা হবে। কিন্তু যতটা উত্তেজনা এই মুহূর্তে আছে, সম্ভবত তার ফাঁদে পা দেবেন না পুতিন। এরও কারণ আছে। যুক্তরাষ্ট্রে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দৃশ্যত তার সম্পর্ক ভালো। বিখ্যাত সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড-এর মতে ২০২১ সালে ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর কমপক্ষে সাতবার পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি এবার নির্বাচিত হওয়ার পর পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ২০শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন ট্রাম্প। পুতিন হয়তো সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন। তিনি হয়তো ট্রাম্পের নির্দেশনার অপেক্ষা করবেন। এরই মধ্যে রাশিয়ার প্রতিপক্ষ ইউক্রেনকে দেয়া সহায়তা কমিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি একটি শান্তিচুক্তি করার কথা বলেছেন, যা খুব বেশি রাশিয়ার পক্ষে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ক্ষেপণাস্ত্র অ্যাটাকম প্রথম ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে হামলা করে ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, তা আঘাত করেছে রাশিয়ার একটি অস্ত্রের গুদামে। রাশিয়া অবশ্য বলেছে সরাসরি আঘাত করতে পারেনি ওই ক্ষেপণাস্ত্র। ৬টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে তারা ৫টিকে আকাশেই নিষ্ক্রিয় করেছে। অন্যদির ধ্বংসাবশেষ ওই অস্ত্রের গুদামে পড়ে তাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই অঞ্চলটি কুরস্ক অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিমে। ব্রায়ানস্কে হামলার বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত করেননি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, এখন আমাদের আছে অ্যাটাকম। এটি ইউক্রেনের দূরপাল্লার সক্ষমতা। সেটা ব্যবহার করবো আমরা। তবে হামলার উপযুক্ত জবাব দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। আগেই পুতিন বলেছেন, তাদের এই জবাব ওয়াশিংটন ও ন্যাটোতে তার মিত্রদের জন্য হবে ভয়াবহ এক হামলা। এই হামলা থেকে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে যে নিয়মকানুন মেনে চলে রাশিয়া তাকে রিভাইজ করে একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন পুতিন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়ায় ওই হামলার খবর প্রচার হয়। কিন্তু রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তকে হেয় করে দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাদের এই রিভিশন চলছিল। কিন্তু রাশিয়ার পারমাণবিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাশিয়া যে বিবৃতি দিয়েছে তার প্রেক্ষিতে আমাদের পারমাণবিক অবস্থান নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার কোনো কারণ পাইনি। রাশিয়ার নতুন পারমাণবিক মতবাদের কারণে ইউক্রেনকে সমর্থন দেয়া থেকে বিরত থাকবেন না বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। ব্রাজিলে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, রাশিয়া থেকে দায়িত্বহীনের মতো বাগাড়ম্বরতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে ইউক্রেনকে আমাদের সমর্থন কমে যাবে না। কিন্তু পর্দার আড়ালে অন্য দৃশ্য। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হামলার হুমকি নিয়ে আলোচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান কর্মকর্তারা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর এই ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। বৃটেন ও ইউরোপিয়ান মন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, রাশিয়ার হাইব্রিড হামলা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের ভিন্নতা, অভূতপূর্ব ভয়াবহতা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। পলিটিকোকে ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যান্টি হাক্কানেন বলেছেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে হলে আরও অনেক কিছু করতে হবে ন্যাটো ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে। এ মাসের শুরুর দিকে ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুত্তি’র কণ্ঠেও একই রকম শঙ্কার কথা শোনা গেছে। তিনি বলেছেন, ক্রমবর্ধমান হারে হাইব্রিড হামলা পরিচালনা করছে রাশিয়া। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই যুদ্ধ (রাশিয়া-ইউক্রেন) এখন শুধু ইউক্রেনের মধ্যেই নেই। এর ফ্রন্টলাইন ক্রমশ বাল্টিক অঞ্চল, পশ্চিম ইউরোপ এবং আরও উত্তরের দিকে সীমান্ত অতিক্রম করে বহমান। সম্প্রতি বাল্টিক সাগরে যে ক্যাবল নেটওয়ার্কে ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এতে যে ক্ষতি হয়েছে তা স্যাবোটাজ বলে মনে হচ্ছে মঙ্গলবার এমন দাবি করেছেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিসটোরিয়াস। তিনি বলেন, কেউই বিশ্বাস করেন না যে- ওই ক্যাবল দুর্ঘটনাক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমিও বিশ্বাস করতে চাই না যে, কোনো জাহাজের নোঙর আকস্মিকভাবে এই ক্ষতি করেছে। এর ফলেই রাশিয়া সীমান্তের ভেতরে অ্যাটাকমস ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন এর প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় মদতে ক্রমবর্ধমান হামলা দেখতে পারে ইউরোপ। এর মধ্যে রয়েছে স্যাবোটাজ, অগ্নিসংযোগ, হত্যাকাণ্ড, সামরিক ঘাঁটিতে, পরিবহন ও টেলিকম বিষয়ক অবকাঠামোতে হামলা। মস্কো এভাবে যদি হাইব্রিড যুদ্ধ চালায় তাহলে তা মোকাবিলার জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মোটেও প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপিয়ান সাবেক একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। সাবেক ওই কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়ার ওই স্যাবোটাজমূলক হামলা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় রিসোর্সের ঘাটতি আছে ইউরোপের।

