Wednesday, October 5, 2011

বিটিভিতে ধারণকৃত ম্যাচ

পর্দার আড়ালে চলেছে অনেক দেনদরবার। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচ দেখানোর ‘অধিকার’ পেল বাংলাদেশ টেলিভিশন। তবে সরাসরি নয়। বন্ধবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে ম্যাচটা সরাসরি সম্প্রচার করবে ইনডিপেনডেন্ট টিভি। খেলা শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে ধারণকৃত খেলা দেখাবে বিটিভি

সাঈদীর ধর্ম ব্যবসা

কাত্তরে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তার বিভিন্ন 'ওয়াজ মাহফিলে' নারী বিষয়ে নানা কথা বলতেন পুরুষদের আকৃষ্ট করতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অংশ হিসেবে করা গবেষণায় এমনই দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তপন মাহমুদ তার পড়াশোনার স্নাতকোত্তর পর্বে রিসার্চ মনোগ্রাফ হিসেবে ২০০৮ সালে এ গবেষণা করেন।
একাত্তরে হত্যা, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী ২০টি অপরাধে 'রাজাকার বাহিনীর সদস্য' এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয় সোমবার। অভিযোগে বলা হয়, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে সাঈদী অন্য সহযোগীদের সঙ্গে বিপদ সাহার মেয়ে ভানু সাহাকে নিজ বাড়িতে আটকে রেখে নিয়মিত ধর্ষণ করেছেন।
গবেষণার প্রক্রিয়া সম্পর্কে গবেষক বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওয়াজের অডিও ক্যাসেট ও সিডি থেকে শুনে ২৮০ মিনিটের ট্রান্সক্রিপ্ট করা হয়েছে। তার পুরো ওয়াজকে কয়েকটি মূল আধেয়তে ভাগ করা হয়েছে।
সাঈদী তার ওয়াজে বলেন, 'মানুষের চোখ খুব নান্দনিক জিনিসকে দেখতে পিয়াসী। এর জন্য ফুলের দিকে মানুষ বেশি তাকায়। ময়লার দিকে তাকায় কম। এটা মানুষের ফিৎরা (স্বভাব)। এটা মানুষের প্রকৃতি। সুন্দর জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া মানুষের ফিৎরা। এ জন্য যাতে আকৃষ্ট না হতে পারে সে জন্য বোরকা সাদামাটা হওয়া উচিত ...।'
গবেষক তপন বলেন, এই উদৃব্দতি থেকে বেশ কয়েকটা বিষয় দেখানো যায়। প্রথমত মানুষ বলতে আসলে পুরুষ বোঝানো হয়েছে। আর নারীকে সুন্দর জিনিস হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পুরুষ যেন নারীর প্রতি আকৃষ্ট হতে না পারে সে জন্য তাকে সাদামাটা থাকতে বলা হয়েছে।
সাঈদী তার ওয়াজে বলেন, বোরকা, হিজাব_ এসব হলো পরপুরুষের কুদৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করা। এখন বোরকাটা যদি আকর্ষণীয় হয়ে যায় তাহলে তো সমস্যা। এমন বোরকা পরা উচিত যাতে নজর না পড়ে যায়। যাতে কেউ বারবার না তাকায়। বোরকা পরলে মর্যাদা বাড়ে। বোরকাটা এ জন্য পরবেন যাতে কেউ খারাপ নজরে না তাকায়। কমেন্ট না করে। খারাপ মন্তব্য না করে। সেখানে বোরকাটা যদি সুন্দর ডিজাইন করা হয়, অনেক এম্ব্র্রয়ডারি করা হয় তাহলে ওগুলোর দিকে একবার চোখ পড়লে আবার চোখ পড়ে। মানুষের চোখ খুব নান্দনিক জিনিসকে দেখতে পিয়াসী। এ জন্য ফুলের দিকে মানুষ বেশি তাকায় ...।
আরেক ওয়াজে সাঈদী বলেন, ... একদিন এক মহিলা পুলিশের সঙ্গে এয়ারপোর্টে দেখা হলো। বললাম, মা, তুমি পুলিশ হলা কেন? সে বলল, জাতীয় সম্পদ হেফাজত করতে গভর্নমেন্ট আমাদেরকে পুলিশ বানাইছে। আমি বললাম, মা, আল্লাহ তোমাকে যে সম্পদ দিয়েছে সেটা হেফাজত করতে ১০টা পুলিশ হিমশিম খায়। আর তুমি করবা জাতীয় সম্পদ হেফাজত!
আরেক ওয়াজে সাঈদী বলেন, নারীর প্রতি পুরুষের আকর্ষণ স্বাভাবিক। সে জন্য ইসলাম বলেছে তাকে পর্দায় রাখার জন্য। এ জন্য সব ভালো ভালো খাবার আল্লাহ পর্দা করে দিয়েছেন। কলা ভালো খাবার, না মন্দ খাবার? কলাটা আল্লাহ প্যাকেট করে দিয়েছেন না? আনারসটা প্যাকেট করে দিয়েছেন না? লিচুটা প্যাকেট করেছেন না? ... সবরি কলা, ল্যাংড়া আম, কাঁঠাল সব ছিলাইয়া যদি বায়তুল মোকাররমের সামনে নিয়া বসে, কেউ কিনবে? কিনবে না তা-ই না। এর ওপর পড়বে মাছি। সুতরাং জিনিস যত ভালো আল্লাহ তাকে পর্দা করে রেখেছেন। নারী হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। কে বলেছেন? আল্লাহর রাসুল বলেছেন। এ শ্রেষ্ঠ সম্পদকে আল্লাহ হেফাজত করতে বলেছেন।
কেন এ গবেষণা :গবেষণার ভূমিকায় তপন মাহমুদ লেখেন, তিনি [সাঈদী] আসলে কী বলেন ওয়াজে? কীভাবে উপস্থাপন করেন? তার এই ওয়াজ কী ধরনের সামাজিক অর্থ তৈরি করে_ এসব প্রশ্নকে সামনে রেখে গবেষণাটি করা হয়েছে।
'দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওয়াজের আধেয় বিশ্লেষণ' শিরোনামের গবেষণায় সাঈদীর ওয়াজের তিনটি অডিও ক্যাসেট ও দুইটি সিডির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করেন তিনি। এগুলো হলো_ স্বামী-স্ত্রীর অধিকার (অডিও ক্যাসেট), ইসলামে নারী ও অমুসলিমের অধিকার (অডিও ক্যাসেট), মুমিনের গুণাবলী (অডিও ক্যাসেট), পর্দা :মর্যাদা ও নিরাপত্তার গ্যারান্টি (ভিডিও ক্যাসেট), জিহাদের মূল প্রেরণা (ভিডিও ক্যাসেট)। এতে দেখা গেছে, ২৮০ মিনিটের ওয়াজে ১১৬ মিনিট সাঈদী কথা বলেছেন নারী প্রসঙ্গে। শতকরা হিসাবে যা ৪১ দশমিক ৭৬ ভাগ।
গবেষণায় দেখা গেছে, সাঈদীর ওয়াজের বিষয়বস্তু হিসেবে থাকে দোয়া (শুরু), মোনাজাত (শেষে), নারী বা স্ত্রী বিষয়ক আলোচনা, মুসলিম জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গ, রাজনীতি প্রসঙ্গ, অমুসলিম প্রসঙ্গ, ধর্মীয় আইনকানুন ও প্রথা, ইসলামী প্রতিপক্ষ সম্বন্ধীয় আলোচনা, হামদ-নাত-ইসলামী গান।
তপন মাহমুদ বলেন, বিশ্লেষণে দেখা গেছে, 'জিহাদের' মূল প্রেরণা বিষয়ক আলোচনাতেও নারী বিষয়ে ব্যাপকভাবে বলা হয়েছে। পুরুষ দর্শককে আকৃষ্ট করা জন্য, বিনোদন দিতে বিষয়টিকে বেশি বেশি আলোচনা করা হয়_ মন্তব্য করেন তিনি। সাঈদী ওয়াজে ধর্মের মোড়কে আসলে এক ধরনের উত্তেজনা ছড়ান সমাজে।

সংকট কাটছে না শেয়ারবাজারে

সংকটের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। সংকট কাটাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। বাজারের অবস্থা এখন অনেকটাই তৈলাক্ত বাঁশে বানরের উপরে ওঠার মতো। একদিন শেয়ারদর বাড়লে কমছে পরের তিনদিন। ফলে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া দরপতন কোনোভাবেই সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। মাঝে গত মে-জুলাইয়ে কিছুটা স্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও তা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি। সর্বশেষ ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে দরপতন হয়েছে ৩৩ দিন।
তবে শেয়ারবাজারকে স্থিতিশীল করতে নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোক্তারাও এগিয়ে এসেছেন; কিন্তু তারপরও গত তিনদিন একটানা সূচকের পতন হয়েছে। টানা দরপতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার বিনিয়োগকারীরাও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় ।
এ অবস্থায় সর্বশেষ বাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল নামে মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের উদ্যোগেও বাজারে স্বস্তি ফিরে আসেনি। বাজার স্থিতিশীলকরণ ফান্ড গঠন করা সম্ভব হলেও তা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কতটুকু সক্ষম হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। গত তিনদিনে সূচক কমেছে প্রায় ১৮৩ পয়েন্ট। পাশাপাশি লেনদেন কমেছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ২৮৫ কোটি টাকার শেয়ার।
দরপতনের কারণ : বাজারের সাম্প্রতিক সংকটের কারণ নির্ণয় ও তা প্রতিকারে বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি-না, তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। শেয়ারবাজার
বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা এ বিষয়ে অনেকটা হতাশার সুরে জানান, দরপতনের প্রধান কারণ এবং তা প্রতিকার নির্ণয়ে সংশ্লিষ্টরা অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা জানান, অধিকাংশ শেয়ারের অতিমূল্যায়ন এবং বাজার থেকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের কারণেই দরপতন হয়। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান এ অবস্থা থেকে উত্তরণে যদি কিছু করতেই হয়, তবে অবশ্যই দরপতনের এ কারণকে স্বীকার করে নতুন করে ভাবতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ সমকালকে বলেন, গত বছরের ডিসেম্বর নাগাদ প্রায় সব শেয়ারের দর যেখানে পেঁৗছেছিল, সেখানে দরপতন হওয়া ছিল অবশ্যম্ভাবী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলামও একমত পোষণ করে বলেন, বাজার অতিমূল্যায়িত হলে দরপতন হবেই; কিন্তু দরপতন সফট ল্যান্ডিং (কিছুটা লম্বা সময়ে ও ধীরে) হলে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে সে ধকল কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। কিন্তু এবার সে রকমটি হয়নি। শেয়ারের উত্থান যতটা দীর্ঘ সময়ে হয়েছে, তার তুলনায় খুবই কম সময়ে পতন হয়েছে। আবার টানা দরপতন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। ফলে প্রত্যেকের বিনিয়োগ তহবিলে টান পড়ছে। অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। সবগুলোর ফলাফল একটাই, তারল্য প্রবাহে ভাটা ও শেয়ার চাহিদা কমা। যার সর্বশেষ পরিণতি দরপতন।
ডিসেম্বর-জানুয়ারির দরপতনের যৌক্তিকতা স্বীকার করলেও সাম্প্রতিক দরপতনের কোনো কারণ আছে বলে মনে করেন না বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা। মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এটা ঠিক, ব্যাংকগুলোর শেয়ার বিক্রি ডিসেম্বরে দরপতনের প্রধান কারণ ছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু করার ছিল না। শেয়ারবাজারকে রক্ষার থেকেও দেশের আর্থিক খাত তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই প্রধান বিবেচ্য ছিল। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকের বিনিয়োগসীমা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত সীমার নিচে। আবার মৌলভিত্তির তুলনায় বাজারের অনেক শেয়ারের দর কম। কিন্তু তারা বিনিয়োগ করছেন না। এর কারণ হলো, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি। গত দুই বছরে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় যে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ হয়েছে, তাতে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব বিনিয়োগ তহবিলও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মতো অনেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বেশি মূল্যে শেয়ার কেনায় বের হতে পারছেন না। ফলে বিনিয়োগ করার মতো যথেষ্ট তহবিলও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার প্রত্যেকে পৃথকভাবে ভাবছেন, তার একার বিনিয়োগে বাজার ঠিক হবে না। অনেকে ভাবছেন, বাজার আরও পড়লে সেখান থেকে তার বিনিয়োগ অপেক্ষাকৃত সুরক্ষিত হবে এবং লাভ বেশি হবে। সব মিলে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা বাজারকে ক্রমাগত নিম্নমুখী করছে।
এক্ষেত্রে আবু আহমেদ মনে করেন, ব্যাংকগুলোর উচ্চ সুদের হার এবং ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের বিপুল অঙ্কের ধারের ফলে সৃষ্ট তারল্য সংকটও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিনিয়োগ না বাড়ার কারণ। তিনি বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজার অস্থিতিশীল। কিন্তু ব্যাংকের আমানতের সুদের হার ১২-১৪ শতাংশ। ফলে ব্যাংকে টাকা জমা রাখাই অপেক্ষাকৃত লাভজনক ও নিরাপদ মনে করছেন প্রায় সবাই।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি শাকিল রিজভী জানান, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বাজার লেনদেনের ৭০ শতাংশ যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে হতো, মাত্র দু'মাসের ব্যবধানে তা ২০ শতাংশে নেমে আসে এবং বর্তমানে তা ১০ শতাংশেরও নিচে। ডিএসই সভাপতি বলেন, এটা স্পষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারে যে তারল্য সংকট তৈরি হয়, সে সংকট সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাই ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকে প্রভাবিত করতেন। তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার ফলেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।
পতন ঠেকাতে উদ্যোগ :গত বছরের ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া দরপতন ঠেকাতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পর্যায় থেকে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ কমিয়ে আনতে এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর একক ঋণ গ্রহীতা হিসেবে অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চার দফায় সময় বৃদ্ধি, ২০০৯ ও ২০১০ সালে লেনদেন ও শেয়ারদর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গৃহীত সব নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশ প্রত্যাহার, শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগে সুযোগ প্রদান, বিনিয়োগকারীদের টিআইএন নম্বর গ্রহণের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার, সরকারি কোম্পানির শেয়ার বিক্রির কার্যক্রম পিছিয়ে দেওয়া, বাংলাদেশ ফান্ড নামে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগ তহবিল গঠনসহ সর্বশেষ বাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল গঠনের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এত উদ্যোগের পরও বাজার ইতিবাচক হচ্ছে না। এর কারণ সম্পর্কে এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, তারল্য সংকট দূর করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনতে না পারায় অন্য কোনো উদ্যোগ কাজে আসছে না। তিনি বলেন, পৃথিবীর সব শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের আচরণই বাজারের সামগ্রিক আচরণ নির্ধারণ করে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে ফিরিয়ে আনতে না পারায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর নিজস্ব মূলধন বৃদ্ধি এবং তহবিল সংগ্রহ করে বিকল্প বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এ অবস্থায় করণীয় : শেয়ারবাজার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করতেই হবে। এমনটা জানান বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ। ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, দরপতন মোকাবেলায় সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা জরুরি। আমরা বারবারই যখন প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি, তারা তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করা না গেলে পরিস্থিতি উন্নয়নে অন্য কোনো উদ্যোগ কাজে আসবে না। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীরা কেন বিনিয়োগে ফিরছে না, সে বিষয়টি আগে খুঁজে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু করার থাকলে এখনই করতে হবে

নিজেকে 'আন্ডারডগ' ভাবছেন ওবামা!

