Monday, October 1, 2018

‘আগ্রাসন চালিয়ে বাংলাদেশ দখল করে নেয়া উচিত ভারতের’

যদি হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হয় তাহলে বাংলাদেশে আগ্রাসন চালিয়ে দখল করে নেয়া উচিত ভারতের। এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সিনিয়র নেতা ও রাজ্যসভার এমপি সুব্রামানিয়া স্বামী। তিনি রোববার ত্রিপুরায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বেশ কিছু ইস্যুতে কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে ভারত। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত সতর্ক হওয়া। যেসব উন্মত্ত মানুষ হিন্দুদের মন্দির ধ্বংস করছে, মন্দিরকে মসজিদে পরিণত করছে এবং হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করে মুসলিম বানাচ্ছে তাদেরকে থামানো উচিত তার। বার্তা সংস্থা এএনআই’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডিএনএ।
সুব্রামানিয়া স্বামী বলেছেন, বাংলাদেশ যদি হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না করে তাহলে আমি আমার দেশের সরকারের কাছে সুপারিশ করবো। সুপারিশ করবে বাংলাদেশে আগ্রাসন চালিয়ে তা দখল করে নিতে। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সংস্কৃতি গৌরব সংস্থান ত্রিপুরা ইউনিটের এক কর্মসূচিতে যোগ দিতে সুব্রামানিয়া স্বামী আগরতলায় গিয়েছিলেন। এদিন তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানেরও সমালোচনা করেন।
তাকে মাত্র একজন ‘চাপরাশি’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। তিনি বলেন, পাকিস্তান চালাচ্ছে আইএসআই, সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসীরা। বিজেপির এই মুখরা এমপি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার কোনো পয়েন্টই নাই।
সুব্রামানিয়া স্বামীর ভাষায়, ইমরান খান একজন চাপরাশি ছাড়া কিছু নন। কারণ তার দেশ পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী, আইএসআই ও সন্ত্রাসীরা। আর ইমরান খান হলেন সরকারের শুধু একজন চাপরাশি। তাকে হয়তো প্রধানমন্ত্রী বলা হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু তিনি আসলে একজন চাপরাশি। ইমরান খান পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা নেয়ার পর ভারতে পাকিস্তানি ‘সন্ত্রাসীদের’ অনুপ্রবেশের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সুব্রামানিয়া স্বামী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গই উড়িয়ে দেন। বলেন, আমি মনে করি জাতিসংঘে পাকিস্তান সম্পর্কে কথা বলে শক্তি ক্ষয় করা উচিত নয় (ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সুষমা স্বরাজের। কারণ, ভারত যখন পাকিস্তানের ওপর ভারত যখন শাস্তি দেয় তখন তারা মানসিক শান্তি পায়। তিনি আরো বলেন, জাস্ট পাকিস্তানকে গোনার মধ্যে ধরবেন না। নিজ দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সুব্রামানিয়া স্বামী বলেন, আপনার সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করুন। একদিন ওই দেশটাকে ভেঙে চার খন্ড করে দিন।
তিনি আরো বলেন, ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকার গত চার বছরে অনেক ভাল কাজ করেছে। তাই অসম্পন্ন যেসব কাজ রয়েছে তা পূরণ করার জন্য তিনি বর্তমান সরকারকে আবারো ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিজেপি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দুটি ইস্যুতে লড়াই করবে। তা হলো- হিন্দুত্ববাদ ও দুর্নীতি। তার ভাষায়, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে শক্তিশালী দুটি ইস্যু আছে। তা হলো হিন্দুত্ববাদ ও দুর্নীতি। আমরা আমাদের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য আরো একটি দফায় ক্ষমতায় থাকতে চাই। আর এ দাবির প্রতি সহমত প্রকাশ করবে জনগণ। তিনি অযোধ্যায় রাম মন্দির, মথুরায় কৃষ্ণ মন্দির ও বারানসিতে কাশি বিশ্বনাথ মন্দির নির্মাণে মুসলিম সম্প্রদায়কে সম্মতি দেয়ার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান। সুব্রামানিয়া স্বামী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, বিজেপিই নির্মাণ করবে রাম মন্দির।

বর নাকি বর্বর!

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। ৫০০ বরযাত্রীসহ প্রায় ৮০০ লোকের খাবার গ্রহণও শেষ। শেষের দিকে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে খেতে বসেন বর। আর খাবার টেবিলে চিংড়ী মাছ না দেখেই পাল্টে গেল রাজার বেশে সেজে আসা বরের আসল চেহারা। টেবিল থেকে উঠে বর নিজেই দাঁড়িয়ে কনে পক্ষকে গালাগাল শুরু করলেন। ভাঙচুর করলেন খাবার টেবিলের থালা-বাসন। একপর্যায়ে উল্টিয়ে দেয় পুরো খাবার টেবিল। অনেক চেষ্টা করেও নিবৃত হচ্ছিল না বর।
বরং উল্টো হাতাহাতিতে লিপ্ত হলেন। আর এমন বর্বরতা দেখে হতভম্ব কনেপক্ষ ও বরযাত্রীরা। এতকিছুর পরও রাগ কমলো না বরের। শেষমেষ ভেঙে দিল বিয়ে। বন্ধুবান্ধব ও নিজ স্বজনদের নিয়ে চলে যেতে উদ্যত হলে কনেপক্ষ অনেক অনুনয়-বিনয় করেও কন্যাকে তুলে দিত পারলো না।
এমন এক নির্মম ও বর্বর কাহিনীর জন্ম হলো চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী বাজারের আলভী ম্যারেজ গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে। গত বৃহ¯পতিবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটলেও মান যাওয়ার ভয়ে তা প্রকাশ করেনি কনেপক্ষ।
সমস্যা সমাধান না করতে পেরে সোমবার সালিশ বৈঠক ডাকা হয় স্থানীয়ভাবে। এতে প্রকাশ পায় ঘটনাটি। আজ সোমবার রাতেই বৈঠকটি বসছে উপজেলার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান চৌধুরী খোকার বাড়িতে।
যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান চৌধুরী খোকা বলেন, রাতে বৈঠকটি হবে। সালিশ বৈঠকে বক্তব্য শুনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, চিংড়ি মাছের জন্য এমন একটি গর্হিত কাজ কোনো ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। একমাত্র বর্বর লোকের পক্ষেই সম্ভব এই কাজ করা। আর এই ঘটনা পুরো এলাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় লোকজন জানান, আনোয়ারা উপজেলার ১১নং জুইদন্ডী ইউনিয়নের ৮নং খুরুসকুল গ্রামের হাজী বাড়ির আবদুল মোনাফের আরব আমিরাত প্রবাসী ছেলে মোহাম্মদ আলমগীরের (৩০) সঙ্গে একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক ব্যবসায়ীর মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়। ১৮ দিন আগে তাদের বিয়ের আকদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
গত বৃহ¯পতিবার ছিল বরপক্ষের বিয়ে ভোজের অনুষ্ঠান। উপজেলার বটতলী বাজারের আলভী ম্যারেজ গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে এই প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। প্রবাসী বরের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে কনেপক্ষ ৫০০ বরযাত্রীসহ প্রায় ৮০০ লোকের প্রীতিভোজের আয়োজন করে।এমনকি খাবার মেন্যুতে মুরগির রোস্ট ও কোরমাসহ নানা আইটেম রাখা হয়। সবকিছু ঠিকঠাকমত চললেও টেবিলে চিংড়ি মাছ না দেখে বর আলমগীর ক্ষুব্ধ হয়ে কনে পক্ষের লোকজনকে গালাগাল শুরু করে।
শেষে বিয়েও ভেঙে দেয় বর। আত্মীয়স্বজন  নিয়ে চলে যেতে চাইলে কনেরপক্ষ তাদেরকে আটকিয়ে রাখে। পরে আনোয়ারা থানার এসআই জালালউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
থানার এসআই জালাল উদ্দিন জানান, বিষয়টি সামাজিক হওয়ায় বর ও কনে পক্ষকে তিনদিনের মধ্যে সমাধান করার কথা বলা হয়। শুনলাম এ ব্যাপারে সোমবার রাতে সালিশী বৈঠক ডাকা হয়েছে।
আনোয়ারা থানা ওসি (তদন্ত) মাহবুব মিল্কী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বরের একগুয়েমী আচরণে বিয়েটা ভেঙ্গে গেছে। এই নিয়ে কনেপক্ষ কোনো অভিযোগও করেনি। তবে তা সামাজিক ভাবে মিমাংসা করে স¤পর্কটা টিকিয়ে রাখায় যায় কিনা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।
কনের বাবা বলেন, সামান্য চিংড়ি মাছের জন্য যে ছেলে বিয়ের আসরে এত বর্বরতা দেখাতে পারে, সেই ছেলে ভবিষ্যতে আমার মেয়েকে সুখে রাখবে? অত্যাচার করবে না তার গ্যারান্টি কী?
তাই ওই ছেলের হাতে আমি আর মেয়ে তুলে দিতে রাজী নই।

সমালোচকরা বৃটেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করছে: তেরেসা মে’

