Thursday, November 20, 2014

জয় প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক উপদেষ্টা, প্রজ্ঞাপন জারি



সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক প্রশাসন দেওয়ান হুমায়ুন কবীর প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ–প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন প্রথম আলোর কাছে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিয়োগ অবৈতনিক এবং খণ্ডকালীন। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবীর প্রথম আলোকে বলেন সজীব ওয়াজেদ জয় অবৈতনিক এবং খণ্ডকালীন নিয়োগ পাওয়ায় তিনি কোনো বেতন-ভাতা নেবেন না এবং নিজের কাজের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে সহায়তা করবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জয় এতদিন মা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারও দায়িত্বে পালন করবেন। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে জয় তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে সহায়তা করছেন। গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেন, জয় সরকারের কেউ না। ওই অনুষ্ঠানেই হজ নিয়ে এক মন্তব্যের জন্য দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি মন্ত্রিত্ব হারান এবং আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন। গত মঙ্গলবার এক সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় প্রতি মাসে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেতন নিয়েছেন। এই তথ্য তৎকালীন মন্ত্রী ফাঁস করে দিয়েছেন। লতিফ সিদ্দিকীর চাকরিও চলে গেছে।’ এরপর বিএনপির অপর নেতা নেতা আ স ম হান্নান শাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রতি মাসে দুই লাখ ডলার বেতন নিচ্ছেন। এ রকম বেতন রাষ্ট্রপতিও পান না।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অপর এক প্রজ্ঞাপনে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাঁর নিয়োগও অবৈতনিক এবং খণ্ডকালীন।

নির্বাচন প্রভাবিত করার সুযোগ নেই : সিইসি



প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়। একে প্রভাবিত করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া তিনি নির্বাচন কমিশন স্বাধীন বলেও দাবী করেন। বরিশালে প্রার্থী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও ফলাফল ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শীর্ষক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় বরিশাল নগরীর বিডিএস মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন সিইসি। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতেই নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কর্মশালায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব কমকর্তা হতাহত হয়েছেন নির্বাচন কমিশন তাদের পাশে দাড়িয়েছে, সাধ্যমত সহায়তা করেছে। নির্বাচন কমিশন সব সময় এই দায়িত্ব পালন করে যাবে।
তিনি বলেন, দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে। আগামী দুই জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর জনগনের মতামত-আপত্তি গ্রহন করে শুনানী  শেষে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। বাংলাদেশের নাগরিক ছাড়া কেউ যাতে ভোটার হতে না পারে সেই দিকে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবার আগে দেশের স্বার্থ খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
দেশের অনেক নির্বাচন কার্যালয়ে কর্মকর্তা নেই স্বীকার করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অতি সত্ত্বর সেসব শূন্য পদ পূরন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার কথা বলেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনার মো: শাহনেওয়াজ, অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার মো: গাউসসহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মীর মো: শাজাহান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনের সচিব মো: সিরাজুল ইসলাম। কর্মশালায় বিভাগের ছয় জেলার প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা এবং নির্বাচন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

ভারতের বিতর্কিত ‘গুরু বাবা রামপাল’ জেলে



ভারতে বিতর্কিত ধর্মগুরু বাবা রামপালকে গত রাতে তার আশ্রম থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করার পর আজ আদালত তাকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তার আশ্রমে ঘটে যাওয়া ছয়টি মৃত্যুর জন্য রামপাল আজ দুঃখ প্রকাশ করলেও ভক্তদের মানব-ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। হরিয়ানার হিসারে তার আশ্রমে এখনো প্রায় দুই থেকে তিন হাজার ভক্ত ভেতরে রয়ে গেছেন, পুলিশ যাদের ধীরে ধীরে বের করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। হরিয়ানাতে হিসার শহরের কাছে বারওয়ালাতে ১২ একরেরও বেশি বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বাবা রামপালের সতলোক আশ্রম। গত বাহাত্তর ঘন্টা ধরে মিডিয়ার নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে।
গত রাতে আশ্রমের ভেতর থেকে প্রায় কমান্ডো অভিযানের স্টাইলে পুলিশ ৬৩ বছর বয়সী রামপালকে গ্রেফতার করে এনেছে, আজ সকালে তাকে পেশও করা হয় চন্ডিগড়ের এক আদালতে। আট বছর আগেকার একটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় বাবা রামপালকে যে জামিন দেয়া হয়েছিল তা বাতিল করে আদালত তাকে জেলে রাখার রুল জারি করেন।
কিন্তু আশ্রমের চারপাশে এখনো ছড়িয়ে আছে তুমুল সংঘর্ষের নানা চিহ্ন। বিবিসি-র জুবেইর আহমেদ জানাচ্ছেন, সেখানে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে জুতো-চপ্পল, কাপড়চোপড়, বাসনকোসন, ব্যাগ ও আনো নানা জিনিস। মনে হচ্ছে একটা সাঙ্ঘাতিক যুদ্ধ ঘটে গেছে সেখানে। মূল দরজা এখনও বন্ধ। পুলিশ ভেতরে ঢুকছে না বা কাউকে ঢুকতেও দিচ্ছে না। তবে ঘন ঘন মাইকিং করে ভেতরে যে এখনো প্রায় হাজার দুই-তিন ভক্ত রয়ে গেছেন তাদের বেরিয়ে আসতে বলা হচ্ছে!
আজ সকালে বাবা রামপাল দাবি করেছেন, আশ্রমে যে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে তার জন্য তিনি দুঃখিত। কিন্তু নিজেকে বাঁচানোর জন্য তিনি হাজার হাজার ভক্তকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন, সেই কথাটা ঠিক নয়। ঘটনা হল, যে ভক্তরা এক এক করে আশ্রম থেকে বেরোচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই মুখ খুলতে চাইছেন না। আর যারা খুলছেন তারাও দাবি করছেন তাদের মোটেই জোর করে আটকে রাখা হয়নি।
যেমন নেপাল থেকে আসা এই ভক্ত হরি শাহ বলছিলেন, তিনি চার-পাঁচ দিন আগে গ্রামের আরো কয়েকজন সঙ্গীসাথীকে নিয়ে আশ্রম দেখতে এসেছিলেন নিজে থেকেই। নেপালে টিভির সাধনা চ্যানেলে বাবার অনুষ্ঠান দেখেই তারা রামপালের ভক্ত হয়েছেন, কেউ তাদের আসতে বা থাকতে জোর করেনি। আর ভেতরে এখনো তো হাজার দুয়েক লোক আছেন।
কিংবা ধরা যাক উত্তরপ্রদেশের ললিতপুর থেকে আসা এই ভক্তর কথাই, যিনি দিন দশ-বারো আগে এসেছিলেন আশ্রমের সৎসঙ্গে যোগ দিতে। তিনি বলছিলেন, শাস্ত্রের পাতা ধরে ধরে বাবা রামপাল দেখিয়ে দিয়েছেন কী ঘটবে, পুলিশ কী করবে সবই শাস্ত্রে লেখা আছে, আর সেটা অক্ষরে অক্ষরে মিলেও গেছে। ফলে বাবার প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি তাদের আরো বেড়ে গেছে। তবে এই সরল, গরিব মানুষগুলোর পাশাপাশি আশ্রমের ভেতর বাবার সশস্ত্র বাহিনীও ছিল। যাদের বেশ কয়েক শ’ সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতারও করেছে। আর অন্যদের বাসে বা ট্রেনে চাপিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে নিজের নিজের মুলুকে।
হিসার রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে জুবেইর আহমেদ বলছিলেন, কাল রাত থেকেই এখানে শত শত ভক্তকে পুলিশ বিভিন্ন ট্রেনে তুলে দিচ্ছে। আবার অনেকে নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে এই স্টেশনেই এসে নামছেন। দিল্লি থেকে আসা এই যুবক যেমন বলছিলেন তার শ্যালক দিন কয়েক আগে এই আশ্রমে এসেছিলেন। কিন্তু প্রায় পাঁচ দিন হল তার কোনো খোঁজখবর নেই। এখন পুলিশের সাহায্য নিয়ে তিনি তাকে খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ধর্মগুরু নিজে এখন জেলে, আর সৎলোক আশ্রমের বাইরে এমনই নানা খন্ডচিত্র। ভক্তদের অসহায়তার ও অনিশ্চয়তার। আজ আদালতও মন্তব্য করেছে, ভারতে স্বঘোষিত এই ধর্মগুরুদের এই ধরনের ডেরা বা আশ্রম চালানোতে রাশ টানা দরকার। কিন্তু হিসারের ঘটনাই প্রমাণ করে দিল এ কথা মুখে বলা যত সহজ, কাজে করা আদৌ তত সহজ নয়।
সূত্র : বিবিসি।

মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ চকবাজার ক্যাম্পাস এর পিইসি পরীক্ষার্থীদের দিক নিদের্শনামূলক আলোচনা সভা



চট্টগ্রামের ক্লাসনির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ, চকবাজার ক্যাম্পাসএর পিইসি পরীক্ষার্থীদের শতভাগ সফলতা কামনায় দিক নিদের্শনামূলক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল গত ১৯ নভেম্বর স্কুল মিলনায়তনে দুপুরে অনুষ্টিত হয় । উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদেশ্যে বক্তব্য রাখেন, মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ  চকবাজার ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ রাজেশ কান্তি পাল,চীফ একাডেমিক কর্ডিনেটর সিহাব ইকবাল, ভিপি মনোয়ারা বেগম শিক্ষক শহিদুল ইসলাম আরবী, সুপর্না বিশ্বাস, পরীক্ষার্থী তাসমিম মোস্তাফা মিম প্রমুখ। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মওলানা রহমত উল্লাহ আজাদ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষিকা স্বপ্না রানী দত্ত। পরে পিইসিই পরীক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে ড. অধ্যক্ষ মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, সাফল্যে পৌঁছাতে হলে শিক্ষকের নীতিবাচক ও গুণবাচক দিকগুলোকে সামনে নিয়ে তাদের কথা অনুসারে পাঠ্যবই অনুসরণ ব্যতীত সাফল্য সম্ভব নয়। সেজন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে জীবনের উন্নয়ন ও শতভাগ সফলতার জন্য শিক্ষকের পরামর্শ ও পাঠ্যবইয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, পিইসি পরীক্ষা জীবনের প্রথম সোপান। এটিতে ভালো ফলাফল করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

মতভেদ ভুলে আইনজীবীদের ঐক্য গড়ার আহ্বান ড. কামালের

আইনজীবীদের রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে পেশাগত ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান ড. কামাল।

ড. কামাল হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালক খুনের পরে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের আইনজীবীরা যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল তা সারা দেশের আইনজীবীদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সাত খুন, মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীসহ নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে।
সংবিধানপ্রণেতা কামাল হোসেন আরও বলেন, সংবিধান সমুন্নত রাখা, আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের ৬৭টি বারের ৪০ হাজার আইনজীবীকে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে পেশাগত ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য তিনি শিগগিরই ঢাকায় আইনজীবীদের জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করবেন বলেও জানান।
আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি সুব্রত চৌধুরি, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল বারী, সহসভাপতি আসাদুল্লাহ তারেক, হেলালউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস জুয়েল, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খলিলুর রহমান, আহসানুল করিম চৌধুরী, রমজান আলী, এম এ ওহাব প্রমুখ। সম্মেলনে হারুণ অর রশিদকে সভাপতি ও আওলাদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার কমিটি গঠন করা হয়।
সম্মেলনে সুব্রত চৌধুরি বলেন, সাত খুনের ঘটনার পর ড. কামাল হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন, তাঁর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই হাইকোর্টের দেওয়া আদেশে র‌্যাবের তিন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। হাইকোর্ট ঘটনার তদন্তে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তদন্ত থেকে সিআইডিকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।
গুম-খুনের নগর নারায়ণগঞ্জে প্রশাসন বলতে কিছু নেই
আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সাত খুনের ঘটনার পরপরই ড. কামাল হোসেন নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। হত্যার সব তথ্যপ্রমাণ তদন্ত সংস্থা পেলেও ছয় মাস পরে এখন তদন্তে ঢিলেভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কোনো এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এজাহারভূক্ত এক নম্বর আসামি নুর হোসেন ২ নম্বর আসামি ইয়াছিন মিয়াকে গত ছয় মাসেও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি র‌্যাবের ২২ সদস্য সাতজনকে অপহরণ–খুন করলেও রহস্যজনক কারণে সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সাত খুনে জড়িত কয়েকজন র‌্যাব সদস্যকে এখনো চাকরিতে বহাল আছেন। সাত খুনে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়া র‌্যাবের কয়েকজন সদস্যকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া র‌্যাব সদস্যরা ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সাত খুনের চাঞ্চল্যকর বর্ণনা দিয়েছেন। প্রধান আসামি নুর হোসেনকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। নুর হোসেনের সঙ্গে গ্রেপ্তার তার সঙ্গী জামিন পেয়ে নারায়ণগঞ্জে ফিরে এসেছেন। অপহরণ, গুম, খুনের নগর নারায়ণগঞ্জে প্রশাসন বলতে কিছু নেই। সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

রেলক্রসিংয়ে ১৪০০ ওভারপাস বানাবে রেলওয়ে

দেশের ১ হাজার ৪০০টির মতো রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস তৈরি করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দুর্ঘটনা এড়াতে রেলপথ মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে জানান, দেশে সব মিলিয়ে আড়াই হাজারের মতো রেলক্রসিং আছে। এর মধ্যে রেল বিভাগের আওতায় এক হাজার ৪০০টির মতো ক্রসিং আছে। বাকিগুলো সড়ক কিংবা স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে। রেল মন্ত্রণালয় তাদের অধীনে থাকা ক্রসিংগুলোতে ওভারপাস তৈরি করবে। এসব ক্রসিংয়ে ওভারপাসের ওপর দিয়ে সড়ক বিভাগের যানবাহন চলবে। রেল যাবে নিচে দিয়ে।
এ ছাড়া অন্য রেলক্রসিংগুলোতে ওভারপাস নির্মাণের জন্য সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে সুপারিশ করবে সংসদীয় কমিটি।
সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়, রেলওয়ের জায়গায় যে সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সিএনজি স্টেশন স্থাপনের জন্য বরাদ্দ নিয়ে এখনো কর্মকাণ্ড শুরু করেনি, কমিটি তাদের বরাদ্দ বাতিলের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া যেসব জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার পরও এখনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, সেসব জায়গা আর না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে রেলের রংয়ের ভিন্নতা দূর করে সব ক্ষেত্রে একই রং ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। ফজলে করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আলী আজগর, ইয়াসিন আলী ও ফাতেমা জোহরা অংশ নেন।
>>রাজবাড়ির গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ক্যানালঘাট এলাকার রেলক্রসিংয়ের চিত্র এটি। ছবিটি গত ১৮ আগস্ট তোলা। ছবি: ফাইল ছবি

