Monday, January 5, 2015

খালেদা অসুস্থ, কার্যালয়ে মেডিকেল টিম, চট্টগ্রামে ব্যাপক ধড়পাকড়, আসলাম গ্রেপ্তার

আসলাম চৌধুরী গ্রেপ্তার
(চট্টগ্রামের বিএনপির কার্যালয়ের পাশের ভবন থেকে নেতা-কর্মীদের আটক করছে পুলিশ। ছবিটি আজ সন্ধ্যা সাতটার দিকে তোলা। ছবি: জুয়েল শীল, চট্টগ্রাম) পুলিশের ছোড়া পিপার স্প্রেতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া ও  দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যম কর্মী। তাদের চিকিৎসা দিতে গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়  বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শামীমের নেতৃত্বে মেডিকেল টিমের সদস্যরা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের  প্রেস সচিব মারুফ খান কামাল সোহেল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, বিকালে পুলিশের ছোড়া পিপার স্প্রেতে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এজন্য তার বক্তিগত চিকিৎসক ডা. শামীম এসেছেন। ম্যাডামকে তিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন। ওদিকে পিপার স্প্রেতে আহত মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী ও সাংবাদিকদের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. নাসিরে নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম।
চট্টগ্রামে ব্যাপক ধড়পাকড়
চট্টগ্রাম নগরের নাসিমন ভবনের সামনের বিএনপির সমাবেশ পণ্ড হওয়া এবং এর জের ধরে সৃষ্ট তাণ্ডবের পর নগরে ব্যাপক ধড়পাকড় শুরু করেছে পুলিশ। আজ সোমবার বিকেল থেকে ২০ দলের নেতা-কর্মীদের ধরা শুরু হয়। রাত নয়টা নাগাদ বিএনপি-জামায়াতের দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযান অব্যাহত আছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। সরকারের নির্দেশে পুলিশ এ কর্মসূচি পণ্ড করে দেয়। আমাদের সমাবেশে দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষের উপস্থিতি ছিল। এ দৃশ্য দেখে সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কর্মসূচি পণ্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়।’ পুলিশ বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীকে আটক করছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগে দুপুরে পুলিশের ওপর হামলার জের ধরে চট্টগ্রাম নগরে নাসিমন ভবনের সামনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। বিএনপির কর্মীরা যানবাহন ভাঙচুর করে, আগুন দিয়ে ও সড়ক বিভাজক ভেঙে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ওই এলাকায় তাণ্ডব চালান।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইভাবে সংর্ঘষের ঘটনায় এনামুল হক এনাম নামের আরও এক নেতাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। সোমবার বিকালে তাদেরকে আটক করার পর থানায় নিয়ে যায় কোতয়ালী থানা পুলিশ। এরপর রাত ৯টায় দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম মানবজমিনকে জানান, বিকেলে খালেদাকে অবরুদ্ধ করার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের নেতৃত্বে মারামারিতে জড়ায় বিএনপি কর্মীরা। এরপর আমরা ধাওয়া করলে তারাসহ অন্তত ২০ জন দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনের ইয়াসমিন প্যালেস নামের একটি বিল্ডি-এ আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তাদের আটক করা হয়। রাতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

নাশকতার পথ ছেড়ে শান্তির পথে আসুন -বিরোধী জোটকে প্রধানমন্ত্রী

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী জোটকে শান্তির পথে আসার আহবান জানিয়ে বলেছেন, নাশকতার পথ পরিহার করে শান্তির পথে আসুন। দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কী কী করতে চান তা মানুষকে জানান। নিজের দলকে গড়ে তুলুন। তাহলেই হয়ত ভবিষ্যতে সম্ভাবনা থাকবে। তিনি বলেন, আমরা অসুস্থ রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। যে রাজনীতি দেশের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য সেই রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় বেতার ও টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রচারিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, গত নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়াটা রাজনৈতিক ভুল ছিল। তাদের এই রাজনৈতিক ভুলের খেসারত কেন জনগণকে দিতে হবে? বিএনপি নেত্রীকে আমি আহবান জানাচ্ছি- নাশকতা, মানুষ হত্যা, বোমা-গ্রেনেড হামলা, অগ্নিসংযোগ, জানমালের ক্ষতি করা বন্ধ করুন। আপনার ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে আজ আপনি ও আপনার দল সংসদে নেই। আপনি কাকে দোষ দেবেন? আপনার নিজেকেই দোষ দিতে হবে। তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে বিএনপি-জামাত জোট সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা শত শত গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং ভাংচুর করেছে হাজার হাজার গাড়ি। আজ ৫ জানুয়ারি। গত বছরের এই দিনে আপনারা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এদেশের জনগণের দল, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে টানা দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দিয়েছিলেন।

