Saturday, August 21, 2010

অলক-আফতাবের বিশ্বকাপ চ্যালেঞ্জ

ক্রিকেট মাঠে দর্শক কেন যায়? কেউ ব্যাট-বলের লড়াই দেখতে, কেউ প্রিয় দলের জয় দেখতে আবার কেউ যায় স্রেফ ভালো খেলা দেখতে। তবে আধুনিক দর্শকের চাওয়া—চার হবে, ছয় হবে, চোখ ধাঁধানো শট হবে; সব মিলিয়ে ব্যাটিং দাপট।
বাংলাদেশে এই ‘দাপট’ দেখানোর বেলায় তাঁদের জুড়ি ছিল না। নিজেদের দিনে ব্যাট হাতে ক্রিকেটটাকে সত্যিকারের বিনোদনে পরিণত করতে পারতেন অলক কাপালি ও আফতাব আহমেদ। সেই দিন কোথায় যেন হারিয়ে গেছে! আনন্দদায়ী দুই ব্যাটসম্যান অলক ও আফতাব আরও একবার জাতীয় দলের বাইরেই রয়ে গেলেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটসম্যানের জায়গা হয়নি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে। আইসিএল থেকে ফেরার পর আফতাব জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। অলক সে পর্যন্ত এখনো পৌঁছাতে পারেননি। সুতরাং জাতীয় দলে ডাক না পাওয়া তাঁদের কাছে অভাবিত কোনো ঘটনা নয়।
কিন্তু ঘটনাটা যখন দেশের মাটিতে বিশ্বকাপের মাস ছয়েক আগের, তখন এই দুজনের জন্য ব্যাপারটা বিশেষ কিছু বলে বিবেচিত হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দলে না থাকাটা কি তাঁদের কোনো সংকেত দিল? বিশ্বকাপ কি ঘরে বসে দেখতে হবে আফতাব-অলককে?
আফতাব অবশ্য প্রতিবাদ করলেন, ‘বিশ্বকাপের তো এখনো অনেক দেরি। এর আগে আমি নিজেকে প্রমাণের অনেক সুযোগ পাব। আর রান করতে পারলে দলের বাইরে তো রাখবে না। বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন মোটেও শেষ হয়ে যায়নি।’
অলক-আফতাব মনে হলো সলাপরামর্শ করে বক্তব্য গুছিয়ে রেখেছেন! আফতাবের মতো অলকও মনে করেন না তাঁর বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ শেষ হয়ে গেছে, ‘সামনে জাতীয় লিগের ওয়ানডে আছে, এ দলের হয়ে খেলা আছে। ওখানে ভালো করতে হবে। বাকিদের সমান ভালো করলে হবে না। এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু করতে হবে। কাজটা হয়তো একটু কঠিন। কিন্তু বিশ্বকাপ খেলাটা এখনো আমার হাতের মুঠোয়।’
জাতীয় দল যাঁদের একসময় স্থায়ী ঠিকানা হয়ে গিয়েছিল, তাঁদের কেন এই কঠিন লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে? কী সেই ঘটনা, যাতে এলোমেলো হয়ে গেল সবকিছু? সাধারণ বিশ্লেষণ হলো, আইসিএলই অলক-আফতাবদের পথচ্যুত করেছে।
কিন্তু আফতাব মনে করেন, পারফরম্যান্স করতে না পারায় তাঁদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। নিজের কাঁধে দায় নিয়ে বললেন, ‘আমাকে তো সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রান করতে পারিনি। যা-ই বলি না কেন, রান করতে না পারলে দলে রাখবে কেন? আমাকে রান করেই দলে ফিরতে হবে।’
অলকেরও দায় নিজের কাঁধে নিতে দ্বিধা নেই, ‘হ্যাঁ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রাথমিক দলেও না থেকে কষ্ট পেয়েছি। প্রথম মনে হয়েছিল, অবিচার করা হয়েছে। কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম, ঠিকই তো আছে। মাঝে অসুস্থ ছিলাম, দলে ডাক পেয়েও খেলিনি। খেলার মধ্যেই তো ছিলাম না। তাহলে আমাকে কী দেখে দলে রাখবে! আমাকেই এখন কিছু একটা করে দেখাতে হবে।’
এই করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ না নিয়ে উল্টো ভেঙে পড়বেন না তো? মাস কয়েক ধরে একটু নুয়ে পড়া অলকের কণ্ঠে যেন বিদ্যুৎ চমকে গেল, ‘ভেঙে পড়ার প্রশ্নই আসে না। বোর্ড আমাদের নিয়ে ভাবছে। আমাদের নিয়ে কাজ করছে। আমাদের এর প্রতিদান দিতে হবে। সোজা কথা, ফাইট করতে হবে। আমি এখন এই সময়টাকে সেই লড়াই করার সময় হিসেবে দেখছি।’
আফতাবও লড়াই করতে চান। লড়াইয়ের ফলটাও তিনি দেখতে পাচ্ছেন, ‘আমি যদি ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমাকে দলে রাখবে। আর সেখানে ভালো করলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত।’
কত সহজ সমীকরণ! অলকও এই সমীকরণটা মেলানোর চেষ্টায় আছেন। তবে তাঁর চোখ শুধু বিশ্বকাপে আটকে নেই, ‘বিশ্বকাপ তো অবশ্যই খেলতে চাই। তবে আমার মূল লক্ষ্য একবার সুযোগ পেলে ধারাবাহিকভাবে রান করতে থাকা। জাতীয় দলে জায়গা পেলে আর আসা-যাওয়া করে ক্যারিয়ার নষ্ট করতে চাই না।’