ভিন্ন সম্প্রদায়ের ছেলেকে বিয়ের অপরাধে মেয়েকে হত্যা

ভিন্ন সম্প্রদায়ের ছেলেকে ভালোবেসে বিয়ে করার অপরাধে প্রাণ দিতে হয়েছে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রীকে। শুধু তা–ই নয় তথাকথিত পারিবারিক সম্মান রক্ষার জন্য মা–বাবাই তাঁকে গলা টিপে হত্যা করেছেন। মেয়েকে হত্যার অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ভাবনার বাবা জমি ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কংগ্রেস দলের নেতা জগমোহন ও তাঁর স্ত্রী সাবিত্রীকে (ভাবনার মা) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
টিএনএনে প্রকাশিত এক খবরে জানা যায়, ভাবনা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের নামকরা শ্রীভেঙ্কটেশ্বর কলেজে পড়তেন। গত ১২ নভেম্বর আহির সম্প্রদায়ের ভাবনা যাদব (২১) বিয়ে করেন পাঞ্জাব সম্প্রদায়ের অভিষেক সেইতকে (২৪)। পরিবারের কেউ মেনে নেবে না জেনে একটি মন্দিরে বিয়ে করেন দুজন। বিয়ের পরে দুজনে সংসার শুরু করেন। অভিষেক সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন।
বিয়ের খবর শুনে ভাবনার পরিবার তাঁকে বাড়ি ফিরে আসতে বলে। মা–বাবা জানান, তাঁরা ভাবনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। ধুমধাম করে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠান করতে চান। মা–বাবার কাছে আসেন ভাবনা। কিন্তু তাঁরা ভাবনার ওপর নির্যাতন শুরু করেন। বিভিন্ন কৌশলে তাঁকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়।
ভাবনার স্বামী অভিষেকের ভাষ্য, ভাবনার বাবা তাঁদের বলেছিলেন নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান করবেন, যাতে করে তাঁদের পরিবারের সুনাম নষ্ট না হয়।

অভিষেক আরও জানান, কিন্তু মা–বাবা ভাবনার ওপর অত্যাচার শুরু করেন। অত্যাচারের মাত্রা এত বেড়ে যায় যে ভাবনা গত ১৪ নভেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে তাঁর (অভিষেক) কাছে চলে আসেন। কিন্তু মা–বাবা আবার তাঁকে বুঝিয়ে বাড়ি নিয়ে যান।
অভিষেকের বিশ্বাস, স্বামীর প্রতি ভালোবাসা দেখে পরিবার তখনই তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৫ নভেম্বর ভাবনার সৎচাচা লক্ষ্মণ অভিষেককে ডেকে ভাবনার কাছ থেকে তাঁকে দূরে থাকতে বলে, অন্যথায় তিনি দুজনকেই হত্যা করবেন বলে হুমকি দেন। ওই দিন রাতেই ভাবনাকে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মাহেন্দর নামের এক আত্মীয়কে গাড়ি নিয়ে আসতে বলেন ভাবনার মা–বাবা। ভাবনার মরদেহ তাড়াতাড়ি তাঁদের বাড়ি রাজস্থানের আলাওয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। কেউ জানার আগেই ভাবনার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মাহেন্দরও ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।
হত্যার পরদিন অভিষেক ভাবনাকে ফোনে পাচ্ছিলেন না। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছিল না। চিন্তিত অভিষেক ফোন করেন ভাবনার চাচা লক্ষ্মণকে। তিনিও ফোন ধরেননি। পরে ভাবনার চাচাতো ভাই ফোন করে জানায় যে সে মারা গেছে। তাঁর শেষকৃত্য হয়ে গেছে।
দেরি না করে অভিষেক থানায় গিয়ে প্রাথমিক অভিযোগ করেন। পুলিশকে ভাবনার মা–বাবা জানান, সাপের কামড়ে তাঁদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাঁদের আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিহার জেলে ভাবনার মা–বাবাকে রাখা হয়েছে।
পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার তেজেন্দ্র লুথরা টিএনএনকে জানান, যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে তাঁরা ভাবনার মা–বাবাকে গ্রেপ্তার করেছেন। ভাবনার সৎচাচাকে পুলিশ খুঁজছে। হত্যাকাণ্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

যে পাঁচ কারণে বার্সা ছাড়তে পারেন মেসি

গুঞ্জনের সূত্রটা লিওনেল মেসি নিজেই। কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে মেসির কথাতেই ইঙ্গিত ছিল বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার। মেসি অবশ্য দিনক্ষণ স্পষ্ট করে বলেননি। তবে এত দিন যেখানে ধরেই নেওয়া হয়েছিল, পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি মেসি প্রাণের ক্লাবটিতেই করবেন, সেখানে তাঁর কণ্ঠে অন্য সুর শোনাটা চমকের তো বটেই। যদিও এরপরই গুঞ্জন থামাতে মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, বার্সাতে সুখেই আছেন মেসি। কিন্তু মেসির ক্লাব বদলের সম্ভাবনা একেবারেই নাকচ করে দেওয়া যায় না।
মেসির ভক্তদেরই একটা অংশ মনে করে, বার্সায় আর নতুন কিছুর জন্য নিজেকে উজ্জীবিত করা মেসির পক্ষে খুব কঠিন। এখানে শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছানো হয়েই গেছে মেসির। নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেকে নতুন করে উদ্দীপিত করতে মেসির উচিত নতুন লিগে নাম লেখানো। সেটা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগও হতে পারে। সে যা-ই হোক না কেন, ব্লিচার রিপোর্ট মেসির বার্সা ছাড়ার পাঁচটি কারণ খুঁজে বের করেছে:

এক.
বার্সেলোনার পরিচালক বোর্ড এখন আর আগের মতো নেই। বার্সার নিষ্কলুষ ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। ‘ক্লাবের চেয়ে বেশি কিছু’র মূলমন্ত্র থেকে বার্সা অনেকটাই সরে এসেছে। বার্সা কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ কদিন আগে মন্তব্য করেছিলেন, এখন যারা ফুটবল কম বোঝে, তারাই বার্সার হর্তাকর্তা বনে গেছে। ফুটবলটাকে ভালোবাসার বদলে ব্যবসায়িক ধান্দা বেশি যাদের, তাদের সংখ্যাই এখন বার্সার পরিচালক বোর্ডে নাকি বেশি।
মেসির সঙ্গেও বার্সার নতুন পরিচালক বোর্ডের সম্পর্কটা ভালো নয়। সান্দ্রো রসেলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন না বলেই নাকি পেপ গার্দিওলা বার্সায় সাফল্যমণ্ডিত সময়টা পেছনে ফেলে ক্লাব ছেড়েছিলেন। রসেল এরই মধ্যে সরে যেতে বাধ্য হলেও তাঁর পক্ষের লোকেরাই ক্লাব চালাচ্ছেন। আর তাই সাবেক গুরুর পথ অনুসরণ করতে পারেন মেসিও।
দুই.
মেসি নিজেও এই সময়টায় ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে ট্যাক্স ফাঁকির মামলা তাঁর নিষ্কলুষ ভাবমূর্তিতে ছোপ ছোপ দাগ ফেলেছে। স্পেনের আর্থিক সংকট আর দেশটির কর বিভাগের মরিয়া হয়ে ওঠা, অনেক তারকা ফুটবলারকেই অস্বস্তিতে ফেলেছে। এমনিতেই স্পেনের করের হার নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। ভূতের মতো তাড়া করে ফেরা এই কর মামলা থেকে রেহাই পেতে নতুন দেশ, নতুন শহর আর নতুন লিগের সন্ধান করতেই পারেন মেসি।
তিন.
মেসির বার্সা ছাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে নেইমার-নাটকও। নেইমারকে সই করানোটা নিজের ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে নিয়েছিলেন রসেল। যদিও এই কারণেই গদিচ্যুত হতে হয় বার্সার তখনকার সভাপতিকে। ফাঁস হয়, নেইমারকে যে টাকায় বার্সা কিনেছে বলে খবর, আসলে কিনেছে তার চেয়েও ঢের বেশি টাকায়। এই গুঞ্জন রটে যায়, নেইমারের আসল বেতনও হয়তো অনেক বেশি। এমনকি সেটা হয়তো মেসির সমান। এর ওপর রোনালদোর বেতনও বাড়িয়ে দেয় রিয়াল। সব মিলে মেসি নাকি নাখোশ হয়ে পড়েন। মেসিকে খুশি করাতে নতুন করে চুক্তি করে তাঁকে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকের খেলোয়াড় বানিয়ে দেয় বার্সা। কিন্তু সেই যে সুরটা কেটে গেল, এখনো ঠিক তাল-লয়টা মিলছে না। বার্সায় মেসিকে ঠিক মেসির মতো মনে হচ্ছে না অনেক দিন ধরেই।
চার.
রিয়াল মাদ্রিদ একের পর এক দুর্দান্ত সব খেলোয়াড়কে সই করিয়ে দলটাকে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু বার্সেলোনা খেলোয়াড় সই করানোয় অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। বার্সার সাফল্যের মূলে ছিল জাভি-ইনিয়েস্তা-মেসি ত্রয়ীর দুর্দান্ত বোঝাপড়া। জাভির বয়স ৩৫ চলছে। ৩১-এ পা দিয়েছেন ইনিয়েস্তা। কিন্তু বার্সা এই দুই অসামান্য প্রতিভাধর মিডফিল্ডারের শূন্যতা পূরণে সেভাবে মাথাই ঘামায়নি। রাকিটিচকে মাঝমাঠে নিয়ে এলেও বার্সা মূলত আক্রমণভাগ বেশি ভারী করেছে লুইস সুয়ারেজকে এনে। যে সুয়ারেজ মেসির জায়গাটাও নড়বড়ে করে দিয়েছেন। মেসি আর বার্সার প্রধান আক্রমণ-ভরসা নন। সুয়ারেজকে মাঝখানে রেখে মেসিকে উইংয়ে ঠেলে দিলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে কদিন আগে মন্তব্য করেছেন আর্সেন ওয়েঙ্গারও।
পাঁচ.
মেসির ওপর সীমাহীন চাপ। বার্সা ব্যর্থ হলেই সব তির ধেয়ে যায় মেসির দিকে। বার্সা কোনো ম্যাচে হারতে থাকলে সমর্থকেরা তো বটেই, মাঠে সতীর্থরাও যেন পাগলের মতো খুঁজতে থাকে মেসিকে। যেন মেসি জাদুকরি কিছু করে পরিস্থিতি পাল্টে দেবেন। বার্সা যে এক মেসির ওপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে ছিল, সেটা টের পাওয়া যাচ্ছে এখন। আর একাই সেই ভার বয়ে নিতে নিতে মেসিও যেন ক্লান্ত।
সব মিলিয়ে তাঁর মনের ভেতরও মেঘ দানা বেঁধেছে নিশ্চয়ই। না হলে এ ধরনের কথা মেসি কেন বলবেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত বার্সার সঙ্গে মেসির চুক্তি। কিন্তু দুই পক্ষের বনিবনা না হলে, মেসি যদি ক্লাবে আর থাকতে না-ই চান, জোর করে তাঁকে ধরেও রাখতে পারবে না বার্সা। বরং বেশি দামে তাঁকে বেচে দেওয়াটাই হবে দুই পক্ষের জন্যই মঙ্গল।
বার্সা সমর্থকেরা শুধু প্রার্থনা করবেন, সেই দিনটা যেন কখনোই না আসে!

স্টকহোমের কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি by সাহেদ ইব্রাহীম নবী

সুইডেনের স্টকহোম পৌর কাউন্সিলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সুইডিশ-বাংলাদেশি লিও আহমেদ। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণের পর কয়েক দিন আগে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সুইডিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়লাভকারী বিরোধী জোটভুক্ত বামপন্থী দল ভ্যানস্টার পার্টির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি। পার্লামেন্ট নির্বাচনও একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়।
লিও আহমেদ ভ্যানস্টার পার্টির স্টকহোম অঞ্চলের সহসভাপতি। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর আমাদের দল কোয়ালিশনে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তাই নির্বাচিত সিটি কাউন্সিলর হিসেবে সহজ হবে ইমিগ্রান্টদের জন্য কাজ করতে।’
উল্লেখ্য, এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বর্ণবাদী দল সুইডিশ ডেমোক্রেটসের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে দেশটিতে। ২০১০ সালের নির্বাচনে ৫.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টে ২০টি আসন দখল করলেও ২০১৪ সালে এসে তারা ভোট পেয়েছে ১২.৮৬ শতাংশ। এবার পার্লামেন্টে তাদের আসন ৪৯টি। দলটি ইমিগ্রান্ট–বিরোধী। এই ফলাফল রীতিমতো অশনিসংকেত।
চার বছর আগে বর্ণবাদের উত্থানই লিও আহমেদকে উদ্বুদ্ধ করেছিল সুইডেনের মূলধারার রাজনীতিতে মিশে যেতে। অবশ্য ভ্যানস্টার পার্টির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা আট বছর আগে থেকেই। পড়াশোনার পাশাপাশি দলটির ছাত্র ফ্রন্টের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে দলের স্টকহোমের সিস্তা অঞ্চলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এই দায়িত্বের পাশাপাশি দলের স্টকহোমের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে তিন বছর কাজ করার পর চলতি বছরের শুরুতেই সহসভাপতির দায়িত্ব পান।
লিও আহমেদের হৃদয়ে যথারীতি লাল-সবুজের বাংলাদেশ। তাঁর জন্ম ঢাকায়। সুইডেনে স্থায়ীভাবে বাস করেন ১৯৯৭ সাল থেকে। শিক্ষকতা করেন স্টকহোমের একটি কিন্ডারগার্টেনে। শিক্ষকতা আর রাজনীতির পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ও সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত তিনি।

সালমানের কাণ্ডে বিব্রত কাটরিনা

জমকালো আয়োজনে এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে সালমান খানের বোন অর্পিতা খানের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। আমির খান, শাহরুখ খান, করণ জোহরসহ বলিউডের বড় প্রায় সব তারকাই আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন এ অনুষ্ঠানে। শুধু তাই নয়, সালমানের সাবেক প্রেমিকা অভিনেত্রী কাটরিনা কাইফও হাজির হয়েছিলেন এ রাজকীয় বিয়েতে। সবাইকে নিয়ে বেশ ধুমধামেই বোনের বিয়ে দিয়েছেন সাল্লু। এ অনুষ্ঠানে শুধু আসেননি, বলিউড তারকারা নেচেছেন, গেয়েছেন, আনন্দ করেছেন যার যার মতো। তারই ধারাবাহিকতায় কাটরিনা কাইফও নেচেছেন সাবেক প্রেমিকের বোনের বিয়েতে। এদিকে কাটরিনা বর্তমানে লিভ টুগেদার করছেন রণবীর কাপুরের সঙ্গে। একসঙ্গে এক বাড়িতে থাকছেন তারা এক সপ্তাহ ধরে। তবে অর্পিতার বিয়েতে রণবীরকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শুটিংয়ের কারণে তিনি আসতে পারেননি। তাতে কি! নাছোরবান্দা সালমান সাবেক প্রেমিকাকে ঠিকই এনেছেন। এদিকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পরে একে একে বিভিন্ন তারকাদের গান বাজানো হয়। ঠিক কাটরিনার ‘চিকনি চামেলী’ যখন বেজে ওঠে, তখন সালমানের একটি কা-ে কাটরিনা বিব্রতকর অবস্থাতেই পড়েন। গানটি শুরু হলে সালমান নিজে মাইক নিয়ে কাটরিনাকে স্টেজে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু কাটরিনা যেন সালমানের সামনেই আসছিলেন না। পুরো অনুষ্ঠানে তাকে এড়িয়ে চলেন তিনি। তাই মাইকে সালমানের ডাকের পর কাটরিনা মাথা নাড়িয়ে হেসে স্টেজে আসতে অসম্মতি জানান। এরপর করণকে সালমান অনুরোধ জানান কাটরিনাকে স্টেজে নিয়ে আসতে। করণ হাতে ধরে কাটরিনাকে স্টেজে ওঠান। এরপরই সালমান সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি হচ্ছেন আমাদের কাটরিনা কাপুর। এরপর সালমান কাটরিনাকে উদ্দেশে বলেন, হুম। বুঝেছি। কাটরিনা বললে তো আসবে না। ঠিক আছে এখন থেকে কাটরিনা কাপুর বলেই ডাকবো। কৌতুক করে সালমান বলেন, আমি তোমাকে সুযোগ দিয়েছিলাম কাটরিনা খান হতে। কিন্তু রাজি হলে না তাতে। এখন বনেছো কাটরিনা কাপুর। ক্যারি অন।

কাঁদলেন, অন্যদেরও কাঁদালেন

 ‘যিনি চলে গেছেন, তিনি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু ছিলেন। আমার এখন রাগ হয়, তিনি কেন শুধু আমার বাবাই থাকলেন না। কেন আমার এত ভালো বন্ধু হলেন?’