চেকার্সের ব্রেক্সিট প্ল্যানের সমালোচকরা যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’। তিনি বলেছেন, ‘চেকার্সের ব্রেক্সিট প্ল্যানই একমাত্র কার্যকর প্ল্যান। তাই আমার ব্রেক্সিট প্ল্যান নিয়ে রাজনীতি করবেন না।’ শনিবার বৃটিশ দৈনিক সানডে টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে বৃটেনের বাণিজ্য নীতি কেমন হবে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর চেকার্স থেকে বিস্তারিত পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে। কিন্তু  দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পার্লামেন্টারিয়ান চেকার্সের ওই ব্রেক্সিট প্ল্যানের সমালোচনা করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের অনেকেই পার্লামেন্ট ভোটে ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার কথা বলেছেন। ব্রেক্সিট নিয়ে নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টিতেও সমালোচিত হয়েছেন তেরেসা মে’।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বার্মিংহামে কনজারভেটিভ পার্টির বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’  সেখানে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বেন সে সম্ভাবনা প্রবল। সম্মেলনের আগের দিন শনিবার বৃটিশ দৈনিক সানডে টাইমসের মুখোমুখি হন তেরেসা মে’।  সেখানে চেকার্সের ব্রেক্সিট পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ইইউ’র আপত্তি সত্ত্বেও তেরেসা মে’ বলেন, ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এটাই একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি। সানডে টাইমসের সঙ্গে আলাপচারিতায় ব্রেক্সিট ছাড়াও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন মে’। বিদেশে যেসব বৃটিশ নাগরিকের বাড়িঘর রয়েছে তাদের ওপর আরো কর আরোপ করার ঘোষণা দেন তিনি। তেরেসা মে’ বলেন, ‘এখন শুধুমাত্র একটি প্রস্তাবই আলোচনার টেবিলে রয়েছে, তা হলো চেকার্সের প্ল্যান।’
আর প্রস্তাবিত ‘ব্রেক্সিট প্ল্যান’ গ্রহণযোগ্য না হলে বিপরীতে আরেকটি প্ল্যান উপস্থাপন করার জন্য তিনি ইইউ’র প্রতি আহ্বান জানান। সমালোচকরা যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করছে উল্লেখ করে মে’ বলেন, সব সময় দেশ ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। তবে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দ্রুতই ইইউ’র সঙ্গে একটি গ্রহণযোগ্য ব্রেক্সিট চুক্তিকে পৌঁছতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তেরেসা মে’। চেকার্সের ব্রেক্সিট পরিকল্পনার অন্যতম বিরোধিকাকারী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনও সানডে টাইমসকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’ আসলে ব্রেক্সিটেই বিশ্বাস করেন না। চেকার্সের ব্রেক্সিট প্ল্যান ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটের চেতনার পরিপন্থি বলেও মন্তব্য করেন বরিস জনসন। তিনি বৃটেনের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির একটি রূপরেখা উপস্থাপন করেন। যাতে বৃটেন ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’ বিবিসি’র রাজনীতি বিষয়ক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘অ্যান্ড্রু মারে শো’তে উপস্থিত হন। এতে তিনি বরিস জনসনের সমালোচনার জবাব দেন। তেরেসা মে’ জনসনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি অবশ্যই ব্রেক্সিটে বিশ্বাস করেন। আলোচনার সিদ্ধান্ত যাই আসুক না কেন, চূড়ান্তভাবে তিনি ব্রেক্সিট চুক্তি করতে সফল হবেন বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বার্ষিক সম্মেলনে  চেকার্সের ব্রেক্সিট পরিকল্পনা সমর্থন করার জন্য টরি পার্টির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। মে’ বলেন, ঐক্যবদ্ধ  হোন ও চেকার্সের ব্রেক্সিট পরিকল্পনাকে সমর্থন করুন। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘লেবার পার্টির প্রতি আমার বার্তা হলো, ব্রেক্সিট নিয়ে তাদের রাজনীতি বন্ধ করে জাতীয় স্বার্থে কাজ করা উচিত। আর আমার দলের প্রতি আহ্বান হলো, আসুন একমত হই এবং বৃটেনের জন্য সবচেয়ে ভালো একটি চুক্তি করি।’
টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, কোনো চুক্তি ছাড়াই বৃটেন ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে দেশটির অর্থনীতি ব্যাপক হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। এ বিষয়ে সরকারকে অব্যাহতভাবে সতর্ক করে চলেছেন বৃটিশ ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় গতকাল বার্মিংহামে কনজারভেটিভ পার্টির বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। আগামী ৩রা অক্টোবর পর্যন্ত কনজারভেটিভ পার্টির সম্মেলন চলবে। ধারণা করা হচ্ছে, এ সম্মেলনেই চেকার্সের ব্রেক্সিট পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

দেশে ২০ লাখ লোক ক্যানসারে আক্রান্ত

বাংলাদেশে পুরুষরা খাদ্যনালী ও পাকস্থলী এবং নারীরা বেশি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন সোর্স থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর দিয়েছে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘ক্যানসার সচেতনতার মাস ২০১৮, মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরেন হাসপাতালটির অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. এহতেশামুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মৃত্যুর ষষ্ঠ প্রধান কারণ ক্যানসার। সেখানে পুরুষদের মধ্যে প্রধান হলো ফুসফুসে ক্যানসার এবং মহিলাদের মধ্যে স্তন ও সারভাইক্যাল ক্যানসার। এহতেশামুল হক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে একটি সমীক্ষায় জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ২০ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ।
প্রতি বছর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দেড় লাখ মানুষ। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে পুরুষদের ২৩ দশমিক ৯০ শতাংশ খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর, ২২ দশমিক ৯০ শতাংশ মুখ গহ্বর এবং ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। অপরদিকে নারীদের ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ স্তন, ১৫ দশমিক ৬০ শতাংশ জরায়ু ও জরায়ুমুখ এবং ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হন।
কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সমীক্ষায় অথবা প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ক্যানসারের এমন উপাত্ত উঠে এসেছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে এহতেশামুল হক বলেন, ক্যানসারের বিষয়ে আমাদের নিজস্ব কোনো পরিসংখ্যান নেই।
কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানের এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যানও নেই। তবে আমরা বিভিন্ন সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান দিয়েছি। বাংলাদেশে ক্যানসারে আক্রান্তদের মধ্যে নারী নাকি পুরুষের সংখ্যা বেশি এবং কোন বয়সের মানুষ বেশি আক্রান্ত হন- এমন প্রশ্নের উত্তরে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান বলেন, এ বিষয়েও আমাদের কোনো পরিসংখ্যান নেই।
লিখিত বক্তব্যে এহতেশামুল হক আরো জানান, ক্যানসার সচেতনতা বৃদ্ধিতে ২০১৭ সালে আমরা দুই সপ্তাহের প্রোগ্রাম পরিচালনা করি। এ সময় আমরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক হাজার কর্মী এবং দি একমি ফার্মাসিউটিক্যালের কর্মীদের নিয়ে একটি স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের আয়োজন করি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, ২০১৭ সালে করপোরেশনের এক হাজার কর্মীর স্ক্রিনিংয়ের ফলাফল কী ছিল? উত্তরে এহতেশামুল হক বলেন, এ তথ্য আমরা এখন দিতে পারছি না। তবে আগামী বছর যখন আমরা এ ধরনের প্রোগ্রাম করবো, তখন এ বছরসহ আগের বছরগুলোর পরিসংখ্যান আপনাদের জানাবো।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসা অপ্রতুল। ক্যানসার চিকিৎসার জন্য ৩০০টি রেডিওথেরাপি মেশিন দরকার। আছে মাত্র ১৭টি। সারা দেশে ক্যানসার রোগীদের জন্য এক হাজারের কাছাকাছি শয্যা রয়েছে। চিকিৎসক প্রায় ১৫০ জন। অর্থনৈতিক সমস্যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশাল বাধা। এর পাশাপাশি নানা কারণে রোগীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় এবং তা জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল অভিশাপ। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য নেই কোনো ইন্স্যুরেন্স।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন ডা. মতিউর রহমান মোল্লা বলেন, ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হেডনেক ক্যানসার আমরা এই উপমহাদেশে দেখতে পাই। যাদের পুষ্টির অভাব আছে তারা যদি গুল, জর্দা, সুপারি অথবা মুখে এ জাতীয় খাবার খান তাদের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. একেএম আমিনুল হক বয়স্কদের ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন- বয়স্কদের অল্প অল্প জ্বর ক্যানসারের লক্ষণ। তবে বেশি জ্বর হলে অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রির ওপরে থাকলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া কাশিও ক্যানসারের একটা লক্ষণ। ওষুধ খেয়েও যদি কাশি না সারে তখন আমরা সন্দেহ করি। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি অ্যান্ড অবস্‌ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শারমিন বলেন, মানুষ সারভাইক্যাল ক্যানসারের ঝুঁকিতে আছেন ৫৮ শতাংশ। এই বিষয়ে আমাদের একটি জাতীয় নীতিমালা থাকা দরকার।
অনুষ্ঠানে ক্যানসার সচেতনতা উপলক্ষে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেয়া সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাসপাতালটির বহির্বিভাগে আগামী ২রা অক্টোবর থেকে ১০ই অক্টোবর পর্যন্ত স্তন ক্যানসার, ফুসফুস ক্যানসার, সারভাইক্যাল ক্যানসার, হেডনেক ক্যানসার, মূত্রথলির ক্যানসার ও কলোরেক্টাল ক্যানসারের ফ্রি পরীক্ষা হবে। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মীম নাসিম সোবহানী খন্দকার, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ডা. অনীল নাফিসা প্রমুখ।