এবার বিদায় নিলেন নাদালও

বিদায় নিয়েছেন ব্রিটেনের অ্যান্ডি মারে ও সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ। এ দুই তারকার সঙ্গে যোগ হলো র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা রাফায়েল নাদালের নামও। গতকাল শুক্রবার সাইপ্রাসের মারকো বাগদাতিসের কাছে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৪ গেমে হেরে সিনসিনাটি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। নাদালের বিদায়ের পর পুরুষদের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে সেরা চারের মধ্যে টিকে আছেন কেবল দুই নম্বরে থাকা রজার ফেদেরার।
লড়াইটা ছিল র্যাঙ্কিংয়ের ১ ও ২০ নম্বরের মধ্যে। এর আগে আবার সর্বশেষ ছয় ম্যাচের ছয়টিতেই নাদালের কাছে হেরেছেন বাগদাতিস। একবাক্যে নাদালকে সবাই ফেবারিট মানবেন। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে কি আর কেউ ফেবারিট থাকে! নাদালকে হারিয়েই তা আরেকবার প্রমাণ করলেন ‘আন্ডারডগ’ বাগদাতিস। অসাধারণ এক জয়ের পর সাইপ্রাসের এ খেলোয়াড় বলেন, ‘আমি এখন ভালো খেলছি। কোর্টে বেশ আনন্দময় সময় কাটছে, ইনজুরি সমস্যাও নেই। আসলে আপনি যখন জেগে উঠবেন, কোনো দিক থেকেই আপনাকে কষ্ট পেতে হবে না!’
চলতি মাসের ৩০ তারিখ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ইউএস ওপেন। ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত আটটি গ্রান্ডস্ল্যাম জিতেছেন—ফ্রেঞ্চ ওপেনে পাঁচটি, উইম্বলডনে দুটি ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে একটি। রাফায়েল নাদালের দুঃখ বলতে ইউএস ওপেন, এখন পর্যন্ত একবারও যে এখান থেকে গ্রান্ডস্ল্যাম অর্জন করতে পারেননি তিনি! অধরা ইউএস ওপেনের আগে সিনসিনাটিতে হারকে কীভাবে দেখছেন নাদাল? বিশ্বের এক নম্বর এ খেলোয়াড় বলছেন, ‘আমি নিশ্চিত, আমার খেলায় আরও উন্নতি হবে। নিউইয়র্কে ভালো করতে হলে আমাকে উন্নতি করতেই হবে।’

বিনা পয়সায় জীবনযাপন

অর্থ ছাড়া চলা যায় না—এ কথা ভ্রান্ত প্রমাণের চেষ্টা করছেন এক ব্রিটিশ নাগরিক। মার্ক বয়েল নামের ৩১ বছর বয়স্ক এই ব্রিটিশ ২০০৮ সালের নভেম্বর থেকে পয়সা-কড়ি খরচ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। অর্থ ছাড়া কীভাবে চলা যায়, সে চর্চায় এখন তিনি ব্যস্ত।
ব্রিস্টলের একটি খামারের কাছে একটি ক্যারাভানে (ভ্রাম্যমাণ ঘরের মতো যান) বসবাস করেন বয়েল। এটি তিনি বিনা মূল্যে পেয়েছেন ফ্রিসাইকেল নামের একটি সংস্থার কাছ থেকে। এ খামারে তিনি সপ্তাহে তিন দিন কাজ করেন। কোনো অর্থ নেন না। বিনিময়ে খামারে বয়েল নিজের খাদ্য নিজে ফলান। রান্না করেন লাকড়ির চুলায়। এ লাকড়িও তিনি না কিনে আশপাশের এলাকা থেকে সংগ্রহ করেন। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ আসে একটি সৌর প্যানেল থেকে। ফলে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না তাঁকে। অর্থ ছাড়া চলার চিন্তা মাথায় আসার আগে তিনি এই সৌর প্যানেলটি কেনেন ৩৬০ পাউন্ড দিয়ে। বয়েলের একটি মোবাইল ফোন আছে। এটাতে তিনি শুধু ইনকামিংয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন।
বয়েল যে ল্যাপটপটি ব্যবহার করেন, সেটাও চলে সৌরশক্তিতে। এটাও তাঁর অনেক আগের কেনা। দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় টুথপেস্ট, সাবান এগুলোও তিনি না কিনে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করেন।
মার্কবয়েল অর্থ ছাড়া চলার সিদ্ধান্ত নেন বছরখানেক আগে। তখনই তিনি চাকরি ছেড়ে দেন

যে ছবি প্রকাশ নিয়মিত ঘটনা

ইসরায়েলি সেনারা মৃত ও বন্দী ফিলিস্তিনিদের অবমাননাকর ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছাড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা। কাজটি তারা নিয়মিত করছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
সম্প্রতি চোখ বাঁধা ফিলিস্তিনি বন্দীদের সামনে উসকানিমূলক ভঙ্গিতে থাকা এক ইসরায়েলি নারী সেনার ছবি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তা থামানোর উদ্যোগ নেয়। এর একদিন পরই একটি মানবাধিকার সংস্থা দাবি করে, এসব ছবি প্রকাশের ঘটনা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। নিয়মিত তা ইন্টারনেটে ছাড়া হচ্ছে।
গত সোমবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব ছবি অসম্মানজনক ও সেনাবাহিনীর নৈতিক বিধির পুরোপুরি পরিপন্থী। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবারই মানবাধিকার সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এ ধরনের বেশ কিছু নতুন ছবি প্রকাশ করে। ছবিগুলোতে মৃত, আহত ও বন্দী ফিলিস্তিনিদের সামনে ইসরায়েলি সেনারা নানা ভঙ্গিতে দৃশ্যমান।
ছবিগুলোর সপক্ষে সংস্থাটি সাবেক সেনাদের কাছ থেকে তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করে। পরে তা একটি ফোল্ডারে করে ইন্টারনেটে ছেড়েছে তারা। এতে মোট নয়টি ছবি রয়েছে। ছবিগুলো যশস্বী সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জোগাড় করা হয়েছে বলে সংস্থাটি দাবি করে।
ছবিগুলো কবে, কখন, কোথায় তোলা হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। তবে ছবিতে মৃত ও বন্দী ফিলিস্তিনিদের সামনে সশস্ত্র ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি স্পষ্ট।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরনের তথাকথিত ‘স্যুভেনির ছবি’ তোলার বিষয়টি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে।
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের কর্মকর্তা মিখায়েল ম্যানেকিন বলেন, ‘ওই ছবিগুলো এমনভাবে প্রকাশিত হয় যে তা যেন ছিল ব্যতিক্রমী কোনো ঘটনা। আসলে তা নয়, এটি বোঝাতেই পরদিন আমরা এসব ছবি প্রকাশ করি। ছবিগুলোতে ইসরায়েলি সেনাদের এতটুকু বিব্রত হতে দেখা যায়নি। এতে বোঝা যায়, তাদের মানসিকতা কেমন।’
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বাতসেলেম জানায়, ফিলিস্তিনিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে যে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, এতে এটি স্পষ্ট যে ছবিগুলো নিয়মিত তোলা হচ্ছে।