নাটোরে আ'লীগের গুলিতে ছাত্রদলের ২ নেতা নিহত

নাটোরের তেবাড়িয়া হাটে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর গুলিতে দুই ছাত্রদল নেতা রাকিব হোসেন ও রায়হান আলী নিহত ও ১৫ বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।  আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতদের লাশ নাটোর আধূনিক সদর হাসপাতালের মর্গে আনা হয়েছে। এদিকে দুই নেতা হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার নাটোর জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে ২০ দলীয় জোট। নাটোরের পুলিশ সুপার বাসুদেব বণিক বলেন, তিনি ঘটনা শুনামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। বিস্তারিত না জেনে তিনি কিছুই বলতে রাজি হননি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনুল হক বলেছেন, সকাল ১১টার দিকে ২০ দলীয় জোটের জনসমাবেশে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে রওনা হওয়ার প্রস্তুতির সময় পুলিশের সামনেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে গুলি চালায়। এতে দুই ছাত্রদল নেতা রাকিব হোসেন ও রায়হান আলী মারাত্মকভাবে আহত এবং আরো ১৫ থেকে ২০ জন দলীয় নেতাকর্মী আহত হন।
তাদের নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে আহত রাকিব হোসেন ও রায়হান আলীকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাকিব হোসেন তেবাড়িয়া উত্তরপাড়ার চাঁন মিয়ার ছেলে ও একই এলকার ছেলে রায়হান আলী।
এই হত্যার ঘটনার পর পরই জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। দুই নেতার হত্যার প্রতিবাদে ২০ দলীয় জোট মঙ্গলবার নাটোরে সকাল-সন্ধ্যা হরতার আহাবান করেছে।
নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, বিনা ভোটে অর্নিবাচিত নাটার সদরের একজন সংসদ সদস্য যিনি মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার দিন ছাত্রদল নেতা সুজনকে হত্যা করে হাত রঞ্জিত করেন আবার বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বর্ষপূতির দিন দুইজন ছাত্রদল নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হলো। নাটোরের জনগণ এই তিনটি হত্যারই বিচার দাবি করে।
অপরদিকে কানাইখালী এলাকায় গণতন্ত্র মুক্ত দিবসের বক্তব্যে সদরের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেছেন, তেবাড়িয়ায় বিএনপির নিজেদের কোন্দলে দু’জনকে হত্যা করে এখন আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

অবরুদ্ধ খালেদার অবরোধ ঘোষণা

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারা দেশে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সোমবার বিকালে গুলশান কার্যালয়ে বক্তব্য রাখার সময় এ কর্মসূচি  ঘোষণা করেন তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, আজ আমাদের কালো পতাকা কর্মসূচি ছিল। সমাবেশ করতে দেয়া হয় নাই। এ জন্য শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। এর আগে গুলশান কার্যালয় থেকে বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে গাড়ি নিয়ে বের হতে চেয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। কিন্তু গেটে তালা থাকায় বের হতে পারেননি তিনি। বিএনপির পক্ষ থেকে পুলিশকে তালা খুলে দেয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে নেতাকর্মীরা গেট ভাঙ্গতে চাইলে পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে পুলিশ।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস পুলিশকে গেটের তালা খুলতে অনুরোধ জানান। তিনি অনুরোধ জানানোর পর খালেদা জিয়ার গাড়ি থেকে হর্ণ বাজানো হয়। কিন্তু পুলিশ কোন সাড়া দেয়নি। এসময় শিমুল বিশ্বাস সরকারের এ কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, গণতন্ত্রের বিজয় না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দেশবাসীর প্রতি সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দেওয়ার পর শনিবার রাতে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে নয়া পল্টনে যেতে চাইলে পুলিশ খালেদাকে আটকে দেয়। তখন থেকেই তিনি ওই কার্যালয়ে অবরুদ্ধ।