যেভাবে ফজলুল করিম প্রধান বিচারপতি হন -সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বই ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম’ ইতিমধ্যে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বইয়ের একটি অধ্যায়ে তিনি আলোচনা করেছেন বিচারপতি ফজলুল করিমের প্রধান বিচারপতি হওয়ার ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকার বিষয়টি। বইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায়ের শিরোনাম হলো ‘প্রধান বিচারপতি হিসেবে ফজলুল করিমের নিয়োগ’। সেখানকার সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হলো।
এসকে সিনহা লিখেছেন, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এম এম রুহুল আমিনের অবসরে যাওয়ার কথা ২০০৯ সালের ২২শে ডিসেম্বর। বিচারপতি তোফাজ্জল ইসলাম ও মোহাম্মদ ফজলুল করিম তার জ্যেষ্ঠ হলেও তিনিই দেশের ১৬তম প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। তোফাজ্জল ইসলাম হন ১৭তম প্রধান বিচারপতি। তিনি শপথ গ্রহণ করেন ২০০৯ সালের ২৩শে ডিসেম্বর।
অবসরে যান ২০১০ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসের জন্য প্রধান বিচারপতি ছিলেন।
তোফাজ্জল ইসলামকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল কারণ তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানি যে বেঞ্চে হয়েছিল, সেই বেঞ্চে প্রধান ছিলেন। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফজলুল করিমকে ডিঙ্গিয়ে তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল।
ফজলুল করিম পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হওয়ার ক্ষেত্রে ভীষণ আগ্রহী ছিলেন। একমাত্র যে বিষয়টি তার পক্ষে ছিল সেটি হলো তিনি ছিলেন হাইকোর্ট ডিভিশনের তৃতীয় বিচারক যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনানি করেছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে ছিলেন। তারপরও ওই আপিলের শুনানিতে তৃতীয় বিচারক হিসেবে তার ওপরই আস্থা রাখা হয়েছিল।
প্রধান বিচারপতির পদ অনেক আগ থেকেই রাজনৈতিক করে ফেলা হয়েছে। ফলে শাসক দলের রাজনৈতিক ধ্যানধারণার বাইরে কেউ প্রধান বিচারপতি হবেন এমনটা ছিল অচিন্তনীয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনানির কারণে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও প্রধান বিচারপতি করা হয়নি। তার চেয়ে কনিষ্ঠ বিচারপতি এমএম রুহুল আমিনকে করা হয়েছিল।
কিন্তু টানা দু’ বার জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন হলেও নিজের পদে অটল থেকে কাজ করছিলেন ফজলুল করিম। তার একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হওয়া। কারণ তার শ্বশুর বিচারপতি ইমাম উদ্দিনও প্রধান বিচারপতি ছিলেন। দেশের ১৮তম বিচারপতি হতে তিনি সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
ওদিকে বিচারপতি এবিএম খাইরুল হকও প্রধান বিচারপতি হতে চান। অথচ, তিনি আপিল বিভাগে এসেছেন মাত্র কয়েক মাস হলো। তার পক্ষে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি ছিল সেটি হলো পঞ্চম সংশোধনী মামলা ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল আবেদনের রায় তিনি দিয়েছিলেন।
ফজলুল করিম ছিলেন একজন ব্যারিস্টার। আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদও ছিলেন ব্যারিস্টার। তাদের মধ্যে বিশেষ যোগাযোগ ছিল। তবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়ায় শফিক আহমেদের ক্ষমতা ছিল সামান্যই। যদিও সংবিধানে প্রেসিডেন্টের হাতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীই মূলত এক্ষেত্রে একচ্ছত্র এখতিয়ার ভোগ করেন।
ফজলুল করিম এমনকি দু’বার আমার বাসায় আসেন যাতে আমি তাকে প্রধান বিচারপতি হতে সহায়তা করি। শেষ পর্যন্ত তিনি কিভাবে যেন চট্টগ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান বাবুকে বোঝাতে সক্ষম হন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যা-ই হোক না কেন, চট্টগ্রামের মানুষদের মধ্যে নিজেদের বন্ধুর প্রতি সফট কর্নার থাকে।
আখতারুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীকে ফজলুল করিমের পক্ষে আনতে সফল হন। সরকারের মধ্যেও অবশ্য দ্বিধা ছিল। একদিকে এবিএম খাইরুল হক ছিলেন আপিল বিভাগের খুবই কনিষ্ঠ বিচারক। ফজলুল করিম অপরদিকে আখতারুজ্জামানের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী অবদি পৌঁছে যান। মাঝখানে আরো দুই বিচারপতি ছিলেন, যারা বিবেচনাতেই ছিলেন না।
একেবারে শেষ মুহূর্তে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আমার টেলিফোনে আলাপ হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় আমি ফজলুল করিমকে জানাই যে আজকে রাত হবে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ কারণ আজই সিদ্ধান্ত হবে কাকে বানানো হবে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি। আমি তাকে বললাম যে, রাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবো তাকে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ঠিক আগে  শফিক আহমেদ রাত ১১টার দিকে আমাকে ফোন দেন। তিনি আমার মাধ্যমে ফজলুল করিমের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেতে চান যে, যদি তাকে প্রধান বিচারপতি বানানো হয়, তাহলে তিনি সরকারকে বিব্রত করার মতো কিছু করবেন না। আমি রাত সাড়ে ১১টার দিকে তড়িঘড়ি করে ফজলুল করিমের বাসার দিকে ছুটলাম। দেখলাম তিনি স্ত্রীসহ ড্রয়িং কক্ষে বসে আছেন।
ভালো সংবাদ পেয়ে তিনি নিঃসন্দেহে খুশি ছিলেন। আমি তখন তাকে আইনমন্ত্রীর বার্তা জানালাম। ফজলুল করিম শারীরিকভাবে বেশ নাজুক ছিলেন। কিন্তু তিনি সেদিন এতটাই চিন্তিত ছিলেন যে আমি বাসায় প্রবেশ করার পরপরই তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে যান। আমি তাকে না দাঁড়াতে অনুরোধ করি। তিনি আমার ডান হাত ধরে বললেন, ‘আমি সবসময় তোমাকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতো দেখেছি। তুমি আমাকে যা করতে বলবে আমি তা-ই করবো।’
আমি তার কথা শুনে বিস্মিত হয়ে গেলাম। আমি অস্বস্তি নিয়ে বললাম, কোনো পদের জন্য তার উচিত হবে না নিজেকে ছোট করা। এই পদ তো মর্যাদাপূর্ণ। সেখানে দাঁড়িয়েই আমি ফজলুল করিমের আশ্বাসের কথা আইনমন্ত্রীকে জানালাম। এরপর আমার ফোন দিয়ে তাদের মধ্যে কথা হলো।
অবশেষে তিনি প্রধান বিচারপতি হলেন। দায়িত্ব নেয়ার পরপর তিনি কিছু আইনজীবীকে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করলেন। এদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস ও খসরুজ্জামান। কিন্তু দ্রুতই পত্রিকায় প্রতিবেদন আসে যে, এদের দু’জনের বিরুদ্ধেই ছাত্র থাকাকালে ফৌজদারি রেকর্ড ছিল। যদিও সেসব ছিল রাজনৈতিক মামলা। তারপরও প্রধান বিচারপতি এই দুইজনকে শপথ গ্রহণের আমন্ত্রণ পাঠাননি।
আমি, আইনমন্ত্রী, সরকার ও অন্য যারা তার জন্য সুপারিশ করেছিল তাদের জন্য বিষয়টি বেশ বিব্রতকর ছিল। সরকার বেশ বিরক্ত ছিল এই ঘটনায়। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আমিসহ একদল বিচারক কয়েকদিন পর দক্ষিণ কোরিয়ায় গেলাম এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। অরিয়েন্টেশনের পর আমি প্রধান বিচারপতিকে কয়েক মিনিটের জন্য জরুরি আলোচনা করতে আমার কক্ষে আসার অনুরোধ করলাম।
আমি তাকে অনুরোধ করলাম তিনি যাতে ওই দুই বিচারকের নিয়োগ নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। আর তাদেরকে গ্রহণ করে আমাদেরকে এই বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেন। আমি তাকে সেই রাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম যখন তিনি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি সরকারকে বিব্রত করবেন না। প্রধান বিচারপতি বেশ উচ্চকণ্ঠে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানালেন।
তবে পরবর্তীতে তার সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক অতটা তিক্ত হয়নি। তিনি সাত মাস ২১ দিনের জন্য পদে ছিলেন। এরপর এবিএম খাইরুল হক প্রধান বিচারপতি হলে ওই দুই আইনজীবী বিচারপতি হন।

বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এস কে সিনহা যা বললেন by মিজানুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রেও ভীতিকর অবস্থায় আছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। তিনি বলেছেন, সেখানেও তার ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় ওয়াশিংটন জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল’ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এ বইয়ের সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বাংলাদেশের পরিস্থিতি সবাইকে জানানোর চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও অন্যান্য খাতও তিক্ত হয়ে উঠেছে। বইটি বাংলাদেশের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয় হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিচারপতি সিনহা নিজের লেখা বইয়ের অংশবিশেষ বর্ণনা করে বক্তব্য রাখেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
তিনি ৫০ মিনিটের মতো নিজের বইয়ের অংশবিশেষ নিয়ে সূচনা বক্তব্য রাখেন। তারপর ৩৫ মিনিট প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন। তার বই লেখায় অনেকের অর্থ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের অভিযোগের ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়। বিচারপতি সিনহা এমন অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি কোনো আর্থিক সুবিধা নেননি কারো কাছ থেকে। তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। রাজনৈতিক দলের কাউকে তার আশপাশে ভিড়তে দেন না। তিনি দাবি করেন, বিচারপতি হিসেবে তার জীবনের শেষ দিনগুলো খুবই কঠিন। বিব্রতকর। ওই দিনগুলো সম্পর্কে তার যে অভিজ্ঞতা তিনি তা বইয়ে তুলে ধরেছেন। তার কাছে তার বর্তমান স্ট্যাটাস বা অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে এসকে সিনহা বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এখন একজন শরণার্থী। সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। সেই আবেদন এখনও প্রক্রিয়াধীন আছে। কোনো স্ট্যাটাস না থাকায় তিনি লন্ডনে হাউজ অব কমন্স, জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেও যোগ দিতে পারছেন না। তিনি জানান, তার চেয়ে ভয়ের বিষয় হলো তিনি এখন ভীতিকর অবস্থায় আছেন। বাসাতেই সময় কাটান। কারণ, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তার ওপর মনিটরিং করছে। ফলে তিনি তাদের রাডারের মধ্যে রয়েছেন। ওই সংস্থার কর্মকর্তারা তার বাসায় যান। বাসার ছবি তোলেন। সিনহার কাছে বিরোধী দল বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়ার জেলজীবন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। বলেছেন, মামলাটি আদালতে বিবেচনাধীন আছে। তাই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো সমীচীন নয়। তবে এস কে সিনহা বলেন, যেদেশে একজন প্রধান বিচারপতি ন্যায়বিচার পান না সেখানে একজন সাধারণ নাগরিক কি করে ন্যায়বিচার পাবেন? কি আচরণ পাবেন?
তিনি প্রশ্নোত্তরে বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। বলেন, এই সরকার ২০১৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছে ভারতের সমর্থনে। পরে এ সরকারের পক্ষে সমর্থন আদায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে লবিং করে ভারত। এটা করেছে ভারত তার নিজের লাভের জন্য। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ভারতবিরোধিতা বন্ধ করেছে দক্ষতার সঙ্গে। এই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই এসব করেছে ভারত। ভারত তার নিজের স্বার্থে এসব করলেও তাতে ভারতের ক্ষতি হবে বলে মন্তব্য করেন এস কে সিনহা। তিনি বলেন, ভারত আওয়ামী লীগকে অতিমাত্রায় সমর্থন দিলে তাতে ভারতবিরোধিতা আরো বাড়বে। ফলে ভারতের প্রতিপক্ষ যেমন পাকিস্তান, এখানেই তেমন ‘আরেকটি পাকিস্তান’-এর মুখোমুখি হতে হবে তাদের। এস কে সিনহা আরো বলেন, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে বাকি পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে যেভাবে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শেখ হাসিনার এখনকার শাসনও সেই রকম। তার কাছ থেকে সিনহা সেই একই আচরণের শিকার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে বঙ্গভবনে ডেকে নেন। সেখানে তার সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও এটর্নি জেনারেল। এস কে সিনহা বলেন, সেখানে গিয়ে দেখি তারা আগে থেকেই বসা। বিচারপতি এস কে সিনহা দাবি করেন, তারা তাকে রায় পাল্টাতে বলেন। কিন্তু তাদের প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি। এরপর তার সঙ্গে কোনো সৌজন্যতা দেখানো হয়নি। সিনহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন- আমি আপনাকে চিফ জাস্টিস বানিয়েছি। সিনহা এর জবাবে বলেন, আপনি বানাননি। আমাকে এ পদ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিরাই অংশ নেন।