>>শোকসভায় বাবার কথা বলতে গিয়ে আজ বৃহস্পতিবার অঝোরে কাঁদতে থাকেন দুর্বৃত্তের হাতে খুন হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলামের ছেলে সৌমিন শাহরিদ জেভিন। ছবি: শহীদুল ইসলাম
কথাটুকু বলেই কাঁদতে থাকেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের খুন হওয়া অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলামের ছেলে সৌমিন শাহরিদ জেভিন। আজ বৃহস্পতিবার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শোকসভায় কথা বলছিলেন তিনি। তাঁর এই কান্না স্পর্শ করে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের, তাঁরাও কান্না চেপে রাখতে পারেননি।
কান্নামাখা কণ্ঠে সৌমিন বলেন, ‘আমার মা নেই, বাবা নেই। আমি অসহায়, আমি এতিম। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব? বেঁচে থাকাটাই এখন আমার জন্য শাস্তি।’ বললেন, ‘যে মানুষটা প্রাণীর প্রতি সহিংসতা নয়—এই ভেবে আমিষ খাওয়াই ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাঁকে কেন এমন নৃশংসভাবে খুন হতে হলো?’
অধ্যাপক শফিউল ইসলামের বোন ওয়াসিম রুমানা সভায় বলেন, ‘আন্দোলন যদি ম্লান হয়ে যায়, তাহলে রক্ত আবারও ঝরবে। আপনারা আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার করুন। যাতে আর কোনো মা, কোনো বোনকে এভাবে কাঁদতে না হয়।’ তিনি ঘাতকদের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে বলেন। সভায় অধ্যাপক শফিউলের মা সখিনা আক্তার উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেননি।
শোকসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করে বলেন, ‘অধ্যাপক শফিউলের রক্তের মধ্য দিয়ে হলেও যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্ত ঝরা শেষ হয়। আর যেন কারও রক্ত না ঝরে, আমরা তার দাবি জানাই।’

>>সৌমিনের কান্না স্পর্শ করে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের, তাঁরাও কান্না থামাতে পারেননি। আজ বৃহস্পতিবার সমাজবিজ্ঞান বিভাগ শোকসভার আয়োজন করে। ছবি: শহীদুল ইসলাম
১৫ নভেম্বর দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে চৌদ্দপাই এলাকায় নিজের ভাড়া বাড়ির কাছে অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডির উপকারভোগী মহিলা বাছাই সম্পন্ন by জেসমিন আখতার

উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদে সবার অংশগ্রহনমূলক এক ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতিতে দু’দিন ব্যাপী ভিজিডির উপকারভোগী গরীব, দু:স্থ ও অসহায় মহিলা নির্বাচন মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে পরিষদের চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা মুহাম্মদ আজমগীর মাতবরের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত এক সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.টি.এম.নুরুল বশর চৌধূরী প্রধান অতিথি ছিলেন। এতে ইউএনও মমিনুর রশীদ, ওসি আলতাফ হোছাইন, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাছান কুতুবী, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার শুভ্রাত দাশ, সাবেক ইউপি সচিব আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলামসহ এলাকার গন্যমান্যরা বিশেষ অতিথি ছিলেন। বিডিপিসির উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ আহাদ আলী মৃধা জুয়েল’র সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আবুল কাশেম, প্রধান শিক্ষক জাফর আলম, জয়নাল আবেদীন, মহিলা অধিদপ্তরের জাকির হোছাইন ও পরিষদের সদস্যগণ এতে বক্তব্য রাখেন। এ কার্যক্রমটি সার্ভিস ইম্প্রুভমেন্ট থ্রো কালেক্টিভ রেসপন্সিবিলিলিটি (শিকড়) নামক প্রকল্পের অধীনে মানুষের জন্য ফাইন্ডেশনের সহযোগীতায় এবং বাংলাদেশ ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস সেন্টার (বিডিপিসি) বাস্তবায়ন করছে। সীমিত যে কোন সরকারী উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্ধ এভাবে বাস্তবায়ন হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের বদনাম থাকবেনা বলে প্রধান অতিথিসহ বক্তারা মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য বাছাইকৃত ১৬৫ জন দু:স্থ মহিলা প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে দু’বছর পর্যন্ত খাদ্যশষ্য পাবে।

তেজপাতার তেজ

সাধারণত রান্নায় স্বাদ ও সুগন্ধ আনতে তেজপাতা ব্যবহার করা হয়। তেজপাতা কেবল রান্নাতেই জাদু আনে না, শরীরের নানা রোগের সমাধান এক নিমেষে সারিয়ে তুলতে এর গুণ পরীক্ষিত। আসুন জেনে নেয়া যাক, তেজপাতার তেজে কী কী আছে।
১. অনেক সময় অনেকের ঘন ঘন তেষ্টা পায়। সেক্ষেত্রে এক লিটার পানিতে তেজপাতা সেদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে ২-৩ বার খান। দেখবেন বার বার তেষ্টা পাচ্ছে না।
২. যারা খুব রোগা, তাদের জন্য তেজপাতা খুব উপকারী। চেহারা ফিরিয়ে আনতে তেজপাতা কুচিয়ে, থেঁতো করে দুই কাপ গরম পানিতে ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ছেঁকে নিয়ে দুবার করে দুই সপ্তাহ খেলে শরীরে জোর আসে, লাবণ্য ফিরে আসে।
৩. দাদ হলে তেজপাতা থেঁতো করে চার কাপ পানিতে সেদ্ধ করে, সেই পানি সকাল ও বিকেল পান করতে হবে। ৪-৫ সপ্তাহ খেলেই দাদ-হাজা-চুলকানি সেরে যাবে। এছাড়া ওই পানি তুলোতে ভিজিয়ে দাদের জায়গায় দিয়ে মুছে নিলেও কাজ হয়।
৪. অনেক সময় প্রস্রাবের রঙ রক্তবর্ণ হয়। সেক্ষেত্রে তেজপাতা ২-৩ কাপ গরম পানিতে দুই ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ছেঁকে ২-৩ ঘন্টা অন্তর এই পানি খেলে প্রস্রাবের রঙ সাদা হয়ে যাবে।
৫. তেজপাতা ত্বক পরিষ্কারের জন্য খুব ভালো। তেজপাতাকে চন্দনের মতো বেটে, গোসলের আগে গায়ে মেখে ঘন্টা খানেক রাখুন। এরপর গোসল করে নিলে ময়লা উঠে যায়। এছাড়া যাদের গায়ে দুর্গন্ধ থাকে, তাদের সেই সমস্যাও দূর হয়ে যায়।
৬. সর্দিতে গলা বুজে যায় অনেকেরই। সেই সময় জোরে জোরে কথা বললে বা চিৎকার করলে গলা ভেঙে যায়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে তেজপাতা থেঁতো করে ৩-৪ বার একটু করে খেলেই হবে।
৭. ফোঁড়া হলে যদি খুব যন্ত্রণা হয়, শক্ত হয়ে যায়, তবে এই অবস্থায় তেজপাতা বেটে ২-৩ বার প্রলেপ দিলে যন্ত্রণা কমে যাবে।
৮. যাদের অতিরিক্ত ঘাম হয়, তার প্রতিদিন একবার করে তেজপাতা বাটা মেখে আধ ঘন্টা থাকার পর গোসল করে নিলে বেশি ঘাম হওয়া কমে যাবে। এভাবে সাত দিন করতে হবে।
৯. তেজপাতা পানিতে সিদ্ধ করে ছেঁকে ওই পানি কুলকুচি করলে মুখের অরুচি কেটে যায়।

‘ব্ল্যাক উইডো’ : পৌঢ়া অন্ধকার জগৎ

এ যেন এক মানব ‘ব্ল্যাক উইডো’র কাহিনি। স্বামীসহ সাত সঙ্গীকে খুন করার অভিযোগে জাপানের এক কোটিপতি প্রৌঢ়াকে গ্রেফতার করেছে সে দেশের পুলিশ। কয়োটা থেকে বুধবার চিকাসো কাকেহি নামের ৬৭ বছর বয়স্কা ওই নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
৪১৮২ কোটি টাকার মালকিন এই প্রৌঢ়ার বেশির ভাগ অর্থ এসেছে মৃত সঙ্গিদের জীবনবিমা থেকে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাকেহি।
বিয়ের এক মাসের মধ্যেই গত বছরের শেষ বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয় চিকাসো কাকেহির স্বামী ইসাও কাকেহির (৭৫)। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যায় সায়ানাইড প্রয়োগের ফলে মৃত্যু হয়েছে তার।
তিন মাস আগে চিকাসোর ওই সময়ের প্রেমিক হঠাৎই একটি রেস্তোরাঁতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই সময় তার সঙ্গে ছিলেন চিকাসো।
২০১২ সালে চিকাসোর ৭১ বছরে হবু বর ওসাকাতে বাইক থেকে পড়ে মারা যান। প্রাথমিকভাবে  মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বলা হলেও তার রক্তের নমুনা সংগ্রহে রাখে পুলিশ। চিকাসোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার পর জানা যায় সেই রক্তেও সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল।
১৯৯৪ সালে চিকাসো কাকেহির প্রথম স্বামী ৫৪ বছর বয়সে মারা যান। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ২০০৬ সালে প্রাণ হারান এই প্রৌঢ়ার দ্বিতীয় স্বামী। ২০০৮ মৃত্যু হয় তার তৃতীয় স্বামীর।
একবছর পর চিকাসোর সেই সময়কার বয়ফ্রেন্ড মারা যান। প্রাথমিকভাবে ক্যান্সারই ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ বলে জানানো হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড হবে চিকাসো কাকেহির।

ঘরের ভিতর ঢুকে গেল আস্ত বিমান

ওরা দুজন বেশ আড্ডার মেজাজে বাগানে ঘুরছিল। খোশমেজাজে গল্পের মাঝে হঠাৎই বিপত্তি। বলা নেই কওয়া নেই বাগানে সটন ঢুকে পড়ল আস্ত একটা প্লেন। আর আসবি তো আয়, একেবারে ঘাড়ের ওপর! তবে কিনা বলে না রাখে আল্লাহ মারে কে। সেই নিয়মে বেঁচে গেলেন দুজনে। সামান্য চোট লাগা ছাড়া দুজনেই একেবারে বহাল তবিয়তে।
ঘটনাটা ঘটেছে ল্যাঙ্কেশায়ারে। কিন্তু কী করে ঘটল এমন ঘটনা! আসলে ৭৩ বছরের বুড়ো পাইলট ঠিক বুঝতে পারেননি প্লেনের ল্যান্ডিং গিয়ারটা ভেঙে গিয়েছিল। তাই আর কী সটান একেবারে ঘরের বিছানায় ল্যান্ড করল বিমান।

শেখ হাসিনাকে উপহার দেবেন মোদি

বাংলাদেশের বিজয় দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সে জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি পার্লামেন্টে পাশ করতে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। এবং নরেন্দ্র মোদির সেই কাজ অনেকটাই সহজ করে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ভারতের এই সময় পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে সায় দেয়ার পরই এই চুক্তি কার্যকর করতে উঠেপড়ে লেগেছে মোদির সরকার। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় বিদসের আগে পার্লামেন্টে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় বিল পাশ করিয়ে নিতে চাইছে ভারত সরকার। আর তার পরই বাংলাদেশ সফরে যেতে চান মোদি।
এই সময় জানায়, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস অনুষ্ঠানকে আরো মধুর করতে চায় ভারত। পার্লামেন্টে চুক্তি পাশ করা গেলে, তার পরেই মোদি ঢাকা সফর করবেন এবং পরবর্তী সময়ে হাসিনাও দিল্লিতে যাবেন। তাই পার্লামেন্টের আসন্ন শীত অধিবেশনে এই বিল পাশ করাতে চাইছে ভারত সরকার।
এই চুক্তির পোশাকি নাম ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট বা স্থল সীমান্ত চুক্তি। প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ২০১১ সালে মনমোহন সিং বাংলাদেশে গিয়ে স্থল সীমান্ত চুক্তি করেলেন। কিন্তু নিয়মানুযায়ী, পার্লামেন্টে এই চুক্তির অনুমোদন করতে হবে ও সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করাতে হবে। বাংলাদেশের পার্লামেন্টে বিল অনুমোদিত হয়েছে। কিন্তু ভারতে মনমোহনের আমলে বিল পাশ করা যায়নি। কারণ, সে সময় মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতার পাশাপাশি বেঁকে বসেছিল বিজেপি-ও। আসামের বিজেপি নেতারা ছিটমহল বিনিময়ের তীব্র বিরোধী ছিলেন। পার্লামেন্টে ওই সময়ের বিরোধী নেত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়ে দেন, বিজেপি কিছুতেই এই বিল সমর্থন করবে না। কারণ, ছিটমহল বিনিময় হলে, আসামে অনেক বেশি জমি বাংলাদেশকে দিতে হবে।
মোদির আমলে অবস্থা পাল্টেছে। মমতা এ বার দিল্লি এসে জানিয়েছেন, কেন্দ্র উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিলে তিনি ছিটমহল বিনিময়ে রাজি। আর এই ক্ষতিপূরণ রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করতে হবে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের কোনো আপত্তি নেই৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সকলেই এই চুক্তির পক্ষে। তাই আসামের নেতাদের বিরোধিতা খুব একটা আমল পাবে না। কংগ্রেস প্রথম থেকেই এই বিলের পক্ষে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ আগেই জানিয়েছিলেন, ছিটমহল বিনিময়ে তার কোনো আপত্তি নেই। মমতাও সমর্থন করছেন। ফলে দুই তৃতীয়াংশ ভোটে এই বিল পাশ করাতে সরকারের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবেশী নেপাল, ভুটান, মিয়ানমারে গেলেও এখনো বাংলাদেশ সফরে যাননি মোদি। তার অন্যতম কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় ও তিস্তা চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পড়ে থাকা। তিস্তা নিয়ে মমতা তার আগের আপত্তি থেকে সরে আসেননি। ফলে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধিতাকে উড়িয়ে দিয়ে তিস্তা চুক্তি করা সম্ভব নয়। কিন্তু ছিটমহল বিনিময় চুক্তির রূপায়ণ সম্ভব। তাই বাংলাদেশের মানুষকে এই উপহার দিতে পারলে মোদির ঢাকা সফর সফল হবে। মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার সময় হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় বিদেশ সফররত হাসিনা আসতে পারেননি। সীমান্ত চুক্তি পার্লামেন্টে অনুমোদিত হলে হাসিনাও ভারতে যেতে পারবেন।

ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে বিশ্বজিতের তিন খুনি by মুসা আহমেদ

বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামির কয়েকজনকে ছাত্র-লীগের একাধিক কর্মসূচিতেও দেখা গেছে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজনকে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে সক্রিয় দেখা গেছে। তবে তিনি এখন ভারতে পালিয়ে আছেন।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। দেশব্যাপী আেলাড়ন তোলা ওই হত্যা মামলায় ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন পলাতক। বাকি আটজন কারাগারে আছেন। এঁদের সবাই ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামি কামরুল হাসান গত ৩১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের সমাবেশে যোগ দেন।
ওই সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় কামরুল হাসানকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আড্ডা দিতেও দেখা গেছে। এই প্রতিবেদক তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে গেলে তিনি দ্রুত মোটরসাইকেলে করে চলে যান। তাঁর মুঠোফোনও চালু আছে। গত বৃহস্পতিবার ওই নম্বরে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেন। কিন্তু প্রথম আলোর পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন কেটে দেন। পরে কয়েকবার চেষ্টা করলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে কামরুলের অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে হাজারো শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকেন। এর মধ্যে কে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আসামি, তা খুঁজে বের করা ছাত্রলীগের দায়িত্ব নয়।
যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া আসামি ইমরান হোসেন গত ২৫ আগস্ট দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ছাত্রলীগের এক আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছেন বলে সভায় উপস্থিত সূত্র নিশ্চিত করেছে। তিনি মিলনায়তনের পেছনের সারিতে বসে ছিলেন বলে ছাত্রলীগের একাধিক নেতা প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করলেও তাঁরা স্বনামে তা বলতে চাননি। অবশ্য এই প্রতিবেদক ওই দিন বিকেলেই ইমরানকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেখেন। তখন তাঁর সঙ্গে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকজন নেতাও ছিলেন।
জানতে চাইলে সভায় ইমরানের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ‘ওদের হাতের নাগালে পেলে পুলিশে দেওয়া হবে।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল তিনজন নেতা প্রথম আলোকে জানান, গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দেখা গেছে যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া আরেক আসামি আজিজুর রহমানকে।
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি রাজন তালুকদারও পলাতক। তিনি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে সক্রিয় আছেন। তাঁর ফেসবুকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজিৎ হত্যার সাত মাস পর দেশ ছেড়েছেন তিনি। গত ১৩ অক্টোবর ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘যে মানুষটার জীবন কাটল মারামারি, কাটাকাটি, গোলাগুলি, বোমাবাজি আর রক্তের খেলায়; তাকে দেখায় মাইরের ভয়। পুরো টাসকি খেয়ে গেলাম।’ কী প্রসঙ্গে এসব কথা লিখেছেন, তা অবশ্য উল্লেখ করেননি।
ফেসবুকে বার্তা পাঠালে রাজন তাঁর মুঠোফোন নম্বর দেন। সেটা ভারতীয় ফোন নম্বর। ওই নম্বরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোন করলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, তিনি কলকাতায় আছেন। সময়-সুযোগ বুঝে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাঁর দাবি, বিশ্বজিৎকে হত্যার সময় তিনি ঘটনাস্থলে থাকলেও আক্রমণে ছিলেন না। ছাত্রলীগের একটি পক্ষ তাঁকে মামলায় ফাঁসিয়েছে। তিনি বলেন, শাকিল যদি চাপাতি দিয়ে না কোপাত, তাহলে বিশ্বজিৎ মারা যেত না এবং ঘটনাও এতদূর গড়াত না।
রাজন নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও বেসরকারি একাধিক টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিশ্বজিৎকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন রাজন। তখন তাঁর মাথায় সাদা রঙের টুপি (ক্যাপ) ও মুখে রুমাল বাঁধা ছিল। এ কথা স্মরণ করিয়ে দিলে রাজন মঙ্গলবার প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ফুটেজের ওই ব্যক্তি তিনি নন।
রাজনের ফেসবুক বন্ধুর তালিকায় আছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এ বিষয়ে বদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ফেসবুকে পাঁচ হাজারের অধিক বন্ধু রয়েছে। এর মধ্যে রাজন আছে কি না, তা তিনি জানেন না।
ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শরিফুল ইসলামও ফেসবুকে রাজনের বন্ধু ছিলেন। তিনি সম্প্রতি রাজনকে ‘আনফ্রেন্ড’ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা: এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুজন—রাজন তালুকদার ও নূরে আলম এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত খন্দকার ইউনুস আলী, মনিরুল হক, তারিক বিন জোহর, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম (২), কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন পলাতক রয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ছয়জন—রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল, মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ, রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন, ইমদাদুল হক, কাইয়ুম মিয়া ও সাইফুল ইসলাম এবং যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া এইচ এম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা কারাগারে আছেন। এঁরা সবাই বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছেন, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলাটি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ তদন্তের তদারক কর্মকর্তা ছিলেন ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আইন অনুযায়ী আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসামিদের স্থায়ী ঠিকানায় যায়। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তার পরও এসব আসামি ধরতে ডিবি তৎপর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আগামী ৯ ডিসেম্বর বিশ্বজিতের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর বাবা অনন্ত দাস বললেন, ‘এখন একটাই চাওয়া, মৃত্যুর আগে ছেলের হত্যাকারীদের সাজা দেখে যেতে চাই।’ তিনি হতাশাযুক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী চলে আইছে। কিন্তু এহনো বেশির ভাগ আসামি ধরাই পড়ল না।’

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের আরেক প্রতিপক্ষ শিশির

টেস্ট সিরিজে ৩-০-তে ধবলধোলাই হওয়ার পর ওয়ানডে সিরিজে নিশ্চয় ঘুরে দাঁড়ানোর মরণপণ চেষ্টা করবে জিম্বাবুয়ে। বিশ্বকাপের আগে পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজটা বাংলাদেশের জন্যও ঘুরে দাঁড়ানোর আদর্শ মঞ্চ। টেস্ট সিরিজ জয়ের স্মৃতি যতই টাটকা হোক, ওয়ানডেতে এ বছর এখনও জয়হীন বাংলাদেশ! সেই গেরো খোলার লক্ষ্য নিয়েই শুরু হচ্ছে অধিনায়ক মাশরাফির নতুন পথচলা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিবারাত্রির প্রথম ওয়ানডেতে আজ জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ফরম্যাটের মতো অধিনায়কও বদলে গেছে। মুশফিকুর রহিম ও ব্রেন্ডন টেলরের জায়গায় আজ টস করতে নামবেন মাশরাফি মুর্তজা ও এলটন চিগুম্বুরা। অধিনায়কত্ব পেয়েছেন এর আগেও। কিন্তু ইনজুরিপ্রবণতার কারণে সেটি ধরে রাখতে পারেননি। এই সিরিজের জন্য আবার ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব ফিরে পাওয়া মাশরাফি জয় দিয়েই শুরু করতে চান নতুন অধ্যায়। ওয়ানডে সিরিজের পাঁচটি ম্যাচই দিবরাত্রির। প্রতিপক্ষের তালিকায় জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তাই শিশিরকেও রাখতে হচ্ছে! প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা। শীতের সন্ধ্যায় শিশিরভেজা মাঠে ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি স্পিনারদের কাজটাও কঠিন হয়ে যাবে। স্পিনারদের বড় শত্রু হল শিশির। আর বাংলাদেশ যেহেতু স্পিননির্ভর দল, তাই শিশির নিয়ে চিগুম্বুরার চেয়ে মাশরাফির মাথাব্যথাই বেশি। মাত্রাতিরিক্ত শিশির হয়ে উঠতে পারে জয়-পরাজয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ। সেক্ষেত্রে ম্যাচ জেতার পূর্ব শর্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে টস জয়। শুধু মর্যাদার প্রশ্ন নয়, সিরিজটা অনেক দিক দিয়েই বাংলাদেশের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে উত্তরণের ক্ষেত্রে। আপাতত ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ আছে নয় নম্বরে। দশ নম্বরে থাকা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ব্যবধান ১১ পয়েন্ট। সিরিজটা বাংলাদেশ ৫-০-তে জিততে পারলে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে ২২ পয়েন্ট। সেক্ষেত্রে যৌথভাবে আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ব্যবধানও অনেক কমে আসবে, যা ভবিষ্যতে আট নম্বরে উঠে যাওয়ার পথটি মসৃণ করতে পারে। তবে এখনই হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন দেখছেন না মাশরাফি। এ বছর ১৩টি ওয়ানডে খেলে ১২টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। অন্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। বছরের প্রথম ওয়ানডে জয়কেই তাই পাখির চোখ করছেন মাশরাফি, ‘টেস্টে সবাই ভালো খেলেছে বলেই ব্যবধান ৩-০ হয়েছে। তাই বলে এখনই ৫-০-র চিন্তা করছি না। প্রথম ম্যাচটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বছর ওয়ানডেতে আমরা ভালো করতে পারিনি। প্রথম ম্যাচটি জিততে পারলে কাজটা সহজ হয়ে যাবে।’ টেস্ট সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ ঝাঁপাতে চায় বাংলাদেশ। মুশফিকের মতো মাশরাফিরও বাজির ঘোড়া সাকিব আল হাসান। ওদিকে টেস্ট সিরিজের হতাশা ঝেরে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক চিগুম্বুরা জানালেন, ওয়ানডে সিরিজটা হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কিন্তু কাজটা যে মোটেও সহজ হবে না সেটা নিশ্চয় বুঝে গেছে অতিথিরা। প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের সামনেই দাঁড়াতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। টেস্টে ধবলধোলাইয়ের মঞ্চ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের সেই তিন নম্বর উইকেটেই হবে আজ প্রথম ওয়ানডে।

শিক্ষক হত্যার সুষ্ঠু বিচার হবে তো? by ড. সুলতান মাহমুদ রানা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলামের নির্মম মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ লেখা তৈরির সময়ও আমরা কালো ব্যাজ ধারণ করছি। ইতিমধ্যে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শেষ হয়েছে। অবশ্য সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলছেই। এমন নানা কঠোর কর্মসূচি পালিত হবে এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু কখনও আমরা তাকে আর ফিরে পাব না। এমনকি অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে হত্যার যথাযথ বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে কি-না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।
শিক্ষকের নির্মম হত্যাকাণ্ড কারও পক্ষেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা যেমন নতুন কিছু নয়, তেমনি ধর্মঘট ও ক্লাস বর্জনের কর্মসূচিও নতুন নয়। কর্মসূচি আসে এবং চলে যায়, কিন্তু যাকে আমরা হারাই তাকে আর কখনোই ফিরে পাই না। প্রশ্ন হল, তাহলে এসব কর্মসূচি পালন করে কী লাভ? এমন হত্যাকাণ্ডই বা আর কত?
কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে এখনও পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। নানা ধোঁয়াশার বেড়াজালে চলছে তদন্তকাজ। এটুকু অন্তত আশার কথা যে, তদন্ত-অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। কোনো দলের বিবেচনায় নয়, কোনো ব্যক্তি বিবেচনায় নয়, একজন শিক্ষক বিবেচনায়, সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তার এই নির্মম মৃত্যুর দায় কি আমরা এড়াতে পারি? কে দায় নেবে আর নেবে না সেটি বড় কথা নয়, শিক্ষকের নিরাপত্তার প্রশ্নটি নিঃসন্দেহে গোটা জাতির। কিন্তু আজ কি গোটা জাতি এ হত্যার দায় নিতে প্রস্তুত? এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চা করেন। মুক্তচিন্তা ও উদার ধারার মানুষ হিসেবে একজন শিক্ষকের নির্মম মৃত্যুকে মানবতার চরম অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। মানবতা ও উদার চিন্তার মানুষ হিসেবে তার এই হত্যাকাণ্ডকে নিকৃষ্টতম ঘটনা বলা যায়। শিক্ষক হত্যাকাণ্ড মানবতাকে হত্যা করার শামিল। এ হত্যার ঘটনায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক জানিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম এ নির্দেশের যথাযথ বাস্তবায়নের।
গত এক দশকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও দু’জন শিক্ষক দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। ২০০৪ সালে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুসকে। আর ২০০৬ সালে খুন হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বারবার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় এখন প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন। আজ আমরা কেউই নিরাপদ নই। দিনে-দুপুরে একটার পর একটা এমন নৃশংস ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আজ আমরা যেমন শোকাহত, তেমনি শংকিত ও উৎকণ্ঠিতও বটে। কখন কোন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে যাই, এই ভয়ে হারিয়ে ফেলছি স্বাধীনভাবে কাজ করার শক্তি, সাহস ও মনোবল। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ক্যাম্পাসে কেউ নিজেকে নিরাপদ মনে করতে পারছেন না। মুক্তচিন্তার জায়গাটি শংকুচিত হয়ে যাচ্ছে ক্রমেই।
মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকের নির্মম মৃত্যুর শোকে আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সমাজ শোকে মুহ্যমান। এ হত্যাকাণ্ডের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নরপিশাচদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির দুঃসাহস কারও না হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে হত্যা, শিক্ষকের ওপর হামলা, জখম, শিক্ষকের বাসে হামলা- প্রতিনিয়তই এমন বর্বোরচিত ঘটনা ঘটছে। একের পর এক শিক্ষক হত্যাকাণ্ড এবং তার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ার ধারাবাহিকতায় এমন ঘটনা ঘটতেই থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক এসব ঘটনার প্রতিবাদে ঘটনা-পরবর্তী কয়েকদিন আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করেন অপরাধীদের গ্রেফতার কিংবা শাস্তির দাবিতে। সরকার, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিশ্র“তি দেয়া হয় সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। কিন্তু কোনো ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়টি আর নিশ্চিত হয় না।
গত এক দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের পাশাপাশি বহু শিক্ষার্থীও নিহত হয়েছেন। কোনোটির সুষ্ঠু বিচার হয়েছে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিগত বছরগুলোয় নিহত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিবার আজও তাকিয়ে আছে কখন হবে তাদের পিতা কিংবা সন্তানের হত্যাকারীদের বিচার ও শাস্তি। এসব হত্যার বিচার আদৌ কোনোদিন হবে কি?
শিক্ষক, সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রনেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় এর আগেও শিক্ষক ও ছাত্র ধর্মঘট কিংবা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আবার কয়েকদিন পরই তা থেমে গেছে। ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমরাও সেটি চাই। কিন্তু যে বিচারের কিংবা সুষ্ঠু তদন্তের আশায় এমন ধর্মঘটের কর্মসূচি স্থগিত হয়, তা আদৌ কি আলোর মুখ দেখতে পায়? বিচার হয় না বলেই এমন হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে। এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, যদি একেএম শফিউল স্যারের হত্যাকাণ্ডের যথাযথ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার না হয়, তাহলে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটতেই থাকবে। দুর্বৃত্তদের সাহস ও শক্তি আরও বেড়ে যাবে। কোনোভাবেই তা থামানো সম্ভব হবে না।
ড. সুলতান মাহমুদ রানা : সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

‘ধর্মপুত্রে’ কলঙ্কিত বিমান- তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচজন গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে by টিপু সুলতান ও নজরুল ইসলাম

সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে বিমানের চেয়ারম্যানের কথিত ‘ধর্মপুত্র’ মাহমুদুল হক ওরফে পলাশসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই জেলার বাসিন্দা ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছেলের মতো ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনি নিজেকে তাঁর ধর্মপুত্র দাবি করতেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তিনজন পদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন। তাঁরা হলেন চিফ অব প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ আসলাম শহীদ, ফ্লাইট সার্ভিস শাখার উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এমদাদ হোসেন ও ব্যবস্থাপক (শিডিউলিং) তোজাম্মেল হোসেন। এঁদের সঙ্গে হারুন অর রশিদ নামে একজন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর, উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকা থেকে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ডিবি জানায়। তাঁদের চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এসব বিমানকর্মীর বিরুদ্ধে গতকাল পর্যন্ত কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দিক হোসেন জনসংযোগ শাখার মাধ্যমে প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। পুলিশি ব্যবস্থা শেষ হলে বিমান বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।
সোনা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিমানের অনেক কর্মী গ্রেপ্তার হলেও ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
খোদ বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদও এ নিয়ে প্রথম আলোর কাছে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগে শুনতাম, কেবিন ক্রু, সুইপার, টেকনিশিয়ানের মতো ছোট কর্মচারীরা এসবে জড়িত হয়। কিন্তু ক্যাপ্টেন শহীদের মতো সিনিয়র পাইলট, চিফ অব প্ল্যানিং ও শিডিউলিংয়ে থেকে এমন কাজে জড়িত হয়েছে, আমি হতবাক হয়েছি।’
জানতে চাইলে সাবেক বিমানমন্ত্রী জি এম কাদের এ ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি যখন বিমানমন্ত্রী ছিলেন, তখন এ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা সোনা চোরাচালানে জড়িত এমন অভিযোগ তিনি শোনেননি। এত সোনা ধরা পড়ার ঘটনাও ঘটেনি।
প্রসঙ্গত, গত ছয় বছরে বিমানমন্ত্রী তিনবার রদবদল হয়েছে। বিমানের পরিচালনা পর্ষদ ও এমডি পদেও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যান পদে জামালউদ্দিনই বহাল আছেন, যার ফলে বিমানে তাঁর একছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আকাশ পরিবহন জগতে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে।
বিমান সূত্র জানায়, কোন পাইলট কবে কোন ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করবেন, তা ঠিক করতেন ক্যাপ্টেন শহীদ। আর ডিজিএম এমদাদ ও ব্যবস্থাপক তোজাম্মেল কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব বণ্টন করতেন। অভিযোগ রয়েছে, চোরাচালান চক্রের পছন্দের কর্মীরা যাতে নির্দিষ্ট ফ্লাইটে দায়িত্ব পান, তা এসব কর্মকর্তা নিশ্চিত করতেন। আর এঁদের পদে থাকাটা নির্বিঘ্ন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা ছিল পলাশের।
বিমানের একাধিক সূত্র জানায়, কোনো পদে না থেকেও পলাশ নিয়মিত বিমান কার্যালয়ে যেতেন। তিনি সেখানে বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের ‘ধর্মপুত্র’ বলে বহুল পরিচিত ছিলেন। ফলে সবাই তাঁকে সমীহ করে চলতেন।
অবশ্য এ বিষয়ে জামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধর্মপুত্র কেমনে হয়? আর হলেই বা কী? এ দোহাই দিয়ে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। এ ঘটনা পুলিশ তদন্ত করছে।’
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ নিজেকে বিমানের ঠিকাদার ও বিমানের চেয়ারম্যানের ‘ধর্মপুত্র’ পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, তিনি জামাল উদ্দিনের ছেলের বন্ধু।
বিমানের চেয়ারম্যান প্রথম আলোকে বলেন, ‘পলাশ কস্মিনকালেও আমার ছেলের বন্ধু হতে পারে না। সে কুমিল্লার ছেলে। আমার বাড়িও কুমিল্লা। এই সুবাদে সে আমার কাছে বিমানে ঠিকাদারি কাজ পেতে সহায়তা চায়। আমি বলেছি, সিস্টেমের বাইরে আমি সহায়তা করতে পারি না। তুমি অন্যদের মতো নিয়ম মেনে চেষ্টা করো।’ তিনি বলেন, ‘পলাশের স্ত্রী কেবিন ক্রু, সেই সুবাদে সে হয়তো এ ধরনের চক্রের হয়ে কোনো সুযোগ নিয়েছে।’
জানতে চাইলে ডিবির উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম বলেন, পলাশ বিমানবন্দর এলাকায় অতি প্রভাবশালী। তিনি সেখানকার চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করেন।
এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে গতকাল বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিং করেন মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের কেবিন ক্রু মাজহারুল আবছারকে দুই কেজি ৬০০ গ্রাম সোনা, ছয়টি আইপ্যাডসহ গ্রেপ্তার করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীকালে আদালতে তাঁর দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের মধ্যে পলাশ পুরো চক্রটির নেতৃত্ব দিতেন। তিনি বলেন, এই পাঁচজন ছাড়াও সোনা পাচারে জড়িত বা সহায়তাকারী হিসেবে বিমানের আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম এসেছে।
আদালত সূত্র জানায়, ১৭ নভেম্বর মাজহারুল আবছার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোনা পাচারে জড়িত হিসেবে আরও ৫৬ জনের নাম বলেছেন। তাঁদের মধ্যে ৫১ জন বিমানের ও পাঁচজন বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) কর্মী। তিনি আরও বলেন, সোনা পাচারকারী চক্রগুলো সিভিল এভিয়েশন, শুল্ক বিভাগ, বাংলাদেশ বিমানসহ অন্য বিমান সংস্থার একশ্রেণির কর্মীকে পাচারকাজে যুক্ত করেছে।
শেখ নাজমুল আলম বলেন, জবানবন্দিতে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
একজনকে সুবিধা দিতে পাইলটদের বয়স বৃদ্ধি: বিমান সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ক্যাপ্টেন শহীদের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২৮ অক্টোবর। এখনো তিনি কীভাবে চাকরি করছেন জানতে চাইলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাত দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র মহাব্যবস্থাপক খান মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পাইলটদের চাকরির বয়স তিন বছর বাড়িয়ে ৬০ বছর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক আদেশ বা প্রজ্ঞাপন হয়নি, এই অবস্থায় ক্যাপ্টেন শহীদের বাড়তি সময় এ পদে বৈধ হবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে বিমানের মুখপাত্র বলেন, পর্ষদ সভায় সিদ্ধান্ত হলে তিনি থাকতে পারেন।
বিমানের পাইলটরা কয়েক বছর ধরে বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু তা মানা হয়নি। এ নিয়ে মামলাও চলছে। এখন ক্যাপ্টেন শহীদকে সুযোগ দিতেই এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ঘটনায় প্রতীয়মান হয়, সোনা পাচারে আরও ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি জড়িত আছেন।
ঢাকায় ২০ মাসে সোনা উদ্ধার: শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান প্রথম আলোকে বলেন, এনবিআর সম্প্রতি তাঁর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে একটি পাচারের ঘটনায় জড়িত হিসেবে ১৪ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জনই বিমানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী। তিনি বলেন, এসব তথ্য তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেবেন। তিনি মনে করেন, সঠিকভাবে তদন্ত হলে এঁদের ওপরে আর কারা আছেন, তা বেরিয়ে আসবে।
শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০ মাসে শুল্ক বিভাগ ও শুল্ক গোয়েন্দারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হাজার ১৮ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে।
ঢাকা বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, গত জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোনা উদ্ধারের ঘটনায় ৯৫টি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন ১১৯ জন।

একজন উপাচার্যের প্রতিকৃতি by একে এম শাহনাওয়াজ

চলে গেলেন সিদ্দিকী স্যার। আমার মানসিক অসহায়ত্ব আরেকটু বেড়ে গেল। খুব কাছাকাছি সময়ের ব্যবধানে আমাদের উজ্জ্বল ভাণ্ডার দ্রুত খালি হয়ে যাচ্ছে। আমি সব সময়ই বিশ্বাস করি, বড় মানুষদের সান্নিধ্য না পেলে বড় হওয়ার সাধ জাগে না। এদিক থেকে আমি ভাগ্যবান। বড় মানুষ ও পাণ্ডিত্যে উজ্জ্বল শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছি শিক্ষা জীবনের নানা ক্ষেত্রে। আর এখন অসহায়ভাবে দেখছি তারা একে একে আমাকে একা করে দিয়ে চলে যাচ্ছেন। তিন দশকের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি, তারপরও বাস্তবতা ও উপলব্ধি থেকে দেখতে পাচ্ছি অনুকরণ করার মতো বা প্রভাবিত হওয়ার মতো শিক্ষকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। মহান শিক্ষকদের প্রভাবে আলোকিত হতে পেরেছি কিনা- এ প্রশ্নে নিজের প্রতিও আমার অনেক সন্দেহ রয়েছে। যে বড় মানুষ মহান শিক্ষকদের সান্নিধ্য পেয়ে আমি ধন্য, তাদের মধ্যে ২০০৭ সালে প্রথম হারিয়েছি প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল করিমকে। প্রচলিত অর্থে আমার সরাসরি শিক্ষক না হয়েও মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাস গবেষণায় যিনি হাত ধরে আমাকে পথ চিনিয়েছেন। বেশ কয়েক বছর আগে হারিয়েছি আমার শিক্ষক ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক আবু ইমামকে। গত বছর হারিয়েছি প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আমার গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ভারতীয় ইতিহাসের গুরুনানক প্রফেসর অমলেন্দু দেকে। এই সেদিন হারালাম ইতিহাস চর্চা আর শিক্ষাঙ্গন সম্পর্কে আমার ভেতর নতুন উপলব্ধি তৈরি করে দেয়া জাতীয় অধ্যাপক সালাহউদ্দীন স্যারকে। গত সপ্তাহে হারালাম আমার স্কুলশিক্ষক মনোতোষ কুমার সাহা স্যারকে। প্রত্যেকেই আমার সামনে ছিলেন এক একজন আলোকবর্তিকা। আর এখন
কঠিন সমাজ বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সামনে দেখি ধোঁয়াটে অন্ধকার আর পেছনে তাকিয়ে দেখি বাতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কেবল আলো-আঁধারির ছায়া।
জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী স্যার আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন না। কিন্তু কাছে থেকে দেখার ও পাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও ইংরেজি বিভাগ ছিল পাশাপাশি। প্রায় প্রতিদিনই দেখতাম একজন ধীরস্থির আর অসম্ভব ব্যক্তিত্বের অধিকারী অধ্যাপককে। হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের এমন ছবিই মনে মনে আঁকতাম। কোনো অনুষ্ঠানে সিদ্দিকী স্যার আসবেন জানলে সে অনুষ্ঠানে না থাকার প্রশ্নই উঠত না। চমৎকার শব্দ চয়ন, বাক্যের গাঁথুনি ও কণ্ঠের দীপ্তি আমাদের অনেককেই তন্ময় করে রাখত।
আমার শিক্ষকতায় যোগদান উপাচার্য হিসেবে সিদ্দিকী স্যারের হাতেই হয়েছিল। এটি আমার কাছে হীরন্ময় স্মৃতি। এর অর্থ এই নয় যে, স্যার আমাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন বলে স্মৃতিটি এতটা উজ্জ্বল। আমি বরঞ্চ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তুলনা করতে পারি সে সময়ের সঙ্গে বর্তমানের। একজন উপাচার্যের দূরদৃষ্টি এবং দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে কতটা রূপান্তর হয়েছে।
আমাদের সময় শিক্ষক নিয়োগে কুরাজনীতিকরণ হয়নি। শিক্ষকরাই নির্মোহভাবে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ভেতর থেকে কে শিক্ষক হওয়ার যোগ্য তা নির্ধারণ করে রাখতেন (কখনও যে এর ব্যতিক্রম ছিল না তা নয়)। এ লক্ষ্যে বিবেচনায় রাখা ছাত্র-ছাত্রীকে পথনির্দেশনাও দিতেন। শিক্ষার্থী হয়তো জানতেও পারত না।
আমিও পরিচর্যা পেয়েছিলাম আমার শিক্ষক অধ্যাপক আবু ইমাম স্যারের। এমএ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আমার ব্যাংকার বাবা অবসরে গেলেন। আমার চাকরিতে ঢোকা জরুরি। ছেলেবেলা থেকেই আমার সিদ্ধান্ত ছিল শিক্ষকতা ছাড়া অন্য কোনো পেশায় যাব না। এদিকে আমার শিক্ষকও বিষয়টি উপলব্ধি করলেন। কিন্তু উপায় ছিল না। বিভাগে প্রভাষকের পদ শূন্য নেই। আমি কিছুটা হতাশ। এ সময় হঠাৎ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হল। খবরটি শুনে গম্ভীর হয়ে গেলেন আবু ইমাম স্যার। পরদিন সকালে বিভাগে আসতে বললেন। আমি যাওয়ার পর তিনি বললেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তো স্থায়ী পদ। এখানে তোমাকে যদি এডহক নিয়োগের চিন্তা করা হয় তুমি তাতে সম্মত হবে কি-না। আমি সানন্দে সম্মতি জানাই। স্যার দেরাজ খুলে একটি হলুদ রঙের খাম এগিয়ে দিলেন। খুলে দেখি নিয়োগপত্র। বাকিটা আবু ইমাম স্যারের কাছে শোনা। আমি চট্টগ্রামে চলে যাব এমন খবর উপাচার্য জিল্লুর রহমান স্যারকে টেলিফোনে জানাতেই সিদ্দিকী স্যার আবু ইমাম স্যারকে ভিসি অফিসে আসতে বললেন। সিদ্দিকী স্যার স্বভাবসুলভ গম্ভীর কণ্ঠে আবু ইমাম স্যারকে বললেন, শাহনাওয়াজকে পড়াশুনো করিয়ে আপনারা তৈরি করলেন, এখন ওকে চলে যেতে দেবেন কেন! আমি এখনই এডহক নিয়োগপত্র দিচ্ছি, ওকে ধরে রাখার বাকি দায়িত্ব আপনার।
এখন এসব স্মৃতি খুব তাড়িত করে। এমন একজন উপাচার্যের দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে পাণ্ডিত্য নয়, সরকার দলের সঙ্গে প্রার্থীর রাজনৈতিক সম্পর্ক কতটা, তা প্রাধান্য পায়। আবার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধারার উপাচার্য ও তার গ্র“প নেতা শিক্ষকদের কাছে প্রাধান্য পায় শিক্ষা গবেষণার যোগ্যতা নয়, ছাত্রজীবনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় কী ছিল আর প্রার্থী শিক্ষক হয়ে এলে তাদের কথা শুনবে কি-না- এসব প্রশ্নের উত্তর। এর সঙ্গে এখন তো শোনা যায় অর্থ-বাণিজ্যও নাকি যুক্ত হয়েছে। এই শোনা কথা সত্যি না হোক, কায়মনোবাক্যে তা-ই প্রার্থনা করি।
উপাচার্য হিসেবে শিক্ষকের অবস্থান থেকে জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী স্যারকে অল্পদিন দেখেছি। সেটুকুই ছিল নজরকাড়া। গ্র“প রাজনীতির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তখনও তৈরি হয়নি। এখন তো অনেক ক্ষেত্রে উপাচার্যকে বেশিরভাগ সময় ঘিরে থাকেন দলীয় শিক্ষকরা। এসবের বালাই ছিল না তখন। কোনো প্রয়োজনে দেখা করতে হলে আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে আসতে হতো। এখন বুঝেছি দক্ষ ও ন্যায়নিষ্ঠ প্রশাসন পরিচালনা করতে এ ধরনের নিয়মের শাসন থাকা জরুরি।
আদর্শিকভাবে দেখলে একজন উপাচার্যের প্রথম গুণ থাকা প্রয়োজন শিক্ষাবিদ হিসেবে সহজাত পাণ্ডিত্য। যে কারণে তিনি শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায় সর্বজনমান্য হয়ে ওঠেন। এরপর প্রশাসনিক দক্ষতা। বিচক্ষণতা এ ক্ষেত্রে দক্ষ করে তোলে। ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার প্রতি সমদর্শী ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে পারলে প্রশাসন পরিচালনা সহজ হয়ে যায়। এসব গুণ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী স্যারের মধ্যে দৃশ্যমান ছিল। প্রকৃত অর্থে একজন আদর্শ উপাচার্যের প্রতিকৃতি যেমনটি হওয়া দরকার, পুরোপুরি তেমনটিই সিদ্দিকী স্যারের অবয়বে ও তার কর্ম প্রয়াসের মধ্যে দেখতে পেয়েছি।
আমাদের দুর্ভাগ্য, উগ্র রাজনীতিকরণের ঘেঁরাটোপে পরে উপাচার্য পদটি ক্রমে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। যে কোনো আইন, অধ্যাদেশের ভেতর ভালো বা কল্যাণ চিন্তার পাশাপাশি আইনের ফাঁক বা অমঙ্গলের ক্ষত লুকিয়ে থাকে। অসাধু ক্ষমতাধররা সেসব ক্ষত আবিষ্কার করে তাতে লাভের ও লোভের পসরা সাজায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার জন্য ১৯৭৩-এর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। এ অধ্যাদেশের ভেতরেই রয়েছে উপাচার্য নিয়োগের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। সিনেটরদের ভোটে উপাচার্য পদপ্রার্থী তিনজন নির্বাচিত হন। তাদের ভেতর থেকে পছন্দমতো যে কোনো একজনকে চ্যান্সেলর উপাচার্য হিসেবে নিয়োগদান করেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হলেও এর ভেতরকার ফাঁক খুঁজে নিয়ে দলীয় সরকারগুলো দলীয় উপাচার্য নিয়োগের পথ পাকাপোক্ত করে নেয়। এর জন্য কায়দা করা আছে শুরু থেকে। কায়দাটি করা হয়েছে সিনেটর নিয়োগ ও নির্বাচনের পদ্ধতির ভেতরেই। সিনেটরদের একটি অংশ রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের ভেতর থেকে, আরেকটি অংশ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত, বাকি কয়েকটি সদস্যপদ সরকার মনোনীত। কিছুসংখ্যক সিনেটর থাকেন যাদের কোনো না কোনোভাবে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং তাদের মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি একটি দায়বদ্ধতা কাজ করে। সরকার বা মহামান্য চ্যান্সেলর সরাসরি যাদের মনোনয়ন দেন, তাদের বাছাই করা হয় এমপি আর আমলাদের ভেতর থেকে। নিয়োগকর্তা হিসেবে চ্যান্সেলরের নাম ব্যবহৃত হলেও এ ক্ষেত্রে অঙ্গুলি হেলন থাকে দলীয় সরকারপ্রধানের। এসব ক্ষেত্রে নিয়োগ লাভকারী উল্লিখিত সিনেটররা উপাচার্যের প্যানেলে সাধারণত সরকারি প্রেসক্রিপশন অনুযায়ীই ভোট প্রদান করে থাকেন। অন্য সিনেটরদের ভোটে পক্ষ-বিপক্ষের টানাপোড়েনে ভারসাম্য তৈরি হলেও উল্লিখিত সরকারি ভোটগুলো সাধারণত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সাহায্য করে। এভাবে তথাকথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উপাচার্য প্যানেলে ভোটাভুটি হলেও প্রায়শই সরকারি দলের আশীর্বাদপুষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বীই নির্বাচিত হন। কখনও কখনও জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিত্ব ও পাণ্ডিত্যের বিচারে তিনজনের একজন সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হলেও দলীয় পরিচিতি ও আনুগত্য না থাকায় তিনি চ্যান্সেলর কর্তৃক নিয়োগ লাভে ব্যর্থ হন। আবার সরকারদলীয় একাধিক উপাচার্য পদপ্রার্থী নির্বাচিত হলে তাদের ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায় সরকারের বিভিন্ন মহলে। এ সময় মন্ত্রী থেকে ছাত্রনেতা পর্যন্ত সবাই জড়িত হয়ে পড়েন যার যার কাছের মানুষের পদ লাভকে নিশ্চিত করতে। ফলে দলীয় পরিমণ্ডলে অনুরাগ-বিরাগ দুই-ই বাড়তে থাকে।
উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রটি এভাবে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণ হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার পরিবেশ নানাভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ছাত্র রাজনীতিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির আধিপত্যের কারণে যেমন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মেধাবী ছাত্ররা রাজনীতির প্রতি উৎসাহ হারিয়ে নির্লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে, তেমনি মেধা বিচারের বদলে পক্ষপাতদুষ্ট দলীয়করণের কারণে পাণ্ডিত্য ও মেধায় উজ্জ্বল অনেকেই উপাচার্য পদটির প্রতি আর এখন আকর্ষণ বোধ করছেন না। আর করলেও দলীয় পরিচিতি এবং কর্তাভজনের গুণ না থাকায় তারা নির্বাচকদের তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন।
রাজনীতিকরণের এই দুঃসহ পরিবেশ থেকে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর মতো মেধায়, পাণ্ডিত্যে আর দক্ষতায় একজন আদর্শ উপাচার্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
ড. একেএম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জামায়াত আর দুর্নীতি নিয়ে ভুগছে বিএনপি by রিয়াদুল করিম