০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে 'আন্ডারডগ' বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সম্প্রতি এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষ ওবামাকে এক মেয়াদি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখছেন। এ কারণে ওই মন্তব্য করেন ওবামা। খবর : টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
সোমবার এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, নিজেকে দুর্বল প্রতিপক্ষ (আন্ডারডগ) হিসেবে বিবেচনা করতে আমি অভ্যস্ত।
তবে দিন শেষে জনগণ নিশ্চয়ই জানতে চায়, কার ভেতরে লক্ষ্য (ভিশন) রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব কোনো কিছুকেই অস্বীকার করেননি ওবামা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চার বছর আগে যে অবস্থানে ছিল মার্কিনিরা, বর্তমানে তার চেয়ে ভালো কোনো অবস্থানে নেই। তিনি বলেন, যদিও তিনি কংগ্রেসে জনগণের সব দাবি পূরণ করতে পারেননি, তারপরও আমেরিকার জনগণ চায় তিনি (ওবামা) আবার প্রেসিডেন্ট হন। এবিসি নিউজ/ওয়াশিংটন পোস্টের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৮ শতাংশ মার্কিনির ধারণা, আগামী নির্বাচনে ওবামা জয়ী হবেন। বিপরীতে ৫৫ শতাংশ মনে করে, নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী জয়ী হবেন।
আল কায়দা যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে পারবে না : ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি বড় ধরনের হামলা চালানো আল কায়দার জন্য খুবই কঠিন হবে। কারণ দলটির নেতৃত্ব ধ্বংস হয়েছে। চলতি বছর মে মাসে পাকিস্তানের এবোটাবাদে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া আফগানিস্তান সংলগ্ন পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকা ও ইয়েমেনে ড্রোন হামলায় আল কায়দার অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হওয়ায় দলটিতে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আল কায়দা কৌশলগত পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে কি-না প্রশ্নের জবাবে ওবামা বলেন, ওসামা বিন লাদেনকে ধরা বা হত্যা করাটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তবে পুরো আল কায়দার নেতৃত্বের দিকে তাকালে দেখবেন তারা ধ্বংস হয়ে গেছে।

সোমালিয়ায় আত্মঘাতী ট্রাকবোমায় নিহত ৭০

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে একটি সরকারি ভবনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছে। হামলার সময় রাজধানী মোগাদিসু থেকে ৪ কিলোমটির দূরের ওই সরকারি ভবনে জাতিসংঘ সমর্থিত জাতীয় ঐক্য সরকারের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেছিলেন। তবে কোনো সরকারি কমকর্তা নিহত হয়েছেন কি-না সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। খবর বিবিসি, রয়টার্স, জিনিউজ।

প্রতক্ষ্যদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, বিস্ফোরকভর্তি একটি ট্রাক ভবনটির কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে বিস্ফোরণ ঘটায়। সোমালিয়াভিত্তিক আল কায়দার ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন আল শাবাব এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। জঙ্গি দলটির এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, আমাদেরই এক মুজাহিদিন জাতীয় ঐক্য সরকারের কমকর্তাদের নিশ্চিহ্ন করতে বিস্ফোরকভর্তি ট্রাকটি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিস্ফোরণ ঘটায়।
মোগাদিসুর এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, এ পর্যন্ত ৭০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৪৬ আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মধ্যে অধিকাংশের শরীর ঝলসে যাওয়ায় তাদের চেনা যাচ্ছে না। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। ভবনটি বর্তমানে আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং সোমালি সেনাদের কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মোগাদিসুতে বোমা হামলার পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সরকারি সেনাদের সঙ্গে আল শাবাবের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। গত সোমবার থেকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের ধুসামারেব শহরে সরকারি সেনাদের সঙ্গে শাবাব মুজাহিদিনদের সংঘর্ষ শুরু হয়। সেখানে প্রচণ্ড গোলাগুলি হয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে_ সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে কেনিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় আবারও নতুন করে যুদ্ধ শুরু করেছে আল শাবাব। অভিবাসন সংস্থার মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ডস বলেন, এ অঞ্চলে আবারও বিরোধীদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে আল শাবাব। আমরা ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। উল্লেখ্য, সোমালিয়ায় আল শাবাব শক্তিশালী একটি জঙ্গি সংগঠন। ১৯৯১ সাল থেকে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য যুদ্ধ করে আসছে তারা। দলটি বর্তমানে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ শহর নিয়ন্ত্রণ করছে। দু'মাস আগে মোগাদিসু থেকে আল শাবাবকে পুরোপুরি তাড়িয়ে দেওয়া হয়। আল শাহাব শুধু সোমালিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন নয়, আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে তাদের শক্তিশালী ঘাঁটি রয়েছে। গত বছর আগস্টে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় এক আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ৭৬ ব্যক্তিকে হত্যা করে শাবাব। বর্তমানে সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অনেক এলাকায় দুর্ভিক্ষ চললেও ওইসব এলাকায় জাতিসংঘ ত্রাণ কর্মকর্তাদের ঢুকতে দিচ্ছে না আল শাবাব।

ফি'র বিনিময়ে ভারতকে নৌ ট্রানজিট দেবে বাংলাদেশ

ফি বা মাসুলের বিনিময়ে নৌপথে ভারতকে নিয়মিত ট্রানজিট সুবিধা দেবে বাংলাদেশ। পরীক্ষামূলকভাবে দুটি চালানে বিনা মাসুলে এ সুবিধা দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে ভারত থেকে জাহাজভর্তি যেসব চালান আসবে সে ক্ষেত্রে মাসুল দিতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। পরীক্ষামূলক ট্রানজিট সফল হওয়ায় পরবর্তী সময়ে সরকার নিয়মিত আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেবে ভারতকে।
নিয়মিত ট্রানজিট বাস্তবায়নের আগে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করা হবে। নীতিমালা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে একটি আদেশ জারি করা হবে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।
পরীক্ষামূলক নৌ ট্রানজিটের ফলাফল পর্যালোচনা করতে ওই বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠক নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরীক্ষামূলক ট্রানজিটের আওতায় ভারত থেকে যে দুটি চালান নৌপথে আশুগঞ্জ বন্দরে এসেছে সেসব চালানে কোনো ধরনের ফি বা মাসুল প্রযোজ্য হবে না। কারণ, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিদ্যমান নৌ-প্রটোকলের আওতায় ফি নেওয়ার কোনো বিধান নেই। ভবিষ্যতে যেসব চালান আসবে সে ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মালপত্র খালাসের অনুমতি দেওয়া হবে। নিয়মিত ট্রানজিট বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ফি বা মাসুল ধার্য করবে।
গত বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ ইশতেহার অনুযায়ী চলতি
বছরের মে মাসের মধ্যে নৌপথে পরীক্ষামূলক ট্রানজিট বাস্তবায়নের কথা। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড' সংক্ষেপে নৌ প্রটোকল চুক্তি মোতাবেক নৌপথে ট্রানজিট কার্যকর করতে দু'দেশের সরকারপ্রধানের সম্মতি রয়েছে।
জানা গেছে, পরীক্ষামূলক ট্রানজিটের আওতায় ভারতের পণ্যবাহী দুটি জাহাজ গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আশুগঞ্জ নৌবন্দরে ভিড়ে। এর মধ্যে একটি জাহাজে ৩০৫ টন লোহাজাতীয় পণ্য রয়েছে। চুক্তির বিধি অনুয়ায়ী, কাস্টমসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে আশুগঞ্জ বন্দর থেকে মালপত্র খালাসের পর বাংলাদেশি ট্রাকে করে সড়ক পথে আখাউড়া হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। আখাউড়া বন্দর কর্মকর্তা হামিদুল হক সমকালকে বলেন, প্রথম চালানের বেশিরভাগ পণ্য ত্রিপুরা চলে গেছে। দ্বিতীয় জাহাজটি এখনও আশুগঞ্জ বন্দরে ভেড়েনি। ওই চালানে প্রায় ১২০০ টন লোহাজাতীয় পণ্য আছে। এ দুটি চালানের পণ্য বিনা ফিতে বাংলাদেশ ছাড় দিয়েছে।
নৌ প্রটোকল চুক্তিতে যা আছে : সর্বশেষ নৌ প্রটোকল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে গত বছরের মে মাসে। ওই চুক্তিতে আশুগঞ্জ বন্দরকে 'পোর্ট অব কল' হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার। এর অর্থ হলো পণ্যভর্তি ভারতীয় জাহাজ বাংলাদেশের সীমানায় আশুগঞ্জে এসে ভিড়তে পারবে। এখান থেকে মালপত্র খালাসের পর সড়ক পথে বাংলাদেশি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের অন্য রাজ্যে নিয়ে যেতে পারবে। ওই চুক্তিতে এর বিনিময়ে বাংলাদেশের পক্ষে কোনো ধরনের ফি বা মাসুল আদায়ের বিধান রাখা হয়নি। তবে বন্দরে মালপত্র খালাস হওয়ার পর বাংলাদেশি ট্রাকে পরিবহনের সুবিধা পাবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মে মাসে পোর্ট অব কল ঘোষণার পর এই প্রথম ভারতীয় পণ্যভর্তি দুটি জাহাজ আশুগঞ্জ বন্দরে এসেছে।
চুক্তি আগেও ছিল : নৌ প্রটোকল চুক্তি নতুন নয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল তারই আওতায় স্বাক্ষরিত হয় নৌ প্রটোকল। ফলে স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে নৌ ট্রানজিট চালু আছে। কিন্তু ১৯৭২ সালের চুক্তিতে পোর্ট অব কল ছিল ময়মনসিংয়ের শেরপুরে। তখন নদী পথেই কেবলমাত্র পণ্য পরিবহনের সুযোগ ছিল। নদীর নাব্যতা না থাকায় ১৯৮০ সালের পর শেরপুর বন্দর অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরে ভারত তার নিজের সুবিধার জন্য শেরপুরের পরিবর্তে আশুগঞ্জ বন্দরকে পোর্ট অব কল হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ সরকারকে। ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার ভারতের জন্য আশুগঞ্জ বন্দরকে পোর্ট অব কল হিসেবে ঘোষণা করে।

শেয়ারবাজারে ফের দরপতন, লেনদেন ও সূচক কমেছে

দেশের শেয়ারবাজারে গতকাল সোমবার আবারও বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহের দুই কার্যদিবসেই বাজারে দরপতন ঘটল। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ৯১ শতাংশ কোম্পানির দাম কমেছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কমেছে ৯২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম। পাশাপাশি সোমবার ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক দুই দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ১৩৭ পয়েন্ট এবং সিএসইর সার্বিক সূচক ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ বা প্রায় ৩১২ পয়েন্ট কমেছে।
অন্যদিকে গতকাল ডিএসইতে প্রায় ৩২৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০৫ কোটি টাকা কম। আর সিএসইতে গতকাল ৪২ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ১৩ কোটি টাকা কম।
গতকাল ডিএসইতে ২৫৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। তার মধ্যে ২৩৫টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে মাত্র ১৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। আর সাতটি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক নেমে এসেছে প্রায় পাঁচ হাজার ৭৬৪ পয়েন্টে। গত ২২ সেপ্টেম্বরের পর এটিই ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান। ওই দিন লেনদেন শেষে ডিএসইর সূচক ছিল পাঁচ হাজার ৬৫২ পয়েন্টে। সোমবার ঢাকার বাজারের লেনদেন আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০৫ কোটি টাকা কমে গেছে।
অন্যদিকে সিএসইতে গতকাল ১৭৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। যার মধ্যে ১৫৯টিরই দাম কমেছে আর বেড়েছে মাত্র ১১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। দিনশেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক নেমে এসেছে ১৬ হাজার ৩৩২ পয়েন্টে।
দুই ব্রোকারেজ হাউসকে জরিমানা: শেয়ারের বিপরীতে গ্রাহককে ঋণসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন করায় ডিএসইর দুই সদস্য প্রতিষ্ঠানকে মোট ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। প্রতিষ্ঠান দুটিকে আলাদা আলাদাভাবে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো কে এইচ বি সিকিউরিটিজ এবং অ্যালোকো সিকিউরিটিজ লিমিটেড। গতকাল ডিএসইর ওয়েবসাইটে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটি কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই গ্রাহককে ঋণসুবিধা দিয়েছে, যা এসইসির মার্জিন রুলসের ৩(২) ধারার লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অ্যালোকো সিকিউরিটিজের কমপ্লায়েন্স অফিসার নুরুল আলম জানান, ‘আমরা গ্রাহকদের কোনো ঋণসুবিধা দিই না। তবে ধারাবাহিক দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক বিবেচনায় কয়েকজন গ্রাহকের হিসাবে সাময়িকভাবে কিছু আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি সমন্বয়ও করা হয়।’

শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত

দেশের শেয়ারবাজারে আজ মঙ্গলবারও দরপতনের ধারা অব্যাহত ছিল। আজ দিন শেষে দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এর ফলে সূচকের নিম্নগতির মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়। এ নিয়ে টানা তিন দিন দরপতন হলো পুঁজিবাজারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, আজ দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৩৭.১১ পয়েন্ট কমে ৫৭২৬.৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সূচক ৭০ পয়েন্ট কমেছিল আর সাড়ে ১২টায় কমেছিল ৬৩ পয়েন্ট আর বেলা আড়াইটায় কমে ৫৩ পয়েন্ট।
ডিএসইতে মোট ২৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৩টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে ৮৭টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। আর দিন শেষে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ২৮৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৩৭ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সিমকো লিমিটেড, ইস্টার্ন হাউজিং, সামিট পাওয়ার, গ্রামীণফোন, এমআই সিমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও সিটি ব্যাংক।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১০০.২৫ পয়েন্ট কমে ১৬২৩১.৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৩টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে ৪২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৪৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে পাঁচ কোটি টাকা বেশি।