পেন্টাগন-উইকিলিকস সমঝোতা হয়নি

গোপন নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশের আগে তা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর—উইকিলিকসের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পেন্টাগন। গত বুধবার প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি চিঠির বরাত দিয়ে প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর জানায়।
উইকিলিকস ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষের কাছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘উইকিলিকসে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো গোপন নথির সংক্ষিপ্ত বা অতিরঞ্জিত সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা করতে রাজি নয় প্রতিরক্ষা দপ্তর।’ চিঠিটি গত সোমবার লেখা হলেও তা বুধবার উইকিলিকস কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একই দিন এই খবর প্রকাশের আগে উইকিলিকসের প্রধান জুলিয়ান অ্যাসানজেকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, তাঁর সংস্থার মাধ্যমে যেসব গোপন নথি প্রকাশিত হবে, সেগুলোতে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন নাম ও স্পর্শকাতর তথ্য কীভাবে আড়ালে রাখা বা সম্পাদনা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে পেন্টাগন।
বিতর্ক উসকে দিতে পেন্টাগনের চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিরক্ষা দপ্তরের অবস্থান জানাতে উইকিলিকসের আইনজীবী টিমোথি জে মাতুশেস্কি ও পেন্টাগনের জেনারেল কাউন্সেল জেহ সি জনসনের মধ্যে গত রোববার সকালে টেলিফোনে আলোচনা করার কথা ছিল। কিন্তু সম্মতি জানানোর পরও জনসনের টেলিফোন ধরেননি উইকিলিকসের আইনজীবী।
অবশ্য এ ব্যাপারে পেন্টাগনের প্রেস সচিব জিওফ মোরেল বলেছেন, ‘দুটি উদ্যোগের ক্ষেত্রেই (চিঠি ও টেলিফোন) উইকিলিকস ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে। মার্কিন সরকারের গোপনীয় নথির ব্যাপারে আমাদের অবস্থান আগে যা ছিল, এখনো তাই রয়েছে। তাদের হাতে থাকা নথিগুলো কীভাবে ফিরিয়ে দিতে চায় এবং ওয়েবসাইট থেকে কীভাবে সেগুলো মুছে ফেলা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে চাইছিলাম আমরা।’
উইকিলিকস ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে আফগানিস্তান যুদ্ধসম্পর্কিত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ৯০ হাজারের বেশি গোপন নথি প্রকাশ করে হইচই ফেলে দিয়েছে।

‘ওবামার পরিবারকে খুব সহজেই খুশি করা যায়’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তাঁর পরিবারকে খাবার সরবরাহ করা তেমন কঠিন কাজ নয়, যেমনটি বহিরাগতরা ভেবে থাকেন। এমনটিই মনে করেন হোয়াইট হাউসের প্রধান নির্বাহী বাবুর্চি ক্রিস্টেটা কমারফোর্ড।
কমারফোর্ড গত বুধবার হংকংয়ে ভ্রমণের সময় বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবার সব ধরনের খাবারের ব্যাপারে খুবই উদার। তাঁদের খুব সহজেই সন্তুষ্ট করা যায়। এটা খুবই সৌভাগ্যের ব্যাপার।’
কমারফোর্ড বলেন, ওবামার পরিবার সামুদ্রিক খাবার যেমন মেরিল্যান্ড ব্লুর কাঁকড়া, চীন ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের নানা ধরনের আন্তর্জাতিক খাবার খেতে পছন্দ করে।
১৯৮০-এর দশকে ফিলিপাইন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান কমারফোর্ড। সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশ ২০০৫ সালে কমারফোর্ডকে হোয়াইট হাউসের ‘কিচেন কেবিনেটের’ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রথম নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কমারফোর্ডই এই পদে প্রথম নিয়োগ পেয়েছেন।
স্থানীয় খাবার সরবরাহের জন্য কমারফোর্ড, ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির বাবুর্চিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বাবুর্চিদের এই সপ্তাহে হংকংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছে একটি হোটেল সংস্থা। বাবুর্চিদের এই দলটি মাকাউ ও বেইজিংও ভ্রমণ করবে।
হোয়াইট হাউসের সাত সদস্যবিশিষ্ট সার্বক্ষণিক একটি বাবুর্চি দলের নেতৃত্ব দেওয়া কমারফোর্ড ওবামা প্রশাসনের অধীনে অতিরিক্ত কাজ হিসেবে হোয়াইট হাউসে বাগানেরও যত্ন নেন। কমারফোর্ড জানান, হোয়াইট হাউসের সামান্য জমিতে চাষ করে গত বছর তাঁরা ১০০ পাউন্ডের বেশি সবজি পেয়েছেন

‘ওবামার পরিবারকে খুব সহজেই খুশি করা যায়’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তাঁর পরিবারকে খাবার সরবরাহ করা তেমন কঠিন কাজ নয়, যেমনটি বহিরাগতরা ভেবে থাকেন। এমনটিই মনে করেন হোয়াইট হাউসের প্রধান নির্বাহী বাবুর্চি ক্রিস্টেটা কমারফোর্ড।
কমারফোর্ড গত বুধবার হংকংয়ে ভ্রমণের সময় বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবার সব ধরনের খাবারের ব্যাপারে খুবই উদার। তাঁদের খুব সহজেই সন্তুষ্ট করা যায়। এটা খুবই সৌভাগ্যের ব্যাপার।’
কমারফোর্ড বলেন, ওবামার পরিবার সামুদ্রিক খাবার যেমন মেরিল্যান্ড ব্লুর কাঁকড়া, চীন ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের নানা ধরনের আন্তর্জাতিক খাবার খেতে পছন্দ করে।
১৯৮০-এর দশকে ফিলিপাইন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান কমারফোর্ড। সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশ ২০০৫ সালে কমারফোর্ডকে হোয়াইট হাউসের ‘কিচেন কেবিনেটের’ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রথম নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কমারফোর্ডই এই পদে প্রথম নিয়োগ পেয়েছেন।
স্থানীয় খাবার সরবরাহের জন্য কমারফোর্ড, ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির বাবুর্চিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বাবুর্চিদের এই সপ্তাহে হংকংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছে একটি হোটেল সংস্থা। বাবুর্চিদের এই দলটি মাকাউ ও বেইজিংও ভ্রমণ করবে।
হোয়াইট হাউসের সাত সদস্যবিশিষ্ট সার্বক্ষণিক একটি বাবুর্চি দলের নেতৃত্ব দেওয়া কমারফোর্ড ওবামা প্রশাসনের অধীনে অতিরিক্ত কাজ হিসেবে হোয়াইট হাউসে বাগানেরও যত্ন নেন। কমারফোর্ড জানান, হোয়াইট হাউসের সামান্য জমিতে চাষ করে গত বছর তাঁরা ১০০ পাউন্ডের বেশি সবজি পেয়েছেন।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বোরকা পরা যাবে না