প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে দুটি কারণে বেগ পেতে হচ্ছে বিএনপিকে। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বলছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠতা ও সরকারে থাকাকালে জঙ্গিবাদের উত্থান এবং সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে না পারা। কূটনীতিকদের সঙ্গে দলের সম্পর্কের বিষয়টি দেখেন বিএনপির এমন একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে বিদেশিদের সঙ্গে, বিশেষ করে পশ্চিমাদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে দুটি বিষয় বারবার উঠে এসেছে। এর একটি হলো জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠতা। অন্যটি হলো তারা জানতে চায়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি কীভাবে কমাবে। সুশাসন নিশ্চিত করার মতো দক্ষ লোকবল দলটির আছে কি না। বিএনপি এ দুটি বিষয়ে এখনো পশ্চিমাদের পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারেনি। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত মনে করে বিএনপি ভারতবিরোধী একটি দল। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠতা, বিভিন্ন সময়ে দলটির ভারতবিরোধী বক্তব্য এ বিশ্বাসকে আরও জোরালো করেছে।
বিএনপির ওই নেতা আরও জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে এটি পরিষ্কার করার চেষ্টা চলছে যে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির যে জোট তা শুধুই নির্বাচনী জোট। আদর্শগতভাবে দুই দলের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। জামায়াতের নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো কথা না বলাও এর একটি কারণ। কিন্তু মাঠের আন্দোলন ও ভোটের হিসাব মাথায় রেখে জামায়াতে ইসলামীকে ছাড়তে পারছে না বিএনপি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী অবশ্য দাবি করেছেন, এসবের কোনো ভিত্তি নেই। এসব কারও না-কারও মনগড়া কথা।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, মূলত ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বিদেশিদের সঙ্গে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশ ও ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক খারাপ হয়। এ জন্য ওই সময় বিএনপির ‘লুক ইস্ট পলিসি’কে এখন দায়ী করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ। এর পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠতা, একই সময়ে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ও দুর্নীতি এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সেই সময়ের ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি।
এসব নিয়ে বিএনপির কোনো নেতা উদ্ধৃত হয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের লেখায় এ বিষয়টি ওঠে এসেছে। তবে দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যও এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চারদলীয় জোট সরকারের আমলের মন্ত্রী মওদুদ আহমদ তাঁর ‘কারাগারে কেমন ছিলাম (২০০৭-২০০৮)’ বইয়ে লিখেছেন, ‘বিশ্ব পর্যায়ে বিএনপি বন্ধুহীন হয়ে পড়া এবং রাজনীতিতে প্রান্তিক অবস্থায় চলে আসার পেছনে মূল কারণ হলো দুটি। সেগুলো হলো- (১) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গভীর সখ্যতার কারণে বিএনপিকে চিহ্নিত করা হয়েছে এমন ইসলামী উগ্রপন্থী শক্তির সহযোদ্ধা হিসেবে, যাদের মূল লক্ষ্য হলো ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করা। যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের কাছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। (২) তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে থাকা লোকজনের দুর্নীতি। বিএনপি যদি এ দুইয়ের গ্লানি কাটিয়ে ভারসাম্যময় মধ্যপন্থী গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে পারবে না এবং কোনোরকমে আসতে সক্ষম হলেও বেশিদিন তা ধরে রাখতে পারবে না।’

শুধু কি বিরোধী দলই ব্যর্থ? by মেজবাহ-উ ল-আজম সওদাগর

আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ক্লিসথেনিসের হাত ধরে বিশ্বের প্রথম গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু হয় গ্রিসের ছোট্ট নগর রাষ্ট্র এথেন্সে। ক্লিসথেনিস রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিভিন্ন উপজাতির মধ্য থেকে নেতা বেছে নেয়ার যে নীতি, তার অবসান ঘটান এবং বিপরীতে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেয়ার অধিকার নিশ্চিত করেন। বিশ্বের ইতিহাসে ক্লিসথেনিসের এ পদক্ষেপকেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার শুরু বলে ধরা হয়। রাষ্ট্রে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন ক্লিসথেনিস। গণতন্ত্রের এই শুরু থেকে তার বিকাশের এ পর্যায় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের মূল কথা। গণতন্ত্রে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সমালোচনা স্বীকৃত। গণতন্ত্রে পারস্পরিক আলোচনা ও পরামর্শের পর শেষাবধি সংখ্যাগরিষ্ঠের বাছাইকৃত মত গ্রহণীয় বলে বিবেচ্য হয়। আর সে কারণে গণতন্ত্রই হচ্ছে পৃথিবীতে সবচেয়ে কম সমালোচিত ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য একটি শাসনব্যবস্থা, যা আজ অবধি চালু রয়েছে। মার্কিন ইতিহাসবিদ ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামা আধুনিক এই উদারনৈতিক গণতন্ত্রকে মানব ইতিহাসের শেষ রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন যে, এরপর আর মানুষ কোনো রাজনৈতিক আদর্শের খোঁজে ছুটবে না। ফুকুইয়ামার এই মত বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়; কিন্তু এখন পর্যন্ত পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে। যাহোক, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই যেখানে গণতন্ত্রের লক্ষ্য, অধিকারহীনতা সেখানে নিশ্চিতভাবেই গণতন্ত্রহীনতা, সে বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই। মৌলিক অধিকার, মানবাধিকারগুলো কেড়ে নিয়ে যে জবরদস্তিমূলক শাসন মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয় তাই গণতন্ত্রহীনতা। গণতন্ত্রহীনতায় জনমত ও যুক্তির কোনো প্রাধান্য নেই। এখানে যুক্তির জোরের পরিবর্তে জোরের যুক্তি অনুসৃত হয়। ফলে রাষ্ট্র পরিণত হয় মিথ্যা, অন্যায়, অবিচারের স্বর্গে।
আজকের এই লেখা বাংলাদেশের গণতন্ত্রহীনতার প্রায়োগিক দিকের একটা বিশ্লেষণ। এ লেখায় আমি প্রশ্ন তুলব,
আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র এখন কাজ করছে কার স্বার্থে, কীভাবে ও কেন? সঙ্গে সঙ্গে চেষ্টা করব এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বাংলাদেশকে গণতন্ত্রহীন করার প্রথম পদক্ষেপটি নেয়া হয়। এরপর ৫ জানুয়ারির একদলীয় ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয় আর শুরু হয় জবরদস্তিমূলক শাসন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে গণতন্ত্রহীনতার পথে যাত্রা শুরুর পর দেশে খুন, গুম, দমন-নিপীড়নের ইতিহাস আমাদের সবার জানা। স্বাভাবিক অবস্থায়ও দেশে খুন-গুম বেড়ে যেতে পারে কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে গণতন্ত্রহীনতার পথে যাত্রা শুরুর পর দেশে আশংকাজনকভাবে বেড়ে যাওয়া খুন, গুম, দমন-নিপীড়নের বিষয়ে
রাষ্ট্রের অবস্থান কী?
বাংলাদেশে খুন, গুম নিয়ে যেখানে সারা দেশের মানুষসহ সারা বিশ্ব উদ্বিগ্ন সেখানে হতভাগ্য পরিবারগুলোকে তাচ্ছিল্য করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বলেন, ‘আমি গুমকে গুম বলি না, হারিয়ে যাওয়া বলি। যারা গুম হন তারা আসলে হারিয়ে যান।’ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই তাচ্ছিল্য গুম, খুনের পক্ষে রাষ্ট্রের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। অপহরণকারীদের জীবনকে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে। নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত র? র‍্যাব কর্মকর্তাদের দ্রুত গ্রেফতারে হাইকোর্ট সুয়োমোটো রুলের মাধ্যমে নির্দেশ দিলে প্রধানমন্ত্রী তাতে নাখোশ হন আর এ ঘটনায় বহুল আলোচিত সংসদ সদস্য ও সন্ত্রাসীদের গডফাদার শামীম ওসমানের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে। উল্টো প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের পাশে থাকার। এরপর দলীয় জনসভায় ওই পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বললেন, ‘ওসমান পরিবার আওয়ামী লীগের। এই ওসমান পরিবারকে, এই খান সাহেব ওসমানকে আমরা আওয়ামী লীগের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারব না।’ খুনি ওই র?্যাব কর্মকর্তারা কেন এখন জামাই আদরে থাকবেন না? ওদিকে গডফাদার নিশ্চয়ই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। নবীনগরের শাহনূর আলম হত্যা ঘটনায় র?্যাবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার এফআইআর করার আদেশ দেয়ার পরদিনই ৫ জুন বিচারিক হাকিম নাজমুন নাহারকে জনস্বার্থে আদালত থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়। র‌্যাবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এফআইআরভুক্ত করার আদেশ দেয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাক আহমেদ সাহদানী এই আদেশ দেন। নাজমুন নাহারকে আমলি আদালত থেকে জনস্বার্থে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে আদেশে বলা হয়। প্রত্যাহারের এই আদেশ কার্যকর হয় ৮ জুন থেকে। এ বিষয়ে
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী খায়রুল
এনাম বলেন, বিচারককে জনস্বার্থে প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহে মনে হচ্ছে, তিনি মামলা গ্রহণ করার জন্য নবীনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়ার কারণে প্রত্যাহারের ঘটনাটি ঘটেছে। এর বাইরে হুট করে প্রত্যাহারের আর কোনো কারণ আমরা দেখতে পাই না।
এদিকে শাহনূর আলম হত্যা মামলাটি স্থগিত করার জন্য ফৌজদারি মোশন করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে (মানবজমিন, ৬ জুন ২০১৪)। এবারও মুচকি হেসে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে খুনিরা। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিবাজ নয়, দেশপ্রেমিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এখন দুদক সরকারদলীয়দের দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিচ্ছেন। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সংসদে প্রশ্ন রাখেন, দেশের প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায়, বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিবছরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। এতে মাঝে মধ্যে পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। এসব প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে চিহ্নিত করা হয়েছে কি? জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে কোনো পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমরা সবাই জানি পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসিতে কী পরিমাণ প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এছাড়াও উল্লেখ্য যে, এ বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে (প্রথম আলো, ২৬ জুন ২০১৪)। এ অবস্থায় শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য প্রশ্ন ফাঁসকারীদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে নিশ্চয়ই সহায়তা করেছে। তারা আরও কনফিডেন্ট হয়েছে। অতি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি ও প্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, ‘বিসিএসে তোমরা লিখিত পরীক্ষাটা ভালো করে দাও, ভাইভাটা আমরা দেখব।’ অর্থাৎ ভাইভাতে কোনো মেধা বা যোগ্যতা লাগবে না, শুধু ছাত্রলীগ হলেই চলবে। আর যাদের মেধা-যোগ্যতা আছে; কিন্তু ছাত্রলীগ নয়, বিসিএসের চাকরি তাদের ভাগ্যে নেই বলেই কার্যত ঘোষণা দিলেন এই প্রভাবশালী উপদেষ্টা। এই ঘোষণায় মেধাবীরা তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছে আর তাদের হতাশা দেখে ছাত্রলীগের ছেলেরা টিপ্পনি কাটছে। এছাড়া, বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে নেয়া, নতুন বিতর্কিত সম্প্রচার নীতিমালা, সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল বন্ধ করা, হাজার হাজার মানুষের নামে মিথ্যা মামলা, রিমান্ডের নামে নিষ্ঠুর নির্যাতন ইত্যাদি অগণতান্ত্রিক নিপীড়ক রাষ্ট্রের আরও কিছু অনৈতিক কাজ। চার হাজার কোটি টাকা কোনো টাকা না, দুর্নীতিকে আমি অবৈধ মানে করি না, হরতালে রাস্তায় নামলেই গুলি করা হবে, হরতালকারীদের ঘরে ঘরে গিয়ে হত্যা
করা হবে ইত্যাদি তো আছেই। এতে যারা অবাক হন তারা বোকা। কারণ গণতন্ত্রহীনতার একটি তাত্ত্বিক ও প্রয়োগিক ব্যাখ্যা আছে। খুন, গুম, দুর্নীতি ইত্যাদির পক্ষে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ অবস্থান গণতন্ত্রহীনতায় অবশ্যম্ভাবী। এখানে রাষ্ট্র মিথ্যা, অন্যায়, খুন, গুম ইত্যাদির পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য। গণতন্ত্রহীনতায় অগণতান্ত্রিক সরকারের টিকে থাকার এটিই প্রধান শর্ত। পানিবিহীন মাছ আর মিথ্যা, অন্যায়, খুন, গুমবিহীন একটি অগণতান্ত্রিক সরকারের অস্তিত্ব অকল্পনীয়।
এভাবেই গণতন্ত্রহীনতার জবরদস্তিমূলক শাসনে মিথ্যা, অন্যায়-অবিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় রাষ্ট্র নিজেই। রাষ্ট্রযন্ত্র হয়ে পড়ে মিথ্যাবাদী, খুনি, লুটেরা, চোর আর দুর্নীতিবাজদের। দেশপ্রেমিক বা সৎ মানুষ এখানে রাষ্ট্রের শত্র“। আর এ কারণেই টকশো আলোচকরা আখ্যায়িত হয়েছেন সিঁধেল চোর হিসেবে। দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা শহীদ মিনারে হয়েছেন অবাঞ্ছিত। গণতন্ত্রহীনতায় রাষ্ট্রের প্রধান কাজ মিথ্যাচার, নিপীড়ন-নির্যাতন। মিথ্যা, অন্যায় আর নিপীড়নের আশ্রয় নিতে হবে তাকে টিকে থাকার স্বার্থেই, আর তা করতে না পারলে তার কর্ণধারদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। কিন্তু বলুন, অস্তিত্বের বিপন্নতা কে চায়? এ অবস্থায় সরকারের কাছে নির্বাচন কিংবা সংলাপ ভিক্ষা অপদার্থ কিংবা ব্যর্থদের মুখেই মানায়। মাঠে-ঘাটে দেখুন কেউ আর বলে না, এটা ব্যর্থ সরকার। সবাই বলে, ব্যর্থ বিরোধী দল, ব্যর্থ বিরোধী দল।
মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর : সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জলহস্তীর হামলায় ১২ স্কুলশিশু নিহত

নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে জলহস্তীর হামলায় ১২ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এতে এক গ্রামবাসীও নিহত হয়েছেন। নিহত ৭ মেয়ে ও ৫ ছেলে শিক্ষার্থীর বয়স ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। একটি নৌকায় হামলা চালায় জলহস্তীটি। নৌকাটি নাইজার নদী পার হচ্ছিল। এ সময় জলহস্তীর হামলায় সেটি উল্টে যায়। ঘটনাস্থলে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। নৌকাটিতে কমপক্ষে ১৮ আরোহী ছিল। ওই হামলায় বাকি ৫ জন বেঁচে যায়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে এ তথ্য দিয়েছেন দেশটির মাধ্যমিক শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী আইচাতোউ ওউমানি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। পশ্চিম আফ্রিকার এ দেশটিতে নদী পার হয়ে বহু শিশু শিক্ষার্থী স্কুলে যায়। দুর্ঘটনাস্থলের পাশের গ্রাম লিবোরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই নৌকায় থাকা গ্রামের এক বাসিন্দাও প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে ওই জলহস্তীকে চিহ্নিত করে সেটিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন তিলাবেরি অঞ্চলের গভর্নর হাসুমি দাজাবিরোউ। গত বছর নিয়ামেতে এক টিএনএজ কিশোর জলহস্তীর হামলায় নিহত হওয়ায় প্রাণীটিতে গুলি করে মেরে ফেলা হয়।

ব্যাংক কি শুধু নিজের স্বার্থই দেখবে? by ড. আর এম দেবনাথ

গত সপ্তাহে যুগান্তরে ঋণের সুদের হারের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর শিরোনাম অর্থনীতিতে সুদের থাবা : প্রধানমন্ত্রী অন্ধকারে। প্রতিবেদনটি ঋণের ওপর সুদ সম্পর্কিত। এতে ঋণের উচ্চসুদের কুফল বর্ণনা করা হয়েছে। জোর দিয়ে পাঁচটি কুফলের কথা বলা হয়েছে। ব্যাংক ঋণের উচ্চসুদে অর্থনীতির বহুমুখী ক্ষতি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্ষতি, এতে বাড়ছে খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা। দ্বিতীয় ক্ষতি, উচ্চসুদের কারণে প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হচ্ছে। তৃতীয় ক্ষতি, বিনিয়োগে বন্ধ্যত্ব। উচ্চসুদের কারণে শিল্পায়নে মন্দা চলছে। পঞ্চম ক্ষতি, এতে কর্মসংস্থানের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
উচ্চসুদের যে পাঁচটি কুফলের কথা প্রতিবেদক উল্লেখ করেছেন, এর সঙ্গে হয়তো আরও কুফল যোগ করা যেতে পারে। আমার লেখার উদ্দেশ্য আরও ক্ষতির দিক তুলে ধরা নয়। বরং তুলে ধরা সুদের হারের দুই পিঠের কথা। মুদ্রার যেমন এপিঠ-ওপিঠ আছে, তেমনি সুদের হারেরও দুটি পিঠ আছে। দেখা যাচ্ছে দুই পিঠেই সমস্যা, ভীষণ সমস্যা। এক পিঠে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা অর্থাৎ শিল্পায়ন ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পিঠ হচ্ছে ঋণের ওপর সুদের হারের পিঠ। দেখা যাচ্ছে, এই পিঠ সম্পর্কে কার্যত সব মহলেই প্রশ্ন রয়েছে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছেন না উচ্চসুদের কারণে। দেশের চেম্বার অব কমার্স, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের অনেকেই সুদের হার কমানোর কথা বলছেন বহুদিন থেকে। বলা যায়, এটা ব্যবসায়ীদের প্রাণের দাবি। তারা বলছেন, সুদের হার মাত্রাতিরিক্ত, তার ওপর রয়েছে নানা ধরনের চার্জ, কমিশন, অগ্রিম আয়কর, ভ্যাট ইত্যাদি। এত বোঝা বহন করে ব্যবসা করা কঠিন। আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থাৎ রফতানি বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। এখন বাজার অর্থনীতির জমানা। বিদেশী পণ্যে বাজার সয়লাব। এই পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে স্থানীয় শিল্পের টিকে থাকা মুশকিল। এ অবস্থায় সুদের হার কমানো দরকার।
অন্যদিকে সুদের হারের আরেক পিঠে রয়েছে আমানতকারীদের আমানতের ওপর সুদ। এই সুদের হার যথারীতি কমেছে। কমেছে মানে ভীষণভাবে কমেছে। যেখানে আজ থেকে এক-দুই বছর আগেও তিন মাস মেয়াদি আমানতের ওপর সুদের হার ছিল বারো-তেরো শতাংশ এবং আমানতের জন্য ব্যাংকাররা বাড়ি বাড়ি দৌড়াত, সেখানে আজ আমানতের ওপর ব্যাংক সুদ দেয় আট-নয় শতাংশ। মধ্যবিত্ত সঞ্চয়কারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিধবা ও অসহায় মহিলা, মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিুমধ্যবিত্ত, বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রাপক ইত্যাদি শ্রেণীর লোকেরা আজ দিশেহারা। ধরা যাক, একজন সঞ্চয়কারী সারা জীবনে ৫০ লাখ টাকা সঞ্চয় করেছেন। এতে তার অবসরকালীন সুবিধাও যোগ করা আছে। এই টাকা একটা ব্যাংকে তিন মাস মেয়াদি আমানতে রেখে তিনি দুদিন আগেও পেতেন তেরো শতাংশ হারে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ধরা যাক, ব্যাংক এর ওপর থেকে দশ শতাংশ অগ্রিম আয়কর কাটে। অতএব তার বার্ষিক সুদ আয় দাঁড়াত ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এতে মাসিক আয় হয় ৪৮ হাজার ৭৫০ টাকা। সেই স্থানে আজ তার আয় কত? অবিশ্বাস্য রকমের কম। একই ৫০ লাখ টাকার ওপর এখন তিন মাস মেয়াদি আমানতে আট শতাংশ হারে সুদ-আয় হচ্ছে বার্ষিক মাত্র ৪ লাখ টাকা। এর ওপর যথারীতি দশ শতাংশ অগ্রিম আয়কর কাটা যাবে। তাতে আসে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ মাসিক মাত্র ৩০ হাজার টাকা। কোথায় মাসিক আয় ৪৮ হাজার ৭৫০ টাকা, আর কোথায় ৩০ হাজার টাকা! মাসিক আয় কমেছে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। আমি কিন্তু এখানে যারা ট্যাক্স দেন অর্থাৎ যারা আয়কর রিটার্ন দেন, তাদের অন্য একটি বিপদের কথা এখানে আলোচনায় আনছি না। শুধু বলছি আয় কমার দুঃখের কথা। দুঃখ দ্বিগুণ হয় যখন মূল্যস্ফীতির হিসাবে যাওয়া যায়। জিনিসপত্রের দাম কি কমেছে? রিকশাভাড়া, বাড়িভাড়া, ওষুধপত্র, শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধ, ফল-ফলাদি ইত্যাদির দাম কি কোথাও কমেছে? না, তা কমেনি। তাহলে কী দাঁড়াল? সঞ্চয়কারীরা ভীষণ বিপদের মধ্যে নিপতিত। তাদের চোখে-মুখে অন্ধকার। কে শোনে তাদের কথা? মন্ত্রী মহোদয়দের মধ্যে কেউ কি আছেন যিনি মধ্যবিত্তের এ ধরনের বিপদের মতোই বিপদে? মনে হয় না।
দেখা যাচ্ছে, সুদের হার দুই দিক থেকেই কাটা হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ব্যবসায় টিকতে দেয়া হচ্ছে না। আবার যারা আমানত রাখে, তাদেরও পেটানো হচ্ছে। ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানো-বাড়ানোর কথা উঠলেই মজার ঘটনা ঘটায়। তারা আমানতের ওপর সুদের হার চোখ বুজে দমাদম কমিয়ে ফেলে। অথচ তারা এই সুবিধাটা ব্যবসায়ীদের দেয় না। দেখা যায়, আমানতের ওপর সুদের হার কমানো হল ৪ শতাংশ, অথচ ঋণের ওপর সুদের হার কমানো হল বড়জোর এক বা দুই শতাংশ। এ কারণে দেখা যায় ব্যাংকগুলোর স্প্রেড (ঋণের ওপর সুদ বিয়োগ আমানতের ওপর প্রদত্ত সুদ) অনেক বেশি! কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্প্রেডের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে পাঁচ শতাংশ। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকারি ব্যাংকগুলো ছাড়া আর কেউ এই স্প্রেডের সর্বোচ্চ সীমা মানে না। এর বিচার-আচারও নেই। কেউ বেসরকারি ব্যাংক, বিদেশী ব্যাংককে একটা ধমকও দেয় না। সরকারি ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কত কথা বলা হয়; কিন্তু তাদের স্প্রেড যে ৫ শতাংশের অনেক নিচে এ কথা কেউ বলেও না, লিখেও না। মজা হচ্ছে, সরকারি ব্যাংকগুলো আমানতের ওপর কিছুটা সুদ বেশি দেয়ার চেষ্টা করে, আবার ঋণের ওপর সুদও কম রাখার চেষ্টা করে। ফলে তাদের স্প্রেড কম।
প্রশ্ন হচ্ছে, সুদের হারে এই অসামঞ্জস্যতা কেন? বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকে। বেসরকারি ব্যাংকের মালিকরা সবাই ব্যবসায়ী। তাদের তো ব্যবসায়ীদের অসুবিধা বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। তবু কেন তারা সুদের হারে সামঞ্জস্য আনেন না? কেন তারা আমানতের ওপর সুদের হার কমান ভালোভাবে; অথচ সেই সুবিধাটা ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের দেন না? এখানে কোনো উত্তর নেই। উত্তর একটাই- মুনাফা বৃদ্ধি করা।
ঋণখেলাপি সমস্যার কথা যুগান্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ঋণের ওপর উচ্চসুদের কারণে খেলাপি ঋণ (ক্লাসিফাইড লোন) বাড়ছে। মজা হচ্ছে, খেলাপি ঋণের কারণে আবার সুদের হারও বাড়ছে বা উঁচুতে থাকছে। খেলাপি ঋণ মানে ব্যাংকের ক্ষতি। এর বিপরীতে প্রফিট থেকে টাকা কেটে রিজার্ভ বা প্রভিশন রাখতে হয়। অতএব ব্যাংকগুলো বেশি বেশি প্রফিট করার চেষ্টা করে যাতে ওই প্রফিট থেকে খেলাপি ঋণের বোঝা বহন করা যায়। এটাই যে একমাত্র কারণ তা নয়। তবে নিশ্চয়ই বড় একটা কারণ। তাহলে খেলাপি ঋণ কমাতে পারলে সুদের হার ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা কমানো সম্ভব বলে দৃশ্যত মনে হয়। এর সম্ভাবনা কতটুকু? বর্তমানে যে বাজার তাতে খেলাপি ঋণ কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অনেক ব্যবসার অবস্থা ভালো নয়। ভালো খবরের পেছনে খারাপ খবর লুকিয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে জিনিসপত্রের দাম হ্রাস পেয়েছে এবং পাচ্ছে। এর সুফল সাধারণ ভোক্তা বাংলাদেশীরা পাক বা না পাক, সরকারের ক্রেডিট-এর ফলে মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু গোমর অন্য জায়গায়। যেসব জিনিসের দাম কমেছে, সেসব জিনিসের আমদানিকারকরা এখন ব্যাংকের লোনের টাকা দিতে অপারগ হচ্ছে। এই হল ভোগ্যপণ্য ব্যবসা বা ট্রেড ফিনান্সিংয়ের অবস্থা। শিপব্রেকিং, শিপ বিল্ডিং, স্টিল মেকিং, চিনি ব্যবসা, সুতার ব্যবসা, আবাসন শিল্পের অবস্থা ভালো নয়। বড় বড় ব্যবসায়ী ঋণের বোঝা টানতে পারছেন না। ঋণ পুনঃতফসিল (লোন রিশিডিউলিং) আগে হতো অনেকবার, কোনো সীমা ছিল না। এখন তিনবারের বেশি হবে না বলে বিধান করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখন বলছেন রিশিডিউলিং নয়, রিস্ট্রাকচারিং দরকার। অর্থাৎ সমস্যা গভীরতর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মন্দা এতদিন আমাদের ধরতে পারেনি। এখন ধীরে ধীরে গ্রাস করছে বলে মনে হয়। এ অবস্থায় ব্যাংক তার ঋণের সুদের হার কমাবে, এ আশা ক্ষীণ।
একদিকে ব্যবসায়ীদের করুণ অবস্থা, অন্যদিকে সঞ্চয়কারীদের জীবন ধারণের সমস্যা। এর থেকে বাঁচার পথ কী? দুধরনের সমস্যা সরকারের পক্ষে সামাল দেয়া দৃশ্যত অসম্ভব একটা ব্যাপার। যদি ধরা যায় ব্যবসায়ীদের কথা, তাহলে একটা পথ খোঁজা যেতে পারে। ব্যবসায়ীদের খাত ধরে ভাগ করা যায়। হিসাব করে দেখা যায় কোন খাতের ব্যবসায়ীদের সুদব্যয় (ইন্টারেস্ট) কেমন। খাতওয়ারি হিসাব করে ক্ষেত্রবিশেষে সুদ-ভর্তুকির কথা চিন্তা করা যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা ধরনের ফান্ড আছে। সেখান থেকে বিবেচনামতো ভর্তুকির ব্যবস্থা করা যায়। অথবা সরকার তার রাজস্ব আয় থেকে ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে পারে। আমার মনে হয় সুদের হার যেমন ব্যবসায়ীদের একটা সমস্যা, তার চেয়েও এই মুহূর্তে বড় সমস্যা ব্যবসায় মন্দা। সরকারের উচিত এ নিয়ে এখনই ভাবতে শুরু করা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ, মূল্যস্ফীতি সর্বনিম্ন, রেমিট্যান্স আসছে, রফতানি চলছে- এসব খবরে আত্মতুষ্টির মধ্যে থাকাটা হবে খুবই বিপজ্জনক। ব্যবসায়ীদের উচিত ব্যাংক মালিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বসা। তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়াও সমস্যার একটা সমাধান দিতে পারে।
সঞ্চয়কারীদের কী হবে? তাদের সুদ আয় তো কার্যত অর্ধেক। এমন প্রচুর সঞ্চয়কারী আছেন, যাদের একমাত্র আয়ের উৎস সুদ-আয়। তারা ব্যবসা জানেন না। তাদের অনেকেরই শেয়ারবাজারে গিয়ে দৈনন্দিন ব্যবসা করার মতো যোগ্যতা-সামর্থ্য নেই। সঞ্চয়পত্র আছে। শোনা যাচ্ছে, এর ওপরও সরকারের খড়গ অচিরেই নেমে আসছে। অর্থাৎ এর সুদের হারও কমবে। তাহলে আমানতকারী সঞ্চয়কারীদের বাঁচার পথ কী? ৬-৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতি, আয়করের উৎপাত, ভ্যাটের উৎপাত, ওষুধপত্রের উচ্চমূল্য, যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি, শিক্ষা খরচ বৃদ্ধি- এর মধ্যে মধ্যবিত্ত সঞ্চয়কারীর সঞ্চয় প্রবণতা থাকবে কীভাবে? তাদেরও কি ভর্তুকি দেয়া হবে? তারাও কি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের নাগরিক হবে? জানি না, আমার কাছে উত্তর নেই। তবে বুঝি, মধ্যবিত্তই অর্থনীতির চাবিকাঠি। তারাই ক্রেতা। তাদের আয় হ্রাস পাওয়া, তাদের ওপর করের বোঝা আর যাই হোক অর্থনীতির জন্য সুখবর নয়।
ড. আরএম দেবনাথ : সাবেক প্রফেসর, বিআইবিএম