মিজানুর রহমানের পাগলাঘণ্টি by ফারুক ওয়াসিফ

পুলিশ ও র‌্যাব মানুষকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে, রাস্তায় মানুষের লাশ পড়ে থাকছে। এমন বাংলাদেশ আমরা চাইনি।’ —মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, (প্রথম আলো, ৩ অক্টোবর)।‘পুরুষের ভালোবাসা, গৃহস্থের মুরগি পোষা’ বলে একখান প্রবাদ চালু আছে গ্রামদেশে। বাংলাদেশে মানবাধিকার ব্যাপারটা আর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অবস্থা খানিকটা তেমনই। গৃহস্থের মুরগি ভালোবাসায় দোষ নেই। কিন্তু মানবাধিকারের প্রতি সরকারি নজর মাংসের জন্য মুরগি ভালোবাসার মতো হয়ে গেলে বিপদ। দেশে-বিদেশে ভাবমূর্তিবাড়াতে সরকারের একটা মানবাধিকার কমিশন চাই, কিন্তু কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়তার ভয়। কিন্তু কমিশন তা হয়েথাকতে চাইবে কেন?
বহু সাধ্যসাধনার পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ঢাকঢোল পিটিয়ে মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হলো। নতুন শিশু জন্মাল ঠিকই, কিন্তু দাঁড়াতে দেওয়া হলো না। সেই আমলেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেশুমারভাবে বেড়ে গেল। মানবাধিকার কমিশন দর্শক হয়ে রইল। সব দিকে তখন দুদকের জয়জয়কার। অথচ দুর্নীতিও দমল না।
রাজনীতি ও সরকার বদলায়, সঙ্গে বদলায় সরকারি প্রয়োজন। মঞ্চে এখন নতুন নায়ক, নতুন সংলাপ। জনসমক্ষে হাজির হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং তার সজ্জন চেয়ারম্যান। নিউটন বলেছেন, প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া ঘটে। মানুষ অপদার্থ নয়, তাহলে মনুষ্য জগতে মানবাধিকার লঙ্ঘন যত বাড়ছে, মানবাধিকার কমিশনের প্রতিকার-ক্রিয়া তত বাড়ছে না কেন?
এ বিষয়ে পুরোনো গল্পটাই দেখি খেটে যাচ্ছে: স্বর্গে একটা ন্যায়ের ঘণ্টা আছে, পৃথিবীতে কেউ অন্যায় করলেই সেটা বেজে ওঠে। ছোট পাপে ছোট বাজনা, বড় পাপে বড় বাজনা। বড় অন্যায় তো আর সেকেন্ডে সেকেন্ডে ঘটে না, তাই ঘণ্টাটাও থেমে থেমেই বাজে; স্বর্গবাসীর টনকও অনড়ই থাকে। কিন্তু একদিন সুশীল ঘণ্টাটি পাগলপারা হয়ে গেল। পাগলাঘণ্টির আওয়াজে স্বর্গ তো স্বর্গ, নরকবাসীরও আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয় হয়! জানা গেল ব্যাপার গুরুতর, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এখানে-সেখানে ঠেঙানি খাচ্ছেন, গ্রেপ্তার হচ্ছেন। ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন ‘উন্মোচন’ নামের এক ব্লগে প্রতিবাদ করেছেন বলে ডিবি অফিসে ডেকে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে এক রাত এক দিন। পল্টন থেকে সাদা পোশাকের লোকেরা এক যুবককে মুখে টেপ মেরে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ হেফাজতে মার খেয়ে মরে যাচ্ছেন বিরোধী দলের নেতা। করিৎকর্মারা করে যাচ্ছেন, থামছেন না, ঘণ্টারও তাই থামাথামি নেই।
গল্পটার এ পর্যন্তই আমরা জানতাম। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, আরও আছে। বাংলাদেশে ক্রসফায়ার, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু, নিরপরাধের পায়ে গুলি-কোপ, অপহরণ-গুম ইত্যাদির জন্য ঘুম হারামকারী পাগলাঘণ্টি থেকে বাঁচতে স্বর্গের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা বুদ্ধি বের করলেন। তিনি পৃথিবীবিষয়ক মন্ত্রীকে বললেন, জিনিসটাকে বাংলাদেশে চালান করে দিন, ওদের ঠ্যালা ওরাই সামলাক। স্বর্গের সঙ্গে যেহেতু পশ্চিমা দুনিয়ার যোগাযোগ বেশি, তাই তারাই ঘণ্টাটাকে বাংলাদেশের রাজধানীর কোথাও ঝুলিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পেল।
স্বর্গীয় জিনিস। রাখাও বিপদ, ফেলাও বিপদ। অবশেষে জাতিসংঘের ইউএনডিপি, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরও কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপাচাপি ও আর্থিক সহযোগিতায় ঘণ্টাটার একটা ঠিকানা হলো। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। হলো বটে, কিন্তু এর দেহটিকে রাখা হলো দুর্বল। তবে অর্থবল-লোকবল-আইনি বলের ঘাটতি রইলেও এর হূদয়বলের কোনো কমতি নেই। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে ঘণ্টা বাজানোর দায়িত্ব দেওয়ার পর সংস্থাটি হূদয়বলে বলীয়ান হলো, তিনি হলেন এর চেয়ারম্যান। এখন স্বর্গবাসীর তন্দ্রা নিরাপদ হলেও বঙ্গবাসীর ঘুম হারাম। সরকার চিরকালই ঘুমকাতুরে, কোনো ঘণ্টিতেই তারা জাগে না। তবে সাধারণ মানুষ ঘণ্টাটির বাজনা শুনে উঠে বসে। ঘণ্টাবাদকের হূদয় আলোড়িত হলে তাদের মনও দুলে ওঠে। তাই তাঁর মতো আমরাও বলি ‘এমন বাংলাদেশ আমরা চাইনি’।
র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন ও তার পরিবারের ভরসাস্থল ছিলেন মিজানুর রহমান। লিমনকে জড়িয়ে তাঁকে কাঁদতে দেখে আমরাও চোখ ভেজালাম, মন ভেজালাম। পুলিশের হাতে নির্যাতিত ঢাবির ছাত্র কাদেরের পাশেও তিনি। তিনিই আমাদের মনে করিয়ে দেন, গরাদের বাইরে থাকা মুক্ত-অর্ধমুক্ত মানুষের সমান মানবাধিকার গরাদের ভেতরে থাকা মানুষেরও রয়েছে। দেশের বিভিন্ন কারাগারের ফটকের কড়া নাড়া শুরু করলেন তিনি। কিন্তু অদৃশ্য ক্ষমতার ইশারায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তাঁকে বুঝিয়ে দিলেন, একটু হিসাব করেই চলতে হবে। একজন জেলারই পারলেন সাংবিধানিক পদাধিকারীকে পত্রপাঠ ফিরিয়ে দিতে, আইনের গতি দিশা হারাল।
গত এক সপ্তাহের প্রধান কথা এটাই: পুলিশের বুট, ছাত্রলীগের জুতা আর আমাদের কপাল। জবির ছাত্রদের ওপর নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে অনলাইন ব্লগার অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম সংহতি সমাবেশ ডেকেছিল জাদুঘরের সামনে। সমাবেশ শুরুই হতে পারল না, রণসাজে সজ্জিত পুলিশ ইতস্তত হাঁটা-বসা ৩১ জনকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করল, যাদের আবার ১৮ জনই পুলিশের ভাষ্যমতে ‘নির্দোষ পথচারী’!
এ রকম অবস্থাতেই মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বললেন, ‘দুর্ভাগ্য হচ্ছে, রাষ্ট্রই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, আবার রাষ্ট্রের কাছেই এর প্রতিকার চাইতে হয়।’ (প্রথম আলো, ৩ অক্টোবর)। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর অনেকে বলেছিলেন, এটা একটা কাগুজে বাঘ। কিন্তু আইনও তো কাগজে লেখা কিছু কথাই! সরকার, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকেরা মানলে সেই কাগজেরও বাঘের মতো দাঁত গজায়, না মানলে তা রোমটাও নড়াতে পারে না। যে দেশে মানবাধিকারের প্রতি রাষ্ট্রের শ্রদ্ধা থাকে, সে দেশে মানবাধিকারের অভিভাবক কেবল ‘কাগুজে’ বাঘ হয়ে থাকার কথা নয়। আদিকালের নিধিরাম সরদার নিশ্চয়ই কোনো বিবেকবান মানুষ ছিলেন, ঢাল-তলোয়ার না থাকলেও নিশ্চয় তাঁর প্রতিবাদের সৎসাহস ছিল। সেই থেকে কমজোরি কিন্তু সত্য প্রতিষ্ঠায় আগুয়ান ব্যক্তিকে নিধিরাম সরদার বলার চল শুরু। দিন শেষে দেখা গেল, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এক ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সরদার। এ-ও বোঝা গেল, তিনি এখনো ‘বীর’ নন, তিনি যাত্রাপালার ‘বিবেক’, যিনি দুঃখীর দুঃখে কাঁদেন বটে, কিন্তু প্রতিকার তাঁর সাধ্যের বাইরে। কিন্তু তাঁর এই কান্নারও প্রয়োজন আছে, একটি আইনি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মানবিকতা প্রদর্শন রাষ্ট্রের ক্ষয়মান মানবিকতারই কান্না হয়ে বাজে। মানুষ যখন কষ্টে উহ্ বলে ওঠে, তখন সমবেদনার ‘আহ্’ বলার মানবিক সান্ত্বনাও দরকার।
মানবাধিকার কমিশনই যখন মানবাধিকারের ‘অক্ষমতায়’ কাঁদে, তখন যশোরের সেই বুড়ির গল্পটা মনে পড়ে। প্রান্তরের মধ্যে বুড়ির ঘর। তিন কুলে বুড়ির কেউ নেই। একা থাকে, একা খায়, একাই ঘুমায়। জমিখেকোরা তক্কে তক্কে থাকে। বুড়ি মরলে কি আর জমি মরবে? ঘর ধসবে? বুড়ির ওয়ারিশান নেই, জোর যার, জমি হবে তার। বুড়ি ভয়ে ঘুমায় না। রাতে বাড়ির আশপাশে টর্চ জ্বলতে দেখে। ঘরের চালে ঢিল পড়ে। তবু বুড়ি ঘর ছাড়ে না। সে বরং কুপির সলতেটা আরও চাগিয়ে উঠে বসে। আত্মরক্ষার একটা বুদ্ধিও বের করে। রাত হলে খেয়েদেয়ে কাঁসার একটা কলস আর বাঁশের ডালঘুটনিটা নিয়ে বসে। তারপর সারা রাত দুলে দুলে সারা জীবনের জানা সব গীত গায় আর তালে তালে কাঁসার কলসটা পেটায়। পড়শিদের বলা আছে, ‘ডাকাত এলে গীত থামবে, আমি মরলে বাজনা থামবে। তোমরা বুঝে নিয়ো, তোমরা সাড়া দিয়ো।’ বুড়ি গায় আর ডঙ্কা বাজায়। লোকে ঘুমের মধ্যেও কান পাতে: আওয়াজ আসছে, বুড়ি বাজাচ্ছে। বুড়ি অতন্দ্র।
মানবাধিকার কমিশন ও তার চেয়ারম্যান জেগে থাকুন, ঘণ্টা বাজতে থাকুক। সরকার না হোক, মানুষের ঘুম ভাঙবেই।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।
farukwasif@yahoo.com

সারতে ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ

লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির জন্মস্থান সারতে শহর পুরোপুরি দখলের জন্য লড়ছে ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) যোদ্ধারা। গাদ্দাফির অনুগত সেনারাও প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। দুই পক্ষের লড়াই সেখানে তৈরি করেছে এক ভীতিকর পরিবেশ।
এনটিসি বলছে, শহরটি দখলের চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আগে বাসিন্দাদের সরে যেতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। গত রোববার সারতে শহরে যাতায়াতের সড়কে এনটিসির তল্লাশি চৌকির সামনে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এসব যানবাহনে চড়ে বাসিন্দারা মালামাল নিয়ে শহর ছাড়ছে।

সুপেয় পানির অভাব টুভালুতে জরুরি অবস্থা

সুপেয় পানির অভাবে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট্ট দ্বীপদেশ টুভালুতে। রাজধানী ফুনাফুতিসহ আশপাশের দ্বীপগুলোতে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ছোট দেশ টুভালু। এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। এর প্রায় অর্ধেক বাস করে রাজধানী ফুনাফুতিতে।
পানির অভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর পানি ও লবণাক্ত পানি শোধনকারী দুটি ইউনিট নিয়ে টুভালুতে পৌঁঁছেছে নিউজিল্যান্ড বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ।

আপাতত টুইটার ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত ইংলাকের

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা গতকাল সোমবার বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটার থেকে আপাতত দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
গত রোববার সকালে ইংলাকের টুইটার অ্যাকাউন্ট কিছু সময়ের জন্য এক হ্যাকার তাঁর দখলে নেন। অজ্ঞাত হ্যাকার তাঁর আটটি টুইটে ইংলাক ও তাঁর সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
ইংলাক বলেন, তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে এই হামলা ‘মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘনের শামিল’। তাই সাময়িকভাবে টুইটার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয় বলেছে, অজ্ঞাত ওই হ্যাকারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ঘটনাটি।

ঐক্যবদ্ধ জার্মানির বর্ষপূর্তি উদ্যাপন

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও ইউরোপীয় ঐক্য সঙ্গে নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপন করা হলো ঐক্যবদ্ধ জার্মানির ২১তম বর্ষপূর্তি। গতকাল সোমবার ছিল জার্মানির ইতিহাসের এক বিশেষ দিন। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে পৃথক হওয়া পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি ১৯৯০ সালের এই দিনে পুনরায় একত্র হয়।
জার্মানি ঐক্যের ২১তম বার্ষিকী উদ্যাপনের মূল অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় সাবেক পশ্চিম জার্মানির রাজধানী বন শহরে। এতে যোগ দেন দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান উল্ফ। পূর্ব জার্মানিতে বেড়ে ওঠা মেরকেল বলেন, জার্মানির দুই অংশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যবধান রয়ে গেছে এখনো। দেশের পূর্ব অংশে বেকারত্বের হার বেশি। তবে তিনি বলেন, ‘পুনরায় একত্রীকরণের ইতিহাস আমাদের জন্য গর্বের।’
ঐক্যবদ্ধ জার্মানির পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে শতভাগ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য না এলেও গত ২১ বছরে সাবেক পূর্ব জার্মানির যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থানসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর অনেক উন্নতি হয়েছে।
এদিকে ইউরো মুদ্রা প্রচলিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ঋণগ্রস্ত দেশগুলোকে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানি আরও ঋণ দেবে কি না, কয়েক দিন আগে সেই ভোটাভুটিতে ভালোভাবেই জিতেছেন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল।