অস্ট্রেলিয়ায় একটি প্রতারণা মামলার সাক্ষী একজন মুসলিম নারীকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বোরকা না পরার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক শ্যনা ডিন এই নির্দেশ দেন।
ইসলামি শিক্ষার শিক্ষক ওই মুসলিম নারীর নামের প্রথম অংশ তাসনিম। এর বাইরে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে আর কিছু জানা যায়নি। ৩৬ বছর বয়সী এই শিক্ষক ১৭ বছর বয়স থেকে বোরকা পরে আসছেন। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি সাত বছর ধরে বাস করছেন।
পার্থের একটি কোম্পানির পরিচালকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা মামলার সাক্ষী তিনি। গতকাল বিচারক ডিন তাঁর নির্দেশে উল্লেখ করেন, মুখ ঢেকে ওই নারীর আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া যথাযথ হবে না।
বিচারকের মতে, ধর্মীয় প্রয়োজনের চেয়ে তাঁর বোরকা পরার সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে শালীনতা রক্ষা ও ব্যক্তিগত পছন্দ।
ডিফেন্স অ্যাটর্নিরা বলছেন, সাক্ষী যা বলছেন তা যাচাইয়ে তাঁর মুখের অভিব্যক্তি দেখা প্রয়োজন বিচারকের। তবে কৌঁসুলিরা বলছেন, বোরকা না পরলে অস্বস্তিতে পড়তে পারেন সাক্ষী। এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে সাক্ষ্যে।

মেগরাহির দেশে ফেরার বার্ষিকীতে ত্রিপোলিতে বর্ণাঢ্য আয়োজন

লকারবি বোমা হামলাকারী আবদেলবাসেত আল-মেগরাহির মুক্তির প্রথম বার্ষিকী আজ শুক্রবার। এ উপলক্ষে ত্রিপোলিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
লিবিয়ার নেতা কর্নেল গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে ৫০০ বিদেশি তরুণ-তরুণীকে জড়ো করেছেন। জাতিসংঘের যুব বর্ষ উদ্যাপনের জন্য তাদের লিবিয়ায় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব তরুণ-তরুণীকে আল-মেগরাহির দেশে ফেরার বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেওয়া হতে পারে। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেবে লিবিয়ার আরও কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য বাসে করে এসব তরুণ-তরুণীকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ত্রিপোলিতে জড়ো করা হয়েছে।
মেগরাহির বিমান থেকে অবতরণের ভিডিও ফুটেজ অনুষ্ঠানস্থলে দেখানো হবে। লিবিয়ার কর্মকর্তারা বলেন, দৃশ্যটি দেখানোর সময় উচ্চ স্বরে উল্লাস প্রকাশ করার জন্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের উত্সাহিত করা হবে।
ত্রিপোলির গ্রিন স্কয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাইফ আল-ইসলাম যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁর বাবা যোগ দেবেন কি না, তা জানা যায়নি।
দ্য ব্রিটিশ ইয়ুথ কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলকে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

ইরানের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র চালু হচ্ছে কাল

কয়েক দশক অপেক্ষার পর অবশেষে চালু হচ্ছে ইরানের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বুশেহেরের কাছে অবস্থিত রুশ সহযোগিতায় নির্মিত বুশেহের বিদ্যুেকন্দ্র আগামীকাল শনিবার চালু হচ্ছে।
ইরানের পারমাণবিক প্রধান আলি আকবর সালেহি গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার সরবরাহ করা জ্বালানি আগামী ২১ আগস্ট বুশেহের কেন্দ্রে ঢোকানো হবে।
সালেহি জানান, জ্বালানি সরবরাহের কাজ ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে এবং এর দুই সপ্তাহ পর থেকে কেন্দ্রের চুল্লি মোট উত্পাদন ক্ষমতার ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ উত্পাদনে সক্ষম হবে। তখন এ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করা হবে। পূর্ণাঙ্গ উত্পাদনে পৌঁছাতে ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগতে পারে।
২০ হাজার মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার এ বিদ্যুেকন্দ্র তৈরিতে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয় হয়।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে পশ্চিমাদের চাপের মুখেও সেখানে এই পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে সহায়তা দিয়েছে রাশিয়া। তবে বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে ইরানের ওপর ঠিকই চাপ দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। গত জুনে ইরানের ওপর জাতিসংঘের চতুর্থ দফা নিষেধাজ্ঞায়ও রাশিয়া সম্মতি দেয়।
বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে সহায়তার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ বলেন, এতে করে ইরানকে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মধ্যে বেঁধে রাখা যাবে।
পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে ইরান প্রথম উদ্যোগ নেয় প্রায় চার দশক আগে। মার্কিন সমর্থিত ইরানের শাহ ১৯৭০-এর দশকে এই উদ্যোগ নেন। তখন জার্মানির সিমেন্স কোম্পানির সঙ্গে এ বিষয়ে ইরানের চুক্তি হয়।
তবে ১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হন শাহ। এরপর থমকে যায় এই কেন্দ্র নির্মাণের কাজ। নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ১৯৮০-এর দশকের বেশির ভাগজুড়ে স্থবির হয়ে থাকে এ প্রকল্প। ওই দশকের শেষের দিকে এসে নতুন আধ্যাত্মিক নেতা আলি খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমি রাফসানজানির নেতৃত্বে পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প আবার পুনরুজ্জীবিত হয়।
পরমাণু অস্ত্র বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের কারণে সিমেন্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ার পর ১৯৯০-এর দশকের প্রথমার্ধজুড়ে সহযোগী খুঁজতে থাকে চীন।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উত্তোলনকারী এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাস মজুদকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইরান দাবি করে আসছে, দ্রুত বর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে তাঁদের পরমাণু বিদ্যুৎ উত্পাদন করতে হবে। কেননা তেল ও গ্যাস একসময় ফুরিয়ে আসবে।

ইরাক ছাড়ল মার্কিন ‘যুদ্ধসেনা’