সেনা সমর্থিত সরকারও আমাকে পদত্যাগ করতে চাপ দেয় -সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার আলোচিত বই ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম’-এর একটি অংশে তিনি বর্ণনা করেছেন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার কিছু ঘটনা। তিনি লিখেছেন, ওই সরকারের সময় তাকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দেয়া হয়েছিল।
বইয়ের ‘জরুরি অবস্থা’ (ইমারজেন্সি) শীর্ষক অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার প্রায় ৬ মাস পেরিয়ে গেছে। একদিন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার আমাকে জানালেন যে, প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দীন আহমেদ আমাকে পরেরদিন বিকেলে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
আমি যখন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম, দেখতে পেলাম তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আমিনুল করিম তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে একটি ফাইল।
প্রথম দিকে আমার মনে তেমন সন্দেহ জাগে নি। আমি বরং ভাবছিলাম যে, আমাকে হয়তো বিশেষ কোনো দায়িত্ব নিতে ডাকা হয়েছে। কিন্তু এক মিনিটের মধ্যেই আমার অনুমান ভুল প্রমাণিত হলো।
প্রেসিডেন্ট আমাকে বললেন, আমাকে পদত্যাগ করতে হবে।
কারণ জিজ্ঞেস করতেই তিনি বললেন, আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আমি বললাম এই প্রতিবেদন মিথ্যা। তার উচিত এ বিষয়টি নিয়ে পুনরায় চিন্তা করা। ওই সময় তার সামরিক সচিব কিছু একটা বলার চেষ্টা করছিলেন। হাতে রাখা ফাইলের দিকে চোখ তার। তখন আমি তাকে থামিয়ে দিলাম। বললাম, এখানে তার কথা বলার কথা নয়। কারণ, আমাকে প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
আমি প্রেসিডেন্টকে বললাম যে, আমি এভাবে পদত্যাগ করবো না। তাকে মনে করিয়ে দিলাম, আমি যদি পদত্যাগ করি তাহলে আমার অবসর সুবিধাও (পেনশন) পাবো না। তখন তিনি বললেন যে, আমি যদি তার প্রস্তাবে রাজি হই তাহলে সরকার আমাকে দ্বিগুণ অর্থ দেবে। এমনকি আমি যদি ভারত যেতে চাই, তাহলে সরকার সব ধরণের প্রয়োজনীয় সুবিধা দেবে।
আমি বললাম, দুঃখিত। তাকে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় চিন্তা করতে বললাম। এরপর বেরিয়ে গেলাম। আমাকে দেওয়া চা-ও পান করলাম না।
প্রধান বিচারপতি রুহুল আমিন তখন দেশের বাইরে। দেশে ফেরার ৩ দিন পর আমি ঘটনাটি তাকে জানালাম। তার পরামর্শ চাইলাম। তিনি চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে বিচারিক কাজ চালিয়ে যেতে বললেন।
ততদিনে ডিজিএফআইতে নিযুক্ত হন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিন, যিনি বিহারি আমিন বলেও পরিচিত ছিলেন। তিনি আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে লাগলেন যাতে আমি পদত্যাগ করি। একদিন প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব সুপ্রিম কোর্টের টেলিফোন এক্সেঞ্জের মাধ্যমে আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন। আমি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানাই।
ড. কামাল হোসেন তখন যুক্তরাজ্যে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি তার মেয়ে সমাজকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট ব্যারিস্টার সারা হোসেনকে আমার কাকরাইলের বাসায় পাঠালেন একটি বার্তা নিয়ে যে, তার (কামাল হোসেন) দেশে ফেরার আগে আমার কিছু করা উচিত হবে না।
এরপর প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ের কাছ থেকে আমি একটি চিঠি পেলাম। প্রেসিডেন্ট ও আমার মধ্যে যে বিষয়ে কথা হয়েছে তা নিয়ে আমার মত জানাতে বলা হলো চিঠিতে। ড. কামাল হোসেন ততদিনে বিদেশ থেকে ফিরেছেন। ফিরে আমার চেম্বারে দেখা করলেন। তিনি প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ের চিঠির পাল্টা লিখিত জবাব আমার কাছে হস্তান্তর করলেন। আমিও একটি জবাব প্রস্তুত করেছিলাম। সেটি ড. কামালকে দেখাই। আমার জবাব পড়ে, তিনি বেশ আবেগী হয়ে বললেন, আমার জবাব তারটার চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।
আমি প্রেসিডেন্টকে সরাসরি জানালাম যে, আমরা উভয়েই সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়েছি। সংবিধান আমাদের উভয়ের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সুতরাং, তার এমন কিছু করা উচিত হবে না, যা তার শপথ ভঙ্গ করে। এই জবাবের পর এই অধ্যায়ের ইতি ঘটে।

ভারতে কোনো অবৈধ বাংলাদেশি নেই -ভয়েস অব আমেরিকাকে প্রধানমন্ত্রী

ভারতে কোনো অবৈধ বাংলাদেশি থাকার খবর ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ধরনের খবর উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এটা তাদের পলিটিক্স। তাদেরই নাগরিক, তারা যদি কাউকে অবৈধ বা বৈধ বলে এটা তাদের বিষয়। স্থানীয় সময় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো মনে করি না যে, আমাদের কোনো অবৈধ বাংলাদেশি সেখানে আছে। আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী, যথেষ্ট মজবুত। তারা সেখানে গিয়ে কেন অবৈধ হবে? বিষয়টি নিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কাউকে ফেরত পাঠানোর চিন্তা তাদের নেই।
নির্বাচন কমিশন মুক্ত ও স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে একটি স্বচ্ছ সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। বলেন, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা আমার মূল লক্ষ্য।
আমার স্লোগানই ছিল আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব। এটা আমি নিশ্চিত করতে পেরেছি। তিনি বলেন, এখন উৎসাহের সঙ্গে লাইন বেঁধে মানুষ ভোট দেয়। আমার আমলে ছয় হাজার ইলেকশন হয়েছে। এখানে ব্যাপক উৎসাহ। ভোট দিতে পেরে গর্ববোধ করে। এ জন্য আমি বলতে পারি, আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। মানুষ ভোট দেবে।
ভয়েস অব আমেরিকা জানতে চেয়েছিল শেখ হাসিনা নিজে যদি এখন বিরোধী দলে থাকতেন, আজকের বাংলাদেশের নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি তিনি কীভাবে দেখতেন। নির্বাচন কমিশনকে কেমন ধারার মনে হতো। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে বলে তার মনে হত কি না। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আগের সরকারগুলো নিজেদের ইচ্ছেমত নির্বাচন কমিশন করত। আর তার সময়ে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সার্চ কমিটি করে নির্বাচন কমিশন হয়। আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে ‘এই স্বচ্ছতা’ আনতে পেরেছে। গত ১০ বছরে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার নির্বাচন হয়েছে এবং সেখানে মানুষ উৎসবের আমেজে ভোট দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনি যদি যাচাই বাছাই করেন, অবশ্যই আপনাকে স্বীকার করতে হবে, অবশ্যই বর্তমানে ইলেকশন করার মতো সুন্দর একটা পরিবেশ আছে এবং নির্বাচন কমিশন সে নির্বাচন করতে পারবে।
বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছে- সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যদি সঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে বেসরকারি খাত একা কিছু করতে পারে না। বেসরকারি খাতের কাজ করার সুযোগ সরকারকেই করে দিতে হয়। তার সরকার সেটাই করে দিয়েছে।
গত ১০ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের পরও যারা ‘উন্নয়ন হয়নি’ বলে অভিযোগ করে, তাদের সমালোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, চোখ থাকলেও যদি অন্ধ হয়, তাকে কি আপনি কিছু দেখাতে পারবেন? আমার মনে হয় না।
রোহিঙ্গা সংকটে সবচেয়ে বেশি কাদের সহযোগিতা পেয়েছেন- এই প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ।
অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। বিশেষ করে কক্সবাজারের মানুষগুলো। কারণ তাদের জমি। তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিটি সংস্থা। সারা বিশ্বই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরার জন্য নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করতে কাজ করছে। আমরা চাচ্ছি যে প্রথমে আমরা কিছু পাঠাব, তাদের সঙ্গে ওরা কি রকম ব্যবহার করে এটা দেখব, ইতিমধ্যে আমরা ভাসান চরে তাদের জন্য ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি, তারা থাকতে পারবে।

সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে তিন মন্ত্রীর বৈঠক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ফের মন্ত্রিসভায় পর্যালোচনা হবে

সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ফের মন্ত্রিসভায় পর্যালোচনা হবে। আইনটির যেসব ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদ ও অংশীজনের পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে আলোচনার মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। গতকাল তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে সরকারের তিন মন্ত্রী ও এক উপদেষ্টার তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদের আপত্তির বিষয়টি মন্ত্রিসভায় আলোচনার জন্য তোলা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর আবারো সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বসবো আমরা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস হওয়ার পর এর প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিল সম্পাদক পরিষদ। গত শনিবার ওই মানববন্ধন হওয়ার কথা ছিল। তথ্যমন্ত্রীর আলোচনার আহ্বানের প্রেক্ষিতে ওই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
গতকালের বৈঠকে আইনমন্ত্রী ছাড়াও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে এ রকম একটা আইন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে, আমরা সেই ঐকমত্যে পৌঁছেছি। কিন্তু এ রকম একটা আইন যেন সাংবাদিকতার স্বাধীনতা বা বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না করে সে ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন আছে। তিনি বলেন, সম্পাদক পরিষদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। যেহেতু আইনটি সংসদে পাস হয়ে গেছে, তাই এখন সম্পাদক পরিষদের আপত্তি ও বক্তব্যগুলোকে মন্ত্রিসভায় তুলে ধরা হবে। আগামী ৩রা অক্টোবরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে হয়তো তুলে ধরা হবে না। কারণ অনেকগুলো এজেন্ডা আছে। পরের সভায় তুলে ধরা হবে। তারপর মন্ত্রিসভা যে কার্যপরিধি ঠিক করে দেবে, সেই অনুযায়ী আলোচনায় বসার জন্য তারা সম্মত হয়েছেন। আনিসুল হক বলেন, খবরের কাগজে সম্পাদক পরিষদের আপত্তিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য তথ্যমন্ত্রী এবং আইসিটি মন্ত্রীসহ আমরা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবো। ২১ ধারাটা মোটামুটি আমরা এগ্রি করেছি, যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে।
কিছু যদি আরো ভালো করা যায় চিন্তা করা হবে। বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনেক অপরাধ হচ্ছে। এগুলো দমনের জন্য এ আইন করা হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এতে বাধাগ্রস্ত হবে না। তবু সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিক নেতারা যেসব আপত্তি সামনে নিয়ে এসেছেন সেগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আরো আলোচনার দরকার আছে। অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আইনের দরকার আছে- এ ব্যাপারে বৈঠকে সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এ বৈঠকে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সম্পাদক নঈম নিজাম, যুগান্তর-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকাল-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফিসহ আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সচিব আবুয়াল হোসেনও সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম বলেন, আমরা আলোচনার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আমরা মনে করি, যে আইনটি সংসদে পাস হয়েছে সেটা সংবিধানে বাক ও গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, তা লঙ্ঘন করবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও গণতন্ত্রেরও পরিপন্থি। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস হওয়ার আগে আলোচনা চলছিল। তৃতীয় একটা মিটিং হওয়ার কথা ছিল। তা কেন আর হলো না, আমরা জানি না।
হঠাৎ পেপারে দেখলাম সংসদে উঠেছে আইনটি। ওনারা (মন্ত্রীরা) আশ্বাস দিয়েছেন, আলোচনা করে সমঝোতায় আসতে পারবেন। এদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার পর থেকে এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন। তাদের আপত্তির সুরাহা না করেই গত ১৯শে সেপ্টেম্বর সংসদে ওই আইন পাস করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে ‘বাকস্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতার পরিপন্থি’ আইন প্রণয়নের প্রতিবাদে ২৯শে সেপ্টেম্বর মানববন্ধনের কর্মসূচি দেয় সম্পাদক পরিষদ। পরে রাজপথের কর্মসূচিতে না নামার অনুরোধ জানিয়ে সম্পাদক পরিষদকে চিঠি দেন তথ্যমন্ত্রী। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি স্থগিত করে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয় সম্পাদক পরিষদ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে একই দিনে বিএফইউজে ও ডিইউজে এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতাদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী মন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিএনপি’র শোডাউন