জাতীয় প্রেসক্লাবে হামলা

জাতীয় প্রেসক্লাবে  হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের হামলায় সাংবাদিকসহ কমপক্সে ১৫ জন আহত হয়েছেন। সরকার ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী চলাকালে সোমবার বিকেলে এ হামলা হয় এ সময় প্রেসক্লাব চত্বর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রেসকাবের বাইরে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। সোমবার প্রেসক্লাবে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। একদিকে প্রেসকাবের বাইরে সড়কে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ ও প্রেসক্লাবের ভিতরে আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকরা অবস্থান নেয়। অন্যদিকে প্রেসকাব চত্তরে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকরা এবং নিচের মিলনায়তনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ সমাবেশের আয়োজন করে। এছাড়া প্রেসকাবের ভিআইপি মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্য’র উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ত্রাণ ও দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রজন্মলীগের কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। পরে ১০ টা ৫০ মিনিটে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামও তাদের কর্মসূচীতে সংহতি জানান। এছাড়া ১১টার দিকে আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদের কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে বাইরে আসার সময় কিছু ব্যক্তি শ্লোগান দিয়ে তাকে রাজপথে নামার জন্য পিড়াপীড়ি করতে থাকে। কিন্তু মির্জা ফখরুলসহ পেশাজীবী নেতারা তাদের শান্ত হওয়ার চেষ্টা চালান। পরে মির্জা ফখরুলসহ পেশাজীবী নেতারা প্রেসক্লাবের গেস্ট রুমে অবস্থান নেন। কিন্তু নিচে প্রেসক্লাবের ভেতরের প্রবেশ মুখে দাঁড়িয়ে কিছূ ব্যক্তি শ্লোগান অব্যাহত রাখে। পেশাজীবী নেতাদের আহবানের পরও তারা শ্লোগান দিতে থাকেন। তাদের এ অব্যাহত শ্লোগানে আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সাথে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা যোগ দিয়ে প্রেসকাবের গেট টপকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের হাতে বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্রসস্ত্র দেখা যায়। আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকরা প্রেসকাব চত্তরে মিছিল করে আবার সমাবেশে মিলিত হন। কিন্তু এরমধ্যে প্রজন্মলীগ ও ছাত্রলীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে প্রেসকাবে প্রবেশ করে সম্মিলিতভাবে বিএনপিপন্থি সাংবাদিকসহ পেশাজীবীদের উপর হামলা চালায়। তারা লাঠি নিয়ে চারদিকে সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের খুঁজতে থাকে। প্রেসকাবের প্রবেশ মুখ ও মিলনায়তন এলাকায় কয়েকজনকে বেদম মারধর করে তারা।  এ সময় প্রেসকাব চত্তর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তাদের হামলায় সাংবাদিকসহ ১৫ জন কমবেশি আহত হন। হামলার সময় প্রেসকাবের বাইরে ২টি ককটেল বিস্ফোরেণ ঘটে। আইনশৃংখলা বাহিনী সকাল থেকেই প্রেসকাবের চারদিকে অবস্থান নিলেও হামলার সময় তারা নিরব ভুমিকা পালন করে। এদিকে রাজনৈতিক নেতা ও পেশাজীবীদের কেউ কেউ প্রেসকাবে অবস্থান করছেন দাবি করে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকরা প্রেসকাব কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দেন। একপর্যায়ে প্রেসকাব ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের দুটি পক্ষ প্রেসকাবে বৈঠক করেন। তাদের বৈঠকে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিক ছাড়া অন্যদের বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু এরপরও আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকরা প্রেসকাব চত্তরে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ অব্যাহত রাখেন। পরে রাত সাড়ে ৬টার দিকে তারা প্রেসকাব কনফারেন্স লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেন। অন্যদিকে অনেক রাত পর্যন্ত প্রজন্মলীগের নেতাকর্মীরা প্রেসকাবের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেয়।

কুতুবদিয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন

ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুতুবদিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করেছে। রবিবার অনুষ্টিত কর্মসূচীর মধ্যে ছিল র‌্যালি, আলোচনা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মিলাদ মাহফিল। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মমিনুর রশিদ প্রধান অতিথি, বড়ঘোপ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সেক্রেটারী রাজনীতিক আওরঙ্গজেব মাতবর, কুতুবদিয়া প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারী সাংবাদিক হাছান কুতুবী, আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল মন্নান ও মাষ্টার মুহাম্মদ কাশেম বিশেষ অতিথি ছিলেন। রছুল (দ.) এর প্রকৃত আদর্শ অনুসরণ-অনুকরণের মাধ্যমে অশান্ত দুনিয়ায় জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সাম্য ও ভাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি হতে পারে বলে বক্তাগণ অভিমত ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া ইসলামের নাম ভেঙ্গে সৃষ্ট জঙ্গিগোষ্টি নির্মূলে ইমাম সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান প্রধান অতিথি। ইসলামিক ফাউন্ডেশ কুতুবদিয়া রিসোর্স সেন্টারের মডেল কেয়ারটেকার মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীর সঞ্চালনায় অনুষ্টিত প্রতিযোগিতায় হাফেজ নোমান প্রথম, মুহাম্মদ ইদ্রিচ দ্বিতীয় ও আবদুল কুদ্দুছ তৃতীয় স্থান অর্জন করে পুরুস্কৃত হন।
(হাছান কুতুবী,৪-জানুয়ারি)

সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছেন বেগম জিয়া

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করতে না দেয়ায় আজ থেকে সারা দেশে অবরোধের ডাক দিয়েছেন বিএনপি চেয়ার পারসন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা সাংবাদিকদের জানান, তাদের কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। আজ থেকে সারা দেশে পূর্ববর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচী চলবে। এছাড়া সময় সুযোগ বুঝে পরবর্তী সমাবেশের দিন ঘোষনা করা হবে।
কিছুক্ষন আগে গুলশানস্থ তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যকালে তিনি এ কর্মসূচী ঘোষনা করেন। খালেদা কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলে পুলিশ প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। গেটের ভেতরে মহিলা ও সাংবাদিকদের উপর পুলিশ পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে। পরে তিনি গাড়িতে বসেই কর্মসূচী ঘোষনা করেন। অনেকক্ষন দাড়িয়ে থাকার পর তিনি গাড়িতে বসেই কর্মসূচী ঘোষনা করেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার বলছে আমি অবরোদ্ধ নয়। তাহলে গেটে তালা কেন, আমাকে কেন বের হতে দেয়া হয়নি। আমার সাথে কাউকে সাক্ষাতও করতে দেয়া হয়নি। তাহলে আমি কিভাবে মুক্ত হলাম। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজ গোটা দেশ অবরোদ্ধ। মানুষ স্বতস্ফুর্তভাবে রাস্তায় নামতে চাইলেও তাদের উপর গুলি চালানো হয়েছে।
খালেদা বলেন, আজকে শুধু আমি নই, গোটা দেশটাই অবরুদ্ধ হয়ে পয়েছে। কী কারণে তাঁকে বন্দী করা হয়েছে তাও তিনি জানেন না। এর আগে সকাল থেকেই কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই কার্যালয়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। পকেট গেটেও তালা লাগায় পুলিশ। বিকেল পৌনে চারটার দিকে তিনি নিজ ক থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠেন। সাড়ে চারটার দিকে তিনি গাড়ি থেকে নেমে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন। খালেদা জিয়া বলেন, তাঁরা বলছে বন্দী করেনি। কিন্তু গেটে তালা, বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি তিনি অবরুদ্ধ না হন তাহলে যারা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চায় তাঁদেরকে কেন আসতে দেয়া হচ্ছে না।
খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, এই সরকার জালেম সরকার। সরকার শুধু দেশকে অবরুদ্ধ করেনি দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশে অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। খালেদা জিয়া আরও বলেন, দেশের চিত্র দেখলে মনে হয় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এজন্য সম্পূর্ণভাবে সরকার দায়ী। বক্তব্যের একপর্যায়ে একুশে টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, অন্যরা কথা বললে তাঁরা কাউকে সম্প্রচার করতে দিতে চায় না। সরকার একেবারে ‘ডিটেক্টর’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, কেন গ্যাস মারা হচ্ছে? আমি তো কথা বলছি। কথাও কী আপনারা বলতে দেবেন না?’ পুলিশ বাহিনীতে সরকারের এজেন্ট ঢুকে গেছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। বাড়াবাড়ি বেশিদিন টিকবে না। এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। নারীদের ওপর পিপার ¯েপ্র ও গ্যাস না ছোড়ার জন্য তিনি পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।
আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের কার্যালয় তালাবদ্ধ করে সরকার গণতন্ত্রের কথা বলছে। অন্যদিকে মিথ্যাচার করছে, খালেদা জিয়া নাকি বন্দী নন। তিনি যেখানে খুশি যেতে পারেন। তাহলে কার্যালয়ের সামনে বালুর ট্রাক রেখেছেন কেন? তারা মিথ্যাবাদী, প্রতারক। তারা গণতন্ত্র রক্ষা দিবস পালন করছে। তারা কোন গণতন্ত্র রক্ষা করছে? গণতন্ত্রের মুখোশ পরে গণতন্ত্র রক্ষা করতে চাইছে? তারা দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করছে।
বাসায় তল্লাশির দুদিন পর জনসমক্ষে ফখরুল
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি-সমর্থিত সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আলোচনায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এক বছর অপেক্ষা করেছি। ভেবেছিলাম, তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। তারা বলেই ফেলেছে, তারা ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা বলছে, গণতন্ত্র নয়, উন্নয়নই মূল কথা। হায় রে সেলুকাস!’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে বাস্তব রূপ দিতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। আমরা বিএনপিকে ক্ষমতায় বসান, তা বলিনি। আমরা ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে চাই। তা ফিরিয়ে দিন।’ ভবিষ্যতে আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করারও ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল। প্রেসক্লাবে সমাবেশের আয়োজন করে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানোর জন্য মির্জা ফখরুল নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সামনে বড় কঠিন সময় আসছে। কেননা তাদের লড়াই করতে হচ্ছে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জীবনপণ সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