ইরাকে নিয়োজিত মার্কিন ‘যুদ্ধসেনা’র (কমব্যাট বাহিনী) সর্বশেষ ব্রিগেড গতকাল বৃহস্পতিবার ইরাক ছেড়ে চলে গেছে। স্থানীয় সময় ভোর ছয়টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল নয়টায়) সেকেন্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের আওতাভুক্ত ফোর্থ স্ট্রাইকার ব্রিগেডের সর্বশেষ সেনাদল স্থলপথে ইরাক সীমান্ত অতিক্রম করে কুয়েতের মাটিতে পা রাখে। গতকাল ভোরে মার্কিন বাহিনীর একজন মুখপাত্র এ কথা বলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ৩১ আগস্টের মধ্যে ইরাক থেকে সব যুদ্ধসেনা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা অনুযায়ী তাঁদের প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। তবে সব কমব্যাট সোলজার বা যুদ্ধসেনা প্রত্যাহার করা হলেও এখনো সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে অর্ধলক্ষাধিক মার্কিন সেনা রয়েছেন।
লস এঞ্জেলেস টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন দিন ধরে সেকেন্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের চার হাজার সেনার অধিকাংশই ৩৬০টি সামরিক যান নিয়ে বাগদাদ থেকে কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে যাওয়া শুরু করেন। তবে নিরাপত্তার কারণে সংবাদমাধ্যমে আগেই এ খবর প্রকাশ করা হয়নি। ওই ডিভিশনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এরিক ব্লুম এএফপিকে বলেছেন, গতকাল ভোর ছয়টা নাগাদ সর্বশেষ সেনাদল ইরাক সীমান্ত অতিক্রম করে। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে সাত বছর আগে ইরাক যুদ্ধে আসা মার্কিন বাহিনীর সব কমব্যাট সেনা সদস্যকেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো।
এরিক ব্লুম বলেন, ইরাকে এখনো তাঁদের বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও আসবাব রয়েছে। সেগুলো গোছগাছ করে জাহাজে তোলার কাজ করছেন কিছু সেনা। সেগুলো বাঁধাছাঁদা করে জাহাজে তুলতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। সামরিক সরঞ্জাম ও সেনাদের মালামাল জাহাজে তোলার পর কুয়েত ঘাঁটি থেকে তাঁদের বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো শুরু হবে। আগামী মাসের মাঝামাঝি সব সেনা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।
ব্লুম জানান, বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরাকি সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এখনো ইরাকে ৫৬ হাজার সেনা রয়েছেন। এসব সেনা সেখানে অবস্থান করলেও তাঁরা কোনো অভিযানে অংশ নেবেন না। শুধু আক্রান্ত হলে তাঁরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁদের মধ্য থেকে আরও ছয় হাজার সেনা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হবে।
২০০৩ সালে হামলা চালানোর সময় মার্কিন বাহিনী তাদের ইরাক অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ইরাকে মার্কিন বাহিনীর নতুন অভিযান শুরু হবে। সে অভিযানের নাম হবে ‘অপারেশন নিউ ডন’। ইরাকের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা হবে ‘অপারেশন নিউ ডনের’ মূল লক্ষ্য।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি এমএসএনবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কমব্যাট অপারেশনের (যুদ্ধাভিযান) এ আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তিকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, ইরাক থেকে কমব্যাট সৈন্য প্রত্যাহারের অর্থ এই নয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কাজ শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, ‘ইরাক থেকে আমরা আমাদের কার্যক্রম গুটিয়ে আনিনি। সেখানে এখনো আমাদের বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। আমরা একটি পর্যায় থেকে অন্য একটি পর্যায়ে গিয়েছি মাত্র। ইরাকের প্রতি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি রয়েছে।’
ক্রাউলি বলেছেন, ইরাক যুদ্ধে তাঁদের প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। নিহত হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার (৪৪১৫ জন) মার্কিন সেনা। তিনি বলেন, এত অর্থ ও লোকবল খরচ করার পর ইরাককে অরক্ষিত রেখে আসার প্রশ্নই আসে না। তাঁরা ইরাককে স্থিতিশীল রাখতে যা যা প্রয়োজন তাই করবেন।
তবে ইরাক থেকে মার্কিন কমব্যাট সেনা সরিয়ে আনায় বিভিন্ন মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। খোদ ইরাকের সেনা কর্মকর্তারা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা এখনো তাঁদের হয়নি।
ইরাকের শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল বাবাকের জিবারি বলেছেন, ২০২০ সালের আগে ইরাকি বাহিনীর একার পক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি বলেছেন, ওবামা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী ২০১১ সালে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করার সঙ্গে সঙ্গে আসল সমস্যা শুরু হবে।

‘শান্তির বন’ গড়ার প্রস্তাব কিশোরের

উত্তেজনা বিরাজ করা কোরীয় সীমান্তে শিশুদের জন্য গড়ে তুলতে হবে শান্তির বন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের কাছে এই প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিল ১৩ বছর বয়সী কিশোর জোনাথন লি। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সে থেকে এসেছে এক সপ্তাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আসার পর সাংবাদিকদের সে জানায়, এই সফর ওই উপদ্বীপের ভবিষ্যতের ব্যাপারে তার মনে আশার সঞ্চার করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে যাওয়ার আগে বেইজিং বিমানবন্দরে মা-বাবার সঙ্গে যাত্রাবিরতি করে লি। ধমনীতে কোরীয় রক্ত বইলেও সে মার্কিন নাগরিক। সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে থাকে লি। সে জানায়, উত্তর কোরিয়া সফরকালে নিজেকে সে নিরাপদ মনে করেছে এবং স্থানীয় মানুষের সদাচরণ পেয়েছে।
লি জানায়, কিম জং ইলের কাছে একটি চিঠি নিয়ে পিইংইয়ংয়ে গিয়েছিল সে। চিঠিতে প্রস্তাব ছিল, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী সেনামুক্ত এলাকায় শিশুদের জন্য একটি শান্তির বন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সে বলেছে, তার চিঠি জং ইলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে নিজের একটি বইও উপহার দিয়েছে সে