হাতের ইশারায় খুলবে তালা

চাবি ঘুরিয়ে তালা খোলার যুগ হয়তো এবার শেষ হয়ে যাচ্ছে। হাতের ইশারাতেই খুলে যাবে তালা। তাইওয়ানের বিজ্ঞানীরা গতকাল সোমবার এ ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছেন। নবউদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে ‘অদৃশ্য চাবি’ (ইনভিজিবল কি)।
উদ্ভাবক দলটির প্রধান টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্স ইনস্টিটিউট অব নর্দার্ন তাইওয়ানের শিক্ষক সাই ইয়াও-পিন বলেন, মানুষকে চাবি হারানো বা সঙ্গে নিতে ভুল করা—এ রকম বিষয়গুলো নিয়ে আর মাথা ঘামাতে হবে না। তাঁর নেতৃত্বে গবেষকদলটির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মূলে রয়েছে এক ধরনের চিপ, যা তিন ধরনের অঙ্গভঙ্গি শনাক্ত করতে সক্ষম। বিখ্যাত গেমনির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিটেন্ডোর ডব্লিউআইআই ভিডিও গেমে এমনটিই দেখা যায়। ওই চিপের সেন্সরে আগে থেকে সংরক্ষণ করে রাখা সাংকেতিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই দরজা খুলতে পারবেন।
গবেষক সাই আরও জানান, এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কোম্পানি তাঁর এই প্রযুক্তির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি আশা করছেন, ছয় মাসের মধ্যেই এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারে ছাড়া সম্ভব।
তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে অনুষ্ঠিত চার দিনের ‘তাইপে ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন শো অ্যান্ড টেকনোমার্ট’-এ অংশ নিয়ে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেছেন।

আর্কটিকের ওজোনস্তরে রেকর্ড পরিমাণ ক্ষয়

আর্কটিক (উত্তর মেরু) অঞ্চলে এ বছর বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তরে ভয়াবহ ধরনের ক্ষয় হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলকে এই প্রথমবারের মতো ‘ওজোনগহ্বর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা।
বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০ কিলোমিটার ওপরে ওজোনস্তরের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ ক্ষয়ে গেছে। এবার শীতকাল অস্বাভাবিক মাত্রায় দীর্ঘায়িত হওয়ায় এমনটা হয়েছে। ওজোনক্ষয়ের জন্য দায়ী রাসায়নিক ক্লোরিন শীতের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে আবারও এমন মাত্রাতিরিক্ত ওজোনক্ষয়ের ঘটনা ঘটতে পারে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা।
আর্কটিকে ওজোনস্তর ক্ষয়ের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল গত এপ্রিলে। এরপর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই প্রথম তা বিস্তারিতভাবে জানানো হলো ন্যাচার-এ।
নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির (জেপিএল) মাইকেল সানেটি বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে শীত-গ্রীষ্মের বেশ তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু গত কয়েক দশকে সেখানে শীতের মাত্রা অনেক বেশি। কাজেই এসবের ভিত্তিতে আমাদের মনে হচ্ছে, সেখানে শীতের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। আর যদি সেটা ঘটে এবং ক্লোরিনের মাত্রা বৃদ্ধি ও তা অতিসক্রিয় হয়ে ওঠে, তাহলে সেখানকার ওজোনস্তর আরও ক্ষয় হতে পারে।
ওজোনক্ষয়ের অন্যতম উপাদান ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (সিএফসি) আসে রেফ্রিজারেটর ও অগ্নিনির্বাপকের মতো যন্ত্রের ব্যবহার থেকে। এর ফলে ওজোনস্তর ক্ষয়ের ঘটনা প্রথমে ধরা পড়ে এন্টার্কটিকা (দক্ষিণ মেরু) অঞ্চলে। এখন সেখানকার ওজোনস্তরে অনেকগুলো ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট-বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে

যুক্তরাষ্ট্রের দলনিরপেক্ষ ক্ষুব্ধ জনতার নতুন ধারার আন্দোলন ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল করো’ (অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট) পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে। নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক দল নেই, বিশেষ কোনো নেতা-নেত্রীর নির্দেশনাও নেই এই আন্দোলনে। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই আন্দোলন।
গত শনিবার সাত শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের পর আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ছাড়া পাওয়ার পর গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীরা আবার যোগ দিয়েছে আন্দোলনে।
ভিন্ন এক দৃশ্য এখন ম্যানহাটনের জুকটি পার্কে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা আন্দোলনকারীরা তাঁবু খাটিয়েছে সেখানে। ল্যাপটপ, আইপ্যাড নিয়ে সবাই যে যার মতো ব্যস্ত। পালা করে কখনো দল বেঁধে, কখনো একাকী সড়কপথে ঘুরে আসছে আন্দোলনকারীরা। হাতে লেখা পোস্টার। এসব পোস্টারে নির্দিষ্ট কোনো দাবি-দাওয়া নেই। সামাজিক বৈষম্যের অবসান থেকে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক দাবি-দাওয়া নিয়ে যে যার মতো প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বয়সে তরুণ এসব আন্দোলনকারী সংঘবদ্ধ হতে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে। ফেসবুক-টুইটার এবং ব্লগে প্রতি মুহূর্তের সর্বশেষ খবর দেওয়া হচ্ছে। জুকটি পার্কেই খোলা হয়েছে একটি মিডিয়া কেন্দ্র। আন্দোলনে জড়ো হওয়া লোকজনের জন্য ভাসমান চিকিৎসাকেন্দ্রও চালু হয়েছে। কবিতা, সংগীত, ড্রামের তালে তালে নৃত্য—সব মিলে ওয়াল স্ট্রিট-সংলগ্ন এলাকা এখন উৎসবমুখর।
গত রোববার ছুটির দিনটিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে দেখা গেছে বিভিন্ন পেশাজীবীদের। নিউজার্সি থেকে যোগ দেওয়া একদল শিক্ষক আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁদের একজন কেভিন ম্যাকডোনেল জানালেন, প্রথাগত রাজনৈতিক প্রতিবাদ বেশ পুরোনো হয়ে গেছে। সম্প্রতি চাকরি হারানো প্রযুক্তিবিদ স্টিভ লিমানিয়ন বলেন, ‘এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। আমরা বৈষম্যের অবসান চাই।’
নিউইয়র্কের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় নগরেও স্বতঃস্ফূর্ত জনতার বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার শিকাগো নগরে ‘শিকাগো দখল করো’ স্লোগান দিয়ে বিশাল শোভাযাত্রা করে আন্দোলনকারীরা।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভকারীরা ওয়েবসাইটে লিখেছে ‘বিপ্লব শুরু হয়েছে।’ বোস্টনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ৩০টির বেশি সামাজিক সংগঠন যুক্ত হয়েছে। সংগঠনের কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে বোস্টনের বিক্ষোভ সমাবেশে। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বলা হয়েছে, ‘লোভীদের লালসা বন্ধ করো, সুষম অর্থনীতি চালু করো, ন্যায়ভিত্তিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করো।’

ইরাকে কয়েক পুলিশ কর্মকর্তা জিম্মি

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-বাগদাদি শহরে গতকাল সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের জিম্মি করেছে সশস্ত্র ব্যক্তিরা। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
রামাদির একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অতর্কিতে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রবেশ করে এসব কর্মকর্তা ও সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। হাদিথার একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাও এ কথা জানান। তাঁরা বলেন, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। তবে দপ্তরটি সশস্ত্র ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি।

রাষ্ট্রপতি বা মন্ত্রী হতে চান না আন্না হাজারে

ভারতের প্রবীণ গান্ধীবাদী নেতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী আন্না হাজারে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী বা সাংসদ হতে চান না। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকে দেশের উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান।
গত রোববার আন্না হাজারে ভারতের মুম্বাইয়ে এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রতি তাঁর কোনো লোভ নেই। তিনি ভোটেও লড়তে চান না। ওই সব পদ নিলেই তাঁর কাজের ব্যাঘাত ঘটবে। তাই তিনি মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চান না; থাকতে চান সাধারণ মানুষের সঙ্গে।
আন্না হাজারেকে এবার ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে এরই মধ্যে জোর গুঞ্জন চলছে। আগামী বছর ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবী সিং পাতিলের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপর কে হবেন রাষ্ট্রপতি—এ নিয়ে এরই মধ্যে জল্পনা-কল্পনাও শুরু হয়। নাম ওঠে আন্না হাজারের।
গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে আন্না হাজারে জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, সাংসদ বা নির্বাচন করার ব্যাপারে তাঁর আদৌ কোনো আগ্রহ নেই, লোভ নেই।

রাব্বানি হত্যাকাণ্ডে হাক্কানি নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল না

হাক্কানি নেটওয়ার্কের অন্যতম শীর্ষ নেতা সিরাজ হাক্কানি বলেছেন, আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট বুরহানুদ্দিন রাব্বানি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁরা জড়িত ছিলেন না। এমনকি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্সের (আইএসআই) সঙ্গেও তাদের কোনো যোগাযোগ নেই।
এদিকে, পাকিস্তান সরকার রাব্বানি হত্যাকাণ্ডে আইএসআইয়ের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। আফগান সরকার অভিযোগ করেছে, আইএসআইয়ের যোগসাজশে রাব্বানিকে হত্যার পরিকল্পনা পাকিস্তানে হয়েছিল।
বিবিসি পশতুর (ভাষা) সঙ্গে এক লিখিত সাক্ষাৎকারে সিরাজ হাক্কানি এসব কথা বলেন। সিরাজ হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা জালালউদ্দিন হাক্কানির ছেলে এবং সংগঠনটিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আফগানিস্তানের সরকার রাব্বানির হত্যাকাণ্ডে হাক্কানি নেটওয়ার্ক দায়ী বলে অভিযোগ করে আসছে। প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, তালেবানের সঙ্গে তাঁর সরকার আর শান্তি আলোচনায় বসবে না। রাব্বানির হত্যাকাণ্ডই তাঁর মধ্যে এ উপলব্ধির জন্ম দিয়েছে।
তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন রাব্বানি। গত ২০ সেপ্টেম্বর কাবুলে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় তিনি নিহত হন। এরপর তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়।
সিরাজ হাক্কানি বলেন, ‘আমরা বোরহানুদ্দিন রাব্বানিকে হত্যা করিনি। অথচ ইসলামি আমিরাতের মুখপাত্ররা এই কথা বারবার দাবি করে আসছেন।’ ১৯৯৬ সালে তালেবান কাবুল দখল করার পর থেকে তারা আফগানিস্তানকে ইসলামি আমিরাত হিসেবে আখ্যা দেয়।
রাব্বানি হত্যাকাণ্ডে আইএসআইয়ের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে সিরাজ বলেন, ১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েত দখলদারির সময় মুজাহিদেরা পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি।
আফগান গোয়েন্দাদের দাবি, রাব্বানি হত্যার পরিকল্পনা পাকিস্তানের মাটিতে হয়েছে। দেশটির দ্য ন্যাশনাল ডিরেক্টরেট অব সিকিউরিটি (এনডিএস) বলেছে, তালেবানের শীর্ষ নেতারা পাকিস্তানের কুয়েটা শহরে এ হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর সঙ্গে আইএসআইও জড়িত ছিল।
পাকিস্তানের প্রত্যাখ্যান: পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে কাবুলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে দায়িত্বজ্ঞানহীন দাবি বলে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আফগান কর্তৃপক্ষের এ ধরনের বিবৃতি না দিয়ে বরং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত, কারা শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীদের হত্যা করছে।
তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী রাব্বানিকে হত্যার কয়েক দিন পর আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ঘোষণা দেন, তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা আর নয়—আলোচনা হবে পাকিস্তানের সঙ্গে।
অন্ধ সমর্থন দেবে না তালেবান: তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) বাজাউরের কমান্ডার ও টিটিপির উপপ্রধান মৌলভি ফকির মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে অন্ধভাবে পাকিস্তানকে সমর্থন দেবেন না তাঁরা। পিটিআই অনলাইনের খবরে বলা হয়, বিবিসিকে গতকাল টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মৌলভি ফকির বলেন, পাকিস্তানের আদিবাসী এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে যুক্তরাষ্ট্র। সে যা-ই হোক, যদি যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে পদাতিক বাহিনী পাঠায়, তাহলে ইসলামাবাদকে অন্ধভাবে সমর্থন দেবে না টিটিপি।

ইসরায়েল ক্রমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে: প্যানেট্টা

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আন্দোলনের মধ্যে ইসরায়েল ক্রমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। গত রোববার ইসরায়েল সফরের প্রাক্কালে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। প্যানেট্টা সতর্ক করেন, তাঁদের দুর্বল কূটনৈতিক অবস্থান সেনাবাহিনী দিয়ে হয়তো পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।
গতকাল সোমবার ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর তেল আবিবে পৌঁছান প্যানেট্টা। দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম ইসরায়েল সফর।
ইসরায়েলে অবতরণের আগে বিমানে সাংবাদিকদের প্যানেট্টা বলেন, ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে ইসরায়েলি নেতাদের অবশ্যই আলোচনা শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে মিসর ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারেও কাজ করতে হবে।
ইসরায়েল সফরকালে প্যানেট্টা দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়াদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক করার কথা। এরপর তিনি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সাংবাদিকদের প্যানেট্টা বলেন, ‘ওই এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছি। এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। মিসর ও তুরস্কের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে আমাদের যা যা করা সম্ভব, সবই করব।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মিসরে হোসনি মোবারকের শাসনের অবসানসহ অন্যান্য আরব দেশে আন্দোলনের ঘটনা ইসরায়েলের নিরাপত্তার ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করেছে।
প্যানেট্টার মুখপাত্র জর্জ লিটল বলেন, পেন্টাগন-প্রধানের মতে, নিজস্ব কিছু কর্মকাণ্ড ও নিয়ন্ত্রণের বাইরের কিছু ঘটনা ইসরায়েলের নিঃসঙ্গ হতে থাকার কারণ। এর মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী জঙ্গিদের ইরানের মদদ দেওয়ার বিষয়টি অন্যতম।
ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু: ইসরায়েলে একটি মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গতকাল সোমবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা উত্তরাঞ্চলীয় গালিলি এলাকার তুবা জাঙ্গারিয়া গ্রামের ওই মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এটি ডানপন্থী উগ্রবাদী ইহুদিদের প্রতিহিংসামূলক কাণ্ড হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের কোচ হতে চান জিদান

ফুটবল তিনি ছাড়লেও ফুটবল তাঁকে এত সহজে ছাড়ে কী করে? ২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের উপদেষ্টা হয়ে আবারও সরাসরি ফুটবলে যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে রিয়ালের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো মহানায়ক। তবে কোচিংয়ে আসার উচ্চাশাও আছে তাঁর এবং সেটি তিনি প্রকাশ করলেন ফ্রান্সের কোচ হতে চেয়ে।
অনেক ভালো ফুটবলারেরই কোচিংয়ে সাফল্য না পাওয়ার অনেক উদাহরণ আছে। আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাই তার বড় প্রমাণ। কিন্তু ভবিষ্যতে ফ্রান্সের কোচ হওয়ার প্রশ্নে দ্বিধাহীন জিদান, ‘আমি লা ব্লুজদের কোচ হতে চাই কি না? কেন নয়! এটা (ফ্রান্স দলের কোচ) হওয়াটা খারাপ কিছু নয়। জীবনে সবকিছুই সম্ভব।’
একসময় মাঠে জিদানের সতীর্থ ছিলেন যিনি, সেই লরেন্ত ব্লাঁর অধীনেই ইউরো ২০১২ বাছাইপর্ব উতরানোর পথে রয়েছে ফ্রান্স। ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে থাকা ফ্রান্স শেষ দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পেলেই চলে যাবে টুর্নামেন্টের মূল পর্বে। আর শেষ দুটি ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আলবেনিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।
কোচ হতে চাইলেও নিশ্চয়ই জিদান ২০১২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দলের ভরাডুবি চাইবেন না!