যে রেকর্ড আফ্রিদিকেই মানায়...

১৯৯৬ সালের অক্টোবরে তাঁর অভিষেক। দেখতে দেখতে কেটে গেছে ১৮টি বছর। জীবনের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে। এর পর থেকেই শহীদ আফ্রিদির নামের সঙ্গে ‘মারদাঙ্গা ব্যাটিং’ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৩৮৪টি ওয়ানডে। এর মধ্যে ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছেন ৩৫৬টি ম্যাচে। ছয়টি সেঞ্চুরি আর ৩৬টি হাফ সেঞ্চুরির মালিক এই আফ্রিদি এমন একটা রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন, যা কেবল তাঁকেই মানায়। শুনলে অবাক হতে হয়, আফ্রিদি এই ৩৫৬টি ইনিংসে এখন পর্যন্ত বল মোকাবিলায় ‘সেঞ্চুরি’ করতে পারেননি। মানে, এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ক্যারিয়ারে কোনো ম্যাচেই তাঁর খেলা হয়নি ১০০টি বল। ১৯৯৮ সালে কানাডার টরন্টোয় ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯৪ বল মোকাবিলা করে ১০৯ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। তাঁর ছয়টি সেঞ্চুরির প্রতিটিতেই রানসংখ্যার চেয়ে মোকাবিলা করা বলের সংখ্যা অনেক কম। ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর ক্যারিয়ার-সেরা ১২৪ রানের ইনিংসটি এসেছিল মাত্র ৭৫ বল মোকাবিলায়!
ছিয়ানব্বইয়ে ওয়ানডে অভিষেক হলেও আফ্রিদি প্রথম টেস্ট খেলেছিলেন ১৯৯৮ সালে। ২০১০ সালে স্বপ্রণোদিত হয়েই বিদায় জানিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটকে। এই পুরোটা সময়ই তাঁকে ‘টেস্ট ক্রিকেটের উপযোগী নয়’—এমন অভিধা কানে নিতে হয়েছে। ২৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৪৮ ইনিংসে তাঁর ব্যাটিং-গড় একেবারেই মন্দ নয়। ৩৬.৫১ গড়কে যেকোনো বিচারেই অভিহিত করা যেতে পারে উন্নত-গড় হিসেবে। পাঁচটি টেস্ট সেঞ্চুরিও নেই নেই করে পাওয়া হয়ে গেছে তাঁর। হাফ সেঞ্চুরি আটটি। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি এক ইনিংসে সর্বোচ্চ বলের মুখোমুখি হয়েছেন ১৯১টি। ১৯৯৯ সালে চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে তাঁর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির ইনিংসটি তিনি সম্পন্ন করেছিলেন ১৯১ বল মোকাবিলা করে। টেস্টে তাঁর দ্রুততম সেঞ্চুরিটি ২০০৬ সালে লাহোরে ওই ভারতের বিপক্ষেই। মাত্র ৮০ বল মোকাবিলা করে সেদিন আফ্রিদি খেলেছিলেন ১০৩ রানের ইনিংস।
একদিনের ক্রিকেটে তাঁর স্ট্রাইকরেট ১১৫.৪০। টেস্টে ৮৬.৯৭। ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম ফরম্যাট টি-টোয়েন্টিতে তা ১৪৩.৭৪। তবে টেস্ট ও ওয়ানডের তুলনায় তাঁর টি-টোয়েন্টি রেকর্ড একটু পিছিয়েই থাকবে। ৭৫টি ম্যাচ খেলে তাঁর গড় ১৮.৮৮। সেঞ্চুরি এখনো পাননি, ফিফটি মাত্র চারটি। তবে এই ফরম্যাটে আফ্রিদি কোনো ম্যাচেই ৪০ বলের বেশি খরচ করেননি। সূত্র: ক্রিকইনফো।

শাবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ -শাবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা

আধিপত্য বিস্তার ও হল দখলকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা শুরু হয়। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন জানিয়েছেন ঘটনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এর আগে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ শাহপরাণ হল ও দ্বিতীয় ছাত্র হলে ভাঙচুর চালায়। শাহপরান হলে অন্তত ৪০টি কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুমন ও নাঈম গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলে ব্যাপক ভাঙচুর করে। একই সময়ে তাদের পক্ষের লোকজন দ্বিতীয় ছাত্র হলেও ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এক পর্যায়ে হলের বাইরে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এ ঘটনার পর হলে ও একাডেমিক ভবনে আতঙ্কিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষের গুলিবিনিময়ের সময় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র সমুন গুলিবিদ্ধ হন। সেখান থেকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, সুমনকে হাসপাতালে আনা হলে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ভাঙচুর ও সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলের কাছেই পুলিশ থাকলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

শাবি বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আজ বিকাল চারটার মধ্যে ছাত্রদের এবং শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তুষারে ঢাকা যুক্তরাষ্ট্র

তুষারে ঢাকা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি এলাকা।
শীত জেঁকে বসেছে উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। তুষারে ঢাকা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি এলাকা। ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই তাপমাত্রা হিমাঙ্ক (শূন্য ডিগ্রি) ছুঁয়েছে বা তারও নিচে নেমে গেছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অবস্থা করুণ। সেখানে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিউ হ্যাম্পশায়ার ও মিশিগানে মারা গেছে দুজন। গত শনিবারের পর এই নিয়ে তুষারপাতে মৃতের সংখ্যা ২০ জনে দাঁড়াল। আবহাওয়া বিভাগ মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কোনো কোনো স্থানে প্রায় ৪৮ ইঞ্চি তুষারের স্তূপ জমতে পারে। প্রতি ঘণ্টায় তিন থেকে চার ইঞ্চি তুষারপাতের ফলে অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে পারে। ঘণ্টায় ৪০ মাইল গতিবেগের দমকা বাতাসের মধ্যে অবিরাম তুষারপাতে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় তুষারপাত আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের বাফেলো নগরসহ আশপাশের বিভিন্ন জনপদে গত মঙ্গলবার রাতে প্রায় ছয় ফুট তুষার জমা হয়। বাফেলোতে বসবাসরত প্রায় দুই হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি নিরাপদে রয়েছেন। বাফেলো থেকে প্রবাসী নুরুল মোর্শেদ প্রথম আলোকে জানান, নগরের দক্ষিণ এলাকায় তুষারপাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। নগরের বাসচালক এ প্রবাসী বলেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ঘর থেকে বের হওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
নগরের জরুরি বিভাগ ছাড়া স্কুল-কলেজসহ সরকারি দপ্তরগুলো পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। একান্তই জরুরি না হলে বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা প্রবাসী শাহীনা বেগম জানালেন, হাড় কাঁপানো শীতে তিনি একদম কাবু হয়ে গেছেন। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের অবস্থা এতটাই খারাপ যে সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কোমো বাফেলোমুখী মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছেন। সড়কপথে বরফে আটকে পড়া যানবাহন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আটকে পড়া লোকজনের জন্য জরুরি শীতবস্ত্র এবং খাদ্য ও পানীয় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোতে মঙ্গলবার সকাল থেকে অনেকটা আকস্মিকভাবে তাপমাত্রা দ্রুত নিচে নামতে থাকে। দমকা বাতাসের প্রভাবে এই মধ্য নভেম্বরেই তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ১৯৭৬ সালের পর থেকে নভেম্বর মাসে আর কখনো এত শীত দেখেনি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। দপ্তর জানিয়েছে, নিউইয়র্কসহ পাশাপাশি অবস্থিত মোট ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের ৮৫ শতাংশ এলাকা ও সাড়ে ২২ কোটি মানুষ কমবেশি তুষারপাতের কবলে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি এলাকাই তুষারে ঢাকা পড়েছে। এটা সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে হয়ে থাকে। আবহাওয়া দপ্তরের হিসাবমতে, ১৯২১ সালে সিলভার লেক কোলো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৭৬ ইঞ্চি তুষারপাত হয়েছিল, যা এ যাবৎকালের মধ্যে রেকর্ড। সেই রেকর্ডও এবার ভেঙে যেতে পারে।

ইহুদি উপাসনালয়ে হামলায় নিহত ৪

জেরুজালেমে গতকাল ইহুদি উপাসনালয়ে সন্দেহভাজন ফিলিস্তিনিদের
হামলায় চার ইসরায়েলি নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা
বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েলের জেরুজালেমের একটি সিনাগগে (ইহুদি উপাসনালয়) গতকাল মঙ্গলবার সন্দেহভাজন দুই ফিলিস্তিনি কুঠার ও ছুরি হাতে হামলা চালিয়ে অন্তত চারজন ইসরায়েলিকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত চারজন। গুলি করে ওই দুই ফিলিস্তিনিকেও হত্যা করা হয়। এর জেরে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ছয় বছরের মধ্যে জেরুজালেমে সবচেয়ে ভয়াবহ এই হামলার ‘দাঁতভাঙা’ জবাব দেওয়া হবে। এ হামলায় হামাস ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মদদ আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় এ হামলার নিন্দা করেছে। খবর এএফপির। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল সাতটার কিছু আগে ওই সিনাগগে হামলা চালানো হয়। এ সময় সেখানে প্রার্থনা চলছিল। কুঠার ও ছুরি ছাড়াও হামলাকারীদের সঙ্গে পিস্তল ছিল। পরে পুলিশের গুলিতে হামলাকারীরাও নিহত হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজনের ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। অন্য একজনও ব্রিটিশ ও ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। ফিলিস্তিনি মার্ক্স-লেনিনবাদী সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের সামরিক শাখা আবু আলী মোস্তফা ব্রিগেড এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। গাজার কট্টর ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস ও অন্য কয়েকটি সংগঠন এর প্রশংসা করেছে। হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত সোমবার জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি বাসচালককে হত্যার প্রতিশোধ নিতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। গাজা উপত্যকায় অনেক ফিলিস্তিনি মিষ্টি বিতরণ করে এই হামলা উদ্যাপন করেন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যারাই জেরুজালেমে ইহুদিদের পবিত্র উপাসনালয়ে এ হামলা চালিয়ে থাকুক না কেন, আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি।’ লন্ডন সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ‘এটি নির্জলা সন্ত্রাসী হামলা।’ যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডও এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। জেরুজালেম মুসলিম ও ইহুদি উভয়ের কাছে পবিত্র স্থান। সেখানে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ এবং মুসলিম-ইহুদি পাল্টাপাল্টি হামলাসহ বিভিন্ন কারণে ইতিমধ্যে উত্তেজনা চলছিল।