অনির্দিষ্টকাল অবরোধের ডাক খালেদার

পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত সারা দেশে অবরোধ চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, আজ সারা দেশে যেভাবে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত একই ধরনের কর্মসূচি চলবে। বিকালে গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। তারাও সমাবেশ করতে পারতো। সমাবেশ করতে না দেয়ার কারণ কি? গতবার এই দিনে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। এই নির্বাচনে মানুষ ভোট দেয়নি। যারা ক্ষমতায় তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। মানুষের মৌলিক অধিকার নেই। মানবাধিকার, আইনের শাসন নেই। আমার এখানে কাউকে আসতে দেয়া হচ্ছে না। সাবেক প্রেসিডেন্ট বি চৌধুরীকেও আসতে দেয়া হয়নি। আরও অনেকে আসতে চাইছেন। কিন্তু পারছেন না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তারা বলছে আমাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এটি কিসের নিরাপত্তা। এতোদিন নিরাপত্তা দেননি। কর্মসূচি আসলেই নিরাপত্তা। এভাবে চলতে পারে না। আমি জনগণের কাছে নিরাপদ। আওয়ামী লীগই আমার নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ।
তিনি বলেন, গোটা দেশ অবরুদ্ধ। জালিম সরকার দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। খালেদা জিয়া যখন কথা বলছিলেন তখন পুলিশ বাইরে থেকে ভেতরে পিপার স্প্রে করে। এতে খালেদা জিয়া সহ অন্য নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের অস্বস্থিকর অবস্থায় পড়তে হয়। এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, এখানে কি ঘটেছে যে এখানে পিপার স্প্রে দিতে হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, সারা দেশে জনগণ রাস্তায় নামতে চেয়েছে। সরকার দলীয় গুন্ডারা পুলিশ নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করেছে। দেশ বসবাসের অনুপযোগী করেছে সরকার। দেখলে মনে হয় দেশে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। সারা দেশে নিরীহ মানুষের ওপর হামলা করা হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ পরিবর্তন চায়। আজকের পরিস্থিতি থেকে মনে হচ্ছে জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। তাদের সঙ্গে নেই। এজন্য তারা ভোট দিতে ভয় পায়। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। বিশেষ জেলা এবং ছাত্রলীগের লোক যারা পুলিশে আছে তারা এই বাহিনীর ইমেজ নষ্ট করেছে। তাদের উদ্দেশে বলব বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। পুলিশের কাজ নয় এমন কাজ ও পুলিশকে দিয়ে করানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া।

অগ্নিগর্ভ দেশ, সংঘাত-সংঘর্ষ, গুলি, নিহত ৩, ‘কারাগার ভেঙে ফেলতে হবে’