এখনো আস্থা পিটারসেনে

খুব বেশি দিন হয়নি, তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে যখন বিশ্রাম দেওয়া হলো তাঁকে, গুঞ্জন ওঠে যে বিশ্রামটা আসলে এই বার্তা, ‘তোমাকে প্রয়োজন নেই!’ কিন্তু সেই কেভিন পিটারসেন ঠিকই ফিরলেন ওয়ানডে দলে। শুধু তা-ই নয়, অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক বলছেন, ইংল্যান্ডের ২০১৫ বিশ্বকাপ পরিকল্পনায়ও ভালোমতোই আছেন পিটারসেন!
ওয়ানডের আঙিনায় পা দিয়েই ক্রিকেট-বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন পিটারসেন। প্রথম ১০ ইনিংসে ৩টি সেঞ্চুরি, ৩টি ফিফটি। ওয়ানডে গড় একসময় ছিল ‘ব্র্যাডম্যানীয়’। সেই তিনি পথ হারালেনও বিস্ময়করভাবে, গত আড়াই বছরে ৩০ ওয়ানডে ইনিংসে মাত্র দুটি ফিফটি। ওয়ানডে গড় নেমে হয়েছে ৪০.১৩! তবে তাঁর সামর্থ্য জানা আছে বলেই অগাধ আস্থা কুকের।
পাঁচ ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে ভারতের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছে ইংল্যান্ড। হিথ্রো বিমানবন্দরে অধিনায়ক জানালেন পিটারসেনের এখনো দেওয়ার আছে অনেক কিছু, ‘ওয়ানডে দলে পিটারসেনের এখনো অনেক বড় ভূমিকা আছে, বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপ পরিকল্পনায়। গত এক-দেড় বছর ওর ভালো কাটেনি, কিন্তু মনে রাখতে হবে, দীর্ঘ সময় ধরে একই মান ধরে রাখা সহজ নয়। টেস্টে ওর গড় এখন ৫০ ছুঁই-ছুঁই, ওয়ানডেতে ৪০। এমন একজন ক্রিকেটারকে বাতিল করে দেওয়ার কথা উঠছে, যে অসাধারণ একজন পারফর্মার।’
ওয়ানডেতে পিটারসেনকে আবারও সেই বিধ্বংসী চেহারায় ফেরাতে তাঁদেরও যে কিছু করণীয় আছে, এটাও মনে করিয়ে দিলেন কুক, ‘গত বছর দুয়েক ওর ওয়ানডে পরিসংখ্যান ওর ক্যারিয়ারের শুরুর মতো নেই। একসময় ওর গড় ছিল ৫০-এর ওপর, স্ট্রাইক রেট এক শর বেশি। টিম ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ওর সেই ফর্মটা বের করে আনা। কারণ ওই বিধ্বংসী পিটারসেন দলের জন্য বড় সম্পদ।’
ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে দলে এখন প্রতিভাবান তরুণদের ছড়াছড়ি। জনি বেয়ারস্টো, স্কট বর্থউইক, জস বাটলার, অ্যালেক্স হেলসরা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের সামনে অপার সম্ভাবনা। এই তারুণ্যের জোয়ারে যেমন রোমাঞ্চিত কুক, তেমনি ভরসা রাখছেন অভিজ্ঞদের ওপরও, ‘ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে তোলার যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নির্বাচকদের জন্য এবং ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য সেটা দারুণ একটা ব্যাপার। ২০১৫ বিশ্বকাপের জন্য দারুণ একটি দল গড়ে তোলার পরিকল্পনারই অংশ তরুণদের এমন সুযোগ দেওয়া। তবে ওই বিশ্বকাপে পিটারসেন ও সোয়ানদেরও বড় ভূমিকা দেখছি।’

আমলা নেতৃত্ব দেবেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে

এ মাসে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রোটিয়া দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন হাশিম আমলা। ইনজুরির কারণে এ বি ডি ভিলিয়ার্স দলে না থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার সীমিত ওভারের দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই ডানহাতি ওপেনারকে।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুটি টি-টোয়েন্টি ও তিনটি এক দিনের ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেওয়া হলেও এর আগে মাত্র তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে হাশিম আমলার। আর টি-টোয়েন্টি দলে জ্যাক ক্যালিস ও ডেল স্টেইনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার না থাকায় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে খানিকটা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীনই হতে হবে আমলাকে। তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই ক্যালিস ও স্টেইনকে টি-টোয়েন্টি দলে রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচক কমিটির আহ্বায়ক অ্যান্ড্রু হাডসন। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামবেন এই দুই প্রোটিয়া ক্রিকেটার।
দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেছেন মার্ক বাউচার। সাতজন ব্যাটসম্যান নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দলে সুযোগ পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই নির্ভরযোগ্য উইকেটরক্ষক।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টি-টোয়েন্টি ও এক দিনের সিরিজ দিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করবেন গত বিশ্বকাপে ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ গ্যারি কারস্টেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে দল: হাশিম আমলা (অধিনায়ক), জোহান বোথা, জেপি ডুমিনি, মার্ক বাউচার, ডু প্লেসিস, ইমরান তাহির, জ্যাক ক্যালিস, ডেভিড মিলার, মরনে মরকেল, প্রান্দেল, রবিন পিটারসেন, গ্রায়েম স্মিথ, ডেল স্টেইন ও লনওয়াবো সতসোবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি দল: হাশিম আমলা (অধিনায়ক), জোহান বোথা, জেপি ডুমিনি, কলিন ইনগ্রাম, হেইনো কুন, রিচার্ড লেভি, ডেভিড মিলার, আলবি মরকেল, মরনে মরকেল, ওয়েন প্রান্দেল, রবিন পিটারসেন, গ্রায়েম স্মিথ, জুয়ান থেরন ও লনওয়াবো ততসোবে।

শিল্পঋণে খেলাপি হার কমেনি

শিল্পঋণের আদায় বাড়লেও খেলাপির হার কমেনি। ২০১০-১১ অর্থবছর শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিল্পঋণের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। যা এ খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের তুলনায় খেলাপি বেড়েছে সাড়ে তিন শতাংশ। গত অর্থবছরে শিল্পখাতে আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৭১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি।
মূলত সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপির হার বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিকভাবে খেলাপিঋণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, গত অর্থবছর শিল্পখাতে এক লাখ ৩ হাজার ৪৬৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এ খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৫ হাজার ৪৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের বছরের তুলনায় ১৮ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা বা ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে। এসব ঋণের মধ্যে চলতি মূলধনে ৭১ হাজার ৩০০ কোটি ও মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়েছে ৩২ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। যার ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ বিতরণ করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৭৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, বৈদেশিক ব্যাংক ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিতরণ করেছে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ ঋণ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, শিল্পখাতে ঋণ বিতরণ বাড়ায় খেলাপি কিছুটা বেড়েছে। তবে এ হার উদ্বেগজনক নয়। তারপরও খেলাপি ঋণের হার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
শিল্পখাতে মোট খেলাপি ঋণ :২০১০-১১ অর্থবছর শিল্পখাতে খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। তার আগের বছর যা ৮ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ছিল। সে হিসেবে গত অর্থবছর খেলাপির হার ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। খেলাপি থাকা এসব ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ৪৯ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকে ১১ দশমিক ২১ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকে ২৯ দশমিক ৯১ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকে ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ :গত অর্থবছর মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন ব্যাংকে ৪৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ৪০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে, বিদেশিক ব্যাংকে ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ রয়েছে।
ঋণ আদায় :শিল্পখাতে আদায়কৃত ৮১ হাজার ৭১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের আদায় হয়েছে ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকের ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকের ৭৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকের ১০ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আদায় করেছে ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে সেমিনার

বিশ্বজুড়ে উষ্ণায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৪ সেন্টিমিটার বাড়বে। ২০৫০ সাল নাগাদ উচ্চতা বাড়বে ৩২ সেন্টিমিটার ও ২১০০ সাল নাগাদ উচ্চতা বেড়ে দাঁড়াবে ৮৮ সেন্টিমিটারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের এ উচ্চতার কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা তলিয়ে যাবে।
গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক সেমিনারে এমন আশঙ্কার কথা জানান বক্তারা। বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পুরকৌশল বিভাগীয় কমিটি 'জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বাংলাদেশের কৌশল' শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ।

নৌযান শ্রমিকদের ওপর হামলাকারীদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার দাবি

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন নৌবন্দরে নৌযান শ্রমিকদের ওপর হামলাকারীদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নৌযান ফেডারেশন। গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ দাবি জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, কিছু দিন ধরেই চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নৌবন্দরে পুলিশ ও সরকারি দলের বিভিন্ন সংগঠনের লোকজন নিরীহ শ্রমিকদের ওপর হামলা-নির্যাতন চালাচ্ছে। বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার অবহিত করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নৌযান শ্রমিকরা তাঁদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের তরফ থেকে চিহ্নত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হলে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সাঈদীর বিচার শুরু হওয়ায় পিরোজপুরে বাদীপক্ষের স্বস্তি

কাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার শুরু হওয়ায় পিরোজপুরে মামলার বাদী ও অভিযোগকারীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে দু-একজন কথা বললেও মহাজোট সরকারের এই সময়েও অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের অনেকে ভয়ে মুখ খুলতে চান না।
পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রথম মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সাইজউদ্দিন পশারীর ছেলে মানিক পশারী গতকাল মঙ্গলবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে সাঈদীর জ্বালিয়ে দেওয়া পোড়াবাড়িতে বসে তাঁর বিচারের আশায় বেঁচে আছি। তাঁর বিচার শুরু হয়েছে জেনে খুশি হয়েছি।' তিনি একাত্তরের সেদিনটির লোমহর্ষক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, সাঈদী ছাড়াও আরো পাঁচজন মিলে তাঁর টিনের ঘরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই আগুন জ্বলছিল না। তখন ঘরের সামনে থাকা কবুতরসহ কবুতরের খোপে আগুন ধরিয়ে দিলে তা থেকে আগুন লেগে ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর আগে তাঁরা ঘরের মালামালও লুট করে। তিনি আরো জানান, পার্শ্ববর্তী বাদুরার ইব্রাহীম হাওলাদারকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেন সাঈদী। এখন সাঈদীর দোসররা তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যথায় তাঁরা হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এ জন্য সদর থানায় গত শনি ও রবিবার দুটি জিডি করা হয়েছে।
এদিকে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় মামলার বাদী জিয়ানগর উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের মাহাবুবুল আলম হাওলাদার জানান, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সাঈদীর নেতৃত্বে হাবিবুর রহমান মুন্সি, মোস্তফা আহসান সাঈদী ও মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন মিলে প্রায় ২৫-৩০ জন হিন্দুর স্বর্ণালংকারসহ ৭৮ লাখ টাকা লুট করেন। রাজাকাররা এ সময় সাঈদীর নির্দেশে বিনাবালীকে নারিকেলগাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করে।
অন্য সব অভিযোগকারী ও সাক্ষী এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না।

ধর্মীয় উৎসবেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ : মির্জা ফখরুল

ওয়ামী লীগ ধর্মীয় উৎসবেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার রাজনীতিতে এতটাই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়েছে যে ধর্মীয় উৎসবেও তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠানকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা ও সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টাকেও আওয়ামী স্বৈরসরকার সহ্য করতে পারছে না বলেই সরকারের সন্ত্রাসীরা কোটালীপাড়ায় নৃশংসতা চালিয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের কাছ থেকে এ সরকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বেপরোয়া আচরণ করছে।
গতকাল দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ফখরুল এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা পোস্টার লাগানোর সময় গত সোমবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম বাড়ৈর নেতৃত্বে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বাধা দেয় এবং ছাত্রদলের প্রায় ৫০ জন নেতা-কর্মীকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