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের উদ্দেশ্যে ৭ দফা দাবি উত্থাপন ও দেশবাসীর প্রতি ১২টি লক্ষ্য ঘোষণা করেছে বিএনপি। দাবিগুলো আদায়ে ঘোষণা করেছে দুই দিনের শান্তিপূর্ণ নতুন কর্মসূচি। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসমুদ্র থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব দাবি, লক্ষ্য ও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি দুইটি হচ্ছে- আগামী ৩রা অক্টোবর জেলা শহরে সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের কাছে এবং পরদিন ৪ঠা অক্টোবর বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান। কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ৭ দফা যে দাবি দিলাম দাবিগুলো আদায়ে এই কর্মসূচি দিচ্ছি। এরপরে পর্যায়ক্রমে আমরা আন্দোলনকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাবো। ইনশাআল্লাহ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য করবো। সেই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে ও আমাদের যেসব নেতাকর্মী কারাবন্দি রয়েছেন তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য করবো।
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়াই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এটা প্রথম জনসভা বিএনপির। ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক দল বিএনপি স্বতন্ত্রভাবেই আয়োজন করেছিল সোহরাওয়ার্দীর এই জনসভা। ফলে জনসভায় জোটের শরিক দল বা জাতীয় ঐক্যের কোনো নেতা যেমন উপস্থিত ছিলেন না, তেমনি তাদের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণও ছিল না। তার উপর জনসভা আয়োজনে আগের দিন বিকালে অনুমতি পাওয়া, যানবাহন সংকট, পথে পথে প্রতিবন্ধকতা ও গ্রেপ্তারের মধ্যেও বিএনপি অঙ্গদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশ থেকে শান্তিপূর্ণ জনসভার মাধ্যমে সরকার ও দেশবাসীর প্রতি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনপ্রিয়তার একটি বার্তা দিয়েছে বিএনপি।
সোহরাওয়ার্দীর জনসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার। জনগণকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে গ্রেপ্তার, হামলা গুম করছে। আমাদের বহু সহকর্মী এখন গ্রেপ্তার হয়েছেন, অনেকেই গুম হয়েছেন, অনেককে খুন করা হয়েছে। ১লা সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত ২৯দিনে ৪ হাজার ৯৪টি মামলা করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪ হাজার ৩১৯ জনকে, আসামি করা হয়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৭৩০ জনকে। এগুলো সবই গায়েবি মামলা। কোনো অস্তিত্ব নেই। একেবারেই ভৌতিক মামলা। একবার কি আমাদের প্রশাসনের ভাইয়েরা চিন্তা করছেন? ভবিষ্যতে যখন এগুলো তদন্ত হবে, যখন দেখা যাবে কোনো ভিত্তি নেই, তখন কি হবে? তখন সকলকেই জবাবদিহি করতে হবে, কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মির্জা আলমগীর বলেন, বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার। কয়লাকে ধুলা বানিয়ে দিয়েছেন, সোনাকে তামা বানিয়ে দিয়েছেন। ব্যাংক থেকে টাকা লুট করে বাংলাদেশ ব্যাংক খালি করে দিয়েছেন।
তাও তাদের আশ মিঠে না। ১০ বছর লুট করেছেন, আরো করতে চান। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের দেশকে ও জনগণকে রক্ষা করতে হবে। ’৭১ সালে যে চেতনা নিয়ে আমরা স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছিলাম, একটি গণতান্ত্রিক, সুখী সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। সেটাকে নির্মাণ করতে হলে আজকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। মির্জা আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ ভয় পেয়েছে, মারাত্মকভাবে ভয় পেয়েছে। এত ভয় পেয়েছে, মামলা করা, ভয় দেখানো ছাড়া তাদের কোনো উপায় নেই। সবখানে তারা বিএনপির ষড়যন্ত্রের ভূত দেখছে। রাতে মানুষ দুঃস্বপ্ন দেখে। এরা (আওয়ামী লীগ) দুঃস্বপ্ন দেখে বিএনপি বলে চিৎকার করে ওঠে। খালেদা জিয়া বলে চিৎকার করে ওঠে। তারেক রহমান বলে চিৎকার করে ওঠে। আজকে দেশের প্রতিটি মানুষ খালেদা জিয়া হয়ে উঠেছে, তারেক রহমান হয়ে উঠছে। এ দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট সরকারের করালগ্রাস থেকে মুক্ত করে আনবেই আনবে। মির্জা আলমগীর বলেন, আপনারা ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসা করবেন। তারা কর দিতে দিতে আর টাকা দিতে দিতে অস্থির হয়ে গেছে। তারা আর বাঁচতে পারছে না। এ করের টাকা দিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) আজ লুটের টাকা তৈরি করছে। পদ্মা সেতু ছিল ১০ হাজার কোটি টাকা, এখন ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিটি মেগাপ্রজেক্টে কয়েকগুণ টাকা দিচ্ছে। লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এই লুটপাট বন্ধ করুন। মির্জা আলমগীর বলেন, কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রতারণা বন্ধ করে অবিলম্বে কোটার সঠিক সংস্কারের পথ দেখান। নিরাপদ সড়কের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পিটিয়েছেন, গ্রেপ্তার করেছেন। তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিন। নিরাপদ বাংলাদেশ তৈরি করুন। মির্জা আলমগীর বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা শুনানি করে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম যুক্ত করা হয়েছে। আমরা বারবার বলেছি, এটা সম্পূর্ণ সাজানো মামলা। তিনবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রধান সাক্ষ্য মুফতি হান্নানকে নির্যাতন করে তার কাছ থেকে মিথ্যা এফিডেভিট নিয়ে এ মামলা শেষ হওয়ার আগেই তাকে ফাঁসি দিয়ে এ মামলাকে শেষ করে দেয়া হয়েছে। ৬২ জন সাক্ষী শেষ হওয়ার পরে তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে নতুন চার্জশিট দিয়েছে। এ মামলা যেভাবে চলেছে তার শুনানিকে আমরা কোনোভাবেই গ্রহণ করতে পারি না। আমরা ২১শে আগস্টের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। কিন্তু এ ঘটনায় যারা অপরাধী নয় তাদের সাজা দেয়ার অপচেষ্টার আমরা নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা প্রত্যাশা করবো, বিচারক ন্যায়বিচার করবেন। তারেক রহমানসহ যারা এর সঙ্গে জড়িত নন, তাদের বেকসুর খালাস দেবেন। পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা আজকে গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের এখনই মুক্তি দিন। অন্যথায় এ ধরনের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার এ দেশের মানুষ কখনও গ্রহণ করবে না। আপনাদের তারা দাঁতভাঙা জবাব দেবে। বিএনপি ও অঙ্গদলের কারাবন্দি কিছু সিনিয়র নেতার নাম উল্লেখ করে তিনি সকল রাজবন্দির মুক্তি দাবি করেন। মির্জা আলমগীর বলেন, আজকের এ সভায় আসার পথে ও সভার আশপাশ থেকে অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার গাড়ি ঘোড়া বন্ধ করে দিয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও স্বৈরাচার সরকারের পতন চেয়ে স্লোগান দেয়ার মাধ্যমে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
৭ দাবি ও ১২ লক্ষ্য বিএনপির
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসমুদ্র থেকে সরকারের উদ্দেশ্যে ৭টি দাবি ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব দাবি ও লক্ষ্য ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নিম্ন বর্ণিত দাবিগুলো পূরণ করতে হবে। দাবিগুলো হচ্ছে- ১. দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। দেশের বিরোধী-রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনী ফলাফল চূড়ান্ত ভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সকল রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো ধরনের মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের অভিযোগে ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিকসহ সকলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ২. জাতীয় সংসদ বাতিল করা; ৩. সরকারের পদত্যাগ ও সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করা; ৪. যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে; ৫. সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সশস্ত্রবাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করা; ৬. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার বিধান নিশ্চিত করা এবং ৭. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে তাদের উপর কোনো প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ না করা।
দেশবাসীর প্রতি বিএনপির ১২ লক্ষ্য ঘোষণা করতে গিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, কি লক্ষ্যে আমাদের এই আন্দোলন। আমরা যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারি তাহলে এইসব লক্ষ্য পূরণ করবো। আমাদের লক্ষ্যগুলো হচ্ছে- ১. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা। ২. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলীয়করণের ধারার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। ৩. রাষ্ট্র ক্ষমতায় গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। ৪. স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা। ৫. স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ দেশপ্রেমিক সশস্ত্রবাহিনীকে আরো আধুনিক, শক্তিশালী ও কার্যকর করা। ৬. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ৭. কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও অধিকতর কার্যকর করা। ৮. সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা। ৯. ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- এই মূলনীতিকে অনুসরণ করে জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করে স্বাধীনতা পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক এবং সৎ প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিনিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।
১০. কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় না দেয়া এবং কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়া। ১১. ক) নিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবনমান নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন-মজুরি নির্ধারণ ও আয়ের বৈষম্যের অবসানকল্পে সমতাভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা এবং সকলের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকারভাতা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যবীমা চালু, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, শিল্প-বাণিজ্য ও কৃষির সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও আধুনিক করা। খ. স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক এবং উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জীবনমুখী শিক্ষানীতি চালু করা, প্রযুক্তি-বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে মানব সম্পদের উৎকর্ষ সাধন করা, জাতীয় উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গ. তৈরি পোশাক শিল্পের অব্যাহত উন্নয়ন এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতকে বহুমুখী করা, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে উন্নয়নের ধারাকে গ্রামমুখী করা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ঝুঁকিমুক্ত ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিভার বিকাশ ও তাদের আধুনিক চিন্তা চেতনাকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষা, তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিখাতকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং ১২. সকল প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানে জাতীয় ঐকমত্য গঠন করা। ৭ দফা দাবি ও ১২টি লক্ষ্য ঘোষণার পর এগুলোর ব্যাপারে জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থন চান বিএনপি মহাসচিব। এ সময় সমাবেশের পুরো উপস্থিতি হাত উঁচিয়ে এসব দাবি ও লক্ষ্যে সমর্থন ব্যক্ত করেন।
পদত্যাগ করুন, দাবি মানুন, ভয় পাওয়ার কারণ নেই: মোশাররফ
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার আগে যেসব দাবিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন সে দাবিতে জনগণ আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক ও ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি হয়েছে যে, এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। আর এই নির্বাচন করতে হলে খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে ছাড়া কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে পারে না। জনগণ তা হতে দেবে না। তিনি বলেন, এখনো সময় আছে জনগণের দাবি মানুন, পদত্যাগ করুন, সংসদ ভেঙে দিন। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দলীয় মনোভাবাপন্ন মানসিকতা পরিহার করে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের অনুরোধও জানান প্রবীণ এ রাজনৈতিক। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে এক লাখ লোক মারা যাবে বলে আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েল আহমেদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তার একমাস পর মহাজোটের শরিক নেতা রাশেদ খান মেনন সে সংখ্যা বাড়িয়ে বলেছেন ৩ লাখ।
তাদের বক্তব্যের রেশ ধরে ড. মোশাররফ বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই এমন কিছু করেছেন যার জন্য আপনারা ভয় পাচ্ছেন। ঐকিক নিয়মে হিসাব করে দেখেন গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকলে প্রতিদিন কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আপনাদের বাড়তে থাকবে। এখনো সময় আছে, জনগণের দাবি মানুন, সরকার থেকে পদত্যাগ করুন। আপনারা যে ভয় পাচ্ছেন, আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই। আমাদের নেত্রী এই স্টেজ থেকে বলেছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না, তাই আপনাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, সরকার বিদেশে সংখ্যালঘুদের নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগই সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘুদের কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হবে না। তিনি বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন আজকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি থাকায় এ জনসভায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। আমরা তার স্মরণে মঞ্চে তার জন্য খালি চেয়ার রেখে এ জনসভা করছি। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়ে মিটিং করতে দিয়েছেন। এসে দেখে যান, এই সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। যদি সাহস থাকে ৭ দিন সময় দিয়ে অনুমতি দেন, ঢাকার একটি রাস্তাও ফাঁকা থাকবে না।
এবার ছেড়ে দেবো না: মওদুদ
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আজকের পত্রিকায় দেখলাম এরা মাঠ দখলের কথা বলেন। আর আমরা যদি মাঠে নামি আমাদেরকে প্রতিহত করবেন। কেন প্রতিহত করবেন? আমরা বলতে চাই, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি প্রতিহত করেন, আমরাও আপনাদের প্রতিহত করবো। এবার ছেড়ে দেবো না। যদি মনে করেন, আমরা বাড়িতে বসে থাকবো আর আপনারা মাঠ দখল করে থাকবেন- এটা দুঃস্বপ্ন। বাংলাদেশের মাটিতে এটা এবার করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, কর্মসূচি পালনে আগামীতে আমরা আর অনুমতি নেবো না। প্রশাসনকে কেবল অবহিত করা হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে বাকস্বাধীনতার ওপর মারাত্মক আঘাত হানা হয়েছে। জঘন্যতম কালো আইন। এই আইনের ধারা ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ এবং ৪৩ সবগুলোই সংবিধান পরিপন্থী। আজকে সময় এসেছে গণমাধ্যমের ভাইবোনদের জেগে ওঠার। দলমত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আপনারা এটা প্রতিহত করার চেষ্টা করুন। সরকারকে এই আইন বাতিল করতে বাধ্য করুন। এই আইনে বিপুল সাজার বিধিসহ পুলিশকে অসীম ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই আইন করেছে যাতে সংবাদপত্র এই সরকারের অপকর্মগুলো ছাপাতে না পারে। আমরা ক্ষমতায় গেলে ৭ দিনের মতো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে দেবো।
এ সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: জমির
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার বিরুদ্ধে মামলা নেই। প্রতিদিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়। তারপরও তো আমাদের সংগ্রাম চলছে। ইনশাআল্লাহ এই সংগ্রাম চলবে, যতদিন না আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য শেখ হাসিনা ১৭৩ দিন হরতাল করেছিলেন। তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ছিল। আজকে জামায়াতকে তাদের পক্ষে নেয়া আর সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, যার জন্ম এদেশে হয়েছে- যার ভোটার তালিকায় নাম আছে সে ভোট দিতে পারবে যে দলেই হোক না কেন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করে যদি আপনারা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় থাকতে পারেন আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
এদেশে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া হবে না: আব্বাস
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিচার করা ছাড়া কোর্টের আর কোনো কাজ নেই। তারপরও আমাদের আন্দোলনে সরকারের লোকজনের মুখ হয়ে গেছে আমচুরের মতো। সরকারের মধ্যে ভীতি কাজ করছে, ভয় কাজ করছে। এখন একটা আওয়াজ উঠেছে জাতীয় ঐক্য হবে। হবে কিনা হবে আল্লাহই জানেন। সরকার বহু চেষ্টা করছে যাতে ঐক্য না হয়। হলে ভালো, না হলে ক্ষতি নেই। যাই হোক, ঐক্য হোক না হোক বিএনপিকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। আমরা অন্য কোনো দিকে তাকাতে রাজি নই। আব্বাস বলেন, এই দেশে এখন রাজতন্ত্র চলছে নাকি। এটা কি রাজার দেশ যে কিছু বললেই ষড়যন্ত্র হবে। এটা রাজার দেশ নয়, গণমানুষের দেশ। এখানে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া হবে না। আর বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্র করছে।
যারাই রাজপথে আসবে তারাই বন্ধু, সে যদি শয়তানও হয়: গয়েশ্বর
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজকের যে ঐক্য- এই ঐক্যে মানুষের মধ্যে একটি আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে। একটি চেতনা এবং শক্তির সৃষ্টি হয়েছে। এই ঐক্যের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার উক্তি, ঐক্যেই মুক্তি। বিএনপি ঐক্যের জন্য সবসময় প্রস্তুত। এই আন্তরিকতাকে কেউ দুর্বলতা ভাববেন না। লোক নেই, জন নেই, বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টি করে অনৈক্যের সুর বাজালে জনগণের কাছে ধিকৃত হবেন। জনগণ যতটুকু থু থু ফেলবে তা কিন্তু সাঁতরিয়ে কুল পাবেন না। সেই কারণেই গণতন্ত্রের দাবিতে, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে, এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে যারা রাজপথের আন্দোলনে আসবে তারাই আমাদের বন্ধু। সে যদি শয়তানও হয়। সুতরাং গণতন্ত্রের স্বার্থে যারা লড়াই করবে, বিএনপি তাদেরকে না করতে পারবে না। আমরা সবাইকে নিয়ে ঐক্য চাই, গণতন্ত্রের মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই; জনগণের মুক্তি চাই।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, সেলিমা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকতউল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জয়নুল আবদিন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবীব, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মাহবুবের রহমান শামীন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস আকতার শিরিন ও শামা ওবায়েদ বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, রুহুল আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল হাবীব দুলু, সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, রেহেনা আক্তার রানু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ফুটবলার আমিনুল হক, আকন কুদ্দুসুর রহমান, স্বাস্থ্য সহসম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, শামীমুর রহমান, হেলেন জেরিন খান, এবিএম মোশাররফ হোসেন, কাদের গনি চৌধুরী, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম, ডা. মাজহারুল আলম, ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাসিম, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, জাসাস সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুবদল ঢাকা মহানগর (উত্তর) সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, যুবদল ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) সভাপতি রফিকুল আলম মঞ্জু, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শুরুর আগে জাসাসের পক্ষ থেকে রণসংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় কণ্ঠশিল্পী মনির খান, চিত্রনায়ক হেলাল খান উপস্থিত ছিলেন।
সোহরাওয়ার্দীতে জনস্রোত
জনসভার মূল ব্যানারে লেখা ছিল- মাদার অব ডেমোক্রেসি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকল নেতাকর্মীর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে জনসভা। প্রধান অতিথি হিসেবে নাম লেখা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। আমরা তার মুক্তি চাই।’ মঞ্চে খালেদা জিয়ার জন্য একটি চেয়ার সংরক্ষিত রাখা হয়। জনসভা থেকে প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ‘প্রতীক হিসেবে দেশনেত্রীর নাম প্রধান অতিথি হিসেবে লেখা হয়েছে। তিনি এখন কারাবন্দি। দুপুর ২টায় জনসভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই খণ্ডখণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে সমাবেশের আশপাশ এলাকায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। দুপুরের দিকে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা খণ্ডখণ্ড মিছিল নিয়ে যোগ দেন জনসভায়।
দুপুর দুইটায় সমাবেশ শুরুর দিকে মৎস্য ভবন, রমনাপার্ক, প্রেস ক্লাব মোড়, টিএসসি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায় বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আবার অনেক থানা ও ইউনিট বিএনপির নেতাকর্মীরা খণ্ডখণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভায় যোগ দিচ্ছেন। বেলা তিনটার মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঠ ও তার চারপাশে নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে জনসভাটি পরিণত হয় জনসমুদ্রে। ২টা ১৫ মিনিটের দিকে শ খানেক পুলিশ এক সঙ্গে বাঁশি বাজিয়ে মৎস্য ভবন মোড় থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ পথ পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১২ই নভেম্বর বিএনপির জনসভায় খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছিলেন।