রাজধানীসহ সারাদেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের সঙ্গে দিনভর পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ পর্যন্ত তিন জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গাড়ি-ভাঙচুর আর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নাটোরের তেবাড়িয়ায় গুলিতে দুই জন বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেছেন, সরকার দলীয় ক্যাডারদের গুলিতেই তাদের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। রাজশাহীতেও বিএনপির একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্নস্থানে বিক্ষিপ্ত মিছিল করেছেন সরকার বিরোধীরা। অন্যদিকে, ব্যাপক শোডাউন করেছেন সরকার সমর্থকরা। চট্টগ্রামে পুলিশের গুলিতে প- হয়ে গেছে বিএনপির সমাবেশ। সংঘর্ষ হয়েছে সিলেটেও। সেখানে বিএনপি বিক্ষোভ ও কালো পতাকা মিছিল করেছে। শিবিরের মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ হয়। কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেটের এলাকায় ইসলামী ছাত্র শিবির ঝটিকা মিছিল বের করার পর পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বার্মিজ মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে কক্সবাজারে জেলায় বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত-বিএনপির ৬২ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ভোলায় বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে বেলা ১১টার দিকে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।  এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারসেল ও ৪৩টি শট গানের গুলি ছোড়ে। অপরদিকে শহরের বাংলা স্কুল মোড়ে সকালে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে মিছিলকারীরা। এ সময় কয়েকটি দোকানও ভাংচুর করা হয়। নারায়ণগঞ্জের তিনটি স্থানে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের এক ক্যামেরা পার্সনসহ আহত হন অন্তত ৩৫ জন। এছাড়া, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, চাঁদপুর, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, পাবনাসহ দেশের বেশিরভাগ জেলাতেই সংঘর্ষ হয়েছে।
‘কারাগার ভেঙে ফেলতে হবে’
সরকার সারাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে, জাতীয় কবির ভাষায় বলতে হবে‘ লাথি মার ভাঙরে তালা, যতসব বন্দিশালা’। সারা দেশে সরকারের তৈরি এ কারাগার ভেঙে ফেলতে হবে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরীহ মানুষদের ওপর গুলি করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করছি তারা ফ্যসিবাদী শক্তি। এই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাজিত করতে হবে। দুপুরের পর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন।

সেরা গাছের দৌড়ে মেজর ওক

মেজর ওক
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত বন শেরউড ফরেস্টের গাছ ‘মেজর ওক’ দেশের বছরের সেরা গাছ নির্বাচিত হয়েছে। মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের লোকগাথার চরিত্র গরিবের উপকার করা দস্যু রবিন হুডের আস্তানা হিসেবে সুপরিচিত শেরউড ফরেস্ট। শোনা যায়, বনের ওই প্রাচীন ওক গাছেই লুকিয়ে থেকে অনেকবার রাজার সেপাইদের নজর এড়িয়েছেন রবিন হুড। আর এই ‘মেজর ওক’ এবার ১৩টি গাছের সঙ্গে লড়বে গোটা ইউরোপের ২০১৫ সালের সেরা গাছের শিরোপা পেতে। খবর বিবিসির। যুক্তরাজ্যের সেরা গাছ হতে গিয়ে মেজর ওককে দুটো ‘বিখ্যাত’ গাছের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। এর একটি হলো, যে গাছটি থেকে আপেল পড়ার পর বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের আবিষ্কার করেছিলেন বলে দাবি করা হয়, সেই গাছটি। আর রাজা জন যেখানে ম্যাগনা কার্টায় স্বাক্ষর করেছিলেন, রানিমেডের সেই ইউ গাছটি। এ দুটিসহ অন্যদের হারিয়ে হাজার বছরেরও বেশি বয়সী আনুমানিক ২৩ টন ওজনের মেজর ওকই সেরা গাছ হয়ে উঠল। মেজর ওকের সেরা মনোনীত হওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে শেরউড ফরেস্টের ব্যবস্থাপক আইজি ব্যানটন বলেন, ‘গাছটির দিকে তাকালে অবাক হতে হয়। সবুজ পত্রপল্লবে আচ্ছাদিত। এত পুরোনো গাছের জন্য যেটি সত্যিই বিস্ময়কর।’
পুরোনো গাছ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জিল বাটলার বলেন, ‘ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির মতো আমাদের দেশে মানুষের তৈরি যে চারটি বিস্ময়কর জায়গা আছে, মেজর ওক এর একটি।’ মেজর ওকের নাম হয়েছে মেজর হেম্যান রোকের নাম অনুসারে। অষ্টাদশ শতকে তিনি এই গাছটি নিয়ে লিখেছিলেন। সমর্থকরা মনে করেন, বুলগেরিয়ার স্লিভেন শহরের বড় এলম (দেবদারুর মতো গাছ) গাছটিকে পেছনে ফেলে মেজর ওক জয়ী হবে। বুলগেরিয়ার ওই গাছটি এক অনলাইন জরিপে ৭৭ হাজারেরও ভোট বেশি পেয়ে ২০১৪ সালের ইউরোপের সেরা নির্বাচিত হয়। ইউরোপীয় কমিশনের অঙ্গসংগঠন এনভায়রনমেন্টাল পার্টনারশিপ অ্যাসোসিয়েশন (ইপিএ) ২০১৫ সালের ইউরোপের সেরা গাছের প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। মার্চ মাসে অনলাইন ভোটের মাধ্যমে সেরা গাছটির নাম ঘোষণা করা হবে। মেজর ওকের এক শক্ত প্রতিযোগী যুক্তরাজ্যেরই ওয়েলসের ল্যানফিলিন শহরের পাইনগাছটি গত শীতে ঝড়ে ভেঙে গেছে। সেরা গাছের প্রতিযোগিতার চেক প্রজাতন্ত্রের এক আয়োজক বলেন, কেবল প্রাচীন, দুর্লভ, বড় বা দেখতে সুন্দর হওয়া বিজয়ী হওয়ার মাপকাঠি হবে না। প্রতিযোগিতার সমন্বয়কারী আন্দ্রে ক্রপোভা বলেন, ‘আমরা আসলে সেই গাছটিই খুঁজছি, যেটিকে সবচেয়ে বেশি মানুষ ভালোবাসে। যে গাছটি ঘিরে আছে ইতিহাস। আর যেটি একটি সম্প্রদায়ের নানা মানুষকে একত্র করেছে।’ প্রতিযোগিতায় আরও আছে স্পেন, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার গাছ।