এক তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ স্ত্রীও নজরদারিতে

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আইনজীবী নাজির হায়াত খান হত্যার ঘটনায় নীপা ওরফে মিতা নামের এক তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ। একই সঙ্গে খোঁজা হচ্ছে একজন আইনজীবীকেও। এ ঘটনায় নিহত নাজির হায়াতের স্ত্রী সানজিদা খান অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে ধানমণ্ডি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তবে বাদী নিজেও রয়েছেন পুলিশের নজরদারিতে।
মামলার তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, আইনজীবী হায়াত খান হত্যার ঘটনায় দেখা দিয়েছে নানা রহস্য। এক তরুণীসহ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে। বাদী সানজিদা খানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় পুলিশ খোদ বাদীকেও সন্দেহের তালিকার বাইরে রাখছে না।
প্রসঙ্গত, ধানমণ্ডিতে নিজ ফ্ল্যাটে খুন হন উচ্চ আদালতের আইনজীবী নাজির হায়াত খান। গত সোমবার বিকেলে ধানমণ্ডির ৯/এ নম্বর রোডের ২৩ নম্বর বাড়ি থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় নিজ শয়নকক্ষের মেঝে থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ।
ধানমণ্ডি থানার ওসি মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, আইনজীবী নাজির খানকে কে বা কারা হত্যা করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় নীপা নামের এক নারীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে আরো কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে। তবে মামলার বাদীও সন্দেহের বাইরে নন।
হত্যাকাণ্ড সংঘটনের বাড়িটির ম্যানেজার নয়ন পুলিশকে জানান, আইনজীবী নাজিরের কাছে একেক সময় একেক মেয়ে আসত। কেউ এসে খোঁজ করলে অনুমতি নিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। সর্বশেষ গত শুক্রবার দুপুরে মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক থেকে মিতা ওরফে নীপা নামের এক তরুণী নাজির খানের সঙ্গে দেখা করতে আসে। এ সময় ইন্টারকমে জানতে চাওয়া হলে নাজির হায়াত মেয়েটিকে ওপরে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে এরপর কখন মেয়েটি ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে গেছে তা তাঁর জানা নেই। এ ছাড়া একজন আইনজীবী প্রায়ই তাঁর বাসায় আসতেন। তাঁর স্ত্রী সানজিদাও তিন-চার দিন এ বাসায় এসেছেন।
মামলার বাদী সানজিদা খান পুলিশকে বলেন, 'আমার স্বামী মাদকাসক্ত ছিল। সম্প্রতি সে আইন ব্যবসা বাদ দিয়ে সব সময় মদ আর পরনারী নিয়ে পড়ে থাকত। আমি বাসায় থাকা অবস্থায় প্রায়ই নাজির বাইরে থেকে মেয়ে নিয়ে এসে আলাদা কক্ষে থাকত। তাকে অনেক বোঝানো হয়েছে। সুপথে ফেরানোর জন্য হজে গিয়ে তার জন্য দোয়া কামনা করেছি। কিন্তু দিনকে দিন নাজির আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ কারণে গত ১ জুন আমি তার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাই।'
মামলার বিবরণীতে সানজিদা বলেছেন, নাজিরের বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর তিনি লালমাটিয়ার 'সি' ব্লকের একটি বাসায় ওঠেন। এর আগে তাঁরা একসঙ্গে ধানমণ্ডির ১৫ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর বাসার ২/ডি নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে রুমানা হায়াত নরওয়ে প্রবাসী। ছেলে জাফির আহমেদ খান থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায়। প্রায় দুই মাস আগে নাজির ধানমণ্ডির এই ফ্ল্যাটটি কিনে এখানেই বসবাস করে আসছিলেন।
সানজিদা দাবি করেন, হায়াত খান ২৩ নম্বর বাড়ি কেনার পর তিনি কখনো সেখানে যাননি। তবে নাজির গত মে মাসে ধানমণ্ডির ৬ নম্বর রোডে একটি জমি বিক্রি করার পর তা থেকে কিছু টাকা তাঁকে দিয়েছেন। নাজিরের সঙ্গে ফোনে মাঝেমধ্যেই তাঁর কথা হতো। দেখা হতো ধানমণ্ডি লেকে। সর্বশেষ কথা হয় ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১টার দিকে। ওই দিন নাজিরের জন্য তিনি কিছু খাবারও পাঠান। ২ ও ৩ অক্টোবর নাজিরের মোবাইল ফোনে বারবার কল করেও তিনি কোনো সাড়া পাননি। এরপর তাঁর খোঁজ জানতে গাড়িচালক সোহেলকে নাজিরের বাসায় পাঠান। তাঁর বাসায় গিয়ে সোহেল জানতে পারেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর নাজির বাসার নিচে নামেননি। পরে নিচতলা থেকে ইন্টারকমে ফ্ল্যাটে ফোন করেও সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে ওসি মনিরুজ্জামান আরো জানান, নাজির-সানজিদা আলাদা থাকলেও তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। নিয়মিত যোগাযোগ হতো। তাঁদের একের প্রতি অপরের ভালোবাসাও ছিল। কিছুদিন আগে নাজির প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করেন। কয়েক দিন আগে এক বান্ধবীকে নিয়ে কঙ্বাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন নাজির। এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, টাকা-পয়সার বিরোধে আইনজীবী নাজিরকে খুন করা হতে পারে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কামরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। নাজিরের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা খোয়া গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর বাসায় আসা অতিথিদের নামের তালিকা পাওয়া গেছে। ভবনের রেজিস্টার খাতা জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর সূত্র ধরে তদন্তকাজ চলছে।
এদিকে নাজিরের স্ত্রী সানজিদার সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলব না। যা বলার পুলিশকে বলেছি। আপনারা পুলিশের কাছ থেকে জেনে নিন।'

পর্যালোচনা শেষে বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে

প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী জাতীয় বেতন ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করবে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় বেতন ও উৎপাদনশীলতা কমিশন তাদের প্রতিবেদন পেশকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
চেয়ারম্যান মাহে আলমের নেতৃত্বে কমিশন সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর কার্যালয়ে প্রতিবেদন পেশ করেন। অত্যন্ত পরিশ্রম করে মাত্র আড়াই মাসে এ প্রতিবেদন পেশ করায় প্রধানমন্ত্রী কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।
বাজেটগত সীমাবদ্ধতা থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদন সুপারিশমালা যথাযথ পর্যালোচনার পর বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তাঁর সরকার গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কমিশনের সদস্য ওয়াজেদুল ইসলাম ও আবদুল মতিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার কয়েকটি পাটকল ফের চালু করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে এসব মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সরকার যত শিগগির সম্ভব বন্ধ বাকি মিলগুলোও চালু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কম্পানি ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে এ মিলগুলো চলবে। এর ফলে ভবিষ্যতে আর কেউ এ মিল বন্ধ করতে পারবে না।
শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষকদের সহায়তা কামনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (আরইউটিএ) সভাপতি মুশফিক আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ড. মো. সাদেকুল আরেফিনের নেতৃত্বে আরইউটিএর একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর কার্যালয়ে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ এ কথা জানান।

জাবির ভর্তি পরীক্ষার আসনবিন্যাস ও ফল জানা যাবে মোবাইলে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। পরীক্ষা চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। পরীক্ষার আসন বিন্যাস ও ফল মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার (এসএমএসের) মাধ্যমে জানা যাবে। পরীক্ষার আসন বিন্যাস মোবাইলে ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানা যাবে আগামী শুক্রবার থেকে।
এ জন্য মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে JUSPRoll Number এবং পাঠাতে হবে 9934 নম্বরে। যেমন JU SP 100005 লিখে পাঠাতে হবে 9934 নম্বরে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট (www.Juniv.edu/ admission.php) এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানা যাবে।
মোবাইলে ফলাফল জানতে মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে JUR Roll Number। এরপর পাঠাতে হবে 9934 নম্বরে। উদাহরণস্বরূপ JU R 100007 লিখে পাঠাতে হবে 9934 নম্বরে। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদ ও দুটি ইনস্টিটিউটের আওতাধীন ৩৩টি বিভাগে আগের বছরের চেয়ে ৬০০ আসন বাড়িয়ে মোট দুই হাজার ৪০০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

রংপুর কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মোস্তফা মিয়া (৪০)। বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারি গ্রামে।
সোমবার ভোরে অসুস্থ হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। কারা সূত্র জানায়, মোস্তফা একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি অসুস্থ হলে মার্চে তার খাদ্যনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। সোমবার ভোরে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা যান।

তজুমদ্দিনে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ (পিআইও) ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তজুমদ্দিনের তিনটি আবাসন প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে বরিশাল দুদকের উপসহকারী পরিচালক আবুল হাসেম কাজী একটি এবং উপপরিচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার গত সোমবার বিকেলে ভোলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অন্য দুটি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন।
তজুমদ্দিনের সাবেক ইউএনও নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার, পিআইও নগেন্দ্র চন্দ্রকে পৃথক তিনটি মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার বর্তমানে খুলনা ওয়াসার সচিব পদে এবং নগেন্দ্র চন্দ্র রায় বর্তমানে পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া স্থানীয় আটজনকে পৃথক তিন মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ফাতেমাতুজ্জোহরা আবাসন প্রকল্পের মামলায় সোনাপুর ইউপির সাবেক সদস্য শাহ্ আমজাদ হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি শাহ মো. শাহাবুদ্দিন, প্রকল্প সচিব ফজলুর রহমান কবির ও প্রকল্প সদস্যসচিব নুর নবী; চর জহিরউদ্দিন রংধনু আবাসন প্রকল্পের মামলায় প্রকল্প সভাপতি শাহজাহান ও আলী আজম এবং চর জহিরউদ্দিন-১ আবাসন প্রকল্পের মামলায় আবুল খায়ের মাস্টার ও মো. ফারুককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সাত বছর পর উত্তর জেলা যুবদলের নতুন কমিটি

সাত বছর পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২ অক্টোবর কাজী মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনকে সভাপতি ও সোলাইয়মান মঞ্জুকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয় সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সহসভাপতি মো. সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জহির আজম চৌধুরী।
নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান মঞ্জু গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কেন্দ্র ঘোষিত উত্তর জেলা যুবদলের নতুন কমিটি হাতে পেয়ে ঝিমিয়ে পড়া যুবদলের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী খুব দ্রুত আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করব। সাত বছর পর নতুন কমিটি হওয়ায় উত্তর জেলা যুবদলের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন।' প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে নগরীর মুসলিম হলে কাউন্সিলের মাধ্যমে উদয় কুসুম বড়ুয়াকে সভাপতি ও হাজী এম এ কাসেমকে সাধারণ সম্পাদক করে উত্তর জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতারা।

চোখের জলে দুই মেয়ের চিরবিদায়

বাবার ট্রাক্টরের নিচে পড়ে প্রাণ হারানো ছোট্টশিশু দুই বোন আশা ও রানির দাফন গতকাল মঙ্গলবার সকালে সম্পন্ন হয়েছে। দুই মেয়েকে চিরবিদায় দেওয়ার পর বাবা কাবুল উদ্দিন ও মা সাবিনা বেগমের মুখে যেন কোনো কথা ছিল না। বারবার তাঁরা শুধু অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন। দুই নাতনিকে হারিয়ে একই অবস্থা দাদা ইলিয়াস ও দাদি বাহার বেগমের। গত সোমবার বিকেলেও রাজশাহীর তানোরের বিলি্ল দিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক কাবুল উদ্দিনের বাড়ি ছিল হাসি-খুশিতে ভরা। প্রথমবার মেয়ে হওয়ার পর একটি ছেলের আশায় একে একে আরো তিনটি মেয়ে হলেও কাবুলের পরিবারে কখনো এ নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি হয়নি।
বরং চার মেয়েকে নিয়ে অনেকটা সুখেই সংসার গড়ে তুলেছিলেন কাবুল ও তাঁর স্ত্রী সাবিনা। চার মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু গত সোমবার বিকেলে এক সঙ্গে দুই মেয়েকে হারিয়ে সেই সুখের সংসারেই নেমে এলো যেন শোকের ঘনকালো মেঘ।
সোমবার বিকেলে বাড়ির পাশে জমিতে ট্রাক্টরে হালচাষ করছিলেন কাবুল। মেঝ মেয়ে আশা, সবার ছোট বোন রানিকে কোলে নিয়ে চড়েছিল ট্রাক্টরে, বাবার পেছনে। কিন্তু হঠাৎ ঝাঁকি লেগে নিচে পড়ে যায় আশা ও রানি। ট্রাক্টরের লোহার ফালে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় দুই বোন। এ ঘটনায় আশা ও রানির পরিবারে যেমন, তেমনি এলাকাবাসীর মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে আসে। গতকাল সকালে শেষবারের মতো লাশ দেখতে এসে আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসী চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিল না। তাদের কান্নায় ওই এলাকার বাতাস যেন ভারি হয়ে ওঠে। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিলি্ল দিয়াড়াপাড়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে আশা ও রানিকে পাশাপাশি দুটি কবরে দাফন করা হয়। দুই মেয়েকে হারিয়ে বাবা কাবুল মাঝেমধ্যেই চিৎকার দিয়ে বলে উঠছিলেন, 'আমি নিজ হাতে দুই মেয়েকে মেরে ফেললাম। কেন তাদের আমি ট্রাক্টরে তুলেছিলাম। আমি এখন কী নিয়ে থাকব। আমার দুই মেয়ে কোথায়? আমাকে তাদের কাছে নিয়ে চল।'
তানোর থানার ওসি ইসলাইল হোসেন বলেন, বিষয়টি দুর্ঘটনা, তাই লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

র‌্যাবের হাতে আটক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ফিরোজ-উল হাসানের মুক্তির দাবিতে গতকালও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে ছাত্রলীগ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পূর্ব ঘোষিত অবরোধ করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের অনুরোধে তা প্রত্যাহার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ফিরোজ-উল হাসানের মুক্তির দাবিতে গতকাল সকাল ১০টার দিকে কয়েক শ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানববন্ধন করে। মানববন্ধন শেষে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা পূর্ব ঘোষিত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল শিক্ষক এবং আশুলিয়া থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এ অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরজু মিয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বলেন, 'আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেছি। শিক্ষক ফিরোজ-উল হাসানের মুক্তির বিষয়ে আমাদের তাঁরা আশ্বস্ত করেছেন। আশা করছি, আজকের (গতকাল) মধ্যে তিনি মুক্তি পেয়ে আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন।' এরপর ছাত্রলীগ অবরোধ না করে ক্যাম্পাসে ফিরে যায়। তবে গতকাল বিকেলে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত শিক্ষক ফিরোজ-উল হাসানকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌরসভার রাস্তা নির্মাণকাজের ৩০ লাখ টাকার টেন্ডার ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার দরপত্র জমাদানের আগেই গত সোমবার রাতে পৌর মেয়রের সঙ্গে আঁতাত করে তাঁরা ওই টেন্ডার ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দুর্গাপুর পৌরসভা এলাকায় শহর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সাফলগাছী এলাকায় একটি রাস্তা পাকাকরণের জন্য ১৭ লাখ ৩২ হাজার ২২৯ টাকা এবং ধরমপুর শিলালপাড়া এলাকায় অন্য একটি রাস্তা পাকাকরণ কাজের জন্য ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে গত ৪ সেপ্টেম্বর একটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ওই টেন্ডারের জন্য শিডিউল বিক্রির সময় নির্ধারণ করা হয় ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। দরপত্র জমাদানের শেষ সময় ৪ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত। আহ্বানকৃত এই টেন্ডারে অংশ নেওয়ার জন্য দুই গ্রুপে মোট ৫২টি শিডিউল বিক্রি হয়। কিন্তু গতকাল টেন্ডার বাঙ্ খোলার পর দেখা যায় দুই গ্রুপে মাত্র ছয়টি শিডিউল জমা পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্গাপুর পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর কালের কণ্ঠকে জানান, আওয়ামী লীগের কয়েকজন ঠিকাদার গত সোমবার রাতেই পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই টেন্ডারটি ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন; যার কারণে ৫২ জন ঠিকাদার শিডিউল সংগ্রহ করলেও দুই গ্রুপের জন্য তিনটি করে মাত্র ছয়টি শিডিউল জমা পড়েছে।
ভাগ-বাটোয়ারার কথা অস্বীকার করে পৌর মেয়র ও থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সহকারী প্রকৌশলী আবুল কাশেমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিই এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে সহকারী প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, 'বাইরে কী হয়েছে তা বলতে পারব না। টেন্ডার জমাদানের শেষ সময় পর্যন্ত দুই গ্রুপে মাত্র ছয়টি শিডিউল জমা হয়েছে এটাই জানি। টেন্ডার নিয়ে পৌরসভায় কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।'