পাকিস্তানে গৃহহীনের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানে গৃহহীন লোকের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটির পরমাণুকেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনাগুলো নিরাপদ আছে। দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে সদস্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ওআইসি। এদিকে, বিপর্যয়ের তুলনায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যায় গৃহহীন লোকের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘ এর আগে বলেছিল, বন্যায় ২০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। অপর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ, আশ্রয় ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ করার মতো বড় সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আরও অর্থ সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছে ত্রাণ সহায়তা সংগঠনগুলো। বন্যার আর্থিক ক্ষতি কয়েক শ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) অন্তত ২০০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে বলে আশা করছে। ম্যানিলাভিত্তিক এডিবির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করতে আরও দুই সপ্তাহ লাগবে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র মাউরিজিও গিউলিয়ানো রয়টার্সকে বলেন, দাতারা তাদের সাহায্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক সাহায্য আসছেও, তবে তা এখনো চাহিদা মেটাতে পারছে না। শিশু পাচার পাকিস্তানের একটি বড় ব্যবসা। উদ্বেগ প্রকাশ করে গিউলিয়ানো বলেন, এই দুর্যোগের মুহূর্তে আশ্রয়হীন হয়ে পড়া অনেক শিশুই পাচারকারীদের খপ্পরে পড়তে পারে। পাকিস্তানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটির পরমাণুকেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনাগুলো নিরাপদে আছে।
পাঞ্জাব প্রদেশের দক্ষিণে চাশমা এলাকায় ৩২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন চীনের নির্মিত একটি পরমাণুকেন্দ্র আছে। আরেকটি আছে সিন্ধু নদের তীরে। ২০০৫ সালে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পেও পরমাণুকেন্দ্র দুটি অক্ষত ছিল।
দ্য অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি) গত বুধবার পাকিস্তানে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে সদস্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক জরুরি বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়। ওআইসির মহাসচিব একলেমুদ্দিন ইহসানোগলু বৈঠকে বলেন, ‘আমরা এক মারাত্মক দুর্যোগে আছি। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বিপুল আর্থিক সাহায্য প্রয়োজন।’ এক মুখপাত্র গত বুধবার ওআইসির পক্ষ থেকে পাকিস্তানের জন্য ৮৭ লাখ ডলার সাহায্যের কথা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, পর্যাপ্ত ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ-সংকট থেকে মুক্তি চান সিডন্স

বিদ্যুতের সমস্যা সারা দেশেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটও এর বাইরে নয়। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জিমনেসিয়াম এবং ইনডোরে অনুশীলন বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যাটি কাল বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটির সভায়ও তুললেন কোচ জেমি সিডন্স। বোর্ড কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
বৃষ্টি হলে ইনডোরই ভরসা প্র্যাকটিসের জন্য। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোর আর জিমনেসিয়াম অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকছে প্রায়ই। ফ্যান-এসি চলে না, বাতি জ্বলে না। গতকাল শেষ হওয়া কন্ডিশনিং ক্যাম্পে বিদ্যুৎ-সমস্যাটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। টের পাচ্ছেন বোর্ড কর্মকর্তারাও। লোডশেডিংয়ের কারণে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো মিটিংয়ের সময় বদলাতে হয়েছে তাঁদের। ২২ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের প্রস্তুতিতেও পরিস্থিতি একই রকম থাকার শঙ্কা।
বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস টেকনিক্যাল কমিটির সভা শেষে বলেছেন, ‘সিডন্স আমাদের সমস্যাটার কথা বলেছেন। ব্যাপারটা আসলেই দুশ্চিন্তার। বোর্ড সভাপতি আপাতত দেশের বাইরে। দেশে এলে বিষয়টা তাঁকে জানানো হবে। মিরপুর স্টেডিয়ামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনে সর্বোচ্চ মহলের সাহায্য নেওয়া হবে। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই এটা করতে হবে।’
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, বিদ্যুৎ ঘাটতির এই দিনেও পুরো শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নেই একটি জেনারেটরও। বিদ্যুৎ না থাকলে ইনডোর, জিমনেসিয়াম তো অকার্যকর হয়ে পড়েই, বিসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষেও অফিস করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। জালাল ইউনুস অবশ্য জানিয়েছেন, বিসিবির জন্য জেনারেটর কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টেকনিক্যাল কমিটির সভায় মূল আলোচ্য বিষয় ছিল অবশ্য বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। সিডন্স তাঁর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বোর্ড কর্মকর্তাদের। পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য দিক, বিশ্বকাপের অন্তত এক মাস আগে থেকে বিশ্বকাপের দলটাকে নিয়ে আলাদা অনুশীলন ক্যাম্প করতে চান তিনি। আগামী জানুয়ারির ২২ তারিখের পর তাই বিশ্বকাপের ক্রিকেটাররা ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনো ম্যাচ খেলবেন না। বিশ্বকাপের জন্য এই ক্যাম্পটা আবাসিক করারও চিন্তাভাবনা আছে বোর্ডের। ক্যাম্প কোথায় হবে, কবে থেকে শুরু হবে—এসব নিয়ে পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে কোচকে। সভায় তানজীব আহসানকে বিশ্বকাপ পর্যন্ত জাতীয় দলের ম্যানেজার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ম্যাচ জেতালেন বোলার সাকিব

প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরির সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। তার পর থেকে ছোটখাটো কিছু ইনিংস খেলছিলেন, দু-তিনটি করে উইকেট পাচ্ছিলেন, নজরকাড়া পারফরম্যান্স ছিল না সাকিব আল হাসানের।
অবশেষে সারের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে উস্টারশায়ারের হয়ে ৪২ রানে ৬ উইকেট নিলেন। সাকিবের এই বোলিং-তাণ্ডবেই সারের বিপক্ষে ২৩৮ রানে জিতেছে উস্টার।
৩৬৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নামে সারে। বিনা উইকেটে ৫৭ রান তোলা সারে ২ রানের মধ্যে প্রথম ৩ উইকেট হারিয়ে পড়ে যায় বিপাকে। পরপর দুই ওভারে ল্যান্সফিল্ড, মেকার ও রামপ্রকাশের উইকেট তিনটি নেন সাকিব। পরে আরেক ওভারেও ২ উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত ক্রিস টেমলেটকে এলবিডব্লু করে ১৩০ রানে গুটিয়ে দিয়েছেন সারের ইনিংস।

ধর্মপ্রাণ ওজিল

আগামী এক দশকের বড় তারকা হতে এসেছে ও—মেসুত ওজিল সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন হোসে মরিনহো। জার্মানির তুর্কি বংশোদ্ভূত এই মুসলিম ফুটবলার প্রতি ম্যাচের আগে তিলাওয়াত করেন কোরআন শরিফ।

নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রাথমিক দল ঘোষণা

বিশ্বকাপের নয়, আপাতত নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্যই ২৬ সদস্যের প্রাথমিক দল দিল নির্বাচক কমিটি। দলে নেই আফতাব আহমেদ ও অলক কাপালি। তবে প্রায় দুই বছর পর ডাক পেয়েছেন চট্টগ্রামের আরেক ব্যাটসম্যান নাজিমউদ্দিন। প্রাথমিক দলে থাকা ক্রিকেটারদের আগামীকাল বেলা ১১টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কোচ জেমি সিডন্সের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।
ইংল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজ খেলে আসা দল আর কন্ডিশনিং ক্যাম্পের ক্রিকেটারদের নিয়েই হয়েছে প্রাথমিক তালিকা। কাল প্রথম দিনে ক্রিকেটারদের নিয়ে একটা সভা করবেন সিডন্স। অনুশীলন ক্যাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলবেন তিনি। মূল অনুশীলন শুরু হবে ২২ আগস্ট থেকে। চলবে টানা ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ঈদের ছুটির পর আবার অনুশীলন শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর। এর আগে ৭ বা ৮ সেপ্টেম্বরই ঘোষণা হয়ে যাবে নিউজিল্যান্ড সিরিজের মূল দল। নিউজিল্যান্ড দলের বাংলাদেশে আসার কথা ২৯ সেপ্টেম্বর। পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ৫ অক্টোবর।
প্রাথমিক দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, জুনায়েদ সিদ্দিক, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, আবদুর রাজ্জাক, শফিউল ইসলাম, রুবেল হোসেন, জহুরুল ইসলাম, রকিবুল হাসান, নাঈম ইসলাম, নাজমুল হোসেন, সৈয়দ রাসেল, শাহাদাত হোসেন, ফয়সাল হোসেন, নাজিমউদ্দিন, শাহরিয়ার নাফীস, মাহবুবুল আলম, ডলার মাহমুদ, মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী, রবিউল ইসলাম, শামসুর রহমান ও সগীর হোসেন।

স্মিথের কোচই জানতেন না!

টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়লেন গ্রায়েম স্মিথ, সংকটে হাল ধরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানালেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান জেরাল্ড মাজোলা। অথচ আগে থেকে নাকি কিছুই জানতেন না দক্ষিণ আফ্রিকা কোচ কোরি ফন জিল! দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের হয়ে এখন শ্রীলঙ্কা সফরে আছেন ফন জিল। সেখান থেকেই আফ্রিকানস পত্রিকাকে জানিয়েছেন, স্মিথের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বা সংবাদ সম্মেলনের কোনো কিছুই তাঁর জানা ছিল না

সোয়ানের জন্য আইসিসির দুঃখপ্রকাশ

বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের তালিকায় তিনি ছিলেন। কিন্তু পুরস্কারের জন্য বিবেচনায় নেওয়া সময়কালে যা পারফরম্যান্স, তাতে তো বর্ষসেরা ক্রিকেটারের তালিকায়ও থাকার কথা ছিল গ্রায়েম সোয়ানের। ইংল্যান্ডজুড়ে প্রবল সমালোচনার মুখে মনোনীতদের নাম ঘোষণার এক দিন পর কাল বর্ষসেরা ক্রিকেটারের প্রাথমিক তালিকায় ঢোকানো হলো সোয়ানের নাম। পরশু ঘোষিত তালিকায় সোয়ান বাদ পড়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে আইসিসি।
২৪ আগস্ট ২০০৯ থেকে ১০ আগস্ট ২০১০—পুুরস্কারের জন্য বিবেচ্য এই সময়ে ১০ টেস্টে ৪৯ উইকেট নিয়েছেন সোয়ান, ২৩ ওয়ানডেতে নিয়েছেন ২৮ উইকেট, আর ১১ টি-টোয়েন্টিতে ১৬টি। ব্যাট হাতেও সব ধরনের ক্রিকেটে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সোয়ানের অন্তর্ভুক্তিতে বর্ষসেরা ক্রিকেটারের প্রাথমিক তালিকায় থাকলেন মোট ১৭ জন। ৬ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে দেওয়া হবে এবারের আইসিসি অ্যাওয়ার্ড।

ইমদাদুলের আক্ষেপ এক পয়েন্টের

অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ পদক হাতছাড়া হয়ে গেল ইমদাদুল হকের (মিলন)। না, এককে নয়—মিশ্র দ্বৈতে হেরে গেছেন বাংলাদেশের তীরন্দাজ। মিশ্র দ্বৈতে তাঁর সঙ্গী ছিল স্পেনের মেয়ে অ্যালারকন। এই দুজন জুটি বেঁধে ভালোই খেলছিলেন কিন্তু শ্যুট-অফে গিয়ে মোহাম্মদ-আনসাল জুটির কাছে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাঁদের।
ব্রোঞ্জ পদকের ওই ম্যাচে ৩৬ স্কোর গড়ে প্রথম সেটটি জেতে ইমদাদুল-অ্যালারকন জুটি। পরের সেটে দুদলই করে ৩৫। এরপর টানা দুটি সেট হারলেও পরের সেটটি জিতে ম্যাচটি নিয়ে যায় শ্যুট-অফে। সেখানে ২০ পয়েন্টের মধ্যে ১৯ স্কোর করেন ইমদাদুল-অ্যালারকন। কিন্তু ২০-এ ২০ করে ব্রোঞ্জ জেতে মোহাম্মদ-আনসাল জুটি। ১ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে হতাশ ইমদাদুল। কাল টেলিফোনে সিঙ্গাপুর থেকে জানালেন, ‘খুব খারাপ লাগছে। স্পেনের মেয়েটার জন্য শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছে। তবে ম্যাচটা দারুণ হয়েছে।’
এর আগে এই জুটি এলিমিনেশন রাউন্ডে হারায় ওঝনি-ইলমাজ জুটিকে। কোয়ার্টার ফাইনালে জেতেন ইনগ্লে-কোইবা জুটির বিপক্ষে। সেমিফাইনালে পরসকে-রাজ জুটির কাছে হেরে লড়তে হয়েছে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য। মিশ্র দ্বৈতে হারলেও এককে পদক জিততে চান ইমদাদুল। এ জন্য দুই বেলা জোর প্র্যাকটিস করছেন। জানালেন, ‘আগামী ২১ আগস্ট এককের কোয়ার্টার ফাইনাল। মাঝখানে দুই দিন সময়টা কাজে লাগাতে চাই।’
সাঁতারে কালও হতাশ করেছেন বাংলাদেশের সোনিয়া আক্তার। মেয়েদের ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ের দুই নম্বর হিটে ৬ জনের মধ্যে পঞ্চম হয়েছেন তিনি। সময় নেন ১ মিনিট ১৪.৫২ সেকেন্ড। ওই হিটে প্রথম হয়েছেন গ্রেট ব্রিটেনের এলানর ফুলকনার।