উড়োজাহাজের চারটি বড় অংশের খোঁজ মিলেছে

বিধ্বস্ত এয়ারএশিয়া উড়োজাহাজের আরোহীদের উদ্ধার
করা আরও কিছু দেহাবশেষ গতকাল সুরাবায়া নিয়ে
যাওয়ার জন্য সামরিক পরিবহন বিমানে তোলা হয়।
কালিমান্তানের একটি বিমানবন্দরের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স
এয়ারএশিয়ার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির চারটি বড় অংশ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে উদ্ধারকারী দল। গতকাল শনিবার ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান বামবাং সোয়েলিস্তিও এ দাবি করেন। এদিকে সুরাবায়া-সিঙ্গাপুর পথে এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়ার অনুমোদন (রুট পারমিট) স্থগিত করার কথা জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়। খবর এএফপি ও রয়টার্সের। বামবাং সোয়েলিস্তি রাজধানী জাকার্তায় সাংবাদিকদের বলেন, গত শুক্রবার রাতে বোর্নিও দ্বীপের কাছে জাভা সাগরে উদ্ধারকারী দল উড়োজাহাজের চারটি বড় অংশ খুঁজে পায়। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, বস্তুগুলো এয়ারএশিয়ার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির, যা আমরা খুঁজছি।’ ৩০ মিটার নিচে সাগরতলে থাকা বস্তু চারটির মধ্যে বড়টির আয়তন ৫০ বর্গমিটার বলে জানানো হয়েছে। উদ্ধার সংস্থার প্রধান সোয়েলিস্তিও বলেন, ‘আমরা সন্ধান পাওয়া বস্তুগুলোর সঠিক ছবি পাওয়ার জন্য আরওভি (পানির নিচে চলা দূরনিয়ন্ত্রিত যান) নামাচ্ছি। তবে তীব্র স্রোত থাকায় আরওভি চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’ খারাপ আবহাওয়ার কারণে কয়েক দিন ধরে মৃতদেহ উদ্ধার ও উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষের অনুসন্ধানকাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট ৩০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার অনুসন্ধানের এলাকা কমিয়ে এক হাজার ৫৭৫ বর্গনটিক্যাল মাইলের মধ্যে অভিযান চালানো হয়, যা গত বৃহস্পতিবার অনুসন্ধান চালানো এলাকার ১০ ভাগের এক ভাগ। ২৯টি জাহাজ এবং ১৭টি বিমান এ অভিযানে অংশ নিয়েছে। এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়ার ফ্লাইট কিউজেড ৮৫০১ গত রোববার ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। এতে দুজন চালক, পাঁচজন ক্রু সদস্য এবং শিশুসহ ১৫৫ জন যাত্রী ছিল। রুট পারমিট স্থগিত: অনিয়মের অভিযোগে সুরাবায়া-সিঙ্গাপুর পথে এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়ার অনুমোদন (রুট পারমিট) স্থগিত করার কথা জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি অননুমোদিত সময়সূচিতে যাত্রা করেছিল। মন্ত্রণালয়ের আকাশপথবিষয়ক মহাপরিচালক মুরজাতমোদজো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফ্লাইটটি রওনা হওয়ার সময়টিকে অনুমোদন করেননি। ফ্লাইটটি এর রুট পারমিট ও সময়সূচি লঙ্ঘন করে। এটাই সমস্যা। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রুট পারমিট স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া কাল সোমবার থেকে এয়ারএশিয়ার সব ফ্লাইটের সময়সূচি তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবহন মন্ত্রণালয়। মুরজাতমোদজো বলেন, ‘আমরা এয়ারএশিয়ার সব ফ্লাইটের সময়সূচি খতিয়ে দেখতে যাচ্ছি। আশা করছি সোমবার থেকে তদন্ত শুরু করতে পারব।’ এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুনু উইদিয়াতমোকো সাংবাদিকদের বলেছেন, তাঁদের কোম্পানি সরকারের তদন্তকাজে সহায়তা করবে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