দুপচাঁচিয়ার হিমাগারে আলু পচছে

গুড়ার দুপচাঁচিয়া বরেন্দ্র স্পেশালাইজড হিমাগারে প্রান্তিক কৃষকদের সংরক্ষিত আলু বীজ পচে নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিপূরণ না পেয়ে হিমাগারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে তারা। এ সময় কৃষকরা বগুড়া-নওগাঁ সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হিমাগারের মালিক সুরেশ আগরওয়ালা ও তাঁর স্ত্রীর পাসপোর্ট, ভোটার আইডি কার্ড, হিমাগারের লাইসেন্স ও সম্পত্তির দলিল জব্দ করে। সেই সঙ্গে দেড় মাসের মধ্যে দুই কিস্তিতে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেয়। সোমবার এ ঘটনা ঘটে। কৃষকদের অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার প্রায় তিন হাজার প্রান্তিক কৃষক ওই হিমাগারে ১০ হাজার বস্তা আলু বীজ সংরক্ষণ করে।
কিন্তু মৌসুম শুরুর দুই মাস আগেই কয়েকজন কৃষক হিমাগার থেকে আগাম আলু উত্তোলন করতে গিয়ে দেখেন তাঁদের আলু বীজে পচন ধরে গাছ গজিয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গত ২০ ও ২৩ সেপ্টেম্বর কৃষকরা তাদের আলুর সন্ধান নিতে হিমাগারে এসে ফটকে তালা দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করে। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হিমাগার কর্তৃপক্ষ ৩ অক্টোবর কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এ কারণে সোমবার সকাল থেকে কৃষকরা ক্ষতিপূরণের টাকা নিতে হিমাগারের সামনে ভিড় জমায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ হিমাগারের ফটকে 'দুর্গা পূজার কারণে হিমাগার বন্ধ' বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দেয়। বিষয়টি দেখে কৃষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে হিমাগারের ফটকের তালা ভেঙে হিমাগারে ঢুকে অফিসের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। পরে তারা বগুড়া-নওগাঁ সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পেঁৗছে পরিস্থিতি শান্ত করে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে নূর ইসলাম, আবদুস সামাদ, ইসরাফিল, ইয়াছিন আলী, বাবু মাস্টার বলেন, হিমাগারে বীজ আলু রাখা হয়েছিল সামনের মৌসুমে জমিতে লাগানোর জন্য। কিন্তু হিমাগার মালিকপক্ষের অবহেলার কারণে সব বীজ পচে গেছে। তাঁরা ক্ষতিপূরণের কথা বললেও মূল দরজায় তালা লাগিয়ে নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি নূর ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'সড়ক অবরোধের কথা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। হিমাগার কর্তৃপক্ষ যেন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগে পালাতে না পারে সেজন্য ইউএনওর নির্দেশে তাদের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।' ইউএনও সুফিয়া নাজিম বলেন, 'ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর আগে কৃষকরা অভিযোগ করায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে আশ্বাস দিয়েছে, তা ভঙ্গ করলে মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
যোগাযোগ করা হলে হিমাগারের মালিক সুরেশ আগরওয়ালা বলেন, যান্ত্রিক কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল না। যেহেতু কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে, তাই তা পূরণের ব্যবস্থা করা হবে। ইউএনওর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। দেড় মাসের মধ্যে দুই কিস্তিতে ক্ষতিপূরণের টাকা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

৯ অক্টোবর বিচারপতিদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় করবেন আইনজীবীরা

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সরকার সমর্থক অংশের নেতারা প্রথা অনুযায়ী আগামী ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় করার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিচারপতিদের শুভেচ্ছাবিনিময় বর্জন করতে সমিতির নেওয়া সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে দাবি করা হয়েছে। সমিতির ব্যানারে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সমিতির ১৪ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটিতে সরকার সমর্থক আইনজীবীর সংখ্যা তিন।
একজন সহসভাপতি, একজন সহসম্পাদক ও একজন সদস্য নির্বাচিত হন সরকার সমর্থক প্যানেল থেকে। সভাপতি-সম্পাদকসহ অন্য ১১টি পদে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক আইনজীবীরা নির্বাচিত হন।
এদিকে সমিতির ব্যানারে তিন সদস্যের করা সংবাদ সম্মেলনকে অবৈধ বলেছেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।
প্রথা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ ছুটির পর যেদিন কোর্ট খোলে সেদিন সমিতির নেতারা বিচারপতিদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় করেন। কিন্তু এবার সমিতি এ কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। কয়েক দিন আগে সমিতির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল সরকার সমর্থক তিন আইনজীবী সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে সহসভাপতি জগলুল হায়দার আফ্রিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। উপস্থিত ছিলেন সহসম্পাদক এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও সদস্য জেসমিন আক্তার কেয়া।

ড.মিজানুরকে কারাগারে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় মানববন্ধন

সিলেট কারাগারে ঢুকতে না দিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে সাংবিধানিক কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার আন্দোলনকে পদদলিত করা হয়েছে, যা নির্যাতনের শামিল ও অপমানজনক। এ ঘটনা শুধু জাতীয় মানবাধিকার কমিশনই নয়, একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন এদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়ার একটি অশনি সংকেত যা মেনে নেওয়া যায় না।
গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২০টি সংগঠন সংহতি প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ (বামাসপ) এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

অপরিণত মানুষের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রয়োজন by ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

শেক্সপিয়ারের নাটকে সংলাপের ভাষা : 'টু বি অর নট টু বি'_হবে কি হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের মানসিক দোলাচল এখন যে পর্যায়ে, তার সঠিক বর্ণনা উদ্ধৃত এ সংলাপের ভাষা এবং এর নিহিতার্থ থেকে পাওয়া যাবে। প্রসঙ্গটি নিয়ে যা-ই বলা হোক না, তা বুঝতে বাঙালি চরিত্র ও মানসিকতার অন্তরাল জেনে-বুঝে নিতে হবে। আবেগপ্রবণ ও হুজুগে বাঙালি কখনো তাদের স্মৃতিশক্তির জন্য কীর্তিত হয়নি। অবশ্য বাঙালির মধ্যে যে দু-চারজন স্মৃতিধর মানুষ নেই, তা নয়।

বৃহস্পতি ও রবিবার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বন্ধ

দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার এবং কলম্বাস ডে উপলক্ষে আগামী রবিবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া কনস্যুলার সেকশন এবং আমেরিকান সেন্টারের আর্চার কে ব্লাড লাইব্রেরি ও স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজিং সেন্টারও বন্ধ থাকবে। গতকাল ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, বন্ধের দিনও আমেরিকান নাগরিকদের জন্য জরুরি সেবা প্রদান করা হবে। এ জন্য তাঁরা ৮৮৫ থেকে ৫৫০০ নম্বরে ফোন করে কর্তব্যরত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

হাইকোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন বিএনপি সমর্থক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী (মানিক) লন্ডনে টিভি টক শোতে অংশ নিয়েছেন। বিচারাধীন মামলা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন তিনি। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের কাছে নালিশ জানাবে বলে জানিয়েছেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। প্রধান বিচারপতি কোনো ব্যবস্থা না নিলে সমিতি আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি জানান।
বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী লন্ডনে একটি টিভি টক শোতে অংশ নিয়েছেন বলে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। 'লন্ডনে টক শোতে ব্যস্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী' শীর্ষক সচিত্র ওই প্রতিবেদন দেখে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন করে ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শামসুল হক চৌধুরী হলে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বক্তব্য দেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি শাখার সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তাঁরা বলেন, একজন বিচারপতির টক শোতে বক্তব্য দেওয়া দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। বিচারপতির টক শোতে বক্তব্য দেওয়া নজিরবিহীন। কোনো বিচারপতি যদি রাজনীতি করতে চান, তাঁর উচিত হবে বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতি করা। রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, টক শোতে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী বেশ কিছু বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'আইনজীবী এম ইউ আহমেদ মৃত্যুর আগে থেকেই অনেক রোগে ভুগছিলেন।' এটা মাননীয় বিচারপতি কিভাবে জানলেন? তিনি কি ডাক্তার? এম ইউ আহমেদ কি কখনো তাঁর কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এম ইউ আহমেদের অনেক রোগ ছিল_এ রায় তিনি কিভাবে দিলেন?

ঋণ খেলাপে পিছিয়ে নেই বিশিষ্ট ব্যক্তিরা by মজুমদার বাবু

ম্প্রতি ২৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ১০ ঋণখেলাপির চূড়ান্ত তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রণীত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ ১০ খেলাপির এসব তালিকায় নাম রয়েছে অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের, যাঁদের অনেকেই সমাজে সুপরিচিত। এসব পরিচালক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৭৬০ কোটি টাকা পরিশোধ করছেন না। শুধু একবার নয়, অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েকবার ঋণ নিয়েছেন। ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও এসব পরিচালকের অনেকে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে ফের ঋণ নিয়েছেন। কয়েকজন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদেও দিব্যি 'দায়িত্ব পালন' করে যাচ্ছেন।

কক্সবাজারে পাহাড় কেটে হোটেল নির্মাণ করায় জরিমানা

পাহাড় কেটে হোটেল নির্মাণের অপরাধে বেসরকারি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান আইডিয়াল রিয়েল এস্টেটকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও এক মাসের মধ্যে কাটা পাহাড় ভরাটের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অনুমোদন ছাড়া কক্সবাজারের সৈকত এলাকায় পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ ও পাহাড় কাটার কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে গতকাল মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী শুনানি শেষে এ দণ্ড দেন। কক্সবাজারের ঝিলংঝা মৌজার কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অদূরে একটি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ করছে আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট। প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট চার হাজার বর্গফুট আয়তনের পাহাড় কেটে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নষ্টের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে জানিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুনীর চৌধুরী বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে পাহাড় কাটার কোনো বিধান নেই। তবে বিশেষ প্রয়োজনে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমোদনের বিধান থাকলেও আইডিয়াল কর্তৃপক্ষ তা নেয়নি।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ে আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট লিমিটেড কম্পানির উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবদুল মমিন সরকার ও পরিচালক আলী আহমেদকে তলব করা হয়। অভিযুক্তরা পাহাড় কাটার বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ মোতাবেক পাহাড়টি সুরক্ষায় পুনরায় মাটি ফেলে ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লিখিত অঙ্গীকার দেন। এ ছাড়া জরিমানার ১০ লাখ টাকা জমা দেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আইডিয়াল কর্তৃপক্ষ পাহাড়টিতে মাটি ফেলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত প্রকল্পের ছাড়পত্র প্রদান, ব্যাংকঋণ সুবিধা প্রদান বন্ধ রাখার জন্য বিনিয়োগ বোর্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর পত্র দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানও স্থগিত রাখা হয়েছে।

সঙ্গী এখন ইন্টারনেট by ফয়সাল হাসান

য়েক বছর আগেও ইন্টারনেট ব্যবহার করা, ব্যক্তিগত ই-মেইল আইডি থাকা, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থাকায় বেশ একটা স্মার্টনেসের ব্যাপার ছিল। সে সময় যার ফেসবুক আইডি ছিল অথবা ই-মেইল আইডি ছিল, তাকে অনেকেই সমীহের চোখে দেখত। বন্ধুমহলে সে তরুণ বা তরুণী বেশি কদর পেত, যে ইন্টারনেট ঘেঁটে প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য বের করতে পারত নিমেষেই। ইন্টারনেটের জগতের সঙ্গে যার পরিচয় ছিল, তাকেই অন্য দশজনের চেয়ে স্মার্ট মনে করা হতো তখন। এককথায় ইন্টারনেট ব্যবহার করাটা ছিল স্মার্টনেসের পরিচায়ক।

তরুণেরাই পারে সব সম্ভব করতে by ডেম জেন গুডঅল

প্রাণী সংরক্ষণবিদ ও গবেষক ডেম জেন গুডঅল। তাঁর জন্ম ১৯৩৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি প্রাণী নিয়ে গবেষণা করতে আফ্রিকা মহাদেশে পাড়ি জমান এবং অদ্যাবধি প্রাণী অধিকার রক্ষায় কাজ করে চলেছেন। >>দিগন্তজোড়া সবুজ ঘাস, মাটির সোঁদা গন্ধ আর পশুপাখি—এসবের মধ্যেই আমি খুঁজে পাই জীবনীশক্তি। আমার যখন বয়স সবে চার কি পাঁচ, তখন থেকেই প্রকৃতির সঙ্গে আমার এমন নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। লন্ডন শহর ছেড়ে তখন প্রথমবারের মতো গ্রামে গিয়েছিলাম আমি। গ্রাম দেখে তো আমার পাগল হওয়ার অবস্থা। চারদিকে খোলা প্রান্তর, মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সবুজ মাঠ।

সংসদের ১১তম অধিবেশন ২০ অক্টোবর

রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান নবম জাতীয় সংসদের ১১তম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। আগামী ২০ অক্টোবর বিকেল ৪টায় এই অধিবেশন বসবে। সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রপতি গতকাল মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেছেন বলে সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার বাধ্য-বাধকতা রয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট চলতি সংসদের ১০ম অধিবেশন শেষ হয়। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা ওই অধিবেশন বর্জন করেন।

আফ্রিকার শীর্ষচূড়ায় by পল্লব মোহাইমেন

মুসা ইব্রাহীম ল্যাপটপে ভিডিও দেখাচ্ছিলেন। নতুন একটা ভিডিও ক্লিপ চালু হলো। পুরো পর্দাটাই প্রায় অন্ধকার। ক্যামেরার দৃষ্টি সীমার নিচে দেখা যাচ্ছে ঘন মেঘ। মেঘের ওপারে দিগন্তে সোনালি আভা। ধীরে ধীরে সেই আভা উজ্জ্বল হচ্ছে। আলোকিত হয়ে উঠছে চারদিক। মুসার সহঅভিযাত্রী নিয়াজ মোরশেদ পাটওয়ারী বলেন, ‘দেখেন, সূর্য উঠছে। আমাদের নিচে তখন মেঘ। সেই মেঘ ভেদ করে সূর্য উঠছে।

ছবি এঁকে ইরান জয় by ইমাম হাসান

‘ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল ফিচার’ শিরোনামে জলরঙে আঁকা ছবি। যেখানে শিল্পী ফুটিয়ে তুলেছেন ইরাক-ইরান যুদ্ধের ভয়াবহ একটি চিত্র। আর তারই পাশে একদল তরুণ যুবক আলোর দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে যোদ্ধাদের। এমনি একটি ছবি এঁকে সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষার্থী হাসান মোর্শেদ জয় করে এনেছেন সেরা পেইন্টিং অ্যাওয়ার্ড।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ১৮ ক্লাবের মেলা by ফয়সাল হাসান