সুরঞ্জিতকে বললাম এত খুশি হবেন না -সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার আলোচিত নতুন বই ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিমে’র একটি অধ্যায়ে তিনি আলোকপাত করেছেন ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার ওপর। তিনি প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সঙ্গে হওয়া এক আলাপের প্রসঙ্গও বইতে এনেছেন।
প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে তিনি লিখেছেন, [তত্ত্বাবধায়ক সরকারের] প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলো। আওয়ামী লীগ কে এম হাসানের নিয়োগের বিরোধিতা করলো। এক পর্যায়ে হাসান নিজেই প্রধান উপদেষ্টা হতে অস্বীকৃতি জানালেন।
কিন্তু সংবিধানের অনেক নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রধান উপদেষ্টা হলেন প্রেসিডেন্ট ড. ইয়াজউদ্দিন আহমদ। ওই সময় আওয়ামী লীগ যে আন্দোলন শুরু করলো তার ফলে দেশজুড়ে কার্যত অরাজকতা বিরাজ করছিল। শেষ অবধি সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করলো। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চাপ ছিলো যে, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যদি সরকার আয়োজন করতে না পারে, তাহলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিয়োজিত বাংলাদেশী সদস্যদেরকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
এ বিষয়টি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করে।
সেনাবাহিনীর চাপে ইয়াজউদ্দিন আহমেদ পদত্যাগে বাধ্য হন। দেশে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। ফখরুদ্দিন আহমেদ নিযুক্ত হন প্রধান উপদেষ্টা। বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এই ফলাফলে ভীষণ সন্তুষ্ট হলো। কিন্তু বিএনপি নৈতিকভাবে বেশ ভেস্তে পড়লো।
এই ডামাঢোলের মধ্যে হঠাৎ বিচারপতি বিকে দাসের স্ত্রী মারা গেলেন। এই খবর পেয়ে আমি তার বাসার দিকে রওনা দিই। কয়েক মিনিট পর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ প্রখ্যাত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও সেখানে উপস্থিত হলেন। আমরা একে অপরের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার খবরে নিজের খুশি যেন দমাতেই পারছিলেন না সুরঞ্জিত। তিনি একে আওয়ামী লীগের অর্জন বলে দাবি করলেন। তার কথা শুনে মনে হবে যেন খোদ আওয়ামী লীগই বোধ হয় ক্ষমতায় চলে এসেছে। সুরঞ্জিত আরও বললেন, তার দল পরবর্তী সরকার গঠন করবে, এটি এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। তিনি এত খুশি ছিলেন যে তিনি যেন ভুলেই গিয়েছিলেন তিনি একটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি, বিশেষ করে বিকে দাসের প্রতি শোক প্রকাশ করতে এসেছিলেন।
সুরঞ্জিত চলে যাচ্ছিলেন। বলছিলেন যে, তার কিছু কাজ আছে। আমি তাকে থামালাম। বললাম, ‘হ্যালো লিডার, চলে যাওয়ার আগে আপনাকে কিছু বলার আছে আমার। দয়া করে বসুন।’
আমি তাকে বললাম, পরিস্থিতির রাজনৈতিক মূল্যায়ন না করেই তার মতো নেতারা জরুরি অবস্থা ঘোষণায় নাচানাচি করছেন। আমি তাকে বললাম, এই ঘটনার ফলে দেশের প্রতি যে অনিবার্য বিপদ তৈরি হলো তা সম্ভবত আপনি ভুলে গেছেন। আমি আরও বললাম, ‘সম্ভাব্য পরিণতি না বুঝেই আপনারা বোকার মতো সেনাবাহিনীকে স্বাগত জানিয়েছেন। আপনার দল হবে প্রথম লক্ষ্যবস্তু। আর লিখে রাখুন, শিগগিরই কোনো নির্বাচন হবে না।’ যখন আমি তাকে কারণসমূহ ব্যাখ্যা করে বললাম, আমার মনে হলো যে তিনি কিছুটা দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি বেরিয়ে গেলেন। শুধু বললেন যে, ‘আচ্ছা দেখা যাক।’
মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই আমার কথা সত্য প্রমাণিত হলো। সেনাবাহিনীর প্রথম লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। দুর্নীতির অভিযোগে সাম্প্রতিক অতীতে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। ধীরে ধীরে আরও অনেক রাজনৈতিক নেতা আটক হলেন।