এটি কোনো সুস্থ রাজনীতি নয়

বিরোধী দলের সমাবেশ ঘিরে আবার ‘সরকারি’ অবরোধের কবলে পড়েছে দেশ ও রাজধানী ঢাকা। রোববার দুপুর থেকে দেশের কোথাও থেকে আসছে না ঢাকামুখী যানবাহন। যদিও বলা হচ্ছে, পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরাই নিরাপত্তার স্বার্থে যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন, তবে নানাভাবে তাতে সরকারযন্ত্রের ভূমিকার কথা জানা যাচ্ছে।   আমরা এর আগেও কয়েকবার এ রকমটি দেখেছি। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলের  ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ ঠেকাতে দুই দিন আগে থেকে রাজধানীর প্রবেশপথগুলো আটকে দেয়া হয়েছিল। তার আগে ফেব্রুয়ারি মাসেও আরো একবার একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়ে সাধারণ মানুষ। দেশজুড়ে সড়ক, নৌ ও রেলপথের যাতে বিরোধী দলের সমর্থকরা ব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল সেসবের চলাচল।   বিরোধী দল সমাবেশের ডাক দেবে আর সরকার সব বন্ধ করে দেবে, এটা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না। বিরোধী দলের জমায়েত মোকাবিলায় এমন পদক্ষেপে সরকার তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ফায়দা পাচ্ছে বটে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি, একচেটিয়া ক্ষমতা ব্যবহারের দুর্নামের ভাগিদার হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের দাবিদার দলটি। জনমনে গড়ে উঠছে নেতিবাচক ভাবমূর্তি। কয়েক বছর ধরে আমরা বিরোধী দলের মোকাবিলায় সরকারকে অনৈতিক জবরদস্তির আশ্রয় নিতে দেখছি। বিরোধী নেত্রীকে বাসায় আটকে রাখা, সভা-সমাবেশ করতে না দেয়া, কর্মসূচি ঘোষণাকারী নেতাদের গ্রেফতার করা, নেতাকর্মীদের নামে ডজন-ডজন মামলা দিয়ে হয়রানি করা নৈমিত্তিক বিষয় করে তুলেছে সরকার। এমনকি ঘরের নেশাসক্ত সন্তানকে জোর করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করার মতো নেতাদের ঘর থেকে তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো বিস্ময় জাগানিয়া কাণ্ডও প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে দেশবাসীকে। আমরা মনে করি, সরকারের এসব আচরণ কোনোভাবেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিবাচক রাজনৈতিক প্রত্যয়ের মধ্যে পড়ে না। বরং তাতে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি অবজ্ঞা আর এর পরিণামের পরোয়া না করার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।   ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর দেশে যতটা রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা করা হয়েছিল, সেটা  হয়নি। সরকারের জন্য বড় সুযোগ ছিল এ সময়ে বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার। কিন্তু তার বদলে সরকারের মধ্যে বিরোধী দলকে ধ্বংস করার, অবজ্ঞা করার এক যুদ্ধংদেহী প্রবণতা ভর করেছে। আখেরে এটা দেশের জন্য এমনকি আওয়ামী লীগের জন্যও ভালো ফল বয়ে আনবে না বলে আমরা মনে করি। সরকারি দল উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখছে, তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু শুধু উন্নয়ন নয়, একটি সরকারের সফলতা নির্ভর করে দেশের নিরবচ্ছিন্ন স্থিতিশীল পরিবেশ, শান্তি ও সুশাসনের ওপর। বিরোধী দলকে অপদস্থ আর অস্বীকার করে সেটা অর্জন সম্ভব হয় না। আমরা আশা করি,  সরকার সেটা অনুধাবন করবে এবং দেশের স্বার্থে বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে সংকট উত্তরণের প্রচেষ্টা নেবে।