ড়ির কাঁটা তখন ১১ ছাড়িয়েছে। বেলা নয়, রাত ১১টা। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) মূল ফটক দিয়ে ক্লান্ত ভঙ্গিতে দল বেঁধে বের হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ভিড়ের মধ্য থেকেই কথা হয় রানা, মেহেদী, অভিজিত, সানি, শাকিল, অতশদের সঙ্গে। তাঁদের সবার চোখমুখে ক্লান্তি যেমন ছিল, তার চেয়ে বেশিই ছিল আনন্দের ছাপ। তাঁরা সকাল ১০টায় এসে পৌঁছেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর এখন রাত ১১টায় বের হচ্ছেন। হবেনই বা না কেন, আজ যে সারা বছরের মধ্যে অন্য রকম একটা দিন ছিল এনএসইউ শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষার্থীদের ১৮টি ক্লাব রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। সব ক্লাবের নিজস্ব বিভিন্ন ইভেন্ট থাকে বছরজুড়ে, কিন্তু এমনভাবে এক ছাতার নিচে সব ক্লাবকে পাওয়া যায় শুধু এই একটা ইভেন্টেই। সব ক্লাব যখন এক জায়গায় তাই ইভেন্টার নামও বেশ জুতসই। ‘ক্লাব কার্নিভাল’।

উজ্জীবিত দিনের জন্য by অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী

দিনে মন-মেজাজ চনমনে রাখতে খাদ্যের ভূমিকা আছে, তা জানেন কজন? অনেকে জানেন। এনার্জিও উজ্জীবিত হয়। কথায় আছে, ‘দিনে একটি আপেল খেলে ডাক্তার থাকে দূরে’। আমরা যা খাই, এর সঙ্গে আমাদের মেজাজ, অনুভূতি—এসবের সম্পর্ক নিয়ে ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। প্রমাণ আছে, খাবারে পরিবর্তন আনলে বিপাককর্ম যায় বদলে, বদলে যায় মগজের রসায়ন; শরীরের এনার্জি মান ও মেজাজ—দুটোই হয় প্রভাবিত।

শিশুর স্থূলতাও ভালো নয় by তাহমীনা বেগম

তিথির বয়স আট বছর। দিন দিন মোটা হয়ে যাচ্ছে। তার ওজন ৫৫ কেজি। ক্লাস থ্রিতে পড়ে। ক্লাসে সে সবার চেয়ে মোটা ও লম্বা, বাড়ন্ত শরীর। মাঝেমধ্যে এর জন্য বিব্রত হতে হয়। মা-বাবাও উদ্বিগ্ন। বুঝতে পারছেন না, কী করবেন। এই যে বয়সের তুলনায় ওজন অনেক বেশি, এটাকে আমরা বলি অবেসিটি বা স্থূলতা। শিশু ও কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থূলতা অনেক ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে। অনেকেই জানতে চান, শিশু অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাচ্ছে কেন। স্থূলতার কারণগুলোকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করি।

স্থূলতা কমাতে সার্জারি! by ফারুক পাঠান

বিশ্বজুড়ে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ স্থূলতা রোগে ভুগছে এবং ৬৪ শতাংশ মানুষ ভুগছে ওজনাধিক্য রোগে। হ্যাঁ, স্থূলতাকে এখন আমরা একটি রোগ হিসেবেই দেখি। শুধু তা-ই নয়, ভয়ংকর অসংক্রামক ব্যাধিগুলো, যেমন—উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হূদেরাগ, ক্যানসার ইত্যাদির মূল সহযোগী রোগ হিসেবে মূল্যায়ন করি। স্থূলতা শুধু যে এই রোগগুলোরই কারণ তা নয়, এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মৃত্যুঝুঁকি।

তিনবিঘা-দহগ্রাম আঙ্গরপোতায় বিজিবি ও এসএসএফ ডিজি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সফরকে সামনে রেখে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দেশের আলোচিত ছিটমহল পরিদর্শন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আনোয়ার হোসেন ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদীন। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় সরেজমিনে দেখতেই তাঁরা এখানে আসেন বলে জানা গেছে। এদিকে আগামী ৮ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের দিন ঠিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গতকাল দুপুর পৌনে ১২টায় বিজিবি ও এসএসএফ মহাপরিচালকদের বহনকারী বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারটি দহগ্রামের বঙ্গেরবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সেখান থেকে তাঁরা দহগ্রাম ১০ শয্যার হাসপাতাল, তিনবিঘা করিডর ও বিজিবির পানবাড়ী সীমান্ত ফাঁড়ি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তাঁদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি দহগ্রাম থেকে উড্ডয়ন করে পাটগ্রাম হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। এই হেলিপ্যাডটিও কিছু সময় ঘুরে দেখেন এসএসএফ কর্মকর্তারা।
এদিকে তিন বিঘা করিডরে বিজিবির মহাপরিচালককে স্বাগত জানান ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের উত্তরবঙ্গের আইজি কমল কেশওয়ানি ও জলপাইগুড়ির ডিআইজি গজেন্দ্র সিং। সেখানে বিজিবির ডিজিকে গার্ড অব অর্নার প্রদান করে বিএসএফ। পরে তাঁরা বিএসএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পানবাড়ী বিজিবি ফাঁড়িতে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় সরেজমিনে দেখতেই তাঁরা এখানে আসেন। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী দহগ্রামে এসে চালু হওয়া বিদ্যুৎ লাইন, ১০ শয্যার হাসপাতালের আন্তবিভাগ এবং গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে চালু হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল টেলিটক নেটওয়ার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া একই দিন পাটগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

ছাত্রকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ!

ছন্দের লোকদের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বানানোর প্রতিবাদ করায় ১২ ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করেছেন মাদ্রাসা অধ্যক্ষ। গুরুত্বর আহত অবস্থায় মো. কাওসার নামের এক শিক্ষার্থীকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মাহাশ্রাদ্দি নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অধ্যক্ষের বিচার দাবি করেছেন।
আহত ছাত্ররা জানায়, ওই মাদ্রাসার অভিভাবক পর্যায়ে নির্বাচনের জন্য অধ্যক্ষ মাওলানা মহিউদ্দিন আফছারি কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গোপনে তাঁর পছন্দের লোকদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে গেলে ওই মাদ্রাসার সব শ্রেণীর ছাত্ররা আন্দোলনের ডাক দেয় এবং ঘটনার দিন সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন শুরু করে। এতে অধ্যক্ষ ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তিনি ১২ ছাত্রকে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে একটি শ্রেণীকক্ষে ডেকে নিয়ে বেত্রাঘাত চালিয়ে আহত করেন। গুরুত্বর আহত অবস্থায় ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. কাওসারকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কাওসারের বাবা আ. গনি শরীফ বলেন, 'ঘটনার জন্য অধ্যক্ষ মহিউদ্দিনের বিচার চাই। তাঁর বিচার না হলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাসহ অভিভাবকরা আন্দোলনে নামবেন।'

মা ও শিশুর পুষ্টি ভালো নেই by মানসুরা হোসাইন

০ বছর বয়সী লিকলিকে শরীরের বিলকিস তিন সন্তানের মা। বড়টার পাঁচ বছর, আর সবচেয়ে ছোটটার বয়স চার মাস। গত শনিবার সন্ধ্যায় কারওয়ান বাজার পাতাল-পারাপারে কথা হয় বিলকিসের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশের খাওয়া শেষে শুধু মাছ বা মাংসের ঝোলসহ যা অবশিষ্ট থাকে, ১০ টাকা করে দুই প্লেট খাবার কিনে স্বামী ও তিন বছর বয়সী ছেলেকে নিয়া খাইছি। সারা দিনে এ খাবার একবারই জুটছে। জিনিসের যে দাম, কী আর খামু! দিনে একবার খাই, তা-ও পেট ভরে না।

ভালো আছে রানু আর তাঁর পরিবার by মোছাব্বের হোসেন

শী নামের ফুটফুটে একটি মেয়েশিশু। মা-বাবা রানু ও আনোয়ার হোসেন দুজনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। বোনের সংসারে থাকেন রানু। সঙ্গে থাকা বড় বোন রীতারও সংসার আছে। সংসারে অর্থের টানাপোড়েন, কাঁধে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে এক বিভীষিকাময় অবস্থা। রানু নিজেও কিছু করতে পারেন না, আবার স্বামীও অক্ষম। এই অবস্থায় নিরুপায় হয়ে বলেছিলেন, ‘অখন মরা ছাড়া কোনো বুদ্দি নাই।’ এই শিরোনামে প্রথম আলোয় ২০১০ সালের ২০ অক্টোবর একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অগণিত হূদয়বান পাঠক রানুর আর্তনাদে সাড়া দিয়েছিলেন।

সংঘাতের জন্য সরকারই দায়ী থাকবে : ড. মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, 'সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছি। রোডমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে সরকারকে। এ দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে দেশ যদি সংঘাতের দিকে যায়, এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।'
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। 'সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী ও নাগরিক ভাবনা' শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে নাগরিক অধিকার সোসাইটি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ড. কাজী আবদুস সামাদ, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এইচ এম আল আমিন, এম এ হালিম প্রমুখ। ড. মোশাররফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নয়, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে-হবে-হবে। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বিরোধী দল নির্বাচনে যাবে না। ফলে আওয়ামী লীগ জোর করে একতরফা নির্বাচন করে নিতে পারে।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে ড. মোশাররফ বলেন, যখন আলোচনার মাধ্যমে কোনো ফয়সালা না হয়, তখন রাজপথে ফয়সালা হয়। রাজপথে ফয়সালা হতে হলে সংঘাত হতে পারে। জনগণ এটা চায় না। জনগণ যখন তাদের পছন্দমতো সরকার গঠনের জন্য ভোট দিতে পারে না, তখন একটা অভ্যুত্থান হয়। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল না করে কোনো নির্বাচন হবে না। সরকার যদি গায়ের জোরে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায়, তাহলে জনগণ তা প্রতিহত করবে। গণবিক্ষোভের সামনে এরশাদের মতো একটি সরকারের পতন এবং তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে।
ড. মোশাররফ বলেন, সরকার বলেছে হাইকোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। অথচ হাইকোর্টের রায় এখনো লেখাই হয়নি। সেখানে একটি শর্ট রায় দেওয়া হয়েছে। ওই রায়েই লেখা আছে, আগামী ১০ ও ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে।

প্রবাসী পাত্র হলেই ‘সুপাত্র’ নয় by জাহীদ রেজা নূর

টনাগুলো অনেকটা এভাবে ঘটে: হুট করে কোনো নিকটাত্মীয় ফোন করে কিংবা দেখা করে বলল, ভালো পাত্র আছে হাতে। ছেলে বিদেশে থাকে। অনেক আয়। ব্যস! অনেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন, এ রকম পাত্র হাতছাড়া করা একেবারেই উচিত হবে না। আশপাশে জুটে যায় পরামর্শকের দল। নানা যোগ-বিয়োগের পর এই ‘সোনার পাত্রের’ পক্ষে রায় দেয় তারা।

হাক্কানির বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনারা নমনীয় কেন? by হামিদ মির

সলামাবাদের সঙ্গে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) একটি শান্তিচুক্তি করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে আলোচিত হাক্কানি নেটওয়ার্ক। এ উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের উপজাতিদের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি খলিল হাক্কানির সঙ্গে দেখাও করেছে। খলিল হাক্কানি উত্তর আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশের প্রভাবশালী নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানির ভাই। উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তানপন্থী ও বিরোধী জঙ্গিদের মধ্যে শান্তি আনতে উপজাতি প্রতিনিধিরা খলিল হাক্কানিকে তাঁর প্রভাব কাজে লাগানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এই জ্যেষ্ঠ উপজাতি নেতারা পাকিস্তানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বৃদ্ধির বিষয়ে বেশ চিন্তিত। তাঁদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অভিযান শুরু করতে পারে।

কন্যাশিশুরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে

হিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী বলেছেন, ছেলেশিশুদের প্রতি কোনো বৈষম্য নেই। আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে কন্যাশিশুরাই বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাই কন্যাশিশু দিবসের আয়োজন করতে হচ্ছে।
গতকাল সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত 'শিক্ষা, বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি নিশ্চিত করবে কন্যাশিশুর অগ্রগতি' শীর্ষক আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিনামূলে বই বিতরণ এবং ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেওয়ায় ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরা সমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বাল্যবিবাহ বন্ধ, মেয়েদের বয়োসন্ধিকালের সমস্যা ও যৌন নিপীড়নের মতো বিষয়গুলেতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর সভাপতি মুস্তাফা মনোয়ার কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রকাশনা 'কন্যাশিশু-৭'-এর মোড়ক উন্মোচন করেন।
আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর আগে সকালে দিবসটি উপলক্ষে ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।

ওয়াল স্ট্রিট-বিরোধীরা আরব জাগরণে অনুপ্রাণিত!

নিউইয়র্কে ১৮ দিন আগে শুরু হওয়া ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল করো’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, সাম্প্রতিক আরব জাগরণ থেকে তাঁরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তবে অর্থনৈতিক দুরবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই অন্দোলন-বিক্ষোভের সঙ্গে তুলনা চলে কেবল স্পেন বা ইউরোপের অন্যান্য অংশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের।

দুই বছরের চুক্তিতে বিয়ে, তারপর নবায়ন

বাঁচব একসাথে, মরব একসাথে। আমৃত্যু জীবনসঙ্গী হওয়ার এমন আকাঙ্ক্ষায় সাত পাকে বাঁধা পড়েন যেকোনো দম্পতি। তাঁদের কেউ কেউ পরম আনন্দে জীবন কাটান। আবার কারও কারও জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। দাম্পত্য জীবন কাটে রোজকার খিটিমিটি আর ঝগড়াবিবাদে। মনে হতে থাকে জীবনের সবকিছুই ভুল। এ রকম অবস্থা থেকেই দম্পতিদের বাঁচাতে চান মেক্সিকো সিটির এক আইনপ্রণেতা। বামপন্থী দল ডেমোক্রেটিক রেভ্যুলেশনের নেতা লিওনেল লুনা বিবাহ বিচ্ছেদের পথটিকে সহজ করতে চান। গত সপ্তাহে মেক্সিকো সিটির আইনসভায় এ জন্য একটি বিল উত্থাপন করেছেন লুনা। ‘দুই বছরের বিবাহ চুক্তি’ নামে ওই আইনে বলা হয়েছে, বিয়ে হবে দুই বছরের জন্য। এরপর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চুক্তি নবায়ন হবে, অন্যথায় নয়।