তেহরানে পরমাণু গুদাম শনাক্তের দাবি: ইরান-ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ইরানের গোপন পারমাণবিক গুদাম রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি দাবি করেন, তেহরানের কাছে অবস্থিত এ গুদামটি শনাক্ত করেছে ইসরাইল। এ সময় নেতানিয়াহু জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দলকে সেখানে অনুসন্ধান চালানোর আহ্বান জানান। তবে ইসরাইলের এ দাবিকে হাস্যকর আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখান করেছে ইরান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল-জাজিরা।
খবরে বলা হয়েছে, নিজ দাবির প্রমাণ হিসেবে স্যাটেলাইট থেকে তোলা একটি চিত্র প্রদর্শন করেন নেতানিয়াহু। ছবিতে একটি দেয়াল ও মেটালের গেট দেখা গেছে। তিনি দাবি করেন, এর পেছনেই কয়েক টন পারমাণবিক বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও তেজস্ক্রিয় উপাদান রয়েছে।  তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ইরান চুক্তি ভঙ্গ করে  দেশটি এখানে পরমাণু সমৃদ্ধ করছিল। এর দ্বারা প্রমাণ হয় ইরান মূলত পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
চার মাস আগে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, ইসরাইলের গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে তথ্য আছে যে ইরান পরমাণু কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তার প্রমাণ হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি ও স্থাপনাগুলোর অবস্থান প্রকাশ করলেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানি নেতারা পরমাণু চুক্তির পূর্বে নিজেদের পরমাণু স্থাপনাগুলোকে গোপন করে ফেলেছেন। তিনি বিশ্বনেতাদের কাছে প্রশ্ন করেন, আপনারাই বলুন ইরান কেন গোপন পরমাণু কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে? এর কারণ, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির স্বপ্ন এখনো ছেড়ে দেয়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরাইল কখনো ইরানের এ স্বপ্ন সত্যি হতে দেবে না। ইরান যেখানে লুকিয়ে রাখুক, আমরা খুঁজে বের করবই।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, তার দেশের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র বানানোর অভিযোগ তোলার অবস্থানে নেই ইসরাইল। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তোলার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন জারিফ। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল কীভাবে একমাত্র পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হয়েছে নেতানিয়াহুকে অবশ্যই তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। গোপনে পরমাণু অস্ত্র বানানোর অভিযোগ বরং ইসরাইলের জন্য প্রযোজ্য। নেতানিয়াহু চাইলে ইরানের জায়গায় ইসরাইলের নাম বসিয়ে দিতে পারেন। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে বলেও উল্লেখ করেন জাওয়াদ জারিফ। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল হচ্ছে সবচেয়ে বড় হুমকি। এ বাস্তবতা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছেন। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাশেমি বলেছেন, নেতানিয়াহুর কথায় বিশ্বে হাসির রোল পরে যাবে। তিনি এ দাবিকে মিথ্যা ও হাস্যকর বলে দাবি করেছেন।

শিশু হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ৩০০, পাঁচ শিশুর মৃত্যু

শিশু সিয়াম। বয়স ২ বছর ৮ মাস। সিয়ামকে নিয়ে শুক্রবার সকালে ঢাকা শিশু হাসপাতালের বারান্দায় বসে কান্নাকাটি করছেন মা সালেহা। জ্বর, পাতলা পায়খানা, একই সঙ্গে বমি। সালেহা বলেন, ডাক্তার দেখিয়েছি। ডাক্তার বলেছেন সিয়ামের ডেঙ্গু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। কিন্তু সিট পাচ্ছি না।
কি করবো, কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না। তাদের বাসা মিরপুর ১ নম্বরে। আরেক শিশু নুরজাহানের বয়স ৩ বছর।
বাবা শহিদুল আলম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা গৃহিণী। নুরজাহান তাদের প্রথম সন্তান। এক সপ্তাহ আগে রাতে হঠাৎ করে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে জ্বর আসে। কি করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না তারা। এর মধ্যে গায়ে লাল র‌্যাস উঠে গেছে। পরে মেয়েকে শ্যামলীর ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসেন। নুরজাহানের অবস্থা কিছুটা ভালো হওয়ায় বাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। শুধু সিয়াম বা নুরজাহান নন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে প্রত্যেক ওয়ার্ডে প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশুদের মধ্যে যাদের অবস্থা বেশি গুরুতর তাদের ডেঙ্গুর ধরন বুঝে আইসিইউ, ইন আইসিইউ, আইসুলেশন, কার্ডিয়াক আইসিইউতে ভর্তি করা হচ্ছে। ঢাকা শিশু হাসপাতালে রয়েছে ১৫টি ওয়ার্ড। এখন পর্যন্ত ৩শ’র বেশি রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ৫ জন রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
একাধিক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় প্রথমে জ্বর, বমি ও তলপেটে ব্যথা নিয়ে প্রায় ৪/৫ দিন ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হয় রোগীরা। এসব রোগীর মধ্যে থেকে ৭ জন ডেঙ্গু শকড সিনড্রোম ও হেমোরেজিক শকডে মারা গেছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. আব্দুল আজিজ মানবজমিনকে বলেন, ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে আমরা ইতিমধ্যে ৬ সদস্যে একটি সেল গঠন করেছি। যার প্রধান আমি নিজেই। আমরা ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আমাদের সার্জনদের এ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। যেকোনো সমস্যায় সেলের যে কাউকে ফোন দিলে রোগীরা সব ধরনের সেবা পাবেন। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত শিশুদের আমরা স্পেশাল কেয়ার নিচ্ছি। ভর্তিযোগ্য হলে কাউকেই ফিরিয়ে দিচ্ছি না। এখন পর্যন্ত ৩শ’র বেশি রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই মাসে ৩ জন রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তারা একেবারে খারাপ অবস্থায় আমাদের কাছে এসেছিল। অন্য রোগীরা এখন ভালো আছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু এবং এর ভয়াবহতা অনেক বেশি। ডেঙ্গু সাধারণত ৪ ধরনের হয়ে থাকে। ডেঙ্গু ১, ২, ৩, ৪। এর আগে ছিল ১, ২। এবারই প্রথম ডেঙ্গু ৩ দেখা গেছে। যেটা খুবই ভয়াবহ এবং খারাপ। তাই অনেক রোগী মারা যাচ্ছে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মশার প্রজনন ক্ষেত্র ফুলের টব, পরিত্যক্ত বালতি, খালি বোতল, আঙিনার চারপাশে জমে থাকা পানি থেকে ডেঙ্গু মশা জন্ম নিতে পারে।
এ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় ডেঙ্গুর প্রজনন উৎসগুলোকে ধ্বংস করে দিতে হবে। প্রতিদিন মশার স্প্রে করতে হবে। দিনের বেলায় বাচ্চাকে মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের ঘরবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিধনের উদ্যোগ নিতে হবে। জ্বরে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুকে বেশি বেশি তরল জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে এবং বারবার খাওয়াতে হবে। যেন পানি শুন্যতা দেখা না দেয়।
এসময় অ্যান্টিবায়টিক খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। জ্বর যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। হাসপাতালটির আরপিএস ডা. ইমরানুল হাসান বিপুল বলেন, গতকাল পর্যন্ত হাসপাতালে প্রায় ৩৭ জন শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ জন শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। নরমাল সিজনে রোগীর সংখ্যা দুই থেকে আড়াই শ’ থাকলেও এখন সেখানে প্রায় সাড়ে ৩শ’ রোগী ভর্তি আছে।

বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা চ্যালেঞ্জের মুখে -সিপিজের প্যানেল আলোচনা

বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের জেলে রাখার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর প্যানেল আলোচনায়। এতে উঠে আসে বাংলাদেশে জেলবন্দি সুপরিচিত সাংবাদিক ড. শহিদুল আলমের ইস্যুও। ‘প্রেস বিহাইন্ড বারস’ বা সংবাদ মাধ্যমের অন্তরায়ের নেপথ্যে বিষয়ক আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। ওই আলোচনায় বিশ্বে যেসব দেশে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বলে উল্লেখ করা হয়। এক্ষেত্রে যেসব দেশে সংবাদ মাধ্যমের কথা জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার, বাংলাদেশ, মিশর ও কিরগিজস্তান। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে এমন পর্যালোচনা করা হয়। এতে যে তিনজন প্যানেল সদস্য ছিলেন তারা হলেন সিপিজের নির্বাহী পরিচালক জোয়েল সিমন, মিয়ানমারের সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কাইওয়া সোয়ে ও’র আইনজীবি ব্যারিস্টার আমাল ক্লুনি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে. আদলার। তারা সবাই সারা বিশ্বে মুক্ত সংবাদ মাধ্যমের অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলতে আহ্বান জানান দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি।
আলোচনায় জোয়েল সিমন বলেন, আমরা যেসব সাংবাদিককের বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছি তারা হলেন রিপোর্টার। তারা তাদের সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা রক্ষা করতে এবং সারা বিশ্বকে তথ্য জানাতে নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছেন। অন্যদিকে রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কাইওয়া সোয়ে ও’র বিষয়ে আলোকপাত করেন আদলার ও আমাল ক্লুনি। এ দুজন সাংবাদিক মিয়ানমারের অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টে দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে রয়েছেন। এই দু’জন আলোচক বলেন, তাদের কণ্ঠকে সত্যিকার অর্থে স্তব্ধ করতে কর্তৃপক্ষ সব ব্যবস্থা করেছে।
তবে এ মামলা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রথম এদিন কথা বলেন আমাল ক্লুনি। তিনি বলেন, প্রায় এক বছর হতে চলেছে সাংবাদিক ওয়া লোন ও কাইওয়া সোয়ে ও’কে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাদেরকে লজ্জাজনক বিচারে আদালতের ভিতর দিয়ে হাঁটানো হয়েছে। তাদেরকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়া হলো এক হাস্যকর বিচার। এখন তাদেরকে মুক্ত করে দেয়া সরকারের বিষয়।
ওদিকে জোয়েল সিমন বাংলাদেশে জেলে বন্দি থাকা বাংলাদেশের ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলম, কাজাখস্তানে জেলবন্দি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী আজিমজন আসকারভ এবং মিশরে জেলবন্দি ব্লগার আলা আবদেল ফাত্তাহ, ফটোসাংবাদিক মাহমুদ আবু জায়েদের প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জেল দেয়ার মাধ্যমে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কাভারেজ করায় সফলতার সঙ্গে সেন্সরিং করা হচ্ছে। আর এর মধ্য দিয়ে জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া ও তার জানানোর জন্য আমাদের যে সমন্বিত অধিকার আছে তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এটা এমন একটি ইস্যু যা জাতিসংঘ আর এড়িয়ে যেতে পারে না।