ঘটনা পরিক্রমা এখানেই থেমে থাকবে না। স্যাবোটাজ নানাভাবে করতে পারে রাশিয়া। তার মধ্যে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি যুদ্ধে লিপ্ত মিত্রদের দেয়া সহায়তা বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি এবং লেবাননের হিজবুল্লাহকে।  ফলে একদিকে যখন রাশিয়া হাত দেবে, তখন তাকে মোকাবিলা করা খুবই কঠিন হবে এবং তা নতুন ধরনের একটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা করে যে অপরাধ করছে, তার চেয়ে গাজায় কী ইসরাইল কম অপরাধ করছে? গাজায় যে পরিমাণ মানুষকে ইসরাইল গণহত্যা চালিয়েছে, তা কী বিশ্বের আরও কোথাও এত অল্প সময়ে হয়েছে? হামাসকে নির্মূল করার নাম করে পুরো গাজাকে, পশ্চিমতীরকে পুরোপুরি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছে ইসরাইল। সেখানকার ছোট্ট শিশু, নারী, পুরুষ- কারও আর্তনাদ বাইডেন প্রশাসন সহ পশ্চিমাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করে না। দ্বৈতনীতির এই বিশ্বে তাহলে কীভাবে মানবতা বেঁচে থাকে!

ঝাড়খণ্ডে মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করছে বিজেপি by আব্দুল কাইয়ুম

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডের বাদা সনকাদ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুর। তিনি একজন কৃষক। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাটিতে তাকে তার বন্ধুদের সঙ্গে বেশ ক্ষুব্ধ অবস্থায় চায়ের দোকানে বসে থাকতে দেখা যায়। তবে প্রশ্ন হচ্ছে কেন বিক্ষুব্ধ ৪৬ বছর বয়সী এই লোকটি। মূলত তাকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। গফুর বলেন, কে বলে আমি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী? আমার কথা শোনো, আমরা ভারতের নিবন্ধিত নাগরিক। এ পর্যন্ত আমাদের কতো প্রজন্ম যে এই মাটিতে শায়িত হয়েছেন তা আল্লাহই ভালো জানেন। অনুপ্রবেশকারী বললে পূর্বপুরুষদের অপমান করা হয় বলেও জানিয়েছেন গফুর। তার পাশে বসে থাকা সকলেই তার মতো মুসলিম সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী। তারাও সকলে কৃষি কাজ করেই জীবন পরিচালনা করছেন। আব্দুল গফুর অন্য সকলের মতোই একজন ভারতীয় মুসলিম নাগরিক। ঝাড়খণ্ডের ওই অঞ্চলে তার মতোই আরও বহু মুসলিম নাগরিকের বসবাস। যাদের কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিজেপি’র এই বক্তব্যের ফলেই মূলত সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মুসলমানদেরকেই কেন ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিজেপি?

অনলাইন আল জাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, ঝাড়খণ্ডের পাকুর জেলার একটি গ্রাম হচ্ছে বাদা সনকাদ। গোড্ডা, দেওঘর, দুমকা, জামতারা এবং সাহেবগঞ্জ জেলার সঙ্গে মিলিত হয়ে গড়ে উঠেছে সাঁওতাল পরগনা অঞ্চল। ঝাড়খণ্ডের ৮১টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনই এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া অঞ্চলটির বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী উপজাতি বা আদিবাসী। আবার এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ শতাংশই হচ্ছে মুসলমান। এখানকার মুসলমানরা ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপি বিরোধী প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে আসছে। কার্যত এ কারণেই এই অঞ্চলে ভোটের রাজনীতিতে একটি কার্যকর ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে মুসলমানদের ভোট। ২০১১ সালের আদমশুমারি তথ্যমতে, ঝাড়খণ্ডের এই অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যা হচ্ছে প্রায় ৩ কোটি ২ লাখ (৩২ মিলিয়ন)। যাদের মধ্যে উপজাতি হচ্ছে ২৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে মুসলমান জনগোষ্ঠী হচ্ছে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঝাড়খণ্ডের  মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪১ শতাংশ বাস করে সাঁওতাল পরগনা অঞ্চলে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আদিবাসী এবং মুসলমানদের মধ্যে ভোটের যে সমীকরণ রয়েছে মূলত সেটি ভাঙতেই মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করছে বিজেপি। ২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সাঁওতাল পরগনা অঞ্চলের ১৮টি আসনের মাত্র চারটিতে জয় পেয়েছিল বিজেপি। এ ছাড়া চলতি বছর ভারতের সংসদীয় নির্বাচনে আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত দু’টি আসনেও পরাজিত হয়েছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী এই দলটি। মোদির দল এবার আদিবাসী তিনটি অঞ্চলের মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে। বিধানসভা এবং সংসদীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদিবাসী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য আসন সংরক্ষিত রাখার সুবিধা রেখেছে ভারত। রাষ্ট্র-পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রেও আদিবাসীদের এই সুযোগ দেয় দেশটির সরকার।