বেকহামকে ফেরাতে চান সৈয়দ

তাঁর প্রথম ক্লাব ছিল ব্রিমসডাউন রোভার্স। শৈশবে এই ক্লাব দিয়েই শুরু করেছিলেন ডেভিড বেকহাম। আজ যখন এই ইংলিশ ফুটবল তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বিপন্ন, তখন আরেক রোভার্স হাত বাড়িয়ে দিল তাঁর দিকে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বেকহামকে দেখা যেতে পারে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের জার্সিতে। অবশ্য মাঝখানে আছে বেশ কয়েকটা ‘যদি’।
সবচেয়ে বড় ‘যদি’টা হলো, ব্ল্যাকবার্নের মালিক হিসেবে আহসান আলী সৈয়দ আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন কিনা। ভারতীয় এই ব্যবসায়ী ইংলিশ ক্লাবটি কেনার পথে ভালোমতোই আছেন। গত মৌসুমে লিগে ১০ নম্বরে থেকে শেষ করা ক্লাবটির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন সৈয়দ। নতুন নতুন খেলোয়াড় কেনার পেছনে ১০ কোটি পাউন্ড খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে সৈয়দ সাহেব বেকহামকে ফিরিয়ে আনতে চান তাঁর নিজের দেশে।
মাত্র ৩৬ বছর বয়সী এই আইনজীবী বলেছেন, ‘আমি সেই ২৬ বছর থেকে প্রিমিয়ার লিগের খেলা দেখে আসছি। ওই সময় আমি ব্ল্যাকবার্নেরই সমর্থক ছিলাম। তবে বেকহামের কারণে ম্যানইউর খেলাও দেখতাম। আমার টাকায় যদি কুলোয় আর বেকহামও যদি ইতিবাচক সাড়া দেন, আমি অবশ্যই তাঁকে নিতে চাইব।’
এ ব্যাপারে বেকহামের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আসলে ফুটবলার বেকহামের ভূমিকাটাই আপাতত যেন আড়ালে। বেকহাম এখন আয়োজক-কর্মকর্তা হিসেবেই সরব। ২০১৮ কিংবা ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে চায় ইংল্যান্ড। ‘বিড’ (আয়োজক হওয়ার আবেদন) প্রক্রিয়ায় বেকহাম বড় ভূমিকা পালন করছেন। আগামী সোমবার ফিফা প্রতিনিধিরা চার দিনের সফরে ইংল্যান্ডে আসছেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ আয়োজকের যোগ্যতা যাচাই করে দেখতে। বেকহামের ব্যস্ততা তাই বেড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকেই তিনি ইংলিশ সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ফিফা প্রতিনিধিদের বুঝিয়ে দিতে, এই দেশটা ফুটবলের জন্য কতটা পাগলপারা, ‘বিড প্রক্রিয়ায় এত দিন ধরে আমরা সাধারণ মানুষের যে সমর্থন পেয়েছি সেটা অবিশ্বাস্য। আমার কোনো সন্দেহ নেই, পুরো দেশ এক হয়ে ফিফার পরিদর্শক দলকে বুঝিয়ে দেবে, বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমতি পেলে আমরা কী উত্সব-উচ্ছ্বাস তৈরি করব।’ এএফপি।

শ্রীলঙ্কাকে আইসিসির প্রশংসা

নিজে বলেছেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে। সব ভুলে এখন ক্রিকেটে মন দেওয়া জরুরি। কিন্তু কুমার সাঙ্গাকারা নিজেই এখনো মন থেকে তাড়িয়ে দিতে পারেননি কালো মেঘ। এখনো অনুতাপে পুড়ছেন। হয়তো সুরাজ রণদিভের ইচ্ছাকৃত নো বলের এই ঘটনা আজীবনই তাড়িয়ে বেড়াবে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ককে!
খোদ আইসিসি অবশ্য এ ঘটনাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সবাইকে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) যে নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি দিয়েছে, এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে আইসিসির কাছে। ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত বলেছেন, ‘আমাদের এই মহান খেলাটির মূল ভিত্তিই হলো ক্রিকেটীয় চেতনা। আমাদের সদস্যরা যে এই চেতনা সমুন্নত রাখল, সেটি দেখা আসলেই আনন্দের। এতে আবারও প্রমাণিত হলো, ফেয়ার প্লেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এসএলসির এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।’
এর আগে লরগাত আভাস দিয়েছিলেন, অপরাধী প্রমাণিত হলে রণদিভের বিরুদ্ধে আচরণবিধি অনুযায়ী আইসিসিও ব্যবস্থা নেবে। তবে এসএলসি তাঁকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ আর ম্যাচ ফির পুরোটা কেটে নেওয়ায় আইসিসি আর নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। লরগাত সেটাই জানালেন, ‘আইসিসির দৃষ্টিতে এ ঘটনা দুঃখজনক। কিন্তু (এসএলসি শাস্তি দেওয়ার পর) এটি এখন বিগত অধ্যায়।’
কিন্তু সাঙ্গাকারার জন্য অধ্যায়টি এখনো ‘বর্তমান’। আসলে তিনবার আইসিসির ‘স্পিরিট অব দ্য গেম’ পুরস্কার জেতা দলটির এক ক্রিকেটার এমন অক্রীড়াসুলভ আচরণ করবেন, এটি মেনে নিতে পারছেন না। প্রথম দিন রণদিভের পাশে দাঁড়ানো সাঙ্গাকারা দ্রুতই নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। শ্রীলঙ্কান অধিনায়কও এখন বলছেন, ‘ক্রিকেটের চেতনার কথা বলতে হলে আপনাকেও সবকিছু যথাযথভাবে করতে হবে। ক্রিকেটীয় চেতনার মধ্যে থেকে খেলা সব খেলোয়াড়েরই দায়িত্ব।’