ভয়াবহ মানবিক সংকটে ইয়েমেন

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর মানবিক সংকটে রয়েছে ইয়েমেন। দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতই দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘের খাদ্যবিষয়ক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা। ডব্লিউএফপি’র নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিজলি ইয়েমেনকে ‘দুর্যোগ’ (ডিজেস্টার) আখ্যা দিয়ে বলেন, ইয়েমেন সংকটে কোনো আশার আলো দেখছেন না তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে সৌদি জোট। গত বছরে দেশটিতে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল হয়েছে। কিন্তু ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুতিনিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে কর্মতৎপরতা না করতে দেয়ায় সেখানকার মানুষ এখনো ক্ষুধা ও ব্যাধির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে।
ডেভিড বিজলি বলেন, প্রবেশ করতে না দিলে আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারবো না। ফলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়াও সম্ভব হবে না। তাই আমাদেরকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থাই ধরে নিতে হবে।
ডব্লিউএফপি-এর আগেও দেশটিতে দুর্ভিক্ষের সতর্কতা জারি করেছিল। সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, সিরিয়ার ২ কোটি ৯০ লাখ অধিবাসীর মধ্যে দেড় কোটিরও বেশি মানুষ খাদ্য অনিশ্চয়তায় ভুগছে। এদের মধ্যে ৮০ লাখ মানুষের অবস্থা খুবই শোচনীয়।
প্রসঙ্গত, ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট হামলার শুরু করার পর গৃহযুদ্ধ নতুনমাত্রা পায়। এতে ইয়েমেনের অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। ডলারের বিপরীতে ইয়েমেনি রিয়ালের মান হ্রাস পায় ১৮০ শতাংশ। গত বারো মাসে দেশটিতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দ্রুতই ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান আরো হ্রাস পাবে।

‘মাতাল অবস্থায় কাভানা আমার পোশাক কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন’

যুক্তরাষ্ট্র সিনেট প্যানেলের সামনে হাজির হয়ে নিজের ওপর চালানো যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন প্রফেসর ক্রিস্টিন ব্লাসে ফোর্ড। তিনি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে নমিনি বিচারপতি ব্রেত কাভানা তার জীবনের গতি পাল্টে দিয়েছেন। যখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর তখন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন কাভানা। এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে লিখিত বক্তব্য প্রস্তাত করেন ব্লাসে ফোর্ড। তিনি লিখেছেন, ব্রেত কাভানা সুপ্রিম কোর্টে বসবেন কি বসবেন না তা নির্ধারণ করায় তার কোনো দায় দায়িত্ব নেই। তার দায় দায়িত্ব হলো সত্য প্রকাশ করা।
ব্লাসে ফোর্ড বলেছেন, যখন আমার বয়স ১৫ বছর। তখন কাভানার বয়স ১৭ বছর।
১৯৮২ সালের গ্রীষ্মে ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি বাড়িতে ঘটে ঘটনাটি। সেখানে মদ্যপ অবস্থায় কাভানা আমার পোশাক কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। আমাকে বিছানায় চেপে ধরেন এবং আমার সঙ্গে অশালীন আচরণ করতে থাকেন। একটি পার্টিতে তার এ আচরণ আমার জীবনকে একেবারে নাটকীয়তার সঙ্গে পাল্টে দিয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে এত বছর আমি খুব ভীত ছিলাম এবং লজ্জিত ছিলাম। আমি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কারণ, ব্রেত কাভানা তো আমাকে ধর্ষণ করেন নি। তাই আমার উচিত আমাকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। শুধু ধরে নিলাম, এটা আর কখনো ঘটবে না।
ড. ফোর্ড আরো লিখেছেন, বর্তমানের বিচারক ব্রেত কাভানা ও তার বন্ধু মার্ক জাজ আমাকে একটি বাড়ির ছোট্ট একটি রুমে আটকে ফেললো। তালা দিয়ে রাখলো তারা। ঘটনার সময় তারা দু’জনেই ছিল মধ্যপ বা মাতাল। আমার মনে হচ্ছিল ব্রেত কাভানা আমাকে ধর্ষণ করতে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে তিনি হাত দিয়ে আমার মুখ  চেপে ধরেন। এতে আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়ে যাই। এটাই আমার মনের ভিতর সবচেয়ে বেশি দাগ কেটে গেছে। তিনি আমার মুখ এমনভাবে চেপে ধরেছিলেন যে, দম ছাড়তে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল, ব্রেত কাভানা আমাকে হত্যা করবে। যখন মার্ক জাজ লাফিয়ে উঠলো বিছানায় তখন আমরা পড়ে গেলাম। আমার ওপর তখন আর ব্রেত কাভানা নেই। এরপরই আমি দৌড়ে পালাই ওই রুম থেকে।
ওদিকে ব্রেত কাভানার বিরুদ্ধে আরো একজন নারী একই রকম অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তিনি হলেন ডেবোরাহ রমিরেজ। তিনি কাভানার সঙ্গে ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে একসঙ্গে পড়তেন। তিনি বলেছেন, ১৯৮০র দশকে ডরমেটরির এক পার্টিতে তার ওপর নিজেকে আপত্তিজনকভাবে প্রকাশ করেন। একটি পানীয়ের খেলার সময় এ ঘটনা ঘটে। ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসী জুলি স্বয়েতনিক এফিডেভিটে বলেছেন, ১৯৮০র দশকে এক ঘরোয়া পার্টিতে যুবতীদের টানাহেঁচড়া এবং তাদের যৌন হয়রান করেছেন কাভানা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্রেত কাভানা।

ম্যাসাজকর্মীর সঙ্গে গোপন সম্পর্ক মালিকের

‘ওয়ান ডিরেকশন’ তারকা জাইন মালিক। ২৫ বছর বয়সী টগবগে যুবক। তিনি চুটিয়ে প্রেম করছিলেন সুপারমডেল গিগি হাদিদের সঙ্গে। কিন্তু সেই প্রেমে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর মাথা এলোমেলো হয়ে যায় তার। নিজের থেকে ১৬ বছরের বড় একজন ম্যাসাজকর্মীর সঙ্গে গড়ে তোলেন গোপন সম্পর্ক। তার বয়স ৪১ বছর। তাকে দিয়ে শুধু শরীর ম্যাসাজই করান না।
গোপনে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে যৌন সম্পর্ক। সেই ম্যাসাজকর্মীর নাম এনরিকা পেট্রোঙ্গারি। তিনি ইতালির নাগরিক। জাইন মালিকের নিউ ইয়র্কের বাসায় যান পরিদর্শনে। সেখানে জাইন মালিকের টার্গেটে পরিণত হন তিনি। দু’জনে চুটিয়ে গোপন সম্পর্কের পর সেলফি তোলেন। জাইন মালিকের নিউ ইয়র্কে অবস্থিত এক কোটি পাউন্ডের বাড়িতে গড়ে ওঠে এই সম্পর্ক। সুপারমডেল গিগির (২৩) সঙ্গে বিচ্ছেদের ঠিক দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রথম সাক্ষাত হয়। তারপরই দ্রুত ঘটতে থাকে ঘটনা। এনরিকা বৃটেনের ট্যাবলয়েড পত্রিকা দ্য সান’কে বলেছেন, জাইন মালিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল গিগির। গিগি অবশ্যই অবিশ্বাস্য একজন সুন্দরী। আর জাইনও অনেক হ্যান্ডসাম। সে চাইলেই যেকোনো মেয়েকে পেতে পারতো। যখন সে আমার দিকে মনোযোগ দিল তখন আমি কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলাম। চাইলেই সে বড় আকারের নিতম্বের মেয়েদের পছন্দ করতে পারতো। কিন্তু সে আমাকে বিশেষভাবে ফিল করতে শুরু করলো। কিন্তু এক পর্যায়ে অনুধাবন করতে পারলাম যে, সে শুধু আমাকে ব্যবহার করছিল।
উল্লেখ্য, জাইন মালিক ও তার প্রেমিকা গিগির মধ্যে দু’বছর ধরে প্রেম চলছিল। গত মার্চে তাদের প্রেমের ইতি ঘটে। তবে আবার গ্রীষ্মে তারা একত্রিত হয়। আর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তাদের ছবি ছাপা হয়।
অন্যদিকে হলিস্টিক থেরাপিস্ট এনরিকার সঙ্গে ডেট বুকিং করেন জাইন মালিকের ব্যক্তিগত সহকারী তারিন জিমারম্যান। নিউ ইয়র্কের সোহো এলাকায় রয়েছে জাইন মালিকের এপার্টমেন্ট। ওই বুকিংয়ের পর প্রথম ৬ষ্ঠ তলার ওই এপার্টমেন্টে যান এনরিকা। তখনও তার কোনো ধারণা ছিল না যে, তার কোন ক্লায়েন্টকে ম্যাসাজ করতে যাচ্ছেন। তার ধারণা ছিল না এত বড় একজন সেলিব্রেটিকে ম্যাসাজ করতে যাচ্ছেন তিনি। এনরিকা বলেন,  ওই এপার্টমেন্টে গিয়ে দেখি জাইন মালিক খুবই ক্লান্ত। বেডরুমে ঘুমাচ্ছে। সেখানে তাকে দেখেই আমি চিনে ফেললাম। কারন, সে অনেক বেশি বিখ্যাত হয়ে গেছে। সেখানে দেখলাম তার বাড়িটি অত্যন্ত আধুনিক। আমি এক পর্যায়ে অপেক্ষায় থাকলাম। তার সহকারী  দুই থেকে তিন ঘন্টা পরে আমাকে ডেকে নিলেন। আমি জাইন মালিকের বেডরুমে প্রবেশ করে ম্যাসাজ শুরু করলাম। জাইন মালিক বললো, সে খুবই ক্লান্ত এবং শরীর ছেড়ে দিয়েছে। তাই সে আমাকে পরের দিন যেতে বললো।
৫ বছর আগে ইতালি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এনরিকা। স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। তিনি বলেন, পরে এক ম্যাসাজ সেশনের সময় হঠাৎ জাইন মালিক আমার হাত জড়িয়ে ধরে। সে আমাকে বলে, আমার আরো উদার হওয়া উচিত। তাকে নিয়ে নার্ভাস হওয়া উচিত নয়। আমি জাইন মালিককে দেখলাম। সে খুবই আকর্ষণীয়। তার শরীরটাও চমৎকার। তার শরীরে যেসব ট্যাট্টু তাও খুবই সেক্সি। সে যে আমার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল তাতে আমি শকড হয়েছিলাম। তবে মনে মনে খুশিই হয়েছিলাম।
এরপর তারা দু’জন দু’জনের মোবাইল নম্বর বিনিময় করেন। শুরু হয় যৌনতার বড় অধ্যায়। একে অন্যকে রগরগে সব বার্তা পাঠানো শুরু করেন। জাইন তাকে বলেন, তাদেরকে অনেক মজা করতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আসতে হবে। জাইন আরো জানান, তিনি সিঙ্গেল। আরও আপত্তিকর সব বার্তা পাঠাতে থাকেন।  এক পর্যায়ে তিনি এনরিকার ছবি চেয়ে একটি বার্তা পাঠান। তাতে তিনি লিখেছেন, আমি চাই তুমি এসো। এসে আমার সঙ্গে শুয়ে পড়ো। এ ছাড়া জাইন মালিক তাকে নিজের ইতালিয়ান গডেস বলে আখ্যায়িত করেন। এনরিকা বলেন, এক পর্যায়ে জাইন মালিক আমাকে বলে সে আর ম্যাসাজের ধার ধারে না। সরাসরি আমাকে চায়। বলে আমাদেরকে অনেক মজা করতে হবে।