পাকুর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের উত্তরাঞ্চলীয় একটি এলাকা। যেটি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ ছাড়া ওই এলাকাটি মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ এবং বাংলা ভাষী পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেও সংযুক্ত রয়েছে। যার ফলে সাঁওতাল পরগনার অধিকাংশ বাসিন্দার মুখের ভাষা হচ্ছে বাংলা, যা পশ্চিমবঙ্গ সহ বাংলাদেশেরও প্রধান ভাষা। যদিও ভারতের এই অঞ্চলে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর’ অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে ২০১৪ সালে মোদির দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই অভিযোগ বেড়েছে বহুগুণে। যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মত বিশ্লেষকদের। ঝাড়খণ্ডের মতো আসাম রাজ্যেও মুসলমান ভোটাররা নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, রাজ্যটির এক তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীই মুসলমান। যার ফলে বিজেপি এবং তার মিত্ররা আসামে গত এক দশক ধরে ‘মুসলিম অনুপ্রবেশকারী’ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। তাদের অভিযোগ হচ্ছে এসব মুসলমানরা ভারতে ‘অবৈধভাবে’ প্রবেশ করে রাজ্যের জমি দখল করেছে এবং জনসংখ্যায় পরিবর্তন এনেছে। অর্থাৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।
২০১৬ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রথম আসামে জয়ী হওয়ার পর থেকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে জেনোফোবিক (বহিরাগত) প্রচারণা জোরদার করেছে। এসব প্রচারণার মধ্যে রয়েছে আসামের মুসলমানদের নাগরিকত্ব বাতিল, তাদের সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত করে জেলে পাঠানো বা বাংলাদেশে নির্বাসিত করা। এই প্রচারণার পরে আসামের হাজার হাজার মুসলমানকে ‘সন্দেহজনক’ ভোটার হিসেবে ঘোষণা করেছে বিজেপি সরকার। এ ছাড়া অনেকের ভোটাধিকারও বাতিল করা হয়েছে।

আসামের পর এবার ঝাড়খণ্ডের মুসলমানরাও ভীত হয়ে পড়েছে যে, সেখানেও অনুরূপ রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা বাস্তবায়ন করতে চলেছে বিজেপি। কেননা, ঝাড়খণ্ডে নির্বাচনী সমন্বয়ক হিসেবে দেয়া হয়েছে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তৃতার জন্য বেশ সমালোচিত ৫৫ বছর বয়সী কট্টরপন্থি এই রাজনীতিবিদ। ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনী সমাবেশে ‘অবৈধভাবে’ প্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শর্মা। তিনি বলেছেন, কথিত ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

অন্যদিকে বিজেপি জয়ী হলে ঝাড়খণ্ডেও আসামের মতো বিতর্কিত ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন (এনআরসি) আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বশর্মা। এনআরসি মূলত ২০১৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের জারি করা একটি আদেশ। যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতে অভিবাসীদের চিহ্নিত করা এবং যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু ২০১৯ সালে এই আদেশ প্রয়োগের মাধ্যমে ২০ লাখ ভারতীয়কে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দেয় বিজেপি সরকার। এদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছিল হিন্দু। সারা ভারতে এই আদেশ কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও প্রাথমিকভাবে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতেই এর ব্যবহার  দেখা গেছে। বেশির ভাগ বিশ্লেষক এনআরসি’কে ২০১৯ সালে মোদি সরকার কর্তৃক পাস করা একটি বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অধ্যাদেশ অনুমোদন

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৪ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। তবে এ অধ্যাদেশে রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে শাস্তির সুপারিশের বিধান রাখা হয়নি। গতকাল সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদন দেয়া হয়। এটি গেজেট আকারে প্রকাশের পর আইনে পরিণত হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধগুলোর সংজ্ঞা যুগোপযোগীকরণ, অপরাধের দায় নির্ধারণ, অডিও ও ভিডিও’র মাধ্যমে বিচারকাজ ধারণ ও সমপ্রচার, বিদেশি কাউন্সেলের বিধান, বিচারকালে অভিযুক্তের অধিকার, অন্তর্বর্তীকালীন আপিল, সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা-সংক্রান্ত বিধান, তদন্তকারী কর্মকর্তার তল্লাশি ও জব্দ করার বিধান, পর্যবেক্ষক, সাক্ষীর সুরক্ষা, ভিকটিমের অংশগ্রহণ ও সুরক্ষার বিধান সংযোজন করে সংশোধনীর খসড়াটি করা হয়েছে। সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট-১৯৭৩ সংশোধন করা হয়েছে। আমরা এটার প্রয়োজন অনুভব করেছি। কারণ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এ আইনে যখন বিচার করা হয় তখন এ আইনটির ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, দেশীয় মানবাধিকার সংস্থা অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরেছে। আমরা যেহেতু একটা স্বচ্ছ বিচার করতে চাই সে তাগিদ থেকে সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা যতটা সম্ভব মানুষের মতামত নিয়েছি। আইন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিকসহ অনেকের মতামত আমরা গ্রহণ করেছি। এরপর আমরা দেশি-বিদেশি আইনজীবীদের কাছেও সেগুলো পাঠিয়েছি। সকলের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি ড্রাপ্ট উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করা হয়েছে। সেখানে এটা গৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত সংশোধনে বলা হয়েছে- কোনো সংগঠনকে যদি শাস্তি দেয়ার প্রয়োজন মনে করে তাহলে ট্রাইব্যুনাল শাস্তি দেয়ার সুপারিশ করতে পারবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বলা হয়েছে আমরা এ বিচারকে অন্যকোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চাই না। রাজনৈতিক দল বা অন্য কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন এলে এ আইনকে অযথা প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমরা সেই সুযোগ দিতে চাই না। আমরা একদম ডিসেন্ট ও ফেয়ার ওয়েতে বিচারটা করতে চাই। এজন্য বিধানটা বাতিল করা হয়েছে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমরা অনুভব করেছি যে, কোনো রাজনৈতিক দল বা অন্য কোনো সংগঠন তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রমের জন্য যদি নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন হয় বা নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে সমাজে। তাহলে আমাদের অন্যান্য আইন রয়েছে সন্ত্রাসদমন আইন, নির্বাচনী আইন-১৯৭৮ পলিটিক্যাল পার্টি অর্ডিনেন্সেও রয়েছে। কাজেই এখানে বিধানটা নেই বলে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ থাকলো না- সেটা না। কিন্তু অন্যান্য প্রচলিত আইন দেশে রয়েছে সেটা আমরা রাজনৈতিক ঐকমত্য হলে জনদাবি বিবেচনা করা হবে। এটা আইনের ভেতরে অন্তর্ভুক্তের বিষয় না। আসিফ নজরুল বলেন, এ আইনে কতকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। সেটা হচ্ছে- ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি ও জেনোসাইডের সংজ্ঞায়। একদম আন্তর্জাতিক স্ট্যাটাস মেইন্টেইন করে আমরা ডিফাইন করেছি। এছাড়াও এ আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হচ্ছে- অভিযুক্ত পক্ষকে প্রসিকিউশনের সমান সুযোগ দেয়া হয়েছে। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে যেখানে প্রসিকিউশনকে অনেক সুবিধা দেয়া হয়েছিল। এবং ভিকটিম প্রটেকশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ইচ্ছা করলে বিচার কার্যটা অডিও-ভিজ্যুয়াল রেকর্ড করতে পারবেন। ওনারা প্রচার করতে চাইলে সেটা প্রচারও করতে পারবেন। তবে পক্ষগুলোর ডিগনিটি তারা নিশ্চিত করবেন। তিনি বলেন, আমরা ডেফিনেশনটা ক্লিয়ার করেছি। তিন ধরনের বাহিনীকে বিচারের আওতায় আনার বিধান করা হয়েছে। একটা হচ্ছে- ডিসিপ্লিন ফোর্স, ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি আরেকটা হচ্ছে- অক্সেলিয়ারি ফোর্স। এটাকে আমরা খুব ভালো করেই ডিফাইন করেছি। এগুলো যেহেতু উপদেষ্টা পরিষদে গৃহীত হয়েছে সেটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে আইনে পরিণত হবে। এছাড়াও প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স চাইলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। আরেকটা চমৎকার বিধান হচ্ছে- অবজারভারের বিধান আছে। আন্তর্জাতিক বা দেশীয় অর্গানাইজেশন চাইলে বিচার সঠিকভাবে হচ্ছে কি না সেটি তারা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এ সময় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের আইনে শত শত বছর ধরে এ বিধান রয়েছে, আমরা কোনো নতুন বিধান করিনি। জুলাই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব সদস্য মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তাদের শাস্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচারই তো শেষ হয়নি, শাস্তি পাবে কীভাবে? কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে।